উইকিবই bnwikibooks https://bn.wikibooks.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.6 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিবই উইকিবই আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা উইকিশৈশব উইকিশৈশব আলাপ বিষয় বিষয় আলাপ রন্ধনপ্রণালী রন্ধনপ্রণালী আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil 3 10826 106596 106568 2026-06-09T14:36:05Z MdsShakil 7280 /* সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা */ উত্তর 106596 wikitext text/x-wiki {{সংগ্রহশালাসমূহ}} == সমাধান প্রয়োজন == আমি [[ইউরোপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস/১৯১৪ সাল থেকে ইউরোপ|একটা পাতা]] নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে ওতে আমার নাম যোগ করে রেখেছিলাম। তখনও পাতাটির শিরোনাম লাল রঙের দেখাচ্ছিল অর্থাৎ পাতাটিতে কেউ তখনও লেখা শুরু করে নি। কিন্তু পরবর্তীতে অনুবাদ শেষ করার পর পাতা সম্পাদনা করতে গিয়ে দেখি অন্য একজন সেটা সম্পাদনা করেছে এবং জমা দিয়ে দিয়েছে। অন্যের নামে যোগ করা পাতা সম্পাদনা করা কি শৃঙ্খলাবহির্ভূত নয়? [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ১৩:১১, ৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :আপনার শুরু করার সময় কার কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আপনার অনুবাদ তা স্বীকৃতি পাবে [[বিশেষ:অবদান/103.215.227.181|103.215.227.181]] ১৩:২৩, ২১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Article check == আমার লেখা আর্টিকেলটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করার জন্য অনুরোধ করছি উইকিশৈশব:মজার বৈজ্ঞানিক গবেষণা/How to make a needle float, and how to make it sink [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ০৪:১৫, ৮ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতাটি বাংলা ভাষায় লিখুন —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:২৮, ৯ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১৫:৫২, ১১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Point == '''আমার লেখা প্রতিটি আর্টিক্যালে আপনি শূন্য পয়েন্ট দিচ্ছেন। আপনি পুনরায় ভালো করে আর্টিক্যালগুলি চেক করে দেখুন! কোন ত্রুটি নেই, নিজের লেখা আর্টিক্যাল। দয়া করে আর্টিকেল গুলির পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে নাম্বার দেবেন। খাতা সংশোধন করার পরে নম্বর দেওয়ার অনুমতি আছে, কিছু আপনি দিচ্ছেন না। আমার কর্তব্য সবাইয়ের কাছে সহজ ভাবে বিষযগুলির ব্যাখ্যা দেওয়া, আপনার পছন্দ হলে গ্রহণ করবেন। সবকিছুই সময়ের উপর নির্ভর করে। ''' আপনি যখন পয়েন্ট দিচ্ছেন তার টাইম কোন নির্দিষ্ট নেই, খাতা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই পয়েন্ট দিচ্ছেন, যেগুলো পয়েন্ট দেননি তো দেন-ই-নি। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:০৫, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতা সম্পূর্ণ না করে জমা দিবেন না। গৃহিত হয়নি এমন পাতা সংশোধন করে জানালে সেটা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১২:০৯, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::এখনো পর্যন্ত আমি যে কটা আর্টিকেল বা পাতা লিখেছি সবকটি আজকেই সংশোধন করা হয়েছে দেখতে পারেন। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:৪৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] আপনার লেখা পাতাগুলো গুগল অনুবাদ বা যান্ত্রিক অনুবাদে পরিপূর্ণ। এগুলো সরল ও প্রাজ্ঞল ভাষায় লিখুন যাতে পড়লেই সহজে বোঝা যায়। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:৩৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == ফাউনন্টেন সমাধান == উইকিশৈশব:ভাষা/আইসল্যান্ডীয় যোগ করতে পারছি না ফাউনন্টেনের মাধ্যমে। বলছে- Another user has already added this article to the editathon [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৭:২০, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] এখন চেষ্টা করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৪:০০, ২৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == টুলফোর্জ এ সমস্যা == প্রতিযোগিতার সময়সীমা কি বাড়ানো হয়েছে? টুলফোর্জ কিন্তু দেখাচ্ছে এখনো ১৭ ঘণ্টা বাকি আছে। [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ০৬:৪৫, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরি পাতাগুলো এই সময়ে শুধুমাত্র জমা দেওয়া যাবে, সময় বৃদ্ধি করা হয়নি। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৭, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == A barnstar for you! == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Original Barnstar Hires.png|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''The Original Barnstar''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | original [[ব্যবহারকারী:Md Aahradul Islam Tasin|Md Aahradul Islam Tasin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Aahradul Islam Tasin|আলাপ]]) ০৯:২৫, ৫ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) |} == সংশোধন করা হলো == জনাব,<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/লেখক<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/তথ্যসূত্র<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/আরো পড়ুন<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় আইসিটি একীভূত করার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের সমস্যা<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/ভূমিকা<br /> পাতাগুলো সংশোধন করা হলো<br /> এগুলি ইংরেজি https://en.wikibooks.org/wiki/ICT_in_Education পা্তা থেকে অনুবা্দ করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ০৭:১০, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] পাতাগুলোতে থাকা যান্ত্রিক ও জটিলতায় পরিপূর্ণ অনুবাদ গুলো প্রাঞ্জল ও সরল ভাষায় লিখতে হবে, আমি এখনও পাতাগুলোতে যান্ত্রিক অনুবাদ দেখতে পাচ্ছি। পাতাগুলো নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:২৭, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) ::সবগুলি পাতা সংশোধন করা হয়েছে। এবা্র একটু দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:৩৯, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর পাতাটি সংশোধন দেখে জানাবেন ঠিক আছে কিনা। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:২৪, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == সংশোধন করা হলো == পরিবহনে বিজ্ঞান/সময়সূচী ও সময় নির্ধারণ - এটা যান্ত্রিক অনুবাদ সংশোধন করা হল। [[ব্যবহারকারী:Sourav saha032|Sourav saha032]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sourav saha032|আলাপ]]) ১৬:১৪, ১৭ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSepliAn9c9o4ISEM6ck_jWW0H_W0pr9596OfZAGy6q_UfTOFw/viewform?usp=sf_link এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১০:৩৩, ২৯ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69608-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest barnstar.svg|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | সুপ্রিয় MdsShakil,<br />বাংলা উইকিবইয়ে সম্প্রতি আয়োজিত, '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]''' শীর্ষক গ্রন্থলিখন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায় আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতায় তালিকাভুক্ত গ্রন্থ/গ্রন্থপৃষ্ঠা তৈরির মাধ্যমে বাংলা উইকিবইয়ের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখায়, শুভেচ্ছাস্মারক হিসেবে আপনাকে এই উইকিপদকটি প্রদান করা হলো। আশা করি বাংলা উইকিবইয়ের পথচলায় আপনার সরব ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে থাকুন‌। <br />শুভেচ্ছান্তে, <br />'''[[User:MdsShakil|শাকিল হোসেন]]''' <br />সমন্বয়ক, উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ <br />১০:৩৩, ২৪ আগস্ট ২০২৪ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69912-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == টেমপ্লেট:তাক == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] কিছু সমস্যা ছিল টেমপ্লেটে তবে সেগুলো সংশোধন করেছি। সময় পেলে একটু পরীক্ষা করে দেখবেন [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ১১:৩৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] আপনি না একবার সংশোধন করেছিলেন? কি সমস্যা হয়েছিলো আবার? —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৮:০৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) ::বিষয়শ্রেণী যুক্ত হচ্ছিল না। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:১১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :::টেমপ্লেট:বিভাগ এও কিছু সমস্যা পেয়েছি বিকালে ঠিক করব ইনশাল্লাহ [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) == Notice of expiration of your sysop right == <div dir="ltr">Hi, as part of [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot|Global reminder bot]], this is an automated reminder to let you know that your permission "sysop" (প্রশাসক) will expire on 2025-04-06 14:24:19. Please renew this right if you would like to continue using it. <i>In other languages: [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot/Messages/default|click here]]</i> [[ব্যবহারকারী:Leaderbot|Leaderbot]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Leaderbot|আলাপ]]) ১৯:৪২, ৩০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি)</div> == [[টেমপ্লেট:Printable]] == [[টেমপ্লেট:Printable]] কাজ করছে না। দয়া করে নিশ্চিত করুন যে এটি সঠিকভাবে কাজ করা। [[ব্যবহারকারী:Somajyoti|Somajyoti]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Somajyoti|আলাপ]]) ১৪:০৬, ১০ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ]] == {| style="background-color: #f8f9fa; border: 1px solid #ced4da; padding:10px; color: #212529;" |- |[[File:Bangla Wikibooks Writing contest 2025 Banner (2).png|frameless|center|300px|link=[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]]]<br/> সুপ্রিয় MdsShakil, আশা করি এই গ্রীষ্মের এই রৌদ্রোজ্জ্বল তপ্ত আবহাওয়াতেও ভালো আছেন। আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, গত ৭ মে থেকে বাংলা উইকিবইয়ে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]''' শীর্ষক একটি বই লিখন ও অনুবাদ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ‌আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতাটি অভিজ্ঞ, অনভিজ্ঞ ও নতুন ব্যবহারকারী সকলের জন্যই মুক্ত।  অন্যান্য ভাষার উইকিবইয়ের চাইতে বাংলা উইকিবইয়ে অবদানকারীর সংখ্যা নিতান্তই কম, এমনকি সংখ্যাটি বাংলা উইকিপিডিয়ার তুলনায়ও নগণ্য। অথচ ডিজিটাল বইয়ের এই যুগে বাংলা উইকিবই যথেষ্ট গুরত্বের দাবি রাখে। এজন্য আমাদের আরও স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। আশা করি আপনি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন ও উইকিবইকে সমৃদ্ধ করবেন। বিস্তারিত [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|প্রকল্প পাতায়]] দেখুন। '''শীর্ষ অবদানকারীদের জন্য পুরষ্কার''' * ১ম স্থান অধিকারকারী ― ৬০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ২য় স্থান অধিকারকারী ― ৪০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৩য় স্থান অধিকারকারী ― ৩০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৪র্থ স্থান অধিকারকারী ― ২৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৫ম স্থান অধিকারকারী ― ২০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৬ষ্ঠ থেকে ১০তম স্থান অধিকারকারী (৫ জন) ― ৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলে ― ডিজিটাল সনদপত্র প্রতিযোগিতায় আপনাকে স্বাগত।<br /> শুভেচ্ছান্তে, <br /> —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=74028-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == [[রন্ধনপ্রণালী:ঘেভার]] == পরিবর্তন করা হয়েছে, যাচাই করুন [[ব্যবহারকারী:MD Abu Siyam|MD Abu Siyam]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Abu Siyam|আলাপ]]) ০১:২৪, ১২ জুন ২০২৫ (ইউটিসি) == [[প্রকৌশল শব্দবিজ্ঞান/শীতলকারী পাখার শব্দ]] == পাতাটি ঠিক করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M.Asaduzzaman sahed|আলাপ]]) ২০:০০, ৬ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] পাতাটিকে এখনও ইংরেজি পরিভাষা এবং যান্ত্রিক অনুবাদ বিদ্যমান। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ২০:৩২, ৭ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে]]। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeSlGIk88-dNR79Vg5RytY6gIObKICFqrwc3ljN6Dw6YDn5IQ/viewform?usp=header এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৬, ৮ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=85872-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিশৈশবে 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বাইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে! == প্রিয় শাকিল ভাই, আশাকরি সপরিবারে কুশলে আছেন। আমি দেখলাম আমার লেখা 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে। এটা ঠিক করে দেওয়া দরকার। যথাশীঘ্র ব্যবস্থা নেবেন আশা রাখছি। ধন্যবাদসহ, [[ব্যবহারকারী:Sumasa|সুকান]] সুকান ১৬:২৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) == পুনঃপর্যালোচনা জন্য == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, [[রৈখিক বীজগণিত/শব্দকোষ]] পাতাটিতে অ,আ,ক,খ অনুক্রমে সাজিয়েছি। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:JIBON|JIBON]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৭:১৩, ২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :{{done}} —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}},<br>আপনি জেনে খুশি হবেন যে বাংলা উইকিবইয়ে নতুন বই তৈরির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]]'''। ১ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় আপনি ইংরেজি উইকিবই থেকে মানসম্মত পাতা বাংলায় অনুবাদ করার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য রয়েছে মোট ৬০০০ টাকা পর্যন্ত গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র, এবং কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলেই থাকছে ডিজিটাল সনদপত্র। অংশগ্রহণকারীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে মোবাইল ইন্টারনেট সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত নিয়মাবলি এবং অন্যান তথ্য জনতে আমাদের [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|প্রকল্প পাতাটি]] দেখুন। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের [https://t.me/bnwikibooks টেলিগ্রাম গ্রুপে] যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলা উইকিবইকে আরও সমৃদ্ধ করবে। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0/%E0%A7%A7&oldid=93268-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == Help chai.. == wiki contest e article submit kmne korbo ekthu help korben? [[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:WazedAlif|আলাপ]]) ০৪:০৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] [https://fountain.toolforge.org/editathons/wrcbn2026 এই লিংকে] যেয়ে সাবমিট করেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৪:২৮, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == আমি পুনরায় "মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/চেম্বার অব সিক্রেটস/অধ্যায় ১৭" বইটি সংশোধন করেছি। দয়া করে আবার পর্যবেক্ষণ করে দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oviroy Sarker|আলাপ]]) ১৬:১৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৫, ৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ভেক্টর জগতের সংজ্ঞা == জি, সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Mushfique Anan|আলাপ]]) ১০:৩৬, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|Kazi Mushfique Anan]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:১৭, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]] পাতাটি সম্পর্কে == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, এই ব্যবহারকারীর([[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]]) পাতাটি মনে হচ্ছে খুব সম্ভবত [[w:WP:U5]] অনুসারে দ্রুত অপসারণযোগ্য। ওনার বাইনারি বার্তা ডিকোড করলে হয়, <code>Note: The following code is a simulation of a Stuxnet-like structure for educational purposes. It is not functional malware and does not contain any harmful actions. Please use this example responsibly and do not modify it for malicious purposes.</code> নিচে যে কোড দেয়া তা এক্সিকিঊট করা সম্ভব, বর্তমানে এটি ডামি, কিন্তু এর মডিফিকেশনে ক্ষতিকারক আচরণ প্রদর্শন করতে পারে। [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad|&#126; মুকতাদির]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md. Muqtadir Fuad|আলাপ]]) ০৮:৫০, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == [[রৈখিক বীজগণিত/ভূমিকা]] অধ্যায়টি সংশোধন করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Rashidul Hasan Biplob|আলাপ]]) ১৫:৫১, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] পাতাটি পড়ে ও পাতার গঠন দেখে এখনও মনে হচ্চে না এটি সংশোধন করা হয়েছে। অন্য পাতাগুলো দেখুন, সেগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, এবং সে অনুযায়ী সংশোধন করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫২, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫]] পাতাটি সংশোধন করেছি। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৬]] এই পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৩:৩৯, ১২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] [[মাগলস_গাইড_টু_হ্যারি_পটার/বই/ডেথলি_হ্যালোজ/অধ্যায়_২৫]] পাতায় এখনও রুক্ষ অনুবাদের সমস্যা বিদ্যমান, জটিল বাক্যগুলো ভেঙ্গে লিখুন সরল ভাষায় লিখুন যাতে সহজে বোঝা যায়। একই কথা দ্বিতীয়টির জন্যও প্রযোজ্য। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতা ২ টা আবারও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:৫৬, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/আইসোমরফিজম == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৪:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১০, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[বিশ্বের ইতিহাস/শিল্প বিপ্লব]] == পাতাটি সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin|আলাপ]]) ১৭:০৪, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৭:২৬, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, হগওয়ার্টস]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]]পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/বোব্যাকটনস একাডেমি অব ম্যাজিক]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৪, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স সমীকরণ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৩৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স ও ভেক্টর/ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:০৯, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সমস্যা == সম্মানিত পর্যালোচক, আমি আপনার সাথে একটি সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে চাই। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ১৯:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == অভিযোগ == সুপ্রিয় উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজকবৃন্দ, প্রথমেই আপনাদেরকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। আপনাদের এই প্রতিযোগিতায় আমি ইতোমধ্যে অংশগ্রহণ করেছি। এপর্যন্ত আমি কিছু অনুবাদ জমা দিয়েছি এবং আপনাদের সুষ্ঠ পর্যালোচনার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু আজ আমি আপনাদের কাছে একটি অভিযোগ জানাতে চাই যা আপনারা সঠিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। কিছু অনুবাদ জমা দেওয়ার পর আমার কাছে একটি বার্তা আসে। যেখানে Tuhin- নামের একজন ব্যক্তি আমাকে নিম্নোক্ত বার্তাটি পাঠান-- "সম্মানিত সুধী, আপনি গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ যুক্ত করছেন যা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হওয়ার উপযুক্ত নয়। অনুগ্রহপূর্বক ইতিমধ্যে অনূদিত পাতাগুলো সংশোধন করে তারপরে নতুন পাতা তৈরি করুন।" আমি ধারণা করি হয়তো তিনি পর্যালোচনা কমিটির থেকে যোগাযোগ করেছেন। তাই আমিও সম্মানপূর্বক তাকে জানাই আমি কোনো এআই অনুবাদ যুক্ত করিনি। তিনি যদি আমার ভুল বলে দেন তাহলে খুশি হবো। তখন তিনি আমাকে জানান তিনি পর্যালোচক নন। তিনি আমাকে সতর্ক করতে এ মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আমি জানতে পেরেছি যে তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং তার সর্বোচ্চ সংখ্যক অনুবাদ গৃহীত হয়েছে। আমি যেটা বলতে চাই তা হলো, পর্যালোচনা কমিটির সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ বিশেষত যখন সে নিজেই একজন প্রতিযোগী কিভাবে অপর একজন প্রতিযোগীকে সতর্ক করার নামে এভাবে মন্তব্য করতে পারে। "গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ " বলে তিনি অপর একজনের পরিশ্রমকে দাগিয়ে দিতে পারেন না। প্রথম আলাপেই এভাবে অন্য প্রতিযোগিকে রূঢ় ভাবে বলে তিনি কি হতদ্যোম করতে চাইছেন নাকি ঈর্ষান্বিত হচ্ছেন। প্রথমেই তার বলা উচিত ছিল তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং সতর্ক করতে বলছেন। কিন্তু তার এ ধরনের অভিভাবক সুলভ রূঢ় আচরণে আমি খুবই অপমানিত হয়েছি। আমি যদি ভুল করে থাকি তবে পর্যালোচকগণ অবশ্যই আমাকে জানাবেন কিন্তু অন্য কারো এ ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য আমি বরদাস্ত করতে পারবো না। আমার অনেক প্রিয় একটি কাজের জায়গা এটি। আমি নিয়ম মেনে এর আগেও কাজ করেছি। আশাকরি আপনারা এর সঠিক বিচার করবেন। ধন্যবাদ। ইতি, অর্পিতা মজুমদার। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ২০:৪০, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি, তবে লক্ষ্য করুন আমাদের প্রকল্পগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, এখানে একজন আরেকজনকে পরামর্শ দেওয়াটা স্বাভাবিক এবং আমি আশা করছি আপনি যে কারো পরামর্শই ইতিবাচকভাবে নিবেন। ধন্যবাদ —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৭:২৮, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ, আমার বুঝতে ভুল হয়েছিলো। আকস্মিক মন্তব্য এবং মন্তব্যের রূঢ়তা আমাকে কিছুটা বিব্রত করেছিল। যাহোক, বুঝিয়ে বলার জন্য আবারও ধন্যবাদ। পর্যালোচকবৃন্দের প্রতি আমার অনুরোধ দয়া করে ভুলগুলো নমনীয়ভাবে বলবেন এবং সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলবেন। " গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ" এ জাতীয় শব্দবন্ধ খুবই অপমানজনক। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ০৮:২২, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভিলা]] পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করা হল। [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:নিয়াজ ইসলাম|আলাপ]]) ০৬:১১, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ব্যাপারটা হচ্ছে এমন, আমি উদাহরণ হিসাবে একটা শব্দের কথা বলেছি আপনি ওই একটা শব্দ'ই সংশোধন করে পর্যালোচনা করার কথা বলছেন! পুরো পাতাটি পড়ুন, আরও সমস্যা আছে, যান্ত্রিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনুবাদ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/ডাম্বলডোরের মৃত্যু]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:১০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রিভেট ড্রাইভ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:২০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/ম্যালফয় ম্যানর]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:৩৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমি ২২টি অনুবাদ জমা দিয়েছি কিন্তু পাশে কোন পয়েন্ট এখনো যোগ হয়নি বা রিজেক্ট হয়নি। কোন সমস্যা আছে কিনা একটু কি দেখবেন ?? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ১৫:১৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == বই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমার অনুবাদ্গুলো একটু কি দেখবেন? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[আরিমা/শব্দকোষ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] জনাব আমি [[আরিমা/শব্দকোষ]] পাতাটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছি, পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। ‍‍‍[[ব্যবহারকারী:Belayet73|Belayet73]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Belayet73|আলাপ]]) ০৯:৫৩, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[যোগাযোগ অধ্যয়ন সমীক্ষা/অধ্যায় ১৩ - লিঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] বইটি পুনরায় পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Sàádî|Sàádî]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sàádî|আলাপ]]) ০৮:০৫, ২৪ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা]] == পাতাটি পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। তথ্যসূত্রে trans-title= এর ভুল ব্যবহার সংশোধন করা হয়েছে। আমি তথ্যসূত্রে বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত কোনো সমস্যা পাইনি। আপনি কি "শুল্টজ, এমিলি '''এ., '''এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা" এর বোল্ড করা অংশের কথা বলছেন? এটা কোনো "ভুল/অতিরিক্ত ব্যবহার" নয়। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:৫৬, ৭ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি প্রথমেই বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত সমস্যা দেখছি, ''{{একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি|গুরুত্বপূর্ণ।" [৯]।}}'' তাছাড়া কিছুক্ষেত্রে দেখছি ইংরেজি পরিভাষা যেমন, ''প্রিস্কুল''। সংশোধনের পর জানান —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৩৬, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) ltk0bkr6lursmkyakps7694641qico8 106600 106596 2026-06-09T17:23:41Z NusJaS 8394 /* সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা */ উত্তর 106600 wikitext text/x-wiki {{সংগ্রহশালাসমূহ}} == সমাধান প্রয়োজন == আমি [[ইউরোপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস/১৯১৪ সাল থেকে ইউরোপ|একটা পাতা]] নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে ওতে আমার নাম যোগ করে রেখেছিলাম। তখনও পাতাটির শিরোনাম লাল রঙের দেখাচ্ছিল অর্থাৎ পাতাটিতে কেউ তখনও লেখা শুরু করে নি। কিন্তু পরবর্তীতে অনুবাদ শেষ করার পর পাতা সম্পাদনা করতে গিয়ে দেখি অন্য একজন সেটা সম্পাদনা করেছে এবং জমা দিয়ে দিয়েছে। অন্যের নামে যোগ করা পাতা সম্পাদনা করা কি শৃঙ্খলাবহির্ভূত নয়? [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ১৩:১১, ৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :আপনার শুরু করার সময় কার কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আপনার অনুবাদ তা স্বীকৃতি পাবে [[বিশেষ:অবদান/103.215.227.181|103.215.227.181]] ১৩:২৩, ২১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Article check == আমার লেখা আর্টিকেলটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করার জন্য অনুরোধ করছি উইকিশৈশব:মজার বৈজ্ঞানিক গবেষণা/How to make a needle float, and how to make it sink [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ০৪:১৫, ৮ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতাটি বাংলা ভাষায় লিখুন —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:২৮, ৯ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১৫:৫২, ১১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Point == '''আমার লেখা প্রতিটি আর্টিক্যালে আপনি শূন্য পয়েন্ট দিচ্ছেন। আপনি পুনরায় ভালো করে আর্টিক্যালগুলি চেক করে দেখুন! কোন ত্রুটি নেই, নিজের লেখা আর্টিক্যাল। দয়া করে আর্টিকেল গুলির পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে নাম্বার দেবেন। খাতা সংশোধন করার পরে নম্বর দেওয়ার অনুমতি আছে, কিছু আপনি দিচ্ছেন না। আমার কর্তব্য সবাইয়ের কাছে সহজ ভাবে বিষযগুলির ব্যাখ্যা দেওয়া, আপনার পছন্দ হলে গ্রহণ করবেন। সবকিছুই সময়ের উপর নির্ভর করে। ''' আপনি যখন পয়েন্ট দিচ্ছেন তার টাইম কোন নির্দিষ্ট নেই, খাতা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই পয়েন্ট দিচ্ছেন, যেগুলো পয়েন্ট দেননি তো দেন-ই-নি। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:০৫, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতা সম্পূর্ণ না করে জমা দিবেন না। গৃহিত হয়নি এমন পাতা সংশোধন করে জানালে সেটা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১২:০৯, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::এখনো পর্যন্ত আমি যে কটা আর্টিকেল বা পাতা লিখেছি সবকটি আজকেই সংশোধন করা হয়েছে দেখতে পারেন। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:৪৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] আপনার লেখা পাতাগুলো গুগল অনুবাদ বা যান্ত্রিক অনুবাদে পরিপূর্ণ। এগুলো সরল ও প্রাজ্ঞল ভাষায় লিখুন যাতে পড়লেই সহজে বোঝা যায়। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:৩৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == ফাউনন্টেন সমাধান == উইকিশৈশব:ভাষা/আইসল্যান্ডীয় যোগ করতে পারছি না ফাউনন্টেনের মাধ্যমে। বলছে- Another user has already added this article to the editathon [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৭:২০, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] এখন চেষ্টা করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৪:০০, ২৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == টুলফোর্জ এ সমস্যা == প্রতিযোগিতার সময়সীমা কি বাড়ানো হয়েছে? টুলফোর্জ কিন্তু দেখাচ্ছে এখনো ১৭ ঘণ্টা বাকি আছে। [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ০৬:৪৫, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরি পাতাগুলো এই সময়ে শুধুমাত্র জমা দেওয়া যাবে, সময় বৃদ্ধি করা হয়নি। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৭, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == A barnstar for you! == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Original Barnstar Hires.png|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''The Original Barnstar''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | original [[ব্যবহারকারী:Md Aahradul Islam Tasin|Md Aahradul Islam Tasin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Aahradul Islam Tasin|আলাপ]]) ০৯:২৫, ৫ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) |} == সংশোধন করা হলো == জনাব,<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/লেখক<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/তথ্যসূত্র<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/আরো পড়ুন<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় আইসিটি একীভূত করার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের সমস্যা<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/ভূমিকা<br /> পাতাগুলো সংশোধন করা হলো<br /> এগুলি ইংরেজি https://en.wikibooks.org/wiki/ICT_in_Education পা্তা থেকে অনুবা্দ করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ০৭:১০, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] পাতাগুলোতে থাকা যান্ত্রিক ও জটিলতায় পরিপূর্ণ অনুবাদ গুলো প্রাঞ্জল ও সরল ভাষায় লিখতে হবে, আমি এখনও পাতাগুলোতে যান্ত্রিক অনুবাদ দেখতে পাচ্ছি। পাতাগুলো নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:২৭, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) ::সবগুলি পাতা সংশোধন করা হয়েছে। এবা্র একটু দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:৩৯, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর পাতাটি সংশোধন দেখে জানাবেন ঠিক আছে কিনা। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:২৪, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == সংশোধন করা হলো == পরিবহনে বিজ্ঞান/সময়সূচী ও সময় নির্ধারণ - এটা যান্ত্রিক অনুবাদ সংশোধন করা হল। [[ব্যবহারকারী:Sourav saha032|Sourav saha032]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sourav saha032|আলাপ]]) ১৬:১৪, ১৭ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSepliAn9c9o4ISEM6ck_jWW0H_W0pr9596OfZAGy6q_UfTOFw/viewform?usp=sf_link এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১০:৩৩, ২৯ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69608-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest barnstar.svg|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | সুপ্রিয় MdsShakil,<br />বাংলা উইকিবইয়ে সম্প্রতি আয়োজিত, '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]''' শীর্ষক গ্রন্থলিখন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায় আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতায় তালিকাভুক্ত গ্রন্থ/গ্রন্থপৃষ্ঠা তৈরির মাধ্যমে বাংলা উইকিবইয়ের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখায়, শুভেচ্ছাস্মারক হিসেবে আপনাকে এই উইকিপদকটি প্রদান করা হলো। আশা করি বাংলা উইকিবইয়ের পথচলায় আপনার সরব ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে থাকুন‌। <br />শুভেচ্ছান্তে, <br />'''[[User:MdsShakil|শাকিল হোসেন]]''' <br />সমন্বয়ক, উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ <br />১০:৩৩, ২৪ আগস্ট ২০২৪ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69912-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == টেমপ্লেট:তাক == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] কিছু সমস্যা ছিল টেমপ্লেটে তবে সেগুলো সংশোধন করেছি। সময় পেলে একটু পরীক্ষা করে দেখবেন [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ১১:৩৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] আপনি না একবার সংশোধন করেছিলেন? কি সমস্যা হয়েছিলো আবার? —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৮:০৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) ::বিষয়শ্রেণী যুক্ত হচ্ছিল না। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:১১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :::টেমপ্লেট:বিভাগ এও কিছু সমস্যা পেয়েছি বিকালে ঠিক করব ইনশাল্লাহ [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) == Notice of expiration of your sysop right == <div dir="ltr">Hi, as part of [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot|Global reminder bot]], this is an automated reminder to let you know that your permission "sysop" (প্রশাসক) will expire on 2025-04-06 14:24:19. Please renew this right if you would like to continue using it. <i>In other languages: [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot/Messages/default|click here]]</i> [[ব্যবহারকারী:Leaderbot|Leaderbot]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Leaderbot|আলাপ]]) ১৯:৪২, ৩০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি)</div> == [[টেমপ্লেট:Printable]] == [[টেমপ্লেট:Printable]] কাজ করছে না। দয়া করে নিশ্চিত করুন যে এটি সঠিকভাবে কাজ করা। [[ব্যবহারকারী:Somajyoti|Somajyoti]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Somajyoti|আলাপ]]) ১৪:০৬, ১০ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ]] == {| style="background-color: #f8f9fa; border: 1px solid #ced4da; padding:10px; color: #212529;" |- |[[File:Bangla Wikibooks Writing contest 2025 Banner (2).png|frameless|center|300px|link=[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]]]<br/> সুপ্রিয় MdsShakil, আশা করি এই গ্রীষ্মের এই রৌদ্রোজ্জ্বল তপ্ত আবহাওয়াতেও ভালো আছেন। আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, গত ৭ মে থেকে বাংলা উইকিবইয়ে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]''' শীর্ষক একটি বই লিখন ও অনুবাদ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ‌আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতাটি অভিজ্ঞ, অনভিজ্ঞ ও নতুন ব্যবহারকারী সকলের জন্যই মুক্ত।  অন্যান্য ভাষার উইকিবইয়ের চাইতে বাংলা উইকিবইয়ে অবদানকারীর সংখ্যা নিতান্তই কম, এমনকি সংখ্যাটি বাংলা উইকিপিডিয়ার তুলনায়ও নগণ্য। অথচ ডিজিটাল বইয়ের এই যুগে বাংলা উইকিবই যথেষ্ট গুরত্বের দাবি রাখে। এজন্য আমাদের আরও স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। আশা করি আপনি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন ও উইকিবইকে সমৃদ্ধ করবেন। বিস্তারিত [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|প্রকল্প পাতায়]] দেখুন। '''শীর্ষ অবদানকারীদের জন্য পুরষ্কার''' * ১ম স্থান অধিকারকারী ― ৬০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ২য় স্থান অধিকারকারী ― ৪০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৩য় স্থান অধিকারকারী ― ৩০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৪র্থ স্থান অধিকারকারী ― ২৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৫ম স্থান অধিকারকারী ― ২০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৬ষ্ঠ থেকে ১০তম স্থান অধিকারকারী (৫ জন) ― ৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলে ― ডিজিটাল সনদপত্র প্রতিযোগিতায় আপনাকে স্বাগত।<br /> শুভেচ্ছান্তে, <br /> —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=74028-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == [[রন্ধনপ্রণালী:ঘেভার]] == পরিবর্তন করা হয়েছে, যাচাই করুন [[ব্যবহারকারী:MD Abu Siyam|MD Abu Siyam]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Abu Siyam|আলাপ]]) ০১:২৪, ১২ জুন ২০২৫ (ইউটিসি) == [[প্রকৌশল শব্দবিজ্ঞান/শীতলকারী পাখার শব্দ]] == পাতাটি ঠিক করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M.Asaduzzaman sahed|আলাপ]]) ২০:০০, ৬ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] পাতাটিকে এখনও ইংরেজি পরিভাষা এবং যান্ত্রিক অনুবাদ বিদ্যমান। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ২০:৩২, ৭ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে]]। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeSlGIk88-dNR79Vg5RytY6gIObKICFqrwc3ljN6Dw6YDn5IQ/viewform?usp=header এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৬, ৮ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=85872-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিশৈশবে 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বাইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে! == প্রিয় শাকিল ভাই, আশাকরি সপরিবারে কুশলে আছেন। আমি দেখলাম আমার লেখা 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে। এটা ঠিক করে দেওয়া দরকার। যথাশীঘ্র ব্যবস্থা নেবেন আশা রাখছি। ধন্যবাদসহ, [[ব্যবহারকারী:Sumasa|সুকান]] সুকান ১৬:২৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) == পুনঃপর্যালোচনা জন্য == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, [[রৈখিক বীজগণিত/শব্দকোষ]] পাতাটিতে অ,আ,ক,খ অনুক্রমে সাজিয়েছি। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:JIBON|JIBON]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৭:১৩, ২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :{{done}} —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}},<br>আপনি জেনে খুশি হবেন যে বাংলা উইকিবইয়ে নতুন বই তৈরির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]]'''। ১ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় আপনি ইংরেজি উইকিবই থেকে মানসম্মত পাতা বাংলায় অনুবাদ করার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য রয়েছে মোট ৬০০০ টাকা পর্যন্ত গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র, এবং কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলেই থাকছে ডিজিটাল সনদপত্র। অংশগ্রহণকারীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে মোবাইল ইন্টারনেট সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত নিয়মাবলি এবং অন্যান তথ্য জনতে আমাদের [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|প্রকল্প পাতাটি]] দেখুন। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের [https://t.me/bnwikibooks টেলিগ্রাম গ্রুপে] যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলা উইকিবইকে আরও সমৃদ্ধ করবে। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0/%E0%A7%A7&oldid=93268-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == Help chai.. == wiki contest e article submit kmne korbo ekthu help korben? [[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:WazedAlif|আলাপ]]) ০৪:০৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] [https://fountain.toolforge.org/editathons/wrcbn2026 এই লিংকে] যেয়ে সাবমিট করেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৪:২৮, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == আমি পুনরায় "মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/চেম্বার অব সিক্রেটস/অধ্যায় ১৭" বইটি সংশোধন করেছি। দয়া করে আবার পর্যবেক্ষণ করে দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oviroy Sarker|আলাপ]]) ১৬:১৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৫, ৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ভেক্টর জগতের সংজ্ঞা == জি, সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Mushfique Anan|আলাপ]]) ১০:৩৬, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|Kazi Mushfique Anan]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:১৭, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]] পাতাটি সম্পর্কে == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, এই ব্যবহারকারীর([[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]]) পাতাটি মনে হচ্ছে খুব সম্ভবত [[w:WP:U5]] অনুসারে দ্রুত অপসারণযোগ্য। ওনার বাইনারি বার্তা ডিকোড করলে হয়, <code>Note: The following code is a simulation of a Stuxnet-like structure for educational purposes. It is not functional malware and does not contain any harmful actions. Please use this example responsibly and do not modify it for malicious purposes.</code> নিচে যে কোড দেয়া তা এক্সিকিঊট করা সম্ভব, বর্তমানে এটি ডামি, কিন্তু এর মডিফিকেশনে ক্ষতিকারক আচরণ প্রদর্শন করতে পারে। [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad|&#126; মুকতাদির]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md. Muqtadir Fuad|আলাপ]]) ০৮:৫০, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == [[রৈখিক বীজগণিত/ভূমিকা]] অধ্যায়টি সংশোধন করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Rashidul Hasan Biplob|আলাপ]]) ১৫:৫১, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] পাতাটি পড়ে ও পাতার গঠন দেখে এখনও মনে হচ্চে না এটি সংশোধন করা হয়েছে। অন্য পাতাগুলো দেখুন, সেগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, এবং সে অনুযায়ী সংশোধন করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫২, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫]] পাতাটি সংশোধন করেছি। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৬]] এই পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৩:৩৯, ১২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] [[মাগলস_গাইড_টু_হ্যারি_পটার/বই/ডেথলি_হ্যালোজ/অধ্যায়_২৫]] পাতায় এখনও রুক্ষ অনুবাদের সমস্যা বিদ্যমান, জটিল বাক্যগুলো ভেঙ্গে লিখুন সরল ভাষায় লিখুন যাতে সহজে বোঝা যায়। একই কথা দ্বিতীয়টির জন্যও প্রযোজ্য। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতা ২ টা আবারও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:৫৬, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/আইসোমরফিজম == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৪:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১০, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[বিশ্বের ইতিহাস/শিল্প বিপ্লব]] == পাতাটি সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin|আলাপ]]) ১৭:০৪, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৭:২৬, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, হগওয়ার্টস]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]]পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/বোব্যাকটনস একাডেমি অব ম্যাজিক]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৪, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স সমীকরণ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৩৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স ও ভেক্টর/ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:০৯, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সমস্যা == সম্মানিত পর্যালোচক, আমি আপনার সাথে একটি সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে চাই। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ১৯:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == অভিযোগ == সুপ্রিয় উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজকবৃন্দ, প্রথমেই আপনাদেরকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। আপনাদের এই প্রতিযোগিতায় আমি ইতোমধ্যে অংশগ্রহণ করেছি। এপর্যন্ত আমি কিছু অনুবাদ জমা দিয়েছি এবং আপনাদের সুষ্ঠ পর্যালোচনার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু আজ আমি আপনাদের কাছে একটি অভিযোগ জানাতে চাই যা আপনারা সঠিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। কিছু অনুবাদ জমা দেওয়ার পর আমার কাছে একটি বার্তা আসে। যেখানে Tuhin- নামের একজন ব্যক্তি আমাকে নিম্নোক্ত বার্তাটি পাঠান-- "সম্মানিত সুধী, আপনি গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ যুক্ত করছেন যা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হওয়ার উপযুক্ত নয়। অনুগ্রহপূর্বক ইতিমধ্যে অনূদিত পাতাগুলো সংশোধন করে তারপরে নতুন পাতা তৈরি করুন।" আমি ধারণা করি হয়তো তিনি পর্যালোচনা কমিটির থেকে যোগাযোগ করেছেন। তাই আমিও সম্মানপূর্বক তাকে জানাই আমি কোনো এআই অনুবাদ যুক্ত করিনি। তিনি যদি আমার ভুল বলে দেন তাহলে খুশি হবো। তখন তিনি আমাকে জানান তিনি পর্যালোচক নন। তিনি আমাকে সতর্ক করতে এ মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আমি জানতে পেরেছি যে তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং তার সর্বোচ্চ সংখ্যক অনুবাদ গৃহীত হয়েছে। আমি যেটা বলতে চাই তা হলো, পর্যালোচনা কমিটির সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ বিশেষত যখন সে নিজেই একজন প্রতিযোগী কিভাবে অপর একজন প্রতিযোগীকে সতর্ক করার নামে এভাবে মন্তব্য করতে পারে। "গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ " বলে তিনি অপর একজনের পরিশ্রমকে দাগিয়ে দিতে পারেন না। প্রথম আলাপেই এভাবে অন্য প্রতিযোগিকে রূঢ় ভাবে বলে তিনি কি হতদ্যোম করতে চাইছেন নাকি ঈর্ষান্বিত হচ্ছেন। প্রথমেই তার বলা উচিত ছিল তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং সতর্ক করতে বলছেন। কিন্তু তার এ ধরনের অভিভাবক সুলভ রূঢ় আচরণে আমি খুবই অপমানিত হয়েছি। আমি যদি ভুল করে থাকি তবে পর্যালোচকগণ অবশ্যই আমাকে জানাবেন কিন্তু অন্য কারো এ ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য আমি বরদাস্ত করতে পারবো না। আমার অনেক প্রিয় একটি কাজের জায়গা এটি। আমি নিয়ম মেনে এর আগেও কাজ করেছি। আশাকরি আপনারা এর সঠিক বিচার করবেন। ধন্যবাদ। ইতি, অর্পিতা মজুমদার। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ২০:৪০, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি, তবে লক্ষ্য করুন আমাদের প্রকল্পগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, এখানে একজন আরেকজনকে পরামর্শ দেওয়াটা স্বাভাবিক এবং আমি আশা করছি আপনি যে কারো পরামর্শই ইতিবাচকভাবে নিবেন। ধন্যবাদ —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৭:২৮, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ, আমার বুঝতে ভুল হয়েছিলো। আকস্মিক মন্তব্য এবং মন্তব্যের রূঢ়তা আমাকে কিছুটা বিব্রত করেছিল। যাহোক, বুঝিয়ে বলার জন্য আবারও ধন্যবাদ। পর্যালোচকবৃন্দের প্রতি আমার অনুরোধ দয়া করে ভুলগুলো নমনীয়ভাবে বলবেন এবং সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলবেন। " গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ" এ জাতীয় শব্দবন্ধ খুবই অপমানজনক। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ০৮:২২, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভিলা]] পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করা হল। [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:নিয়াজ ইসলাম|আলাপ]]) ০৬:১১, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ব্যাপারটা হচ্ছে এমন, আমি উদাহরণ হিসাবে একটা শব্দের কথা বলেছি আপনি ওই একটা শব্দ'ই সংশোধন করে পর্যালোচনা করার কথা বলছেন! পুরো পাতাটি পড়ুন, আরও সমস্যা আছে, যান্ত্রিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনুবাদ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/ডাম্বলডোরের মৃত্যু]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:১০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রিভেট ড্রাইভ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:২০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/ম্যালফয় ম্যানর]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:৩৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমি ২২টি অনুবাদ জমা দিয়েছি কিন্তু পাশে কোন পয়েন্ট এখনো যোগ হয়নি বা রিজেক্ট হয়নি। কোন সমস্যা আছে কিনা একটু কি দেখবেন ?? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ১৫:১৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == বই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমার অনুবাদ্গুলো একটু কি দেখবেন? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[আরিমা/শব্দকোষ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] জনাব আমি [[আরিমা/শব্দকোষ]] পাতাটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছি, পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। ‍‍‍[[ব্যবহারকারী:Belayet73|Belayet73]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Belayet73|আলাপ]]) ০৯:৫৩, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[যোগাযোগ অধ্যয়ন সমীক্ষা/অধ্যায় ১৩ - লিঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] বইটি পুনরায় পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Sàádî|Sàádî]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sàádî|আলাপ]]) ০৮:০৫, ২৪ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা]] == পাতাটি পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। তথ্যসূত্রে trans-title= এর ভুল ব্যবহার সংশোধন করা হয়েছে। আমি তথ্যসূত্রে বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত কোনো সমস্যা পাইনি। আপনি কি "শুল্টজ, এমিলি '''এ., '''এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা" এর বোল্ড করা অংশের কথা বলছেন? এটা কোনো "ভুল/অতিরিক্ত ব্যবহার" নয়। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:৫৬, ৭ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি প্রথমেই বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত সমস্যা দেখছি, ''{{একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি|গুরুত্বপূর্ণ।" [৯]।}}'' তাছাড়া কিছুক্ষেত্রে দেখছি ইংরেজি পরিভাষা যেমন, ''প্রিস্কুল''। সংশোধনের পর জানান —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৩৬, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, আমি এখনও বুঝতে পারছি না আপনার কাছে এটা কেন সমস্যা মনে হচ্ছে। <u>কেনেথ আর. গিন্সবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, {{সবুজ|'''"'''সুস্থ মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য খেলা গুরুত্বপূর্ণ।'''"'''}}</u> এখানে " ভুল কেন হবে? এটা তো "তথ্যসূত্রের ফরম্যাটিংয়ে"র সাথেও সম্পর্কিত না। আপনাকে ইংরেজি পাতাটা দেখার অনুরোধ করছি। সেখানেও এগুলো এভাবেই আছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:২৩, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) smky5vzhce25hzqot15sczjuw2htupf 106601 106600 2026-06-09T17:25:01Z MdsShakil 7280 /* সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা */ উত্তর 106601 wikitext text/x-wiki {{সংগ্রহশালাসমূহ}} == সমাধান প্রয়োজন == আমি [[ইউরোপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস/১৯১৪ সাল থেকে ইউরোপ|একটা পাতা]] নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে ওতে আমার নাম যোগ করে রেখেছিলাম। তখনও পাতাটির শিরোনাম লাল রঙের দেখাচ্ছিল অর্থাৎ পাতাটিতে কেউ তখনও লেখা শুরু করে নি। কিন্তু পরবর্তীতে অনুবাদ শেষ করার পর পাতা সম্পাদনা করতে গিয়ে দেখি অন্য একজন সেটা সম্পাদনা করেছে এবং জমা দিয়ে দিয়েছে। অন্যের নামে যোগ করা পাতা সম্পাদনা করা কি শৃঙ্খলাবহির্ভূত নয়? [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ১৩:১১, ৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :আপনার শুরু করার সময় কার কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আপনার অনুবাদ তা স্বীকৃতি পাবে [[বিশেষ:অবদান/103.215.227.181|103.215.227.181]] ১৩:২৩, ২১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Article check == আমার লেখা আর্টিকেলটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করার জন্য অনুরোধ করছি উইকিশৈশব:মজার বৈজ্ঞানিক গবেষণা/How to make a needle float, and how to make it sink [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ০৪:১৫, ৮ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতাটি বাংলা ভাষায় লিখুন —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:২৮, ৯ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১৫:৫২, ১১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Point == '''আমার লেখা প্রতিটি আর্টিক্যালে আপনি শূন্য পয়েন্ট দিচ্ছেন। আপনি পুনরায় ভালো করে আর্টিক্যালগুলি চেক করে দেখুন! কোন ত্রুটি নেই, নিজের লেখা আর্টিক্যাল। দয়া করে আর্টিকেল গুলির পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে নাম্বার দেবেন। খাতা সংশোধন করার পরে নম্বর দেওয়ার অনুমতি আছে, কিছু আপনি দিচ্ছেন না। আমার কর্তব্য সবাইয়ের কাছে সহজ ভাবে বিষযগুলির ব্যাখ্যা দেওয়া, আপনার পছন্দ হলে গ্রহণ করবেন। সবকিছুই সময়ের উপর নির্ভর করে। ''' আপনি যখন পয়েন্ট দিচ্ছেন তার টাইম কোন নির্দিষ্ট নেই, খাতা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই পয়েন্ট দিচ্ছেন, যেগুলো পয়েন্ট দেননি তো দেন-ই-নি। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:০৫, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতা সম্পূর্ণ না করে জমা দিবেন না। গৃহিত হয়নি এমন পাতা সংশোধন করে জানালে সেটা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১২:০৯, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::এখনো পর্যন্ত আমি যে কটা আর্টিকেল বা পাতা লিখেছি সবকটি আজকেই সংশোধন করা হয়েছে দেখতে পারেন। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:৪৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] আপনার লেখা পাতাগুলো গুগল অনুবাদ বা যান্ত্রিক অনুবাদে পরিপূর্ণ। এগুলো সরল ও প্রাজ্ঞল ভাষায় লিখুন যাতে পড়লেই সহজে বোঝা যায়। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:৩৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == ফাউনন্টেন সমাধান == উইকিশৈশব:ভাষা/আইসল্যান্ডীয় যোগ করতে পারছি না ফাউনন্টেনের মাধ্যমে। বলছে- Another user has already added this article to the editathon [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৭:২০, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] এখন চেষ্টা করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৪:০০, ২৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == টুলফোর্জ এ সমস্যা == প্রতিযোগিতার সময়সীমা কি বাড়ানো হয়েছে? টুলফোর্জ কিন্তু দেখাচ্ছে এখনো ১৭ ঘণ্টা বাকি আছে। [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ০৬:৪৫, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরি পাতাগুলো এই সময়ে শুধুমাত্র জমা দেওয়া যাবে, সময় বৃদ্ধি করা হয়নি। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৭, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == A barnstar for you! == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Original Barnstar Hires.png|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''The Original Barnstar''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | original [[ব্যবহারকারী:Md Aahradul Islam Tasin|Md Aahradul Islam Tasin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Aahradul Islam Tasin|আলাপ]]) ০৯:২৫, ৫ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) |} == সংশোধন করা হলো == জনাব,<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/লেখক<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/তথ্যসূত্র<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/আরো পড়ুন<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় আইসিটি একীভূত করার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের সমস্যা<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/ভূমিকা<br /> পাতাগুলো সংশোধন করা হলো<br /> এগুলি ইংরেজি https://en.wikibooks.org/wiki/ICT_in_Education পা্তা থেকে অনুবা্দ করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ০৭:১০, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] পাতাগুলোতে থাকা যান্ত্রিক ও জটিলতায় পরিপূর্ণ অনুবাদ গুলো প্রাঞ্জল ও সরল ভাষায় লিখতে হবে, আমি এখনও পাতাগুলোতে যান্ত্রিক অনুবাদ দেখতে পাচ্ছি। পাতাগুলো নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:২৭, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) ::সবগুলি পাতা সংশোধন করা হয়েছে। এবা্র একটু দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:৩৯, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর পাতাটি সংশোধন দেখে জানাবেন ঠিক আছে কিনা। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:২৪, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == সংশোধন করা হলো == পরিবহনে বিজ্ঞান/সময়সূচী ও সময় নির্ধারণ - এটা যান্ত্রিক অনুবাদ সংশোধন করা হল। [[ব্যবহারকারী:Sourav saha032|Sourav saha032]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sourav saha032|আলাপ]]) ১৬:১৪, ১৭ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSepliAn9c9o4ISEM6ck_jWW0H_W0pr9596OfZAGy6q_UfTOFw/viewform?usp=sf_link এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১০:৩৩, ২৯ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69608-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest barnstar.svg|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | সুপ্রিয় MdsShakil,<br />বাংলা উইকিবইয়ে সম্প্রতি আয়োজিত, '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]''' শীর্ষক গ্রন্থলিখন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায় আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতায় তালিকাভুক্ত গ্রন্থ/গ্রন্থপৃষ্ঠা তৈরির মাধ্যমে বাংলা উইকিবইয়ের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখায়, শুভেচ্ছাস্মারক হিসেবে আপনাকে এই উইকিপদকটি প্রদান করা হলো। আশা করি বাংলা উইকিবইয়ের পথচলায় আপনার সরব ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে থাকুন‌। <br />শুভেচ্ছান্তে, <br />'''[[User:MdsShakil|শাকিল হোসেন]]''' <br />সমন্বয়ক, উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ <br />১০:৩৩, ২৪ আগস্ট ২০২৪ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69912-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == টেমপ্লেট:তাক == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] কিছু সমস্যা ছিল টেমপ্লেটে তবে সেগুলো সংশোধন করেছি। সময় পেলে একটু পরীক্ষা করে দেখবেন [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ১১:৩৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] আপনি না একবার সংশোধন করেছিলেন? কি সমস্যা হয়েছিলো আবার? —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৮:০৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) ::বিষয়শ্রেণী যুক্ত হচ্ছিল না। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:১১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :::টেমপ্লেট:বিভাগ এও কিছু সমস্যা পেয়েছি বিকালে ঠিক করব ইনশাল্লাহ [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) == Notice of expiration of your sysop right == <div dir="ltr">Hi, as part of [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot|Global reminder bot]], this is an automated reminder to let you know that your permission "sysop" (প্রশাসক) will expire on 2025-04-06 14:24:19. Please renew this right if you would like to continue using it. <i>In other languages: [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot/Messages/default|click here]]</i> [[ব্যবহারকারী:Leaderbot|Leaderbot]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Leaderbot|আলাপ]]) ১৯:৪২, ৩০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি)</div> == [[টেমপ্লেট:Printable]] == [[টেমপ্লেট:Printable]] কাজ করছে না। দয়া করে নিশ্চিত করুন যে এটি সঠিকভাবে কাজ করা। [[ব্যবহারকারী:Somajyoti|Somajyoti]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Somajyoti|আলাপ]]) ১৪:০৬, ১০ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ]] == {| style="background-color: #f8f9fa; border: 1px solid #ced4da; padding:10px; color: #212529;" |- |[[File:Bangla Wikibooks Writing contest 2025 Banner (2).png|frameless|center|300px|link=[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]]]<br/> সুপ্রিয় MdsShakil, আশা করি এই গ্রীষ্মের এই রৌদ্রোজ্জ্বল তপ্ত আবহাওয়াতেও ভালো আছেন। আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, গত ৭ মে থেকে বাংলা উইকিবইয়ে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]''' শীর্ষক একটি বই লিখন ও অনুবাদ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ‌আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতাটি অভিজ্ঞ, অনভিজ্ঞ ও নতুন ব্যবহারকারী সকলের জন্যই মুক্ত।  অন্যান্য ভাষার উইকিবইয়ের চাইতে বাংলা উইকিবইয়ে অবদানকারীর সংখ্যা নিতান্তই কম, এমনকি সংখ্যাটি বাংলা উইকিপিডিয়ার তুলনায়ও নগণ্য। অথচ ডিজিটাল বইয়ের এই যুগে বাংলা উইকিবই যথেষ্ট গুরত্বের দাবি রাখে। এজন্য আমাদের আরও স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। আশা করি আপনি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন ও উইকিবইকে সমৃদ্ধ করবেন। বিস্তারিত [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|প্রকল্প পাতায়]] দেখুন। '''শীর্ষ অবদানকারীদের জন্য পুরষ্কার''' * ১ম স্থান অধিকারকারী ― ৬০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ২য় স্থান অধিকারকারী ― ৪০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৩য় স্থান অধিকারকারী ― ৩০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৪র্থ স্থান অধিকারকারী ― ২৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৫ম স্থান অধিকারকারী ― ২০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৬ষ্ঠ থেকে ১০তম স্থান অধিকারকারী (৫ জন) ― ৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলে ― ডিজিটাল সনদপত্র প্রতিযোগিতায় আপনাকে স্বাগত।<br /> শুভেচ্ছান্তে, <br /> —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=74028-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == [[রন্ধনপ্রণালী:ঘেভার]] == পরিবর্তন করা হয়েছে, যাচাই করুন [[ব্যবহারকারী:MD Abu Siyam|MD Abu Siyam]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Abu Siyam|আলাপ]]) ০১:২৪, ১২ জুন ২০২৫ (ইউটিসি) == [[প্রকৌশল শব্দবিজ্ঞান/শীতলকারী পাখার শব্দ]] == পাতাটি ঠিক করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M.Asaduzzaman sahed|আলাপ]]) ২০:০০, ৬ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] পাতাটিকে এখনও ইংরেজি পরিভাষা এবং যান্ত্রিক অনুবাদ বিদ্যমান। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ২০:৩২, ৭ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে]]। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeSlGIk88-dNR79Vg5RytY6gIObKICFqrwc3ljN6Dw6YDn5IQ/viewform?usp=header এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৬, ৮ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=85872-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিশৈশবে 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বাইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে! == প্রিয় শাকিল ভাই, আশাকরি সপরিবারে কুশলে আছেন। আমি দেখলাম আমার লেখা 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে। এটা ঠিক করে দেওয়া দরকার। যথাশীঘ্র ব্যবস্থা নেবেন আশা রাখছি। ধন্যবাদসহ, [[ব্যবহারকারী:Sumasa|সুকান]] সুকান ১৬:২৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) == পুনঃপর্যালোচনা জন্য == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, [[রৈখিক বীজগণিত/শব্দকোষ]] পাতাটিতে অ,আ,ক,খ অনুক্রমে সাজিয়েছি। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:JIBON|JIBON]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৭:১৩, ২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :{{done}} —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}},<br>আপনি জেনে খুশি হবেন যে বাংলা উইকিবইয়ে নতুন বই তৈরির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]]'''। ১ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় আপনি ইংরেজি উইকিবই থেকে মানসম্মত পাতা বাংলায় অনুবাদ করার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য রয়েছে মোট ৬০০০ টাকা পর্যন্ত গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র, এবং কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলেই থাকছে ডিজিটাল সনদপত্র। অংশগ্রহণকারীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে মোবাইল ইন্টারনেট সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত নিয়মাবলি এবং অন্যান তথ্য জনতে আমাদের [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|প্রকল্প পাতাটি]] দেখুন। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের [https://t.me/bnwikibooks টেলিগ্রাম গ্রুপে] যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলা উইকিবইকে আরও সমৃদ্ধ করবে। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0/%E0%A7%A7&oldid=93268-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == Help chai.. == wiki contest e article submit kmne korbo ekthu help korben? [[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:WazedAlif|আলাপ]]) ০৪:০৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] [https://fountain.toolforge.org/editathons/wrcbn2026 এই লিংকে] যেয়ে সাবমিট করেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৪:২৮, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == আমি পুনরায় "মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/চেম্বার অব সিক্রেটস/অধ্যায় ১৭" বইটি সংশোধন করেছি। দয়া করে আবার পর্যবেক্ষণ করে দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oviroy Sarker|আলাপ]]) ১৬:১৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৫, ৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ভেক্টর জগতের সংজ্ঞা == জি, সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Mushfique Anan|আলাপ]]) ১০:৩৬, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|Kazi Mushfique Anan]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:১৭, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]] পাতাটি সম্পর্কে == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, এই ব্যবহারকারীর([[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]]) পাতাটি মনে হচ্ছে খুব সম্ভবত [[w:WP:U5]] অনুসারে দ্রুত অপসারণযোগ্য। ওনার বাইনারি বার্তা ডিকোড করলে হয়, <code>Note: The following code is a simulation of a Stuxnet-like structure for educational purposes. It is not functional malware and does not contain any harmful actions. Please use this example responsibly and do not modify it for malicious purposes.</code> নিচে যে কোড দেয়া তা এক্সিকিঊট করা সম্ভব, বর্তমানে এটি ডামি, কিন্তু এর মডিফিকেশনে ক্ষতিকারক আচরণ প্রদর্শন করতে পারে। [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad|&#126; মুকতাদির]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md. Muqtadir Fuad|আলাপ]]) ০৮:৫০, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == [[রৈখিক বীজগণিত/ভূমিকা]] অধ্যায়টি সংশোধন করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Rashidul Hasan Biplob|আলাপ]]) ১৫:৫১, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] পাতাটি পড়ে ও পাতার গঠন দেখে এখনও মনে হচ্চে না এটি সংশোধন করা হয়েছে। অন্য পাতাগুলো দেখুন, সেগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, এবং সে অনুযায়ী সংশোধন করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫২, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫]] পাতাটি সংশোধন করেছি। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৬]] এই পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৩:৩৯, ১২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] [[মাগলস_গাইড_টু_হ্যারি_পটার/বই/ডেথলি_হ্যালোজ/অধ্যায়_২৫]] পাতায় এখনও রুক্ষ অনুবাদের সমস্যা বিদ্যমান, জটিল বাক্যগুলো ভেঙ্গে লিখুন সরল ভাষায় লিখুন যাতে সহজে বোঝা যায়। একই কথা দ্বিতীয়টির জন্যও প্রযোজ্য। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতা ২ টা আবারও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:৫৬, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/আইসোমরফিজম == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৪:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১০, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[বিশ্বের ইতিহাস/শিল্প বিপ্লব]] == পাতাটি সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin|আলাপ]]) ১৭:০৪, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৭:২৬, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, হগওয়ার্টস]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]]পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/বোব্যাকটনস একাডেমি অব ম্যাজিক]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৪, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স সমীকরণ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৩৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স ও ভেক্টর/ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:০৯, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সমস্যা == সম্মানিত পর্যালোচক, আমি আপনার সাথে একটি সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে চাই। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ১৯:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == অভিযোগ == সুপ্রিয় উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজকবৃন্দ, প্রথমেই আপনাদেরকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। আপনাদের এই প্রতিযোগিতায় আমি ইতোমধ্যে অংশগ্রহণ করেছি। এপর্যন্ত আমি কিছু অনুবাদ জমা দিয়েছি এবং আপনাদের সুষ্ঠ পর্যালোচনার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু আজ আমি আপনাদের কাছে একটি অভিযোগ জানাতে চাই যা আপনারা সঠিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। কিছু অনুবাদ জমা দেওয়ার পর আমার কাছে একটি বার্তা আসে। যেখানে Tuhin- নামের একজন ব্যক্তি আমাকে নিম্নোক্ত বার্তাটি পাঠান-- "সম্মানিত সুধী, আপনি গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ যুক্ত করছেন যা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হওয়ার উপযুক্ত নয়। অনুগ্রহপূর্বক ইতিমধ্যে অনূদিত পাতাগুলো সংশোধন করে তারপরে নতুন পাতা তৈরি করুন।" আমি ধারণা করি হয়তো তিনি পর্যালোচনা কমিটির থেকে যোগাযোগ করেছেন। তাই আমিও সম্মানপূর্বক তাকে জানাই আমি কোনো এআই অনুবাদ যুক্ত করিনি। তিনি যদি আমার ভুল বলে দেন তাহলে খুশি হবো। তখন তিনি আমাকে জানান তিনি পর্যালোচক নন। তিনি আমাকে সতর্ক করতে এ মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আমি জানতে পেরেছি যে তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং তার সর্বোচ্চ সংখ্যক অনুবাদ গৃহীত হয়েছে। আমি যেটা বলতে চাই তা হলো, পর্যালোচনা কমিটির সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ বিশেষত যখন সে নিজেই একজন প্রতিযোগী কিভাবে অপর একজন প্রতিযোগীকে সতর্ক করার নামে এভাবে মন্তব্য করতে পারে। "গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ " বলে তিনি অপর একজনের পরিশ্রমকে দাগিয়ে দিতে পারেন না। প্রথম আলাপেই এভাবে অন্য প্রতিযোগিকে রূঢ় ভাবে বলে তিনি কি হতদ্যোম করতে চাইছেন নাকি ঈর্ষান্বিত হচ্ছেন। প্রথমেই তার বলা উচিত ছিল তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং সতর্ক করতে বলছেন। কিন্তু তার এ ধরনের অভিভাবক সুলভ রূঢ় আচরণে আমি খুবই অপমানিত হয়েছি। আমি যদি ভুল করে থাকি তবে পর্যালোচকগণ অবশ্যই আমাকে জানাবেন কিন্তু অন্য কারো এ ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য আমি বরদাস্ত করতে পারবো না। আমার অনেক প্রিয় একটি কাজের জায়গা এটি। আমি নিয়ম মেনে এর আগেও কাজ করেছি। আশাকরি আপনারা এর সঠিক বিচার করবেন। ধন্যবাদ। ইতি, অর্পিতা মজুমদার। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ২০:৪০, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি, তবে লক্ষ্য করুন আমাদের প্রকল্পগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, এখানে একজন আরেকজনকে পরামর্শ দেওয়াটা স্বাভাবিক এবং আমি আশা করছি আপনি যে কারো পরামর্শই ইতিবাচকভাবে নিবেন। ধন্যবাদ —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৭:২৮, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ, আমার বুঝতে ভুল হয়েছিলো। আকস্মিক মন্তব্য এবং মন্তব্যের রূঢ়তা আমাকে কিছুটা বিব্রত করেছিল। যাহোক, বুঝিয়ে বলার জন্য আবারও ধন্যবাদ। পর্যালোচকবৃন্দের প্রতি আমার অনুরোধ দয়া করে ভুলগুলো নমনীয়ভাবে বলবেন এবং সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলবেন। " গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ" এ জাতীয় শব্দবন্ধ খুবই অপমানজনক। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ০৮:২২, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভিলা]] পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করা হল। [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:নিয়াজ ইসলাম|আলাপ]]) ০৬:১১, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ব্যাপারটা হচ্ছে এমন, আমি উদাহরণ হিসাবে একটা শব্দের কথা বলেছি আপনি ওই একটা শব্দ'ই সংশোধন করে পর্যালোচনা করার কথা বলছেন! পুরো পাতাটি পড়ুন, আরও সমস্যা আছে, যান্ত্রিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনুবাদ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/ডাম্বলডোরের মৃত্যু]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:১০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রিভেট ড্রাইভ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:২০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/ম্যালফয় ম্যানর]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:৩৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমি ২২টি অনুবাদ জমা দিয়েছি কিন্তু পাশে কোন পয়েন্ট এখনো যোগ হয়নি বা রিজেক্ট হয়নি। কোন সমস্যা আছে কিনা একটু কি দেখবেন ?? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ১৫:১৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == বই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমার অনুবাদ্গুলো একটু কি দেখবেন? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[আরিমা/শব্দকোষ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] জনাব আমি [[আরিমা/শব্দকোষ]] পাতাটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছি, পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। ‍‍‍[[ব্যবহারকারী:Belayet73|Belayet73]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Belayet73|আলাপ]]) ০৯:৫৩, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[যোগাযোগ অধ্যয়ন সমীক্ষা/অধ্যায় ১৩ - লিঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] বইটি পুনরায় পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Sàádî|Sàádî]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sàádî|আলাপ]]) ০৮:০৫, ২৪ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা]] == পাতাটি পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। তথ্যসূত্রে trans-title= এর ভুল ব্যবহার সংশোধন করা হয়েছে। আমি তথ্যসূত্রে বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত কোনো সমস্যা পাইনি। আপনি কি "শুল্টজ, এমিলি '''এ., '''এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা" এর বোল্ড করা অংশের কথা বলছেন? এটা কোনো "ভুল/অতিরিক্ত ব্যবহার" নয়। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:৫৬, ৭ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি প্রথমেই বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত সমস্যা দেখছি, ''{{একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি|গুরুত্বপূর্ণ।" [৯]।}}'' তাছাড়া কিছুক্ষেত্রে দেখছি ইংরেজি পরিভাষা যেমন, ''প্রিস্কুল''। সংশোধনের পর জানান —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৩৬, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, আমি এখনও বুঝতে পারছি না আপনার কাছে এটা কেন সমস্যা মনে হচ্ছে। <u>কেনেথ আর. গিন্সবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, {{সবুজ|'''"'''সুস্থ মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য খেলা গুরুত্বপূর্ণ।'''"'''}}</u> এখানে " ভুল কেন হবে? এটা তো "তথ্যসূত্রের ফরম্যাটিংয়ে"র সাথেও সম্পর্কিত না। আপনাকে ইংরেজি পাতাটা দেখার অনুরোধ করছি। সেখানেও এগুলো এভাবেই আছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:২৩, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :::দাঁড়ি দুইবার দিয়েছেন এটা লক্ষ্য করেছেন কি? —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৭:২৫, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) 573vow5v35h4je1r2sije5i65ikotqb 106605 106601 2026-06-09T18:29:57Z NusJaS 8394 /* সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা */ উত্তর 106605 wikitext text/x-wiki {{সংগ্রহশালাসমূহ}} == সমাধান প্রয়োজন == আমি [[ইউরোপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস/১৯১৪ সাল থেকে ইউরোপ|একটা পাতা]] নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে ওতে আমার নাম যোগ করে রেখেছিলাম। তখনও পাতাটির শিরোনাম লাল রঙের দেখাচ্ছিল অর্থাৎ পাতাটিতে কেউ তখনও লেখা শুরু করে নি। কিন্তু পরবর্তীতে অনুবাদ শেষ করার পর পাতা সম্পাদনা করতে গিয়ে দেখি অন্য একজন সেটা সম্পাদনা করেছে এবং জমা দিয়ে দিয়েছে। অন্যের নামে যোগ করা পাতা সম্পাদনা করা কি শৃঙ্খলাবহির্ভূত নয়? [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ১৩:১১, ৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :আপনার শুরু করার সময় কার কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আপনার অনুবাদ তা স্বীকৃতি পাবে [[বিশেষ:অবদান/103.215.227.181|103.215.227.181]] ১৩:২৩, ২১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Article check == আমার লেখা আর্টিকেলটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করার জন্য অনুরোধ করছি উইকিশৈশব:মজার বৈজ্ঞানিক গবেষণা/How to make a needle float, and how to make it sink [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ০৪:১৫, ৮ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতাটি বাংলা ভাষায় লিখুন —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:২৮, ৯ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১৫:৫২, ১১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Point == '''আমার লেখা প্রতিটি আর্টিক্যালে আপনি শূন্য পয়েন্ট দিচ্ছেন। আপনি পুনরায় ভালো করে আর্টিক্যালগুলি চেক করে দেখুন! কোন ত্রুটি নেই, নিজের লেখা আর্টিক্যাল। দয়া করে আর্টিকেল গুলির পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে নাম্বার দেবেন। খাতা সংশোধন করার পরে নম্বর দেওয়ার অনুমতি আছে, কিছু আপনি দিচ্ছেন না। আমার কর্তব্য সবাইয়ের কাছে সহজ ভাবে বিষযগুলির ব্যাখ্যা দেওয়া, আপনার পছন্দ হলে গ্রহণ করবেন। সবকিছুই সময়ের উপর নির্ভর করে। ''' আপনি যখন পয়েন্ট দিচ্ছেন তার টাইম কোন নির্দিষ্ট নেই, খাতা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই পয়েন্ট দিচ্ছেন, যেগুলো পয়েন্ট দেননি তো দেন-ই-নি। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:০৫, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতা সম্পূর্ণ না করে জমা দিবেন না। গৃহিত হয়নি এমন পাতা সংশোধন করে জানালে সেটা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১২:০৯, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::এখনো পর্যন্ত আমি যে কটা আর্টিকেল বা পাতা লিখেছি সবকটি আজকেই সংশোধন করা হয়েছে দেখতে পারেন। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:৪৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] আপনার লেখা পাতাগুলো গুগল অনুবাদ বা যান্ত্রিক অনুবাদে পরিপূর্ণ। এগুলো সরল ও প্রাজ্ঞল ভাষায় লিখুন যাতে পড়লেই সহজে বোঝা যায়। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:৩৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == ফাউনন্টেন সমাধান == উইকিশৈশব:ভাষা/আইসল্যান্ডীয় যোগ করতে পারছি না ফাউনন্টেনের মাধ্যমে। বলছে- Another user has already added this article to the editathon [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৭:২০, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] এখন চেষ্টা করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৪:০০, ২৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == টুলফোর্জ এ সমস্যা == প্রতিযোগিতার সময়সীমা কি বাড়ানো হয়েছে? টুলফোর্জ কিন্তু দেখাচ্ছে এখনো ১৭ ঘণ্টা বাকি আছে। [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ০৬:৪৫, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরি পাতাগুলো এই সময়ে শুধুমাত্র জমা দেওয়া যাবে, সময় বৃদ্ধি করা হয়নি। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৭, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == A barnstar for you! == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Original Barnstar Hires.png|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''The Original Barnstar''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | original [[ব্যবহারকারী:Md Aahradul Islam Tasin|Md Aahradul Islam Tasin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Aahradul Islam Tasin|আলাপ]]) ০৯:২৫, ৫ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) |} == সংশোধন করা হলো == জনাব,<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/লেখক<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/তথ্যসূত্র<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/আরো পড়ুন<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় আইসিটি একীভূত করার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের সমস্যা<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/ভূমিকা<br /> পাতাগুলো সংশোধন করা হলো<br /> এগুলি ইংরেজি https://en.wikibooks.org/wiki/ICT_in_Education পা্তা থেকে অনুবা্দ করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ০৭:১০, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] পাতাগুলোতে থাকা যান্ত্রিক ও জটিলতায় পরিপূর্ণ অনুবাদ গুলো প্রাঞ্জল ও সরল ভাষায় লিখতে হবে, আমি এখনও পাতাগুলোতে যান্ত্রিক অনুবাদ দেখতে পাচ্ছি। পাতাগুলো নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:২৭, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) ::সবগুলি পাতা সংশোধন করা হয়েছে। এবা্র একটু দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:৩৯, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর পাতাটি সংশোধন দেখে জানাবেন ঠিক আছে কিনা। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:২৪, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == সংশোধন করা হলো == পরিবহনে বিজ্ঞান/সময়সূচী ও সময় নির্ধারণ - এটা যান্ত্রিক অনুবাদ সংশোধন করা হল। [[ব্যবহারকারী:Sourav saha032|Sourav saha032]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sourav saha032|আলাপ]]) ১৬:১৪, ১৭ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSepliAn9c9o4ISEM6ck_jWW0H_W0pr9596OfZAGy6q_UfTOFw/viewform?usp=sf_link এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১০:৩৩, ২৯ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69608-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest barnstar.svg|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | সুপ্রিয় MdsShakil,<br />বাংলা উইকিবইয়ে সম্প্রতি আয়োজিত, '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]''' শীর্ষক গ্রন্থলিখন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায় আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতায় তালিকাভুক্ত গ্রন্থ/গ্রন্থপৃষ্ঠা তৈরির মাধ্যমে বাংলা উইকিবইয়ের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখায়, শুভেচ্ছাস্মারক হিসেবে আপনাকে এই উইকিপদকটি প্রদান করা হলো। আশা করি বাংলা উইকিবইয়ের পথচলায় আপনার সরব ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে থাকুন‌। <br />শুভেচ্ছান্তে, <br />'''[[User:MdsShakil|শাকিল হোসেন]]''' <br />সমন্বয়ক, উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ <br />১০:৩৩, ২৪ আগস্ট ২০২৪ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69912-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == টেমপ্লেট:তাক == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] কিছু সমস্যা ছিল টেমপ্লেটে তবে সেগুলো সংশোধন করেছি। সময় পেলে একটু পরীক্ষা করে দেখবেন [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ১১:৩৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] আপনি না একবার সংশোধন করেছিলেন? কি সমস্যা হয়েছিলো আবার? —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৮:০৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) ::বিষয়শ্রেণী যুক্ত হচ্ছিল না। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:১১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :::টেমপ্লেট:বিভাগ এও কিছু সমস্যা পেয়েছি বিকালে ঠিক করব ইনশাল্লাহ [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) == Notice of expiration of your sysop right == <div dir="ltr">Hi, as part of [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot|Global reminder bot]], this is an automated reminder to let you know that your permission "sysop" (প্রশাসক) will expire on 2025-04-06 14:24:19. Please renew this right if you would like to continue using it. <i>In other languages: [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot/Messages/default|click here]]</i> [[ব্যবহারকারী:Leaderbot|Leaderbot]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Leaderbot|আলাপ]]) ১৯:৪২, ৩০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি)</div> == [[টেমপ্লেট:Printable]] == [[টেমপ্লেট:Printable]] কাজ করছে না। দয়া করে নিশ্চিত করুন যে এটি সঠিকভাবে কাজ করা। [[ব্যবহারকারী:Somajyoti|Somajyoti]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Somajyoti|আলাপ]]) ১৪:০৬, ১০ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ]] == {| style="background-color: #f8f9fa; border: 1px solid #ced4da; padding:10px; color: #212529;" |- |[[File:Bangla Wikibooks Writing contest 2025 Banner (2).png|frameless|center|300px|link=[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]]]<br/> সুপ্রিয় MdsShakil, আশা করি এই গ্রীষ্মের এই রৌদ্রোজ্জ্বল তপ্ত আবহাওয়াতেও ভালো আছেন। আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, গত ৭ মে থেকে বাংলা উইকিবইয়ে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]''' শীর্ষক একটি বই লিখন ও অনুবাদ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ‌আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতাটি অভিজ্ঞ, অনভিজ্ঞ ও নতুন ব্যবহারকারী সকলের জন্যই মুক্ত।  অন্যান্য ভাষার উইকিবইয়ের চাইতে বাংলা উইকিবইয়ে অবদানকারীর সংখ্যা নিতান্তই কম, এমনকি সংখ্যাটি বাংলা উইকিপিডিয়ার তুলনায়ও নগণ্য। অথচ ডিজিটাল বইয়ের এই যুগে বাংলা উইকিবই যথেষ্ট গুরত্বের দাবি রাখে। এজন্য আমাদের আরও স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। আশা করি আপনি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন ও উইকিবইকে সমৃদ্ধ করবেন। বিস্তারিত [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|প্রকল্প পাতায়]] দেখুন। '''শীর্ষ অবদানকারীদের জন্য পুরষ্কার''' * ১ম স্থান অধিকারকারী ― ৬০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ২য় স্থান অধিকারকারী ― ৪০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৩য় স্থান অধিকারকারী ― ৩০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৪র্থ স্থান অধিকারকারী ― ২৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৫ম স্থান অধিকারকারী ― ২০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৬ষ্ঠ থেকে ১০তম স্থান অধিকারকারী (৫ জন) ― ৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলে ― ডিজিটাল সনদপত্র প্রতিযোগিতায় আপনাকে স্বাগত।<br /> শুভেচ্ছান্তে, <br /> —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=74028-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == [[রন্ধনপ্রণালী:ঘেভার]] == পরিবর্তন করা হয়েছে, যাচাই করুন [[ব্যবহারকারী:MD Abu Siyam|MD Abu Siyam]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Abu Siyam|আলাপ]]) ০১:২৪, ১২ জুন ২০২৫ (ইউটিসি) == [[প্রকৌশল শব্দবিজ্ঞান/শীতলকারী পাখার শব্দ]] == পাতাটি ঠিক করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M.Asaduzzaman sahed|আলাপ]]) ২০:০০, ৬ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] পাতাটিকে এখনও ইংরেজি পরিভাষা এবং যান্ত্রিক অনুবাদ বিদ্যমান। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ২০:৩২, ৭ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে]]। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeSlGIk88-dNR79Vg5RytY6gIObKICFqrwc3ljN6Dw6YDn5IQ/viewform?usp=header এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৬, ৮ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=85872-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিশৈশবে 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বাইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে! == প্রিয় শাকিল ভাই, আশাকরি সপরিবারে কুশলে আছেন। আমি দেখলাম আমার লেখা 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে। এটা ঠিক করে দেওয়া দরকার। যথাশীঘ্র ব্যবস্থা নেবেন আশা রাখছি। ধন্যবাদসহ, [[ব্যবহারকারী:Sumasa|সুকান]] সুকান ১৬:২৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) == পুনঃপর্যালোচনা জন্য == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, [[রৈখিক বীজগণিত/শব্দকোষ]] পাতাটিতে অ,আ,ক,খ অনুক্রমে সাজিয়েছি। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:JIBON|JIBON]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৭:১৩, ২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :{{done}} —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}},<br>আপনি জেনে খুশি হবেন যে বাংলা উইকিবইয়ে নতুন বই তৈরির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]]'''। ১ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় আপনি ইংরেজি উইকিবই থেকে মানসম্মত পাতা বাংলায় অনুবাদ করার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য রয়েছে মোট ৬০০০ টাকা পর্যন্ত গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র, এবং কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলেই থাকছে ডিজিটাল সনদপত্র। অংশগ্রহণকারীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে মোবাইল ইন্টারনেট সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত নিয়মাবলি এবং অন্যান তথ্য জনতে আমাদের [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|প্রকল্প পাতাটি]] দেখুন। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের [https://t.me/bnwikibooks টেলিগ্রাম গ্রুপে] যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলা উইকিবইকে আরও সমৃদ্ধ করবে। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0/%E0%A7%A7&oldid=93268-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == Help chai.. == wiki contest e article submit kmne korbo ekthu help korben? [[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:WazedAlif|আলাপ]]) ০৪:০৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] [https://fountain.toolforge.org/editathons/wrcbn2026 এই লিংকে] যেয়ে সাবমিট করেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৪:২৮, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == আমি পুনরায় "মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/চেম্বার অব সিক্রেটস/অধ্যায় ১৭" বইটি সংশোধন করেছি। দয়া করে আবার পর্যবেক্ষণ করে দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oviroy Sarker|আলাপ]]) ১৬:১৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৫, ৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ভেক্টর জগতের সংজ্ঞা == জি, সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Mushfique Anan|আলাপ]]) ১০:৩৬, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|Kazi Mushfique Anan]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:১৭, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]] পাতাটি সম্পর্কে == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, এই ব্যবহারকারীর([[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]]) পাতাটি মনে হচ্ছে খুব সম্ভবত [[w:WP:U5]] অনুসারে দ্রুত অপসারণযোগ্য। ওনার বাইনারি বার্তা ডিকোড করলে হয়, <code>Note: The following code is a simulation of a Stuxnet-like structure for educational purposes. It is not functional malware and does not contain any harmful actions. Please use this example responsibly and do not modify it for malicious purposes.</code> নিচে যে কোড দেয়া তা এক্সিকিঊট করা সম্ভব, বর্তমানে এটি ডামি, কিন্তু এর মডিফিকেশনে ক্ষতিকারক আচরণ প্রদর্শন করতে পারে। [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad|&#126; মুকতাদির]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md. Muqtadir Fuad|আলাপ]]) ০৮:৫০, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == [[রৈখিক বীজগণিত/ভূমিকা]] অধ্যায়টি সংশোধন করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Rashidul Hasan Biplob|আলাপ]]) ১৫:৫১, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] পাতাটি পড়ে ও পাতার গঠন দেখে এখনও মনে হচ্চে না এটি সংশোধন করা হয়েছে। অন্য পাতাগুলো দেখুন, সেগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, এবং সে অনুযায়ী সংশোধন করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫২, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫]] পাতাটি সংশোধন করেছি। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৬]] এই পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৩:৩৯, ১২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] [[মাগলস_গাইড_টু_হ্যারি_পটার/বই/ডেথলি_হ্যালোজ/অধ্যায়_২৫]] পাতায় এখনও রুক্ষ অনুবাদের সমস্যা বিদ্যমান, জটিল বাক্যগুলো ভেঙ্গে লিখুন সরল ভাষায় লিখুন যাতে সহজে বোঝা যায়। একই কথা দ্বিতীয়টির জন্যও প্রযোজ্য। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতা ২ টা আবারও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:৫৬, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/আইসোমরফিজম == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৪:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১০, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[বিশ্বের ইতিহাস/শিল্প বিপ্লব]] == পাতাটি সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin|আলাপ]]) ১৭:০৪, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৭:২৬, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, হগওয়ার্টস]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]]পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/বোব্যাকটনস একাডেমি অব ম্যাজিক]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৪, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স সমীকরণ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৩৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স ও ভেক্টর/ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:০৯, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সমস্যা == সম্মানিত পর্যালোচক, আমি আপনার সাথে একটি সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে চাই। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ১৯:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == অভিযোগ == সুপ্রিয় উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজকবৃন্দ, প্রথমেই আপনাদেরকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। আপনাদের এই প্রতিযোগিতায় আমি ইতোমধ্যে অংশগ্রহণ করেছি। এপর্যন্ত আমি কিছু অনুবাদ জমা দিয়েছি এবং আপনাদের সুষ্ঠ পর্যালোচনার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু আজ আমি আপনাদের কাছে একটি অভিযোগ জানাতে চাই যা আপনারা সঠিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। কিছু অনুবাদ জমা দেওয়ার পর আমার কাছে একটি বার্তা আসে। যেখানে Tuhin- নামের একজন ব্যক্তি আমাকে নিম্নোক্ত বার্তাটি পাঠান-- "সম্মানিত সুধী, আপনি গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ যুক্ত করছেন যা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হওয়ার উপযুক্ত নয়। অনুগ্রহপূর্বক ইতিমধ্যে অনূদিত পাতাগুলো সংশোধন করে তারপরে নতুন পাতা তৈরি করুন।" আমি ধারণা করি হয়তো তিনি পর্যালোচনা কমিটির থেকে যোগাযোগ করেছেন। তাই আমিও সম্মানপূর্বক তাকে জানাই আমি কোনো এআই অনুবাদ যুক্ত করিনি। তিনি যদি আমার ভুল বলে দেন তাহলে খুশি হবো। তখন তিনি আমাকে জানান তিনি পর্যালোচক নন। তিনি আমাকে সতর্ক করতে এ মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আমি জানতে পেরেছি যে তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং তার সর্বোচ্চ সংখ্যক অনুবাদ গৃহীত হয়েছে। আমি যেটা বলতে চাই তা হলো, পর্যালোচনা কমিটির সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ বিশেষত যখন সে নিজেই একজন প্রতিযোগী কিভাবে অপর একজন প্রতিযোগীকে সতর্ক করার নামে এভাবে মন্তব্য করতে পারে। "গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ " বলে তিনি অপর একজনের পরিশ্রমকে দাগিয়ে দিতে পারেন না। প্রথম আলাপেই এভাবে অন্য প্রতিযোগিকে রূঢ় ভাবে বলে তিনি কি হতদ্যোম করতে চাইছেন নাকি ঈর্ষান্বিত হচ্ছেন। প্রথমেই তার বলা উচিত ছিল তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং সতর্ক করতে বলছেন। কিন্তু তার এ ধরনের অভিভাবক সুলভ রূঢ় আচরণে আমি খুবই অপমানিত হয়েছি। আমি যদি ভুল করে থাকি তবে পর্যালোচকগণ অবশ্যই আমাকে জানাবেন কিন্তু অন্য কারো এ ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য আমি বরদাস্ত করতে পারবো না। আমার অনেক প্রিয় একটি কাজের জায়গা এটি। আমি নিয়ম মেনে এর আগেও কাজ করেছি। আশাকরি আপনারা এর সঠিক বিচার করবেন। ধন্যবাদ। ইতি, অর্পিতা মজুমদার। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ২০:৪০, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি, তবে লক্ষ্য করুন আমাদের প্রকল্পগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, এখানে একজন আরেকজনকে পরামর্শ দেওয়াটা স্বাভাবিক এবং আমি আশা করছি আপনি যে কারো পরামর্শই ইতিবাচকভাবে নিবেন। ধন্যবাদ —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৭:২৮, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ, আমার বুঝতে ভুল হয়েছিলো। আকস্মিক মন্তব্য এবং মন্তব্যের রূঢ়তা আমাকে কিছুটা বিব্রত করেছিল। যাহোক, বুঝিয়ে বলার জন্য আবারও ধন্যবাদ। পর্যালোচকবৃন্দের প্রতি আমার অনুরোধ দয়া করে ভুলগুলো নমনীয়ভাবে বলবেন এবং সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলবেন। " গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ" এ জাতীয় শব্দবন্ধ খুবই অপমানজনক। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ০৮:২২, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভিলা]] পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করা হল। [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:নিয়াজ ইসলাম|আলাপ]]) ০৬:১১, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ব্যাপারটা হচ্ছে এমন, আমি উদাহরণ হিসাবে একটা শব্দের কথা বলেছি আপনি ওই একটা শব্দ'ই সংশোধন করে পর্যালোচনা করার কথা বলছেন! পুরো পাতাটি পড়ুন, আরও সমস্যা আছে, যান্ত্রিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনুবাদ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/ডাম্বলডোরের মৃত্যু]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:১০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রিভেট ড্রাইভ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:২০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/ম্যালফয় ম্যানর]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:৩৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমি ২২টি অনুবাদ জমা দিয়েছি কিন্তু পাশে কোন পয়েন্ট এখনো যোগ হয়নি বা রিজেক্ট হয়নি। কোন সমস্যা আছে কিনা একটু কি দেখবেন ?? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ১৫:১৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == বই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমার অনুবাদ্গুলো একটু কি দেখবেন? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[আরিমা/শব্দকোষ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] জনাব আমি [[আরিমা/শব্দকোষ]] পাতাটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছি, পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। ‍‍‍[[ব্যবহারকারী:Belayet73|Belayet73]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Belayet73|আলাপ]]) ০৯:৫৩, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[যোগাযোগ অধ্যয়ন সমীক্ষা/অধ্যায় ১৩ - লিঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] বইটি পুনরায় পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Sàádî|Sàádî]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sàádî|আলাপ]]) ০৮:০৫, ২৪ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা]] == পাতাটি পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। তথ্যসূত্রে trans-title= এর ভুল ব্যবহার সংশোধন করা হয়েছে। আমি তথ্যসূত্রে বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত কোনো সমস্যা পাইনি। আপনি কি "শুল্টজ, এমিলি '''এ., '''এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা" এর বোল্ড করা অংশের কথা বলছেন? এটা কোনো "ভুল/অতিরিক্ত ব্যবহার" নয়। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:৫৬, ৭ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি প্রথমেই বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত সমস্যা দেখছি, ''{{একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি|গুরুত্বপূর্ণ।" [৯]।}}'' তাছাড়া কিছুক্ষেত্রে দেখছি ইংরেজি পরিভাষা যেমন, ''প্রিস্কুল''। সংশোধনের পর জানান —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৩৬, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, আমি এখনও বুঝতে পারছি না আপনার কাছে এটা কেন সমস্যা মনে হচ্ছে। <u>কেনেথ আর. গিন্সবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, {{সবুজ|'''"'''সুস্থ মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য খেলা গুরুত্বপূর্ণ।'''"'''}}</u> এখানে " ভুল কেন হবে? এটা তো "তথ্যসূত্রের ফরম্যাটিংয়ে"র সাথেও সম্পর্কিত না। আপনাকে ইংরেজি পাতাটা দেখার অনুরোধ করছি। সেখানেও এগুলো এভাবেই আছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:২৩, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :::দাঁড়ি দুইবার দিয়েছেন এটা লক্ষ্য করেছেন কি? —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৭:২৫, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] দুঃখিত, পুরো পাতায় শুধুমাত্র একটা অতিরিক্ত দাঁড়ি এত বড় ব্যাপার হতে পারে, কখনোই ভাবিনি বলেই হয়তো এটা আমার নজর এড়িয়ে গিয়েছে। তবে এই ত্রুটিটাও ইংরেজি থেকে সরাসরি এসেছে। এটা সংশোধন করা হয়েছে। আর কিছু আপনার নজরে পড়লে জানানোর অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৮:২৯, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) 1p9ejttzuud4njnd5dh1pyuldi0hv7v জনপরিসরে অলংকারশাস্ত্র ও লেখালেখি: একটি ভূমিকা/অধ্যায় ১০: রাজনীতি ও জনপরিসর 0 31907 106607 106360 2026-06-09T18:35:02Z NusJaS 8394 106607 wikitext text/x-wiki ==ভূমিকা== রাজনীতি এবং জনপরিসর সমার্থক নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র রয়েছে। সেখানে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কে সাধারণ নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত করেন। তাই জনপরিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাজনীতি। আল গোর তার ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' বইয়ে একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের দেশ যেসব সিদ্ধান্ত নেয় তার জন্য আমরা সবাই দায়ী।"<ref>গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ২। </ref> ==২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণা: রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং জনপরিসর== ====ভূমিকা==== রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রায় সবসময়ই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছে। এটি প্রথমে সংবাদপত্রের কার্টুন দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরে ১৯৫০-এর দশকে এটি টিভি বিজ্ঞাপনে রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত নতুন মাধ্যমের সাহায্যে জনপরিসরে প্রবেশ করেছে। ইন্টারনেটের এই যুগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আগের চেয়ে বেশি মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছাতে পারে। তবে এদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। কয়েক দশক আগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন মূলত নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রচার করত। এখন এগুলো নিয়মিত প্রতিপক্ষকে অপবাদ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আল গোর তার দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে একটি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমাদের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র "সুশিক্ষিত নাগরিকদের" ওপর নির্ভর করে। এসব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এখন এমন নাগরিকদের ক্ষতি করছে। এগুলোর যুক্তির অভাব টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছায়। এটি "ধারণার বাজার"কে এমন এক জায়গায় পরিণত করে যেখানে "সত্য" আর টিকে থাকে না।<ref> গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ৫-১১।</ref> ২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। উভয় দলই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কথা তার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন কাজে লাগিয়েছিল। তারা সত্য পরিবর্তন করতে এবং জনপরিসর ও নির্বাচন উভয়কেই প্রভাবিত করতে এটি করেছিল। ===="আপনি এটি তৈরি করেননি।"==== [[File:President Barack Obama.jpg|thumb|প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা]] ভার্জিনিয়ার রোয়ানোকে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন। প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সরকারি অবকাঠামো উভয়ের ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি বলেন: :"আপনি সফল হলে কেউ না কেউ আপনাকে সাহায্য করেছিল। আপনার জীবনে কোনো এক দারুণ শিক্ষক ছিলেন। কেউ একজন আমাদের এই অবিশ্বাস্য আমেরিকান ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। এটি আপনাকে উন্নতি করতে সুযোগ দিয়েছে। কেউ রাস্তা ও সেতুতে বিনিয়োগ করেছিল। আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি। অন্য কেউ এটি সম্ভব করেছে।"<ref>সিএনএন, ওয়্যার স্টাফ। "'ইউ ডিডনট বিল্ড দ্যাট': অ্যা থিম আউট অব কনটেক্সট" ['You Didn't Build That': A Theme Out of Context]। ০১ সেপ্টে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://www.cnn.com/2012/08/31/politics/fact-check-built-this></ref> প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। তবে তার "আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি" বাক্যটি ওবামার বিরোধীরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করেছিল। তারা প্রেসিডেন্টকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বড় সরকারে বিশ্বাসী উদারপন্থী হিসেবে তুলে ধরতে এটি ব্যবহার করেছিল। জিওপির সদস্যরা এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা ব্যবসার মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, "হ্যাঁ, আপনিই এটি তৈরি করেছেন।"<ref>ট্যাপার, জেক। "ডিড ওবামা সে, 'ইফ ইউ হ্যাভ অ্যা বিজনেস, ইউ ডিডনট বিল্ড দ্যাট'?" [Did Obama Say, 'If You Have a Business, You Didn't Build That'?]। ১৬ জুলাই ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/07/did-obama-say-if-youve-got-a-business-you-didnt-build-that/></ref> এছাড়া বক্তব্যটি বেশ কয়েকটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ইন্ধন জোগাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। "আপনি এটি তৈরি করেননি" কথাটি অসংখ্য বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল। ব্লগস্ফিয়ারে মিম তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি টুইটারে এটি হ্যাশট্যাগও হয়ে উঠেছিল। মিট রমনির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার বদলে তার প্রচারণা কমিটি ও সহকর্মী রিপাবলিকানরা এই বক্তব্যের সুযোগ নেন। তারা তাদের বিজ্ঞাপনে বারাক ওবামাকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্টের কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। ওবামাবিরোধী এসব বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগেই বক্তৃতার অন্য কোনো অংশ ছাড়াই তার একটি বাক্য তুলে ধরা হয়েছিল। এগুলো মার্কিনিদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে প্রেসিডেন্ট বেসরকারি ব্যবসার মালিকদের প্রশংসা বা স্বীকৃতি দেন না। এছাড়া তিনি মনে করেন এসব ব্যবসার সাফল্যের জন্য একমাত্র ফেডারেল সরকার দায়ী। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বিজ্ঞাপনগুলো টেলিভিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের আকারে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমেও এগুলো ছড়িয়ে পড়ে। কথাটি ইন্টারনেট মিম তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এগুলো ফেসবুক, টুইটার, টাম্বলার এবং অন্যান্য ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইটগুলোতে শেয়ার করা হয়েছিল। রক্ষণশীলরা এটিকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করেছিল। তারা ছোট ব্যবসা সম্পর্কে ওবামার অনুভূতি নিয়ে সত্য পরিবর্তন করতে এটি ব্যবহার করেছিল। কতজন মার্কিন নাগরিক সত্যিই পুরো বক্তৃতাটি পড়েছেন বা দেখেছেন তা অজানা। তবে এটি স্পষ্ট যে অনেকেই তা করেননি। মাঞ্জু ট্রু এনাফ বইয়ে বলেছেন, অনেক মার্কিনি সত্য জানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।<ref>মাঞ্জু, ফরহাদ। ''ট্রু এনাফ: লার্নিং টু লিভ ইন অ্যা পোস্ট-ফ্যাক্ট সোসাইটি'' [True Enough: Learning to Live in a Post-fact Society]। হোবোকেন, এনজে: উইলি, ২০০৮।</ref> মানুষ যা বিশ্বাস করতে চায় তা-ই বিশ্বাস করে। ২০১২ সালের প্রচারণায় "আপনি এটি তৈরি করেননি" রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো এর একটি নিখুঁত উদাহরণ। অনেক রক্ষণশীল নাগরিক বিজ্ঞাপনগুলোকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তাদের আগের পক্ষপাতিত্ব নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে দেখেছিলেন। তারা তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে কোনো গবেষণা করেননি। বিজ্ঞাপনগুলো বারাক ওবামার বিষয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টায় জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সফলও হয়েছিল। ====“৪৭ শতাংশ”==== [[File:Mitt Romney by Gage Skidmore 6.jpg|thumb|গেইজ স্কিডমোরের তোলা মিট রমনি ৬]] ডেমোক্র্যাটরাও জনপরিসরকে প্রভাবিত করতে ২০১২ সালের প্রচারণার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেছিল। "৪৭ শতাংশ" ভিডিওর ক্ষেত্রে সিনেটর মিট রমনির কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে সত্যকে কারসাজি করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে নৈশভোজের সময় ওয়েট স্টাফের একজন সদস্য স্কট প্রাউটি গোপনে মিট রমনির একটি বক্তৃতা ভিডিও করেন। বক্তৃতায় রমনি অনেক মার্কিন নাগরিকের কথা বলেন যারা আগেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা "যাই হোক না কেন" তাকে ভোট দেবেন। রমনি বলেছিলেন যে এসব মানুষের মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ ৪৭ শতাংশ মার্কিনি হলেন এমন মানুষ যারা: :"সরকারের ওপর নির্ভরশীল, যারা নিজেদের ভুক্তভোগী মনে করে। তারা মনে করে যে তাদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা বিশ্বাস করে যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বাসস্থান এবং আরও অনেক কিছু পাওয়ার অধিকার তাদের আছে। তারা মনে করে এগুলো তাদের অধিকার। তাই সরকারের উচিত তাদের এগুলো দেওয়া। আর তারা যাই হোক না কেন এই প্রেসিডেন্টকেই ভোট দেবে। ... এরা এমন মানুষ যারা কোনো আয়কর দেয় না। আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়। তারা যে নিজেদের দায়িত্ব নেবে এবং নিজেদের জীবনের যত্ন নেবে, তা আমি কখনোই তাদের বোঝাতে পারব না।"<ref>ভিডিও। ইউটিউবওয়েব। <http://www.youtube.com/watch?v=M2gvY2wqI7M></ref> এখানে সিনেটর মিট রমনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে অনেক মার্কিনি আগে থেকেই প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের ভোট জয়ের চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ তারা আগেই মনস্থির করে ফেলেছেন। তবে স্কট প্রাউটি বুঝেছিলেন যে সিনেটর দাবি করছেন তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের পরোয়া করেন না। তাই প্রাউটি টেপটি প্রকাশ করে বলেন, "সবার এটি শোনা প্রয়োজন ছিল।"<ref>গুড, ক্রিস। "দ্য লেসন অব মিট রমনিন'স ৪৭-পারসেন্ট ভিডিও: বি নাইস টু দ্য ওয়েট স্টাফ?" [The Lesson of Mitt Romne'ys 47-Percent Video: Be Nice To The Wait Staff?]। ১৪ মার্চ ২০১৩। ওয়েব। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2013/03/the-lesson-of-mitt-romneys-47-percent-video-be-nice-to-the-wait-staff/></ref> প্রাউটির মতো ওবামার প্রচারণা কমিটি ও ডেমোক্র্যাটরাও এই সুযোগ কাজে লাগায়। তারা রমনিকে এমন একজন হিসেবে উপস্থাপন করে যিনি নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পরোয়া করেন না। তিনি শুধু ধনীদের নিয়ে চিন্তিত। মিট রমনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনিদের ভোট পাওয়া নিয়ে চিন্তিত নন, তা বলার বদলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো তার কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে তুলে ধরেছিল। "আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়" বাক্যটি বিকৃত করা হয়েছিল। এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন সিনেটর বলেছিলেন যে তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনির কোনো পরোয়া করেন না। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বক্তৃতার মতো রমনির কথাগুলোও টেলিভিশনের মাধ্যমে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এগুলো নিয়ে মিম তৈরি করা হয়েছিল যা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। টুইটারে "৪৭%" একটি হ্যাশট্যাগে পরিণত হয়। সেখানে অনেকেই নিজেদের সেই ৪৭ শতাংশ মানুষের অংশ বলে উল্লেখ করেন যাদের নিয়ে রমনির কোনো মাথাব্যথা নেই। আবারও একজন রাজনীতিবিদের কথা খণ্ডিতভাবে নেওয়া হয়েছিল। এগুলো মার্কিন জনগণের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যা তার বক্তব্যের সত্যতা লুকিয়ে রেখেছিল। আবারও এগুলো তার বিরুদ্ধে আগের পক্ষপাতিত্বকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এবং আবারও এগুলো মিট রমনির বিষয়ে নেতিবাচকভাবে জনমতকে প্রভাবিত করেছিল। ==মিট রমনি এবং মার্কিনিদের কাছে মূল্যায়িত প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলি== ===ভূমিকা=== মার্কিন প্রেসিডেন্সি এমন একটি চাকরি যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পদে পরিণত হয়েছে। তাই চাকরিতে কয়েক বছর কাটানোর পরই প্রেসিডেন্টের চুল অনেক পেকে যায়। এটি কোনো অবাক করার মতো বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট এমন সব সিদ্ধান্ত নেন যা যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের মানুষকে আজ থেকে শুরু করে বহুকাল পর্যন্ত প্রভাবিত করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা একটি বড় কাজ। একে আমরা হালকাভাবে নিতে পারি না। আমাদের অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মার্কিনিদের কি মূল্যায়নের কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে যেখানে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের মাপতে চান? মার্কিন ইতিহাসের প্রবণতা থেকে দেখা যায়, প্রায় সব প্রেসিডেন্টই আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচডব্লিউ বুশ এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ ছাড়া সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রায় সব প্রেসিডেন্টই প্রার্থিতার আগে অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। মার্কিনিরা কেন এসব মানুষের গুণাবলিকে কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করেন? কেন এসব গুণাবলি সফল ব্যবসায়ীদের গুণাবলির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়? মার্কিনি হিসেবে আমাদের জন্ম থেকেই একটি প্রবৃত্তি রয়েছে। পরবর্তী প্রধান সেনাপতি নির্বাচনের সময় প্রতি নির্বাচনী বছরে আমরা এটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে কাজের যোগ্যতা অর্জন করেন। কেউ কেউ এতে সফল হন। অন্যদিকে মিট রমনির মতো কেউ কেউ ব্যর্থ হন। ===কর্পোরেট আমেরিকা=== ====একজন ব্যবসায়ীর গুণাবলি==== মার্কিন কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে সফল ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের প্রতীক। এমনও বলা যায় যে ছোট ব্যবসার সফলতার গল্পগুলো আমেরিকান ড্রিমকে তুলে ধরে। এতে উদ্যোক্তারা বাজারে নিজেদের জায়গা খুঁজে পান। কিন্তু আমরা কি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ব্যবসায়িক জগতের সফল মানুষদের কাছে সামগ্রিকভাবে মার্কিন জনগণের বৃহত্তর চাহিদা মেটানোর গুণাবলি নেই? ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাদের সুফল পেতে লড়াই করেন। এমন কিছু করতে তাদের ব্যক্তিত্ব সাহায্য করে। উইকিঅ্যানসারসের একজন অবদানকারী একজন ব্যবসায়ীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের তালিকা দিয়েছেন। এগুলো হলো সফল হওয়ার ক্ষমতা ও সংকল্প, বুদ্ধিমত্তা, সতর্কতা, নেতৃত্ব, স্পষ্টবাদিতা এবং অন্যদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা।<ref>["হোয়াট আর দ্য কোয়ালিটিস অব অ্যা গুড বিজনেসম্যান?" [What are the Qualities of a Good Businessman?] উইকিঅ্যানসারস। <http://wiki.answers.com/Q/What_are_the_qualities_of_a_good_businessman>]</<ref> তাহলে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সমস্যা কোথায়? এসব গুণ শুধু ব্যবসায় নয়, যেকোনো মহান নেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে মনে হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের পদে স্পষ্টবাদিতা সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় প্রেসিডেন্টকে কিছু বিষয় ঘুরিয়ে বলতে হয়। কোনো পরিস্থিতির বাস্তবতা প্রকাশ করলে দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ====মুনাফা-চালিত==== [[File:Hurricane_Katrina_President_Bush_with_New_Orleans_Mayor.jpg|thumb|নিউ অরলিন্সের মেয়রের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বুশ]] চিন্তার আরেকটি বিষয় হলো ব্যবসায়ীর সাফল্যের পেছনে মুনাফাভিত্তিক প্রেরণা। এটি হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিট রমনি ছোটবেলা থেকেই বাবার ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। তিনি একটি ধনী পরিবার থেকে এসেছিলেন। ভোটারদের কাছে এটি ম্যাসাচুসেটসের প্রাক্তন গভর্নরকে লোভী হিসেবে তুলে ধরে। এটি তাকে সমাজের বাস্তবতা এবং পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করা মানুষদের বিপদ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করায়। ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার পর এই ধারণাটি আরও জোরালো হয়। তখন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে ফেডারেল সরকার ও ন্যাশনাল গার্ডের নিউ অরলিন্সের মানুষকে বাঁচাতে কয়েক দিন সময় লেগেছিল। বুশ ছিলেন টেক্সাসের তেল শিল্পের একজন প্রাক্তন ব্যবসায়ী। নিউ অরলিন্সের বাসিন্দাদের খাবার, পানি ও নিরাপত্তা দিতে ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এই বিলম্বিত পদক্ষেপ হয়তো প্রেসিডেন্ট বুশের মতো মানুষদের এই পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ====জনগণের ওপর নজর==== হারিকেন ক্যাটরিনা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বুশের ভূমিকা হয়তো মিট রমনির প্রেসিডেন্সি দৌড়কে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। কারণ এটি জনগণের সঙ্গে প্রাক্তন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের দূরত্বের বিষয়টি উন্মোচন করেছিল। মিডিয়ার সাহায্যে মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের চিন্তিত মুখ দেখেছিল। কিন্তু তিনি মেরিন ওয়ানের আরামদায়ক আসনে বসে নিউ অরলিন্সের ধ্বংসযজ্ঞ দেখছিলেন। গভর্নর রমনির পক্ষে বলা যায়, তিনি লাখ লাখ মানুষের চূড়ান্ত উপকারে তার বিশাল আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন। তার বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পটভূমির কারণে তার প্রাইভেট ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফার্ম দুর্বল ব্যবসাগুলোকে প্রায় নিশ্চিত দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচাতে পেরেছিল। তার ফার্ম ২০০২ সালের শীতকালীন অলিম্পিককে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করেছিল।<ref>["মিট রমনিন'স কি কোয়ান্ডারি" [Mitt Romney's Key Quandary]। ইনভেস্টরস বিজনেস ডেইলি। ১৩ এপ্রি. ২০১১। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> গভর্নর রমনির সমর্থন না পেলে ২০০২ সালের অলিম্পিকের পরিণতি হয়তো খারাপ হতো। ====গণতন্ত্রের সংলাপ==== [[File:Al_Gore.jpg|thumb|ভিপি এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর]] রমনির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিনিরা সরকারের নেতা হিসেবে ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বুশের প্রথম মেয়াদে এনরন-যুগের কেলেঙ্কারিগুলো হয়তো এতে আরও ভূমিকা রেখেছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর এর সঙ্গে একমত। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর বলেছেন যে পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র সমাজে কেবল পাশাপাশি অবস্থান করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই দুটির মিশ্রণ বিভাজন তৈরি করে। এটি একটি সুস্থ "গণতন্ত্রের সংলাপ" হিসেবে জনপরিসরের জন্য হুমকিস্বরূপ।<ref>[গোর, অ্যালবার্ট। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। মুদ্রণ।]</ref> একটি পুঁজিবাদী সমাজের ব্যবসায়ী নেতাদের সরকারের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই জায়গা আছে। তারা সম্ভবত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হতে পারেন। তবে আমেরিকার প্রধান নির্বাহীর পদে তাদের জায়গা না-ও হতে পারে। ===কোথায় রমনির ভুল হয়েছিল - বলা কঠিন, তবে চিহ্নিত করা সহজ=== ====তার ভাবমূর্তি==== [[File:Romney-01.jpg|thumb|গভর্নর মিট রমনি]] রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই একমত হতে পারে যে মিট রমনি ভুল করেছিলেন। আল গোর তার দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে "সিলেকটিভ এক্সপোজারের" ধারণা উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ঘটনা বর্ণনা করেন যেখানে নাগরিকরা শুধু নিজেদের মতামত সমর্থনকারী প্রতিবেদনগুলোই দেখেন। মানুষ প্রাক্তন গভর্নরকে পছন্দ করুক বা না করুক, বেশিরভাগ মানুষ সিলেকটিভ এক্সপোজারের অভিজ্ঞতা লাভ করেননি। মানুষ মিডিয়ার প্রতিবেদন এবং রমনির নিজের কথা শুনেছিল। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তিনি এই পদের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। ভোটাররা তার সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত ছিলেন না। কারণ তাকে দেখে কোনোভাবেই আদরণীয় ব্যক্তিত্ব মনে হতো না। তার আভিজাত্যপূর্ণ চেহারার কারণে তাকে তার ভোটারদের সঙ্গে মেলামেশা করতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা কঠিন ছিল। নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে মার্কিনিরা নম্রতা ও অকৃত্রিম সহানুভূতিসম্পন্ন প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়ন করতে শিখেছেন। আমরা চাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো নিহত যুদ্ধবীরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আন্তরিক সমবেদনা জানান। অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মার্কিন জনগণের মতে প্রেসিডেন্ট ওবামার মধ্যে এই শক্তিশালী গুণটি রয়েছে। এ থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে জনগণ প্রেসিডেন্ট পদে অন্যান্য যোগ্যতাগুলোকে এই সহজাত গুণের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করে। দুর্ভাগ্যবশত, ব্যবসায়িক জগত গভর্নর রমনিকে প্রায় অমানবিক ও অনুভূতিহীন হিসেবে গড়ে তুলেছিল। ভোটাররা ২০০৮ বা ২০১২ সালের কোনো নির্বাচনেই এটি ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। ====তার ব্যক্তিত্ব==== মার্কিনিরা একজন স্থির, সৎ এবং ধারাবাহিক প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করতে চায়। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর থাকার সময় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার সময় রমনির আচরণে বড় পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। এটিই তার সমালোচনার মূল কারণ ছিল। ২০০৭ সালে এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে টিম রাসার্টের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে গভর্নর রমনি বিভিন্ন বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন কি না, সে বিষয়েও তিনি দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। গভর্নর থাকাকালীন তার দৃষ্টিভঙ্গির তুলনায় রাসার্ট দেখিয়েছিলেন যে রমনি অনেক বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এর মধ্যে গর্ভপাত, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ, ইরাক, সমকামী অধিকার এবং এমনকি রোনাল্ড রিগানও ছিলেন।<ref>["ম্যাসাচুসেটস মিট মিটস রাইট উইং রমনি অন মিট দ্য প্রেস" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</<ref> এই সাক্ষাৎকারে গভর্নর রমনিকে ভোটারদের কাছে বেশ অস্পষ্ট মনে হয়েছিল। হয়তো এ কারণেই তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়ন হারিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির কমিউনিকেশন ডিরেক্টর কারেন ফিনি রমনির এমন আচরণের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, "তিনি যতই বোঝানোর চেষ্টা করুন না কেন, ভোটাররা জানেন যে আজকের মিট রমনির সঙ্গে কয়েক বছর আগের রমনির কোনো মিল নেই। মার্কিন জনগণের প্রয়োজনীয় সৎ নেতৃত্ব দিতে এদের কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না।"<ref>["ম্যাসাচুসেটস মিট মিটস রাইট উইং রমনি অন মিট দ্য প্রেস" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> বিশেষ করে এমন বড় বিতর্কের বিষয়গুলোতে একজন প্রার্থী হঠাৎ নিজের মতামত পরিবর্তন করতে পারেন না। এমনটা করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আশাও করা যায় না। নির্বাচিত ব্যক্তি যদি চার বছরের মধ্যে নিজের মত পরিবর্তন করেন, তবে জনগণ জানতে পারে না তারা কাকে নির্বাচিত করছেন। ====তার ধর্ম?==== [[File:Three_Witnesses_of_the_Book_of_Mormon_Depiction_by_Edward_Hart,_October_1883.jpg|thumb|বুক অব মরমনের তিনজন সাক্ষী, ১৮৮৩]] আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগে থেকে থাকা পক্ষপাতিত্ব বা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের গতিপথ ও ফলাফল বদলে দিতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ একমত হবেন যে প্রেসিডেন্টের একটি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান থাকা জনগণের জন্য ভালো। তাই কোনো প্রার্থীর এমন কোনো গুণ থাকলে যা তাকে বেশিরভাগ ভোটারদের থেকে আলাদা করে, তখন তাকে মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। জনসমক্ষে তিনি গর্বের সঙ্গেই স্বীকার করেন যে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মরমনি। ভোটাররা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে তার ধর্ম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাফল্যকে প্রভাবিত করবে কি না। খ্রিস্টধর্মের মরমনি সম্প্রদায় সম্পর্কে অনিশ্চয়তাই এর পেছনের মূল কারণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে রমনির ধর্ম নিয়ে মানুষের অনিশ্চয়তার কথা শুনে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিচ ডেভিস একটি গবেষণা শুরু করেন। তিনি নিজেও একজন মরমনি। সম্প্রতি এলএ টাইমস/ব্লুমবার্গের একটি গবেষণার ফলাফলও বেশ চমকপ্রদ ছিল। ৩৭% মার্কিনি মরমনিদের ভোট দেবেন না।<ref>["মিট রমনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেসি ফেসেস ক্রিটিক্যাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ; মরমনি রিলিজিয়ন আননোন অ্যান্ড মিসআন্ডারস্টুড - নিউ ৫২৭ অর্গ - রানমিটরান.অর্গ ক্রিয়েটেড টু অ্যাড্রেস ইট" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</<ref> এই সংখ্যাটি কেন এত বেশি, তা খুঁজে বের করাই ডেভিসের গবেষণার লক্ষ্য ছিল। ডেভিস সাউথ ক্যারোলাইনার ৬০০ জন নিবন্ধিত ভোটারকে মরমনিদের ভিত্তি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। বেশিরভাগ মানুষই মরমনিবাদ এবং প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টধর্মের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার করতে পারেননি। জরিপে দেখা গেছে যে ৫০% মার্কিনি বিশ্বাস করেন মরমনিরা শুধু বুক অব মরমনি অনুসরণ করে এবং বাইবেল মানে না। অন্যরা বিশ্বাস করেন মরমনিরা এখনও বহুবিবাহ করে। তারা জানেন না যে ১৮৯০ সালে মরমনি চার্চ এটি নিষিদ্ধ করেছিল।<ref>["মিট রমনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেসি ফেসেস ক্রিটিক্যাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ; মরমনি রিলিজিয়ন আননোন অ্যান্ড মিসআন্ডারস্টুড - নিউ ৫২৭ অর্গ - রানমিটরান.অর্গ ক্রিয়েটেড টু অ্যাড্রেস ইট" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</<ref> ====সারসংক্ষেপ==== আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অজ্ঞতা থেকে আসা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের ফলাফল নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করি যে ধর্ম একজন প্রেসিডেন্টের সাফল্যের চালিকাশক্তি। কিন্তু সময় ও মানুষের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাই বেশি মার্কিনিদের কাছে টানতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা এই পথেই চলছেন। মিডিয়া আমাদের দেখায় যে তিনি খ্রিস্টানদের ছুটির দিনে চার্চে যান। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার নীতিগত সিদ্ধান্তে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে দূরে রাখেন। বেশিরভাগ ভোটার তার এই কার্যকর পদ্ধতিটিকে মূল্যায়ন করেন বলে মনে হয়। ===কীভাবে আমরা এসব গুণাবলিকে সার্বভৌম হিসেবে গ্রহণ করেছি=== ====মিডিয়ার অবদান==== একজন সফল প্রেসিডেন্টের আদর্শ গুণাবলি নিয়ে বেশিরভাগ মার্কিনি একমত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মিট রমনির মতো প্রার্থীদের ব্যবসার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শক্তিশালী পটভূমি রয়েছে যা বিরোধীদের নেই। তা সত্ত্বেও, কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য একজন প্রার্থীকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তোলে। নিউজ মিডিয়া এসব আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সহায়ক একটি মাধ্যম। যারা তথ্য খোঁজেন তাদের জন্য মিডিয়া হলো একটি প্রধান উৎস। মিডিয়া প্রায়ই তাদের পছন্দের গুণাবলিসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রশংসা করে। কার্যকরভাবে, এটি এমন প্রার্থীদের জন্য সমর্থন ও জনপ্রিয়তার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে যারা মিডিয়া উৎসগুলোর কাছে আদর্শ গুণাবলি পূরণ করেন। ====পারিবারিক মূল্যবোধ==== বয়স্ক মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের যেসব গুণাবলিকে আদর্শ মনে করেন, তরুণ মার্কিনিদের মধ্যে তা গেঁথে দেওয়ার আরেকটি বড় প্রভাবক হলো পারিবারিক মূল্যবোধ। ছোটবেলা থেকেই মার্কিনিরা বাবা-মায়ের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে। আমরা সারা জীবন এগুলো ধরে রাখি। বয়স্ক প্রজন্ম সাধারণত একজন প্রার্থীর শক্তিশালী ধর্মীয় পরিচয়কে মূল্যায়ন করে। তবে বয়স্ক প্রজন্ম বিদায় নেওয়ায় এবং আধুনিক সমাজে ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্ব হারানোয় যুক্তরাষ্ট্র এখন উল্টো পথে হাঁটছে। ====জনপরিসরের ভূমিকা==== সবশেষে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো জনপরিসর। জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাসের ধারণায় এটি প্রেসিডেন্সিয়াল আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে মিডিয়া আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। মার্কিনিরা সেই আলোচনা বাড়িতে নিয়ে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবেশে করেন। প্রত্যেক মার্কিনির বৈচিত্র্যময় পটভূমি "গণতন্ত্রের সংলাপের" প্রতি একটি বাধ্যতামূলক ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেয়। জনপরিসর এমন একটি ফোরাম যেখানে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ঘটে। এর মাধ্যমেই আমরা আদর্শ প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলির জনমত তৈরি করি। ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমাদের আদর্শ প্রেসিডেন্টের চেহারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। জনপরিসরের মাধ্যমেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধারণাগুলো প্রবাহিত হয়েছে এবং আদর্শ প্রেসিডেন্টের বিবর্তন ঘটেছে। আমাদের প্রজাতন্ত্রের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নাগরিকদের জীবনের সব ক্ষেত্রে খোলাখুলিভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মার্কিনিরা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় উৎসাহিত হয়েছেন। এই জনপরিসরের মাধ্যমেই আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আদর্শগুলো গ্রহণ করেছি। ===উপসংহার=== "সুসংযুক্ত নাগরিকদের" একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কার্যকারিতা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্সি আমাদের শাসকগোষ্ঠীর কার্যকরী এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে অস্তিত্ব হারাত (গোর ২০০৭)। মুক্ত বিশ্ব শাসনকারী রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও আগ্রহের মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে। মার্কিন জনগণকে প্রভাবিত করে এমন রাজনৈতিক বিষয়ে তথ্যবহুল ও উন্মুক্ত আলোচনা ছাড়া আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তা একত্র করতে পারি না। আমরা এমন প্রার্থীও নির্বাচন করতে পারি না যিনি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনে দেশকে সেরা দিকে নিয়ে যাবেন। এই পদের জন্য সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করে আমরা আত্মবিশ্বাসী হতে পারি। বর্তমান প্রশাসনের নীতি আমরা অনুমোদন করি বা না করি, আমাদের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তিনি যা সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বলে বিশ্বাস করেন তার জন্যই কাজ করেন। ==জাতীয় ট্র্যাজেডির প্রতিক্রিয়া== === ভূমিকা === গুপ্তহত্যা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সন্ত্রাসী হামলা—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন বেশ কিছু জাতীয় ট্র্যাজেডি রয়েছে। প্রতিবারই দেশ কেঁপে ওঠে এবং জনপরিসরে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলোর একটি হলো ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা। অনেক জাতীয় সংকটের মতোই এটি দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করেছিল। তবে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলের বন্দুক হামলার আরও সাম্প্রতিক একটি ঘটনা জাতিকে বিভক্ত করে এবং মার্কিন রাজনীতিতে নাড়া দেয়। স্যান্ডি হুকের ঘটনার পর ছোট ছোট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভূমিকার কারণে এই হামলা মার্কিন জনপরিসর ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায় বিপরীত প্রভাব ফেলেছিল। এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সম্পূর্ণ উল্টো ছিল। মূলত স্যান্ডি হুক হামলার প্রতিক্রিয়া এই দেশের গণতন্ত্রের আদর্শকেই ক্ষুণ্ন করেছে। ===১১ সেপ্টেম্বর এবং জনপরিসর=== ====মার্কিন জনগণের একতা==== ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক ঘটনার ছয় মাস পর পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, "১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য যেকোনো ঘটনার চেয়ে জনমতকে বেশি প্রভাবিত করেছে। স্পষ্টতই এই হামলা অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেম নিয়ে এসেছিল।"<ref name=pew>"পাবলিক ওপিনিয়ন সিক্স মান্থস লেটার" [Public Opinion Six Months Later]। পিউ রিসার্চ সেন্টার ফর পিপল অ্যান্ড দ্য প্রেস। পিউ রিসার্চ সেন্টার, ০৭ মার্চ ২০০২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> যারা ওই হামলার কথা মনে করতে পারেন, তারা প্রায় প্রতিটি বাড়ি, গাড়ি এবং বাণিজ্যিক ভবনে মার্কিন পতাকা দেখার কথাও মনে করতে পারেন। এটি পরিবর্তিত মার্কিন মানসিকতার প্রতীক ছিল। দশ বছর পর ওই ট্র্যাজেডির বার্ষিকী উপলক্ষে ''ইউএসএ টুডে''তে প্রকাশিত একটি অপ-এড নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ওবামা এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, "মার্কিনিরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, উপাসনালয় এবং ইউ.এস. ক্যাপিটলের সিঁড়িতে একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবকরা রক্ত দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সাহায্য করতে সারা দেশ ঘুরেছিলেন। স্কুলের বাচ্চারা নিজেদের জমানো টাকা দান করেছিল। সম্প্রদায়, বিশ্বাসী গোষ্ঠী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার ও পোশাক সংগ্রহ করেছিল। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।"<ref>ওবামা, বারাক। "লেটস রিক্লেইম দ্য পোস্ট-৯/১১ ইউনিটি" [Let's Reclaim the Post-9/11 Unity]। ইউএসএ টুডে। ০৮ সেপ্টে. ২০১১: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ১১ সেপ্টেম্বরের পরের মাসগুলোতে হওয়া জনমত জরিপে মার্কিন মানসিকতার পরিবর্তনও বেশ স্পষ্ট ছিল। মার্কিনিদের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের বাড়তি অনুভূতি ফেডারেল সরকার এবং সামগ্রিকভাবে জাতির ভবিষ্যতের ওপর উচ্চতর আস্থায় পরিণত হয়েছিল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে একটি গ্যালাপ জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এতে বলা হয় প্রেসিডেন্ট বুশ ৮৬% এর সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছেন।<ref name=gallup>"লেটেস্ট সামারি: আমেরিকান পাবলিক ওপিনিয়ন অ্যান্ড দ্য ওয়ার অন টেররিজম" [Latest Summary: American Public Opinion and the War on Terrorism]। গ্যালাপ। গ্যালাপ, ইনক., ২১ ডিসে. ২০০১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> আর পরের মার্চে পিউ রিসার্চের একটি গবেষণায় সামগ্রিকভাবে ফেডারেল সরকারের জন্য ৮২% সমর্থন পাওয়া যায়।<ref name=pew /> শুধু তাই নয়, একই পিউ গবেষণায় দেখা গেছে যে ১১ সেপ্টেম্বরের পর মার্কিনিরা ১৯৫৯ সালের পর সর্বোচ্চ আশাবাদ দেখিয়েছিল।<ref name=pew /> মার্কিনিদের আস্থা ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত মানসিকতা রাজনীতিবিদদের সহজেই বিভিন্ন আইন পাস করার সুযোগ দিয়েছিল। ট্র্যাজেডির পরের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই এমনটা করা হয়েছিল। ====আইন প্রণয়ন==== ১১ সেপ্টেম্বরের পর সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত প্রায় ৪৮টি বিলে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ছিল এমনই একটি বিল। এটি "সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে জরুরি ব্যয়ের" জন্য ৪,০০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছিল। বিলটি মাত্র চার দিনের মধ্যে পাস হয়েছিল।<ref name=appropriations>"২০০১ ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ফর রিকভারি ফ্রম অ্যান্ড রেসপন্স টু টেররিস্ট অ্যাটাকস অন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" [2001 Emergency Supplemental Appropriations Act for Recovery from and Response to Terrorist Attacks on the United States]। এইচ.আর. ২৮৮৮ (১০৭তম)। গভট্র্যাক.ইউএস। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> অন্যান্য আইনের মধ্যে সুপরিচিত প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টও ছিল, যা প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং গ্রাউন্ড জিরোতে কাজ করা সৈন্য ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়ার আইনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।<ref name=blog>ভিলেমেজ, জেসন, এবং ডালিয়া মোর্তাদা। "৯/১১ টু নাউ: ওয়েজ উই হ্যাভ চেঞ্জড" [9/11 To Now: Ways We Have Changed]। দ্য রানডাউন: অ্যা ব্লগ অব নিউজ অ্যান্ড ইনসাইট। পিবিএস, ১৪ সেপ্টে. ২০১১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ট্র্যাজেডির পর প্রায় পুরো জাতিরই একই মানসিকতা ছিল। তাই সরকার খুব কম বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। মার্কিনিদের রক্ষার চেষ্টায় সরকার এসব আইনসহ আরও অনেক আইন পাস করতে পেরেছিল। ===স্যান্ডি হুক শ্যুটিং এবং জনপরিসর=== অতি সম্প্রতি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে জাতি আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছিল। এবার কানেটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে বিশটি শিশু এবং ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভুক্তভোগীরা খুব ছোট এবং সংখ্যায় অনেক হওয়ায় এই ঘটনা মার্কিন নাগরিক ও আইনপ্রণেতাদের আবেগে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। তবে এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মতো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। বরং এটি দেশকে দুভাগে বিভক্ত করেছিল। একদিকে ছিলেন কঠোর বন্দুক আইনের সমর্থকরা, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবার। অন্যদিকে ছিল ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন এবং তাদের সঙ্গে একমত পোষণকারীরা। তারা স্পষ্টভাবে বলেছিল যে তারা "বন্দুক নিয়ন্ত্রণের আলোচনার দিকে এক ইঞ্চিও নড়বে না"।<ref name=NRA>কাস্টিলো, মারিয়ানো। "এনআরএ ক্লিয়ার অন গান ডিবেট স্ট্যান্স: আর্ম স্কুলস" [NRA clear on gun debate stance: arm schools]। সিএনএন ইউ.এস.। সিএনএন, ২১ ডিসে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> এই দুই গোষ্ঠীর লড়াই শুধু দেশকেই বিভক্ত করেনি। এটি জনপরিসরের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করার ক্ষেত্রে টাকার ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। ====নাগরিক আন্দোলন==== স্যান্ডি হুকের পরিবারগুলো জনপরিসরে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারা বেশিরভাগ মার্কিনিদের দাবি তুলে ধরে বন্দুক কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি তৃণমূল প্রচারণা তৈরি করেছিল। জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারগুলো তাদের নিজের রাজ্য কানেটিকাটে দেশের সবচেয়ে কঠোর বন্দুক আইন প্রণয়নে সফল হয়েছিল। এই আইন অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত করেছিল। এটি ম্যাগাজিনের ক্ষমতা সীমিত করেছিল এবং বেসরকারি বন্দুক বিক্রির জন্য পটভূমি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করেছিল।<ref name=huff>উইল্কি, ক্রিস্টিনা। "কানেটিকাট পাসেস নেশনস স্ট্রিক্টেস্ট গান ল ইন ওয়েক অব স্যান্ডি হুক ম্যাসাকার" [Connecticut Passes Nation's Strictest Gun Law In Wake Of Sandy Hook Massacre]। হাফ পোস্ট পলিটিক্স। হাফিংটন পোস্ট, ০৪ এপ্রি. ২০১৩। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> তবে রাজ্যের বিজয়ই স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর একমাত্র চাওয়া ছিল না। [[File:Barack Obama with relatives of Emilie Parker.jpg|thumb|স্যান্ডি হুক শ্যুটিংয়ে নিহত শিশু এমিলি পার্কারের আত্মীয়দের সঙ্গে বারাক ওবামা]] এপ্রিলের শুরুতে অভিভাবকরা এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটনে পদযাত্রা করেন। তারা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জাতীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের আশায় তাদের গল্প শেয়ার করেন। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের অর্থনৈতিক ক্ষমতা মোকাবিলা করতে তারা তাদের আবেগের ব্যবহার করেছিলেন। তারা আইনপ্রণেতাদের এবং প্রেসিডেন্টের আবেগ ছুঁতে পেরেছিলেন। আবেগের বশবর্তী হয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুনাম ভেঙে ওবামা স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর দাবির প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করেন। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জো মানচিন একটি দ্বিদলীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছিলেন। তিনিও অভিভাবকদের প্রচারণার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "তারা আমাকে বলেছিল, 'আমরা জানি এই আইনের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের বাঁচানো যেত না।' ...তাদের চাওয়া হলো, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তা থেকে হয়তো আপনি একটি পরিবারকে বাঁচাতে পারবেন। আমার জীবনে শোনা এটিই সবচেয়ে নিঃস্বার্থ উপস্থাপন। এটি আমাকে নতজানু করে দিয়েছে।"<ref name=latimes>পার্সনস, ক্রিস্টি, ক্যাথলিন হেনেসি, এবং মাইকেল এ. মেমোলি। "স্যান্ডি হুক অ্যান্ড গ্রিফ: গান কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস প্লিড দেয়ার কেস" [Sandy Hook and Grief: Gun Control Advocates Plead Their Case]। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ১৩ এপ্রি. ২০১৩, পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> প্রচারণার সপ্তাহটি শেষ করতে ওবামা ফ্র্যান্সিন হুইলারকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি এই হামলায় নিহত ছয় বছর বয়সী এক ছেলের মা। ওবামা তার হয়ে শনিবারের সাপ্তাহিক ভাষণ দিতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি শেষ আবেগপূর্ণ আবেদন উপস্থাপন করেন<ref name=latimes />। ====এনআরএ লবিং==== [[File:Wayne LaPierre by Gage Skidmore.jpg|thumb|এন.আর.এ.-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি বাড়ানোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।]] তবে স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবারের চেষ্টা ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষমতার কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। সামরিক ধাঁচের অ্যাসল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করা, ম্যাগাজিনের আকার সীমিত করা এবং পটভূমি যাচাই সম্প্রসারণ করাসহ সব বন্দুক নিয়ন্ত্রণ বিল সিনেটে বাতিল হয়ে যায়। স্যান্ডি হুক ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো বাবা-মায়ের আবেদন সিনেট শুধু যে উপেক্ষাই করেছে তা নয়। তারা "মার্কিন জনগণের ইচ্ছাকেও উপেক্ষা করেছে" বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন প্রতিনিধি গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ডস। তিনি নিজেও বন্দুক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।<ref name=backfire>ক্যাসিডি, জন। "কুড দ্য এন.আর.এ.'স বিগ ভিক্টরি ব্যাকফায়ার?" [Could The N.R.A.’s Big Victory Backfire?]। নিউ ইয়র্কার। ১৮ এপ্রি. ২০১৩: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> মূলত ৯০% এর বেশি মার্কিনি বর্ধিত পটভূমি যাচাই সমর্থন করেছিল। এছাড়া ৫৬% মার্কিনি অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেছিল<ref name=backfire />। জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত জাতীয় আইনপ্রণেতারা ঠিক তার উল্টোটাই করেছিলেন। পরিস্থিতি বোঝার জন্য একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। এনআরএ ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রার্থীদের ৭,১৬,৫৯৬ ডলার দান করেছিল। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা পেয়েছিল ৬,৩৪,১৪৬ ডলার<ref name=NRA />। এই ক্ষেত্রে জনপরিসর একটি সমস্যা মোকাবিলা করতে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু একটি ছোট গোষ্ঠীর সম্পদ ও ক্ষমতা শুধু জাতিকেই বিভক্ত করেনি; এটি গণতন্ত্রের মূল কাঠামোকেও দুর্বল করে দিয়েছে। ===গণতন্ত্রে টাকার প্রভাব=== আল গোর তার ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' বইয়ে সম্পদের রাজনীতির ওপর আলো ফেলে এই সমস্যার মূল বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গোরের মতে, "শাসিতদের সম্মতি থেকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা পাওয়া নির্ভর করে সেই যুক্তির প্রক্রিয়ার ওপর যার মাধ্যমে সম্মতি দেওয়া হয়। যুক্তির প্রক্রিয়া যদি টাকা ও প্রতারণার দ্বারা কলুষিত হয়, তবে শাসিতদের সম্মতি মিথ্যা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে প্রাপ্ত যেকোনো ক্ষমতা জন্মগতভাবেই নকল এবং অন্যায়।"<ref name=gore>গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন বুকস, ২০০৭। ৭৩-৭৬। মুদ্রণ।</ref> ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর দেশের একটি অভিন্ন কর্মসূচি ছিল। খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। কারণ খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে বিশ্বাস রাখত। সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খুব সহজেই অনেক আইন পাস করেছিল। অন্যদিকে স্যান্ডি হুক হামলার পর জনগণের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। শোকাহত পরিবার ও সম্প্রদায়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনির ইচ্ছাই উপেক্ষিত হয়েছিল। তবে যারা লাখ লাখ ডলার দিতে পেরেছিল, তাদের ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছিল। এটি ঠিক সেই ঘটনাই তুলে ধরে যা নিয়ে গোর সতর্ক করেছিলেন। এটি গণতন্ত্রের উদ্দেশ্যমূলক কাজের ঠিক বিপরীত দিকটি তুলে ধরে। গোরের ভাষায়, "তাদের মতামত অন্যদের মতামতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতির অগ্রাধিকারগুলো পালটে যায়।"<ref name=gore /> ==২০১২ সালের নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ক্ষতিকর প্রভাব== প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা এর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা খুব সহজেই বুঝতে পারছি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বেশিরভাগ কাজেই এখন প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেশি। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দারুণ একটি ব্যাপার। সম্প্রতি নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের কারণে ভোটাররা শুধু প্রার্থীদের নীতির ওপর ভিত্তি করে কাউকে বেছে নিতে পারছেন না। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হলো বিদ্বেষপূর্ণ বা কলঙ্কজনক কাজের মাধ্যমে প্রতিযোগী, প্রতিপক্ষ ইত্যাদিকে হেয় করার চেষ্টা [http://dictionary.reference.com/browse/mudslinging]। আর এই কাজটি নির্বাচন জেতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারাক ওবামা এবং মিট রমনির মধ্যকার গত নির্বাচনটি সর্বকালের অন্যতম তীব্র নির্বাচন ছিল। http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সম্প্রচার এবং কেবল টেলিভিশনে রমনির নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের মোট হার ছিল ৭৯.২%। আর ওবামার হার ছিল ৮৫.৫%। এই হার ২০০৮ এবং ২০০৪ উভয় নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি। ২০০৮ সালে ওবামার নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের হার ছিল ৬২.৯% এবং জন ম্যাককেইনের ছিল ৭৫.৯%। ২০০৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জন কেরির ৪৪.৩% এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের ৭২.৪% নেতিবাচক বিজ্ঞাপন ছিল। এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে যে প্রতি নির্বাচনেই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পরিমাণ বাড়ছে এবং এটি কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের নেতিবাচকতা বাড়ছে। এটি নিঃসন্দেহে জনপরিসরকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ===কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির শুরু=== লিন্ডন জনসন এবং ব্যারি গোল্ডওয়াটারের মধ্যে ১৯৬৪ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির প্রথম বড় ঘটনাটি ঘটেছিল। এটি চিরকালের মতো প্রচারণার কৌশল বদলে দিয়েছিল। জনসনের প্রচারণায় তৈরি বিজ্ঞাপনটি "ডেইজি গার্ল" নামে পরিচিত। এটি শুরু হয় একটি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা এক মিষ্টি ছোট্ট মেয়েকে দিয়ে। সে একটি ডেইজি ফুল থেকে পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে গণনা করার চেষ্টা করছিল। সে যখন এটি করছিল, তখন একটি ভীতিকর ও অশুভ কণ্ঠস্বর দশ থেকে উল্টো গণনা শুরু করে। যখন কণ্ঠস্বরটি "শূন্য" বলে, তখন তারা একটি বিশাল পারমাণবিক বিস্ফোরণ দেখায়। এরপর এই কথাগুলো দিয়ে বিজ্ঞাপনটি শেষ হয়, "এই হলো ঝুঁকি। ঈশ্বর এমন এক পৃথিবী তৈরি করুন যেখানে তার সব সন্তান বাঁচতে পারে, অথবা অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে। আমাদের একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, অথবা আমাদের মরতে হবে।" বিস্ফোরণের পর স্ক্রিনে "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন" লেখাটি ভেসে ওঠে। এটি স্ক্রিনে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে, "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন। ঘরে বসে থাকার ঝুঁকি অনেক বেশি।" http://michiganjournal.org/2012/10/30/presidential-mudslinging-in-the-past/ এই বিজ্ঞাপনটি দর্শকদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকে পারমাণবিক যুদ্ধ আরও বড় হুমকি হয়ে উঠছিল। কয়েক বছর আগেই কিউবান মিসাইল সংকট হয়েছিল। আর গোল্ডওয়াটার তার প্রচারণায় ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ধারণার কথা বলেছিলেন। মার্কিনিদের মনে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকির কারণে এই বিজ্ঞাপনটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি কার্যকর কৌশল ছিল। অধ্যাপক রবার্ট মান এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। বইটির শিরোনাম ডেইজি পেটালস অ্যান্ড মাশরুম ক্লাউডস: এলবিজে, ব্যারি গোল্ডওয়াটার অ্যান্ড দ্য অ্যাড দ্যাট চেঞ্জড আমেরিকান পলিটিক্স। তিনি বলেন, "তার সমর্থন কখনোই সত্যিই কমেনি। তবে জরিপে যা বেড়েছিল তা হলো মার্কিনিদের ভয়। তারা ভেবেছিল গোল্ডওয়াটার নির্বাচিত হলে তিনি আমাদের পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবেন।" http://thecaucus.blogs.nytimes.com/2011/10/24/revisiting-the-daisy-ad-revolution/ আজ যদি এ ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন সম্প্রচারিত হতো, তবে এর প্রভাব এত ক্ষতিকর হতো না। মার্কিনিরা নেতিবাচক বিজ্ঞাপন দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আজকের দর্শকরা এটিকে হাস্যকর ও অবাস্তব বলে মনে করবেন। তারপরও এই বিজ্ঞাপনটি গোল্ডওয়াটরের প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর ছিল এবং এই নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়েছিল। ===প্রথম বিতর্ক=== [[File:P112912PS-0444 - President Barack Obama and Mitt Romney in the Oval Office - crop.jpg |thumbnail|right|বারাক ওবামা এবং মিট রমনি]] এবার ২০১২ সালের নির্বাচনে আসা যাক। প্রতিযোগিতায় দুর্বলতার কোনো লক্ষণ দেখালে তা প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মিট রমনি এবং বারাক ওবামার মধ্যকার প্রথম বিতর্কে এটি স্পষ্ট হয়েছিল। সঞ্চালক যেসব প্রশ্ন করেছিলেন তা অর্থনীতি ঠিক করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। রমনির জন্য জরিপে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ ছিল। কারণ তার প্রচারণা মধ্যবিত্তের উন্নতি এবং দেশের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের চারপাশেই ঘুরছিল। বিতর্কটি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি দুই প্রার্থীর মধ্যে এক তীব্র লড়াইয়ে পরিণত হয়। তারা প্রায়ই তাদের বিবৃতি এবং খণ্ডনের জন্য বরাদ্দ সময় পার করে যাচ্ছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের লেখক জেফ জেলেনি এবং জিম রুটেনবার্গের মতে, "বিতর্কের বেশিরভাগ সময় প্রার্থীরা মঞ্চ দখল করে নিয়েছিলেন। তারা পিবিএসের সঞ্চালক জিম লেহরের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ তারা একে অপরকে খণ্ডন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল সঞ্চালক যেন মঞ্চ ছেড়েই চলে গেছেন। এটি এমন কিছু নতুন নিয়মের ফল ছিল যা একটি গভীর ও মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল।"<ref>http://www.nytimes.com/2012/10/04/us/politics/obama-and-romney-hold-first-debate.html?pagewanted=all&_r=0</ref> ====বিতর্কের গুরুত্ব==== পরিস্থিতি অনেক সময় খুব উত্তপ্ত ছিল। প্রতিটি প্রার্থী তাদের সেরা ক্ষমতা দিয়ে বিতর্ক করেছিলেন। এ ধরনের তীব্র বিতর্ক নির্বাচনের জন্য দারুণ। কারণ এটি ক্ষমতাসীন এবং চ্যালেঞ্জারের মধ্যে এক দুর্দান্ত লড়াই। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মতো নেতিবাচক প্রচারণার কৌশলগুলো বিতর্কের ময়দানে কোনো কাজে আসে না। এখানেই তারা তাদের নীতির ওপর আস্থা দেখাতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়ে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তাও দেখাতে পারেন। এমন একটি রোমাঞ্চকর বিতর্কের পরও প্রতিটি প্রচারণা দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেছিল। ==নেতিবাচকতা বৃদ্ধির কারণ== ২০১২ সালের নির্বাচনে নেতিবাচকতা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ ছিল প্রতিটি প্রার্থীর প্রচারণার ভিত্তি। ক্ষমতাসীন ওবামা নতুন কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রচার করতে পারেননি। কারণ ক্ষমতায় তার আগের চার বছরে অর্থনীতি ভালো অবস্থানে ছিল না। "পলিটিকো"তে ডোনোভান স্ল্যাকের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "ওবামা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর ভিত্তি করে লড়তে পারেননি। তার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর কয়েকটি, যেমন তার স্বাস্থ্যসেবা আইন, জরিপে অজনপ্রিয় ছিল।" স্ল্যাক আরও বলেন, "রমনি ক্ষমতাসীনকে বরখাস্ত করতে মার্কিনিদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে নিজের বিষয়ে খুব একটা বিস্তারিত কিছু জানাননি।" [http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html%20 http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ] ===ক্ষতিকর প্রভাব=== এই কারণে দুই প্রার্থীই নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের দিকে ঝোঁকার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। তারা ঐতিহাসিকভাবেই এমনটা করেছিলেন। এসব কাজ শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার অখণ্ডতাই নষ্ট করে না। সামগ্রিকভাবে মার্কিন নাগরিকরাও পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেছেন। সিএনএনের লেখক বব গ্রিনের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "২০০৮ সালে সম্ভাব্য ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল উভয় প্রার্থীই ভালো প্রেসিডেন্ট হবেন কি না। তখন ২৫% হ্যাঁ বলেছিলেন। এই বছর (২০১২) একই প্রশ্ন করা হলে মাত্র ১২% হ্যাঁ বলেছেন।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging গ্রিন বর্তমান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনকে যুদ্ধের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। তিনি বলেন যে যুদ্ধে উভয় পক্ষই যদি জানে তারা একে অপরকে ধ্বংস করতে পারে, তবে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু রাজনীতিতে উভয় পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। তারা সব সময় ওপরের দিকে থাকার জন্য চাপ দেয়। গ্রিন বলেন, "নির্বাচনে জিততে যেকোনো উপায় ব্যবহারের ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত একজন প্রেসিডেন্ট তৈরি করবেই। কিন্তু এরপর সেই প্রেসিডেন্টকে এমন এক জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে যারা পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছে।" যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই একটি বিষয় জানা যায়। একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে মার্কিন জনগণ এবং এর নেতার মধ্যে আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন তার নিবন্ধে আমাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিতা জন অ্যাডামসকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, "সব স্তরের কর্তৃপক্ষের জন্য শালীনতা, সম্মান ও শ্রদ্ধা থাকতে হবে, নইলে আমরা শেষ হয়ে যাব। জনপ্রিয় সরকারে এটাই আমাদের একমাত্র পথ।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging এই উদ্ধৃতিটি সরাসরি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ==জনপরিসরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব== জনপরিসর হলো কথোপকথনের একটি স্থান এবং এটি মার্কিন সংস্কৃতিকে পুরোপুরি ধারণ করে। "জনপরিসর" শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাস। তিনি এটিকে এমন একটি কথোপকথনের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে জনমত তৈরি হয়। আজকের বিশ্বে জনপরিসর প্রযুক্তি দ্বারা নানাভাবে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনগুলো কার প্রচারণার বিজ্ঞাপন ভালো এবং কে বেশি টাকা খরচ করে, তা ঘিরেই আবর্তিত হয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে অর্ধেকেরও বেশি প্রচারণার বিজ্ঞাপন কোনো না কোনোভাবে অবমাননাকর। ফলে মার্কিন নাগরিকরা কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করবেন তা নিয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। ভোটারদের কারসাজি করা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের সমর্থিত কোনো কৌশল নয়। এই প্রবণতা চলতে থাকলে আমাদের দেশ আর ঐক্যবদ্ধ থাকবে না। এটি "আমরা বনাম তারা" মানসিকতায় পরিণত হবে এবং আমরা বিভক্ত হয়ে পড়ব। নেতিবাচকতার এই প্রবণতার জন্য কি শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীরাই দায়ী? একদমই না। নিউজ স্টেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই পতনে বিশাল ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, "বোল্ড রিপাবলিক" নামে একটি কট্টর রিপাবলিকান গোষ্ঠী একটি ভাইরাল ইউটিউব ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে শহরের অশিক্ষিত নাগরিকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তারা সাধারণ প্রশ্ন করেছিল যেমন, "আপনারা কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন?" একজন ব্যক্তি এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "দেখা যাক, তারা যা দিতে চায় তাই। আমি তো জানিও না, তাদের কাছে তো আর কোনো চেকলিস্ট নেই।" এই ভিডিওটি প্রার্থীর অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অপপ্রচারের একটি চরম উদাহরণ। এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত করছে। এসব সমস্যা চলতে থাকায় এটি আমার কাছে স্পষ্ট যে একজন ভালো প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জনপরিসরে একটি বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। ==তথ্যসূত্র== {{reflist}} {{BookCat}} meute2zkph3coofbdj2q83x2pixthyi 106608 106607 2026-06-09T18:36:19Z NusJaS 8394 106608 wikitext text/x-wiki ==ভূমিকা== রাজনীতি এবং জনপরিসর সমার্থক নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র রয়েছে। সেখানে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কে সাধারণ নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত করেন। তাই জনপরিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাজনীতি। আল গোর তার ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' বইয়ে একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের দেশ যেসব সিদ্ধান্ত নেয় তার জন্য আমরা সবাই দায়ী।"<ref>গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ২। </ref> ==২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণা: রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং জনপরিসর== ====ভূমিকা==== রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রায় সবসময়ই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছে। এটি প্রথমে সংবাদপত্রের কার্টুন দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরে ১৯৫০-এর দশকে এটি টিভি বিজ্ঞাপনে রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত নতুন মাধ্যমের সাহায্যে জনপরিসরে প্রবেশ করেছে। ইন্টারনেটের এই যুগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আগের চেয়ে বেশি মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছাতে পারে। তবে এদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। কয়েক দশক আগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন মূলত নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রচার করত। এখন এগুলো নিয়মিত প্রতিপক্ষকে অপবাদ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আল গোর তার দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে একটি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমাদের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র "সুশিক্ষিত নাগরিকদের" ওপর নির্ভর করে। এসব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এখন এমন নাগরিকদের ক্ষতি করছে। এগুলোর যুক্তির অভাব টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছায়। এটি "ধারণার বাজার"কে এমন এক জায়গায় পরিণত করে যেখানে "সত্য" আর টিকে থাকে না।<ref> গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ৫-১১।</ref> ২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। উভয় দলই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কথা তার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন কাজে লাগিয়েছিল। তারা সত্য পরিবর্তন করতে এবং জনপরিসর ও নির্বাচন উভয়কেই প্রভাবিত করতে এটি করেছিল। ===="আপনি এটি তৈরি করেননি।"==== [[File:President Barack Obama.jpg|thumb|প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা]] ভার্জিনিয়ার রোয়ানোকে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন। প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সরকারি অবকাঠামো উভয়ের ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি বলেন: :"আপনি সফল হলে কেউ না কেউ আপনাকে সাহায্য করেছিল। আপনার জীবনে কোনো এক দারুণ শিক্ষক ছিলেন। কেউ একজন আমাদের এই অবিশ্বাস্য আমেরিকান ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। এটি আপনাকে উন্নতি করতে সুযোগ দিয়েছে। কেউ রাস্তা ও সেতুতে বিনিয়োগ করেছিল। আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি। অন্য কেউ এটি সম্ভব করেছে।"<ref>সিএনএন, ওয়্যার স্টাফ। "'ইউ ডিডনট বিল্ড দ্যাট': অ্যা থিম আউট অব কনটেক্সট" ['You Didn't Build That': A Theme Out of Context]। ০১ সেপ্টে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://www.cnn.com/2012/08/31/politics/fact-check-built-this></ref> প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। তবে তার "আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি" বাক্যটি ওবামার বিরোধীরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করেছিল। তারা প্রেসিডেন্টকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বড় সরকারে বিশ্বাসী উদারপন্থী হিসেবে তুলে ধরতে এটি ব্যবহার করেছিল। জিওপির সদস্যরা এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা ব্যবসার মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, "হ্যাঁ, আপনিই এটি তৈরি করেছেন।"<ref>ট্যাপার, জেক। "ডিড ওবামা সে, 'ইফ ইউ হ্যাভ অ্যা বিজনেস, ইউ ডিডনট বিল্ড দ্যাট'?" [Did Obama Say, 'If You Have a Business, You Didn't Build That'?]। ১৬ জুলাই ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/07/did-obama-say-if-youve-got-a-business-you-didnt-build-that/></ref> এছাড়া বক্তব্যটি বেশ কয়েকটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ইন্ধন জোগাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। "আপনি এটি তৈরি করেননি" কথাটি অসংখ্য বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল। ব্লগস্ফিয়ারে মিম তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি টুইটারে এটি হ্যাশট্যাগও হয়ে উঠেছিল। মিট রমনির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার বদলে তার প্রচারণা কমিটি ও সহকর্মী রিপাবলিকানরা এই বক্তব্যের সুযোগ নেন। তারা তাদের বিজ্ঞাপনে বারাক ওবামাকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্টের কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। ওবামাবিরোধী এসব বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগেই বক্তৃতার অন্য কোনো অংশ ছাড়াই তার একটি বাক্য তুলে ধরা হয়েছিল। এগুলো মার্কিনিদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে প্রেসিডেন্ট বেসরকারি ব্যবসার মালিকদের প্রশংসা বা স্বীকৃতি দেন না। এছাড়া তিনি মনে করেন এসব ব্যবসার সাফল্যের জন্য একমাত্র ফেডারেল সরকার দায়ী। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বিজ্ঞাপনগুলো টেলিভিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের আকারে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমেও এগুলো ছড়িয়ে পড়ে। কথাটি ইন্টারনেট মিম তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এগুলো ফেসবুক, টুইটার, টাম্বলার এবং অন্যান্য ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইটগুলোতে শেয়ার করা হয়েছিল। রক্ষণশীলরা এটিকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করেছিল। তারা ছোট ব্যবসা সম্পর্কে ওবামার অনুভূতি নিয়ে সত্য পরিবর্তন করতে এটি ব্যবহার করেছিল। কতজন মার্কিন নাগরিক সত্যিই পুরো বক্তৃতাটি পড়েছেন বা দেখেছেন তা অজানা। তবে এটি স্পষ্ট যে অনেকেই তা করেননি। মাঞ্জু ট্রু এনাফ বইয়ে বলেছেন, অনেক মার্কিনি সত্য জানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।<ref>মাঞ্জু, ফরহাদ। ''ট্রু এনাফ: লার্নিং টু লিভ ইন অ্যা পোস্ট-ফ্যাক্ট সোসাইটি'' [True Enough: Learning to Live in a Post-fact Society]। হোবোকেন, এনজে: উইলি, ২০০৮।</ref> মানুষ যা বিশ্বাস করতে চায় তা-ই বিশ্বাস করে। ২০১২ সালের প্রচারণায় "আপনি এটি তৈরি করেননি" রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো এর একটি নিখুঁত উদাহরণ। অনেক রক্ষণশীল নাগরিক বিজ্ঞাপনগুলোকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তাদের আগের পক্ষপাতিত্ব নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে দেখেছিলেন। তারা তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে কোনো গবেষণা করেননি। বিজ্ঞাপনগুলো বারাক ওবামার বিষয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টায় জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সফলও হয়েছিল। ====“৪৭ শতাংশ”==== [[File:Mitt Romney by Gage Skidmore 6.jpg|thumb|গেইজ স্কিডমোরের তোলা মিট রমনি ৬]] ডেমোক্র্যাটরাও জনপরিসরকে প্রভাবিত করতে ২০১২ সালের প্রচারণার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেছিল। "৪৭ শতাংশ" ভিডিওর ক্ষেত্রে সিনেটর মিট রমনির কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে সত্যকে কারসাজি করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে নৈশভোজের সময় ওয়েট স্টাফের একজন সদস্য স্কট প্রাউটি গোপনে মিট রমনির একটি বক্তৃতা ভিডিও করেন। বক্তৃতায় রমনি অনেক মার্কিন নাগরিকের কথা বলেন যারা আগেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা "যাই হোক না কেন" তাকে ভোট দেবেন। রমনি বলেছিলেন যে এসব মানুষের মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ ৪৭ শতাংশ মার্কিনি হলেন এমন মানুষ যারা: :"সরকারের ওপর নির্ভরশীল, যারা নিজেদের ভুক্তভোগী মনে করে। তারা মনে করে যে তাদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা বিশ্বাস করে যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বাসস্থান এবং আরও অনেক কিছু পাওয়ার অধিকার তাদের আছে। তারা মনে করে এগুলো তাদের অধিকার। তাই সরকারের উচিত তাদের এগুলো দেওয়া। আর তারা যাই হোক না কেন এই প্রেসিডেন্টকেই ভোট দেবে। ... এরা এমন মানুষ যারা কোনো আয়কর দেয় না। আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়। তারা যে নিজেদের দায়িত্ব নেবে এবং নিজেদের জীবনের যত্ন নেবে, তা আমি কখনোই তাদের বোঝাতে পারব না।"<ref>ভিডিও। ইউটিউবওয়েব। <http://www.youtube.com/watch?v=M2gvY2wqI7M></ref> এখানে সিনেটর মিট রমনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে অনেক মার্কিনি আগে থেকেই প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের ভোট জয়ের চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ তারা আগেই মনস্থির করে ফেলেছেন। তবে স্কট প্রাউটি বুঝেছিলেন যে সিনেটর দাবি করছেন তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের পরোয়া করেন না। তাই প্রাউটি টেপটি প্রকাশ করে বলেন, "সবার এটি শোনা প্রয়োজন ছিল।"<ref>গুড, ক্রিস। "দ্য লেসন অব মিট রমনিন'স ৪৭-পারসেন্ট ভিডিও: বি নাইস টু দ্য ওয়েট স্টাফ?" [The Lesson of Mitt Romne'ys 47-Percent Video: Be Nice To The Wait Staff?]। ১৪ মার্চ ২০১৩। ওয়েব। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2013/03/the-lesson-of-mitt-romneys-47-percent-video-be-nice-to-the-wait-staff/></ref> প্রাউটির মতো ওবামার প্রচারণা কমিটি ও ডেমোক্র্যাটরাও এই সুযোগ কাজে লাগায়। তারা রমনিকে এমন একজন হিসেবে উপস্থাপন করে যিনি নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পরোয়া করেন না। তিনি শুধু ধনীদের নিয়ে চিন্তিত। মিট রমনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনিদের ভোট পাওয়া নিয়ে চিন্তিত নন, তা বলার বদলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো তার কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে তুলে ধরেছিল। "আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়" বাক্যটি বিকৃত করা হয়েছিল। এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন সিনেটর বলেছিলেন যে তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনির কোনো পরোয়া করেন না। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বক্তৃতার মতো রমনির কথাগুলোও টেলিভিশনের মাধ্যমে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এগুলো নিয়ে মিম তৈরি করা হয়েছিল যা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। টুইটারে "৪৭%" একটি হ্যাশট্যাগে পরিণত হয়। সেখানে অনেকেই নিজেদের সেই ৪৭ শতাংশ মানুষের অংশ বলে উল্লেখ করেন যাদের নিয়ে রমনির কোনো মাথাব্যথা নেই। আবারও একজন রাজনীতিবিদের কথা খণ্ডিতভাবে নেওয়া হয়েছিল। এগুলো মার্কিন জনগণের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যা তার বক্তব্যের সত্যতা লুকিয়ে রেখেছিল। আবারও এগুলো তার বিরুদ্ধে আগের পক্ষপাতিত্বকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এবং আবারও এগুলো মিট রমনির বিষয়ে নেতিবাচকভাবে জনমতকে প্রভাবিত করেছিল। ==মিট রমনি এবং মার্কিনিদের কাছে মূল্যায়িত প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলি== ===ভূমিকা=== মার্কিন প্রেসিডেন্সি এমন একটি চাকরি যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পদে পরিণত হয়েছে। তাই চাকরিতে কয়েক বছর কাটানোর পরই প্রেসিডেন্টের চুল অনেক পেকে যায়। এটি কোনো অবাক করার মতো বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট এমন সব সিদ্ধান্ত নেন যা যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের মানুষকে আজ থেকে শুরু করে বহুকাল পর্যন্ত প্রভাবিত করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা একটি বড় কাজ। একে আমরা হালকাভাবে নিতে পারি না। আমাদের অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মার্কিনিদের কি মূল্যায়নের কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে যেখানে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের মাপতে চান? মার্কিন ইতিহাসের প্রবণতা থেকে দেখা যায়, প্রায় সব প্রেসিডেন্টই আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচডব্লিউ বুশ এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ ছাড়া সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রায় সব প্রেসিডেন্টই প্রার্থিতার আগে অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। মার্কিনিরা কেন এসব মানুষের গুণাবলিকে কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করেন? কেন এসব গুণাবলি সফল ব্যবসায়ীদের গুণাবলির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়? মার্কিনি হিসেবে আমাদের জন্ম থেকেই একটি প্রবৃত্তি রয়েছে। পরবর্তী প্রধান সেনাপতি নির্বাচনের সময় প্রতি নির্বাচনী বছরে আমরা এটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে কাজের যোগ্যতা অর্জন করেন। কেউ কেউ এতে সফল হন। অন্যদিকে মিট রমনির মতো কেউ কেউ ব্যর্থ হন। ===কর্পোরেট আমেরিকা=== ====একজন ব্যবসায়ীর গুণাবলি==== মার্কিন কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে সফল ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের প্রতীক। এমনও বলা যায় যে ছোট ব্যবসার সফলতার গল্পগুলো আমেরিকান ড্রিমকে তুলে ধরে। এতে উদ্যোক্তারা বাজারে নিজেদের জায়গা খুঁজে পান। কিন্তু আমরা কি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ব্যবসায়িক জগতের সফল মানুষদের কাছে সামগ্রিকভাবে মার্কিন জনগণের বৃহত্তর চাহিদা মেটানোর গুণাবলি নেই? ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাদের সুফল পেতে লড়াই করেন। এমন কিছু করতে তাদের ব্যক্তিত্ব সাহায্য করে। উইকিঅ্যানসারসের একজন অবদানকারী একজন ব্যবসায়ীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের তালিকা দিয়েছেন। এগুলো হলো সফল হওয়ার ক্ষমতা ও সংকল্প, বুদ্ধিমত্তা, সতর্কতা, নেতৃত্ব, স্পষ্টবাদিতা এবং অন্যদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা।<ref>["হোয়াট আর দ্য কোয়ালিটিস অব অ্যা গুড বিজনেসম্যান?" [What are the Qualities of a Good Businessman?] উইকিঅ্যানসারস। <http://wiki.answers.com/Q/What_are_the_qualities_of_a_good_businessman>]</<ref> তাহলে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সমস্যা কোথায়? এসব গুণ শুধু ব্যবসায় নয়, যেকোনো মহান নেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে মনে হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের পদে স্পষ্টবাদিতা সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় প্রেসিডেন্টকে কিছু বিষয় ঘুরিয়ে বলতে হয়। কোনো পরিস্থিতির বাস্তবতা প্রকাশ করলে দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ====মুনাফা-চালিত==== [[File:Hurricane_Katrina_President_Bush_with_New_Orleans_Mayor.jpg|thumb|নিউ অরলিন্সের মেয়রের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বুশ]] চিন্তার আরেকটি বিষয় হলো ব্যবসায়ীর সাফল্যের পেছনে মুনাফাভিত্তিক প্রেরণা। এটি হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিট রমনি ছোটবেলা থেকেই বাবার ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। তিনি একটি ধনী পরিবার থেকে এসেছিলেন। ভোটারদের কাছে এটি ম্যাসাচুসেটসের প্রাক্তন গভর্নরকে লোভী হিসেবে তুলে ধরে। এটি তাকে সমাজের বাস্তবতা এবং পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করা মানুষদের বিপদ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করায়। ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার পর এই ধারণাটি আরও জোরালো হয়। তখন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে ফেডারেল সরকার ও ন্যাশনাল গার্ডের নিউ অরলিন্সের মানুষকে বাঁচাতে কয়েক দিন সময় লেগেছিল। বুশ ছিলেন টেক্সাসের তেল শিল্পের একজন প্রাক্তন ব্যবসায়ী। নিউ অরলিন্সের বাসিন্দাদের খাবার, পানি ও নিরাপত্তা দিতে ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এই বিলম্বিত পদক্ষেপ হয়তো প্রেসিডেন্ট বুশের মতো মানুষদের এই পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ====জনগণের ওপর নজর==== হারিকেন ক্যাটরিনা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বুশের ভূমিকা হয়তো মিট রমনির প্রেসিডেন্সি দৌড়কে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। কারণ এটি জনগণের সঙ্গে প্রাক্তন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের দূরত্বের বিষয়টি উন্মোচন করেছিল। মিডিয়ার সাহায্যে মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের চিন্তিত মুখ দেখেছিল। কিন্তু তিনি মেরিন ওয়ানের আরামদায়ক আসনে বসে নিউ অরলিন্সের ধ্বংসযজ্ঞ দেখছিলেন। গভর্নর রমনির পক্ষে বলা যায়, তিনি লাখ লাখ মানুষের চূড়ান্ত উপকারে তার বিশাল আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন। তার বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পটভূমির কারণে তার প্রাইভেট ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফার্ম দুর্বল ব্যবসাগুলোকে প্রায় নিশ্চিত দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচাতে পেরেছিল। তার ফার্ম ২০০২ সালের শীতকালীন অলিম্পিককে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করেছিল।<ref>["মিট রমনিন'স কি কোয়ান্ডারি" [Mitt Romney's Key Quandary]। ইনভেস্টরস বিজনেস ডেইলি। ১৩ এপ্রি. ২০১১। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> গভর্নর রমনির সমর্থন না পেলে ২০০২ সালের অলিম্পিকের পরিণতি হয়তো খারাপ হতো। ====গণতন্ত্রের সংলাপ==== [[File:Al_Gore.jpg|thumb|ভিপি এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর]] রমনির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিনিরা সরকারের নেতা হিসেবে ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বুশের প্রথম মেয়াদে এনরন-যুগের কেলেঙ্কারিগুলো হয়তো এতে আরও ভূমিকা রেখেছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর এর সঙ্গে একমত। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর বলেছেন যে পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র সমাজে কেবল পাশাপাশি অবস্থান করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই দুটির মিশ্রণ বিভাজন তৈরি করে। এটি একটি সুস্থ "গণতন্ত্রের সংলাপ" হিসেবে জনপরিসরের জন্য হুমকিস্বরূপ।<ref>[গোর, অ্যালবার্ট। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। মুদ্রণ।]</ref> একটি পুঁজিবাদী সমাজের ব্যবসায়ী নেতাদের সরকারের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই জায়গা আছে। তারা সম্ভবত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হতে পারেন। তবে আমেরিকার প্রধান নির্বাহীর পদে তাদের জায়গা না-ও হতে পারে। ===কোথায় রমনির ভুল হয়েছিল - বলা কঠিন, তবে চিহ্নিত করা সহজ=== ====তার ভাবমূর্তি==== [[File:Romney-01.jpg|thumb|গভর্নর মিট রমনি]] রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই একমত হতে পারে যে মিট রমনি ভুল করেছিলেন। আল গোর তার দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে "সিলেকটিভ এক্সপোজারের" ধারণা উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ঘটনা বর্ণনা করেন যেখানে নাগরিকরা শুধু নিজেদের মতামত সমর্থনকারী প্রতিবেদনগুলোই দেখেন। মানুষ প্রাক্তন গভর্নরকে পছন্দ করুক বা না করুক, বেশিরভাগ মানুষ সিলেকটিভ এক্সপোজারের অভিজ্ঞতা লাভ করেননি। মানুষ মিডিয়ার প্রতিবেদন এবং রমনির নিজের কথা শুনেছিল। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তিনি এই পদের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। ভোটাররা তার সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত ছিলেন না। কারণ তাকে দেখে কোনোভাবেই আদরণীয় ব্যক্তিত্ব মনে হতো না। তার আভিজাত্যপূর্ণ চেহারার কারণে তাকে তার ভোটারদের সঙ্গে মেলামেশা করতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা কঠিন ছিল। নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে মার্কিনিরা নম্রতা ও অকৃত্রিম সহানুভূতিসম্পন্ন প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়ন করতে শিখেছেন। আমরা চাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো নিহত যুদ্ধবীরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আন্তরিক সমবেদনা জানান। অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মার্কিন জনগণের মতে প্রেসিডেন্ট ওবামার মধ্যে এই শক্তিশালী গুণটি রয়েছে। এ থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে জনগণ প্রেসিডেন্ট পদে অন্যান্য যোগ্যতাগুলোকে এই সহজাত গুণের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করে। দুর্ভাগ্যবশত, ব্যবসায়িক জগত গভর্নর রমনিকে প্রায় অমানবিক ও অনুভূতিহীন হিসেবে গড়ে তুলেছিল। ভোটাররা ২০০৮ বা ২০১২ সালের কোনো নির্বাচনেই এটি ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। ====তার ব্যক্তিত্ব==== মার্কিনিরা একজন স্থির, সৎ এবং ধারাবাহিক প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করতে চায়। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর থাকার সময় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার সময় রমনির আচরণে বড় পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। এটিই তার সমালোচনার মূল কারণ ছিল। ২০০৭ সালে এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে টিম রাসার্টের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে গভর্নর রমনি বিভিন্ন বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন কি না, সে বিষয়েও তিনি দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। গভর্নর থাকাকালীন তার দৃষ্টিভঙ্গির তুলনায় রাসার্ট দেখিয়েছিলেন যে রমনি অনেক বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এর মধ্যে গর্ভপাত, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ, ইরাক, সমকামী অধিকার এবং এমনকি রোনাল্ড রিগানও ছিলেন।<ref>["ম্যাসাচুসেটস মিট মিটস রাইট উইং রমনি অন মিট দ্য প্রেস" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</<ref> এই সাক্ষাৎকারে গভর্নর রমনিকে ভোটারদের কাছে বেশ অস্পষ্ট মনে হয়েছিল। হয়তো এ কারণেই তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়ন হারিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির কমিউনিকেশন ডিরেক্টর কারেন ফিনি রমনির এমন আচরণের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, "তিনি যতই বোঝানোর চেষ্টা করুন না কেন, ভোটাররা জানেন যে আজকের মিট রমনির সঙ্গে কয়েক বছর আগের রমনির কোনো মিল নেই। মার্কিন জনগণের প্রয়োজনীয় সৎ নেতৃত্ব দিতে এদের কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না।"<ref>["ম্যাসাচুসেটস মিট মিটস রাইট উইং রমনি অন মিট দ্য প্রেস" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> বিশেষ করে এমন বড় বিতর্কের বিষয়গুলোতে একজন প্রার্থী হঠাৎ নিজের মতামত পরিবর্তন করতে পারেন না। এমনটা করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আশাও করা যায় না। নির্বাচিত ব্যক্তি যদি চার বছরের মধ্যে নিজের মত পরিবর্তন করেন, তবে জনগণ জানতে পারে না তারা কাকে নির্বাচিত করছেন। ====তার ধর্ম?==== [[File:Three_Witnesses_of_the_Book_of_Mormon_Depiction_by_Edward_Hart,_October_1883.jpg|thumb|বুক অব মরমনের তিনজন সাক্ষী, ১৮৮৩]] আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগে থেকে থাকা পক্ষপাতিত্ব বা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের গতিপথ ও ফলাফল বদলে দিতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ একমত হবেন যে প্রেসিডেন্টের একটি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান থাকা জনগণের জন্য ভালো। তাই কোনো প্রার্থীর এমন কোনো গুণ থাকলে যা তাকে বেশিরভাগ ভোটারদের থেকে আলাদা করে, তখন তাকে মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। জনসমক্ষে তিনি গর্বের সঙ্গেই স্বীকার করেন যে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মরমনি। ভোটাররা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে তার ধর্ম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাফল্যকে প্রভাবিত করবে কি না। খ্রিস্টধর্মের মরমনি সম্প্রদায় সম্পর্কে অনিশ্চয়তাই এর পেছনের মূল কারণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে রমনির ধর্ম নিয়ে মানুষের অনিশ্চয়তার কথা শুনে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিচ ডেভিস একটি গবেষণা শুরু করেন। তিনি নিজেও একজন মরমনি। সম্প্রতি এলএ টাইমস/ব্লুমবার্গের একটি গবেষণার ফলাফলও বেশ চমকপ্রদ ছিল। ৩৭% মার্কিনি মরমনিদের ভোট দেবেন না।<ref>["মিট রমনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেসি ফেসেস ক্রিটিক্যাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ; মরমনি রিলিজিয়ন আননোন অ্যান্ড মিসআন্ডারস্টুড - নিউ ৫২৭ অর্গ - রানমিটরান.অর্গ ক্রিয়েটেড টু অ্যাড্রেস ইট" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</<ref> এই সংখ্যাটি কেন এত বেশি, তা খুঁজে বের করাই ডেভিসের গবেষণার লক্ষ্য ছিল। ডেভিস সাউথ ক্যারোলাইনার ৬০০ জন নিবন্ধিত ভোটারকে মরমনিদের ভিত্তি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। বেশিরভাগ মানুষই মরমনিবাদ এবং প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টধর্মের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার করতে পারেননি। জরিপে দেখা গেছে যে ৫০% মার্কিনি বিশ্বাস করেন মরমনিরা শুধু বুক অব মরমনি অনুসরণ করে এবং বাইবেল মানে না। অন্যরা বিশ্বাস করেন মরমনিরা এখনও বহুবিবাহ করে। তারা জানেন না যে ১৮৯০ সালে মরমনি চার্চ এটি নিষিদ্ধ করেছিল।<ref>["মিট রমনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেসি ফেসেস ক্রিটিক্যাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ; মরমনি রিলিজিয়ন আননোন অ্যান্ড মিসআন্ডারস্টুড - নিউ ৫২৭ অর্গ - রানমিটরান.অর্গ ক্রিয়েটেড টু অ্যাড্রেস ইট" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</<ref> ====সারসংক্ষেপ==== আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অজ্ঞতা থেকে আসা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের ফলাফল নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করি যে ধর্ম একজন প্রেসিডেন্টের সাফল্যের চালিকাশক্তি। কিন্তু সময় ও মানুষের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাই বেশি মার্কিনিদের কাছে টানতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা এই পথেই চলছেন। মিডিয়া আমাদের দেখায় যে তিনি খ্রিস্টানদের ছুটির দিনে চার্চে যান। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার নীতিগত সিদ্ধান্তে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে দূরে রাখেন। বেশিরভাগ ভোটার তার এই কার্যকর পদ্ধতিটিকে মূল্যায়ন করেন বলে মনে হয়। ===কীভাবে আমরা এসব গুণাবলিকে সার্বভৌম হিসেবে গ্রহণ করেছি=== ====মিডিয়ার অবদান==== একজন সফল প্রেসিডেন্টের আদর্শ গুণাবলি নিয়ে বেশিরভাগ মার্কিনি একমত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মিট রমনির মতো প্রার্থীদের ব্যবসার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শক্তিশালী পটভূমি রয়েছে যা বিরোধীদের নেই। তা সত্ত্বেও, কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য একজন প্রার্থীকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তোলে। নিউজ মিডিয়া এসব আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সহায়ক একটি মাধ্যম। যারা তথ্য খোঁজেন তাদের জন্য মিডিয়া হলো একটি প্রধান উৎস। মিডিয়া প্রায়ই তাদের পছন্দের গুণাবলিসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রশংসা করে। কার্যকরভাবে, এটি এমন প্রার্থীদের জন্য সমর্থন ও জনপ্রিয়তার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে যারা মিডিয়া উৎসগুলোর কাছে আদর্শ গুণাবলি পূরণ করেন। ====পারিবারিক মূল্যবোধ==== বয়স্ক মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের যেসব গুণাবলিকে আদর্শ মনে করেন, তরুণ মার্কিনিদের মধ্যে তা গেঁথে দেওয়ার আরেকটি বড় প্রভাবক হলো পারিবারিক মূল্যবোধ। ছোটবেলা থেকেই মার্কিনিরা বাবা-মায়ের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে। আমরা সারা জীবন এগুলো ধরে রাখি। বয়স্ক প্রজন্ম সাধারণত একজন প্রার্থীর শক্তিশালী ধর্মীয় পরিচয়কে মূল্যায়ন করে। তবে বয়স্ক প্রজন্ম বিদায় নেওয়ায় এবং আধুনিক সমাজে ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্ব হারানোয় যুক্তরাষ্ট্র এখন উল্টো পথে হাঁটছে। ====জনপরিসরের ভূমিকা==== সবশেষে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো জনপরিসর। জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাসের ধারণায় এটি প্রেসিডেন্সিয়াল আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে মিডিয়া আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। মার্কিনিরা সেই আলোচনা বাড়িতে নিয়ে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবেশে করেন। প্রত্যেক মার্কিনির বৈচিত্র্যময় পটভূমি "গণতন্ত্রের সংলাপের" প্রতি একটি বাধ্যতামূলক ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেয়। জনপরিসর এমন একটি ফোরাম যেখানে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ঘটে। এর মাধ্যমেই আমরা আদর্শ প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলির জনমত তৈরি করি। ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমাদের আদর্শ প্রেসিডেন্টের চেহারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। জনপরিসরের মাধ্যমেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধারণাগুলো প্রবাহিত হয়েছে এবং আদর্শ প্রেসিডেন্টের বিবর্তন ঘটেছে। আমাদের প্রজাতন্ত্রের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নাগরিকদের জীবনের সব ক্ষেত্রে খোলাখুলিভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মার্কিনিরা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় উৎসাহিত হয়েছেন। এই জনপরিসরের মাধ্যমেই আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আদর্শগুলো গ্রহণ করেছি। ===উপসংহার=== "সুসংযুক্ত নাগরিকদের" একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কার্যকারিতা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্সি আমাদের শাসকগোষ্ঠীর কার্যকরী এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে অস্তিত্ব হারাত (গোর ২০০৭)। মুক্ত বিশ্ব শাসনকারী রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও আগ্রহের মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে। মার্কিন জনগণকে প্রভাবিত করে এমন রাজনৈতিক বিষয়ে তথ্যবহুল ও উন্মুক্ত আলোচনা ছাড়া আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তা একত্র করতে পারি না। আমরা এমন প্রার্থীও নির্বাচন করতে পারি না যিনি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনে দেশকে সেরা দিকে নিয়ে যাবেন। এই পদের জন্য সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করে আমরা আত্মবিশ্বাসী হতে পারি। বর্তমান প্রশাসনের নীতি আমরা অনুমোদন করি বা না করি, আমাদের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তিনি যা সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বলে বিশ্বাস করেন তার জন্যই কাজ করেন। ==জাতীয় ট্র্যাজেডির প্রতিক্রিয়া== === ভূমিকা === গুপ্তহত্যা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সন্ত্রাসী হামলা—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন বেশ কিছু জাতীয় ট্র্যাজেডি রয়েছে। প্রতিবারই দেশ কেঁপে ওঠে এবং জনপরিসরে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলোর একটি হলো ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা। অনেক জাতীয় সংকটের মতোই এটি দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করেছিল। তবে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলের বন্দুক হামলার আরও সাম্প্রতিক একটি ঘটনা জাতিকে বিভক্ত করে এবং মার্কিন রাজনীতিতে নাড়া দেয়। স্যান্ডি হুকের ঘটনার পর ছোট ছোট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভূমিকার কারণে এই হামলা মার্কিন জনপরিসর ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায় বিপরীত প্রভাব ফেলেছিল। এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সম্পূর্ণ উল্টো ছিল। মূলত স্যান্ডি হুক হামলার প্রতিক্রিয়া এই দেশের গণতন্ত্রের আদর্শকেই ক্ষুণ্ন করেছে। ===১১ সেপ্টেম্বর এবং জনপরিসর=== ====মার্কিন জনগণের একতা==== ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক ঘটনার ছয় মাস পর পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, "১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য যেকোনো ঘটনার চেয়ে জনমতকে বেশি প্রভাবিত করেছে। স্পষ্টতই এই হামলা অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেম নিয়ে এসেছিল।"<ref> name=pew>"পাবলিক ওপিনিয়ন সিক্স মান্থস লেটার" [Public Opinion Six Months Later]। পিউ রিসার্চ সেন্টার ফর পিপল অ্যান্ড দ্য প্রেস। পিউ রিসার্চ সেন্টার, ০৭ মার্চ ২০০২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> যারা ওই হামলার কথা মনে করতে পারেন, তারা প্রায় প্রতিটি বাড়ি, গাড়ি এবং বাণিজ্যিক ভবনে মার্কিন পতাকা দেখার কথাও মনে করতে পারেন। এটি পরিবর্তিত মার্কিন মানসিকতার প্রতীক ছিল। দশ বছর পর ওই ট্র্যাজেডির বার্ষিকী উপলক্ষে ''ইউএসএ টুডে''তে প্রকাশিত একটি অপ-এড নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ওবামা এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, "মার্কিনিরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, উপাসনালয় এবং ইউ.এস. ক্যাপিটলের সিঁড়িতে একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবকরা রক্ত দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সাহায্য করতে সারা দেশ ঘুরেছিলেন। স্কুলের বাচ্চারা নিজেদের জমানো টাকা দান করেছিল। সম্প্রদায়, বিশ্বাসী গোষ্ঠী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার ও পোশাক সংগ্রহ করেছিল। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।"<ref>ওবামা, বারাক। "লেটস রিক্লেইম দ্য পোস্ট-৯/১১ ইউনিটি" [Let's Reclaim the Post-9/11 Unity]। ইউএসএ টুডে। ০৮ সেপ্টে. ২০১১: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ১১ সেপ্টেম্বরের পরের মাসগুলোতে হওয়া জনমত জরিপে মার্কিন মানসিকতার পরিবর্তনও বেশ স্পষ্ট ছিল। মার্কিনিদের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের বাড়তি অনুভূতি ফেডারেল সরকার এবং সামগ্রিকভাবে জাতির ভবিষ্যতের ওপর উচ্চতর আস্থায় পরিণত হয়েছিল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে একটি গ্যালাপ জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এতে বলা হয় প্রেসিডেন্ট বুশ ৮৬% এর সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছেন।<ref> name=gallup>"লেটেস্ট সামারি: আমেরিকান পাবলিক ওপিনিয়ন অ্যান্ড দ্য ওয়ার অন টেররিজম" [Latest Summary: American Public Opinion and the War on Terrorism]। গ্যালাপ। গ্যালাপ, ইনক., ২১ ডিসে. ২০০১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> আর পরের মার্চে পিউ রিসার্চের একটি গবেষণায় সামগ্রিকভাবে ফেডারেল সরকারের জন্য ৮২% সমর্থন পাওয়া যায়।<ref> name=pew /> শুধু তাই নয়, একই পিউ গবেষণায় দেখা গেছে যে ১১ সেপ্টেম্বরের পর মার্কিনিরা ১৯৫৯ সালের পর সর্বোচ্চ আশাবাদ দেখিয়েছিল।<ref> name=pew /> মার্কিনিদের আস্থা ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত মানসিকতা রাজনীতিবিদদের সহজেই বিভিন্ন আইন পাস করার সুযোগ দিয়েছিল। ট্র্যাজেডির পরের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই এমনটা করা হয়েছিল। ====আইন প্রণয়ন==== ১১ সেপ্টেম্বরের পর সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত প্রায় ৪৮টি বিলে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ছিল এমনই একটি বিল। এটি "সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে জরুরি ব্যয়ের" জন্য ৪,০০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছিল। বিলটি মাত্র চার দিনের মধ্যে পাস হয়েছিল।<ref> name=appropriations>"২০০১ ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ফর রিকভারি ফ্রম অ্যান্ড রেসপন্স টু টেররিস্ট অ্যাটাকস অন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" [2001 Emergency Supplemental Appropriations Act for Recovery from and Response to Terrorist Attacks on the United States]। এইচ.আর. ২৮৮৮ (১০৭তম)। গভট্র্যাক.ইউএস। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> অন্যান্য আইনের মধ্যে সুপরিচিত প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টও ছিল, যা প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং গ্রাউন্ড জিরোতে কাজ করা সৈন্য ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়ার আইনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।<ref> name=blog>ভিলেমেজ, জেসন, এবং ডালিয়া মোর্তাদা। "৯/১১ টু নাউ: ওয়েজ উই হ্যাভ চেঞ্জড" [9/11 To Now: Ways We Have Changed]। দ্য রানডাউন: অ্যা ব্লগ অব নিউজ অ্যান্ড ইনসাইট। পিবিএস, ১৪ সেপ্টে. ২০১১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ট্র্যাজেডির পর প্রায় পুরো জাতিরই একই মানসিকতা ছিল। তাই সরকার খুব কম বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। মার্কিনিদের রক্ষার চেষ্টায় সরকার এসব আইনসহ আরও অনেক আইন পাস করতে পেরেছিল। ===স্যান্ডি হুক শ্যুটিং এবং জনপরিসর=== অতি সম্প্রতি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে জাতি আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছিল। এবার কানেটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে বিশটি শিশু এবং ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভুক্তভোগীরা খুব ছোট এবং সংখ্যায় অনেক হওয়ায় এই ঘটনা মার্কিন নাগরিক ও আইনপ্রণেতাদের আবেগে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। তবে এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মতো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। বরং এটি দেশকে দুভাগে বিভক্ত করেছিল। একদিকে ছিলেন কঠোর বন্দুক আইনের সমর্থকরা, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবার। অন্যদিকে ছিল ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন এবং তাদের সঙ্গে একমত পোষণকারীরা। তারা স্পষ্টভাবে বলেছিল যে তারা "বন্দুক নিয়ন্ত্রণের আলোচনার দিকে এক ইঞ্চিও নড়বে না"।<ref> name=NRA>কাস্টিলো, মারিয়ানো। "এনআরএ ক্লিয়ার অন গান ডিবেট স্ট্যান্স: আর্ম স্কুলস" [NRA clear on gun debate stance: arm schools]। সিএনএন ইউ.এস.। সিএনএন, ২১ ডিসে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> এই দুই গোষ্ঠীর লড়াই শুধু দেশকেই বিভক্ত করেনি। এটি জনপরিসরের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করার ক্ষেত্রে টাকার ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। ====নাগরিক আন্দোলন==== স্যান্ডি হুকের পরিবারগুলো জনপরিসরে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারা বেশিরভাগ মার্কিনিদের দাবি তুলে ধরে বন্দুক কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি তৃণমূল প্রচারণা তৈরি করেছিল। জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারগুলো তাদের নিজের রাজ্য কানেটিকাটে দেশের সবচেয়ে কঠোর বন্দুক আইন প্রণয়নে সফল হয়েছিল। এই আইন অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত করেছিল। এটি ম্যাগাজিনের ক্ষমতা সীমিত করেছিল এবং বেসরকারি বন্দুক বিক্রির জন্য পটভূমি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করেছিল।<ref> name=huff>উইল্কি, ক্রিস্টিনা। "কানেটিকাট পাসেস নেশনস স্ট্রিক্টেস্ট গান ল ইন ওয়েক অব স্যান্ডি হুক ম্যাসাকার" [Connecticut Passes Nation's Strictest Gun Law In Wake Of Sandy Hook Massacre]। হাফ পোস্ট পলিটিক্স। হাফিংটন পোস্ট, ০৪ এপ্রি. ২০১৩। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> তবে রাজ্যের বিজয়ই স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর একমাত্র চাওয়া ছিল না। [[File:Barack Obama with relatives of Emilie Parker.jpg|thumb|স্যান্ডি হুক শ্যুটিংয়ে নিহত শিশু এমিলি পার্কারের আত্মীয়দের সঙ্গে বারাক ওবামা]] এপ্রিলের শুরুতে অভিভাবকরা এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটনে পদযাত্রা করেন। তারা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জাতীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের আশায় তাদের গল্প শেয়ার করেন। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের অর্থনৈতিক ক্ষমতা মোকাবিলা করতে তারা তাদের আবেগের ব্যবহার করেছিলেন। তারা আইনপ্রণেতাদের এবং প্রেসিডেন্টের আবেগ ছুঁতে পেরেছিলেন। আবেগের বশবর্তী হয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুনাম ভেঙে ওবামা স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর দাবির প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করেন। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জো মানচিন একটি দ্বিদলীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছিলেন। তিনিও অভিভাবকদের প্রচারণার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "তারা আমাকে বলেছিল, 'আমরা জানি এই আইনের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের বাঁচানো যেত না।' ...তাদের চাওয়া হলো, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তা থেকে হয়তো আপনি একটি পরিবারকে বাঁচাতে পারবেন। আমার জীবনে শোনা এটিই সবচেয়ে নিঃস্বার্থ উপস্থাপন। এটি আমাকে নতজানু করে দিয়েছে।"<ref> name=latimes>পার্সনস, ক্রিস্টি, ক্যাথলিন হেনেসি, এবং মাইকেল এ. মেমোলি। "স্যান্ডি হুক অ্যান্ড গ্রিফ: গান কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস প্লিড দেয়ার কেস" [Sandy Hook and Grief: Gun Control Advocates Plead Their Case]। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ১৩ এপ্রি. ২০১৩, পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> প্রচারণার সপ্তাহটি শেষ করতে ওবামা ফ্র্যান্সিন হুইলারকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি এই হামলায় নিহত ছয় বছর বয়সী এক ছেলের মা। ওবামা তার হয়ে শনিবারের সাপ্তাহিক ভাষণ দিতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি শেষ আবেগপূর্ণ আবেদন উপস্থাপন করেন<ref> name=latimes />। ====এনআরএ লবিং==== [[File:Wayne LaPierre by Gage Skidmore.jpg|thumb|এন.আর.এ.-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি বাড়ানোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।]] তবে স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবারের চেষ্টা ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষমতার কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। সামরিক ধাঁচের অ্যাসল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করা, ম্যাগাজিনের আকার সীমিত করা এবং পটভূমি যাচাই সম্প্রসারণ করাসহ সব বন্দুক নিয়ন্ত্রণ বিল সিনেটে বাতিল হয়ে যায়। স্যান্ডি হুক ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো বাবা-মায়ের আবেদন সিনেট শুধু যে উপেক্ষাই করেছে তা নয়। তারা "মার্কিন জনগণের ইচ্ছাকেও উপেক্ষা করেছে" বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন প্রতিনিধি গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ডস। তিনি নিজেও বন্দুক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।<ref> name=backfire>ক্যাসিডি, জন। "কুড দ্য এন.আর.এ.'স বিগ ভিক্টরি ব্যাকফায়ার?" [Could The N.R.A.’s Big Victory Backfire?]। নিউ ইয়র্কার। ১৮ এপ্রি. ২০১৩: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> মূলত ৯০% এর বেশি মার্কিনি বর্ধিত পটভূমি যাচাই সমর্থন করেছিল। এছাড়া ৫৬% মার্কিনি অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেছিল<ref> name=backfire />। জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত জাতীয় আইনপ্রণেতারা ঠিক তার উল্টোটাই করেছিলেন। পরিস্থিতি বোঝার জন্য একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। এনআরএ ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রার্থীদের ৭,১৬,৫৯৬ ডলার দান করেছিল। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা পেয়েছিল ৬,৩৪,১৪৬ ডলার<ref> name=NRA />। এই ক্ষেত্রে জনপরিসর একটি সমস্যা মোকাবিলা করতে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু একটি ছোট গোষ্ঠীর সম্পদ ও ক্ষমতা শুধু জাতিকেই বিভক্ত করেনি; এটি গণতন্ত্রের মূল কাঠামোকেও দুর্বল করে দিয়েছে। ===গণতন্ত্রে টাকার প্রভাব=== আল গোর তার ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' বইয়ে সম্পদের রাজনীতির ওপর আলো ফেলে এই সমস্যার মূল বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গোরের মতে, "শাসিতদের সম্মতি থেকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা পাওয়া নির্ভর করে সেই যুক্তির প্রক্রিয়ার ওপর যার মাধ্যমে সম্মতি দেওয়া হয়। যুক্তির প্রক্রিয়া যদি টাকা ও প্রতারণার দ্বারা কলুষিত হয়, তবে শাসিতদের সম্মতি মিথ্যা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে প্রাপ্ত যেকোনো ক্ষমতা জন্মগতভাবেই নকল এবং অন্যায়।"<ref> name=gore>গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন বুকস, ২০০৭। ৭৩-৭৬। মুদ্রণ।</ref> ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর দেশের একটি অভিন্ন কর্মসূচি ছিল। খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। কারণ খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে বিশ্বাস রাখত। সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খুব সহজেই অনেক আইন পাস করেছিল। অন্যদিকে স্যান্ডি হুক হামলার পর জনগণের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। শোকাহত পরিবার ও সম্প্রদায়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনির ইচ্ছাই উপেক্ষিত হয়েছিল। তবে যারা লাখ লাখ ডলার দিতে পেরেছিল, তাদের ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছিল। এটি ঠিক সেই ঘটনাই তুলে ধরে যা নিয়ে গোর সতর্ক করেছিলেন। এটি গণতন্ত্রের উদ্দেশ্যমূলক কাজের ঠিক বিপরীত দিকটি তুলে ধরে। গোরের ভাষায়, "তাদের মতামত অন্যদের মতামতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতির অগ্রাধিকারগুলো পালটে যায়।"<ref> name=gore /> ==২০১২ সালের নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ক্ষতিকর প্রভাব== প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা এর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা খুব সহজেই বুঝতে পারছি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বেশিরভাগ কাজেই এখন প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেশি। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দারুণ একটি ব্যাপার। সম্প্রতি নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের কারণে ভোটাররা শুধু প্রার্থীদের নীতির ওপর ভিত্তি করে কাউকে বেছে নিতে পারছেন না। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হলো বিদ্বেষপূর্ণ বা কলঙ্কজনক কাজের মাধ্যমে প্রতিযোগী, প্রতিপক্ষ ইত্যাদিকে হেয় করার চেষ্টা [http://dictionary.reference.com/browse/mudslinging]। আর এই কাজটি নির্বাচন জেতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারাক ওবামা এবং মিট রমনির মধ্যকার গত নির্বাচনটি সর্বকালের অন্যতম তীব্র নির্বাচন ছিল। http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সম্প্রচার এবং কেবল টেলিভিশনে রমনির নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের মোট হার ছিল ৭৯.২%। আর ওবামার হার ছিল ৮৫.৫%। এই হার ২০০৮ এবং ২০০৪ উভয় নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি। ২০০৮ সালে ওবামার নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের হার ছিল ৬২.৯% এবং জন ম্যাককেইনের ছিল ৭৫.৯%। ২০০৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জন কেরির ৪৪.৩% এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের ৭২.৪% নেতিবাচক বিজ্ঞাপন ছিল। এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে যে প্রতি নির্বাচনেই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পরিমাণ বাড়ছে এবং এটি কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের নেতিবাচকতা বাড়ছে। এটি নিঃসন্দেহে জনপরিসরকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ===কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির শুরু=== লিন্ডন জনসন এবং ব্যারি গোল্ডওয়াটারের মধ্যে ১৯৬৪ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির প্রথম বড় ঘটনাটি ঘটেছিল। এটি চিরকালের মতো প্রচারণার কৌশল বদলে দিয়েছিল। জনসনের প্রচারণায় তৈরি বিজ্ঞাপনটি "ডেইজি গার্ল" নামে পরিচিত। এটি শুরু হয় একটি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা এক মিষ্টি ছোট্ট মেয়েকে দিয়ে। সে একটি ডেইজি ফুল থেকে পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে গণনা করার চেষ্টা করছিল। সে যখন এটি করছিল, তখন একটি ভীতিকর ও অশুভ কণ্ঠস্বর দশ থেকে উল্টো গণনা শুরু করে। যখন কণ্ঠস্বরটি "শূন্য" বলে, তখন তারা একটি বিশাল পারমাণবিক বিস্ফোরণ দেখায়। এরপর এই কথাগুলো দিয়ে বিজ্ঞাপনটি শেষ হয়, "এই হলো ঝুঁকি। ঈশ্বর এমন এক পৃথিবী তৈরি করুন যেখানে তার সব সন্তান বাঁচতে পারে, অথবা অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে। আমাদের একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, অথবা আমাদের মরতে হবে।" বিস্ফোরণের পর স্ক্রিনে "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন" লেখাটি ভেসে ওঠে। এটি স্ক্রিনে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে, "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন। ঘরে বসে থাকার ঝুঁকি অনেক বেশি।" http://michiganjournal.org/2012/10/30/presidential-mudslinging-in-the-past/ এই বিজ্ঞাপনটি দর্শকদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকে পারমাণবিক যুদ্ধ আরও বড় হুমকি হয়ে উঠছিল। কয়েক বছর আগেই কিউবান মিসাইল সংকট হয়েছিল। আর গোল্ডওয়াটার তার প্রচারণায় ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ধারণার কথা বলেছিলেন। মার্কিনিদের মনে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকির কারণে এই বিজ্ঞাপনটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি কার্যকর কৌশল ছিল। অধ্যাপক রবার্ট মান এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। বইটির শিরোনাম ডেইজি পেটালস অ্যান্ড মাশরুম ক্লাউডস: এলবিজে, ব্যারি গোল্ডওয়াটার অ্যান্ড দ্য অ্যাড দ্যাট চেঞ্জড আমেরিকান পলিটিক্স। তিনি বলেন, "তার সমর্থন কখনোই সত্যিই কমেনি। তবে জরিপে যা বেড়েছিল তা হলো মার্কিনিদের ভয়। তারা ভেবেছিল গোল্ডওয়াটার নির্বাচিত হলে তিনি আমাদের পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবেন।" http://thecaucus.blogs.nytimes.com/2011/10/24/revisiting-the-daisy-ad-revolution/ আজ যদি এ ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন সম্প্রচারিত হতো, তবে এর প্রভাব এত ক্ষতিকর হতো না। মার্কিনিরা নেতিবাচক বিজ্ঞাপন দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আজকের দর্শকরা এটিকে হাস্যকর ও অবাস্তব বলে মনে করবেন। তারপরও এই বিজ্ঞাপনটি গোল্ডওয়াটরের প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর ছিল এবং এই নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়েছিল। ===প্রথম বিতর্ক=== [[File:P112912PS-0444 - President Barack Obama and Mitt Romney in the Oval Office - crop.jpg |thumbnail|right|বারাক ওবামা এবং মিট রমনি]] এবার ২০১২ সালের নির্বাচনে আসা যাক। প্রতিযোগিতায় দুর্বলতার কোনো লক্ষণ দেখালে তা প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মিট রমনি এবং বারাক ওবামার মধ্যকার প্রথম বিতর্কে এটি স্পষ্ট হয়েছিল। সঞ্চালক যেসব প্রশ্ন করেছিলেন তা অর্থনীতি ঠিক করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। রমনির জন্য জরিপে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ ছিল। কারণ তার প্রচারণা মধ্যবিত্তের উন্নতি এবং দেশের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের চারপাশেই ঘুরছিল। বিতর্কটি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি দুই প্রার্থীর মধ্যে এক তীব্র লড়াইয়ে পরিণত হয়। তারা প্রায়ই তাদের বিবৃতি এবং খণ্ডনের জন্য বরাদ্দ সময় পার করে যাচ্ছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের লেখক জেফ জেলেনি এবং জিম রুটেনবার্গের মতে, "বিতর্কের বেশিরভাগ সময় প্রার্থীরা মঞ্চ দখল করে নিয়েছিলেন। তারা পিবিএসের সঞ্চালক জিম লেহরের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ তারা একে অপরকে খণ্ডন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল সঞ্চালক যেন মঞ্চ ছেড়েই চলে গেছেন। এটি এমন কিছু নতুন নিয়মের ফল ছিল যা একটি গভীর ও মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল।"<ref>http://www.nytimes.com/2012/10/04/us/politics/obama-and-romney-hold-first-debate.html?pagewanted=all&_r=0</ref> ====বিতর্কের গুরুত্ব==== পরিস্থিতি অনেক সময় খুব উত্তপ্ত ছিল। প্রতিটি প্রার্থী তাদের সেরা ক্ষমতা দিয়ে বিতর্ক করেছিলেন। এ ধরনের তীব্র বিতর্ক নির্বাচনের জন্য দারুণ। কারণ এটি ক্ষমতাসীন এবং চ্যালেঞ্জারের মধ্যে এক দুর্দান্ত লড়াই। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মতো নেতিবাচক প্রচারণার কৌশলগুলো বিতর্কের ময়দানে কোনো কাজে আসে না। এখানেই তারা তাদের নীতির ওপর আস্থা দেখাতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়ে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তাও দেখাতে পারেন। এমন একটি রোমাঞ্চকর বিতর্কের পরও প্রতিটি প্রচারণা দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেছিল। ==নেতিবাচকতা বৃদ্ধির কারণ== ২০১২ সালের নির্বাচনে নেতিবাচকতা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ ছিল প্রতিটি প্রার্থীর প্রচারণার ভিত্তি। ক্ষমতাসীন ওবামা নতুন কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রচার করতে পারেননি। কারণ ক্ষমতায় তার আগের চার বছরে অর্থনীতি ভালো অবস্থানে ছিল না। "পলিটিকো"তে ডোনোভান স্ল্যাকের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "ওবামা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর ভিত্তি করে লড়তে পারেননি। তার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর কয়েকটি, যেমন তার স্বাস্থ্যসেবা আইন, জরিপে অজনপ্রিয় ছিল।" স্ল্যাক আরও বলেন, "রমনি ক্ষমতাসীনকে বরখাস্ত করতে মার্কিনিদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে নিজের বিষয়ে খুব একটা বিস্তারিত কিছু জানাননি।" [http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html%20 http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ] ===ক্ষতিকর প্রভাব=== এই কারণে দুই প্রার্থীই নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের দিকে ঝোঁকার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। তারা ঐতিহাসিকভাবেই এমনটা করেছিলেন। এসব কাজ শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার অখণ্ডতাই নষ্ট করে না। সামগ্রিকভাবে মার্কিন নাগরিকরাও পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেছেন। সিএনএনের লেখক বব গ্রিনের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "২০০৮ সালে সম্ভাব্য ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল উভয় প্রার্থীই ভালো প্রেসিডেন্ট হবেন কি না। তখন ২৫% হ্যাঁ বলেছিলেন। এই বছর (২০১২) একই প্রশ্ন করা হলে মাত্র ১২% হ্যাঁ বলেছেন।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging গ্রিন বর্তমান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনকে যুদ্ধের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। তিনি বলেন যে যুদ্ধে উভয় পক্ষই যদি জানে তারা একে অপরকে ধ্বংস করতে পারে, তবে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু রাজনীতিতে উভয় পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। তারা সব সময় ওপরের দিকে থাকার জন্য চাপ দেয়। গ্রিন বলেন, "নির্বাচনে জিততে যেকোনো উপায় ব্যবহারের ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত একজন প্রেসিডেন্ট তৈরি করবেই। কিন্তু এরপর সেই প্রেসিডেন্টকে এমন এক জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে যারা পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছে।" যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই একটি বিষয় জানা যায়। একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে মার্কিন জনগণ এবং এর নেতার মধ্যে আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন তার নিবন্ধে আমাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিতা জন অ্যাডামসকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, "সব স্তরের কর্তৃপক্ষের জন্য শালীনতা, সম্মান ও শ্রদ্ধা থাকতে হবে, নইলে আমরা শেষ হয়ে যাব। জনপ্রিয় সরকারে এটাই আমাদের একমাত্র পথ।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging এই উদ্ধৃতিটি সরাসরি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ==জনপরিসরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব== জনপরিসর হলো কথোপকথনের একটি স্থান এবং এটি মার্কিন সংস্কৃতিকে পুরোপুরি ধারণ করে। "জনপরিসর" শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাস। তিনি এটিকে এমন একটি কথোপকথনের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে জনমত তৈরি হয়। আজকের বিশ্বে জনপরিসর প্রযুক্তি দ্বারা নানাভাবে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনগুলো কার প্রচারণার বিজ্ঞাপন ভালো এবং কে বেশি টাকা খরচ করে, তা ঘিরেই আবর্তিত হয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে অর্ধেকেরও বেশি প্রচারণার বিজ্ঞাপন কোনো না কোনোভাবে অবমাননাকর। ফলে মার্কিন নাগরিকরা কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করবেন তা নিয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। ভোটারদের কারসাজি করা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের সমর্থিত কোনো কৌশল নয়। এই প্রবণতা চলতে থাকলে আমাদের দেশ আর ঐক্যবদ্ধ থাকবে না। এটি "আমরা বনাম তারা" মানসিকতায় পরিণত হবে এবং আমরা বিভক্ত হয়ে পড়ব। নেতিবাচকতার এই প্রবণতার জন্য কি শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীরাই দায়ী? একদমই না। নিউজ স্টেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই পতনে বিশাল ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, "বোল্ড রিপাবলিক" নামে একটি কট্টর রিপাবলিকান গোষ্ঠী একটি ভাইরাল ইউটিউব ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে শহরের অশিক্ষিত নাগরিকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তারা সাধারণ প্রশ্ন করেছিল যেমন, "আপনারা কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন?" একজন ব্যক্তি এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "দেখা যাক, তারা যা দিতে চায় তাই। আমি তো জানিও না, তাদের কাছে তো আর কোনো চেকলিস্ট নেই।" এই ভিডিওটি প্রার্থীর অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অপপ্রচারের একটি চরম উদাহরণ। এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত করছে। এসব সমস্যা চলতে থাকায় এটি আমার কাছে স্পষ্ট যে একজন ভালো প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জনপরিসরে একটি বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। ==তথ্যসূত্র== {{reflist}} {{BookCat}} hniunenzqcjilq0bv30618i0m32yer4 106609 106608 2026-06-09T18:37:06Z NusJaS 8394 106609 wikitext text/x-wiki ==ভূমিকা== রাজনীতি এবং জনপরিসর সমার্থক নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র রয়েছে। সেখানে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কে সাধারণ নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত করেন। তাই জনপরিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাজনীতি। আল গোর তার ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' বইয়ে একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের দেশ যেসব সিদ্ধান্ত নেয় তার জন্য আমরা সবাই দায়ী।"<ref>গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ২। </ref> ==২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণা: রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং জনপরিসর== ====ভূমিকা==== রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রায় সবসময়ই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছে। এটি প্রথমে সংবাদপত্রের কার্টুন দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরে ১৯৫০-এর দশকে এটি টিভি বিজ্ঞাপনে রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত নতুন মাধ্যমের সাহায্যে জনপরিসরে প্রবেশ করেছে। ইন্টারনেটের এই যুগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আগের চেয়ে বেশি মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছাতে পারে। তবে এদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। কয়েক দশক আগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন মূলত নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রচার করত। এখন এগুলো নিয়মিত প্রতিপক্ষকে অপবাদ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আল গোর তার দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে একটি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমাদের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র "সুশিক্ষিত নাগরিকদের" ওপর নির্ভর করে। এসব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এখন এমন নাগরিকদের ক্ষতি করছে। এগুলোর যুক্তির অভাব টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছায়। এটি "ধারণার বাজার"কে এমন এক জায়গায় পরিণত করে যেখানে "সত্য" আর টিকে থাকে না।<ref> গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ৫-১১।</ref> ২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। উভয় দলই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কথা তার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন কাজে লাগিয়েছিল। তারা সত্য পরিবর্তন করতে এবং জনপরিসর ও নির্বাচন উভয়কেই প্রভাবিত করতে এটি করেছিল। ===="আপনি এটি তৈরি করেননি।"==== [[File:President Barack Obama.jpg|thumb|প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা]] ভার্জিনিয়ার রোয়ানোকে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন। প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সরকারি অবকাঠামো উভয়ের ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি বলেন: :"আপনি সফল হলে কেউ না কেউ আপনাকে সাহায্য করেছিল। আপনার জীবনে কোনো এক দারুণ শিক্ষক ছিলেন। কেউ একজন আমাদের এই অবিশ্বাস্য আমেরিকান ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। এটি আপনাকে উন্নতি করতে সুযোগ দিয়েছে। কেউ রাস্তা ও সেতুতে বিনিয়োগ করেছিল। আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি। অন্য কেউ এটি সম্ভব করেছে।"<ref>সিএনএন, ওয়্যার স্টাফ। "'ইউ ডিডনট বিল্ড দ্যাট': অ্যা থিম আউট অব কনটেক্সট" ['You Didn't Build That': A Theme Out of Context]। ০১ সেপ্টে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://www.cnn.com/2012/08/31/politics/fact-check-built-this></ref> প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। তবে তার "আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি" বাক্যটি ওবামার বিরোধীরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করেছিল। তারা প্রেসিডেন্টকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বড় সরকারে বিশ্বাসী উদারপন্থী হিসেবে তুলে ধরতে এটি ব্যবহার করেছিল। জিওপির সদস্যরা এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা ব্যবসার মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, "হ্যাঁ, আপনিই এটি তৈরি করেছেন।"<ref>ট্যাপার, জেক। "ডিড ওবামা সে, 'ইফ ইউ হ্যাভ অ্যা বিজনেস, ইউ ডিডনট বিল্ড দ্যাট'?" [Did Obama Say, 'If You Have a Business, You Didn't Build That'?]। ১৬ জুলাই ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/07/did-obama-say-if-youve-got-a-business-you-didnt-build-that/></ref> এছাড়া বক্তব্যটি বেশ কয়েকটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ইন্ধন জোগাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। "আপনি এটি তৈরি করেননি" কথাটি অসংখ্য বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল। ব্লগস্ফিয়ারে মিম তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি টুইটারে এটি হ্যাশট্যাগও হয়ে উঠেছিল। মিট রমনির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার বদলে তার প্রচারণা কমিটি ও সহকর্মী রিপাবলিকানরা এই বক্তব্যের সুযোগ নেন। তারা তাদের বিজ্ঞাপনে বারাক ওবামাকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্টের কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। ওবামাবিরোধী এসব বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগেই বক্তৃতার অন্য কোনো অংশ ছাড়াই তার একটি বাক্য তুলে ধরা হয়েছিল। এগুলো মার্কিনিদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে প্রেসিডেন্ট বেসরকারি ব্যবসার মালিকদের প্রশংসা বা স্বীকৃতি দেন না। এছাড়া তিনি মনে করেন এসব ব্যবসার সাফল্যের জন্য একমাত্র ফেডারেল সরকার দায়ী। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বিজ্ঞাপনগুলো টেলিভিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের আকারে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমেও এগুলো ছড়িয়ে পড়ে। কথাটি ইন্টারনেট মিম তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এগুলো ফেসবুক, টুইটার, টাম্বলার এবং অন্যান্য ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইটগুলোতে শেয়ার করা হয়েছিল। রক্ষণশীলরা এটিকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করেছিল। তারা ছোট ব্যবসা সম্পর্কে ওবামার অনুভূতি নিয়ে সত্য পরিবর্তন করতে এটি ব্যবহার করেছিল। কতজন মার্কিন নাগরিক সত্যিই পুরো বক্তৃতাটি পড়েছেন বা দেখেছেন তা অজানা। তবে এটি স্পষ্ট যে অনেকেই তা করেননি। মাঞ্জু ট্রু এনাফ বইয়ে বলেছেন, অনেক মার্কিনি সত্য জানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।<ref>মাঞ্জু, ফরহাদ। ''ট্রু এনাফ: লার্নিং টু লিভ ইন অ্যা পোস্ট-ফ্যাক্ট সোসাইটি'' [True Enough: Learning to Live in a Post-fact Society]। হোবোকেন, এনজে: উইলি, ২০০৮।</ref> মানুষ যা বিশ্বাস করতে চায় তা-ই বিশ্বাস করে। ২০১২ সালের প্রচারণায় "আপনি এটি তৈরি করেননি" রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো এর একটি নিখুঁত উদাহরণ। অনেক রক্ষণশীল নাগরিক বিজ্ঞাপনগুলোকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তাদের আগের পক্ষপাতিত্ব নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে দেখেছিলেন। তারা তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে কোনো গবেষণা করেননি। বিজ্ঞাপনগুলো বারাক ওবামার বিষয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টায় জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সফলও হয়েছিল। ====“৪৭ শতাংশ”==== [[File:Mitt Romney by Gage Skidmore 6.jpg|thumb|গেইজ স্কিডমোরের তোলা মিট রমনি ৬]] ডেমোক্র্যাটরাও জনপরিসরকে প্রভাবিত করতে ২০১২ সালের প্রচারণার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেছিল। "৪৭ শতাংশ" ভিডিওর ক্ষেত্রে সিনেটর মিট রমনির কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে সত্যকে কারসাজি করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে নৈশভোজের সময় ওয়েট স্টাফের একজন সদস্য স্কট প্রাউটি গোপনে মিট রমনির একটি বক্তৃতা ভিডিও করেন। বক্তৃতায় রমনি অনেক মার্কিন নাগরিকের কথা বলেন যারা আগেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা "যাই হোক না কেন" তাকে ভোট দেবেন। রমনি বলেছিলেন যে এসব মানুষের মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ ৪৭ শতাংশ মার্কিনি হলেন এমন মানুষ যারা: :"সরকারের ওপর নির্ভরশীল, যারা নিজেদের ভুক্তভোগী মনে করে। তারা মনে করে যে তাদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা বিশ্বাস করে যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বাসস্থান এবং আরও অনেক কিছু পাওয়ার অধিকার তাদের আছে। তারা মনে করে এগুলো তাদের অধিকার। তাই সরকারের উচিত তাদের এগুলো দেওয়া। আর তারা যাই হোক না কেন এই প্রেসিডেন্টকেই ভোট দেবে। ... এরা এমন মানুষ যারা কোনো আয়কর দেয় না। আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়। তারা যে নিজেদের দায়িত্ব নেবে এবং নিজেদের জীবনের যত্ন নেবে, তা আমি কখনোই তাদের বোঝাতে পারব না।"<ref>ভিডিও। ইউটিউবওয়েব। <http://www.youtube.com/watch?v=M2gvY2wqI7M></ref> এখানে সিনেটর মিট রমনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে অনেক মার্কিনি আগে থেকেই প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের ভোট জয়ের চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ তারা আগেই মনস্থির করে ফেলেছেন। তবে স্কট প্রাউটি বুঝেছিলেন যে সিনেটর দাবি করছেন তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের পরোয়া করেন না। তাই প্রাউটি টেপটি প্রকাশ করে বলেন, "সবার এটি শোনা প্রয়োজন ছিল।"<ref>গুড, ক্রিস। "দ্য লেসন অব মিট রমনিন'স ৪৭-পারসেন্ট ভিডিও: বি নাইস টু দ্য ওয়েট স্টাফ?" [The Lesson of Mitt Romne'ys 47-Percent Video: Be Nice To The Wait Staff?]। ১৪ মার্চ ২০১৩। ওয়েব। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2013/03/the-lesson-of-mitt-romneys-47-percent-video-be-nice-to-the-wait-staff/></ref> প্রাউটির মতো ওবামার প্রচারণা কমিটি ও ডেমোক্র্যাটরাও এই সুযোগ কাজে লাগায়। তারা রমনিকে এমন একজন হিসেবে উপস্থাপন করে যিনি নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পরোয়া করেন না। তিনি শুধু ধনীদের নিয়ে চিন্তিত। মিট রমনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনিদের ভোট পাওয়া নিয়ে চিন্তিত নন, তা বলার বদলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো তার কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে তুলে ধরেছিল। "আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়" বাক্যটি বিকৃত করা হয়েছিল। এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন সিনেটর বলেছিলেন যে তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনির কোনো পরোয়া করেন না। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বক্তৃতার মতো রমনির কথাগুলোও টেলিভিশনের মাধ্যমে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এগুলো নিয়ে মিম তৈরি করা হয়েছিল যা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। টুইটারে "৪৭%" একটি হ্যাশট্যাগে পরিণত হয়। সেখানে অনেকেই নিজেদের সেই ৪৭ শতাংশ মানুষের অংশ বলে উল্লেখ করেন যাদের নিয়ে রমনির কোনো মাথাব্যথা নেই। আবারও একজন রাজনীতিবিদের কথা খণ্ডিতভাবে নেওয়া হয়েছিল। এগুলো মার্কিন জনগণের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যা তার বক্তব্যের সত্যতা লুকিয়ে রেখেছিল। আবারও এগুলো তার বিরুদ্ধে আগের পক্ষপাতিত্বকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এবং আবারও এগুলো মিট রমনির বিষয়ে নেতিবাচকভাবে জনমতকে প্রভাবিত করেছিল। ==মিট রমনি এবং মার্কিনিদের কাছে মূল্যায়িত প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলি== ===ভূমিকা=== মার্কিন প্রেসিডেন্সি এমন একটি চাকরি যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পদে পরিণত হয়েছে। তাই চাকরিতে কয়েক বছর কাটানোর পরই প্রেসিডেন্টের চুল অনেক পেকে যায়। এটি কোনো অবাক করার মতো বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট এমন সব সিদ্ধান্ত নেন যা যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের মানুষকে আজ থেকে শুরু করে বহুকাল পর্যন্ত প্রভাবিত করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা একটি বড় কাজ। একে আমরা হালকাভাবে নিতে পারি না। আমাদের অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মার্কিনিদের কি মূল্যায়নের কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে যেখানে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের মাপতে চান? মার্কিন ইতিহাসের প্রবণতা থেকে দেখা যায়, প্রায় সব প্রেসিডেন্টই আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচডব্লিউ বুশ এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ ছাড়া সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রায় সব প্রেসিডেন্টই প্রার্থিতার আগে অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। মার্কিনিরা কেন এসব মানুষের গুণাবলিকে কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করেন? কেন এসব গুণাবলি সফল ব্যবসায়ীদের গুণাবলির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়? মার্কিনি হিসেবে আমাদের জন্ম থেকেই একটি প্রবৃত্তি রয়েছে। পরবর্তী প্রধান সেনাপতি নির্বাচনের সময় প্রতি নির্বাচনী বছরে আমরা এটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে কাজের যোগ্যতা অর্জন করেন। কেউ কেউ এতে সফল হন। অন্যদিকে মিট রমনির মতো কেউ কেউ ব্যর্থ হন। ===কর্পোরেট আমেরিকা=== ====একজন ব্যবসায়ীর গুণাবলি==== মার্কিন কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে সফল ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের প্রতীক। এমনও বলা যায় যে ছোট ব্যবসার সফলতার গল্পগুলো আমেরিকান ড্রিমকে তুলে ধরে। এতে উদ্যোক্তারা বাজারে নিজেদের জায়গা খুঁজে পান। কিন্তু আমরা কি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ব্যবসায়িক জগতের সফল মানুষদের কাছে সামগ্রিকভাবে মার্কিন জনগণের বৃহত্তর চাহিদা মেটানোর গুণাবলি নেই? ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাদের সুফল পেতে লড়াই করেন। এমন কিছু করতে তাদের ব্যক্তিত্ব সাহায্য করে। উইকিঅ্যানসারসের একজন অবদানকারী একজন ব্যবসায়ীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের তালিকা দিয়েছেন। এগুলো হলো সফল হওয়ার ক্ষমতা ও সংকল্প, বুদ্ধিমত্তা, সতর্কতা, নেতৃত্ব, স্পষ্টবাদিতা এবং অন্যদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা।<ref>["হোয়াট আর দ্য কোয়ালিটিস অব অ্যা গুড বিজনেসম্যান?" [What are the Qualities of a Good Businessman?] উইকিঅ্যানসারস। <http://wiki.answers.com/Q/What_are_the_qualities_of_a_good_businessman>]</ref> তাহলে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সমস্যা কোথায়? এসব গুণ শুধু ব্যবসায় নয়, যেকোনো মহান নেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে মনে হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের পদে স্পষ্টবাদিতা সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় প্রেসিডেন্টকে কিছু বিষয় ঘুরিয়ে বলতে হয়। কোনো পরিস্থিতির বাস্তবতা প্রকাশ করলে দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ====মুনাফা-চালিত==== [[File:Hurricane_Katrina_President_Bush_with_New_Orleans_Mayor.jpg|thumb|নিউ অরলিন্সের মেয়রের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বুশ]] চিন্তার আরেকটি বিষয় হলো ব্যবসায়ীর সাফল্যের পেছনে মুনাফাভিত্তিক প্রেরণা। এটি হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিট রমনি ছোটবেলা থেকেই বাবার ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। তিনি একটি ধনী পরিবার থেকে এসেছিলেন। ভোটারদের কাছে এটি ম্যাসাচুসেটসের প্রাক্তন গভর্নরকে লোভী হিসেবে তুলে ধরে। এটি তাকে সমাজের বাস্তবতা এবং পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করা মানুষদের বিপদ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করায়। ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার পর এই ধারণাটি আরও জোরালো হয়। তখন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে ফেডারেল সরকার ও ন্যাশনাল গার্ডের নিউ অরলিন্সের মানুষকে বাঁচাতে কয়েক দিন সময় লেগেছিল। বুশ ছিলেন টেক্সাসের তেল শিল্পের একজন প্রাক্তন ব্যবসায়ী। নিউ অরলিন্সের বাসিন্দাদের খাবার, পানি ও নিরাপত্তা দিতে ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এই বিলম্বিত পদক্ষেপ হয়তো প্রেসিডেন্ট বুশের মতো মানুষদের এই পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ====জনগণের ওপর নজর==== হারিকেন ক্যাটরিনা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বুশের ভূমিকা হয়তো মিট রমনির প্রেসিডেন্সি দৌড়কে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। কারণ এটি জনগণের সঙ্গে প্রাক্তন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের দূরত্বের বিষয়টি উন্মোচন করেছিল। মিডিয়ার সাহায্যে মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের চিন্তিত মুখ দেখেছিল। কিন্তু তিনি মেরিন ওয়ানের আরামদায়ক আসনে বসে নিউ অরলিন্সের ধ্বংসযজ্ঞ দেখছিলেন। গভর্নর রমনির পক্ষে বলা যায়, তিনি লাখ লাখ মানুষের চূড়ান্ত উপকারে তার বিশাল আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন। তার বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পটভূমির কারণে তার প্রাইভেট ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফার্ম দুর্বল ব্যবসাগুলোকে প্রায় নিশ্চিত দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচাতে পেরেছিল। তার ফার্ম ২০০২ সালের শীতকালীন অলিম্পিককে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করেছিল।<ref>["মিট রমনিন'স কি কোয়ান্ডারি" [Mitt Romney's Key Quandary]। ইনভেস্টরস বিজনেস ডেইলি। ১৩ এপ্রি. ২০১১। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> গভর্নর রমনির সমর্থন না পেলে ২০০২ সালের অলিম্পিকের পরিণতি হয়তো খারাপ হতো। ====গণতন্ত্রের সংলাপ==== [[File:Al_Gore.jpg|thumb|ভিপি এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর]] রমনির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিনিরা সরকারের নেতা হিসেবে ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বুশের প্রথম মেয়াদে এনরন-যুগের কেলেঙ্কারিগুলো হয়তো এতে আরও ভূমিকা রেখেছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর এর সঙ্গে একমত। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর বলেছেন যে পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র সমাজে কেবল পাশাপাশি অবস্থান করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই দুটির মিশ্রণ বিভাজন তৈরি করে। এটি একটি সুস্থ "গণতন্ত্রের সংলাপ" হিসেবে জনপরিসরের জন্য হুমকিস্বরূপ।<ref>[গোর, অ্যালবার্ট। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। মুদ্রণ।]</ref> একটি পুঁজিবাদী সমাজের ব্যবসায়ী নেতাদের সরকারের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই জায়গা আছে। তারা সম্ভবত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হতে পারেন। তবে আমেরিকার প্রধান নির্বাহীর পদে তাদের জায়গা না-ও হতে পারে। ===কোথায় রমনির ভুল হয়েছিল - বলা কঠিন, তবে চিহ্নিত করা সহজ=== ====তার ভাবমূর্তি==== [[File:Romney-01.jpg|thumb|গভর্নর মিট রমনি]] রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই একমত হতে পারে যে মিট রমনি ভুল করেছিলেন। আল গোর তার দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে "সিলেকটিভ এক্সপোজারের" ধারণা উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ঘটনা বর্ণনা করেন যেখানে নাগরিকরা শুধু নিজেদের মতামত সমর্থনকারী প্রতিবেদনগুলোই দেখেন। মানুষ প্রাক্তন গভর্নরকে পছন্দ করুক বা না করুক, বেশিরভাগ মানুষ সিলেকটিভ এক্সপোজারের অভিজ্ঞতা লাভ করেননি। মানুষ মিডিয়ার প্রতিবেদন এবং রমনির নিজের কথা শুনেছিল। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তিনি এই পদের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। ভোটাররা তার সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত ছিলেন না। কারণ তাকে দেখে কোনোভাবেই আদরণীয় ব্যক্তিত্ব মনে হতো না। তার আভিজাত্যপূর্ণ চেহারার কারণে তাকে তার ভোটারদের সঙ্গে মেলামেশা করতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা কঠিন ছিল। নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে মার্কিনিরা নম্রতা ও অকৃত্রিম সহানুভূতিসম্পন্ন প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়ন করতে শিখেছেন। আমরা চাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো নিহত যুদ্ধবীরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আন্তরিক সমবেদনা জানান। অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মার্কিন জনগণের মতে প্রেসিডেন্ট ওবামার মধ্যে এই শক্তিশালী গুণটি রয়েছে। এ থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে জনগণ প্রেসিডেন্ট পদে অন্যান্য যোগ্যতাগুলোকে এই সহজাত গুণের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করে। দুর্ভাগ্যবশত, ব্যবসায়িক জগত গভর্নর রমনিকে প্রায় অমানবিক ও অনুভূতিহীন হিসেবে গড়ে তুলেছিল। ভোটাররা ২০০৮ বা ২০১২ সালের কোনো নির্বাচনেই এটি ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। ====তার ব্যক্তিত্ব==== মার্কিনিরা একজন স্থির, সৎ এবং ধারাবাহিক প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করতে চায়। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর থাকার সময় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার সময় রমনির আচরণে বড় পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। এটিই তার সমালোচনার মূল কারণ ছিল। ২০০৭ সালে এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে টিম রাসার্টের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে গভর্নর রমনি বিভিন্ন বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন কি না, সে বিষয়েও তিনি দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। গভর্নর থাকাকালীন তার দৃষ্টিভঙ্গির তুলনায় রাসার্ট দেখিয়েছিলেন যে রমনি অনেক বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এর মধ্যে গর্ভপাত, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ, ইরাক, সমকামী অধিকার এবং এমনকি রোনাল্ড রিগানও ছিলেন।<ref>["ম্যাসাচুসেটস মিট মিটস রাইট উইং রমনি অন মিট দ্য প্রেস" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> এই সাক্ষাৎকারে গভর্নর রমনিকে ভোটারদের কাছে বেশ অস্পষ্ট মনে হয়েছিল। হয়তো এ কারণেই তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়ন হারিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির কমিউনিকেশন ডিরেক্টর কারেন ফিনি রমনির এমন আচরণের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, "তিনি যতই বোঝানোর চেষ্টা করুন না কেন, ভোটাররা জানেন যে আজকের মিট রমনির সঙ্গে কয়েক বছর আগের রমনির কোনো মিল নেই। মার্কিন জনগণের প্রয়োজনীয় সৎ নেতৃত্ব দিতে এদের কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না।"<ref>["ম্যাসাচুসেটস মিট মিটস রাইট উইং রমনি অন মিট দ্য প্রেস" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> বিশেষ করে এমন বড় বিতর্কের বিষয়গুলোতে একজন প্রার্থী হঠাৎ নিজের মতামত পরিবর্তন করতে পারেন না। এমনটা করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আশাও করা যায় না। নির্বাচিত ব্যক্তি যদি চার বছরের মধ্যে নিজের মত পরিবর্তন করেন, তবে জনগণ জানতে পারে না তারা কাকে নির্বাচিত করছেন। ====তার ধর্ম?==== [[File:Three_Witnesses_of_the_Book_of_Mormon_Depiction_by_Edward_Hart,_October_1883.jpg|thumb|বুক অব মরমনের তিনজন সাক্ষী, ১৮৮৩]] আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগে থেকে থাকা পক্ষপাতিত্ব বা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের গতিপথ ও ফলাফল বদলে দিতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ একমত হবেন যে প্রেসিডেন্টের একটি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান থাকা জনগণের জন্য ভালো। তাই কোনো প্রার্থীর এমন কোনো গুণ থাকলে যা তাকে বেশিরভাগ ভোটারদের থেকে আলাদা করে, তখন তাকে মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। জনসমক্ষে তিনি গর্বের সঙ্গেই স্বীকার করেন যে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মরমনি। ভোটাররা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে তার ধর্ম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাফল্যকে প্রভাবিত করবে কি না। খ্রিস্টধর্মের মরমনি সম্প্রদায় সম্পর্কে অনিশ্চয়তাই এর পেছনের মূল কারণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে রমনির ধর্ম নিয়ে মানুষের অনিশ্চয়তার কথা শুনে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিচ ডেভিস একটি গবেষণা শুরু করেন। তিনি নিজেও একজন মরমনি। সম্প্রতি এলএ টাইমস/ব্লুমবার্গের একটি গবেষণার ফলাফলও বেশ চমকপ্রদ ছিল। ৩৭% মার্কিনি মরমনিদের ভোট দেবেন না।<ref>["মিট রমনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেসি ফেসেস ক্রিটিক্যাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ; মরমনি রিলিজিয়ন আননোন অ্যান্ড মিসআন্ডারস্টুড - নিউ ৫২৭ অর্গ - রানমিটরান.অর্গ ক্রিয়েটেড টু অ্যাড্রেস ইট" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> এই সংখ্যাটি কেন এত বেশি, তা খুঁজে বের করাই ডেভিসের গবেষণার লক্ষ্য ছিল। ডেভিস সাউথ ক্যারোলাইনার ৬০০ জন নিবন্ধিত ভোটারকে মরমনিদের ভিত্তি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। বেশিরভাগ মানুষই মরমনিবাদ এবং প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টধর্মের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার করতে পারেননি। জরিপে দেখা গেছে যে ৫০% মার্কিনি বিশ্বাস করেন মরমনিরা শুধু বুক অব মরমনি অনুসরণ করে এবং বাইবেল মানে না। অন্যরা বিশ্বাস করেন মরমনিরা এখনও বহুবিবাহ করে। তারা জানেন না যে ১৮৯০ সালে মরমনি চার্চ এটি নিষিদ্ধ করেছিল।<ref>["মিট রমনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেসি ফেসেস ক্রিটিক্যাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ; মরমনি রিলিজিয়ন আননোন অ্যান্ড মিসআন্ডারস্টুড - নিউ ৫২৭ অর্গ - রানমিটরান.অর্গ ক্রিয়েটেড টু অ্যাড্রেস ইট" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> ====সারসংক্ষেপ==== আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অজ্ঞতা থেকে আসা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের ফলাফল নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করি যে ধর্ম একজন প্রেসিডেন্টের সাফল্যের চালিকাশক্তি। কিন্তু সময় ও মানুষের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাই বেশি মার্কিনিদের কাছে টানতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা এই পথেই চলছেন। মিডিয়া আমাদের দেখায় যে তিনি খ্রিস্টানদের ছুটির দিনে চার্চে যান। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার নীতিগত সিদ্ধান্তে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে দূরে রাখেন। বেশিরভাগ ভোটার তার এই কার্যকর পদ্ধতিটিকে মূল্যায়ন করেন বলে মনে হয়। ===কীভাবে আমরা এসব গুণাবলিকে সার্বভৌম হিসেবে গ্রহণ করেছি=== ====মিডিয়ার অবদান==== একজন সফল প্রেসিডেন্টের আদর্শ গুণাবলি নিয়ে বেশিরভাগ মার্কিনি একমত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মিট রমনির মতো প্রার্থীদের ব্যবসার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শক্তিশালী পটভূমি রয়েছে যা বিরোধীদের নেই। তা সত্ত্বেও, কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য একজন প্রার্থীকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তোলে। নিউজ মিডিয়া এসব আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সহায়ক একটি মাধ্যম। যারা তথ্য খোঁজেন তাদের জন্য মিডিয়া হলো একটি প্রধান উৎস। মিডিয়া প্রায়ই তাদের পছন্দের গুণাবলিসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রশংসা করে। কার্যকরভাবে, এটি এমন প্রার্থীদের জন্য সমর্থন ও জনপ্রিয়তার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে যারা মিডিয়া উৎসগুলোর কাছে আদর্শ গুণাবলি পূরণ করেন। ====পারিবারিক মূল্যবোধ==== বয়স্ক মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের যেসব গুণাবলিকে আদর্শ মনে করেন, তরুণ মার্কিনিদের মধ্যে তা গেঁথে দেওয়ার আরেকটি বড় প্রভাবক হলো পারিবারিক মূল্যবোধ। ছোটবেলা থেকেই মার্কিনিরা বাবা-মায়ের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে। আমরা সারা জীবন এগুলো ধরে রাখি। বয়স্ক প্রজন্ম সাধারণত একজন প্রার্থীর শক্তিশালী ধর্মীয় পরিচয়কে মূল্যায়ন করে। তবে বয়স্ক প্রজন্ম বিদায় নেওয়ায় এবং আধুনিক সমাজে ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্ব হারানোয় যুক্তরাষ্ট্র এখন উল্টো পথে হাঁটছে। ====জনপরিসরের ভূমিকা==== সবশেষে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো জনপরিসর। জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাসের ধারণায় এটি প্রেসিডেন্সিয়াল আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে মিডিয়া আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। মার্কিনিরা সেই আলোচনা বাড়িতে নিয়ে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবেশে করেন। প্রত্যেক মার্কিনির বৈচিত্র্যময় পটভূমি "গণতন্ত্রের সংলাপের" প্রতি একটি বাধ্যতামূলক ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেয়। জনপরিসর এমন একটি ফোরাম যেখানে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ঘটে। এর মাধ্যমেই আমরা আদর্শ প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলির জনমত তৈরি করি। ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমাদের আদর্শ প্রেসিডেন্টের চেহারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। জনপরিসরের মাধ্যমেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধারণাগুলো প্রবাহিত হয়েছে এবং আদর্শ প্রেসিডেন্টের বিবর্তন ঘটেছে। আমাদের প্রজাতন্ত্রের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নাগরিকদের জীবনের সব ক্ষেত্রে খোলাখুলিভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মার্কিনিরা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় উৎসাহিত হয়েছেন। এই জনপরিসরের মাধ্যমেই আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আদর্শগুলো গ্রহণ করেছি। ===উপসংহার=== "সুসংযুক্ত নাগরিকদের" একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কার্যকারিতা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্সি আমাদের শাসকগোষ্ঠীর কার্যকরী এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে অস্তিত্ব হারাত (গোর ২০০৭)। মুক্ত বিশ্ব শাসনকারী রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও আগ্রহের মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে। মার্কিন জনগণকে প্রভাবিত করে এমন রাজনৈতিক বিষয়ে তথ্যবহুল ও উন্মুক্ত আলোচনা ছাড়া আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তা একত্র করতে পারি না। আমরা এমন প্রার্থীও নির্বাচন করতে পারি না যিনি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনে দেশকে সেরা দিকে নিয়ে যাবেন। এই পদের জন্য সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করে আমরা আত্মবিশ্বাসী হতে পারি। বর্তমান প্রশাসনের নীতি আমরা অনুমোদন করি বা না করি, আমাদের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তিনি যা সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বলে বিশ্বাস করেন তার জন্যই কাজ করেন। ==জাতীয় ট্র্যাজেডির প্রতিক্রিয়া== === ভূমিকা === গুপ্তহত্যা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সন্ত্রাসী হামলা—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন বেশ কিছু জাতীয় ট্র্যাজেডি রয়েছে। প্রতিবারই দেশ কেঁপে ওঠে এবং জনপরিসরে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলোর একটি হলো ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা। অনেক জাতীয় সংকটের মতোই এটি দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করেছিল। তবে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলের বন্দুক হামলার আরও সাম্প্রতিক একটি ঘটনা জাতিকে বিভক্ত করে এবং মার্কিন রাজনীতিতে নাড়া দেয়। স্যান্ডি হুকের ঘটনার পর ছোট ছোট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভূমিকার কারণে এই হামলা মার্কিন জনপরিসর ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায় বিপরীত প্রভাব ফেলেছিল। এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সম্পূর্ণ উল্টো ছিল। মূলত স্যান্ডি হুক হামলার প্রতিক্রিয়া এই দেশের গণতন্ত্রের আদর্শকেই ক্ষুণ্ন করেছে। ===১১ সেপ্টেম্বর এবং জনপরিসর=== ====মার্কিন জনগণের একতা==== ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক ঘটনার ছয় মাস পর পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, "১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য যেকোনো ঘটনার চেয়ে জনমতকে বেশি প্রভাবিত করেছে। স্পষ্টতই এই হামলা অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেম নিয়ে এসেছিল।"<ref> name=pew>"পাবলিক ওপিনিয়ন সিক্স মান্থস লেটার" [Public Opinion Six Months Later]। পিউ রিসার্চ সেন্টার ফর পিপল অ্যান্ড দ্য প্রেস। পিউ রিসার্চ সেন্টার, ০৭ মার্চ ২০০২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> যারা ওই হামলার কথা মনে করতে পারেন, তারা প্রায় প্রতিটি বাড়ি, গাড়ি এবং বাণিজ্যিক ভবনে মার্কিন পতাকা দেখার কথাও মনে করতে পারেন। এটি পরিবর্তিত মার্কিন মানসিকতার প্রতীক ছিল। দশ বছর পর ওই ট্র্যাজেডির বার্ষিকী উপলক্ষে ''ইউএসএ টুডে''তে প্রকাশিত একটি অপ-এড নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ওবামা এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, "মার্কিনিরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, উপাসনালয় এবং ইউ.এস. ক্যাপিটলের সিঁড়িতে একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবকরা রক্ত দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সাহায্য করতে সারা দেশ ঘুরেছিলেন। স্কুলের বাচ্চারা নিজেদের জমানো টাকা দান করেছিল। সম্প্রদায়, বিশ্বাসী গোষ্ঠী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার ও পোশাক সংগ্রহ করেছিল। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।"<ref>ওবামা, বারাক। "লেটস রিক্লেইম দ্য পোস্ট-৯/১১ ইউনিটি" [Let's Reclaim the Post-9/11 Unity]। ইউএসএ টুডে। ০৮ সেপ্টে. ২০১১: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ১১ সেপ্টেম্বরের পরের মাসগুলোতে হওয়া জনমত জরিপে মার্কিন মানসিকতার পরিবর্তনও বেশ স্পষ্ট ছিল। মার্কিনিদের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের বাড়তি অনুভূতি ফেডারেল সরকার এবং সামগ্রিকভাবে জাতির ভবিষ্যতের ওপর উচ্চতর আস্থায় পরিণত হয়েছিল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে একটি গ্যালাপ জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এতে বলা হয় প্রেসিডেন্ট বুশ ৮৬% এর সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছেন।<ref> name=gallup>"লেটেস্ট সামারি: আমেরিকান পাবলিক ওপিনিয়ন অ্যান্ড দ্য ওয়ার অন টেররিজম" [Latest Summary: American Public Opinion and the War on Terrorism]। গ্যালাপ। গ্যালাপ, ইনক., ২১ ডিসে. ২০০১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> আর পরের মার্চে পিউ রিসার্চের একটি গবেষণায় সামগ্রিকভাবে ফেডারেল সরকারের জন্য ৮২% সমর্থন পাওয়া যায়।<ref> name=pew /> শুধু তাই নয়, একই পিউ গবেষণায় দেখা গেছে যে ১১ সেপ্টেম্বরের পর মার্কিনিরা ১৯৫৯ সালের পর সর্বোচ্চ আশাবাদ দেখিয়েছিল।<ref> name=pew /> মার্কিনিদের আস্থা ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত মানসিকতা রাজনীতিবিদদের সহজেই বিভিন্ন আইন পাস করার সুযোগ দিয়েছিল। ট্র্যাজেডির পরের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই এমনটা করা হয়েছিল। ====আইন প্রণয়ন==== ১১ সেপ্টেম্বরের পর সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত প্রায় ৪৮টি বিলে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ছিল এমনই একটি বিল। এটি "সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে জরুরি ব্যয়ের" জন্য ৪,০০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছিল। বিলটি মাত্র চার দিনের মধ্যে পাস হয়েছিল।<ref> name=appropriations>"২০০১ ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ফর রিকভারি ফ্রম অ্যান্ড রেসপন্স টু টেররিস্ট অ্যাটাকস অন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" [2001 Emergency Supplemental Appropriations Act for Recovery from and Response to Terrorist Attacks on the United States]। এইচ.আর. ২৮৮৮ (১০৭তম)। গভট্র্যাক.ইউএস। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> অন্যান্য আইনের মধ্যে সুপরিচিত প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টও ছিল, যা প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং গ্রাউন্ড জিরোতে কাজ করা সৈন্য ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়ার আইনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।<ref> name=blog>ভিলেমেজ, জেসন, এবং ডালিয়া মোর্তাদা। "৯/১১ টু নাউ: ওয়েজ উই হ্যাভ চেঞ্জড" [9/11 To Now: Ways We Have Changed]। দ্য রানডাউন: অ্যা ব্লগ অব নিউজ অ্যান্ড ইনসাইট। পিবিএস, ১৪ সেপ্টে. ২০১১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ট্র্যাজেডির পর প্রায় পুরো জাতিরই একই মানসিকতা ছিল। তাই সরকার খুব কম বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। মার্কিনিদের রক্ষার চেষ্টায় সরকার এসব আইনসহ আরও অনেক আইন পাস করতে পেরেছিল। ===স্যান্ডি হুক শ্যুটিং এবং জনপরিসর=== অতি সম্প্রতি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে জাতি আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছিল। এবার কানেটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে বিশটি শিশু এবং ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভুক্তভোগীরা খুব ছোট এবং সংখ্যায় অনেক হওয়ায় এই ঘটনা মার্কিন নাগরিক ও আইনপ্রণেতাদের আবেগে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। তবে এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মতো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। বরং এটি দেশকে দুভাগে বিভক্ত করেছিল। একদিকে ছিলেন কঠোর বন্দুক আইনের সমর্থকরা, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবার। অন্যদিকে ছিল ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন এবং তাদের সঙ্গে একমত পোষণকারীরা। তারা স্পষ্টভাবে বলেছিল যে তারা "বন্দুক নিয়ন্ত্রণের আলোচনার দিকে এক ইঞ্চিও নড়বে না"।<ref> name=NRA>কাস্টিলো, মারিয়ানো। "এনআরএ ক্লিয়ার অন গান ডিবেট স্ট্যান্স: আর্ম স্কুলস" [NRA clear on gun debate stance: arm schools]। সিএনএন ইউ.এস.। সিএনএন, ২১ ডিসে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> এই দুই গোষ্ঠীর লড়াই শুধু দেশকেই বিভক্ত করেনি। এটি জনপরিসরের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করার ক্ষেত্রে টাকার ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। ====নাগরিক আন্দোলন==== স্যান্ডি হুকের পরিবারগুলো জনপরিসরে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারা বেশিরভাগ মার্কিনিদের দাবি তুলে ধরে বন্দুক কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি তৃণমূল প্রচারণা তৈরি করেছিল। জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারগুলো তাদের নিজের রাজ্য কানেটিকাটে দেশের সবচেয়ে কঠোর বন্দুক আইন প্রণয়নে সফল হয়েছিল। এই আইন অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত করেছিল। এটি ম্যাগাজিনের ক্ষমতা সীমিত করেছিল এবং বেসরকারি বন্দুক বিক্রির জন্য পটভূমি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করেছিল।<ref> name=huff>উইল্কি, ক্রিস্টিনা। "কানেটিকাট পাসেস নেশনস স্ট্রিক্টেস্ট গান ল ইন ওয়েক অব স্যান্ডি হুক ম্যাসাকার" [Connecticut Passes Nation's Strictest Gun Law In Wake Of Sandy Hook Massacre]। হাফ পোস্ট পলিটিক্স। হাফিংটন পোস্ট, ০৪ এপ্রি. ২০১৩। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> তবে রাজ্যের বিজয়ই স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর একমাত্র চাওয়া ছিল না। [[File:Barack Obama with relatives of Emilie Parker.jpg|thumb|স্যান্ডি হুক শ্যুটিংয়ে নিহত শিশু এমিলি পার্কারের আত্মীয়দের সঙ্গে বারাক ওবামা]] এপ্রিলের শুরুতে অভিভাবকরা এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটনে পদযাত্রা করেন। তারা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জাতীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের আশায় তাদের গল্প শেয়ার করেন। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের অর্থনৈতিক ক্ষমতা মোকাবিলা করতে তারা তাদের আবেগের ব্যবহার করেছিলেন। তারা আইনপ্রণেতাদের এবং প্রেসিডেন্টের আবেগ ছুঁতে পেরেছিলেন। আবেগের বশবর্তী হয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুনাম ভেঙে ওবামা স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর দাবির প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করেন। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জো মানচিন একটি দ্বিদলীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছিলেন। তিনিও অভিভাবকদের প্রচারণার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "তারা আমাকে বলেছিল, 'আমরা জানি এই আইনের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের বাঁচানো যেত না।' ...তাদের চাওয়া হলো, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তা থেকে হয়তো আপনি একটি পরিবারকে বাঁচাতে পারবেন। আমার জীবনে শোনা এটিই সবচেয়ে নিঃস্বার্থ উপস্থাপন। এটি আমাকে নতজানু করে দিয়েছে।"<ref> name=latimes>পার্সনস, ক্রিস্টি, ক্যাথলিন হেনেসি, এবং মাইকেল এ. মেমোলি। "স্যান্ডি হুক অ্যান্ড গ্রিফ: গান কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস প্লিড দেয়ার কেস" [Sandy Hook and Grief: Gun Control Advocates Plead Their Case]। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ১৩ এপ্রি. ২০১৩, পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> প্রচারণার সপ্তাহটি শেষ করতে ওবামা ফ্র্যান্সিন হুইলারকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি এই হামলায় নিহত ছয় বছর বয়সী এক ছেলের মা। ওবামা তার হয়ে শনিবারের সাপ্তাহিক ভাষণ দিতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি শেষ আবেগপূর্ণ আবেদন উপস্থাপন করেন<ref> name=latimes />। ====এনআরএ লবিং==== [[File:Wayne LaPierre by Gage Skidmore.jpg|thumb|এন.আর.এ.-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি বাড়ানোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।]] তবে স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবারের চেষ্টা ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষমতার কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। সামরিক ধাঁচের অ্যাসল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করা, ম্যাগাজিনের আকার সীমিত করা এবং পটভূমি যাচাই সম্প্রসারণ করাসহ সব বন্দুক নিয়ন্ত্রণ বিল সিনেটে বাতিল হয়ে যায়। স্যান্ডি হুক ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো বাবা-মায়ের আবেদন সিনেট শুধু যে উপেক্ষাই করেছে তা নয়। তারা "মার্কিন জনগণের ইচ্ছাকেও উপেক্ষা করেছে" বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন প্রতিনিধি গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ডস। তিনি নিজেও বন্দুক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।<ref> name=backfire>ক্যাসিডি, জন। "কুড দ্য এন.আর.এ.'স বিগ ভিক্টরি ব্যাকফায়ার?" [Could The N.R.A.’s Big Victory Backfire?]। নিউ ইয়র্কার। ১৮ এপ্রি. ২০১৩: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> মূলত ৯০% এর বেশি মার্কিনি বর্ধিত পটভূমি যাচাই সমর্থন করেছিল। এছাড়া ৫৬% মার্কিনি অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেছিল<ref> name=backfire />। জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত জাতীয় আইনপ্রণেতারা ঠিক তার উল্টোটাই করেছিলেন। পরিস্থিতি বোঝার জন্য একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। এনআরএ ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রার্থীদের ৭,১৬,৫৯৬ ডলার দান করেছিল। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা পেয়েছিল ৬,৩৪,১৪৬ ডলার<ref> name=NRA />। এই ক্ষেত্রে জনপরিসর একটি সমস্যা মোকাবিলা করতে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু একটি ছোট গোষ্ঠীর সম্পদ ও ক্ষমতা শুধু জাতিকেই বিভক্ত করেনি; এটি গণতন্ত্রের মূল কাঠামোকেও দুর্বল করে দিয়েছে। ===গণতন্ত্রে টাকার প্রভাব=== আল গোর তার ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' বইয়ে সম্পদের রাজনীতির ওপর আলো ফেলে এই সমস্যার মূল বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গোরের মতে, "শাসিতদের সম্মতি থেকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা পাওয়া নির্ভর করে সেই যুক্তির প্রক্রিয়ার ওপর যার মাধ্যমে সম্মতি দেওয়া হয়। যুক্তির প্রক্রিয়া যদি টাকা ও প্রতারণার দ্বারা কলুষিত হয়, তবে শাসিতদের সম্মতি মিথ্যা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে প্রাপ্ত যেকোনো ক্ষমতা জন্মগতভাবেই নকল এবং অন্যায়।"<ref> name=gore>গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন বুকস, ২০০৭। ৭৩-৭৬। মুদ্রণ।</ref> ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর দেশের একটি অভিন্ন কর্মসূচি ছিল। খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। কারণ খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে বিশ্বাস রাখত। সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খুব সহজেই অনেক আইন পাস করেছিল। অন্যদিকে স্যান্ডি হুক হামলার পর জনগণের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। শোকাহত পরিবার ও সম্প্রদায়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনির ইচ্ছাই উপেক্ষিত হয়েছিল। তবে যারা লাখ লাখ ডলার দিতে পেরেছিল, তাদের ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছিল। এটি ঠিক সেই ঘটনাই তুলে ধরে যা নিয়ে গোর সতর্ক করেছিলেন। এটি গণতন্ত্রের উদ্দেশ্যমূলক কাজের ঠিক বিপরীত দিকটি তুলে ধরে। গোরের ভাষায়, "তাদের মতামত অন্যদের মতামতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতির অগ্রাধিকারগুলো পালটে যায়।"<ref> name=gore /> ==২০১২ সালের নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ক্ষতিকর প্রভাব== প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা এর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা খুব সহজেই বুঝতে পারছি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বেশিরভাগ কাজেই এখন প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেশি। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দারুণ একটি ব্যাপার। সম্প্রতি নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের কারণে ভোটাররা শুধু প্রার্থীদের নীতির ওপর ভিত্তি করে কাউকে বেছে নিতে পারছেন না। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হলো বিদ্বেষপূর্ণ বা কলঙ্কজনক কাজের মাধ্যমে প্রতিযোগী, প্রতিপক্ষ ইত্যাদিকে হেয় করার চেষ্টা [http://dictionary.reference.com/browse/mudslinging]। আর এই কাজটি নির্বাচন জেতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারাক ওবামা এবং মিট রমনির মধ্যকার গত নির্বাচনটি সর্বকালের অন্যতম তীব্র নির্বাচন ছিল। http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সম্প্রচার এবং কেবল টেলিভিশনে রমনির নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের মোট হার ছিল ৭৯.২%। আর ওবামার হার ছিল ৮৫.৫%। এই হার ২০০৮ এবং ২০০৪ উভয় নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি। ২০০৮ সালে ওবামার নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের হার ছিল ৬২.৯% এবং জন ম্যাককেইনের ছিল ৭৫.৯%। ২০০৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জন কেরির ৪৪.৩% এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের ৭২.৪% নেতিবাচক বিজ্ঞাপন ছিল। এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে যে প্রতি নির্বাচনেই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পরিমাণ বাড়ছে এবং এটি কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের নেতিবাচকতা বাড়ছে। এটি নিঃসন্দেহে জনপরিসরকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ===কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির শুরু=== লিন্ডন জনসন এবং ব্যারি গোল্ডওয়াটারের মধ্যে ১৯৬৪ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির প্রথম বড় ঘটনাটি ঘটেছিল। এটি চিরকালের মতো প্রচারণার কৌশল বদলে দিয়েছিল। জনসনের প্রচারণায় তৈরি বিজ্ঞাপনটি "ডেইজি গার্ল" নামে পরিচিত। এটি শুরু হয় একটি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা এক মিষ্টি ছোট্ট মেয়েকে দিয়ে। সে একটি ডেইজি ফুল থেকে পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে গণনা করার চেষ্টা করছিল। সে যখন এটি করছিল, তখন একটি ভীতিকর ও অশুভ কণ্ঠস্বর দশ থেকে উল্টো গণনা শুরু করে। যখন কণ্ঠস্বরটি "শূন্য" বলে, তখন তারা একটি বিশাল পারমাণবিক বিস্ফোরণ দেখায়। এরপর এই কথাগুলো দিয়ে বিজ্ঞাপনটি শেষ হয়, "এই হলো ঝুঁকি। ঈশ্বর এমন এক পৃথিবী তৈরি করুন যেখানে তার সব সন্তান বাঁচতে পারে, অথবা অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে। আমাদের একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, অথবা আমাদের মরতে হবে।" বিস্ফোরণের পর স্ক্রিনে "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন" লেখাটি ভেসে ওঠে। এটি স্ক্রিনে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে, "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন। ঘরে বসে থাকার ঝুঁকি অনেক বেশি।" http://michiganjournal.org/2012/10/30/presidential-mudslinging-in-the-past/ এই বিজ্ঞাপনটি দর্শকদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকে পারমাণবিক যুদ্ধ আরও বড় হুমকি হয়ে উঠছিল। কয়েক বছর আগেই কিউবান মিসাইল সংকট হয়েছিল। আর গোল্ডওয়াটার তার প্রচারণায় ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ধারণার কথা বলেছিলেন। মার্কিনিদের মনে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকির কারণে এই বিজ্ঞাপনটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি কার্যকর কৌশল ছিল। অধ্যাপক রবার্ট মান এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। বইটির শিরোনাম ডেইজি পেটালস অ্যান্ড মাশরুম ক্লাউডস: এলবিজে, ব্যারি গোল্ডওয়াটার অ্যান্ড দ্য অ্যাড দ্যাট চেঞ্জড আমেরিকান পলিটিক্স। তিনি বলেন, "তার সমর্থন কখনোই সত্যিই কমেনি। তবে জরিপে যা বেড়েছিল তা হলো মার্কিনিদের ভয়। তারা ভেবেছিল গোল্ডওয়াটার নির্বাচিত হলে তিনি আমাদের পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবেন।" http://thecaucus.blogs.nytimes.com/2011/10/24/revisiting-the-daisy-ad-revolution/ আজ যদি এ ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন সম্প্রচারিত হতো, তবে এর প্রভাব এত ক্ষতিকর হতো না। মার্কিনিরা নেতিবাচক বিজ্ঞাপন দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আজকের দর্শকরা এটিকে হাস্যকর ও অবাস্তব বলে মনে করবেন। তারপরও এই বিজ্ঞাপনটি গোল্ডওয়াটরের প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর ছিল এবং এই নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়েছিল। ===প্রথম বিতর্ক=== [[File:P112912PS-0444 - President Barack Obama and Mitt Romney in the Oval Office - crop.jpg |thumbnail|right|বারাক ওবামা এবং মিট রমনি]] এবার ২০১২ সালের নির্বাচনে আসা যাক। প্রতিযোগিতায় দুর্বলতার কোনো লক্ষণ দেখালে তা প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মিট রমনি এবং বারাক ওবামার মধ্যকার প্রথম বিতর্কে এটি স্পষ্ট হয়েছিল। সঞ্চালক যেসব প্রশ্ন করেছিলেন তা অর্থনীতি ঠিক করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। রমনির জন্য জরিপে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ ছিল। কারণ তার প্রচারণা মধ্যবিত্তের উন্নতি এবং দেশের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের চারপাশেই ঘুরছিল। বিতর্কটি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি দুই প্রার্থীর মধ্যে এক তীব্র লড়াইয়ে পরিণত হয়। তারা প্রায়ই তাদের বিবৃতি এবং খণ্ডনের জন্য বরাদ্দ সময় পার করে যাচ্ছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের লেখক জেফ জেলেনি এবং জিম রুটেনবার্গের মতে, "বিতর্কের বেশিরভাগ সময় প্রার্থীরা মঞ্চ দখল করে নিয়েছিলেন। তারা পিবিএসের সঞ্চালক জিম লেহরের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ তারা একে অপরকে খণ্ডন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল সঞ্চালক যেন মঞ্চ ছেড়েই চলে গেছেন। এটি এমন কিছু নতুন নিয়মের ফল ছিল যা একটি গভীর ও মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল।"<ref>http://www.nytimes.com/2012/10/04/us/politics/obama-and-romney-hold-first-debate.html?pagewanted=all&_r=0</ref> ====বিতর্কের গুরুত্ব==== পরিস্থিতি অনেক সময় খুব উত্তপ্ত ছিল। প্রতিটি প্রার্থী তাদের সেরা ক্ষমতা দিয়ে বিতর্ক করেছিলেন। এ ধরনের তীব্র বিতর্ক নির্বাচনের জন্য দারুণ। কারণ এটি ক্ষমতাসীন এবং চ্যালেঞ্জারের মধ্যে এক দুর্দান্ত লড়াই। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মতো নেতিবাচক প্রচারণার কৌশলগুলো বিতর্কের ময়দানে কোনো কাজে আসে না। এখানেই তারা তাদের নীতির ওপর আস্থা দেখাতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়ে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তাও দেখাতে পারেন। এমন একটি রোমাঞ্চকর বিতর্কের পরও প্রতিটি প্রচারণা দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেছিল। ==নেতিবাচকতা বৃদ্ধির কারণ== ২০১২ সালের নির্বাচনে নেতিবাচকতা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ ছিল প্রতিটি প্রার্থীর প্রচারণার ভিত্তি। ক্ষমতাসীন ওবামা নতুন কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রচার করতে পারেননি। কারণ ক্ষমতায় তার আগের চার বছরে অর্থনীতি ভালো অবস্থানে ছিল না। "পলিটিকো"তে ডোনোভান স্ল্যাকের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "ওবামা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর ভিত্তি করে লড়তে পারেননি। তার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর কয়েকটি, যেমন তার স্বাস্থ্যসেবা আইন, জরিপে অজনপ্রিয় ছিল।" স্ল্যাক আরও বলেন, "রমনি ক্ষমতাসীনকে বরখাস্ত করতে মার্কিনিদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে নিজের বিষয়ে খুব একটা বিস্তারিত কিছু জানাননি।" [http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html%20 http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ] ===ক্ষতিকর প্রভাব=== এই কারণে দুই প্রার্থীই নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের দিকে ঝোঁকার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। তারা ঐতিহাসিকভাবেই এমনটা করেছিলেন। এসব কাজ শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার অখণ্ডতাই নষ্ট করে না। সামগ্রিকভাবে মার্কিন নাগরিকরাও পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেছেন। সিএনএনের লেখক বব গ্রিনের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "২০০৮ সালে সম্ভাব্য ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল উভয় প্রার্থীই ভালো প্রেসিডেন্ট হবেন কি না। তখন ২৫% হ্যাঁ বলেছিলেন। এই বছর (২০১২) একই প্রশ্ন করা হলে মাত্র ১২% হ্যাঁ বলেছেন।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging গ্রিন বর্তমান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনকে যুদ্ধের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। তিনি বলেন যে যুদ্ধে উভয় পক্ষই যদি জানে তারা একে অপরকে ধ্বংস করতে পারে, তবে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু রাজনীতিতে উভয় পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। তারা সব সময় ওপরের দিকে থাকার জন্য চাপ দেয়। গ্রিন বলেন, "নির্বাচনে জিততে যেকোনো উপায় ব্যবহারের ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত একজন প্রেসিডেন্ট তৈরি করবেই। কিন্তু এরপর সেই প্রেসিডেন্টকে এমন এক জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে যারা পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছে।" যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই একটি বিষয় জানা যায়। একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে মার্কিন জনগণ এবং এর নেতার মধ্যে আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন তার নিবন্ধে আমাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিতা জন অ্যাডামসকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, "সব স্তরের কর্তৃপক্ষের জন্য শালীনতা, সম্মান ও শ্রদ্ধা থাকতে হবে, নইলে আমরা শেষ হয়ে যাব। জনপ্রিয় সরকারে এটাই আমাদের একমাত্র পথ।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging এই উদ্ধৃতিটি সরাসরি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ==জনপরিসরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব== জনপরিসর হলো কথোপকথনের একটি স্থান এবং এটি মার্কিন সংস্কৃতিকে পুরোপুরি ধারণ করে। "জনপরিসর" শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাস। তিনি এটিকে এমন একটি কথোপকথনের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে জনমত তৈরি হয়। আজকের বিশ্বে জনপরিসর প্রযুক্তি দ্বারা নানাভাবে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনগুলো কার প্রচারণার বিজ্ঞাপন ভালো এবং কে বেশি টাকা খরচ করে, তা ঘিরেই আবর্তিত হয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে অর্ধেকেরও বেশি প্রচারণার বিজ্ঞাপন কোনো না কোনোভাবে অবমাননাকর। ফলে মার্কিন নাগরিকরা কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করবেন তা নিয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। ভোটারদের কারসাজি করা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের সমর্থিত কোনো কৌশল নয়। এই প্রবণতা চলতে থাকলে আমাদের দেশ আর ঐক্যবদ্ধ থাকবে না। এটি "আমরা বনাম তারা" মানসিকতায় পরিণত হবে এবং আমরা বিভক্ত হয়ে পড়ব। নেতিবাচকতার এই প্রবণতার জন্য কি শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীরাই দায়ী? একদমই না। নিউজ স্টেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই পতনে বিশাল ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, "বোল্ড রিপাবলিক" নামে একটি কট্টর রিপাবলিকান গোষ্ঠী একটি ভাইরাল ইউটিউব ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে শহরের অশিক্ষিত নাগরিকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তারা সাধারণ প্রশ্ন করেছিল যেমন, "আপনারা কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন?" একজন ব্যক্তি এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "দেখা যাক, তারা যা দিতে চায় তাই। আমি তো জানিও না, তাদের কাছে তো আর কোনো চেকলিস্ট নেই।" এই ভিডিওটি প্রার্থীর অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অপপ্রচারের একটি চরম উদাহরণ। এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত করছে। এসব সমস্যা চলতে থাকায় এটি আমার কাছে স্পষ্ট যে একজন ভালো প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জনপরিসরে একটি বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। ==তথ্যসূত্র== {{reflist}} {{BookCat}} 2aib8p9lsqhuscjgzc0905fvk8ox073 106610 106609 2026-06-09T18:37:53Z NusJaS 8394 106610 wikitext text/x-wiki ==ভূমিকা== রাজনীতি এবং জনপরিসর সমার্থক নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র রয়েছে। সেখানে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কে সাধারণ নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত করেন। তাই জনপরিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাজনীতি। আল গোর তার ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' বইয়ে একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের দেশ যেসব সিদ্ধান্ত নেয় তার জন্য আমরা সবাই দায়ী।"<ref>গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ২। </ref> ==২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণা: রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং জনপরিসর== ====ভূমিকা==== রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রায় সবসময়ই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছে। এটি প্রথমে সংবাদপত্রের কার্টুন দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরে ১৯৫০-এর দশকে এটি টিভি বিজ্ঞাপনে রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত নতুন মাধ্যমের সাহায্যে জনপরিসরে প্রবেশ করেছে। ইন্টারনেটের এই যুগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আগের চেয়ে বেশি মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছাতে পারে। তবে এদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। কয়েক দশক আগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন মূলত নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রচার করত। এখন এগুলো নিয়মিত প্রতিপক্ষকে অপবাদ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আল গোর তার দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে একটি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমাদের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র "সুশিক্ষিত নাগরিকদের" ওপর নির্ভর করে। এসব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এখন এমন নাগরিকদের ক্ষতি করছে। এগুলোর যুক্তির অভাব টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছায়। এটি "ধারণার বাজার"কে এমন এক জায়গায় পরিণত করে যেখানে "সত্য" আর টিকে থাকে না।<ref> গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ৫-১১।</ref> ২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। উভয় দলই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কথা তার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন কাজে লাগিয়েছিল। তারা সত্য পরিবর্তন করতে এবং জনপরিসর ও নির্বাচন উভয়কেই প্রভাবিত করতে এটি করেছিল। ===="আপনি এটি তৈরি করেননি।"==== [[File:President Barack Obama.jpg|thumb|প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা]] ভার্জিনিয়ার রোয়ানোকে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন। প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সরকারি অবকাঠামো উভয়ের ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি বলেন: :"আপনি সফল হলে কেউ না কেউ আপনাকে সাহায্য করেছিল। আপনার জীবনে কোনো এক দারুণ শিক্ষক ছিলেন। কেউ একজন আমাদের এই অবিশ্বাস্য আমেরিকান ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। এটি আপনাকে উন্নতি করতে সুযোগ দিয়েছে। কেউ রাস্তা ও সেতুতে বিনিয়োগ করেছিল। আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি। অন্য কেউ এটি সম্ভব করেছে।"<ref>সিএনএন, ওয়্যার স্টাফ। "'ইউ ডিডনট বিল্ড দ্যাট': অ্যা থিম আউট অব কনটেক্সট" ['You Didn't Build That': A Theme Out of Context]। ০১ সেপ্টে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://www.cnn.com/2012/08/31/politics/fact-check-built-this></ref> প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। তবে তার "আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি" বাক্যটি ওবামার বিরোধীরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করেছিল। তারা প্রেসিডেন্টকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বড় সরকারে বিশ্বাসী উদারপন্থী হিসেবে তুলে ধরতে এটি ব্যবহার করেছিল। জিওপির সদস্যরা এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা ব্যবসার মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, "হ্যাঁ, আপনিই এটি তৈরি করেছেন।"<ref>ট্যাপার, জেক। "ডিড ওবামা সে, 'ইফ ইউ হ্যাভ অ্যা বিজনেস, ইউ ডিডনট বিল্ড দ্যাট'?" [Did Obama Say, 'If You Have a Business, You Didn't Build That'?]। ১৬ জুলাই ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/07/did-obama-say-if-youve-got-a-business-you-didnt-build-that/></ref> এছাড়া বক্তব্যটি বেশ কয়েকটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ইন্ধন জোগাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। "আপনি এটি তৈরি করেননি" কথাটি অসংখ্য বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল। ব্লগস্ফিয়ারে মিম তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি টুইটারে এটি হ্যাশট্যাগও হয়ে উঠেছিল। মিট রমনির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার বদলে তার প্রচারণা কমিটি ও সহকর্মী রিপাবলিকানরা এই বক্তব্যের সুযোগ নেন। তারা তাদের বিজ্ঞাপনে বারাক ওবামাকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্টের কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। ওবামাবিরোধী এসব বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগেই বক্তৃতার অন্য কোনো অংশ ছাড়াই তার একটি বাক্য তুলে ধরা হয়েছিল। এগুলো মার্কিনিদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে প্রেসিডেন্ট বেসরকারি ব্যবসার মালিকদের প্রশংসা বা স্বীকৃতি দেন না। এছাড়া তিনি মনে করেন এসব ব্যবসার সাফল্যের জন্য একমাত্র ফেডারেল সরকার দায়ী। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বিজ্ঞাপনগুলো টেলিভিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের আকারে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমেও এগুলো ছড়িয়ে পড়ে। কথাটি ইন্টারনেট মিম তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এগুলো ফেসবুক, টুইটার, টাম্বলার এবং অন্যান্য ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইটগুলোতে শেয়ার করা হয়েছিল। রক্ষণশীলরা এটিকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করেছিল। তারা ছোট ব্যবসা সম্পর্কে ওবামার অনুভূতি নিয়ে সত্য পরিবর্তন করতে এটি ব্যবহার করেছিল। কতজন মার্কিন নাগরিক সত্যিই পুরো বক্তৃতাটি পড়েছেন বা দেখেছেন তা অজানা। তবে এটি স্পষ্ট যে অনেকেই তা করেননি। মাঞ্জু ট্রু এনাফ বইয়ে বলেছেন, অনেক মার্কিনি সত্য জানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।<ref>মাঞ্জু, ফরহাদ। ''ট্রু এনাফ: লার্নিং টু লিভ ইন অ্যা পোস্ট-ফ্যাক্ট সোসাইটি'' [True Enough: Learning to Live in a Post-fact Society]। হোবোকেন, এনজে: উইলি, ২০০৮।</ref> মানুষ যা বিশ্বাস করতে চায় তা-ই বিশ্বাস করে। ২০১২ সালের প্রচারণায় "আপনি এটি তৈরি করেননি" রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো এর একটি নিখুঁত উদাহরণ। অনেক রক্ষণশীল নাগরিক বিজ্ঞাপনগুলোকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তাদের আগের পক্ষপাতিত্ব নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে দেখেছিলেন। তারা তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে কোনো গবেষণা করেননি। বিজ্ঞাপনগুলো বারাক ওবামার বিষয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টায় জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সফলও হয়েছিল। ====“৪৭ শতাংশ”==== [[File:Mitt Romney by Gage Skidmore 6.jpg|thumb|গেইজ স্কিডমোরের তোলা মিট রমনি ৬]] ডেমোক্র্যাটরাও জনপরিসরকে প্রভাবিত করতে ২০১২ সালের প্রচারণার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেছিল। "৪৭ শতাংশ" ভিডিওর ক্ষেত্রে সিনেটর মিট রমনির কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে সত্যকে কারসাজি করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে নৈশভোজের সময় ওয়েট স্টাফের একজন সদস্য স্কট প্রাউটি গোপনে মিট রমনির একটি বক্তৃতা ভিডিও করেন। বক্তৃতায় রমনি অনেক মার্কিন নাগরিকের কথা বলেন যারা আগেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা "যাই হোক না কেন" তাকে ভোট দেবেন। রমনি বলেছিলেন যে এসব মানুষের মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ ৪৭ শতাংশ মার্কিনি হলেন এমন মানুষ যারা: :"সরকারের ওপর নির্ভরশীল, যারা নিজেদের ভুক্তভোগী মনে করে। তারা মনে করে যে তাদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা বিশ্বাস করে যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বাসস্থান এবং আরও অনেক কিছু পাওয়ার অধিকার তাদের আছে। তারা মনে করে এগুলো তাদের অধিকার। তাই সরকারের উচিত তাদের এগুলো দেওয়া। আর তারা যাই হোক না কেন এই প্রেসিডেন্টকেই ভোট দেবে। ... এরা এমন মানুষ যারা কোনো আয়কর দেয় না। আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়। তারা যে নিজেদের দায়িত্ব নেবে এবং নিজেদের জীবনের যত্ন নেবে, তা আমি কখনোই তাদের বোঝাতে পারব না।"<ref>ভিডিও। ইউটিউবওয়েব। <http://www.youtube.com/watch?v=M2gvY2wqI7M></ref> এখানে সিনেটর মিট রমনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে অনেক মার্কিনি আগে থেকেই প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের ভোট জয়ের চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ তারা আগেই মনস্থির করে ফেলেছেন। তবে স্কট প্রাউটি বুঝেছিলেন যে সিনেটর দাবি করছেন তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের পরোয়া করেন না। তাই প্রাউটি টেপটি প্রকাশ করে বলেন, "সবার এটি শোনা প্রয়োজন ছিল।"<ref>গুড, ক্রিস। "দ্য লেসন অব মিট রমনিন'স ৪৭-পারসেন্ট ভিডিও: বি নাইস টু দ্য ওয়েট স্টাফ?" [The Lesson of Mitt Romne'ys 47-Percent Video: Be Nice To The Wait Staff?]। ১৪ মার্চ ২০১৩। ওয়েব। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2013/03/the-lesson-of-mitt-romneys-47-percent-video-be-nice-to-the-wait-staff/></ref> প্রাউটির মতো ওবামার প্রচারণা কমিটি ও ডেমোক্র্যাটরাও এই সুযোগ কাজে লাগায়। তারা রমনিকে এমন একজন হিসেবে উপস্থাপন করে যিনি নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পরোয়া করেন না। তিনি শুধু ধনীদের নিয়ে চিন্তিত। মিট রমনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনিদের ভোট পাওয়া নিয়ে চিন্তিত নন, তা বলার বদলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো তার কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে তুলে ধরেছিল। "আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়" বাক্যটি বিকৃত করা হয়েছিল। এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন সিনেটর বলেছিলেন যে তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনির কোনো পরোয়া করেন না। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বক্তৃতার মতো রমনির কথাগুলোও টেলিভিশনের মাধ্যমে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এগুলো নিয়ে মিম তৈরি করা হয়েছিল যা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। টুইটারে "৪৭%" একটি হ্যাশট্যাগে পরিণত হয়। সেখানে অনেকেই নিজেদের সেই ৪৭ শতাংশ মানুষের অংশ বলে উল্লেখ করেন যাদের নিয়ে রমনির কোনো মাথাব্যথা নেই। আবারও একজন রাজনীতিবিদের কথা খণ্ডিতভাবে নেওয়া হয়েছিল। এগুলো মার্কিন জনগণের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যা তার বক্তব্যের সত্যতা লুকিয়ে রেখেছিল। আবারও এগুলো তার বিরুদ্ধে আগের পক্ষপাতিত্বকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এবং আবারও এগুলো মিট রমনির বিষয়ে নেতিবাচকভাবে জনমতকে প্রভাবিত করেছিল। ==মিট রমনি এবং মার্কিনিদের কাছে মূল্যায়িত প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলি== ===ভূমিকা=== মার্কিন প্রেসিডেন্সি এমন একটি চাকরি যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পদে পরিণত হয়েছে। তাই চাকরিতে কয়েক বছর কাটানোর পরই প্রেসিডেন্টের চুল অনেক পেকে যায়। এটি কোনো অবাক করার মতো বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট এমন সব সিদ্ধান্ত নেন যা যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের মানুষকে আজ থেকে শুরু করে বহুকাল পর্যন্ত প্রভাবিত করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা একটি বড় কাজ। একে আমরা হালকাভাবে নিতে পারি না। আমাদের অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মার্কিনিদের কি মূল্যায়নের কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে যেখানে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের মাপতে চান? মার্কিন ইতিহাসের প্রবণতা থেকে দেখা যায়, প্রায় সব প্রেসিডেন্টই আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচডব্লিউ বুশ এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ ছাড়া সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রায় সব প্রেসিডেন্টই প্রার্থিতার আগে অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। মার্কিনিরা কেন এসব মানুষের গুণাবলিকে কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করেন? কেন এসব গুণাবলি সফল ব্যবসায়ীদের গুণাবলির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়? মার্কিনি হিসেবে আমাদের জন্ম থেকেই একটি প্রবৃত্তি রয়েছে। পরবর্তী প্রধান সেনাপতি নির্বাচনের সময় প্রতি নির্বাচনী বছরে আমরা এটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে কাজের যোগ্যতা অর্জন করেন। কেউ কেউ এতে সফল হন। অন্যদিকে মিট রমনির মতো কেউ কেউ ব্যর্থ হন। ===কর্পোরেট আমেরিকা=== ====একজন ব্যবসায়ীর গুণাবলি==== মার্কিন কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে সফল ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের প্রতীক। এমনও বলা যায় যে ছোট ব্যবসার সফলতার গল্পগুলো আমেরিকান ড্রিমকে তুলে ধরে। এতে উদ্যোক্তারা বাজারে নিজেদের জায়গা খুঁজে পান। কিন্তু আমরা কি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ব্যবসায়িক জগতের সফল মানুষদের কাছে সামগ্রিকভাবে মার্কিন জনগণের বৃহত্তর চাহিদা মেটানোর গুণাবলি নেই? ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাদের সুফল পেতে লড়াই করেন। এমন কিছু করতে তাদের ব্যক্তিত্ব সাহায্য করে। উইকিঅ্যানসারসের একজন অবদানকারী একজন ব্যবসায়ীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের তালিকা দিয়েছেন। এগুলো হলো সফল হওয়ার ক্ষমতা ও সংকল্প, বুদ্ধিমত্তা, সতর্কতা, নেতৃত্ব, স্পষ্টবাদিতা এবং অন্যদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা।<ref>["হোয়াট আর দ্য কোয়ালিটিস অব অ্যা গুড বিজনেসম্যান?" [What are the Qualities of a Good Businessman?] উইকিঅ্যানসারস। <http://wiki.answers.com/Q/What_are_the_qualities_of_a_good_businessman>]</ref> তাহলে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সমস্যা কোথায়? এসব গুণ শুধু ব্যবসায় নয়, যেকোনো মহান নেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে মনে হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের পদে স্পষ্টবাদিতা সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় প্রেসিডেন্টকে কিছু বিষয় ঘুরিয়ে বলতে হয়। কোনো পরিস্থিতির বাস্তবতা প্রকাশ করলে দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ====মুনাফা-চালিত==== [[File:Hurricane_Katrina_President_Bush_with_New_Orleans_Mayor.jpg|thumb|নিউ অরলিন্সের মেয়রের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বুশ]] চিন্তার আরেকটি বিষয় হলো ব্যবসায়ীর সাফল্যের পেছনে মুনাফাভিত্তিক প্রেরণা। এটি হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিট রমনি ছোটবেলা থেকেই বাবার ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। তিনি একটি ধনী পরিবার থেকে এসেছিলেন। ভোটারদের কাছে এটি ম্যাসাচুসেটসের প্রাক্তন গভর্নরকে লোভী হিসেবে তুলে ধরে। এটি তাকে সমাজের বাস্তবতা এবং পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করা মানুষদের বিপদ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করায়। ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার পর এই ধারণাটি আরও জোরালো হয়। তখন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে ফেডারেল সরকার ও ন্যাশনাল গার্ডের নিউ অরলিন্সের মানুষকে বাঁচাতে কয়েক দিন সময় লেগেছিল। বুশ ছিলেন টেক্সাসের তেল শিল্পের একজন প্রাক্তন ব্যবসায়ী। নিউ অরলিন্সের বাসিন্দাদের খাবার, পানি ও নিরাপত্তা দিতে ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এই বিলম্বিত পদক্ষেপ হয়তো প্রেসিডেন্ট বুশের মতো মানুষদের এই পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ====জনগণের ওপর নজর==== হারিকেন ক্যাটরিনা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বুশের ভূমিকা হয়তো মিট রমনির প্রেসিডেন্সি দৌড়কে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। কারণ এটি জনগণের সঙ্গে প্রাক্তন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের দূরত্বের বিষয়টি উন্মোচন করেছিল। মিডিয়ার সাহায্যে মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের চিন্তিত মুখ দেখেছিল। কিন্তু তিনি মেরিন ওয়ানের আরামদায়ক আসনে বসে নিউ অরলিন্সের ধ্বংসযজ্ঞ দেখছিলেন। গভর্নর রমনির পক্ষে বলা যায়, তিনি লাখ লাখ মানুষের চূড়ান্ত উপকারে তার বিশাল আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন। তার বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পটভূমির কারণে তার প্রাইভেট ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফার্ম দুর্বল ব্যবসাগুলোকে প্রায় নিশ্চিত দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচাতে পেরেছিল। তার ফার্ম ২০০২ সালের শীতকালীন অলিম্পিককে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করেছিল।<ref>["মিট রমনিন'স কি কোয়ান্ডারি" [Mitt Romney's Key Quandary]। ইনভেস্টরস বিজনেস ডেইলি। ১৩ এপ্রি. ২০১১। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> গভর্নর রমনির সমর্থন না পেলে ২০০২ সালের অলিম্পিকের পরিণতি হয়তো খারাপ হতো। ====গণতন্ত্রের সংলাপ==== [[File:Al_Gore.jpg|thumb|ভিপি এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর]] রমনির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিনিরা সরকারের নেতা হিসেবে ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বুশের প্রথম মেয়াদে এনরন-যুগের কেলেঙ্কারিগুলো হয়তো এতে আরও ভূমিকা রেখেছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর এর সঙ্গে একমত। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর বলেছেন যে পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র সমাজে কেবল পাশাপাশি অবস্থান করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই দুটির মিশ্রণ বিভাজন তৈরি করে। এটি একটি সুস্থ "গণতন্ত্রের সংলাপ" হিসেবে জনপরিসরের জন্য হুমকিস্বরূপ।<ref>[গোর, অ্যালবার্ট। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। মুদ্রণ।]</ref> একটি পুঁজিবাদী সমাজের ব্যবসায়ী নেতাদের সরকারের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই জায়গা আছে। তারা সম্ভবত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হতে পারেন। তবে আমেরিকার প্রধান নির্বাহীর পদে তাদের জায়গা না-ও হতে পারে। ===কোথায় রমনির ভুল হয়েছিল - বলা কঠিন, তবে চিহ্নিত করা সহজ=== ====তার ভাবমূর্তি==== [[File:Romney-01.jpg|thumb|গভর্নর মিট রমনি]] রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই একমত হতে পারে যে মিট রমনি ভুল করেছিলেন। আল গোর তার দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে "সিলেকটিভ এক্সপোজারের" ধারণা উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ঘটনা বর্ণনা করেন যেখানে নাগরিকরা শুধু নিজেদের মতামত সমর্থনকারী প্রতিবেদনগুলোই দেখেন। মানুষ প্রাক্তন গভর্নরকে পছন্দ করুক বা না করুক, বেশিরভাগ মানুষ সিলেকটিভ এক্সপোজারের অভিজ্ঞতা লাভ করেননি। মানুষ মিডিয়ার প্রতিবেদন এবং রমনির নিজের কথা শুনেছিল। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তিনি এই পদের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। ভোটাররা তার সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত ছিলেন না। কারণ তাকে দেখে কোনোভাবেই আদরণীয় ব্যক্তিত্ব মনে হতো না। তার আভিজাত্যপূর্ণ চেহারার কারণে তাকে তার ভোটারদের সঙ্গে মেলামেশা করতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা কঠিন ছিল। নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে মার্কিনিরা নম্রতা ও অকৃত্রিম সহানুভূতিসম্পন্ন প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়ন করতে শিখেছেন। আমরা চাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো নিহত যুদ্ধবীরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আন্তরিক সমবেদনা জানান। অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মার্কিন জনগণের মতে প্রেসিডেন্ট ওবামার মধ্যে এই শক্তিশালী গুণটি রয়েছে। এ থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে জনগণ প্রেসিডেন্ট পদে অন্যান্য যোগ্যতাগুলোকে এই সহজাত গুণের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করে। দুর্ভাগ্যবশত, ব্যবসায়িক জগত গভর্নর রমনিকে প্রায় অমানবিক ও অনুভূতিহীন হিসেবে গড়ে তুলেছিল। ভোটাররা ২০০৮ বা ২০১২ সালের কোনো নির্বাচনেই এটি ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। ====তার ব্যক্তিত্ব==== মার্কিনিরা একজন স্থির, সৎ এবং ধারাবাহিক প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করতে চায়। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর থাকার সময় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার সময় রমনির আচরণে বড় পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। এটিই তার সমালোচনার মূল কারণ ছিল। ২০০৭ সালে এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে টিম রাসার্টের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে গভর্নর রমনি বিভিন্ন বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন কি না, সে বিষয়েও তিনি দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। গভর্নর থাকাকালীন তার দৃষ্টিভঙ্গির তুলনায় রাসার্ট দেখিয়েছিলেন যে রমনি অনেক বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এর মধ্যে গর্ভপাত, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ, ইরাক, সমকামী অধিকার এবং এমনকি রোনাল্ড রিগানও ছিলেন।<ref>["ম্যাসাচুসেটস মিট মিটস রাইট উইং রমনি অন মিট দ্য প্রেস" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> এই সাক্ষাৎকারে গভর্নর রমনিকে ভোটারদের কাছে বেশ অস্পষ্ট মনে হয়েছিল। হয়তো এ কারণেই তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়ন হারিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির কমিউনিকেশন ডিরেক্টর কারেন ফিনি রমনির এমন আচরণের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, "তিনি যতই বোঝানোর চেষ্টা করুন না কেন, ভোটাররা জানেন যে আজকের মিট রমনির সঙ্গে কয়েক বছর আগের রমনির কোনো মিল নেই। মার্কিন জনগণের প্রয়োজনীয় সৎ নেতৃত্ব দিতে এদের কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না।"<ref>["ম্যাসাচুসেটস মিট মিটস রাইট উইং রমনি অন মিট দ্য প্রেস" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> বিশেষ করে এমন বড় বিতর্কের বিষয়গুলোতে একজন প্রার্থী হঠাৎ নিজের মতামত পরিবর্তন করতে পারেন না। এমনটা করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আশাও করা যায় না। নির্বাচিত ব্যক্তি যদি চার বছরের মধ্যে নিজের মত পরিবর্তন করেন, তবে জনগণ জানতে পারে না তারা কাকে নির্বাচিত করছেন। ====তার ধর্ম?==== [[File:Three_Witnesses_of_the_Book_of_Mormon_Depiction_by_Edward_Hart,_October_1883.jpg|thumb|বুক অব মরমনের তিনজন সাক্ষী, ১৮৮৩]] আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগে থেকে থাকা পক্ষপাতিত্ব বা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের গতিপথ ও ফলাফল বদলে দিতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ একমত হবেন যে প্রেসিডেন্টের একটি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান থাকা জনগণের জন্য ভালো। তাই কোনো প্রার্থীর এমন কোনো গুণ থাকলে যা তাকে বেশিরভাগ ভোটারদের থেকে আলাদা করে, তখন তাকে মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। জনসমক্ষে তিনি গর্বের সঙ্গেই স্বীকার করেন যে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মরমনি। ভোটাররা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে তার ধর্ম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাফল্যকে প্রভাবিত করবে কি না। খ্রিস্টধর্মের মরমনি সম্প্রদায় সম্পর্কে অনিশ্চয়তাই এর পেছনের মূল কারণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে রমনির ধর্ম নিয়ে মানুষের অনিশ্চয়তার কথা শুনে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিচ ডেভিস একটি গবেষণা শুরু করেন। তিনি নিজেও একজন মরমনি। সম্প্রতি এলএ টাইমস/ব্লুমবার্গের একটি গবেষণার ফলাফলও বেশ চমকপ্রদ ছিল। ৩৭% মার্কিনি মরমনিদের ভোট দেবেন না।<ref>["মিট রমনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেসি ফেসেস ক্রিটিক্যাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ; মরমনি রিলিজিয়ন আননোন অ্যান্ড মিসআন্ডারস্টুড - নিউ ৫২৭ অর্গ - রানমিটরান.অর্গ ক্রিয়েটেড টু অ্যাড্রেস ইট" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> এই সংখ্যাটি কেন এত বেশি, তা খুঁজে বের করাই ডেভিসের গবেষণার লক্ষ্য ছিল। ডেভিস সাউথ ক্যারোলাইনার ৬০০ জন নিবন্ধিত ভোটারকে মরমনিদের ভিত্তি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। বেশিরভাগ মানুষই মরমনিবাদ এবং প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টধর্মের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার করতে পারেননি। জরিপে দেখা গেছে যে ৫০% মার্কিনি বিশ্বাস করেন মরমনিরা শুধু বুক অব মরমনি অনুসরণ করে এবং বাইবেল মানে না। অন্যরা বিশ্বাস করেন মরমনিরা এখনও বহুবিবাহ করে। তারা জানেন না যে ১৮৯০ সালে মরমনি চার্চ এটি নিষিদ্ধ করেছিল।<ref>["মিট রমনি প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেসি ফেসেস ক্রিটিক্যাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ; মরমনি রিলিজিয়ন আননোন অ্যান্ড মিসআন্ডারস্টুড - নিউ ৫২৭ অর্গ - রানমিটরান.অর্গ ক্রিয়েটেড টু অ্যাড্রেস ইট" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> ====সারসংক্ষেপ==== আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অজ্ঞতা থেকে আসা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের ফলাফল নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করি যে ধর্ম একজন প্রেসিডেন্টের সাফল্যের চালিকাশক্তি। কিন্তু সময় ও মানুষের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাই বেশি মার্কিনিদের কাছে টানতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা এই পথেই চলছেন। মিডিয়া আমাদের দেখায় যে তিনি খ্রিস্টানদের ছুটির দিনে চার্চে যান। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার নীতিগত সিদ্ধান্তে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে দূরে রাখেন। বেশিরভাগ ভোটার তার এই কার্যকর পদ্ধতিটিকে মূল্যায়ন করেন বলে মনে হয়। ===কীভাবে আমরা এসব গুণাবলিকে সার্বভৌম হিসেবে গ্রহণ করেছি=== ====মিডিয়ার অবদান==== একজন সফল প্রেসিডেন্টের আদর্শ গুণাবলি নিয়ে বেশিরভাগ মার্কিনি একমত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মিট রমনির মতো প্রার্থীদের ব্যবসার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শক্তিশালী পটভূমি রয়েছে যা বিরোধীদের নেই। তা সত্ত্বেও, কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য একজন প্রার্থীকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তোলে। নিউজ মিডিয়া এসব আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সহায়ক একটি মাধ্যম। যারা তথ্য খোঁজেন তাদের জন্য মিডিয়া হলো একটি প্রধান উৎস। মিডিয়া প্রায়ই তাদের পছন্দের গুণাবলিসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রশংসা করে। কার্যকরভাবে, এটি এমন প্রার্থীদের জন্য সমর্থন ও জনপ্রিয়তার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে যারা মিডিয়া উৎসগুলোর কাছে আদর্শ গুণাবলি পূরণ করেন। ====পারিবারিক মূল্যবোধ==== বয়স্ক মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের যেসব গুণাবলিকে আদর্শ মনে করেন, তরুণ মার্কিনিদের মধ্যে তা গেঁথে দেওয়ার আরেকটি বড় প্রভাবক হলো পারিবারিক মূল্যবোধ। ছোটবেলা থেকেই মার্কিনিরা বাবা-মায়ের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে। আমরা সারা জীবন এগুলো ধরে রাখি। বয়স্ক প্রজন্ম সাধারণত একজন প্রার্থীর শক্তিশালী ধর্মীয় পরিচয়কে মূল্যায়ন করে। তবে বয়স্ক প্রজন্ম বিদায় নেওয়ায় এবং আধুনিক সমাজে ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্ব হারানোয় যুক্তরাষ্ট্র এখন উল্টো পথে হাঁটছে। ====জনপরিসরের ভূমিকা==== সবশেষে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো জনপরিসর। জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাসের ধারণায় এটি প্রেসিডেন্সিয়াল আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে মিডিয়া আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। মার্কিনিরা সেই আলোচনা বাড়িতে নিয়ে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবেশে করেন। প্রত্যেক মার্কিনির বৈচিত্র্যময় পটভূমি "গণতন্ত্রের সংলাপের" প্রতি একটি বাধ্যতামূলক ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেয়। জনপরিসর এমন একটি ফোরাম যেখানে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ঘটে। এর মাধ্যমেই আমরা আদর্শ প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলির জনমত তৈরি করি। ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমাদের আদর্শ প্রেসিডেন্টের চেহারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। জনপরিসরের মাধ্যমেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধারণাগুলো প্রবাহিত হয়েছে এবং আদর্শ প্রেসিডেন্টের বিবর্তন ঘটেছে। আমাদের প্রজাতন্ত্রের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নাগরিকদের জীবনের সব ক্ষেত্রে খোলাখুলিভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মার্কিনিরা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় উৎসাহিত হয়েছেন। এই জনপরিসরের মাধ্যমেই আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আদর্শগুলো গ্রহণ করেছি। ===উপসংহার=== "সুসংযুক্ত নাগরিকদের" একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কার্যকারিতা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্সি আমাদের শাসকগোষ্ঠীর কার্যকরী এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে অস্তিত্ব হারাত (গোর ২০০৭)। মুক্ত বিশ্ব শাসনকারী রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও আগ্রহের মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে। মার্কিন জনগণকে প্রভাবিত করে এমন রাজনৈতিক বিষয়ে তথ্যবহুল ও উন্মুক্ত আলোচনা ছাড়া আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তা একত্র করতে পারি না। আমরা এমন প্রার্থীও নির্বাচন করতে পারি না যিনি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনে দেশকে সেরা দিকে নিয়ে যাবেন। এই পদের জন্য সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করে আমরা আত্মবিশ্বাসী হতে পারি। বর্তমান প্রশাসনের নীতি আমরা অনুমোদন করি বা না করি, আমাদের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তিনি যা সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বলে বিশ্বাস করেন তার জন্যই কাজ করেন। ==জাতীয় ট্র্যাজেডির প্রতিক্রিয়া== === ভূমিকা === গুপ্তহত্যা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সন্ত্রাসী হামলা—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন বেশ কিছু জাতীয় ট্র্যাজেডি রয়েছে। প্রতিবারই দেশ কেঁপে ওঠে এবং জনপরিসরে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলোর একটি হলো ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা। অনেক জাতীয় সংকটের মতোই এটি দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করেছিল। তবে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলের বন্দুক হামলার আরও সাম্প্রতিক একটি ঘটনা জাতিকে বিভক্ত করে এবং মার্কিন রাজনীতিতে নাড়া দেয়। স্যান্ডি হুকের ঘটনার পর ছোট ছোট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভূমিকার কারণে এই হামলা মার্কিন জনপরিসর ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায় বিপরীত প্রভাব ফেলেছিল। এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সম্পূর্ণ উল্টো ছিল। মূলত স্যান্ডি হুক হামলার প্রতিক্রিয়া এই দেশের গণতন্ত্রের আদর্শকেই ক্ষুণ্ন করেছে। ===১১ সেপ্টেম্বর এবং জনপরিসর=== ====মার্কিন জনগণের একতা==== ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক ঘটনার ছয় মাস পর পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, "১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য যেকোনো ঘটনার চেয়ে জনমতকে বেশি প্রভাবিত করেছে। স্পষ্টতই এই হামলা অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেম নিয়ে এসেছিল।"<ref name=pew>"পাবলিক ওপিনিয়ন সিক্স মান্থস লেটার" [Public Opinion Six Months Later]। পিউ রিসার্চ সেন্টার ফর পিপল অ্যান্ড দ্য প্রেস। পিউ রিসার্চ সেন্টার, ০৭ মার্চ ২০০২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> যারা ওই হামলার কথা মনে করতে পারেন, তারা প্রায় প্রতিটি বাড়ি, গাড়ি এবং বাণিজ্যিক ভবনে মার্কিন পতাকা দেখার কথাও মনে করতে পারেন। এটি পরিবর্তিত মার্কিন মানসিকতার প্রতীক ছিল। দশ বছর পর ওই ট্র্যাজেডির বার্ষিকী উপলক্ষে ''ইউএসএ টুডে''তে প্রকাশিত একটি অপ-এড নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ওবামা এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, "মার্কিনিরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, উপাসনালয় এবং ইউ.এস. ক্যাপিটলের সিঁড়িতে একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবকরা রক্ত দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সাহায্য করতে সারা দেশ ঘুরেছিলেন। স্কুলের বাচ্চারা নিজেদের জমানো টাকা দান করেছিল। সম্প্রদায়, বিশ্বাসী গোষ্ঠী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার ও পোশাক সংগ্রহ করেছিল। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।"<ref>ওবামা, বারাক। "লেটস রিক্লেইম দ্য পোস্ট-৯/১১ ইউনিটি" [Let's Reclaim the Post-9/11 Unity]। ইউএসএ টুডে। ০৮ সেপ্টে. ২০১১: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ১১ সেপ্টেম্বরের পরের মাসগুলোতে হওয়া জনমত জরিপে মার্কিন মানসিকতার পরিবর্তনও বেশ স্পষ্ট ছিল। মার্কিনিদের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের বাড়তি অনুভূতি ফেডারেল সরকার এবং সামগ্রিকভাবে জাতির ভবিষ্যতের ওপর উচ্চতর আস্থায় পরিণত হয়েছিল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে একটি গ্যালাপ জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এতে বলা হয় প্রেসিডেন্ট বুশ ৮৬% এর সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছেন।<ref name=gallup>"লেটেস্ট সামারি: আমেরিকান পাবলিক ওপিনিয়ন অ্যান্ড দ্য ওয়ার অন টেররিজম" [Latest Summary: American Public Opinion and the War on Terrorism]। গ্যালাপ। গ্যালাপ, ইনক., ২১ ডিসে. ২০০১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> আর পরের মার্চে পিউ রিসার্চের একটি গবেষণায় সামগ্রিকভাবে ফেডারেল সরকারের জন্য ৮২% সমর্থন পাওয়া যায়।<ref name=pew /> শুধু তাই নয়, একই পিউ গবেষণায় দেখা গেছে যে ১১ সেপ্টেম্বরের পর মার্কিনিরা ১৯৫৯ সালের পর সর্বোচ্চ আশাবাদ দেখিয়েছিল।<ref name=pew /> মার্কিনিদের আস্থা ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত মানসিকতা রাজনীতিবিদদের সহজেই বিভিন্ন আইন পাস করার সুযোগ দিয়েছিল। ট্র্যাজেডির পরের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই এমনটা করা হয়েছিল। ====আইন প্রণয়ন==== ১১ সেপ্টেম্বরের পর সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত প্রায় ৪৮টি বিলে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ছিল এমনই একটি বিল। এটি "সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে জরুরি ব্যয়ের" জন্য ৪,০০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছিল। বিলটি মাত্র চার দিনের মধ্যে পাস হয়েছিল।<ref name=appropriations>"২০০১ ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ফর রিকভারি ফ্রম অ্যান্ড রেসপন্স টু টেররিস্ট অ্যাটাকস অন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" [2001 Emergency Supplemental Appropriations Act for Recovery from and Response to Terrorist Attacks on the United States]। এইচ.আর. ২৮৮৮ (১০৭তম)। গভট্র্যাক.ইউএস। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> অন্যান্য আইনের মধ্যে সুপরিচিত প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টও ছিল, যা প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং গ্রাউন্ড জিরোতে কাজ করা সৈন্য ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়ার আইনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।<ref name=blog>ভিলেমেজ, জেসন, এবং ডালিয়া মোর্তাদা। "৯/১১ টু নাউ: ওয়েজ উই হ্যাভ চেঞ্জড" [9/11 To Now: Ways We Have Changed]। দ্য রানডাউন: অ্যা ব্লগ অব নিউজ অ্যান্ড ইনসাইট। পিবিএস, ১৪ সেপ্টে. ২০১১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ট্র্যাজেডির পর প্রায় পুরো জাতিরই একই মানসিকতা ছিল। তাই সরকার খুব কম বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। মার্কিনিদের রক্ষার চেষ্টায় সরকার এসব আইনসহ আরও অনেক আইন পাস করতে পেরেছিল। ===স্যান্ডি হুক শ্যুটিং এবং জনপরিসর=== অতি সম্প্রতি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে জাতি আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছিল। এবার কানেটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে বিশটি শিশু এবং ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভুক্তভোগীরা খুব ছোট এবং সংখ্যায় অনেক হওয়ায় এই ঘটনা মার্কিন নাগরিক ও আইনপ্রণেতাদের আবেগে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। তবে এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মতো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। বরং এটি দেশকে দুভাগে বিভক্ত করেছিল। একদিকে ছিলেন কঠোর বন্দুক আইনের সমর্থকরা, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবার। অন্যদিকে ছিল ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন এবং তাদের সঙ্গে একমত পোষণকারীরা। তারা স্পষ্টভাবে বলেছিল যে তারা "বন্দুক নিয়ন্ত্রণের আলোচনার দিকে এক ইঞ্চিও নড়বে না"।<ref name=NRA>কাস্টিলো, মারিয়ানো। "এনআরএ ক্লিয়ার অন গান ডিবেট স্ট্যান্স: আর্ম স্কুলস" [NRA clear on gun debate stance: arm schools]। সিএনএন ইউ.এস.। সিএনএন, ২১ ডিসে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> এই দুই গোষ্ঠীর লড়াই শুধু দেশকেই বিভক্ত করেনি। এটি জনপরিসরের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করার ক্ষেত্রে টাকার ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। ====নাগরিক আন্দোলন==== স্যান্ডি হুকের পরিবারগুলো জনপরিসরে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারা বেশিরভাগ মার্কিনিদের দাবি তুলে ধরে বন্দুক কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি তৃণমূল প্রচারণা তৈরি করেছিল। জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারগুলো তাদের নিজের রাজ্য কানেটিকাটে দেশের সবচেয়ে কঠোর বন্দুক আইন প্রণয়নে সফল হয়েছিল। এই আইন অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত করেছিল। এটি ম্যাগাজিনের ক্ষমতা সীমিত করেছিল এবং বেসরকারি বন্দুক বিক্রির জন্য পটভূমি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করেছিল।<ref name=huff>উইল্কি, ক্রিস্টিনা। "কানেটিকাট পাসেস নেশনস স্ট্রিক্টেস্ট গান ল ইন ওয়েক অব স্যান্ডি হুক ম্যাসাকার" [Connecticut Passes Nation's Strictest Gun Law In Wake Of Sandy Hook Massacre]। হাফ পোস্ট পলিটিক্স। হাফিংটন পোস্ট, ০৪ এপ্রি. ২০১৩। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> তবে রাজ্যের বিজয়ই স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর একমাত্র চাওয়া ছিল না। [[File:Barack Obama with relatives of Emilie Parker.jpg|thumb|স্যান্ডি হুক শ্যুটিংয়ে নিহত শিশু এমিলি পার্কারের আত্মীয়দের সঙ্গে বারাক ওবামা]] এপ্রিলের শুরুতে অভিভাবকরা এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটনে পদযাত্রা করেন। তারা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জাতীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের আশায় তাদের গল্প শেয়ার করেন। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের অর্থনৈতিক ক্ষমতা মোকাবিলা করতে তারা তাদের আবেগের ব্যবহার করেছিলেন। তারা আইনপ্রণেতাদের এবং প্রেসিডেন্টের আবেগ ছুঁতে পেরেছিলেন। আবেগের বশবর্তী হয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুনাম ভেঙে ওবামা স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর দাবির প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করেন। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জো মানচিন একটি দ্বিদলীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছিলেন। তিনিও অভিভাবকদের প্রচারণার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "তারা আমাকে বলেছিল, 'আমরা জানি এই আইনের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের বাঁচানো যেত না।' ...তাদের চাওয়া হলো, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তা থেকে হয়তো আপনি একটি পরিবারকে বাঁচাতে পারবেন। আমার জীবনে শোনা এটিই সবচেয়ে নিঃস্বার্থ উপস্থাপন। এটি আমাকে নতজানু করে দিয়েছে।"<ref name=latimes>পার্সনস, ক্রিস্টি, ক্যাথলিন হেনেসি, এবং মাইকেল এ. মেমোলি। "স্যান্ডি হুক অ্যান্ড গ্রিফ: গান কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস প্লিড দেয়ার কেস" [Sandy Hook and Grief: Gun Control Advocates Plead Their Case]। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ১৩ এপ্রি. ২০১৩, পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> প্রচারণার সপ্তাহটি শেষ করতে ওবামা ফ্র্যান্সিন হুইলারকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি এই হামলায় নিহত ছয় বছর বয়সী এক ছেলের মা। ওবামা তার হয়ে শনিবারের সাপ্তাহিক ভাষণ দিতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি শেষ আবেগপূর্ণ আবেদন উপস্থাপন করেন<ref name=latimes />। ====এনআরএ লবিং==== [[File:Wayne LaPierre by Gage Skidmore.jpg|thumb|এন.আর.এ.-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি বাড়ানোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।]] তবে স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবারের চেষ্টা ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষমতার কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। সামরিক ধাঁচের অ্যাসল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করা, ম্যাগাজিনের আকার সীমিত করা এবং পটভূমি যাচাই সম্প্রসারণ করাসহ সব বন্দুক নিয়ন্ত্রণ বিল সিনেটে বাতিল হয়ে যায়। স্যান্ডি হুক ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো বাবা-মায়ের আবেদন সিনেট শুধু যে উপেক্ষাই করেছে তা নয়। তারা "মার্কিন জনগণের ইচ্ছাকেও উপেক্ষা করেছে" বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন প্রতিনিধি গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ডস। তিনি নিজেও বন্দুক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।<ref name=backfire>ক্যাসিডি, জন। "কুড দ্য এন.আর.এ.'স বিগ ভিক্টরি ব্যাকফায়ার?" [Could The N.R.A.’s Big Victory Backfire?]। নিউ ইয়র্কার। ১৮ এপ্রি. ২০১৩: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> মূলত ৯০% এর বেশি মার্কিনি বর্ধিত পটভূমি যাচাই সমর্থন করেছিল। এছাড়া ৫৬% মার্কিনি অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেছিল<ref name=backfire />। জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত জাতীয় আইনপ্রণেতারা ঠিক তার উল্টোটাই করেছিলেন। পরিস্থিতি বোঝার জন্য একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। এনআরএ ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রার্থীদের ৭,১৬,৫৯৬ ডলার দান করেছিল। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা পেয়েছিল ৬,৩৪,১৪৬ ডলার<ref name=NRA />। এই ক্ষেত্রে জনপরিসর একটি সমস্যা মোকাবিলা করতে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু একটি ছোট গোষ্ঠীর সম্পদ ও ক্ষমতা শুধু জাতিকেই বিভক্ত করেনি; এটি গণতন্ত্রের মূল কাঠামোকেও দুর্বল করে দিয়েছে। ===গণতন্ত্রে টাকার প্রভাব=== আল গোর তার ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' বইয়ে সম্পদের রাজনীতির ওপর আলো ফেলে এই সমস্যার মূল বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গোরের মতে, "শাসিতদের সম্মতি থেকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা পাওয়া নির্ভর করে সেই যুক্তির প্রক্রিয়ার ওপর যার মাধ্যমে সম্মতি দেওয়া হয়। যুক্তির প্রক্রিয়া যদি টাকা ও প্রতারণার দ্বারা কলুষিত হয়, তবে শাসিতদের সম্মতি মিথ্যা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে প্রাপ্ত যেকোনো ক্ষমতা জন্মগতভাবেই নকল এবং অন্যায়।"<ref name=gore>গোর, আল। ''দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন বুকস, ২০০৭। ৭৩-৭৬। মুদ্রণ।</ref> ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর দেশের একটি অভিন্ন কর্মসূচি ছিল। খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। কারণ খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে বিশ্বাস রাখত। সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খুব সহজেই অনেক আইন পাস করেছিল। অন্যদিকে স্যান্ডি হুক হামলার পর জনগণের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। শোকাহত পরিবার ও সম্প্রদায়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনির ইচ্ছাই উপেক্ষিত হয়েছিল। তবে যারা লাখ লাখ ডলার দিতে পেরেছিল, তাদের ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছিল। এটি ঠিক সেই ঘটনাই তুলে ধরে যা নিয়ে গোর সতর্ক করেছিলেন। এটি গণতন্ত্রের উদ্দেশ্যমূলক কাজের ঠিক বিপরীত দিকটি তুলে ধরে। গোরের ভাষায়, "তাদের মতামত অন্যদের মতামতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতির অগ্রাধিকারগুলো পালটে যায়।"<ref name=gore /> ==২০১২ সালের নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ক্ষতিকর প্রভাব== প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা এর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা খুব সহজেই বুঝতে পারছি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বেশিরভাগ কাজেই এখন প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেশি। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দারুণ একটি ব্যাপার। সম্প্রতি নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের কারণে ভোটাররা শুধু প্রার্থীদের নীতির ওপর ভিত্তি করে কাউকে বেছে নিতে পারছেন না। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হলো বিদ্বেষপূর্ণ বা কলঙ্কজনক কাজের মাধ্যমে প্রতিযোগী, প্রতিপক্ষ ইত্যাদিকে হেয় করার চেষ্টা [http://dictionary.reference.com/browse/mudslinging]। আর এই কাজটি নির্বাচন জেতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারাক ওবামা এবং মিট রমনির মধ্যকার গত নির্বাচনটি সর্বকালের অন্যতম তীব্র নির্বাচন ছিল। http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সম্প্রচার এবং কেবল টেলিভিশনে রমনির নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের মোট হার ছিল ৭৯.২%। আর ওবামার হার ছিল ৮৫.৫%। এই হার ২০০৮ এবং ২০০৪ উভয় নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি। ২০০৮ সালে ওবামার নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের হার ছিল ৬২.৯% এবং জন ম্যাককেইনের ছিল ৭৫.৯%। ২০০৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জন কেরির ৪৪.৩% এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের ৭২.৪% নেতিবাচক বিজ্ঞাপন ছিল। এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে যে প্রতি নির্বাচনেই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পরিমাণ বাড়ছে এবং এটি কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের নেতিবাচকতা বাড়ছে। এটি নিঃসন্দেহে জনপরিসরকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ===কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির শুরু=== লিন্ডন জনসন এবং ব্যারি গোল্ডওয়াটারের মধ্যে ১৯৬৪ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির প্রথম বড় ঘটনাটি ঘটেছিল। এটি চিরকালের মতো প্রচারণার কৌশল বদলে দিয়েছিল। জনসনের প্রচারণায় তৈরি বিজ্ঞাপনটি "ডেইজি গার্ল" নামে পরিচিত। এটি শুরু হয় একটি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা এক মিষ্টি ছোট্ট মেয়েকে দিয়ে। সে একটি ডেইজি ফুল থেকে পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে গণনা করার চেষ্টা করছিল। সে যখন এটি করছিল, তখন একটি ভীতিকর ও অশুভ কণ্ঠস্বর দশ থেকে উল্টো গণনা শুরু করে। যখন কণ্ঠস্বরটি "শূন্য" বলে, তখন তারা একটি বিশাল পারমাণবিক বিস্ফোরণ দেখায়। এরপর এই কথাগুলো দিয়ে বিজ্ঞাপনটি শেষ হয়, "এই হলো ঝুঁকি। ঈশ্বর এমন এক পৃথিবী তৈরি করুন যেখানে তার সব সন্তান বাঁচতে পারে, অথবা অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে। আমাদের একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, অথবা আমাদের মরতে হবে।" বিস্ফোরণের পর স্ক্রিনে "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন" লেখাটি ভেসে ওঠে। এটি স্ক্রিনে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে, "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন। ঘরে বসে থাকার ঝুঁকি অনেক বেশি।" http://michiganjournal.org/2012/10/30/presidential-mudslinging-in-the-past/ এই বিজ্ঞাপনটি দর্শকদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকে পারমাণবিক যুদ্ধ আরও বড় হুমকি হয়ে উঠছিল। কয়েক বছর আগেই কিউবান মিসাইল সংকট হয়েছিল। আর গোল্ডওয়াটার তার প্রচারণায় ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ধারণার কথা বলেছিলেন। মার্কিনিদের মনে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকির কারণে এই বিজ্ঞাপনটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি কার্যকর কৌশল ছিল। অধ্যাপক রবার্ট মান এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। বইটির শিরোনাম ডেইজি পেটালস অ্যান্ড মাশরুম ক্লাউডস: এলবিজে, ব্যারি গোল্ডওয়াটার অ্যান্ড দ্য অ্যাড দ্যাট চেঞ্জড আমেরিকান পলিটিক্স। তিনি বলেন, "তার সমর্থন কখনোই সত্যিই কমেনি। তবে জরিপে যা বেড়েছিল তা হলো মার্কিনিদের ভয়। তারা ভেবেছিল গোল্ডওয়াটার নির্বাচিত হলে তিনি আমাদের পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবেন।" http://thecaucus.blogs.nytimes.com/2011/10/24/revisiting-the-daisy-ad-revolution/ আজ যদি এ ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন সম্প্রচারিত হতো, তবে এর প্রভাব এত ক্ষতিকর হতো না। মার্কিনিরা নেতিবাচক বিজ্ঞাপন দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আজকের দর্শকরা এটিকে হাস্যকর ও অবাস্তব বলে মনে করবেন। তারপরও এই বিজ্ঞাপনটি গোল্ডওয়াটরের প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর ছিল এবং এই নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়েছিল। ===প্রথম বিতর্ক=== [[File:P112912PS-0444 - President Barack Obama and Mitt Romney in the Oval Office - crop.jpg |thumbnail|right|বারাক ওবামা এবং মিট রমনি]] এবার ২০১২ সালের নির্বাচনে আসা যাক। প্রতিযোগিতায় দুর্বলতার কোনো লক্ষণ দেখালে তা প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মিট রমনি এবং বারাক ওবামার মধ্যকার প্রথম বিতর্কে এটি স্পষ্ট হয়েছিল। সঞ্চালক যেসব প্রশ্ন করেছিলেন তা অর্থনীতি ঠিক করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। রমনির জন্য জরিপে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ ছিল। কারণ তার প্রচারণা মধ্যবিত্তের উন্নতি এবং দেশের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের চারপাশেই ঘুরছিল। বিতর্কটি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি দুই প্রার্থীর মধ্যে এক তীব্র লড়াইয়ে পরিণত হয়। তারা প্রায়ই তাদের বিবৃতি এবং খণ্ডনের জন্য বরাদ্দ সময় পার করে যাচ্ছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের লেখক জেফ জেলেনি এবং জিম রুটেনবার্গের মতে, "বিতর্কের বেশিরভাগ সময় প্রার্থীরা মঞ্চ দখল করে নিয়েছিলেন। তারা পিবিএসের সঞ্চালক জিম লেহরের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ তারা একে অপরকে খণ্ডন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল সঞ্চালক যেন মঞ্চ ছেড়েই চলে গেছেন। এটি এমন কিছু নতুন নিয়মের ফল ছিল যা একটি গভীর ও মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল।"<ref>http://www.nytimes.com/2012/10/04/us/politics/obama-and-romney-hold-first-debate.html?pagewanted=all&_r=0</ref> ====বিতর্কের গুরুত্ব==== পরিস্থিতি অনেক সময় খুব উত্তপ্ত ছিল। প্রতিটি প্রার্থী তাদের সেরা ক্ষমতা দিয়ে বিতর্ক করেছিলেন। এ ধরনের তীব্র বিতর্ক নির্বাচনের জন্য দারুণ। কারণ এটি ক্ষমতাসীন এবং চ্যালেঞ্জারের মধ্যে এক দুর্দান্ত লড়াই। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মতো নেতিবাচক প্রচারণার কৌশলগুলো বিতর্কের ময়দানে কোনো কাজে আসে না। এখানেই তারা তাদের নীতির ওপর আস্থা দেখাতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়ে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তাও দেখাতে পারেন। এমন একটি রোমাঞ্চকর বিতর্কের পরও প্রতিটি প্রচারণা দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেছিল। ==নেতিবাচকতা বৃদ্ধির কারণ== ২০১২ সালের নির্বাচনে নেতিবাচকতা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ ছিল প্রতিটি প্রার্থীর প্রচারণার ভিত্তি। ক্ষমতাসীন ওবামা নতুন কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রচার করতে পারেননি। কারণ ক্ষমতায় তার আগের চার বছরে অর্থনীতি ভালো অবস্থানে ছিল না। "পলিটিকো"তে ডোনোভান স্ল্যাকের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "ওবামা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর ভিত্তি করে লড়তে পারেননি। তার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর কয়েকটি, যেমন তার স্বাস্থ্যসেবা আইন, জরিপে অজনপ্রিয় ছিল।" স্ল্যাক আরও বলেন, "রমনি ক্ষমতাসীনকে বরখাস্ত করতে মার্কিনিদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে নিজের বিষয়ে খুব একটা বিস্তারিত কিছু জানাননি।" [http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html%20 http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ] ===ক্ষতিকর প্রভাব=== এই কারণে দুই প্রার্থীই নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের দিকে ঝোঁকার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। তারা ঐতিহাসিকভাবেই এমনটা করেছিলেন। এসব কাজ শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার অখণ্ডতাই নষ্ট করে না। সামগ্রিকভাবে মার্কিন নাগরিকরাও পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেছেন। সিএনএনের লেখক বব গ্রিনের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "২০০৮ সালে সম্ভাব্য ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল উভয় প্রার্থীই ভালো প্রেসিডেন্ট হবেন কি না। তখন ২৫% হ্যাঁ বলেছিলেন। এই বছর (২০১২) একই প্রশ্ন করা হলে মাত্র ১২% হ্যাঁ বলেছেন।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging গ্রিন বর্তমান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনকে যুদ্ধের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। তিনি বলেন যে যুদ্ধে উভয় পক্ষই যদি জানে তারা একে অপরকে ধ্বংস করতে পারে, তবে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু রাজনীতিতে উভয় পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। তারা সব সময় ওপরের দিকে থাকার জন্য চাপ দেয়। গ্রিন বলেন, "নির্বাচনে জিততে যেকোনো উপায় ব্যবহারের ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত একজন প্রেসিডেন্ট তৈরি করবেই। কিন্তু এরপর সেই প্রেসিডেন্টকে এমন এক জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে যারা পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছে।" যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই একটি বিষয় জানা যায়। একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে মার্কিন জনগণ এবং এর নেতার মধ্যে আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন তার নিবন্ধে আমাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিতা জন অ্যাডামসকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, "সব স্তরের কর্তৃপক্ষের জন্য শালীনতা, সম্মান ও শ্রদ্ধা থাকতে হবে, নইলে আমরা শেষ হয়ে যাব। জনপ্রিয় সরকারে এটাই আমাদের একমাত্র পথ।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging এই উদ্ধৃতিটি সরাসরি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ==জনপরিসরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব== জনপরিসর হলো কথোপকথনের একটি স্থান এবং এটি মার্কিন সংস্কৃতিকে পুরোপুরি ধারণ করে। "জনপরিসর" শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাস। তিনি এটিকে এমন একটি কথোপকথনের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে জনমত তৈরি হয়। আজকের বিশ্বে জনপরিসর প্রযুক্তি দ্বারা নানাভাবে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনগুলো কার প্রচারণার বিজ্ঞাপন ভালো এবং কে বেশি টাকা খরচ করে, তা ঘিরেই আবর্তিত হয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে অর্ধেকেরও বেশি প্রচারণার বিজ্ঞাপন কোনো না কোনোভাবে অবমাননাকর। ফলে মার্কিন নাগরিকরা কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করবেন তা নিয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। ভোটারদের কারসাজি করা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের সমর্থিত কোনো কৌশল নয়। এই প্রবণতা চলতে থাকলে আমাদের দেশ আর ঐক্যবদ্ধ থাকবে না। এটি "আমরা বনাম তারা" মানসিকতায় পরিণত হবে এবং আমরা বিভক্ত হয়ে পড়ব। নেতিবাচকতার এই প্রবণতার জন্য কি শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীরাই দায়ী? একদমই না। নিউজ স্টেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই পতনে বিশাল ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, "বোল্ড রিপাবলিক" নামে একটি কট্টর রিপাবলিকান গোষ্ঠী একটি ভাইরাল ইউটিউব ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে শহরের অশিক্ষিত নাগরিকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তারা সাধারণ প্রশ্ন করেছিল যেমন, "আপনারা কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন?" একজন ব্যক্তি এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "দেখা যাক, তারা যা দিতে চায় তাই। আমি তো জানিও না, তাদের কাছে তো আর কোনো চেকলিস্ট নেই।" এই ভিডিওটি প্রার্থীর অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অপপ্রচারের একটি চরম উদাহরণ। এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত করছে। এসব সমস্যা চলতে থাকায় এটি আমার কাছে স্পষ্ট যে একজন ভালো প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জনপরিসরে একটি বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। ==তথ্যসূত্র== {{reflist}} {{BookCat}} ovzlwx4hlph3mvnxudkz8ik9tmahr90 বুলিয়ান বীজগণিত ও সংখ্যা পদ্ধতি/গ্রে কোড 0 33339 106597 106579 2026-06-09T17:09:46Z R1F4T 9121 test 106597 wikitext text/x-wiki '''গ্রে কোড''' হলো এমন একটি বাইনারি কোড পদ্ধতি যেখানে পরপর দুটো সংখ্যার মধ্যে মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়। সাধারণ বাইনারিতে ৭ (০১১১) থেকে ৮ (১০০০)-এ যেতে চারটি বিট একসাথে পরিবর্তন হয়, কিন্তু গ্রে কোডে সবসময় একটিমাত্র বিট পরিবর্তন হয়। এই বিশেষ গুণের কারণে গ্রে কোড শিল্প নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সার্কিটে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। '''গ্রে কোড''' হলো এমন একটি বাইনারি কোড পদ্ধতি যেখানে পরপর দুটো সংখ্যার মধ্যে মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়। সাধারণ বাইনারিতে ৭ (০১১১) থেকে ৮ (১০০০)-এ যেতে চারটি বিট একসাথে পরিবর্তন হয়, কিন্তু গ্রে কোডে সবসময় একটিমাত্র বিট পরিবর্তন হয়। এই বিশেষ গুণের কারণে গ্রে কোড শিল্প নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সার্কিটে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। == ভূমিকা: কেন গ্রে কোড দরকার? == === সিঁড়ি দিয়ে ওঠার উপমা === ধরো তুমি সিঁড়ি দিয়ে উঠছ। প্রতিটি ধাপে তুমি একটি পা সামনে রাখো। দুটো পা একসাথে তোলো না। কারণ একসাথে দুটো পা তুললে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। গ্রে কোডও এই নীতিতে কাজ করে। একটা সংখ্যা থেকে পরের সংখ্যায় যেতে মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়, যেন এক পায়ে ধাপ বাড়ানো। === সাধারণ বাইনারির সমস্যা === সাধারণ বাইনারি কাউন্টারে ৭ থেকে ৮-এ যেতে চারটি বিট একসাথে পরিবর্তন হয়: <math>\text{০১১১} \rightarrow \text{১০০০}</math>। হার্ডওয়্যারে এই পরিবর্তন মুহূর্তে ক্ষণিকের জন্য ভুল মান দেখা দিতে পারে। যেমন ০১১১ থেকে ১০০০-এ যাওয়ার পথে ০১১০, ০১০০, ০০০০ এইসব মাঝামাঝি অবস্থা আসতে পারে। যদি কোনো যন্ত্র এই মুহূর্তে পাঠ নেয়, ভুল তথ্য পাবে। গ্রে কোডে প্রতিটি পরিবর্তনে মাত্র একটি বিট বদলায়, তাই এই ভুলের সম্ভাবনা থাকে না। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:90%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | সাধারণ বাইনারি ও গ্রে কোডের তুলনা ! style="background:#3498DB; color:white;" | দশমিক !! style="background:#E74C3C; color:white;" | বাইনারি !! style="background:#27AE60; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#8E44AD; color:white;" | পরিবর্তিত বিট (গ্রেতে) |- | <math>\text{০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || শুরু |- | <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০০১}</math> || <math>\text{০০০১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{২}</math> || <math>\text{০০১০}</math> || <math>\text{০০১১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০০১১}</math> || <math>\text{০০১০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৪}</math> || <math>\text{০১০০}</math> || <math>\text{০১১০}</math> || বিট ২ |- | <math>\text{৫}</math> || <math>\text{০১০১}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৬}</math> || <math>\text{০১১০}</math> || <math>\text{০১০১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{৭}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || <math>\text{০১০০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৮}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || বিট ৩ |- | <math>\text{৯}</math> || <math>\text{১০০১}</math> || <math>\text{১১০১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১০}</math> || <math>\text{১০১০}</math> || <math>\text{১১১১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{১১}</math> || <math>\text{১০১১}</math> || <math>\text{১১১০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১২}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || <math>\text{১০১০}</math> || বিট ২ |- | <math>\text{১৩}</math> || <math>\text{১১০১}</math> || <math>\text{১০১১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১৪}</math> || <math>\text{১১১০}</math> || <math>\text{১০০১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{১৫}</math> || <math>\text{১১১১}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || বিট ০ |} == গ্রে কোডের ইতিহাস == === ফ্র্যাংক গ্রে-এর অবদান === গ্রে কোডের নামকরণ হয়েছে আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ফ্র্যাংক গ্রে-এর নামে। তিনি ১৯৫৩ সালে বেল ল্যাবসে কাজ করার সময় এই কোড ব্যবস্থা পেটেন্ট করেন। তবে এই ধারণাটা আরো আগে থেকে ছিল। ফরাসি গণিতবিদ এমিল বোডো ১৮৮০-এর দশকে টেলিগ্রাফ সার্কিটে একই ধরনের কোড ব্যবহার করেছিলেন। === প্রথম ব্যবহার === গ্রে কোড প্রথমে টেলিভিশন সংকেত পাঠানোয় ব্যবহার হয়েছিল। পরে এটি রোটারি এনকোডার, কার্নো মানচিত্র এবং ত্রুটি সংশোধনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। == বাইনারি থেকে গ্রে কোড রূপান্তর == === প্রতিবেশী বিট XOR পদ্ধতি === বাইনারি <math>B = B_{n-1} B_{n-2} \cdots B_1 B_0</math> থেকে গ্রে কোড <math>G = G_{n-1} G_{n-2} \cdots G_1 G_0</math>: :<math>G_{n-1} = B_{n-1}</math> :<math>G_i = B_{i+1} \oplus B_i</math> (বাকি সব বিটের জন্য) সবচেয়ে বাম দিকের বিট অপরিবর্তিত থাকে। বাকি প্রতিটি বিট তার বাম প্রতিবেশী এবং নিজের XOR। === উদাহরণ ১: বাইনারি ১০১১ থেকে গ্রে কোড === {| class="wikitable" style="text-align:center; width:82%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | ১০১১ থেকে গ্রে কোড ! style="background:#3498DB; color:white;" | ধাপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | হিসাব !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে বিট |- | <math>G_3</math> || <math>B_3 = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_2</math> || <math>B_3 \oplus B_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_1</math> || <math>B_2 \oplus B_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_0</math> || <math>B_1 \oplus B_0 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> || <math>\text{০}</math> |} গ্রে কোড: <math>\text{১১১০}</math>। === উদাহরণ ২: বাইনারি ১১০১০ থেকে গ্রে কোড === :<math>G_4 = B_4 = \text{১}</math> :<math>G_3 = B_4 \oplus B_3 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>G_2 = B_3 \oplus B_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_1 = B_2 \oplus B_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>G_0 = B_1 \oplus B_0 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> গ্রে কোড: <math>\text{১০১১১}</math>। === দ্রুত পদ্ধতি === বাইনারি সংখ্যাকে এক বিট ডানে শিফট করো। তারপর মূল সংখ্যার সাথে XOR করো। <math>G = B \oplus (B >> 1)</math> উদাহরণ: ১০১১ → G = ১০১১ XOR ০১০১ = ১১১০। == গ্রে কোড থেকে বাইনারি রূপান্তর == === ক্রমানুসারে XOR পদ্ধতি === গ্রে কোড <math>G</math> থেকে বাইনারি <math>B</math>: :<math>B_{n-1} = G_{n-1}</math> :<math>B_i = B_{i+1} \oplus G_i</math> সবচেয়ে বাম বিট অপরিবর্তিত। বাকি প্রতিটি বিট: আগের বাইনারি বিট XOR বর্তমান গ্রে বিট। === উদাহরণ ১: গ্রে কোড ১১১০ থেকে বাইনারি === {| class="wikitable" style="text-align:center; width:82%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | গ্রে ১১১০ থেকে বাইনারি ! style="background:#3498DB; color:white;" | ধাপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | হিসাব !! style="background:#E74C3C; color:white;" | বাইনারি বিট |- | <math>B_3</math> || <math>G_3 = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>B_2</math> || <math>B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> || <math>\text{০}</math> |- | <math>B_1</math> || <math>B_2 \oplus G_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>B_0</math> || <math>B_1 \oplus G_0 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |} বাইনারি: <math>\text{১০১১}</math>। যাচাই: ১০১১ থেকে গ্রে = ১১১০। সঠিক! === উদাহরণ ২: গ্রে কোড ১০১১১ থেকে বাইনারি === :<math>B_4 = G_4 = \text{১}</math> :<math>B_3 = B_4 \oplus G_3 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> বাইনারি: <math>\text{১১০১০}</math>। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:80%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | দ্রুত রূপান্তর সারণি ! style="background:#3498DB; color:white;" | বাইনারি !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#27AE60; color:white;" | যাচাই (গ্রে→বাইনারি) |- | <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> |- | <math>\text{০১০১}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || <math>\text{০১০১}</math> |- | <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || <math>\text{১০০০}</math> |- | <math>\text{১১১১}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১১১}</math> |} == গ্রে কোডের বিশেষ গুণ == === প্রতিফলন সম্পত্তি === গ্রে কোড তৈরি হয় একটি প্রতিফলন প্রক্রিয়ায়। এই কারণেই এটাকে কখনো কখনো প্রতিফলিত বাইনারি কোডও বলা হয়। <math>n</math> বিটের গ্রে কোড তৈরি হয়: ধাপ ১: <math>(n-1)</math> বিটের গ্রে কোড নাও। ধাপ ২: উল্টো ক্রমে লেখো (প্রতিফলন)। ধাপ ৩: মূল তালিকার প্রতিটিতে ০ এবং প্রতিফলিত তালিকার প্রতিটিতে ১ যোগ করো। <code> ১ বিট: ০, ১ ২ বিট: ০০, ০১, ১১, ১০ ৩ বিট: ০০০, ০০১, ০১১, ০১০, ১১০, ১১১, ১০১, ১০০ </code> === চক্রাকার সম্পত্তি === গ্রে কোডের শেষ মান এবং প্রথম মানের মধ্যেও মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়। ৩ বিটে: শেষ মান ১০০ (দশমিক ৭) থেকে প্রথম মান ০০০ (দশমিক ০)-এ যেতে মাত্র এক বিট পরিবর্তন। এই গুণের কারণে গ্রে কোড ঘূর্ণনশীল যন্ত্রে আদর্শ। === স্বয়ংপরিপূরক সম্পত্তি === <math>n</math> বিটের গ্রে কোডে, যে সংখ্যার গ্রে কোড নেওয়া হয় এবং তার পরিপূরক (দশমিকে <math>2^n - 1 - x</math>) এর গ্রে কোডের মধ্যে কেবল সর্বোচ্চ বিট আলাদা। == গ্রে কোড ও কার্নো মানচিত্র == === কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোডের ভূমিকা === বুলিয়ান বীজগণিত সরলীকরণের জনপ্রিয় পদ্ধতি কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোড ব্যবহার করা হয়। কার্নো মানচিত্রে সারি ও কলামের লেবেল গ্রে কোড ক্রমে সাজানো হয়: {| class="wikitable" style="text-align:center; width:75%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | দুই চলকের কার্নো মানচিত্র ! style="background:#3498DB; color:white;" | !! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>B=\text{০}</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>B=\text{১}</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A=\text{০}</math> || <math>m_0</math> || <math>m_1</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A=\text{১}</math> || <math>m_2</math> || <math>m_3</math> |} {| class="wikitable" style="text-align:center; width:85%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | চার চলকের কার্নো মানচিত্রের লেবেল ! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>AB \backslash CD</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ || <math>m_0</math> || <math>m_1</math> || <math>m_3</math> || <math>m_2</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ || <math>m_4</math> || <math>m_5</math> || <math>m_7</math> || <math>m_6</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ || <math>m_{12}</math> || <math>m_{13}</math> || <math>m_{15}</math> || <math>m_{14}</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ || <math>m_8</math> || <math>m_9</math> || <math>m_{11}</math> || <math>m_{10}</math> |} লেবেলগুলো গ্রে কোড ক্রমে: ০০, ০১, ১১, ১০। পাশের যেকোনো দুটো ঘরে কেবল একটি চলক আলাদা। === কেন গ্রে কোড ব্যবহার হয়? === কার্নো মানচিত্রে পাশের ঘরগুলো একটি মিনটার্ম দল তৈরি করতে পারে যদি তারা একটি চলকে আলাদা হয়। গ্রে কোড ক্রমে সাজানো থাকায় পাশের প্রতিটি ঘর ঠিক একটি চলকে আলাদা। তাই সহজে দল বানানো যায়। == রোটারি এনকোডারে গ্রে কোড == === ঘূর্ণনশীল যন্ত্রের উপমা === কারখানায় একটা মোটর ঘুরছে। মোটরের শ্যাফট কত ডিগ্রি ঘুরেছে তা জানতে হবে। একটা ডিস্কে বিভিন্ন সংকেত এঁকে মোটরের সাথে লাগানো হয়। ডিস্ক ঘুরলে সেন্সর সংকেত পড়ে এবং কোণ জানা যায়। যদি সাধারণ বাইনারি ব্যবহার হয়: ৩ (০১১) থেকে ৪ (১০০)-এ যাওয়ার মুহূর্তে ডিস্কের তিনটি ট্র্যাক একসাথে পরিবর্তন হয়। সেন্সর ঠিক সেই মুহূর্তে পড়লে ০০০ বা ১১১ বা যেকোনো ভুল মান পাবে। গ্রে কোডে শুধু একটা ট্র্যাক পরিবর্তন হয়। তাই ভুল পড়ার সম্ভাবনা শূন্য। === রোটারি এনকোডারের গঠন === একটা ডিস্কে কয়েকটা বৃত্তাকার ট্র্যাক আছে। প্রতিটি ট্র্যাকে স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ অংশ আছে (১ ও ০)। ট্র্যাকের সংখ্যা বিটের সংখ্যার সমান। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:85%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | রোটারি এনকোডারের গ্রে কোড অবস্থান ! style="background:#3498DB; color:white;" | কোণ (ডিগ্রি) !! style="background:#3498DB; color:white;" | দশমিক অবস্থান !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#27AE60; color:white;" | পরিবর্তিত ট্র্যাক |- | <math>\text{০}</math> || <math>\text{০}</math> || <math>\text{০০০}</math> || শুরু |- | <math>\text{৪৫}</math> || <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০১}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{৯০}</math> || <math>\text{২}</math> || <math>\text{০১১}</math> || ট্র্যাক ২ |- | <math>\text{১৩৫}</math> || <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০১০}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{১৮০}</math> || <math>\text{৪}</math> || <math>\text{১১০}</math> || ট্র্যাক ৩ |- | <math>\text{২২৫}</math> || <math>\text{৫}</math> || <math>\text{১১১}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{২৭০}</math> || <math>\text{৬}</math> || <math>\text{১০১}</math> || ট্র্যাক ২ |- | <math>\text{৩১৫}</math> || <math>\text{৭}</math> || <math>\text{১০০}</math> || ট্র্যাক ১ |} == গ্রে কোডের বাস্তব প্রয়োগ == === শিল্প নিয়ন্ত্রণ === কারখানার রোবোটিক বাহু, সিএনসি মেশিন, লিফট নিয়ন্ত্রণ এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনে গ্রে কোড এনকোডার ব্যবহার হয়। একটা গাড়ির কারখানায় রোবোটিক বাহু ঠিকঠাক কোণে বাঁকতে পারছে কিনা তা গ্রে কোড এনকোডার দিয়ে পরিমাপ হয়। === যোগাযোগ ব্যবস্থা === ডিজিটাল যোগাযোগে ত্রুটি সংশোধনে গ্রে কোড ব্যবহার হয়। যখন সংকেত দুর্বল হয় এবং একটি বিট ভুল হয়, গ্রে কোডে সেই ভুলের প্রভাব সর্বনিম্ন। === অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর === অনেক অ্যানালগ-থেকে-ডিজিটাল রূপান্তরক গ্রে কোড ব্যবহার করে। কারণ রূপান্তরের সময় গ্রে কোডে কোয়ান্টাইজেশন ত্রুটি কম। === ভিডিও গেম ও গ্রাফিক্স === কিছু ভিডিও গেমে এবং কম্পিউটার গ্রাফিক্সে ডিদারিং অ্যালগরিদমে গ্রে কোডের ধারণা ব্যবহার হয়। {| class="wikitable" style="text-align:left; width:90%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | গ্রে কোডের বাস্তব প্রয়োগ ! style="background:#27AE60; color:white; width:30%;" | ক্ষেত্র !! style="background:#27AE60; color:white; width:70%;" | কেন গ্রে কোড ব্যবহার হয় |- | রোটারি এনকোডার || একটি বিট পরিবর্তনে ভুল পড়া হয় না |- | কার্নো মানচিত্র || পাশের ঘরগুলো একটি চলকে আলাদা |- | ত্রুটি সংশোধন || একটি বিট ভুল হলে মান সামান্য পরিবর্তিত হয় |- | এডিসি সার্কিট || রূপান্তরের সময় বড় লাফ হয় না |- | পাজল সমাধান || হ্যানয়ের টাওয়ার পাজলের ন্যূনতম পদক্ষেপ |} == গ্রে কোড ও হ্যানয়ের টাওয়ার == === একটি চমকপ্রদ সংযোগ === হ্যানয়ের টাওয়ার একটি বিখ্যাত গাণিতিক পাজল। <math>n</math>টি চাকতি এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটিতে সরাতে হয়, একটা বড় চাকতির উপর ছোট চাকতি রাখা যাবে না। দারুণ সংযোগ হলো: <math>n</math> চাকতির হ্যানয়ের টাওয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপ ঠিক <math>n</math> বিটের গ্রে কোডের একটি পরিবর্তনের সমতুল্য। <math>n=3</math> চাকতির ক্ষেত্রে ৭টি পদক্ষেপ লাগে। এবং তিন বিটের গ্রে কোডে ০ থেকে ৭ পর্যন্ত ৭টি পরিবর্তন আছে। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:80%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | হ্যানয়ের টাওয়ার ও গ্রে কোডের সংযোগ (৩ চাকতি) ! style="background:#3498DB; color:white;" | পদক্ষেপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#E74C3C; color:white;" | পরিবর্তিত বিট !! style="background:#27AE60; color:white;" | কোন চাকতি সরানো হয় |- | শুরু || <math>\text{০০০}</math> || || প্রাথমিক অবস্থা |- | <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০১}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{২}</math> || <math>\text{০১১}</math> || বিট ১ || মাঝের চাকতি |- | <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০১০}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{৪}</math> || <math>\text{১১০}</math> || বিট ২ || সবচেয়ে বড় চাকতি |- | <math>\text{৫}</math> || <math>\text{১১১}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{৬}</math> || <math>\text{১০১}</math> || বিট ১ || মাঝের চাকতি |- | <math>\text{৭}</math> || <math>\text{১০০}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |} == বিস্তারিত উদাহরণ == === উদাহরণ ১: ৫ বিটের গ্রে কোড তালিকা তৈরি === ৪ বিটের গ্রে কোড থেকে ৫ বিটের তৈরি করো। ৪ বিটের গ্রে কোড (ক্রম): ০০০০, ০০০১, ০০১১, ০০১০, ০১১০, ০১১১, ০১০১, ০১০০, ১১০০, ১১০১, ১১১১, ১১১০, ১০১০, ১০১১, ১০০১, ১০০০। ৫ বিটের তৈরি: * মূল তালিকায় সামনে ০ যোগ করো। * উল্টো তালিকায় সামনে ১ যোগ করো। প্রথম ১৬টি (সামনে ০): ০০০০০, ০০০০১, ০০০১১, ০০০১০, ০০১১০, ০০১১১, ০০১০১, ০০১০০, ০১১০০, ০১১০১, ০১১১১, ০১১১০, ০১০১০, ০১০১১, ০১০০১, ০১০০০। পরের ১৬টি (সামনে ১, উল্টো ক্রমে): ১১০০০, ১১০০১, ১১০১১, ১১০১০, ১১১১০, ১১১১১, ১১১০১, ১১১০০, ১০১০০, ১০১০১, ১০১১১, ১০১১০, ১০০১০, ১০০১১, ১০০০১, ১০০০০। === উদাহরণ ২: গ্রে কোড দিয়ে কার্নো মানচিত্র সরলীকরণ === ফাংশন <math>F(A, B, C) = \sum m(1, 2, 3, 5, 7)</math> সরলীকরণ করো। কার্নো মানচিত্র: {| class="wikitable" style="text-align:center; width:75%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | তিন চলকের কার্নো মানচিত্র ! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A \backslash BC</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০ || ০ || ১ || ১ || ১ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১ || ০ || ১ || ১ || ০ |} গ্রে কোড ক্রমে: BC = ০০, ০১, ১১, ১০। দল ১: মিনটার্ম ১, ৩, ৫, ৭ (BC=০১ ও BC=১১ উভয় সারিতে)। এরা <math>B</math>-এর দল। <math>B = 1</math>। দল ২: মিনটার্ম ২, ৩ (A=০, BC=১১ ও BC=১০)। <math>A = 0, C = 1</math>। অপেক্ষা, BC=১০ হলো মিনটার্ম ২ (ABC=010)। BC=১১ হলো মিনটার্ম ৩ (ABC=011)। মিনটার্ম ১=001, ২=010, ৩=011, ৫=101, ৭=111। দল ১: ১, ৩, ৫, ৭। সবগুলোতে C=1। <math>F \supseteq C</math>। দল ২: ২, ৩। এরা A=0, B=1। <math>F \supseteq \overline{A}B</math>। সরলীকৃত: <math>F = C + \overline{A}B</math>। === উদাহরণ ৩: রোটারি এনকোডার অবস্থান বের করা === একটি ৪ বিটের রোটারি এনকোডার গ্রে কোড ১০১১ পাঠাচ্ছে। এটা কত ডিগ্রি বোঝায়? প্রথমে গ্রে কোড ১০১১ থেকে বাইনারি বের করো। <math>B_3 = G_3 = \text{১}</math>। <math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math>। <math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math>। <math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math>। বাইনারি: ১১০১ = ১৩। ৪ বিটের এনকোডারে মোট ১৬টি অবস্থান। প্রতিটি অবস্থান = ৩৬০/১৬ = ২২.৫ ডিগ্রি। কোণ = ১৩ × ২২.৫ = ২৯২.৫ ডিগ্রি। == অনুশীলনী == '''১.''' বাইনারি ১১০১০১ থেকে গ্রে কোড বের করো। '''উত্তর:''' :<math>G_5 = B_5 = \text{১}</math> :<math>G_4 = B_5 \oplus B_4 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>G_3 = B_4 \oplus B_3 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_2 = B_3 \oplus B_2 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>G_1 = B_2 \oplus B_1 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_0 = B_1 \oplus B_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> গ্রে কোড: <math>\text{১০১১১১}</math>। '''২.''' গ্রে কোড ১০১১১১ থেকে বাইনারি বের করো। '''উত্তর:''' :<math>B_5 = G_5 = \text{১}</math> :<math>B_4 = B_5 \oplus G_4 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>B_3 = B_4 \oplus G_3 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> বাইনারি: <math>\text{১১০১০১}</math>। যাচাই: ১১০১০১ থেকে গ্রে = ১০১১১১। সঠিক! '''৩.''' কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোড কেন ব্যবহার হয়? '''উত্তর:''' কার্নো মানচিত্রে পাশের ঘরগুলো একটি মিনটার্ম দল তৈরি করতে পারে যদি তারা ঠিক একটি চলকে আলাদা হয়। গ্রে কোড ক্রমে লেবেল সাজালে পাশের প্রতিটি ঘর ঠিক একটি চলকে আলাদা থাকে। তাই সহজে দল বানানো যায় এবং বুলিয়ান ফাংশন সরলীকরণ সহজ হয়। '''৪.''' সাধারণ বাইনারি কাউন্টারের চেয়ে গ্রে কোড কাউন্টার কোন ক্ষেত্রে ভালো? '''উত্তর:''' যেখানে কাউন্টারের আউটপুট সরাসরি যন্ত্রের অবস্থান বা কোণ নির্ধারণ করে। সাধারণ বাইনারিতে একাধিক বিট একসাথে পরিবর্তন হলে ক্ষণিকের জন্য ভুল মান পড়া যেতে পারে। গ্রে কোডে একটিমাত্র বিট পরিবর্তন হয়, তাই ভুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। রোটারি এনকোডার, লিফট নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প যন্ত্রপাতিতে গ্রে কোড আদর্শ। '''৫.''' ৩ বিটের গ্রে কোডে ৫ (দশমিক) এর গ্রে কোড বের করো এবং এর আগের ও পরের গ্রে কোডের সাথে তুলনা করো। '''উত্তর:''' ৫ = ১০১ বাইনারি। :<math>G_2 = \text{১}, G_1 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}, G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> গ্রে কোড ৫ = ১১১। ৪ = ১০০ বাইনারি। গ্রে কোড ৪: <math>G_2=\text{১}, G_1=\text{১}\oplus\text{০}=\text{১}, G_0=\text{০}\oplus\text{০}=\text{০}</math> = ১১০। ৬ = ১১০ বাইনারি। গ্রে কোড ৬: <math>G_2=\text{১}, G_1=\text{১}\oplus\text{১}=\text{০}, G_0=\text{১}\oplus\text{০}=\text{১}</math> = ১০১। তুলনা: * ৪ → ৫: ১১০ → ১১১। বিট ০ পরিবর্তন। মাত্র ১ বিট। * ৫ → ৬: ১১১ → ১০১। বিট ১ পরিবর্তন। মাত্র ১ বিট। সঠিক! প্রতিটি ধাপে একটিমাত্র বিট পরিবর্তন। [[{{BOOKCATEGORY}}]] dykm022olqt2eioffr5ojuz61by367s 106598 106597 2026-06-09T17:22:15Z R1F4T 9121 106598 wikitext text/x-wiki '''গ্রে কোড''' হলো এমন একটি বাইনারি কোড পদ্ধতি যেখানে পরপর দুটো সংখ্যার মধ্যে মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়। সাধারণ বাইনারিতে ৭ (০১১১) থেকে ৮ (১০০০)-এ যেতে চারটি বিট একসাথে পরিবর্তন হয়, কিন্তু গ্রে কোডে সবসময় একটিমাত্র বিট পরিবর্তন হয়। এই বিশেষ গুণের কারণে গ্রে কোড শিল্প নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সার্কিটে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। == ভূমিকা: কেন গ্রে কোড দরকার? == === সিঁড়ি দিয়ে ওঠার উপমা === ধরো তুমি সিঁড়ি দিয়ে উঠছ। প্রতিটি ধাপে তুমি একটি পা সামনে রাখো। দুটো পা একসাথে তোলো না। কারণ একসাথে দুটো পা তুললে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। গ্রে কোডও এই নীতিতে কাজ করে। একটা সংখ্যা থেকে পরের সংখ্যায় যেতে মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়, যেন এক পায়ে ধাপ বাড়ানো। === সাধারণ বাইনারির সমস্যা === সাধারণ বাইনারি কাউন্টারে ৭ থেকে ৮-এ যেতে চারটি বিট একসাথে পরিবর্তন হয়: <math>\text{০১১১} \rightarrow \text{১০০০}</math>। হার্ডওয়্যারে এই পরিবর্তন মুহূর্তে ক্ষণিকের জন্য ভুল মান দেখা দিতে পারে। যেমন ০১১১ থেকে ১০০০-এ যাওয়ার পথে ০১১০, ০১০০, ০০০০ এইসব মাঝামাঝি অবস্থা আসতে পারে। যদি কোনো যন্ত্র এই মুহূর্তে পাঠ নেয়, ভুল তথ্য পাবে। গ্রে কোডে প্রতিটি পরিবর্তনে মাত্র একটি বিট বদলায়, তাই এই ভুলের সম্ভাবনা থাকে না। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:90%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | সাধারণ বাইনারি ও গ্রে কোডের তুলনা ! style="background:#3498DB; color:white;" | দশমিক !! style="background:#E74C3C; color:white;" | বাইনারি !! style="background:#27AE60; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#8E44AD; color:white;" | পরিবর্তিত বিট (গ্রেতে) |- | <math>\text{০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || শুরু |- | <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০০১}</math> || <math>\text{০০০১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{২}</math> || <math>\text{০০১০}</math> || <math>\text{০০১১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০০১১}</math> || <math>\text{০০১০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৪}</math> || <math>\text{০১০০}</math> || <math>\text{০১১০}</math> || বিট ২ |- | <math>\text{৫}</math> || <math>\text{০১০১}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৬}</math> || <math>\text{০১১০}</math> || <math>\text{০১০১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{৭}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || <math>\text{০১০০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৮}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || বিট ৩ |- | <math>\text{৯}</math> || <math>\text{১০০১}</math> || <math>\text{১১০১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১০}</math> || <math>\text{১০১০}</math> || <math>\text{১১১১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{১১}</math> || <math>\text{১০১১}</math> || <math>\text{১১১০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১২}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || <math>\text{১০১০}</math> || বিট ২ |- | <math>\text{১৩}</math> || <math>\text{১১০১}</math> || <math>\text{১০১১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১৪}</math> || <math>\text{১১১০}</math> || <math>\text{১০০১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{১৫}</math> || <math>\text{১১১১}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || বিট ০ |} == গ্রে কোডের ইতিহাস == === ফ্র্যাংক গ্রে-এর অবদান === গ্রে কোডের নামকরণ হয়েছে আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ফ্র্যাংক গ্রে-এর নামে। তিনি ১৯৫৩ সালে বেল ল্যাবসে কাজ করার সময় এই কোড ব্যবস্থা পেটেন্ট করেন। তবে এই ধারণাটা আরো আগে থেকে ছিল। ফরাসি গণিতবিদ এমিল বোডো ১৮৮০-এর দশকে টেলিগ্রাফ সার্কিটে একই ধরনের কোড ব্যবহার করেছিলেন। === প্রথম ব্যবহার === গ্রে কোড প্রথমে টেলিভিশন সংকেত পাঠানোয় ব্যবহার হয়েছিল। পরে এটি রোটারি এনকোডার, কার্নো মানচিত্র এবং ত্রুটি সংশোধনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। == বাইনারি থেকে গ্রে কোড রূপান্তর == === প্রতিবেশী বিট XOR পদ্ধতি === বাইনারি <math>B = B_{n-1} B_{n-2} \cdots B_1 B_0</math> থেকে গ্রে কোড <math>G = G_{n-1} G_{n-2} \cdots G_1 G_0</math>: :<math>G_{n-1} = B_{n-1}</math> :<math>G_i = B_{i+1} \oplus B_i</math> (বাকি সব বিটের জন্য) সবচেয়ে বাম দিকের বিট অপরিবর্তিত থাকে। বাকি প্রতিটি বিট তার বাম প্রতিবেশী এবং নিজের XOR। === উদাহরণ ১: বাইনারি ১০১১ থেকে গ্রে কোড === {| class="wikitable" style="text-align:center; width:82%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | ১০১১ থেকে গ্রে কোড ! style="background:#3498DB; color:white;" | ধাপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | হিসাব !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে বিট |- | <math>G_3</math> || <math>B_3 = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_2</math> || <math>B_3 \oplus B_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_1</math> || <math>B_2 \oplus B_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_0</math> || <math>B_1 \oplus B_0 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> || <math>\text{০}</math> |} গ্রে কোড: <math>\text{১১১০}</math>। === উদাহরণ ২: বাইনারি ১১০১০ থেকে গ্রে কোড === :<math>G_4 = B_4 = \text{১}</math> :<math>G_3 = B_4 \oplus B_3 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>G_2 = B_3 \oplus B_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_1 = B_2 \oplus B_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>G_0 = B_1 \oplus B_0 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> গ্রে কোড: <math>\text{১০১১১}</math>। === দ্রুত পদ্ধতি === বাইনারি সংখ্যাকে এক বিট ডানে শিফট করো। তারপর মূল সংখ্যার সাথে XOR করো। <math>G = B \oplus (B >> 1)</math> উদাহরণ: ১০১১ → G = ১০১১ XOR ০১০১ = ১১১০। == গ্রে কোড থেকে বাইনারি রূপান্তর == === ক্রমানুসারে XOR পদ্ধতি === গ্রে কোড <math>G</math> থেকে বাইনারি <math>B</math>: :<math>B_{n-1} = G_{n-1}</math> :<math>B_i = B_{i+1} \oplus G_i</math> সবচেয়ে বাম বিট অপরিবর্তিত। বাকি প্রতিটি বিট: আগের বাইনারি বিট XOR বর্তমান গ্রে বিট। === উদাহরণ ১: গ্রে কোড ১১১০ থেকে বাইনারি === {| class="wikitable" style="text-align:center; width:82%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | গ্রে ১১১০ থেকে বাইনারি ! style="background:#3498DB; color:white;" | ধাপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | হিসাব !! style="background:#E74C3C; color:white;" | বাইনারি বিট |- | <math>B_3</math> || <math>G_3 = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>B_2</math> || <math>B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> || <math>\text{০}</math> |- | <math>B_1</math> || <math>B_2 \oplus G_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>B_0</math> || <math>B_1 \oplus G_0 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |} বাইনারি: <math>\text{১০১১}</math>। যাচাই: ১০১১ থেকে গ্রে = ১১১০। সঠিক! === উদাহরণ ২: গ্রে কোড ১০১১১ থেকে বাইনারি === :<math>B_4 = G_4 = \text{১}</math> :<math>B_3 = B_4 \oplus G_3 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> বাইনারি: <math>\text{১১০১০}</math>। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:80%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | দ্রুত রূপান্তর সারণি ! style="background:#3498DB; color:white;" | বাইনারি !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#27AE60; color:white;" | যাচাই (গ্রে→বাইনারি) |- | <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> |- | <math>\text{০১০১}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || <math>\text{০১০১}</math> |- | <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || <math>\text{১০০০}</math> |- | <math>\text{১১১১}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১১১}</math> |} == গ্রে কোডের বিশেষ গুণ == === প্রতিফলন সম্পত্তি === গ্রে কোড তৈরি হয় একটি প্রতিফলন প্রক্রিয়ায়। এই কারণেই এটাকে কখনো কখনো প্রতিফলিত বাইনারি কোডও বলা হয়। <math>n</math> বিটের গ্রে কোড তৈরি হয়: ধাপ ১: <math>(n-1)</math> বিটের গ্রে কোড নাও। ধাপ ২: উল্টো ক্রমে লেখো (প্রতিফলন)। ধাপ ৩: মূল তালিকার প্রতিটিতে ০ এবং প্রতিফলিত তালিকার প্রতিটিতে ১ যোগ করো। <code> ১ বিট: ০, ১ ২ বিট: ০০, ০১, ১১, ১০ ৩ বিট: ০০০, ০০১, ০১১, ০১০, ১১০, ১১১, ১০১, ১০০ </code> === চক্রাকার সম্পত্তি === গ্রে কোডের শেষ মান এবং প্রথম মানের মধ্যেও মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়। ৩ বিটে: শেষ মান ১০০ (দশমিক ৭) থেকে প্রথম মান ০০০ (দশমিক ০)-এ যেতে মাত্র এক বিট পরিবর্তন। এই গুণের কারণে গ্রে কোড ঘূর্ণনশীল যন্ত্রে আদর্শ। === স্বয়ংপরিপূরক সম্পত্তি === <math>n</math> বিটের গ্রে কোডে, যে সংখ্যার গ্রে কোড নেওয়া হয় এবং তার পরিপূরক (দশমিকে <math>2^n - 1 - x</math>) এর গ্রে কোডের মধ্যে কেবল সর্বোচ্চ বিট আলাদা। == গ্রে কোড ও কার্নো মানচিত্র == === কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোডের ভূমিকা === বুলিয়ান বীজগণিত সরলীকরণের জনপ্রিয় পদ্ধতি কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোড ব্যবহার করা হয়। কার্নো মানচিত্রে সারি ও কলামের লেবেল গ্রে কোড ক্রমে সাজানো হয়: {| class="wikitable" style="text-align:center; width:75%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | দুই চলকের কার্নো মানচিত্র ! style="background:#3498DB; color:white;" | !! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>B=\text{০}</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>B=\text{১}</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A=\text{০}</math> || <math>m_0</math> || <math>m_1</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A=\text{১}</math> || <math>m_2</math> || <math>m_3</math> |} {| class="wikitable" style="text-align:center; width:85%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | চার চলকের কার্নো মানচিত্রের লেবেল ! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>AB \backslash CD</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ || <math>m_0</math> || <math>m_1</math> || <math>m_3</math> || <math>m_2</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ || <math>m_4</math> || <math>m_5</math> || <math>m_7</math> || <math>m_6</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ || <math>m_{12}</math> || <math>m_{13}</math> || <math>m_{15}</math> || <math>m_{14}</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ || <math>m_8</math> || <math>m_9</math> || <math>m_{11}</math> || <math>m_{10}</math> |} লেবেলগুলো গ্রে কোড ক্রমে: ০০, ০১, ১১, ১০। পাশের যেকোনো দুটো ঘরে কেবল একটি চলক আলাদা। === কেন গ্রে কোড ব্যবহার হয়? === কার্নো মানচিত্রে পাশের ঘরগুলো একটি মিনটার্ম দল তৈরি করতে পারে যদি তারা একটি চলকে আলাদা হয়। গ্রে কোড ক্রমে সাজানো থাকায় পাশের প্রতিটি ঘর ঠিক একটি চলকে আলাদা। তাই সহজে দল বানানো যায়। == রোটারি এনকোডারে গ্রে কোড == === ঘূর্ণনশীল যন্ত্রের উপমা === কারখানায় একটা মোটর ঘুরছে। মোটরের শ্যাফট কত ডিগ্রি ঘুরেছে তা জানতে হবে। একটা ডিস্কে বিভিন্ন সংকেত এঁকে মোটরের সাথে লাগানো হয়। ডিস্ক ঘুরলে সেন্সর সংকেত পড়ে এবং কোণ জানা যায়। যদি সাধারণ বাইনারি ব্যবহার হয়: ৩ (০১১) থেকে ৪ (১০০)-এ যাওয়ার মুহূর্তে ডিস্কের তিনটি ট্র্যাক একসাথে পরিবর্তন হয়। সেন্সর ঠিক সেই মুহূর্তে পড়লে ০০০ বা ১১১ বা যেকোনো ভুল মান পাবে। গ্রে কোডে শুধু একটা ট্র্যাক পরিবর্তন হয়। তাই ভুল পড়ার সম্ভাবনা শূন্য। === রোটারি এনকোডারের গঠন === একটা ডিস্কে কয়েকটা বৃত্তাকার ট্র্যাক আছে। প্রতিটি ট্র্যাকে স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ অংশ আছে (১ ও ০)। ট্র্যাকের সংখ্যা বিটের সংখ্যার সমান। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:85%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | রোটারি এনকোডারের গ্রে কোড অবস্থান ! style="background:#3498DB; color:white;" | কোণ (ডিগ্রি) !! style="background:#3498DB; color:white;" | দশমিক অবস্থান !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#27AE60; color:white;" | পরিবর্তিত ট্র্যাক |- | <math>\text{০}</math> || <math>\text{০}</math> || <math>\text{০০০}</math> || শুরু |- | <math>\text{৪৫}</math> || <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০১}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{৯০}</math> || <math>\text{২}</math> || <math>\text{০১১}</math> || ট্র্যাক ২ |- | <math>\text{১৩৫}</math> || <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০১০}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{১৮০}</math> || <math>\text{৪}</math> || <math>\text{১১০}</math> || ট্র্যাক ৩ |- | <math>\text{২২৫}</math> || <math>\text{৫}</math> || <math>\text{১১১}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{২৭০}</math> || <math>\text{৬}</math> || <math>\text{১০১}</math> || ট্র্যাক ২ |- | <math>\text{৩১৫}</math> || <math>\text{৭}</math> || <math>\text{১০০}</math> || ট্র্যাক ১ |} == গ্রে কোডের বাস্তব প্রয়োগ == === শিল্প নিয়ন্ত্রণ === কারখানার রোবোটিক বাহু, সিএনসি মেশিন, লিফট নিয়ন্ত্রণ এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনে গ্রে কোড এনকোডার ব্যবহার হয়। একটা গাড়ির কারখানায় রোবোটিক বাহু ঠিকঠাক কোণে বাঁকতে পারছে কিনা তা গ্রে কোড এনকোডার দিয়ে পরিমাপ হয়। === যোগাযোগ ব্যবস্থা === ডিজিটাল যোগাযোগে ত্রুটি সংশোধনে গ্রে কোড ব্যবহার হয়। যখন সংকেত দুর্বল হয় এবং একটি বিট ভুল হয়, গ্রে কোডে সেই ভুলের প্রভাব সর্বনিম্ন। === অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর === অনেক অ্যানালগ-থেকে-ডিজিটাল রূপান্তরক গ্রে কোড ব্যবহার করে। কারণ রূপান্তরের সময় গ্রে কোডে কোয়ান্টাইজেশন ত্রুটি কম। === ভিডিও গেম ও গ্রাফিক্স === কিছু ভিডিও গেমে এবং কম্পিউটার গ্রাফিক্সে ডিদারিং অ্যালগরিদমে গ্রে কোডের ধারণা ব্যবহার হয়। {| class="wikitable" style="text-align:left; width:90%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | গ্রে কোডের বাস্তব প্রয়োগ ! style="background:#27AE60; color:white; width:30%;" | ক্ষেত্র !! style="background:#27AE60; color:white; width:70%;" | কেন গ্রে কোড ব্যবহার হয় |- | রোটারি এনকোডার || একটি বিট পরিবর্তনে ভুল পড়া হয় না |- | কার্নো মানচিত্র || পাশের ঘরগুলো একটি চলকে আলাদা |- | ত্রুটি সংশোধন || একটি বিট ভুল হলে মান সামান্য পরিবর্তিত হয় |- | এডিসি সার্কিট || রূপান্তরের সময় বড় লাফ হয় না |- | পাজল সমাধান || হ্যানয়ের টাওয়ার পাজলের ন্যূনতম পদক্ষেপ |} == গ্রে কোড ও হ্যানয়ের টাওয়ার == === একটি চমকপ্রদ সংযোগ === হ্যানয়ের টাওয়ার একটি বিখ্যাত গাণিতিক পাজল। <math>n</math>টি চাকতি এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটিতে সরাতে হয়, একটা বড় চাকতির উপর ছোট চাকতি রাখা যাবে না। দারুণ সংযোগ হলো: <math>n</math> চাকতির হ্যানয়ের টাওয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপ ঠিক <math>n</math> বিটের গ্রে কোডের একটি পরিবর্তনের সমতুল্য। <math>n=3</math> চাকতির ক্ষেত্রে ৭টি পদক্ষেপ লাগে। এবং তিন বিটের গ্রে কোডে ০ থেকে ৭ পর্যন্ত ৭টি পরিবর্তন আছে। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:80%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | হ্যানয়ের টাওয়ার ও গ্রে কোডের সংযোগ (৩ চাকতি) ! style="background:#3498DB; color:white;" | পদক্ষেপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#E74C3C; color:white;" | পরিবর্তিত বিট !! style="background:#27AE60; color:white;" | কোন চাকতি সরানো হয় |- | শুরু || <math>\text{০০০}</math> || || প্রাথমিক অবস্থা |- | <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০১}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{২}</math> || <math>\text{০১১}</math> || বিট ১ || মাঝের চাকতি |- | <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০১০}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{৪}</math> || <math>\text{১১০}</math> || বিট ২ || সবচেয়ে বড় চাকতি |- | <math>\text{৫}</math> || <math>\text{১১১}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{৬}</math> || <math>\text{১০১}</math> || বিট ১ || মাঝের চাকতি |- | <math>\text{৭}</math> || <math>\text{১০০}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |} == বিস্তারিত উদাহরণ == === উদাহরণ ১: ৫ বিটের গ্রে কোড তালিকা তৈরি === ৪ বিটের গ্রে কোড থেকে ৫ বিটের তৈরি করো। ৪ বিটের গ্রে কোড (ক্রম): ০০০০, ০০০১, ০০১১, ০০১০, ০১১০, ০১১১, ০১০১, ০১০০, ১১০০, ১১০১, ১১১১, ১১১০, ১০১০, ১০১১, ১০০১, ১০০০। ৫ বিটের তৈরি: * মূল তালিকায় সামনে ০ যোগ করো। * উল্টো তালিকায় সামনে ১ যোগ করো। প্রথম ১৬টি (সামনে ০): ০০০০০, ০০০০১, ০০০১১, ০০০১০, ০০১১০, ০০১১১, ০০১০১, ০০১০০, ০১১০০, ০১১০১, ০১১১১, ০১১১০, ০১০১০, ০১০১১, ০১০০১, ০১০০০। পরের ১৬টি (সামনে ১, উল্টো ক্রমে): ১১০০০, ১১০০১, ১১০১১, ১১০১০, ১১১১০, ১১১১১, ১১১০১, ১১১০০, ১০১০০, ১০১০১, ১০১১১, ১০১১০, ১০০১০, ১০০১১, ১০০০১, ১০০০০। === উদাহরণ ২: গ্রে কোড দিয়ে কার্নো মানচিত্র সরলীকরণ === ফাংশন <math>F(A, B, C) = \sum m(1, 2, 3, 5, 7)</math> সরলীকরণ করো। কার্নো মানচিত্র: {| class="wikitable" style="text-align:center; width:75%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | তিন চলকের কার্নো মানচিত্র ! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A \backslash BC</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০ || ০ || ১ || ১ || ১ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১ || ০ || ১ || ১ || ০ |} গ্রে কোড ক্রমে: BC = ০০, ০১, ১১, ১০। দল ১: মিনটার্ম ১, ৩, ৫, ৭ (BC=০১ ও BC=১১ উভয় সারিতে)। এরা <math>B</math>-এর দল। <math>B = 1</math>। দল ২: মিনটার্ম ২, ৩ (A=০, BC=১১ ও BC=১০)। <math>A = 0, C = 1</math>। অপেক্ষা, BC=১০ হলো মিনটার্ম ২ (ABC=010)। BC=১১ হলো মিনটার্ম ৩ (ABC=011)। মিনটার্ম ১=001, ২=010, ৩=011, ৫=101, ৭=111। দল ১: ১, ৩, ৫, ৭। সবগুলোতে C=1। <math>F \supseteq C</math>। দল ২: ২, ৩। এরা A=0, B=1। <math>F \supseteq \overline{A}B</math>। সরলীকৃত: <math>F = C + \overline{A}B</math>। === উদাহরণ ৩: রোটারি এনকোডার অবস্থান বের করা === একটি ৪ বিটের রোটারি এনকোডার গ্রে কোড ১০১১ পাঠাচ্ছে। এটা কত ডিগ্রি বোঝায়? প্রথমে গ্রে কোড ১০১১ থেকে বাইনারি বের করো। <math>B_3 = G_3 = \text{১}</math>। <math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math>। <math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math>। <math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math>। বাইনারি: ১১০১ = ১৩। ৪ বিটের এনকোডারে মোট ১৬টি অবস্থান। প্রতিটি অবস্থান = ৩৬০/১৬ = ২২.৫ ডিগ্রি। কোণ = ১৩ × ২২.৫ = ২৯২.৫ ডিগ্রি। == অনুশীলনী == '''১.''' বাইনারি ১১০১০১ থেকে গ্রে কোড বের করো। '''উত্তর:''' :<math>G_5 = B_5 = \text{১}</math> :<math>G_4 = B_5 \oplus B_4 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>G_3 = B_4 \oplus B_3 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_2 = B_3 \oplus B_2 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>G_1 = B_2 \oplus B_1 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_0 = B_1 \oplus B_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> গ্রে কোড: <math>\text{১০১১১১}</math>। '''২.''' গ্রে কোড ১০১১১১ থেকে বাইনারি বের করো। '''উত্তর:''' :<math>B_5 = G_5 = \text{১}</math> :<math>B_4 = B_5 \oplus G_4 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>B_3 = B_4 \oplus G_3 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> বাইনারি: <math>\text{১১০১০১}</math>। যাচাই: ১১০১০১ থেকে গ্রে = ১০১১১১। সঠিক! '''৩.''' কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোড কেন ব্যবহার হয়? '''উত্তর:''' কার্নো মানচিত্রে পাশের ঘরগুলো একটি মিনটার্ম দল তৈরি করতে পারে যদি তারা ঠিক একটি চলকে আলাদা হয়। গ্রে কোড ক্রমে লেবেল সাজালে পাশের প্রতিটি ঘর ঠিক একটি চলকে আলাদা থাকে। তাই সহজে দল বানানো যায় এবং বুলিয়ান ফাংশন সরলীকরণ সহজ হয়। '''৪.''' সাধারণ বাইনারি কাউন্টারের চেয়ে গ্রে কোড কাউন্টার কোন ক্ষেত্রে ভালো? '''উত্তর:''' যেখানে কাউন্টারের আউটপুট সরাসরি যন্ত্রের অবস্থান বা কোণ নির্ধারণ করে। সাধারণ বাইনারিতে একাধিক বিট একসাথে পরিবর্তন হলে ক্ষণিকের জন্য ভুল মান পড়া যেতে পারে। গ্রে কোডে একটিমাত্র বিট পরিবর্তন হয়, তাই ভুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। রোটারি এনকোডার, লিফট নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প যন্ত্রপাতিতে গ্রে কোড আদর্শ। '''৫.''' ৩ বিটের গ্রে কোডে ৫ (দশমিক) এর গ্রে কোড বের করো এবং এর আগের ও পরের গ্রে কোডের সাথে তুলনা করো। '''উত্তর:''' ৫ = ১০১ বাইনারি। :<math>G_2 = \text{১}, G_1 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}, G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> গ্রে কোড ৫ = ১১১। ৪ = ১০০ বাইনারি। গ্রে কোড ৪: <math>G_2=\text{১}, G_1=\text{১}\oplus\text{০}=\text{১}, G_0=\text{০}\oplus\text{০}=\text{০}</math> = ১১০। ৬ = ১১০ বাইনারি। গ্রে কোড ৬: <math>G_2=\text{১}, G_1=\text{১}\oplus\text{১}=\text{০}, G_0=\text{১}\oplus\text{০}=\text{১}</math> = ১০১। তুলনা: * ৪ → ৫: ১১০ → ১১১। বিট ০ পরিবর্তন। মাত্র ১ বিট। * ৫ → ৬: ১১১ → ১০১। বিট ১ পরিবর্তন। মাত্র ১ বিট। সঠিক! প্রতিটি ধাপে একটিমাত্র বিট পরিবর্তন। [[{{BOOKCATEGORY}}]] 9r5v7ighnj6j2r9ibr24l9o4s12wyob 106602 106598 2026-06-09T17:26:43Z R1F4T 9121 test 106602 wikitext text/x-wiki '''গ্রে কোড''' হলো এমন একটি বাইনারি কোড পদ্ধতি যেখানে পরপর দুটো সংখ্যার মধ্যে মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়। সাধারণ বাইনারিতে ৭ (০১১১) থেকে ৮ (১০০০)-এ যেতে চারটি বিট একসাথে পরিবর্তন হয়, কিন্তু গ্রে কোডে সবসময় একটিমাত্র বিট পরিবর্তন হয়। এই বিশেষ গুণের কারণে গ্রে কোড শিল্প নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সার্কিটে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। '''গ্রে কোড''' হলো এমন একটি বাইনারি কোড পদ্ধতি যেখানে পরপর দুটো সংখ্যার মধ্যে মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়। সাধারণ বাইনারিতে ৭ (০১১১) থেকে ৮ (১০০০)-এ যেতে চারটি বিট একসাথে পরিবর্তন হয়, কিন্তু গ্রে কোডে সবসময় একটিমাত্র বিট পরিবর্তন হয়। এই বিশেষ গুণের কারণে গ্রে কোড শিল্প নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সার্কিটে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। == ভূমিকা: কেন গ্রে কোড দরকার? == === সিঁড়ি দিয়ে ওঠার উপমা === ধরো তুমি সিঁড়ি দিয়ে উঠছ। প্রতিটি ধাপে তুমি একটি পা সামনে রাখো। দুটো পা একসাথে তোলো না। কারণ একসাথে দুটো পা তুললে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। গ্রে কোডও এই নীতিতে কাজ করে। একটা সংখ্যা থেকে পরের সংখ্যায় যেতে মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়, যেন এক পায়ে ধাপ বাড়ানো। === সাধারণ বাইনারির সমস্যা === সাধারণ বাইনারি কাউন্টারে ৭ থেকে ৮-এ যেতে চারটি বিট একসাথে পরিবর্তন হয়: <math>\text{০১১১} \rightarrow \text{১০০০}</math>। হার্ডওয়্যারে এই পরিবর্তন মুহূর্তে ক্ষণিকের জন্য ভুল মান দেখা দিতে পারে। যেমন ০১১১ থেকে ১০০০-এ যাওয়ার পথে ০১১০, ০১০০, ০০০০ এইসব মাঝামাঝি অবস্থা আসতে পারে। যদি কোনো যন্ত্র এই মুহূর্তে পাঠ নেয়, ভুল তথ্য পাবে। গ্রে কোডে প্রতিটি পরিবর্তনে মাত্র একটি বিট বদলায়, তাই এই ভুলের সম্ভাবনা থাকে না। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:90%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | সাধারণ বাইনারি ও গ্রে কোডের তুলনা ! style="background:#3498DB; color:white;" | দশমিক !! style="background:#E74C3C; color:white;" | বাইনারি !! style="background:#27AE60; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#8E44AD; color:white;" | পরিবর্তিত বিট (গ্রেতে) |- | <math>\text{০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || শুরু |- | <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০০১}</math> || <math>\text{০০০১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{২}</math> || <math>\text{০০১০}</math> || <math>\text{০০১১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০০১১}</math> || <math>\text{০০১০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৪}</math> || <math>\text{০১০০}</math> || <math>\text{০১১০}</math> || বিট ২ |- | <math>\text{৫}</math> || <math>\text{০১০১}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৬}</math> || <math>\text{০১১০}</math> || <math>\text{০১০১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{৭}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || <math>\text{০১০০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{৮}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || বিট ৩ |- | <math>\text{৯}</math> || <math>\text{১০০১}</math> || <math>\text{১১০১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১০}</math> || <math>\text{১০১০}</math> || <math>\text{১১১১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{১১}</math> || <math>\text{১০১১}</math> || <math>\text{১১১০}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১২}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || <math>\text{১০১০}</math> || বিট ২ |- | <math>\text{১৩}</math> || <math>\text{১১০১}</math> || <math>\text{১০১১}</math> || বিট ০ |- | <math>\text{১৪}</math> || <math>\text{১১১০}</math> || <math>\text{১০০১}</math> || বিট ১ |- | <math>\text{১৫}</math> || <math>\text{১১১১}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || বিট ০ |} == গ্রে কোডের ইতিহাস == === ফ্র্যাংক গ্রে-এর অবদান === গ্রে কোডের নামকরণ হয়েছে আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ফ্র্যাংক গ্রে-এর নামে। তিনি ১৯৫৩ সালে বেল ল্যাবসে কাজ করার সময় এই কোড ব্যবস্থা পেটেন্ট করেন। তবে এই ধারণাটা আরো আগে থেকে ছিল। ফরাসি গণিতবিদ এমিল বোডো ১৮৮০-এর দশকে টেলিগ্রাফ সার্কিটে একই ধরনের কোড ব্যবহার করেছিলেন। === প্রথম ব্যবহার === গ্রে কোড প্রথমে টেলিভিশন সংকেত পাঠানোয় ব্যবহার হয়েছিল। পরে এটি রোটারি এনকোডার, কার্নো মানচিত্র এবং ত্রুটি সংশোধনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। == বাইনারি থেকে গ্রে কোড রূপান্তর == === প্রতিবেশী বিট XOR পদ্ধতি === বাইনারি <math>B = B_{n-1} B_{n-2} \cdots B_1 B_0</math> থেকে গ্রে কোড <math>G = G_{n-1} G_{n-2} \cdots G_1 G_0</math>: :<math>G_{n-1} = B_{n-1}</math> :<math>G_i = B_{i+1} \oplus B_i</math> (বাকি সব বিটের জন্য) সবচেয়ে বাম দিকের বিট অপরিবর্তিত থাকে। বাকি প্রতিটি বিট তার বাম প্রতিবেশী এবং নিজের XOR। === উদাহরণ ১: বাইনারি ১০১১ থেকে গ্রে কোড === {| class="wikitable" style="text-align:center; width:82%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | ১০১১ থেকে গ্রে কোড ! style="background:#3498DB; color:white;" | ধাপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | হিসাব !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে বিট |- | <math>G_3</math> || <math>B_3 = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_2</math> || <math>B_3 \oplus B_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_1</math> || <math>B_2 \oplus B_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>G_0</math> || <math>B_1 \oplus B_0 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> || <math>\text{০}</math> |} গ্রে কোড: <math>\text{১১১০}</math>। === উদাহরণ ২: বাইনারি ১১০১০ থেকে গ্রে কোড === :<math>G_4 = B_4 = \text{১}</math> :<math>G_3 = B_4 \oplus B_3 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>G_2 = B_3 \oplus B_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_1 = B_2 \oplus B_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>G_0 = B_1 \oplus B_0 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> গ্রে কোড: <math>\text{১০১১১}</math>। === দ্রুত পদ্ধতি === বাইনারি সংখ্যাকে এক বিট ডানে শিফট করো। তারপর মূল সংখ্যার সাথে XOR করো। <math>G = B \oplus (B >> 1)</math> উদাহরণ: ১০১১ → G = ১০১১ XOR ০১০১ = ১১১০। == গ্রে কোড থেকে বাইনারি রূপান্তর == === ক্রমানুসারে XOR পদ্ধতি === গ্রে কোড <math>G</math> থেকে বাইনারি <math>B</math>: :<math>B_{n-1} = G_{n-1}</math> :<math>B_i = B_{i+1} \oplus G_i</math> সবচেয়ে বাম বিট অপরিবর্তিত। বাকি প্রতিটি বিট: আগের বাইনারি বিট XOR বর্তমান গ্রে বিট। === উদাহরণ ১: গ্রে কোড ১১১০ থেকে বাইনারি === {| class="wikitable" style="text-align:center; width:82%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | গ্রে ১১১০ থেকে বাইনারি ! style="background:#3498DB; color:white;" | ধাপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | হিসাব !! style="background:#E74C3C; color:white;" | বাইনারি বিট |- | <math>B_3</math> || <math>G_3 = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>B_2</math> || <math>B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> || <math>\text{০}</math> |- | <math>B_1</math> || <math>B_2 \oplus G_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |- | <math>B_0</math> || <math>B_1 \oplus G_0 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> || <math>\text{১}</math> |} বাইনারি: <math>\text{১০১১}</math>। যাচাই: ১০১১ থেকে গ্রে = ১১১০। সঠিক! === উদাহরণ ২: গ্রে কোড ১০১১১ থেকে বাইনারি === :<math>B_4 = G_4 = \text{১}</math> :<math>B_3 = B_4 \oplus G_3 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> বাইনারি: <math>\text{১১০১০}</math>। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:80%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | দ্রুত রূপান্তর সারণি ! style="background:#3498DB; color:white;" | বাইনারি !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#27AE60; color:white;" | যাচাই (গ্রে→বাইনারি) |- | <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> || <math>\text{০০০০}</math> |- | <math>\text{০১০১}</math> || <math>\text{০১১১}</math> || <math>\text{০১০১}</math> |- | <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১০০}</math> || <math>\text{১০০০}</math> |- | <math>\text{১১১১}</math> || <math>\text{১০০০}</math> || <math>\text{১১১১}</math> |} == গ্রে কোডের বিশেষ গুণ == === প্রতিফলন সম্পত্তি === গ্রে কোড তৈরি হয় একটি প্রতিফলন প্রক্রিয়ায়। এই কারণেই এটাকে কখনো কখনো প্রতিফলিত বাইনারি কোডও বলা হয়। <math>n</math> বিটের গ্রে কোড তৈরি হয়: ধাপ ১: <math>(n-1)</math> বিটের গ্রে কোড নাও। ধাপ ২: উল্টো ক্রমে লেখো (প্রতিফলন)। ধাপ ৩: মূল তালিকার প্রতিটিতে ০ এবং প্রতিফলিত তালিকার প্রতিটিতে ১ যোগ করো। <code> ১ বিট: ০, ১ ২ বিট: ০০, ০১, ১১, ১০ ৩ বিট: ০০০, ০০১, ০১১, ০১০, ১১০, ১১১, ১০১, ১০০ </code> === চক্রাকার সম্পত্তি === গ্রে কোডের শেষ মান এবং প্রথম মানের মধ্যেও মাত্র একটি বিট পরিবর্তন হয়। ৩ বিটে: শেষ মান ১০০ (দশমিক ৭) থেকে প্রথম মান ০০০ (দশমিক ০)-এ যেতে মাত্র এক বিট পরিবর্তন। এই গুণের কারণে গ্রে কোড ঘূর্ণনশীল যন্ত্রে আদর্শ। === স্বয়ংপরিপূরক সম্পত্তি === <math>n</math> বিটের গ্রে কোডে, যে সংখ্যার গ্রে কোড নেওয়া হয় এবং তার পরিপূরক (দশমিকে <math>2^n - 1 - x</math>) এর গ্রে কোডের মধ্যে কেবল সর্বোচ্চ বিট আলাদা। == গ্রে কোড ও কার্নো মানচিত্র == === কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোডের ভূমিকা === বুলিয়ান বীজগণিত সরলীকরণের জনপ্রিয় পদ্ধতি কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোড ব্যবহার করা হয়। কার্নো মানচিত্রে সারি ও কলামের লেবেল গ্রে কোড ক্রমে সাজানো হয়: {| class="wikitable" style="text-align:center; width:75%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | দুই চলকের কার্নো মানচিত্র ! style="background:#3498DB; color:white;" | !! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>B=\text{০}</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>B=\text{১}</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A=\text{০}</math> || <math>m_0</math> || <math>m_1</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A=\text{১}</math> || <math>m_2</math> || <math>m_3</math> |} {| class="wikitable" style="text-align:center; width:85%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | চার চলকের কার্নো মানচিত্রের লেবেল ! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>AB \backslash CD</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ || <math>m_0</math> || <math>m_1</math> || <math>m_3</math> || <math>m_2</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ || <math>m_4</math> || <math>m_5</math> || <math>m_7</math> || <math>m_6</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ || <math>m_{12}</math> || <math>m_{13}</math> || <math>m_{15}</math> || <math>m_{14}</math> |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ || <math>m_8</math> || <math>m_9</math> || <math>m_{11}</math> || <math>m_{10}</math> |} লেবেলগুলো গ্রে কোড ক্রমে: ০০, ০১, ১১, ১০। পাশের যেকোনো দুটো ঘরে কেবল একটি চলক আলাদা। === কেন গ্রে কোড ব্যবহার হয়? === কার্নো মানচিত্রে পাশের ঘরগুলো একটি মিনটার্ম দল তৈরি করতে পারে যদি তারা একটি চলকে আলাদা হয়। গ্রে কোড ক্রমে সাজানো থাকায় পাশের প্রতিটি ঘর ঠিক একটি চলকে আলাদা। তাই সহজে দল বানানো যায়। == রোটারি এনকোডারে গ্রে কোড == === ঘূর্ণনশীল যন্ত্রের উপমা === কারখানায় একটা মোটর ঘুরছে। মোটরের শ্যাফট কত ডিগ্রি ঘুরেছে তা জানতে হবে। একটা ডিস্কে বিভিন্ন সংকেত এঁকে মোটরের সাথে লাগানো হয়। ডিস্ক ঘুরলে সেন্সর সংকেত পড়ে এবং কোণ জানা যায়। যদি সাধারণ বাইনারি ব্যবহার হয়: ৩ (০১১) থেকে ৪ (১০০)-এ যাওয়ার মুহূর্তে ডিস্কের তিনটি ট্র্যাক একসাথে পরিবর্তন হয়। সেন্সর ঠিক সেই মুহূর্তে পড়লে ০০০ বা ১১১ বা যেকোনো ভুল মান পাবে। গ্রে কোডে শুধু একটা ট্র্যাক পরিবর্তন হয়। তাই ভুল পড়ার সম্ভাবনা শূন্য। === রোটারি এনকোডারের গঠন === একটা ডিস্কে কয়েকটা বৃত্তাকার ট্র্যাক আছে। প্রতিটি ট্র্যাকে স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ অংশ আছে (১ ও ০)। ট্র্যাকের সংখ্যা বিটের সংখ্যার সমান। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:85%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | রোটারি এনকোডারের গ্রে কোড অবস্থান ! style="background:#3498DB; color:white;" | কোণ (ডিগ্রি) !! style="background:#3498DB; color:white;" | দশমিক অবস্থান !! style="background:#E74C3C; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#27AE60; color:white;" | পরিবর্তিত ট্র্যাক |- | <math>\text{০}</math> || <math>\text{০}</math> || <math>\text{০০০}</math> || শুরু |- | <math>\text{৪৫}</math> || <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০১}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{৯০}</math> || <math>\text{২}</math> || <math>\text{০১১}</math> || ট্র্যাক ২ |- | <math>\text{১৩৫}</math> || <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০১০}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{১৮০}</math> || <math>\text{৪}</math> || <math>\text{১১০}</math> || ট্র্যাক ৩ |- | <math>\text{২২৫}</math> || <math>\text{৫}</math> || <math>\text{১১১}</math> || ট্র্যাক ১ |- | <math>\text{২৭০}</math> || <math>\text{৬}</math> || <math>\text{১০১}</math> || ট্র্যাক ২ |- | <math>\text{৩১৫}</math> || <math>\text{৭}</math> || <math>\text{১০০}</math> || ট্র্যাক ১ |} == গ্রে কোডের বাস্তব প্রয়োগ == === শিল্প নিয়ন্ত্রণ === কারখানার রোবোটিক বাহু, সিএনসি মেশিন, লিফট নিয়ন্ত্রণ এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনে গ্রে কোড এনকোডার ব্যবহার হয়। একটা গাড়ির কারখানায় রোবোটিক বাহু ঠিকঠাক কোণে বাঁকতে পারছে কিনা তা গ্রে কোড এনকোডার দিয়ে পরিমাপ হয়। === যোগাযোগ ব্যবস্থা === ডিজিটাল যোগাযোগে ত্রুটি সংশোধনে গ্রে কোড ব্যবহার হয়। যখন সংকেত দুর্বল হয় এবং একটি বিট ভুল হয়, গ্রে কোডে সেই ভুলের প্রভাব সর্বনিম্ন। === অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর === অনেক অ্যানালগ-থেকে-ডিজিটাল রূপান্তরক গ্রে কোড ব্যবহার করে। কারণ রূপান্তরের সময় গ্রে কোডে কোয়ান্টাইজেশন ত্রুটি কম। === ভিডিও গেম ও গ্রাফিক্স === কিছু ভিডিও গেমে এবং কম্পিউটার গ্রাফিক্সে ডিদারিং অ্যালগরিদমে গ্রে কোডের ধারণা ব্যবহার হয়। {| class="wikitable" style="text-align:left; width:90%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | গ্রে কোডের বাস্তব প্রয়োগ ! style="background:#27AE60; color:white; width:30%;" | ক্ষেত্র !! style="background:#27AE60; color:white; width:70%;" | কেন গ্রে কোড ব্যবহার হয় |- | রোটারি এনকোডার || একটি বিট পরিবর্তনে ভুল পড়া হয় না |- | কার্নো মানচিত্র || পাশের ঘরগুলো একটি চলকে আলাদা |- | ত্রুটি সংশোধন || একটি বিট ভুল হলে মান সামান্য পরিবর্তিত হয় |- | এডিসি সার্কিট || রূপান্তরের সময় বড় লাফ হয় না |- | পাজল সমাধান || হ্যানয়ের টাওয়ার পাজলের ন্যূনতম পদক্ষেপ |} == গ্রে কোড ও হ্যানয়ের টাওয়ার == === একটি চমকপ্রদ সংযোগ === হ্যানয়ের টাওয়ার একটি বিখ্যাত গাণিতিক পাজল। <math>n</math>টি চাকতি এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটিতে সরাতে হয়, একটা বড় চাকতির উপর ছোট চাকতি রাখা যাবে না। দারুণ সংযোগ হলো: <math>n</math> চাকতির হ্যানয়ের টাওয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপ ঠিক <math>n</math> বিটের গ্রে কোডের একটি পরিবর্তনের সমতুল্য। <math>n=3</math> চাকতির ক্ষেত্রে ৭টি পদক্ষেপ লাগে। এবং তিন বিটের গ্রে কোডে ০ থেকে ৭ পর্যন্ত ৭টি পরিবর্তন আছে। {| class="wikitable" style="text-align:center; width:80%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | হ্যানয়ের টাওয়ার ও গ্রে কোডের সংযোগ (৩ চাকতি) ! style="background:#3498DB; color:white;" | পদক্ষেপ !! style="background:#3498DB; color:white;" | গ্রে কোড !! style="background:#E74C3C; color:white;" | পরিবর্তিত বিট !! style="background:#27AE60; color:white;" | কোন চাকতি সরানো হয় |- | শুরু || <math>\text{০০০}</math> || || প্রাথমিক অবস্থা |- | <math>\text{১}</math> || <math>\text{০০১}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{২}</math> || <math>\text{০১১}</math> || বিট ১ || মাঝের চাকতি |- | <math>\text{৩}</math> || <math>\text{০১০}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{৪}</math> || <math>\text{১১০}</math> || বিট ২ || সবচেয়ে বড় চাকতি |- | <math>\text{৫}</math> || <math>\text{১১১}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |- | <math>\text{৬}</math> || <math>\text{১০১}</math> || বিট ১ || মাঝের চাকতি |- | <math>\text{৭}</math> || <math>\text{১০০}</math> || বিট ০ || সবচেয়ে ছোট চাকতি |} == বিস্তারিত উদাহরণ == === উদাহরণ ১: ৫ বিটের গ্রে কোড তালিকা তৈরি === ৪ বিটের গ্রে কোড থেকে ৫ বিটের তৈরি করো। ৪ বিটের গ্রে কোড (ক্রম): ০০০০, ০০০১, ০০১১, ০০১০, ০১১০, ০১১১, ০১০১, ০১০০, ১১০০, ১১০১, ১১১১, ১১১০, ১০১০, ১০১১, ১০০১, ১০০০। ৫ বিটের তৈরি: * মূল তালিকায় সামনে ০ যোগ করো। * উল্টো তালিকায় সামনে ১ যোগ করো। প্রথম ১৬টি (সামনে ০): ০০০০০, ০০০০১, ০০০১১, ০০০১০, ০০১১০, ০০১১১, ০০১০১, ০০১০০, ০১১০০, ০১১০১, ০১১১১, ০১১১০, ০১০১০, ০১০১১, ০১০০১, ০১০০০। পরের ১৬টি (সামনে ১, উল্টো ক্রমে): ১১০০০, ১১০০১, ১১০১১, ১১০১০, ১১১১০, ১১১১১, ১১১০১, ১১১০০, ১০১০০, ১০১০১, ১০১১১, ১০১১০, ১০০১০, ১০০১১, ১০০০১, ১০০০০। === উদাহরণ ২: গ্রে কোড দিয়ে কার্নো মানচিত্র সরলীকরণ === ফাংশন <math>F(A, B, C) = \sum m(1, 2, 3, 5, 7)</math> সরলীকরণ করো। কার্নো মানচিত্র: {| class="wikitable" style="text-align:center; width:75%;" |+ style="background:#2C3E50; color:white; padding:8px;" | তিন চলকের কার্নো মানচিত্র ! style="background:#3498DB; color:white;" | <math>A \backslash BC</math> !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০০ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ০১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১১ !! style="background:#3498DB; color:white;" | ১০ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ০ || ০ || ১ || ১ || ১ |- | style="background:#3498DB; color:white;" | ১ || ০ || ১ || ১ || ০ |} গ্রে কোড ক্রমে: BC = ০০, ০১, ১১, ১০। দল ১: মিনটার্ম ১, ৩, ৫, ৭ (BC=০১ ও BC=১১ উভয় সারিতে)। এরা <math>B</math>-এর দল। <math>B = 1</math>। দল ২: মিনটার্ম ২, ৩ (A=০, BC=১১ ও BC=১০)। <math>A = 0, C = 1</math>। অপেক্ষা, BC=১০ হলো মিনটার্ম ২ (ABC=010)। BC=১১ হলো মিনটার্ম ৩ (ABC=011)। মিনটার্ম ১=001, ২=010, ৩=011, ৫=101, ৭=111। দল ১: ১, ৩, ৫, ৭। সবগুলোতে C=1। <math>F \supseteq C</math>। দল ২: ২, ৩। এরা A=0, B=1। <math>F \supseteq \overline{A}B</math>। সরলীকৃত: <math>F = C + \overline{A}B</math>। === উদাহরণ ৩: রোটারি এনকোডার অবস্থান বের করা === একটি ৪ বিটের রোটারি এনকোডার গ্রে কোড ১০১১ পাঠাচ্ছে। এটা কত ডিগ্রি বোঝায়? প্রথমে গ্রে কোড ১০১১ থেকে বাইনারি বের করো। <math>B_3 = G_3 = \text{১}</math>। <math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math>। <math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math>। <math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math>। বাইনারি: ১১০১ = ১৩। ৪ বিটের এনকোডারে মোট ১৬টি অবস্থান। প্রতিটি অবস্থান = ৩৬০/১৬ = ২২.৫ ডিগ্রি। কোণ = ১৩ × ২২.৫ = ২৯২.৫ ডিগ্রি। == অনুশীলনী == '''১.''' বাইনারি ১১০১০১ থেকে গ্রে কোড বের করো। '''উত্তর:''' :<math>G_5 = B_5 = \text{১}</math> :<math>G_4 = B_5 \oplus B_4 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>G_3 = B_4 \oplus B_3 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_2 = B_3 \oplus B_2 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>G_1 = B_2 \oplus B_1 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>G_0 = B_1 \oplus B_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> গ্রে কোড: <math>\text{১০১১১১}</math>। '''২.''' গ্রে কোড ১০১১১১ থেকে বাইনারি বের করো। '''উত্তর:''' :<math>B_5 = G_5 = \text{১}</math> :<math>B_4 = B_5 \oplus G_4 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}</math> :<math>B_3 = B_4 \oplus G_3 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_2 = B_3 \oplus G_2 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> :<math>B_1 = B_2 \oplus G_1 = \text{১} \oplus \text{১} = \text{০}</math> :<math>B_0 = B_1 \oplus G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> বাইনারি: <math>\text{১১০১০১}</math>। যাচাই: ১১০১০১ থেকে গ্রে = ১০১১১১। সঠিক! '''৩.''' কার্নো মানচিত্রে গ্রে কোড কেন ব্যবহার হয়? '''উত্তর:''' কার্নো মানচিত্রে পাশের ঘরগুলো একটি মিনটার্ম দল তৈরি করতে পারে যদি তারা ঠিক একটি চলকে আলাদা হয়। গ্রে কোড ক্রমে লেবেল সাজালে পাশের প্রতিটি ঘর ঠিক একটি চলকে আলাদা থাকে। তাই সহজে দল বানানো যায় এবং বুলিয়ান ফাংশন সরলীকরণ সহজ হয়। '''৪.''' সাধারণ বাইনারি কাউন্টারের চেয়ে গ্রে কোড কাউন্টার কোন ক্ষেত্রে ভালো? '''উত্তর:''' যেখানে কাউন্টারের আউটপুট সরাসরি যন্ত্রের অবস্থান বা কোণ নির্ধারণ করে। সাধারণ বাইনারিতে একাধিক বিট একসাথে পরিবর্তন হলে ক্ষণিকের জন্য ভুল মান পড়া যেতে পারে। গ্রে কোডে একটিমাত্র বিট পরিবর্তন হয়, তাই ভুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। রোটারি এনকোডার, লিফট নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প যন্ত্রপাতিতে গ্রে কোড আদর্শ। '''৫.''' ৩ বিটের গ্রে কোডে ৫ (দশমিক) এর গ্রে কোড বের করো এবং এর আগের ও পরের গ্রে কোডের সাথে তুলনা করো। '''উত্তর:''' ৫ = ১০১ বাইনারি। :<math>G_2 = \text{১}, G_1 = \text{১} \oplus \text{০} = \text{১}, G_0 = \text{০} \oplus \text{১} = \text{১}</math> গ্রে কোড ৫ = ১১১। ৪ = ১০০ বাইনারি। গ্রে কোড ৪: <math>G_2=\text{১}, G_1=\text{১}\oplus\text{০}=\text{১}, G_0=\text{০}\oplus\text{০}=\text{০}</math> = ১১০। ৬ = ১১০ বাইনারি। গ্রে কোড ৬: <math>G_2=\text{১}, G_1=\text{১}\oplus\text{১}=\text{০}, G_0=\text{১}\oplus\text{০}=\text{১}</math> = ১০১। তুলনা: * ৪ → ৫: ১১০ → ১১১। বিট ০ পরিবর্তন। মাত্র ১ বিট। * ৫ → ৬: ১১১ → ১০১। বিট ১ পরিবর্তন। মাত্র ১ বিট। সঠিক! প্রতিটি ধাপে একটিমাত্র বিট পরিবর্তন। [[{{BOOKCATEGORY}}]] bhgwfmarixnmnbvmy7tn2mc36xypvph সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা 0 33429 106599 106567 2026-06-09T17:22:51Z NusJaS 8394 106599 wikitext text/x-wiki {{TOC|limit=3}} =খেলা= শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা খেলার মাধ্যমে বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির জন্য তাদের শরীর ও মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করে। খেলার মাধ্যমে শিশুরা অনেক নতুন দক্ষতা অর্জন করে এবং শেখে। এগুলো তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশে অবদান রাখে। এসব দক্ষতার মধ্যে রয়েছে সহযোগিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এর পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলভাবে চিন্তা ও কাজ করার ক্ষমতা উন্নত হয়। কেনেথ আর. গিন্সবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, "সুস্থ মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য খেলা গুরুত্বপূর্ণ।" [http://www.aap.org/pressroom/playFINAL.pdf]। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ এবং নিউরনের মধ্যকার বিন্যাস ও সংযোগগুলো শিশুদের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে উদ্দীপিত ও প্রভাবিত হয়। এর একটি উদাহরণ হলো খেলা। শিশুদের খেলতে উৎসাহিত করা উচিত। এটি তাদের মস্তিষ্কের সামগ্রিক বিকাশে অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা রাখে। এটি মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ তৈরিতেও কার্যকর। এই গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ সূক্ষ্ম ও স্থূল মোটর দক্ষতা, ভাষা, সামাজিকীকরণ, ব্যক্তিগত সচেতনতা, মানসিক সুস্থতা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান এবং শেখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। বিকাশের সাথে সাথে এগুলো শিশুদের ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।<ref>চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। http://www.childdevelopmentinfo.com/development/</ref> তাই শিশুদের খেলতে এবং সারাজীবন খেলা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়। খেলাধুলা শিশুদের সৃজনশীল ও কল্পনাপ্রবণ উপায়ে তাদের মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে প্ররোচিত করে। এটি মস্তিষ্কের সংযোগগুলোকে উন্নত ও শক্তিশালী করে। এটি তাদের বিশ্বের বিভিন্ন দিক অনুভব করার সুযোগ দেয়। অন্যথায় তারা এগুলো অনুভব করতে পারত না। শিশুদের সৃজনশীল ও কল্পনাপ্রসূত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব "ভিন্ন জগতের" অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। গেমের মধ্যে তারা প্রায়শই কাল্পনিক বা "বিশ্বাসযোগ্য" জগত তৈরি করে। এসব গেম শিশুদের একসাথে খেলতে এবং সৃজনশীলভাবে চিন্তা করতে দেয়। মনোবিজ্ঞানী ড. সান্ড্রা শাইনার ফ্যান্টাসি গেম সম্পর্কে বলেন, "আমাদের শিশুদের এতে উৎসাহিত করা উচিত। সৃজনশীল চিন্তাবিদদের ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে সেগুলোর কল্পনা করতে হয়।" শিশুদের তৈরি গেমগুলোতে সাধারণত নিয়মের সেট থাকে। খেলোয়াড়দের সেগুলো অনুসরণ করতে হয়। খেলার মাধ্যমে এই ধরনের নিয়ম তৈরির সহযোগিতা শিশুদের যৌক্তিকভাবে ধারণা ও নিয়ম তৈরি করতে শেখায়। এটি তাদের একে অপরের সাথে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে শেখায়। এর মাধ্যমে তারা সামাজিকীকরণ এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার উপায় বুঝতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, "অবাধ খেলার সময় শিশুরা সাধারণত লিঙ্গ ও বর্ণ অনুযায়ী নিজেদের দলে ভাগ করে নেয়"।<ref>সিলভিয়া নপ পোলগার http://www.jstor.org/stable/3216602?seq=2In</ref> বহু বছর ধরে বেশিরভাগ নৃবিজ্ঞানী মানুষের খেলার তাৎপর্যের প্রতি খুব কম মনোযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন মানুষের খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানব আচরণের উপর এর ব্যাপক প্রভাবের কারণে এটি অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। খেলার কাজটি এখন নৃবিজ্ঞান ক্ষেত্রে অনেকের কাছে একটি সর্বজনীন অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত। মানব সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এটি তাৎপর্যপূর্ণ।<ref>এডওয়ার্ড নরবেক http://icb.oxfordjournals.org/cgi/content/abstract/14/1/267</ref> [[Image: Play.jpg|thumb|200px|right|খেলরত শিশু]] ===যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মধ্যে খেলা=== যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-বিদ্যালয় ব্যবস্থায় খেলাধুলা প্রদর্শন ও উৎসাহিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পিতামাতাদের জন্য তাদের সন্তানদের প্রাক-বিদ্যালয়ে পাঠানো সাধারণ ঘটনা। সেখানে তারা সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের সাথে যোগাযোগ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দক্ষতা শেখে। পিতামাতাদের তাদের সন্তানদের প্রাক-বিদ্যালয়ে পাঠাতে উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে তারা খেলাধুলা এবং যোগাযোগের উপায় শিখতে পারে। বড় হওয়ার সাথে সাথে সমাজে মিশতে শুরু করার জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হবে। প্রাক-বিদ্যালয় এবং এই প্রসঙ্গে খেলার ধারণাটি ছোট শিশুদের জন্য উপকারী। এটি ভাগ করে নেওয়ার জীবন দক্ষতা শেখায়। এর পাশাপাশি এটি বন্ধুত্ব, ধৈর্য এবং অন্যদের গ্রহণ করার মতো আরও অনেক কিছু শেখায়।<ref>রেইজিং চিলড্রেন নেটওয়ার্ক। http://raisingchildren.net.au/articles/sharing.html/context/752</ref> প্রাক-বিদ্যালয় শিশুদের শুধু প্রয়োজনীয় জীবন দক্ষতাই শেখায় না। এটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা থেরাপিউটিক সুবিধার জন্য প্রাক-বিদ্যালয়ে যেতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম-মোটর দক্ষতার বিকাশ, সম্পর্ক চর্চা এবং সৃজনশীল চিন্তা। সর্বোপরি এটি মজা করার একটি সুযোগ প্রদান করে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নিবেদিত অনেক স্কুল ফ্লোর-টাইম নামক একটি কৌশল ব্যবহার করে। এটি মূলত খেলার সময়। একজন প্রাপ্তবয়স্কের সাথে এই ব্যক্তিগত খেলার সময়টি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি দুর্দান্ত উপায়। এর মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণ করতে পারে। এটি তাদের আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। অন্যথায় তারা এগুলো থেকে বঞ্চিত হতে পারত।<ref>http://www.autismweb.com/floortime.html</ref> === প্রারম্ভিক শৈশবের সামাজিক খেলায় লিঙ্গ পার্থক্য === শিশুদের খেলায় লিঙ্গ পার্থক্য সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রাক-বিদ্যালয়ের শিশুদের উপর পরিচালিত গবেষণায় একটি বিষয় দেখা গেছে; মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের চেয়ে অল্প বয়সে সামাজিক ও কাঠামোগত খেলাধুলা গড়ে তোলে। তবে ছেলেরা একাকী খেলায় বেশি আগ্রহ দেখায়। "[http://store.msuextension.org/publications/HomeHealthandFamily/MT201003HR.pdf একাকী] খেলার সময় শিশুরা (তিন থেকে ১৮ মাস বয়সী) খেলা নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে। তারা আশেপাশে বসে থাকা বা খেলতে থাকা অন্যান্য শিশুদের লক্ষ্য করে না। তারা বিভিন্ন বস্তু দেখা, ধরা এবং নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে তাদের জগৎ অন্বেষণ করে। তারা প্রায়শই নিজেদের মতো করে খেলতে অনেক সময় ব্যয় করে। একাকী খেলা শৈশবে শুরু হয় এবং ছোট শিশুদের মধ্যে এটি সাধারণ। ছোট শিশুদের সীমিত সামাজিক, জ্ঞানীয় এবং শারীরিক দক্ষতার কারণে এমনটি ঘটে। তবে সব বয়সী মানুষের জন্যই নিজেদের মতো করে কিছু সময় খেলা করা গুরুত্বপূর্ণ।"<ref>http://store.msuextension.org/publications/HomeHealthandFamily/MT201003HR.pdf</ref> [https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16173673] ছেলেরা সাধারণত পরবর্তী বিকাশের পর্যায়ে মেয়েদের সমকক্ষ হয়। তখন সহযোগী ও সমবায় খেলা প্রধান ফোকাস হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক খেলার ক্ষেত্রে মেয়েদের সুবিধা পাওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। খেলায় যোগাযোগ, ভূমিকা গ্রহণ এবং সহযোগিতা জড়িত থাকে। ভাষা এবং থিওরি-অব-মাইন্ডের মতো আর্থ-জ্ঞানীয় দক্ষতা মেয়েরা অল্প বয়সেই অর্জন করে। প্রথম বছরের মধ্যে মেয়েরা শক্তিশালী সামাজিক অভিযোজন প্রতিক্রিয়া এবং মুখের স্বীকৃতি দেখায়। তারা বেশি চোখের যোগাযোগও স্থাপন করে। এই দক্ষতাগুলো সমবয়সীদের সাথে সামাজিক যোগ্যতায় রূপান্তরিত হয়। মেয়েদের খেলার মান ভালো হওয়ার আরেকটি কারণ লিঙ্গভিত্তিক খেলনা হতে পারে। একটি গবেষণায় একটি বিষয় দেখা গেছে। ছেলে এবং মেয়ে উভয় শিশুই গতানুগতিক মেয়েদের খেলনা দিয়ে খেলার সময় সর্বাধিক খেলার জটিলতা অনুভব করে। নিরপেক্ষ বা ছেলেদের গতানুগতিক খেলনা দিয়ে খেলার তুলনায় এটি বেশি হয়। [https://www.andrews.edu/~rbailey/Chapter%20one/9040385.pdf] ===প্রাপ্তবয়স্কদের কার্যকলাপ=== [[File:Party_hard.jpg|thumb|left|বার্সেলোনায় একটি পার্টিতে প্রাপ্তবয়স্করা]] শৈশবকাল জুড়ে শিশুদের সংস্কৃতায়নের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে খেলার ধারণাটি ম্লান হয়ে যায় বলে মনে হয়। অন্তর্নিহিত মূল্যের অবসরকালীন ক্রিয়াকলাপ শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক। জীবনে পূর্ণতার অনুভূতি অর্জন এবং সামগ্রিক সুখের জন্যও এগুলো অপরিহার্য। মানসিক চাপ মোকাবেলার সময় খেলাধুলা এবং অবসরের গুরুত্ব প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হয়। জাতীয় স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অর্থনীতি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানসিক চাপের নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। একটি কানাডিয়ান গবেষণার হিসাব অনুযায়ী মানসিক চাপের কারণে প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। ৪৩% আমেরিকান চাকরি সংক্রান্ত ক্লান্তিতে ভোগার কথা জানান। আমেরিকায় ছুটির সময়ের অভাবকে প্রায়শই এসব সমস্যার কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। অন্য কথায় এটি অবসর এবং খেলাধুলার অভাব। প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাধুলার কার্যকলাপে নিযুক্ত হওয়ার জন্য সময় দেওয়া হলে তাদের জীবনযাত্রার মানে স্পষ্ট সুবিধা দেখা যায়। এসব কার্যকলাপের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, শখ, নাচ বা অন্যান্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজ। জিম রাইসের "হোয়াই প্লে" নিবন্ধে তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের সময় সম্পর্কে লিখেছেন।<ref>হোয়াই প্লে। জিম রাইস। সোজোর্নার্স ম্যাগাজিন, জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ (খণ্ড ২৬, নং ১ পৃ. ২৪-২৭)। ফিচারস।</ref> প্রাপ্তবয়স্করা প্রায়শই নিজেদের সময়ের শিকার বলে মনে করেন। তারা তাদের সমস্ত সময় উৎপাদনশীলভাবে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতায় হতাশ হয়ে পড়েন। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্করা বুঝতে পারেন না যে খেলাধুলা এবং অবসর উৎপাদনশীল। এগুলো সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং মানসিক চাপ কমায়। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো অন্যান্য ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। প্রাপ্তবয়স্করা হাইকিং বা নৌকায় চড়ার মতো বাইরের কাজ করার মাধ্যমে খেলতে পারেন। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বা পানীয় ও নাচের জন্য বাইরে যাওয়ার মাধ্যমেও তারা সময় কাটাতে পারেন। =ক্রীড়া= ক্রীড়া হলো এক ধরনের খেলা। এটি নিয়মের একটি সেট দ্বারা পরিচালিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটিকে শারীরিকভাবে পরিশ্রমী এবং প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায় সব ধরনের ক্রীড়াতেই প্রতিযোগিতা একজন বিজয়ী এবং একজন পরাজিত নির্ধারণ করে। গলফ বনাম ফুটবলের মতো ক্রীড়াগুলোতে শারীরিক পরিশ্রম নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। ক্রীড়ায় সাধারণত খেলা, কাজ এবং অবসর উভয়ই থাকে। কম শারীরিক পরিশ্রমের ক্রীড়াগুলো সাধারণত খেলা হিসেবে পরিগণিত হয়। অন্যদিকে বেশি পরিশ্রমী এবং অ্যাথলেটিক চাহিদাপূর্ণ ক্রীড়াগুলো প্রায়শই ক্রীড়াবিদ ও দলের মালিকদের জন্য কাজ হিসেবে কাজ করে। তবে ক্রীড়া সাধারণত দ্বন্দ্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। এখানে সর্বদা একজন প্রতিপক্ষ বা দলের জয়ের লক্ষ্য থাকে। কিছু সংস্কৃতিতে দ্বন্দ্ব-নিরসন প্রায়শই লক্ষ্য হিসেবে থাকে। এই ধরনের খেলা নির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়। এটি একটি ভার্চুয়াল জগত তৈরি করে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা নায়ক ও শত্রু তৈরি করতে পারে। তারা বাস্তব জগতের পরিণতি ছাড়াই কষ্ট ভোগ এবং উদযাপন করতে পারে। ক্রীড়াবিদ এবং দলগুলো কেবল একে অপরের বিরোধিতা করার জন্যই থাকে না। তারা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের এবং তাদের দলের প্রতিনিধিত্ব করে।<ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা। কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন উইথ ফ্রি স্টাডি স্কিলস গাইড অন সিডি-রম। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ইউএসএ, ২০০৪।</ref> ==সংস্কৃতিতে ক্রীড়া== [[Image:U20-WorldCup2007-Okotie-Onka edit2.jpg|thumb|left|পেনাল্টি এলাকার ভেতর থেকে কাছাকাছি দূরত্বের একটি শট বাঁচাচ্ছেন একজন গোলরক্ষক]] [[Image:Football world popularity.png|thumb|350px|বিশ্বজুড়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দেখানো মানচিত্র]] ===সকার/ফুটবল=== ক্রীড়া বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নানারকম অর্থ বহন করে। সকারের উৎপত্তি ইউরোপে। এটি হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত রয়েছে। এর কিছু প্রাথমিক রূপ যুদ্ধের পরের আচার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে তারা বলের পরিবর্তে শত্রুর মাথা ব্যবহার করত। ব্রাজিলের সকার নিয়ে একটি গবেষণায় ড. জ্যানেট লিভার একটি বিষয় খুঁজে পান। সংগঠিত ক্রীড়া রাজনৈতিক ঐক্য এবং জাতি-রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যে সহায়তা করে।<ref>লিভার, জ্যানেট। সকার ম্যাডনেস ব্রাজিলস প্যাশন ফর দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট পপুলার স্পোর্ট। নিউ ইয়র্ক: ওয়েভল্যান্ড পি, ১৯৯৫।</ref> ব্রাজিলের প্রতিটি শহরে কমপক্ষে একটি পেশাদার সকার দল রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, বিভিন্ন দল বিভিন্ন সংস্কৃতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্তর এবং জাতিসত্তা। এটি স্থানীয় স্তরে আনুগত্য তৈরি করে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একটি শহরের প্রতিনিধিত্বকারী দল সেই শহরের সকল মানুষের সমর্থন পাবে। এভাবে এটি বৃহত্তর স্তরে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলে। দলের প্রতিনিধিত্বের জন্য এই দৃঢ় সমর্থন মানুষকে একাত্ম হওয়ার মতো কিছু দেয়। দলের প্রতি তাদের সমর্থনকে জাতির প্রতি সমর্থন হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপের সময় এটি আরও বেশি দেখা যায়। তখন পুরো ব্রাজিল তাদের দেশের আনুষ্ঠানিক দলকে সমর্থন করতে ঐক্যবদ্ধ হয়। ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা 'পেন্টা' নিয়ে গর্ব করতে পছন্দ করে। তারা একমাত্র দেশ হিসেবে পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে। তারা ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে।<ref>২০০৯। http://www.mapsofworld.com/brazil/sports/soccer.html</ref> সকার ব্রাজিলকে ঐক্যবদ্ধ করে। তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ক্রীড়া সবসময় ঐক্য তৈরি করে না। ক্রীড়া সকল ক্রীড়াবিদদের মধ্যে একটি আক্রমণাত্মক ও প্রতিযোগিতামূলক দিক বের করে আনে। এগুলো নারী ও পুরুষের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্যের মতো অসমতাগুলোও তুলে ধরে। ব্রাজিলিয়ান নারীদের সকারের প্রতি আগ্রহ অনেক কম। এর ফলে তারা সেই দিক থেকে পুরুষদের চেয়ে আলাদা থাকে। (শেষ বিবৃতিটি সম্পূর্ণ সঠিক নাও হতে পারে। বিপুল সংখ্যক ব্রাজিলিয়ান নারী বিশ্বের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ সকার ভক্তদের অন্যতম। এছাড়া ব্রাজিল নারী জাতীয় দল এই খেলায় সবচেয়ে সফল ক্লাব।)<ref>ইম্যানুয়েল গ্রোসি</ref> সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রে সকার খেলা গুণমান বাড়ায় বলে মনে করা হয়। এসব দিকের মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মকতা, প্রতিযোগিতা, শারীরিক শক্তি, সমন্বয়, দলবদ্ধ কাজ, শৃঙ্খলা এবং গতি। এগুলো সবই পুরুষ লিঙ্গের সাথে সম্পর্কিত গুণাবলী। পুরুষদের জন্য তাদের বাড়িতে বা স্থানীয় দোকানের সামনে একসাথে খেলা দেখা একটি সাধারণ অভ্যাস। এসব সমাবেশে নারীদের স্বাগত জানানো হয় না। প্রায়শই খেলা শুরুর আগে তাদের চলে যেতে বলা হয়। খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আসতে নিষেধ করা হয়। সার্বিয়ান সংস্কৃতির এই পুরুষশাসিত দিকটি ব্রাজিলে দেখা নারী ও পুরুষের লিঙ্গ বৈষম্যের সমান্তরাল।<ref>মাসা ভুকানোভিচ। এপ্রিল ২০০২। http://www.anthrobase.com/Txt/V/Vukanovich_M_01.htm</ref> সকার উচ্চবিত্ত সমাজ ও নিম্নবিত্ত সমাজের মধ্যকার পার্থক্যকে তুলে ধরে। এটিও এক ধরনের অসমতা। বিংশ শতাব্দী জুড়ে বিশেষ করে গরিবরা সকার চর্চা করত। অনেক দরিদ্র ছেলে পরবর্তী পেলে বা রোনালদো হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এর কারণে তারা জাতীয় সকার সংস্কৃতিকে আরও বেশি প্রচার করে। সকার নিয়ে স্বপ্ন দেখা লাখ লাখ দরিদ্র শিশুর জন্য একটি প্রেরণা। তারা দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে চায়। ব্রাজিলিয়ান জীবনে সকার সংস্কৃতির প্রভাব রাজনীতি বা অর্থনীতির চেয়ে বড় হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা। কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন উইথ ফ্রি স্টাডি স্কিলস গাইড অন সিডি-রম। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ইউএসএ, ২০০৪।</ref> ===আমেরিকান ফুটবল=== আমেরিকান ফুটবলের অনেকগুলো ব্যাপকভাবে সম্প্রচারিত খেলা রয়েছে। এগুলো প্রতি বছর বিশাল দর্শক টানে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিত সুপার বোল প্রতি বছর লাখ লাখ টেলিভিশন দর্শক টানে। নতুন বছরের দিনে বা তার আশেপাশে কলেজ ফুটবলের একাধিক বিসিএস (বোল চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজ) বোল গেম অনুষ্ঠিত হয়। এগুলোও এই খেলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।<ref>(ফুটবল ইন দ্য ইউএসএ: আমেরিকান কালচার অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ডস গেম বাই পিটার এস. মরিস, নভ. ২০০৪)</ref> ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) একটি সংস্থা। এতে সারা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ৩২টি পেশাদার দল রয়েছে। এনএফএল বিশ্বব্যাপী আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০০৮-০৯ এনএফএল মৌসুমে নিউ অরলিন্স সেন্টস এবং সান দিয়েগো চার্জার্স লন্ডনে নিয়মিত মৌসুমের খেলা খেলেছিল। এরপর থেকে প্রতি বছর অন্তত একটি আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এনএফএলকে আরও বিশ্বব্যাপী করে তুলতে এবং খেলার সংস্কৃতি সম্প্রসারণ করতে এটি করা হয়েছিল। ফুটবল একটি হিংসাত্মক খেলা। পেশাদার স্তরের হিটগুলো প্রায়শই দুজন অসামান্য ক্রীড়াবিদের পূর্ণ গতিতে একে অপরের সাথে দৌড়ানোর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সুরক্ষা হিসেবে তারা প্যাড এবং হেলমেট পরিধান করে। এটি বিপদের অনুভূতি প্রশমিত করে। ফুটবলের আক্রমণাত্মক প্রকৃতি এর জনপ্রিয়তার একটি প্রধান কারণ। এর প্রধান গুণাবলী হলো কঠোরতা এবং অধ্যবসায়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জীবনের পরবর্তী সময়ে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটিই এবং ডিমেনশিয়া। এর ফলে খেলাটি খেলার নেতিবাচক প্রভাব ইতিবাচক দিকগুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ===বেসবল=== [[File:Dominican baseball.jpg|thumb|ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি অল্পবয়সী ছেলে একটি অনুশীলন খেলার সময় একজন স্বেচ্ছাসেবক আম্পায়ারের সাথে বল এবং স্ট্রাইক নিয়ে তর্ক করছে।]] এই সর্বজনীন ক্রীড়াটি ডোমিনিকান রিপাবলিকের সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি ডোমিনিকানদের একে অপরের সাথে যুক্ত করে। এটি ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ক্যারিবিয়ানের বাকি অংশের সাথেও যুক্ত করে রেখেছে।<ref>দ্য ট্রপিক অব বেসবল: বেসবল ইন দ্য ডোমিনিকান রিপাবলিক। http://books.google.com/books?id=kloGyBSEsRsC&printsec=frontcover#PPP1,M1</ref> এই ছোট ক্যারিবিয়ান দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ বেসবলের অনেক সেরা খেলোয়াড়ের আবাসস্থল। যুক্তরাষ্ট্রে মেজর লিগ পরিচালিত হয় এবং ওয়ার্ল্ড সিরিজ খেলা হয়। মেজর লিগ হিরোরা ডোমিনিকান রিপাবলিকে এই খেলায় পারদর্শী হয়েছিলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন [[w:স্যামি সোসা|স্যামি সোসা]], [[w:পেদ্রো মার্তিনেস|পেদ্রো মার্তিনেস]] এবং [[w:ভ|ডেভিড অর্টিজ]]। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদারভাবে খেলা। ডোমিনিকান রিপাবলিক একটি অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র দেশ। ডেভিড অর্টিজ এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা এই বাচ্চাদের তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে ফিরে আসেন। তারা দেখান কীভাবে বেসবল খেলে অন্য সংস্কৃতিগুলো দেখা যায়। ছোট ছেলে এবং কিশোররা সেরা বেসবল খেলোয়াড় হওয়ার জন্য সারাজীবন কাজ করে। এই ধ্রুবক প্রতিযোগিতা বিনোদনের একটি দুর্দান্ত উৎস। এ কারণেই বেসবল খেলা ডোমিনিকান সংস্কৃতির একটি বিশাল অংশ। বেশিরভাগ নারীকে এই খেলায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। এই নিয়মটি লিঙ্গবৈষম্য নয়, বরং নারীদের সুরক্ষিত রাখার একটি প্রয়াস। বেশিরভাগ ডোমিনিকান মনে করেন বেসবল নারীদের জন্য একটি বিপজ্জনক খেলা। শক্ত বল যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো জায়গায় আঘাত করতে পারে। নারীরা বেসবল খেলতে পারবে না এমন কোনো আইন নেই। তবে তারা ঐতিহ্যগতভাবে এই সাংস্কৃতিক বিনোদনে অংশ নেয় না। নারীদের জন্য সফটবল নামে একটি খেলা তৈরি করা হয়েছে। এটি বেসবলের মতোই, তবে এতে একটি বড় এবং নরম বল ব্যবহার করা হয়। ডোমিনিকান রিপাবলিকের পুরুষদের জন্য বেসবল কেবল একটি দুর্দান্ত শখ বা সম্পর্ক তৈরির উপায় নয়। এটি সেরা ক্রীড়াবিদ হওয়ার সুযোগও দেয়। বেসবল আমেরিকার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে এবং ইতিহাস থেকে ক্রীড়াকে রূপ দিতে সাহায্য করেছে। এশিয়া প্রথম বেসবল খেলা শুরু করার পর আমেরিকা এসে একটি বিপ্লবের সূচনা করে। <ref>ক্লিন, অ্যালান এম. কালচার, পলিটিক্স, অ্যান্ড বেসবল ইন দ্য ডোমিনিকান রিপাবলিক। http://www.jstor.org/stable/2634143</ref> বিভিন্ন ধরণের ক্রীড়ায় প্রতীক এবং ভাষা ব্যবহৃত হয়। তবে বেসবল খেলার জন্য এগুলো একেবারে অপরিহার্য। বেসবলের একটি পূর্ণ নয় ইনিংসের খেলায় মাঠে প্রায় কখনই সম্পূর্ণ নীরবতা থাকে না। আমেরিকান সংস্কৃতিতে থার্ড বেস কোচ নির্দিষ্ট অঙ্গভঙ্গি এবং হাতের ইশারা ব্যবহার করেন। তিনি ব্যাটারকে একটি নির্দিষ্ট কাজ (সুইং, বান্ট, টেক ইত্যাদি) করার নির্দেশ দেন। মাঠে খেলোয়াড়রা অবস্থান পরিবর্তন, আউটের সংখ্যা এবং ব্যাটার সাধারণত কোথায় বল মারে সেই সম্পর্কে টিপস দিতে হাতের ইশারা এবং ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করেন। বেসবলে প্রতীক এবং হাতের ইশারার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারটি ক্যাচার করেন এবং এটি পিচারের দিকে নির্দেশিত হয়। এই অঙ্গভঙ্গিগুলো খেলার একটি অপরিহার্য দিক। কারণ এগুলো পিচারকে বলে দেয় সে পরবর্তীতে কোন পিচ (কার্ভবল, ফাস্টবল, স্লাইডার ইত্যাদি) নিক্ষেপ করবে। সংস্কৃতি এবং খেলাটি কোন দেশে খেলা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন দলের সদস্য (থার্ড বেস কোচ, ফার্স্ট বেস কোচ, হেড কোচ, খেলোয়াড় ইত্যাদি) বেসবলে কমান্ড দেন। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকান সংস্কৃতিতে হিটিং সাইনগুলো থার্ড বেস কোচ দেন এবং ক্যাচিং সাইনগুলো হেড কোচ দেন।<ref>চিডেস্টার, ডেভিড ১৯৯৬দ্য চার্চ অব বেসবল, দ্য ফেটিশ অব কোকা-কোলা, অ্যান্ড দ্য পটল্যাচ অব রক "এন" রোল: থিওরিটিক্যাল মডেলস ফর দ্য স্টাডি অব রিলিজিয়ন ইন আমেরিকান পপুলার কালচার। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান একাডেমি অব রিলিজিয়ন ৬৪(৪): ৭৪৩–৭৬৫। http://www.jstor.org/stable/1465620?seq=5#page_scan_tab_contents</ref> বল বা ব্যাট ছাড়া যেমন বেসবল খেলা যায় না, তেমনি যোগাযোগ, প্রতীক এবং অঙ্গভঙ্গি ছাড়াও এটি খেলা যায় না। এছাড়া বেসবল যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার ক্রীড়া। আমেরিকান ফুটবল বা সকারের মতো অন্যান্য খেলা থেকে এটি আলাদা। বেসবল কোনো টাইমার ছাড়াই খেলা হয়। এটি খেলোয়াড়দের সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তা না করেই তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ দেয়। এর ফলে দক্ষতার উত্তেজনাপূর্ণ প্রদর্শন দেখা যায়। ===বাস্কেটবল=== বাস্কেটবল যুক্তরাষ্ট্রে সমানভাবে জনপ্রিয়। বিশ্বব্যাপী এর অনুসারীও বাড়ছে। বাস্কেটবল প্রতিটি দলের পাঁচজন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা হয়। একটি হুপের ভেতর দিয়ে বল সফলভাবে নিক্ষেপ করে পয়েন্ট অর্জন করাই প্রধান লক্ষ্য। বাস্কেটবল যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপকভাবে খেলা হয় এবং এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের কাছেই জনপ্রিয়। এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং ব্যাপকভাবে দেখা খেলাগুলোর একটি। নারীদের ক্রীড়ার সমতার সংগ্রাম বহু বছর ধরে চলছে। ডব্লিউএনবিএ ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত শুরু হয়নি। তবে শেরিল সোউপস, সিনথিয়া কুপার, লিসা লেসলি, ডায়ানা টাউরাসি এবং ক্যান্ডেস পার্কারের মতো তারকারা এর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। শেরিল সোউপস এবং সিনথিয়া কুপার হিউস্টন ধূমকেতুকে প্রথম চারটি ডব্লিউএনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের দিকে নিয়ে যান। তারা প্রথম ডব্লিউএনবিএ রাজবংশ ছিলেন। ডব্লিউএনবিএ এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে এর দর্শক এনএইচএল এবং এমএলবি উভয়কেই ছাড়িয়ে গেছে। টাইটেল নাইন ডব্লিউএনবিএতে বিশাল প্রভাব ফেলতে সাহায্য করেছে। এটি কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের সাহায্য করেছে এবং তাদের বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বাস্কেটবল অন্যান্য অনেক দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশগুলোর বিশ্বায়নে বাস্কেটবলের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বাস্কেটবল বিশ্বে বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে। কারণ এর সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় পেশাদার লিগ রয়েছে। এনবিএ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পেশাদার বাস্কেটবল লিগ। এটি বিশ্বজুড়ে বাস্কেটবল লিগের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালায়। এই বছর এনবিএ ১০টি ভিন্ন আন্তর্জাতিক শহরে ১০টি গেম খেলার জন্য ১২টি দল প্রস্তুত করে বিশ্বায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশা করছে। এনবিএ আরও আন্তর্জাতিক শহরগুলোকে বাস্কেটবল দল এবং লিগ গঠনে প্রভাবিত করার আশা করে। এসব খেলা তাদের দেশ এবং শহরে খেলা হবে। <ref>http://www.newyorker.com/business/currency/basketball-and-globalization</ref> === বক্সিং === যুদ্ধে প্রাচীন শিকড় থাকা একটি ক্রীড়া হলো বক্সিং। এটি আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বেশিরভাগ অংশে প্রচলিত। বক্সিংয়ের উৎপত্তি প্রাগৈতিহাসিক। জনপ্রিয়তার হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে খেলাটি বহু বছর ধরে বিবর্তিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বর্তমানে বক্সিংয়ের জন্য চারটি প্রধান অনুমোদনকারী সংস্থা রয়েছে। এগুলো হলো ওয়ার্ল্ড বক্সিং অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও), ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং অর্গানাইজেশন (আইবিএফ), ওয়ার্ল্ড বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউবিএ) এবং ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিল (ডব্লিউবিসি)। বক্সিংয়ের জনপ্রিয়তা দেশভেদে পরিবর্তিত হয়। কারণ ওই এলাকার সংস্কৃতির সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। বক্সিংয়ের সাথে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর উদাহরণ হলো মেক্সিকো, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। বিখ্যাত চ্যাম্পিয়নদের একটি বড় অংশ এসব অঞ্চল থেকে এসেছে। তবে পেশাদার বক্সিংয়ের অনেক বিখ্যাত তারকা বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে আন্তর্জাতিক আইকন হয়ে উঠতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন মাইক টাইসন, মুহাম্মদ আলী এবং রবার্তো ডুরান। ২০০০ এর দশক থেকে পেশাদার বক্সিংয়ের দর্শক সংখ্যা কমে গেছে। তবে অপেশাদার বক্সিং একটি খেলা যা এখনও বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে খুব জনপ্রিয়। এটি একটি অলিম্পিক খেলা। ===গেমিং এবং ই-স্পোর্টস=== শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ঐতিহ্যগতভাবে খেলা হিসেবে দেখা না হলেও ভিডিও গেমগুলো মূলধারায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ই-স্পোর্টস হিসেবে পরিচিত এগুলো প্রতিযোগিতার একটি রূপ যা অনলাইন ডিভাইস দ্বারা সহজতর করা হয়। এগুলো সাধারণত বাড়ির আরামে খেলা হয়। তবে সম্প্রতি এগুলো অ্যারেনায় আয়োজন করা হচ্ছে। সবচেয়ে সাধারণভাবে ই-স্পোর্টস সংগঠিত, মাল্টিপ্লেয়ার ভিডিও গেম প্রতিযোগিতার রূপ নেয়। বিশেষ করে পেশাদার খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি হয়। উন্নত দেশগুলোতে ই-স্পোর্টসের বড় ইভেন্ট এবং প্রতিযোগিতাও রয়েছে। এসব গেমাররা নগদ পুরস্কার জেতার জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষমতা যাচাই করতে মিলিত হন। ই-স্পোর্টস আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বাধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ই-স্পোর্টস পুরস্কার দলীয় খেলার জন্য ১০,০০০ এবং ব্যক্তিগত খেলার জন্য প্রায় ৬,০০০ ডলার অতিক্রম করতে পারে। এসব টুর্নামেন্টের অনেকগুলি ইএসপিএনের মতো স্পোর্ট নেটওয়ার্কগুলো কভার করে। [http://www.espn.com/esports/]। নগদ পুরস্কারের পাশাপাশি খেলোয়াড় এবং দলগুলোকে কোম্পানিগুলো পৃষ্ঠপোষকতা করে। ন্যাসকার ড্রাইভার, প্রো স্নোবোর্ডার এবং আমেরিকান সকার দলগুলোর মতো রেজার, রেড বুল, লজিটেক, জেইকো এবং মনস্টার এনার্জি-র মতো কোম্পানিগুলো তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। কাউন্টারস্ট্রাইক, লিগ অব লিজেন্ডস, ডোটা ২, ওভারওয়াচ, পিইউবিজি এবং স্টারক্রাফট হলো শীর্ষস্থানীয় গেম। স্ম্যাশ এবং টেককেনের মতো ফাইটিং গেমের মতো আরও গেম প্রতিযোগিতামূলক দৃশ্যে নজর কাড়ছে। বিশেষভাবে "মাল্টিপ্লেয়ার অনলাইন ব্যাটল অ্যারেনা" ধরনের গেমের (এমওবিএ) দৃশ্যের মধ্যে লিগ অব লিজেন্ডস এবং ডোটা ২-এর মতো গেমগুলো ক্রীড়ার প্রথাগত চিত্রের মতো অনুশীলনে ধার দিয়েছে। ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ২০,৭৭০,৬৪০ ডলারের পুরস্কার ছিল। [https://www.dota2.com/international/overview/ 1]। একই বছরে লিগ অব লিজেন্ডস ওয়ার্ল্ড ট্যুর একই বছরের সুপার বোলের চেয়ে বেশি দর্শক দেখেছিল। এই ধরনের গেমের চারপাশের সম্প্রদায়গুলো 'ই-স্পোর্টস' (ইলেকট্রনিক স্পোর্টস) শব্দটি তৈরি করেছে। তারা পেশাদার খেলোয়াড়দের স্পোর্টস ভিসা প্রদানের জন্য মার্কিন সরকারের সাথে অধিকার অর্জন করেছে। এমওবিএ সম্প্রদায়গুলোর খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের গেমটিকে ই-স্পোর্টস হিসেবে চিহ্নিত করা একটি সাধারণ ব্যাপার। তবে এই মত সাধারণ মানুষের সাথে ভাগ করা হয় না। তবে এটি এমন একটি শিল্প যার নিজস্ব কষ্ট রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী পেশাদার গেমারদের দিনে চৌদ্দ থেকে ষোল ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সফল অল্প কয়েকজন লোক জাতীয় গড়ের তুলনায় যথেষ্ট কম বেতন পান। কোরিয়ায় শীর্ষ পেশাদার খেলোয়াড়রা বছরে ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ ডলার উপার্জন করতে পারে। তবে ছোট দলের খেলোয়াড়রা গড়ে বছরে ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলারের মধ্যে উপার্জন করে। সে কথা বলতে গেলে অনেক ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়ের উন্নতি করা এবং দীর্ঘ, সফল ক্যারিয়ার থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। দল বা ব্যক্তিগত যাই হোক না কেন এটি সম্ভব। উপরন্তু প্রো খেলোয়াড়দের সাধারণত বয়স গ্রুপ এবং গেমের ধরনের উপর নির্ভর করে দীর্ঘ ক্যারিয়ার থাকে। [http://www.espn.com/esports/story/_/id/21689888/dispelling-esports-myths-pros-not-destined-short-careers]। ===ক্রীড়ায় যুক্ত হওয়ার ইতিবাচক প্রভাব=== ক্রীড়ার সাথে যুক্ত হওয়া নানাভাবে উপকারী। এটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, দল গঠনের সুযোগ, শক্তি, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব এবং শৃঙ্খলার প্রচার করে। এটি মাঠে এবং মাঠের বাইরে আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও পারে। এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা শিশুদের স্বাধীন, চালিত ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। এই তত্ত্বের পেছনে গবেষণা করা হয়েছে যে কিশোরী মেয়েরা বিশেষ করে খেলাধুলায় জড়িত থাকলে তারা নিরাপদ এবং অধিক উৎপাদনশীল জীবনযাপন করতে পারে।<ref>ব্রিটনি লুন্ডবার্গ</ref> এটি প্রমাণিত হয়েছে যে ক্রীড়াবিদরা ভালো গ্রেড পান এবং মানসম্মত পরীক্ষায় ভালো পারফর্ম করেন। উদাহরণস্বরূপ, সাঁতার টেনিস এবং ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের সাথে শীর্ষ একাডেমিক পারফর্মিং খেলাগুলোর একটি। ক্রীড়ার অভ্যাসগুলো স্কুলে পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। মেয়েরা এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করে যা তাদের মনোযোগী থাকতে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোচ এবং পিতামাতারা ক্রীড়াবিদদের জন্য অবচেতন প্রত্যাশা তৈরি করতে শুরু করেন। এগুলো তাদের এমন কাজকর্মে জড়িত হওয়া থেকে বিরত রাখে যেগুলোতে তাদের জড়িত হওয়া উচিত নয়। রাসেল আর. পেট, পিএইচডি; স্টুয়ার্ট জি. ট্রোস্ট, পিএইচডি; সারাহ লেভিন, পিএইচডি; মার্শা ডাওডা, ডা.পিএইচের করা একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় ৭০% পুরুষ শিক্ষার্থী এবং ৫৩% নারী শিক্ষার্থী স্কুল বা স্কুলের বাইরের পরিবেশে ১টি বা তার বেশি ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণ করার কথা জানিয়েছে। হার বয়স, লিঙ্গ এবং জাতিসত্তা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। অংশগ্রহণ না করা পুরুষ শিক্ষার্থীদের তুলনায় খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী পুরুষ শিক্ষার্থীরা আগের দিন ফল ও সবজি খাওয়ার কথা বেশি জানিয়েছে। তাদের সিগারেট ধূমপান, কোকেন ও অন্যান্য অবৈধ মাদক ব্যবহার এবং ওজন কমানোর চেষ্টা করার সম্ভাবনা কম ছিল। খেলায় অংশগ্রহণ না করা নারীদের তুলনায় খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী নারীরা আগের দিন সবজি খাওয়ার কথা বেশি জানিয়েছে। গত ৩ মাসে তাদের যৌনমিলনের সম্ভাবনা কম ছিল। খেলাধুলায় অংশগ্রহণ গণিত ও বিজ্ঞানের সাফল্যের সাথে যুক্ত। এগুলো ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের আধিপত্য থাকা বিষয়। এর একটি ব্যাখ্যা হতে পারে খেলাধুলা মেয়েদের ঐতিহ্যগত লিঙ্গ স্ক্রিপ্ট প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এগুলো এই ক্ষেত্রগুলোতে অধ্যবসায় এবং প্রতিযোগিতাকে সীমাবদ্ধ করে। এটি অন্বেষণ করার জন্য আমরা একাডেমিক ডোমেনগুলোতে ছেলে এবং মেয়েদের ওপর ক্রীড়ার প্রভাবগুলোর বৈসাদৃশ্য তৈরি করি। এগুলো পুংলিঙ্গ (পদার্থবিদ্যা) এবং স্ত্রীলিঙ্গ (বিদেশি ভাষা) হিসেবে স্টেরিওটাইপ করা হয়। উপরন্তু আমরা পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া খেলাগুলোকে আলাদা করি। এটি এমন কার্যকলাপগুলো চিহ্নিত করতে করা হয় যা ঐতিহ্যগত লিঙ্গ রীতিনীতিগুলোকে শক্তিশালী বা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। একই লিঙ্গের অংশগ্রহণ না করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় মেয়েদের পদার্থবিদ্যা এবং বিদেশি ভাষা নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে ছেলেদের বিদেশি ভাষা নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ক্রীড়া বিভাগগুলো ছেলে এবং মেয়েদের জন্য ভিন্ন নিদর্শন প্রকাশ করে। পুংলিঙ্গ ক্রীড়া মেয়েদের জন্য পদার্থবিদ্যা এবং ছেলেদের জন্য বিদেশি ভাষার সাথে সম্পর্কিত। অন্যদিকে মেয়েলি ক্রীড়া মেয়েদের জন্য কেবল বিদেশি ভাষার সাথে সম্পর্কিত। এই ফলাফলগুলো পূর্বের গবেষণাগুলোকে নিশ্চিত করে যে খেলাধুলা শিক্ষায় উন্নতি করে। তবে এগুলো থেকে বোঝা যায় খেলাধুলার অভিন্ন প্রভাব নেই। কিছু খেলাধুলা সম্ভাব্যভাবে প্রথাগত নারীত্বকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং মেয়েদের পুংলিঙ্গ ডোমেনগুলোতে টিকে থাকতে সাহায্য করতে পারে। অন্যান্য খেলাধুলাগুলো একই সুবিধা প্রদান নাও করতে পারে। (ক্রিসসি, এস. আর., পিয়ারসন, জে., এবং রিগেল-ক্রাম্ব, সি. "জেন্ডার ডিফারেন্সেস ইন দ্য ইফেক্টস অব স্পোর্টস পার্টিসিপেশন অন অ্যাকাডেমিক আউটকামস") খেলাধুলায় বেশি জড়িত থাকলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যও শীর্ষ অগ্রাধিকারে পরিণত হয়। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা স্কুল, খেলাধুলা, পারিবারিক সময় এবং বাড়ির কাজ নিয়ে সময় কাটানোর সময় সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা শেখা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় মানুষের শরীর ক্লান্ত ও জীর্ণ হয়ে পড়বে। তারা যতটা ভালো করতে পারে ততটা ভালো পারফর্ম করতে পারবে না। মানুষ যখন ভালো শারীরিক আকারে থাকে তখন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অনেক বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক হয়। এগুলো সারাজীবন স্থায়ী হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা মানুষকে খেলাধুলা এবং ব্যায়ামে ভালো পারফর্ম করার জন্য বেশি শক্তি দেয়। এটি হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করবে। তাই ক্রীড়া ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ব্যায়ামকে অবশ্যই একটি সুস্থ সামগ্রিক জীবনযাত্রার সাথে যুক্ত হতে হবে। ===দলীয় ক্রীড়ার সুবিধা=== দলে অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের সাথে কাজ করা একটি শক্ত-বোনা সম্প্রদায় তৈরি করে। মানুষ অন্যান্য খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করতে এবং একটি সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে শেখে। একটি কার্যকর দলের পরিবেশ সহযোগিতামূলক এবং হুমকিমুক্ত থাকে। এটি আরও উন্মুক্ত এবং নিবদ্ধ শিক্ষার সুযোগ দেয়। প্রতিযোগিতায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আপসের মতো দক্ষতাগুলো অনেক দ্রুত শেখা যায়। এই ধরনের সংযোগ খেলার মাঠ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক জীবনে নিয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ কীভাবে মাঠে খেলে এবং যোগাযোগ করে তা প্রতিফলিত করতে পারে কীভাবে সে একটি ব্যবসায়িক মিটিংয়ে সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে। এটি তারা কীভাবে তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে তাও দেখাতে পারে। দলে কাজ করা একটি গ্রুপকে কঠিন চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে উপকৃত করতে পারে। কারণ একটি গ্রুপের মন এবং কাজ কেবল একজনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং সফল হতে পারে। তারা কীভাবে একটি চ্যালেঞ্জের কাছে যেতে হবে সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনার বৈচিত্র্যের সুযোগ দেয়। তারা গ্রুপটিকে ধ্রুবক সমর্থন দ্বারা টিকিয়ে রাখার সুযোগ দেয়।<ref>http://web2.uqat.ca/marsanm/Readings/ch2%20The%20wisdom%20of%20teams.pdf</ref> ক্রীড়া ক্রীড়াবিদদের আরও স্বাস্থ্যসচেতন, অনুপ্রাণিত, মনোযোগী এবং উদ্যমী করতে পারে। একটি দলের অংশ হওয়া ক্রীড়াবিদদের অন্যদের সাথে অনেক ভালো যোগাযোগ করতে সক্ষম করে। এটি অন্যদের চাহিদা বিবেচনা করতে, সমালোচনামূলক চিন্তার সমস্যা সমাধান করতে এবং একজন নেতা হতে সক্ষম করে। ===স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন=== বর্তমানে আমেরিকায় অতিরিক্ত খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে একটি মহামারী চলছে। একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো ছোট শিশুদের মধ্যে স্থূলতার ক্রমবর্ধমান হার। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের জ্ঞান ছাড়াই শিশুরা বড় হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় তারা এমন একটি জীবনযাত্রায় জড়িয়ে পড়ে যা অস্বাস্থ্যকর। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমেরিকা একটি স্বাস্থ্যকর বিশ্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। আমেরিকায় স্থূলতা সম্পর্কিত এই সাম্প্রতিক স্পাইকের অন্যান্য কারণগুলো হলো গত শতাব্দীতে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ। এগুলো আমাদের দৈনন্দিন রুটিন থেকে শারীরিক ব্যায়াম প্রায় সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দিয়েছে। যদি না কেউ ব্যায়াম করার উদ্দেশ্যমূলক প্রচেষ্টা না করে। অটোমোবাইলের উদ্ভাবন প্রযুক্তির কিছু উদাহরণ হিসেবে দায়ী করা হয়। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হাঁটার দিকটি কেড়ে নিয়েছে। কারখানাগুলোতে অ্যাসেম্বল লাইনের উদ্ভাবন খাবারকে দ্রুত ও আরও কার্যকরীভাবে তৈরি, প্যাক এবং শিপ করে।<ref>http://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=McrESStscH4C&oi=fnd&pg=PR22&dq=american+industrial+revolution&ots=WCKg3xKqDr&sig=y7MO_jMW26YtGkwxN-bVgbNyb1s#v=onepage&q&f=false</ref> এসব উন্নয়ন থেকে আমরা মুদি দোকানের তাকগুলোতে সস্তা, উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত, সুস্বাদু খাবার প্রচুর পরিমাণে মজুত করার ক্ষমতাও অর্জন করেছি।<ref>মাইকেল ডি. লেমোনিক। http://www.time.com/time/subscriber/covers/1101040607/article/how_we_grew_so_big_diet01a.html</ref> এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নগুলো সমাজ হিসেবে আমেরিকাকে জনসংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে দিয়েছে। একই সাথে এটি তার নিজস্ব নাগরিকদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শারীরিক সুস্থতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতেই কেবল সাহায্য করে না, এটি মানুষকে দীর্ঘকাল বাঁচতেও সাহায্য করে। আপনি যদি সারাজীবন সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখতে পারেন তবে আপনি অস্টিওপরোসিসের সূচনা ধীর করতে পারবেন। এর পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতেও পারবেন। যারা কম বয়সে শারীরিক কার্যকলাপ এবং ব্যায়ামকে তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেয় তাদের বড় হওয়ার সাথে সাথে এটি জীবনে ধরে রাখার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তারা তাদের সারাজীবন এর থেকে উপকৃত হয়। শারীরিক কার্যকলাপকে শক্তি ব্যয়কারী যেকোনো আন্দোলন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ব্যায়াম শারীরিক কার্যকলাপের একটি উপসেট, তবে এটি কাঠামোগত এবং পরিকল্পিত একটি কার্যকলাপ। অনেক শিশু শারীরিক ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত থাকে, সাধারণত তাদের বন্ধুদের সাথে খেলার মাধ্যমে। দলীয় খেলায় কিশোর-কিশোরী হিসেবে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তাদের শারীরিক ক্রিয়াকলাপের পরিমাণ সাধারণত হ্রাস পায়। আজ আমেরিকায় ২০% এর বেশি শিশুর মধ্যে স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজন দেখা যায়। তার ওপর নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্বল খাদ্যাভ্যাস আমেরিকায় প্রতি বছর ৩০০,০০০ মৃত্যুর কারণ। এটি প্রমাণিত যে ৩০ মিনিটের পরিমিত শারীরিক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এটি প্রতি সপ্তাহে ন্যূনতম তিন দিন করতে হবে এবং এমনকি তিনটি ১০ মিনিটের খণ্ডেও বিভক্ত করা যেতে পারে। এটি একটি ৩০ মিনিটের সেশনের সমান ফলাফল দেবে। তবে বেশি ঘন ঘন ব্যায়াম অবশ্যই আরও দ্রুত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।<ref>লরা হেইড্রিক। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির এক্সারসাইজ সায়েন্স মেজর এবং এসিই পার্সোনাল ট্রেইনার</ref><ref>পিই ৩০৮ এর জন্য ডেভিড সুপ্রাকের বক্তৃতা</ref> খেলাধুলায় অংশগ্রহণের অসংখ্য ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, খেলাধুলায় জড়িত থাকা আপনার মধ্যে খেলাধুলা এবং জীবনে প্রচুর মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা গেঁথে দেয়। খেলাধুলা করা আপনার সতীর্থদের সাথে দলবদ্ধ কাজ বিকাশ করতে সাহায্য করে। দলের সবাই একটি সাধারণ লক্ষ্যের (জেতার জন্য) জন্য চেষ্টা করে। খেলাধুলায় সাফল্য পেতে নিঃস্বার্থ দলীয় খেলার প্রয়োজন হয়। সাফল্য সহজে আসে না। খেলাধুলায় এবং জীবনে সফল হওয়ার জন্য আপনাকে আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করতে হবে। আপনি যে খেলাটি খেলেন তাতে যখন আপনি উত্সর্গ এবং কঠোর পরিশ্রম অনুশীলন করেন, তখন আপনি বুঝতে পারেন সফল হতে কতটা কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতে জীবনে পরে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ক্রীড়া অত্যন্ত ইতিবাচক।<ref>ফিল জ্যাকসন, লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স বাস্কেটবল কোচ</ref> == ক্রীড়া এবং বিশ্বায়ন == এটি লক্ষ্য করা যায় যে কয়েক দশক ধরে ক্রীড়া বিশ্বায়নের প্রভাবগুলো চালনার বাহন হয়ে উঠেছে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যবসা বা অন্যান্য সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক প্রভাব তৈরি করে বা আন্তর্জাতিক স্কেলে কাজ শুরু করে। এই প্রক্রিয়াটি পরিবেশ, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সমাজের মানুষের শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক দল ও লিগ এবং মেগা-স্পোর্টিং ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ একটি কোণঠাসা বাজারকে ইন্ধন জোগায়। এটি খেলার ছোট সম্প্রদায়ের আদর্শ থেকে সরে যায় এবং এটিকে শিল্পে পরিণত করে। এর কিছু বৃহত্তম এবং সহজেই শনাক্তযোগ্য উদাহরণ হলো অলিম্পিক এবং বিশ্বকাপ। পেশাদার প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর জাঁকজমকের বিনিয়োগের চেয়ে মার্কেটিং এবং ব্যবসায়িক কৌশল অনুসরণ করে এসব ইভেন্টগুলো অবিশ্বাস্যভাবে বিশাল হয়ে উঠেছে। "বিশ্বজুড়ে স্পোর্টস ম্যানেজারদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ সঞ্চয় কৌশলগুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ধারণা করা হয়েছিল"<ref>[http://library.la84.org/OlympicInformationCenter/OlympicReview/1999/OREXXVI29/OREXXVI29q.pdf]</ref> — এটি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করতে পারে যে ক্রীড়ার বিশ্বায়ন বরং আন্তর্জাতিক শিল্পের একটি আমেরিকানকরণ। বাজার হিসেবে ক্রীড়ার অর্থ হলো বৈশ্বিক উৎপাদন তৈরির প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি বড় কর্পোরেট সংস্থার অংশীদারিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণ বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া ব্র্যান্ড, আন্তর্জাতিক কর্পোরেশন এবং আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ফার্মগুলোর ছোট গ্রুপ। এই গোষ্ঠীগুলো বৃহৎ বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর সময়সূচি এবং প্রযোজনা নির্ধারণ করে। তারা ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং পোশাক তৈরির জন্য সস্তা বিদেশি শ্রমের সুবিধা নেয়। তারা পণ্যদ্রব্য এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নির্দিষ্ট লিগ এবং দলগুলোর প্রচার করে। কখন এবং কোথায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সেটিকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াবিদদের ক্যারিয়ার নিয়ন্ত্রণ করে। ব্রক ইউনিভার্সিটির লুসি থিবল্ট বিশ্বজুড়ে পেশাদার লিগগুলোতে শনাক্ত করা যাওয়া বিভিন্ন ক্রীড়াবিদদের উৎপত্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে নতুন অংশগ্রহণের বৃদ্ধির কথা বলেছেন। যেসব দেশ আগে অংশগ্রহণ করেনি তাদের অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। লিঙ্গ, ধর্ম এবং জলবায়ুর অনেক বাধা ভেঙে খেলাধুলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ক্রীড়াবিদদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে তিনি ক্রীড়া বিশ্বায়নের ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি ক্রীড়া শিল্পের বিশ্বায়নের দৃঢ়ভাবে নেতিবাচক সত্যগুলোও স্পর্শ করেছেন। থিবল্ট বিদেশি দেশগুলোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ক্রীড়াবিদদের তাদের জন্মভূমি থেকে প্রলুব্ধ করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি খেলাধুলার পোশাক এবং সরঞ্জাম উৎপাদনে তৃতীয় বিশ্বের মানুষের বিদেশি শোষণের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি মেগা-স্পোর্টস ইভেন্টগুলোর পরিবেশগত পদচিহ্নের কথাও উল্লেখ করেছেন।<ref>থিবল্ট, লুসি ২০০৯ গ্লোবালাইজেশন অব স্পোর্ট: অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ ১। জার্নাল অব স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ২৩(১): ১–২০।[http://nassm.org/sites/default/files/zeigler/JSM23(1)2009Thibault.pdf]</ref> আজকের বাজারে "মিডিয়ার কাছে স্পোর্টকে একটি প্যাকেজে তৈরি করার দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রয়েছে যা দর্শকরা সহজেই গ্রাস করতে পারে" <ref>থিবল্ট, লুসি ২০০৯ গ্লোবালাইজেশন অব স্পোর্ট: অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ ১। জার্নাল অব স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ২৩(১): ১–২০।[http://nassm.org/sites/default/files/zeigler/JSM23(1)2009Thibault.pdf]</ref> এবং সারা বিশ্বের সংস্কৃতিগুলো এতে অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক মেগা-স্পোর্টের দিক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে বা নাও নিতে পারে। কেউ কেউ পরামর্শ দিতে পারে যে এটি ইতিবাচক সৃষ্টির চেয়ে বেশি ক্ষতি এবং নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। অবশ্যই এটি ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপিত নয়, তবে এর অর্থ এই নয় যে এর সমস্ত প্রভাবের অস্তিত্ব নেই। অলিম্পিক, বিশ্বকাপ, প্যারালিম্পিক এবং কমনওয়েলথ গেমগুলি এমন বড় ইভেন্টগুলোর কয়েকটি উদাহরণ। এগুলো এই শিল্পকে ইন্ধন জোগায়। এগুলো টিএনসি, গ্লোবাল টেলিকমিউনিকেশন এবং প্রধান স্পোর্টসওয়্যার ও সরঞ্জাম কোম্পানিগুলোর দ্বারা ক্রমাগত তৈরি করা হবে। বিশ্বায়নের এই পদ্ধতির মাধ্যমে তৈরি করা স্থায়ীভাবে বিশাল মুনাফা বাড়ানোর প্রয়াসে ইভেন্ট এবং ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য ক্রীড়াবিদ, দল এবং লিগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ, প্রদর্শন এবং ব্যবহার করা হবে। ===আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংস্কৃতি ভাগ করা=== আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সামাজিক বিবৃতি দেওয়ার জন্য একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। রেডিও, টেলিভিশন এবং স্ট্রিমিং প্রযুক্তি বিশ্বমঞ্চের ক্রীড়াবিদদের সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সরাসরি মূল্যবোধ সম্প্রচার করতে দেয়। ফেডারেশন বা লিগ প্রতিযোগিতার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো একটি বৃহৎ, টেকসই দর্শক ভিত্তি আকর্ষণ করে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বৃহত্তর বৈশ্বিক দর্শক রয়েছে। অলিম্পিক গেমসের মতো 'মেগা-ইভেন্টগুলো' "...জাতি-রাষ্ট্রের ভেতরে এবং মধ্যে পরিবর্তন ও আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্ট..."।<ref>রোচে, মরিস; ২০০২ মেগাইভেন্টস অ্যান্ড মডার্নিটি: অলিম্পিকস অ্যান্ড এক্সপোস ইন দ্য গ্রোথ অব গ্লোবাল কালচার। রুটলেজ। [https://books.google.com/books?id=RISFAgAAQBAJ&lpg=PP1&dq=olympics&lr&pg=PP1#v=onepage&q&f=false]</ref> ১৯৮৯ সালে মেক্সিকো সিটির অলিম্পিক গেমস যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীড়াবিদদের একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছিল। টমি স্মিথ এবং জন কার্লোস, যারা ২০০ মিটারে যথাক্রমে সোনা ও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ছিলেন,<ref>বিবিসি অন দিস ডে | ১৭ | ১৯৬৮: ব্ল্যাক অ্যাথলেটস মেক সাইলেন্ট প্রোটেস্ট (তারিখ বিহীন). http://news.bbc.co.uk/onthisday/hi/dates/stories/october/17/newsid_3535000/3535348.stm সংগৃহীত ডিসেম্বর ১২, ২০১৬। http://news.bbc.co.uk/onthisday/hi/dates/stories/october/17/newsid_3535000/3535348.stm</ref> জুতো ছাড়া, কালো মোজা এবং কালো স্কার্ফ পরে পডিয়ামে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যেকে বাতাসে কালো গ্লাভস পরা মুষ্টি তুলেছিলেন। এটি কৃষ্ণাঙ্গ শক্তি এবং কৃষ্ণাঙ্গ ঐক্য উভয়ের প্রতীক ছিল। ২০০ মিটারে অস্ট্রেলিয়ার শ্বেতাঙ্গ রৌপ্য পদকজয়ী পিটার নরম্যান ওপিএইচআর (অলিম্পিক প্রজেক্ট ফর হিউম্যান রাইটস) পিন পরে কারণটির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।<ref>দ্য ফরগোটেন স্টোরি বিহাইন্ড দ্য “ব্ল্যাক পাওয়ার” ফটো ফ্রম ১৯৬৮ অলিম্পিকস | টরন্টো স্টার (তারিখ বিহীন). https://www.thestar.com/news/insight/2016/08/07/the-forgotten-story-behind-the-black-power-photo-from-1968-olympics.html সংগৃহীত ডিসেম্বর ১২, ২০১৬। https://www.thestar.com/news/insight/2016/08/07/the-forgotten-story-behind-the-black-power-photo-from-1968-olympics.html</ref> আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি স্মিথ ও কার্লোসের নিন্দা করেছিল। তারা হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা আফ্রিকান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের প্রশংসিত হন। ==শিল্পকলা== শিল্পকলা কৌতুকপূর্ণ সৃজনশীলতা থেকে উদ্ভূত হয়। এটি সব মানুষেরই থাকে। মনে রাখবেন "শিল্পকলা" হিসেবে বর্ণিত কার্যকলাপগুলো অবাধ খেলা থেকে আলাদা। কারণ এগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। শিল্পের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, নাচ, থিয়েটার আর্টস ইত্যাদি। শৈল্পিক নিয়মগুলো নির্দিষ্ট মনোযোগ নির্দেশ করে। এগুলো শিল্পী বা খেলোয়াড়দের তৈরি করা কাজ বা বস্তুর রূপ মূল্যায়নের জন্য মান প্রদান করে। শিল্প শেষ পর্যন্ত বিষয়গত। এটি যে সংস্কৃতির মধ্যে উৎপাদিত হয় এবং তৈরি হয় তার দ্বারা পরিচালিত হয়। নৃবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার অ্যালান্ড শিল্পের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন শিল্প হলো "কিছু নান্দনিকভাবে সফল রূপান্তর-প্রতিনিধিত্ব তৈরি করা রূপের সাথে খেলা" (১৯৭৭, ৩৯)। অ্যালান্ডের সংজ্ঞায়: আয়োজিত খেলার ধরনের উপর উপযুক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো রূপ। উদাহরণস্বরূপ, একটি চিত্রকর্ম হলো একটি দ্বিমাত্রিক রূপ। "নান্দনিকভাবে সফল" বলতে বোঝায় শিল্পের স্রষ্টা বা শ্রোতা শিল্পের অংশ থেকে "একটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন"। মানগতভাবে নান্দনিকভাবে দুর্বল কোনো কিছুর অসফল প্রতিক্রিয়া থাকবে। এর ফলে শ্রোতা বা এমনকি লেখকের কাছ থেকে শিল্পের প্রতি উদাসীনতার আবেগ তৈরি হবে। রূপান্তরমূলক-প্রতিনিধিত্ব শব্দটি বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো যেকোনো কিছুর প্রতীকী অর্থ পৃষ্ঠের উপস্থিতির চেয়ে গভীর। সাংস্কৃতিক নির্দেশিকাগুলো উপযুক্ত এবং মূল্যবান বিষয়গুলোকে নির্দেশ করে। যেহেতু অ্যালান্ড প্রস্তাব করেন যে রূপান্তর-প্রতিনিধিত্বের একে অপরের ওপর নির্ভরতা রয়েছে, তাই দুটিকে একসাথে উল্লেখ করা উচিত। রূপান্তর-প্রতিনিধিত্ব রূপক সম্পর্কে কথা বলার আরেকটি উপায়। একটি অঙ্কন হলো একটি দ্বিমাত্রিক পৃষ্ঠে দৃশ্যমান চিহ্নে অভিজ্ঞতার একটি রূপক রূপান্তর। এছাড়া একটি কবিতা রূপকভাবে অভিজ্ঞতাকে ঘনীভূত এবং কঠোর ভাষায় রূপান্তরিত করে। উদ্দেশ্য অনুযায়ী শিল্পকলায় এমন বস্তুগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে যেগুলো শিল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। যেমন ইমপ্রেশনিস্ট পেইন্টিং। তবে অধিযাচন অনুযায়ী শিল্পকলায় অন্যান্য সমস্ত বস্তুকে বোঝায় যেগুলো "শিল্পে পরিণত হয়েছিল"। কারণ একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে নির্দিষ্ট লোকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে সেগুলো শিল্পের একটি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বিভাগটি পশ্চিমা সমাজ দ্বারা গঠিত হয়েছিল। বস্তু বা কার্যকলাপগুলো অগত্যা অন্য সমাজের সংস্কৃতিতে একই বিভাগে ফিট নাও হতে পারে। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং লাভেন্ডা, রবার্ট এইচ. <u>কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন</u>। ৭ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ২০০৯। অ্যালান্ড, আলেকজান্ডার। <u>দ্য আর্টিস্টিক অ্যানিমেল</u>। নিউ ইয়র্ক: ডাবলডে অ্যাঙ্কর, ১৯৭৭।</ref> নৃবিজ্ঞানী শেলি এরিংটন যুক্তি দেন যে কোনো বস্তুকে শিল্পে রূপান্তর করতে কাউকে তা প্রদর্শন করতে ইচ্ছুক হতে হবে। পশ্চিমা সমাজ যখন তাদের শিল্পের সংজ্ঞার সাথে খাপ খায় এমন একটি আইটেম দেখে, তখন সেটি "শিল্পকলা" বাজারে স্থাপন করা হয়। এরিংটন আরও উল্লেখ করেছেন যে শিল্পের পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি এমন বস্তু নির্বাচন করতে চায় যেগুলো: 'বহনযোগ্য, টেকসই, ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমে ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে অকেজো এবং প্রতিনিধিত্বমূলক।' একটি সমস্যা বিদ্যমান যেখানে শিল্পের পশ্চিমা সংজ্ঞা 'বহিরাগত' লোভ প্রদানকারী বস্তুগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে কাজে লাগাতে শুরু করে। পশ্চিমা সমাজে 'বহিরাগত' শিল্পের চাহিদা প্রবল। এই শিল্প সাধারণত এক মুহূর্তে ফ্যাশনেবল সাজসজ্জা এবং পরের বছর ফ্যাশনের বাইরে থাকে। এই "আসা-যাওয়া" ফ্যাশন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং প্রত্নবস্তু বহনকারী সমাজের সাথে সম্পদ নিষ্কাশন প্রকল্পগুলোকে হুমকি দিতে পারে। খেলার মতো শিল্প তার অবদানকারীদের বিকল্প বাস্তবতা প্রদানের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করে। এটি জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য বা পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং লাভেন্ডা, রবার্ট এইচ. <u>কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন</u>। ৭ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ২০০৯। অ্যালান্ড, আলেকজান্ডার। <u>দ্য আর্টিস্টিক অ্যানিমেল</u>। নিউ ইয়র্ক: ডাবলডে অ্যাঙ্কর, ১৯৭৭।</ref> ==শিল্প আন্দোলন== ===ইমপ্রেশনিজম=== ইমপ্রেশনিজম এমন চিত্রকর্ম বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ ছিল যেগুলো অসম্পূর্ণ দেখায়। কারণ সেগুলোতে দৃশ্যমান ব্রাশস্ট্রোক দেখা যেত। চিত্রকর্মগুলো দৈনন্দিন জীবনকে চিত্রিত করে। ১৮৭৪ সালে ইমপ্রেশনিস্ট চিত্রশিল্পীরা প্যারিসে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এটি ইমপ্রেশনিস্ট আন্দোলন শুরু করেছিল। তারা নিজেদেরকে অ্যানোনিমাস সোসাইটি অব আর্টিস্টস বলত। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন ক্লদ মনেট, এডগার দেগাস এবং ক্যামিল পিসারো।<ref>http://www.metmuseum.org/toah/hd/imml/hd_imml.htm</ref> ===পোস্ট ইমপ্রেশনিজম=== ১৮৮০ এর দশকের শেষের দিকে পোস্ট ইমপ্রেশনিজম শুরু হয়। পোস্ট ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের মতো একই শৈলীতে আঁকতেন, তবে তারা নতুন ধারণা যোগ করেছিলেন। তারা কেবল দৈনন্দিন জীবনে যা দেখেছিলেন তা আঁকেননি। তারা আরও প্রতীকবাদ ব্যবহার করেছেন। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বিখ্যাত সদস্য ছিলেন পল গগুইন, জর্জেস সেউরাট, ভিনসেন্ট ভ্যান গগ এবং পল সেজান। তবে তারা আলাদাভাবে কাজ করেছেন। তারা নিজেদেরকে একটি আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখেননি।<ref> http://www.metmuseum.org/toah/hd/poim/hd_poim.htm</ref> ===কিউবিজম=== ১৯০৭ সালে [[w:পাবলো পিকাসো|পাবলো পিকাসো]] এবং জর্জেস ব্র্যাক এই শিল্পশৈলীর প্রবর্তন করেন। কিউবিজম সাধারণ আকারগুলোকে নিয়ে সেগুলোকে বিমূর্ত জ্যামিতিক আকারে ভেঙে দেয়।<ref>http://www.metmuseum.org/toah/hd/cube/hd_cube.htm</ref> কিউবিজম দৃষ্টিকোণ এবং রূপ নিয়ে খেলে। এটি ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা শিল্পের দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত নিয়মগুলো ভেঙে দিয়ে সে সময়ের শিল্পদৃশ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে। কিউবিজমকে অনেকেই আধুনিক শিল্পের প্রথম রূপগুলোর একটি বলে মনে করেন। ===দাদা এবং পরাবাস্তববাদী=== অ্যান্টি-আর্ট হিসেবে বর্ণিত দাদাইজম শিল্পকে কী হিসেবে বিবেচনা করা যায় তা চ্যালেঞ্জ করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে বিশৃঙ্খল সময়ের প্রতিক্রিয়া ছিল দাদা। এটি ইউরোপজুড়ে একটি আভান্ট-গার্ড বিদ্রোহ ছিল। এটি যুদ্ধবিরোধী ছিল এবং সে সময়ের সামঞ্জস্যের একটি সামাজিক সমালোচনা ছিল। এটি দ্রুত বার্লিনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এটি বাউহাউস আর্ট স্কুল দ্বারা সহজতর করা হয়েছিল। আধুনিকতাবাদ এবং পরাবাস্তববাদের পাশাপাশি সেখানে আন্দোলনটি বিকাশ লাভ করে। সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত দাদা শিল্পের টুকরোটি ছিল মার্সেল ড্যাম্পের 'ফাউন্টেন'। এটি একটি স্তম্ভের উপর একটি চীনামাটির বাসনের প্রস্রাবাগার ছিল। এতে 'আর. মাট' লেখা ছিল। 'ফাউন্টেন' শিল্পকে একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া থেকে একটি ব্যাখ্যামূলক প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরিত করার ড্যাম্পের একটি প্রচেষ্টা ছিল। এটি দাদা আন্দোলনের একটি মূল অংশ ছিল। সালভাদর দালির মতো অন্যান্য সুপরিচিত কাজগুলো এখনও ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করা হয়। তিনি 'দ্য পারসিস্টেন্স অব মেমরি' তৈরি করেছিলেন যাতে গলে যাওয়া ঘড়ি ছিল। তিনি একটি পরাবাস্তব শর্ট ফিল্ম 'আন চিয়েন আন্দালউ' তৈরি করেছিলেন। দাদাইজম এবং পরাবাস্তববাদ আন্তর্জাতিক প্রশংসা ধরে রেখেছে। এগুলো শিল্প ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। '''বাস্তববাদ''' বাস্তববাদ এমন একটি শিল্প রূপ যা বহু বছর ধরে চলে আসছে। এতে বাস্তবসম্মত সুনির্দিষ্ট অঙ্কন বা চিত্রকর্ম রয়েছে। এগুলো প্রায় একটি প্রতিলিপি তৈরি করে। এটি মোনালিসার মতো কিছু বিখ্যাত চিত্রকর্মে পাওয়া যায়। এই শিল্প রূপটি অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ এবং বিস্তারিত। ===পপ আর্ট=== সূক্ষ্ম শিল্প এবং পপ সংস্কৃতির আইকনগুলোকে একত্রিত করে এবং ভেঙে দিয়ে পপ আর্ট আমেরিকার ব্যাপক উৎপাদন সংস্কৃতির একটি ব্যঙ্গ ছিল। পপ আর্ট সে সময়ের গম্ভীর এবং অতি সৃজনশীল বিমূর্ত শিল্পের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। এটি কৌতুকপূর্ণ এবং বিদ্রূপাত্মক ছিল। এটি নিজেকে গম্ভীরভাবে নেয়নি। পপ আর্ট আমাদের জানা ছবিগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সেগুলোকে নিয়ে খেলা করে। ===সঙ্গীত=== সঙ্গীত হলো ছান্দিক ধ্বনি এবং নীরবতার ব্যবহার। এগুলো ব্যবহার করে গান তৈরি করা হয়। গীতি থেকে যন্ত্রসংগীত পর্যন্ত অনেক ভিন্ন শৈলী এবং ধারা রয়েছে। এর মাঝে অসংখ্য উপধারাও রয়েছে। শিল্পকলার মতো সঙ্গীতের ধরনের মধ্যে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট যুগের সঙ্গীত (যেমন শাস্ত্রীয় এবং ক্ল্যাসিক রক)। এটি আবার গানের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে। যেমন পপ বা মেটাল। প্রতিটি গান গীতিকার দ্বারা একটি নির্দিষ্ট অর্থ বা অর্থের পরিসর প্রকাশ করার জন্য তৈরি করা হয়। তবে সঙ্গীত তাদের কাছে কী অর্থ বহন করে তা বোঝা শ্রোতার ওপর নির্ভর করে। এটি ব্যক্তিভেদে অনেক পরিবর্তিত হতে পারে। ==সঙ্গীত== সঙ্গীতকে শব্দ এবং নীরবতার সংগঠন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সঙ্গীতের সৃষ্টি প্রায় মানব ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। আবিষ্কৃত প্রাচীনতম সঙ্গীতের টুকরোটি একটি প্রাচীন সুমেরীয় সুর। এটি "হুরিয়ান স্তোত্র নং ৬" নামে পরিচিত। এটি সিরিয়ার উগারিট শহরের ধ্বংসাবশেষে আবিষ্কৃত হয়। এটি খ্রিস্টপূর্ব ১৪শ শতাব্দীর। এই সুমেরীয় রেকর্ড করা সঙ্গীত এবং হাড়ের বাঁশির মতো প্রাচীন যন্ত্রপাতির আবিষ্কার ইতিহাসবিদদের একটি বিষয় ইঙ্গিত করে। সময়ের সাথে সাথে অনেক সংস্কৃতির মানুষ সঙ্গীতের সৃষ্টি এবং প্রকাশকে তাদের সংস্কৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রাচীনকালে গ্রিকরা ফোনিক শব্দ তৈরি করতে এবং সুর রচনা করতে মৌলিক পাইপ ব্যবহার করত। পরে সঙ্গীত তাদের দৈনন্দিন জীবনে মানুষের জন্য সত্যিকারের বিনোদনে পরিণত হয়। মধ্যযুগে মানুষ লেখার মাধ্যমে সঙ্গীত রেকর্ড করতে শুরু করে। চার্চ সমসাময়িক পোপের নামানুসারে গ্রেগরিয়ান চ্যান্ট লেখার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ উৎসর্গ করে। চার্চগুলো সঙ্গীত রেকর্ড এবং সংরক্ষণের জন্য একটি মূল্যবান স্থান হিসেবে কাজ করেছিল। তবে প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কারের ফলে আরও ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্গীত জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য হয়। সময়ের সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নতুন এবং পুরোনো উভয় সঙ্গীতকে সংস্কৃতি জুড়ে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। ইতিহাসজুড়ে সঙ্গীত মানুষের কাছে গল্প ভাগ করে নেওয়ার এবং আবেগ প্রকাশ করার একটি উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে অন্যান্য প্রাণীও একটি অভিব্যক্তি চিত্রিত করার বা একটি ধারণা যোগাযোগ করার উপায় হিসেবে সঙ্গীত ব্যবহার করে। সঙ্গীত একটি পাখির মতো ছোট বা তিমির মতো বড় কিছুর কাছ থেকেও আসতে পারে। সঙ্গীত সংস্কৃতি জুড়ে ব্যাপকভাবে পৃথক হয়। যারা এটি শোনে, রচনা করে এবং তৈরি করে তাদের সাথে এটি খাপ খায়। প্রকৃতপক্ষে বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীর সুরকাররা "সঙ্গীত কী?" এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বাদ্যযন্ত্রের বিকাশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। এর উত্তর প্রায়শই "সবকিছু" হয়ে থাকে। <ref>http://en.wikipedia.org/wiki/History_of_music</ref> ===গান এবং শব্দ=== যদিও পাঠ্য এবং সাহিত্যের প্রধান আলোচনা [কমিউনিকেশন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ] অধ্যায়ের মধ্যে রয়েছে। তবে গান বা শিল্পের শব্দ হিসেবে নৃবিজ্ঞানগত অধ্যয়ন এখানে খেলা এবং শিল্পের প্রেক্ষাপটে নিজস্ব আলোচনার দাবি রাখে। সঙ্গীত এবং নাচের মতো সাংস্কৃতিক শিল্পকলা অধ্যয়নের সময় মনে রাখার মতো একটি উদ্ধৃতি হলো, "সক্রেটিসের মধ্যে এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য আর কিছু নেই যে তিনি বৃদ্ধ বয়সে সঙ্গীত এবং নাচ শেখার জন্য সময় পেয়েছিলেন। তিনি এটিকে ভালোভাবে ব্যয় করা সময় বলে মনে করেছিলেন।" - মাইকেল ডি মন্টেন<ref>এলিজাবেথ স্কোলমেন</ref> ===শাস্ত্রীয়=== কথ্য পরিভাষায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বলতে ১৮২০ সাল পর্যন্ত লেখা বা তৈরি করা যেকোনো পশ্চিমা সঙ্গীতকে বোঝায়। যদিও শব্দটি আজকের যুগে তৈরি সঙ্গীতেও প্রয়োগ করা হয়। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে সাধারণত সাতটি ভিন্ন যুগে ভাগ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রেগরিয়ান (৬০০ এর দশকে পোপ গ্রেগরির যুগ থেকে), মধ্যযুগীয় (৫০০-১৪০০), রেনেসাঁ (১৪০০-১৬০০), বারোক (১৬০০-১৭৫০), শাস্ত্রীয় (১৭৩০-১৮২০), আর্লি রোমান্টিক এবং রোমান্টিক (১৭৮০-১৯১০)। প্রতিটি যুগে নিজস্ব শৈলীগত উপাদান রয়েছে। এগুলো প্রতিটিকে একে অপরের থেকে আলাদা করে। সমস্ত 'শাস্ত্রীয়' সঙ্গীতকে সাধারণত একই হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বাস্তবে প্রতিটি যুগের মধ্যকার বৈচিত্র্য প্রতিটিটিকে অনন্য করে তোলে এবং একে অপরের থেকে আলাদা করে। ===আধুনিক যুগের প্রভাব=== বারোক থেকে রোমান্টিক এবং তারপর আধুনিক সঙ্গীতে উন্নয়নের এই শৃঙ্খলের মাধ্যমে আমরা সিনেমা এবং ভিডিও গেমে যা শুনি তা আগের সব প্রভাব ছাড়া একই রকম হবে না। জন উইলিয়ামস এবং হ্যান্স জিমারের মতো অনেক আধুনিক সুরকার রোমান্টিক যুগের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। একটি সুপরিচিত উদাহরণ হলো স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্র সিরিজের জন্য জন উইলিয়ামসের ফিল্ম স্কোর। উইলিয়ামস একজন রোমান্টিক সুরকার গুস্তাভ হোলস্টের কাছ থেকে প্রচুর অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। "দ্য প্ল্যানেটস যেকোনো সংখ্যক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর দর্শনার্থীদের জন্য খনন করা হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গল গ্রহ উইলিয়ামসসহ চলচ্চিত্র সুরকারদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। তার স্টর্মট্রুপাররা একটি স্বতন্ত্র মঙ্গল গ্রহের তালে মার্চ করে"। [http://www.classicalmpr.org/story/2015/10/20/star-wars-john-williams-influences]। ওয়াগনার উইলিয়ামসকে প্রভাবিত করেছিলেন। তিনি আবার হোলস্টের দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছিলেন। ওয়াগনারের টুকরোর সবচেয়ে কাছাকাছি ফিল্ম স্কোরটি ছিল ডার্থ ভাডারের আইকনিক থিম। "যেখানে সাধারণ চলচ্চিত্র দর্শকরা স্টার ওয়ার্সে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ওয়াগনারকে শুনতে পায় তা হলো ডার্থ ভাডার এবং তার মন্দ সাম্রাজ্যের জন্য ব্রাস-লেডেন থিম। এটি ওয়াগনারের মহিমান্বিত ভ্যালকাইরিসের সঙ্গীতের স্বতন্ত্রভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়" [http://www.classicalmpr.org/story/2015/10/20/star-wars-john-williams-influences]। স্টার ওয়ার্সের ওপর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রভাব অনেকগুলোর মধ্যে একটি মাত্র উদাহরণ। বেশিরভাগ আধুনিক সুরকাররা এই সাতটি যুগে পাওয়া সঙ্গীত থেকে ধারণা এবং প্রভাব গ্রহণ করেন। ===ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক=== ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিককে ইডিএম হিসেবেও পরিচিত। এটি ডান্স মিউজিকের জন্য একটি ছাতা শব্দ। এটি ইলেকট্রনিকভাবে একজন ডিজে (ডিস্ক জকি) দ্বারা রচিত। এটি প্রায়শই ক্লাব, রেভস এবং উৎসবে বাজানো হয়। এটি ১৯৮০-এর দশকে ডিস্কো যুগ থেকে আবির্ভূত হয়েছিল। পার্টিতে বা নাচের ফ্লোরে ইডিএম মিউজিকের প্রতি আকর্ষণ হলো "ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকের রাসায়নিক এবং বাদ্যযন্ত্র বস্তু তার তাৎক্ষণিক পরিবেশের ভার্চুয়ালাইজেশন এবং বিষয়ের দৈনন্দিন জীবনের সামঞ্জস্য করতে সক্ষম"।<ref>ভিটোস, বোটন্ড ২০১৪ “ অ্যান অ্যাভাটার... ইন আ ফিজিক্যাল স্পেস ” : রিসার্চিং দ্য মেডিয়েটেড ইম্মেডিয়েসি অব ইলেকট্রনিক ডান্স ফ্লোরস। রিসার্চগেট ৬(২): ১–২১।[https://www.researchgate.net/publication/274073917_An_Avatar_in_a_Physical_Space_Researching_the_Mediated_Immediacy_of_Electronic_Dance_Floors]</ref> ইডিএম প্রায়শই মাদক ব্যবহারের সাথে জড়িত থাকে। এর শ্রোতাদের অনেকেই আইনি এবং বেআইনি উভয় মাদক গ্রহণ করে (যদিও সব মানুষ নয়)। রেভগুলোতে ব্যবহার করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু মাদক হলো মলি (এক্সট্যাসি), অ্যাডেরাল, কোকেন, অ্যালকোহল এবং গাঁজা। রেভস বা সঙ্গীত উৎসবগুলোতে মাদক ব্যবহারের বৃদ্ধির কারণে ইডিএম সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর কারণে অ্যান্টি-রেভ সংস্কৃতি এবং আইন আবির্ভূত হয়েছে। "যেহেতু ইডিএম সংস্কৃতিগুলো বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হতে চলেছে, তাই স্থানীয়ভাবে নিহিত এবং একই সাথে বিশ্বব্যাপী জড়িত হওয়া পদ্ধতিগত পন্থাগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে এবং গবেষণার একটি নির্দিষ্ট সাইটের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার চেয়ে আরও সঠিক চিত্র দেবে"।<ref>মন্টানো, এড ২০১৩ এথনোগ্রাফি ফ্রম দ্য ইনসাইড: ইন্ডাস্ট্রি-বেইজড রিসার্চ ইন দ্য কমার্সিয়াল সিডনি ইডিএম সিন। ডান্সকাল্ট: জার্নাল অব ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক কালচার ৫(২): ১১৩–১৩০।[https://dj.dancecult.net/index.php/dancecult/article/view/372/393]</ref> বেশিরভাগ তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের শুনতে এবং ইডিএম বাজায় এমন জায়গায় বাইরে যেতে দেখা খুব সাধারণ। রেভগুলো প্রায়শই রাতে অনুষ্ঠিত হয় যখন বেশিরভাগ লোক ঘুমাতে যায়। তাই "রেভাররা একটি অস্তিত্বের শূন্যতায় স্লিপ করে যেখানে কর্তৃত্ব এবং জনসাধারণের দৃষ্টি প্রবেশ করে না। রেডিওহেড, এলসিডি সাউন্ডসিস্টেম, সুইকুড, আফ্রিকা বামবাতা, ডেভিড বোভি এবং আরও অনেক শিল্পীর দ্বারা ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকও অন্যান্য ঘরানায় একীভূত হয়েছে।"।<ref>হাটসন, স্কট আর. ১৯৯৯ টেকনোশামানিজম: স্পিরিচুয়াল হিলিং ইন দ্য রেভ সাবকালচার। রিসার্চগেট ২৩(৩): ৫৩–৭৭।[https://www.researchgate.net/publication/233181907_Technoshamanism_Spiritual_healing_in_the_rave_subculture]</ref> ===ইন্ডি=== ইন্ডি সঙ্গীত হলো এমন সঙ্গীত যা প্রধান রেকর্ড লেবেলের সাহায্য ছাড়াই উৎপাদিত হয়। ইন্ডি হলো "ইন্ডিপেন্ডেন্ট" এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ইন্ডি শিল্পীরা সাধারণত বড় নামের লেবেলগুলোর সাথে নিজেদের যুক্ত করেন না। এটি একটি "নিজেই করুন" সঙ্গীত ধারার চেয়েও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারা বিশ্বের অনেক ব্যান্ড একটি প্রধান লেবেলের সাহায্য ছাড়াই এটিকে বড় করতে পেরে নিজেদের গর্বিত করে। ইন্ডি ব্যান্ডগুলো শুধু অর্থ উপার্জনের চেষ্টা না করে তাদের সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইন্ডি সঙ্গীত ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে স্বাধীন শিল্পীরা প্রথম ১৯৮০ এর দশকে স্বীকৃতি পান। তাদের মধ্যে রয়েছে বি-৫২'স এবং পরে নির্ভানা। এসব ব্যান্ড নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র নাম তৈরি করেছে। এদেরকে একসময় "কলেজ রেডিও মিউজিক" হিসেবে বিবেচনা করা হত। স্বাধীন সঙ্গীত দৃশ্যের মাধ্যমে তারা তাদের ক্যারিয়ার তৈরি করেছে।<ref>http://www.jstor.org/stable/931257</ref> '''আমেরিকান ফোক মিউজিক''' আমেরিকান সংস্কৃতিতে ফোক মিউজিক ১৯৬০ এর দশকে আবির্ভূত শৈলীকে বোঝায়। সাধারণত ফোক শিল্পীরা বর্তমান ঘটনাগুলো সম্পর্কে বার্তা প্রকাশ করতে শাব্দিক যন্ত্র এবং কণ্ঠ ব্যবহার করেন। প্রায়শই সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে গীতিকাররা যোগাযোগ করেন। এই সঙ্গীতের সৃষ্টি এবং জাতীয় প্রচলন জনসাধারণকে নিজস্ব বর্তমান ঘটনাগুলোর সাথে যুক্ত করতে এবং কী ঘটছে তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান ছিল।<ref>লেইন, মিরান্ডা বাবার সাথে কথা বলার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা</ref> ১৯৬০ এর দশকে বব ডিলান এবং জোয়ান বেজের মতো শিল্পীদের হাত ধরে ফোক ঘরানা বিস্ফোরিত হয়। ১৯৬০ এর দশকে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে লোকসংগীতের বিস্ফোরণের আগে ফোক মিউজিক উডি গুথ্রির মতো শিল্পীদের সাথে উন্নতি লাভ করেছিল। <ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Woody_Guthrie</ref> এর পাশাপাশি র‌্যাম্বলিন' জ্যাক এলিয়টও ছিলেন। আধুনিক ফোক শিল্পীদের মধ্যে দ্য টলেস্ট ম্যান অন আর্থ, বন ইভার এবং ফ্লিট ফক্সস অন্তর্ভুক্ত। কার্ল স্যান্ডবার্গের কথা উল্লেখ না করে ফোক মিউজিক নিয়ে আলোচনা করা প্রায় অসম্ভব। ১৮৭৮ সালে ইলিনয়ে জন্ম নেওয়া স্যান্ডবার্গ তার প্রাথমিক ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় ভ্রমণ এবং রেলপথে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কাটিয়েছেন। এই সময়ে স্যান্ডবার্গ বিভিন্ন ধরনের গান এবং সুর অর্জন করেন। স্যান্ডবার্গ "ফোক গায়ক" হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রথম সঙ্গীতশিল্পী হয়ে ওঠেন। কারণ তিনি তার কাজের সময় জমে থাকা গানগুলো পরিবেশন করেছিলেন। স্যান্ডবার্গ তার সমস্ত প্রিয় গানগুলোকে ''আমেরিকান সংব্যাগ'' নামে একটি বইয়ে সংকলিত করেছিলেন। এই সংগ্রহ থেকে তার পছন্দের একটি ছিল জন হেনরির কিংবদন্তির গান এবং প্রতীক।<ref> রিভিউ অব ফ্রম “রক হিল” টু “কন্নেমারা:” দ্য স্টোরি বিফোর কার্ল স্যান্ডবার্গ ১৯৮১ দ্য সাউথ ক্যারোলিনা হিস্টোরিক্যাল ম্যাগাজিন ৮২(২): ১৭৬–১৭৬। http://www.jstor.org/stable/27567685?</ref> জন হেনরি কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীর শক্তি এবং মেশিন শ্রম ও অকৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামের প্রতীক। এই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির জন্য এটি একটি বড় ব্যাপার ছিল। কার্ল স্যান্ডবার্গ কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের প্রকাশ্যে সমর্থন করা প্রথম সঙ্গীতশিল্পীদের একজন ছিলেন। জন হেনরির গান এবং প্রতীকের মাধ্যমে স্যান্ডবার্গ লোকসংগীতে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হন। তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেন। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। ===রক অ্যান্ড রোল=== রক অ্যান্ড রোল ১৯৪০ এর দশকের শেষদিকে এবং ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিকশিত হয়। এটি সঙ্গীতের একটি রূপ। রক অ্যান্ড রোল ডু-ওপ, কান্ট্রি, সোল এবং গসপেলসহ অনেক ঘরানার উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এটি ব্লুজের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এর একটি সুপরিচিত উদাহরণ হলো এলভিস প্রিসলির সঙ্গীত। এখান থেকেই এটি এর প্রথম দিকের কর্ডের অগ্রগতি এবং গীতিমূলক শৈলী লাভ করে। অনেক শিল্পী সোন হাউস, রবার্ট জনসন, লেডবেলি এবং বিবি কিংয়ের (ব্লুজের রাজা) মতো প্রাথমিক ব্লুজ সুরকারদের শব্দগুলোকে কভার করেছেন এবং পুনরায় তৈরি করেছেন। এই শৈলীটি বিশ্বের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সমাজে বিশাল প্রভাব ফেলে। রক অ্যান্ড রোল একটি জোর দেওয়া অফ বিট বা চার-চার টাইম সিগনেচারের ২য় এবং ৪র্থ বিট দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। গিটারের ব্যবহার, বৈদ্যুতিকভাবে পরিবর্ধিত যন্ত্র এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে বিস্তৃত গানের কথা এর বৈশিষ্ট্য।<ref>http://www.history-of-rock.com/</ref> ১৯৪০ এর দশকের শেষের দিকে রক অ্যান্ড রোল তৈরির পর থেকে রক অ্যান্ড রোলের অনেক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হেভি মেটাল, পাঙ্ক রক, সফট রক, অল্টারনেটিভ এবং ইন্ডি। নিউ ইয়র্ক জনপ্রিয় সঙ্গীতের বেশ কয়েকটি শৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সুইং ড্যান্স ব্যান্ড এবং তাদের সাথে গান গাওয়া ক্রুনাররা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকার আশাবাদ ও চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল। চল্লিশের দশকে বিদ্যমান বিভিন্ন শৈলীর সঙ্গীত থেকে রক সঙ্গীতের বিকাশ ঘটে। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে এটি নিজস্ব শৈলীতে পরিণত হয়। অনেক দিক থেকে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ সঙ্গীতজ্ঞ এবং অনুরাগীদের মধ্যে রক সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা জাতিগত একীকরণকে সহায়তা করেছে। এটি যেকোনো জাতিগত পটভূমির মানুষের পারস্পরিক সম্মানের দিকে আন্দোলনকে সাহায্য করেছে।<ref>চার্লটন, ক্যাথরিন। "রক মিউজিক স্টাইলস"</ref> সঙ্গীত নাগরিকদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সাধারণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় এটি কাজ করেছিল। সঙ্গীত এমন কিছু ছিল যা তাদের জীবনধারা নির্বিশেষে সবার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তারা এটি উপভোগ করতে পারে। ===র‌্যাপ=== [[File:Lil_Wayne.jpg|thumb|right|লিল ওয়েন আমেরিকান র‍্যাপ দৃশ্যের একজন র‍্যাপ আইকন।]] বেশিরভাগ সময় র‍্যাপ বলতে ছান্দিক তালে ছড়া আবৃত্তি করাকে বোঝায়। তবে এর শিকড় তার চেয়েও অনেক দূরে প্রসারিত। র‍্যাপ সঙ্গীতের উৎস পশ্চিম আফ্রিকায় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। সেখানে এর উৎপত্তি হয়েছিল। যাদের এই বাদ্যযন্ত্রের প্রতিভা ছিল তাদের আশেপাশের লোকেরা তাদের উচ্চ সম্মানে রাখত। পরে যখন "শব্দের মানুষদের" নতুন বিশ্বে আনা হয়, তখন আফ্রিকান সঙ্গীত এবং আমেরিকান সঙ্গীতের মিশ্রণে একটি নতুন শব্দের সৃষ্টি হয়।<ref>জেন মার্শাল http://www.allsands.com/company/contactallsands.htm</ref> ইতিহাসজুড়ে ছড়ার স্কিম জড়িত মৌখিক অ্যাক্রোব্যাটিকসের বিভিন্ন রূপ রয়েছে। এসব ছড়ার স্কিমে র‍্যাপ প্রকাশ পেয়েছে। স্কুল ইয়ার্ড এবং নার্সারি ছড়ার পাশাপাশি ডাবল ডাচ জাম্প রোপ মন্ত্রগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক দিনের র‍্যাপ সঙ্গীত রেগে সঙ্গীতের উপাদানগুলোতে টোস্টিং এবং ডাব আলাপে এর তাৎক্ষণিক শিকড় খুঁজে পায়। তবে রেগে তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত হয়নি এবং এভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুতে বিকশিত হয়েছিল। এই শৈলী গ্রহণকারী প্রথম শিল্পীদের মধ্যে একজন ছিলেন কুল হার্ক।<ref>http://www.bbc.co.uk/radio2/r2music/documentaries/rap.shtml</ref> প্রাথমিক র‍্যাপগুলোতে জনপ্রিয় গানের যন্ত্র বা পার্কাসিভ বিভাগে ইমপ্রোভাইজ করা ছড়া আবৃত্তি করা জড়িত ছিল। প্রায়শই সাধারণ অপবাদযুক্ত শব্দগুলো এতে ব্যবহার করা হত। র‍্যাপ সত্তরের দশকজুড়ে বৃদ্ধি পায়। এটি মৌখিক দক্ষতা এবং মুক্ত মতপ্রকাশের একটি বাদ্যযন্ত্র রূপে বিকশিত হয়। এটি দ্রুত তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি তাদের স্বকীয়তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দেয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে র‍্যাপ জনপ্রিয় হতে চলেছে। এটি বিকশিত হচ্ছে এবং প্রতিটি সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিজেকে ঢালাই করছে।<ref>http://www.daveyd.com/raphist1.html</ref> র‍্যাপ সঙ্গীতের বিশ্বায়নের একটি উদাহরণ হলো ওরিশাস ব্যান্ড [http://en.wikipedia.org/wiki/Orishas_(band)]। ওরিশাসের উৎপত্তি কিউবার হাভানায়। তারা প্রায়শই তাদের সঙ্গীতে ঐতিহ্যবাহী সালসা এবং রুম্বা বিট অন্তর্ভুক্ত করে। ওরিশাসের সদস্যরা ফ্রান্সের প্যারিসে দেশত্যাগ করেছে। তারা এখন ইউরোপের পাশাপাশি তাদের নিজ দেশ কিউবাতেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। র‍্যাপ হলো সঙ্গীতের একটি ধারা যা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যুবকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছন্দময় কণ্ঠের বৈশিষ্ট্যগুলো কথ্য জাপানিজের মতো। এই "গ্যাংস্টার লাইফ" অর্থ আমেরিকান স্বপ্ন থেকে বিবর্তিত হয়েছে। এটি ঘেটো থেকে র‍্যাপ সুপারস্টারের উচ্চ জীবন পর্যন্ত কাজ করার ক্ষমতা। গানে প্রায়শই সহিংসতা, মাদক, চাঁদাবাজি এবং যৌনতার কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকে। ৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে তৈরি হওয়া এই উপসংস্কৃতি মূলধারার সঙ্গীতে প্লাবিত হয়েছে। এটি জনপ্রিয় টেলিভিশন স্টেশনগুলোতে চার্টে শীর্ষে রয়েছে এবং রেডিওকে ঘিরে রয়েছে। র‍্যাপ সঙ্গীত দৃশ্যের কিছু বিতর্কিত দিক থাকা সত্ত্বেও এটি বাড়তে থাকে। এটি সারা বিশ্বের সঙ্গীতকে প্রভাবিত করে। আফ্রিকান হিপ-হপ/র‍্যাপ গ্রুপগুলো সম্প্রতি আরও সঙ্গীত তৈরি করতে শুরু করেছে। তারা মূল র‍্যাপ ঘরানাকে তাদের নিজস্ব বলে দাবি করে। ধারণা করা হয় হাজার হাজার বছর আগে সেখানে এর উৎপত্তি হয়েছিল। <ref>http://www.dummies.com/how-to/content/examining-raps-origins.html</ref> যদিও "গ্যাংস্টার র‍্যাপ" ব্যাপকভাবে "র‍্যাপ" হিসেবে পরিচিত। তবে এটি একমাত্র ধরন নয়। র‍্যাপের সাথে অনেক উপসংস্কৃতি আসে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি এই "গ্যাংস্টার" মানসিকতা থেকে দূরে সরে যায়। র‍্যাপ শিল্পী হতে হলে আপনাকে গ্যাংস্টার বা ঘেটোর বাসিন্দা হতে হবে না। মানুষ প্রায়শই ভাবে না যে র‍্যাপ সঙ্গীতে যৌনতা, মাদক এবং সহিংসতার চেয়েও বেশি বিষয়বস্তু রয়েছে। কারণ বেশিরভাগ মূলধারার র‍্যাপ এবং র‍্যাপ ভিডিও অধিকাংশ মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে র‍্যাপ এর সম্পর্কেই। র‍্যাপ মূলত যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না তাদের প্রতিবাদের একটি রূপ হিসেবে উদ্ভূত হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার যুবকরা বর্ণবাদ এবং নিপীড়ন থেকে বিদ্রোহের উপায় হিসেবে এটি ব্যবহার করেছিল। এটি ১৯৭৬ সালে ভেঙে পড়ে।<ref>এলিজাবেথ স্কোলমেন। স্যান্ড্রা জ্যাকসন-ওপোকু এবং মাইকেল ওয়েস্ট। ফ্রম হোমল্যান্ড টু টাউনশিপ। http://www.worldandi.com/public/1994/april/cl1.cfm</ref> আফ্রিকার কিছু অংশে (প্রধানত পশ্চিম আফ্রিকায়) র‍্যাপ আমাদের জানা মতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এতে একটি টুইস্ট আছে। আফ্রিকান র‍্যাপ শিল্পীরা তাদের উৎপাদন এবং গানের গঠনে অনেক আমেরিকান প্রভাব ব্যবহার করে। তবে তাদের খুব আলাদা কণ্ঠ শৈলী, যন্ত্র এবং গানের কথা রয়েছে। পশ্চিমা র‍্যাপ এবং আফ্রিকান সঙ্গীতের এই মিশ্রণটিকে কখনও কখনও "হাই-লাইফ" বলা হয়।<ref>কেনেথ বি. নোবেল, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আগস্ট ২৩, ১৯৯২, http://www.nytimes.com/1992/08/23/arts/many-accents-rap-around-world-west-africa-king-yields-new-messenger.html</ref> র‍্যাপ কেবল সঙ্গীতের একটি ধারা। রেডিওতে যা শোনা যায় তার চেয়ে এটি অনেক গভীরে যায়।<ref>দ্য রিয়েল ওয়ার্ল্ড</ref> র‍্যাপ সারা বিশ্বের সংস্কৃতিতে ভূমিকা পালন করে। সারা বিশ্বের র‍্যাপ শিল্পীদের নিজস্ব শৈলী এবং মৌলিকতা রয়েছে। এমনকি একটি শহর বা পাড়ার বিভিন্ন অংশের র‍্যাপ শিল্পীদেরও নিজস্ব শৈলী থাকে। যদিও বেশিরভাগ র‍্যাপার অন্য শিল্পীর শৈলী 'বাইট' বা অনুলিপি করে, তবে তারা নিজস্ব শৈলী থাকা এবং নিজস্ব উপায়ে অনন্য হওয়ার জন্য পরিচিত হতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রে র‍্যাপ অত্যন্ত প্রভাবশালী হতে পারে। র‍্যাপ শিল্পীরা একে অপরের সাথে 'বিফ' নামক একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। র‍্যাপ সংস্কৃতির সমস্যার কারণে তারা ঘৃণা সম্পর্ক বা বিবাদ তৈরি করে। সহিংসতায় না গিয়ে তারা কখনও কখনও প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় হিসেবে তাদের শত্রুদের সম্পর্কে র‍্যাপ করে। তবে এটি কখনও কখনও সহিংসতা প্ররোচিত করতে পারে এবং শিল্পীরা তাদের জীবন হারাতে পারে। টুপাক (টুপাক শাকুর) এবং দ্য নটোরিয়াস বি.আই.জি. (ক্রিস্টোফার ওয়ালেস) হলো সবচেয়ে পরিচিত র‍্যাপ শিল্পীদের মধ্যে কয়েকজন। তারা সহিংসতার মাধ্যমে তাদের 'বিফ' সমাধান করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তারা দুজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। র‍্যাপ সঙ্গীতে সহিংসতা এবং ভাষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ববি এল. রাশ একটি শুনানির আয়োজন করেছিলেন। সেখানে আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট র‍্যাপের উৎপাদনে সঙ্গীত শিল্প নির্বাহীদের তাদের কোম্পানির ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। একপর্যায়ে র‍্যাপ শিল্পী ৫০ সেন্টের গানের কথা উচ্চস্বরে পড়ার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল (গানের কথাগুলো স্পষ্ট বলে পরিচিত)। কিছু পিতামাতা মনে করেন যে তাদের শিশুরা র‍্যাপ সঙ্গীতে সহিংসতার কারণে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ এটি তাদের জীবনের মূল্য কমিয়ে দেয়। মার্কিন কংগ্রেস এবং সমাজ একইভাবে একটি ছেঁড়া পরিস্থিতিতে রয়েছে। তারা সমাজের জন্য আরও ইতিবাচক বার্তার সাথে 'পরিষ্কার' সঙ্গীত কামনা করে। তারা শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখারও প্রত্যাশা করে।<ref>জেফ লিডসের "হিয়ারিং ফোকাসেস অন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ভায়োলেন্স ইন র‍্যাপ মিউজিক"</ref> ===হিপ-হপ=== হিপ-হপ ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে রাস্তার শিল্প হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। হিপ-হপ সাউথ ব্রঙ্কসে শ্রমজীবী আফ্রিকান-আমেরিকান, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান এবং ল্যাটিনোদের অধীনে শুরু হয়েছিল। যুব হিপ-হপ চারটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত: র‍্যাপ (কণ্ঠ), ডিজে (রেকর্ড বাজানো এবং প্রযুক্তিগত ম্যানিপুলেশন), গ্রাফিতি (অ্যারোসল শিল্প) এবং বি-বয় বা বি-গার্ল (ফ্রিস্টাইল নাচ)। হিপ-হপের এই চারটি উপাদান তরুণ জনসংখ্যার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। তারা এই প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী এবং অভিব্যক্তিপূর্ণ কার্যকলাপগুলোর মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করছিল।<ref>কড্রিংটন, রেমন্ড ওয়ান প্ল্যানেট আন্ডার আ গ্রুভ: হিপ-হপ অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্ট। দ্য ব্রঙ্কস মিউজিয়াম অব দ্য আর্টস, ব্রঙ্কস, নিউ ইয়র্ক। অক্টোবর ২৬, ২০০১—মার্চ ৩, ২০০২; ওয়াকার আর্ট সেন্টার, মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা, জুলাই ১৪-অক্টোবর ১৩, ২০০২; স্পেলম্যান কলেজ মিউজিয়াম অব ফাইন আর্ট, আটলান্টা, জর্জিয়া, স্প্রিং ২০০৩।http://www3.interscience.wiley.com/cgi-bin/fulltext?ID=120130073&PLACEBO=IE.pdf&mode=pdf</ref> এই ধরনের সঙ্গীত সারা বিশ্বে ভ্রমণ করেছে। বিভিন্ন সংস্কৃতির অনেক লোক এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে "হিপ-হপ" ধারণাটি নিচ্ছে এবং তাদের নিজস্ব করছে। উদাহরণস্বরূপ সেনেগালের ডাকার শহরের শিল্পীরা সঠিক সরকার ছাড়াই তাদের রাজনৈতিক মতামত এবং সংগ্রাম প্রকাশ করতে হিপ-হপ ব্যবহার করে। এটি "ডেমোক্রেসি ইন ডাকার" নামক সুরকারদের তৈরি একটি তথ্যচিত্রে আলোচনা করা হয়েছে। ডাকারের হিপ-হপ সঙ্গীত সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হিপ-হপের চেয়ে বেশি বিতর্কিত এবং রাজনৈতিক। তাদের সরকারের সাথে লড়াইয়ের কারণে এমনটা হয়েছে।<ref>"ডেমোক্রেসি ইন ডাকার" তথ্যচিত্র</ref> হিপ-হপকে আধুনিক যুগের ব্লুজের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি ব্যথা এবং সংগ্রাম প্রকাশের একটি রূপ হিসেবে বিবেচিত। সংগ্রামই বিশ্বজুড়ে হিপ-হপকে আলাদা করে তোলে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ব্যথা এবং সংগ্রাম রয়েছে। এগুলো গানে শোনা এবং হাইলাইট করা যেতে পারে। বাইরে থেকে সমস্ত হিপ-হপ সংস্কৃতি দেখতে এবং শুনতে একই রকম হতে পারে। তবে কেউ গানের বিষয়বস্তু এবং বিটের কাঠামোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারে। আরও রাজনৈতিকভাবে সচেতন দেশগুলোতে হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের দেশের রাজনৈতিক সংগ্রাম সম্পর্কে র‍্যাপ করে। সেনেগাল তার একটি উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কঠিন পাড়ায় বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক বার্তা উভয় সম্পর্কে গানের কথা শুনতে পারেন। হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের গানে নির্বাচন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং নিপীড়ন অন্তর্ভুক্ত করে। কিছু মূলধারার শিল্পীর কাছে কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড শিল্পীর মতো বেশি বিতর্কিত গানের কথা নাও থাকতে পারে। তবে বার্তাগুলো এখনও সেখানে রয়েছে। ইয়ান কনড্রি একজন সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৯৫ সালে দেড় বছর ধরে জাপানি হিপ-হপ অধ্যয়ন করেছিলেন। তার কাজ দেখিয়েছে কীভাবে জাপানি হিপ-হপ মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে। তবে এখন এটি নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে। জাপানি হিপ-হপ সংস্কৃতি যুক্তরাষ্ট্রের মতোই। সেখানে লোকেরা পরিচিত পারফর্মারদের কথা শুনতে ক্লাবে যায়। তবে টোকিওতে একটি শো মধ্যরাতে শুরু হবে এবং সকাল ৫টায় শেষ হবে। এসব ক্লাবে লোকেরা কেবল নাচবে না, তারা ব্যবসায়িক চুক্তিও করবে। আরেকটি পার্থক্য হলো পরিচিত হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের পিতামাতার সাথে বাড়িতে থাকেন। তারা অন্য সবার মতো তাদের বাকি জীবনযাপন করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক আলাদা। সেখানে হিপ-হপ শিল্পীরা দেশের সবচেয়ে ধনী এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। জাপানি নৃত্যশিল্পী এবং শিল্পীরা কিছু নির্দিষ্ট নাইটক্লাবকে জাপানি হিপ-হপ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা একে "গেনবা" (বা "প্রকৃত সাইট") হিসেবে বিবেচনা করেন। এসব নাইটক্লাবে হিপ-হপ পরিবেশিত হয়। এটি উপভোগ করা হয় এবং তারপর স্থানীয় ভাষা ও এসব ক্লাবের সমাজের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়। এসব নাইটক্লাব নর্তকী, শিল্পী, লেখক এবং সঙ্গীত কোম্পানির লোকেদের মেলামেশার জায়গাও।<ref>কনড্রি, ইয়ান। http://www.newglobalhistory.com/docs/japanese_hip-hop.pdf</ref> ===কান্ট্রি মিউজিক=== [[Image:JohnnyCash1969.jpg|thumb|left|80px|জনি ক্যাশ]] কান্ট্রি মিউজিক ১৯২০ এর দশকের গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ফোক মিউজিক থেকে এর উৎপত্তি হয়েছিল। এই সঙ্গীত শৈলী মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল থেকে এসেছে। প্রাথমিক কান্ট্রি মিউজিক সর্বকালের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই শিল্পী তৈরি করেছিল। তারা হলেন জনি ক্যাশ এবং হ্যাঙ্ক উইলিয়ামস। যদিও তাদের মৃত্যুর আগে সঙ্গীতে তাদের প্রভাব স্বীকৃত হয়নি। তবে উভয়েই নিশ্চিতভাবে গানের কথা লেখার ধরন এবং সমস্ত ঘরানার সঙ্গীত ইতিহাসে গান পরিবেশনের ধরনকে রূপ দিয়েছেন। ২০০৬ সালে কান্ট্রি মিউজিক ১৭.৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে। কয়েক দশক ধরে এই সঙ্গীত স্থির রয়েছে। এটি রেডিওতে প্রতিদিন ৭৭.৩ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে পৌঁছায়। কান্ট্রি মিউজিক শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই বড় ঘরানা নয়। অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশগুলোতে এটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। কান্ট্রি মিউজিকে অনেক শৈলী এবং শব্দ রয়েছে যা বিভাগে রাখা হয়েছে। কান্ট্রি মিউজিকের দেওয়া ধরনের মধ্যে রয়েছে হিলবিলি বুগি, ব্লুগ্রাস, ফোক, গসপেল, হঙ্কি টঙ্ক, রোকাবিলি, কান্ট্রি সোল, কান্ট্রি রক, আউটল, কান্ট্রি পপ, নিও-কান্ট্রি, ট্রাক ড্রাইভিং কান্ট্রি এবং অল্টারনেটিভ কান্ট্রি। ===আক্যাপেলা=== আক্যাপেলা হলো কেবল কণ্ঠ পরিবেশনের একটি শৈলী। এটি স্বতন্ত্র কারণ এটি কোনো সঙ্গত ছাড়াই কণ্ঠ পরিবেশন করে। অনেক সময় মানুষ যখন গান গায়, তখন এটি পিয়ানো, গিটার বা বিভিন্ন অন্যান্য যন্ত্রের সাথে করা হয়। তবে আক্যাপেলা শৈলীর গান কোনো অতিরিক্ত যন্ত্রের পরিবেশন ছাড়াই চিহ্নিত করা হয়।<ref>ম্যাকেঞ্জি চেম্বারস, গায়কদল গান এবং পারফর্ম করার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা</ref> আক্যাপেলা আক্ষরিক অর্থে 'চ্যাপেলের পদ্ধতিতে' অনুবাদ করে। কারণ সঙ্গীত ঐতিহ্যগতভাবে চার্চে বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই পরিবেশিত হত। জেরুজালেমের মন্দিরে পরিষেবাগুলোতে বাদ্যযন্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে মন্দির ধ্বংসের পরে ঐতিহ্যবাহী ইহুদি ধর্মীয় পরিষেবাগুলোতে বাদ্যযন্ত্র অন্তর্ভুক্ত নেই। খেলোয়াড়রা তাদের যন্ত্র মেরামতের প্রলোভনে পড়তে পারে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্রামের দিনে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই দিনগুলোতে এটি নিষিদ্ধ। (এই নিষেধাজ্ঞা অনেক সংস্কার এবং কিছু রক্ষণশীল মণ্ডলীতে শিথিল করা হয়েছে।) একইভাবে ইহুদি পরিবার এবং বৃহত্তর দলগুলো যখন জেমিরোট নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী বিশ্রামের দিনের গান গায়, তখন তারা সাধারণত আক্যাপেলা পদ্ধতিতে তা করে। এটি তারা আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় পরিষেবার প্রেক্ষাপটের বাইরে করে। বিশ্রামের দিনে বার এবং ব্যাট মিটজভাহ উদযাপনে কখনও কখনও আক্যাপেলা সমবেতদের দ্বারা বিনোদন দেওয়া হয়। তিন সপ্তাহের সময় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ঐতিহ্যগতভাবে নিষিদ্ধ। অনেক ইহুদি পাসওভার এবং শাভোটের মধ্যে ওমের গণনার ৪৯ দিনের সময়ের একটি অংশকে আধা-শোকের সময় বলে মনে করেন। সেই সময় বাদ্যযন্ত্রের অনুমতি নেই।<ref>http://www.yeshiva.org.il. বেট এল ইয়েশিভা সেন্টার। http://www.yeshiva.org.il/midrash/Shiur.asp?id=2262. ৩ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে সংগৃহীত।</ref> এর ফলে আক্যাপেলা গানের ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে যা কখনও কখনও সেফিরাহ সঙ্গীত নামে পরিচিত।<ref>শিরকাগো, জিউইশ আ ক্যাপেলা অ্যান্ড সেফিরাত ওমের।</ref> ====বারবারশপ স্টাইল==== [[File:BarbershopQuartet_Disneyworld.jpg|thumb|right|ডিজনি ওয়ার্ল্ডে বারবারশপ কোয়ার্টেট।]] "পুরো বিশ্বকে গাইতে রাখুন" (barbershop.org) বারবারশপ হারমনি সোসাইটির মূলমন্ত্র। ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রেট ব্রিটেনের মতো বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সাথে অনুমোদিত বারবারশপ সোসাইটি। বারবারশপ শৈলীতে সম্প্রীতি উদযাপন করা, শুভাকাঙ্ক্ষী পুরুষদের মধ্যে ফেলোশিপ এবং বন্ধুত্বের প্রচার করা এর উদ্দেশ্য। কেউ বিভিন্ন সময়কাল এবং ঘরানার বারবারশপ গান খুঁজে পেতে পারে। এটি প্রত্যেককে বারবারশপ শৈলীর সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়। এর উদাহরণ হলো জাস্টিন টিম্বারলেকের "সেক্সিব্যাক", মাইকেল জ্যাকসনের "থ্রিলার", বিওয়াইইউ-র "সুপার মারিও ব্রোস মেলোডি" এবং রিয়েলটাইম কোয়ার্টেটের দ্বারা পরিবেশিত "কাম ফ্লাই উইথ মি"। একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো বারবারশপ শৈলীর সঙ্গীত কেবল পুরুষদের জন্য লেখা এবং গাওয়া হয়। নারী বারবারশপ কোয়ার্টেটগুলোও বিদ্যমান এবং অনেক উন্নতি লাভ করেছে। এদের কখনও কখনও "বিউটিশপ কোয়ার্টেট" বলা হয়। চার অংশের নারী গ্রুপগুলোর জন্য একটি সমাজ হলো দ্য সুইট অ্যাডেলিনস ইন্টারন্যাশনাল ( [http://www.youtube.com/watch?v=EPZ8kviUw6E ইউটিউব ভিডিও দেখুন] )। সবচেয়ে পরিচিত "পপ" গ্রুপগুলোর মধ্যে একটি হলো দ্য কর্ডেটস। তাদের "মিস্টার স্যান্ডম্যান" এবং "ললিপপ" গানের কারণে তারা বিখ্যাত হয়েছিল।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Barbershop_music#Female_Barbershop_music_and_.22Beautyshop.22_quartets</ref> ===কাজুন, ক্রেওল এবং জাইদেকো মিউজিক=== কাজুন শৈলী এবং ক্রেওল সঙ্গীতের প্রভাব কেবল দক্ষিণ-পশ্চিম লুইসিয়ানায় পাওয়া যেতে পারে। এটি জাইদেকোতে বিকশিত হয়েছিল, যা একটি আরও সমসাময়িক রূপ। এটি ইউরোপীয়, আফ্রিকান এবং আমেরিন্ডিয়ান শৈলীর মিশ্রণ। এই সঙ্গীতটি গুণাবলীতে অনন্য। এটি ১৭৫৫ সালে নোভা স্কোশিয়া থেকে এসেছিল বলে দাবি করা হয়। কারণ অ্যাকাডি তাদের সাথে ফরাসি উৎপত্তির সঙ্গীত নিয়ে এসেছিল। সঙ্গীতের মাধ্যমে বলা গল্পগুলো ইউরোপীয় গল্প থেকে এসেছে। নতুন বিশ্বের দক্ষিণে জীবনধারা এবং জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে মানানসই করার জন্য এগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এবং ১৯শ শতাব্দীর মধ্যে আফ্রিকান ছন্দের প্রভাবের মাধ্যমে সঙ্গীত রূপান্তরিত হয়েছে। ব্লুজ এবং ইমপ্রোভাইজেশনাল গানের পাশাপাশি নেটিভ আমেরিকানদের থেকে প্রাপ্ত অনেক গানের শৈলী এবং কৌশল এতে ব্যবহৃত হয়। বেহালা গান এবং নাচের জন্য ব্যবহৃত হত। ব্যারি অ্যানসেলেট তার মনোগ্রাফ ''কাজুন মিউজিক: ইটস অরিজিন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে'' বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন কীভাবে ক্যাপেলা নৃত্য নাচের জন্যও ব্যবহৃত হত। এটি হাততালি দেওয়া এবং পা ঠোকার মাধ্যমে ছন্দ ও বিট সরবরাহ করত।<ref>http://www.lsue.edu/acadgate/music/history.htm</ref> ===জ্যামাইকা: দ্য মেন্টো=== ১৯৫১ সালে প্রথম জ্যামাইকান রেকর্ডিং স্টুডিও চালু হয়। ইউরোপীয় এবং আফ্রিকান লোকনৃত্য সঙ্গীতকে একত্রিত করে একটি নতুন ধরনের সঙ্গীত তৈরি করা হয়েছিল। ক্লেমেন্ট ডড ("ডাউনবিট") এবং ডিউক রিডের ("ট্রোজান") মতো ডিস্ক-জকিরা তাদের সঙ্গীত বাজাতে দ্বীপের চারপাশে ভ্রমণ করতেন। জ্যামাইকান ঘেটোর লোকেরা ব্যান্ডের খরচ বহন করতে অক্ষম ছিল। তাই তারা ডড এবং রিডের মতো লোকদের নিয়োগ করেছিল। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে এটি ক্যারিবিয়ান সঙ্গীত এবং নিউ অরলিন্সের "রিদম অ্যান্ড ব্লুজে" রূপান্তরিত হয়। সময়ের সাথে সাথে সঙ্গীতটি স্কা সহ একটি প্রভাবশালী খাদ বাদ্যযন্ত্রে পরিবর্তিত হয়।<ref>http://www.scaruffi.com/history/reggae.html</ref> ===স্কা=== স্কা হলো একটি বাদ্যযন্ত্র ঘরানা যা ১৯৫০ এর দশকে জ্যামাইকায় উদ্ভূত হয়েছিল। এটি রকস্টেডি এবং রেগে তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়। স্কার ইতিহাস সাধারণত তিন ভাগে বা তরঙ্গে বিভক্ত। প্রথম তরঙ্গ হলো মূল স্কা দৃশ্য যা জ্যামাইকায় বিকশিত হয়েছিল। দ্বিতীয়টি হলো সেই দৃশ্য যা ১৯৭০-এর দশকে ব্রিটেনে বিকশিত হয়েছিল। এই সঙ্গীত মূল জ্যামাইকান স্কা থেকে আলাদা। কারণ এতে সাধারণত আরও সুগঠিত রচনা, দ্রুত টেম্পো এবং কম পালিশ করা নান্দনিকতা ছিল। উপরন্তু উভয় প্রভাব পাঙ্ক-রক থেকে টানা হয়। কভেন্ট্রি, ইংল্যান্ডের একটি ২-টোন স্কা ব্যান্ড দ্য স্পেশালসকে সাধারণত প্রত্নতাত্ত্বিক দ্বিতীয়-তরঙ্গ স্কা ব্যান্ড হিসেবে দেখা হয়। স্কার তৃতীয় তরঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের বেশিরভাগ শিল্পী জড়িত ছিল। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই সময়টি প্রথমবার স্কা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তৃতীয় তরঙ্গের ব্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রিটলাইট ম্যানিফেস্টো, রিল বিগ ফিশ এবং মাস্টার্ড প্লাগ। http://www.sfgate.com/entertainment/article/A-brief-history-of-ska-3221107.php ===রেগে=== [[File:Bob-Marley-in-Concert_Zurich_05-30-80.jpg‎|thumb|left|বব মার্লে তর্কাতীতভাবে সবচেয়ে বড় রেগে আইকন এবং শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক।]] রেগে হচ্ছে ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে জ্যামাইকার উদ্ভূত হওয়া সঙ্গীত এমন একটি ঘরানা। এটি তৃণমূল যোদ্ধাদের লড়াইয়ের কথা বলে। অফবিটের পূজা করা রেগে প্রায়শই প্রতিটি বারের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বিটকে উচ্চারণ করে। জ্যামাইকানদের কাছে রেগে মানে "রাজার সঙ্গীত"। এটি যে রাজাকে নির্দেশ করে তিনি হলেন ইথিওপিয়ার সম্রাট হেইল সেলাসি। রেগে গ্রুপগুলো লিড এবং রিদম গিটার, পিয়ানো, অর্গান, ড্রামস এবং ইলেকট্রিক বেস গিটারসহ আধুনিক পরিবর্ধিত যন্ত্র ব্যবহার করে। এর সাথে জ্যামাইকান তালবাদ্য যন্ত্রগুলো (চার্লটন, ক্যাথরিন। "রক মিউজিক স্টাইলস") ব্যবহার করে। রেগে রেকর্ডে পাওয়া সাধারণ থিমগুলোর মধ্যে রয়েছে শান্তি, ভালোবাসা, ধর্ম, দারিদ্র্য বা অবিচার। রেগে-স্টাইলের রিডিম প্রদর্শন করা জনপ্রিয় রক অ্যান্ড রোল গানের একটি পরিচিত উদাহরণ হলো বিটলসের "ওব-লা-দি, ওব-লা-দা"। রেগের শিকড় [[w:রাস্তাফারি আন্দোলনের|রাস্তাফারি আন্দোলনের]] সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত। এটি কখনও কখনও গাঁজা ধূমপানের মাধ্যমে জাহের প্রশংসাকে উৎসাহিত করে। ===ফিলিপিনো সঙ্গীত=== পাশ্চাত্য সঙ্গীত ফিলিপাইনের সঙ্গীতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এর সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হলো একটি ঐতিহাসিক তথ্য। ফিলিপাইন হলো সবচেয়ে পুরোনো পাশ্চাত্য-উপনিবেশিত এশীয় দেশ। তারা সাড়ে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দুটি মূলধারার পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে ছিল। স্পেন এবং অ্যাংলো-স্যাক্সনদের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরীয় সংস্কৃতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।<ref>মেলি লিয়ানডিচো লোপেজ, http://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=jGssp-oJrT8C&oi=fnd&pg=PR9&ots=AkIE1UuF_W&sig=3HgNdiP8xcqu01BDDBJxoIKw1q4</ref> [http://www.asiarooms.com/travel-guide/philippines/culture-of-philippines/music-and-dance-of-philippines.html]। ফিলিপিনো সঙ্গীতের ধ্রুপদী পরিবেশনা সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মিশ্রণ দেখায়। এর মানে এই নয় স্থানীয় রচনা পাওয়া যাবে না। তবে সিম্ফনি, সোনাটা এবং কনসার্টোর মতো পাশ্চাত্য সঙ্গীতের রূপের সূক্ষ্মতাগুলো খুব বেশি ব্যবহৃত হয়। ফিলিপিনো সঙ্গীত আন্তোনিও মোলিনা, ফেলিপ প্যাডিলা দে লিওন, এলিসিও পাজারো এবং হোসে মাসেদার মতো আন্তর্জাতিক সুরকার তৈরি করেছে। হোসে মাসেদা দেশের অগ্রগামী সুরকার হিসেবে পরিচিত। ফিলিপিনো সঙ্গীত সাধারণত ঐতিহ্যবাহী এবং দেশীয় বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বাজানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঁশের তারযুক্ত জিথার, নলাকার বাঁশের অনুনাদক, কাঠের লিউট ও গিটার এবং গিট-গিট নামের একটি কাঠের তিন তারের ধনুকযুক্ত বাদ্যযন্ত্র। ফিলিপিনো সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব লোকগান রয়েছে। এগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়। যেমন হেলে হলো একটি ঘুমপাড়ানি গান, তালিন্দাও হলো একটি সামুদ্রিক গান, কুমিনতাং হলো একটি যোদ্ধাদের গান এবং কুন্দিমান হলো একটি প্রেমের গান। ===কে-পপ=== কোরিয়ান পপ সঙ্গীত নব্বইয়ের দশক থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর আগ পর্যন্ত এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েনি। এটি 'হাল্যু ওয়েভ' নামেও পরিচিত। কোরিয়ান পপ একটি বিশ্বব্যাপী ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এটি মার্কিন বিলবোর্ড এবং আইটিউনস চার্টে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএস ২০১৬ সালের অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিলবোর্ড চার্টে বিশ্বব্যাপী অ্যালবামের তালিকায় এক নম্বরে অবস্থান করে শিরোনাম তৈরি করেছে।<ref>http://www.billboard.com/articles/columns/k-town/7549104/bts-korean-boy-band-kpop-record-break</ref> কে-পপ একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কোরিয়ান সমাজে এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে। তখন ট্রট নামের সঙ্গীতের একটি জনপ্রিয় ধারা ছিল। এর সুর ফক্সট্রটের মতো ছিল। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত কোরিয়ার পপ সঙ্গীত রূপান্তরিত হয়নি। এরপর এটি টেকনো, র‍্যাপ এবং রকের মতো আমেরিকান শৈলী অন্তর্ভুক্ত করে। বয় ব্যান্ড এবং গার্ল ব্যান্ড গঠনও একটি প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। কে-পপের এই নতুন শৈলী পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এগুলোর মধ্যে চীন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম এবং জাপান অন্যতম।<ref>চো, ইয়ংহান। "Desperately Seeking East Asia Amidst The Popularity Of South Korean Pop Culture In Asia." (এশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার পপ সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার মাঝে মরিয়া হয়ে পূর্ব এশিয়াকে খোঁজা।)" ''কালচারাল স্টাডিজ'' ২৫.৩ (২০১১): ৩৮৩-৪০৪। অ্যাকাডেমিক সার্চ কমপ্লিট। ওয়েব। ৩০ নভেম্বর ২০১৬।</ref> <br>কে-পপকে ঘিরে সংস্কৃতি সবসময়ই আকর্ষণীয় এবং বিতর্কিত। বড় বিনোদন কোম্পানিগুলো অডিশনের আয়োজন করে। তারা ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণদের খুঁজে বের করে। এই কিশোর-কিশোরীদের কয়েক বছর ধরে নাচ, গান এবং বিনোদন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারা একটি দলে আত্মপ্রকাশের উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলে। অনেক পাশ্চাত্য সঙ্গীত দলে ব্যান্ডের নিজেদের কন্টেন্টের ওপর অনেক স্বাধীনতা থাকে। কোরিয়ান পপ গ্রুপগুলোর ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। বেশিরভাগ কোরিয়ান পপ গ্রুপ তাদের তৈরি কন্টেন্টের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। এই ব্যান্ডগুলো পরিচালনা করা বিনোদন কোম্পানিগুলোর সাধারণত নিজস্ব দল থাকে। তারা সঙ্গীত তৈরি করে, নাচের কোরিওগ্রাফি করে এবং এমনকি সদস্যদের চেহারাও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে বেশিরভাগ গ্রুপ শুধুমাত্র পুরুষ বা শুধুমাত্র নারীদের নিয়ে গঠিত। অনেক কে-পপ আইডল পুরোপুরি কোরিয়ান নন বা আদৌ কোরিয়ান নন। গত কয়েক বছরে বিনোদন কোম্পানিগুলো অন্যান্য দেশে অডিশনের আয়োজন করেছে এবং বিদেশী প্রতিভা খুঁজেছে। এটি সত্যই এটিকে বিশ্বব্যাপী স্তরে স্থাপন করে। ==সাহিত্য== সাহিত্য বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। গুরুত্বপূর্ণ লিখিত কাজ পড়তে এবং আলোচনা করতে প্রচুর সময় ব্যয় করা হয়। বইগুলো পাঠকদের বিভিন্ন সময়কাল এবং সামাজিক পরিমণ্ডলের সাথে সংযুক্ত করে। উপন্যাসের পাঠকদের অনেক কিছু শেখানোর আছে। বন্ধুত্ব, প্রেম এবং আনুগত্যের থিমগুলো প্রায়শই স্পর্শ করা হয়। এটি একজন পাঠকের কাছে পৌঁছায় এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। অতীত সম্পর্কে লেখা বইগুলো ভুল থেকে শেখার গুরুত্বের সতর্কতা হতে পারে। অথবা এটি একজন পাঠকের জন্য ভিন্ন সংস্কৃতির কারো সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি উপায় হতে পারে। সাহিত্যের অধ্যয়ন সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অতীত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নতুন ধারণার বিকাশ ঘটে। ===প্রভাবশালী লেখক=== ====জে.আর.আর. টলকিয়েন==== জে.আর.আর. টলকিয়েন ''লর্ড অব দ্য রিংস'' এবং ''দ্য হবিট'' বই সিরিজের লেখক। তাকে "হাই ফ্যান্টাসি" ধারার জনক বলা হয়।<ref>{{cite web|url=http://video.google.com/videoplay?docid=8119893978710705002|title=J. R. R. Tolkien: Father of Modern Fantasy Literature|trans-title=জে. আর. আর. টলকিয়েন: আধুনিক ফ্যান্টাসি সাহিত্যের জনক|accessdate=২০ জুলাই ২০০৬|author=মিচেল, ক্রিস্টোফার|format=গুগল ভিডিও|work="লেট দেয়ার বি লাইট" সিরিজ|publisher=[http://www.uctv.tv/ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় টেলিভিশন]}}.</ref> তিনি বেশ কয়েকজন শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীকে প্রভাবিত করেছেন। টলকিয়েন তার লেখায় মানব অবস্থা, সংরক্ষণ এবং ক্ষমতার দুর্নীতির মতো বিশ্বব্যাপী এবং কালজয়ী থিমগুলো নিয়ে কাজ করেছেন। অনেক লেখকের মতো টলকিয়েন সাদৃশ্য ব্যবহার করতে অপছন্দ করতেন। এর পরিবর্তে তিনি এমনভাবে লিখেছিলেন যাতে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের পরিবর্তে মানব ইতিহাসের সামগ্রিক মতাদর্শগুলোকে আবদ্ধ করতে পারেন (যেমন জর্জ লুকাসের "স্টার ওয়ার্স" সাম্রাজ্য নাৎসি জার্মানির সাদৃশ্য ছিল)। টলকিয়েন তার গল্পে প্রকৃতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার জন্যও সমাদৃত। এর ফলে তার মহাকাব্য "দ্য লর্ড অব দ্য রিংস" অত্যন্ত একনিষ্ঠ পাঠক ছাড়া অন্যদের জন্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তী জীবনে টলকিয়েন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকর্মী লেখক সিএস লুইসের (দ্য ক্রনিকলস অব নার্নিয়ার লেখক) পাশাপাশি শিক্ষকতা করেন। তার সাথে তিনি দ্য ইনক্লিংস নামে একটি রাইটিং ক্লাব তৈরি করেন। তার অ্যাকাডেমিক সহকর্মীদের দ্বারা উৎসাহিত হয়ে তিনি মিডল আর্থের কল্পনার জগৎ তৈরি করেন। তিনি এলভসদের ভাষা, আরাগর্নের মতো চরিত্র, টম বোম্বাদিল এবং দুষ্ট সিগনদের আবিষ্কার করেন। মিডল আর্থ তৈরিতে টলকিয়েন ইংরেজি লোককাহিনী এবং পৌরাণিক কাহিনীর প্রভাবকে নর্স পৌরাণিক কাহিনী এবং বাইবেলের কাহিনীর সাথে একত্রিত করেছেন। টলকিয়েন লর্ড অব দ্য রিংস সিরিজের প্রাথমিক আখ্যান এবং পরিশিষ্ট লিখতে দশ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন। এই সময়ে তিনি সবসময় ইনক্লিংসের সমর্থন পেয়েছিলেন। বিশেষ করে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইসের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছিলেন [http://en.wikipedia.org/wiki/J._R._R._Tolkien]। টলকিয়েনের উপন্যাসগুলোতে প্রায়শই বয়স-বৃদ্ধির উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। উদাহরণস্বরূপ ''দ্য হবিট'' হিরোস জার্নি প্লট অনুসরণ করে।<ref>ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, <http://en.wikipedia.org/wiki/Monomyth>।</ref> তার উত্তরাধিকার তার ছেলে ক্রিস্টোফারের মাধ্যমে টিকে আছে। তিনি তার বাবার মরণোত্তর প্রকাশিত কাজগুলো সম্পাদনা করে জীবন কাটিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে দ্য সিলমারিলিয়ন এবং দ্য চিলড্রেন অব হুরিন অন্যতম। <ref>"অল ওয়ার্ল্ড নলেজ" - জেআরআর টলকিয়েন। অল ওয়ার্ল্ড নলেজ: সবকিছু এবং আরও অনেক কিছুর ওপর শিক্ষামূলক নিবন্ধ। ২৮ এপ্রিল ২০০৯ <http://www.allworldknowledge.com/tolkien/index.html>।</ref> ====জে.কে. রাউলিং==== জে.কে. রাউলিং তার তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ফ্যান্টাসি উপন্যাস সিরিজ ''হ্যারি পটারের'' জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সিরিজটি খ্যাতি পাওয়ার পর থেকে তিনি একজন প্রভাবশালী সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। ''হ্যারি পটার'' ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি বিশ্বব্যাপী এবং সাংস্কৃতিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। উপন্যাসগুলো শিশু, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিক্রিত বইয়ের সিরিজে পরিণত হয়েছে। হ্যারি পটারের কল্পনার জগৎ তৈরিতে রাউলিং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী থেকে প্রচুর অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। বিশেষ করে পৃথিবীতে বসবাসকারী চমত্কার প্রাণী এবং ইউরোপীয় জাদুবিদ্যার লোককাহিনীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। পৌরাণিক কাহিনী এবং লোককাহিনীর এই বৈশিষ্ট্যগুলো ''হ্যারি পটার'' সিরিজকে ব্যাপক দর্শকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলে। তারা পশ্চিমা ইউরোপীয় এবং আমেরিকান সংস্কৃতির শত শত বছর ধরে থাকা লোককাহিনীর সাথে পরিচিত। এগুলো পাঠযোগ্যতার কারণে ব্যাপক দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে। তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের উপন্যাস হওয়ায় এগুলো শিশুদের পড়ার জন্য যথেষ্ট সহজ। আবার প্রাপ্তবয়স্কদের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট জটিল। ''হ্যারি পটার'' উপন্যাসগুলো এভাবে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে। এগুলো সাহিত্যের মূল্যবোধের একটি উৎস হয়ে উঠেছে। কারণ এগুলো অনেক তরুণ পাঠককে সাহিত্য সাধনায় উৎসাহিত করেছে এবং গত বিশ বছরে শিশু ও কিশোর পাঠকদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। উপন্যাসগুলোকে শুধু তাদের বিপুল জনপ্রিয়তায় নয়, বরং তাদের প্রচারিত মূল্যবোধেও একটি সাংস্কৃতিক প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। শিশুদের নৈতিকতার বিকাশের ক্ষেত্রে পশ্চিমা সাংস্কৃতিক মান অনুযায়ী এগুলোকে সাধারণত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়। কল্পকাহিনী, পৌরাণিক কাহিনী, বীরত্বগাথা এবং অন্যান্য চমত্কার গল্পগুলো দীর্ঘকাল ধরে শিশুদের (এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদেরও) আচরণ উৎসাহিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি নৈতিকতার সাংস্কৃতিক নিয়ম মেনে চলে। এই প্রবণতাটি ''হ্যারি পটার'' সিরিজের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। এর ব্যাপক প্রভাব নিশ্চিত করে যে উপন্যাসগুলোতে উপস্থাপিত সাংস্কৃতিক গুণাবলী অসংখ্য তরুণ পাঠকদের মনে গেঁথে যায়। ====চাক পালাহনুইক==== চার্লস মাইকেল পালাহনুইক জনপ্রিয় এবং অনন্য উপন্যাসের জন্য কয়েকটি বই লিখেছেন। তিনি এমন উপন্যাস তৈরি করেছেন যা হরর হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ কিন্তু অতিপ্রাকৃত ঘটনা ধারণ করে না। তার বইগুলোকে হরর ধারায় রাখা হয় কারণ তার চরিত্রগুলো সমাজ দ্বারা আকৃতি পায়। তারা আঘাতমূলক ঘটনার মধ্য দিয়ে যায় যা তাদের আত্ম-ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। চাকের বইগুলো একটি অদৃশ্য জানালা তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষ দেখতে পারে সমাজ মানুষকে কী করতে বাধ্য করতে পারে। বলা হয় যে চাক পালাহনুইক মিনিমালিস্ট টম স্প্যানবাওয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।<ref>[http://www.illiterarty.com/biography-chuck-palahniuk]</ref> টম স্প্যানবাওয়ারের রাইটিং ওয়ার্কশপই চাককে তার উপন্যাসগুলো শুরু করতে সাহায্য করেছিল। এর মধ্যে তার প্রথম উপন্যাস "ইনভিজিবল মনস্টার" অন্যতম। প্রকাশকরা এটি প্রথমবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ এটিকে খুব বেশি বিরক্তিকর বলে মনে করা হয়েছিল। মানুষ দেখতে পায় যে চাক সমাজ সম্পর্কে যে ভয়ানক সত্য প্রকাশ করেন তা সাধারণ মানুষের জন্য খুব বেশি হতে পারে। ====প্লেটো==== বিবৃতিবিদ্যা এবং কবিতা নিয়ে প্লেটোর আলোচনা বিস্তৃত এবং প্রভাবশালী উভয়ই। মাধ্যমিক স্কুল, উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের ছাত্রদের মধ্যে শিক্ষাদান করে তিনি পরবর্তী ঐতিহ্যের জন্য আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করেন। তবে এই বিষয়গুলোর প্রতিটি সম্পর্কে তার মন্তব্য বোঝা আমাদের উল্লেখযোগ্য দার্শনিক এবং ব্যাখ্যামূলক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে। কেন তিনি দুটি বিষয়কে এত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছেন তা স্পষ্ট নয় (তিনি পরামর্শ দেন যে কবিতা এক ধরনের বিবৃতিবিদ্যা)। প্লেটোর বিখ্যাত উক্তি হলো "দর্শন এবং কবিতার মধ্যে একটি পুরোনো বিবাদ রয়েছে" (রিপাবলিক, ৬০৭b৫-৬)। এটি নির্দেশ করে যে এই দুটি বিবৃতির মধ্যে মূল্যবোধের সংঘর্ষ রয়েছে। প্লেটো তার নিজস্ব লেখার কাব্যিক এবং বিবৃতিমূলক গুণাবলীর জন্য পরিচিত। যেমন দ্য ইলিয়াডে এটি দেখা যায় এবং দ্য ওডিসির মাধ্যমে এটি উপস্থাপিত হয়। <ref>"Homer and Plato." (হোমার এবং প্লেটো)" লটসঅবএসেজ। ২৬ এপ্রিল ২০০৯।</ref> ====হারুকি মুরাকামি==== হারুকি মুরাকামি কিয়োটোতে জন্মগ্রহণকারী একজন জাপানি লেখক। পাশ্চাত্য সংস্কৃতি দ্বারা তার গভীর প্রভাব প্রায়শই তার লেখায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা তাকে অন্যান্য লেখকদের থেকে আলাদা করে। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তার লেখার থিম এবং শিরোনামে ধ্রুপদী সঙ্গীতের অনেক উল্লেখ। তার কাজগুলো মূলত পরাবাস্তববাদী পোস্ট-মডার্ন কথাসাহিত্য নিয়ে গঠিত। মুরাকামির তার জাপানি ঐতিহ্যকে তার পাশ্চাত্য প্রভাবের সাথে মিশ্রিত করার একটি অনন্য উপায় রয়েছে। এটি পাঠকের কাছে পরিচিত অথচ বিদেশী বোধ তৈরি করে।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Haruki_Murakami#Biography</ref> ====স্টিফেন কিং==== সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী হরর ঘরানার লেখক হলেন স্টিফেন কিং। তার সাহিত্য বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছে এবং চলচ্চিত্র জগতেও প্রবেশ করেছে। তার লেখা গল্পগুলো সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ব্যবহৃত রেফারেন্সগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। যেমন (আইটি, ক্রিস্টিন, পেট সেমেটারি ইত্যাদি)। এই আইকনিক বই এবং চলচ্চিত্রের রূপান্তরগুলো উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে এবং সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকতে দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র পুনর্নির্মাণেও ফিরে এসেছে। এই সাহিত্য বদলে দিয়েছে কীভাবে অতিপ্রাকৃত এবং বাস্তবসম্মত হরর মিশ্রিত করে স্বাভাবিক বস্তু বা ধারণার প্রকৃত ভয় তৈরি করা যায়। এটি একটি শক্তিশালী অনুসারী গোষ্ঠী এবং সংস্কৃতি তৈরি করেছে।<ref>https://en.wikipedia.org/wiki/Stephen_King</ref> ===ডিজিটাল প্রকাশনা=== সাহিত্যের একটি সাম্প্রতিক বিকাশ হলো ডিজিটাল প্রকাশনার যুগ এবং ই-বুকের (ইলেকট্রনিক বুক) উত্থান। বই, সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিন কাগজে ছাপার পরিবর্তে ডিজিটাল প্রকাশনা পড়ার জন্য একটি পরিবেশবান্ধব এবং সুবিধাজনক উপায় তৈরি করেছে। ডিজিটাল প্রকাশনা এবং মুদ্রিত প্রকাশনার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ডিজিটাল প্রকাশনায় কোনো ভৌত কপি থাকে না। এর মানে হলো পণ্য তৈরি করতে কোনো কাগজ বা কালির প্রয়োজন হয় না। এটি সাহিত্যের জন্য একটি বিশাল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সুবিধাগুলো হলো সুবিধা এবং সহজলভ্যতা। ই-বুকের সাহায্যে ই-রিডার, ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে সাহিত্য পড়া যায়। তাই অল্প জায়গায় প্রচুর পড়ার উপকরণ রাখার বাড়তি সুবিধা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ জাপানে গণপরিবহনে ই-বুক খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ই-বুকের আগে মাঙ্গা, জাপানি গ্রাফিক নভেলের ছোট সংস্করণগুলো গণপরিবহনে বহন করা হতো এবং পড়া হতো। এখন মাঙ্গার ছোট সংস্করণগুলোর জায়গা নিয়েছে তাদের ই-বুক সংস্করণগুলো।<ref>http://www.utpjournals.press/doi/full/10.3138/jsp.46.2.03</ref> পাঠকরা কীভাবে সাহিত্য পেতে পারেন তার ওপর সহজলভ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি। লাইব্রেরি বা বইয়ের দোকানের মতো ডিজিটাল প্রকাশনার ধারণক্ষমতার কোনো সীমা নেই। লাইব্রেরি এবং বইয়ের দোকানগুলো কেবল সেই বইগুলোই সরবরাহ করবে যেগুলো ভাড়া নেওয়া বা কেনা হবে বলে আশা করা হয়। ই-বুক সাহিত্যের এক অন্তহীন জোগান তৈরি করে। হ্যারি পটার বা লর্ড অব দ্য রিংসের মতো বিশাল হিট থেকে শুরু করে একজন স্ব-প্রকাশকের অজানা কাজ পর্যন্ত সবই পাওয়া যায়। লেখক হ্যান্স রোসেনডাল এই প্রক্রিয়াটির সারসংক্ষেপ করে বলেছেন যে ডিজিটাল প্রকাশনা "লেখকদের তাদের কাজের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর ক্ষমতা দেয় বা পাঠকদের জন্য ডেটাবেস অনুসন্ধান সহজ করে তোলে। এর ব্যবহার তথ্য চক্রকে ছোট করে।" <ref>https://www.researchgate.net/publication/250987991_The_new_culture_of_electronic_publishing</ref> ই-বুকের সুপরিচিত পরিবেশক হলো অ্যাপল আইবুক, অ্যামাজন কিন্ডল, বার্নস অ্যান্ড নোবেল নুক বা গুগল প্লে বুকস্টোরের মতো বড় কোম্পানিগুলো। মুদ্রিত সাহিত্যের পতন দেখা যায় লাইব্রেরির পতন এবং নতুন ই-বুকের জগতের সাথে মানিয়ে না নেওয়া বড় বইয়ের দোকানগুলোর দেউলিয়া হওয়ার মধ্যে দিয়ে।<ref>http://www.slate.com/articles/business/moneybox/2011/07/readers_without_borders.html</ref> ==নাচ== নাচ হলো সঙ্গীতের তালে তালে ছন্দময়ভাবে চলাফেরা করে অভিজ্ঞতার আনন্দ বাড়ানো। তবে চলাফেরা যদি সঙ্গীতের তালে না হয়, তবে একটি বিষয় প্রমাণ করার জন্য নীরবতাকে কাজে লাগানো হয়। পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপের একটি সেট দ্বারা নাচ তৈরি করা যেতে পারে। এটি মতপ্রকাশের একটি রূপ, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিতে উপস্থাপনের একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নাচকে মানুষের মধ্যে অ-মৌখিক যোগাযোগের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি অন্যান্য প্রাণীদের দ্বারাও পরিবেশিত হয়। বিভিন্ন নাচের জন্য বিভিন্ন স্তরের দক্ষতার প্রয়োজন হয়। কিছু নাচ অন্যদের চেয়ে শারীরিকভাবে বেশি ক্লান্তিকর হতে পারে। কৌশল বা শৈলী যাই হোক না কেন, সঠিক পদার্থবিজ্ঞান বিবেচনায় না নিলে আঘাত ঘটতে পারে। ===দক্ষিণ আমেরিকায় নাচ=== '''আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো''' আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো ১৮৮০ সালের দিকে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের উপকণ্ঠে উদ্ভূত হয়েছিল। এই নাচ বার, ক্যাফে, জুয়ার আসর এবং পতিতালয়ে জনপ্রিয় হয়েছিল। যেহেতু মূল গানে প্রায়শই যৌনতা এবং অশ্লীলতার কথা উল্লেখ করা হতো, তাই এটি যৌক্তিক যে জনপ্রিয়তা ভূগর্ভস্থ সমাজে ঘটেছিল। এই সময়কালে এমনকি একে অপরের সামনে নাচ বা একেবারেই স্পর্শ করাকে খুব বেশি বলে মনে করা হতো। তাই ট্যাঙ্গোর ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে ধরা এবং গালে গাল ঠেকিয়ে নাচকে অশ্লীল বলে মনে করা হতো। প্রাথমিকভাবে ভালো সুনামের অধিকারীরা ট্যাঙ্গোকে অবজ্ঞার চোখে দেখতেন এবং এর কোনো অংশ হতে চাইতেন না। এর মানে হলো যদি কোনো পুরুষ নাচটি অনুশীলন করতে চাইতেন, তবে তার একমাত্র সম্ভাব্য সঙ্গী ছিল অন্য একজন পুরুষ। পুরুষরা একসাথে জড়ো হয়ে নারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করার উপায় হিসেবে নাচটি অনুশীলন করতেন। অবশেষে ট্যাঙ্গো ধীরে ধীরে বোর্ডিং হাউসের সাধারণ জায়গাগুলোতে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। সেখানে অভিবাসীরা থাকতেন। এটি ছড়িয়ে পড়তে কিছুটা সময় নিয়েছিল। তবে নাচের কিছু গতিবিধি "শুদ্ধ" হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখনও ট্যাঙ্গো সাধারণত এমন একটি বিষয় ছিল যা মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরা গোপন রাখত। এটিকে তখনও লজ্জাজনক এবং পাপপূর্ণ বলে মনে করা হতো। ইউরোপে পথ তৈরি করার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো উচ্চ সমাজে সত্যিই গৃহীত হয়নি। প্যারিসীয় অভিজাতদের সাথে পরিচিত হওয়ার পর এটি সেখানে সেই সময়ের উন্মাদনায় পরিণত হয়েছিল। ট্যাঙ্গো যখন অবশেষে আর্জেন্টিনায় ফিরে আসে, তখন এটি "সবচেয়ে প্রিয় পুত্র হিসেবে গৃহীত হয়েছিল।"—সার্জিও সুপা <ref>সুপা, সার্জিও ও. "ToTango." (টু ট্যাঙ্গো)। http://www.totango.net/sergio.html</ref> ===ফিলিপাইনে নাচ=== ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী নাচগুলো স্প্যানিয়ার্ড, মুসলিম, ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা ইউরোপীয়দের সাংস্কৃতিক প্রভাব প্রতিফলিত করে। একটি পৃথক সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ফিলিপাইনের প্রতিটি অঞ্চল নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নাচের শৈলী তৈরি করেছে। অনেক লোকনৃত্য ফিলিপিনোদের প্রাথমিক জীবনধারা অনুকরণ করার জন্য এবং অশুভ আত্মাদের তাড়ানোর মতো আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যেও তৈরি করা হয়েছিল।<ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> ফিলিপাইনের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কিছু নাচ নিচে দেওয়া হলো: '''মুসলিম প্রভাবিত নাচ''' দ্বাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে বোর্নিও এবং মালয় উপদ্বীপের ব্যবসায়ী এবং বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে আসেন। তারা ফিলিপিনোদের কাছে ইসলাম নিয়ে আসেন। আজ মিন্দানাও এবং সুলু দ্বীপপুঞ্জে ১০ লাখেরও বেশি মুসলিম ফিলিপিনো বাস করে। স্প্যানিশরা ফিলিপাইনে আসার পর ফিলিপিনো মুসলিমরা, যারা মোরো নামেও পরিচিত, বিজয়ী হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে তাদের ইসলামি জীবনধারা মূলত অক্ষত থাকে। এমনকি আজও ফিলিপিনো জনসংখ্যার বাকিদের সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনধারা সত্ত্বেও এটি বজায় রয়েছে। চারটি প্রধান মুসলিম জাতিগোষ্ঠী রয়েছে: লানাও, মাগুইন্দানাও, সামাল এবং তাউসুগ। এই নাচের ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলোতে উজ্জ্বল রঙ এবং ছন্দময় গতিবিধি ব্যবহার করা হয়। এটি সংস্কৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইন্দো-মালয়েশিয়ান প্রভাবকে উপস্থাপন করে। এই নাচে একটি ফিতা নাচও রয়েছে যা সম্ভবত আরব প্রভাবের ফল। মাগুইন্দানাওদের সিংকল নাচটিকে সবচেয়ে কঠিন ফিলিপিনো নাচ বলে মনে করা হয়। এই নাচে রাজকীয় রক্তের একজন নারী ছাতা বা পাখা হাতে সুন্দরভাবে নেচে নিজেকে প্ররোচকদের কাছে তুলে ধরেন। আবার কখনও কখনও বাঁশের লাঠির সাথে দক্ষতার সাথে চলাফেরা করেন।<ref>http://www.filipinasoul.com/philippine-folk-dance-singkil/</ref> মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার যুদ্ধ দ্বারা অনুপ্রাণিত আরেকটি নাচ হলো মাগলালাটিক। এর উদ্ভব লেগুনা প্রদেশ থেকে। এই নাচে মোরোরা নীল প্যান্ট পরে এবং খ্রিস্টানরা লাল প্যান্ট পরে। নাচের প্রথমার্ধে নারকেলের দুধের অবশিষ্টাংশ নিয়ে যুদ্ধ চিত্রিত করা হয়েছে। এরপর দুটি গ্রুপের মধ্যে পুনর্মিলন দেখানো হয়েছে।<ref>http://www.vtaide.com/ASEAN/Philippines/dances.html</ref> এই নাচে নির্দিষ্ট পোশাক থাকে: মালং হলো একটি টিউবের মতো পোশাক যা বিভিন্নভাবে পরা হয়, এবং কুম্বং হলো একটি ঐতিহ্যবাহী মাথার পোশাক। নাচের সাথে যে বাদ্যযন্ত্রগুলো বাজানো হয় সেগুলো হলো: আগোং যা কেন্দ্রে একটি গাঁট যুক্ত ব্রাস গং, এবং কুলিনতাং হলো একটি কাঠের ফ্রেমে রাখা ব্রাস গংয়ের সংগ্রহ। <ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> '''ব্যারিও ফিয়েস্তা নাচ''' ফিয়েস্তা এবং বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর জন্য দারুণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। খাবার, সঙ্গীত, নাচ, গেমস এবং ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা সবই ফিলিপিনো গ্রামগুলোর এই ঐতিহ্যবাহী ঘটনার অংশ। ফিয়েস্তা যদি গালা (বোহোলানো) নামের কোনো বিয়ের উৎসবের জন্য হয়, তবে বর-কনের বন্ধুদের সাথে নিয়ে আসা প্রথাগত। যারা তাদের খাবার পরিবেশন করে তাদের দ্বারা তারা বিনোদিত হন। বিনোদনের মধ্যে নাচ এবং সঙ্গীতের পারফরম্যান্স রয়েছে। সেই সাথে শব্দ সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি করতে পাত্র, প্যান, ল্যাডেল এবং পাত্রগুলোর সংঘর্ষও থাকে। এরপর অতিথিদের প্রথা অনুযায়ী চূড়ান্ত নাচের ঠিক আগে বর এবং কনের পোশাকে কাগজের টাকা আটকে দেওয়া হয়। এই নাচে নবদম্পতিরা একে অপরের সাথে খেলায় মেতে ওঠেন। এই নাচের আরেকটি জনপ্রিয় রূপকে কালাতং বলা হয় যা বাতাঙ্গাস প্রদেশের একটি নাচ। এটিতে ঘাতবাদ্য হিসেবে বাঁশের পাইপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই দলের শেষ নাচটি হলো তিনিকলিং। এটি এমন একটি নাচ যা লম্বা পায়ের টিকলিং পাখির নড়াচড়া অনুকরণ করে। এই পাখি ধানের ডালপালার মধ্যে কৃষকদের পাতা ফাঁদের ওপর দিয়ে লাফিয়ে চলে। ফিলিপাইনের নর্তকরা এই নাচটি করার সময় জটিল এবং অত্যন্ত সমন্বিত লাফ দিয়ে বাঁশের লাঠির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যান। এ সময় লাঠিগুলোকে একসাথে আঘাত করা হয় এবং তাদের নিচের মেঝেতে আঘাত করা হয়। তিনিকলিং হলো একটি কৌতুকপূর্ণ প্রেমের নাচ। বেশিরভাগ আদিবাসী নাচের মতোই এটি এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আরও জটিল হয়ে ওঠে। তিনিকলিং লেইতে দ্বীপপুঞ্জ থেকে উদ্ভূত এবং এটি ফিলিপাইনের আনুষ্ঠানিক জাতীয় নাচ।<ref>http://dance.lovetoknow.com/Philippine_Ethnic_Dance</ref> এই নাচের পোশাক হলো বালিনতাওয়াক। এটি একটি মেঝে-দৈর্ঘ্যের পোশাক যাতে শক্ত প্রজাপতি হাতা এবং হাতার সাথে মিলে যাওয়া উজ্জ্বল রঙের ওভারস্কার্ট থাকে। পুরুষরা কামিসা দে চিনোস নামের রঙিন শার্ট পরে। এই নাচগুলোর সাজসরঞ্জামের মধ্যে সাধারণত টিঙ্গয় নামের একটি তেলের বাতি এবং বাকিয়া নামের কাঠের ক্লগ অন্তর্ভুক্ত থাকে।<ref>http://web.archive.org/web/20090206053132/http://www.sanjoseculture.org/artsexpress/study_kaisahan0809.pdf</ref> '''মারিয়া ক্লারা নাচ''' মারিয়া ক্লারা ফিলিপাইনের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তিনি সত্যনিষ্ঠ ফিলিপিনা নারীর গুণাবলী এবং আভিজাত্যের প্রতীক। জোসে রিজালের লেখা স্প্যানিয়ার্ডদের দ্বারা ফিলিপাইন উপনিবেশ স্থাপনের একটি সাহিত্যিক অংশে তিনি প্রধান নারী চরিত্র ছিলেন। তার সম্মানে একটি নাচ এবং পোশাকের শৈলী তৈরি করা হয়েছিল। এটি এর স্প্যানিশ প্রভাবকে চিত্রিত করে। মারিয়া ক্লারার পোশাক হলো একটি জটিল ডিজাইনের ব্লাউজ এবং একটি ঝরঝরে স্কার্ট দিয়ে তৈরি আনুষ্ঠানিক পোশাক। এর সাথে কাঁধের ওপর একটি পানুয়েলো (প্রাকৃতিক ফাইবারের বর্গক্ষেত্র) পরা হয়। পুরুষরা বারং তাগালগে থাকে। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ফিলিপিনো শার্ট। এটি সাধারণত লম্বা হাতা এবং বিস্তারিত সূচিকর্মসহ আনারসের ফাইবার দিয়ে তৈরি হয়। এই নাচের প্রপস হলো বাঁশের কাস্টানেট এবং আবানিকো (এশিয়ান ফ্যান)। এই দলে অনেক ভিন্ন ধরনের নাচ রয়েছে যা ফিলিপাইন সংস্কৃতির কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। '''ইগোরোট নাচ''' ইগোরোটরা ফিলিপাইনের একটি উপজাতীয় জনগোষ্ঠী। তারা উত্তর লুজোনের কেন্দ্রীয় কর্ডিলেরা এলাকায় বসবাস করে। সম্মিলিতভাবে ইগোরোট নামে পরিচিত ছয়টি ভিন্ন উপজাতি হলো: আপায়াও, বনটোক, ইবালয়, ইফুগাও, কালিঙ্গা এবং কানকানায়। এই মানুষগুলো কেবল ইগোরোট হিসেবে উল্লেখ করার চেয়ে তাদের আলাদা উপজাতীয় নামে পরিচিত হতে পছন্দ করে। স্প্যানিয়ার্ডরা তাদের জন্য এই শ্রেণিবিন্যাসের শব্দটি নির্ধারণ করেছিল। এই উপজাতিগুলোর অভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে যা তাদের প্রকৃতির সাথে যুক্ত করে। তারা বিশেষ নৈবেদ্য দিয়ে গৃহদেবতাদেরও সম্মান করে। তাদের অনুষ্ঠানে সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির প্রকাশ হিসেবে নাচ পরিবেশিত হয়। এটি তাদের দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য, তাদের পূর্বপুরুষদের সম্মানে, অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য এবং আসন্ন যুদ্ধের জন্য তাদের দেবতাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য করা হয়। দুর্ভাগ্যের হাত থেকে বাঁচতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেতে, প্রচুর ফসল এবং মনোরম আবহাওয়া নিশ্চিত করতে এবং জীবনের চক্র উদযাপন করতেও নাচ করা হয়। এই নাচগুলোতে নারীরা তাদের মাথায় বয়াম এবং/অথবা ঝুড়ি রাখে। এটি খাদ্য সংগ্রহকারী এবং জল আনয়নকারী হিসেবে সম্প্রদায়ে নারীদের ভূমিকা প্রদর্শন করে। পুরুষদের জন্য মানমানোক নাচ রয়েছে। সেখানে তারা নারীদের আকৃষ্ট করতে উজ্জ্বল বোনা কম্বল ব্যবহার করে। তাকিলাং-এ পুরুষরা নাচ করে এবং গায়। তারা তাদের গ্যাংসা ও পিতলের গং বাজায়। এর মাধ্যমে তারা অস্ত্র এবং শিকারে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে। স্প্যানিশ শাসনের কারণে ফিলিপাইনের নাচে স্প্যানিশদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নাচ এবং সঙ্গীতে ইউরোপীয় নাচের গতি এবং শৈলী চলে আসে। উদাহরণস্বরূপ তিনিকলিং নাচ এবং ইটিক-ইটিকের গতি জোটা এবং পোলকার গতি অর্জন করেছিল।<ref>http://filipinokastila.tripod.com/dans.html</ref> ফিলিপিনোরা যে নাচগুলোর জন্য পরিচিত তার আরও কিছু উদাহরণ হলো: পান্ডাঙ্গো সা ইলাও: একটি স্প্যানিশ নাচ। এর জন্য প্রচুর ভারসাম্য রক্ষার দক্ষতা প্রয়োজন। কারণ মাথা এবং প্রতিটি হাতের পিঠে তিনটি তেলের বাতি ধরে রাখতে হয়। এই নাচটি মিনডোরোর লুবাং দ্বীপ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। কারিওসা: এই নাচের নামটি এমন একজন নারীকে বর্ণনা করে যিনি স্নেহশীল, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং প্রেমময়। এই নাচে ফ্লার্টিংয়ের ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় পাখা এবং রুমাল ব্যবহার করা অন্তর্ভুক্ত। রিগডন: এই নাচটি স্পেনে উদ্ভূত হয়েছিল এবং সবচেয়ে বেশি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়। তিনিকলিং: এই জাতীয় লোকনৃত্যে একজোড়া নর্তক দুটি বাঁশের লাঠির মাঝখানে লাফিয়ে লাফিয়ে নাচ করে। লাঠিগুলো মাটির ঠিক ওপরে ধরে রাখা হয় এবং সঙ্গীতের তালে তালে একসাথে আঘাত করা হয়।<ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> ধান চাষীদের পাতা বাঁশের ফাঁদ এড়াতে পাখিদের চটপটে গতি এবং অনুগ্রহকে এই নাচ অনুকরণ করে। নর্তকরা পাখিদের প্রতীক। তারা পায়ের কাজের মাধ্যমে তাদের তত্পরতা প্রদর্শন করে। অন্যদিকে বাঁশের খুঁটিগুলো ফাঁদের প্রতীক।<ref>http://www.giancruz.com/portfolio/imd110/city/history.html</ref> ===জুলু এবং মাসাই সংস্কৃতিতে নাচ=== ====ভূমিকা==== অনেক আফ্রিকান সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাচ। বিশেষ করে জুলু এবং মাসাইদের ক্ষেত্রে এটি সত্য। উভয় সংস্কৃতিই পশুপালক এবং তাদের আরও অনেক সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা তাদের নাচ খুব ভিন্নভাবে প্রকাশ করে। এটি ব্যাখ্যা করার জন্য আমরা মাসাই এবং জুলু সমাজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দিক নিয়ে আলোচনা করব। যেখানে নাচ ব্যবহার করে সামাজিক মিলের পাশাপাশি শৈলীগত নাচের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়। শুরুতে আমাদের জুলু এবং মাসাইদের মধ্যে কিছু সামাজিক মিল দেখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বয়সের গ্রুপ, লুণ্ঠনের ঐতিহ্য এবং গবাদি পশুর গুরুত্ব। জুলু সমাজের জোর ছিল যুদ্ধ এবং লুণ্ঠনের ওপর। বয়সের সেটগুলো এতে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল। তরুণদের এগুলোতে ভাগ করা হয়েছিল এবং একটি নির্দিষ্ট বয়সের সেট অনুযায়ী তারা হানাদার ও যোদ্ধা ছিল। লুণ্ঠনের সময় জুলু যোদ্ধারা গবাদি পশু তুলে আনত। এগুলো তাদের সমাজে সম্পদের পরিমাপ ছিল। প্রাচীন জুলু জাতির ঐক্যবদ্ধকারী শাকা তার রাজবংশের সাহায্যে জুলুদের যুদ্ধে গর্বিত করেছিলেন। সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক ছিল এবং কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। তিনি তার বুলহর্ন পদ্ধতি এবং ছোট ছুরিকাঘাত করার বর্শা দিয়ে যুদ্ধের শৈলীকে বৈপ্লবিক রূপ দিয়েছিলেন। এটি যোদ্ধাদের নাচেও ব্যবহৃত হতো। অন্যান্য সমাজে তার অবিরাম আক্রমণ তার সাম্রাজ্যকে এত ক্ষমতা দিয়েছিল। এটি তার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল। যোদ্ধারা কোন বয়সের সেটে ছিল তা দ্বারা নির্বাচিত হতো। বয়সের সেটগুলো ছিল প্রায় দশ বছরের বয়সের পরিসরের মধ্যে থাকা একটি গ্রুপ। অনেক সময় এই বয়সের সেটগুলো প্রবীণ, যোদ্ধা এবং শিশুদের মধ্যে সংগঠিত হতো। বয়ঃসন্ধির পর দীক্ষার প্রক্রিয়ায় নারীদের একটি বিশেষ নাচ ছিল যা পরিবেশিত হতো। শাকার সমাজে গবাদি পশু ছিল সম্পদের পরিমাপ। গবাদি পশু না থাকলে কেউ বিয়ে করতে পারত না বা বিলাসবহুল জিনিস কিনতে পারত না। অন্যান্য সমাজে লুণ্ঠন করে বা অসামান্য সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে গবাদি পশু উপার্জন করা যেত। গবাদি পশু উৎসর্গ করাও তাদের সমাজের একটি বড় অংশ ছিল। যুদ্ধ থেকে নিরাপদে ফিরে আসার জন্য বা সফল যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে উৎসর্গ করা হতো। অন্যদিকে মাসাই সংস্কৃতি নিজেদেরকে একটি বিশুদ্ধ পশুপালক সমাজ হিসেবে বিবেচনা করত। ফলে গবাদি পশুর ওপর প্রচুর জোর দেওয়া হতো। তারা একটি লুণ্ঠনকারী সমাজও ছিল। যদিও তারা শিকারকে দীক্ষা অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ব্যবহার করত, তবে এটি মাসাই সমাজে নিয়মিত ঘটনা ছিল না। জুলুদের মতো মাসাইরাও গবাদি পশুকে সম্পদের একটি রূপ হিসেবে ব্যবহার করত। তারা গবাদি পশুকে এতটাই পবিত্র বলে মনে করত যে তারা একই খাবারে গরুর মাংস খেত না এবং দুধ পান করত না। জীবিত প্রাণীর থেকে নেওয়া জিনিসের সাথে মৃত প্রাণীর থেকে নেওয়া জিনিসের মিশ্রণকে তারা অসম্মানজনক মনে করত। মাসাইরা বিশ্বাস করত যে সমস্ত গবাদি পশু আইনত তাদের ঈশ্বরের দেওয়া। তাই অন্যান্য উপজাতির কাছ থেকে সেগুলো নেওয়া যুক্তিসঙ্গত ছিল। ====যুদ্ধের নাচ==== জুলু এবং মাসাই উভয় রাজ্যই যুদ্ধ এবং লুণ্ঠনের ওপর জোর দিয়েছিল। তাই এটা স্বাভাবিক যে তাদের এই কাজগুলোকে চিত্রিত করার জন্য একটি নাচ ছিল। উভয় রাজ্যেরই যোদ্ধাদের জন্য একটি নাম ছিল। জুলু যোদ্ধাদের বলা হতো ইন্দলামু এবং মাসাইদের বলা হতো মোরান। জুলুদের ক্ষেত্রে তাদের নাচের নামকরণ করা হয়েছিল যোদ্ধাদের নামে। অনেক সময় জুলু নাচ তার স্টম্পিং নড়াচড়া দ্বারা চিহ্নিত করা হতো। এর মধ্যে একটি ভারী ভাব এবং পৃথিবীর সাথে সংযোগের অনুভূতি ছিল। এর একটি উদাহরণ ছিল ইন্দলামু বা যোদ্ধাদের নাচ। এই নাচটি অন্যান্য নাচের সাথে বিয়েতে পরিবেশিত হতো। সাধারণত ইন্দলামু বা জুলু যুদ্ধের নাচটি একটি বড় দলে পরিবেশিত হতো। নর্তকরা দুই দুই করে প্রবেশ করত। এটি একসাথে পরিবেশিত হতো এবং কিছু সংস্করণে তিনটি অংশ ছিল: প্রবেশ, প্রস্তুতি এবং দুটি রুটিন। একজন নেতা ছিলেন যিনি কখন শুরু করতে হবে এবং কখন শেষ করতে হবে তার সংকেত দিতেন। এটি সাধারণত একটি ফুট স্টম্প দ্বারা চিহ্নিত করা হতো। তিনটি অংশের সংস্করণে নাচের প্রথম অংশটি ছিল প্রবেশ। সেখানে পুরুষরা কুঁকড়ে গিয়ে নাচের এলাকার চারপাশে একটি বৃত্তে ঘুরত। তারপর তাদের নেতা একক নাচ পরিবেশন করার সময় নর্তকরা বসে পড়ত। তার একক নাচ শেষ হলে নেতা নাচের প্রধান অংশ শুরু করার সংকেত দিতেন। এটি সমস্ত সংস্করণে পরিবেশিত হতো। এই শেষ অংশটি লাঠি বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ড্রামের তালে তালে কয়েকটি স্টম্প ব্যবহার করে পরিবেশিত হতো। এর মধ্যে কয়েকটি কিকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলো উপজাতিভেদে ভিন্ন হতো। তবে সাধারণত একটি পা সরাসরি সামনের দিকে ধাক্কা দেওয়া বা সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে চারপাশে নিয়ে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই পা বাঁকানো থাকত। এই অনুষ্ঠানের জন্য পোশাক সাধারণত ঐতিহ্যবাহী ছিল। অস্ট্রিচের পালক হাঁটুর নিচে পায়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে ওপরের বাহুতে বাঁধা হতো। তারা কটিবস্ত্রও পরত। নাচ করার সময় তারা তাদের ঢাল এবং একটি বর্শা বহন করত। তাদের একটি মাথার পোশাকও ছিল যা শৈলীর দিক থেকে মুকুটের মতো ছিল। মাসাইদেরও আদুমু নামের একটি যোদ্ধাদের নাচ ছিল। এটি নিজেদের জন্য করা একটি আনুষ্ঠানিক নাচ ছিল। যোদ্ধার জন্য একটি ট্রান্সের মতো অবস্থা তৈরি করার জন্য এটি করা হতো। এই নাচটি জুলু সমকক্ষের মতো বিয়েতে পরিবেশিত হতো না, বরং মানসিক প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি শক্তি এবং সহনশীলতার পরীক্ষা ছিল। যোদ্ধারা একটি বৃত্তাকার গঠন তৈরি করে নাচটি শুরু করত। জুলুদের থেকে ভিন্ন মাসাই যোদ্ধারা বৃত্তের চারপাশে দাঁড়িয়ে সামনে পেছনে দুলতে শুরু করত। এরপর একজন বা দুজন নাচ শুরু করার জন্য কেন্দ্রে আসত। তারা একটি ট্রান্সের মতো অবস্থায় আসার লক্ষ্যে সোজা রডের মতো ভঙ্গিতে লাফিয়ে উঠত। মাসাইদের ক্ষেত্রে মাঝখানের ব্যক্তি ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাকে বৃত্তের বাইরের কাউকে দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হতো। এই নাচের ছন্দ একটি গানের মধ্যে পাওয়া যেত। বৃত্তের প্রান্তে থাকা যোদ্ধারা এই গান গাইত, আর মাঝখানের নর্তকরা বাতাসে উঁচুতে লাফিয়ে উঠত। জীবনের যোদ্ধা পর্যায়ে যখন এই নাচটি পরিবেশিত হতো, তখন মাসাইরা তাদের চুল লম্বা বেণীতে রাখত। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক লাল সুতির তৈরি ছিল এবং কটিবস্ত্রের জুলু পোশাকের তুলনায় খুব রক্ষণশীল ছিল। কাপড়টি তাদের বুক থেকে নিচের দিকে ঢেকে রাখত এবং কখনও কখনও দেখতে একটি পোশাকের মতো ছিল। যোদ্ধাদের নাচের এই দুটি শৈলীতে একটি খুব সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে। জুলুদের তাদের শরীরের মাধ্যমে পৃথিবীর সাথে সংযোগ তৈরির বিষয়টি মাসাইদের প্রায় বিপরীত মেরুতে। মাসাইরা তাদের লাফানোর নড়াচড়া দিয়ে আকাশের দিকে পৌঁছে যাচ্ছে। মাসাইদের গঠন জুলুদের থেকে ভিন্ন। জুলুদের নাচে একটি খুব সামরিক লাইন গঠন ছিল, যেখানে মাসাইরা একটি বৃত্তে দাঁড়িয়েছিল। মাসাইদের নাচ শুরু করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছিল না, তবে জুলু সংস্করণে সামরিক নেতাই মনোনীত সূচনাকারী ছিলেন। যে পরিবেশে এই নাচগুলো পরিবেশিত হতো তা হলো আরেকটি পার্থক্য। মাসাই নাচ মানসিক প্রস্তুতি হিসেবে পরিবেশিত হতো। এটি কোনো সর্বজনীন অনুষ্ঠান হিসেবে অভিপ্রেত ছিল না। তবে জুলু নাচ বিয়ে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হতো। জুলু নাচে তালের উৎস মাসাই নাচের মতো মন্ত্র বা গানের বদলে লাঠি থেকে আসত। মাসাই এবং জুলুদের পোশাক বাছাইয়েও খুব ভিন্নতা ছিল। জুলুরা কটিবস্ত্র পরতে পছন্দ করত। মাসাইরা লম্বা লাল পোশাক পরতে পছন্দ করত, যা কটিবস্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। ====বিয়ের নাচ==== আগে বলা হয়েছে যে উভয় সমাজ গবাদি পশুর ওপর জোর দিয়েছিল। যখন একজন যুবক পর্যাপ্ত গবাদি পশু উপার্জন করত, তখন সে বিয়ে করতে পারত এবং একটি অনুষ্ঠান হতো। সেই অনুষ্ঠানে নাচ হতো। জুলু এবং মাসাই উভয়ের ক্ষেত্রেই এটি সত্য ছিল। জুলুদের ইনকন্ডলো নামের একটি ভিন্ন নাচ ছিল যা তারা বিয়েতে পরিবেশন করত। কনে শহরে প্রবেশ করার সময় এই নাচটি পরিবেশিত হতো। কনে এবং তার বয়সের অন্যান্য মেয়েদের নিয়ে গঠিত তার বধূ পার্টি গ্রামে আসার সময় এটি পরিবেশন করত। কনে তার বধূ পার্টির পেছনে থেকে নাচ শুরু করত। মেয়েরা ইনকন্ডলো বিয়ের গান গাইছে। পার্টিটি একটি বাঁকানো ভঙ্গিতে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। কিছু সংস্করণে নর্তকরা একে অপরের থেকে বাইরের দিকে ঘুরতে ঘুরতে ২-টি সারি তৈরি করে। এরপর তাদের নড়াচড়ার শেষে একটি লাইন তৈরি করার জন্য আবার কেন্দ্রের দিকে ফিরে আসে। নড়াচড়ার এই অংশটি সামনে ও পেছনের দিকে খুব দ্রুত এবং প্রাণবন্ত ছিল। বধূ পার্টি নাচের পরবর্তী অংশটি শুরু করত। কনে এবং তার বান্ধবীরা দলের পেছন থেকে বেরিয়ে আসত। সামনে এলে কনে প্রথম অংশটি শেষ করার জন্য একটি একক নাচ করে। এই অংশের নড়াচড়াগুলো খুব যথাযথ এবং মনোরম ছিল। ইনকন্ডলো নিজেই একটি ছড়াযুক্ত কবিতা ছিল। তারা এটিকে নাচের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করত। এটি নাচের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হতো। মাসাই বিয়ের নাচকে কায়াম্বা বলা হতো। এর সাথে থাকা সঙ্গীতে ব্যবহৃত পাঁজরের মতো বাদ্যযন্ত্রের নামে এর নামকরণ করা হয়েছিল। মাসাইদের ক্ষেত্রে উপজাতির অল্পবয়সী মেয়েরা পারফর্মার ছিল। সঙ্গীতে একটি পুনরাবৃত্তিমূলক সুর ব্যবহার করা হতো যা একটি কোরাস দ্বারা দ্বিগুণ হতো। এর সাথে একটি উচ্চ-পিচের বুঙ্গো হর্ন ছিল। ঝনঝনি এবং বাঁশি ছোট অনুষঙ্গ ছিল। কায়াম্বা হলো এই ঝনঝনিগুলোর মধ্যে একটি। এটি কাঠ এবং খাগড়া দিয়ে তৈরি। ভেতরে ছোট নুড়ি থাকে। এই সঙ্গীতটি এর অনেকগুলো অংশ দিয়ে খুব গতিশীল ছিল। অল্পবয়সী মেয়েরা নাচ করার সময় তাদের গোড়ালিতে বাঁধা ঘণ্টা দিয়ে সঙ্গীতে যুক্ত করত। এটি নাচটিকে খুব ছন্দময় করে তুলেছিল। মাসাই বিয়ের নাচ তার জুলু সমকক্ষের চেয়ে বিয়ের পার্টির বিনোদনের জন্য বেশি ছিল। মাসাই এবং জুলুদের বিয়ের নাচ সুন্দরভাবে বৈপরীত্য দেখায়। মাসাই নাচটি এর সঙ্গীতে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল এবং বিয়ের পার্টির বিনোদন হিসেবে পরিবেশিত হতো। জুলু নাচটি একটি সাধারণ কবিতা মন্ত্র ব্যবহার করে কনেকে শহরে আনার একটি উদযাপনের উপায় ছিল। এটি লক্ষণীয় যে এই নাচগুলোর উভয়ের নামকরণ করা হয়েছিল এগুলোতে ব্যবহৃত সঙ্গীতের নামে। জুলুদের ইনকন্ডলো কবিতার নামে এবং মাসাইদের কায়াম্বা বাদ্যযন্ত্রের নামে। কায়াম্বা সঙ্গীত খুব গতিশীল ছিল এবং এর অনেক অংশ ছিল। জুলু সঙ্গীতটি একটি অংশের মন্ত্র দিয়ে খুব সহজ ছিল। বিয়ের নাচের পরিবেশকরাও খুব ভিন্ন ছিলেন। রাজ্যের অল্পবয়সী মেয়েরা মাসাই নাচ পরিবেশন করেছিল। বিপরীতে বধূ পার্টি জুলু নাচ পরিবেশন করেছিল। ====বয়ঃসন্ধির নাচ==== মাসাই এবং জুলু সংস্কৃতিতে পুরুষ এবং নারী উভয়েরই বয়সের গ্রুপ ছিল। পরবর্তী বয়সের সেটের অংশ হওয়ার জন্য আচার ও অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিতে হতো। অনেক সময় সেই অনুষ্ঠানগুলোতে নাচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জুলু সমাজে নারীদের নারী হওয়ার সাথে সাথে একটি খুব বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল। মাসাইদের দীক্ষা সম্পর্কে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক আচারটি আসে একটি সিংহ হত্যার পর। জুলু নারীদের নারীত্বের দীক্ষার অংশ হিসেবে একটি খুব আকর্ষণীয় নাচের আচার ছিল। তাদের দীক্ষার একটি অংশ ছিল এক সপ্তাহের জন্য শুধুমাত্র তাদের মা এবং একজন বন্ধুর সাথে তাদের কুঁড়েঘরে বিচ্ছিন্ন থাকা। এই সময়ের পর তারা বেরিয়ে আসত এবং নাচত। তাদের নাচের প্রস্তুতির জন্য তারা ঘাসের পোশাক তৈরি করত। তারা তাদের পোশাক তৈরি করতে ঘাস একসাথে বুনত যা পরে অনুষ্ঠানের শেষে পুড়িয়ে ফেলা হতো। দীক্ষিত নারীর বন্ধু এবং বোনরাও ঘাসের পোশাক পরে নাচে অংশ নিত। চূড়ান্ত অনুষ্ঠানটি গান এবং নাচে পূর্ণ ছিল। নারীটি তার বন্ধু এবং বোনদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে দীক্ষিত হতো। অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত কাজ ছিল ঘাসের পোশাক পোড়ানো যা নারীত্বের পথে পা বাড়ানোর সংকেত দিত। পুরুষত্বের দীক্ষার অংশ হিসেবে মাসাইদের সিংহ শিকারে যাওয়ার প্রয়োজন হতো। যখন তারা সফল হতো, তখন একটি অনুষ্ঠান হতো যাতে এঙ্গিলকাইনোতো নাচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নাচটি অর্জনের উদযাপন হিসেবে উপজাতির জন্য পরিবেশিত হতো। সিংহ জয়ীরা নাচ করার জন্য একজন নারী সঙ্গী বেছে নিত। তারা উদযাপন দেখতে জড়ো হওয়া ভিড়ের মাঝখানে নাচত। প্রতিটি যুগল ভিড়ের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে একসাথে নাচত। যোদ্ধারা তাদের মাথায় উটপাখির পালক পরত। তারা সিংহের থাবা বা লেজ যুক্ত একটি বর্শাও বহন করত। তাদের নারী সঙ্গীরা পুঁতির পোশাক পরত। এই দীক্ষা অনুষ্ঠানগুলো ভিন্ন লিঙ্গের জন্য হওয়ার পাশাপাশি, সেগুলোতে পরিবেশিত নাচগুলোতেও কিছু বৈসাদৃশ্য ছিল। একটি কারণ হলো জুলু নাচটি মাসাইদের মতো অংশীদারী নাচের পরিবর্তে একদল নারীর দ্বারা একটি কোর হিসেবে করা হয়েছিল। তাদের পোশাক ভিন্ন ছিল। মাসাইরা তাদের যোদ্ধাদের ইউনিফর্ম পরত এবং তাদের বর্শাকে সিংহের থাবা ও লেজ দিয়ে সাজাত। জুলু নাচের মেয়েরা ঘাসের পোশাক পরত যা অনুষ্ঠানের শেষে পুড়িয়ে ফেলা হতো। মাসাই নাচের মেয়েরা পুঁতির পোশাক পরত যা অনেক বেশি স্থায়ী ছিল। ====ইথিওপিয়ান নাচ==== অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে ইথিওপিয়ায় অনেক ভিন্ন ভিন্ন নাচ রয়েছে। প্রধান নাচটিকে এসিসতা বলা হয়। এটি প্রধানত কাঁধ এবং বুক ব্যবহার করে দ্রুত নড়াচড়া করার মাধ্যমে পরিবেশিত হয়। আরেকটি বিখ্যাত নাচ হলো গুরাগে, যা ভিন্ন কারণ পায়ের নড়াচড়া খুব অপরিহার্য। গুরাগে বাজানো তালের সাথে মিল রেখে কিক মুভ ব্যবহার করে। আরেকটি বড় নাচ হলো টাইগ্রেঙ্গা, এই নাচের জন্য একটি দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দলটি একটি বৃত্ত তৈরি করবে এবং তালের সাথে বৃত্তে ঘুরবে। কিছু লোক তাদের নিজস্ব পদক্ষেপগুলো সম্পাদন করতে বৃত্তের মাঝখানে যেতে পারে। এই নাচগুলো বেশিরভাগ বিবাহ এবং ছুটির সমাবেশে পরিবেশিত হয়। এখান থেকে একটি উপসংহার টানা যেতে পারে যে জুলু এবং মাসাইরা অনুরূপ সাংস্কৃতিক ঘটনাগুলোকে চিহ্নিত করতে ভিন্ন নড়াচড়া ব্যবহার করে। জুলু নর্তকদের তাদের নাচে একটি খুব ভারী, ভিত্তিমূলক অনুভূতি রয়েছে। অন্যদিকে মাসাই নর্তকদের একটি খুব শেখানো এবং লাফানো অনুভূতি রয়েছে। জীবনের অনুরূপ দিকগুলো সম্পর্কে নাচ ব্যবহার করে তাদের শৈলীগুলোর তুলনা করা সহজ হয়। যদিও জীবনের দিকগুলো সম্পর্কে তাদের প্রকাশ ভিন্ন হতে পারে, তবুও তারা যে জিনিসগুলো নিয়ে নাচ করে তা আমাদের কাছে তাদের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ তার একটি ধারণা দেয়। ===ট্রান্স স্টেট, নাচ এবং মায়োট সংস্কৃতি=== ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকার কাজটিকে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে এবং মৌলিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যেকোনো পরিবর্তিত চেতনার অবস্থা হিসেবে, যা সাধারণ জাগ্রত সচেতনতা থেকে ভিন্ন। অন্য কথায় ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করা অর্জিত হয় যখন কারও "ভৌত শরীর" আংশিক বা সম্পূর্ণ সুপ্ত হয়ে যায়। অথচ ব্যক্তির মন জাগ্রত থাকে। ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির মস্তিষ্কের তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তিত হয়। মস্তিষ্কের তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সির এই পরিবর্তন পরিবর্তিত শারীরিক ও মানসিক কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় হয়। বিশেষভাবে ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করা একটি বিটা ব্রেন-ওয়েভ স্টেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা পার্থক্য দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। মানুষের মস্তিষ্কের অনেক ভিন্ন ভিন্ন ব্রেন-ওয়েভ স্টেট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিটা তরঙ্গ, ডেল্টা তরঙ্গ, থিটা তরঙ্গ, আলফা তরঙ্গ, মিউ তরঙ্গ এবং গামা তরঙ্গ অন্তর্ভুক্ত। এই সমস্ত মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো সবসময় মানুষের মনে বিদ্যমান থাকে। তবে বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ বা চেতনার অবস্থায় নিযুক্ত থাকার সময় নির্দিষ্ট তরঙ্গগুলো বেশি শক্তিশালী বা উন্নত হয়। উদাহরণস্বরূপ মস্তিষ্কে বিটা তরঙ্গগুলো জাগ্রততা, চেতনা, সতর্কতা, সক্রিয়তা এবং ঘনত্বের সাথে যুক্ত। ফলস্বরূপ যখন কেউ দিনের বেলা জেগে থাকে এবং কাজ করে, তখন এই মস্তিষ্কের তরঙ্গটি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং উন্নত হয়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের অন্যান্য তরঙ্গগুলোকে পটভূমি বা পরিধিতে রাখা হয়। তবে যখন একজন ব্যক্তি ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করেন, তখন বিটা ব্রেন ওয়েভকে পটভূমিতে রাখা হয়। তখন মস্তিষ্কের অন্যান্য ফ্রিকোয়েন্সিগুলোকে উন্নত করে সামনে নিয়ে আসা হয়। ট্রান্সের মতো অবস্থায় প্রবেশের কাজটি প্রায়শই একটি আনুষ্ঠানিক বা আধ্যাত্মিক অনুশীলন। এতে সারা বিশ্বের অনেক সংস্কৃতি অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এই সংস্কৃতি এবং উপজাতিগুলোর অনেকেই যারা ট্রান্স আচারে অংশগ্রহণ করে, তারা প্রায়শই সঙ্গীত এবং বিশেষ করে নাচকে ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের উপায় হিসেবে ব্যবহার করে। ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের উপায় হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু সংস্কৃতিতে নাচ ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে অন্যান্য সংস্কৃতিগুলো ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকার ফলস্বরূপ নাচতে পারে। ট্রান্স-ইনডুসিং আচারে জড়িত থাকার সময় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতি ভিন্ন পদ্ধতি এবং কৌশল ব্যবহার করে। তবে এই সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় হলো নাচের ব্যবহার। নাচ কেবল ট্রান্স-ইনডুসিং আচারগুলোর নয়, বরং ট্রান্স বা সমাধির অবস্থারও একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান। অনেক ভিন্ন উপায়ে "ট্রান্স" বা সমাধির প্রক্রিয়াটিকে শিল্প ও নাচ উভয়ের বিভাগের অধীনে বিবেচনা এবং অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি সংস্কৃতি যেখানে নাচ এবং ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের প্রক্রিয়া তাদের জীবনের একটি প্রধান বিষয়, তা হলো মায়োটের জনগণ। মায়োট হলো একটি দ্বীপপুঞ্জ যা উত্তর-পূর্ব মোজাম্বিক এবং উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারের মধ্যে অবস্থিত। এই দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে ফ্রান্সের মালিকানাধীন এবং প্রভাবিত একটি অঞ্চল। তবে অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী এখনও মায়োটতে বসবাস করে এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি অনুশীলন করে। মায়োটে বসবাসকারী আদিবাসীদের অনেকেই মোজাম্বিক এবং মাদাগাস্কারসহ নিকটবর্তী আফ্রিকান দেশগুলো থেকে ভ্রমণ করে মায়োটের বিভিন্ন দ্বীপে বসতি স্থাপন করেছিল। মায়োটতে বসবাসকারী এই আদিবাসীদের অনেকেই আত্মায় বিশ্বাস করে। তারা ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করতে নাচ এবং অন্যান্য আচারের মাধ্যমে আত্মাদের তাদের অধিকার করার জন্য আহ্বান করে। আচার-অনুষ্ঠানের সময় কোনো একটি অভিন্ন নাচ অনুশীলন করা হয় না। এর পরিবর্তে জড়িত বিভিন্ন লোক দ্বারা অনেক অনন্য নাচ পরিবেশিত হয়। এর কারণ হলো মায়োট লোকেরা অনেক ভিন্ন আত্মায় বিশ্বাস করে এবং আহ্বান করে, যাদের সবার সাথে ভিন্ন ভিন্ন নাচ যুক্ত থাকে। এমনকি ট্রান্স বা সমাধির অবস্থার অংশগ্রহণকারীরা প্রায়শই এই ভিন্ন আত্মাদের দ্বারা "অধিকৃত" থাকার সময় তাদের নিজস্ব নাচগুলো উন্নত করে এবং তৈরি করে। মায়োটতে নাচের আচারের সাথে প্রায়শই দর্শকদের অংশগ্রহণ থাকে। তারা হাততালি দেয় যখন নির্দিষ্ট আত্মার দ্বারা আবিষ্ট অংশগ্রহণকারীরা তাদের সামনে নাচে। এই নাচগুলো মনোমুগ্ধকর নড়াচড়া থেকে শুরু করে দ্রুত গতির নাচ পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে [https://books.google.com/books?id=BLA5AAAAIAAJ&pg=PA3&lpg=PA3&dq=mayotte+trance+dances&source=bl&ots=oClBNyKq-]। এটি অংশগ্রহণকারীর কোন ধরনের "আত্মা" দ্বারা আবিষ্ট হওয়ার ওপর নির্ভর করে। অংশগ্রহণকারীরা ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকে যখন তারা আবিষ্ট থাকে। ===নেটিভ আমেরিকান নাচ=== নেটিভ আমেরিকান নাচের তাদের সংস্কৃতিতে গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ রয়েছে। এর একটি প্রধান উদাহরণ হলো কোয়াকিউটলের মুখোশ আচার। এটি ওয়াশিংটন রাজ্যের স্থানীয় একটি নেটিভ আমেরিকান উপজাতি। এই আচারগুলো একটি চমত্কার এবং রহস্যময় উপায়ে গান, নাচ এবং গল্প বলাকে একত্রিত করে। গল্পগুলো কোয়াকিউটলের উৎপত্তির গল্প থেকে শুরু করে শিশুদের ভালো হওয়ার ভয় দেখানোর জন্য তৈরি করা বোকামি গল্প পর্যন্ত হতে পারে। এই সমস্ত নাচ মন্ত্র ও ড্রামের সাথে থাকে, যা মূলত সিডার এবং পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি। <ref>http://www.lelooska.org/</ref> আরেক সংস্কৃতির আধিপত্যের অর্ধশতাব্দী পর নেটিভ আমেরিকানদের ঘিরে থাকা কঠোর পরিস্থিতির ফলে ১৮৯০-এর দশকে পিউত দ্বারা ঘোস্ট ড্যান্স তৈরি এবং পরিবেশিত হয়েছিল। এর অন্যতম প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ১৯ শতকের শেষার্ধ জুড়ে মহিষের পালের সম্পূর্ণ হত্যা। তাদের খাদ্যের উৎসের ঘাটতির অর্থ হলো অনেক নেটিভ আমেরিকান মার্কিন সরকার দ্বারা ভূমি থেকে খোদাই করা সংরক্ষণে বসবাস ও কাজ করতে বাধ্য হয়েছিল। <ref>http://www.encyclopedia.com</ref> (গার্থ আহেরন-হেন্ডরিক্স) ===নাচ, শিল্প নাকি খেলাধুলা?=== আমেরিকান সমাজে ব্যালেরিনা হওয়াকে কখনও কখনও সহজ বা অ-অ্যাথলেটিক হিসেবে স্টেরিওটাইপ করা হয়। নাচ "কোনো খেলা নয়" বরং ''শুধু'' শিল্পের একটি রূপ। তবে সারা দেশের অনেক জায়গায় ফুটবল খেলোয়াড়দের ব্যালেন্স, আঙুল দিয়ে হাঁটা/দৌড়ানো এবং দ্রুত অ্যাকশন পিভটের শিল্প শেখানোর জন্য ব্যালে ক্লাসে পাঠানো হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত স্টিলার্স খেলোয়াড় লিন সোয়ান এবং হার্শেল ওয়াকার, সেই সাথে প্রাক্তন প্রতিযোগিতামূলক বডি বিল্ডার গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার একসময় তাদের নিয়মিত ওয়ার্কআউটে ব্যালে ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আধুনিক, জ্যাজ, ব্যালে, কিক,<ref>পাচিয়াকো, কার্লি। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি</ref> ট্যাপ, হিপ-হপ, ব্রেক ড্যান্সিং, ক্রাম্পিং, সালসা, ওয়াল্টজ, ফক্সট্রট এবং এমনকি পোল ড্যান্সিংয়ের মতো সব ধরনের নাচেই চরম নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির প্রয়োজন হয় এবং অ্যাথলিটরা এর সুবিধাগুলো বুঝতে শুরু করেছেন। ওয়াকার এমনকি এক ধাপ এগিয়ে ফোর্ট ওয়ার্থ ব্যালের সাথে একটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। "প্রতিদিন ২-বার প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়া এবং বড় লাইনব্যাকারদের দ্বারা বারবার আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও, ওয়াকার ব্যালে পারফরম্যান্সকে বলেছিলেন, 'আমার করা সবচেয়ে কঠিন কাজ।'" একইভাবে নর্তকরা সমানভাবে কঠোর এবং অনেক পেশাদার ক্রীড়াবিদের মতো দীর্ঘক্ষণ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সাউথওয়েস্ট ওয়াশিংটন ড্যান্স অনসেম্বল কোম্পানির নর্তকরা উদ্বোধনের ৪ মাস আগে থেকে শনিবারগুলোতে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রিহার্সাল করেন। সেই সাথে সপ্তাহে ৩ থেকে ৬টি ক্লাসও করেন। দলটির সাথে পারফর্ম করার সময় আমার মনে পড়ে যে আমি স্টুডিওতে খুব দীর্ঘ এবং কঠিন সময় কাটিয়েছিলাম। এরপর একজন ওয়েট্রেস হিসেবে একটি দীর্ঘ শিফট কাজ করেছিলাম। আমার ধারণা নাচ এবং অ্যাথলেটিক্সের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো স্টেডিয়ামগুলো একক পারফরম্যান্সের জন্য বিক্রি হয় না (ভেন্যুগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট হয়)। এছাড়া পারফরম্যান্সের জন্য নর্তকরা যে অর্থ পান তা অনেক কম। ফুটবল খেলোয়াড় এবং অন্যান্য পেশাদার ক্রীড়াবিদরা বছরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পেলেও, অনেক পেশাদার নর্তকী সেই পরিমাণ অর্থের কাছাকাছিও পান না। এই ক্ষেত্রটি আরও প্রতিযোগিতামূলক। কারণ শুধুমাত্র প্রাইমা ব্যালেরিনারা প্রধান ভূমিকায় আসেন। তবে রাশিয়া-সহ অন্যান্য সংস্কৃতিতে যেখানে মস্কো ব্যালে একটি অনেক বড় ব্যাপার, সেখানে দর্শকরা ফায়ারবার্ড দেখার জন্য উচ্চ মূল্য দিতে বেশি পছন্দ করবেন। আগ্রহের অভাব এবং নর্তকীরা তাদের "খেলাধুলায়" যে কঠোর পরিশ্রম করেন তার সাধারণ স্বীকৃতির অভাব আমেরিকার বিনোদনের অগ্রাধিকারগুলোর প্রতিফলন। বাহিয়া, ব্রাজিলের মতো অন্যান্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দেশগুলো নাচকে শিল্পের রূপ এবং একটি খেলা হিসেবে বিবেচনা করে। নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট উইলসন বাহিয়াতে কিছু সময় বসবাস করার অভিজ্ঞতার গল্প "ড্যান্স লেস্ট উই অল ফল ডাউন"-এ ক্যাপোইরা নিয়ে আলোচনা করেন এবং অংশ নেন। ক্যাপোইরা প্রথম আফ্রিকান দাসদের দ্বারা ব্রাজিলে তৈরি হয়েছিল। এটিকে আফ্রিকান মার্শাল আর্ট এবং ব্রাজিলিয়ান নাচের পদক্ষেপের সমন্বয় বলা হয়। এমনটাও বলা হয় যে "লড়াইয়ের" এই রূপটি দাসদের দ্বারা তৈরি একটি আত্মরক্ষা প্রক্রিয়া ছিল, যা দেখতে নাচের মতো ছিল যাতে তারা ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সাথে সমস্যায় না পড়ে। ক্যাপোইরা আমরা মার্শাল আর্ট হিসেবে যা জানি তার মতোই। তবে এতে অল্প কিছু লোক জড়িত থাকে যারা মাঝখানে নর্তকদের ঘিরে রাখে। তারা একাধিক বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে "লড়াই" করে (কখনও শারীরিক যোগাযোগ না করে)। যখন কোনো খেলোয়াড় ক্লান্ত হয়ে পড়ে, অন্য কোনো খেলোয়াড় এগিয়ে আসে বা সঙ্গীত শেষ হয় তখন লড়াই থেমে যায়। রোডা হলো ক্যাপোইরা সংস্কৃতির আরেকটি শৈলী, যেখানে খেলোয়াড়রা ২ জন ক্যাপোইরিস্তার চারপাশে একটি বৃত্ত তৈরি করে যারা একটি যুগপৎ ক্যাপোইরা যুদ্ধ চালিয়ে যায়। রোডা ছান্দিক যুদ্ধে ক্যাপোইরার শিল্পের অ্যাথলেটিক দিকটি তুলে ধরে। এটি তখনই শেষ হয় যখন তাল শেষ হয় বা অন্য একজন খেলোয়াড় ক্যাপোইরিস্তার জায়গা নেয়। ক্যাপোইরিস্তাদের ঘিরে রাখা বৃত্তটিও শিল্পটির একটি ঐতিহ্য এবং ব্রাজিলে নিপীড়নকে চ্যালেঞ্জ করার সাংস্কৃতিকভাবে প্রতীকী। এই ক্যাপোইরা দলগুলো ভিন্ন ক্যাপোইরা দলগুলোর সাথে "খেলতে" বা অন্য কথায় প্রতিযোগিতা করতে ভ্রমণ করে। এর আধুনিক সংস্করণটি জাতীয় ব্রাজিলিয়ান খেলায় পরিণত হয়েছে, যদিও এটি শিল্পের একটি রহস্যময় এবং প্রাচীন রূপ হিসেবে শুরু হয়েছিল। অনেকেই ক্যাপোইরাকে নাচের একটি রূপ হিসেবে বর্ণনা করতে পারেন, যা দেখায় যে নাচকে প্রতিটি দেশের সাংস্কৃতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে একটি খেলা বা একটি শিল্প হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এটি শুধু এমন একটি ঘটনা যে এখানে আমেরিকায় নাচ একটি খেলার চেয়ে একটি শিল্প হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তবুও এর মানে এই নয় যে নর্তকরা অ্যাথলেট নন। কাজের সূত্র <ref>কোহেন, সেলমা জিন। ইন্টারন্যাশনান এনসাইক্লোপিডিয়া অব ড্যান্স। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। অক্সফোর্ড, ১৯৯৮। V5 পৃ. ৬৪৩-৬৪৮।</ref> <ref>জ্যান্টজিঙ্গার, জি। ডান্সেস অব সাউদার্ন আফ্রিকা। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি। ১৯৭৩। ৫৫ মিনিট, রঙ। "Maasai." (মাসাই)" নিউ ওয়ার্ল্ড এনসাইক্লোপিডিয়া। ৩ এপ্রিল ২০০৮, ২২:৪৩ ইউটিসি। ৩ ডিসেম্বর ২০০৮, ২১:০৭ <http://www.newworldencyclopedia.org/entry/Maasai?oldid=686829>।</ref> <ref>ফিঙ্কে, জেন্স। ট্র্যাডিশনাল মিউজিক অ্যান্ড কালচারস অব কেনিয়া। কপিরাইট ২০০০-২০০৭। kenyabluegecko.org মাগোগো, কনস্ট্যান্স, রাজকন্যা। সাাৎকার গ্রহণকারী: রিক্রফ্ট, ডেভিড। ব্রিটিশ লাইব্রেরি আর্কাইভাল সাউন্ড রেকর্ডিংস। ১৯৬৪। http://www.uwgb.edu/ogradyt/world/African.htm। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-গ্রিন বে ক্রস-কালচারাল</ref> <ref>কমিউনিকেশন: ওয়ার্ল্ড মিউজিক ২৪২-৩২৯ সাব-সাহারান আফ্রিকান মিউজিক। ১২-১১-০১। http://library.thinkquest.org/06aug/00933/RSAceremonies.htm। ০৪-০২-০৭।</ref> <ref>রিটার, ই.এ. শাকা জুলু। গ্রেট ব্রিটেন: পেঙ্গুইন বুকস, ১৯৫৫। পৃ. ৩৫-৫৭, ১০১।</ref> <ref>সাইতোতি, তেপিলিট ওলে। দ্য ওয়ার্ল্ডস অব আ মাসাই ওয়ারিয়র: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস, ১৯৮৬।</ref> <ref>ম্যাককয়েল, লিসা। দ্য মাসাই অব আফ্রিকা। লার্নার পাবলিকেশনস, ২০০২।</ref> <ref>শিলিংটন, কেভিন। হিস্ট্রি অব আফ্রিকা। ম্যাকমিলান পাবলিশার্স, ১৯৮৯, ১৯৯৫, ২০০৫। পৃ. ২৫৭-২৬০, ২০৭-২০৮।</ref> <ref>কুফাল, লিওনার্ড। “দ্য এমফেকানে অ্যান্ড সাউদার্ন আফ্রিকা”। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।</ref> <ref>কুফাল, লিওনার্ড। “ইস্ট আফ্রিকা”। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।</ref> <ref>ক্লেম্যান, অ্যান্ড্রু http://www.signatureforum.com/article.cfm?articleid=49</ref> <ref>উইলসন, মার্গারেট। ড্যান্স লেস্ট উই অল ফল ডাউন। কোল্ড ট্রি প্রেস। ২০০৭। পৃ. ১৭-১৮।</ref> <ref>স্মিথ, এম। দ্য কালচারাল ফ্রেম: রোডা। এইচসিএস ভিজ্যুয়াল আর্টস। ২০০৮।</ref> ===ভিজ্যুয়াল আর্ট=== ====গুহাচিত্র==== চিত্রাঙ্কনের সাংস্কৃতিক চর্চা এমন একটি শিল্প যার উৎপত্তি গুহাচিত্রের আকারে কয়েক হাজার বছর আগের। যদিও সারা বিশ্বে গুহাচিত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, তবে এই শিল্পের প্রাচীনতম কিছু উদাহরণ নামিবিয়া অঞ্চলে আফ্রিকায় ঘটে। এই পেইন্টিংগুলো পাথরের স্ল্যাবে আঁকা প্রাণীদের চিত্রিত করে। এগুলো প্রায় ৩০,০০০ বছর পুরোনো বলে নির্ধারিত হয়েছে এবং সান লোকেদের দ্বারা করা হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালে আবিষ্কারের পর থেকে এই চিত্রকর্মগুলোকে গুহা শিল্পের প্রাচীনতম পরিচিত উদাহরণ হিসেবে মনে করা হতো। তবে ১৯৯৪ সালে কভেট গুহা আবিষ্কারের সাথে সেই পার্থক্যটি হারিয়ে গিয়েছিল। গুহাটি দক্ষিণ ফ্রান্সের পোটহোলারদের দ্বারা দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল। গুহার দেয়াল চিত্রে বাইসন, ঘোড়া এবং হরিণ থেকে শুরু করে সিংহ, গন্ডার এবং ম্যামথ পর্যন্ত প্রাণীদের চিত্রিত করা হয়েছে। রেডিওমেট্রিক ডেটিং এই চিত্রকর্মগুলোর প্রাচীনতমটির বয়স প্রায় ৩১,০০০ বছর হিসেবে স্থাপন করেছে। এটি স্পষ্টভাবে সেগুলোকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত গুহা শিল্পের প্রাচীনতম রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।<ref>http://www.historyworld.net/wrldhis/PlainTextHistories.asp?groupid=1345&HistoryID=ab20</ref> গুহা শিল্পের আসল উদ্দেশ্যগুলো অনেক অনুমানের উৎস। আধুনিক উপজাতীয় সমাজের রীতিনীতি অধ্যয়ন করে কিছু আধুনিক পণ্ডিত তাত্ত্বিক ধারণা দিয়েছেন যে গুহাচিত্রগুলো সম্ভবত সেই প্রাথমিক চিত্রশিল্পীদের সমাজের ধর্ম এবং জাদুর ধারণার সাথে যুক্ত ছিল। তবে কেন পেইন্টিংগুলো প্রথম স্থানে তৈরি করা হয়েছিল তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও বিতর্কের বিষয়। পেইন্টিংগুলো প্রাথমিক শিকারীদের প্রচেষ্টাকে আশীর্বাদ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল নাকি আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশের জন্য একটি শামানিক সহায়তা হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, তা কখনও জানা যাবে না। এমনও হতে পারে যে এগুলো একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে তৈরি করা হয়েছিল। তবে গুহাচিত্রগুলোর অস্তিত্ব নিজেই প্রকাশ করে যে এমনকি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ তাদের চারপাশের জগতের বস্তু এবং পরিবেশগুলো চিত্রিত করতে আগ্রহী ছিল। এটি এমন একটি আগ্রহ যা ইতিহাসের গতিপথে মানব সংস্কৃতির মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক লোকেরা সম্ভবত এই গুহার দেয়ালগুলোতে আঁকতে কয়েকটি মৌলিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। এটি তাত্ত্বিক যে তারা পাথরের মধ্যে চিত্রগুলোকে, বেশিরভাগ প্রাণীদের, খোদাই করতে ধারালো সরঞ্জাম বা বর্শা ব্যবহার করত। গুহা শিল্পকে সাজানোর জন্য তারা যে রংটি ব্যবহার করত তা সম্ভবত কাঠকয়লা, কালি, মাটি বা বিভিন্ন ধরনের বেরি থেকে তৈরি করা হতো। খড়, পাতা বা লাঠি অথবা খাগড়ার সাথে যুক্ত চুল থেকে রঙ প্রয়োগের প্রাথমিক সরঞ্জামগুলো তৈরি করা হতে পারে। এয়ারব্রাশের মতো পদ্ধতিতে ফাঁকা খাগড়া বা হাড়ের মাধ্যমে তারা রঙ স্প্রেও করতে পারত।<ref>পিটার জে. উকো এবং অ্যান্ড্রি রোজেনফেল্ড, সায়েন্স ম্যাগাজিন। http://www.sciencemag.org/cgi/reprint/161/3837/150-a</ref> ===ধ্রুপদী থেকে আধুনিক চিত্রকলা=== [[File:REKrewDF17.JPG|300px|right|thumb|চালকো বানের, আরিয়ান, গ্রেকো, হিজার এবং সেপ্টোমোর আরই ক্রুর করা গ্রাফিতি। মেক্সিকো সিটি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯]] সময়ের সাথে সাথে বেশিরভাগ অন্যান্য শিল্প রূপের মতো চিত্রকলাও আবেগ, উদ্ভাবন এবং সময়ের পরিবর্তন প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম পরিচিত পেইন্টিংটি প্রায় ৩২,০০০ বছর আগে ফ্রান্সে গুহাগুলোতে পাওয়া গিয়েছিল।<ref>লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আ ট্রিটাইজ অন পেইন্টিং (কেসিঙ্গার পাবলিশিং)</ref> আরও পরিচিত শিল্পকর্মগুলো প্রাচীন গ্রীক, রোম এবং রেনেসাঁর সময়কালের।<ref>রিচার্ড ট্যানসেভ গার্ডনার্স আর্ট থ্রুআউট দ্য এজেস</ref> এই সময়ে ধর্ম ছিল শিল্পকর্মের প্রধান থিম। পরবর্তীতে এটি জটিল এবং সূক্ষ্ম প্রতিকৃতিতে রাজনৈতিক চরিত্রগুলো চিত্রিত করতে শুরু করে। সুদূর প্রাচ্যের শৈলী যেমন- চীনা এবং জাপানি শৈলীও ধর্মকে চিত্রিত করার সাথে সম্পর্কিত ছিল। তবে এগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে করা হতো। তারা কালি এবং রেশম পছন্দ করত। অন্যদিকে পশ্চিমা সংস্কৃতি জলরং এবং তেলের হালকাতা গ্রহণ করতে শুরু করেছিল। আফ্রিকান শিল্প পশ্চিমা শিল্প থেকে ব্যাপকভাবে ভিন্ন। তাদের প্রচুর কার্যকরী শিল্প ছিল। মুখোশ এবং গয়নাগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র যা আত্মা ও পূর্বপুরুষদের প্রতীক হিসেবে আচারে ব্যবহৃত হতো। মুরালিজন বা "মুয়ারলিসমো" এমন একটি আন্দোলন যা ১৯০০-এর দশকে মেক্সিকান শিল্পকর্মে অনেক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। যদিও ম্যুরালগুলো শিল্পকর্মের শুরুর দিকে পাওয়া যেতে পারে। মেক্সিকান ম্যুরাল আন্দোলনের জন্ম ১৯২০-এর দশকে বিপ্লবের (১৯১০-১৯১৭) পর। এটি সরকারের আদর্শ এবং ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের প্রচেষ্টার অংশ ছিল। ম্যুরালগুলো মেক্সিকান পরিচয়কে শক্তিশালী করার জন্য করা হয়েছিল। শিল্পীদের মেক্সিকো এবং এর জনগণের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের চিত্র তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সম্ভবত ২০ শতকের ম্যুরাল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, প্যালাসিও দে বেলস আর্টেসের পাশের নির্মাণ প্যানেলে শহুরে গ্রাফিতি মেক্সিকো সিটিকে সাজিয়ে চলেছে। ===গ্রাফিতি=== রাস্তার শিল্প হিসেবেও পরিচিত গ্রাফিতি হলো যেকোনো দ্বিমাত্রিক প্রতীক বা ছবি যা অনুমোদন বা কমিশন ছাড়াই সর্বজনীন ক্ষেত্রে রাখা হয়। শিল্পের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক ব্যাপার। এতে সাধারণত স্প্রে পেইন্ট জড়িত থাকে। তবে এটি অন্যান্য ধরনের পেইন্ট এবং এমনকি ডিকালও ব্যবহার করে। গ্রাফিতি বেআইনি এবং এটিকে ভাঙচুর বা সম্পত্তি ধ্বংস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও এটি বিতর্কিত বা এমনকি অশ্লীলও হতে পারে, গ্রাফিতি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভাষ্যের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে এসেছে। ব্যাঙ্কসির মতো কুখ্যাত শিল্পীদের কাজের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভের সাথে এটি একটি বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।<ref>http://matadornetwork.com/life/30-street-artists-blowing-people-minds-around-world/</ref> ইতিহাসগতভাবে সৃজনশীল রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্প মতপ্রকাশের একটি মাধ্যম হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তার শিল্প এবং গ্রাফিতি স্পষ্ট মতামত এবং স্থিতাবস্থার প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিতি লাভ করেছে। এটি 'সাধারণ মানুষের' কণ্ঠস্বর প্রদান করে। এটি ভবন, ট্রেনের বগি, পাতাল রেল, মেট্রো, সেতু এবং আরও অনেক কিছুর পাশে শত শত মানুষের সহজে দেখার সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে শিল্পীকে নিপীড়ন এবং গ্রেপ্তার থেকে বিপন্ন না করে একটি কথোপকথন তৈরি করা সম্ভব। যতক্ষণ না তারা ধরা পড়ে। একটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম 'ট্যাগ' হিসেবে রয়ে গেছে। এটি হলো একটি সিরিজের অক্ষর, প্রতীক বা শব্দ যা শিল্পীর স্বাক্ষর হিসেবে কাজ করে। সেখানে ক্রমবর্ধমান সচিত্র ছবি রয়েছে যা মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং 'গ্রাফিতি'কে 'রাস্তার শিল্প' হিসেবে পুনরায় আখ্যায়িত করেছে। প্রচণ্ড সামাজিক অস্থিরতার জায়গাগুলোতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং গভীর রাস্তার শিল্প রয়েছে। যেমন ইরান,<ref>https://theculturetrip.com/middle-east/iran/articles/street-art-in-iran-social-commentary-on-the-streets-of-tehran/</ref> ব্রাজিল, পূর্ব ইউরোপ এবং এই জাতীয় স্থানগুলো। বার্লিন, জার্মানি হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পূর্ব ও পশ্চিমের বিভাজনের সোভিয়েত শাসনামলে একটি ঐতিহাসিক (আধুনিক গ্রাফিতির অর্থে) স্ট্রিট আর্ট আন্দোলনের আবাসস্থল। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। অনেক ধরনের অন্যান্য শিল্পের মতো তথাকথিত গ্রাফিতির অসংখ্য রূপ রয়েছে। এটি বড় বা ছোট, স্পষ্ট বা অন্তর্নিহিত, বিতর্কিত, আকর্ষক বা শিল্পীর কাছে সত্যিকারের কোনো অর্থ ছাড়াই হতে পারে। শিল্পীর কাছে এখন তাদের কাজ প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শাস্তির ভয় থাকা সত্ত্বেও এটি টিকে আছে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভবত এটি রাস্তার নতুন শিল্প হিসেবে বিকাশ লাভ করতে থাকবে। ===ভাস্কর্য=== ভাস্কর্য হলো ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্ম যা শক্ত এবং/অথবা প্লাস্টিকের উপাদান, শব্দ এবং/অথবা পাঠ্য এবং/অথবা আলোকে আকার দিয়ে তৈরি করা হয়। এর উপাদান হিসেবে সাধারণত পাথর (শিলা বা মার্বেল), ধাতু, কাঁচ বা কাঠ ব্যবহার করা হয়। কিছু ভাস্কর্য সরাসরি সন্ধান করে বা খোদাই করে তৈরি করা হয়। অন্যগুলো একসাথে তৈরি করা হয় এবং পুড়িয়ে, ঝালাই করে বা ছাঁচে ফেলে তৈরি করা হয়। এগুলো বৃত্তাকারভাবেও তৈরি করা যেতে পারে যা মুক্ত-দাঁড়ানো হিসেবে পরিচিত। এটি দর্শককে সম্পূর্ণ ভাস্কর্যের চারপাশে হাঁটার এবং যেকোনো কোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। আবার এগুলো রিলিফ ভাস্কর্য হিসেবেও তৈরি করা যায়, যেখানে রূপগুলো সামনের দিকে প্রসারিত হয় কিন্তু পটভূমির পৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটি পেইন্টিংয়ের মতো সামনে থেকে দেখার জন্য তৈরি। এই বিভাগগুলোর মধ্যে লো-রিলিফ বা বাস-রিলিফের অনেক উপক্ষেত্র রয়েছে। তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আমরা আজকের আধুনিক ভাস্কর্যগুলো তৈরি করার জন্য ভাস্কর্যের ঐতিহ্যবাহী উপায়গুলোকে কারসাজি এবং পুনরায় কাজ করতে দেখেছি।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> ভাস্কর্যগুলো প্রায়শই আঁকা হয়। যে ব্যক্তি ভাস্কর্য তৈরি করেন তাকে ভাস্কর বলা হয়। যেহেতু ভাস্কর্যে এমন উপকরণগুলোর ব্যবহার জড়িত যা ছাঁচে তৈরি বা পরিমিত করা যেতে পারে, তাই এটিকে প্লাস্টিক শিল্পগুলোর মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়। সর্বজনীন শিল্পের বেশিরভাগই হলো ভাস্কর্য। বাগানের পরিবেশে অনেকগুলো ভাস্কর্য একসাথে থাকলে তাকে একটি ভাস্কর্য বাগান হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Sculpture</ref> যুগে যুগে অনেক মহান ভাস্কর হয়েছেন যারা তাদের সময়ের চেতনাকে কার্যকরভাবে মূর্ত করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন মাইকেলেঞ্জেলো,<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Michaelangelo</ref> অগাস্ট রডিন,<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Auguste_Rodin</ref> এবং জিয়ান লরেঞ্জো বার্নিনি <ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Bernini</ref> ==মিডিয়া== সংজ্ঞানুসারে মিডিয়াকে গণযোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যার মাধ্যমে সংবাদ, বিনোদন, শিক্ষা, ডেটা এবং প্রচারগুলো ছড়িয়ে পড়ে। মিডিয়ার এই অর্থটি তখন থেকে রয়েছে যখন মুদ্রণযন্ত্রটি জনসাধারণের কাছে সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাগজের বিশাল ভর তৈরি করা সহজ করে তুলেছিল। আজ গণমাধ্যমকে শিল্পের একটি রূপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ একটি উপযুক্ত বার্তা তৈরি করার অনেক দিক এবং নিয়ম রয়েছে যা জনসাধারণের কাছে কার্যকর হতে হবে। মিডিয়াকে শিল্পের একটি রূপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে কারণ এটি এমন একটি মতপ্রকাশের রূপ যা বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায়। চিত্রাঙ্কন, অঙ্কন এবং ভাস্কর্যের মতো কিছু চারুকলার তুলনায় মিডিয়া শিল্পের একটি কম স্পষ্ট রূপ। কিন্তু মিডিয়ার নির্দিষ্ট দিকগুলোতে ঠিক ততটাই সৃজনশীলতা এবং প্রচেষ্টা ঢালা হয় যা মিডিয়াকে শিল্পের এমন একটি রূপে পরিণত করে যা দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায়। ===ফটোগ্রাফি=== ফটোগ্রাফি শব্দটি দুটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে: ফটো যার অর্থ "আলো" এবং গ্রাফ যার অর্থ "অঙ্কন"। "আলোর সাহায্যে অঙ্কন" হলো ফটোগ্রাফি শব্দটির দিকে তাকানোর একটি উপায়।<ref>http://scphoto.com/html/history.html</ref> সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে একজন চীনা দার্শনিক মো টি এটি উদ্ভাবন করেছিলেন। ফটোগ্রাফি স্থির চিত্র তৈরির একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মো টি পিনহোল ক্যামেরার বর্ণনা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন যা সবচেয়ে সহজ ধরনের। এটি কালো রঙ, একটি ফাঁকা ছবি এবং কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি করা যায়। ধারণাটি হলো একটি ছোট পিনহোলের সাহায্যে বাক্সটির পেছন থেকে ছবিটিতে এমনভাবে আলো নির্গত হতে পারে যা প্রক্ষেপিত দৃশ্যটি প্রতিফলিত করে। মান্ডে ড্যাগুয়ারে প্রথম মুদ্রিত ফটোগ্রাফের জন্য কৃতিত্ব পান। তার ছবিটি সিলভার আয়োডাইড লেপা তামার প্লেটে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল। এটি স্পষ্ট, তীক্ষ্ণভাবে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি অন্যদের দ্বারা নকল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এর নাম ছিল ড্যাগুয়েরোটাইপ।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট।</ref> রাসায়নিক যৌগের আবিষ্কারের মাধ্যমে ১৯০০-এর দশকের গোড়ার দিকে শুরু হওয়ার পর থেকে ফটোগ্রাফি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে যা স্থায়ীভাবে চিত্রটিকে ধরে রাখে।<ref>শাইন কস্টেলো, ডব্লিউডব্লিউইউতে গ্রাফিক ডিজাইন মেজর এবং আর্ট হিস্ট্রি মাইনর।</ref> এই নতুন প্রযুক্তি ঐতিহাসিক রেকর্ড সংরক্ষণের একটি নতুন উপায় নিয়ে এসেছে। এর প্রথম উদাহরণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি। লিংকন ফটোগ্রাফির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। ১৮৬০ সালে তিনি আমেরিকান ফটোগ্রাফির ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত পেশাদার ফটোগ্রাফার ম্যাথিউ বি. ব্র্যাডিককে দিয়ে তার প্রতিকৃতি তোলেন। অতীতে নেটিভ আমেরিকানরা তাদের আত্মা হারানোর ভয়ে ছবি তুলতে অস্বীকার করেছে। মেক্সিকোর সান জুয়ান চামুলায় গির্জায় ছবি তোলা বেআইনি। <ref>http://www.photo-seminars.com/Fame/mathew.htm</ref> ===সিরামিক=== সিরামিক হলো মাটি থেকে বস্তু তৈরির শিল্প। মাটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি উপাদান। একে কারসাজি করে এবং সাজিয়ে সিরামিক শিল্প তৈরি করা হয়। শুকিয়ে গেলে মাটি অনেকটা পাউডারের মতো হয়। কিন্তু পানির সাথে মেশানো হলে এটি একটি ছাঁচযোগ্য, প্লাস্টিকের উপাদানে পরিণত হয়। একে চিমটি দিয়ে, গড়িয়ে বা আকার দিয়ে বিভিন্ন রূপ দেওয়া হয়। এরপর এই ভঙ্গুর সৃষ্টিগুলোকে শুকানোর জন্য রাখা হয়। মাটি স্পর্শে ঠান্ডা মনে হওয়ার মতো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর একে ২,৭০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় চুল্লিতে পোড়াতে হয়। এটি এর নতুন রূপকে স্থায়ী করে। এটি মাটির রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে। ফলে একে আর কখনও ছাঁচযোগ্য, প্লাস্টিকের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না। সিরামিক তৈরি করতে মৃৎশিল্পীদের ব্যবহৃত অনেক কৌশল রয়েছে। স্ল্যাব নির্মাণ (দৃঢ় এবং নরম), কয়েল, হাতে ছাঁচনির্মাণ এবং কুমোরের চাকায় ছাঁচনির্মাণ হলো মাটিকে সিরামিক শিল্পে রূপ দেওয়ার মাধ্যম। সিরামিক শিল্পের একটি প্রধান শর্ত হলো একে ফাঁপা হতে হবে। এর কারণ হলো বেশিরভাগ সিরামিকের বাস্তব ব্যবহার রয়েছে যেমন খাবার বা তরল রাখা। এছাড়া মাটির পুরু টুকরো বা সঠিকভাবে ফাঁপা না করা আকারগুলো চুল্লিতে বিস্ফোরিত না হয়ে সফলভাবে শুকানো এবং পোড়ানো কঠিন। মাটি প্রথমবার পোড়ানোর পর মৃৎশিল্পীরা প্রায়শই গ্লেজ দিয়ে তাদের টুকরোগুলো সাজান। গ্লেজ হলো পেইন্টের মতো তরল যা পাতলা মাটির সাথে মিশ্রিত বিভিন্ন খনিজ ধারণ করে। গ্লেজ দিয়ে রঙ করা হলে সিরামিক শিল্পকে স্থায়ীভাবে মাটির সাথে ফিউজ করতে এবং টুকরোটি সিল করতে চুল্লিতে দ্বিতীয়বার পোড়াতে হয়। যাতে এটি তরল ধারণ করতে সক্ষম হয়।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> সিরামিক শব্দটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ কেরামাকোস থেকে এসেছে এবং এর অর্থ "মৃৎশিল্পের"। সিরামিকের প্রাচীনতম পরিচিত অনুশীলনটি প্রায় ২০,০০০ বছর আগে চীনে ফিরে যায়। এটি একটি শিল্পের রূপ যা আমরা জানি এমন প্রায় প্রতিটি সংস্কৃতি দ্বারা অনুশীলন করা হয়েছে। পুয়েবলো জনগণের সংস্কৃতি নিউ মেক্সিকোতে কিছু লোক মৃৎশিল্পীদের কাজে প্রদর্শিত হয়। পুয়েবলো মৃৎশিল্পীদের প্রজন্ম ধরে প্রথম ধাপের পোড়ানোর কৌশলগুলো বিকশিত হয়েছে। এগুলো নিউ মেক্সিকোর স্থানীয় লাল মাটিকে সিরামিক শিল্পের বার্নিশ করা কালো মাস্টারপিসে রূপান্তরিত করে। পুয়েবলো লোকেদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, যা তাদের খাদ্য এবং জল সংগ্রহ, পরিবহন এবং সংরক্ষণ করতে সাহায্য করত, তা আন্তর্জাতিক চারুকলা সম্প্রদায়ের চোখে অত্যন্ত মূল্যবান একটি চমৎকার শিল্প রূপে পরিণত হয়েছে।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> ===টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র=== কোনো সন্দেহ নেই যে দশক পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এবং প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবনে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের ভূমিকা আরও বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। লোকেরা বিনোদন বা খবরের উদ্দেশ্যে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র দেখতে ঝোঁকেন। বিশেষ করে যেহেতু এগুলো বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। তবে বিভিন্ন দেশে এদের ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। সার্বিয়ার একটি অংশে কেবল একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল দেখার সুযোগ থেকে শুরু করে আমেরিকার প্রায় প্রতিটি ঘরে প্রতিটি টেলিভিশনে ৫০০টি চ্যানেল থাকার মতো ভিন্নতা দেখা যায়। যদিও বছর পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র আরও সাধারণ হয়ে উঠেছে। তবুও বেশিরভাগ লোকেরা মিডিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান কাজ এবং দুর্নীতির কথা বুঝতে পারেন না, যা লাখ লাখ মানুষের ঘরে স্থান পাচ্ছে।<ref>উইকিপিডিয়া টেলিভিশন কন্টেন্ট রেটিং সিস্টেম</ref> ====আমেরিকায় টেলিভিশন==== গড় আমেরিকান পরিবারে দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ১২ মিনিট টিভি চালু থাকে।<ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> এটি সম্ভবত কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮% বাড়িতে অন্তত একটি টেলিভিশন সেট রয়েছে। অন্যদিকে গড় বাড়িতে ২ থেকে ৩টি টেলিভিশন রয়েছে। একটি জাতি হিসেবে আমরা বার্ষিক ২৫০ বিলিয়ন ঘণ্টা টেলিভিশন দেখি। প্রায় ৫০% আমেরিকান স্বীকার করে যে তারা খুব ঘন ঘন টিভি দেখে। টিভি শীর্ষ বিজ্ঞাপনের এজেন্টগুলোর মধ্যে একটি কারণ এটি খুবই সাধারণ। টিভি সম্প্রচারের সময়ের ৩০% বিজ্ঞাপনের জন্য নিবেদিত। এক বছরে বেশিরভাগ শিশু ২০,০০০টি ৩০-সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন দেখবে।<ref>দ্য সোর্স বুক ফর টিচিং সায়েন্স। http://www.csun.edu/science/health/docs/tv&health.html)</ref> ৮২% আমেরিকান বিশ্বাস করেন যে "আমাদের বেশিরভাগই আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্রয় এবং গ্রহণ করে।" <ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> যেসব শিশু খুব অল্প বয়স থেকেই টিভি দেখা শুরু করে, তাদের জীবনে পরবর্তীতে অস্বাস্থ্যকর এবং স্থূলকায় হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এটি তাদের বাইরে যেতে এবং অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে মেলামেশা করতে বাধা দেয়। নিষ্ক্রিয়তা এবং বারবার জলখাবার খাওয়ার কারণেও ওজন বাড়তে পারে।<ref>http://kidshealth.org/parent/positive/family/tv_affects_child.html</ref> ৩০ বছরের ব্যবধানে (১৯৬৩ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত) ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী আমেরিকান শিশুদের মধ্যে মারাত্মকভাবে অতিরিক্ত ওজনের হার ৪.৫ থেকে ১৪-তে দাঁড়িয়েছে।<ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> তবে টেলিভিশন অগত্যা সম্পূর্ণ খারাপ নয়। আমার মতো অনেক দর্শক টিভিকে একটি খুব প্রশংসনীয় শিথিলতার উৎস হিসেবে মনে করেন। কর্মক্ষেত্রে বা স্কুলে দীর্ঘ দিনের পর তাদের শরীরকে বিশ্রাম দিতে এবং মনকে পুনরুজ্জীবিত করার উপায় হিসেবে তাদের প্রিয় অনুষ্ঠানগুলো দেখেন। টিভি মানসিক চাহিদা মেটাতেও সাহায্য করতে পারে। যদিও তা কিছুটা উপরিভাগের স্তরে। কারণ এটি প্রায়শই পলায়নবাদ এবং এমনকি ক্যাথারসিসের উৎস হিসেবে কাজ করে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমি একমত যে খুব বেশি টেলিভিশন দেখার নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন ভোগের হার বাড়ানো এবং শৈশবকালের স্থূলতায় অবদান রাখা। তবে আমি এটাও বিশ্বাস করি যে পরিমিত মাত্রায় এটি একটি পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। যা দর্শকদের জীবনে মূল্যবান কাজ করতে পারে। বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং মায়ামি ইউনিভার্সিটি অব ওহিও-র গবেষণায় দেখা গেছে যে টেলিভিশন একাকীত্ব এবং প্রত্যাখ্যান এড়াতেও সাহায্য করতে পারে। এটি 'সামাজিক সারোগেসি হাইপোথিসিস' অনুসরণ করে। এটি বলে যে মানুষ যখন কোনো প্রকৃত সামাজিক মিথস্ক্রিয়া পায় না, তখন তারা নিজেদেরকে সামাজিক সম্পৃক্ততার মিথ্যা অনুভূতি প্রদান করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। চরিত্রগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একজন দর্শকের অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজন মেটানো সহজ হয়। এটি একজন ব্যক্তিকে অনুভব করতে দেয় যেন তার সামাজিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে। প্রথম গবেষণায় দেখা গেছে যে বিষয়গুলো তাদের প্রিয় অনুষ্ঠানগুলো দেখার সময় কম একাকী ছিল। দ্বিতীয় গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা একটি গভীর সামাজিক স্তরে প্রোগ্রামগুলোর সাথে সংযুক্ত ছিল তারা প্রোগ্রামগুলোকে আরও বিশদে বর্ণনা করেছে। তৃতীয় গবেষণায় দেখা গেছে যে বিষয়গুলো তাদের প্রিয় প্রোগ্রামগুলোর কথা ভাবছে তারা আত্মসম্মান হ্রাস এবং নেতিবাচক মেজাজ এবং প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে নিরাপদ ছিল। চতুর্থ গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা তাদের প্রিয় প্রোগ্রাম সম্পর্কে লিখেছিলেন (দ্বিতীয় গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে) তারা একাকীত্বের কম অনুভূতি অনুভব করেছেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় যে এই 'সামাজিক সারোগেসি' আসলেই সামাজিক চাহিদা পূরণ করে নাকি নিছক সেগুলোকে দমন করে।<ref>কিছু মানুষের কাছে, টিভি একাকীত্ব দূর করে http://web.archive.org/web/20090501191755/news.yahoo.com/s/nm/20090428/tv_nm/us_loneliness</ref> ====মিডিয়া এবং টেলিভিশন==== সময়ের সাথে সাথে সিটকমগুলো বিস্তৃত বিষয়বস্তু (যেমন বিবাহবিচ্ছেদ, মিশ্র বর্ণের সম্পর্ক, একা পিতামাতা ইত্যাদি) নিয়ে কাজ করে। রাজনীতিবিদদের কাজ এবং সরকারি কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা থেকে শুরু করে, মিডিয়া "বৈধ" আচরণ কী তা সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করে। ১৯৭০ সালে ২৫% আমেরিকান টেলিভিশন থেকে তাদের রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ২০০৫ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৭০% হয়েছে, যারা তাদের বেশিরভাগ তথ্য টেলিভিশন থেকে পান। আজ ৬-৮টি সংস্থা সমস্ত মিডিয়া কভারেজের ৫০% এর বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে: টাইম ওয়ার্নার/এওএল, ডিজনি, বার্টেলসম্যান, ভায়াকম, নিউজ কর্পোরেশন এবং ভিভেন্ডি। গত কয়েক দশকে এই সংখ্যাটি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৮১ সালে ৪৬টি বড় সংস্থা ছিল। ১৯৮৬ সালে ২৪টি ছিল। ১৯৯০ সালে ১৭টি ছিল এবং ১৯৯৬ সালে ১১টি ছিল।<ref>টড ডোনভান, ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রফেসর</ref> ====ট্রান্সন্যাশনাল ফিয়েস্তাগুলোর ভিডিও এবং উপস্থিতি==== মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো জুড়ে বিস্তৃত ট্রান্সন্যাশনাল মিক্সটেক সম্প্রদায়ের মধ্যে, ভিডিও সীমান্ত আন্তর্জাতিক সীমানা জুড়ে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। পৃষ্ঠপোষক সাধুদের দিন, কুইনসিনারাস এবং বিবাহ সম্পর্কিত সম্প্রদায়ের ফিয়েস্তাগুলোতে উপস্থিতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের, বিশেষ করে গড প্যারেন্টসদের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে অনেক পরিবারের সীমান্ত অতিক্রম করা এবং এই ফিয়েস্তাগুলোতে যোগ দেওয়ার জন্য অনেক মাইল ভ্রমণ করা নিষিদ্ধ। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে, দূরবর্তী পরিবারের সদস্যদের তাদের বসার ঘরের আরাম থেকে ফিয়েস্তাগুলোতে 'অংশগ্রহণ' করার অনুমতি দেওয়ার জন্য ভিডিওর ব্যবহার ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু অংশে টিয়াস (খালা) এবং কমাদ্রেস (বন্ধু) ইভেন্টটি ঘটার কয়েক বছর পরে ফিয়েস্তাগুলোর ভিডিও পুনরায় চালানো দেখা সাধারণ ব্যাপার।<ref>পল জেমসের ব্যক্তিগত যোগাযোগ। এপ্রিল ২০০৯।</ref> ==থিয়েটার== থিয়েটার হলো একটি চারুকলা যা পারফর্মার, প্রপস, সেটিং এবং মিউজিক অন্তর্ভুক্ত করে একটি বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনা প্রদর্শন করে। এটি প্রায়শই মঞ্চে পরিবেশিত হয় তবে ব্ল্যাক বক্স, উঁচু প্ল্যাটফর্ম বা এমনকি রাস্তার কোণায় অন্যান্য সেটিংসে প্রদর্শিত হতে পারে। এটি মতপ্রকাশের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম যা মানব সভ্যতার প্রথম দিন থেকে অনুশীলন করা হচ্ছে। থিয়েটারের আদিম উদাহরণ এথেন্সের গ্রিক শহর রাজ্যে পাওয়া যায়। এটি বিনোদন এবং খবর হিসেবে উৎসব, ধর্মীয় অনুশীলন, বিবাহ, রাজনীতি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত হতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থিয়েটারটি খুব ভালোভাবে স্থানীয়করণ করা হয়েছে। বেশিরভাগ শহরের নিজস্ব থিয়েটার রয়েছে। এগুলো পেশাদার এবং স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিক উভয়ই হতে পারে। ন্যাশনাল ব্রডওয়ে ট্যুরগুলো বেশিরভাগ বড় শহরে পৌঁছায়। আর দেশের বেশিরভাগ না হলেও সব উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য থিয়েটারের কোনো না কোনো রূপ অফার করে থাকে।<ref>http://www.cwu.edu/~robinsos/ppages/resources/Theatre_History/Theahis_1.html</ref> ===শেক্সপিয়রীয় থিয়েটার=== উইলিয়াম শেক্সপিয়রের কাজগুলো সংস্কৃতিকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছে। তার কাজগুলোর আধুনিক পুনঃব্যাখ্যা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী শৈলীতে শব্দে শব্দে থিয়েটার। শেক্সপিয়রের নাটকগুলো এখনও ভাষাবিজ্ঞানের মাধ্যমে আজকের সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলে। যেমন বড় তাৎপর্য বোঝাতে "... অব শেক্সপিয়ারিয়ান প্রোপোরশনস" বাক্যাংশ ব্যবহার করা। কিংবা কোনো প্রেমিক যে হাল ছাড়তে অস্বীকার করে তাকে "রোমিও" হিসেবে উল্লেখ করা। আধুনিক শেক্সপিয়ারিয়ান থিয়েটারের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। এর সাথে বিভিন্ন অভিনেতা এবং লেখক ৪০০ বছরের পুরোনো কাজগুলোর জন্য নিবেদিত একটি নির্দিষ্ট উপ-সংস্কৃতি গঠন করেছেন। এর একটি চমৎকার উদাহরণ হলো অ্যাশল্যান্ড ওরেগনের এখনও অপারেটিং শেক্সপিয়রীয় থিয়েটার। সেখানে অভিনেতা এবং লেখকরা জড়ো হয়েছেন এবং অন্যদের কাছে শিল্পটির প্রতি তাদের উপসংস্কৃতি এবং ভালোবাসা প্রকাশ করার একটি জায়গা তৈরি করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার এবং ব্যর্থ রাজাদের নিয়ে তার ব্যঙ্গাত্মক রচনাগুলোর সাথে শেক্সপিয়রের কাজগুলো একটি যুক্তি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।<ref>https://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=IehZKtHaQSEC&oi=fnd&pg=PA7&dq=Shakespeare+anthropology&ots=wvFKjqEsy1&sig=JtQMn1vmcZBSB9mRCG9F-4ifjng#v=onepage&q=Shakespeare%20anthropology&f=false</ref> শৈল্পিক অর্থে এটি শেক্সপিয়রকে তার সময়ের রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করার অনুমতি দিয়েছিল। সম্ভবত এটি ব্যঙ্গাত্মক লেখাগুলোকে স্পটলাইটে আনতে সাহায্য করেছিল। যাতে পরবর্তীতে বিশিষ্ট ব্যঙ্গাত্মক লেখকদের জন্য পথ তৈরি করা যায়। ===ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটার=== ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটার, "ইম্প্রুভ" নামেও পরিচিত। এটি সাধারণত "খেলোয়াড়দের" একটি গোষ্ঠী বা ব্যান্ড নিয়ে গঠিত। তারা ইম্প্রোভাইজড ব্যায়াম বা গেমগুলোতে যোগ দেয়। এতে একটি দৃশ্যের একটি অংশ খেলা জড়িত থাকে। ইম্প্রুভের প্রকৃতি হলো স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া এবং মুহূর্তে থাকা। এটি সংগঠিত নমনীয়তার সমার্থক। সাধারণ থিয়েটারগুলোর মতো অনেকটা ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটারগুলো নিয়মিত শো এবং পারফরম্যান্স করবে; নীতিগত খেলোয়াড়দের তুলে ধরবে। তবে ইম্প্রুভ থিয়েটার অনন্য। কারণ এর মহড়া এবং মুখস্থ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট নেই। পরিচালক শোটিকে কোথায় নিয়ে যেতে চান তার একটি রূপরেখা থাকতে পারে। তবে সাধারণত তা থাকে না। মাঝে মাঝে ব্যায়ামে সঙ্গীত এবং/অথবা অন্যান্য মিশ্র দৃশ্য যুক্ত করা হয়। প্রায়শই ব্যায়াম এবং/অথবা পারফরম্যান্সের জন্য একটি সেট থিম জড়িত থাকে। যেমন একটি মিউজিক্যাল। যদি ইম্প্রুভ পারফরম্যান্স কাজ করার জন্য একজন পরিচালকের প্রয়োজন হয়, তবে একজন শিল্প নির্দেশক ব্যবহার করা হবে। প্রায়শই সেই পরিচালক একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় বা বর্তমানে অনুশীলনের সাথে জড়িত থাকেন। "পরিচালক বা ম্যানেজাররা" দলের জন্য তাদের ব্যক্তিগত দায়িত্বগুলোর ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করতে ঝোঁকেন। এই ধরনের সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতায়-ভিত্তিক সংস্থাগুলোর থেকে আলাদা। কারণ প্রতিযোগিতা-ভিত্তিক সংস্থাগুলোর একটি কাঠামো এবং সাংগঠনিক লক্ষ্য পূর্বনির্ধারিত থাকে। এই নমনীয় কাঠামো ইম্প্রুভ থিয়েটার গ্রুপগুলোর কাছে কৌতূহলোদ্দীপক কারণ সদস্যরা তাদের ইচ্ছামতো রিহার্সালে আসতে এবং যেতে পারে। ইম্প্রুভ গ্রুপগুলোর রিহার্সালগুলো প্রচলিত খেলার রিহার্সালের তুলনায় ইম্প্রুভ অভিনেতা হিসেবে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বেশি জোর দেয়। ===মিউজিক্যাল থিয়েটার=== মিউজিক্যাল থিয়েটার হলো নাট্য পরিবেশনার একটি জনপ্রিয় রূপ। এতে চরিত্রের সংলাপ কথা, গান এবং নাচের মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রকাশ করা হয়। যদিও দর্শকদের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য বহু শতাব্দী ধরে থিয়েটারগুলোতে সঙ্গীত ব্যবহৃত হয়ে আসছে, মিউজিক্যাল থিয়েটার বিশেষভাবে পারফর্মারদের গান এবং আন্দোলনে সংলাপের একীকরণের ওপর জোর দেয়। অস্তিত্বের সময়কালে মিউজিক্যালগুলো অপেরার সাথে সম্পর্কিত ছিল। তবে পার্থক্য নির্ধারণের একটি সাধারণ উপায় সংলাপ বিতরণের মাধ্যমে হতে পারে। অপেরাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য গাওয়া হয়, তবে মিউজিক্যালগুলোতে মাঝে মাঝে কথ্য সংলাপ, নাচ এবং তৎকালীন জনপ্রিয় ঘরানার সঙ্গীতের অন্তর্ভুক্তি থাকে। প্রাচীন গ্রিস থেকে মিউজিক্যাল নাটক পরিবেশিত হয়ে আসছে। তবে আধুনিক পশ্চিমা মিউজিক্যালগুলো ২০ শতকের শুরু থেকে পরিবেশিত হচ্ছে।<ref> ====ইস্টার্ন মিউজিক্যালস==== আজ পরিবেশিত বেশিরভাগ পশ্চিমা মিউজিক্যাল থিয়েটার এবং পারফরম্যান্সের গ্রিক শিকড় থেকে উদ্ভূত। তবে এশিয়ার পূর্বে চীনা, জাপানি এবং তাইওয়ানিজ অপেরার মতো অন্যান্য ধরনের মিউজিক্যাল থিয়েটার বিদ্যমান ছিল। প্রথম রেকর্ডকৃত চীনা অপেরা ক্যানজুন অপেরা হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি ৩১৯ খ্রি.-৩৫১ খ্রি. এর মধ্যে কোনো এক সময় ঝোয়া রাজবংশের সময় পরিবেশিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মিউজিক্যাল থিয়েটারের আরেকটি পূর্ব রূপ হলো নোহ। নোহ হলো "প্রতিভা" বা "দক্ষতা"র জাপানি পরিভাষা। এটি জাপানি মিউজিক্যাল বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ১৪ শতকের মাঝামাঝি থেকে পরিবেশিত হয়ে আসছে এবং এখনও নির্দিষ্ট নোহ থিয়েটারগুলোতে চর্চা করা হয়। তাইওয়ানিজ অপেরা বা কোয়া-আ-হি হলো ১৮ শতকের শুরুতে তাইওয়ান থেকে উদ্ভূত হওয়ার একমাত্র পরিচিত নাটক। বেশিরভাগ গান হলো গল্প এবং লোককাহিনী। এতে মাঝে মাঝে অতিপ্রাকৃত উপাদান থাকে। =মূল পরিভাষার অধ্যায় শব্দকোষ= একাকী খেলা- শিশুরা নিজেদের দ্বারা খেলতে ব্যস্ত থাকে এবং তাদের আশেপাশে বসে বা খেলছে এমন অন্যান্য শিশুদের খেয়াল নাও করতে পারে। ইমপ্রেশনিজম- যে পেইন্টিংগুলোকে অসম্পূর্ণ দেখায় তার বর্ণনা দিতে ব্যবহৃত শব্দ। কারণ তারা দৃশ্যমান ব্রাশস্ট্রোক দেখিয়েছিল। ফ্রান্সে ১৮৬০-এর দশকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং এগুলো মুহূর্তের চাক্ষুষ ছাপ চিত্রিত করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কিউবিজম- ১৯০৭ সালে পাবলো পিকাসো এবং জর্জেস বার্ক দ্বারা শুরু করা শিল্পের শৈলী। তারা সাধারণ আকার গ্রহণ করে সেগুলোকে বিমূর্ত জ্যামিতিক রূপগুলোতে ভেঙে ফেলেছিলেন। রিয়েলিজম- আর্ট ফর্ম যা বাস্তবসম্মত অঙ্কন বা পেইন্টিং নিয়ে গঠিত যা একটি ছবি প্রতিলিপি করে। পোস্ট ইমপ্রেশনিজম- ইমপ্রেশনিজমের সম্প্রসারণ এবং শৈলীর অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতার প্রত্যাখ্যান উভয়ই উপস্থাপন করে। এনকালচারেশন- একটি সংস্কৃতির অংশ হওয়ার প্রক্রিয়া। অনুকরণীয় জাদু- প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো পরিচালনা করার আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় প্রচেষ্টা। সংক্রামক জাদু- স্পেল কাস্টিং, স্পিরিট কনজুরিং এবং ভুডু পুতুল। প্রাক-বিদ্যালয়: মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শিক্ষাব্যবস্থা। সেখানে বাবা-মা বাচ্চা বয়সের শিশুদের দেখাশোনা করতে এবং মৌলিক "জীবনের দক্ষতা" (যেমন সামাজিকীকরণ এবং অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া) শেখাতে পাঠাতে পারেন। সেখানে তারা অন্যান্য বাচ্চা বয়সের শিশুদের সাথে মেলামেশা করতে পারে। ট্রান্সফরমেশনাল/রিপ্রেজেন্টেশনাল: অর্পিত প্রতীকী অর্থের ওপর ভিত্তি করে কী উপযুক্ত এবং কী মূল্যবান তা সংস্কৃতি নির্দেশ করে। =তথ্যসূত্র= {{reflist|colwidth=30em}} {{chapter navigation|যোগাযোগ ও ভাষা|আচার ও ধর্ম}} o8tyzpv9rokd39zbxqx5axzdym3kro4 106603 106599 2026-06-09T18:25:38Z NusJaS 8394 106603 wikitext text/x-wiki {{TOC|limit=3}} =খেলা= শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা খেলার মাধ্যমে বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির জন্য তাদের শরীর ও মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করে। খেলার মাধ্যমে শিশুরা অনেক নতুন দক্ষতা অর্জন করে এবং শেখে। এগুলো তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশে অবদান রাখে। এসব দক্ষতার মধ্যে রয়েছে সহযোগিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এর পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলভাবে চিন্তা ও কাজ করার ক্ষমতা উন্নত হয়। কেনেথ আর. গিন্সবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, "সুস্থ মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য খেলা গুরুত্বপূর্ণ।" [http://www.aap.org/pressroom/playFINAL.pdf] মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ এবং নিউরনের মধ্যকার বিন্যাস ও সংযোগগুলো শিশুদের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে উদ্দীপিত ও প্রভাবিত হয়। এর একটি উদাহরণ হলো খেলা। শিশুদের খেলতে উৎসাহিত করা উচিত। এটি তাদের মস্তিষ্কের সামগ্রিক বিকাশে অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা রাখে। এটি মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ তৈরিতেও কার্যকর। এই গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ সূক্ষ্ম ও স্থূল মোটর দক্ষতা, ভাষা, সামাজিকীকরণ, ব্যক্তিগত সচেতনতা, মানসিক সুস্থতা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান এবং শেখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। বিকাশের সাথে সাথে এগুলো শিশুদের ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।<ref>চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। http://www.childdevelopmentinfo.com/development/</ref> তাই শিশুদের খেলতে এবং সারাজীবন খেলা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়। খেলাধুলা শিশুদের সৃজনশীল ও কল্পনাপ্রবণ উপায়ে তাদের মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে প্ররোচিত করে। এটি মস্তিষ্কের সংযোগগুলোকে উন্নত ও শক্তিশালী করে। এটি তাদের বিশ্বের বিভিন্ন দিক অনুভব করার সুযোগ দেয়। অন্যথায় তারা এগুলো অনুভব করতে পারত না। শিশুদের সৃজনশীল ও কল্পনাপ্রসূত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব "ভিন্ন জগতের" অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। গেমের মধ্যে তারা প্রায়শই কাল্পনিক বা "বিশ্বাসযোগ্য" জগত তৈরি করে। এসব গেম শিশুদের একসাথে খেলতে এবং সৃজনশীলভাবে চিন্তা করতে দেয়। মনোবিজ্ঞানী ড. সান্ড্রা শাইনার ফ্যান্টাসি গেম সম্পর্কে বলেন, "আমাদের শিশুদের এতে উৎসাহিত করা উচিত। সৃজনশীল চিন্তাবিদদের ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে সেগুলোর কল্পনা করতে হয়।" শিশুদের তৈরি গেমগুলোতে সাধারণত নিয়মের সেট থাকে। খেলোয়াড়দের সেগুলো অনুসরণ করতে হয়। খেলার মাধ্যমে এই ধরনের নিয়ম তৈরির সহযোগিতা শিশুদের যৌক্তিকভাবে ধারণা ও নিয়ম তৈরি করতে শেখায়। এটি তাদের একে অপরের সাথে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে শেখায়। এর মাধ্যমে তারা সামাজিকীকরণ এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার উপায় বুঝতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, "অবাধ খেলার সময় শিশুরা সাধারণত লিঙ্গ ও বর্ণ অনুযায়ী নিজেদের দলে ভাগ করে নেয়"।<ref>সিলভিয়া নপ পোলগার http://www.jstor.org/stable/3216602?seq=2In</ref> বহু বছর ধরে বেশিরভাগ নৃবিজ্ঞানী মানুষের খেলার তাৎপর্যের প্রতি খুব কম মনোযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন মানুষের খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানব আচরণের উপর এর ব্যাপক প্রভাবের কারণে এটি অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। খেলার কাজটি এখন নৃবিজ্ঞান ক্ষেত্রে অনেকের কাছে একটি সর্বজনীন অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত। মানব সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এটি তাৎপর্যপূর্ণ।<ref>এডওয়ার্ড নরবেক http://icb.oxfordjournals.org/cgi/content/abstract/14/1/267</ref> [[Image: Play.jpg|thumb|200px|right|খেলরত শিশু]] ===যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মধ্যে খেলা=== যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-বিদ্যালয় ব্যবস্থায় খেলাধুলা প্রদর্শন ও উৎসাহিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পিতামাতাদের জন্য তাদের সন্তানদের প্রাক-বিদ্যালয়ে পাঠানো সাধারণ ঘটনা। সেখানে তারা সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের সাথে যোগাযোগ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দক্ষতা শেখে। পিতামাতাদের তাদের সন্তানদের প্রাক-বিদ্যালয়ে পাঠাতে উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে তারা খেলাধুলা এবং যোগাযোগের উপায় শিখতে পারে। বড় হওয়ার সাথে সাথে সমাজে মিশতে শুরু করার জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হবে। প্রাক-বিদ্যালয় এবং এই প্রসঙ্গে খেলার ধারণাটি ছোট শিশুদের জন্য উপকারী। এটি ভাগ করে নেওয়ার জীবন দক্ষতা শেখায়। এর পাশাপাশি এটি বন্ধুত্ব, ধৈর্য এবং অন্যদের গ্রহণ করার মতো আরও অনেক কিছু শেখায়।<ref>রেইজিং চিলড্রেন নেটওয়ার্ক। http://raisingchildren.net.au/articles/sharing.html/context/752</ref> প্রাক-বিদ্যালয় শিশুদের শুধু প্রয়োজনীয় জীবন দক্ষতাই শেখায় না। এটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা থেরাপিউটিক সুবিধার জন্য প্রাক-বিদ্যালয়ে যেতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম-মোটর দক্ষতার বিকাশ, সম্পর্ক চর্চা এবং সৃজনশীল চিন্তা। সর্বোপরি এটি মজা করার একটি সুযোগ প্রদান করে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নিবেদিত অনেক স্কুল ফ্লোর-টাইম নামক একটি কৌশল ব্যবহার করে। এটি মূলত খেলার সময়। একজন প্রাপ্তবয়স্কের সাথে এই ব্যক্তিগত খেলার সময়টি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি দুর্দান্ত উপায়। এর মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণ করতে পারে। এটি তাদের আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। অন্যথায় তারা এগুলো থেকে বঞ্চিত হতে পারত।<ref>http://www.autismweb.com/floortime.html</ref> === প্রারম্ভিক শৈশবের সামাজিক খেলায় লিঙ্গ পার্থক্য === শিশুদের খেলায় লিঙ্গ পার্থক্য সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রাক-বিদ্যালয়ের শিশুদের উপর পরিচালিত গবেষণায় একটি বিষয় দেখা গেছে; মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের চেয়ে অল্প বয়সে সামাজিক ও কাঠামোগত খেলাধুলা গড়ে তোলে। তবে ছেলেরা একাকী খেলায় বেশি আগ্রহ দেখায়। "[http://store.msuextension.org/publications/HomeHealthandFamily/MT201003HR.pdf একাকী] খেলার সময় শিশুরা (তিন থেকে ১৮ মাস বয়সী) খেলা নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে। তারা আশেপাশে বসে থাকা বা খেলতে থাকা অন্যান্য শিশুদের লক্ষ্য করে না। তারা বিভিন্ন বস্তু দেখা, ধরা এবং নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে তাদের জগৎ অন্বেষণ করে। তারা প্রায়শই নিজেদের মতো করে খেলতে অনেক সময় ব্যয় করে। একাকী খেলা শৈশবে শুরু হয় এবং ছোট শিশুদের মধ্যে এটি সাধারণ। ছোট শিশুদের সীমিত সামাজিক, জ্ঞানীয় এবং শারীরিক দক্ষতার কারণে এমনটি ঘটে। তবে সব বয়সী মানুষের জন্যই নিজেদের মতো করে কিছু সময় খেলা করা গুরুত্বপূর্ণ।"<ref>http://store.msuextension.org/publications/HomeHealthandFamily/MT201003HR.pdf</ref> [https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16173673] ছেলেরা সাধারণত পরবর্তী বিকাশের পর্যায়ে মেয়েদের সমকক্ষ হয়। তখন সহযোগী ও সমবায় খেলা প্রধান ফোকাস হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক খেলার ক্ষেত্রে মেয়েদের সুবিধা পাওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। খেলায় যোগাযোগ, ভূমিকা গ্রহণ এবং সহযোগিতা জড়িত থাকে। ভাষা এবং থিওরি-অব-মাইন্ডের মতো আর্থ-জ্ঞানীয় দক্ষতা মেয়েরা অল্প বয়সেই অর্জন করে। প্রথম বছরের মধ্যে মেয়েরা শক্তিশালী সামাজিক অভিযোজন প্রতিক্রিয়া এবং মুখের স্বীকৃতি দেখায়। তারা বেশি চোখের যোগাযোগও স্থাপন করে। এই দক্ষতাগুলো সমবয়সীদের সাথে সামাজিক যোগ্যতায় রূপান্তরিত হয়। মেয়েদের খেলার মান ভালো হওয়ার আরেকটি কারণ লিঙ্গভিত্তিক খেলনা হতে পারে। একটি গবেষণায় একটি বিষয় দেখা গেছে। ছেলে এবং মেয়ে উভয় শিশুই গতানুগতিক মেয়েদের খেলনা দিয়ে খেলার সময় সর্বাধিক খেলার জটিলতা অনুভব করে। নিরপেক্ষ বা ছেলেদের গতানুগতিক খেলনা দিয়ে খেলার তুলনায় এটি বেশি হয়। [https://www.andrews.edu/~rbailey/Chapter%20one/9040385.pdf] ===প্রাপ্তবয়স্কদের কার্যকলাপ=== [[File:Party_hard.jpg|thumb|left|বার্সেলোনায় একটি পার্টিতে প্রাপ্তবয়স্করা]] শৈশবকাল জুড়ে শিশুদের সংস্কৃতায়নের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে খেলার ধারণাটি ম্লান হয়ে যায় বলে মনে হয়। অন্তর্নিহিত মূল্যের অবসরকালীন ক্রিয়াকলাপ শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক। জীবনে পূর্ণতার অনুভূতি অর্জন এবং সামগ্রিক সুখের জন্যও এগুলো অপরিহার্য। মানসিক চাপ মোকাবেলার সময় খেলাধুলা এবং অবসরের গুরুত্ব প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হয়। জাতীয় স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অর্থনীতি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানসিক চাপের নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। একটি কানাডিয়ান গবেষণার হিসাব অনুযায়ী মানসিক চাপের কারণে প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। ৪৩% আমেরিকান চাকরি সংক্রান্ত ক্লান্তিতে ভোগার কথা জানান। আমেরিকায় ছুটির সময়ের অভাবকে প্রায়শই এসব সমস্যার কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। অন্য কথায় এটি অবসর এবং খেলাধুলার অভাব। প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাধুলার কার্যকলাপে নিযুক্ত হওয়ার জন্য সময় দেওয়া হলে তাদের জীবনযাত্রার মানে স্পষ্ট সুবিধা দেখা যায়। এসব কার্যকলাপের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, শখ, নাচ বা অন্যান্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজ। জিম রাইসের "হোয়াই প্লে" নিবন্ধে তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের সময় সম্পর্কে লিখেছেন।<ref>হোয়াই প্লে। জিম রাইস। সোজোর্নার্স ম্যাগাজিন, জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ (খণ্ড ২৬, নং ১ পৃ. ২৪-২৭)। ফিচারস।</ref> প্রাপ্তবয়স্করা প্রায়শই নিজেদের সময়ের শিকার বলে মনে করেন। তারা তাদের সমস্ত সময় উৎপাদনশীলভাবে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতায় হতাশ হয়ে পড়েন। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্করা বুঝতে পারেন না যে খেলাধুলা এবং অবসর উৎপাদনশীল। এগুলো সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং মানসিক চাপ কমায়। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো অন্যান্য ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। প্রাপ্তবয়স্করা হাইকিং বা নৌকায় চড়ার মতো বাইরের কাজ করার মাধ্যমে খেলতে পারেন। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বা পানীয় ও নাচের জন্য বাইরে যাওয়ার মাধ্যমেও তারা সময় কাটাতে পারেন। =ক্রীড়া= ক্রীড়া হলো এক ধরনের খেলা। এটি নিয়মের একটি সেট দ্বারা পরিচালিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটিকে শারীরিকভাবে পরিশ্রমী এবং প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায় সব ধরনের ক্রীড়াতেই প্রতিযোগিতা একজন বিজয়ী এবং একজন পরাজিত নির্ধারণ করে। গলফ বনাম ফুটবলের মতো ক্রীড়াগুলোতে শারীরিক পরিশ্রম নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। ক্রীড়ায় সাধারণত খেলা, কাজ এবং অবসর উভয়ই থাকে। কম শারীরিক পরিশ্রমের ক্রীড়াগুলো সাধারণত খেলা হিসেবে পরিগণিত হয়। অন্যদিকে বেশি পরিশ্রমী এবং অ্যাথলেটিক চাহিদাপূর্ণ ক্রীড়াগুলো প্রায়শই ক্রীড়াবিদ ও দলের মালিকদের জন্য কাজ হিসেবে কাজ করে। তবে ক্রীড়া সাধারণত দ্বন্দ্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। এখানে সর্বদা একজন প্রতিপক্ষ বা দলের জয়ের লক্ষ্য থাকে। কিছু সংস্কৃতিতে দ্বন্দ্ব-নিরসন প্রায়শই লক্ষ্য হিসেবে থাকে। এই ধরনের খেলা নির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়। এটি একটি ভার্চুয়াল জগত তৈরি করে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা নায়ক ও শত্রু তৈরি করতে পারে। তারা বাস্তব জগতের পরিণতি ছাড়াই কষ্ট ভোগ এবং উদযাপন করতে পারে। ক্রীড়াবিদ এবং দলগুলো কেবল একে অপরের বিরোধিতা করার জন্যই থাকে না। তারা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের এবং তাদের দলের প্রতিনিধিত্ব করে।<ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা। কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন উইথ ফ্রি স্টাডি স্কিলস গাইড অন সিডি-রম। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ইউএসএ, ২০০৪।</ref> ==সংস্কৃতিতে ক্রীড়া== [[Image:U20-WorldCup2007-Okotie-Onka edit2.jpg|thumb|left|পেনাল্টি এলাকার ভেতর থেকে কাছাকাছি দূরত্বের একটি শট বাঁচাচ্ছেন একজন গোলরক্ষক]] [[Image:Football world popularity.png|thumb|350px|বিশ্বজুড়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দেখানো মানচিত্র]] ===সকার/ফুটবল=== ক্রীড়া বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নানারকম অর্থ বহন করে। সকারের উৎপত্তি ইউরোপে। এটি হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত রয়েছে। এর কিছু প্রাথমিক রূপ যুদ্ধের পরের আচার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে তারা বলের পরিবর্তে শত্রুর মাথা ব্যবহার করত। ব্রাজিলের সকার নিয়ে একটি গবেষণায় ড. জ্যানেট লিভার একটি বিষয় খুঁজে পান। সংগঠিত ক্রীড়া রাজনৈতিক ঐক্য এবং জাতি-রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যে সহায়তা করে।<ref>লিভার, জ্যানেট। সকার ম্যাডনেস ব্রাজিলস প্যাশন ফর দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট পপুলার স্পোর্ট। নিউ ইয়র্ক: ওয়েভল্যান্ড পি, ১৯৯৫।</ref> ব্রাজিলের প্রতিটি শহরে কমপক্ষে একটি পেশাদার সকার দল রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, বিভিন্ন দল বিভিন্ন সংস্কৃতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্তর এবং জাতিসত্তা। এটি স্থানীয় স্তরে আনুগত্য তৈরি করে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একটি শহরের প্রতিনিধিত্বকারী দল সেই শহরের সকল মানুষের সমর্থন পাবে। এভাবে এটি বৃহত্তর স্তরে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলে। দলের প্রতিনিধিত্বের জন্য এই দৃঢ় সমর্থন মানুষকে একাত্ম হওয়ার মতো কিছু দেয়। দলের প্রতি তাদের সমর্থনকে জাতির প্রতি সমর্থন হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপের সময় এটি আরও বেশি দেখা যায়। তখন পুরো ব্রাজিল তাদের দেশের আনুষ্ঠানিক দলকে সমর্থন করতে ঐক্যবদ্ধ হয়। ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা 'পেন্টা' নিয়ে গর্ব করতে পছন্দ করে। তারা একমাত্র দেশ হিসেবে পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে। তারা ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে।<ref>২০০৯। http://www.mapsofworld.com/brazil/sports/soccer.html</ref> সকার ব্রাজিলকে ঐক্যবদ্ধ করে। তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ক্রীড়া সবসময় ঐক্য তৈরি করে না। ক্রীড়া সকল ক্রীড়াবিদদের মধ্যে একটি আক্রমণাত্মক ও প্রতিযোগিতামূলক দিক বের করে আনে। এগুলো নারী ও পুরুষের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্যের মতো অসমতাগুলোও তুলে ধরে। ব্রাজিলিয়ান নারীদের সকারের প্রতি আগ্রহ অনেক কম। এর ফলে তারা সেই দিক থেকে পুরুষদের চেয়ে আলাদা থাকে। (শেষ বিবৃতিটি সম্পূর্ণ সঠিক নাও হতে পারে। বিপুল সংখ্যক ব্রাজিলিয়ান নারী বিশ্বের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ সকার ভক্তদের অন্যতম। এছাড়া ব্রাজিল নারী জাতীয় দল এই খেলায় সবচেয়ে সফল ক্লাব।)<ref>ইম্যানুয়েল গ্রোসি</ref> সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রে সকার খেলা গুণমান বাড়ায় বলে মনে করা হয়। এসব দিকের মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মকতা, প্রতিযোগিতা, শারীরিক শক্তি, সমন্বয়, দলবদ্ধ কাজ, শৃঙ্খলা এবং গতি। এগুলো সবই পুরুষ লিঙ্গের সাথে সম্পর্কিত গুণাবলী। পুরুষদের জন্য তাদের বাড়িতে বা স্থানীয় দোকানের সামনে একসাথে খেলা দেখা একটি সাধারণ অভ্যাস। এসব সমাবেশে নারীদের স্বাগত জানানো হয় না। প্রায়শই খেলা শুরুর আগে তাদের চলে যেতে বলা হয়। খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আসতে নিষেধ করা হয়। সার্বিয়ান সংস্কৃতির এই পুরুষশাসিত দিকটি ব্রাজিলে দেখা নারী ও পুরুষের লিঙ্গ বৈষম্যের সমান্তরাল।<ref>মাসা ভুকানোভিচ। এপ্রিল ২০০২। http://www.anthrobase.com/Txt/V/Vukanovich_M_01.htm</ref> সকার উচ্চবিত্ত সমাজ ও নিম্নবিত্ত সমাজের মধ্যকার পার্থক্যকে তুলে ধরে। এটিও এক ধরনের অসমতা। বিংশ শতাব্দী জুড়ে বিশেষ করে গরিবরা সকার চর্চা করত। অনেক দরিদ্র ছেলে পরবর্তী পেলে বা রোনালদো হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এর কারণে তারা জাতীয় সকার সংস্কৃতিকে আরও বেশি প্রচার করে। সকার নিয়ে স্বপ্ন দেখা লাখ লাখ দরিদ্র শিশুর জন্য একটি প্রেরণা। তারা দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে চায়। ব্রাজিলিয়ান জীবনে সকার সংস্কৃতির প্রভাব রাজনীতি বা অর্থনীতির চেয়ে বড় হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা। কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন উইথ ফ্রি স্টাডি স্কিলস গাইড অন সিডি-রম। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ইউএসএ, ২০০৪।</ref> ===আমেরিকান ফুটবল=== আমেরিকান ফুটবলের অনেকগুলো ব্যাপকভাবে সম্প্রচারিত খেলা রয়েছে। এগুলো প্রতি বছর বিশাল দর্শক টানে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিত সুপার বোল প্রতি বছর লাখ লাখ টেলিভিশন দর্শক টানে। নতুন বছরের দিনে বা তার আশেপাশে কলেজ ফুটবলের একাধিক বিসিএস (বোল চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজ) বোল গেম অনুষ্ঠিত হয়। এগুলোও এই খেলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।<ref>(ফুটবল ইন দ্য ইউএসএ: আমেরিকান কালচার অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ডস গেম বাই পিটার এস. মরিস, নভ. ২০০৪)</ref> ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) একটি সংস্থা। এতে সারা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ৩২টি পেশাদার দল রয়েছে। এনএফএল বিশ্বব্যাপী আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০০৮-০৯ এনএফএল মৌসুমে নিউ অরলিন্স সেন্টস এবং সান দিয়েগো চার্জার্স লন্ডনে নিয়মিত মৌসুমের খেলা খেলেছিল। এরপর থেকে প্রতি বছর অন্তত একটি আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এনএফএলকে আরও বিশ্বব্যাপী করে তুলতে এবং খেলার সংস্কৃতি সম্প্রসারণ করতে এটি করা হয়েছিল। ফুটবল একটি হিংসাত্মক খেলা। পেশাদার স্তরের হিটগুলো প্রায়শই দুজন অসামান্য ক্রীড়াবিদের পূর্ণ গতিতে একে অপরের সাথে দৌড়ানোর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সুরক্ষা হিসেবে তারা প্যাড এবং হেলমেট পরিধান করে। এটি বিপদের অনুভূতি প্রশমিত করে। ফুটবলের আক্রমণাত্মক প্রকৃতি এর জনপ্রিয়তার একটি প্রধান কারণ। এর প্রধান গুণাবলী হলো কঠোরতা এবং অধ্যবসায়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জীবনের পরবর্তী সময়ে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটিই এবং ডিমেনশিয়া। এর ফলে খেলাটি খেলার নেতিবাচক প্রভাব ইতিবাচক দিকগুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ===বেসবল=== [[File:Dominican baseball.jpg|thumb|ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি অল্পবয়সী ছেলে একটি অনুশীলন খেলার সময় একজন স্বেচ্ছাসেবক আম্পায়ারের সাথে বল এবং স্ট্রাইক নিয়ে তর্ক করছে।]] এই সর্বজনীন ক্রীড়াটি ডোমিনিকান রিপাবলিকের সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি ডোমিনিকানদের একে অপরের সাথে যুক্ত করে। এটি ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ক্যারিবিয়ানের বাকি অংশের সাথেও যুক্ত করে রেখেছে।<ref>দ্য ট্রপিক অব বেসবল: বেসবল ইন দ্য ডোমিনিকান রিপাবলিক। http://books.google.com/books?id=kloGyBSEsRsC&printsec=frontcover#PPP1,M1</ref> এই ছোট ক্যারিবিয়ান দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ বেসবলের অনেক সেরা খেলোয়াড়ের আবাসস্থল। যুক্তরাষ্ট্রে মেজর লিগ পরিচালিত হয় এবং ওয়ার্ল্ড সিরিজ খেলা হয়। মেজর লিগ হিরোরা ডোমিনিকান রিপাবলিকে এই খেলায় পারদর্শী হয়েছিলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন [[w:স্যামি সোসা|স্যামি সোসা]], [[w:পেদ্রো মার্তিনেস|পেদ্রো মার্তিনেস]] এবং [[w:ভ|ডেভিড অর্টিজ]]। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদারভাবে খেলা। ডোমিনিকান রিপাবলিক একটি অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র দেশ। ডেভিড অর্টিজ এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা এই বাচ্চাদের তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে ফিরে আসেন। তারা দেখান কীভাবে বেসবল খেলে অন্য সংস্কৃতিগুলো দেখা যায়। ছোট ছেলে এবং কিশোররা সেরা বেসবল খেলোয়াড় হওয়ার জন্য সারাজীবন কাজ করে। এই ধ্রুবক প্রতিযোগিতা বিনোদনের একটি দুর্দান্ত উৎস। এ কারণেই বেসবল খেলা ডোমিনিকান সংস্কৃতির একটি বিশাল অংশ। বেশিরভাগ নারীকে এই খেলায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। এই নিয়মটি লিঙ্গবৈষম্য নয়, বরং নারীদের সুরক্ষিত রাখার একটি প্রয়াস। বেশিরভাগ ডোমিনিকান মনে করেন বেসবল নারীদের জন্য একটি বিপজ্জনক খেলা। শক্ত বল যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো জায়গায় আঘাত করতে পারে। নারীরা বেসবল খেলতে পারবে না এমন কোনো আইন নেই। তবে তারা ঐতিহ্যগতভাবে এই সাংস্কৃতিক বিনোদনে অংশ নেয় না। নারীদের জন্য সফটবল নামে একটি খেলা তৈরি করা হয়েছে। এটি বেসবলের মতোই, তবে এতে একটি বড় এবং নরম বল ব্যবহার করা হয়। ডোমিনিকান রিপাবলিকের পুরুষদের জন্য বেসবল কেবল একটি দুর্দান্ত শখ বা সম্পর্ক তৈরির উপায় নয়। এটি সেরা ক্রীড়াবিদ হওয়ার সুযোগও দেয়। বেসবল আমেরিকার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে এবং ইতিহাস থেকে ক্রীড়াকে রূপ দিতে সাহায্য করেছে। এশিয়া প্রথম বেসবল খেলা শুরু করার পর আমেরিকা এসে একটি বিপ্লবের সূচনা করে। <ref>ক্লিন, অ্যালান এম. কালচার, পলিটিক্স, অ্যান্ড বেসবল ইন দ্য ডোমিনিকান রিপাবলিক। http://www.jstor.org/stable/2634143</ref> বিভিন্ন ধরণের ক্রীড়ায় প্রতীক এবং ভাষা ব্যবহৃত হয়। তবে বেসবল খেলার জন্য এগুলো একেবারে অপরিহার্য। বেসবলের একটি পূর্ণ নয় ইনিংসের খেলায় মাঠে প্রায় কখনই সম্পূর্ণ নীরবতা থাকে না। আমেরিকান সংস্কৃতিতে থার্ড বেস কোচ নির্দিষ্ট অঙ্গভঙ্গি এবং হাতের ইশারা ব্যবহার করেন। তিনি ব্যাটারকে একটি নির্দিষ্ট কাজ (সুইং, বান্ট, টেক ইত্যাদি) করার নির্দেশ দেন। মাঠে খেলোয়াড়রা অবস্থান পরিবর্তন, আউটের সংখ্যা এবং ব্যাটার সাধারণত কোথায় বল মারে সেই সম্পর্কে টিপস দিতে হাতের ইশারা এবং ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করেন। বেসবলে প্রতীক এবং হাতের ইশারার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারটি ক্যাচার করেন এবং এটি পিচারের দিকে নির্দেশিত হয়। এই অঙ্গভঙ্গিগুলো খেলার একটি অপরিহার্য দিক। কারণ এগুলো পিচারকে বলে দেয় সে পরবর্তীতে কোন পিচ (কার্ভবল, ফাস্টবল, স্লাইডার ইত্যাদি) নিক্ষেপ করবে। সংস্কৃতি এবং খেলাটি কোন দেশে খেলা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন দলের সদস্য (থার্ড বেস কোচ, ফার্স্ট বেস কোচ, হেড কোচ, খেলোয়াড় ইত্যাদি) বেসবলে কমান্ড দেন। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকান সংস্কৃতিতে হিটিং সাইনগুলো থার্ড বেস কোচ দেন এবং ক্যাচিং সাইনগুলো হেড কোচ দেন।<ref>চিডেস্টার, ডেভিড ১৯৯৬দ্য চার্চ অব বেসবল, দ্য ফেটিশ অব কোকা-কোলা, অ্যান্ড দ্য পটল্যাচ অব রক "এন" রোল: থিওরিটিক্যাল মডেলস ফর দ্য স্টাডি অব রিলিজিয়ন ইন আমেরিকান পপুলার কালচার। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান একাডেমি অব রিলিজিয়ন ৬৪(৪): ৭৪৩–৭৬৫। http://www.jstor.org/stable/1465620?seq=5#page_scan_tab_contents</ref> বল বা ব্যাট ছাড়া যেমন বেসবল খেলা যায় না, তেমনি যোগাযোগ, প্রতীক এবং অঙ্গভঙ্গি ছাড়াও এটি খেলা যায় না। এছাড়া বেসবল যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার ক্রীড়া। আমেরিকান ফুটবল বা সকারের মতো অন্যান্য খেলা থেকে এটি আলাদা। বেসবল কোনো টাইমার ছাড়াই খেলা হয়। এটি খেলোয়াড়দের সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তা না করেই তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ দেয়। এর ফলে দক্ষতার উত্তেজনাপূর্ণ প্রদর্শন দেখা যায়। ===বাস্কেটবল=== বাস্কেটবল যুক্তরাষ্ট্রে সমানভাবে জনপ্রিয়। বিশ্বব্যাপী এর অনুসারীও বাড়ছে। বাস্কেটবল প্রতিটি দলের পাঁচজন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা হয়। একটি হুপের ভেতর দিয়ে বল সফলভাবে নিক্ষেপ করে পয়েন্ট অর্জন করাই প্রধান লক্ষ্য। বাস্কেটবল যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপকভাবে খেলা হয় এবং এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের কাছেই জনপ্রিয়। এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং ব্যাপকভাবে দেখা খেলাগুলোর একটি। নারীদের ক্রীড়ার সমতার সংগ্রাম বহু বছর ধরে চলছে। ডব্লিউএনবিএ ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত শুরু হয়নি। তবে শেরিল সোউপস, সিনথিয়া কুপার, লিসা লেসলি, ডায়ানা টাউরাসি এবং ক্যান্ডেস পার্কারের মতো তারকারা এর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। শেরিল সোউপস এবং সিনথিয়া কুপার হিউস্টন ধূমকেতুকে প্রথম চারটি ডব্লিউএনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের দিকে নিয়ে যান। তারা প্রথম ডব্লিউএনবিএ রাজবংশ ছিলেন। ডব্লিউএনবিএ এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে এর দর্শক এনএইচএল এবং এমএলবি উভয়কেই ছাড়িয়ে গেছে। টাইটেল নাইন ডব্লিউএনবিএতে বিশাল প্রভাব ফেলতে সাহায্য করেছে। এটি কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের সাহায্য করেছে এবং তাদের বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বাস্কেটবল অন্যান্য অনেক দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশগুলোর বিশ্বায়নে বাস্কেটবলের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বাস্কেটবল বিশ্বে বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে। কারণ এর সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় পেশাদার লিগ রয়েছে। এনবিএ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পেশাদার বাস্কেটবল লিগ। এটি বিশ্বজুড়ে বাস্কেটবল লিগের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালায়। এই বছর এনবিএ ১০টি ভিন্ন আন্তর্জাতিক শহরে ১০টি গেম খেলার জন্য ১২টি দল প্রস্তুত করে বিশ্বায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশা করছে। এনবিএ আরও আন্তর্জাতিক শহরগুলোকে বাস্কেটবল দল এবং লিগ গঠনে প্রভাবিত করার আশা করে। এসব খেলা তাদের দেশ এবং শহরে খেলা হবে। <ref>http://www.newyorker.com/business/currency/basketball-and-globalization</ref> === বক্সিং === যুদ্ধে প্রাচীন শিকড় থাকা একটি ক্রীড়া হলো বক্সিং। এটি আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বেশিরভাগ অংশে প্রচলিত। বক্সিংয়ের উৎপত্তি প্রাগৈতিহাসিক। জনপ্রিয়তার হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে খেলাটি বহু বছর ধরে বিবর্তিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বর্তমানে বক্সিংয়ের জন্য চারটি প্রধান অনুমোদনকারী সংস্থা রয়েছে। এগুলো হলো ওয়ার্ল্ড বক্সিং অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও), ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং অর্গানাইজেশন (আইবিএফ), ওয়ার্ল্ড বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউবিএ) এবং ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিল (ডব্লিউবিসি)। বক্সিংয়ের জনপ্রিয়তা দেশভেদে পরিবর্তিত হয়। কারণ ওই এলাকার সংস্কৃতির সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। বক্সিংয়ের সাথে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর উদাহরণ হলো মেক্সিকো, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। বিখ্যাত চ্যাম্পিয়নদের একটি বড় অংশ এসব অঞ্চল থেকে এসেছে। তবে পেশাদার বক্সিংয়ের অনেক বিখ্যাত তারকা বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে আন্তর্জাতিক আইকন হয়ে উঠতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন মাইক টাইসন, মুহাম্মদ আলী এবং রবার্তো ডুরান। ২০০০ এর দশক থেকে পেশাদার বক্সিংয়ের দর্শক সংখ্যা কমে গেছে। তবে অপেশাদার বক্সিং একটি খেলা যা এখনও বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে খুব জনপ্রিয়। এটি একটি অলিম্পিক খেলা। ===গেমিং এবং ই-স্পোর্টস=== শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ঐতিহ্যগতভাবে খেলা হিসেবে দেখা না হলেও ভিডিও গেমগুলো মূলধারায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ই-স্পোর্টস হিসেবে পরিচিত এগুলো প্রতিযোগিতার একটি রূপ যা অনলাইন ডিভাইস দ্বারা সহজতর করা হয়। এগুলো সাধারণত বাড়ির আরামে খেলা হয়। তবে সম্প্রতি এগুলো অ্যারেনায় আয়োজন করা হচ্ছে। সবচেয়ে সাধারণভাবে ই-স্পোর্টস সংগঠিত, মাল্টিপ্লেয়ার ভিডিও গেম প্রতিযোগিতার রূপ নেয়। বিশেষ করে পেশাদার খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি হয়। উন্নত দেশগুলোতে ই-স্পোর্টসের বড় ইভেন্ট এবং প্রতিযোগিতাও রয়েছে। এসব গেমাররা নগদ পুরস্কার জেতার জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষমতা যাচাই করতে মিলিত হন। ই-স্পোর্টস আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বাধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ই-স্পোর্টস পুরস্কার দলীয় খেলার জন্য ১০,০০০ এবং ব্যক্তিগত খেলার জন্য প্রায় ৬,০০০ ডলার অতিক্রম করতে পারে। এসব টুর্নামেন্টের অনেকগুলি ইএসপিএনের মতো স্পোর্ট নেটওয়ার্কগুলো কভার করে। [http://www.espn.com/esports/]। নগদ পুরস্কারের পাশাপাশি খেলোয়াড় এবং দলগুলোকে কোম্পানিগুলো পৃষ্ঠপোষকতা করে। ন্যাসকার ড্রাইভার, প্রো স্নোবোর্ডার এবং আমেরিকান সকার দলগুলোর মতো রেজার, রেড বুল, লজিটেক, জেইকো এবং মনস্টার এনার্জির মতো কোম্পানিগুলো তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। কাউন্টারস্ট্রাইক, লিগ অব লিজেন্ডস, ডোটা ২, ওভারওয়াচ, পিইউবিজি এবং স্টারক্রাফট হলো শীর্ষস্থানীয় গেম। স্ম্যাশ এবং টেককেনের মতো ফাইটিং গেমের মতো আরও গেম প্রতিযোগিতামূলক দৃশ্যে নজর কাড়ছে। বিশেষভাবে "মাল্টিপ্লেয়ার অনলাইন ব্যাটল অ্যারেনা" ধরনের গেমের (এমওবিএ) দৃশ্যের মধ্যে লিগ অব লিজেন্ডস এবং ডোটা ২-এর মতো গেমগুলো ক্রীড়ার প্রথাগত চিত্রের মতো অনুশীলনে ধার দিয়েছে। ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ২০,৭৭০,৬৪০ ডলারের পুরস্কার ছিল। [https://www.dota2.com/international/overview/ 1]। একই বছরে লিগ অব লিজেন্ডস ওয়ার্ল্ড ট্যুর একই বছরের সুপার বোলের চেয়ে বেশি দর্শক দেখেছিল। এই ধরনের গেমের চারপাশের সম্প্রদায়গুলো 'ই-স্পোর্টস' (ইলেকট্রনিক স্পোর্টস) শব্দটি তৈরি করেছে। তারা পেশাদার খেলোয়াড়দের স্পোর্টস ভিসা প্রদানের জন্য মার্কিন সরকারের সাথে অধিকার অর্জন করেছে। এমওবিএ সম্প্রদায়গুলোর খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের গেমটিকে ই-স্পোর্টস হিসেবে চিহ্নিত করা একটি সাধারণ ব্যাপার। তবে এই মত সাধারণ মানুষের সাথে ভাগ করা হয় না। তবে এটি এমন একটি শিল্প যার নিজস্ব কষ্ট রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী পেশাদার গেমারদের দিনে চৌদ্দ থেকে ষোল ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সফল অল্প কয়েকজন লোক জাতীয় গড়ের তুলনায় যথেষ্ট কম বেতন পান। কোরিয়ায় শীর্ষ পেশাদার খেলোয়াড়রা বছরে ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ ডলার উপার্জন করতে পারে। তবে ছোট দলের খেলোয়াড়রা গড়ে বছরে ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলারের মধ্যে উপার্জন করে। সে কথা বলতে গেলে অনেক ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়ের উন্নতি করা এবং দীর্ঘ, সফল ক্যারিয়ার থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। দল বা ব্যক্তিগত যাই হোক না কেন এটি সম্ভব। উপরন্তু প্রো খেলোয়াড়দের সাধারণত বয়স গ্রুপ এবং গেমের ধরনের উপর নির্ভর করে দীর্ঘ ক্যারিয়ার থাকে। [http://www.espn.com/esports/story/_/id/21689888/dispelling-esports-myths-pros-not-destined-short-careers]। ===ক্রীড়ায় যুক্ত হওয়ার ইতিবাচক প্রভাব=== ক্রীড়ার সাথে যুক্ত হওয়া নানাভাবে উপকারী। এটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, দল গঠনের সুযোগ, শক্তি, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব এবং শৃঙ্খলার প্রচার করে। এটি মাঠে এবং মাঠের বাইরে আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও পারে। এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা শিশুদের স্বাধীন, চালিত ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। এই তত্ত্বের পেছনে গবেষণা করা হয়েছে যে কিশোরী মেয়েরা বিশেষ করে খেলাধুলায় জড়িত থাকলে তারা নিরাপদ এবং অধিক উৎপাদনশীল জীবনযাপন করতে পারে।<ref>ব্রিটনি লুন্ডবার্গ</ref> এটি প্রমাণিত হয়েছে যে ক্রীড়াবিদরা ভালো গ্রেড পান এবং মানসম্মত পরীক্ষায় ভালো পারফর্ম করেন। উদাহরণস্বরূপ, সাঁতার টেনিস এবং ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের সাথে শীর্ষ একাডেমিক পারফর্মিং খেলাগুলোর একটি। ক্রীড়ার অভ্যাসগুলো স্কুলে পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। মেয়েরা এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করে যা তাদের মনোযোগী থাকতে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোচ এবং পিতামাতারা ক্রীড়াবিদদের জন্য অবচেতন প্রত্যাশা তৈরি করতে শুরু করেন। এগুলো তাদের এমন কাজকর্মে জড়িত হওয়া থেকে বিরত রাখে যেগুলোতে তাদের জড়িত হওয়া উচিত নয়। রাসেল আর. পেট, পিএইচডি; স্টুয়ার্ট জি. ট্রোস্ট, পিএইচডি; সারাহ লেভিন, পিএইচডি; মার্শা ডাওডা, ডা.পিএইচের করা একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় ৭০% পুরুষ শিক্ষার্থী এবং ৫৩% নারী শিক্ষার্থী স্কুল বা স্কুলের বাইরের পরিবেশে ১টি বা তার বেশি ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণ করার কথা জানিয়েছে। হার বয়স, লিঙ্গ এবং জাতিসত্তা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। অংশগ্রহণ না করা পুরুষ শিক্ষার্থীদের তুলনায় খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী পুরুষ শিক্ষার্থীরা আগের দিন ফল ও সবজি খাওয়ার কথা বেশি জানিয়েছে। তাদের সিগারেট ধূমপান, কোকেন ও অন্যান্য অবৈধ মাদক ব্যবহার এবং ওজন কমানোর চেষ্টা করার সম্ভাবনা কম ছিল। খেলায় অংশগ্রহণ না করা নারীদের তুলনায় খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী নারীরা আগের দিন সবজি খাওয়ার কথা বেশি জানিয়েছে। গত ৩ মাসে তাদের যৌনমিলনের সম্ভাবনা কম ছিল। খেলাধুলায় অংশগ্রহণ গণিত ও বিজ্ঞানের সাফল্যের সাথে যুক্ত। এগুলো ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের আধিপত্য থাকা বিষয়। এর একটি ব্যাখ্যা হতে পারে খেলাধুলা মেয়েদের ঐতিহ্যগত লিঙ্গ স্ক্রিপ্ট প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এগুলো এই ক্ষেত্রগুলোতে অধ্যবসায় এবং প্রতিযোগিতাকে সীমাবদ্ধ করে। এটি অন্বেষণ করার জন্য আমরা একাডেমিক ডোমেনগুলোতে ছেলে এবং মেয়েদের ওপর ক্রীড়ার প্রভাবগুলোর বৈসাদৃশ্য তৈরি করি। এগুলো পুংলিঙ্গ (পদার্থবিদ্যা) এবং স্ত্রীলিঙ্গ (বিদেশি ভাষা) হিসেবে স্টেরিওটাইপ করা হয়। উপরন্তু আমরা পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া খেলাগুলোকে আলাদা করি। এটি এমন কার্যকলাপগুলো চিহ্নিত করতে করা হয় যা ঐতিহ্যগত লিঙ্গ রীতিনীতিগুলোকে শক্তিশালী বা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। একই লিঙ্গের অংশগ্রহণ না করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় মেয়েদের পদার্থবিদ্যা এবং বিদেশি ভাষা নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে ছেলেদের বিদেশি ভাষা নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ক্রীড়া বিভাগগুলো ছেলে এবং মেয়েদের জন্য ভিন্ন নিদর্শন প্রকাশ করে। পুংলিঙ্গ ক্রীড়া মেয়েদের জন্য পদার্থবিদ্যা এবং ছেলেদের জন্য বিদেশি ভাষার সাথে সম্পর্কিত। অন্যদিকে মেয়েলি ক্রীড়া মেয়েদের জন্য কেবল বিদেশি ভাষার সাথে সম্পর্কিত। এই ফলাফলগুলো পূর্বের গবেষণাগুলোকে নিশ্চিত করে যে খেলাধুলা শিক্ষায় উন্নতি করে। তবে এগুলো থেকে বোঝা যায় খেলাধুলার অভিন্ন প্রভাব নেই। কিছু খেলাধুলা সম্ভাব্যভাবে প্রথাগত নারীত্বকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং মেয়েদের পুংলিঙ্গ ডোমেনগুলোতে টিকে থাকতে সাহায্য করতে পারে। অন্যান্য খেলাধুলাগুলো একই সুবিধা প্রদান নাও করতে পারে। (ক্রিসসি, এস. আর., পিয়ারসন, জে., এবং রিগেল-ক্রাম্ব, সি. "জেন্ডার ডিফারেন্সেস ইন দ্য ইফেক্টস অব স্পোর্টস পার্টিসিপেশন অন অ্যাকাডেমিক আউটকামস") খেলাধুলায় বেশি জড়িত থাকলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যও শীর্ষ অগ্রাধিকারে পরিণত হয়। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা স্কুল, খেলাধুলা, পারিবারিক সময় এবং বাড়ির কাজ নিয়ে সময় কাটানোর সময় সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা শেখা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় মানুষের শরীর ক্লান্ত ও জীর্ণ হয়ে পড়বে। তারা যতটা ভালো করতে পারে ততটা ভালো পারফর্ম করতে পারবে না। মানুষ যখন ভালো শারীরিক আকারে থাকে তখন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অনেক বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক হয়। এগুলো সারাজীবন স্থায়ী হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা মানুষকে খেলাধুলা এবং ব্যায়ামে ভালো পারফর্ম করার জন্য বেশি শক্তি দেয়। এটি হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করবে। তাই ক্রীড়া ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ব্যায়ামকে অবশ্যই একটি সুস্থ সামগ্রিক জীবনযাত্রার সাথে যুক্ত হতে হবে। ===দলীয় ক্রীড়ার সুবিধা=== দলে অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের সাথে কাজ করা একটি শক্ত-বোনা সম্প্রদায় তৈরি করে। মানুষ অন্যান্য খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করতে এবং একটি সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে শেখে। একটি কার্যকর দলের পরিবেশ সহযোগিতামূলক এবং হুমকিমুক্ত থাকে। এটি আরও উন্মুক্ত এবং নিবদ্ধ শিক্ষার সুযোগ দেয়। প্রতিযোগিতায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আপসের মতো দক্ষতাগুলো অনেক দ্রুত শেখা যায়। এই ধরনের সংযোগ খেলার মাঠ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক জীবনে নিয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ কীভাবে মাঠে খেলে এবং যোগাযোগ করে তা প্রতিফলিত করতে পারে কীভাবে সে একটি ব্যবসায়িক মিটিংয়ে সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে। এটি তারা কীভাবে তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে তাও দেখাতে পারে। দলে কাজ করা একটি গ্রুপকে কঠিন চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে উপকৃত করতে পারে। কারণ একটি গ্রুপের মন এবং কাজ কেবল একজনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং সফল হতে পারে। তারা কীভাবে একটি চ্যালেঞ্জের কাছে যেতে হবে সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনার বৈচিত্র্যের সুযোগ দেয়। তারা গ্রুপটিকে ধ্রুবক সমর্থন দ্বারা টিকিয়ে রাখার সুযোগ দেয়।<ref>http://web2.uqat.ca/marsanm/Readings/ch2%20The%20wisdom%20of%20teams.pdf</ref> ক্রীড়া ক্রীড়াবিদদের আরও স্বাস্থ্যসচেতন, অনুপ্রাণিত, মনোযোগী এবং উদ্যমী করতে পারে। একটি দলের অংশ হওয়া ক্রীড়াবিদদের অন্যদের সাথে অনেক ভালো যোগাযোগ করতে সক্ষম করে। এটি অন্যদের চাহিদা বিবেচনা করতে, সমালোচনামূলক চিন্তার সমস্যা সমাধান করতে এবং একজন নেতা হতে সক্ষম করে। ===স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন=== বর্তমানে আমেরিকায় অতিরিক্ত খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে একটি মহামারী চলছে। একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো ছোট শিশুদের মধ্যে স্থূলতার ক্রমবর্ধমান হার। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের জ্ঞান ছাড়াই শিশুরা বড় হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় তারা এমন একটি জীবনযাত্রায় জড়িয়ে পড়ে যা অস্বাস্থ্যকর। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমেরিকা একটি স্বাস্থ্যকর বিশ্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। আমেরিকায় স্থূলতা সম্পর্কিত এই সাম্প্রতিক স্পাইকের অন্যান্য কারণগুলো হলো গত শতাব্দীতে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ। এগুলো আমাদের দৈনন্দিন রুটিন থেকে শারীরিক ব্যায়াম প্রায় সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দিয়েছে। যদি না কেউ ব্যায়াম করার উদ্দেশ্যমূলক প্রচেষ্টা না করে। অটোমোবাইলের উদ্ভাবন প্রযুক্তির কিছু উদাহরণ হিসেবে দায়ী করা হয়। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হাঁটার দিকটি কেড়ে নিয়েছে। কারখানাগুলোতে অ্যাসেম্বল লাইনের উদ্ভাবন খাবারকে দ্রুত ও আরও কার্যকরীভাবে তৈরি, প্যাক এবং শিপ করে।<ref>http://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=McrESStscH4C&oi=fnd&pg=PR22&dq=american+industrial+revolution&ots=WCKg3xKqDr&sig=y7MO_jMW26YtGkwxN-bVgbNyb1s#v=onepage&q&f=false</ref> এসব উন্নয়ন থেকে আমরা মুদি দোকানের তাকগুলোতে সস্তা, উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত, সুস্বাদু খাবার প্রচুর পরিমাণে মজুত করার ক্ষমতাও অর্জন করেছি।<ref>মাইকেল ডি. লেমোনিক। http://www.time.com/time/subscriber/covers/1101040607/article/how_we_grew_so_big_diet01a.html</ref> এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নগুলো সমাজ হিসেবে আমেরিকাকে জনসংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে দিয়েছে। একই সাথে এটি তার নিজস্ব নাগরিকদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শারীরিক সুস্থতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতেই কেবল সাহায্য করে না, এটি মানুষকে দীর্ঘকাল বাঁচতেও সাহায্য করে। আপনি যদি সারাজীবন সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখতে পারেন তবে আপনি অস্টিওপরোসিসের সূচনা ধীর করতে পারবেন। এর পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতেও পারবেন। যারা কম বয়সে শারীরিক কার্যকলাপ এবং ব্যায়ামকে তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেয় তাদের বড় হওয়ার সাথে সাথে এটি জীবনে ধরে রাখার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তারা তাদের সারাজীবন এর থেকে উপকৃত হয়। শারীরিক কার্যকলাপকে শক্তি ব্যয়কারী যেকোনো আন্দোলন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ব্যায়াম শারীরিক কার্যকলাপের একটি উপসেট, তবে এটি কাঠামোগত এবং পরিকল্পিত একটি কার্যকলাপ। অনেক শিশু শারীরিক ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত থাকে, সাধারণত তাদের বন্ধুদের সাথে খেলার মাধ্যমে। দলীয় খেলায় কিশোর-কিশোরী হিসেবে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তাদের শারীরিক ক্রিয়াকলাপের পরিমাণ সাধারণত হ্রাস পায়। আজ আমেরিকায় ২০% এর বেশি শিশুর মধ্যে স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজন দেখা যায়। তার ওপর নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্বল খাদ্যাভ্যাস আমেরিকায় প্রতি বছর ৩০০,০০০ মৃত্যুর কারণ। এটি প্রমাণিত যে ৩০ মিনিটের পরিমিত শারীরিক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এটি প্রতি সপ্তাহে ন্যূনতম তিন দিন করতে হবে এবং এমনকি তিনটি ১০ মিনিটের খণ্ডেও বিভক্ত করা যেতে পারে। এটি একটি ৩০ মিনিটের সেশনের সমান ফলাফল দেবে। তবে বেশি ঘন ঘন ব্যায়াম অবশ্যই আরও দ্রুত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।<ref>লরা হেইড্রিক। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির এক্সারসাইজ সায়েন্স মেজর এবং এসিই পার্সোনাল ট্রেইনার</ref><ref>পিই ৩০৮ এর জন্য ডেভিড সুপ্রাকের বক্তৃতা</ref> খেলাধুলায় অংশগ্রহণের অসংখ্য ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, খেলাধুলায় জড়িত থাকা আপনার মধ্যে খেলাধুলা এবং জীবনে প্রচুর মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা গেঁথে দেয়। খেলাধুলা করা আপনার সতীর্থদের সাথে দলবদ্ধ কাজ বিকাশ করতে সাহায্য করে। দলের সবাই একটি সাধারণ লক্ষ্যের (জেতার জন্য) জন্য চেষ্টা করে। খেলাধুলায় সাফল্য পেতে নিঃস্বার্থ দলীয় খেলার প্রয়োজন হয়। সাফল্য সহজে আসে না। খেলাধুলায় এবং জীবনে সফল হওয়ার জন্য আপনাকে আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করতে হবে। আপনি যে খেলাটি খেলেন তাতে যখন আপনি উত্সর্গ এবং কঠোর পরিশ্রম অনুশীলন করেন, তখন আপনি বুঝতে পারেন সফল হতে কতটা কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতে জীবনে পরে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ক্রীড়া অত্যন্ত ইতিবাচক।<ref>ফিল জ্যাকসন, লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স বাস্কেটবল কোচ</ref> == ক্রীড়া এবং বিশ্বায়ন == এটি লক্ষ্য করা যায় যে কয়েক দশক ধরে ক্রীড়া বিশ্বায়নের প্রভাবগুলো চালনার বাহন হয়ে উঠেছে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যবসা বা অন্যান্য সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক প্রভাব তৈরি করে বা আন্তর্জাতিক স্কেলে কাজ শুরু করে। এই প্রক্রিয়াটি পরিবেশ, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সমাজের মানুষের শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক দল ও লিগ এবং মেগা-স্পোর্টিং ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ একটি কোণঠাসা বাজারকে ইন্ধন জোগায়। এটি খেলার ছোট সম্প্রদায়ের আদর্শ থেকে সরে যায় এবং এটিকে শিল্পে পরিণত করে। এর কিছু বৃহত্তম এবং সহজেই শনাক্তযোগ্য উদাহরণ হলো অলিম্পিক এবং বিশ্বকাপ। পেশাদার প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর জাঁকজমকের বিনিয়োগের চেয়ে মার্কেটিং এবং ব্যবসায়িক কৌশল অনুসরণ করে এসব ইভেন্টগুলো অবিশ্বাস্যভাবে বিশাল হয়ে উঠেছে। "বিশ্বজুড়ে স্পোর্টস ম্যানেজারদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ সঞ্চয় কৌশলগুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ধারণা করা হয়েছিল"<ref>[http://library.la84.org/OlympicInformationCenter/OlympicReview/1999/OREXXVI29/OREXXVI29q.pdf]</ref> — এটি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করতে পারে যে ক্রীড়ার বিশ্বায়ন বরং আন্তর্জাতিক শিল্পের একটি আমেরিকানকরণ। বাজার হিসেবে ক্রীড়ার অর্থ হলো বৈশ্বিক উৎপাদন তৈরির প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি বড় কর্পোরেট সংস্থার অংশীদারিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণ বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া ব্র্যান্ড, আন্তর্জাতিক কর্পোরেশন এবং আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ফার্মগুলোর ছোট গ্রুপ। এই গোষ্ঠীগুলো বৃহৎ বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর সময়সূচি এবং প্রযোজনা নির্ধারণ করে। তারা ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং পোশাক তৈরির জন্য সস্তা বিদেশি শ্রমের সুবিধা নেয়। তারা পণ্যদ্রব্য এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নির্দিষ্ট লিগ এবং দলগুলোর প্রচার করে। কখন এবং কোথায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সেটিকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াবিদদের ক্যারিয়ার নিয়ন্ত্রণ করে। ব্রক ইউনিভার্সিটির লুসি থিবল্ট বিশ্বজুড়ে পেশাদার লিগগুলোতে শনাক্ত করা যাওয়া বিভিন্ন ক্রীড়াবিদদের উৎপত্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে নতুন অংশগ্রহণের বৃদ্ধির কথা বলেছেন। যেসব দেশ আগে অংশগ্রহণ করেনি তাদের অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। লিঙ্গ, ধর্ম এবং জলবায়ুর অনেক বাধা ভেঙে খেলাধুলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ক্রীড়াবিদদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে তিনি ক্রীড়া বিশ্বায়নের ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি ক্রীড়া শিল্পের বিশ্বায়নের দৃঢ়ভাবে নেতিবাচক সত্যগুলোও স্পর্শ করেছেন। থিবল্ট বিদেশি দেশগুলোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ক্রীড়াবিদদের তাদের জন্মভূমি থেকে প্রলুব্ধ করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি খেলাধুলার পোশাক এবং সরঞ্জাম উৎপাদনে তৃতীয় বিশ্বের মানুষের বিদেশি শোষণের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি মেগা-স্পোর্টস ইভেন্টগুলোর পরিবেশগত পদচিহ্নের কথাও উল্লেখ করেছেন।<ref>থিবল্ট, লুসি ২০০৯ গ্লোবালাইজেশন অব স্পোর্ট: অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ ১। জার্নাল অব স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ২৩(১): ১–২০।[http://nassm.org/sites/default/files/zeigler/JSM23(1)2009Thibault.pdf]</ref> আজকের বাজারে "মিডিয়ার কাছে স্পোর্টকে একটি প্যাকেজে তৈরি করার দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রয়েছে যা দর্শকরা সহজেই গ্রাস করতে পারে"<ref>থিবল্ট, লুসি ২০০৯ গ্লোবালাইজেশন অব স্পোর্ট: অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ ১। জার্নাল অব স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ২৩(১): ১–২০।[http://nassm.org/sites/default/files/zeigler/JSM23(1)2009Thibault.pdf]</ref> এবং সারা বিশ্বের সংস্কৃতিগুলো এতে অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক মেগা-স্পোর্টের দিক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে বা নাও নিতে পারে। কেউ কেউ পরামর্শ দিতে পারে যে এটি ইতিবাচক সৃষ্টির চেয়ে বেশি ক্ষতি এবং নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। অবশ্যই এটি ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপিত নয়, তবে এর অর্থ এই নয় যে এর সমস্ত প্রভাবের অস্তিত্ব নেই। অলিম্পিক, বিশ্বকাপ, প্যারালিম্পিক এবং কমনওয়েলথ গেমগুলি এমন বড় ইভেন্টগুলোর কয়েকটি উদাহরণ। এগুলো এই শিল্পকে ইন্ধন জোগায়। এগুলো টিএনসি, গ্লোবাল টেলিকমিউনিকেশন এবং প্রধান স্পোর্টসওয়্যার ও সরঞ্জাম কোম্পানিগুলোর দ্বারা ক্রমাগত তৈরি করা হবে। বিশ্বায়নের এই পদ্ধতির মাধ্যমে তৈরি করা স্থায়ীভাবে বিশাল মুনাফা বাড়ানোর প্রয়াসে ইভেন্ট এবং ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য ক্রীড়াবিদ, দল এবং লিগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ, প্রদর্শন এবং ব্যবহার করা হবে। ===আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংস্কৃতি ভাগ করা=== আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সামাজিক বিবৃতি দেওয়ার জন্য একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। রেডিও, টেলিভিশন এবং স্ট্রিমিং প্রযুক্তি বিশ্বমঞ্চের ক্রীড়াবিদদের সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সরাসরি মূল্যবোধ সম্প্রচার করতে দেয়। ফেডারেশন বা লিগ প্রতিযোগিতার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো একটি বৃহৎ, টেকসই দর্শক ভিত্তি আকর্ষণ করে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বৃহত্তর বৈশ্বিক দর্শক রয়েছে। অলিম্পিক গেমসের মতো 'মেগা-ইভেন্টগুলো' "...জাতি-রাষ্ট্রের ভেতরে এবং মধ্যে পরিবর্তন ও আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্ট..."।<ref>রোচে, মরিস; ২০০২ মেগাইভেন্টস অ্যান্ড মডার্নিটি: অলিম্পিকস অ্যান্ড এক্সপোস ইন দ্য গ্রোথ অব গ্লোবাল কালচার। রুটলেজ। [https://books.google.com/books?id=RISFAgAAQBAJ&lpg=PP1&dq=olympics&lr&pg=PP1#v=onepage&q&f=false]</ref> ১৯৮৯ সালে মেক্সিকো সিটির অলিম্পিক গেমস যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীড়াবিদদের একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছিল। টমি স্মিথ এবং জন কার্লোস, যারা ২০০ মিটারে যথাক্রমে সোনা ও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ছিলেন,<ref>বিবিসি অন দিস ডে | ১৭ | ১৯৬৮: ব্ল্যাক অ্যাথলেটস মেক সাইলেন্ট প্রোটেস্ট (তারিখ বিহীন). http://news.bbc.co.uk/onthisday/hi/dates/stories/october/17/newsid_3535000/3535348.stm সংগৃহীত ডিসেম্বর ১২, ২০১৬। http://news.bbc.co.uk/onthisday/hi/dates/stories/october/17/newsid_3535000/3535348.stm</ref> জুতো ছাড়া, কালো মোজা এবং কালো স্কার্ফ পরে পডিয়ামে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যেকে বাতাসে কালো গ্লাভস পরা মুষ্টি তুলেছিলেন। এটি কৃষ্ণাঙ্গ শক্তি এবং কৃষ্ণাঙ্গ ঐক্য উভয়ের প্রতীক ছিল। ২০০ মিটারে অস্ট্রেলিয়ার শ্বেতাঙ্গ রৌপ্য পদকজয়ী পিটার নরম্যান ওপিএইচআর (অলিম্পিক প্রজেক্ট ফর হিউম্যান রাইটস) পিন পরে কারণটির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।<ref>দ্য ফরগোটেন স্টোরি বিহাইন্ড দ্য “ব্ল্যাক পাওয়ার” ফটো ফ্রম ১৯৬৮ অলিম্পিকস | টরন্টো স্টার (তারিখ বিহীন). https://www.thestar.com/news/insight/2016/08/07/the-forgotten-story-behind-the-black-power-photo-from-1968-olympics.html সংগৃহীত ডিসেম্বর ১২, ২০১৬। https://www.thestar.com/news/insight/2016/08/07/the-forgotten-story-behind-the-black-power-photo-from-1968-olympics.html</ref> আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি স্মিথ ও কার্লোসের নিন্দা করেছিল। তারা হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা আফ্রিকান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের প্রশংসিত হন। ==শিল্পকলা== শিল্পকলা কৌতুকপূর্ণ সৃজনশীলতা থেকে উদ্ভূত হয়। এটি সব মানুষেরই থাকে। মনে রাখবেন "শিল্পকলা" হিসেবে বর্ণিত কার্যকলাপগুলো অবাধ খেলা থেকে আলাদা। কারণ এগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। শিল্পের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, নাচ, থিয়েটার আর্টস ইত্যাদি। শৈল্পিক নিয়মগুলো নির্দিষ্ট মনোযোগ নির্দেশ করে। এগুলো শিল্পী বা খেলোয়াড়দের তৈরি করা কাজ বা বস্তুর রূপ মূল্যায়নের জন্য মান প্রদান করে। শিল্প শেষ পর্যন্ত বিষয়গত। এটি যে সংস্কৃতির মধ্যে উৎপাদিত হয় এবং তৈরি হয় তার দ্বারা পরিচালিত হয়। নৃবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার অ্যালান্ড শিল্পের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন শিল্প হলো "কিছু নান্দনিকভাবে সফল রূপান্তর-প্রতিনিধিত্ব তৈরি করা রূপের সাথে খেলা" (১৯৭৭, ৩৯)। অ্যালান্ডের সংজ্ঞায়: আয়োজিত খেলার ধরনের উপর উপযুক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো রূপ। উদাহরণস্বরূপ, একটি চিত্রকর্ম হলো একটি দ্বিমাত্রিক রূপ। "নান্দনিকভাবে সফল" বলতে বোঝায় শিল্পের স্রষ্টা বা শ্রোতা শিল্পের অংশ থেকে "একটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন"। মানগতভাবে নান্দনিকভাবে দুর্বল কোনো কিছুর অসফল প্রতিক্রিয়া থাকবে। এর ফলে শ্রোতা বা এমনকি লেখকের কাছ থেকে শিল্পের প্রতি উদাসীনতার আবেগ তৈরি হবে। রূপান্তরমূলক-প্রতিনিধিত্ব শব্দটি বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো যেকোনো কিছুর প্রতীকী অর্থ পৃষ্ঠের উপস্থিতির চেয়ে গভীর। সাংস্কৃতিক নির্দেশিকাগুলো উপযুক্ত এবং মূল্যবান বিষয়গুলোকে নির্দেশ করে। যেহেতু অ্যালান্ড প্রস্তাব করেন যে রূপান্তর-প্রতিনিধিত্বের একে অপরের ওপর নির্ভরতা রয়েছে, তাই দুটিকে একসাথে উল্লেখ করা উচিত। রূপান্তর-প্রতিনিধিত্ব রূপক সম্পর্কে কথা বলার আরেকটি উপায়। একটি অঙ্কন হলো একটি দ্বিমাত্রিক পৃষ্ঠে দৃশ্যমান চিহ্নে অভিজ্ঞতার একটি রূপক রূপান্তর। এছাড়া একটি কবিতা রূপকভাবে অভিজ্ঞতাকে ঘনীভূত এবং কঠোর ভাষায় রূপান্তরিত করে। উদ্দেশ্য অনুযায়ী শিল্পকলায় এমন বস্তুগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে যেগুলো শিল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। যেমন ইমপ্রেশনিস্ট পেইন্টিং। তবে অধিযাচন অনুযায়ী শিল্পকলায় অন্যান্য সমস্ত বস্তুকে বোঝায় যেগুলো "শিল্পে পরিণত হয়েছিল"। কারণ একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে নির্দিষ্ট লোকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে সেগুলো শিল্পের একটি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বিভাগটি পশ্চিমা সমাজ দ্বারা গঠিত হয়েছিল। বস্তু বা কার্যকলাপগুলো অগত্যা অন্য সমাজের সংস্কৃতিতে একই বিভাগে ফিট নাও হতে পারে। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং লাভেন্ডা, রবার্ট এইচ. <u>কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন</u>। ৭ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ২০০৯। অ্যালান্ড, আলেকজান্ডার। <u>দ্য আর্টিস্টিক অ্যানিমেল</u>। নিউ ইয়র্ক: ডাবলডে অ্যাঙ্কর, ১৯৭৭।</ref> নৃবিজ্ঞানী শেলি এরিংটন যুক্তি দেন যে কোনো বস্তুকে শিল্পে রূপান্তর করতে কাউকে তা প্রদর্শন করতে ইচ্ছুক হতে হবে। পশ্চিমা সমাজ যখন তাদের শিল্পের সংজ্ঞার সাথে খাপ খায় এমন একটি আইটেম দেখে, তখন সেটি "শিল্পকলা" বাজারে স্থাপন করা হয়। এরিংটন আরও উল্লেখ করেছেন যে শিল্পের পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি এমন বস্তু নির্বাচন করতে চায় যেগুলো: 'বহনযোগ্য, টেকসই, ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমে ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে অকেজো এবং প্রতিনিধিত্বমূলক।' একটি সমস্যা বিদ্যমান যেখানে শিল্পের পশ্চিমা সংজ্ঞা 'বহিরাগত' লোভ প্রদানকারী বস্তুগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে কাজে লাগাতে শুরু করে। পশ্চিমা সমাজে 'বহিরাগত' শিল্পের চাহিদা প্রবল। এই শিল্প সাধারণত এক মুহূর্তে ফ্যাশনেবল সাজসজ্জা এবং পরের বছর ফ্যাশনের বাইরে থাকে। এই "আসা-যাওয়া" ফ্যাশন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং প্রত্নবস্তু বহনকারী সমাজের সাথে সম্পদ নিষ্কাশন প্রকল্পগুলোকে হুমকি দিতে পারে। খেলার মতো শিল্প তার অবদানকারীদের বিকল্প বাস্তবতা প্রদানের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করে। এটি জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য বা পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং লাভেন্ডা, রবার্ট এইচ. <u>কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন</u>। ৭ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ২০০৯। অ্যালান্ড, আলেকজান্ডার। <u>দ্য আর্টিস্টিক অ্যানিমেল</u>। নিউ ইয়র্ক: ডাবলডে অ্যাঙ্কর, ১৯৭৭।</ref> ==শিল্প আন্দোলন== ===ইমপ্রেশনিজম=== ইমপ্রেশনিজম এমন চিত্রকর্ম বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ ছিল যেগুলো অসম্পূর্ণ দেখায়। কারণ সেগুলোতে দৃশ্যমান ব্রাশস্ট্রোক দেখা যেত। চিত্রকর্মগুলো দৈনন্দিন জীবনকে চিত্রিত করে। ১৮৭৪ সালে ইমপ্রেশনিস্ট চিত্রশিল্পীরা প্যারিসে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এটি ইমপ্রেশনিস্ট আন্দোলন শুরু করেছিল। তারা নিজেদেরকে অ্যানোনিমাস সোসাইটি অব আর্টিস্টস বলত। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন ক্লদ মনেট, এডগার দেগাস এবং ক্যামিল পিসারো।<ref>http://www.metmuseum.org/toah/hd/imml/hd_imml.htm</ref> ===পোস্ট ইমপ্রেশনিজম=== ১৮৮০ এর দশকের শেষের দিকে পোস্ট ইমপ্রেশনিজম শুরু হয়। পোস্ট ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের মতো একই শৈলীতে আঁকতেন, তবে তারা নতুন ধারণা যোগ করেছিলেন। তারা কেবল দৈনন্দিন জীবনে যা দেখেছিলেন তা আঁকেননি। তারা আরও প্রতীকবাদ ব্যবহার করেছেন। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বিখ্যাত সদস্য ছিলেন পল গগুইন, জর্জেস সেউরাট, ভিনসেন্ট ভ্যান গগ এবং পল সেজান। তবে তারা আলাদাভাবে কাজ করেছেন। তারা নিজেদেরকে একটি আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখেননি।<ref> http://www.metmuseum.org/toah/hd/poim/hd_poim.htm</ref> ===কিউবিজম=== ১৯০৭ সালে [[w:পাবলো পিকাসো|পাবলো পিকাসো]] এবং জর্জেস ব্র্যাক এই শিল্পশৈলীর প্রবর্তন করেন। কিউবিজম সাধারণ আকারগুলোকে নিয়ে সেগুলোকে বিমূর্ত জ্যামিতিক আকারে ভেঙে দেয়।<ref>http://www.metmuseum.org/toah/hd/cube/hd_cube.htm</ref> কিউবিজম দৃষ্টিকোণ এবং রূপ নিয়ে খেলে। এটি ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা শিল্পের দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত নিয়মগুলো ভেঙে দিয়ে সে সময়ের শিল্পদৃশ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে। কিউবিজমকে অনেকেই আধুনিক শিল্পের প্রথম রূপগুলোর একটি বলে মনে করেন। ===দাদা এবং পরাবাস্তববাদী=== অ্যান্টি-আর্ট হিসেবে বর্ণিত দাদাইজম শিল্পকে কী হিসেবে বিবেচনা করা যায় তা চ্যালেঞ্জ করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে বিশৃঙ্খল সময়ের প্রতিক্রিয়া ছিল দাদা। এটি ইউরোপজুড়ে একটি আভান্ট-গার্ড বিদ্রোহ ছিল। এটি যুদ্ধবিরোধী ছিল এবং সে সময়ের সামঞ্জস্যের একটি সামাজিক সমালোচনা ছিল। এটি দ্রুত বার্লিনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এটি বাউহাউস আর্ট স্কুল দ্বারা সহজতর করা হয়েছিল। আধুনিকতাবাদ এবং পরাবাস্তববাদের পাশাপাশি সেখানে আন্দোলনটি বিকাশ লাভ করে। সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত দাদা শিল্পের টুকরোটি ছিল মার্সেল ড্যাম্পের 'ফাউন্টেন'। এটি একটি স্তম্ভের উপর একটি চীনামাটির বাসনের প্রস্রাবাগার ছিল। এতে 'আর. মাট' লেখা ছিল। 'ফাউন্টেন' শিল্পকে একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া থেকে একটি ব্যাখ্যামূলক প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরিত করার ড্যাম্পের একটি প্রচেষ্টা ছিল। এটি দাদা আন্দোলনের একটি মূল অংশ ছিল। সালভাদর দালির মতো অন্যান্য সুপরিচিত কাজগুলো এখনও ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করা হয়। তিনি 'দ্য পারসিস্টেন্স অব মেমরি' তৈরি করেছিলেন যাতে গলে যাওয়া ঘড়ি ছিল। তিনি একটি পরাবাস্তব শর্ট ফিল্ম 'আন চিয়েন আন্দালউ' তৈরি করেছিলেন। দাদাইজম এবং পরাবাস্তববাদ আন্তর্জাতিক প্রশংসা ধরে রেখেছে। এগুলো শিল্প ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। '''বাস্তববাদ''' বাস্তববাদ এমন একটি শিল্প রূপ যা বহু বছর ধরে চলে আসছে। এতে বাস্তবসম্মত সুনির্দিষ্ট অঙ্কন বা চিত্রকর্ম রয়েছে। এগুলো প্রায় একটি প্রতিলিপি তৈরি করে। এটি মোনালিসার মতো কিছু বিখ্যাত চিত্রকর্মে পাওয়া যায়। এই শিল্প রূপটি অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ এবং বিস্তারিত। ===পপ আর্ট=== সূক্ষ্ম শিল্প এবং পপ সংস্কৃতির আইকনগুলোকে একত্রিত করে এবং ভেঙে দিয়ে পপ আর্ট আমেরিকার ব্যাপক উৎপাদন সংস্কৃতির একটি ব্যঙ্গ ছিল। পপ আর্ট সে সময়ের গম্ভীর এবং অতি সৃজনশীল বিমূর্ত শিল্পের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। এটি কৌতুকপূর্ণ এবং বিদ্রূপাত্মক ছিল। এটি নিজেকে গম্ভীরভাবে নেয়নি। পপ আর্ট আমাদের জানা ছবিগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সেগুলোকে নিয়ে খেলা করে। ===সঙ্গীত=== সঙ্গীত হলো ছান্দিক ধ্বনি এবং নীরবতার ব্যবহার। এগুলো ব্যবহার করে গান তৈরি করা হয়। গীতি থেকে যন্ত্রসংগীত পর্যন্ত অনেক ভিন্ন শৈলী এবং ধারা রয়েছে। এর মাঝে অসংখ্য উপধারাও রয়েছে। শিল্পকলার মতো সঙ্গীতের ধরনের মধ্যে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট যুগের সঙ্গীত (যেমন শাস্ত্রীয় এবং ক্ল্যাসিক রক)। এটি আবার গানের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে। যেমন পপ বা মেটাল। প্রতিটি গান গীতিকার দ্বারা একটি নির্দিষ্ট অর্থ বা অর্থের পরিসর প্রকাশ করার জন্য তৈরি করা হয়। তবে সঙ্গীত তাদের কাছে কী অর্থ বহন করে তা বোঝা শ্রোতার ওপর নির্ভর করে। এটি ব্যক্তিভেদে অনেক পরিবর্তিত হতে পারে। ==সঙ্গীত== সঙ্গীতকে শব্দ এবং নীরবতার সংগঠন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সঙ্গীতের সৃষ্টি প্রায় মানব ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। আবিষ্কৃত প্রাচীনতম সঙ্গীতের টুকরোটি একটি প্রাচীন সুমেরীয় সুর। এটি "হুরিয়ান স্তোত্র নং ৬" নামে পরিচিত। এটি সিরিয়ার উগারিট শহরের ধ্বংসাবশেষে আবিষ্কৃত হয়। এটি খ্রিস্টপূর্ব ১৪শ শতাব্দীর। এই সুমেরীয় রেকর্ড করা সঙ্গীত এবং হাড়ের বাঁশির মতো প্রাচীন যন্ত্রপাতির আবিষ্কার ইতিহাসবিদদের একটি বিষয় ইঙ্গিত করে। সময়ের সাথে সাথে অনেক সংস্কৃতির মানুষ সঙ্গীতের সৃষ্টি এবং প্রকাশকে তাদের সংস্কৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রাচীনকালে গ্রিকরা ফোনিক শব্দ তৈরি করতে এবং সুর রচনা করতে মৌলিক পাইপ ব্যবহার করত। পরে সঙ্গীত তাদের দৈনন্দিন জীবনে মানুষের জন্য সত্যিকারের বিনোদনে পরিণত হয়। মধ্যযুগে মানুষ লেখার মাধ্যমে সঙ্গীত রেকর্ড করতে শুরু করে। চার্চ সমসাময়িক পোপের নামানুসারে গ্রেগরিয়ান চ্যান্ট লেখার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ উৎসর্গ করে। চার্চগুলো সঙ্গীত রেকর্ড এবং সংরক্ষণের জন্য একটি মূল্যবান স্থান হিসেবে কাজ করেছিল। তবে প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কারের ফলে আরও ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্গীত জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য হয়। সময়ের সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নতুন এবং পুরোনো উভয় সঙ্গীতকে সংস্কৃতি জুড়ে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। ইতিহাসজুড়ে সঙ্গীত মানুষের কাছে গল্প ভাগ করে নেওয়ার এবং আবেগ প্রকাশ করার একটি উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে অন্যান্য প্রাণীও একটি অভিব্যক্তি চিত্রিত করার বা একটি ধারণা যোগাযোগ করার উপায় হিসেবে সঙ্গীত ব্যবহার করে। সঙ্গীত একটি পাখির মতো ছোট বা তিমির মতো বড় কিছুর কাছ থেকেও আসতে পারে। সঙ্গীত সংস্কৃতি জুড়ে ব্যাপকভাবে পৃথক হয়। যারা এটি শোনে, রচনা করে এবং তৈরি করে তাদের সাথে এটি খাপ খায়। প্রকৃতপক্ষে বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীর সুরকাররা "সঙ্গীত কী?" এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বাদ্যযন্ত্রের বিকাশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। এর উত্তর প্রায়শই "সবকিছু" হয়ে থাকে।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/History_of_music</ref> ===গান এবং শব্দ=== যদিও পাঠ্য এবং সাহিত্যের প্রধান আলোচনা [কমিউনিকেশন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ] অধ্যায়ের মধ্যে রয়েছে। তবে গান বা শিল্পের শব্দ হিসেবে নৃবিজ্ঞানগত অধ্যয়ন এখানে খেলা এবং শিল্পের প্রেক্ষাপটে নিজস্ব আলোচনার দাবি রাখে। সঙ্গীত এবং নাচের মতো সাংস্কৃতিক শিল্পকলা অধ্যয়নের সময় মনে রাখার মতো একটি উদ্ধৃতি হলো, "সক্রেটিসের মধ্যে এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য আর কিছু নেই যে তিনি বৃদ্ধ বয়সে সঙ্গীত এবং নাচ শেখার জন্য সময় পেয়েছিলেন। তিনি এটিকে ভালোভাবে ব্যয় করা সময় বলে মনে করেছিলেন।" - মাইকেল ডি মন্টেন<ref>এলিজাবেথ স্কোলমেন</ref> ===শাস্ত্রীয়=== কথ্য পরিভাষায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বলতে ১৮২০ সাল পর্যন্ত লেখা বা তৈরি করা যেকোনো পশ্চিমা সঙ্গীতকে বোঝায়। যদিও শব্দটি আজকের যুগে তৈরি সঙ্গীতেও প্রয়োগ করা হয়। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে সাধারণত সাতটি ভিন্ন যুগে ভাগ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রেগরিয়ান (৬০০ এর দশকে পোপ গ্রেগরির যুগ থেকে), মধ্যযুগীয় (৫০০-১৪০০), রেনেসাঁ (১৪০০-১৬০০), বারোক (১৬০০-১৭৫০), শাস্ত্রীয় (১৭৩০-১৮২০), আর্লি রোমান্টিক এবং রোমান্টিক (১৭৮০-১৯১০)। প্রতিটি যুগে নিজস্ব শৈলীগত উপাদান রয়েছে। এগুলো প্রতিটিকে একে অপরের থেকে আলাদা করে। সমস্ত 'শাস্ত্রীয়' সঙ্গীতকে সাধারণত একই হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বাস্তবে প্রতিটি যুগের মধ্যকার বৈচিত্র্য প্রতিটিটিকে অনন্য করে তোলে এবং একে অপরের থেকে আলাদা করে। ===আধুনিক যুগের প্রভাব=== বারোক থেকে রোমান্টিক এবং তারপর আধুনিক সঙ্গীতে উন্নয়নের এই শৃঙ্খলের মাধ্যমে আমরা সিনেমা এবং ভিডিও গেমে যা শুনি তা আগের সব প্রভাব ছাড়া একই রকম হবে না। জন উইলিয়ামস এবং হ্যান্স জিমারের মতো অনেক আধুনিক সুরকার রোমান্টিক যুগের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। একটি সুপরিচিত উদাহরণ হলো স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্র সিরিজের জন্য জন উইলিয়ামসের ফিল্ম স্কোর। উইলিয়ামস একজন রোমান্টিক সুরকার গুস্তাভ হোলস্টের কাছ থেকে প্রচুর অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। "দ্য প্ল্যানেটস যেকোনো সংখ্যক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর দর্শনার্থীদের জন্য খনন করা হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গল গ্রহ উইলিয়ামসসহ চলচ্চিত্র সুরকারদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। তার স্টর্মট্রুপাররা একটি স্বতন্ত্র মঙ্গল গ্রহের তালে মার্চ করে"। [http://www.classicalmpr.org/story/2015/10/20/star-wars-john-williams-influences]। ওয়াগনার উইলিয়ামসকে প্রভাবিত করেছিলেন। তিনি আবার হোলস্টের দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছিলেন। ওয়াগনারের টুকরোর সবচেয়ে কাছাকাছি ফিল্ম স্কোরটি ছিল ডার্থ ভাডারের আইকনিক থিম। "যেখানে সাধারণ চলচ্চিত্র দর্শকরা স্টার ওয়ার্সে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ওয়াগনারকে শুনতে পায় তা হলো ডার্থ ভাডার এবং তার মন্দ সাম্রাজ্যের জন্য ব্রাস-লেডেন থিম। এটি ওয়াগনারের মহিমান্বিত ভ্যালকাইরিসের সঙ্গীতের স্বতন্ত্রভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়" [http://www.classicalmpr.org/story/2015/10/20/star-wars-john-williams-influences]। স্টার ওয়ার্সের ওপর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রভাব অনেকগুলোর মধ্যে একটি মাত্র উদাহরণ। বেশিরভাগ আধুনিক সুরকাররা এই সাতটি যুগে পাওয়া সঙ্গীত থেকে ধারণা এবং প্রভাব গ্রহণ করেন। ===ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক=== ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিককে ইডিএম হিসেবেও পরিচিত। এটি ডান্স মিউজিকের জন্য একটি ছাতা শব্দ। এটি ইলেকট্রনিকভাবে একজন ডিজে (ডিস্ক জকি) দ্বারা রচিত। এটি প্রায়শই ক্লাব, রেভস এবং উৎসবে বাজানো হয়। এটি ১৯৮০-এর দশকে ডিস্কো যুগ থেকে আবির্ভূত হয়েছিল। পার্টিতে বা নাচের ফ্লোরে ইডিএম মিউজিকের প্রতি আকর্ষণ হলো "ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকের রাসায়নিক এবং বাদ্যযন্ত্র বস্তু তার তাৎক্ষণিক পরিবেশের ভার্চুয়ালাইজেশন এবং বিষয়ের দৈনন্দিন জীবনের সামঞ্জস্য করতে সক্ষম"।<ref>ভিটোস, বোটন্ড ২০১৪ “ অ্যান অ্যাভাটার... ইন আ ফিজিক্যাল স্পেস ” : রিসার্চিং দ্য মেডিয়েটেড ইম্মেডিয়েসি অব ইলেকট্রনিক ডান্স ফ্লোরস। রিসার্চগেট ৬(২): ১–২১।[https://www.researchgate.net/publication/274073917_An_Avatar_in_a_Physical_Space_Researching_the_Mediated_Immediacy_of_Electronic_Dance_Floors]</ref> ইডিএম প্রায়শই মাদক ব্যবহারের সাথে জড়িত থাকে। এর শ্রোতাদের অনেকেই আইনি এবং বেআইনি উভয় মাদক গ্রহণ করে (যদিও সব মানুষ নয়)। রেভগুলোতে ব্যবহার করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু মাদক হলো মলি (এক্সট্যাসি), অ্যাডেরাল, কোকেন, অ্যালকোহল এবং গাঁজা। রেভস বা সঙ্গীত উৎসবগুলোতে মাদক ব্যবহারের বৃদ্ধির কারণে ইডিএম সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর কারণে অ্যান্টি-রেভ সংস্কৃতি এবং আইন আবির্ভূত হয়েছে। "যেহেতু ইডিএম সংস্কৃতিগুলো বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হতে চলেছে, তাই স্থানীয়ভাবে নিহিত এবং একই সাথে বিশ্বব্যাপী জড়িত হওয়া পদ্ধতিগত পন্থাগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে এবং গবেষণার একটি নির্দিষ্ট সাইটের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার চেয়ে আরও সঠিক চিত্র দেবে"।<ref>মন্টানো, এড ২০১৩ এথনোগ্রাফি ফ্রম দ্য ইনসাইড: ইন্ডাস্ট্রি-বেইজড রিসার্চ ইন দ্য কমার্সিয়াল সিডনি ইডিএম সিন। ডান্সকাল্ট: জার্নাল অব ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক কালচার ৫(২): ১১৩–১৩০।[https://dj.dancecult.net/index.php/dancecult/article/view/372/393]</ref> বেশিরভাগ তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের শুনতে এবং ইডিএম বাজায় এমন জায়গায় বাইরে যেতে দেখা খুব সাধারণ। রেভগুলো প্রায়শই রাতে অনুষ্ঠিত হয় যখন বেশিরভাগ লোক ঘুমাতে যায়। তাই "রেভাররা একটি অস্তিত্বের শূন্যতায় স্লিপ করে যেখানে কর্তৃত্ব এবং জনসাধারণের দৃষ্টি প্রবেশ করে না। রেডিওহেড, এলসিডি সাউন্ডসিস্টেম, সুইকুড, আফ্রিকা বামবাতা, ডেভিড বোভি এবং আরও অনেক শিল্পীর দ্বারা ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকও অন্যান্য ঘরানায় একীভূত হয়েছে।"।<ref>হাটসন, স্কট আর. ১৯৯৯ টেকনোশামানিজম: স্পিরিচুয়াল হিলিং ইন দ্য রেভ সাবকালচার। রিসার্চগেট ২৩(৩): ৫৩–৭৭।[https://www.researchgate.net/publication/233181907_Technoshamanism_Spiritual_healing_in_the_rave_subculture]</ref> ===ইন্ডি=== ইন্ডি সঙ্গীত হলো এমন সঙ্গীত যা প্রধান রেকর্ড লেবেলের সাহায্য ছাড়াই উৎপাদিত হয়। ইন্ডি হলো "ইন্ডিপেন্ডেন্ট" এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ইন্ডি শিল্পীরা সাধারণত বড় নামের লেবেলগুলোর সাথে নিজেদের যুক্ত করেন না। এটি একটি "নিজেই করুন" সঙ্গীত ধারার চেয়েও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারা বিশ্বের অনেক ব্যান্ড একটি প্রধান লেবেলের সাহায্য ছাড়াই এটিকে বড় করতে পেরে নিজেদের গর্বিত করে। ইন্ডি ব্যান্ডগুলো শুধু অর্থ উপার্জনের চেষ্টা না করে তাদের সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইন্ডি সঙ্গীত ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে স্বাধীন শিল্পীরা প্রথম ১৯৮০ এর দশকে স্বীকৃতি পান। তাদের মধ্যে রয়েছে বি-৫২'স এবং পরে নির্ভানা। এসব ব্যান্ড নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র নাম তৈরি করেছে। এদেরকে একসময় "কলেজ রেডিও মিউজিক" হিসেবে বিবেচনা করা হত। স্বাধীন সঙ্গীত দৃশ্যের মাধ্যমে তারা তাদের ক্যারিয়ার তৈরি করেছে।<ref>http://www.jstor.org/stable/931257</ref> '''আমেরিকান ফোক মিউজিক''' আমেরিকান সংস্কৃতিতে ফোক মিউজিক ১৯৬০ এর দশকে আবির্ভূত শৈলীকে বোঝায়। সাধারণত ফোক শিল্পীরা বর্তমান ঘটনাগুলো সম্পর্কে বার্তা প্রকাশ করতে শাব্দিক যন্ত্র এবং কণ্ঠ ব্যবহার করেন। প্রায়শই সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে গীতিকাররা যোগাযোগ করেন। এই সঙ্গীতের সৃষ্টি এবং জাতীয় প্রচলন জনসাধারণকে নিজস্ব বর্তমান ঘটনাগুলোর সাথে যুক্ত করতে এবং কী ঘটছে তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান ছিল।<ref>লেইন, মিরান্ডা বাবার সাথে কথা বলার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা</ref> ১৯৬০ এর দশকে বব ডিলান এবং জোয়ান বেজের মতো শিল্পীদের হাত ধরে ফোক ঘরানা বিস্ফোরিত হয়। ১৯৬০ এর দশকে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে লোকসংগীতের বিস্ফোরণের আগে ফোক মিউজিক উডি গুথ্রির মতো শিল্পীদের সাথে উন্নতি লাভ করেছিল।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Woody_Guthrie</ref> এর পাশাপাশি র‌্যাম্বলিন' জ্যাক এলিয়টও ছিলেন। আধুনিক ফোক শিল্পীদের মধ্যে দ্য টলেস্ট ম্যান অন আর্থ, বন ইভার এবং ফ্লিট ফক্সস অন্তর্ভুক্ত। কার্ল স্যান্ডবার্গের কথা উল্লেখ না করে ফোক মিউজিক নিয়ে আলোচনা করা প্রায় অসম্ভব। ১৮৭৮ সালে ইলিনয়ে জন্ম নেওয়া স্যান্ডবার্গ তার প্রাথমিক ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় ভ্রমণ এবং রেলপথে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কাটিয়েছেন। এই সময়ে স্যান্ডবার্গ বিভিন্ন ধরনের গান এবং সুর অর্জন করেন। স্যান্ডবার্গ "ফোক গায়ক" হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রথম সঙ্গীতশিল্পী হয়ে ওঠেন। কারণ তিনি তার কাজের সময় জমে থাকা গানগুলো পরিবেশন করেছিলেন। স্যান্ডবার্গ তার সমস্ত প্রিয় গানগুলোকে ''আমেরিকান সংব্যাগ'' নামে একটি বইয়ে সংকলিত করেছিলেন। এই সংগ্রহ থেকে তার পছন্দের একটি ছিল জন হেনরির কিংবদন্তির গান এবং প্রতীক।<ref> রিভিউ অব ফ্রম “রক হিল” টু “কন্নেমারা:” দ্য স্টোরি বিফোর কার্ল স্যান্ডবার্গ ১৯৮১ দ্য সাউথ ক্যারোলিনা হিস্টোরিক্যাল ম্যাগাজিন ৮২(২): ১৭৬–১৭৬। http://www.jstor.org/stable/27567685?</ref> জন হেনরি কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীর শক্তি এবং মেশিন শ্রম ও অকৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামের প্রতীক। এই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির জন্য এটি একটি বড় ব্যাপার ছিল। কার্ল স্যান্ডবার্গ কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের প্রকাশ্যে সমর্থন করা প্রথম সঙ্গীতশিল্পীদের একজন ছিলেন। জন হেনরির গান এবং প্রতীকের মাধ্যমে স্যান্ডবার্গ লোকসংগীতে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হন। তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেন। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। ===রক অ্যান্ড রোল=== রক অ্যান্ড রোল ১৯৪০ এর দশকের শেষদিকে এবং ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিকশিত হয়। এটি সঙ্গীতের একটি রূপ। রক অ্যান্ড রোল ডু-ওপ, কান্ট্রি, সোল এবং গসপেলসহ অনেক ঘরানার উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এটি ব্লুজের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এর একটি সুপরিচিত উদাহরণ হলো এলভিস প্রিসলির সঙ্গীত। এখান থেকেই এটি এর প্রথম দিকের কর্ডের অগ্রগতি এবং গীতিমূলক শৈলী লাভ করে। অনেক শিল্পী সোন হাউস, রবার্ট জনসন, লেডবেলি এবং বিবি কিংয়ের (ব্লুজের রাজা) মতো প্রাথমিক ব্লুজ সুরকারদের শব্দগুলোকে কভার করেছেন এবং পুনরায় তৈরি করেছেন। এই শৈলীটি বিশ্বের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সমাজে বিশাল প্রভাব ফেলে। রক অ্যান্ড রোল একটি জোর দেওয়া অফ বিট বা চার-চার টাইম সিগনেচারের ২য় এবং ৪র্থ বিট দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। গিটারের ব্যবহার, বৈদ্যুতিকভাবে পরিবর্ধিত যন্ত্র এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে বিস্তৃত গানের কথা এর বৈশিষ্ট্য।<ref>http://www.history-of-rock.com/</ref> ১৯৪০ এর দশকের শেষের দিকে রক অ্যান্ড রোল তৈরির পর থেকে রক অ্যান্ড রোলের অনেক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হেভি মেটাল, পাঙ্ক রক, সফট রক, অল্টারনেটিভ এবং ইন্ডি। নিউ ইয়র্ক জনপ্রিয় সঙ্গীতের বেশ কয়েকটি শৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সুইং ড্যান্স ব্যান্ড এবং তাদের সাথে গান গাওয়া ক্রুনাররা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকার আশাবাদ ও চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল। চল্লিশের দশকে বিদ্যমান বিভিন্ন শৈলীর সঙ্গীত থেকে রক সঙ্গীতের বিকাশ ঘটে। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে এটি নিজস্ব শৈলীতে পরিণত হয়। অনেক দিক থেকে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ সঙ্গীতজ্ঞ এবং অনুরাগীদের মধ্যে রক সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা জাতিগত একীকরণকে সহায়তা করেছে। এটি যেকোনো জাতিগত পটভূমির মানুষের পারস্পরিক সম্মানের দিকে আন্দোলনকে সাহায্য করেছে।<ref>চার্লটন, ক্যাথরিন। "রক মিউজিক স্টাইলস"</ref> সঙ্গীত নাগরিকদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সাধারণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় এটি কাজ করেছিল। সঙ্গীত এমন কিছু ছিল যা তাদের জীবনধারা নির্বিশেষে সবার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তারা এটি উপভোগ করতে পারে। ===র‌্যাপ=== [[File:Lil_Wayne.jpg|thumb|right|লিল ওয়েন আমেরিকান র‍্যাপ দৃশ্যের একজন র‍্যাপ আইকন।]] বেশিরভাগ সময় র‍্যাপ বলতে ছান্দিক তালে ছড়া আবৃত্তি করাকে বোঝায়। তবে এর শিকড় তার চেয়েও অনেক দূরে প্রসারিত। র‍্যাপ সঙ্গীতের উৎস পশ্চিম আফ্রিকায় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। সেখানে এর উৎপত্তি হয়েছিল। যাদের এই বাদ্যযন্ত্রের প্রতিভা ছিল তাদের আশেপাশের লোকেরা তাদের উচ্চ সম্মানে রাখত। পরে যখন "শব্দের মানুষদের" নতুন বিশ্বে আনা হয়, তখন আফ্রিকান সঙ্গীত এবং আমেরিকান সঙ্গীতের মিশ্রণে একটি নতুন শব্দের সৃষ্টি হয়।<ref>জেন মার্শাল http://www.allsands.com/company/contactallsands.htm</ref> ইতিহাসজুড়ে ছড়ার স্কিম জড়িত মৌখিক অ্যাক্রোব্যাটিকসের বিভিন্ন রূপ রয়েছে। এসব ছড়ার স্কিমে র‍্যাপ প্রকাশ পেয়েছে। স্কুল ইয়ার্ড এবং নার্সারি ছড়ার পাশাপাশি ডাবল ডাচ জাম্প রোপ মন্ত্রগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক দিনের র‍্যাপ সঙ্গীত রেগে সঙ্গীতের উপাদানগুলোতে টোস্টিং এবং ডাব আলাপে এর তাৎক্ষণিক শিকড় খুঁজে পায়। তবে রেগে তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত হয়নি এবং এভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুতে বিকশিত হয়েছিল। এই শৈলী গ্রহণকারী প্রথম শিল্পীদের মধ্যে একজন ছিলেন কুল হার্ক।<ref>http://www.bbc.co.uk/radio2/r2music/documentaries/rap.shtml</ref> প্রাথমিক র‍্যাপগুলোতে জনপ্রিয় গানের যন্ত্র বা পার্কাসিভ বিভাগে ইমপ্রোভাইজ করা ছড়া আবৃত্তি করা জড়িত ছিল। প্রায়শই সাধারণ অপবাদযুক্ত শব্দগুলো এতে ব্যবহার করা হত। র‍্যাপ সত্তরের দশকজুড়ে বৃদ্ধি পায়। এটি মৌখিক দক্ষতা এবং মুক্ত মতপ্রকাশের একটি বাদ্যযন্ত্র রূপে বিকশিত হয়। এটি দ্রুত তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি তাদের স্বকীয়তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দেয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে র‍্যাপ জনপ্রিয় হতে চলেছে। এটি বিকশিত হচ্ছে এবং প্রতিটি সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিজেকে ঢালাই করছে।<ref>http://www.daveyd.com/raphist1.html</ref> র‍্যাপ সঙ্গীতের বিশ্বায়নের একটি উদাহরণ হলো ওরিশাস ব্যান্ড [http://en.wikipedia.org/wiki/Orishas_(band)]। ওরিশাসের উৎপত্তি কিউবার হাভানায়। তারা প্রায়শই তাদের সঙ্গীতে ঐতিহ্যবাহী সালসা এবং রুম্বা বিট অন্তর্ভুক্ত করে। ওরিশাসের সদস্যরা ফ্রান্সের প্যারিসে দেশত্যাগ করেছে। তারা এখন ইউরোপের পাশাপাশি তাদের নিজ দেশ কিউবাতেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। র‍্যাপ হলো সঙ্গীতের একটি ধারা যা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যুবকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছন্দময় কণ্ঠের বৈশিষ্ট্যগুলো কথ্য জাপানিজের মতো। এই "গ্যাংস্টার লাইফ" অর্থ আমেরিকান স্বপ্ন থেকে বিবর্তিত হয়েছে। এটি ঘেটো থেকে র‍্যাপ সুপারস্টারের উচ্চ জীবন পর্যন্ত কাজ করার ক্ষমতা। গানে প্রায়শই সহিংসতা, মাদক, চাঁদাবাজি এবং যৌনতার কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকে। ৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে তৈরি হওয়া এই উপসংস্কৃতি মূলধারার সঙ্গীতে প্লাবিত হয়েছে। এটি জনপ্রিয় টেলিভিশন স্টেশনগুলোতে চার্টে শীর্ষে রয়েছে এবং রেডিওকে ঘিরে রয়েছে। র‍্যাপ সঙ্গীত দৃশ্যের কিছু বিতর্কিত দিক থাকা সত্ত্বেও এটি বাড়তে থাকে। এটি সারা বিশ্বের সঙ্গীতকে প্রভাবিত করে। আফ্রিকান হিপ-হপ/র‍্যাপ গ্রুপগুলো সম্প্রতি আরও সঙ্গীত তৈরি করতে শুরু করেছে। তারা মূল র‍্যাপ ঘরানাকে তাদের নিজস্ব বলে দাবি করে। ধারণা করা হয় হাজার হাজার বছর আগে সেখানে এর উৎপত্তি হয়েছিল। <ref>http://www.dummies.com/how-to/content/examining-raps-origins.html</ref> যদিও "গ্যাংস্টার র‍্যাপ" ব্যাপকভাবে "র‍্যাপ" হিসেবে পরিচিত। তবে এটি একমাত্র ধরন নয়। র‍্যাপের সাথে অনেক উপসংস্কৃতি আসে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি এই "গ্যাংস্টার" মানসিকতা থেকে দূরে সরে যায়। র‍্যাপ শিল্পী হতে হলে আপনাকে গ্যাংস্টার বা ঘেটোর বাসিন্দা হতে হবে না। মানুষ প্রায়শই ভাবে না যে র‍্যাপ সঙ্গীতে যৌনতা, মাদক এবং সহিংসতার চেয়েও বেশি বিষয়বস্তু রয়েছে। কারণ বেশিরভাগ মূলধারার র‍্যাপ এবং র‍্যাপ ভিডিও অধিকাংশ মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে র‍্যাপ এর সম্পর্কেই। র‍্যাপ মূলত যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না তাদের প্রতিবাদের একটি রূপ হিসেবে উদ্ভূত হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার যুবকরা বর্ণবাদ এবং নিপীড়ন থেকে বিদ্রোহের উপায় হিসেবে এটি ব্যবহার করেছিল। এটি ১৯৭৬ সালে ভেঙে পড়ে।<ref>এলিজাবেথ স্কোলমেন। স্যান্ড্রা জ্যাকসন-ওপোকু এবং মাইকেল ওয়েস্ট। ফ্রম হোমল্যান্ড টু টাউনশিপ। http://www.worldandi.com/public/1994/april/cl1.cfm</ref> আফ্রিকার কিছু অংশে (প্রধানত পশ্চিম আফ্রিকায়) র‍্যাপ আমাদের জানা মতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এতে একটি টুইস্ট আছে। আফ্রিকান র‍্যাপ শিল্পীরা তাদের উৎপাদন এবং গানের গঠনে অনেক আমেরিকান প্রভাব ব্যবহার করে। তবে তাদের খুব আলাদা কণ্ঠ শৈলী, যন্ত্র এবং গানের কথা রয়েছে। পশ্চিমা র‍্যাপ এবং আফ্রিকান সঙ্গীতের এই মিশ্রণটিকে কখনও কখনও "হাই-লাইফ" বলা হয়।<ref>কেনেথ বি. নোবেল, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আগস্ট ২৩, ১৯৯২, http://www.nytimes.com/1992/08/23/arts/many-accents-rap-around-world-west-africa-king-yields-new-messenger.html</ref> র‍্যাপ কেবল সঙ্গীতের একটি ধারা। রেডিওতে যা শোনা যায় তার চেয়ে এটি অনেক গভীরে যায়।<ref>দ্য রিয়েল ওয়ার্ল্ড</ref> র‍্যাপ সারা বিশ্বের সংস্কৃতিতে ভূমিকা পালন করে। সারা বিশ্বের র‍্যাপ শিল্পীদের নিজস্ব শৈলী এবং মৌলিকতা রয়েছে। এমনকি একটি শহর বা পাড়ার বিভিন্ন অংশের র‍্যাপ শিল্পীদেরও নিজস্ব শৈলী থাকে। যদিও বেশিরভাগ র‍্যাপার অন্য শিল্পীর শৈলী 'বাইট' বা অনুলিপি করে, তবে তারা নিজস্ব শৈলী থাকা এবং নিজস্ব উপায়ে অনন্য হওয়ার জন্য পরিচিত হতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রে র‍্যাপ অত্যন্ত প্রভাবশালী হতে পারে। র‍্যাপ শিল্পীরা একে অপরের সাথে 'বিফ' নামক একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। র‍্যাপ সংস্কৃতির সমস্যার কারণে তারা ঘৃণা সম্পর্ক বা বিবাদ তৈরি করে। সহিংসতায় না গিয়ে তারা কখনও কখনও প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় হিসেবে তাদের শত্রুদের সম্পর্কে র‍্যাপ করে। তবে এটি কখনও কখনও সহিংসতা প্ররোচিত করতে পারে এবং শিল্পীরা তাদের জীবন হারাতে পারে। টুপাক (টুপাক শাকুর) এবং দ্য নটোরিয়াস বি.আই.জি. (ক্রিস্টোফার ওয়ালেস) হলো সবচেয়ে পরিচিত র‍্যাপ শিল্পীদের মধ্যে কয়েকজন। তারা সহিংসতার মাধ্যমে তাদের 'বিফ' সমাধান করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তারা দুজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। র‍্যাপ সঙ্গীতে সহিংসতা এবং ভাষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ববি এল. রাশ একটি শুনানির আয়োজন করেছিলেন। সেখানে আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট র‍্যাপের উৎপাদনে সঙ্গীত শিল্প নির্বাহীদের তাদের কোম্পানির ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। একপর্যায়ে র‍্যাপ শিল্পী ৫০ সেন্টের গানের কথা উচ্চস্বরে পড়ার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল (গানের কথাগুলো স্পষ্ট বলে পরিচিত)। কিছু পিতামাতা মনে করেন যে তাদের শিশুরা র‍্যাপ সঙ্গীতে সহিংসতার কারণে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ এটি তাদের জীবনের মূল্য কমিয়ে দেয়। মার্কিন কংগ্রেস এবং সমাজ একইভাবে একটি ছেঁড়া পরিস্থিতিতে রয়েছে। তারা সমাজের জন্য আরও ইতিবাচক বার্তার সাথে 'পরিষ্কার' সঙ্গীত কামনা করে। তারা শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখারও প্রত্যাশা করে।<ref>জেফ লিডসের "হিয়ারিং ফোকাসেস অন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ভায়োলেন্স ইন র‍্যাপ মিউজিক"</ref> ===হিপ-হপ=== হিপ-হপ ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে রাস্তার শিল্প হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। হিপ-হপ সাউথ ব্রঙ্কসে শ্রমজীবী আফ্রিকান-আমেরিকান, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান এবং ল্যাটিনোদের অধীনে শুরু হয়েছিল। যুব হিপ-হপ চারটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত: র‍্যাপ (কণ্ঠ), ডিজে (রেকর্ড বাজানো এবং প্রযুক্তিগত ম্যানিপুলেশন), গ্রাফিতি (অ্যারোসল শিল্প) এবং বি-বয় বা বি-গার্ল (ফ্রিস্টাইল নাচ)। হিপ-হপের এই চারটি উপাদান তরুণ জনসংখ্যার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। তারা এই প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী এবং অভিব্যক্তিপূর্ণ কার্যকলাপগুলোর মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করছিল।<ref>কড্রিংটন, রেমন্ড ওয়ান প্ল্যানেট আন্ডার আ গ্রুভ: হিপ-হপ অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্ট। দ্য ব্রঙ্কস মিউজিয়াম অব দ্য আর্টস, ব্রঙ্কস, নিউ ইয়র্ক। অক্টোবর ২৬, ২০০১—মার্চ ৩, ২০০২; ওয়াকার আর্ট সেন্টার, মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা, জুলাই ১৪-অক্টোবর ১৩, ২০০২; স্পেলম্যান কলেজ মিউজিয়াম অব ফাইন আর্ট, আটলান্টা, জর্জিয়া, স্প্রিং ২০০৩।http://www3.interscience.wiley.com/cgi-bin/fulltext?ID=120130073&PLACEBO=IE.pdf&mode=pdf</ref> এই ধরনের সঙ্গীত সারা বিশ্বে ভ্রমণ করেছে। বিভিন্ন সংস্কৃতির অনেক লোক এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে "হিপ-হপ" ধারণাটি নিচ্ছে এবং তাদের নিজস্ব করছে। উদাহরণস্বরূপ সেনেগালের ডাকার শহরের শিল্পীরা সঠিক সরকার ছাড়াই তাদের রাজনৈতিক মতামত এবং সংগ্রাম প্রকাশ করতে হিপ-হপ ব্যবহার করে। এটি "ডেমোক্রেসি ইন ডাকার" নামক সুরকারদের তৈরি একটি তথ্যচিত্রে আলোচনা করা হয়েছে। ডাকারের হিপ-হপ সঙ্গীত সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হিপ-হপের চেয়ে বেশি বিতর্কিত এবং রাজনৈতিক। তাদের সরকারের সাথে লড়াইয়ের কারণে এমনটা হয়েছে।<ref>"ডেমোক্রেসি ইন ডাকার" তথ্যচিত্র</ref> হিপ-হপকে আধুনিক যুগের ব্লুজের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি ব্যথা এবং সংগ্রাম প্রকাশের একটি রূপ হিসেবে বিবেচিত। সংগ্রামই বিশ্বজুড়ে হিপ-হপকে আলাদা করে তোলে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ব্যথা এবং সংগ্রাম রয়েছে। এগুলো গানে শোনা এবং হাইলাইট করা যেতে পারে। বাইরে থেকে সমস্ত হিপ-হপ সংস্কৃতি দেখতে এবং শুনতে একই রকম হতে পারে। তবে কেউ গানের বিষয়বস্তু এবং বিটের কাঠামোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারে। আরও রাজনৈতিকভাবে সচেতন দেশগুলোতে হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের দেশের রাজনৈতিক সংগ্রাম সম্পর্কে র‍্যাপ করে। সেনেগাল তার একটি উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কঠিন পাড়ায় বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক বার্তা উভয় সম্পর্কে গানের কথা শুনতে পারেন। হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের গানে নির্বাচন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং নিপীড়ন অন্তর্ভুক্ত করে। কিছু মূলধারার শিল্পীর কাছে কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড শিল্পীর মতো বেশি বিতর্কিত গানের কথা নাও থাকতে পারে। তবে বার্তাগুলো এখনও সেখানে রয়েছে। ইয়ান কনড্রি একজন সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৯৫ সালে দেড় বছর ধরে জাপানি হিপ-হপ অধ্যয়ন করেছিলেন। তার কাজ দেখিয়েছে কীভাবে জাপানি হিপ-হপ মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে। তবে এখন এটি নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে। জাপানি হিপ-হপ সংস্কৃতি যুক্তরাষ্ট্রের মতোই। সেখানে লোকেরা পরিচিত পারফর্মারদের কথা শুনতে ক্লাবে যায়। তবে টোকিওতে একটি শো মধ্যরাতে শুরু হবে এবং সকাল ৫টায় শেষ হবে। এসব ক্লাবে লোকেরা কেবল নাচবে না, তারা ব্যবসায়িক চুক্তিও করবে। আরেকটি পার্থক্য হলো পরিচিত হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের পিতামাতার সাথে বাড়িতে থাকেন। তারা অন্য সবার মতো তাদের বাকি জীবনযাপন করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক আলাদা। সেখানে হিপ-হপ শিল্পীরা দেশের সবচেয়ে ধনী এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। জাপানি নৃত্যশিল্পী এবং শিল্পীরা কিছু নির্দিষ্ট নাইটক্লাবকে জাপানি হিপ-হপ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা একে "গেনবা" (বা "প্রকৃত সাইট") হিসেবে বিবেচনা করেন। এসব নাইটক্লাবে হিপ-হপ পরিবেশিত হয়। এটি উপভোগ করা হয় এবং তারপর স্থানীয় ভাষা ও এসব ক্লাবের সমাজের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়। এসব নাইটক্লাব নর্তকী, শিল্পী, লেখক এবং সঙ্গীত কোম্পানির লোকেদের মেলামেশার জায়গাও।<ref>কনড্রি, ইয়ান। http://www.newglobalhistory.com/docs/japanese_hip-hop.pdf</ref> ===কান্ট্রি মিউজিক=== [[Image:JohnnyCash1969.jpg|thumb|left|80px|জনি ক্যাশ]] কান্ট্রি মিউজিক ১৯২০ এর দশকের গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ফোক মিউজিক থেকে এর উৎপত্তি হয়েছিল। এই সঙ্গীত শৈলী মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল থেকে এসেছে। প্রাথমিক কান্ট্রি মিউজিক সর্বকালের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই শিল্পী তৈরি করেছিল। তারা হলেন জনি ক্যাশ এবং হ্যাঙ্ক উইলিয়ামস। যদিও তাদের মৃত্যুর আগে সঙ্গীতে তাদের প্রভাব স্বীকৃত হয়নি। তবে উভয়েই নিশ্চিতভাবে গানের কথা লেখার ধরন এবং সমস্ত ঘরানার সঙ্গীত ইতিহাসে গান পরিবেশনের ধরনকে রূপ দিয়েছেন। ২০০৬ সালে কান্ট্রি মিউজিক ১৭.৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে। কয়েক দশক ধরে এই সঙ্গীত স্থির রয়েছে। এটি রেডিওতে প্রতিদিন ৭৭.৩ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে পৌঁছায়। কান্ট্রি মিউজিক শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই বড় ঘরানা নয়। অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশগুলোতে এটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। কান্ট্রি মিউজিকে অনেক শৈলী এবং শব্দ রয়েছে যা বিভাগে রাখা হয়েছে। কান্ট্রি মিউজিকের দেওয়া ধরনের মধ্যে রয়েছে হিলবিলি বুগি, ব্লুগ্রাস, ফোক, গসপেল, হঙ্কি টঙ্ক, রোকাবিলি, কান্ট্রি সোল, কান্ট্রি রক, আউটল, কান্ট্রি পপ, নিও-কান্ট্রি, ট্রাক ড্রাইভিং কান্ট্রি এবং অল্টারনেটিভ কান্ট্রি। ===আক্যাপেলা=== আক্যাপেলা হলো কেবল কণ্ঠ পরিবেশনের একটি শৈলী। এটি স্বতন্ত্র কারণ এটি কোনো সঙ্গত ছাড়াই কণ্ঠ পরিবেশন করে। অনেক সময় মানুষ যখন গান গায়, তখন এটি পিয়ানো, গিটার বা বিভিন্ন অন্যান্য যন্ত্রের সাথে করা হয়। তবে আক্যাপেলা শৈলীর গান কোনো অতিরিক্ত যন্ত্রের পরিবেশন ছাড়াই চিহ্নিত করা হয়।<ref>ম্যাকেঞ্জি চেম্বারস, গায়কদল গান এবং পারফর্ম করার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা</ref> আক্যাপেলা আক্ষরিক অর্থে 'চ্যাপেলের পদ্ধতিতে' অনুবাদ করে। কারণ সঙ্গীত ঐতিহ্যগতভাবে চার্চে বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই পরিবেশিত হত। জেরুজালেমের মন্দিরে পরিষেবাগুলোতে বাদ্যযন্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে মন্দির ধ্বংসের পরে ঐতিহ্যবাহী ইহুদি ধর্মীয় পরিষেবাগুলোতে বাদ্যযন্ত্র অন্তর্ভুক্ত নেই। খেলোয়াড়রা তাদের যন্ত্র মেরামতের প্রলোভনে পড়তে পারে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্রামের দিনে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই দিনগুলোতে এটি নিষিদ্ধ। (এই নিষেধাজ্ঞা অনেক সংস্কার এবং কিছু রক্ষণশীল মণ্ডলীতে শিথিল করা হয়েছে।) একইভাবে ইহুদি পরিবার এবং বৃহত্তর দলগুলো যখন জেমিরোট নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী বিশ্রামের দিনের গান গায়, তখন তারা সাধারণত আক্যাপেলা পদ্ধতিতে তা করে। এটি তারা আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় পরিষেবার প্রেক্ষাপটের বাইরে করে। বিশ্রামের দিনে বার এবং ব্যাট মিটজভাহ উদযাপনে কখনও কখনও আক্যাপেলা সমবেতদের দ্বারা বিনোদন দেওয়া হয়। তিন সপ্তাহের সময় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ঐতিহ্যগতভাবে নিষিদ্ধ। অনেক ইহুদি পাসওভার এবং শাভোটের মধ্যে ওমের গণনার ৪৯ দিনের সময়ের একটি অংশকে আধা-শোকের সময় বলে মনে করেন। সেই সময় বাদ্যযন্ত্রের অনুমতি নেই।<ref>http://www.yeshiva.org.il. বেট এল ইয়েশিভা সেন্টার। http://www.yeshiva.org.il/midrash/Shiur.asp?id=2262. ৩ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে সংগৃহীত।</ref> এর ফলে আক্যাপেলা গানের ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে যা কখনও কখনও সেফিরাহ সঙ্গীত নামে পরিচিত।<ref>শিরকাগো, জিউইশ আ ক্যাপেলা অ্যান্ড সেফিরাত ওমের।</ref> ====বারবারশপ স্টাইল==== [[File:BarbershopQuartet_Disneyworld.jpg|thumb|right|ডিজনি ওয়ার্ল্ডে বারবারশপ কোয়ার্টেট।]] "পুরো বিশ্বকে গাইতে রাখুন" (barbershop.org) বারবারশপ হারমনি সোসাইটির মূলমন্ত্র। ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রেট ব্রিটেনের মতো বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সাথে অনুমোদিত বারবারশপ সোসাইটি। বারবারশপ শৈলীতে সম্প্রীতি উদযাপন করা, শুভাকাঙ্ক্ষী পুরুষদের মধ্যে ফেলোশিপ এবং বন্ধুত্বের প্রচার করা এর উদ্দেশ্য। কেউ বিভিন্ন সময়কাল এবং ঘরানার বারবারশপ গান খুঁজে পেতে পারে। এটি প্রত্যেককে বারবারশপ শৈলীর সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়। এর উদাহরণ হলো জাস্টিন টিম্বারলেকের "সেক্সিব্যাক", মাইকেল জ্যাকসনের "থ্রিলার", বিওয়াইইউ-র "সুপার মারিও ব্রোস মেলোডি" এবং রিয়েলটাইম কোয়ার্টেটের দ্বারা পরিবেশিত "কাম ফ্লাই উইথ মি"। একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো বারবারশপ শৈলীর সঙ্গীত কেবল পুরুষদের জন্য লেখা এবং গাওয়া হয়। নারী বারবারশপ কোয়ার্টেটগুলোও বিদ্যমান এবং অনেক উন্নতি লাভ করেছে। এদের কখনও কখনও "বিউটিশপ কোয়ার্টেট" বলা হয়। চার অংশের নারী গ্রুপগুলোর জন্য একটি সমাজ হলো দ্য সুইট অ্যাডেলিনস ইন্টারন্যাশনাল ( [http://www.youtube.com/watch?v=EPZ8kviUw6E ইউটিউব ভিডিও দেখুন] )। সবচেয়ে পরিচিত "পপ" গ্রুপগুলোর মধ্যে একটি হলো দ্য কর্ডেটস। তাদের "মিস্টার স্যান্ডম্যান" এবং "ললিপপ" গানের কারণে তারা বিখ্যাত হয়েছিল।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Barbershop_music#Female_Barbershop_music_and_.22Beautyshop.22_quartets</ref> ===কাজুন, ক্রেওল এবং জাইদেকো মিউজিক=== কাজুন শৈলী এবং ক্রেওল সঙ্গীতের প্রভাব কেবল দক্ষিণ-পশ্চিম লুইসিয়ানায় পাওয়া যেতে পারে। এটি জাইদেকোতে বিকশিত হয়েছিল, যা একটি আরও সমসাময়িক রূপ। এটি ইউরোপীয়, আফ্রিকান এবং আমেরিন্ডিয়ান শৈলীর মিশ্রণ। এই সঙ্গীতটি গুণাবলীতে অনন্য। এটি ১৭৫৫ সালে নোভা স্কোশিয়া থেকে এসেছিল বলে দাবি করা হয়। কারণ অ্যাকাডি তাদের সাথে ফরাসি উৎপত্তির সঙ্গীত নিয়ে এসেছিল। সঙ্গীতের মাধ্যমে বলা গল্পগুলো ইউরোপীয় গল্প থেকে এসেছে। নতুন বিশ্বের দক্ষিণে জীবনধারা এবং জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে মানানসই করার জন্য এগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এবং ১৯শ শতাব্দীর মধ্যে আফ্রিকান ছন্দের প্রভাবের মাধ্যমে সঙ্গীত রূপান্তরিত হয়েছে। ব্লুজ এবং ইমপ্রোভাইজেশনাল গানের পাশাপাশি নেটিভ আমেরিকানদের থেকে প্রাপ্ত অনেক গানের শৈলী এবং কৌশল এতে ব্যবহৃত হয়। বেহালা গান এবং নাচের জন্য ব্যবহৃত হত। ব্যারি অ্যানসেলেট তার মনোগ্রাফ ''কাজুন মিউজিক: ইটস অরিজিন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে'' বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন কীভাবে ক্যাপেলা নৃত্য নাচের জন্যও ব্যবহৃত হত। এটি হাততালি দেওয়া এবং পা ঠোকার মাধ্যমে ছন্দ ও বিট সরবরাহ করত।<ref>http://www.lsue.edu/acadgate/music/history.htm</ref> ===জ্যামাইকা: দ্য মেন্টো=== ১৯৫১ সালে প্রথম জ্যামাইকান রেকর্ডিং স্টুডিও চালু হয়। ইউরোপীয় এবং আফ্রিকান লোকনৃত্য সঙ্গীতকে একত্রিত করে একটি নতুন ধরনের সঙ্গীত তৈরি করা হয়েছিল। ক্লেমেন্ট ডড ("ডাউনবিট") এবং ডিউক রিডের ("ট্রোজান") মতো ডিস্ক-জকিরা তাদের সঙ্গীত বাজাতে দ্বীপের চারপাশে ভ্রমণ করতেন। জ্যামাইকান ঘেটোর লোকেরা ব্যান্ডের খরচ বহন করতে অক্ষম ছিল। তাই তারা ডড এবং রিডের মতো লোকদের নিয়োগ করেছিল। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে এটি ক্যারিবিয়ান সঙ্গীত এবং নিউ অরলিন্সের "রিদম অ্যান্ড ব্লুজে" রূপান্তরিত হয়। সময়ের সাথে সাথে সঙ্গীতটি স্কা সহ একটি প্রভাবশালী খাদ বাদ্যযন্ত্রে পরিবর্তিত হয়।<ref>http://www.scaruffi.com/history/reggae.html</ref> ===স্কা=== স্কা হলো একটি বাদ্যযন্ত্র ঘরানা যা ১৯৫০ এর দশকে জ্যামাইকায় উদ্ভূত হয়েছিল। এটি রকস্টেডি এবং রেগে তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়। স্কার ইতিহাস সাধারণত তিন ভাগে বা তরঙ্গে বিভক্ত। প্রথম তরঙ্গ হলো মূল স্কা দৃশ্য যা জ্যামাইকায় বিকশিত হয়েছিল। দ্বিতীয়টি হলো সেই দৃশ্য যা ১৯৭০-এর দশকে ব্রিটেনে বিকশিত হয়েছিল। এই সঙ্গীত মূল জ্যামাইকান স্কা থেকে আলাদা। কারণ এতে সাধারণত আরও সুগঠিত রচনা, দ্রুত টেম্পো এবং কম পালিশ করা নান্দনিকতা ছিল। উপরন্তু উভয় প্রভাব পাঙ্ক-রক থেকে টানা হয়। কভেন্ট্রি, ইংল্যান্ডের একটি ২-টোন স্কা ব্যান্ড দ্য স্পেশালসকে সাধারণত প্রত্নতাত্ত্বিক দ্বিতীয়-তরঙ্গ স্কা ব্যান্ড হিসেবে দেখা হয়। স্কার তৃতীয় তরঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের বেশিরভাগ শিল্পী জড়িত ছিল। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই সময়টি প্রথমবার স্কা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তৃতীয় তরঙ্গের ব্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রিটলাইট ম্যানিফেস্টো, রিল বিগ ফিশ এবং মাস্টার্ড প্লাগ। http://www.sfgate.com/entertainment/article/A-brief-history-of-ska-3221107.php ===রেগে=== [[File:Bob-Marley-in-Concert_Zurich_05-30-80.jpg‎|thumb|left|বব মার্লে তর্কাতীতভাবে সবচেয়ে বড় রেগে আইকন এবং শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক।]] রেগে হচ্ছে ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে জ্যামাইকার উদ্ভূত হওয়া সঙ্গীত এমন একটি ঘরানা। এটি তৃণমূল যোদ্ধাদের লড়াইয়ের কথা বলে। অফবিটের পূজা করা রেগে প্রায়শই প্রতিটি বারের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বিটকে উচ্চারণ করে। জ্যামাইকানদের কাছে রেগে মানে "রাজার সঙ্গীত"। এটি যে রাজাকে নির্দেশ করে তিনি হলেন ইথিওপিয়ার সম্রাট হেইল সেলাসি। রেগে গ্রুপগুলো লিড এবং রিদম গিটার, পিয়ানো, অর্গান, ড্রামস এবং ইলেকট্রিক বেস গিটারসহ আধুনিক পরিবর্ধিত যন্ত্র ব্যবহার করে। এর সাথে জ্যামাইকান তালবাদ্য যন্ত্রগুলো (চার্লটন, ক্যাথরিন। "রক মিউজিক স্টাইলস") ব্যবহার করে। রেগে রেকর্ডে পাওয়া সাধারণ থিমগুলোর মধ্যে রয়েছে শান্তি, ভালোবাসা, ধর্ম, দারিদ্র্য বা অবিচার। রেগে-স্টাইলের রিডিম প্রদর্শন করা জনপ্রিয় রক অ্যান্ড রোল গানের একটি পরিচিত উদাহরণ হলো বিটলসের "ওব-লা-দি, ওব-লা-দা"। রেগের শিকড় [[w:রাস্তাফারি আন্দোলনের|রাস্তাফারি আন্দোলনের]] সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত। এটি কখনও কখনও গাঁজা ধূমপানের মাধ্যমে জাহের প্রশংসাকে উৎসাহিত করে। ===ফিলিপিনো সঙ্গীত=== পাশ্চাত্য সঙ্গীত ফিলিপাইনের সঙ্গীতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এর সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হলো একটি ঐতিহাসিক তথ্য। ফিলিপাইন হলো সবচেয়ে পুরোনো পাশ্চাত্য-উপনিবেশিত এশীয় দেশ। তারা সাড়ে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দুটি মূলধারার পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে ছিল। স্পেন এবং অ্যাংলো-স্যাক্সনদের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরীয় সংস্কৃতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।<ref>মেলি লিয়ানডিচো লোপেজ, http://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=jGssp-oJrT8C&oi=fnd&pg=PR9&ots=AkIE1UuF_W&sig=3HgNdiP8xcqu01BDDBJxoIKw1q4</ref> [http://www.asiarooms.com/travel-guide/philippines/culture-of-philippines/music-and-dance-of-philippines.html]। ফিলিপিনো সঙ্গীতের ধ্রুপদী পরিবেশনা সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মিশ্রণ দেখায়। এর মানে এই নয় স্থানীয় রচনা পাওয়া যাবে না। তবে সিম্ফনি, সোনাটা এবং কনসার্টোর মতো পাশ্চাত্য সঙ্গীতের রূপের সূক্ষ্মতাগুলো খুব বেশি ব্যবহৃত হয়। ফিলিপিনো সঙ্গীত আন্তোনিও মোলিনা, ফেলিপ প্যাডিলা দে লিওন, এলিসিও পাজারো এবং হোসে মাসেদার মতো আন্তর্জাতিক সুরকার তৈরি করেছে। হোসে মাসেদা দেশের অগ্রগামী সুরকার হিসেবে পরিচিত। ফিলিপিনো সঙ্গীত সাধারণত ঐতিহ্যবাহী এবং দেশীয় বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বাজানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঁশের তারযুক্ত জিথার, নলাকার বাঁশের অনুনাদক, কাঠের লিউট ও গিটার এবং গিট-গিট নামের একটি কাঠের তিন তারের ধনুকযুক্ত বাদ্যযন্ত্র। ফিলিপিনো সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব লোকগান রয়েছে। এগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়। যেমন হেলে হলো একটি ঘুমপাড়ানি গান, তালিন্দাও হলো একটি সামুদ্রিক গান, কুমিনতাং হলো একটি যোদ্ধাদের গান এবং কুন্দিমান হলো একটি প্রেমের গান। ===কে-পপ=== কোরিয়ান পপ সঙ্গীত নব্বইয়ের দশক থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর আগ পর্যন্ত এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েনি। এটি 'হাল্যু ওয়েভ' নামেও পরিচিত। কোরিয়ান পপ একটি বিশ্বব্যাপী ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এটি মার্কিন বিলবোর্ড এবং আইটিউনস চার্টে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএস ২০১৬ সালের অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিলবোর্ড চার্টে বিশ্বব্যাপী অ্যালবামের তালিকায় এক নম্বরে অবস্থান করে শিরোনাম তৈরি করেছে।<ref>http://www.billboard.com/articles/columns/k-town/7549104/bts-korean-boy-band-kpop-record-break</ref> কে-পপ একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কোরিয়ান সমাজে এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে। তখন ট্রট নামের সঙ্গীতের একটি জনপ্রিয় ধারা ছিল। এর সুর ফক্সট্রটের মতো ছিল। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত কোরিয়ার পপ সঙ্গীত রূপান্তরিত হয়নি। এরপর এটি টেকনো, র‍্যাপ এবং রকের মতো আমেরিকান শৈলী অন্তর্ভুক্ত করে। বয় ব্যান্ড এবং গার্ল ব্যান্ড গঠনও একটি প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। কে-পপের এই নতুন শৈলী পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এগুলোর মধ্যে চীন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম এবং জাপান অন্যতম।<ref>চো, ইয়ংহান। "Desperately Seeking East Asia Amidst The Popularity Of South Korean Pop Culture In Asia." (এশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার পপ সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার মাঝে মরিয়া হয়ে পূর্ব এশিয়াকে খোঁজা।)" ''কালচারাল স্টাডিজ'' ২৫.৩ (২০১১): ৩৮৩-৪০৪। অ্যাকাডেমিক সার্চ কমপ্লিট। ওয়েব। ৩০ নভেম্বর ২০১৬।</ref> <br>কে-পপকে ঘিরে সংস্কৃতি সবসময়ই আকর্ষণীয় এবং বিতর্কিত। বড় বিনোদন কোম্পানিগুলো অডিশনের আয়োজন করে। তারা ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণদের খুঁজে বের করে। এই কিশোর-কিশোরীদের কয়েক বছর ধরে নাচ, গান এবং বিনোদন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারা একটি দলে আত্মপ্রকাশের উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলে। অনেক পাশ্চাত্য সঙ্গীত দলে ব্যান্ডের নিজেদের কন্টেন্টের ওপর অনেক স্বাধীনতা থাকে। কোরিয়ান পপ গ্রুপগুলোর ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। বেশিরভাগ কোরিয়ান পপ গ্রুপ তাদের তৈরি কন্টেন্টের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। এই ব্যান্ডগুলো পরিচালনা করা বিনোদন কোম্পানিগুলোর সাধারণত নিজস্ব দল থাকে। তারা সঙ্গীত তৈরি করে, নাচের কোরিওগ্রাফি করে এবং এমনকি সদস্যদের চেহারাও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে বেশিরভাগ গ্রুপ শুধুমাত্র পুরুষ বা শুধুমাত্র নারীদের নিয়ে গঠিত। অনেক কে-পপ আইডল পুরোপুরি কোরিয়ান নন বা আদৌ কোরিয়ান নন। গত কয়েক বছরে বিনোদন কোম্পানিগুলো অন্যান্য দেশে অডিশনের আয়োজন করেছে এবং বিদেশী প্রতিভা খুঁজেছে। এটি সত্যই এটিকে বিশ্বব্যাপী স্তরে স্থাপন করে। ==সাহিত্য== সাহিত্য বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। গুরুত্বপূর্ণ লিখিত কাজ পড়তে এবং আলোচনা করতে প্রচুর সময় ব্যয় করা হয়। বইগুলো পাঠকদের বিভিন্ন সময়কাল এবং সামাজিক পরিমণ্ডলের সাথে সংযুক্ত করে। উপন্যাসের পাঠকদের অনেক কিছু শেখানোর আছে। বন্ধুত্ব, প্রেম এবং আনুগত্যের থিমগুলো প্রায়শই স্পর্শ করা হয়। এটি একজন পাঠকের কাছে পৌঁছায় এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। অতীত সম্পর্কে লেখা বইগুলো ভুল থেকে শেখার গুরুত্বের সতর্কতা হতে পারে। অথবা এটি একজন পাঠকের জন্য ভিন্ন সংস্কৃতির কারো সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি উপায় হতে পারে। সাহিত্যের অধ্যয়ন সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অতীত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নতুন ধারণার বিকাশ ঘটে। ===প্রভাবশালী লেখক=== ====জে.আর.আর. টলকিয়েন==== জে.আর.আর. টলকিয়েন ''লর্ড অব দ্য রিংস'' এবং ''দ্য হবিট'' বই সিরিজের লেখক। তাকে "হাই ফ্যান্টাসি" ধারার জনক বলা হয়।<ref>{{cite web|url=http://video.google.com/videoplay?docid=8119893978710705002|title=J. R. R. Tolkien: Father of Modern Fantasy Literature|trans-title=জে. আর. আর. টলকিয়েন: আধুনিক ফ্যান্টাসি সাহিত্যের জনক|accessdate=২০ জুলাই ২০০৬|author=মিচেল, ক্রিস্টোফার|format=গুগল ভিডিও|work="লেট দেয়ার বি লাইট" সিরিজ|publisher=[http://www.uctv.tv/ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় টেলিভিশন]}}.</ref> তিনি বেশ কয়েকজন শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীকে প্রভাবিত করেছেন। টলকিয়েন তার লেখায় মানব অবস্থা, সংরক্ষণ এবং ক্ষমতার দুর্নীতির মতো বিশ্বব্যাপী এবং কালজয়ী থিমগুলো নিয়ে কাজ করেছেন। অনেক লেখকের মতো টলকিয়েন সাদৃশ্য ব্যবহার করতে অপছন্দ করতেন। এর পরিবর্তে তিনি এমনভাবে লিখেছিলেন যাতে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের পরিবর্তে মানব ইতিহাসের সামগ্রিক মতাদর্শগুলোকে আবদ্ধ করতে পারেন (যেমন জর্জ লুকাসের "স্টার ওয়ার্স" সাম্রাজ্য নাৎসি জার্মানির সাদৃশ্য ছিল)। টলকিয়েন তার গল্পে প্রকৃতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার জন্যও সমাদৃত। এর ফলে তার মহাকাব্য "দ্য লর্ড অব দ্য রিংস" অত্যন্ত একনিষ্ঠ পাঠক ছাড়া অন্যদের জন্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তী জীবনে টলকিয়েন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকর্মী লেখক সিএস লুইসের (দ্য ক্রনিকলস অব নার্নিয়ার লেখক) পাশাপাশি শিক্ষকতা করেন। তার সাথে তিনি দ্য ইনক্লিংস নামে একটি রাইটিং ক্লাব তৈরি করেন। তার অ্যাকাডেমিক সহকর্মীদের দ্বারা উৎসাহিত হয়ে তিনি মিডল আর্থের কল্পনার জগৎ তৈরি করেন। তিনি এলভসদের ভাষা, আরাগর্নের মতো চরিত্র, টম বোম্বাদিল এবং দুষ্ট সিগনদের আবিষ্কার করেন। মিডল আর্থ তৈরিতে টলকিয়েন ইংরেজি লোককাহিনী এবং পৌরাণিক কাহিনীর প্রভাবকে নর্স পৌরাণিক কাহিনী এবং বাইবেলের কাহিনীর সাথে একত্রিত করেছেন। টলকিয়েন লর্ড অব দ্য রিংস সিরিজের প্রাথমিক আখ্যান এবং পরিশিষ্ট লিখতে দশ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন। এই সময়ে তিনি সবসময় ইনক্লিংসের সমর্থন পেয়েছিলেন। বিশেষ করে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইসের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছিলেন [http://en.wikipedia.org/wiki/J._R._R._Tolkien]। টলকিয়েনের উপন্যাসগুলোতে প্রায়শই বয়স-বৃদ্ধির উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। উদাহরণস্বরূপ ''দ্য হবিট'' হিরোস জার্নি প্লট অনুসরণ করে।<ref>ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, <http://en.wikipedia.org/wiki/Monomyth>।</ref> তার উত্তরাধিকার তার ছেলে ক্রিস্টোফারের মাধ্যমে টিকে আছে। তিনি তার বাবার মরণোত্তর প্রকাশিত কাজগুলো সম্পাদনা করে জীবন কাটিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে দ্য সিলমারিলিয়ন এবং দ্য চিলড্রেন অব হুরিন অন্যতম। <ref>"অল ওয়ার্ল্ড নলেজ" - জেআরআর টলকিয়েন। অল ওয়ার্ল্ড নলেজ: সবকিছু এবং আরও অনেক কিছুর ওপর শিক্ষামূলক নিবন্ধ। ২৮ এপ্রিল ২০০৯ <http://www.allworldknowledge.com/tolkien/index.html>।</ref> ====জে.কে. রাউলিং==== জে.কে. রাউলিং তার তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ফ্যান্টাসি উপন্যাস সিরিজ ''হ্যারি পটারের'' জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সিরিজটি খ্যাতি পাওয়ার পর থেকে তিনি একজন প্রভাবশালী সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। ''হ্যারি পটার'' ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি বিশ্বব্যাপী এবং সাংস্কৃতিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। উপন্যাসগুলো শিশু, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিক্রিত বইয়ের সিরিজে পরিণত হয়েছে। হ্যারি পটারের কল্পনার জগৎ তৈরিতে রাউলিং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী থেকে প্রচুর অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। বিশেষ করে পৃথিবীতে বসবাসকারী চমত্কার প্রাণী এবং ইউরোপীয় জাদুবিদ্যার লোককাহিনীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। পৌরাণিক কাহিনী এবং লোককাহিনীর এই বৈশিষ্ট্যগুলো ''হ্যারি পটার'' সিরিজকে ব্যাপক দর্শকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলে। তারা পশ্চিমা ইউরোপীয় এবং আমেরিকান সংস্কৃতির শত শত বছর ধরে থাকা লোককাহিনীর সাথে পরিচিত। এগুলো পাঠযোগ্যতার কারণে ব্যাপক দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে। তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের উপন্যাস হওয়ায় এগুলো শিশুদের পড়ার জন্য যথেষ্ট সহজ। আবার প্রাপ্তবয়স্কদের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট জটিল। ''হ্যারি পটার'' উপন্যাসগুলো এভাবে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে। এগুলো সাহিত্যের মূল্যবোধের একটি উৎস হয়ে উঠেছে। কারণ এগুলো অনেক তরুণ পাঠককে সাহিত্য সাধনায় উৎসাহিত করেছে এবং গত বিশ বছরে শিশু ও কিশোর পাঠকদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। উপন্যাসগুলোকে শুধু তাদের বিপুল জনপ্রিয়তায় নয়, বরং তাদের প্রচারিত মূল্যবোধেও একটি সাংস্কৃতিক প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। শিশুদের নৈতিকতার বিকাশের ক্ষেত্রে পশ্চিমা সাংস্কৃতিক মান অনুযায়ী এগুলোকে সাধারণত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়। কল্পকাহিনী, পৌরাণিক কাহিনী, বীরত্বগাথা এবং অন্যান্য চমত্কার গল্পগুলো দীর্ঘকাল ধরে শিশুদের (এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদেরও) আচরণ উৎসাহিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি নৈতিকতার সাংস্কৃতিক নিয়ম মেনে চলে। এই প্রবণতাটি ''হ্যারি পটার'' সিরিজের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। এর ব্যাপক প্রভাব নিশ্চিত করে যে উপন্যাসগুলোতে উপস্থাপিত সাংস্কৃতিক গুণাবলী অসংখ্য তরুণ পাঠকদের মনে গেঁথে যায়। ====চাক পালাহনুইক==== চার্লস মাইকেল পালাহনুইক জনপ্রিয় এবং অনন্য উপন্যাসের জন্য কয়েকটি বই লিখেছেন। তিনি এমন উপন্যাস তৈরি করেছেন যা হরর হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ কিন্তু অতিপ্রাকৃত ঘটনা ধারণ করে না। তার বইগুলোকে হরর ধারায় রাখা হয় কারণ তার চরিত্রগুলো সমাজ দ্বারা আকৃতি পায়। তারা আঘাতমূলক ঘটনার মধ্য দিয়ে যায় যা তাদের আত্ম-ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। চাকের বইগুলো একটি অদৃশ্য জানালা তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষ দেখতে পারে সমাজ মানুষকে কী করতে বাধ্য করতে পারে। বলা হয় যে চাক পালাহনুইক মিনিমালিস্ট টম স্প্যানবাওয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।<ref>[http://www.illiterarty.com/biography-chuck-palahniuk]</ref> টম স্প্যানবাওয়ারের রাইটিং ওয়ার্কশপই চাককে তার উপন্যাসগুলো শুরু করতে সাহায্য করেছিল। এর মধ্যে তার প্রথম উপন্যাস "ইনভিজিবল মনস্টার" অন্যতম। প্রকাশকরা এটি প্রথমবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ এটিকে খুব বেশি বিরক্তিকর বলে মনে করা হয়েছিল। মানুষ দেখতে পায় যে চাক সমাজ সম্পর্কে যে ভয়ানক সত্য প্রকাশ করেন তা সাধারণ মানুষের জন্য খুব বেশি হতে পারে। ====প্লেটো==== বিবৃতিবিদ্যা এবং কবিতা নিয়ে প্লেটোর আলোচনা বিস্তৃত এবং প্রভাবশালী উভয়ই। মাধ্যমিক স্কুল, উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের ছাত্রদের মধ্যে শিক্ষাদান করে তিনি পরবর্তী ঐতিহ্যের জন্য আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করেন। তবে এই বিষয়গুলোর প্রতিটি সম্পর্কে তার মন্তব্য বোঝা আমাদের উল্লেখযোগ্য দার্শনিক এবং ব্যাখ্যামূলক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে। কেন তিনি দুটি বিষয়কে এত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছেন তা স্পষ্ট নয় (তিনি পরামর্শ দেন যে কবিতা এক ধরনের বিবৃতিবিদ্যা)। প্লেটোর বিখ্যাত উক্তি হলো "দর্শন এবং কবিতার মধ্যে একটি পুরোনো বিবাদ রয়েছে" (রিপাবলিক, ৬০৭b৫-৬)। এটি নির্দেশ করে যে এই দুটি বিবৃতির মধ্যে মূল্যবোধের সংঘর্ষ রয়েছে। প্লেটো তার নিজস্ব লেখার কাব্যিক এবং বিবৃতিমূলক গুণাবলীর জন্য পরিচিত। যেমন দ্য ইলিয়াডে এটি দেখা যায় এবং দ্য ওডিসির মাধ্যমে এটি উপস্থাপিত হয়। <ref>"Homer and Plato." (হোমার এবং প্লেটো)" লটসঅবএসেজ। ২৬ এপ্রিল ২০০৯।</ref> ====হারুকি মুরাকামি==== হারুকি মুরাকামি কিয়োটোতে জন্মগ্রহণকারী একজন জাপানি লেখক। পাশ্চাত্য সংস্কৃতি দ্বারা তার গভীর প্রভাব প্রায়শই তার লেখায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা তাকে অন্যান্য লেখকদের থেকে আলাদা করে। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তার লেখার থিম এবং শিরোনামে ধ্রুপদী সঙ্গীতের অনেক উল্লেখ। তার কাজগুলো মূলত পরাবাস্তববাদী পোস্ট-মডার্ন কথাসাহিত্য নিয়ে গঠিত। মুরাকামির তার জাপানি ঐতিহ্যকে তার পাশ্চাত্য প্রভাবের সাথে মিশ্রিত করার একটি অনন্য উপায় রয়েছে। এটি পাঠকের কাছে পরিচিত অথচ বিদেশী বোধ তৈরি করে।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Haruki_Murakami#Biography</ref> ====স্টিফেন কিং==== সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী হরর ঘরানার লেখক হলেন স্টিফেন কিং। তার সাহিত্য বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছে এবং চলচ্চিত্র জগতেও প্রবেশ করেছে। তার লেখা গল্পগুলো সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ব্যবহৃত রেফারেন্সগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। যেমন (আইটি, ক্রিস্টিন, পেট সেমেটারি ইত্যাদি)। এই আইকনিক বই এবং চলচ্চিত্রের রূপান্তরগুলো উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে এবং সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকতে দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র পুনর্নির্মাণেও ফিরে এসেছে। এই সাহিত্য বদলে দিয়েছে কীভাবে অতিপ্রাকৃত এবং বাস্তবসম্মত হরর মিশ্রিত করে স্বাভাবিক বস্তু বা ধারণার প্রকৃত ভয় তৈরি করা যায়। এটি একটি শক্তিশালী অনুসারী গোষ্ঠী এবং সংস্কৃতি তৈরি করেছে।<ref>https://en.wikipedia.org/wiki/Stephen_King</ref> ===ডিজিটাল প্রকাশনা=== সাহিত্যের একটি সাম্প্রতিক বিকাশ হলো ডিজিটাল প্রকাশনার যুগ এবং ই-বুকের (ইলেকট্রনিক বুক) উত্থান। বই, সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিন কাগজে ছাপার পরিবর্তে ডিজিটাল প্রকাশনা পড়ার জন্য একটি পরিবেশবান্ধব এবং সুবিধাজনক উপায় তৈরি করেছে। ডিজিটাল প্রকাশনা এবং মুদ্রিত প্রকাশনার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ডিজিটাল প্রকাশনায় কোনো ভৌত কপি থাকে না। এর মানে হলো পণ্য তৈরি করতে কোনো কাগজ বা কালির প্রয়োজন হয় না। এটি সাহিত্যের জন্য একটি বিশাল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সুবিধাগুলো হলো সুবিধা এবং সহজলভ্যতা। ই-বুকের সাহায্যে ই-রিডার, ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে সাহিত্য পড়া যায়। তাই অল্প জায়গায় প্রচুর পড়ার উপকরণ রাখার বাড়তি সুবিধা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ জাপানে গণপরিবহনে ই-বুক খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ই-বুকের আগে মাঙ্গা, জাপানি গ্রাফিক নভেলের ছোট সংস্করণগুলো গণপরিবহনে বহন করা হতো এবং পড়া হতো। এখন মাঙ্গার ছোট সংস্করণগুলোর জায়গা নিয়েছে তাদের ই-বুক সংস্করণগুলো।<ref>http://www.utpjournals.press/doi/full/10.3138/jsp.46.2.03</ref> পাঠকরা কীভাবে সাহিত্য পেতে পারেন তার ওপর সহজলভ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি। লাইব্রেরি বা বইয়ের দোকানের মতো ডিজিটাল প্রকাশনার ধারণক্ষমতার কোনো সীমা নেই। লাইব্রেরি এবং বইয়ের দোকানগুলো কেবল সেই বইগুলোই সরবরাহ করবে যেগুলো ভাড়া নেওয়া বা কেনা হবে বলে আশা করা হয়। ই-বুক সাহিত্যের এক অন্তহীন জোগান তৈরি করে। হ্যারি পটার বা লর্ড অব দ্য রিংসের মতো বিশাল হিট থেকে শুরু করে একজন স্ব-প্রকাশকের অজানা কাজ পর্যন্ত সবই পাওয়া যায়। লেখক হ্যান্স রোসেনডাল এই প্রক্রিয়াটির সারসংক্ষেপ করে বলেছেন যে ডিজিটাল প্রকাশনা "লেখকদের তাদের কাজের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর ক্ষমতা দেয় বা পাঠকদের জন্য ডেটাবেস অনুসন্ধান সহজ করে তোলে। এর ব্যবহার তথ্য চক্রকে ছোট করে।"<ref>https://www.researchgate.net/publication/250987991_The_new_culture_of_electronic_publishing</ref> ই-বুকের সুপরিচিত পরিবেশক হলো অ্যাপল আইবুক, অ্যামাজন কিন্ডল, বার্নস অ্যান্ড নোবেল নুক বা গুগল প্লে বুকস্টোরের মতো বড় কোম্পানিগুলো। মুদ্রিত সাহিত্যের পতন দেখা যায় লাইব্রেরির পতন এবং নতুন ই-বুকের জগতের সাথে মানিয়ে না নেওয়া বড় বইয়ের দোকানগুলোর দেউলিয়া হওয়ার মধ্যে দিয়ে।<ref>http://www.slate.com/articles/business/moneybox/2011/07/readers_without_borders.html</ref> ==নাচ== নাচ হলো সঙ্গীতের তালে তালে ছন্দময়ভাবে চলাফেরা করে অভিজ্ঞতার আনন্দ বাড়ানো। তবে চলাফেরা যদি সঙ্গীতের তালে না হয়, তবে একটি বিষয় প্রমাণ করার জন্য নীরবতাকে কাজে লাগানো হয়। পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপের একটি সেট দ্বারা নাচ তৈরি করা যেতে পারে। এটি মতপ্রকাশের একটি রূপ, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিতে উপস্থাপনের একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নাচকে মানুষের মধ্যে অ-মৌখিক যোগাযোগের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি অন্যান্য প্রাণীদের দ্বারাও পরিবেশিত হয়। বিভিন্ন নাচের জন্য বিভিন্ন স্তরের দক্ষতার প্রয়োজন হয়। কিছু নাচ অন্যদের চেয়ে শারীরিকভাবে বেশি ক্লান্তিকর হতে পারে। কৌশল বা শৈলী যাই হোক না কেন, সঠিক পদার্থবিজ্ঞান বিবেচনায় না নিলে আঘাত ঘটতে পারে। ===দক্ষিণ আমেরিকায় নাচ=== '''আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো''' আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো ১৮৮০ সালের দিকে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের উপকণ্ঠে উদ্ভূত হয়েছিল। এই নাচ বার, ক্যাফে, জুয়ার আসর এবং পতিতালয়ে জনপ্রিয় হয়েছিল। যেহেতু মূল গানে প্রায়শই যৌনতা এবং অশ্লীলতার কথা উল্লেখ করা হতো, তাই এটি যৌক্তিক যে জনপ্রিয়তা ভূগর্ভস্থ সমাজে ঘটেছিল। এই সময়কালে এমনকি একে অপরের সামনে নাচ বা একেবারেই স্পর্শ করাকে খুব বেশি বলে মনে করা হতো। তাই ট্যাঙ্গোর ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে ধরা এবং গালে গাল ঠেকিয়ে নাচকে অশ্লীল বলে মনে করা হতো। প্রাথমিকভাবে ভালো সুনামের অধিকারীরা ট্যাঙ্গোকে অবজ্ঞার চোখে দেখতেন এবং এর কোনো অংশ হতে চাইতেন না। এর মানে হলো যদি কোনো পুরুষ নাচটি অনুশীলন করতে চাইতেন, তবে তার একমাত্র সম্ভাব্য সঙ্গী ছিল অন্য একজন পুরুষ। পুরুষরা একসাথে জড়ো হয়ে নারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করার উপায় হিসেবে নাচটি অনুশীলন করতেন। অবশেষে ট্যাঙ্গো ধীরে ধীরে বোর্ডিং হাউসের সাধারণ জায়গাগুলোতে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। সেখানে অভিবাসীরা থাকতেন। এটি ছড়িয়ে পড়তে কিছুটা সময় নিয়েছিল। তবে নাচের কিছু গতিবিধি "শুদ্ধ" হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখনও ট্যাঙ্গো সাধারণত এমন একটি বিষয় ছিল যা মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরা গোপন রাখত। এটিকে তখনও লজ্জাজনক এবং পাপপূর্ণ বলে মনে করা হতো। ইউরোপে পথ তৈরি করার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো উচ্চ সমাজে সত্যিই গৃহীত হয়নি। প্যারিসীয় অভিজাতদের সাথে পরিচিত হওয়ার পর এটি সেখানে সেই সময়ের উন্মাদনায় পরিণত হয়েছিল। ট্যাঙ্গো যখন অবশেষে আর্জেন্টিনায় ফিরে আসে, তখন এটি "সবচেয়ে প্রিয় পুত্র হিসেবে গৃহীত হয়েছিল।"—সার্জিও সুপা<ref>সুপা, সার্জিও ও. "ToTango." (টু ট্যাঙ্গো)। http://www.totango.net/sergio.html</ref> ===ফিলিপাইনে নাচ=== ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী নাচগুলো স্প্যানিয়ার্ড, মুসলিম, ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা ইউরোপীয়দের সাংস্কৃতিক প্রভাব প্রতিফলিত করে। একটি পৃথক সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ফিলিপাইনের প্রতিটি অঞ্চল নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নাচের শৈলী তৈরি করেছে। অনেক লোকনৃত্য ফিলিপিনোদের প্রাথমিক জীবনধারা অনুকরণ করার জন্য এবং অশুভ আত্মাদের তাড়ানোর মতো আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যেও তৈরি করা হয়েছিল।<ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> ফিলিপাইনের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কিছু নাচ নিচে দেওয়া হলো: '''মুসলিম প্রভাবিত নাচ''' দ্বাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে বোর্নিও এবং মালয় উপদ্বীপের ব্যবসায়ী এবং বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে আসেন। তারা ফিলিপিনোদের কাছে ইসলাম নিয়ে আসেন। আজ মিন্দানাও এবং সুলু দ্বীপপুঞ্জে ১০ লাখেরও বেশি মুসলিম ফিলিপিনো বাস করে। স্প্যানিশরা ফিলিপাইনে আসার পর ফিলিপিনো মুসলিমরা, যারা মোরো নামেও পরিচিত, বিজয়ী হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে তাদের ইসলামি জীবনধারা মূলত অক্ষত থাকে। এমনকি আজও ফিলিপিনো জনসংখ্যার বাকিদের সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনধারা সত্ত্বেও এটি বজায় রয়েছে। চারটি প্রধান মুসলিম জাতিগোষ্ঠী রয়েছে: লানাও, মাগুইন্দানাও, সামাল এবং তাউসুগ। এই নাচের ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলোতে উজ্জ্বল রঙ এবং ছন্দময় গতিবিধি ব্যবহার করা হয়। এটি সংস্কৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইন্দো-মালয়েশিয়ান প্রভাবকে উপস্থাপন করে। এই নাচে একটি ফিতা নাচও রয়েছে যা সম্ভবত আরব প্রভাবের ফল। মাগুইন্দানাওদের সিংকল নাচটিকে সবচেয়ে কঠিন ফিলিপিনো নাচ বলে মনে করা হয়। এই নাচে রাজকীয় রক্তের একজন নারী ছাতা বা পাখা হাতে সুন্দরভাবে নেচে নিজেকে প্ররোচকদের কাছে তুলে ধরেন। আবার কখনও কখনও বাঁশের লাঠির সাথে দক্ষতার সাথে চলাফেরা করেন।<ref>http://www.filipinasoul.com/philippine-folk-dance-singkil/</ref> মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার যুদ্ধ দ্বারা অনুপ্রাণিত আরেকটি নাচ হলো মাগলালাটিক। এর উদ্ভব লেগুনা প্রদেশ থেকে। এই নাচে মোরোরা নীল প্যান্ট পরে এবং খ্রিস্টানরা লাল প্যান্ট পরে। নাচের প্রথমার্ধে নারকেলের দুধের অবশিষ্টাংশ নিয়ে যুদ্ধ চিত্রিত করা হয়েছে। এরপর দুটি গ্রুপের মধ্যে পুনর্মিলন দেখানো হয়েছে।<ref>http://www.vtaide.com/ASEAN/Philippines/dances.html</ref> এই নাচে নির্দিষ্ট পোশাক থাকে: মালং হলো একটি টিউবের মতো পোশাক যা বিভিন্নভাবে পরা হয়, এবং কুম্বং হলো একটি ঐতিহ্যবাহী মাথার পোশাক। নাচের সাথে যে বাদ্যযন্ত্রগুলো বাজানো হয় সেগুলো হলো: আগোং যা কেন্দ্রে একটি গাঁট যুক্ত ব্রাস গং, এবং কুলিনতাং হলো একটি কাঠের ফ্রেমে রাখা ব্রাস গংয়ের সংগ্রহ। <ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> '''ব্যারিও ফিয়েস্তা নাচ''' ফিয়েস্তা এবং বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর জন্য দারুণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। খাবার, সঙ্গীত, নাচ, গেমস এবং ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা সবই ফিলিপিনো গ্রামগুলোর এই ঐতিহ্যবাহী ঘটনার অংশ। ফিয়েস্তা যদি গালা (বোহোলানো) নামের কোনো বিয়ের উৎসবের জন্য হয়, তবে বর-কনের বন্ধুদের সাথে নিয়ে আসা প্রথাগত। যারা তাদের খাবার পরিবেশন করে তাদের দ্বারা তারা বিনোদিত হন। বিনোদনের মধ্যে নাচ এবং সঙ্গীতের পারফরম্যান্স রয়েছে। সেই সাথে শব্দ সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি করতে পাত্র, প্যান, ল্যাডেল এবং পাত্রগুলোর সংঘর্ষও থাকে। এরপর অতিথিদের প্রথা অনুযায়ী চূড়ান্ত নাচের ঠিক আগে বর এবং কনের পোশাকে কাগজের টাকা আটকে দেওয়া হয়। এই নাচে নবদম্পতিরা একে অপরের সাথে খেলায় মেতে ওঠেন। এই নাচের আরেকটি জনপ্রিয় রূপকে কালাতং বলা হয় যা বাতাঙ্গাস প্রদেশের একটি নাচ। এটিতে ঘাতবাদ্য হিসেবে বাঁশের পাইপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই দলের শেষ নাচটি হলো তিনিকলিং। এটি এমন একটি নাচ যা লম্বা পায়ের টিকলিং পাখির নড়াচড়া অনুকরণ করে। এই পাখি ধানের ডালপালার মধ্যে কৃষকদের পাতা ফাঁদের ওপর দিয়ে লাফিয়ে চলে। ফিলিপাইনের নর্তকরা এই নাচটি করার সময় জটিল এবং অত্যন্ত সমন্বিত লাফ দিয়ে বাঁশের লাঠির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যান। এ সময় লাঠিগুলোকে একসাথে আঘাত করা হয় এবং তাদের নিচের মেঝেতে আঘাত করা হয়। তিনিকলিং হলো একটি কৌতুকপূর্ণ প্রেমের নাচ। বেশিরভাগ আদিবাসী নাচের মতোই এটি এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আরও জটিল হয়ে ওঠে। তিনিকলিং লেইতে দ্বীপপুঞ্জ থেকে উদ্ভূত এবং এটি ফিলিপাইনের আনুষ্ঠানিক জাতীয় নাচ।<ref>http://dance.lovetoknow.com/Philippine_Ethnic_Dance</ref> এই নাচের পোশাক হলো বালিনতাওয়াক। এটি একটি মেঝে-দৈর্ঘ্যের পোশাক যাতে শক্ত প্রজাপতি হাতা এবং হাতার সাথে মিলে যাওয়া উজ্জ্বল রঙের ওভারস্কার্ট থাকে। পুরুষরা কামিসা দে চিনোস নামের রঙিন শার্ট পরে। এই নাচগুলোর সাজসরঞ্জামের মধ্যে সাধারণত টিঙ্গয় নামের একটি তেলের বাতি এবং বাকিয়া নামের কাঠের ক্লগ অন্তর্ভুক্ত থাকে।<ref>http://web.archive.org/web/20090206053132/http://www.sanjoseculture.org/artsexpress/study_kaisahan0809.pdf</ref> '''মারিয়া ক্লারা নাচ''' মারিয়া ক্লারা ফিলিপাইনের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তিনি সত্যনিষ্ঠ ফিলিপিনা নারীর গুণাবলী এবং আভিজাত্যের প্রতীক। জোসে রিজালের লেখা স্প্যানিয়ার্ডদের দ্বারা ফিলিপাইন উপনিবেশ স্থাপনের একটি সাহিত্যিক অংশে তিনি প্রধান নারী চরিত্র ছিলেন। তার সম্মানে একটি নাচ এবং পোশাকের শৈলী তৈরি করা হয়েছিল। এটি এর স্প্যানিশ প্রভাবকে চিত্রিত করে। মারিয়া ক্লারার পোশাক হলো একটি জটিল ডিজাইনের ব্লাউজ এবং একটি ঝরঝরে স্কার্ট দিয়ে তৈরি আনুষ্ঠানিক পোশাক। এর সাথে কাঁধের ওপর একটি পানুয়েলো (প্রাকৃতিক ফাইবারের বর্গক্ষেত্র) পরা হয়। পুরুষরা বারং তাগালগে থাকে। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ফিলিপিনো শার্ট। এটি সাধারণত লম্বা হাতা এবং বিস্তারিত সূচিকর্মসহ আনারসের ফাইবার দিয়ে তৈরি হয়। এই নাচের প্রপস হলো বাঁশের কাস্টানেট এবং আবানিকো (এশিয়ান ফ্যান)। এই দলে অনেক ভিন্ন ধরনের নাচ রয়েছে যা ফিলিপাইন সংস্কৃতির কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। '''ইগোরোট নাচ''' ইগোরোটরা ফিলিপাইনের একটি উপজাতীয় জনগোষ্ঠী। তারা উত্তর লুজোনের কেন্দ্রীয় কর্ডিলেরা এলাকায় বসবাস করে। সম্মিলিতভাবে ইগোরোট নামে পরিচিত ছয়টি ভিন্ন উপজাতি হলো: আপায়াও, বনটোক, ইবালয়, ইফুগাও, কালিঙ্গা এবং কানকানায়। এই মানুষগুলো কেবল ইগোরোট হিসেবে উল্লেখ করার চেয়ে তাদের আলাদা উপজাতীয় নামে পরিচিত হতে পছন্দ করে। স্প্যানিয়ার্ডরা তাদের জন্য এই শ্রেণিবিন্যাসের শব্দটি নির্ধারণ করেছিল। এই উপজাতিগুলোর অভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে যা তাদের প্রকৃতির সাথে যুক্ত করে। তারা বিশেষ নৈবেদ্য দিয়ে গৃহদেবতাদেরও সম্মান করে। তাদের অনুষ্ঠানে সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির প্রকাশ হিসেবে নাচ পরিবেশিত হয়। এটি তাদের দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য, তাদের পূর্বপুরুষদের সম্মানে, অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য এবং আসন্ন যুদ্ধের জন্য তাদের দেবতাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য করা হয়। দুর্ভাগ্যের হাত থেকে বাঁচতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেতে, প্রচুর ফসল এবং মনোরম আবহাওয়া নিশ্চিত করতে এবং জীবনের চক্র উদযাপন করতেও নাচ করা হয়। এই নাচগুলোতে নারীরা তাদের মাথায় বয়াম এবং/অথবা ঝুড়ি রাখে। এটি খাদ্য সংগ্রহকারী এবং জল আনয়নকারী হিসেবে সম্প্রদায়ে নারীদের ভূমিকা প্রদর্শন করে। পুরুষদের জন্য মানমানোক নাচ রয়েছে। সেখানে তারা নারীদের আকৃষ্ট করতে উজ্জ্বল বোনা কম্বল ব্যবহার করে। তাকিলাংয়ে পুরুষরা নাচে, গায়। তারা তাদের গ্যাংসা ও পিতলের গং বাজায়। এর মাধ্যমে তারা অস্ত্র এবং শিকারে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে। স্প্যানিশ শাসনের কারণে ফিলিপাইনের নাচে স্প্যানিশদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নাচ এবং সঙ্গীতে ইউরোপীয় নাচের গতি এবং শৈলী চলে আসে। উদাহরণস্বরূপ তিনিকলিং নাচ এবং ইটিক-ইটিকের গতি জোটা এবং পোলকার গতি অর্জন করেছিল।<ref>http://filipinokastila.tripod.com/dans.html</ref> ফিলিপিনোরা যে নাচগুলোর জন্য পরিচিত তার আরও কিছু উদাহরণ হলো: পান্ডাঙ্গো সা ইলাও: একটি স্প্যানিশ নাচ। এর জন্য প্রচুর ভারসাম্য রক্ষার দক্ষতা প্রয়োজন। কারণ মাথা এবং প্রতিটি হাতের পিঠে তিনটি তেলের বাতি ধরে রাখতে হয়। এই নাচটি মিনডোরোর লুবাং দ্বীপ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। কারিওসা: এই নাচের নামটি এমন একজন নারীকে বর্ণনা করে যিনি স্নেহশীল, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং প্রেমময়। এই নাচে ফ্লার্টিংয়ের ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় পাখা এবং রুমাল ব্যবহার করা অন্তর্ভুক্ত। রিগডন: এই নাচটি স্পেনে উদ্ভূত হয়েছিল এবং সবচেয়ে বেশি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়। তিনিকলিং: এই জাতীয় লোকনৃত্যে একজোড়া নর্তক দুটি বাঁশের লাঠির মাঝখানে লাফিয়ে লাফিয়ে নাচ করে। লাঠিগুলো মাটির ঠিক ওপরে ধরে রাখা হয় এবং সঙ্গীতের তালে তালে একসাথে আঘাত করা হয়।<ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> ধান চাষীদের পাতা বাঁশের ফাঁদ এড়াতে পাখিদের চটপটে গতি এবং অনুগ্রহকে এই নাচ অনুকরণ করে। নর্তকরা পাখিদের প্রতীক। তারা পায়ের কাজের মাধ্যমে তাদের তত্পরতা প্রদর্শন করে। অন্যদিকে বাঁশের খুঁটিগুলো ফাঁদের প্রতীক।<ref>http://www.giancruz.com/portfolio/imd110/city/history.html</ref> ===জুলু এবং মাসাই সংস্কৃতিতে নাচ=== ====ভূমিকা==== অনেক আফ্রিকান সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাচ। বিশেষ করে জুলু এবং মাসাইদের ক্ষেত্রে এটি সত্য। উভয় সংস্কৃতিই পশুপালক এবং তাদের আরও অনেক সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা তাদের নাচ খুব ভিন্নভাবে প্রকাশ করে। এটি ব্যাখ্যা করার জন্য আমরা মাসাই এবং জুলু সমাজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দিক নিয়ে আলোচনা করব। যেখানে নাচ ব্যবহার করে সামাজিক মিলের পাশাপাশি শৈলীগত নাচের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়। শুরুতে আমাদের জুলু এবং মাসাইদের মধ্যে কিছু সামাজিক মিল দেখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বয়সের গ্রুপ, লুণ্ঠনের ঐতিহ্য এবং গবাদি পশুর গুরুত্ব। জুলু সমাজের জোর ছিল যুদ্ধ এবং লুণ্ঠনের ওপর। বয়সের সেটগুলো এতে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল। তরুণদের এগুলোতে ভাগ করা হয়েছিল এবং একটি নির্দিষ্ট বয়সের সেট অনুযায়ী তারা হানাদার ও যোদ্ধা ছিল। লুণ্ঠনের সময় জুলু যোদ্ধারা গবাদি পশু তুলে আনত। এগুলো তাদের সমাজে সম্পদের পরিমাপ ছিল। প্রাচীন জুলু জাতির ঐক্যবদ্ধকারী শাকা তার রাজবংশের সাহায্যে জুলুদের যুদ্ধে গর্বিত করেছিলেন। সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক ছিল এবং কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। তিনি তার বুলহর্ন পদ্ধতি এবং ছোট ছুরিকাঘাত করার বর্শা দিয়ে যুদ্ধের শৈলীকে বৈপ্লবিক রূপ দিয়েছিলেন। এটি যোদ্ধাদের নাচেও ব্যবহৃত হতো। অন্যান্য সমাজে তার অবিরাম আক্রমণ তার সাম্রাজ্যকে এত ক্ষমতা দিয়েছিল। এটি তার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল। যোদ্ধারা কোন বয়সের সেটে ছিল তা দ্বারা নির্বাচিত হতো। বয়সের সেটগুলো ছিল প্রায় দশ বছরের বয়সের পরিসরের মধ্যে থাকা একটি গ্রুপ। অনেক সময় এই বয়সের সেটগুলো প্রবীণ, যোদ্ধা এবং শিশুদের মধ্যে সংগঠিত হতো। বয়ঃসন্ধির পর দীক্ষার প্রক্রিয়ায় নারীদের একটি বিশেষ নাচ ছিল যা পরিবেশিত হতো। শাকার সমাজে গবাদি পশু ছিল সম্পদের পরিমাপ। গবাদি পশু না থাকলে কেউ বিয়ে করতে পারত না বা বিলাসবহুল জিনিস কিনতে পারত না। অন্যান্য সমাজে লুণ্ঠন করে বা অসামান্য সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে গবাদি পশু উপার্জন করা যেত। গবাদি পশু উৎসর্গ করাও তাদের সমাজের একটি বড় অংশ ছিল। যুদ্ধ থেকে নিরাপদে ফিরে আসার জন্য বা সফল যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে উৎসর্গ করা হতো। অন্যদিকে মাসাই সংস্কৃতি নিজেদেরকে একটি বিশুদ্ধ পশুপালক সমাজ হিসেবে বিবেচনা করত। ফলে গবাদি পশুর ওপর প্রচুর জোর দেওয়া হতো। তারা একটি লুণ্ঠনকারী সমাজও ছিল। যদিও তারা শিকারকে দীক্ষা অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ব্যবহার করত, তবে এটি মাসাই সমাজে নিয়মিত ঘটনা ছিল না। জুলুদের মতো মাসাইরাও গবাদি পশুকে সম্পদের একটি রূপ হিসেবে ব্যবহার করত। তারা গবাদি পশুকে এতটাই পবিত্র বলে মনে করত যে তারা একই খাবারে গরুর মাংস খেত না এবং দুধ পান করত না। জীবিত প্রাণীর থেকে নেওয়া জিনিসের সাথে মৃত প্রাণীর থেকে নেওয়া জিনিসের মিশ্রণকে তারা অসম্মানজনক মনে করত। মাসাইরা বিশ্বাস করত যে সমস্ত গবাদি পশু আইনত তাদের ঈশ্বরের দেওয়া। তাই অন্যান্য উপজাতির কাছ থেকে সেগুলো নেওয়া যুক্তিসঙ্গত ছিল। ====যুদ্ধের নাচ==== জুলু এবং মাসাই উভয় রাজ্যই যুদ্ধ এবং লুণ্ঠনের ওপর জোর দিয়েছিল। তাই এটা স্বাভাবিক যে তাদের এই কাজগুলোকে চিত্রিত করার জন্য একটি নাচ ছিল। উভয় রাজ্যেরই যোদ্ধাদের জন্য একটি নাম ছিল। জুলু যোদ্ধাদের বলা হতো ইন্দলামু এবং মাসাইদের বলা হতো মোরান। জুলুদের ক্ষেত্রে তাদের নাচের নামকরণ করা হয়েছিল যোদ্ধাদের নামে। অনেক সময় জুলু নাচ তার স্টম্পিং নড়াচড়া দ্বারা চিহ্নিত করা হতো। এর মধ্যে একটি ভারী ভাব এবং পৃথিবীর সাথে সংযোগের অনুভূতি ছিল। এর একটি উদাহরণ ছিল ইন্দলামু বা যোদ্ধাদের নাচ। এই নাচটি অন্যান্য নাচের সাথে বিয়েতে পরিবেশিত হতো। সাধারণত ইন্দলামু বা জুলু যুদ্ধের নাচটি একটি বড় দলে পরিবেশিত হতো। নর্তকরা দুই দুই করে প্রবেশ করত। এটি একসাথে পরিবেশিত হতো এবং কিছু সংস্করণে তিনটি অংশ ছিল: প্রবেশ, প্রস্তুতি এবং দুটি রুটিন। একজন নেতা ছিলেন যিনি কখন শুরু করতে হবে এবং কখন শেষ করতে হবে তার সংকেত দিতেন। এটি সাধারণত একটি ফুট স্টম্প দ্বারা চিহ্নিত করা হতো। তিনটি অংশের সংস্করণে নাচের প্রথম অংশটি ছিল প্রবেশ। সেখানে পুরুষরা কুঁকড়ে গিয়ে নাচের এলাকার চারপাশে একটি বৃত্তে ঘুরত। তারপর তাদের নেতা একক নাচ পরিবেশন করার সময় নর্তকরা বসে পড়ত। তার একক নাচ শেষ হলে নেতা নাচের প্রধান অংশ শুরু করার সংকেত দিতেন। এটি সমস্ত সংস্করণে পরিবেশিত হতো। এই শেষ অংশটি লাঠি বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ড্রামের তালে তালে কয়েকটি স্টম্প ব্যবহার করে পরিবেশিত হতো। এর মধ্যে কয়েকটি কিকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলো উপজাতিভেদে ভিন্ন হতো। তবে সাধারণত একটি পা সরাসরি সামনের দিকে ধাক্কা দেওয়া বা সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে চারপাশে নিয়ে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই পা বাঁকানো থাকত। এই অনুষ্ঠানের জন্য পোশাক সাধারণত ঐতিহ্যবাহী ছিল। অস্ট্রিচের পালক হাঁটুর নিচে পায়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে ওপরের বাহুতে বাঁধা হতো। তারা কটিবস্ত্রও পরত। নাচ করার সময় তারা তাদের ঢাল এবং একটি বর্শা বহন করত। তাদের একটি মাথার পোশাকও ছিল যা শৈলীর দিক থেকে মুকুটের মতো ছিল। মাসাইদেরও আদুমু নামের একটি যোদ্ধাদের নাচ ছিল। এটি নিজেদের জন্য করা একটি আনুষ্ঠানিক নাচ ছিল। যোদ্ধার জন্য একটি ট্রান্সের মতো অবস্থা তৈরি করার জন্য এটি করা হতো। এই নাচটি জুলু সমকক্ষের মতো বিয়েতে পরিবেশিত হতো না, বরং মানসিক প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি শক্তি এবং সহনশীলতার পরীক্ষা ছিল। যোদ্ধারা একটি বৃত্তাকার গঠন তৈরি করে নাচটি শুরু করত। জুলুদের থেকে ভিন্ন মাসাই যোদ্ধারা বৃত্তের চারপাশে দাঁড়িয়ে সামনে পেছনে দুলতে শুরু করত। এরপর একজন বা দুজন নাচ শুরু করার জন্য কেন্দ্রে আসত। তারা একটি ট্রান্সের মতো অবস্থায় আসার লক্ষ্যে সোজা রডের মতো ভঙ্গিতে লাফিয়ে উঠত। মাসাইদের ক্ষেত্রে মাঝখানের ব্যক্তি ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাকে বৃত্তের বাইরের কাউকে দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হতো। এই নাচের ছন্দ একটি গানের মধ্যে পাওয়া যেত। বৃত্তের প্রান্তে থাকা যোদ্ধারা এই গান গাইত, আর মাঝখানের নর্তকরা বাতাসে উঁচুতে লাফিয়ে উঠত। জীবনের যোদ্ধা পর্যায়ে যখন এই নাচটি পরিবেশিত হতো, তখন মাসাইরা তাদের চুল লম্বা বেণীতে রাখত। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক লাল সুতির তৈরি ছিল এবং কটিবস্ত্রের জুলু পোশাকের তুলনায় খুব রক্ষণশীল ছিল। কাপড়টি তাদের বুক থেকে নিচের দিকে ঢেকে রাখত এবং কখনও কখনও দেখতে একটি পোশাকের মতো ছিল। যোদ্ধাদের নাচের এই দুটি শৈলীতে একটি খুব সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে। জুলুদের তাদের শরীরের মাধ্যমে পৃথিবীর সাথে সংযোগ তৈরির বিষয়টি মাসাইদের প্রায় বিপরীত মেরুতে। মাসাইরা তাদের লাফানোর নড়াচড়া দিয়ে আকাশের দিকে পৌঁছে যাচ্ছে। মাসাইদের গঠন জুলুদের থেকে ভিন্ন। জুলুদের নাচে একটি খুব সামরিক লাইন গঠন ছিল, যেখানে মাসাইরা একটি বৃত্তে দাঁড়িয়েছিল। মাসাইদের নাচ শুরু করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছিল না, তবে জুলু সংস্করণে সামরিক নেতাই মনোনীত সূচনাকারী ছিলেন। যে পরিবেশে এই নাচগুলো পরিবেশিত হতো তা হলো আরেকটি পার্থক্য। মাসাই নাচ মানসিক প্রস্তুতি হিসেবে পরিবেশিত হতো। এটি কোনো সর্বজনীন অনুষ্ঠান হিসেবে অভিপ্রেত ছিল না। তবে জুলু নাচ বিয়ে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হতো। জুলু নাচে তালের উৎস মাসাই নাচের মতো মন্ত্র বা গানের বদলে লাঠি থেকে আসত। মাসাই এবং জুলুদের পোশাক বাছাইয়েও খুব ভিন্নতা ছিল। জুলুরা কটিবস্ত্র পরতে পছন্দ করত। মাসাইরা লম্বা লাল পোশাক পরতে পছন্দ করত, যা কটিবস্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। ====বিয়ের নাচ==== আগে বলা হয়েছে যে উভয় সমাজ গবাদি পশুর ওপর জোর দিয়েছিল। যখন একজন যুবক পর্যাপ্ত গবাদি পশু উপার্জন করত, তখন সে বিয়ে করতে পারত এবং একটি অনুষ্ঠান হতো। সেই অনুষ্ঠানে নাচ হতো। জুলু এবং মাসাই উভয়ের ক্ষেত্রেই এটি সত্য ছিল। জুলুদের ইনকন্ডলো নামের একটি ভিন্ন নাচ ছিল যা তারা বিয়েতে পরিবেশন করত। কনে শহরে প্রবেশ করার সময় এই নাচটি পরিবেশিত হতো। কনে এবং তার বয়সের অন্যান্য মেয়েদের নিয়ে গঠিত তার বধূ পার্টি গ্রামে আসার সময় এটি পরিবেশন করত। কনে তার বধূ পার্টির পেছনে থেকে নাচ শুরু করত। মেয়েরা ইনকন্ডলো বিয়ের গান গাইছে। পার্টিটি একটি বাঁকানো ভঙ্গিতে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। কিছু সংস্করণে নর্তকরা একে অপরের থেকে বাইরের দিকে ঘুরতে ঘুরতে ২-টি সারি তৈরি করে। এরপর তাদের নড়াচড়ার শেষে একটি লাইন তৈরি করার জন্য আবার কেন্দ্রের দিকে ফিরে আসে। নড়াচড়ার এই অংশটি সামনে ও পেছনের দিকে খুব দ্রুত এবং প্রাণবন্ত ছিল। বধূ পার্টি নাচের পরবর্তী অংশটি শুরু করত। কনে এবং তার বান্ধবীরা দলের পেছন থেকে বেরিয়ে আসত। সামনে এলে কনে প্রথম অংশটি শেষ করার জন্য একটি একক নাচ করে। এই অংশের নড়াচড়াগুলো খুব যথাযথ এবং মনোরম ছিল। ইনকন্ডলো নিজেই একটি ছড়াযুক্ত কবিতা ছিল। তারা এটিকে নাচের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করত। এটি নাচের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হতো। মাসাই বিয়ের নাচকে কায়াম্বা বলা হতো। এর সাথে থাকা সঙ্গীতে ব্যবহৃত পাঁজরের মতো বাদ্যযন্ত্রের নামে এর নামকরণ করা হয়েছিল। মাসাইদের ক্ষেত্রে উপজাতির অল্পবয়সী মেয়েরা পারফর্মার ছিল। সঙ্গীতে একটি পুনরাবৃত্তিমূলক সুর ব্যবহার করা হতো যা একটি কোরাস দ্বারা দ্বিগুণ হতো। এর সাথে একটি উচ্চ-পিচের বুঙ্গো হর্ন ছিল। ঝনঝনি এবং বাঁশি ছোট অনুষঙ্গ ছিল। কায়াম্বা হলো এই ঝনঝনিগুলোর মধ্যে একটি। এটি কাঠ এবং খাগড়া দিয়ে তৈরি। ভেতরে ছোট নুড়ি থাকে। এই সঙ্গীতটি এর অনেকগুলো অংশ দিয়ে খুব গতিশীল ছিল। অল্পবয়সী মেয়েরা নাচ করার সময় তাদের গোড়ালিতে বাঁধা ঘণ্টা দিয়ে সঙ্গীতে যুক্ত করত। এটি নাচটিকে খুব ছন্দময় করে তুলেছিল। মাসাই বিয়ের নাচ তার জুলু সমকক্ষের চেয়ে বিয়ের পার্টির বিনোদনের জন্য বেশি ছিল। মাসাই এবং জুলুদের বিয়ের নাচ সুন্দরভাবে বৈপরীত্য দেখায়। মাসাই নাচটি এর সঙ্গীতে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল এবং বিয়ের পার্টির বিনোদন হিসেবে পরিবেশিত হতো। জুলু নাচটি একটি সাধারণ কবিতা মন্ত্র ব্যবহার করে কনেকে শহরে আনার একটি উদযাপনের উপায় ছিল। এটি লক্ষণীয় যে এই নাচগুলোর উভয়ের নামকরণ করা হয়েছিল এগুলোতে ব্যবহৃত সঙ্গীতের নামে। জুলুদের ইনকন্ডলো কবিতার নামে এবং মাসাইদের কায়াম্বা বাদ্যযন্ত্রের নামে। কায়াম্বা সঙ্গীত খুব গতিশীল ছিল এবং এর অনেক অংশ ছিল। জুলু সঙ্গীতটি একটি অংশের মন্ত্র দিয়ে খুব সহজ ছিল। বিয়ের নাচের পরিবেশকরাও খুব ভিন্ন ছিলেন। রাজ্যের অল্পবয়সী মেয়েরা মাসাই নাচ পরিবেশন করেছিল। বিপরীতে বধূ পার্টি জুলু নাচ পরিবেশন করেছিল। ====বয়ঃসন্ধির নাচ==== মাসাই এবং জুলু সংস্কৃতিতে পুরুষ এবং নারী উভয়েরই বয়সের গ্রুপ ছিল। পরবর্তী বয়সের সেটের অংশ হওয়ার জন্য আচার ও অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিতে হতো। অনেক সময় সেই অনুষ্ঠানগুলোতে নাচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জুলু সমাজে নারীদের নারী হওয়ার সাথে সাথে একটি খুব বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল। মাসাইদের দীক্ষা সম্পর্কে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক আচারটি আসে একটি সিংহ হত্যার পর। জুলু নারীদের নারীত্বের দীক্ষার অংশ হিসেবে একটি খুব আকর্ষণীয় নাচের আচার ছিল। তাদের দীক্ষার একটি অংশ ছিল এক সপ্তাহের জন্য শুধুমাত্র তাদের মা এবং একজন বন্ধুর সাথে তাদের কুঁড়েঘরে বিচ্ছিন্ন থাকা। এই সময়ের পর তারা বেরিয়ে আসত এবং নাচত। তাদের নাচের প্রস্তুতির জন্য তারা ঘাসের পোশাক তৈরি করত। তারা তাদের পোশাক তৈরি করতে ঘাস একসাথে বুনত যা পরে অনুষ্ঠানের শেষে পুড়িয়ে ফেলা হতো। দীক্ষিত নারীর বন্ধু এবং বোনরাও ঘাসের পোশাক পরে নাচে অংশ নিত। চূড়ান্ত অনুষ্ঠানটি গান এবং নাচে পূর্ণ ছিল। নারীটি তার বন্ধু এবং বোনদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে দীক্ষিত হতো। অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত কাজ ছিল ঘাসের পোশাক পোড়ানো যা নারীত্বের পথে পা বাড়ানোর সংকেত দিত। পুরুষত্বের দীক্ষার অংশ হিসেবে মাসাইদের সিংহ শিকারে যাওয়ার প্রয়োজন হতো। যখন তারা সফল হতো, তখন একটি অনুষ্ঠান হতো যাতে এঙ্গিলকাইনোতো নাচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নাচটি অর্জনের উদযাপন হিসেবে উপজাতির জন্য পরিবেশিত হতো। সিংহ জয়ীরা নাচ করার জন্য একজন নারী সঙ্গী বেছে নিত। তারা উদযাপন দেখতে জড়ো হওয়া ভিড়ের মাঝখানে নাচত। প্রতিটি যুগল ভিড়ের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে একসাথে নাচত। যোদ্ধারা তাদের মাথায় উটপাখির পালক পরত। তারা সিংহের থাবা বা লেজ যুক্ত একটি বর্শাও বহন করত। তাদের নারী সঙ্গীরা পুঁতির পোশাক পরত। এই দীক্ষা অনুষ্ঠানগুলো ভিন্ন লিঙ্গের জন্য হওয়ার পাশাপাশি, সেগুলোতে পরিবেশিত নাচগুলোতেও কিছু বৈসাদৃশ্য ছিল। একটি কারণ হলো জুলু নাচটি মাসাইদের মতো অংশীদারী নাচের পরিবর্তে একদল নারীর দ্বারা একটি কোর হিসেবে করা হয়েছিল। তাদের পোশাক ভিন্ন ছিল। মাসাইরা তাদের যোদ্ধাদের ইউনিফর্ম পরত এবং তাদের বর্শাকে সিংহের থাবা ও লেজ দিয়ে সাজাত। জুলু নাচের মেয়েরা ঘাসের পোশাক পরত যা অনুষ্ঠানের শেষে পুড়িয়ে ফেলা হতো। মাসাই নাচের মেয়েরা পুঁতির পোশাক পরত যা অনেক বেশি স্থায়ী ছিল। ====ইথিওপিয়ান নাচ==== অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে ইথিওপিয়ায় অনেক ভিন্ন ভিন্ন নাচ রয়েছে। প্রধান নাচটিকে এসিসতা বলা হয়। এটি প্রধানত কাঁধ এবং বুক ব্যবহার করে দ্রুত নড়াচড়া করার মাধ্যমে পরিবেশিত হয়। আরেকটি বিখ্যাত নাচ হলো গুরাগে, যা ভিন্ন কারণ পায়ের নড়াচড়া খুব অপরিহার্য। গুরাগে বাজানো তালের সাথে মিল রেখে কিক মুভ ব্যবহার করে। আরেকটি বড় নাচ হলো টাইগ্রেঙ্গা, এই নাচের জন্য একটি দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দলটি একটি বৃত্ত তৈরি করবে এবং তালের সাথে বৃত্তে ঘুরবে। কিছু লোক তাদের নিজস্ব পদক্ষেপগুলো সম্পাদন করতে বৃত্তের মাঝখানে যেতে পারে। এই নাচগুলো বেশিরভাগ বিবাহ এবং ছুটির সমাবেশে পরিবেশিত হয়। এখান থেকে একটি উপসংহার টানা যেতে পারে যে জুলু এবং মাসাইরা অনুরূপ সাংস্কৃতিক ঘটনাগুলোকে চিহ্নিত করতে ভিন্ন নড়াচড়া ব্যবহার করে। জুলু নর্তকদের তাদের নাচে একটি খুব ভারী, ভিত্তিমূলক অনুভূতি রয়েছে। অন্যদিকে মাসাই নর্তকদের একটি খুব শেখানো এবং লাফানো অনুভূতি রয়েছে। জীবনের অনুরূপ দিকগুলো সম্পর্কে নাচ ব্যবহার করে তাদের শৈলীগুলোর তুলনা করা সহজ হয়। যদিও জীবনের দিকগুলো সম্পর্কে তাদের প্রকাশ ভিন্ন হতে পারে, তবুও তারা যে জিনিসগুলো নিয়ে নাচ করে তা আমাদের কাছে তাদের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ তার একটি ধারণা দেয়। ===ট্রান্স স্টেট, নাচ এবং মায়োট সংস্কৃতি=== ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকার কাজটিকে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে এবং মৌলিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যেকোনো পরিবর্তিত চেতনার অবস্থা হিসেবে, যা সাধারণ জাগ্রত সচেতনতা থেকে ভিন্ন। অন্য কথায় ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করা অর্জিত হয় যখন কারও "ভৌত শরীর" আংশিক বা সম্পূর্ণ সুপ্ত হয়ে যায়। অথচ ব্যক্তির মন জাগ্রত থাকে। ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির মস্তিষ্কের তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তিত হয়। মস্তিষ্কের তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সির এই পরিবর্তন পরিবর্তিত শারীরিক ও মানসিক কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় হয়। বিশেষভাবে ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করা একটি বিটা ব্রেন-ওয়েভ স্টেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা পার্থক্য দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। মানুষের মস্তিষ্কের অনেক ভিন্ন ভিন্ন ব্রেন-ওয়েভ স্টেট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিটা তরঙ্গ, ডেল্টা তরঙ্গ, থিটা তরঙ্গ, আলফা তরঙ্গ, মিউ তরঙ্গ এবং গামা তরঙ্গ অন্তর্ভুক্ত। এই সমস্ত মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো সবসময় মানুষের মনে বিদ্যমান থাকে। তবে বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ বা চেতনার অবস্থায় নিযুক্ত থাকার সময় নির্দিষ্ট তরঙ্গগুলো বেশি শক্তিশালী বা উন্নত হয়। উদাহরণস্বরূপ মস্তিষ্কে বিটা তরঙ্গগুলো জাগ্রততা, চেতনা, সতর্কতা, সক্রিয়তা এবং ঘনত্বের সাথে যুক্ত। ফলস্বরূপ যখন কেউ দিনের বেলা জেগে থাকে এবং কাজ করে, তখন এই মস্তিষ্কের তরঙ্গটি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং উন্নত হয়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের অন্যান্য তরঙ্গগুলোকে পটভূমি বা পরিধিতে রাখা হয়। তবে যখন একজন ব্যক্তি ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করেন, তখন বিটা ব্রেন ওয়েভকে পটভূমিতে রাখা হয়। তখন মস্তিষ্কের অন্যান্য ফ্রিকোয়েন্সিগুলোকে উন্নত করে সামনে নিয়ে আসা হয়। ট্রান্সের মতো অবস্থায় প্রবেশের কাজটি প্রায়শই একটি আনুষ্ঠানিক বা আধ্যাত্মিক অনুশীলন। এতে সারা বিশ্বের অনেক সংস্কৃতি অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এই সংস্কৃতি এবং উপজাতিগুলোর অনেকেই যারা ট্রান্স আচারে অংশগ্রহণ করে, তারা প্রায়শই সঙ্গীত এবং বিশেষ করে নাচকে ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের উপায় হিসেবে ব্যবহার করে। ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের উপায় হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু সংস্কৃতিতে নাচ ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে অন্যান্য সংস্কৃতিগুলো ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকার ফলস্বরূপ নাচতে পারে। ট্রান্স-ইনডুসিং আচারে জড়িত থাকার সময় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতি ভিন্ন পদ্ধতি এবং কৌশল ব্যবহার করে। তবে এই সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় হলো নাচের ব্যবহার। নাচ কেবল ট্রান্স-ইনডুসিং আচারগুলোর নয়, বরং ট্রান্স বা সমাধির অবস্থারও একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান। অনেক ভিন্ন উপায়ে "ট্রান্স" বা সমাধির প্রক্রিয়াটিকে শিল্প ও নাচ উভয়ের বিভাগের অধীনে বিবেচনা এবং অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি সংস্কৃতি যেখানে নাচ এবং ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের প্রক্রিয়া তাদের জীবনের একটি প্রধান বিষয়, তা হলো মায়োটের জনগণ। মায়োট হলো একটি দ্বীপপুঞ্জ যা উত্তর-পূর্ব মোজাম্বিক এবং উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারের মধ্যে অবস্থিত। এই দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে ফ্রান্সের মালিকানাধীন এবং প্রভাবিত একটি অঞ্চল। তবে অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী এখনও মায়োটতে বসবাস করে এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি অনুশীলন করে। মায়োটে বসবাসকারী আদিবাসীদের অনেকেই মোজাম্বিক এবং মাদাগাস্কারসহ নিকটবর্তী আফ্রিকান দেশগুলো থেকে ভ্রমণ করে মায়োটের বিভিন্ন দ্বীপে বসতি স্থাপন করেছিল। মায়োটতে বসবাসকারী এই আদিবাসীদের অনেকেই আত্মায় বিশ্বাস করে। তারা ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করতে নাচ এবং অন্যান্য আচারের মাধ্যমে আত্মাদের তাদের অধিকার করার জন্য আহ্বান করে। আচার-অনুষ্ঠানের সময় কোনো একটি অভিন্ন নাচ অনুশীলন করা হয় না। এর পরিবর্তে জড়িত বিভিন্ন লোক দ্বারা অনেক অনন্য নাচ পরিবেশিত হয়। এর কারণ হলো মায়োট লোকেরা অনেক ভিন্ন আত্মায় বিশ্বাস করে এবং আহ্বান করে, যাদের সবার সাথে ভিন্ন ভিন্ন নাচ যুক্ত থাকে। এমনকি ট্রান্স বা সমাধির অবস্থার অংশগ্রহণকারীরা প্রায়শই এই ভিন্ন আত্মাদের দ্বারা "অধিকৃত" থাকার সময় তাদের নিজস্ব নাচগুলো উন্নত করে এবং তৈরি করে। মায়োটতে নাচের আচারের সাথে প্রায়শই দর্শকদের অংশগ্রহণ থাকে। তারা হাততালি দেয় যখন নির্দিষ্ট আত্মার দ্বারা আবিষ্ট অংশগ্রহণকারীরা তাদের সামনে নাচে। এই নাচগুলো মনোমুগ্ধকর নড়াচড়া থেকে শুরু করে দ্রুত গতির নাচ পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে [https://books.google.com/books?id=BLA5AAAAIAAJ&pg=PA3&lpg=PA3&dq=mayotte+trance+dances&source=bl&ots=oClBNyKq-]। এটি অংশগ্রহণকারীর কোন ধরনের "আত্মা" দ্বারা আবিষ্ট হওয়ার ওপর নির্ভর করে। অংশগ্রহণকারীরা ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকে যখন তারা আবিষ্ট থাকে। ===নেটিভ আমেরিকান নাচ=== নেটিভ আমেরিকান নাচের তাদের সংস্কৃতিতে গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ রয়েছে। এর একটি প্রধান উদাহরণ হলো কোয়াকিউটলের মুখোশ আচার। এটি ওয়াশিংটন রাজ্যের স্থানীয় একটি নেটিভ আমেরিকান উপজাতি। এই আচারগুলো একটি চমত্কার এবং রহস্যময় উপায়ে গান, নাচ এবং গল্প বলাকে একত্রিত করে। গল্পগুলো কোয়াকিউটলের উৎপত্তির গল্প থেকে শুরু করে শিশুদের ভালো হওয়ার ভয় দেখানোর জন্য তৈরি করা বোকামি গল্প পর্যন্ত হতে পারে। এই সমস্ত নাচ মন্ত্র ও ড্রামের সাথে থাকে, যা মূলত সিডার এবং পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি। <ref>http://www.lelooska.org/</ref> আরেক সংস্কৃতির আধিপত্যের অর্ধশতাব্দী পর নেটিভ আমেরিকানদের ঘিরে থাকা কঠোর পরিস্থিতির ফলে ১৮৯০-এর দশকে পিউত দ্বারা ঘোস্ট ড্যান্স তৈরি এবং পরিবেশিত হয়েছিল। এর অন্যতম প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ১৯ শতকের শেষার্ধ জুড়ে মহিষের পালের সম্পূর্ণ হত্যা। তাদের খাদ্যের উৎসের ঘাটতির অর্থ হলো অনেক নেটিভ আমেরিকান মার্কিন সরকার দ্বারা ভূমি থেকে খোদাই করা সংরক্ষণে বসবাস ও কাজ করতে বাধ্য হয়েছিল। <ref>http://www.encyclopedia.com</ref> (গার্থ আহেরন-হেন্ডরিক্স) ===নাচ, শিল্প নাকি খেলাধুলা?=== আমেরিকান সমাজে ব্যালেরিনা হওয়াকে কখনও কখনও সহজ বা অ-অ্যাথলেটিক হিসেবে স্টেরিওটাইপ করা হয়। নাচ "কোনো খেলা নয়" বরং ''শুধু'' শিল্পের একটি রূপ। তবে সারা দেশের অনেক জায়গায় ফুটবল খেলোয়াড়দের ব্যালেন্স, আঙুল দিয়ে হাঁটা/দৌড়ানো এবং দ্রুত অ্যাকশন পিভটের শিল্প শেখানোর জন্য ব্যালে ক্লাসে পাঠানো হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত স্টিলার্স খেলোয়াড় লিন সোয়ান এবং হার্শেল ওয়াকার, সেই সাথে প্রাক্তন প্রতিযোগিতামূলক বডি বিল্ডার গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার একসময় তাদের নিয়মিত ওয়ার্কআউটে ব্যালে ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আধুনিক, জ্যাজ, ব্যালে, কিক,<ref>পাচিয়াকো, কার্লি। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি</ref> ট্যাপ, হিপ-হপ, ব্রেক ড্যান্সিং, ক্রাম্পিং, সালসা, ওয়াল্টজ, ফক্সট্রট এবং এমনকি পোল ড্যান্সিংয়ের মতো সব ধরনের নাচেই চরম নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির প্রয়োজন হয় এবং অ্যাথলিটরা এর সুবিধাগুলো বুঝতে শুরু করেছেন। ওয়াকার এমনকি এক ধাপ এগিয়ে ফোর্ট ওয়ার্থ ব্যালের সাথে একটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। "প্রতিদিন ২-বার প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়া এবং বড় লাইনব্যাকারদের দ্বারা বারবার আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও, ওয়াকার ব্যালে পারফরম্যান্সকে বলেছিলেন, 'আমার করা সবচেয়ে কঠিন কাজ।'" একইভাবে নর্তকরা সমানভাবে কঠোর এবং অনেক পেশাদার ক্রীড়াবিদের মতো দীর্ঘক্ষণ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সাউথওয়েস্ট ওয়াশিংটন ড্যান্স অনসেম্বল কোম্পানির নর্তকরা উদ্বোধনের ৪ মাস আগে থেকে শনিবারগুলোতে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রিহার্সাল করেন। সেই সাথে সপ্তাহে ৩ থেকে ৬টি ক্লাসও করেন। দলটির সাথে পারফর্ম করার সময় আমার মনে পড়ে যে আমি স্টুডিওতে খুব দীর্ঘ এবং কঠিন সময় কাটিয়েছিলাম। এরপর একজন ওয়েট্রেস হিসেবে একটি দীর্ঘ শিফট কাজ করেছিলাম। আমার ধারণা নাচ এবং অ্যাথলেটিক্সের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো স্টেডিয়ামগুলো একক পারফরম্যান্সের জন্য বিক্রি হয় না (ভেন্যুগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট হয়)। এছাড়া পারফরম্যান্সের জন্য নর্তকরা যে অর্থ পান তা অনেক কম। ফুটবল খেলোয়াড় এবং অন্যান্য পেশাদার ক্রীড়াবিদরা বছরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পেলেও, অনেক পেশাদার নর্তকী সেই পরিমাণ অর্থের কাছাকাছিও পান না। এই ক্ষেত্রটি আরও প্রতিযোগিতামূলক। কারণ শুধুমাত্র প্রাইমা ব্যালেরিনারা প্রধান ভূমিকায় আসেন। তবে রাশিয়া-সহ অন্যান্য সংস্কৃতিতে যেখানে মস্কো ব্যালে একটি অনেক বড় ব্যাপার, সেখানে দর্শকরা ফায়ারবার্ড দেখার জন্য উচ্চ মূল্য দিতে বেশি পছন্দ করবেন। আগ্রহের অভাব এবং নর্তকীরা তাদের "খেলাধুলায়" যে কঠোর পরিশ্রম করেন তার সাধারণ স্বীকৃতির অভাব আমেরিকার বিনোদনের অগ্রাধিকারগুলোর প্রতিফলন। বাহিয়া, ব্রাজিলের মতো অন্যান্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দেশগুলো নাচকে শিল্পের রূপ এবং একটি খেলা হিসেবে বিবেচনা করে। নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট উইলসন বাহিয়াতে কিছু সময় বসবাস করার অভিজ্ঞতার গল্প "ড্যান্স লেস্ট উই অল ফল ডাউন"-এ ক্যাপোইরা নিয়ে আলোচনা করেন এবং অংশ নেন। ক্যাপোইরা প্রথম আফ্রিকান দাসদের দ্বারা ব্রাজিলে তৈরি হয়েছিল। এটিকে আফ্রিকান মার্শাল আর্ট এবং ব্রাজিলিয়ান নাচের পদক্ষেপের সমন্বয় বলা হয়। এমনটাও বলা হয় যে "লড়াইয়ের" এই রূপটি দাসদের দ্বারা তৈরি একটি আত্মরক্ষা প্রক্রিয়া ছিল, যা দেখতে নাচের মতো ছিল যাতে তারা ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সাথে সমস্যায় না পড়ে। ক্যাপোইরা আমরা মার্শাল আর্ট হিসেবে যা জানি তার মতোই। তবে এতে অল্প কিছু লোক জড়িত থাকে যারা মাঝখানে নর্তকদের ঘিরে রাখে। তারা একাধিক বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে "লড়াই" করে (কখনও শারীরিক যোগাযোগ না করে)। যখন কোনো খেলোয়াড় ক্লান্ত হয়ে পড়ে, অন্য কোনো খেলোয়াড় এগিয়ে আসে বা সঙ্গীত শেষ হয় তখন লড়াই থেমে যায়। রোডা হলো ক্যাপোইরা সংস্কৃতির আরেকটি শৈলী, যেখানে খেলোয়াড়রা ২ জন ক্যাপোইরিস্তার চারপাশে একটি বৃত্ত তৈরি করে যারা একটি যুগপৎ ক্যাপোইরা যুদ্ধ চালিয়ে যায়। রোডা ছান্দিক যুদ্ধে ক্যাপোইরার শিল্পের অ্যাথলেটিক দিকটি তুলে ধরে। এটি তখনই শেষ হয় যখন তাল শেষ হয় বা অন্য একজন খেলোয়াড় ক্যাপোইরিস্তার জায়গা নেয়। ক্যাপোইরিস্তাদের ঘিরে রাখা বৃত্তটিও শিল্পটির একটি ঐতিহ্য এবং ব্রাজিলে নিপীড়নকে চ্যালেঞ্জ করার সাংস্কৃতিকভাবে প্রতীকী। এই ক্যাপোইরা দলগুলো ভিন্ন ক্যাপোইরা দলগুলোর সাথে "খেলতে" বা অন্য কথায় প্রতিযোগিতা করতে ভ্রমণ করে। এর আধুনিক সংস্করণটি জাতীয় ব্রাজিলিয়ান খেলায় পরিণত হয়েছে, যদিও এটি শিল্পের একটি রহস্যময় এবং প্রাচীন রূপ হিসেবে শুরু হয়েছিল। অনেকেই ক্যাপোইরাকে নাচের একটি রূপ হিসেবে বর্ণনা করতে পারেন, যা দেখায় যে নাচকে প্রতিটি দেশের সাংস্কৃতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে একটি খেলা বা একটি শিল্প হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এটি শুধু এমন একটি ঘটনা যে এখানে আমেরিকায় নাচ একটি খেলার চেয়ে একটি শিল্প হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তবুও এর মানে এই নয় যে নর্তকরা অ্যাথলেট নন। কাজের সূত্র <ref>কোহেন, সেলমা জিন। ইন্টারন্যাশনান এনসাইক্লোপিডিয়া অব ড্যান্স। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। অক্সফোর্ড, ১৯৯৮। V5 পৃ. ৬৪৩-৬৪৮।</ref> <ref>জ্যান্টজিঙ্গার, জি। ডান্সেস অব সাউদার্ন আফ্রিকা। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি। ১৯৭৩। ৫৫ মিনিট, রঙ। "Maasai." (মাসাই)" নিউ ওয়ার্ল্ড এনসাইক্লোপিডিয়া। ৩ এপ্রিল ২০০৮, ২২:৪৩ ইউটিসি। ৩ ডিসেম্বর ২০০৮, ২১:০৭ <http://www.newworldencyclopedia.org/entry/Maasai?oldid=686829>।</ref> <ref>ফিঙ্কে, জেন্স। ট্র্যাডিশনাল মিউজিক অ্যান্ড কালচারস অব কেনিয়া। কপিরাইট ২০০০-২০০৭। kenyabluegecko.org মাগোগো, কনস্ট্যান্স, রাজকন্যা। সাাৎকার গ্রহণকারী: রিক্রফ্ট, ডেভিড। ব্রিটিশ লাইব্রেরি আর্কাইভাল সাউন্ড রেকর্ডিংস। ১৯৬৪। http://www.uwgb.edu/ogradyt/world/African.htm। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-গ্রিন বে ক্রস-কালচারাল</ref> <ref>কমিউনিকেশন: ওয়ার্ল্ড মিউজিক ২৪২-৩২৯ সাব-সাহারান আফ্রিকান মিউজিক। ১২-১১-০১। http://library.thinkquest.org/06aug/00933/RSAceremonies.htm। ০৪-০২-০৭।</ref> <ref>রিটার, ই.এ. শাকা জুলু। গ্রেট ব্রিটেন: পেঙ্গুইন বুকস, ১৯৫৫। পৃ. ৩৫-৫৭, ১০১।</ref> <ref>সাইতোতি, তেপিলিট ওলে। দ্য ওয়ার্ল্ডস অব আ মাসাই ওয়ারিয়র: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস, ১৯৮৬।</ref> <ref>ম্যাককয়েল, লিসা। দ্য মাসাই অব আফ্রিকা। লার্নার পাবলিকেশনস, ২০০২।</ref> <ref>শিলিংটন, কেভিন। হিস্ট্রি অব আফ্রিকা। ম্যাকমিলান পাবলিশার্স, ১৯৮৯, ১৯৯৫, ২০০৫। পৃ. ২৫৭-২৬০, ২০৭-২০৮।</ref> <ref>কুফাল, লিওনার্ড। “দ্য এমফেকানে অ্যান্ড সাউদার্ন আফ্রিকা”। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।</ref> <ref>কুফাল, লিওনার্ড। “ইস্ট আফ্রিকা”। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।</ref> <ref>ক্লেম্যান, অ্যান্ড্রু http://www.signatureforum.com/article.cfm?articleid=49</ref> <ref>উইলসন, মার্গারেট। ড্যান্স লেস্ট উই অল ফল ডাউন। কোল্ড ট্রি প্রেস। ২০০৭। পৃ. ১৭-১৮।</ref> <ref>স্মিথ, এম। দ্য কালচারাল ফ্রেম: রোডা। এইচসিএস ভিজ্যুয়াল আর্টস। ২০০৮।</ref> ===ভিজ্যুয়াল আর্ট=== ====গুহাচিত্র==== চিত্রাঙ্কনের সাংস্কৃতিক চর্চা এমন একটি শিল্প যার উৎপত্তি গুহাচিত্রের আকারে কয়েক হাজার বছর আগের। যদিও সারা বিশ্বে গুহাচিত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, তবে এই শিল্পের প্রাচীনতম কিছু উদাহরণ নামিবিয়া অঞ্চলে আফ্রিকায় ঘটে। এই পেইন্টিংগুলো পাথরের স্ল্যাবে আঁকা প্রাণীদের চিত্রিত করে। এগুলো প্রায় ৩০,০০০ বছর পুরোনো বলে নির্ধারিত হয়েছে এবং সান লোকেদের দ্বারা করা হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালে আবিষ্কারের পর থেকে এই চিত্রকর্মগুলোকে গুহা শিল্পের প্রাচীনতম পরিচিত উদাহরণ হিসেবে মনে করা হতো। তবে ১৯৯৪ সালে কভেট গুহা আবিষ্কারের সাথে সেই পার্থক্যটি হারিয়ে গিয়েছিল। গুহাটি দক্ষিণ ফ্রান্সের পোটহোলারদের দ্বারা দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল। গুহার দেয়াল চিত্রে বাইসন, ঘোড়া এবং হরিণ থেকে শুরু করে সিংহ, গন্ডার এবং ম্যামথ পর্যন্ত প্রাণীদের চিত্রিত করা হয়েছে। রেডিওমেট্রিক ডেটিং এই চিত্রকর্মগুলোর প্রাচীনতমটির বয়স প্রায় ৩১,০০০ বছর হিসেবে স্থাপন করেছে। এটি স্পষ্টভাবে সেগুলোকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত গুহা শিল্পের প্রাচীনতম রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।<ref>http://www.historyworld.net/wrldhis/PlainTextHistories.asp?groupid=1345&HistoryID=ab20</ref> গুহা শিল্পের আসল উদ্দেশ্যগুলো অনেক অনুমানের উৎস। আধুনিক উপজাতীয় সমাজের রীতিনীতি অধ্যয়ন করে কিছু আধুনিক পণ্ডিত তাত্ত্বিক ধারণা দিয়েছেন যে গুহাচিত্রগুলো সম্ভবত সেই প্রাথমিক চিত্রশিল্পীদের সমাজের ধর্ম এবং জাদুর ধারণার সাথে যুক্ত ছিল। তবে কেন পেইন্টিংগুলো প্রথম স্থানে তৈরি করা হয়েছিল তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও বিতর্কের বিষয়। পেইন্টিংগুলো প্রাথমিক শিকারীদের প্রচেষ্টাকে আশীর্বাদ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল নাকি আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশের জন্য একটি শামানিক সহায়তা হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, তা কখনও জানা যাবে না। এমনও হতে পারে যে এগুলো একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে তৈরি করা হয়েছিল। তবে গুহাচিত্রগুলোর অস্তিত্ব নিজেই প্রকাশ করে যে এমনকি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ তাদের চারপাশের জগতের বস্তু এবং পরিবেশগুলো চিত্রিত করতে আগ্রহী ছিল। এটি এমন একটি আগ্রহ যা ইতিহাসের গতিপথে মানব সংস্কৃতির মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক লোকেরা সম্ভবত এই গুহার দেয়ালগুলোতে আঁকতে কয়েকটি মৌলিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। এটি তাত্ত্বিক যে তারা পাথরের মধ্যে চিত্রগুলোকে, বেশিরভাগ প্রাণীদের, খোদাই করতে ধারালো সরঞ্জাম বা বর্শা ব্যবহার করত। গুহা শিল্পকে সাজানোর জন্য তারা যে রংটি ব্যবহার করত তা সম্ভবত কাঠকয়লা, কালি, মাটি বা বিভিন্ন ধরনের বেরি থেকে তৈরি করা হতো। খড়, পাতা বা লাঠি অথবা খাগড়ার সাথে যুক্ত চুল থেকে রঙ প্রয়োগের প্রাথমিক সরঞ্জামগুলো তৈরি করা হতে পারে। এয়ারব্রাশের মতো পদ্ধতিতে ফাঁকা খাগড়া বা হাড়ের মাধ্যমে তারা রঙ স্প্রেও করতে পারত।<ref>পিটার জে. উকো এবং অ্যান্ড্রি রোজেনফেল্ড, সায়েন্স ম্যাগাজিন। http://www.sciencemag.org/cgi/reprint/161/3837/150-a</ref> ===ধ্রুপদী থেকে আধুনিক চিত্রকলা=== [[File:REKrewDF17.JPG|300px|right|thumb|চালকো বানের, আরিয়ান, গ্রেকো, হিজার এবং সেপ্টোমোর আরই ক্রুর করা গ্রাফিতি। মেক্সিকো সিটি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯]] সময়ের সাথে সাথে বেশিরভাগ অন্যান্য শিল্প রূপের মতো চিত্রকলাও আবেগ, উদ্ভাবন এবং সময়ের পরিবর্তন প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম পরিচিত পেইন্টিংটি প্রায় ৩২,০০০ বছর আগে ফ্রান্সে গুহাগুলোতে পাওয়া গিয়েছিল।<ref>লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আ ট্রিটাইজ অন পেইন্টিং (কেসিঙ্গার পাবলিশিং)</ref> আরও পরিচিত শিল্পকর্মগুলো প্রাচীন গ্রীক, রোম এবং রেনেসাঁর সময়কালের।<ref>রিচার্ড ট্যানসেভ গার্ডনার্স আর্ট থ্রুআউট দ্য এজেস</ref> এই সময়ে ধর্ম ছিল শিল্পকর্মের প্রধান থিম। পরবর্তীতে এটি জটিল এবং সূক্ষ্ম প্রতিকৃতিতে রাজনৈতিক চরিত্রগুলো চিত্রিত করতে শুরু করে। সুদূর প্রাচ্যের শৈলী যেমন- চীনা এবং জাপানি শৈলীও ধর্মকে চিত্রিত করার সাথে সম্পর্কিত ছিল। তবে এগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে করা হতো। তারা কালি এবং রেশম পছন্দ করত। অন্যদিকে পশ্চিমা সংস্কৃতি জলরং এবং তেলের হালকাতা গ্রহণ করতে শুরু করেছিল। আফ্রিকান শিল্প পশ্চিমা শিল্প থেকে ব্যাপকভাবে ভিন্ন। তাদের প্রচুর কার্যকরী শিল্প ছিল। মুখোশ এবং গয়নাগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র যা আত্মা ও পূর্বপুরুষদের প্রতীক হিসেবে আচারে ব্যবহৃত হতো। মুরালিজন বা "মুয়ারলিসমো" এমন একটি আন্দোলন যা ১৯০০-এর দশকে মেক্সিকান শিল্পকর্মে অনেক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। যদিও ম্যুরালগুলো শিল্পকর্মের শুরুর দিকে পাওয়া যেতে পারে। মেক্সিকান ম্যুরাল আন্দোলনের জন্ম ১৯২০-এর দশকে বিপ্লবের (১৯১০-১৯১৭) পর। এটি সরকারের আদর্শ এবং ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের প্রচেষ্টার অংশ ছিল। ম্যুরালগুলো মেক্সিকান পরিচয়কে শক্তিশালী করার জন্য করা হয়েছিল। শিল্পীদের মেক্সিকো এবং এর জনগণের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের চিত্র তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সম্ভবত ২০ শতকের ম্যুরাল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, প্যালাসিও দে বেলস আর্টেসের পাশের নির্মাণ প্যানেলে শহুরে গ্রাফিতি মেক্সিকো সিটিকে সাজিয়ে চলেছে। ===গ্রাফিতি=== রাস্তার শিল্প হিসেবেও পরিচিত গ্রাফিতি হলো যেকোনো দ্বিমাত্রিক প্রতীক বা ছবি, যা কোনও অনুমোদন বা কমিশন ছাড়াই সর্বজনীন ক্ষেত্রে আঁকা হয়। শিল্পের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক সাম্প্রতিক ব্যাপার। এতে সাধারণত স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এটি অন্যান্য ধরনের রং এবং এমনকি ডিকালও ব্যবহার করে। গ্রাফিতি বেআইনি এবং এটিকে "ভ্যান্ডালিজম" বা সম্পত্তি ধ্বংস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাঝেমধ্যে বিতর্কিত বা এমনকি অশ্লীলও হলেও গ্রাফিতি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভাষ্যের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে এসেছে। ব্যাঙ্কসির মতো কুখ্যাত শিল্পীদের কাজের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভের সাথে এটি একটি বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।<ref>http://matadornetwork.com/life/30-street-artists-blowing-people-minds-around-world/</ref> ইতিহাসগতভাবে সৃজনশীল রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্প মতপ্রকাশের একটি মাধ্যম হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তার শিল্প এবং গ্রাফিতি স্পষ্ট মতামত এবং স্থিতাবস্থার প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিতি লাভ করেছে। এটি 'সাধারণ মানুষের' কণ্ঠস্বর প্রদান করে। এটি ভবন, ট্রেনের বগি, পাতাল রেল, মেট্রো, সেতু এবং আরও অনেক কিছুর পাশে শত শত মানুষের সহজে দেখার সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে শিল্পীকে নিপীড়ন এবং গ্রেপ্তার থেকে বিপন্ন না করে একটি কথোপকথন তৈরি করা সম্ভব, যতক্ষণ না তারা ধরা পড়ে। একটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম 'ট্যাগ' হিসেবে রয়ে গেছে। এটি হলো একটি সিরিজের অক্ষর, প্রতীক বা শব্দ যা শিল্পীর স্বাক্ষর হিসেবে কাজ করে। সেখানে ক্রমবর্ধমান সচিত্র ছবি রয়েছে যা মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং 'গ্রাফিতি'কে 'রাস্তার শিল্প' হিসেবে পুনরায় আখ্যায়িত করেছে। প্রচণ্ড সামাজিক অস্থিরতার জায়গাগুলোতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং গভীর রাস্তার শিল্প রয়েছে। যেমন ইরান,<ref>https://theculturetrip.com/middle-east/iran/articles/street-art-in-iran-social-commentary-on-the-streets-of-tehran/</ref> ব্রাজিল, পূর্ব ইউরোপ এবং এই জাতীয় স্থানগুলো। বার্লিন, জার্মানি হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পূর্ব ও পশ্চিমের বিভাজনের সোভিয়েত শাসনামলে একটি ঐতিহাসিক (আধুনিক গ্রাফিতির অর্থে) স্ট্রিট আর্ট আন্দোলনের আবাসস্থল। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। অনেক ধরনের অন্যান্য শিল্পের মতো তথাকথিত গ্রাফিতির অসংখ্য রূপ রয়েছে। এটি বড় বা ছোট, স্পষ্ট বা অন্তর্নিহিত, বিতর্কিত, আকর্ষক বা শিল্পীর কাছে সত্যিকারের কোনো অর্থ ছাড়াই হতে পারে। শিল্পীর কাছে এখন তাদের কাজ প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শাস্তির ভয় থাকা সত্ত্বেও এটি টিকে আছে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভবত এটি রাস্তার নতুন শিল্প হিসেবে বিকাশ লাভ করতে থাকবে। ===ভাস্কর্য=== ভাস্কর্য হলো ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্ম যা শক্ত এবং/অথবা প্লাস্টিকের উপাদান, শব্দ এবং/অথবা পাঠ্য এবং/অথবা আলোকে আকার দিয়ে তৈরি করা হয়। এর উপাদান হিসেবে সাধারণত পাথর (শিলা বা মার্বেল), ধাতু, কাঁচ বা কাঠ ব্যবহার করা হয়। কিছু ভাস্কর্য সরাসরি উপাদানের আকৃতি অনুসরণ করে (ফাইন্ডিং) বা খোদাই করে তৈরি করা হয়। অন্যগুলো বিভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে নির্মাণ করা হয় এবং পরে পোড়ানো, ঝালাই, ছাঁচে ঢালা বা ঢালাই (কাস্টিং) করা হয়। এগুলো বৃত্তাকারভাবেও তৈরি করা যেতে পারে যা মুক্ত-দাঁড়ানো হিসেবে পরিচিত। এটি দর্শককে সম্পূর্ণ ভাস্কর্যের চারপাশে হাঁটার এবং যেকোনো কোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। আবার এগুলো রিলিফ ভাস্কর্য হিসেবেও তৈরি করা যায়, যেখানে রূপগুলো সামনের দিকে প্রসারিত হয় কিন্তু পটভূমির পৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটি পেইন্টিংয়ের মতো সামনে থেকে দেখার জন্য তৈরি। এই বিভাগগুলোর মধ্যে লো-রিলিফ বা বাস-রিলিফের অনেক উপক্ষেত্র রয়েছে। তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আমরা আজকের আধুনিক ভাস্কর্যগুলো তৈরি করার জন্য ভাস্কর্যের ঐতিহ্যবাহী উপায়গুলোকে কারসাজি এবং পুনরায় কাজ করতে দেখেছি।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> ভাস্কর্যগুলো প্রায়শই আঁকা হয়। যে ব্যক্তি ভাস্কর্য তৈরি করেন তাকে ভাস্কর বলা হয়। যেহেতু ভাস্কর্যে এমন উপকরণগুলোর ব্যবহার জড়িত যা ছাঁচে তৈরি বা পরিমিত করা যেতে পারে, তাই এটিকে প্লাস্টিক শিল্পগুলোর মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়। সর্বজনীন শিল্পের বেশিরভাগই হলো ভাস্কর্য। বাগানের পরিবেশে অনেকগুলো ভাস্কর্য একসাথে থাকলে তাকে একটি ভাস্কর্য বাগান হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Sculpture</ref> যুগে যুগে অনেক মহান ভাস্কর হয়েছেন যারা তাদের সময়ের চেতনাকে কার্যকরভাবে মূর্ত করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন মাইকেলেঞ্জেলো,<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Michaelangelo</ref> অগাস্ট রডিন,<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Auguste_Rodin</ref> এবং জিয়ান লরেঞ্জো বার্নিনি<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Bernini</ref> ==মিডিয়া== সংজ্ঞানুসারে মিডিয়াকে গণযোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যার মাধ্যমে সংবাদ, বিনোদন, শিক্ষা, ডেটা এবং প্রচারগুলো ছড়িয়ে পড়ে। মিডিয়ার এই অর্থটি তখন থেকে রয়েছে যখন মুদ্রণযন্ত্রটি জনসাধারণের কাছে সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাগজের বিশাল ভর তৈরি করা সহজ করে তুলেছিল। আজ গণমাধ্যমকে শিল্পের একটি রূপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ একটি উপযুক্ত বার্তা তৈরি করার অনেক দিক এবং নিয়ম রয়েছে যা জনসাধারণের কাছে কার্যকর হতে হবে। মিডিয়াকে শিল্পের একটি রূপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে কারণ এটি এমন একটি মতপ্রকাশের রূপ যা বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায়। চিত্রাঙ্কন, অঙ্কন এবং ভাস্কর্যের মতো কিছু চারুকলার তুলনায় মিডিয়া শিল্পের একটি কম স্পষ্ট রূপ। কিন্তু মিডিয়ার নির্দিষ্ট দিকগুলোতে ঠিক ততটাই সৃজনশীলতা এবং প্রচেষ্টা ঢালা হয় যা মিডিয়াকে শিল্পের এমন একটি রূপে পরিণত করে যা দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায়। ===ফটোগ্রাফি=== ফটোগ্রাফি শব্দটি দুটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে: ফটো যার অর্থ "আলো" এবং গ্রাফ যার অর্থ "অঙ্কন"। "আলোর সাহায্যে অঙ্কন" হলো ফটোগ্রাফি শব্দটির দিকে তাকানোর একটি উপায়।<ref>http://scphoto.com/html/history.html</ref> সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে একজন চীনা দার্শনিক মো টি এটি উদ্ভাবন করেছিলেন। ফটোগ্রাফি স্থির চিত্র তৈরির একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মো টি পিনহোল ক্যামেরার বর্ণনা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন যা সবচেয়ে সহজ ধরনের। এটি কালো রঙ, একটি ফাঁকা ছবি এবং কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি করা যায়। ধারণাটি হলো একটি ছোট পিনহোলের সাহায্যে বাক্সটির পেছন থেকে ছবিটিতে এমনভাবে আলো নির্গত হতে পারে যা প্রক্ষেপিত দৃশ্যটি প্রতিফলিত করে। মান্ডে ড্যাগুয়ারে প্রথম মুদ্রিত ফটোগ্রাফের জন্য কৃতিত্ব পান। তার ছবিটি সিলভার আয়োডাইড লেপা তামার প্লেটে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল। এটি স্পষ্ট, তীক্ষ্ণভাবে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি অন্যদের দ্বারা নকল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এর নাম ছিল ড্যাগুয়েরোটাইপ।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট।</ref> রাসায়নিক যৌগের আবিষ্কারের মাধ্যমে ১৯০০-এর দশকের গোড়ার দিকে শুরু হওয়ার পর থেকে ফটোগ্রাফি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে যা স্থায়ীভাবে চিত্রটিকে ধরে রাখে।<ref>শাইন কস্টেলো, ডব্লিউডব্লিউইউতে গ্রাফিক ডিজাইন মেজর এবং আর্ট হিস্ট্রি মাইনর।</ref> এই নতুন প্রযুক্তি ঐতিহাসিক রেকর্ড সংরক্ষণের একটি নতুন উপায় নিয়ে এসেছে। এর প্রথম উদাহরণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি। লিংকন ফটোগ্রাফির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। ১৮৬০ সালে তিনি আমেরিকান ফটোগ্রাফির ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত পেশাদার ফটোগ্রাফার ম্যাথিউ বি. ব্র্যাডিককে দিয়ে তার প্রতিকৃতি তোলেন। অতীতে নেটিভ আমেরিকানরা তাদের আত্মা হারানোর ভয়ে ছবি তুলতে অস্বীকার করেছে। মেক্সিকোর সান জুয়ান চামুলায় গির্জায় ছবি তোলা বেআইনি। <ref>http://www.photo-seminars.com/Fame/mathew.htm</ref> ===সিরামিক=== সিরামিক হলো মাটি থেকে বস্তু তৈরির শিল্প। মাটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি উপাদান। একে কারসাজি করে এবং সাজিয়ে সিরামিক শিল্প তৈরি করা হয়। শুকিয়ে গেলে মাটি অনেকটা পাউডারের মতো হয়। কিন্তু পানির সাথে মেশানো হলে এটি একটি ছাঁচযোগ্য, প্লাস্টিকের উপাদানে পরিণত হয়। একে চিমটি দিয়ে, গড়িয়ে বা আকার দিয়ে বিভিন্ন রূপ দেওয়া হয়। এরপর এই ভঙ্গুর সৃষ্টিগুলোকে শুকানোর জন্য রাখা হয়। মাটি স্পর্শে ঠান্ডা মনে হওয়ার মতো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর একে ২,৭০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় চুল্লিতে পোড়াতে হয়। এটি এর নতুন রূপকে স্থায়ী করে। এটি মাটির রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে। ফলে একে আর কখনও ছাঁচযোগ্য, প্লাস্টিকের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না। সিরামিক তৈরি করতে মৃৎশিল্পীদের ব্যবহৃত অনেক কৌশল রয়েছে। স্ল্যাব নির্মাণ (দৃঢ় এবং নরম), কয়েল, হাতে ছাঁচনির্মাণ এবং কুমোরের চাকায় ছাঁচনির্মাণ হলো মাটিকে সিরামিক শিল্পে রূপ দেওয়ার মাধ্যম। সিরামিক শিল্পের একটি প্রধান শর্ত হলো একে ফাঁপা হতে হবে। এর কারণ হলো বেশিরভাগ সিরামিকের বাস্তব ব্যবহার রয়েছে যেমন খাবার বা তরল রাখা। এছাড়া মাটির পুরু টুকরো বা সঠিকভাবে ফাঁপা না করা আকারগুলো চুল্লিতে বিস্ফোরিত না হয়ে সফলভাবে শুকানো এবং পোড়ানো কঠিন। মাটি প্রথমবার পোড়ানোর পর মৃৎশিল্পীরা প্রায়শই গ্লেজ দিয়ে তাদের টুকরোগুলো সাজান। গ্লেজ হলো পেইন্টের মতো তরল যা পাতলা মাটির সাথে মিশ্রিত বিভিন্ন খনিজ ধারণ করে। গ্লেজ দিয়ে রঙ করা হলে সিরামিক শিল্পকে স্থায়ীভাবে মাটির সাথে ফিউজ করতে এবং টুকরোটি সিল করতে চুল্লিতে দ্বিতীয়বার পোড়াতে হয়। যাতে এটি তরল ধারণ করতে সক্ষম হয়।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> সিরামিক শব্দটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ কেরামাকোস থেকে এসেছে এবং এর অর্থ "মৃৎশিল্পের"। সিরামিকের প্রাচীনতম পরিচিত অনুশীলনটি প্রায় ২০,০০০ বছর আগে চীনে ফিরে যায়। এটি একটি শিল্পের রূপ যা আমরা জানি এমন প্রায় প্রতিটি সংস্কৃতি দ্বারা অনুশীলন করা হয়েছে। পুয়েবলো জনগণের সংস্কৃতি নিউ মেক্সিকোতে কিছু লোক মৃৎশিল্পীদের কাজে প্রদর্শিত হয়। পুয়েবলো মৃৎশিল্পীদের প্রজন্ম ধরে প্রথম ধাপের পোড়ানোর কৌশলগুলো বিকশিত হয়েছে। এগুলো নিউ মেক্সিকোর স্থানীয় লাল মাটিকে সিরামিক শিল্পের বার্নিশ করা কালো মাস্টারপিসে রূপান্তরিত করে। পুয়েবলো লোকেদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, যা তাদের খাদ্য এবং জল সংগ্রহ, পরিবহন এবং সংরক্ষণ করতে সাহায্য করত, তা আন্তর্জাতিক চারুকলা সম্প্রদায়ের চোখে অত্যন্ত মূল্যবান একটি চমৎকার শিল্প রূপে পরিণত হয়েছে।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> ===টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র=== কোনো সন্দেহ নেই যে দশক পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এবং প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবনে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের ভূমিকা আরও বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। লোকেরা বিনোদন বা খবরের উদ্দেশ্যে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র দেখতে ঝোঁকেন। বিশেষ করে যেহেতু এগুলো বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। তবে বিভিন্ন দেশে এদের ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। সার্বিয়ার একটি অংশে কেবল একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল দেখার সুযোগ থেকে শুরু করে আমেরিকার প্রায় প্রতিটি ঘরে প্রতিটি টেলিভিশনে ৫০০টি চ্যানেল থাকার মতো ভিন্নতা দেখা যায়। যদিও বছর পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র আরও সাধারণ হয়ে উঠেছে। তবুও বেশিরভাগ লোকেরা মিডিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান কাজ এবং দুর্নীতির কথা বুঝতে পারেন না, যা লাখ লাখ মানুষের ঘরে স্থান পাচ্ছে।<ref>উইকিপিডিয়া টেলিভিশন কন্টেন্ট রেটিং সিস্টেম</ref> ====আমেরিকায় টেলিভিশন==== গড় আমেরিকান পরিবারে দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ১২ মিনিট টিভি চালু থাকে।<ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> এটি সম্ভবত কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮% বাড়িতে অন্তত একটি টেলিভিশন সেট রয়েছে। অন্যদিকে গড় বাড়িতে ২ থেকে ৩টি টেলিভিশন রয়েছে। একটি জাতি হিসেবে আমরা বার্ষিক ২৫০ বিলিয়ন ঘণ্টা টেলিভিশন দেখি। প্রায় ৫০% আমেরিকান স্বীকার করে যে তারা খুব ঘন ঘন টিভি দেখে। টিভি শীর্ষ বিজ্ঞাপনের এজেন্টগুলোর মধ্যে একটি কারণ এটি খুবই সাধারণ। টিভি সম্প্রচারের সময়ের ৩০% বিজ্ঞাপনের জন্য নিবেদিত। এক বছরে বেশিরভাগ শিশু ২০,০০০টি ৩০-সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন দেখবে।<ref>দ্য সোর্স বুক ফর টিচিং সায়েন্স। http://www.csun.edu/science/health/docs/tv&health.html)</ref> ৮২% আমেরিকান বিশ্বাস করেন যে "আমাদের বেশিরভাগই আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্রয় এবং গ্রহণ করে।"<ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> যেসব শিশু খুব অল্প বয়স থেকেই টিভি দেখা শুরু করে, তাদের জীবনে পরবর্তীতে অস্বাস্থ্যকর এবং স্থূলকায় হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এটি তাদের বাইরে যেতে এবং অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে মেলামেশা করতে বাধা দেয়। নিষ্ক্রিয়তা এবং বারবার জলখাবার খাওয়ার কারণেও ওজন বাড়তে পারে।<ref>http://kidshealth.org/parent/positive/family/tv_affects_child.html</ref> ৩০ বছরের ব্যবধানে (১৯৬৩ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত) ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী আমেরিকান শিশুদের মধ্যে মারাত্মকভাবে অতিরিক্ত ওজনের হার ৪.৫ থেকে ১৪-তে দাঁড়িয়েছে।<ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> তবে টেলিভিশন অগত্যা সম্পূর্ণ খারাপ নয়। আমার মতো অনেক দর্শক টিভিকে একটি খুব প্রশংসনীয় শিথিলতার উৎস হিসেবে মনে করেন। কর্মক্ষেত্রে বা স্কুলে দীর্ঘ দিনের পর তাদের শরীরকে বিশ্রাম দিতে এবং মনকে পুনরুজ্জীবিত করার উপায় হিসেবে তাদের প্রিয় অনুষ্ঠানগুলো দেখেন। টিভি মানসিক চাহিদা মেটাতেও সাহায্য করতে পারে। যদিও তা কিছুটা উপরিভাগের স্তরে। কারণ এটি প্রায়শই পলায়নবাদ এবং এমনকি ক্যাথারসিসের উৎস হিসেবে কাজ করে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমি একমত যে খুব বেশি টেলিভিশন দেখার নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন ভোগের হার বাড়ানো এবং শৈশবকালের স্থূলতায় অবদান রাখা। তবে আমি এটাও বিশ্বাস করি যে পরিমিত মাত্রায় এটি একটি পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। যা দর্শকদের জীবনে মূল্যবান কাজ করতে পারে। বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং মায়ামি ইউনিভার্সিটি অব ওহিও-র গবেষণায় দেখা গেছে যে টেলিভিশন একাকীত্ব এবং প্রত্যাখ্যান এড়াতেও সাহায্য করতে পারে। এটি 'সামাজিক সারোগেসি হাইপোথিসিস' অনুসরণ করে। এটি বলে যে মানুষ যখন কোনো প্রকৃত সামাজিক মিথস্ক্রিয়া পায় না, তখন তারা নিজেদেরকে সামাজিক সম্পৃক্ততার মিথ্যা অনুভূতি প্রদান করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। চরিত্রগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একজন দর্শকের অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজন মেটানো সহজ হয়। এটি একজন ব্যক্তিকে অনুভব করতে দেয় যেন তার সামাজিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে। প্রথম গবেষণায় দেখা গেছে যে বিষয়গুলো তাদের প্রিয় অনুষ্ঠানগুলো দেখার সময় কম একাকী ছিল। দ্বিতীয় গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা একটি গভীর সামাজিক স্তরে প্রোগ্রামগুলোর সাথে সংযুক্ত ছিল তারা প্রোগ্রামগুলোকে আরও বিশদে বর্ণনা করেছে। তৃতীয় গবেষণায় দেখা গেছে যে বিষয়গুলো তাদের প্রিয় প্রোগ্রামগুলোর কথা ভাবছে তারা আত্মসম্মান হ্রাস এবং নেতিবাচক মেজাজ এবং প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে নিরাপদ ছিল। চতুর্থ গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা তাদের প্রিয় প্রোগ্রাম সম্পর্কে লিখেছিলেন (দ্বিতীয় গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে) তারা একাকীত্বের কম অনুভূতি অনুভব করেছেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় যে এই 'সামাজিক সারোগেসি' আসলেই সামাজিক চাহিদা পূরণ করে নাকি নিছক সেগুলোকে দমন করে।<ref>কিছু মানুষের কাছে, টিভি একাকীত্ব দূর করে http://web.archive.org/web/20090501191755/news.yahoo.com/s/nm/20090428/tv_nm/us_loneliness</ref> ====মিডিয়া এবং টেলিভিশন==== সময়ের সাথে সাথে সিটকমগুলো বিস্তৃত বিষয়বস্তু (যেমন বিবাহবিচ্ছেদ, মিশ্র বর্ণের সম্পর্ক, একা পিতামাতা ইত্যাদি) নিয়ে কাজ করে। রাজনীতিবিদদের কাজ এবং সরকারি কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা থেকে শুরু করে, মিডিয়া "বৈধ" আচরণ কী তা সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করে। ১৯৭০ সালে ২৫% আমেরিকান টেলিভিশন থেকে তাদের রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ২০০৫ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৭০% হয়েছে, যারা তাদের বেশিরভাগ তথ্য টেলিভিশন থেকে পান। আজ ৬-৮টি সংস্থা সমস্ত মিডিয়া কভারেজের ৫০% এর বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে: টাইম ওয়ার্নার/এওএল, ডিজনি, বার্টেলসম্যান, ভায়াকম, নিউজ কর্পোরেশন এবং ভিভেন্ডি। গত কয়েক দশকে এই সংখ্যাটি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৮১ সালে ৪৬টি বড় সংস্থা ছিল। ১৯৮৬ সালে ২৪টি ছিল। ১৯৯০ সালে ১৭টি ছিল এবং ১৯৯৬ সালে ১১টি ছিল।<ref>টড ডোনভান, ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রফেসর</ref> ====ট্রান্সন্যাশনাল ফিয়েস্তাগুলোর ভিডিও এবং উপস্থিতি==== মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো জুড়ে বিস্তৃত ট্রান্সন্যাশনাল মিক্সটেক সম্প্রদায়ের মধ্যে, ভিডিও সীমান্ত আন্তর্জাতিক সীমানা জুড়ে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। পৃষ্ঠপোষক সাধুদের দিন, কুইনসিনারাস এবং বিবাহ সম্পর্কিত সম্প্রদায়ের ফিয়েস্তাগুলোতে উপস্থিতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের, বিশেষ করে গড প্যারেন্টসদের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে অনেক পরিবারের সীমান্ত অতিক্রম করা এবং এই ফিয়েস্তাগুলোতে যোগ দেওয়ার জন্য অনেক মাইল ভ্রমণ করা নিষিদ্ধ। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে, দূরবর্তী পরিবারের সদস্যদের তাদের বসার ঘরের আরাম থেকে ফিয়েস্তাগুলোতে 'অংশগ্রহণ' করার অনুমতি দেওয়ার জন্য ভিডিওর ব্যবহার ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু অংশে টিয়াস (খালা) এবং কমাদ্রেস (বন্ধু) ইভেন্টটি ঘটার কয়েক বছর পরে ফিয়েস্তাগুলোর ভিডিও পুনরায় চালানো দেখা সাধারণ ব্যাপার।<ref>পল জেমসের ব্যক্তিগত যোগাযোগ। এপ্রিল ২০০৯।</ref> ==থিয়েটার== থিয়েটার হলো একটি চারুকলা যা পারফর্মার, প্রপস, সেটিং এবং মিউজিক অন্তর্ভুক্ত করে একটি বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনা প্রদর্শন করে। এটি প্রায়শই মঞ্চে পরিবেশিত হয় তবে ব্ল্যাক বক্স, উঁচু প্ল্যাটফর্ম বা এমনকি রাস্তার কোণায় অন্যান্য সেটিংসে প্রদর্শিত হতে পারে। এটি মতপ্রকাশের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম যা মানব সভ্যতার প্রথম দিন থেকে অনুশীলন করা হচ্ছে। থিয়েটারের আদিম উদাহরণ এথেন্সের গ্রিক শহর রাজ্যে পাওয়া যায়। এটি বিনোদন এবং খবর হিসেবে উৎসব, ধর্মীয় অনুশীলন, বিবাহ, রাজনীতি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত হতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থিয়েটারটি খুব ভালোভাবে স্থানীয়করণ করা হয়েছে। বেশিরভাগ শহরের নিজস্ব থিয়েটার রয়েছে। এগুলো পেশাদার এবং স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিক উভয়ই হতে পারে। ন্যাশনাল ব্রডওয়ে ট্যুরগুলো বেশিরভাগ বড় শহরে পৌঁছায়। আর দেশের বেশিরভাগ না হলেও সব উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য থিয়েটারের কোনো না কোনো রূপ অফার করে থাকে।<ref>http://www.cwu.edu/~robinsos/ppages/resources/Theatre_History/Theahis_1.html</ref> ===শেক্সপিয়রীয় থিয়েটার=== উইলিয়াম শেক্সপিয়রের কাজগুলো সংস্কৃতিকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছে। তার কাজগুলোর আধুনিক পুনঃব্যাখ্যা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী শৈলীতে শব্দে শব্দে থিয়েটার। শেক্সপিয়রের নাটকগুলো এখনও ভাষাবিজ্ঞানের মাধ্যমে আজকের সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলে। যেমন বড় তাৎপর্য বোঝাতে "... অব শেক্সপিয়ারিয়ান প্রোপোরশনস" বাক্যাংশ ব্যবহার করা। কিংবা কোনো প্রেমিক যে হাল ছাড়তে অস্বীকার করে তাকে "রোমিও" হিসেবে উল্লেখ করা। আধুনিক শেক্সপিয়ারিয়ান থিয়েটারের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। এর সাথে বিভিন্ন অভিনেতা এবং লেখক ৪০০ বছরের পুরোনো কাজগুলোর জন্য নিবেদিত একটি নির্দিষ্ট উপ-সংস্কৃতি গঠন করেছেন। এর একটি চমৎকার উদাহরণ হলো অ্যাশল্যান্ড ওরেগনের এখনও অপারেটিং শেক্সপিয়রীয় থিয়েটার। সেখানে অভিনেতা এবং লেখকরা জড়ো হয়েছেন এবং অন্যদের কাছে শিল্পটির প্রতি তাদের উপসংস্কৃতি এবং ভালোবাসা প্রকাশ করার একটি জায়গা তৈরি করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার এবং ব্যর্থ রাজাদের নিয়ে তার ব্যঙ্গাত্মক রচনাগুলোর সাথে শেক্সপিয়রের কাজগুলো একটি যুক্তি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।<ref>https://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=IehZKtHaQSEC&oi=fnd&pg=PA7&dq=Shakespeare+anthropology&ots=wvFKjqEsy1&sig=JtQMn1vmcZBSB9mRCG9F-4ifjng#v=onepage&q=Shakespeare%20anthropology&f=false</ref> শৈল্পিক অর্থে এটি শেক্সপিয়রকে তার সময়ের রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করার অনুমতি দিয়েছিল। সম্ভবত এটি ব্যঙ্গাত্মক লেখাগুলোকে স্পটলাইটে আনতে সাহায্য করেছিল। যাতে পরবর্তীতে বিশিষ্ট ব্যঙ্গাত্মক লেখকদের জন্য পথ তৈরি করা যায়। ===ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটার=== ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটার, "ইম্প্রুভ" নামেও পরিচিত। এটি সাধারণত "খেলোয়াড়দের" একটি গোষ্ঠী বা ব্যান্ড নিয়ে গঠিত। তারা ইম্প্রোভাইজড ব্যায়াম বা গেমগুলোতে যোগ দেয়। এতে একটি দৃশ্যের একটি অংশ খেলা জড়িত থাকে। ইম্প্রুভের প্রকৃতি হলো স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া এবং মুহূর্তে থাকা। এটি সংগঠিত নমনীয়তার সমার্থক। সাধারণ থিয়েটারগুলোর মতো অনেকটা ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটারগুলো নিয়মিত শো এবং পারফরম্যান্স করবে; নীতিগত খেলোয়াড়দের তুলে ধরবে। তবে ইম্প্রুভ থিয়েটার অনন্য। কারণ এর মহড়া এবং মুখস্থ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট নেই। পরিচালক শোটিকে কোথায় নিয়ে যেতে চান তার একটি রূপরেখা থাকতে পারে। তবে সাধারণত তা থাকে না। মাঝে মাঝে ব্যায়ামে সঙ্গীত এবং/অথবা অন্যান্য মিশ্র দৃশ্য যুক্ত করা হয়। প্রায়শই ব্যায়াম এবং/অথবা পারফরম্যান্সের জন্য একটি সেট থিম জড়িত থাকে। যেমন একটি মিউজিক্যাল। যদি ইম্প্রুভ পারফরম্যান্স কাজ করার জন্য একজন পরিচালকের প্রয়োজন হয়, তবে একজন শিল্প নির্দেশক ব্যবহার করা হবে। প্রায়শই সেই পরিচালক একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় বা বর্তমানে অনুশীলনের সাথে জড়িত থাকেন। "পরিচালক বা ম্যানেজাররা" দলের জন্য তাদের ব্যক্তিগত দায়িত্বগুলোর ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করতে ঝোঁকেন। এই ধরনের সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতায়-ভিত্তিক সংস্থাগুলোর থেকে আলাদা। কারণ প্রতিযোগিতা-ভিত্তিক সংস্থাগুলোর একটি কাঠামো এবং সাংগঠনিক লক্ষ্য পূর্বনির্ধারিত থাকে। এই নমনীয় কাঠামো ইম্প্রুভ থিয়েটার গ্রুপগুলোর কাছে কৌতূহলোদ্দীপক কারণ সদস্যরা তাদের ইচ্ছামতো রিহার্সালে আসতে এবং যেতে পারে। ইম্প্রুভ গ্রুপগুলোর রিহার্সালগুলো প্রচলিত খেলার রিহার্সালের তুলনায় ইম্প্রুভ অভিনেতা হিসেবে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বেশি জোর দেয়। ===মিউজিক্যাল থিয়েটার=== মিউজিক্যাল থিয়েটার হলো নাট্য পরিবেশনার একটি জনপ্রিয় রূপ। এতে চরিত্রের সংলাপ কথা, গান এবং নাচের মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রকাশ করা হয়। যদিও দর্শকদের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য বহু শতাব্দী ধরে থিয়েটারগুলোতে সঙ্গীত ব্যবহৃত হয়ে আসছে, মিউজিক্যাল থিয়েটার বিশেষভাবে পারফর্মারদের গান এবং আন্দোলনে সংলাপের একীকরণের ওপর জোর দেয়। অস্তিত্বের সময়কালে মিউজিক্যালগুলো অপেরার সাথে সম্পর্কিত ছিল। তবে পার্থক্য নির্ধারণের একটি সাধারণ উপায় সংলাপ বিতরণের মাধ্যমে হতে পারে। অপেরাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য গাওয়া হয়, তবে মিউজিক্যালগুলোতে মাঝে মাঝে কথ্য সংলাপ, নাচ এবং তৎকালীন জনপ্রিয় ঘরানার সঙ্গীতের অন্তর্ভুক্তি থাকে। প্রাচীন গ্রিস থেকে মিউজিক্যাল নাটক পরিবেশিত হয়ে আসছে। তবে আধুনিক পশ্চিমা মিউজিক্যালগুলো ২০ শতকের শুরু থেকে পরিবেশিত হচ্ছে।<ref> ====ইস্টার্ন মিউজিক্যালস==== আজ পরিবেশিত বেশিরভাগ পশ্চিমা মিউজিক্যাল থিয়েটার এবং পারফরম্যান্সের গ্রিক শিকড় থেকে উদ্ভূত। তবে এশিয়ার পূর্বে চীনা, জাপানি এবং তাইওয়ানিজ অপেরার মতো অন্যান্য ধরনের মিউজিক্যাল থিয়েটার বিদ্যমান ছিল। প্রথম রেকর্ডকৃত চীনা অপেরা ক্যানজুন অপেরা হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি ৩১৯ খ্রি.-৩৫১ খ্রি. এর মধ্যে কোনো এক সময় ঝোয়া রাজবংশের সময় পরিবেশিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মিউজিক্যাল থিয়েটারের আরেকটি পূর্ব রূপ হলো নোহ। নোহ হলো "প্রতিভা" বা "দক্ষতা"র জাপানি পরিভাষা। এটি জাপানি মিউজিক্যাল বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ১৪ শতকের মাঝামাঝি থেকে পরিবেশিত হয়ে আসছে এবং এখনও নির্দিষ্ট নোহ থিয়েটারগুলোতে চর্চা করা হয়। তাইওয়ানিজ অপেরা বা কোয়া-আ-হি হলো ১৮ শতকের শুরুতে তাইওয়ান থেকে উদ্ভূত হওয়ার একমাত্র পরিচিত নাটক। বেশিরভাগ গান হলো গল্প এবং লোককাহিনী। এতে মাঝে মাঝে অতিপ্রাকৃত উপাদান থাকে। =মূল পরিভাষার অধ্যায় শব্দকোষ= একাকী খেলা- শিশুরা নিজেদের দ্বারা খেলতে ব্যস্ত থাকে এবং তাদের আশেপাশে বসে বা খেলছে এমন অন্যান্য শিশুদের খেয়াল নাও করতে পারে। ইমপ্রেশনিজম- যে পেইন্টিংগুলোকে অসম্পূর্ণ দেখায় তার বর্ণনা দিতে ব্যবহৃত শব্দ। কারণ তারা দৃশ্যমান ব্রাশস্ট্রোক দেখিয়েছিল। ফ্রান্সে ১৮৬০-এর দশকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং এগুলো মুহূর্তের চাক্ষুষ ছাপ চিত্রিত করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কিউবিজম- ১৯০৭ সালে পাবলো পিকাসো এবং জর্জেস বার্ক দ্বারা শুরু করা শিল্পের শৈলী। তারা সাধারণ আকার গ্রহণ করে সেগুলোকে বিমূর্ত জ্যামিতিক রূপগুলোতে ভেঙে ফেলেছিলেন। রিয়েলিজম- আর্ট ফর্ম যা বাস্তবসম্মত অঙ্কন বা পেইন্টিং নিয়ে গঠিত যা একটি ছবি প্রতিলিপি করে। পোস্ট ইমপ্রেশনিজম- ইমপ্রেশনিজমের সম্প্রসারণ এবং শৈলীর অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতার প্রত্যাখ্যান উভয়ই উপস্থাপন করে। এনকালচারেশন- একটি সংস্কৃতির অংশ হওয়ার প্রক্রিয়া। অনুকরণীয় জাদু- প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো পরিচালনা করার আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় প্রচেষ্টা। সংক্রামক জাদু- স্পেল কাস্টিং, স্পিরিট কনজুরিং এবং ভুডু পুতুল। প্রাক-বিদ্যালয়: মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শিক্ষাব্যবস্থা। সেখানে বাবা-মা বাচ্চা বয়সের শিশুদের দেখাশোনা করতে এবং মৌলিক "জীবনের দক্ষতা" (যেমন সামাজিকীকরণ এবং অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া) শেখাতে পাঠাতে পারেন। সেখানে তারা অন্যান্য বাচ্চা বয়সের শিশুদের সাথে মেলামেশা করতে পারে। ট্রান্সফরমেশনাল/রিপ্রেজেন্টেশনাল: অর্পিত প্রতীকী অর্থের ওপর ভিত্তি করে কী উপযুক্ত এবং কী মূল্যবান তা সংস্কৃতি নির্দেশ করে। =তথ্যসূত্র= {{reflist|colwidth=30em}} {{chapter navigation|যোগাযোগ ও ভাষা|আচার ও ধর্ম}} sfl22ricq5plaph6cssqdbv2et6svdv 106604 106603 2026-06-09T18:29:56Z NusJaS 8394 /* আমেরিকায় টেলিভিশন */ 106604 wikitext text/x-wiki {{TOC|limit=3}} =খেলা= শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা খেলার মাধ্যমে বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির জন্য তাদের শরীর ও মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করে। খেলার মাধ্যমে শিশুরা অনেক নতুন দক্ষতা অর্জন করে এবং শেখে। এগুলো তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশে অবদান রাখে। এসব দক্ষতার মধ্যে রয়েছে সহযোগিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এর পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলভাবে চিন্তা ও কাজ করার ক্ষমতা উন্নত হয়। কেনেথ আর. গিন্সবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, "সুস্থ মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য খেলা গুরুত্বপূর্ণ।" [http://www.aap.org/pressroom/playFINAL.pdf] মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ এবং নিউরনের মধ্যকার বিন্যাস ও সংযোগগুলো শিশুদের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে উদ্দীপিত ও প্রভাবিত হয়। এর একটি উদাহরণ হলো খেলা। শিশুদের খেলতে উৎসাহিত করা উচিত। এটি তাদের মস্তিষ্কের সামগ্রিক বিকাশে অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা রাখে। এটি মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ তৈরিতেও কার্যকর। এই গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ সূক্ষ্ম ও স্থূল মোটর দক্ষতা, ভাষা, সামাজিকীকরণ, ব্যক্তিগত সচেতনতা, মানসিক সুস্থতা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান এবং শেখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। বিকাশের সাথে সাথে এগুলো শিশুদের ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।<ref>চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। http://www.childdevelopmentinfo.com/development/</ref> তাই শিশুদের খেলতে এবং সারাজীবন খেলা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়। খেলাধুলা শিশুদের সৃজনশীল ও কল্পনাপ্রবণ উপায়ে তাদের মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে প্ররোচিত করে। এটি মস্তিষ্কের সংযোগগুলোকে উন্নত ও শক্তিশালী করে। এটি তাদের বিশ্বের বিভিন্ন দিক অনুভব করার সুযোগ দেয়। অন্যথায় তারা এগুলো অনুভব করতে পারত না। শিশুদের সৃজনশীল ও কল্পনাপ্রসূত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব "ভিন্ন জগতের" অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। গেমের মধ্যে তারা প্রায়শই কাল্পনিক বা "বিশ্বাসযোগ্য" জগত তৈরি করে। এসব গেম শিশুদের একসাথে খেলতে এবং সৃজনশীলভাবে চিন্তা করতে দেয়। মনোবিজ্ঞানী ড. সান্ড্রা শাইনার ফ্যান্টাসি গেম সম্পর্কে বলেন, "আমাদের শিশুদের এতে উৎসাহিত করা উচিত। সৃজনশীল চিন্তাবিদদের ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে সেগুলোর কল্পনা করতে হয়।" শিশুদের তৈরি গেমগুলোতে সাধারণত নিয়মের সেট থাকে। খেলোয়াড়দের সেগুলো অনুসরণ করতে হয়। খেলার মাধ্যমে এই ধরনের নিয়ম তৈরির সহযোগিতা শিশুদের যৌক্তিকভাবে ধারণা ও নিয়ম তৈরি করতে শেখায়। এটি তাদের একে অপরের সাথে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে শেখায়। এর মাধ্যমে তারা সামাজিকীকরণ এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার উপায় বুঝতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, "অবাধ খেলার সময় শিশুরা সাধারণত লিঙ্গ ও বর্ণ অনুযায়ী নিজেদের দলে ভাগ করে নেয়"।<ref>সিলভিয়া নপ পোলগার http://www.jstor.org/stable/3216602?seq=2In</ref> বহু বছর ধরে বেশিরভাগ নৃবিজ্ঞানী মানুষের খেলার তাৎপর্যের প্রতি খুব কম মনোযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন মানুষের খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানব আচরণের উপর এর ব্যাপক প্রভাবের কারণে এটি অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। খেলার কাজটি এখন নৃবিজ্ঞান ক্ষেত্রে অনেকের কাছে একটি সর্বজনীন অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত। মানব সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এটি তাৎপর্যপূর্ণ।<ref>এডওয়ার্ড নরবেক http://icb.oxfordjournals.org/cgi/content/abstract/14/1/267</ref> [[Image: Play.jpg|thumb|200px|right|খেলরত শিশু]] ===যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মধ্যে খেলা=== যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-বিদ্যালয় ব্যবস্থায় খেলাধুলা প্রদর্শন ও উৎসাহিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পিতামাতাদের জন্য তাদের সন্তানদের প্রাক-বিদ্যালয়ে পাঠানো সাধারণ ঘটনা। সেখানে তারা সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের সাথে যোগাযোগ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দক্ষতা শেখে। পিতামাতাদের তাদের সন্তানদের প্রাক-বিদ্যালয়ে পাঠাতে উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে তারা খেলাধুলা এবং যোগাযোগের উপায় শিখতে পারে। বড় হওয়ার সাথে সাথে সমাজে মিশতে শুরু করার জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হবে। প্রাক-বিদ্যালয় এবং এই প্রসঙ্গে খেলার ধারণাটি ছোট শিশুদের জন্য উপকারী। এটি ভাগ করে নেওয়ার জীবন দক্ষতা শেখায়। এর পাশাপাশি এটি বন্ধুত্ব, ধৈর্য এবং অন্যদের গ্রহণ করার মতো আরও অনেক কিছু শেখায়।<ref>রেইজিং চিলড্রেন নেটওয়ার্ক। http://raisingchildren.net.au/articles/sharing.html/context/752</ref> প্রাক-বিদ্যালয় শিশুদের শুধু প্রয়োজনীয় জীবন দক্ষতাই শেখায় না। এটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা থেরাপিউটিক সুবিধার জন্য প্রাক-বিদ্যালয়ে যেতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম-মোটর দক্ষতার বিকাশ, সম্পর্ক চর্চা এবং সৃজনশীল চিন্তা। সর্বোপরি এটি মজা করার একটি সুযোগ প্রদান করে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নিবেদিত অনেক স্কুল ফ্লোর-টাইম নামক একটি কৌশল ব্যবহার করে। এটি মূলত খেলার সময়। একজন প্রাপ্তবয়স্কের সাথে এই ব্যক্তিগত খেলার সময়টি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি দুর্দান্ত উপায়। এর মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণ করতে পারে। এটি তাদের আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। অন্যথায় তারা এগুলো থেকে বঞ্চিত হতে পারত।<ref>http://www.autismweb.com/floortime.html</ref> === প্রারম্ভিক শৈশবের সামাজিক খেলায় লিঙ্গ পার্থক্য === শিশুদের খেলায় লিঙ্গ পার্থক্য সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রাক-বিদ্যালয়ের শিশুদের উপর পরিচালিত গবেষণায় একটি বিষয় দেখা গেছে; মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের চেয়ে অল্প বয়সে সামাজিক ও কাঠামোগত খেলাধুলা গড়ে তোলে। তবে ছেলেরা একাকী খেলায় বেশি আগ্রহ দেখায়। "[http://store.msuextension.org/publications/HomeHealthandFamily/MT201003HR.pdf একাকী] খেলার সময় শিশুরা (তিন থেকে ১৮ মাস বয়সী) খেলা নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে। তারা আশেপাশে বসে থাকা বা খেলতে থাকা অন্যান্য শিশুদের লক্ষ্য করে না। তারা বিভিন্ন বস্তু দেখা, ধরা এবং নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে তাদের জগৎ অন্বেষণ করে। তারা প্রায়শই নিজেদের মতো করে খেলতে অনেক সময় ব্যয় করে। একাকী খেলা শৈশবে শুরু হয় এবং ছোট শিশুদের মধ্যে এটি সাধারণ। ছোট শিশুদের সীমিত সামাজিক, জ্ঞানীয় এবং শারীরিক দক্ষতার কারণে এমনটি ঘটে। তবে সব বয়সী মানুষের জন্যই নিজেদের মতো করে কিছু সময় খেলা করা গুরুত্বপূর্ণ।"<ref>http://store.msuextension.org/publications/HomeHealthandFamily/MT201003HR.pdf</ref> [https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16173673] ছেলেরা সাধারণত পরবর্তী বিকাশের পর্যায়ে মেয়েদের সমকক্ষ হয়। তখন সহযোগী ও সমবায় খেলা প্রধান ফোকাস হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক খেলার ক্ষেত্রে মেয়েদের সুবিধা পাওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। খেলায় যোগাযোগ, ভূমিকা গ্রহণ এবং সহযোগিতা জড়িত থাকে। ভাষা এবং থিওরি-অব-মাইন্ডের মতো আর্থ-জ্ঞানীয় দক্ষতা মেয়েরা অল্প বয়সেই অর্জন করে। প্রথম বছরের মধ্যে মেয়েরা শক্তিশালী সামাজিক অভিযোজন প্রতিক্রিয়া এবং মুখের স্বীকৃতি দেখায়। তারা বেশি চোখের যোগাযোগও স্থাপন করে। এই দক্ষতাগুলো সমবয়সীদের সাথে সামাজিক যোগ্যতায় রূপান্তরিত হয়। মেয়েদের খেলার মান ভালো হওয়ার আরেকটি কারণ লিঙ্গভিত্তিক খেলনা হতে পারে। একটি গবেষণায় একটি বিষয় দেখা গেছে। ছেলে এবং মেয়ে উভয় শিশুই গতানুগতিক মেয়েদের খেলনা দিয়ে খেলার সময় সর্বাধিক খেলার জটিলতা অনুভব করে। নিরপেক্ষ বা ছেলেদের গতানুগতিক খেলনা দিয়ে খেলার তুলনায় এটি বেশি হয়। [https://www.andrews.edu/~rbailey/Chapter%20one/9040385.pdf] ===প্রাপ্তবয়স্কদের কার্যকলাপ=== [[File:Party_hard.jpg|thumb|left|বার্সেলোনায় একটি পার্টিতে প্রাপ্তবয়স্করা]] শৈশবকাল জুড়ে শিশুদের সংস্কৃতায়নের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে খেলার ধারণাটি ম্লান হয়ে যায় বলে মনে হয়। অন্তর্নিহিত মূল্যের অবসরকালীন ক্রিয়াকলাপ শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক। জীবনে পূর্ণতার অনুভূতি অর্জন এবং সামগ্রিক সুখের জন্যও এগুলো অপরিহার্য। মানসিক চাপ মোকাবেলার সময় খেলাধুলা এবং অবসরের গুরুত্ব প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হয়। জাতীয় স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অর্থনীতি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানসিক চাপের নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। একটি কানাডিয়ান গবেষণার হিসাব অনুযায়ী মানসিক চাপের কারণে প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। ৪৩% আমেরিকান চাকরি সংক্রান্ত ক্লান্তিতে ভোগার কথা জানান। আমেরিকায় ছুটির সময়ের অভাবকে প্রায়শই এসব সমস্যার কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। অন্য কথায় এটি অবসর এবং খেলাধুলার অভাব। প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাধুলার কার্যকলাপে নিযুক্ত হওয়ার জন্য সময় দেওয়া হলে তাদের জীবনযাত্রার মানে স্পষ্ট সুবিধা দেখা যায়। এসব কার্যকলাপের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, শখ, নাচ বা অন্যান্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজ। জিম রাইসের "হোয়াই প্লে" নিবন্ধে তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের সময় সম্পর্কে লিখেছেন।<ref>হোয়াই প্লে। জিম রাইস। সোজোর্নার্স ম্যাগাজিন, জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ (খণ্ড ২৬, নং ১ পৃ. ২৪-২৭)। ফিচারস।</ref> প্রাপ্তবয়স্করা প্রায়শই নিজেদের সময়ের শিকার বলে মনে করেন। তারা তাদের সমস্ত সময় উৎপাদনশীলভাবে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতায় হতাশ হয়ে পড়েন। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্করা বুঝতে পারেন না যে খেলাধুলা এবং অবসর উৎপাদনশীল। এগুলো সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং মানসিক চাপ কমায়। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো অন্যান্য ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। প্রাপ্তবয়স্করা হাইকিং বা নৌকায় চড়ার মতো বাইরের কাজ করার মাধ্যমে খেলতে পারেন। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বা পানীয় ও নাচের জন্য বাইরে যাওয়ার মাধ্যমেও তারা সময় কাটাতে পারেন। =ক্রীড়া= ক্রীড়া হলো এক ধরনের খেলা। এটি নিয়মের একটি সেট দ্বারা পরিচালিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটিকে শারীরিকভাবে পরিশ্রমী এবং প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায় সব ধরনের ক্রীড়াতেই প্রতিযোগিতা একজন বিজয়ী এবং একজন পরাজিত নির্ধারণ করে। গলফ বনাম ফুটবলের মতো ক্রীড়াগুলোতে শারীরিক পরিশ্রম নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। ক্রীড়ায় সাধারণত খেলা, কাজ এবং অবসর উভয়ই থাকে। কম শারীরিক পরিশ্রমের ক্রীড়াগুলো সাধারণত খেলা হিসেবে পরিগণিত হয়। অন্যদিকে বেশি পরিশ্রমী এবং অ্যাথলেটিক চাহিদাপূর্ণ ক্রীড়াগুলো প্রায়শই ক্রীড়াবিদ ও দলের মালিকদের জন্য কাজ হিসেবে কাজ করে। তবে ক্রীড়া সাধারণত দ্বন্দ্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। এখানে সর্বদা একজন প্রতিপক্ষ বা দলের জয়ের লক্ষ্য থাকে। কিছু সংস্কৃতিতে দ্বন্দ্ব-নিরসন প্রায়শই লক্ষ্য হিসেবে থাকে। এই ধরনের খেলা নির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়। এটি একটি ভার্চুয়াল জগত তৈরি করে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা নায়ক ও শত্রু তৈরি করতে পারে। তারা বাস্তব জগতের পরিণতি ছাড়াই কষ্ট ভোগ এবং উদযাপন করতে পারে। ক্রীড়াবিদ এবং দলগুলো কেবল একে অপরের বিরোধিতা করার জন্যই থাকে না। তারা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের এবং তাদের দলের প্রতিনিধিত্ব করে।<ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা। কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন উইথ ফ্রি স্টাডি স্কিলস গাইড অন সিডি-রম। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ইউএসএ, ২০০৪।</ref> ==সংস্কৃতিতে ক্রীড়া== [[Image:U20-WorldCup2007-Okotie-Onka edit2.jpg|thumb|left|পেনাল্টি এলাকার ভেতর থেকে কাছাকাছি দূরত্বের একটি শট বাঁচাচ্ছেন একজন গোলরক্ষক]] [[Image:Football world popularity.png|thumb|350px|বিশ্বজুড়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দেখানো মানচিত্র]] ===সকার/ফুটবল=== ক্রীড়া বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নানারকম অর্থ বহন করে। সকারের উৎপত্তি ইউরোপে। এটি হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত রয়েছে। এর কিছু প্রাথমিক রূপ যুদ্ধের পরের আচার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে তারা বলের পরিবর্তে শত্রুর মাথা ব্যবহার করত। ব্রাজিলের সকার নিয়ে একটি গবেষণায় ড. জ্যানেট লিভার একটি বিষয় খুঁজে পান। সংগঠিত ক্রীড়া রাজনৈতিক ঐক্য এবং জাতি-রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যে সহায়তা করে।<ref>লিভার, জ্যানেট। সকার ম্যাডনেস ব্রাজিলস প্যাশন ফর দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট পপুলার স্পোর্ট। নিউ ইয়র্ক: ওয়েভল্যান্ড পি, ১৯৯৫।</ref> ব্রাজিলের প্রতিটি শহরে কমপক্ষে একটি পেশাদার সকার দল রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, বিভিন্ন দল বিভিন্ন সংস্কৃতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্তর এবং জাতিসত্তা। এটি স্থানীয় স্তরে আনুগত্য তৈরি করে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একটি শহরের প্রতিনিধিত্বকারী দল সেই শহরের সকল মানুষের সমর্থন পাবে। এভাবে এটি বৃহত্তর স্তরে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলে। দলের প্রতিনিধিত্বের জন্য এই দৃঢ় সমর্থন মানুষকে একাত্ম হওয়ার মতো কিছু দেয়। দলের প্রতি তাদের সমর্থনকে জাতির প্রতি সমর্থন হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপের সময় এটি আরও বেশি দেখা যায়। তখন পুরো ব্রাজিল তাদের দেশের আনুষ্ঠানিক দলকে সমর্থন করতে ঐক্যবদ্ধ হয়। ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা 'পেন্টা' নিয়ে গর্ব করতে পছন্দ করে। তারা একমাত্র দেশ হিসেবে পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে। তারা ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে।<ref>২০০৯। http://www.mapsofworld.com/brazil/sports/soccer.html</ref> সকার ব্রাজিলকে ঐক্যবদ্ধ করে। তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ক্রীড়া সবসময় ঐক্য তৈরি করে না। ক্রীড়া সকল ক্রীড়াবিদদের মধ্যে একটি আক্রমণাত্মক ও প্রতিযোগিতামূলক দিক বের করে আনে। এগুলো নারী ও পুরুষের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্যের মতো অসমতাগুলোও তুলে ধরে। ব্রাজিলিয়ান নারীদের সকারের প্রতি আগ্রহ অনেক কম। এর ফলে তারা সেই দিক থেকে পুরুষদের চেয়ে আলাদা থাকে। (শেষ বিবৃতিটি সম্পূর্ণ সঠিক নাও হতে পারে। বিপুল সংখ্যক ব্রাজিলিয়ান নারী বিশ্বের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ সকার ভক্তদের অন্যতম। এছাড়া ব্রাজিল নারী জাতীয় দল এই খেলায় সবচেয়ে সফল ক্লাব।)<ref>ইম্যানুয়েল গ্রোসি</ref> সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রে সকার খেলা গুণমান বাড়ায় বলে মনে করা হয়। এসব দিকের মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মকতা, প্রতিযোগিতা, শারীরিক শক্তি, সমন্বয়, দলবদ্ধ কাজ, শৃঙ্খলা এবং গতি। এগুলো সবই পুরুষ লিঙ্গের সাথে সম্পর্কিত গুণাবলী। পুরুষদের জন্য তাদের বাড়িতে বা স্থানীয় দোকানের সামনে একসাথে খেলা দেখা একটি সাধারণ অভ্যাস। এসব সমাবেশে নারীদের স্বাগত জানানো হয় না। প্রায়শই খেলা শুরুর আগে তাদের চলে যেতে বলা হয়। খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আসতে নিষেধ করা হয়। সার্বিয়ান সংস্কৃতির এই পুরুষশাসিত দিকটি ব্রাজিলে দেখা নারী ও পুরুষের লিঙ্গ বৈষম্যের সমান্তরাল।<ref>মাসা ভুকানোভিচ। এপ্রিল ২০০২। http://www.anthrobase.com/Txt/V/Vukanovich_M_01.htm</ref> সকার উচ্চবিত্ত সমাজ ও নিম্নবিত্ত সমাজের মধ্যকার পার্থক্যকে তুলে ধরে। এটিও এক ধরনের অসমতা। বিংশ শতাব্দী জুড়ে বিশেষ করে গরিবরা সকার চর্চা করত। অনেক দরিদ্র ছেলে পরবর্তী পেলে বা রোনালদো হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এর কারণে তারা জাতীয় সকার সংস্কৃতিকে আরও বেশি প্রচার করে। সকার নিয়ে স্বপ্ন দেখা লাখ লাখ দরিদ্র শিশুর জন্য একটি প্রেরণা। তারা দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে চায়। ব্রাজিলিয়ান জীবনে সকার সংস্কৃতির প্রভাব রাজনীতি বা অর্থনীতির চেয়ে বড় হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা। কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন উইথ ফ্রি স্টাডি স্কিলস গাইড অন সিডি-রম। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ইউএসএ, ২০০৪।</ref> ===আমেরিকান ফুটবল=== আমেরিকান ফুটবলের অনেকগুলো ব্যাপকভাবে সম্প্রচারিত খেলা রয়েছে। এগুলো প্রতি বছর বিশাল দর্শক টানে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিত সুপার বোল প্রতি বছর লাখ লাখ টেলিভিশন দর্শক টানে। নতুন বছরের দিনে বা তার আশেপাশে কলেজ ফুটবলের একাধিক বিসিএস (বোল চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজ) বোল গেম অনুষ্ঠিত হয়। এগুলোও এই খেলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।<ref>(ফুটবল ইন দ্য ইউএসএ: আমেরিকান কালচার অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ডস গেম বাই পিটার এস. মরিস, নভ. ২০০৪)</ref> ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) একটি সংস্থা। এতে সারা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ৩২টি পেশাদার দল রয়েছে। এনএফএল বিশ্বব্যাপী আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০০৮-০৯ এনএফএল মৌসুমে নিউ অরলিন্স সেন্টস এবং সান দিয়েগো চার্জার্স লন্ডনে নিয়মিত মৌসুমের খেলা খেলেছিল। এরপর থেকে প্রতি বছর অন্তত একটি আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এনএফএলকে আরও বিশ্বব্যাপী করে তুলতে এবং খেলার সংস্কৃতি সম্প্রসারণ করতে এটি করা হয়েছিল। ফুটবল একটি হিংসাত্মক খেলা। পেশাদার স্তরের হিটগুলো প্রায়শই দুজন অসামান্য ক্রীড়াবিদের পূর্ণ গতিতে একে অপরের সাথে দৌড়ানোর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সুরক্ষা হিসেবে তারা প্যাড এবং হেলমেট পরিধান করে। এটি বিপদের অনুভূতি প্রশমিত করে। ফুটবলের আক্রমণাত্মক প্রকৃতি এর জনপ্রিয়তার একটি প্রধান কারণ। এর প্রধান গুণাবলী হলো কঠোরতা এবং অধ্যবসায়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জীবনের পরবর্তী সময়ে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটিই এবং ডিমেনশিয়া। এর ফলে খেলাটি খেলার নেতিবাচক প্রভাব ইতিবাচক দিকগুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ===বেসবল=== [[File:Dominican baseball.jpg|thumb|ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি অল্পবয়সী ছেলে একটি অনুশীলন খেলার সময় একজন স্বেচ্ছাসেবক আম্পায়ারের সাথে বল এবং স্ট্রাইক নিয়ে তর্ক করছে।]] এই সর্বজনীন ক্রীড়াটি ডোমিনিকান রিপাবলিকের সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি ডোমিনিকানদের একে অপরের সাথে যুক্ত করে। এটি ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ক্যারিবিয়ানের বাকি অংশের সাথেও যুক্ত করে রেখেছে।<ref>দ্য ট্রপিক অব বেসবল: বেসবল ইন দ্য ডোমিনিকান রিপাবলিক। http://books.google.com/books?id=kloGyBSEsRsC&printsec=frontcover#PPP1,M1</ref> এই ছোট ক্যারিবিয়ান দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ বেসবলের অনেক সেরা খেলোয়াড়ের আবাসস্থল। যুক্তরাষ্ট্রে মেজর লিগ পরিচালিত হয় এবং ওয়ার্ল্ড সিরিজ খেলা হয়। মেজর লিগ হিরোরা ডোমিনিকান রিপাবলিকে এই খেলায় পারদর্শী হয়েছিলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন [[w:স্যামি সোসা|স্যামি সোসা]], [[w:পেদ্রো মার্তিনেস|পেদ্রো মার্তিনেস]] এবং [[w:ভ|ডেভিড অর্টিজ]]। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদারভাবে খেলা। ডোমিনিকান রিপাবলিক একটি অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র দেশ। ডেভিড অর্টিজ এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা এই বাচ্চাদের তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে ফিরে আসেন। তারা দেখান কীভাবে বেসবল খেলে অন্য সংস্কৃতিগুলো দেখা যায়। ছোট ছেলে এবং কিশোররা সেরা বেসবল খেলোয়াড় হওয়ার জন্য সারাজীবন কাজ করে। এই ধ্রুবক প্রতিযোগিতা বিনোদনের একটি দুর্দান্ত উৎস। এ কারণেই বেসবল খেলা ডোমিনিকান সংস্কৃতির একটি বিশাল অংশ। বেশিরভাগ নারীকে এই খেলায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। এই নিয়মটি লিঙ্গবৈষম্য নয়, বরং নারীদের সুরক্ষিত রাখার একটি প্রয়াস। বেশিরভাগ ডোমিনিকান মনে করেন বেসবল নারীদের জন্য একটি বিপজ্জনক খেলা। শক্ত বল যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো জায়গায় আঘাত করতে পারে। নারীরা বেসবল খেলতে পারবে না এমন কোনো আইন নেই। তবে তারা ঐতিহ্যগতভাবে এই সাংস্কৃতিক বিনোদনে অংশ নেয় না। নারীদের জন্য সফটবল নামে একটি খেলা তৈরি করা হয়েছে। এটি বেসবলের মতোই, তবে এতে একটি বড় এবং নরম বল ব্যবহার করা হয়। ডোমিনিকান রিপাবলিকের পুরুষদের জন্য বেসবল কেবল একটি দুর্দান্ত শখ বা সম্পর্ক তৈরির উপায় নয়। এটি সেরা ক্রীড়াবিদ হওয়ার সুযোগও দেয়। বেসবল আমেরিকার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে এবং ইতিহাস থেকে ক্রীড়াকে রূপ দিতে সাহায্য করেছে। এশিয়া প্রথম বেসবল খেলা শুরু করার পর আমেরিকা এসে একটি বিপ্লবের সূচনা করে। <ref>ক্লিন, অ্যালান এম. কালচার, পলিটিক্স, অ্যান্ড বেসবল ইন দ্য ডোমিনিকান রিপাবলিক। http://www.jstor.org/stable/2634143</ref> বিভিন্ন ধরণের ক্রীড়ায় প্রতীক এবং ভাষা ব্যবহৃত হয়। তবে বেসবল খেলার জন্য এগুলো একেবারে অপরিহার্য। বেসবলের একটি পূর্ণ নয় ইনিংসের খেলায় মাঠে প্রায় কখনই সম্পূর্ণ নীরবতা থাকে না। আমেরিকান সংস্কৃতিতে থার্ড বেস কোচ নির্দিষ্ট অঙ্গভঙ্গি এবং হাতের ইশারা ব্যবহার করেন। তিনি ব্যাটারকে একটি নির্দিষ্ট কাজ (সুইং, বান্ট, টেক ইত্যাদি) করার নির্দেশ দেন। মাঠে খেলোয়াড়রা অবস্থান পরিবর্তন, আউটের সংখ্যা এবং ব্যাটার সাধারণত কোথায় বল মারে সেই সম্পর্কে টিপস দিতে হাতের ইশারা এবং ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করেন। বেসবলে প্রতীক এবং হাতের ইশারার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারটি ক্যাচার করেন এবং এটি পিচারের দিকে নির্দেশিত হয়। এই অঙ্গভঙ্গিগুলো খেলার একটি অপরিহার্য দিক। কারণ এগুলো পিচারকে বলে দেয় সে পরবর্তীতে কোন পিচ (কার্ভবল, ফাস্টবল, স্লাইডার ইত্যাদি) নিক্ষেপ করবে। সংস্কৃতি এবং খেলাটি কোন দেশে খেলা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন দলের সদস্য (থার্ড বেস কোচ, ফার্স্ট বেস কোচ, হেড কোচ, খেলোয়াড় ইত্যাদি) বেসবলে কমান্ড দেন। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকান সংস্কৃতিতে হিটিং সাইনগুলো থার্ড বেস কোচ দেন এবং ক্যাচিং সাইনগুলো হেড কোচ দেন।<ref>চিডেস্টার, ডেভিড ১৯৯৬দ্য চার্চ অব বেসবল, দ্য ফেটিশ অব কোকা-কোলা, অ্যান্ড দ্য পটল্যাচ অব রক "এন" রোল: থিওরিটিক্যাল মডেলস ফর দ্য স্টাডি অব রিলিজিয়ন ইন আমেরিকান পপুলার কালচার। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান একাডেমি অব রিলিজিয়ন ৬৪(৪): ৭৪৩–৭৬৫। http://www.jstor.org/stable/1465620?seq=5#page_scan_tab_contents</ref> বল বা ব্যাট ছাড়া যেমন বেসবল খেলা যায় না, তেমনি যোগাযোগ, প্রতীক এবং অঙ্গভঙ্গি ছাড়াও এটি খেলা যায় না। এছাড়া বেসবল যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার ক্রীড়া। আমেরিকান ফুটবল বা সকারের মতো অন্যান্য খেলা থেকে এটি আলাদা। বেসবল কোনো টাইমার ছাড়াই খেলা হয়। এটি খেলোয়াড়দের সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তা না করেই তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ দেয়। এর ফলে দক্ষতার উত্তেজনাপূর্ণ প্রদর্শন দেখা যায়। ===বাস্কেটবল=== বাস্কেটবল যুক্তরাষ্ট্রে সমানভাবে জনপ্রিয়। বিশ্বব্যাপী এর অনুসারীও বাড়ছে। বাস্কেটবল প্রতিটি দলের পাঁচজন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা হয়। একটি হুপের ভেতর দিয়ে বল সফলভাবে নিক্ষেপ করে পয়েন্ট অর্জন করাই প্রধান লক্ষ্য। বাস্কেটবল যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপকভাবে খেলা হয় এবং এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের কাছেই জনপ্রিয়। এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং ব্যাপকভাবে দেখা খেলাগুলোর একটি। নারীদের ক্রীড়ার সমতার সংগ্রাম বহু বছর ধরে চলছে। ডব্লিউএনবিএ ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত শুরু হয়নি। তবে শেরিল সোউপস, সিনথিয়া কুপার, লিসা লেসলি, ডায়ানা টাউরাসি এবং ক্যান্ডেস পার্কারের মতো তারকারা এর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। শেরিল সোউপস এবং সিনথিয়া কুপার হিউস্টন ধূমকেতুকে প্রথম চারটি ডব্লিউএনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের দিকে নিয়ে যান। তারা প্রথম ডব্লিউএনবিএ রাজবংশ ছিলেন। ডব্লিউএনবিএ এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে এর দর্শক এনএইচএল এবং এমএলবি উভয়কেই ছাড়িয়ে গেছে। টাইটেল নাইন ডব্লিউএনবিএতে বিশাল প্রভাব ফেলতে সাহায্য করেছে। এটি কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের সাহায্য করেছে এবং তাদের বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বাস্কেটবল অন্যান্য অনেক দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশগুলোর বিশ্বায়নে বাস্কেটবলের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বাস্কেটবল বিশ্বে বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে। কারণ এর সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় পেশাদার লিগ রয়েছে। এনবিএ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পেশাদার বাস্কেটবল লিগ। এটি বিশ্বজুড়ে বাস্কেটবল লিগের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালায়। এই বছর এনবিএ ১০টি ভিন্ন আন্তর্জাতিক শহরে ১০টি গেম খেলার জন্য ১২টি দল প্রস্তুত করে বিশ্বায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশা করছে। এনবিএ আরও আন্তর্জাতিক শহরগুলোকে বাস্কেটবল দল এবং লিগ গঠনে প্রভাবিত করার আশা করে। এসব খেলা তাদের দেশ এবং শহরে খেলা হবে। <ref>http://www.newyorker.com/business/currency/basketball-and-globalization</ref> === বক্সিং === যুদ্ধে প্রাচীন শিকড় থাকা একটি ক্রীড়া হলো বক্সিং। এটি আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বেশিরভাগ অংশে প্রচলিত। বক্সিংয়ের উৎপত্তি প্রাগৈতিহাসিক। জনপ্রিয়তার হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে খেলাটি বহু বছর ধরে বিবর্তিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বর্তমানে বক্সিংয়ের জন্য চারটি প্রধান অনুমোদনকারী সংস্থা রয়েছে। এগুলো হলো ওয়ার্ল্ড বক্সিং অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও), ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং অর্গানাইজেশন (আইবিএফ), ওয়ার্ল্ড বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউবিএ) এবং ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিল (ডব্লিউবিসি)। বক্সিংয়ের জনপ্রিয়তা দেশভেদে পরিবর্তিত হয়। কারণ ওই এলাকার সংস্কৃতির সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। বক্সিংয়ের সাথে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর উদাহরণ হলো মেক্সিকো, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। বিখ্যাত চ্যাম্পিয়নদের একটি বড় অংশ এসব অঞ্চল থেকে এসেছে। তবে পেশাদার বক্সিংয়ের অনেক বিখ্যাত তারকা বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে আন্তর্জাতিক আইকন হয়ে উঠতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন মাইক টাইসন, মুহাম্মদ আলী এবং রবার্তো ডুরান। ২০০০ এর দশক থেকে পেশাদার বক্সিংয়ের দর্শক সংখ্যা কমে গেছে। তবে অপেশাদার বক্সিং একটি খেলা যা এখনও বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে খুব জনপ্রিয়। এটি একটি অলিম্পিক খেলা। ===গেমিং এবং ই-স্পোর্টস=== শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ঐতিহ্যগতভাবে খেলা হিসেবে দেখা না হলেও ভিডিও গেমগুলো মূলধারায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ই-স্পোর্টস হিসেবে পরিচিত এগুলো প্রতিযোগিতার একটি রূপ যা অনলাইন ডিভাইস দ্বারা সহজতর করা হয়। এগুলো সাধারণত বাড়ির আরামে খেলা হয়। তবে সম্প্রতি এগুলো অ্যারেনায় আয়োজন করা হচ্ছে। সবচেয়ে সাধারণভাবে ই-স্পোর্টস সংগঠিত, মাল্টিপ্লেয়ার ভিডিও গেম প্রতিযোগিতার রূপ নেয়। বিশেষ করে পেশাদার খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি হয়। উন্নত দেশগুলোতে ই-স্পোর্টসের বড় ইভেন্ট এবং প্রতিযোগিতাও রয়েছে। এসব গেমাররা নগদ পুরস্কার জেতার জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষমতা যাচাই করতে মিলিত হন। ই-স্পোর্টস আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বাধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ই-স্পোর্টস পুরস্কার দলীয় খেলার জন্য ১০,০০০ এবং ব্যক্তিগত খেলার জন্য প্রায় ৬,০০০ ডলার অতিক্রম করতে পারে। এসব টুর্নামেন্টের অনেকগুলি ইএসপিএনের মতো স্পোর্ট নেটওয়ার্কগুলো কভার করে। [http://www.espn.com/esports/]। নগদ পুরস্কারের পাশাপাশি খেলোয়াড় এবং দলগুলোকে কোম্পানিগুলো পৃষ্ঠপোষকতা করে। ন্যাসকার ড্রাইভার, প্রো স্নোবোর্ডার এবং আমেরিকান সকার দলগুলোর মতো রেজার, রেড বুল, লজিটেক, জেইকো এবং মনস্টার এনার্জির মতো কোম্পানিগুলো তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। কাউন্টারস্ট্রাইক, লিগ অব লিজেন্ডস, ডোটা ২, ওভারওয়াচ, পিইউবিজি এবং স্টারক্রাফট হলো শীর্ষস্থানীয় গেম। স্ম্যাশ এবং টেককেনের মতো ফাইটিং গেমের মতো আরও গেম প্রতিযোগিতামূলক দৃশ্যে নজর কাড়ছে। বিশেষভাবে "মাল্টিপ্লেয়ার অনলাইন ব্যাটল অ্যারেনা" ধরনের গেমের (এমওবিএ) দৃশ্যের মধ্যে লিগ অব লিজেন্ডস এবং ডোটা ২-এর মতো গেমগুলো ক্রীড়ার প্রথাগত চিত্রের মতো অনুশীলনে ধার দিয়েছে। ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ২০,৭৭০,৬৪০ ডলারের পুরস্কার ছিল। [https://www.dota2.com/international/overview/ 1]। একই বছরে লিগ অব লিজেন্ডস ওয়ার্ল্ড ট্যুর একই বছরের সুপার বোলের চেয়ে বেশি দর্শক দেখেছিল। এই ধরনের গেমের চারপাশের সম্প্রদায়গুলো 'ই-স্পোর্টস' (ইলেকট্রনিক স্পোর্টস) শব্দটি তৈরি করেছে। তারা পেশাদার খেলোয়াড়দের স্পোর্টস ভিসা প্রদানের জন্য মার্কিন সরকারের সাথে অধিকার অর্জন করেছে। এমওবিএ সম্প্রদায়গুলোর খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের গেমটিকে ই-স্পোর্টস হিসেবে চিহ্নিত করা একটি সাধারণ ব্যাপার। তবে এই মত সাধারণ মানুষের সাথে ভাগ করা হয় না। তবে এটি এমন একটি শিল্প যার নিজস্ব কষ্ট রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী পেশাদার গেমারদের দিনে চৌদ্দ থেকে ষোল ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সফল অল্প কয়েকজন লোক জাতীয় গড়ের তুলনায় যথেষ্ট কম বেতন পান। কোরিয়ায় শীর্ষ পেশাদার খেলোয়াড়রা বছরে ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ ডলার উপার্জন করতে পারে। তবে ছোট দলের খেলোয়াড়রা গড়ে বছরে ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলারের মধ্যে উপার্জন করে। সে কথা বলতে গেলে অনেক ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়ের উন্নতি করা এবং দীর্ঘ, সফল ক্যারিয়ার থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। দল বা ব্যক্তিগত যাই হোক না কেন এটি সম্ভব। উপরন্তু প্রো খেলোয়াড়দের সাধারণত বয়স গ্রুপ এবং গেমের ধরনের উপর নির্ভর করে দীর্ঘ ক্যারিয়ার থাকে। [http://www.espn.com/esports/story/_/id/21689888/dispelling-esports-myths-pros-not-destined-short-careers]। ===ক্রীড়ায় যুক্ত হওয়ার ইতিবাচক প্রভাব=== ক্রীড়ার সাথে যুক্ত হওয়া নানাভাবে উপকারী। এটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, দল গঠনের সুযোগ, শক্তি, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব এবং শৃঙ্খলার প্রচার করে। এটি মাঠে এবং মাঠের বাইরে আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও পারে। এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা শিশুদের স্বাধীন, চালিত ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। এই তত্ত্বের পেছনে গবেষণা করা হয়েছে যে কিশোরী মেয়েরা বিশেষ করে খেলাধুলায় জড়িত থাকলে তারা নিরাপদ এবং অধিক উৎপাদনশীল জীবনযাপন করতে পারে।<ref>ব্রিটনি লুন্ডবার্গ</ref> এটি প্রমাণিত হয়েছে যে ক্রীড়াবিদরা ভালো গ্রেড পান এবং মানসম্মত পরীক্ষায় ভালো পারফর্ম করেন। উদাহরণস্বরূপ, সাঁতার টেনিস এবং ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের সাথে শীর্ষ একাডেমিক পারফর্মিং খেলাগুলোর একটি। ক্রীড়ার অভ্যাসগুলো স্কুলে পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। মেয়েরা এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করে যা তাদের মনোযোগী থাকতে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোচ এবং পিতামাতারা ক্রীড়াবিদদের জন্য অবচেতন প্রত্যাশা তৈরি করতে শুরু করেন। এগুলো তাদের এমন কাজকর্মে জড়িত হওয়া থেকে বিরত রাখে যেগুলোতে তাদের জড়িত হওয়া উচিত নয়। রাসেল আর. পেট, পিএইচডি; স্টুয়ার্ট জি. ট্রোস্ট, পিএইচডি; সারাহ লেভিন, পিএইচডি; মার্শা ডাওডা, ডা.পিএইচের করা একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় ৭০% পুরুষ শিক্ষার্থী এবং ৫৩% নারী শিক্ষার্থী স্কুল বা স্কুলের বাইরের পরিবেশে ১টি বা তার বেশি ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণ করার কথা জানিয়েছে। হার বয়স, লিঙ্গ এবং জাতিসত্তা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। অংশগ্রহণ না করা পুরুষ শিক্ষার্থীদের তুলনায় খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী পুরুষ শিক্ষার্থীরা আগের দিন ফল ও সবজি খাওয়ার কথা বেশি জানিয়েছে। তাদের সিগারেট ধূমপান, কোকেন ও অন্যান্য অবৈধ মাদক ব্যবহার এবং ওজন কমানোর চেষ্টা করার সম্ভাবনা কম ছিল। খেলায় অংশগ্রহণ না করা নারীদের তুলনায় খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী নারীরা আগের দিন সবজি খাওয়ার কথা বেশি জানিয়েছে। গত ৩ মাসে তাদের যৌনমিলনের সম্ভাবনা কম ছিল। খেলাধুলায় অংশগ্রহণ গণিত ও বিজ্ঞানের সাফল্যের সাথে যুক্ত। এগুলো ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের আধিপত্য থাকা বিষয়। এর একটি ব্যাখ্যা হতে পারে খেলাধুলা মেয়েদের ঐতিহ্যগত লিঙ্গ স্ক্রিপ্ট প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এগুলো এই ক্ষেত্রগুলোতে অধ্যবসায় এবং প্রতিযোগিতাকে সীমাবদ্ধ করে। এটি অন্বেষণ করার জন্য আমরা একাডেমিক ডোমেনগুলোতে ছেলে এবং মেয়েদের ওপর ক্রীড়ার প্রভাবগুলোর বৈসাদৃশ্য তৈরি করি। এগুলো পুংলিঙ্গ (পদার্থবিদ্যা) এবং স্ত্রীলিঙ্গ (বিদেশি ভাষা) হিসেবে স্টেরিওটাইপ করা হয়। উপরন্তু আমরা পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া খেলাগুলোকে আলাদা করি। এটি এমন কার্যকলাপগুলো চিহ্নিত করতে করা হয় যা ঐতিহ্যগত লিঙ্গ রীতিনীতিগুলোকে শক্তিশালী বা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। একই লিঙ্গের অংশগ্রহণ না করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় মেয়েদের পদার্থবিদ্যা এবং বিদেশি ভাষা নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে ছেলেদের বিদেশি ভাষা নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ক্রীড়া বিভাগগুলো ছেলে এবং মেয়েদের জন্য ভিন্ন নিদর্শন প্রকাশ করে। পুংলিঙ্গ ক্রীড়া মেয়েদের জন্য পদার্থবিদ্যা এবং ছেলেদের জন্য বিদেশি ভাষার সাথে সম্পর্কিত। অন্যদিকে মেয়েলি ক্রীড়া মেয়েদের জন্য কেবল বিদেশি ভাষার সাথে সম্পর্কিত। এই ফলাফলগুলো পূর্বের গবেষণাগুলোকে নিশ্চিত করে যে খেলাধুলা শিক্ষায় উন্নতি করে। তবে এগুলো থেকে বোঝা যায় খেলাধুলার অভিন্ন প্রভাব নেই। কিছু খেলাধুলা সম্ভাব্যভাবে প্রথাগত নারীত্বকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং মেয়েদের পুংলিঙ্গ ডোমেনগুলোতে টিকে থাকতে সাহায্য করতে পারে। অন্যান্য খেলাধুলাগুলো একই সুবিধা প্রদান নাও করতে পারে। (ক্রিসসি, এস. আর., পিয়ারসন, জে., এবং রিগেল-ক্রাম্ব, সি. "জেন্ডার ডিফারেন্সেস ইন দ্য ইফেক্টস অব স্পোর্টস পার্টিসিপেশন অন অ্যাকাডেমিক আউটকামস") খেলাধুলায় বেশি জড়িত থাকলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যও শীর্ষ অগ্রাধিকারে পরিণত হয়। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা স্কুল, খেলাধুলা, পারিবারিক সময় এবং বাড়ির কাজ নিয়ে সময় কাটানোর সময় সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা শেখা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় মানুষের শরীর ক্লান্ত ও জীর্ণ হয়ে পড়বে। তারা যতটা ভালো করতে পারে ততটা ভালো পারফর্ম করতে পারবে না। মানুষ যখন ভালো শারীরিক আকারে থাকে তখন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অনেক বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক হয়। এগুলো সারাজীবন স্থায়ী হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা মানুষকে খেলাধুলা এবং ব্যায়ামে ভালো পারফর্ম করার জন্য বেশি শক্তি দেয়। এটি হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করবে। তাই ক্রীড়া ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ব্যায়ামকে অবশ্যই একটি সুস্থ সামগ্রিক জীবনযাত্রার সাথে যুক্ত হতে হবে। ===দলীয় ক্রীড়ার সুবিধা=== দলে অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের সাথে কাজ করা একটি শক্ত-বোনা সম্প্রদায় তৈরি করে। মানুষ অন্যান্য খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করতে এবং একটি সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে শেখে। একটি কার্যকর দলের পরিবেশ সহযোগিতামূলক এবং হুমকিমুক্ত থাকে। এটি আরও উন্মুক্ত এবং নিবদ্ধ শিক্ষার সুযোগ দেয়। প্রতিযোগিতায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আপসের মতো দক্ষতাগুলো অনেক দ্রুত শেখা যায়। এই ধরনের সংযোগ খেলার মাঠ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক জীবনে নিয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ কীভাবে মাঠে খেলে এবং যোগাযোগ করে তা প্রতিফলিত করতে পারে কীভাবে সে একটি ব্যবসায়িক মিটিংয়ে সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে। এটি তারা কীভাবে তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে তাও দেখাতে পারে। দলে কাজ করা একটি গ্রুপকে কঠিন চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে উপকৃত করতে পারে। কারণ একটি গ্রুপের মন এবং কাজ কেবল একজনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং সফল হতে পারে। তারা কীভাবে একটি চ্যালেঞ্জের কাছে যেতে হবে সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনার বৈচিত্র্যের সুযোগ দেয়। তারা গ্রুপটিকে ধ্রুবক সমর্থন দ্বারা টিকিয়ে রাখার সুযোগ দেয়।<ref>http://web2.uqat.ca/marsanm/Readings/ch2%20The%20wisdom%20of%20teams.pdf</ref> ক্রীড়া ক্রীড়াবিদদের আরও স্বাস্থ্যসচেতন, অনুপ্রাণিত, মনোযোগী এবং উদ্যমী করতে পারে। একটি দলের অংশ হওয়া ক্রীড়াবিদদের অন্যদের সাথে অনেক ভালো যোগাযোগ করতে সক্ষম করে। এটি অন্যদের চাহিদা বিবেচনা করতে, সমালোচনামূলক চিন্তার সমস্যা সমাধান করতে এবং একজন নেতা হতে সক্ষম করে। ===স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন=== বর্তমানে আমেরিকায় অতিরিক্ত খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে একটি মহামারী চলছে। একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো ছোট শিশুদের মধ্যে স্থূলতার ক্রমবর্ধমান হার। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের জ্ঞান ছাড়াই শিশুরা বড় হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় তারা এমন একটি জীবনযাত্রায় জড়িয়ে পড়ে যা অস্বাস্থ্যকর। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমেরিকা একটি স্বাস্থ্যকর বিশ্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। আমেরিকায় স্থূলতা সম্পর্কিত এই সাম্প্রতিক স্পাইকের অন্যান্য কারণগুলো হলো গত শতাব্দীতে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ। এগুলো আমাদের দৈনন্দিন রুটিন থেকে শারীরিক ব্যায়াম প্রায় সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দিয়েছে। যদি না কেউ ব্যায়াম করার উদ্দেশ্যমূলক প্রচেষ্টা না করে। অটোমোবাইলের উদ্ভাবন প্রযুক্তির কিছু উদাহরণ হিসেবে দায়ী করা হয়। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হাঁটার দিকটি কেড়ে নিয়েছে। কারখানাগুলোতে অ্যাসেম্বল লাইনের উদ্ভাবন খাবারকে দ্রুত ও আরও কার্যকরীভাবে তৈরি, প্যাক এবং শিপ করে।<ref>http://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=McrESStscH4C&oi=fnd&pg=PR22&dq=american+industrial+revolution&ots=WCKg3xKqDr&sig=y7MO_jMW26YtGkwxN-bVgbNyb1s#v=onepage&q&f=false</ref> এসব উন্নয়ন থেকে আমরা মুদি দোকানের তাকগুলোতে সস্তা, উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত, সুস্বাদু খাবার প্রচুর পরিমাণে মজুত করার ক্ষমতাও অর্জন করেছি।<ref>মাইকেল ডি. লেমোনিক। http://www.time.com/time/subscriber/covers/1101040607/article/how_we_grew_so_big_diet01a.html</ref> এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নগুলো সমাজ হিসেবে আমেরিকাকে জনসংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে দিয়েছে। একই সাথে এটি তার নিজস্ব নাগরিকদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শারীরিক সুস্থতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতেই কেবল সাহায্য করে না, এটি মানুষকে দীর্ঘকাল বাঁচতেও সাহায্য করে। আপনি যদি সারাজীবন সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখতে পারেন তবে আপনি অস্টিওপরোসিসের সূচনা ধীর করতে পারবেন। এর পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতেও পারবেন। যারা কম বয়সে শারীরিক কার্যকলাপ এবং ব্যায়ামকে তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেয় তাদের বড় হওয়ার সাথে সাথে এটি জীবনে ধরে রাখার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তারা তাদের সারাজীবন এর থেকে উপকৃত হয়। শারীরিক কার্যকলাপকে শক্তি ব্যয়কারী যেকোনো আন্দোলন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ব্যায়াম শারীরিক কার্যকলাপের একটি উপসেট, তবে এটি কাঠামোগত এবং পরিকল্পিত একটি কার্যকলাপ। অনেক শিশু শারীরিক ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত থাকে, সাধারণত তাদের বন্ধুদের সাথে খেলার মাধ্যমে। দলীয় খেলায় কিশোর-কিশোরী হিসেবে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তাদের শারীরিক ক্রিয়াকলাপের পরিমাণ সাধারণত হ্রাস পায়। আজ আমেরিকায় ২০% এর বেশি শিশুর মধ্যে স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজন দেখা যায়। তার ওপর নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্বল খাদ্যাভ্যাস আমেরিকায় প্রতি বছর ৩০০,০০০ মৃত্যুর কারণ। এটি প্রমাণিত যে ৩০ মিনিটের পরিমিত শারীরিক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এটি প্রতি সপ্তাহে ন্যূনতম তিন দিন করতে হবে এবং এমনকি তিনটি ১০ মিনিটের খণ্ডেও বিভক্ত করা যেতে পারে। এটি একটি ৩০ মিনিটের সেশনের সমান ফলাফল দেবে। তবে বেশি ঘন ঘন ব্যায়াম অবশ্যই আরও দ্রুত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।<ref>লরা হেইড্রিক। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির এক্সারসাইজ সায়েন্স মেজর এবং এসিই পার্সোনাল ট্রেইনার</ref><ref>পিই ৩০৮ এর জন্য ডেভিড সুপ্রাকের বক্তৃতা</ref> খেলাধুলায় অংশগ্রহণের অসংখ্য ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, খেলাধুলায় জড়িত থাকা আপনার মধ্যে খেলাধুলা এবং জীবনে প্রচুর মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা গেঁথে দেয়। খেলাধুলা করা আপনার সতীর্থদের সাথে দলবদ্ধ কাজ বিকাশ করতে সাহায্য করে। দলের সবাই একটি সাধারণ লক্ষ্যের (জেতার জন্য) জন্য চেষ্টা করে। খেলাধুলায় সাফল্য পেতে নিঃস্বার্থ দলীয় খেলার প্রয়োজন হয়। সাফল্য সহজে আসে না। খেলাধুলায় এবং জীবনে সফল হওয়ার জন্য আপনাকে আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করতে হবে। আপনি যে খেলাটি খেলেন তাতে যখন আপনি উত্সর্গ এবং কঠোর পরিশ্রম অনুশীলন করেন, তখন আপনি বুঝতে পারেন সফল হতে কতটা কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতে জীবনে পরে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ক্রীড়া অত্যন্ত ইতিবাচক।<ref>ফিল জ্যাকসন, লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স বাস্কেটবল কোচ</ref> == ক্রীড়া এবং বিশ্বায়ন == এটি লক্ষ্য করা যায় যে কয়েক দশক ধরে ক্রীড়া বিশ্বায়নের প্রভাবগুলো চালনার বাহন হয়ে উঠেছে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যবসা বা অন্যান্য সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক প্রভাব তৈরি করে বা আন্তর্জাতিক স্কেলে কাজ শুরু করে। এই প্রক্রিয়াটি পরিবেশ, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সমাজের মানুষের শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক দল ও লিগ এবং মেগা-স্পোর্টিং ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ একটি কোণঠাসা বাজারকে ইন্ধন জোগায়। এটি খেলার ছোট সম্প্রদায়ের আদর্শ থেকে সরে যায় এবং এটিকে শিল্পে পরিণত করে। এর কিছু বৃহত্তম এবং সহজেই শনাক্তযোগ্য উদাহরণ হলো অলিম্পিক এবং বিশ্বকাপ। পেশাদার প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর জাঁকজমকের বিনিয়োগের চেয়ে মার্কেটিং এবং ব্যবসায়িক কৌশল অনুসরণ করে এসব ইভেন্টগুলো অবিশ্বাস্যভাবে বিশাল হয়ে উঠেছে। "বিশ্বজুড়ে স্পোর্টস ম্যানেজারদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ সঞ্চয় কৌশলগুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ধারণা করা হয়েছিল"<ref>[http://library.la84.org/OlympicInformationCenter/OlympicReview/1999/OREXXVI29/OREXXVI29q.pdf]</ref> — এটি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করতে পারে যে ক্রীড়ার বিশ্বায়ন বরং আন্তর্জাতিক শিল্পের একটি আমেরিকানকরণ। বাজার হিসেবে ক্রীড়ার অর্থ হলো বৈশ্বিক উৎপাদন তৈরির প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি বড় কর্পোরেট সংস্থার অংশীদারিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণ বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া ব্র্যান্ড, আন্তর্জাতিক কর্পোরেশন এবং আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ফার্মগুলোর ছোট গ্রুপ। এই গোষ্ঠীগুলো বৃহৎ বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর সময়সূচি এবং প্রযোজনা নির্ধারণ করে। তারা ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং পোশাক তৈরির জন্য সস্তা বিদেশি শ্রমের সুবিধা নেয়। তারা পণ্যদ্রব্য এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নির্দিষ্ট লিগ এবং দলগুলোর প্রচার করে। কখন এবং কোথায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সেটিকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াবিদদের ক্যারিয়ার নিয়ন্ত্রণ করে। ব্রক ইউনিভার্সিটির লুসি থিবল্ট বিশ্বজুড়ে পেশাদার লিগগুলোতে শনাক্ত করা যাওয়া বিভিন্ন ক্রীড়াবিদদের উৎপত্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে নতুন অংশগ্রহণের বৃদ্ধির কথা বলেছেন। যেসব দেশ আগে অংশগ্রহণ করেনি তাদের অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। লিঙ্গ, ধর্ম এবং জলবায়ুর অনেক বাধা ভেঙে খেলাধুলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ক্রীড়াবিদদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে তিনি ক্রীড়া বিশ্বায়নের ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি ক্রীড়া শিল্পের বিশ্বায়নের দৃঢ়ভাবে নেতিবাচক সত্যগুলোও স্পর্শ করেছেন। থিবল্ট বিদেশি দেশগুলোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ক্রীড়াবিদদের তাদের জন্মভূমি থেকে প্রলুব্ধ করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি খেলাধুলার পোশাক এবং সরঞ্জাম উৎপাদনে তৃতীয় বিশ্বের মানুষের বিদেশি শোষণের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি মেগা-স্পোর্টস ইভেন্টগুলোর পরিবেশগত পদচিহ্নের কথাও উল্লেখ করেছেন।<ref>থিবল্ট, লুসি ২০০৯ গ্লোবালাইজেশন অব স্পোর্ট: অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ ১। জার্নাল অব স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ২৩(১): ১–২০।[http://nassm.org/sites/default/files/zeigler/JSM23(1)2009Thibault.pdf]</ref> আজকের বাজারে "মিডিয়ার কাছে স্পোর্টকে একটি প্যাকেজে তৈরি করার দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রয়েছে যা দর্শকরা সহজেই গ্রাস করতে পারে"<ref>থিবল্ট, লুসি ২০০৯ গ্লোবালাইজেশন অব স্পোর্ট: অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ ১। জার্নাল অব স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ২৩(১): ১–২০।[http://nassm.org/sites/default/files/zeigler/JSM23(1)2009Thibault.pdf]</ref> এবং সারা বিশ্বের সংস্কৃতিগুলো এতে অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক মেগা-স্পোর্টের দিক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে বা নাও নিতে পারে। কেউ কেউ পরামর্শ দিতে পারে যে এটি ইতিবাচক সৃষ্টির চেয়ে বেশি ক্ষতি এবং নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। অবশ্যই এটি ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপিত নয়, তবে এর অর্থ এই নয় যে এর সমস্ত প্রভাবের অস্তিত্ব নেই। অলিম্পিক, বিশ্বকাপ, প্যারালিম্পিক এবং কমনওয়েলথ গেমগুলি এমন বড় ইভেন্টগুলোর কয়েকটি উদাহরণ। এগুলো এই শিল্পকে ইন্ধন জোগায়। এগুলো টিএনসি, গ্লোবাল টেলিকমিউনিকেশন এবং প্রধান স্পোর্টসওয়্যার ও সরঞ্জাম কোম্পানিগুলোর দ্বারা ক্রমাগত তৈরি করা হবে। বিশ্বায়নের এই পদ্ধতির মাধ্যমে তৈরি করা স্থায়ীভাবে বিশাল মুনাফা বাড়ানোর প্রয়াসে ইভেন্ট এবং ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য ক্রীড়াবিদ, দল এবং লিগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ, প্রদর্শন এবং ব্যবহার করা হবে। ===আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংস্কৃতি ভাগ করা=== আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সামাজিক বিবৃতি দেওয়ার জন্য একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। রেডিও, টেলিভিশন এবং স্ট্রিমিং প্রযুক্তি বিশ্বমঞ্চের ক্রীড়াবিদদের সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সরাসরি মূল্যবোধ সম্প্রচার করতে দেয়। ফেডারেশন বা লিগ প্রতিযোগিতার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো একটি বৃহৎ, টেকসই দর্শক ভিত্তি আকর্ষণ করে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বৃহত্তর বৈশ্বিক দর্শক রয়েছে। অলিম্পিক গেমসের মতো 'মেগা-ইভেন্টগুলো' "...জাতি-রাষ্ট্রের ভেতরে এবং মধ্যে পরিবর্তন ও আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্ট..."।<ref>রোচে, মরিস; ২০০২ মেগাইভেন্টস অ্যান্ড মডার্নিটি: অলিম্পিকস অ্যান্ড এক্সপোস ইন দ্য গ্রোথ অব গ্লোবাল কালচার। রুটলেজ। [https://books.google.com/books?id=RISFAgAAQBAJ&lpg=PP1&dq=olympics&lr&pg=PP1#v=onepage&q&f=false]</ref> ১৯৮৯ সালে মেক্সিকো সিটির অলিম্পিক গেমস যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীড়াবিদদের একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছিল। টমি স্মিথ এবং জন কার্লোস, যারা ২০০ মিটারে যথাক্রমে সোনা ও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ছিলেন,<ref>বিবিসি অন দিস ডে | ১৭ | ১৯৬৮: ব্ল্যাক অ্যাথলেটস মেক সাইলেন্ট প্রোটেস্ট (তারিখ বিহীন). http://news.bbc.co.uk/onthisday/hi/dates/stories/october/17/newsid_3535000/3535348.stm সংগৃহীত ডিসেম্বর ১২, ২০১৬। http://news.bbc.co.uk/onthisday/hi/dates/stories/october/17/newsid_3535000/3535348.stm</ref> জুতো ছাড়া, কালো মোজা এবং কালো স্কার্ফ পরে পডিয়ামে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যেকে বাতাসে কালো গ্লাভস পরা মুষ্টি তুলেছিলেন। এটি কৃষ্ণাঙ্গ শক্তি এবং কৃষ্ণাঙ্গ ঐক্য উভয়ের প্রতীক ছিল। ২০০ মিটারে অস্ট্রেলিয়ার শ্বেতাঙ্গ রৌপ্য পদকজয়ী পিটার নরম্যান ওপিএইচআর (অলিম্পিক প্রজেক্ট ফর হিউম্যান রাইটস) পিন পরে কারণটির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।<ref>দ্য ফরগোটেন স্টোরি বিহাইন্ড দ্য “ব্ল্যাক পাওয়ার” ফটো ফ্রম ১৯৬৮ অলিম্পিকস | টরন্টো স্টার (তারিখ বিহীন). https://www.thestar.com/news/insight/2016/08/07/the-forgotten-story-behind-the-black-power-photo-from-1968-olympics.html সংগৃহীত ডিসেম্বর ১২, ২০১৬। https://www.thestar.com/news/insight/2016/08/07/the-forgotten-story-behind-the-black-power-photo-from-1968-olympics.html</ref> আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি স্মিথ ও কার্লোসের নিন্দা করেছিল। তারা হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা আফ্রিকান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের প্রশংসিত হন। ==শিল্পকলা== শিল্পকলা কৌতুকপূর্ণ সৃজনশীলতা থেকে উদ্ভূত হয়। এটি সব মানুষেরই থাকে। মনে রাখবেন "শিল্পকলা" হিসেবে বর্ণিত কার্যকলাপগুলো অবাধ খেলা থেকে আলাদা। কারণ এগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। শিল্পের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, নাচ, থিয়েটার আর্টস ইত্যাদি। শৈল্পিক নিয়মগুলো নির্দিষ্ট মনোযোগ নির্দেশ করে। এগুলো শিল্পী বা খেলোয়াড়দের তৈরি করা কাজ বা বস্তুর রূপ মূল্যায়নের জন্য মান প্রদান করে। শিল্প শেষ পর্যন্ত বিষয়গত। এটি যে সংস্কৃতির মধ্যে উৎপাদিত হয় এবং তৈরি হয় তার দ্বারা পরিচালিত হয়। নৃবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার অ্যালান্ড শিল্পের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন শিল্প হলো "কিছু নান্দনিকভাবে সফল রূপান্তর-প্রতিনিধিত্ব তৈরি করা রূপের সাথে খেলা" (১৯৭৭, ৩৯)। অ্যালান্ডের সংজ্ঞায়: আয়োজিত খেলার ধরনের উপর উপযুক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো রূপ। উদাহরণস্বরূপ, একটি চিত্রকর্ম হলো একটি দ্বিমাত্রিক রূপ। "নান্দনিকভাবে সফল" বলতে বোঝায় শিল্পের স্রষ্টা বা শ্রোতা শিল্পের অংশ থেকে "একটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন"। মানগতভাবে নান্দনিকভাবে দুর্বল কোনো কিছুর অসফল প্রতিক্রিয়া থাকবে। এর ফলে শ্রোতা বা এমনকি লেখকের কাছ থেকে শিল্পের প্রতি উদাসীনতার আবেগ তৈরি হবে। রূপান্তরমূলক-প্রতিনিধিত্ব শব্দটি বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো যেকোনো কিছুর প্রতীকী অর্থ পৃষ্ঠের উপস্থিতির চেয়ে গভীর। সাংস্কৃতিক নির্দেশিকাগুলো উপযুক্ত এবং মূল্যবান বিষয়গুলোকে নির্দেশ করে। যেহেতু অ্যালান্ড প্রস্তাব করেন যে রূপান্তর-প্রতিনিধিত্বের একে অপরের ওপর নির্ভরতা রয়েছে, তাই দুটিকে একসাথে উল্লেখ করা উচিত। রূপান্তর-প্রতিনিধিত্ব রূপক সম্পর্কে কথা বলার আরেকটি উপায়। একটি অঙ্কন হলো একটি দ্বিমাত্রিক পৃষ্ঠে দৃশ্যমান চিহ্নে অভিজ্ঞতার একটি রূপক রূপান্তর। এছাড়া একটি কবিতা রূপকভাবে অভিজ্ঞতাকে ঘনীভূত এবং কঠোর ভাষায় রূপান্তরিত করে। উদ্দেশ্য অনুযায়ী শিল্পকলায় এমন বস্তুগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে যেগুলো শিল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। যেমন ইমপ্রেশনিস্ট পেইন্টিং। তবে অধিযাচন অনুযায়ী শিল্পকলায় অন্যান্য সমস্ত বস্তুকে বোঝায় যেগুলো "শিল্পে পরিণত হয়েছিল"। কারণ একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে নির্দিষ্ট লোকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে সেগুলো শিল্পের একটি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বিভাগটি পশ্চিমা সমাজ দ্বারা গঠিত হয়েছিল। বস্তু বা কার্যকলাপগুলো অগত্যা অন্য সমাজের সংস্কৃতিতে একই বিভাগে ফিট নাও হতে পারে। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং লাভেন্ডা, রবার্ট এইচ. <u>কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন</u>। ৭ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ২০০৯। অ্যালান্ড, আলেকজান্ডার। <u>দ্য আর্টিস্টিক অ্যানিমেল</u>। নিউ ইয়র্ক: ডাবলডে অ্যাঙ্কর, ১৯৭৭।</ref> নৃবিজ্ঞানী শেলি এরিংটন যুক্তি দেন যে কোনো বস্তুকে শিল্পে রূপান্তর করতে কাউকে তা প্রদর্শন করতে ইচ্ছুক হতে হবে। পশ্চিমা সমাজ যখন তাদের শিল্পের সংজ্ঞার সাথে খাপ খায় এমন একটি আইটেম দেখে, তখন সেটি "শিল্পকলা" বাজারে স্থাপন করা হয়। এরিংটন আরও উল্লেখ করেছেন যে শিল্পের পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি এমন বস্তু নির্বাচন করতে চায় যেগুলো: 'বহনযোগ্য, টেকসই, ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমে ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে অকেজো এবং প্রতিনিধিত্বমূলক।' একটি সমস্যা বিদ্যমান যেখানে শিল্পের পশ্চিমা সংজ্ঞা 'বহিরাগত' লোভ প্রদানকারী বস্তুগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে কাজে লাগাতে শুরু করে। পশ্চিমা সমাজে 'বহিরাগত' শিল্পের চাহিদা প্রবল। এই শিল্প সাধারণত এক মুহূর্তে ফ্যাশনেবল সাজসজ্জা এবং পরের বছর ফ্যাশনের বাইরে থাকে। এই "আসা-যাওয়া" ফ্যাশন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং প্রত্নবস্তু বহনকারী সমাজের সাথে সম্পদ নিষ্কাশন প্রকল্পগুলোকে হুমকি দিতে পারে। খেলার মতো শিল্প তার অবদানকারীদের বিকল্প বাস্তবতা প্রদানের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করে। এটি জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য বা পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়। <ref>শুল্টজ, এমিলি এ., এবং লাভেন্ডা, রবার্ট এইচ. <u>কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন</u>। ৭ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ২০০৯। অ্যালান্ড, আলেকজান্ডার। <u>দ্য আর্টিস্টিক অ্যানিমেল</u>। নিউ ইয়র্ক: ডাবলডে অ্যাঙ্কর, ১৯৭৭।</ref> ==শিল্প আন্দোলন== ===ইমপ্রেশনিজম=== ইমপ্রেশনিজম এমন চিত্রকর্ম বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ ছিল যেগুলো অসম্পূর্ণ দেখায়। কারণ সেগুলোতে দৃশ্যমান ব্রাশস্ট্রোক দেখা যেত। চিত্রকর্মগুলো দৈনন্দিন জীবনকে চিত্রিত করে। ১৮৭৪ সালে ইমপ্রেশনিস্ট চিত্রশিল্পীরা প্যারিসে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এটি ইমপ্রেশনিস্ট আন্দোলন শুরু করেছিল। তারা নিজেদেরকে অ্যানোনিমাস সোসাইটি অব আর্টিস্টস বলত। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন ক্লদ মনেট, এডগার দেগাস এবং ক্যামিল পিসারো।<ref>http://www.metmuseum.org/toah/hd/imml/hd_imml.htm</ref> ===পোস্ট ইমপ্রেশনিজম=== ১৮৮০ এর দশকের শেষের দিকে পোস্ট ইমপ্রেশনিজম শুরু হয়। পোস্ট ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের মতো একই শৈলীতে আঁকতেন, তবে তারা নতুন ধারণা যোগ করেছিলেন। তারা কেবল দৈনন্দিন জীবনে যা দেখেছিলেন তা আঁকেননি। তারা আরও প্রতীকবাদ ব্যবহার করেছেন। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বিখ্যাত সদস্য ছিলেন পল গগুইন, জর্জেস সেউরাট, ভিনসেন্ট ভ্যান গগ এবং পল সেজান। তবে তারা আলাদাভাবে কাজ করেছেন। তারা নিজেদেরকে একটি আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখেননি।<ref> http://www.metmuseum.org/toah/hd/poim/hd_poim.htm</ref> ===কিউবিজম=== ১৯০৭ সালে [[w:পাবলো পিকাসো|পাবলো পিকাসো]] এবং জর্জেস ব্র্যাক এই শিল্পশৈলীর প্রবর্তন করেন। কিউবিজম সাধারণ আকারগুলোকে নিয়ে সেগুলোকে বিমূর্ত জ্যামিতিক আকারে ভেঙে দেয়।<ref>http://www.metmuseum.org/toah/hd/cube/hd_cube.htm</ref> কিউবিজম দৃষ্টিকোণ এবং রূপ নিয়ে খেলে। এটি ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা শিল্পের দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত নিয়মগুলো ভেঙে দিয়ে সে সময়ের শিল্পদৃশ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে। কিউবিজমকে অনেকেই আধুনিক শিল্পের প্রথম রূপগুলোর একটি বলে মনে করেন। ===দাদা এবং পরাবাস্তববাদী=== অ্যান্টি-আর্ট হিসেবে বর্ণিত দাদাইজম শিল্পকে কী হিসেবে বিবেচনা করা যায় তা চ্যালেঞ্জ করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে বিশৃঙ্খল সময়ের প্রতিক্রিয়া ছিল দাদা। এটি ইউরোপজুড়ে একটি আভান্ট-গার্ড বিদ্রোহ ছিল। এটি যুদ্ধবিরোধী ছিল এবং সে সময়ের সামঞ্জস্যের একটি সামাজিক সমালোচনা ছিল। এটি দ্রুত বার্লিনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এটি বাউহাউস আর্ট স্কুল দ্বারা সহজতর করা হয়েছিল। আধুনিকতাবাদ এবং পরাবাস্তববাদের পাশাপাশি সেখানে আন্দোলনটি বিকাশ লাভ করে। সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত দাদা শিল্পের টুকরোটি ছিল মার্সেল ড্যাম্পের 'ফাউন্টেন'। এটি একটি স্তম্ভের উপর একটি চীনামাটির বাসনের প্রস্রাবাগার ছিল। এতে 'আর. মাট' লেখা ছিল। 'ফাউন্টেন' শিল্পকে একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া থেকে একটি ব্যাখ্যামূলক প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরিত করার ড্যাম্পের একটি প্রচেষ্টা ছিল। এটি দাদা আন্দোলনের একটি মূল অংশ ছিল। সালভাদর দালির মতো অন্যান্য সুপরিচিত কাজগুলো এখনও ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করা হয়। তিনি 'দ্য পারসিস্টেন্স অব মেমরি' তৈরি করেছিলেন যাতে গলে যাওয়া ঘড়ি ছিল। তিনি একটি পরাবাস্তব শর্ট ফিল্ম 'আন চিয়েন আন্দালউ' তৈরি করেছিলেন। দাদাইজম এবং পরাবাস্তববাদ আন্তর্জাতিক প্রশংসা ধরে রেখেছে। এগুলো শিল্প ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। '''বাস্তববাদ''' বাস্তববাদ এমন একটি শিল্প রূপ যা বহু বছর ধরে চলে আসছে। এতে বাস্তবসম্মত সুনির্দিষ্ট অঙ্কন বা চিত্রকর্ম রয়েছে। এগুলো প্রায় একটি প্রতিলিপি তৈরি করে। এটি মোনালিসার মতো কিছু বিখ্যাত চিত্রকর্মে পাওয়া যায়। এই শিল্প রূপটি অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ এবং বিস্তারিত। ===পপ আর্ট=== সূক্ষ্ম শিল্প এবং পপ সংস্কৃতির আইকনগুলোকে একত্রিত করে এবং ভেঙে দিয়ে পপ আর্ট আমেরিকার ব্যাপক উৎপাদন সংস্কৃতির একটি ব্যঙ্গ ছিল। পপ আর্ট সে সময়ের গম্ভীর এবং অতি সৃজনশীল বিমূর্ত শিল্পের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। এটি কৌতুকপূর্ণ এবং বিদ্রূপাত্মক ছিল। এটি নিজেকে গম্ভীরভাবে নেয়নি। পপ আর্ট আমাদের জানা ছবিগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সেগুলোকে নিয়ে খেলা করে। ===সঙ্গীত=== সঙ্গীত হলো ছান্দিক ধ্বনি এবং নীরবতার ব্যবহার। এগুলো ব্যবহার করে গান তৈরি করা হয়। গীতি থেকে যন্ত্রসংগীত পর্যন্ত অনেক ভিন্ন শৈলী এবং ধারা রয়েছে। এর মাঝে অসংখ্য উপধারাও রয়েছে। শিল্পকলার মতো সঙ্গীতের ধরনের মধ্যে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট যুগের সঙ্গীত (যেমন শাস্ত্রীয় এবং ক্ল্যাসিক রক)। এটি আবার গানের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে। যেমন পপ বা মেটাল। প্রতিটি গান গীতিকার দ্বারা একটি নির্দিষ্ট অর্থ বা অর্থের পরিসর প্রকাশ করার জন্য তৈরি করা হয়। তবে সঙ্গীত তাদের কাছে কী অর্থ বহন করে তা বোঝা শ্রোতার ওপর নির্ভর করে। এটি ব্যক্তিভেদে অনেক পরিবর্তিত হতে পারে। ==সঙ্গীত== সঙ্গীতকে শব্দ এবং নীরবতার সংগঠন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সঙ্গীতের সৃষ্টি প্রায় মানব ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। আবিষ্কৃত প্রাচীনতম সঙ্গীতের টুকরোটি একটি প্রাচীন সুমেরীয় সুর। এটি "হুরিয়ান স্তোত্র নং ৬" নামে পরিচিত। এটি সিরিয়ার উগারিট শহরের ধ্বংসাবশেষে আবিষ্কৃত হয়। এটি খ্রিস্টপূর্ব ১৪শ শতাব্দীর। এই সুমেরীয় রেকর্ড করা সঙ্গীত এবং হাড়ের বাঁশির মতো প্রাচীন যন্ত্রপাতির আবিষ্কার ইতিহাসবিদদের একটি বিষয় ইঙ্গিত করে। সময়ের সাথে সাথে অনেক সংস্কৃতির মানুষ সঙ্গীতের সৃষ্টি এবং প্রকাশকে তাদের সংস্কৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রাচীনকালে গ্রিকরা ফোনিক শব্দ তৈরি করতে এবং সুর রচনা করতে মৌলিক পাইপ ব্যবহার করত। পরে সঙ্গীত তাদের দৈনন্দিন জীবনে মানুষের জন্য সত্যিকারের বিনোদনে পরিণত হয়। মধ্যযুগে মানুষ লেখার মাধ্যমে সঙ্গীত রেকর্ড করতে শুরু করে। চার্চ সমসাময়িক পোপের নামানুসারে গ্রেগরিয়ান চ্যান্ট লেখার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ উৎসর্গ করে। চার্চগুলো সঙ্গীত রেকর্ড এবং সংরক্ষণের জন্য একটি মূল্যবান স্থান হিসেবে কাজ করেছিল। তবে প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কারের ফলে আরও ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্গীত জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য হয়। সময়ের সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নতুন এবং পুরোনো উভয় সঙ্গীতকে সংস্কৃতি জুড়ে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। ইতিহাসজুড়ে সঙ্গীত মানুষের কাছে গল্প ভাগ করে নেওয়ার এবং আবেগ প্রকাশ করার একটি উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে অন্যান্য প্রাণীও একটি অভিব্যক্তি চিত্রিত করার বা একটি ধারণা যোগাযোগ করার উপায় হিসেবে সঙ্গীত ব্যবহার করে। সঙ্গীত একটি পাখির মতো ছোট বা তিমির মতো বড় কিছুর কাছ থেকেও আসতে পারে। সঙ্গীত সংস্কৃতি জুড়ে ব্যাপকভাবে পৃথক হয়। যারা এটি শোনে, রচনা করে এবং তৈরি করে তাদের সাথে এটি খাপ খায়। প্রকৃতপক্ষে বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীর সুরকাররা "সঙ্গীত কী?" এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বাদ্যযন্ত্রের বিকাশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। এর উত্তর প্রায়শই "সবকিছু" হয়ে থাকে।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/History_of_music</ref> ===গান এবং শব্দ=== যদিও পাঠ্য এবং সাহিত্যের প্রধান আলোচনা [কমিউনিকেশন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ] অধ্যায়ের মধ্যে রয়েছে। তবে গান বা শিল্পের শব্দ হিসেবে নৃবিজ্ঞানগত অধ্যয়ন এখানে খেলা এবং শিল্পের প্রেক্ষাপটে নিজস্ব আলোচনার দাবি রাখে। সঙ্গীত এবং নাচের মতো সাংস্কৃতিক শিল্পকলা অধ্যয়নের সময় মনে রাখার মতো একটি উদ্ধৃতি হলো, "সক্রেটিসের মধ্যে এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য আর কিছু নেই যে তিনি বৃদ্ধ বয়সে সঙ্গীত এবং নাচ শেখার জন্য সময় পেয়েছিলেন। তিনি এটিকে ভালোভাবে ব্যয় করা সময় বলে মনে করেছিলেন।" - মাইকেল ডি মন্টেন<ref>এলিজাবেথ স্কোলমেন</ref> ===শাস্ত্রীয়=== কথ্য পরিভাষায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বলতে ১৮২০ সাল পর্যন্ত লেখা বা তৈরি করা যেকোনো পশ্চিমা সঙ্গীতকে বোঝায়। যদিও শব্দটি আজকের যুগে তৈরি সঙ্গীতেও প্রয়োগ করা হয়। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে সাধারণত সাতটি ভিন্ন যুগে ভাগ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রেগরিয়ান (৬০০ এর দশকে পোপ গ্রেগরির যুগ থেকে), মধ্যযুগীয় (৫০০-১৪০০), রেনেসাঁ (১৪০০-১৬০০), বারোক (১৬০০-১৭৫০), শাস্ত্রীয় (১৭৩০-১৮২০), আর্লি রোমান্টিক এবং রোমান্টিক (১৭৮০-১৯১০)। প্রতিটি যুগে নিজস্ব শৈলীগত উপাদান রয়েছে। এগুলো প্রতিটিকে একে অপরের থেকে আলাদা করে। সমস্ত 'শাস্ত্রীয়' সঙ্গীতকে সাধারণত একই হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বাস্তবে প্রতিটি যুগের মধ্যকার বৈচিত্র্য প্রতিটিটিকে অনন্য করে তোলে এবং একে অপরের থেকে আলাদা করে। ===আধুনিক যুগের প্রভাব=== বারোক থেকে রোমান্টিক এবং তারপর আধুনিক সঙ্গীতে উন্নয়নের এই শৃঙ্খলের মাধ্যমে আমরা সিনেমা এবং ভিডিও গেমে যা শুনি তা আগের সব প্রভাব ছাড়া একই রকম হবে না। জন উইলিয়ামস এবং হ্যান্স জিমারের মতো অনেক আধুনিক সুরকার রোমান্টিক যুগের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। একটি সুপরিচিত উদাহরণ হলো স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্র সিরিজের জন্য জন উইলিয়ামসের ফিল্ম স্কোর। উইলিয়ামস একজন রোমান্টিক সুরকার গুস্তাভ হোলস্টের কাছ থেকে প্রচুর অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। "দ্য প্ল্যানেটস যেকোনো সংখ্যক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর দর্শনার্থীদের জন্য খনন করা হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গল গ্রহ উইলিয়ামসসহ চলচ্চিত্র সুরকারদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। তার স্টর্মট্রুপাররা একটি স্বতন্ত্র মঙ্গল গ্রহের তালে মার্চ করে"। [http://www.classicalmpr.org/story/2015/10/20/star-wars-john-williams-influences]। ওয়াগনার উইলিয়ামসকে প্রভাবিত করেছিলেন। তিনি আবার হোলস্টের দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছিলেন। ওয়াগনারের টুকরোর সবচেয়ে কাছাকাছি ফিল্ম স্কোরটি ছিল ডার্থ ভাডারের আইকনিক থিম। "যেখানে সাধারণ চলচ্চিত্র দর্শকরা স্টার ওয়ার্সে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ওয়াগনারকে শুনতে পায় তা হলো ডার্থ ভাডার এবং তার মন্দ সাম্রাজ্যের জন্য ব্রাস-লেডেন থিম। এটি ওয়াগনারের মহিমান্বিত ভ্যালকাইরিসের সঙ্গীতের স্বতন্ত্রভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়" [http://www.classicalmpr.org/story/2015/10/20/star-wars-john-williams-influences]। স্টার ওয়ার্সের ওপর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রভাব অনেকগুলোর মধ্যে একটি মাত্র উদাহরণ। বেশিরভাগ আধুনিক সুরকাররা এই সাতটি যুগে পাওয়া সঙ্গীত থেকে ধারণা এবং প্রভাব গ্রহণ করেন। ===ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক=== ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিককে ইডিএম হিসেবেও পরিচিত। এটি ডান্স মিউজিকের জন্য একটি ছাতা শব্দ। এটি ইলেকট্রনিকভাবে একজন ডিজে (ডিস্ক জকি) দ্বারা রচিত। এটি প্রায়শই ক্লাব, রেভস এবং উৎসবে বাজানো হয়। এটি ১৯৮০-এর দশকে ডিস্কো যুগ থেকে আবির্ভূত হয়েছিল। পার্টিতে বা নাচের ফ্লোরে ইডিএম মিউজিকের প্রতি আকর্ষণ হলো "ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকের রাসায়নিক এবং বাদ্যযন্ত্র বস্তু তার তাৎক্ষণিক পরিবেশের ভার্চুয়ালাইজেশন এবং বিষয়ের দৈনন্দিন জীবনের সামঞ্জস্য করতে সক্ষম"।<ref>ভিটোস, বোটন্ড ২০১৪ “ অ্যান অ্যাভাটার... ইন আ ফিজিক্যাল স্পেস ” : রিসার্চিং দ্য মেডিয়েটেড ইম্মেডিয়েসি অব ইলেকট্রনিক ডান্স ফ্লোরস। রিসার্চগেট ৬(২): ১–২১।[https://www.researchgate.net/publication/274073917_An_Avatar_in_a_Physical_Space_Researching_the_Mediated_Immediacy_of_Electronic_Dance_Floors]</ref> ইডিএম প্রায়শই মাদক ব্যবহারের সাথে জড়িত থাকে। এর শ্রোতাদের অনেকেই আইনি এবং বেআইনি উভয় মাদক গ্রহণ করে (যদিও সব মানুষ নয়)। রেভগুলোতে ব্যবহার করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু মাদক হলো মলি (এক্সট্যাসি), অ্যাডেরাল, কোকেন, অ্যালকোহল এবং গাঁজা। রেভস বা সঙ্গীত উৎসবগুলোতে মাদক ব্যবহারের বৃদ্ধির কারণে ইডিএম সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর কারণে অ্যান্টি-রেভ সংস্কৃতি এবং আইন আবির্ভূত হয়েছে। "যেহেতু ইডিএম সংস্কৃতিগুলো বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হতে চলেছে, তাই স্থানীয়ভাবে নিহিত এবং একই সাথে বিশ্বব্যাপী জড়িত হওয়া পদ্ধতিগত পন্থাগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে এবং গবেষণার একটি নির্দিষ্ট সাইটের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার চেয়ে আরও সঠিক চিত্র দেবে"।<ref>মন্টানো, এড ২০১৩ এথনোগ্রাফি ফ্রম দ্য ইনসাইড: ইন্ডাস্ট্রি-বেইজড রিসার্চ ইন দ্য কমার্সিয়াল সিডনি ইডিএম সিন। ডান্সকাল্ট: জার্নাল অব ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক কালচার ৫(২): ১১৩–১৩০।[https://dj.dancecult.net/index.php/dancecult/article/view/372/393]</ref> বেশিরভাগ তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের শুনতে এবং ইডিএম বাজায় এমন জায়গায় বাইরে যেতে দেখা খুব সাধারণ। রেভগুলো প্রায়শই রাতে অনুষ্ঠিত হয় যখন বেশিরভাগ লোক ঘুমাতে যায়। তাই "রেভাররা একটি অস্তিত্বের শূন্যতায় স্লিপ করে যেখানে কর্তৃত্ব এবং জনসাধারণের দৃষ্টি প্রবেশ করে না। রেডিওহেড, এলসিডি সাউন্ডসিস্টেম, সুইকুড, আফ্রিকা বামবাতা, ডেভিড বোভি এবং আরও অনেক শিল্পীর দ্বারা ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকও অন্যান্য ঘরানায় একীভূত হয়েছে।"।<ref>হাটসন, স্কট আর. ১৯৯৯ টেকনোশামানিজম: স্পিরিচুয়াল হিলিং ইন দ্য রেভ সাবকালচার। রিসার্চগেট ২৩(৩): ৫৩–৭৭।[https://www.researchgate.net/publication/233181907_Technoshamanism_Spiritual_healing_in_the_rave_subculture]</ref> ===ইন্ডি=== ইন্ডি সঙ্গীত হলো এমন সঙ্গীত যা প্রধান রেকর্ড লেবেলের সাহায্য ছাড়াই উৎপাদিত হয়। ইন্ডি হলো "ইন্ডিপেন্ডেন্ট" এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ইন্ডি শিল্পীরা সাধারণত বড় নামের লেবেলগুলোর সাথে নিজেদের যুক্ত করেন না। এটি একটি "নিজেই করুন" সঙ্গীত ধারার চেয়েও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারা বিশ্বের অনেক ব্যান্ড একটি প্রধান লেবেলের সাহায্য ছাড়াই এটিকে বড় করতে পেরে নিজেদের গর্বিত করে। ইন্ডি ব্যান্ডগুলো শুধু অর্থ উপার্জনের চেষ্টা না করে তাদের সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইন্ডি সঙ্গীত ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে স্বাধীন শিল্পীরা প্রথম ১৯৮০ এর দশকে স্বীকৃতি পান। তাদের মধ্যে রয়েছে বি-৫২'স এবং পরে নির্ভানা। এসব ব্যান্ড নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র নাম তৈরি করেছে। এদেরকে একসময় "কলেজ রেডিও মিউজিক" হিসেবে বিবেচনা করা হত। স্বাধীন সঙ্গীত দৃশ্যের মাধ্যমে তারা তাদের ক্যারিয়ার তৈরি করেছে।<ref>http://www.jstor.org/stable/931257</ref> '''আমেরিকান ফোক মিউজিক''' আমেরিকান সংস্কৃতিতে ফোক মিউজিক ১৯৬০ এর দশকে আবির্ভূত শৈলীকে বোঝায়। সাধারণত ফোক শিল্পীরা বর্তমান ঘটনাগুলো সম্পর্কে বার্তা প্রকাশ করতে শাব্দিক যন্ত্র এবং কণ্ঠ ব্যবহার করেন। প্রায়শই সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে গীতিকাররা যোগাযোগ করেন। এই সঙ্গীতের সৃষ্টি এবং জাতীয় প্রচলন জনসাধারণকে নিজস্ব বর্তমান ঘটনাগুলোর সাথে যুক্ত করতে এবং কী ঘটছে তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান ছিল।<ref>লেইন, মিরান্ডা বাবার সাথে কথা বলার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা</ref> ১৯৬০ এর দশকে বব ডিলান এবং জোয়ান বেজের মতো শিল্পীদের হাত ধরে ফোক ঘরানা বিস্ফোরিত হয়। ১৯৬০ এর দশকে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে লোকসংগীতের বিস্ফোরণের আগে ফোক মিউজিক উডি গুথ্রির মতো শিল্পীদের সাথে উন্নতি লাভ করেছিল।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Woody_Guthrie</ref> এর পাশাপাশি র‌্যাম্বলিন' জ্যাক এলিয়টও ছিলেন। আধুনিক ফোক শিল্পীদের মধ্যে দ্য টলেস্ট ম্যান অন আর্থ, বন ইভার এবং ফ্লিট ফক্সস অন্তর্ভুক্ত। কার্ল স্যান্ডবার্গের কথা উল্লেখ না করে ফোক মিউজিক নিয়ে আলোচনা করা প্রায় অসম্ভব। ১৮৭৮ সালে ইলিনয়ে জন্ম নেওয়া স্যান্ডবার্গ তার প্রাথমিক ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় ভ্রমণ এবং রেলপথে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কাটিয়েছেন। এই সময়ে স্যান্ডবার্গ বিভিন্ন ধরনের গান এবং সুর অর্জন করেন। স্যান্ডবার্গ "ফোক গায়ক" হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রথম সঙ্গীতশিল্পী হয়ে ওঠেন। কারণ তিনি তার কাজের সময় জমে থাকা গানগুলো পরিবেশন করেছিলেন। স্যান্ডবার্গ তার সমস্ত প্রিয় গানগুলোকে ''আমেরিকান সংব্যাগ'' নামে একটি বইয়ে সংকলিত করেছিলেন। এই সংগ্রহ থেকে তার পছন্দের একটি ছিল জন হেনরির কিংবদন্তির গান এবং প্রতীক।<ref> রিভিউ অব ফ্রম “রক হিল” টু “কন্নেমারা:” দ্য স্টোরি বিফোর কার্ল স্যান্ডবার্গ ১৯৮১ দ্য সাউথ ক্যারোলিনা হিস্টোরিক্যাল ম্যাগাজিন ৮২(২): ১৭৬–১৭৬। http://www.jstor.org/stable/27567685?</ref> জন হেনরি কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীর শক্তি এবং মেশিন শ্রম ও অকৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামের প্রতীক। এই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির জন্য এটি একটি বড় ব্যাপার ছিল। কার্ল স্যান্ডবার্গ কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের প্রকাশ্যে সমর্থন করা প্রথম সঙ্গীতশিল্পীদের একজন ছিলেন। জন হেনরির গান এবং প্রতীকের মাধ্যমে স্যান্ডবার্গ লোকসংগীতে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হন। তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেন। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। ===রক অ্যান্ড রোল=== রক অ্যান্ড রোল ১৯৪০ এর দশকের শেষদিকে এবং ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিকশিত হয়। এটি সঙ্গীতের একটি রূপ। রক অ্যান্ড রোল ডু-ওপ, কান্ট্রি, সোল এবং গসপেলসহ অনেক ঘরানার উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এটি ব্লুজের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এর একটি সুপরিচিত উদাহরণ হলো এলভিস প্রিসলির সঙ্গীত। এখান থেকেই এটি এর প্রথম দিকের কর্ডের অগ্রগতি এবং গীতিমূলক শৈলী লাভ করে। অনেক শিল্পী সোন হাউস, রবার্ট জনসন, লেডবেলি এবং বিবি কিংয়ের (ব্লুজের রাজা) মতো প্রাথমিক ব্লুজ সুরকারদের শব্দগুলোকে কভার করেছেন এবং পুনরায় তৈরি করেছেন। এই শৈলীটি বিশ্বের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সমাজে বিশাল প্রভাব ফেলে। রক অ্যান্ড রোল একটি জোর দেওয়া অফ বিট বা চার-চার টাইম সিগনেচারের ২য় এবং ৪র্থ বিট দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। গিটারের ব্যবহার, বৈদ্যুতিকভাবে পরিবর্ধিত যন্ত্র এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে বিস্তৃত গানের কথা এর বৈশিষ্ট্য।<ref>http://www.history-of-rock.com/</ref> ১৯৪০ এর দশকের শেষের দিকে রক অ্যান্ড রোল তৈরির পর থেকে রক অ্যান্ড রোলের অনেক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হেভি মেটাল, পাঙ্ক রক, সফট রক, অল্টারনেটিভ এবং ইন্ডি। নিউ ইয়র্ক জনপ্রিয় সঙ্গীতের বেশ কয়েকটি শৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সুইং ড্যান্স ব্যান্ড এবং তাদের সাথে গান গাওয়া ক্রুনাররা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকার আশাবাদ ও চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল। চল্লিশের দশকে বিদ্যমান বিভিন্ন শৈলীর সঙ্গীত থেকে রক সঙ্গীতের বিকাশ ঘটে। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে এটি নিজস্ব শৈলীতে পরিণত হয়। অনেক দিক থেকে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ সঙ্গীতজ্ঞ এবং অনুরাগীদের মধ্যে রক সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা জাতিগত একীকরণকে সহায়তা করেছে। এটি যেকোনো জাতিগত পটভূমির মানুষের পারস্পরিক সম্মানের দিকে আন্দোলনকে সাহায্য করেছে।<ref>চার্লটন, ক্যাথরিন। "রক মিউজিক স্টাইলস"</ref> সঙ্গীত নাগরিকদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সাধারণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় এটি কাজ করেছিল। সঙ্গীত এমন কিছু ছিল যা তাদের জীবনধারা নির্বিশেষে সবার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তারা এটি উপভোগ করতে পারে। ===র‌্যাপ=== [[File:Lil_Wayne.jpg|thumb|right|লিল ওয়েন আমেরিকান র‍্যাপ দৃশ্যের একজন র‍্যাপ আইকন।]] বেশিরভাগ সময় র‍্যাপ বলতে ছান্দিক তালে ছড়া আবৃত্তি করাকে বোঝায়। তবে এর শিকড় তার চেয়েও অনেক দূরে প্রসারিত। র‍্যাপ সঙ্গীতের উৎস পশ্চিম আফ্রিকায় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। সেখানে এর উৎপত্তি হয়েছিল। যাদের এই বাদ্যযন্ত্রের প্রতিভা ছিল তাদের আশেপাশের লোকেরা তাদের উচ্চ সম্মানে রাখত। পরে যখন "শব্দের মানুষদের" নতুন বিশ্বে আনা হয়, তখন আফ্রিকান সঙ্গীত এবং আমেরিকান সঙ্গীতের মিশ্রণে একটি নতুন শব্দের সৃষ্টি হয়।<ref>জেন মার্শাল http://www.allsands.com/company/contactallsands.htm</ref> ইতিহাসজুড়ে ছড়ার স্কিম জড়িত মৌখিক অ্যাক্রোব্যাটিকসের বিভিন্ন রূপ রয়েছে। এসব ছড়ার স্কিমে র‍্যাপ প্রকাশ পেয়েছে। স্কুল ইয়ার্ড এবং নার্সারি ছড়ার পাশাপাশি ডাবল ডাচ জাম্প রোপ মন্ত্রগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক দিনের র‍্যাপ সঙ্গীত রেগে সঙ্গীতের উপাদানগুলোতে টোস্টিং এবং ডাব আলাপে এর তাৎক্ষণিক শিকড় খুঁজে পায়। তবে রেগে তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত হয়নি এবং এভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুতে বিকশিত হয়েছিল। এই শৈলী গ্রহণকারী প্রথম শিল্পীদের মধ্যে একজন ছিলেন কুল হার্ক।<ref>http://www.bbc.co.uk/radio2/r2music/documentaries/rap.shtml</ref> প্রাথমিক র‍্যাপগুলোতে জনপ্রিয় গানের যন্ত্র বা পার্কাসিভ বিভাগে ইমপ্রোভাইজ করা ছড়া আবৃত্তি করা জড়িত ছিল। প্রায়শই সাধারণ অপবাদযুক্ত শব্দগুলো এতে ব্যবহার করা হত। র‍্যাপ সত্তরের দশকজুড়ে বৃদ্ধি পায়। এটি মৌখিক দক্ষতা এবং মুক্ত মতপ্রকাশের একটি বাদ্যযন্ত্র রূপে বিকশিত হয়। এটি দ্রুত তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি তাদের স্বকীয়তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দেয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে র‍্যাপ জনপ্রিয় হতে চলেছে। এটি বিকশিত হচ্ছে এবং প্রতিটি সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিজেকে ঢালাই করছে।<ref>http://www.daveyd.com/raphist1.html</ref> র‍্যাপ সঙ্গীতের বিশ্বায়নের একটি উদাহরণ হলো ওরিশাস ব্যান্ড [http://en.wikipedia.org/wiki/Orishas_(band)]। ওরিশাসের উৎপত্তি কিউবার হাভানায়। তারা প্রায়শই তাদের সঙ্গীতে ঐতিহ্যবাহী সালসা এবং রুম্বা বিট অন্তর্ভুক্ত করে। ওরিশাসের সদস্যরা ফ্রান্সের প্যারিসে দেশত্যাগ করেছে। তারা এখন ইউরোপের পাশাপাশি তাদের নিজ দেশ কিউবাতেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। র‍্যাপ হলো সঙ্গীতের একটি ধারা যা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যুবকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছন্দময় কণ্ঠের বৈশিষ্ট্যগুলো কথ্য জাপানিজের মতো। এই "গ্যাংস্টার লাইফ" অর্থ আমেরিকান স্বপ্ন থেকে বিবর্তিত হয়েছে। এটি ঘেটো থেকে র‍্যাপ সুপারস্টারের উচ্চ জীবন পর্যন্ত কাজ করার ক্ষমতা। গানে প্রায়শই সহিংসতা, মাদক, চাঁদাবাজি এবং যৌনতার কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকে। ৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে তৈরি হওয়া এই উপসংস্কৃতি মূলধারার সঙ্গীতে প্লাবিত হয়েছে। এটি জনপ্রিয় টেলিভিশন স্টেশনগুলোতে চার্টে শীর্ষে রয়েছে এবং রেডিওকে ঘিরে রয়েছে। র‍্যাপ সঙ্গীত দৃশ্যের কিছু বিতর্কিত দিক থাকা সত্ত্বেও এটি বাড়তে থাকে। এটি সারা বিশ্বের সঙ্গীতকে প্রভাবিত করে। আফ্রিকান হিপ-হপ/র‍্যাপ গ্রুপগুলো সম্প্রতি আরও সঙ্গীত তৈরি করতে শুরু করেছে। তারা মূল র‍্যাপ ঘরানাকে তাদের নিজস্ব বলে দাবি করে। ধারণা করা হয় হাজার হাজার বছর আগে সেখানে এর উৎপত্তি হয়েছিল। <ref>http://www.dummies.com/how-to/content/examining-raps-origins.html</ref> যদিও "গ্যাংস্টার র‍্যাপ" ব্যাপকভাবে "র‍্যাপ" হিসেবে পরিচিত। তবে এটি একমাত্র ধরন নয়। র‍্যাপের সাথে অনেক উপসংস্কৃতি আসে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি এই "গ্যাংস্টার" মানসিকতা থেকে দূরে সরে যায়। র‍্যাপ শিল্পী হতে হলে আপনাকে গ্যাংস্টার বা ঘেটোর বাসিন্দা হতে হবে না। মানুষ প্রায়শই ভাবে না যে র‍্যাপ সঙ্গীতে যৌনতা, মাদক এবং সহিংসতার চেয়েও বেশি বিষয়বস্তু রয়েছে। কারণ বেশিরভাগ মূলধারার র‍্যাপ এবং র‍্যাপ ভিডিও অধিকাংশ মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে র‍্যাপ এর সম্পর্কেই। র‍্যাপ মূলত যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না তাদের প্রতিবাদের একটি রূপ হিসেবে উদ্ভূত হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার যুবকরা বর্ণবাদ এবং নিপীড়ন থেকে বিদ্রোহের উপায় হিসেবে এটি ব্যবহার করেছিল। এটি ১৯৭৬ সালে ভেঙে পড়ে।<ref>এলিজাবেথ স্কোলমেন। স্যান্ড্রা জ্যাকসন-ওপোকু এবং মাইকেল ওয়েস্ট। ফ্রম হোমল্যান্ড টু টাউনশিপ। http://www.worldandi.com/public/1994/april/cl1.cfm</ref> আফ্রিকার কিছু অংশে (প্রধানত পশ্চিম আফ্রিকায়) র‍্যাপ আমাদের জানা মতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এতে একটি টুইস্ট আছে। আফ্রিকান র‍্যাপ শিল্পীরা তাদের উৎপাদন এবং গানের গঠনে অনেক আমেরিকান প্রভাব ব্যবহার করে। তবে তাদের খুব আলাদা কণ্ঠ শৈলী, যন্ত্র এবং গানের কথা রয়েছে। পশ্চিমা র‍্যাপ এবং আফ্রিকান সঙ্গীতের এই মিশ্রণটিকে কখনও কখনও "হাই-লাইফ" বলা হয়।<ref>কেনেথ বি. নোবেল, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আগস্ট ২৩, ১৯৯২, http://www.nytimes.com/1992/08/23/arts/many-accents-rap-around-world-west-africa-king-yields-new-messenger.html</ref> র‍্যাপ কেবল সঙ্গীতের একটি ধারা। রেডিওতে যা শোনা যায় তার চেয়ে এটি অনেক গভীরে যায়।<ref>দ্য রিয়েল ওয়ার্ল্ড</ref> র‍্যাপ সারা বিশ্বের সংস্কৃতিতে ভূমিকা পালন করে। সারা বিশ্বের র‍্যাপ শিল্পীদের নিজস্ব শৈলী এবং মৌলিকতা রয়েছে। এমনকি একটি শহর বা পাড়ার বিভিন্ন অংশের র‍্যাপ শিল্পীদেরও নিজস্ব শৈলী থাকে। যদিও বেশিরভাগ র‍্যাপার অন্য শিল্পীর শৈলী 'বাইট' বা অনুলিপি করে, তবে তারা নিজস্ব শৈলী থাকা এবং নিজস্ব উপায়ে অনন্য হওয়ার জন্য পরিচিত হতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রে র‍্যাপ অত্যন্ত প্রভাবশালী হতে পারে। র‍্যাপ শিল্পীরা একে অপরের সাথে 'বিফ' নামক একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। র‍্যাপ সংস্কৃতির সমস্যার কারণে তারা ঘৃণা সম্পর্ক বা বিবাদ তৈরি করে। সহিংসতায় না গিয়ে তারা কখনও কখনও প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় হিসেবে তাদের শত্রুদের সম্পর্কে র‍্যাপ করে। তবে এটি কখনও কখনও সহিংসতা প্ররোচিত করতে পারে এবং শিল্পীরা তাদের জীবন হারাতে পারে। টুপাক (টুপাক শাকুর) এবং দ্য নটোরিয়াস বি.আই.জি. (ক্রিস্টোফার ওয়ালেস) হলো সবচেয়ে পরিচিত র‍্যাপ শিল্পীদের মধ্যে কয়েকজন। তারা সহিংসতার মাধ্যমে তাদের 'বিফ' সমাধান করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তারা দুজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। র‍্যাপ সঙ্গীতে সহিংসতা এবং ভাষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ববি এল. রাশ একটি শুনানির আয়োজন করেছিলেন। সেখানে আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট র‍্যাপের উৎপাদনে সঙ্গীত শিল্প নির্বাহীদের তাদের কোম্পানির ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। একপর্যায়ে র‍্যাপ শিল্পী ৫০ সেন্টের গানের কথা উচ্চস্বরে পড়ার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল (গানের কথাগুলো স্পষ্ট বলে পরিচিত)। কিছু পিতামাতা মনে করেন যে তাদের শিশুরা র‍্যাপ সঙ্গীতে সহিংসতার কারণে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ এটি তাদের জীবনের মূল্য কমিয়ে দেয়। মার্কিন কংগ্রেস এবং সমাজ একইভাবে একটি ছেঁড়া পরিস্থিতিতে রয়েছে। তারা সমাজের জন্য আরও ইতিবাচক বার্তার সাথে 'পরিষ্কার' সঙ্গীত কামনা করে। তারা শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখারও প্রত্যাশা করে।<ref>জেফ লিডসের "হিয়ারিং ফোকাসেস অন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ভায়োলেন্স ইন র‍্যাপ মিউজিক"</ref> ===হিপ-হপ=== হিপ-হপ ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে রাস্তার শিল্প হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। হিপ-হপ সাউথ ব্রঙ্কসে শ্রমজীবী আফ্রিকান-আমেরিকান, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান এবং ল্যাটিনোদের অধীনে শুরু হয়েছিল। যুব হিপ-হপ চারটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত: র‍্যাপ (কণ্ঠ), ডিজে (রেকর্ড বাজানো এবং প্রযুক্তিগত ম্যানিপুলেশন), গ্রাফিতি (অ্যারোসল শিল্প) এবং বি-বয় বা বি-গার্ল (ফ্রিস্টাইল নাচ)। হিপ-হপের এই চারটি উপাদান তরুণ জনসংখ্যার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। তারা এই প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী এবং অভিব্যক্তিপূর্ণ কার্যকলাপগুলোর মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করছিল।<ref>কড্রিংটন, রেমন্ড ওয়ান প্ল্যানেট আন্ডার আ গ্রুভ: হিপ-হপ অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্ট। দ্য ব্রঙ্কস মিউজিয়াম অব দ্য আর্টস, ব্রঙ্কস, নিউ ইয়র্ক। অক্টোবর ২৬, ২০০১—মার্চ ৩, ২০০২; ওয়াকার আর্ট সেন্টার, মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা, জুলাই ১৪-অক্টোবর ১৩, ২০০২; স্পেলম্যান কলেজ মিউজিয়াম অব ফাইন আর্ট, আটলান্টা, জর্জিয়া, স্প্রিং ২০০৩।http://www3.interscience.wiley.com/cgi-bin/fulltext?ID=120130073&PLACEBO=IE.pdf&mode=pdf</ref> এই ধরনের সঙ্গীত সারা বিশ্বে ভ্রমণ করেছে। বিভিন্ন সংস্কৃতির অনেক লোক এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে "হিপ-হপ" ধারণাটি নিচ্ছে এবং তাদের নিজস্ব করছে। উদাহরণস্বরূপ সেনেগালের ডাকার শহরের শিল্পীরা সঠিক সরকার ছাড়াই তাদের রাজনৈতিক মতামত এবং সংগ্রাম প্রকাশ করতে হিপ-হপ ব্যবহার করে। এটি "ডেমোক্রেসি ইন ডাকার" নামক সুরকারদের তৈরি একটি তথ্যচিত্রে আলোচনা করা হয়েছে। ডাকারের হিপ-হপ সঙ্গীত সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হিপ-হপের চেয়ে বেশি বিতর্কিত এবং রাজনৈতিক। তাদের সরকারের সাথে লড়াইয়ের কারণে এমনটা হয়েছে।<ref>"ডেমোক্রেসি ইন ডাকার" তথ্যচিত্র</ref> হিপ-হপকে আধুনিক যুগের ব্লুজের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি ব্যথা এবং সংগ্রাম প্রকাশের একটি রূপ হিসেবে বিবেচিত। সংগ্রামই বিশ্বজুড়ে হিপ-হপকে আলাদা করে তোলে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ব্যথা এবং সংগ্রাম রয়েছে। এগুলো গানে শোনা এবং হাইলাইট করা যেতে পারে। বাইরে থেকে সমস্ত হিপ-হপ সংস্কৃতি দেখতে এবং শুনতে একই রকম হতে পারে। তবে কেউ গানের বিষয়বস্তু এবং বিটের কাঠামোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারে। আরও রাজনৈতিকভাবে সচেতন দেশগুলোতে হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের দেশের রাজনৈতিক সংগ্রাম সম্পর্কে র‍্যাপ করে। সেনেগাল তার একটি উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কঠিন পাড়ায় বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক বার্তা উভয় সম্পর্কে গানের কথা শুনতে পারেন। হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের গানে নির্বাচন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং নিপীড়ন অন্তর্ভুক্ত করে। কিছু মূলধারার শিল্পীর কাছে কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড শিল্পীর মতো বেশি বিতর্কিত গানের কথা নাও থাকতে পারে। তবে বার্তাগুলো এখনও সেখানে রয়েছে। ইয়ান কনড্রি একজন সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৯৫ সালে দেড় বছর ধরে জাপানি হিপ-হপ অধ্যয়ন করেছিলেন। তার কাজ দেখিয়েছে কীভাবে জাপানি হিপ-হপ মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে। তবে এখন এটি নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে। জাপানি হিপ-হপ সংস্কৃতি যুক্তরাষ্ট্রের মতোই। সেখানে লোকেরা পরিচিত পারফর্মারদের কথা শুনতে ক্লাবে যায়। তবে টোকিওতে একটি শো মধ্যরাতে শুরু হবে এবং সকাল ৫টায় শেষ হবে। এসব ক্লাবে লোকেরা কেবল নাচবে না, তারা ব্যবসায়িক চুক্তিও করবে। আরেকটি পার্থক্য হলো পরিচিত হিপ-হপ শিল্পীরা তাদের পিতামাতার সাথে বাড়িতে থাকেন। তারা অন্য সবার মতো তাদের বাকি জীবনযাপন করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক আলাদা। সেখানে হিপ-হপ শিল্পীরা দেশের সবচেয়ে ধনী এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। জাপানি নৃত্যশিল্পী এবং শিল্পীরা কিছু নির্দিষ্ট নাইটক্লাবকে জাপানি হিপ-হপ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা একে "গেনবা" (বা "প্রকৃত সাইট") হিসেবে বিবেচনা করেন। এসব নাইটক্লাবে হিপ-হপ পরিবেশিত হয়। এটি উপভোগ করা হয় এবং তারপর স্থানীয় ভাষা ও এসব ক্লাবের সমাজের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়। এসব নাইটক্লাব নর্তকী, শিল্পী, লেখক এবং সঙ্গীত কোম্পানির লোকেদের মেলামেশার জায়গাও।<ref>কনড্রি, ইয়ান। http://www.newglobalhistory.com/docs/japanese_hip-hop.pdf</ref> ===কান্ট্রি মিউজিক=== [[Image:JohnnyCash1969.jpg|thumb|left|80px|জনি ক্যাশ]] কান্ট্রি মিউজিক ১৯২০ এর দশকের গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ফোক মিউজিক থেকে এর উৎপত্তি হয়েছিল। এই সঙ্গীত শৈলী মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল থেকে এসেছে। প্রাথমিক কান্ট্রি মিউজিক সর্বকালের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই শিল্পী তৈরি করেছিল। তারা হলেন জনি ক্যাশ এবং হ্যাঙ্ক উইলিয়ামস। যদিও তাদের মৃত্যুর আগে সঙ্গীতে তাদের প্রভাব স্বীকৃত হয়নি। তবে উভয়েই নিশ্চিতভাবে গানের কথা লেখার ধরন এবং সমস্ত ঘরানার সঙ্গীত ইতিহাসে গান পরিবেশনের ধরনকে রূপ দিয়েছেন। ২০০৬ সালে কান্ট্রি মিউজিক ১৭.৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে। কয়েক দশক ধরে এই সঙ্গীত স্থির রয়েছে। এটি রেডিওতে প্রতিদিন ৭৭.৩ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে পৌঁছায়। কান্ট্রি মিউজিক শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই বড় ঘরানা নয়। অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশগুলোতে এটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। কান্ট্রি মিউজিকে অনেক শৈলী এবং শব্দ রয়েছে যা বিভাগে রাখা হয়েছে। কান্ট্রি মিউজিকের দেওয়া ধরনের মধ্যে রয়েছে হিলবিলি বুগি, ব্লুগ্রাস, ফোক, গসপেল, হঙ্কি টঙ্ক, রোকাবিলি, কান্ট্রি সোল, কান্ট্রি রক, আউটল, কান্ট্রি পপ, নিও-কান্ট্রি, ট্রাক ড্রাইভিং কান্ট্রি এবং অল্টারনেটিভ কান্ট্রি। ===আক্যাপেলা=== আক্যাপেলা হলো কেবল কণ্ঠ পরিবেশনের একটি শৈলী। এটি স্বতন্ত্র কারণ এটি কোনো সঙ্গত ছাড়াই কণ্ঠ পরিবেশন করে। অনেক সময় মানুষ যখন গান গায়, তখন এটি পিয়ানো, গিটার বা বিভিন্ন অন্যান্য যন্ত্রের সাথে করা হয়। তবে আক্যাপেলা শৈলীর গান কোনো অতিরিক্ত যন্ত্রের পরিবেশন ছাড়াই চিহ্নিত করা হয়।<ref>ম্যাকেঞ্জি চেম্বারস, গায়কদল গান এবং পারফর্ম করার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা</ref> আক্যাপেলা আক্ষরিক অর্থে 'চ্যাপেলের পদ্ধতিতে' অনুবাদ করে। কারণ সঙ্গীত ঐতিহ্যগতভাবে চার্চে বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই পরিবেশিত হত। জেরুজালেমের মন্দিরে পরিষেবাগুলোতে বাদ্যযন্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে মন্দির ধ্বংসের পরে ঐতিহ্যবাহী ইহুদি ধর্মীয় পরিষেবাগুলোতে বাদ্যযন্ত্র অন্তর্ভুক্ত নেই। খেলোয়াড়রা তাদের যন্ত্র মেরামতের প্রলোভনে পড়তে পারে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্রামের দিনে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই দিনগুলোতে এটি নিষিদ্ধ। (এই নিষেধাজ্ঞা অনেক সংস্কার এবং কিছু রক্ষণশীল মণ্ডলীতে শিথিল করা হয়েছে।) একইভাবে ইহুদি পরিবার এবং বৃহত্তর দলগুলো যখন জেমিরোট নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী বিশ্রামের দিনের গান গায়, তখন তারা সাধারণত আক্যাপেলা পদ্ধতিতে তা করে। এটি তারা আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় পরিষেবার প্রেক্ষাপটের বাইরে করে। বিশ্রামের দিনে বার এবং ব্যাট মিটজভাহ উদযাপনে কখনও কখনও আক্যাপেলা সমবেতদের দ্বারা বিনোদন দেওয়া হয়। তিন সপ্তাহের সময় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ঐতিহ্যগতভাবে নিষিদ্ধ। অনেক ইহুদি পাসওভার এবং শাভোটের মধ্যে ওমের গণনার ৪৯ দিনের সময়ের একটি অংশকে আধা-শোকের সময় বলে মনে করেন। সেই সময় বাদ্যযন্ত্রের অনুমতি নেই।<ref>http://www.yeshiva.org.il. বেট এল ইয়েশিভা সেন্টার। http://www.yeshiva.org.il/midrash/Shiur.asp?id=2262. ৩ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে সংগৃহীত।</ref> এর ফলে আক্যাপেলা গানের ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে যা কখনও কখনও সেফিরাহ সঙ্গীত নামে পরিচিত।<ref>শিরকাগো, জিউইশ আ ক্যাপেলা অ্যান্ড সেফিরাত ওমের।</ref> ====বারবারশপ স্টাইল==== [[File:BarbershopQuartet_Disneyworld.jpg|thumb|right|ডিজনি ওয়ার্ল্ডে বারবারশপ কোয়ার্টেট।]] "পুরো বিশ্বকে গাইতে রাখুন" (barbershop.org) বারবারশপ হারমনি সোসাইটির মূলমন্ত্র। ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রেট ব্রিটেনের মতো বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সাথে অনুমোদিত বারবারশপ সোসাইটি। বারবারশপ শৈলীতে সম্প্রীতি উদযাপন করা, শুভাকাঙ্ক্ষী পুরুষদের মধ্যে ফেলোশিপ এবং বন্ধুত্বের প্রচার করা এর উদ্দেশ্য। কেউ বিভিন্ন সময়কাল এবং ঘরানার বারবারশপ গান খুঁজে পেতে পারে। এটি প্রত্যেককে বারবারশপ শৈলীর সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়। এর উদাহরণ হলো জাস্টিন টিম্বারলেকের "সেক্সিব্যাক", মাইকেল জ্যাকসনের "থ্রিলার", বিওয়াইইউ-র "সুপার মারিও ব্রোস মেলোডি" এবং রিয়েলটাইম কোয়ার্টেটের দ্বারা পরিবেশিত "কাম ফ্লাই উইথ মি"। একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো বারবারশপ শৈলীর সঙ্গীত কেবল পুরুষদের জন্য লেখা এবং গাওয়া হয়। নারী বারবারশপ কোয়ার্টেটগুলোও বিদ্যমান এবং অনেক উন্নতি লাভ করেছে। এদের কখনও কখনও "বিউটিশপ কোয়ার্টেট" বলা হয়। চার অংশের নারী গ্রুপগুলোর জন্য একটি সমাজ হলো দ্য সুইট অ্যাডেলিনস ইন্টারন্যাশনাল ( [http://www.youtube.com/watch?v=EPZ8kviUw6E ইউটিউব ভিডিও দেখুন] )। সবচেয়ে পরিচিত "পপ" গ্রুপগুলোর মধ্যে একটি হলো দ্য কর্ডেটস। তাদের "মিস্টার স্যান্ডম্যান" এবং "ললিপপ" গানের কারণে তারা বিখ্যাত হয়েছিল।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Barbershop_music#Female_Barbershop_music_and_.22Beautyshop.22_quartets</ref> ===কাজুন, ক্রেওল এবং জাইদেকো মিউজিক=== কাজুন শৈলী এবং ক্রেওল সঙ্গীতের প্রভাব কেবল দক্ষিণ-পশ্চিম লুইসিয়ানায় পাওয়া যেতে পারে। এটি জাইদেকোতে বিকশিত হয়েছিল, যা একটি আরও সমসাময়িক রূপ। এটি ইউরোপীয়, আফ্রিকান এবং আমেরিন্ডিয়ান শৈলীর মিশ্রণ। এই সঙ্গীতটি গুণাবলীতে অনন্য। এটি ১৭৫৫ সালে নোভা স্কোশিয়া থেকে এসেছিল বলে দাবি করা হয়। কারণ অ্যাকাডি তাদের সাথে ফরাসি উৎপত্তির সঙ্গীত নিয়ে এসেছিল। সঙ্গীতের মাধ্যমে বলা গল্পগুলো ইউরোপীয় গল্প থেকে এসেছে। নতুন বিশ্বের দক্ষিণে জীবনধারা এবং জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে মানানসই করার জন্য এগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এবং ১৯শ শতাব্দীর মধ্যে আফ্রিকান ছন্দের প্রভাবের মাধ্যমে সঙ্গীত রূপান্তরিত হয়েছে। ব্লুজ এবং ইমপ্রোভাইজেশনাল গানের পাশাপাশি নেটিভ আমেরিকানদের থেকে প্রাপ্ত অনেক গানের শৈলী এবং কৌশল এতে ব্যবহৃত হয়। বেহালা গান এবং নাচের জন্য ব্যবহৃত হত। ব্যারি অ্যানসেলেট তার মনোগ্রাফ ''কাজুন মিউজিক: ইটস অরিজিন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে'' বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন কীভাবে ক্যাপেলা নৃত্য নাচের জন্যও ব্যবহৃত হত। এটি হাততালি দেওয়া এবং পা ঠোকার মাধ্যমে ছন্দ ও বিট সরবরাহ করত।<ref>http://www.lsue.edu/acadgate/music/history.htm</ref> ===জ্যামাইকা: দ্য মেন্টো=== ১৯৫১ সালে প্রথম জ্যামাইকান রেকর্ডিং স্টুডিও চালু হয়। ইউরোপীয় এবং আফ্রিকান লোকনৃত্য সঙ্গীতকে একত্রিত করে একটি নতুন ধরনের সঙ্গীত তৈরি করা হয়েছিল। ক্লেমেন্ট ডড ("ডাউনবিট") এবং ডিউক রিডের ("ট্রোজান") মতো ডিস্ক-জকিরা তাদের সঙ্গীত বাজাতে দ্বীপের চারপাশে ভ্রমণ করতেন। জ্যামাইকান ঘেটোর লোকেরা ব্যান্ডের খরচ বহন করতে অক্ষম ছিল। তাই তারা ডড এবং রিডের মতো লোকদের নিয়োগ করেছিল। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে এটি ক্যারিবিয়ান সঙ্গীত এবং নিউ অরলিন্সের "রিদম অ্যান্ড ব্লুজে" রূপান্তরিত হয়। সময়ের সাথে সাথে সঙ্গীতটি স্কা সহ একটি প্রভাবশালী খাদ বাদ্যযন্ত্রে পরিবর্তিত হয়।<ref>http://www.scaruffi.com/history/reggae.html</ref> ===স্কা=== স্কা হলো একটি বাদ্যযন্ত্র ঘরানা যা ১৯৫০ এর দশকে জ্যামাইকায় উদ্ভূত হয়েছিল। এটি রকস্টেডি এবং রেগে তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়। স্কার ইতিহাস সাধারণত তিন ভাগে বা তরঙ্গে বিভক্ত। প্রথম তরঙ্গ হলো মূল স্কা দৃশ্য যা জ্যামাইকায় বিকশিত হয়েছিল। দ্বিতীয়টি হলো সেই দৃশ্য যা ১৯৭০-এর দশকে ব্রিটেনে বিকশিত হয়েছিল। এই সঙ্গীত মূল জ্যামাইকান স্কা থেকে আলাদা। কারণ এতে সাধারণত আরও সুগঠিত রচনা, দ্রুত টেম্পো এবং কম পালিশ করা নান্দনিকতা ছিল। উপরন্তু উভয় প্রভাব পাঙ্ক-রক থেকে টানা হয়। কভেন্ট্রি, ইংল্যান্ডের একটি ২-টোন স্কা ব্যান্ড দ্য স্পেশালসকে সাধারণত প্রত্নতাত্ত্বিক দ্বিতীয়-তরঙ্গ স্কা ব্যান্ড হিসেবে দেখা হয়। স্কার তৃতীয় তরঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের বেশিরভাগ শিল্পী জড়িত ছিল। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই সময়টি প্রথমবার স্কা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তৃতীয় তরঙ্গের ব্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রিটলাইট ম্যানিফেস্টো, রিল বিগ ফিশ এবং মাস্টার্ড প্লাগ। http://www.sfgate.com/entertainment/article/A-brief-history-of-ska-3221107.php ===রেগে=== [[File:Bob-Marley-in-Concert_Zurich_05-30-80.jpg‎|thumb|left|বব মার্লে তর্কাতীতভাবে সবচেয়ে বড় রেগে আইকন এবং শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক।]] রেগে হচ্ছে ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে জ্যামাইকার উদ্ভূত হওয়া সঙ্গীত এমন একটি ঘরানা। এটি তৃণমূল যোদ্ধাদের লড়াইয়ের কথা বলে। অফবিটের পূজা করা রেগে প্রায়শই প্রতিটি বারের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বিটকে উচ্চারণ করে। জ্যামাইকানদের কাছে রেগে মানে "রাজার সঙ্গীত"। এটি যে রাজাকে নির্দেশ করে তিনি হলেন ইথিওপিয়ার সম্রাট হেইল সেলাসি। রেগে গ্রুপগুলো লিড এবং রিদম গিটার, পিয়ানো, অর্গান, ড্রামস এবং ইলেকট্রিক বেস গিটারসহ আধুনিক পরিবর্ধিত যন্ত্র ব্যবহার করে। এর সাথে জ্যামাইকান তালবাদ্য যন্ত্রগুলো (চার্লটন, ক্যাথরিন। "রক মিউজিক স্টাইলস") ব্যবহার করে। রেগে রেকর্ডে পাওয়া সাধারণ থিমগুলোর মধ্যে রয়েছে শান্তি, ভালোবাসা, ধর্ম, দারিদ্র্য বা অবিচার। রেগে-স্টাইলের রিডিম প্রদর্শন করা জনপ্রিয় রক অ্যান্ড রোল গানের একটি পরিচিত উদাহরণ হলো বিটলসের "ওব-লা-দি, ওব-লা-দা"। রেগের শিকড় [[w:রাস্তাফারি আন্দোলনের|রাস্তাফারি আন্দোলনের]] সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত। এটি কখনও কখনও গাঁজা ধূমপানের মাধ্যমে জাহের প্রশংসাকে উৎসাহিত করে। ===ফিলিপিনো সঙ্গীত=== পাশ্চাত্য সঙ্গীত ফিলিপাইনের সঙ্গীতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এর সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হলো একটি ঐতিহাসিক তথ্য। ফিলিপাইন হলো সবচেয়ে পুরোনো পাশ্চাত্য-উপনিবেশিত এশীয় দেশ। তারা সাড়ে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দুটি মূলধারার পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে ছিল। স্পেন এবং অ্যাংলো-স্যাক্সনদের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরীয় সংস্কৃতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।<ref>মেলি লিয়ানডিচো লোপেজ, http://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=jGssp-oJrT8C&oi=fnd&pg=PR9&ots=AkIE1UuF_W&sig=3HgNdiP8xcqu01BDDBJxoIKw1q4</ref> [http://www.asiarooms.com/travel-guide/philippines/culture-of-philippines/music-and-dance-of-philippines.html]। ফিলিপিনো সঙ্গীতের ধ্রুপদী পরিবেশনা সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মিশ্রণ দেখায়। এর মানে এই নয় স্থানীয় রচনা পাওয়া যাবে না। তবে সিম্ফনি, সোনাটা এবং কনসার্টোর মতো পাশ্চাত্য সঙ্গীতের রূপের সূক্ষ্মতাগুলো খুব বেশি ব্যবহৃত হয়। ফিলিপিনো সঙ্গীত আন্তোনিও মোলিনা, ফেলিপ প্যাডিলা দে লিওন, এলিসিও পাজারো এবং হোসে মাসেদার মতো আন্তর্জাতিক সুরকার তৈরি করেছে। হোসে মাসেদা দেশের অগ্রগামী সুরকার হিসেবে পরিচিত। ফিলিপিনো সঙ্গীত সাধারণত ঐতিহ্যবাহী এবং দেশীয় বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বাজানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঁশের তারযুক্ত জিথার, নলাকার বাঁশের অনুনাদক, কাঠের লিউট ও গিটার এবং গিট-গিট নামের একটি কাঠের তিন তারের ধনুকযুক্ত বাদ্যযন্ত্র। ফিলিপিনো সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব লোকগান রয়েছে। এগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়। যেমন হেলে হলো একটি ঘুমপাড়ানি গান, তালিন্দাও হলো একটি সামুদ্রিক গান, কুমিনতাং হলো একটি যোদ্ধাদের গান এবং কুন্দিমান হলো একটি প্রেমের গান। ===কে-পপ=== কোরিয়ান পপ সঙ্গীত নব্বইয়ের দশক থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর আগ পর্যন্ত এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েনি। এটি 'হাল্যু ওয়েভ' নামেও পরিচিত। কোরিয়ান পপ একটি বিশ্বব্যাপী ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এটি মার্কিন বিলবোর্ড এবং আইটিউনস চার্টে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএস ২০১৬ সালের অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিলবোর্ড চার্টে বিশ্বব্যাপী অ্যালবামের তালিকায় এক নম্বরে অবস্থান করে শিরোনাম তৈরি করেছে।<ref>http://www.billboard.com/articles/columns/k-town/7549104/bts-korean-boy-band-kpop-record-break</ref> কে-পপ একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কোরিয়ান সমাজে এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে। তখন ট্রট নামের সঙ্গীতের একটি জনপ্রিয় ধারা ছিল। এর সুর ফক্সট্রটের মতো ছিল। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত কোরিয়ার পপ সঙ্গীত রূপান্তরিত হয়নি। এরপর এটি টেকনো, র‍্যাপ এবং রকের মতো আমেরিকান শৈলী অন্তর্ভুক্ত করে। বয় ব্যান্ড এবং গার্ল ব্যান্ড গঠনও একটি প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। কে-পপের এই নতুন শৈলী পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এগুলোর মধ্যে চীন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম এবং জাপান অন্যতম।<ref>চো, ইয়ংহান। "Desperately Seeking East Asia Amidst The Popularity Of South Korean Pop Culture In Asia." (এশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার পপ সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার মাঝে মরিয়া হয়ে পূর্ব এশিয়াকে খোঁজা।)" ''কালচারাল স্টাডিজ'' ২৫.৩ (২০১১): ৩৮৩-৪০৪। অ্যাকাডেমিক সার্চ কমপ্লিট। ওয়েব। ৩০ নভেম্বর ২০১৬।</ref> <br>কে-পপকে ঘিরে সংস্কৃতি সবসময়ই আকর্ষণীয় এবং বিতর্কিত। বড় বিনোদন কোম্পানিগুলো অডিশনের আয়োজন করে। তারা ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণদের খুঁজে বের করে। এই কিশোর-কিশোরীদের কয়েক বছর ধরে নাচ, গান এবং বিনোদন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারা একটি দলে আত্মপ্রকাশের উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলে। অনেক পাশ্চাত্য সঙ্গীত দলে ব্যান্ডের নিজেদের কন্টেন্টের ওপর অনেক স্বাধীনতা থাকে। কোরিয়ান পপ গ্রুপগুলোর ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। বেশিরভাগ কোরিয়ান পপ গ্রুপ তাদের তৈরি কন্টেন্টের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। এই ব্যান্ডগুলো পরিচালনা করা বিনোদন কোম্পানিগুলোর সাধারণত নিজস্ব দল থাকে। তারা সঙ্গীত তৈরি করে, নাচের কোরিওগ্রাফি করে এবং এমনকি সদস্যদের চেহারাও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে বেশিরভাগ গ্রুপ শুধুমাত্র পুরুষ বা শুধুমাত্র নারীদের নিয়ে গঠিত। অনেক কে-পপ আইডল পুরোপুরি কোরিয়ান নন বা আদৌ কোরিয়ান নন। গত কয়েক বছরে বিনোদন কোম্পানিগুলো অন্যান্য দেশে অডিশনের আয়োজন করেছে এবং বিদেশী প্রতিভা খুঁজেছে। এটি সত্যই এটিকে বিশ্বব্যাপী স্তরে স্থাপন করে। ==সাহিত্য== সাহিত্য বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। গুরুত্বপূর্ণ লিখিত কাজ পড়তে এবং আলোচনা করতে প্রচুর সময় ব্যয় করা হয়। বইগুলো পাঠকদের বিভিন্ন সময়কাল এবং সামাজিক পরিমণ্ডলের সাথে সংযুক্ত করে। উপন্যাসের পাঠকদের অনেক কিছু শেখানোর আছে। বন্ধুত্ব, প্রেম এবং আনুগত্যের থিমগুলো প্রায়শই স্পর্শ করা হয়। এটি একজন পাঠকের কাছে পৌঁছায় এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। অতীত সম্পর্কে লেখা বইগুলো ভুল থেকে শেখার গুরুত্বের সতর্কতা হতে পারে। অথবা এটি একজন পাঠকের জন্য ভিন্ন সংস্কৃতির কারো সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি উপায় হতে পারে। সাহিত্যের অধ্যয়ন সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অতীত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নতুন ধারণার বিকাশ ঘটে। ===প্রভাবশালী লেখক=== ====জে.আর.আর. টলকিয়েন==== জে.আর.আর. টলকিয়েন ''লর্ড অব দ্য রিংস'' এবং ''দ্য হবিট'' বই সিরিজের লেখক। তাকে "হাই ফ্যান্টাসি" ধারার জনক বলা হয়।<ref>{{cite web|url=http://video.google.com/videoplay?docid=8119893978710705002|title=J. R. R. Tolkien: Father of Modern Fantasy Literature|trans-title=জে. আর. আর. টলকিয়েন: আধুনিক ফ্যান্টাসি সাহিত্যের জনক|accessdate=২০ জুলাই ২০০৬|author=মিচেল, ক্রিস্টোফার|format=গুগল ভিডিও|work="লেট দেয়ার বি লাইট" সিরিজ|publisher=[http://www.uctv.tv/ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় টেলিভিশন]}}.</ref> তিনি বেশ কয়েকজন শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীকে প্রভাবিত করেছেন। টলকিয়েন তার লেখায় মানব অবস্থা, সংরক্ষণ এবং ক্ষমতার দুর্নীতির মতো বিশ্বব্যাপী এবং কালজয়ী থিমগুলো নিয়ে কাজ করেছেন। অনেক লেখকের মতো টলকিয়েন সাদৃশ্য ব্যবহার করতে অপছন্দ করতেন। এর পরিবর্তে তিনি এমনভাবে লিখেছিলেন যাতে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের পরিবর্তে মানব ইতিহাসের সামগ্রিক মতাদর্শগুলোকে আবদ্ধ করতে পারেন (যেমন জর্জ লুকাসের "স্টার ওয়ার্স" সাম্রাজ্য নাৎসি জার্মানির সাদৃশ্য ছিল)। টলকিয়েন তার গল্পে প্রকৃতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার জন্যও সমাদৃত। এর ফলে তার মহাকাব্য "দ্য লর্ড অব দ্য রিংস" অত্যন্ত একনিষ্ঠ পাঠক ছাড়া অন্যদের জন্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তী জীবনে টলকিয়েন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকর্মী লেখক সিএস লুইসের (দ্য ক্রনিকলস অব নার্নিয়ার লেখক) পাশাপাশি শিক্ষকতা করেন। তার সাথে তিনি দ্য ইনক্লিংস নামে একটি রাইটিং ক্লাব তৈরি করেন। তার অ্যাকাডেমিক সহকর্মীদের দ্বারা উৎসাহিত হয়ে তিনি মিডল আর্থের কল্পনার জগৎ তৈরি করেন। তিনি এলভসদের ভাষা, আরাগর্নের মতো চরিত্র, টম বোম্বাদিল এবং দুষ্ট সিগনদের আবিষ্কার করেন। মিডল আর্থ তৈরিতে টলকিয়েন ইংরেজি লোককাহিনী এবং পৌরাণিক কাহিনীর প্রভাবকে নর্স পৌরাণিক কাহিনী এবং বাইবেলের কাহিনীর সাথে একত্রিত করেছেন। টলকিয়েন লর্ড অব দ্য রিংস সিরিজের প্রাথমিক আখ্যান এবং পরিশিষ্ট লিখতে দশ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন। এই সময়ে তিনি সবসময় ইনক্লিংসের সমর্থন পেয়েছিলেন। বিশেষ করে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইসের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছিলেন [http://en.wikipedia.org/wiki/J._R._R._Tolkien]। টলকিয়েনের উপন্যাসগুলোতে প্রায়শই বয়স-বৃদ্ধির উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। উদাহরণস্বরূপ ''দ্য হবিট'' হিরোস জার্নি প্লট অনুসরণ করে।<ref>ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, <http://en.wikipedia.org/wiki/Monomyth>।</ref> তার উত্তরাধিকার তার ছেলে ক্রিস্টোফারের মাধ্যমে টিকে আছে। তিনি তার বাবার মরণোত্তর প্রকাশিত কাজগুলো সম্পাদনা করে জীবন কাটিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে দ্য সিলমারিলিয়ন এবং দ্য চিলড্রেন অব হুরিন অন্যতম। <ref>"অল ওয়ার্ল্ড নলেজ" - জেআরআর টলকিয়েন। অল ওয়ার্ল্ড নলেজ: সবকিছু এবং আরও অনেক কিছুর ওপর শিক্ষামূলক নিবন্ধ। ২৮ এপ্রিল ২০০৯ <http://www.allworldknowledge.com/tolkien/index.html>।</ref> ====জে.কে. রাউলিং==== জে.কে. রাউলিং তার তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ফ্যান্টাসি উপন্যাস সিরিজ ''হ্যারি পটারের'' জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সিরিজটি খ্যাতি পাওয়ার পর থেকে তিনি একজন প্রভাবশালী সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। ''হ্যারি পটার'' ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি বিশ্বব্যাপী এবং সাংস্কৃতিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। উপন্যাসগুলো শিশু, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিক্রিত বইয়ের সিরিজে পরিণত হয়েছে। হ্যারি পটারের কল্পনার জগৎ তৈরিতে রাউলিং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী থেকে প্রচুর অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। বিশেষ করে পৃথিবীতে বসবাসকারী চমত্কার প্রাণী এবং ইউরোপীয় জাদুবিদ্যার লোককাহিনীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। পৌরাণিক কাহিনী এবং লোককাহিনীর এই বৈশিষ্ট্যগুলো ''হ্যারি পটার'' সিরিজকে ব্যাপক দর্শকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলে। তারা পশ্চিমা ইউরোপীয় এবং আমেরিকান সংস্কৃতির শত শত বছর ধরে থাকা লোককাহিনীর সাথে পরিচিত। এগুলো পাঠযোগ্যতার কারণে ব্যাপক দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে। তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের উপন্যাস হওয়ায় এগুলো শিশুদের পড়ার জন্য যথেষ্ট সহজ। আবার প্রাপ্তবয়স্কদের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট জটিল। ''হ্যারি পটার'' উপন্যাসগুলো এভাবে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে। এগুলো সাহিত্যের মূল্যবোধের একটি উৎস হয়ে উঠেছে। কারণ এগুলো অনেক তরুণ পাঠককে সাহিত্য সাধনায় উৎসাহিত করেছে এবং গত বিশ বছরে শিশু ও কিশোর পাঠকদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। উপন্যাসগুলোকে শুধু তাদের বিপুল জনপ্রিয়তায় নয়, বরং তাদের প্রচারিত মূল্যবোধেও একটি সাংস্কৃতিক প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। শিশুদের নৈতিকতার বিকাশের ক্ষেত্রে পশ্চিমা সাংস্কৃতিক মান অনুযায়ী এগুলোকে সাধারণত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়। কল্পকাহিনী, পৌরাণিক কাহিনী, বীরত্বগাথা এবং অন্যান্য চমত্কার গল্পগুলো দীর্ঘকাল ধরে শিশুদের (এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদেরও) আচরণ উৎসাহিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি নৈতিকতার সাংস্কৃতিক নিয়ম মেনে চলে। এই প্রবণতাটি ''হ্যারি পটার'' সিরিজের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। এর ব্যাপক প্রভাব নিশ্চিত করে যে উপন্যাসগুলোতে উপস্থাপিত সাংস্কৃতিক গুণাবলী অসংখ্য তরুণ পাঠকদের মনে গেঁথে যায়। ====চাক পালাহনুইক==== চার্লস মাইকেল পালাহনুইক জনপ্রিয় এবং অনন্য উপন্যাসের জন্য কয়েকটি বই লিখেছেন। তিনি এমন উপন্যাস তৈরি করেছেন যা হরর হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ কিন্তু অতিপ্রাকৃত ঘটনা ধারণ করে না। তার বইগুলোকে হরর ধারায় রাখা হয় কারণ তার চরিত্রগুলো সমাজ দ্বারা আকৃতি পায়। তারা আঘাতমূলক ঘটনার মধ্য দিয়ে যায় যা তাদের আত্ম-ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। চাকের বইগুলো একটি অদৃশ্য জানালা তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষ দেখতে পারে সমাজ মানুষকে কী করতে বাধ্য করতে পারে। বলা হয় যে চাক পালাহনুইক মিনিমালিস্ট টম স্প্যানবাওয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।<ref>[http://www.illiterarty.com/biography-chuck-palahniuk]</ref> টম স্প্যানবাওয়ারের রাইটিং ওয়ার্কশপই চাককে তার উপন্যাসগুলো শুরু করতে সাহায্য করেছিল। এর মধ্যে তার প্রথম উপন্যাস "ইনভিজিবল মনস্টার" অন্যতম। প্রকাশকরা এটি প্রথমবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ এটিকে খুব বেশি বিরক্তিকর বলে মনে করা হয়েছিল। মানুষ দেখতে পায় যে চাক সমাজ সম্পর্কে যে ভয়ানক সত্য প্রকাশ করেন তা সাধারণ মানুষের জন্য খুব বেশি হতে পারে। ====প্লেটো==== বিবৃতিবিদ্যা এবং কবিতা নিয়ে প্লেটোর আলোচনা বিস্তৃত এবং প্রভাবশালী উভয়ই। মাধ্যমিক স্কুল, উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের ছাত্রদের মধ্যে শিক্ষাদান করে তিনি পরবর্তী ঐতিহ্যের জন্য আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করেন। তবে এই বিষয়গুলোর প্রতিটি সম্পর্কে তার মন্তব্য বোঝা আমাদের উল্লেখযোগ্য দার্শনিক এবং ব্যাখ্যামূলক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে। কেন তিনি দুটি বিষয়কে এত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছেন তা স্পষ্ট নয় (তিনি পরামর্শ দেন যে কবিতা এক ধরনের বিবৃতিবিদ্যা)। প্লেটোর বিখ্যাত উক্তি হলো "দর্শন এবং কবিতার মধ্যে একটি পুরোনো বিবাদ রয়েছে" (রিপাবলিক, ৬০৭b৫-৬)। এটি নির্দেশ করে যে এই দুটি বিবৃতির মধ্যে মূল্যবোধের সংঘর্ষ রয়েছে। প্লেটো তার নিজস্ব লেখার কাব্যিক এবং বিবৃতিমূলক গুণাবলীর জন্য পরিচিত। যেমন দ্য ইলিয়াডে এটি দেখা যায় এবং দ্য ওডিসির মাধ্যমে এটি উপস্থাপিত হয়। <ref>"Homer and Plato." (হোমার এবং প্লেটো)" লটসঅবএসেজ। ২৬ এপ্রিল ২০০৯।</ref> ====হারুকি মুরাকামি==== হারুকি মুরাকামি কিয়োটোতে জন্মগ্রহণকারী একজন জাপানি লেখক। পাশ্চাত্য সংস্কৃতি দ্বারা তার গভীর প্রভাব প্রায়শই তার লেখায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা তাকে অন্যান্য লেখকদের থেকে আলাদা করে। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তার লেখার থিম এবং শিরোনামে ধ্রুপদী সঙ্গীতের অনেক উল্লেখ। তার কাজগুলো মূলত পরাবাস্তববাদী পোস্ট-মডার্ন কথাসাহিত্য নিয়ে গঠিত। মুরাকামির তার জাপানি ঐতিহ্যকে তার পাশ্চাত্য প্রভাবের সাথে মিশ্রিত করার একটি অনন্য উপায় রয়েছে। এটি পাঠকের কাছে পরিচিত অথচ বিদেশী বোধ তৈরি করে।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Haruki_Murakami#Biography</ref> ====স্টিফেন কিং==== সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী হরর ঘরানার লেখক হলেন স্টিফেন কিং। তার সাহিত্য বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছে এবং চলচ্চিত্র জগতেও প্রবেশ করেছে। তার লেখা গল্পগুলো সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ব্যবহৃত রেফারেন্সগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। যেমন (আইটি, ক্রিস্টিন, পেট সেমেটারি ইত্যাদি)। এই আইকনিক বই এবং চলচ্চিত্রের রূপান্তরগুলো উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে এবং সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকতে দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র পুনর্নির্মাণেও ফিরে এসেছে। এই সাহিত্য বদলে দিয়েছে কীভাবে অতিপ্রাকৃত এবং বাস্তবসম্মত হরর মিশ্রিত করে স্বাভাবিক বস্তু বা ধারণার প্রকৃত ভয় তৈরি করা যায়। এটি একটি শক্তিশালী অনুসারী গোষ্ঠী এবং সংস্কৃতি তৈরি করেছে।<ref>https://en.wikipedia.org/wiki/Stephen_King</ref> ===ডিজিটাল প্রকাশনা=== সাহিত্যের একটি সাম্প্রতিক বিকাশ হলো ডিজিটাল প্রকাশনার যুগ এবং ই-বুকের (ইলেকট্রনিক বুক) উত্থান। বই, সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিন কাগজে ছাপার পরিবর্তে ডিজিটাল প্রকাশনা পড়ার জন্য একটি পরিবেশবান্ধব এবং সুবিধাজনক উপায় তৈরি করেছে। ডিজিটাল প্রকাশনা এবং মুদ্রিত প্রকাশনার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ডিজিটাল প্রকাশনায় কোনো ভৌত কপি থাকে না। এর মানে হলো পণ্য তৈরি করতে কোনো কাগজ বা কালির প্রয়োজন হয় না। এটি সাহিত্যের জন্য একটি বিশাল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সুবিধাগুলো হলো সুবিধা এবং সহজলভ্যতা। ই-বুকের সাহায্যে ই-রিডার, ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে সাহিত্য পড়া যায়। তাই অল্প জায়গায় প্রচুর পড়ার উপকরণ রাখার বাড়তি সুবিধা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ জাপানে গণপরিবহনে ই-বুক খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ই-বুকের আগে মাঙ্গা, জাপানি গ্রাফিক নভেলের ছোট সংস্করণগুলো গণপরিবহনে বহন করা হতো এবং পড়া হতো। এখন মাঙ্গার ছোট সংস্করণগুলোর জায়গা নিয়েছে তাদের ই-বুক সংস্করণগুলো।<ref>http://www.utpjournals.press/doi/full/10.3138/jsp.46.2.03</ref> পাঠকরা কীভাবে সাহিত্য পেতে পারেন তার ওপর সহজলভ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি। লাইব্রেরি বা বইয়ের দোকানের মতো ডিজিটাল প্রকাশনার ধারণক্ষমতার কোনো সীমা নেই। লাইব্রেরি এবং বইয়ের দোকানগুলো কেবল সেই বইগুলোই সরবরাহ করবে যেগুলো ভাড়া নেওয়া বা কেনা হবে বলে আশা করা হয়। ই-বুক সাহিত্যের এক অন্তহীন জোগান তৈরি করে। হ্যারি পটার বা লর্ড অব দ্য রিংসের মতো বিশাল হিট থেকে শুরু করে একজন স্ব-প্রকাশকের অজানা কাজ পর্যন্ত সবই পাওয়া যায়। লেখক হ্যান্স রোসেনডাল এই প্রক্রিয়াটির সারসংক্ষেপ করে বলেছেন যে ডিজিটাল প্রকাশনা "লেখকদের তাদের কাজের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর ক্ষমতা দেয় বা পাঠকদের জন্য ডেটাবেস অনুসন্ধান সহজ করে তোলে। এর ব্যবহার তথ্য চক্রকে ছোট করে।"<ref>https://www.researchgate.net/publication/250987991_The_new_culture_of_electronic_publishing</ref> ই-বুকের সুপরিচিত পরিবেশক হলো অ্যাপল আইবুক, অ্যামাজন কিন্ডল, বার্নস অ্যান্ড নোবেল নুক বা গুগল প্লে বুকস্টোরের মতো বড় কোম্পানিগুলো। মুদ্রিত সাহিত্যের পতন দেখা যায় লাইব্রেরির পতন এবং নতুন ই-বুকের জগতের সাথে মানিয়ে না নেওয়া বড় বইয়ের দোকানগুলোর দেউলিয়া হওয়ার মধ্যে দিয়ে।<ref>http://www.slate.com/articles/business/moneybox/2011/07/readers_without_borders.html</ref> ==নাচ== নাচ হলো সঙ্গীতের তালে তালে ছন্দময়ভাবে চলাফেরা করে অভিজ্ঞতার আনন্দ বাড়ানো। তবে চলাফেরা যদি সঙ্গীতের তালে না হয়, তবে একটি বিষয় প্রমাণ করার জন্য নীরবতাকে কাজে লাগানো হয়। পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপের একটি সেট দ্বারা নাচ তৈরি করা যেতে পারে। এটি মতপ্রকাশের একটি রূপ, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিতে উপস্থাপনের একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নাচকে মানুষের মধ্যে অ-মৌখিক যোগাযোগের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি অন্যান্য প্রাণীদের দ্বারাও পরিবেশিত হয়। বিভিন্ন নাচের জন্য বিভিন্ন স্তরের দক্ষতার প্রয়োজন হয়। কিছু নাচ অন্যদের চেয়ে শারীরিকভাবে বেশি ক্লান্তিকর হতে পারে। কৌশল বা শৈলী যাই হোক না কেন, সঠিক পদার্থবিজ্ঞান বিবেচনায় না নিলে আঘাত ঘটতে পারে। ===দক্ষিণ আমেরিকায় নাচ=== '''আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো''' আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো ১৮৮০ সালের দিকে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের উপকণ্ঠে উদ্ভূত হয়েছিল। এই নাচ বার, ক্যাফে, জুয়ার আসর এবং পতিতালয়ে জনপ্রিয় হয়েছিল। যেহেতু মূল গানে প্রায়শই যৌনতা এবং অশ্লীলতার কথা উল্লেখ করা হতো, তাই এটি যৌক্তিক যে জনপ্রিয়তা ভূগর্ভস্থ সমাজে ঘটেছিল। এই সময়কালে এমনকি একে অপরের সামনে নাচ বা একেবারেই স্পর্শ করাকে খুব বেশি বলে মনে করা হতো। তাই ট্যাঙ্গোর ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে ধরা এবং গালে গাল ঠেকিয়ে নাচকে অশ্লীল বলে মনে করা হতো। প্রাথমিকভাবে ভালো সুনামের অধিকারীরা ট্যাঙ্গোকে অবজ্ঞার চোখে দেখতেন এবং এর কোনো অংশ হতে চাইতেন না। এর মানে হলো যদি কোনো পুরুষ নাচটি অনুশীলন করতে চাইতেন, তবে তার একমাত্র সম্ভাব্য সঙ্গী ছিল অন্য একজন পুরুষ। পুরুষরা একসাথে জড়ো হয়ে নারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করার উপায় হিসেবে নাচটি অনুশীলন করতেন। অবশেষে ট্যাঙ্গো ধীরে ধীরে বোর্ডিং হাউসের সাধারণ জায়গাগুলোতে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। সেখানে অভিবাসীরা থাকতেন। এটি ছড়িয়ে পড়তে কিছুটা সময় নিয়েছিল। তবে নাচের কিছু গতিবিধি "শুদ্ধ" হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখনও ট্যাঙ্গো সাধারণত এমন একটি বিষয় ছিল যা মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরা গোপন রাখত। এটিকে তখনও লজ্জাজনক এবং পাপপূর্ণ বলে মনে করা হতো। ইউরোপে পথ তৈরি করার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন ট্যাঙ্গো উচ্চ সমাজে সত্যিই গৃহীত হয়নি। প্যারিসীয় অভিজাতদের সাথে পরিচিত হওয়ার পর এটি সেখানে সেই সময়ের উন্মাদনায় পরিণত হয়েছিল। ট্যাঙ্গো যখন অবশেষে আর্জেন্টিনায় ফিরে আসে, তখন এটি "সবচেয়ে প্রিয় পুত্র হিসেবে গৃহীত হয়েছিল।"—সার্জিও সুপা<ref>সুপা, সার্জিও ও. "ToTango." (টু ট্যাঙ্গো)। http://www.totango.net/sergio.html</ref> ===ফিলিপাইনে নাচ=== ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী নাচগুলো স্প্যানিয়ার্ড, মুসলিম, ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা ইউরোপীয়দের সাংস্কৃতিক প্রভাব প্রতিফলিত করে। একটি পৃথক সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ফিলিপাইনের প্রতিটি অঞ্চল নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নাচের শৈলী তৈরি করেছে। অনেক লোকনৃত্য ফিলিপিনোদের প্রাথমিক জীবনধারা অনুকরণ করার জন্য এবং অশুভ আত্মাদের তাড়ানোর মতো আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যেও তৈরি করা হয়েছিল।<ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> ফিলিপাইনের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কিছু নাচ নিচে দেওয়া হলো: '''মুসলিম প্রভাবিত নাচ''' দ্বাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে বোর্নিও এবং মালয় উপদ্বীপের ব্যবসায়ী এবং বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে আসেন। তারা ফিলিপিনোদের কাছে ইসলাম নিয়ে আসেন। আজ মিন্দানাও এবং সুলু দ্বীপপুঞ্জে ১০ লাখেরও বেশি মুসলিম ফিলিপিনো বাস করে। স্প্যানিশরা ফিলিপাইনে আসার পর ফিলিপিনো মুসলিমরা, যারা মোরো নামেও পরিচিত, বিজয়ী হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে তাদের ইসলামি জীবনধারা মূলত অক্ষত থাকে। এমনকি আজও ফিলিপিনো জনসংখ্যার বাকিদের সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনধারা সত্ত্বেও এটি বজায় রয়েছে। চারটি প্রধান মুসলিম জাতিগোষ্ঠী রয়েছে: লানাও, মাগুইন্দানাও, সামাল এবং তাউসুগ। এই নাচের ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলোতে উজ্জ্বল রঙ এবং ছন্দময় গতিবিধি ব্যবহার করা হয়। এটি সংস্কৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইন্দো-মালয়েশিয়ান প্রভাবকে উপস্থাপন করে। এই নাচে একটি ফিতা নাচও রয়েছে যা সম্ভবত আরব প্রভাবের ফল। মাগুইন্দানাওদের সিংকল নাচটিকে সবচেয়ে কঠিন ফিলিপিনো নাচ বলে মনে করা হয়। এই নাচে রাজকীয় রক্তের একজন নারী ছাতা বা পাখা হাতে সুন্দরভাবে নেচে নিজেকে প্ররোচকদের কাছে তুলে ধরেন। আবার কখনও কখনও বাঁশের লাঠির সাথে দক্ষতার সাথে চলাফেরা করেন।<ref>http://www.filipinasoul.com/philippine-folk-dance-singkil/</ref> মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার যুদ্ধ দ্বারা অনুপ্রাণিত আরেকটি নাচ হলো মাগলালাটিক। এর উদ্ভব লেগুনা প্রদেশ থেকে। এই নাচে মোরোরা নীল প্যান্ট পরে এবং খ্রিস্টানরা লাল প্যান্ট পরে। নাচের প্রথমার্ধে নারকেলের দুধের অবশিষ্টাংশ নিয়ে যুদ্ধ চিত্রিত করা হয়েছে। এরপর দুটি গ্রুপের মধ্যে পুনর্মিলন দেখানো হয়েছে।<ref>http://www.vtaide.com/ASEAN/Philippines/dances.html</ref> এই নাচে নির্দিষ্ট পোশাক থাকে: মালং হলো একটি টিউবের মতো পোশাক যা বিভিন্নভাবে পরা হয়, এবং কুম্বং হলো একটি ঐতিহ্যবাহী মাথার পোশাক। নাচের সাথে যে বাদ্যযন্ত্রগুলো বাজানো হয় সেগুলো হলো: আগোং যা কেন্দ্রে একটি গাঁট যুক্ত ব্রাস গং, এবং কুলিনতাং হলো একটি কাঠের ফ্রেমে রাখা ব্রাস গংয়ের সংগ্রহ। <ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> '''ব্যারিও ফিয়েস্তা নাচ''' ফিয়েস্তা এবং বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর জন্য দারুণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। খাবার, সঙ্গীত, নাচ, গেমস এবং ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা সবই ফিলিপিনো গ্রামগুলোর এই ঐতিহ্যবাহী ঘটনার অংশ। ফিয়েস্তা যদি গালা (বোহোলানো) নামের কোনো বিয়ের উৎসবের জন্য হয়, তবে বর-কনের বন্ধুদের সাথে নিয়ে আসা প্রথাগত। যারা তাদের খাবার পরিবেশন করে তাদের দ্বারা তারা বিনোদিত হন। বিনোদনের মধ্যে নাচ এবং সঙ্গীতের পারফরম্যান্স রয়েছে। সেই সাথে শব্দ সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি করতে পাত্র, প্যান, ল্যাডেল এবং পাত্রগুলোর সংঘর্ষও থাকে। এরপর অতিথিদের প্রথা অনুযায়ী চূড়ান্ত নাচের ঠিক আগে বর এবং কনের পোশাকে কাগজের টাকা আটকে দেওয়া হয়। এই নাচে নবদম্পতিরা একে অপরের সাথে খেলায় মেতে ওঠেন। এই নাচের আরেকটি জনপ্রিয় রূপকে কালাতং বলা হয় যা বাতাঙ্গাস প্রদেশের একটি নাচ। এটিতে ঘাতবাদ্য হিসেবে বাঁশের পাইপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই দলের শেষ নাচটি হলো তিনিকলিং। এটি এমন একটি নাচ যা লম্বা পায়ের টিকলিং পাখির নড়াচড়া অনুকরণ করে। এই পাখি ধানের ডালপালার মধ্যে কৃষকদের পাতা ফাঁদের ওপর দিয়ে লাফিয়ে চলে। ফিলিপাইনের নর্তকরা এই নাচটি করার সময় জটিল এবং অত্যন্ত সমন্বিত লাফ দিয়ে বাঁশের লাঠির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যান। এ সময় লাঠিগুলোকে একসাথে আঘাত করা হয় এবং তাদের নিচের মেঝেতে আঘাত করা হয়। তিনিকলিং হলো একটি কৌতুকপূর্ণ প্রেমের নাচ। বেশিরভাগ আদিবাসী নাচের মতোই এটি এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আরও জটিল হয়ে ওঠে। তিনিকলিং লেইতে দ্বীপপুঞ্জ থেকে উদ্ভূত এবং এটি ফিলিপাইনের আনুষ্ঠানিক জাতীয় নাচ।<ref>http://dance.lovetoknow.com/Philippine_Ethnic_Dance</ref> এই নাচের পোশাক হলো বালিনতাওয়াক। এটি একটি মেঝে-দৈর্ঘ্যের পোশাক যাতে শক্ত প্রজাপতি হাতা এবং হাতার সাথে মিলে যাওয়া উজ্জ্বল রঙের ওভারস্কার্ট থাকে। পুরুষরা কামিসা দে চিনোস নামের রঙিন শার্ট পরে। এই নাচগুলোর সাজসরঞ্জামের মধ্যে সাধারণত টিঙ্গয় নামের একটি তেলের বাতি এবং বাকিয়া নামের কাঠের ক্লগ অন্তর্ভুক্ত থাকে।<ref>http://web.archive.org/web/20090206053132/http://www.sanjoseculture.org/artsexpress/study_kaisahan0809.pdf</ref> '''মারিয়া ক্লারা নাচ''' মারিয়া ক্লারা ফিলিপাইনের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তিনি সত্যনিষ্ঠ ফিলিপিনা নারীর গুণাবলী এবং আভিজাত্যের প্রতীক। জোসে রিজালের লেখা স্প্যানিয়ার্ডদের দ্বারা ফিলিপাইন উপনিবেশ স্থাপনের একটি সাহিত্যিক অংশে তিনি প্রধান নারী চরিত্র ছিলেন। তার সম্মানে একটি নাচ এবং পোশাকের শৈলী তৈরি করা হয়েছিল। এটি এর স্প্যানিশ প্রভাবকে চিত্রিত করে। মারিয়া ক্লারার পোশাক হলো একটি জটিল ডিজাইনের ব্লাউজ এবং একটি ঝরঝরে স্কার্ট দিয়ে তৈরি আনুষ্ঠানিক পোশাক। এর সাথে কাঁধের ওপর একটি পানুয়েলো (প্রাকৃতিক ফাইবারের বর্গক্ষেত্র) পরা হয়। পুরুষরা বারং তাগালগে থাকে। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ফিলিপিনো শার্ট। এটি সাধারণত লম্বা হাতা এবং বিস্তারিত সূচিকর্মসহ আনারসের ফাইবার দিয়ে তৈরি হয়। এই নাচের প্রপস হলো বাঁশের কাস্টানেট এবং আবানিকো (এশিয়ান ফ্যান)। এই দলে অনেক ভিন্ন ধরনের নাচ রয়েছে যা ফিলিপাইন সংস্কৃতির কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। '''ইগোরোট নাচ''' ইগোরোটরা ফিলিপাইনের একটি উপজাতীয় জনগোষ্ঠী। তারা উত্তর লুজোনের কেন্দ্রীয় কর্ডিলেরা এলাকায় বসবাস করে। সম্মিলিতভাবে ইগোরোট নামে পরিচিত ছয়টি ভিন্ন উপজাতি হলো: আপায়াও, বনটোক, ইবালয়, ইফুগাও, কালিঙ্গা এবং কানকানায়। এই মানুষগুলো কেবল ইগোরোট হিসেবে উল্লেখ করার চেয়ে তাদের আলাদা উপজাতীয় নামে পরিচিত হতে পছন্দ করে। স্প্যানিয়ার্ডরা তাদের জন্য এই শ্রেণিবিন্যাসের শব্দটি নির্ধারণ করেছিল। এই উপজাতিগুলোর অভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে যা তাদের প্রকৃতির সাথে যুক্ত করে। তারা বিশেষ নৈবেদ্য দিয়ে গৃহদেবতাদেরও সম্মান করে। তাদের অনুষ্ঠানে সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির প্রকাশ হিসেবে নাচ পরিবেশিত হয়। এটি তাদের দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য, তাদের পূর্বপুরুষদের সম্মানে, অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য এবং আসন্ন যুদ্ধের জন্য তাদের দেবতাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য করা হয়। দুর্ভাগ্যের হাত থেকে বাঁচতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেতে, প্রচুর ফসল এবং মনোরম আবহাওয়া নিশ্চিত করতে এবং জীবনের চক্র উদযাপন করতেও নাচ করা হয়। এই নাচগুলোতে নারীরা তাদের মাথায় বয়াম এবং/অথবা ঝুড়ি রাখে। এটি খাদ্য সংগ্রহকারী এবং জল আনয়নকারী হিসেবে সম্প্রদায়ে নারীদের ভূমিকা প্রদর্শন করে। পুরুষদের জন্য মানমানোক নাচ রয়েছে। সেখানে তারা নারীদের আকৃষ্ট করতে উজ্জ্বল বোনা কম্বল ব্যবহার করে। তাকিলাংয়ে পুরুষরা নাচে, গায়। তারা তাদের গ্যাংসা ও পিতলের গং বাজায়। এর মাধ্যমে তারা অস্ত্র এবং শিকারে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে। স্প্যানিশ শাসনের কারণে ফিলিপাইনের নাচে স্প্যানিশদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নাচ এবং সঙ্গীতে ইউরোপীয় নাচের গতি এবং শৈলী চলে আসে। উদাহরণস্বরূপ তিনিকলিং নাচ এবং ইটিক-ইটিকের গতি জোটা এবং পোলকার গতি অর্জন করেছিল।<ref>http://filipinokastila.tripod.com/dans.html</ref> ফিলিপিনোরা যে নাচগুলোর জন্য পরিচিত তার আরও কিছু উদাহরণ হলো: পান্ডাঙ্গো সা ইলাও: একটি স্প্যানিশ নাচ। এর জন্য প্রচুর ভারসাম্য রক্ষার দক্ষতা প্রয়োজন। কারণ মাথা এবং প্রতিটি হাতের পিঠে তিনটি তেলের বাতি ধরে রাখতে হয়। এই নাচটি মিনডোরোর লুবাং দ্বীপ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। কারিওসা: এই নাচের নামটি এমন একজন নারীকে বর্ণনা করে যিনি স্নেহশীল, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং প্রেমময়। এই নাচে ফ্লার্টিংয়ের ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় পাখা এবং রুমাল ব্যবহার করা অন্তর্ভুক্ত। রিগডন: এই নাচটি স্পেনে উদ্ভূত হয়েছিল এবং সবচেয়ে বেশি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়। তিনিকলিং: এই জাতীয় লোকনৃত্যে একজোড়া নর্তক দুটি বাঁশের লাঠির মাঝখানে লাফিয়ে লাফিয়ে নাচ করে। লাঠিগুলো মাটির ঠিক ওপরে ধরে রাখা হয় এবং সঙ্গীতের তালে তালে একসাথে আঘাত করা হয়।<ref>http://www.camperspoint.com/article.php3?id_article=229</ref> ধান চাষীদের পাতা বাঁশের ফাঁদ এড়াতে পাখিদের চটপটে গতি এবং অনুগ্রহকে এই নাচ অনুকরণ করে। নর্তকরা পাখিদের প্রতীক। তারা পায়ের কাজের মাধ্যমে তাদের তত্পরতা প্রদর্শন করে। অন্যদিকে বাঁশের খুঁটিগুলো ফাঁদের প্রতীক।<ref>http://www.giancruz.com/portfolio/imd110/city/history.html</ref> ===জুলু এবং মাসাই সংস্কৃতিতে নাচ=== ====ভূমিকা==== অনেক আফ্রিকান সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাচ। বিশেষ করে জুলু এবং মাসাইদের ক্ষেত্রে এটি সত্য। উভয় সংস্কৃতিই পশুপালক এবং তাদের আরও অনেক সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা তাদের নাচ খুব ভিন্নভাবে প্রকাশ করে। এটি ব্যাখ্যা করার জন্য আমরা মাসাই এবং জুলু সমাজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দিক নিয়ে আলোচনা করব। যেখানে নাচ ব্যবহার করে সামাজিক মিলের পাশাপাশি শৈলীগত নাচের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়। শুরুতে আমাদের জুলু এবং মাসাইদের মধ্যে কিছু সামাজিক মিল দেখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বয়সের গ্রুপ, লুণ্ঠনের ঐতিহ্য এবং গবাদি পশুর গুরুত্ব। জুলু সমাজের জোর ছিল যুদ্ধ এবং লুণ্ঠনের ওপর। বয়সের সেটগুলো এতে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল। তরুণদের এগুলোতে ভাগ করা হয়েছিল এবং একটি নির্দিষ্ট বয়সের সেট অনুযায়ী তারা হানাদার ও যোদ্ধা ছিল। লুণ্ঠনের সময় জুলু যোদ্ধারা গবাদি পশু তুলে আনত। এগুলো তাদের সমাজে সম্পদের পরিমাপ ছিল। প্রাচীন জুলু জাতির ঐক্যবদ্ধকারী শাকা তার রাজবংশের সাহায্যে জুলুদের যুদ্ধে গর্বিত করেছিলেন। সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক ছিল এবং কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। তিনি তার বুলহর্ন পদ্ধতি এবং ছোট ছুরিকাঘাত করার বর্শা দিয়ে যুদ্ধের শৈলীকে বৈপ্লবিক রূপ দিয়েছিলেন। এটি যোদ্ধাদের নাচেও ব্যবহৃত হতো। অন্যান্য সমাজে তার অবিরাম আক্রমণ তার সাম্রাজ্যকে এত ক্ষমতা দিয়েছিল। এটি তার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল। যোদ্ধারা কোন বয়সের সেটে ছিল তা দ্বারা নির্বাচিত হতো। বয়সের সেটগুলো ছিল প্রায় দশ বছরের বয়সের পরিসরের মধ্যে থাকা একটি গ্রুপ। অনেক সময় এই বয়সের সেটগুলো প্রবীণ, যোদ্ধা এবং শিশুদের মধ্যে সংগঠিত হতো। বয়ঃসন্ধির পর দীক্ষার প্রক্রিয়ায় নারীদের একটি বিশেষ নাচ ছিল যা পরিবেশিত হতো। শাকার সমাজে গবাদি পশু ছিল সম্পদের পরিমাপ। গবাদি পশু না থাকলে কেউ বিয়ে করতে পারত না বা বিলাসবহুল জিনিস কিনতে পারত না। অন্যান্য সমাজে লুণ্ঠন করে বা অসামান্য সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে গবাদি পশু উপার্জন করা যেত। গবাদি পশু উৎসর্গ করাও তাদের সমাজের একটি বড় অংশ ছিল। যুদ্ধ থেকে নিরাপদে ফিরে আসার জন্য বা সফল যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে উৎসর্গ করা হতো। অন্যদিকে মাসাই সংস্কৃতি নিজেদেরকে একটি বিশুদ্ধ পশুপালক সমাজ হিসেবে বিবেচনা করত। ফলে গবাদি পশুর ওপর প্রচুর জোর দেওয়া হতো। তারা একটি লুণ্ঠনকারী সমাজও ছিল। যদিও তারা শিকারকে দীক্ষা অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ব্যবহার করত, তবে এটি মাসাই সমাজে নিয়মিত ঘটনা ছিল না। জুলুদের মতো মাসাইরাও গবাদি পশুকে সম্পদের একটি রূপ হিসেবে ব্যবহার করত। তারা গবাদি পশুকে এতটাই পবিত্র বলে মনে করত যে তারা একই খাবারে গরুর মাংস খেত না এবং দুধ পান করত না। জীবিত প্রাণীর থেকে নেওয়া জিনিসের সাথে মৃত প্রাণীর থেকে নেওয়া জিনিসের মিশ্রণকে তারা অসম্মানজনক মনে করত। মাসাইরা বিশ্বাস করত যে সমস্ত গবাদি পশু আইনত তাদের ঈশ্বরের দেওয়া। তাই অন্যান্য উপজাতির কাছ থেকে সেগুলো নেওয়া যুক্তিসঙ্গত ছিল। ====যুদ্ধের নাচ==== জুলু এবং মাসাই উভয় রাজ্যই যুদ্ধ এবং লুণ্ঠনের ওপর জোর দিয়েছিল। তাই এটা স্বাভাবিক যে তাদের এই কাজগুলোকে চিত্রিত করার জন্য একটি নাচ ছিল। উভয় রাজ্যেরই যোদ্ধাদের জন্য একটি নাম ছিল। জুলু যোদ্ধাদের বলা হতো ইন্দলামু এবং মাসাইদের বলা হতো মোরান। জুলুদের ক্ষেত্রে তাদের নাচের নামকরণ করা হয়েছিল যোদ্ধাদের নামে। অনেক সময় জুলু নাচ তার স্টম্পিং নড়াচড়া দ্বারা চিহ্নিত করা হতো। এর মধ্যে একটি ভারী ভাব এবং পৃথিবীর সাথে সংযোগের অনুভূতি ছিল। এর একটি উদাহরণ ছিল ইন্দলামু বা যোদ্ধাদের নাচ। এই নাচটি অন্যান্য নাচের সাথে বিয়েতে পরিবেশিত হতো। সাধারণত ইন্দলামু বা জুলু যুদ্ধের নাচটি একটি বড় দলে পরিবেশিত হতো। নর্তকরা দুই দুই করে প্রবেশ করত। এটি একসাথে পরিবেশিত হতো এবং কিছু সংস্করণে তিনটি অংশ ছিল: প্রবেশ, প্রস্তুতি এবং দুটি রুটিন। একজন নেতা ছিলেন যিনি কখন শুরু করতে হবে এবং কখন শেষ করতে হবে তার সংকেত দিতেন। এটি সাধারণত একটি ফুট স্টম্প দ্বারা চিহ্নিত করা হতো। তিনটি অংশের সংস্করণে নাচের প্রথম অংশটি ছিল প্রবেশ। সেখানে পুরুষরা কুঁকড়ে গিয়ে নাচের এলাকার চারপাশে একটি বৃত্তে ঘুরত। তারপর তাদের নেতা একক নাচ পরিবেশন করার সময় নর্তকরা বসে পড়ত। তার একক নাচ শেষ হলে নেতা নাচের প্রধান অংশ শুরু করার সংকেত দিতেন। এটি সমস্ত সংস্করণে পরিবেশিত হতো। এই শেষ অংশটি লাঠি বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ড্রামের তালে তালে কয়েকটি স্টম্প ব্যবহার করে পরিবেশিত হতো। এর মধ্যে কয়েকটি কিকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলো উপজাতিভেদে ভিন্ন হতো। তবে সাধারণত একটি পা সরাসরি সামনের দিকে ধাক্কা দেওয়া বা সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে চারপাশে নিয়ে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই পা বাঁকানো থাকত। এই অনুষ্ঠানের জন্য পোশাক সাধারণত ঐতিহ্যবাহী ছিল। অস্ট্রিচের পালক হাঁটুর নিচে পায়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে ওপরের বাহুতে বাঁধা হতো। তারা কটিবস্ত্রও পরত। নাচ করার সময় তারা তাদের ঢাল এবং একটি বর্শা বহন করত। তাদের একটি মাথার পোশাকও ছিল যা শৈলীর দিক থেকে মুকুটের মতো ছিল। মাসাইদেরও আদুমু নামের একটি যোদ্ধাদের নাচ ছিল। এটি নিজেদের জন্য করা একটি আনুষ্ঠানিক নাচ ছিল। যোদ্ধার জন্য একটি ট্রান্সের মতো অবস্থা তৈরি করার জন্য এটি করা হতো। এই নাচটি জুলু সমকক্ষের মতো বিয়েতে পরিবেশিত হতো না, বরং মানসিক প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি শক্তি এবং সহনশীলতার পরীক্ষা ছিল। যোদ্ধারা একটি বৃত্তাকার গঠন তৈরি করে নাচটি শুরু করত। জুলুদের থেকে ভিন্ন মাসাই যোদ্ধারা বৃত্তের চারপাশে দাঁড়িয়ে সামনে পেছনে দুলতে শুরু করত। এরপর একজন বা দুজন নাচ শুরু করার জন্য কেন্দ্রে আসত। তারা একটি ট্রান্সের মতো অবস্থায় আসার লক্ষ্যে সোজা রডের মতো ভঙ্গিতে লাফিয়ে উঠত। মাসাইদের ক্ষেত্রে মাঝখানের ব্যক্তি ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাকে বৃত্তের বাইরের কাউকে দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হতো। এই নাচের ছন্দ একটি গানের মধ্যে পাওয়া যেত। বৃত্তের প্রান্তে থাকা যোদ্ধারা এই গান গাইত, আর মাঝখানের নর্তকরা বাতাসে উঁচুতে লাফিয়ে উঠত। জীবনের যোদ্ধা পর্যায়ে যখন এই নাচটি পরিবেশিত হতো, তখন মাসাইরা তাদের চুল লম্বা বেণীতে রাখত। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক লাল সুতির তৈরি ছিল এবং কটিবস্ত্রের জুলু পোশাকের তুলনায় খুব রক্ষণশীল ছিল। কাপড়টি তাদের বুক থেকে নিচের দিকে ঢেকে রাখত এবং কখনও কখনও দেখতে একটি পোশাকের মতো ছিল। যোদ্ধাদের নাচের এই দুটি শৈলীতে একটি খুব সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে। জুলুদের তাদের শরীরের মাধ্যমে পৃথিবীর সাথে সংযোগ তৈরির বিষয়টি মাসাইদের প্রায় বিপরীত মেরুতে। মাসাইরা তাদের লাফানোর নড়াচড়া দিয়ে আকাশের দিকে পৌঁছে যাচ্ছে। মাসাইদের গঠন জুলুদের থেকে ভিন্ন। জুলুদের নাচে একটি খুব সামরিক লাইন গঠন ছিল, যেখানে মাসাইরা একটি বৃত্তে দাঁড়িয়েছিল। মাসাইদের নাচ শুরু করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছিল না, তবে জুলু সংস্করণে সামরিক নেতাই মনোনীত সূচনাকারী ছিলেন। যে পরিবেশে এই নাচগুলো পরিবেশিত হতো তা হলো আরেকটি পার্থক্য। মাসাই নাচ মানসিক প্রস্তুতি হিসেবে পরিবেশিত হতো। এটি কোনো সর্বজনীন অনুষ্ঠান হিসেবে অভিপ্রেত ছিল না। তবে জুলু নাচ বিয়ে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হতো। জুলু নাচে তালের উৎস মাসাই নাচের মতো মন্ত্র বা গানের বদলে লাঠি থেকে আসত। মাসাই এবং জুলুদের পোশাক বাছাইয়েও খুব ভিন্নতা ছিল। জুলুরা কটিবস্ত্র পরতে পছন্দ করত। মাসাইরা লম্বা লাল পোশাক পরতে পছন্দ করত, যা কটিবস্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। ====বিয়ের নাচ==== আগে বলা হয়েছে যে উভয় সমাজ গবাদি পশুর ওপর জোর দিয়েছিল। যখন একজন যুবক পর্যাপ্ত গবাদি পশু উপার্জন করত, তখন সে বিয়ে করতে পারত এবং একটি অনুষ্ঠান হতো। সেই অনুষ্ঠানে নাচ হতো। জুলু এবং মাসাই উভয়ের ক্ষেত্রেই এটি সত্য ছিল। জুলুদের ইনকন্ডলো নামের একটি ভিন্ন নাচ ছিল যা তারা বিয়েতে পরিবেশন করত। কনে শহরে প্রবেশ করার সময় এই নাচটি পরিবেশিত হতো। কনে এবং তার বয়সের অন্যান্য মেয়েদের নিয়ে গঠিত তার বধূ পার্টি গ্রামে আসার সময় এটি পরিবেশন করত। কনে তার বধূ পার্টির পেছনে থেকে নাচ শুরু করত। মেয়েরা ইনকন্ডলো বিয়ের গান গাইছে। পার্টিটি একটি বাঁকানো ভঙ্গিতে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। কিছু সংস্করণে নর্তকরা একে অপরের থেকে বাইরের দিকে ঘুরতে ঘুরতে ২-টি সারি তৈরি করে। এরপর তাদের নড়াচড়ার শেষে একটি লাইন তৈরি করার জন্য আবার কেন্দ্রের দিকে ফিরে আসে। নড়াচড়ার এই অংশটি সামনে ও পেছনের দিকে খুব দ্রুত এবং প্রাণবন্ত ছিল। বধূ পার্টি নাচের পরবর্তী অংশটি শুরু করত। কনে এবং তার বান্ধবীরা দলের পেছন থেকে বেরিয়ে আসত। সামনে এলে কনে প্রথম অংশটি শেষ করার জন্য একটি একক নাচ করে। এই অংশের নড়াচড়াগুলো খুব যথাযথ এবং মনোরম ছিল। ইনকন্ডলো নিজেই একটি ছড়াযুক্ত কবিতা ছিল। তারা এটিকে নাচের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করত। এটি নাচের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হতো। মাসাই বিয়ের নাচকে কায়াম্বা বলা হতো। এর সাথে থাকা সঙ্গীতে ব্যবহৃত পাঁজরের মতো বাদ্যযন্ত্রের নামে এর নামকরণ করা হয়েছিল। মাসাইদের ক্ষেত্রে উপজাতির অল্পবয়সী মেয়েরা পারফর্মার ছিল। সঙ্গীতে একটি পুনরাবৃত্তিমূলক সুর ব্যবহার করা হতো যা একটি কোরাস দ্বারা দ্বিগুণ হতো। এর সাথে একটি উচ্চ-পিচের বুঙ্গো হর্ন ছিল। ঝনঝনি এবং বাঁশি ছোট অনুষঙ্গ ছিল। কায়াম্বা হলো এই ঝনঝনিগুলোর মধ্যে একটি। এটি কাঠ এবং খাগড়া দিয়ে তৈরি। ভেতরে ছোট নুড়ি থাকে। এই সঙ্গীতটি এর অনেকগুলো অংশ দিয়ে খুব গতিশীল ছিল। অল্পবয়সী মেয়েরা নাচ করার সময় তাদের গোড়ালিতে বাঁধা ঘণ্টা দিয়ে সঙ্গীতে যুক্ত করত। এটি নাচটিকে খুব ছন্দময় করে তুলেছিল। মাসাই বিয়ের নাচ তার জুলু সমকক্ষের চেয়ে বিয়ের পার্টির বিনোদনের জন্য বেশি ছিল। মাসাই এবং জুলুদের বিয়ের নাচ সুন্দরভাবে বৈপরীত্য দেখায়। মাসাই নাচটি এর সঙ্গীতে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল এবং বিয়ের পার্টির বিনোদন হিসেবে পরিবেশিত হতো। জুলু নাচটি একটি সাধারণ কবিতা মন্ত্র ব্যবহার করে কনেকে শহরে আনার একটি উদযাপনের উপায় ছিল। এটি লক্ষণীয় যে এই নাচগুলোর উভয়ের নামকরণ করা হয়েছিল এগুলোতে ব্যবহৃত সঙ্গীতের নামে। জুলুদের ইনকন্ডলো কবিতার নামে এবং মাসাইদের কায়াম্বা বাদ্যযন্ত্রের নামে। কায়াম্বা সঙ্গীত খুব গতিশীল ছিল এবং এর অনেক অংশ ছিল। জুলু সঙ্গীতটি একটি অংশের মন্ত্র দিয়ে খুব সহজ ছিল। বিয়ের নাচের পরিবেশকরাও খুব ভিন্ন ছিলেন। রাজ্যের অল্পবয়সী মেয়েরা মাসাই নাচ পরিবেশন করেছিল। বিপরীতে বধূ পার্টি জুলু নাচ পরিবেশন করেছিল। ====বয়ঃসন্ধির নাচ==== মাসাই এবং জুলু সংস্কৃতিতে পুরুষ এবং নারী উভয়েরই বয়সের গ্রুপ ছিল। পরবর্তী বয়সের সেটের অংশ হওয়ার জন্য আচার ও অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিতে হতো। অনেক সময় সেই অনুষ্ঠানগুলোতে নাচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জুলু সমাজে নারীদের নারী হওয়ার সাথে সাথে একটি খুব বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল। মাসাইদের দীক্ষা সম্পর্কে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক আচারটি আসে একটি সিংহ হত্যার পর। জুলু নারীদের নারীত্বের দীক্ষার অংশ হিসেবে একটি খুব আকর্ষণীয় নাচের আচার ছিল। তাদের দীক্ষার একটি অংশ ছিল এক সপ্তাহের জন্য শুধুমাত্র তাদের মা এবং একজন বন্ধুর সাথে তাদের কুঁড়েঘরে বিচ্ছিন্ন থাকা। এই সময়ের পর তারা বেরিয়ে আসত এবং নাচত। তাদের নাচের প্রস্তুতির জন্য তারা ঘাসের পোশাক তৈরি করত। তারা তাদের পোশাক তৈরি করতে ঘাস একসাথে বুনত যা পরে অনুষ্ঠানের শেষে পুড়িয়ে ফেলা হতো। দীক্ষিত নারীর বন্ধু এবং বোনরাও ঘাসের পোশাক পরে নাচে অংশ নিত। চূড়ান্ত অনুষ্ঠানটি গান এবং নাচে পূর্ণ ছিল। নারীটি তার বন্ধু এবং বোনদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে দীক্ষিত হতো। অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত কাজ ছিল ঘাসের পোশাক পোড়ানো যা নারীত্বের পথে পা বাড়ানোর সংকেত দিত। পুরুষত্বের দীক্ষার অংশ হিসেবে মাসাইদের সিংহ শিকারে যাওয়ার প্রয়োজন হতো। যখন তারা সফল হতো, তখন একটি অনুষ্ঠান হতো যাতে এঙ্গিলকাইনোতো নাচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নাচটি অর্জনের উদযাপন হিসেবে উপজাতির জন্য পরিবেশিত হতো। সিংহ জয়ীরা নাচ করার জন্য একজন নারী সঙ্গী বেছে নিত। তারা উদযাপন দেখতে জড়ো হওয়া ভিড়ের মাঝখানে নাচত। প্রতিটি যুগল ভিড়ের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে একসাথে নাচত। যোদ্ধারা তাদের মাথায় উটপাখির পালক পরত। তারা সিংহের থাবা বা লেজ যুক্ত একটি বর্শাও বহন করত। তাদের নারী সঙ্গীরা পুঁতির পোশাক পরত। এই দীক্ষা অনুষ্ঠানগুলো ভিন্ন লিঙ্গের জন্য হওয়ার পাশাপাশি, সেগুলোতে পরিবেশিত নাচগুলোতেও কিছু বৈসাদৃশ্য ছিল। একটি কারণ হলো জুলু নাচটি মাসাইদের মতো অংশীদারী নাচের পরিবর্তে একদল নারীর দ্বারা একটি কোর হিসেবে করা হয়েছিল। তাদের পোশাক ভিন্ন ছিল। মাসাইরা তাদের যোদ্ধাদের ইউনিফর্ম পরত এবং তাদের বর্শাকে সিংহের থাবা ও লেজ দিয়ে সাজাত। জুলু নাচের মেয়েরা ঘাসের পোশাক পরত যা অনুষ্ঠানের শেষে পুড়িয়ে ফেলা হতো। মাসাই নাচের মেয়েরা পুঁতির পোশাক পরত যা অনেক বেশি স্থায়ী ছিল। ====ইথিওপিয়ান নাচ==== অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে ইথিওপিয়ায় অনেক ভিন্ন ভিন্ন নাচ রয়েছে। প্রধান নাচটিকে এসিসতা বলা হয়। এটি প্রধানত কাঁধ এবং বুক ব্যবহার করে দ্রুত নড়াচড়া করার মাধ্যমে পরিবেশিত হয়। আরেকটি বিখ্যাত নাচ হলো গুরাগে, যা ভিন্ন কারণ পায়ের নড়াচড়া খুব অপরিহার্য। গুরাগে বাজানো তালের সাথে মিল রেখে কিক মুভ ব্যবহার করে। আরেকটি বড় নাচ হলো টাইগ্রেঙ্গা, এই নাচের জন্য একটি দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দলটি একটি বৃত্ত তৈরি করবে এবং তালের সাথে বৃত্তে ঘুরবে। কিছু লোক তাদের নিজস্ব পদক্ষেপগুলো সম্পাদন করতে বৃত্তের মাঝখানে যেতে পারে। এই নাচগুলো বেশিরভাগ বিবাহ এবং ছুটির সমাবেশে পরিবেশিত হয়। এখান থেকে একটি উপসংহার টানা যেতে পারে যে জুলু এবং মাসাইরা অনুরূপ সাংস্কৃতিক ঘটনাগুলোকে চিহ্নিত করতে ভিন্ন নড়াচড়া ব্যবহার করে। জুলু নর্তকদের তাদের নাচে একটি খুব ভারী, ভিত্তিমূলক অনুভূতি রয়েছে। অন্যদিকে মাসাই নর্তকদের একটি খুব শেখানো এবং লাফানো অনুভূতি রয়েছে। জীবনের অনুরূপ দিকগুলো সম্পর্কে নাচ ব্যবহার করে তাদের শৈলীগুলোর তুলনা করা সহজ হয়। যদিও জীবনের দিকগুলো সম্পর্কে তাদের প্রকাশ ভিন্ন হতে পারে, তবুও তারা যে জিনিসগুলো নিয়ে নাচ করে তা আমাদের কাছে তাদের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ তার একটি ধারণা দেয়। ===ট্রান্স স্টেট, নাচ এবং মায়োট সংস্কৃতি=== ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকার কাজটিকে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে এবং মৌলিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যেকোনো পরিবর্তিত চেতনার অবস্থা হিসেবে, যা সাধারণ জাগ্রত সচেতনতা থেকে ভিন্ন। অন্য কথায় ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করা অর্জিত হয় যখন কারও "ভৌত শরীর" আংশিক বা সম্পূর্ণ সুপ্ত হয়ে যায়। অথচ ব্যক্তির মন জাগ্রত থাকে। ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির মস্তিষ্কের তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তিত হয়। মস্তিষ্কের তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সির এই পরিবর্তন পরিবর্তিত শারীরিক ও মানসিক কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় হয়। বিশেষভাবে ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করা একটি বিটা ব্রেন-ওয়েভ স্টেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা পার্থক্য দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। মানুষের মস্তিষ্কের অনেক ভিন্ন ভিন্ন ব্রেন-ওয়েভ স্টেট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিটা তরঙ্গ, ডেল্টা তরঙ্গ, থিটা তরঙ্গ, আলফা তরঙ্গ, মিউ তরঙ্গ এবং গামা তরঙ্গ অন্তর্ভুক্ত। এই সমস্ত মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো সবসময় মানুষের মনে বিদ্যমান থাকে। তবে বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ বা চেতনার অবস্থায় নিযুক্ত থাকার সময় নির্দিষ্ট তরঙ্গগুলো বেশি শক্তিশালী বা উন্নত হয়। উদাহরণস্বরূপ মস্তিষ্কে বিটা তরঙ্গগুলো জাগ্রততা, চেতনা, সতর্কতা, সক্রিয়তা এবং ঘনত্বের সাথে যুক্ত। ফলস্বরূপ যখন কেউ দিনের বেলা জেগে থাকে এবং কাজ করে, তখন এই মস্তিষ্কের তরঙ্গটি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং উন্নত হয়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের অন্যান্য তরঙ্গগুলোকে পটভূমি বা পরিধিতে রাখা হয়। তবে যখন একজন ব্যক্তি ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করেন, তখন বিটা ব্রেন ওয়েভকে পটভূমিতে রাখা হয়। তখন মস্তিষ্কের অন্যান্য ফ্রিকোয়েন্সিগুলোকে উন্নত করে সামনে নিয়ে আসা হয়। ট্রান্সের মতো অবস্থায় প্রবেশের কাজটি প্রায়শই একটি আনুষ্ঠানিক বা আধ্যাত্মিক অনুশীলন। এতে সারা বিশ্বের অনেক সংস্কৃতি অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এই সংস্কৃতি এবং উপজাতিগুলোর অনেকেই যারা ট্রান্স আচারে অংশগ্রহণ করে, তারা প্রায়শই সঙ্গীত এবং বিশেষ করে নাচকে ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের উপায় হিসেবে ব্যবহার করে। ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের উপায় হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু সংস্কৃতিতে নাচ ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে অন্যান্য সংস্কৃতিগুলো ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকার ফলস্বরূপ নাচতে পারে। ট্রান্স-ইনডুসিং আচারে জড়িত থাকার সময় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতি ভিন্ন পদ্ধতি এবং কৌশল ব্যবহার করে। তবে এই সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় হলো নাচের ব্যবহার। নাচ কেবল ট্রান্স-ইনডুসিং আচারগুলোর নয়, বরং ট্রান্স বা সমাধির অবস্থারও একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান। অনেক ভিন্ন উপায়ে "ট্রান্স" বা সমাধির প্রক্রিয়াটিকে শিল্প ও নাচ উভয়ের বিভাগের অধীনে বিবেচনা এবং অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি সংস্কৃতি যেখানে নাচ এবং ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশের প্রক্রিয়া তাদের জীবনের একটি প্রধান বিষয়, তা হলো মায়োটের জনগণ। মায়োট হলো একটি দ্বীপপুঞ্জ যা উত্তর-পূর্ব মোজাম্বিক এবং উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারের মধ্যে অবস্থিত। এই দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে ফ্রান্সের মালিকানাধীন এবং প্রভাবিত একটি অঞ্চল। তবে অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী এখনও মায়োটতে বসবাস করে এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি অনুশীলন করে। মায়োটে বসবাসকারী আদিবাসীদের অনেকেই মোজাম্বিক এবং মাদাগাস্কারসহ নিকটবর্তী আফ্রিকান দেশগুলো থেকে ভ্রমণ করে মায়োটের বিভিন্ন দ্বীপে বসতি স্থাপন করেছিল। মায়োটতে বসবাসকারী এই আদিবাসীদের অনেকেই আত্মায় বিশ্বাস করে। তারা ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় প্রবেশ করতে নাচ এবং অন্যান্য আচারের মাধ্যমে আত্মাদের তাদের অধিকার করার জন্য আহ্বান করে। আচার-অনুষ্ঠানের সময় কোনো একটি অভিন্ন নাচ অনুশীলন করা হয় না। এর পরিবর্তে জড়িত বিভিন্ন লোক দ্বারা অনেক অনন্য নাচ পরিবেশিত হয়। এর কারণ হলো মায়োট লোকেরা অনেক ভিন্ন আত্মায় বিশ্বাস করে এবং আহ্বান করে, যাদের সবার সাথে ভিন্ন ভিন্ন নাচ যুক্ত থাকে। এমনকি ট্রান্স বা সমাধির অবস্থার অংশগ্রহণকারীরা প্রায়শই এই ভিন্ন আত্মাদের দ্বারা "অধিকৃত" থাকার সময় তাদের নিজস্ব নাচগুলো উন্নত করে এবং তৈরি করে। মায়োটতে নাচের আচারের সাথে প্রায়শই দর্শকদের অংশগ্রহণ থাকে। তারা হাততালি দেয় যখন নির্দিষ্ট আত্মার দ্বারা আবিষ্ট অংশগ্রহণকারীরা তাদের সামনে নাচে। এই নাচগুলো মনোমুগ্ধকর নড়াচড়া থেকে শুরু করে দ্রুত গতির নাচ পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে [https://books.google.com/books?id=BLA5AAAAIAAJ&pg=PA3&lpg=PA3&dq=mayotte+trance+dances&source=bl&ots=oClBNyKq-]। এটি অংশগ্রহণকারীর কোন ধরনের "আত্মা" দ্বারা আবিষ্ট হওয়ার ওপর নির্ভর করে। অংশগ্রহণকারীরা ট্রান্স বা সমাধির অবস্থায় থাকে যখন তারা আবিষ্ট থাকে। ===নেটিভ আমেরিকান নাচ=== নেটিভ আমেরিকান নাচের তাদের সংস্কৃতিতে গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ রয়েছে। এর একটি প্রধান উদাহরণ হলো কোয়াকিউটলের মুখোশ আচার। এটি ওয়াশিংটন রাজ্যের স্থানীয় একটি নেটিভ আমেরিকান উপজাতি। এই আচারগুলো একটি চমত্কার এবং রহস্যময় উপায়ে গান, নাচ এবং গল্প বলাকে একত্রিত করে। গল্পগুলো কোয়াকিউটলের উৎপত্তির গল্প থেকে শুরু করে শিশুদের ভালো হওয়ার ভয় দেখানোর জন্য তৈরি করা বোকামি গল্প পর্যন্ত হতে পারে। এই সমস্ত নাচ মন্ত্র ও ড্রামের সাথে থাকে, যা মূলত সিডার এবং পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি। <ref>http://www.lelooska.org/</ref> আরেক সংস্কৃতির আধিপত্যের অর্ধশতাব্দী পর নেটিভ আমেরিকানদের ঘিরে থাকা কঠোর পরিস্থিতির ফলে ১৮৯০-এর দশকে পিউত দ্বারা ঘোস্ট ড্যান্স তৈরি এবং পরিবেশিত হয়েছিল। এর অন্যতম প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ১৯ শতকের শেষার্ধ জুড়ে মহিষের পালের সম্পূর্ণ হত্যা। তাদের খাদ্যের উৎসের ঘাটতির অর্থ হলো অনেক নেটিভ আমেরিকান মার্কিন সরকার দ্বারা ভূমি থেকে খোদাই করা সংরক্ষণে বসবাস ও কাজ করতে বাধ্য হয়েছিল। <ref>http://www.encyclopedia.com</ref> (গার্থ আহেরন-হেন্ডরিক্স) ===নাচ, শিল্প নাকি খেলাধুলা?=== আমেরিকান সমাজে ব্যালেরিনা হওয়াকে কখনও কখনও সহজ বা অ-অ্যাথলেটিক হিসেবে স্টেরিওটাইপ করা হয়। নাচ "কোনো খেলা নয়" বরং ''শুধু'' শিল্পের একটি রূপ। তবে সারা দেশের অনেক জায়গায় ফুটবল খেলোয়াড়দের ব্যালেন্স, আঙুল দিয়ে হাঁটা/দৌড়ানো এবং দ্রুত অ্যাকশন পিভটের শিল্প শেখানোর জন্য ব্যালে ক্লাসে পাঠানো হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত স্টিলার্স খেলোয়াড় লিন সোয়ান এবং হার্শেল ওয়াকার, সেই সাথে প্রাক্তন প্রতিযোগিতামূলক বডি বিল্ডার গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার একসময় তাদের নিয়মিত ওয়ার্কআউটে ব্যালে ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আধুনিক, জ্যাজ, ব্যালে, কিক,<ref>পাচিয়াকো, কার্লি। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি</ref> ট্যাপ, হিপ-হপ, ব্রেক ড্যান্সিং, ক্রাম্পিং, সালসা, ওয়াল্টজ, ফক্সট্রট এবং এমনকি পোল ড্যান্সিংয়ের মতো সব ধরনের নাচেই চরম নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির প্রয়োজন হয় এবং অ্যাথলিটরা এর সুবিধাগুলো বুঝতে শুরু করেছেন। ওয়াকার এমনকি এক ধাপ এগিয়ে ফোর্ট ওয়ার্থ ব্যালের সাথে একটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। "প্রতিদিন ২-বার প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়া এবং বড় লাইনব্যাকারদের দ্বারা বারবার আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও, ওয়াকার ব্যালে পারফরম্যান্সকে বলেছিলেন, 'আমার করা সবচেয়ে কঠিন কাজ।'" একইভাবে নর্তকরা সমানভাবে কঠোর এবং অনেক পেশাদার ক্রীড়াবিদের মতো দীর্ঘক্ষণ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সাউথওয়েস্ট ওয়াশিংটন ড্যান্স অনসেম্বল কোম্পানির নর্তকরা উদ্বোধনের ৪ মাস আগে থেকে শনিবারগুলোতে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রিহার্সাল করেন। সেই সাথে সপ্তাহে ৩ থেকে ৬টি ক্লাসও করেন। দলটির সাথে পারফর্ম করার সময় আমার মনে পড়ে যে আমি স্টুডিওতে খুব দীর্ঘ এবং কঠিন সময় কাটিয়েছিলাম। এরপর একজন ওয়েট্রেস হিসেবে একটি দীর্ঘ শিফট কাজ করেছিলাম। আমার ধারণা নাচ এবং অ্যাথলেটিক্সের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো স্টেডিয়ামগুলো একক পারফরম্যান্সের জন্য বিক্রি হয় না (ভেন্যুগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট হয়)। এছাড়া পারফরম্যান্সের জন্য নর্তকরা যে অর্থ পান তা অনেক কম। ফুটবল খেলোয়াড় এবং অন্যান্য পেশাদার ক্রীড়াবিদরা বছরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পেলেও, অনেক পেশাদার নর্তকী সেই পরিমাণ অর্থের কাছাকাছিও পান না। এই ক্ষেত্রটি আরও প্রতিযোগিতামূলক। কারণ শুধুমাত্র প্রাইমা ব্যালেরিনারা প্রধান ভূমিকায় আসেন। তবে রাশিয়া-সহ অন্যান্য সংস্কৃতিতে যেখানে মস্কো ব্যালে একটি অনেক বড় ব্যাপার, সেখানে দর্শকরা ফায়ারবার্ড দেখার জন্য উচ্চ মূল্য দিতে বেশি পছন্দ করবেন। আগ্রহের অভাব এবং নর্তকীরা তাদের "খেলাধুলায়" যে কঠোর পরিশ্রম করেন তার সাধারণ স্বীকৃতির অভাব আমেরিকার বিনোদনের অগ্রাধিকারগুলোর প্রতিফলন। বাহিয়া, ব্রাজিলের মতো অন্যান্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দেশগুলো নাচকে শিল্পের রূপ এবং একটি খেলা হিসেবে বিবেচনা করে। নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট উইলসন বাহিয়াতে কিছু সময় বসবাস করার অভিজ্ঞতার গল্প "ড্যান্স লেস্ট উই অল ফল ডাউন"-এ ক্যাপোইরা নিয়ে আলোচনা করেন এবং অংশ নেন। ক্যাপোইরা প্রথম আফ্রিকান দাসদের দ্বারা ব্রাজিলে তৈরি হয়েছিল। এটিকে আফ্রিকান মার্শাল আর্ট এবং ব্রাজিলিয়ান নাচের পদক্ষেপের সমন্বয় বলা হয়। এমনটাও বলা হয় যে "লড়াইয়ের" এই রূপটি দাসদের দ্বারা তৈরি একটি আত্মরক্ষা প্রক্রিয়া ছিল, যা দেখতে নাচের মতো ছিল যাতে তারা ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সাথে সমস্যায় না পড়ে। ক্যাপোইরা আমরা মার্শাল আর্ট হিসেবে যা জানি তার মতোই। তবে এতে অল্প কিছু লোক জড়িত থাকে যারা মাঝখানে নর্তকদের ঘিরে রাখে। তারা একাধিক বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে "লড়াই" করে (কখনও শারীরিক যোগাযোগ না করে)। যখন কোনো খেলোয়াড় ক্লান্ত হয়ে পড়ে, অন্য কোনো খেলোয়াড় এগিয়ে আসে বা সঙ্গীত শেষ হয় তখন লড়াই থেমে যায়। রোডা হলো ক্যাপোইরা সংস্কৃতির আরেকটি শৈলী, যেখানে খেলোয়াড়রা ২ জন ক্যাপোইরিস্তার চারপাশে একটি বৃত্ত তৈরি করে যারা একটি যুগপৎ ক্যাপোইরা যুদ্ধ চালিয়ে যায়। রোডা ছান্দিক যুদ্ধে ক্যাপোইরার শিল্পের অ্যাথলেটিক দিকটি তুলে ধরে। এটি তখনই শেষ হয় যখন তাল শেষ হয় বা অন্য একজন খেলোয়াড় ক্যাপোইরিস্তার জায়গা নেয়। ক্যাপোইরিস্তাদের ঘিরে রাখা বৃত্তটিও শিল্পটির একটি ঐতিহ্য এবং ব্রাজিলে নিপীড়নকে চ্যালেঞ্জ করার সাংস্কৃতিকভাবে প্রতীকী। এই ক্যাপোইরা দলগুলো ভিন্ন ক্যাপোইরা দলগুলোর সাথে "খেলতে" বা অন্য কথায় প্রতিযোগিতা করতে ভ্রমণ করে। এর আধুনিক সংস্করণটি জাতীয় ব্রাজিলিয়ান খেলায় পরিণত হয়েছে, যদিও এটি শিল্পের একটি রহস্যময় এবং প্রাচীন রূপ হিসেবে শুরু হয়েছিল। অনেকেই ক্যাপোইরাকে নাচের একটি রূপ হিসেবে বর্ণনা করতে পারেন, যা দেখায় যে নাচকে প্রতিটি দেশের সাংস্কৃতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে একটি খেলা বা একটি শিল্প হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এটি শুধু এমন একটি ঘটনা যে এখানে আমেরিকায় নাচ একটি খেলার চেয়ে একটি শিল্প হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তবুও এর মানে এই নয় যে নর্তকরা অ্যাথলেট নন। কাজের সূত্র <ref>কোহেন, সেলমা জিন। ইন্টারন্যাশনান এনসাইক্লোপিডিয়া অব ড্যান্স। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। অক্সফোর্ড, ১৯৯৮। V5 পৃ. ৬৪৩-৬৪৮।</ref> <ref>জ্যান্টজিঙ্গার, জি। ডান্সেস অব সাউদার্ন আফ্রিকা। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি। ১৯৭৩। ৫৫ মিনিট, রঙ। "Maasai." (মাসাই)" নিউ ওয়ার্ল্ড এনসাইক্লোপিডিয়া। ৩ এপ্রিল ২০০৮, ২২:৪৩ ইউটিসি। ৩ ডিসেম্বর ২০০৮, ২১:০৭ <http://www.newworldencyclopedia.org/entry/Maasai?oldid=686829>।</ref> <ref>ফিঙ্কে, জেন্স। ট্র্যাডিশনাল মিউজিক অ্যান্ড কালচারস অব কেনিয়া। কপিরাইট ২০০০-২০০৭। kenyabluegecko.org মাগোগো, কনস্ট্যান্স, রাজকন্যা। সাাৎকার গ্রহণকারী: রিক্রফ্ট, ডেভিড। ব্রিটিশ লাইব্রেরি আর্কাইভাল সাউন্ড রেকর্ডিংস। ১৯৬৪। http://www.uwgb.edu/ogradyt/world/African.htm। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-গ্রিন বে ক্রস-কালচারাল</ref> <ref>কমিউনিকেশন: ওয়ার্ল্ড মিউজিক ২৪২-৩২৯ সাব-সাহারান আফ্রিকান মিউজিক। ১২-১১-০১। http://library.thinkquest.org/06aug/00933/RSAceremonies.htm। ০৪-০২-০৭।</ref> <ref>রিটার, ই.এ. শাকা জুলু। গ্রেট ব্রিটেন: পেঙ্গুইন বুকস, ১৯৫৫। পৃ. ৩৫-৫৭, ১০১।</ref> <ref>সাইতোতি, তেপিলিট ওলে। দ্য ওয়ার্ল্ডস অব আ মাসাই ওয়ারিয়র: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস, ১৯৮৬।</ref> <ref>ম্যাককয়েল, লিসা। দ্য মাসাই অব আফ্রিকা। লার্নার পাবলিকেশনস, ২০০২।</ref> <ref>শিলিংটন, কেভিন। হিস্ট্রি অব আফ্রিকা। ম্যাকমিলান পাবলিশার্স, ১৯৮৯, ১৯৯৫, ২০০৫। পৃ. ২৫৭-২৬০, ২০৭-২০৮।</ref> <ref>কুফাল, লিওনার্ড। “দ্য এমফেকানে অ্যান্ড সাউদার্ন আফ্রিকা”। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।</ref> <ref>কুফাল, লিওনার্ড। “ইস্ট আফ্রিকা”। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।</ref> <ref>ক্লেম্যান, অ্যান্ড্রু http://www.signatureforum.com/article.cfm?articleid=49</ref> <ref>উইলসন, মার্গারেট। ড্যান্স লেস্ট উই অল ফল ডাউন। কোল্ড ট্রি প্রেস। ২০০৭। পৃ. ১৭-১৮।</ref> <ref>স্মিথ, এম। দ্য কালচারাল ফ্রেম: রোডা। এইচসিএস ভিজ্যুয়াল আর্টস। ২০০৮।</ref> ===ভিজ্যুয়াল আর্ট=== ====গুহাচিত্র==== চিত্রাঙ্কনের সাংস্কৃতিক চর্চা এমন একটি শিল্প যার উৎপত্তি গুহাচিত্রের আকারে কয়েক হাজার বছর আগের। যদিও সারা বিশ্বে গুহাচিত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, তবে এই শিল্পের প্রাচীনতম কিছু উদাহরণ নামিবিয়া অঞ্চলে আফ্রিকায় ঘটে। এই পেইন্টিংগুলো পাথরের স্ল্যাবে আঁকা প্রাণীদের চিত্রিত করে। এগুলো প্রায় ৩০,০০০ বছর পুরোনো বলে নির্ধারিত হয়েছে এবং সান লোকেদের দ্বারা করা হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালে আবিষ্কারের পর থেকে এই চিত্রকর্মগুলোকে গুহা শিল্পের প্রাচীনতম পরিচিত উদাহরণ হিসেবে মনে করা হতো। তবে ১৯৯৪ সালে কভেট গুহা আবিষ্কারের সাথে সেই পার্থক্যটি হারিয়ে গিয়েছিল। গুহাটি দক্ষিণ ফ্রান্সের পোটহোলারদের দ্বারা দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল। গুহার দেয়াল চিত্রে বাইসন, ঘোড়া এবং হরিণ থেকে শুরু করে সিংহ, গন্ডার এবং ম্যামথ পর্যন্ত প্রাণীদের চিত্রিত করা হয়েছে। রেডিওমেট্রিক ডেটিং এই চিত্রকর্মগুলোর প্রাচীনতমটির বয়স প্রায় ৩১,০০০ বছর হিসেবে স্থাপন করেছে। এটি স্পষ্টভাবে সেগুলোকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত গুহা শিল্পের প্রাচীনতম রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।<ref>http://www.historyworld.net/wrldhis/PlainTextHistories.asp?groupid=1345&HistoryID=ab20</ref> গুহা শিল্পের আসল উদ্দেশ্যগুলো অনেক অনুমানের উৎস। আধুনিক উপজাতীয় সমাজের রীতিনীতি অধ্যয়ন করে কিছু আধুনিক পণ্ডিত তাত্ত্বিক ধারণা দিয়েছেন যে গুহাচিত্রগুলো সম্ভবত সেই প্রাথমিক চিত্রশিল্পীদের সমাজের ধর্ম এবং জাদুর ধারণার সাথে যুক্ত ছিল। তবে কেন পেইন্টিংগুলো প্রথম স্থানে তৈরি করা হয়েছিল তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও বিতর্কের বিষয়। পেইন্টিংগুলো প্রাথমিক শিকারীদের প্রচেষ্টাকে আশীর্বাদ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল নাকি আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশের জন্য একটি শামানিক সহায়তা হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, তা কখনও জানা যাবে না। এমনও হতে পারে যে এগুলো একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে তৈরি করা হয়েছিল। তবে গুহাচিত্রগুলোর অস্তিত্ব নিজেই প্রকাশ করে যে এমনকি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ তাদের চারপাশের জগতের বস্তু এবং পরিবেশগুলো চিত্রিত করতে আগ্রহী ছিল। এটি এমন একটি আগ্রহ যা ইতিহাসের গতিপথে মানব সংস্কৃতির মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক লোকেরা সম্ভবত এই গুহার দেয়ালগুলোতে আঁকতে কয়েকটি মৌলিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। এটি তাত্ত্বিক যে তারা পাথরের মধ্যে চিত্রগুলোকে, বেশিরভাগ প্রাণীদের, খোদাই করতে ধারালো সরঞ্জাম বা বর্শা ব্যবহার করত। গুহা শিল্পকে সাজানোর জন্য তারা যে রংটি ব্যবহার করত তা সম্ভবত কাঠকয়লা, কালি, মাটি বা বিভিন্ন ধরনের বেরি থেকে তৈরি করা হতো। খড়, পাতা বা লাঠি অথবা খাগড়ার সাথে যুক্ত চুল থেকে রঙ প্রয়োগের প্রাথমিক সরঞ্জামগুলো তৈরি করা হতে পারে। এয়ারব্রাশের মতো পদ্ধতিতে ফাঁকা খাগড়া বা হাড়ের মাধ্যমে তারা রঙ স্প্রেও করতে পারত।<ref>পিটার জে. উকো এবং অ্যান্ড্রি রোজেনফেল্ড, সায়েন্স ম্যাগাজিন। http://www.sciencemag.org/cgi/reprint/161/3837/150-a</ref> ===ধ্রুপদী থেকে আধুনিক চিত্রকলা=== [[File:REKrewDF17.JPG|300px|right|thumb|চালকো বানের, আরিয়ান, গ্রেকো, হিজার এবং সেপ্টোমোর আরই ক্রুর করা গ্রাফিতি। মেক্সিকো সিটি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯]] সময়ের সাথে সাথে বেশিরভাগ অন্যান্য শিল্প রূপের মতো চিত্রকলাও আবেগ, উদ্ভাবন এবং সময়ের পরিবর্তন প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম পরিচিত পেইন্টিংটি প্রায় ৩২,০০০ বছর আগে ফ্রান্সে গুহাগুলোতে পাওয়া গিয়েছিল।<ref>লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আ ট্রিটাইজ অন পেইন্টিং (কেসিঙ্গার পাবলিশিং)</ref> আরও পরিচিত শিল্পকর্মগুলো প্রাচীন গ্রীক, রোম এবং রেনেসাঁর সময়কালের।<ref>রিচার্ড ট্যানসেভ গার্ডনার্স আর্ট থ্রুআউট দ্য এজেস</ref> এই সময়ে ধর্ম ছিল শিল্পকর্মের প্রধান থিম। পরবর্তীতে এটি জটিল এবং সূক্ষ্ম প্রতিকৃতিতে রাজনৈতিক চরিত্রগুলো চিত্রিত করতে শুরু করে। সুদূর প্রাচ্যের শৈলী যেমন- চীনা এবং জাপানি শৈলীও ধর্মকে চিত্রিত করার সাথে সম্পর্কিত ছিল। তবে এগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে করা হতো। তারা কালি এবং রেশম পছন্দ করত। অন্যদিকে পশ্চিমা সংস্কৃতি জলরং এবং তেলের হালকাতা গ্রহণ করতে শুরু করেছিল। আফ্রিকান শিল্প পশ্চিমা শিল্প থেকে ব্যাপকভাবে ভিন্ন। তাদের প্রচুর কার্যকরী শিল্প ছিল। মুখোশ এবং গয়নাগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র যা আত্মা ও পূর্বপুরুষদের প্রতীক হিসেবে আচারে ব্যবহৃত হতো। মুরালিজন বা "মুয়ারলিসমো" এমন একটি আন্দোলন যা ১৯০০-এর দশকে মেক্সিকান শিল্পকর্মে অনেক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। যদিও ম্যুরালগুলো শিল্পকর্মের শুরুর দিকে পাওয়া যেতে পারে। মেক্সিকান ম্যুরাল আন্দোলনের জন্ম ১৯২০-এর দশকে বিপ্লবের (১৯১০-১৯১৭) পর। এটি সরকারের আদর্শ এবং ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের প্রচেষ্টার অংশ ছিল। ম্যুরালগুলো মেক্সিকান পরিচয়কে শক্তিশালী করার জন্য করা হয়েছিল। শিল্পীদের মেক্সিকো এবং এর জনগণের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের চিত্র তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সম্ভবত ২০ শতকের ম্যুরাল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, প্যালাসিও দে বেলস আর্টেসের পাশের নির্মাণ প্যানেলে শহুরে গ্রাফিতি মেক্সিকো সিটিকে সাজিয়ে চলেছে। ===গ্রাফিতি=== রাস্তার শিল্প হিসেবেও পরিচিত গ্রাফিতি হলো যেকোনো দ্বিমাত্রিক প্রতীক বা ছবি, যা কোনও অনুমোদন বা কমিশন ছাড়াই সর্বজনীন ক্ষেত্রে আঁকা হয়। শিল্পের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক সাম্প্রতিক ব্যাপার। এতে সাধারণত স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এটি অন্যান্য ধরনের রং এবং এমনকি ডিকালও ব্যবহার করে। গ্রাফিতি বেআইনি এবং এটিকে "ভ্যান্ডালিজম" বা সম্পত্তি ধ্বংস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাঝেমধ্যে বিতর্কিত বা এমনকি অশ্লীলও হলেও গ্রাফিতি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভাষ্যের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে এসেছে। ব্যাঙ্কসির মতো কুখ্যাত শিল্পীদের কাজের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভের সাথে এটি একটি বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।<ref>http://matadornetwork.com/life/30-street-artists-blowing-people-minds-around-world/</ref> ইতিহাসগতভাবে সৃজনশীল রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্প মতপ্রকাশের একটি মাধ্যম হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তার শিল্প এবং গ্রাফিতি স্পষ্ট মতামত এবং স্থিতাবস্থার প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিতি লাভ করেছে। এটি 'সাধারণ মানুষের' কণ্ঠস্বর প্রদান করে। এটি ভবন, ট্রেনের বগি, পাতাল রেল, মেট্রো, সেতু এবং আরও অনেক কিছুর পাশে শত শত মানুষের সহজে দেখার সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে শিল্পীকে নিপীড়ন এবং গ্রেপ্তার থেকে বিপন্ন না করে একটি কথোপকথন তৈরি করা সম্ভব, যতক্ষণ না তারা ধরা পড়ে। একটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম 'ট্যাগ' হিসেবে রয়ে গেছে। এটি হলো একটি সিরিজের অক্ষর, প্রতীক বা শব্দ যা শিল্পীর স্বাক্ষর হিসেবে কাজ করে। সেখানে ক্রমবর্ধমান সচিত্র ছবি রয়েছে যা মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং 'গ্রাফিতি'কে 'রাস্তার শিল্প' হিসেবে পুনরায় আখ্যায়িত করেছে। প্রচণ্ড সামাজিক অস্থিরতার জায়গাগুলোতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং গভীর রাস্তার শিল্প রয়েছে। যেমন ইরান,<ref>https://theculturetrip.com/middle-east/iran/articles/street-art-in-iran-social-commentary-on-the-streets-of-tehran/</ref> ব্রাজিল, পূর্ব ইউরোপ এবং এই জাতীয় স্থানগুলো। বার্লিন, জার্মানি হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পূর্ব ও পশ্চিমের বিভাজনের সোভিয়েত শাসনামলে একটি ঐতিহাসিক (আধুনিক গ্রাফিতির অর্থে) স্ট্রিট আর্ট আন্দোলনের আবাসস্থল। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। অনেক ধরনের অন্যান্য শিল্পের মতো তথাকথিত গ্রাফিতির অসংখ্য রূপ রয়েছে। এটি বড় বা ছোট, স্পষ্ট বা অন্তর্নিহিত, বিতর্কিত, আকর্ষক বা শিল্পীর কাছে সত্যিকারের কোনো অর্থ ছাড়াই হতে পারে। শিল্পীর কাছে এখন তাদের কাজ প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শাস্তির ভয় থাকা সত্ত্বেও এটি টিকে আছে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভবত এটি রাস্তার নতুন শিল্প হিসেবে বিকাশ লাভ করতে থাকবে। ===ভাস্কর্য=== ভাস্কর্য হলো ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্ম যা শক্ত এবং/অথবা প্লাস্টিকের উপাদান, শব্দ এবং/অথবা পাঠ্য এবং/অথবা আলোকে আকার দিয়ে তৈরি করা হয়। এর উপাদান হিসেবে সাধারণত পাথর (শিলা বা মার্বেল), ধাতু, কাঁচ বা কাঠ ব্যবহার করা হয়। কিছু ভাস্কর্য সরাসরি উপাদানের আকৃতি অনুসরণ করে (ফাইন্ডিং) বা খোদাই করে তৈরি করা হয়। অন্যগুলো বিভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে নির্মাণ করা হয় এবং পরে পোড়ানো, ঝালাই, ছাঁচে ঢালা বা ঢালাই (কাস্টিং) করা হয়। এগুলো বৃত্তাকারভাবেও তৈরি করা যেতে পারে যা মুক্ত-দাঁড়ানো হিসেবে পরিচিত। এটি দর্শককে সম্পূর্ণ ভাস্কর্যের চারপাশে হাঁটার এবং যেকোনো কোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। আবার এগুলো রিলিফ ভাস্কর্য হিসেবেও তৈরি করা যায়, যেখানে রূপগুলো সামনের দিকে প্রসারিত হয় কিন্তু পটভূমির পৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটি পেইন্টিংয়ের মতো সামনে থেকে দেখার জন্য তৈরি। এই বিভাগগুলোর মধ্যে লো-রিলিফ বা বাস-রিলিফের অনেক উপক্ষেত্র রয়েছে। তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আমরা আজকের আধুনিক ভাস্কর্যগুলো তৈরি করার জন্য ভাস্কর্যের ঐতিহ্যবাহী উপায়গুলোকে কারসাজি এবং পুনরায় কাজ করতে দেখেছি।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> ভাস্কর্যগুলো প্রায়শই আঁকা হয়। যে ব্যক্তি ভাস্কর্য তৈরি করেন তাকে ভাস্কর বলা হয়। যেহেতু ভাস্কর্যে এমন উপকরণগুলোর ব্যবহার জড়িত যা ছাঁচে তৈরি বা পরিমিত করা যেতে পারে, তাই এটিকে প্লাস্টিক শিল্পগুলোর মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়। সর্বজনীন শিল্পের বেশিরভাগই হলো ভাস্কর্য। বাগানের পরিবেশে অনেকগুলো ভাস্কর্য একসাথে থাকলে তাকে একটি ভাস্কর্য বাগান হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Sculpture</ref> যুগে যুগে অনেক মহান ভাস্কর হয়েছেন যারা তাদের সময়ের চেতনাকে কার্যকরভাবে মূর্ত করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন মাইকেলেঞ্জেলো,<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Michaelangelo</ref> অগাস্ট রডিন,<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Auguste_Rodin</ref> এবং জিয়ান লরেঞ্জো বার্নিনি<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Bernini</ref> ==মিডিয়া== সংজ্ঞানুসারে মিডিয়াকে গণযোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যার মাধ্যমে সংবাদ, বিনোদন, শিক্ষা, ডেটা এবং প্রচারগুলো ছড়িয়ে পড়ে। মিডিয়ার এই অর্থটি তখন থেকে রয়েছে যখন মুদ্রণযন্ত্রটি জনসাধারণের কাছে সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাগজের বিশাল ভর তৈরি করা সহজ করে তুলেছিল। আজ গণমাধ্যমকে শিল্পের একটি রূপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ একটি উপযুক্ত বার্তা তৈরি করার অনেক দিক এবং নিয়ম রয়েছে যা জনসাধারণের কাছে কার্যকর হতে হবে। মিডিয়াকে শিল্পের একটি রূপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে কারণ এটি এমন একটি মতপ্রকাশের রূপ যা বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায়। চিত্রাঙ্কন, অঙ্কন এবং ভাস্কর্যের মতো কিছু চারুকলার তুলনায় মিডিয়া শিল্পের একটি কম স্পষ্ট রূপ। কিন্তু মিডিয়ার নির্দিষ্ট দিকগুলোতে ঠিক ততটাই সৃজনশীলতা এবং প্রচেষ্টা ঢালা হয় যা মিডিয়াকে শিল্পের এমন একটি রূপে পরিণত করে যা দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায়। ===ফটোগ্রাফি=== ফটোগ্রাফি শব্দটি দুটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে: ফটো যার অর্থ "আলো" এবং গ্রাফ যার অর্থ "অঙ্কন"। "আলোর সাহায্যে অঙ্কন" হলো ফটোগ্রাফি শব্দটির দিকে তাকানোর একটি উপায়।<ref>http://scphoto.com/html/history.html</ref> সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে একজন চীনা দার্শনিক মো টি এটি উদ্ভাবন করেছিলেন। ফটোগ্রাফি স্থির চিত্র তৈরির একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মো টি পিনহোল ক্যামেরার বর্ণনা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন যা সবচেয়ে সহজ ধরনের। এটি কালো রঙ, একটি ফাঁকা ছবি এবং কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি করা যায়। ধারণাটি হলো একটি ছোট পিনহোলের সাহায্যে বাক্সটির পেছন থেকে ছবিটিতে এমনভাবে আলো নির্গত হতে পারে যা প্রক্ষেপিত দৃশ্যটি প্রতিফলিত করে। মান্ডে ড্যাগুয়ারে প্রথম মুদ্রিত ফটোগ্রাফের জন্য কৃতিত্ব পান। তার ছবিটি সিলভার আয়োডাইড লেপা তামার প্লেটে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল। এটি স্পষ্ট, তীক্ষ্ণভাবে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি অন্যদের দ্বারা নকল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এর নাম ছিল ড্যাগুয়েরোটাইপ।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট।</ref> রাসায়নিক যৌগের আবিষ্কারের মাধ্যমে ১৯০০-এর দশকের গোড়ার দিকে শুরু হওয়ার পর থেকে ফটোগ্রাফি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে যা স্থায়ীভাবে চিত্রটিকে ধরে রাখে।<ref>শাইন কস্টেলো, ডব্লিউডব্লিউইউতে গ্রাফিক ডিজাইন মেজর এবং আর্ট হিস্ট্রি মাইনর।</ref> এই নতুন প্রযুক্তি ঐতিহাসিক রেকর্ড সংরক্ষণের একটি নতুন উপায় নিয়ে এসেছে। এর প্রথম উদাহরণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি। লিংকন ফটোগ্রাফির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। ১৮৬০ সালে তিনি আমেরিকান ফটোগ্রাফির ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত পেশাদার ফটোগ্রাফার ম্যাথিউ বি. ব্র্যাডিককে দিয়ে তার প্রতিকৃতি তোলেন। অতীতে নেটিভ আমেরিকানরা তাদের আত্মা হারানোর ভয়ে ছবি তুলতে অস্বীকার করেছে। মেক্সিকোর সান জুয়ান চামুলায় গির্জায় ছবি তোলা বেআইনি। <ref>http://www.photo-seminars.com/Fame/mathew.htm</ref> ===সিরামিক=== সিরামিক হলো মাটি থেকে বস্তু তৈরির শিল্প। মাটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি উপাদান। একে কারসাজি করে এবং সাজিয়ে সিরামিক শিল্প তৈরি করা হয়। শুকিয়ে গেলে মাটি অনেকটা পাউডারের মতো হয়। কিন্তু পানির সাথে মেশানো হলে এটি একটি ছাঁচযোগ্য, প্লাস্টিকের উপাদানে পরিণত হয়। একে চিমটি দিয়ে, গড়িয়ে বা আকার দিয়ে বিভিন্ন রূপ দেওয়া হয়। এরপর এই ভঙ্গুর সৃষ্টিগুলোকে শুকানোর জন্য রাখা হয়। মাটি স্পর্শে ঠান্ডা মনে হওয়ার মতো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর একে ২,৭০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় চুল্লিতে পোড়াতে হয়। এটি এর নতুন রূপকে স্থায়ী করে। এটি মাটির রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে। ফলে একে আর কখনও ছাঁচযোগ্য, প্লাস্টিকের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না। সিরামিক তৈরি করতে মৃৎশিল্পীদের ব্যবহৃত অনেক কৌশল রয়েছে। স্ল্যাব নির্মাণ (দৃঢ় এবং নরম), কয়েল, হাতে ছাঁচনির্মাণ এবং কুমোরের চাকায় ছাঁচনির্মাণ হলো মাটিকে সিরামিক শিল্পে রূপ দেওয়ার মাধ্যম। সিরামিক শিল্পের একটি প্রধান শর্ত হলো একে ফাঁপা হতে হবে। এর কারণ হলো বেশিরভাগ সিরামিকের বাস্তব ব্যবহার রয়েছে যেমন খাবার বা তরল রাখা। এছাড়া মাটির পুরু টুকরো বা সঠিকভাবে ফাঁপা না করা আকারগুলো চুল্লিতে বিস্ফোরিত না হয়ে সফলভাবে শুকানো এবং পোড়ানো কঠিন। মাটি প্রথমবার পোড়ানোর পর মৃৎশিল্পীরা প্রায়শই গ্লেজ দিয়ে তাদের টুকরোগুলো সাজান। গ্লেজ হলো পেইন্টের মতো তরল যা পাতলা মাটির সাথে মিশ্রিত বিভিন্ন খনিজ ধারণ করে। গ্লেজ দিয়ে রঙ করা হলে সিরামিক শিল্পকে স্থায়ীভাবে মাটির সাথে ফিউজ করতে এবং টুকরোটি সিল করতে চুল্লিতে দ্বিতীয়বার পোড়াতে হয়। যাতে এটি তরল ধারণ করতে সক্ষম হয়।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> সিরামিক শব্দটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ কেরামাকোস থেকে এসেছে এবং এর অর্থ "মৃৎশিল্পের"। সিরামিকের প্রাচীনতম পরিচিত অনুশীলনটি প্রায় ২০,০০০ বছর আগে চীনে ফিরে যায়। এটি একটি শিল্পের রূপ যা আমরা জানি এমন প্রায় প্রতিটি সংস্কৃতি দ্বারা অনুশীলন করা হয়েছে। পুয়েবলো জনগণের সংস্কৃতি নিউ মেক্সিকোতে কিছু লোক মৃৎশিল্পীদের কাজে প্রদর্শিত হয়। পুয়েবলো মৃৎশিল্পীদের প্রজন্ম ধরে প্রথম ধাপের পোড়ানোর কৌশলগুলো বিকশিত হয়েছে। এগুলো নিউ মেক্সিকোর স্থানীয় লাল মাটিকে সিরামিক শিল্পের বার্নিশ করা কালো মাস্টারপিসে রূপান্তরিত করে। পুয়েবলো লোকেদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, যা তাদের খাদ্য এবং জল সংগ্রহ, পরিবহন এবং সংরক্ষণ করতে সাহায্য করত, তা আন্তর্জাতিক চারুকলা সম্প্রদায়ের চোখে অত্যন্ত মূল্যবান একটি চমৎকার শিল্প রূপে পরিণত হয়েছে।<ref>গেটলেইন, মার্ক। লিভিং উইথ আর্ট। ১০ম সংস্করণ। নিউ ইয়র্ক: ম্যাকগ্রা হিল, ২০১৩। প্রিন্ট</ref> ===টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র=== কোনো সন্দেহ নেই যে দশক পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এবং প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবনে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের ভূমিকা আরও বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। লোকেরা বিনোদন বা খবরের উদ্দেশ্যে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র দেখতে ঝোঁকেন। বিশেষ করে যেহেতু এগুলো বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। তবে বিভিন্ন দেশে এদের ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। সার্বিয়ার একটি অংশে কেবল একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল দেখার সুযোগ থেকে শুরু করে আমেরিকার প্রায় প্রতিটি ঘরে প্রতিটি টেলিভিশনে ৫০০টি চ্যানেল থাকার মতো ভিন্নতা দেখা যায়। যদিও বছর পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র আরও সাধারণ হয়ে উঠেছে। তবুও বেশিরভাগ লোকেরা মিডিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান কাজ এবং দুর্নীতির কথা বুঝতে পারেন না, যা লাখ লাখ মানুষের ঘরে স্থান পাচ্ছে।<ref>উইকিপিডিয়া টেলিভিশন কন্টেন্ট রেটিং সিস্টেম</ref> ====আমেরিকায় টেলিভিশন==== গড় আমেরিকান পরিবারে দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ১২ মিনিট টিভি চালু থাকে।<ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> এটি সম্ভবত কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮% বাড়িতে অন্তত একটি টেলিভিশন সেট রয়েছে। অন্যদিকে গড় বাড়িতে ২ থেকে ৩টি টেলিভিশন রয়েছে। একটি জাতি হিসেবে আমরা বার্ষিক ২৫০ বিলিয়ন ঘণ্টা টেলিভিশন দেখি। প্রায় ৫০% আমেরিকান স্বীকার করে যে তারা খুব ঘন ঘন টিভি দেখে। টিভি শীর্ষ বিজ্ঞাপনের এজেন্টগুলোর মধ্যে একটি কারণ এটি খুবই সাধারণ। টিভি সম্প্রচারের সময়ের ৩০% বিজ্ঞাপনের জন্য নিবেদিত। এক বছরে বেশিরভাগ শিশু ২০,০০০টি ৩০-সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন দেখবে।<ref>দ্য সোর্স বুক ফর টিচিং সায়েন্স। http://www.csun.edu/science/health/docs/tv&health.html)</ref> ৮২% আমেরিকান বিশ্বাস করেন যে "আমাদের বেশিরভাগই আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্রয় এবং গ্রহণ করে।"<ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> যেসব শিশু খুব অল্প বয়স থেকেই টিভি দেখা শুরু করে, তাদের জীবনে পরবর্তীতে অস্বাস্থ্যকর ও স্থূলকায় হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এটি তাদের বাইরে যেতে এবং অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে মেলামেশা করতে বাধা দেয়। নিষ্ক্রিয়তা এবং বারবার জলখাবার খাওয়ার কারণেও ওজন বাড়তে পারে।<ref>http://kidshealth.org/parent/positive/family/tv_affects_child.html</ref> ৩০ বছরের ব্যবধানে (১৯৬৩ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত) ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী আমেরিকান শিশুদের মধ্যে মারাত্মকভাবে অতিরিক্ত ওজনের হার ৪.৫ থেকে ১৪-তে দাঁড়িয়েছে।<ref>টিভি-ফ্রি আমেরিকা http://members.iquest.net/~macihms/HomeEd/tvfacts.html</ref> তবে টেলিভিশন অগত্যা সম্পূর্ণ খারাপ নয়। আমার মতো অনেক দর্শক টিভিকে একটি খুব প্রশংসনীয় শিথিলতার উৎস হিসেবে মনে করেন। কর্মক্ষেত্রে বা স্কুলে দীর্ঘ দিনের পর তাদের শরীরকে বিশ্রাম দিতে এবং মনকে পুনরুজ্জীবিত করার উপায় হিসেবে তাদের প্রিয় অনুষ্ঠানগুলো দেখেন। টিভি মানসিক চাহিদা মেটাতেও সাহায্য করতে পারে। যদিও তা কিছুটা উপরিভাগের স্তরে। কারণ এটি প্রায়শই পলায়নবাদ এবং এমনকি ক্যাথারসিসের উৎস হিসেবে কাজ করে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমি একমত যে খুব বেশি টেলিভিশন দেখার নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন ভোগের হার বাড়ানো এবং শৈশবকালের স্থূলতায় অবদান রাখা। তবে আমি এটাও বিশ্বাস করি যে পরিমিত মাত্রায় এটি একটি পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। যা দর্শকদের জীবনে মূল্যবান কাজ করতে পারে। বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং মায়ামি ইউনিভার্সিটি অব ওহিওর গবেষণায় দেখা গেছে যে টেলিভিশন একাকীত্ব এবং অন্যদের প্রত্যাখ্যান এড়াতেও সাহায্য করতে পারে। এটি 'সামাজিক সারোগেসি হাইপোথিসিস' অনুসরণ করে। এটি বলে যে মানুষ যখন কোনো প্রকৃত সামাজিক মিথস্ক্রিয়া পায় না, তখন তারা নিজেদেরকে সামাজিক সম্পৃক্ততার মিথ্যা অনুভূতি প্রদান করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। চরিত্রগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একজন দর্শকের অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজন মেটানো সহজ হয়। এটি একজন ব্যক্তিকে অনুভব করতে দেয় যেন তার সামাজিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে। প্রথম গবেষণায় দেখা গেছে যে বিষয়গুলো তাদের প্রিয় অনুষ্ঠানগুলো দেখার সময় কম একাকী ছিল। দ্বিতীয় গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা একটি গভীর সামাজিক স্তরে প্রোগ্রামগুলোর সাথে সংযুক্ত ছিল তারা প্রোগ্রামগুলোকে আরও বিশদে বর্ণনা করেছে। তৃতীয় গবেষণায় দেখা গেছে যে বিষয়গুলো তাদের প্রিয় প্রোগ্রামগুলোর কথা ভাবছে তারা আত্মসম্মান হ্রাস এবং নেতিবাচক মেজাজ এবং প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে নিরাপদ ছিল। চতুর্থ গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা তাদের প্রিয় প্রোগ্রাম সম্পর্কে লিখেছিলেন (দ্বিতীয় গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে) তারা একাকীত্বের কম অনুভূতি অনুভব করেছেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় যে এই 'সামাজিক সারোগেসি' আসলেই সামাজিক চাহিদা পূরণ করে নাকি নিছক সেগুলোকে দমন করে।<ref>কিছু মানুষের কাছে, টিভি একাকীত্ব দূর করে http://web.archive.org/web/20090501191755/news.yahoo.com/s/nm/20090428/tv_nm/us_loneliness</ref> ====মিডিয়া এবং টেলিভিশন==== সময়ের সাথে সাথে সিটকমগুলো বিস্তৃত বিষয়বস্তু (যেমন বিবাহবিচ্ছেদ, মিশ্র বর্ণের সম্পর্ক, একা পিতামাতা ইত্যাদি) নিয়ে কাজ করে। রাজনীতিবিদদের কাজ এবং সরকারি কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা থেকে শুরু করে, মিডিয়া "বৈধ" আচরণ কী তা সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করে। ১৯৭০ সালে ২৫% আমেরিকান টেলিভিশন থেকে তাদের রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ২০০৫ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৭০% হয়েছে, যারা তাদের বেশিরভাগ তথ্য টেলিভিশন থেকে পান। আজ ৬-৮টি সংস্থা সমস্ত মিডিয়া কভারেজের ৫০% এর বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে: টাইম ওয়ার্নার/এওএল, ডিজনি, বার্টেলসম্যান, ভায়াকম, নিউজ কর্পোরেশন এবং ভিভেন্ডি। গত কয়েক দশকে এই সংখ্যাটি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৮১ সালে ৪৬টি বড় সংস্থা ছিল। ১৯৮৬ সালে ২৪টি ছিল। ১৯৯০ সালে ১৭টি ছিল এবং ১৯৯৬ সালে ১১টি ছিল।<ref>টড ডোনভান, ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি পলিটিক্যাল সায়েন্স প্রফেসর</ref> ====ট্রান্সন্যাশনাল ফিয়েস্তাগুলোর ভিডিও এবং উপস্থিতি==== মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো জুড়ে বিস্তৃত ট্রান্সন্যাশনাল মিক্সটেক সম্প্রদায়ের মধ্যে, ভিডিও সীমান্ত আন্তর্জাতিক সীমানা জুড়ে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। পৃষ্ঠপোষক সাধুদের দিন, কুইনসিনারাস এবং বিবাহ সম্পর্কিত সম্প্রদায়ের ফিয়েস্তাগুলোতে উপস্থিতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের, বিশেষ করে গড প্যারেন্টসদের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে অনেক পরিবারের সীমান্ত অতিক্রম করা এবং এই ফিয়েস্তাগুলোতে যোগ দেওয়ার জন্য অনেক মাইল ভ্রমণ করা নিষিদ্ধ। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে, দূরবর্তী পরিবারের সদস্যদের তাদের বসার ঘরের আরাম থেকে ফিয়েস্তাগুলোতে 'অংশগ্রহণ' করার অনুমতি দেওয়ার জন্য ভিডিওর ব্যবহার ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু অংশে টিয়াস (খালা) এবং কমাদ্রেস (বন্ধু) ইভেন্টটি ঘটার কয়েক বছর পরে ফিয়েস্তাগুলোর ভিডিও পুনরায় চালানো দেখা সাধারণ ব্যাপার।<ref>পল জেমসের ব্যক্তিগত যোগাযোগ। এপ্রিল ২০০৯।</ref> ==থিয়েটার== থিয়েটার হলো একটি চারুকলা যা পারফর্মার, প্রপস, সেটিং এবং মিউজিক অন্তর্ভুক্ত করে একটি বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনা প্রদর্শন করে। এটি প্রায়শই মঞ্চে পরিবেশিত হয় তবে ব্ল্যাক বক্স, উঁচু প্ল্যাটফর্ম বা এমনকি রাস্তার কোণায় অন্যান্য সেটিংসে প্রদর্শিত হতে পারে। এটি মতপ্রকাশের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম যা মানব সভ্যতার প্রথম দিন থেকে অনুশীলন করা হচ্ছে। থিয়েটারের আদিম উদাহরণ এথেন্সের গ্রিক শহর রাজ্যে পাওয়া যায়। এটি বিনোদন এবং খবর হিসেবে উৎসব, ধর্মীয় অনুশীলন, বিবাহ, রাজনীতি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত হতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থিয়েটারটি খুব ভালোভাবে স্থানীয়করণ করা হয়েছে। বেশিরভাগ শহরের নিজস্ব থিয়েটার রয়েছে। এগুলো পেশাদার এবং স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিক উভয়ই হতে পারে। ন্যাশনাল ব্রডওয়ে ট্যুরগুলো বেশিরভাগ বড় শহরে পৌঁছায়। আর দেশের বেশিরভাগ না হলেও সব উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য থিয়েটারের কোনো না কোনো রূপ অফার করে থাকে।<ref>http://www.cwu.edu/~robinsos/ppages/resources/Theatre_History/Theahis_1.html</ref> ===শেক্সপিয়রীয় থিয়েটার=== উইলিয়াম শেক্সপিয়রের কাজগুলো সংস্কৃতিকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছে। তার কাজগুলোর আধুনিক পুনঃব্যাখ্যা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী শৈলীতে শব্দে শব্দে থিয়েটার। শেক্সপিয়রের নাটকগুলো এখনও ভাষাবিজ্ঞানের মাধ্যমে আজকের সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলে। যেমন বড় তাৎপর্য বোঝাতে "... অব শেক্সপিয়ারিয়ান প্রোপোরশনস" বাক্যাংশ ব্যবহার করা। কিংবা কোনো প্রেমিক যে হাল ছাড়তে অস্বীকার করে তাকে "রোমিও" হিসেবে উল্লেখ করা। আধুনিক শেক্সপিয়ারিয়ান থিয়েটারের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। এর সাথে বিভিন্ন অভিনেতা এবং লেখক ৪০০ বছরের পুরোনো কাজগুলোর জন্য নিবেদিত একটি নির্দিষ্ট উপ-সংস্কৃতি গঠন করেছেন। এর একটি চমৎকার উদাহরণ হলো অ্যাশল্যান্ড ওরেগনের এখনও অপারেটিং শেক্সপিয়রীয় থিয়েটার। সেখানে অভিনেতা এবং লেখকরা জড়ো হয়েছেন এবং অন্যদের কাছে শিল্পটির প্রতি তাদের উপসংস্কৃতি এবং ভালোবাসা প্রকাশ করার একটি জায়গা তৈরি করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার এবং ব্যর্থ রাজাদের নিয়ে তার ব্যঙ্গাত্মক রচনাগুলোর সাথে শেক্সপিয়রের কাজগুলো একটি যুক্তি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।<ref>https://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=IehZKtHaQSEC&oi=fnd&pg=PA7&dq=Shakespeare+anthropology&ots=wvFKjqEsy1&sig=JtQMn1vmcZBSB9mRCG9F-4ifjng#v=onepage&q=Shakespeare%20anthropology&f=false</ref> শৈল্পিক অর্থে এটি শেক্সপিয়রকে তার সময়ের রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করার অনুমতি দিয়েছিল। সম্ভবত এটি ব্যঙ্গাত্মক লেখাগুলোকে স্পটলাইটে আনতে সাহায্য করেছিল। যাতে পরবর্তীতে বিশিষ্ট ব্যঙ্গাত্মক লেখকদের জন্য পথ তৈরি করা যায়। ===ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটার=== ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটার, "ইম্প্রুভ" নামেও পরিচিত। এটি সাধারণত "খেলোয়াড়দের" একটি গোষ্ঠী বা ব্যান্ড নিয়ে গঠিত। তারা ইম্প্রোভাইজড ব্যায়াম বা গেমগুলোতে যোগ দেয়। এতে একটি দৃশ্যের একটি অংশ খেলা জড়িত থাকে। ইম্প্রুভের প্রকৃতি হলো স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া এবং মুহূর্তে থাকা। এটি সংগঠিত নমনীয়তার সমার্থক। সাধারণ থিয়েটারগুলোর মতো অনেকটা ইম্প্রোভাইজেশনাল থিয়েটারগুলো নিয়মিত শো এবং পারফরম্যান্স করবে; নীতিগত খেলোয়াড়দের তুলে ধরবে। তবে ইম্প্রুভ থিয়েটার অনন্য। কারণ এর মহড়া এবং মুখস্থ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট নেই। পরিচালক শোটিকে কোথায় নিয়ে যেতে চান তার একটি রূপরেখা থাকতে পারে। তবে সাধারণত তা থাকে না। মাঝে মাঝে ব্যায়ামে সঙ্গীত এবং/অথবা অন্যান্য মিশ্র দৃশ্য যুক্ত করা হয়। প্রায়শই ব্যায়াম এবং/অথবা পারফরম্যান্সের জন্য একটি সেট থিম জড়িত থাকে। যেমন একটি মিউজিক্যাল। যদি ইম্প্রুভ পারফরম্যান্স কাজ করার জন্য একজন পরিচালকের প্রয়োজন হয়, তবে একজন শিল্প নির্দেশক ব্যবহার করা হবে। প্রায়শই সেই পরিচালক একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় বা বর্তমানে অনুশীলনের সাথে জড়িত থাকেন। "পরিচালক বা ম্যানেজাররা" দলের জন্য তাদের ব্যক্তিগত দায়িত্বগুলোর ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করতে ঝোঁকেন। এই ধরনের সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতায়-ভিত্তিক সংস্থাগুলোর থেকে আলাদা। কারণ প্রতিযোগিতা-ভিত্তিক সংস্থাগুলোর একটি কাঠামো এবং সাংগঠনিক লক্ষ্য পূর্বনির্ধারিত থাকে। এই নমনীয় কাঠামো ইম্প্রুভ থিয়েটার গ্রুপগুলোর কাছে কৌতূহলোদ্দীপক কারণ সদস্যরা তাদের ইচ্ছামতো রিহার্সালে আসতে এবং যেতে পারে। ইম্প্রুভ গ্রুপগুলোর রিহার্সালগুলো প্রচলিত খেলার রিহার্সালের তুলনায় ইম্প্রুভ অভিনেতা হিসেবে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বেশি জোর দেয়। ===মিউজিক্যাল থিয়েটার=== মিউজিক্যাল থিয়েটার হলো নাট্য পরিবেশনার একটি জনপ্রিয় রূপ। এতে চরিত্রের সংলাপ কথা, গান এবং নাচের মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রকাশ করা হয়। যদিও দর্শকদের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য বহু শতাব্দী ধরে থিয়েটারগুলোতে সঙ্গীত ব্যবহৃত হয়ে আসছে, মিউজিক্যাল থিয়েটার বিশেষভাবে পারফর্মারদের গান এবং আন্দোলনে সংলাপের একীকরণের ওপর জোর দেয়। অস্তিত্বের সময়কালে মিউজিক্যালগুলো অপেরার সাথে সম্পর্কিত ছিল। তবে পার্থক্য নির্ধারণের একটি সাধারণ উপায় সংলাপ বিতরণের মাধ্যমে হতে পারে। অপেরাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য গাওয়া হয়, তবে মিউজিক্যালগুলোতে মাঝে মাঝে কথ্য সংলাপ, নাচ এবং তৎকালীন জনপ্রিয় ঘরানার সঙ্গীতের অন্তর্ভুক্তি থাকে। প্রাচীন গ্রিস থেকে মিউজিক্যাল নাটক পরিবেশিত হয়ে আসছে। তবে আধুনিক পশ্চিমা মিউজিক্যালগুলো ২০ শতকের শুরু থেকে পরিবেশিত হচ্ছে।<ref> ====ইস্টার্ন মিউজিক্যালস==== আজ পরিবেশিত বেশিরভাগ পশ্চিমা মিউজিক্যাল থিয়েটার এবং পারফরম্যান্সের গ্রিক শিকড় থেকে উদ্ভূত। তবে এশিয়ার পূর্বে চীনা, জাপানি এবং তাইওয়ানিজ অপেরার মতো অন্যান্য ধরনের মিউজিক্যাল থিয়েটার বিদ্যমান ছিল। প্রথম রেকর্ডকৃত চীনা অপেরা ক্যানজুন অপেরা হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি ৩১৯ খ্রি.-৩৫১ খ্রি. এর মধ্যে কোনো এক সময় ঝোয়া রাজবংশের সময় পরিবেশিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মিউজিক্যাল থিয়েটারের আরেকটি পূর্ব রূপ হলো নোহ। নোহ হলো "প্রতিভা" বা "দক্ষতা"র জাপানি পরিভাষা। এটি জাপানি মিউজিক্যাল বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ১৪ শতকের মাঝামাঝি থেকে পরিবেশিত হয়ে আসছে এবং এখনও নির্দিষ্ট নোহ থিয়েটারগুলোতে চর্চা করা হয়। তাইওয়ানিজ অপেরা বা কোয়া-আ-হি হলো ১৮ শতকের শুরুতে তাইওয়ান থেকে উদ্ভূত হওয়ার একমাত্র পরিচিত নাটক। বেশিরভাগ গান হলো গল্প এবং লোককাহিনী। এতে মাঝে মাঝে অতিপ্রাকৃত উপাদান থাকে। =মূল পরিভাষার অধ্যায় শব্দকোষ= একাকী খেলা- শিশুরা নিজেদের দ্বারা খেলতে ব্যস্ত থাকে এবং তাদের আশেপাশে বসে বা খেলছে এমন অন্যান্য শিশুদের খেয়াল নাও করতে পারে। ইমপ্রেশনিজম- যে পেইন্টিংগুলোকে অসম্পূর্ণ দেখায় তার বর্ণনা দিতে ব্যবহৃত শব্দ। কারণ তারা দৃশ্যমান ব্রাশস্ট্রোক দেখিয়েছিল। ফ্রান্সে ১৮৬০-এর দশকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং এগুলো মুহূর্তের চাক্ষুষ ছাপ চিত্রিত করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কিউবিজম- ১৯০৭ সালে পাবলো পিকাসো এবং জর্জেস বার্ক দ্বারা শুরু করা শিল্পের শৈলী। তারা সাধারণ আকার গ্রহণ করে সেগুলোকে বিমূর্ত জ্যামিতিক রূপগুলোতে ভেঙে ফেলেছিলেন। রিয়েলিজম- আর্ট ফর্ম যা বাস্তবসম্মত অঙ্কন বা পেইন্টিং নিয়ে গঠিত যা একটি ছবি প্রতিলিপি করে। পোস্ট ইমপ্রেশনিজম- ইমপ্রেশনিজমের সম্প্রসারণ এবং শৈলীর অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতার প্রত্যাখ্যান উভয়ই উপস্থাপন করে। এনকালচারেশন- একটি সংস্কৃতির অংশ হওয়ার প্রক্রিয়া। অনুকরণীয় জাদু- প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো পরিচালনা করার আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় প্রচেষ্টা। সংক্রামক জাদু- স্পেল কাস্টিং, স্পিরিট কনজুরিং এবং ভুডু পুতুল। প্রাক-বিদ্যালয়: মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শিক্ষাব্যবস্থা। সেখানে বাবা-মা বাচ্চা বয়সের শিশুদের দেখাশোনা করতে এবং মৌলিক "জীবনের দক্ষতা" (যেমন সামাজিকীকরণ এবং অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া) শেখাতে পাঠাতে পারেন। সেখানে তারা অন্যান্য বাচ্চা বয়সের শিশুদের সাথে মেলামেশা করতে পারে। ট্রান্সফরমেশনাল/রিপ্রেজেন্টেশনাল: অর্পিত প্রতীকী অর্থের ওপর ভিত্তি করে কী উপযুক্ত এবং কী মূল্যবান তা সংস্কৃতি নির্দেশ করে। =তথ্যসূত্র= {{reflist|colwidth=30em}} {{chapter navigation|যোগাযোগ ও ভাষা|আচার ও ধর্ম}} 5g28njll362mtzwv8t81bm8w8slw04b সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/মানবাধিকার 0 33435 106612 106314 2026-06-09T18:42:29Z NusJaS 8394 106612 wikitext text/x-wiki {{TOC|limit=4}} == মানবাধিকার == [[File:Martin-Luther-King-1964-leaning-on-a-lectern.jpg|thumb|ড. [[w:মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র|মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র]]। তিনি ১৯৬০-এর দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন আমেরিকান আইকন ছিলেন।]]জাতিসংঘ মানবাধিকারের সংজ্ঞা দিয়েছে। এগুলো সব মানুষের সহজাত অধিকার। জাতীয়তা, বসবাসের স্থান, লিঙ্গ, জাতীয় বা জাতিগত উৎস, বর্ণ, ধর্ম, ভাষা বা অন্য কোনো মর্যাদা এখানে বিবেচ্য নয়। ১৯৪৫ সালে লিগ অব নেশন্সের জায়গা নেয় জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এর কাজ। আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা তৈরি ও বজায় রাখাও এর দায়িত্ব।<ref>জাতিসংঘ [http://www.ohchr.org/EN/Issues/Pages/WhatareHumanRights.aspx http://www.who.int/topics/human_rights/en/]</ref> ইতিহাস জুড়ে বিশ্বের অনেক সংস্কৃতিতে মানবাধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়েছে। আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে খেমার রুজদের চালানো গণহত্যা পর্যন্ত এর জয় ও পরাজয় রয়েছে। ভীমরাও রামজি আম্বেদকর ছিলেন প্রথম দিককার একজন উল্লেখযোগ্য নাগরিক অধিকার নেতা। তিনি ভারতের সংবিধান গঠনে জটিল ভূমিকা পালন করেন। তিনি দলিত শ্রেণির (যাদের "অস্পৃশ্য" বলা হতো) প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রচার চালান। তিনি নারীদের অধিক শ্রম অধিকারের জন্যও আন্দোলন করেন। আমেরিকায় আমরা ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মতো উল্লেখযোগ্য নাগরিক অধিকার নেতাদের দেখি। তিনি ১৯৬০-এর দশকের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখপাত্র ছিলেন। সুসান বি. অ্যান্টনিও এমন একজন নেত্রী। তিনি আমেরিকান ইকুয়াল রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব দেন। তিনি নারী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সমান অধিকারের জন্য প্রচার চালান। এই বিখ্যাত নেতারা হাজার হাজার নেতা ও কর্মীর ইতিহাসের সামান্য একটি অংশ মাত্র। তারা অসমতার এক অন্তহীন লড়াই করে যাচ্ছেন। এই বৈষম্যে একদল মানুষকে অন্য দলের চেয়ে অনেক খারাপ চোখে দেখা হয়। কোনো একটি বৈশিষ্ট্যের কারণে তাদের নিচু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সাংস্কৃতিক পক্ষপাতিত্ব সবসময় বিশ্বের অনেক সামাজিক গোষ্ঠীকে সমান মানবাধিকার অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। এটি জাতিগত, আর্থসামাজিক বা লিঙ্গভিত্তিক হতে পারে। এই অতীত নেতাদের বিজয় এবং সংস্কৃতির ব্যর্থতাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এর মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক অগ্রগতির আন্দোলন বোঝা সম্ভব।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Human_rights#Regional_human_rights</ref> === ইতিহাস === মনে হয় সব সংস্কৃতিতেই কোনো না কোনো ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। এগুলো লিখিত বা অলিখিত হতে পারে। তবে সময়ের সাথে সাথে মানবাধিকারের সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। কারা এই অধিকারগুলো থেকে সুবিধা পায় তাও বদলেছে। <nowiki> </nowiki>২০শ শতকের আগে কোনো আন্তর্জাতিক লিখিত দলিল ছিল না। মানুষ হিসেবে সবার অধিকার আছে বলে কোনো দলিলে ঘোষণা করা হয়নি।[[Image:EleanorRooseveltHumanRights.png|thumb|left|200px|মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র হাতে এলেনর রুজভেল্ট]][[w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘ]] গঠনের আগে বিভিন্ন দেশের নাগরিক অধিকারের রূপরেখাযুক্ত দলিল ছিল। এর মধ্যে মার্কিন সংবিধান, ইংলিশ বিল অব রাইটস এবং আরও অনেক কিছু উল্লেখযোগ্য। একটি বড় সমস্যা দেখা দেয়। এই দলিলগুলো সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে না। এগুলোতে প্রায়ই নারী, কৃষ্ণাঙ্গ বা নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম বা সামাজিক শ্রেণির মানুষদের বাদ দেওয়া হয়। লিগ অব নেশন্স ছিল প্রথম বিশ্ব আন্তঃসরকারি সংস্থা। বিশ্বশান্তি বজায় রাখা এর লক্ষ্য ছিল। সংস্থাটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য সুরক্ষা তৈরির চেষ্টা করেছিল। তবে লিগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ফলে এই সুরক্ষাগুলো কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি।<ref name="hrlibrary.umn.edu">http://hrlibrary.umn.edu/edumat/hreduseries/hereandnow/Part-1/short-history.htm</ref> দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অনেক দেশ সার্বজনীন মানবাধিকারের ধারণার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। ফ্র্যাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট চারটি অপরিহার্য স্বাধীনতার আহ্বান জানান। এগুলো হলো বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, অভাব থেকে স্বাধীনতা এবং ভয় থেকে স্বাধীনতা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পরিচিত প্রাচীনতম মানবাধিকার সক্রিয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৬১ সালে লন্ডনে এই গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে সব মানুষ স্বাধীন ও সমান হয়ে জন্মায়। তাদের জীবনের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকারসহ নির্দিষ্ট কিছু অধিকার রয়েছে। দাস বা নির্যাতিত না হওয়ার অধিকার এবং আইনের দৃষ্টিতে ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকারও এর অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত জাতিসংঘ দ্বারা লেখা হয়েছিল। এটি একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা। ১৯৪৫ সালে এটি লিগ অব নেশন্সের জায়গা নেয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা জাতিসংঘের কাজ ছিল। আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা তৈরি ও বজায় রাখাও এর দায়িত্ব ছিল। বিভিন্ন আইনি ও সাংস্কৃতিক পটভূমির বৈশ্বিক প্রতিনিধিরা এই ঘোষণাপত্র লিখেছিলেন। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এর খসড়া তৈরি করে। ঘোষণাপত্রটি সমর্থন করে যে সব মানুষের অধিকার রয়েছে। তাদের জাতি, লিঙ্গ, ধর্ম বা সামাজিক মর্যাদা যাই হোক না কেন। ইউডিএইচআর দ্বারা নিশ্চিত করা কিছু অধিকার বিভিন্ন সংস্কৃতির ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। এটি কিছু নির্দিষ্ট দ্বন্দ্বের কারণ হয়েছে (সংস্কৃতির অধিকার বনাম ব্যক্তির অধিকার)। দলিলের অনেক অনুচ্ছেদ অস্পষ্ট। এগুলোতে ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে। তবে এই দলিলই ঘোষণা করে যে সব মানুষের কিছু সহজাত অধিকার রয়েছে। বিভিন্ন দেশ অতিরিক্ত দলিল তৈরি করেছে। এগুলো ইউডিএইচআরের আদর্শের প্রতি তাদের উৎসর্গ প্রমাণ করে। পাশাপাশি এগুলো নাগরিকদের অতিরিক্ত অধিকার প্রদান করে।<ref name="hrlibrary.umn.edu"/> তবে অনেকেই এই অধিকারগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এর বিরোধিতা করেন। কারণ এগুলো কেবল পশ্চিমা সমাজের কথা মাথায় রেখে লেখা হয়েছিল। অন্যান্য সংস্কৃতি অধিকারগুলোকে কীভাবে দেখে তা এতে বিবেচনা করা হয়নি। অন্যান্য সংস্কৃতির কোন প্রয়োজনগুলো অগ্রাধিকার পায় তাও এতে ভাবা হয়নি। === নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার === [[Image:ICCPR-members2.PNG|thumb|right|400px|আইসিসিপিআরের পক্ষ এবং স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ]] মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র একটি দলিল। এটি প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার আইনের ভিত্তি তুলে ধরে। দলিলটি বেশ কিছু নাগরিক নীতির একটি সংকলন। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এটি গ্রহণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং হলোকাস্টের ভয়াবহতার জবাবে এই দলিলটি লেখা হয়েছিল। এটি মানবাধিকারের উচ্চতর মান বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘের দেশগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি ছিল। এই দলিলটি দেশগুলোর একটি প্রতিশ্রুতি ছিল। এর মাধ্যমে একটি ব্যবস্থার ভেতর মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত নির্দিষ্ট মানবিক নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মূল ও প্রধান অংশ তৈরি করে। এটি এমন এক শ্রেণির অধিকার যা কর্তৃপক্ষের উচ্চতর ক্ষমতাকে সীমিত করে। যেমন সরকার, সামাজিক সংস্থা এবং বেসরকারি ব্যক্তিরা কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতার ওপর বৈষম্য বা নিপীড়ন করতে পারে না। নাগরিক অধিকার বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটি একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা রক্ষা করে। এর মধ্যে গোপনীয়তা এবং বাকস্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে আইনে সমতা, ন্যায়বিচার এবং বিচার ব্যবস্থায় অন্যান্য নাগরিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত। '''[[w:নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি|নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি]] (আইসিসিপিআর)''' হলো [[w:মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র|মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের]] ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি [[w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘ]] চুক্তি। এটি ১৯৬৬ সালে তৈরি হয় এবং ১৯৭৬ সালের ২৩ মার্চ কার্যকর হয়। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তিটি স্থায়ী মর্যাদাসহ [[w:মানবাধিকার কমিটি|মানবাধিকার কমিটি]] দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটি [[w:মানবাধিকার কাউন্সিল|মানবাধিকার কাউন্সিল]] থেকে একটি আলাদা সংস্থা। ২০০৬ সালে জাতিসংঘের সনদের অধীনেবাধিকার কমিশনকে প্রতিস্থাপন করে এই কাউন্সিল। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর চুক্তি মেনে চলা নিয়ে জমা দেওয়া পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদনগুলো বিবেচনা করা এর কাজ। মানবাধিকার কমিটির সদস্যরা সদস্য রাষ্ট্রগুলো দ্বারা নির্বাচিত হন। তবে তারা কোনো রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই চুক্তিতে দুটি ঐচ্ছিক প্রোটোকল রয়েছে। প্রথম ঐচ্ছিক প্রোটোকল একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ প্রক্রিয়া তৈরি করে। এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ব্যক্তিরা অভিযোগ জমা দিতে পারেন। এগুলো যোগাযোগ হিসেবে পরিচিত। মানবাধিকার কমিটি এগুলো পর্যালোচনা করে। প্রথম ঐচ্ছিক প্রোটোকলের অধীনে এর রায়গুলো জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ব্যবস্থায় সবচেয়ে জটিল আইনশাস্ত্র বা আইনের তত্ত্ব তৈরি করেছে। দ্বিতীয় ঐচ্ছিক প্রোটোকল মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে। তবে দেশগুলোকে একটি শর্ত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধের সময় করা সবচেয়ে গুরুতর সামরিক প্রকৃতির অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের অনুমতি এতে ছিল।<ref name=":0">[http://www.unhchr.ch/html/menu3/b/a_opt2.htm সেকেন্ড অপশনাল প্রোটোকল টু দ্য ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস, এইমিং অ্যাট দ্য অ্যাবোলিশন অব দ্য ডেথ পেনাল্টি], অনুচ্ছেদ ২.১</ref> === অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার === [[Image:ICESCR-members.png|thumb|right|400px|আইসিইএসসিআরের পক্ষ রাষ্ট্র এবং স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ]] {{legend|#008000|পক্ষ রাষ্ট্র}} {{legend|#00ff00|পক্ষ রাষ্ট্র নয় এমন স্বাক্ষরকারী}} {{legend|#b9b9b9|পক্ষ রাষ্ট্র নয় এমন অ-স্বাক্ষরকারী}} '''[[w:অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি|অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি]]''' (আইসিইএসসিআর) একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি। এটি ১৯৬৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গ্রহণ করে। এটি ১৯৭৬ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। এটি ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার (ইএসসিআর) প্রদান করতে এর পক্ষগুলোকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। এর মধ্যে শ্রম অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত জীবনযাত্রার মান অন্তর্ভুক্ত। ১৯৪৫ সালে লিগ অব নেশন্সের জায়গা নেয় জাতিসংঘ। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই চুক্তিতে ১৫৯টি পক্ষ ছিল।<ref name=":1">{{cite web |url=http://treaties.un.org/Pages/ViewDetails.aspx?src=TREATY&id=321&chapter=4&lang=en |title=ইউএন ট্রিটি কালেকশন: ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন ইকোনমিক, সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল রাইটস|trans-title=জাতিসংঘের চুক্তি সংগ্রহ: অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি |accessdate=২০০৯-০২-২৫ |publisher=ইউএন |date=২০০৯-০২-২৪}}</ref> আরও সাতটি দেশ এতে স্বাক্ষর করেছে। তবে তারা এখনও চুক্তিটি অনুমোদন করেনি। উত্তর উগান্ডায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অনেক চেষ্টা মানবাধিকার এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিইএসসিআরের প্রচেষ্টার উদাহরণ। আমেরিকান এথনোলজিস্ট জার্নালে সাভারকার ফিনস্ট্রোমের নিবন্ধে উগান্ডার আছোলি সম্প্রদায়ের কথা আলোচনা করা হয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের অধিকার হুমকির মুখে রয়েছে। আশ্রয় শিবিরে ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও তারা একটি আরও স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে। এই সংস্কৃতির স্বাভাবিক মানবাধিকার ফিরে পেতে জাতিসংঘের কর্মসূচিগুলো বিদ্রোহী বাহিনীকে হঠাতে কাজ করছে।<ref>সাভারকার ফিনস্ট্রোম {url=http://www3.interscience.wiley.com/cgi-bin/fulltext?ID=121359002&PLACEBO=IE.pdf&mode=pdf}</ref> আইসিইএসসিআর হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিলের একটি অংশ। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (ইউডিএইচআর) এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) পাশাপাশি এর প্রথম ও দ্বিতীয় ঐচ্ছিক প্রোটোকলও এর অন্তর্ভুক্ত।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/International_Covenant_on_Economic,_Social_and_Cultural_Rights</ref> === শ্রম অধিকার === আরও বেশি দেশ বিশ্ব বাণিজ্যে অংশ নেওয়ায় শ্রম অধিকারের সমস্যা বাড়ছে। বিশ্বায়নের স্বার্থে কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন অনুন্নত দেশে সরিয়ে নিচ্ছে। সেখানে কম নিয়মকানুন এবং সস্তা শ্রম পাওয়া যায়। বিশ্বায়নকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যার মাধ্যমে ব্যবসা বা অন্যান্য সংস্থা আন্তর্জাতিক প্রভাব তৈরি করে। অথবা তারা আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করে। শ্রমিকদের শোষণের মধ্যে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিরাপদ কাজের পরিবেশ, অসুস্থতার ছুটির অভাব, ছুটি বা ক্ষতিপূরণ না থাকা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ক্ষতিপূরণ বলতে সাধারণত অর্থকে বোঝায়। এটি ক্ষতি, আঘাত বা কষ্টের জন্য কাউকে দেওয়া হয়। এসব কিছু উপরের দিকে ওঠার সম্ভাবনাকে অস্তিত্বহীন করে তোলে। পোশাক এবং কৃষির মতো উৎপাদনশীল শিল্পগুলোতে এই সমস্যাগুলোর সবচেয়ে খারাপ রূপ দেখা যায়। (উদ্ধৃতি) আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) হলো ২০শ শতকের শুরুতে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতিসংঘ সংস্থা। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে। এটি জাতিসংঘের ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। সংস্থাটি ১৯৬৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিল।<ref>"দ্য নোবেল পিস প্রাইজ ১৯৬৯"। ''Nobelprize.org।'' নোবেল মিডিয়া এবি ২০১৪। ওয়েব। ২৯ নভে ২০১৬। <<nowiki>http://www.nobelprize.org/nobel_prizes/peace/laureates/1969/</nowiki>></ref> আইএলও উপযুক্ত কাজের পরিবেশের সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে:<ref>আইএলও: ওয়ার্কিং টাইম ইন দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি, রিপোর্ট ফর ডিসকাশন অ্যাট দ্য ট্রাইপার্টাইট মিটিং অব এক্সপার্টস অন ওয়ার্কিং-টাইম অ্যারেঞ্জমেন্টস, জেনেভা, ১৭–২১ অক্টো. ২০১১।</ref> * কর্মঘণ্টার দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং বার্ষিক সীমার প্রয়োজনীয়তা। * অতিরিক্ত কাজ গ্রহণযোগ্য রাখা, অতিরিক্ত ঘণ্টার সংখ্যা সীমিত করা এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের গুরুত্ব। * নিয়মিত এবং নিরবচ্ছিন্ন সাপ্তাহিক বিশ্রামের অধিকার। * বেতনের বার্ষিক ছুটির অধিকার। * রাতের কাজ গ্রহণযোগ্য রাখা এবং বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা। * নমনীয় কর্ম-ঘণ্টা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উদ্যোগগুলোর চাহিদার গুরুত্ব। * কাজের সময় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষির অধিকার এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের পূর্ণ ও প্রকৃত পরামর্শ। * অপমানজনক প্রথা প্রতিরোধ ও শাস্তি দিতে একটি কার্যকর শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থা বা অন্যান্য প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা। পোশাক শিল্পের মধ্যে শ্রম অধিকারের একটি উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে। পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দেখা যায়। সেখানে শ্রমবিধি কার্যকর করা হয় না বা তা উন্নত বিশ্বের সমকক্ষ হয়নি। সোয়েটশপ একটি জনপ্রিয় শব্দ। যেসব কারখানা বা কর্মক্ষেত্র নিয়মিত শ্রমিকদের শোষণ করে এবং কম সুযোগ-সুবিধা দেয়, তাদের এই নামে ডাকা হয়। উন্নয়নশীল দেশে উৎপাদন করলে লাভের পরিমাণ বেশি হয়। তাই শ্রম বিদেশে স্থানান্তরিত হয় এবং এর জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলে। এটি কার্যকরভাবে "রেস টু দ্য বটম" বা তলানিতে যাওয়ার প্রতিযোগিতা নামের প্রথার জন্ম দেয়। যদিও এই প্রথাগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বেশি প্রচারিত হয়েছে, সময়ের সাথে সাথে সস্তা পণ্যের চাহিদাও কেবল বেড়েছে।<ref>চ্যান, অনিতা এবং রবার্ট জে. এস. রস। "রেসিং টু দ্য বটম: ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড উইদাউট আ সোশ্যাল ক্লজ।" থার্ড ওয়ার্ল্ড কোয়ার্টারলি ২৪.৬ (২০০৩): ১০১১-১০২৮। অ্যাকাডেমিক সার্চ কমপ্লিট। ওয়েব। ৩১ অক্টো. ২০১৬।</ref> === প্রজনন অধিকার === ১৯৬৮ সালে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে প্রজনন অধিকার প্রথমবারের মতো মানবাধিকারের একটি উপসেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[৩] এর ফলে তৈরি তেহরান ঘোষণার ষোড়শ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "পিতামাতার তাদের সন্তানের সংখ্যা এবং ব্যবধান স্বাধীনভাবে ও দায়িত্বের সাথে নির্ধারণ করার একটি মৌলিক মানবাধিকার রয়েছে।"<ref name=":0" /><ref name=":1" /> প্রজনন অধিকার একজন ব্যক্তির সন্তান জন্মদান এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বজায় রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভাবস্থা বন্ধ করা, জন্মবিরতিকরণ সামগ্রী ব্যবহার, সরকারি স্কুলে যৌন শিক্ষা গ্রহণ এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার অন্তর্ভুক্ত [http://family.findlaw.com/reproductive-rights/what-are-reproductive-rights-.html]। এই বিভাগে পরে প্রজনন অধিকারগুলো আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এখানে মূল প্রশ্ন হলো: নারীদের তাদের প্রজনন ব্যবস্থার ওপর ঠিক কতটা নিয়ন্ত্রণ বা অধিকার থাকা উচিত? '''প্রো-লাইফ এবং প্রো-চয়েস''' বেশিরভাগ মানুষকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় তারা প্রো-লাইফ নাকি প্রো-চয়েস সমর্থক, তখন তারা উভয়ের মিশ্রণে একটি উত্তর দিতে পারেন। কারণ বিষয়টি নিজেই খুব জটিল। কেউ নিজেকে প্রো-লাইফ মনে করলে এর মানে এই নয় যে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পছন্দ-বিরোধী (বা এর বিপরীত)। প্রো-চয়েস সমর্থকরা সেই আন্দোলন বা ধারণাকে সমর্থন করেন যেখানে নারীদের পৃথিবীতে সন্তান আনবেন কি না তা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। প্রো-চয়েস মানুষকে নিরাপদ গর্ভপাত করার সুযোগ দেয়। এটি তাদের নিজস্ব "পছন্দ" তৈরি করার অনুমতি দেয়। কিছু রাজ্যের আইন বাতিলের কারণে ১৯৬০-এর দশকের শেষ এবং ১৯৭০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত গর্ভপাত মূলত অবৈধ ছিল। অন্যদিকে প্রো-লাইফ সাধারণত গর্ভপাতের পক্ষে না থাকা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। কারণ তারা মনে করে এটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে। কারও কারও জন্য এটি এমন পর্যায়ে যায় যে তারা চায় যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত আবার অবৈধ হোক। এর পেছনের মূল কারণ হলো গর্ভের শিশুদের এখনও মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর অন্য একজন মানুষকে হত্যা করা অবৈধ। এখানেই পুরুষ ও নারী উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা হয়। কারণ এটি কেবল একজন নারী এবং তার সন্তান নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয় নয়, বরং অন্য একজন মানুষকে হত্যা করার আলোচনা হয়ে ওঠে। তবে অনেক প্রো-চয়েস সমর্থক এর বিরোধিতা করেন। তারা যুক্তি দেন যে একজন নারীর যদি আর্থিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সহায়তা ইত্যাদি না থাকে, তবে একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ গর্ভপাত করা তার অধিকার। সামগ্রিকভাবে এই বিষয়টি এখনও এমন একটি সমস্যা যার মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র আজ হচ্ছে। হয়তো পূর্বনির্ধারিত রায় প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় দৃষ্টিভঙ্গির বোঝাপড়াই এটি সমাধানের একটি উপায়। ==== নেটিভ আমেরিকান গ্রেভস প্রোটেকশন অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যাক্ট ==== ১৯৯০ সালের ১৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আইন পাস হয়। এই আইন অনুসারে ফেডারেল সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদিবাসী আমেরিকানদের মানুষের দেহাবশেষ এবং সাংস্কৃতিক জিনিসপত্র তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফেরত দিতে হয়। এই ফেডারেল আইনটিকে নেটিভ আমেরিকান গ্রেভস প্রোটেকশন অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যাক্ট বা এনএজিপিআরএ বলা হতো। এই সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বস্তু, ধর্মীয় বস্তু এবং সাংস্কৃতিক পৈতৃক সম্পত্তির বস্তু অন্তর্ভুক্ত। পৈতৃক সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি যা বাবা থেকে ছেলের কাছে, অথবা একজন পুরুষ পূর্বপুরুষ থেকে অন্য পুরুষে হস্তান্তরিত হয়। এই ফেডারেল সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এটি করার জন্য অর্থ পায়। এই আইনের মাধ্যমে মানুষ জীবন ও মৃত্যুর পর উভয় সময়েই তাদের সংস্কৃতির অধিকারী হয়। দেহাবশেষের মালিকানা কার হওয়া উচিত তা অস্পষ্ট থাকলে একটি এনএজিপিআরএ রূপরেখা আমাদের তা জানতে সাহায্য করে। '''''এনএজিপিআরএ এবং মালিকানা''''' #মালিকানা যেকোনো সরাসরি বংশধরের কাছে থাকে #যদি কোনো সরাসরি বংশধর না থাকে, তবে মালিকানা থাকে (ক্রমানুসারে): ##যে উপজাতির জমিতে দেহাবশেষ বা জিনিসপত্র পাওয়া গেছে বা ##যে উপজাতির সাথে দেহাবশেষের সবচেয়ে কাছের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং যারা দাবি জানায় বা যদি তা অনির্ধারিত থাকে ## ইন্ডিয়ান ক্লেইমস কমিশন দ্বারা ঐতিহ্যগতভাবে যে জমিকে নির্দিষ্ট উপজাতির আদিম দখল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তবে শর্ত থাকে যে ##প্রমাণের আধিক্য যদি দেখায় যে আইসিসি দ্বারা চিহ্নিত উপজাতির চেয়ে অন্য কোনো উপজাতির শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে ==== অধিকার বনাম সংস্কৃতি, সংস্কৃতির অধিকার ==== সংস্কৃতির অধিকার নিশ্চিত করে যে একজন ব্যক্তি বা একদল ব্যক্তির তাদের সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণ করার এবং তা উপভোগ করার অধিকার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক জীবনে অংশ নেওয়ার অধিকার, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের পাশাপাশি উন্নয়নের নিশ্চয়তা এবং ক্ষতিকারক সাংস্কৃতিক প্রথা থেকে সুরক্ষা। অধিকার এবং সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করার সময় মানুষ প্রায়শই দুটি অনুমান করে: •সংস্কৃতি অপরিবর্তনীয়। •একটি নির্দিষ্ট সমাজে কেবল একটি গ্রহণযোগ্য সংস্কৃতি থাকে যা সবাইকে মেনে চলতে হয়। এই অনুমানগুলো নানাভাবে একদল মানুষের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণত অপরিবর্তনীয় কোনো সংস্কৃতিতে যখন নতুন অধিকার গ্রহণ করা হয়, তখন গোষ্ঠীর নানা মতাদর্শের কারণে সেই অধিকার সংস্কৃতির ভেতরে সংঘাত তৈরি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ মুসলিম নারীদের বোরকা না পরার বিষয়টি, যাতে তারা আর নির্যাতিত না হয়। অথচ পশ্চিমা লোকেরা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করছে। তারা সংস্কৃতি ও ধর্মের অংশ হিসেবে মুসলিম নারীদের কাছে পর্দার অর্থ কী তা পুরোপুরি বুঝতে পারে না। এখানেই অধিকার এবং সংস্কৃতি একমত নাও হতে পারে। সংস্কৃতি এবং মানবাধিকার মাঝে মাঝে দ্বিমত পোষণ করে। নতুন মানবাধিকার সংস্কৃতির মধ্যে গৃহীত নিয়মগুলোর বিরোধী হতে পারে। == মানবাধিকার এবং সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা == '''মানবাধিকার প্রচারকারী সংগঠনসমূহ''' সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা চারপাশের বিশ্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তারা বিভিন্ন সংস্কৃতির পার্থক্যগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে চান। ৩০টি অনুচ্ছেদের সার্বজনীন তালিকায় মানবাধিকার স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত থাকলেও এখনও অস্পষ্ট সাংস্কৃতিক প্রথা থাকতে পারে। এগুলো আইন ও নৈতিকতার দ্বারা এই অনুচ্ছেদগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আজ সমগ্র মানবজাতির অধিকার রক্ষা এবং লড়াইয়ের জন্য অনেক সংগঠন গঠিত হয়েছে। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল: প্রাচীনতম ও বৃহত্তম মানবাধিকার গোষ্ঠী। এরা ব্যক্তিগত ও স্থানীয় মানবাধিকার কার্যক্রমে মনোযোগ দেয়। এআই কঠোরভাবে রাজনীতির বাইরে থাকে। তারা তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যের বাইরের বিষয়গুলোতে জড়ায় না। তাই সব ধরনের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পটভূমির মানুষ এর সদস্য এবং একসাথে কাজ করে। ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন: অনলাইন যোগাযোগে নাগরিক অধিকারের ধারণা প্রচার এবং প্রসারিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইএফএফ একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গোষ্ঠী। এর প্রধান ফোকাস মার্কিন আইন। তবে অন্যান্য দেশে এর বেশ কয়েকটি "সহযোগী সংস্থা" রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ: ১৯৭৮ সালে হেলসিংকি ওয়াচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এটি কয়েকটি স্বাধীন আঞ্চলিক মানবাধিকার গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। তারা সম্ভবত বর্তমানে এই ক্ষেত্রে সেরা মানবাধিকার গবেষক। তাদের প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও যত্ন সহকারে লেখা হয়। এতে প্রচুর তথ্য এবং অসংখ্য সূত্রের সমর্থন থাকে। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা। তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ থেকে বিশ্বব্যাপী মানুষের অধিকার রক্ষা করে। তারা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ৯০টি দেশে ১০০টিরও বেশি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা মানবাধিকার রক্ষায় সংগ্রামরত দেশগুলোতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে। এজন্য তারা সরকারি নেতা এবং জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের মতো গোষ্ঠীগুলোর সাথে সাক্ষাৎ করে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেশনগুলোর সাথেও তারা বৈঠক করে।<ref>হিউম্যান রাইটস ওয়াচ https://www.hrw.org/about</ref> পিসনেট: এটি নিজে কোনো মানবাধিকার গোষ্ঠী নয়। বরং এটি শান্তি, মানবাধিকার এবং সম্পর্কিত বিষয়গুলোর কর্মীদের জন্য প্রথম ও বৃহত্তম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। পিসনেট চালায় ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কমিউনিকেশনস (আইজিসি)। এটি টাইডস ফাউন্ডেশনের একটি উদ্যোগ যা সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক একটি অলাভজনক ট্রাস্ট। এটি অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোগ্রেসিভ কমিউনিকেশনসের সদস্য। এটি শান্তি এবং মানবাধিকার কর্মীদের নেটওয়ার্কের একটি আন্তর্জাতিক জোট। এটি চরমপন্থী, অনলাইন কর্মীদের জন্য একটি ভালো গোষ্ঠী।<ref>http://www.hrweb.org/orgs.html</ref> '''আমেরিকায় নারীর অধিকার''' [[Image:Age-of-Brass Triumph-of-Womans-Rights 1869.jpg|thumb|এই ব্যঙ্গাত্মক ১৮৬৯ সালের কার্টুনটি নারী অধিকার আন্দোলনে ব্যবহৃত প্রচারণার একটি উদাহরণ।]]আজ নারীদের ভোটদান, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, জমির মালিকানা, বিবাহবিচ্ছেদ ইত্যাদির অধিকার রয়েছে। আমেরিকার ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় এটি সত্য ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে নারী অধিকার আন্দোলন ১৮৪৮ সালে শুরু হয়। এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যানটনের দ্য ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসের খসড়ার মাধ্যমে এর শুরু। এটি যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ওপর নিপীড়নের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।<ref>"দ্য ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস।" ইনফোপ্লিজ। ইনফোপ্লিজ, তা.নে. ওয়েব। ৩০ নভে. ২০১৬। <http://www.infoplease.com/ipa/A0875901.html>।</ref> ১৮৬৫ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হয়। তখন আফ্রিকান আমেরিকানদের ভোট দেওয়ার অধিকার দিয়ে ১৫তম সংশোধনী পাস হয়। ওই সময়ে নারীরা আবিষ্কার করেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সামাজিক গোষ্ঠী যাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই।<ref>"প্রাইমারি ডকুমেন্টস ইন আমেরিকান হিস্ট্রি।" ১৫তম অ্যামেন্ডমেন্ট টু দ্য কনস্টিটিউশন: প্রাইমারি ডকুমেন্টস অব আমেরিকান হিস্ট্রি (ভার্চুয়াল প্রোগ্রামস অ্যান্ড সার্ভিসেস, লাইব্রেরি অব কংগ্রেস)। তা.নে., তা.নে. ওয়েব। ০১ ডিসে. ২০১৬। <https://www.loc.gov/rr/program/bib/ourdocs/15thamendment.html>।</ref> ১৯১৪ সালের দিকে বেশিরভাগ নারী কর্মী ভোট দেওয়ার অধিকারের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। নিউইয়র্ক সিটিতে নারী আন্দোলনগুলো "দুর্বল স্থানীয় সংস্থাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে, নতুন লবিং কৌশল প্রবর্তন করে, সদস্য তালিকা প্রমিত করে এবং একটি রাজ্য সদর দপ্তর স্থাপন করে।"<ref>লোইস ডব্লিউ. ব্যানার, উইমেন ইন মডার্ন আমেরিকা: আ ব্রিফ হিস্ট্রি</ref> নারীদের ভোট দেওয়ার অধিকারের জন্য সব জায়গার মানুষ সমাবেশ ও প্রতিবাদ করেছিল। ১৯২০ সালের ১৮ আগস্ট এটি সংশোধন করা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ১৪৪ বছর পর সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী যুক্ত করার মাধ্যমে এটি ঘটে।<ref>"১৯তম অ্যামেন্ডমেন্ট টু দ্য ইউ.এস. কনস্টিটিউশন: উইমেন্স রাইট টু ভোট (১৯২০)।" আওয়ার ডকুমেন্টস - ১৯তম অ্যামেন্ডমেন্ট টু দ্য ইউ.এস. কনস্টিটিউশন: উইমেন্স রাইট টু ভোট (১৯২০)। তা.নে., তা.নে. ওয়েব। ০১ ডিসে. ২০১৬। <https://www.ourdocuments.gov/doc.php?flash=true&doc=63>।</ref> '''আফ্রিকায় শ্রম, জমি এবং নারীর অধিকার''' '''আইনি অধিকার''' সাম্প্রতিক অগ্রগতিগুলো আফ্রিকায় নারীর অধিকারের বিষয়ে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা তুলে ধরে। নারীদের সামাজিক কল্যাণ সমতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক, নির্বাচনী ও প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকারের ওপর নির্ভরশীল। আফ্রিকান ব্যবস্থার আইনি দলিলগুলো সাম্প্রতিক বছর পর্যন্ত নারীর অধিকারকে বহুলাংশে উপেক্ষা করেছিল। ১৯৬৩ সালের অর্গানাইজেশন অব আফ্রিকান ইউনিটির (ওএইউ) সনদে নারীদের কোনো উল্লেখ ছিল না। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আফ্রিকান দেশগুলো ১৯৮১ সালে এই অঞ্চলের প্রধান মানবাধিকার দলিল তৈরি করেছিল। এটি আফ্রিকান সনদ নামে পরিচিত। আফ্রিকান সনদে নারীদের মাত্র দুবার উল্লেখ করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ২-এ একটি বিস্তৃত অ-বৈষম্য ধারায় লিঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ১৮(৩) রাষ্ট্রগুলোকে নারীদের বিরুদ্ধে সব বৈষম্য দূর করার নির্দেশ দেয়। সাধারণ স্তরে কর্মসংস্থান বলতে এমন কাজকে বোঝায় যার জন্য কেউ অর্থ পায়। আফ্রিকান প্রেক্ষাপটে এই সংজ্ঞার কিছু বিশদ আলোচনা প্রয়োজন। '''অবৈতনিক এবং বৈতনিক শ্রম''' আফ্রিকায় নারীদের কর্মসংস্থান জীবিকা নির্বাহ এবং ছোট আকারের কৃষিকাজ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যে তাদের অংশগ্রহণ কৃষির সাথে যুক্ত। এটি সাধারণত বৈতনিক শ্রম হিসেবে পরিচিত কাজের ঠিক বিপরীত। এই "অবৈতনিক" কাজ সাধারণত মা ও স্ত্রী হিসেবে এবং তাদের সম্প্রদায়ের প্রতি নারীদের কর্তব্যের সাথে যুক্ত থাকে। আফ্রিকান নারীদের কৃষি শ্রমকে "অনানুষ্ঠানিক" শ্রম হিসেবে উল্লেখ করা হবে। এর মধ্যে জীবিকা নির্বাহ এবং ছোট আকারের কৃষিকাজ অন্তর্ভুক্ত। এটি আনুষ্ঠানিক বা বেতনভুক্ত/চুক্তিবদ্ধ কাজ থেকে আলাদা। এই "অনানুষ্ঠানিক" শ্রমের প্রেক্ষাপটেই আফ্রিকান মানবাধিকারগুলো কাজে আসতে পারে। বেতনভুক্ত কর্মসংস্থানের শর্তে শ্রম অধিকারগুলো ফ্রেম করে আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো তাদের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা বাড়াতে পারে। তবুও প্রোটোকল শ্রমের এমন একটি সংজ্ঞা মেনে চলে যা কর্মসংস্থান এবং কৃষি কাজের মধ্যে পার্থক্য করে। কর্মসংস্থান সম্পর্কিত অধিকারগুলো সমান বেতন এবং হয়রানি থেকে মুক্তির ওপর জোর দেয়। তবে নারীদের সম্পর্কে ফলাফলগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জমি উন্নয়ন ও মালিকানার ক্ষেত্রে নারীদের বাধাগুলো মোকাবিলায় প্রোটোকলের ক্ষমতা সীমিত। নারীদের জীবনধারণের মজুরি বজায় রাখার ক্ষমতার ওপর এসব বাধার প্রভাব মোকাবিলাতেও এটি পিছিয়ে। জীবনধারণের মজুরি বলতে সেই বেতনের হারকে বোঝায় যা কাউকে তার পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। প্রোটোকলে শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত বিধানগুলো সাবধানে বিশ্লেষণ করার আগে একটি প্রেক্ষাপট অন্বেষণ করা দরকারী। অনেক আফ্রিকান নারী এই প্রেক্ষাপটেই তাদের শ্রম সম্পাদন করেন। আফ্রিকাজুড়ে কর্মসংস্থানের নির্দিষ্ট ধরন ভিন্ন হলেও আঞ্চলিক ধরন রয়েছে। ৮০% আফ্রিকান নারী কৃষিকাজ করেন। এটি বেশিরভাগ পূর্ব আফ্রিকান অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। খুব কম নারী বেতনভুক্ত পেশাদার এবং করণিক কাজ করেন। করণিক কাজের মধ্যে অফিসে কাজ অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে রুটিন ডকুমেন্টেশন এবং প্রশাসনিক কাজ। কেনিয়ার মতো সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলো একই ধরনের কর্মসংস্থানের প্রতিফলন ঘটায়। নারীদের অনেকাংশে আনুষ্ঠানিক, বৈতনিক কর্মসংস্থান থেকে বাদ দেওয়া হয়। তারা কৃষি কর্মশক্তির প্রায় অর্ধেক এবং সব জীবিকা নির্বাহকারী কৃষকদের ৭০% থেকে ৮০%। আনুষ্ঠানিক খাত থেকে নারীদের বাদ পড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার অভাব, কম গতিশীলতা, প্রজনন পছন্দের ওপর বিধিনিষেধ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য। তথ্যসূত্র: baobabwomen.org,apic.igc.org/docs96/wom9607.htm, apic.igc.org/docs96/wom9607.htm web.africa.ufl.edu/asq/v2/v2i3a2.htm === নারী যৌনাঙ্গ ছেদন: দুটি দিক === ধারণা করা হয় যে বর্তমানে ২০ কোটিরও বেশি মেয়ে কোনো না কোনো ধরনের নারী যৌনাঙ্গ ছেদনের শিকার হয়েছে। প্রতি বছর ৩০ লাখেরও বেশি অল্পবয়সী মেয়ে এবং নারী এফজিসির ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এটি বেশিরভাগ আফ্রিকায় প্রচলিত। নারী যৌনাঙ্গ ছেদনের (এফজিসি) তীব্রতার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এই পদ্ধতির তিনটি প্রধান প্রকরণ রয়েছে। প্রথমটি হলো সুন্নাহ (আরবিতে অর্থ "ঐতিহ্য") খতনা। এতে প্রিপিউস বা প্রসারিত চামড়ার ভাঁজ বা হুড এবং/অথবা ভগাঙ্কুরের অগ্রভাগ অপসারণ করা হয়। দ্বিতীয় ধরনটি হলো ক্লিটোরিডেক্টমি। এতে পুরো ভগাঙ্কুর (প্রিপিউস এবং গ্ল্যান্ডস) এবং সংলগ্ন ল্যাবিয়া অপসারণ করা হয়। সবশেষে রয়েছে ইনফিবুলেশন, বা ফারাওনিক খতনা (নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতি)। ইনফিবুলেশনে একটি ক্লিটোরিডেক্টমি করা হয়। এরপর প্রস্রাব এবং মাসিকের রক্ত প্রবাহিত হওয়ার জন্য একটি ছোট গর্ত রেখে অবশিষ্ট টিস্যু সেলাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ নারী যৌনাঙ্গ ছেদন চার থেকে আট বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। এতে অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যবহার বিরল। তাদের সংস্কৃতির নারীদের গ্রহণ করার জন্য এফজিসি অনুশীলন করা হয়। এটি নারী হওয়ার শুরু। যদিও এফজিসি অনুশীলনকারী বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে, তবে এই গোষ্ঠীগুলোর একটিরও এর প্রয়োজন নেই। এফজিসির প্রতিক্রিয়াগুলো জাতীয় পদক্ষেপ এবং আইনের সাথে জড়িত। নারী যৌনাঙ্গ ছেদনের দৃষ্টিভঙ্গি সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতার একটি প্রধান উদাহরণ। সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতা এমন একটি নীতি যেখানে একজন ব্যক্তির নিজের থেকে ভিন্ন অন্য সংস্কৃতির বিশ্বাস বা প্রথার ওপর বিচার স্থগিত রাখা উচিত। পশ্চিমা দৃষ্টিকোণ থেকে নারী যৌনাঙ্গ ছেদনের জন্য সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতার প্রয়োজন হবে। কারণ এটি অনেক সময় অমানবিক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়। তবে আফ্রিকার কোনো গ্রামের একজন সদস্যের দৃষ্টিকোণ থেকে নারী যৌনাঙ্গ ছেদন (যেমন সেনেগাল) যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ খতনার তুলনায় একটি সামাজিক স্বাভাবিকতা হতে পারে। এফজিসি একটি বিতর্কিত বিষয় যার কোনো স্পষ্ট এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর নেই। ৯০-এর দশকের শুরু থেকে নারী যৌনাঙ্গ ছেদন দূর করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রচার সক্রিয় রয়েছে। এটি একটি স্বাস্থ্য কাঠামো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর পরিবর্তে হস্তক্ষেপকে ন্যায়সঙ্গত করার জন্য একটি মানবাধিকার কাঠামো গ্রহণ করছে।<ref>বেটিনা শেল-ডানকান http://www.anthrosource.net/Abstract.aspx?issn=0002-7294&volume=110&issue=2&supplement=0&article=231977&jstor=False</ref> পশ্চিমা সংস্কৃতিতে যৌনাঙ্গ ছেদন গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু খতনা করা নারীর সংখ্যা লাখ লাখ হওয়ায় অনেক সংস্কৃতির জন্য এই কাজ বজায় রাখার একটি দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে। যৌনাঙ্গ ছেদন একটি উপযুক্ত কাজ কি না সে সম্পর্কে বিশ্বের সব বিশ্বাসের ওপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কারণ প্রভাব ফেলে। যৌনাঙ্গ ছেদন সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে। প্রভাবগুলোর মধ্যে চরম ব্যথা, সংক্রমণের ঝুঁকি, মৃত্যু, এইচআইভির ঝুঁকি, ফোড়া এবং ছোট টিউমার, রক্তক্ষরণ, শক্, ক্লিটোরাল সিস্ট এবং যৌন আনন্দ কমে যাওয়া বা পুরোপুরি নষ্ট হওয়া অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের মধ্যে কিডনিতে পাথর, বন্ধ্যাত্ব, যৌন কর্মহীনতা, বিষণ্ণতা, মূত্রনালীর সংক্রমণ, বিভিন্ন গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা এবং সন্তান জন্মদানে সমস্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বিশ্বের পশ্চিমাংশে থাকা আমাদের কাছে কেবল গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়া হাস্যকর বলে মনে হয়। সাংস্কৃতিক ছেদনের সুবিধা হলো মেয়েরা এখন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্মানিত প্রাপ্তবয়স্ক হতে পারে এবং একটি পরিবার শুরু করতে পারে। এছাড়া এই প্রথাটি তাদের সংস্কৃতি জুড়ে অনেক প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। উদাহরণস্বরূপ, সুদানে একটি পরিবারের সম্মান নারীর যৌন আচরণের ওপর নির্ভর করে। যৌনাঙ্গ ছেদন অনুশীলন করে পরিবারগুলো তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষা রোধ করতে পারে। এই ভারসাম্যহীন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে শোরগোল সৃষ্টি করে। যৌনাঙ্গ ছেদন সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য [[w:নারী খৎনা|নারী যৌনাঙ্গ ছেদন]] দেখুন। ==== পুরুষ খতনা ==== পুরুষ খতনা একটি অস্ত্রোপচার। এতে লিঙ্গের অগ্রভাগ থেকে চামড়া (ফোরস্কিন) সরিয়ে ফেলা হয়। এটি সাধারণত ধর্মীয় বা সামাজিক উদ্দেশ্যে শিশু বা বাচ্চাদের ওপর করা হয়। কেউ কেউ এই পদ্ধতির স্বাস্থ্যকর ভিত্তি দাবি করেন। তবে অন্যরা যুক্তি দেন যে খতনার স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে লিঙ্গের সংবেদনশীলতার ওপর এর প্রভাব থাকতে পারে।<ref>http://onlinelibrary.wiley.com/doi/10.1111/j.1464-410X.2006.06685.x/full</ref> তবে এটি চিকিৎসা মহলে বিতর্কের একটি বিতর্কিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। ১৮০০-এর দশকের শেষের দিকে ইংরেজিভাষী বিশ্বে পুরুষ খতনা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ডা. জন হার্ভে কেলগের মতো ব্যক্তিরা এর প্রচার করেন। তিনি হস্তমৈথুনকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলে মনে করতেন। তিনি ভেবেছিলেন অল্পবয়সী ছেলেদের খতনা করলে আত্ম-তৃপ্তির প্রতি তাদের আগ্রহ কমবে। তিনি কোনো ধরনের চেতনানাশক ব্যবহার না করার পক্ষে ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে উপশমহীন ব্যথা তাদের "আত্ম-নির্যাতন" শেষ করবে। এই সময়ে আরও অনেক ধরনের দাবি প্রচার করা হয়েছিল।<ref>http://www.historyofcircumcision.net/index.php?option=content&task=view&id=63</ref> পুরুষ খতনা নারী খতনা থেকে অনেক উপায়ে ভিন্ন। এই দুইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো অপসারণ করা টিস্যুর পরিমাণ এবং এগুলো সাংস্কৃতিকভাবে কোথায় গৃহীত হয়। পুরুষ খতনার ক্ষেত্রে লিঙ্গের সামনের দিকের চামড়া সরিয়ে ফেলা হয়। তবে পেনাইল শ্যাফট থেকে কোনো টিস্যু সরানো হয় না। তবে যখন কোনো নারীর খতনা করা হয় তখন প্রায়শই ভগাঙ্কুর এবং ল্যাবিয়া অপসারণ করা হয়। এটি জীবনের পরবর্তী সময়ে অনেক প্রাণঘাতী সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। পুরুষ এবং নারী খতনার মধ্যে নিরাময়ের সময়ও অনেক ভিন্ন। নবজাতকদের ক্ষেত্রে পুরুষ খতনা নিরাময়ে কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি ২ মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। নারীদের নিরাময়ের সময়কাল অনেক দীর্ঘ হয়। এটি মাসের পর মাস স্থায়ী হয়। কিছু ক্ষেত্রে নারীর বিকৃত যোনি সারাজীবনেও নিরাময় হয় না।<ref>পুরুষ-বনাম-নারী খতনা http://thecircumcisiondecision.com/male-vs-female-circumcision/</ref> পুরুষ খতনা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ব্যাপকভাবে গৃহীত। অন্যদিকে নারী খতনাকে অবিশ্বাস্যভাবে নিষিদ্ধ প্রথা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্যাপক ব্যথা এবং নিরাময় প্রক্রিয়ার কারণে এমনটা হয়। জন্মের পরপরই আন্তঃলিঙ্গ শিশুদের নারী এবং পুরুষ যৌনাঙ্গ ছেদনও ঘটতে পারে। জন্মের সময় ভগাঙ্কুর বা লিঙ্গ খুব লম্বা বা খুব ছোট হলে বাবা-মা অস্ত্রোপচার বেছে নিতে পারেন। এটি বাইনারি লিঙ্গের নিয়ম মেনে চলতে যৌনাঙ্গ ছেদনের অনুমতি দেয়। আন্তঃলিঙ্গ শিশু অবিশ্বাস্যভাবে সাধারণ এবং প্রায়শই তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হয়। === অধিকার বা এনটাইটেলমেন্ট === এনটাইটেলমেন্ট হলো সেই অধিকার যা জীবন রক্ষাকারী সম্পদের জন্য সামাজিকভাবে সংজ্ঞায়িত। এর অর্থ হলো মৌলিক মানবাধিকার এবং সামাজিক স্বাধীনতার সুযোগ। এটি সমাজের একটি আইনি কাঠামো অনুসারে তৈরি বিধান। এর মধ্যে ধর্মঘট করার অধিকার অন্তর্ভুক্ত। ন্যূনতম (দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং বার্ষিক) কর্মঘণ্টা, অবসরের বয়স, অস্ত্র বহন, ইউনিয়ন, সমিতি এবং সমবায় তৈরির অধিকারও এর অংশ। একটি জাতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তর এবং এনটাইটেলমেন্টের সমর্থনের মধ্যে একটি স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। এগুলো নাগরিকদের সুখের মাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে এবং সামাজিক দ্বন্দ্ব কমায়। অনেক উন্নয়নশীল দেশে এনটাইটেলমেন্ট প্রথম বিশ্বের দেশগুলোর মতো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত এবং প্রয়োগ করা হয় না। সেখানে নাগরিকদের তাদের এনটাইটেলমেন্ট বজায় রাখা একটি সংগ্রাম। পশ্চিমা বিশ্বে সামাজিক চাপ বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির দ্বারা সরকারি এনটাইটেলমেন্ট প্রোগ্রাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং ন্যূনতম মজুরিতে সমতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় বা জনসংখ্যার ভৌগোলিক বন্টনের কারণে অন্য কোনো পক্ষপাতিত্ব সংশোধনের জন্য এগুলো কাজ করে।<ref group="CitationNeeded">উদ্ধৃতি প্রয়োজন</ref> ==== যুক্তরাষ্ট্রে এনটাইটেলমেন্ট ==== ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনতা আমেরিকানদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। অনেক আমেরিকান রুক্ষ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী মানসিকতা পোষণ করেন। এটি এনটাইটেলমেন্টের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক। বিল অব রাইটস বাতিল করা সবচেয়ে কঠিন। একে আলোচনার অযোগ্য হিসেবে দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি দ্বৈততা উপস্থিত রয়েছে। এটি এনটাইটেলমেন্ট, অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বনাম সামষ্টিকতার বিষয়ে বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্কের দিকে নিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এনটাইটেলমেন্ট সম্পর্কে একটি দৃষ্টিভঙ্গি হলো এই বিষয়ে দেশটি অতিরিক্ত দায়বদ্ধ।<ref>{{cite web | title = কার্বিং স্পেন্ডিং বাই রিফ্রেমিং দ্য পলিটিক্স অব এনটাইটেলমেন্টস|trans-title=এনটাইটেলমেন্টের রাজনীতির পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যয় কমানো | publisher = ওয়াকার ফাউন্ডেশন | url=http://walker-foundation.org/net/org/project.aspx?projectid=50006&p=50005&s=0.0.69.5316 | accessdate=?-?-২০০৯}}</ref> এটি জাতিকে দেউলিয়া করে দিতে পারে। অবশ্য কেউ জাতীয় বাজেটের ব্যয় বিশ্লেষণ করলে এই ধারণাটি অর্থহীন মনে হয়। স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধিতে এবং করের বোঝা বৃদ্ধির বিষয়ে উপলব্ধি বিকৃত করার ক্ষেত্রে এনটাইটেলমেন্টের প্রভাব বিবেচনা করলে এটি বোঝা যায়। এমনও যুক্তি রয়েছে যে মার্কিন ঋণ প্রচুর সামরিক ব্যয়ের ফল, এনটাইটেলমেন্টের পেমেন্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ ওয়ালস্টেন এবং কোসেক অনুমান করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যয়ে বছরে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করছে।<ref>http://www.nytimes.com/imagepages/2007/01/17/business/20070117_LEONHARDT_GRAPHIC.html</ref> কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে এনটাইটেলমেন্টের এই ধারণাটি জাতীয় স্তরে যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করছে। তারা মনে করেন যে এটি নাগরিকদের আরও ব্যক্তিগত স্তরেও ক্ষতি করছে। তারা ভাবতে পারেন মানুষ আসলে তাদের কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখে না। তারা কেবল উপস্থিত হয়। তারা প্রত্যাশা করে যে কেবল উপস্থিত থাকার কারণেই তারা বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতি পাওয়ার অধিকারী। এই বিশ্বাসটি ফিলিপ বোর্গয়সের নিবন্ধ "ওয়ার্কঅ্যাডে ওয়ার্ল্ড, ক্র্যাক ইকোনমি" থেকে এসেছে। এতে বর্ণনা করা হয়েছে যে ইস্ট হার্লেমের মতো এলাকার অনেক মানুষ এই এনটাইটেলমেন্টের অনুভূতি অনুভব করেন। তারা কেবল বৈধভাবে কাজ করা পুরোপুরি ছেড়ে দেন।<ref>বোর্গয়স, ফিলিপ ১৯৯৫ “ওয়ার্কঅ্যাডে ওয়ার্ল্ড, ক্র্যাক ইকোনমি।” দ্য নেশন (৪ ডিসেম্বর) পৃষ্ঠা ৭০৬-১১। http://www.philippebourgois.net/Nation%2095.pdf</ref> এই মানসিকতাটি ব্যাপক ও বিদ্যমান বলে মনে করা হয়। তবে এটি কর্মীদের কাজের নীতি এবং অনুপ্রেরণা হ্রাস করতে পারে, যা তাদের উৎপাদনশীলতা কমায়।<ref>ডেঞ্জার ইন দ্য কমফোর্ট জোন। আমেরিকান ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন| {url=http://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=rrJ_Ohzzm7oC&oi=fnd&pg=PR13&dq=american+entitlement&ots=BiRwwTaC2u&sig=WkUpqzltNJ0gn5X1xhzMmfrKpSw#PPA212,M1}</ref> বিপরীত যুক্তিও ব্যবহার করা যেতে পারে। চাকরির নিরাপত্তা এবং ভালো বেতনের নিশ্চয়তা দিলে ভালো কাজের নীতি এবং অনুপ্রেরণা বাড়তে পারে। এটি সত্যই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে বা অন্তত সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উন্নতি করতে পারে।<ref>http://hdr.undp.org/en/media/HDI_2008_EN_Tables.pdf</ref> === সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ === স্নায়ুযুদ্ধের সময় প্রথম [[w:সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ|সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ]] ধারণাটি তৈরি হয়েছিল। এটিকে সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক দিকগুলোর অবমূল্যায়ন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এর মানে হলো অসম সভ্যতাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি এবং বজায় রাখা। এটি দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রথমটি হলো একটি সংস্কৃতির অন্য সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আর দ্বিতীয়টি হলো এক সংস্কৃতির সাংস্কৃতিক আধিপত্য শেষ পর্যন্ত ছোট সংস্কৃতিগুলোকে ধ্বংস করবে। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের একটি সাধারণ ও ভুল উদাহরণ হলো বিশ্বজুড়ে পশ্চিমা সংস্কৃতির সাম্রাজ্যবাদ। এটি স্থানীয় ঐতিহ্যগুলোকে মুছে দিচ্ছে এবং সেগুলোর জায়গায় মোবাইল ফোন, ম্যাকডোনাল্ডস এবং রেডিও রাখছে। তবে নৃবিজ্ঞানীরা তিনটি কারণে এটি খারিজ করেছেন। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ মনে করে যে নাগরিকদের পশ্চিমা উৎসের কোনো কিছু প্রতিহত করার উপায় নেই। অথচ অ-পশ্চিমা সংগীত, খাবার এবং উপকরণগুলো পশ্চিম ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে একত্রিত হতে সক্ষম হয়েছে। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ এই বিষয়টি উপেক্ষা করে যে সাংস্কৃতিক রূপ এবং প্রথাগুলো কখনও কখনও পশ্চিমে না পৌঁছেই বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে অসম সম্পর্কের বাস্তবতাকে চিত্রিত করে। এটি এসব সংস্কৃতি বা সমাজের মধ্যে থাকা আরও শক্তিশালী নাগরিকদের ওপর নজর দেয়। === সাংস্কৃতিক সংকরবাদ === নৃবিজ্ঞানীরা সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের আলোচনায় সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই তারা বৈশ্বিক সংস্কৃতি কীভাবে প্রবাহিত হয় তা বোঝার বিকল্প উপায় খুঁজতে শুরু করেন। তখনই বোরোউইং-উইথ-মোডিফিকেশন বা পরিবর্তন-সহ-ধার করার বাক্যাংশটি সামনে আসে। অন্য কোথাও থেকে সাংস্কৃতিক রূপ বা প্রথা ধার করার ক্ষেত্রে সবসময় পরিবর্তন-সহ-ধার করার বিষয়টি জড়িত থাকে। এই বাক্যাংশটি সেই ধারণাকে বোঝায় যে মানুষ কখনই অন্ধভাবে কিছু গ্রহণ করে না। বরং তারা যা ধার করে তা স্থানীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। অন্য কথায় মানুষ খুব কমই স্থানীয় উদ্দেশ্য মেটাতে স্থানীয় প্রথার সাথে মানিয়ে নেওয়ার উপায় না পেয়ে অন্য জায়গা থেকে ধারণা, প্রথা বা বস্তু গ্রহণ করেছে। সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের এই রূপটি অন্য জায়গা থেকে আপনার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছুর চেয়ে খুব আলাদা। যেমনটি সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ পরামর্শ দেয়। বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক সংকরবাদ। এটি একটি সংস্কৃতির মধ্যে অন্যান্য সংস্কৃতি থেকে ধারণার ধার ও পরিবর্তন। আজ এই একত্রীকরণ গণমাধ্যমের দ্বারা আমেরিকান আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। ইউরোপের বেশিরভাগ চলচ্চিত্র প্রাথমিকভাবে আমেরিকান। আফ্রিকায় প্রদর্শিত প্রতি তিনটি চলচ্চিত্রের মধ্যে দুটি হলিউডের।<ref>শুল্টজ, এমিলি এবং ল্যাভেন্ডা, রবার্ট, "কালচারাল অ্যানথ্রোপোলজি, আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন" পৃষ্ঠা ৪২২</ref><ref> http://community.seattletimes.nwsource.com/archive/?date=20040118&slug=culture18===Gender Variance Across the Globe===</ref> লিঙ্গ বৈচিত্র্য হলো যখন কোনো ব্যক্তির কাজ বা লিঙ্গ প্রকাশ সমাজের দেখা লিঙ্গ নিয়মগুলোর সাথে মেলে না। নৃবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং এসব সমাজে গড়ে ওঠা লিঙ্গ বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। কিছু সমাজে এই লিঙ্গ বৈচিত্র্যগুলো আরও ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে এবং এমনকি সংস্কৃতিতে একত্রিত হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের ধারণাটি অনেক সমাজে পুরুষ বা নারী নয় এমন ব্যক্তিদের একটি শ্রেণি হিসেবে স্বীকৃত। অনেক সংস্কৃতিতে এই লিঙ্গগুলো সমাজের একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। এর উদাহরণ হলো দ্বৈত-সত্তা। এটি একটি লিঙ্গ ভূমিকা, যা শত শত আদিবাসী আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর হিজড়ারা জন্মগতভাবে পুরুষ হলেও তাদের নারী লিঙ্গের প্রকাশ দেওয়া হয়। হিজড়া একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। এটি বহু শতাব্দী ধরে ভারতীয় সমাজের অংশ। বলা হয় যে তারা তাদের বিশেষ ক্ষমতার মাধ্যমে ভাগ্য এবং উর্বরতা নিয়ে আসে। ১৮০০-এর দশকের শেষের দিকে ব্রিটিশরা এই ঐতিহ্য শেষ করতে বা বজায় রাখা কঠিন করতে চেয়েছিল। ১৮৯৭ সালে একটি আইন সংশোধন করা হয়েছিল। এতে রূপান্তরকামী হওয়াকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর উপশিরোনাম ছিল "অ্যান অ্যাক্ট ফর দ্য রেজিস্ট্রেশন অব ক্রিমিনাল ট্রাইবস অ্যান্ড ইউনুকস"। এটি হিজড়া প্রথাকে অবৈধ করে তোলে।<ref>http://planettransgender.com/transindia-who-are-the-hijras-2/</ref> === যুক্তরাষ্ট্রে রূপান্তরকামীদের অধিকার === যুক্তরাষ্ট্রে রূপান্তরকামীদের ওপর নিপীড়ন এবং তাদের মুক্তির অনেক উপায় রয়েছে। রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের ট্রান্সসেক্সুয়ালও বলা হয়। তারা এমন মানুষ যাদের লিঙ্গ প্রকাশ বা পরিচয় জন্মের সময় দেওয়া লিঙ্গের চেয়ে আলাদা।<ref>https://www.merriam-webster.com/dictionary/transgender</ref> রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের প্রায়শই একঘরে করে রাখা হয়। তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যা এবং বিষণ্ণতা নিয়ে তাদের প্রায়শই খবরের শিরোনামে আনা হয়।<ref>http://www.vocativ.com/culture/lgbt/transgender-suicide/</ref> সামগ্রিকভাবে সামাজিক নিপীড়ন রূপান্তরকামী নিপীড়ন ও মুক্তির একটি অংশ মাত্র। রূপান্তরকামী ব্যক্তিরা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এই চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে প্রায়শই তাদের জীবন ছোট হয়।<ref>https://www.aclu.org/issues/lgbt-rights/transgender-rights</ref> বিশেষ করে রূপান্তরকামী নারীরা উদ্বেগজনক হারে কারাবাসের মুখোমুখি হন। বেকারত্বের কারণে রূপান্তরকামীদের আয়ের স্তর প্রায়শই কম থাকে। নিয়োগকর্তাদের পক্ষপাতের কারণে রূপান্তরকামী ব্যক্তিরা প্রায়শই চাকরি পেতে অসুবিধায় পড়েন। ফলে তাদের দারিদ্র্যসীমার ওপরে বাস করা কঠিন হয়। অনেক রূপান্তরকামী ব্যক্তি ডিসফোরিয়ায় ভোগেন। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার তো প্রশ্নই আসে না। এই ডিসফোরিয়া রূপান্তরকামীদের আত্মহত্যার পেছনের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক রাজনৈতিক বাধাও রয়েছে। আবাসন এবং কর্মসংস্থানের অধিকার থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা পাওয়া পর্যন্ত বৈধতার বিষয় রয়েছে। সর্বজনীন সুবিধাগুলো ব্যবহার করাও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের জন্য প্রায়শই একটি চ্যালেঞ্জ। এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য নিজের পরিচয় প্রকাশ করে সামরিক বাহিনীতে কাজ করা সবসময়ই সংগ্রামের। বিশেষ করে রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের জন্য এটি বেশি সত্য। ২০১১ সাল থেকে কুইয়ার লোকেরা প্রকাশ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত রূপান্তরকামী কর্মীরা তাদের নির্দিষ্ট লিঙ্গ হিসেবে উত্তীর্ণ না হলে চাকরিচ্যুতির ঝুঁকিতে ছিলেন। ওই মাসে রূপান্তরকামীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছিল।<ref>রস এ., "দ্য ইনভিজিবল আর্মি: হোয়াই দ্য মিলিটারি নিডস টু রেসিন্দ ইটস ব্যান অন ট্রান্সজেন্ডার সার্ভিস মেম্বারস," সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইন্টারডিসিপ্লিনারি ল জার্নাল ২৩ (২০১৪) পৃষ্ঠা ১৮৫</ref> কয়েক দশক ধরে বেশ কিছু রূপান্তরকামী অধিকার সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে মূলত এস.টি.এ.আর. উল্লেখযোগ্য। ল্যাম্বডা ডিফেন্স এবং হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইনের মতো সমকামী অধিকার সংস্থাগুলোর সাথে মিলে এরা কাজ করছে। এরা সম্পদ, আইনি সুরক্ষা তহবিল এবং সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনে রূপান্তরকামীদের জন্য সেবা দেয়। রূপান্তরকামীদের অস্তিত্বের কলঙ্ক দূর করার চেষ্টা করছে তারা। এটি রূপান্তরকামীদের আত্মহত্যার হার কমাতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে খুব কার্যকর হতে পারে।<ref>http://www.nytimes.com/interactive/2015/05/15/opinion/editorial-transgender-timeline.html?_r=0</ref> === এলজিবিটিকিউ রূপান্তর থেরাপি === সমকামী রূপান্তর থেরাপি "রিপ্রোডাক্টিভ থেরাপি" নামেও পরিচিত। এটি আমেরিকার মানবাধিকার কর্মসূচির একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে। অর্ধেকেরও কম মার্কিন রাজ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের রূপান্তর থেরাপিতে পাঠানো অবৈধ করার আইন পাস করেছে। রূপান্তর থেরাপি এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে বোঝায়। এটি তাদের "স্ট্রেইট" বা বিষমকামীতে পরিণত করার জন্য একটি নিবিড় থেরাপি। <u>এলজিবিটিকিউ</u> সম্প্রদায় এমন মানুষদের নিয়ে গঠিত যাদের যৌন প্রবৃত্তি বা লিঙ্গ ভিন্নভাবে চিহ্নিত করা হয়। যেমন: লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল (উভকামী), রূপান্তরকামী এবং কুইয়ার। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে এই প্রথাগুলো রোধ করার ক্ষেত্রে একটি অসুবিধা হলো রাজ্য বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের তাদের পরিবারের সদস্য এবং আইনি অভিভাবকদের ওপর অধিকার খাটানোর অক্ষমতা। সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি না করে মিথ্যা বিজ্ঞাপনের ভান করে এফটিসিতে (ফেডারেল ট্রেড কমিশন) আইনিভাবে এসব প্রথার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। "২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন, ন্যাশনাল সেন্টার ফর লেসবিয়ান রাইটস এবং সাউদার্ন পভার্টি ল সেন্টার ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) কাছে পিপল ক্যান চেঞ্জের বিরুদ্ধে ভোক্তা প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করে। এটি রূপান্তর থেরাপির একটি প্রধান প্রদানকারী। একে "রিপারেটিভ থেরাপি"-ও বলা হয়। এটি এমন একটি প্রথা যেখানে লিঙ্গ, প্রকাশ বা যৌন প্রবৃত্তির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পরিচয় পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে যে পিপল ক্যান চেঞ্জের বিজ্ঞাপন এবং ব্যবসায়িক প্রথা, যা কোনো ব্যক্তির যৌন প্রবৃত্তি বা লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তন করতে পারে বলে দাবি করে, তা প্রতারণামূলক, মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর প্রথা তৈরি করে এবং গ্রাহকদের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এটি ফেডারেল ট্রেড কমিশন আইনের ৫ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।"<ref>http://www.hrc.org/resources/the-lies-and-dangers-of-reparative-therapy । ২০০৭ সালে আমেরিকান সাইকোলজি অ্যাসোসিয়েশন রূপান্তর থেরাপির প্রথা পর্যালোচনা করেছিল।</ref> তারা দেখেছেন যে প্রথাগুলো পদ্ধতিগতভাবে ভালো প্রথা ছিল না। তাছাড়া অনেকগুলো বিষয়বস্তুর জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছিল। সমবয়সীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত বা বিচ্ছিন্ন এলজিবিটিকিউ শিক্ষার্থীদের ওপর সান ফ্রান্সিসকো স্টেটের করা আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় এদের আত্মহত্যার হার ৮ গুণ বেশি। অবৈধ ওষুধ ব্যবহারের সম্ভাবনাও ৩০০% বেশি। এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় বেশি অধিকার পাওয়ায় এই বিষয়টি বেশি মনোযোগ পেয়েছে। অনেক জোরপূর্বক অংশগ্রহণকারী এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধ্য হওয়ার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। এখানে শক থেরাপি এবং আটকে রাখার মতো পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র যেমন মানবাধিকারের জন্য এগিয়েছে, তেমনি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভিপি মাইক পেন্সের সাম্প্রতিক নির্বাচন সমকামী রূপান্তর থেরাপির সমাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাইক পেন্স এর সমর্থক। আগামী বছরগুলোতে এটি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার একটি খুব উত্তপ্ত বিষয় হিসেবে থেকে যাবে। <ref>ক্যাম্পেইন, হিউম্যান রাইটস। "দ্য লাইজ অ্যান্ড ডেঞ্জারস অব "কনভার্সন থেরাপি" | হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন।" হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন। তা.নে., তা.নে. ওয়েব। ৩০ নভে. ২০১৬।</ref> = মূল পরিভাষা = ১৯তম সংশোধনী: নারীদের ভোট দেওয়ার অধিকার। অ্যাবোরিজিনাল: আদিমকাল থেকে বা উপনিবেশবাদীদের আসার আগে কোনো জমিতে বসবাস করা বা অস্তিত্ব থাকা। অ্যাসেফালাস সোসাইটি: শাসক প্রধান ছাড়া একটি সমাজ। আফ্রিকান চার্টার: আফ্রিকায় নারী অধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা প্রচার ও সুরক্ষার উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক নারী অধিকার চুক্তি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল: স্থানীয় মানবাধিকার কার্যক্রমে নিবেদিত প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম মানবাধিকার গোষ্ঠী। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার: সমাজ বা রাষ্ট্রে অংশ নিতে কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা দমনে সরকার, সামাজিক সংস্থা এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের সীমাবদ্ধকারী এক শ্রেণির অধিকার। ক্লিটোরিডেক্টমি: পুরো ভগাঙ্কুর এবং সংলগ্ন ল্যাবিয়া অপসারণ করা। কোয়ালিশন: দুই বা ততোধিক মানুষ নিয়ে গঠিত একটি দল। এরা অস্থায়ীভাবে একসাথে কাজ করে। ক্ষতিপূরণ: কোনো কিছু, সাধারণত অর্থ, যা কাউকে ক্ষতি, আঘাত বা কষ্টের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়। বিতর্কিত: যা জনসাধারণের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করে বা করার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভনিরোধক: গর্ভাবস্থা প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস বা ওষুধ। সাংস্কৃতিক সংকরবাদ: একটি সংস্কৃতির মধ্যে অন্যান্য সংস্কৃতি থেকে ধারণার ধার ও পরিবর্তন। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ: সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক দিকগুলোর অবমূল্যায়ন। এর অর্থ অসম সভ্যতাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি এবং বজায় রাখা। এটি একটি সংস্কৃতির অন্য সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। দলিত: ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় বর্ণ ব্যবস্থায় সর্বনিম্ন বর্ণের সদস্য। "অস্পৃশ্য।" ডি-স্টিগমাটাইজিং: লজ্জা বা অপমানের সংযোগ দূর করা। বিবাহবিচ্ছেদ: আদালত বা অন্য উপযুক্ত সংস্থা দ্বারা বিয়ের আইনি সমাপ্তি। বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ধর্মে এর নিজস্ব নির্দিষ্ট নিয়ম এবং "আদর্শ" রয়েছে। ডিসফোরিয়া: রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের প্রায়শই অনুভব করা একটি অনুভূতি। এটিকে এমন অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করা যায় যেন কেউ এমন একটি শরীরে জন্মেছে যা তার কাঙ্ক্ষিত রূপের সাথে খাপ খায় না (যেমন স্তন থাকা বা না থাকা, ভুল যৌনাঙ্গ, শরীরের লোমের অভাব বা আধিক্য)। ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন: অনলাইন সম্প্রদায়ে নাগরিক অধিকারের ধারণা প্রচার এবং প্রসারিত করতে প্রতিষ্ঠিত। এনটাইটেলমেন্ট: জীবন রক্ষাকারী সম্পদের জন্য সামাজিকভাবে সংজ্ঞায়িত অধিকার। এর অর্থ মৌলিক মানবাধিকার এবং সামাজিক স্বাধীনতার সুযোগ। এনটাইটেলমেন্ট প্রোগ্রাম: স্বাস্থ্যসেবা, ফুড স্ট্যাম্প এবং অন্যান্য পরিষেবার মতো মৌলিক চাহিদা সরবরাহকারী প্রোগ্রাম। ব্যয়: তহবিল ব্যয় করার কাজ, বা ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ। শোষণ: কারও কাজ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য তার সাথে অন্যায় আচরণ করার কাজ বা ঘটনা। নারী খতনা: কিছু বা সমস্ত বাহ্যিক নারী যৌনাঙ্গ আচারগতভাবে কাটা বা অপসারণ করা। প্রথম ঐচ্ছিক প্রোটোকল: একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে মানুষ মানবাধিকার কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য অভিযোগ জমা দিতে পারে, যা যোগাযোগ হিসেবেও পরিচিত। অভাব থেকে স্বাধীনতা: পর্যাপ্ত জীবনযাত্রার মানের অধিকার। এটি অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, কাজ এবং শিক্ষার ওপর নির্ভর করে। সমকামী রূপান্তর থেরাপি: সমকামী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিষমকামী করার চেষ্টার জন্য থেরাপিতে পাঠানো। গণহত্যা: কোনো একদল মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা। বিশ্বায়ন: এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যবসা বা সংস্থা আন্তর্জাতিক প্রভাব তৈরি করে বা আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ শুরু করে। মানবাধিকার: এমন মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা যার জন্য একটি সিস্টেমের মধ্যে থাকা সমস্ত মানুষ অধিকারী। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ: সামাজিক তত্ত্ব যা ব্যক্তির স্বাধীনতা, অধিকার বা স্বাধীন কর্মের পক্ষে কথা বলে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা: জাতিসংঘ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সমস্যা সমাধানে নিবেদিত। আন্তঃলিঙ্গ: এমন একজন ব্যক্তি যিনি জন্মগতভাবে এমন প্রজনন বা যৌন শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মান যা পুরুষ এবং নারীর ঐতিহ্যবাহী সংজ্ঞার সাথে একচেটিয়া নয়। আইনশাস্ত্র: আইনের তত্ত্ব বা দর্শন। ল্যাম্বডা: এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের পূর্ণ স্বীকৃতি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি জাতীয় সংস্থা। লিগ অব নেশন্স: বিশ্বশান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে গঠিত প্রথম বিশ্ব আন্তঃসরকারি সংস্থা। এলজিবিটিকিউ: যেসব ব্যক্তির যৌন প্রবৃত্তি এবং লিঙ্গ লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল (উভকামী), রূপান্তরকামী এবং কুইয়ার হিসেবে বর্ণিত হয়। সরাসরি বংশধর: এমন একজন ব্যক্তি যিনি সরাসরি পূর্বপুরুষের বংশধরের লাইনে আছেন। জীবনধারণের মজুরি: বেতনের এমন একটি হার যা কাউকে তার পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। লবিং: কোনো আইন প্রণয়নকারী সংস্থার সদস্যদের ভোট চাওয়ার বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করা। ম্যান্ডেট: কিছু করার জন্য একটি সরকারি আদেশ বা কমিশন। সুস্পষ্ট: চোখ বা মনের কাছে পরিষ্কার বা স্পষ্ট। পুরুষ খতনা: একটি অস্ত্রোপচার। এতে লিঙ্গের অগ্রভাগ থেকে চামড়া সরিয়ে ফেলা হয়। এটি সাধারণত ধর্মীয় বা সামাজিক উদ্দেশ্যে শিশু বা বাচ্চাদের ওপর করা হয়। বহুপাক্ষিক চুক্তি: এমন চুক্তি যেখানে ৩ বা তার বেশি সার্বভৌম রাষ্ট্র পক্ষ থাকে। এনএজিপিআরএ: দ্য নেটিভ আমেরিকান গ্রেভস প্রোটেকশন অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যাক্ট। এটি আদিবাসী আমেরিকান উপজাতিদের সরাসরি বংশধরদের কাছে মানুষের দেহাবশেষ এবং সাংস্কৃতিক জিনিসপত্র পুনরুদ্ধার করার সুযোগ দেয়। নির্যাতিত: ক্ষতি এবং স্বৈরাচারী আচরণের শিকার। পৈতৃক সম্পত্তি: বাবা বা পুরুষ পূর্বপুরুষের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি। ফারাওনিক খতনা: নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতি। এতে ভেতরের ও বাইরের ল্যাবিয়া অপসারণ এবং ভালভায় সেলাই করা হয়। পূর্বনির্ধারিত: কোনো সত্য বা উপযোগিতার প্রমাণ পাওয়ার আগে তৈরি করা ধারণা বা মতামত। প্রো-চয়েস: বৈধ গর্ভপাতের পক্ষে কথা বলা। প্রো-লাইফ: এমন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যা গর্ভপাত এবং ইউথেনাসিয়া (যন্ত্রণাহীন মৃত্যু) বিরোধিতা করে। কারণ এটি ভ্রূণ বা শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে। প্রোটোকল: রাষ্ট্র বা কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি পদ্ধতি বা নিয়মের ব্যবস্থা। র‍্যাংক সোসাইটি: শ্রেণি এবং বর্ণ যেখানে সামাজিক গতিশীলতা সীমিত করে। প্রজনন: যৌন বা অযৌন প্রক্রিয়ায় সন্তান উৎপাদন করা। প্রজনন অধিকার: নিজেদের সন্তানের সংখ্যা এবং ব্যবধান নির্ধারণের অধিকার। সঠিক: নৈতিকভাবে ভালো, ন্যায়সঙ্গত বা গ্রহণযোগ্য। সংস্কৃতির অধিকার: প্রত্যেকের নিজস্ব সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণ করার এবং তা উপভোগ করার অধিকার নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় ঐচ্ছিক প্রোটোকল: মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে। তবে দেশগুলো যুদ্ধের সময় হওয়া সামরিক প্রকৃতির সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের জন্য এর অনুরোধ করতে পারে। সেক্সুয়ালি ডাইমর্ফিক: এমন একটি অবস্থা যেখানে একই প্রজাতির দুটি লিঙ্গ তাদের যৌন অঙ্গের পার্থক্য ছাড়িয়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। আর্থসামাজিক: সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কারণগুলোর মিথস্ক্রিয়া। স্ট্রিট ট্রান্সভেস্টিট অ্যাকশন রেভোলিউশনারিজ (এস.টি.এ.আর): একটি রূপান্তরকামী গোষ্ঠী। এটি ১৯৭০ সালে স্টোনওয়াল দাঙ্গার দুই রূপান্তরকামী সদস্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি গৃহহীন কুইয়ার মানুষ এবং কুইয়ার যৌনকর্মীদের সহায়তা করার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। রূপান্তরকামী: যেসব মানুষের লিঙ্গ প্রকাশ বা লিঙ্গ পরিচয় জন্মের সময় দেওয়া লিঙ্গের চেয়ে আলাদা। জাতিসংঘ: আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রচার এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা তৈরি ও বজায় রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা। এটি ১৯৪৫ সালে লিগ অব নেশন্সের জায়গা নেয়। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র: ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ দ্বারা গৃহীত। এটি রূপরেখা দেয় যে সব মানুষ স্বাধীন ও সমান হয়ে জন্মায়। তাদের দাস বা নির্যাতিত না হওয়ার, জীবনের অধিকার, নিরাপত্তা এবং আইনের দৃষ্টিতে ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অবৈতনিক বনাম বৈতনিক শ্রম: অবৈতনিক শ্রম হলো পিতা-মাতার কাজ, সম্প্রদায়ের কাজ বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কৃষিকাজ। অন্যদিকে বৈতনিক শ্রম হলো এমন আনুষ্ঠানিক কাজ যেখানে শ্রম এবং/বা সময়ের বিনিময়ে মুদ্রা দেওয়া হয়। = তথ্যসূত্র = {{reflist}} [http://db.jhuccp.org/ics-wpd/exec/icswppro.dll?BU=http://db.jhuccp.org/ics-wpd/exec/icswppro.dll&QF0=DocNo&QI0=097837&TN=Popline&AC=QBE_QUERY&MR=30%25DL=1&&RL=1&&RF=LongRecordDisplay&DF=LongRecordDisplay "ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন: আ কল টু অ্যাকশন", ট্রৌবিয়া এন: নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক, উইমেন, ইংক, ১৯৯৩। ৪৮ পৃষ্ঠা।] # {{note|জেমস বার্ক্স ২০০৬}} বার্ক্স, জেমস। "হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজি।" এনসাইক্লোপিডিয়া অব অ্যানথ্রোপোলজি। ৩. থাউজেন্ড ওকস, সিএ: সেজ পাবলিকেশন্স, ইনক., ২০০৬। মুদ্রণ। পৃষ্ঠা ১২২৮। {{chapter navigation|স্বাস্থ্য ও আরোগ্য|বিবাহ, প্রজনন ও আত্মীয়তা}} sfqns9jb37tlk67jiguv8lkhgan371s সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/বিশ্বায়ন ও অভিবাসন 0 33436 106611 106241 2026-06-09T18:40:55Z NusJaS 8394 106611 wikitext text/x-wiki == বিশ্বায়ন এবং দেশান্তর == === বিশ্বায়ন === বিশ্বায়নের একটি সাধারণ সংজ্ঞা হলো ছোট ছোট সমষ্টিকে একটি বৃহত্তর সমষ্টিতে একীভূত করার প্রক্রিয়া। বিশ্বাস করা হয় প্রথম মানুষের হাত ধরেই [[w:বিশ্বায়ন|বিশ্বায়ন]] প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছিল। প্রযুক্তির উন্নতি সমসাময়িক বিশ্বায়নকে ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ও পরিবহন প্রযুক্তির উন্নতি এতে ভূমিকা রেখেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ভাষাবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, ভূগোল, আইন, শিল্প এবং চলচ্চিত্র অধ্যয়নের পণ্ডিতরা এই শব্দটি সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করেছেন। অনেকে প্রযুক্তিগত-অর্থনৈতিক বিশ্বায়নকে অন্যান্য ধরনের বিশ্বায়নের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আন্তঃজাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় এর একটি উদাহরণ।<ref>"Globalization" [বিশ্বায়ন]। এনসাইক্লোপিডিয়া অফ আমেরিকান ফরেন পলিসি। ৩ খণ্ড। ২য় সংস্করণ। চার্লস স্ক্রিবনার্স সন্স, ২০০২। হিস্ট্রি রিসোর্স সেন্টারে পুনরুৎপাদিত। ফার্মিংটন হিলস, এমআই: গেল। http://galenet.galegroup.com.access-proxy.sno-isle.org/servlet/History/</ref> এখানে কেবল একক জাতির দিকে নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। তাই একটি ভালো সংজ্ঞা সমসাময়িক বিশ্বায়নকে একটি জটিল এবং সমন্বিত প্রক্রিয়া হিসেবে জোর দেবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত উন্নতির সাথে বাজারের নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং উন্মুক্ত সীমানা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর ফলে মানুষ, অর্থ, পণ্য, পরিষেবা এবং তথ্যের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। বিশ্বায়ন অভিন্নতা, সমন্বয়, দক্ষতা এবং প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করে। কিছু ক্ষেত্রে এটি গণতন্ত্রায়ন এবং সমসত্ত্বতাকে উৎসাহিত করে।<ref>"Globalization" [বিশ্বায়ন]। এনসাইক্লোপিডিয়া অফ আমেরিকান ফরেন পলিসি। ৩ খণ্ড। ২য় সংস্করণ। চার্লস স্ক্রিবনার্স সন্স, ২০০২। হিস্ট্রি রিসোর্স সেন্টারে পুনরুৎপাদিত। ফার্মিংটন হিলস, এমআই: গেল। http://galenet.galegroup.com.access-proxy.sno-isle.org/servlet/History/</ref> তবে ঐতিহাসিকভাবে এবং বর্তমানে বিশ্বায়ন কিছু মানুষের ওপর চরম নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে। শিল্পোন্নত ব্যাপক ভোগবাদী সমাজ এবং শিকারী-সংগ্রাহক বা উদ্যানপালক গোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ ঘটলে এটি বিশেষভাবে সত্য হয়। [[File:Sundiata hip-hop 2007 - 33.jpg|thumb|২০০৭ সালে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে সিয়াটল সেন্টারে অনুষ্ঠিত ফেস্টিভ্যাল সানডিয়েটার অংশ হিসেবে জুলু নেশন সিয়াটলের হিপ হপ সংস্কৃতির তৃতীয় বার্ষিকী উদযাপনে নৃত্য প্রতিযোগিতা।]] ==== বিশ্বায়নের বিভিন্ন স্তর ==== অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ইমানুয়েল ওয়ালারস্টেইন '''বিশ্ব ব্যবস্থা তত্ত্ব''' তৈরি করেছেন। এটি এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রস্তাব করে যেখানে কিছু দেশ শ্রম ও কাঁচামালের জন্য অন্য দেশগুলোকে শোষণ করে লাভবান হয়। এই তত্ত্বে তিনটি স্তরও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এগুলো হলো: "কেন্দ্রীয়", "প্রান্তিক" এবং "আধা-প্রান্তিক"। ওয়ালারস্টেইন শক্তিশালী মূলধন, ব্যাপক সামরিক বাহিনী এবং উচ্চ দক্ষতার স্তরের দেশগুলোকে কেন্দ্রীয় দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে প্রান্তিক দেশগুলো দুর্বল রাষ্ট্র। তারা তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে কেন্দ্রীয় দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। আধা-প্রান্তিক দেশগুলোর নিজস্ব কার্যকর অর্থনীতি থাকে। তবে শ্রম এবং কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য তারা কেন্দ্রীয় ও প্রান্তিক উভয় দেশের ওপর নির্ভর করে। তাই এই তিনটি স্তর বিশ্ববাজারের বৈশ্বিক অসমতাকে তুলে ধরে। প্রথম কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি উদাহরণ উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত ছিল। এর মধ্যে ইংল্যান্ড, হল্যান্ড এবং ফ্রান্স অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি কেন্দ্রীয় দেশের আরও সমসাময়িক উদাহরণ। এর বিপুল মূলধন, উন্নত শ্রমশক্তি এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এর কারণ। ভারতে প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ অব্যাহত রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের একটি আধা-প্রান্তিক দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ তারা এখনও মূলধন এবং অন্যান্য কাঁচামালের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভরশীল। '''বিশ্বায়নের সাথে সম্পর্কিত বিশ্ব ব্যবস্থা তত্ত্ব:''' "কেন্দ্রীয়" দেশগুলোর বড় কর্পোরেশনগুলো প্রায়শই পরিবেশ ও শ্রমের সবচেয়ে শিথিল নিয়ম থাকা দেশগুলোতে (আধা-প্রান্তিক/প্রান্তিক দেশ) কারখানা ও উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করে। আন্তঃজাতিক শ্রম আইনের অভাবের কারণে তারা এতে সফল হতে পারে। এরপর উন্নয়নশীল দেশগুলো এই কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে। প্রায়শই ন্যূনতম মজুরির মতো শ্রমের মান কমিয়ে তারা এটি করে। এর ফলে এই কর্মীদের কাজের পরিবেশ অবমাননাকর ও অযৌক্তিক হয়ে ওঠে। তা সত্ত্বেও সরকার এই পরিস্থিতি সমাধানে কোনো মনোযোগ দেয় না। [http://sandovalhernandezj.people.cofc.edu/] বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো ভারত, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মতো দরিদ্র দেশগুলোতে সস্তা শ্রম খোঁজে। উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তরুণ নারী শ্রমিকদের ব্যবহার করে। এই শ্রমিকরা "ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দারিদ্র্যসীমার নিচের মজুরিতে" দিনে গড়ে ১৪ ঘণ্টা কাজ করে। [http://reimaginerpe.org/node/5247] সঠিক তদারকির অভাবে শ্রমিকদের অমানবিক ও অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে দেওয়া হয়। '''বিশ্বায়নের ফলে একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর সুবিধা লাভ:''' কায়াপো: তারা ব্রাজিলের মাতো গ্রোসো এবং পারার সমভূমির জি-ভাষী স্থানীয় মানুষ। তারা আমাজন অববাহিকার দক্ষিণে এবং রিও জিঙ্গু ও এর উপনদীগুলোর ধারে বাস করে। কায়াপোরা যাযাবর। তারা এখনও একটি টেকসই জুমচাষের [http://en.wikibooks.org/wiki/Cultural_Anthropology/Production,_Inequality_and_Development#Modes_of_Production উৎপাদন পদ্ধতি] ব্যবহার করে রেইন ফরেস্টে বাস করে। বৈশ্বিক গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ ব্যবহার করে তারা নিজেদের জমির ওপর রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে। একসময় খনন ও গাছ কাটার কারণে রেইন ফরেস্ট এবং তাদের সংস্কৃতি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। তবে কায়াপোরা জোরপূর্বক কৌশল ব্যবহার করে কিছু এলাকা থেকে কাঠুরে এবং খনি শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেয়। তারা নিজেদের একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তীতে তাদের জমিতে ধারাবাহিক জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের গোপন সরকারি পরিকল্পনা তাদের আবারও হুমকির মুখে ফেলে। তবে কায়াপোরা একটি বড় বিক্ষোভ করে যা বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। স্টিং-সহ একটি জনপ্রিয় রক ব্যান্ডও এতে অংশ নেয়। পারার আলতামিরায় প্রথম বাঁধের স্থানে বিক্ষোভটি বেশ কয়েক দিন ধরে চলে। এটি বিশ্বব্যাংক এবং ব্রাজিল সরকার উভয়ের ওপরই ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। ফলস্বরূপ বিশ্বব্যাংক বাঁধ নির্মাণের জন্য ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ব্রাজিল সরকার তাদের মূল পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। এছাড়াও কায়াপোদের সাথে দ্য বডি শপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তারা তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া হেয়ার কন্ডিশনারে ব্যবহৃত ব্রাজিল নাট অয়েল এই চেইনকে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছিল।<ref>http://en.wikipedia.org/wiki/Kayapo_people</ref> '''বিশ্বায়নের ফলে একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর সুবিধা না পাওয়া:''' বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাবের একটি সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক উদাহরণ হলো ১৫ ও ১৬ শতকে আমেরিকার ইউরোপীয় উপনিবেশন। ইউরোপীয়রা আমেরিকায় অভিবাসনের সময় তাদের সাথে ইউরোপীয় রোগ নিয়ে আসে। স্থানীয়দের শরীরে এসব রোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল না। এর সাথে সামরিক অস্ত্র ও কৌশলে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব যুক্ত হয়ে প্রায় ৯০% আদিবাসীকে ধ্বংস করে দেয়।<ref>http://whqlibdoc.who.int/smallpox/9241561106.pdf</ref> বিশ্বায়ন অন্যান্য দেশের বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের দ্বারা শোষিত অনেক সংস্কৃতিরও ক্ষতি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, চীনে তৈরি পশ্চিমা পণ্যগুলোর বিশ্বায়নের কারণে চীনের সোয়েটশপ শ্রমিকদের খারাপ কাজের পরিবেশ আরও সাধারণ হয়ে উঠেছে। মাত্র ষোলো বছর বয়স থেকে শুরু করে শ্রমিকরা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত কাজ করে। বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির কারণে প্রতি বছর প্রায় ৪০,০০০ শ্রমিক তাদের আঙুল হারায়। তাছাড়া তারা বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে। এর ফলে রাসায়নিকের উপস্থিতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশ পণ্যটি কিনবে না। বিপজ্জনক কাজের পরিবেশ ছাড়াও চীনের সোয়েটশপগুলো তাদের কর্মীদের ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম বেতন দেয় বলে জানা যায়। পাশাপাশি তারা কর্মীদের দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ষোলো ঘণ্টা কাজ করায়।<ref>ওয়ার্ল্ড বিজনেস - "ইন চাইনিজ ফ্যাক্টরিস, লস্ট ফিঙ্গারস অ্যান্ড লো পে" [চীনা কারখানায়, আঙুল হারানো এবং কম বেতন], নিউ ইয়র্ক টাইমস। http://www.nytimes.com/2008/01/05/business/worldbusiness/05sweatshop.html</ref> ===== উৎপাদন পদ্ধতির ওপর বিশ্বায়নের প্রভাব ===== ১. '''কৃষি''': বিশ্বায়ন কৃষিকে প্রভাবিত করে। কৃষির মাধ্যমে অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন করা যায় এবং তা বিশ্বজুড়ে রফতানি করা যায়। বৈধ বা অবৈধ উভয় ধরনের ওষুধও বিশ্বজুড়ে পাঠানো হয়। কৃষি কীভাবে বিশ্বায়নকে প্রভাবিত করে তার একটি কারণ হলো বাণিজ্য উদারীকরণ। এর মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে পণ্যের অবাধ বিনিময়ের ওপর থাকা বিধিনিষেধ অপসারণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ফিলিপাইনের ক্ষুদ্র কৃষকরা বৈশ্বিক বাজারের দামের সাথে প্রতিযোগিতা করতে অক্ষম। এই বাজার আরও উন্নত কৃষি প্রযুক্তিসম্পন্ন দেশগুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। "আপনি ভুট্টা, শাকসবজি বা হাঁস-মুরগির দিকে তাকান না কেন—কৃষি অর্থনীতির প্রধান খাতগুলো আমদানির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।" [http://www.alternet.org/story/153211/globalization_leads_to_struggle_for_food_that_imperils_filipino_poor] ২. '''শিকার ও সংগ্রহ''': যেসব সমাজ এই উৎপাদন পদ্ধতি অনুশীলন করে তারা বিশ্বায়নের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি ঘটেছে। পারস্পরিক সংযোগের এই প্রক্রিয়ায় প্রায়শই শিকার ও সংগ্রহের জীবনযাত্রাকে সমর্থন করার জন্য উপলব্ধ অঞ্চল মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। অন্যান্য উৎপাদন পদ্ধতির তুলনায় শিকার ও সংগ্রহ কেবল ছোট এবং কম ঘনবসতিপূর্ণ জনসংখ্যাকে সমর্থন করতে পারে। ৩. '''উদ্যানপালন''': এটি শিকার ও সংগ্রহের মতোই একইভাবে বিশ্বায়নের দ্বারা প্রভাবিত হয়। উদ্যানপালক সমাজ যাযাবর জুমচাষের পাশাপাশি শিকার এবং সংগ্রহের ওপর নির্ভর করে। বিশ্বায়ন চলতে থাকায় এভাবে খাদ্য উৎপাদনের জন্য উপলব্ধ জমির পরিমাণ ক্রমশ অনুর্বর হয়ে যাচ্ছে। ৪. '''শিল্পায়ন''': বিশ্বায়নের কারণে শিল্পায়ন প্রভাবিত হয়। কারণ শিল্পায়নের মাধ্যমে অনেক সাংস্কৃতিক দিক ছড়িয়ে পড়ে। এটি বিশেষত প্রযুক্তিগত মাধ্যমে ঘটে, যা যোগাযোগ এবং বিনিময়ের অন্যতম কার্যকরী পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়া বেশিরভাগ উন্নত সমাজের কাঠামো পরিবর্তন করেছে এবং পুঁজিবাদের সাফল্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ৫. '''পশুপালন''': বিশ্বায়নের দ্বারা এটি প্রভাবিত হয়। কারণ এই উৎপাদন পদ্ধতিতে পালিত এবং জবাই করা প্রাণীগুলোকে তাদের মূল অঞ্চলের বাইরে রফতানি করা যেতে পারে। খাবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর মিল থাকা 'জাতি ও জনগণকে একীভূত করার প্রক্রিয়া'কে আরও এগিয়ে নিতে পারে। তাছাড়া ভেড়া থেকে কাটা পশম আন্তর্জাতিক বস্ত্র শিল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি জায়গা থেকে পাওয়া উপকরণ দিয়ে পোশাক তৈরি করা যায়। সেগুলো বিশ্বের বহু স্থানে বিক্রি করা যেতে পারে। ==== পর্যটন ও এর প্রভাব ==== পর্যটকদের এমন ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যারা সেখানে স্থায়ী হওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়াই তাদের স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরের স্থানে অবস্থান করে। তারা বিনোদন বা অবসরের উদ্দেশ্যে নতুন জায়গায় ভ্রমণ করে। গ্রিস, থাইল্যান্ড এবং বাহামাসের মতো অনেক দেশ বৈশ্বিক পর্যটন থেকে তৈরি আয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। এই অঞ্চলগুলোতে কর্মসংস্থান সম্পর্কিত কাজের ক্ষেত্রগুলোর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল (যেমন- হোটেল এবং ক্রুজ জাহাজ ও ট্যাক্সির মতো পরিবহন পরিষেবা)। [[Image:Pacific Princess 1987.jpg|thumb|[[w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন]] পশ্চিম উপকূলের কাছে ''[[w:প্যাসিফিক (জাহাজ)|প্যাসিফিক প্রিন্সেস]]''।]] [http://en.wikipedia.org/wiki/Tourism পর্যটন] স্থানের তিনটি শ্রেণিবিভাগ রয়েছে: :'''অভ্যন্তরীণ পর্যটন:''' কোনো নির্দিষ্ট দেশের বাসিন্দারা যারা তাদের দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করে। (যেমন, ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী একজন আমেরিকান নিউ ইয়র্ক ভ্রমণ করে) :'''অন্তর্মুখী পর্যটন:''' অনাবাসীরা যারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমানার ভেতর ভ্রমণ করে। (যেমন, একজন অস্ট্রেলিয়ান পর্যটক একজন চীনা বাসিন্দার কাছে ঘুরতে আসে) :'''বহির্মুখী পর্যটন:''' এক দেশের বাসিন্দারা যারা অন্য দেশে ভ্রমণ করে (যেমন, একজন কানাডিয়ান বাসিন্দা গ্রিস ভ্রমণ করে) এছাড়া পর্যটনের পাঁচটি ধরন রয়েছে:<ref>স্মিথ, ল্যাভেনে এল. হোস্টস অ্যান্ড গেস্টস: দ্য অ্যানথ্রোপলজি অফ ট্যুরিজম। ২য় সংস্করণ। পেনসিলভেনিয়া: ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া পি, ১৯৮৯। গুগল বুকস। গুগল। ৪ মার্চ ২০০৯ <http://books.google.com/books?id=YONSh9ItwWAC&printsec=frontcover#PPA4,M1>।</ref> :'''জাতিগত পর্যটন:''' সম্পূর্ণ অপরিচিত বা ভিন্ন পরিবেশের আদিবাসীদের দেখতে ভ্রমণ করা (যেমন- [https://bn.wikipedia.org/wiki/নাহুয়া_জনগোষ্ঠী নাহুয়া ইন্ডিয়ান] এবং তাদের স্থানীয় ও জাতীয় সরকারের কাছে ভ্রমণ)।<ref>ন্যান্সি ওজেদা-ম্যাসিয়াস। এথনিক ট্যুরিজম: দ্য কেস অফ কুয়েতজালান, মেক্সিকো। https://www.msu.edu/user/schmid/ethnic.htm</ref> কিছু ক্রিয়াকলাপের মধ্যে পারফরম্যান্স, উপস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। :'''সাংস্কৃতিক পর্যটন:''' সাধারণ স্তরে অন্য সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা পেতে ভ্রমণ করা (যেমন- [[w:মার্ডি গ্রাস|মার্ডি গ্রাস]]ের জন্য লুইজিয়ানার নিউ অর্লিন্সে ভ্রমণ)। :'''ঐতিহাসিক পর্যটন:''' ঐতিহাসিক স্থান বা স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করা (যেমন- [[w:আইফেল টাওয়ার|আইফেল টাওয়ার]] দেখতে প্যারিসে ভ্রমণ বা [[w:কলোসিয়াম]] দেখতে রোমে ভ্রমণ)। :'''পরিবেশগত পর্যটন:''' ভ্রমণকারী নিজের দেশে যে পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশের অভিজ্ঞতা পেতে ভ্রমণ করা (যেমন- অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণ)। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস দ্বারা পরিবেশগত দর্শনীয় স্থান হিসেবে সংরক্ষিত কোনো জাতীয় উদ্যানে যাওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত (যেমন- [https://en.wikipedia.org/wiki/Yellowstone_National_Park ইয়েলোস্টোন] বা [https://en.wikipedia.org/wiki/Yosemite_National_Park ইওসেমাইট] ভ্রমণ)।<ref>মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ। http://www.nps.gov/</ref> :'''বিনোদনমূলক পর্যটন:''' গন্তব্যের অনন্য কার্যকলাপে অংশ নিতে ভ্রমণ করা (যেমন- [[w:রানিং অফ দ্য বুলস|ষাঁড়ের দৌড়]] দেখতে স্পেনের প্যামপ্লোনায় ভ্রমণ)। পর্যটকরা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ আকর্ষণের কারণে সে দেশে যায়। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, ইতালির পিসার হেলানো মিনার এবং চীনের মহাপ্রাচীর সবচেয়ে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক পর্যটন আকর্ষণের কয়েকটি। চীনের মহাপ্রাচীর প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) দর্শনার্থী আকর্ষণ করে। রান্নার স্বাদ নেওয়া, ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা অর্জন করা বা ভাষা শেখার মতো অন্যান্য সাংস্কৃতিক দিকও পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে। ইতিহাস জুড়ে উচ্চ স্তরের প্রাচুর্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা দারুণ ভ্রমণ করেছেন। ধনী ব্যক্তিদের অন্য অঞ্চলে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এবং সময় উভয়ই থাকে। অন্যদিকে নিম্ন শ্রেণির মানুষদের এই সুযোগ থাকে না। এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সম্পদের এই আগমন পর্যটকদের আকর্ষণ করা অঞ্চলের জন্য খুবই উপকারী হতে পারে। পর্যটন বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির জন্য অনেকাংশে উপকারী। তবে পর্যটক এবং ভ্রমণ করা দেশ উভয়ের জন্যই এর সাথে কিছু ঝুঁকি যুক্ত থাকে। পর্যটকরা নিজের দেশ থেকে ভিন্ন কোনো দেশে থাকলে নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যের মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে ক্রুজ জাহাজগুলোতে ছোঁয়াচে রোগের [[w:ক্রুজ জাহাজে প্রাদুর্ভাব|প্রাদুর্ভাব]] দেখা গেছে। যেসব দেশ তাদের অর্থনৈতিক আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে পর্যটনের ওপর নির্ভর করে তাদের বিভিন্ন পরিস্থিতি হতে পারে। পর্যটনের অনেক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে (তবে এতে সীমাবদ্ধ নয়): :'''প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন-''' হারিকেন ক্যাটরিনা। এই প্রাকৃতিক ঘটনার কারণে অনেক মানুষ নিউ অর্লিন্স ভ্রমণ থেকে বিরত ছিল। :'''সন্ত্রাসবাদ''', ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর অনেক মানুষ নিউ ইয়র্ক ভ্রমণে অনীহা প্রকাশ করেছিল। অর্থনীতিগুলো শুধুমাত্র পর্যটনের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সহায়তা করতে পারলে দেশগুলোর ভেতরে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের অবস্থাকে এড়ানো যেত।<ref>নক্স, পল এল. এবং মার্স্টন, স্যালি এ., হিউম্যান জিওগ্রাফি: প্লেসেস অ্যান্ড রিজিয়নস ইন গ্লোবাল কনটেক্সট, ৪র্থ সংস্করণ, পিয়ারসন প্রেন্টিস হল, এনজে ২০০৭</ref> তবে পর্যটন মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও কারণ হতে পারে। [[w:যৌন পর্যটন]] এর একটি উদাহরণ। পর্যটকরা যৌন কার্যকলাপে বিধিনিষেধের অভাবের ওপর ভিত্তি করে তাদের ছুটির স্থান নির্বাচন করলে এটি ঘটে। এটি স্থায়ী [[w:পরিবেশগত অবক্ষয়]]েরও কারণ হতে পারে। বৈশ্বিক ঘটনা হিসেবে পর্যটনের উত্থানের সাথে সাথে এই ধরনের সমস্যাগুলো ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলো ব্যাপক পর্যটক স্থানান্তরের কারণে দূষণের সমস্যায় পড়ে। এটি দেখায় যে বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ দূষণের জন্য পর্যটন দায়ী। ক্রুজের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য ক্যারিবীয় অঞ্চলেই বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে ফেলা বর্জ্যের অর্ধেক থাকে। দ্বীপের অনেক উপকূলরেখা বিশাল ক্রুজ জাহাজ এবং বিস্তৃত সৈকত তীরবর্তী রিসোর্টগুলোর দখলে থাকাই এর একটি বড় কারণ। === ভোগবাদী সংস্কৃতি === [[w:মার্কসীয় দর্শন|মার্কসীয় এবং নয়া-মার্কসীয় তত্ত্ব]] থেকে এই দৃষ্টিভঙ্গি আসে যে "বিশ্বায়নের পেছনে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো পুঁজিবাদের কর্পোরেট চাহিদা। এর উদ্দেশ্য হলো আরও ব্যাপক অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান লাভজনকতা দেখানো... জাতীয়ভাবে এবং শেষপর্যন্ত সারা বিশ্ব জুড়ে সাংস্কৃতিক আধিপত্য বাড়িয়ে লাভজনকতা বৃদ্ধি করা।" <sup>১</sup> অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ বলতে বোঝায় যখন কোনো দেশ অন্য একটি দেশের ওপর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আর্থিক নিয়ন্ত্রণ রাখে। এটি সেই দেশের কেবল অর্থনৈতিক দিকগুলোকেই প্রভাবিত করে না। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করার পর অন্য দেশে প্রসারিত হওয়ার একটি সাংস্কৃতিকভাবে পরিচালিত প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মূলত আমেরিকান কর্পোরেশনগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত শিল্পগুলো অন্যান্য দেশে রফতানি ও শোষণের মাধ্যমে প্রসারিত হতে থাকে। কোম্পানিগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য শুধু রফতানিই আর যথেষ্ট নয়। ভোগবাদের বিশ্বায়ন এবং সারা বিশ্বে একই পণ্যের চাহিদা তৈরি করার একটি নতুন লক্ষ্য তৈরি হয়েছে। এভাবে একটি বৈশ্বিক বাজার এবং ভোগবাদী সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ওয়াল-মার্ট, ডিজনি, ম্যাকডোনাল্ডস এবং ভিসা মাস্টারকার্ডের মতো কোম্পানিগুলো প্রচুর সময় এবং অর্থ ব্যয় করে। তারা স্বাধীনতা, কম দাম বা মানসম্মত অভিজ্ঞতার আকাঙ্ক্ষা দিয়ে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করে। এর ফলে সব মানুষ একইভাবে ভোগ করতে শুরু করে। ভোক্তারা বাজার সংস্কৃতিকে জীবনযাপনের একটি উপায় হিসেবে গ্রহণ করে। এটি একটি অন্তর্নিহিত ধারণা তৈরি করে যে অর্থ ও পণ্য আমাদের উন্নত জীবন দিতে পারে। কর্পোরেশনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন ভোক্তারা সবসময় তাদের কাছে থাকা জিনিসগুলো নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকে এবং আরও বেশি কিনতে প্রস্তুত থাকে। এভাবে এটি নিজেকে পুনরুৎপাদন করতে এবং টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। ভোগবাদী সংস্কৃতির এই ব্যাপক বোধটি সবসময় ছিল না। এটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে আমেরিকার সম্পদ ও মর্যাদার একটি ফলাফল। যুদ্ধের পর কর্পোরেশনগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতার শীর্ষে ছিল। তারা সামরিক বা শিল্প কাঠামোগুলোতে অর্থায়নের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিল। পণ্যের এই বিশাল চাহিদা বজায় রাখা গেলে তারা আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের অবস্থানে ছিল। বস্তুগত সামগ্রী অর্জনের সাথে সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির সম্পর্কটি দেখিয়ে আমেরিকানদের এবং পরে সারা বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে এই চাহিদা তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু কর্পোরেশনগুলো আমরা কীভাবে বিশ্বকে দেখি সেই মাধ্যমগুলো অর্থাৎ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে, তাই তারা সহজেই এই ভোগবাদী মানসিকতাকে সমাজে একটি অভ্যাসে পরিণত করতে পেরেছিল। ফলস্বরূপ ভোগের বিশ্ব ক্রমশ বেশি সংখ্যক মানুষকে প্রভাবিত করছে। তারা ব্যবসার জন্য স্থানান্তরিত হয়, শহরে ভিড় করে এবং ভোগ করে। এটি শক্তি এবং সম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি বর্জ্য তৈরি করে। সমালোচকদের মতে "আমেরিকানাইজেশন" বা আমেরিকানীকরণের পরিণতি হলো সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের শক্তির ওপর অপরিবর্তনীয় প্রভাব। পাশাপাশি এটি আমাদের গ্রহের পরিবেশগত স্থায়িত্বের ওপরও প্রভাব ফেলে। <sup>১</sup>রিটজার, জর্জ। "দ্য গ্লোবালাইজেশন অফ নাথিং ২" (২০০৭) <sup>২</sup>http://www.cbsnews.com/stories/2005/05/02/eveningnews/main692495.shtml === সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ বনাম সাংস্কৃতিক সংকরায়ন === বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতি, মতাদর্শ এবং জীবনধারার বিস্তার বুঝতে নৃবিজ্ঞানীরা সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ এবং সাংস্কৃতিক সংকরায়নের তত্ত্ব তৈরি করেছেন। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ অনুযায়ী কিছু সংস্কৃতি আধিপত্য বিস্তার করে। শেষ পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক নীতি বা সাধারণ সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য সংস্কৃতিকে প্রতিস্থাপন করে। বিশ্বের অন্যান্য অংশে পশ্চিমা সংস্কৃতির বিস্তার বোঝার এটি একটি জনপ্রিয় উপায় হয়ে উঠেছে। তবে সংস্কৃতির বিস্তার সম্পূর্ণভাবে শনাক্ত করা এবং বিশ্লেষণ করা সহজ নয়। অন্যান্য সমাজের ওপর পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব বিবেচনা করার সময় নৃবিজ্ঞানীরা মনে রাখেন এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি নিচে দেওয়া হলো। # প্রথমত, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ধরে নেয় যে পশ্চিমা সংস্কৃতির বিস্তারের বিরুদ্ধে অ-পশ্চিমা লোকেরা ক্ষমতাহীন। বস্তুত, প্রত্যেক ব্যক্তিরই তাদের পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বা স্বাধীনতা রয়েছে। # দ্বিতীয়ত, এটি বোঝায় যে পশ্চিমা সংস্কৃতি কখনো পরিবর্তিত হয় না। সংস্কৃতি সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হয়। সংস্কৃতি পরিবর্তনের এই কারণটিই সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ শব্দটি তৈরি করেছে। # তৃতীয়ত, এটি বিশ্বজুড়ে ঘটা সাংস্কৃতিক প্রবণতাগুলোকে উপেক্ষা করে যা "পশ্চিমের" সম্পূর্ণ বাইরে ঘটে। প্রতিটি পরিবর্তনই পশ্চিমা সংস্কৃতির ফল নয়। সাম্প্রতিক বিশ্বায়নের কারণে সংস্কৃতির বিস্তার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ত্রুটিগুলোর কারণে নৃবিজ্ঞানীরা সাংস্কৃতিক সংকরায়ন নামে একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি করেছেন। এই নতুন ধারণা অনুযায়ী সংস্কৃতিগুলো কেবল অন্ধভাবে প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করে না। বরং তারা ভিন্ন সংস্কৃতির কিছু অংশ ধার করে যা তাদের নিজেদের সংস্কৃতিকে পরিপূরক করে বা তাতে অবদান রাখে। এই পদ্ধতিকে সংজ্ঞায়িত করতে ব্যবহৃত আরেকটি শব্দ হলো সাংস্কৃতিক ক্রিওলাইজেশন। এই দৃষ্টিভঙ্গি সংকরায়নে জড়িত সৃজনশীলতা এবং অনুপ্রেরণার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। সংস্কৃতি-পরিবর্তনকে একটি সংস্কৃতির ওপর অন্যটির দুর্ঘটনাবশত আধিপত্য হিসেবে ব্যাখ্যা না করে, এটি দেখায় কীভাবে স্থানীয়রা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিদেশি ধারণাগুলো গ্রহণ করে এবং নিজেদের মতো করে মানিয়ে নেয়। === বিশ্বজনীনতা === [http://en.wiktionary.org/wiki/cosmopolitanism বিশ্বজনীনতা] এমন একটি ধারণা যা প্রাচীন রোমে স্টোইক দার্শনিকরা প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। বিশ্বজনীনতাকে একাধিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা এবং একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি বা নতুন চিন্তাধারা সামলাতে সক্ষম হওয়া হিসেবে ভাবা যেতে পারে। স্টোইক অর্থে বিশ্বজনীনতার অর্থ হলো প্রতিটি মানুষ “দুটি সম্প্রদায়ে বাস করে – আমাদের জন্মের স্থানীয় সম্প্রদায় এবং মানুষের যুক্তি ও আকাঙ্ক্ষার সম্প্রদায়”।<ref>নাসবাউম, মার্থা সি. (১৯৯৭)। কান্ট অ্যান্ড স্টোইক কসমোপলিটানিজম, দ্য জার্নাল অফ পলিটিকাল ফিলোসফিতে, খণ্ড ৫, সংখ্যা ১, পৃ. ১-২৫</ref> <br> এনলাইটেনমেন্টের সময় অষ্টাদশ শতাব্দীর দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট শব্দটি পুনরায় মূল্যায়ন করেন। তিনি এটিকে পশ্চিমা পদ্ধতিতে দক্ষ হওয়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন। তিনি এক ধরনের “প্রথম বিশ্ব” সংস্কৃতিকে প্রচার করেছিলেন। এই অভিজাত পশ্চিমা সংস্কৃতির বিকল্পগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা বর্তমানে শব্দটি ব্যবহার করেন। নৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক দর্শনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করতে 'কসমোপলিটান' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। সমস্ত বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির একটি সাধারণ অস্পষ্ট মূল বিষয় হলো একটি নির্দিষ্ট ধারণা। ধারণাটি হলো রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নির্বিশেষে সকল মানুষ একক সম্প্রদায়ের নাগরিক (বা হতে পারে এবং হওয়া উচিত)। বিশ্বজনীনতার বিভিন্ন সংস্করণ এই সম্প্রদায়কে বিভিন্নভাবে কল্পনা করে। কিছু সংস্করণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর, অন্যগুলো নৈতিক নিয়ম বা সম্পর্কের ওপর ফোকাস করে। আবার কিছু সংস্করণ অংশীদারি বাজার বা সাংস্কৃতিক প্রকাশের রূপগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। বিশ্বজনীনতার একটি নির্দিষ্ট রূপ হলো অর্থনৈতিক বিশ্বজনীনতা। এটি ন্যূনতম রাজনীতির সাথে একটি বিশ্বব্যাপী মুক্ত বাণিজ্য বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। অর্থনৈতিক বিশ্বজনীনতা নিজেই সর্বজনীনভাবে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয় না। কারণ এতে সম্পদের অসমতা এবং দারিদ্র্যের মতো অনেক বড় পরিসরের সমস্যা থাকতে পারে। পুঁজিবাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রাকৃতিক বা পরিবেশগত বিপদও দেখা দিতে পারে। === দেশান্তর === মানুষের দেশান্তর বলতে মানুষের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেকোনো ধরনের স্থানান্তর বোঝায়। এটি যেকোনো দূরত্বে এবং বিভিন্ন আকারের গোষ্ঠীতে ঘটতে পারে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনে পরিবারগুলোর একসাথে স্থানান্তরিত হওয়া এখন বেশ সাধারণ ব্যাপার। দেশান্তরের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হলোকাস্ট [http://en.wikipedia.org/wiki/Holocaust]। সে সময় ইউরোপে ইহুদি বংশোদ্ভূত ও ধর্মের মানুষের ওপর চালানো গণহত্যা ইহুদিদের দেশান্তরের প্রয়োজনীয়তা প্রতিফলিত করেছিল। ইউরোপে ঘটা হলোকাস্ট ইহুদি বংশোদ্ভূত বা ধর্মের মানুষের জন্য জোরপূর্বক দেশান্তরের একটি উদাহরণ। কারণ হিটলারের বাহিনী থেকে দূরে সরে না গেলে তাদের মৃত্যুর হুমকি ছিল। সমগ্র ইউরোপের ইহুদিরা তাদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়েছিল। কাউকে কাউকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে মৃত্যু ও দাসত্বের ভয়ে অন্যরা অন্য দেশে পালিয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে প্রায় ৬০ লাখ (৬ মিলিয়ন) ইহুদিকে হত্যা করা হয়েছিল বলে হিসাব করা হয়। আরও লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে গিয়েছিল। ফিলিস্তিনের জন্য জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনার [http://en.wikipedia.org/wiki/UN_Partition_Plan] ফলে অনেকেই ব্রিটিশ ম্যান্ডেট অফ প্যালেস্টাইনে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এটিই বর্তমান আধুনিক ইসরায়েল। আরেকটি উদাহরণ হলো [[w:চীনের গৃহযুদ্ধ]]। চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বাধীন [[w:কুওমিনতাং]] (কেএমটি) চীন থেকে পালিয়ে যায়। তারা আরওসি সরকারের সাথে নানজিং থেকে তাইওয়ানের বৃহত্তম শহর তাইপেইতে পালিয়ে গিয়েছিল। তাদের সাথে চীন থেকে আসা প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) শরণার্থী ছিল। এদের মধ্যে মূলত সৈন্য, কেএমটি দলের সদস্য এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়িক অভিজাতরা ছিল। [http://en.wikipedia.org/wiki/Taiwan#History] ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত দেশান্তর ট্রেইল অফ টিয়ার্সের কথাও ভোলা যায় না। এ সময় আদিবাসী আমেরিকানদের তাদের পৈতৃক জন্মভূমি থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মিসিসিপি নদীর পশ্চিমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে পাঠানো হয়েছিল। স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা রোগ ও অনাহারে ভুগেছিল। এতে চার হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। ==== দেশান্তরের বিভিন্ন ধরন ==== '''''অভ্যন্তরীণ দেশান্তর''''' [[Image:Covered_wagon_at_the_High_Desert_Museum_Outside.jpg#file|right|thumb|200px|পশ্চিমে ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত আচ্ছাদিত ওয়াগনের প্রতিলিপি।]] অভ্যন্তরীণ দেশান্তর হলো দেশের এক অংশ থেকে অন্য অংশে মানুষের স্থানান্তর। স্থানান্তর একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া। ব্যক্তি বা পরিবারের স্থানান্তরের জন্য সঠিক প্রণোদনার প্রয়োজন। তারা যে নতুন জায়গায় যাচ্ছে সেখানে অর্থনৈতিক সুযোগের প্রতিশ্রুতিও থাকতে হবে। স্থানান্তরের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য সাধারণত তাদের জীবনমান উন্নত হবে বলে মনে করা হয়। অভ্যন্তরীণ দেশান্তরের অনেক কারণ থাকতে পারে। অর্থনৈতিক কষ্ট, বলপ্রয়োগ, ধর্মীয় নিপীড়ন, পেশাগত পরিবর্তন বা এর যেকোনো সমন্বয় এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।<br> আমেরিকার ইতিহাস থেকে এর একটি উদাহরণ হলো ওয়েস্টওয়ার্ড মুভমেন্ট বা পশ্চিমমুখী আন্দোলন। অর্থনৈতিক লাভ এবং বসতি স্থাপনের জন্য বেশি জায়গার সম্ভাবনার কারণে পূর্ব উপকূলের আমেরিকানরা ওরেগন ট্রেইল ধরে উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের কাছাকাছি জনবসতিহীন জমিতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় অসীম জায়গা রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হতো। তাই ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় বসতি স্থাপন করতে চাওয়া যে কারো জন্য নিজের বড় খামার করার জায়গা থাকবে বলে মনে করা হতো। শেকার এবং মরমনদের মতো কিছু সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নিজেদের সম্প্রদায় গড়ে তোলার আশায় স্থানান্তরিত হয়েছিল। তারা তাদের ধর্মীয় আদর্শের কারণে হওয়া নিপীড়ন থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিল।<br> তথ্যসূত্র:<br> "ওয়েস্টওয়ার্ড মুভমেন্ট" [পশ্চিমমুখী আন্দোলন]। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। ২০০৯। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনলাইন। ৯ মার্চ ২০০৯ <http://www.britannica.com/EBchecked/topic/641224/westward-movement>। '''''আন্তর্জাতিক দেশান্তর'''''--- আমি এই অংশটি করতে চাই [[User:Curtis Wisser|কার্টিস উইসার]] ([[User talk:Curtis Wisser|আলাপ]]) ০৫:৫৯, ৯ মার্চ ২০০৯ (ইউটিসি)কার্টিস উইসার দেশান্তরের অন্যতম সাধারণ ধরন হলো আন্তর্জাতিক দেশান্তর। এখানে মানুষ আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সীমানা অতিক্রম করে অন্য মহাদেশ বা দেশে যায়। এই ধরনের দেশান্তর দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদী উভয়ই হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মানুষ নতুন দেশে অল্প সময়ের জন্য থাকে। এমন অনেক মানুষও আছে যারা স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়। তারা পরিবারকে নতুন গন্তব্যে আনার জন্য কাজ করে। (প্রয়োজনীয়তা ২এ) দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক দেশান্তরের একটি উদাহরণ হলো লাতিন আমেরিকার হিস্পানিক নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন। তারা তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কাজ খুঁজতে সেখানে যায়। নৃবিজ্ঞানী ইউজেনিয়া জর্জেস লস পিনোস থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের অভিবাসনের এই ঘটনাটি নিয়ে গবেষণা করেছেন। বেশিরভাগ পরিবারেই স্বামীরা স্থানান্তরিত হতো। পরিবারকে আমেরিকায় আনতে পারা পর্যন্ত তারা কাজ করত। “এটি কখনো কখনো কয়েক বছর সময় নিত। কারণ এতে ভিসার জন্য কাগজপত্র সম্পন্ন করার বিষয় জড়িত থাকত। লস পিনোসে নিয়মিত পাঠানো অর্থের বাইরেও টাকা জমাতে হতো।” তবে কিছু পরিবার কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার পর লস পিনোসে থাকাই পছন্দ করত। কিন্তু তাদের ভিসা বজায় রাখতে বার্ষিক এক বা তার বেশি মাসের জন্য তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেত। (প্রয়োজনীয়তা ২বি) - শুল্টজ, এমিলি এবং রবার্ট লাভেন্ডা। কালচারাল অ্যানথ্রোপলজি। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৯। - http://en.wikipedia.org/wiki/International_migration ==== বিভিন্ন ধরনের স্থানান্তরিত ব্যক্তি ==== *'''শ্রমিক অভিবাসী''' [[Image:Migrant Worker by David Shankbone.JPG|thumb|অভিবাসী খামার শ্রমিক, নিউ ইয়র্ক]] [[w:অভিবাসী শ্রমিক|শ্রমিক অভিবাসী]] হলো এমন শ্রমিক যারা কাজের সন্ধানে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যায়। অভিবাসী শ্রমিকরা বছরের সময় বা মৌসুমের ওপর নির্ভর করে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এমন কাজগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়। অন্য কথায় অভিবাসী শ্রমিকরা মূলত মৌসুমী শ্রমিক (১)। জাতিসংঘের সংজ্ঞায় নিজ দেশের বাইরে কাজ করা যেকোনো ব্যক্তিই একজন [[w:অভিবাসী শ্রমিক]]। বিশ্বের সব অংশের জন্য [[w:অভিবাসী শ্রমিক|অভিবাসী শ্রমিকদের]] সংজ্ঞা আলাদা। তবে সাধারণত মৌসুমী কাজ খুঁজতে যাওয়া কাউকেই এটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। <(১) তথ্যসূত্র: http://www.encyclopedia.com/topic/migrant_labor.aspx> [[w:ওয়াশিংটন]] থেকে আসা শ্রমিক অভিবাসীদের একটি উদাহরণ [[w:পাস্কো, ওয়াশিংটন|পাস্কো]]তে রয়েছে। স্কুলের ঝরে পড়ার হার মূলত মৌসুমী অভিবাসী শ্রমিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফসল তোলার সময় হলে শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে [[w:পাস্কো, ওয়াশিংটন|পাস্কো]]তে চলে যায়। এরপর তারা চলে গেলে শিক্ষার্থীরা অন্য স্কুলে বদলি হওয়ার পরিবর্তে স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। বিশ্বাস করা হয় যে কিছু শ্রমিক [[w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন|অবৈধ অভিবাসী]]। শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে এটি স্কুল ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ ফেলে। অনেক হিস্পানিক শিক্ষার্থী ক্লাসে আসতে পারে। তবে বৃহত্তর অভিবাসন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিনিময়ও ঘটায়। এর ফলে দুটি দেশের মধ্যে জ্ঞান এবং দক্ষতার বিনিময় হয়। অভিবাসন অন্যান্য দেশের মানুষের সাথে যোগাযোগের একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করে। এটি বিভিন্ন পটভূমির লোকদের একত্রিত হতে এবং তাদের মতামত শেয়ার করার একটি প্ল্যাটফর্ম দেয়।<ref>মনালি ওক। http://www.buzzle.com/articles/pros-and-cons-of-immigration.html</ref> *'''শরণার্থী''' সহিংসতা বা দুর্যোগের হুমকির কারণে বাধ্য হয়ে নিজ দেশ ত্যাগ করা অভিবাসীরাই হলো শরণার্থী। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা হলো তারা যারা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যায় কিন্তু দেশ ছাড়ে না। শরণার্থীরা তাদের নিজ দেশ ছেড়ে গেলেও বেশিরভাগই মূল অঞ্চলে থেকে যায়। উদাহরণস্বরূপ, সিরিয়া ইরাক থেকে প্রায় ১৪ লাখ (১.৪ মিলিয়ন) শরণার্থী গ্রহণ করেছে। ইরান এবং পাকিস্তানও বিপুল সংখ্যক আফগান শরণার্থী গ্রহণ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশিরভাগ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়। ১৯৫১ সালের শরণার্থী সম্মেলনে [http://en.wikipedia.org/wiki/1951_refugee_convention], নথিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলো তাদের দেশে আসা শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় আইনগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল। সম্মেলনটি নন-রিফোলমেন্টের নীতিও প্রয়োগ করে। এটি এমন জায়গায় শরণার্থীদের নির্বাসন নিষিদ্ধ করে যেখানে তাদের জীবন বা স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে। বর্তমানে লাখ লাখ ইরাকি শরণার্থী নিরাপদ স্থানের খোঁজে ইরাকের ভেতরে বা প্রতিবেশী দেশে পালিয়েছে। অনেক ইরাকি শরণার্থী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর অর্থ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লোকদের তাদের বসবাসের স্থান থেকে জোরপূর্বক বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরিয়ে দেওয়া। ইরাকে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পাঁচ বছর পর দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক এবং বাস্তুচ্যুতির সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। সিরিয়া, জর্ডান এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে প্রায় ১৫ লাখ (১.৫ মিলিয়ন) ইরাকি শরণার্থী বসবাস করছে। কিছু ইরাকি তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা দেখেছে বাড়িগুলো হয় ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা কেউ দখল করেছে। ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় এখনও সহিংসতার আশঙ্কা প্রবল। এই শরণার্থীরা ক্রমশ আরও মরিয়া পরিস্থিতিতে বসবাস করছে। [http://www.refugeesinternational.org/where-we-work/middle-east/iraq] *'''অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি''' জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হলো তারা যাদের বাধ্য করা হয়েছে বা চাপ দিয়ে তাদের বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সাধারণত সশস্ত্র সংঘাত, সাধারণ সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিপর্যয় এড়ানোর জন্য এটি ঘটে। তবে শরণার্থীদের মতো তারা কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় সীমানা অতিক্রম করে না। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) সহায়তা করা অত্যন্ত কঠিন। এর কারণ আন্তর্জাতিক আইনে এই লোকদের সহায়তা এবং সুরক্ষা প্রদানের দায়িত্ব সেই রাষ্ট্রের সরকারের। তবে গৃহযুদ্ধ বা সহিংসতার কারণে অনেকেই এমন সব রাজ্যে বাস্তুচ্যুত হয় যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব নিঃসন্দেহে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই জড়িত দেশগুলো এই আইডিপি-দের সাহায্য করতে সক্ষম বা ইচ্ছুক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। আরেকটি সমস্যা হলো শরণার্থীদের মতো অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির ওপর কোনো বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো নেই। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। এর ফলে ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস [http://en.wikipedia.org/wiki/UNHCR] বা ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের [http://en.wikipedia.org/wiki/ICRC] মতো স্বতন্ত্র সংস্থাগুলো সহায়তা না করলে এই লোকেরা অরক্ষিত থেকে যায়। কোনো দেশে কতজন আইডিপি আছে তা সঠিকভাবে রেকর্ড করা প্রায় অসম্ভব। তা সত্ত্বেও অনুমান করা হয় প্রায় ৬০ লাখ (৬ মিলিয়ন) আইডিপি নিয়ে সুদান এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এই দেশে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০০৫ সালে প্রতিবেশী দেশ চাদ আক্রমণ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সুদানের সরকার নিজেই তার নাগরিকদের সাহায্য করতে অক্ষম এবং অনিচ্ছুক। তাদের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারের মিলিশিয়া এবং তারা যেসব বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়ছে, উভয়ের বিরুদ্ধেই নির্দোষ বেসামরিক নাগরিক ও মানবতাবাদীদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। আইডিপি-দের স্থানান্তরের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অল্প সংখ্যায় তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এটি স্পষ্ট যে এই দেশটিকে আরও অনেক দূর যেতে হবে। গৃহযুদ্ধের কারণে আবাসন ও কর্মসংস্থানের অভাবের পাশাপাশি স্কুল, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং জলের উৎস ধ্বংস হওয়া অগ্রগতির পথে বিশাল বাধা। {{cite web|url=http://www.landinfo.no/asset/748/1/748_1.pdf|title=Sudan-Internally Displaced Persons in Khartoum|trans-title=সুদান-খার্তুমে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি|accessdate=2009-03-04}} *'''প্রাতিষ্ঠানিক অভিবাসী''' প্রাতিষ্ঠানিক অভিবাসীরা হলো এমন অভিবাসী যাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক প্রথা ও সামাজিক জীবন রয়েছে। তারা তাদের পূর্ববর্তী দেশ এবং ঐতিহ্যের কিছু অংশ নিজেদের সাথে রাখে। এগুলো অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি, সেইসাথে শ্রমিক অভিবাসী এবং অন্যান্য দেশের মানুষও হতে পারে। নৃবিজ্ঞানী রিচার্ড উইলক এবং লিসা ক্লিগেটের মানব প্রকৃতির সামাজিক মডেলের অর্থনৈতিক "ক্যাম্পের" অধীনে এই লোকদের শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে। এটি বোঝায় যে ব্যক্তিটি কেবল তার নিজের অবস্থান নয়, বরং সে যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত তার পুরো অবস্থার উন্নতি করতে অন্তত আংশিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়। [http://books.google.com/books?id=ahUNthKmzWcC&dq=wilk+and+cliggett&printsec=frontcover&source=bl&ots=EnbH9-eB2P&sig=1PSskNHM4GVWCXiyeFJqVe6eWVc&hl=en&ei=07q0SYDTMInOsAPIsYV4&sa=X&oi=book_result&resnum=1&ct=result#PPP1,M1] প্রাতিষ্ঠানিক অভিবাসীরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষমতা এবং ঐতিহ্যের সামাজিক নিয়মকানুন মেনে চলে। মানুষ যখন নিজেদের একটি গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে দেখে, তখন তারা সেই গোষ্ঠীর উন্নতিতে চেষ্টা করে। আজ আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই প্রাতিষ্ঠানিক অভিবাসীদের দেখা যায়। এই অভিবাসীদের অনেকেই দেশের বাইরের। তবে কাজের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোরাফেরা করা কিছু মানুষকেও এভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে। এই অভিবাসীদের বিশাল সংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তার "মেল্টিং পট" বা সংমিশ্রণ বৈশিষ্ট্য দিতে সাহায্য করেছে। তারা কাজের জন্য বা অন্যান্য নানা কারণে এখানে ভ্রমণ করে। তারা তাদের সাথে সাংস্কৃতিক ধারণা, সমাজ ব্যবস্থা এবং প্রায়শই তাদের পরিবার নিয়ে আসে। নতুন অভিবাসীরাও কিছু আমেরিকান সংস্কৃতি গ্রহণ করলে ইতিমধ্যেই নাগরিক হয়ে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণত এটি মেনে নেন। আমাদের দেশের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক অভিবাসীদের উদাহরণ হতে পারে ট্রাক চালক বা কৃষি মৌসুম অনুযায়ী দেশের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো পরিবার বা শ্রমিকরা। এই লোকেরা দেশের চারপাশে কাজ করে। তবে সাধারণত তাদের একটি বাড়ি (পরিবার) থাকে যেখানে তারা বছরে অন্তত একবার ফিরে আসে। স্থানান্তরিত হলেও তাদের বন্ধন মজবুত থাকে। ==== দেশান্তরের তত্ত্ব ==== অ্যাডাম স্মিথ তার [[w:অদৃশ্য হাত]]ের ধারণায় অর্থনীতির বাস্তবতার বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে মানুষ নিজের স্বার্থে কাজ করে। যারা সম্পদ খোঁজে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ এবং কল্যাণের পথ অনুসরণ করে। [[w:নয়া-ধ্রুপদী অর্থনীতি|নয়া-ধ্রুপদী অর্থনীতি তত্ত্বের]] ওপর ভিত্তি করে, মূলধন উচ্চ মজুরির দেশ থেকে কম মজুরির দেশে চলে যায়। বিপরীতভাবে, কম মজুরির দেশ থেকে উচ্চ মজুরির দেশে শ্রমের প্রবাহ চলে। দরিদ্র দেশের মানুষ কম বেতনে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকে। তাই খরচ কমানোর জন্য এসব জায়গায় কারখানা তৈরি করা হয়। দেশান্তর মূলত পুশ ফ্যাক্টর (ঠেলে দেওয়ার কারণ) বা পুল ফ্যাক্টর (টেনে আনার কারণ) দ্বারা প্রভাবিত হয়। পুশ ফ্যাক্টরে কাজের অভাব, রাজনৈতিক ভয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের হুমকির মতো বিষয় থাকে। এটি মানুষকে তাদের নিজ দেশ থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। অন্যদিকে পুল ফ্যাক্টরে মানুষ উচ্চ বেতন এবং ভালো জীবনযাত্রার সাথে বিভিন্ন কাজের সুযোগের দ্বারা আকৃষ্ট হয়। নাইকির মতো কোম্পানিগুলো শ্রমের খরচ কমাতে ভিয়েতনামের মতো দরিদ্র দেশে সোয়েটশপ তৈরি করে। এটি কার্যকরভাবে তাদের নিট আয় বৃদ্ধি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভিয়েতনামে নাইকির প্রায় চারগুণ বেশি কর্মী রয়েছে। জোহান নরবার্গের একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভিয়েতনামের লোকেরা তাদের নতুন চাকরি পছন্দ করে। কারণ তারা কেবল ভালো বেতনই পায় না, তাদের রোদেও কাজ করতে হয় না।<sup>১</sup> <sup>১</sup>http://findarticles.com/p/articles/mi_qa3724/is_200306/ai_n9251504 === ডায়াস্পোরা === ডায়াস্পোরা শব্দটি দ্বারা একটি সাধারণ জাতিগত পরিচয় ভাগ করে নেওয়া যেকোনো জনসংখ্যার জোরপূর্বক বা স্বেচ্ছায় স্থানান্তরকে বোঝায়। তারা তাদের স্থায়ী অঞ্চল ছেড়ে তাদের আগের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন নতুন এলাকার বাসিন্দা হয়ে ওঠে। এটি প্রথাগত যাযাবর সংস্কৃতির ঠিক বিপরীত। ডায়াস্পোরা সংস্কৃতির প্রমাণ হলো প্রাথমিক ভাষা পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সম্প্রদায়ের প্রতিরোধ। তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রথা বজায় রাখাও এর প্রমাণ। তিব্বতে চীনা আগ্রাসনের পর থেকে নেপাল ও ভারতে বসবাসকারী তিব্বতি সন্ন্যাসীরা এর কয়েকটি উদাহরণ। জাপানে বসবাসকারী জাতিগত কোরিয়ানরাও (''জাইনিচি কানকোকু জিন'') এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ভ্যাঙ্কুভার, লন্ডন, সিডনি, সিঙ্গাপুর, নিউ ইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী বিশাল হংকং জনসংখ্যাও ডায়াস্পোরার উদাহরণ। ==== ইহুদি ডায়াস্পোরা ==== খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ অব্দে অ্যাসিরিয়রা ইসরায়েল জয় করলে হিব্রু লোকেরা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই [[w:ইহুদি ডায়াস্পোরা]] শুরু হয়। ইতিহাসের বইগুলোতে এই ভুক্তভোগীদের সবসময় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৭ অব্দে নেবুচাদনেজার [http://en.wikipedia.org/wiki/Nebuchadrezzar_II] জুডিয়ানদের নির্বাসিত করেছিলেন। তিনি ইহুদিদের ব্যাবিলনে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে অন্যরা নীল নদের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল। এটিকে ইহুদি ডায়াস্পোরার শুরুর তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এখন হিব্রুদের তিনটি দল ছিল। কিছু লোক ব্যাবিলন, জুডিয়া এবং মিশরে ছিল। অন্যরা মধ্যপ্রাচ্যের আশেপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সমস্ত ইহুদি পারস্য এবং গ্রিক আইনের অধীনে তাদের ধর্ম ধরে রেখেছিল। কেউ কেউ ভিন্ন ধর্মে দীক্ষিত হলেও নতুন পাওয়া তোরাহর প্রতি বিশ্বস্ত ছিল। রোমানরা ইহুদিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছিল। গভর্নররা যতটা সম্ভব বেশি অর্থ আয় করতে চেয়েছিল। তারা তাদের পাওয়া যেকোনো অর্থ নিয়ে নিত। জুডিয়ানরা বিদ্রোহ করেছিল। ৭৩ খ্রিস্টাব্দে সর্বশেষ বিপ্লবীরা মাসাদায় পাহাড়ের দুর্গে আটকা পড়েছিল। অবরুদ্ধ অবস্থায় এক হাজার পুরুষ, নারী ও শিশু দুই বছর ধরে অনাহারে ছিল। রোমানদের কাছে আত্মসমর্পণ করার পরিবর্তে পাহাড়ে থাকা বাকি লোকেরা আত্মহত্যা করেছিল। রোমানরা জেরুজালেম ধ্বংস করেছিল। তারা জুডিয়া দখল করেছিল এবং ফিলিস্তিন থেকে ইহুদিদের তাড়িয়ে দিয়েছিল। ইহুদিরা আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ায় ডায়াস্পোরা অব্যাহত থাকে। {{note|earthlink.net}}http://www.jewishvirtuallibrary.org/jsource/History/Diaspora.html ==== আর্মেনীয় ডায়াস্পোরা ==== আর্মেনীয় ডায়াস্পোরা শব্দটি আর্মেনিয়া এবং উত্তর আজারবাইজানের নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলের বাইরে বসবাসকারী আর্মেনীয় গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়গুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত আর্মেনীয় গণহত্যা চলাকালীন এবং এর পরের আর্মেনীয়দের স্থানান্তরকে বোঝায়। এই সময় ১৫ লাখ (১.৫ মিলিয়ন) আর্মেনীয়কে হত্যা করা হয়েছিল। ১৩৭৫ সালে আর্মেনীয় রাষ্ট্র হারানোর পর থেকেই আর্মেনীয় ডায়াস্পোরা বিদ্যমান। আর্মেনীয় গণহত্যার পর এর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বেশিরভাগ আর্মেনীয় আর্মেনীয় সমভূমিতেই থেকে গিয়েছিল। তারা অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা ঐতিহাসিক আর্মেনিয়ায় ছিল। আর্মেনীয়রা গ্রামীণ আনাতোলিয়ায় কৃষক হিসেবে বেঁচে ছিল। কিন্তু অন্যরা মূলত বণিক হিসেবে কনস্টান্টিনোপল, স্মির্না এবং টারসাসের মতো প্রধান অটোমান শহরগুলোতে বসতি স্থাপন করেছিল। ঊর্ধমুখী সামাজিক গতিশীলতার মাধ্যমে তারা একটি অ-ইসলামিক সংখ্যালঘু হিসেবেও সম্পদ এবং মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে অটোমান সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক জলবায়ুর পরিবর্তন রাজনৈতিক প্যারানোয়াকে উস্কে দিলে এর পরিবর্তন ঘটে। বিদ্রোহ এবং অভ্যুত্থানের ভয় অটোমানদের একটি বলির পাঁঠা খুঁজতে বাধ্য করেছিল। তারা অটোমান-আর্মেনীয় জনসংখ্যার মধ্যে এটি পেয়েছিল। ইয়াং তুর্ক সরকার তাদের ক্ষমতা সুসংহত করার চেষ্টায় আর্মেনীয় গণহত্যার সময় বিশাল সংখ্যক আর্মেনীয়কে হত্যা করেছিল। তারা অনেককে পূর্ব আনাতোলীয় প্রদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছিল। [[Image:ArmenianDiaspora.png#file|right|thumb|500px|আর্মেনীয় ডায়াস্পোরার মানচিত্র]] বর্তমান সময়ের অনুমান অনুযায়ী, বিশ্বের আর্মেনীয়দের অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ ঐতিহাসিক আর্মেনিয়ার বাইরে বাস করে। [http://www.armeniaforeignministry.com/] বিশ্বজুড়েই আর্মেনীয় সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় সম্প্রদায়গুলো জর্ডান, মিশর, সিরিয়া, রাশিয়া, পোল্যান্ড, পশ্চিম ইউরোপ, ভারত এবং উত্তর আমেরিকায় রয়েছে। বিশ্বজুড়ে বসবাসকারী আনুমানিক মোট ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) আর্মেনীয় জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩০ লাখ (৩ মিলিয়ন) আর্মেনিয়ায় বাস করে। নাগর্নো-কারাবাখে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার আর্মেনীয় বাস করে। [http://en.wikipedia.org/wiki/Armenian_diaspora] বাকি জনসংখ্যা সারা বিশ্বে সমানভাবে ছড়িয়ে আছে বলে মনে হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) প্রাক্তন সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলোতে বসবাস করে। [http://www.armeniaforeignministry.com/] সাম্যবাদ-পরবর্তী আর্মেনিয়া প্রজাতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বহুদূরে ছড়িয়ে থাকা ডায়াস্পোরাকে অন্তর্ভুক্ত করে আর্মেনীয় জাতির সংজ্ঞা দিয়েছে। এটি অনেক ডায়াস্পোরা আর্মেনীয়র অনুভূতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নীতি। আর্মেনিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত বাস্তুচ্যুত আর্মেনীয়কে আর্মেনিয়ার অংশ বলে মনে করে। ২০০৮ সালে আর্মেনীয় ডায়াস্পোরার সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে আর্মেনিয়া একটি ডায়াস্পোরা মন্ত্রণালয় তৈরি করেছিল। ==== দূরপাল্লার জাতীয়তাবাদ ==== কোনো [[w:ডায়াস্পোরা]]র সদস্যরা তাদের মাতৃভূমির সংগ্রামকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিলে দূরপাল্লার জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয়। মাতৃভূমি থেকে ভিন্ন রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া অভিবাসীদের তাদের মাতৃভূমির প্রতি খুব কম নাগরিক অংশগ্রহণ দেখাতে দেখা গেছে। তবে তারা সাধারণত বর্তমানে যেখানে বাস করে তার চেয়ে তাদের মাতৃভূমির প্রতি বেশি টান অনুভব করে। এটি তাদের মাতৃভূমির সংগ্রামকে সমর্থন করতে অনুপ্রাণিত করে। ভোট দেওয়া ছাড়া তারা অন্য যেকোনো উপায়ে তাদের মাতৃভূমির বর্তমান দ্বন্দ্বে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রচারণা, অর্থ এবং অস্ত্র সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। "হাইতিয়ান ডায়াস্পোরা" এর একটি উদাহরণ। এই সময় হাজার হাজার হাইতিয়ান তাদের অঞ্চলের বাইরে স্থানান্তরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এই নাগরিকরা আরও বেশি আন্তঃসীমান্ত নাগরিকের মতো কাজ করতে শুরু করে।<ref>জর্জেস ই. ফুরন এবং নিনা জি. শিলার, জর্জেস ওক আপ লাফিং: লং-ডিস্টেন্স ন্যাশনালিজম অ্যান্ড দ্য সার্চ ফর হোম</ref> ===== আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্র ===== দূরপাল্লার জাতীয়তাবাদের সদস্য হওয়া অভিবাসীদের আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্র হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এরা অন্য রাষ্ট্রের নাগরিক। তবে তারা দাবি করে যে তারা দেশ ছেড়ে গেলেও তাদের বংশধররা তাদের পৈতৃক রাষ্ট্রের অংশই থেকে যায়। তাই মাতৃভূমির সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার অধিকার তাদের এখনও রয়েছে। তারা তাদের জাতি গঠনে সাহায্য করার জন্য নতুন দক্ষতা সাথে নিয়ে দেশে ফিরবে বলে আশা করা হয়। অনেক দেশেই আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্রগুলোকে তাদের নিজ দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে অন্য দেশের নাগরিক হওয়া দেশত্যাগীদের ডমিনিকান নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আশা করা হয়। আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্রের মানুষের এমন সব সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করার অধিকার রয়েছে যা শেষপর্যন্ত তাদের প্রভাবিত করবে, সিদ্ধান্তগুলো যেখানেই নেওয়া হোক না কেন। দূরপাল্লার জাতীয়তাবাদ তার সংজ্ঞাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখন আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। উভয়ের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো এই নাগরিকরা তাদের মাতৃভূমির প্রতি বেশি আনুগত্য দেখায়। অন্য রাষ্ট্রের যেসব নাগরিক দাবি করে যে তারা তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে গেলেও তাদের বংশধররা তাদের পৈতৃক রাষ্ট্রের অংশই থেকে যায়, তারা আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্রের সাথে জড়িত নাগরিক। তারা তাদের মাতৃভূমির সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার অধিকার চায়। কারণ তারা তাদের জাতি গঠনে সাহায্য করার জন্য দক্ষতা নিয়ে দেশে ফিরবে বলে আশা করা হয়। অনেক দেশে আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তাদের নিজ দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে অন্য দেশের নাগরিক হওয়া দেশত্যাগীদের ডমিনিকান নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আশা করা হয়। আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্রের মানুষের এমন সব সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করার অধিকার রয়েছে যা শেষপর্যন্ত তাদের প্রভাবিত করবে, সিদ্ধান্তগুলো যেখানেই নেওয়া হোক না কেন। আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্রগুলো বিশ্বব্যাপী আরও সহজে পরিচালিত হওয়ার একটি কারণ রয়েছে। যোগাযোগ এবং পরিবহনের উন্নতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা তাদের মাতৃভূমিতে আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তঃসীমান্ত রাষ্ট্রগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি তাদের মাতৃভূমির জাতীয় সংগ্রামে যুক্ত থাকতে পারে। মেক্সিকো এবং ফিলিপাইনে দেশত্যাগীদের জন্য অর্থ প্রেরণের মাধ্যমে দূরপাল্লার জাতীয়তাবাদে অবদান রাখা অত্যাবশ্যক হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা তাদের পরিবার এবং সম্প্রদায়কে টিকিয়ে রাখে। মানুষ তাদের বাড়ির প্রতি টান অনুভব করে বলে মনে হয়। বিশেষ করে তারা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারলে এটি বেশি দেখা যায়। মেক্সিকোতে দেশত্যাগীদের মাতৃভূমির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হয়। মেক্সিকোতে এটি উৎসাহিত করা হলেও অন্যান্য অনেক দেশে এটি নিরুৎসাহিত করা হয়। ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমনটি দেখা গিয়েছিল। ১১ সেপ্টেম্বরের পর দ্বৈত আনুগত্যগুলো পুনরায় পরীক্ষা করা শুরু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দূরপাল্লার জাতীয়তাবাদ থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সতর্কতা অবলম্বন করেছিল। == নাগরিকত্ব == === মৌলিক নাগরিকত্ব === মৌলিক [http://en.wikipedia.org/wiki/Citizenship নাগরিকত্ব] পরিচয় গঠন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের ধারণার সাথে যুক্ত। এই ধরনের নাগরিকত্বে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো অসুবিধায় থাকে। কারণ এটি "ভিন্ন জাতীয়তার কর্মীদের জন্য কাল্পনিক শ্রমবাজারের পরিচয়" নির্ধারণ করতে পারে <sup>[৭]</sup>। এটি শেষপর্যন্ত অনেক সমস্যা এবং অন্যায্য আচরণের কারণ হয়। এই ধারণাটি “সমতার ধারণাকে বোঝায় যে নাগরিকদের তাদের অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ মর্যাদা ভাগ করে নেওয়ার কথা বলা হয়”। কিন্তু এর পরিবর্তে এটি নিয়ে কাজ করে যে কে “জাতীয় সম্প্রদায়ের কার্যকর সদস্যপদ নিশ্চিত করে এমন অধিকার উপভোগ করতে” পারে <sup>[৮]</sup>। বিশ্বে দেখা এর একটি উদাহরণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স বা ইংল্যান্ডের মতো দেশ। তারা খামারে কাজ করা বা ফসল ফলানোকে নিচু স্তরের কাজ হিসেবে দেখে। অন্যদিকে মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার মতো জায়গাগুলোতে কৃষিকাজ বেশ নিয়মিত দেখা যায়। এটিকে একটি সম্মানজনক কাজ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এর মানে হলো এই অঞ্চলগুলোর লোকেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে গেলে তারা বৈষম্যের সম্মুখীন হয়। কারণ তারা কেবল এই কাজটিই করতে জানে। === নমনীয় নাগরিকত্ব === নৃবিজ্ঞানী আইহওয়া ওং নমনীয় নাগরিকত্বকে [http://en.wikipedia.org/wiki/citizenship] সংজ্ঞায়িত করেছেন। তার মতে এটি হলো "পরিচালক, টেকনোক্র্যাট এবং পেশাদারদের দ্বারা নিযুক্ত কৌশল ও প্রভাব, যারা নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় সীমানা অতিক্রম করে এবং বিভিন্ন জাতি-রাষ্ট্রীয় শাসনকাঠামোকে এড়িয়ে চলতে ও এর থেকে লাভবান হতে চায়।" এই ধারণা জাতি-রাষ্ট্রগুলোকে আরও ভালো অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে একসাথে কাজ করার সুযোগ দেয়। এটি বিশ্বায়নের [http://en.wikipedia.org/wiki/Globalization] ধারণার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। আগে মনে হতো জাতি-রাষ্ট্রগুলোকে বিশ্বায়িত হওয়ার জন্য স্বাধীন হতে হবে। তবে নমনীয় নাগরিকত্বের কারণে এটি অত্যন্ত পরস্পরবিরোধী বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই ধারণাটি ব্যবসার মালিক এবং পরিচালকদের মতো লোকদের তাদের কোম্পানির উন্নতি করতে দেয়। তারা অনেক বড় পরিসরে এটি করতে পারে। চীনা সংস্কৃতিতে এর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। চীনা অভিজাত পরিবারগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিমের অর্থনীতিতে সাফল্যের একটি বড় উপাদান। চীনারা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলোতে যাওয়ার সময় এসব শুরু হয়েছিল। সফল হওয়ার জন্য চীনাদের তাদের পরিবার এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাথে বন্ধন জোরদার করার প্রয়োজন ছিল। উদাহরণস্বরূপ, হংকংয়ের এক পারিবারিক ব্যবসার মালিক তাদের ছেলেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হোটেল চেইনের একটি অংশ চালানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে আরেক ভাই সান ফ্রান্সিসকোতে বাস করত। সে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের মধ্যে থাকা হোটেলগুলো পরিচালনা করত। ==== জাতীয়তাবাদী-পরবর্তী নীতি ==== চীনা সংস্কৃতি এবং নমনীয় নাগরিকত্বের মধ্যে কখনো কখনো কিছু নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। পরিবারগুলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে খুশি থাকা এবং কাছাকাছি থাকা কঠিন মনে হতে পারে। এ সময় সমর্থন, সম্পর্ক এবং পিতা-মাতার দায়িত্বের মতো বিষয়গুলো অবহেলিত হয়। মনে হয় যেন সাফল্য কখনো কখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তারা কেবল সাফল্যই দেখতে পায়। বিশ্বায়ন [http://en.wikipedia.org/wiki/Globalization], পুঁজিবাদী অর্থনীতি এবং অর্থের বাইরে অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে কেমন লাগে তা তারা ভুলে যায়। জাতীয়তাবাদের ধারণা তার অর্থ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলতে পারে। তখন মনে হয় যেন তারা জাতীয়তাবাদী-পরবর্তী একটি নীতি অনুসরণ করছে। এটি তখন ঘটে যখন "বিশ্বের প্রতি এমন একটি মনোভাব তৈরি হয় যেখানে মানুষ জাতি-রাষ্ট্রগুলোর শাসন মানসিকতা এড়ানোর চেষ্টা করে। একইসাথে তারা পুঁজিবাদী বাজারের শাসন মানসিকতার কাছে নতি স্বীকার করে।" ==== মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ ও সমস্যা ==== হাজার হাজার আমেরিকানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ তাদের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে হতাশাজনক এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া ছিল। তবে সিভিকস পরীক্ষা বা ফেডারেল কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট প্রশ্ন প্রক্রিয়াটিকে এত কঠিন করে তোলে না। বেশিরভাগের জন্য আসল বাধা তার আগেই আসে। যখন সম্ভাব্য নাগরিকরা তাদের "গ্রিন কার্ড" পেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং কাজ করতে চায়। আমেরিকা প্রতি বছর প্রায় ৯ লাখ (৯ লক্ষ) অভিবাসীকে স্বাগত জানায়। এর মধ্যে প্রযুক্তি খাতে কর্মরত অর্ধেকেরও বেশি প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার (১ লক্ষ ৪০ হাজার) পেশাদারকে স্থায়ী বসবাস মঞ্জুর করা হয়। এই গোষ্ঠীটিই ক্রমশ ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, বেশিরভাগ অভিবাসন আইনজীবী গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় একজন গ্রাহকের সাথে থাকতে ৫,০০০ থেকে ৭,৫০০ ডলারের মধ্যে পারিশ্রমিক নেন। কিছু ক্ষেত্রে আবেদন ফি এবং সম্ভাব্য কোনো পরিবারের সদস্য যুক্ত করার আগেই ১৫,০০০ ডলারের কাছাকাছি খরচ হতে পারে। তবে আসল খরচ পরিমাপ করা কঠিন। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকার সময় অনেক আবেদনকারী হারানো সুযোগ এবং অসহায়ত্বের অনুভূতিতে বছর কাটিয়ে দিতে পারেন। প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা সময় লাগে। কারণ তারা নিশ্চিত করতে চায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত গ্রিন কার্ড সদস্য নাগরিক হওয়ার যোগ্য। দেশের প্রতি তাদের নিষ্ঠা, আনুগত্য এবং বিশ্বাস পরীক্ষা করা হয়। <ref>http://usatoday30.usatoday.com/news/nation/story/2012-05-17/citizenship-process-us/55040886/1</ref> = মূল শব্দের অধ্যায়ভিত্তিক শব্দকোষ = বিশ্ব ব্যবস্থা তত্ত্ব: এমন একটি ধারণা যেখানে কিছু দেশ অর্থনৈতিকভাবে অন্যান্য দেশের সুযোগ নেয় বা শোষণ করে। এটি দেশগুলোর তিনটি স্তরের বর্ণনা দেয়: কেন্দ্রীয়, প্রান্তিক এবং আধা-প্রান্তিক। বাণিজ্য উদারীকরণ: এমন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে পণ্যের অবাধ বাণিজ্য সহজ করা হয়। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ: যখন কোনো দেশ অন্য একটি জাতির ওপর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আর্থিক নিয়ন্ত্রণ রাখে। এটি সেই জাতির কেবল অর্থনৈতিক দিকগুলোকেই প্রভাবিত করে না। (ডব্লিউ০১৩৫৮৯৪৯) বাজার সংস্কৃতি: গ্রাহকদের জন্য আরও বেশি মূল্য তৈরি করতে কর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ওপর ব্যবসার ফোকাস। আমেরিকানাইজেশন বা আমেরিকানীকরণ: এমন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অন্যান্য দেশ সাংস্কৃতিকভাবে এবং অন্যভাবে আরও বেশি আমেরিকার মতো হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ: প্রযুক্তি বা সরকারি নীতির মাধ্যমে একটি সংস্কৃতির ওপর অন্য সংস্কৃতির অগ্রগতি। সমসত্ত্বতা: বিশ্বজুড়ে প্রতীক এবং ধারণা ছড়িয়ে দিয়ে জিনগত বৈচিত্র্য হ্রাস করা। এর মাধ্যমে কোনো কিছুকে (আদর্শ, আচার, নৈতিকতা ইত্যাদি) একই বা অনুরূপ করা হয়। যৌন পর্যটন: যখন পর্যটকরা যৌন কার্যকলাপে বিধিনিষেধের অভাবের ওপর ভিত্তি করে তাদের ছুটির স্থান নির্বাচন করে। ডায়াস্পোরা: একটি সাধারণ জাতিগত পরিচয় ভাগ করে নেওয়া যেকোনো জনসংখ্যার জোরপূর্বক বা স্বেচ্ছায় স্থানান্তর। তারা তাদের স্থায়ী অঞ্চল থেকে তাদের আগের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন নতুন অঞ্চলে যায়। বিশ্বায়ন: অর্থ, ধারণা এবং সংস্কৃতির প্রবাহ বৃদ্ধির সাথে মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি। বিশ্বজনীনতা: অন্যান্য সংস্কৃতি এবং চিন্তাধারার প্রতি নমনীয়, মানিয়ে নেওয়া এবং মুক্তমনা হওয়া। একটি বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা যেখানে সকল মানুষ অন্তর্ভুক্ত। বাস্তুচ্যুতি: যখন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লোকদের তাদের বসবাসের স্থান থেকে জোরপূর্বক বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরিয়ে দেওয়া হয়। = তথ্যসূত্র = {{reflist}} # বাউডার, হ্যারাল্ড। লেবার মুভমেন্ট: হাউ মাইগ্রেশন রেগুলেটস লেবার মার্কেটস। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউপি, ২০০৬। # ডয়ার, পিটার। আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোশ্যাল সিটিজেনশিপ। দ্য পলিসি পি, ২০০৪। # {{note|Schultz & Lavenda, 2009}} শুল্টজ, এমিলি এ. এবং লাভেন্ডা, রবার্ট এইচ. ২০০৯ কালচারাল অ্যানথ্রোপলজি: আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন। ৭ম সংস্করণ। এনওয়াই। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ২৬৬ # ম্যান্স, হেনরি। ওয়ান ওয়ার্ল্ড রিফিউজি গাইড। ফেব্রুয়ারি ২০০৭। http://uk.oneworld.net/guides/refugees # {{note|Schultz & Lavenda, 2009}} শুল্টজ, এমিলি এ. এবং লাভেন্ডা, রবার্ট এইচ. ২০০৯ কালচারাল অ্যানথ্রোপলজি: আ পার্সপেক্টিভ অন দ্য হিউম্যান কন্ডিশন। ৭ম সংস্করণ। এনওয়াই। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৪১০-৪১২ # শুল্টজ, এমিলি এবং রবার্ট লাভেন্ডা। কালচারাল অ্যানথ্রোপলজি। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৯। # কোয়ামে অ্যান্থনি অ্যাপিয়াহ কর্তৃক "কসমোপলিটানিজম: এথিকস ইন আ ওয়ার্ল্ড অফ স্ট্রেঞ্জারস (ইস্যুস অফ আওয়ার টাইম)" {{BookCat}} fs49uh42z4mhqtljw7f8h30n8ij359i সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/নৃবৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ইতিহাস 0 33439 106606 106342 2026-06-09T18:31:47Z NusJaS 8394 106606 wikitext text/x-wiki == ইতিহাস == === প্রাথমিক সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন === '''হেরোডোটাস''' [[File:AGMA Hérodote.jpg|thumb|right|হেরোডোটাসের আবক্ষ মূর্তি]] [[w:হেরোডোটাস|হেরোডোটাস]] পশ্চিমা ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাচীন নৃবিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তাঁর কাজ প্রাচীনতম নৃবৈজ্ঞানিক অধ্যয়নগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। তিনি “বহু দূর ভ্রমণ করে অন্যান্য মানুষ ও সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।” <sup>[৬]</sup> তিনি আজকের মতো নৃবিজ্ঞানের চর্চা করেননি। তা সত্ত্বেও তিনি অন্যান্য সংস্কৃতির কিংবদন্তি এবং জীবনযাত্রার একটি নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণ তৈরি করেছিলেন। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ভ্রমণ করে এবং প্রাথমিক বিষয় সম্পর্কিত পরোক্ষ বিবরণ ব্যবহার করে তিনি এটি করেছিলেন। “হ্যালিকার্নাসাসের হেরোডোটাস এখানে তাঁর অনুসন্ধান তুলে ধরেছেন। সময়ের সাথে মানুষের অর্জনগুলো যেন বিস্মৃত না হয়। গ্রিক বা অসভ্যদের দ্বারা প্রদর্শিত মহান ও চমৎকার কাজগুলো যেন তাদের গৌরব না হারায়।” –দ্য হিস্ট্রিজের প্রারম্ভিক বাক্য, হেরোডোটাস তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে (খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০ অব্দ) দ্য হিস্ট্রিজ নামে নয়টি খণ্ড লিখেছিলেন। হেরোডোটাস এতে গ্রিক ও পারসিকদের মধ্যে সংঘাতের বর্ণনা দিয়েছেন। তবে প্রায়শই তিনি কৃষ্ণ সাগরের কাছে বসবাসকারী সিথিয়ানদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শেখা বিষয়গুলো বর্ণনা করতে তাঁর মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে যান। তিনি সিথিয়ানদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জেনেছিলেন এবং তা বর্ণনা করেছিলেন। তিনি সিথিয়ানদের আরও উত্তরের যাযাবরদের সম্পর্কেও জানতে পেরেছিলেন। তাঁর বর্ণিত তথ্যগুলো প্রতিলিপি করার আগে অনেকবার অনুবাদ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাশিয়া এবং কাজাখস্তানে আধুনিক খননকাজে তাঁর বর্ণিত নিদর্শনগুলোর মতো নিদর্শন পাওয়া গেছে। == ইতিহাসের দিকে একটি দৃষ্টি == ==== ১৯শ শতাব্দী ==== আধুনিক সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের উদ্ভব ১৯শ শতাব্দীর "জাতিতত্ত্ব" বা সংস্কৃতির তুলনামূলক অধ্যয়নের প্রতিক্রিয়া হিসেবে হয়েছিল। এটি মানব সংস্কৃতি সম্পর্কে বিশ্লেষণাত্মক সাধারণীকরণ উপস্থাপন করে। ইংল্যান্ডের ই.বি. টাইলর এবং [[w:জেমস ফ্রেজার|জে.জি. ফ্রেজার]]ের মতো পণ্ডিতরা অন্যদের সংগৃহীত উপকরণ নিয়ে কাজ করেছিলেন। মিশনারি, ব্যবসায়ী, অভিযাত্রী বা ঔপনিবেশিক কর্মকর্তারা এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। এর কারণে তারা বর্তমানে "আর্ম-চেয়ার নৃবিজ্ঞানী" উপাধি অর্জন করেছেন। [[File:Rafael,_a_Chumash_who_shared_cultural_knowledge_with_Anthropologists.jpg|thumb|left|বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী মানুষের বিশ্বাস ও প্রথায় মিল থাকার বিষয়টি অনেকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল]] বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের বিশ্বাস এবং প্রথায় মিল থাকার কারণ নিয়ে জাতিতাত্ত্বিকদের বিশেষ আগ্রহ ছিল। এই প্রশ্নের সমাধান করতে গিয়ে ১৯শ শতাব্দীর জাতিতাত্ত্বিকরা দুটি চিন্তাধারায় বিভক্ত হয়েছিলেন। [[w:গ্রাফটন এলিয়ট স্মিথ|গ্রাফটন এলিয়ট স্মিথ]]ের মতো কয়েকজন যুক্তি দিয়েছিলেন বিভিন্ন গোষ্ঠী পরোক্ষভাবে হলেও কোনো না কোনোভাবে একে অপরের কাছ থেকে শিখেছিল। তাদের মতে সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে বা "প্রসারিত" হয়েছিল। স্কুলের খেলার মাঠের প্রেক্ষাপটে এই চিন্তাধারাটি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। সবাই সবচেয়ে জনপ্রিয় বা "কুল" বাচ্চার মতো হতে চায়। তারা তার জিনিসগুলো দেখে সেগুলো পেতে চায়। এই ধারণাটি একটি সমগ্র সংস্কৃতিতে প্রসারিত করা যেতে পারে। মানুষ অন্য একটি গোষ্ঠীকে নিজেদের চেয়ে ভালোভাবে কিছু করতে দেখে। এরপর তারা জীবনযাপনের নতুন ও কার্যকর উপায় শেখে। অন্যান্য জাতিতাত্ত্বিকরা দাবি করেছিলেন বিভিন্ন গোষ্ঠী স্বাধীনভাবে একই ধরনের বিশ্বাস এবং প্রথা উদ্ভাবনে সক্ষম। "স্বাধীন উদ্ভাবনের" সমর্থনকারী [[w:লুইস হেনরি মর্গান|মর্গানের]] মতো কয়েকজন ভিন্ন মত পোষণ করতেন। তাদের মতে এই মিলের অর্থ হলো বিভিন্ন গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক বিবর্তনের একই পর্যায় অতিক্রম করেছে। মর্গান বিশেষভাবে স্বীকার করেছিলেন যে সমাজ এবং সংস্কৃতির কিছু নির্দিষ্ট রূপ অন্যদের আগে উদ্ভূত হওয়া সম্ভব ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ কৃষিকাজের আগে শিল্পভিত্তিক কৃষিকাজ উদ্ভাবন করা সম্ভব ছিল না। ধাতু জড়িত পূর্ববর্তী গলনবিহীন প্রক্রিয়া (যেমন মাটি থেকে সংগ্রহ বা খনন) ছাড়া ধাতুবিদ্যার বিকাশ সম্ভব ছিল না। মর্গান ১৯শ শতাব্দীর অন্যান্য সামাজিক বিবর্তনবাদীদের মতোই আদিম থেকে সভ্যতায় একটি সুশৃঙ্খল অগ্রগতির ধারণায় বিশ্বাস করতেন। ==== ২০শ শতাব্দী ==== ২০শ শতাব্দীর নৃবিজ্ঞানীরা একটি ধারণা ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সমস্ত মানব সমাজকে একই ক্রমানুসারে একই পর্যায়গুলো অতিক্রম করতে হবে বলে ধারণাটি ছিল। বাস্তব তথ্য প্রমাণের সাথে ধারণাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার কারণে তারা এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মানব সমাজের এমন ব্যাপক বিকাশ দেখার পর আমরা এখন জানি যে সংস্কৃতিগুলো বিভিন্ন হারে পরিবর্তিত হয়। পরিবেশগত কারণ, অর্থনৈতিক সম্পদ এবং শিক্ষাগত উন্নয়নের কারণে এটি ঘটে। [[w:জুলিয়ান স্টুয়ার্ড|জুলিয়ান স্টুয়ার্ড]]ের মতো ২০শ শতাব্দীর কয়েকজন জাতিতাত্ত্বিক ভিন্ন যুক্তি দিয়েছিলেন। তাদের মতে এই মিলগুলো মূলত একই ধরনের পরিবেশের সাথে একই ধরনের মানিয়ে নেওয়াকে প্রতিফলিত করে। [[w:ক্লদ লেভি-স্ট্রস|ক্লদ লেভি-স্ট্রস]]ের মতো অন্যরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে বিকাশের আপাত ধরনগুলো মানুষের চিন্তার কাঠামোগত মৌলিক মিলগুলোকে প্রতিফলিত করে ([[w:কাঠামোবাদ|কাঠামোবাদ]] দেখুন)। তিনি আমেরিকান সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান এবং ফরাসি [[w:এমিল দ্যুর্কাইম|দ্যুর্কাইমীয়]] সমাজবিজ্ঞান উভয় দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। ২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পর্যায়গুলো এড়িয়ে যাওয়া মানুষের অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, এক প্রজন্মে শিকারী-সংগ্রাহক থেকে শিল্প-পরবর্তী পরিষেবা পেশায় যাওয়ার কথা বলা যায়। এই উদাহরণগুলো এত বেশি ছিল যে ১৯শ শতাব্দীর বিবর্তনবাদ কার্যকরভাবে খণ্ডিত হয়েছিল।<ref>ডায়মন্ড, জ্যারেড। |title=Guns, Germs and Steel |trans-title=গানস, জার্মস অ্যান্ড স্টিল</ref> ২০শ শতাব্দীতে বেশিরভাগ সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক নৃবিজ্ঞানী এথনোগ্রাফি বা জাতিতত্ত্ব রচনায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। এথনোগ্রাফি হলো কোনো সংস্কৃতির একটি কেস স্টাডি। কোনো গবেষক সেই সংস্কৃতিতে নিজেকে নিমজ্জিত করে এটি তৈরি করেন। সাধারণত নৃবিজ্ঞানী যথেষ্ট সময়ের জন্য অন্য একটি সমাজের মধ্যে বাস করেন। একইসাথে তিনি সেই গোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে [[w:অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ|অংশগ্রহণ করেন এবং তা পর্যবেক্ষণ করেন]]। সংস্কৃতি অধ্যয়নের এই উপায়টি সংস্কৃতির একটি অনেক বেশি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ইতিহাস জুড়ে থাকা আর্মচেয়ার নৃবিজ্ঞানীদের আগের পদ্ধতির বিপরীতে এই পণ্ডিতরা সেখানে গিয়ে মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। কোনো সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার উপায় হিসেবে এই এথনোগ্রাফিগুলো একটি দুর্দান্ত সম্পদ। তবে আরও বেশ কয়েকটি এথনোগ্রাফিক কৌশলের মাধ্যমে এথনোগ্রাফিক লেখা বা বিবরণ সংরক্ষিত হয়েছে। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা উপকরণ সংগ্রহ করেন। তারা পাঠাগার, চার্চ এবং স্কুলে রেকর্ড পড়ার জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। এছাড়া তারা কবরস্থান অনুসন্ধান করেন এবং প্রাচীন লিপি পাঠোদ্ধার করেন। একটি সাধারণ এথনোগ্রাফিতে প্রাকৃতিক ভূগোল, জলবায়ু এবং আবাসস্থল সম্পর্কিত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি আলোচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে একটি সামগ্রিক লেখা হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে প্রায়শই এতে অতীত ঘটনাগুলোর সম্ভাব্য দীর্ঘতম সময়কাল অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রাথমিক এবং গৌণ গবেষণার মাধ্যমে এথনোগ্রাফার এটি পেতে পারেন। ব্রনিস্ল ম্যালিনোস্কি ট্রোব্রিয়ান্ড দ্বীপপুঞ্জে মাঠপর্যায়ের গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন এবং ইংল্যান্ডে শিক্ষকতা করেছিলেন। তিনি এই পদ্ধতিটি তৈরি করেছিলেন। [[w:ফ্রাঞ্জ বোয়াস|ফ্রাঞ্জ বোয়াস]] এটির প্রচার করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বিকাশের জন্য বোয়াসের শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ সম্পর্কে তাঁর ধারণা ব্যবহার করেছিলেন। একই সময়ে ম্যালিনোস্কি এবং [[w:আলফ্রেড র‍্যাডক্লিফ-ব্রাউন|এ.আর. র‍্যাডক্লিফ-ব্রাউনের]] শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে সামাজিক নৃবিজ্ঞানের বিকাশ ঘটাচ্ছিলেন। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান প্রতীক এবং মূল্যবোধের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। অন্যদিকে সামাজিক নৃবিজ্ঞান সামাজিক গোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। বর্তমানে সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা এই সমস্ত উপাদান নিয়ে কাজ করেন। ১৯শ শতাব্দীর জাতিতাত্ত্বিকরা "প্রসারণ" এবং "স্বাধীন উদ্ভাবন"কে পরস্পর বিরোধী এবং প্রতিযোগিতামূলক তত্ত্ব হিসেবে দেখেছিলেন। তবে বেশিরভাগ এথনোগ্রাফার দ্রুত একমত হয়েছিলেন যে উভয় প্রক্রিয়াই ঘটে। উভয় প্রক্রিয়াই সম্ভবত আন্তঃসাংস্কৃতিক মিলের কারণ হতে পারে। কিন্তু এই এথনোগ্রাফাররা এ ধরনের অনেক মিলের অতি সাধারণ দিক নির্দেশ করেছিলেন। এমনকি প্রসারণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বৈশিষ্ট্যগুলো এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে যাওয়ার সময় প্রায়শই তাদের অর্থ এবং কাজ পরিবর্তন করে। সেই অনুযায়ী এই নৃবিজ্ঞানীরা সংস্কৃতির তুলনা, মানব প্রকৃতির সাধারণীকরণ বা সাংস্কৃতিক বিকাশের সর্বজনীন নিয়ম আবিষ্কারে কম আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এর বদলে তারা নির্দিষ্ট সংস্কৃতিগুলোকে তাদের নিজস্ব শর্তে বোঝার দিকে বেশি আগ্রহী ছিলেন। এ ধরনের এথনোগ্রাফার এবং তাদের শিক্ষার্থীরা "সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ" ধারণার প্রচার করেছিলেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিশ্বাস এবং আচরণ কেবল তার বসবাসের সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটেই বোঝা সম্ভব। ২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বিভিন্ন রূপে বিকশিত হয়েছিল। ইউরোপীয় "সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা" পর্যবেক্ষণ করা সামাজিক আচরণ এবং "সামাজিক কাঠামোর" ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। অর্থাৎ তারা সামাজিক ভূমিকার মধ্যে সম্পর্ক (যেমন- স্বামী-স্ত্রী বা পিতামাতা-সন্তান) এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন- ধর্ম, অর্থনীতি এবং রাজনীতি) ওপর জোর দিয়েছিলেন। আমেরিকান "সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা" মানুষের নিজেদের এবং তাদের বিশ্ব সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের উপায়গুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। বিশেষ করে শিল্পের এবং অতিকথার মতো প্রতীকী রূপের ওপর তারা জোর দিয়েছিলেন। এই দুটি পদ্ধতি প্রায়শই একত্রিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, আত্মীয়তা এবং নেতৃত্ব একইসাথে প্রতীকী ব্যবস্থা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এগুলো সাধারণত একে অপরের পরিপূরক ছিল। বর্তমানে প্রায় সমস্ত সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী উভয় পূর্বসূরিদের কাজের উল্লেখ করেন। মানুষ কী করে এবং মানুষ কী বলে তার প্রতি তাদের সমান আগ্রহ রয়েছে। ==== বর্তমান সময় ==== বর্তমানে এথনোগ্রাফি সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে আধিপত্য বজায় রেখেছে। তা সত্ত্বেও অনেক সমসাময়িক সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী এথনোগ্রাফির আগের মডেলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী এই মডেলগুলো স্থানীয় সংস্কৃতিকে "সীমাবদ্ধ" এবং "বিচ্ছিন্ন" হিসেবে বিবেচনা করত। এই নৃবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন স্থানের মানুষের জীবন যাপনের স্বতন্ত্র উপায়গুলো নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তারা প্রায়শই দাবি করেন কেবল স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জীবনের এই বিশেষ উপায়গুলো বোঝা যায় না। এর পরিবর্তে তারা বৃহত্তর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কাঠামো বোঝার প্রচেষ্টার সাথে স্থানীয় মনোযোগকে একত্রিত করেন। এসব বৃহত্তর কাঠামো স্থানীয় জীবনযাত্রার বাস্তবতায় প্রভাব ফেলে। এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন [[w:অর্জুন আপাদুরাই|অর্জুন আপাদুরাই]], [[w:জেমস ক্লিফোর্ড|জেমস ক্লিফোর্ড]], [[w:জর্জ মার্কাস|জর্জ মার্কাস]], [[w:সিডনি মিন্টজ|সিডনি মিন্টজ]], [[w:মাইকেল টসিগ|মাইকেল টসিগ]] এবং [[w:এরিক উলফ|এরিক উলফ]]। নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিশ্লেষণে বহুমুখী এথনোগ্রাফির ব্যবহার একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বলে মনে হয়। জর্জ মার্কাসের "এথনোগ্রাফি ইন/অফ দ্য ওয়ার্ল্ড সিস্টেম: দ্য ইমার্জেন্স অফ মাল্টি-সাইটেড এথনোগ্রাফি" নিবন্ধে এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বহুমুখী এথনোগ্রাফি সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক সামাজিক শৃঙ্খলার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখে। এটি স্থানিক এবং কালগত উভয়ভাবে বিভিন্ন স্থানে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ব্যবহার করে। স্থানীয় এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়গুলোতে বিশ্ব-ব্যবস্থার প্রভাব পরীক্ষা করার সময় এই পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ভালো অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া যেতে পারে। বহুমুখী এথনোগ্রাফিতে মাঠপর্যায়ের কাজের জন্য বৃহত্তর আন্তঃবিভাগীয় পদ্ধতিও উঠে আসছে। এটি সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন, মিডিয়া অধ্যয়ন, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি অধ্যয়নসহ অন্যান্য পদ্ধতি নিয়ে আসে। বহুমুখী এথনোগ্রাফিতে গবেষণা স্থানিক এবং কালগত সীমানা পেরিয়ে একটি বিষয় অনুসরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বহুমুখী এথনোগ্রাফি কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা "জিনিস"কে অনুসরণ করতে পারে। এটি বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় তাকে ট্র্যাক করে। বহুমুখী এথনোগ্রাফি ডায়াস্পোরাতে থাকা জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকেও অনুসরণ করতে পারে। এটি একাধিক স্থানে এবং একাধিক সময়ে উপস্থিত হওয়া গল্প বা গুজবকে অনুসরণ করতে পারে। একাধিক এথনোগ্রাফিক স্থানে উপস্থিত রূপক বা স্থান এবং সময়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়া ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জীবনীকেও এটি ট্র্যাক করতে পারে। এটি সীমানা অতিক্রমকারী সংঘাতগুলোকেও অনুসরণ করতে পারে। মানব অঙ্গ ব্যবসার আন্তর্জাতিক কালোবাজার নিয়ে করা [[w:ন্যান্সি শেপার-হিউজেস|ন্যান্সি শেপার-হিউজেস]]ের এথনোগ্রাফিটি বহুমুখী এথনোগ্রাফির একটি উদাহরণ। এই গবেষণায় তিনি পুঁজিবাদের বিভিন্ন আইনি ও বেআইনি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হওয়া অঙ্গগুলোকে অনুসরণ করেন। শিশু অপহরণ এবং অঙ্গ চুরি সম্পর্কে দরিদ্র সম্প্রদায়গুলোতে প্রচলিত গুজব এবং শহুরে কিংবদন্তিগুলোও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা ক্রমশ "পশ্চিমা" সংস্কৃতির দিকে তাদের অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, [[w:ফিলিপ বোর্গোয়া|ফিলিপ বোর্গোয়া]] ১৯৯৭ সালে মার্গারেট মিড পুরস্কার জিতেছিলেন। হারলেমের একটি ক্র্যাক-ডেনের উদ্যোক্তাদের নিয়ে করা গবেষণা ''ইন সার্চ অফ রেসপেক্টের'' জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। পেশাদার সম্প্রদায়ের এথনোগ্রাফিগুলোও ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। পরীক্ষাগার গবেষক, ওয়াল স্ট্রিট বিনিয়োগকারী, আইন সংস্থা বা আইটি কম্পিউটার কর্মীদের এথনোগ্রাফি এর অন্তর্ভুক্ত।<ref>[http://www.ingentaconnect.com/search/expand?pub=infobike://mcb/161/1995/00000008/00000003/art00003&unc= গবেষণামূলক প্রবন্ধের সারাংশ]</ref> == ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী == [[Image:Morgan.jpg|right|thumb|120px|লুইস হেনরি মর্গান]] === লুইস হেনরি মর্গান === লুইস হেনরি মর্গান ১৮১৮ সালের ২১ নভেম্বর নিউ ইয়র্কের অরোরার কাছে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৪০ সালে শেনেকট্যাডির ইউনিয়ন কলেজ থেকে স্নাতক হন এবং পেশায় অ্যাটর্নি হন। পরে তিনি পশ্চিম নিউ ইয়র্কের ইরোকোইস আদিবাসীদের নিয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি ইরোকোইস কনফেডারেশন সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি আত্মীয়তা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর কাজ, সামাজিক বিবর্তনের তত্ত্ব এবং ইরোকোইসদের এথনোগ্রাফির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। আত্মীয়তা হলো ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের জাল। এটি বেশিরভাগ সমাজের অধিকাংশ মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজকে কী একত্রে ধরে রাখে তা নিয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন। তিনি একটি ধারণা প্রস্তাব করেছিলেন যে আদিম মানব গার্হস্থ্য প্রতিষ্ঠান পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ছিল না, বরং সেটি ছিল মাতৃতান্ত্রিক গোত্র।<ref>https://en.wikipedia.org/wiki/Lewis_H._Morgan</ref> তাঁর লেখা “লিগ অফ দ্য হো-ডি-নো-সাউ-নি, অর ইরোকোইস” (১৮ ৫১) আদিবাসীদের প্রথম দিককার বস্তুনিষ্ঠ এথনোগ্রাফিক কাজগুলোর মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়। আত্মীয়তা ব্যবস্থার অধ্যয়ন বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগামী অর্জন। তিনি দেখতে পেয়েছিলেন যে সেনেকারা তাদের আত্মীয়দের পশ্চিমা সংস্কৃতির চেয়ে ভিন্নভাবে উল্লেখ করে। পশ্চিমা সংস্কৃতির মতো না হয়ে তারা চাচাতো ভাইবোন, ভাগ্নি এবং ফুফুদের মতো সমান্তরাল আত্মীয়দের পিতার, বোন এবং কন্যাদের মতো প্রত্যক্ষ বংশের সাথে একীভূত করে। [[Image:Edward_Burnett_Tylor.jpg|thumb|140px|left|ই. বি. টাইলর]] === এডওয়ার্ড বার্নেট টাইলর === স্যার এডওয়ার্ড বার্নেট টাইলর (১৮৩২-১৯১৭) ইংল্যান্ডের লন্ডনের ক্যাম্বারওয়েলে ১৮৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গ্রোভ হাউস হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন। তবে পিতামাতার মৃত্যুর কারণে তিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পাননি। পিতামাতার মৃত্যুর পর টাইলরের যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। উষ্ণ জলবায়ুর সন্ধানে তিনি ইংল্যান্ড ছেড়ে মধ্য আমেরিকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখানেই তিনি প্রথম নৃবিজ্ঞান নিয়ে তাঁর গবেষণা শুরু করেছিলেন। তাকে নৃবিজ্ঞানে সাংস্কৃতিক বিবর্তনবাদের প্রাথমিক প্রবক্তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৮৭১ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৮৭৫ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অফ সিভিল লজের সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১২ সালে তাঁর অবদানের জন্য তিনি নাইট উপাধি পেয়েছিলেন। এগুলো ছিল তাঁর পুরস্কার এবং অর্জন। তাঁর প্রথম বইটির যথাযথ নামকরণ করা হয়েছিল ''অ্যানথ্রোপলজি'' (১৮৮১)। এটি এর সাংস্কৃতিক ধারণা এবং তত্ত্বগুলোতে বেশ আধুনিক হিসেবে বিবেচিত। ১৮৮৩ সালে টাইলর অক্সফোর্ডের ইউনিভার্সিটি মিউজিয়ামে যোগ দেন। তিনি ১৮৯৬ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। টাইলরের বেশিরভাগ কাজে আদিম সংস্কৃতি এবং মানুষের মন, বিশেষত সর্বপ্রাণবাদ জড়িত ছিল। সর্বপ্রাণবাদ একটি দার্শনিক, ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী কেবল মানুষ এবং প্রাণী নয়, বরং উদ্ভিদ, শিলা এবং প্রাকৃতিক ঘটনার মধ্যেও আত্মা বা আত্মার অস্তিত্ব রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের ভিত্তি ছিল তাঁর কাজ। তাঁর পরবর্তী কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে: ''রিসার্চেস ইনটু দ্য আর্লি হিস্ট্রি অফ ম্যানকাইন্ড'' (১৮৬৫) এবং ''আনাহুয়াক'' (১৮৬১)। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ "প্রিমিটিভ কালচার" (১৮৭১)। এটি ডারউইনের জৈবিক বিবর্তন তত্ত্ব দ্বারা আংশিকভাবে প্রভাবিত ছিল। এটি আদিম থেকে আধুনিক সংস্কৃতির একটি বিবর্তনীয় এবং প্রগতিশীল সম্পর্কের তত্ত্ব তৈরি করেছিল। এটি "সংস্কৃতি বা সভ্যতা"কে "সেই জটিল সামগ্রিকতা যা জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্প, নৈতিকতা, আইন, প্রথা এবং সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত অন্য যেকোনো ক্ষমতা এবং অভ্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করে" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে এটি করেছিল। এই সংজ্ঞা একটি ধারণাকে উৎসাহিত করেছিল। আদিমদেরও এমন ক্ষমতা এবং অভ্যাস ছিল যা সম্মান পাওয়ার যোগ্য বলে ধারণাটিতে বলা হয়। এভাবে আদিমদের সম্পর্কে থাকা গতানুগতিক ধারণা পরিবর্তিত হয়েছিল।<ref>ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া</ref> ভ্রমণের সময় তাঁর [[w:হেনরি ক্রিস্টি|হেনরি ক্রিস্টি]] নামের একজনের সাথে দেখা হয়েছিল। ক্রিস্টি একজন কোয়েকার ছিলেন। তিনি জাতিতত্ত্ব এবং প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহী ছিলেন। এটি এই ক্ষেত্রগুলোতে টাইলরের আগ্রহকে প্রভাবিত করেছিল। === ফ্রাঞ্জ বোয়াস === [[Image:FranzBoas.jpg|left|100px|thumb|ফ্রাঞ্জ বোয়াস]]আমেরিকান নৃবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত ফ্রাঞ্জ বোয়াস ১৮৫৮ সালে জার্মানির মিনডেনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৮১ সালে কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে মাইনরসহ পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। পরে তিনি অধ্যাপক হন এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।<ref>{{cite web | title = Franz Boas |trans-title=ফ্রাঞ্জ বোয়াস | publisher= কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি | url=http://www.columbia.edu/cu/anthropology/about/main/one/boas.html | accessdate=2009-03-02}}</ref> কানাডার উত্তর ভ্যাঙ্কুভার এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্থানীয় জনসংখ্যার ওপর অধ্যয়নের জন্য বোয়াস সুপরিচিত। [[w:চার্লস ডারউইন|চার্লস ডারউইনের]] লেখা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বোয়াস সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্ব তৈরি করেছিলেন। মানুষ কী বলে এবং কী করে তা বুঝতে আমাদের নিজেদের মানদণ্ড ব্যবহার না করে বরং ওই সংস্কৃতির নিজস্ব লক্ষ্য, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাস ব্যবহার করে তার ব্যাখ্যা করাই হলো সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ। তিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় এই ক্ষেত্রে বর্ণগত পার্থক্যের গুরুত্বকে অস্বীকার করতে ব্যয় করেছিলেন। একসময় আর্মচেয়ার নৃবিজ্ঞান এবং বর্ণগত কুসংস্কার ব্যাপক ছিল। সেই সময় বোয়াস নিরপেক্ষ তথ্যের গুরুত্ব এবং তাঁর গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি পশ্চিমা সভ্যতার কথিত "সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের" ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বোয়াস আধুনিক নৃবিজ্ঞানকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ধাঁচে তার কঠোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি দিয়েছিলেন। তিনি শেখা আচরণ হিসেবে "সংস্কৃতি"র ধারণারও প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি সাধারণীকরণের চেয়ে গবেষণার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এটি বড় তত্ত্ব তৈরির ওপর জোর দিয়েছিল (যা কেবল মাঠপর্যায়ের কাজের মাধ্যমেই পরীক্ষা করা হয়েছিল) [http://www.nndb.com/people/861/000097570/ লিঙ্ক: বোয়াস]। বোয়াস সত্যই এথনোগ্রাফি তৈরি করা প্রথম ব্যক্তি ছিলেন। এথনোগ্রাফি হলো নৃবৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের একটি বর্ণনামূলক বিবরণ। বোয়াসের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন নৃবিজ্ঞানী [[w:আলফ্রেড এল. ক্রোয়েবার|আলফ্রেড এল. ক্রোয়েবার]], [[w:মার্গারেট মিড|মার্গারেট মিড]], [[w:জুলস হেনরি|জুলস হেনরি]] এবং [[w:অ্যাশলে মন্টাগু|অ্যাশলে মন্টাগু]]। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৩৭ সালে বোয়াস এমেরিটাস অধ্যাপক হন। তিনি ১৯৪২ সালে মারা যান। === রুথ বেনেডিক্ট === [[image:Ruth Benedict.jpg|140px|right]] [[w:রুথ বেনেডিক্ট|রুথ বেনেডিক্ট]] একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। আমেরিকান নৃবিজ্ঞানের জনক তাঁর পরামর্শদাতা এবং শিক্ষক ফ্রাঞ্জ বোয়াস দ্বারা তাঁর কাজ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। তিনি ১৮৮৭ সালের ৫ জুন নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি ১৯০৯ সালে ভাসার কলেজ থেকে স্নাতক হন। ১৯১৯ সালে তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শুরু করেন। ফ্রাঞ্জ বোয়াসের অধীনে পড়াশোনা করে তিনি ১৯২৩ সালে পিএইচডি লাভ করেন। তাঁর বই <u>প্যাটার্নস অফ কালচার</u> (১৯৩৪) চৌদ্দটি ভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল এবং বহু বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যবহৃত হয়েছিল। বইটির মূল ধারণা হলো প্রতিটি সংস্কৃতি "মানবিক ব্যক্তিত্বের বৃহৎ বৃত্ত" থেকে বেছে নেয়। তবে মানুষের চরিত্রের পাশাপাশি সমাজের সামগ্রিক চরিত্রে কেবল প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্যগুলোই আবির্ভূত হয়। রুথ বেনেডিক্ট একটি ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন যে ব্যক্তি-বিকাশ জাতি-বিকাশের পুনরাবৃত্তি করে। এই ধারণা অনুযায়ী ব্যক্তির বৃদ্ধি বা পরিবর্তন হলো প্রজাতির বৃদ্ধি বা পরিবর্তনের একটি প্রতিফলন। প্রতিটি সংস্কৃতির নিজস্ব নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন। কোনো সংস্কৃতিকে সামগ্রিকভাবে অধ্যয়ন করলেই কেবল এগুলো বোঝা সম্ভব। বেনেডিক্ট নিউ মেক্সিকোতে স্থানীয় আমেরিকান পুয়েবলোদের সাথে মাঠপর্যায়ে গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন। তিনি তার গবেষণার পরিপূরক হিসেবে ফ্রাঞ্জ বোয়াস এবং মার্গারেট মিডের মতো অন্যান্য সহকর্মীদের তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। === মার্গারেট মিড === [[Image:Margaret Mead NYWTS.jpg|left|thumb|মার্গারেট মিড]][[w:মার্গারেট মিড|মার্গারেট মিড]] (১৯০১-১৯৭৯) পাঁচ বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন। মিড ১৯০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বার্নার্ড কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন<sup>৩</sup>। সেখানেই তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা নৃবিজ্ঞানী রুথ বেনেডিক্ট এবং ফ্রাঞ্জ বোয়াসের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি তাঁর জীবনে তিনবার বিয়ে করেছিলেন। প্রত্নতাত্ত্বিক লুথার শেলি ক্রেসম্যানের সাথে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল। তাঁর তৃতীয় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিয়ে (১৯৩৬-১৯৫০) ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী গ্রেগরি বেটসনের সাথে হয়েছিল। তাদের মেরি ক্যাথরিন বেটসন নামে একটি মেয়ে ছিল। তিনিও একজন নৃবিজ্ঞানী হয়েছিলেন। মার্গারেট মিড মূলত সামোয়া, নিউ গিনি এবং বালিতে সন্তান পালন এবং ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। এখানেই তিনি তাঁর গবেষণায় একটি ইতিবাচক পদ্ধতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মিড তাঁর কাজের বক্তা এবং লেখিকা হিসেবে গণমাধ্যমেও জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে মার্গারেট মিড [http://www.jstor.org/stable/663810 নিয়ন্ত্রিত তুলনা] নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে অনুমান পরীক্ষা করা হতো। প্রতিটি পরিবেশ একটি পৃথক পরীক্ষার সাথে মিলে যেত। এটি মিডের মতো নৃবিজ্ঞানীদের কৃত্রিম ল্যাবের পরিবেশের পরিবর্তে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মানবজীবন অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছিল। লিঙ্গ ভূমিকার পরিসর এবং কারণ আবিষ্কারের প্রয়াসে তিনি চারটি ভিন্ন সমাজ অধ্যয়ন করার সময় এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেছিলেন। এটি আজও ব্যবহৃত হয়। মার্গারেট মিড প্রগতিশীল প্রস্তাব প্রবর্তন এবং একজন কর্মী হওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তাঁর খোলামেলা সমর্থন ছিল তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় অবস্থানগুলোর মধ্যে একটি। তাঁর প্রাপ্ত তথ্য থেকে তিনি অনেক এথনোগ্রাফিক লেখা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কামিং অফ এজ ইন সামোয়া (১৯২৮) এবং সেক্স অ্যান্ড টেম্পারামেন্ট ইন থ্রি প্রিমিটিভ সোসাইটিস (১৯৩৫)<sup>৩</sup> এর মধ্যে অন্যতম। === জুলিয়ান স্টুয়ার্ড === [[Image:Julian Steward.jpg|thumb|250px|right|অজ্ঞাত আদিবাসী পুরুষ (ক্যারিয়ার ইন্ডিয়ান) (সম্ভবত স্টুয়ার্ডের তথ্যদাতা, চিফ লুই বিলি প্রিন্স) এবং জুলিয়ান স্টুয়ার্ড, ১৯৪০]] [[w:জুলিয়ান স্টুয়ার্ড|জুলিয়ান স্টুয়ার্ড]] ১৯০২ সালের ৩১ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্মগ্রহণ করেন। স্টুয়ার্ড ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯২৫ সালে তিনি প্রাণিবিদ্যায় বিএসসি নিয়ে স্নাতক হন। স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য তিনি বার্কলেতে ফিরে আসেন। ১৯২৯ সালে তিনি দ্য সেরিমোনিয়াল বাফুন অফ দ্য আমেরিকান ইন্ডিয়ান, আ স্টাডি অফ রিচ্যুয়ালাইজড ক্লাউনিং অ্যান্ড রোল রিভার্সালস শিরোনামের একটি গবেষণাপত্র নিয়ে নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। এরপর স্টুয়ার্ড মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি ১৯৩০ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছিলেন। লেসলি হোয়াইটের নিয়োগ এবং নির্দেশনায় বিভাগটি পরে পরিচিতি লাভ করে। স্টুয়ার্ড লেসলি হোয়াইটের "সর্বজনীন" সাংস্কৃতিক বিবর্তনের মডেলের সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন। ১৯৪৬ সালে স্টুয়ার্ডের কর্মজীবন শীর্ষে পৌঁছায়। তখন তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব নেন। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নৃবিজ্ঞানের কেন্দ্র ছিল। স্টুয়ার্ড দ্রুত এমন একদল শিক্ষার্থী তৈরি করেছিলেন যারা নৃবিজ্ঞানের ইতিহাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এদের মধ্যে সিডনি মিন্টজ, এরিক উলফ, রয় র‍্যাপাপোর্ট, স্ট্যানলি ডায়মন্ড, রবার্ট ম্যানার্স, মর্টন ফ্রিড এবং রবার্ট এফ. মারফি ছিলেন। তিনি মারভিন হ্যারিসের মতো অন্যান্য পণ্ডিতদেরও প্রভাবিত করেছিলেন। এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই পুয়ের্তো রিকো প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এটি পুয়ের্তো রিকোয় আধুনিকায়নের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা আরেকটি বড় আকারের দলগত গবেষণা ছিল। স্টুয়ার্ড কলম্বিয়া ছেড়ে আরবানা-শ্যাম্পেইনের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। ১৯৬৮ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে শিক্ষকতা চালিয়ে যান। সেখানে তিনি আরেকটি বড় আকারের গবেষণা গ্রহণ করেছিলেন। এটি তৃতীয় বিশ্বের এগারোটি সমাজে আধুনিকায়নের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ ছিল। এই গবেষণার ফলাফল কন্টেম্পোরারি চেঞ্জ ইন ট্র্যাডিশনাল সোসাইটিস শিরোনামে তিনটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। স্টুয়ার্ড ১৯৭২ সালে মারা যান। স্টুয়ার্ড তার পদ্ধতি এবং সাংস্কৃতিক বাস্তুবিদ্যার তত্ত্বের জন্য সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথম তিন দশকে আমেরিকান নৃবিজ্ঞান সাধারণীকরণের ব্যাপারে সন্দিহান ছিল। নৃবিজ্ঞানীদের তৈরি অত্যন্ত বিস্তারিত মনোগ্রাফগুলো থেকে তারা প্রায়শই বৃহত্তর উপসংহার টানতে অনিচ্ছুক ছিল। স্টুয়ার্ড নৃবিজ্ঞানকে এই বিশেষায়িত পদ্ধতি থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য। তিনি একটি আরও নিয়মতান্ত্রিক ও সামাজিক-বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা তৈরি করেছিলেন। তার "বহুমুখী" সাংস্কৃতিক বিবর্তন তত্ত্ব সমাজগুলো কীভাবে তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয় তা পরীক্ষা করেছিল। সমাজের বিবর্তনের প্রতি স্টুয়ার্ডের আগ্রহ তাকে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়াগুলো পরীক্ষা করতেও পরিচালিত করেছিল। সমাজের জাতীয় এবং স্থানীয় স্তর একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত তা পরীক্ষা করা প্রথম নৃবিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। মানবতার সমগ্র বিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন একটি সামাজিক তত্ত্ব তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে নৃবিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট বা বিদ্যমান সংস্কৃতির বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। স্টুয়ার্ড বিশ্বাস করতেন নির্দিষ্ট যুগ বা অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী সাধারণ বা প্রচলিত সংস্কৃতি বিশ্লেষণ করে তত্ত্ব তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া তিনি তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে কিছু নির্ধারক কারণ (প্রযুক্তি এবং অর্থনীতি) এবং গৌণ কারণ (রাজনৈতিক ব্যবস্থা, মতাদর্শ, ধর্ম ইত্যাদি) কোনো প্রদত্ত সংস্কৃতির বিকাশ নির্ধারণ ও প্রভাবিত করে। === রে বার্ডহুইস্টেল === [[w:রে বার্ডহুইস্টেল|রে এল.]] ১৯১৮ সালে ওহাইওর সিনসিনাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি লাভ করেন। জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তিনি টরন্টো, লুইসভিলে এবং বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর তিনি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হন। সেখানে তিনি [[w:অশাব্দিক যোগাযোগ|অশাব্দিক যোগাযোগ]] এবং [[w:কাইনেসিস|কাইনেসিসে]] তাঁর আগ্রহ নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। বার্ডহুইস্টেল চলচ্চিত্রে মানুষের মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁর অধ্যয়নের বেশিরভাগ অংশ পেয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণগুলো উপসংহারে পৌঁছেছিল যে লোকেরা তথ্য জানাতে চোখের নড়াচড়া, মুখের অভিব্যক্তি এবং বুক ব্যবহার করে। বার্ডহুইস্টেল কাইনেসিসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সাংস্কৃতিকভাবে বিন্যাসিত দৃশ্যমান যোগাযোগ হিসেবে মানুষের পরিবেশের অধ্যয়নই হলো কাইনেসিস। তিনি কাইনেসিস সম্পর্কে দুটি পাঠ্য প্রকাশ করেছিলেন। এগুলোর একটি হলো ''ইন্ট্রোডাকশন টু কাইনেসিস'' এবং অন্যটি হলো বেশি পরিচিত ''কাইনেসিস ইন কনটেক্সট''। বার্ডহুইস্টেল প্রখ্যাত লোককথাবিদ এবং এথনোমিউজিকোলজিস্ট [[w:অ্যালান লোম্যাক্স|অ্যালান লোম্যাক্সের]] পরামর্শদাতা ছিলেন। যোগাযোগ ও ভাষা অধ্যায়ে কাইনেসিস সম্পর্কে আরও জানুন। === মারভিন হ্যারিস === মারভিন হ্যারিস (১৯২৭-২০০১) ১৯২৭ সালের ১৮ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণ করেন। হ্যারিস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং এরপর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। স্নাতক হওয়ার পর হ্যারিস কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সহকারী অধ্যাপক হন। সংস্কৃতির আদর্শিক বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁর অধ্যয়নের মূল ফোকাস ছিল। পরে হ্যারিস ১৯৫৭ সালে মোজাম্বিকে মাঠপর্যায়ের কাজ করেছিলেন। তখন তিনি আচরণগত দিকগুলোর ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেন। ভারতীয় সংস্কৃতির ‘পবিত্র গরু’ সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যার জন্যও তিনি সুপরিচিত। হ্যারিস তাঁর মাঠপর্যায়ের বেশিরভাগ কাজ ব্রাজিল, মোজাম্বিক, ভারত এবং ইকুয়েডরে করেছিলেন। হ্যারিস একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। সাংস্কৃতিক বস্তুবাদে তাঁর লেখা এবং প্রভাবের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। হ্যারিসের অধ্যয়নগুলো মূলত লাতিন আমেরিকা এবং ব্রাজিলের ওপর ভিত্তি করে ছিল। হ্যারিস তাঁর নিজস্ব মতামত এবং ধারণা তৈরিতে সাহায্য করতে কার্ল মার্কস এবং ম্যালথাসের তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। হ্যারিসের ১৬টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছিল। হ্যারিসের লেখা দ্য রাইজ অফ অ্যানথ্রোপলজিকাল থিওরি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর আমেরিকান অ্যানথ্রোপলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন তাঁর তত্ত্ব নিয়ে প্রচুর আলোচনা এবং সমালোচনা করেছিল। হ্যারিসের কাজ নৃবিজ্ঞানীদের তাঁর অধ্যয়ন সম্পর্কে জানতে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছে। === নেপোলিয়ন শ্যাগনন === [[Image:Alto orinoco5.jpg|thumb|200px|right|ইয়ানোমামি শিশু]][[w:নেপোলিয়ন শ্যাগনন|নেপোলিয়ন শ্যাগনন]] ১৯৩৮ সালে মিশিগানের পোর্ট অস্টিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী। ভেনেজুয়েলা এবং ব্রাজিলের মধ্যে থাকা আমাজনের [[w:ইয়ানোমামি|ইয়ানোমামি]] উপজাতির সাথে এথনোগ্রাফিক কাজের জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের বিবর্তনীয় তত্ত্ব বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি প্রথমে ইয়ানোমামি উপজাতিকে অসভ্য হিসেবে নথিভুক্ত করেছিলেন। তারা তাঁর সাথে খুব খারাপ আচরণ করেছিল। সময়ের সাথে সাথে তিনি উপজাতির কার্যকলাপ সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন। তিনি শাকি ডাকনাম পান যার অর্থ "বিরক্তিকর মৌমাছি"। ইয়ানোমামিদের নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে শ্যাগনন এই লোকদের বংশতালিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। কে বিবাহিত, কে কার আত্মীয় এবং তাদের সহযোগিতা ও বসতি স্থাপনের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে তিনি এটি করেছিলেন। এই গবেষণার মাধ্যমে তিনি সমাজবিজ্ঞান এবং মানব আচরণগত বাস্তুবিদ্যা ক্ষেত্রে একজন পথিকৃৎ ছিলেন। ইয়ানোমামি মানুষ এবং তাদের সমাজ নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করে তিনি দৃশ্যমান নৃবিজ্ঞানেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে টিম অ্যাশের সাথে তৈরি করা ''দ্য ইয়ানোমামো সিরিজ''। ইয়ানোমামো সংস্কৃতির ওপর ২২টি পৃথক চলচ্চিত্র এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- ''দ্য অ্যাক্স ফাইট'' (১৯৭৫), ''চিলড্রেনস ম্যাজিকাল ডেথ'' (১৯৭৪), ''ম্যাজিকাল ডেথ'' (১৯৮৮), ''আ ম্যান কলড বি: আ স্টাডি অফ দ্য ইয়ানোমামো'' (১৯৭৪) এবং ''ইয়ানোমামো অফ দ্য অরিনোকো'' (১৯৮৭)। তিনি ইয়ানোমামি সংস্কৃতি নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ''ইয়ানোমামো: দ্য ফিয়ার্স পিপল'' (১৯৬৮)। নিউ ইয়র্কে লেখা এন. শ্যাগননের (১৯৭৪) স্টাডিং দ্য ইয়ানোমামো, হোল্ট, রাইনহার্ট অ্যান্ড উইনস্টনও এর মধ্যে আছে। এছাড়া রয়েছে ''ইয়ানোমামো - দ্য লাস্ট ডেজ অফ ইডেন'' (১৯৯২)। তাঁর কাজের বেশিরভাগই সংস্কৃতির বিকাশ নথিভুক্ত করার উদ্দেশ্যে ছিল। তবে তাঁকে সংস্কৃতির ধ্বংসকারী হিসেবেও কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। প্যাট্রিক টিয়ার্নির লেখা ''ডার্কনেস ইন এল ডোরাডো'' বই অনুসারে, শ্যাগনন ইয়ানোমামিদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন। টিয়ার্নির সমস্ত দাবি খণ্ডন করা হয়েছে। তবে এটি সত্য যে বাইরের অন্যান্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসার কারণে এই উপজাতির লোকেরা এমন কিছু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যার বিরুদ্ধে তাদের শরীর লড়তে পারেনি। শ্যাগনন কেবল তাঁর এথনোগ্রাফির জন্যই পরিচিত ছিলেন না। তিনি তাঁর কাজ এবং মতামত নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্কের জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। === পল ফার্মার === [[File:Paul_Farmer.jpg‎|thumb|বেশ গম্ভীর চেহারার পল ফার্মার।]] পল ফার্মার একজন সুপরিচিত চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রির জন্য কাজ করার সময় তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কাজ শুরু করেছিলেন। এটি বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সঠিক চিকিৎসা প্রদানের বিষয়ে তাঁর আজীবন মনোযোগের সূচনা করেছিল। অলাভজনক কাজের মাধ্যমে এবং দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক পরিবর্তনকে নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার মাধ্যমে তিনি এটি করেছিলেন। হার্ভার্ডে ফার্মার সংক্রামক রোগে বিশেষজ্ঞ হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি যক্ষ্মার মতো এমন রোগগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন যা দরিদ্রদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করে। ১৯৮৭ সালে ফার্মার পার্টনার্স ইন হেলথ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। আজ পর্যন্ত সংস্থাটি হাইতির গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১,০০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। এছাড়া এটি সাইবেরিয়ার বন্দিদের এবং লিমা ও পেরুর বস্তিগুলোতে ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা নিরাময়ে কাজ করে। ফার্মার তাঁর নৃবৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং এথনোগ্রাফিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে অভাবীদের জন্য টেকসই ও ব্যবহারিক স্বাস্থ্যসেবা তৈরি করেন। সামাজিক এবং কাঠামোগত সহিংসতার কারণে সেই সমাজগুলোতে হওয়া নেতিবাচক প্রভাবগুলো দূর করতে তিনি কাজ করেন। ফার্মার "ব্যবহারিক সংহতি" ধারণার জন্য সুপরিচিত। এই ধারণাটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন মেটাতে কাজ করার কথা বলে। ফার্মারকে বেশ কয়েকটি সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। কনরাড এন. হিলটন হিউম্যানিটারিয়ান প্রাইজ, আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ান অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০৭ সালের অস্টিন কলেজ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এর মধ্যে অন্যতম। == মূল শব্দের অধ্যায়ভিত্তিক শব্দকোষ == == তথ্যসূত্র == <div class='references-small'> <references/> </div> <2.http://www.mnsu.edu/emuseum/information/biography/abcde/birdwhistell_ray.html> *৩. দেল মন্ট, ক্যাথলিন, কারেন বাচম্যান, ক্যাথরিন ক্লেইন এবং ব্রিজেট ম্যাককর্প। "মার্গারেট মিড"। সেলিব্রেটিং উইমেন অ্যানথ্রোপলজিস্টস। ২৬ জুন ১৯৯৯। ৯ মার্চ ২০০৯ <http://anthropology.usf.edu/women/>। ৪. অ্যাবসোলিউট অ্যাস্ট্রোনমি। "রে বার্ডহুইস্টেল" ৯ মার্চ ২০০৯ <http://www.absoluteastronomy.com/topics/Ray_Birdwhistell><br> ৫. এনএনডিবি: ট্র্যাকিং দ্য এনটায়ার ওয়ার্ল্ড। "ফ্রাঞ্জ বোয়াস।" <http://www.nndb.com/people/861/000097570/> ৬. “‘সিনফুল’ সংস অফ দ্য সাউদার্ন নিগ্রো”। সাউথওয়েস্ট রিভিউ ১৯, ২ (শীতকাল ১৯৩৪): ১০৫–১৩১। {{chapter navigation|ভূমিকা|নৃবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি}} 4jub7plici7oehv0oaw9rpzqjt0tixi টেমপ্লেট:একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি 10 33483 106590 2021-12-04T17:55:02Z আফতাবুজ্জামান 1621 106590 wikitext text/x-wiki <templatestyles src="একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি/শৈলী.css" />{{#ifeq:{{NAMESPACE}}|{{ns:0}}|{{বিন্যাসন ত্রুটি|টেমপ্লেট:আউ শুধুমাত্র আলাপ ও প্রকল্পের পাতায় উক্তির জন্য। প্রকৃত নিবন্ধে এটি ব্যবহার করবেন না।}}|<!-- --><q {{#if: {{{title|}}} | title="{{{title}}}"}} class="inline-quote-talk {{#if: {{{i|{{{italic|}}}}}} | inline-quote-talk-italic}} {{#if: {{{q|{{{quotes|}}}}}}|inline-quote-talk-marks}}">{{{1|উদাহরণস্বরূপ পাঠ}}}</q><!-- -->}}<noinclude> {{নথি}} </noinclude> al2q2fmqt4cqsq89v6snunu3w4yqp67 106591 106590 2026-06-09T14:29:21Z MdsShakil 7280 [[:w:টেমপ্লেট:একই_সরলরেখায়_আলাপের_উক্তি]] থেকে ১টি সংস্করণ আমদানি করা হয়েছে 106590 wikitext text/x-wiki <templatestyles src="একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি/শৈলী.css" />{{#ifeq:{{NAMESPACE}}|{{ns:0}}|{{বিন্যাসন ত্রুটি|টেমপ্লেট:আউ শুধুমাত্র আলাপ ও প্রকল্পের পাতায় উক্তির জন্য। প্রকৃত নিবন্ধে এটি ব্যবহার করবেন না।}}|<!-- --><q {{#if: {{{title|}}} | title="{{{title}}}"}} class="inline-quote-talk {{#if: {{{i|{{{italic|}}}}}} | inline-quote-talk-italic}} {{#if: {{{q|{{{quotes|}}}}}}|inline-quote-talk-marks}}">{{{1|উদাহরণস্বরূপ পাঠ}}}</q><!-- -->}}<noinclude> {{নথি}} </noinclude> al2q2fmqt4cqsq89v6snunu3w4yqp67 টেমপ্লেট:একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি/শৈলী.css 10 33484 106592 2021-12-04T20:00:10Z আফতাবুজ্জামান 1621 106592 sanitized-css text/css /* {{pp-template}} */ .inline-quote-talk { font-family: 'Noto Sans Bengali', 'Shonar Bangla', sans; color: #008560; quotes: none; } .inline-quote-talk-italic { font-family: inherit; font-style: italic; } .inline-quote-talk-marks { quotes: '"' '"'; } iylkldzw6rca1nmjfg6bg21yut8ggcn 106593 106592 2021-12-04T20:00:28Z আফতাবুজ্জামান 1621 106593 sanitized-css text/css .inline-quote-talk { font-family: 'Noto Sans Bengali', 'Shonar Bangla', sans; color: #008560; quotes: none; } .inline-quote-talk-italic { font-family: inherit; font-style: italic; } .inline-quote-talk-marks { quotes: '"' '"'; } mmodt5033irn910s3zqfmff6zpi0s6v 106594 106593 2024-10-13T23:07:38Z আফতাবুজ্জামান 1621 106594 sanitized-css text/css @media screen { html.skin-theme-clientpref-night .inline-quote-talk { color: #00B785; } } @media screen and ( prefers-color-scheme: dark) { html.skin-theme-clientpref-os .inline-quote-talk { color: #00B785; } } .inline-quote-talk { font-family: 'Noto Sans Bengali', 'Shonar Bangla', sans; color: #008560; quotes: none; } .inline-quote-talk-italic { font-family: inherit; font-style: italic; } .inline-quote-talk-marks { quotes: '"' '"'; } f8zfhilp9k08ixg1299m4dwmg36mmsc 106595 106594 2026-06-09T14:29:55Z MdsShakil 7280 [[:w:টেমপ্লেট:একই_সরলরেখায়_আলাপের_উক্তি/শৈলী.css]] থেকে ৩টি সংস্করণ আমদানি করা হয়েছে 106594 sanitized-css text/css @media screen { html.skin-theme-clientpref-night .inline-quote-talk { color: #00B785; } } @media screen and ( prefers-color-scheme: dark) { html.skin-theme-clientpref-os .inline-quote-talk { color: #00B785; } } .inline-quote-talk { font-family: 'Noto Sans Bengali', 'Shonar Bangla', sans; color: #008560; quotes: none; } .inline-quote-talk-italic { font-family: inherit; font-style: italic; } .inline-quote-talk-marks { quotes: '"' '"'; } f8zfhilp9k08ixg1299m4dwmg36mmsc