উইকিবই bnwikibooks https://bn.wikibooks.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.6 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিবই উইকিবই আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা উইকিশৈশব উইকিশৈশব আলাপ বিষয় বিষয় আলাপ রন্ধনপ্রণালী রন্ধনপ্রণালী আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা উইকিবই:সম্পাদনার সংখ্যা অনুযায়ী উইকিবইয়ের সম্পাদকগণ/১-১০০ 4 10682 106656 106494 2026-06-12T05:50:15Z KanikBot 8129 হালনাগাদ 106656 wikitext text/x-wiki :সর্বশেষ হালনাগাদ: ০৫:৫০, ১২ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) {| class="wikitable" ! নং !! ব্যবহারকারী নাম !! মোট সম্পাদনা |- |১||{{u|MdsShakil}}||১১৩৯৫ |- |২||{{u|Aishik Rehman}}||৪৮২৭ |- |৩||{{u|ShahadatHossain}}||৪২১৫ |- |৪||{{u|Tahmid}}||৩৫৯০ |- |৫||{{u|Salil Kumar Mukherjee}}||৩৫৮৩ |- |৬||{{u|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}||২৩২০ |- |৭||{{u|R1F4T}}||২০৩৪ |- |৮||{{u|কমলেশ মন্ডল}}||২০১২ |- |৯||{{u|Sumanta3023}}||১৮৭৩ |- |১০||{{u|SMontaha32}}||১৫১১ |- |১১||{{u|IqbalHossain}}||১২৭৯ |- |১২||{{u|Mehedi Abedin}}||১২৩৪ |- |১৩||{{u|Jonoikobangali}}||১২৩১ |- |১৪||{{u|Asikur Rahman}}||১২২২ |- |১৫||{{u|Tuhin}}||১২১৬ |- |১৬||{{u|RDasgupta2020}}||১১৫২ |- |১৭||{{u|SHEIKH}}||১১১৭ |- |১৮||{{u|Sumasa}}||১০৮২ |- |১৯||{{u|Md Rashidul Hasan Biplob}}||১০৮১ |- |২০||{{u|Md Mobashir Hossain}}||১০৭৭ |- |২১||{{u|Sheikh Mehedi Hassan}}||১০২৯ |- |২২||{{u|MD Abu Siyam}}||১০২৮ |- |২৩||{{u|ARI}}||১০০০ |- |২৪||{{u|Md.Farhan Mahmud}}||৯৩৮ |- |২৫||{{u|Alphaa Noman}}||৯২৩ |- |২৬||{{u|Nettime Sujata}}||৯২১ |- |২৭||{{u|আ হ ম সাকিব}}||৯১৭ |- |২৮||{{u|MS Sakib}}||৮৪৯ |- |২৯||{{u|Rajan chandra Saha Raju}}||৮৩৩ |- |৩০||{{u|আফতাবুজ্জামান}}||৭৯১ |- |৩১||{{u|AstroWizard}}||৭৬৫ |- |৩২||{{u|Yahya}}||৭২৬ |- |৩৩||{{u|NusJaS}}||৬৯৮ |- |৩৪||{{u|Sàádî}}||৬৭৮ |- |৩৫||{{u|শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য}}||৬৪৬ |- |৩৬||{{u|Suadur Rahman}}||৬২৩ |- |৩৭||{{u|Firuz Ahmmed}}||৫৯০ |- |৩৮||{{u|Jayantanth}}||৪৮৩ |- |৩৯||{{u|Bosesukla}}||৪৪০ |- |৪০||{{u|MdaNoman}}||৪৩৪ |- |৪১||{{u|Belayet73}}||৪০৯ |- |৪২||{{u|Amirhusenjihed}}||৪০৫ |- |৪৩||{{u|Pathoschild}}||৩৭৩ |- |৪৪||{{u|Szilard}}||৩৫৭ |- |৪৫||{{u|Ei to ami akash}}||৩৫১ |- |৪৬||{{u|মুকতাদির}}||৩৫০ |- |৪৭||{{u|RiazACU}}||৩৪৪ |- |৪৮||{{u|Mcepy}}||৩৪০ |- |৪৯||{{u|JIBON}}||৩২১ |- |৫০||{{u|NahidSultan}}||৩১৮ |- |৫১||{{u|তুষার কান্তি ষন্নিগ্রহী}}||৩১৬ |- |৫২||{{u|ZI Jony}}||৩১৪ |- |৫৩||{{u|Mahbubslt}}||৩১১ |- |৫৪||{{u|Gallileo2k}}||৩০৬ |- |৫৫||{{u|স্বপ্নীল কর্মকার কাব্য}}||২৯৮ |- |৫৬||{{u|Muhammad}}||২৯৭ |- |৫৭||{{u|Md Aahradul Islam Tasin}}||২৮৫ |- |৫৮||{{u|Sheikh MD. Obaidul Hossain}}||২৭৬ |- |৫৯||{{u|Kazi Anan}}||২৬৯ |- |৬০||{{u|নিয়াজ ইসলাম}}||২৬৮ |- |৬১||{{u|The Piash}}||২৫৮ |- |৬২||{{u|M.Asaduzzaman sahed}}||২৪৭ |- |৬৩||{{u|Gobindo Sarkar}}||২৩৮ |- |৬৪||{{u|তারেক বাবলু}}||২৩৭ |- |৬৫||{{u|Pratyya Ghosh}}||২৩৩ |- |৬৬||{{u|Safuan12616}}||২২৯ |- |৬৭||{{u|AbuSayeed}}||২২৩ |- |৬৮||{{u|Somajyoti}}||২২০ |- |৬৯||{{u|মো. মাহমুদুল আলম}}||২০৮ |- |৭০||{{u|Shuvo Hulk}}||১৯৬ |- |৭১||{{u|Sajidmahamud835}}||১৮৮ |- |৭২||{{u|Obangmoy}}||১৭৬ |- |৭৩||{{u|Shakibul Alam Risvy}}||১৬৫ |- |৭৪||{{u|Greatder}}||১৬১ |- |৭৫||{{u|Safi Mahfouz}}||১৫৯ |- |৭৬||{{u|Farhan Shahriar AS}}||১৪৪ |- |৭৭||{{u|মোহাম্মদ হাসানুর রশিদ}}||১৪২ |- |৭৮||{{u|Maruf}}||১৪১ |- |৭৯||{{u|Wikitanvir}}||১৪০ |- |৮০||{{u|Masud1395}}||১২৮ |- |৮১||{{u|Asked42}}||১২৭ |- |৮২||{{u|Hasan muntaseer}}||১২০ |- |৮৩||{{u|Sajid Reza Karim}}||১০৬ |- |৮৪||{{u|Anubhab91}}||১০৬ |- |৮৫||{{u|Bono.Ruma}}||১০৫ |- |৮৬||{{u|Moheen}}||১০৩ |- |৮৭||{{u|NBDIT}}||১০২ |- |৮৮||{{u|FARMER}}||১০২ |- |৮৯||{{u|Raihanur}}||৯৯ |- |৯০||{{u|MR.ANABRATA GUCHAIT}}||৯৪ |- |৯১||{{u|Sammati Das}}||৯০ |- |৯২||{{u|Mohithasan61}}||৮৯ |- |৯৩||{{u|NguoiDungKhongDinhDanh}}||৮৮ |- |৯৪||{{u|Nil Nandy}}||৮৭ |- |৯৫||{{u|Timeontask}}||৮৫ |- |৯৬||{{u|BadhonCR}}||৮৩ |- |৯৭||{{u|খাত্তাব হাসান}}||৮২ |- |৯৮||{{u|কায়সার আহমাদ}}||৭৭ |- |৯৯||{{u|Redmin}}||৭৪ |- |১০০||{{u|Ams riyad}}||৭৩ |} 7y7ktizqcge3d2yoj4gypu9r6hcdz1k ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil 3 10826 106630 106605 2026-06-11T16:00:51Z NusJaS 8394 /* সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা */ উত্তর 106630 wikitext text/x-wiki {{সংগ্রহশালাসমূহ}} == সমাধান প্রয়োজন == আমি [[ইউরোপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস/১৯১৪ সাল থেকে ইউরোপ|একটা পাতা]] নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে ওতে আমার নাম যোগ করে রেখেছিলাম। তখনও পাতাটির শিরোনাম লাল রঙের দেখাচ্ছিল অর্থাৎ পাতাটিতে কেউ তখনও লেখা শুরু করে নি। কিন্তু পরবর্তীতে অনুবাদ শেষ করার পর পাতা সম্পাদনা করতে গিয়ে দেখি অন্য একজন সেটা সম্পাদনা করেছে এবং জমা দিয়ে দিয়েছে। অন্যের নামে যোগ করা পাতা সম্পাদনা করা কি শৃঙ্খলাবহির্ভূত নয়? [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ১৩:১১, ৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :আপনার শুরু করার সময় কার কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আপনার অনুবাদ তা স্বীকৃতি পাবে [[বিশেষ:অবদান/103.215.227.181|103.215.227.181]] ১৩:২৩, ২১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Article check == আমার লেখা আর্টিকেলটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করার জন্য অনুরোধ করছি উইকিশৈশব:মজার বৈজ্ঞানিক গবেষণা/How to make a needle float, and how to make it sink [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ০৪:১৫, ৮ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতাটি বাংলা ভাষায় লিখুন —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:২৮, ৯ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১৫:৫২, ১১ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == Point == '''আমার লেখা প্রতিটি আর্টিক্যালে আপনি শূন্য পয়েন্ট দিচ্ছেন। আপনি পুনরায় ভালো করে আর্টিক্যালগুলি চেক করে দেখুন! কোন ত্রুটি নেই, নিজের লেখা আর্টিক্যাল। দয়া করে আর্টিকেল গুলির পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে নাম্বার দেবেন। খাতা সংশোধন করার পরে নম্বর দেওয়ার অনুমতি আছে, কিছু আপনি দিচ্ছেন না। আমার কর্তব্য সবাইয়ের কাছে সহজ ভাবে বিষযগুলির ব্যাখ্যা দেওয়া, আপনার পছন্দ হলে গ্রহণ করবেন। সবকিছুই সময়ের উপর নির্ভর করে। ''' আপনি যখন পয়েন্ট দিচ্ছেন তার টাইম কোন নির্দিষ্ট নেই, খাতা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই পয়েন্ট দিচ্ছেন, যেগুলো পয়েন্ট দেননি তো দেন-ই-নি। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:০৫, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] পাতা সম্পূর্ণ না করে জমা দিবেন না। গৃহিত হয়নি এমন পাতা সংশোধন করে জানালে সেটা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১২:০৯, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::এখনো পর্যন্ত আমি যে কটা আর্টিকেল বা পাতা লিখেছি সবকটি আজকেই সংশোধন করা হয়েছে দেখতে পারেন। [[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MR.ANABRATA GUCHAIT|আলাপ]]) ১২:৪৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:MR.ANABRATA GUCHAIT|MR.ANABRATA GUCHAIT]] আপনার লেখা পাতাগুলো গুগল অনুবাদ বা যান্ত্রিক অনুবাদে পরিপূর্ণ। এগুলো সরল ও প্রাজ্ঞল ভাষায় লিখুন যাতে পড়লেই সহজে বোঝা যায়। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:৩৭, ১২ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == ফাউনন্টেন সমাধান == উইকিশৈশব:ভাষা/আইসল্যান্ডীয় যোগ করতে পারছি না ফাউনন্টেনের মাধ্যমে। বলছে- Another user has already added this article to the editathon [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৭:২০, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] এখন চেষ্টা করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২৬ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Vilen09|Vilen09]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vilen09|আলাপ]]) ০৪:০০, ২৭ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == টুলফোর্জ এ সমস্যা == প্রতিযোগিতার সময়সীমা কি বাড়ানো হয়েছে? টুলফোর্জ কিন্তু দেখাচ্ছে এখনো ১৭ ঘণ্টা বাকি আছে। [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:কমলেশ মন্ডল|আলাপ]]) ০৬:৪৫, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল|কমলেশ মন্ডল]] নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরি পাতাগুলো এই সময়ে শুধুমাত্র জমা দেওয়া যাবে, সময় বৃদ্ধি করা হয়নি। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৭, ১ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == A barnstar for you! == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Original Barnstar Hires.png|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''The Original Barnstar''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | original [[ব্যবহারকারী:Md Aahradul Islam Tasin|Md Aahradul Islam Tasin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Aahradul Islam Tasin|আলাপ]]) ০৯:২৫, ৫ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) |} == সংশোধন করা হলো == জনাব,<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/লেখক<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/তথ্যসূত্র<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/আরো পড়ুন<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় আইসিটি একীভূত করার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের সমস্যা<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি<br /> শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/ভূমিকা<br /> পাতাগুলো সংশোধন করা হলো<br /> এগুলি ইংরেজি https://en.wikibooks.org/wiki/ICT_in_Education পা্তা থেকে অনুবা্দ করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ০৭:১০, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] পাতাগুলোতে থাকা যান্ত্রিক ও জটিলতায় পরিপূর্ণ অনুবাদ গুলো প্রাঞ্জল ও সরল ভাষায় লিখতে হবে, আমি এখনও পাতাগুলোতে যান্ত্রিক অনুবাদ দেখতে পাচ্ছি। পাতাগুলো নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:২৭, ৮ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) ::সবগুলি পাতা সংশোধন করা হয়েছে। এবা্র একটু দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:৩৯, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর == ইলেকট্রনিক্সে হাতেখড়ি/সেমিকন্ডাক্টর পাতাটি সংশোধন দেখে জানাবেন ঠিক আছে কিনা। [[ব্যবহারকারী:Rajan chandra Saha Raju|Rajan chandra Saha Raju]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rajan chandra Saha Raju|আলাপ]]) ১০:২৪, ১২ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == সংশোধন করা হলো == পরিবহনে বিজ্ঞান/সময়সূচী ও সময় নির্ধারণ - এটা যান্ত্রিক অনুবাদ সংশোধন করা হল। [[ব্যবহারকারী:Sourav saha032|Sourav saha032]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sourav saha032|আলাপ]]) ১৬:১৪, ১৭ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSepliAn9c9o4ISEM6ck_jWW0H_W0pr9596OfZAGy6q_UfTOFw/viewform?usp=sf_link এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১০:৩৩, ২৯ জুলাই ২০২৪ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69608-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক == {| style="background-color: #fdffe7; border: 1px solid #fceb92; color: #000;" |rowspan="2" style="vertical-align: middle; padding: 5px;" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest barnstar.svg|100px]] |style="font-size: x-large; padding: 3px 3px 0 3px; height: 1.5em;" | '''উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ পদক''' |- |style="vertical-align: middle; padding: 3px;" | সুপ্রিয় MdsShakil,<br />বাংলা উইকিবইয়ে সম্প্রতি আয়োজিত, '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪]]''' শীর্ষক গ্রন্থলিখন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায় আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতায় তালিকাভুক্ত গ্রন্থ/গ্রন্থপৃষ্ঠা তৈরির মাধ্যমে বাংলা উইকিবইয়ের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখায়, শুভেচ্ছাস্মারক হিসেবে আপনাকে এই উইকিপদকটি প্রদান করা হলো। আশা করি বাংলা উইকিবইয়ের পথচলায় আপনার সরব ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে থাকুন‌। <br />শুভেচ্ছান্তে, <br />'''[[User:MdsShakil|শাকিল হোসেন]]''' <br />সমন্বয়ক, উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৪ <br />১০:৩৩, ২৪ আগস্ট ২০২৪ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0&oldid=69912-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == টেমপ্লেট:তাক == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] কিছু সমস্যা ছিল টেমপ্লেটে তবে সেগুলো সংশোধন করেছি। সময় পেলে একটু পরীক্ষা করে দেখবেন [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ১১:৩৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] আপনি না একবার সংশোধন করেছিলেন? কি সমস্যা হয়েছিলো আবার? —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৮:০৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) ::বিষয়শ্রেণী যুক্ত হচ্ছিল না। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:১১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) :::টেমপ্লেট:বিভাগ এও কিছু সমস্যা পেয়েছি বিকালে ঠিক করব ইনশাল্লাহ [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T|আলাপ]]) ০২:২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ইউটিসি) == Notice of expiration of your sysop right == <div dir="ltr">Hi, as part of [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot|Global reminder bot]], this is an automated reminder to let you know that your permission "sysop" (প্রশাসক) will expire on 2025-04-06 14:24:19. Please renew this right if you would like to continue using it. <i>In other languages: [[:m:Special:MyLanguage/Global reminder bot/Messages/default|click here]]</i> [[ব্যবহারকারী:Leaderbot|Leaderbot]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Leaderbot|আলাপ]]) ১৯:৪২, ৩০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি)</div> == [[টেমপ্লেট:Printable]] == [[টেমপ্লেট:Printable]] কাজ করছে না। দয়া করে নিশ্চিত করুন যে এটি সঠিকভাবে কাজ করা। [[ব্যবহারকারী:Somajyoti|Somajyoti]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Somajyoti|আলাপ]]) ১৪:০৬, ১০ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ]] == {| style="background-color: #f8f9fa; border: 1px solid #ced4da; padding:10px; color: #212529;" |- |[[File:Bangla Wikibooks Writing contest 2025 Banner (2).png|frameless|center|300px|link=[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]]]<br/> সুপ্রিয় MdsShakil, আশা করি এই গ্রীষ্মের এই রৌদ্রোজ্জ্বল তপ্ত আবহাওয়াতেও ভালো আছেন। আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, গত ৭ মে থেকে বাংলা উইকিবইয়ে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]''' শীর্ষক একটি বই লিখন ও অনুবাদ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ‌আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতাটি অভিজ্ঞ, অনভিজ্ঞ ও নতুন ব্যবহারকারী সকলের জন্যই মুক্ত।  অন্যান্য ভাষার উইকিবইয়ের চাইতে বাংলা উইকিবইয়ে অবদানকারীর সংখ্যা নিতান্তই কম, এমনকি সংখ্যাটি বাংলা উইকিপিডিয়ার তুলনায়ও নগণ্য। অথচ ডিজিটাল বইয়ের এই যুগে বাংলা উইকিবই যথেষ্ট গুরত্বের দাবি রাখে। এজন্য আমাদের আরও স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। আশা করি আপনি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন ও উইকিবইকে সমৃদ্ধ করবেন। বিস্তারিত [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|প্রকল্প পাতায়]] দেখুন। '''শীর্ষ অবদানকারীদের জন্য পুরষ্কার''' * ১ম স্থান অধিকারকারী ― ৬০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ২য় স্থান অধিকারকারী ― ৪০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৩য় স্থান অধিকারকারী ― ৩০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৪র্থ স্থান অধিকারকারী ― ২৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৫ম স্থান অধিকারকারী ― ২০০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * ৬ষ্ঠ থেকে ১০তম স্থান অধিকারকারী (৫ জন) ― ৫০০ টাকার গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র * কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলে ― ডিজিটাল সনদপত্র প্রতিযোগিতায় আপনাকে স্বাগত।<br /> শুভেচ্ছান্তে, <br /> —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৪৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=74028-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == [[রন্ধনপ্রণালী:ঘেভার]] == পরিবর্তন করা হয়েছে, যাচাই করুন [[ব্যবহারকারী:MD Abu Siyam|MD Abu Siyam]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Abu Siyam|আলাপ]]) ০১:২৪, ১২ জুন ২০২৫ (ইউটিসি) == [[প্রকৌশল শব্দবিজ্ঞান/শীতলকারী পাখার শব্দ]] == পাতাটি ঠিক করা হয়েছে [[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M.Asaduzzaman sahed|আলাপ]]) ২০:০০, ৬ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:M.Asaduzzaman sahed|M.Asaduzzaman sahed]] পাতাটিকে এখনও ইংরেজি পরিভাষা এবং যান্ত্রিক অনুবাদ বিদ্যমান। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ২০:৩২, ৭ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫: তথ্য প্রদানের অনুরোধ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় MdsShakil,<br />[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আপনার জমা দেয়া এক বা একাধিক পাতা [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়েছে]]। আপনাকে অভিনন্দন! আয়োজক দল পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই আমরা আপনাকে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeSlGIk88-dNR79Vg5RytY6gIObKICFqrwc3ljN6Dw6YDn5IQ/viewform?usp=header এই ফর্মটি পূরণ করতে] অনুরোধ করছি'''। যদি আপনি ইতোমধ্যেই ফর্মটি পূরণ করে থাকেন, তাহলে দয়া করে দ্বিতীয়বার পূরণ করবেন না। আপনার সম্পাদনা-যাত্রা শুভ হোক। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৬, ৮ জুলাই ২০২৫ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=85872-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == উইকিশৈশবে 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বাইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে! == প্রিয় শাকিল ভাই, আশাকরি সপরিবারে কুশলে আছেন। আমি দেখলাম আমার লেখা 'বর্ণমালায় পৃথিবী' বইয়ের মুদ্রণ সংস্করণে অন্য বইয়ের বিষয়বস্তু এসে গিয়েছে। এটা ঠিক করে দেওয়া দরকার। যথাশীঘ্র ব্যবস্থা নেবেন আশা রাখছি। ধন্যবাদসহ, [[ব্যবহারকারী:Sumasa|সুকান]] সুকান ১৬:২৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) == পুনঃপর্যালোচনা জন্য == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, [[রৈখিক বীজগণিত/শব্দকোষ]] পাতাটিতে অ,আ,ক,খ অনুক্রমে সাজিয়েছি। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:JIBON|JIBON]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৭:১৩, ২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :{{done}} —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬: অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ == {| style="margin: 1em 4em;" |- valign="top" | [[চিত্র:Wikibooks Writing Contest.svg|146px|link=উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]] | <div style="background-color:#f4f3f0; color: #393D38; padding: 0.4em 1em;border-radius:10px;"> সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}},<br>আপনি জেনে খুশি হবেন যে বাংলা উইকিবইয়ে নতুন বই তৈরির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে '''[[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬]]'''। ১ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় আপনি ইংরেজি উইকিবই থেকে মানসম্মত পাতা বাংলায় অনুবাদ করার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য রয়েছে মোট ৬০০০ টাকা পর্যন্ত গিফট ভাউচার ও মুদ্রিত সনদপত্র, এবং কমপক্ষে একটি পাতা গৃহীত হলেই থাকছে ডিজিটাল সনদপত্র। অংশগ্রহণকারীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে মোবাইল ইন্টারনেট সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত নিয়মাবলি এবং অন্যান তথ্য জনতে আমাদের [[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|প্রকল্প পাতাটি]] দেখুন। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের [https://t.me/bnwikibooks টেলিগ্রাম গ্রুপে] যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলা উইকিবইকে আরও সমৃদ্ধ করবে। প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের পক্ষে —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) </div> |} <!-- https://bn.wikibooks.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MdsShakil/%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A6%B0/%E0%A7%A7&oldid=93268-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:MdsShakil@bnwikibooks পাঠিয়েছেন --> == Help chai.. == wiki contest e article submit kmne korbo ekthu help korben? [[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:WazedAlif|আলাপ]]) ০৪:০৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:WazedAlif|WazedAlif]] [https://fountain.toolforge.org/editathons/wrcbn2026 এই লিংকে] যেয়ে সাবমিট করেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৪:২৮, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == আমি পুনরায় "মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/চেম্বার অব সিক্রেটস/অধ্যায় ১৭" বইটি সংশোধন করেছি। দয়া করে আবার পর্যবেক্ষণ করে দেখুন। [[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oviroy Sarker|আলাপ]]) ১৬:১৬, ৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Oviroy Sarker|Oviroy Sarker]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৪৫, ৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ভেক্টর জগতের সংজ্ঞা == জি, সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Mushfique Anan|আলাপ]]) ১০:৩৬, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Kazi Mushfique Anan|Kazi Mushfique Anan]] গ্রহণ করা হয়েছে। পাতায় আমি আরও কিছু সম্পাদনা করেছি, সেগুলো দেখুন, ভবিষ্যতে নজরে রাখবেন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৩:১৭, ৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]] পাতাটি সম্পর্কে == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, এই ব্যবহারকারীর([[ব্যবহারকারী:Stuxnet.02]]) পাতাটি মনে হচ্ছে খুব সম্ভবত [[w:WP:U5]] অনুসারে দ্রুত অপসারণযোগ্য। ওনার বাইনারি বার্তা ডিকোড করলে হয়, <code>Note: The following code is a simulation of a Stuxnet-like structure for educational purposes. It is not functional malware and does not contain any harmful actions. Please use this example responsibly and do not modify it for malicious purposes.</code> নিচে যে কোড দেয়া তা এক্সিকিঊট করা সম্ভব, বর্তমানে এটি ডামি, কিন্তু এর মডিফিকেশনে ক্ষতিকারক আচরণ প্রদর্শন করতে পারে। [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad|&#126; মুকতাদির]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md. Muqtadir Fuad|আলাপ]]) ০৮:৫০, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সংশোধিত বইয়ের পর্যালোচনা == [[রৈখিক বীজগণিত/ভূমিকা]] অধ্যায়টি সংশোধন করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md Rashidul Hasan Biplob|আলাপ]]) ১৫:৫১, ১১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Md Rashidul Hasan Biplob|Md Rashidul Hasan Biplob]] পাতাটি পড়ে ও পাতার গঠন দেখে এখনও মনে হচ্চে না এটি সংশোধন করা হয়েছে। অন্য পাতাগুলো দেখুন, সেগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, এবং সে অনুযায়ী সংশোধন করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫২, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৫]] পাতাটি সংশোধন করেছি। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৬]] এই পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৩:৩৯, ১২ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] [[মাগলস_গাইড_টু_হ্যারি_পটার/বই/ডেথলি_হ্যালোজ/অধ্যায়_২৫]] পাতায় এখনও রুক্ষ অনুবাদের সমস্যা বিদ্যমান, জটিল বাক্যগুলো ভেঙ্গে লিখুন সরল ভাষায় লিখুন যাতে সহজে বোঝা যায়। একই কথা দ্বিতীয়টির জন্যও প্রযোজ্য। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতা ২ টা আবারও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:৫৬, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/আইসোমরফিজম == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৪:৫০, ১৩ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১০, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[বিশ্বের ইতিহাস/শিল্প বিপ্লব]] == পাতাটি সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin|আলাপ]]) ১৭:০৪, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৭:২৬, ১৫ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, হগওয়ার্টস]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]]পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/বোব্যাকটনস একাডেমি অব ম্যাজিক]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৫:৩৪, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স সমীকরণ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৩৯, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == রৈখিক বীজগণিত/ম্যাট্রিক্স ও ভেক্টর/ == জি, করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে জানান। আর কোনো সমস্যা থাকলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :পর্যালোচনা করে জানালে উপকৃত হতাম [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|K_Anan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Kazi Anan|আলাপ]]) ১৩:৩২, ৩ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৩]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১২:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :গৃহীত। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:০৯, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == সমস্যা == সম্মানিত পর্যালোচক, আমি আপনার সাথে একটি সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে চাই। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ১৯:০৮, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == অভিযোগ == সুপ্রিয় উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজকবৃন্দ, প্রথমেই আপনাদেরকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। আপনাদের এই প্রতিযোগিতায় আমি ইতোমধ্যে অংশগ্রহণ করেছি। এপর্যন্ত আমি কিছু অনুবাদ জমা দিয়েছি এবং আপনাদের সুষ্ঠ পর্যালোচনার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু আজ আমি আপনাদের কাছে একটি অভিযোগ জানাতে চাই যা আপনারা সঠিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। কিছু অনুবাদ জমা দেওয়ার পর আমার কাছে একটি বার্তা আসে। যেখানে Tuhin- নামের একজন ব্যক্তি আমাকে নিম্নোক্ত বার্তাটি পাঠান-- "সম্মানিত সুধী, আপনি গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ যুক্ত করছেন যা প্রতিযোগিতায় গৃহীত হওয়ার উপযুক্ত নয়। অনুগ্রহপূর্বক ইতিমধ্যে অনূদিত পাতাগুলো সংশোধন করে তারপরে নতুন পাতা তৈরি করুন।" আমি ধারণা করি হয়তো তিনি পর্যালোচনা কমিটির থেকে যোগাযোগ করেছেন। তাই আমিও সম্মানপূর্বক তাকে জানাই আমি কোনো এআই অনুবাদ যুক্ত করিনি। তিনি যদি আমার ভুল বলে দেন তাহলে খুশি হবো। তখন তিনি আমাকে জানান তিনি পর্যালোচক নন। তিনি আমাকে সতর্ক করতে এ মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আমি জানতে পেরেছি যে তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং তার সর্বোচ্চ সংখ্যক অনুবাদ গৃহীত হয়েছে। আমি যেটা বলতে চাই তা হলো, পর্যালোচনা কমিটির সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ বিশেষত যখন সে নিজেই একজন প্রতিযোগী কিভাবে অপর একজন প্রতিযোগীকে সতর্ক করার নামে এভাবে মন্তব্য করতে পারে। "গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ " বলে তিনি অপর একজনের পরিশ্রমকে দাগিয়ে দিতে পারেন না। প্রথম আলাপেই এভাবে অন্য প্রতিযোগিকে রূঢ় ভাবে বলে তিনি কি হতদ্যোম করতে চাইছেন নাকি ঈর্ষান্বিত হচ্ছেন। প্রথমেই তার বলা উচিত ছিল তিনিও একজন প্রতিযোগী এবং সতর্ক করতে বলছেন। কিন্তু তার এ ধরনের অভিভাবক সুলভ রূঢ় আচরণে আমি খুবই অপমানিত হয়েছি। আমি যদি ভুল করে থাকি তবে পর্যালোচকগণ অবশ্যই আমাকে জানাবেন কিন্তু অন্য কারো এ ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য আমি বরদাস্ত করতে পারবো না। আমার অনেক প্রিয় একটি কাজের জায়গা এটি। আমি নিয়ম মেনে এর আগেও কাজ করেছি। আশাকরি আপনারা এর সঠিক বিচার করবেন। ধন্যবাদ। ইতি, অর্পিতা মজুমদার। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ২০:৪০, ১৭ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি, তবে লক্ষ্য করুন আমাদের প্রকল্পগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, এখানে একজন আরেকজনকে পরামর্শ দেওয়াটা স্বাভাবিক এবং আমি আশা করছি আপনি যে কারো পরামর্শই ইতিবাচকভাবে নিবেন। ধন্যবাদ —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৭:২৮, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ, আমার বুঝতে ভুল হয়েছিলো। আকস্মিক মন্তব্য এবং মন্তব্যের রূঢ়তা আমাকে কিছুটা বিব্রত করেছিল। যাহোক, বুঝিয়ে বলার জন্য আবারও ধন্যবাদ। পর্যালোচকবৃন্দের প্রতি আমার অনুরোধ দয়া করে ভুলগুলো নমনীয়ভাবে বলবেন এবং সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলবেন। " গণহারে অপরিশোধিত এআই অনুবাদ" এ জাতীয় শব্দবন্ধ খুবই অপমানজনক। [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার|আলাপ]]) ০৮:২২, ১৮ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভিলা]] পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করা হল। [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:নিয়াজ ইসলাম|আলাপ]]) ০৬:১১, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] ব্যাপারটা হচ্ছে এমন, আমি উদাহরণ হিসাবে একটা শব্দের কথা বলেছি আপনি ওই একটা শব্দ'ই সংশোধন করে পর্যালোচনা করার কথা বলছেন! পুরো পাতাটি পড়ুন, আরও সমস্যা আছে, যান্ত্রিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনুবাদ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করুন। —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৯ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/ডাম্বলডোরের মৃত্যু]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:১০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রিভেট ড্রাইভ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:২০, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/ম্যালফয় ম্যানর]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৮:৩৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমি ২২টি অনুবাদ জমা দিয়েছি কিন্তু পাশে কোন পয়েন্ট এখনো যোগ হয়নি বা রিজেক্ট হয়নি। কোন সমস্যা আছে কিনা একটু কি দেখবেন ?? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ১৫:১৩, ২০ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == বই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬ == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] আমার অনুবাদ্গুলো একটু কি দেখবেন? [[ব্যবহারকারী:NBDIT|NBDIT]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NBDIT|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[আরিমা/শব্দকোষ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] জনাব আমি [[আরিমা/শব্দকোষ]] পাতাটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছি, পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। ‍‍‍[[ব্যবহারকারী:Belayet73|Belayet73]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Belayet73|আলাপ]]) ০৯:৫৩, ২১ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[যোগাযোগ অধ্যয়ন সমীক্ষা/অধ্যায় ১৩ - লিঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ]] == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] বইটি পুনরায় পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Sàádî|Sàádî]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sàádî|আলাপ]]) ০৮:০৫, ২৪ মে ২০২৬ (ইউটিসি) == [[সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/খেলাধুলা, ক্রীড়া ও শিল্পকলা]] == পাতাটি পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। তথ্যসূত্রে trans-title= এর ভুল ব্যবহার সংশোধন করা হয়েছে। আমি তথ্যসূত্রে বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত কোনো সমস্যা পাইনি। আপনি কি "শুল্টজ, এমিলি '''এ., '''এবং রবার্ট এইচ. লাভেন্ডা" এর বোল্ড করা অংশের কথা বলছেন? এটা কোনো "ভুল/অতিরিক্ত ব্যবহার" নয়। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:৫৬, ৭ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি প্রথমেই বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত সমস্যা দেখছি, ''{{একই সরলরেখায় আলাপের উক্তি|গুরুত্বপূর্ণ।" [৯]।}}'' তাছাড়া কিছুক্ষেত্রে দেখছি ইংরেজি পরিভাষা যেমন, ''প্রিস্কুল''। সংশোধনের পর জানান —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৪:৩৬, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, আমি এখনও বুঝতে পারছি না আপনার কাছে এটা কেন সমস্যা মনে হচ্ছে। <u>কেনেথ আর. গিন্সবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, {{সবুজ|'''"'''সুস্থ মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য খেলা গুরুত্বপূর্ণ।'''"'''}}</u> এখানে " ভুল কেন হবে? এটা তো "তথ্যসূত্রের ফরম্যাটিংয়ে"র সাথেও সম্পর্কিত না। আপনাকে ইংরেজি পাতাটা দেখার অনুরোধ করছি। সেখানেও এগুলো এভাবেই আছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৭:২৩, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :::দাঁড়ি দুইবার দিয়েছেন এটা লক্ষ্য করেছেন কি? —[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|শাকিল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) ১৭:২৫, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] দুঃখিত, পুরো পাতায় শুধুমাত্র একটা অতিরিক্ত দাঁড়ি এত বড় ব্যাপার হতে পারে, কখনোই ভাবিনি বলেই হয়তো এটা আমার নজর এড়িয়ে গিয়েছে। তবে এই ত্রুটিটাও ইংরেজি থেকে সরাসরি এসেছে। এটা সংশোধন করা হয়েছে। আর কিছু আপনার নজরে পড়লে জানানোর অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৮:২৯, ৯ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ভাই, [[জনপরিসরে অলংকারশাস্ত্র ও লেখালেখি: একটি ভূমিকা/জনপরিসরের বিবর্তন]] পাতার তথ্যসূত্রের ভুল ফরম্যাট সংশোধন করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৬:০০, ১১ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) 16ms6dpbwfarafkkwkme3jxu09pz66n ব্যবহারকারী:R1F4T/খেলাঘর 2 18619 106628 106559 2026-06-11T15:53:06Z R1F4T 9121 /* */ 106628 wikitext text/x-wiki {| class="wikitable sortable" ! ক্রমিক !! পর্যালোচক !! মোট !! গৃহীত !! বাতিল |- | ১ || MdsShakil || ৬৫৭ || ৫৮৬ || ৭১ |- | ২ || Mehedi Abedin || ৫৪২ || ৪৮৬ || ৫৬ |- | ৩ || R1F4T || ২৫৭ || ১৯২ || ৬৫ |- | ৪ || Asikur Rahman || ২৪৪ || ১৭২ || ৭২ |- | ৫ || NusJaS || ১৯৩ || ১৪৬ || ৪৭ |- | ৬ || MS Sakib || ১৯০ || ১২২ || ৬৮ |} == পুনঃ পর্যালোচনা বাকি == {| class="wikitable sortable" ! তারিখ ! ব্যবহারকারী ! পাতা/পাতাসমূহ |- | ৪ মে ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] | [[আরিমা/হাতি ও উটের আক্রমণ/গুটির আদর্শ অবস্থান]] |- | ১৬ মে ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] | [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৮]] |- | ১৮ মে ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:অর্পিতা মজুমদার|অর্পিতা মজুমদার]] | [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/বাকবিক]] |- | ২৩ মে ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:Sàádî|Sàádî]] | [[ই-গভর্নমেন্ট/সংজ্ঞা]] |- | ২৩ মে ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:Kazi Anan|Kazi Anan]] | [[রৈখিক বীজগণিত/বিষয়: স্ফটিক/সমাধান]] |- | ২৩ মে ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম|নিয়াজ ইসলাম]] | [[আরিমা/হাতি ও উটের আক্রমণ/গুটির আদর্শ অবস্থান]] (স্মরণ করিয়ে পুনরায় অনুরোধ) |- | ২৯ মে ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] | [[জনপরিসরে অলংকারশাস্ত্র ও লেখালেখি: একটি ভূমিকা/অধ্যায় ১২: পরিচয় ও জনপরিসর]] |- | ৩০ মে ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:Md Mobashir Hossain|Md Mobashir Hossain]] | [[তরঙ্গ/সমতল তরঙ্গ]] |- | ১ জুন ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:Md Mobashir Hossain|Md Mobashir Hossain]] | [[রন্ধনপ্রণালী:মেথি পরোটা]] |- | ১ জুন ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:Md Mobashir Hossain|Md Mobashir Hossain]] | [[রন্ধনপ্রণালী:অমৃতসরি কুলচা]], [[রন্ধনপ্রণালী:মেথি পরোটা]], [[রন্ধনপ্রণালী:পালং পরোটা]] |- | ১ জুন ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:তারেক বাবলু|তারেক বাবলু]] | [[যোগব্যায়াম/গতিশীল ব্যায়াম]] |- | ২ জুন ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] | [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৮]] (পুনরায় অনুরোধ) |- | ২ জুন ২০২৬ | [[ব্যবহারকারী:Aishik Rehman|Aishik Rehman]] | [[এই কোয়ান্টাম জগৎ/তাৎপর্য ও প্রয়োগ/পর্যবেক্ষণযোগ্য রাশি ও অপারেটর]], [[এই কোয়ান্টাম জগৎ/ফাইনম্যান পথ/দ্বি-চির]], [[এই কোয়ান্টাম জগৎ/পরিশিষ্ট/সূচকীয় ফাংশন]], [[এই কোয়ান্টাম জগৎ/পরিশিষ্ট/ক্ষেত্র]], [[শিখন তত্ত্ব/আচরণবাদী তত্ত্বসমূহ]], [[পর্যায় সারণি]] |} 9l3npma9pv9rouwskiajk0dn2he35wg মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ইয়াক্সলি 0 29029 106625 95304 2026-06-11T15:04:51Z কমলেশ মন্ডল 9394 106625 wikitext text/x-wiki {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র| নাম=করবান ইয়াক্সলি| লিঙ্গ=পুরুষ| চুল=অজানা| চোখ=অজানা| পরিবার=অজানা| আনুগত্য=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/লর্ড ভলডেমর্ট|লর্ড ভলডেমর্ট]] }} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ == '''''ইয়াক্সলি''''' একজন ডেথ ইটার, যে দৃশ্যত লর্ড ভলডেমর্টের প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময় তার সংগঠনের অংশ ছিল। যখন আমরা তাকে প্রথম দেখি, তখন তার কোনো নাম থাকে না, কিন্তু তার মুখমণ্ডলকে ভারী ও নৃশংস চেহারার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। == বইয়ে ভূমিকা == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/হাফ-ব্লাড প্রিন্স|হাফ-ব্লাড প্রিন্স]] === সেভেরাস স্নেইপ ইয়াক্সলির কথা উল্লেখ করেন, যে সে ছিল সেইসব ডেথ ইটারদের একজন যারা ডার্ক লর্ড অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর তার খোঁজ করেনি। পরে আমরা তাকে দেখি, যদিও তাকে কেবল "নিষ্ঠুর চেহারার ডেথ ইটার" হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সেইসব ডেথ ইটারদের একজন হিসেবে যারা ড্রেকো ম্যালফয়কে ডাম্বলডোরকে হত্যা করতে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করে। তাকে এই দলের নেতা বলেই মনে হয়, কারণ সে অন্যদের ড্রেকোকে প্রধান শিক্ষককে হত্যা করতে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল এবং এমনকি ফেনার গ্রেব্যাক যখন নিজে ডাম্বলডোরকে হত্যা করার চেষ্টা করে, তখন সে-ও তাকে আক্রমণ করে। টাওয়ার থেকে নামার পথে হ্যারি পটারের হাতে ইয়াক্সলি পরে স্টানড হয়, এবং এরপর সম্ভবত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ|ডেথলি হ্যালোজ]] === বইয়ের প্রথম পাতায় ইয়াক্সলি হঠাৎ করেই আবির্ভূত হন, এবং লর্ড ভলডেমর্টের সাথে একটি বৈঠকের জন্য ম্যালফয় ম্যানরের দিকে যাওয়ার পথে সেভেরাস স্নেইপ তাকে স্বাগত জানান। টেবিলের চারপাশে পদমর্যাদা অনুসারে বসার ক্ষেত্রে, ইয়াক্সলিকে প্রায় মাঝখানে রাখা হয়, আর স্নেইপ বসেন ভলডেমর্টের ডান পাশে। ইয়াক্সলি জানান যে, ডলিশ নামের এক অরো, যাকে তিনি কনফান্ড করেছেন, তার মতে হ্যারি পটারকে তার জন্মদিনের আগের দিন প্রিভেট ড্রাইভ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। স্নেইপ বলেন যে এটি একটি মিথ্যা সূত্র, হ্যারিকে সেই তারিখের আগেই সরিয়ে নেওয়া হবে। ইয়াক্সলি বলেন যে ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যাজিকাল ট্রান্সপোর্টে তাদের বেশ কয়েকজন লোক আছে এবং হ্যারি ফ্লু নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে বা অ্যাপারেট করার চেষ্টা করলে তারা তা জানতে পারবে; স্নেইপ বলেন যে তিনি তা জানতে পারবেন না, অর্ডার মিনিস্ট্রির সাথে সম্পর্কিত সবকিছুকে অবিশ্বাস করে। ইয়াক্সলি আরও বলেন যে তিনি ম্যাজিকাল ল এনফোর্সমেন্টের প্রধান পায়াস থিকনেসকে ইম্পেরিয়াস কার্সের অধীনে রেখেছেন, যা দেখে ভলডেমর্ট মন্তব্য করেন যে এটি মিনিস্ট্রি দখলের দিকে প্রথম পদক্ষেপ। লকেট হরক্রাক্সটি খুঁজে বের করার জন্য হ্যারি, রন এবং হারমায়োনি জাদু মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করে। রন ক্যাটারমোল নামের একজন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীর ছদ্মবেশে ছিল। ইয়াক্সলি ক্যাটারমোল/রনকে দেখে তাকে বলে যে তার অফিসে বৃষ্টি হচ্ছে এবং অবিলম্বে তা ঠিক করতে। সে আরও মন্তব্য করে যে ক্যাটারমোলের স্ত্রী বর্তমানে মাগল-বর্ন রেজিস্ট্রেশন কমিশনের সামনে আছেন এবং বলে যে তার অফিস স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে না আনলে তার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। হ্যারি ইয়াক্সলিকে অ্যালবাস ডাম্বলডোরের হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকা চারজন ডেথ ইটারের একজন হিসেবে চিনতে পারে, যে ছিল একমাত্র ব্যক্তি যার নাম ডাম্বলডোর সেই সময়ে উল্লেখ করেননি। এর কিছুক্ষণ পরেই আমরা তাকে মেরি ক্যাটারমোলের বিচারে দেখতে পাই, যেখানে সে ডলোরেস আমব্রিজের সাথে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। আমব্রিজ যেখানে কৃত্রিম সদয় ভঙ্গিতে কথা বলছিল, তার বিপরীতে ইয়াক্সলি সেই মাগল-বর্ন মহিলার প্রতি তার চরম ঘৃণা প্রকাশ করে, এমনকি যখন সে তার সন্তানদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তখন সে উপহাসও করে। সে এবং আমব্রিজ শীঘ্রই এক অদৃশ্য হ্যারিকে দেখে হতবাক হয়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, সে সময়মতো নিজেকে সামলে নিয়ে তাদেরকে মিনিস্ট্রি থেকে পালাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনজন অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথে ইয়াক্সলি হারমাইনিকে ধরে ফেলে এবং সাইড-অ্যালং অ্যাপারিশনের মাধ্যমে গ্রিমল্ড প্লেস পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর হারমাইনি একটি রিভলশন জিঙ্কস ব্যবহার করে, কিন্তু যেহেতু সে গ্রিমল্ড প্লেসের দরজাটি দেখে ফেলেছে, তাই সে এখন হয়তো বাড়িটিতে প্রবেশ করতে পারবে। হগওয়ার্টসের যুদ্ধের প্রথমার্ধের পর হ্যারি যখন নিষিদ্ধ বনে প্রবেশ করে, তখন ভলডেমর্ট যেখানে অপেক্ষা করছিল সেখানে যাওয়ার পথে তাকে ইয়াক্সলি এবং ডলোহভসহ বেশ কয়েকজন প্রহরীকে অতিক্রম করতে হয়। সেই যুদ্ধের দ্বিতীয়ার্ধে, হ্যারি তার অদৃশ্য হওয়ার চাদরের নিচ থেকে দেখে যে জর্জ এবং লি জর্ডান ইয়াক্সলিকে আছড়ে মাটিতে ফেলে দিচ্ছে। == শক্তি == ডেথ ইটারদের মধ্যে তার পদমর্যাদা বেশ উঁচু বলেই মনে হয়, কারণ ডেথ ইটার-নিয়ন্ত্রিত জাদু মন্ত্রণালয়ে তাকে এত উচ্চ পদ দেওয়া হয়েছিল এবং ড্রেকো যে ডেথ ইটার দলটিকে হগওয়ার্টসে নিয়ে এসেছিল, সেই দলটির দায়িত্বে তিনিই ছিলেন বলে মনে হয়। == দুর্বলতা == == অন্যান্য চরিত্রের সাথে সম্পর্ক == ইয়াক্সলি ও ডলোহভের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে বলেই মনে হয়, কারণ থিকনেসকে ইম্পেরিয়াস কার্সের অধীনে আনার খবরটি জানানোর পর ডলোহভকে অভিনন্দন জানিয়ে তার পিঠ চাপড়াতে দেখা যায়। পরে হ্যারি পটারের জন্য পাহারারত অবস্থায় তাদের দুজনকে কথা বলতেও দেখা যায়। এছাড়াও, মিনিস্ট্রিতে থাকা তার কিছু সহকর্মী বিশুদ্ধ রক্তের শ্রেষ্ঠত্ববাদী, যেমন ডলোরেস আমব্রিজ এবং অ্যালবার্ট রানকর্ন-এর সাথেও তার সুসম্পর্ক ছিল বলে মনে হয়, এমনকি তিনি রানকর্নের প্রতি বিরল অনুমোদনও প্রকাশ করেন। == বিশ্লেষণ == == প্রশ্ন == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 6fdkfzs6penmkuo1czm1a6k2crrsbq3 মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/জ্যাকারিয়াস স্মিথ 0 29043 106643 95297 2026-06-11T17:47:15Z কমলেশ মন্ডল 9394 106643 wikitext text/x-wiki {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র| নাম=জাকারিয়া স্মিথ| লিঙ্গ=পুরুষ| চুল=সোনালী| চোখ=অজানা| পরিবার=অহংকারী চেহারার বাবা| আনুগত্য = হাফলপাফ কুইডিচ দল; ডাম্বলডোরস আর্মি }} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ == '''''জ্যাকারিয়াস স্মিথ''''' ডাম্বলডোরস আর্মি এবং হাফলপাফ কুইডিচ দলের একজন সদস্য। সে বেশ বিরক্তিকর স্বভাবের, এবং ডাম্বলডোরস আর্মির কেউই তাকে পছন্দ করে বলে মনে হয় না। সে হাফলপাফের "বিশ্বস্ত, দয়ালু এবং পরিশ্রমী" আদর্শের বিপরীত। == বইয়ে ভূমিকা == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স|অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স]] === হগস হেডে অনুষ্ঠিতব্য ডাম্বলডোরস আর্মির প্রথম সভায় জ্যাকারিয়াস স্মিথ উপস্থিত ছিল। হারমায়োনিকে আর্নি ম্যাকমিলান এবং হ্যানা অ্যাবটের সাথে এটি শুরু করার বিষয়ে কথা বলতে শুনে ফেলার পর তাকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। জ্যাকারিয়াস উচ্চস্বরে ভাবতে থাকে যে হ্যারি তাদের কী শেখাবে, কারণ সে নিজেই বলেছে যে সে অনেক কিছুই নিজে থেকে করেনি, এবং সেখানে উপস্থিত অন্য ছাত্ররা তার কৃতিত্বের তালিকা করতে শুরু করে। ফ্রেড এবং জর্জের একটি অর্ধ-পরিহাসমূলক হুমকির পর সে চুপ হয়ে যায়। যখন হগওয়ার্টসের প্রধান ইনকুইজিটরের দ্বারা অনুমোদিত নয় এমন সমস্ত ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে চব্বিশ নম্বর শিক্ষা অধ্যাদেশ প্রকাশিত হয়, রন সাথে সাথে অনুমান করে যে জ্যাকারিয়াস স্মিথ তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করেছে। হারমায়োনি বলে যে এটা অসম্ভব, কারণ যদি সে তা করেও থাকে, তবে তাদের সকলের স্বাক্ষরিত পার্চমেন্টের উপর করা একটি মন্ত্র তার মুখে ভয়ানক দাগ তৈরি করে দেবে। ডাম্বলডোরস আর্মির প্রথম আনুষ্ঠানিক সভায়, রুম অফ রিকোয়ারমেন্টে, হ্যারি ডিসআর্মিং চার্ম দিয়ে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। জ্যাকারিয়াস বলে যে শুরু করার জন্য এটি খুব সহজ একটি মন্ত্র। হ্যারি উত্তর দেয় যে এটি ভলডেমর্টের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ভালো কাজ করেছিল, কিন্তু জ্যাকারিয়াস যদি মনে করে যে এই বিষয়টি তার জন্য উপযুক্ত নয়, তবে সে চলে যেতে পারে। প্রফেসর ডাম্বলডোর চান যে হ্যারি বড়দিনের পরে অক্লুমেন্সি শিখুক, এবং প্রফেসর স্নেইপকে তার প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেন। স্নেইপ হ্যারিকে এই কথা বলার সময় নির্দেশ দেন যে, প্রয়োজনে সে যেন বলে যে সে রেমিডিয়াল পোশনস নিচ্ছে। যখন তাকে ডাম্বলডোরস আর্মির সভার নতুন সময়সূচী ব্যাখ্যা করতে হয়, তখন জ্যাকারিয়াস বিশেষভাবে উদ্ধত আচরণ করে। হ্যারি লক্ষ্য করে যে আজকাবান থেকে গণপলায়নের পর জ্যাকারিয়াসকে তার ক্লাসে আরও বেশি পরিশ্রম করতে দেখা যাচ্ছে। তবে এর কিছুদিন পরেই, ডাম্বলডোরস আর্মির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়, এবং এই বইতে জ্যাকারিয়াসের আর কোনো আবির্ভাব ঘটে না। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/হাফ-ব্লাড প্রিন্স|হাফ-ব্লাড প্রিন্স]] === আগের বইয়ের শেষে লি জর্ডানের স্নাতক অনুষ্ঠানে চলে যাওয়ায় কুইডিচের জন্য কোনো ঘোষক ছিল না, তাই জ্যাকারিয়াস স্লিদারিন এবং গ্রিফিন্ডরের মধ্যকার ম্যাচটি ঘোষণা করছিলেন। শুরুতে তিনি হ্যারির কিপার হিসেবে রন উইজলি এবং তিনজন চেজারের একজন হিসেবে জিনি উইজলিকে বেছে নেওয়ার প্রকাশ্য সমালোচনা করলেও, জিনি স্লিদারিনের বিপক্ষে বেশিরভাগ গোল করায় এবং রন তার দিকে আসা সবকিছুই রুখে দেওয়ায় তিনি শীঘ্রই তার সুর পাল্টে ফেলেন। তবে, ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তিনি গ্রিফিন্ডরের সমালোচনা চালিয়ে যান। গ্রিফিন্ডরের বিজয় উদযাপনে যোগ দিতে নিচে নেমে আসার সময়, জিনি "ব্রেক করতে ভুলে যায়" এবং ঘোষকের টাওয়ারে ধাক্কা মারে, যার ফলে কাঠের টুকরোর বর্ষণের মধ্যে জ্যাকারিয়াস মাঠে ছিটকে পড়েন। জ্যাকারিয়াসকে দৃশ্যত অন্য কোনো খেলার জন্য ঘোষণা করতে বলা হয়নি; সেই সম্মান লুনা লাভগুডের কাছে চলে যায়। বইয়ের ক্লাইম্যাক্সে ডাম্বলডোরের মৃত্যুর পর, জ্যাকারিয়াস অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় থাকেননি; তার 'দাম্ভিক চেহারার' বাবা তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ|ডেথলি হ্যালোজ]] === স্মিথকে আমরা কেবল এক ঝলক দেখতে পাই: স্কুলের অপ্রাপ্তবয়স্ক জাদুকরদের যখন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, হ্যারি দেখে যে জ্যাকারিয়াস স্মিথ রুম অফ রিকোয়ারমেন্ট এবং হগস হেডের নিরাপদ পথে পৌঁছানোর তাড়াহুড়োয় তাদের কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। == শক্তি == যেহেতু সে হাফলপাফ দলে আছে, তাই সম্ভবত সে একজন বেশ ভালো কুইডিচ খেলোয়াড়। ডিএ-র সদস্য হিসেবে, সে হ্যারি এবং অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে বেশ ব্যাপক পরিমাণে আত্মরক্ষামূলক জাদু শিখেছে। == দুর্বলতা == জ্যাকারিয়াসকে একজন অত্যন্ত আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। যেমনটা উল্লেখ করা হয়েছে, শেষ বইয়ের যুদ্ধের আগে হগওয়ার্টস ছাড়ার তাড়াহুড়োতে সে তার নিজের হাউসেরই বেশ কয়েকজন প্রথম বর্ষের ছাত্রকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, যা হাফলপাফ হাউসের বাছাই করা "ন্যায়পরায়ণ ও অনুগত" ধরনের ছাত্রদের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। == অন্যান্য চরিত্রের সাথে সম্পর্ক == মনে করা হয়, তার সহপাঠী হাফলপাফ আর্নি ম্যাকমিলান এবং হ্যানা অ্যাবটের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ডাম্বলডোরস আর্মির অন্য অনেক সদস্যের প্রতি তিনি বেশ উদ্ধত এবং তাচ্ছিল্যপূর্ণ, যদিও তিনি এখনও এর একজন সদস্য এবং চেষ্টা করে যাচ্ছেন। == বিশ্লেষণ == জ্যাকারিয়াস কেন হাফলপাফে আছে, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, কারণ প্রথম দর্শনে তার মধ্যে এই সম্পর্কিত কোনো গুণই দেখা যায় না। তবে, এটা লক্ষণীয় যে, সে ডিএ সেশনগুলোতে প্রচুর পরিশ্রম করে এবং যথেষ্ট সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ম্যারিয়েটার মতো সংগঠনটির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না। এটি তার মধ্যে অল্প পরিমাণে কঠোর পরিশ্রম এবং আনুগত্য—উভয়ই প্রকাশ করে, যা উভয়ই হাফলপাফের বৈশিষ্ট্য। == প্রশ্ন == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} # জাকারিয়া কেন হাফলপাফে আছে? # সে যদি হ্যারি এবং তার বন্ধুদের এতই অবিশ্বাস করে, তবে সে ডিএ-তে কেন যোগ দেয়? # তার আসল আনুগত্য কার প্রতি, যদি আদৌ তার কোনো আনুগত্য থেকে থাকে? # সে হ্যারির সপ্তম বর্ষের ছাত্র, সুতরাং তার অবশ্যই ব্লাড স্ট্যাটাস থাকতে হবে। সে কি পিওর-ব্লাড নাকি হাফ-ব্লাড? == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} জ্যাকারিয়াসের আবির্ভাবের মাধ্যমে লেখক হয়তো দেখাতে চেয়েছেন যে, এক্ষেত্রে সবাই কেবল ভালো বা মন্দ নয়, কিংবা তাদের হাউসের পরিচয়েই তাদের পরিচয় নির্ধারিত হয় না। আমাদের পরিচিত অন্য সব হাফলপাফের থেকে ভিন্ন, জ্যাকারিয়াস অভদ্র, বিদ্রূপাত্মক এবং তাকে পছন্দ করা প্রায় অসম্ভব। সে যে ডাম্বলডোরস আর্মির একজন অনুগত সদস্য হিসেবেই থেকে যায়, তাদের বিশ্বাসঘাতক হয়ে ওঠে না, তা পাঠকের কাছে একটি বিস্ময়, কারণ তারা (রনের মতো) হয়তো শুরু থেকেই তাকে সন্দেহ করেছিল। {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 45tcffuyw5g3b72r71p8qhe8ariwhe1 মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রচ্ছদ 0 29048 106644 95301 2026-06-11T17:53:38Z কমলেশ মন্ডল 9394 106644 wikitext text/x-wiki <div align="center"> [[Image:Muggles' Guide Cover.png]] [[প্রধান পাতা|উইকিবই]] উন্নয়নাধীন, এমন একটি সাইট যা উন্মুক্ত-কন্টেন্ট পাঠ্যপুস্তকের সংগ্রহ সরবরাহ করে যা যে কেউ সম্পাদনা করতে পারে।</div> {{BookCat}} pssibc5rlgrxau28ofdpgp5ezxhjr0i মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/অ্যানাপনিও 0 29050 106645 95122 2026-06-11T17:57:36Z কমলেশ মন্ডল 9394 সংশোধন 106645 wikitext text/x-wiki {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু| নাম=আনাপনিও| ধরন=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু#জাদুমন্ত্র|জাদুমন্ত্র]]| বৈশিষ্ট্য=শ্বাসপথ পরিষ্কার করে| প্রথম উপস্থিতি=''[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/হাফ-ব্লাড প্রিন্স|হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স]]''}} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ == '''''অ্যানাপনিয়ো''''' হলো একটি মন্ত্র যা অবরুদ্ধ শ্বাসনালী পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়। == বিস্তারিত বিবরণ == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} খুব দ্রুত গিলে ফেলার পর মার্কাস বেলবির শ্বাসরোধ হতে শুরু করলে, প্রফেসর স্লাগহর্ন তার উপর এই জাদুটি প্রয়োগ করেন। == বিশ্লেষণ == এই জাদুর মন্ত্রটি গ্রিক শব্দ πνοη (শ্বাস) থেকে উদ্ভূত, যা ইংরেজিতে "pneu-" দিয়ে শুরু হওয়া অনেক শব্দেও দেখা যায়; উপসর্গ α-এর অর্থ হতে পারে "না" এবং তার সামনে থাকা αν সেই নেতিবাচকতাকে নাকচ করে দেয়, যার ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় "বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাস ফিরিয়ে আনা"। == প্রশ্ন == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} nsce1131ngyoukpr2syy8beie348vn9 106646 106645 2026-06-11T18:02:25Z কমলেশ মন্ডল 9394 106646 wikitext text/x-wiki {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু| নাম=অ্যানাপনিও| ধরন=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু#জাদুমন্ত্র|জাদুমন্ত্র]]| বৈশিষ্ট্য=শ্বাসপথ পরিষ্কার করে| প্রথম উপস্থিতি=''[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/হাফ-ব্লাড প্রিন্স|হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স]]''}} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ == '''''অ্যানাপনিও''''' হলো একটি জাদুমন্ত্র যা অবরুদ্ধ শ্বাসনালী পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়। == বিস্তারিত বিবরণ == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} খুব দ্রুত গিলে ফেলার পর মার্কাস বেলবির শ্বাসরোধ হতে শুরু করলে, প্রফেসর স্লাগহর্ন তার উপর এই জাদুটি প্রয়োগ করেন। == বিশ্লেষণ == এই জাদুর মন্ত্রটি গ্রিক শব্দ πνοη (শ্বাস) থেকে উদ্ভূত, যা ইংরেজিতে "pneu-" দিয়ে শুরু হওয়া অনেক শব্দেও দেখা যায়; উপসর্গ α-এর অর্থ হতে পারে "না" এবং তার সামনে থাকা αν সেই নেতিবাচকতাকে নাকচ করে দেয়, যার ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় "বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাস ফিরিয়ে আনা"। == প্রশ্ন == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} q5xdo2j6m3hgxavuxyq34gp3ksbopro মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ৩৮ 0 29148 106654 105877 2026-06-11T19:16:01Z কমলেশ মন্ডল 9394 উইকিলিঙ্ক সংশোধন 106654 wikitext text/x-wiki {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/পাতা|prev=অধ্যায় ৩৭|tab=৩৮|title=দ্বিতীয় যুদ্ধের সূচনা}} == সারসংক্ষেপ == {{spoiler}} [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/অ্যালবাস ডাম্বলডোর|ডাম্বলডোর]] আনুষ্ঠানিকভাবে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্রাফট অ্যান্ড উইজার্ড্রি|হগওয়ার্টসের]] প্রধান শিক্ষক হিসেবে পুনর্বহাল হন এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/জাদু মন্ত্রণালয়|জাদু মন্ত্রণালয়]] প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেয় যে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/লর্ড ভলডেমর্ট|লর্ড ভলডেমর্ট]] ফিরে এসেছেন। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/হ্যারি পটার|হ্যারি]]র সাথে যাওয়া ছাত্রছাত্রীরা তাদের আঘাত থেকে অনেকাংশেই সেরে উঠেছে, যদিও [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/হারমায়োনি গ্রেঞ্জার|হারমায়োনি]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রন উইজলি|রন]] এখনও হাসপাতালের উইংয়ে আছে। হ্যারি তাদের দেখতে যায় এবং সেখানে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/লুনা লাভগুড|লুনা]], [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/জিনি উইজলি|জিনি]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/নেভিল লংবটম|নেভিল]]কেও দেখতে পায়। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ডলোরেস আমব্রিজ|ডলোরেস আমব্রিজ]]ও রোগী হিসেবে হাসপাতালের উইংয়েএ আছেন। ডাম্বলডোর নিজে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/নিষিদ্ধ বন|নিষিদ্ধ বনে]] গিয়ে তাকে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/সেন্টর|সেন্টর]]দের কাছ থেকে উদ্ধার করে আনেন। সেই অভিজ্ঞতায় গভীরভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় তিনি খুব কমই কথা বলতে পারছেন। রন তার জিহ্বা দিয়ে ঘোড়ার খুরের মতো "ক্লিপ ক্লপ" শব্দ করে তাকে উত্ত্যক্ত করে, যা শুনে ভীত নারীটি বিছানায় সোজা হয়ে বসে পাগলের মতো চারদিকে তাকাতে থাকেন। হারমায়োনি এবং জিনি তাদের হাসি চেপে রাখতে পারছিল না। হারমায়োনি আক্ষেপ করে যে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভবিষ্যদ্বাণী|ভবিষ্যদ্বাণী]]টি হারিয়ে গেছে। হ্যারি এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকলেও এর বিষয়বস্তু জানার ব্যাপারে কিছুই বলে না। বন্ধুদের ক্রমাগত অনুমান সহ্য করা কঠিন মনে হওয়ায় সে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রুবিয়াস হ্যাগ্রিড|হ্যাগ্রিডের]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/হ্যাগ্রিডের কুঁড়েঘর|কুঁড়েঘরের]] দিকে রওনা দেয়। পথে প্রতিশোধপরায়ণ [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ড্রাকো ম্যালফয়|ড্রাকো ম্যালফয়]] তাকে অভিশাপ দেওয়ার হুমকি দেয়, কারণ [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/লুসিয়াস ম্যালফয়|তার বাবা]]কে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/আজকাবান|আজকাবান]] কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। হ্যারি দ্রুত জাদুদণ্ড তাক করে ড্রাকোকে কোণঠাসা করে ফেলে, কিন্তু কেউ কাউকে আক্রমণ করার আগেই [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/সেভেরাস স্নেপ|স্নেপ]] সেখানে হস্তক্ষেপ করেন। স্নেপ গ্রিফিন্ডরের দশ পয়েন্ট কেটে নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু বিদ্রূপ করে বলেন যে কোনো হাউজ পয়েন্ট আর অবশিষ্ট নেই। ঠিক তখনই [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/মিনার্ভা ম্যাকগোনাগল|অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল]] সেন্ট মাঙ্গোস হাসপাতাল থেকে ফিরে আসেন। তিনি অনেকটাই সেরে উঠেছেন তবে হাঁটার জন্য লাঠি ব্যবহার করছেন। গ্রিফিন্ডরের সব পয়েন্ট মুছে গেছে দেখে তিনি হ্যারি, রন, জিনি, হারমায়োনি, নেভিল এবং (র‍্যাভেনক্লর) লুনাকে জাদুকর দুনিয়াকে ভলডেমর্ট সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য পঞ্চাশ পয়েন্ট করে পুরস্কৃত করেন এবং স্নেপের কাটা দশ পয়েন্ট বিয়োগ করেন। হ্যাগ্রিড এখন সবাই জানে যে হ্যারি সত্যি বলছিল তা উল্লেখ করলেও হ্যারি সেখানে কোনো স্বস্তি পায় না। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/সিরিয়াস ব্ল্যাক|সিরিয়াস]] চলে যাওয়ায় হ্যারির কাছে সব অর্থহীন মনে হয় এবং পরিশেষে সে একাকীত্বের খোঁজে হ্রদের ধারে চলে যায়। কয়েক দিন পর অধ্যাপক আমব্রিজ হগওয়ার্টস ত্যাগ করেন, তবে যাওয়ার আগে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/পিভস|পিভসের]] হাতে নাজেহাল হন। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগলকে আক্ষেপ করতে শোনা যায় যে তিনি পিভসকে সাহায্য করতে পারছেন না, কারণ পিভস তার লাঠি ব্যবহার করেই আমব্রিজকে শাস্তি দিচ্ছিল। বিদায়ী ভোজসভায় যোগ দেওয়ার বদলে হ্যারি তার ট্রাঙ্ক গোছায়। সে সিরিয়াসের দেওয়া সেই না খোলা বড়দিনের উপহারটি খুঁজে পায়। ভেতরে একটি পুরনো আয়না এবং সিরিয়াসের একটি নোট ছিল যাতে লেখা ছিল যে হ্যারি এটি দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। হ্যারি ভাবে এটি হয়তো পরকালের সিরিয়াসের সাথে যোগাযোগের কোনো মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু সে কেবল নিজের প্রতিফলনই দেখতে পায়। সিরিয়াস পর্দার ওপারে যাওয়ার সময় এর যমজ আয়নাটি সাথে নিয়ে যাননি বুঝতে পেরে হ্যারি রাগে এটি ট্রাঙ্কের ভেতর ছুড়ে মারে, ফলে আয়নাটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। হঠাৎ একটি চিন্তা তার মাথায় আসে এবং সে গ্রিফিন্ডরের [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভূত|ভূত]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/নিয়ারলি হেডলেস নিক|নিয়ারলি হেডলেস নিকের]] খোঁজ করে। সে নিককে জিজ্ঞাসা করে সিরিয়াসও কি ভূত হতে পারতেন কি না, কিন্তু নিক বুঝিয়ে বলেন যে খুব কম জাদুকরই আত্মা হিসেবে পৃথিবীতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিক এটি করেছিলেন কারণ তিনি পরবর্তী পৃথিবীতে যাওয়ার ভয় পাচ্ছিলেন, কিন্তু সিরিয়াস তা করবেন না। হলে হ্যারির সাথে লুনার দেখা হয়, লুনা তার সেই জিনিসপত্রগুলো খুঁজছিল যা অন্য ছাত্ররা লুকিয়ে রেখেছে। হ্যারি সাহায্যের প্রস্তাব দিলেও লুনা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে যে সবকিছু শেষ পর্যন্ত ঠিকই পাওয়া যায়। লুনা [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/থেস্ট্রাল|থেস্ট্রাল]]দের দেখতে পায় মনে করে হ্যারি তাকে জিজ্ঞাসা করে সে কাকে মরতে দেখেছিল। লুনা জানায় তার মা একটি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন, তবে সে বিশ্বাস করে সে তার মায়ের সাথে আবার দেখা করতে পারবে। সে মনে করে জাদু মন্ত্রণালয়ের রহস্য বিভাগে পর্দার আড়ালে শোনা যাওয়া কণ্ঠগুলো মৃতদেরই, যারা কেবল দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে আছে। লুনা বিদায়ী ভোজসভার দিকে রওনা দিলে হ্যারি আশ্চর্যজনকভাবে আগের চেয়ে ভালো বোধ করে। হগওয়ার্টস এক্সপ্রেসে ম্যালফয়, [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ভিনসেন্ট ক্র্যাব|ক্র্যাব]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/গ্রেগরি গয়েল|গয়েল]] হ্যারিকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে, কিন্তু ডাম্বলডোর'স আর্মির সদস্যরা বাধা দেয় এবং তাদের এমনভাবে জাদুমন্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে যে তাদের চেনা যাচ্ছিল না। হ্যারির কামরার বাইরের করিডোর দিয়ে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/চো চ্যাং|চো চ্যাং]] হেঁটে যায়। সে লজ্জা পায় কিন্তু থামে না। রন জিজ্ঞাসা করে তাদের মধ্যে এখনও কিছু চলছে কি না এবং হ্যারি সত্যিটিই জানায় যে তাদের মধ্যে আর কিছু নেই। হারমায়োনি কৌশলে উল্লেখ করে যে চো এখন [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/মাইকেল কর্নার|মাইকেল কর্নারের]] সাথে প্রেম করছে, কিন্তু হ্যারি এতে বিচলিত হয় না। রন অবশ্য চিন্তিত ছিল কারণ সে মনে রেখেছিল জিনি মাইকেল কর্নারের সাথে প্রেম করত। জিনি বুঝিয়ে বলে যে যখন গ্রিফিন্ডর র‍্যাভেনক্লকে হারিয়েছিল, মাইকেল জিনির সাথে আনন্দ করার বদলে চো-কে সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিল, তাই সে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। হ্যারির দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রন পরামর্শ দেয় যে সে এখন আরও ভালো কাউকে খুঁজে পাবে। জিনি জবাবে জানায় সে ইতোমধ্যে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ডিন থমাস|ডিন থমাসের]] সাথে প্রেম করছে। স্টেশনে তাদের স্বাগত জানান [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/আর্থার উইজলি|মিস্টার]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/মলি উইজলি|মিসেস উইজলি]], [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/নিমফ্যাডোরা টঙ্কস|টঙ্কস]], [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রেমাস লুপিন|লুপিন]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/অ্যালাস্টর মুডি|"ম্যাড আই" মুডি]]। তারা হ্যারিকে বলে যে হ্যারির প্রতি আচরণের ব্যাপারে তারা তার খালা এবং খালুর সাথে কড়া কথা বলতে চায়। নতুন পোশাকে সজ্জিত জমজ ভাইদেরও সেখানে দেখা যায় এবং তারা জানায় তাদের জোক শপটি বেশ ভালো চলছে। পুরো দলটি [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ভার্নন ডার্সলি|আঙ্কেল ভার্ননের]] মুখোমুখি হয় এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে হ্যারির স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর দাবি জানায়, অন্যথায় যোগাযোগ করা হবে বলে সতর্ক করে দেয়। হ্যারি রন এবং হারমায়োনিকে বিদায় জানায় এবং রন কথা দেয় যে খুব শীঘ্রই তারা হ্যারির সাথে দেখা করবে। == বিশ্লেষণ == সিরিজ যত এগোচ্ছে, বইগুলো তত বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে। যদিও [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/গবলেট অব ফায়ার/অধ্যায় ৩৭|''হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার'']] শেষ হয়েছিল [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/সেড্রিক ডিগরি|সেড্রিক ডিগরি]]র মৃত্যু এবং লর্ড ভলডেমর্টের পুনরুত্থানের মাধ্যমে, তবে প্লটটি হ্যারির [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/ত্রিজাদুকর টুর্নামেন্ট|ট্রাইউইজার্ড টুর্নামেন্ট]] জয়, ভলডেমর্টের কাছ থেকে পালিয়ে আসা এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/বার্টি ক্রাউচ জুনিয়র|বার্টি ক্রাউচের]] মুখোশ উন্মোচনের মাধ্যমে কিছুটা ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছিল। কিন্তু সিরিয়াসের মৃত্যু, যিনি হ্যারির কাছে একজন বাবার মতো এবং তার বাবা-মায়ের সাথে থাকা একমাত্র যোগসূত্রগুলোর একটি, তা অনেক বেশি বড় এবং বিচলিত করার মতো ঘটনা। পাঠকরা যাদু মন্ত্রণালয়ে ডেথ ইটারদের পরাজয় এবং জনসাধারণের চোখে হ্যারি ও ডাম্বলডোরের নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি পেলেও হ্যারির কাছে তার ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে এটি সামান্যই সান্ত্বনা দেয়। পাঠকদের লক্ষ্য করা উচিত, বিশেষ করে এই অধ্যায়ে, কীভাবে জয়ের সত্যতা এবং মূল চরিত্রের চোখে সেই জয়ের অসারতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্য করুন কীভাবে ড্রাকো ম্যালফয় এবং ভার্নন ডার্সলির সাথে মিথস্ক্রিয়া ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে যে অন্ধকার সত্ত্বেও হ্যারির জন্য আশা অবশিষ্ট আছে এবং এই মিথস্ক্রিয়াগুলো আমব্রিজের বিদায়কালীন ঘটনার সাথে মিলে এই চূড়ান্ত অধ্যায়ের গুমোট পরিবেশকে হালকা করতে এবং পাঠককে সিরিজের পরবর্তী বই পড়তে অনুপ্রাণিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। হ্যারির কাছে সিরিয়াসের মৃত্যু তার জীবনে আরও একটি গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, কারণ এটিই প্রথমবার যখন সে এমন কাউকে হারাল যাকে সে চিনত এবং যার সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। সে কেবল শোকাচ্ছন্নই নয় বরং তার হঠকারী আচরণ এবং ভুলের জন্য অপরাধবোধেও ভুগছে, যা এই ট্র্যাজেডির দিকে নিয়ে গেছে এবং তার বন্ধুদের জীবনও প্রায় কেড়ে নিয়েছিল। যদিও হ্যারি নিজেকে সিরিয়াসের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে, সে এটা বুঝতে ব্যর্থ হয় যে তার গডফাদারের বেপরোয়া আচরণও তার নিজের মৃত্যুতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। সে ডাম্বলডোরকে তথ্য গোপন করার জন্য এবং স্নেপকে দায়ী করে, যে ডাম্বলডোরের অটল বিশ্বাস সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স|অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স]]কে সতর্ক করতে দেরি করেছে বলে সে মনে করে। পরকালে সিরিয়াসের সাথে যোগাযোগ করার হ্যারির প্রচেষ্টা ইঙ্গিত দেয় যে সে তার গডফাদারের চলে যাওয়া মেনে নিতে অনিচ্ছুক, যদিও লুনার কথাগুলো তাকে কিছু সান্ত্বনা দেয় এবং তার আশা বাড়িয়ে দেয় যে সে হয়তো একদিন সিরিয়াসের সাথে পুনরায় মিলিত হতে পারবে। এই বইজুড়ে হ্যারি জানত যে ভলডেমর্ট ফিরে এসেছে এবং সে জাদুকর জগতের জন্য এবং বিশেষ করে হ্যারির জন্য বড় বিপদ, কিন্তু সে এখন এও জানে কেন ভলডেমর্ট কেবল তাকেই লক্ষ্য বানাচ্ছে। ভবিষ্যদ্বাণীটি সম্ভবত সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশিত হবে না, যদিও আমরা দেখতে পারি হ্যারিকে জাদুকর জগতের একমাত্র আশা হিসেবে জনসাধারণের সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে, সম্ভবত শৈশবে তার ওপর করা [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/আভাডা কেডাভরা|মৃত্যু অভিশাপ]] থেকে বেঁচে যাওয়ার শক্তির কারণেই। এর আভাস এই অধ্যায় থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। এই পর্যায়ে হ্যারি জানে যে ভলডেমর্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার মিত্র আছে, কিন্তু তার বন্ধুদের জখম হতে দেখে সে হয়তো অন্যদের এই লড়াইয়ে জড়াতে দ্বিধাবোধ করবে, যা সে এখন আরও বেশি করে বিশ্বাস করে যে কেবল তারই লড়াই। হ্যারি এখন জানে যে প্রতি বছর [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রিভেট ড্রাইভ|প্রিভেট ড্রাইভে]] ফিরে যাওয়া তার মায়ের জাদুকরী সুরক্ষা কবজকে টিকিয়ে রাখে, যদিও ডার্সলিদের সাথে আরও একটি নিরানন্দ গ্রীষ্ম কাটানোর প্রস্তুতির মুখে এই জ্ঞান খুব কমই সান্ত্বনা দেয়। হ্যারি যা ঘটেছে তা নিয়ে ভাবার এবং নিজের ভুল থেকে শেখার সময় পাবে, যদিও তার পরিপক্ক হওয়ার পথটি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি বেদনাদায়ক ছিল। সিরিয়াসের জন্য শোক করা তাকে আরও একাকী করে তুলবে এবং সে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। এর ফলে যারা তার যত্ন নেয় এবং তাকে সমর্থন করে তাদের সে উপেক্ষা করতে পারে। সে যখন তার হারানো গডফাদারের জন্য শোক করবে, আমরা আশা করি রন, হারমায়োনি, লুপিন, ডাম্বলডোর এবং অন্যরা তার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করবে; তারাই তার প্রকৃত "পরিবার।" আমরা জিনির প্রেমের সম্পর্কের অগ্রগতি এবং রনের এই আশা লক্ষ্য করি যে জিনি হয়তো হ্যারিকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবে। আমরা দেখেছি যে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/চেম্বার অব সিক্রেটস/অধ্যায় ৩|দ্বিতীয় বই]] থেকেই জিনি হ্যারির প্রতি আগ্রহী ছিল। পাঠক দেখতে পাবেন চো চ্যাংয়ের সাথে সম্পর্কের পরিণতি থেকে যে হ্যারি এখনও রোমান্সের জন্য প্রস্তুত নয়, তাই জিনির ডিন থমাসকে বেছে নেওয়া বেশি যুক্তিসঙ্গত মনে হয়। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করা উচিত কীভাবে সিরিজের এই প্রেমের ক্রমগুলো স্বাভাবিক মনে হয় এবং রোমান্স কীভাবে কাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। == প্রশ্ন == {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রশ্নাবলী}} === পর্যালোচনা === #হ্যারি কেন লুনাকে তার জিনিসপত্র খুঁজতে সাহায্য করতে চায়? লুনা কেন তা প্রত্যাখ্যান করে? #হ্যারি কেন নিয়ারলি হেডলেস নিকের পরামর্শ চায়? নিক তাকে কী বলেন? #লুনা যখন হ্যারিকে বলে যে সে তার মৃত মায়ের সাথে আবার দেখা করবে, তখন সে কী বোঝাতে চায়? এটি হ্যারিকে কীভাবে প্রভাবিত করে? === পরবর্তী পাঠ === #হ্যারি সিরিয়াসের উপহারটি খুলতে কেন এত দেরি করল? সে কেন এটি ছুড়ে ফেলে দেয়? #সিরিয়াসের উপহারটি খুলতে হ্যারির দেরি কি সিরিয়াসের মৃত্যুতে ভূমিকা রেখেছিল? যদি তাই হয়, তবে কীভাবে? #হ্যারি কেন সিরিয়াসের সাথে যা ঘটেছে তার জন্য নিজেকে দায়ী করে? সে কি ঠিক? #সিরিয়াসের মৃত্যুর জন্য হ্যারি আর কাকে দায়ী করে এবং কেন? #সিরিয়াস কীভাবে তার নিজের মৃত্যুতে ভূমিকা রাখতে পারতেন? == বৃহত্তর চিত্র == {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/ইন্টারমিডিয়েট স্পয়লার}} রনের এই উক্তি যে তারা খুব শীঘ্রই হ্যারির সাথে দেখা করবে তা আসলে ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ছিল, যদিও সে হয়তো তা বুঝতে পারেনি এবং হ্যারিও তা বিশ্বাস করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডাম্বলডোর মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই হ্যারিকে ডার্সলিদের কাছ থেকে নিয়ে যাবেন এবং হ্যারি গ্রীষ্মের ছুটির বাকি সময় [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/দ্য বারো|দ্য বারো]]তে কাটাবে। হ্যারি বিশ্বাস করেনি যে ডাম্বলডোর তাকে এত তাড়াতাড়ি নিয়ে যাবেন, তাই ডাম্বলডোর প্রাইভেট ড্রাইভে পৌঁছানোর সময় সে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল না। লুনা হ্যারিকে বলে যে পর্দার আড়াল থেকে তারা যে কণ্ঠগুলো শুনেছিল তা তাদের যারা মারা গেছে এবং কেবল ছায়ার মধ্যে অপেক্ষা করছে। সে বিশ্বাস করে তাদের আবার দেখা যাবে, সে তার মায়ের সাথে এবং হ্যারি সিরিয়াসের সাথে পুনরায় মিলিত হবে। এটি শেষ বইয়ে হ্যারির নিজের আসন্ন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার পূর্বাভাস দেয়। ভাঙা আয়নাটিও শেষ উপন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদিও কিছু ফ্যান সাইট অনুমান করেছিল যে হ্যারির ট্রাঙ্কের নিচে পড়ে থাকা আয়নার টুকরোগুলো হ্যারি বা হারমায়োনি কোনো এক সময় [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/রেপারো|মেরামত]] করবে, তবে বাস্তবে তা ঘটে না। তবে হ্যারি তার ট্রাঙ্ক পরিষ্কার করার সময় একটি আয়নার টুকরো খুঁজে পায় এবং শেষ বইয়ে ভলডেমর্টের [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/হরক্রাক্স|হরক্রাক্স (আত্মার অংশ)]] খোঁজার সময় সেটি নিজের কাছে রাখে। কয়েকবার সে প্রতিফলনে কারো নীল চোখ তাকে তাকিয়ে দেখতে দেখে—যে চোখটি অ্যালবাস ডাম্বলডোরের হতে পারত। ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে হ্যারির ব্যাখ্যা মোটামুটি নির্ভুল হলেও সে একটি ফাঁক মিস করেছে। ভবিষ্যদ্বাণীর যে অংশটি হ্যারিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অনুভব করায় তা হলো, ''এবং যে কোনো একজনকে অন্যজনের হাতে মরতে হবে কারণ একজন বেঁচে থাকতে অন্যজন থাকতে পারবে না''। হ্যারি যা জানে তা থেকে সে বোঝে যে এর মানে হয় তাকে ভলডেমর্টকে মারতে হবে অথবা তার হাতে মরতে হবে। পরে দেখা যায় যে হ্যারি ভলডেমর্টের ধ্বংসের মাধ্যম হলেও আসলে প্রাণঘাতী মন্ত্রগুলো ভলডেমর্ট নিজেই করেছিলেন এবং হ্যারিকে পুরো সাতটি বইয়ে কাউকে খুন করতে হয়নি। আমরা ভবিষ্যদ্বাণীতে একটি ছোট ভুল লক্ষ্য করি।যদিও ভলডেমর্ট হ্যারির ওপর দুবার মৃত্যু অভিশাপ দিয়েছিলেন, চূড়ান্ত যুদ্ধের শেষে সেই অভিশাপটি প্রতিফলিত হয়েভলডেমর্টকেই হত্যা করে। হ্যারির এক বছর বয়সের মতো ভলডেমর্ট আবারও নিজের হাতেই মারা যান। তবে এবার তার মৃত্যু স্থায়ী ছিল। যেহেতু এই সিরিজটি মূলত শিশুদের জন্য লেখা, আমব্রিজের অসুস্থতার ধরণটি এই অধ্যায়ে কিছুটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বয়স্ক পাঠকরা তাদের গবেষণার অংশ হিসেবে সেন্টর এবং মানব নারীদের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনীগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। যেহেতু আমব্রিজ এবং তার পরিণতি এই গল্পের একটি পার্শ্ব ঘটনা, তাই সেন্টরদের হাতে বন্দি থাকা অবস্থায় তার সাথে আসলে কী ঘটেছিল তা এখানে আলোচনা করা হবে না, তবে লেখক যে এই বিশেষ মিথের অন্ধকার দিকটি সম্পর্কে জানেন তা স্পষ্ট। === সংযোগসমূহ === * আমরা এখানে সেই জাদুকরী আয়নাটি দেখি যা হ্যারি সিরিয়াসের কাছ থেকে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ২৪|বড়দিনে]] পেয়েছিল। হ্যারি শেষ বইয়ের [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২|দ্বিতীয় অধ্যায়ে]] বেদনাদায়কভাবে তার ট্রাঙ্কে সেই আয়নার একটি ভাঙা টুকরো খুঁজে পাবে। আয়নার ভেতর ডাম্বলডোরের চোখের মতো কিছু দেখছে ভেবে সে সিরিয়াস এবং ডাম্বলডোরের স্মৃতি হিসেবে সেটি ভ্রমণে সাথে রাখার সিদ্ধান্ত নেবে। হ্যারি আয়নার টুকরোটি ব্যবহার করে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৩|পরবর্তীতে]] সাহায্য ডাকতে সক্ষম হবে এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৮|অবশেষে]] প্রকাশ পাবে যে আয়নায় হ্যারি যে চোখটি দেখেছিল সেটি ছিল [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/অ্যাবারফোর্থ ডাম্বলডোর|অ্যাবারফোর্থের]]। h39ef9p53iskoce4f1qyot5z7xhipz3 106655 106654 2026-06-11T19:30:49Z কমলেশ মন্ডল 9394 /* সারসংক্ষেপ */ 106655 wikitext text/x-wiki {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/পাতা|prev=অধ্যায় ৩৭|tab=৩৮|title=দ্বিতীয় যুদ্ধের সূচনা}} == সারসংক্ষেপ == {{spoiler}} [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/অ্যালবাস ডাম্বলডোর|ডাম্বলডোর]] আনুষ্ঠানিকভাবে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্রাফট অ্যান্ড উইজার্ড্রি|হগওয়ার্টসের]] প্রধান শিক্ষক হিসেবে পুনর্বহাল হন এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/জাদু মন্ত্রণালয়|জাদু মন্ত্রণালয়]] প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেয় যে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/লর্ড ভলডেমর্ট|লর্ড ভলডেমর্ট]] ফিরে এসেছেন। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/হ্যারি পটার|হ্যারি]]র সাথে যাওয়া ছাত্রছাত্রীরা তাদের আঘাত থেকে অনেকাংশেই সেরে উঠেছে, যদিও [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/হারমায়োনি গ্রেঞ্জার|হারমায়োনি]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রন উইজলি|রন]] এখনও হাসপাতালের উইংয়ে আছে। হ্যারি তাদের দেখতে যায় এবং সেখানে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/লুনা লাভগুড|লুনা]], [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/জিনি উইজলি|জিনি]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/নেভিল লংবটম|নেভিল]]কেও দেখতে পায়। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ডলোরেস আমব্রিজ|ডলোরেস আমব্রিজ]]ও রোগী হিসেবে হাসপাতালের উইংয়ে আছেন। ডাম্বলডোর নিজে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/নিষিদ্ধ বন|নিষিদ্ধ বনে]] গিয়ে তাকে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/সেন্টর|সেন্টর]]দের কাছ থেকে উদ্ধার করে আনেন। সেই অভিজ্ঞতায় গভীরভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় তিনি খুব কমই কথা বলতে পারছেন। রন তার জিহ্বা দিয়ে ঘোড়ার খুরের মতো "ক্লিপ ক্লপ" শব্দ করে তাকে উত্ত্যক্ত করে, যা শুনে ভীত নারীটি বিছানায় সোজা হয়ে বসে পাগলের মতো চারদিকে তাকাতে থাকেন। হারমায়োনি এবং জিনি তাদের হাসি চেপে রাখতে পারছিল না। হারমায়োনি আক্ষেপ করে যে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভবিষ্যদ্বাণী|ভবিষ্যদ্বাণী]]টি হারিয়ে গেছে। হ্যারি এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকলেও এর বিষয়বস্তু জানার ব্যাপারে কিছুই বলে না। বন্ধুদের ক্রমাগত অনুমান সহ্য করা কঠিন মনে হওয়ায় সে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রুবিয়াস হ্যাগ্রিড|হ্যাগ্রিডের]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/হ্যাগ্রিডের কুঁড়েঘর|কুঁড়েঘরের]] দিকে রওনা দেয়। পথে প্রতিশোধপরায়ণ [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ড্রাকো ম্যালফয়|ড্রাকো ম্যালফয়]] তাকে অভিশাপ দেওয়ার হুমকি দেয়, কারণ [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/লুসিয়াস ম্যালফয়|তার বাবা]]কে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/আজকাবান|আজকাবান]] কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। হ্যারি দ্রুত জাদুদণ্ড তাক করে ড্রাকোকে কোণঠাসা করে ফেলে, কিন্তু কেউ কাউকে আক্রমণ করার আগেই [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/সেভেরাস স্নেপ|স্নেপ]] সেখানে হস্তক্ষেপ করেন। স্নেপ গ্রিফিন্ডরের দশ পয়েন্ট কেটে নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু বিদ্রূপ করে বলেন যে কোনো হাউজ পয়েন্ট আর অবশিষ্ট নেই। ঠিক তখনই [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/মিনার্ভা ম্যাকগোনাগল|অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল]] সেন্ট মাঙ্গোস হাসপাতাল থেকে ফিরে আসেন। তিনি অনেকটাই সেরে উঠেছেন তবে হাঁটার জন্য লাঠি ব্যবহার করছেন। গ্রিফিন্ডরের সব পয়েন্ট মুছে গেছে দেখে তিনি হ্যারি, রন, জিনি, হারমায়োনি, নেভিল এবং (র‍্যাভেনক্লর) লুনাকে জাদুকর দুনিয়াকে ভলডেমর্ট সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য পঞ্চাশ পয়েন্ট করে পুরস্কৃত করেন এবং স্নেপের কাটা দশ পয়েন্ট বিয়োগ করেন। হ্যাগ্রিড এখন সবাই জানে যে হ্যারি সত্যি বলছিল তা উল্লেখ করলেও হ্যারি সেখানে কোনো স্বস্তি পায় না। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/সিরিয়াস ব্ল্যাক|সিরিয়াস]] চলে যাওয়ায় হ্যারির কাছে সব অর্থহীন মনে হয় এবং পরিশেষে সে একাকীত্বের খোঁজে হ্রদের ধারে চলে যায়। কয়েক দিন পর অধ্যাপক আমব্রিজ হগওয়ার্টস ত্যাগ করেন, তবে যাওয়ার আগে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/পিভস|পিভসের]] হাতে নাজেহাল হন। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগলকে আক্ষেপ করতে শোনা যায় যে তিনি পিভসকে সাহায্য করতে পারছেন না, কারণ পিভস তার লাঠি ব্যবহার করেই আমব্রিজকে শাস্তি দিচ্ছিল। বিদায়ী ভোজসভায় যোগ দেওয়ার বদলে হ্যারি তার ট্রাঙ্ক গোছায়। সে সিরিয়াসের দেওয়া সেই না খোলা বড়দিনের উপহারটি খুঁজে পায়। ভেতরে একটি পুরনো আয়না এবং সিরিয়াসের একটি নোট ছিল যাতে লেখা ছিল যে হ্যারি এটি দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। হ্যারি ভাবে এটি হয়তো পরকালের সিরিয়াসের সাথে যোগাযোগের কোনো মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু সে কেবল নিজের প্রতিফলনই দেখতে পায়। সিরিয়াস পর্দার ওপারে যাওয়ার সময় এর যমজ আয়নাটি সাথে নিয়ে যাননি বুঝতে পেরে হ্যারি রাগে এটি ট্রাঙ্কের ভেতর ছুড়ে মারে, ফলে আয়নাটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। হঠাৎ একটি চিন্তা তার মাথায় আসে এবং সে গ্রিফিন্ডরের [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/ভূত|ভূত]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/নিয়ারলি হেডলেস নিক|নিয়ারলি হেডলেস নিকের]] খোঁজ করে। সে নিককে জিজ্ঞাসা করে সিরিয়াসও কি ভূত হতে পারতেন কি না, কিন্তু নিক বুঝিয়ে বলেন যে খুব কম জাদুকরই আত্মা হিসেবে পৃথিবীতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিক এটি করেছিলেন কারণ তিনি পরবর্তী পৃথিবীতে যাওয়ার ভয় পাচ্ছিলেন, কিন্তু সিরিয়াস তা করবেন না। হলে হ্যারির সাথে লুনার দেখা হয়, লুনা তার সেই জিনিসপত্রগুলো খুঁজছিল যা অন্য ছাত্ররা লুকিয়ে রেখেছে। হ্যারি সাহায্যের প্রস্তাব দিলেও লুনা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে যে সবকিছু শেষ পর্যন্ত ঠিকই পাওয়া যায়। লুনা [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/থেস্ট্রাল|থেস্ট্রাল]]দের দেখতে পায় মনে করে হ্যারি তাকে জিজ্ঞাসা করে সে কাকে মরতে দেখেছিল। লুনা জানায় তার মা একটি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন, তবে সে বিশ্বাস করে সে তার মায়ের সাথে আবার দেখা করতে পারবে। সে মনে করে জাদু মন্ত্রণালয়ের রহস্য বিভাগে পর্দার আড়ালে শোনা যাওয়া কণ্ঠগুলো মৃতদেরই, যারা কেবল দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে আছে। লুনা বিদায়ী ভোজসভার দিকে রওনা দিলে হ্যারি আশ্চর্যজনকভাবে আগের চেয়ে ভালো বোধ করে। হগওয়ার্টস এক্সপ্রেসে ম্যালফয়, [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ভিনসেন্ট ক্র্যাব|ক্র্যাব]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/গ্রেগরি গয়েল|গয়েল]] হ্যারিকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে, কিন্তু ডাম্বলডোর'স আর্মির সদস্যরা বাধা দেয় এবং তাদের এমনভাবে জাদুমন্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে যে তাদের চেনা যাচ্ছিল না। হ্যারির কামরার বাইরের করিডোর দিয়ে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/চো চ্যাং|চো চ্যাং]] হেঁটে যায়। সে লজ্জা পায় কিন্তু থামে না। রন জিজ্ঞাসা করে তাদের মধ্যে এখনও কিছু চলছে কি না এবং হ্যারি সত্যিটিই জানায় যে তাদের মধ্যে আর কিছু নেই। হারমায়োনি কৌশলে উল্লেখ করে যে চো এখন [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/মাইকেল কর্নার|মাইকেল কর্নারের]] সাথে প্রেম করছে, কিন্তু হ্যারি এতে বিচলিত হয় না। রন অবশ্য চিন্তিত ছিল কারণ সে মনে রেখেছিল জিনি মাইকেল কর্নারের সাথে প্রেম করত। জিনি বুঝিয়ে বলে যে যখন গ্রিফিন্ডর র‍্যাভেনক্লকে হারিয়েছিল, মাইকেল জিনির সাথে আনন্দ করার বদলে চো-কে সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিল, তাই সে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। হ্যারির দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রন পরামর্শ দেয় যে সে এখন আরও ভালো কাউকে খুঁজে পাবে। জিনি জবাবে জানায় সে ইতোমধ্যে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ডিন থমাস|ডিন থমাসের]] সাথে প্রেম করছে। স্টেশনে তাদের স্বাগত জানান [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/আর্থার উইজলি|মিস্টার]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/মলি উইজলি|মিসেস উইজলি]], [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/নিমফ্যাডোরা টঙ্কস|টঙ্কস]], [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রেমাস লুপিন|লুপিন]] এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/অ্যালাস্টর মুডি|"ম্যাড আই" মুডি]]। তারা হ্যারিকে বলে যে হ্যারির প্রতি আচরণের ব্যাপারে তারা তার খালা এবং খালুর সাথে কড়া কথা বলতে চায়। নতুন পোশাকে সজ্জিত জমজ ভাইদেরও সেখানে দেখা যায় এবং তারা জানায় তাদের জোক শপটি বেশ ভালো চলছে। পুরো দলটি [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ভার্নন ডার্সলি|আঙ্কেল ভার্ননের]] মুখোমুখি হয় এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে হ্যারির স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর দাবি জানায়, অন্যথায় যোগাযোগ করা হবে বলে সতর্ক করে দেয়। হ্যারি রন এবং হারমায়োনিকে বিদায় জানায় এবং রন কথা দেয় যে খুব শীঘ্রই তারা হ্যারির সাথে দেখা করবে। == বিশ্লেষণ == সিরিজ যত এগোচ্ছে, বইগুলো তত বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে। যদিও [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/গবলেট অব ফায়ার/অধ্যায় ৩৭|''হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার'']] শেষ হয়েছিল [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/সেড্রিক ডিগরি|সেড্রিক ডিগরি]]র মৃত্যু এবং লর্ড ভলডেমর্টের পুনরুত্থানের মাধ্যমে, তবে প্লটটি হ্যারির [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/ত্রিজাদুকর টুর্নামেন্ট|ট্রাইউইজার্ড টুর্নামেন্ট]] জয়, ভলডেমর্টের কাছ থেকে পালিয়ে আসা এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/বার্টি ক্রাউচ জুনিয়র|বার্টি ক্রাউচের]] মুখোশ উন্মোচনের মাধ্যমে কিছুটা ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছিল। কিন্তু সিরিয়াসের মৃত্যু, যিনি হ্যারির কাছে একজন বাবার মতো এবং তার বাবা-মায়ের সাথে থাকা একমাত্র যোগসূত্রগুলোর একটি, তা অনেক বেশি বড় এবং বিচলিত করার মতো ঘটনা। পাঠকরা যাদু মন্ত্রণালয়ে ডেথ ইটারদের পরাজয় এবং জনসাধারণের চোখে হ্যারি ও ডাম্বলডোরের নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি পেলেও হ্যারির কাছে তার ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে এটি সামান্যই সান্ত্বনা দেয়। পাঠকদের লক্ষ্য করা উচিত, বিশেষ করে এই অধ্যায়ে, কীভাবে জয়ের সত্যতা এবং মূল চরিত্রের চোখে সেই জয়ের অসারতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্য করুন কীভাবে ড্রাকো ম্যালফয় এবং ভার্নন ডার্সলির সাথে মিথস্ক্রিয়া ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে যে অন্ধকার সত্ত্বেও হ্যারির জন্য আশা অবশিষ্ট আছে এবং এই মিথস্ক্রিয়াগুলো আমব্রিজের বিদায়কালীন ঘটনার সাথে মিলে এই চূড়ান্ত অধ্যায়ের গুমোট পরিবেশকে হালকা করতে এবং পাঠককে সিরিজের পরবর্তী বই পড়তে অনুপ্রাণিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। হ্যারির কাছে সিরিয়াসের মৃত্যু তার জীবনে আরও একটি গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, কারণ এটিই প্রথমবার যখন সে এমন কাউকে হারাল যাকে সে চিনত এবং যার সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। সে কেবল শোকাচ্ছন্নই নয় বরং তার হঠকারী আচরণ এবং ভুলের জন্য অপরাধবোধেও ভুগছে, যা এই ট্র্যাজেডির দিকে নিয়ে গেছে এবং তার বন্ধুদের জীবনও প্রায় কেড়ে নিয়েছিল। যদিও হ্যারি নিজেকে সিরিয়াসের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে, সে এটা বুঝতে ব্যর্থ হয় যে তার গডফাদারের বেপরোয়া আচরণও তার নিজের মৃত্যুতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। সে ডাম্বলডোরকে তথ্য গোপন করার জন্য এবং স্নেপকে দায়ী করে, যে ডাম্বলডোরের অটল বিশ্বাস সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স|অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স]]কে সতর্ক করতে দেরি করেছে বলে সে মনে করে। পরকালে সিরিয়াসের সাথে যোগাযোগ করার হ্যারির প্রচেষ্টা ইঙ্গিত দেয় যে সে তার গডফাদারের চলে যাওয়া মেনে নিতে অনিচ্ছুক, যদিও লুনার কথাগুলো তাকে কিছু সান্ত্বনা দেয় এবং তার আশা বাড়িয়ে দেয় যে সে হয়তো একদিন সিরিয়াসের সাথে পুনরায় মিলিত হতে পারবে। এই বইজুড়ে হ্যারি জানত যে ভলডেমর্ট ফিরে এসেছে এবং সে জাদুকর জগতের জন্য এবং বিশেষ করে হ্যারির জন্য বড় বিপদ, কিন্তু সে এখন এও জানে কেন ভলডেমর্ট কেবল তাকেই লক্ষ্য বানাচ্ছে। ভবিষ্যদ্বাণীটি সম্ভবত সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশিত হবে না, যদিও আমরা দেখতে পারি হ্যারিকে জাদুকর জগতের একমাত্র আশা হিসেবে জনসাধারণের সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে, সম্ভবত শৈশবে তার ওপর করা [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/আভাডা কেডাভরা|মৃত্যু অভিশাপ]] থেকে বেঁচে যাওয়ার শক্তির কারণেই। এর আভাস এই অধ্যায় থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। এই পর্যায়ে হ্যারি জানে যে ভলডেমর্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার মিত্র আছে, কিন্তু তার বন্ধুদের জখম হতে দেখে সে হয়তো অন্যদের এই লড়াইয়ে জড়াতে দ্বিধাবোধ করবে, যা সে এখন আরও বেশি করে বিশ্বাস করে যে কেবল তারই লড়াই। হ্যারি এখন জানে যে প্রতি বছর [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/প্রিভেট ড্রাইভ|প্রিভেট ড্রাইভে]] ফিরে যাওয়া তার মায়ের জাদুকরী সুরক্ষা কবজকে টিকিয়ে রাখে, যদিও ডার্সলিদের সাথে আরও একটি নিরানন্দ গ্রীষ্ম কাটানোর প্রস্তুতির মুখে এই জ্ঞান খুব কমই সান্ত্বনা দেয়। হ্যারি যা ঘটেছে তা নিয়ে ভাবার এবং নিজের ভুল থেকে শেখার সময় পাবে, যদিও তার পরিপক্ক হওয়ার পথটি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি বেদনাদায়ক ছিল। সিরিয়াসের জন্য শোক করা তাকে আরও একাকী করে তুলবে এবং সে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। এর ফলে যারা তার যত্ন নেয় এবং তাকে সমর্থন করে তাদের সে উপেক্ষা করতে পারে। সে যখন তার হারানো গডফাদারের জন্য শোক করবে, আমরা আশা করি রন, হারমায়োনি, লুপিন, ডাম্বলডোর এবং অন্যরা তার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করবে; তারাই তার প্রকৃত "পরিবার।" আমরা জিনির প্রেমের সম্পর্কের অগ্রগতি এবং রনের এই আশা লক্ষ্য করি যে জিনি হয়তো হ্যারিকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবে। আমরা দেখেছি যে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/চেম্বার অব সিক্রেটস/অধ্যায় ৩|দ্বিতীয় বই]] থেকেই জিনি হ্যারির প্রতি আগ্রহী ছিল। পাঠক দেখতে পাবেন চো চ্যাংয়ের সাথে সম্পর্কের পরিণতি থেকে যে হ্যারি এখনও রোমান্সের জন্য প্রস্তুত নয়, তাই জিনির ডিন থমাসকে বেছে নেওয়া বেশি যুক্তিসঙ্গত মনে হয়। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করা উচিত কীভাবে সিরিজের এই প্রেমের ক্রমগুলো স্বাভাবিক মনে হয় এবং রোমান্স কীভাবে কাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। == প্রশ্ন == {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রশ্নাবলী}} === পর্যালোচনা === #হ্যারি কেন লুনাকে তার জিনিসপত্র খুঁজতে সাহায্য করতে চায়? লুনা কেন তা প্রত্যাখ্যান করে? #হ্যারি কেন নিয়ারলি হেডলেস নিকের পরামর্শ চায়? নিক তাকে কী বলেন? #লুনা যখন হ্যারিকে বলে যে সে তার মৃত মায়ের সাথে আবার দেখা করবে, তখন সে কী বোঝাতে চায়? এটি হ্যারিকে কীভাবে প্রভাবিত করে? === পরবর্তী পাঠ === #হ্যারি সিরিয়াসের উপহারটি খুলতে কেন এত দেরি করল? সে কেন এটি ছুড়ে ফেলে দেয়? #সিরিয়াসের উপহারটি খুলতে হ্যারির দেরি কি সিরিয়াসের মৃত্যুতে ভূমিকা রেখেছিল? যদি তাই হয়, তবে কীভাবে? #হ্যারি কেন সিরিয়াসের সাথে যা ঘটেছে তার জন্য নিজেকে দায়ী করে? সে কি ঠিক? #সিরিয়াসের মৃত্যুর জন্য হ্যারি আর কাকে দায়ী করে এবং কেন? #সিরিয়াস কীভাবে তার নিজের মৃত্যুতে ভূমিকা রাখতে পারতেন? == বৃহত্তর চিত্র == {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/ইন্টারমিডিয়েট স্পয়লার}} রনের এই উক্তি যে তারা খুব শীঘ্রই হ্যারির সাথে দেখা করবে তা আসলে ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ছিল, যদিও সে হয়তো তা বুঝতে পারেনি এবং হ্যারিও তা বিশ্বাস করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডাম্বলডোর মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই হ্যারিকে ডার্সলিদের কাছ থেকে নিয়ে যাবেন এবং হ্যারি গ্রীষ্মের ছুটির বাকি সময় [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/দ্য বারো|দ্য বারো]]তে কাটাবে। হ্যারি বিশ্বাস করেনি যে ডাম্বলডোর তাকে এত তাড়াতাড়ি নিয়ে যাবেন, তাই ডাম্বলডোর প্রাইভেট ড্রাইভে পৌঁছানোর সময় সে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল না। লুনা হ্যারিকে বলে যে পর্দার আড়াল থেকে তারা যে কণ্ঠগুলো শুনেছিল তা তাদের যারা মারা গেছে এবং কেবল ছায়ার মধ্যে অপেক্ষা করছে। সে বিশ্বাস করে তাদের আবার দেখা যাবে, সে তার মায়ের সাথে এবং হ্যারি সিরিয়াসের সাথে পুনরায় মিলিত হবে। এটি শেষ বইয়ে হ্যারির নিজের আসন্ন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার পূর্বাভাস দেয়। ভাঙা আয়নাটিও শেষ উপন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদিও কিছু ফ্যান সাইট অনুমান করেছিল যে হ্যারির ট্রাঙ্কের নিচে পড়ে থাকা আয়নার টুকরোগুলো হ্যারি বা হারমায়োনি কোনো এক সময় [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/রেপারো|মেরামত]] করবে, তবে বাস্তবে তা ঘটে না। তবে হ্যারি তার ট্রাঙ্ক পরিষ্কার করার সময় একটি আয়নার টুকরো খুঁজে পায় এবং শেষ বইয়ে ভলডেমর্টের [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/হরক্রাক্স|হরক্রাক্স (আত্মার অংশ)]] খোঁজার সময় সেটি নিজের কাছে রাখে। কয়েকবার সে প্রতিফলনে কারো নীল চোখ তাকে তাকিয়ে দেখতে দেখে—যে চোখটি অ্যালবাস ডাম্বলডোরের হতে পারত। ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে হ্যারির ব্যাখ্যা মোটামুটি নির্ভুল হলেও সে একটি ফাঁক মিস করেছে। ভবিষ্যদ্বাণীর যে অংশটি হ্যারিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অনুভব করায় তা হলো, ''এবং যে কোনো একজনকে অন্যজনের হাতে মরতে হবে কারণ একজন বেঁচে থাকতে অন্যজন থাকতে পারবে না''। হ্যারি যা জানে তা থেকে সে বোঝে যে এর মানে হয় তাকে ভলডেমর্টকে মারতে হবে অথবা তার হাতে মরতে হবে। পরে দেখা যায় যে হ্যারি ভলডেমর্টের ধ্বংসের মাধ্যম হলেও আসলে প্রাণঘাতী মন্ত্রগুলো ভলডেমর্ট নিজেই করেছিলেন এবং হ্যারিকে পুরো সাতটি বইয়ে কাউকে খুন করতে হয়নি। আমরা ভবিষ্যদ্বাণীতে একটি ছোট ভুল লক্ষ্য করি।যদিও ভলডেমর্ট হ্যারির ওপর দুবার মৃত্যু অভিশাপ দিয়েছিলেন, চূড়ান্ত যুদ্ধের শেষে সেই অভিশাপটি প্রতিফলিত হয়েভলডেমর্টকেই হত্যা করে। হ্যারির এক বছর বয়সের মতো ভলডেমর্ট আবারও নিজের হাতেই মারা যান। তবে এবার তার মৃত্যু স্থায়ী ছিল। যেহেতু এই সিরিজটি মূলত শিশুদের জন্য লেখা, আমব্রিজের অসুস্থতার ধরণটি এই অধ্যায়ে কিছুটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বয়স্ক পাঠকরা তাদের গবেষণার অংশ হিসেবে সেন্টর এবং মানব নারীদের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনীগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। যেহেতু আমব্রিজ এবং তার পরিণতি এই গল্পের একটি পার্শ্ব ঘটনা, তাই সেন্টরদের হাতে বন্দি থাকা অবস্থায় তার সাথে আসলে কী ঘটেছিল তা এখানে আলোচনা করা হবে না, তবে লেখক যে এই বিশেষ মিথের অন্ধকার দিকটি সম্পর্কে জানেন তা স্পষ্ট। === সংযোগসমূহ === * আমরা এখানে সেই জাদুকরী আয়নাটি দেখি যা হ্যারি সিরিয়াসের কাছ থেকে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স/অধ্যায় ২৪|বড়দিনে]] পেয়েছিল। হ্যারি শেষ বইয়ের [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২|দ্বিতীয় অধ্যায়ে]] বেদনাদায়কভাবে তার ট্রাঙ্কে সেই আয়নার একটি ভাঙা টুকরো খুঁজে পাবে। আয়নার ভেতর ডাম্বলডোরের চোখের মতো কিছু দেখছে ভেবে সে সিরিয়াস এবং ডাম্বলডোরের স্মৃতি হিসেবে সেটি ভ্রমণে সাথে রাখার সিদ্ধান্ত নেবে। হ্যারি আয়নার টুকরোটি ব্যবহার করে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৩|পরবর্তীতে]] সাহায্য ডাকতে সক্ষম হবে এবং [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ/অধ্যায় ২৮|অবশেষে]] প্রকাশ পাবে যে আয়নায় হ্যারি যে চোখটি দেখেছিল সেটি ছিল [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/অ্যাবারফোর্থ ডাম্বলডোর|অ্যাবারফোর্থের]]। m3qwk7l6g8kqikigk9dkmjhn4x57do2 মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ক্রুকশ্যাঙ্কস 0 29703 106624 97234 2026-06-11T14:44:46Z কমলেশ মন্ডল 9394 [[ব্যবহারকারী:কমলেশ মন্ডল/LinkReplace.js|স্ক্রিপ্টের]] সাহায্যে ইংরেজি বইয়ের লিংক বাংলায় রূপান্তর ([[উইকিবই:উইকিবই লিখন প্রতিযোগিতা ২০২৬|বই ২০২৬]]) 106624 wikitext text/x-wiki {{Muggles' Guide to Harry Potter/Character| নাম=ক্রুকশ্যাঙ্কস| লিঙ্গ=পুরুষ| চুল=আদারঙা| চোখ=হলুদ| পরিবার=অজানা| আনুগত্য=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/হারমায়োনি গ্রেঞ্জার|হারমায়োনি গ্রেঞ্জার]], [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/সিরিয়াস ব্ল্যাক|সিরিয়াস ব্ল্যাক]] }} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ == '''''ক্রুকশ্যাঙ্কস''''' হলো [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/হারমায়োনি গ্রেঞ্জার|হারমায়োনি গ্রেঞ্জারের]] পোষা বিড়াল। বিড়াল হিসেবে সে বেশ বড়, কমলা ("আদা") রঙের এবং তার গায়ে বাদামী ডোরাকাটা দাগ আছে। তার একটি "কুৎসিত", প্রায় চ্যাপ্টা মুখ এবং একটি বোতল-ব্রাশের মতো লেজ রয়েছে। যদিও হ্যারি পটার সিরিজে তার গুরুত্ব সীমিত, পাঠকরা তার চালচলন নিয়ে সংশয়ের আভাস পেয়েছেন। সে অর্ধেক [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/নিজেল|নিজল]] এবং অর্ধেক বিড়াল। == বইয়ে এর ভূমিকা == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/প্রিজনার অব আজকাবান|প্রিজনার অব আজকাবান]] === ক্রুকশ্যাঙ্কস [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/ডায়াগন অ্যালি|ডায়াগন অ্যালির]] জাদুকরী পশুপাখি সংগ্রহশালার স্তূপ করা খাঁচার উপর থেকে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রন উইজলি|রনের]] মাথায় লাফিয়ে পড়ে গল্পে প্রবেশ করে। সে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/স্ক্যাবার্স|স্ক্যাবার্সকে]] ধরার জন্য প্রায় সফল একটি চেষ্টা করে। রনের আপত্তি সত্ত্বেও হারমায়োনি একটি পেঁচা কেনার পরিবর্তে ক্রুকশ্যাঙ্কসকে কিনে নেয়। রন আপত্তি জানায় যে "ওই বিড়ালটা" আশেপাশে থাকলে স্ক্যাবার্স কখনোই বিশ্রাম পাবে না। হারমায়োনি তাকে হগওয়ার্টসে নিয়ে যায়। হগওয়ার্টসে যাওয়ার পথে এবং স্কুলে বছর জুড়ে বেশ কয়েকবার ক্রুকশ্যাঙ্কস স্ক্যাবার্সকে ধরার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রায়ই সে রনের ক্ষতি করে ফেলে। অন্তত একবার ক্রুকশ্যাঙ্কসকে রনের সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মাকড়সা খেতে দেখা যায়, যা রন সরাসরি বিরক্তির কারণ হিসেবে দেখে। অবশেষে, আমাদের এটা বিশ্বাস করানো হয় যে ক্রুকশ্যাঙ্কস ছেলেদের ছাত্রাবাসে স্ক্যাবার্সকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে। পরে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/হ্যারি পটার|হ্যারি]] ক্রুকশ্যাঙ্কসকে সেই বড় কালো কুকুরটির সাথে দেখতে পায়, যেটি স্পষ্টতই হ্যারিকে অনুসরণ করছিল। এতে হ্যারি আশ্বস্ত হয়, কারণ সে ভেবেছিল কুকুরটি একটি [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/গ্রিম|গ্রিম]]। ক্রুকশ্যাঙ্কস যদি তাকে দেখতে পায়, তবে কুকুরটি নিশ্চয়ই বাস্তব, কোনো প্রেতাত্মা নয়। রন, হ্যারি এবং হারমায়োনি হ্যাগ্রিডের কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে দুর্গের দিকে ফিরে যাওয়ার সময়, ক্রুকশ্যাঙ্কস আবার স্ক্যাবার্সকে আক্রমণ করে, যাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। রহস্যময় কালো কুকুরটি যখন রন এবং স্ক্যাবার্সকে হুম্পিং উইলো গাছের নিচের একটি সুড়ঙ্গে টেনে নিয়ে যায়, তখন ক্রুকশ্যাঙ্কস দেখিয়ে দেয় কীভাবে উইলো গাছটিকে স্থির করতে হয়, যাতে হ্যারি এবং হারমায়োনি তাকে অনুসরণ করতে পারে। শ্রীকিং শ্যাকে প্রকাশ পায় যে, ক্রুকশ্যাঙ্কস সিরিয়াস ব্ল্যাকের সাথে বন্ধুত্ব করেছিল, যে একজন অ্যানিমেগাস জাদুকর এবং কুকুরের রূপে থাকাকালীন ক্রুকশ্যাঙ্কসের সাথে যোগাযোগ করেছিলো। ক্রুকশ্যাঙ্কসই নেভিল লংবটমের কাছ থেকে পাসওয়ার্ডের তালিকাটি চুরি করেছিল, যার ফলে রনের তথাকথিত আক্রান্ত হওয়ার রাতে সিরিয়াস গ্রিফিন্ডর কমন রুমে প্রবেশ করতে পেরেছিল, যদিও আসল লক্ষ্য ছিল স্ক্যাবার্স। শ্যাকে পরবর্তী ধস্তাধস্তির সময় বেশ কয়েকবার ক্রুকশ্যাঙ্কস হ্যারির থেকে সিরিয়াসকে রক্ষা করে: হ্যারি যখন তার জাদুদণ্ডটি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করে তখন তাকে আক্রমণ করে, এবং সিরিয়াসের বুকের উপর ঠিক সেই জায়গায় বসে পড়ে যেখানে হ্যারির সিরিয়াসের উপর একটি প্রাণঘাতী মন্ত্র নিক্ষেপ করার প্রয়োজন ছিল। যখন তারা কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে আসে এবং লুপিন নেকড়ে-মানবে রূপান্তরিত হয়, তখন পিটার পেটিগ্রিউ রনের জাদুদণ্ডটি ছিনিয়ে নেয় এবং পালিয়ে যাওয়ার আগে সেটি দিয়ে রন ও ক্রুকশ্যাঙ্কসকে হতবিহ্বল করে দেয়। অবশেষে, যখন সিরিয়াস রনকে একটি নতুন পেঁচা দেয়, রন সেটি গ্রহণ করার আগে অনুমোদনের জন্য ক্রুকশ্যাঙ্কসের নাকের নিচে ধরে। জিনি পেঁচাটির নাম রাখে পিগউইজিয়ন। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/গবলেট অব ফায়ার|গবলেট অব ফায়ার]] === ক্রুকশ্যাঙ্কস হারমায়োনির সাথে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/দ্য বারো|দ্যা ব্যারোতে]] আছে। রাতের খাবারের আগে আমরা তাকে বাগানে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/বামন|বেটে বাগান-ভূতদের]] তাড়া করতে দেখি। যখন পরিবারটি লন্ডন এবং হগওয়ার্টস এক্সপ্রেসের উদ্দেশ্য রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ফ্রেড উইজলি|ফ্রেড উইজলি]] কিছু আতশবাজি ফেললে ক্রুকশ্যাঙ্কস ভয় পেয়ে যায় এবং একজন মাগল ট্যাক্সি-ড্রাইভারকে আক্রমণ করে। সে হ্যারি, রন এবং হারমায়োনির সাথে একই ট্যাক্সিতে চড়ে এবং তিনজনকেই বেশ বাজেভাবে আঁচড় দেয়। এক্সপ্রেসে এবং পুরো বই জুড়ে ক্রুকশ্যাঙ্কসকে মাঝে মাঝে দেখা যায়; সে চেয়ারে গুটিসুটি মেরে বসে থাকে, হ্যারি বা হারমায়োনির কোলে লাফিয়ে ওঠে এবং সাধারণত একটি বিড়ালের মতোই আচরণ করে। ক্রুকশ্যাঙ্কস হ্যারি বা হারমায়োনি এবং মাঝে মাঝে [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/জিনি উইজলি|জিনির]] কাছ থেকেও প্রায় যেকোনো পরিমাণ স্নেহ সানন্দে গ্রহণ করে বলে মনে হয়, কিন্তু রনকে সে পুরোপুরি বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স|অর্ডার অব ফিনিক্স]] === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/গ্রিমল্ড প্লেস|১২ নম্বর, গ্রিমল্ড প্লেসে]] আমরা ক্রুকশ্যাঙ্কসকে রান্নাঘরে বাটারবিয়ারের কর্ক নিয়ে খেলতে এবং সাধারণভাবে একটি বিড়ালের মতোই আচরণ করতে দেখি। পুরো বই জুড়ে ক্রুকশ্যাঙ্কসকে মাঝে মাঝে দেখা যায়; কখনও চেয়ারে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকে, কখনও হ্যারি বা হারমায়োনির কোলে লাফিয়ে ওঠে এবং সাধারণত একটি বিড়ালের যেমন আচরণ করা উচিত তেমনই করে। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/হাফ-ব্লাড প্রিন্স|হাফ-ব্লাড প্রিন্স]] === পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্যা ব্যারো ছাড়ার সময় ক্রুকশ্যাঙ্কস হারমায়োনির সাথে হগওয়ার্টস এক্সপ্রেসে যায়। আবারও ক্রুকশ্যাঙ্কসকে একটি বিড়ালের মতোই আচরণ করতে দেখা যায় এবং এই গল্পে তার ভূমিকাটি খুবই নগণ্য বলে মনে হয়। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ|ডেথলি হ্যালোজ]] === দ্যা ব্যারোতে বিয়ের আয়োজনের মাঝে যখন হারমায়োনি, রন এবং হ্যারি একসাথে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পায়, তখন আমরা ক্রুকশ্যাঙ্কসকে হারমায়োনির পায়ের কাছে দেখতে পাই। এখানে ক্রুকশ্যাঙ্কস ঠিক একটি বিড়ালের মতোই আচরণ করছিল; হারমায়োনি যখন বই গোছাচ্ছিল তখন সে কেবল তার পায়ের কাছে গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিল। যখন মিসেস উইজলি তাদের ঘরে হুট করে ঢুকে পড়েন তখন ক্রুকশ্যাঙ্কস ভয়ে শিউরে উঠে বিছানার নিচে লুকিয়ে পড়ে। যখন হ্যারি, রন এবং হারমায়োনিকে হুম্পিং উইলো গাছের গোড়ার সুড়ঙ্গটিতে প্রবেশ করতে হয় তখন রন মনে মনে কামনা করে যে তাদের সাথে যেন ক্রুকশ্যাঙ্কস থাকে যে গাছটিকে স্থির করে দেওয়ার গিঁটটি ঠেলে দেবে। প্রথম বইতে রনের বলা একটি কথার সাথে তীব্রভাবে মিল রেখে হারমায়োনি বলে ওঠে, "''তুমি কি জাদুকর, নাকি অন্যকিছু?''" নিজেকে সামলে নিয়ে রন তার এপর্যন্ত শেখা মন্ত্রের([[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/উইঙ্গারডিয়াম লেভিওসা|উইঙ্গারডিয়াম লেভিওসা]]) প্রথম বারের মতো ব্যবহার করে উইলো গাছটিকে স্থির করে দেওয়া গিঁটটির উপর একটি লাঠি ঠেলে দেয়। ==শক্তিমত্তা সমূহ== 'হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অফ আজকাবান'-এর ঘটনাপ্রবাহ থেকে দেখা যায় যে ক্রুকশ্যাঙ্কস সাধারণ বিড়ালের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। আমরা প্রথমে এটা খেয়াল করি না, কারণ হেডউইগ, ট্রেভর, স্ক্যাবার্স এবং পিগউইজিয়ন (পরবর্তীতে) সহ সকল জাদুকরের পোষা প্রাণীকেই তাদের মাগল সমকক্ষদের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান বলে মনে হয়। স্ক্যাবার্সের আসল পরিচয় প্রকাশ পেলে তার বুদ্ধিমত্তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়, কিন্তু ক্রুকশ্যাঙ্কসের বুদ্ধিমত্তাকে শুধুমাত্র নিজল-এর সাথে তার সংকরায়ণের ফল হিসেবেই অনুমান করা হয়। অর্ধ-বিড়াল হওয়ায় ক্রুকশ্যাঙ্কস সবসময়ই সশস্ত্র থাকে এবং প্রয়োজন মনে করলে সে তার নখ ও দাঁত ব্যবহার করতে স্পষ্টতই কোনো ভয় পায় না। ==দূর্বলতাসমূহ== বিড়াল হওয়ার কারণে ক্রুকশ্যাঙ্কসের যোগাযোগ করার ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই সীমিত। ==অন্যান্য চরিত্রের সাথে সম্পর্ক== ক্রুকশ্যাঙ্কস হলো হারমায়োনির বিড়াল; তারা একে অপরকে বেশ পছন্দ করে। হারমায়োনি যখন প্রথম ক্রুকশ্যাঙ্কসকে কিনেছিল, তখন জাদুকরী পশুপাখি সংগ্রহশালার জাদুকরীটি তাকে বলেছিল যে সে সেখানে বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল; এর থেকে এটাই বোঝা যাচ্ছিল যে খুব কম সংখ্যক অন্য জাদুকরী বা জাদুকর তার প্রতি আগ্রহী ছিল, অথবা হয়তো সে-ই তাদের প্রতি আগ্রহী ছিল না। লেখিকা চরিত্রটির উৎপত্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, এটি একটি মাগল বিড়ালের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেটি একটি নির্দিষ্ট চত্বরে রোদ পোহানো মানুষদের চারপাশে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে ঘুরে বেড়াত এবং আদর করতে দিত না। যদিও তিনি বলেন যে তিনি ক্রুকশ্যাঙ্কস চরিত্রটির জন্য কেবল তার বাহ্যিক রূপের বর্ণনাটিই ধার করেছেন, সম্ভবত সেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটিও তার মধ্যে ঢুকে পড়েছিল, অন্তত শুরুর দিকে। ক্রুকশ্যাঙ্কস অনবরত স্ক্যাবার্সকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে, যে হলো রনের পোষা ইঁদুর। প্রথমে মনে হয় সে এটা করছে কারণ সে স্ক্যাবার্সকে বিশ্বাস করে না (সে হয়তো বুঝতে পারে যে স্ক্যাবার্সকে দেখে আসলে যা মনে হচ্ছে তা সে নয়)। পরে মনে হয় সে সিরিয়াস ব্ল্যাকের নির্দেশে স্ক্যাবার্সকে ধরে আনার চেষ্টা করছে, যিনি স্ক্যাবার্সকে পিটার পেটিগ্রিউ হিসেবে চিনে ফেলেছেন এবং তাকে হগওয়ার্টসের সুরক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইছেন। রন অবশ্য ক্রুকশ্যাঙ্কসের হাত থেকে স্ক্যাবার্সকে রক্ষা করার চেষ্টা করে এবং প্রায়শই লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে; সেই হিসেবে, অন্তত [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/প্রিজনার অব আজকাবান|''হ্যারি পটার অ্যান্ড দি প্রিজনার অব আজকাবান'']]-এ, তারা দুজন প্রায়শই একে অপরের সাথে লড়াই করে, এবং এই প্রায় উন্মত্ত বিদ্বেষ এতটাই খারাপ স্মৃতি রেখে গেছে যে, রন ক্রুকশ্যাঙ্কস এবং তার ক্ষমতাকে সম্মান করলেও, তারা একে অপরের সাথে কখনোই পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ বোধ করে না। অন্যান্যদের সাথে ক্রুকশ্যাঙ্কস তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ থাকে, আদর গ্রহণ করে এবং খেলতে ইচ্ছুক থাকে। হ্যারি এবং জিনি উইজলি উভয়ের সাথেই সে বেশ চিরাচরিত বিড়ালসুলভ আচরণ করে; যেমন: একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার জন্য কোলে উঠে বসা এবং বাটারবিয়ারের ছিপি নিয়ে খেলা করা। ==বিশ্লেষণ== [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/প্রিজনার অব আজকাবান|''হ্যারি পটার অ্যান্ড দি প্রিজনার অব আজকাবান'']]-এ প্রদর্শিত ক্রুকশ্যাঙ্কসের আপাত চরম বুদ্ধিমত্তা এবং তার চ্যাপ্টা মুখের কারণে একাধিক পাঠক বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে সে একজন [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/অ্যানিমেগাস|অ্যানিমেগাস]]ও হতে পারে, এমনকি সম্ভবত [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রেগুলাস ব্ল্যাক|রেগুলাস ব্ল্যাক]]ও হতে পারেন। এই সিরিজে এমন নজির রয়েছে যেখানে একজন অনিবন্ধিত অ্যানিমেগাস, যাকে মৃত বলে মনে করা হয়েছিল, সে বেশ কয়েক বছর ধরে তার পশু রূপ ধারণ করে ছিলো। তবে, [http://www.jkrowling.com/textonly/en/rumours_view.cfm?id=7 লেখিকা এটি অস্বীকার করেছেন]; বস্তুত, তিনি [http://www.jkrowling.com/textonly/en/extrastuff_view.cfm?id=10 তার উৎস নিয়ে আলোচনা করার সময়] বলেছেন যে, ক্রুকশ্যাঙ্কস হলো অর্ধেক [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/নিজেল|নিজল]]। ==প্রশ্নসমূহ== {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} ==বৃহত্তর চিত্র== {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{BookCat}} 5us4lxxvcu2spdt0a6zoxvqtama27ya মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/বাকবিক 0 29910 106653 97858 2026-06-11T18:56:34Z কমলেশ মন্ডল 9394 106653 wikitext text/x-wiki {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র| নাম=বাকবিক| লিঙ্গ=পুরুষ| চুল=ঝড়ো আকাশের মতো ধূসর| চোখ=কমলা| পরিবার=অজানা| আনুগত্য=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রুবিয়াস হ্যাগ্রিড|রুবিয়াস হ্যাগ্রিড]] }} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ == '''''বাকবিক''''' হলো [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/রুবিয়াস হ্যাগ্রিড|হ্যাগ্রিডের]] প্রিয় [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/হিপোগ্রিফ|হিপোগ্রিফ]], এমন একটি প্রাণী যার সামনের অংশ ঈগলের এবং পেছনের অংশ ঘোড়ার মতো। == বইয়ে এর ভূমিকা == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/প্রিজনার অব আজকাবান|প্রিজনার অব আজকাবান]] === বইটির একটি উপকাহিনীতে বাকবিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা রয়েছে। [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/হ্যারি পটার|হ্যারি পটারের]] সাথে তার পরিচয় হয় এবং সে তার পিঠে চড়ে; [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/ড্রাকো ম্যালফয়|ড্রাকো ম্যালফয়ের]] সাথে তার পরিচয় হয়, সে তাকে অপমান করে এবং তার দ্বারা আহত হয়। ড্রাকো তার আঘাতকে অতিরঞ্জিত করে এবং যেহেতু অধ্যাপক ডাম্বলডোর রুবিয়াস হ্যাগ্রিডকে জাদুকরী প্রাণীদের যত্ন বিষয়ক শিক্ষকের পদ থেকে বরখাস্ত করবেন না, তাই ড্রাকোর বাবা লুসিয়াস ম্যালফয় বাকবিককে একটি বিপজ্জনক প্রাণী হিসেবে জাদু মন্ত্রণালয়ে বিচারের জন্য পাঠানোর চেষ্টা করেন। লুসিয়াসের বাগ্মিতার সামনে হ্যাগ্রিডের জেতার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তাই বাকবিকের মৃত্যুদণ্ড হয়। একেবারে শেষ মুহূর্তে, হারমায়োনি গ্রেঞ্জারের সাহায্যে হ্যারি বাকবিককে মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচায় এবং তাকে সিরিয়াস ব্ল্যাকের হাতে তুলে দেয়, যে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/গবলেট অব ফায়ার|গবলেট অব ফায়ার]] === সিরিয়াস বাকবিককে নিয়ে হগসমিডের আশেপাশে ফিরে আসে; হ্যারি, হারমায়োনি এবং রন গ্রামের বাইরে সিরিয়াসের বাস করা গুহায় তার সাথে দেখা করতে গেলে বাকবিকের সাথে মিলিত হয়। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স|অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স]] === সিরিয়াস এখন তার পুরোনো পৈতৃক বাড়ি [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/গ্রিমল্ড প্লেস|১২ গ্রিমল্ড প্লেসে]] বাস করছে এবং বাকবিক সেখানকার একটি চিলেকোঠার ঘরে থাকছে। পুরো গল্প জুড়ে, সিরিয়াসকে বাকবিকের কাছে ইঁদুরের ব্যাগ নিয়ে যেতে দেখা যায় এবং কিছুদিনের জন্য হ্যারিও অন্য লোকেদের সাথে মেলামেশা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে তার সাথে অনেক সময় কাটায়। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/হাফ-ব্লাড প্রিন্স|হাফ-ব্লাড প্রিন্স]] === সিরিয়াসের মৃত্যুর পর, বাকবিককে এখন অন্যত্র চলে যেতে হয় এবং তাই সে হ্যাগ্রিডের তত্ত্বাবধানে ফিরে আসে। মন্ত্রণালয়ের রোষ থেকে বাঁচতে উইদারউইংস নামে বাকবিক এখন হ্যাগ্রিডের কুটিরে বাস করে। এই গল্পে তার একমাত্র সক্রিয় ভূমিকাটি হলো প্রায় শেষের দিকে: যখন সেভেরাস স্নেইপ পালাচ্ছিল, বাকবিক তাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে, সম্ভবত হ্যাগ্রিডের কুটিরে সেভেরাসের আগুন লাগানোর প্রতিশোধ হিসেবে। === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ|ডেথলি হ্যালোজ]] === গল্পের প্রায় শেষের দিকে বাকবিক আবার যোগ দেয় এবং চূড়ান্ত [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/হগওয়ার্টসের যুদ্ধ|হগওয়ার্টসের যুদ্ধে]] [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রধান ঘটনাবলী/ডেথ ইটার্স|ডেথ ইটারদের]] আক্রমণ করে। == শক্তিমত্তা == অন্যান্য হিপোগ্রিফের মতোই বাকবিক উড়তে পারে। এর জন্য তার অত্যন্ত শক্তিশালী পেশী রয়েছে। প্রয়োজনে সে নিজেকে এবং তার মালিককে রক্ষা করার জন্য এই শক্তি ব্যবহার করতে পারে। সে জাদুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী কিনা তা আমরা জানি না; গল্পের অনেক জাদুকরী প্রাণীই জাদুর প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষিত বলে মনে হয়, তাই সে যদি কেবল অভিশাপ ও কুদৃষ্টি দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয় তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। == দুর্বলতা == বাকবিকের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো মাথা নত করার ভঙ্গি। 'হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অফ আজকাবান' পর্বে সে ড্রেকো ম্যালফয়কে আক্রমণ করে, কারণ ড্রেকো আগে থেকে মাথা নত না করেই বাকবিকের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। == অন্যান্য চরিত্রের সাথে সম্পর্ক == ঘোড়ার মতো একটি পোষা ভারবাহী পশু হিসেবে দেখানো হলেও বাকবিকের আনুগত্য অনেকটাই একটি গৃহপালিত পশুর মতো। এর কারণ হতে পারে যে হ্যাগ্রিড প্রাথমিকভাবে তাকে একটি গৃহপালিত পশুর মতোই দেখভাল করতেন। বাকবিকের প্রাথমিক আনুগত্য হ্যাগ্রিডের প্রতি, যিনি (এই সিরিজে) তার প্রথম এবং শেষ মালিক। একবার বাকবিক হ্যারিকে গ্রহণ করার পর হ্যারির প্রতিও তার কিছুটা আনুগত্য দেখা যায় বা অন্তত নির্দেশ মানার ইচ্ছা তৈরি হয়; হ্যারি তাদের প্রথম সাক্ষাতের দিনই তার পিঠে চড়তে সক্ষম হয় এবং বাকবিকের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ডের সন্ধ্যায় হ্যাগ্রিডের কুঁড়েঘরের পেছন থেকে তাকে বের করে এনে আবারও তার পিঠে চড়তে পারে। এরপর সে সিরিয়াস ব্ল্যাককে মালিক হিসেবে মেনে নেয় এবং সিরিয়াসের মৃত্যু পর্যন্ত তার প্রতি অনুগত থাকে। মৃত্যুর পর সে হ্যাগ্রিডের তত্ত্বাবধানে ফিরে আসে, কিন্তু হ্যারির নামমাত্র মালিকানায়। == বিশ্লেষণ == == প্রশ্নসমূহ == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} == বৃহত্তর প্রেক্ষাপট == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} tofw307wvhr7c45xxdw6e6an4ijpra4 টেমপ্লেট:Arimaa/Diagram 10 31136 106623 100667 2026-06-11T13:21:56Z Nettime Sujata 5690 সংশোধন 106623 wikitext text/x-wiki {{#invoke:Arimaa/board|wrapper |class={{{1|}}} |caption={{{67|}}} |size={{{size|}}} |pieceset={{{pieceset|}}} |border={{{border|}}} |background-colour={{{background-colour|}}} |board-colour={{{board-colour|}}} |trap-colour={{{trap-colour|}}} |grid-colour={{{grid-colour|}}} |caption-colour={{{caption-colour|}}} |{{{3|}}}|{{{4|}}}|{{{5|}}}|{{{6|}}}|{{{7|}}}|{{{8|}}}|{{{9|}}}|{{{10|}}}|{{{11|}}}|{{{12|}}}|{{{13|}}}|{{{14|}}}|{{{15|}}}|{{{16|}}}|{{{17|}}}|{{{18|}}}|{{{19|}}}|{{{20|}}}|{{{21|}}}|{{{22|}}}|{{{23|}}}|{{{24|}}}|{{{25|}}}|{{{26|}}}|{{{27|}}}|{{{28|}}}|{{{29|}}}|{{{30|}}}|{{{31|}}}|{{{32|}}}|{{{33|}}}|{{{34|}}}|{{{35|}}}|{{{36|}}}|{{{37|}}}|{{{38|}}}|{{{39|}}}|{{{40|}}}|{{{41|}}}|{{{42|}}}|{{{43|}}}|{{{44|}}}|{{{45|}}}|{{{46|}}}|{{{47|}}}|{{{48|}}}|{{{49|}}}|{{{50|}}}|{{{51|}}}|{{{52|}}}|{{{53|}}}|{{{54|}}}|{{{55|}}}|{{{56|}}}|{{{57|}}}|{{{58|}}}|{{{59|}}}|{{{60|}}}|{{{61|}}}|{{{62|}}}|{{{63|}}}|{{{64|}}}|{{{65|}}}|{{{66|}}}}}<noinclude> '''Usage:'''<br/> {| class="wikitable" | সোনালী হাতি || eg || [[File:Arimaa egb74.png|37px]] |- | সোনালী উট || mg || [[File:Arimaa mgb74.png|37px]] |- | সোনালী ঘোড়া || hg || [[File:Arimaa hgb74.png|37px]] |- | সোনালী কুকুর || dg || [[File:Arimaa dgb74.png|37px]] |- | সোনালী বেড়াল || cg || [[File:Arimaa cgb74.png|37px]] |- | সোনালী খরগোশ || rg || [[File:Arimaa rgb74.png|37px]] |- | রূপালী হাতি || es || [[File:Arimaa esb74.png|37px]] |- | রুপালী উট || ms || [[File:Arimaa msb74.png|37px]] |- | রুপালী ঘোড়া || hs || [[File:Arimaa hsb74.gif|37px]] |- | রুপালী কুকুর || ds || [[File:Arimaa dsb74.png|37px]] |- | রূপালী বেড়াল || cs || [[File:Arimaa csb74.png|37px]] |- | রুপালী খরগোশ || rs || [[File:Arimaa rsb74.png|37px]] |- | বাম (পশ্চিম) তীর || aw || [[File:Arimaa awb74.gif|37px]] |- | ডান (পূর্ব) তীর || ae || [[File:Arimaa aeb74.gif|37px]] |- | উচ্চ (উত্তর) তীর || an || [[File:Arimaa anb74.gif|37px]] |- | নিম্ন (দক্ষিণ) তীর || as || [[File:Arimaa asb74.gif|37px]] |} {{BookCat}}</noinclude> n6uz6t3yh6j59qneij7c82bu1vpehqp জনপরিসরে অলংকারশাস্ত্র ও লেখালেখি: একটি ভূমিকা/জনপরিসরের বিবর্তন 0 31905 106626 106357 2026-06-11T15:50:34Z NusJaS 8394 106626 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন <ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। "Contemporary perspectives on rhetoric" (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে <ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। "The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts" (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।)। জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয় <ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। "The public sphere" (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না <ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। "The assault on reason" (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে <ref>গোর, আলবার্ট। "The Assault on Reason" (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন <ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন <ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য <ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে <ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী <ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল <ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে <ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন <ref>পাপাচারিসি, জিজি। "The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere" (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।)। নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি <ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয় <ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল <ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন <ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ <ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত <ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান <ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয় <ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা <ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন <ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন <ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন <ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব।" <ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল <ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই <ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি।" <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায় <ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। "'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain" ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।)। কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য <ref>"The Seneca Falls Convention।"" ("দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন।" দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে <ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয় <ref>হ্যানিশ, ক্যারল। "The Personal is Political" (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয় <ref>বিসলি, ভেনেসা। ""Anita Hill-Clarence Thomas Hearings"" ("অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস।" দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন <ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না <ref>ট্রুইট, জস। ""Naomi Wolf argues for de-politicized feminism"" ("নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম।" ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে <ref>"Censorship।"" ("সেন্সরশিপ।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে <ref>"Stop Online Piracy Act।"" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল <ref>"Stop Online Piracy Act।"" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে <ref>পটার, নেড। ""'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?"" ("'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'? উড ওয়েবসাইটস গো ডার্ক ব্যাটিলিং হলিউড?" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে <ref>স্মিথ, মার্ক। ""SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark"" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে <ref>পটার, নেড। ""SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'"" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে <ref>স্মিথ, মার্ক। ""SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark"" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। ""The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy"" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।")। স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। ""The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy"" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।")। স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায় <ref>হর্টন, জন। ""Self-Censorship"" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।")। রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে <ref>হর্টন, জন। ""Self-Censorship"" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।")। রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, "Does censorship really protect children?" (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।)। ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, "Does censorship really protect children?" (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।)। ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয় <ref>"Public Sphere।"" ("পাবলিক স্ফিয়ার।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> tjrn2knepkojayvu1dgnd3ciaqryrwv 106627 106626 2026-06-11T15:51:09Z NusJaS 8394 106627 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন <ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। "Contemporary perspectives on rhetoric" (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে <ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। "The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts" (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।)। জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয় <ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। "The public sphere" (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না <ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। "The assault on reason" (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে <ref>গোর, আলবার্ট। "The Assault on Reason" (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন <ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন <ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য <ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে <ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী <ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল <ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে <ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন <ref>পাপাচারিসি, জিজি। "The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere" (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।)। নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি <ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয় <ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল <ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন <ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ <ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত <ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান <ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয় <ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা <ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন <ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন <ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন <ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব।" <ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল <ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই <ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি।" <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায় <ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। "'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain" ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।)। কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য <ref>"The Seneca Falls Convention।" ("দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন।" দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে <ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয় <ref>হ্যানিশ, ক্যারল। "The Personal is Political" (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয় <ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" ("অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস।" দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন <ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না <ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" ("নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম।" ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে <ref>"Censorship।" ("সেন্সরশিপ।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে <ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল <ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে <ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" ("'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'? উড ওয়েবসাইটস গো ডার্ক ব্যাটিলিং হলিউড?" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে <ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।")। স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।")। স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায় <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।")। রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।")। রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, "Does censorship really protect children?" (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।)। ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, "Does censorship really protect children?" (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।)। ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয় <ref>"Public Sphere।" ("পাবলিক স্ফিয়ার।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> 0gj4b4nbhu6ubs4v50cypm2z5uj10ln 106629 106627 2026-06-11T15:57:24Z NusJaS 8394 106629 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন<ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। "Contemporary perspectives on rhetoric" (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে<ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। "The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts" (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।)। জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয়<ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। "The public sphere" (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না<ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। "The assault on reason" (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে<ref>গোর, আলবার্ট। "The Assault on Reason" (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন<ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন<ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য<ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে<ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী<ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল<ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে<ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন<ref>পাপাচারিসি, জিজি। "The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere" (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।)। নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি<ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয়<ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.com-এর মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল<ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন<ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ<ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত<ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান<ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয়<ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা<ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন<ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন<ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন<ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব।"<ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল<ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই<ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি।"<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায়<ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। "'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain" ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।)। কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য<ref>"The Seneca Falls Convention।" ("দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন।" দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে<ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয়<ref>হ্যানিশ, ক্যারল। "The Personal is Political" (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয়<ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" ("অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস।" দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন<ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না<ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" ("নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম।" ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে<ref>"Censorship।" ("সেন্সরশিপ।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে<ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল<ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে<ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" ("'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'? উড ওয়েবসাইটস গো ডার্ক ব্যাটিলিং হলিউড?" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে<ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।")। স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।")। স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায়<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।")। রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।")। রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, "Does censorship really protect children?" (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।)। ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, "Does censorship really protect children?" (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।)। ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয়<ref>"Public Sphere।" ("পাবলিক স্ফিয়ার।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> szyt97qg7x2u1m8xlvvfkowaf9cw7sn 106634 106629 2026-06-11T16:32:57Z MS Sakib 6561 106634 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন<ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। "Contemporary perspectives on rhetoric" (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে<ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। "The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts" (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।)। জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। "Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention" (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।)। পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয়<ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। "The public sphere" (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না<ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। "The assault on reason" (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে<ref>গোর, আলবার্ট। "The Assault on Reason" (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন<ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন<ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য<ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে<ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী<ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল<ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে<ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন<ref>পাপাচারিসি, জিজি। "The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere" (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।)। নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি<ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয়<ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.com-এর মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল<ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন<ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ<ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত<ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান<ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয়<ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা<ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন<ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন<ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন<ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব।"<ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল<ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই<ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি।"<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। "A Room of One's Own" (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায়<ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। "'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain" ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।)। কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য<ref>"The Seneca Falls Convention।" ("দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন।" দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে<ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয়<ref>হ্যানিশ, ক্যারল। "The Personal is Political" (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয়<ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" ("অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস।" দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন<ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না<ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" ("নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম।" ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে<ref>"Censorship।" ("সেন্সরশিপ।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে<ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল<ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে<ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" ("'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'? উড ওয়েবসাইটস গো ডার্ক ব্যাটিলিং হলিউড?" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে<ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।")। স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।")। স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায়<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।")। রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।")। রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, "Does censorship really protect children?" (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।)। ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, "Does censorship really protect children?" (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।)। ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয়<ref>"Public Sphere।" (পাবলিক স্ফিয়ার)। উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> 6epl6s4m418c0ss63axuya44sdsd8eg 106635 106634 2026-06-11T16:41:30Z NusJaS 8394 106635 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন <ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। Contemporary perspectives on rhetoric (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে <ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।) | জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয় <ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। The public sphere (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না <ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। The assault on reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে <ref>গোর, আলবার্ট। The Assault on Reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন <ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন <ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য <ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে <ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী <ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল <ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে <ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন <ref>পাপাচারিসি, জিজি। The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।) | নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি <ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয় <ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল <ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন <ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ <ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত <ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান <ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয় <ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা <ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন <ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন <ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন <ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব।" <ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল <ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই <ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি।" <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায় <ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। 'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।) | কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য <ref>"The Seneca Falls Convention।" ("দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন।" দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে <ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয় <ref>হ্যানিশ, ক্যারল। The Personal is Political (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয় <ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" ("অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস।" দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন <ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না <ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" ("নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম।" ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে <ref>"Censorship।" ("সেন্সরশিপ।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে <ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল <ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে <ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" ("'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'? উড ওয়েবসাইটস গো ডার্ক ব্যাটিলিং হলিউড?" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে <ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।") | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।") | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায় <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।") | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।") | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।) | ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?।) | ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয় <ref>"Public Sphere।" ("পাবলিক স্ফিয়ার।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> l4qph8spy9kzes6x5f85mgtvz7akpc7 106636 106635 2026-06-11T16:42:30Z NusJaS 8394 106636 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন <ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। Contemporary perspectives on rhetoric (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে <ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।) | জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয় <ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। The public sphere (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না <ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। The assault on reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে <ref>গোর, আলবার্ট। The Assault on Reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন <ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন <ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য <ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে <ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী <ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল <ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে <ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন <ref>পাপাচারিসি, জিজি। The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।) | নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি <ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয় <ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল <ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন <ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ <ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত <ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান <ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয় <ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা <ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন <ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন <ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন <ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব।" <ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল <ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই <ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি।" <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায় <ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। 'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।) | কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য <ref>"The Seneca Falls Convention।" ("দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন।" দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে <ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয় <ref>হ্যানিশ, ক্যারল। The Personal is Political (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয় <ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" ("অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস।" দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন <ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না <ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" ("নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম।" ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে <ref>"Censorship।" ("সেন্সরশিপ।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে <ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল <ref>"Stop Online Piracy Act।" ("স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে <ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" ("'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'? উড ওয়েবসাইটস গো ডার্ক ব্যাটিলিং হলিউড?" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে <ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" ("সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।") | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" ("দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।") | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায় <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।") | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" ("সেলফ-সেন্সরশিপ।") | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?) ; ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?) ; ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয় <ref>"Public Sphere।" ("পাবলিক স্ফিয়ার।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> h5n7ygs4k5m4emngzfws6szpoqx0kv5 106637 106636 2026-06-11T16:43:47Z NusJaS 8394 106637 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন <ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। Contemporary perspectives on rhetoric (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে <ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।) | জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয় <ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। The public sphere (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না <ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। The assault on reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে <ref>গোর, আলবার্ট। The Assault on Reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন <ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন <ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য <ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে <ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী <ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল <ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে <ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন <ref>পাপাচারিসি, জিজি। The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।) | নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি <ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয় <ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল <ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন <ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ <ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত <ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান <ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয় <ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা <ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন <ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন <ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন <ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব।" <ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল <ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই <ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি।" <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায় <ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। 'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।) | কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য <ref>"The Seneca Falls Convention।" (দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন।" দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে <ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয় <ref>হ্যানিশ, ক্যারল। The Personal is Political (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয় <ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" (অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস।" দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন <ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না <ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" (নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম।" ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে <ref>"Censorship।" (সেন্সরশিপ।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে <ref>"Stop Online Piracy Act।" (স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল <ref>"Stop Online Piracy Act।" (স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে <ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" ('ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'? উড ওয়েবসাইটস গো ডার্ক ব্যাটিলিং হলিউড?" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে <ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" (সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'" এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক।" ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায় <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?) ; ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?) ; ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয় <ref>"Public Sphere।" (পাবলিক স্ফিয়ার।" উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> 6x0zk2meo469uzdhd2w7eyfs5gk5hvp 106638 106637 2026-06-11T16:47:50Z NusJaS 8394 106638 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন <ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। Contemporary perspectives on rhetoric (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে <ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।) | জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব <ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয় <ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। The public sphere (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না <ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। The assault on reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে <ref>গোর, আলবার্ট। The Assault on Reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন <ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন <ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য <ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে <ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী <ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল <ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে <ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে <ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন <ref>পাপাচারিসি, জিজি। The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।) | নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি <ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয় <ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন <ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল <ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন <ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ <ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত <ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান <ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয় <ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা <ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন <ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন <ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন <ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব"<ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল <ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই <ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন <ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি"<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায় <ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। 'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।) | কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য <ref>"The Seneca Falls Convention" (দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন); দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে <ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয় <ref>হ্যানিশ, ক্যারল। The Personal is Political (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয় <ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" (অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস); দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন <ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না <ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" (নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম); ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে <ref>"Censorship" (সেন্সরশিপ।); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে <ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল <ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে <ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" (ইন্টারনেট সেন্সরশিপ? হলিউডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কি ওয়েবসাইটগুলো অন্ধকারে (বন্ধ) চলে যাবে?); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে <ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" (সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে <ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি <ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায় <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে <ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক <ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয় <ref>"Public Sphere" (পাবলিক স্ফিয়ার।); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> kk0klcziybb1y2rasvsihdoj3qpcl1g 106639 106638 2026-06-11T16:48:43Z NusJaS 8394 106639 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন<ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। Contemporary perspectives on rhetoric (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে<ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।) | জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয়<ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। The public sphere (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না<ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। The assault on reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে<ref>গোর, আলবার্ট। The Assault on Reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন<ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন<ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য<ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে<ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী<ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল<ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে<ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন<ref>পাপাচারিসি, জিজি। The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।) | নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি<ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয়<ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল<ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন<ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ<ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত<ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান<ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয়<ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা<ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন<ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন<ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন<ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব"<ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল<ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই<ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি"<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায়<ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। 'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।) | কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য<ref>"The Seneca Falls Convention" (দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন); দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে<ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয়<ref>হ্যানিশ, ক্যারল। The Personal is Political (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয়<ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" (অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস); দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন<ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না<ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" (নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম); ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে<ref>"Censorship" (সেন্সরশিপ।); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে<ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল<ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে<ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" (ইন্টারনেট সেন্সরশিপ? হলিউডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কি ওয়েবসাইটগুলো অন্ধকারে (বন্ধ) চলে যাবে?); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে<ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" (সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায়<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (ডাজ সেন্সরশিপ রিয়েলি প্রোটেক্ট চিলড্রেন?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয়<ref>"Public Sphere" (পাবলিক স্ফিয়ার।); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> n7r20mkvwu52b6hqvvljd8lxi20zlan 106640 106639 2026-06-11T16:49:55Z NusJaS 8394 106640 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন<ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। Contemporary perspectives on rhetoric (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে<ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।) | জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয়<ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। The public sphere (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না<ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। The assault on reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে<ref>গোর, আলবার্ট। The Assault on Reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন<ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন<ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য<ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে<ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী<ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল<ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে<ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন<ref>পাপাচারিসি, জিজি। The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।) | নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি<ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয়<ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল<ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন<ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ<ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত<ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান<ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয়<ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা<ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন<ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন<ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন<ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব"<ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল<ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই<ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি"<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায়<ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। 'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।) | কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য<ref>"The Seneca Falls Convention" (দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন); দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে<ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয়<ref>হ্যানিশ, ক্যারল। The Personal is Political (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয়<ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" (অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস); দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন<ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না<ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" (নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম); ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে<ref>"Censorship" (সেন্সরশিপ।); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে<ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল<ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে<ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" (ইন্টারনেট সেন্সরশিপ? হলিউডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কি ওয়েবসাইটগুলো অন্ধকারে (বন্ধ) চলে যাবে?); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে<ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" (সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (দ্য রোমান অ্যাক্টর, সেন্সরশিপ, অ্যান্ড ড্রামাটিক অটোনমি।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায়<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (সেন্সরশিপ কি সত্যিই শিশুদের সুরক্ষা দেয়?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (সেন্সরশিপ কি সত্যিই শিশুদের সুরক্ষা দেয়?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয়<ref>"Public Sphere" (পাবলিক স্ফিয়ার।); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> k1eju5hecckhj92resdnf8ekl6i9zl2 106641 106640 2026-06-11T16:51:47Z NusJaS 8394 106641 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন<ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। Contemporary perspectives on rhetoric (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে<ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।) | জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয়<ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। The public sphere (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না<ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। The assault on reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে<ref>গোর, আলবার্ট। The Assault on Reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন<ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন<ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য<ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে<ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী<ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল<ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে<ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন<ref>পাপাচারিসি, জিজি। The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ পাবলিক স্ফিয়ার।) | নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি<ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয়<ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল<ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন<ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ<ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত<ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান<ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয়<ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা<ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন<ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন<ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন<ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব"<ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল<ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই<ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি"<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায়<ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। 'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।) | কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য<ref>"The Seneca Falls Convention" (দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন); দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে<ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয়<ref>হ্যানিশ, ক্যারল। The Personal is Political (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয়<ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" (অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস); দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন<ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না<ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" (নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম); ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে<ref>"Censorship" (সেন্সরশিপ।); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে<ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল<ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে<ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" (ইন্টারনেট সেন্সরশিপ? হলিউডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কি ওয়েবসাইটগুলো অন্ধকারে (বন্ধ) চলে যাবে?); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে<ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" (সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড প্রোটেস্ট 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: দ্য ডে দ্য ওয়েব ওয়েন্ট ডার্ক); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (রোমান অভিনেতা, সেন্সরশিপ এবং নাট্য স্বায়ত্তশাসন।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (রোমান অভিনেতা, সেন্সরশিপ এবং নাট্য স্বায়ত্তশাসন।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায়<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ।) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (সেন্সরশিপ কি সত্যিই শিশুদের সুরক্ষা দেয়?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (সেন্সরশিপ কি সত্যিই শিশুদের সুরক্ষা দেয়?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয়<ref>"Public Sphere" (পাবলিক স্ফিয়ার।); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> q2qg7uht1977umlbnu0e0y3qxptw9nc 106642 106641 2026-06-11T16:54:14Z NusJaS 8394 106642 wikitext text/x-wiki == ইয়ুর্গেন হাবারমাস == [[File:JuergenHabermas.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে মিউনিখে একটি আলোচনায় ইয়ুর্গেন হাবারমাস]] ইয়ুর্গেন হাবারমাস একজন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং যোগাযোগ তাত্ত্বিক। তাঁর ধারণাগুলো নাগরিকত্ব এবং সরকার সম্পর্কে সমসাময়িক সমাজের চিন্তাভাবনাকে রূপ দিয়েছে। হাবারমাস ১৯২৯ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নিজের জন্মভূমির নাৎসীকরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি হিটলার ইয়ুথে যোগ দেন। একটি কারসাজিকারী সরকার তাঁর দেশের দখল নিয়েছিল। এই সরকার হাবারমাসের বাবা সহ অনেককে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর বাবা একজন নাৎসি সমর্থক ছিলেন। যুদ্ধের পর হাবারমাস তাঁর সমসাময়িক অনেকের মতোই একটি বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটা গণ-কারসাজি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবতেন<ref>ফোস, এস. কে., ফোস, কে. এ., ও ট্র্যাপ, আর. (২০০২)। Contemporary perspectives on rhetoric (কন্টেম্পোরারি পার্সপেক্টিভস অন রেটরিক / সোনিয়া কে. ফোস, কারেন এ. ফোস, রবার্ট ট্র্যাপ। প্রসপেক্ট হাইটস, ইলিনয় : ওয়েভল্যান্ড প্রেস, ২০০২।</ref>। নাৎসি শাসনের চালানো নৃশংসতা মানুষ কেন মেনে নিয়েছিল, তা তিনি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের জার্মান পটভূমি থেকে হাবারমাস তাঁর রাজনৈতিক তত্ত্বগুলো তৈরি করেছিলেন। পাবলিক স্ফিয়ার বা জনপরিসর সংক্রান্ত হাবারমাসীয় তত্ত্ব সরাসরি আলোকময় যুগের ধারণা থেকে তৈরি হয়েছে। এই ধারণাগুলো ১৭শ শতাব্দীতে এবং মার্কিন ও ফরাসি বিপ্লবে উপস্থিত ছিল<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। রুশোর মতো ১৭শ শতাব্দীর মহান দার্শনিকদের প্রচারিত আলোকময় যুগের আদর্শগুলো হাবারমাসকে উদ্দীপ্ত করেছিল। যুক্তিই নাগরিকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই আদর্শটি এর ১৭শ শতাব্দীর শিকড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি হাবারমাসের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং যোগাযোগমূলক আদর্শকে চিরতরে প্রভাবিত করেছিল। আলোকময় যুগের আদর্শের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তিনি সমসাময়িক জনপরিসরের ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। জনপরিসর সম্পর্কে আমাদের আধুনিক উপলব্ধির জন্য তিনিই দায়ী। হাবারমাস যুক্তি দেন, জনপরিসরের কারণেই আলোকময় যুগের চিন্তাবিদ এবং সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও পরিবর্তন করতে পেরেছিলেন। একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কারণে আলোকময় যুগের ধারণাগুলো নির্মিত, প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়েছিল। হাবারমাসের কাজ বিবেচনার সময় তাঁর কাজকে রূপদানকারী অতীতের রাজনীতির কথা মনে রাখা জরুরি। একইসাথে তাঁর দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার বইটি প্রকাশের সমসাময়িক পরিস্থিতিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও একচেটিয়া পুঁজিবাদের উত্থানের সময় তিনি ২০শ শতাব্দীতে বইটি প্রকাশ করেন। সরকারের এই রূপগুলো ১৯শ শতাব্দীর উদার পুঁজিবাদী সরকারকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। হাবারমাস ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় এবং একচেটিয়া পুঁজিবাদের ধারণাকে সমর্থন করত<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। তাই হাবারমাসের দৃষ্টিভঙ্গি এই ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখেই বিকশিত হয়েছিল। হাবারমাস বিশ্বাস করতেন, একটি খাঁটি জনপরিসর কেবল মার্কসবাদী সমাজেই থাকতে পারে<ref>ওয়াং, জে. (২০১০)। The notion of Habermas’ ‘public sphere’ and its relevance to interrogations of women’s empowerment and leadership in Muslim contexts (দ্য নোশন অব হাবারমাস 'পাবলিক স্ফিয়ার' অ্যান্ড ইটস রেলেভেন্স টু ইন্টারোগেশনস অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ ইন মুসলিম কনটেক্সটস।) | জিওগ্রাফিয়া : মালয়েশিয়ান জার্নাল অব সোসাইটি অ্যান্ড স্পেস, (১), ১৩।</ref>। হাবারমাস একটি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়া সমাজে বাস করছিলেন। সেই সমাজটি তখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছিল। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই দেশ পরিচালনার জন্য বেশি উপযুক্ত। যুদ্ধের অন্যতম একটি ফল ছিল এই মনোভাব<ref>কেলনার, ডি. (২০০০)। Habermas, the public sphere, and democracy: a critical intervention (হাবারমাস, দ্য পাবলিক স্ফিয়ার, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: আ ক্রিটিক্যাল ইন্টারভেনশন।) | পার্সপেক্টিভস অন হাবারমাস, ২৫৯-৮৭।</ref>। হাবারমাসের মতে, জনপরিসর মার্কসবাদী সমাজের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে বিকশিত হতে পারে না। তবে জনপরিসর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বাস্তবে তা করেও। এটি এমন একটি সংযোগ। এটি পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। === জনপরিসর কী? === জনপরিসর কোনো বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি পরিসর, যা আলোচনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হাবারমাসের মতে ১৭০০-এর দশকে আলোকময় যুগের সূচনার সাথে এর সেরা এবং সবচেয়ে খাঁটি রূপটি বিদ্যমান ছিল। হাবারমাস এই জনপরিসরকে বুর্জোয়া জনপরিসর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আলোচনার এই পরিসরটি ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সরকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। হাবারমাস ১৭০০-এর দশকের জনপরিসরকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আদর্শ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে এটি তথ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি আদান-প্রদানের একটি নেটওয়ার্ক। এই প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ধারাগুলো ফিল্টার ও সংশ্লেষিত হয়। এরপর সেগুলো বিষয়ভিত্তিক নির্দিষ্ট জনমতের গুচ্ছে পরিণত হয়<ref>ওয়ার্ল্ডব্যাংক। (তারিখ নেই)। The public sphere (দ্য পাবলিক স্ফিয়ার। কমিউনিকেশন ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। সংগৃহীত: http://sitereources.worldbank.org/EXTGOVACC/Resources/PubSphereweb.pdf</ref>। জনপরিসরে নাগরিকরা তাদের সরকারের রূপ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে এখানেই জনমত তৈরি হয়। হাবারমাসের বিশ্বাস অনুযায়ী মার্কসবাদ নাগরিকদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোত্তম শর্ত প্রদান করে। তাঁর ধারণা ছিল, পুঁজিবাদ কোনো জনপরিসরকে সমর্থন করতে পারে না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কসবাদের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন। তবে তিনি এটিকে পুঁজিবাদের চেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে পুঁজিবাদ মূলত বড় ব্যবসা এবং বড় সরকার দ্বারা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী সমাজে বড় ব্যবসা ও সরকার জনপরিসর দখল করে নেয়। এর ফলে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিক সমান। মার্কসবাদ এই ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করার মতো কোনো বড় ব্যবসা নেই। হাবারমাস যুক্তি দেন, একটি উদার পুঁজিবাদী সমাজে এই বিশাল সত্তাগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর উদ্বেগগুলো যুক্তিসঙ্গত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে। এগুলো জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে কারসাজি করার চেষ্টা করে। তবে হাবারমাস নাগরিকদের যুক্তিবোধের ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নাগরিকদের যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা তা প্রয়োগ করে। তাই একটি পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে জনপরিসর পুরোপুরি মানানসই। জনপরিসর পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে। এটি এই দুই সত্তার মধ্যে তদারকি করে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য উপকারী গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তৈরি হয়। জনপরিসর ছাড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি পুঁজিবাদী সমাজে জনপরিসর ছাড়া গণতন্ত্র মারা যাবে। জনপরিসর, পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র হলো তিনটি অবিচ্ছেদ্য সত্তা। জনপরিসর হলো বিতর্কের একটি স্থান। এখানে জনগণ সরকারের ভূমিকা, সরকারের কাজ এবং সরকারের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সংক্রান্ত আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া এখানে সরকারি নেতাদের কাজের মূল্যায়নও করা যায়। এখানেই বিতর্কের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়। গভীর চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর যুক্তিসঙ্গত আদর্শগুলো এখানে সবার ওপরে উঠে আসে। এরপর শাসিত জনগণের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করে। এটি সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার কথা। === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপরিসর: একটি উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্র === মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনপরিসরকে সরকারের চতুর্থ শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার জনগণের যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত করাই এই শাখার কাজ। জনপরিসরে কেবল যৌক্তিক ও কারণভিত্তিক আলোচনার স্থান রয়েছে। ভয়, অর্থ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আলোচনা প্রভাবিত হলে জনপরিসর কলুষিত হয়। তখন এটি আর কাজ করতে পারে না<ref>গোর, আলবার্ট। (২০০৭)। The assault on reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক : পেঙ্গুইন প্রেস, ২০০৭।</ref>। মানুষ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ ও চিন্তাভাবনা করে। তারাই একটি গণতন্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখতে পারে। জনপরিসর ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। হাবারমাসের যুক্তি অনুযায়ী, উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নাগরিকরা কেবল দর্শক। তারা রাজনীতির খেলায় খেলোয়াড় নন। হাবারমাস একে জনপরিসরের অবক্ষয় হিসেবে দেখেন। তিনি একে উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হাবারমাস যুক্তিবোধকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে মানুষ সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত থাকবে। ইন্টারনেটের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্মের ফলে জনপরিসরের ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। হাবারমাস এত বড় ক্ষমতার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। এই নতুন প্রযুক্তি মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে। উইকিপিডিয়া জনপরিসর বজায় রাখতে সহায়ক এমন একটি প্রযুক্তির উদাহরণ। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করে না। এটি কোনো সরকারি তহবিলও নেয় না। এর তথ্য জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা লেখা এবং সম্পাদিত। এছাড়া ব্লগিংয়ের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। প্রযুক্তি জনপরিসরকে আরও সাহসী করে তোলে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বড় জনগোষ্ঠীর জন্য জনপরিসরে অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। গণতন্ত্র জনপরিসরের জন্য অপরিহার্য স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাম্যের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই আলোকময় যুগের নিখুঁত জনপরিসরে যাদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও কণ্ঠস্বর রয়েছে। আলোকময় যুগে নারী, শ্রমজীবী শ্রেণী এবং দরিদ্রদের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে প্রযুক্তির কারণে সবাই প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারে। == ইউরোপে জনপরিসরের বিবর্তন == বাণিজ্যবাদের উত্থান এবং নতুন বুর্জোয়া বণিক শ্রেণীর উদ্ভবের সাথে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রে উত্তরণে অবদান রেখেছিল। এর ফলে সমাজে জনপরিসরের উদ্ভব হতে শুরু করে। এটি পরিবারের অন্তরঙ্গ পরিসর এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র হিসেবে কাজ করত। শুরুতে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজকীয় ক্ষমতার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হতো। রাজা কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেন না, তিনিই ছিলেন স্বয়ং জনগণ। তাঁর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের অধীনে কোনো ধরনের আলোচনা বা প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ ছিল না। শাসক অভিজাত শ্রেণীও ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ধারণার সাথে মিশে গিয়েছিল। তাই প্রকাশ্য ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করত। তবে বাণিজ্যবাদ নামের নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর পর এর পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে ছোট এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি বণিক নামক একটি গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করেছিল। বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসা গঠনের মাধ্যমে বণিকরা সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বুর্জোয়া বা বণিক বা মধ্যবিত্ত নামের একটি নতুন শ্রেণীকে সমর্থন জোগায়। বুর্জোয়ারা অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নতুন পরিসর তৈরি করেছিল। এটিই ছিল জনপরিসরের ভিত্তি। এই আলোচনাগুলোতে বুর্জোয়ারা প্রকাশ্যে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের কথা তুলে ধরতে এবং তা রক্ষা করতে পারত। == জনপরিসরের পর্যায়সমূহ == জনপরিসর বিকাশের প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো বাণিজ্যিক পর্যায়, প্রশাসনিক পর্যায় এবং সর্বজনীন পর্যায়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা হয়। এটি একটি সংকীর্ণ এবং একচেটিয়া জনপরিসর। এটি কেবল কয়েকজন অভিজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রযুক্তিগত প্রকৃতি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। প্রশাসনিক পর্যায়টি এখনো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জনকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজস্ব সদস্যদের সুরক্ষা চাওয়া। বাণিজ্যিক পর্যায়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কম সংকীর্ণ। এর একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। তবে সর্বজনীন পর্যায়টি সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিস্তৃত জনপরিসর। এটি সব মানুষের কাছে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট উভয় ধরনের তথ্য প্রদান করে। এই পর্যায়টি সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে। এটি সবার জন্য সংযোগ, তথ্য, মতামত এবং সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে জনপরিসরকে ব্যবহার করে। এটি সবচেয়ে আদর্শ জনপরিসর। কারণ এটি সব মানুষের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। == ব্যক্তিগত বনাম জনপরিসর == ক্রেইগ ক্যালহাউন জোর দিয়ে বলেছেন, জনপরিসর মূলত আলোচনার গুণমান এবং অংশগ্রহণের পরিমাণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসর নয়। এটি সমাজে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত হয়। এরা সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতির একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যেকার বিরোধ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরের মতো জনপরিসরের অভিন্ন হওয়ার প্রবণতা নেই। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্বার্থ বা ধারণাকেও প্রচার করে না। বরং জনপরিসর সব মতামত এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি স্থির নয়। তাই এটি প্রায়শই পরিবর্তন গ্রহণ করে। ফলে সমাজের ভেতরের পার্থক্য এবং বৈষম্যগুলোই আলোচনা ও কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে এই উন্মুক্ত যোগাযোগই জনপরিসরের প্রাথমিক পর্যায়। মুদ্রণ এবং ইলেকট্রনিক উৎসের মতো অন্যান্য মাধ্যমের প্রেস তিনটি পর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল: # প্রথম পর্যায়টি মূলত একটি ছোট জনসমষ্টি নিয়ে গঠিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বণিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত। আসলে কেবল অভিজাতরাই সর্বজনীন ডোমেনে অংশ নিতেন। # দ্বিতীয় পর্যায়টি আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নীতি ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত বা ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে প্রেস। তখন প্রেস মূলত জননেতাদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করে। এটি জনগণকে আইন ও নীতি সম্পর্কে জানাতে ব্যবহৃত হয়। এসব নীতি জনগণকে সমর্থন ও অনুসরণ করতে হয়। # তৃতীয় পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত এবং প্রকৃত জনপরিসর আবির্ভূত হয়। প্রেসকে অবশ্যই আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে থাকা সমাজের সেবা করতে হবে। এই পর্যায়ে জনসাধারণ অবশেষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত জানাতে পারে। তারা নিজেদের ধারণা প্রকাশ করতে প্রেসকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। == মুদ্রণ মাধ্যমের বিবর্তন == === ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৯০-এর দশক (প্রাথমিক) === * কোনো ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান উপাদান ছিল না * খবর ছাপার আকারে নয়, বরং মানুষের মুখে মুখে ছড়াত * মুদ্রিত সামগ্রীর সীমিত প্রচার ছিল * এটি মূলত একটি সতর্কতা এবং বার্তা ব্যবস্থা ছিল * শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বা ধনী জমির মালিকরাই মূল লক্ষ্য ও টার্গেট গ্রুপ ছিল * সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি তথ্য রাখার জন্য ছাপাগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ছোট ছিল * হাতে অক্ষর সাজানো হতো। তাই এটি উৎপাদনে প্রচুর শ্রম লাগত * গ্রাহকরা নিজেদের প্রতিবেশী ইত্যাদির সাথে এগুলো ভাগ করে নিতেন === ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮৯০-এর দশক (১৯শ শতাব্দীর সংবাদপত্র) === * উন্নত প্রচার * স্থানীয় খবরের উদ্ভব * তখনো এক পৃষ্ঠায় অনেক তথ্য ঢোকানোর চেষ্টা করা হতো * বৈদেশিক বিষয়ের সূচনা * দাম ছিল ১ সেন্ট থেকে ২ সেন্টের মধ্যে * শিরোনাম বিভাগে ভাগ করা ছিল না * অভিন্নতা এবং বিন্যাস প্রকাশ পেতে শুরু করে * উডকাট বা কাঠের খোদাইয়ে চিত্রণ * স্টক কোটের শুরু * বিজ্ঞাপনের বিকাশ ঘটে === ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক (২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ) === * তখনো সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল না। লেখাগুলো কিছুটা সংকুচিত ছিল * দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক ছবিসহ বিশাল শিরোনাম তৈরি হয়েছিল * বিষয়ের শ্রেণীবিন্যাস শুরু হলেও, বিভাগগুলোর কোনো স্পষ্ট বিভাজন ছিল না * কোনো অভিন্ন লেখার আকার ছিল না। অক্ষর এবং লাইনের মধ্যে ফাঁকা জায়গার ভিন্নতা ছিল * আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাপানো শুরু হয় * স্টক কোট এবং বিজ্ঞাপন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয় === ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান === * ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় * লেখা বা গল্পগুলো অনেক বিভাগে বিভক্ত করা হয় * মানুষের আগ্রহের গল্পে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুসংবাদও থাকে * গল্পগুলো মূলত মতামত। সবগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয় * বিজ্ঞাপন এবং কুপন * নজরকাড়া শিরোনাম * রাজনীতিতে ঘন ঘন মনোযোগ * ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ছবি * পাতায়... লেখা দিয়ে পাঠ্য খণ্ডিত করা হয় * বিভিন্ন পাঠকদের কাছে আবেদন তৈরি করে। এগুলোর কেন্দ্রবিন্দু বৈচিত্র্যময়। যেমন অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বা রাজনৈতিক বিভাগ == বর্তমান (জনপরিসরে মিডিয়ার বিচিত্র রূপ) == * পরচর্চার ম্যাগাজিন (যেমন: ''আস উইকলি'', ''স্টার'', ''পিপল'') * ফ্যাশন ম্যাগাজিন (যেমন: ''গ্ল্যামার'', ''মারি ক্লেয়ার'') * ফিটনেস ম্যাগাজিন (যেমন: ''সেলফ'', ''মেনস ফিটনেস'') * বিশেষায়িত বিষয়। যেমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইত্যাদি * একাডেমিক জার্নাল * তথ্যমূলক বা রাজনৈতিক ভাবধারার ম্যাগাজিন (যেমন: ''টাইম'', ''নিউজউইক'') * কেনাকাটার ক্যাটালগ * ব্লগ * সংবাদ অনুষ্ঠান * টক শো * ২৪ ঘণ্টার সংবাদ অনুষ্ঠান * অনলাইন সংবাদ অনুষ্ঠান * চলচ্চিত্র * অনুমানমূলক নন-ফিকশন (যেমন: জেমস ফ্রে) * হাতের মুঠোয় সবকিছুর অ্যাক্সেস (ইন্টারনেট) উত্থিত জনপরিসরের রাজনৈতিক কাজগুলো প্রথমে ইউরোপে শুরু হয়েছিল। এটি ছিল শাসক অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। তারা জনমত দমন করার চেষ্টা করেছিল। সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরের ধারণা বিকাশের সময় ইউরোপে অবশ্যই একটি শ্রেণিবিন্যাস ছিল। সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলা হতো। বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সাক্ষর ব্যক্তিরাই জনপরিসরের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিপ্লবের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ঐশ্বরিক কর্তৃত্বে কোনো বিশ্বাস ছিল না। ধর্মকে একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এখনো হয়। কৃষক, ডাক্তার, পণ্ডিত এবং শ্রমিকদের নিয়ে জনপরিসরের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেখানে শ্রেণীর প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হতো। তবে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় স্থানেই কেবল স্বাধীন শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এর ফলে নারী, দাস এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা এর বাইরে থাকতেন। ইউরোপের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনপরিসর বেশ ভিন্নভাবে তৈরি করেছিল। অন্তত দার্শনিক এবং দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ারের লেখক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের মতে বিষয়টি এমনই ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শাসক অভিজাত শ্রেণী ছিল না। আমরা একটি গণতন্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ পরিচালনা ও কথা বলার কাজে অনেক কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন ছিল। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ছিলেন। তাঁরা সেরা পথ নিয়ে একে অপরের সাথে বিতর্ক করতেন। আগেই বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে কেবল শাসক শ্রেণীই কথা বলত। বিশ্বের ধর্মগুলো অনেক সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্থানীয় বাসিন্দারা প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন। প্রোটেস্ট্যান্টদের কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নেই। অন্য বেশিরভাগ খ্রিষ্টান ধর্মে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। যেমন পোপ, বিশপ, কার্ডিনাল। প্রোটেস্ট্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাই কোনো শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলমন্ত্রও ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন ছিল। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা বা অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের কথা বলতে হতো। তারা নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কী চেয়েছিল? সবার কোন ধরনের আইন মেনে চলা উচিত? প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, কেউ যেন নিজেকে ছোট বা বাকরুদ্ধ মনে না করে। সবার সুখ নিশ্চিত করার এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রয়োজন ছিল। সাধারণ নাগরিকরা কথা বলেছিলেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে একটি সরকার তৈরি করেছিলেন। সেই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দিয়েছিল। মানুষের আরও বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের মতো এখানে তখনো কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো শহর বা যাতায়াতের পদ্ধতি ছিল না। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ বন্য। তাই মানুষকে আলোচনা করতে হয়েছিল কীভাবে পরিবহন ও বাণিজ্যের প্রচার করা যায় এবং কীভাবে জমির উন্নয়ন করা যায়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। নিরক্ষর মানুষও জনপরিসরের অংশ হতে পারত। কেবল নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চুক্তিবদ্ধ দাসরা জনপরিসরে অংশ নিতে পারত না। ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এটি খুব একটা বদলায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু থেকে ১৯০০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জনসমক্ষে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং যুদ্ধ। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে সবাইকে জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং নারী মুক্তি আন্দোলন ঘটেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধও হয়েছিল। তবে এই অশান্ত দশকগুলোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানুষ বিনোদনের দিকে বেশি মনোযোগী হতে শুরু করে। আজকাল মানুষ একে অপরের সাথে তাদের প্রিয় টিভি শো এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করে। মার্কিন জনপরিসরের বিকাশের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি বার্টন ব্লেডস্টেইনের কাছ থেকে আসে। তিনি দ্য কালচার অব প্রফেশনালিজম নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে ব্লেডস্টেইন আমেরিকার পেশাদার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন সংস্কৃতি কঠোর বাধা তৈরি করেছিল, যা ইউরোপে ছিল না। আমেরিকায় মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইউরোপে যারা কৃষক ছিলেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক টাইকুন হতে পারতেন। এর অর্থ হলো যুবকরা জীবনে কী করতে চায়, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারত। এটি তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছিল। মানুষকে সফল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শৃঙ্খলা শিখিয়েছিল। তবে বার্নস্টেইন উল্লেখ করেন, এর ফলে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতাও কমে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মানুষ কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে শেখে এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় যে তারা সঠিক নয়, বরং শিক্ষক সঠিক। এই কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত উন্নতি করেছিল। মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে শুরু করেছিল, যাতে তারা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। আমেরিকায় জীবন খুব দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। তবে মানুষ এর সুফলও পাচ্ছিল। কেউ কেউ ধনী হচ্ছিলেন। আর এটাই আমেরিকান ড্রিমে পরিণত হয়। আমেরিকার প্রত্যেক শ্রমিক আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করে। সম্পদ ভিক্টোরিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণী শিগগিরই আমেরিকান সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার এই দ্রুত গতির কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ নার্ভাস ও হতাশ হতে শুরু করে। তারা ক্লান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠত। স্বাধীন হওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করে মানুষ নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিল। তারা বুঝতে শুরু করে যে তারা সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য ছিল। তারা কেবল গৃহিণী এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিক্টোরিয়ানরা সরকারি এবং ব্যক্তিগত জায়গাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করেছিল। তারা নির্ধারণ করেছিল কোনটি ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কোনটি সর্বজনীন স্থানে ঘটতে পারে। এর আগে ব্যক্তিগত শব্দটি নেতিবাচক ছিল। এখন এটি মূলধারায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গার মতো তালা এবং অ্যালার্মও সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠে। ভিক্টোরিয়ানরা কেবল ব্যক্তিগত জায়গা ভাগ করেনি, তারা প্রায় সবকিছু এবং সবাইকেই শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। প্রতিটি জায়গার একটি উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল। যেমন প্রাতঃরাশের জায়গা, খাবার ঘর, পোশাক পরার ঘর। মানুষ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সাথে নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করতে শুরু করে। আমেরিকার মানুষ প্রাতঃরাশের সময় কেবল সিরিয়াল, ডিম এবং অন্যান্য প্রাতঃরাশের খাবার খেতে শুরু করে। এর আগে খাবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। মানুষ দিনের যেকোনো সময় ম্যাশ করা আলু খেতে পারত। প্রাতঃরাশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং দিনের নতুন শুরুর সাথেও যুক্ত করা হয়। ভিক্টোরিয়ান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবাইকে সংস্কৃতির এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে হতো। মানিয়ে নেওয়ার এই ইচ্ছার ফলে ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আজকের ম্যাগাজিনগুলোর মতোই এগুলো পাঠকদের শেখাত কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। আরেকটি সাংস্কৃতিক দিক দেখা যেতে শুরু করে। তা হলো ক্ষমতা নির্ধারণে জায়গার ব্যবহার। মানুষ যত বেশি জায়গা নিত, তার ক্ষমতা তত বেশি হতো। বাড়িগুলো ক্রমশ বড় হতে থাকে। ট্রেনের বগিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা বেশি থাকে, যদি তারা এর জন্য অর্থ দিতে পারে। এই সময় ধনী, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী আলাদা হয়ে যায়। = জনপরিসর সম্পর্কে গোরের দৃষ্টিভঙ্গি = [[File:Al gore nobel.jpg|thumbnail|left|২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আল গোর]] সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বিশ্বাস করেন যে, আমাদের যোগাযোগের পদ্ধতিতে মার্কিন সমাজ একটি নাটকীয় এবং মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে<ref>গোর, আলবার্ট। The Assault on Reason (দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ১৫</ref>। তিনি টেলিভিশন সংস্কৃতির কথা বলছেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, গড় আমেরিকান প্রতিদিন ২.৮ ঘণ্টা সম্প্রচারিত টেলিভিশন দেখেন<ref> http://www.bls.gov/news.release/atus.nr0.htm </ref>। গোরের মতে, সাধারণ মানুষের মুদ্রিত পাঠ্য পড়ার পরিবর্তে টেলিভিশন দেখার প্রতি ঝোঁকই জনপরিসর পতনের প্রধান কারণ। তিনি একে তার নিজস্ব পরিভাষায় ধারণার বাজার বলে অভিহিত করেছেন<ref>গোর, পৃষ্ঠা ১২-১৩।</ref>। গোর দাবি করেছেন যে, ধারণার বাজারের তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: <big>•</big> এটি সবার অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এখানে প্রবেশের একমাত্র বাধা হলো সাক্ষরতা। <big>•</big> বাজার যা কিছু স্বীকৃতি দেয় তার ভিত্তিতেই ব্যক্তিগত অবদানগুলো বিচার করা হয়। <big>•</big> অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ চুক্তি অনুসন্ধান করাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। এটি গণতান্ত্রিক কথোপকথনের চূড়ান্ত লক্ষ্য<ref>১৩</ref>। দ্য অ্যাসাল্ট অন রিজন বইয়ে গোর ব্যাখ্যা করেছেন যে, টেলিভিশন একটি একমুখী মাধ্যম। তাই একটি টিভি সমাজের গড় নাগরিক রাজনৈতিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে<ref>১৬</ref>। মূলত আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি এবং এর বার্তাগুলো গ্রহণ করি। প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের কথা শোনানোর সুযোগ খুব কমই থাকে। অতীতের মার্কিন সমাজের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, প্যামফলেট ইত্যাদিকে কেন্দ্র করেই মিডিয়া তৈরি হয়েছিল। যখন মুদ্রিত শব্দ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলো নাগরিকদের জানার উপায় ছিল, তখন সম্পাদকের কাছে চিঠি এবং নিজে প্রকাশ করার ক্ষমতা মুদ্রিত শব্দকে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী এবং দ্বিমুখী মাধ্যম করে তুলেছিল। এমনকি অতীতে তথ্য পাওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত টেলিভিশনের উৎসগুলোও এখন অবনতির শিকার হয়েছে। গোরের বইয়ে ড্যান রাদার নেটওয়ার্ক সংবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি একে বোকা এবং উগ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না, এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তখন দুর্নীতির উন্মোচন হলে সতর্কবার্তা দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। টেলিভিশন কোনো যোগ্যতাই পূরণ করতে পারে না। গোর এই যোগ্যতাগুলোকে ধারণার বাজারের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। টেলিভিশনে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কিছু বিষয়বস্তু থাকলেও, এর বেশিরভাগ অনুষ্ঠানই অল্প কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটি নেটওয়ার্ক বা সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করার খরচ এত বেশি যে, কেবল কয়েকজন ধনীর পক্ষেই এতে অংশ নেওয়ার মতো অর্থ থাকে। সংবাদ নিবন্ধগুলো এখন আর আমেরিকান জনগণের কাছে উপস্থাপিত তথ্যের উপযোগিতা দ্বারা বিচার করা হয় না। কেবল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগমনের সাথে সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রসারণ হয়েছে। এর মানে হলো ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন দর্শকদের একাংশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের আলাদা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় একটি আদর্শিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ সাংবাদিকরা অন্তত একটি গল্পের উভয় দিক তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। আজ ক্রমশ জটিল হতে থাকা সমস্যাগুলোর উভয় দিক বোঝার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে বামপন্থী এবং ডানপন্থী মিডিয়ার কভারেজ দেখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ চুক্তি নামের সেই কাল্পনিক বিষয়টি ধরার দিকে আমাদের আর মনোযোগ নেই বলে মনে হয়। গোর আরেকটি বিষয়ে হালকাভাবে আলোকপাত করেছেন। সেটি হলো, টেলিভিশনের আগের দিনগুলোতে একটি সুসংহত এবং প্রতিক্রিয়াশীল জনপরিসর গঠনে তথ্যের উপায় বহুগুণে কমে যাওয়ার প্রভাব। যখন পূর্ব উপকূলের সবাই নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে খবর পেত, তখন এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে সবাই একই সংবাদপত্র পড়েছে। এই সাধারণ অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষকে দিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অর্থপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিতে সাহায্য করত। এর ফলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ্য আলোচনা তৈরি হতো। ২০০৫ সালে উই মিডিয়া কনভেনশনে দেওয়া একটি মূল বক্তৃতায় গোর গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ধারণার বাজারের মূল্য ব্যাখ্যা করেছেন: :''ধারণার সেই বাজারের ধ্বংসই আজ আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করার চেষ্টাকে এটি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একে পাবলিক ফোরাম, জনপরিসর বা ধারণার বাজার যে নামেই ডাকা হোক না কেন, উন্মুক্ত ও স্বাধীন প্রকাশ্য আলোচনা এবং বিতর্ককে আমেরিকার শুরুর দশকগুলোতে আমাদের গণতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।''<ref>http://www.alternet.org/story/26494/al_gore%27s_code_red</ref> ==== ভার্চুয়াল জনপরিসর ==== গোর ইন্টারনেট ব্যবহার করে জনপরিসরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী<ref>গোর, অধ্যায় নয়</ref>। অনলাইনে অংশ নেওয়া এবং ওয়েব ২.০-এর সব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা তৈরি করতে পারে। এটি হলো প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক যুক্তি তৈরির ভাষাগত ক্ষমতা। আমাদের সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োজন। তাই আমাদের সরকারের কেন এতে যোগ দেওয়া উচিত নয়? গোর নিজের বইটি প্রকাশের পর পাঁচ বছরে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। যখন তিনি বইটি প্রকাশ করেন, তখন ফেসবুক বেশ নতুন ছিল এবং মাইস্পেস তখনো জনপ্রিয় ছিল<ref>২৭৩।</ref>। এই বইটি প্রকাশের পর থেকে টুইটারের টুইট এবং ইউটিউবের মতো নতুন ধরনের সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভব হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইউটিউব একটি বিশাল ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। এটি এখন গুগলের মালিকানাধীন। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তু হোস্ট করে। ২০০৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। গণতন্ত্রের জন্য সুখবর হলো, অনেক মানুষ নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর উপাদান তৈরি করছে। ইউটিউবের প্রেস পরিসংখ্যান পাতা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে বাহাত্তর ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে<ref>http://www.youtube.com/t/press_statistics</ref>। ২০১২ সালে টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৭৫ মিলিয়ন টুইট পাঠাচ্ছে<ref>http://www.mediabistro.com/alltwitter/twitter-statistics-2012_b18914</ref>। যারা অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে লজ্জা পান এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো ব্যক্তিগত কিছু প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি সুখবর। অন্য কেউ ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত থেকে উপাদান তৈরি করছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই টুইট, ভিডিও আপলোড, কোটি কোটি টেক্সট মেসেজ, ব্লগ পোস্ট এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটের কত শতাংশ ধারণার বাজারে অবদান রাখে? এই শতাংশ আমরা যত বাড়াতে পারব, আমাদের সমাজ ও সরকার তত বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি জনগণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। এটি খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করাই আসল কাজ। প্রয়োজনে নাম প্রকাশ না করেও মন্তব্য করতে পারেন। একটি কথোপকথন শুরু করুন। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিন। ভুল তথ্য দিলে কাউকে শুধরে দিন। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হোন বা না হোন, নিজের কণ্ঠস্বর শোনাতে এবং অবদান রাখতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। ইন্টারনেটের একটি সমৃদ্ধ জনপরিসর তৈরি করার সম্ভাবনার সমালোচকরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতির অভাবকে অনলাইন অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত বিনিয়োগের এক নম্বর নেতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন<ref>পাপাচারিসি, জিজি। The Virtual Public Sphere: The Internet as a Public Sphere (দ্য ভার্চুয়াল পাবলিক স্ফিয়ার: দ্য ইন্টারনেট অ্যাজ আ জনপরিসর) | নিউ মিডিয়া অ্যান্ড সোসাইটি ৪.৯ (২০০২): ২২।</ref>। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কতটা মূল্যবান তা উপলব্ধি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতি চার বছরে একবার ভোট দেওয়াই যথেষ্ট। উন্নতি করার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যাগুলো কী তা খুঁজে বের করার জন্য যত্নশীল হন। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যত্নশীল হন। মহান গণতান্ত্রিক আলোচনায় অবদান রাখার জন্য যত্নশীল হন। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আপনি যদি নিজের কংগ্রেসম্যানকে চিঠি না লিখতে চান, তবে অন্তত এমন নিবন্ধ, ভিডিও বা পডকাস্টের মন্তব্য বিভাগে আপনার মতামত জানান। শুধু ব্যবহারকারীদের তৈরি করা বিষয়বস্তুর ভোক্তা হবেন না, বরং একজন প্রযোজক হন। কে জানে, হয়তো আপনার ভিউ এক মিলিয়ন বা ফলোয়ার এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তখন আপনার কণ্ঠস্বর আর কোনো ছোট বাঁশির মতো থাকবে না। আপনি চাইলে সমাজে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। [[File:Uncle Sam (pointing finger).jpg|thumbnail|center|আংকেল স্যাম চান আপনি ব্লগ করুন, পোস্ট করুন, আপলোড করুন এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখুন!]] <references/> = নাগরিক আন্দোলন = == টি পার্টি আন্দোলন == === ইতিহাস === [[File:Tea Party Protest, Hartford, Connecticut, 15 April 2009 - 032.jpg|thumb|টি পার্টির প্রতিবাদ: হার্টফোর্ড, কানেকটিকাট ১৫ এপ্রিল ২০০৯]] ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে আমরা টি পার্টি নামে পরিচিত একটি তৃণমূল আন্দোলনের উত্থান ও বিকাশ দেখেছি<ref name="teapartyplatform">http://www.teaparty-platform.com/Tea_Party_Movement_P9MG.html</ref>। টি পার্টি সংবিধানের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা, ট্যাক্স কমানো, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কথা বলে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা দাবি করে যে সরকার যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, অর্থাৎ আমাদের, জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয়<ref>http://www.teaparty.org/about.php</ref>। করবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিচিত টি পার্টির নামকরণ করা হয়েছে বোস্টন টি পার্টির নামানুসারে। এটি ট্যাক্সড এনাফ অলরেডির সংক্ষিপ্ত রূপ। এই জনতাবাদী আন্দোলনটি প্রথমে ৯০-এর দশক জুড়ে অসংখ্য ট্যাক্স ডে বিক্ষোভের কারণে গড়ে উঠেছিল। তবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টি পার্টি আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভ বাস্তবায়ন করা শুরু করেনি। প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইয়াং আমেরিকানস ফর লিবার্টির চেয়ারম্যান ট্রেভর লিচ নিউ ইয়র্কের গভর্নর ডেভিড প্যাটারসনের প্রস্তাবিত স্থূলতা করের প্রতিবাদে টি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকারীরা কথা বলছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। একইভাবে ২০০৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একজন ব্লগার এবং রক্ষণশীল কর্মী কেলি ক্যারেন্ডার প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দীপনা বিলের প্রতিবাদে সিয়াটলে একটি পোরকুলাস প্রোটেস্ট আয়োজন করেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ক্যারেন্ডার বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে ফক্স নিউজের অবদানকারী মিশেল ম্যালকিনও ছিলেন। তিনি পোরকুলাস প্রোটেস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারেন্ডার ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অনুরূপ বিক্ষোভ করেছিলেন। এতে প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন<ref name="teapartyplatform"/>। ধীরে ধীরে টি পার্টি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে জনপরিসরের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে সিএনবিসি সংবাদ সম্পাদক রিক স্যান্টেলি সরকারের পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাড়ির মালিকদের ফোরক্লোজার এড়াতে তাদের বন্ধকী পুনর্অর্থায়নের অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা। স্যান্টেলি একটি নতুন টি পার্টির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। এটি আমেরিকানদের সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক উদ্যোগের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ দেবে। তার এই ক্ষোভের কথা অবশেষে ইন্টারনেটে আপলোড করা হয় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। ২০০৯ সালের ৪ জুলাই অসংখ্য বিক্ষোভ আয়োজনে সাহায্য করার জন্য ChicagoTeaParty.com এবং reTeaParty.comের মতো ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। রিক স্যান্টেলির সম্প্রচারিত ক্ষোভই টি পার্টি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। এটি এই তৃণমূল সংগঠনটিকে জনপরিসরের সামনে নিয়ে এসেছিল<ref name="teapartyplatform"/>। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন মার্চ টি পার্টির এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। সাবেক রিপাবলিকান হাউজ মেজরিটি স্পিকার ডিক আর্মির তৈরি করা গ্রুপ ফ্রিডমওয়ার্কস এর আয়োজন করেছিল। এতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। ক্যাপিটল ভবনের লনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা সারা দিন পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড নেড়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা ছোট সরকার এবং কম করের পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন<ref>http://www.nytimes.com/2009/09/13/us/politics/13protestweb.html</ref>। এই ধরনের বিক্ষোভের কারণে টি পার্টি আন্দোলন জাতিকে সচেতন করতে বাধ্য করেছে। === সমর্থন === ২০১০ সালের এপ্রিলের টি পার্টি সমর্থকদের সিবিএস/টাইমস ন্যাশনাল সার্ভের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, আমেরিকানদের ১৮ শতাংশ নিজেদের টি পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্বেতাঙ্গ, বিবাহিত, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকান পুরুষ<ref name="CBSNYPoll">http://www.nytimes.com/2010/04/15/us/politics/15poll.html?_r=1&src=me&ref=general)</ref>। গড়ে টি পার্টির সমর্থকরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি ধনী এবং বেশি শিক্ষিত<ref name="CBSNYPoll"/>। জরিপের ওপর ভিত্তি করে টি পার্টি আন্দোলনের সাধারণ সমর্থক সত্যিই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক বলে মনে হয়। বেশিরভাগ উত্তরদাতা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে আগের বছরের কর ন্যায্য ছিল এবং তারা সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এর মূল্য দেখতে পান<ref name="CBSNYPoll"/>। টি পার্টি আন্দোলনের কয়েকজন বিখ্যাত সমর্থক হলেন নিউট গিংরিচ, হারম্যান কেইন এবং মিশেল বাচম্যান। টি পার্টি আন্দোলনের দুটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন রন পল এবং সারাহ প্যালিন। রন পলকে আন্দোলনের বৌদ্ধিক গডফাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারাহ প্যালিনকে টি পার্টির সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেখা হয়<ref>http://www.theatlantic.com/magazine/archive/2010/11/the-tea-party-8217-s-brain/8280/1/</ref>। === সমালোচনা === উত্থানের পর থেকেই টি পার্টি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রোটার্ফিংের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফিং শব্দটি এমন একটি স্বঘোষিত তৃণমূল আন্দোলনকে বোঝায়, যা আসলে বড় কর্পোরেশন বা কয়েকজন বিশিষ্ট দাতা দ্বারা অর্থায়িত হয়। অভিযোগকারীরা মূলত দাবি করছেন যে, শক্তিশালী ভিত্তি থাকা টি পার্টিগুলোর একটি, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি, কয়েকজন নির্দিষ্ট ধনীর পকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে তথাকথিত ঘাসকে কিছুটা বেশি অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো মনে হচ্ছে। বেশিরভাগ সমালোচক স্বীকার করেন যে টি পার্টি আন্দোলন কঠোরভাবে অ্যাস্ট্রোটার্ফ নয়, বরং এটি আসল তৃণমূল এবং কৃত্রিমের একটি মিশ্রণ। অনেক সমর্থক সত্যই সাধারণ আমেরিকান। তারা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং দেশের নাগরিকদের চাওয়ার প্রতি অবজ্ঞার কারণে বিরক্ত। তবে আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দুই বিলিয়নেয়ার চার্লস এবং ডেভিড কোচের প্রভাব অনেককেই তৃণমূল উপাধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। কোচ অর্থায়িত অনেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মী ভেনাবল একটি বিষয় প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি জানান, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটির ভূমিকা হলো টি পার্টির সদস্যদের নীতির বিস্তারিত জানানো এবং সবচেয়ে কার্যকর কাজের পরিকল্পনা প্রদান করা<ref name="newyorker">http://www.newyorker.com/reporting/2010/08/30/100830fa_fact_mayer?currentPage=all</ref>। আমেরিকানস ফর প্রসপারিটিকে শিক্ষা, সমর্থন এবং টি পার্টি প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করার জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে কোচরা এই গোষ্ঠীর এজেন্ডাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। একইসাথে তারা জনরোষ এড়াতে তৃণমূল উপাধির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আর কোচ ভাইরা এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি। ১৯৮৪ সালে কোচরা সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। এই সংগঠনটিও একটি তৃণমূল আন্দোলন বলে দাবি করেছিল। তবে এটি মূলত কোচদের দ্বারা অর্থায়িত বলে প্রমাণিত হয়। তারা ১৯৮৬ এবং ১৯৯৩ সালের মধ্যে ৭.৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিলেন<ref name="newyorker"/>। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন যে সিটিজেনস ফর আ সাউন্ড ইকোনমির সব ক্ষেত্রেই কোচ ভাইরা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক ছিলেন<ref name="newyorker"/>। তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে বামপন্থীরা মনে করেন যে কোচরা আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে অর্থের চেয়ে আরও বেশি কিছু সরবরাহ করছেন। এর অর্থ হলো, এই বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি আসল প্রতিবাদ পর্যন্ত কোচরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন<ref name="guardian">http://www.guardian.co.uk/commentisfree/cifamerica/2010/oct/25/tea-party-koch-brothers</ref>। বাস্তবে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি গ্রুপ তৈরির পর থেকেই অর্থায়ন করে আসছেন। তারা নিশ্চিত করেন যে তাদের দান করা অর্থ সবসময় তাদের জন্যই কাজ করে। ডেভিড কোচ একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি অনেক টাকা দিই, তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব যে তারা এটি আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। এবং যদি তারা ভুল পথে যায় বা আমাদের অমতের কিছু করতে শুরু করে, তবে আমরা অর্থায়ন প্রত্যাহার করব"<ref name="guardian"/> দুই ভাই যেসব উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে। এতে অনেক বামপন্থী অবাক হয়ে ভাবেন, টি পার্টি আন্দোলনে সাধারণ আমেরিকানদের কতটা প্রভাব রয়েছে। কোচদের ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে দুই ভাই আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি সংস্থাকে কেবল অর্থের চেয়ে বেশি কিছু দিচ্ছেন। বিলিয়নেয়াররা পরিকল্পনার সব অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিবাদ পর্যন্ত সবকিছুই কোচরা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অনেকে মনে করেন। আর এটি টি পার্টি আন্দোলনের সত্যিকারের তৃণমূল উপাদানগুলোর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় কর্পোরেশনগুলো নিজেদের এজেন্ডা, নিজেদের কর কমানো এবং বড় সরকারি বিধিবিধান থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কাজ করছে। এই কর্পোরেশনগুলো একবার নিজেদের চাওয়া পেয়ে গেলে, প্রকৃত টি পার্টির সদস্যরা হয়তো বড় ব্যবসার দ্বারা পদদলিত হয়ে পেছনে পড়ে থাকতে পারেন। নকল তৃণমূল সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো, তারা সাধারণ নাগরিকদের কথা বললেও বাস্তবে এই অ্যাস্ট্রোটার্ফ গোষ্ঠীগুলো মূলত পর্দার পেছনের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সত্যিই জনপরিসরে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাকে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আপস করার দিকে কাজ করতে হবে। এর আশা হবে সবার মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করা, কেবল টি পার্টি গ্রুপগুলোকে অর্থায়নকারীদের জন্য নয়। জনপরিসরে বাজার সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এটি সমগ্র সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য একসাথে কাজ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে হতে হবে। === উপসংহার === টি পার্টি আন্দোলন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ৬০টি রিপাবলিকান আসন পেয়েছিল। এর মধ্যে ২৮টি টি পার্টি আন্দোলন দ্বারা সমর্থিত ছিল<ref>http://truth-out.org/index.php?option=com_k2&view=item&id=4417:the-tea-party-movement-more-hype-than-reality</ref>। টি পার্টি আন্দোলন যে সাফল্য এবং জাতীয় মনোযোগ পেয়েছে, তা বেশ উল্লেখযোগ্য। আশা করা যায় যে এটি অন্যান্য আমেরিকানদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা বোঝেন যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। তবে আমেরিকানদের সুযোগ নিচ্ছে এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে ইচ্ছুক। প্রতিষ্ঠাতা পিতারা এতে গর্বিত হতেন। টি পার্টি আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর অনেক ত্রুটি রয়েছে যা টি পার্টি আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনপরিসরে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা দেয়। বেশিরভাগ আমেরিকান এবং রাজনীতিবিদদের টি পার্টি আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এই গোষ্ঠীর অত্যধিক আদর্শিক অবস্থান। অনেক সময় টি পার্টি আন্দোলনের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে মনে করা হয়। আর টি পার্টির সদস্যরা যদি তাদের বিশ্বাসে খুব কঠোর বা খুব অনড় হন, তবে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জনপরিসরকে অবশ্যই আপসের একটি জায়গা হতে হবে। এটি কেবল কিছু মানুষের বিষয়ে হতে পারে না। সব নাগরিকের উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। এবং আবারও, অ্যাস্ট্রোটার্ফের আক্রমণ রয়েছে। টি পার্টি আন্দোলন যদি সফল হতে চায়, তবে একটি তৃণমূল সংগঠন হওয়ার দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় জনপরিসরের ভেতরে এই আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। যদি বড় কর্পোরেশনগুলো টি পার্টি আন্দোলনকে অর্থায়ন করে এবং এজেন্ডা নির্ধারণ করে, তবে তারা সাধারণ জনগণের চোখে ব্যর্থ হবে। আল গোর যেমন বলেছেন, "লোভ এবং সম্পদ এখন আমাদের সমাজে ক্ষমতা বরাদ্দ করে। আর সেই ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবহৃত হয়" (৯৯) টি পার্টিগুলো যদি অর্থের শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সাধারণ আমেরিকানরা যা চায় না, এমন একটি এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কারসাজি করা যেতে পারে। টি পার্টি আন্দোলনের সমর্থকরা হয়তো এটি চান না। কিন্তু যদি এই গোষ্ঠীগুলো কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঠিক এটাই করা হচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এটি জানেনও না। এই উদ্বেগ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে টি পার্টি আন্দোলন নিভে যেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক একটি এবিসি নিউজ জরিপে দেখা গেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা টি পার্টি আন্দোলন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী নন। মাত্র ৯% এই আন্দোলনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে ৪১% (যা ৪৭% থেকে কমেছে) আমেরিকান আন্দোলনটিকে সমর্থন করে, আর ৪৫% এর বিরোধিতা করে। ১৪% এর কোনো আগ্রহ নেই<ref>http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/04/tea-party-movement-looks-stalled-half-like-it-less-as-they-hear-more/</ref>। পরিশেষে টি পার্টি আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানো উচিত, এমনকি যদি তাদের মতামত প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সার্বজনীন নাও হয়। মতাদর্শ যাই হোক না কেন, টি পার্টির সদস্যরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য সাহসের প্রয়োজন। সিবিএস/টাইমস জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, টি পার্টি সমর্থকদের ৯০% মনে করেন যে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। তারা এটি পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা ঠিক এটাই চেয়েছিলেন: রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সচেতন এবং ক্ষমতায়িত নাগরিক। যারা সরকার পরিচালনাকারী রাজনীতিবিদদের তাদের কাজের (বা কাজের অভাবের) জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। টি পার্টি আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দেওয়া স্বাধীনতা রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের, জনগণেরই সরকার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, উল্টোটা নয়। <references/> == নারীবাদী আন্দোলন == [[File:Feminism symbol.svg|thumbnail|upright|right|নারীবাদী আন্দোলনের আইকনিক প্রতীক]] নারীবাদকে আন্দোলন বা একাধিক আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এগুলো বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হয়েছে এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নারীদের জন্য সমতা প্রচারের জন্য পরিকল্পিত। নারীবাদ ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভোটাধিকারের দাবি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এরপর এটি একটি জটিল এবং বিস্তৃত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকশিত হয়। দেশের সব জায়গার নারীরা নারী অধিকার আইন পাসের জন্য চাপ দিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এরপর আন্দোলনটি পরিবর্তনের একটি জটিল ও বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। এটি সমতার জন্য চাপ দিতে নারীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে। নারীবাদ নারীদের জন্য অনেক আইনি এবং রাজনৈতিক সমতা নিয়ে এলেও, এটি একটি পৃথক, নারীবাদবিরোধী আন্দোলনেরও জন্ম দিয়েছে। এই আন্দোলন আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। === ইতিহাস === ১৯শ শতাব্দী থেকে নারীবাদী আন্দোলন তরঙ্গের মতো এসেছে। প্রতিটি ধাক্কা নারী অধিকারের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এটি সাধারণ সমতার ধারণা এবং ভোটাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। ===== ১৮০০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯০০-এর দশকের প্রথমদিক ===== * সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন * ভোটাধিকার আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: ১৯তম সংশোধনী পাস (১৯২০) ===== ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক ===== * নারী মুক্তি আন্দোলন * নারী স্বাস্থ্য আন্দোলন * ল্যান্ডমার্ক: সমান কর্মসংস্থান সুযোগ আইন (১৯৭২), বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে সমান সুযোগ আইন (১৯৮০) ===== ১৯৯০-এর দশক ===== * হিল-থমাস শুনানি * ল্যান্ডমার্ক: ফ্রিডম রাইড (১৯৯২) === জনপরিসরে প্রভাব === [[File:Virginia Woolf 1927.jpg|thumbnail|upright|right|ভার্জিনিয়া উলফ]]নারীবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল ভার্জিনিয়া উলফের আ রুম অব ওয়ানস ওন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। এটি একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ। একজন নারীকে ফিকশন লিখতে হলে তার অবশ্যই অর্থ এবং নিজস্ব একটি ঘর থাকতে হবে—এমন থিসিস থেকে তিনি এটি লিখেছিলেন<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref>। ১৯২৮ সালে নিউনহ্যাম কলেজ এবং গার্টন কলেজে নারী ও ফিকশন বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণের পর উলফ প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। এই কলেজ দুটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নারী কলেজ ছিল। উলফের প্রবন্ধটি একজন কাল্পনিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চিন্তাধারা অনুসরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজের প্রবন্ধে বলেন, "আমার নিজের পরামর্শটি একটু অদ্ভুত, আমি স্বীকার করি; তাই আমি এটিকে কল্পকাহিনীর আকারে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি"<ref>উলফ, ভার্জিনিয়া। A Room of One's Own (আ রুম অব ওয়ানস ওন। ওয়েব সংস্করণ। অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া: eBooks@Adelaide, ২০১২। দ্য ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড লাইব্রেরি। <http://ebooks.adelaide.edu.au/w/woolf/virginia/w91r/index.html>।</ref> তাঁর পরামর্শ আক্ষরিক এবং রূপক উভয়ভাবেই নেওয়া যেতে পারে: এটি শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক জায়গাই বোঝায় না, বরং নারী শিল্পীদের জন্য ক্যাননের ভেতরে এ পর্যন্ত না দেওয়া জায়গাকেও বোঝায়<ref>ডি'আর্সি, চ্যান্টাল সি। 'A Room of One's Own’? Cultural Studies' relationship to institutionalization and disciplinarity in Spain ('আ রুম অব ওয়ানস ওন'? কালচারাল স্টাডিজ' রিলেশনশিপ টু ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারিটি ইন স্পেন।) | কালচারাল স্টাডিজ ২৩.৫-৬ (২০০৯): ৮৫৫-৭২। ইবিএসসিওহোস্ট। <http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/09502380903208015>।</ref>। ভার্জিনিয়া উলফ সত্যিই জনপরিসরে নারীবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি তাঁর যুক্তির মধ্যে একটি অনেক বড় সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে, সাহিত্যে নারীদেরও পুরুষদের সমান প্রশংসা দেওয়া উচিত। নারীবাদী আন্দোলন উলফের এই ধারণাকে প্রসারিত করে সব নারী অধিকার বিষয়কে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি জনপরিসরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছেছে। ১৮৪৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেনেকা ফলসে সেনেকা ফলস নারী অধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত একজন বাদে বাকি সব নারীই কোয়েকার ছিলেন। তারা রিলিজিয়াস সোসাইটি অব ফ্রেন্ডসের সদস্য ছিলেন। এটি চার্চ অব ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হওয়া একটি গোষ্ঠী। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি তৎকালীন সময়ের একটি অপেক্ষাকৃত উদার গোষ্ঠী ছিল। এই সম্মেলন থেকে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস তৈরি হয়। এটি পুরুষদের দ্বারা নারীদের ওপর করা আঠারোটি অন্যায়ের একটি তালিকা এবং নারীদের সমতার স্বাভাবিক অধিকার বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এগারোটি রেজোলিউশনের একটি তালিকা। [[File:1912 Suffrage Parade.jpg|thumbnail|left|১৯১৯ সালে ওয়াশিংটনে একটি ভোটাধিকার কুচকাওয়াজ]] ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেজোলিউশন হলো নবম রেজোলিউশন। এতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নারীদের কর্তব্য<ref>"The Seneca Falls Convention" (দ্য সেনেকা ফলস কনভেনশন); দ্য ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি। স্মিথসোনিয়ান, ২০১২। ওয়েব। <http://www.npg.si.edu/col/seneca/senfalls1.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের ওপর এই রেজোলিউশনের প্রভাব এত শক্তিশালী ছিল যে এটি ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্ম দেয়। ভোটাধিকার আন্দোলন নারীবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী পাসে সফল হয়েছিল। এই সংশোধনীর সাথে নারীদের ভোট নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন আসে। কারণ সম্ভাব্য ভোটারদের আগমন ব্যাপক ছিল। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের পুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যুক্ত হয়েছিল। ফোকাসের এই পরিবর্তনের সাথে নারীদের প্রতি রাজনীতিবিদদের একটি প্রায় পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব দেখা দেয়। অনেক নারী বিশ্বাস করতেন যে রাজনীতিবিদরা কেবল পুরুষতান্ত্রিক স্টেরিওটাইপগুলোকেই গুরুত্ব দেন। তবে ২০০৯ সালের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্টের মতো সাম্প্রতিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মক্ষেত্রে সমতার দিকে ফোকাস পরিবর্তন করেছে<ref>দ্য লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট, ২৯/১/০৯ <http://www.lillyledbetter.com/>।</ref>। ১৯৬০-৮০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল ক্যারল হ্যানিশের তৈরি করা একটি বাক্যাংশ, 'দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল'। এর ধারণাটি ছিল 'পলিটিক্যাল' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা। রাজনৈতিক অর্থ কেবল নির্বাচনী রাজনীতি নয়, বরং ক্ষমতার পরিস্থিতিতে সামাজিক সাক্ষাৎ এবং সম্পর্কও হতে পারে। নারীবাদের এই তরঙ্গের সাথে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরুষ ও নারীর মধ্যে অসমতার বিষয়ে একটি নতুন সচেতনতা আসে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় সামাজিক হীনমন্যতায় দমবন্ধ হওয়া নারীদের মধ্যে ব্রা পোড়ানোর প্রতিবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে জনপরিসর নারীদের একত্রিত করে এবং পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক সাক্ষাতের জন্য একটি নতুন সুর নির্ধারণ করে। তবে এটি সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধীদের দ্বারা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের একটি নতুন যুগের জন্ম দেয়। নারী লিঙ্গের নতুন পাওয়া ক্ষমতা অনেক সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বৈষম্যের শিকার হয়<ref>হ্যানিশ, ক্যারল। The Personal is Political (দ্য পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল। ২০০৯। ওয়েব। <http://www.carolhanisch.org/CHwritings/PIP.html>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় ঘটা আরেকটি ঘটনা হলো প্রজনন অধিকার আন্দোলন। এটি রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩)ের নজিরবিহীন মামলার জন্ম দেয়। এই মামলা অ্যান্টি-অ্যাবোরশন বা গর্ভপাতবিরোধী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিশ্চিত হয়। প্রজনন আইনের অন্যান্য সব বিবরণ রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক এবং বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়। গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কের ধারাবাহিকতা সামাজিক এবং সম্ভাব্য আইনি বৈষম্যগুলোকে টিকিয়ে রাখে। যারা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী, তারা এক অর্থে নারীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি যৌনতাবাদের একটি সূক্ষ্ম রূপ, যা পুরুষ ও নারীর মধ্যকার সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৯২ সালের ফ্রিডম রাইড ছিল সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত ভোটারদের একত্রিত করার একটি ভোটার নিবন্ধন অভিযান। এটি নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের অংশ ছিল। এটি নারীদের মধ্যে বর্ণগত বৈষম্য তুলে ধরেছিল। আগের নারীবাদী আন্দোলনগুলো এই সমস্যা নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ফ্রিডম রাইড ছাড়াও হিল-থমাস শুনানি আইনিভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এটি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষের একটি ভিত্তি প্রদান করেছিল। এর ফলে ১৯৯২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে নারী ভোটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গের ভোটার উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও ফেডারেল নির্বাচনে নারীদের জন্য একটি নতুন নজির স্থাপিত হয়<ref>বিসলি, ভেনেসা। "Anita Hill-Clarence Thomas Hearings" (অ্যানিটা হিল-ক্ল্যারেন্স থমাস হিয়ারিংস); দ্য মিউজিয়াম অব ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশনস। ওয়েব। <http://www.museum.tv/archives/etv/H/htmlH/hill-thomash/hill-thomas.htm>।</ref>। নারীবাদী আন্দোলনের শুরু থেকে নারীদের আয়ু বৃদ্ধি একটি চূড়ান্ত পরিবর্তন ছিল। এছাড়া জন্মহার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতিও জনপরিসরে পরিবর্তন এনেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের ফলে জনপরিসরে নারীদের বিপুল আগমন জনপরিসরের জনসংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল। উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার নারীবাদী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ডব্লিউএমসি একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি ২০০৫ সালে নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম, জেন ফন্ডা এবং রবিন মর্গান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিডিয়াতে যৌনতাবাদ খুঁজে বের করা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই উইকিবুকের অধ্যায় ৩-এ ডব্লিউএমসি এবং জনপরিসরে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন<ref>http://bn.wikibooks.org/wiki/জনপরিসরে_অলংকারশাস্ত্র_ও_লেখালেখি:_একটি_ভূমিকা/গণমাধ্যম ও জনপরিসর</ref>। === সমর্থন === নারীবাদী আন্দোলনকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রো-ফেমিনিস্ট, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন (নাও) এবং ফেমিনিস্ট মেজরিটি ফাউন্ডেশন (এফএমএফ) অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ে। এরা নারীবাদী আন্দোলনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নারীদের উন্নতির জন্য সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এটি নারীবাদী আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত। এফএমএফ একটি অলাভজনক সংস্থা। এটি অহিংসা, প্রজনন পছন্দ এবং নারীদের সাধারণ সমতার পক্ষে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি নারীবাদের সাথে সরাসরি যুক্ত, তবে এটি আর্থিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করার চেয়ে নারী অধিকার আইন পাসে চাপ দিতে বেশি কাজ করে। প্রো-ফেমিনিস্টরা নারীবাদী সংগঠনগুলোর চেয়ে আলাদা। তারা সরকারি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও নারীবাদের প্রতি সমর্থন জোগায়। === সমালোচনা === নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম তরঙ্গের একটি সমালোচনা হলো, এটি মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ককেশীয় নারীদের প্রয়োজন মেটাত। এর ফলে অন্যান্য বহুসাংস্কৃতিক বা নির্দিষ্ট জাতিসত্তার নারীবাদী আন্দোলনের জন্ম হয়। অনেক নারীবাদী উদ্দেশ্যকে অরাজনৈতিক করার বিষয়ে নারীবাদের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে। কট্টরপন্থি নারীবাদীদের কাছে এর মূল সমস্যা হলো এটি দলমত নির্বিশেষে কেবল নারী রাজনীতিবিদদের প্রচার করার দিকে বেশি মনোযোগী। এটি কোনো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনপরিসরজুড়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার আইন পাসের দিকে মনোযোগ দেয় না<ref>ট্রুইট, জস। "Naomi Wolf argues for de-politicized feminism" (নাওমি উলফ আরগ্যুস ফর ডি-পলিটিসাইজড ফেমিনিজম); ফেমিনিস্টিং। এন.পি., ২ আগস্ট ২০১১। ওয়েব। <http://feministing.com/2011/08/02/naomi-wolf-argues-for-de-politicized-feminism/>।</ref>। === উপসংহার === নারীবাদী আন্দোলন অজান্তেই একটি নারীবাদবিরোধী বাগাড়ম্বরের জন্ম দিয়েছে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমরা ভোটাধিকার এবং অনেক অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা সমতা অর্জন করলেও, সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবন অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি নারীবাদবিরোধী আন্দোলনের ফল। এটি কিছু পুরুষের মধ্যে নারীবিরোধী তিক্ততা এবং কিছু নারীর মধ্যে পুরুষবিরোধী ক্ষোভ তৈরি করে। সন্ত্রাসবাদ এবং কাল্টের মতো ঘটনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে চরমপন্থীরা এ ধরনের অজনপ্রিয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখে, তাই যৌনতাবাদ আজও অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আগে আমাদের সামাজিক সমতার অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। তবে নারীবাদী এবং নারীবাদবিরোধী উভয় চরমপন্থীরা একটি নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী অবস্থানে না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সামাজিক সমতা ঘটতে পারে না। === তথ্যসূত্র === <references/> = সেন্সরশিপ ও জনপরিসর = == ওভারভিউ == আমাদের দেশের জনপরিসর স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা বলতে চান এবং যখন বলতে চান, তার স্বাধীনতা থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেন্সরশিপের অস্তিত্ব হলো বাকস্বাধীনতা এবং যোগাযোগের সেই মাধ্যমগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যা কোনো সরকার বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হতে পারে<ref>"Censorship" (সেন্সরশিপ); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Censorship>।</ref>। সেন্সরশিপ হলো দমনের একটি হাতিয়ার। জনপরিসরে এর কোনো স্থান নেই। প্রকাশিত তথ্য সেন্সর করা কিছু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য খুব সহজ, তবে অন্যদের জন্য অনেক কঠিন। বিভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, সৃজনশীল, ইন্টারনেট এবং স্ব-সেন্সরশিপ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আমেরিকান সরকার কপিরাইট করা মেধা সম্পদ এবং জাল পণ্যের অনলাইন ট্রাফিকিং সীমিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে<ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। এর ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে প্রস্তাবিত এসব আইন তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচলিত সেন্সরশিপ। এটি দিন দিন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। == আধুনিক সেন্সরশিপ == আজকের সমাজে সেন্সরশিপের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট জড়িত। ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে সরকারগুলোর প্রধান সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফাইল শেয়ারিং এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোকে অনলাইন পাইরেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছরে আমেরিকান সরকার দুটি বিলের ওপর ভোট স্থগিত করেছে: স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট (সোপা) এবং প্রিভেন্টিং রিয়েল অনলাইন থ্রেটস টু ইকোনমিক ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড থেফট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট (পিপা)। উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং কমানো এবং বৈধ ওয়েবসাইটগুলো চালানো নিরাপদ করা। তবে এর প্রতিবাদ অনিবার্য ছিল। জনগণ পিটিশন করেছে যে উভয় আইনই প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন হবে। === সোপা === মার্কিন প্রতিনিধি লামার স্মিথের চিন্তাপ্রসূত স্টপ অনলাইন পাইরেসি অ্যাক্ট মেধা সম্পদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ ফাইল-শেয়ারিং দূর করার জন্য নিবেদিত সোপা বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক, সার্চ ইঞ্জিন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের আইন লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল<ref>"Stop Online Piracy Act" (অনলাইন পাইরেসি বন্ধকরণ আইন); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act>।</ref>। প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনকারী এই বিল নিয়ে আমেরিকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই বিলের অন্যতম প্রশ্নবিদ্ধ অংশ হলো ডিজিটাল ফাইল শেয়ারিং ব্যবহার করা অন্যান্য বিশিষ্ট সাইটগুলোর সাথে লিঙ্ক করা। গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে ফাইল এবং সাইটগুলো লিঙ্ক করার ক্ষমতা কেড়ে নিলে তা একটি উন্মুক্ত, অবাধ ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার ধারণার জন্য ক্ষতিকারক হবে<ref>পটার, নেড। "'Internet Censorship'? Would Websites Go Dark Battling Hollywood?" (ইন্টারনেট সেন্সরশিপ? হলিউডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কি ওয়েবসাইটগুলো অন্ধকারে (বন্ধ) চলে যাবে?); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ৯ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ২৯ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/Technology/internet-censorship-sopa-pipa-bills-congress-websites-dark/story?id=15309498>।</ref>। === পিপা === প্রোটেক্ট আইপি অ্যাক্ট সোপা থেকে কিছুটা আলাদা, তবে খুব বেশি অসাধারণ নয়। গুগল এবং উইকিপিডিয়ার মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর এই বিলগুলো নিয়ে অন্যতম সমস্যা হলো ওয়েব ডোমেনগুলোর ওপর কপিরাইট মালিকদের ক্ষমতা নেওয়া। পিপা সরকারকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সামান্য ঘটনা আবিষ্কারের পরপরই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার অনুমতি দেবে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: যেদিন ওয়েব অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটগুলো প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইটে দেখা ক্রমাগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যয় করে। এত কিছুর পরও সাইটটিকে এমন মাপকাঠির মধ্যে সাইটের বৈধতা বজায় রাখতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ইউটিউব আরেকটি বড় কোম্পানি, যারা এই বিল থেকে অনেক কিছু হারাতে পারে। পিপার অধীনে কোনো ব্যবহারকারী সাইটে কপিরাইট করা উপাদান পোস্ট করলে সম্পূর্ণ ইউটিউব সাইট বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধা নেওয়া সব সুপরিচিত সাইটগুলোর জন্যই এটি দারুণ উদ্বেগের বিষয়। এটি সোপা এবং পিপা উভয়েরই চারপাশের বিশাল প্রতিবাদের কারণও ব্যাখ্যা করে। === প্রতিবাদ === [[File:SeaMonkey 1.1.19 -- SOPA blackout.png|thumb|১৮ জানুয়ারি ২০১২-এ উইকিপিডিয়ার মূল পাতা]] সোপা এবং পিপা উভয়ই ২০১১ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ সত্যিই ২০১২ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিলগুলোর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করেনি। ২০১২ সালের শুরুতে বিলগুলোর ওপর ভোট নির্ধারিত ছিল। উভয় আইনের বিরোধিতাকারী কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ওয়েবসাইট সেন্সর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে উইকিপিডিয়া, গুগল, ওয়্যারড ডট কম এবং আরও অনেক সাইট ছিল। সোপা এবং পিপা সম্পর্কে আরও সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য বেশিরভাগ সাইট উভয় আইনের বিরুদ্ধে যুক্তির বিষয়ে তথ্য পোস্ট করেছে<ref>পটার, নেড। "SOPA Blackout: Wikipedia, Google, Wired Protest 'Internet Censorship'" (সোপা ব্ল্যাকআউট: উইকিপিডিয়া, গুগল ও ওয়্যারড 'ইন্টারনেট সেন্সরশিপ'-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়); এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://abcnews.go.com/blogs/technology/2012/01/sopa-blackout-wikipedia-google-wired-join-protest-against-internet-censorship/>।</ref>। উইকিপিডিয়া ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। তারা একটি কালো পাতা পোস্ট করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের বিলগুলো সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানানো হয়েছিল। গুগল এত কঠোর কিছু করেনি, তবে সাধারণ মানুষের যুক্ত হওয়ার জন্য আরেকটি উপায় প্রস্তাব করেছিল। গুগলের মূল পাতায় তারা একটি অনলাইন পিটিশনের লিঙ্ক পোস্ট করেছিল, যেখানে যে কেউ স্বাক্ষর করতে এবং নিজের অংশগ্রহণের কথা জানাতে পারে<ref>স্মিথ, মার্ক। "SOPA Blackout: The Day the Web Went Dark" (সোপা ব্ল্যাকআউট: যেদিন ওয়েব অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল); ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস। গ্যানেট, ১৮ জানুয়ারি ২০১২। ওয়েব। ৩০ এপ্রিল ২০১২। <http://www.freep.com/article/20120118/COL41/120118005/SOPA-PIPA-protest-Wikipedia-Google>।</ref>। জনগণের প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রদর্শনের পর সরকার উভয় বিলের ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিষয়টিতে আরও তথ্য সংগ্রহের পর এবং কিছু সমস্যা সমাধানের পর ভোটটি আবার আসবে। তবে জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা উভয় আইন পাসের তীব্র বিরোধী। আর এই বিষয়টি ভোটারদের মনে পরিষ্কারভাবে গেঁথে থাকবে। == প্রচলিত সেন্সরশিপ == ইন্টারনেট আসার অনেক আগে থেকেই সেন্সরশিপ চলছিল। আর বর্তমানের মতো এমন কোনো ফোরামে এটি অবশ্যই ছিল না। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে আপনার কথা কেউ শুনত না। আপনার কথা শোনানোর জন্য রাজার কানে পৌঁছাতে হতো, কিংবা অভিজাত বা অন্য কোনো সম্মানিত নাগরিক হতে হতো। জনপরিসরের এই অভাব এমন একটি বিষয়, যা আজ আমরা মানুষ হিসেবে কখনোই বুঝতে পারব না। ইন্টারনেট সবাইকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৭শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে যোগাযোগের আরেকটি উপায় ছিল থিয়েটার। এটি ছিল বিনোদনের কয়েকটি রূপের মধ্যে অন্যতম, যার চাহিদা সবসময় ছিল। তাই নিজেদের ভক্তদের ওপর নাট্যকারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। সমস্যা হলো, রাজা নিজের প্রশাসনের সাথে একমত নন এমন যেকোনো উপাদান সেন্সর করতে পারতেন<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (রোমান অভিনেতা, সেন্সরশিপ এবং নাট্য স্বায়ত্তশাসন।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ১৬২৬ সালে কিংস মেনের নবনিযুক্ত প্রধান নাট্যকার ফিলিপ ম্যাসিঙ্গার দ্য রোমান অ্যাক্টর নামে একটি নতুন নাটক চালু করেন। তৎকালীন সময়ে থিয়েটারে ব্যাপক সেন্সরশিপের প্রতিবাদ হিসেবে নাটকটি তৈরি করা হয়েছিল। দ্য রোমান অ্যাক্টরের মূল বার্তা ছিল যে, সেন্সরশিপ সহায়কের চেয়ে ধ্বংসাত্মক বেশি<ref>রেইনহাইমার, ডেভিড এ। "The Roman Actor, Censorship, And Dramatic Autonomy" (রোমান অভিনেতা, সেন্সরশিপ এবং নাট্য স্বায়ত্তশাসন।) | স্টাডিজ ইন ইংলিশ লিটারেচার (রাইস) ৩৮.২ (১৯৯৮): ৩১৭। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। ভাগ্যক্রমে নিজেদের কথা শোনানোর জন্য এখন জনসাধারণকে আর এমন মাত্রায় যেতে হয় না। == স্ব-সেন্সরশিপ == প্রতিদিনকার কথোপকথনে প্রায়ই স্ব-সেন্সরশিপ পাওয়া যায়। এটি সেন্সরশিপের অন্যতম সাধারণ রূপ। এতে একটি নির্দিষ্ট কারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সেন্সর করা হয়। এটি তথ্য সরবরাহকারীর ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্ব-সেন্সরশিপকে ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল তথ্য সীমাবদ্ধ করার একটি উপায়<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সাধারণত বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হলেও, স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন একজন অফিসার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের তথ্য গোপন করতে পারেন। এছাড়া কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো অপকর্ম গোপন করার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই স্ব-সেন্সরশিপের একটি খারাপ প্রয়োগ। তবে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই প্রথা কেবল ব্যবহারকারীদের জন্যই নয়, সেন্সরের শিকার ব্যক্তিদের জন্যও স্বায়ত্তশাসনের অভাব তৈরি করে<ref>হর্টন, জন। "Self-Censorship" (সেলফ-সেন্সরশিপ) | রেস পাবলিকা (১৩৫৬৪৭৬৫) ১৭.১ (২০১১): ৯১-১০৬। হিউম্যানিটিজ ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লিট। ওয়েব। ২ মে ২০১২।</ref>। সেন্সরের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে সমস্যা এড়াতে স্ব-সেন্সরশিপ অবশ্যই সাবধানে গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। == প্রো-সেন্সরশিপ == আমাদের সমাজের তরুণদের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপের কিছু ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী খোঁজার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেন্সরশিপের পক্ষে মূল যুক্তিটি প্রায়শই শিশু সুরক্ষা। এই বিধিনিষেধগুলোর কারণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হলেও, শিশুদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন বলে খুব কমই শারীরিক প্রমাণ রয়েছে<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (সেন্সরশিপ কি সত্যিই শিশুদের সুরক্ষা দেয়?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপের অজুহাত হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা ভুল। অনেক গবেষক দেখেছেন যে এটি শিশুদের শিখতে বাধা দেয়। তারা যুক্তি দেন যে শিশুদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা তাদের বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক। এটি তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সক্ষমতার জন্যও অপমানজনক<ref>গ্রসবার্গ, এম. ২০০২, Does censorship really protect children? (সেন্সরশিপ কি সত্যিই শিশুদের সুরক্ষা দেয়?); ফেডারেল কমিউনিকেশনস ল জার্নাল, লস অ্যাঞ্জেলেস; মে; খণ্ড ৫৪, ইস্যু ৩; পৃষ্ঠা ৫৯১-৫৯৭।</ref>। সেন্সরশিপ বিতর্কের সামনে শিশুদের রেখে সেন্সরশিপের সমর্থকরা মূলত অল্পবয়সী শিশুদের অভিভাবকদের আবেগের সুযোগ নেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্সরশিপ নয়, বরং শিশুদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বাবা-মায়ের প্রয়োগ করা সেন্সরশিপ। == জনপরিসরে প্রভাব == সেন্সরশিপ জনপরিসরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, আর তা ভালো অর্থে নয়। জনপরিসর হলো একটি ফোরাম। এটি জনসাধারণকে সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং সেগুলো সমাধানের গঠনমূলক উপায় খুঁজে বের করার জায়গা দেয়<ref>"Public Sphere" (জনপরিসর); উইকিপিডিয়া। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। ওয়েব। ১ মে ২০১২। <http://en.wikipedia.org/wiki/Public_sphere>।</ref>। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে সাধারণ জনপরিসর, যার মাধ্যমে সবাই যোগাযোগ করে। মানুষ নিজেদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সীমাবদ্ধতা বা লঙ্ঘনের চেয়ে আর কিছুকেই বেশি ভয় পায় না। অনেক ধরনের সেন্সরশিপকেই প্রথম সংশোধনীর অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। সোপা এবং পিপার উদাহরণে দেখা যায়, এগুলো নিশ্চিতভাবেই সেই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করছে। এর ফলে কেবল জনগণের জনপরিসরের অ্যাক্সেস নয়, বরং জনপরিসর নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেন্সরশিপ জনপরিসরের জন্য খারাপ। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই জনসাধারণকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা খুব একটা যৌক্তিক নয়। তথ্য সেন্সর করার মাধ্যমে সরকার সরাসরি আমাদের জনপরিসরকে দুর্বল করতে অবদান রাখে। জনপরিসরকে অবশ্যই এমন একটি জায়গা থাকতে হবে যেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে এবং যেকোনো সময় আলোচনা করার অধিকার থাকে। মিডিয়াতে ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ এবং আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপের (সোপা, পিপা) কারণে জনপরিসরে আমাদের স্বাধীনতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। == তথ্যসূত্র == <references/> 0o3c6cftb5ab3oh7vzd3lshcaz8ijlj জনপরিসরে অলংকারশাস্ত্র ও লেখালেখি: একটি ভূমিকা/অধ্যায় ১০: রাজনীতি ও জনপরিসর 0 31907 106633 106610 2026-06-11T16:12:23Z NusJaS 8394 106633 wikitext text/x-wiki ==ভূমিকা== রাজনীতি এবং জনপরিসর সমার্থক নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র রয়েছে। সেখানে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কে সাধারণ নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত করেন। তাই জনপরিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাজনীতি। আল গোর তার ''যুক্তির ওপর আক্রমণ'' বইয়ে একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের দেশ যেসব সিদ্ধান্ত নেয় তার জন্য আমরা সবাই দায়ী।"<ref>গোর, আল। ''যুক্তির ওপর আক্রমণ'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ২। </ref> ==২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণা: রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং জনপরিসর== ====ভূমিকা==== রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রায় সবসময়ই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছে। এটি প্রথমে সংবাদপত্রের কার্টুন দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরে ১৯৫০-এর দশকে এটি টিভি বিজ্ঞাপনে রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত নতুন মাধ্যমের সাহায্যে জনপরিসরে প্রবেশ করেছে। ইন্টারনেটের এই যুগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আগের চেয়ে বেশি মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছাতে পারে। তবে এদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। কয়েক দশক আগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন মূলত নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রচার করত। এখন এগুলো নিয়মিত প্রতিপক্ষকে অপবাদ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আল গোর তার যুক্তির ওপর আক্রমণ বইয়ে একটি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমাদের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র "সুশিক্ষিত নাগরিকদের" ওপর নির্ভর করে। এসব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এখন এমন নাগরিকদের ক্ষতি করছে। এগুলোর যুক্তির অভাব টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছায়। এটি "ধারণার বাজার"কে এমন এক জায়গায় পরিণত করে যেখানে "সত্য" আর টিকে থাকে না।<ref> গোর, আল। ''যুক্তির ওপর আক্রমণ'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। ৫-১১।</ref> ২০১২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রিপাবলিকান সিনেটর মিট রম্‌নি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। উভয় দলই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কথা তার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন কাজে লাগিয়েছিল। তারা সত্য পরিবর্তন করতে এবং জনপরিসর ও নির্বাচন উভয়কেই প্রভাবিত করতে এটি করেছিল। ===="আপনি এটি তৈরি করেননি।"==== [[File:President Barack Obama.jpg|thumb|প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা]] ভার্জিনিয়ার রোয়ানোকে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন। প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সরকারি অবকাঠামো উভয়ের ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি বলেন: :"আপনি সফল হলে কেউ না কেউ আপনাকে সাহায্য করেছিল। আপনার জীবনে কোনো এক দারুণ শিক্ষক ছিলেন। কেউ একজন আমাদের এই অবিশ্বাস্য আমেরিকান ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। এটি আপনাকে উন্নতি করতে সুযোগ দিয়েছে। কেউ রাস্তা ও সেতুতে বিনিয়োগ করেছিল। আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি। অন্য কেউ এটি সম্ভব করেছে।"<ref>সিএনএন, ওয়্যার স্টাফ। ""তুমি এটা নির্মাণ করোনি": প্রসঙ্গের বাইরে নেওয়া একটি বক্তব্য" ['You Didn't Build That': A Theme Out of Context]। ০১ সেপ্টে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://www.cnn.com/2012/08/31/politics/fact-check-built-this></ref> প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। তবে তার "আপনার যদি ব্যবসা থাকে, তবে আপনি এটি তৈরি করেননি" বাক্যটি ওবামার বিরোধীরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করেছিল। তারা প্রেসিডেন্টকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বড় সরকারে বিশ্বাসী উদারপন্থী হিসেবে তুলে ধরতে এটি ব্যবহার করেছিল। জিওপির সদস্যরা এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা ব্যবসার মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, "হ্যাঁ, আপনিই এটি তৈরি করেছেন।"<ref>ট্যাপার, জেক। "ওবামা কি বলেছিলেন, "তোমার যদি একটি ব্যবসা থাকে, তুমি সেটা নির্মাণ করোনি"?" [Did Obama Say, 'If You Have a Business, You Didn't Build That'?]। ১৬ জুলাই ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2012/07/did-obama-say-if-youve-got-a-business-you-didnt-build-that/></ref> এছাড়া বক্তব্যটি বেশ কয়েকটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ইন্ধন জোগাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। "আপনি এটি তৈরি করেননি" কথাটি অসংখ্য বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল। ব্লগস্ফিয়ারে মিম তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি টুইটারে এটি হ্যাশট্যাগও হয়ে উঠেছিল। মিট রম্‌নির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার বদলে তার প্রচারণা কমিটি ও সহকর্মী রিপাবলিকানরা এই বক্তব্যের সুযোগ নেন। তারা তাদের বিজ্ঞাপনে বারাক ওবামাকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্টের কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। ওবামাবিরোধী এসব বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগেই বক্তৃতার অন্য কোনো অংশ ছাড়াই তার একটি বাক্য তুলে ধরা হয়েছিল। এগুলো মার্কিনিদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে প্রেসিডেন্ট বেসরকারি ব্যবসার মালিকদের প্রশংসা বা স্বীকৃতি দেন না। এছাড়া তিনি মনে করেন এসব ব্যবসার সাফল্যের জন্য একমাত্র ফেডারেল সরকার দায়ী। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বিজ্ঞাপনগুলো টেলিভিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের আকারে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমেও এগুলো ছড়িয়ে পড়ে। কথাটি ইন্টারনেট মিম তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এগুলো ফেসবুক, টুইটার, টাম্বলার এবং অন্যান্য ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইটগুলোতে শেয়ার করা হয়েছিল। রক্ষণশীলরা এটিকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করেছিল। তারা ছোট ব্যবসা সম্পর্কে ওবামার অনুভূতি নিয়ে সত্য পরিবর্তন করতে এটি ব্যবহার করেছিল। কতজন মার্কিন নাগরিক সত্যিই পুরো বক্তৃতাটি পড়েছেন বা দেখেছেন তা অজানা। তবে এটি স্পষ্ট যে অনেকেই তা করেননি। মাঞ্জু ট্রু এনাফ বইয়ে বলেছেন, অনেক মার্কিনি সত্য জানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।<ref>মাঞ্জু, ফরহাদ। ''যথেষ্ট সত্য: উত্তর-সত্য সমাজে বাঁচতে শেখা'' [True Enough: Learning to Live in a Post-fact Society]। হোবোকেন, এনজে: উইলি, ২০০৮।</ref> মানুষ যা বিশ্বাস করতে চায় তা-ই বিশ্বাস করে। ২০১২ সালের প্রচারণায় "আপনি এটি তৈরি করেননি" রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো এর একটি নিখুঁত উদাহরণ। অনেক রক্ষণশীল নাগরিক বিজ্ঞাপনগুলোকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তাদের আগের পক্ষপাতিত্ব নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে দেখেছিলেন। তারা তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে কোনো গবেষণা করেননি। বিজ্ঞাপনগুলো বারাক ওবামার বিষয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টায় জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সফলও হয়েছিল। ====“৪৭ শতাংশ”==== [[File:Mitt Romney by Gage Skidmore 6.jpg|thumb|গেইজ স্কিডমোরের তোলা মিট রম্‌নি ৬]] ডেমোক্র্যাটরাও জনপরিসরকে প্রভাবিত করতে ২০১২ সালের প্রচারণার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেছিল। "৪৭ শতাংশ" ভিডিওর ক্ষেত্রে সিনেটর মিট রম্‌নির কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে সত্যকে কারসাজি করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে নৈশভোজের সময় ওয়েট স্টাফের একজন সদস্য স্কট প্রাউটি গোপনে মিট রম্‌নির একটি বক্তৃতা ভিডিও করেন। বক্তৃতায় রম্‌নি অনেক মার্কিন নাগরিকের কথা বলেন যারা আগেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা "যাই হোক না কেন" তাকে ভোট দেবেন। রম্‌নি বলেছিলেন যে এসব মানুষের মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ ৪৭ শতাংশ মার্কিনি হলেন এমন মানুষ যারা: :"সরকারের ওপর নির্ভরশীল, যারা নিজেদের ভুক্তভোগী মনে করে। তারা মনে করে যে তাদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা বিশ্বাস করে যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বাসস্থান এবং আরও অনেক কিছু পাওয়ার অধিকার তাদের আছে। তারা মনে করে এগুলো তাদের অধিকার। তাই সরকারের উচিত তাদের এগুলো দেওয়া। আর তারা যাই হোক না কেন এই প্রেসিডেন্টকেই ভোট দেবে। ... এরা এমন মানুষ যারা কোনো আয়কর দেয় না। আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়। তারা যে নিজেদের দায়িত্ব নেবে এবং নিজেদের জীবনের যত্ন নেবে, তা আমি কখনোই তাদের বোঝাতে পারব না।"<ref>ভিডিও। ইউটিউবওয়েব। <http://www.youtube.com/watch?v=M2gvY2wqI7M></ref> এখানে সিনেটর মিট রম্‌নি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে অনেক মার্কিনি আগে থেকেই প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের ভোট জয়ের চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। কারণ তারা আগেই মনস্থির করে ফেলেছেন। তবে স্কট প্রাউটি বুঝেছিলেন যে সিনেটর দাবি করছেন তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের পরোয়া করেন না। তাই প্রাউটি টেপটি প্রকাশ করে বলেন, "সবার এটি শোনা প্রয়োজন ছিল।"<ref>গুড, ক্রিস। "মিট রম্‌নির ৪৭-শতাংশ ভিডিওর শিক্ষা: পরিবেশনকারী কর্মীদের প্রতি সদয় হও?" [The Lesson of Mitt Romne'ys 47-Percent Video: Be Nice To The Wait Staff?]। ১৪ মার্চ ২০১৩। ওয়েব। <http://abcnews.go.com/blogs/politics/2013/03/the-lesson-of-mitt-romneys-47-percent-video-be-nice-to-the-wait-staff/></ref> প্রাউটির মতো ওবামার প্রচারণা কমিটি ও ডেমোক্র্যাটরাও এই সুযোগ কাজে লাগায়। তারা রম্‌নিকে এমন একজন হিসেবে উপস্থাপন করে যিনি নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পরোয়া করেন না। তিনি শুধু ধনীদের নিয়ে চিন্তিত। মিট রম্‌নি ৪৭ শতাংশ মার্কিনিদের ভোট পাওয়া নিয়ে চিন্তিত নন, তা বলার বদলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো তার কথাগুলোকে খণ্ডিতভাবে তুলে ধরেছিল। "আমার কাজ ওই মানুষদের নিয়ে ভাবা নয়" বাক্যটি বিকৃত করা হয়েছিল। এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন সিনেটর বলেছিলেন যে তিনি ৪৭ শতাংশ মার্কিনির কোনো পরোয়া করেন না। "আপনি এটি তৈরি করেননি" বক্তৃতার মতো রম্‌নির কথাগুলোও টেলিভিশনের মাধ্যমে জনপরিসরে প্রবেশ করেছিল। এগুলো নিয়ে মিম তৈরি করা হয়েছিল যা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। টুইটারে "৪৭%" একটি হ্যাশট্যাগে পরিণত হয়। সেখানে অনেকেই নিজেদের সেই ৪৭ শতাংশ মানুষের অংশ বলে উল্লেখ করেন যাদের নিয়ে রম্‌নির কোনো মাথাব্যথা নেই। আবারও একজন রাজনীতিবিদের কথা খণ্ডিতভাবে নেওয়া হয়েছিল। এগুলো মার্কিন জনগণের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যা তার বক্তব্যের সত্যতা লুকিয়ে রেখেছিল। আবারও এগুলো তার বিরুদ্ধে আগের পক্ষপাতিত্বকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এবং আবারও এগুলো মিট রম্‌নির বিষয়ে নেতিবাচকভাবে জনমতকে প্রভাবিত করেছিল। ==মিট রম্‌নি এবং মার্কিনিদের কাছে মূল্যায়িত প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলি== ===ভূমিকা=== মার্কিন প্রেসিডেন্সি এমন একটি চাকরি যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পদে পরিণত হয়েছে। তাই চাকরিতে কয়েক বছর কাটানোর পরই প্রেসিডেন্টের চুল অনেক পেকে যায়। এটি কোনো অবাক করার মতো বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট এমন সব সিদ্ধান্ত নেন যা যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের মানুষকে আজ থেকে শুরু করে বহুকাল পর্যন্ত প্রভাবিত করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা একটি বড় কাজ। একে আমরা হালকাভাবে নিতে পারি না। আমাদের অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মার্কিনিদের কি মূল্যায়নের কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে যেখানে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের মাপতে চান? মার্কিন ইতিহাসের প্রবণতা থেকে দেখা যায়, প্রায় সব প্রেসিডেন্টই আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচডব্লিউ বুশ এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ ছাড়া সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রায় সব প্রেসিডেন্টই প্রার্থিতার আগে অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। মার্কিনিরা কেন এসব মানুষের গুণাবলিকে কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করেন? কেন এসব গুণাবলি সফল ব্যবসায়ীদের গুণাবলির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়? মার্কিনি হিসেবে আমাদের জন্ম থেকেই একটি প্রবৃত্তি রয়েছে। পরবর্তী প্রধান সেনাপতি নির্বাচনের সময় প্রতি নির্বাচনী বছরে আমরা এটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে কাজের যোগ্যতা অর্জন করেন। কেউ কেউ এতে সফল হন। অন্যদিকে মিট রম্‌নির মতো কেউ কেউ ব্যর্থ হন। ===কর্পোরেট আমেরিকা=== ====একজন ব্যবসায়ীর গুণাবলি==== মার্কিন কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে সফল ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের প্রতীক। এমনও বলা যায় যে ছোট ব্যবসার সফলতার গল্পগুলো আমেরিকান ড্রিমকে তুলে ধরে। এতে উদ্যোক্তারা বাজারে নিজেদের জায়গা খুঁজে পান। কিন্তু আমরা কি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ব্যবসায়িক জগতের সফল মানুষদের কাছে সামগ্রিকভাবে মার্কিন জনগণের বৃহত্তর চাহিদা মেটানোর গুণাবলি নেই? ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাদের সুফল পেতে লড়াই করেন। এমন কিছু করতে তাদের ব্যক্তিত্ব সাহায্য করে। উইকিঅ্যানসারসের একজন অবদানকারী একজন ব্যবসায়ীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের তালিকা দিয়েছেন। এগুলো হলো সফল হওয়ার ক্ষমতা ও সংকল্প, বুদ্ধিমত্তা, সতর্কতা, নেতৃত্ব, স্পষ্টবাদিতা এবং অন্যদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা।<ref>["একজন ভালো ব্যবসায়ীর গুণাবলি কী কী?" [What are the Qualities of a Good Businessman?] উইকিঅ্যানসারস। <http://wiki.answers.com/Q/What_are_the_qualities_of_a_good_businessman>]</ref> তাহলে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সমস্যা কোথায়? এসব গুণ শুধু ব্যবসায় নয়, যেকোনো মহান নেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে মনে হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের পদে স্পষ্টবাদিতা সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় প্রেসিডেন্টকে কিছু বিষয় ঘুরিয়ে বলতে হয়। কোনো পরিস্থিতির বাস্তবতা প্রকাশ করলে দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ====মুনাফা-চালিত==== [[File:Hurricane_Katrina_President_Bush_with_New_Orleans_Mayor.jpg|thumb|নিউ অরলিন্সের মেয়রের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বুশ]] চিন্তার আরেকটি বিষয় হলো ব্যবসায়ীর সাফল্যের পেছনে মুনাফাভিত্তিক প্রেরণা। এটি হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিট রম্‌নি ছোটবেলা থেকেই বাবার ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। তিনি একটি ধনী পরিবার থেকে এসেছিলেন। ভোটারদের কাছে এটি ম্যাসাচুসেটসের প্রাক্তন গভর্নরকে লোভী হিসেবে তুলে ধরে। এটি তাকে সমাজের বাস্তবতা এবং পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করা মানুষদের বিপদ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করায়। ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার পর এই ধারণাটি আরও জোরালো হয়। তখন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে ফেডারেল সরকার ও ন্যাশনাল গার্ডের নিউ অরলিন্সের মানুষকে বাঁচাতে কয়েক দিন সময় লেগেছিল। বুশ ছিলেন টেক্সাসের তেল শিল্পের একজন প্রাক্তন ব্যবসায়ী। নিউ অরলিন্সের বাসিন্দাদের খাবার, পানি ও নিরাপত্তা দিতে ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এই বিলম্বিত পদক্ষেপ হয়তো প্রেসিডেন্ট বুশের মতো মানুষদের এই পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ====জনগণের ওপর নজর==== হারিকেন ক্যাটরিনা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বুশের ভূমিকা হয়তো মিট রম্‌নির প্রেসিডেন্সি দৌড়কে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। কারণ এটি জনগণের সঙ্গে প্রাক্তন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের দূরত্বের বিষয়টি উন্মোচন করেছিল। মিডিয়ার সাহায্যে মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের চিন্তিত মুখ দেখেছিল। কিন্তু তিনি মেরিন ওয়ানের আরামদায়ক আসনে বসে নিউ অরলিন্সের ধ্বংসযজ্ঞ দেখছিলেন। গভর্নর রম্‌নির পক্ষে বলা যায়, তিনি লাখ লাখ মানুষের চূড়ান্ত উপকারে তার বিশাল আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন। তার বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পটভূমির কারণে তার প্রাইভেট ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফার্ম দুর্বল ব্যবসাগুলোকে প্রায় নিশ্চিত দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচাতে পেরেছিল। তার ফার্ম ২০০২ সালের শীতকালীন অলিম্পিককে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করেছিল।<ref>["মিট রম্‌নির প্রধান দোটানা" [Mitt Romney's Key Quandary]। ইনভেস্টরস বিজনেস ডেইলি। ১৩ এপ্রি. ২০১১। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> গভর্নর রম্‌নির সমর্থন না পেলে ২০০২ সালের অলিম্পিকের পরিণতি হয়তো খারাপ হতো। ====গণতন্ত্রের সংলাপ==== [[File:Al_Gore.jpg|thumb|ভিপি এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর]] রম্‌নির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিনিরা সরকারের নেতা হিসেবে ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বুশের প্রথম মেয়াদে এনরন-যুগের কেলেঙ্কারিগুলো হয়তো এতে আরও ভূমিকা রেখেছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০০০ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী আল গোর এর সঙ্গে একমত। যুক্তির ওপর আক্রমণ বইয়ে গোর বলেছেন যে পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্র সমাজে কেবল পাশাপাশি অবস্থান করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই দুটির মিশ্রণ বিভাজন তৈরি করে। এটি একটি সুস্থ "গণতন্ত্রের সংলাপ" হিসেবে জনপরিসরের জন্য হুমকিস্বরূপ।<ref>[গোর, অ্যালবার্ট। ''যুক্তির ওপর আক্রমণ'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন, ২০০৭। মুদ্রণ।]</ref> একটি পুঁজিবাদী সমাজের ব্যবসায়ী নেতাদের সরকারের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই জায়গা আছে। তারা সম্ভবত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হতে পারেন। তবে আমেরিকার প্রধান নির্বাহীর পদে তাদের জায়গা না-ও হতে পারে। ===কোথায় রম্‌নির ভুল হয়েছিল - বলা কঠিন, তবে চিহ্নিত করা সহজ=== ====তার ভাবমূর্তি==== [[File:Romney-01.jpg|thumb|গভর্নর মিট রম্‌নি]] রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই একমত হতে পারে যে মিট রম্‌নি ভুল করেছিলেন। আল গোর তার যুক্তির ওপর আক্রমণ বইয়ে "সিলেকটিভ এক্সপোজারের" ধারণা উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ঘটনা বর্ণনা করেন যেখানে নাগরিকরা শুধু নিজেদের মতামত সমর্থনকারী প্রতিবেদনগুলোই দেখেন। মানুষ প্রাক্তন গভর্নরকে পছন্দ করুক বা না করুক, বেশিরভাগ মানুষ সিলেকটিভ এক্সপোজারের অভিজ্ঞতা লাভ করেননি। মানুষ মিডিয়ার প্রতিবেদন এবং রম্‌নির নিজের কথা শুনেছিল। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তিনি এই পদের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। ভোটাররা তার সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত ছিলেন না। কারণ তাকে দেখে কোনোভাবেই আদরণীয় ব্যক্তিত্ব মনে হতো না। তার আভিজাত্যপূর্ণ চেহারার কারণে তাকে তার ভোটারদের সঙ্গে মেলামেশা করতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা কঠিন ছিল। নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে মার্কিনিরা নম্রতা ও অকৃত্রিম সহানুভূতিসম্পন্ন প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়ন করতে শিখেছেন। আমরা চাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো নিহত যুদ্ধবীরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আন্তরিক সমবেদনা জানান। অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মার্কিন জনগণের মতে প্রেসিডেন্ট ওবামার মধ্যে এই শক্তিশালী গুণটি রয়েছে। এ থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে জনগণ প্রেসিডেন্ট পদে অন্যান্য যোগ্যতাগুলোকে এই সহজাত গুণের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করে। দুর্ভাগ্যবশত, ব্যবসায়িক জগত গভর্নর রম্‌নিকে প্রায় অমানবিক ও অনুভূতিহীন হিসেবে গড়ে তুলেছিল। ভোটাররা ২০০৮ বা ২০১২ সালের কোনো নির্বাচনেই এটি ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। ====তার ব্যক্তিত্ব==== মার্কিনিরা একজন স্থির, সৎ এবং ধারাবাহিক প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করতে চায়। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর থাকার সময় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার সময় রম্‌নির আচরণে বড় পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। এটিই তার সমালোচনার মূল কারণ ছিল। ২০০৭ সালে এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে টিম রাসার্টের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে গভর্নর রম্‌নি বিভিন্ন বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন কি না, সে বিষয়েও তিনি দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। গভর্নর থাকাকালীন তার দৃষ্টিভঙ্গির তুলনায় রাসার্ট দেখিয়েছিলেন যে রম্‌নি অনেক বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এর মধ্যে গর্ভপাত, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ, ইরাক, সমকামী অধিকার এবং এমনকি রোনাল্ড রিগানও ছিলেন।<ref>["'মিট দ্য প্রেস'-এ ম্যাসাচুসেটসের মিটের সঙ্গে দক্ষিণপন্থী রম্‌নির সাক্ষাৎ" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> এই সাক্ষাৎকারে গভর্নর রম্‌নিকে ভোটারদের কাছে বেশ অস্পষ্ট মনে হয়েছিল। হয়তো এ কারণেই তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়ন হারিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির কমিউনিকেশন ডিরেক্টর কারেন ফিনি রম্‌নির এমন আচরণের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, "তিনি যতই বোঝানোর চেষ্টা করুন না কেন, ভোটাররা জানেন যে আজকের মিট রম্‌নির সঙ্গে কয়েক বছর আগের রম্‌নির কোনো মিল নেই। মার্কিন জনগণের প্রয়োজনীয় সৎ নেতৃত্ব দিতে এদের কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না।"<ref>["'মিট দ্য প্রেস'-এ ম্যাসাচুসেটসের মিটের সঙ্গে দক্ষিণপন্থী রম্‌নির সাক্ষাৎ" [Massachusetts Mitt Meets Right Wing Romney on Meet the Press]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ১৬ ডিসে. ২০০৭। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> বিশেষ করে এমন বড় বিতর্কের বিষয়গুলোতে একজন প্রার্থী হঠাৎ নিজের মতামত পরিবর্তন করতে পারেন না। এমনটা করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আশাও করা যায় না। নির্বাচিত ব্যক্তি যদি চার বছরের মধ্যে নিজের মত পরিবর্তন করেন, তবে জনগণ জানতে পারে না তারা কাকে নির্বাচিত করছেন। ====তার ধর্ম?==== [[File:Three_Witnesses_of_the_Book_of_Mormon_Depiction_by_Edward_Hart,_October_1883.jpg|thumb|বুক অব মরমনের তিনজন সাক্ষী, ১৮৮৩]] আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগে থেকে থাকা পক্ষপাতিত্ব বা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের গতিপথ ও ফলাফল বদলে দিতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ একমত হবেন যে প্রেসিডেন্টের একটি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান থাকা জনগণের জন্য ভালো। তাই কোনো প্রার্থীর এমন কোনো গুণ থাকলে যা তাকে বেশিরভাগ ভোটারদের থেকে আলাদা করে, তখন তাকে মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। জনসমক্ষে তিনি গর্বের সঙ্গেই স্বীকার করেন যে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মরম্‌নি। ভোটাররা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে তার ধর্ম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাফল্যকে প্রভাবিত করবে কি না। খ্রিস্টধর্মের মরম্‌নি সম্প্রদায় সম্পর্কে অনিশ্চয়তাই এর পেছনের মূল কারণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে রম্‌নির ধর্ম নিয়ে মানুষের অনিশ্চয়তার কথা শুনে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিচ ডেভিস একটি গবেষণা শুরু করেন। তিনি নিজেও একজন মরম্‌নি। সম্প্রতি এলএ টাইমস/ব্লুমবার্গের একটি গবেষণার ফলাফলও বেশ চমকপ্রদ ছিল। ৩৭% মার্কিনি মরম্‌নিদের ভোট দেবেন না।<ref>["মিট রম্‌নির প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা গুরুতর অসুবিধার মুখে; মরমন ধর্ম অপরিচিত ও ভুল বোঝা হয় - এটি মোকাবিলায় নতুন ৫২৭ সংগঠন RunMittRun.Org গঠিত" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> এই সংখ্যাটি কেন এত বেশি, তা খুঁজে বের করাই ডেভিসের গবেষণার লক্ষ্য ছিল। ডেভিস সাউথ ক্যারোলাইনার ৬০০ জন নিবন্ধিত ভোটারকে মরম্‌নিদের ভিত্তি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। বেশিরভাগ মানুষই মরম্‌নিবাদ এবং প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টধর্মের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার করতে পারেননি। জরিপে দেখা গেছে যে ৫০% মার্কিনি বিশ্বাস করেন মরম্‌নিরা শুধু বুক অব মরম্‌নি অনুসরণ করে এবং বাইবেল মানে না। অন্যরা বিশ্বাস করেন মরম্‌নিরা এখনও বহুবিবাহ করে। তারা জানেন না যে ১৮৯০ সালে মরম্‌নি চার্চ এটি নিষিদ্ধ করেছিল।<ref>["মিট রম্‌নির প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা গুরুতর অসুবিধার মুখে; মরমন ধর্ম অপরিচিত ও ভুল বোঝা হয় - এটি মোকাবিলায় নতুন ৫২৭ সংগঠন RunMittRun.Org গঠিত" [Mitt Romney Presidential Candidacy Faces Critical Disadvantage; Mormon Religion Unknown and Misunderstood - New 527 Org - RunMittRun.Org Created to Address it]। পিআর নিউজওয়্যার: ০। ২১ জুলাই ২০০৬। প্রোকোয়েস্ট। ওয়েব। ১ মে ২০১৩।]।</ref> ====সারসংক্ষেপ==== আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অজ্ঞতা থেকে আসা স্টিরিওটাইপিং একটি নির্বাচনের ফলাফল নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করি যে ধর্ম একজন প্রেসিডেন্টের সাফল্যের চালিকাশক্তি। কিন্তু সময় ও মানুষের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাই বেশি মার্কিনিদের কাছে টানতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা এই পথেই চলছেন। মিডিয়া আমাদের দেখায় যে তিনি খ্রিস্টানদের ছুটির দিনে চার্চে যান। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার নীতিগত সিদ্ধান্তে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে দূরে রাখেন। বেশিরভাগ ভোটার তার এই কার্যকর পদ্ধতিটিকে মূল্যায়ন করেন বলে মনে হয়। ===কীভাবে আমরা এসব গুণাবলিকে সার্বভৌম হিসেবে গ্রহণ করেছি=== ====মিডিয়ার অবদান==== একজন সফল প্রেসিডেন্টের আদর্শ গুণাবলি নিয়ে বেশিরভাগ মার্কিনি একমত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মিট রম্‌নির মতো প্রার্থীদের ব্যবসার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শক্তিশালী পটভূমি রয়েছে যা বিরোধীদের নেই। তা সত্ত্বেও, কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য একজন প্রার্থীকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তোলে। নিউজ মিডিয়া এসব আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সহায়ক একটি মাধ্যম। যারা তথ্য খোঁজেন তাদের জন্য মিডিয়া হলো একটি প্রধান উৎস। মিডিয়া প্রায়ই তাদের পছন্দের গুণাবলিসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রশংসা করে। কার্যকরভাবে, এটি এমন প্রার্থীদের জন্য সমর্থন ও জনপ্রিয়তার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে যারা মিডিয়া উৎসগুলোর কাছে আদর্শ গুণাবলি পূরণ করেন। ====পারিবারিক মূল্যবোধ==== বয়স্ক মার্কিনিরা প্রেসিডেন্টের যেসব গুণাবলিকে আদর্শ মনে করেন, তরুণ মার্কিনিদের মধ্যে তা গেঁথে দেওয়ার আরেকটি বড় প্রভাবক হলো পারিবারিক মূল্যবোধ। ছোটবেলা থেকেই মার্কিনিরা বাবা-মায়ের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে। আমরা সারা জীবন এগুলো ধরে রাখি। বয়স্ক প্রজন্ম সাধারণত একজন প্রার্থীর শক্তিশালী ধর্মীয় পরিচয়কে মূল্যায়ন করে। তবে বয়স্ক প্রজন্ম বিদায় নেওয়ায় এবং আধুনিক সমাজে ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্ব হারানোয় যুক্তরাষ্ট্র এখন উল্টো পথে হাঁটছে। ====জনপরিসরের ভূমিকা==== সবশেষে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো জনপরিসর। জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাসের ধারণায় এটি প্রেসিডেন্সিয়াল আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে মিডিয়া আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। মার্কিনিরা সেই আলোচনা বাড়িতে নিয়ে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবেশে করেন। প্রত্যেক মার্কিনির বৈচিত্র্যময় পটভূমি "গণতন্ত্রের সংলাপের" প্রতি একটি বাধ্যতামূলক ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেয়। জনপরিসর এমন একটি ফোরাম যেখানে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ঘটে। এর মাধ্যমেই আমরা আদর্শ প্রেসিডেন্সিয়াল গুণাবলির জনমত তৈরি করি। ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমাদের আদর্শ প্রেসিডেন্টের চেহারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। জনপরিসরের মাধ্যমেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধারণাগুলো প্রবাহিত হয়েছে এবং আদর্শ প্রেসিডেন্টের বিবর্তন ঘটেছে। আমাদের প্রজাতন্ত্রের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠাতা পিতারা নাগরিকদের জীবনের সব ক্ষেত্রে খোলাখুলিভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মার্কিনিরা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় উৎসাহিত হয়েছেন। এই জনপরিসরের মাধ্যমেই আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আদর্শগুলো গ্রহণ করেছি। ===উপসংহার=== "সুসংযুক্ত নাগরিকদের" একটি শক্তিশালী জনপরিসরের কার্যকারিতা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্সি আমাদের শাসকগোষ্ঠীর কার্যকরী এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে অস্তিত্ব হারাত (গোর ২০০৭)। মুক্ত বিশ্ব শাসনকারী রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও আগ্রহের মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে। মার্কিন জনগণকে প্রভাবিত করে এমন রাজনৈতিক বিষয়ে তথ্যবহুল ও উন্মুক্ত আলোচনা ছাড়া আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তা একত্র করতে পারি না। আমরা এমন প্রার্থীও নির্বাচন করতে পারি না যিনি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনে দেশকে সেরা দিকে নিয়ে যাবেন। এই পদের জন্য সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করে আমরা আত্মবিশ্বাসী হতে পারি। বর্তমান প্রশাসনের নীতি আমরা অনুমোদন করি বা না করি, আমাদের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তিনি যা সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বলে বিশ্বাস করেন তার জন্যই কাজ করেন। ==জাতীয় ট্র্যাজেডির প্রতিক্রিয়া== === ভূমিকা === গুপ্তহত্যা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সন্ত্রাসী হামলা—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন বেশ কিছু জাতীয় ট্র্যাজেডি রয়েছে। প্রতিবারই দেশ কেঁপে ওঠে এবং জনপরিসরে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলোর একটি হলো ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা। অনেক জাতীয় সংকটের মতোই এটি দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করেছিল। তবে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলের বন্দুক হামলার আরও সাম্প্রতিক একটি ঘটনা জাতিকে বিভক্ত করে এবং মার্কিন রাজনীতিতে নাড়া দেয়। স্যান্ডি হুকের ঘটনার পর ছোট ছোট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভূমিকার কারণে এই হামলা মার্কিন জনপরিসর ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায় বিপরীত প্রভাব ফেলেছিল। এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সম্পূর্ণ উল্টো ছিল। মূলত স্যান্ডি হুক হামলার প্রতিক্রিয়া এই দেশের গণতন্ত্রের আদর্শকেই ক্ষুণ্ন করেছে। ===১১ সেপ্টেম্বর এবং জনপরিসর=== ====মার্কিন জনগণের একতা==== ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক ঘটনার ছয় মাস পর পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, "১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য যেকোনো ঘটনার চেয়ে জনমতকে বেশি প্রভাবিত করেছে। স্পষ্টতই এই হামলা অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেম নিয়ে এসেছিল।"<ref name=pew>"ছয় মাস পরে জনমত" [Public Opinion Six Months Later]। পিউ রিসার্চ সেন্টার ফর পিপল অ্যান্ড দ্য প্রেস। পিউ রিসার্চ সেন্টার, ০৭ মার্চ ২০০২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> যারা ওই হামলার কথা মনে করতে পারেন, তারা প্রায় প্রতিটি বাড়ি, গাড়ি এবং বাণিজ্যিক ভবনে মার্কিন পতাকা দেখার কথাও মনে করতে পারেন। এটি পরিবর্তিত মার্কিন মানসিকতার প্রতীক ছিল। দশ বছর পর ওই ট্র্যাজেডির বার্ষিকী উপলক্ষে ''ইউএসএ টুডে''তে প্রকাশিত একটি অপ-এড নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ওবামা এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, "মার্কিনিরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, উপাসনালয় এবং ইউ.এস. ক্যাপিটলের সিঁড়িতে একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবকরা রক্ত দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সাহায্য করতে সারা দেশ ঘুরেছিলেন। স্কুলের বাচ্চারা নিজেদের জমানো টাকা দান করেছিল। সম্প্রদায়, বিশ্বাসী গোষ্ঠী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার ও পোশাক সংগ্রহ করেছিল। মার্কিনি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।"<ref>ওবামা, বারাক। "চলুন ৯/১১-পরবর্তী ঐক্য পুনরুদ্ধার করি" [Let's Reclaim the Post-9/11 Unity]। ইউএসএ টুডে। ০৮ সেপ্টে. ২০১১: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ১১ সেপ্টেম্বরের পরের মাসগুলোতে হওয়া জনমত জরিপে মার্কিন মানসিকতার পরিবর্তনও বেশ স্পষ্ট ছিল। মার্কিনিদের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের বাড়তি অনুভূতি ফেডারেল সরকার এবং সামগ্রিকভাবে জাতির ভবিষ্যতের ওপর উচ্চতর আস্থায় পরিণত হয়েছিল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে একটি গ্যালাপ জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এতে বলা হয় প্রেসিডেন্ট বুশ ৮৬% এর সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছেন।<ref name=gallup>"সর্বশেষ সারসংক্ষেপ: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও আমেরিকান জনমত" [Latest Summary: American Public Opinion and the War on Terrorism]। গ্যালাপ। গ্যালাপ, ইনক., ২১ ডিসে. ২০০১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> আর পরের মার্চে পিউ রিসার্চের একটি গবেষণায় সামগ্রিকভাবে ফেডারেল সরকারের জন্য ৮২% সমর্থন পাওয়া যায়।<ref name=pew /> শুধু তাই নয়, একই পিউ গবেষণায় দেখা গেছে যে ১১ সেপ্টেম্বরের পর মার্কিনিরা ১৯৫৯ সালের পর সর্বোচ্চ আশাবাদ দেখিয়েছিল।<ref name=pew /> মার্কিনিদের আস্থা ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত মানসিকতা রাজনীতিবিদদের সহজেই বিভিন্ন আইন পাস করার সুযোগ দিয়েছিল। ট্র্যাজেডির পরের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই এমনটা করা হয়েছিল। ====আইন প্রণয়ন==== ১১ সেপ্টেম্বরের পর সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত প্রায় ৪৮টি বিলে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সি সাপ্লিমেন্টাল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট ছিল এমনই একটি বিল। এটি "সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে জরুরি ব্যয়ের" জন্য ৪,০০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছিল। বিলটি মাত্র চার দিনের মধ্যে পাস হয়েছিল।<ref name=appropriations>"যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পুনরুদ্ধার ও প্রতিক্রিয়ার জন্য ২০০১ সালের জরুরি সম্পূরক বরাদ্দ আইন" [2001 Emergency Supplemental Appropriations Act for Recovery from and Response to Terrorist Attacks on the United States]। এইচ.আর. ২৮৮৮ (১০৭তম)। গভট্র্যাক.ইউএস। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> অন্যান্য আইনের মধ্যে সুপরিচিত প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টও ছিল, যা প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং গ্রাউন্ড জিরোতে কাজ করা সৈন্য ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়ার আইনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।<ref name=blog>ভিলেমেজ, জেসন, এবং ডালিয়া মোর্তাদা। "৯/১১ থেকে আজ পর্যন্ত: আমরা যেভাবে বদলেছি" [9/11 To Now: Ways We Have Changed]। দ্য রানডাউন: অ্যা ব্লগ অব নিউজ অ্যান্ড ইনসাইট। পিবিএস, ১৪ সেপ্টে. ২০১১। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> ট্র্যাজেডির পর প্রায় পুরো জাতিরই একই মানসিকতা ছিল। তাই সরকার খুব কম বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। মার্কিনিদের রক্ষার চেষ্টায় সরকার এসব আইনসহ আরও অনেক আইন পাস করতে পেরেছিল। ===স্যান্ডি হুক শ্যুটিং এবং জনপরিসর=== অতি সম্প্রতি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে জাতি আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছিল। এবার কানেটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে বিশটি শিশু এবং ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভুক্তভোগীরা খুব ছোট এবং সংখ্যায় অনেক হওয়ায় এই ঘটনা মার্কিন নাগরিক ও আইনপ্রণেতাদের আবেগে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। তবে এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মতো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। বরং এটি দেশকে দুভাগে বিভক্ত করেছিল। একদিকে ছিলেন কঠোর বন্দুক আইনের সমর্থকরা, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবার। অন্যদিকে ছিল ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন এবং তাদের সঙ্গে একমত পোষণকারীরা। তারা স্পষ্টভাবে বলেছিল যে তারা "বন্দুক নিয়ন্ত্রণের আলোচনার দিকে এক ইঞ্চিও নড়বে না"।<ref name=NRA>কাস্টিলো, মারিয়ানো। "বন্দুক বিতর্কে এনআরএর অবস্থান স্পষ্ট: স্কুলগুলোকে সশস্ত্র করা হোক" [NRA clear on gun debate stance: arm schools]। সিএনএন ইউ.এস.। সিএনএন, ২১ ডিসে. ২০১২। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> এই দুই গোষ্ঠীর লড়াই শুধু দেশকেই বিভক্ত করেনি। এটি জনপরিসরের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করার ক্ষেত্রে টাকার ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। ====নাগরিক আন্দোলন==== স্যান্ডি হুকের পরিবারগুলো জনপরিসরে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারা বেশিরভাগ মার্কিনিদের দাবি তুলে ধরে বন্দুক কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি তৃণমূল প্রচারণা তৈরি করেছিল। জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারগুলো তাদের নিজের রাজ্য কানেটিকাটে দেশের সবচেয়ে কঠোর বন্দুক আইন প্রণয়নে সফল হয়েছিল। এই আইন অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত করেছিল। এটি ম্যাগাজিনের ক্ষমতা সীমিত করেছিল এবং বেসরকারি বন্দুক বিক্রির জন্য পটভূমি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করেছিল।<ref name=huff>উইল্কি, ক্রিস্টিনা। "স্যান্ডি হুক হত্যাকাণ্ডের পর কানেকটিকাট দেশের সবচেয়ে কঠোর অস্ত্র আইন পাস করে" [Connecticut Passes Nation's Strictest Gun Law In Wake Of Sandy Hook Massacre]। হাফ পোস্ট পলিটিক্স। হাফিংটন পোস্ট, ০৪ এপ্রি. ২০১৩। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> তবে রাজ্যের বিজয়ই স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর একমাত্র চাওয়া ছিল না। [[File:Barack Obama with relatives of Emilie Parker.jpg|thumb|স্যান্ডি হুক শ্যুটিংয়ে নিহত শিশু এমিলি পার্কারের আত্মীয়দের সঙ্গে বারাক ওবামা]] এপ্রিলের শুরুতে অভিভাবকরা এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটনে পদযাত্রা করেন। তারা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জাতীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের আশায় তাদের গল্প শেয়ার করেন। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের অর্থনৈতিক ক্ষমতা মোকাবিলা করতে তারা তাদের আবেগের ব্যবহার করেছিলেন। তারা আইনপ্রণেতাদের এবং প্রেসিডেন্টের আবেগ ছুঁতে পেরেছিলেন। আবেগের বশবর্তী হয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুনাম ভেঙে ওবামা স্যান্ডি হুক পরিবারগুলোর দাবির প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করেন। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জো মানচিন একটি দ্বিদলীয় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছিলেন। তিনিও অভিভাবকদের প্রচারণার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "তারা আমাকে বলেছিল, 'আমরা জানি এই আইনের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের বাঁচানো যেত না।' ...তাদের চাওয়া হলো, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তা থেকে হয়তো আপনি একটি পরিবারকে বাঁচাতে পারবেন। আমার জীবনে শোনা এটিই সবচেয়ে নিঃস্বার্থ উপস্থাপন। এটি আমাকে নতজানু করে দিয়েছে।"<ref name=latimes>পার্সনস, ক্রিস্টি, ক্যাথলিন হেনেসি, এবং মাইকেল এ. মেমোলি। "স্যান্ডি হুক ও শোক: অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সমর্থকেরা তাদের অবস্থান তুলে ধরেন" [Sandy Hook and Grief: Gun Control Advocates Plead Their Case]। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ১৩ এপ্রি. ২০১৩, পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩।</ref> প্রচারণার সপ্তাহটি শেষ করতে ওবামা ফ্র্যান্সিন হুইলারকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি এই হামলায় নিহত ছয় বছর বয়সী এক ছেলের মা। ওবামা তার হয়ে শনিবারের সাপ্তাহিক ভাষণ দিতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি শেষ আবেগপূর্ণ আবেদন উপস্থাপন করেন<ref name=latimes />। ====এনআরএ লবিং==== [[File:Wayne LaPierre by Gage Skidmore.jpg|thumb|এন.আর.এ.-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি বাড়ানোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।]] তবে স্যান্ডি হুকের ভুক্তভোগীদের পরিবারের চেষ্টা ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষমতার কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। সামরিক ধাঁচের অ্যাসল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করা, ম্যাগাজিনের আকার সীমিত করা এবং পটভূমি যাচাই সম্প্রসারণ করাসহ সব বন্দুক নিয়ন্ত্রণ বিল সিনেটে বাতিল হয়ে যায়। স্যান্ডি হুক ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো বাবা-মায়ের আবেদন সিনেট শুধু যে উপেক্ষাই করেছে তা নয়। তারা "মার্কিন জনগণের ইচ্ছাকেও উপেক্ষা করেছে" বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন প্রতিনিধি গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ডস। তিনি নিজেও বন্দুক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।<ref name=backfire>ক্যাসিডি, জন। "এনআরএর বড় বিজয় কি উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে?" [Could The N.R.A.’s Big Victory Backfire?]। নিউ ইয়র্কার। ১৮ এপ্রি. ২০১৩: পৃষ্ঠা নেই। ওয়েব। ২৫ এপ্রি. ২০১৩। </ref> মূলত ৯০% এর বেশি মার্কিনি বর্ধিত পটভূমি যাচাই সমর্থন করেছিল। এছাড়া ৫৬% মার্কিনি অ্যাসল্ট অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেছিল<ref name=backfire />। জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত জাতীয় আইনপ্রণেতারা ঠিক তার উল্টোটাই করেছিলেন। পরিস্থিতি বোঝার জন্য একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। এনআরএ ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রার্থীদের ৭,১৬,৫৯৬ ডলার দান করেছিল। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা পেয়েছিল ৬,৩৪,১৪৬ ডলার<ref name=NRA />। এই ক্ষেত্রে জনপরিসর একটি সমস্যা মোকাবিলা করতে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু একটি ছোট গোষ্ঠীর সম্পদ ও ক্ষমতা শুধু জাতিকেই বিভক্ত করেনি; এটি গণতন্ত্রের মূল কাঠামোকেও দুর্বল করে দিয়েছে। ===গণতন্ত্রে টাকার প্রভাব=== আল গোর তার ''যুক্তির ওপর আক্রমণ'' বইয়ে সম্পদের রাজনীতির ওপর আলো ফেলে এই সমস্যার মূল বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গোরের মতে, "শাসিতদের সম্মতি থেকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা পাওয়া নির্ভর করে সেই যুক্তির প্রক্রিয়ার ওপর যার মাধ্যমে সম্মতি দেওয়া হয়। যুক্তির প্রক্রিয়া যদি টাকা ও প্রতারণার দ্বারা কলুষিত হয়, তবে শাসিতদের সম্মতি মিথ্যা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে প্রাপ্ত যেকোনো ক্ষমতা জন্মগতভাবেই নকল এবং অন্যায়।"<ref name=gore>গোর, আল। ''যুক্তির ওপর আক্রমণ'' [The Assault on Reason]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন বুকস, ২০০৭। ৭৩-৭৬। মুদ্রণ।</ref> ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর দেশের একটি অভিন্ন কর্মসূচি ছিল। খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। কারণ খুব কম মানুষই মূলধারার বিরুদ্ধে বিশ্বাস রাখত। সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খুব সহজেই অনেক আইন পাস করেছিল। অন্যদিকে স্যান্ডি হুক হামলার পর জনগণের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। শোকাহত পরিবার ও সম্প্রদায়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনির ইচ্ছাই উপেক্ষিত হয়েছিল। তবে যারা লাখ লাখ ডলার দিতে পেরেছিল, তাদের ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছিল। এটি ঠিক সেই ঘটনাই তুলে ধরে যা নিয়ে গোর সতর্ক করেছিলেন। এটি গণতন্ত্রের উদ্দেশ্যমূলক কাজের ঠিক বিপরীত দিকটি তুলে ধরে। গোরের ভাষায়, "তাদের মতামত অন্যদের মতামতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতির অগ্রাধিকারগুলো পালটে যায়।"<ref name=gore /> ==২০১২ সালের নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ক্ষতিকর প্রভাব== প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা এর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা খুব সহজেই বুঝতে পারছি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বেশিরভাগ কাজেই এখন প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেশি। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দারুণ একটি ব্যাপার। সম্প্রতি নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের কারণে ভোটাররা শুধু প্রার্থীদের নীতির ওপর ভিত্তি করে কাউকে বেছে নিতে পারছেন না। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হলো বিদ্বেষপূর্ণ বা কলঙ্কজনক কাজের মাধ্যমে প্রতিযোগী, প্রতিপক্ষ ইত্যাদিকে হেয় করার চেষ্টা [http://dictionary.reference.com/browse/mudslinging]। আর এই কাজটি নির্বাচন জেতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারাক ওবামা এবং মিট রম্‌নির মধ্যকার গত নির্বাচনটি সর্বকালের অন্যতম তীব্র নির্বাচন ছিল। http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সম্প্রচার এবং কেবল টেলিভিশনে রম্‌নির নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের মোট হার ছিল ৭৯.২%। আর ওবামার হার ছিল ৮৫.৫%। এই হার ২০০৮ এবং ২০০৪ উভয় নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি। ২০০৮ সালে ওবামার নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের হার ছিল ৬২.৯% এবং জন ম্যাককেইনের ছিল ৭৫.৯%। ২০০৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জন কেরির ৪৪.৩% এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের ৭২.৪% নেতিবাচক বিজ্ঞাপন ছিল। এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে যে প্রতি নির্বাচনেই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পরিমাণ বাড়ছে এবং এটি কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের নেতিবাচকতা বাড়ছে। এটি নিঃসন্দেহে জনপরিসরকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ===কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির শুরু=== লিন্ডন জনসন এবং ব্যারি গোল্ডওয়াটারের মধ্যে ১৯৬৪ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির প্রথম বড় ঘটনাটি ঘটেছিল। এটি চিরকালের মতো প্রচারণার কৌশল বদলে দিয়েছিল। জনসনের প্রচারণায় তৈরি বিজ্ঞাপনটি "ডেইজি গার্ল" নামে পরিচিত। এটি শুরু হয় একটি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা এক মিষ্টি ছোট্ট মেয়েকে দিয়ে। সে একটি ডেইজি ফুল থেকে পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে গণনা করার চেষ্টা করছিল। সে যখন এটি করছিল, তখন একটি ভীতিকর ও অশুভ কণ্ঠস্বর দশ থেকে উল্টো গণনা শুরু করে। যখন কণ্ঠস্বরটি "শূন্য" বলে, তখন তারা একটি বিশাল পারমাণবিক বিস্ফোরণ দেখায়। এরপর এই কথাগুলো দিয়ে বিজ্ঞাপনটি শেষ হয়, "এই হলো ঝুঁকি। ঈশ্বর এমন এক পৃথিবী তৈরি করুন যেখানে তার সব সন্তান বাঁচতে পারে, অথবা অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে। আমাদের একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, অথবা আমাদের মরতে হবে।" বিস্ফোরণের পর স্ক্রিনে "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন" লেখাটি ভেসে ওঠে। এটি স্ক্রিনে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে, "৩ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জনসনকে ভোট দিন। ঘরে বসে থাকার ঝুঁকি অনেক বেশি।" http://michiganjournal.org/2012/10/30/presidential-mudslinging-in-the-past/ এই বিজ্ঞাপনটি দর্শকদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকে পারমাণবিক যুদ্ধ আরও বড় হুমকি হয়ে উঠছিল। কয়েক বছর আগেই কিউবান মিসাইল সংকট হয়েছিল। আর গোল্ডওয়াটার তার প্রচারণায় ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ধারণার কথা বলেছিলেন। মার্কিনিদের মনে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকির কারণে এই বিজ্ঞাপনটি ভোটারদের ভয় দেখানোর একটি কার্যকর কৌশল ছিল। অধ্যাপক রবার্ট মান এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। বইটির শিরোনাম ডেইজি পেটালস অ্যান্ড মাশরুম ক্লাউডস: এলবিজে, ব্যারি গোল্ডওয়াটার অ্যান্ড দ্য অ্যাড দ্যাট চেঞ্জড আমেরিকান পলিটিক্স। তিনি বলেন, "তার সমর্থন কখনোই সত্যিই কমেনি। তবে জরিপে যা বেড়েছিল তা হলো মার্কিনিদের ভয়। তারা ভেবেছিল গোল্ডওয়াটার নির্বাচিত হলে তিনি আমাদের পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবেন।" http://thecaucus.blogs.nytimes.com/2011/10/24/revisiting-the-daisy-ad-revolution/ আজ যদি এ ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন সম্প্রচারিত হতো, তবে এর প্রভাব এত ক্ষতিকর হতো না। মার্কিনিরা নেতিবাচক বিজ্ঞাপন দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আজকের দর্শকরা এটিকে হাস্যকর ও অবাস্তব বলে মনে করবেন। তারপরও এই বিজ্ঞাপনটি গোল্ডওয়াটরের প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর ছিল এবং এই নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়েছিল। ===প্রথম বিতর্ক=== [[File:P112912PS-0444 - President Barack Obama and Mitt Romney in the Oval Office - crop.jpg |thumbnail|right|বারাক ওবামা এবং মিট রম্‌নি]] এবার ২০১২ সালের নির্বাচনে আসা যাক। প্রতিযোগিতায় দুর্বলতার কোনো লক্ষণ দেখালে তা প্রচারণার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মিট রম্‌নি এবং বারাক ওবামার মধ্যকার প্রথম বিতর্কে এটি স্পষ্ট হয়েছিল। সঞ্চালক যেসব প্রশ্ন করেছিলেন তা অর্থনীতি ঠিক করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। রম্‌নির জন্য জরিপে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ ছিল। কারণ তার প্রচারণা মধ্যবিত্তের উন্নতি এবং দেশের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের চারপাশেই ঘুরছিল। বিতর্কটি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি দুই প্রার্থীর মধ্যে এক তীব্র লড়াইয়ে পরিণত হয়। তারা প্রায়ই তাদের বিবৃতি এবং খণ্ডনের জন্য বরাদ্দ সময় পার করে যাচ্ছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের লেখক জেফ জেলেনি এবং জিম রুটেনবার্গের মতে, "বিতর্কের বেশিরভাগ সময় প্রার্থীরা মঞ্চ দখল করে নিয়েছিলেন। তারা পিবিএসের সঞ্চালক জিম লেহরের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ তারা একে অপরকে খণ্ডন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল সঞ্চালক যেন মঞ্চ ছেড়েই চলে গেছেন। এটি এমন কিছু নতুন নিয়মের ফল ছিল যা একটি গভীর ও মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল।"<ref>http://www.nytimes.com/2012/10/04/us/politics/obama-and-romney-hold-first-debate.html?pagewanted=all&_r=0</ref> ====বিতর্কের গুরুত্ব==== পরিস্থিতি অনেক সময় খুব উত্তপ্ত ছিল। প্রতিটি প্রার্থী তাদের সেরা ক্ষমতা দিয়ে বিতর্ক করেছিলেন। এ ধরনের তীব্র বিতর্ক নির্বাচনের জন্য দারুণ। কারণ এটি ক্ষমতাসীন এবং চ্যালেঞ্জারের মধ্যে এক দুর্দান্ত লড়াই। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মতো নেতিবাচক প্রচারণার কৌশলগুলো বিতর্কের ময়দানে কোনো কাজে আসে না। এখানেই তারা তাদের নীতির ওপর আস্থা দেখাতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়ে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তাও দেখাতে পারেন। এমন একটি রোমাঞ্চকর বিতর্কের পরও প্রতিটি প্রচারণা দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেছিল। ==নেতিবাচকতা বৃদ্ধির কারণ== ২০১২ সালের নির্বাচনে নেতিবাচকতা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ ছিল প্রতিটি প্রার্থীর প্রচারণার ভিত্তি। ক্ষমতাসীন ওবামা নতুন কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রচার করতে পারেননি। কারণ ক্ষমতায় তার আগের চার বছরে অর্থনীতি ভালো অবস্থানে ছিল না। "পলিটিকো"তে ডোনোভান স্ল্যাকের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "ওবামা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর ভিত্তি করে লড়তে পারেননি। তার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর কয়েকটি, যেমন তার স্বাস্থ্যসেবা আইন, জরিপে অজনপ্রিয় ছিল।" স্ল্যাক আরও বলেন, "রম্‌নি ক্ষমতাসীনকে বরখাস্ত করতে মার্কিনিদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে নিজের বিষয়ে খুব একটা বিস্তারিত কিছু জানাননি।" [http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html%20 http://www.politico.com/news/stories/1112/83262.html ] ===ক্ষতিকর প্রভাব=== এই কারণে দুই প্রার্থীই নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের দিকে ঝোঁকার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। তারা ঐতিহাসিকভাবেই এমনটা করেছিলেন। এসব কাজ শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণার অখণ্ডতাই নষ্ট করে না। সামগ্রিকভাবে মার্কিন নাগরিকরাও পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেছেন। সিএনএনের লেখক বব গ্রিনের লেখা একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "২০০৮ সালে সম্ভাব্য ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল উভয় প্রার্থীই ভালো প্রেসিডেন্ট হবেন কি না। তখন ২৫% হ্যাঁ বলেছিলেন। এই বছর (২০১২) একই প্রশ্ন করা হলে মাত্র ১২% হ্যাঁ বলেছেন।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging গ্রিন বর্তমান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনকে যুদ্ধের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। তিনি বলেন যে যুদ্ধে উভয় পক্ষই যদি জানে তারা একে অপরকে ধ্বংস করতে পারে, তবে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু রাজনীতিতে উভয় পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। তারা সব সময় ওপরের দিকে থাকার জন্য চাপ দেয়। গ্রিন বলেন, "নির্বাচনে জিততে যেকোনো উপায় ব্যবহারের ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত একজন প্রেসিডেন্ট তৈরি করবেই। কিন্তু এরপর সেই প্রেসিডেন্টকে এমন এক জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে যারা পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছে।" যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই একটি বিষয় জানা যায়। একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে মার্কিন জনগণ এবং এর নেতার মধ্যে আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন তার নিবন্ধে আমাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিতা জন অ্যাডামসকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, "সব স্তরের কর্তৃপক্ষের জন্য শালীনতা, সম্মান ও শ্রদ্ধা থাকতে হবে, নইলে আমরা শেষ হয়ে যাব। জনপ্রিয় সরকারে এটাই আমাদের একমাত্র পথ।" http://www.cnn.com/2012/09/02/opinion/greene-campaign-mud-slinging এই উদ্ধৃতিটি সরাসরি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ==জনপরিসরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব== জনপরিসর হলো কথোপকথনের একটি স্থান এবং এটি মার্কিন সংস্কৃতিকে পুরোপুরি ধারণ করে। "জনপরিসর" শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাস। তিনি এটিকে এমন একটি কথোপকথনের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে জনমত তৈরি হয়। আজকের বিশ্বে জনপরিসর প্রযুক্তি দ্বারা নানাভাবে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনগুলো কার প্রচারণার বিজ্ঞাপন ভালো এবং কে বেশি টাকা খরচ করে, তা ঘিরেই আবর্তিত হয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে অর্ধেকেরও বেশি প্রচারণার বিজ্ঞাপন কোনো না কোনোভাবে অবমাননাকর। ফলে মার্কিন নাগরিকরা কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করবেন তা নিয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। ভোটারদের কারসাজি করা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের সমর্থিত কোনো কৌশল নয়। এই প্রবণতা চলতে থাকলে আমাদের দেশ আর ঐক্যবদ্ধ থাকবে না। এটি "আমরা বনাম তারা" মানসিকতায় পরিণত হবে এবং আমরা বিভক্ত হয়ে পড়ব। নেতিবাচকতার এই প্রবণতার জন্য কি শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীরাই দায়ী? একদমই না। নিউজ স্টেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই পতনে বিশাল ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, "বোল্ড রিপাবলিক" নামে একটি কট্টর রিপাবলিকান গোষ্ঠী একটি ভাইরাল ইউটিউব ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে শহরের অশিক্ষিত নাগরিকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তারা সাধারণ প্রশ্ন করেছিল যেমন, "আপনারা কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন?" একজন ব্যক্তি এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "দেখা যাক, তারা যা দিতে চায় তাই। আমি তো জানিও না, তাদের কাছে তো আর কোনো চেকলিস্ট নেই।" এই ভিডিওটি প্রার্থীর অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অপপ্রচারের একটি চরম উদাহরণ। এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীদের সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত করছে। এসব সমস্যা চলতে থাকায় এটি আমার কাছে স্পষ্ট যে একজন ভালো প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জনপরিসরে একটি বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। ==তথ্যসূত্র== {{reflist}} {{BookCat}} cmww22rnyah6oy2vhuysgoembq77p43 মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/চরিত্র/গোরনুক 0 32650 106647 104355 2026-06-11T18:10:39Z কমলেশ মন্ডল 9394 106647 wikitext text/x-wiki {{Muggles' Guide to Harry Potter/Character| name=গোর্নুক| gender=পুরুষ| hair=অজানা| eyes=অজানা| family=গবলিনরা| loyalty=যারা লর্ড ভলডেমর্টের বিরোধিতা করে }} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ== '''''গোর্নুক''''' একজন গবলিন, যে একদল মাগল-জাত ব্যক্তির সাথে ভ্রমণ করে। সে এই ছোট দলটির সাথে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, সম্ভবত লর্ড ভলডেমর্ট এবং তার অনুগামীদের থেকে লুকিয়ে। ==বইয়ে ভূমিকা == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} === [[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ডেথলি হ্যালোজ|ডেথলি হ্যালোজ]] === গোর্নুককে জাদুকর টেড টঙ্কস, ডার্ক ক্রেসওয়েল ও ডিন এবং তার সঙ্গী গবলিন গ্রিফহুকের সাথে ভ্রমণ করতে শোনা যায়। এক্সটেন্ডেবল ইয়ার্সের মাধ্যমে তাদের কথোপকথন শুনে ত্রয়ী গবলিনদের কাছ থেকে কিছু তথ্য জানতে পারে: তারা বিশ্বাস করে যে স্নেপের অফিসে থাকা গ্রিফিন্ডরের তলোয়ারটি নকল। পটারওয়াচের একটি পর্বে পরে উল্লেখ করা হয় যে, টেড এবং ডার্কের সাথে গোর্নুককেও হত্যা করা হয়েছিল। == শক্তি== আমরা গোর্নুক সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানি না, কিন্তু গবলিনদের সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান থেকে আমরা অনুমান করতে পারি যে সে চতুর, জ্ঞানী এবং জাদুদণ্ড ছাড়াই জাদু করতে সক্ষম। == দুর্বলতা == এই সময়ে গোর্নুক এক কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, কারণ সে কোথাওই নিরাপদ নয়। সে স্পষ্টতই বন্য পরিবেশে ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়। == অন্যান্য চরিত্রের সাথে সম্পর্ক == গোর্নুক গ্রিফুকের একজন সহযোগী, এমনকি বন্ধুও বলা চলে। কথোপকথনের সময় তাদের হাসাহাসি করতে শোনা যায়। একজন গবলিনের জন্য যা অস্বাভাবিক, সে জাদুকরদের সাথে কাজ করতে, বা অন্তত তাদের সাথে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক। এই মৈত্রী হয়তো অস্থায়ী ছিল, কিন্তু টেড, ডিন বা ডার্কের প্রতি তাকে অবজ্ঞাপূর্ণ বা বিদ্বেষী বলে মনে হয় না। == বিশ্লেষণ == গোর্নুক একটি গৌণ চরিত্র, যদিও সে এটা মনে করিয়ে দেয় যে ভলডেমর্টের উত্থানে শুধু মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। যদিও সে নিজেই স্বীকার করে যে সে পরিস্থিতিটিকে "জাদুকরদের যুদ্ধ" বলে মনে করে, তবুও নিজের নিরাপত্তার জন্য আত্মগোপন করাকেই সে বিচক্ষণ মনে করে, যদিও এর আসল কারণ আমরা কখনোই জানতে পারি না। মজার ব্যাপার হলো, সে যদি তার স্বজাতির সঙ্গে থাকত, তবে সে আরও বড় বিপদে পড়ত, কারণ বইটির পরবর্তী অংশে ভলডেমর্ট গ্রিংগটসের বেশিরভাগ গবলিনকে হত্যা করে। ==প্রশ্ন == {{মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/প্রশ্ন}} #আপনার কি মনে হয় গোর্নুক গ্রিংগটসের কর্মচারী হতেন কি না? #যেটাকে সে জাদুকরদের যুদ্ধ বলে মনে করে, তা থেকে সে কেন পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? #গোর্নুক কি অন্য কোথাও আরও নিরাপদ থাকত? == বৃহত্তর প্রেক্ষাপট == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} সপ্তম বইটি আমাদের গবলিনদের সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দেয়, যদিও প্রথম বইয়ের শুরুতেই তাদের পরিচয় দেওয়া হলেও সেভাবে পাদপ্রদীপের আলোয় আনা হয়নি। গ্রিফহুক এবং বগরডের পাশাপাশি গোর্নুকও এই সিরিজে নাম উল্লেখ করা অল্প কয়েকজন গবলিনের মধ্যে একজন, যারা কিছুটা হলেও গুরুত্ব পেয়েছে। যে যুদ্ধ তার সাথে আসলে সম্পর্কিত নয়, তা এড়ানোর তার এই প্রচেষ্টাটি দেশের উপর ভলডেমর্টের শাসনের প্রভাব তুলে ধরতে সাহায্য করতে পারে। যদি গবলিনরা প্রভাবিত হয়, তবে সম্ভবত সমস্ত জাদুকরী প্রাণীও হতে পারে। {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} bcri881qcm4imiifzzlv7g0dv5f4i62 মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/শ্রিঙ্কিং সলিউশন 0 33089 106649 105320 2026-06-11T18:26:36Z কমলেশ মন্ডল 9394 106649 wikitext text/x-wiki {{Muggles' Guide to Harry Potter/Magic| name=শ্রিঙ্কিং সলিউশন| type=জাদু (পোশন)| features=| appearance=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/প্রিজনার অব আজকাবান/অধ্যায় ৭|''হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান'']]}} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ== '''''শ্রিঙ্কিং সলিউশন''''' হলো এমন একটি পোশন যা জীবন্ত বস্তুকে শৈশবে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের আকার ছোট করে ফেলে। == বিস্তারিত বিবরণ== {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} প্রফেসর স্নেইপ হ্যারির পোশন ক্লাসের সবাইকে শ্রিঙ্কিং সলিউশন তৈরি করতে বলেন। সেই সময় ড্রেকো বাকবিকের দেওয়া আঘাত নিয়ে অসুস্থতার ভান করছিল, এবং স্নেইপ হ্যারি ও রনকে তার জন্য উপকরণ প্রস্তুত করতে বলেন। নেভিলের এই পোশনটি তৈরির চেষ্টা এবং হারমাইনি তাকে সঠিক পথ দেখানোর কারণে একটি কিছুটা হাস্যকর পার্শ্ব-ঘটনার সৃষ্টি হয়। উল্লেখিত উপকরণগুলো হলো খোসা ছাড়ানো শ্রিভেলডুমুর, খুব ভালোভাবে কুচি করা ডেইজি ফুলের শিকড়, জোঁকের রস এবং ফালি করা শুঁয়োপোকা। == বিশ্লেষণ == যদিও নেভিলের ব্যাঙ ট্রেভরের উপর পোশনটি প্রয়োগ করার সময় আমরা এর প্রভাব দেখতে পাই, তবে বিনোদন-বহির্ভূত ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ও প্রয়োগ কখনোই ব্যাখ্যা করা হয়নি। আমরা ধারণা করি যে এটি গাছপালা বা এই জাতীয় জিনিস সরানোর জন্য কাজে লাগতে পারে ওক গাছে পোশন প্রয়োগ করে সেটিকে চারাগাছে পরিণত করা, তারপর সহজেই উপড়ে ফেলা। যে পর্বে পোশনটি তৈরি করা হচ্ছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো এতে জড়িত চরিত্রগুলোর ওপর আলোকপাত করা, এবং বিশেষ করে ড্রেকোকে হ্যারির যথেষ্ট কাছাকাছি ও দীর্ঘ সময় ধরে থাকার একটি সুযোগ দেওয়া, যাতে সে সিরিয়াস ব্ল্যাককে নিয়ে হ্যারিকে খোঁচা দিতে পারে। হ্যারি যাতে ঘৃণিত ড্রেকোর কাছ থেকে সহজে চলে যেতে না পারে সেজন্য তত্ত্বাবধান, বিশেষত স্নেপের প্রয়োজন। এই পর্বটি আরও কিছু বিষয় তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয়: কড়াই নিয়ে নেভিলের হাস্যকর অদক্ষতা, হ্যারি ও গ্রিফিন্ডর হাউসের প্রতি স্নেপের চলমান অপছন্দ এবং নিজের হাউসের প্রতি তার পক্ষপাতিত্ব; হারমায়োনির পুঁথিগত জ্ঞান এবং সে কীভাবে তা প্রয়োগ করছে; ড্রেকোর ধূর্ত ব্যক্তিত্ব; এবং প্রতিকূলতার মুখে হ্যারি ও রনের অবিচলতা। == প্রশ্ন == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} ayegnyjlje6fjvs502ppgp9a10bwd8d মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/সাইলেন্সিও 0 33091 106650 105323 2026-06-11T18:31:09Z কমলেশ মন্ডল 9394 106650 wikitext text/x-wiki {{Muggles' Guide to Harry Potter/Magic| name=সাইলেন্সিও| type=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু#জাদুমন্ত্র|জাদুমন্ত্র]]| features=কোনো বস্তুর শব্দ করা প্রতিরোধ করে| appearance=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স|''হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স'']]}} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ== কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে নীরব করতে '''''সাইলেন্সিও''''' ব্যবহার করা হয়। == বিস্তারিত বিবরণ == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} আমরা ''হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্সে'' ত্রয়ীকে এই মন্ত্রটি শেখানো হতে দেখি। হারমায়োনি সহজেই তার দাঁড়কাকটিকে চুপ করাতে সক্ষম হয়, হ্যারি এবং রন যে ব্যাঙটিকে চুপ করানোর কথা ছিল সেটিকে নিয়ে সমস্যায় পড়ে এবং জায়গা বদল করার পরেও হারমায়োনির দাঁড়কাকটিকে চুপ করাতে পারে না। পরে, ডিপার্টমেন্ট অব মিস্ট্রিজের যুদ্ধের সময় হারমায়োনি একজন ডেথ ইটারকে চুপ করিয়ে দেয়, যে চিৎকার করে বলছিল সে হারমায়োনি, হ্যারি এবং নেভিলকে খুঁজে পেয়েছে। == বিশ্লেষণ == এই মন্ত্রটি চার্মস এর সংজ্ঞা নির্ধারণকারী নিয়মটি ভঙ্গ করে কি না, তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। লেখকের মতে, চার্মস হলো সেইসব মন্ত্র যা কোনো বস্তুর মৌলিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে না। সুতরাং, ট্রান্সফিগারেশন একটি চার্ম নয়, কারণ এতে বস্তুকে অন্য বস্তুতে রূপান্তরিত করা হয়, বা সেগুলোকে অদৃশ্য করে দেওয়া হয়। অথচ, যে ক্লাসে সাইলেন্সিও শেখানো হচ্ছে, সেটি হলো প্রফেসর ম্যাকগোনাগালের ট্রান্সফিগারেশন ক্লাস। একটি দাঁড়কাককে নীরব করে দিলে কি তার দাঁড়কাকসুলভ অপরিহার্য প্রকৃতি বদলে যায়? যদি তা না হয়, তবে এই মন্ত্রটি চার্মস প্রশিক্ষক প্রফেসর ফ্লিটউইকের শেখানো উচিত। এমনটা মনে করা হয় যে, ডিপার্টমেন্ট অব মিস্ট্রিজে ডেথ ইটারকে চুপ করিয়ে দিয়ে হারমায়োনি হয়তো তাকে আরও জাদু প্রয়োগ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বাস্তবে, এই চেষ্টা সফল হয় না কারণ চুপ করিয়ে দেওয়া ডেথ ইটারটি তখনও হারমায়োনির উপর একটি অক্ষমকারী জাদু প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়। নিঃশব্দে জাদু প্রয়োগ করা এমন একটি দক্ষতা যা ষষ্ঠ বর্ষ থেকে শেখানো শুরু হয়, এবং সেই সময়ে ত্রয়ী তাদের স্কুলের পঞ্চম বর্ষে ছিল। == প্রশ্ন == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 65ebakmjidswjsk2l02qvgrmrsww4ti মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/রুনস্পোর 0 33095 106651 105330 2026-06-11T18:36:36Z কমলেশ মন্ডল 9394 সংশোধন 106651 wikitext text/x-wiki {{Muggles' Guide to Harry Potter/Magic| name=রুনস্পোর| type=জাদুকরী প্রাণী| features=তিন মাথাওয়ালা সাপ| appearance=''ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস অ্যান্ড হোয়্যার টু ফাইন্ড দেম''}} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ== রুনস্পোর হলো একটি জাদুকরী তিন-মাথাওয়ালা সাপ যা সাধারণত ৬-৭ ফুট লম্বা হয় এবং এর গায়ে কমলা ও কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। এটি আফ্রিকার স্থানীয় প্রাণী। == বিস্তারিত বিবরণ== {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}}রুনস্পোর একমাত্র জাদুকরী প্রাণী যাদের ডিম মুখ দিয়ে উৎপন্ন হয়। এই ডিম মানসিক ক্ষিপ্রতা বৃদ্ধিকারী ঔষধ তৈরির জন্য ব্যবহারযোগ্য। কিছু পার্সেলমাউথের মতে, রুনস্পোরের তিনটি মাথার প্রতিটির আলাদা ব্যক্তিত্ব রয়েছে। সাপটির মুখোমুখি হওয়া কোনো ব্যক্তির মতে; বাম মাথাটি পরিকল্পনা করে রুনস্পোর কী করবে তা সে-ই ঠিক করে, মাঝের মাথাটি স্বপ্ন দেখে, যার ফলে কিছু রুনস্পুর কল্পনায় মগ্ন হয়ে দিনের পর দিন সুপ্ত থাকত, এবং ডান মাথাটি সমালোচনা করত, প্রায়শই হিসহিস করে অন্য দুটি মাথার কার্যকলাপের বিচার করত। এই কারণে, অনেক রুনস্পোরকে ডান মাথা ছাড়াই পাওয়া যায়, কারণ অন্য দুটি মাথা তার সমালোচনায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। ফলস্বরূপ, বেশিরভাগ রুনস্পোর বেশিদিন বাঁচে না। ডান মাথার বিষদাঁতগুলো বেশ বিষাক্ত। == বিশ্লেষণ== == প্রশ্ন == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} gyj82lm5e5r9g2u4m9swjejrbx0gqf0 মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/রিক্টুসেম্প্রা 0 33097 106652 105334 2026-06-11T18:44:20Z কমলেশ মন্ডল 9394 106652 wikitext text/x-wiki {{Muggles' Guide to Harry Potter/Magic| name=রিক্টুসেম্প্রা| type=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু#জাদুমন্ত্র|জাদুমন্ত্র]] (অভিশাপ)| features=সুড়সুড়ি দেওয়া অভিশাপ| appearance=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/চেম্বার অব সিক্রেটস|হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস]]}} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ== '''''রিক্টুসেম্প্রা ''''' হলো এক প্রকার অভিশাপ যা কোনো জাদুকরী বা জাদুকরকে সুড়সুড়ি দিয়ে অক্ষম করে দেওয়ার চেষ্টা করে। == বিস্তারিত বিবরণ== {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} রিক্টুসেম্প্রা, অর্থাৎ অবিরাম সুড়সুড়ি দেওয়ার মন্ত্র, যা আপাতদৃষ্টিতে ফাইনাইট ইনক্যান্টেটাম মন্ত্র দ্বারা থামানো যায়, সেটি হ্যারি ডুয়েলিং ক্লাবে ম্যালফয়ের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল অবশ্যই ম্যালফয়কে এমনভাবে সুড়সুড়ি দেওয়া যাতে সে পাল্টা হ্যারিকে অভিশাপ দিতে না পারে। তবে এটি অকার্যকর ছিল, কারণ সুড়সুড়ি খাওয়া সত্ত্বেও ম্যালফয় এরপর হ্যারির উপর ট্যারান্টঅ্যালেগ্রা মন্ত্রটি প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, চলচ্চিত্র এবং ভিডিও গেমগুলিতে রিক্টুসেম্প্রাকে আরও অনেক শক্তিশালী একটি অভিশাপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সম্ভবত স্টুপিফাই এর আদলে। এই ব্যবহারটি বইতে থাকা মন্ত্রের বর্ণনার সাথে মেলে না। == বিশ্লেষণ == == প্রশ্ন == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 3aai0ekvl3b03gkow52nxq1vnv10z2y মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/রিমেমব্রল 0 33123 106648 105421 2026-06-11T18:18:20Z কমলেশ মন্ডল 9394 106648 wikitext text/x-wiki {{Muggles' Guide to Harry Potter/Magic| name=রিমেমব্রল| type=জাদুকরী যন্ত্র| features=কিছু ভুলে গেলে লাল হয়ে যায়।| appearance=[[মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/বই/ফিলোসফার্স স্টোন|হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন]]}} == সংক্ষিপ্ত বিবরণ== '''''রিমেমব্রল''''' হলো সাদা ধোঁয়ায় ভরা একটি কাচের গোলক। যদি আপনি বলটি হাতে ধরে রাখেন, তাহলে ধোঁয়াটি লাল হয়ে যাবে, যা নির্দেশ করে যে আপনি কিছু ভুলে গেছেন। নামটি দৃশ্যত 'রিমেম্বার', 'অল' এবং 'বল' শব্দগুলোর একটি মিশ্রণ। ==বিস্তারিত বিবরণ== {{Muggles' Guide to Harry Potter/Beginner Spoiler}} হগওয়ার্টসে নেভিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে তার দাদি তাকে একটি রিমেমব্রল পাঠান, এবং সেটি হাতে নিতেই সঙ্গে সঙ্গে লাল হয়ে যায়, যা তাকে জানায় যে সে কিছু একটা ভুলে গেছে। তবে সে কী ভুলে গেছে তা এটি তাকে বলতে পারে না। == বিশ্লেষণ == যেভাবে লেখা আছে, রিমেমব্রলটি দেখতে সুন্দর হলেও তেমন কাজের নয়, সবাই সবসময়ই কিছু না কিছু ভুলে যায়, তাই রিমেমব্রলটি সবসময়ই বুঝিয়ে দেবে যে কিছু একটা ভুলে যাওয়া হয়েছে। হয়তো লাল রঙের আভাটি বুঝিয়ে দেবে ভুলে যাওয়া জিনিসটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? রিমেমব্রলের মূল উদ্দেশ্য হলো ড্রেকো ম্যালফয়কে এমন কিছু দেওয়া যা সে চুরি করতে পারে, তার চরিত্রকে জাহির করা এবং হ্যারিকে সেটি পুনরুদ্ধার করার জন্য উড়তে বাধ্য করা। হ্যারিকে একটি ঝাড়ুর উপর চড়তে বাধ্য করা, এমন একটি পরিস্থিতিতে যেখানে সে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাধা ছাড়াই তার সহজাত প্রতিভা প্রদর্শন করতে পারে, তা অপরিহার্য। এর মাধ্যমেই আমরা জাদুকরের জগতে নিজের পারদর্শিতা খুঁজে পাওয়ার আনন্দে হ্যারির অংশীদার হতে পারি। ঝাড়ুগুলোকে নিয়ে হওয়া সেই খুনসুটির পর, নেভিলের রিমেমব্রল গল্পে আর কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে না এবং অন্য কোনোটির উল্লেখও করা হয় না। == প্রশ্ন== {{Muggles' Guide to Harry Potter/Questions}} #একটি রিমেমব্রলকে কীভাবে আরও বেশি উপযোগী করে তোলা যেতে পারে? == বৃহত্তর চিত্র == {{Muggles' Guide to Harry Potter/Intermediate Spoiler}} {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 28gixlneldkg127b6kt3cs4c5p9ejje সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/নৃবৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ইতিহাস 0 33439 106631 106606 2026-06-11T16:02:24Z NusJaS 8394 /* তথ্যসূত্র */ 106631 wikitext text/x-wiki == ইতিহাস == === প্রাথমিক সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন === '''হেরোডোটাস''' [[File:AGMA Hérodote.jpg|thumb|right|হেরোডোটাসের আবক্ষ মূর্তি]] [[w:হেরোডোটাস|হেরোডোটাস]] পশ্চিমা ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাচীন নৃবিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তাঁর কাজ প্রাচীনতম নৃবৈজ্ঞানিক অধ্যয়নগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। তিনি “বহু দূর ভ্রমণ করে অন্যান্য মানুষ ও সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।” <sup>[৬]</sup> তিনি আজকের মতো নৃবিজ্ঞানের চর্চা করেননি। তা সত্ত্বেও তিনি অন্যান্য সংস্কৃতির কিংবদন্তি এবং জীবনযাত্রার একটি নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণ তৈরি করেছিলেন। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ভ্রমণ করে এবং প্রাথমিক বিষয় সম্পর্কিত পরোক্ষ বিবরণ ব্যবহার করে তিনি এটি করেছিলেন। “হ্যালিকার্নাসাসের হেরোডোটাস এখানে তাঁর অনুসন্ধান তুলে ধরেছেন। সময়ের সাথে মানুষের অর্জনগুলো যেন বিস্মৃত না হয়। গ্রিক বা অসভ্যদের দ্বারা প্রদর্শিত মহান ও চমৎকার কাজগুলো যেন তাদের গৌরব না হারায়।” –দ্য হিস্ট্রিজের প্রারম্ভিক বাক্য, হেরোডোটাস তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে (খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০ অব্দ) দ্য হিস্ট্রিজ নামে নয়টি খণ্ড লিখেছিলেন। হেরোডোটাস এতে গ্রিক ও পারসিকদের মধ্যে সংঘাতের বর্ণনা দিয়েছেন। তবে প্রায়শই তিনি কৃষ্ণ সাগরের কাছে বসবাসকারী সিথিয়ানদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শেখা বিষয়গুলো বর্ণনা করতে তাঁর মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে যান। তিনি সিথিয়ানদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জেনেছিলেন এবং তা বর্ণনা করেছিলেন। তিনি সিথিয়ানদের আরও উত্তরের যাযাবরদের সম্পর্কেও জানতে পেরেছিলেন। তাঁর বর্ণিত তথ্যগুলো প্রতিলিপি করার আগে অনেকবার অনুবাদ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাশিয়া এবং কাজাখস্তানে আধুনিক খননকাজে তাঁর বর্ণিত নিদর্শনগুলোর মতো নিদর্শন পাওয়া গেছে। == ইতিহাসের দিকে একটি দৃষ্টি == ==== ১৯শ শতাব্দী ==== আধুনিক সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের উদ্ভব ১৯শ শতাব্দীর "জাতিতত্ত্ব" বা সংস্কৃতির তুলনামূলক অধ্যয়নের প্রতিক্রিয়া হিসেবে হয়েছিল। এটি মানব সংস্কৃতি সম্পর্কে বিশ্লেষণাত্মক সাধারণীকরণ উপস্থাপন করে। ইংল্যান্ডের ই.বি. টাইলর এবং [[w:জেমস ফ্রেজার|জে.জি. ফ্রেজার]]ের মতো পণ্ডিতরা অন্যদের সংগৃহীত উপকরণ নিয়ে কাজ করেছিলেন। মিশনারি, ব্যবসায়ী, অভিযাত্রী বা ঔপনিবেশিক কর্মকর্তারা এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। এর কারণে তারা বর্তমানে "আর্ম-চেয়ার নৃবিজ্ঞানী" উপাধি অর্জন করেছেন। [[File:Rafael,_a_Chumash_who_shared_cultural_knowledge_with_Anthropologists.jpg|thumb|left|বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী মানুষের বিশ্বাস ও প্রথায় মিল থাকার বিষয়টি অনেকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল]] বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের বিশ্বাস এবং প্রথায় মিল থাকার কারণ নিয়ে জাতিতাত্ত্বিকদের বিশেষ আগ্রহ ছিল। এই প্রশ্নের সমাধান করতে গিয়ে ১৯শ শতাব্দীর জাতিতাত্ত্বিকরা দুটি চিন্তাধারায় বিভক্ত হয়েছিলেন। [[w:গ্রাফটন এলিয়ট স্মিথ|গ্রাফটন এলিয়ট স্মিথ]]ের মতো কয়েকজন যুক্তি দিয়েছিলেন বিভিন্ন গোষ্ঠী পরোক্ষভাবে হলেও কোনো না কোনোভাবে একে অপরের কাছ থেকে শিখেছিল। তাদের মতে সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে বা "প্রসারিত" হয়েছিল। স্কুলের খেলার মাঠের প্রেক্ষাপটে এই চিন্তাধারাটি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। সবাই সবচেয়ে জনপ্রিয় বা "কুল" বাচ্চার মতো হতে চায়। তারা তার জিনিসগুলো দেখে সেগুলো পেতে চায়। এই ধারণাটি একটি সমগ্র সংস্কৃতিতে প্রসারিত করা যেতে পারে। মানুষ অন্য একটি গোষ্ঠীকে নিজেদের চেয়ে ভালোভাবে কিছু করতে দেখে। এরপর তারা জীবনযাপনের নতুন ও কার্যকর উপায় শেখে। অন্যান্য জাতিতাত্ত্বিকরা দাবি করেছিলেন বিভিন্ন গোষ্ঠী স্বাধীনভাবে একই ধরনের বিশ্বাস এবং প্রথা উদ্ভাবনে সক্ষম। "স্বাধীন উদ্ভাবনের" সমর্থনকারী [[w:লুইস হেনরি মর্গান|মর্গানের]] মতো কয়েকজন ভিন্ন মত পোষণ করতেন। তাদের মতে এই মিলের অর্থ হলো বিভিন্ন গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক বিবর্তনের একই পর্যায় অতিক্রম করেছে। মর্গান বিশেষভাবে স্বীকার করেছিলেন যে সমাজ এবং সংস্কৃতির কিছু নির্দিষ্ট রূপ অন্যদের আগে উদ্ভূত হওয়া সম্ভব ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ কৃষিকাজের আগে শিল্পভিত্তিক কৃষিকাজ উদ্ভাবন করা সম্ভব ছিল না। ধাতু জড়িত পূর্ববর্তী গলনবিহীন প্রক্রিয়া (যেমন মাটি থেকে সংগ্রহ বা খনন) ছাড়া ধাতুবিদ্যার বিকাশ সম্ভব ছিল না। মর্গান ১৯শ শতাব্দীর অন্যান্য সামাজিক বিবর্তনবাদীদের মতোই আদিম থেকে সভ্যতায় একটি সুশৃঙ্খল অগ্রগতির ধারণায় বিশ্বাস করতেন। ==== ২০শ শতাব্দী ==== ২০শ শতাব্দীর নৃবিজ্ঞানীরা একটি ধারণা ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সমস্ত মানব সমাজকে একই ক্রমানুসারে একই পর্যায়গুলো অতিক্রম করতে হবে বলে ধারণাটি ছিল। বাস্তব তথ্য প্রমাণের সাথে ধারণাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার কারণে তারা এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মানব সমাজের এমন ব্যাপক বিকাশ দেখার পর আমরা এখন জানি যে সংস্কৃতিগুলো বিভিন্ন হারে পরিবর্তিত হয়। পরিবেশগত কারণ, অর্থনৈতিক সম্পদ এবং শিক্ষাগত উন্নয়নের কারণে এটি ঘটে। [[w:জুলিয়ান স্টুয়ার্ড|জুলিয়ান স্টুয়ার্ড]]ের মতো ২০শ শতাব্দীর কয়েকজন জাতিতাত্ত্বিক ভিন্ন যুক্তি দিয়েছিলেন। তাদের মতে এই মিলগুলো মূলত একই ধরনের পরিবেশের সাথে একই ধরনের মানিয়ে নেওয়াকে প্রতিফলিত করে। [[w:ক্লদ লেভি-স্ট্রস|ক্লদ লেভি-স্ট্রস]]ের মতো অন্যরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে বিকাশের আপাত ধরনগুলো মানুষের চিন্তার কাঠামোগত মৌলিক মিলগুলোকে প্রতিফলিত করে ([[w:কাঠামোবাদ|কাঠামোবাদ]] দেখুন)। তিনি আমেরিকান সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান এবং ফরাসি [[w:এমিল দ্যুর্কাইম|দ্যুর্কাইমীয়]] সমাজবিজ্ঞান উভয় দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। ২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পর্যায়গুলো এড়িয়ে যাওয়া মানুষের অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, এক প্রজন্মে শিকারী-সংগ্রাহক থেকে শিল্প-পরবর্তী পরিষেবা পেশায় যাওয়ার কথা বলা যায়। এই উদাহরণগুলো এত বেশি ছিল যে ১৯শ শতাব্দীর বিবর্তনবাদ কার্যকরভাবে খণ্ডিত হয়েছিল।<ref>ডায়মন্ড, জ্যারেড। |title=Guns, Germs and Steel |trans-title=গানস, জার্মস অ্যান্ড স্টিল</ref> ২০শ শতাব্দীতে বেশিরভাগ সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক নৃবিজ্ঞানী এথনোগ্রাফি বা জাতিতত্ত্ব রচনায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। এথনোগ্রাফি হলো কোনো সংস্কৃতির একটি কেস স্টাডি। কোনো গবেষক সেই সংস্কৃতিতে নিজেকে নিমজ্জিত করে এটি তৈরি করেন। সাধারণত নৃবিজ্ঞানী যথেষ্ট সময়ের জন্য অন্য একটি সমাজের মধ্যে বাস করেন। একইসাথে তিনি সেই গোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে [[w:অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ|অংশগ্রহণ করেন এবং তা পর্যবেক্ষণ করেন]]। সংস্কৃতি অধ্যয়নের এই উপায়টি সংস্কৃতির একটি অনেক বেশি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ইতিহাস জুড়ে থাকা আর্মচেয়ার নৃবিজ্ঞানীদের আগের পদ্ধতির বিপরীতে এই পণ্ডিতরা সেখানে গিয়ে মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। কোনো সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার উপায় হিসেবে এই এথনোগ্রাফিগুলো একটি দুর্দান্ত সম্পদ। তবে আরও বেশ কয়েকটি এথনোগ্রাফিক কৌশলের মাধ্যমে এথনোগ্রাফিক লেখা বা বিবরণ সংরক্ষিত হয়েছে। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা উপকরণ সংগ্রহ করেন। তারা পাঠাগার, চার্চ এবং স্কুলে রেকর্ড পড়ার জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। এছাড়া তারা কবরস্থান অনুসন্ধান করেন এবং প্রাচীন লিপি পাঠোদ্ধার করেন। একটি সাধারণ এথনোগ্রাফিতে প্রাকৃতিক ভূগোল, জলবায়ু এবং আবাসস্থল সম্পর্কিত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি আলোচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে একটি সামগ্রিক লেখা হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে প্রায়শই এতে অতীত ঘটনাগুলোর সম্ভাব্য দীর্ঘতম সময়কাল অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রাথমিক এবং গৌণ গবেষণার মাধ্যমে এথনোগ্রাফার এটি পেতে পারেন। ব্রনিস্ল ম্যালিনোস্কি ট্রোব্রিয়ান্ড দ্বীপপুঞ্জে মাঠপর্যায়ের গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন এবং ইংল্যান্ডে শিক্ষকতা করেছিলেন। তিনি এই পদ্ধতিটি তৈরি করেছিলেন। [[w:ফ্রাঞ্জ বোয়াস|ফ্রাঞ্জ বোয়াস]] এটির প্রচার করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বিকাশের জন্য বোয়াসের শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ সম্পর্কে তাঁর ধারণা ব্যবহার করেছিলেন। একই সময়ে ম্যালিনোস্কি এবং [[w:আলফ্রেড র‍্যাডক্লিফ-ব্রাউন|এ.আর. র‍্যাডক্লিফ-ব্রাউনের]] শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে সামাজিক নৃবিজ্ঞানের বিকাশ ঘটাচ্ছিলেন। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান প্রতীক এবং মূল্যবোধের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। অন্যদিকে সামাজিক নৃবিজ্ঞান সামাজিক গোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। বর্তমানে সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা এই সমস্ত উপাদান নিয়ে কাজ করেন। ১৯শ শতাব্দীর জাতিতাত্ত্বিকরা "প্রসারণ" এবং "স্বাধীন উদ্ভাবন"কে পরস্পর বিরোধী এবং প্রতিযোগিতামূলক তত্ত্ব হিসেবে দেখেছিলেন। তবে বেশিরভাগ এথনোগ্রাফার দ্রুত একমত হয়েছিলেন যে উভয় প্রক্রিয়াই ঘটে। উভয় প্রক্রিয়াই সম্ভবত আন্তঃসাংস্কৃতিক মিলের কারণ হতে পারে। কিন্তু এই এথনোগ্রাফাররা এ ধরনের অনেক মিলের অতি সাধারণ দিক নির্দেশ করেছিলেন। এমনকি প্রসারণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বৈশিষ্ট্যগুলো এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে যাওয়ার সময় প্রায়শই তাদের অর্থ এবং কাজ পরিবর্তন করে। সেই অনুযায়ী এই নৃবিজ্ঞানীরা সংস্কৃতির তুলনা, মানব প্রকৃতির সাধারণীকরণ বা সাংস্কৃতিক বিকাশের সর্বজনীন নিয়ম আবিষ্কারে কম আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এর বদলে তারা নির্দিষ্ট সংস্কৃতিগুলোকে তাদের নিজস্ব শর্তে বোঝার দিকে বেশি আগ্রহী ছিলেন। এ ধরনের এথনোগ্রাফার এবং তাদের শিক্ষার্থীরা "সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ" ধারণার প্রচার করেছিলেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিশ্বাস এবং আচরণ কেবল তার বসবাসের সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটেই বোঝা সম্ভব। ২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বিভিন্ন রূপে বিকশিত হয়েছিল। ইউরোপীয় "সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা" পর্যবেক্ষণ করা সামাজিক আচরণ এবং "সামাজিক কাঠামোর" ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। অর্থাৎ তারা সামাজিক ভূমিকার মধ্যে সম্পর্ক (যেমন- স্বামী-স্ত্রী বা পিতামাতা-সন্তান) এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন- ধর্ম, অর্থনীতি এবং রাজনীতি) ওপর জোর দিয়েছিলেন। আমেরিকান "সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা" মানুষের নিজেদের এবং তাদের বিশ্ব সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের উপায়গুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। বিশেষ করে শিল্পের এবং অতিকথার মতো প্রতীকী রূপের ওপর তারা জোর দিয়েছিলেন। এই দুটি পদ্ধতি প্রায়শই একত্রিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, আত্মীয়তা এবং নেতৃত্ব একইসাথে প্রতীকী ব্যবস্থা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এগুলো সাধারণত একে অপরের পরিপূরক ছিল। বর্তমানে প্রায় সমস্ত সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী উভয় পূর্বসূরিদের কাজের উল্লেখ করেন। মানুষ কী করে এবং মানুষ কী বলে তার প্রতি তাদের সমান আগ্রহ রয়েছে। ==== বর্তমান সময় ==== বর্তমানে এথনোগ্রাফি সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে আধিপত্য বজায় রেখেছে। তা সত্ত্বেও অনেক সমসাময়িক সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী এথনোগ্রাফির আগের মডেলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী এই মডেলগুলো স্থানীয় সংস্কৃতিকে "সীমাবদ্ধ" এবং "বিচ্ছিন্ন" হিসেবে বিবেচনা করত। এই নৃবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন স্থানের মানুষের জীবন যাপনের স্বতন্ত্র উপায়গুলো নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তারা প্রায়শই দাবি করেন কেবল স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জীবনের এই বিশেষ উপায়গুলো বোঝা যায় না। এর পরিবর্তে তারা বৃহত্তর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কাঠামো বোঝার প্রচেষ্টার সাথে স্থানীয় মনোযোগকে একত্রিত করেন। এসব বৃহত্তর কাঠামো স্থানীয় জীবনযাত্রার বাস্তবতায় প্রভাব ফেলে। এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন [[w:অর্জুন আপাদুরাই|অর্জুন আপাদুরাই]], [[w:জেমস ক্লিফোর্ড|জেমস ক্লিফোর্ড]], [[w:জর্জ মার্কাস|জর্জ মার্কাস]], [[w:সিডনি মিন্টজ|সিডনি মিন্টজ]], [[w:মাইকেল টসিগ|মাইকেল টসিগ]] এবং [[w:এরিক উলফ|এরিক উলফ]]। নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিশ্লেষণে বহুমুখী এথনোগ্রাফির ব্যবহার একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বলে মনে হয়। জর্জ মার্কাসের "এথনোগ্রাফি ইন/অফ দ্য ওয়ার্ল্ড সিস্টেম: দ্য ইমার্জেন্স অফ মাল্টি-সাইটেড এথনোগ্রাফি" নিবন্ধে এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বহুমুখী এথনোগ্রাফি সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক সামাজিক শৃঙ্খলার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখে। এটি স্থানিক এবং কালগত উভয়ভাবে বিভিন্ন স্থানে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ব্যবহার করে। স্থানীয় এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়গুলোতে বিশ্ব-ব্যবস্থার প্রভাব পরীক্ষা করার সময় এই পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ভালো অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া যেতে পারে। বহুমুখী এথনোগ্রাফিতে মাঠপর্যায়ের কাজের জন্য বৃহত্তর আন্তঃবিভাগীয় পদ্ধতিও উঠে আসছে। এটি সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন, মিডিয়া অধ্যয়ন, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি অধ্যয়নসহ অন্যান্য পদ্ধতি নিয়ে আসে। বহুমুখী এথনোগ্রাফিতে গবেষণা স্থানিক এবং কালগত সীমানা পেরিয়ে একটি বিষয় অনুসরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বহুমুখী এথনোগ্রাফি কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা "জিনিস"কে অনুসরণ করতে পারে। এটি বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় তাকে ট্র্যাক করে। বহুমুখী এথনোগ্রাফি ডায়াস্পোরাতে থাকা জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকেও অনুসরণ করতে পারে। এটি একাধিক স্থানে এবং একাধিক সময়ে উপস্থিত হওয়া গল্প বা গুজবকে অনুসরণ করতে পারে। একাধিক এথনোগ্রাফিক স্থানে উপস্থিত রূপক বা স্থান এবং সময়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়া ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জীবনীকেও এটি ট্র্যাক করতে পারে। এটি সীমানা অতিক্রমকারী সংঘাতগুলোকেও অনুসরণ করতে পারে। মানব অঙ্গ ব্যবসার আন্তর্জাতিক কালোবাজার নিয়ে করা [[w:ন্যান্সি শেপার-হিউজেস|ন্যান্সি শেপার-হিউজেস]]ের এথনোগ্রাফিটি বহুমুখী এথনোগ্রাফির একটি উদাহরণ। এই গবেষণায় তিনি পুঁজিবাদের বিভিন্ন আইনি ও বেআইনি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হওয়া অঙ্গগুলোকে অনুসরণ করেন। শিশু অপহরণ এবং অঙ্গ চুরি সম্পর্কে দরিদ্র সম্প্রদায়গুলোতে প্রচলিত গুজব এবং শহুরে কিংবদন্তিগুলোও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা ক্রমশ "পশ্চিমা" সংস্কৃতির দিকে তাদের অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, [[w:ফিলিপ বোর্গোয়া|ফিলিপ বোর্গোয়া]] ১৯৯৭ সালে মার্গারেট মিড পুরস্কার জিতেছিলেন। হারলেমের একটি ক্র্যাক-ডেনের উদ্যোক্তাদের নিয়ে করা গবেষণা ''ইন সার্চ অফ রেসপেক্টের'' জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। পেশাদার সম্প্রদায়ের এথনোগ্রাফিগুলোও ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। পরীক্ষাগার গবেষক, ওয়াল স্ট্রিট বিনিয়োগকারী, আইন সংস্থা বা আইটি কম্পিউটার কর্মীদের এথনোগ্রাফি এর অন্তর্ভুক্ত।<ref>[http://www.ingentaconnect.com/search/expand?pub=infobike://mcb/161/1995/00000008/00000003/art00003&unc= গবেষণামূলক প্রবন্ধের সারাংশ]</ref> == ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী == [[Image:Morgan.jpg|right|thumb|120px|লুইস হেনরি মর্গান]] === লুইস হেনরি মর্গান === লুইস হেনরি মর্গান ১৮১৮ সালের ২১ নভেম্বর নিউ ইয়র্কের অরোরার কাছে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৪০ সালে শেনেকট্যাডির ইউনিয়ন কলেজ থেকে স্নাতক হন এবং পেশায় অ্যাটর্নি হন। পরে তিনি পশ্চিম নিউ ইয়র্কের ইরোকোইস আদিবাসীদের নিয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি ইরোকোইস কনফেডারেশন সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি আত্মীয়তা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর কাজ, সামাজিক বিবর্তনের তত্ত্ব এবং ইরোকোইসদের এথনোগ্রাফির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। আত্মীয়তা হলো ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের জাল। এটি বেশিরভাগ সমাজের অধিকাংশ মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজকে কী একত্রে ধরে রাখে তা নিয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন। তিনি একটি ধারণা প্রস্তাব করেছিলেন যে আদিম মানব গার্হস্থ্য প্রতিষ্ঠান পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ছিল না, বরং সেটি ছিল মাতৃতান্ত্রিক গোত্র।<ref>https://en.wikipedia.org/wiki/Lewis_H._Morgan</ref> তাঁর লেখা “লিগ অফ দ্য হো-ডি-নো-সাউ-নি, অর ইরোকোইস” (১৮ ৫১) আদিবাসীদের প্রথম দিককার বস্তুনিষ্ঠ এথনোগ্রাফিক কাজগুলোর মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়। আত্মীয়তা ব্যবস্থার অধ্যয়ন বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগামী অর্জন। তিনি দেখতে পেয়েছিলেন যে সেনেকারা তাদের আত্মীয়দের পশ্চিমা সংস্কৃতির চেয়ে ভিন্নভাবে উল্লেখ করে। পশ্চিমা সংস্কৃতির মতো না হয়ে তারা চাচাতো ভাইবোন, ভাগ্নি এবং ফুফুদের মতো সমান্তরাল আত্মীয়দের পিতার, বোন এবং কন্যাদের মতো প্রত্যক্ষ বংশের সাথে একীভূত করে। [[Image:Edward_Burnett_Tylor.jpg|thumb|140px|left|ই. বি. টাইলর]] === এডওয়ার্ড বার্নেট টাইলর === স্যার এডওয়ার্ড বার্নেট টাইলর (১৮৩২-১৯১৭) ইংল্যান্ডের লন্ডনের ক্যাম্বারওয়েলে ১৮৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গ্রোভ হাউস হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন। তবে পিতামাতার মৃত্যুর কারণে তিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পাননি। পিতামাতার মৃত্যুর পর টাইলরের যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। উষ্ণ জলবায়ুর সন্ধানে তিনি ইংল্যান্ড ছেড়ে মধ্য আমেরিকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখানেই তিনি প্রথম নৃবিজ্ঞান নিয়ে তাঁর গবেষণা শুরু করেছিলেন। তাকে নৃবিজ্ঞানে সাংস্কৃতিক বিবর্তনবাদের প্রাথমিক প্রবক্তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৮৭১ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৮৭৫ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অফ সিভিল লজের সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১২ সালে তাঁর অবদানের জন্য তিনি নাইট উপাধি পেয়েছিলেন। এগুলো ছিল তাঁর পুরস্কার এবং অর্জন। তাঁর প্রথম বইটির যথাযথ নামকরণ করা হয়েছিল ''অ্যানথ্রোপলজি'' (১৮৮১)। এটি এর সাংস্কৃতিক ধারণা এবং তত্ত্বগুলোতে বেশ আধুনিক হিসেবে বিবেচিত। ১৮৮৩ সালে টাইলর অক্সফোর্ডের ইউনিভার্সিটি মিউজিয়ামে যোগ দেন। তিনি ১৮৯৬ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। টাইলরের বেশিরভাগ কাজে আদিম সংস্কৃতি এবং মানুষের মন, বিশেষত সর্বপ্রাণবাদ জড়িত ছিল। সর্বপ্রাণবাদ একটি দার্শনিক, ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী কেবল মানুষ এবং প্রাণী নয়, বরং উদ্ভিদ, শিলা এবং প্রাকৃতিক ঘটনার মধ্যেও আত্মা বা আত্মার অস্তিত্ব রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের ভিত্তি ছিল তাঁর কাজ। তাঁর পরবর্তী কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে: ''রিসার্চেস ইনটু দ্য আর্লি হিস্ট্রি অফ ম্যানকাইন্ড'' (১৮৬৫) এবং ''আনাহুয়াক'' (১৮৬১)। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ "প্রিমিটিভ কালচার" (১৮৭১)। এটি ডারউইনের জৈবিক বিবর্তন তত্ত্ব দ্বারা আংশিকভাবে প্রভাবিত ছিল। এটি আদিম থেকে আধুনিক সংস্কৃতির একটি বিবর্তনীয় এবং প্রগতিশীল সম্পর্কের তত্ত্ব তৈরি করেছিল। এটি "সংস্কৃতি বা সভ্যতা"কে "সেই জটিল সামগ্রিকতা যা জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্প, নৈতিকতা, আইন, প্রথা এবং সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত অন্য যেকোনো ক্ষমতা এবং অভ্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করে" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে এটি করেছিল। এই সংজ্ঞা একটি ধারণাকে উৎসাহিত করেছিল। আদিমদেরও এমন ক্ষমতা এবং অভ্যাস ছিল যা সম্মান পাওয়ার যোগ্য বলে ধারণাটিতে বলা হয়। এভাবে আদিমদের সম্পর্কে থাকা গতানুগতিক ধারণা পরিবর্তিত হয়েছিল।<ref>ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া</ref> ভ্রমণের সময় তাঁর [[w:হেনরি ক্রিস্টি|হেনরি ক্রিস্টি]] নামের একজনের সাথে দেখা হয়েছিল। ক্রিস্টি একজন কোয়েকার ছিলেন। তিনি জাতিতত্ত্ব এবং প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহী ছিলেন। এটি এই ক্ষেত্রগুলোতে টাইলরের আগ্রহকে প্রভাবিত করেছিল। === ফ্রাঞ্জ বোয়াস === [[Image:FranzBoas.jpg|left|100px|thumb|ফ্রাঞ্জ বোয়াস]]আমেরিকান নৃবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত ফ্রাঞ্জ বোয়াস ১৮৫৮ সালে জার্মানির মিনডেনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৮১ সালে কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে মাইনরসহ পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। পরে তিনি অধ্যাপক হন এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।<ref>{{cite web | title = Franz Boas |trans-title=ফ্রাঞ্জ বোয়াস | publisher= কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি | url=http://www.columbia.edu/cu/anthropology/about/main/one/boas.html | accessdate=2009-03-02}}</ref> কানাডার উত্তর ভ্যাঙ্কুভার এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্থানীয় জনসংখ্যার ওপর অধ্যয়নের জন্য বোয়াস সুপরিচিত। [[w:চার্লস ডারউইন|চার্লস ডারউইনের]] লেখা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বোয়াস সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্ব তৈরি করেছিলেন। মানুষ কী বলে এবং কী করে তা বুঝতে আমাদের নিজেদের মানদণ্ড ব্যবহার না করে বরং ওই সংস্কৃতির নিজস্ব লক্ষ্য, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাস ব্যবহার করে তার ব্যাখ্যা করাই হলো সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ। তিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় এই ক্ষেত্রে বর্ণগত পার্থক্যের গুরুত্বকে অস্বীকার করতে ব্যয় করেছিলেন। একসময় আর্মচেয়ার নৃবিজ্ঞান এবং বর্ণগত কুসংস্কার ব্যাপক ছিল। সেই সময় বোয়াস নিরপেক্ষ তথ্যের গুরুত্ব এবং তাঁর গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি পশ্চিমা সভ্যতার কথিত "সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের" ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বোয়াস আধুনিক নৃবিজ্ঞানকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ধাঁচে তার কঠোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি দিয়েছিলেন। তিনি শেখা আচরণ হিসেবে "সংস্কৃতি"র ধারণারও প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি সাধারণীকরণের চেয়ে গবেষণার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এটি বড় তত্ত্ব তৈরির ওপর জোর দিয়েছিল (যা কেবল মাঠপর্যায়ের কাজের মাধ্যমেই পরীক্ষা করা হয়েছিল) [http://www.nndb.com/people/861/000097570/ লিঙ্ক: বোয়াস]। বোয়াস সত্যই এথনোগ্রাফি তৈরি করা প্রথম ব্যক্তি ছিলেন। এথনোগ্রাফি হলো নৃবৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের একটি বর্ণনামূলক বিবরণ। বোয়াসের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন নৃবিজ্ঞানী [[w:আলফ্রেড এল. ক্রোয়েবার|আলফ্রেড এল. ক্রোয়েবার]], [[w:মার্গারেট মিড|মার্গারেট মিড]], [[w:জুলস হেনরি|জুলস হেনরি]] এবং [[w:অ্যাশলে মন্টাগু|অ্যাশলে মন্টাগু]]। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৩৭ সালে বোয়াস এমেরিটাস অধ্যাপক হন। তিনি ১৯৪২ সালে মারা যান। === রুথ বেনেডিক্ট === [[image:Ruth Benedict.jpg|140px|right]] [[w:রুথ বেনেডিক্ট|রুথ বেনেডিক্ট]] একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। আমেরিকান নৃবিজ্ঞানের জনক তাঁর পরামর্শদাতা এবং শিক্ষক ফ্রাঞ্জ বোয়াস দ্বারা তাঁর কাজ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। তিনি ১৮৮৭ সালের ৫ জুন নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি ১৯০৯ সালে ভাসার কলেজ থেকে স্নাতক হন। ১৯১৯ সালে তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শুরু করেন। ফ্রাঞ্জ বোয়াসের অধীনে পড়াশোনা করে তিনি ১৯২৩ সালে পিএইচডি লাভ করেন। তাঁর বই <u>প্যাটার্নস অফ কালচার</u> (১৯৩৪) চৌদ্দটি ভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল এবং বহু বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যবহৃত হয়েছিল। বইটির মূল ধারণা হলো প্রতিটি সংস্কৃতি "মানবিক ব্যক্তিত্বের বৃহৎ বৃত্ত" থেকে বেছে নেয়। তবে মানুষের চরিত্রের পাশাপাশি সমাজের সামগ্রিক চরিত্রে কেবল প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্যগুলোই আবির্ভূত হয়। রুথ বেনেডিক্ট একটি ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন যে ব্যক্তি-বিকাশ জাতি-বিকাশের পুনরাবৃত্তি করে। এই ধারণা অনুযায়ী ব্যক্তির বৃদ্ধি বা পরিবর্তন হলো প্রজাতির বৃদ্ধি বা পরিবর্তনের একটি প্রতিফলন। প্রতিটি সংস্কৃতির নিজস্ব নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন। কোনো সংস্কৃতিকে সামগ্রিকভাবে অধ্যয়ন করলেই কেবল এগুলো বোঝা সম্ভব। বেনেডিক্ট নিউ মেক্সিকোতে স্থানীয় আমেরিকান পুয়েবলোদের সাথে মাঠপর্যায়ে গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন। তিনি তার গবেষণার পরিপূরক হিসেবে ফ্রাঞ্জ বোয়াস এবং মার্গারেট মিডের মতো অন্যান্য সহকর্মীদের তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। === মার্গারেট মিড === [[Image:Margaret Mead NYWTS.jpg|left|thumb|মার্গারেট মিড]][[w:মার্গারেট মিড|মার্গারেট মিড]] (১৯০১-১৯৭৯) পাঁচ বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন। মিড ১৯০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বার্নার্ড কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন<sup>৩</sup>। সেখানেই তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা নৃবিজ্ঞানী রুথ বেনেডিক্ট এবং ফ্রাঞ্জ বোয়াসের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি তাঁর জীবনে তিনবার বিয়ে করেছিলেন। প্রত্নতাত্ত্বিক লুথার শেলি ক্রেসম্যানের সাথে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল। তাঁর তৃতীয় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিয়ে (১৯৩৬-১৯৫০) ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী গ্রেগরি বেটসনের সাথে হয়েছিল। তাদের মেরি ক্যাথরিন বেটসন নামে একটি মেয়ে ছিল। তিনিও একজন নৃবিজ্ঞানী হয়েছিলেন। মার্গারেট মিড মূলত সামোয়া, নিউ গিনি এবং বালিতে সন্তান পালন এবং ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। এখানেই তিনি তাঁর গবেষণায় একটি ইতিবাচক পদ্ধতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মিড তাঁর কাজের বক্তা এবং লেখিকা হিসেবে গণমাধ্যমেও জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে মার্গারেট মিড [http://www.jstor.org/stable/663810 নিয়ন্ত্রিত তুলনা] নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে অনুমান পরীক্ষা করা হতো। প্রতিটি পরিবেশ একটি পৃথক পরীক্ষার সাথে মিলে যেত। এটি মিডের মতো নৃবিজ্ঞানীদের কৃত্রিম ল্যাবের পরিবেশের পরিবর্তে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মানবজীবন অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছিল। লিঙ্গ ভূমিকার পরিসর এবং কারণ আবিষ্কারের প্রয়াসে তিনি চারটি ভিন্ন সমাজ অধ্যয়ন করার সময় এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেছিলেন। এটি আজও ব্যবহৃত হয়। মার্গারেট মিড প্রগতিশীল প্রস্তাব প্রবর্তন এবং একজন কর্মী হওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তাঁর খোলামেলা সমর্থন ছিল তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় অবস্থানগুলোর মধ্যে একটি। তাঁর প্রাপ্ত তথ্য থেকে তিনি অনেক এথনোগ্রাফিক লেখা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কামিং অফ এজ ইন সামোয়া (১৯২৮) এবং সেক্স অ্যান্ড টেম্পারামেন্ট ইন থ্রি প্রিমিটিভ সোসাইটিস (১৯৩৫)<sup>৩</sup> এর মধ্যে অন্যতম। === জুলিয়ান স্টুয়ার্ড === [[Image:Julian Steward.jpg|thumb|250px|right|অজ্ঞাত আদিবাসী পুরুষ (ক্যারিয়ার ইন্ডিয়ান) (সম্ভবত স্টুয়ার্ডের তথ্যদাতা, চিফ লুই বিলি প্রিন্স) এবং জুলিয়ান স্টুয়ার্ড, ১৯৪০]] [[w:জুলিয়ান স্টুয়ার্ড|জুলিয়ান স্টুয়ার্ড]] ১৯০২ সালের ৩১ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্মগ্রহণ করেন। স্টুয়ার্ড ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯২৫ সালে তিনি প্রাণিবিদ্যায় বিএসসি নিয়ে স্নাতক হন। স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য তিনি বার্কলেতে ফিরে আসেন। ১৯২৯ সালে তিনি দ্য সেরিমোনিয়াল বাফুন অফ দ্য আমেরিকান ইন্ডিয়ান, আ স্টাডি অফ রিচ্যুয়ালাইজড ক্লাউনিং অ্যান্ড রোল রিভার্সালস শিরোনামের একটি গবেষণাপত্র নিয়ে নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। এরপর স্টুয়ার্ড মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি ১৯৩০ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছিলেন। লেসলি হোয়াইটের নিয়োগ এবং নির্দেশনায় বিভাগটি পরে পরিচিতি লাভ করে। স্টুয়ার্ড লেসলি হোয়াইটের "সর্বজনীন" সাংস্কৃতিক বিবর্তনের মডেলের সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন। ১৯৪৬ সালে স্টুয়ার্ডের কর্মজীবন শীর্ষে পৌঁছায়। তখন তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব নেন। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নৃবিজ্ঞানের কেন্দ্র ছিল। স্টুয়ার্ড দ্রুত এমন একদল শিক্ষার্থী তৈরি করেছিলেন যারা নৃবিজ্ঞানের ইতিহাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এদের মধ্যে সিডনি মিন্টজ, এরিক উলফ, রয় র‍্যাপাপোর্ট, স্ট্যানলি ডায়মন্ড, রবার্ট ম্যানার্স, মর্টন ফ্রিড এবং রবার্ট এফ. মারফি ছিলেন। তিনি মারভিন হ্যারিসের মতো অন্যান্য পণ্ডিতদেরও প্রভাবিত করেছিলেন। এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই পুয়ের্তো রিকো প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এটি পুয়ের্তো রিকোয় আধুনিকায়নের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা আরেকটি বড় আকারের দলগত গবেষণা ছিল। স্টুয়ার্ড কলম্বিয়া ছেড়ে আরবানা-শ্যাম্পেইনের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। ১৯৬৮ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে শিক্ষকতা চালিয়ে যান। সেখানে তিনি আরেকটি বড় আকারের গবেষণা গ্রহণ করেছিলেন। এটি তৃতীয় বিশ্বের এগারোটি সমাজে আধুনিকায়নের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ ছিল। এই গবেষণার ফলাফল কন্টেম্পোরারি চেঞ্জ ইন ট্র্যাডিশনাল সোসাইটিস শিরোনামে তিনটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। স্টুয়ার্ড ১৯৭২ সালে মারা যান। স্টুয়ার্ড তার পদ্ধতি এবং সাংস্কৃতিক বাস্তুবিদ্যার তত্ত্বের জন্য সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথম তিন দশকে আমেরিকান নৃবিজ্ঞান সাধারণীকরণের ব্যাপারে সন্দিহান ছিল। নৃবিজ্ঞানীদের তৈরি অত্যন্ত বিস্তারিত মনোগ্রাফগুলো থেকে তারা প্রায়শই বৃহত্তর উপসংহার টানতে অনিচ্ছুক ছিল। স্টুয়ার্ড নৃবিজ্ঞানকে এই বিশেষায়িত পদ্ধতি থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য। তিনি একটি আরও নিয়মতান্ত্রিক ও সামাজিক-বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা তৈরি করেছিলেন। তার "বহুমুখী" সাংস্কৃতিক বিবর্তন তত্ত্ব সমাজগুলো কীভাবে তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয় তা পরীক্ষা করেছিল। সমাজের বিবর্তনের প্রতি স্টুয়ার্ডের আগ্রহ তাকে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়াগুলো পরীক্ষা করতেও পরিচালিত করেছিল। সমাজের জাতীয় এবং স্থানীয় স্তর একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত তা পরীক্ষা করা প্রথম নৃবিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। মানবতার সমগ্র বিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন একটি সামাজিক তত্ত্ব তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে নৃবিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট বা বিদ্যমান সংস্কৃতির বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। স্টুয়ার্ড বিশ্বাস করতেন নির্দিষ্ট যুগ বা অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী সাধারণ বা প্রচলিত সংস্কৃতি বিশ্লেষণ করে তত্ত্ব তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া তিনি তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে কিছু নির্ধারক কারণ (প্রযুক্তি এবং অর্থনীতি) এবং গৌণ কারণ (রাজনৈতিক ব্যবস্থা, মতাদর্শ, ধর্ম ইত্যাদি) কোনো প্রদত্ত সংস্কৃতির বিকাশ নির্ধারণ ও প্রভাবিত করে। === রে বার্ডহুইস্টেল === [[w:রে বার্ডহুইস্টেল|রে এল.]] ১৯১৮ সালে ওহাইওর সিনসিনাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি লাভ করেন। জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তিনি টরন্টো, লুইসভিলে এবং বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর তিনি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হন। সেখানে তিনি [[w:অশাব্দিক যোগাযোগ|অশাব্দিক যোগাযোগ]] এবং [[w:কাইনেসিস|কাইনেসিসে]] তাঁর আগ্রহ নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। বার্ডহুইস্টেল চলচ্চিত্রে মানুষের মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁর অধ্যয়নের বেশিরভাগ অংশ পেয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণগুলো উপসংহারে পৌঁছেছিল যে লোকেরা তথ্য জানাতে চোখের নড়াচড়া, মুখের অভিব্যক্তি এবং বুক ব্যবহার করে। বার্ডহুইস্টেল কাইনেসিসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সাংস্কৃতিকভাবে বিন্যাসিত দৃশ্যমান যোগাযোগ হিসেবে মানুষের পরিবেশের অধ্যয়নই হলো কাইনেসিস। তিনি কাইনেসিস সম্পর্কে দুটি পাঠ্য প্রকাশ করেছিলেন। এগুলোর একটি হলো ''ইন্ট্রোডাকশন টু কাইনেসিস'' এবং অন্যটি হলো বেশি পরিচিত ''কাইনেসিস ইন কনটেক্সট''। বার্ডহুইস্টেল প্রখ্যাত লোককথাবিদ এবং এথনোমিউজিকোলজিস্ট [[w:অ্যালান লোম্যাক্স|অ্যালান লোম্যাক্সের]] পরামর্শদাতা ছিলেন। যোগাযোগ ও ভাষা অধ্যায়ে কাইনেসিস সম্পর্কে আরও জানুন। === মারভিন হ্যারিস === মারভিন হ্যারিস (১৯২৭-২০০১) ১৯২৭ সালের ১৮ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণ করেন। হ্যারিস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং এরপর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। স্নাতক হওয়ার পর হ্যারিস কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সহকারী অধ্যাপক হন। সংস্কৃতির আদর্শিক বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁর অধ্যয়নের মূল ফোকাস ছিল। পরে হ্যারিস ১৯৫৭ সালে মোজাম্বিকে মাঠপর্যায়ের কাজ করেছিলেন। তখন তিনি আচরণগত দিকগুলোর ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেন। ভারতীয় সংস্কৃতির ‘পবিত্র গরু’ সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যার জন্যও তিনি সুপরিচিত। হ্যারিস তাঁর মাঠপর্যায়ের বেশিরভাগ কাজ ব্রাজিল, মোজাম্বিক, ভারত এবং ইকুয়েডরে করেছিলেন। হ্যারিস একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। সাংস্কৃতিক বস্তুবাদে তাঁর লেখা এবং প্রভাবের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। হ্যারিসের অধ্যয়নগুলো মূলত লাতিন আমেরিকা এবং ব্রাজিলের ওপর ভিত্তি করে ছিল। হ্যারিস তাঁর নিজস্ব মতামত এবং ধারণা তৈরিতে সাহায্য করতে কার্ল মার্কস এবং ম্যালথাসের তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। হ্যারিসের ১৬টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছিল। হ্যারিসের লেখা দ্য রাইজ অফ অ্যানথ্রোপলজিকাল থিওরি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর আমেরিকান অ্যানথ্রোপলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন তাঁর তত্ত্ব নিয়ে প্রচুর আলোচনা এবং সমালোচনা করেছিল। হ্যারিসের কাজ নৃবিজ্ঞানীদের তাঁর অধ্যয়ন সম্পর্কে জানতে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছে। === নেপোলিয়ন শ্যাগনন === [[Image:Alto orinoco5.jpg|thumb|200px|right|ইয়ানোমামি শিশু]][[w:নেপোলিয়ন শ্যাগনন|নেপোলিয়ন শ্যাগনন]] ১৯৩৮ সালে মিশিগানের পোর্ট অস্টিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী। ভেনেজুয়েলা এবং ব্রাজিলের মধ্যে থাকা আমাজনের [[w:ইয়ানোমামি|ইয়ানোমামি]] উপজাতির সাথে এথনোগ্রাফিক কাজের জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের বিবর্তনীয় তত্ত্ব বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি প্রথমে ইয়ানোমামি উপজাতিকে অসভ্য হিসেবে নথিভুক্ত করেছিলেন। তারা তাঁর সাথে খুব খারাপ আচরণ করেছিল। সময়ের সাথে সাথে তিনি উপজাতির কার্যকলাপ সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন। তিনি শাকি ডাকনাম পান যার অর্থ "বিরক্তিকর মৌমাছি"। ইয়ানোমামিদের নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে শ্যাগনন এই লোকদের বংশতালিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। কে বিবাহিত, কে কার আত্মীয় এবং তাদের সহযোগিতা ও বসতি স্থাপনের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে তিনি এটি করেছিলেন। এই গবেষণার মাধ্যমে তিনি সমাজবিজ্ঞান এবং মানব আচরণগত বাস্তুবিদ্যা ক্ষেত্রে একজন পথিকৃৎ ছিলেন। ইয়ানোমামি মানুষ এবং তাদের সমাজ নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করে তিনি দৃশ্যমান নৃবিজ্ঞানেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে টিম অ্যাশের সাথে তৈরি করা ''দ্য ইয়ানোমামো সিরিজ''। ইয়ানোমামো সংস্কৃতির ওপর ২২টি পৃথক চলচ্চিত্র এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- ''দ্য অ্যাক্স ফাইট'' (১৯৭৫), ''চিলড্রেনস ম্যাজিকাল ডেথ'' (১৯৭৪), ''ম্যাজিকাল ডেথ'' (১৯৮৮), ''আ ম্যান কলড বি: আ স্টাডি অফ দ্য ইয়ানোমামো'' (১৯৭৪) এবং ''ইয়ানোমামো অফ দ্য অরিনোকো'' (১৯৮৭)। তিনি ইয়ানোমামি সংস্কৃতি নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ''ইয়ানোমামো: দ্য ফিয়ার্স পিপল'' (১৯৬৮)। নিউ ইয়র্কে লেখা এন. শ্যাগননের (১৯৭৪) স্টাডিং দ্য ইয়ানোমামো, হোল্ট, রাইনহার্ট অ্যান্ড উইনস্টনও এর মধ্যে আছে। এছাড়া রয়েছে ''ইয়ানোমামো - দ্য লাস্ট ডেজ অফ ইডেন'' (১৯৯২)। তাঁর কাজের বেশিরভাগই সংস্কৃতির বিকাশ নথিভুক্ত করার উদ্দেশ্যে ছিল। তবে তাঁকে সংস্কৃতির ধ্বংসকারী হিসেবেও কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। প্যাট্রিক টিয়ার্নির লেখা ''ডার্কনেস ইন এল ডোরাডো'' বই অনুসারে, শ্যাগনন ইয়ানোমামিদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন। টিয়ার্নির সমস্ত দাবি খণ্ডন করা হয়েছে। তবে এটি সত্য যে বাইরের অন্যান্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসার কারণে এই উপজাতির লোকেরা এমন কিছু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যার বিরুদ্ধে তাদের শরীর লড়তে পারেনি। শ্যাগনন কেবল তাঁর এথনোগ্রাফির জন্যই পরিচিত ছিলেন না। তিনি তাঁর কাজ এবং মতামত নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্কের জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। === পল ফার্মার === [[File:Paul_Farmer.jpg‎|thumb|বেশ গম্ভীর চেহারার পল ফার্মার।]] পল ফার্মার একজন সুপরিচিত চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রির জন্য কাজ করার সময় তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কাজ শুরু করেছিলেন। এটি বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সঠিক চিকিৎসা প্রদানের বিষয়ে তাঁর আজীবন মনোযোগের সূচনা করেছিল। অলাভজনক কাজের মাধ্যমে এবং দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক পরিবর্তনকে নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার মাধ্যমে তিনি এটি করেছিলেন। হার্ভার্ডে ফার্মার সংক্রামক রোগে বিশেষজ্ঞ হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি যক্ষ্মার মতো এমন রোগগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন যা দরিদ্রদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করে। ১৯৮৭ সালে ফার্মার পার্টনার্স ইন হেলথ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। আজ পর্যন্ত সংস্থাটি হাইতির গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১,০০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। এছাড়া এটি সাইবেরিয়ার বন্দিদের এবং লিমা ও পেরুর বস্তিগুলোতে ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা নিরাময়ে কাজ করে। ফার্মার তাঁর নৃবৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং এথনোগ্রাফিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে অভাবীদের জন্য টেকসই ও ব্যবহারিক স্বাস্থ্যসেবা তৈরি করেন। সামাজিক এবং কাঠামোগত সহিংসতার কারণে সেই সমাজগুলোতে হওয়া নেতিবাচক প্রভাবগুলো দূর করতে তিনি কাজ করেন। ফার্মার "ব্যবহারিক সংহতি" ধারণার জন্য সুপরিচিত। এই ধারণাটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন মেটাতে কাজ করার কথা বলে। ফার্মারকে বেশ কয়েকটি সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। কনরাড এন. হিলটন হিউম্যানিটারিয়ান প্রাইজ, আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ান অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০৭ সালের অস্টিন কলেজ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এর মধ্যে অন্যতম। == মূল শব্দের অধ্যায়ভিত্তিক শব্দকোষ == == তথ্যসূত্র == <div class='references-small'> <references/> # http://www.mnsu.edu/emuseum/information/biography/abcde/birdwhistell_ray.html> # দেল মন্ট, ক্যাথলিন, কারেন বাচম্যান, ক্যাথরিন ক্লেইন এবং ব্রিজেট ম্যাককর্প। "মার্গারেট মিড"। সেলিব্রেটিং উইমেন অ্যানথ্রোপলজিস্টস। ২৬ জুন ১৯৯৯। ৯ মার্চ ২০০৯ <http://anthropology.usf.edu/women/>। # অ্যাবসোলিউট অ্যাস্ট্রোনমি। "রে বার্ডহুইস্টেল" ৯ মার্চ ২০০৯ <http://www.absoluteastronomy.com/topics/Ray_Birdwhistell><br> # এনএনডিবি: ট্র্যাকিং দ্য এনটায়ার ওয়ার্ল্ড। "ফ্রাঞ্জ বোয়াস।" <http://www.nndb.com/people/861/000097570/> # “‘সিনফুল’ সংস অফ দ্য সাউদার্ন নিগ্রো”। সাউথওয়েস্ট রিভিউ ১৯, ২ (শীতকাল ১৯৩৪): ১০৫–১৩১। </div> {{chapter navigation|ভূমিকা|নৃবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি}} r010toc8m0cwjp6o1qjpdxfwl5h8qf0 106632 106631 2026-06-11T16:03:45Z NusJaS 8394 106632 wikitext text/x-wiki == ইতিহাস == === প্রাথমিক সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন === '''হেরোডোটাস''' [[File:AGMA Hérodote.jpg|thumb|right|হেরোডোটাসের আবক্ষ মূর্তি]] [[w:হেরোডোটাস|হেরোডোটাস]] পশ্চিমা ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাচীন নৃবিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তাঁর কাজ প্রাচীনতম নৃবৈজ্ঞানিক অধ্যয়নগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। তিনি “বহু দূর ভ্রমণ করে অন্যান্য মানুষ ও সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।” <sup>[৬]</sup> তিনি আজকের মতো নৃবিজ্ঞানের চর্চা করেননি। তা সত্ত্বেও তিনি অন্যান্য সংস্কৃতির কিংবদন্তি এবং জীবনযাত্রার একটি নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণ তৈরি করেছিলেন। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ভ্রমণ করে এবং প্রাথমিক বিষয় সম্পর্কিত পরোক্ষ বিবরণ ব্যবহার করে তিনি এটি করেছিলেন। “হ্যালিকার্নাসাসের হেরোডোটাস এখানে তাঁর অনুসন্ধান তুলে ধরেছেন। সময়ের সাথে মানুষের অর্জনগুলো যেন বিস্মৃত না হয়। গ্রিক বা অসভ্যদের দ্বারা প্রদর্শিত মহান ও চমৎকার কাজগুলো যেন তাদের গৌরব না হারায়।” –দ্য হিস্ট্রিজের প্রারম্ভিক বাক্য, হেরোডোটাস তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে (খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০ অব্দ) দ্য হিস্ট্রিজ নামে নয়টি খণ্ড লিখেছিলেন। হেরোডোটাস এতে গ্রিক ও পারসিকদের মধ্যে সংঘাতের বর্ণনা দিয়েছেন। তবে প্রায়শই তিনি কৃষ্ণ সাগরের কাছে বসবাসকারী সিথিয়ানদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শেখা বিষয়গুলো বর্ণনা করতে তাঁর মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে যান। তিনি সিথিয়ানদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জেনেছিলেন এবং তা বর্ণনা করেছিলেন। তিনি সিথিয়ানদের আরও উত্তরের যাযাবরদের সম্পর্কেও জানতে পেরেছিলেন। তাঁর বর্ণিত তথ্যগুলো প্রতিলিপি করার আগে অনেকবার অনুবাদ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাশিয়া এবং কাজাখস্তানে আধুনিক খননকাজে তাঁর বর্ণিত নিদর্শনগুলোর মতো নিদর্শন পাওয়া গেছে। == ইতিহাসের দিকে একটি দৃষ্টি == ==== ১৯শ শতাব্দী ==== আধুনিক সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের উদ্ভব ১৯শ শতাব্দীর "জাতিতত্ত্ব" বা সংস্কৃতির তুলনামূলক অধ্যয়নের প্রতিক্রিয়া হিসেবে হয়েছিল। এটি মানব সংস্কৃতি সম্পর্কে বিশ্লেষণাত্মক সাধারণীকরণ উপস্থাপন করে। ইংল্যান্ডের ই.বি. টাইলর এবং [[w:জেমস ফ্রেজার|জে.জি. ফ্রেজার]]ের মতো পণ্ডিতরা অন্যদের সংগৃহীত উপকরণ নিয়ে কাজ করেছিলেন। মিশনারি, ব্যবসায়ী, অভিযাত্রী বা ঔপনিবেশিক কর্মকর্তারা এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। এর কারণে তারা বর্তমানে "আর্ম-চেয়ার নৃবিজ্ঞানী" উপাধি অর্জন করেছেন। [[File:Rafael,_a_Chumash_who_shared_cultural_knowledge_with_Anthropologists.jpg|thumb|left|বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী মানুষের বিশ্বাস ও প্রথায় মিল থাকার বিষয়টি অনেকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল]] বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের বিশ্বাস এবং প্রথায় মিল থাকার কারণ নিয়ে জাতিতাত্ত্বিকদের বিশেষ আগ্রহ ছিল। এই প্রশ্নের সমাধান করতে গিয়ে ১৯শ শতাব্দীর জাতিতাত্ত্বিকরা দুটি চিন্তাধারায় বিভক্ত হয়েছিলেন। [[w:গ্রাফটন এলিয়ট স্মিথ|গ্রাফটন এলিয়ট স্মিথ]]ের মতো কয়েকজন যুক্তি দিয়েছিলেন বিভিন্ন গোষ্ঠী পরোক্ষভাবে হলেও কোনো না কোনোভাবে একে অপরের কাছ থেকে শিখেছিল। তাদের মতে সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে বা "প্রসারিত" হয়েছিল। স্কুলের খেলার মাঠের প্রেক্ষাপটে এই চিন্তাধারাটি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। সবাই সবচেয়ে জনপ্রিয় বা "কুল" বাচ্চার মতো হতে চায়। তারা তার জিনিসগুলো দেখে সেগুলো পেতে চায়। এই ধারণাটি একটি সমগ্র সংস্কৃতিতে প্রসারিত করা যেতে পারে। মানুষ অন্য একটি গোষ্ঠীকে নিজেদের চেয়ে ভালোভাবে কিছু করতে দেখে। এরপর তারা জীবনযাপনের নতুন ও কার্যকর উপায় শেখে। অন্যান্য জাতিতাত্ত্বিকরা দাবি করেছিলেন বিভিন্ন গোষ্ঠী স্বাধীনভাবে একই ধরনের বিশ্বাস এবং প্রথা উদ্ভাবনে সক্ষম। "স্বাধীন উদ্ভাবনের" সমর্থনকারী [[w:লুইস হেনরি মর্গান|মর্গানের]] মতো কয়েকজন ভিন্ন মত পোষণ করতেন। তাদের মতে এই মিলের অর্থ হলো বিভিন্ন গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক বিবর্তনের একই পর্যায় অতিক্রম করেছে। মর্গান বিশেষভাবে স্বীকার করেছিলেন যে সমাজ এবং সংস্কৃতির কিছু নির্দিষ্ট রূপ অন্যদের আগে উদ্ভূত হওয়া সম্ভব ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ কৃষিকাজের আগে শিল্পভিত্তিক কৃষিকাজ উদ্ভাবন করা সম্ভব ছিল না। ধাতু জড়িত পূর্ববর্তী গলনবিহীন প্রক্রিয়া (যেমন মাটি থেকে সংগ্রহ বা খনন) ছাড়া ধাতুবিদ্যার বিকাশ সম্ভব ছিল না। মর্গান ১৯শ শতাব্দীর অন্যান্য সামাজিক বিবর্তনবাদীদের মতোই আদিম থেকে সভ্যতায় একটি সুশৃঙ্খল অগ্রগতির ধারণায় বিশ্বাস করতেন। ==== ২০শ শতাব্দী ==== ২০শ শতাব্দীর নৃবিজ্ঞানীরা একটি ধারণা ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সমস্ত মানব সমাজকে একই ক্রমানুসারে একই পর্যায়গুলো অতিক্রম করতে হবে বলে ধারণাটি ছিল। বাস্তব তথ্য প্রমাণের সাথে ধারণাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার কারণে তারা এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মানব সমাজের এমন ব্যাপক বিকাশ দেখার পর আমরা এখন জানি যে সংস্কৃতিগুলো বিভিন্ন হারে পরিবর্তিত হয়। পরিবেশগত কারণ, অর্থনৈতিক সম্পদ এবং শিক্ষাগত উন্নয়নের কারণে এটি ঘটে। [[w:জুলিয়ান স্টুয়ার্ড|জুলিয়ান স্টুয়ার্ড]]ের মতো ২০শ শতাব্দীর কয়েকজন জাতিতাত্ত্বিক ভিন্ন যুক্তি দিয়েছিলেন। তাদের মতে এই মিলগুলো মূলত একই ধরনের পরিবেশের সাথে একই ধরনের মানিয়ে নেওয়াকে প্রতিফলিত করে। [[w:ক্লদ লেভি-স্ট্রস|ক্লদ লেভি-স্ট্রস]]ের মতো অন্যরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে বিকাশের আপাত ধরনগুলো মানুষের চিন্তার কাঠামোগত মৌলিক মিলগুলোকে প্রতিফলিত করে ([[w:কাঠামোবাদ|কাঠামোবাদ]] দেখুন)। তিনি আমেরিকান সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান এবং ফরাসি [[w:এমিল দ্যুর্কাইম|দ্যুর্কাইমীয়]] সমাজবিজ্ঞান উভয় দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। ২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পর্যায়গুলো এড়িয়ে যাওয়া মানুষের অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, এক প্রজন্মে শিকারী-সংগ্রাহক থেকে শিল্প-পরবর্তী পরিষেবা পেশায় যাওয়ার কথা বলা যায়। এই উদাহরণগুলো এত বেশি ছিল যে ১৯শ শতাব্দীর বিবর্তনবাদ কার্যকরভাবে খণ্ডিত হয়েছিল।<ref>ডায়মন্ড, জ্যারেড। "Guns, Germs and Steel" (গানস, জার্মস অ্যান্ড স্টিল)</ref> ২০শ শতাব্দীতে বেশিরভাগ সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক নৃবিজ্ঞানী এথনোগ্রাফি বা জাতিতত্ত্ব রচনায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। এথনোগ্রাফি হলো কোনো সংস্কৃতির একটি কেস স্টাডি। কোনো গবেষক সেই সংস্কৃতিতে নিজেকে নিমজ্জিত করে এটি তৈরি করেন। সাধারণত নৃবিজ্ঞানী যথেষ্ট সময়ের জন্য অন্য একটি সমাজের মধ্যে বাস করেন। একইসাথে তিনি সেই গোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে [[w:অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ|অংশগ্রহণ করেন এবং তা পর্যবেক্ষণ করেন]]। সংস্কৃতি অধ্যয়নের এই উপায়টি সংস্কৃতির একটি অনেক বেশি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ইতিহাস জুড়ে থাকা আর্মচেয়ার নৃবিজ্ঞানীদের আগের পদ্ধতির বিপরীতে এই পণ্ডিতরা সেখানে গিয়ে মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। কোনো সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার উপায় হিসেবে এই এথনোগ্রাফিগুলো একটি দুর্দান্ত সম্পদ। তবে আরও বেশ কয়েকটি এথনোগ্রাফিক কৌশলের মাধ্যমে এথনোগ্রাফিক লেখা বা বিবরণ সংরক্ষিত হয়েছে। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা উপকরণ সংগ্রহ করেন। তারা পাঠাগার, চার্চ এবং স্কুলে রেকর্ড পড়ার জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। এছাড়া তারা কবরস্থান অনুসন্ধান করেন এবং প্রাচীন লিপি পাঠোদ্ধার করেন। একটি সাধারণ এথনোগ্রাফিতে প্রাকৃতিক ভূগোল, জলবায়ু এবং আবাসস্থল সম্পর্কিত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি আলোচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে একটি সামগ্রিক লেখা হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে প্রায়শই এতে অতীত ঘটনাগুলোর সম্ভাব্য দীর্ঘতম সময়কাল অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রাথমিক এবং গৌণ গবেষণার মাধ্যমে এথনোগ্রাফার এটি পেতে পারেন। ব্রনিস্ল ম্যালিনোস্কি ট্রোব্রিয়ান্ড দ্বীপপুঞ্জে মাঠপর্যায়ের গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন এবং ইংল্যান্ডে শিক্ষকতা করেছিলেন। তিনি এই পদ্ধতিটি তৈরি করেছিলেন। [[w:ফ্রাঞ্জ বোয়াস|ফ্রাঞ্জ বোয়াস]] এটির প্রচার করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বিকাশের জন্য বোয়াসের শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ সম্পর্কে তাঁর ধারণা ব্যবহার করেছিলেন। একই সময়ে ম্যালিনোস্কি এবং [[w:আলফ্রেড র‍্যাডক্লিফ-ব্রাউন|এ.আর. র‍্যাডক্লিফ-ব্রাউনের]] শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে সামাজিক নৃবিজ্ঞানের বিকাশ ঘটাচ্ছিলেন। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান প্রতীক এবং মূল্যবোধের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। অন্যদিকে সামাজিক নৃবিজ্ঞান সামাজিক গোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। বর্তমানে সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা এই সমস্ত উপাদান নিয়ে কাজ করেন। ১৯শ শতাব্দীর জাতিতাত্ত্বিকরা "প্রসারণ" এবং "স্বাধীন উদ্ভাবন"কে পরস্পর বিরোধী এবং প্রতিযোগিতামূলক তত্ত্ব হিসেবে দেখেছিলেন। তবে বেশিরভাগ এথনোগ্রাফার দ্রুত একমত হয়েছিলেন যে উভয় প্রক্রিয়াই ঘটে। উভয় প্রক্রিয়াই সম্ভবত আন্তঃসাংস্কৃতিক মিলের কারণ হতে পারে। কিন্তু এই এথনোগ্রাফাররা এ ধরনের অনেক মিলের অতি সাধারণ দিক নির্দেশ করেছিলেন। এমনকি প্রসারণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বৈশিষ্ট্যগুলো এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে যাওয়ার সময় প্রায়শই তাদের অর্থ এবং কাজ পরিবর্তন করে। সেই অনুযায়ী এই নৃবিজ্ঞানীরা সংস্কৃতির তুলনা, মানব প্রকৃতির সাধারণীকরণ বা সাংস্কৃতিক বিকাশের সর্বজনীন নিয়ম আবিষ্কারে কম আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এর বদলে তারা নির্দিষ্ট সংস্কৃতিগুলোকে তাদের নিজস্ব শর্তে বোঝার দিকে বেশি আগ্রহী ছিলেন। এ ধরনের এথনোগ্রাফার এবং তাদের শিক্ষার্থীরা "সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ" ধারণার প্রচার করেছিলেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিশ্বাস এবং আচরণ কেবল তার বসবাসের সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটেই বোঝা সম্ভব। ২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বিভিন্ন রূপে বিকশিত হয়েছিল। ইউরোপীয় "সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা" পর্যবেক্ষণ করা সামাজিক আচরণ এবং "সামাজিক কাঠামোর" ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। অর্থাৎ তারা সামাজিক ভূমিকার মধ্যে সম্পর্ক (যেমন- স্বামী-স্ত্রী বা পিতামাতা-সন্তান) এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন- ধর্ম, অর্থনীতি এবং রাজনীতি) ওপর জোর দিয়েছিলেন। আমেরিকান "সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা" মানুষের নিজেদের এবং তাদের বিশ্ব সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের উপায়গুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। বিশেষ করে শিল্পের এবং অতিকথার মতো প্রতীকী রূপের ওপর তারা জোর দিয়েছিলেন। এই দুটি পদ্ধতি প্রায়শই একত্রিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, আত্মীয়তা এবং নেতৃত্ব একইসাথে প্রতীকী ব্যবস্থা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এগুলো সাধারণত একে অপরের পরিপূরক ছিল। বর্তমানে প্রায় সমস্ত সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী উভয় পূর্বসূরিদের কাজের উল্লেখ করেন। মানুষ কী করে এবং মানুষ কী বলে তার প্রতি তাদের সমান আগ্রহ রয়েছে। ==== বর্তমান সময় ==== বর্তমানে এথনোগ্রাফি সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে আধিপত্য বজায় রেখেছে। তা সত্ত্বেও অনেক সমসাময়িক সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী এথনোগ্রাফির আগের মডেলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী এই মডেলগুলো স্থানীয় সংস্কৃতিকে "সীমাবদ্ধ" এবং "বিচ্ছিন্ন" হিসেবে বিবেচনা করত। এই নৃবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন স্থানের মানুষের জীবন যাপনের স্বতন্ত্র উপায়গুলো নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তারা প্রায়শই দাবি করেন কেবল স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জীবনের এই বিশেষ উপায়গুলো বোঝা যায় না। এর পরিবর্তে তারা বৃহত্তর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কাঠামো বোঝার প্রচেষ্টার সাথে স্থানীয় মনোযোগকে একত্রিত করেন। এসব বৃহত্তর কাঠামো স্থানীয় জীবনযাত্রার বাস্তবতায় প্রভাব ফেলে। এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন [[w:অর্জুন আপাদুরাই|অর্জুন আপাদুরাই]], [[w:জেমস ক্লিফোর্ড|জেমস ক্লিফোর্ড]], [[w:জর্জ মার্কাস|জর্জ মার্কাস]], [[w:সিডনি মিন্টজ|সিডনি মিন্টজ]], [[w:মাইকেল টসিগ|মাইকেল টসিগ]] এবং [[w:এরিক উলফ|এরিক উলফ]]। নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিশ্লেষণে বহুমুখী এথনোগ্রাফির ব্যবহার একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বলে মনে হয়। জর্জ মার্কাসের "এথনোগ্রাফি ইন/অফ দ্য ওয়ার্ল্ড সিস্টেম: দ্য ইমার্জেন্স অফ মাল্টি-সাইটেড এথনোগ্রাফি" নিবন্ধে এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বহুমুখী এথনোগ্রাফি সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক সামাজিক শৃঙ্খলার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখে। এটি স্থানিক এবং কালগত উভয়ভাবে বিভিন্ন স্থানে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ব্যবহার করে। স্থানীয় এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়গুলোতে বিশ্ব-ব্যবস্থার প্রভাব পরীক্ষা করার সময় এই পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ভালো অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া যেতে পারে। বহুমুখী এথনোগ্রাফিতে মাঠপর্যায়ের কাজের জন্য বৃহত্তর আন্তঃবিভাগীয় পদ্ধতিও উঠে আসছে। এটি সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন, মিডিয়া অধ্যয়ন, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি অধ্যয়নসহ অন্যান্য পদ্ধতি নিয়ে আসে। বহুমুখী এথনোগ্রাফিতে গবেষণা স্থানিক এবং কালগত সীমানা পেরিয়ে একটি বিষয় অনুসরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বহুমুখী এথনোগ্রাফি কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা "জিনিস"কে অনুসরণ করতে পারে। এটি বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় তাকে ট্র্যাক করে। বহুমুখী এথনোগ্রাফি ডায়াস্পোরাতে থাকা জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকেও অনুসরণ করতে পারে। এটি একাধিক স্থানে এবং একাধিক সময়ে উপস্থিত হওয়া গল্প বা গুজবকে অনুসরণ করতে পারে। একাধিক এথনোগ্রাফিক স্থানে উপস্থিত রূপক বা স্থান এবং সময়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়া ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জীবনীকেও এটি ট্র্যাক করতে পারে। এটি সীমানা অতিক্রমকারী সংঘাতগুলোকেও অনুসরণ করতে পারে। মানব অঙ্গ ব্যবসার আন্তর্জাতিক কালোবাজার নিয়ে করা [[w:ন্যান্সি শেপার-হিউজেস|ন্যান্সি শেপার-হিউজেস]]ের এথনোগ্রাফিটি বহুমুখী এথনোগ্রাফির একটি উদাহরণ। এই গবেষণায় তিনি পুঁজিবাদের বিভিন্ন আইনি ও বেআইনি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হওয়া অঙ্গগুলোকে অনুসরণ করেন। শিশু অপহরণ এবং অঙ্গ চুরি সম্পর্কে দরিদ্র সম্প্রদায়গুলোতে প্রচলিত গুজব এবং শহুরে কিংবদন্তিগুলোও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীরা ক্রমশ "পশ্চিমা" সংস্কৃতির দিকে তাদের অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, [[w:ফিলিপ বোর্গোয়া|ফিলিপ বোর্গোয়া]] ১৯৯৭ সালে মার্গারেট মিড পুরস্কার জিতেছিলেন। হারলেমের একটি ক্র্যাক-ডেনের উদ্যোক্তাদের নিয়ে করা গবেষণা ''ইন সার্চ অফ রেসপেক্টের'' জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। পেশাদার সম্প্রদায়ের এথনোগ্রাফিগুলোও ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। পরীক্ষাগার গবেষক, ওয়াল স্ট্রিট বিনিয়োগকারী, আইন সংস্থা বা আইটি কম্পিউটার কর্মীদের এথনোগ্রাফি এর অন্তর্ভুক্ত।<ref>[http://www.ingentaconnect.com/search/expand?pub=infobike://mcb/161/1995/00000008/00000003/art00003&unc= গবেষণামূলক প্রবন্ধের সারাংশ]</ref> == ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী == [[Image:Morgan.jpg|right|thumb|120px|লুইস হেনরি মর্গান]] === লুইস হেনরি মর্গান === লুইস হেনরি মর্গান ১৮১৮ সালের ২১ নভেম্বর নিউ ইয়র্কের অরোরার কাছে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৪০ সালে শেনেকট্যাডির ইউনিয়ন কলেজ থেকে স্নাতক হন এবং পেশায় অ্যাটর্নি হন। পরে তিনি পশ্চিম নিউ ইয়র্কের ইরোকোইস আদিবাসীদের নিয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি ইরোকোইস কনফেডারেশন সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি আত্মীয়তা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর কাজ, সামাজিক বিবর্তনের তত্ত্ব এবং ইরোকোইসদের এথনোগ্রাফির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। আত্মীয়তা হলো ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের জাল। এটি বেশিরভাগ সমাজের অধিকাংশ মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজকে কী একত্রে ধরে রাখে তা নিয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন। তিনি একটি ধারণা প্রস্তাব করেছিলেন যে আদিম মানব গার্হস্থ্য প্রতিষ্ঠান পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ছিল না, বরং সেটি ছিল মাতৃতান্ত্রিক গোত্র।<ref>https://en.wikipedia.org/wiki/Lewis_H._Morgan</ref> তাঁর লেখা “লিগ অফ দ্য হো-ডি-নো-সাউ-নি, অর ইরোকোইস” (১৮ ৫১) আদিবাসীদের প্রথম দিককার বস্তুনিষ্ঠ এথনোগ্রাফিক কাজগুলোর মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়। আত্মীয়তা ব্যবস্থার অধ্যয়ন বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগামী অর্জন। তিনি দেখতে পেয়েছিলেন যে সেনেকারা তাদের আত্মীয়দের পশ্চিমা সংস্কৃতির চেয়ে ভিন্নভাবে উল্লেখ করে। পশ্চিমা সংস্কৃতির মতো না হয়ে তারা চাচাতো ভাইবোন, ভাগ্নি এবং ফুফুদের মতো সমান্তরাল আত্মীয়দের পিতার, বোন এবং কন্যাদের মতো প্রত্যক্ষ বংশের সাথে একীভূত করে। [[Image:Edward_Burnett_Tylor.jpg|thumb|140px|left|ই. বি. টাইলর]] === এডওয়ার্ড বার্নেট টাইলর === স্যার এডওয়ার্ড বার্নেট টাইলর (১৮৩২-১৯১৭) ইংল্যান্ডের লন্ডনের ক্যাম্বারওয়েলে ১৮৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গ্রোভ হাউস হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন। তবে পিতামাতার মৃত্যুর কারণে তিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পাননি। পিতামাতার মৃত্যুর পর টাইলরের যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। উষ্ণ জলবায়ুর সন্ধানে তিনি ইংল্যান্ড ছেড়ে মধ্য আমেরিকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখানেই তিনি প্রথম নৃবিজ্ঞান নিয়ে তাঁর গবেষণা শুরু করেছিলেন। তাকে নৃবিজ্ঞানে সাংস্কৃতিক বিবর্তনবাদের প্রাথমিক প্রবক্তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৮৭১ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৮৭৫ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অফ সিভিল লজের সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১২ সালে তাঁর অবদানের জন্য তিনি নাইট উপাধি পেয়েছিলেন। এগুলো ছিল তাঁর পুরস্কার এবং অর্জন। তাঁর প্রথম বইটির যথাযথ নামকরণ করা হয়েছিল ''অ্যানথ্রোপলজি'' (১৮৮১)। এটি এর সাংস্কৃতিক ধারণা এবং তত্ত্বগুলোতে বেশ আধুনিক হিসেবে বিবেচিত। ১৮৮৩ সালে টাইলর অক্সফোর্ডের ইউনিভার্সিটি মিউজিয়ামে যোগ দেন। তিনি ১৮৯৬ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। টাইলরের বেশিরভাগ কাজে আদিম সংস্কৃতি এবং মানুষের মন, বিশেষত সর্বপ্রাণবাদ জড়িত ছিল। সর্বপ্রাণবাদ একটি দার্শনিক, ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী কেবল মানুষ এবং প্রাণী নয়, বরং উদ্ভিদ, শিলা এবং প্রাকৃতিক ঘটনার মধ্যেও আত্মা বা আত্মার অস্তিত্ব রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের ভিত্তি ছিল তাঁর কাজ। তাঁর পরবর্তী কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে: ''রিসার্চেস ইনটু দ্য আর্লি হিস্ট্রি অফ ম্যানকাইন্ড'' (১৮৬৫) এবং ''আনাহুয়াক'' (১৮৬১)। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ "প্রিমিটিভ কালচার" (১৮৭১)। এটি ডারউইনের জৈবিক বিবর্তন তত্ত্ব দ্বারা আংশিকভাবে প্রভাবিত ছিল। এটি আদিম থেকে আধুনিক সংস্কৃতির একটি বিবর্তনীয় এবং প্রগতিশীল সম্পর্কের তত্ত্ব তৈরি করেছিল। এটি "সংস্কৃতি বা সভ্যতা"কে "সেই জটিল সামগ্রিকতা যা জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্প, নৈতিকতা, আইন, প্রথা এবং সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত অন্য যেকোনো ক্ষমতা এবং অভ্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করে" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে এটি করেছিল। এই সংজ্ঞা একটি ধারণাকে উৎসাহিত করেছিল। আদিমদেরও এমন ক্ষমতা এবং অভ্যাস ছিল যা সম্মান পাওয়ার যোগ্য বলে ধারণাটিতে বলা হয়। এভাবে আদিমদের সম্পর্কে থাকা গতানুগতিক ধারণা পরিবর্তিত হয়েছিল।<ref>ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া</ref> ভ্রমণের সময় তাঁর [[w:হেনরি ক্রিস্টি|হেনরি ক্রিস্টি]] নামের একজনের সাথে দেখা হয়েছিল। ক্রিস্টি একজন কোয়েকার ছিলেন। তিনি জাতিতত্ত্ব এবং প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহী ছিলেন। এটি এই ক্ষেত্রগুলোতে টাইলরের আগ্রহকে প্রভাবিত করেছিল। === ফ্রাঞ্জ বোয়াস === [[Image:FranzBoas.jpg|left|100px|thumb|ফ্রাঞ্জ বোয়াস]]আমেরিকান নৃবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত ফ্রাঞ্জ বোয়াস ১৮৫৮ সালে জার্মানির মিনডেনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৮১ সালে কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে মাইনরসহ পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। পরে তিনি অধ্যাপক হন এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।<ref>{{cite web | title = Franz Boas |trans-title=ফ্রাঞ্জ বোয়াস | publisher= কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি | url=http://www.columbia.edu/cu/anthropology/about/main/one/boas.html | accessdate=2009-03-02}}</ref> কানাডার উত্তর ভ্যাঙ্কুভার এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্থানীয় জনসংখ্যার ওপর অধ্যয়নের জন্য বোয়াস সুপরিচিত। [[w:চার্লস ডারউইন|চার্লস ডারউইনের]] লেখা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বোয়াস সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্ব তৈরি করেছিলেন। মানুষ কী বলে এবং কী করে তা বুঝতে আমাদের নিজেদের মানদণ্ড ব্যবহার না করে বরং ওই সংস্কৃতির নিজস্ব লক্ষ্য, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাস ব্যবহার করে তার ব্যাখ্যা করাই হলো সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদ। তিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় এই ক্ষেত্রে বর্ণগত পার্থক্যের গুরুত্বকে অস্বীকার করতে ব্যয় করেছিলেন। একসময় আর্মচেয়ার নৃবিজ্ঞান এবং বর্ণগত কুসংস্কার ব্যাপক ছিল। সেই সময় বোয়াস নিরপেক্ষ তথ্যের গুরুত্ব এবং তাঁর গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি পশ্চিমা সভ্যতার কথিত "সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের" ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বোয়াস আধুনিক নৃবিজ্ঞানকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ধাঁচে তার কঠোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি দিয়েছিলেন। তিনি শেখা আচরণ হিসেবে "সংস্কৃতি"র ধারণারও প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি সাধারণীকরণের চেয়ে গবেষণার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এটি বড় তত্ত্ব তৈরির ওপর জোর দিয়েছিল (যা কেবল মাঠপর্যায়ের কাজের মাধ্যমেই পরীক্ষা করা হয়েছিল) [http://www.nndb.com/people/861/000097570/ লিঙ্ক: বোয়াস]। বোয়াস সত্যই এথনোগ্রাফি তৈরি করা প্রথম ব্যক্তি ছিলেন। এথনোগ্রাফি হলো নৃবৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের একটি বর্ণনামূলক বিবরণ। বোয়াসের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন নৃবিজ্ঞানী [[w:আলফ্রেড এল. ক্রোয়েবার|আলফ্রেড এল. ক্রোয়েবার]], [[w:মার্গারেট মিড|মার্গারেট মিড]], [[w:জুলস হেনরি|জুলস হেনরি]] এবং [[w:অ্যাশলে মন্টাগু|অ্যাশলে মন্টাগু]]। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৩৭ সালে বোয়াস এমেরিটাস অধ্যাপক হন। তিনি ১৯৪২ সালে মারা যান। === রুথ বেনেডিক্ট === [[image:Ruth Benedict.jpg|140px|right]] [[w:রুথ বেনেডিক্ট|রুথ বেনেডিক্ট]] একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। আমেরিকান নৃবিজ্ঞানের জনক তাঁর পরামর্শদাতা এবং শিক্ষক ফ্রাঞ্জ বোয়াস দ্বারা তাঁর কাজ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। তিনি ১৮৮৭ সালের ৫ জুন নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি ১৯০৯ সালে ভাসার কলেজ থেকে স্নাতক হন। ১৯১৯ সালে তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শুরু করেন। ফ্রাঞ্জ বোয়াসের অধীনে পড়াশোনা করে তিনি ১৯২৩ সালে পিএইচডি লাভ করেন। তাঁর বই <u>প্যাটার্নস অফ কালচার</u> (১৯৩৪) চৌদ্দটি ভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল এবং বহু বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যবহৃত হয়েছিল। বইটির মূল ধারণা হলো প্রতিটি সংস্কৃতি "মানবিক ব্যক্তিত্বের বৃহৎ বৃত্ত" থেকে বেছে নেয়। তবে মানুষের চরিত্রের পাশাপাশি সমাজের সামগ্রিক চরিত্রে কেবল প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্যগুলোই আবির্ভূত হয়। রুথ বেনেডিক্ট একটি ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন যে ব্যক্তি-বিকাশ জাতি-বিকাশের পুনরাবৃত্তি করে। এই ধারণা অনুযায়ী ব্যক্তির বৃদ্ধি বা পরিবর্তন হলো প্রজাতির বৃদ্ধি বা পরিবর্তনের একটি প্রতিফলন। প্রতিটি সংস্কৃতির নিজস্ব নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন। কোনো সংস্কৃতিকে সামগ্রিকভাবে অধ্যয়ন করলেই কেবল এগুলো বোঝা সম্ভব। বেনেডিক্ট নিউ মেক্সিকোতে স্থানীয় আমেরিকান পুয়েবলোদের সাথে মাঠপর্যায়ে গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন। তিনি তার গবেষণার পরিপূরক হিসেবে ফ্রাঞ্জ বোয়াস এবং মার্গারেট মিডের মতো অন্যান্য সহকর্মীদের তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। === মার্গারেট মিড === [[Image:Margaret Mead NYWTS.jpg|left|thumb|মার্গারেট মিড]][[w:মার্গারেট মিড|মার্গারেট মিড]] (১৯০১-১৯৭৯) পাঁচ বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন। মিড ১৯০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বার্নার্ড কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন<sup>৩</sup>। সেখানেই তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা নৃবিজ্ঞানী রুথ বেনেডিক্ট এবং ফ্রাঞ্জ বোয়াসের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি তাঁর জীবনে তিনবার বিয়ে করেছিলেন। প্রত্নতাত্ত্বিক লুথার শেলি ক্রেসম্যানের সাথে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল। তাঁর তৃতীয় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিয়ে (১৯৩৬-১৯৫০) ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী গ্রেগরি বেটসনের সাথে হয়েছিল। তাদের মেরি ক্যাথরিন বেটসন নামে একটি মেয়ে ছিল। তিনিও একজন নৃবিজ্ঞানী হয়েছিলেন। মার্গারেট মিড মূলত সামোয়া, নিউ গিনি এবং বালিতে সন্তান পালন এবং ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। এখানেই তিনি তাঁর গবেষণায় একটি ইতিবাচক পদ্ধতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মিড তাঁর কাজের বক্তা এবং লেখিকা হিসেবে গণমাধ্যমেও জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে মার্গারেট মিড [http://www.jstor.org/stable/663810 নিয়ন্ত্রিত তুলনা] নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে অনুমান পরীক্ষা করা হতো। প্রতিটি পরিবেশ একটি পৃথক পরীক্ষার সাথে মিলে যেত। এটি মিডের মতো নৃবিজ্ঞানীদের কৃত্রিম ল্যাবের পরিবেশের পরিবর্তে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মানবজীবন অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছিল। লিঙ্গ ভূমিকার পরিসর এবং কারণ আবিষ্কারের প্রয়াসে তিনি চারটি ভিন্ন সমাজ অধ্যয়ন করার সময় এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেছিলেন। এটি আজও ব্যবহৃত হয়। মার্গারেট মিড প্রগতিশীল প্রস্তাব প্রবর্তন এবং একজন কর্মী হওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তাঁর খোলামেলা সমর্থন ছিল তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় অবস্থানগুলোর মধ্যে একটি। তাঁর প্রাপ্ত তথ্য থেকে তিনি অনেক এথনোগ্রাফিক লেখা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কামিং অফ এজ ইন সামোয়া (১৯২৮) এবং সেক্স অ্যান্ড টেম্পারামেন্ট ইন থ্রি প্রিমিটিভ সোসাইটিস (১৯৩৫)<sup>৩</sup> এর মধ্যে অন্যতম। === জুলিয়ান স্টুয়ার্ড === [[Image:Julian Steward.jpg|thumb|250px|right|অজ্ঞাত আদিবাসী পুরুষ (ক্যারিয়ার ইন্ডিয়ান) (সম্ভবত স্টুয়ার্ডের তথ্যদাতা, চিফ লুই বিলি প্রিন্স) এবং জুলিয়ান স্টুয়ার্ড, ১৯৪০]] [[w:জুলিয়ান স্টুয়ার্ড|জুলিয়ান স্টুয়ার্ড]] ১৯০২ সালের ৩১ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্মগ্রহণ করেন। স্টুয়ার্ড ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯২৫ সালে তিনি প্রাণিবিদ্যায় বিএসসি নিয়ে স্নাতক হন। স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য তিনি বার্কলেতে ফিরে আসেন। ১৯২৯ সালে তিনি দ্য সেরিমোনিয়াল বাফুন অফ দ্য আমেরিকান ইন্ডিয়ান, আ স্টাডি অফ রিচ্যুয়ালাইজড ক্লাউনিং অ্যান্ড রোল রিভার্সালস শিরোনামের একটি গবেষণাপত্র নিয়ে নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। এরপর স্টুয়ার্ড মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি ১৯৩০ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছিলেন। লেসলি হোয়াইটের নিয়োগ এবং নির্দেশনায় বিভাগটি পরে পরিচিতি লাভ করে। স্টুয়ার্ড লেসলি হোয়াইটের "সর্বজনীন" সাংস্কৃতিক বিবর্তনের মডেলের সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন। ১৯৪৬ সালে স্টুয়ার্ডের কর্মজীবন শীর্ষে পৌঁছায়। তখন তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব নেন। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নৃবিজ্ঞানের কেন্দ্র ছিল। স্টুয়ার্ড দ্রুত এমন একদল শিক্ষার্থী তৈরি করেছিলেন যারা নৃবিজ্ঞানের ইতিহাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এদের মধ্যে সিডনি মিন্টজ, এরিক উলফ, রয় র‍্যাপাপোর্ট, স্ট্যানলি ডায়মন্ড, রবার্ট ম্যানার্স, মর্টন ফ্রিড এবং রবার্ট এফ. মারফি ছিলেন। তিনি মারভিন হ্যারিসের মতো অন্যান্য পণ্ডিতদেরও প্রভাবিত করেছিলেন। এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই পুয়ের্তো রিকো প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এটি পুয়ের্তো রিকোয় আধুনিকায়নের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা আরেকটি বড় আকারের দলগত গবেষণা ছিল। স্টুয়ার্ড কলম্বিয়া ছেড়ে আরবানা-শ্যাম্পেইনের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। ১৯৬৮ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে শিক্ষকতা চালিয়ে যান। সেখানে তিনি আরেকটি বড় আকারের গবেষণা গ্রহণ করেছিলেন। এটি তৃতীয় বিশ্বের এগারোটি সমাজে আধুনিকায়নের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ ছিল। এই গবেষণার ফলাফল কন্টেম্পোরারি চেঞ্জ ইন ট্র্যাডিশনাল সোসাইটিস শিরোনামে তিনটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। স্টুয়ার্ড ১৯৭২ সালে মারা যান। স্টুয়ার্ড তার পদ্ধতি এবং সাংস্কৃতিক বাস্তুবিদ্যার তত্ত্বের জন্য সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথম তিন দশকে আমেরিকান নৃবিজ্ঞান সাধারণীকরণের ব্যাপারে সন্দিহান ছিল। নৃবিজ্ঞানীদের তৈরি অত্যন্ত বিস্তারিত মনোগ্রাফগুলো থেকে তারা প্রায়শই বৃহত্তর উপসংহার টানতে অনিচ্ছুক ছিল। স্টুয়ার্ড নৃবিজ্ঞানকে এই বিশেষায়িত পদ্ধতি থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য। তিনি একটি আরও নিয়মতান্ত্রিক ও সামাজিক-বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা তৈরি করেছিলেন। তার "বহুমুখী" সাংস্কৃতিক বিবর্তন তত্ত্ব সমাজগুলো কীভাবে তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয় তা পরীক্ষা করেছিল। সমাজের বিবর্তনের প্রতি স্টুয়ার্ডের আগ্রহ তাকে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়াগুলো পরীক্ষা করতেও পরিচালিত করেছিল। সমাজের জাতীয় এবং স্থানীয় স্তর একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত তা পরীক্ষা করা প্রথম নৃবিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। মানবতার সমগ্র বিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন একটি সামাজিক তত্ত্ব তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে নৃবিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট বা বিদ্যমান সংস্কৃতির বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। স্টুয়ার্ড বিশ্বাস করতেন নির্দিষ্ট যুগ বা অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী সাধারণ বা প্রচলিত সংস্কৃতি বিশ্লেষণ করে তত্ত্ব তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া তিনি তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে কিছু নির্ধারক কারণ (প্রযুক্তি এবং অর্থনীতি) এবং গৌণ কারণ (রাজনৈতিক ব্যবস্থা, মতাদর্শ, ধর্ম ইত্যাদি) কোনো প্রদত্ত সংস্কৃতির বিকাশ নির্ধারণ ও প্রভাবিত করে। === রে বার্ডহুইস্টেল === [[w:রে বার্ডহুইস্টেল|রে এল.]] ১৯১৮ সালে ওহাইওর সিনসিনাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি লাভ করেন। জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তিনি টরন্টো, লুইসভিলে এবং বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর তিনি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হন। সেখানে তিনি [[w:অশাব্দিক যোগাযোগ|অশাব্দিক যোগাযোগ]] এবং [[w:কাইনেসিস|কাইনেসিসে]] তাঁর আগ্রহ নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। বার্ডহুইস্টেল চলচ্চিত্রে মানুষের মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁর অধ্যয়নের বেশিরভাগ অংশ পেয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণগুলো উপসংহারে পৌঁছেছিল যে লোকেরা তথ্য জানাতে চোখের নড়াচড়া, মুখের অভিব্যক্তি এবং বুক ব্যবহার করে। বার্ডহুইস্টেল কাইনেসিসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সাংস্কৃতিকভাবে বিন্যাসিত দৃশ্যমান যোগাযোগ হিসেবে মানুষের পরিবেশের অধ্যয়নই হলো কাইনেসিস। তিনি কাইনেসিস সম্পর্কে দুটি পাঠ্য প্রকাশ করেছিলেন। এগুলোর একটি হলো ''ইন্ট্রোডাকশন টু কাইনেসিস'' এবং অন্যটি হলো বেশি পরিচিত ''কাইনেসিস ইন কনটেক্সট''। বার্ডহুইস্টেল প্রখ্যাত লোককথাবিদ এবং এথনোমিউজিকোলজিস্ট [[w:অ্যালান লোম্যাক্স|অ্যালান লোম্যাক্সের]] পরামর্শদাতা ছিলেন। যোগাযোগ ও ভাষা অধ্যায়ে কাইনেসিস সম্পর্কে আরও জানুন। === মারভিন হ্যারিস === মারভিন হ্যারিস (১৯২৭-২০০১) ১৯২৭ সালের ১৮ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণ করেন। হ্যারিস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং এরপর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। স্নাতক হওয়ার পর হ্যারিস কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সহকারী অধ্যাপক হন। সংস্কৃতির আদর্শিক বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁর অধ্যয়নের মূল ফোকাস ছিল। পরে হ্যারিস ১৯৫৭ সালে মোজাম্বিকে মাঠপর্যায়ের কাজ করেছিলেন। তখন তিনি আচরণগত দিকগুলোর ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেন। ভারতীয় সংস্কৃতির ‘পবিত্র গরু’ সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যার জন্যও তিনি সুপরিচিত। হ্যারিস তাঁর মাঠপর্যায়ের বেশিরভাগ কাজ ব্রাজিল, মোজাম্বিক, ভারত এবং ইকুয়েডরে করেছিলেন। হ্যারিস একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। সাংস্কৃতিক বস্তুবাদে তাঁর লেখা এবং প্রভাবের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। হ্যারিসের অধ্যয়নগুলো মূলত লাতিন আমেরিকা এবং ব্রাজিলের ওপর ভিত্তি করে ছিল। হ্যারিস তাঁর নিজস্ব মতামত এবং ধারণা তৈরিতে সাহায্য করতে কার্ল মার্কস এবং ম্যালথাসের তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। হ্যারিসের ১৬টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছিল। হ্যারিসের লেখা দ্য রাইজ অফ অ্যানথ্রোপলজিকাল থিওরি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর আমেরিকান অ্যানথ্রোপলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন তাঁর তত্ত্ব নিয়ে প্রচুর আলোচনা এবং সমালোচনা করেছিল। হ্যারিসের কাজ নৃবিজ্ঞানীদের তাঁর অধ্যয়ন সম্পর্কে জানতে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছে। === নেপোলিয়ন শ্যাগনন === [[Image:Alto orinoco5.jpg|thumb|200px|right|ইয়ানোমামি শিশু]][[w:নেপোলিয়ন শ্যাগনন|নেপোলিয়ন শ্যাগনন]] ১৯৩৮ সালে মিশিগানের পোর্ট অস্টিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী। ভেনেজুয়েলা এবং ব্রাজিলের মধ্যে থাকা আমাজনের [[w:ইয়ানোমামি|ইয়ানোমামি]] উপজাতির সাথে এথনোগ্রাফিক কাজের জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের বিবর্তনীয় তত্ত্ব বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি প্রথমে ইয়ানোমামি উপজাতিকে অসভ্য হিসেবে নথিভুক্ত করেছিলেন। তারা তাঁর সাথে খুব খারাপ আচরণ করেছিল। সময়ের সাথে সাথে তিনি উপজাতির কার্যকলাপ সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন। তিনি শাকি ডাকনাম পান যার অর্থ "বিরক্তিকর মৌমাছি"। ইয়ানোমামিদের নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে শ্যাগনন এই লোকদের বংশতালিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। কে বিবাহিত, কে কার আত্মীয় এবং তাদের সহযোগিতা ও বসতি স্থাপনের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে তিনি এটি করেছিলেন। এই গবেষণার মাধ্যমে তিনি সমাজবিজ্ঞান এবং মানব আচরণগত বাস্তুবিদ্যা ক্ষেত্রে একজন পথিকৃৎ ছিলেন। ইয়ানোমামি মানুষ এবং তাদের সমাজ নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করে তিনি দৃশ্যমান নৃবিজ্ঞানেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে টিম অ্যাশের সাথে তৈরি করা ''দ্য ইয়ানোমামো সিরিজ''। ইয়ানোমামো সংস্কৃতির ওপর ২২টি পৃথক চলচ্চিত্র এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- ''দ্য অ্যাক্স ফাইট'' (১৯৭৫), ''চিলড্রেনস ম্যাজিকাল ডেথ'' (১৯৭৪), ''ম্যাজিকাল ডেথ'' (১৯৮৮), ''আ ম্যান কলড বি: আ স্টাডি অফ দ্য ইয়ানোমামো'' (১৯৭৪) এবং ''ইয়ানোমামো অফ দ্য অরিনোকো'' (১৯৮৭)। তিনি ইয়ানোমামি সংস্কৃতি নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ''ইয়ানোমামো: দ্য ফিয়ার্স পিপল'' (১৯৬৮)। নিউ ইয়র্কে লেখা এন. শ্যাগননের (১৯৭৪) স্টাডিং দ্য ইয়ানোমামো, হোল্ট, রাইনহার্ট অ্যান্ড উইনস্টনও এর মধ্যে আছে। এছাড়া রয়েছে ''ইয়ানোমামো - দ্য লাস্ট ডেজ অফ ইডেন'' (১৯৯২)। তাঁর কাজের বেশিরভাগই সংস্কৃতির বিকাশ নথিভুক্ত করার উদ্দেশ্যে ছিল। তবে তাঁকে সংস্কৃতির ধ্বংসকারী হিসেবেও কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। প্যাট্রিক টিয়ার্নির লেখা ''ডার্কনেস ইন এল ডোরাডো'' বই অনুসারে, শ্যাগনন ইয়ানোমামিদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন। টিয়ার্নির সমস্ত দাবি খণ্ডন করা হয়েছে। তবে এটি সত্য যে বাইরের অন্যান্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসার কারণে এই উপজাতির লোকেরা এমন কিছু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যার বিরুদ্ধে তাদের শরীর লড়তে পারেনি। শ্যাগনন কেবল তাঁর এথনোগ্রাফির জন্যই পরিচিত ছিলেন না। তিনি তাঁর কাজ এবং মতামত নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্কের জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। === পল ফার্মার === [[File:Paul_Farmer.jpg‎|thumb|বেশ গম্ভীর চেহারার পল ফার্মার।]] পল ফার্মার একজন সুপরিচিত চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রির জন্য কাজ করার সময় তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কাজ শুরু করেছিলেন। এটি বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সঠিক চিকিৎসা প্রদানের বিষয়ে তাঁর আজীবন মনোযোগের সূচনা করেছিল। অলাভজনক কাজের মাধ্যমে এবং দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক পরিবর্তনকে নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার মাধ্যমে তিনি এটি করেছিলেন। হার্ভার্ডে ফার্মার সংক্রামক রোগে বিশেষজ্ঞ হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি যক্ষ্মার মতো এমন রোগগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন যা দরিদ্রদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করে। ১৯৮৭ সালে ফার্মার পার্টনার্স ইন হেলথ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। আজ পর্যন্ত সংস্থাটি হাইতির গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১,০০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। এছাড়া এটি সাইবেরিয়ার বন্দিদের এবং লিমা ও পেরুর বস্তিগুলোতে ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা নিরাময়ে কাজ করে। ফার্মার তাঁর নৃবৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং এথনোগ্রাফিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে অভাবীদের জন্য টেকসই ও ব্যবহারিক স্বাস্থ্যসেবা তৈরি করেন। সামাজিক এবং কাঠামোগত সহিংসতার কারণে সেই সমাজগুলোতে হওয়া নেতিবাচক প্রভাবগুলো দূর করতে তিনি কাজ করেন। ফার্মার "ব্যবহারিক সংহতি" ধারণার জন্য সুপরিচিত। এই ধারণাটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন মেটাতে কাজ করার কথা বলে। ফার্মারকে বেশ কয়েকটি সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। কনরাড এন. হিলটন হিউম্যানিটারিয়ান প্রাইজ, আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ান অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০৭ সালের অস্টিন কলেজ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এর মধ্যে অন্যতম। == মূল শব্দের অধ্যায়ভিত্তিক শব্দকোষ == == তথ্যসূত্র == <div class='references-small'> <references/> # http://www.mnsu.edu/emuseum/information/biography/abcde/birdwhistell_ray.html> # দেল মন্ট, ক্যাথলিন, কারেন বাচম্যান, ক্যাথরিন ক্লেইন এবং ব্রিজেট ম্যাককর্প। "মার্গারেট মিড"। সেলিব্রেটিং উইমেন অ্যানথ্রোপলজিস্টস। ২৬ জুন ১৯৯৯। ৯ মার্চ ২০০৯ <http://anthropology.usf.edu/women/>। # অ্যাবসোলিউট অ্যাস্ট্রোনমি। "রে বার্ডহুইস্টেল" ৯ মার্চ ২০০৯ <http://www.absoluteastronomy.com/topics/Ray_Birdwhistell><br> # এনএনডিবি: ট্র্যাকিং দ্য এনটায়ার ওয়ার্ল্ড। "ফ্রাঞ্জ বোয়াস।" <http://www.nndb.com/people/861/000097570/> # “‘সিনফুল’ সংস অফ দ্য সাউদার্ন নিগ্রো”। সাউথওয়েস্ট রিভিউ ১৯, ২ (শীতকাল ১৯৩৪): ১০৫–১৩১। </div> {{chapter navigation|ভূমিকা|নৃবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি}} lfedqihddqn1y94ilnvnd15js9qv3e6 ব্যবহারকারী আলাপ:Iffat Anika 3 33487 106622 2026-06-11T12:40:23Z KanikBot 8129 স্বাগতম! 106622 wikitext text/x-wiki == বাংলা উইকিবইয়ে স্বাগত == {{স্বাগত/২য় সংস্করণ}} ১২:৪০, ১১ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) qhsf9slk1d7rgpylhhqxqw160zd1vez