উইকিসংকলন
bnwikisource
https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.47.0-wmf.10
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিসংকলন
উইকিসংকলন আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
লেখক
লেখক আলাপ
নির্ঘণ্ট
নির্ঘণ্ট আলাপ
পাতা
পাতা আলাপ
প্রবেশদ্বার
প্রবেশদ্বার আলাপ
প্রকাশক
প্রকাশক আলোচনা
রচনা
রচনা আলাপ
অনুবাদ
অনুবাদ আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD
10
9620
1989740
1989678
2026-07-14T07:02:41Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1989740
wikitext
text/x-wiki
448356
nqxnzji35bsbffk31lzxdoahs7woz6p
টেমপ্লেট:ALL PAGES
10
9621
1989741
1989679
2026-07-14T07:02:51Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1989741
wikitext
text/x-wiki
561448
rwr78vabo0yds5hw0306s8polxav18y
টেমপ্লেট:PR TEXTS
10
9622
1989742
1989680
2026-07-14T07:03:01Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1989742
wikitext
text/x-wiki
19635
sxtaajoj475tpip3o001eps2iv6uv6d
টেমপ্লেট:ALL TEXTS
10
9623
1989743
1989681
2026-07-14T07:03:11Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1989743
wikitext
text/x-wiki
19635
sxtaajoj475tpip3o001eps2iv6uv6d
পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/২৫
104
754009
1989690
1989682
2026-07-13T13:11:18Z
Bodhisattwa
2549
/* বৈধকরণ */
1989690
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{c|{{xx-larger|'''পঞ্চাশের মন্বন্তর'''}}}}
{{ফাঁক}}ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের ভয়াবহ স্মৃতি বাঙালী ভুলিতে পারে নাই। পঞ্চাশের মন্বন্তরও বাঙলার ইতিহাস চিরদিন মসীচিহ্নিত করিয়া রাখিবে।
{{ফাঁক}}১৭৬৫ খ্রীস্টাব্দের ১২ই আগস্ট ক্লাইভ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির নামে বাঙলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লইলেন। দেশে তখন যে অবস্থা চলিতেছিল, তাহা অরাজকতারই নামান্তর। নানা কর্তা—অসংখ্য শাসনবিধি। শোষণ পুরাদস্তুর তো চলিতেই ছিল, তাহার উপর অনাবৃষ্টি ও অল্পবৃষ্টির দরুন অজন্মা ও শস্যহানি ঘটিল। ইহারই অবশ্যম্ভাবী ফল মন্বন্তর (১৭৭০ অব্দ)। দেশ শ্মশান হইয়া গেল। ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের কতকটা কৈফিয়ৎ চলিতে পারে,—ইংরেজ যে শাসনমহিমার জগৎময় ঢক্কা পিটাইয়া থাকে, মাত্র পাঁচ বৎসর কালের মধ্যে উহা তখনও দৃঢ়মূল হইবার অবকাশ পায় নাই।
{{ফাঁক}}কিন্তু ১৯৪৩ খ্রীস্টাব্দে (১৩৫০ বঙ্গাব্দে) এরূপ কোন কৈফিয়ৎ চলিতে পারে না। পৌনে দুই শত বৎসরের অধিককাল দোর্দণ্ড প্রতাপে শ্বেত-রাজত্ব চলিয়াছে। বিংশ শতাব্দী অজস্র সুযোগ-সুবিধা মানুষের হাতে আনিয়া দিয়াছে; বিজ্ঞান-দক্ষিণ্যে সমগ্র পথিবীর সঙ্গে আত্মীয়তা ঘটিয়াছে। এখনও দুধের অভাবে কত ছেলে মায়ের কোলে মরিয়া গেল, ডাস্টবিনে মানুষ পশুর সঙ্গে কাড়াকাড়ি করিয়া উচ্ছিস্ট খাইল, এ দৃশ্য মাসের পর মাস আমরা চোখে দেখিয়াছি।
{{ফাঁক}}বাঙলার অসামরিক সরবরাহ-সচিব পঞ্চাশের মন্বন্তরের বারোটি কারণ দিয়াছিলেন, তাহা এইরূপ—
{{ফাঁক}}(১) ১৯৪২ অব্দে আউশ ফসল ভাল হয় নাই।
{{ফাঁক}}(২) ১৯৪২-৪৩ অব্দে আমন ধানও কম ফলিয়াছে।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৯}}</noinclude>
f65fv5bxqfmxd9ofoat1g35m5zflk9j
1989723
1989690
2026-07-14T02:56:28Z
Bodhisattwa
2549
1989723
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{c|{{xx-larger|'''পঞ্চাশের মন্বন্তর'''}}}}
{{ফাঁক}}ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের ভয়াবহ স্মৃতি বাঙালী ভুলিতে পারে নাই। পঞ্চাশের মন্বন্তরও বাঙলার ইতিহাস চিরদিন মসীচিহ্নিত করিয়া রাখিবে।
{{ফাঁক}}১৭৬৫ খ্রীস্টাব্দের ১২ই আগস্ট ক্লাইভ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির নামে বাঙলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লইলেন। দেশে তখন যে অবস্থা চলিতেছিল, তাহা অরাজকতারই নামান্তর। নানা কর্তা—অসংখ্য শাসনবিধি। শোষণ পুরাদস্তুর তো চলিতেই ছিল, তাহার উপর অনাবৃষ্টি ও অল্পবৃষ্টির দরুন অজন্মা ও শস্যহানি ঘটিল। ইহারই অবশ্যম্ভাবী ফল মন্বন্তর (১৭৭০ অব্দ)। দেশ শ্মশান হইয়া গেল। ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের কতকটা কৈফিয়ৎ চলিতে পারে,—ইংরেজ যে শাসনমহিমার জগৎময় ঢক্কা পিটাইয়া থাকে, মাত্র পাঁচ বৎসর কালের মধ্যে উহা তখনও দৃঢ়মূল হইবার অবকাশ পায় নাই।
{{ফাঁক}}কিন্তু ১৯৪৩ খ্রীস্টাব্দে (১৩৫০ বঙ্গাব্দে) এরূপ কোন কৈফিয়ৎ চলিতে পারে না। পৌনে দুই শত বৎসরের অধিককাল দোর্দণ্ড প্রতাপে শ্বেত-রাজত্ব চলিয়াছে। বিংশ শতাব্দী অজস্র সুযোগ-সুবিধা মানুষের হাতে আনিয়া দিয়াছে; বিজ্ঞান-দক্ষিণ্যে সমগ্র পথিবীর সঙ্গে আত্মীয়তা ঘটিয়াছে। এখনও দুধের অভাবে কত ছেলে মায়ের কোলে মরিয়া গেল, ডাস্টবিনে মানুষ পশুর সঙ্গে কাড়াকাড়ি করিয়া উচ্ছিস্ট খাইল, এ দৃশ্য মাসের পর মাস আমরা চোখে দেখিয়াছি।
{{ফাঁক}}বাঙলার অসামরিক সরবরাহ-সচিব পঞ্চাশের মন্বন্তরের বারোটি কারণ দিয়াছিলেন, তাহা এইরূপ—
{{left margin|2em|{{hi|(১) ১৯৪২ অব্দে আউশ ফসল ভাল হয় নাই।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(২) ১৯৪২-৪৩ অব্দে আমন ধানও কম ফলিয়াছে।}}}}
{{nop}}<noinclude>{{c|১৯}}</noinclude>
8beant78ikwsfi8f97w8dqus1mqhq4a
পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/২৬
104
754011
1989689
1989684
2026-07-13T13:08:16Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
1989689
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{ফাঁক}}(৩) মেদিনীপুর ও ২৪ পরগণা জেলা বাত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়
{{ফাঁক}}উৎপাদন কম হইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৪) কীটের উপদ্রবে ফসল নষ্ট হইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৫) সরকারের নৌকা-নিয়ন্ত্রণনীতি চলাচলের বিঘ্ন ঘটাইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৬) সমুদ্রকূল হইতে লোক-অপসারণের ফলে উৎপাদনের ক্ষতি
{{ফাঁক}}হইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৭) ব্রহ্ম ও আরাকান হইতে আগত আশ্রয়প্রার্থীরা ভিড়
{{ফাঁক}}জমাইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৮) শিল্পকেন্দ্রগুলিতে ভিন্ন প্রদেশের মজুর অনেক বাড়িয়াছে।
{{ফাঁক}}(৯) ব্রহ্মদেশ হইতে চাউলের আমদানি বন্ধ হওয়ায় ঘাটতি
{{ফাঁক}}পূরণের উপায় হয় নাই।
{{ফাঁক}}(১০) অনেক বিমানঘাটি তৈয়ারি হওয়ায় সেই সব জায়গায় চাষ
{{ফাঁক}}হইতে পারে নাই।
{{ফাঁক}} (১১) সামরিক লোকের সংখ্যা অনেক বাড়িয়া যাওয়ায় খাবার
{{ফাঁক}}বেশি খরচ হইয়াছে।
{{ফাঁক}}(১২) অন্যান্য প্রদেশ হইতে আমদানি কম হইয়াছে।
{{ফাঁক}}৪ঠা নভেম্বর (১৯৪৩) পার্লামেণ্টে ভারত সম্পবন্ধে এক বিতর্ক হইয়াছিল, তাহাতে ইনফ্লেশন বা মূদ্রাস্ফীতিকে পঞ্চাশের মন্বন্তরের অন্যতম প্রধান কারণ বলিয়া ধরা হইয়াছে। সরবরাহ-সচিবের বারো দফার মধ্যে ইহার উল্লেখমাত্র নাই। স্পষ্টত তিনি গৌণ কারণগুলির উপর জোর দিয়া আসল ব্যাপার চাপিয়া গিয়াছেন। সরকার-পক্ষ যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁহাদের কেনা জিনিসের দাম দিতে গিয়া প্রচুর কাগজি-নোট বাজারে ছাড়িয়াছেন। যাহারা সরকারি কাজ করে, যুদ্ধের মালপত্র জোগান দেয়, কলকারখানায় নানাবিধ যুদ্ধদ্রব্য উৎপাদন করে, তাহারা সেই কাগজি-নোট অজস্র পরিমাণে পাইল; তাহা দিয়া মহাস্ফূর্তিতে জিনিসপত্র কিনিতে লাগিল। দেশের অধিকাংশ লোকই ইহার অনেক পূর্বে অপেক্ষাকৃত ভাল দাম পাইয়া মাল বেচিয়া দিয়াছে; ফাঁপানো মূদ্রার অংশ তাহদের হাতে পড়িল না। জিনিসপত্র তাহদের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়াইয়া বহু দূরে চলিয়া গেল। লক্ষ লক্ষ লোক না।<noinclude> {{c|২০}}</noinclude>
o603qdr122lprdg5a0hmy8wi17xbzpi
1989721
1989689
2026-07-13T16:20:39Z
DILDAR KIBRIA
21979
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989721
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>{{ফাঁক}}(৩) মেদিনীপুর ও ২৪ পরগণা জেলা বাত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়
{{ফাঁক}}উৎপাদন কম হইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৪) কীটের উপদ্রবে ফসল নষ্ট হইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৫) সরকারের নৌকা-নিয়ন্ত্রণনীতি চলাচলের বিঘ্ন ঘটাইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৬) সমুদ্রকূল হইতে লোক-অপসারণের ফলে উৎপাদনের ক্ষতি
{{ফাঁক}}হইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৭) ব্রহ্ম ও আরাকান হইতে আগত আশ্রয়প্রার্থীরা ভিড়
{{ফাঁক}}জমাইয়াছে।
{{ফাঁক}}(৮) শিল্পকেন্দ্রগুলিতে ভিন্ন প্রদেশের মজুর অনেক বাড়িয়াছে।
{{ফাঁক}}(৯) ব্রহ্মদেশ হইতে চাউলের আমদানি বন্ধ হওয়ায় ঘাটতি
{{ফাঁক}}পূরণের উপায় হয় নাই।
{{ফাঁক}}(১০) অনেক বিমানঘাটি তৈয়ারি হওয়ায় সেই সব জায়গায় চাষ
{{ফাঁক}}হইতে পারে নাই।
{{ফাঁক}} (১১) সামরিক লোকের সংখ্যা অনেক বাড়িয়া যাওয়ায় খাবার
{{ফাঁক}}বেশি খরচ হইয়াছে।
{{ফাঁক}}(১২) অন্যান্য প্রদেশ হইতে আমদানি কম হইয়াছে।
{{ফাঁক}}৪ঠা নভেম্বর (১৯৪৩) পার্লামেণ্টে ভারত সম্পবন্ধে এক বিতর্ক হইয়াছিল, তাহাতে ইনফ্লেশন বা মূদ্রাস্ফীতিকে পঞ্চাশের মন্বন্তরের অন্যতম প্রধান কারণ বলিয়া ধরা হইয়াছে। সরবরাহ-সচিবের বারো দফার মধ্যে ইহার উল্লেখমাত্র নাই। স্পষ্টত তিনি গৌণ কারণগুলির উপর জোর দিয়া আসল ব্যাপার চাপিয়া গিয়াছেন। সরকার-পক্ষ যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁহাদের কেনা জিনিসের দাম দিতে গিয়া প্রচুর কাগজি-নোট বাজারে ছাড়িয়াছেন। যাহারা সরকারি কাজ করে, যুদ্ধের মালপত্র জোগান দেয়, কলকারখানায় নানাবিধ যুদ্ধদ্রব্য উৎপাদন করে, তাহারা সেই কাগজি-নোট অজস্র পরিমাণে পাইল; তাহা দিয়া মহাস্ফূর্তিতে জিনিসপত্র কিনিতে লাগিল। দেশের অধিকাংশ লোকই ইহার অনেক পূর্বে অপেক্ষাকৃত ভাল দাম পাইয়া মাল বেচিয়া দিয়াছে; ফাঁপানো মূদ্রার অংশ তাহদের হাতে পড়িল না। জিনিসপত্র তাহদের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়াইয়া বহু দূরে চলিয়া গেল। লক্ষ লক্ষ লোক না।<noinclude> {{c|২০}}</noinclude>
jodizyzysa15wr2tdmf3wjkw4a31x90
1989724
1989721
2026-07-14T02:59:40Z
Bodhisattwa
2549
1989724
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>{{left margin|2em|{{hi|(৩) মেদিনীপুর ও ২৪ পরগণা জেলা বাত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কম হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৪) কীটের উপদ্রবে ফসল নষ্ট হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৫) সরকারের নৌকা-নিয়ন্ত্রণনীতি চলাচলের বিঘ্ন ঘটাইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৬) সমুদ্রকূল হইতে লোক-অপসারণের ফলে উৎপাদনের ক্ষতি হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৭) ব্রহ্ম ও আরাকান হইতে আগত আশ্রয়প্রার্থীরা ভিড় জমাইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৮) শিল্পকেন্দ্রগুলিতে ভিন্ন প্রদেশের মজুর অনেক বাড়িয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৯) ব্রহ্মদেশ হইতে চাউলের আমদানি বন্ধ হওয়ায় ঘাটতি পূরণের উপায় হয় নাই।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(১০) অনেক বিমানঘাটি তৈয়ারি হওয়ায় সেই সব জায়গায় চাষ হইতে পারে নাই।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(১১) সামরিক লোকের সংখ্যা অনেক বাড়িয়া যাওয়ায় খাবার বেশি খরচ হইয়াছে।}}}}
{{ফাঁক}}(১২) অন্যান্য প্রদেশ হইতে আমদানি কম হইয়াছে।}}}}
{{ফাঁক}}৪ঠা নভেম্বর (১৯৪৩) পার্লামেণ্টে ভারত সম্বন্ধে এক বিতর্ক হইয়াছিল, তাহাতে ইনফ্লেশন বা মূদ্রাস্ফীতিকে পঞ্চাশের মন্বন্তরের অন্যতম প্রধান কারণ বলিয়া ধরা হইয়াছে। সরবরাহ-সচিবের বারো দফার মধ্যে ইহার উল্লেখমাত্র নাই। স্পষ্টত তিনি গৌণ কারণগুলির উপর জোর দিয়া আসল ব্যাপার চাপিয়া গিয়াছেন। সরকার-পক্ষ যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁহাদের কেনা জিনিসের দাম দিতে গিয়া প্রচুর কাগজি-নোট বাজারে ছাড়িয়াছেন। যাহারা সরকারি কাজ করে, যুদ্ধের মালপত্র জোগান দেয়, কলকারখানায় নানাবিধ যুদ্ধদ্রব্য উৎপাদন করে, তাহারা সেই কাগজি-নোট অজস্র পরিমাণে পাইল; তাহা দিয়া মহাস্ফূর্তিতে জিনিসপত্র কিনিতে লাগিল। দেশের অধিকাংশ লোকই ইহার অনেক পূর্বে অপেক্ষাকৃত ভাল দাম পাইয়া মাল বেচিয়া দিয়াছে; ফাঁপানো মূদ্রার অংশ তাহদের হাতে পড়িল না। জিনিসপত্র তাহদের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়াইয়া বহু দূরে চলিয়া গেল। লক্ষ লক্ষ লোক না<noinclude> {{c|২০}}</noinclude>
kw600b3gww927i705d9si93ly4my2c0
1989725
1989724
2026-07-14T02:59:57Z
Bodhisattwa
2549
1989725
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>{{left margin|2em|{{hi|(৩) মেদিনীপুর ও ২৪ পরগণা জেলা বাত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কম হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৪) কীটের উপদ্রবে ফসল নষ্ট হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৫) সরকারের নৌকা-নিয়ন্ত্রণনীতি চলাচলের বিঘ্ন ঘটাইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৬) সমুদ্রকূল হইতে লোক-অপসারণের ফলে উৎপাদনের ক্ষতি হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৭) ব্রহ্ম ও আরাকান হইতে আগত আশ্রয়প্রার্থীরা ভিড় জমাইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৮) শিল্পকেন্দ্রগুলিতে ভিন্ন প্রদেশের মজুর অনেক বাড়িয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৯) ব্রহ্মদেশ হইতে চাউলের আমদানি বন্ধ হওয়ায় ঘাটতি পূরণের উপায় হয় নাই।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(১০) অনেক বিমানঘাটি তৈয়ারি হওয়ায় সেই সব জায়গায় চাষ হইতে পারে নাই।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(১১) সামরিক লোকের সংখ্যা অনেক বাড়িয়া যাওয়ায় খাবার বেশি খরচ হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(১২) অন্যান্য প্রদেশ হইতে আমদানি কম হইয়াছে।}}}}
{{ফাঁক}}৪ঠা নভেম্বর (১৯৪৩) পার্লামেণ্টে ভারত সম্বন্ধে এক বিতর্ক হইয়াছিল, তাহাতে ইনফ্লেশন বা মূদ্রাস্ফীতিকে পঞ্চাশের মন্বন্তরের অন্যতম প্রধান কারণ বলিয়া ধরা হইয়াছে। সরবরাহ-সচিবের বারো দফার মধ্যে ইহার উল্লেখমাত্র নাই। স্পষ্টত তিনি গৌণ কারণগুলির উপর জোর দিয়া আসল ব্যাপার চাপিয়া গিয়াছেন। সরকার-পক্ষ যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁহাদের কেনা জিনিসের দাম দিতে গিয়া প্রচুর কাগজি-নোট বাজারে ছাড়িয়াছেন। যাহারা সরকারি কাজ করে, যুদ্ধের মালপত্র জোগান দেয়, কলকারখানায় নানাবিধ যুদ্ধদ্রব্য উৎপাদন করে, তাহারা সেই কাগজি-নোট অজস্র পরিমাণে পাইল; তাহা দিয়া মহাস্ফূর্তিতে জিনিসপত্র কিনিতে লাগিল। দেশের অধিকাংশ লোকই ইহার অনেক পূর্বে অপেক্ষাকৃত ভাল দাম পাইয়া মাল বেচিয়া দিয়াছে; ফাঁপানো মূদ্রার অংশ তাহদের হাতে পড়িল না। জিনিসপত্র তাহদের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়াইয়া বহু দূরে চলিয়া গেল। লক্ষ লক্ষ লোক না<noinclude> {{c|২০}}</noinclude>
3rbclbtliyjey11cz7py98l6bgltjx1
1989728
1989725
2026-07-14T03:03:35Z
Bodhisattwa
2549
/* বৈধকরণ */
1989728
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{left margin|2em|{{hi|(৩) মেদিনীপুর ও ২৪ পরগণা জেলা বাত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কম হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৪) কীটের উপদ্রবে ফসল নষ্ট হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৫) সরকারের নৌকা-নিয়ন্ত্রণনীতি চলাচলের বিঘ্ন ঘটাইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৬) সমুদ্রকূল হইতে লোক-অপসারণের ফলে উৎপাদনের ক্ষতি হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৭) ব্রহ্ম ও আরাকান হইতে আগত আশ্রয়প্রার্থীরা ভিড় জমাইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৮) শিল্পকেন্দ্রগুলিতে ভিন্ন প্রদেশের মজুর অনেক বাড়িয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(৯) ব্রহ্মদেশ হইতে চাউলের আমদানি বন্ধ হওয়ায় ঘাটতি পূরণের উপায় হয় নাই।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(১০) অনেক বিমানঘাটি তৈয়ারি হওয়ায় সেই সব জায়গায় চাষ হইতে পারে নাই।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(১১) সামরিক লোকের সংখ্যা অনেক বাড়িয়া যাওয়ায় খাবার বেশি খরচ হইয়াছে।}}}}
{{left margin|2em|{{hi|(১২) অন্যান্য প্রদেশ হইতে আমদানি কম হইয়াছে।}}}}
{{ফাঁক}}৪ঠা নভেম্বর (১৯৪৩) পার্লামেণ্টে ভারত সম্বন্ধে এক বিতর্ক হইয়াছিল, তাহাতে ইনফ্লেশন বা মূদ্রাস্ফীতিকে পঞ্চাশের মন্বন্তরের অন্যতম প্রধান কারণ বলিয়া ধরা হইয়াছে। সরবরাহ-সচিবের বারো দফার মধ্যে ইহার উল্লেখমাত্র নাই। স্পষ্টত তিনি গৌণ কারণগুলির উপর জোর দিয়া আসল ব্যাপার চাপিয়া গিয়াছেন। সরকার-পক্ষ যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁহাদের কেনা জিনিসের দাম দিতে গিয়া প্রচুর কাগজি-নোট বাজারে ছাড়িয়াছেন। যাহারা সরকারি কাজ করে, যুদ্ধের মালপত্র জোগান দেয়, কলকারখানায় নানাবিধ যুদ্ধদ্রব্য উৎপাদন করে, তাহারা সেই কাগজি-নোট অজস্র পরিমাণে পাইল; তাহা দিয়া মহাস্ফূর্তিতে জিনিসপত্র কিনিতে লাগিল। দেশের অধিকাংশ লোকই ইহার অনেক পূর্বে অপেক্ষাকৃত ভাল দাম পাইয়া মাল বেচিয়া দিয়াছে; ফাঁপানো মূদ্রার অংশ তাহদের হাতে পড়িল না। জিনিসপত্র তাহদের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়াইয়া বহু দূরে চলিয়া গেল। লক্ষ লক্ষ লোক না<noinclude> {{c|২০}}</noinclude>
douxnxwg0irbpvwce2bmu9xcoga8sfj
পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/২৭
104
754012
1989722
919952
2026-07-13T16:43:05Z
DILDAR KIBRIA
21979
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989722
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>খাইয়া মরিতে লাগিল। ফাঁপানো-মুদ্রানীতির জন্য ভারত-সরকার তথা ব্রিটিশ শাসনযন্ত্র দায়ী। এই বিষয়ে খুলিয়া বলিলে সাহস ও সত্যভাষণের জন্য সরবরাহ-সচিবকে প্রশংসা করা যাইত।
{{ফাঁক}}পার্লামেণ্টের বির্তক-সভায় মিঃ পেথিক লরেন্স কয়েকটি খাঁটি কথা বলিয়াছিলেন। ‘বাঁচিয়া থাকিবার জন্য যে খাদ্যশস্যের প্রয়োজন, তাহা কিনিবার ক্ষমতা অসংখ্য লোকের নাই। মুদ্রাস্ফীতিই এই অত্যধিক মূল্য-বৃদ্ধির কারণ। ইহার জন্য আর কেহ নয়—একমাত্র ভারতগভর্ণমেণ্টই দায়ী।’ মিঃ অ্যামেরিও আমতা-আমতা করিয়া ইহাতে একরকম সায় দিলেন। তিনি বলিলেন, 'সমস্যাটি হইতেছে অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যশস্যের অপ্রতুলতা। জনসাধারণের হাতে কিনিবার মতো টাকা ছিল না, ইহা ঠিক। তাহা হইলে অবস্থাটা আজিকার মতো এমন শোচনীয় হইয়া উঠিতে পারিত না।'
{{ফাঁক}}একটা কথা মনে রাখিতে হইবে। টাকা থাকিলেই হয় না। অনেকে দিন আনিত, দিন খাইত; জিনিসের ক্রমবর্ধমান দামের সহিত তাহদের সঙ্গতি তাল রাখিতে পারিল না। নিঃস্ব নিরন্ন হইয়া এমন অবস্থার লোক প্রভূত পরিমাণে মরিয়াছে। অথচ মুদ্রাস্ফীতি রোধ করিবার উল্লেখযোগ্য চেষ্টা কিছুই হয় নাই; অবস্থা আয়ত্তের বাহিরে গেলে তবে কর্তাদের কিছু টনক নড়িয়াছে।
{{ফাঁক}}সরবরাহ-সচিবের হিসাবে অপচয়ের কথাটাও নাই। কৃষক, মধ্যবিত্তক্রেতা, দোকানদার প্রভৃতির বিরুদ্ধে এ যাবত খুব আস্ফালন চলিয়াছে; মিঃ অ্যামেরির দল বলিয়াছেন, মাল মজুত করিয়া রাখিয়া ইহারাই দুর্ভিক্ষ ঘটাইয়াছে। আসল গলদ যেখানে, সেদিক হইতে এই প্রকারে সকলের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করিয়া রাখা হইয়াছে। বাজারের সব চেয়ে বড় ক্রেতা সরকার; সব চেয়ে বড় মজুতদারও সরকার এবং সরকারের সাহায্যকারী কলকারখানার মালিক ও ধনিক-সম্প্রদায়। মজুত খাদ্যের মধ্যে কত যে অপচয় হইয়াছে, তাহার হিসাব কে দিবে? ব্রহ্ম-সীমান্তে যুদ্ধভাণ্ডারে অপরিমেয় আহার্য নষ্ট হইয়াছে। ভারত-সরকারের সঞ্চিত ময়দা ছোলা ছাতু প্রভৃতির কি পরিমাণ অপচয় হইয়াছে, তাহার সঠিক হিসাব পাইলে বর্তমান দুর্ভিক্ষের অনেক রহস্য উদ্ঘাটিত হইবে। কলিকাতায় এ. আর. পি-র আনুকূল্যে শত্রু-বিড়ম্বিতদের জন্য যে<noinclude>{{rh||২১|}}</noinclude>
j5yl09qht7q20vf8we23cwc96e792nh
1989726
1989722
2026-07-14T03:03:09Z
Bodhisattwa
2549
1989726
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>খাইয়া মরিতে লাগিল। ফাঁপানো-মুদ্রানীতির জন্য ভারত-সরকার তথা ব্রিটিশ শাসনযন্ত্র দায়ী। এই বিষয়ে খুলিয়া বলিলে সাহস ও সত্যভাষণের জন্য সরবরাহ-সচিবকে প্রশংসা করা যাইত।
{{ফাঁক}}পার্লামেণ্টের বির্তক-সভায় মিঃ পেথিক লরেন্স কয়েকটি খাঁটি কথা বলিয়াছিলেন। ‘বাঁচিয়া থাকিবার জন্য যে খাদ্যশস্যের প্রয়োজন, তাহা কিনিবার ক্ষমতা অসংখ্য লোকের নাই। মুদ্রাস্ফীতিই এই অত্যধিক মূল্য-বৃদ্ধির কারণ। ইহার জন্য আর কেহ নয়—একমাত্র ভারত-গভর্ণমেণ্টই দায়ী।’ মিঃ অ্যামেরিও আমতা-আমতা করিয়া ইহাতে একরকম সায় দিলেন। তিনি বলিলেন, ‘সমস্যাটি হইতেছে অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যশস্যের অপ্রতুলতা। জনসাধারণের হাতে কিনিবার মতো টাকা ছিল না, ইহা ঠিক। তাহা হইলে অবস্থাটা আজিকার মতো এমন শোচনীয় হইয়া উঠিতে পারিত না।’
{{ফাঁক}}একটা কথা মনে রাখিতে হইবে। টাকা থাকিলেই হয় না। অনেকে দিন আনিত, দিন খাইত; জিনিসের ক্রমবর্ধমান দামের সহিত তাহদের সঙ্গতি তাল রাখিতে পারিল না। নিঃস্ব নিরন্ন হইয়া এমন অবস্থার লোক প্রভূত পরিমাণে মরিয়াছে। অথচ মুদ্রাস্ফীতি রোধ করিবার উল্লেখযোগ্য চেষ্টা কিছুই হয় নাই; অবস্থা আয়ত্তের বাহিরে গেলে তবে কর্তাদের কিছু টনক নড়িয়াছে।
{{ফাঁক}}সরবরাহ-সচিবের হিসাবে অপচয়ের কথাটাও নাই। কৃষক, মধ্যবিত্ত-ক্রেতা, দোকানদার প্রভৃতির বিরুদ্ধে এ যাবত খুব আস্ফালন চলিয়াছে; মিঃ অ্যামেরির দল বলিয়াছেন, মাল মজুত করিয়া রাখিয়া ইহারাই দুর্ভিক্ষ ঘটাইয়াছে। আসল গলদ যেখানে, সেদিক হইতে এই প্রকারে সকলের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করিয়া রাখা হইয়াছে। বাজারের সব চেয়ে বড় ক্রেতা সরকার; সব চেয়ে বড় মজুতদারও সরকার এবং সরকারের সাহায্যকারী কলকারখানার মালিক ও ধনিক-সম্প্রদায়। মজুত খাদ্যের মধ্যে কত যে অপচয় হইয়াছে, তাহার হিসাব কে দিবে? ব্রহ্ম-সীমান্তে যুদ্ধভাণ্ডারে অপরিমেয় আহার্য নষ্ট হইয়াছে। ভারত-সরকারের সঞ্চিত ময়দা ছোলা ছাতু প্রভৃতির কি পরিমাণ অপচয় হইয়াছে, তাহার সঠিক হিসাব পাইলে বর্তমান দুর্ভিক্ষের অনেক রহস্য উদ্ঘাটিত হইবে। কলিকাতায় এ. আর. পি-র আনুকূল্যে শত্রু-বিড়ম্বিতদের জন্য যে<noinclude>{{c|২১}}</noinclude>
eexjttc7ei5mqk78kl10w5mka6d2asv
1989727
1989726
2026-07-14T03:03:23Z
Bodhisattwa
2549
/* বৈধকরণ */
1989727
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>খাইয়া মরিতে লাগিল। ফাঁপানো-মুদ্রানীতির জন্য ভারত-সরকার তথা ব্রিটিশ শাসনযন্ত্র দায়ী। এই বিষয়ে খুলিয়া বলিলে সাহস ও সত্যভাষণের জন্য সরবরাহ-সচিবকে প্রশংসা করা যাইত।
{{ফাঁক}}পার্লামেণ্টের বির্তক-সভায় মিঃ পেথিক লরেন্স কয়েকটি খাঁটি কথা বলিয়াছিলেন। ‘বাঁচিয়া থাকিবার জন্য যে খাদ্যশস্যের প্রয়োজন, তাহা কিনিবার ক্ষমতা অসংখ্য লোকের নাই। মুদ্রাস্ফীতিই এই অত্যধিক মূল্য-বৃদ্ধির কারণ। ইহার জন্য আর কেহ নয়—একমাত্র ভারত-গভর্ণমেণ্টই দায়ী।’ মিঃ অ্যামেরিও আমতা-আমতা করিয়া ইহাতে একরকম সায় দিলেন। তিনি বলিলেন, ‘সমস্যাটি হইতেছে অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যশস্যের অপ্রতুলতা। জনসাধারণের হাতে কিনিবার মতো টাকা ছিল না, ইহা ঠিক। তাহা হইলে অবস্থাটা আজিকার মতো এমন শোচনীয় হইয়া উঠিতে পারিত না।’
{{ফাঁক}}একটা কথা মনে রাখিতে হইবে। টাকা থাকিলেই হয় না। অনেকে দিন আনিত, দিন খাইত; জিনিসের ক্রমবর্ধমান দামের সহিত তাহদের সঙ্গতি তাল রাখিতে পারিল না। নিঃস্ব নিরন্ন হইয়া এমন অবস্থার লোক প্রভূত পরিমাণে মরিয়াছে। অথচ মুদ্রাস্ফীতি রোধ করিবার উল্লেখযোগ্য চেষ্টা কিছুই হয় নাই; অবস্থা আয়ত্তের বাহিরে গেলে তবে কর্তাদের কিছু টনক নড়িয়াছে।
{{ফাঁক}}সরবরাহ-সচিবের হিসাবে অপচয়ের কথাটাও নাই। কৃষক, মধ্যবিত্ত-ক্রেতা, দোকানদার প্রভৃতির বিরুদ্ধে এ যাবত খুব আস্ফালন চলিয়াছে; মিঃ অ্যামেরির দল বলিয়াছেন, মাল মজুত করিয়া রাখিয়া ইহারাই দুর্ভিক্ষ ঘটাইয়াছে। আসল গলদ যেখানে, সেদিক হইতে এই প্রকারে সকলের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করিয়া রাখা হইয়াছে। বাজারের সব চেয়ে বড় ক্রেতা সরকার; সব চেয়ে বড় মজুতদারও সরকার এবং সরকারের সাহায্যকারী কলকারখানার মালিক ও ধনিক-সম্প্রদায়। মজুত খাদ্যের মধ্যে কত যে অপচয় হইয়াছে, তাহার হিসাব কে দিবে? ব্রহ্ম-সীমান্তে যুদ্ধভাণ্ডারে অপরিমেয় আহার্য নষ্ট হইয়াছে। ভারত-সরকারের সঞ্চিত ময়দা ছোলা ছাতু প্রভৃতির কি পরিমাণ অপচয় হইয়াছে, তাহার সঠিক হিসাব পাইলে বর্তমান দুর্ভিক্ষের অনেক রহস্য উদ্ঘাটিত হইবে। কলিকাতায় এ. আর. পি-র আনুকূল্যে শত্রু-বিড়ম্বিতদের জন্য যে<noinclude>{{c|২১}}</noinclude>
dd3xtzbc1l82nqzxk26ntt1bqyf3kzh
নির্ঘণ্ট:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf
102
855643
1989707
1989325
2026-07-13T14:19:31Z
Nettime Sujata
5470
1989707
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q133513929
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=7
|Progress=X
|Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to4="—" 5="শিরোনাম" 6="—" 7="প্রচ্ছদ" 8="প্রকাশক" 9="চিত্র" 10="—" 11="নিবেদন" 12="—" 13="সূচীপত্র" 14="—" 15="1" 415to416="গ্রন্থ-পরিচয়" 417to420="—" />
|Volumes=
|Remarks={{Scrollpane|height=1000px|
{{AuxTOC|
{{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}}
{{Table| title=পরিচ্ছেদ| page=পৃষ্ঠা}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা|দেনা-পাওনা]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১|১]]| page={{pli|3|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২|২]]| page={{pli|12|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৩|৩]]| page={{pli|17|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৪|৪]]| page={{pli|23|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৫|৫]]| page={{pli|28|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৬|৬]]| page={{pli|35|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৭|৭]]| page={{pli|41|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৮|৮]]| page={{pli|51|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৯|৯]]| page={{pli|62|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১০|১০]]| page={{pli|73|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১১|১১]]| page={{pli|78|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১২|১২]]| page={{pli|88|14}}}}
}}}}
|Notes={{RLFRR}}
|Header={{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}
|Footer={{c|{{{pagenum}}}}}
}}
4rqh6rn7d0ziueh0mflueca7ffl2com
1989734
1989707
2026-07-14T03:08:47Z
Bodhisattwa
2549
1989734
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q133513929
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=7
|Progress=X
|Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to4="—" 5="শিরোনাম" 6="—" 7="প্রচ্ছদ" 8="প্রকাশক" 9="চিত্র" 10="—" 11="নিবেদন" 12="—" 13="সূচীপত্র" 14="—" 15="1" 415to416="গ্রন্থ-পরিচয়" 417to420="—" />
|Volumes=
|Remarks={{Scrollpane|height=1000px|
{{AuxTOC|
{{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}}
{{Table| title=পরিচ্ছেদ| page=পৃষ্ঠা}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা|দেনা-পাওনা]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১|১]]| page={{pli|3|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২|২]]| page={{pli|12|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৩|৩]]| page={{pli|17|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৪|৪]]| page={{pli|23|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৫|৫]]| page={{pli|28|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৬|৬]]| page={{pli|35|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৭|৭]]| page={{pli|41|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৮|৮]]| page={{pli|51|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৯|৯]]| page={{pli|62|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১০|১০]]| page={{pli|73|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১১|১১]]| page={{pli|78|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১২|১২]]| page={{pli|88|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৩|১৩]]| page={{pli|98|14}}}}
}}}}
|Notes={{RLFRR}}
|Header={{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}
|Footer={{c|{{{pagenum}}}}}
}}
lf1yrpv84xs9nchx0ixfg1xtfqdr1w5
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৮৭
104
882984
1989691
2026-07-13T13:19:07Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989691
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''১০'''}}
{{ফাঁক}}বসুসাহেব যখন শ্বশুরবাটীতে আসিয়া প্রবেশ করিলেন, তখন তাঁহারই জন্য বাড়িময় একটা উৎকণ্ঠার সাড়া পড়িয়া গেছে। ঘরে এবং বাইরে যেখানে যত আস্ত এবং ভাঙ্গা লণ্ঠন ছিল সংগ্রহ হইয়াছে, এবং এই দুর্য্যোগের রাত্রে এগুলিকে কার্য্যোপযোগী করিয়া তুলিবার প্রচেষ্টায় বাড়িশুদ্ধ সকলে গলদঘর্ম্ম হইয়া উঠিয়াছে। চাকরবাকর ও আত্মীয়-অনুগত লইয়া একটা অভিযানের দল তৈরী হইয়াছে এবং রায় মহাশয় নিজে সমস্ত তত্ত্বাবধান করিতেছেন; কাহারা কোন্ দিকে যাইবে, কোন্ পথ, কোন্ মাঠ, কোন্ বন-জঙ্গল অনুসন্ধান করিবে, বারংবার উপদেশ দিতেছেন। তাঁহার আচরণে ও কণ্ঠস্বরে কেবল উদ্বেগ নয়, আতঙ্ক প্রকাশ পাইয়াছে। এখনও প্রকাশ করিয়া কিছু বলেন নাই সত্য, কিন্তু যে ভয়টা তাঁহার মনের মধ্যে উঁকি মারিতেছে তাহা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তিনি জানিতেন ষোড়শীর কয়েকজন একান্ত অনুগত ভূমিজ ও বাগ্দী প্রজা আছে। তাহারা যেমন উদ্ধৃত তেমনি নিষ্ঠুর। ডাকাতি করে বলিয়া পুলিশের খাতার নাম-ধাম পর্য্যন্ত লেখা আছে—ইহারা এই অন্ধকার রাত্রে কোথাও একাকী পাইয়া যদি তাহাদের ভৈরবী-মায়ের প্রতি অবিচার স্মরণ করিয়া সহসা প্রতিহিংসায় উত্তেজিত হইয়া উঠে ত, সেখানেও বিচারের আশা করা বৃথা।
{{ফাঁক}}হৈম একপাশে চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া সমস্তই দেখিতেছিল, পিতার আশঙ্কাও তাহার দৃষ্টি এড়ায় নাই, কিন্তু তখন পর্য্যন্ত সে ভিতরের আসল কথাটা জানিত না। এইটাই আত্মপ্রকাশ করিল তাহার জননীর কথায়। তিনি হঠাৎ বাহিরে আসিয়া স্বামীকে কঠোর অনুযোগ করিয়া বলিয়া উঠিলেন, সে জামাইমানুষ, তাকে কেন তোমাদের ঝগড়ার মধ্যস্থ মানা? যার পিছনে ডাকাতের দল রয়েচে তাকে করবে তোমরা জব্দ? যেখানে পাও আমার নির্ম্মলকে খুঁজে এনে দাও, নইলে যেখানে দুচক্ষু যায় এই অন্ধকারে আমি বেরিয়ে যাবো। বলিয়া তিনি কাঁদ কাঁদ হইয়া অন্তঃপুরে চলিয়া গেলেন, এবং কিছুক্ষণের জন্য কন্যা ও পিতা উভয়েই নির্ব্বাক্ বিবর্ণমুখে স্তব্ধ হইয়া রহিলেন।
{{ফাঁক}}জনার্দ্দন রায় আত্মসংবরণ করিয়া সান্ত্বনা ও সাহসসূচক কি একটা কথা হৈমকে বলিতে যাইতেছিলেন, ঠিক এমনি সময়ে জামাতা প্রাঙ্গণে আসিয়া দাঁড়াইলেন। তাঁহার সর্ব্বাঙ্গ বাহিয়া জল ঝরিতেছে, জামা কাপড় জুতা কাদামাখা। শ্বশুরের<noinclude>{{c|৭৩}}</noinclude>
kypv9k9f8ax05xc4f9qoj3yeubge1pa
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৮৮
104
882985
1989692
2026-07-13T13:22:16Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989692
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>মুখের কথা মুখেই রহিয়া গেল—কিন্তু পরক্ষণেই যে সাহেবজামাইকে তিনি যথেষ্ট খাতির এবং ভয় করিতেন তাহাকেই আনন্দের উৎকট প্রাবল্যে যা মুখে আসিল তাই বলিয়া তিরস্কার করিতে লাগিলেন।
{{ফাঁক}}সাহেব নিঃশব্দে উঠিয়া আসিয়া হাতের ভাঙ্গা ছড়িটা রাখিয়া দিলেন, এবং পায়ের জুতা হাত দিয়া টানিয়া ফেলিয়া গায়ের ভিজা জামাটা খুলিয়া ফেলার মধ্যে ছোট-বড়, উচ্চ-নীচ আত্মীয়-পর, সকলে একযোগে ও নির্বিশেষে প্রশ্ন করিতে লাগিল কি করিয়া এ দুরবস্থা ঘটিল এবং কোথায় ঘটিল?
{{ফাঁক}}রায় মহাশয় প্রকৃতিস্থ হইয়া কহিলেন, আচ্ছা, সে পরে হবে, তুমি বাড়ির ভেতরে যাও। মা হৈম, দাঁড়িয়ে থেকো না, একটা শুক্নো কাপড়-চোপড় দাওগে।
{{ফাঁক}}বাটীর মধ্যে শ্বশুর শাশুড়ী ও সমবেত কুটুম্বিনীগণের প্রশ্নের উত্তরে নির্ম্মল জানাইল, সে ও-পারে ফকিরসাহেবের সহিত দেখা করিতে গিয়াছিল, কিন্তু সাক্ষাৎ হয় নাই, তিনি আশ্রমে নাই।
{{ফাঁক}}ওপারের নামে নানা প্রকার আতঙ্কসূচক অস্ফুট ধ্বনি উঠিল। রায় মহাশয় আশ্চর্য্য হইয়া বলিলেন, তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া! আমাকে বললে ত তাকে ডেকে পাঠাতে পারতাম। কিন্তু এই অন্ধকারে পথ চিনলে কি করে?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, পথ চেনবার আমার দরকার হয়নি, হলে পারতাম না।
{{ফাঁক}}কিন্তু এলে কি করে?
{{ফাঁক}}একজন আমাকে হাত ধরে এনে বাড়ির সামনে দিয়ে গেছেন।
{{ফাঁক}}চতুর্দিকে প্রশ্ন উঠিল—কে? কে? কি নাম তার?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল একটুখানি স্থির থাকিয়া কহিল, কি জানি, নামটা জানাতে হয়ত তাঁর আপত্তি আছে।
{{ফাঁক}}রায় মহাশয় প্রতিবাদ করিয়া কহিলেন, আপত্তি? কখনো না, আমাদের দেশের লোককে তুমি চেনো না। কিন্তু যেই হোক তাকে খুসি করে দেওয়া চাই ত? বলিয়া চাকরটাকে তৎক্ষণাৎ ডাকিয়া হুকুম করিয়া দিলেন, অধর, চাটুয্যে যদি বাহিরে থাকে, এখনি বলে দে কাল সকালেই খবর নিয়ে যেন বক্শিস দেওয়া হয়। পূরো টাকাই যেন তার হাতে পড়ে—কেটে যেন কিছু না রাখে। চাটুয্যেটা আবার যে কৃপণ! বলিয়া তিনি ঔদার্য্যের আবেগে প্রথমে গৃহিণী ও পরে কন্যা-জামাতার মুখের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করিলেন।
{{nop}}<noinclude>{{c|৭৪}}</noinclude>
8rnc3mv9ngac4qmph7tguy5z12u6x6l
1989693
1989692
2026-07-13T13:23:38Z
Nettime Sujata
5470
1989693
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>মুখের কথা মুখেই রহিয়া গেল—কিন্তু পরক্ষণেই যে সাহেবজামাইকে তিনি যথেষ্ট খাতির এবং ভয় করিতেন তাহাকেই আনন্দের উৎকট প্রাবল্যে যা মুখে আসিল তাই বলিয়া তিরস্কার করিতে লাগিলেন।
{{ফাঁক}}সাহেব নিঃশব্দে উঠিয়া আসিয়া হাতের ভাঙ্গা ছড়িটা রাখিয়া দিলেন, এবং পায়ের জুতা হাত দিয়া টানিয়া ফেলিয়া গায়ের ভিজা জামাটা খুলিয়া ফেলার মধ্যে ছোট-বড়, উচ্চ-নীচ আত্মীয়-পর, সকলে একযোগে ও নির্বিশেষে প্রশ্ন করিতে লাগিল কি করিয়া এ দুরবস্থা ঘটিল এবং কোথায় ঘটিল?
{{ফাঁক}}রায় মহাশয় প্রকৃতিস্থ হইয়া কহিলেন, আচ্ছা, সে পরে হবে, তুমি বাড়ির ভেতরে যাও। মা হৈম, দাঁড়িয়ে থেকো না, একটা শুক্নো কাপড়-চোপড় দাওগে।
{{ফাঁক}}বাটীর মধ্যে শ্বশুর শাশুড়ী ও সমবেত কুটুম্বিনীগণের প্রশ্নের উত্তরে নির্ম্মল জানাইল, সে ও-পারে ফকিরসাহেবের সহিত দেখা করিতে গিয়াছিল, কিন্তু সাক্ষাৎ হয় নাই, তিনি আশ্রমে নাই।
{{ফাঁক}}ওপারের নামে নানা প্রকার আতঙ্কসূচক অস্ফুট ধ্বনি উঠিল। রায় মহাশয় আশ্চর্য্য হইয়া বলিলেন, তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া! আমাকে বললে ত তাকে ডেকে পাঠাতে পারতাম। কিন্তু এই অন্ধকারে পথ চিনলে কি করে?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, পথ চেনবার আমার দরকার হয়নি, হলে পারতাম না।
{{ফাঁক}}কিন্তু এলে কি করে?
{{ফাঁক}}একজন আমাকে হাত ধরে এনে বাড়ির সামনে দিয়ে গেছেন।
{{ফাঁক}}চতুর্দিকে প্রশ্ন উঠিল—কে? কে? কি নাম তার?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল একটুখানি স্থির থাকিয়া কহিল, কি জানি, নামটা জানাতে হয়ত তাঁর আপত্তি আছে।
{{ফাঁক}}রায় মহাশয় প্রতিবাদ করিয়া কহিলেন, আপত্তি? কখনো না, আমাদের দেশের লোককে তুমি চেনো না। কিন্তু যেই হোক তাকে খুসি করে দেওয়া চাই ত? বলিয়া চাকরটাকে তৎক্ষণাৎ ডাকিয়া হুকুম করিয়া দিলেন, অধর, চাটুয্যে যদি বাহিরে থাকে, এখনি বলে দে কাল সকালেই খবর নিয়ে যেন বক্শিস দেওয়া হয়। পূরো টাকাই যেন তার হাতে পড়ে—কেটে যেন কিছু না রাখে। চাটুয্যেটা আবার যে কৃপণ! বলিয়া তিনি ঔদার্য্যের আবেগে প্রথমে গৃহিণী ও পরে কন্যা-জামাতার মুখের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করিলেন।
{{***|4|6em}}
{{nop}}<noinclude>{{c|৭৪}}</noinclude>
suversb2wflkty4qjrugww89ebaisy2
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৮৯
104
882986
1989694
2026-07-13T13:27:57Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989694
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}রাত্রে আহারাদির পর নিরালা ঘরের মধ্যে স্বামীকে একাকী পাইয়া হৈম কহিল, বাবা ত পুরস্কারের ঘোষণা করে দিলেন, পুরো টাকাটা দেবার চেষ্টাও হয়ত কিছু হবে, কিন্তু ফল হবে না।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, না, আসামীকে পাওয়া যাবে না।
{{ফাঁক}}হৈম একটু হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কিন্তু তুমি সেই দয়ালু লোকটিকে কি পুরস্কার দিলে?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, দেওয়া জিনিসটা কি তুমি এতই সহজ মনে কর? ও কি কেবলমাত্র দাতার মর্জ্জির উপরেই নির্ভর করে?
{{ফাঁক}}তা হলে দিতে পারোনি?
{{ফাঁক}}না, দেবার চেষ্টাও করিনি।
{{ফাঁক}}হৈম স্বামীর মুখের প্রতি একমুহূর্ত্ত চাহিয়া থাকিয়া কহিল, কিন্তু আমার উচিত। বাবা তাঁকে বার করতে পারবেন না কিন্তু আমি পারব।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল সন্দেহ প্রকাশ করিয়া কহিল, আমার মনে হয় তোমার বাবার মত তুমিও তাঁকে খুঁজে পাবে না।
{{ফাঁক}}হৈম বলিল, যদি পাই ত আমাকেও কিছু পরস্কার দিয়ো। কিন্তু আমি তাঁকে চিনেচি। কারণ তোমার মত অন্ধ মানুষকে যে এই ভয়ানক অন্ধকারে নির্ব্বিঘ্নে নদী পার করে ঘরের সামনে রেখে যেতে পারে, অথচ আত্মপ্রকাশ করে না, তাকে চিনতে পারা শক্ত নয়। তা ছাড়া সন্ধ্যার আঁধারে গা ঢেকে আমিও একবার তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ঘর-দোর খোলা; তিনি নেই বটে, কিন্তু তারাদাস ঠাকুর সমস্ত দখল করে বসে আছেন। লুকিয়ে পালিয়ে এলাম। পথে একজন চেনা লোকের সঙ্গে দেখা হ’ল, সে বলে দিলে ষোড়শীকে সে সোজা নদীর পথে যেতে দেখেচে। এখন বুঝলে, যে দয়ালু লোকটি তোমাকে দিয়ে গেছেন তাঁকে আমি চিনি। কিন্তু সত্যি সত্যিই কি একেবারে হাত ধরে রেখে গেছেন?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল ক্ষণকাল চিন্তা করিয়া মাথা নাড়িয়া কহিল, সত্যই তাই। যে মুহূর্ত্তে তিনি নিশ্চয় বুঝলেন আমি অন্ধের সমান, সেই মুহূর্ত্তে নিঃসঙ্কোচে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, আমার হাত ধরে আসুন। কিন্তু পরের জন্যে একাজ তুমি পারতে না।
{{ফাঁক}}হৈম অত্যন্ত সহজে স্বীকার করিয়া কহিল, না।
{{ফাঁক}}তাহার স্বামী কহিল, তা জানি। ইহার পরে কি করিয়া কি হইল সমস্ত ঘটনা একে একে বিবৃত করিয়া কহিল, অথচ এ ছাড়া আমার পক্ষে যে কি উপায় ছিল<noinclude>{{c|৭৫}}</noinclude>
m0sb6lf388t20zxp1dygl82ifvwne2o
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯০
104
882987
1989695
2026-07-13T13:30:42Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989695
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>জানিনে। আবার ওদিকে তাঁর বিপদের গুরুত্বটা একবার ভেবে দেখ। আমাকে তিনি সামান্যই জানতেন এবং তাও বোধ হয় ভাল বলে জানতেন না। তবুও আমাকেই এই যে নির্জ্জন অন্ধকার পথ দিয়ে নিয়ে এলেন, এর দায়িত্বটা কত বিশ্রী, কত ভয়ঙ্কর। বস্তুত, পথে চলতে চলতে আমার অনেকবার ভয় হয়েচে যদি কারো সুমুখে পড়ি, তার চোখে এটা কি রকম দেখাবে? দেখ হৈম, তোমাদের দেবীর এই ভৈরবীটিকে আমি চিনতে পারিনি সত্যি, কিন্তু এটুকু আজ নিশ্চয়ই বুঝেছি এঁর সম্বন্ধে বিচার করার ঠিক সাধারণ নিয়ম খাটে না। হয় সতীত্ব জিনিসটা এঁর কাছে নিতান্তই একটা বাহুল্য বস্তু—তোমাদের মত তার যথার্থ রূপটা ইনি চেনেন না, না হয় এর সুনাম দুর্নাম একে স্পর্শ পর্য্যন্ত করতে পারে না।
{{ফাঁক}}হৈম ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিল, তুমি কি জমিদারের ঘটনা মনে করেই এ-সব বলচ?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, আশ্চর্য্য নয়। এই স্ত্রীলোকটি ভাল কি মন্দ আমি জানিনে, কিন্তু এ কথা হলফ করে বলতে পারি, ইনি যেমন গম্ভীর, তেমনি শিক্ষিত, তেমনি নিঃশঙ্ক। শাস্ত্রে বলে, সাত পা একসঙ্গে চললে বন্ধুত্ব হয়। এত বড় পথটায় এই দুর্ভেদ্য আঁধারে নিতান্তই তাঁকেই নির্ভর করে অনেক পা আমরা একসঙ্গে চলে এসেচি, একটি একটি করে অনেক প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করেচি, কিন্তু কালও তিনি যেমন রহস্যে ঢাকা ছিলেন আজও তেমনি রয়ে গেলেন।
{{ফাঁক}}হৈম কহিল, তোমার জেরাও মানলে না, বন্ধুত্বও স্বীকার করলে না?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, না, কোনটাই হ’ল না।
{{ফাঁক}}হৈম এবার হাসিয়া ফেলিয়া বলিল, একটুও না? তোমার দিক থেকেও না?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, এত বড় কথাটা কেবল ফাঁকি দিয়ে বার করে নিতে চাও? কিন্তু নিজেকে জানতেও যে দেরি লাগে হৈম। কিন্তু কথাটা বলিয়া ফেলিয়াই সে থমকিয়া গেল। চাহিয়া দেখিল হৈমও তাহার প্রতি দুই চক্ষের স্থির দৃষ্টি পাতিয়া আছে। তাহার মুখে কি ভাব প্রকাশ পাইল, প্রদীপের স্বল্প আলোকে ঠিক বোঝা গেল না, এবং সে নিজেও যে নিজের পূর্ব্ব কথার যোগ রাখিয়া হঠাৎ কি বলিবে, ভাবিয়া স্থির করিবার পূর্ব্বেই হৈম ধীরে ধীরে কহিল, সে ঠিক। তবু পুরুষমানুষদের বুঝতে হয়ত একটু দেরিই হয়, কিন্তু মেয়েমানুষের এমনি অভিশাপ যে আমরণ নিজের অদৃষ্টকে বুঝতেই তার কেটে যায়। আচ্ছা তুমি ঘুমোও আমি এখুনি আসচি, বলিয়া সে আর কোন কথার পূর্ব্বেই উঠিয়া সাবধানে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বাহিরে চলিয়া গেল।
{{nop}}<noinclude>{{c|৭৬}}</noinclude>
86qh9rv2z1efeuqmx23bsl9nv2hfw19
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯১
104
882988
1989696
2026-07-13T13:32:03Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989696
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}নির্ম্মল তাহার হাত ধরিল না—রহস্যের অন্তরালে স্ত্রীর এই অর্থহীন সংশয় ও অবিচারের বেদনা তাহাকে যেন অকস্মাৎ ক্রোধে চঞ্চল করিয়া তুলিল। সুমুখের বড় ঘড়িটায় অত্যন্ত ক্লেশকর মিনিটের কাঁটাটা নড়িতে নড়িতে নীচে ঝুলিয়া পড়িল, কিন্তু তখন পর্য্যন্তও যখন সে ফিরিয়া আসিল না তখন সে আর একাকী শয্যায় থাকিতে না পারিয়া ধীরে দ্বার খুলিয়া বাহিরে আসিয়া দেখিল, অন্ধকার বারান্দায় একটা থামের পাশে হৈম চুপ করিয়া বসিয়া আছে। কাছে আসিয়া মাথায় গায়ে হাত দিয়া দেখিল, বৃষ্টির ছাটে সমস্ত ভিজিয়া গেছে। হাত ধরিয়া ঘরে আনিয়া কহিল, তুমি কি পাগল হয়েচ হৈম?
{{ফাঁক}}ইহার অধিক আর তাহার মুখেও আসিল না, আসার প্রয়োজন বোধ করিল না। প্রদীপের আলোকে তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া দেখিল অশ্রুর আভাস চোখের কোণ হইতে তখন পর্য্যন্ত বিলুপ্ত হয় নাই।
{{nop}}<noinclude>{{c|৭৭}}</noinclude>
9vadgwco7sec5fgs98cn8yexu0gf0lz
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯২
104
882989
1989697
2026-07-13T13:35:31Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989697
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''১১'''}}
{{ফাঁক}}সকালে উঠিয়া হৈম নিজের গত রাত্রির ব্যবহার স্মরণ করিয়া লজ্জায় মরিয়া গেল। নির্দ্দোষ ও চরিত্রবান্ স্বামীর প্রতি এই অহেতুক অভিমানের উৎপাতটাকে সে ঝড় জল ও দুর্য্যোগের মধ্যে তাঁহার আকস্মিক নিরুদ্দেশের আতঙ্কটার ঘাড়েই চাপাইরা দিয়া মনে মনে হাসিতে চাহিল, কিন্তু সমস্ত প্রাণটাকে খুলিয়া দিয়া যে হাসি তাহার চিরদিনের অভ্যাস, কিছুতেই আজ তাহার আর নাগাল পাইল না। চোখের বালি বাহির হইয়া গিয়াছে বুঝিয়াও অবোধ চোখদুটা যেন তাহার কোনমতে নিঃশঙ্ক হইতে চাহিল না। শিরোমণি মহাশয় নিজে আসিয়া শুভক্ষণ স্থির করিয়া দিয়াছেন—সাড়ে দশটা না কিছুতেই উত্তীর্ণ হয়। মা ভাঁড়ার-ঘরে যাত্রার আয়োজন ও রান্নাঘরে খাবার ব্যবস্থা করিতে অতিশয় ব্যস্ত, তাঁহার মুহূর্ত্তের অবকাশ নাই, এমনি সময়ে সদর হইতে ডাক আসিল, রায় মহাশয় কন্যাকে আহ্বান করিয়াছেন।
{{ফাঁক}}হৈম বাহিরে আসিয়া দেখিল কিসের যেন একটা উৎসব চলিয়াছে। পিতা ফরাসের উপর বাধা-হুঁকা হাতে বার দিয়া বসিয়াছেন, শিরোমণি মহাশয় আছেন, জমিদারের গোমস্তা এককড়ি নন্দী আছে, তারাদাস আছে, আরও কয়েকজন গণ্য-মান্য ব্যক্তি আছেন, তাহার স্বামীও একধারে চুপ করিয়া বসিয়া আছেন। উৎসাহ ও আনন্দের প্রাবল্যে সবাই একযোগে সংবাদটা হৈমর গোচর করিতে গিয়া প্রথমটা কি বলিল কিছু বুঝাই গেল না। শিরোমণির দাঁত নাই কিন্তু আওয়াজ আছে—তাহার বিপুল শক্তি মুহূর্ত্তেই আর সমস্ত থামাইয়া দিয়া যাহা প্রকাশ করিল তাহা এইরূপ—কাল ভয়ানক দুর্য্যোগের রাত্রে মহৎ কার্য্য সাধিত হইয়াছে—নির্ব্বিঘ্নে শত্রুপুরী হস্তগত হইয়াছে। ভৈরবী বাড়ি ছিল না, চরের মুখে খবর পাইয়া তারাদাস সেই মেয়েটাকে লইয়া এই অবকাশে গিয়া সমস্ত দখল করিয়া লইয়াছে। বিবাদ করা দূরে থাক্, ভয়ে সে কথাটি পর্য্যন্ত বলে নাই, সামান্য কিছু কিছু জিনিসপত্র লইয়া রাত্রেই বাহির হইয়া গেছে। প্রাচীরের বাহিরে মন্দির-সংলগ্ন যে চালাটার মধ্যে দূরের যাত্রীরা কেহ কেহ রান্না-বাড়া করিয়া খায়, তাহাতেই আশ্রয় লইয়াছে। এ-সমস্ত মা-চণ্ডীর কৃপা এবং এই কৃপাটা আর একটুখানি বৃদ্ধি পাইলেই তাহাকে গ্রাম হইতে দূর করিয়া দেওয়াও কঠিন কাজ হইবে না।
{{nop}}<noinclude>{{c|৭৮}}</noinclude>
drop89qtm22ual9agptdsias9wq9vde
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯৩
104
882990
1989698
2026-07-13T13:39:23Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989698
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}উৎফুল্ল তারাদাস উপরের দিকে একটা কটাক্ষপাত করিয়া সবিনয় হাস্যে কহিল, সমস্তই মায়ের কাজ—যা করবার তিনি করেচেন, নইলে অত বড় রাই-বাঘিনী একেবারে ভেড়া হয়ে গেল! তামাকটি ধরিয়ে সবে ফুঁ দিচ্চি, মেয়েটা পাশে বসে চা-সিদ্ধটুকু ছেঁকে দিচ্চে, এমনি সময়ে কোথা থেকে ভিজতে ভিজতে এসে হাজির। আমাদের দেখে ভয়ে যেন একেবারে কাঠ হয়ে গেল; খানিক পরে আস্তে আস্তে বললে, বাবা, আমি ত কখনো বলিনি, তুমি যাও, কিংবা এখানে থেকো না। নিজে রাগ করে চলে গিয়ে কত কষ্ট না পেলে!
{{ফাঁক}}আমি বললাম, হঃ—
{{ফাঁক}}দোরের উপরে উঠে বললে, এ ঘরে তুমি কি তালা দিয়েচ বাবা?
{{ফাঁক}}বললাম, হঃ—দিইচি। কি করবি কর্।
{{ফাঁক}}চুপ করে থেকে বললে, তোমার সঙ্গে আমি কিছুই করব না বাবা, তোমরা থাকো। কেবল ঘরটা একবার খুলে দাও, আমার কাপড় দুখানা নিই।
{{ফাঁক}}দিলাম খুলে। মা-চণ্ডীর দয়ায় আর কোন দাঙ্গা করলে না; পরবার খান-দুই কাপড়, একটা কম্বল, আর একটা ঘটী নিয়ে অন্ধকারেই ভিজতে ভিজতে দূর হয়ে গেল। মাকে গড় হয়ে নমস্কার করে বললাম, মা, এমনি দয়া যেন ছেলের ওপর থাকে। তোর নাম না করে কখনো জলগ্রহণ করিনে।
{{ফাঁক}}শিরোমণি হাত নাড়িয়া কহিলেন, থাকবে। থাকবে। আমি বলচি তারাদাস, মা মুখ তুলে চাইবেন। নইলে তাঁর জগদম্বা নামই যে বৃথা।
{{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, কিন্তু ঠাকুর, যাই বল, মায়ের গদি কখনো খালি থাকতে পারবে না, তোমার মেয়েটীকে নতুন ভৈরবী করতে বিলম্ব করলেও চলবে না বলে রাখচি।
{{ফাঁক}}রায় মহাশয় পোড়া হুঁকাটা পাশের লোকটির হাতে দিয়া পরম গাম্ভীর্য্যের সহিত বলিলেন, হবে, সব হবে, আমি সমস্ত ঠিক করে দেব, তোমরা ব্যস্ত হ’য়ো না। জামাতার প্রতি চাহিয়া কহিলেন, কি বাবা, ছুঁড়ির কাছ থেকে এক ছত্র লিখিয়ে নেওয়া ত চাই? চাই বই কি! তাও হবে—ডেকে আনিয়ে দুটো ধমক দিয়ে এও আমি করিয়ে নেব। কিন্তু তাও বলে রাখচি তারাদাস, কদমতলার ওই জমিটে নিয়ে হাঙ্গামা করলে চলবে না। ধানের আড়তটা আমার সামনে সরিয়ে না আনলে চারিদিকে আর চোখ রাখতে পারচিনে। মেলার নাম করে ষোড়শীর মত ঝগড়া করলে কিন্তু—
{{ফাঁক}}কথাটা সমাপ্ত করিতেও হইল না। অনেকেই তারাদাসের হইয়া রাজী হইয়া গেল, এবং সে নিজে জিভ কাটিয়া গদগদ-কণ্ঠে কহিয়া উঠিল, অমন কথা মুখেও<noinclude>{{c|৭৯}}</noinclude>
lktkxy8z51ekg66iibu766cgljg6iss
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯৪
104
882991
1989699
2026-07-13T13:42:17Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989699
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>আনবেন না রায় মশায়, আপনারই ত সব! হাতীর সঙ্গে মশার বিবাদ! কি বল মা? বলিয়া সে একটা ভাল কথা কিংবা একটুখানি ঘাড়-নাড়া কিংবা এমনি কিছু একটা শুনিবার প্রত্যাশায় হৈমের মুখের প্রতি চাহিল, এবং সেই সঙ্গে অনেকেরই দৃষ্টি তাহার উপরে গিয়া পড়িল। হৈম কিছুই কহিল না; পরন্তু তাহার মুখের চেহারায় ষোড়শীর সেই প্রথম বিচারের দিনটাই সকলের দপ্ করিয়া মনে পড়িয়া অপ্রত্যাশিত একটা নিরুৎসাহের মেঘ যেন কোথা হইতে আসিয়া পলকের নিমিত্ত ঘরের মধ্যে ছায়াপাত করিল—কিন্তু পলকমাত্রই। রায় মহাশয় সোজা হইয়া বসিয়া তামাকের জন্য একটা উচ্চ হাঁক দিয়া কহিলেন, বাবা নির্ম্মল, যাত্রার সময়টা শিরোমণি মশায় দশটার মধ্যেই দেখে দিয়েচেন; মেয়েদের কাণ্ড—একটু সকাল সকাল তৈরি না হতে পারলে বার হওয়াই যাবে না।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল ঘাড় নাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইল, এবং আর কিছু বলিবার পূর্ব্বেই হৈম নিঃশব্দে বাহির হইয়া গেল।
{{ফাঁক}}মুখ-হাত ধোয়া হইতে স্নান পর্য্যন্ত সমাধা করিতে বোসসাহেবের বেশি বিলম্ব হইল না। বাটীর মধ্যে পা দিয়াই শাশুড়ীর উচ্চ কণ্ঠ রান্নাঘর হইতে শুনা গেল, তিনি মেয়েকে লইয়া পড়িয়াছেন। সে যে ঘরের মধ্যে কি করিতেছে তাহা ভাবিয়া পাইতেছেন না। নির্ম্মল ঘরে ঢুকিয়া দেখিতে পাইল হৈম মেঝের উপর স্তব্ধ হইয়া বসিয়া আছে। আশ্চর্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, ব্যাপার কি, তোমার মা যে ভারি বকাবকি করচেন? তা ছাড়া সময় ত বেশি নেই।
{{ফাঁক}}হৈম কহিল, ঢের সময় আছে—আজ ত আমাদের যাওয়া হতে পারে না।
{{ফাঁক}}কেন?
{{ফাঁক}}হৈম বলিল, কেন কি? ষোড়শীর এত বড় বিপদে তার সঙ্গে একবার দেখা না করেই যাবো?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, বেশ ত দেখা করেই এসো না। তারও ত সময় আছে।
{{ফাঁক}}হৈম বলিল, আর তুমিই বা একবার দেখা না করে কি করে যেতে পারবে?
{{ফাঁক}}এই যে সেই গত রাত্রির প্রতিক্রিয়া তাহা মনে মনে বুঝিয়া নির্ম্মল কহিল, চেষ্টা করলে তাও বোধ হয় পারা যাবে। অসম্ভব রকমের শক্ত কাজ নয়, কিন্তু আমি একবার দেখা করে গেলেই যে এ বিপদে তার সুবিধে হবে মনে হয় না।
{{ফাঁক}}হৈম প্রবল-বেগে মাথা নাড়িয়া শুধু কহিল, না, সে কোনমতেই হবে না।
{{nop}}<noinclude>{{c|৮০}}</noinclude>
kszooqx3ebodsemcswj3dfegn2cssoq
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯৫
104
882992
1989700
2026-07-13T13:45:29Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989700
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}হবে না কেন? তা ছাড়া আমার যে সেই সৈদাবাদের চামড়ার মামলা আছে—
{{ফাঁক}}থাক্ তোমার চামড়ার মামলা, একটা তার করে দাও, আজ তোমার কিছুতেই যাওয়া হবে না।
{{ফাঁক}}বেশ ত, চল না হয় দুজনে একবার দেখা করেই আসি? সে সময় ত আছে।
{{ফাঁক}}হৈম মুখ তুলিয়া একটু হাসিয়া বলিল, না, সে তোমার সেখানে হয়, কিন্তু এখানে হয় না। আর এত লোকের সামনে বাবা-ই বা কি মনে করবেন? রাত্রে আমরা লুকিয়ে যাবো।
{{ফাঁক}}নির্ম্মলের যথার্থই অত্যন্ত জরুরি মকদ্দমা ছিল, তা ছাড়া কোন্ ছুতায় যে যাওয়া এমন হঠাৎ স্থগিত করা যাইতে পারে, সে ভাবিয়া পাইল না, বিশেষতঃ শ্বশুরের সঙ্গে ইহাতে নিদারুণ বিচ্ছেদ ঘটিবার সম্ভাবনা। চিন্তা করিয়া কহিল, সে হয় না হৈম, যেতে আমাদের আজ হবেই। আর মনে হয় আমরা মাঝে পড়ে বিপদটা হয়ত তাঁর আরও বাড়িয়ে তুলব। আমার কথা শোন, চল, অযাচিত মধ্যস্থতায় কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই বেশি হয়।
{{ফাঁক}}হৈম স্বামীর মুখের প্রতি চোখ তুলিয়া কিছুক্ষণ স্থির হইয়া বসিয়া থাকিয়া বলিল, আমাকে ত তুমি জানো, আজ আমি কিছুতেই যেতে পারব না। আর কালকের অপরাধে যদি আমাকে তুমি শাস্তি দিতেই চাও, ত ফেলে রেখে যাও। আমি আর তোমাকে আটকাবো না।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল আর কিছু না বলিয়া বাহিরে চলিয়া গেল। শরীর ভাল নয়, আজ যাওয়া হইল না শুনিয়া শাশুড়ীঠাকুরাণী আশ্চর্য্য হইলেন, উদ্বিগ্ন হইলেন এবং ততোধিক খুসী হইয়া উঠিলেন, কিন্তু বাহিরের ঘরে বসিয়া শ্বশুর শুধু একটা হুঁ বলিয়াই তামাক টানিতে লাগিলেন। তিনি আশ্চর্য্যও হইলেন না, উদ্বিগ্নও হইলেন না, এবং যাহার কিছুমাত্র কাণ্ড-জ্ঞান আছে, সে তাঁহার মুখের প্রতি চাহিয়া খুসীর কথা মুখে আনিল না।
{{ফাঁক}}মকদ্দমার ব্যবস্থা করিতে নির্ম্মল তার করিয়া দিল এবং কাজটা যে কেবল নিরর্থক নয় মন্দ, তাহাও সে মনে মনে বুঝিল, তবুও সেই মনটাই তাহার সারাদিন একান্ত সংগোপনে সেই দিনান্তের জন্যই উন্মুখ হইয়া রহিল। বিগত রাত্রির হৈমর কান্নাটা যে কত হাস্যাস্পদ, কত অসম্ভব অপেক্ষাও অসম্ভব, সমস্ত দিন ধরিয়া এ কথা তাহার বহুবার মনে হইয়াছে, তবুও সেই এক ফোঁটা চোখের জল যেন কোনমতেই আর শুকাইতে চাহিল না এবং প্রতি মুহূর্ত্তেই সে এমনই অজ্ঞাত ও<noinclude>{{c|৮১}}</noinclude>
5owi65svh9g48h1tpylqtfzsmueufqd
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯৬
104
882993
1989701
2026-07-13T13:48:46Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989701
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>অচিন্ত্যপূর্ব্ব রহস্যের সৃষ্টি করিয়া চলিল, যাহা একই কালে মাধুর্য্য ও তিক্ততায় মিশিয়া একাকার হইয়া উঠিতে লাগিল।
{{ফাঁক}}রাত্রির অন্ধকারেও পিতার চক্ষুকে ফাঁকি দিবার প্রয়াস নিষ্ফল বুঝিয়া হৈম স্বামী ও তাহার পশ্চিমে চাকরটাকে সঙ্গে করিয়া যখন ষোড়শীর নূতন বাসার দ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইল, তখনও সন্ধ্যা হয় নাই। ষোড়শী একখানি কম্বলের উপর বসিয়া নিবিষ্টচিত্তে কি একখানা বই পড়িতেছিল, সম্মুখে জুতার শব্দ শুনিয়া মুখ তুলিয়া চাহিল এবং উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিল, আসুন। এস, দিদি এস। বলিয়া সে গুটানো কম্বলখানি প্রসারিত করিয়া পাতিয়া দিল।
{{ফাঁক}}আসন গ্রহণ করিয়া স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নিঃশব্দে কিছুক্ষণ নিরীক্ষণ করিয়া হৈম কহিল, দিদির এই নতুন ঘরখানির আর যা দোষ থাক্ অপব্যয়ের অপবাদ শিরোমণি মহাশয় এমন কি আমার বাবা পর্য্যন্ত দিতে পারবেন না। এই আশ্চর্য্য বস্তুটি দেখবার লোভ নিয়েই আজ এঁকে ধরে রেখেচি, নইলে আমাকে শুদ্ধ নিয়ে দুপুরের গাড়ীতে চলে গিয়েছিলেন আর কি! স্বামীকে কহিল, কেমন, এ না দেখে গেলে অনুতাপ করতে হ’ত?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, দেখেও ত কিছু কম করতে হবে মনে হয় না।
{{ফাঁক}}হৈম স্বামীর মুখের দিকে চাহিয়া বলিল, সে ঠিক। হয়ত চোখে না দেখলেই ছিল ভাল। তাহার পর ষোড়শীর শান্ত-মলিন মুখখানির উপর নিজের স্নিগ্ধ চোখ দুটি রাখিয়া বলিল, আমরা সমস্তই শুনেচি, কিন্তু এ পাগলামি কেন করতে গেলে দিদি, এ-ঘরে তুমি ত থাকতে পারবে না! আবেগে ও করুণায় শেষ দিকটায় তাহার কণ্ঠস্বর কাঁপিয়া গেল।
{{ফাঁক}}কিন্তু ষোড়শীর গলায় ইহার প্রতিধ্বনি বাজিল না। সে অত্যন্ত সহজভাবে কহিল, অভ্যাস হয়ে যাবে। এর চেয়েও কত খারাপ ঘরে কত মানুষকে ত থাকতে হয় ভাই। তা ছাড়া বাবার বড় কষ্ট হচ্ছিল।
{{ফাঁক}}হৈম প্রশ্ন করিল, তা হলে সমস্তই ছেড়ে দিলে?
{{ফাঁক}}ইহার উত্তর তাহার স্বামীর নিকট হইতে আসিল, সে কহিল, এ ছাড়া আর কি উপায় আছে বলতে পারো? সমস্ত গ্রামের সঙ্গে ত একজন অসহায় স্ত্রীলোক দিবারাত্রি বিবাদ করে টিকতে পারে না। ষোড়শীকে কহিল, এই ভাল। যদি স্বেচ্ছায় এইখানে থাকাই সঙ্কল্প করে থাকেন, এবং এ কুটীর-বাসও<noinclude>{{c|৮২}}</noinclude>
f5wmnheila5bx7d1pww2aovqoncecb4
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯৭
104
882994
1989702
2026-07-13T13:51:42Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989702
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>অভ্যাস হয়ে যাবে বিশ্বাস করে থাকেন—সংসারে কিছুই ত্যাগ করা আপনার শক্ত হবে না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী মৌন হইয়া রহিল, এবং তাহার মুখ দেখিয়াও তাহার মনের কথা কিছুই বুঝা গেল না।
{{ফাঁক}}হৈম বলিল, তুমি সন্ন্যাসী, বিষয়-আশয় ছাড়া তোমার কঠিন নয়, কুঁড়েও তোমার সইবে আমি জানি, কিন্তু এর সঙ্গে যে মিথ্যে দুর্নাম লেগে রইল সেও কি সইবে দিদি?
{{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিমুখে ক্ষণকাল নীরবে থাকিয়া বলিল, দুর্নাম যদি মিথ্যেই হয় সইবে না কেন? হৈম, সংসারে মিথ্যে কথার অভাব নেই, কিন্তু তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে যে আবার মিথ্যে কাজের সৃষ্টি হয় তার গুরুভারটাই সওয়া যায় না।
{{ফাঁক}}হৈম কহিল, কিন্তু এককড়ি নন্দী যে কথা এবং কাজ দুই-ই মিথ্যে রটিয়ে বেড়াচ্চে? মেয়েমানুষের জীবনে সে যে অসহ্য।
{{ফাঁক}}ষোড়শী লেশমাত্র উত্তেজিত হইল না, আস্তে আস্তে কহিল, আমি যতদূর শুনেচি, এককড়ি মিথ্যে ত বিশেষ বলেনি। জমিদারবাবু হঠাৎ অত্যন্ত পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন, ঘরে আর কেউ ছিল না—আমি তার সেবা করেচি। এ ত অসত্য নয়।
{{ফাঁক}}হৈম উদ্দীপ্ত হইয়া উঠিল। আর একজনের ধীরতার তুলনায় তাহার কণ্ঠস্বর কিছু অনাবশ্যক তীক্ষ্ণ শুনাইল, কহিল, কিন্তু সকলেই ত সব কাজ পারে না দিদি! আর্ত্তের সেবা করারও ত একটা ধারা আছে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী তেমনি মৃদুকণ্ঠে বলিল, আছে বই কি। কিন্তু স্থান কাল না বুঝে কেবল বাইরে থেকে ধারাটা স্থির করে দেওয়া যায় না হৈম। আপনি কি বলেন? এই বলিয়া সে নির্ম্মলের প্রতি চাহিয়া একটু হাসিল।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল এ ইঙ্গিত সম্পূর্ণ উপলব্ধি করিয়া কহিল, অন্ততঃ আমি ত কোনমতেই অস্বীকার করতে পারিনে। তা ছাড়া কাজের ধারা সকলের একও নয়—এই যেমন সন্ন্যাসিনীর।
{{ফাঁক}}স্বামীর এই উক্তিটাকে হৈম তলাইয়া দেখিল না, কহিল, হোক সন্ন্যাসিনী, কিন্তু তাঁর কি ধর্ম্ম নেই? তিনি কি নারী নন? আপনাকে সে ঘর থেকে ধরিয়ে নিয়ে গেল, অথচ বললেন নিজে গিয়েছিলেন। এই মিথ্যের কি আবশ্যক ছিল? তার অসুখ ত কেবল নিজের দোষে। তবুও এত বড় ঘোর পাপিষ্ঠকে বাঁচাবার আপনার কি দরকার ছিল? এর পরেও মানুষে যদি সন্দেহ করে সে কি তাদের দোষ?
{{nop}}<noinclude>{{c|৮৩}}</noinclude>
rljmf4o6zg9yrca3dlwy02tpismcvrw
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯৮
104
882995
1989703
2026-07-13T14:06:20Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989703
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}স্ত্রীর কথা শুনিয়া নির্ম্মল ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত হইয়া উঠিল। সে জানিত অভিযোগ করিতে হৈম ঘর হইতে বাহির হয় নাই—বাড়ি চড়িয়া অপমান করিবার মত ক্ষুদ্র এবং হীন সে নয়, বস্তুতঃ কৃতজ্ঞতা জানাইয়া একটা বড় রকমের ভরসা দিতেই সে উপস্থিত হইয়াছে, কিন্তু কথায় কথায় এ-সকল কি তাহার মুখ দিয়া বাহির হইয়া গেল। কিন্তু পাছে আত্মবিস্মৃত হইয়া আরও বেশি কিছু বলিয়া বসে, এই ভয়ে সে ব্যস্ত হইয়া কি একটা বলিতে যাইতেছিল, কিন্তু আবশ্যক হইল না। ষোড়শী হাসিয়া বলিল, তোমার স্বামী বলছিলেন সন্ন্যাসিনীর ধর্ম্ম অ-সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে নাও মিলতে পারে, এই যেমন এই কুঁড়ের মধ্যে নিরাশ্রয়, ধূলোবালির ওপর একাকী বাস করা তোমার সহ্য হবে না। বলিয়া সে পুনরায় হাসিয়া কহিল, সত্যই আমাকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে কেউ ধরে নিয়ে যায়নি, আমি রাগের মাথায় আপনিই বেরিয়ে পড়েছিলাম।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, কিন্তু আপনার রাগ আছে বলে ত মনে হয় না?
{{ফাঁক}}ষোড়শী হাসি চাপিয়া শুধু বলিল, আছে বই কি। হৈমকে কহিল, কিন্তু সে তর্ক আমি করচিনে, সত্যিই আমি মিথ্যে বলেছিলাম। কিন্তু ঘোর পাপিষ্ঠ বলে কি তাকে বাঁচাবার অধিকারও কারও নেই? তোমার স্বামী উকিল, তাঁকে বরঞ্চ জিজ্ঞাসা করে দেখো।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, সময়-মত সাধারণ বুদ্ধিতে একটা জবাব দিতেও পারি, কিন্তু ওকালতি বুদ্ধিতে ত কিছুই খুঁজে পাচ্ছিনে।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, তা ছাড়া এমন ত হতে পারে সজ্ঞানে অনেক কর্ম্মই তিনি করেন না—
{{ফাঁক}}হৈম বাধা দিয়া কহিল, তাই বলে কি নিজের বাপের বিরুদ্ধেও যেতে হবে? এও কি সন্ন্যাসিনীর ধর্ম্ম?
{{ফাঁক}}ষোড়শী রাগ করিল না, হাসিমুখে কহিল, সন্ন্যাসিনীর হোক না হোক, মেয়েমানুষের অন্তত এমন জিনিস সংসারে থাকতে পারে যা বাপেরও বড়। তাই যদি না হ’ত হৈম, এই ভাঙা কুঁড়ের মধ্যে তোমার পায়ের ধুলোই বা পড়ত কি করে?
{{ফাঁক}}হৈম শশব্যস্তে হেঁট হইয়া তাহার পায়ের ধূলা মাথায় লইয়া কহিল, অমন কথা তুমি মুখেও এনো না দিদি। আমার শ্বশুরকে কোন্ এক রাজা একখানি তলোয়ার খিলাত দিয়েছিলেন, ছেলে-বেলা আমি প্রায় সেখানি খুলে খুলে দেখতাম। খাপখানা তার ধুলো-বালিতে মলিন হয়ে গেছে, কিন্তু আসল জিনিসে কোথাও<noinclude>{{c|৮৪}}</noinclude>
34c46chp8ru1upcecl6nlk7xpyj9yzp
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৯৯
104
882996
1989704
2026-07-13T14:10:13Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989704
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>এতটুকু ময়লা ধরেনি। সে যেমন সোজা, তেমনি কঠিন, তেমনি খাঁটি—তার কথা আমার তোমার পানে চাইলেই মনে পড়ে। মনে হয়, দেশ-শুদ্ধ লোক সবাই ভুল করেচে, কেউ কিছুই জানে না—ইচ্ছে করলে চোখের পলকে সেই খাপখানা ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারো। কেন দিচ্চ না দিদি?
{{ফাঁক}}ষোড়শী তাহার ডান হাতখানি নিজের হাতের মধ্যে টানিয়া লইয়। কিছুক্ষণ নিঃশব্দে বসিয়া থাকিয়া কহিল, আজ তোমাদের যাওয়ার কথা ছিল, হ’ল না কেন? বোধ হয় কাল যাওয়া হবে?
{{ফাঁক}}হৈম তাহার স্বামীকে দেখাইয়া কহিল, কাল রাত্রে কে এঁকে হাত ধরে নদী মাঠ প্রান্তর নির্বিঘ্নে পার করে এনে বাড়িতে দিয়ে গেছেন, আমার বাবা তাঁকে পুরো এক টাকা বক্সিস দিতে চেয়েচেন। কিন্তু টাকাটা তাঁর হাতে পড়বে না, কারণ তিনি তাঁকে খুঁজে পাবেন না। এই অন্ধ মানুষটিকে অমন করে দিয়ে না গেলে যে কি হ’ত সে কেবল আমিই জানি, আর আমিই কেবল তাঁর নাম জানি। কিন্তু টাকা-কড়ি ত তাঁকে দেবার যো নেই—তাই কেবল একটু পায়ের ধুলো নিতে—বলিয়া সে তাহার হাতখানি টানিয়া লইবার চেষ্টা করিতেই ষোড়শী নিজের মুঠাটা শক্ত করিয়া রাখিয়া কেবল একটু হাসিল।
{{ফাঁক}}হৈম বাঁ হাত দিয়া তাহার চোখের কোণটা মুছিয়া লইয়া হাসিয়া কহিল, পায়ের ধূলো দিতে হবে না দিদি, মুঠোটা একটু আলগা কর—আমার হাত ভেঙ্গে গেল। শক্ত কেবল মনই নয়, হাতটাও কম নয়। ইস্পাতের তলওয়ারটা কি সাধে মনে পড়ে! কিন্তু এই কথাটি আজ দাও দিদি, আপনার লোকের যদি কখনো দরকার হয় এই প্রবাসী বোনটিকে তখন স্মরণ করবে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী তাহার হাতের উপর ধীরে ধীরে হাত বুলাইতে লাগিল, কিছুই বলিল না।
{{ফাঁক}}হৈম কহিল, তা হলে কথা দিতে চাও না?
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, আমার জন্যে তোমার বাবার সঙ্গে ঝগড়া হয় এই কি আমি চাইতে পারি ভাই?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, ঝগড়া না করেও ত অনেক জিনিস করা যায়?
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, আমি বলি তা-ও আপনাদের করে কাজ নেই। কিন্তু তাই বলে প্রবাসী বোনটিকেও আমি ভুলে যাবো না। আমার খবর আপনারা পাবেন।
{{ফাঁক}}চাকরটা এতক্ষণ চুপ করিয়া বাহিরে বসিয়াছিল, সে কহিল, মা, কালকের মত আজও ঝড়-জল হতে পারে—মেঘ উঠেচে।
{{nop}}<noinclude>{{c|৮৫}}</noinclude>
pb79z2022vwwca93m06xtnjtsoo9pcz
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০০
104
882997
1989705
2026-07-13T14:13:18Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989705
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}হৈম বাহিরে উঁকি মারিয়া দেখিয়া প্রণাম করিয়া এবার পায়ের ধূলা লইয়া উঠিয়া দাড়াইল। নির্ম্মল হাত তুলিয়া একটা নমস্কার করিয়া কহিল, আমি চিরদিন ঋণীই রয়ে গেলাম, শোধ দেবার আর কোন পথ রইল না। আদালতের মানুষ, বিষয়-সম্পত্তি-ওয়ালা ভৈরবীর কাজে লাগলেও লাগতে পারতাম, কিন্তু কুঁড়ে-ঘরের সন্ন্যাসিনীরা আমাদের হাতের বাইরে। সমস্ত না ছেড়েও উপায় ছিল না, সত্যি, কিন্তু ছেড়েও যে উপায় হবে তা ভরসা হয় না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিল, কে বললে আমি সমস্ত ছেড়ে দিয়েচি? আমি ত কিছুই ছাড়িনি।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল ও হৈম উভয়েই অবাক্ হইয়া একসঙ্গে বলিয়া উঠিল, ছাড়েননি? কোন স্বত্বই ত্যাগ করেননি?
{{ফাঁক}}ষোড়শী তেমনি শান্ত সহজ-কণ্ঠে কহিল, না, কিছুই না। আমি স্ত্রীলোক, আমি নিরুপায়, কিন্তু আমার ভৈরবীর অধিকার এক তিল শিথিল হয়নি। তাঁরা পুরুষমানুষ, তাঁদের জোর আছে, কিন্তু সেই জোরটা তাঁদের ষোল-আনা সপ্রমাণ না করে আমার হাত থেকে কিছুই পাবার যো নেই—মাটির একটা ঢেলা পর্য্যন্ত না। নির্ম্মলবাবু, আমি মেয়েমানুষ, কিন্তু সংসারে সেটাই আমার বড় অপরাধ যাঁরা স্থির করে রেখেচেন, তাঁরা ভুল করেচেন। এ ভ্রম তাঁদের সংশোধন করতে হবে।
{{ফাঁক}}কথা শুনিয়া দুজনেই স্তব্ধ হইয়া রহিল। ঘরে তখনো আলো জ্বলে নাই—অন্ধকারে তাহার মুখ, তাহার চোখ, তাহার ক্ষীণ দেহের অস্পষ্ট ঋজুতা ভিন্ন আর কিছুই লক্ষ্য হইল না, কিন্তু ওই শান্ত অবিচলিত কণ্ঠস্বরও যে মিথ্যা আস্ফালন উদ্গীর্ণ করে নাই, তাহা মর্ম্মের মাঝখানে গিয়া উভয়কেই সবলে বিদ্ধ করিল।
{{ফাঁক}}অনতিদূরে পথের বাঁকটার কাছে একটা গোলমাল শুনা গেল। আগে এবং পিছনে কয়েকটা আলোর সঙ্গে গোটা-দুই পাল্কি চলিয়াছে।
{{ফাঁক}}অন্ধকারে নজর করিয়া দেখিরা নির্ম্মল কহিল, জমিদারবাবু তা হলে আজই পদধুলি দিলেন দেখচি।
{{ফাঁক}}ষোড়শী ভিতর হইতে সবিস্ময়ে বলিয়া উঠিল, জমিদারবাবু? তাঁর কি আসবার কথা ছিল? বলিয়া সে দ্বারের কাছে আসিয়া দাঁড়াইল।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, হাঁ, তাঁর নদীর ধারের নরক-কুণ্ডর ঝাড়ামোছা চলছিল। এককড়ি বলছিল, শরীর সারবার জন্যে হুজুর আজকালের মধ্যেই স্বরাজ্যে পদার্পণ করবেন। করলেনও বটে।
{{nop}}<noinclude>{{c|৮৬}}</noinclude>
7ix8a3nvs9wq1b2aia713pvzarn825p
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০১
104
882998
1989706
2026-07-13T14:14:21Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989706
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী নির্ব্বাক্ হইয়া সেইখানেই দাঁড়াইয়া রহিল। বিদায় লইয়া নির্ম্মল আস্তে আস্তে কহিল, যত দূরেই থাকি আমরা বেঁচে থাকতে নিজেকে একেবারেই নিরুপায় এবং নিরাশ্রয় ভেবে রাখবেন না। বলিয়া সে হৈমর হাত ধরিয়া অন্ধকারে অগ্রসর হইল। ষোড়শী তেমনি স্থির তেমনি স্তব্ধ হইয়াই রহিল, এ কথারও কোন উত্তর দিল না।
{{nop}}<noinclude>{{c|৮৭}}</noinclude>
bri0fcsg6hnuwdhqoctsacd1n3vbv9h
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০২
104
882999
1989708
2026-07-13T14:24:25Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989708
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''১২'''}}
{{ফাঁক}}বিপুলকায় মন্দিরের প্রাচীর-তলে জমিদার জীবানন্দ চৌধুরীর পাল্কি দুটা নিমিষে অন্তর্হিত হইল। এই অত্যন্ত আঁধারে মাত্র ওই গোটা-কয়েক আলোর সাহায্যে মানুষের চক্ষে কিছুই দেখা যায় না, কিন্তু ষোড়শীর মনে হইল লোকটিকে সে যেন দিনের মত স্পষ্ট দেখিতে পাইল। এবং শুধু কেবল তিনিই নন, তাঁহার পিছনে ঘেরা-টোপ ঢাকা যে পাল্কিটি গেল, তাহার অবরোধের মধ্যেও যে মানুষটি নিঃশব্দে বসিয়া আছে তাহারও শাড়ীর চওড়া কালা-পাড়ের এক প্রান্ত {{SIC|ঈষন্মুক্ত|ঈষদুন্মুক্ত}} দ্বারের ফাঁক দিয়া ঝুলিয়া আছে, সেটুকুও যেন তাহার চোখে পড়িল। তাহার হাতে তিরকাটা চুড়ির স্বর্ণাভা লণ্ঠনের আলোকে পলকের জন্য যে খেলিয়া গেল এ-বিষয়েও তাহার সংশয় রহিল না। তাহার দুই কানে হীরার দুল ঝল্মল্ করিতেছে, তাহার আঙুলে আঙটির পাথরে সবুজ রঙ ঠিকরাইয়া পড়িতেছে—
{{ফাঁক}}সহসা কল্পনা তাহার বাধা পাইয়া থামিল। তাহার স্মরণ হইল এ সমস্তই সে এইমাত্র হৈমর গায়ে দেখিয়াছে। মনে পড়িয়া একাকী অন্ধকারেও সে লজ্জায় সঙ্কুচিত হইয়া উঠিল। চণ্ডী! চণ্ডী! বলিয়া সে সম্মুখের মন্দিরের উদ্দেশ্যে চৌকাটে মাথা ঠেকাইয়া প্রণাম করিল, এবং সকল চিন্তা সবলে দূর করিয়া দিয়া দ্বার ছাড়িয়া ভিতরে আসিয়া দাঁড়াইতে আর দুটি নর-নারীর চিন্তায় তাহার বুক ভরিয়া উঠিল।
{{ফাঁক}}ক্ষণেক পূর্ব্বেও সকল কথাবার্ত্তার মধ্যেও ঝড় ও বৃষ্টির আশু সম্ভাবনা তাহার মনের মধ্যে নাড়া দিয়া গেছে। উপরে কালো ছেঁড়া মেঘে আকাশ আচ্ছন্ন হইতেছে, হয়ত দুর্য্যোগের মাতামাতি অচিরেই আরম্ভ হইয়া যাইবে। বিগত রাত্রির অর্দ্ধেক দুঃখ ত তাহার মাথার উপর দিয়া বহিয়া গেছে, বাকি রাতটুকুও মন্দিরের রুদ্ধ দ্বারে দাঁড়াইয়া কোনমতে কাটিয়াছে; এই প্রকার শারীরিক ক্লেশ সহ্য করা তাহার অভ্যাস নয়—দেবীর ভৈরবীকে এ-সকল ভোগ করিতেও হয় না, তবুও কাল তাহার বিশেষ দুঃখ ছিল না। যে বাড়ি, যে ঘর-দ্বার স্বেচ্ছায় সে তাহার হতভাগ্য পিতাকে দান করিয়া আসিয়াছে, সে-সম্বন্ধে সারাদিন আজ কোন চিন্তাই সে করে নাই; কিন্তু এখন হঠাৎ সমস্ত মন যেন তাহার একেবারে বিকল হইয়া গেল। এই নির্জ্জন পল্লীপ্রান্তে একাকিনী এই ভাঙা স্যাঁতসেঁতে গৃহের মধ্যে কি করিয়া তাহার রাত্রি কাটিবে? নিজের আশে-পাশে চাহিয়া দেখিল। স্তিমিত দীপালোকে ঘরের ও-দিকের কোণ দুইটা আবছায়া হইয়া আছে, তাহারই মাঝে মাঝে ইন্দুরের<noinclude>{{c|৮৮}}</noinclude>
8yz9ljbo9a6bk6bzlkrhci62qlmcd5g
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০৩
104
883000
1989709
2026-07-13T14:28:19Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989709
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>গর্ত্তগুলা যেন কালো কালো চোখ মেলিয়া রহিয়াছে, তাহাদের বুজাইতে হইবে; মাথার উপরে চালে অসংখ্য ছিদ্র, ক্ষণেক পরে বৃষ্টি শুরু হইলে সহস্রধারে ঝরিবে, দাঁড়াইবার স্থানটুকু কোথাও রহিবে না, এই সব লোক ডাকাইয়া মেরামত করিতে হইবে; কবাটের অর্গল নিরতিশয় জীর্ণ, ইহার সংস্কার সর্ব্বাগ্রে আবশ্যক, দিন থাকিতে লক্ষ্য করে নাই ভাবিয়া বুকটা ছাঁৎ করিয়া উঠিল। এই অরক্ষিত, পরিত্যক্ত পর্ণ-কুটীরে—কেবল আজ নয়—দিনের পর দিন বাস করিবে সে কেমন করিয়া?
{{ফাঁক}}তাহার মনে পড়িল এইমাত্র বিদায়ক্ষণে নির্ম্মলের কথার উত্তরে কিছুই বলা হয় নাই, অথচ শীঘ্র আর হয়ত দেখা হইবে না। সে ভরসা দিয়া বলিয়া গেছে নিজেকে একেবারে নিরুপায় না ভাবিতে। হয়ত সহস্র কাজের মধ্যে এ কথা তাহার মনেও থাকিবে না। থাকিলেও, পশ্চিমের কোন একটা সুদূর সহরে বসিয়া সে সাহায্য করিবেই বা কি করিয়া, এবং তাহা গ্রহণ করিবেই বা সে কোন্ অধিকারে? আবার হৈমকে মনে পড়িল। যাইবার সময় একটি কথাও বলে নাই, কিন্তু স্বামীর আহ্বানে যখন তাঁহার হাত ধরিয়া সে অগ্রসর হইল তখন তাঁহার প্রত্যেক কথাটিকে সে যেন নীরবে অনুমোদন করিয়া গেল। সুতরাং স্বামী ভুলিলেও ভুলিতে পারেন, কিন্তু স্ত্রী যে তাহার অনুচ্চারিত বাক্য সহজে বিস্মৃত হইবে না ষোড়শী তাহা মনে মনে বিশ্বাস করিল।
{{ফাঁক}}হৈমর সহিত পরিচয় তাহার বহুদিনব্যাপীও নয়, ঘনিষ্ঠও নয়। অথচ কোনমতে দ্বার রুদ্ধ করিয়া সে যখন তাহার কম্বলের শয্যাটি বিস্তৃত করিয়া ভূমিতলে উপবেশন করিল, তখন এই মেয়েটিকে তাহার বার বার মনে হইতে লাগিল। সেই যে সে প্রথম দিনটিতেই অযাচিত তাহার দুঃখের অংশ লইয়া গ্রামের সমস্ত বিরুদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে, পিতার বিরুদ্ধে, বোধ করি বা আরও একজনের বিরুদ্ধে গোপনে যুদ্ধ করিয়াছিল, সে চলিয়া গেলে কাল তাহার পাশে দাঁড়াইতে এখানে আর কেহ থাকিবে না; প্রতিকূলতা উত্তরোত্তর বাড়িয়া উঠিতেই থাকিবে, কিন্তু আপনার বলিতে, একটা সান্ত্বনার বাক্য উচ্চারণ করিতে লোক মিলিবে না, অথচ এই ঝঞ্ঝা যে কোথায় গিয়া কি করিয়া নিবৃত্ত হইবে, তাহারও কোন নির্দ্দেশ নাই। এমনি করিয়া এই নির্ব্বান্ধব জনহীন আলয়ে চারিদিকের ঘনীভূত অন্ধকারে একাকিনী বসিয়া সে অদূর ভবিষ্যতের সুনিশ্চিত বিপদের ছবিটাকে তন্ন তন্ন করিয়া দেখিতেছিল, কিন্তু কথন অজ্ঞাতসারে যে এই পরিপূর্ণ উপদ্রবের আশঙ্কাকে সরাইয়া দিয়া ক্ষণকালের নিমিত্ত এক অপরিজ্ঞাত ভাবের তরঙ্গ তাহার বিক্ষুব্ধ চিত্তের মাঝে উত্তাল হইয়া উঠিল, সে জানিতে পারিল না।
{{nop}}<noinclude>{{c|৮৯}}</noinclude>
37ok3swzhqo330bxnxjpwkhpsdhz0xi
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০৪
104
883001
1989710
2026-07-13T14:31:39Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989710
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}এতদিন জীবনটাকে সে যেভাবে পাইয়াছে সেইভাবেই গ্রহণ করিয়াছে। সে চণ্ডীর ভৈরবী—ইহার যে দায়িত্ব আছে, কর্ত্তৃত্ব আছে, সম্পদ আছে, বিপদ আছে—স্মরণাতীত কাল হইতে ইহার অধিকারিণীগণের পায়ে পায়ে যে পথ পড়িয়াছে, তাহা কোথাও সঙ্কীর্ণ কোথাও প্রশস্ত, পথ চলিতে কেহ বা সোজা হাঁটিয়াছেন, কাহারও বা বাঁকা পদচিহ্ন পরম্পরাগত ইতিহাসের অঙ্কে বিদ্যমান। ইহার অলিখিত পাতাগুলো লোকের মুখে মুখে কোথাও বা সদাচারের পুণ্য কাহিনীতে উদ্ভাসিত, কোথাও বা ব্যভিচারের গ্লানিতে কালো হইয়া আছে, তথাপি ভৈরবজীবনের সুনির্দ্দিষ্ট ধারা কোথাও এতটুকু বিলুপ্ত হয় নাই। যাত্রা করিয়া সহজ ও দুর্গম, দুর্জ্ঞেয় ও জটিল অনেক গলি-ঘুঁজি অনেককেই পার হইতে হইয়াছে, তাহার সুখ ও দুঃখভোগ কম নয়; কিন্তু কেন, কিসের জন্য, এ প্রশ্নও বোধ করি কেহ কখনো করে নাই, কিংবা ইহাকে অস্বীকার করিয়া আর কোন একটা পথ খুঁজিতেও কাহারো প্রবৃত্তি হয় নাই। ভাগ্য-নির্দ্দিষ্ট সেই পরিচিত খাদের মধ্যে দিয়াই ষোড়শীর জীবনের এই কুড়িটা বছর প্রবাহিত হইয়া গেছে, ইহাকে ভৈরবীর জীবন বলিয়াই সে অসংশয়ে গ্রহণ করিয়াছে; একটা দিনের তরেও আপনার জীবন নারীর জীবন বলিয়া ভাবে নাই। চণ্ডীর সেবায়েত বলিয়া সে নিকটে ও দূরের বহু গ্রাম ও জনপদের গণনাতীত নর-নারীর সহিত সুপরিচিত। কত সংখ্যাতীত রমণী—কেহ ছোট, কেহ বড়, কেহ বা সমবয়সী—তাহাদের কত প্রকারের সুখ-দুঃখ, কত প্রকারের আশা-ভরসা, কত ব্যর্থতা, কত অপরূপ আকাশ-কুসুমের নির্ব্বাক্ ও নির্ব্বিকার সাক্ষী হইয়া আছে; দেবীর অনুগ্রহ লাভের জন্য কত কাল ধরিয়া কত কথাই না ইহারা গোপনে মৃদুকণ্ঠে তাহাকে ব্যক্ত করিয়াছে, দুঃখী-জীবনের নিভৃততম অধ্যায়গুলি অকপটে তাহার চোখের উপর মেলিয়া ধরিয়া প্রসাদ ভিক্ষা চাহিয়াছে; এ সমস্তই তাহার চোখে পড়িয়াছে, পড়ে নাই কেবল রমণী-হৃদয়ের কোন্ অন্তস্থল ভেদিয়া এই-সকল সকরুণ অভাব ও অনুযোগের স্বর উত্থিত হইয়া এতকাল ধরিয়া তাহার কানে আসিয়া পশিয়াছে। ইহাদের গঠন ও প্রবৃত্তি এমনি কোন্ এক বিভিন্ন জগতের বস্তু, যাহাকে জানিবার ও চিনিবার কোন হেতু, কোন প্রয়োজন তাহার হয় নাই; সেই প্রয়োজনের প্রথম আঘাত এইখানে এই পরিত্যক্ত অন্ধকার আলয়ে এই প্রথম তাহার গায়ে লাগিল। কাল দুর্য্যোগের রাত্রে নির্ম্মলের হাত ধরিয়া নদী পার করিয়া আনিয়া সে তাহাকে গৃহে পৌঁছাইয়া দিয়াছিল; হয়ত দুটি লোক ছাড়া এ কথা আর কেহ জানে না, এবং এখন এইমাত্র সেই<noinclude>{{c|৯০}}</noinclude>
r1zpaptm36uae0ipdx618m9ez0lzm88
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০৫
104
883002
1989711
2026-07-13T14:34:28Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989711
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>স্বল্প-দৃষ্টি লোকটির আহ্বানে হৈম যে তাঁহার হাত ধরিয়া নিঃশব্দে অগ্রসর হইল, এ কথাও বোধ করি কয়েকটি লোক ছাড়া আর কেহ জানিবে না, কিন্তু কাল এবং আজিকার এই কর্ত্তব্যের কত বড়ই না পার্থক্য!
{{ফাঁক}}আর একবার তাহার চোখের উপর হৈমর কাপড়ের পাড়টুকু হইতে তাহার আঙুলের সবুজরঙের আঙটি হইতে তাহার কানের হীরের দুল পর্য্যন্ত সমস্ত খেলিয়া গেল, এবং সর্ব্বপ্রকার দুর্ভেদ্য আবরণ ও অন্ধকার অতিক্রম করিয়া তাহার অভ্রান্ত অতীন্দ্রিয় দৃষ্টি, দৃষ্টির বাহিরে ওই মেয়েটির প্রত্যেক পদক্ষেপ যেন অনুসরণ করিয়া চলিল। সে দেখিতে পাইল, স্বামীর হাত ছাড়িয়া এইবার তাহাকে লুকাইয়া বাড়ি ঢুকিতে হইবে, সেখানে তাহার চিন্তিত ও ব্যাকুল পিতা-মাতার শত-সহস্র তিরস্কার ও কৈফিয়ত নিরুত্তরে মাথায় করিয়া লজ্জিত দ্রুতপদে নিজের ঘরে গিয়া আশ্রয় লইতে হইবে, সেখানে হয়ত তাহার নিদ্রিত পুত্র ঘুম ভাঙিয়া বিছানায় উঠিয়া বসিয়া কাঁদিতেছে—তাহাকে শান্ত করিয়া আবার ঘুম পাড়াইতে হইবে; কিন্তু ইহাতেই কি অবসর মিলিবে? তখনও কত কাজ বাকি থাকিয়া যাইবে। অন্তরাল হইতে স্বামীর খাওয়াটুকু পর্য্যবেক্ষণ করা চাই—ত্রুটি না হয়; ছেলেকে তুলিয়া দুধ খাওয়াইতে হইবে—সে অভুক্ত না থাকে, পরে নিজেও খাইয়া লইয়া যেমন-তেমন করিয়া বাকি রাতটুকু কাটাইয়া আবার প্রত্যুষে উঠিয়া যাত্রার জন্য প্রস্তুত হওয়া চাই। তাহার কত রকমের প্রয়োজন, কত রকমের গুছান-গাছান। তাহার স্বামী, তাহার পুত্র, তাহার লোকজন-দাসী-চাকর তাহাকে আশ্রয় করিয়াই যাত্রা করিবে। দীর্ঘ পথে কাহার কি চাই—তাহাকেই যোগাইতে হইবে, তাহাকেই সমস্ত ভাবিয়া সঙ্গে লইতে হইবে।
{{ফাঁক}}নিজের জীবনটাকে ষোড়শী কোনদিন পরের সঙ্গে তুলনা করিয়া দেখে নাই, আলোচনা করিবার কথাও কখনো মনে হয় নাই, তবুও সেই মনের মাঝখানে গৃহিণী-পনার সকল দায়িত্ব, সকল ভার, জননীর সকল কর্ত্তব্য, সকল চিন্তাকে কে যেন কবে সুনিপুণ হাতে সম্পূর্ণ করিয়া সাজাইয়া দিয়া গেছে। তাই কিছু না জানিয়াও সে সব জানে, কখনও কিছু না শিখিয়াও হৈমর সকল কাজ তাহারি মত নিখুঁত করিয়া করিতে পারে এই কথাই তাহার মনে হইল।
{{ফাঁক}}অনতিদূরে একখণ্ড কাঠের উপর সংস্থাপিত মাটির প্রদীপটা নিব নিব হইয়া আসিতেছিল, অন্যমনে ইহাকে উজ্জ্বল করিয়া দিতেই তাহার চমক ভাঙিয়া মনে পড়িল সে চণ্ডীগড়ের ভৈরবী। এত বড় সম্মানিত গরীয়সী নারী এ প্রদেশে আর কেহ নাই। সে সামান্য একজন রমণীর অত্যন্ত সাধারণ গৃহস্থালীর অতি তুচ্ছ<noinclude>{{c|৯১}}</noinclude>
5dm4oe817bceghyarq2rn3fymcrbqiy
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০৬
104
883003
1989712
2026-07-13T14:37:35Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989712
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>আলোচনায় মুহূর্ত্তের জন্যও আপনাকে বিহ্বল করিয়াছে মনে করিয়া লজ্জায় মরিয়া গেল। ঘরে আর কেহ নাই, ক্ষণকালের এতটুকু দুর্ব্বলতা জগতে কেহ কখনো জানিবেও না, শুধু কেবল যে দেবীর সেবিকা সে, সেই চণ্ডীর উদ্দেশ্যে আর একবার যুক্তকরে নতশিরে কহিল, মা, বৃথা চিন্তায় সময় বয়ে গেল, তুমি ক্ষমা ক’রো।
{{ফাঁক}}রাত্রি কত হইয়াছে ঠিক জানিবার যো নাই, কিন্তু অনুমান করিল, অনেক হইয়াছে। তাই শয্যাটুকু আরও একটু বিস্তৃত করিয়া এবং প্রদীপে আরও খানিকটা তেল ঢালিয়া দিয়া সে শুইয়া পড়িল। শ্রান্ত-চক্ষে ঘুম আসিতেও বোধ করি বিলম্ব ঘটিত না, কিন্তু বাহিরে দ্বারের কাছেই একটা শব্দ শুনিয়া চমকিয়া উঠিয়া বসিল। বাতাসেও একটু জোর ধরিয়াছিল, শিয়াল-কুকুর হওয়া অসম্ভব নয়, তবুও ক্ষণকাল কান পাতিয়া থাকিয়া সভয়ে কহিল, কে?
{{ফাঁক}}বাহির হইতে সাড়া আসিল, ভয় নেই মা, তুমি ঘুমোও—আমি সাগর।
{{ফাঁক}}কিন্তু এত রাত্তিরে তুই কেন রে?
{{ফাঁক}}সাগর কহিল, হরখুড়ো বলে দিলে, জমিদার এয়েচে, রাতটাও বড় ভাল নয়—মা একলা রয়েচে, যা সাগর, লাঠিটা হাতে নিয়ে একবার বস্গে। তুমি শুয়ে পড় মা, ভোর না দেখে আমি নড়ব না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী বিস্ময়াপন্ন হইয়া কহিল, তাই যদি হয় সাগর, একা তুই কি করবি বাবা?
{{ফাঁক}}বাহিরের লোকটি একটু হাসিয়া কহিল, একা কেন মা, খুড়োকে একটা হাঁক দেব। খুড়ো-ভাইপোয় লাঠি ধরলে জান ত মা সব। সেদিনকার লজ্জাতেই মরে আছি, একটিবার যদি হুকুম দিয়ে পাঠাতে মা।
{{ফাঁক}}এই দুটি খুড়ো ও ভাইপো হরিহর ও সাগর ডাকাতি অপবাদে একবার বছর-দুই করিয়া জেল খাটিয়াছিল। জেলের মধ্যে বরঞ্চ ছিল ভাল, কিন্তু অব্যাহতি পাইয়া ইহাদের প্রতি বহুকাল যাবৎ একদিকে জমিদার ও অন্যদিকে পুলিশ-কর্ম্মচারীর দৌরাত্ম্যের অবধি ছিল না। কোথাও কিছু একটা ঘটিলে দুইদিকের টানাটানিতে ইহাদের প্রাণান্ত হইত। স্ত্রী-পুত্র লইয়া না পাইত ইহারা নির্বিঘ্নে বাস করিতে, না পাইত দেশ ছাড়িয়া কোথাও উঠিয়া যাইতে। এই অযথা পীড়ন ও অহেতুক যন্ত্রণা হইতে ষোড়শী ইহাদের যৎকিঞ্চিৎ উদ্ধার করিয়াছিল। বীজগাঁর জমিদারী হইতে বাস উঠাইয়া আনিয়া নিজের মধ্যে স্থান দিয়া এবং নানা উপায়ে পুলিশকে প্রসন্ন করিয়া জীবনযাত্রার ব্যাপারটা ইহাদের অনেকখানি সুসহ করিয়া দিয়াছিল। সেই অবধি দস্যু অপবাদগ্রস্ত এই দুই পরম ভক্ত ষোড়শীর সকল সম্পদে বিপদে একান্ত সহায়। শুধু কেবল নীচ জাতীয় ও অস্পৃশ্য বলিয়াই সঙ্কোচে তাহারা দূরে দূরে<noinclude>{{c|৯২}}</noinclude>
o6xjj3kauku8qcy143nzvv3jyl6aenl
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০৭
104
883004
1989713
2026-07-13T15:36:16Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989713
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>থাকিত, এবং ষোড়শী নিজেও কখনো কোনদিন তাহাদের কাছে ডাকিয়া ঘনিষ্ঠতা করিবার চেষ্টা করে নাই। অনুগ্রহ কেবল দিয়াই আসিয়াছে, ফিরিয়া কখনো গ্রহণ করে নাই, বোধ করি প্রয়োজনও হয় নাই। আজ এই নির্জ্জন নিশীথে সংশয় ও সঙ্কটের মাঝে তাহাদের আড়ম্বরহীন এই স্নেহ ও নিঃশব্দ সেবার চেষ্টায় ষোড়শীর দুই চক্ষু জলে ভরিয়া গেল। মুছিয়া ফেলিয়া জিজ্ঞাসা করিল, আচ্ছা সাগর, তোদের জাতের মধ্যেও বোধ হয় আমার সম্বন্ধে কথাবার্ত্তা হয়, না রে? কে কি বলে?
{{ফাঁক}}বাহির হইতে সাগর আস্ফালন করিয়া জবাব দিল, ইস্ আমাদের সামনে! দুই তাড়ায় কে কোথায় পালাবে ঠিক পায় না মা।
{{ফাঁক}}ষোড়শী তৎক্ষণাৎ সলজ্জে অনুভব করিল, ইহার কাছে এরূপ প্রশ্ন করাই তাহার উচিত হয় নাই। অতএব কথাটাকে আর না বাড়াইয়া মৌন হইয়া রহিল। অথচ চোখেও তাহার ঘুম ছিল না। বাহিরে আসন্ন ঝড়-বৃষ্টি মাথায় করিয়া তাহারি খবরদারিতে একজন জাগিয়া বসিয়া আছে জানিলেই যে নিদ্রার সুবিধা হয় তাহা নয়, তাই কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া আবার সে এই কথাই পাড়িল, কহিল, যদি জল আসে তোর যে ভারি কষ্ট হবে সাগর, এখানে ত কোথাও দাঁড়াবার জায়গা নেই।
{{ফাঁক}}সাগর কহিল, নাই থাকল মা। রাত বেশি নেই, প্রহর-দুই জলে ভিজলে আমাদের অসুখ করে না।
{{ফাঁক}}বাস্তবিক ইহার কোন প্রতিকারও ছিল না, তাই আবার কিছুক্ষণ নীরবে থাকিয়া ষোড়শী অন্য প্রসঙ্গ উত্থাপিত করিল। কহিল, আচ্ছা, তোরা কি সব সত্যিই মনে করেচিস্ জমিদারের পিয়াদারা আমাকে সেদিন বাড়ি থেকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়েছিল?
{{ফাঁক}}সাগর অনুতপ্ত-স্বরে কহিল, কি করবে মা, তুমি যে একলা মেয়েমানুষ। এপাড়ায় মানুষ বলতেও কেউ নেই, আমরা খুড়ো-ভাইপোও সেদিন হাটে গিয়ে তখনও ফিরতে পারিনি। নইলে সাধ্য কি মা, তোমার গায়ে কেউ হাত দেয়।
{{ফাঁক}}ষোড়শী মনে মনে বুঝিল এ আলোচনাও ঠিক হইতেছে না, কথায় কথায় হয়ত কি একটা শুনিতে হইবে; কিন্তু থামিতেও পারিল না, কহিল, তাদের কত লোকজন, তোরা দুটীতে থাকলেই কি আটকাতে পারতিস্?
{{ফাঁক}}বাহির হইতে সাগর মুখে একটা অস্ফুট ধ্বনি করিয়া বলিল, কি হবে মা আর মনের দুঃখ বাড়িয়ে। হুজুরও এয়েচেন, আমরাও জানি সব। মায়ের কৃপায় আবার যদি কখনো দিন আসে, তখন তার জবাব দেব। তুমি মনে করো না মা, হরখুড়ো বুড়ো হয়েচে বলে মরে গেছে। তাকে জানতো মাতুভৈরবী, তাকে জানে<noinclude>{{c|৯৩}}</noinclude>
mltrc72zck0golb6revl589fvxvcjfj
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০৮
104
883005
1989714
2026-07-13T15:39:37Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989714
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>শিরোমণি-ঠাকুর। জমিদারের পাইক-পিয়াদা বহুত আছে তাও জানি, গরীব বলে আমাদের দুঃখও তারা কম দেয়নি সেও মনে আছে—ছোটলোক আমরা নিজেদের জন্যে ভাবিনে, কিন্তু তোমার হুকুম হলে মা ভৈরবীর গায়ে হাত দেবার শোধ দিতে পারি। গলায় দড়ি বেঁধে টেনে এনে ওই হুজুরকেই রাতারাতি মায়ের স্থানে বলি দিতে পারি মা, কোন শালা আটকাবে না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী মনে মনে শিহরিয়া কহিল, বলিস্ কি সাগর, তোরা এমন নিষ্ঠুর, এমন ভয়ঙ্কর হতে পারিস্? এইটুকুর জন্যে একটা মানুষ খুন করবার ইচ্ছে হয় তোদের!
{{ফাঁক}}সাগর কহিল, এইটুকু! কেবল এইটুকুর জন্যেই কি আজ তোমার এই দশা! জমিদার এয়েচেন শুনে খুড়ো যেন জ্বলতে লাগল। তুমি ভেবো না মা, আবার যদি কিছু একটা হয়, তখন সেও কেবল এইটুকুতেই থেমে থাকবে।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, হাঁরে সাগর, তুই কখনো গুরুমশায়ের পাঠশালে পড়েছিলি?
{{ফাঁক}}বাহিরে বসিয়া সাগর যেন লজ্জিত হইয়া উঠিল, বলিল, তোমার আশীর্ব্বাদে অমনি একটু রামায়ণ-মহাভারত নাড়তে-চাড়তে পারি। কিন্তু এ কথা কেন জিজ্ঞেস করলে মা?
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, তোর কথা শুনলে মনে হয় খুড়ো তোর না বুঝতেও পারে, কিন্তু তুই বুঝতে পারবি। সেদিন আমাকে কেউ ধরে নিয়ে যায়নি সাগর, কেউ আমার গায়ে হাত দেয়নি, আমি কেবল রাগের মাথার আপনি চলে গিয়েছিলাম।
{{ফাঁক}}সাগর কহিল, সে আমরাও শুনেচি, কিন্তু সারারাত যে ঘরে ফিরতে পারলে না মা, সেও কি রাগ করে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী এ প্রশ্নের ঠিক উত্তরটা এড়াইয়া গিয়া কহিল, কিন্তু যে জন্যে তোদের এত রাগ, সে দশা আমার ত আমি নিজেই করেচি। আমি ত নিজের ইচ্ছাতেই বাবাকে ছেড়ে দিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েচি।
{{ফাঁক}}সাগর কহিল, কিন্তু এতকাল ত এ আশ্রয় নেবার ইচ্ছে হয়নি মা। একটুখানি চুপ করিয়া থাকিয়া অকস্মাৎ তাহার কণ্ঠস্বর যেন উগ্র ও উত্তপ্ত হইয়া উঠিল, কহিল, তারাদাস ঠাকুরের ওপরও আমাদের রাগ নেই, রায়মশায়কেও আমরা কেউ কিছু বলব না, কিন্তু জমিদারকে আমরা সুবিধে পেলে সহজে ছাড়ব না। জান মা আমাদের বিপিনের সে কি করেছে? সে বাড়ি ছিল না—তার লোকজন তার ঘরে ঢুকে—
{{ফাঁক}}ষোড়শী তাড়াতাড়ি তাহাকে থামাইয়া দিয়া কহিল, থাক্ সাগর, ও-সব খবর আর তোরা আমাকে শোনাস্নে।
{{nop}}<noinclude>{{c|৯৪}}</noinclude>
clm9ol1qkhaolxjuj07ono1nmowd2t5
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১০৯
104
883006
1989715
2026-07-13T15:42:45Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989715
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}সাগর চুপ করিল। ষোড়শী নিজেও বহুক্ষণ পর্য্যন্ত আর কোন প্রশ্ন করিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে সাগর পুনরায় যখন কথা কহিল, তাহার কণ্ঠস্বরে গূঢ় বিস্ময়ের আভাস ষোড়শী স্পষ্ট অনুভব করিল। সাগর কহিল, মা, আমরা তোমার প্রজা, আমাদের দুঃখ তুমি না শুনলে শুনবে কে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, কিন্তু শুনেও ত অত বড় জমিদারের বিরুদ্ধে আমি প্রতিকার করতে পারব না বাছা।
{{ফাঁক}}সাগর কহিল, একবার ত করেছিলে। আবার যদি দরকার হয়, তুমিই পারবে। তুমি না পারলে আমাদের রক্ষা করতে কেউ নেই মা।
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, নতুন ভৈরবী যদি কেউ হয় তাকেই তোদের দুঃখ জানাস্।
{{ফাঁক}}সাগর চমকিয়া কহিল, তা হলে তুমি কি আমাদের সত্যিই ছেড়ে যাবে মা? গ্রামশুদ্ধ সবাই যে বলাবলি করচে—সে সহসা থামিল, কিন্তু ষোড়শী নিজেও এ প্রশ্নের হঠাৎ উত্তর দিতে পারিল না। কয়েক মুহূর্ত্ত নীরবে থাকিয়া ধীরে ধীরে কহিল, দেখ, সাগর, তোদের কাছে এ কথা তুলতে আমার লজ্জায় মাথা কাটা যায়। কিন্তু আমার সম্বন্ধে সব ত শুনেচিস্? গ্রামের আরও দশজনের মত তোরা নিজেও দেখচি বিশ্বাস করেচিস্, তার পরেও কি তোরা আমাকেই মায়ের ভৈরবী করে রাখতে চাস্ রে?
{{ফাঁক}}বাহিরে বসিয়া সাগর আস্তে আস্তে উত্তর দিল, অনেক কথাই শুনি মা, এবং আরও দশজনের মত আমরাও ভেবে পাইনে কেনই বা তুমি সে-রাত্রে ঘরে ফিরলে না, আর কেনই বা সকালবেলা সাহেবের হাত থেকে হুজুরকে বাঁচালে! কিন্তু সে যাই হোক মা, আমরা ক’ঘর ছোট-জাত ভূমিজ তোমাকেই মা বলে জেনেচি; যেখানেই যাও আমরাও সঙ্গে যাব। কিন্তু যাবার আগে একবার জানিয়ে দিয়ে যাব।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, কিন্তু তোরা ত আমার প্রজা নয়, মা চণ্ডীর প্রজা। আমার মত মায়ের দাসী কত হয়ে গেছে, কত হবে; তার জন্যে তোরা কেনই বা ঘর-দোর ছেড়ে যাবি, কেনই বা উপদ্রব-অশান্তি ঘটাবি। এমন ত হতে পারে, আমার নিজেরই আর এ সমস্ত ভাল লাগচে না।
{{ফাঁক}}সাগর সবিস্ময়ে কহিল, ভাল লাগচে না?
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, আশ্চর্য্য কি সাগর? মানুষের মন কি বদলায় না?
{{ফাঁক}}এবার প্রত্যুত্তরে লোকটি কেবল একটা হুঁ বলিয়াই খানিকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া কহিল, কিন্তু রাত আর বেশি বাকি নেই মা, আকাশে মেঘও কেটে যাচ্ছে, এইবার তুমি একটু ঘুমোও।
{{nop}}<noinclude>{{c|৯৫}}</noinclude>
4zj7rnxos4l1uj1pvtm0k0gkng8mmkz
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১১০
104
883007
1989716
2026-07-13T15:46:58Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989716
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শীর নিজেরও এ-সকল আলোচনা ভাল লাগিতেছিল না, তাহাতে সে অত্যন্ত শ্রান্ত হইয়াছিল। সাগরের কথায় আর দ্বিরুক্তি মাত্র না করিয়া চোখ বুজিয়া শুইয়া পড়িল। কিন্তু সে-চক্ষে ঘুম যতক্ষণ না আসিল, কেবল ঘুরিয়া ফিরিয়া উহারই কথাগুলো তাহার মনে হইতে লাগিল, এই যে লোকটি বিনিদ্র-চক্ষে বাহিরে বসিয়া রহিল, তাহাকে সে ছেলে-বেলা হইতেই দেখিয়া আসিয়াছে; ইতর ও অন্ত্যজ বলিয়া এতদিন শুধু তুচ্ছ ও ছোট কাজেই লাগিয়াছে, কোন দিন কোন সম্মানের স্থান পায় নাই, আলাপ করিবার কল্পনা ত কাহারও স্বপ্নেও উঠে নাই, কিন্তু আজ এই দুঃখের রাত্রে জ্ঞাত ও অজ্ঞাতসারে মুখ দিয়া তাহার অনেক কথাই বাহির হইয়া গেছে, এবং তাহার ভালমন্দ হিসাব করিবার দিন হয়ত একদিন আসিতেও পারে; কিন্তু শ্রোতা-হিসাবে এই ছোটলোকটিকে সে একান্ত ছোট বলিয়া আজ কিছুতেই ভাবিতে পারিল না।
{{***|4|6em}}
{{ফাঁক}}পরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গিলে দ্বার খুলিয়া বাহির হইয়া দেখিল সকাল আর নাই—ঢের বেলা হইয়াছে, এবং অনতিদূরে অনেকগুলা লোক মিলিয়া তাহারই রুদ্ধ দরজার প্রতি চাহিয়া কি যেন একটা তামাসার প্রতীক্ষা করিয়া দাঁড়াইয়া আছে। কোথাও এতটুকু পর্দ্দা, এতটুকু আব্রু নাই। সহসা মনে হইল তৎক্ষণাৎ দ্বার বন্ধ না করিয়া দিলে এই লোকগুলার উৎসুক দৃষ্টি হইতে বুঝি সে বাঁচিবে না। এই ক্ষুদ্র গৃহটুকু যত জীর্ণ যত ভগ্নই হোক আত্মরক্ষা করিবার এ ছাড়া আর বুঝি সংসারে দ্বিতীয় স্থান নাই। এবং ঠিক সেই মুহূর্ত্তেই দেখিতে পাইল ভিড় ঠেলিয়া এককড়ি নন্দী তাহার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইল। সবিনয়ে কহিল, গ্রামে হুজুর পদার্পণ করেচেন, শুনেচেন বোধ হয়।
{{ফাঁক}}জমিদারের গোমস্তা এই এককড়ি ইতিপূর্ব্বে কোনদিন তাহাকে আপনি বলিয়া সম্বোধন করে নাই। তাহার বিনয়, তাহার এই সম্ভাষণের পরিবর্ত্তন ষোড়শীকে যেন বিদ্ধ করিল, কিন্তু কিছু একটা জবাব দিবার পূর্ব্বেই সে পুনশ্চ সসম্ভ্রমে কহিল, হুজুর একবার আপনাকে স্মরণ করেচেন।
{{ফাঁক}}কোথায়?
{{ফাঁক}}এই যে কাছারী-বাড়িতে। সকাল থেকে এসেই প্রজার নালিশ শুনচেন। যদি অনুমতি করেন ত পাল্কি আনতে পাঠিয়ে দিই?
{{ফাঁক}}সকলে হাঁ করিয়া শুনিতেছিল; ষোড়শীর মনে হইল তাহারা যেন এই কথায় হাসি চাপিবার চেষ্টা করিতেছে। তাহার ভিতরট। অগ্নিকাণ্ডের ন্যায় জ্বলিয়া উঠিল,<noinclude>{{c|৯৬}}</noinclude>
0j462svgxnbv6fzg5upwwxdh5jo2b64
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১১১
104
883008
1989717
2026-07-13T15:49:27Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989717
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>কিন্তু মুহূর্ত্তে আত্মসংবরণ করিয়া কহিল, এটা তাঁর প্রস্তাব, না তোমার সুবিবেচনা এককড়ি?
{{ফাঁক}}এককড়ি সসম্ভ্রমে বলিল, আজ্ঞে, আমি ত চাকর, এ হুজুরের স্বয়ং আদেশ।
{{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিয়া কহিল, তোমার হুজুরের কপাল ভাল। জেলের ঘানি টানার বদলে পাল্কি চড়ে বেড়াচ্চেন, তাও আবার শুধু স্বয়ং নয়, পরের জন্যও ব্যবস্থা করেচেন। কিন্তু বলগে এককড়ি, আমার পাল্কি চড়ার ফুরসুৎ নেই—আমার ঢের কাজ।
{{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, ও-বেলায় কিংবা কাল সকালেও কি একটু সময় পাবেন না?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, না।
{{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, কিন্তু হলে যে ভাল হ’ত। আর দশজন প্রজার যে নালিশ আছে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কঠোর-স্বরে উত্তর দিল, বিচার করবার মত বিদ্যে-বুদ্ধি থাকে ত তাঁর নিজের প্রজার করুনগে। কিন্তু আমি তোমার হুজুরের প্রজা নই, আমার বিচার করবার জন্যে রাজার আদালত আছে। এই বলিয়া সে গামছাটা কাঁধের উপর ফেলিয়া পুষ্করিণীর উদ্দেশে দ্রুতপদে প্রস্থান করিল।
{{nop}}<noinclude>{{c|৯৭}}</noinclude>
rbf71gzhea49pavj2gk40ty0fqc7hb7
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১১২
104
883009
1989718
2026-07-13T15:53:01Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989718
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''১৩'''}}
{{ফাঁক}}জমিদারের নিভৃত-নিবাস সাজাইতে গুছাইতে দিন-চারেক গিয়াছে। জনশ্রুতি এইরূপ যে, হুজুর এবার একাদিক্রমে মাস-দুই চণ্ডীগড়ে বিশ্রাম করিয়া যাইবেন। আজ সকালবেলাতেই উত্তর দিকের বড় হলটায় মজলিস বসিয়াছিল। ঘর-জোড়া কার্পেট পাতা, তাহার উপরে সাদা জাজিম বিছানো এবং মাঝে মাঝে দুই-চারিটা মোটা তাকিয়া ইতস্তত বিক্ষিপ্ত। গৃহের একধারে আজ গ্রামের মাতব্বরেরা বার দিয়া বসিয়াছিলেন—জমিদারের কাছে তাঁহাদের মস্ত নালিশ ছিল। রায় মহাশয় ছিলেন, শিরোমণি ছিলেন, ঘোষজা ছিলেন, বোসজা ছিলেন, এমন কি তারাদাস ঠাকুরও ইহাদের আড়ালে মুখ নীচু করিয়া ও কান খাড়া করিয়া সতর্ক হইয়া বসিয়াছিলেন। আরও যাঁহারা যাঁহারা ছিলেন তাঁহাদের কেহই যদিও অবহেলার বস্তু নহেন, তবুও ইঁহাদের নাম ধাম ও বিবরণ সবিস্তারে বিদিত না হইলেও পাঠকের জীবন দুর্ভর হইয়া উঠিবে না বিবেচনা করিয়াই তাহাতে নিরস্ত হইলাম। যাই হোক ইঁহাদের সমবেত চেষ্টায় অভিযোগের ভূমিকাটা এক প্রকার শেষ হইয়া গেলেও আসল কথাটি উঠি উঠি করিয়াও থাকিয়া যাইতেছিল—ঠিক যেন মুখে আসিয়াও কাহারও বাহির হইতে চাহিতেছিল না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সকলের সঙ্গে থাকিয়াও একটুখানি দূরে একটা তাকিয়ার উপর দুই কনুয়ের ভর দিয়া বসিয়া তিনি মন দিয়াই যেন সমস্ত শুনিতেছিলেন। মন প্রফুল্ল। একেবারে স্বাভাবিক না হইলেও সম্পূর্ণ কৃত্রিম বলিয়াও সন্দেহ হয় না। খুব সম্ভব মদের ফেনা তখনও তাঁহার মগজের সমস্ত অলি-গলি দখল করিয়া বসে নাই। সুমুখের বড় বড় খোলা দরজা দিয়া বারুইয়ের শুক্না বালু ও ভিজা মাটির গন্ধ বাতাসে ভাসিয়া আসিতেছিল, এবং পাশের ঘরটাতেই বোধ করি রান্না হইতেছিল বলিয়া তাহারই রুদ্ধ দ্বারের কোন্ একটা ফাঁক দিয়া একজাতীয় শব্দ ও গন্ধ মাঝে মাঝে এই বাতাসেই ভর দিয়া লোকের কানে ও নাকে আসিয়া পৌছিতেছিল, তাহা ব্যক্তিবিশেষের কাছে উপাদেয় ও রুচিকর হইলেও শিরোমণি মহাশয় চঞ্চল হইয়া উঠিতেছিলেন। হঠাৎ তিনি বার-দুই কাসিয়া ও উত্তরীয়-প্রান্তে নাকের ডগাটা মার্জ্জনা করিয়া উঠিয়া গিয়া আর একধারে বসিতেই জীবানন্দ সহাস্যে কহিলেন, শিরোমণি-মশায়ের কি অর্দ্ধভোজন হয়ে গেল নাকি?
{{nop}}<noinclude>{{c|৯৮}}</noinclude>
ezkt7p00po8j6orxdnjbhqqsnb9ixn5
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১১৩
104
883010
1989719
2026-07-13T15:57:51Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989719
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}অনেকেই হাসিয়া উঠিল, শিরোমণির নাকের ডগার মত মুখখানাও রাঙা হইয়া উঠিল। জীবানন্দ তখন হাসিয়া বলিলেন, ভয় নাই ঠাকুর, জাত যাবে না; ওটা আপনাদের মা চণ্ডীরই মহাপ্রসাদ। তবে যিনি রাঁধচেন তাঁর গোত্রটা ঠিক জানিনে, হয়ত এক না হতে পারে।
{{ফাঁক}}শিরোমণি আপনাকে কতকটা সামলাইয়া লইয়া কহিলেন, তা হোক, তা হোক। ব্রাহ্মণ পাচক—দরিদ্র হলেও একটা গোত্র আছে বই কি।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ হাঃ হাঃ করিয়া হাস্য করিয়া কহিলেন, জানিনে ঠাকুর, ও-সব বালাই ওর কিছু আছে কি না। কিন্তু হাতা-বেড়ির সঙ্গে মিলে সোনার চুড়ির আওয়াজটাও আমার বড় মিঠে লাগে। আর সেই হাতে পরিবেশন করলে—তা নিমন্ত্রণ করলে ত আর—,বলিয়া তিনি পুনশ্চ প্রবল হাসির শব্দে ঘর ভরিয়া দিলেন।
{{ফাঁক}}শিরোমণি অধোবদন হইলেন, এবং ভিতরের কদর্য্য ব্যাপার যদিচ সকলেই জানিতেন, তথাপি এই অভাবনীয় প্রকাশ্য নির্ল্লজ্জতায় উপস্থিত কেহই লোকটার মুখের প্রতি সহসা চাহিতে পর্য্যন্ত পারিল না।
{{ফাঁক}}হাসি থামিলে তিনি কহিলেন, সদালাপ ত হ’ল, এবং দয়া করে মাঝে মাঝে এলে এমন আরও ঢের হতে পারবে, কিন্তু আপনাদের নালিশটা কি শুনি?
{{ফাঁক}}কিন্তু উত্তরে কাহারও মুখে কথা ফুটিল না, সকলে যেমন নীরবে বসিয়াছিল তেমনি নীরবে বসিয়া রহিল।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিলেন, বলতে কি আপনাদের লজ্জা বোধ হচ্চে?
{{ফাঁক}}এবার রায় মহাশয় মুখ তুলিয়া চাহিলেন; বলিলেন, নন্দীমশায় ত সমস্ত জানেন, তিনি কি হুজুরের গোচর করেননি?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিলেন, হয়ত করেছেন, কিন্তু আমার মনে নেই। তা ছাড়া তার গোচর করার প্রতি খুব বেশি আস্থা না রেখে ব্যাপারটা আপনারাই বলুন। দ্বিরুক্তি দোষ ঘটতে পারে, কিন্তু কি আর করা যাবে। জমিদারের গোমস্তা—একটু মোকাবিলে হয়ে থাকা ভাল। ঠিক না?
{{ফাঁক}}প্রভুর মুখে এককড়ির এই সুখ্যাতিটুকুতে রায় মহাশয় মনে মনে আনন্দ লাভ করিলেন। কিন্তু চাঞ্চল্য প্রকাশ না করিয়া পরম গাম্ভীর্য্যের সহিত বলিলেন, হুজুর সর্ব্বজ্ঞ। ভৃত্যের সম্বন্ধে যথা ইচ্ছা আদেশ করতে পারেন, কিন্তু আমাদের অভিযোগ—
{{ফাঁক}}কি অভিযোগ?
{{ফাঁক}}জনার্দ্দন রায় কহিলেন, আমরা গ্রামস্থ ষোল-আনা ইতর-ভদ্র একত্র হয়ে—
{{nop}}<noinclude>{{c|৯৯}}</noinclude>
32gzilxyrnyz4he9z52ha1nx3d3chdr
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১১৪
104
883011
1989720
2026-07-13T16:00:24Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1989720
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}জীবানন্দ একটু হাসিয়া বলিলেন, তা দেখতে পাচ্চি। ওইটি কি সেই ভৈরবীর বাপ তারাদাস ঠাকুর নয়? এই বলিয়া তিনি তাহার প্রতি অঙ্গুলি-সঙ্কেত করিলেন।
{{ফাঁক}}তারাদাস সাড়া দিল না, জাজিমটার অংশ-বিশেষের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া নিঃশব্দে বসিয়া রহিল। এবং রায় মহাশয়ের আনত মুখের পরেও একটা ফ্যাকাসে ছায়া পড়িল। কিন্তু মুখ-রক্ষা করিলেন শিরোমণি-ঠাকুর। তিনি সবিনয়ে কহিলেন, রাজার কাছে প্রজা সন্তানতুল্য, তা দোষ করলেও সন্তান, না করলেও সন্তান। আর কথাটা এক রকম ওরই। ওর কন্যা ষোড়শীর সম্বন্ধে আমরা নিশ্চয় স্থির করেচি, তাকে আর মহাদেবীর ভৈরবী রাখা যেতে পারে না। আমাদের নিবেদন, হুজুর তাকে সেবায়েতের কাজ থেকে অব্যাহতি দেবার আদেশ করুন।
{{ফাঁক}}জমিদার চকিত হইয়া উঠিলেন, কহিলেন, কেন? তার অপরাধ?
{{ফাঁক}}দুই-তিনজন প্রায় সমস্বরে জবাব দিয়া ফেলিল, অপরাধ অতিশয় গুরুতর।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ একে একে তাহাদের মুখের দিকে চাহিয়া অবশেষে জনার্দ্দনের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া কহিলেন, তিনি হঠাৎ এমন কি ভয়ানক দোষ করেচেন রায়মশায়, যার জন্য তাঁকে তাড়ানো আবশ্যক?
{{ফাঁক}}জনার্দ্দন মুখ তুলিয়া শিরোমণিকে চোখের ইঙ্গিত করিতেই জীবানন্দ বাধা দিয়া কহিলেন, না না, উনি অনেক পরিশ্রম করেচেন, বুড়োমানুষকে আর কষ্ট দিয়ে কাজ নেই, ব্যাপারটা আপনিই ব্যক্ত করুন।
{{ফাঁক}}রায় মহাশয়ের চোখে ও মুখে দ্বিধা ও অত্যন্ত সঙ্কোচ প্রকাশ পাইল, মৃদু-কণ্ঠে কহিলেন, ব্রাহ্মণকন্যা—এ আদেশ আমাকে করবেন না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ হাসিমুখে কহিলেন, দেব-দ্বিজে আপনার অচলা ভক্তির কথা এ-দিকে কারও অবিদিত নেই। কিন্তু এতগুলি ইতর-ভদ্রকে নিয়ে আপনি নিজে যখন উপস্থিত হয়েচেন, তখন ব্যাপার যে অতিশয় গুরুতর তা আমার বিশ্বাস হয়েছে। কিন্তু সেটা আপনার মুখ থেকেই শুনতে চাই।
{{ফাঁক}}কিন্তু জনার্দ্দন রায় অত সহজে ভুল করিবার লোক নহেন; প্রত্যুত্তরে তিনি শিরোমণির প্রতি একটা ক্রুদ্ধ দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া কহিলেন, হুজুর যখন নিজে শুনতে চাচ্চেন তখন আর ভয় কি ঠাকুর? নির্ভয়ে জানিয়ে দিন না।
{{ফাঁক}}খোঁচা খাইয়া বৃদ্ধ শিরোমণি হঠাৎ ব্যস্ত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, সত্যি কথা ভয় কিসের জনার্দ্দন? তারাদাসের মেয়েকে আর আমরা কেউ ভৈরবী রাখব না হুজুর! তার স্বভাব-চরিত্র ভারি মন্দ হয়ে গেছে—এই আপনাকে আমরা জানিয়ে দিচ্চি।
{{nop}}<noinclude>{{c|১০০}}</noinclude>
hqedyqq3g9ril14dspu6vjlqu4verpl
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৮
0
883012
1989729
2026-07-14T03:04:35Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=65 to=75 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1989729
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=65 to=75 header=1/>
o2wogbspg0gp2ld0cj2bu2kzoa0s8tf
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৯
0
883013
1989730
2026-07-14T03:04:56Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=76 to=86 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1989730
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=76 to=86 header=1/>
pfdrlngw8tiuqdh4dgync41j7tfosul
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১০
0
883014
1989731
2026-07-14T03:05:25Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=87 to=91 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1989731
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=87 to=91 header=1/>
gxqnyajpuicmquw7m63g3s89pkd5gq7
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১১
0
883015
1989732
2026-07-14T03:06:26Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=92 to=101 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1989732
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=92 to=101 header=1/>
rzyy3dqb0vhwsvcmhn5h99y2iho3t9v
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১২
0
883016
1989733
2026-07-14T03:07:55Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=102 to=111 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1989733
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=102 to=111 header=1/>
kxg4p6bmntncbr65gg8hxpgbe4ccw95
নির্ঘণ্ট:মানসাঙ্ক (প্রথম ভাগ) - গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৩).pdf
102
883017
1989735
2026-07-14T03:16:54Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
1989735
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q140544944
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=1
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Footer=
}}
l0m8padotp92oapx710nmeonk7hvdhy
নির্ঘণ্ট:মানসাঙ্ক (দ্বিতীয় ভাগ) - গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭২).pdf
102
883018
1989736
2026-07-14T03:41:28Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
1989736
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q140545016
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=1
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Footer=
}}
36ojbgbhe30cckyyl0zegu128bift2t
নির্ঘণ্ট:মানসাঙ্ক (তৃতীয় ভাগ) - গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭২).pdf
102
883019
1989737
2026-07-14T06:11:50Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
1989737
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q140546079
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=1
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Footer=
}}
i888yrv2meghaw875yak7wda45izwqa
নির্ঘণ্ট:মানসাঙ্ক (চতুর্থ ভাগ) - গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭২).pdf
102
883020
1989738
2026-07-14T06:40:27Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
1989738
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q140546138
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=1
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Footer=
}}
4qz7fkcc3hnb0wo77sznhk3khfs5bll
নির্ঘণ্ট:মানসাঙ্ক (পঞ্চম ভাগ) - গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৪).pdf
102
883021
1989739
2026-07-14T06:48:42Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
1989739
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q140546284
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=1
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Footer=
}}
7xvwg0v4wdzlms388rrff8hpcsonhyv
নির্ঘণ্ট:মাদকসেবনের অবৈধতা ও অনিষ্টকারিতা বিষয়ক প্রবন্ধ - গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৬৫).pdf
102
883022
1989744
2026-07-14T07:50:26Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
1989744
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q140546465
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=3
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Footer=
}}
03wv4rdo1n2c0bpyja8slg7jah6v53w