উইকিসংকলন bnwikisource https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.9 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিসংকলন উইকিসংকলন আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা লেখক লেখক আলাপ নির্ঘণ্ট নির্ঘণ্ট আলাপ পাতা পাতা আলাপ প্রবেশদ্বার প্রবেশদ্বার আলাপ প্রকাশক প্রকাশক আলোচনা রচনা রচনা আলাপ অনুবাদ অনুবাদ আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD 10 9620 1988397 1988335 2026-07-04T07:03:25Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1988397 wikitext text/x-wiki 449924 iizr6gxld5nflnnfo572vbho0ffiqot টেমপ্লেট:ALL PAGES 10 9621 1988398 1988336 2026-07-04T07:03:35Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1988398 wikitext text/x-wiki 562663 as63a383uhcgmp5801h2yur56mjowrc টেমপ্লেট:PR TEXTS 10 9622 1988399 1988337 2026-07-04T07:03:45Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1988399 wikitext text/x-wiki 19600 8ssrpc46g2ynpnbokr36tfcmsl5nfil টেমপ্লেট:ALL TEXTS 10 9623 1988400 1988338 2026-07-04T07:03:55Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1988400 wikitext text/x-wiki 19600 8ssrpc46g2ynpnbokr36tfcmsl5nfil নির্ঘণ্ট:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf 102 769324 1988362 1954740 2026-07-03T13:17:21Z Nettime Sujata 5470 1988362 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q109406081 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=1 |Progress=OCR |Pages=<pagelist 1="প্রচ্ছদ" 2="—" 3="প্রচ্ছদ" 4="—" 5="বিজ্ঞাপন" 6="—" 7="5" 125to129="—" /> |Volumes= |Remarks={{AuxTOC| {{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/প্রথম পরিচ্ছেদ|প্রথম পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৭|৫]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ|দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/২২|২০]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/তৃতীয় পরিচ্ছেদ|তৃতীয় পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৩৩|৩১]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/চতুর্থ পরিচ্ছেদ|চতুর্থ পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৪৩|৪১]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/পঞ্চম পরিচ্ছেদ|পঞ্চম পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬৭|৬৫]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ|ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৮১|৭৯]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস/সপ্তম পরিচ্ছেদ|সপ্তম পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৯৪|৯২]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস/অষ্টম পরিচ্ছেদ|অষ্টম পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/১০৫|১০৩]]}} }} |Notes= |Header={{কেন্দ্র|সীতার বনবাস।}} |Footer={{{pagenum}}} }} 7lc6jtwk8kffeaukzck9vwqh81yylil 1988363 1988362 2026-07-03T13:19:02Z Nettime Sujata 5470 1988363 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q109406081 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=1 |Progress=OCR |Pages=<pagelist 1="প্রচ্ছদ" 2="—" 3="প্রচ্ছদ" 4="—" 5="বিজ্ঞাপন" 6="—" 7="5" 125to129="—" /> |Volumes= |Remarks={{AuxTOC| {{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/প্রথম পরিচ্ছেদ|প্রথম পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৭|৫]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ|দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/২২|২০]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/তৃতীয় পরিচ্ছেদ|তৃতীয় পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৩৩|৩১]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/চতুর্থ পরিচ্ছেদ|চতুর্থ পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৪৩|৪১]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/পঞ্চম পরিচ্ছেদ|পঞ্চম পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬৭|৬৫]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ|ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৮১|৭৯]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস/সপ্তম পরিচ্ছেদ|সপ্তম পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৯৪|৯২]]}} {{Table| title=[[সীতার বনবাস/অষ্টম পরিচ্ছেদ|অষ্টম পরিচ্ছেদ]]| page=[[পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/১০৫|১০৩]]}} }} |Notes= |Header={{rvh|{{{pagenum}}}|সীতার বনবাস।}} |Footer= }} 4n04gyfoosz234jwk10ql9ej5huc4vw পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/১ 104 772935 1988383 1412371 2026-07-03T16:55:43Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988383 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{dhr|10em}} {{c|সেণ্ট্রাল টেক্‌ষ্ট্‌-বুক কমিটীর অনুমোদিত}} {{rule|30em}}{{rule|30em}} {{c|{{xxxx-larger|সীতার বনবাস।}}}} {{c|{{xx-larger|ঈ শ্ব র চ ন্দ্র বি দ্যা সা গ র স ঙ্ক লি ত।}}}} {{dhr|4em}} {{c|মূল্য বার আনা।}} {{rule|30em}}{{rule|30em}} {{c|আইন অনুসারে কাপি-রাইট রেজিষ্ট্রী হইয়াছে।}} {{dhr|10em}}<noinclude></noinclude> d7uq2fqbu0xkhc8bin3zr46seeysa2b পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৩ 104 774432 1988360 1901161 2026-07-03T13:14:13Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988360 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{কেন্দ্র|{{xxx-larger|{{xx-larger|'''সীতার বনবাস।'''}}}}}} {{dhr|2em}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|ঈ শ্ব র চ ন্দ্র বি দ্যা সা গ র স ঙ্ক লি ত।}}}} {{dhr|2em}} {{Custom rule|lo|141}} {{dhr|2em}} {{কেন্দ্র|সপ্তবিংশ সংস্করণ |}} {{dhr|2em}} {{Custom rule|sp|40|co|6|sp|40}} {{dhr|2em}} {{কেন্দ্র|{{larger|কলিকাতা}}}} {{dhr|2em}} {{Custom rule|sp|40|co|6|co|6|sp|40}} {{dhr|2em}} {{কেন্দ্র|আনন্দমঠ প্রেস ৷}} {{dhr|2em}} {{কেন্দ্র|সং ব ৎ ১ ৯ ৫ ৪।}} {{dhr|2em}} {{Block center|{{কেন্দ্র|{{smaller|PUBLISHED BY THE CALCUTTA LIBRAR}} {{smaller|NO. 25, SUKEAS’ STREET, CALCUTTA.}}}}}}<noinclude></noinclude> 2s7qakr9kodsvoxr6qp3w1twj589its পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৫ 104 774472 1988386 1906536 2026-07-03T17:16:12Z Bodhisattwa 2549 1988386 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Dorsy Monk" /></noinclude>{{c|{{x-larger|'''বিজ্ঞাপন।'''}}}} সীতার বনবাস প্রচারিত হইল। এই পুস্তকের প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের অধিকাংশ ভবভূতিপ্রণীত উত্তরচরিত নাটকের প্রথম অঙ্ক হইতে পরিগৃহীত; অবশিষ্ট পরিচ্ছেদ সকল পুস্তকবিশেষ হইতে পরিগৃহীত নহ, রামায়ণের উত্তর কাণ্ড অবলম্বন পূর্ব্বক সঙ্কলিত হইয়াছে। ঈদৃশ করুণরসােদ্বোধক বিষয় যে রুপে সঙ্কলিত হওয়া উচিত, এই পুস্তকে সেরূপ হওয়া সম্ভাবনীয় নহে; সুতরাং, সহৃদয় লােকে পাঠ করিয়া সন্তোষলাভ করিবেন, এরূপ প্রত্যাশা করিতে পারি না। যদি, সীতার বনবাস, কিঞ্চিৎ অংশেও, পাঠকবর্গের প্রীতিপ্রদ হয়, তাহা হইলেই,আমি চরিতার্থ হইব। {{ডান|{{x-larger|'''শ্রীঈশ্বরচন্দ্রশর্ম্মা'''}}}} {{block left|{{c|<poem>কলিকাতা। ১লা বৈশাখ। সংবৎ ১ ৯ ১ ৮।</poem>}}}}<noinclude></noinclude> lm5urjfd7jvt1g683s7dytwfiyl0a7f নির্ঘণ্ট:মন্ত্র ও ত্রিবেণী - দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৯২৬).pdf 102 860176 1988376 1885563 2026-07-03T14:53:54Z Bodhisattwa 2549 1988376 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q134715705 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=1 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{RLFRR}} |Header= |Footer= }} 32c45unz31zr2n94isjd1568foiphdx পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৫৩ 104 864926 1988385 1987414 2026-07-03T16:56:52Z Bodhisattwa 2549 1988385 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{কেন্দ্র|চতুর্থ পরিচ্ছেদ।}}</noinclude>এরূপ সংশয়িত অবস্থায় থাকিতে পারিব না; যাহা হয় বলিয়া, আমার প্রাণরক্ষা কর। বলি, আর্য্যপুত্রের কোনও অমঙ্গল ঘটে নাই? যদি তিনি কুশলে থাকেন,আমার আর যে সর্ব্বনাশ ঘটুক না কেন, আমি তাহাতে তত কাতর হইব না। আমার মাথা খাও, তোমায় আর্য্যপুত্রের দোহাই, শীঘ্র বল; আর বিলম্ব করিলে, তুমি অধিক ক্ষণ আমায় জীবিত দেখিতে পাইবে না। যদি,যাতনা দিয়া, আমার প্রাণবধ করা তোমার অভিপ্রেত না হয়, তবে ত্বরায় বল, আর বিলম্ব করিও না। {{ফাঁক}}সীতার এইরূপ অবস্থা প্রত্যক্ষ করিয়া, লক্ষ্মণ ভাবিলেন, আর বিলম্ব করা বিধেয় নহে। তখন, অনেক যত্নে, চিত্তের অপেক্ষাকৃত স্থৈর্য্যসম্পাদন করিয়া, অতি কষ্টে বাক্যনিঃসরণ করিলেন; বলিলেন, আর্য্যে, বলিব কি, বলিতে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া যাইতেছে। আপনি একাকিনী রাবণ-গৃহে ছিলেন; সেই কারণে, পৌরগণ ও জানপদবর্গ, আপনকার চরিত্র বিষয়ে সন্দিহান হইয়া, অপবাদকীর্ত্তন করিয়া থাকে। আর্য্য ইহা অবগত হইয়া, একবারে স্নেহ, দয়া, ও মমতার বিসর্জন দিয়া, অপবাদবিমোচনের নিমিত্ত, আপনকার মায়াপরিত্যাগ করিয়াছেন; আমায় এই আদেশ দিয়াছেন, “তুমি, তপোবনদর্শনের ছলে লইয়া গিয়া, বাল্মীকির আশ্রমে রাখিয়া আসিবে।” এই সেই বাল্মীকির আশ্রম। {{nop}}<noinclude></noinclude> qxt21un5yt5kzbg0s3rs25djx1w1u3u পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৫৪ 104 864927 1988364 1901156 2026-07-03T13:25:37Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988364 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫২|সীতার বনবাস।|}} {{কেন্দ্র|সীতার বনবাস।}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই বলিয়া, লক্ষ্মণ ভূতলে পতিত ও মূর্চ্ছিত হইলেন। সীতাও, শ্রবণমাত্র হতচেতনা হইয়া, বাতাভিহতা কদলীর ন্যায়, ভূতলশায়িনী হইলেন। কিয়ৎ ক্ষণ পরে, লক্ষ্মণের সংজ্ঞালাভ হইলে, তিনি, অনেক যত্নে, জানকীর চৈতন্যসম্পাদন করিলেন। জানকী চেতনালাভ করিয়া, উন্মত্তার ন্যায়, স্থির নয়নে, লক্ষ্মণের মুখনিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। লক্ষ্মণ, হতবুদ্ধির ন্যায়, চিত্রার্পিতের প্রায়, অধোবদনে, গলদশ্রু নয়নে, দণ্ডায়মান রহিলেন। কিয়ৎ ক্ষণ পরে, সীতার নয়নযুগল হইতে, প্রবল বেগে, বাষ্পবারি বিগলিত হইতে লাগিল; ঘন ঘন নিশ্বাস বহিতে লাগিল; সর্ব্ব শরীর কম্পিত হইতে লাগিল। তদ্দর্শনে লক্ষ্মণ, যৎপরোনাস্তি ব্যাকুল হইয়া, সীতাকে প্রবোধ দিবার নিমিত্ত চেষ্টা পাইলেন; কিন্তু, কি বলিয়া প্রবোধ দিবেন, তাহার কিছু দেখিতে না পাইয়া, হতবুদ্ধি হইয়া, কেবল অবিশ্রান্ত অশ্রুবিসর্জন করিতে লাগিলেন। {{ফাঁক}}এই ভাবে কিয়ৎ ক্ষণ অতীত হইলে পর, সীতা চিত্তের অপেক্ষাকৃত স্থৈর্য্যসম্পাদন করিয়া বলিলেন, লক্ষ্মণ, কার দোষ দিব, সকলই আমার অদৃষ্টের দোষ; নতুবা, রাজার কন্যা, রাজার বধূ, রাজার মহিষী হইয়া, কে কখন্ আমার মত চিরদুঃখিনী হইয়াছে, বল? বুঝিলাম, যাবজ্জীবন দুঃখভোগের নিমিত্তই, আমার নারীজন্ম হইয়াছিল। বৎস,<noinclude></noinclude> sxtmhkjmhejzh1b3wf3rrxc1305swnr 1988366 1988364 2026-07-03T13:29:00Z Nettime Sujata 5470 1988366 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫২|সীতার বনবাস।|}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই বলিয়া, লক্ষ্মণ ভূতলে পতিত ও মূর্চ্ছিত হইলেন। সীতাও, শ্রবণমাত্র হতচেতনা হইয়া, বাতাভিহতা কদলীর ন্যায়, ভূতলশায়িনী হইলেন। কিয়ৎ ক্ষণ পরে, লক্ষ্মণের সংজ্ঞালাভ হইলে, তিনি, অনেক যত্নে, জানকীর চৈতন্যসম্পাদন করিলেন। জানকী চেতনালাভ করিয়া, উন্মত্তার ন্যায়, স্থির নয়নে, লক্ষ্মণের মুখনিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। লক্ষ্মণ, হতবুদ্ধির ন্যায়, চিত্রার্পিতের প্রায়, অধোবদনে, গলদশ্রু নয়নে, দণ্ডায়মান রহিলেন। কিয়ৎ ক্ষণ পরে, সীতার নয়নযুগল হইতে, প্রবল বেগে, বাষ্পবারি বিগলিত হইতে লাগিল; ঘন ঘন নিশ্বাস বহিতে লাগিল; সর্ব্ব শরীর কম্পিত হইতে লাগিল। তদ্দর্শনে লক্ষ্মণ, যৎপরোনাস্তি ব্যাকুল হইয়া, সীতাকে প্রবোধ দিবার নিমিত্ত চেষ্টা পাইলেন; কিন্তু, কি বলিয়া প্রবোধ দিবেন, তাহার কিছু দেখিতে না পাইয়া, হতবুদ্ধি হইয়া, কেবল অবিশ্রান্ত অশ্রুবিসর্জন করিতে লাগিলেন। {{ফাঁক}}এই ভাবে কিয়ৎ ক্ষণ অতীত হইলে পর, সীতা চিত্তের অপেক্ষাকৃত স্থৈর্য্যসম্পাদন করিয়া বলিলেন, লক্ষ্মণ, কার দোষ দিব, সকলই আমার অদৃষ্টের দোষ; নতুবা, রাজার কন্যা, রাজার বধূ, রাজার মহিষী হইয়া, কে কখন্ আমার মত চিরদুঃখিনী হইয়াছে, বল? বুঝিলাম, যাবজ্জীবন দুঃখভোগের নিমিত্তই, আমার নারীজন্ম হইয়াছিল। বৎস,<noinclude></noinclude> nk1twxn2v1reni2774fevvpx2m3n6c4 পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৫৫ 104 864928 1988365 1901155 2026-07-03T13:28:24Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988365 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||চতুর্থ পরিচ্ছেদ।|৫৩}} {{ডান|৫৩}}</noinclude>অবশেষে আমার যে এ অবস্থা ঘটিবে, তাহা কাহার মনে ছিল। বহু কালের পর আর্য্যপুত্ত্রের সহিত সমাগম হইলে, ভাবিয়াছিলাম, বুঝি এই অবধি দুঃখের অবসান হইল। কিন্তু, বিধাতা যে আমার কপালে সহস্রগুণ অধিক দুঃখ লিখিয়া রাখিয়াছিলেন, তাহা স্বপ্নেও জানিতাম না। হায় রে বিধাতা! তোর মনে কি এতই ছিল? {{ফাঁক}}এই বলিতে বলিতে, জানকীর কণ্ঠরোধ হইয়া গেল। তিনি কিয়ৎ ক্ষণ বাক্যনিঃসরণ করিতে পারিলেন না; অনন্তর, দীর্ঘনিশ্বাসপরিত্যাগ পূর্ব্বক বলিলেন, লক্ষ্মণ, নিষ্ঠুর বিধাতা আমার কপালে এত দুঃখভোগ লিখিলেন কেন, বুঝিতে পারিতেছি না। অথবা, বিধাতার অপরাধ কি; সকলেই আপন আপন কর্ম্মের ফলভোগ করে। আমি জন্মান্তরে যেরূপ কর্ম্ম করিয়াছিলাম, এ জন্মে সেইরূপ ফলভোগ করিতেছি। বোধ করি, পূর্ব্ব জন্মে, কোনও পতিপ্রাণা কামিনীকে পতিবিয়োজিতা করিয়াছিলাম; সেই মহাপাপেই আজ আমার এই দুরবস্থা ঘটিল; নতুবা আর্য্যপুত্ত্রের হৃদয় স্নেহ, দয়া, ও মমতায় পরিপূর্ণ; আমিও যে একান্ত পতিপ্রাণা ও শুদ্ধচারিণী, তাহাও তিনি বিলক্ষণ জানেন; তথাপি যে এমন সময়ে আমায় গৃহ হইতে বহিষ্কৃত করিলেন, সে কেবল আমার পূর্ব্বজন্মার্জ্জিত কর্ম্মের ফলভোগ। বৎস, আমি বনবাসে কাতর নহি। আর্য্যপুত্ত্রের সহবাসে, বহু কাল,<noinclude></noinclude> 7fb6a4di1pt0gib1r62l9j27w0bncea 1988367 1988365 2026-07-03T13:29:26Z Nettime Sujata 5470 1988367 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||চতুর্থ পরিচ্ছেদ।|৫৩}}</noinclude>অবশেষে আমার যে এ অবস্থা ঘটিবে, তাহা কাহার মনে ছিল। বহু কালের পর আর্য্যপুত্ত্রের সহিত সমাগম হইলে, ভাবিয়াছিলাম, বুঝি এই অবধি দুঃখের অবসান হইল। কিন্তু, বিধাতা যে আমার কপালে সহস্রগুণ অধিক দুঃখ লিখিয়া রাখিয়াছিলেন, তাহা স্বপ্নেও জানিতাম না। হায় রে বিধাতা! তোর মনে কি এতই ছিল? {{ফাঁক}}এই বলিতে বলিতে, জানকীর কণ্ঠরোধ হইয়া গেল। তিনি কিয়ৎ ক্ষণ বাক্যনিঃসরণ করিতে পারিলেন না; অনন্তর, দীর্ঘনিশ্বাসপরিত্যাগ পূর্ব্বক বলিলেন, লক্ষ্মণ, নিষ্ঠুর বিধাতা আমার কপালে এত দুঃখভোগ লিখিলেন কেন, বুঝিতে পারিতেছি না। অথবা, বিধাতার অপরাধ কি; সকলেই আপন আপন কর্ম্মের ফলভোগ করে। আমি জন্মান্তরে যেরূপ কর্ম্ম করিয়াছিলাম, এ জন্মে সেইরূপ ফলভোগ করিতেছি। বোধ করি, পূর্ব্ব জন্মে, কোনও পতিপ্রাণা কামিনীকে পতিবিয়োজিতা করিয়াছিলাম; সেই মহাপাপেই আজ আমার এই দুরবস্থা ঘটিল; নতুবা আর্য্যপুত্ত্রের হৃদয় স্নেহ, দয়া, ও মমতায় পরিপূর্ণ; আমিও যে একান্ত পতিপ্রাণা ও শুদ্ধচারিণী, তাহাও তিনি বিলক্ষণ জানেন; তথাপি যে এমন সময়ে আমায় গৃহ হইতে বহিষ্কৃত করিলেন, সে কেবল আমার পূর্ব্বজন্মার্জ্জিত কর্ম্মের ফলভোগ। বৎস, আমি বনবাসে কাতর নহি। আর্য্যপুত্ত্রের সহবাসে, বহু কাল,<noinclude></noinclude> tolu59xotcwstxeey1j1b0w111byugu পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৫৬ 104 864930 1988368 1901154 2026-07-03T13:32:17Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988368 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫৪|সীতার বনবাস।|}}</noinclude>বনবাসে ছিলাম; তাহাতে এক দিন, এক মুহূর্ত্তের নিমিত্ত; আমার অন্তঃকরণে দুঃখের লেশমাত্র ছিল না। আর্য্যপুত্ত্রসহবাসে যাবজ্জীবন বনবাসে থাকিলেও, আমার কিছুমাত্র দুঃখ হইত না। সে যাহা হউক, আমার অন্তঃকরণে এই দুঃখ হইতেছে, আর্য্যপুত্ত্র কি অপরাধে পরিত্যাগ করিয়াছেন, মুনিপত্নীরা জিজ্ঞাসা করিলে, আমি কি উত্তর দিব! তাঁহারা আর্য্যপুত্ত্রকে করুণাসাগর বলিয়া জানেন; আমি প্রকৃত কারণ বলিলে, তাঁহারা কখনই বিশ্বাস করিবেন না। তাঁহারা ভাবিবেন, আমি কোনও গুরুতর অপরাধ করিয়াছিলাম, তাহাতেই তিনি আমায় গৃহ হইতে বহিষ্কৃত করিয়াছেন। বৎস, বলিতে কি, যদি অন্তঃসত্ত্বা না হইতাম, এই মুহূর্ত্তে, তোমার সমক্ষে, জাহ্নবীজলে প্রবেশ করিয়া, প্রাণত্যাগ করিতাম। আর আমার জীবনধারণের ফল কি বল? এমন অবস্থাতেও কি প্রাণ রাখিতে হয়? আমি আশ্চর্য্যবোধ করিতেছি, আর্য্যপুত্ত্র পরিত্যাগ করিয়াছেন শুনিয়াও আমার প্রাণবিয়োগ ঘটিতেছে না। বোধ করি, আমার মত কঠিন প্রাণ আর কারও নাই; নতুবা, এখনও নির্গত হইতেছে না কেন? অথবা, বিধাতা আমায় চিরদুঃখিনী করিবার সঙ্কল্প করিয়াছেন; প্রাণত্যাগ হইলে, তাঁহার সে সঙ্কল্প বিফল হইয়া যায়; এজন্যই জীবিত রহিয়াছি। {{ফাঁক}}এইরূপ আক্ষেপ ও বিলাপ করিতে করিতে, সীতা দীর্ঘ<noinclude></noinclude> 87rx9g0onxbv47mimcrs7y8v2155pnk পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৫৭ 104 864931 1988369 1901153 2026-07-03T13:36:35Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988369 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||চতুর্থ পরিচ্ছেদ।|৫৫}}</noinclude>নিশ্বাস সহকারে, হায়! কি হইল বলিয়া, পুনরায় মূর্চ্ছিত ও ভূতলে পতিত হইলেন। সুশীল লক্ষ্মণ, দেখিয়া শুনিয়া, নিতান্ত কাতর ও শোকে একান্ত অভিভূত হইয়া, অবিরল ধারায় বাষ্পবারি বিমোচন করিতে লাগিলেন; এবং, রামচন্দ্রের অদৃষ্টচর অশ্রুতপূর্ব্ব লোকানুরাগপ্রিয়তাই এই অভূতপূর্ব্ব ভয়ানক অনর্থের মূল, এই ভাবিয়া, যৎপরোনাস্তি বিষণ্ণ ম্রিয়মাণ হইয়া, বলিতে লাগিলেন, যদি ইতঃপূর্ব্বে আমার মৃত্যু হইত, তাহা হইলে, এই লোকবিগর্হিত ধর্ম্মবিবর্জ্জিত বিষম কাণ্ড দেখিতে হইত না। আমি আর্য্যের আজ্ঞাপ্রতিপালনে সম্মত হইয়া, অতি অসৎ কর্ম্মই করিয়াছি। আমার মত পাষণ্ড ও পাষাণহৃদয় আর নাই; নতুবা, এরূপ নিষ্ঠুর কাণ্ডের ভারগ্রহণ করিব কেন? কেমন করিয়া, এমন সরলহৃদয়া, শুদ্ধচারিণী, পতিপ্রাণা কামিনীকে এরূপ সর্ব্বনাশের কথা শুনাইলাম? যদি আর্য্যের আদেশপ্রতিপালনে পরাঙ্মুখ হইয়া, আমায় এ জন্মের মত তাঁহার বিরাগভাজন ও জন্মান্তরে নিরয়গামী হইতে হইত, তাহাও আমার পক্ষে সহস্র গুণে শ্রেয়স্কর ছিল। সর্ব্বথা আমি অতি অসৎ কর্ম্ম করিয়াছি। হা বিধাতঃ! কেন তুমি আমায় এরূপ নিষ্ঠুর কাণ্ডের ভার গ্রহণে প্রবৃত্তি দিয়াছিলে? হা কঠিন হৃদয়! তুমি এখনও বিদীর্ণ হইতেছ না কেন? হা কঠিন প্রাণ! তুমি এখনও প্রস্থান করিতেছ না কেন? হা দগ্ধ কলেবর!<noinclude></noinclude> 1pcpmo7yoevlmwyenf2uvhi0tme82c1 পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৫৮ 104 864932 1988370 1901158 2026-07-03T13:39:11Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988370 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫৬|সীতার বনবাস।|}}</noinclude>তুমি এখনও সর্ব্ব অবয়বে বিশীর্ণ হইতেছ না কেন? আর আমি আর্য্যার এ অবস্থা দেখিতে পারি না। হা আর্য্য! তুমি যে এমন কঠিনহৃদয়, তাহা স্বপ্নেও জানিতাম না। যদি তোমার মনে এতই ছিল, তবে আর্য্যার উদ্ধারসাধনে তত সচেষ্ট হইবার কি প্রয়োজন ছিল? দশানন হরণ করিয়া লইয়া গেলে পর, উন্মত্ত ও হতচেতন হইয়া, হাহাকার করিয়া বেড়াইবারই বা কি আবশ্যকতা ছিল? তুমি অবশেষে এই করিবে বলিয়া, কি আমরা লঙ্কাসমরের দুঃসহ ক্লেশপরম্পরা সহ্য করিয়াছিলাম? যাহা হউক, তোমার মত নির্দয় ও নৃশংস ভূমণ্ডলে নাই। {{ফাঁক}}কিয়ৎ ক্ষণ এইরূপ আক্ষেপ ও রামচন্দ্রের ভর্ৎসনা করিয়া, লক্ষ্মণ, উচ্ছলিত শোকাবেগের সংবরণ পূর্ব্বক, সীতার চৈতন্যসম্পাদনে সযত্ন হইলেন। চেতনাসঞ্চার হইলে, সীতা, কিয়ৎ ক্ষণ স্তব্ধ ভাবে থাকিয়া, স্নেহভরে সম্ভাষণ করিয়া, লক্ষ্মণকে বলিলেন, বৎস, ধৈর্য্য অবলম্বন কর; আর বিলাপ ও পরিতাপ করিও না। সকলই অদৃষ্টাধীন; আমার অদৃষ্টে যাহা ছিল, তাহাই ঘটিয়াছে; তুমি আর সে জন্য কাতর হইও না; শোকসংবরণ কর। আমার ভাবনা ছাড়িয়া দিয়া, ত্বরায় তুমি আর্য্যপুত্ত্রের নিকটে যাও। তিনি, আমায় বনবাস দিয়া, কাতর ও অস্থির হইয়াছেন, সন্দেহ নাই; যাহাতে তাঁহার শোকের নিবারণ ও চিত্তের স্থিরতা হয়,<noinclude></noinclude> rok4q8r83m1ah98d14b56wyp5w87up7 পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৫৯ 104 864933 1988371 1901159 2026-07-03T13:43:47Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988371 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||চতুর্থ পরিচ্ছেদ।|৫৭}}</noinclude>সে বিষয়ে যত্নবান হইবে; তাঁহাকে বলিবে, আমার পরিত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া, ক্ষোভ করিবার আবশ্যকতা নাই; তিনি সদ্বিবেচনার কার্য্যই করিয়াছেন। প্রাণপণে প্রজারঞ্জন করা রাজার প্রধান ধর্ম্ম; আমায় পরিত্যাগ করিয়া, তিনি রাজধর্ম্মপ্রতিপালন করিয়াছেন। আমি তাঁহার মন জানি; তিনি যে কেবল লোকাপবাদের ভয়ে এই করিয়াছেন, তাহাতে আমার সন্দেহ নাই। তিনি যেন, শোকশূন্য ও ক্ষোভশূন্য হইয়া, প্রশস্ত মনে, প্রজাপালনে নিয়ত ব্যাপৃত থাকেন। তাঁহার চরণে আমার প্রণাম জানাইয়া বলিবে, যদিও আমি, লোকাপবাদভয়ে, অযোধ্যা হইতে নির্বাসিত হইলাম, যেন তাঁহার অন্তঃকরণ হইতে এক বারে অপসারিত না হই। আমি, তপোবনে থাকিয়া, এই উদ্দেশে, ঐকান্তিক চিত্তে তপস্যা করিব, যেন জন্মান্তরেও তিনি আমার পতি হন। আর, তাঁহাকে বিশেষ করিয়া বলিবে, যদিও ভার্য্যাভাবে আমায় নির্বাসিত করিয়াছেন, কিন্তু যেন সামান্য প্রজা বলিয়া গণ্য করেন। তিনি সসাগরা পৃথিবীর অধীশ্বর; যেখানে থাকি, তাঁহার অধিকারবহির্ভূত নই। {{ফাঁক}}এই বলিয়া, একান্ত শোকাকুল হইয়া, সীতা কিয়ৎ ক্ষণ মৌনাবলম্বন করিয়া রহিলেন; অনন্তর, নিতান্ত কাতর স্বরে বলিতে লাগিলেন, লক্ষ্মণ, আমার ভাগ্যে যাহা ঘটিয়াছে,<noinclude></noinclude> bz9n67m2xozt0bxm1yerguxptt2ekm3 পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬০ 104 864934 1988372 1901160 2026-07-03T13:46:23Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988372 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫৮|সীতার বনবাস।|}}</noinclude>আমি সে জন্য তত কাতর নহি; পাছে আর্য্যপুত্ত্রের মনে ক্লেশ হয়, সেই ভাবনাতেই আমি অস্থির হইতেছি। তাঁহাকে বিনয় করিয়া বলিবে, তিনি যেন শোকসংবরণ করিয়া ত্বরার সুস্থচিত্ত হন। আমার ক্লেশের একশেষ হইয়াছে, যথার্থ বটে; কিন্তু, সে জন্য, আমি তাঁহাকে অণুমাত্র দোষ দিব না; আমার যেমন অদৃষ্ট, তেমনই ঘটিয়াছে; তজ্জন্য তিনি যেন ক্ষোভ না করেন। বৎস, তোমায় আমার অনুরোধ এই, তুমি সর্ব্বদা তাঁহার নিকটে থাকিবে, ক্ষণকালের নিমিত্তও, তাঁহারে একাকী থাকিতে দিবে না; একাকী থাকিলেই, তাঁহার উৎকণ্ঠা ও অসুখ বাড়িবে। তিনি ভাল থাকিলেই আমার ভাল। যাহাতে তিনি সুখে থাকেন, সে বিষয়ে সর্ব্বদা যত্ন করিবে। এই বলিয়া, লক্ষ্মণের হস্তে ধরিয়া, সীতা বাষ্পপরিপ্লুত লোচনে, করুণ বচনে বলিলেন, তুমি আমার নিকট শপথ করিয়া বল, এ বিষয়ে কদাচ ঔদাস্য করিবে না? তপোবনে থাকিয়া, যদি লোকমুখে শুনিতে পাই, আর্য্যপুত্ত্র কুশলে আছেন, তাহা হইলেই, আমার সকল দুঃখ দূর হইবে। {{ফাঁক}}এই বলিতে বলিতে, সীতার নয়নযুগল হইতে, অবিরল ধারায়, বাষ্পবারি বিগলিত হইতে লাগিল। তদীয় পতিপরায়ণতার সম্পূর্ণপ্রমাণপূর্ণ বচনপরম্পরা শ্রবণগোচর করিয়া, লক্ষ্মণের শোক প্রবাহ প্রবল বেগে প্রোচ্ছলিত হইয়া<noinclude></noinclude> 1mllmbimng488gdf1rc90qqklfme1wj পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/৫৩ 104 882196 1988396 1986998 2026-07-04T03:09:44Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1988396 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৩৮|মহাভারতীয় নীতিকথা।}}</noinclude>রঙ্গমধ্যে প্রবেশ করিয়া যুগান্তানিলসংক্ষুব্ধ অম্ভোনিধির ন্যায় গদাযুদ্ধনিরত বীরদ্বয়কে নিমেষমধ্যে নিরস্ত করিলেন। {{ফাঁক}}তৎপরে দ্রোণাচার্য্য রঙ্গপ্রাঙ্গণে দণ্ডায়মান হইয়া মহামেঘনির্ঘোষ-সদৃশ বাদ্যধ্বনি নিবারণপূর্ব্বক উচ্চৈঃস্বরে কহিলেন, “মদীয় শিষ্য অৰ্জ্জুন আমার পুত্র হইতেও প্রিয়তর, সর্ব্বশাস্ত্রবিশারদ ও উপেন্দ্রতুল্য মহাবীর; হে দর্শকগণ! তোমরা ইহাকে নিরীক্ষণ কর।” তখন অৰ্জ্জুন আচার্য্যের আদেশক্রমে গোধালতার অঙ্গুলিত্রাণ ও কাঞ্চনময় কবচ ধারণপূর্ব্বক ধনুর্ব্বাণ হস্তে রঙ্গস্থলে প্রবেশ করিয়া সূর্য্যসন্নিহিত সন্ধ্যাকালীন মেঘের ন্যায় পরিদৃশ্যমান হইলেন। তন্মুহূর্ত্তে দর্শকগণের চিত্ত প্রফুল্ল হইল, চতুর্দিকে বিবিধ বাদ্যোদ্যম ও শঙ্খধ্বনি হইতে লাগিল। “ইনি শ্ৰীমান কুন্তীনন্দন, ইনি পাণ্ডবদিগের তৃতীয়, ইনিই দেবরাজের পুত্র, ইনিই কৌরবদিগের রক্ষক, ইনি অস্ত্রবিদগণের শ্রেষ্ঠ” এইরূপ প্রশংসাবাদ রঙ্গমধ্যে সর্ব্বত্রই শ্রুত হইতে লাগিল। পুত্রের প্রশংসা শ্রবণ করিয়া পুত্রবৎসলা কুন্তীর উরঃস্থল সবাষ্প স্তন্য দ্বারা সিক্ত হইতে লাগিল। রাজা ধৃতরাষ্ট্র এবং ভীষ্মদ্রোণাদি মহাত্মগণ অৰ্জ্জুনের প্রশংসাবাক্য শ্রবণে আনন্দনীরে অভিষিক্ত হইলেন ৷ {{ফাঁক}}ক্রমে সেই জন-কল্লোল নিবৃত্ত হইলে, মহাবীর অর্জুন স্বকীয় অদ্ভুত অস্ত্রকৌশল প্রদর্শন করিতে আরম্ভ করিলেন। সৰ্ব্বাগ্রে আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা অগ্নি উৎপাদন করিয়া বারুণাস্ত্র প্রয়োগপূর্ব্বক সলিল সৃষ্টি করিলেন। তৎপরে বায়ব্যাস্ত্র দ্বারা বাত্যা উত্থাপিত করিয়া পার্জ্জন্যাস্ত্র দ্বারা নভোমণ্ডলে মেঘ সৃষ্টি করিলেন। ভৌম্যাস্ত্র দ্বারা ভূগর্ভে প্রবেশ করিয়া পার্ব্বতাস্ত্রদ্বারা পর্ব্বত সৃষ্টি করিলেন এবং অন্তর্দ্ধানাস্ত্র দ্বারা অন্তর্হিত হইলেন। অপূর্ব্ব শিক্ষাকৌশলে কখন দীর্ঘবৎ, কখন বা হ্রস্ববৎ প্রতীয়মান হইলেন; কখন রথসম্মুখে, কখন রথমধ্যে অবস্থান করিতে লাগিলেন; আবার অবিলম্বেই ভূতলে অবতীর্ণ হইলেন।<noinclude></noinclude> 0alof0m45p90s23qwykca3uvunj7969 পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/৫৪ 104 882197 1988401 1986999 2026-07-04T09:51:58Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1988401 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৩৯|দ্রোণের দৃঢ়প্রভিজ্ঞতা ও ক্ষমা।}}</noinclude>অনন্তর অৰ্জ্জুন বিবিধ বাণবর্ষণপূর্ব্বক স্থূল ও সূক্ষ্ম লক্ষ্য সকল বিদ্ধ করিতে লাগিলেন। তিনি ভ্রমণশীল লৌহময় বরাহের মুখে এককালে অসঙ্কীর্ণরূপে পঞ্চশর এক শরের ন্যায় নিক্ষেপ করিলেন, তৎপরে কেশময় রজ্জু দ্বারা লম্বিত গোবিষাণকোষে একবিংশতি বাণ বিদ্ধ করিলেন। এইরূপে অসিচর্য্যা, গদাচালনা প্রভৃতিতেও সবিশেষ কৌশল প্রদর্শন করিলেন। দর্শকগণ নিস্পন্দভাবে তাঁহার অস্ত্রপ্রয়োগ-নৈপুণ্য নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। {{ফাঁক}}এইরূপ অদ্ভুত অস্ত্রক্রীড়া অবলোকন করিয়া রঙ্গস্থ অধিকাংশ লোক নিষ্ক্রান্ত এবং বাঘকোলাহল নিস্তব্ধ হইলে, অকস্মাৎ দ্বারদেশে বজ্র-নির্ঘোষসদৃশ বাহ্বাস্ফোটশব্দ শ্রুত হইতে লাগিল। সকলে সবিস্ময়ে দৃষ্টিনিক্ষেপ করিবামাত্র সুবর্ণ কবচ ও কুণ্ডলধারী মহাবল কর্ণ কটিদেশে খড়্গগবন্ধন করিয়া পাদচারী পর্ব্বতের ন্যায় বিস্তীর্ণ রঙ্গস্থলে প্রবেশ করিলেন। অবিলম্বে সেই উন্নতকায় ও সর্ব্বাঙ্গসুন্দর যুবা পুরুষ অনতি প্রসন্নমনে দ্রোণ ও কৃপাচার্য্যকে প্রণাম করিলেন। রঙ্গস্থ লোকেরা তাঁহার সেই অপূর্ব্ব রূপ সন্দর্শনে স্তম্ভিত হইয়া “ইনি কে” ইহা সবিশেষ জানিবার জন্য একান্ত কৌতূহলাক্রান্ত হইলেন। তখন সূতপুত্র কর্ণ অৰ্জ্জুনকে সম্বোধন করিয়া জলদ-গম্ভীরস্বরে কহিলেন, “হে পার্থ! তুমি যেরূপ কর্ম্ম করিয়াছ, সৰ্ব্বসমক্ষে আমিও বিশেষ রূপে সেই সেই কাৰ্য সম্পাদন করিব, তুমি বিস্মিত হইও না।” কর্ণের বাক্যাবসানে দর্শকগণ সহসা যন্ত্রোৎক্ষিপ্তের ন্যায় উত্থিত হইলেন। দুর্য্যোধন ইহাতে পরম প্রীতিলাভ করিলেন এবং অর্জ্জুন লজ্জা ও ক্রোধে অভিভূত হইলেন। তৎপরে দ্রোণের আজ্ঞানুসারে দিব্যাস্ত্রবিদ্ কর্ণ অৰ্জ্জুনের অনুরূপ অস্ত্রক্রীড়া প্রদর্শন করিয়া সমবেত দর্শকমণ্ডলীর বিস্ময়োৎপাদন করিলেন। তখন দুৰ্য্যোধন ভ্রাতৃগণ সমভিব্যাহারে মহাবীর কর্ণকে আলিঙ্গন করিয়া প্রফুল্লমনে ও সাদরবচনে কহিলেন,<noinclude></noinclude> o3jpz4smre3qxqgmjrq6g1zxsogxn4f 1988402 1988401 2026-07-04T09:52:34Z BabulB 2144 1988402 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৩৯|দ্রোণের দৃঢ়প্রভিজ্ঞতা ও ক্ষমা।}}</noinclude>অনন্তর অৰ্জ্জুন বিবিধ বাণবর্ষণপূর্ব্বক স্থূল ও সূক্ষ্ম লক্ষ্য সকল বিদ্ধ করিতে লাগিলেন। তিনি ভ্রমণশীল লৌহময় বরাহের মুখে এককালে অসঙ্কীর্ণরূপে পঞ্চশর এক শরের ন্যায় নিক্ষেপ করিলেন, তৎপরে কেশময় রজ্জু দ্বারা লম্বিত গোবিষাণকোষে একবিংশতি বাণ বিদ্ধ করিলেন। এইরূপে অসিচর্য্যা, গদাচালনা প্রভৃতিতেও সবিশেষ কৌশল প্রদর্শন করিলেন। দর্শকগণ নিস্পন্দভাবে তাঁহার অস্ত্রপ্রয়োগ-নৈপুণ্য নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। {{ফাঁক}}এইরূপ অদ্ভুত অস্ত্রক্রীড়া অবলোকন করিয়া রঙ্গস্থ অধিকাংশ লোক নিষ্ক্রান্ত এবং বাদ্যকোলাহল নিস্তব্ধ হইলে, অকস্মাৎ দ্বারদেশে বজ্র-নির্ঘোষসদৃশ বাহ্বাস্ফোটশব্দ শ্রুত হইতে লাগিল। সকলে সবিস্ময়ে দৃষ্টিনিক্ষেপ করিবামাত্র সুবর্ণ কবচ ও কুণ্ডলধারী মহাবল কর্ণ কটিদেশে খড়্গগবন্ধন করিয়া পাদচারী পর্ব্বতের ন্যায় বিস্তীর্ণ রঙ্গস্থলে প্রবেশ করিলেন। অবিলম্বে সেই উন্নতকায় ও সর্ব্বাঙ্গসুন্দর যুবা পুরুষ অনতি প্রসন্নমনে দ্রোণ ও কৃপাচার্য্যকে প্রণাম করিলেন। রঙ্গস্থ লোকেরা তাঁহার সেই অপূর্ব্ব রূপ সন্দর্শনে স্তম্ভিত হইয়া “ইনি কে” ইহা সবিশেষ জানিবার জন্য একান্ত কৌতূহলাক্রান্ত হইলেন। তখন সূতপুত্র কর্ণ অৰ্জ্জুনকে সম্বোধন করিয়া জলদ-গম্ভীরস্বরে কহিলেন, “হে পার্থ! তুমি যেরূপ কর্ম্ম করিয়াছ, সৰ্ব্বসমক্ষে আমিও বিশেষ রূপে সেই সেই কাৰ্য সম্পাদন করিব, তুমি বিস্মিত হইও না।” কর্ণের বাক্যাবসানে দর্শকগণ সহসা যন্ত্রোৎক্ষিপ্তের ন্যায় উত্থিত হইলেন। দুর্য্যোধন ইহাতে পরম প্রীতিলাভ করিলেন এবং অর্জ্জুন লজ্জা ও ক্রোধে অভিভূত হইলেন। তৎপরে দ্রোণের আজ্ঞানুসারে দিব্যাস্ত্রবিদ্ কর্ণ অৰ্জ্জুনের অনুরূপ অস্ত্রক্রীড়া প্রদর্শন করিয়া সমবেত দর্শকমণ্ডলীর বিস্ময়োৎপাদন করিলেন। তখন দুৰ্য্যোধন ভ্রাতৃগণ সমভিব্যাহারে মহাবীর কর্ণকে আলিঙ্গন করিয়া প্রফুল্লমনে ও সাদরবচনে কহিলেন,<noinclude></noinclude> 5ca7pxi3e0pxqluqlw4m5mvmo4bjxji পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/৫৫ 104 882198 1988403 1987000 2026-07-04T09:57:44Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1988403 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৪০|মহাভারতীয় নীতিকথা।}}</noinclude>“হে মহাবাহো ! আমাদিগের সৌভাগ্যক্রমে তুমি এ স্থলে উপস্থিত হইয়াছ ৷ এক্ষণে স্বেচ্ছানুসারে কুরুরাজ্য উপভোগ কর।” দুর্য্যোধনের বাক্যে উৎসাহিত হইয়া কর্ণ প্রত্যুত্তর করিলেন, “প্রভো! আমি এক্ষণে তোমার সহিত বন্ধুত্ব করিতে এবং অর্জ্জুনের সহিত দ্বন্দ্বযুদ্ধ করিতে বাসনা করি।” তখন দুৰ্য্যোধন কহিলেন, “ভাল, এক্ষণে আমার সহিত বন্ধুত্ব করিয়া বিষয়ভোগ-বাসনা চরিতার্থ কর, পরে বিপক্ষপক্ষের মস্তকে পদার্পণ করিয়া পরম সুখে কালাতিপাত করিও।” দুর্য্যোধনের এইরূপ উদ্ধতবাক্যে উত্তেজিত হইয়া অৰ্জ্জুন কর্ণকে কহিলেন, “রে কর্ণ! যাহারা অনাহূত হইয়া উপদেশ প্রদান করে এবং যাহারা অনাহূত হইয়া বাক্যালাপ করে, তাহারা যে লোকে গমন করে, অ্দ্য তোর প্রাণ সংহার করিয়া তথায় প্রেরণ করিব।” তখন কর্ণ ক্রুদ্ধ হইয়া প্রত্যুত্তর করিলেন, “হে অর্জ্জুন! দেখ, এই রঙ্গভূমি সাধারণের অধিকৃত সুতরাং এ স্থানে তোমার বিশেষ কোন প্রভুত্ব নাই। অভ্যাগত ভূপালগণ সকলেই পরাক্রান্ত এবং ধর্ম ও পরাক্রমের অনুসরণ করিয়া থাকেন। অধিক কি বলিব, যাবৎ আমি গুরুজনসমক্ষে শরদ্বারা তোমার শিরশ্ছেদ না করিতেছি, তাবৎ আর বিফল শরক্ষেপের আবশ্যকতা নাই ৷” {{ফাঁক}}এইরূপে বীরদ্বয়ের বাগযুদ্ধ সমাপ্ত হইলে, অৰ্জ্জুন গুরু দ্রোণের আদেশ ও ভ্রাতৃগণের উপদেশানুসারে সংগ্রামার্থ কর্ণের সন্মুখীন হইলেন। সমরপ্রিয় কর্ণ, দুৰ্য্যোধন ও তদীয় ভ্রাতৃগণের উত্তেজনায়, ধনুর্ব্বাণহস্তে সমরাঙ্গনে অবতীর্ণ হইলেন। যে দিকে কর্ণ, সেই দিকে ধার্ত্তরাষ্ট্রেরা; যে দিকে অৰ্জ্জুন, সেই দিকে দ্রোণ, কৃপ ও ভীষ্ম প্রভৃতি বৃদ্ধগণ অবস্থান করিতে লাগিলেন। এইরূপে রঙ্গস্থ ব্যক্তিগণ দুই ভাগে বিভক্ত হইয়া এক এক পক্ষে পক্ষপাত করিতে লাগিলেন। তখন দ্বন্দ্বযুদ্ধনীতিজ্ঞ কৃপাচার্য্য উভয়কে ধনুর্দ্ধারণ করিতে দেখিয়া<noinclude></noinclude> 5ouulgqsi5z1qq90nmork4qkgd3iquu পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/৫৬ 104 882199 1988404 1987001 2026-07-04T10:04:58Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1988404 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৪১|দ্রোণের দৃঢ়প্রভিজ্ঞতা ও ক্ষমা।}}</noinclude>কর্ণকে কহিলেন, “কুন্তীগর্ভসম্ভূত মহারাজ পাণ্ডুর তৃতীয় পুত্র অর্জ্জুন তোমার সহিত দ্বন্দ্বযুদ্ধ করিবেন। হে বীরবর ! এক্ষণে তুমি আপনার জনকজননীর নামোল্লেখ কর এবং কোন্ কুলে জন্মগ্রহণ করিয়াছ, তাহাও সবিশেষ বর্ণন কর। তোমার পরিচয় প্রাপ্ত হইলে, অৰ্জ্জুন প্রতিদ্বন্দ্বী হইতে পারেন, কারণ, রাজকুমারেরা অজ্ঞাতকুলশীল ব্যক্তির সহিত সংগ্রামে প্রবৃত্ত হন না।” কৃপের তাদৃশ বিহিত বাক্য শ্রবণে কর্ণ লজ্জায় অধোমুখ হইয়া রহিলেন। তদ্দর্শনে দুৰ্য্যোধন দ্রোণকে কহিলেন, “হে আৰ্য ! শাস্ত্রে কথিত আছে, যিনি সৎকুলে সমুদ্ভূত, বীর ও সৈন্যচালনসমর্থ, তাঁহার সহিত রাজকুমারগণ যুদ্ধ করিতে পারেন। তথাপি যদি অর্জ্জুন রাজা ব্যতিরেকে অন্যের সহিত যুদ্ধ না করেন, তবে আমি এই মুহূর্ত্তেই কর্ণকে অঙ্গরাজ্যে অভিষিক্ত করিতেছি।” {{ফাঁক}}অবিলম্বে দুৰ্য্যোধন কর্ণকে কাঞ্চনময় পীঠোপরি সংস্থাপনপূর্ব্বক মন্ত্রবিদ্‌ ব্রাহ্মণগণকে আহ্বান করিয়া লাজ, কুসুম ও সুবর্ণদ্বারা অঙ্গরাজ্যে অভিষিক্ত করিলেন। এইরূপে যথাবিধি অভিষেকক্রিয়া সম্পন্ন হইলে, তাঁহারা পরস্পর সখ্যসূত্রে আবদ্ধ হইয়া পরমানন্দ অনুভব করিতে লাগিলেন। ইত্যবসরে সূত অধিরথ ঘর্মাক্তকলেবরে রঙ্গমধ্যে প্রবেশ করিলেন। মহাবীর কর্ণ পিতাকে নিরীক্ষণ করিয়া শরাসন পরিত্যাগপূর্ব্বক তদীয় গৌরবরক্ষার্থে অভিষেকাদ্রমস্তকে তাঁহাকে প্রণাম করিলেন। পুত্রবৎসল সারথি কর্ণকে পুত্র বলিয়া সম্বোধনপূর্ব্বক আলিঙ্গন করিলেন। তদ্দর্শনে ভীমসেন কর্ণকে সূতপুত্র বিবেচনা করিয়া পরুষবাক্যে উপহাস করিতে লাগিলেন। ভীমের তাদৃশ কটুক্তি শ্রবণে কর্ণের ওষ্ঠাধর ক্রোধে কম্পিত হইতে লাগিল এবং দুর্যোধন সরোষে তদীয় বাক্যের তীব্র প্রতিবাদ করিয়া কর্ণের প্রশংসা করিতে লাগিলেন। ইতিমধ্যে সূর্য্যদেব অস্তাচলে গমন করিলেন। তখন দুর্য্যোধন কর্ণের<noinclude></noinclude> 0lprcfkciw4642foehzb3wzcb6hro99 পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/৬০ 104 882203 1988405 1987005 2026-07-04T10:10:29Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1988405 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৪৫|দ্রোণের দৃঢ়প্রভিজ্ঞতা ও ক্ষমা।}}</noinclude>এক্ষণে তুমি ভাগীরথীর দক্ষিণকূলের অধিপতি হইলে এবং আমিও উত্তরকূলশাসনে প্রবৃত্ত হইলাম। যদি তোমার ইহাতে প্রবৃত্তি হয়, তবে আমার সহিত সখ্যস্থাপন কর।” {{ফাঁক}}দ্রোণের বাক্য-শ্রবণান্তে দ্রুপদ কহিলেন, “হে ব্ৰহ্মন্। প্ৰবল-পরাক্রান্ত মহাত্মা ব্যক্তি যে এরূপ আচরণ করিবেন, ইহা নিতান্ত বিস্ময়কর নহে। আমি মহাশয়ের বাক্যে পরম প্রীত হইলাম, অদ্যাবধি আমি নিত্যকাল আপনার প্রসন্নতালাভের বাসনা করি।” দ্রোণাচার্য্য দ্রুপদবাক্যে তুষ্ট হইয়া তৎক্ষণাৎ তাঁহাকে মুক্ত করিয়া দিলেন এবং প্রসন্নমনে সৎকারপুর্ব্বক তাঁহাকে অপর রাজ্যার্দ্ধও প্রদান করিলেন। {{ফাঁক}}আমরা দ্রোণ-চরিত্রে অপূর্ব্ব তেজস্বিতা ও মধুরতার সমাবেশ দেখিতে পাই। তিনি স্বীয় অসাধারণ অস্ত্রবিদ্যা প্রভাবে গর্ব্বান্ধ ও কটুভাষী দ্রুপদরাজকে পরাস্ত করিয়া যেমন একদিকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞতার পরিচয় দিয়াছেন, তেমনই অন্যদিকে বাল্যসুহৃদের প্রতি অকৃত্রিম স্নেহানুরাগনিবন্ধন ক্ষমাশীলতা প্রদর্শন করিতেও কুণ্ঠিত হন নাই। এইরূপ উজ্জ্বল-মধুর ও ভীম-কান্তের সমন্বয়ই দ্রোণ-চরিত্রের বিশেষত্ব। {{dhr}} {{rule|3em}}<noinclude></noinclude> 1i3rrnwz8t8o5ddnea3d48wjxkhfn0h পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৪৫ 104 882419 1988388 1988331 2026-07-03T19:17:36Z ROCKY 2687 1988388 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" /></noinclude>{{dhr|5em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|কমিউনিজ্‌মের স্বাভাবিকতা}}}} {{ফাঁক}}কমিউনিজ্ম্‌ স্বাভাবিক, না অস্বাভাবিক? মানুষের বাস্তব জীবনের সহিত ইহার কোন সুসঙ্গতি আছে, না-কি এ একটা সম্পূর্ণ আজগৈবী নূতন-কিছু? এইবার আমরা তাহাই আলোচনা করিব। {{ফাঁক}}গভীর ভাবে তলাইয়া দেখিলে দেখা যাইবে, কমিউনিজম্‌কে আমরা একেবারে অস্বাভাবিক বলিতে পারি না। জ্ঞাতসারেই হউক, অজ্ঞাতসারেই হউক, ইহার নীতি ও নির্দেশকে আমরা অনেক ক্ষেত্রে মানিয়া চলি। কমিউনিজমের মূলমন্ত্র হইলঃ ব্যষ্টিকে সমষ্টির মধ্যে বিসর্জ্জন দিয়া সবার মাঝারে একজন হইয়া জীবনকে উপভোগ করা। কমিউনিজম্ আমাদিগকে তাই আত্মকেন্দ্রিক না করিয়া সমাজকেন্দ্রিক করিতে চায়; আমাদের চিন্তা ও কর্ম্মকে অন্তর্মুখীন না করিয়া বহির্মুখীন করিতে চায়। এই নীতি কি আমাদের পারিবারিক, সামাজিক বা নাগরিক জীবনে আমরা অনেক ক্ষেত্রে মানিয়া চলি না? {{ফাঁক}}ধরুন একটা একান্নবর্তী পরিবার। স্বামী, স্ত্রী, দুইটী ছেলে, একটা মেয়ে, একটা চাকর, একটী চাকরাণী। বাপ এবং বড় ছেলে রোজগার করে; ছোট ছেলে এবং মেয়েটা স্কুলে পড়ে। বড় ছেলেটী তাহার যাবতীয় উপার্জ্জন আনিয়া বাপের হাতে দেয়; বাপ কর্ত্তা হইয়া সেই পরিবারকে চালনা করে। প্রতিদিন এক হাঁড়িতেই সকলের জন রান্না হয়; তারপর যার যতটুকু প্রয়োজন, তাই তাহাকে খাইতে দেওয়া হয়। যার যখন কাপড়-জামার দরকার, যার যখন চিকিৎসার দরকার, সমস্তই সেই সাধারণ ভাঙার হইতে যায়। কে কতটাকা রোজগার করে, কে কতটু কাজ করে, সে হিসাব করিয়া বণ্টন করা হয় না; প্রত্যেকের অভাবের প্রতিই সমান দৃষ্টি রাখা হয়। এইখানে বলা যাইতে পারেঃ এই পরিবারে<noinclude></noinclude> py3j78whf9bzvwugxisay18klxbmx58 পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৬০ 104 882429 1988373 1988351 2026-07-03T14:10:31Z Bodhisattwa 2549 1988373 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{rh|৫২|লাল সিংহ।|}}</noinclude>দ্বারে পৌছিল। আর লালসিংহের জননী অপত্যস্নেহ ও কর্ত্তব্যবুদ্ধির প্রতিমূর্ত্তি স্বরূপে দুর্গের পশ্চাদ্বার দিয়া তাঁহাকে ক্রোড়ে লইয়া রজনীর অন্ধকারে ব্যাঘ্র-ভল্লুক-সমাকুল, জঙ্গলাকীর্ণ, দুর্গম পর্ব্বতপথে অন্তর্হিত হইলেন। পর্ব্বতের উপর হইতে সমস্ত রাত্রি নিম্নে বিজয়োন্মত্ত শত্রুগণের ভৈরবনিনাদ তাঁহাদের কর্ণে প্রবেশ করিয়া প্রতিক্ষণে তাঁহাদিগকে আকুল করিয়া তুলিতে লাগিল। বীরপত্নী ও বীর-জননীর তৎকালীন মানসিক অবস্থা বর্ণনা করা সাধ্যায়ত্ত নহে। এইরূপ অবস্থায় মহাকবি হেমচন্দ্র লিখিয়াছেন, {{Block center|<poem>“পতি যোদ্ধা যার, {{ফাঁক|3em}}তাহার অন্তরে ::::কত যে সতত ভয়; জানে সে ক’জন, {{ফাঁক|3em}}ভাবে সে ক’জন, ::::বীরপত্নী কিসে হয়?”</poem>}} {{ফাঁক}}লালসিংহের জননী রমণীর সারধন বীর-স্বামীর মৃত্যুতে তাঁহার কর্ত্তব্যের কঠোরতা সমধিক হৃদয়ঙ্গম করিলেন। তাঁহারা সমস্ত রাত্রি বিজন অরণ্যে পার্ব্বত্যপথ অতিক্রম করিয়া দিবাভাগে কখন লতাগুল্ম-পরিবৃত, গভীর অরণ্যে, কখন বা নির্জন গিরিগুহায় অবস্থান করিতেন। এই প্রকারে, বন্যফলমূলে দেহরক্ষা করিয়া তাঁহারা কয়েক দিন অতিবাহিত করিলেন। প্রবাদ আছে যে কয়েক দিবস পরে কয়েকজন বন্যলোক তাঁহাদিগের সন্ধান অবগত হইরা তাঁহাদিগকে একস্থান হইতে স্থানান্তরে লুক্কায়িত রাখিত; এবং আপনারা অক্লান্ত পরিশ্রমে দিবারাত্রি তীর ও বল্লম হস্তে সদার-রমণী ও তাঁহার শিশুসন্তানের রক্ষার জন্য বদ্ধপরিকর থাকিত সতেরখানির এই সকল বিশ্বস্ত প্রকৃতিপুঞ্জ শত্রুগণ কর্ত্তৃত হৃতসর্ব্বস্ব হইয়াও শত্রুগণকে সর্দ্দার-রমণীর, কি শিশু লাল<noinclude></noinclude> e1h4sn43gv4kafb2qnud69tmwxbzup2 পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৬১ 104 882430 1988374 1988350 2026-07-03T14:10:41Z Bodhisattwa 2549 1988374 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{rh||সপ্তম পরিচ্ছেদ।|৫৩}}</noinclude>সিংহের সন্ধান বলিয়া দেয় নাই। বীর অনার্য্য জাতির মধ্যে এবম্প্রকার প্রভুভক্তি নিতান্ত সুলভ। {{ফাঁক}}বিজয়ী রাজাগণ কয়েক দিন ধরিয়া সতেরখানি লুণ্ঠন ও ত্রিভন সিংহের একমাত্র বংশধরের অনুসন্ধান করিয়া স্ব স্ব রাজ্যে প্রতিনিবৃত্ত হইলেন। তখন লালসিংহের জননী শিশুপুত্রকে লইয়া পর্ব্বতশিখর হইতে সতেরখানির অন্তর্গত সারিগ্রামে অবতীর্ণ হইলেন। ক্রমশঃ সতেরখানির বিশ্বস্ত ও পৃষ্ঠপোষক প্রকৃতিপুঞ্জ লালসিংহের নিরাপদের বৃত্তান্ত অবগত হইয়া তাঁহার দর্শনকামনায় সারিগ্রামে সমবেত হইল; এবং তাহারা শিশুকে আপনাদের সর্দ্দারপদে বরণ করিয়া তাঁহাকে গদিতে অভিষিক্ত করিল। {{ফাঁক}}সতেরখানির তৎকালীন অধিবাসী অধিকাংশ প্রজাই ভূমিজ, সাঁওতাল ও অন্য জাতীয় মুণ্ডা ছিল। তাহারা সকলেই দুর্দ্ধর্ষ, যুদ্ধপ্রিয় ও বলশালী ছিল। যে সকল ব্যাঘ্র-ভল্লুকের সহিত নিয়ত সংগ্রাম করিয়া তাহারা আত্মরক্ষা করিত; শিক্ষা, চরিত্র ও ব্যবহারে তাহারা ঐ সকল বন্যপশুর সহিত তুলনীয় হইবার অযোগ্য ছিল না। বিশেষতঃ তৎকালে সতেরখানি বহির্শত্রুর উপদ্রবে নিরতিশয় উপদ্রুত ছিল। তথাপি প্রকৃতিপুঞ্জ কি জন্য সেই শিশুকে রাজা বলিয়া মানিয়া লইল, তাহা নির্ণয় করা সুকঠিন। বীর জাতির মধ্যে রাজ-ভক্তির দৃষ্টান্ত নিতান্ত সুলভ। সেই রাজ-ভক্তিতে প্রণোদিত হইয়া বন্যগণ হৃতসর্ব্বস্ব হইয়াও পলায়মান সর্দ্দার-পত্নী ও সর্দ্দার-শিশুর রক্ষণে আত্মনিয়োগ করিয়াছিল। বিশেষতঃ খুঁটের প্রধানকে মুণ্ডা ও সাঁওতালগণ দেবতার নিম্নেই আসন প্রদান করিয়া থাকে। যে খাঁড়েপাথরের নেতৃত্বে তাহাদের পূর্ব্বপুরুষগণ সতেরখানিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠালাভ করিতে সমর্থ<noinclude></noinclude> hu03k0wwdbhcb568oyto91lo9ifomk9 পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৪৮ 104 882437 1988361 2026-07-03T13:15:54Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988361 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৩৬|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>{| {{ts|mc|vtt}} |- |(৩) || To each what he can grab:—অর্থাৎ যে যেরূপ ভাবে হাত করিতে পারে, সেইটাই পাইবে। |- |(8) || The plan of the few rich and many poor:—অর্থাৎ অল্পসংখ্যককে বড়লোক হইতে দিয়। বাদবাকী সকলকেই গরীব রাখিতে হইবে। |- |(৫) || To each what he wants:—অর্থাৎ যাহার যেরূপ দরকার, সে তাহাই পাইবে। |- |(৬) || Distibution by Class:—অর্থাৎ শ্রেণী-বিভাগ করিয়া অগ্রে প্রত্যেক শ্রেণীর হার নির্দ্দিষ্ট করিতে হইবে, পরে সেই নির্দ্ধারিত হার অনুযায়ী প্রত্যেককে দিতে হইবে। |- |(৭) || Laissez fair:—অর্থাৎ যেরূপ চলিয়া আসিতেছে, সেইরূপ চলিবে। |- |(৮) || To give everybody an equal share:—অর্থাৎ ছোট-বড় নির্বিশেষে প্রত্যেককে সমান ভাগ দিতে হইবে। |} {{ফাঁক}}এই আটটী নীতির কোনটী গ্রহণযোগ্য, সেই বিচার করা যাউকঃ {{কেন্দ্র|'''(১)'''}} {{ফাঁক}}যে যাহা উপার্জ্জন করে, সে তাহাই পাইবে—এই নীতি শুনিতে ভাল, কিন্তু কাজে লাগানো কঠিন। এই নীতি অনুসারে প্রত্যেককেই খাটিয়া খাইতে হইবে, কারণ যে খাটিবে না, সে কিছুই পাইবে না। ইহা দ্বারা অলসতা দূর হইবে, দেশের কর্ম্মশক্তি বাড়িবে এবং প্রত্যেক লোক স্বাবলম্বী হইতে শিখিবে। কিন্তু মুস্কিল হইতেছে, কে যে কতখানি কাজ করিল, তাহা ঠিক ভাবে বুঝিব কেমন করিয়া? ধরুন একজন গৃহস্থ জন-মজুর খাটাইয়া জমিতে ধান উৎপন্ন করিল। গরু, লাঙ্গল, বীজধান—সবই গৃহস্থের, শুধু পরিশ্রম মঞ্জুরদের। অবশ্য গৃহস্থ নিজেও তত্ত্বাবধান করিতে ভুলে নাই। এখন উৎপন্ন ধান্যের বিতরণ<noinclude></noinclude> 3s1bgxozubbummp1j2auwgnov68sdyv লাল সিংহ/সপ্তম পরিচ্ছেদ 0 882438 1988375 2026-07-03T14:12:11Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf" from=59 to=65 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1988375 wikitext text/x-wiki <pages index="লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf" from=59 to=65 header=1/> eif9taepq6lbdrpr514fkzro0f48hai পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬১ 104 882439 1988377 2026-07-03T15:58:08Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988377 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৫৯|চতুর্থ পরিচ্ছেদ।}}</noinclude>উঠিল; নয়নজলে বক্ষঃস্থল ভাসিয়া যাইতে লাগিল। সীতা সান্ত্বনাবাক্যে লক্ষ্মণকে বলিলেন, বৎস, শোকাবেগসংবরণ করিয়া, ত্বরায় তুমি আর্য্যপুত্ত্রের নিকটে যাও, আর বিলম্ব করিও না। বারংবার, এইরূপ বলিয়া, তিনি লক্ষ্মণকে বিদায় দিবার নিমিত্ত নিরতিশয় ব্যস্ত হইলেন। লক্ষ্মণ, প্রণাম ও প্রদক্ষিণ করিয়া, কৃতাঞ্জলিপুটে সম্মুখে দণ্ডায়মান হইলেন; এবং গলদশ্রু লোচনে, কাতর বচনে বলিতে লাগিলেন, আর্য্যে, আপনি পূর্ব্বাপর দেখিয়া আসিতেছেন, আমি আর্য্যের একান্ত আজ্ঞাবহ; যখন যে আদেশ করেন, দ্বিরুক্তি না করিয়া, তৎক্ষণাৎ তৎপ্রতিপালনে প্রবৃত্ত হই। প্রাণান্তস্বীকার করিয়াও, অগ্রজের আজ্ঞা প্রতিপালন করা অনুজের সর্ব্বপ্রধান ধর্ম্ম। আমি, সেই অনুজধর্ম্মের অনুবর্ত্তী হইয়া, আর্য্যের এই বিষম আজ্ঞার প্রতিপালনে প্রবৃত্ত হইয়াছিলাম। আমি যে পাষাণহৃদয়ের কর্ম্ম করিবার ভারগ্রহণ করিয়াছিলাম, তাহা সম্পন্ন করিলাম। প্রার্থনা এই, আমার উপর আপনকার যে অপরিসীম স্নেহ ও বাৎসল্য আছে, তাহার যেন বৈলক্ষণ্য না হয়। আর, আর্য্যের আদেশ অনুসারে, এরূপ নৃশংস আচরণ করিয়া, আমি যে বিষম অপরাধ করিলাম, কৃপা করিয়া, আমার সেই অপরাধের মার্জ্জনা করিবেন। {{ফাঁক}}লক্ষ্মণকে এইরূপ শোকাভিভূত দেখিয়া, সীতা বলিলেন,<noinclude></noinclude> b417htrrhedl6d6libe0w58zcw9tckc পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬২ 104 882440 1988378 2026-07-03T16:01:42Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988378 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৬০|সীতার বনবাস।}}</noinclude>বৎস, তোমার অপরাধ কি? তুমি কেন অকারণে এত কাতর হইতেছ ও পরিতাপ করিতেছ? তোমার উপর রুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হইবার কথা দূরে থাকুক, আমি কায়মনোবাক্যে, দেবতাদের নিকট, নিয়ত এই প্রার্থনা করিব, যেন জন্মান্তরে তোমার মত গুণের দেবর পাই; তুমি চিরজীবী হও। তুমি, অযোধ্যায় গিয়া, আর্য্যপুত্ত্রের চরণে আমার প্রণাম জানাইবে। ভরত, শত্রুঘ্ন, ও আমার ভগিনীদিগকে স্নেহসম্ভাষণ বলিবে; শ্বশ্রূদেবীরা ভগবান ঋষ্যশৃঙ্গের আশ্রম হইতে প্রত্যাগমন করিলে, তাঁহাদের চরণে আমার সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাত নিবেদিত করিবে। বৎস, তোমায় আর একটি কথা বলিয়া দি। আমি চিরদুঃখিনী, বিধাতা আমার অদৃষ্টে সুখ লিখেন নাই; সুতরাং, আমার যে সর্ব্বনাশ ঘটিল, তাহাতে আমি দুঃখিত নহি। কিন্তু এই করিও, যেন আমার ভগিনীগুলি কষ্ট না পায়। তাহারা আমার নিমিত্ত অত্যন্ত শোকাকুল হইবে; যাহাতে ত্বরায় তাহাদের শোকনিবৃত্তি হয়, সে বিষয়ে তোমরা তিন জনে সতত যত্ন করিও; তাহারা সুখে থাকিলেও অনেক অংশে আমার দুঃখনিবারণ হইবে। তাহাদিগকে বলিবে, আমি আপন অদৃষ্টের ফলভোগ করিতেছি; আমার জন্য, শোকাকুল হইবার ও ক্লেশভোগ করিবার প্রয়োজন নাই। {{ফাঁক}}এই বলিয়া, স্নেহভরে বারংবার আশীর্বাদ করিয়া, সীতা লক্ষ্মণকে প্রস্থান করিতে বলিলেন। লক্ষ্মণ, বাষ্পাকুল লোচনে<noinclude></noinclude> jmxda0hhe3gcr5schsc6szxlt48axt1 পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬৩ 104 882441 1988379 2026-07-03T16:05:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988379 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৬১|চতুর্থ পরিচ্ছেদ।}}</noinclude>ও শোকাকুল বচনে, আর্য্যে, আমার অপরাধমার্জ্জনা করিবেন, অঞ্জলিবদ্ধ পূর্ব্বক এই কথা বলিয়া, পুনরায় প্রণাম ও প্রদক্ষিণ করিয়া, নৌকায় আরোহণ করিলেন। সীতা অবিচলিত নয়নে নিরীক্ষণ করিয়া রহিলেন। নৌকা, অল্প ক্ষণেই, ভাগীরথীর অপর পারে সংলগ্ন হইল। লক্ষ্মণ তীরে উত্তীর্ণ হইলেন; এবং কিয়ৎ ক্ষণ, নিস্পন্দ নয়নে, জানকীরে নিরীক্ষণ করিয়া, অশ্রুবিসর্জন করিতে করিতে, রথে আরোহণ করিলেন। রথ চলিতে আরম্ভ করিল। যত ক্ষণ সীতাকে দেখিতে পাওয়া গেল, লক্ষ্মণ অনিমিষ নয়নে নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন; সীতাও, চিত্রার্পিত প্রায়, রথে দৃষ্টিযোজনা করিয়া রহিলেন। রথ ক্রমে ক্রমে দূরবর্ত্তী হইল। তখন লক্ষ্মণ, আর সীতাকে লক্ষিত করিতে না পারিয়া, হাহাকার ও শিরে করাঘাত করিয়া, রোদন করিতে লাগিলেন। সীতাও, রথ নয়নপথবহির্ভূত হইবামাত্র, যূথবিরহিত কুররীর ন্যায়, উচ্চৈঃ স্বরে ক্রন্দন করিতে আরম্ভ করিলেন। {{ফাঁক}}সীতার ক্রন্দনশব্দ শ্রবণগোচর করিয়া, সন্নিহিত ঋষিকুমারেরা, শব্দ অনুসারে, ক্রন্দনস্থানে উপস্থিত হইলেন; দেখিলেন, এক অসূর্য্যম্পশ্যরূপা কামিনী, হাহাকার ও শিরে করাঘাত করিয়া, অশেষবিধ বিলাপ ও পরিতাপ করিতেছেন। দেখিয়া, তাঁহাদের কোমল হৃদয়ে, যার পর নাই, কারুণ্যরস আবির্ভূত হইল। তাঁহারা, ত্বরিত গমনে বাল্মীকিসমীপে<noinclude></noinclude> 9fhbanmobpwltmiegju5h8eeatmgu64 পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬৪ 104 882442 1988380 2026-07-03T16:07:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988380 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৬২|সীতার বনবাস।}}</noinclude>উপস্থিত হইয়া, বিনয়নম্র বচনে নিবেদন করিলেন, ভগবন্, আমরা, ফল কুসুম কুশ সমিধ আহরণের নিমিত্ত, ভাগীরথী সন্নিহিত অটবীবিভাগে পর্য্যটন করিতেছিলাম; অকস্মাৎ স্ত্রীলোকের আর্ত্তনাদ শুনিতে পাইলাম; এবং ইতস্ততঃ অনুসন্ধান করিয়া, কিয়ৎ ক্ষণ পরে দেখিতে পাইলাম, এক অলৌকিক রূপলাবণ্যে পরিপূর্ণা কামিনী, নিতান্ত অনাথার ন্যায়, একান্ত কাতর হইয়া, উচ্চৈঃ স্বরে রোদন করিতেছেন। তাঁহাকে দেখিলে বোধ হয়, যেন কমলা দেবী ভূমণ্ডলে অবতীর্ণা হইয়াছেন। তিনি কে, কি কারণে রোদন করিতেছেন, কিছুই জানিতে পারিলাম না; কিন্তু, তাঁহার কাতরভাবের অবলোকন ও বিলাপবাক্যের আকর্ণন দ্বারা, আমাদের হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া গেল। আমরা, সাহস করিয়া, তাঁহাকে কোনও কথা জিজ্ঞাসা করিতে পারিলাম না। অবশেষে, আপনাকে সংবাদ দেওয়া উচিত বিবেচনায়, ক্ষণ মাত্র বিলম্ব না করিয়া, আপনকার নিকটে আসিয়াছি। এক্ষণে, যাহা বিহিত বোধ হয়, করুন। {{ফাঁক}}মহর্ষি, ঋষিকুমারদিগের মুখে এই বৃত্তান্ত শুনিয়া, তৎক্ষণাৎ ভাগীরথীতীরে উপস্থিত হইলেন; এবং, সীতার সম্মুখবর্ত্তী হইয়া, সস্নেহ সম্ভাষণ পুরঃসর, প্রশান্ত স্বরে বলিতে লাগিলেন, বৎসে, বিলাপ করিও না; কি কারণে তুমি আমার তপোবনে আসিয়াছ, তোমার আসিবার পূর্ব্বেই, আমি তাহার<noinclude></noinclude> 17ilc5a0w1fztp3yl30p14327gn1hn0 পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬৫ 104 882443 1988381 2026-07-03T16:10:36Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988381 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৬৩|চতুর্থ পরিচ্ছেদ।}}</noinclude>সবিশেষ সমস্ত অবগত হইয়াছি। তুমি মিথিলাধিপতি রাজা জনকের দুহিতা; কোশলাধিপতি মহারাজ দশরথের পুত্রবধূ; এবং রাজাধিরাজ রামচন্দ্রের মহিষী। রামচন্দ্র, অমূলক লোকাপবাদ শ্রবণে, চলচিত্ত ও সদসৎপরিবেদনাবিহীন হইয়া নিতান্ত নিরপরাধে, তোমায় নির্বাসিত করিয়াছেন। সীতা, সান্ত্বনাবাদ শ্রবণে, নয়নের অশ্রুমার্জ্জন করিলেন; এবং, সৌম্যমূর্ত্তি মহর্ষিকে সম্মুখবর্ত্তী দেখিয়া, গললগ্ন বসনে, তদীয় চরণে প্রণাম করিলেন। বাল্মীকি, রঘুকুলতিলক তনয় প্রসব কর, এই আশীর্বাদ করিয়া, বলিলেন, বৎসে, আর এখানে থাকিবার প্রয়োজন নাই, আমার আশ্রমে চল; আমি, আপন তনয়ার ন্যায়, তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করিব। তথায় থাকিয়া, তুমি কোনও বিষয়ে কোনও ক্লেশ পাইবে না। জনপদবাসীরা, বন, এই শব্দ শুনিলে ভয়াকুল হয়; কিন্তু তপোবনে ভয়ের কোনও সম্ভাবনা নাই। ঋষিদের তপস্যার প্রভাবে, হিংস্র জন্তুরাও, স্বভাবসিদ্ধ হিংসাপ্রবৃত্তি দূরীভূত করিয়া, পরস্পর সৌহৃদ্য ভাবে কালহরণ করে। তপোবনের এরূপ মহিমা যে, স্বল্প কাল অবস্থিতি করিলেই, চিত্তের স্থৈর্য্যসম্পাদন হয়। তোমায় আসন্নপ্রসবা দেখিতেছি। প্রসবের পর, অপত্যসংস্কারবিধি যথাবিধি সমাহিত হইবে, কোনও অংশে অঙ্গহীন হইবে না। সমবয়স্কা মুনিকন্যারা তোমার সহচরী হইবেন; তাঁহাদের সহবাসে তোমার বিলক্ষণ<noinclude></noinclude> 4hksgmewho209bd1q7490vzh0he3fj5 পাতা:সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৬৬ 104 882444 1988382 2026-07-03T16:13:25Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988382 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৬৪|সীতার বনবাস।}}</noinclude>চিত্তবিনোদন হইবে। বিশেষতঃ, তোমার পিতা আমার পরম বন্ধু; সুতরাং, আমার তপোবনে থাকিয়া, তোমার পিতৃগৃহবাসের সকল সুখ সম্পন্ন হইবে; আমি, অপত্যনির্বিশেষে, তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করিব। অতএব, বৎসে, আর বিলম্ব করিও না, আমার অনুগামিনী হও। {{ফাঁক}}এই বলিয়া, সীতারে সমভিব্যাহারে লইয়া, মহর্ষি তপোবনে প্রবেশ করিলেন; এবং, সকল বিষয়ের সবিশেষ বলিয়া দিয়া, সমবয়স্কা মুনিকাদের হস্তে সীতার ভারার্পণ করিলেন। মুনিকন্যারা, তদীয়সমাগমলাভে, পরম প্রীতি ও পরিতোষ প্রাপ্ত হইলেন; এবং, যাহাতে ত্বরায় তাঁহার চিত্তের স্থৈর্য্যসম্পাদন হয়, সে বিষয়ে অশেষবিধ যত্ন করিতে লাগিলেন। {{dhr}} {{Custom rule|w|160}}<noinclude></noinclude> gbcd2d1lql804c2pln0vir21s9cnfpl সীতার বনবাস (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯৭)/চতুর্থ পরিচ্ছেদ 0 882445 1988384 2026-07-03T16:56:18Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf" from=43 to=66 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1988384 wikitext text/x-wiki <pages index="সীতার বনবাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf" from=43 to=66 header=1/> g5lqc5ewv6xv2le78nxh8wgk1xh1brg পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৪৯ 104 882446 1988387 2026-07-03T19:12:35Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988387 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৩৭|কমিউনিজ্‌মের স্বাভাবিকতা}}</noinclude>কিরূপ হইবে? কে কতখানি উৎপন্ন করিল, কে বলিয়া দিবে? অথবা মনে করুন, কোন কাপড়ের কলে (mill) কাপড় প্রস্তুত হইতেছে। কাপড় প্রস্তুত হইয়া গেলে সেই কাপড় বিক্রয় করিয়া অনেক টাকা আসিল। এখন সেই টাকার বিতরণ কিরূপে করা যাইবে? কেহ মেশিন চালাইয়াছে, কেহ সূতায় রং দিয়াছে, কেহ সূতা কাটিয়াছে, কেহ তূন। বহন করিয়া আনিয়াছে, কেহ সেই তূলা উৎপন্ন করিয়াছে—ইত্যাদি ভাবে বহু হাত ঘুরিয়া আসিয়া তবে কাপড় তৈরী হইয়াছে। শুধু তাই নয়; মিলের মালিক বহু অর্থ ব্যয় করিয়া বিদেশ হইতে মেশিন ও অন্যান্য সাজ-সরঞ্জাম আনিয়াছে, কারখানা তৈরী করিয়াছে, মেশিন বসাইয়াছে, লোকজন খাটাইয়াছে, তবে না মেশিনটী চালু রহিয়াছে! এখন এই উৎপন্ন আয়ে কার কতটুকু অংশ? কে কম পাইবে, কে বেশী পাইবে? কারো দানই ত তুচ্ছ নয়! কোন্ নীতি অনুসারে অংশ-নির্দ্ধারণ হইবে? সুমীমাংসা করিতে পারিবে না। কেহই এ প্রশ্নের {{ফাঁক}}কেহ হয়ত বলিবেন: সময়ের নিক্তিতে প্রত্যেককে পারিশ্রমিক দিবার ব্যবস্থা করা যায়; অর্থাৎ যে যত সময় কাজ করিবে, তত পরিমাণ দিতে হইবে। ধরুন ঘণ্টা প্রতি প্রত্যেককে এক টাকা করিয়া দেওয়া হইবে সাব্যস্ত হইল। এখন যে ব্যক্তি দুই ঘণ্টা কাজ করিল, তাহাকে দুই টাকা দিলাম, যে আধঘণ্টা কাজ করিল, তাহাকে আট আনা দিলাম। কিন্তু এ নীতিও অচল। সময় দেখিয়া সব কাজের মূল্য নিরূপণ করা যায় না। সব কাজ এক রকম নয়, সব লোকও একরকম নয়। কাজের এবং লোকের তারতম্য আছে। কোন ডাক্তারের বা ২ টাকা ফি, কোন ডাক্তারের বা ১৬ টাকা ফি; কোন ব্যারিষ্টারকে দৈনিক ১৬ টাকা দিলেই তিনি খুশী হন, আবার কোন ব্যারিষ্টারকে দৈনিক ৫০০ টাকা দিয়াও পাওয়া যায় না।<noinclude></noinclude> p8q39s8mkeayivz0vof7zs5dgncrcic পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৫০ 104 882447 1988389 2026-07-03T19:18:27Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988389 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৩৮|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>শ্রমিকদিগের সম্বন্ধেও একথা {{SIC|ঘাটে|খাটে}}। একজন রাজমিস্ত্রী এবং একজন যোগাড়ের একই মূল্য নয়; অথবা সব রাজমিস্ত্রীও সমান যোগ নয়। চাহিদা (demand) এবং সরবরাহ (supply) এর উপরেও মজুরীর তারতম্য ঘটিয়া যায়। যেখানে ডাক্তার কম এবং রোগী ডাক্তারকেও বেশী ভিজিট বেশী সেখানে অনুপযুক্ত আবার যেখানে রোগী কম কিন্তু ডাক্তারকেও কম ভিজিট লইতে হয়। ডাক্তার বেশী, দিতে হয়। সেখানে ভাল আবার একই স্থানে অনেকগুলি অভিজ্ঞ লোক জড় হইলে তাহাদের মূল্য ও কমিয়া যায়। পছন্দ-অপছন্দ ও আচার-ব্যবহারের প্রশ্নও এ সমস্যাকে কম জটিল করিয়া তুলে না। সিনেমাতে যাহারা অভিনয় করে, তাহাদের সকলেরই মূল্য এক নয়। কোন সুন্দরী তরুণী তারকা বয়স্কা কোন অভিজ্ঞ অভিনেত্রী অপেক্ষা ঢের বেশী টাকা পায়। সময়ের উপর তাই আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে না। চব্বিশ ঘণ্টায় কেউ এক টাকা উপার্জ্জন করিতে পারে না, আবার এক ঘণ্টায় কেউ হাজার টাকা উপার্জ্জন করে। {{ফাঁক}}যাহারা কবি, সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক বা দার্শনিক, তাহাদের উৎপন্ন দ্রব্য আবার স্বতন্ত্র ধরণের। সময়ের নিক্তিতে তাহার মূল্য নিরূপণ করা অসম্ভব। {{ফাঁক}}নারীরা সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন করে, ঘর-সংসার করে, তাহাদিগকে ঘণ্টা হিসাবে মূল্য দিতে গেলে একটা বিশ্রী ব্যাপার ঘটে না কি? {{ফাঁক}}বৃদ্ধ, অক্ষম, দুর্ব্বল ও শিশুদের অবস্থাই বা কী হইবে? তাহারা ত’ উপার্জন করিতে অসমর্থ। তাহারা কি তবে কিছুই খাইতে পাইবে না? {{ফাঁক}}এই ধরণের বহু ফ্যাক্‌ড়াই এই নীতিকে অচল করিয়া দেয়।<noinclude></noinclude> e2tv0ym4naonmyg5adp2voyfiyllr74 পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৫১ 104 882448 1988390 2026-07-03T19:26:37Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988390 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৩৯|কমিউনিজ্মে‌র স্বাভাবিকতা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|'''(২)'''}} {{ফাঁক}}যে যেরূপ যোগ্য সেইরূপ পাইবে—এই নীতিও কার্য্যতঃ অচল। আপাততঃ দেখিয়া মনে হয় বটে যে, এই নীতি অনুসারে অর্থ-বণ্টন হওয়াই উচিত; কিন্তু কার্য্যতঃ তাহা হয় না। যাহারা মেধাবী, সচ্চরিত্র, অধ্যবসায়ী, মিতব্যয়ী ও উদ্যমশীল, তাহারা যদি বড়লোক হইত এবং যাহারা অলস, দুশ্চরিত্র, অমিতব্যয়ী বা জুয়াচোর, তাহারা যদি দীন-দরিদ্র হইত, তবে বলিবার কিছুই ছিল না; কিন্তু তাহা হয় কি? অধিকাংশ স্থলেই এই নীতির অমর্য্যাদা দেখিতে পাই না কি? লম্পট ও ঘড়িবাজ লোকেরাই অনেকক্ষেত্রে উন্নতি করিতেছে আর সাধু ব্যক্তিরা পচিয়া মরিতেছে। {{ফাঁক}}যোগ্যতার মাপকাঠি কী হইবে, তাহাও স্থির করা কঠিন। নীতির দিক দিয়া যাহাকে যোগ্য বলা যায়, কর্ম্মের দিক দিয়া হয়ত সে যোগ্য নয়; আবার নীতির দিয়া যে অযোগ্য, রাজনীতির দিক দিয়া সে হয়ত সম্পূর্ণ যোগ্য। কেমন করিয়া তবে যোগ্য-অযোগ্যের বিচার হইবে? কোন্ যোগ্যতাকে আমরা গ্রহণ করিব? নীতির যোগ্যতা, না দুর্নীতির যোগ্যতা? {{ফাঁক}}যোগ্যতার মানদণ্ড যদি নিরূপিতও হয়, তবু এই নীতি অনুসারে ধনবণ্টন করিলে ন্যায্যের মর্যাদা রক্ষা হয় না। ধরুন একটি বড়ঘরের ছেলে আর একটী মজুরের ছেলে। বড় লোকটীর ছেলে এম-এ পাশ করিল, মজুরের ছেলেটী অর্থাভাবে ম্যাট্রিকও পাশ করিতে পারিল না। ইহাদের মধ্যে যোগ্য কে? নিশ্চয়ই বলিবেন এম-এ পাশ ছেলেটি। কিন্তু কেন? যে-ছেলেটী এম-এ পাশ করিল, তার যোগ্যতা কিসে বেশী? আর যে ছেলেটা ম্যাট্রিক পাশ করিতে পারিল না, তার অযোগ্যতাই বা কী? বড়ঘরের ছেলেটা পূর্ব্ব হইতেই উন্নত পরিবেশের মধ্যে লালিত পালিত হইয়া সর্ব্বপ্রকারের সুযোগ ও সুবিধা লাভ<noinclude></noinclude> j6cgve4v7a3lhmmsnlmz4m7blp9b40c পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৫২ 104 882449 1988391 2026-07-03T19:31:52Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988391 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৪০|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>করিয়াছে, কাজেই সে এম-এ পাশ করিতে পারিয়াছে। অনুরূপ সুযোগ ও সুবিধা পাইলে মজুরের ছেলেটাও যে এম-এ পাশ করিতে পারিত না, তাহা কে বলিল? কাজেই যাহারা আজ যোগ্য, বলিয়া বিবেচিত হইতেছে, তাহারা যে সত্যই যোগ্য, আর যাহারা অযোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইতেছে, তাহারা যে সত্যই অযোগ্য, তাহা ত নয়! {{ফাঁক}}তারপর যোগ্যতার ক্রম নির্ধারণ করাও এক দুরূহ ব্যাপার। মেথর, কৃষক, কর্ম্মকার, শিক্ষক, পুরোহিত, মোল্লা, মৌলভী, উকিল, ব্যারিষ্টার, ডাক্তার, সওদাগর, ইঞ্জিনিয়ার—কার চেয়ে কে বড়? কার চেয়ে কে যোগ্য? বলুন ত? কৃষক জমি চাষ করিয়া শস্য উৎপাদন করে, সে লেখাপড়া জানে না; আর জজসাহেব লেখাপড়া জানেন, বিচার করেন; উহাতেই কৃষক অপেক্ষা জজসাহেব কেন বড় হইবেন? কৃষক যেমন লেখাপড়া জানে না, তেমনি জজসাহেবও ত জমি চাষ করিতে জানে না! জজসাহেব কৃষক অপেক্ষা নিজেকে উন্নততর মনে করিতে পারেন, কিন্তু কৃষকের উৎপন্ন ধান্যশস্য না হইলে জজসাহেবের একদিনও চলে না। কৃষক না হইলে সমাজ চলে কি? সেইরূপ মেথর, কুলি, মজুর ইত্যাদি না থাকিলে বড় বড় বাবুদের কী দশা হয়, ভাবুন ত? কাজেই বলিতে হয়, যোগ্যতার কোন ধ্রুব আদর্শ নাই। এক হিসাবে প্রত্যেকেই যোগ্য, প্রত্যেকেরই প্রয়োজন আছে। পরস্পরের আদান-প্রদানের উপরেই আমাদের সমাজ ও সভ্যতা গড়িয়া উঠিয়াছে! এখানে কোন ছোট-বড়র প্রশ্ন নাই। আল্লার চোখে সবাই সমান। {{ফাঁক}}অতএব যোগ্যতার মাপকাঠিতে ধন-বণ্টন সম্ভব নয়। {{কেন্দ্র|'''(৩)'''}} {{ফাঁক}}তৃতীয় উপায়ও (অর্থাৎ যে যেরূপ ভাবে পারে লউক)—গ্রহণযোগ্য নয়। ইহা ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতিরই অনুরূপ। এই নীতিই<noinclude></noinclude> qy384fycb34irlc3fvgoz8f33beona1 পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৫৩ 104 882450 1988392 2026-07-03T19:36:49Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988392 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৪১|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>ত বর্ত্তমান জগতে অনুসৃত হইতেছে এবং ইহার ফলেই ত দুনিয়ায় যত মারামারি, কাটাকাটি, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অশান্তি! ইহারই প্রতিকার কল্পেই ত কমিউনিজমের প্রবর্তন! দুনিয়ার সব লোকই যদি সমান বলবান হইত, অথবা সমান সুবিধা পাইত, তাহা হইলেও না হয় এ নীতি খাটিত। কিন্তু তাহা ত না! স্ত্রী-পুরুষ—সব রকমের মানুষই আছে। এখানে শিশু-বৃদ্ধ, ছোট-বড় কাজেই জোর যার মুলুক তার নীতি চলিলে সবলেরাই প্রবল হইবে, দুর্ব্বল মারা যাইবে। পক্ষান্তরে কাড়াকাড়ির ফলে একটা ভীষণ অরাজকতা ও অশান্তির সৃষ্টি হইবে। {{কেন্দ্র|'''(8)'''}} {{ফাঁক}}চতুর্থ নীতি হইল: সাধারণলোককে কোনরূপে বাঁচাইয়া রাখিয়া তাহাদের উপরে দুই-চারি জনকে বড়লোক হইতে দেওয়া। বর্ত্তমানেও এই নীতি চলিতেছে। মুষ্টিমেয় লোক শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, শিল্পকলায় পারদর্শী হইয়া সকল সুখ-সুবিধা ভোগ করিতেছে, আর অধিকাংশ লোক দুঃখে কষ্টে দিন কাটাইতেছে। মুষ্টিমেয় বড়লোকদেরই জমিদারী, বাড়ী, গাড়ী—সব কিছু। বহুকে বঞ্চিত করিয়া অল্প লোকের এই সুখভোগ আদৌ সমর্থনযোগ্য নয়। ইহাতে দেশের অকল্যাণ হয়। একটা অভিজাত সম্প্রদায় আপনা-আপনি গড়িয়া উঠে; তাহারা হয় ভীষণ আত্মাভিমানী, জনসাধারণকে তাহারা ঘৃণা করিতে শিখে, দেশের নাড়ীর সহিত তাহাদের প্রায়ই যোগ থাকে না। দেশবাসীর অভাব-অভিযোগ তাহারা বুঝে না, আপন স্বার্থের জন্য তাহারা গরীবকে গরীবই রাখিতে চায়, কোনরূপ সুখ-সুবিধা তাহাদিগকে দিতে চায় না, বরং নানাভাবে তাহাদিগকে বঞ্চিত করে। {{ফাঁক}}এইরূপ একশ্রেণীর লোককে বড়লোক হইতে দেওয়া রাজনৈতিক। কারণেও যুক্তিসঙ্গত নয়। যে-কোন বিপ্লবের সময় তাহারই বাধার সৃষ্টি করে এবং অনেক উদ্দেশ্য পণ্ড করিয়া দেয়।<noinclude></noinclude> 80edcjtb4o1dhn3af30acqomzuie2ov পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৫৪ 104 882451 1988393 2026-07-03T19:39:17Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988393 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৪২|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>{{কেন্দ্র|'''(৫)'''}} {{ফাঁক}}পঞ্চম উপায় হইতেছেঃ যাহার যেরূপ অভাব সেইরূপ বণ্টন ব্যবস্থা করা। কিন্তু এখানেও ঐ একই বিভ্রাট। কার কিরূপ অভাব, তাহা কে ঠিক করিয়া দিবে? অভাবের কোন মানদণ্ড নাই। আমার যাহা অভাব, অপরের তাহা বিলাস। আমি সরু চালের ভাত ভালবাসি, কিন্তু একজন কুলি সে-ভাত খাইয়া খুশি হইবে না; সে চায় মোটা ভাত। একই পরিবারে একজন রাত্রে রুটী খায়, একজন ভাত খায়; একজন মিষ্টি চায়, একজন আদৌ চায় না। এইরূপ ভাবের অসংখ্য ব্যক্তিগত অভাব দুনিয়ায় আছে। বাহির হইতে কে সেই অভাবের পরিমাপ করিবে? অভাব অনেকখনি ব্যক্তিগত অনুভূতি, অনেকখানি অন্তরের জিনিস। বাহির হইতে ইহার বরাদ্দ করিতে গেলে কিছুতেই তাহা মিল খাইবে না, একটা গোঁজামিলেরই সৃষ্টি হইবে। কেহ সন্তুষ্ট হইবে, কেহ হইবে না। ফলে যে অশান্তি সেই অশান্তিই রহিয়া যাইবে। {{কেন্দ্র|'''(৬)'''}} {{ফাঁক}}শ্রেণী-বিভাগ করিয়। বণ্টন করিতে গেলেও বিপদ আছে। কুলি, মজুর, কামার, কুমোর, ধোপা, নাপিত, কৃষক, সওদাগর, মোল্লা, মৌলভী, পুরোহিত, শিক্ষক, উকিল, মোক্তার, জজ, ম্যাজিষ্ট্রেট—ইত্যাদি ভাবে না হয় শ্রেণী-নির্ণয় করা গেল। কিন্তু কোন্ শ্রেণীকে কত দেওয়া হইবে—কে তাহা সাব্যস্ত করিবে? কাহার চেয়ে কে বড়? কাহার চেয়ে কে বেশী পাইবে? এ-প্রশ্নের সন্তোষজনক মীমাংসা কিছুতেই হইতে পারে না। তাছাড়া এরূপ ভাবে ভাগ করিতে গেলে সমাজ শতধা বিভক্ত হইয়া যাইবে এবং পরস্পরের মধ্যে দ্বেষ-হিংসা অত্যধিকরূপে বাড়িয়া যাইবে। কাজেই এ প্রথা অগ্রাহ্য।<noinclude></noinclude> meduryv206c8fs52yvi3j4nwansdkdw পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৫৫ 104 882452 1988394 2026-07-03T19:43:45Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988394 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৪৩|কমিউনিজ্মে‌র স্বাভাবিকতা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|'''(৭)'''}} {{ফাঁক}}যেরূপ চলিতেছে, সেইরূপই চলুক—এ নীতিও যুক্তিযুক্ত নয়। ইচ্ছা করিলেই সব সময়ে সব কাজ হয় না। যেরূপ চলিতেছে সেইরূপই চলুক, কিন্তু দুনিয়া আমি ইচ্ছা করিলাম যে সেভাবে চলে না। ঘটনাপ্রবাহ কাহারও কথা মানে না, সে তার নিজের পথ কাটিয়া চলে। কাজেই চুপ করিয়া বসিয়া থাকার নীতি গ্রহণযোগ্য নহে। সময় মত হস্তক্ষেপ করিতে পারিলে কোন ঘটনার মোড় ফিরাইয়া দেওয়া বরং সম্ভব, কিন্তু সুযোগ ছাড়িয়া দিলে স্বভাবের টানে ঘটনা প্রবাহ এমন জটিল আকার ধারণ করে যে, তখন আর কোন-কিছু করা সম্ভব হয় না। জগতের কোন জিনিসই একভাবে পড়িয়া থাকে না, একটা প্রতিক্রিয়া আরম্ভ হয়ই হয়। কাজেই চুপচাপ বসিয়া থাকিলেই যে ঝঞ্ঝাট এড়ান যায়, এমন নয়। ঘরের দাওয়ায় বিড়াল ঘুমাইতেছে দেখিয়া গৃহিনী যদি মনে করেন যে, ও যেমন আছে, তেমনি থাকিবে, একঘণ্টা পরেই আমি ফিরিয়া আসিব,—এই বলিয়া রান্নাঘরের দরজা খুলিয়া রাখিয়াই পাড়া বেড়াইতে যান, তবে তিনি পস্তাইবেন! এক ঘণ্টা পরে ফিরিয়া আসিয়া তিনি দেখিবেন, বিড়ালও ঘুমাইয়া নাই, রান্নাঘরের দুধটুকুও নাই! {{কেন্দ্র|'''(৮)'''}} {{ফাঁক}}উপরে যে সাতটী উপায়ের কথা আলোচনা করা হইল, আমরা দেখিলাম, তাহার একটাও সন্তোষজনক ভাবে ধনবণ্টন-সমস্যার সমাধান করিতে পারে না। একটীমাত্র উপায়ই এখন আমাদের বাকী আছে, সেটী হইতেছে সাম্যবাদ বা কমিউনিজম্। কমিউনিজম্ বলেঃ উপরের কোন নীতিই যখন পুরাপুরি ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, তখন ধন-সম্পদকে সকল মানুষের মধ্যে তুল্যরূপে বিভাগ করিয়া দেওয়াই উচিত। কোনরূপ তারতম্য করা যখন সম্ভবপর নয়, অথবা করিলেও যখন অবিচার দূর<noinclude></noinclude> 33enwo3i1b6sb8n2hkcuqmo9km3xbwv পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৫৬ 104 882453 1988395 2026-07-03T19:45:13Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1988395 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৪৪|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>হয় না, তখন সর্ব্বাপেক্ষা উত্তম ব্যবস্থা হইতেছে প্রত্যেককে সমান অংশ দান করা। ছোট-বড়, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নিধন—সকলেরই অধিকার সমান, কাহারও চেয়ে কেহ বড় নয়, কাহারও চেয়ে কেহ ছোট নয়—এই নীতিই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ। {{ফাঁক}}বলা বাহুল্য, এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও অনেক কিছু বলিবার আছে। আমরা যথাস্থানে সে কথা বলিব। {{rule|5em}} {{nop}}<noinclude></noinclude> 6pim5y0l4konb9f43y8kfbb0kn4nh4b