উইকিসংকলন bnwikisource https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.11 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিসংকলন উইকিসংকলন আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা লেখক লেখক আলাপ নির্ঘণ্ট নির্ঘণ্ট আলাপ পাতা পাতা আলাপ প্রবেশদ্বার প্রবেশদ্বার আলাপ প্রকাশক প্রকাশক আলোচনা রচনা রচনা আলাপ অনুবাদ অনুবাদ আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা টেমপ্লেট:ALL PAGES 10 9621 1990316 1990286 2026-07-20T07:02:32Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1990316 wikitext text/x-wiki 561534 0mgkccizazspezvcebelpypgos79ybs পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৮ 104 883151 1990291 1990278 2026-07-19T12:33:11Z Bodhisattwa 2549 1990291 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৪|টমকাকার কুটীর।}}</noinclude>{{ফাঁক}}জিম্ তাড়াতাড়ি সেগুলি কুড়িয়ে নিল। সব খাওয়া হয়ে গেলে, মিঃ সেল্‌বি তাকে আবার বল্লেন—“জিম, তুমি কেমন নাচতে পার, এই ভদ্রলোকটিকে একবার দেখাও দেখি!” {{ফাঁক}}জিম্ অমনি একটা গান গাইতে গাইতে, হাত-পা দুলিয়ে নাচতে লাগলো। নাচ গান শেষ হ’লে, মিঃ হ্যালি বল্লেন, “মিঃ সেল্‌বি, এই ছেলেটাকে টমের সঙ্গে দিন। তা হ’লেই আমি সব ঠিক ক’রে ফেলি।” {{ফাঁক}}এইরূপ কথা হচ্ছে, এমন সময় একটি স্ত্রীলোক সেই ঘরে এসে ঢুক্‌লো। সে জিমের মা। তাকে দেখে মিঃ সেল্‌বি বল্লেন—“কি ইলাইজা, কি চাও?” ইলাইজা ব’লে—“আমি হ্যারিকে খুঁজতে এসেছি।” {{ফাঁক}}“আচ্ছা, ওকে নিয়ে যাও।” {{ফাঁক}}তারা চলে গেলে, মিঃ হ্যালি বল্লেন—“এই ত আর একজন। একে বিক্রী করুন না।—এর জন্যে কত চান, বলুন?” {{ফাঁক}}“না মিঃ হ্যালি, একে বিক্রী করা হবে না।” {{ফাঁক}}“আচ্ছা, তা’ না হোক, ছেলেটাকে তো পাব?” {{ফাঁক}}“সে কথা আমি পরে ভেবে দেখ্‌বো। আপনি সন্ধ্যার পর আমার সঙ্গে দেখা ক’র‍্‌বেন।” {{ফাঁক}}মিঃ হ্যালি তখন নমস্কার ক’রে চ’লে গেলেন। {{ফাঁক}}ইলাইজা যখন জিম্‌কে নিয়ে ঘর থেকে বের হ’য়ে আসে, তখন মিঃ সেল্‌বির ও হ্যালির কথাবার্ত্তা কিছু কিছু শুন‍্তে পেয়েছিল। সে<noinclude></noinclude> byn4okmfxmc40531ylqrg43bo4cft1u পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৩৯ 104 883196 1990290 1990282 2026-07-19T12:32:04Z Bodhisattwa 2549 1990290 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মাতৃভাষার নানাভিমুখী অনুশীলন হইতেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিম্নতম শ্রেণী হইতে উচ্চতম শ্রেণী পর্যন্ত মাতৃভাষার মাধ্যমে অধ্যয়ন অধ্যাপন চলিতেছে। ইণ্টারমিডিয়েট এবং বি.এ পরীক্ষায় বঙ্গভাষা ও সাহিত্যের পূর্ণতর অনুশীলনের সুব্যবস্থা হইয়াছে। কেবল বাঙলাভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়ন করিয়া ছাত্রছাত্রীগণ সর্বোচ্চ উপাধি গ্রহণ করিতেছেন। মাতৃভাষার প্রতি এই মর্যাদা দিয়া কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যে আদর্শ স্থাপন করিতে সমর্থ হইয়াছেন, ভারতবর্ষের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহা অল্পবিস্তর অনুসৃত হইতেছে। আশা করি এমন একদিন আসিবে যেদিন ভারতের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নতম পাঠ হইতে উচ্চতম গবেষণা পর্যন্ত মাতৃভাষার বাহকতায় সম্পন্ন হইতে পারিবে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যে সিদ্ধিলাভ করিতে সমর্থ হইয়াছেন তাহার গুরত্ব আমরা সব সময় অনুভব করিতে পারি না। কি প্রচণ্ড বিরুদ্ধতার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম করিয়া আমরা এই যে ফললাভ করিয়াছি, তাহা আমরা বিস্মৃত হই। যাঁহারা প্রতিকূল আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিয়া নিজদেহে অস্ত্রাঘাত সহ্য করিয়াও বিমাতার অঙ্গনে মাতৃভাষাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করিয়া গিয়াছেন, এখানে সেই পুণ্যশ্লোক ঋষিকল্প পূর্বজগণের নাম স্মরণ করিতেছি। {{ফাঁক}}রাজনৈতিক কারণে যদিও দেশের মধ্যে একটা দলাদলির বিষাক্ত আবহাওয়ার উদ্ভব হইয়াছে, তথাপি অতি বড় নিন্দুকেও বাঙালী জাতিকে অনৌদার্যের অপবাদ দিতে পারিবে না। আমরা সাহিত্যকে জাতিগঠনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপাদান বলিয়া গণ্য করি। সাহিত্য যেমন জাতির অঙ্গে সঞ্জীবন-রসের সঞ্চার করিয়া জাতিকে সজ্ঞান সচেতন এবং সবল করিয়া তুলে, জাতির সমুদ্বোধিত চৈতন্য, সুগঠিত চিন্তাধারা এবং সুনিয়ত বিচারবুদ্ধি তেমনি মহত্তর সাহিত্য প্রণয়নে সহায়তা করে। বঙ্গদেশের শিক্ষাচার্যগণ এই তত্ত্বটি উপলব্ধি করিয়া তাহা কার্যতঃ প্রয়োগ করিয়াছিলেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যবিধির সহিত যাঁহাদের কিছুমাত্র পরিচয় আছে তাঁহারা সকলেই সে কথা জানেন। বাঙলাভাষা ও সাহিত্যচর্চার ব্যবস্থা করাই যে কালে আপত্তির কারণ হইত অন্য ভাষার পঠন-পাঠনের আয়োজন করা সেকালে প্রায় অসম্ভবই<noinclude>{{কেন্দ্র|৩৩}} {{left|৩}}</noinclude> ouweito8dghe2giijhavx4y8hq6kseq পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০৮ 104 883200 1990292 2026-07-19T14:31:14Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990292 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>আর বাদানুবাদ করিতে সে চাহে না। যাহাকে একান্তই নিষ্ফল বলিয়া বুঝিয়াছে সে লইয়া আর তর্ক কেন? {{ফাঁক}}সেইখানে চুপ করিয়া কিছুক্ষণ বসিয়া থাকিয়া ষোড়শী উঠিয়া গিয়া প্রদীপ রাখিয়া হাত ধুইল, কহিল, আমার একটা অনুরোধ রাখবেন? {{ফাঁক}}কি? {{ফাঁক}}এই ঘরে একদিন আমার কাছে আপনি চেয়ে খেয়েছিলেন, আজ তেমনি আমার চাওয়ায় আপনাকে খেতে হবে। {{ফাঁক}}দাও। ক্ষিদেও পেয়েচে। {{ফাঁক}}সে জানি। আমরা পুরুষমানুষের মুখের পানে চাইলেই টের পাই। বলিয়া ষোড়শী জল-হাতে মুছিয়া লইয়া সামনেই ঠাঁই করিয়া দিল। দেবীর প্রসাদ আজ ছিল না, কিন্তু প্রজারা আজ তাহাকে অনেক কিছু দিয়া গিয়াছিল, তাহাই পাতায় করিয়া সাজাইয়া আনিতে ষোড়শী রান্নাঘরে চলিয়া গেলে একাকী চারিদিকে চাহিয়া সেদিনের সেই দোয়াত ও কলমটা কুলঙ্গির উপরে তাহার চোখে পড়িল। মিনিট-দুই চিন্তা করিয়া সে তাহা পাড়িয়া আনিল। পকেট হইতে একখানা চিঠি বাহির করিয়া তাহার শাদা অংশটা ছিঁড়িয়া লইয়া প্রদীপের সুমুখে আসিয়া সে পত্র লিখিতে বসিল। বোধ হয় তিন-চারি ছত্রের বেশি নয়, শেষ করিয়া ভাঁজ করিল, এবং উপরে ষোড়শীর নাম লিখিয়া তাহা পকেটে রাখিয়া দিল। খানিক পরে খাবার লইয়া ষোড়শী প্রবেশ করিল। শালপাতায় জলে-ভিজানো সরু ধানের চিঁড়া, শালপাতার ঠোঙায় দধি, আর একটা পাতায় কিছু ফল-মূল ও চিনি, এবং ঘটিতে করিয়া জল আনিয়া তাহার সম্মুখে রাখিয়া দিয়া একটুখানি মলিন হাসিয়া বলিল, সেদিন ধনীর দেওয়া ঠাকুরের প্রসাদ ছিল, আর আজ গরীবের ঘরের চিঁড়ে দই আর একটু চিনি। এ কি আপনার মুখে রুচবে? {{ফাঁক}}জীবানন্দ হাত-মুখ ধুইয়া খাইতে বসিয়া বলিল, তুমি খেতে দিলে মুখের জন্যে ভাবিনে অলকা, কিন্তু পেটে সহ্য হলে হয়। আমার আবার সেই কলিকের ব্যথায়— {{ফাঁক}}কথা শেষ না হইতেই ষোড়শী চক্ষের পলকে পাতাটা টানিয়া লইল। ব্যাকুল ম্লানমুখে কপালে করাঘাত করিয়া কহিল, আমার পোড়াকপাল, তাই ভুলেছিলাম! কিন্তু এ ত আপনাকে আমি প্রাণান্তে খেতে দিতে পারব না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ নিজের কথায় লজ্জাবোধ করিয়া কহিল, বেশি না খেলে বোধ হয় ক্ষতি হবে না। {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, বোধ হয়! বোধ হয় নিয়ে আপনাদের চলে, কিন্তু আমাদের চলে না। {{nop}}<noinclude>{{c|১৯৪}}</noinclude> b3n3d9o6znuo2aheehrpme04t7sm1xe পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০৯ 104 883201 1990293 2026-07-19T14:34:03Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990293 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}কিন্তু এর জন্যে ত তোমার দুঃখ হবে? {{ফাঁক}}ষোড়শী চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া কহিল, দুঃখ হবে কি গো? যাবার সময় তোমার মুখের খাবার কেড়ে নিয়েচি, কিচ্ছু দিতে পারিনি—আমি ত কেঁদেই মরে যাবো। একটু মৌন থাকিয়া হঠাৎ ভারি একটা অনুনয়ের স্বরে বলিয়া উঠিল, ওবেলা নানা ঝঞ্ঝাটে রাঁধতে পারিনি, এবেলা সন্ধ্যার পর রেঁধেচি। ভাত, মাছের ঝোল— {{ফাঁক}}মাছের ঝোল কি রকম? {{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিয়া কহিল, কেন, আমি বিধবা না কি? আমি ত সব খাই। {{ফাঁক}}এতক্ষণ পরে জীবানন্দ হাসিল, বলিল, তা হলে সেগুলি সব নিজের জন্যে রেখে আমাকে দয়া করে ফলার খাওয়াতে গেলে কেন? {{ফাঁক}}ষোড়শী তৎক্ষণাৎ কহিল, আমার দোষ হয়েচে, অপরাধ হয়েচে—একশবার ঘাট স্বীকার করচি। যদি বলেন ত আপনার কাছে আমি দশ হাত মেপে নাকে খৎ দিতে পারি। এই বলিয়া সে ভিজা-চিঁড়ার পাতাটা তুলিয়া লইয়া ভাত ও মাছের ঝোল আনিতে হাসিমুখে উঠিয়া গেল। {{ফাঁক}}ষোড়শীর প্রশ্নের উত্তরে জীবানন্দ যখন বলিয়াছিল তাহার ভাবনার আদি অন্ত নাই, তখন সে মিথ্যা বলে নাই, বোধ করি বাড়াইয়াও বলে নাই। এ জীবনে নিজের জীবনকে সে কখনও আলোচনার বিষয় করে নাই, এবং কোন দিন কোন প্রয়োজনই তাহার মুহূর্ত্তের প্রয়োজনকে অতিক্রম করিয়া যাইতে পায় নাই। তাই তাহার ক্ষণকালের রুমালের প্রয়োজন ঢাকাই চাদরের ঢের বড়; তাই আস্তরণের অভাবে শয্যায় তাহার বহুমূল্য শাল পাতা, এইজন্যই সে হাতের কাছে এ্যাশ-ট্রে না পাইলে সোনার ঘড়ির ডালার উপর জ্বলন্ত চুরুট রাখিতে লেশমাত্র ইতস্ততঃ করে না। ভবিষ্যৎ তাহার কাছে সত্যবস্তু নয়, যে আসে নাই, সেই অনাগতের প্রতি সে ভ্রূক্ষেপ মাত্র করে না। নারীর যে দেহটা সে চোখে দেখিতে পায়, তাহারই প্রতি তাহার আসক্তি, কিন্তু চোখ মেলিয়া যাহাকে দেখা যায় না, সেই তাহার দেহের অতিরিক্ত যে নারীত্ব—তাহার প্রতি তাহার কোন লোভই ছিল না। কিন্তু গ্রহবশে যৌবনের একান্তে আসিয়া আজ যে গহনে সে পথ ভুলিয়াছে, ইহার কোন সন্ধানই সে জানিত না। কিসের জন্য যে অলকার আশে পাশে মন তাহার অহর্নিশি ঘুরিয়া মরিতেছে, নানাবিধ কৃচ্ছ্রসাধনায় যৌবন যাহার ক্ষুব্ধ নিপীড়িত, রূপ যাহার কঠিন ও কান্তিহীন তাহাকে অনুক্ষণ কামনা করিয়া সংসার<noinclude>{{c|১৯৫}}</noinclude> iwrqnhzw5ufq0820llx3d3x6cnxj8rk পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১০ 104 883202 1990294 2026-07-19T15:51:48Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990294 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>যখন তাহার এমন বিস্বাদ হইয়া গেল, তখন কারণাতীত এই মোহের কৈফিয়ৎ সে নিজের কাছেই খুঁজিয়া পাইত না। কোন্ অবিদ্যমানে এই রমণী যে তাহার কোন অপূর্ণতা সম্পূর্ণ করিয়া দিবে, কি তাহার প্রয়োজন, এই অপরিচিত চিন্তার সে কূল পাইত না। {{ফাঁক}}ভাত খাইতে বসিয়া এক সময় সে বিমনা হইয়া পড়িয়াছিল। সম্মুখে খোলা দোরের দিকে পিঠ করিয়া ষোড়শী বসিয়াছিল, এই একটা সাধারণ প্রশ্নের ঠিকমত জবাব না পাইয়া সে বলিয়া উঠিল, আপনি কি ভাবচেন, আমার উত্তর দিচ্চেন না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ মুখ তুলিয়া কহিল, কিসের? {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, এইবারে ত আপনার চণ্ডীগড় ছেড়ে বাড়ি যাওয়া উচিত? আর ত এখানে আপনার কাজ নেই। {{ফাঁক}}জীবানন্দ বোধ হয় অন্যমনস্কতার জন্যই বুঝিতে পারিল না, কহিল, কাজ নেই? {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, কই, আমি ত আর দেখতে পাইনে। এ গ্রাম আপনার, একে নিষ্পাপ করবার জন্যই আপনি এসেছিলেন। আমার মত অসতীকে নির্ব্বাসিত করার পরে আর এখানে আপনার কি আবশ্যক আছে আমি ত দেখতে পাইনে। {{ফাঁক}}কিন্তু তুমি ত অসতী নও। বলিয়া জীবানন্দ চোখ মেলিয়া তাহার প্রতি চাহিয়া রহিল। ক্ষণকাল মাত্র তাহাদের চোখে চোখে মিলিল, তাহার পরে ষোড়শী মুখ ফিরাইয়া লইল। কিন্তু এতক্ষণ এত কথাবার্ত্তার মধ্যে যে বস্তুটা সে লক্ষ্য করে নাই, এই ক্ষণিকের দৃষ্টিতে এই প্রথম দেখিতে পাইয়া সে যথার্থই বিস্মিত হইল। জীবানন্দের চোখে বুদ্ধির সেই অতিতীক্ষ্ণতা ছিল না, মুখের কথার মত চাহনি তাহার স্পষ্ট, সরল এবং স্থূল। তাহার বক্রোক্তি ও অভিমান যে এই লোকটির কাছে নিষ্ফল হইয়াছে তাহা সে প্রত্যক্ষ দেখিতে পাইল। একটু চুপ করিয়া কহিল, কিন্তু এ কথা ত এতদিন আমার চেয়ে আপনিই বেশি জানতেন। {{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, কিন্তু নির্ম্মল তোমাকে ভালবাসে এ ত সত্য। {{ফাঁক}}প্রত্যুত্তরে ষোড়শী তাহার আরক্ত মুখ অপরের দৃষ্টির আড়ালে রাখিয়া কহিল, সে কি আমাদের দোষ? আর কেউ যদি ভালবাসার কদর্য্যতায় জীবন আমার দুর্ভর করে তোলে সেও কি আমার অপরাধ? কিন্তু কথাটা বলিয়া ফেলিয়াই সে তাহার মুখ দেখিয়া অনুতাপবিদ্ধ হইয়া তাড়াতাড়ি কহিল, কিন্তু আমার দোষের জন্যে ত আর এরা দায়ী নয়! এই বলিয়া সে সম্মুখের অন্ন-পাত্রটা দেখাইয়া বলিল, খাওয়া বন্ধ হ’ল কেন? সবই যে পড়ে রইল? {{nop}}<noinclude>{{c|১৯৬}}</noinclude> az488kqxscqtj139i7emamcu8bu8jqf পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১১ 104 883203 1990295 2026-07-19T15:55:02Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990295 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}না, এই ত খাচ্চি, বলিয়া সে আহারে মন দিল। {{ফাঁক}}গাড়োয়ান হাঁকিয়া কহিল, মা, আর কি বেশি দেরি হবে? {{ফাঁক}}না বাবা, আর বেশি দেরি হবে না। গলা খাটো করিয়া কহিল, চণ্ডীগড় থেকে আপনাকে কিন্তু যেতেই হবে, তা বলে দিচ্চি। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, কোথায় যাবো, বল? {{ফাঁক}}কেন, আপনার নিজের বাড়িতে, বীজগাঁয়ে। {{ফাঁক}}বেশ, তাই যাবো। {{ফাঁক}}কিন্তু কালকেই যেতে হবে। {{ফাঁক}}জীবানন্দ মুখ তুলিয়া বলিল, কালই? কিন্তু কাজ আছে যে। মাঠের জল-নিকেসের একটা সাঁকো করা দরকার। এদের জমিগুলো সব ফিরিয়ে দিতে হবে, সে ত তোমারই হুকুম। তা ছাড়া মন্দিরের একটা ভালো বিলি-ব্যবস্থা হওয়া চাই—অতিথি-অভ্যাগত যারা আসে তাদের ওপর না অত্যাচার হয়—এ-সব না করেই কি তুমি চলে যেতে বলচ? {{ফাঁক}}ষোড়শী মুস্কিলে পড়িল। কিন্তু হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, এ-সব সাধু সঙ্কল্প কি কাল সকাল পর্য্যন্ত থাকবে? {{ফাঁক}}জীবানন্দ এই পরিহাসে যোগ দিল না, চুপ করিয়া রহিল। {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, কিন্তু আবশ্যকের চেয়ে একটা দিনও বেশি থাকবেন না আমাকে কথা দিন। এবং সে কটা দিন আগেকার মত সাবধানে থাকবেন বলুন? {{ফাঁক}}এ কথারও সে জবাব দিল না, নিঃশব্দে বসিয়া আহার করিতে লাগিল। ষোড়শী জিদ করিল না, কিন্তু কথার চেয়ে এই নীরবতা জীবানন্দের ভিতরের পরিবর্ত্তন তাহার কাছে অধিকতর সুব্যক্ত করিল। {{ফাঁক}}খাওয়া শেষ হইলে বাহিরে আসিয়া ষোড়শী তাহার হাতে জল ঢালিয়া দিল; একমাত্র গামছাটা পুঁটলির কাজে নিযুক্ত হইয়া আগে হইতেই গাড়ির মধ্যে স্থান লাভ করিয়াছিল, নিজের অঞ্চলটা সে তাহার হাতে তুলিয়া দিয়া শুধু কহিল, এই নিন। {{ফাঁক}}জীবানন্দ হাত-মুখ মুছিয়া হঠাৎ বলিল, এ কিন্তু তুমি আর কাউকে দিতে পারতে না অলকা। {{ফাঁক}}ষোড়শী আঁচলটা তাহার টানিয়া লইয়া আনত-মুখে শুধু কহিল, ঘরে এসে আর একটু বসুন, গুছিয়ে নিয়ে বার হয়ে পড়তে আর বেশি দেরি হবে না। আমাকে গাড়ীতে তুলে দিয়ে তবে আপনি যেতে পাবেন। {{nop}}<noinclude>{{c|১৯৭}}</noinclude> kaoexcn1knlzc30jd341yj4qb5bvk7n পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১২ 104 883204 1990296 2026-07-19T15:57:52Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990296 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, অর্থাৎ তোমাকে নির্ব্বাসিত করার কাজটা নিঃশেষ করেই যেতে পারি। ভালো, আমি তাই করে যাবো, কিন্তু তোমারও একটা কাজ রইল। আমার কৃত-কর্ম্মের ফল আমি ভোগ করব না ত কে করবে—সে অভিযোগ আমি একটিবারও কারো কাছে করিনি—কিন্তু যাবার সময় তোমার কাছে শুধু এইটুকু মাত্র দাবি করব, আমি তার বেশি আর দুঃখ না পাই। এই বলিয়া সে ঘরে আসিয়া পকেট হইতে চিঠি বাহির করিয়া ষোড়শীর হাতে দিয়া কহিল, সারাদিন তোমার খাওয়া হয়নি, এইবার কিছু মুখে দাও আমি ততক্ষণ অন্ধকারে খানিক ঘুরে আসি। ঠিক সময়ে উপস্থিত হ’ব। এই বলিয়া সে বাহির হইবার উপক্রম করিতেই চক্ষের পলকে ষোড়শী দ্বার রোধ করিয়া দাঁড়াইল। এত কথার মধ্যেও যে এই পরদুঃখ-বিমুখ আত্ম-সর্ব্বস্ব লোকটি তাহার খাইবার অতি তুচ্ছ ব্যাপারটি মনে রাখিয়াছে এই কথা মনে করিয়া তাহার সূচ ফুটিল, হাতের চিঠিখানির প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, এ ত আমাকেই লেখা, আপনার সুমুখেই কি এ পত্র আমি পড়তে পারিনে? জীবানন্দ কহিল, পারো, কিন্তু অনাবশ্যক। এর জবাব দেবার ত প্রয়োজন হবে না। আমাকে দুঃখ থেকে বাঁচাবার জন্যে তার ঢের বেশি দুঃখ তুমি নিজে নিয়েচ। নইলে এমন করে হয়ত তোমাকে যেতেও হ’ত না। আমার শেষ অনুরোধ এতেই লেখা আছে, তা যদি রাখতে পারো তার চেয়ে আনন্দ আমার নেই। {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, তা হলে পড়ি? {{ফাঁক}}জীবানন্দ চুপ করিয়া রহিল। ষোড়শী কাগজখানি হাতের পর মেলিয়া ধরিয়া হেঁট হইয়া সেই ছত্র-কয়েকের লিখনটুকু এক নিশ্বাসে পড়িয়া ফেলিয়া নির্ব্বাক্ ও নিশ্চল হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল। বাহিরে তাহার নাম লিখা থাকিলেও, বস্তুত এ পত্র তাহার নয়। ভিতরে ছিল— {{বাম|ফকিরসাহেব,}} {{ফাঁক}}ষোড়শীর আসল নাম অলকা। সে আমার স্ত্রী। আপনার কুষ্ঠাশ্রমের কল্যাণ কামনা করি, কিন্তু তাহাকে দিয়া কোন ছোট কাজ করাইবেন না। আশ্রম যেখানে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন সে আমার নয়, কিন্তু তাহার সংলগ্ন শৈবাল-দীঘি আমার। এই গ্রামের মুনাফা পাঁচ-ছয় হাজার টাকা। আপনাকে জানি। কিন্তু আপনার অবর্ত্তমানে পাছে কেহ তাহাকে নিরুপায় মনে করিয়া অমর্য্যাদা করে, এই ভয়ে আশ্রমের জন্যই গ্রামখানি তাহাকে দিলাম। আপনি নিজে একদিন আইন-ব্যবসায়ী<noinclude>{{c|১৯৮}}</noinclude> 4oh7rd33xv1u9l334en0q2dm6qel1rh পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১৩ 104 883205 1990297 2026-07-19T16:00:31Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990297 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>ছিলেন, এই দান পাকা করিয়া লইতে যাহা কিছু প্রয়োজন, করিবেন, সে খরচ আমি দিব। কাগজ-পত্র প্রস্তুত করিয়া পাঠাইলে আমি সহি করিয়া রেজিষ্টারি করিয়া দিব। {{ডান|শ্রীজীবানন্দ চৌধুরী}} {{ফাঁক}}ষোড়শী বাহিরে গিয়া তাড়াতাড়ি চোখ মুছিয়া ফেলিয়া ফিরিয়া আসিয়া বলিল, তুমি এত খবর কোথায় পেলে? আমি যে কুষ্ঠাশ্রমের দাসী হয়ে যাচ্চি এই বা তুমি জানলে কি করে? {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, কুষ্ঠাশ্রমের কথা অনেকেই জানে। আর তোমার কথা? আজই দেবতার স্থানে দাঁড়িয়ে যারা শপথ করে গেল, নিজের কানে শুনেও অন্ধকারে আমি যাদের চিনতে পারিনি, তুমি তাদের চিনলে কি করে? {{ফাঁক}}ষোড়শী ইহার ঠিক জবাবটা দিতে না পারিয়া হঠাৎ বলিয়া ফেলিল, তোমার কি সংসারে আর মন নেই? সমস্ত বিলিয়ে নষ্ট করে দিয়ে কি তুমি সন্ন্যাসী হয়ে বেরিয়ে যেতে চাও না কি? {{ফাঁক}}প্রশ্নটা দুই জনের কানেই অদ্ভুত ঠেকিল। জীবানন্দ প্রথমে জবাব দিতে পারিল না, কিন্তু দেখিতে দেখিতে সে কি-রকম উত্তেজিত হইয়া উঠিল। বলিল, আমি সন্ন্যাসী? মিছে কথা। সংসারে আর আমি কিছুই নষ্ট করতে পারব না। এখানে আমি বাঁচতে চাই—মানুষের মাঝখানে মানুষের মত বাঁচতে চাই। বাড়ি চাই, ঘর চাই, স্ত্রী চাই, ছেলেপুলে চাই—আর মরণ যেদিন আটকাতে পারব না, সেদিন তাদের চোখের উপর দিয়েই চলে যেতে চাই। আমার অনেক গেছে, কত যে গেছে শুনলে তুমি চমকে যাবে—কিন্তু আর আমি লোকসান করতে পারব না। {{ফাঁক}}ষোড়শী সভয়ে আস্তে আস্তে বলিল, কিন্তু আমি ত সন্ন্যাসিনী। পৃথিবীর স্ত্রীলোকের অভাব নেই—কিন্তু এর মধ্যে আমাকে তুমি জড়াতে চাইচ কেন? {{ফাঁক}}জীবানন্দ চুপ করিয়া রহিল। পৃথিবীতে স্ত্রীলোকের অভাব আছে কি নাই, এ কথা তাহাকে বলিবার স্পর্দ্ধা যাহার হইল তাহাকে সে আর কি বলিবে? {{ফাঁক}}গাড়োয়ান প্রাঙ্গণ হইতে তাড়া দিয়া বলিল, মা, রাত পোহাতে যে আর দেরি নেই! {{ফাঁক}}চল বাবা, যাচ্চি। বলিয়া ষোড়শী শেষ তেলটুকু প্রদীপের মধ্যে ঢালিয়া দিয়া ক্ষীণ দীপশিখা সমুজ্জ্বল করিয়া দিয়া বাহির হইয়া আসিল। ঘরে তালা বন্ধ করিবার আবশ্যক ছিল না, জীর্ণদ্বারে শুধু শিকলটি তুলিয়া দিয়া, গলায় অঞ্চল দিয়া<noinclude>{{c|১৯৯}}</noinclude> 4h6239t8jtlux42il4jmi33tjq08psq পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১৪ 104 883206 1990298 2026-07-19T16:02:56Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990298 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>জীবানন্দের পদপ্রান্তে ভূমিষ্ঠ প্রণাম করিয়া তাহার পদধূলি লইয়া কহিল, আমি চললাম। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, খাবার সময়টুকুও হ’ল না। {{ফাঁক}}না। প্রজারা জানে আমি ভোরবেলায় যাত্রা করব, তারা এসে পড়বার পূর্ব্বেই আমার বিদায় হওয়া চাই। একটু হাসিয়া কহিল, এক-আধ দিন না খেলে আমাদের মরণ হয় না। {{ফাঁক}}সঙ্গে সঙ্গে আসিয়া জীবানন্দ তাহাকে গাড়িতে তুলিয়া দিল। গাড়ি ছাড়িয়া দিলে তাহার কানের কাছে মুখ আনিয়া কহিল, তোমার মা একদিন তোমাকে আমার হাতে দিয়েছিলেন, তবু তোমাকে পেলাম না, কিন্তু সেদিন আমাকে যদি কেউ তোমার হাতে সঁপে দিতেন, আজ বোধ হয় তুমি অন্ধকারে আমাকে এমন করে ফেলে যেতে পারতে না। {{ফাঁক}}ইহার জবাব ষোড়শী খুঁজিয়া পাইল না। শুধু কথাগুলোর একটা অব্যক্ত, অপরিসীম ব্যাকুলধ্বনি তাহার দুই কান আচ্ছন্ন করিয়া রহিল। গাড়ি মোড় ফিরিবার পূর্ব্বেও সে মুখ বাড়াইয়া দেখিল শেষ-নিশার প্রগাঢ় অন্ধকারে ঠিক সেইখানেই সে তেমনি স্তব্ধ হইয়া দাঁড়াইয়া আছে। {{ফাঁক}}রাত্রি প্রভাত হইতে তখন খুব বেশি বিলম্ব ছিল না, জীবানন্দ মাঠের পথ ধরিয়া তাহার গৃহে ফিরিল। কিছুক্ষণ হইতে একটা অস্ফুট কোলাহল তাহার কানে যাইতেছিল, কিছুদূর অগ্রসর হইতেই সুমুখের আকাশে ঊষার আরক্ত আভার মত রাঙা আলো তাহার চোখে পড়িল। এবং চলার সঙ্গে সঙ্গেই এই শব্দ ও আলোক উত্তরোত্তর বাড়িয়া চলিতে লাগিল। অবশেষে কাছাকাছি আসিয়া দেখিতে পাইল, বহুলোকের ব্যর্থ চীৎকার ও ছুটাছুটির মধ্যে বীজগ্রামের জমিদার-গোষ্ঠীর প্রমোদভবন, তাহার মাতামহের অত্যন্ত সাধের শান্তিকুঞ্জ অগ্নিদাহে ভস্মীভূত হইতে আর অধিক বিলম্ব নাই। {{nop}}<noinclude>{{c|২০০}}</noinclude> conjveydlu1l7b8f0fn1lzq2n5aokmy পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১৫ 104 883207 1990299 2026-07-19T16:06:29Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990299 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|'''২৬'''}} {{ফাঁক}}সকাল হইতে না হইতে চণ্ডীগড়ের সমস্ত ইতর-ভদ্র হাহাকার করিয়া আসিয়া পড়িল। শিরোমণি আসিলেন, রায় মহাশয় আসিলেন, তারাদাস আসিলেন, এবং আরও অনেক ভদ্র ব্যক্তি—পোড়া শান্তিকুঞ্জের সব পুড়িল না, দৈবাৎ কিছু রক্ষা পাইল, এবং যাহা পুড়িল তাহার দাম কত, এবং যাহা বাঁচিল তাহা সামান্য এবং অকিঞ্চিৎকর কি না, ইত্যাদি তথ্য সবিস্তারে ও নিশ্চয় করিয়া আহরণ করিতে ছুটিয়া আসিলেন। এবং ইহা কেমন করিয়া হইল ও কে করিল? সকলের মাঝখানে এককড়ি নন্দী তুমুল কাণ্ড করিতে লাগিল। সর্ব্বনাশ যেন তাহারই হইয়া গেছে। সে সর্ব্বসমক্ষে ডাক ছাড়িয়া প্রকাশ করিল যে, এ কাজ সাগর সর্দ্দারের। সে ও তাহার জন-দুই সঙ্গীকে কেহ কেহ কাল অনেক রাত্রি পর্য্যন্ত বাহিরে ঘুরিয়া বেড়াইতে দেখিয়াছে। থানায় এত্তেলা পাঠান হইয়াছে, পুলিশ আসিল বলিয়া। সমস্ত ভূমিজগোষ্ঠীকে যদি না সে এই ব্যাপারে আন্দামানে পাঠাইতে পারে ত তাহার নাম এককড়ি নন্দী নয়—বৃথাই সে এতকাল হুজুরের সরকারে গোলামী করিয়া মরিল! {{ফাঁক}}নির্ব্বাপিত-প্রায় অগ্ন্যুত্তাপ হইতে একটু দূরে একটা বটবৃক্ষছায়াতলে সভা বসিয়াছিল; জীবানন্দ উপস্থিত ছিলেন, তাঁহার মুখের উপর শ্রান্তির অবসন্নতা ছাড়া উদ্বেগ বা উত্তেজনা কিছুই ছিল না, একটু হাসিয়া কহিলেন, তা হলে তোমাকেও ত এদের সঙ্গে যেতে হয় এককড়ি। জমিদারের গোমস্তাগিরি কাজে তুমি যাদের ঘরে আগুন দিয়েচ, সে খবর ত আমি জানি। আগুন লাগাতে কেউ তাদের চোখে দেখেনি, মিথ্যে সন্দেহের উপর পুলিশ যদি তাদের উপর অত্যাচার করে, সত্যি কাজের জন্য তোমাকেও তার ভাগ নিতে হবে। {{ফাঁক}}তাঁহার কথা শুনিয়া সকলেই অবাক্ হইল। এককড়ি প্রথমে হতবুদ্ধি হইয়া রহিল, পরে ইহাকে পরিহাসের আকৃতি দিতে শুষ্ক হাস্যের সহিত বলিল, হুজুর মা-বাপ। আমাদের সাত পুরুষ হ’ল হুজুরের গোলাম। হুজুরের আদেশে শুধু জেল কেন, ফাঁসি যাওয়াও আমাদের অহঙ্কার। {{ফাঁক}}জীবানন্দ বিরক্ত হইয়া কহিলেন, আমাকে না জানিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া তোমার উচিত হয়নি। যা পুড়েচে সে আর ফিরবে না, কিন্তু এর উপর যদি পুলিশের সঙ্গে জুটে নতুন হাঙ্গামা বাধিয়ে দুপয়সা উপরি রোজগারের চেষ্টা কর, তা হলে লোকসানের মাত্রা ঢের বেড়ে যাবে। {{nop}}<noinclude>{{c|২০১}}</noinclude> l5j2rq9i37sgzxkk74shha2vu6ty2sj পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১৬ 104 883208 1990300 2026-07-19T16:09:10Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990300 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}অনেকেই মুখ টিপিয়া হাসিল। এককড়ি জবাব দিতে পারিল না—ক্রোধে মুখ কালো করিয়া শুধু মনে মনে তাহার বংশলোপ কামনা করিল। নদীর দিকের চাকরদের ঘরগুলা বাঁচিয়াছিল, তাহারই দ্বিতলের গোটা-দুই ঘরে উপস্থিতমত বাস করিবার সঙ্কল্প জানাইয়া জীবানন্দ অভ্যাগত হিতাকাঙ্ক্ষীর দলটিকে বিদায় দিয়া কেবল তারাদাস ঠাকুরকেই কাল সকালে একবার দেখা করিতে আদেশ করিলেন। {{ফাঁক}}তারাদাস কহিল, কাল রাত্রে ষোড়শী চলে গেছে— {{ফাঁক}}আমি খবর পেয়েচি। {{ফাঁক}}গোটা-কয়েক থালা-বাটি পাওয়া যাচ্চে না— {{ফাঁক}}তা হলে সেগুলো আবার কিনে নিতে হবে। {{ফাঁক}}এই অগ্নিদাহের সম্বন্ধে অচিরকাল মধ্যে মুখে মুখে নানা কথা প্রচারিত হইয়া গেল। জমিদার সে রাত্রে গৃহে ছিলেন না, ইহা লইয়া অধিক আলোচনা অনেকের কাছেই নিষ্প্রয়োজন মনে হইল, কিন্তু ষোড়শী ভৈরবীর যাওয়ার সহিত যে ইহার ঘনিষ্ঠ যোগ আছে, এবং এ কাজ যাহারা করিয়াছে জানিয়া বুঝিয়াও যে জমিদার তাহাকে অব্যাহতি দিলেন এই কথা লইয়া অনুমান ও সংশয়-প্রকাশের অবধি রহিল না। রায় মহাশয় বিষয়ী লোক, এককড়ির ফাঁদের মধ্যে জীবানন্দ পা দিল না দেখিয়া ইহার বিষয়-বুদ্ধির প্রতি তাঁহার শ্রদ্ধা শত-গুণে বাড়িল, কিন্তু নিজের জন্য তিনি অতিশয় উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিলেন। ষোড়শীর তাড়ানোর কাজে তিনিও একজন পাণ্ডা, এবং জমিদারের গৃহ যাহারা ভস্মীভূত করিয়া দিল তাহারা আশে-পাশেই কোথাও অবস্থিতি করিতেছে, এই কথা স্মরণ করিয়া বিছানার মধ্যে তাঁহার সর্ব্বশরীর ঘর্ম্মাপ্লুত হইয়া উঠিল। পাহারার জন্য চারিদিকে লোক মোতায়েন করিয়াও তিনি সারারাত্রি বারান্দায় পায়চারি করিয়া বেড়াইতে লাগিলেন। আর শুধু কি কেবল বাড়ি? তাঁহার অনেক ধানের গোলা, অনেক খড়ের মাড়, শস্য-সঞ্চয়ের বিপুল ব্যবস্থা—এই সকল রক্ষা করিতে তাঁহাকে অনুক্ষণ সতর্ক থাকিতে হইবে। ভয়ে ভয়ে দিন কাটিতে লাগিল—তবুও দিনগুলো যা হোক করিয়া কাটিয়াছে, কিন্তু ইতিমধ্যে এমন একটা কাণ্ড ঘটিল যাহাতে ভাবিয়া পার পাইবার আর পথ রহিল না। আদালতের পরওয়ানা আসিয়া পৌছিল, ভূমিজ ও অন্যান্য প্রজারা একযোগে জমিদার ও তাঁহার নামে নালিশ রুজু করিয়াছে। যে জমিটা তাঁহার একত্রে আকের চাষ ও গুড়ের কারখানা করিতে মাদ্রাজী সাহেবকে বিক্রি করিয়াছিলেন, তাহাই বাতিল ও নাকচ করিবার আবেদন। খবর আসিয়াছে, কোর্টের প্রস্তাবে ও ইঙ্গিতে কলেক্টরসাহেব স্বয়ং সরজমিনে আসিয়া তদন্ত করিয়া যাইবেন। অনেক টাকার ব্যাপার, অতএব এককড়ির সহযোগে অনেক<noinclude>{{c|২০২}}</noinclude> cxlyq8rtp61kisiroq8fvggaljhm2yp পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১৭ 104 883209 1990301 2026-07-19T16:11:56Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990301 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>ঢেরা-সই করিয়াছেন, অনেক বন্ধকী তমসুক ও কর্জ্জর খত প্রস্তুত করিয়াছেন—একের বিষয় অপরকে বিক্রয় করিবার যত প্রকার গলি-খুঁজি আছে অতিক্রম করিয়াছেন—সেই-সব মনশ্চক্ষে উপলব্ধি করিয়া বহুক্ষণ পর্য্যন্ত তিনি স্থির হইয়া বসিয়া রহিলেন। কিন্তু ইহার চেয়েও একটা বড় কথা এই যে, এই সকল হীন, মূর্খ, মৃতকল্প চাষীর দল এত বড় সাহস পাইল কি করিয়া যে গ্রামের মধ্যে বাস করিয়াও এই দুর্দ্দান্ত জীবানন্দ চৌধুরী ও জনার্দ্দন রায়ের নামে নালিশ করিয়া বসিল! জীবনের অধিকাংশ কাল যাহারা পেট ভরিয়া খাইতে পায় না, শীতের রাত্রে যাহারা বসিয়া কাটায়, মারীর দিনে যাহারা কুকুর-বেড়ালের মত মরে, আবাদের দিনে এক মুষ্টি বীজের জন্য যাহারা ওই দরজার বাহিরে পড়িয়া হত্যা দেয়, তাহারা আদালতে দাঁড়াইবার টাকা পাইল কাহার কাছে? এ দুর্ম্মতি তাহাদের কে দিল? সে কি সোজা কথাটা ইহাদের বলিয়া দিতে পারিল না যে, কেবল জেলা আদালতেই নয়, হাইকোর্ট বলিয়াও একটা ব্যাপারও আছে, সেখানে জীবানন্দ-জনার্দ্দনকে ডিঙাইয়া সাগর সর্দ্দার কখনও জয়ী হইতে পারে না! ইংরাজের বিচারালয় ধনীর জন্য তৈরি, দরিদ্রের জন্য নয়—তাঁহার অর্থ আছে, সামর্থ্য আছে, ব্যারিষ্টার জামাই আছে, বিশ্বস্ত উকিল-মোক্তার আছে এবং আরও কত কি সুবিধা সুযোগ আছে—এই-সকল আপনাকে আপনি বলিয়া জনাদন শক্তি ও সাহস সঞ্চয় করিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন, কিন্তু সুবিধা বিশেষ হইল না। কারণ এ ত শুধু টাকা-কড়ি, জমি-জমা, কেনা-বেচাই নয়, এতদুপলক্ষে যে-সকল অসামান্য কার্য্যগুলা সম্পন্ন করাইয়াছেন তাহার ফলস্বরূপ ফৌজদারী দণ্ডবিধির কেতাবের পাতায় পাতায় যে সকল কঠিন বাক্য লিপিবদ্ধ করা আছে, তাহাদের নিষ্ঠুর চেহারা আড়ালে দাঁড়াইয়া তাঁহাকে অত্যন্ত ভয় দেখাইতে লাগিল। {{ফাঁক}}এ কথা রাষ্ট্র হইতে যে অবশিষ্ট নাই, সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতায় রায় মহাশয় তাহা জানিতেন, তাই দিনের-বেলাটা কোনমতে কাটাইয়া রাত্রের অন্ধকারে এককড়িকে ডাকিয়া পাঠাইলেন এবং জমিদার-সরকার হইতে ইহার কিরূপ বিহিত হইতেছে জিজ্ঞাসা করিলেন। {{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, হুজুরের কাছে ত এখনও পেশ করা হয়নি। {{ফাঁক}}জনার্দ্দন রাগ করিয়া কহিলেন, করনি ত করগে? বুড়ো-বয়সে কি শেষে ফাটক খাটবো না কি? {{ফাঁক}}তাঁহার শঙ্কা ও ব্যাকুলতায় এককড়ি হাসিয়া বলিল, ভয় কি রায়মশায়! ফাটক খাটতে হয় ত আমিই খাটবো, আপনাদের যেতে দেব না। কিন্তু গরীবের প্রতি দৃষ্টি রাখবেন, ভুলবেন না। {{nop}}<noinclude>{{c|২০৩}}</noinclude> pyx6qzbrogthvkkt2pkob3mal4d7hx3 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১৮ 104 883210 1990302 2026-07-19T16:15:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990302 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}জনার্দ্দন খুসি হইয়া কহিলেন, সে ত জানি এককড়ি, তুমি থাকতে ভয় নেই, তুমি যা বোঝো উকিলের বাবাও তা বোঝে না, কিন্তু জান ত সব? কে সাহেব নাকি নিজে তদারকে আসচে—ব্যাটা মহা বদমাইস। কিন্তু ভেতরের খবর কিছু জানো? কে ব্যাটাদের বুদ্ধি দিলে বল ত? টাকা কে যোগালে? {{ফাঁক}}এককড়ি অসঙ্কোচে ষোড়শীর নাম করিয়া বলিল, টাকা যোগালেন মা চণ্ডী, আর কে? তাতেই ত তাড়াতাড়ি আড়ালে সরে গেল। {{ফাঁক}}ছুঁড়ি আছে কোথায় বল ত? {{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, কাছাকাছি কোথাও লুকিয়েচে—জানতে একদিন পারবই। {{ফাঁক}}জনার্দ্দন ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, খবরটা নিয়ো। হাঙ্গামাটা কেটে যাক, তার পরে। {{ফাঁক}}এককড়ি নন্দী সেদিন এইখানে আহারাদি করিয়া অনেক রাত্রে বাড়ি গেল। অভিমান করিয়া বলিল, সেদিন সাগর সর্দ্দরের প্রসঙ্গে আপনারা সবাই তাঁর মন যুগিয়ে মুখ টিপে হাসলেন, কিন্তু পুলিশের কাছে সেদিন খবরটি দিয়ে রাখলে আজ এ বিপদ আপনাদের ঘটতো না। {{ফাঁক}}জনার্দ্দন সলজ্জে ত্রুটি স্বীকার করিলে, এককড়ি তখন প্রভুর সম্বন্ধে বিশেষ একটি সংবাদ তাঁহার গোচর করিয়া কহিল, মদ খেয়ে বরঞ্চ ছিল ভাল, এখন কথা বলাই ভার! কলিক্‌ লেগেই আছে—এতকালের অভ্যাস, হয়ত আর বেশি দিন নয়। {{ফাঁক}}জনার্দ্দন বিশ্বাস করিতে পারিলেন না, কহিলেন, সত্যি-সত্যিই খায় না নাকি? {{ফাঁক}}এককড়ি মাথা নাড়িয়া বলিল, এটা সত্যি যে খায় না। সূর্য্যদেব পশ্চিমে ওঠাও সহজ—কিন্তু কি জানেন রায়মশায়, ভয়ানক একগুঁয়ে লোক—সেদিন সারাদিনের যন্ত্রণায় রাত্রে হাত-পা প্রায় ঠাণ্ডা হয়ে এলো, ডাক্তারবাবু ভয় পেয়ে বললেন, আমার কথা রেখে অন্ততঃ এক চামচে খান—হার্ট ফেল্ করতে পারে—বাবুর কিন্তু ভয়ই হ’ল না। একটু হেসে বললেন, এতকালের মধ্যে ওবেচারা কখ্‌খনো ফেল্ করেনি, সমানে চলেচে, আজ যদি একদিন করে ফেলে ত আর দোষ দেব না, কিন্তু আমি জীবনভোরই ফেল্ করে আসচি, আজ অন্ততঃ একটা দিনও আমাকে পাশ করতে দিন। কেউ খাওয়াতে পারলে না। {{ফাঁক}}বল কি! {{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, খেয়াল চেপেচে বাড়ি মেরামত থাক্, ওই টাকায় মাঠের মাঝখানে এক সাঁকো, আর রূপসী বিলের উত্তর ধারে একটা বাঁধ তুলতে হবে। ইন্‌জিনিয়রবাবু এসেছিলেন, হিসেব করে বললেন, ও টাকায় দশখানা বাড়ি<noinclude>{{c|২০৪}}</noinclude> 9j5kedmdi86cb9yd4fr46o21moh2wnv পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২১৯ 104 883211 1990303 2026-07-19T16:18:36Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990303 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>মেরামত হতে পারে। তার একভাগ এদিকে দিয়ে বাড়িটা রক্ষে করুন। কিন্তু কিছুতেই না। দেওয়ানজী বাপের বয়সী বুড়োমানুষ, বললেন, জমিদারী বাঁধা পড়বে যে? বাবু বললেন, প্রজারা সব বছর বছর খাজনা যোগাচ্চে আর মরচে। তাদের জমি বাঁচাবার জন্যে যদি জমিদারী বাঁধা পড়ে পড়ুক না। ও শোধা যাবে। {{ফাঁক}}রায় মহাশয় চুপ করিয়া থাকিয়া শেষে বলিলেন, মাথা খারাপ-টারাপ হয়নি ত? {{ফাঁক}}ইহার দিন-দুই পরে খবর লইয়া যখন জনার্দ্দন জানিতে পারিলেন এককড়ি আজও সে কথা হুজুরে পেশ করে নাই, তখন তিনি বিচলিত হইয়া উঠিলেন। অপদার্থ ও ভীতু বলিয়া মনে মনে তাহাকে তিরস্কার করিলেন, এবং রাত্রে সুনিদ্রা হইল না। সাহেব হঠাৎ যদি একদিন এত্তেলা পাঠাইয়া সরজমিনে আসিয়া পড়ে ত বিপদের অবধি থাকিবে না। সকল দিকে প্রস্তুত না থাকিলে যে কি ঘটিতে পারে বলা যায় না। স্থির করিলেন, পরদিন দেখা করিয়া নিজেই সকল কথা নিবেদন করিবেন—পরের উপর নির্ভর করিয়া সময় নষ্ট করিলে মরিতে হইবে। {{ফাঁক}}সকালে এক শত আটবার দুর্গানাম জপ করিলেন, শ্রীশ্রীচণ্ডীমাতার নাম লাল কালি দিয়া কাগজের উপর লিখিয়া কাজটা পাকা করিয়া লইলেন, এবং হাঁচি, টিকটিকি, শূন্যকুম্ভ প্রভৃতি সর্ব্বপ্রকার বিপত্তির বিরুদ্ধে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করিয়া মোটা দেখিয়া জন-চারেক লোক সঙ্গে করিয়া জমিদারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলেন। কিন্তু অধিক দূর অগ্রসর হইতে হইল না, জন পাঁচ-ছয় লোক ছুটিয়া আসিয়া যে খবর দিল, তাহা যেমন অপ্রীতিকর তেমনি অপ্রত্যাশিত। বেশি নয়, কাঠা-দশেক পরিমাণ বড় রাস্তার উপরেই একটা জায়গা কিছুকাল হইতে রায় মহাশয় দখল করিয়া ঘিরিয়া লইয়াছিলেন। তাঁহার অভিপ্রায় ছিল, দোকান-ঘরটা এইখানে সরাইয়া আনিবেন। সম্পত্তি চণ্ডীর এবং এই লইয়া ষোড়শীর সহিত তাঁহার বাদানুবাদও হইয়া গিয়াছিল, কিন্তু পরাক্রান্ত জনার্দ্দন রায়কে সে বাধা দিতে পারে নাই। এ-সম্বন্ধে তাঁহার কি একটা দলিলও ছিল, কিন্তু গ্রামের লোকেরা তাহা বিশ্বাস করিত না। আজ সকালে এইটাই তাহার বে-দখল করা হইয়াছে। জনার্দ্দন ধীরে ধীরে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন, অনেকেই হাজির আছেন। শিরোমণি, তারাদাস, গগন চক্রবর্ত্তী এবং আরও কয়েকজন তাঁহার দলভুক্ত ভদ্রব্যক্তিদের সমক্ষে জীবানন্দ চৌধুরী নিজে হুকুম দিয়া এবং নিজের লোক দিয়া তাঁহার বেড়া ভাঙাইয়া মন্দির-সংলগ্ন ভূখণ্ডের অন্তর্গত করিয়া দিয়াছেন। কেহই প্রতিবাদ করিতে ভরসা করে নাই। {{nop}}<noinclude>{{c|২০৫}}</noinclude> grwapj3yfbxgqm4wwkucyvq62oqhpjm পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২০ 104 883212 1990304 2026-07-19T16:21:53Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990304 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}জনার্দ্দন দুঃসহ ক্রোধ দমন করিয়া সবিনয়ে কহিলেন, এ-সব করার আগে হুজুর ত আমাকে একটা খবর পাঠাতে পারতেন? {{ফাঁক}}জীবানন্দ হাসিয়া কহিলেন, তাতে অনর্থক দেরি হ’ত বই ত নয়। খবর আপনার কাছে পৌঁছবেই জানি। {{ফাঁক}}জনার্দ্দন বলিলেন, খবর পৌঁছেচে, কিন্তু একটা দিন আগে পৌঁছলে মামলা-মকদ্দমাটা হয়ত বাধত না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ তেমনি হাসিমুখে কহিলেন, এতেও ত বাধা উচিত নয় রায়মশায়। ভৈরবীদের হাতে দেবীর অনেক সম্পত্তিই বে-হাত হয়ে গেছে, আবার সেগুলো হাত-বদল হওয়া দরকার। {{ফাঁক}}জনার্দ্দন কাষ্ঠহাসি হাসিয়া কহিলেন, তার চেয়ে আর সুখের কথা কি আছে হুজুর। শুনতে পাই, সমস্ত গ্রামখানিই নাকি একদিন মা চণ্ডীর ছিল, এখন কিন্তু— {{ফাঁক}}খোঁচাটা সকলেই উপভোগ করিলেন। শিরোমণি ঠাকুর ত জনার্দ্দন রায়ের বুদ্ধি ও বাক্‌-চাতুর্য্যে উল্লসিত হইয়া উঠিলেন। {{ফাঁক}}জীবানন্দের মুখের চেহারায় কোনরূপ পরিবর্ত্তন লক্ষিত হইল না। বলিলেন, তার ত্রুটি হবে না রায়মশায়। মা চণ্ডীর সমস্ত দলিল-পত্র, নক্‌শা, ম্যাপ প্রভৃতি যা কিছু ছিল আমি কলকাতায় এটর্নির বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েচি। কিন্তু আপনারা আমার সহায় থাকবেন। {{ফাঁক}}শিরোমণি জয়ধ্বনি করিলেন। কিন্তু কথাটা সত্য হইলে কোথাকার জল কোথায় গিয়া মরিবে চিন্তা করিয়া ক্রোধে ও শঙ্কায় জনার্দ্দনের মুখ বিবর্ণ হইয়া উঠিল। কিন্তু ইহার চেয়েও ঢের বড় বিপদ তাঁহার মাথার পরে ঝুলিতেছে স্মরণ করিয়া আজিকার মত তিনি আত্ম-সংবরণ করিয়া গৃহে ফিরিলেন। যে উদ্দেশ্যে বাটীর বাহির হইয়াছিলেন তাহা ব্যর্থ হইল। পথে চলিতে চলিতে তাঁহার মনে হইল, আমার না হয় দু-একশ বিঘা টান ধরিতে পারে, কিন্তু নিজে যে সমস্ত চণ্ডীগড় গিলিয়া বসিয়াছেন তাহার কি? সুতরাং কথাটা যে নেহাৎ বাজে, নিছক ধোঁকা দিবার জন্যই বলা এ-বিষয়ে আর সন্দেহ রহিল না। বাড়ি ঢুকিয়া তামাকের জন্য একটা হুঙ্কার ছাড়িয়া বসিবার ঘরে পা দিয়াই কিন্তু তিনি চমকিয়া গেলেন। একধারে লুকাইয়া বসিয়া এককড়ি; তাহার মুখ শুষ্ক, চেহারা ম্লান—কি হে, তুমি যে হঠাৎ এখানে? তোমার পাগলা মনিব ত ওদিকে লাঠালাঠি বাধিয়েচেন। {{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, জানি। আর সেই পাগলের কাছেই এখনি একবার আমাদের ছুটতে হবে। {{nop}}<noinclude>{{c|২০৬}}</noinclude> 4m5ci3vc4e2hk6ixcn549i1uk85jg65 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২১ 104 883213 1990305 2026-07-19T16:25:40Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990305 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}জনার্দ্দন ভীত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কেন বল ত? {{ফাঁক}}এককড়ি কহিল, ছোটলোক ব্যাটাদের বুদ্ধি এবং টাকা কে যুগিয়েচে জানতে পারলাম না; কিন্তু এটুকু জানতে পারলাম তারা সাক্ষী মানলে হুজুর গোপন কিছুই করবেন না। দলিল তৈরির কথা পর্য্যন্ত না। {{ফাঁক}}জনার্দ্দনের মুখ ফ্যাকাশে হইয়া গেল। লোকটার একগুঁয়েমির যে ভয়ানক ইতিহাস সেদিন শুনিয়াছিলেন তাহা স্মরণ হইল। তাঁহার মুখ দিয়া শুধু বাহির হইল—এ কি লঙ্কাকাণ্ড করবে নাকি শেষে! {{ফাঁক}}সাজা তামাক তাঁহার পুড়িতে লাগিল, স্নানের জল ঠাণ্ডা হইতে লাগিল, জনার্দ্দন ছুটিয়া বাহির হইয়া গেলেন। জীবানন্দ তখন মন্দিরের একটা ভাঙা খিলান পরীক্ষা করিতেছিলেন এবং তারাদাস অদূরে দাঁড়াইয়া তাঁহার প্রশ্নের জবাব দিতেছিল, জনার্দ্দন একেবারে সম্মুখে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, হুজুর! সমস্ত ব্যাপার একবার মনে করে দেখুন। {{ফাঁক}}জীবানন্দ প্রথম বুঝিতে পারিলেন না কিসের ব্যাপার, কিন্তু তাঁহার অস্বাভাবিক ব্যাকুলতা এবং প্রাঙ্গণের একধারে এককড়ি নন্দীকে দেখিতে পাইয়া কাল রাত্রের কথা স্মরণ হইল। বলিলেন, কিন্তু উপায় কি রায়মশায়? সাহেব জমি ছাড়তে চায় না, সে সস্তায় কিনেচে—তা ছাড়া তার বিস্তর ক্ষতিও হবে। সুতরাং মকদ্দমা জেতা ছাড়া প্রজাদের আর ত পথ দেখিনে। {{ফাঁক}}জনার্দ্দন আকুল হইয়া কহিলেন, কিন্তু আমাদের পথ? {{ফাঁক}}জীবানন্দ ক্ষণকাল চিন্তা করিয়া কহিলেন, সে ঠিক, আমাদের পথও খুব দুর্গম মনে হয়। {{ফাঁক}}তাঁহার শান্ত কণ্ঠ ও নির্ব্বিকার মুখের ভাব দেখিয়া জনার্দ্দন নিজেকে আর সামলাইতে পারিলেন না। মরিয়া হইয়া বলিয়া উঠিলেন, হুজুর পথ শুধু দুর্গম নয়—জেল খাটতে হবে। এবং আমরা একা নয়, আপনিও হয়ত বাদ যাবেন না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ একটুখানি হাসিলেন, বলিলেন, তাই বা কি করা যাবে রায়মশায়। সখ করে যখন গাছ পোঁতা গেছে, তখন ফল তার খেতেই হবে বই কি। {{ফাঁক}}জনার্দ্দন আর জবাব দিলেন না। ঝড়ের বেগে বাহির হইয়া গেলেন। এককড়ি সব কথা বোধ হয় শুনিতে পায় নাই, সে দ্রুতপদে কাছে আসিতেই তাহাকে চীৎকার করিয়া বলিলেন, এ আমাদের সর্ব্বনাশ করবে এককড়ি, আমার নির্ম্মলকে একটা টেলিগ্রাফ করে দাও—সে একবার এসে পড়ুক। {{nop}}<noinclude>{{c|২০৭}}</noinclude> ali9wocv8znbyg6z6em7rg2gmtk310e পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২২ 104 883214 1990306 2026-07-19T16:27:59Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990306 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|'''২৭'''}} {{ফাঁক}}চণ্ডীগড় হইতে নির্ম্মল অনেক দুঃখ পাইয়াই গিয়াছিল। ইহার ভাল এবং সকল সংস্রব হইতে নিজেকে সে চিরকালের মত বিযুক্ত করিয়া যাইতেছে, যাইবার সময়ে ইহাই ছিল তাহার একান্ত অভিলাষ। ভগবানের কাছে কায়মনে প্রার্থনা করিয়াছিল, যাহা গত হইয়াছে তাহা আর যেন না ফিরিয়া আসে, ইহার কোন সংযোগ-সূত্রই আর যেন না জীবনে তাহার কোথাও অবশিষ্ট রহিয়া যায়। সে সোজা মানুষ। বিলাস ও সাহেবিয়ানার মধ্যে দিয়াও সে সংসারের সোজা পথটি ধরিয়াই চলিতে চাহিত। হৈমই ছিল তাহার একমাত্র—তাহার গৃহিণী, তাহার প্রিয়তমা, তাহার সন্তানের জননী—সৌন্দর্য্যে, স্নেহে, নিষ্ঠায়, বুদ্ধিতে ইহার বড় যে কোন মানুষই কোনদিন কামনা করিতে পারে তাহা সে ভাবিতেও পারিত না, অথচ এত বড় সম্পদ তুচ্ছ করিয়াও যে মন তাহার একদিন উদ্‌ভ্রান্ত হইতে চাহিয়াছিল, ফিরিয়া আসা পর্য্যন্ত এই বিড়ম্বনা যখনই মনে হইত তখনই দুইটা কথা তাহাকে অত্যন্ত বিচলিত করিত। প্রথম এই যে, এই দুর্ম্মতির ইতিহাস তাহাকে হৈমর কাছ হইতে চিরদিন গোপন করিয়া রাখিতে হইবে; এবং দ্বিতীয়, ষোড়শীর চরিত্র। ইহার সম্বন্ধে বস্তুতঃ কিছুই সে জানে না, তবুও যে কেন একদিন মন তাহার আসক্ত হইয়াছিল, নিজের চিত্তকে এই প্রশ্নই বারংবার করিয়া কেবল একটা উত্তরই নির্ম্মল নিঃসংশয়ে পাইতেছিল, ষোড়শী চরিত্রহীনা। অসম্ভব বস্তুতে মন তাহার প্রলুব্ধ হয় নাই, হইতেই পারে না। সে পাওয়ার বাহিরে নয়, ইহা বুঝিয়াছিল বলিয়াই মন তাহার অমন করিয়া উন্মুখ হইয়া উঠিয়াছিল। এই কথা স্মরণ করিয়া সে এক প্রকার সান্ত্বনা লাভ করিত, এবং মনে মনে বলিত, ও-পথে আর কখনও নয়। হৈমর বাপের বাড়ি, ইচ্ছা হয় সে যাক, কিন্তু নিজে সে চণ্ডীগড়ের নাম কখনও মুখে আনিবে না। {{ফাঁক}}সেদিন আদালত হইতে ফিরিয়া হৈমর কাছে শুনিল মায়ের চিঠি আসিয়াছে। তিনি লিখিয়াছেন, রাত্রে লুকাইয়া ষোড়শী কোথায় যে চলিয়া গেছে কেহই জানে না। {{ফাঁক}}নির্ম্মল পরিহাসের চেষ্টায় জোর করিয়া একটু হাসিয়া বলিল, কেউ জানে না কোথায় গেছে? সাগর সর্দ্দারও না, এমন কি জমিদার জীবানন্দ চৌধুরী পর্য্যন্ত না? {{nop}}<noinclude>{{c|২০৮}}</noinclude> nahmv785dknhgkk7s300ydm64kwcyki পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২৩ 104 883215 1990307 2026-07-19T16:31:34Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990307 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}হৈম রাগ করিয়া কহিল, তোমার এক কথা! সাগর জানলেও জানতে পারে, কিন্তু জমিদার জানবে কি করে? মেয়েদের নামে একটা দুর্নাম দিতে পারলে যেন তোমরা বাঁচো। {{ফাঁক}}তা বটে! বলিয়া নির্ম্মল বাহিরে যাইতেছিল, হৈম ডাকিয়া কহিল, আরও একটা কাণ্ড হয়েচে। সেই রাত্রে জমিদারের শান্তিকুঞ্জ কে একদম পুড়িয়ে দিয়েচে। {{ফাঁক}}বল কি? {{ফাঁক}}হাঁ। লোকের সন্দেহ, রাগ করে সাগর পুড়িয়েচে। কিন্তু জমিদারের নামের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যে দুর্নামটা তাঁর গ্রামের সকলে মিলে দিলে, তা সত্যি হলে কি কখনো জমিদারেরই বাড়ি পুড়তো? তুমিই বল? {{ফাঁক}}নির্ম্মল চুপ করিয়া রহিল। হৈম কহিল, যে যাই কেন না বলুক, আমি কিন্তু নিশ্চয় জানি তিনি নির্দোষী। চণ্ডীর এমন ভৈরবী আর কখনো ছিল না। তাঁর দয়াতেই ছেলের মুখ দেখতে পেয়েছ, তা জানো? {{ফাঁক}}এ কথারও নির্ম্মল কোন উত্তর দিল না। সকল ঘটনা জানিতে, চিঠি লিখিয়া সকল সংবাদ সবিস্তারে আহরণ করিতে তাহার কৌতূহলের সীমা ছিল না, কিন্তু এ ইচ্ছাকে সে দমন করিয়া বাহির হইয়া গেল। ষোড়শীর সকল সম্পর্ক হইতে আপনাকে সে বিচ্ছিন্ন করিয়া রাখিবেই, এই ছিল তাহার পণ। কিন্তু পরদিন সকাল না হইতেই যখন শ্বশুরের জরুরি তার আসিয়া পড়িল এবং সন্ধ্যার মেলে শাশুড়ীর চিঠিও আসিল, পত্র পাওয়ামাত্র জামাই না আসিয়া পৌঁছিলে তাহার বৃদ্ধ শ্বশুরকে এ-যাত্রা কেহই রক্ষা করিতে পারিবে না, জেল তাঁহাকে খাটিতেই হইবে, তখন হৈম কাঁদিতে লাগিল, এবং আর একবার তোরঙ্গ ও বিছানাপত্র বাঁধিবার হুকুম দিয়া নির্ম্মলকে তাহার কাজের বন্দোবস্ত করিতে বাটী হইতে বাহির হইতে হইল। {{ফাঁক}}দিন-দুই পরে হৈমকে সঙ্গে করিয়া নির্ম্মল চণ্ডীগড়ে আসিয়া উপস্থিত হইল। দেখিল একটা ভয়ের মধ্যে সকলের দিন কাটিতেছে। কে যে কখন আগুন ধরাইয়া দিবে তাহার ঠিক নাই। চারিদিকে লোক নিযুক্ত হইয়াছে, কর্ত্তা শুকাইয়া যেন অর্দ্ধেক হইয়া গেছেন, কোথাও বাহির হন না—এত বড় প্রতাপান্বিত ব্যক্তির নিজের গ্রামের মধ্যেই এত বড় দুর্গতি দেখিয়া নির্ম্মল বিস্মিত হইল। এখান হইতে বেশি দিন সে যায় নাই, কিন্তু কি পরিবর্ত্তন! খবর যাহা পাইল তাহা অত্যন্ত উল্টাপাল্টা রকমের, বিশেষ কিছু বুঝা গেল না; কেবল একটা সংবাদে সকলেরই মিল হইল<noinclude>{{c|২০৯}}</noinclude> kr721gyfcz8l04l4il8xmz4f34n7eg9 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২৪ 104 883216 1990308 2026-07-19T16:33:54Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990308 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>যে, জমিদার জীবানন্দ চৌধুরীর মাথা খারাপ হইয়া গেছে। সে মদ ছাড়িয়াছে, প্রজাদের দিয়া নিজের বিরুদ্ধে নালিশ করাইয়া দিয়াছে, যে টাকায় পোড়া বাড়ি মেরামত করা উচিত ছিল, তাই দিয়া মাঠের সাঁকো তৈরি করাইতেছে—এমনি কত কি গল্প। কিন্তু হঠাৎ কিসের জন্য সে এরূপ হইল, তাহা কেহই জানে না। এই লোকটাকে নির্ম্মল অতিশয় ঘৃণা করিত; ইহারই কাছে দরবার করিতে যাইতে হইবে মনে করিয়া সে অতিশয় সঙ্কুচিত হইল। অথচ ব্যাপার যাহা দাঁড়াইয়াছে তাহাতে আর যে কি পথ আছে তাহাও চোখে পড়িল না। ভূমিজ-প্রজারা অত্যন্ত বিরুদ্ধ। একে ত তাহাদের সর্ব্বনাশ হইয়াছে, এবং তাহা সম্পাদন করিতে কোন চেষ্টারই ত্রুটি হয় নাই, তাহাতে তাহাদের একমাত্র শুভাকাঙ্ক্ষিনী ভৈরবী মাতার প্রতি যে অত্যাচার হইয়াছে তাহাতে ক্রোধের তাহাদের সীমা নাই। তাহারা কোন কথা শুনিবে না। এদিকে মাদ্রাজী সাহেবের বিস্তর ক্ষতি, তাঁহার কল-কব্জা আসিয়া পড়িয়াছে, সে ক্ষতিপূরণ করা এক প্রকার অসাধ্য ব্যাপার। জমির দখল তাঁহার চাই-ই। বিশেষতঃ নিজে অনুপস্থিত থাকিয়া যে এটর্নির দ্বারা তিনি কাজ চালাইতেছেন তিনি যেমন রুক্ষ, তেমনি অভদ্র, তাঁহার কাছে কোন সুবিধারই আশা নাই। একমাত্র ভরসা নিজেদের মধ্যে এক হওয়া। যেহেতু, আর যাহাই হোক, পিনাল কোডের সেই দুরন্ত ধারাগুলোয় তাহাতে বাঁচিবার সম্ভাবনা। নিজেদের মধ্যে কবুল জবাব দিলে আর কোন রাস্তা নাই, অথচ সেই পাগল লোকটা শাসাইয়া রাখিয়াছে হাকিমের কাছে সে কোন কথাই লুকাইবে না। এই কথা নির্ম্মল হাসিয়া উড়াইয়া দিতে পারিত, কিন্তু আসিয়া অবধি সে যে-সকল গল্প শুনিল, বিশেষ করিয়া সেই মদ ছাড়ার কাহিনী—হার্টফেলের ভয় দেখাইয়াও ডাক্তারে যাহাকে এক ফোঁটা গিলাইতে পারে নাই, সেই ভীষণ একগুঁয়ে লোকটার মাথায় হঠাৎ খেয়াল চাপিয়াছে কে তাহার কৈফিয়ৎ দিবে? অথচ সে আসিয়াছে এ দুর্ম্মদ, একান্ত অবোধ ব্যক্তিকে সুবুদ্ধি দিতে। তাহাকে বুঝাইতে হইবে, ভয় দেখাইতে হইবে, অনুনয়-বিনয় করিতে হইবে—কি যে করিতে হইবে সে কিছুই জানে না। এই অত্যন্ত অপ্রীতিকর কার্য্য হইতে নির্ম্মলের সমস্ত চিত্ত যেন, বিদ্রোহ করিতে লাগিল, কিন্তু উপায় কি? দুষ্কৃতকারী যে হৈমর পিতা। তাঁহাকে যে বাঁচাইতেই হইবে। হৈম কাঁদিতে লাগিল, শাশুড়ী কাঁদিতে লাগিলেন, এককড়ি চোরের মত আনাগোনা করিতে লাগিল, শ্বশুর না খাইয়া শয্যা গ্রহণ করিলেন—অথচ মাঝে কেবল একটি দিন বাকি, পরশু দিন আসিবেন হাকিম তদন্ত করিতে। {{nop}}<noinclude>{{c|২১০}}</noinclude> g6u3ffyx5bhj1vv5ah1v4lewsdqnb6r পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২৫ 104 883217 1990309 2026-07-19T16:36:52Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990309 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}অপরাহ্ণের কাছাকাছি জীবানন্দের সহিত দেখা হইল তাহার মাঠের মাঝখানে। এতকাল জল-নিকাশের পথ ছিল না, তাই সাঁকো তৈরি হইতেছিল। প্রশান্ত হাস্যে দুই হাত বাড়াইয়া আসিয়া জীবানন্দ তাহাকে গ্রহণ করিয়া কহিল, আপনার আসার খবর আমি কালই পেয়েচি। ভাল আছেন আপনি? বাড়ির সব ভাল? তাহার কথায় আচরণে গরিমা নাই, কৃত্রিমতা নাই—যেমন সহজ, তেমনি খোলা—তাহাকে সন্দেহ করিবার অবকাশ নাই। এতখানির জন্য নির্ম্মল প্রস্তুত ছিল না; তাহার আপনাকে আপনি যেন ছোট মনে হইল। মাথা যদি ইহার খারাপ হইয়াও থাকে ত লজ্জা পাইবার নয়। জীবানন্দের কুশল প্রশ্নের উত্তর নির্ম্মল শুধু মাথা নাড়িয়াই দিল এবং প্রতি-প্রশ্ন করিবার কথা হঠাৎ তাহার মনে হইল না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, আপনি কুটুম্ব মানুষ, সমস্ত গ্রামের আদরের বস্তু, কিন্তু ইচ্ছে করে এমন জায়গায় এসে দেখা করলেন যে—সহসা মিস্ত্রি ও মজুরদের প্রতি দৃষ্টি পড়ায় কহিল, বাবারা আজ আমাদের একটু রাত্রি পর্য্যন্ত খাটতে হবে। সপ্তাহ ধরে মেঘ করচে, আজকালের মধ্যেই হয়ত জল হবে। কিন্তু তা হলে ত কোন মতেই চলবে না। আমরা এমন কাজ করে যাবো যে আমাদের নাতি-পুতিদের পর্য্যন্ত ঘাড় নেড়ে বলতে হবে যে, হাঁ সাঁকো করেছিল তারা, সত্যিকারের দরদ দিয়েই করেছিল। সেই ত আমাদের মেহন্নতয়ানা! {{ফাঁক}}লোকগুলা গলিয়া গেল। বীজগাঁয়ের ভয়ঙ্কর জমিদার একসঙ্গে খাটিতেছেন, তাঁহার মুখের এই কথা; তাহারা সমস্বরে প্রতিজ্ঞা করিয়া জানাইল যে, তাহাদেরও সেই ইচ্ছা। জ্যোৎস্না যদি না মেঘে ঢাকে ত তাহারা রাত্রি দশটা পর্য্যন্ত করিবে। {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, আপনার সঙ্গে আমার একটু কাজ আছে। {{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, আর একদিন হলে হয় না? {{ফাঁক}}না, আমার বিশেষ প্রয়োজন। {{ফাঁক}}জীবানন্দ হাসিল; কহিল, তা বটে। অকাজের বোঝা বহাতে যারা এতদূরে টেনে এনেচেন তাঁরা কি আপনাকে সহজে ছেড়ে দেবেন! {{ফাঁক}}খোঁচাটা নির্ম্মলের গায়ে বাজিল। সে কহিল, সে ত ঠিক কথা। অকাজ মানুষে করে বলেই ত সংসারে আমাদের প্রয়োজন চৌধুরীমশায়। না হলে আপনাকেই বা এই মাঠের মাঝখানে বিরক্ত করবার আমার প্রয়োজন হবে কেন? {{ফাঁক}}জীবানন্দ কিছুমাত্র রাগ করিল না, তেমনি প্রসন্ন-মুখে বলিল, আমি কিছুমাত্র বিরক্ত হইনি নির্ম্মলবাবু। যেজন্য আপনি এসেচেন, সে যে আপনার কর্ত্তব্য, এ বিষয়েও আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, না হলে আপনিই বা আসবেন কেন? কিন্তু<noinclude>{{c|২১১}}</noinclude> 683a1ejzvpyhtpuxxrvj6efes23bajb পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২৬ 104 883218 1990310 2026-07-19T16:39:58Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990310 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কর্ত্তব্যের ধারণা ত সকলের এক নয়। রায়মশায়ের আমি অকল্যাণ কামনা করিনে; আপনার আসার উদ্দেশ্য সফল হলে আমি বাস্তবিক খুসি হব, কিন্তু আমার কর্ত্তব্যও আমি স্থির করে ফেলেচি, এ থেকে নড়চড় করা সম্ভব হবে না। {{ফাঁক}}নির্ম্মলের মুখ স্নান হইল। সে একটু ভাবিয়া কহিল, দেখুন, ভালই হ’ল যে অপ্রিয় আলোচনার ভূমিকার অংশটা আপনি দয়া করে আমাকে উত্তীর্ণ করে দিয়ে গেলেন। এসে অবধি আপনার সম্বন্ধে আমি অনেক কথাই শুনেচি— {{ফাঁক}}জীবানন্দ সহাস্যে বলিল, একটা এই যে আমার মাথার ঠিক নেই, সত্য কি না বলুন? {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, সংসারে সাধারণ মানুষের বিচার-বুদ্ধির সঙ্গে অকস্মাৎ কারও কর্ত্তব্যের ধারণা যদি অত্যন্ত প্রভেদ হয়ে যায় ত দুর্নাম একটা রটেই। এ কথা কি সত্য যে আপনি সমস্তই স্বীকার করবেন? {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, সত্য বই কি। তাহার কণ্ঠস্বরে গাম্ভীর্য্য নাই, ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা, তথাপি নির্ম্মল নিঃসংশয়ে বুঝিল ইহা ফাঁকি নয়। বলিল, এমন ত হতে পারে আপনার কবুল-জবাবে আপনিই শাস্তি পাবেন, কিন্তু আর সকলে বেঁচে যাবেন। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, নির্ম্মলবাবু, আপনার কথাটা হল ঠিক সেই পাঠশালার গোবিন্দর মত। পণ্ডিতমশাই! মুকুন্দও যে আম চুরি করছিল! অর্থাৎ বেতটা চারিয়ে না পড়লে তার পিঠের জ্বালা কমবে না? এই বলিয়া সে হাসিতে লাগিল। তাহার সকৌতুক হাসির ছটায় নির্ম্মলের মুখ ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিল দেখিয়া সে জোর করিয়া তাহা নিবারণ করিয়া কহিল, রক্ষে করুন আপনি, এ আমি স্বপ্নেও চাইনে। আমার কৃতকর্ম্মের ফল আমি ভোগ করলেই যথেষ্ট। নইলে, রায়মশায় নিস্তার লাভ করে সুস্থ-দেহে সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করতে থাকুন, এবং আমার এককড়ি নন্দীমশায়ও আর কোথাও গোমস্তাগিরি কর্ম্মে উত্তরোত্তর প্রবৃদ্ধি লাভ করতে থাকুন, কারও প্রতি আমার কোন আক্রোশ নাই। {{ফাঁক}}নির্ম্মল আইন ব্যবসায়ী, সহজে হাল ছাড়িবার পাত্র নয়, কহিল, এমন ত হতে পারে কারও কোন শাস্তি ভোগ করারই আবশ্যক হবে না, অথচ ক্ষতিও কাউকে স্বীকার করতে হবে না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ তৎক্ষণাৎ সম্মত হইয়া বলিল, বেশ ত, পারেন ভালই। কিন্তু আমি অনেক চিন্তা করে দেখেচি সে হবার নয়। কৃষকেরা তাদের জমি ছাড়বে না। কারণ, এ শুধু তাদের অন্ন-বস্ত্রের কথা নয়, তাদের সাত পুরুষের চাষ আবাদের মাঠ,<noinclude>{{c|২১২}}</noinclude> 6nl42lxmjad8ju6igz8bduin5avwupt পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২৭ 104 883219 1990311 2026-07-19T16:43:36Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990311 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>এর সঙ্গে তাদের নাড়ীর সম্পর্ক। এ তাদের দিতেই হবে। একটু চুপ করিয়া কহিল, আপনি ভালই জানেন, অন্য পক্ষ অত্যন্ত প্রবল, তার উপর জোর-জুলুম চলবে না। চলতে পারে কেবল চাষাদের উপর, কিন্তু চিরদিন তাদের প্রতিই অত্যাচার হয়ে আসচে, আর হতে আমি দেব না। {{ফাঁক}}নির্ম্মল মনে মনে প্রমাদ গণিয়া কহিল, আপনার বিস্তীর্ণ জমিদারী, এই কটা চাষার কি আর তাতে স্থান হবে না? কোথাও না কোথাও— {{ফাঁক}}না না, আর কোথাও না—এই চণ্ডীগড়ে। এইখানে আমি জোর করে তাদের কাছে ছ হাজার টাকা আদায় করেচি—আর সে টাকা যুগিয়েচেন জনার্দ্দন রায়—সে শোধ করতেই হবে। কিন্তু অপ্রীতিকর আলোচনায় আর কাজ নেই নির্ম্মলবাবু, আমি মনস্থির করেচি। {{ফাঁক}}এই ছ হাজার টাকার ইঙ্গিত নির্ম্মলবাবু বুঝিল না, কিন্তু এটা বুঝিল যে, তাহার শ্বশুর মহাশয় অনেক পাকে আপনাকে জড়াইয়াছেন যাহা মুক্ত করা সহজ নয়। সে শেষ চেষ্টা করিয়া কহিল, আত্মরক্ষায় সকলেরই ত অধিকার আছে, অতএব শ্বশুরমশায়কেও করতে হবে। আপনি নিজে জমিদার, আপনার কাছে মামলামকদ্দমার বিবরণ দিতে যাওয়া বাহুল্য—শেষ পর্য্যন্ত হয়ত বা বিষ দিয়েই বিষের চিকিৎসা করতে হবে। {{ফাঁক}}জীবানন্দ মুচকিয়া হাসিয়া কহিল, চিকিৎসক কি জাল করার বিষে খুন করার ব্যবস্থা দেবেন? {{ফাঁক}}নির্ম্মলের মুখ রাঙা হইয়া উঠিল। কহিল, জানেন ত, অনেক সময়ে ওষুধের নাম করলে আর খাটে না! সে যাই হোক, আপনি জমিদার ব্রাহ্মণ, বয়সে বড়, আপনাকে শক্ত কথা বলবার ইচ্ছে আমার নেই। কিংবা হঠাৎ কি কারণে আপনার ধর্ম্ম-জ্ঞান এরূপ প্রচণ্ড হয়ে উঠলো তাও জানবার কৌতূহল নেই, কিন্তু একটা কথা বলে যাই যে, এ জিনিস আপনার স্বাভাবিক নয়। গভর্ণমেণ্ট যদি প্রসিকিউট করে ত জেলের মধ্যে একদিন তা উপলব্ধি করবেন। আপনি সর্পকে রজ্জু বলে ভ্রম করচেন। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, এ কথা আপনার সত্য কিন্তু ভ্রম যতক্ষণ আছে ততক্ষণ রজ্জুটাই ত আমার সত্য! {{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, কিন্তু তাতে মরণ আটকাবে না। আরও একটা সত্য কথা আপনাকে বলে যাই। এই সব নোংরা কাজ করা আমার ব্যবসা নয়। আপনাকে আমি অতিশয় ঘৃণা করি, এবং এক পাপিষ্ঠের জন্য আর এক পাপিষ্ঠকে অনুরোধ<noinclude>{{c|২১৩}}</noinclude> izg0cs03kzm1845kwhl9w8h6y5im2ce পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২৮ 104 883220 1990312 2026-07-19T16:46:42Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990312 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>করতে আমি লজ্জা বোধ করি। কিন্তু সে আপনি বুঝবেন না—সে সাধ্যই আপনার নেই। {{ফাঁক}}জীবানন্দের মুখের উপর কোন পরিবর্ত্তন দেখা গেল না। লেশমাত্র উত্তেজনা নাই, তেমনি সৌম্য শান্ত-কণ্ঠে কহিল, কিন্তু আপনাকে আমি ঘৃণা করিনে নির্ম্মলবাবু, শ্রদ্ধা করি। এ বোঝবার সাধ্যও ত আপনার নেই। তাহার নির্বিকার স্বচ্ছতায় নির্ম্মল জ্বলিতে লাগিল, এবং এই প্রত্যুত্তরে কদর্য্য উপহাস কল্পনা করিয়া তিক্তকণ্ঠে বলিল, চোর-ডাকাতদের মধ্যেও বিশ্বাস বলে একটা বস্তু আছে, নিজেদের মধ্যে তারাও তা ভাঙে না। বিশ্বাসঘাতককে তারা ঘৃণা করে। কিন্তু জীবনব্যাপী দুরাচারে বুদ্ধি যার বিকৃত, তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি করে লাভ নেই—আমি চললাম। এই বলিয়া সে চক্ষের পলকে পিছন ফিরিয়া দ্রুতপদে প্রস্থান করিল। জীবানন্দ চাহিয়া দেখিল অনেকেই হাতের কাজ বন্ধ করিয়া সবিস্ময়ে চাহিয়া আছে। সে ম্লানমুখে শুধু একটু হাসিয়া বলিল, সময় যেটুকু নষ্ট করলি বাবা, সেটুকু কিন্তু পুষিয়ে দিস্। {{ফাঁক}}কথাটা নির্ম্মলের কানে গেল। {{ফাঁক}}দিন-চারেকের মধ্যেই কৃষককুলের চিরদিনের দুঃখ দূর করিয়া জল-নিকাশের সাঁকো তৈরি শেষ হইল, গ্রাম-গ্রামান্তর হইতে ভিড় করিয়া লোক দেখিতে আসিল, কিন্তু যে ইহা নির্ম্মাণ করিল, সেই জীবানন্দ শয্যাগত হইয়া পড়িল। এ পরিশ্রম সে সহ্য করিতে পারিল না। এই অজুহাতে এবং সাহেবের সহিত দেখা করিয়া নানা কৌশলে নির্ম্মল তদন্তের দিন এক সপ্তাহ পিছাইয়া দিতে পারিয়াছিল, কিন্তু সে-দিনও সমাগতপ্রায়। কেবল দুটো দিন বাকি। বাঁচিবার পথ ছিল, এবং তাহাই অবলম্বন করিয়া জনার্দ্দন তারাদাসকে দিয়া চণ্ডীমাতার বিশেষ পূজার ব্যবস্থা করাইলেন, এবং নিজে মন্দিরের একান্তে বসিয়া সকাল-সন্ধ্যায় কায়মনে ডাকিতে লাগিলেন মায়ের কৃপায় যেন এ-যাত্রা জীবানন্দ আর না উঠে। সাহেব সরজমিনে আসার পূর্ব্বেই যেন কিছু একটা হইয়া যায়। মেয়েকে লইয়া ষোড়শীর হাতে-পায়ে গিয়া পড়ার কথাও মনে হইয়াছিল, কারণ ছোটলোকদের যদি কেহ ঠেকাইতে পারে ত কেবল সেই পারে, কিন্তু কোথায় সে? যে গাড়োয়ান তাহাকে লইয়া গিয়াছিল বহু চেষ্টাতেও তাহার সন্ধান মিলে নাই। সাতদিনের সময় পাইয়া হৈমর নিশ্চিত ভরসা হইয়াছিল ছেলে সঙ্গে করিয়া গিয়া একবার কাঁদিয়া পড়িতে পারিলে সে কিছুতেই না বলিতে পারিবে না। কিন্তু সে আশা যে বৃথা হইতে বসিল। {{nop}}<noinclude>{{c|২১৪}}</noinclude> jp9zrfl296r8mwmm2lchf63lksedi7f পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২২৯ 104 883221 1990313 2026-07-19T16:50:10Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990313 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই কয়দিন প্রায় প্রত্যহই নির্ম্মলকে সদরে যাইতে হইতেছিল। এই যে বিশ্রী মামলাটা বাধিবে, তাহার সকল ছিদ্র-পথই যে আগে হইতে বন্ধ করা আবশ্যক। সেদিন দুপুরবেলায় সে রেজেষ্ট্রি অফিসের বারান্দার একধারে একখানা বেঞ্চের উপর বসিয়া কতকগুলা প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের নকল লইয়া নিবিষ্টচিত্তে পড়িতেছিল, হঠাৎ সুমুখেই ডাক শুনিল, জামাইবাবু, সেলাম। ভাল আছেন? {{ফাঁক}}নির্ম্মল চমকিয়া মুখ তুলিয়া দেখিল, ফকিরসাহেব। তাঁহারও হাতে একতাড়া কাগজ। তাড়াতাড়ি উঠিয়া অভিবাদন করিয়া তাঁহার দুই হাত ধরিয়া পাশে বসাইয়া কহিল, শুনেছিলাম আপনাকে ডাকলেই আপনার দেখা মিলে। এ কয়দিন মনে মনে আমি প্রাণপণে ডাকছিলাম। {{ফাঁক}}ফকির হাসিলেন, কহিলেন, কেন বলুন ত? {{ফাঁক}}ষোড়শীকে আমার বড় প্রয়োজন। তিনি কোথায় আছেন আমাকে দেখা করতেই হবে। {{ফাঁক}}ফকির বিস্মিত হইলেন না, আনন্দ প্রকাশ করিলেন না, বলিলেন, দেখা না হওয়াই ত ভাল? {{ফাঁক}}নির্ম্মল অত্যন্ত লজ্জিত হইল। কহিল, আপনি হয় ত সর্ব্বজ্ঞ। তা যদি হয় জানেন ত আমাদের কত প্রয়োজন। {{ফাঁক}}ফকির কহিলেন, না, আমি সর্ব্বজ্ঞ নয়, কিন্তু মা-ষোড়শী কোন কথাই আমাকে গোপন করেন না। একটু থামিয়া বলিলেন, দেখা হওয়া না-হওয়ার কথা তিনিই জানেন, আমি জানিনে, কিন্তু তাঁর সমস্ত ব্যাপার আপনাকে জানাতে আমার বাধা নেই। কারণ, একদিন যখন সবাই তাঁর সর্ব্বনাশে উদ্যত হয়েছিল, তখন আপনিই একাকী তাঁকে রক্ষা করতে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি তাঁর মুখেই এ কথা শুনেচি। {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, আর আজ ঠিক সেইটি উল্টে দাঁড়িয়েচে ফকিরসাহেব। এখন কেউ যদি তাঁদের বাঁচাতে পারে শুধু তিনিই পারেন। {{ফাঁক}}ফকিরের মুখ অপ্রসন্ন হইল। ইহার বিস্তৃত বিবরণের জন্য তিনি কৌতূহল প্রকাশ না করিয়া কেবল কহিলেন, চণ্ডীগড়ের খবর আমি জানিনে। কিন্তু আমি বলি, তাঁর ভাল করার ভার ভগবানের উপর আপনি ছেড়ে দিন। আমার মাকে আর এর মধ্যে জড়াবেন না নির্ম্মলবাবু। {{ফাঁক}}বিগত দিনের সমস্ত দুঃখের ইতিহাস নির্ম্মলের মনে পড়িল। ইহার জবাব দেওয়া কঠিন, সে শুধু কুণ্ঠার সহিত প্রশ্ন করিল, এখন তিনি কোথায় আছেন? {{ফাঁক}}জায়গাটাকে শৈবাল-দীঘি বলে। {{nop}}<noinclude>{{c|২১৫}}</noinclude> 3yhgvbnsi3k006k194nimtc554gjyke পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২৩০ 104 883222 1990314 2026-07-19T16:53:10Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990314 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}সেখানে সুখে আছেন? {{ফাঁক}}এইবার ফকির মৃদু হাসিয়া কহিলেন, এই নিন! মেয়েমানুষের সুখে থাকার খবর দেবতারা জানেন না। আমি ত আবার সন্ন্যাসী মানুষ। তবে মা আমার শান্তিতে আছেন এইটুকুই অনুমান করতে পারি। {{ফাঁক}}নির্ম্মল ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, আদালতে আপনি কোথায় এসেছিলেন? {{ফাঁক}}ফকির কহিলেন, তা বটে! সন্ন্যাসী ফকিরের এ স্থান নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। কিন্তু সংসারের মোহ ত মানুষকে সহজে ছাড়ে না বাবা, তাই শেষ বয়সে আবার বিষয়ী হয়ে উঠেচি। ভাল কথা, বিনা পয়সায় আপনার মত আইনজ্ঞ ব্যক্তিও আর পাব না, এবং আপনাকেই কেবল বলা যায়। আমার এই কাগজগুলি যদি দয়া করে একবার দেখে দেন। {{ফাঁক}}নির্ম্মল হাত বাড়াইয়া কহিল, এ কিসের কাগজ? {{ফাঁক}}একটা দান-পত্রের খসড়া। বলিয়া ফকির তাঁহার কাগজের বাণ্ডিল নির্ম্মলের হাতে তুলিয়া দিলেন। পরের কাজ করিবার মত সময় ও প্রবৃত্তি নির্ম্মলের ছিল না; সে নিস্পৃহের মত তাহা গ্রহণ করিল, এবং ধীরে ধীরে তাহার পাক খুলিয়া পাঠে নিযুক্ত হইল। কিন্তু কয়েক ছত্র পরেই অকস্মাৎ তাহার চোখের দৃষ্টি তীব্র, মুখ গম্ভীর এবং কপাল কুঞ্চিত হইয়া উঠিল। এই দানের সম্পত্তি অকিঞ্চিৎকর নয়, কয়েক পৃষ্ঠা ব্যাপিয়া তাহার বিবরণ, সেইগুলির উপর কোনমতে চোখ বুলাইয়া লইয়া অবশেষে শেষ পাতায় যখন তাহার জীবানন্দের সেই চিঠিখানার প্রতি দৃষ্টি পড়িল, তখন লাইন কয়েকের সেই লিখনটুকু এক নিশ্বাসে পড়িয়া ফেলিয়া নির্ম্মল স্তব্ধ হইয়া রহিল। {{ফাঁক}}ফকির তাহার মুখের ভাব লক্ষ্য করিতেছিলেন, বলিলেন, সংসারে কত বিস্ময়ই না আছে! {{ফাঁক}}নির্ম্মলের মুখ দিয়া দীর্ঘনিশ্বাস বাহির হইয়া আসিল, সে ঘাড় নাড়িয়া শুধু কহিল, হাঁ। {{ফাঁক}}ফকির কহিলেন, খসড়াটা ঠিক ত? {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, ঠিক। কিন্তু এ যে সত্য তার প্রমাণ কি? {{ফাঁক}}ফকির বলিলেন, নইলে দান ষোড়শী নিতেন না। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হবে নির্ম্মলবাবু? এই বলিয়া তিনি উৎসুক-নেত্রে চাহিয়া রহিলেন, কিন্তু জবাব পাইলেন না। নির্ম্মলের চোখের দৃষ্টি ঝাপ্সা এবং কপাল কুঞ্চিত হইয়াই রহিল, মন যে তাহার কোথায় গিয়াছিল, ফকির বোধকরি তাহা অনুমান করিতে পারিলেন না। {{nop}}<noinclude>{{c|২১৬}}</noinclude> en19wrpedqopoaruz3zibo256vtrwgp পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৪২ 104 883223 1990315 2026-07-20T04:35:58Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990315 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>দিতে পারি। কিছুকাল আগে কলিকাতা ইউনিভার্সিটি ইনষ্টিট্যুটের উদ্যোগে বয়স্ক শিক্ষাদানের যে ব্যবস্থা হইয়াছিল, তাহা নিষ্ফল হয় নাই। আহ্বানমাত্র ছাত্রগণ দলেদলে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছিলেন এবং উপযুক্ত শিক্ষকের নিকট শিক্ষাদান পদ্ধতি শিখিয়া লইয়া দীর্ঘ অবকাশে আপনআপন গ্রামে গিয়া বয়স্ক নিরক্ষরদিগকে শিক্ষা দিয়াছিলেন। সমগ্র দেশে ব্যাপকভাবে এই শিক্ষাদান-কার্য চালাইতে হইলে একটি প্রতিষ্ঠানের শক্তিই যথেষ্ট হইতে পারে না। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাহিত্য-সমিতি, গ্রন্থাগার-সমিতি প্রভৃতি এই কাজে সহযোগিতা করিলে আমাদেরই অশিক্ষিত ভ্রাতা-ভগিনীরা, যাহারা আজ সমাজের ভারস্বরূপ, তাহারাই সমাজের সুযোগ্য সভ্য বলিয়া গণ্য হইবে। বাঙলাদেশে দুই হাজারের কাছাকাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। এই সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ উচ্চতর শ্রেণীর ছাত্রদের সহায়তায় নিরক্ষর দেশবাসীকে মাতৃভাষা শিক্ষা দিবার উদ্দেশ্যে যদি অবসর সময়ের কিয়দংশ ব্যয় করিতে প্রস্তুত হন, তাহা হইলে দেশমাতার প্রকৃত সেবা করা হইবে। অর্থের প্রয়োজন সব কাজেই আছে, তাহা আমি বিস্মৃত হই নাই। কিন্তু আমার বিশ্বাস বর্তমানে দেশে জাতীয়তাবোধ যে ভাবে জাগ্রত হইতেছে, তাহাতে কোনো মহৎকার্যই অর্থের অভাবে আটকাইয়া যাইবে না। কাজ আরম্ভ করিলে দেশবাসীর সহানুভূতি ও সহযোগিতা দুর্লভ হইবে না। {{ফাঁক}}প্রশ্ন উঠিতে পারে, বাঙলা ভাষার মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে শিক্ষা প্রসারের জন্য কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান—যথা, বিশ্বভারতীর অন্তর্গত লোকশিক্ষা-সংসদ, শান্তিপুর পুরাণ-পরিষদ এবং প্রবাসী - বঙ্গসাহিত্যসম্মেলনের অন্তর্গত পরীক্ষা-পরিষদ-ইতিপূর্বেই এ কাজে হাত দিয়াছেন। কয়েক বৎসর যাবৎ তাঁহারা আপনআপন কার্যে ব্রতী আছেন, কিন্তু আশানুরূপ ফললাভ হইয়াছে কি? বস্তুতঃ কি আশা লইয়া উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্তৃপক্ষ কর্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন এবং তাঁহাদের আশা কতটা সাফল্য লাভ করিয়াছে, তাহা তাঁহারাই বলিতে পারেন। এ স্থলে আমি সবিনয়ে এই কথা বলিতে চাই যে, কেবলমাত্র পরীক্ষাগ্রহণ দ্বারাই প্রকৃত শিক্ষাদান সম্ভব নহে। {{ফাঁক}}লোকশিক্ষা-সংসদ এবং পরীক্ষা-পরিষদের নিয়মাবলী আমি<noinclude>{{কেন্দ্র|৩৬}}</noinclude> g4aodojimk0bvchx1yxpygkjiybhkpg পাতা আলাপ:তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা (অষ্টম কল্প প্রথম খণ্ড).pdf/১৯৮ 105 883224 1990317 2026-07-20T08:13:08Z ~2026-40680-35 22290 ""অবতীতি ওমিতি প্রোক্তং বিষ্ণোর্বাচকমব্যয়ম্ । সর্ববেদেষু কূটস্থং সবিশেষং সনাতনম্ ॥" এই স্কুকটি কোথায় পায়া যাবে ~~~~" দিয়ে পাতা তৈরি 1990317 wikitext text/x-wiki "অবতীতি ওমিতি প্রোক্তং বিষ্ণোর্বাচকমব্যয়ম্ । সর্ববেদেষু কূটস্থং সবিশেষং সনাতনম্ ॥" এই স্কুকটি কোথায় পায়া যাবে [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-40680-35|&#126;2026-40680-35]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-40680-35|আলাপ]]) ০৮:১৩, ২০ জুলাই ২০২৬ (ইউটিসি) 0u2f4jj4nk0sygltuuoj9zmb3qwmgza