উইকিসংকলন
bnwikisource
https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.47.0-wmf.10
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিসংকলন
উইকিসংকলন আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
লেখক
লেখক আলাপ
নির্ঘণ্ট
নির্ঘণ্ট আলাপ
পাতা
পাতা আলাপ
প্রবেশদ্বার
প্রবেশদ্বার আলাপ
প্রকাশক
প্রকাশক আলোচনা
রচনা
রচনা আলাপ
অনুবাদ
অনুবাদ আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
টেমপ্লেট:ALL PAGES
10
9621
1989309
1989241
2026-07-10T07:02:30Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1989309
wikitext
text/x-wiki
561553
6djyk5rutrp61ka7m3iot028fbo84zw
আলাপ:গৌড়লেখমালা (প্রথম স্তবক)
1
596584
1989267
1988543
2026-07-09T12:38:06Z
Hrishikes
1618
/* প্রথম শূরপাল */
1989267
wikitext
text/x-wiki
{{বার্ষিক পাঠকসংখ্যা}}
== পাল-বংশলতা ও কীর্তি-বিজ্ঞাপক শ্লোকসমূহ ==
এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু পালযুগের অভিলেখ (তাম্রশাসন ও প্রস্তরলিপি)। পালরাজাদের তাম্রশাসনগুলির প্রথমে রাজাদের বংশ ও কীর্তিজ্ঞাপক একটা বাঁধা ছাঁদের পদ্যাংশ থাকত। বংশানুক্রমে প্রতি রাজার ওপর এক বা একাধিক শ্লোক থাকত। কোন রাজার তাম্রশাসনে প্রথমে আগের রাজাদের শ্লোকগুলির নকল করে তারপর বর্তমান রাজা সম্পর্কে একটা নতুন শ্লোক বসিয়ে দেওয়া হত। এভাবেই বংশানুক্রমে চলত। এই পদ্যাংশ দিয়েই নির্ণীত হয়েছে পাল রাজাদের বংশলতা ও কীর্তিকলাপ। নিচে শব্দগুলির সন্ধিবিচ্ছেদ করে এবং রেফের পর দ্বিত্ব বাদ দিয়ে শ্লোকগুলি দেওয়া হল। বঙ্গানুবাদ গ্রন্থমধ্যে প্রাপ্য।
=== দয়িতবিষ্ণু===
(প্রথম রাজার পিতামহ)
শ্রিয় ইব সুভগায়াঃ সম্ভবো বারিরাশিঃ শশধর ইব ভাসো বিশ্বম্ আহ্লাদয়ন্ত্যাঃ।<br>
প্রকৃতিঃ অবনিপানাং সন্ততেঃ উত্তমায়া অজনি দয়িতবিষ্ণুঃ সর্ববিদ্যা-অবদাতঃ॥ (ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসন)
=== বপ্যট ===
(প্রথম রাজার পিতা)
আসীৎ আ-সাগরাৎ উর্বীং গুর্বীভিঃ কীর্তিভিঃ কৃতী।<br>
মণ্ডয়ন্ খণ্ডিত-অরাতিঃ শ্লাঘ্যঃ শ্রীবপ্যটঃ ততঃ॥ (ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসন)
=== প্রথম গোপাল ===
মাৎস্য-ন্যায়ম্ অপোহিতুং প্রকৃতিভিঃ লক্ষ্ম্যাঃ করং গ্রাহিতঃ শ্রীগোপাল ইতি ক্ষিতীশ-শিরসাং চূড়ামণিঃ তৎসুতঃ।<br>
যস্য অনুক্রিয়তে সনাতন-যশোরাশিঃ দিশাম্ আশয়ে শ্বেতিম্না যদি পৌর্ণমাস-রজনী জ্যোৎস্না-অতিভার-শ্রিয়া॥ (ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসন)
সৌভাগ্যং দধৎ অতুলং শ্রিয়ঃ সপত্ন্যা গোপালঃ পতিঃ অভবৎ বসুন্ধরায়াঃ।<br>
দৃষ্টান্তে সতি কৃতিনাং সুরাজ্ঞি যস্মিন্ শ্রদ্ধেয়াঃ পৃথু-সগরাদয়ঃ অপি অভূবন্॥<br>
বিজিত্য যেন আ-জলধেঃ বসুন্ধরাং বিমোচিতা মোঘ-পরিগ্রহা ইতি।<br>
সবাষ্পম্ উদ্বাষ্প-বিলোচনান্ পুনঃ বনেষু বন্ধূন্ দদৃশুঃ মতঙ্গজাঃ॥<br>
চলৎসু অনন্তেষু বলেষু যস্য বিশ্বম্ভরায়া নিচিতং রজোভিঃ।<br>
পাদ-প্রচার-ক্ষমম্ অন্তরীক্ষং বিহঙ্গমানাং সুচিরং বভূব॥ (দেবপালের মুঙ্গের ও নালন্দা তাম্রশাসন)
নৃপতিঃ ইহ বভূব ধ্বস্ত-দোষান্ধকারো রবিঃ ইব পটু ধাম্নাং ধাম গোপাল নামা।<br>
অগণিত-গুণ-রত্নং যং সমাসাদ্য জাতা (জাতং) হরি-বসতি-সুখেভ্যো দত্ত-তোয়াঞ্জলিঃ শ্রীঃ॥ (মহেন্দ্রপালের জগজ্জীবনপুর তাম্রশাসন)
শ্রীমান্ গোপাল-নামা ধবল-নিজ-যশোধৌত-দিক্চক্রবালঃ ক্ষ্মাপালঃ শেষ-কল্প-প্রবলভুজ-শিলাস্তম্ভ-বিশ্রান্ত-বিশ্বঃ।<br>
আসীদ্ যস্য প্রয়াণে স্ববল-পদভর-উদ্ধূত-ধূলি-নিরোধাৎ উষ্ণাংশুঃ প্রোষিত-উষ্মা শশিরুচিঃ অকরোৎ জাগরূকান্ উলূকান্॥<br>
রাজ্ঞাং প্রণাম-সুহৃদাং মুকুট-অরুণ-অশ্ম-রশ্মিচ্ছটা-পরিচয়-ব্যতিকীর্ণ-বর্ণাঃ।<br>
যস্মাৎ বিনির্মল-নখ-দ্যুতয়ঃ স-বৃন্ত-শেফালিকা-কুসুম-শেখরতাম্ অবাপুঃ॥ (প্রথম শূরপালের মির্জ়াপুর তাম্রশাসন)
মৈত্রীং কারুণ্য-রত্ন-প্রমুদিত-হৃদয়ঃ প্রেয়সীং সন্দধানঃ সম্যক্ সম্বোধি-বিদ্যা-সরিৎ-অমল-জল-ক্ষালিত-অজ্ঞানপঙ্কঃ।<br>
জিত্বা যঃ কামকারি-প্রভবম্ অভিভবং শাশ্বতীং প্রাপ শান্তিং স শ্রীমান্ লোকনাথো জয়তি দশবলঃ অন্যঃ চ গোপালদেবঃ॥ (দ্বিতীয় গোপাল ও পরবর্তী রাজাদের তাম্রশাসন)
=== দেদ্দদেবী ===
(গোপালের স্ত্রী)
শীতাংশোঃ ইব রোহিণী হুতভুজঃ স্বাহা ইব তেজোনিধেঃ শর্বাণী ইব শিবস্য গুহ্যকপতেঃ ভদ্রা ইব ভদ্র-আত্মজা।<br>
পৌলোমী ইব পুরন্দরস্য দয়িতা শ্রীদেদ্দদেবী ইতি অভূৎ দেবী তস্য বিনোদভূঃ মুর-রিপোঃ লক্ষ্মীঃ ইব ক্ষ্মা-পতেঃ॥ (ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসন)
=== ধর্মপাল ===
তাভ্যাং শ্রীধর্মপালঃ সমজনি সুজন-স্তূয়মান-অবদানঃ স্বামী ভূমীপতীনাম্ অখিল-বসুমতী-মণ্ডলং শাসদেকঃ।<br>
চত্বারঃ তীরমজ্জৎ-করিগণ-চরণ-ন্যস্তমুদ্রাঃ সমুদ্রা যাত্রাং যস্য ক্ষমন্তে ন ভুবন-পরিখা বিশ্বগাথা-জিগীষোঃ॥<br>
যস্মিন্ উদ্দাম-লীলা-চলিত-বলভরে দিগ্-জয়ায় প্রবৃত্তে যান্ত্যাম্ বিশ্বম্ভরায়াং চলিত-গিরি-তিরশ্চীনতাং তদ্-বশেন।<br>
ভার-অভুগ্ন-অবমজ্জন্-মণি-বিধুর-শিরঃ-চক্র-সাহায়কার্থং শেষেণ উদস্ত-দোষ্ণা ত্বরিততরম্ অধো-ধস্তম্ ইব অনুযাতম্॥<br>
যৎ-প্রস্থানে প্রচলিত-বল-আস্ফালনাৎ উল্ললদ্ভিঃ ধূলীপূরৈঃ পিহিত-সকল-ব্যোমভিঃ ভূতধাত্র্যাঃ।<br>
সংপ্রাপ্তায়াঃ পরম-তনুতাং চক্রবালং ফণানাং মগ্ন-উন্মীলন্-মণি ফণিপতেঃ লাঘবৎ উল্ললাস॥<br>
বিরুদ্ধ-বিষয়-ক্ষোভাৎ যস্য কোপ-অগ্নিঃ ঔর্ববৎ।<br>
অনির্বৃত্তি প্রজজ্বাল চতুঃ-অম্ভোধি-বারিতঃ॥<br>
যে অভূবন্ পৃথু-রামরাঘব-নল-প্রায়া ধরিত্রী-ভুজঃ তান্ একত্র দিদৃক্ষুণ্ ইব নিচিতান্ সর্বান্ সমং বেধসা।<br>
ধ্বস্ত-অশেষ-নরেন্দ্র-মানমহিমা শ্রীধর্মপালঃ কলৌ লোল-শ্রীকরিণী-নিবন্ধন-মহাস্তম্ভঃ সমুত্তম্ভিতঃ॥<br>
যাসাং নাসীর-ধূলী-ধবল-দশদিশাং দ্রাগ্-অপশ্যন্-ইয়ত্তাং ধত্তে মান্ধাতৃ-সৈন্য-ব্যতিকর-চকিতো ধ্যান-তন্দ্রীম্ মহেন্দ্রঃ।<br>
তাসাম্ অপি আহব-ইচ্ছা-পুলকিত-বপুষাং বাহিনীনাং বিধাতুং সাহায্যং যস্য বাহ্বোঃ নিখিল-রিপুকুল-ধ্বংসিনোঃ ন অবকাশঃ॥<br>
ভোজৈঃ মৎস্যৈঃ স-মদ্রৈঃ কুরু-যদু-যবন-অবন্তি-গন্ধার-কীরৈঃ ভূপৈঃ ব্যালোল-মৌলি-প্রণতি-পরিণতৈঃ সাধু-সঙ্গীর্যমাণঃ।<br>
হৃষ্যৎ-পঞ্চাল-বৃদ্ধ-উদ্ধৃত-কনকময়-স্ব-অভিষেক-উদকুম্ভো দত্তঃ শ্রীকন্যকুব্জঃ সললিত-চলিত-ভ্রূলতা-লক্ষ্ম যেন॥<br>
গোপৈঃ সীম্নি বনেচরৈঃ বনভুবি গ্রাম-উপকণ্ঠে জনৈঃ ক্রীড়দ্ভিঃ প্রতি-চত্বরং শিশুগণৈঃ প্রত্যাপণং মানপৈঃ।<br>
লীলা-বেশ্মনি পঞ্জর-উদর-শুকৈঃ উদ্গীতম্ আত্ম-স্তবং যস্য আকর্ণয়তঃ ত্রপা-বিবলিত-আনম্রং সদা এব আননং॥ (ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসন)
শাস্ত্রার্থভাজা চলতঃ অনুশাস্য বর্ণান্ প্রতিষ্ঠাপয়তা স্বধর্মে।<br>
শ্রীধর্মপালেন সুতেন সঃ অভূৎ স্বর্গস্থিতানাম্ অনৃণঃ পিতৄণাম্॥<br>
অচলৈঃ ইব জঙ্গমৈঃ যদীয়ৈঃ বিচলদ্ভিঃ দ্বিরদৈঃ কদর্থ্যমানা।<br>
নিরুপপ্লবম্ অম্বরং প্রপেদে শরণং রেণুনিভেন ভূতধাত্রী॥<br>
কেদারে বিধিনা-উপযুক্ত-পয়সাং গঙ্গা-সমেত-অম্বুধৌ গোকর্ণ-আদিষু চ অপি অনুষ্ঠিতবতাং তীর্থেষু ধর্ম্যাঃ ক্রিয়াঃ। [নালন্দা শাসনে ''সমেতেঃ'' আছে।]<br>
ভৃত্যানাং সুখম্ এব যস্য সকলান্ উদ্ধৃত্য দুষ্টান্ ইমান্ লোকান্ সাধয়তঃ অনুষঙ্গ-জনিতা সিদ্ধিঃ পরত্র অপি অভূৎ॥<br>
তৈঃ তৈঃ দিগ্বিজয়-অবসান-সময়ে সম্প্রেষিতানাং পরৈঃ সৎকারৈঃ অপনীয় খেদম্ অখিলং স্বাং স্বাং গতানাং ভুবম্।<br>
কৃত্যম্ ভাবয়তাং যদীয়ম্ উচিতং প্রীত্যা নৃপাণাম্ অভূৎ স-উৎকণ্ঠং হৃদয়ং দিবঃ চ্যুতবতাং জাতিস্মরাণাম্ ইব॥ (দেবপালের মুঙ্গের ও নালন্দা তাম্রশাসন)
অতি-উদ্ধত-দ্বিষদ্-অনীক-জয়-অর্জিত-শ্রীঃ শ্রীধর্মপাল-ইতি তস্য সুতো বভূব।<br>
প্রক্ষালিতানি কলি-সন্তমঃ আবিলানি যস্য ইন্দুনা-ইব-যশসা ককুভাম্ মুখানি॥<br>
দুর্বারান্ দ্বিষতো বিজিত্য সমরে তান্ ইন্দ্ররাজ-আদিকান্ সিন্ধূনাম্ অধিপম্ প্রমথ্য রভসাদ্ উন্মীলিতং ক্ষ্মা-ভৃতা।<br>
দত্তা যেন মহী মহোদয়বতী বিক্রান্তি-ভাজো নিজা নির্ব্যাজ-আনতি বামনায় বলিনা চক্রায়ুধ-অর্থিনে॥<br>
রেণূন্ যস্য অঙ্গণেভ্যো হত-রিপু-মহিষী-শ্বাস-বাতা হরন্তি সিঞ্চন্তি এতানি মাদ্যৎ-করি-করট-গলদ্-দান-তোয়প্রবাহাঃ।<br>
রাজ্ঞাং সেবাপরাণাম্ প্রণত-নিজ-শিরোরত্ন-পুষ্প-প্রতানৈঃ দৌর্দর্প-আনীত-লক্ষ্মী-কর-কমল-ধৃতঃ পূজিতঃ পাদপদ্মঃ॥ (মহেন্দ্রপালের জগজ্জীবনপুর তাম্রশাসন)
লক্ষ্মী-জন্মনিকেতনং স-মকরো বোঢ়ুং ক্ষমঃ ক্ষ্মাভরং পক্ষচ্ছেদভয়াৎ উপস্থিতবতাম্ একাশ্রয়ো ভূভৃতাম্।<br>
মর্যাদা-পরিপালন-একনিরতঃ শৌর্যালয়ঃ অস্মাৎ অভূৎ দুগ্ধ-অম্ভোধি-বিলাস-হাস-মহিমা শ্রীধর্মপালো নৃপঃ॥ (প্রথম শূরপাল ও পরবর্তী রাজাদের তাম্রশাসন) (প্রথম শূরপালের মির্জ়াপুর শাসনে ''অস্মাৎ'' নেই; এবং ''দুগ্ধ''-স্থলে ''সুতঃ তস্য'' আছে)<br>
সদ্-ধর্মঃ অয়ম্ ইতি ক্বচিৎ ক্বচিৎ অয়ং ধর্মঃ খরারেঃ ইতি শম্ভোঃ ধর্ম ইতি ক্বচিৎ ক্বচিৎ অয়ং ধর্মঃ মুরারেঃ ইতি।<br>
প্রব্রজ্যা-প্রতিপন্নম্ অপি অনুদিনং যন্-নাম-বর্ণ-শ্রুতৈঃ প্রৌঢ়-আরতি-কদম্বকম্ ভয়-চলৎ-চেতঃ ন লেভে ধৃতিম্॥<br>
অম্ভোধীনাং প্রকৃতি-ধবলা ফেনরাজিঃ চতুর্ণাং শত্রু-স্ত্রীণাং বদন-কমল প্লোষ-নীহার-বৃষ্টিঃ।<br>
পাতালান্তর-দ্বিগুণিত-ফণি-গ্রামণী-কায়কান্তিঃ কীর্তিঃ যস্য প্রসরতি জগৎ-পঞ্জরে রাজহংসী॥<br>
কালঃ অস্মিন্ গমিতো জরা স্মর-জিতা বাণো গণঃ অস্মিন্ কৃতো বিষ্ণুঃ কংসম্ ইহ অবধিং নিহতবান্ ভীমঃ অত্র দুঃশাসনম্।<br>
রামঃ সেতুম্ ইহ অকরোৎ ইতি জয়ং আশাঃ পরাক্রম্য যঃ সূত-শ্রাবিত-সৎকথায়তি-করো দেশান্ অপশ্যৎ বভূন্॥<br>
যে স্বীকুর্বন্তি শৌরেঃ শ্বসিত-পরিমলং যোগনিদ্রা-শয়ালোঃ যৈঃ চক্রে চণ্ড-বেলা-বলন-কলকলঃ কন্দরে মন্দরাদ্রেঃ।<br>
যে-ভূবন্ স্ফার-লক্ষ্মী-নয়ন-কুবলয়-স্রগ্বিণঃ তে তরঙ্গাঃ ক্ষীর-অব্ধেঃ যাচমানাঃ শ্রমজলম্ অপিবন্ স্বা নীলৈঃ শীকর-আর্দ্রৈঃ॥ (প্রথম শূরপালের মির্জ়াপুর তাম্রশাসন)<br>
যৈঃ গ্রামৈঃ স-কুশস্থল-প্রভৃতিভিঃ সন্ধিং যযাচে হরিঃ গান্ধার্যাঃ তনয়ো জহৌ সুখম্ অসূন্ ভ্রাতৄন্ নতান্ নামকান্।<br>
নির্জিত্য আহব-শালিনা প্রণয়িনো নপ্তুঃ যশোবর্মণঃ তে গ্রামা রিপু-ঘস্মরেণ হসতা যেন প্রসাদী-কৃতাঃ॥ (দ্বিতীয় গোপালের তিনটি তাম্রশাসন)<br>
জিত্বা ইন্দ্ররাজ-প্রভৃতীন্ অরাতীন্ উপার্জিতা যেন মহোদয়-শ্রীঃ।<br>
দত্তা পুনঃ সা বলিনা অর্থয়িত্রে চক্রায়ুধায় আনতি-বামনায়॥ (নারায়ণপালের ভাগলপুর ও রাজ্যপালের ভারত কলাভবন তাম্রশাসন)
=== রণ্ণাদেবী ===
(ধর্মপালের স্ত্রী)
শ্রীপরবলস্য দুহিতুঃ ক্ষিতিপতিনা রাষ্ট্রকূট-তিলকস্য।<br>
রণ্ণাদেব্যাঃ পাণিঃ জগৃহে গৃহ-মেধিনা তেন॥<br>
ধৃত-তনুঃ ইয়ং লক্ষ্মীঃ সাক্ষাৎ ক্ষিতিঃ নু শরীরিণী কিম্ অবনিপতেঃ কীর্তিঃ মূর্তাঃ অথবা গৃহদেবতা।<br>
ইতি বিদধতী শুচী-আচারা বিতর্কবতীঃ প্রজাঃ প্রকৃতি-গুরুভিঃ যা শুদ্ধ-অন্তং গুণৈঃ অকরোদ্ অধঃ॥ (দেবপালের মুঙ্গের ও নালন্দা তাম্রশাসন)
=== দেবপাল ===
শ্লাঘ্যা পতিব্রতা আসৌ মুক্তা-রত্নং সমুদ্র-শুক্তিঃ ইব।<br>
শ্রীদেবপালদেবং প্রসন্ন-বৃত্তং সুতম্ অসূত॥ [নালন্দা শাসনে বৃত্তং-স্থলে ''বক্ত্রং'' আছে।]<br>
নির্মলো মনসি বাচি সংযতঃ কায়-কর্মণি চ যঃ স্থিতঃ শুচৌ।<br>
রাজ্যম্ আপ নিরুপপ্লবং পিতুঃ বোধিসত্ত্ব ইব সৌগতং পদম্॥<br>
ভ্রাম্যদ্ভিঃ বিজয়-ক্রমেণ করিভিঃ তাম্ এব বিন্ধ্য-অটবীম্ উদ্দাম-প্লবমান-বাষ্পপয়সো দৃষ্টাঃ পুনঃ বান্ধবাঃ।<br>
কম্বোজেষু চ যস্য বাজি-যুবভিঃ ধ্বস্ত-অন্য-রাজ-ওজসো হেষামিশ্রিত-হারি-হেষিত-রবাঃ কান্তাঃ চিরং বীক্ষিতাঃ॥ [নালন্দা শাসনে ''বীক্ষিতাঃ''-স্থলে ''প্রীণিতাঃ'' আছে।]<br>
যঃ পূর্বং বলিনা কৃতঃ কৃত-যুগে যেন অগমৎ ভার্গবঃ ত্রেতায়াং প্রহতঃ প্রিয়-প্রণয়িনা কর্ণেন যো দ্বাপরে।<br>
বিচ্ছিন্নঃ কলিনা শক-দ্বিষি গতে কালেন লোক-অন্তরং যেন ত্যাগপথঃ স এব হি পুনঃ বিস্পষ্টম্ উন্মীলিতঃ॥ [নালন্দা শাসনে ''এব'' নেই।]<br>
আ-গঙ্গা-আগম-মহিতাৎ সপত্ন-শূন্যাম্ আ-সেতু-প্রথিত-দশস্য-কেতু-কীর্তেঃ।<br>
উর্বীম্ আ-বরুণ-নিকেতনাৎ চ সিন্ধোঃ আ-লক্ষ্মী-কুল-ভবনাৎ চ যো বুভোজ॥ (দেবপালের মুঙ্গের ও নালন্দা তাম্রশাসন)
নীতেঃ বিলাস-ভবনম্ প্রিয়-বিক্রমায়ঃ শ্রীদেবপাল-ইতি তৎ-তনয়ো বভূব।<br>
যঃ কৌতুকাদ্ ইব জগৎ-পদবীন্ দিদৃক্ষুঃ চংক্রম্যতে স্ম ভবন-অঙ্গণ-লীলয়া ইব॥<br>
দণ্ড-উপনীত-কনকৈঃ বসুধা-অধিপানাং রাজা মহাসমর-নাটক-সূত্রধারঃ।<br>
যো নির্মিত সুগত-সদ্ম গৃহং চ গৌর্যা যৎকৌতুকং চ তিলকং চ জগৎ-ত্রয়ে অপি॥<br>
দুর্বার-অস্ত্র-নিপাত-ভীষণ-রণাৎ সন্নাহ-লব্ধ-উদয়ং সাক্ষীকৃত্য বিভাবসুং রণশিরোবেদী-মহামণ্ডপে।<br>
খড়্গ-আবর্জিত-বৈরি-বারণ-সটা-কুম্ভ-আসৃগ্-অম্ভঃ প্লুতো যো জগ্রাহ করং ক্ষিতীশ্বর-বরো নিঃশেষ-ভূভৃদ্-ভুবাম্॥<br>
যং যোধয়ামাসুঃ অরাতয়ঃ তে যেষাং রিরংসা সুর-সুন্দরীভিঃ।<br>
তথা বিবস্বদ্-ভ্রমণ-অবধীনি যৈঃ ক্রেতুং ইষ্টানি অসুভিঃ যশাংসি॥<br>
ধর্মস্য প্রসবেন যেন বিপুলাম্ ভূতিং চিরম্ বিভ্রতা ভ্রূ-লীলা-হৃত-কামরূপ-বিভবেন-আরোহৎ আদ্যম্ ভূষম্।<br>
দুর্গায়াঃ চ হিমালয়-অচল-ভুবঃ শ্লাঘ্যং করং গৃহ্নতা সম্যক্-স্বম্ পরমেশ্বরত্বম্ অপরং দেবেন সন্দর্শিতম্॥ (মহেন্দ্রপালের জগজ্জীবনপুর তাম্রশাসন)
প্রেয়ঃ সত্যম্ অনন্ত-ভোগ-নিলয়ং গোপাল-ধর্ম-ক্রম-প্রাপ্ত-অঙ্গাম্ পরিপালয়ন্তম্ অজিতং স প্রাপ লক্ষ্মীপতি।<br>
শ্রীমৎ-পাদনখ-ইন্দু-দীধিতি-ভর-উদৎ-বৎ-নিমগ্ন-অখিল-ক্ষোণীভৃৎ মুকুটান্ত-পত্র-মকরং শ্রীদেবপালং সুতম্॥ (প্রথম শূরপাল ও দ্বিতীয় গোপালের তাম্রশাসন)
আ-রেবা-জনকাৎ মতঙ্গজ-মদ-স্তিম্যৎ শিলা-সংহতেঃ আ-গৌরী-পিতুঃ ঈশ্বরেন্দু-কিরণৈঃ পুষ্যৎ সিতিম্নো গিরেঃ।<br>
মার্তণ্ড-অস্তময়-উদয়ারুণ-জলাৎ আ-বারিরাশিদ্বয়াৎ নীত্যা যস্য ভুবং চকার করদাং শ্রীদেবপালো নৃপঃ॥<br>
মাদ্যৎ নানা-গজেন্দ্র-স্রবৎ-অনবরত-উদ্দাম-দান-প্রবাহ-উন্মৃষ্ট-ক্ষোণী-বিসর্পি-প্রবল-ঘনরজঃ-সম্বৃত-আশা-অবকাশম্।<br>
দিক্চক্র-আয়াত-ভূভৃৎ-পরিকর-বিসরৎ বাহিনী-দুর্বিলোকঃ তস্থৌ শ্রীদেবপালো নৃপতিঃ অবসর-অপেক্ষয়া দ্বারি যস্য॥ (গুরবমিশ্রের বাদাল স্তম্ভলিপি)
=== মাহটাদেবী ===
(দেবপালের স্ত্রী)
স চাহমান-অন্বয়-বারিধি-ইন্দোঃ সাধ্বীং সুতাং দুর্লভরাজ-নাম্নঃ।<br>
শ্রীমাহটাং ধর্মপরাং নরেন্দ্রঃ ত্রৈতীম্ ইব ঊঢ় সুলক্ষণ-অঙ্গীম্॥ (মহেন্দ্রপালের জগজ্জীবনপুর তাম্রশাসন)
=== মহেন্দ্রপাল ===
সা দেবকী ইব নরদেব-সহস্র-বন্দ্যং সৌকর্যতো বসুমতী-ভরম্ উদ্বহন্তম্।<br>
লক্ষ্ম্যাঃ স্বয়ম্বরপতিং পুরুষোত্তমং চ দেবং সুতোত্তমং অসূত মহেন্দ্রপালম্॥<br>
যস্য আশা-বিজয়-প্রয়াণ-রজসাং সান্দ্রে সমুৎসর্পতি ব্যূহে নির্ভর-পূরিত-অম্বরতয়া সম্পাদিত-উর্বী-দ্রুমে।<br>
স্পৃষ্টে পাদতলৈঃ অকাণ্ড-পতন-আশঙ্কা-চমৎকারিণো বিদ্যাম্ উৎপতন-একহেতুম্ অজয়ং বিদ্যাধরাণাং গণাঃ॥<br>
আ-প্রালেয়-গিরেঃ বৃষাঙ্ক-বৃষভ-ক্ষুণ্ণাগ্র-রত্নস্থলাদ্ আসিন্ধোঃ দশকন্ধরারি-বিশিখ-ব্যালোড়িত-অন্তর্জলাৎ।<br>
আ-পূর্বাপর-দিঙ্মুখ-একতিলকাৎ শৈল-দ্বয়াৎ ভূভুজো নির্ব্যাজং নিপতন্তি যস্য চরণে দূরান্তরৈঃ মৌলিভিঃ॥<br>
খড়্গ-উৎখাত-মহেভ-কুম্ভ-বিগলৎ-কীলাল-ধারাজলে জাতো বৈরি-বধূ-বিলোচন-বমদ্-বাষ্পাম্বুভিঃ বর্ধিতঃ।<br>
সন্তীর্যা অধিপতীন্ অপাং প্রতিদিশং যাতঃ সহস্রৈঃ মুখৈঃ চিত্রং [পাব]কহরণৈঃ বিলাসিতো যস্য প্রতাপ-অনলাঃ॥<br>
ত্বং সর্বদা নৃপতি-চন্দ্র-জয়-শ্রিয়ার্থী স্বপ্নে অপি ন প্রণয়িণী ভবতো অহম্ আসম্।<br>
ইথম্ ভিয়া কুপিতয়া ইব রিপূন্ ভজন্ত্যা ব্যাজৃম্ভিরে সমর-কেলি-সুখানি যস্য॥ (মহেন্দ্রপালের জগজ্জীবনপুর তাম্রশাসন)
দত্ত্বা অপি অনল্পম্ উড়ুপচ্ছবিপীঠম্ অগ্রে যস্য আসনং নরপতিঃ সুররাজকল্পঃ।<br>
নানা-নরেন্দ্র-মুকুটাঙ্কিত-পাদপাংসুঃ সিংহাসনং সচকিতঃ স্বয়ম্ আসসাদ॥<br>
উৎকীলিত-উৎকলকুলং হৃত-হূণগর্বং খর্বীকৃত-দ্রবিড়-গুর্জরনাথ-দর্পম্।<br>
ভূপীঠম্ অব্ধিম্ অশনাভরণং বুভোজ গৌড়েশ্বরঃ চিরম্ উপাস্য ধিয়ং যদীয়াম্॥ (গুরবমিশ্রের বাদাল স্তম্ভলিপি)
=== প্রথম শূরপাল ===
<poem>পুত্রঃ তাভ্যাং (দেবপাল ও মাহটা) শিবাভ্যাম্ ইব জগতি গতঃ স্বামিভাবাৎ-প্রতিষ্ঠাম্-উর্বীভৃদ্-গর্ব-খর্বীকরণ-পটুতরাং শক্তিম্ উগ্রান্ দধানঃ।
দেবানাং ভীতিভাজাম্-অভয়-বিতরণ-এক-অধ্বর-প্রাপ্ত-দীক্ষো দেবঃ শ্রীশূরপালঃ কিম্-অপরম্-অপরঃ-অভূন্-মহাসেন এব॥
মায়া-মূল-গৃহং পুরাণ-পুরুষং ক্রোড়-আননং বামনং নিত্য-উদীর্ণ-গদং বিনায়ক-যুতং দিব্যাঙ্গনা-আলোকিতম্।
পশ্যন্ত্যা বহু স-ঈর্ষয়মেব হি হরিং ত্যক্ত্বা বিরাগাদিব শ্রীমদ্-যৌবন-রূপ-সদ্গুণ-তৃষা দেব্যা শ্রীয়াঃ-আশ্লেষিতঃ॥
প্রস্থানে যস্য সেনা-ভর-বিধুর-ধরা-ভার-নির্ভুগ্ণ-ভোগ-শ্রাম্যৎ-শেষাহি-মুক্তা বিষ-শিখি-পরুষ-শ্বাস-ধূমচ্ছটেব।
উদ্গচ্ছন্তী সমন্তাদ্-বহল-বিল-পথৈঃ ব্যাপ দিক্-চক্রবালং তৎ-কাল-উন্মীলিত-অশ্মা জরঠ-ভর-খরা ধূসরা ধূলিলেখা॥
যস্য নিস্ত্রিংশ-পানীয়ে নীলোৎপল-বনোজ্জ্বলে।
নিমজ্য রাজহংসানাম্ উন্মমজ্জ পুনঃ কুলম্॥
প্রালেয়াংশোঃ প্রশমিত-মৃগ-শ্যামিকৈঃ আনয়দ্ভিঃ লক্ষ্মীং ক্ষীরোদধি-হিমবতোঃ শেষ-সিন্ধু-ক্ষিতি-ধরাঃ।
নাগো মূর্ধ-প্রতত-পলিত-ভ্রান্তিভিঃ যদ্-যশোভিঃ প্রাগ্-ভূপানাং বত মণিনিভাঃ কীর্তয়ঃ কুন্দভাসঃ॥
অন্তর্ব্যোম-সমুদ্রম্-ঔর্ব-শিখিনঃ কাষ্ঠাং সমারোধতা যস্য ব্যাপ্ত-দিশা দ্বিষন্ নৃপতয়ঃ তপ্তাঃ প্রতাপোষ্মনা।
ভেজুঃ সান্দ্র-সুগন্ধি-চন্দন-বনচ্ছায়া-পথ-শ্যামলান্ উৎসঙ্গান্ মলয়স্য সন্তত-হিমান্ প্রালেয়-শৈলস্য চ॥
যস্য অসি-কৃত্ত-রিপু-কুঞ্জর-কুম্ভ-পীঠ-নিষ্ঠ্যূত-মৌক্তিক-সটাঃ সমরে বিরেজুঃ।
লাজা ইব অখিল-জগজ্জয়িনো জয়শ্রী পাণিগ্রহ-প্রকরণ-অবসরে বিকীর্ণাঃ॥ (মির্জ়াপুর তাম্রশাসন)</poem>
শ্রীমৎ-সংগ্রাম-তরেণ কৃতঃ সুকৃত-কর্মণি।<br>
সৌমিত্রিঃ ইব রামেণ শূরপালো অত্র দূতকঃ॥ (মহেন্দ্রপালের জগজ্জীবনপুর তাম্রশাসন)
পুত্রঃ তস্মাৎ বৃষাঙ্কাৎ ইব জগতি গতঃ স্বামিভাবাৎ প্রতিষ্ঠাম্ উর্বীভৃৎ গর্ব-খর্বীকরণ-পটুতরাং শক্তিম্ উগ্রান্ দধানঃ।<br>
দেবানাং ভীতিভাজাম্ অভয়-বিতরণ-এক-অধ্বর-প্রাপ্ত-দীক্ষো দেবঃ শ্রীশূরপালঃ কিম্ অপরম্ অপরোঽভূন্ মহাসেন এব॥ (দ্বিতীয় গোপালের তাম্রশাসন)
যস্যেজ্যাসু বৃহস্পতি-প্রতিকৃতেঃ শ্রীশূরপালো নৃপঃ সাক্ষাৎ-ইন্দ্র ইব ক্ষত-অপ্রিয়বলো গত্বা এব ভূয়ঃ স্বয়ং।<br>
নানাম্ভোনিধি-মেখলস্য জগতঃ কল্যাণ-শংসী চিরং শ্রদ্ধাম্ভঃ-প্লুত-মানসো নত-শিরা জগ্রাহ পূতং পয়ঃ॥ (গুরবমিশ্রের বাদাল স্তম্ভলিপি)
=== মাণিক্যদেবী ===
(প্রথম শূরপালের স্ত্রী)
দৌহিত্রী ত্রমণ-অধিপস্য নৃপতেঃ আমন্নকস্য আত্মজা তস্য আসীৎ গণ-বচ্ছলস্য মহিষী মাণিক্যদেবী ইতি যা।<br>
তস্যান্ তস্য বভূব ভূতল-গুরোঃ গোপালদেবঃ সুতো ন আচারেণ বিনা-কৃতং কুলম্ ইতি প্রত্যক্ষয়ৎ ন আত্মনি॥ (দ্বিতীয় গোপালের তাম্রশাসন)
=== দ্বিতীয় গোপাল ===
উপরের মাণিক্যদেবীর শ্লোকের পর<br>
যস্য অভিষেক-সলিল-প্লুতিমাত্র-জন্মা ভানোঃ ইব প্রতিদিশং বিততঃ প্রতাপঃ।<br>
হর্ষ-অশ্রু-কম্প-পুলক-উদ্গম-বিভ্রমাণাং যাত্রী চকার ভুবনানি স-বিস্ময়ানি॥<br>
বেলা-সিন্ধুতটেষু শঙ্খ-ধবলা হংসাবলী দিঙ্মুখে জ্যোৎস্না ব্যোম্নি হিমাচলস্য শিখর-উৎসঙ্গেষু ভাগীরথী।<br>
যৎ-কীর্তিঃ কৃত-সপ্তসিন্ধু-তরণ-ব্যাসক্ত-ফেনচ্ছটা সিদ্ধান্ স্মারয়তি ইব ভৈরব-মহারম্ভ-অট্টহাস-শ্রিয়ম্॥ (দ্বিতীয় গোপালের সুবর্ণকারিকা-দণ্ড এবং মহীপুর তাম্রশাসন)
সা দেবকীব তস্মাৎ যশোদয়া স্বীকৃতং পতিং লক্ষ্ম্যাঃ।<br>
গোপাল-প্রিয়কারকম্ অসূত পুরুষোত্তমং তনয়ম্॥ (গুরবমিশ্রের বাদাল স্তম্ভলিপি)
=== বাক্পাল ===
(ধর্মপালের ছোটভাই)
রামস্য ইব গৃহীত-সত্যতপসঃ তস্য অনুরূপো গুণৈঃ সৌমিত্রেঃ উদপাদি তুল্য-মহিমা বাক্পালনামা অনুজঃ।<br>
যঃ শ্রীমান্ নয়-বিক্রম-একবসতিঃ ভ্রাতুঃ স্থিতঃ শাসনে শূন্যাঃ শত্রু-পতাকিনীভিঃ অকরোদ্ একাতপত্রা দিশঃ॥ (নারায়ণপাল ও পরবর্তী রাজাদের তাম্রশাসন)
=== জয়পাল ===
(বাক্পালের পুত্র)
তস্মাৎ উপেন্দ্রচরিতৈঃ জগতীং পুনানঃ পুত্রো বভূব বিজয়ী জয়পালনামা।<br>
ধর্মদ্বিষাং শময়িতা যুধি দেবপালে যঃ পূর্বজে ভুবনরাজ্য-সুখানি অনৈষীৎ॥ (নারায়ণপাল ও পরবর্তী রাজাদের তাম্রশাসন)<br>
যস্মিন্ ভ্রাতুঃ নিদেশাৎ বলবতি পরিতঃ প্রস্থিতে জেতুম্ আশাঃ সীদৎ নাম্ন এব দূরাৎ নিজপুরম্ অজহাৎ উৎকলানাম্ অধীশঃ।<br>
আসাং চক্রে চিরায় প্রণয়ি-পরিবৃতো বিভ্রৎ উচ্চেন মূর্ধ্না রাজা প্রাগ্জ্যোতিষাণাম্ উপশমিত-সমিৎ-সংকথাং যস্য চ আজ্ঞাম্॥ (নারায়ণপালের ভাগলপুর ও রাজ্যপালের ভারত কলাভবন তাম্রশাসন)
=== প্রথম বিগ্রহপাল ===
শ্রীমান্ বিগ্রহপালঃ তৎসূনুঃ অজাতশত্রুঃ ইব জাতঃ।<br>
শত্রুবনিতা-প্রসাধন-বিলোপি-বিমলাসি-জলধারঃ॥ (নারায়ণপাল ও পরবর্তী রাজাদের তাম্রশাসন)<br>
রিপবো যেন গুর্বীণাং বিপদাম্ আস্পদীকৃতাঃ।<br>
পুরুষ-আয়ুষ-দীর্ঘাণাং সুহৃদঃ সম্পদাম্ অপি॥<br>
...... <br>
তপো মম অস্তু রাজ্যং তে দ্বাভ্যাম্ উক্তম্ ইদং দ্বয়োঃ।<br>
যস্মিন্ বিগ্রহপালেন সগরেণ ভগীরথে॥ (নারায়ণপালের ভাগলপুর তাম্রশাসন)
=== লজ্জাদেবী ===
(প্রথম বিগ্রহপালের স্ত্রী)
লজ্জা ইতি তস্য জলধেঃ ইব জহ্নুকন্যা পত্নী বভূব কৃত-হৈহয়-বংশভূষা।<br>
যস্যাঃ শুচীনি চরিতানি পিতুঃ চ বংশে পত্যুঃ চ পাবন-বিধিঃ পরমো বভূব॥ (নারায়ণপালের ভাগলপুর তাম্রশাসন)
=== নারায়ণপাল ===
দিক্পালৈঃ ক্ষিতিপালনায় দধতং দেহে বিভক্তাঃ শ্রিয়ঃ শ্রীনারায়ণপালদেবম্ অসৃজৎ তস্যাং স পুণ্যোত্তরম্।<br>
যঃ ক্ষোণীপতিভিঃ শিরোমণিরুচা-শ্লিষ্ট-অঙ্ঘ্রি-পীঠোপলং ন্যায়োপাত্তম্ অলং চকার চরিতৈঃ স্বৈঃ এব ধর্মাসনম্॥<br>
চেতঃ পুরাণ-লেখ্যানি চতুর্বর্গ-নিধীনি চ।<br>
আরিপ্সন্তে যতস্ত্যানি চরিতানি মহীভৃতঃ॥<br>
স্বীকৃত-সুজন-মনোভিঃ সত্যাপিত-সাতিবাহনঃ সূক্তৈঃ।<br>
ত্যাগেন যো ব্যধত্ত শ্রদ্ধেয়াম্ অঙ্গরাজকথাম্॥<br>
ভয়াৎ অরাতিভিঃ যস্য রণ-মূর্ধনি বিস্ফুরম্।<br>
অসিঃ ইন্দীবর-শ্যামো দদৃশে পীত-লোহিতঃ॥<br>
যঃ প্রজ্ঞয়া চ ধনুষা চ জগৎ-বিনীয় নিত্যং ন্যবী-বিশদন-আকুলম্ আত্মধর্মে।<br>
যস্য অর্থিনো সবিধম্ এত্য ভৃশং কৃতার্থাঃ ন এব অর্থিতাং প্রতি পুনঃ বিদধুঃ মনীষাম্॥<br>
শ্রীপতিঃ অকৃষ্ণকর্মা বিদ্যাধর-নায়কো মহাভোগী।<br>
অনল-সদৃশঃ অপি ধাম্না যঃ বিত্রৎ নলসমঃ॥<br>
ব্যাপ্তে যস্য ত্রিজগতি শরচ্চন্দ্র গৌরেঃ যশোভিঃ মন্যে শোভাৎ ন খলু বিভরামাস রুদ্র-অট্টহাসঃ।<br>
সিদ্ধস্ত্রীণাম্ অপি শিরসিজেষু অর্পিতাঃ কেতকীনাং পত্রাপীড়াঃ সুচিরম্ অভবন্ ভৃঙ্গ-শব্দ-অনুমেয়াঃ॥ (নারায়ণপালের ভাগলপুর তাম্রশাসন)
দিক্পালৈঃ ক্ষিতিপালনায় দধতং দেহে বিভক্তান্ গুণান্ শ্রীমন্তং জনয়াং বভূব তনয়ং নারায়ণং স প্রভুম্।<br>
যঃ ক্ষোণীপতিভিঃ শিরোমণিরুচা-শ্লিষ্ট-অঙ্ঘ্রি-পীঠোপলং ন্যায়োপাত্তম্ অলং চকার চরিতৈঃ স্বৈঃ এব ধর্মাসনম্॥ (রাজ্যপাল ও পরবর্তী রাজাদের তাম্রশাসন)
=== মম্মাদেবী ===
(নারায়ণপালের স্ত্রী)
মম্মা ইতি তস্য মহিষী মহিতা বভূব গোবিন্দরাজতনয়া কুলশীলভূমিঃ।<br>
যস্যাঃ বভূব তনয়ো বিনয়-অভিরামঃ শ্রীরাজ্যপাল ইতি মধ্যম-লোকপালঃ॥ (রাজ্যপালের ভারত কলাভবন তাম্রশাসন)
=== রাজ্যপাল ===
উপরের মম্মাদেবীর শ্লোকের পর<br>
কল্পাপায় জ্বলনম্ অতুলেন আহতম্ মারুতেন জ্বালাজালৈঃ কবলিতদিবং নির্জয়ৎ যস্য তেজঃ।<br>
পশ্যন্তীভিঃ ভিয়ম্ ইব পরাম্ বিভ্রতীভি পুরস্তাৎ ত্রান্তং ন্যস্তাঃ স্বম্ অবনিভৃতঃ তুঙ্গশৃঙ্গাঃ ককুদ্ভিঃ॥<br>
তুঙ্গান্ আরুহ্য শৈলান্ অমর-পুরবধূ-পাদপদ্ম-অবতংসান্ বিশ্বক্ পাতালপংক্তিন্ তিমিরপরিগতাম্ ব্যক্তশোভাম্ বিধায়।<br>
আরাৎ উল্লঙ্ঘ্য পৃথ্বীম্ অপি খলু চতুরঃ তোয়ধীন্ এককালং প্রক্রান্তম্ মাতুম্ আসীন্ নিরবধিনভসো চৈভব যদ্যশোভিঃ॥ (রাজ্যপালের ভারত কলাভবন তাম্রশাসন)
তোয়াশয়ৈঃ জলধিমূল-গভীরগর্ভৈঃ দেবালয়ৈঃ চ কুলভূধরতুল্য-কক্ষৈঃ।<br>
বিখ্যাতকীর্তিঃ অভবৎ তনয়ঃ চ তস্য শ্রীরাজ্যপাল ইতি মধ্যমলোক-পালঃ॥ (প্রথম মহীপালের বাণগড় তাম্রশাসন)
=== ভাগ্যদেবী ===
(রাজ্যপালের স্ত্রী)
তস্মাৎ পূর্বক্ষিতিধ্রান্ নিধিঃ ইব মহসাং রাষ্ট্রকূট-অন্বয়-ইন্দোঃ তুঙ্গস্য উত্তুঙ্গ-মৌলেঃ দুহিতরি তনয়ো ভাগ্যদেব্যাং প্রসূতঃ।<br>
শ্রীমান্ গোপালদেবঃ চিরতরম্ অবনেঃ একপত্ন্যা ইব একো ভর্তা অভূৎ ন এক-রত্নদ্যুতি-খচিত চতুঃ সিন্ধু-চিত্রাংশুকায়াঃ॥ (প্রথম মহীপালের বাণগড় তাম্রশাসন)
=== তৃতীয় গোপাল ===
উপরের ভাগ্যদেবীর শ্লোকের পর<br>
যং স্বামিনং রাজগুণৈঃ অনূনম্ আসেবতে চারুতরানুরক্তা।<br>
উৎসাহ-মন্ত্র-প্রভুশক্তি-লক্ষ্মীঃ পৃথ্বীং সপত্নীম্ ইব শীলয়ন্তী॥ (প্রথম মহীপালের বাণগড় তাম্রশাসন)
=== দ্বিতীয় বিগ্রহপাল ===
তস্মাৎ বভূব সবিতুঃ বসুকোটিবর্ষী কালেন চন্দ্র ইব বিগ্রহপালদেবঃ।<br>
নেত্রপ্রিয়েণ বিমলেন কলাময়েন যেন উদিতেন দলিতো ভুবনস্য তাপঃ॥<br>
দেশে প্রাচি প্রচুর-পয়সি স্বচ্ছম্ আপীয় তোয়ং স্বৈরং ভ্রান্ত্বা তদনু মলয়োপত্যকা-চন্দনেষু।<br>
কৃত্বা সান্দ্রৈঃ মরুষু জড়তাং শীকরৈঃ অভ্রতুল্যাঃ প্রালেয়াদ্রেঃ কটকম্ অভজন্ যস্য সেনা-গজেন্দ্রাঃ॥ [অন্যান্য শাসনে ''মরুষু'' স্থলে তরুষু আছে] (প্রথম মহীপালের বাণগড় ও রংপুর তাম্রশাসন; মহীপালের বিয়ালা ও বেলোয়া তাম্রশাসনে শেষের শ্লোকটি মহীপাল সম্পর্কে প্রযুক্ত হয়েছে। অন্যান্য রাজারাও নিজেদের সম্পর্কে এই শ্লোকটি ব্যবহার করেছেন, যথা তৃতীয় গোপালের জাজিলপাড়া তাম্রশাসন এবং তৃতীয় বিগ্রহপালের আমগাছি ও বেলোয়া তাম্রশাসন। ফলে এই দিগ্বিজয়-শ্লোকটি শুধুই বাগাড়ম্বর বলে মনে করা যেতে পারে, কোন ঐতিহাসিক তথ্য এ থেকে ব্যক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অল্প।)
=== প্রথম মহীপাল ===
হত-সকল-বিপক্ষঃ সঙ্গরে বাহুদর্পাৎ অনধিকৃত-বিলুপ্তং রাজ্যম্ আসাদ্য পিত্র্যম্।<br>
নিহিত-চরণপদ্মো ভূভুজাং মূর্ধ্নি তস্মাৎ অভবৎ অবনিপালঃ শ্রীমহীপালদেবঃ॥ (প্রথম মহীপালের বাণগড়, রংপুর ও বিয়ালা তাম্রশাসন; অন্যান্য তাম্রশাসনে ''ভূভুজাং'' স্থলে ভূভৃতাং আছে।)
=== নয়পাল ===
ত্যজন্ দোষাসঙ্গং শিরসি কৃতপাদঃ ক্ষিতিভৃতাং বিতন্বন্ সর্বাশাঃ প্রসভম্ উদয়াদ্রেঃ ইব রবিঃ।<br>
হতধ্বান্ত-স্নিগ্ধপ্রকৃতিঃ অনুরাগ-একবসতিঃ ততো ধন্যঃ পুণ্যৈঃ অজনি নয়পালো নরপতিঃ॥ (তৃতীয় বিগ্রহপালের আমগাছি তাম্রশাসন)
=== তৃতীয় বিগ্রহপাল ===
পীতঃ সজ্জন-লোচনৈঃ স্মররিপোঃ পূজানুরক্তঃ সদা সংগ্রামে চতুরঃ অধিকং চ হরিতঃ কালঃ কুলে বিদ্বিষাং।<br>
চাতুর্বর্ণ্য-সমাশ্রয়ঃ সিতযশঃ পুঞ্জৈঃ জগৎ রম্ভয়ন্ শ্রীমদ্ বিগ্রহপালদেব-নৃপতিঃ পুণ্যৈঃ জনানাম্ অভূৎ॥<br>
দেশে প্রাচি প্রচুর-পয়সি স্বচ্ছম্ আপীয় তোয়ং স্বৈরং ভ্রান্ত্বা তদনু মলয়োপত্যকা-চন্দনেষু।<br>
কৃত্বা সান্দ্রৈঃ মরুষু জড়তাং শীকরৈঃ অভ্রতুল্যাঃ প্রালেয়াদ্রেঃ কটকম্ অভজন্ যস্য সেনা-গজেন্দ্রাঃ॥ (তৃতীয় বিগ্রহপালের আমগাছি তাম্রশাসন)
এতস্য দক্ষিণদৃশো বংশে মিহিরস্য জাতবান্ পূর্বং।<br>
বিগ্রহপালো নৃপতিঃ সর্বাকারঃ ধি-সংসিদ্ধঃ॥ (বৈদ্যদেবের কমৌলি তাম্রশাসন)
=== দ্বিতীয় মহীপাল ===
তন্-নন্দনঃ চন্দনবারি-হারি-কীর্তিপ্রভা-নন্দিত-বিশ্বগীতঃ।<br>
শ্রীমান্ মহীপাল ইতি দ্বিতীয়ো দ্বিজেশ-মৌলিঃ শিববদ্ বভূব॥ (মদনপালের মনহলি তাম্রশাসন)
=== দ্বিতীয় শূরপাল ===
তস্য অভূদ্ অনুজো মহেন্দ্রমহিমা স্কন্দঃ প্রতাপশ্রিয়াম্ একঃ সাহস-সারথিঃ গুণনয়ঃ শ্রীশূরপালো নৃপঃ।<br>
যঃ স্বচ্ছন্দ-নিসর্গ-বিভ্রমভরান্ বিভ্রৎসু সর্বায়ুধ-প্রাগল্ভ্যেন মনঃসু বিস্ময়-ভয়ং সদ্যঃ ততান দ্বিষাম্॥ (মদনপালের মনহলি তাম্রশাসন)
=== রামপাল ===
এতস্য অপি সহোদরো নরপতিঃ দিব্যপ্রজা-নির্ভর-ক্ষোভাহূত-বিধূত-বাসবধৃতিঃ শ্রীরামপালঃ অভবৎ।<br>
শাসতি এব চিরং জগন্তি জনকে যঃ শৈশবে বিস্ফুরৎ-তেজোভিঃ পরচক্র-চেতসি চমৎকারং চকার স্থিরম্॥ (মদনপালের মনহলি তাম্রশাসন)
তস্য ঊর্জস্বল-পৌরুষস্য নৃপতেঃ শ্রীরামপালঃ অভবৎ পুত্রঃ পালকুলাব্ধি-শীতকিরণঃ সাম্রাজ্য-বিখ্যাতিভাক্।<br>
তেনে যেন জগৎত্রয়ে জনকভূ-লাভাদ্ যথাবদ্-যশঃ ক্ষোণী-নায়ক-ভীম-রাবণ-বধাদ্ যুদ্ধার্ণব-উল্লঙ্ঘনাৎ॥ (বৈদ্যদেবের কমৌলি তাম্রশাসন)
=== মদনদেবী ===
(রামপালের স্ত্রী)
নিচে মদনপালের শ্লোকে দ্রষ্টব্য।
=== কুমারপাল ===
তস্মাদ্ অজায়ত নিজায়ত-বাহুবীর্য-নিষ্পীত-পীবর-বিরোধিযশঃ-পয়োধিঃ।<br>
মেদস্বি-কীর্তিঃ অমরেন্দ্র-বধূ-কপোল-কর্পূর-পত্রমকরীসু কুমারপালঃ॥ (মদনপালের মনহলি ও রাজীবপুর তাম্রশাসন)
=== চতুর্থ গোপাল ===
প্রত্যর্থি-প্রমদা-কদম্বক-শিরঃসিন্দূর-লোপক্রম-ক্রীড়া-পাটল-পাণিঃ এষ সুষুবে গোপালম্ ঊর্বীভুজম্।<br>
ধাত্রী-পালন-জৃম্ভমান-মহিমা কর্পূর-পাংশু-উৎকরৈঃ দেবঃ কীর্তিময়ো নিজং বিতনুতে যঃ শৈশবে ক্রীড়িতম্॥ (মদনপালের মনহলি ও রাজীবপুর তাম্রশাসন)
শ্রীমদ্ গোপালদেবঃ ত্রিদিবম্ উপগতঃ স্বেচ্ছায়া ত্যক্তকায়ঃ তস্য অহং পাদধূলিঃ প্রথিত ইতি নিজং নাশশুদ্ধাবভীতঃ।<br>
পিত্রাজ্ঞাপ্তোতিমানী নিশিতশরশতৈঃ পূরয়ং গাত্রম্ আজৌ নিঃসজ্ঞাদ্ দন্তিরাজাৎ ত্রিদশপুরম্ অগাদ্ ঐড়দেবঃ কৃতজ্ঞঃ॥ (নিমদিঘি প্রস্তরলিপি, দীনেশচন্দ্র সরকারের পুনর্গঠিত পাঠ)
অপি শত্রুঘ্নোপায়াদ্ গোপালঃ স্বর্জগামঃ তৎসূনুঃ।<br>
হন্তুঃ কুম্ভীনস্য অস্তনয়স্যৈতস্য সাময়িকমেতৎ॥ (সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত, ৪৷২)
=== মদনপাল ===
তদনু মদনদেবী-নন্দনঃ চন্দ্রগৌরৈঃ শুচিতভুবন-গর্ভঃ প্রাংশুভিঃ কীর্তিপূরৈঃ।<br>
ক্ষিতিম্ অচরম-তাতঃ তস্য সপ্তাব্ধিদাম্নীম্ অভৃত মদনপালো রামপাল-আত্মজন্মা॥ (মদনপালের মনহলি ও রাজীবপুর তাম্রশাসন, মনহলি শাসনে শুচিত-স্থলে চরিত পঠিত হয়েছে)
=== চিত্রমতিকা দেবী ===
(মদনপালের পাটরানি)
মনহলি তাম্রশাসনের ৪৫ নং পংক্তি অনুযায়ী।
== মানক পাঠ ==
# '''ধর্মপালের মুর্শিদাবাদ তাম্রশাসন, বর্ষ ২৬''': Furui, Ryosuke, "Indian Museum Copper Plate Inscription of Dharmapala, Year 26: Tentative Reading and Study", ''South Asian Studies'', Vol. 27, Issue 2, 2011, p. 145. ([http://dx.doi.org/10.1080/02666030.2011.614416 ১], [https://in.booksc.eu/book/57786306/a3912f ২])
# '''ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসন, বর্ষ ৩২''': বর্তমান গ্রন্থের পাঠ; সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Khālimpur Copper-plate Inscription of Dharmapāla (c. 775-812 A.D.), Regnal year 32", ''Select Inscriptions bearing on Indian History and Civilization from the Sixth to the Eighteenth Century A.D.'', Vol. II, 1983, [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.56669/page/n93/mode/2up p. 63].
# '''ধর্মপালের নালন্দা তাম্রশাসন, বর্ষ পড়া যায় নি''': ভট্টাচার্য, পদ্মনাথ, "Nalanda Plate of Dharmapaladeva", ''Epigraphia Indica'', Vol. XXIII, 1935-36 (pub. 1940), [https://archive.org/stream/epigraphia-indica/epigraphia-indica-vol-23#page/n315/mode/2up p. 290].
# '''দেবপালের মুঙ্গের তাম্রশাসন, বর্ষ ৩৩''': Barnett, Lionel David, "The Mungir Plate of Devapaladeva: Samvat 33", ''Epigraphia Indica'', Vol. XVIII, 1925-26, [https://archive.org/stream/epigraphia-indica/epigraphia-indica-vol-18#page/n377/mode/2up p. 304].
# '''দেবপালের নালন্দা তাম্রশাসন, বর্ষ ৩৫/৩৯''': সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Nālandā Copper-plate Inscription of Devapāla (c. 812-50 A.D.), Regnal year 35", ''Select Inscriptions bearing on Indian History and Civilization from the Sixth to the Eighteenth Century A.D.'', [http://dli.serc.iisc.ernet.in/cgi-bin/metainfo.cgi/data6/upload/0144/670?&barcode=99999990010511 Vol. II], 1983, p. 71.
# '''মহেন্দ্রপালের জগজ্জীবনপুর তাম্রশাসন, বর্ষ ৭''': ভট্টাচার্য, সুরেশচন্দ্র, "The Jagajjibanpur Plate of Mahendrapāla Comprehensively Re-edited", ''Journal of Ancient Indian History'', [https://s3.ap-south-1.amazonaws.com/calcutta-university/departmental-journals/H00401.pdf Vol. XXIII], 2005-2006, p. 61.
# '''প্রথম শূরপালের মির্জ়াপুর তাম্রশাসন, বর্ষ ৩''': সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Lucknow Museum Copper-Plate Inscription of Śūrapāla I, Regnal Year 3", ''Epigraphia Indica'', Vol. XL, 1973, [http://117.239.65.2:8080/jspui/bitstream/123456789/3111/1/ACL-ARCH%2000075%20Archaeological%20Survey%20of%20India%20Epigraphia%20Indica%20-%20April%201973.pdf Part 1], p. 4.
# '''দ্বিতীয় গোপালের মহীপুর তাম্রশাসন, বর্ষ ৩''': Furui, Ryosuke, "A New Copper Plate Inscription of Gopala II", ''South Asian Studies'', Vol. 24, Issue 1, 2008, p. 67. ([http://dx.doi.org/10.1080/02666030.2008.9628683 ১], [https://in.booksc.eu/book/35915803/49a33b ২])
# '''দ্বিতীয় গোপালের সুবর্ণকারিকা-দণ্ড তাম্রশাসন, বর্ষ ৪''' (একই দিনের দুইটি তাম্রশাসন): Furui, Ryosuke, "Re-Reading Two Copper Plate Inscriptions of Gopāla II, Year 4", ''প্রজ্ঞাধর (Essays on Asian Art, History, Epigraphy and Culture in Honour of Gouriswar Bhattacharya)'', 2009, [https://www.academia.edu/12349592 p. 319].
# '''নারায়ণপালের ভাগলপুর তাম্রশাসন, বর্ষ ১৭''': বর্তমান গ্রন্থের পাঠ; সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Bhāgalpur Copper-plate Inscription of Nārāyaṇapāla (c. 855-910 A.D.), Regnal year 17", ''Select Inscriptions bearing on Indian History and Civilization from the Sixth to the Eighteenth Century A.D.'', Vol. II, 1983, p. [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.56669/page/n109/mode/2up 80].
# '''গুরবমিশ্রের বাদাল স্তম্ভলিপি''': বর্তমান গ্রন্থের পাঠ; সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Bādāl Stone Pillar Inscription of the time of Nārāyaṇapāla (c. 855-910 A.D.)", ''Select Inscriptions bearing on Indian History and Civilization from the Sixth to the Eighteenth Century A.D.'', [http://dli.serc.iisc.ernet.in/cgi-bin/metainfo.cgi/data6/upload/0144/670?&barcode=99999990010511 Vol. II], 1983, p. 87. মানক ব্যাখ্যা: ভট্টাচার্য, সুরেশচন্দ্র, "Pāla Kings in the Badal Praśasti — A Stock-Taking", ''Journal of Ancient Indian History'', [https://s3.ap-south-1.amazonaws.com/calcutta-university/departmental-journals/H00405.pdf Vol. XXIV], 2007-08, p. 73.
# '''রাজ্যপালের টেরুবাক-মরালিকা তাম্রশাসন, বর্ষ ২''': Furui, Ryosuke, "Bharat Kala Bhavan Copper Plate Inscription of Rājyapāla, year 2: Re-edition and Reinterpretation", ''পুরাবৃত্ত (Journal of the Directorate of Archaeology and Museums, West Bengal)'', Vol. 1, 2016, [https://www.academia.edu/22297247 p. 41].
# '''তৃতীয় গোপালের জাজিলপাড়া তাম্রশাসন, বর্ষ ৬''': মিশ্র, প্রমথনাথ ও মজুমদার, রমেশচন্দ্র, "The Jājilpārā Grant of Gopāla II, Year 6", ''Journal of the Asiatic Society, Letters'', Vol. XVII, 1951, p. 137. (তখন তৃতীয় গোপাল ''দ্বিতীয় গোপাল'' নামে পরিচিত ছিলেন।)
# '''প্রথম মহীপালের বেলোয়া তাম্রশাসন, বর্ষ ২ এবং তৃতীয় বিগ্রহপালের বেলোয়া তাম্রশাসন, বর্ষ ১১''': সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Two Pala Plates from Belwa", ''Epigraphia Indica'', Vol. XXIX, 1951-52 (pub. 1957), Part 1, [https://archive.org/stream/epigraphia-indica/epigraphia-indica-vol-29#page/n13/mode/2up p. 1]. (সরকার পঞ্চম বর্ষ পড়েছিলেন, ফুরুই-এর মতে দ্বিতীয় বর্ষ)
# '''প্রথম মহীপালের রংপুর তাম্রশাসন, বর্ষ ৫''': Furui, Ryosuke, "Rangpur Copper Plate Inscription of Mahīpāla I, Year 5", ''Journal of Ancient Indian History'', Vol. XXVII, 2010-11, [https://www.academia.edu/12435974 p. 232].
# '''প্রথম মহীপালের বাণগড় তাম্রশাসন, বর্ষ ৯''': বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখালদাস, "The Bangarh Grant of Mahi-pala I: the 9th Year", ''Epigraphia Indica'', [https://indianhistorybooks2.files.wordpress.com/2014/03/4990010104064-epigraphia-indica-vol-14.pdf Vol XIV], 1917-18, p. 324.
# '''প্রথম মহীপালের বিয়ালা তাম্রশাসন, বর্ষ ৩৫''': Furui, Ryosuke, "Biyala Copperplate Inscription of Mahīpāla I", ''প্রত্ন সমীক্ষা (Journal of the Centre for Archaeological Studies and Training, Eastern India)'', New Series, Vol I, 2010, [https://www.academia.edu/12435716 p. 99].
# '''তৃতীয় বিগ্রহপালের আমগাছি তাম্রশাসন, বর্ষ ১২''': বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখালদাস, "The Amgachhi Grant of Vigraha-Pala III: the 12th Year", ''Epigraphia Indica'', Vol. XV, 1919-20, [https://archive.org/stream/epigraphia-indica/epigraphia-indica-vol-15-vol-01#page/n359/mode/2up p. 293].
# '''তৃতীয় বিগ্রহপালের বনগাঁও তাম্রশাসন, বর্ষ ১৭''': সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Bangaon Plate of Vigrahapala III, Regnal Year 17", ''Epigraphia Indica'', Vol. XXIX, 1951-52 (pub. 1957), Part 7, [https://archive.org/stream/epigraphia-indica/epigraphia-indica-vol-29#page/n99/mode/2up p. 48].
# '''চতুর্থ গোপালের রাজীবপুর তাম্রশাসন, বর্ষ ২ এবং মদনপালের রাজীবপুর তাম্রশাসন, বর্ষ ২২''': Furui, Ryosuke, "Rajibpur Copperplate Inscriptions of Gopāla IV and Madanapāla", ''প্রত্ন সমীক্ষা (Journal of the Centre for Archaeological Studies and Training, Eastern India)'', New Series, Vol 6, 2015, [https://www.academia.edu/18488352 p. 39]. (চতুর্থ গোপালের তাম্রশাসনে ভূভৃদমাত্য তথা রিজেন্ট হিসেবে তাঁর কাকা মদনপালের নাম উল্লিখিত আছে)
# '''মদনপালের মনহলি তাম্রশাসন, বর্ষ ৮''': বর্তমান গ্রন্থের পাঠ; মুখোপাধ্যায়, রমারঞ্জন ও মাইতি, শচীন্দ্রকুমার, "Manahali Copper-plate Grant of Madanapāladeva", ''Corpus of Bengal Inscriptions bearing on History and Civilization of Bengal'', 1967, [https://archive.org/stream/CorpusOfBengalInscriptions/99999990294055%20-%20Corpus%20Of%20Bengal%20Inscriptions%2C%20Mukherjee%2CRamarajan%2C%20457p%2C%20Devotional%2C%20sanskrit%20%281967%29#page/n225/mode/2up p. 209].
== পাল-শাসন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ ==
# চন্দ, রমাপ্রসাদ, "বাঙ্গালার ইতিহাস (সমালোচনা)", ''মানসী'', [http://dli.serc.iisc.ernet.in/cgi-bin/metainfo.cgi/data3/upload/0077/465?&barcode=4990010223234 সপ্তম বর্ষ, প্রথম খণ্ড], ১৯১৫, পৃ. ৫৭৭।
# বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখালদাস, "The Pratîhâra Occupation of Magadha", ''The Indian Antiquary'', [http://dli.serc.iisc.ernet.in/cgi-bin/metainfo.cgi/data4/upload/0107/542?&barcode=4990010254738 Vol. XLVII], 1918, p. 109.
# মজুমদার, রমেশচন্দ্র, "The Chronology of the Pāla Kings", ''Journal and Proceedings of the Asiatic Society of Bengal'', New Series, Vol. XVII, 1921, [https://archive.org/stream/mobot31753002183926#page/n3/mode/2up p. 1.]
# বসাক, রাধাগোবিন্দ, "পাল-সাম্রাজ্যের শাসন-প্রণালী", ''প্রবাসী'', ষট্ত্রিংশ ভাগ, প্রথম খণ্ড, ১৯৩৬, [[পাতা:প্রবাসী (ষট্ত্রিংশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).djvu/৮৬৭|পৃ. ৮৮১]]।
#দত্ত, সংযুক্তা, "In the King's Shadow: Petitioner-donors of eighth-ninth century Pāla copper plate land grant charters", ''The Indian Economic and Social History Review'', 54, 4 (2017): [https://www.academia.edu/35399267 457–476]
# Furui, Ryosuke, "The Pāla Copperplate Inscriptions and Their Engravers", ''Aspects of the Literary Sources in South Asian Historical Studies'', ed. Kan Ishikawa, 2024, pp. [https://hal.science/hal-05072104v1/document 111-132]
# Chowdhury, Abdul Momin, "Pāla Realm: Making of a Regional Political Power", In ''History of Bangladesh: Early Bengal in Regional Perspectives (up to c. 1200 CE).'', Vol. 1, ''Archaeology Political History Polity'', eds. Abdul Momin Chowdhury and Ranabir Chakravarti, 2018, pp. 691–832
== পালরাজাদের রাজত্ব-বর্ষ নির্ণায়ক অভিলেখ ==
একমাত্র প্রথম মহীপালের [[গৌড়লেখমালা (প্রথম স্তবক)/মহীপালদেব-প্রস্তরলিপি|সারনাথ লিপি]] ও মদনপালের বালগুদার লিপি ছাড়া পাল রাজাদের কোন অভিলেখে আপন রাজ্যাব্দ ছাড়া কোন সাধারণ অব্দের (শকাব্দ, বিক্রম সংবৎ) উল্লেখ নেই। ফলে পাল রাজত্বকালগুলি ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় বার বার পরিবর্তিত হয়েছে।
# '''প্রথম গোপাল''': কোন নথি নেই।
# '''ধর্মপাল''': খালিমপুর তাম্রশাসনে বর্ষ ৩২ আছে।
# '''দেবপাল''': নালন্দা তাম্রশাসনে বর্ষ ৩৫ (পাঠান্তরে ৩৯) আছে।
# '''মহেন্দ্রপাল''': সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Mahīsantosh Image Inscription of Mahendrapāla, Year 16", ''Epigraphia Indica'', [https://s3.ap-south-1.amazonaws.com/calcutta-university/english-journals/H05748.pdf Vol. XXXVII], p. 204. ([[গৌড়লেখমালা (প্রথম স্তবক)/বীরদেব-প্রশস্তি|ঘোষরাবাঁ লিপির]] আবিষ্কর্তা মেজর মার্কহ্যাম কিট্টো মহেন্দ্রপালের একটি অভিলেখ আবিষ্কার করেছিলেন, যাতে তিনি বছর পড়েছিলেন ১৯। অভিলেখটি পরে হারিয়ে যায়। দেবদত্ত রামকৃষ্ণ ভাণ্ডারকরের বিখ্যাত তালিকায় এটি ক্রমিক সংখ্যা [https://archive.org/details/epigraphia-indica/appendix-to-epigraphia-indica-and-record-of-the-archeological-survey-of-india-vol-19-23/page/n237/mode/2up ১৬৪৭]। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের [https://archive.org/stream/memoirsofasiat5191317asia#page/n105/mode/2up মতে] কিট্টোর পাঠোদ্ধার সবসময়েই ভুল হত।)
# '''প্রথম শূরপাল''': কুর্কিহারে প্রাপ্ত বর্ষ ১২-এর বিষ্ণুমূর্তি (সরকার, দীনেশচন্দ্র, ''পাল-সেন যুগের বংশানুচরিত'', ১৯৮২, পৃ. ১৭৪।)
# '''দ্বিতীয় গোপাল''': সুবর্ণকারিকা-দণ্ড তাম্রশাসনদ্বয়ে বর্ষ ৪ আছে।
# '''প্রথম বিগ্রহপাল''': কোন তথ্য নেই (একমাত্র সন্ন্যাসী হওয়া ছাড়া)। রাজা হওয়া নিয়ে সন্দেহ আছে।
# '''নারায়ণপাল''': বিহার শরিফে প্রাপ্ত উদ্দণ্ডপুর মূর্তিলিপিতে বর্ষ ৫৪ আছে। উপরে উল্লিখিত রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীহার-রাজত্ব বিষয়ে প্রবন্ধে এর পাঠ দ্রষ্টব্য।
# '''রাজ্যপাল''': কুর্কিহারে প্রাপ্ত বসুধারা ও উমা-মহেশ্বর মূর্তি রাজ্যপালের ৩২তম বর্ষের। (বন্দ্যোপাধ্যায়-শাস্ত্রী, অনন্তপ্রসাদ, ''The Journal of the Bihar and Orissa Research Society'', Vol 26, 1940, p. 248). তবে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে ৩৭তম বর্ষের বলরাম মূর্তি (Huntington, Susan L., ''The "Pāla-Sena" Schools of Sculpture'', 1984, [https://books.google.co.in/books?id=xLA3AAAAIAAJ&pg=PR15 p. xv]) আছে।
# '''তৃতীয় গোপাল''': বর্ষ ১৫-এর অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতার পাণ্ডুলিপি (বিক্রমশীলা মহাবিহারে প্রতিলিখিত) পাওয়া গেছে। এটি তৃতীয় না চতুর্থ গোপালের সময়কার, তা নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। (ঝুনু বাগচির ''The History and Culture of the Pālas of Bengal and Bihar'', ১৯৯৩, গ্রন্থে এই পাণ্ডুলিপি [https://books.google.co.in/books?id=J7RKoMeAtpUC&pg=PA16 ১৬] পৃষ্ঠায় তৃতীয় গোপালের সময়ে এবং [https://books.google.co.in/books?id=J7RKoMeAtpUC&pg=PA24 ২৪] পৃষ্ঠায় চতুর্থ গোপালের সময়ে দেখানো হয়েছে)। এছাড়া বর্ষ ১১-এর মৈত্রেয় ব্যাকরণ পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে (শাস্ত্রী, হরপ্রসাদ, ''A Descriptive Catalogue of Sanskrit Manuscripts in the Government Collection under the care of the Asiatic Society'', [http://dli.serc.iisc.ernet.in/cgi-bin/metainfo.cgi/data3/upload/0077/609?&barcode=4990010223378 Vol I], 1917, p. 13); শাস্ত্রী বর্ষ ৫৭ পড়লেও ভাণ্ডারকর ও সরকারের মতে বর্ষ ১১।
# '''দ্বিতীয় বিগ্রহপাল''': কোন নথি নেই (শুধু ''অনধিকারী'' কর্তৃক তাঁর রাজ্য বিলুপ্ত হওয়ার তথ্য ছাড়া)।
# '''প্রথম মহীপাল''': ইমাদপুর মূর্তিলিপিতে বর্ষ ৪৮ আছে। (Hoernlé, Augustus Frederic Rudolf, "The Palas of Bengal", ''The Indian Antiquary'', [http://dli.serc.iisc.ernet.in/cgi-bin/metainfo.cgi/data22/data/upload/0012/250?&barcode=2020120012245 Vol. XIV], 1885, p. 162, Footnote 17.)
# '''নয়পাল''': [[গৌড়লেখমালা (প্রথম স্তবক)/নয়পালদেবের শাসন-সময়ের প্রস্তর-লিপি|কৃষ্ণদ্বারিকা-মন্দিরলিপি]]তে বর্ষ ১৫ আছে।
# '''তৃতীয় বিগ্রহপাল''': বর্ষ ২৬-এর পঞ্চরক্ষা পাণ্ডুলিপি আছে। (বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখালদাস, [[:en:Index:The Pālas of Bengal.djvu|''The Pālas of Bengal'']], 1915, pp. 66-67)
# '''দ্বিতীয় মহীপাল''': কোন নথি নেই।
# '''দ্বিতীয় শূরপাল''': কোন নথি নেই।
# '''রামপাল''': বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়তোষ, "A Manuscript Dated in the Regnal Year 53 of Rāmapāla", ''The Indo-Asian Culture'', [https://books.google.co.in/books?id=YMVBAAAAYAAJ Vol. 18], 1969, p. 61.
# '''কুমারপাল''': বর্ষ ৩-এর একটি পাণ্ডুলিপি তিব্বতে পাওয়া গেছে। (সাংকৃত্যায়ন, রাহুল, "Second Search of Sanskrit Palm-Leaf MSS. in Tibet", ''The Journal of the Bihar and Orissa Research Society'', Vol 23, Part 1, 1937, p. 57)
# '''চতুর্থ গোপাল''': বর্ষ ১৫-এর অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতার পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে। (Barnett, Lionel David, "Notes on the Dynasties of Bengal and Nepal", ''The Journal of the Royal Asiatic Society of Great Britain and Ireland'', [http://dli.serc.iisc.ernet.in/cgi-bin/metainfo.cgi/data2/upload/0058/480?&barcode=4990010204328 1910], pp. 150-151)। এটি তৃতীয় না চতুর্থ গোপালের সময়কার, তা নিশ্চিত নয়। এছাড়া রাজীবপুর সদাশিবমূর্তি-লিপিতে (ভট্টশালী, নলিনীকান্ত, "Two Inscriptions of Gopāla III of Bengal", ''The Indian Historical Quarterly'', Vol XVII, 1941, [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.33108/page/n231/mode/2up p. 207]) বর্ষ ১৪ আছে। চতুর্থ গোপালের যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু হয়, যার স্মারক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় আবিষ্কৃত নিমদিঘি প্রস্তরলিপি (সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Three Pala Inscriptions, ''Epigraphia Indica'', Vol 35, 1966, [https://archive.org/stream/epigraphia-indica/epigraphia-indica-vol-35#page/n337/mode/2up p. 225])। এই রাজার দ্বিতীয় বর্ষের রাজীবপুর তাম্রশাসনে তাঁর কাকা মদনপাল ''ভূভৃদমাত্য'' (রিজেন্ট) হিসেবে উল্লিখিত, কারণ চতুর্থ গোপাল শৈশবে রাজা হন। পরের বছরের (মদনপালের তৃতীয় বর্ষের) বিহার পাহাড়ে প্রাপ্ত ষষ্ঠীমূর্তি-লিপিতে মদনপাল রাজা হিসেবে উল্লিখিত। (Cunningham, Alexander, ''Reports of the Archaeological Survey of India'', [http://dli.serc.iisc.ernet.in/cgi-bin/metainfo.cgi/data10/data51/upload/0022/884?&barcode=99999990842309 Vol 3], 1873, p. 124). ফলে এই দুই রাজায় তখন রাজ্য ভাগ হয়েছিল। (ফুরুই-এর রাজীবপুর তাম্রশাসন নিবন্ধ দ্রষ্টব্য)
# '''মদনপাল''': বালগুদার নারায়ণমূর্তি লিপিতে রাজ্যাব্দ ১৮ এবং শকাব্দ ১০৮৩ (১১৬১ খ্রিস্টাব্দ) আছে। (সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Three Inscriptions from Valgudar", ''Epigraphia Indica'', Vol XXVIII, 1953, [https://archive.org/stream/epigraphia-indica/epigraphia-indica-vol-28#page/n225/mode/2up p. 137]) ফলে এ থেকে নিশ্চিত ভাবে জানা যায় যে ১১৪৩ সালে মদনপাল রাজা হয়েছিলেন। তবে বর্তমান মতে চতুর্থ গোপালের রিজেন্ট থাকার সময়টুকুও (অর্থাৎ প্রথম দু’বছর) মদনপাল তাঁর রাজ্যাব্দের মধ্যে ধরতেন। (ফুরুই-এর রাজীবপুর তাম্রশাসন নিবন্ধ দ্রষ্টব্য)
# '''গোবিন্দপাল''': বর্ষ ৯-এর অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতার পাণ্ডুলিপি আছে (সরস্বতী, সরসীকুমার, ''পালযুগের চিত্রকলা'', ১৯৭৮, [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.315868/page/n51/mode/2up পৃ. ৪৯])। এই রাজার রাজ্যাবসানের পর তাঁর বিগত-রাজ্যাব্দের অনেক নথি পাওয়া গেছে; তার একটি, গয়া প্রস্তরলিপিতে (সরকার, দীনেশচন্দ্র, "Three Pala Inscriptions, ''Epigraphia Indica'', Vol 35, 1966, [https://archive.org/stream/epigraphia-indica/epigraphia-indica-vol-35#page/n337/mode/2up p. 225]) গতরাজ্যাব্দ ১৪ এবং বিক্রম সংবৎ ১২৩২ (অর্থাৎ ১১৬১ খ্রিস্টাব্দে রাজ্যাভিষেক) আছে।
# '''পলপাল''': জয়নগর মূর্তিলিপিতে বর্ষ ৩৫ আছে (বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখালদাস, "The Jaynagar Image Inscription of Palapāla", ''Annals of the Bhandarkar Oriental Research Institute'', Vol 11, 1930, [https://archive.org/stream/annalsofthebhand014495mbp#page/n411/mode/2up p. 398])।
# '''গোমীন্দ্রপাল''': বর্ষ ৪-এর অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতার পাণ্ডুলিপি আছে বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারত কলাভবনে। (Kim, Jinah, ''Receptacle of the Sacred: Illustrated Manuscripts and the Buddhist Book Cult in South Asia'', 2013, [https://books.google.co.in/books?id=jtWCrY34h_0C&pg=PA168 p. 168]). এই নামটিকে সরসীকুমার সরস্বতী দ্বাদশ শতাব্দীর এক আলাদা পাল রাজার নাম হিসেবে (''পালযুগের চিত্রকলা'', পৃ. ৭২) এবং দীনেশচন্দ্র সরকার গোবিন্দপালের নামের বিকৃত রূপ হিসেবে (''পাল-সেন যুগের বংশানুচরিত'', পৃ. ৯৭) গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।
l2r6w3x085sl7uej95g1uzq09y5bscu
পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/১৭
104
753993
1989299
919933
2026-07-10T03:15:06Z
~2026-38913-60
22248
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
1989299
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="2409:40E1:344C:E189:A181:FF50:874A:2976" />{{rh||বঙ্কিমচন্দ্ৰ|}}</noinclude>{{ফাঁক}}চুয়াল্লিশ বৎসর হইল, বঙ্কিমচন্দ্ৰ বঙ্গমাতার অঙ্ক হইতে চিরবিদায় গ্রহণ করিয়াছেন। অনন্ত কালস্রোতের বক্ষে এই চুয়াল্লিশ বৎসর সময়কে সামান্য জলবুদ্বুদ-স্বরূপ মনে করিলেও বোধহয় অসঙ্গত হয় না, কিন্তু বঙিকমচন্দ্ৰই বলিয়া গিয়াছেন—“বৎসরে কি কালের মাপ ? ভাবে ও
অভাবে কালের মাপ |”(১)
{{ফাঁক}}বাস্তবিক, বঙ্কিমচন্দ্রের জন্য আমাদের যে অভাববোধ—তাহার পরিামাপ বৎসর-গণনার দ্বারা নিরূপিত হয় না। তাঁহার ‘প্রতিভা-উৎসের ভাব-প্রবাহিণী হইতে বাঙালী যে নূতন জীবন-রস প্রাপ্ত’ হইয়াছে, এ কথা কখনও ভুলিবার নহে। তাই আজ মনে হইতেছে, যেন কত চুয়াল্লিশ বৎসর গত হইল, বঙ্কিমচন্দ্রকে আমরা হারাইয়াছি। তাই আজি তাঁহার শততম জন্মবার্ষিকী(২) উপলক্ষে বাংলার বহু স্থানেই তাঁহার স্মৃতিপূজার উৎসব আয়োজন হইয়াছে ও হইতেছে।
{{ফাঁক}}যে সাহিত্য মানুষ গড়ে, সেই সাহিত্যই তিনি গড়িয়া গিয়াছেন। “স্বদেশপ্রীতিকেই সর্ব শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলা উচিত’-ইহাই ছিল তাঁহার মর্মোক্তি। গঙ্গা হিন্দুমাত্রেরই নিকট পরমপূজ্যা দেবীবিশেষ। তাঁহার ‘ইন্দিরাতেও আছে “গঙ্গা যথার্থ পূণ্যময়ী”। কিন্তু দেশের জন্য দঃখ করিতে গিয়া তিনি সেই গঙ্গার উদ্দেশ্যে নিঃসঙেকাচেই বলিয়াছেন— “তুমি যাহার পা ধুয়াইতে, সেই মাতা কোথায়?” সত্য সত্যই দেশমাতাকে তিনি সকল দেবতার উপর আসন দিয়াছিলেন। তাঁহার নিকট হইতে আমরা যে আদর্শ ভাষা, অমূল্য ভাব ও অপূর্ব সাহিত্য-সম্পদ্ লাভ
{{ফাঁক}}(১) চন্দ্রশেখর।
{{ফাঁক}}(২) জন, ১৯৩৮ খ্রীঃ ।<noinclude>{{rh||১১|}}</noinclude>
q3h71inwns14zjypvzi6dofvzydt1x4
মিডিয়াউইকি:Gadget-ReferenceTooltips.css
8
763018
1989280
1760078
2026-07-09T14:47:45Z
Johannnes89
17285
updated per enwiki
1989280
css
text/css
/* See [[mw:Reference Tooltips]] */
.rt-overlay {
position: absolute;
width: 100%;
font-size: calc(var(--font-size-medium, 1rem) * (13 / 14));
line-height: 1.5em;
/* Remove after https://phabricator.wikimedia.org/T369880 is resolved and $teleportTarget is assigned */
z-index: 800; /* match z-index-tooltip in https://doc.wikimedia.org/codex/latest/design-tokens/z-index.html */
top: 0;
}
/* Remove after https://phabricator.wikimedia.org/T369880 is resolved and $teleportTarget is assigned */
.skin-vector-legacy .rt-overlay {
font-size: 13px;
}
.skin-monobook .rt-overlay {
font-size: 12.7px;
}
.rt-tooltip {
position: absolute;
max-width: 27em;
background: var(--background-color-base, #fff);
color: var(--color-base, #202122);
border: 1px solid var(--border-color-subtle, #c8ccd1);
border-radius: 2px;
box-shadow: 0 20px 48px 0 rgba(0, 0, 0, 0.2);
}
html.skin-theme-clientpref-night .rt-tooltip {
box-shadow: 0 20px 48px 0 rgba(0, 0, 0, 1);
}
/* Extend the tooltip vertically to make sure it doesn't disappear while the user moves the mouse to it */
.rt-tooltip-above .rt-hoverArea {
margin-bottom: -0.6em;
padding-bottom: 0.6em;
}
.rt-tooltip-below .rt-hoverArea {
margin-top: -0.7em;
padding-top: 0.7em;
}
.rt-scroll {
overflow-x: auto;
}
.rt-content {
padding: 0.7em 0.9em;
overflow-wrap: break-word;
}
.rt-tail {
/* Use 48%, not 50%, to make the tail start at a right place in Blink browsers in Windows on bigger system font sizes */
background: linear-gradient(to top right, var(--border-color-subtle, #c8ccd1) 48%, rgba(0, 0, 0, 0) 48%);
--tail-left: 19px;
--tail-side-width: 13px;
}
.rt-tail,
.rt-tail:after {
position: absolute;
/* Make sure the tail is behind the scrollbar, e.g. [73] at
https://en.wikipedia.org/w/index.php?title=Lemniscate_elliptic_functions&oldid=1231701944#cite_ref-73
if .rt-tooltip has width of 25em */
z-index: -1;
width: var(--tail-side-width);
height: var(--tail-side-width);
}
.rt-tail:after {
content: '';
background: var(--background-color-base, #fff);
bottom: 1px;
left: 1px;
}
.rt-tooltip-above .rt-tail {
transform: rotate(-45deg);
transform-origin: 100% 100%;
bottom: 0;
left: var(--tail-left);
}
.rt-tooltip-below .rt-tail {
transform: rotate(135deg);
transform-origin: 0 0;
top: 0;
left: calc(var(--tail-left) + var(--tail-side-width));
}
.rt-settingsLink {
background-image: url(data:image/svg+xml,%3Csvg%20xmlns%3D%22http%3A%2F%2Fwww.w3.org%2F2000%2Fsvg%22%20viewBox%3D%220%200%2024%2024%22%3E%0D%0A%20%20%20%20%3Cpath%20fill%3D%22%2354595d%22%20d%3D%22M20%2014.5v-2.9l-1.8-.3c-.1-.4-.3-.8-.6-1.4l1.1-1.5-2.1-2.1-1.5%201.1c-.5-.3-1-.5-1.4-.6L13.5%205h-2.9l-.3%201.8c-.5.1-.9.3-1.4.6L7.4%206.3%205.3%208.4l1%201.5c-.3.5-.4.9-.6%201.4l-1.7.2v2.9l1.8.3c.1.5.3.9.6%201.4l-1%201.5%202.1%202.1%201.5-1c.4.2.9.4%201.4.6l.3%201.8h3l.3-1.8c.5-.1.9-.3%201.4-.6l1.5%201.1%202.1-2.1-1.1-1.5c.3-.5.5-1%20.6-1.4l1.5-.3zM12%2016c-1.7%200-3-1.3-3-3s1.3-3%203-3%203%201.3%203%203-1.3%203-3%203z%22%2F%3E%0D%0A%3C%2Fsvg%3E);
float: right;
margin: -0.5em -0.5em 0 0.5em;
box-sizing: border-box;
height: 32px;
width: 32px;
border: 1px solid transparent;
border-radius: 2px;
background-position: center center;
background-repeat: no-repeat;
background-size: 24px 24px;
}
html.skin-theme-clientpref-night .rt-settingsLink {
background-image: url(data:image/svg+xml,%3Csvg%20xmlns%3D%22http%3A%2F%2Fwww.w3.org%2F2000%2Fsvg%22%20viewBox%3D%220%200%2024%2024%22%3E%0D%0A%20%20%20%20%3Cpath%20fill%3D%22%23c8ccd1%22%20d%3D%22M20%2014.5v-2.9l-1.8-.3c-.1-.4-.3-.8-.6-1.4l1.1-1.5-2.1-2.1-1.5%201.1c-.5-.3-1-.5-1.4-.6L13.5%205h-2.9l-.3%201.8c-.5.1-.9.3-1.4.6L7.4%206.3%205.3%208.4l1%201.5c-.3.5-.4.9-.6%201.4l-1.7.2v2.9l1.8.3c.1.5.3.9.6%201.4l-1%201.5%202.1%202.1%201.5-1c.4.2.9.4%201.4.6l.3%201.8h3l.3-1.8c.5-.1.9-.3%201.4-.6l1.5%201.1%202.1-2.1-1.1-1.5c.3-.5.5-1%20.6-1.4l1.5-.3zM12%2016c-1.7%200-3-1.3-3-3s1.3-3%203-3%203%201.3%203%203-1.3%203-3%203z%22%2F%3E%0D%0A%3C%2Fsvg%3E);
}
.rt-settingsLink:hover,
.rt-settingsLink:active {
background-color: var(--background-color-interactive, #eaecf0);
}
.rt-settingsLink:active {
border-color: var(--border-color-interactive, #72777d);
}
.rt-settingsLink:focus {
outline: 1px solid transparent;
}
.rt-settingsLink:focus:not(:active) {
border-color: var(--border-color-progressive--focus, #36c);
box-shadow: inset 0 0 0 1px var(--box-shadow-color-progressive--focus, #36c);
}
.rt-target {
background-color: var(--background-color-progressive-subtle, #eaf3ff);
}
.rt-enableField {
font-weight: bold;
margin-bottom: 1.25em;
}
.rt-numberInput.rt-numberInput {
width: 10em;
}
.rt-tooltipsForCommentsField.rt-tooltipsForCommentsField.rt-tooltipsForCommentsField {
margin-top: 1.25em;
}
.rt-disabledHelp {
border-collapse: collapse;
}
.rt-disabledHelp td {
padding: 0;
}
.rt-disabledNote.rt-disabledNote {
vertical-align: bottom;
padding-left: 0.36em;
font-weight: bold;
}
@keyframes rt-fade-in-up {
0% {
opacity: 0;
transform: translate(0, 20px);
}
100% {
opacity: 1;
transform: translate(0, 0);
}
}
@keyframes rt-fade-in-down {
0% {
opacity: 0;
transform: translate(0, -20px);
}
100% {
opacity: 1;
transform: translate(0, 0);
}
}
@keyframes rt-fade-out-down {
0% {
opacity: 1;
transform: translate(0, 0);
}
100% {
opacity: 0;
transform: translate(0, 20px);
}
}
@keyframes rt-fade-out-up {
0% {
opacity: 1;
transform: translate(0, 0);
}
100% {
opacity: 0;
transform: translate(0, -20px);
}
}
.rt-fade-in-up {
animation: rt-fade-in-up 0.2s ease forwards;
}
.rt-fade-in-down {
animation: rt-fade-in-down 0.2s ease forwards;
}
.rt-fade-out-down {
animation: rt-fade-out-down 0.2s ease forwards;
}
.rt-fade-out-up {
animation: rt-fade-out-up 0.2s ease forwards;
}
8zpwcq3vyh7m42hvp1h7840jq6sb25g
ব্যবহারকারী আলাপ:DILDAR KIBRIA
3
881872
1989268
1979574
2026-07-09T13:03:50Z
DILDAR KIBRIA
21979
/* ওসিআর */ উত্তর
1989268
wikitext
text/x-wiki
== ওসিআর ==
সুধী, উইকিসংকলনে অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ। লক্ষ করলাম, আপনি ওসিআর করে প্রুফরিডের জন্য বরাদ্দ হলুদ বোতাম টিপে সম্পাদনা করছেন, এতে আমাদের কাজ বেড়ে যাচ্ছে। স্ক্যানের সাথে হুবহু একই শৈলীতে রাখার পরেই এই বোতাম টেপা হয়। উদহারণ স্বরূপ [[পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/১৯|এই পাতা]] দেখুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ০৭:১২, ২২ জুন ২০২৬ (ইউটিসি)
:ধন্যবাদ আপনাকে। ঠিক করে দিচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:DILDAR KIBRIA|DILDAR KIBRIA]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:DILDAR KIBRIA#top|আলাপ]]) ০৭:১৭, ২২ জুন ২০২৬ (ইউটিসি)
::বার্তা গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ। যেহেতু আপনি নতুন অবদানকারী, দয়া করে যতটা সম্ভব নিখুঁত কাজ করার পর হলুদ বোতামের বদলে লাল বোতাম টিপে সংরক্ষণ করুন। এতে বাকিরা পাতাগুলি নজরে রাখতে পারবেন আর আবার একবার যাচাই করে নিতে পারবেন। শুধু ওসিআর করে পর পরা পাতাগুলির বোতাম টিপবেন না, কারণ উইকিসংকলনের উদ্দেশ্য নিখুঁত প্রুফরিডিং, শুধুমাত্র ওসিআর নয়। ধন্যবাদ। -- [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ০৭:২৪, ২২ জুন ২০২৬ (ইউটিসি)
:::হলুদ পাতাকে কীভাবে সবুজ করবো ? [[ব্যবহারকারী:DILDAR KIBRIA|DILDAR KIBRIA]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:DILDAR KIBRIA#top|আলাপ]]) ০৮:১৫, ২২ জুন ২০২৬ (ইউটিসি)
::::সেটা আপাতত আপনি করতে পারবেন না। বেশ কয়েক বছর ধরে নিয়মিত নিখুঁত প্রুফরিড করলে তবেই এই অধিকার দেওয়া হয়। -- [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১২:৪৪, ২২ জুন ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::নমস্কার, আমায় কিছু বইয়ের প্রুফ দেখার জন্য লিংক পাঠালে বাধিত হব। কাজটি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। [[ব্যবহারকারী:DILDAR KIBRIA|DILDAR KIBRIA]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:DILDAR KIBRIA#top|আলাপ]]) ১৩:০৩, ৯ জুলাই ২০২৬ (ইউটিসি)
c4kgimf49d8zbkbkcwidv5uv69r2436
নির্ঘণ্ট:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf
102
882544
1989266
1988859
2026-07-09T12:05:35Z
Bodhisattwa
2549
1989266
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q140440717
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=3
|Progress=OCR
|Pages=<pagelist 1="মলাট" 2="—" 3="প্রচ্ছদ" 4="প্রকাশক" 5="উৎসর্গ" 6="—" 7to10="নিবেদন" 11to13="সূচীপত্র" 14="—" 15="1" 72="বিজ্ঞাপন" 71="—" />
|Volumes=
|Remarks={{Scrollpane|height=500px|
{{পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/১১}}
{{পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/১২}}
{{পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/১৩}}
}}
|Notes={{BSG}}
|Header={{c|অমৃত।}}
|Footer={{C|{{{pagenum}}}}}
}}
3ztmbcd9zbeucf0qgs53mmsx71efbho
পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৮৬
104
882759
1989305
1989226
2026-07-10T06:02:49Z
ROCKY
2687
1989305
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" /></noinclude>{{dhr|3em}}
{{কেন্দ্র|{{x-larger|ইসলামের সহিত কমিউনিজ্মের পার্থক্য}}}}
{{ফাঁক}}'''(১) কমিউনিজম্ ধর্ম্ম ও নীতি-বিরোধীঃ-''' সর্ব্বপ্রথম এবং সর্ব্বপ্রধান পার্থক্যই হইলঃ কমিউনিজম ধর্ম্মবিরোধী এবং আল্লাবিরোধী (Anti-God and anti-religious)। ঈশ্বরকে ত সে একদম উড়াইয়াই দিয়াছে, ধর্ম্মকেও বলিয়াছে “লোকদিগের আফিম” (Opiumof the people)। কার্ল মার্কস্ এবং লেনিন—উভয়েই ছিলেন ঘোর নাস্তিক। নাস্তিকতাই ছিল তাই বলশেভিকদিগের রাজধর্ম্ম। এই ধর্ম্ম সর্ব্বত্র প্রচারের জন্য রীতিমত ভাবে আয়োজন করা হইয়াছিল। লেনিন যখন সেণ্টপিটার এবং সেণ্ট পলের ক্যাথিড্রাল পরিদর্শন করিতে যান, তখন তথাকার প্রধান পুরোহিত এক হাতে বাইবেল ও অন্য হাতে ক্রুশ লইয়া প্রার্থনা করিতে আরম্ভ করেন। তাহা দেখিয়া লেনিন বলেনঃ
{{ফাঁক}}"Stop this buffoonery. The power of the working classes comes from no gods, but from workshops, ploughs, from sweat of blood! Enough of your fables about gods. We want no more of the opium which binds the will of the people. There are no gods on earth or in heaven."
{{ফাঁক}}“অর্থাৎঃ-আর তামাসা দেখাইও না। শ্রমিক-শ্রেণীর শক্তি কোন দেবতাদিগের নিকট হইতে আসে নাই—আসিয়াছে কারখানা হইতে, আসিয়াছে লাঙ্গল হইতে, আসিয়াছে দেহের ঘাম হইতে। দেবতা সম্বন্ধীয় ঝুটা গল্প অনেক শুনিয়াছি, আমরা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার<noinclude></noinclude>
tpguwivtch8063uahtd85c4ezuo06hc
পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৮৯
104
882762
1989300
1989231
2026-07-10T05:45:39Z
ROCKY
2687
1989300
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৭৭|ইসলামের সহিত কমিউনিজ্মের পার্থক্য}}</noinclude>{{ফাঁক}}অর্থাৎঃ—লেনিনের মৃত্যুর পাঁচ বৎসর পরে (মে, ১৯২৯) নাস্তিকতাকে রাজকীয় ধর্ম্ম বলিয়া ঘোষণা করা হয় এবং নাস্তিকদিগকে নিজেদের মত-প্রচার করিবার একচেটিয়া অধিকার দিয়া একটী রাজকীয় ফরমান জারি করা হয়। অতঃপর সোভিয়েট গবর্ণমেণ্ট শীঘ্রই শিক্ষাসচিবকে ধর্ম্মহীনতা প্রচার করে একটা নূতন ইনস্পেক্টর-বিভাগ খুলিতে নির্দেশ দেন; নানাস্থানে উহার শাখাস্থাপনেরও ব্যবস্থা থাকে। উপরোক্ত নববিধান সর্ব্বত্র চালু করা, গীর্জার স্বাধীনতা খর্ব করা এবং কোন প্রকার ধর্মবিষয়ক প্রচারণা যাহাতে কেহ না চালায়—ইহারই তত্ত্বাবধান করা ছিল উক্ত বিভাগের উদ্দেশ্য।
{{ফাঁক}}কমিউনিজম্ কোন নীতিরও ধার ধারে না। বিখ্যাত রুশ-গ্রন্থকার গর্কী এক সময় লেনিনকে প্রশ্ন করেন: আপনি কোন নীতি মানেন কি? লেনিন উত্তর দিয়াছিলেন:
{{ফাঁক}}“Who ever told you, Comrade, that I had principles or believed in morality?”
{{ফাঁক}}অর্থাৎঃ—কে তোমায় কবে বলিয়াছে, বন্ধু, যে আমি কোন নীতি বা ধর্ম্ম মানিয়া চলি?
{{ফাঁক}}অন্য আর এক সময় লেনিন বলিয়াছিলেনঃ—
{{ফাঁক}}“Get rid of your prejudices, comrades. Do dot worry about rights and wrongs.”
{{ফাঁক}}অর্থাৎঃ—বন্ধুগণ, তোমাদের ঐ সব কুসংস্কার বর্জ্জন কর। ন্যায়-অন্যায় লইয়া অত মাথা ঘামাইও না।
{{ফাঁক}}ইহাই যদি হয় কমিউনিজমের স্বরূপ, তবে দূর হইতে ইহার প্রতি সহস্র নমস্কার! এরূপ মতবাদকে কোন মুসলমানই গ্রহণ করিতে পারে না—তা তার অন্য যত গুণই থাকুক। মুসলমানের জীবনের লক্ষ্য এবং আদর্শ ইহা অপেক্ষা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তার জীবনের লক্ষ্য শুধুই খাওয়া-<noinclude></noinclude>
brx8dmzyrsfrximih5u9dnhjc6e1838
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৪৫
104
882781
1989265
1989264
2026-07-09T12:05:05Z
Bodhisattwa
2549
1989265
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|দ্বাদশ দান।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>অন্নহীনে অন্নদান, বস্ত্র বস্ত্রহীনে,
তৃষাতুরে জলদান, ধর্ম্ম ধর্ম্ম-দীনে,
মূর্খজনে বিদ্যাদান, বিপন্নে আশ্রয়,
রোগীরে ঔষধদান, ভয়ার্ত্তে অভয়,
গৃহহীনে গৃহদান, অন্ধেরে নয়ন,
পীড়িতে আরোগ্যদান, শোকার্ত্তে সান্ত্বন;
স্বার্থ-শূন্য হয় যদি এ দ্বাদশ দান,
স্বর্গের দেবতা নহে দাতার সমান।</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{c|৩০}}</noinclude>
pcaq2eqvn0ls974r0uv95rbhrhisari
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৪৪
104
882782
1989269
2026-07-09T13:38:41Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989269
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}এতক্ষণ পর্য্যন্ত ষোড়শী অধোমুখে নিঃশব্দে দাঁড়াইয়াছিল, এইবার ঘাড় নাড়িয়া জানাইল, না।
{{ফাঁক}}পুলিশের ছোটবাবু মুখ টিপিয়া হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, যাবার বিলম্ব আছে বুঝি?
{{ফাঁক}}ষোড়শী মুখ তুলিয়া চাহিল, কিন্তু জবাব দিল ইন্সপেক্টরবাবুকে। কহিল, আপনারা যান, আমার যেতে এখনো দেরি আছে।
{{ফাঁক}}দেরি আছে? হারামজাদী, তোকে যদি না খুন করি ত আমি মনোহর চক্কোত্তির ছেলে নই! বলিয়া তারাদাস উন্মাদের ন্যায় লাফাইয়া উঠিয়া বোধ হয় তাহাকে যথার্থই কঠিন আঘাত করিত, কিন্তু ইন্সপেক্টরবাবু ধরিয়া ফেলিয়া ধমক দিয়া কহিলেন, ফের যদি বাড়াবাড়ি কর ত তোমাকে থানায় ধরে নিয়ে যাবো। চল, ভালমানুষের মত ঘরে চল।
{{ফাঁক}}এই বলিয়া তিনি লোকটাকে এক প্রকার টানিয়া লইয়াই গেলেন, কিন্তু তারাদাস তাঁহার হিত কথায় কর্ণপাত করিল না। যতদূর শোনা গেল, সে সুউচ্চ-কণ্ঠে ষোড়শীর মাতার সম্বন্ধে যা-তা বলিতে বলিতে এবং তাহাকে অচিরে হত্যা করিবার কঠিনতম শপথ পুনঃ পুনঃ ঘোষণা করিতে করিতে গেল।
{{ফাঁক}}পুলিশের সম্পর্কীয় সকলেই যথার্থ বিদায় গ্রহণ করিল, কিংবা কোথাও কেহ লুকাইয়া রহিয়া গেল, এ-বিষয়ে নিঃসংশয় হইতে ধূর্ত্ত এককড়ি পা টিপিয়া নিঃশব্দে বাহির হইয়া গেলে, জীবানন্দ ইঙ্গিত করিয়া ষোড়শীকে আর একটু নিকটে আহ্বান করিয়া অতিশয় ক্ষীণকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল, তুমি এঁদের সঙ্গে গেলে না কেন?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, এঁদের সঙ্গে ত আমি আসিনি।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কয়েক মুহূর্ত্ত নীরবে থাকিয়া বলিল, তোমার বিষয়ের ছাড় লিখে দিতে দু-চার দিন দেরি হবে, কিন্তু টাকাটা কি তুমি আজই নিয়ে যাবে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, তাই দিন।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ শয্যার এক নিভৃত প্রদেশে হাত দিয়া একতাড়া নোট টানিয়া বাহির করিল। সেইগুলা গণনা করিতে করিতে ষোড়শীর মুখের প্রতি বার বার চাহিয়া দেখিয়া একটুখানি হাসিয়া কহিল, আমার কিছুতে লজ্জা করে না, কিন্তু আমারও এগুলো তোমার হাতে তুলে দিতে বাধ বাধ ঠেকচে।
{{ফাঁক}}ষোড়শী শান্ত-নম্রকণ্ঠে বলিল, কিন্তু তাই ত দেবার কথা ছিল।
{{ফাঁক}}জীবানন্দের পাংশু মুখের উপর ক্ষণিকের জন্য লজ্জার আরক্ত আভা ভাসিয়া গেল, কহিল, কথা যাই থাক ষোড়শী, আমাকে বাঁচাতে তুমি যা খোয়ালে তার দাম টাকায় ধার্য্য করচি, এ মনে করার চেয়ে বরঞ্চ আমার না বাঁচাই ছিল ভাল।
{{nop}}<noinclude>{{c|৩০}}</noinclude>
tuxbugahx5nyqi6y719rl3rgbtnjnxr
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৪৫
104
882783
1989270
2026-07-09T13:43:12Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989270
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী তাহার মুখের উপর দুই চক্ষুর অচপল দৃষ্টি স্থির রাখিয়া কহিল, কিন্তু মেয়েমানুষের দাম ত আপনি এই দিয়েই চিরদিন ধার্য্য করে এসেচেন।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ নিরুত্তরে বসিয়া রহিল। ষোড়শী কহিল, বেশ, আজ যদি সে মত আপনার বদলে থাকে, টাকা না হয় রেখে দিন, আপনাকে কিছুই দিতে হবে না। কিন্তু আমাকে কি সত্যিই এখনো চিনতে পারেননি? ভাল করে চেয়ে দেখুন দিকি?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ নীরবে চাহিয়া রহিল, বহুক্ষণ পর্য্যন্ত তাহার চোখে পলক পর্য্যন্ত পড়িল না। তার পর ধীরে ধীরে মাথা নাড়িয়া কহিল, বোধ হয় পেরেচি। ছেলে-বেলায় তোমার নাম অলকা ছিল, না?
{{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিল না, কিন্তু তাহার সমস্ত মুখ উজ্জ্বল হইয়া উঠিল, কহিল, আমার নাম ষোড়শী। ভৈরবীর দশমহাবিদ্যার নাম ছাড়া আর কোন নাম থাকে না। কিন্তু অলকাকে আপনার মনে আছে?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ নিরুৎসুক-কণ্ঠে বলিল, কিছু কিছু মনে আছে বই কি। তোমার মায়ের হোটেলে যখন মাঝে মাঝে খেতে যেতাম, তখন তুমি ছ-সাত বছরের মেয়ে। কিন্তু আমাকে ত তুমি অনায়াসে চিনতে পেরেচ!
{{ফাঁক}}এই কণ্ঠস্বর ও তাহার নিগূঢ় অর্থ অনুভব করিয়া ষোড়শী কিছুক্ষণ নিরুত্তরে থাকিয়া অবশেষে সহজভাবে বলিল, তার কারণ অলকার বয়স তখন ছ-সাত নয়, ন-দশ বৎসর ছিল। এবং আপনার মনেও হতে পারে, তার মা তাকে আপনার বাহন বলে পরিহাস করতেন। তা ছাড়া আপনার মুখের আর যত বদলই হোক ডান চোখের ওই তিলটির কখনো পরিবর্ত্তন হবে না। অলকার মাকে মনে পড়ে?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, পড়ে। তাঁর সম্বন্ধে তারাদাস যা বলতে বলতে গেল তাও বুঝতে পারছি। তিনি বেঁচে আছেন?
{{ফাঁক}}না। বছর-দশেক পূর্ব্বে তাঁর কাশীলাভ হয়েছে। আপনাকে তিনি বড় ভালবাসতেন, না?
{{ফাঁক}}জীবানন্দের শীর্ণ মুখের উপর এবার উদ্বেগের ছায়া পড়িল, কহিল, হাঁ। একবার বিপদে পড়ে তাঁর কাছে একশ টাকা ধার নিয়েছিলাম, সেটা বোধ হয় আর শোধ দেওয়া হয়নি।
{{ফাঁক}}সহসা ষোড়শীর ওষ্ঠাধর চাপা হাসিতে ফুলিয়া উঠিল, কিন্তু সে তৎক্ষণাৎ তাহা সংবরণ করিয়া লইয়া সহজভাবে কহিল, আপনি সে-জন্যে কোন ক্ষোভ মনে রাখবেন না। অলকার মা সে টাকা ধার বলে আপনাকে দেননি, যৌতুক বলেই দিয়েছিলেন। ক্ষণকাল চুপ করিয়া পুনশ্চ কহিল, আজ অপর্য্যাপ্ত সম্পদের দিনে সে-সব<noinclude>{{c|৩১}}</noinclude>
7ozbx1xrmu7or4b3nah3o53840843of
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৪৬
104
882784
1989271
2026-07-09T13:50:18Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989271
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>দুঃখের কথা হয়ত মনে হতে চাইবে না, হয়ত সেদিনের একশ টাকার মূল্য আজ হিসেব করাও কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করলে এটুকু মনেও পড়তে পারে যে, সে দিনটাও ঠিক এমনি দুর্দ্দিন ছিল। আজ ষোড়শীর ঋণটাই খুব ভারি বোধ হচ্চে, কিন্তু সেদিন ছোট্ট অলকার কুলটা মায়ের ঋণটাও কম ভারি ছিল না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ আহত হইয়া কহিল, তাই মনে করতে পারতাম যদি না তিনি ওই কটা টাকার জন্যে তাঁর মেয়েকে বিবাহ করতে আমাকে বাধ্য করতেন।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, বিবাহ করতে তিনি বাধ্য করেননি, বরঞ্চ করেছিলেন আপনি। কিন্তু থাক্ ওসব বিশ্রী আলোচনা। আপনাকে ত এইমাত্র বলেচি, আজ আর সেই তুচ্ছ টাকা কটার মূল্য নিরুপণ সম্ভব হবে না, কিন্তু ওই মাত্র ছিল অলকার মায়ের জীবনের সঞ্চয়। মেয়ের কোন একটা সদ্গতি করবার ও-ছাড়া আর কিছু যখন তাঁর হাতে ছিল না, তখন টাকা কটির সঙ্গে মেয়েটাকেও আপনারই হাতে দিতে হ’ল। কিন্তু বিবাহ ত আপনি করেননি, করেছিলেন শুধু একটু তামাসা। সম্প্রদানের সঙ্গে সঙ্গেই সেই যে নিরুদ্দেশ হলেন, এই বোধ হয় তার পরে কাল প্রথম দেখা।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, কিন্তু তার পরে ত তোমার সত্যিকারের বিবাহই হয়েচে শুনেচি।
{{ফাঁক}}ষোড়শী ধৈর্য্য হারাইল না। তেমনি শান্ত গাম্ভীর্য্যের সহিত কহিল, তার মানে আর একজনের সঙ্গে? এই না? কিন্তু নিরপরাধ নিরুপায় বালিকার ভাগ্যে এ বিড়ম্বনা যদি ঘটেই থাকে, তবু ত আপনার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কুণ্ঠিত হইয়া কহিল, ষোড়শী, তখন তুমি ছেলেমানুষ ছিলে, অনেক কথাই ঠিক জানো না। তোমার মা যদি আজ বেঁচে থাকতেন তিনি সাক্ষী দিতেন তিনি সত্যি কি চেয়েছিলেন। তোমার বাবাকে আজকের পূর্ব্বে কখনো দেখিনি, কেবল সেই সম্প্রদানের রাত্রে নামটা মাত্র শুনেছিলাম। কিন্তু তিনিই যে তারাদাস, তুমিই যে অলকা, সে আমি স্বপ্নেও কল্পনা করিনি।
{{ফাঁক}}ষোড়শী তাড়াতাড়ি বাধা দিয়া বলিল, আজও ত কল্পনা করবার প্রয়োজন নেই।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, নাই থাক্, কিন্তু তোমার মা জানতেন শুধু কেবল তোমাকে তোমার বাবার হাত থেকে আলাদা রাখবার জন্যেই তিনি যা হোক একটা—
{{ফাঁক}}বিবাহের গণ্ডী টেনে রেখেছিলেন? তা হবেও বা। অলকার মাও বেঁচে নেই, অলকাই আমি কি না তা নিয়েও আপনার দুশ্চিন্তা করার আবশ্যক নেই। কিন্তু কেন যে ওঁদের সঙ্গে গেলুম না, কেন যে নিজের সর্ব্বনাশের কোথাও কিছু বাকি রাখলুম না, সেই কথাটাই আজ আপনাকে বলে যাবো। কাল আপনার সন্দেহ হয়েছিল হয়ত বা আমি লেখা-পড়া জানি; লিখতে-পড়তে ত ওই এককড়িও জানে,<noinclude>{{c|৩২}}</noinclude>
6mi62sd223mfp5g6o7lsx05p2mpu2sw
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৪৭
104
882785
1989272
2026-07-09T13:58:49Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989272
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>সে নয়, কিন্তু আমার যিনি গুরু তিনি হাতে রেখে কিছু দান করেন না, তাই আজ তারই পায়ে নিজেকে এমন করে বলি দিতেও আমার বাধল না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কিছুক্ষণ নীরবে নতমুখে থাকিয়া ধীরে ধীরে মুখ তুলিয়া বলিল, কিন্তু ধর, আসল কথা যদি তুমি প্রকাশ করে বল, তা হলে—
{{ফাঁক}}ষোড়শী তৎক্ষণাৎ কহিল, আসল কথাটা কি? বিবাহের কথা? কিন্তু সেই ত মিথ্যে। বিয়ে ত হয়নি। তা ছাড়া সে সমস্যা অলকার, আমার নয়। আমি সারা রাত এখানে কাটিয়ে গিয়ে ও গল্প করলে সর্ব্বনাশের পরিমাণ তাতে এতটুকু কমবে না। কিন্তু ও-কথা ত আর আমি ভাবচিনে। আমার বড় দুঃখ এখন আর আমি নিজে নয়—সে আপনি। কাল ভেবেছিলুম আপনার বুঝি সাহসের আর অন্ত নেই—নিজের প্রাণটাও বুঝি তার কাছে ছোট, কিন্তু আজ দেখতে পেলাম সে ভুল। শুধু যে এক নিরপরাধ নারীর কলঙ্কের মূল্যেই আজ নিজেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন তাই নয়, একদিন যে অনাথ মেয়েটিকে অকূলে ভাসিয়ে দিয়ে কেবল আত্মরক্ষা করেছিলেন, আজ তাকে চেনবার সাহস পর্য্যন্ত আপনার হয়নি।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কয়েক মুহূর্ত্ত চুপ করিয়া থাকিয়া অকস্মাৎ বলিয়া উঠিল, ষোড়শী, আজ আমি এত নীচে নেবে গেছি যে গৃহস্থের কুলবধূর দোহাই দিলেও তুমি মনে মনে হাসবে, কিন্তু সেদিন অলকাকে বিবাহ করে বীজগাঁর জমিদার-বংশের বধূ বলে সমাজের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়াটাই কি ভাল কাজ হ’তো?
{{ফাঁক}}ষোড়শী অসঙ্কোচে উত্তর দিল, সে ঠিক জানিনে, কিন্তু সত্য কাজ হ’তো এ জানি। যার সমস্ত দুর্ভাগ্য জেনেও যাকে হাত পেতে নিতে আপনার বাধেনি, তাকে অমন করে ফেলে না পালালে এত বড় লাঞ্ছনা আজ আপনার ভাগ্যে ঘটত না। সেই সত্যই আজ আপনাকে এ দুর্গতি থেকে বাঁচাতে পারতো। কিন্তু আমি মিথ্যে বকচি, এখন এ-সব আর আপনার কাছে বলা নিষ্ফল। আমি চললুম—আপনি কোন কিছু দেবার চেষ্টা করে আর আমাকে অপমান করবেন না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কিছুই কহিল না, কিন্তু এককড়িকে দ্বারপ্রান্তে দেখিতে পাইয়া সে হঠাৎ যেন কাঙাল হইয়া বলিয়া উঠিল, এককড়ি, তোমাদের এখানে কোন ডাক্তার আছেন? একবার খবর দিয়ে আনতে পারো? তিনি যা চাবেন আমি তাই দেব।
{{ফাঁক}}ষোড়শী চমকিয়া উঠিল। নিজেও অভিমান ও উত্তেজনার মধ্যে দিয়া এতক্ষণ পর্য্যন্ত দৃষ্টি তাহার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকেই আবদ্ধ ছিল।
{{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, ডাক্তার আছে বৈ কি হুজুর—আমাদের বল্লভ ডাক্তারের খাসা হাত-যশ। বলিয়া সে সমর্থনের জন্য ভৈরবীর প্রতি চাহিল।
{{nop}}<noinclude>{{c|৩৩}}</noinclude>
tuhxkslww23pcomgcztcea0piod1qdr
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৪৮
104
882786
1989273
2026-07-09T14:02:38Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989273
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী কথা কহিল না, কিন্তু জীবানন্দ ব্যগ্রকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, তাঁকেই আনতে পাঠাও এককড়ি, আর এক মিনিট দেরি ক’রো না। আর ঐখানে সব খালি বোতল পড়ে আছে—কাউকে বলে দাও গরম জল করে আনুক। কোথায় গেল এরা?
{{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, ঐ কথাটাই ত নিবেদন করতে আসছিলুম হুজুর, পুলিশের ভয়ে কে যে কোথায় সরেচে কাউকে খুঁজে পেলাম না।
{{ফাঁক}}কেউ নেই, সব পালিয়েচে?
{{ফাঁক}}সব, সব, জনপ্রাণী নেই। ওরা কি আর মানুষ হুজুর! কই আমি ত—
{{ফাঁক}}জীবানন্দ ব্যাকুল হইয়া বলিয়া উঠিল, ডাক্তার আনা কি হবে না এককড়ি?
{{ফাঁক}}এককড়ি বাধা পাইয়া মনে মনে লজ্জিত হইয়া কহিল, হবে না কেন হুজুর, আমি নিজেই যাচ্চি, এখনো তিনি ঘরেই আছেন। কিন্তু গরম জল করতে গেলে ত বড় দেরি হয়ে যাবে? তা ছাড়া হুজুরকে একলা—
{{ফাঁক}}কিন্তু কথাটা শেষ হইবার সময় হইল না; ভিতরের একটা উচ্ছ্বসিত দুঃসহ বেদনায় জীবানন্দের মুখখানা চক্ষের পলকে বিবর্ণ হইয়া উঠিল, এবং ইহাকেই দমন করিতে সে উপুড় হইয়া কেমন অস্ফুট-কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, উঃ—আর আমি পারিনে।
{{ফাঁক}}ষোড়শীকে কিসে যেন কঠিন আঘাত করিল। এত বড় করুণ, হতাশ কণ্ঠস্বরও যে এমন দুর্দ্দান্ত পাষণ্ডের মুখ দিয়া বাহির হইতে পারে, এ যেন তাহার স্বপ্নাতীত। আসলে মানুষ যে কত দুর্ব্বল কত নিরুপায়, দুঃখে বেদনায় মানুষে মানুষে যে কত এক, কত আপনার এই কথাটা মনে করিয়া তাহার চোখের কোণে জল আসিয়া পড়িল। কিন্তু এক মুহূর্ত্তে আপনাকে সংবরণ করিয়া লইয়া সে হতবুদ্ধি এককড়ির প্রতি চাহিয়া কহিল, তুমি বল্লভ ডাক্তারকে ডেকে আনগে এককড়ি, এখানে যা করবার আমি করব এখন। পথে কাউকে যদি দেখতে পাও পাঠিয়ে দিয়ো, ব’লো, পুলিশের ভয় আর কিছু নেই।
{{ফাঁক}}এককড়ি আশ্চর্য্য হইল না, বরঞ্চ খুসি হইয়া বলিল, ডাক্তারবাবুকে যেখানে পাই আমি আনবই। কিন্তু রান্নাঘরটা কি আপনাকে দেখিয়ে দিয়ে যাবো?
{{ফাঁক}}ষোড়শী মাথা নাড়িয়া কহিল, দরকার নেই, আমি নিজেই খুঁজে নিতে পারব। তুমি কিন্তু কোন কারণে কোথাও দেরি ক’রো না।
{{ফাঁক}}আজ্ঞে না, আমি যাবো আর আসবো, বলিতে বলিতে এককড়ি দ্রুতবেগে বাহির হইয়া গেল।
{{nop}}<noinclude>{{c|৩৪}}</noinclude>
69nn80emdwdumdxw2nwnqqg357fepri
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৪৯
104
882787
1989274
2026-07-09T14:13:26Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989274
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{dhr}}
{{পকেন্দ্র|'''৬'''}}
{{ফাঁক}}সন্ধান করিয়া রান্নাঘর হইতে যখন ষোড়শী বোতলে জল গরম করিয়া আনিয়া উপস্থিত করিল, তখনও লোক-জন কেহ ফিরিয়া আসে নাই। জীবানন্দ তেমনি উপুড় হইয়া পড়িয়া। সে পদশব্দে মুখ তুলিয়া চাহিয়া বলিল, তুমি? ডাক্তার আসেনি?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, এখনও ত তাঁদের আসবার সময় হয়নি। বলিয়া সে হাতের বোতল দুটা শয্যার একধারে রাখিয়া দিল।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কথাটাকে ঠিক যেন বিশ্বাস করিতে পারিল না; কহিল, এখনও আসবার সময় হয়নি? ডাক্তার কতদূরে থাকেন জানো?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, জানি, কিন্তু পোনের মিনিটের মধ্যেই কি আসা যায়?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, সবে পোনের মিনিট? আমি ভেবেচি দুঘণ্টা তিন ঘণ্টা কি আরও কতক্ষণ যেন এককড়ি তাঁকে আনতে গেছে। হয়ত তিনিও ভয়ে এখানে আসবেন না অলকা। বলিয়া সে চুপ করিয়া আবার উপুড় হইয়া শুইল। তাহার কণ্ঠস্বরে এবং চোখের দৃষ্টিতে ব্যাকুল নিরাশ্বাসের কোথাও যেন আর শেষ রহিল না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া স্নিগ্ধ-স্বরে কহিল, ডাক্তার আসবেন বই কি। গরম জলের বোতল ততক্ষণ টেনে নিন না?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ তেমনিভাবেই মাথা নাড়িয়া বলিল, না, ও থাক্ ওতে আমার কিছু হয় না, কেবল কষ্ট বাড়ে।
{{ফাঁক}}ষোড়শী সহসা কোন প্রতিবাদ করিল না। এই উপায়হীন রোগগ্রস্ত লোকটির মুখ হইতে তাহার নিজের শিশুকালের নামটা এতক্ষণ পরে যেন এই প্রথম তাহার কানে কানে গুন্ গুন্ করিয়া কি একটা অজানা রহস্যের অর্থ বলিবার চেষ্টা করিতে লাগিল। বোধ হয় ইহাতেই মগ্ন হইয়া সে নিজের ও পরের, সুমুখের ও পশ্চাতের সমস্তই ভুলিয়া গিয়া অভিভূতের ন্যায় দাঁড়াইয়া ছিল, হঠাৎ জীবানন্দের প্রশ্নেই তাহার হুঁস হইল।
{{ফাঁক}}অলকা!
{{ফাঁক}}নামটাকে আর সে উপেক্ষা করিতে পারিল না। কহিল, আজ্ঞে?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, এখনও সময় হয়নি? হয়ত তিনি আসবেন না, হয়ত কোথাও চলে গেছেন।
{{nop}}<noinclude>{{c|৩৫}}</noinclude>
lw8y7zc4c2eda9ppvvwyopo8jg7yji0
1989283
1989274
2026-07-09T15:00:48Z
Nettime Sujata
5470
1989283
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''৬'''}}
{{ফাঁক}}সন্ধান করিয়া রান্নাঘর হইতে যখন ষোড়শী বোতলে জল গরম করিয়া আনিয়া উপস্থিত করিল, তখনও লোক-জন কেহ ফিরিয়া আসে নাই। জীবানন্দ তেমনি উপুড় হইয়া পড়িয়া। সে পদশব্দে মুখ তুলিয়া চাহিয়া বলিল, তুমি? ডাক্তার আসেনি?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, এখনও ত তাঁদের আসবার সময় হয়নি। বলিয়া সে হাতের বোতল দুটা শয্যার একধারে রাখিয়া দিল।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কথাটাকে ঠিক যেন বিশ্বাস করিতে পারিল না; কহিল, এখনও আসবার সময় হয়নি? ডাক্তার কতদূরে থাকেন জানো?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, জানি, কিন্তু পোনের মিনিটের মধ্যেই কি আসা যায়?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, সবে পোনের মিনিট? আমি ভেবেচি দুঘণ্টা তিন ঘণ্টা কি আরও কতক্ষণ যেন এককড়ি তাঁকে আনতে গেছে। হয়ত তিনিও ভয়ে এখানে আসবেন না অলকা। বলিয়া সে চুপ করিয়া আবার উপুড় হইয়া শুইল। তাহার কণ্ঠস্বরে এবং চোখের দৃষ্টিতে ব্যাকুল নিরাশ্বাসের কোথাও যেন আর শেষ রহিল না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া স্নিগ্ধ-স্বরে কহিল, ডাক্তার আসবেন বই কি। গরম জলের বোতল ততক্ষণ টেনে নিন না?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ তেমনিভাবেই মাথা নাড়িয়া বলিল, না, ও থাক্ ওতে আমার কিছু হয় না, কেবল কষ্ট বাড়ে।
{{ফাঁক}}ষোড়শী সহসা কোন প্রতিবাদ করিল না। এই উপায়হীন রোগগ্রস্ত লোকটির মুখ হইতে তাহার নিজের শিশুকালের নামটা এতক্ষণ পরে যেন এই প্রথম তাহার কানে কানে গুন্ গুন্ করিয়া কি একটা অজানা রহস্যের অর্থ বলিবার চেষ্টা করিতে লাগিল। বোধ হয় ইহাতেই মগ্ন হইয়া সে নিজের ও পরের, সুমুখের ও পশ্চাতের সমস্তই ভুলিয়া গিয়া অভিভূতের ন্যায় দাঁড়াইয়া ছিল, হঠাৎ জীবানন্দের প্রশ্নেই তাহার হুঁস হইল।
{{ফাঁক}}অলকা!
{{ফাঁক}}নামটাকে আর সে উপেক্ষা করিতে পারিল না। কহিল, আজ্ঞে?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, এখনও সময় হয়নি? হয়ত তিনি আসবেন না, হয়ত কোথাও চলে গেছেন।
{{nop}}<noinclude>{{c|৩৫}}</noinclude>
0oq28pc1cw6o3ke27cnk0sfnjhsqptd
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৫০
104
882788
1989275
2026-07-09T14:19:17Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989275
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, আমি নিশ্চয় জানি তিনি আসবেন—তিনি কোথাও যাননি।
{{ফাঁক}}বাড়িতে কেউ কি এখনও ফিরে আসেনি?
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ একমুহূর্ত্ত চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, বোধ হয় তারা আর আসবে না, বোধ হয় এককড়িও একটা ছল্ করে চলে গেল।
{{ফাঁক}}ষোড়শী মৌন হইয়া রহিল। জীবানন্দ নিজেও বোধ হয় একটা ব্যথা সামলাইয়া লইয়া একটু পরেই বলিল, সবাই গেছে, তারা যেতে পারে—কেবল তোমারই যাওয়া হবে না।
{{ফাঁক}}কেন?
{{ফাঁক}}বোধ করি আমি বাঁচব না—তাই। আমার নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্চে, মনে হচ্চে, পৃথিবীতে আর বুঝি হাওয়া নেই।
{{ফাঁক}}আপনার কি বড্ড কষ্ট হচ্চে?
{{ফাঁক}}হুঁ। অলকা, আমাকে তুমি মাপ কর।
{{ফাঁক}}ষোড়শী নির্ব্বাক্ হইয়া রহিল। জীবানন্দ একটু থামিয়া পুনরায় কহিল, আমি ঠাকুর-দেবতা মানিনে, দরকারও হয় না। কিন্তু একটু আগে মনে মনে ডাকছিলুম। জীবনে অনেক পাপ করেচি, তার আর আদি-অবধি নেই। আজ থেকে থেকে কেবলি মনে হচ্চে বুঝি সব দেনা মাথায় নিয়ে যেতে হবে।
{{ফাঁক}}ষোড়শী তেমনি নীরবেই দাঁড়াইয়া রহিল। জীবানন্দ কহিল, মানুষ অমরও নয়, মৃত্যুর বয়সও কেউ দাগ দিয়ে রাখেনি, কিন্তু এই যন্ত্রণা আর সইতে পারচিনে—উঃ—মাগো! বলিতে বলিতে তাহার সর্ব্বশরীর ব্যথার অসহ্য তীব্রতায় যেন কুঞ্চিত হইয়া উঠিল।
{{ফাঁক}}ষোড়শী চাহিয়া দেখিল তাহার কেবল দেহই নয়, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দিয়াছে এবং বিবর্ণ মুখে, দুই নিমীলিত চক্ষের নীচে রক্তহীন ওষ্ঠাধর একটা অত্যন্ত কঠিন রেখায় সংবদ্ধ হইয়া গেছে।
{{ফাঁক}}পলকের জন্য কি একটা ভাবিয়া লইল, বোধ হয় একবার একটু দ্বিধাও করিল, তার পরে এই পীড়িতের শয্যায় হতভাগ্যের পার্শ্বে গিয়া উপবেশন করিল। গরম জলের বোতল দুটা সাবধানে তাহার পেটের কাছে টানিয়া দিতে জীবানন্দ কেবল ক্ষণিকের জন্য একবার চোখ মেলিয়াই আবার মুদ্রিত করিল। ষোড়শী আঁচল দিয়া তাহার ললাটের স্বেদ মুছাইয়া দিল এবং হাত-পাখার অভাবে সেই অঞ্চলটাই জড় করিয়া ধীরে ধীরে বাতাস করিতে লাগিল।
{{nop}}<noinclude>{{c|৩৬}}</noinclude>
djab3mxjmsi3vw7o4bxuu0xmp45rrnz
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৫১
104
882789
1989276
2026-07-09T14:23:42Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989276
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}জীবানন্দ কোন কথা কহিল না, কেবল তাহার ডান হাতটা ধীরে ধীরে তুলিয়া ষোড়শীর ক্রোড়ের উপর রাখিয়া নিঃশব্দে পড়িয়া রহিল।
{{ফাঁক}}মিনিট দশ-পোনের এমনি নীরবে কাটিবার পরে জীবানন্দই প্রথমে কথা কহিল। ডাকিল, অলকা!
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, আপনি আমাকে ষোড়শী বলে ডাকবেন।
{{ফাঁক}}আর কি অলকা হতে পারো না?
{{ফাঁক}}না।
{{ফাঁক}}কোন দিন কোন কারণেই কি—
{{ফাঁক}}আপনি অন্য কথা বলুন।
{{ফাঁক}}কিন্তু অন্য কথা জীবানন্দের মুখ দিয়া বাহির হইল না, শুধু নিবারিত দীর্ঘশ্বাসের শেষ বাতাসটুকু তাহার বক্ষের সম্মুখটাকে ঈষৎ বিস্ফারিত করিয়া দিয়া শূন্যে মিলাইল।
{{ফাঁক}}মিনিট দুই-তিন পরে ষোড়শী মৃদুকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল, আপনার কষ্টটা কিছুই কমেনি?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ ঘাড় নাড়িয়া বলিল, বোধ হয় একটু কমেছে। আচ্ছা যদি বাঁচি, তোমার কি কোন উপকার করতে পারিনে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, না, আমি সন্ন্যাসিনী—আমার নিজের কোন উপকার করাই কারও সম্ভব নয়।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কিছুক্ষণ স্থির থাকিয়া হঠাৎ বলিয়া উঠিল, আচ্ছা এমন কিছুই কি নেই, যাতে সন্ন্যাসিনীও খুসী হয়।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, তা হয়ত আছে, কিন্তু সে জন্যে কেন আপনি ব্যস্ত হচ্চেন?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ এইবার একটুখানি ক্ষীণ হাসি হাসিয়া কহিল, আমার ঢের দোষ আছে, কিন্তু পরের উপকার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, এ দোষ আজও কেউ আমাকে দেয়নি। তা ছাড়া এখন বলচি বলেই যে ভাল হয়েও বলবো, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই—এমনিই বটে! এমনিই বটে! সারাজীবনে এ ছাড়া আর আমার কিছুই বোধ হয় নেই।
{{ফাঁক}}ষোড়শী নীরবে আর একবার তাহার কপালের ঘাম মুছাইয়া দিল। জীবানন্দ হঠাৎ সেই হাতটা ধরিয়া ফেলিয়া কহিল, সন্ন্যাসিনীর কি সুখ-দুঃখ নেই? সে খুসি হয়, পৃথিবীতে এমন কি কিছুই নেই?
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, কিন্তু সে ত আপনার হাতের মধ্যে নয়?
{{nop}}<noinclude>{{c|৩৭}}</noinclude>
rgtxap4rnnlea1s1n7co8dyt3xjmylc
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৫২
104
882790
1989277
2026-07-09T14:27:11Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989277
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, যা মানুষের হাতের মধ্যে? তেমন কিছু?
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, তাও আছে, কিন্তু ভাল হয়ে যদি কখনো জিজ্ঞাসা করেন, তখনই জানাবো।
{{ফাঁক}}তাহার হাতটাকে জীবানন্দ সহসা বুকের কাছে টানিয়া আনিয়া বার বার মাথা নাড়িয়া কহিল, না না, আর ভাল হয়ে নয়—এই কঠিন অসুখের মধ্যে আমাকে বল। মানুষকে অনেক দুঃখ দিয়েচি, আজ নিজের ব্যথার মধ্যে পরের ব্যথা, পরের আশার কথাটা একটু শুনে নিই। নিজের দুঃখটার আজ একটা সদ্গতি হোক।
{{ফাঁক}}ষোড়শী আপনার হাতটাকে ধীরে ধীরে মুক্ত করিয়া লইয়া স্থির হইয়া বসিয়া রহিল। জীবানন্দ নিজেও মিনিট খানেক স্থিরভাবে থাকিয়া কহিল, বেশ নাই হোক, সকলের মত আমিও তোমাকে আজ থেকে ষোড়শী বলেই ডাকবো। কাল থেকে আজ পর্য্যন্ত আমি এত যন্ত্রণার মধ্যেও মাঝে মাঝে অনেক কথাই ভেবেচি। বোধ হয় তোমার কথাটাই বেশি। আমি বেঁচে গেলুম, কিন্তু তোমার যে এখানে—
{{ফাঁক}}ষোড়শী তাড়াতাড়ি বলিয়া উঠিল, কিন্তু আমার কথা থাক্।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বাধা পাইয়া ক্ষণকাল নীরবে থাকিয়া আস্তে আস্তে বলিল, আমি বুঝেচি ষোড়শী। তোমার জন্যে আমি ভাবি এও আর তুমি চাও না। এমনিই হওয়া উচিত বটে! বলিয়া সে একটা নিশ্বাস ফেলিয়া চুপ করিয়া রহিল।
{{ফাঁক}}ষোড়শী বিছানা ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইল, জীবানন্দ চোখ মেলিয়া কহিল, তুমিও চললে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না। ঘরটা ভারি নোংরা হয়ে রয়েচে, একটু পরিষ্কার করে ফেলি। বলিয়া সে সম্মতির জন্য অপেক্ষা না করিয়াই গৃহ-কার্য্যে নিযুক্ত হইল। ঘরের অধিকাংশ জানালা-দরজাই এ পর্য্যন্ত খোলা হয় নাই, বিস্তর টানাটানি করিয়া সেগুলো খুলিয়া ফেলিতেই উন্মুক্ত আকাশ দিয়া এক মুহূর্ত্তে আলো ও বাতাসে ঘর ভরিয়া গেল; মেঝের উপর আবর্জ্জনার রাশি নানাস্থানে প্রতিদিন স্তূপাকার হইয়া উঠিয়াছিল, একট ঝাঁটা সন্ধান করিয়া আনিয়া ষোড়শী সমুদয় পরিষ্কার করিয়া ফেলিল, এবং অঞ্চল দিয়া বিছানাটা ঝাড়িয়া ফেলিয়া বালিশ দুটা যখন যথাস্থানে গুছাইয়া দিল, তখনও জীবানন্দ একটা কথা কহিল না, কেবল তাহার মলিন মুখের উপর একটা স্নিগ্ধ আলোক যেন কোথা হইতে আসিয়া ধীরে ধীরে স্থিতি লাভ করিতেছিল। ষোড়শী কাজ করিতেছিল, সে শুধু দুই চক্ষু মেলিয়া তাহাকে নীরবে অনুসরণ করিতেছিল, যেন শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা কি, সমস্ত বেদনা ভুলিয়া সে সংসারে সর্ব্বোত্তম বিস্ময়ের মত জীবনে এই প্রথম দেখিতেছিল।
{{nop}}<noinclude>{{c|৩৮}}</noinclude>
mdxbj948su21gv71gooqfda76xzvvcv
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৫৩
104
882791
1989278
2026-07-09T14:30:56Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989278
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}সহসা বাহিরে অনেকগুলা পদশব্দ শুনিয়া ষোড়শী ঝাঁটাটা রাখিয়া দিয়া সোজা হইয়া দাঁড়াইল। এককড়ি দ্বারের কাছে মুখ বাহির করিয়া বলিল, ডাক্তারবাবু এসেচেন।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, তাঁকে নিয়ে এস। বলিয়া সে তাহার পূর্ব্বস্থানে গিয়া উপবেশন করিল।
{{ফাঁক}}পরক্ষণেই যে চিকিৎসকের হাত-যশ এ অঞ্চলে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ সেই বল্লভ ডাক্তার আসিয়া ঘরে প্রবেশ করিলেন এবং ষোড়শীকে এখানে এভাবে দেখিয়া তিনি একেবারে আশ্চর্য্য হইয়া গেলেন।
{{ফাঁক}}এককড়ি অঙ্গুলি-নির্দ্দেশ করিয়া কহিল, ঐ যে হুজুর। যদি ভাল করতে পারেন ডাক্তারবাবু, বক্সিসের কথা ছেড়েই দিন—আমরা সবাই আপনার কেনা হয়ে থাকবো।
{{ফাঁক}}ডাক্তার নীরবে আসিয়া শয্যা প্রান্তে উপস্থিত হইলেন, এবং পকেট হইতে কাঠের চোঙাটা বাহির করিয়া বিনা বাক্যব্যয়ে রোগ পরীক্ষা করিতে নিযুক্ত হইলেন। বিস্তর ঘষা-মাজা করিয়া তিনি বেশ বড় ডাক্তারের মতই রায় দিলেন—অত্যাচার করিয়া রোগ জন্মিয়াছে, সাবধান না হইলে প্লীহা কিংবা লিভার পাকা অসম্ভব নয় এবং তাহাতে ভয়ের কথাও আছে। কিন্তু সাবধান হইলে নাও পাকিতে পারে এবং তাহাতে ভয়ও কম। তবে এ কথা নিশ্চয় যে ঔষধ খাওয়া আবশ্যক।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ প্রশ্ন করিল, এ অবস্থায় কলকাতায় যাওয়া সম্ভব কি না বলতে পারেন?
{{ফাঁক}}ডাক্তার কহিলেন, যদি যেতে পারেন তা হলে সম্ভব, নইলে কিছুতেই সম্ভব নয়।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ পুনশ্চ জিজ্ঞাসা করিল, এখানে থাকলে ভাল হবে কি না বলতে পারেন?
{{ফাঁক}}ডাক্তার অত্যন্ত বিজ্ঞের মত মাথা নাড়িয়া জবাব দিলেন, আজ্ঞে না হুজুর, তা বলতে পারিনে। তবে এ কথা নিশ্চয় যে এখানে থাকলে ভাল হতে পারেন, আবার কলকাতা গিয়ে ভাল নাও হতে পারেন।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ মনে মনে বিরক্ত হইয়া আর দ্বিতীয় প্রশ্ন করিল না। ডাক্তার ঔষধের জন্য লোক পাঠাইবার ইঙ্গিত করিয়া উপযুক্ত দর্শনী লইয়া বিদায় গ্রহণ করিলেন। এককড়ি তাঁহাকে সঙ্গে করিয়া দ্বারের বাহির পর্য্যন্ত আসিয়া ফিরিয়া গেলে জীবানন্দ তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া কহিল, কি হবে এককড়ি?
{{ফাঁক}}এককড়ি সাহস দিয়া বলিল, ভয় কি হুজুর, ওষুধ এল বলে। বল্লভ ডাক্তারের একশিশি মিক্চার খেলেই সব ভাল হয়ে যাবে।
{{nop}}<noinclude>{{c|৩৯}}</noinclude>
1hfrqaniu5s3o8xld5dj1z9rm8xzjco
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৫৪
104
882792
1989279
2026-07-09T14:33:18Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989279
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}জীবানন্দ মাথা নাড়িয়া বলিল, না এককড়ি, তোমাদের বল্লভের মিক্চার তোমাদেরই থাক্, আমাকে তুমি কেবল কলকাতা যাবার একটা বন্দোবস্ত আজই করে দাও। এই বলিয়া যে দ্বার দিয়া ষোড়শী কয়েক মুহূর্ত্ত পূর্ব্বে অন্যত্র সরিয়া গিয়াছিল সেই দিকে উৎসুক-চক্ষে চাহিয়া রহিল।
{{ফাঁক}}কিন্তু কেহই ফিরিয়া আসিল না। মিনিট দুই-তিন পরে তাঁহার অধৈর্য্য আর মানা মানিল না, কহিলেন, ওঁকে একবার ডেকে দিয়ে তুমি যাবার একটা ব্যবস্থা কর গে এককড়ি। আজ যাওয়া আমার চাই-ই।
{{ফাঁক}}এ সঙ্কেত এককড়ি চক্ষের নিমিষে বুঝিল, এবং যে আজ্ঞে হুজুর, বলিয়া তৎক্ষণাৎ প্রস্থান করিল। কিন্তু ফিরিয়া আসিতে তাহার বিলম্ব হইতে লাগিল, এবং মিনিট পোনের বিলম্বে যখন সে যথার্থ-ই আসিল, তখন একাকীই আসিল; কহিল, তিনি নেই, বাড়ি চলে গেছেন হুজুর!
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বিশ্বাস করিতে পারিল না। ব্যগ্র ব্যাকুল-কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, আমাকে না জানিয়ে চলে যাবেন? এমন হতেই পারে না এককড়ি।
{{ফাঁক}}বিশ্বাস করা সত্যই কঠিন। অলকা কোন ব্যবস্থা না করিয়াই চলিয়া গেল, একটা কথা বলিয়া গেল না—ডাক্তারের অভিমতটুকু শুনিয়া যাইবার পর্য্যন্ত তাহার ধৈর্য্য রহিল না—এ কথা জীবানন্দ কিছুতেই যেন মনের মধ্যে গ্রহণ করিতে পারিল না।
{{ফাঁক}}এককড়ি বলিল, হাঁ হুজুর, তিনি ডাক্তারবাবু যাবার পরেই চলে গেছেন। বাইরে গোপাল কাওরা বসে আছে, সে দেখেচে ভৈরবী সোজা চলে গেলেন।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ আর প্রতিবাদ করিল না। এককড়ি কহিল, তা হলে একটু বেলা-বেলি যাত্রা করবার ব্যবস্থা করিগে হুজুর?
{{ফাঁক}}হাঁ, তাই কর, বলিয়া জীবানন্দ পাশ ফিরিয়া দেওয়ালের দিকে মুখ করিয়া শুইল। এককড়ি কলিকাতা-যাত্রার বিস্তর খুঁটিনাটির আলোচনা করিতে লাগিল, কিন্তু প্রভুর নিকট হইতে কোন কথারই প্রত্যুত্তর আসিল না। কথাগুলা তাহার কানেই গেল কি না, তাহাও ঠিক বুঝা গেল না।
{{nop}}<noinclude>{{c|৪০}}</noinclude>
owx8n3dwee4ucz5ohcnnbuv7pq7tryd
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৫৫
104
882793
1989281
2026-07-09T14:56:10Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989281
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''৭'''}}
{{ফাঁক}}জমিদারের বিলাস-কুঞ্জ হইতে ষোড়শী যখন নিঃশব্দে সরিয়া গেল, তখন বেলা বোধ হয় নটা-দশটা। এমনি করিয়া আসাটা তাহার বিশ্রী ঠেকিতে লাগিল, কিন্তু তখনই মনে হইল, বলিয়া কহিয়া বিদায় লইয়া আসাটা আরও অশোভন আরও বাড়াবাড়ি হইত। কিন্তু গেটের বাহিরে আসিয়া দেখিল আর এক পদও অগ্রসর হওয়া চলে না। এবার নাবী বর্ষায় কৃষকদের ধান্য-রোপণের কাজ-কর্ম্ম তখনও মাঠে শেষ হইয়া যায় নাই, উহাদের মাঝখান দিয়া গ্রামের একমাত্র পথ। এই প্রকাশ্য দিনের বেলায় এই পথের উপর দিয়া মুখ উঁচু বা নীচু করিয়া কোনভাবেই হাঁটিয়া যাইতে তাহার পা উঠিল না। আকাশের বিদ্যুৎ এক মুহূর্ত্তে অন্ধকারের পর্দ্দা তুলিয়া মেঘাচ্ছন্ন পৃথিবীর বক্ষটাকে যেমন সুস্পষ্ট করিয়া দেয়, দূরের ঐ চাষীগুলাও ঠিক তেমনি করিয়া চক্ষের পলকে ষোড়শীর বিগত রাত্রিটাকে তাহার কাছে অত্যন্ত অনাবৃত করিয়া দিল। আবরণের নীচে যে এত জিনিস ঢাকা ছিল, কোন মানুষের জীবনেই যে একটা রাত্রির মধ্যে এত বড় ব্যাপার ঘটিয়া উঠিতে পারে দেখিতে পাইয়া সে ক্ষণিকের জন্য যেন হতজ্ঞান হইয়া রহিল। সম্পূর্ণ একটা দিনও কাটে নাই, মাত্র কাল সায়াহ্ন-বেলায় অপমানের প্রবল তাড়নে দিগ্বিদিক না ভাবিয়া এই পথ দিয়াই সে হাটিয়া গেছে, কিন্তু তাহার পরে? তাহার পরের ঘটনা ঘটিতে মানুষের বহু যুগ লাগিতে পারে, অথচ তাহার লাগে নাই। এ-যেন একটা ভোজ-বাজী হইয়া গেল, তাই আজ পরিচিত পথটারই ওধারে তাহার কি যে অপেক্ষা করিয়া আছে, তাহা কল্পনা করিতেও পারিল না। ফটকের বাহিরে বাগানের ধার দিয়া একটা পায়ে-হাঁটা পথ নদীর দিকে গিয়াছে, কেবলমাত্র সম্মুখের রাস্তাটা বলিয়াই সে এই পথ দিয়া ধীরে ধীরে নদীর তীরে আসিয়া দাঁড়াইল। এদিকে গ্রাম নাই, গরু-ছাগল চরাইতে ক্বচিৎ কোন রাখাল বালক ভিন্ন এ পথে সচরাচর কেহ চলে না—এই নিরালা স্থানটায় সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা করিয়া সে অন্ধকারে গা ঢাকিয়া ঘরে ফিরিবে মনে করিয়া একটা প্রাচীন তেঁতুল গাছের তলায় বসিয়া পড়িল।
{{ফাঁক}}এতক্ষণ পর্য্যন্ত সে ঘূর্ণাবর্ত্তের মধ্যে পড়িয়াছিল, তাহাতে বর্ত্তমানের চিন্তা ছাড়া আর কিছুই তার মনে ছিল না। এইবার যে ভবিষ্যৎ সাগ্রহে তাহার পথ চাহিয়া আছে, তাহার কথাই একটি একটি করিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আলোচনা করিতে লাগিল। তাহাদের ছোট গ্রামে এতক্ষণ কোন<noinclude>{{c|৪১}}</noinclude>
s03nmekf18a75tc2nf13jo04uxcnrw2
1989284
1989281
2026-07-09T15:01:33Z
Nettime Sujata
5470
1989284
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''৭'''}}
{{ফাঁক}}জমিদারের বিলাস-কুঞ্জ হইতে ষোড়শী যখন নিঃশব্দে সরিয়া গেল, তখন বেলা বোধ হয় নটা-দশটা। এমনি করিয়া আসাটা তাহার বিশ্রী ঠেকিতে লাগিল, কিন্তু তখনই মনে হইল, বলিয়া কহিয়া বিদায় লইয়া আসাটা আরও অশোভন আরও বাড়াবাড়ি হইত। কিন্তু গেটের বাহিরে আসিয়া দেখিল আর এক পদও অগ্রসর হওয়া চলে না। এবার নাবী বর্ষায় কৃষকদের ধান্য-রোপণের কাজ-কর্ম্ম তখনও মাঠে শেষ হইয়া যায় নাই, উহাদের মাঝখান দিয়া গ্রামের একমাত্র পথ। এই প্রকাশ্য দিনের বেলায় এই পথের উপর দিয়া মুখ উঁচু বা নীচু করিয়া কোনভাবেই হাঁটিয়া যাইতে তাহার পা উঠিল না। আকাশের বিদ্যুৎ এক মুহূর্ত্তে অন্ধকারের পর্দ্দা তুলিয়া মেঘাচ্ছন্ন পৃথিবীর বক্ষটাকে যেমন সুস্পষ্ট করিয়া দেয়, দূরের ঐ চাষীগুলাও ঠিক তেমনি করিয়া চক্ষের পলকে ষোড়শীর বিগত রাত্রিটাকে তাহার কাছে অত্যন্ত অনাবৃত করিয়া দিল। আবরণের নীচে যে এত জিনিস ঢাকা ছিল, কোন মানুষের জীবনেই যে একটা রাত্রির মধ্যে এত বড় ব্যাপার ঘটিয়া উঠিতে পারে দেখিতে পাইয়া সে ক্ষণিকের জন্য যেন হতজ্ঞান হইয়া রহিল। সম্পূর্ণ একটা দিনও কাটে নাই, মাত্র কাল সায়াহ্ন-বেলায় অপমানের প্রবল তাড়নে দিগ্বিদিক না ভাবিয়া এই পথ দিয়াই সে হাটিয়া গেছে, কিন্তু তাহার পরে? তাহার পরের ঘটনা ঘটিতে মানুষের বহু যুগ লাগিতে পারে, অথচ তাহার লাগে নাই। এ-যেন একটা ভোজ-বাজী হইয়া গেল, তাই আজ পরিচিত পথটারই ওধারে তাহার কি যে অপেক্ষা করিয়া আছে, তাহা কল্পনা করিতেও পারিল না। ফটকের বাহিরে বাগানের ধার দিয়া একটা পায়ে-হাঁটা পথ নদীর দিকে গিয়াছে, কেবলমাত্র সম্মুখের রাস্তাটা বলিয়াই সে এই পথ দিয়া ধীরে ধীরে নদীর তীরে আসিয়া দাঁড়াইল। এদিকে গ্রাম নাই, গরু-ছাগল চরাইতে ক্বচিৎ কোন রাখাল বালক ভিন্ন এ পথে সচরাচর কেহ চলে না—এই নিরালা স্থানটায় সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা করিয়া সে অন্ধকারে গা ঢাকিয়া ঘরে ফিরিবে মনে করিয়া একটা প্রাচীন তেঁতুল গাছের তলায় বসিয়া পড়িল।
{{ফাঁক}}এতক্ষণ পর্য্যন্ত সে ঘূর্ণাবর্ত্তের মধ্যে পড়িয়াছিল, তাহাতে বর্ত্তমানের চিন্তা ছাড়া আর কিছুই তার মনে ছিল না। এইবার যে ভবিষ্যৎ সাগ্রহে তাহার পথ চাহিয়া আছে, তাহার কথাই একটি একটি করিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আলোচনা করিতে লাগিল। তাহাদের ছোট গ্রামে এতক্ষণ কোন<noinclude>{{c|৪১}}</noinclude>
59mdg9asy5wpakkxmcgsdoqyrs941lu
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৫৬
104
882794
1989282
2026-07-09T14:59:44Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989282
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কথাই কাহারো অবিদিত নাই, জমিদার তাহাকে ধরিয়া আনিয়াছে, সারারাত্রি আটক রাখিয়াছে—এই কয়দিনের অত্যাচারে গ্রামে ইহা এমনিই একটা সাধারণ ব্যাপার হইয়া উঠিয়াছে যে, এজন্য বিশেষ কোনরূপ চিন্তিত হইবার আবশ্যক নাই। এমন কি, কেন যে সে মিথ্যা করিয়া ম্যাজিষ্ট্রেটের কবল হইতে জমিদারকে উদ্ধার করিয়াছে এ রহস্যোদ্ভেদ করিবারও গ্রামে বুদ্ধিমান লোকের অভাব হইবে না। এ যে একটা বড় রকমের ঘুষের ব্যাপার তাহা সকলেই বুঝিবে। কিন্তু আসল বিপদ হইতেছে তাহার পিতা তারাদাসকে লইয়া। বহুকাল হইতেই উভয়ের সহজ সম্বন্ধটা বাহিরের অগোচরে ভিতরে ভিতরে পচিয়া উঠিতেছিল, এইবার তাহা ঘৃণার বাষ্পে অনেকখানি স্থান ব্যাপিয়া জ্বলিতে থাকিবে। ইহার শিখা কাহারও দৃষ্টি হইতে আড়াল করা সম্ভব হইবে না। সংসারে সে লোকটার অসাধ্য কার্য্য নাই। তাহার অনেক কুকর্ম্মে বাধা দিয়া পিতা ও কন্যার মধ্যে অনেক গোপন সংগ্রাম হইয়া গেছে, চিরদিন পিতাকেই পরাভব মানিতে হইয়াছে, অথচ নানা কারণে এতকাল তাহাকে ষোড়শীর মাতার সম্বন্ধে মৌন থাকিতেই হইয়াছে। কিন্তু আজ যখন তারাদাস ক্রোধবশে একবার কথাটা প্রকাশ করিয়া ফেলিয়াছে, তখন আর সে কোনমতেই চুপ করিয়া থাকিবে না। এই কলঙ্কের কালি দুই হাতে ছড়াইয়া নিজের সঙ্গে আর একজনের সর্ব্বনাশ করিয়া তবে গ্রাম হইতে নিষ্ক্রান্ত হইবে। ইহা যে অকিঞ্চিৎকর নয়, ইহা যে তাহার সমস্ত ভবিষ্যৎটাকে আঁধার করিয়া তুলিবে, তাহাও ষোড়শী দূর হইতে স্পষ্ট দেখিতে লাগিল; কিন্তু সেই অন্ধকারের অভ্যন্তরে যে কি সঞ্চিত আছে তাহার কোন আভাসই তাহার চোখে পড়িল না। বেলা বাড়িয়া উঠিতে লাগিল, এইখানে বসিয়া ভিতরের উদ্যোগ-আয়োজনের অস্পষ্ট কোলাহল মাঝে মাঝে তাহার কানে আসিতে লাগিল, এবং তাহারই ফাঁকে ফাঁকে জীবানন্দের মুখের অলকা নাম, তাহার সলজ্জ ক্ষমাভিক্ষা, তাহার ব্যাকুল প্রার্থনা, এমনি কত কি যেন একটা ভুলে-যাওয়া কবিতার ভাঙা-চোরা চরণের মত রহিয়া রহিয়া তাহার মনের মধ্যে অকারণে আনাগোনা করিতে লাগিল; অথচ যে সঙ্কট ওই গ্রামখানার মধ্যে তাহারই প্রতীক্ষায় উদ্যত হইয়া আছে, তাহার বিভীষিকা সেই মনের মধ্যেই অনুক্ষণ তেমনি ভীষণ হইয়াই রহিল।
{{ফাঁক}}ক্রমশঃ ধীরে ধীরে সূর্য্যদেব অপর প্রান্তে হেলিয়া পড়িলেন, এবং তাহারই একটা দীপ্ত রশ্মি হইতে মুখ ফিরাইতে গিয়া হঠাৎ বহুদূরে পরপারের মাঠের মধ্যে জমিদারের পাল্কিখানা তাহার চোখে পড়িল। এই দিকেই যখন তাহারা গিয়াছে, তখন এক সময়ে নিকট দিয়াই গিয়াছে, সে খেয়াল করে নাই, হয়ত চেষ্টা করিলে একটু<noinclude>{{c|৪২}}</noinclude>
ai661wth5uee9uejxdmyvs13zpi7qo7
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৪০
104
882798
1989288
2026-07-09T16:24:00Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989288
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|পরিহাসের প্রতিফল।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>পরিহাস-ভরে, নর কহে, “রে জোনাকি!
তিমির-বিনাশে চেষ্টা করিছিস্ নাকি?
কি আশ্চর্য্য! ভাগ্যে ওই আলোটুকু আছে,
তাই তোরে দেখা যায় অন্ধকার মাঝে;
তোর পক্ষে, ক্ষুদ্রজীব, এই তো প্রচুর;
তুই কি করিবি কীট, অন্ধকার দূর?”
জোনা কী বলিছে, “ভায়া, কিসের বড়াই?
তোমার দেহে তো আলো একটুও নাই!”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{কেন্দ্র|২৬}}</noinclude>
jfy9jdooq6ewssdq9qnhl6hn3akv3o1
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৪১
104
882799
1989289
2026-07-09T16:28:27Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989289
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|উচ্চ নীচ।}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>উড়িয়া মেঘের দেশে চিল কহে ডাকি’,—
“কি কর, চাতক ভায়া, ধূলি-মাঝে থাকি?
কোথায় উঠেছি, চেয়ে দেখ একবার,
এখানে আসিতে পার সাধ্য কি তোমার?”
চাতক কহিছে, “তবু নীচদৃষ্টি তব;
সদা ভাব ‘কার কিবা ছোঁ মারিয়া ল’ব।’
মেঘবারি ভিন্ন, অন্য জল নাহি খাই,
তাই, আমি নীচে থেকে ঊর্দ্ধমুখে চাই।”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২৭}}</noinclude>
ju3si3efp3bu8v7s87jtxdoe6gppkqx
1989290
1989289
2026-07-09T16:29:21Z
JyotiPN
12378
1989290
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|উচ্চ নীচ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>উড়িয়া মেঘের দেশে চিল কহে ডাকি’,—
“কি কর, চাতক ভায়া, ধূলি-মাঝে থাকি?
কোথায় উঠেছি, চেয়ে দেখ একবার,
এখানে আসিতে পার সাধ্য কি তোমার?”
চাতক কহিছে, “তবু নীচদৃষ্টি তব;
সদা ভাব ‘কার কিবা ছোঁ মারিয়া ল’ব।’
মেঘবারি ভিন্ন, অন্য জল নাহি খাই,
তাই, আমি নীচে থেকে ঊর্দ্ধমুখে চাই।”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২৭}}</noinclude>
kd2uj4pwd28nfwsude77x8v2h9ntklp
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৪২
104
882800
1989291
2026-07-09T17:01:42Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989291
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|দাম্ভিকের শিক্ষালাভ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>সিংহ বলে, “কালোমেঘ, এস দেখি কাছে,
যুদ্ধ ক’রে দেখি, কার কত বল আছে!
ক্রমাগত দূর থে’কে কর ডাকাডাকি,
সম্মুখসমরে, ভায়া, ভয় পাও নাকি?”
মেঘ বলে, “মৃত্যু ডে’কে আনিস্ নির্ব্বোধ!
আমার শকতি কেবা করে প্রতিরোধ?”
অদূরে পড়িল বজ্র, সিংহ মূর্চ্ছা যায়;
মূচ্ছার্ভঙ্গে, সভয়ে, মেঘের পানে চায়।</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|}}<noinclude>{{C|২৮}}</noinclude>
4v9csforxvjqsk0s4pko2zig9tan283
1989292
1989291
2026-07-09T17:02:07Z
JyotiPN
12378
1989292
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|দাম্ভিকের শিক্ষালাভ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>সিংহ বলে, “কালোমেঘ, এস দেখি কাছে,
যুদ্ধ ক’রে দেখি, কার কত বল আছে!
ক্রমাগত দূর থে’কে কর ডাকাডাকি,
সম্মুখসমরে, ভায়া, ভয় পাও নাকি?”
মেঘ বলে, “মৃত্যু ডে’কে আনিস্ নির্ব্বোধ!
আমার শকতি কেবা করে প্রতিরোধ?”
অদূরে পড়িল বজ্র, সিংহ মূর্চ্ছা যায়;
মূচ্ছার্ভঙ্গে, সভয়ে, মেঘের পানে চায়।</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২৮}}</noinclude>
kgh1hhtjdjvef6azidzvf4kh7eimewn
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৪৩
104
882801
1989293
2026-07-09T17:09:44Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989293
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|শিক্ষা ও প্রবৃত্তি।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>আগুন লাগিয়া গেল ব্রাহ্মণের বাড়ী;
সর্ব্বস্ব পুড়িয়া যায়, দেখি,’ তাড়াতাড়ি,—
প্রবেশিল বিদ্যানিধি নিজপাঠাগারে,
যত্নের পাণিনিখানি ছিল একধারে,—
বাঁচাইল ব্যাকরণ; গেল আর সব;
হেনকালে শুনা গেল ‘হায় হায়’ রব;
বিপ্র বলে, “পু’ড়ে গেল বেদান্তের টীকা;”
ব্রাহ্মণী কাঁদিছে, “গেল হাঁড়ি, আর সিকা”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২৯}}</noinclude>
cunbwoxb3ppat0sju96hahpefupgqkc
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৪৪
104
882802
1989296
2026-07-09T17:15:22Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989296
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|তুলনায় সুখদুঃখ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>বসিয়া নদীর তীরে, চাহি’ নদীপানে,
কাঁদিতেছে এক নারী অবসন্ন প্রাণে;
পথিক জিজ্ঞাসে তা’রে শোকের কারণ,
নারী কহে, “ডু’বে গেছে সন্তান-রতন।”
পান্থ বলে, “এক ছেলে গেছে কাঁদ তাই?
আমার দুঃখের বার্ত্তা তোমারে শুনাই,—
আট পুত্র চারি কন্যা, ডুবেছে এ নীরে;
আমারে দেখিয়া, মাগো, বাড়ী যাও ফি’রে।”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|৩০}}</noinclude>
tv5td6b2l2e7l0bvgajbeo0008x3yqv
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩৪
104
882803
1989297
2026-07-09T17:18:42Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989297
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|মাতৃস্নেহ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>হুঙ্কারিয়া কহে বজ্র, কঠোর গর্জ্জন,
“চূর্ণ করি গিরিকুল, দগ্ধ করি বন;
মুহূর্ত্তে সংহার আমি করি জীব-গণে;
মম সম শক্তিশালী কে আছে ভুবনে?”
শুনিয়া ধরণী, দুখে কহে, “দুষ্ট ছেলে!
এত শক্তিগর্ব্ব তুমি কোথা হ’তে পেলে?
তুমি অতি উচ্ছৃঙ্খল, দাম্ভিক সন্তান,
তথাপি মায়ের বুকে এস, আছে স্থান।”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২০}}</noinclude>
ocd7c1ykidtluf8c9h90tj67h0nvvyl
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩৫
104
882804
1989298
2026-07-09T17:24:31Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989298
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|অদৃষ্টের পরিহাস।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>দীন, বৃদ্ধ পঙ্গু এক ভিক্ষা করি’ খায়,
একদিন বিধাতার কাছে অশ্ব চায়।
দৈবযোগে এক পান্থ যান সেই পথে,
রুগ্ন অশ্বশিশু ল’য়ে পড়েন বিপদে;
যুক্তি করি’, সাবধানে বাঁধি’ ল’য়ে তারে,
তু’লে দেন বাহক পঙ্গুর পিঠে ঘাড়ে।
পঙ্গু বলে, “বিধি মোরে দিল বটে ঘোড়া,
উল্টা করিয়া দিল;—কপাল যে পোড়া।”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২১}}</noinclude>
h73fw52q3dif3zw6if8qp0bjr84050c
পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৯০
104
882805
1989301
2026-07-10T05:48:27Z
ROCKY
2687
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989301
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৭৮|ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্}}</noinclude>পরা এবং স্ফুর্ত্তি করা নয়; এই দুনিয়ার সুখ-সুবিধাকেই সে একমাত্র কাম্য বলিয়া মনে করে না। তার অস্তিত্বের অণুপরমাণুতে ঝঙ্কৃত হয় অসীম অনন্ত আকাশের সুর। তার মূল্য-জ্ঞান (Sense of Value) অনেক উন্নত। সে জহুরী, কাঁচের চাকচিক্যে সে ভুলে না! ধ্রুবের সন্ধানী সে। তার পথ ভুল হয় না। তার উৎপত্তি এবং পরিণতি সম্বন্ধে সে সজাগ। “তোমরা আমা হইতেই আসিয়াছ এবং আমাতেই ফিরিয়া যাইবে”—আল্লাহ, পরিষ্কার ভাবে তাহাকে এ কথা শুনাইয়া দিয়াছেন। মুসলমানের জীবন-মরণ তাই আল্লাকে কেন্দ্র করিয়াই পরিক্রমণ করে। সৌধ-নির্ম্মাণ করিতে গেলে তার নীচে যেমন একটা সুদৃঢ় ভিত্তি থাকে, মুসলমানের সমস্ত ধ্যান-ধারণা—তার রাষ্ট্র, সমাজ, জীবন ও মরণ—সকলেরই মূলে আছে তেমনি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস। ইসলাম তাকে শিক্ষা দিয়াছেঃ—
{{blockquote|“বল (হে মোহাম্মদ), নিশ্চয়ই আমার আরাধনা, ত্যাগ, জীবন ও মরণ সমস্তই আল্লার জন্য।”}}
{{gap|8em}}— (কোরান, সুরাআনাম: ১৬৩)
{{gap}}ইহাই ইসলামের শিক্ষা। কাজেই আল্লাকে বাদ দিয়া বা ধর্ম্মকে বর্জ্জন করিয়। তার কোন কাজই সম্ভব নয়। ভিত্তিহীন সৌধের মতই সে হয় একটা অন্তঃসারশূন্য মিথ্যাবস্তু। কমিউনিজমের ব্যাপক অনুষ্ঠান দেখিলে তাই মনে হয়—এ যেন মস্তকবিহীন একটা বিরাটকায় জন্তু—যার হাত, পা, জবান, সবই কাজ করিতেছে, কিন্তু সব কিছুই উদ্দেশ্য বিহীন এলোমেলো।
{{gap}}যে নীতির উপর কমিউনিজম্ আপন কাঠামটা দাঁড় করাইয়াছে, তাহার সঙ্গেই বা এই নিরীশ্বরবাদ খাপ খায় কি করিয়া? ছোট-ছোট সোভিয়েট লইয়া এক একটা রিপাবলিক, আবার সেই রিপাবলিকগুলি লইয়া একটী ইউনিয়ন এবং সেই ইউনিয়নের নিয়ামক হইতেছেন<noinclude></noinclude>
s410cn6sowlnrvxzq7sv9nlfphnyj99
1989302
1989301
2026-07-10T05:49:10Z
ROCKY
2687
1989302
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৭৮|ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্}}</noinclude>পরা এবং স্ফুর্ত্তি করা নয়; এই দুনিয়ার সুখ-সুবিধাকেই সে একমাত্র কাম্য বলিয়া মনে করে না। তার অস্তিত্বের অণুপরমাণুতে ঝঙ্কৃত হয় অসীম অনন্ত আকাশের সুর। তার মূল্য-জ্ঞান (Sense of Value) অনেক উন্নত। সে জহুরী, কাঁচের চাকচিক্যে সে ভুলে না! ধ্রুবের সন্ধানী সে। তার পথ ভুল হয় না। তার উৎপত্তি এবং পরিণতি সম্বন্ধে সে সজাগ। “তোমরা আমা হইতেই আসিয়াছ এবং আমাতেই ফিরিয়া যাইবে”—আল্লাহ, পরিষ্কার ভাবে তাহাকে এ কথা শুনাইয়া দিয়াছেন। মুসলমানের জীবন-মরণ তাই আল্লাকে কেন্দ্র করিয়াই পরিক্রমণ করে। সৌধ-নির্ম্মাণ করিতে গেলে তার নীচে যেমন একটা সুদৃঢ় ভিত্তি থাকে, মুসলমানের সমস্ত ধ্যান-ধারণা—তার রাষ্ট্র, সমাজ, জীবন ও মরণ—সকলেরই মূলে আছে তেমনি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস। ইসলাম তাকে শিক্ষা দিয়াছেঃ—
{{blockquote|“বল (হে মোহাম্মদ), নিশ্চয়ই আমার আরাধনা, ত্যাগ, জীবন ও মরণ সমস্তই আল্লার জন্য।”}}
{{gap|12em}}— (কোরান, সুরাআনাম: ১৬৩)
{{gap}}ইহাই ইসলামের শিক্ষা। কাজেই আল্লাকে বাদ দিয়া বা ধর্ম্মকে বর্জ্জন করিয়। তার কোন কাজই সম্ভব নয়। ভিত্তিহীন সৌধের মতই সে হয় একটা অন্তঃসারশূন্য মিথ্যাবস্তু। কমিউনিজমের ব্যাপক অনুষ্ঠান দেখিলে তাই মনে হয়—এ যেন মস্তকবিহীন একটা বিরাটকায় জন্তু—যার হাত, পা, জবান, সবই কাজ করিতেছে, কিন্তু সব কিছুই উদ্দেশ্য বিহীন এলোমেলো।
{{gap}}যে নীতির উপর কমিউনিজম্ আপন কাঠামটা দাঁড় করাইয়াছে, তাহার সঙ্গেই বা এই নিরীশ্বরবাদ খাপ খায় কি করিয়া? ছোট-ছোট সোভিয়েট লইয়া এক একটা রিপাবলিক, আবার সেই রিপাবলিকগুলি লইয়া একটী ইউনিয়ন এবং সেই ইউনিয়নের নিয়ামক হইতেছেন<noinclude></noinclude>
8jxvn9hnmapiuos005e12vk5lm069by
পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৯১
104
882806
1989303
2026-07-10T05:52:51Z
ROCKY
2687
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989303
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৭৯|ইসলামের সহিত কমিউনিজ্মের পার্থক্য}}</noinclude>একজন ডিক্টেটর। ইহাই হইল সোভিয়েট রাষ্ট্রতন্ত্র। বর্ত্তমানে স্ট্যালিন হইলেন সেই ডিক্টেটর। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয়, সোভিয়েট ইউনিয়ন সম্বন্ধে যাহা সত্য হইল, নিখিল বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্র সম্বন্ধে তাহা সত্য হইল না! সেখানে আসিয়াই উহার ডিক্টেটরকে একদম অস্বীকার! এ যেন ঠিক স্ট্যালিন-হীন সোভিয়েট ইউনিয়ন! অথবা এ যেন একটা বিরাট বিবাহ-মহোৎসব, খাওয়া-দাওয়া, আমোদ-প্রমোদ—সবই হইল, কিন্তু বর নাই!
{{ফাঁক}}সোশ্যালিজম্ কিসের জন্য? কমিউনিজম্ কিসের জন্য? মানুষের প্রতি এই দরদ, এই সাম্য, এই মৈত্রী, এই বিশ্বভ্রাতৃত্বের পরিকল্পনা—কিসের জন্য? সব কিছুই অর্থহীন হইয়া দাঁড়ায়—যদি এর পিছনে আল্লার স্বীকৃতি না থাকে। কেন্দ্রবিহীন বৃত্তের ন্যায় আমাদের সব আয়োজন—সব আবর্ত্তন ব্যর্থ হইয়া যায়। এক-পিতৃত্ব স্বীকার না করিলে যেমন ভায়ে ভায়ে সদ্ভাব হইতে পারে না, সম-উৎপত্তিস্থল স্বীকার না করিলে তেমনি বিশ্বভ্রাতৃত্ব স্থাপিত হইতে পারে না! এক আল্লাহ আমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন, সব মানুষই তাঁহার সৃষ্টি, কাজেই সব মানুই ভাই-ভাই—ইহাই হইবে আমাদের যুক্তিসঙ্গত মনোভাব। একই উৎস-মুখ স্বীকার করিলে তবেই আমরা পরস্পর সমান হইতে পারি। ইসলামের সোশ্যালিজম ঠিক এই আদর্শে ই গঠিত। আল্লাহ আমাদের একমাত্র প্রভু, বিশ্বনিখল তাঁরই সৃষ্টি, স্বর্গ-মর্ত্যের সব-কিছুই তাঁর; সব কিছুই আমাদের ভোগের জন্য তিনি সৃষ্ট করিয়াছেন, আমরা সকলে মিলিয়া সেই সম্পদ উপভোগ করিব এবং তাঁহারই গুণগান করিব—ইহাই ইসলামের শিক্ষা। মানুষের প্রতি মানুষের প্রেম, ভালবাসা, হাম্দদী, সেবা, সহানুভূতি, ন্যায়বিচার—সব-কিছু তথনই আসে—যখন আমর। আল্লাকে মানি। সত্য, সুন্দর এবং মঙ্গলের সেই চিরন্তন আদর্শকে বাদ দিলে আমাদের জীবন ও কর্ম্মের কোনই অর্থ হয় না, মূল্যও হয় না। মানুষের<noinclude></noinclude>
qyh28iqka0hisu99uuelfe8zfg5vp52
পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৯২
104
882807
1989304
2026-07-10T05:57:10Z
ROCKY
2687
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989304
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৮০|ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্}}</noinclude>অন্তরের নিগূঢ়তম প্রদেশে এই বিশ্বাস—এই অনুভূতি নিহিত রহিয়াছে, কিন্তু জড়জীবনের ক্ষুধার তাড়নায় কমিউনিজম্ সে অনুভূতিকে চাপা দিয়াছে।
{{gap}}মানুষকে দুইটা সম্বন্ধ মানিয়া চলিতে হয়ঃ (১) মানুষের সহিত মানুষের সম্বন্ধ (২) আল্লার সহিত মানুষের সম্বন্ধ। কমিউনিজ্ম্ আল্লার সম্বন্ধের কথা ভুলিয়া গিয়া মানুষের সম্বন্ধ লইয়াই মাথা ঘামাইতেছে। এই জন্যই ইহা একপার্শ্বিক হইয়াছে।
{{gap}}জড়বাদীরা আজ আত্মাকে (Spirit) অস্বীকার করিয়া জড়জীবনকেই চরম এবং পরম বলিয়া মনে করিতেছে, কিন্তু ইসলামের শিক্ষা তাহা নয়। কোরান বলিতেছেঃ-
{{blockquote|“অতঃপর তিনি (আল্লাহ্) তাহাকে (মানুষকে) সর্ব্বাঙ্গসুন্দর করিলেন এবং তাঁহার (আল্লার) রুহ্ (Spirit) তাহার (মানুষের) মধ্যে প্রবিষ্ট করাইলেন।”—(৩২৯)}}
{{gap}}বাস্তবিকই তাই। জড় (Matter) এবং আত্মা (Spirit)—এই দুইএর সমন্বয় হইয়াছে বলিয়াই মানুষ সর্ব্বাঙ্গসুন্দর হইয়াছে। কাজেই কমিউনিজম্ যখন একটীকে স্বীকার করিয়া অপরটীকে অস্বীকার করিতেছে, তখন ইহা যত ভালই হউক,—ঠিক পূর্ণাঙ্গ নয়, এ কথা নিশ্চয়। ইহার গোড়াতেই রহিয়াছে মস্ত বড় গলং। মানুষের প্রকৃতির সহিত তার সমাজ ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থার সামঞ্জস্য থাকিতেই হইবে, অন্যথায় ইহা অস্বাভাবিক এবং অসম্পূর্ণ হইতে বাধ্য।
{{gap}}আর একটী কথা। জড়বাদ এখন বৈজ্ঞানিক-জগতে অচল। ঈশ্বর (God) বলিয়া কিছু নাই, সমস্তই জড়ের লীলাখেলা—এ মতবাদ বহুপূর্ব্বেই প্রত্যাখ্যাত হইয়াছে। Sir Jene Jeams প্রমুখ বৈজ্ঞানিকেরা এখন মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করিতেছেন যে, এই পরিদৃশ্যমান<noinclude></noinclude>
o6gk0qd0x7k3e4xoup7zqnmxdbj6bd1
পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৯৩
104
882808
1989306
2026-07-10T06:04:11Z
ROCKY
2687
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989306
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৮১|ইসলামের সহিত কমিউনিজ্মের পার্থক্য}}</noinclude>জগতের পশ্চাতে নিশ্চয়ই একজন নিয়ন্তা আছেন। অথচ আশ্চর্য্যের বিষয়, ঊনবিংশ শতাব্দীর সেই পুরাতন জড়বাদের ভিত্তির উপরেই কমিউনিজম্ দাড়াইয়া আছে! বিংশ শতাব্দীর নববিজ্ঞানের আলোকে কমিউনিজকে পরীক্ষা করিতে গেলে ইহার বুনিয়াদ চুরমার হইয়া যায় না কি? ‘দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ’ (Dialectical Materialism) হইতে যদি বস্তুবাদ (Materialism) টুকুই মিথ্যা হইয়া যায়, তবে আর থাকে কি? মার্কস্বাদ (Marxism) যে সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত বলিয়া কমিউনিস্টরা এত ভড়ং করে, সেই গর্ব্ব অলীক বলিয়া মনে হয় না কি? সত্যই মার্কসের মতবাদ যে বিজ্ঞানসম্মত নয়, একথা এখন অনেকেই বলেন। “Marxism—Is it Science?” এই ধরণের প্রশ্ন পূর্ব্বেই উঠিয়াছে। বিরুদ্ধবাদীরা দেখাইয়াছেন যে, মার্কস, যাহাকে বৈজ্ঞানিক সত্য বলিয়া চালাইতে চান, তাহাও মূলতঃ একটা ব্যক্তিগত মত বা বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
{{ফাঁক}}'''কমিউনিজমের দার্শনিকতা অস্বাভাবিক এবং ইসলামবিরোধীঃ—''' দুঃখ ও অভাবকে দূর করিয়া সকল মানুষকে সুখী করা এবং প্রত্যেককেই তুল্য জ্ঞান করা—এই দুইটাই হইল কমিউনিজমের মূল লক্ষ্য। আপাতদৃষ্টিতে এই দুইটী উদ্দেশ্য খুবই মহৎ বলিয়া মনে হয়। মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা এবং মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ দূর করিয়া সাম্য স্থাপন করা খুবই বড় কথা, সন্দেহ নাই। কিন্তু কমিউনিজম্ যাহা বলিতে চায় বা যে-সংস্কার আনিতে চায়, তাহা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সব মানুষকেই তুল্যরূপে সুখ-সুবিধা দান করিতে যাওয়া, অথবা সব মানুষকেই এক-সমান মনে করা নিতান্ত ভুল। প্রকৃতিতে এইরূপ সমতা নাই। ছোট-বড়, কম-বেশী, ভাল-মন্দ, সুখী-দুঃখী—ইহাই প্রকৃতির নিয়ম। সৃষ্টি-তত্ত্বের গোপন রহস্যই এইখানে। ছোটর পাশে বড়, সবলের পাশে<noinclude></noinclude>
jch45us25gva8oq3bsmhyo2cc0jbhkn
পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৯৪
104
882809
1989307
2026-07-10T06:06:48Z
ROCKY
2687
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989307
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|৮২|ইসলাম ও কমিউনিজ্ম্}}</noinclude>দুর্ব্বল, ধনীর পাশে দরিদ্র, আলোর পাশে অন্ধকার, সুখের পাশে দুঃখ—ইহাই আল্লার বিধান। আকাশে চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র—সকলেই সমান নয়; জমিনে গাছ-পালা-পাহাড়-পর্ব্বত-নদ-নদী—কেহই সমান নয়। জীবজন্তু, তরুলতা, কীট-পতঙ্গ—কোন খানেই সমতার নীতি দেখা যায় না। মানুষ সবাই মূলতঃ সমান বটে, কিন্তু তার অর্থ এ নয় যে, সকলেরই অভাব-অভিযোগ, সুখ-দুঃখ, বুদ্ধি-জ্ঞান বাব শক্তি-সম্ভাবনা এক। সৃষ্টির মূলে দেখিতে পাওয়া যায়, প্রত্যেক জিনিসেরই তারতম্য বা ইতর-বিশেষ আছে। কয়লা ও হীরক মূলতঃ এক, কিন্তু তাই বলিয়া উহারা একই মূল্যে বিকায় না। নিখিল সৃষ্টির মূলে আছে বৈচিত্র্য বা বৈষম্য; এই বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়াই ঐক্য বা মিলনের সুর ধ্বনিত হইতেছে, বৈচিত্র্য আছে বলিয়াই প্রত্যেক বস্তুটা নিজ নিজ স্থানে পরিপূর্ণরূপে অভিব্যক্ত হইতে পারিতেছে। সবাই যদি সুখী হইত, তবে সুখ বলিয়া আমাদের মনে কোন ধারণাই জন্মিত না। দুঃখ আছে বলিয়াই সুখকে বুঝি, সুখ আছে বলিয়াই দুঃখকে বুঝি। সেইরূপ ছোট না থাকিলে বড়কে বুঝা যায় না, অন্ধকার না থাকিলে আলোককে বুঝা যায় না। একটীর বিরুদ্ধে আর একটী দাড়াইয়া আছে, তাইত এই বিশ্বজগৎ এমন রূপ-সুষমায় প্রকাশ পাইতেছে। ইটই যদি নিজেকে চূর্ণ করিয়া দিয়া সুর্কী হইতে না চাইত, অথবা প্রত্যেক ইটই যদি বলিত, আমি ভিত্তিমূলের নীচে পড়িয়া থাকিব না,—আমি মিনারে উঠিব, তবে অমন সুন্দর তাজমহল আর গড়া হইত না! ইহাই প্রকৃতির নিয়ম। এই প্রাকৃতিক নিয়মকে অতিক্রম করিয়ামানুষের ধর্ম্ম, সমাজ ও রাষ্ট্র দাড়াইতে পারে না।
{{ফাঁক}}দুঃখ-দৈন্যের দার্শনিক তত্ত্ব সম্যকরূপে উপলব্ধি করিতে না পারিলেই এই সব অদ্ভূত মতবাদ দেখা দেয়। দুঃখের প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য না বুঝিতে পারায় যেমন জন্মান্তরবাদের সৃষ্টি হইয়াছে, দুঃখকে না বুঝিয়া<noinclude></noinclude>
kbs6nid7mc4aaufnqt74vrj541afqvu
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩০
104
882810
1989308
2026-07-10T06:18:42Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989308
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|স্বাধীনতার সুখ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>বাবুই পাখীরে ডাকি’, বলিছে চড়াই,—
“কুঁ’ড়ে ঘরে থে’কে কর শিল্পের বড়াই;
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা’পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তায়?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়;
পাকা হো’ক, তবু ভাই, পরের ও বাসা;
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|১৬}}</noinclude>
371h6h9wd97v1y7iyof6wpo398mq3oc
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩১
104
882811
1989310
2026-07-10T08:11:46Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989310
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|ক্রোধ ও লোভ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>ক্রোধ বলে, “লোভ ভাই, তুমি বড় খল,
তোমার কুহুকে পড়ি’ নিষ্ঠুরের দল,
পরের মাথায় করি’ লগুড় প্রহার,
পলায়ন করে, সব লু’ঠে নিয়ে তার।”
লোভ কহে, “যা” বলিলে করি তা’ স্বীকার,
কিন্তু, তুমি পূর্ণরূপে স্কন্ধে চাপ যা’র,
সে শুধু অন্যেরে মারি’ ক্ষান্ত নাহি হয়,
নিজের মাথায় শেষে প্রহরে নিশ্চয়।”
</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|১৭}}
{{left|খ}}</noinclude>
nechpvayrh0lie7r5oesz3mixmw8ufc
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩২
104
882812
1989311
2026-07-10T08:20:32Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989311
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|কৃতঘ্নতা।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>নৌকা ডু’বে গেল ঝড়ে; দেখি’ তীর হ’তে
ভীত, অবসন্ন মাঝি ভে’সে যায় স্রোতে,
ঝাঁপায়ে সাহসী যুবা তরঙ্গে পড়িল,
অতি কষ্টে বিপন্নেরে উদ্ধার করিল।
মাঝি বলে, “প্রাণ দিলে, কি দিব তোমারে?
চল, ভৃত্য হ’য়ে র’ব, তোমার দুয়ারে।”
রাত্রি-যোগে যুবকের চুরি করি’ সব,
মাঝি-ভৃত্য পলাতক; —যুবক নীরব!</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|১৮}}</noinclude>
qrxotuugj4pd1s45spkbxbodkbjrq6q
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩৩
104
882813
1989312
2026-07-10T08:26:50Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989312
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|দাম্ভিকের পরাজয়।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>গিরি কহে, “সিন্ধু, তব বিশাল শরীর,
আমার চরণে কেন লুটাইছ শির?
এ অভয়-পদে যদি লয়েছ শরণ,
কি প্রার্থনা, কহ আমি করিব পূরণ।”
সাগর হাসিয়া কহে, “আমি রত্নাকর,
আমার অভাব কিছু নাই, গিরিবর;
তব পিতৃ-পিতামহ ডু’বেছে এ নীরে,
সেই বার্ত্তা দিতে আমি আসি ঘু’রে ফিরে।”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|১৯}}</noinclude>
lue1d144oj27llmawpcr4yzgxy2whoh
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩৭
104
882814
1989313
2026-07-10T08:35:29Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989313
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|মনোরাজ্যে জড়ের নিয়ম।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>পাপের টানেতে যদি, কোন(ও) উচ্চমতি,
ক্রমে নিম্নদিকে পায় অব্যাহত-গতি,
জড় জগতের চির-প্রথা-অনুসারে,
অধঃপতনের বেগ ক্রমে তার বাড়ে।
একবার নীচে যদি প’ড়ে যায় মন,
তারে ক্রমে ঊর্দ্ধে তোলা কঠিন কেমন
জড় জগতের চির-প্রসিদ্ধ প্রথায়,
ঊর্দ্ধমুখে তার গতি শত বাধা পায়।</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২৩}}</noinclude>
7ssupwdws0592wtuv4lweyd2rka73xx
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩৬
104
882815
1989314
2026-07-10T08:51:05Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989314
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|ভাল মন্দ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>এক কূল ভাঙ্গে নদী, অন্য কূল গড়ে;
দূষিত বায়ুরে লয় উড়াইয়া ঝড়ে।
তীব্র কালকূটে হয় শুদ্ধ রসায়ন,
কাক করে কোকিলের সন্তান-পালন।
দংশে বটে, মধুচক্র গড়ে মধুকর,
বজ্র হানে যদি, বারি ঢালে জলধর।
সুখ-দুখ-ভাল-মন্দ-জড়িত সংসার;
অবিমিশ্র কিছু নাই সৃষ্ট বিধাতার।</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২২}}</noinclude>
sja6fgao3ugp68xtwomupbit5344dmx
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩৮
104
882816
1989315
2026-07-10T08:59:22Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989315
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|আপেক্ষিক তুলনা।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>সত্যের সমান বল নাহি ত্রিভুবনে;
সৎকার্য্য দানের তুল্য, না হেরি নয়নে।
ঈশ-সেবা-সম, নাই চিত্তের শোধক;
পরপীড়া তুল্য, নাই সদ্গতি-রোধক।
পর-উপকার-সম, পুণ্য নাহি আর;
পক্ষপাত-তুল্য, আর নাহি অবিচার।
স্বাস্থ্য-হীনতার সম, দুঃখ কিছু নাই;
অবাধ্য পুত্রের সম নাহিক বালাই।</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২৪}}</noinclude>
r5p9gey5b5ukb75f7tx1w142341yeuj
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩৯
104
882817
1989316
2026-07-10T09:04:37Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989316
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|অতি পরিচয়ের দোষ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>সদা যেই বাস করে চন্দনের বনে,
চন্দনেরে সেজন ইন্ধন-তুল্য গণে।
যাহার বসতি পূত-ভাগীরথী-তীরে,
তা’র কাছে ভেদ নাই কূপ-গঙ্গা নীরে।
সুগন্ধি উদ্যানে যেই সদা করে বাস,
তার কাছে লোপ পায় পুষ্পের সুবাস।
গিরিশোভা নাহি হেরে গিরি-অধিবাসী;
অতি-পরিচয়, সম্মানীর মান-নাশী।</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|২৫}}</noinclude>
ahqge89k2i8vnekabwp5gdvsi7m6xkp
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৫৪
104
882818
1989317
2026-07-10T09:08:42Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989317
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|দয়া।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>মাতৃশ্রাদ্ধে নিজহাতে কাঙ্গাল-বিদায়
করিছেন মহারাজ, প্রাচীন প্রথায়।
লইয়া দু’আনা, আর চাল অর্দ্ধসের,
ঘুরিয়া দুখিনী এক আসিয়াছে ফের।
দ্বারী ধ’রে ল’য়ে যায় রাজার সম্মুখে,
রাজা বলে, “এসেছিস্ ঘু’রে কোন্ মুখে?”
দীনা কেঁদে বলে, “পাঁচ শিশু, রুগ্ন স্বামী।”
রাজা বলে, “লক্ষ মুদ্রা তোরে দিব আমি।”</poem>}}
{{dhr}}
{{কেন্দ্র|সমাপ্ত।}}<noinclude>{{C|৪০}}</noinclude>
mkytfcepoeebk7xb20nuj7sgs5l9qi9
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৫৫
104
882819
1989318
2026-07-10T09:16:45Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989318
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|রূপ ও গুণ।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>প্রজাপতি বলে, “যূথি, তুই সুধু সাদা,
কেমনে বুঝিবি মোর রূপের মর্য্যাদা?
নানা বর্ণে মোর পাখা, কেমন রঞ্জিত!
রূপ হ’তে বিধি তোরে করেছে বঞ্চিত।”
যূথি বলে, “কিন্তু ভাই, রূপ কিছু নয়,
গুণের আদর দেখ চিরস্থায়ী হয়।
চিরদিন দিয়ে থাকি মধুর সৌরভ;
বংশক্রমে আছে মোর গুণের গৌরব!”</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|৪১}}
{{left|ঙ}}</noinclude>
rwy6itjbv9s26klmn2unmxsd3bptf3d
পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৫৬
104
882820
1989319
2026-07-10T09:21:08Z
JyotiPN
12378
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1989319
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="JyotiPN" />{{c|অমৃত।}}</noinclude>
{{কেন্দ্র|{{xx-larger|উপযুক্ত কাল।}}}}
{{dhr}}
{{Block center|<poem>শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে;
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া, ক’রে পণ্ডশ্রম,
ফল চাহে, সেও অতি নির্ব্বোধ, অধম;
খেয়া তরী চ’লে গেলে, বসে এসে তীরে,
কিসে পার হবে, তরী না আসিলে ফিরে?</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|5em}}<noinclude>{{C|৪২}}</noinclude>
ah57c5le27d2i4potfkai3r4fagyt1o