উইকিপিডিয়া bpywiki https://bpy.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.9 first-letter মিডিয়া বিশেষ য়্যারী আতাকুরা আতাকুরার য়্যারী উইকিপিডিয়া উইকিপিডিয়া য়্যারী ছবি ছবি য়্যারী মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকির য়্যারী মডেল মডেলর য়্যারী পাংলাক পাংলাকর য়্যারী থাক থাকর য়্যারী হমিলদুৱার হমিলদুৱার য়্যারী TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা মহাস্থানগড় 0 56687 897166 897164 2026-07-05T12:45:54Z ~2026-38307-56 28324 /* কালীদহ সাগর */ 897166 wikitext text/x-wiki [[Image:BD Mahasthangarh1.JPG|right|thumb|250px|মহাস্থানগড়]] মহাস্থানগড় [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশর]] পুরানা আমলর পুরাকীর্তি আহান। আগে এহার নাঙহান আসিল পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধন। সময আহাত মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানীগো আসিল। এপেই [[মৌর্য রাজবংশ|মৌর্য]], [[গুপ্ত]], [[পাল রাজবংশ|পাল]], [[সেন রাজবংশ|সেন]] সাম্রাজ্যর আবকচা নিদর্শন বিসারিয়া পাসি। এগোর অবস্থান [[বগুড়া|বগুড়া জেলার]] [[শিবগঞ্জ থানা]] থানাত। বগুড়া টাউনেত্ত লামসাম ১০ কি.মি অয়াঙেদে মহাস্থানগড়র অবস্থান। ==ইতিহাস== বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে পুন্ড্রনগরে এসেছিলেন। ভ্রমণের ধারাবিবরণীতে তিনি তখনকার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার উল্লেখ করে বর্ণনা দেন। বৌদ্ধ শিক্ষার জন্য প্রসিদ্ধ হওয়ায় চীন ও তিব্বত থেকে ভিক্ষুরা তখন মহাস্থানগড়ে আসতেন লেখাপড়া করতে ।এরপর তারা বেরিয়ে পড়তেন দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।সেখানে গিয়ে তারা বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষার বিস্তার ঘটাতেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে,গৌতম বুদ্ধের সম্মানে সম্রাট অশোক এখানে স্তুপ নির্মাণ করেছিলেন। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম সে স্তুপটিকে হিউয়েন সাঙ বর্ণিত অশোকস্তুপ হিসেবে শনাক্ত করেন। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্যণসেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। মহাস্থানের রাজা ছিলেন নল যার বিরোধ লেগে থাকত তার ভাই নীল এর সাথে। এসময় ভারতের দক্ষিণাত্যের শ্রীক্ষেত্র নামক স্থান থেকে এক অভিশপ্ত ব্রাহ্মণ এখানে আসেন। তিনি রাজা পরশুরাম। এই রাজা পরশুরাম রাম নামেও পরিচিত ছিলেন। ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে আসেন ফকির বেশি দরবেশ হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলেন (র:) এবং তার শিষ্য। ধর্ম প্রচারক শাহ সুলতান বলখী সম্পর্কে রয়েছে আশ্চর্য কিংবদন্তী। কথিত আছে, তিনি মহাস্থানগড় অর্থাৎ প্রাচীন পুন্ড্রনগরে প্রবেশ করার সময় করতোয়া নদী পার হয়েছিলেন একটা বিশাল মাছের আকৃতির নৌকার পিঠে চড়ে। ==দর্শনীয় জায়গা == ===মাজার শরীফ=== অনেক ঐতিহাসিক ও স্থানীয় লোকের মতে এটি হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার। মহাস্থান বাস স্ট্যান্ড থেকে কিছুটা পশ্চিমে এ মাজার শরীফ অবস্থিত। শাহ সুলতান বলখী (র:) ১৪শ শতাব্দীর একজন ইসলাম ধর্ম প্রচারক ছিলেন। কথিত আছে মাছ আকৃতির নৌকাতে করে তার শিষ্যদের নিয়ে বরেন্দ্র ভূমিতে আসেন। সেখান থেকে তার নাম এসেছে মাহিসাওয়ার (মাছের পিঠে করে আগমনকারী) এবং তিনি বল্যখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন বিধায় তাকে শাহ সুলতান বলখী ও বলা হয় । ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেব সৈয়দ রেজা, সৈয়দ তাহির, সৈয়দ আব্দুল রাম্মান (তিন ভাই) কে এই মাজারকে জামিনদার দেখাশোনার দায়িত্ব প্রদান করেন। স্থানীয় লোকজন শাহ সুলতান মাহিসাওয়ারকে খুব সম্মান করে। ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসলমান তাদের নানা সমস্যার সমাধান ও মানত করতে এই মাজারে আসেন। ===কালীদহ সাগর=== গড়ের পশ্চিম অংশে এবং গড়ের পশ্চিম অংশে রয়েছে ঐতিহাসিক কালীদহ সাগর ও পদ্মাদেবীর বাসভবন। কালীদহ সাগর সংলগ্ন ঐতিহাসিক গড় জড়িপা নামক একটি মাটির দুর্গ রয়েছে। প্রাচীন এই কালীদহ সাগরে প্রতি বছরের মার্চ মাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর রারুন্নী স্নান অনুষ্ঠিত হয়। স্নান শেষে পুণ্যার্থীগণ সাগরপারে গঙ্গাপূজা ও সংকীর্তণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ===শীলাদেবীর ঘাট=== গড়ের পূর্বপাশে রয়েছে করতোয়া নদী এর তীরে " শীলাদেবীর ঘাট "। শীলাদেবী ছিলেন পরশুরামের বোন। এখানে প্রতি বছর হিন্দুদের স্নান হয় এবং একদিনের একটি মেলা বসে। ===জিয়ৎকুন্ড=== এই ঘাটের পশ্চিমে জিয়ৎ কুন্ড নামে একটি বড় কুপ রয়েছে , যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কথিত আছে এই কুপের পানি পান করে পরশুরামের আহত সৈন্যরা সুস্থ হয়ে যেত। যদিও এর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ===জাদুঘর === বগুড়া থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তরে এবং মহাস্থানগড় থেকে সামান্য উত্তরে গোবিন্দ ভিটার ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে। প্রথমদিকে ৩ একর জায়গার উপর জাদুঘরের মূল অংশ টি থাকলে নানা সময়ে সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে এর পরিধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ একরে। ===বেহুলার বাসর ঘর === মহাস্থানগড় বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে একটি বৌদ্ধ স্তম্ভ রয়েছে যা সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। স্তম্ভের পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোণ বিশিষ্ট চৌবাচ্চা সদৃশ একটি গোসল খানা। এটি বেহুলার বাসর ঘর নামেই বেশি পরিচিত। ==তথ্যমালা== [[থাক:ইতিহাস]] hdeot6d73qhcilx14nryyeh8qbtz797 897167 897166 2026-07-06T08:18:53Z ~2026-38307-56 28324 /* দর্শনীয় জায়গা */ 897167 wikitext text/x-wiki [[Image:BD Mahasthangarh1.JPG|right|thumb|250px|মহাস্থানগড়]] মহাস্থানগড় [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশর]] পুরানা আমলর পুরাকীর্তি আহান। আগে এহার নাঙহান আসিল পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধন। সময আহাত মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানীগো আসিল। এপেই [[মৌর্য রাজবংশ|মৌর্য]], [[গুপ্ত]], [[পাল রাজবংশ|পাল]], [[সেন রাজবংশ|সেন]] সাম্রাজ্যর আবকচা নিদর্শন বিসারিয়া পাসি। এগোর অবস্থান [[বগুড়া|বগুড়া জেলার]] [[শিবগঞ্জ থানা]] থানাত। বগুড়া টাউনেত্ত লামসাম ১০ কি.মি অয়াঙেদে মহাস্থানগড়র অবস্থান। ==ইতিহাস== বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে পুন্ড্রনগরে এসেছিলেন। ভ্রমণের ধারাবিবরণীতে তিনি তখনকার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার উল্লেখ করে বর্ণনা দেন। বৌদ্ধ শিক্ষার জন্য প্রসিদ্ধ হওয়ায় চীন ও তিব্বত থেকে ভিক্ষুরা তখন মহাস্থানগড়ে আসতেন লেখাপড়া করতে ।এরপর তারা বেরিয়ে পড়তেন দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।সেখানে গিয়ে তারা বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষার বিস্তার ঘটাতেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে,গৌতম বুদ্ধের সম্মানে সম্রাট অশোক এখানে স্তুপ নির্মাণ করেছিলেন। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম সে স্তুপটিকে হিউয়েন সাঙ বর্ণিত অশোকস্তুপ হিসেবে শনাক্ত করেন। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্যণসেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। মহাস্থানের রাজা ছিলেন নল যার বিরোধ লেগে থাকত তার ভাই নীল এর সাথে। এসময় ভারতের দক্ষিণাত্যের শ্রীক্ষেত্র নামক স্থান থেকে এক অভিশপ্ত ব্রাহ্মণ এখানে আসেন। তিনি রাজা পরশুরাম। এই রাজা পরশুরাম রাম নামেও পরিচিত ছিলেন। ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে আসেন ফকির বেশি দরবেশ হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলেন (র:) এবং তার শিষ্য। ধর্ম প্রচারক শাহ সুলতান বলখী সম্পর্কে রয়েছে আশ্চর্য কিংবদন্তী। কথিত আছে, তিনি মহাস্থানগড় অর্থাৎ প্রাচীন পুন্ড্রনগরে প্রবেশ করার সময় করতোয়া নদী পার হয়েছিলেন একটা বিশাল মাছের আকৃতির নৌকার পিঠে চড়ে। ==দর্শনীয় জায়গা == মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। এখানে বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে মহাস্থানগড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে । ===মাজার শরীফ=== অনেক ঐতিহাসিক ও স্থানীয় লোকের মতে এটি হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার। মহাস্থান বাস স্ট্যান্ড থেকে কিছুটা পশ্চিমে এ মাজার শরীফ অবস্থিত। শাহ সুলতান বলখী (র:) ১৪শ শতাব্দীর একজন ইসলাম ধর্ম প্রচারক ছিলেন। কথিত আছে মাছ আকৃতির নৌকাতে করে তার শিষ্যদের নিয়ে বরেন্দ্র ভূমিতে আসেন। সেখান থেকে তার নাম এসেছে মাহিসাওয়ার (মাছের পিঠে করে আগমনকারী) এবং তিনি বল্যখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন বিধায় তাকে শাহ সুলতান বলখী ও বলা হয় । ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেব সৈয়দ রেজা, সৈয়দ তাহির, সৈয়দ আব্দুল রাম্মান (তিন ভাই) কে এই মাজারকে জামিনদার দেখাশোনার দায়িত্ব প্রদান করেন। স্থানীয় লোকজন শাহ সুলতান মাহিসাওয়ারকে খুব সম্মান করে। ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসলমান তাদের নানা সমস্যার সমাধান ও মানত করতে এই মাজারে আসেন। ===কালীদহ সাগর=== গড়ের পশ্চিম অংশে এবং গড়ের পশ্চিম অংশে রয়েছে ঐতিহাসিক কালীদহ সাগর ও পদ্মাদেবীর বাসভবন। কালীদহ সাগর সংলগ্ন ঐতিহাসিক গড় জড়িপা নামক একটি মাটির দুর্গ রয়েছে। প্রাচীন এই কালীদহ সাগরে প্রতি বছরের মার্চ মাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর রারুন্নী স্নান অনুষ্ঠিত হয়। স্নান শেষে পুণ্যার্থীগণ সাগরপারে গঙ্গাপূজা ও সংকীর্তণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ===শীলাদেবীর ঘাট=== গড়ের পূর্বপাশে রয়েছে করতোয়া নদী এর তীরে " শীলাদেবীর ঘাট "। শীলাদেবী ছিলেন পরশুরামের বোন। এখানে প্রতি বছর হিন্দুদের স্নান হয় এবং একদিনের একটি মেলা বসে। ===জিয়ৎকুন্ড=== এই ঘাটের পশ্চিমে জিয়ৎ কুন্ড নামে একটি বড় কুপ রয়েছে , যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কথিত আছে এই কুপের পানি পান করে পরশুরামের আহত সৈন্যরা সুস্থ হয়ে যেত। যদিও এর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ===জাদুঘর === বগুড়া থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তরে এবং মহাস্থানগড় থেকে সামান্য উত্তরে গোবিন্দ ভিটার ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে। প্রথমদিকে ৩ একর জায়গার উপর জাদুঘরের মূল অংশ টি থাকলে নানা সময়ে সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে এর পরিধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ একরে। ===বেহুলার বাসর ঘর === মহাস্থানগড় বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে একটি বৌদ্ধ স্তম্ভ রয়েছে যা সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। স্তম্ভের পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোণ বিশিষ্ট চৌবাচ্চা সদৃশ একটি গোসল খানা। এটি বেহুলার বাসর ঘর নামেই বেশি পরিচিত। ==তথ্যমালা== [[থাক:ইতিহাস]] hjyv516qk53gc5x4tmwoklk00nv08yq 897168 897167 2026-07-06T08:24:47Z ~2026-38307-56 28324 /* জাদুঘর */ 897168 wikitext text/x-wiki [[Image:BD Mahasthangarh1.JPG|right|thumb|250px|মহাস্থানগড়]] মহাস্থানগড় [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশর]] পুরানা আমলর পুরাকীর্তি আহান। আগে এহার নাঙহান আসিল পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধন। সময আহাত মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানীগো আসিল। এপেই [[মৌর্য রাজবংশ|মৌর্য]], [[গুপ্ত]], [[পাল রাজবংশ|পাল]], [[সেন রাজবংশ|সেন]] সাম্রাজ্যর আবকচা নিদর্শন বিসারিয়া পাসি। এগোর অবস্থান [[বগুড়া|বগুড়া জেলার]] [[শিবগঞ্জ থানা]] থানাত। বগুড়া টাউনেত্ত লামসাম ১০ কি.মি অয়াঙেদে মহাস্থানগড়র অবস্থান। ==ইতিহাস== বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে পুন্ড্রনগরে এসেছিলেন। ভ্রমণের ধারাবিবরণীতে তিনি তখনকার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার উল্লেখ করে বর্ণনা দেন। বৌদ্ধ শিক্ষার জন্য প্রসিদ্ধ হওয়ায় চীন ও তিব্বত থেকে ভিক্ষুরা তখন মহাস্থানগড়ে আসতেন লেখাপড়া করতে ।এরপর তারা বেরিয়ে পড়তেন দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।সেখানে গিয়ে তারা বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষার বিস্তার ঘটাতেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে,গৌতম বুদ্ধের সম্মানে সম্রাট অশোক এখানে স্তুপ নির্মাণ করেছিলেন। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম সে স্তুপটিকে হিউয়েন সাঙ বর্ণিত অশোকস্তুপ হিসেবে শনাক্ত করেন। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্যণসেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। মহাস্থানের রাজা ছিলেন নল যার বিরোধ লেগে থাকত তার ভাই নীল এর সাথে। এসময় ভারতের দক্ষিণাত্যের শ্রীক্ষেত্র নামক স্থান থেকে এক অভিশপ্ত ব্রাহ্মণ এখানে আসেন। তিনি রাজা পরশুরাম। এই রাজা পরশুরাম রাম নামেও পরিচিত ছিলেন। ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে আসেন ফকির বেশি দরবেশ হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলেন (র:) এবং তার শিষ্য। ধর্ম প্রচারক শাহ সুলতান বলখী সম্পর্কে রয়েছে আশ্চর্য কিংবদন্তী। কথিত আছে, তিনি মহাস্থানগড় অর্থাৎ প্রাচীন পুন্ড্রনগরে প্রবেশ করার সময় করতোয়া নদী পার হয়েছিলেন একটা বিশাল মাছের আকৃতির নৌকার পিঠে চড়ে। ==দর্শনীয় জায়গা == মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। এখানে বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে মহাস্থানগড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে । ===মাজার শরীফ=== অনেক ঐতিহাসিক ও স্থানীয় লোকের মতে এটি হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার। মহাস্থান বাস স্ট্যান্ড থেকে কিছুটা পশ্চিমে এ মাজার শরীফ অবস্থিত। শাহ সুলতান বলখী (র:) ১৪শ শতাব্দীর একজন ইসলাম ধর্ম প্রচারক ছিলেন। কথিত আছে মাছ আকৃতির নৌকাতে করে তার শিষ্যদের নিয়ে বরেন্দ্র ভূমিতে আসেন। সেখান থেকে তার নাম এসেছে মাহিসাওয়ার (মাছের পিঠে করে আগমনকারী) এবং তিনি বল্যখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন বিধায় তাকে শাহ সুলতান বলখী ও বলা হয় । ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেব সৈয়দ রেজা, সৈয়দ তাহির, সৈয়দ আব্দুল রাম্মান (তিন ভাই) কে এই মাজারকে জামিনদার দেখাশোনার দায়িত্ব প্রদান করেন। স্থানীয় লোকজন শাহ সুলতান মাহিসাওয়ারকে খুব সম্মান করে। ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসলমান তাদের নানা সমস্যার সমাধান ও মানত করতে এই মাজারে আসেন। ===কালীদহ সাগর=== গড়ের পশ্চিম অংশে এবং গড়ের পশ্চিম অংশে রয়েছে ঐতিহাসিক কালীদহ সাগর ও পদ্মাদেবীর বাসভবন। কালীদহ সাগর সংলগ্ন ঐতিহাসিক গড় জড়িপা নামক একটি মাটির দুর্গ রয়েছে। প্রাচীন এই কালীদহ সাগরে প্রতি বছরের মার্চ মাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর রারুন্নী স্নান অনুষ্ঠিত হয়। স্নান শেষে পুণ্যার্থীগণ সাগরপারে গঙ্গাপূজা ও সংকীর্তণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ===শীলাদেবীর ঘাট=== গড়ের পূর্বপাশে রয়েছে করতোয়া নদী এর তীরে " শীলাদেবীর ঘাট "। শীলাদেবী ছিলেন পরশুরামের বোন। এখানে প্রতি বছর হিন্দুদের স্নান হয় এবং একদিনের একটি মেলা বসে। ===জিয়ৎকুন্ড=== এই ঘাটের পশ্চিমে জিয়ৎ কুন্ড নামে একটি বড় কুপ রয়েছে , যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কথিত আছে এই কুপের পানি পান করে পরশুরামের আহত সৈন্যরা সুস্থ হয়ে যেত। যদিও এর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ===জাদুঘর === বগুড়া থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তরে এবং মহাস্থানগড় থেকে সামান্য উত্তরে গোবিন্দ ভিটার ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে। প্রথমদিকে ৩ একর জায়গার উপর জাদুঘরের মূল অংশ টি থাকলে নানা সময়ে সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে এর পরিধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ একরে। মহাস্থান গড় খননের ফলে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও অন্যান্য রাজবংশের হাজার বছরের পুরান অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন সোনা, রুপা, লোহা, ব্রোঞ্জ, পাথর, কাসাসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতব পদার্থ, ===বেহুলার বাসর ঘর === মহাস্থানগড় বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে একটি বৌদ্ধ স্তম্ভ রয়েছে যা সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। স্তম্ভের পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোণ বিশিষ্ট চৌবাচ্চা সদৃশ একটি গোসল খানা। এটি বেহুলার বাসর ঘর নামেই বেশি পরিচিত। ==তথ্যমালা== [[থাক:ইতিহাস]] 7qitqnis1uiivqfsrl5x87bxf3qaic6