উইকিবই bnwikibooks https://bn.wikibooks.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.7 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিবই উইকিবই আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা উইকিশৈশব উইকিশৈশব আলাপ বিষয় বিষয় আলাপ রন্ধনপ্রণালী রন্ধনপ্রণালী আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা ব্যবহারকারী:MdsShakil/গণবার্তা 2 16304 106758 85872 2026-06-22T11:53:44Z R1F4T 9121 /* */ 106758 wikitext text/x-wiki # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:তারেক বাবলু}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Md Rashidul Hasan Biplob}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Md. Muqtadir Fuad}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Belayet73}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Gobindo Sarkar}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Humaira.thithi}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Tanbiruzzaman}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Sheikh MD. Obaidul Hossain}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Suresh079}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Sajid Reza Karim}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:নিয়াজ ইসলাম}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Oviroy Sarker}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Mahiya50}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Farhan Shahriar AS}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Sagun kisku}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Peach Orchid}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:অর্পিতা মজুমদার}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Mdmosharofsk}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Aidas Neehan}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:RiaadMorshed}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:Adit Hasan}} # {{#target:ব্যবহারকারী আলাপ:নুসাইবা মীম}} gcez8rib6hkec7rueuxm7ves2fshlg0 ব্যবহারকারী আলাপ:Mizan Muhammad Hasan 3 20412 106754 106581 2026-06-21T14:06:42Z মীযান মুহাম্মদ হাসান 13708 /* নৈতিক অবক্ষয়ের পথ কীভাবে বন্ধ হবে? */ নতুন অনুচ্ছেদ 106754 wikitext text/x-wiki শাহতলীর পীর মাওলানা আবুল বাশার রহ. == বাংলা উইকিবইয়ে স্বাগত == {{স্বাগত/২য় সংস্করণ}} ০৬:৪০, ১৮ জুন ২০২৪ (ইউটিসি) == দাওয়াতের ফিকির জরুরি : গ্রামে ঘরে ঘরে জাহালত == পীর ফকির মাজার ওরস ও খানকাহ নামে জমজমাট ধর্মব্যবসা। কিছু জাহেল ইমাম এ-সব জিন্দা রাখা র মেহনত করে। মিলাদ কিয়াম সহ কুফর ও শিরকের আখড়া এদের ঘরে ঘরে। শহর যেমন কতক নাম লেবাসধারী আলেম উম্মাহ কে ধোঁকা দেয়। গ্রামেও কম না। সচেতনতা কম। ইলমি আমলি পরিবেশ নাই। অবশ্য তরুণ প্রজন্ম এসব তেমন একটা ধার ধারে না। কজনের কথায় তাই মনে হলো। কেবল বুড়ো রা ওরস ফকিরি, রাতভর আল্লাহু হু হু টাইপ জিকির গান বাজনার আসর বসায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এসব অজ্ঞতা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। গরু ছাগল হাস মুরগি নিয়ে ভক্ত মুরিদানের আগমনও ঘটে। শুধু দাওয়াত তাবলীগ বা দাঈ আলেমদের মেহনত বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়। মাদরাসা ভিত্তিক দাওয়াতে র কাজ বাড়ানো জরুরি। এলাকার আলেমদের শহরমুখী না হয়ে গ্রামের পরিবেশে খেদমতের নিয়তে মেহনত করা খুব বেশি জরুরি। একজন ইমাম--আলেমের সঙ্গে কথা হলো বাদ মাগরিব। এলাকার মানুষ। তাকে মেহনত ও কুরবানি করার কথাও বললাম। বললাম, লেগে থাকুন ফায়দা হবে ইনশাআল্লাহ। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : মাসে এক দুটো এসলাহি মাহফিল আয়োজনে র কথা বললাম। দাওয়াত পেলে, আমি অধমও বিনা পয়সায় শরীক হবার কথা বলেছি। এর চেয়ে বেশি আর কী করতে পারব উম্মাহর জন্য। সাধ্যই বা আমার কতদূর? দরস তাসনিফ ও খেতাবাতের পর, মাহফিলের ইচ্ছে থাকলেও; তা আর হবার সম্ভাবনা নেই। অতীতে থাকলেও, ভবিষ্যৎ নেই। ইচ্ছে ও রুচিও ওদিকে টানে না।। [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:৩৬, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) == উচ্চ শিক্ষায় কওমি তরুণদের সুযোগ দিন! == প্রতি বছর বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কওমি শিক্ষার্থী কুরআন হাদিস ফিকহ ও তাফসির–সহ আরও অন্যান্য বিষয়ে একাডেমিক শিক্ষা অর্জন করছেন। দেশে তাদের সাফল্য অর্জনের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি না মিললেও, তারা দেশে বিদেশে বিভিন্ন অঙ্গনে সুনামের সঙ্গে যোগ্যতার পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। উচ্চ শিক্ষায় এই কওমি তরুণদেরকে সুযোগ দেওয়া হলে, নিশ্চিত তাঁরা আরও বেশি সুনাম ও সফলতা অর্জন করবেন। যা দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ও মর্যাদা রক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। বিশ্ববিখ্যাত আল–আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, তুরস্ক ও মালয়েশিয়া সহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কওমি শিক্ষা সমাপনকারীদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশে একসময় এ সুযোগ অবারিত ছিল। পাকিস্তানে এখনো কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ শিক্ষার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আরও অবাক করা বিষয় হচ্ছে যে, কওমি শিক্ষা সমাপনকারী এই তরুণরা বিভিন্ন দেশের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ একাডেমিক পড়াশোনা এবং গবেষণার কাজেও অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশেই কেবল কওমি শিক্ষার্থীরা অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার। বিভিন্ন আইনের মারপ্যাচে অযথা অযৌক্তিক কিছু দাবি দাওয়ার ফলে, কওমি তরুণদের জন্য দেশের মাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ এখনও কোনো আশার আলো দেখেনি। আমরা ভবিষ্যৎ কওমি তরুণদের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগকে অবারিত করার দাবি জানাচ্ছি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল অভিভাবকদের প্রতি। দেশ ও জাতির সর্বোচ্চ কল্যাণে আশা করি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নিয়োজিতগণ এ বিষয়ে গুরুত্ব অনুভব করবেন। রাষ্ট্র গঠনে কওমি মাদরাসা পড়ুয়া তরুণদেরকেও সুযোগ করে দিবেন। [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:৩৮, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) == হাদিস কী কেন? পরিচয় ও গুরুত্ব : হাদিস পাঠের ফজিলত == হাদিস হাদিস, এটি মূলত আরবি শব্দ। অভিধান মতে হাদিস অর্থে প্রসিদ্ধ আরবি অভিধান আর-রাইদ–এ উল্লেখ করা হয়েছে— নতুন (বিষয়) ; খবর বা সংবাদ ও নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌখিক কথা ও কর্মসমূহ। (আর-রাইদ পৃ. ৩৩৮) এ ছাড়া পবিত্র কুরআনেও বিভিন্ন সুরায় হাদিস শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। নিম্নে আমরা তা উল্লেখ করছি। বাণী বা কথা, সংবাদ, গল্প বা কাহিনি ও স্বপ্ন; এ জাতীয় অর্থে ‘হাদিস’ শব্দের ব্যবহার রয়েছে। আর বাস্তবেই আমরা যদি লক্ষ্য করি, তবে আমরা দেখতে পাই যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত যাবতীয় কথা, কাজ ও মৌন সমর্থনের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নতুনত্ব। রয়েছে অভিনব কিছু নির্দেশনা ও ভবিষ্যতের সংবাদ। বর্তমান সময় সম্পর্কেও রয়েছে নবীজির অবাক করা এক একটি হাদিসের বর্ণনা। অর্থাৎ সমকালীন বিষয়ের প্রত্যেকটি শাখাই এখনও নবীজির হাদিস দ্বারা প্রভাবিত ও সমর্থিত। উদাহরণস্বরূপ, কভিড ১৯–এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে, গোটা বিশ্ব যখন আতঙ্কিত। তখন লকডাউন নামে যে প্রাকৃতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এটিও ছিল নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত হাদিসের ঐতিহাসিক একটি বাস্তব ও যুগোপযোগী নির্দেশনা। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি তোমরা শুনতে পাও কোনো জনপদে প্লেগ বা অনুরূপ মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, তবে তোমরা সেখানে গমন করবে না। আর তোমরা যে জনপদে অবস্থান করছো, সেখানে যদি তার প্রাদুর্ভাব ঘটে তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না। (সহি বুখারি) এমনকি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত বিভিন্ন পূর্ববর্তী জাতি–সম্প্রদায়ের কাহিনি বা ঘটনার বর্ণনাও হাদিসের গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান রয়েছে। যেগুলো সংকলন ও সংরক্ষণ করেছেন; যুগের মানিত ও বরিত এক একজন মহান হাদিস বিশারদ, ইমাম ও মুহাদ্দিস রহ.। আরও বেশি আশ্চর্যের কথা হলো যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সময় এমন এক জাতির সামনে তাঁর বক্তব্যগুলো তুলে ধরেছেন। যেগুলো সত্যিকার অর্থেই ছিল মর্মস্পর্শী ও হৃদয়গ্রাহী। বিশেষ করে আরব মরুর বুকে যাযাবর সম্প্রদায়ের মাঝে, তাঁর প্রদত্ত বক্তব্যগুলো ছিল নতুনত্বে পরিপূর্ণ। তখনকার সময়ের জন্য ছিল অবাক ও বিস্ময়কর। কারণ সে–সময়টা ছিল ঐতিহাসিকদের মতে বর্বরতা বা মূর্খতার যুগ। কাজেই নবীজির এক একটি হাদিস বা কথা তাদের জন্য ছিল জীবন পথের পাথেয়। হতাশাগ্রস্ত হৃদয়ে আশা ও বিশ্বাসের জ্বলন্ত প্রদীপ। যে প্রদীপের আলোয় উজ্জীবিত ও আলোকিত হচ্ছে আজকের এ পৃথিবীও। সভ্যতা ও সংস্কৃতি ফিরে পাচ্ছে তার হারানো জীবন ও যৌবন। এখনো মনুষ্য ও মানবতা খুঁজে পাচ্ছে তার হারানো জৌলুস। পরিভাষায় আলেম ও মুহাদ্দিসগণের মতে হাদিস বলা হয়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ ও মৌন সমর্থনকৃত বিষয়াদিকে। যেমন তিনি কোনো সাহাবির আমল সম্পর্কে নীরবতা পালন করে কিংবা সমর্থনের মাধ্যমে কোনো একটি বিষয়ের অনুমোদন করেছেন। অর্থাৎ, এমন একটি আমল বা কাজ, যা কোনো একজন সাহাবি রা. নবীজির জীবদ্দশায় তাঁর সামনে করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তা সমর্থনের মাধ্যমে, ওই সাহাবির কাজকে অনুমোদন করেছেন। যুগ যুগ ধরে আলেমদের নিকট এমন বিষয়াবলিও হাদিস হিসাবে মানিত ও গৃহিত হয়ে আসছে। যেমন বিখ্যাত সাহাবি হজরত ইরবায ইবনে সারিয়া রা. বর্ণিত হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— তোমরা খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত তথা হাদিসকেও মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে। (সুনানে আবু দাউদ) হাদিসে এসেছে, মুসলমানগণ যতদিন কুরআন ও এই সুন্নাহ তথা হাদিস আঁকড়ে ধরবে এবং হাদিসের ওপর আমল করবে। ততদিন তারা পথভ্রষ্ট হবে না। বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা অবলম্বন করলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। (মুস্তাদরাকে হাকিম) হাদিস কাকে বলে? হাদিস হচ্ছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বা বাণী, একইভাবে তাঁর কাজ, কিংবা মৌখিক বা মৌন অনুমোদন। কোনো কাজের আদেশ বা নির্দেশনা। অথবা কোনো কাজ না-করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা। মহাগ্রন্থ আলকুরআনের পরে হাদিস হচ্ছে ইসলামি বিধি-নিষেধ ও আইন–কানুন–আচার– অনুষ্ঠান ইত্যাদি নির্ধারণের অন্যতম মূল উৎস। শরিয়তের মূল দ্বিতীয় স্তম্ভ। যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নবীজির হাদিসের মাধ্যমে মুসলমানরা ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। যেমন— নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ ও অন্যান্য ইবাদতের বাস্তব অনুশীলনই হচ্ছে নবীজির হাদিসের স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা নির্দেশনা । নিম্নে আমরা হাদিস বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের কয়েকটি মতামত তুলে ধরছি। প্রথমত জমহুর তথা অধিকাংশ আলেমদের মতে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত কথা, কাজ,বক্তব্য ও সমর্থন। এমনিভাবে সাহাবি–তাবেঈ রা. এর কথা, কাজ ও সমর্থনও এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এগুলোর প্রত্যেকটি আলাদাভাবে হাদিস হিসাবে গণ্য হবে। বিখ্যাত আলেম, গবেষক মুফতি আমিমুল ইহসান রহ. এর মতে, হাদিস হচ্ছে— রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবি ও তাবেঈ রা. এর উক্তি, কাজ ও সমর্থন। বর্তমান এশিয়া মহাদেশের একজন বিজ্ঞ আলেম, আরব–অনারবের সকল দেশের মুসলিম স্কলারদের কাছে স্বীকৃত একজন গবেষক ও মুহাদ্দিস; মুফতি আবদুল মালেক দা. বা. এর মতে— হাদিস হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্পৃক্ত কথা, কাজ, উক্তি ও সমর্থন ; চাই তা তাঁর সৃষ্টিগত হোক বা চারিত্রিক গুণ হোক এবং নবুওয়ত লাভের আগের কিংবা পরের হোক। — শরহে নুখবা, ভূমিকা : পৃ. ৮ উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, হাদিস মূলত কয়েকটি অংশে বিভক্ত। ১. কথা বা বাণী : স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজ বক্তব্য বা উক্তি। ২. আচরণ বা কাজ : রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিগত কাজ এবং কার্যক্রম। ৩. অনুমোদন : রাসুল সসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মতি বা অনুমোদন। অর্থাৎ, অন্য কেউ কোনো কাজ করলে, তিনি তা গ্রহণ করেছেন। নীরবতা পালন করে মৌন সমর্থন করেছেন। ৪. সাহাবি এবং তাবেঈ রা. কথা, কাজ ও সমর্থন। উপর্যুক্ত সবগুলোই হাদিস হিসাবে গৃহিত ও স্বীকৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে সাহাবি তাবেঈ রা. এর কথা বা আমল গ্রহণের বিষয়টি। যেমনটি রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (বিখ্যাত সাহাবি হজরত ইরবায ইবনে সারিয়া রা. বর্ণিত লম্বা এক হাদিসে এসেছে— যার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো) তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো, আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে এবং খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকেও মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে। (সুনানে আবু দাউদ) আর তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈ রহ. এর কথা কাজ ইত্যাদিও হাদিস হিসাবে গৃহিত এজন্য যে, তারা খইরুল কুরুন তথা শ্রেষ্ঠ সময়ের মানুষ। যাদের ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হলো আমার সাহাবিদের যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তীদের (তাবেঈদের) যুগ। (সহি বুখারি ও সহি মুসলিম) হাদিস মানতে হবে কেন? পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ‘তিনি (নবীজি) নিজ থেকে কিছু বলেন না। তবে যা তাঁর প্রতি ওহি করা হয়। (অর্থাৎ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা-ই বলেন, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত ওহি। তিনি নিজ থেকে কিছু বলেন না।’) (সুরা নাজম : ৩-৪) হে নবী আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো। তবে আমার অনুসরণ করো। তিনি তথা, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। (সুরা আলে ইমরান :৩১) ‘অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের জীবনীতে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যারা আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের প্রতি আশা রাখে।’ (সুরা আহযাব : ২১) হে রাসুল! আপনি পৌঁছে দিন (ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি) যা আপনার কাছে ওহি করা হয়েছে, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। (সুরা মায়েদা : ৬৭) উপর্যুক্ত আয়াতগুলো থেকে পরিস্কার এ বিষয়টি বুঝে আসছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেন, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই বলেন। আর আল্লাহর ভালোবাসা ও গুনাহ মাফের ওয়াদা রয়েছে একমাত্র নবীজির অনুসরণ অনুকরণের মধ্যে। যিনি একমাত্র আমাদের জন্য আদর্শের উন্নত নমুনা ও মডেল। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানতে হলে, অবশ্যই তার বর্ণিত হাদিসের আলোকেই তাঁর অনুসরণ করতে হবে। কেননা নবীজির অনুসরণ অনুকরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি কথা, কাজ, আমল ও সমর্থনের বিশদ আলোচনা ও বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে এক একটি নির্ভরযোগ্য হাদিসের গ্রন্থে। যেগুলো সংরক্ষণ ও সংকলন করেছেন যুগের মানিত ইমাম ও মুহাদ্দিসগণ। যেমন, তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হলেন— ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম নাসায়ি, ইমাম তিরমিযি রাহিমাহুমুল্লাহ সহ আরও অনেক মনীষী আলেমগণ। অবশ্যই হাদিস মানা, তথা আমলযোগ্য হাদিস অনুযায়ী আমল করা মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কুরআনে আল্লাহ তায়ালা যাবতীয় বিষয়ের তত্ত্ব, মৌলিক বিধান এবং নির্দেশনা প্রদান করেছেন। কিন্তু কিছু সূক্ষ্ম, বিস্তারিত ও কিছু বিষয়ে সার্বিক নির্দেশনা সরাসরি কুরআনে না থাকায়; সেগুলো জানা ও বোঝার জন্য, এমনকি আমল করার জন্য নবীজির হাদিস প্রয়োজন। আর বাস্তবেই কুরআন ও হাদিসের সঠিক অর্থ ও মর্ম বোঝার জন্য এবং সঠিক আমল করার জন্য উভয়টিকে একত্রে মানা জরুরি। হাদিস মানা এজন্যও জরুরি যে, হাদিসের মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে কলমে সাহাবিদেরকে জীবনের প্রয়োজনীয় যাবতীয় মৌলিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যারা ধারাবাহিকভাবে পরবর্তীকালের জন্য অনুসরণীয়। এমনকি এভাবে সাহাবিদের থেকে তাবেঈ। তাবেঈদের থেকে তাবে–তাবেঈগণ এই ইলম তথা হাদিস অর্জন করেছেন। নিজেরা সংরক্ষণ করেছেন। তাদের মধ্য থেকে এবং তাদের মাধ্যমেই যুগ পরম্পরায় হাদিসের এই শিক্ষা মুজতাহিদ ইমাম, মুহাদ্দিসগণের মাধ্যম হয়ে; এক একটি নির্ভরযোগ্য হাদিসের কিতাব সংকলকদের মাধ্যমে আমাদের পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। আর বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে যখন কোনো এক বা একাধিক বিষয় মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও প্রচার প্রসার হয়, তখন তা বুঝতে এবং আমল করতেও সহজ হয়। কাজেই হাদিসের ওপর আমল করা কোনো জটিল–কঠিন কাজ নয়। বরং এটি প্রকারান্তরে আল্লাহরই শাশ্বত এক অনুপম জীবন বিধান। যেমন হাদিসে রাসুল সসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতদিন এ দুটোকে আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না। এক. আল্লাহর কিতাব কুরআন। দুই. তাঁর নবীর সুন্নাত তথা হাদিস। (মুসতাদরাকে হাকিম) উল্লেখ্য যে, হাদিসের মধ্যেই অসংখ্য সুন্নত তথা আদর্শ রয়েছে। আর মূলত মানতে হবে, তথা অনুসরণ অনুকরণ করতে হবে বিশুদ্ধ সুন্নাহ তথা আদর্শ। যা আমল যোগ্য। বাস্তবায়নের উপযোগী। এমনকি যে আমল শুধু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য খাস–বিশেষায়িত নয়। বরং উম্মাহর জন্যও করণীয়। এমন হাদিস তথা সুন্নাহকে অবশ্যই মানতে হবে। এসব অস্বীকার করা প্রকারান্তরে আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করা। যার অর্থ হলো, আল্লাহর বিধান অমান্য করে কুফরি করা। ঈমান হারা হয়ে জীবন যাপন করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এমন কাজ থেকে হেফাজত করুন। এজন্য আমলের উপযোগী হাদিসগুলো মানতে হবে। অনুপযোগী হলে, এমন হাদিস মানা জরুরি নয়! যেমন রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক এগারোজন নারীকে বিবাহ করা। এটা শুধু আমাদের নবীর জন্য খাস ছিল। উম্মতের জন্য সর্বোচ্চ চারজন নারীকে বিবাহ করার অনুমতি আছে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে। এজন্য মনে রাখতে হবে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এগারোজন নারীকে বিবাহের বর্ণনা সম্বলিত হাদিস আমাদের জন্য আমল যোগ্য নয়। হাদিস পাঠের ফজিলত হাদিস পাঠ বা অধ্যয়নের অসংখ্য ফজিলত বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ইলমে দীন তথা আল্লাহ প্রদত্ত ইলম অর্জন করার অন্যতম দ্বিতীয় স্তম্ভ হচ্ছে হাদিস। আর ইসলামের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ সুরার প্রথম আয়াতই আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছে যে, পড়ুন! আপনার প্রতিপালকের নামে। যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ’’নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে ’আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।”(সুরা ফাতির : ৮) আর এ কথা নিশ্চিত যে, কুরআন ও হাদিস পাঠ ও অধ্যয়নের মাধ্যমেই একজন মানুষ প্রকৃত আলেম হতে পারে। সুতরাং, কুরআন পাঠ করা ও হাদিস পাঠ করা। ইসলামের সঠিক শিক্ষা অর্জন করার অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যার মাধ্যমে মুসলমানগণ জানতে সক্ষম হন যে, কীভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর নির্দেশগুলো অনুসরণ করেছেন। আমাদের ব্যক্তিগত,পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে আমরা কীভাবে ইসলামের বিধান মেনে চলবো। এই শিক্ষাগুলো আমরা বিস্তারিত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবি তাবেঈ রা. বর্ণিত হাদিস থেকেই গ্রহণ করতে পারি। নিম্নে আমরা হাদিস পাঠের কিছু ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করছি। ১। হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা প্রচার কাজে সহযোগী হওয়া। আর এভাবে নবীজির হাদিসগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– আমার পক্ষ হতে (মানুষের কাছে) একটি বাক্য হলেও পৌঁছে দাও। বনী ইসরাঈলদের থেকে শোনা কথাও বলতে পারো, এতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে প্রস্তুত করে নেয়। (সহি বুখারি) ২। দীন তথা ইসলামের জ্ঞান অর্জন করে কল্যাণ লাভ করা। আল্লাহ প্রদত্ত সঠিক বিষয় সম্পর্কে জানা যায়। বিখ্যাত সাহাবি হজরত মুআবিয়া রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন। বস্তুত আমি শুধু বণ্টনকারী। আর আল্লাহ তায়ালা আমাকে দান করেন। (সহি বুখারি ও সহি মুসলিম) ৩। হাদিস পাঠের মাধ্যমে উত্তম গুণ বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করার সুযোগ লাভ করা। কারণ, হাদিস হচ্ছে শরিয়তের দ্বিতীয় মূল স্তম্ভ। সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সোনা-রূপার খনির ন্যায় মানবজাতিও খনিবিশেষ। যারা জাহিলিয়্যাতের (অন্ধকারের) যুগে উত্তম ছিল, দীনের জ্ঞান লাভ করার কারণে তারা ইসলামের যুগেও উত্তম। (সহি মুসলিম) ৪। হাদিস অধ্যয়নের মাধ্যমে হিকমা ও প্রজ্ঞা অর্জন করা এবং তা প্রচার প্রসার করা। এভাবে দীন প্রচারে সহযোগী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা। সাহাবি হজরত ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে হিংসা–ঈর্ষা করা ঠিক নয়। প্রথম ব্যক্তি- যাকে আল্লাহ তায়ালা সম্পদ দান করেছেন, সাথে সাথে তা সত্যের পথে (ফী সাবীলিল্লাহ) বা সৎকার্যে ব্যয় করার জন্য তাকে তাওফিকও দিয়েছেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি- যাকে আল্লাহ তায়ালা হিকমা, অর্থাৎ- জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং সে এ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা যথোপযুক্তভাবে কাজে লাগায় এবং (লোকদেরকে) তা শিখায়। (সহি বুখারি ও সহি মুসলিম) ৫। মূর্খতা ও অজ্ঞতার ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা এবং সঠিক ইলম পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ লাভ করা। ইলমের হেফাজতের মাধ্যমে দীনকে মিথ্যাচার থেকে হেফাজত করা। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– (শেষ যুগে) আল্লাহ তায়ালা ’ইলম’ বা জ্ঞানকে তাঁর বান্দাদের অন্তর হতে টেনে বের করে উঠিয়ে নিবেন না, বরং (জ্ঞানের অধিকারী) ’আলিমদেরকে দুনিয়া হতে উঠিয়ে নিয়ে যাবার মাধ্যমে ’ইলম’ বা জ্ঞানকে উঠিয়ে নিবেন। তারপর (দুনিয়ায়) যখন আর কোনো ’আলিম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন লোকজন অজ্ঞ মূর্খ লোকেদেরকে তাদের নেতারূপে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের নিকট (মাসআলা-মাসায়িল) জিজ্ঞেস করা হবে। তখন তারা বিনা ’ইলমেই ’ফাতাওয়া’ প্রদান করবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। (সহি বুখারি ও সহি মুসলিম) ৬। হাদিস পাঠ করা এবং হাদিস পাঠের বিষয়ে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা তৈরি করা। এভাবে পুণ্য লাভের পথ উন্মুক্ত হওয়া। যেমনটি আমরা বক্ষমান নিবন্ধের মাধ্যমে চালু করার প্রয়াস লাভ করছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলামে যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজ চালু করলো। সে এ চালু করার সাওয়াব তো পাবেই, তার পরের লোকেরা যারা এ নেক কাজের উপর আমল করবে তাদেরও সমপরিমাণ সাওয়াব সে পাবে। অথচ এদের সাওয়াব কিছু কমবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রচলন করলো, তার জন্য তো এ কাজের গুনাহ আছেই। এরপর যারা এ মন্দ রীতির উপর আমল করবে, তাদের জন্য গুনাহও তার ভাগে আসবে, অথচ এতে আমলকারীদের গুনাহ কম করা হবে না। (সহি মুসলিম থেকে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা) ৭। হাদিস পাঠের মাধ্যমে নবীগণের ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার লাভ করা। এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইলম অর্জনের মাধ্যমে আলেম হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা। সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি মর্যাদা লাভ করা ইত্যাদি। ফেরেশতা ও পশু-পাখির দুআ লাভ করা। বিখ্যাত তাবেঈ হজরত কাসীর বিন কায়স রহ. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দামেশক-এর মসজিদে আবু দারদা রা.-এর সাথে বসা ছিলাম। এমন সময় তার নিকট একজন লোক এসে বললো, হে আবু দারদা! আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহর মদিনা থেকে শুধু একটি হাদিস জানার জন্য আপনার কাছে এসেছি। আমি শুনেছি, আপনি নাকি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। এ ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্যে নিয়ে আমি আপনার কাছে আসিনি। তার এ কথা শুনে আবু দারদা রা. বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি (কুরআন ও হাদিসের) ইলম সন্ধানের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের পথসমূহের একটি পথে পৌঁছে দিবেন এবং ফেরেশতারা ইলম অনুসন্ধানকারীর সন্তুষ্টি এবং পথে তার আরামের জন্য তাদের পালক বা ডানা বিছিয়ে দেন। অতঃপর ’আলিমদের জন্য আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর সকলেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ করে থাকেন। এমনকি পানির মাছসমূহও (ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে)। আলিমদের মর্যাদা মূর্খ ’ইবাদাতকারীর চেয়ে অনেক বেশি। যেমন পূর্ণিমা চাঁদের মর্যাদা তারকারাজির উপর এবং আলিমগণ হচ্ছে নবীগণের ওয়ারিস। নবীগণ কোনে দীনার বা দিরহাম (ধন-সম্পদ) মীরাস (উত্তরাধিকারী) হিসেবে রেখে যান না। তাঁরা মীরাস হিসেবে রেখে যান শুধু ইলম। তাই যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করেছে সে পূর্ণ অংশগ্রহণ করেছে। ( মুসনাদে আহমাদ, সুনানে তিরমিযি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ) ৮। হাদিস তথা ইলম অর্জনের মাধ্যমে সাধারণ ইবাদতকারী অপেক্ষা আলেম হিসাবে বেশি মর্যাদা লাভ করা। হজরত আবু উমামা আল বাহিলী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এদের একজন ছিলেন আবিদ (ইবাদাতকারী), আর দ্বিতীয়জন ছিলেন আলিম (জ্ঞানী বা জ্ঞান অনুসন্ধানকারী)। তিনি বললেন, আবিদের ওপর আলিমের মর্যাদা হলো যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির ওপর। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আকাশমণ্ডলি ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি পিঁপড়া তার গর্তে ও মাছ পর্যন্ত ইলম শিক্ষাকারীর জন্য দুআ করে। (সুনানে তিরমিযি) ৯। হাদিস পাঠের মাধ্যমে ইলমে দীন শিক্ষার ফরজ আদায়ে যত্নশীল ও দায়িত্ব পালন করা। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইলম বা জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরয এবং অপাত্রে তথা অযোগ্য মানুষকে ইলম শিক্ষা দেওয়া শূকরের গলায় মণিমুক্তা বা স্বর্ণ পরানোর শামিল। (সুনানে বাইহাকি) ১০। হাদিস পাঠের মাধ্যমে ইলম অর্জনে ব্রতী হওয়া এবং আল্লাহর পথে থাকার সুযোগ লাভ করা। হজরত আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (দীনি ইলম) জ্ঞানার্জনের জন্য বের হয়েছে। সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথেই রয়েছে। (সুনানে তিরমিযি ও সুনানে দারিমি) এছাড়াও, হাদিস পাঠের ফলে একজন মুসলিমের ইবাদতের মধ্যে উন্নতি ঘটে। যা তার জীবনকে আরও আলোকিত ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করে। হাদিসের মাধ্যমে একজন মুসলমান ইসলামি জীবনাচরণের সঠিক দিশা পান এবং জীবনের নানা বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। হাদিস পড়া বা অধ্যয়ন শুধু ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বরং এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে হাদিসের অনুসরণ করে আলোকিত জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হাদিস তথা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে আমল করে নবীজির প্রকৃত ভালোবাসা অর্জন করার তাওফিক দান করুন। কারণ, যে ব্যক্তি হাদিস পাঠের মাধ্যমে নবীজির সুন্নাহ তথা আদর্শকে অনুসরণ করলো। সে যেন নবীজিকেই ভালোবাসল। আর এর বিনিময় হলো কুরআনের ভাষায়, “হে নবী আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো। তবে আমার অনুসরণ করো। তিনি তথা, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। (সুরা আলে ইমরান :৩১) অতএব আমাদের সকলের জন্য উচিত হবে, নবীজির হাদিস পাঠ করা। হাদিস অনুযায়ী জীবন যাপনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহায় হন। আমিন। লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, সদর, গাজীপুর [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:৪০, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) == সুখী দাম্পত্য জীবন লাভে করণীয় == মা মূলত সংসারে সুখ শান্তিই হলো সুখী জীবনের মাপকাঠি। আনন্দময় সংসার জীবন উপভোগ করাই প্রতিটি মানুষের কাঙ্খিত লক্ষ উদ্দেশ্য। আর দাম্পত্য কলহ মুক্ত সংসারেই গড়ে ওঠে সুখী দাম্পত্য জীবন। এখন প্রশ্ন হলো, সুখ কি টাকা পয়সা অর্থ সম্পদ প্রাচুর্যের মধ্যে আছে? না, বরং সুখী দাম্পত্য জীবন হতে পারে নারীর গুণে। আবার এই সুখী দাম্পত্য জীবন ভাঙতেও পারে এই নারীর গুণেই। প্রবাদ আছে, সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে। যেমন সহি মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে– গুণবতী নারীর পরিচয় হিসাবে, “স্ত্রী নেককার তথা ধার্মিক হওয়া চাই”! কিংবা অন্তত লজ্জাশীল বা স্বামীর অনুগত হওয়া জরুরি। এ ছাড়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, একজন ঈমানদার স্ত্রী, যে তার স্বামীর দীনি বিষয়ে সহযোগী হয়। —মুসনাদে আহমদ ধর্মীয় বিষয়ে সহযোগীর অর্থ হলো, ধর্মীয় যাবতীয় বিষয়ে যেমন নামাজ রোজা হজ জাকাত প্রভৃতি ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হওয়া। সহযোগিতার ভূমিকা পালন করা। স্বভাবতই যিনি ধার্মিক হবেন। তিনি সংসার জীবনেও সুন্দর, সুখী সংসার উপহার দিবেন ইনশাআল্লাহ। এজন্যই বিয়ের জন্য সর্বপ্রথম দীনদার তথা ধার্মিক নারীকে বিবাহের জন্য প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে হাদিসে। সুখী দাম্পত্য জীবন গঠনে আমাদের করণীয়গুলো আসলে কী? কেন আমাদের সংসারগুলো সুখময় হচ্ছে না? এর নেপথ্য কারণ কী? বক্ষমাণ নিবন্ধে সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে ভূমিকা রাখে, এমন কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি, জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেণি–পেশার মানুষই এতে উপকৃত হবেন। দাম্পত্য জীবন কী? অচেনা অপরিচিত দুজন নারী পুরুষের সাক্ষাৎ। শরয়ি পদ্ধতিতে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব কবুলের মাধ্যমে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। এরই মাধ্যমে শুরু হয় দাম্পত্য জীবনের সূচনা। এরপর দাম্পত্যজীবনে পরস্পর একে অপরকে চেনা, জানা। ভালো মন্দ সুখ দুঃখ উপলব্ধি করা। খুনসুটি করা এইতো!? আর এ বিষয়টি হাদিসে এসেছে এভাবে, বিখ্যাত সাহাবি হজরত জাবের রা. এর ঘটনা। তিনি সদ্য বিয়ে করেছেন। এসেছেন নবীজির কাছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেন, হে জাবের! তুমি কী বিবাহ করেছ? জবাবে জাবের রা. বললেন, জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। এবার নবীজি প্রশ্ন করলেন, কোনো কুমারী মেয়ে না বিধবা? সাহাবি জাবের রা. বললেন, বিধবা। এবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে। ‘সে তোমার সঙ্গে হাসিঠাট্টা করতো, তুমিও তার সঙ্গে হাসি-তামাশা করতে’! —সুনানে নাসায়ি এ হাদিসটি দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে ঈঙ্গিত করে। তা হলো, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক তৈরি। পারস্পরিক সৌহার্দ, সম্প্রীতি, বোঝাবুঝি এবং শ্রদ্ধাবোধের মতো বিষয়গুলোও এখানে উঠে এসেছে। তাই আমরা সংক্ষেপে বলতে পারি। বিয়ে বা দাম্পত্য জীবন হচ্ছে, স্বামী স্ত্রী একে অপরকে বুঝতে শেখা। চিনতে ও জানতে পারা। আর এজন্যই দরকার, একে অপরের সঙ্গী হওয়া। কাছাকাছি অবস্থান করা। দুজনের মধ্যে দূরত্ব না রাখা। উদাহরণত স্বামী স্ত্রী দুজন দু প্রান্তে বসবাস না করা। এমনকি ঘরেও কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করা। দূরত্ব বজায় না রাখা। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি নিদর্শন হচ্ছে, তিনি তোমাদের জন্য স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের থেকেই; যাতে করে তোমরা প্রশান্তি লাভ করতে পারো। আর তোমাদের পরস্পরের মধ্যে দিয়েছেন ভালোবাসা দয়া ও রহমত। –সুরা শূরা : ২১ এই মানসিক প্রশান্তি ও ভালোবাসা একজন মানুষ কীভাবে পাবে? যখন সে পুরুষ বা নারী হিসাবে একাকিত্ব বোধ করবেন। একে অপর থেকে দূরত্বে অবস্থান করবেন। বোঝা গেল ইসলাম নারী তথা স্ত্রী জাতি সৃষ্টির একটি কারণ উল্লেখ করেছে, তার স্বামীর মানসিক প্রশান্তির জন্য। যার মধ্যে নিহিত রয়েছে সুখ শান্তি ভালোবাসা ইত্যাদি। অবশ্যই দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে, নিম্নে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে। পরিহার যোগ্য বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে। করণীয়গুলো পালন করতে হবে। তবেই যদি সংসার হয় সুখময়। ১। স্ত্রী স্বামীকে বা স্বামী স্ত্রীকে সময় দেওয়া দেখা যায়, একই ছাদের নীচে অবস্থান করা সত্ত্বেও দুজন একত্রিত হন না। কেউবা কথা বলেন না। ঘরেও অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার হয়। কিংবা নেট ইউজ করেই টাইম শেষ করে দিচ্ছেন। অথচ কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। সময় দিচ্ছেন না। আবার এমনও হতে পারে, সংসারের কাজ করতে গিয়েও সময় হচ্ছে না। কারও অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেমন সকালের নাশতা তৈরি করা। সন্তানকে সময় দেওয়া। ঘর গোছানো। কাপড় ধোয়া। দুপুরের রান্না ইত্যাদি। এভাবেই দিন শেষে রাত। রাতের শেষে দিন। এমন সংসারে কখনো সুখ শান্তি আসতে পারে না। বরং পারস্পরিক বোরিং ফিল থেকে এমন সংসার ভেঙে যাবার সম্ভাবনাই অনেক বেশি। কাজেই দূরত্ব কমিয়ে একে অপরকে সময় দিতে হবে! ২। অতিরিক্ত খবরদারি ও নজরদারি না করা সংসারে সারাক্ষণ শাশুড়ি কিংবা মা–বোন বা ননদ ; এমন কারও খবরদারি করা। যেমন ছেলের বউয়ের পেছনে লেগে থাকা—এটা এমন কেন? এটা এভাবে না। ওটা ঐরকম ইত্যাদি আচরণ করা। আবার অতিরিক্ত নজরদারি করা। যথা, সর্বক্ষণ শাশুড়ি কর্তৃক ছেলের বউয়ের পেছনে লেগে থাকা। কথায় কাজে খোঁটা দেওয়া। যা অবশ্য নারীদের স্বভাবও বটে। ভাবীর পেছনে ভাই–বোনের গুপ্তচরবৃত্তি করা। ঘরে কোথায় কী করে? কার সাথে কথা বলে? কীভাবে কোন্ জিনিস ব্যবহার করে ইত্যাদি নজরে রাখা। এভাবে যেমন একজন নারীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়। মর্যাদায় আঘাত হানে। ব্যক্তিত্ববোধকে নষ্ট করে। তেমনি দাম্পত্যজীবনকে অশান্তিময় করে তোলে। কারণ নিজের ভালো লাগা ও পছন্দের বিষয়টি বাদ দিয়ে অন্যের অধীনস্থ হতে হয়। যা সহজেই কেউ মেনে নেয় না। বিশেষ করে নবাগত পুত্রবধূর জন্য এগুলো বড্ড কষ্টকর। এমনকি অধিকাংশ সময় হয়রানিমূলকও বটে। তাই শিক্ষিত ও সচেতন নারীরা এমন আচরণ মানবে না। ফলে এভাবে সংসারে অশান্তি তৈরি হবে। স্বামীর সঙ্গে বাড়বে দূরত্ব। এজন্য কল্যাণ কামনার উদ্দেশ্যে হলেও মা–শাশুড়ি প্রভৃতি মুরব্বিদের উচিত এভাবে কোনো নারীর প্রতি অতিরঞ্জিত খবরদারি ও নজরদারি না করা। ৩। সাজ সজ্জায় কৃপণতা না করা আজকাল অনেক নারীই স্বামীর অনুগত হতে, ঘরে সাজগোজ করতে অনীহা পোষণ করেন। এটা কোনোভাই কাম্য নয়। দেখা যায় ঘরে একেবারে সাদামাটা জীবন যাপন করছেন। কিন্তু বাইরে বের হতে হলে, সাজসজ্জায় কোনো কার্পণ্য করছেন না মোটেও। এভাবে সংসারে অশান্তি তৈরি হতে পারে। এজন্য স্বামীর পছন্দের প্রতি গুরুত্বারোপ করা জরুরি। সাজগোজ ও পরিপাটি থাকা জরুরি। অবশ্য আমাদের কর্মব্যস্ত সংসারী জীবনে নারীরা বাড়তি সাজ সজ্জার সময়ই পান না। আবার ঘরের পরিবেশও অনুকূল হয় না সবসময় সবার জন্য। তাই এ বিষয়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ৪। দায়িত্ব পালন, সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ লালন করা বিবাহিত জীবনে স্বামী স্ত্রী একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ও করণীয় কী? এটাই অনেকে বোঝেন না। একজন আদর্শ স্ত্রীর দায়িত্ব স্বামীর অনুগত হওয়া। সর্বোচ্চ স্বামীর সেবা যত্নের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা ইত্যাদি। অতীতে এ বিষয়গুলো আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত এবং চর্চা হলেও ; বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। বরং স্বামীর সেবা যত্নকে এখন দাসত্বের লেভেল লাগিয়ে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। অথচ এই নারীই বিমানবালা হয়ে পরপুরুষের জন্য শ্রম দিচ্ছেন। চাকরি সূত্রে সকল নির্দেশই মেনে চলছেন। অথচ স্বামীর প্রতি অনুগত হচ্ছেন না। স্বামীকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করছেন না। আর একজন আদর্শ স্বামীর দায়িত্ব হলো, স্ত্রীর ভরণ পোষণ সহ যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হওয়া। সাধ্যের মধ্যে স্ত্রীর দাবিগুলো পূর্ণ করা। বৈধ ও সাধ্যের আবদার পূরণে গুরুত্ব দেওয়া। এভাবেই পরস্পরের মধ্যে দায়িত্ব, সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে। বাড়বে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সম্মান ও শ্রদ্ধা। ৫। বাড়তি খরচ ও বিলাসিতা না করা অনেক নারীরই বেশি বেশি কেনাকাটা করা, নতুন নতুন ডিজাইনের গহনা শাড়ি কিংবা প্লট বা ফ্ল্যাট কেনা ও ঘোরাঘুরি ইত্যাদির অভ্যাস রয়েছে। যার অর্থ বিত্ত ও সামর্থ্য আছে তার কথা ভিন্ন। এর বিপরীতে এসব হয়ত বাড়তি খরচ নয়ত স্পষ্ট বিলাসিতা। কিন্ত এগুলোকে উল্লেখ করে অনেক নারীরা স্বামীদেরকে চাপে ফেলে দেন। মানসিক অশান্তি চাপিয়ে দেন। আর পুরুষরা ন্যায় অন্যায় পয়সার পেছনে ছুটেন। এভাবেও সংসারে অশান্তি তৈরি হতে পারে। কাজেই নারীদের উচিত এমন অন্যায় আবদার থেকে বিরত থাকা। কদিন আগেও এমন একটি সংবাদ ছেপেছিল দৈনিক পত্রিকায় যে, স্ত্রী ও মায়ের অসম্ভব আবদার পূরণ করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এক যুবক। অতএব বাড়তি খরচ ও বিলাসিতা পরিহার করতে হবে। ৬। পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ে করা আজকাল পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে খুব বেশি হয় না। দেখা যায় পূর্ব পরিচয় থেকে ছেলে মেয়েরা তার নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করছেন। অর্থাৎ পারিবারিক অসম্মতিতে নিজেরা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। এরপর বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয়ে পারস্পরিক মনোমালিন্য হতে শুরু করে। ঝগড়া ও মারামারি পর্যন্ত হয়। অভিভাবকদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নষ্ট হয়। সাধারণত দেখা যায়, এমন সংসারে কোনো মান্যতা বা ভদ্রতা থাকে না। উদাহরণত, আমি এটা পারব না। এটা আমার দায়িত্ব নয়। আমি এভাবে করতে পারব না ইত্যাদি। আর এভাবেই একসময় পরস্পরের মধ্যে ফাটল ধরে। দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় অশান্তি। ভেঙে যায় সাজানো স্বপ্নের সুখের সংসার। আবার পারিবারিক সম্মতিতে আবদ্ধ বিয়ের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এমনটি হতে পারে! ৭। ফ্রি মিক্সিং চলাফেরা না করা অনেক মেয়েরাই শৈশব কৈশোর থেকেই বন্ধু–বান্ধব ও ক্লাসমেইটদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার মধ্যে বড়ো হয়ে ওঠে। যা তার মন মগজে বসে যায়। গেঁথে যায় বন্ধুত্বর সম্পর্কগুলো। কাজেই সে বিয়ের পরও চায়, তার অতীতের ছেলে বা মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কটা কন্টিনিউ করতে। ফলে এটা তার সংসার ভাঙার জন্য একটি কারণ হয়ে ওঠে। যা কখনো একজন সচেতন মানুষ মেনে নিবে না। ফলে দাম্পত্য কলহ বিবাদ শুরু হয়। এমনকি এটা বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়। আবার দেখা যায় খালাতো মামাতো ভাই এবং অনেকে দেবরের সঙ্গেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করেন। লঙ্ঘন করেন ঘরের পর্দাপুশিদাও। যা তিলে তিলে তার সংসারকে বোরিং করে তোলে। এভাবেই বিচ্ছেদের পথ খোলা হয়ে যায়। অথচ হাদিসে এসেছে, দেবর হলো মৃত্যু তুল্য। মানে তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এজন্য সব ধরনের ফ্রি মিক্সিং পরিহার করতে হবে। ৮। শুধু অর্থ সম্পদ দেখে বিয়ে না করা আজকাল শুধু অর্থ সম্পদ ও প্রাচুর্য দেখেই অনেক নারীকে বিয়ে করা হয়। কিন্তু এরপর দেখা যায় যে, অর্থ বিত্তের অধিকারী ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে সংসার জীবন সম্পর্কে অনীহা পোষণ বা উচ্চাকাঙ্খা লালন করেন। বিভিন্ন শর্তাদি যোগ করেন। আর এভাবে একজন অল্প অর্থ সম্পদের অধিকারী কখনো এমন নারীকে বিয়ে করে সুখী হতে পারে না! কাজেই সংসারে অশান্তি ও ভাঙন হওয়াই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। অথচ হাদিসে নারীদেরকে চারটি গুণ দেখে বিয়ের কথা বলা হয়েছে। তবে ধার্মিকতাকেই আগে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত– নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নারীদেরকে চার কারণে বিবাহ করা হয়। তার মাল সম্পদ। তার বংশ গৌরব। তার সৌন্দর্য এবং তার ধার্মিকতা দেখে। তুমি ধার্মিক নারীকে বিবাহ করে ধন্য হও। ‘তোমার দু’হাত মাটিমাখা হোক।’ (অর্থাৎ বোকামি করো না, বুদ্ধির পরিচয় দাও।) –সুনানে নাসায়ি আবার উচ্চ শিক্ষাও সংসার বা দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কারণ হতে পারে। দেখা যাচ্ছে মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি। ঘটনাক্রমে কম শিক্ষিত ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হলো। এরপর ভালো কোনো উচ্চ শিক্ষিত ছেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। আবার তার সঙ্গে যোগাযোগও হয়ে গেল। তখন এই দাম্পত্যজীবন বিষাদময় হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় বিচ্ছেদের পথে হাটতে হয় এমন দম্পতিকে। কাজেই কুফু মিলিয়ে বিয়ে করা জরুরি। ৯। স্বামীর অবাধ্য না হওয়া স্বামীর অনুগত হওয়া একজন নারীর জন্য এতটাই আবশ্যক যে, হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আমি যদি কাউকে সিজদা দিতে আদেশ করতাম, তবে স্ত্রীকে বলতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে। –সুনানে তিরমিজি একইভাবে সুনানে তিরমিযির অপর এক বর্ণনায় এসেছে— রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে ডাকে, আর স্ত্রী চুলায় রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকে, তবুও সে যেন তার স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়। উপর্যুক্ত হাদিস দুটি স্বামীর আনুগত্য প্রকাশ করতে কী ধরনের আচরণ করা দরকার, তার প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করে। প্রথমত একমাত্র আল্লাহ তায়ালা হলেন, সকল ইবাদতের উপযুক্ত। আর সিজদার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্যের সুযোগ লাভ করে। সেই সিজদার কথা বলা হচ্ছে, যদি কোনো মানুষকে সিজদার অনুমতি দেওয়া হতো। তবে তার প্রাপ্য ছিল স্বামী। এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে, স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ কেমন হওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত, রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলে স্বভাবতই অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এতে নিশ্চিত রান্নার ক্ষতি হবে। এমনকি আগুনে বড়ো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, স্বামীর অনুগত হবার বিষয়টিই বরং এখানে মুখ্য। কাজেই নারীদের উচিত স্বামীর প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য করা, কোনো রকম অবাধ্য না হওয়া। যাতে করে স্বামীর অসন্তোষ এবং দাম্পত্য কলহ তৈরির সুযোগ না ঘটে। ১০। অন্য কোনো নারী বা পুরুষে আসক্ত না হওয়া মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মতৎপরতা এতই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, স্বামী স্ত্রী একে অপরকে সময় দিতে অক্ষম হচ্ছেন। দুজন দু প্রান্তে বসবাস করতে হচ্ছে। যথাসময়ে দেখা সাক্ষাৎ হচ্ছে না। কথা হচ্ছে না। কিংবা কর্মজীবী হিসাবে একত্র হবার সুযোগ কম। আবার কর্মস্থলে পর নারী বা পুরুষের সঙ্গে উঠবস করা ও অবাধ মেলামেশার অভ্যাস গড়ে তোলা। ফলে পরকীয়া আসক্ত হয়ে অবৈধ সম্পর্ককে উপভোগ করা। এভাবেই বৈধ দাম্পত্য জীবন বিষাদময় হয়ে ওঠে। সুখের সংসারে নেমে আসে অশান্তির দাবানল। এজন্য স্বামী স্ত্রী একত্রে থাকার ব্যবস্থা করা জরুরি। যাতে একে অপরের সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ বা দিনের বেশি সংখ্যক সময় পার করা যায়। ১১। একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষা না করা কুরআনে (সামর্থ্যবান সক্ষম পুরুষের জন্য শরয়ি নিয়ম নীতি পালন সাপেক্ষে) সর্বোচ্চ চারজন নারীকে বিয়ে করার অনুমতি আছে একজন পুরুষের জন্য। –সুরা নিসা : ০৩ এক্ষেত্রে সকলের সঙ্গে ইনসাফ তথা সমতা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য এটি কঠিন কাজ বলেও অভিহিত করা হয়েছে কুরআনে। কাজেই একাধিক স্ত্রীর ভরণ পোষণ ইত্যাদি খরচ বহন করা যেমন জরুরি। তেমনি এসব বিষয়ে সমতা রক্ষাও জরুরি। দেখা যায়, অনেকেই একাধিক বিয়ে করে স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষায় ব্যর্থ হন। আর এখান থেকেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। মারামারি ঝগড়াঝাটি ইত্যাদি। এজন্য সুখী দাম্পত্য জীবন যাপনে এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক। ১২। অর্থ সম্পদ ও প্রাচুর্যের আকাঙ্খা না করা অনেকেই অর্থ সম্পদ প্রাচুর্যের আকাঙ্খায় বিয়ে করেন। বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে এটা ওটা চাহিদা দাবি দাওয়া শুরু করেন। ঘর সাজানো থেকে শুরু হয়। এভাবে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করাও একটি সংসার জীবনে অশান্তি তৈরির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। এজন্য এ জাতীয় মন মানসিকতা দূর করতে হবে। অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ ভোগ দখলের মতো হীন মানসিকতা বাদ দিতে হবে। তবেই যদি সংসার জীবনে আসে সুখ। দাম্পত্য জীবন হয় সুখময়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, কীভাবে সংসার জীবনে সুখী হওয়া যায়। এর বাইরেও আরও বিভিন্ন বিষয় থাকতে পারে। যে বিষয়গুলো চললে, দাম্পত্য জীবন যাপন হতে পারে সুখ ও শান্তিতে সমৃদ্ধ। আমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য জীবন হোক অনাবিল সুখময় এই কামনা করছি আল্লাহর কাছে। আমিন। লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) == ইসলামে কোনো বৈরাগ্য নেই! == বৈরাগী বা বৈরাগ্য হচ্ছে, সংসারে অনাসক্তি বা উদাসীনতা। সংসার জীবন ছেড়ে উদাসী জীবন যাপন করা। অর্থাৎ, বিয়ে স্ত্রী সন্তান পরিবার ও সংসার ত্যাগ করে; দূরে বা নিকটে কোথাও সন্ন্যাসী জীবন যাপন করা। কখনো পাগলের বেশ ধারণ করে নিজেকে দুনিয়া বিমুখ বলে পরিচয় করানো। কিংবা পোশাক পরিচ্ছদে পাগলের বেশ ধরা। তবে বাস্তবে পাগল বা উন্মাদ না হয়ে, পয়সা কামাবার ধান্দায়ও অনেকে এসব করে থাকেন। কখনো কোনো মাজারে বা পীরের দরবার বা আস্তানায় পড়ে থাকেন। নামাজ রোজা প্রভৃতি ধর্ম পালন থেকে বিরত থেকে, এভাবে নিজেকে সাধু সন্ন্যাসী ও তপস্বী জ্ঞান করা। আর এমন সংসার ত্যাগী জীবনকেই সাধনা মনে করা, পুণ্য জ্ঞান করা। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ইসলাম এমন জাযাবর জীবন যাপন; এসবের কোনোটাই সমর্থন করে না। ইসলাম একটি জীবন্ত ধর্ম। যার প্রতিটি কর্মই প্রাণবন্ত, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল এবং অর্থবহ। সুস্থ ও সুন্দর জীবনাচার গড়তে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের বিকল্প নেই। এজন্যই ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। শ্বাশত যার প্রতিটি বিধিনিষেধ। ইসলামে পরিবারের গুরুত্ব পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তাঁর অন্যতম নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হচ্ছে যে, তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন তোমাদের স্ত্রীদেরকে তোমাদের মধ্য থেকে। যাতে তোমরা স্ত্রীদের (সান্নিধ্য) থেকে প্রশান্তি লাভ করতে পারো। তিনি তোমাদের তোমাদের পরস্পরের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন পরস্পর দয়া মায়া ও ভালোবাসা। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন। –সুরা রুম : ২১ হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা, হজরত উসমান ইবনে মাজউন রা.-এর স্ত্রী খাওলা বিনতে হাকিম রা. হজরত আয়েশা রা.-এর কাছে আসা-যাওয়া করতেন। একবার তিনি খুব অপছন্দনীয় অবস্থায় এলেন। তখন হজরত আয়েশা রা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন- এ কেমন অবস্থা নিজের?’ জবাবে তিনি বললেন, ‘আমার স্বামী রাতভর ইবাদত-বন্দেগি করেন। সারাদিন রোজা রাখেন। তবে আমি কার জন্য সাজগোজ করবো?’ তখনই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আয়েশা রা.-এর ঘরে এলেন। হজরত আয়েশা রা. ঘটনাটি খুলে বললেন। তাৎক্ষণিক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত উসমান ইবনে মাজউন রা.-এর কাছে গেলেন। বললেন, ‘ইসলাম–ধর্মে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা আমাদের জন্য শরিয়তসম্মত নয়। তোমার জন্য কী আমার আদর্শে ধর্মের কোনো নমুনা নেই? খোদার কসম, আমি তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় পাই। আর তার সীমারেখাকে সবচেয়ে বেশি সংরক্ষণকারীও আমিই।’ –মুসনাদে আহমদ অর্থাৎ, হজরত উসমান ইবনে মাজউন রা. এরকম সংসার ত্যাগ করা রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করলেন না। আরেকটি বর্ণনা থেকে এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট বুঝে আসবে। সাহাবি হজরত আনাস রা. -সূত্রে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার জন্য তিন ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের ঘরে এলেন। যখন তাদেরকে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদত সম্পর্কে বলা হলো, তখন তারা এটাকে খুব সাধারণ মনে করলো। তারা পরস্পর বলতে লাগলো, ‘ইবাদত-বন্দেগিতে আমরা কোথায়? আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায়? তাঁর অতীত-বর্তমান সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর ইবাদত কম হবার ফলে তাঁর মর্যাদা তো কমে যাবে না।’ তাদের মধ্য হতে একজন বললো— ‘আমি তো ভাবছি, আজ থেকে সর্বদাই রাতভর নামাজ পড়তে থাকবো।’ আরেকজন বললো, ‘আমি সর্বদাই রোজা রাখবো। কখনও রোজা ছাড়বো না।’ তৃতীয় আরেকজন বললো’ ‘আমি আজ থেকে স্ত্রীলোকদেরকে এড়িয়ে চলবো। কখনও বিয়ে-শাদি করবো না।’ তখনই রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পড়লেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,‘তোমরা কী এমন এমন কথা বলছিলে? অথচ আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি তো তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় করি, সবচেয়ে বেশি তাকওয়া-পরহেজগারি অবলম্বন করি; কিন্তু আমি তো কখনও নফল রোজা রাখি, কখনও ছেড়ে দিই। কখনও সারারাত নামাজ আদায় জরি, কখনও ঘুমাই। আর আমি তো নারীদেরকে বিয়েও করেছি। সুতরাং, যে আমার এই পন্থার উল্টো করলো, সে আমার আদর্শভুক্ত নয়।’ –সহিহ বুখারি উপর্যুক্ত বর্ণনা দুটি থেকে স্পষ্ট বুঝে আসে যে, সংসার ত্যাগ করে শুধু ইবাদত পালন করলেই হবে না। বরং এগুলোর মধ্যেও মধ্যপন্থা অবলম্বন করা জরুরি। কাজেই, বিয়ে–শাদি করা। স্ত্রী সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে বসবাস করা। তাদের ভরণ পোষণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমনকি সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করাও জরুরি। পরিবার ও সমাজবদ্ধ জীবন যাপন জরুরি আধুনিক গবেষণা এটি প্রমাণ করেছে, পারিবারিক জীবন যাপন মানসিক প্রশান্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম। পরিবার ও সমাজ ছাড়া সুস্থ মানুষ জীবন যাপন করতে পারে না। আর যেখানে ইবাদতের ক্ষেত্রেই বৈরাগ্য সমর্থন করে না ইসলাম। সেখানে সমাজের মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে, ভবঘুরে হয়ে ঘোরাঘুরি করা। পরিবার থেকে উদাসীন থাকা। স্ত্রী সন্তান, মা-বাবা সব ফেলে দূরে চলে যাওয়া। কখনো পাগলের বেশ ধারণ করে বৈরাগী জীবন যাপন করা। আবার এলোমেলো চুলে বাবরি। লম্বা গোঁফ মোচে একাকার চেহারা। নেই কোনো যত্ন। দীর্ঘদিন নেই কোনো অজু গোসলও। গায়ে মোটা কাপড় জড়িয়ে, সারাক্ষণ সাদা-কালো ইত্যাদি রঙের পোশাক পরা। এগুলো সুস্থ ও সুরুচি বোধ সম্পন্ন কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। এগুলো কোনো লাইফস্টাইলও হতে পারে না। বরং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা। নখ চুল দাড়ি ইত্যাদি পরিপাটি করে রাখাই সুস্থ রুচির পরিচয় বহন করে। সহি বুখারির বর্ণনায়ও এসেছে, পবিত্রতা তথা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক। তাই বৈরাগী জীবন যাপনে যারা এমন অদ্ভুত আচরণ স্টাইল করেন। তারা আর যাই হোক, সুস্থ সুরুচি সম্পন্ন মানুষ হতে পারেন না। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত, কর্মঠ ও সংসারী হওয়া। শুধু ইবাদত পালনের মধ্যেও সীমাবদ্ধ না থাকা। আবার ইবাদত ছেড়ে সন্ন্যাসী জীবন যাপনও পরিহার করা উচিত। সব বিষয়ে মধ্যপন্থা হচ্ছে উত্তম পন্থা। সুতরাং, মানুষ হিসেবে সামাজিকভাবে সমাজ নিয়ে বসবাস করা। সমাজচ্যুত হয়ে, ভবঘুরে ফকিরের বেশে ঘোরাঘুরি না করা। কারও কাছে ভিখারির মতো হাত না পাতাই কাম্য। মনে রাখা দরকার, ইসলাম বৈরাগ্যবাদ বা ভিক্ষাবৃত্তিকে অপছন্দ করে। কখনো এসবকে প্রশ্রয় দেয় না। এজন্য কর্মও যেমন জরুরি। তেমনি একাকিত্ব দূর করে বৈবাহিক সম্পর্ক তথা দাম্পত্য জীবন যাপনের মাধ্যমে জীবনকে উপভোগ করাও আবশ্যক। তবেই যদি জীবনে আসে পূর্ণতা। সংসার হয় উপভোগের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এজন্যই বিয়ে স্ত্রী সন্তান পরিবার ও সংসার জীবন যাপন করা জরুরি। বৈরাগী জীবন যাপন নয়! লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:৪৪, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) == আদীবাসী ইস্যু ও আরেকটি পূর্বতীমুর == গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা অতি সম্প্রতি জানতে পেরেছি যে, আদীবাসী আন্দোলনের একটি ঢেউ বয়ে গেছে এদেশে। আর ছাত্র–জনতার গণউত্থানে ফ্যাসিস্ট শক্তি পলায়নের পর বহু আন্দোলনের স্বরূপ ইতোমধ্যে আমাদের দেখা হয়ে গেছে। এমনকি সর্বশেষ তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর কেন্দ্রিক আন্দোলনেও জল কম ঘোলা হয়নি। গণমাধ্যমের ভাষ্য মতে, এতেও ঘি ঢেলেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এখন একটি মহল নিজেদেরকে আদিবাসী গোষ্ঠী বলে দাবি করলেও; সত্যিকারার্থে তারা উপজাতি সম্প্রদায়। বিভিন্ন চুক্তি ও দলিলপত্রও তাই বলে। যেমন ১৯৬২-র পাকিস্তান সরকার পার্বত্য অঞ্চলগুলোকে উপজাতি এলাকা হিসাবে উল্লেখ করেছে। ১৯৯৭–র শান্তিচুক্তিতেও আদিবাসী শব্দের উল্লেখ নেই। তবে ২০০০ খ্রিস্টাব্দে এসে এই আদিবাসী গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশের এবং এই আন্দোলনের রহস্যটা কী? সাম্য সৌহার্দ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশে যারা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সীমান্তে অবস্থান করে এখন আদিবাসী আন্দোলন করছেন। তারা মূলত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা ও দাঙ্গার পথকে উস্কে দিচ্ছেন। নিজেদেরকে আদিবাসী বলার অপচেষ্টা করছেন। নিজদের গোড়া মজবুত করার লক্ষ্যে, নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করে সীমান্তের 'ভূমিপুত্র' হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। যাতে ঐ অঞ্চলগুলো তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এটি হতে পারে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠারও একটি হীন প্রচেষ্টা! নয়ত এর মধ্যে লুকিয়ে আছে নয়া পূর্বতীমুরের পদধ্বনি। কারণ অতীতে আমরা জেনেছি, পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে একটি জুমল্যান্ড গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র চলছে। তবে জুমল্যান্ড ভিশন বাস্তবায়নই কী আদীবাসী আন্দোলনের রহস্য? ২০০০ সাল থেকে যারা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করছেন। বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতিরা। এমনকি তারা বিশ্ব আদীবাসী দিবসও পালন করছেন। তাদের অধিকাংশের ধর্মীয় পরিচয়টাও আমাদের জানা জরুরি। তারা আদিবাসী কার্ড ইস্যু করে, অদূর ভবিষ্যতে একটি জুমল্যান্ডের পরিকল্পনা করছেন না তো? বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আমাদেরকে এ কথা স্মরণ রাখতে হবে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে আগত উপজাতিরা আদীবাসী নয় কখনও। এটি যেমন নৃতাত্ত্বিকভাবে প্রমাণিত, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। বিভিন্ন সময় বিতাড়িত হয়ে রাজনৈতিক কারণে তারা ( উপজাতিরা) বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে বসবাস করছেন। সময় বদলেছে, একসময় অস্ত্রের মুখে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ক্ষমতা দখল করা গেলেও। এখন সাংস্কৃতিক বিপ্লব বা আগ্রাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি দাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধোঁয়া তুলে কৌশলে দখলদারত্বের সুযোগ করে নেওয়া হচ্ছে। তাই আজ বলা হচ্ছে, আদীবাসী। কাল তারা চাইবে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা। এরপর পরশু চাইবে ভূমিপুত্র হিসাবে ন্যায্য হিস্যা। এভাবেই তৈরি হবে একটি নয়া পূর্বতীমুর কিংবা জুমল্যান্ড। কারণ, অতীত আমাদেরকে এমন কিছুরই বারতা দেয়। ২০১১–র এপ্রিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি পর্যালোচনা বৈঠকে তৎকালীন সেনাসদরের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন— 'দেশি বিদেশি এনজিওগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামকে আরও একটি পূর্বতীমুর বানানোর তৎপরতা চালাচ্ছে'। এ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা অস্ত্রের পরিবর্তে আদীবাসী আন্দোলনের ফাঁদে পা দিলেই, বিনা রক্তপ্রবাহে গঠিত হবে আরেকটি নয়া পূর্বতীমুর। আর আদীবাসীদেরকে দিতে হবে সর্বোচ্চ সুযোগ–সুবিধাও। এই সুযোগে তারা উদ্দেশ্য হাসিল করতে সক্ষম হবেন। যেমনটি অক্ষম হয়েছেন ভারতীয় বাঙালি মুসলিমরা। কারণ, তাদেরকে বাঙালি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না এই বলে যে, তখন তাদেরকেও অতিরিক্ত বা সমান ভারতীয় বাঙালিত্বের সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। যেমনটা সনাতনী বাঙালি নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:৪৭, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) == স্ক্যান্ডাল ছড়ানো থেকে বিরত থাকা! == ই স্ক্যান্ডাল একটি ইংরেজি শব্দ। গুগল–অভিধানে স্ক্যান্ডাল অর্থে যা লেখা হয়েছে— আমরা নিম্নে তা উল্লেখ করছি। "নিন্দাজনক কোনো কাজ বা ঘটনার খবর, কেলেঙ্কারির খবর। ব্যাপক ঘৃণা ও ক্ষোভ এবং যেসব কাজ, আচরণ ইত্যাদি তা সৃষ্টি করে; নির্লজ্জ বা লজ্জাকর কাজ।" এ ছাড়া আরও বলা হয়েছে– 'ক্ষতিকর গুজব; অসতর্ক রূঢ় কথাবার্তা যা কারো সুখ্যাতি নষ্ট করে; কুৎসা; অপবাদ; কলঙ্ক; অপযশ। অকীর্তিকর; কলঙ্ককর; লজ্জাজনক। কুৎসামূলক' ইত্যাদি। মোট কথা, স্ক্যান্ডাল বলতে বোঝায়, যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ বা আপত্তি তোলা। যাতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইজ্জত সম্মান নষ্ট হয়। ইমেজ নষ্ট হয়। ভিকটিমকে ক্ষতিগ্রস্থ করাই মূলত উদ্দেশ্য। আর যদি বাস্তবেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষে দুষ্ট হন। অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এমন অন্যায় আচরণের শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এজন্য আইন ও গোয়েন্দা সংস্থা এসব নিয়ে কাজ করবেন। কিন্তু জনসম্মুখে এসব তথ্য বলা, সংবাদ প্রচার করা থেকে বিরত থাকবেন। এ ছাড়া শাস্তি প্রয়োগ করতে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। ব্যক্তির স্ক্যান্ডাল শুধু জনসম্মুখ থেকে আড়াল করা হবে। যাতে তার মান সম্মান ইজ্জত নষ্ট না হয়। আর এক্ষেত্রে আধুনিক ইসলামিক স্কলারগণের সুচিন্তিত অপিনিয়ন ফলো করাই অধিক যুক্ত সঙ্গত বলে মনে করি। এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে অন্যায় কথা; অসত্য কথা, বিকৃত তথ্য, হিংসা–বিদ্বেষ ও সম্মানহানির কথা প্রচারিত হচ্ছে, এগুলো শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত নিন্দনীয় জঘন্য কাজ। মন্দ কাজ। আর যে কেউ মন্দকাজ নিয়ে উপস্থিত হবে তাকে অধোমুখে (জাহান্নামের) অাগুনে নিক্ষেপ করা হবে (এবং তাদেরকে বলা হবে), তোমরা যা করতে; কেবল তারই প্রতিফল তোমরা ভোগ করবে।– নামল : ৯৩ উপর্যুক্ত আয়াতের অর্থ স্পষ্ট যে, প্রত্যেক ব্যক্তির মন্দ আচরণের কারণে প্রত্যেককেই তার প্রতিফল ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ, মন্দ কাজের প্রতিফল মন্দ হবে। উপযুক্ত শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে ইসলামের সৌন্দর্য ও আদর্শ কত সুন্দর। লক্ষ করুন! কোনো মানুষের দোষ ত্রুটি প্রকাশ না করা। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। যা বর্তমানে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, পাপকে ঘৃণা করো। পাপীকে নয়! অতএব, মন্দ কাজকে আমরা ঘৃণা করব। কিন্তু পাপীকে হেয় অবজ্ঞা তুচ্ছ করব না। বরং তার মন্দ কাজ ও পাপকে গোপন করে রাখব। এটাই ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত— রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। —সহি মুসলিম সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— দুনিয়াতে যে লোক তার কোনো ভাইয়ের একটি বিপদ দূর করবে, কিয়ামতের দিবসে আল্লাহ তায়ালা তার একটি বিপদ দূর করবেন। আর যে লোক কোনো মুসলমানের দোষ -ক্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তায়ালা ইহকালে ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীর কষ্ট দূর করবে, ইহকালে ও পরকালে তার কষ্ট আল্লাহ তায়ালা দূর করবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা বান্দার সহায়তা করতে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার কোনো ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে। –সুনানে তিরমিজি সুনানে আবু দাউদেও বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজন পূর্ণ করবেন। একইভাবে যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিনে তার বিপদ দূর করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তার দোষ গোপন রাখবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সকল মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন করে ; তাদের ইজ্জত সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার তাওফিক দান করুন। লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৬:০১, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) == মানব কল্যাণই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত == মানব কল্যাণের জন্য আমাদের সমাজে প্রচুর মানব কল্যাণ, মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থা রয়েছে। যেগুলো জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানবজাতির সমূহ কল্যাণে কাজ করে চলছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক সংগঠন ইতোমধ্যে বিদেশেও কাজ করছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। কল্যাণ এবং পুণ্য কাজের কথা পবিত্র কুরআনে বারবার এসেছে। সুরা মায়িদার দু নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কল্যাণ ও খোদাভীতির কাজে একে অপরের সহযোগী হও। তবে মানব কল্যাণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অনেক বেশি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদেরকে মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে"। সুরা আলে ইমরান :১১০ আর অবশ্যই কেউ যদি কোনো উত্তম কাজ করে, তবে সে এর বিনিময় অবশ্যই পাবে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘তোমরা নিজেদের জন্য উত্তম যাই অগ্রিম পাঠাবে, আল্লাহর কাছে গিয়ে তোমরা তা বিদ্যমান পাবে। সুরা মুয্‌যাম্মিল :২০ শুধু মানুষের কল্যাণ বা সাহায্যই নয়। বরং কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে জান্নাতের ঘোষণা এসেছে। ক্ষমার কথা বর্ণিত হয়েছে। আবার এক বিড়ালকে খাবার না দিয়ে কষ্ট দেওয়ার জন্য জাহান্নামে যাওয়ার কথাও এসেছে। নিম্নে আমরা এ বিষয়ে দুটোর বর্ণনা উল্লেখ করছি। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জনৈক ব্যক্তি একটি কুকুরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ভিজা মাটি চাটতে দেখতে পেয়ে তার মোজা নিল এবং কুকুরটির জন্য কুয়া হতে পানি এনে দিতে লাগল; যতক্ষণ না সে তার তৃষ্ণা মিটাল। আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময় দান করলেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন। –সহিহ বুখারি : ১৭৩ ‎ আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের নামাজ আদায় করলেন। তারপর বললেন, জাহান্নামকে আমার নিকটবর্তী করা হলে আমি বললাম, হে রব! আমিও কি এই জাহান্নামীর সাথী হবো? এমতাবস্থায় একজন মহিলা আমার নজরে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন, বিড়াল তাকে (ঐ মহিলাকে) খামছাচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলার কী হলো? ফেরেশতারা জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল, যার কারণে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়। –সহিহ বুখারি : ২৩৬৪ তবে এখন যারা নিয়মিত কুকুর বিড়াল পালনকে শখে পরিণত করছেন। কোলে নিয়ে সন্তানের মতো আদর যত্ম করছেন। অর্থ খরচ করছেন। তাদের এসব কী একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না? এমনকি এসব এক ধরনের বিলাসিতাও বটে। এখন যদি কেউ যুক্তি দিয়ে বলেন, কুকুর বিড়াল পালন দোষনীয় নয়। শরীয়তে ঘৃণিত বা নাপাক নয়; বরং কুকর বিড়ালের সেবা যত্ম করা পুণ্যের কাজ। তবে এগুলো মানব স্বভাব প্রকৃতির সঙ্গে কখনোই মানানসই হবে না এবং সঙ্গতিপূর্ণও নয়! তবে মানুষের সেবা যত্ন সাহায্য সহযোগিতা করা এবং সহযোগী হওয়া কী কম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত? আজকাল খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আশপাশের অনেকেই ছোট কি বড়ো, নারী কি পুরুষ ; এমনকি শিশুরাও কুকুর বিড়াল নিয়ে খেলায় মেতে উঠছে। কেউবা কোলে কাঁধে তুলে নিচ্ছে। চুমু খাচ্ছে। তবে এসব অনেকটা অদ্ভুত আচরণ বলে মনে হচ্ছে। যা ইদানীং অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। হয়ত অনেকের সন্তান নেই। তারাও কেউ কেউ কুকুর বিড়ালকে সন্তানের মতো আদর যত্ন করছেন। খাবার দাবার দিচ্ছেন। শখে পোশাক পরাচ্ছেন। আবার নামও রাখা হচ্ছে। এভাবে কুকুর বিড়াল নিয়ে সর্বদা লেগে থাকা, কখনো ভালো কাজ হতে পারে না। আবার এগুলোকে খুব ঘেঁষাঘেষির সুযোগ দেওয়াটাও উচিত নয়। নাপাক থেকে বিরত থাকার জন্য দূরত্ব রেখে চলাই জরুরি। আমাদের সামর্থ্যবানদের কর্তব্য মানব কল্যাণে এগিয়ে আসা। মানব কল্যাণে কাজ করা এখন অনেক জরুরি। অসহায় আর্ত মানুষদের সেবা যত্ন করা, সাহায্যে এগিয়ে আসাই কল্যাণের কাজ। বহু মানুষ গৃহ ছাড়া। ফুটপাথে যাদের জীবন যাপন। পথশিশু কিশোর-কিশোরীর সংখ্যাও কম না। সমাজে এতিম গরিব অসহায় মানুষের সেবাও মহান পুণ্যের কাজ। এমনকি জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যমও বটে। সহি মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে — বিখ্যাত সসহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিনে বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমার খোঁজ-খবর রাখোনি। সে বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি কী করে আপনার খোঁজ-খবর করবো, অথচ আপনি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, আর তুমি তার সেবা করোনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি তার সেবা-শুশ্রুষা করলে তার কাছেই আমাকে পেতে। হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়োছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে খেতে দাওনি। সে (বান্দা) বলবে, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমি কি করে আপনাকে আহার করাতে পারি! আপনি তো সারা জাহানের প্রতিপালক। তিনি (আল্লাহ) বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে আহার চেয়েছিল? তুমি তাকে খেতে দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে আহার করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে। হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। সে (বান্দা) বলবে, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমি কী করে আপনাকে পান করাব, অথচ আপনি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাওনি। যদি তুমি তাকে পান করাতে, তবে তা আমার কাছে পেতে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, পশু–প্রাণীর সেবা ও সাহায্য করাও ভালো কাজ। তবে এসবকে রীতিমতো পোষা– পালতে থাকা। এজন্য অর্থ সময় শ্রম ব্যয় করতে থাকা উচিত হবে না। এজন্য পশু পালনে চাই আরও বেশি সতর্কতা ও সচেতনতা। এর চেয়ে বরং মানব কল্যাণে সুবিধা বঞ্চিত অসহায় আর্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসাই হতে পারে উত্তম মানব কল্যাণ। আর নিঃসন্দেহে মানব কল্যাণ হচ্ছে, ইবাদত এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ০১:৪১, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) == মীযান মুহাম্মদ হাসান == মীযান মুহাম্মদ হাসান একজন বাংলাদেশী লেখক এবং কলামিস্ট, যিনি মূলত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সমসাময়িক এবং ধর্মীয় বিষয়ে নিবন্ধ লিখে থাকেন [১.১.১, ১.১.৩]। তার সম্পর্কে কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য নিচে দেওয়া হলো: পেশা ও অবদান: তিনি দৈনিক ইত্তেফাক, সময়ের আলো, এবং বার্তা২৪-এর মতো গণমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন [১.১.১, ১.১.৩, ১.১.৪]। আলোচ্য বিষয়: তার লেখায় প্রধানত প্যারেন্টিং (সন্তান লালন-পালন), ইসলামী জীবনবিধান এবং সামাজিক সচেতনতামূলক বিষয়গুলো প্রাধান্য পায় [১.১.১, ১.১.৩]। উল্লেখযোগ্য লেখা: প্যারেন্টিং: অভিভাবকের দায়িত্ব (দৈনিক ইত্তেফাক) [১.১.৩]। ইসলামের দৃষ্টিকোণে ট্রান্সজেন্ডার (বার্তা২৪) [১.১.১]। উল্লেখ্য যে, ইন্টারনেটে একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন, তবে উল্লিখিত পরিচয়টি সমসাময়িক লেখক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১০:১০, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :মীযান মুহাম্মদ হাসান একজন বাংলাদেশী প্রখ্যাত আলেম, লেখক ও কলামিস্ট [১২.১]। তিনি দৈনিক পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালে নিয়মিত ইসলাম ও সমাজ সচেতনতামূলক কলাম লেখেন [১২.১]। তিনি রাজধানীর অদূরে গাজীপুর সদরের ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন [১২.২, ১২.৪]। [https://barta24.com/details/islam :তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য: :১. পেশা ও পরিচিতি: :* তিনি পেশায় একজন মাদরাসা শিক্ষক, সম্মানিত খতিব এবং ইসলামি স্কলার [১২.২, ১২.৩]। :* সমসাময়িক নানা বিষয়ে তার লেখনী [১২.১], বিশেষ করে প্যারেন্টিং বা সন্তান লালন-পালন, শরীয়াহ আইন, ইসলামি জীবন বিধান এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান ব্যাপকভাবে সমাদৃত [১২.১, ১২.৩, ১২.৭]। :২. জনপ্রিয় প্রকাশনা ও কলাম: :* তিনি নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ লেখেন [১২.১]। :* তার উল্লেখযোগ্য লেখার মধ্যে— দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত "প্যারেন্টিং: অভিভাবকের দায়িত্ব" এবং বার্তা২৪-এ "ইসলামের দৃষ্টিকোণে ট্রান্সজেন্ডার" অন্যতম [১২.১, ১২.৪]। :* সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দৈনিক সময়ের আলো [১.১.২], দৈনিক নয়া দিগন্ত [০.৫.৩] ও খবরের কাগজে [১.১.৬, ১২.৩] নিয়মিত কলাম লিখছেন। এ ছাড়াও তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবেও তার বিভিন্নবিষয়ে বক্তব্য বা আলোচনা রয়েছে। [[https://www.shomoyeralo.com/topic/%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6%20%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A8 1], [https://www.alokitobangladesh.com/print-edition/civilization-and-culture/313659/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0 2]] :৩. ইসলামের প্রচার ও সমাজসেবা: :* বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও আলোচনায় তিনি সমাজ সংস্কার, মাদকের কুফল এবং পীর-মাশায়েখদের সঠিক সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আলোকপাত করে থাকেন [১.১.৬, ১২.৭]। :* মাজারে সেজদা করা বা কবরে ইবাদত করার মতো ভুল ধারণা বা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি শরীয়াহ ভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন [১২.২]। :[[ব্যবহারকারী:মীযান মুহাম্মদ হাসান|মীযান মুহাম্মদ হাসান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মীযান মুহাম্মদ হাসান|আলাপ]]) ০৬:৫৬, ৭ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == ভাষা হোক মার্জিত! == ভাষা হোক মার্জিত! মীযান মুহাম্মদ হাসান জনশ্রুতি আছে, কথায় মানুষ হাতি পায়; কথায় মানুষ হাতির পায়। অর্থাৎ, কখনো কোনো একটি শব্দ বা বাক্য কিংবা একটি কথাই হতে পারে, হাতির মতো দামি মূল্যবান সম্পদ। কেননা প্রবাদে বলা হয়, হাতি মরলেও লাখ টাকা। বাঁচলেও লাখ টাকা। এজন্য হাতি পাওয়া যেমন ভাগ্যের। তেমনি হাতির পায়ে পিষ্ট হওয়া দুর্ভাগ্যের। কারণ এতে মৃত্যু নিশ্চিত! তাই যে কোনো কথা বলতে, সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। হুটহাট শব্দ একটি বলে দিলাম। কিন্তু তার অর্থ মর্ম নিয়ে ভাবার সময় হলো না। তবে এটি নিশ্চিত কাউকে অপমান অপদস্থ করার নামান্তর। নিজের আত্মসম্মান ও ব্যক্তিত্ব নষ্টেরও কারণ। এজন্যই আমাদের প্রত্যেকেরই কথা বলার ভাষা হওয়া দরকার সুন্দর ও শালীন। অশালীন ও অমার্জিত ভঙ্গিতে কথা বলা কাম্য নয় কখনোই! আজকাল রাগ করে, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে; কিংবা বিপরীত মতাদর্শের অনুসারীদেরকে আমরা যাচ্ছে তাই গালিগালাজ করি। বিভিন্ন অশালীন কথা বলি। অশালীন অঙ্গভঙ্গিও করে থাকি। এমনকি যাকে তাকে কাফের বলতেও দ্বিধা করি না। আবার কোনো বিষয়বস্তুর মতভেদ। কিংবা ঐতিহাসিক তথ্যকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে কুরআন সুন্নাহ অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হন না অনেকে। ব্যবহার করেন অশালীন অশ্রাব্য ভাষাও। এজন্য আমাদের কথা বলার ভাষা, বক্তব্য এবং উপস্থাপনাও হওয়া দরকার সুন্দর শালীন ও মার্জিত। শুধু গালি ছুড়ে বা অশালীন কটুক্তি করেই সন্তুষ্ট হতে পারেন না অনেকে। অযথা কাউকে আবার কাফেরও বলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো নফল বা মুস্তাহাব বিষয়কে ফরজের মর্যাদা দিয়ে কোনো মুসলমানকে পর্যন্ত কাফের বলা হচ্ছে। গালি ছোড়া হচ্ছে। সমালোচনা করা হচ্ছে। অথচ, যার সমালোচনা করা হচ্ছে; যাকে নিন্দা তিরস্কার প্রভৃতি কটূবাণে জর্জরিত করা হচ্ছে — বহুক্ষেত্রে সমালোচক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দল তার ছাত্র–শিষ্য হবারও যোগ্য নন। এভাবে কথা বলায়, সমালোচনা করায় আমরা দিন দিন কেন এত বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছি? আর অমার্জিত অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা হচ্ছে! অথচ কোনো মানুষকে গালাগালি করা সামাজিকভাবেও বড় অন্যায় এবং ইসলামেও ফাসেকি তথা পাপকাজ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ উল্লেখ করেছেন। আর এটিও বলা হচ্ছে, এমন লোকদের সম্পর্কে যারা বিধর্মী। হ্যাঁ, যারা আল্লাহর দাসত্ব করে না। আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয় না এবং কোনো ইবাদতও করে না। ‘আর তোমরা তাদেরকে গালমন্দ করো না, আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তারা ডাকে। ফলে তারা গালমন্দ করবে আল্লাহকে, ( নিজেদের জেদ বা ক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য) শত্রুতা পোষণ করে অজ্ঞতাবশত। এভাবেই আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য তাদের কর্মগুলো শোভিত করে দিয়েছি। তারপর তাদের রবের কাছেই হবে তাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তিনি জানিয়ে দিবেন তাদেরকে, যা তারা করত। -সুরা আনআম :১০৮ এই আয়াতে যেখানে অমুসলিমকে গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে। সেখানে মুসলমানদেরকে গালি দেওয়া। অশালীন ভাষা প্রয়োগ করে কাউকে হেয় তুচ্ছ করা, মানহানি বা অপমান করা কীভাবে সিদ্ধ হতে পারে? সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণনা– নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি–পাপকাজ এবং হত্যা করা কুফরি। –সহি বুখারি একইভাবে হাদিসে কোনো মানুষকে পাপী বা কাফের বলতেও নিষেধ করা হয়েছে। সাহাবি হজরত আবু জর রা. থেকে বর্ণনা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে পাপী বলে অপবাদ দেবে না। এমনকি কাফের বলেও দুর্নাম করবে না। যদি সে ব্যক্তি এমন না হয়, (অর্থাৎ যাকে গালি বা অপবাদ দেওয়া হয়েছে,) তবে এ বাক্যটি তার (তথা গালিদাতার) দিকেই ফিরে যাবে। –সহি বুখারি উপর্যুক্ত এ বর্ণনাটি প্রমাণ করে, কাউকে অন্যায়ভাবে কাফের বলা কত বড় মারাত্মক অন্যায়। যা প্রকারান্তরে নিজের ওপর কুফরির হুকুম আরোপ করার নামান্তর। অর্থাৎ, কাউকে অন্যায়ভাবে বিনা কারণে অহেতুক কাফের বলা, নিজেকেই কাফের হিসাবে গণ্য করা। কাজেই সুস্পষ্ট শরয়ি বর্ণনা এবং প্রকাশ্য কুফরি কাজ করা ব্যতীত কাউকে কাফের বলা হতেও বিরত থাকা জরুরি। মনে রাখা উচিত, যাকে তাকে অহেতুক কাফের ফাসেক বলাও এক ধরনের অশালীন ভাষা প্রয়োগ। যা পরিহার করা জরুরি। এজন্য আমাদের ভাষা হওয়া দরকার সুন্দর, শালীন ও মার্জিত। লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:১৮, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == সুখী দাম্পত্য জীবন লাভে করণীয় == সুখী দাম্পত্য জীবন লাভে করণীয় মীযান মুহাম্মদ হাসান মানব সমাজে ‘সুখ’ নামক সোনার হরিণ কেউ খুঁজে ফেরে না, এমন সংখ্যা খুবই কম। তবে আমরা এখনও অনেক সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন যাপন করছি। কারণ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এখনও শালীনতাবোধ এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের বন্ধনে আবদ্ধ আছে। তাই তুলনামূলক আমাদের দাম্পত্য জীবন যাপন পশ্চিমাদের মতো পুরো ভঙ্গুর বা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে না পৌঁছলেও; এখন তাদের কাছাকাছি চলে যেতে আর মনে হয় বেশি বাকি নেই। যেখানে তালাক ডিভোর্স মহামারি পর্যায়ে। নেই কোনো দাম্পত্য জীবনের বন্ধন। হলেও, নামমাত্র। নেই দায়িত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক। এমনকি গড়ে উঠছে সিংগল মাম কালচার। অতএব আমাদেরকে এখনই ভাবতে হবে, আমরা কী আমাদের সংসারগুলো ভাঙব? নাকি দাম্পত্য জীবনে সুখী হবার পথে হাঁটব! দাম্পত্য জীবনকে আরও উপভোগ করতে চেষ্টা করবো। মূলত সংসারে সুখ শান্তিই হলো সুখী জীবনের মাপকাঠি। আনন্দময় সংসার জীবন উপভোগ করাই প্রতিটি মানুষের কাঙ্খিত লক্ষ উদ্দেশ্য। আর দাম্পত্য কলহ মুক্ত সংসারেই গড়ে ওঠে সুখী দাম্পত্য জীবন। এখন প্রশ্ন হলো, সুখ কি টাকা পয়সা অর্থ সম্পদ প্রাচুর্যের মধ্যে আছে? না, বরং সুখী দাম্পত্য জীবন হতে পারে নারীর গুণে। আবার এই সুখী দাম্পত্য জীবন ভাঙতেও পারে এই নারীর গুণেই। প্রবাদ আছে, সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে। যেমন সহি মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে– গুণবতী নারীর পরিচয় হিসাবে, “স্ত্রী নেককার তথা ধার্মিক হওয়া চাই”! কিংবা অন্তত লজ্জাশীল বা স্বামীর অনুগত হওয়া জরুরি। এ ছাড়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, একজন ঈমানদার স্ত্রী, যে তার স্বামীর দীনি বিষয়ে সহযোগী হয়। —মুসনাদে আহমদ ধর্মীয় বিষয়ে সহযোগীর অর্থ হলো, ধর্মীয় যাবতীয় বিষয়ে যেমন নামাজ রোজা হজ জাকাত প্রভৃতি ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হওয়া। সহযোগিতার ভূমিকা পালন করা। স্বভাবতই যিনি ধার্মিক হবেন। তিনি সংসার জীবনেও সুন্দর, সুখী সংসার উপহার দিবেন ইনশাআল্লাহ। এজন্যই বিয়ের জন্য সর্বপ্রথম দীনদার তথা ধার্মিক নারীকে বিবাহের জন্য প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে হাদিসে। সুখী দাম্পত্য জীবন গঠনে আমাদের করণীয়গুলো আসলে কী? কেন আমাদের সংসারগুলো সুখময় হচ্ছে না? এর নেপথ্য কারণ কী? বক্ষমাণ নিবন্ধে সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে ভূমিকা রাখে, এমন কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি, জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেণি–পেশার মানুষই এতে উপকৃত হবেন। দাম্পত্য জীবন কী? অচেনা অপরিচিত দুজন নারী পুরুষের সাক্ষাৎ। শরয়ি পদ্ধতিতে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব কবুলের মাধ্যমে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। এরই মাধ্যমে শুরু হয় দাম্পত্য জীবনের সূচনা। এরপর দাম্পত্যজীবনে পরস্পর একে অপরকে চেনা, জানা। ভালো মন্দ সুখ দুঃখ উপলব্ধি করা। খুনসুটি করা এইতো!? আর এ বিষয়টি হাদিসে এসেছে এভাবে, বিখ্যাত সাহাবি হজরত জাবের রা. এর ঘটনা। তিনি সদ্য বিয়ে করেছেন। এসেছেন নবীজির কাছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেন, হে জাবের! তুমি কী বিবাহ করেছ? জবাবে জাবের রা. বললেন, জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। এবার নবীজি প্রশ্ন করলেন, কোনো কুমারী মেয়ে না বিধবা? সাহাবি জাবের রা. বললেন, বিধবা। এবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে। ‘সে তোমার সঙ্গে হাসিঠাট্টা করতো, তুমিও তার সঙ্গে হাসি-তামাশা করতে’! —সুনানে নাসায়ি এ হাদিসটি দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে ঈঙ্গিত করে। তা হলো, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক তৈরি। পারস্পরিক সৌহার্দ, সম্প্রীতি, বোঝাবুঝি এবং শ্রদ্ধাবোধের মতো বিষয়গুলোও এখানে উঠে এসেছে। তাই আমরা সংক্ষেপে বলতে পারি। বিয়ে বা দাম্পত্য জীবন হচ্ছে, স্বামী স্ত্রী একে অপরকে বুঝতে শেখা। চিনতে ও জানতে পারা। আর এজন্যই দরকার, একে অপরের সঙ্গী হওয়া। কাছাকাছি অবস্থান করা। দুজনের মধ্যে দূরত্ব না রাখা। উদাহরণত স্বামী স্ত্রী দুজন দু প্রান্তে বসবাস না করা। এমনকি ঘরেও কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করা। দূরত্ব বজায় না রাখা। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি নিদর্শন হচ্ছে, তিনি তোমাদের জন্য স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের থেকেই; যাতে করে তোমরা প্রশান্তি লাভ করতে পারো। আর তোমাদের পরস্পরের মধ্যে দিয়েছেন ভালোবাসা দয়া ও রহমত। –সুরা শূরা : ২১ এই মানসিক প্রশান্তি ও ভালোবাসা একজন মানুষ কীভাবে পাবে? যখন সে পুরুষ বা নারী হিসাবে একাকিত্ব বোধ করবেন। একে অপর থেকে দূরত্বে অবস্থান করবেন। বোঝা গেল ইসলাম নারী তথা স্ত্রী জাতি সৃষ্টির একটি কারণ উল্লেখ করেছে, তার স্বামীর মানসিক প্রশান্তির জন্য। যার মধ্যে নিহিত রয়েছে সুখ শান্তি ভালোবাসা ইত্যাদি। অবশ্যই দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে, নিম্নে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে। পরিহার যোগ্য বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে। করণীয়গুলো পালন করতে হবে। তবেই যদি সংসার হয় সুখময়। ১। স্ত্রী স্বামীকে বা স্বামী স্ত্রীকে সময় দেওয়া দেখা যায়, একই ছাদের নীচে অবস্থান করা সত্ত্বেও দুজন একত্রিত হন না। কেউবা কথা বলেন না। ঘরেও অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার হয়। কিংবা নেট ইউজ করেই টাইম শেষ করে দিচ্ছেন। অথচ কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। সময় দিচ্ছেন না। আবার এমনও হতে পারে, সংসারের কাজ করতে গিয়েও সময় হচ্ছে না। কারও অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেমন সকালের নাশতা তৈরি করা। সন্তানকে সময় দেওয়া। ঘর গোছানো। কাপড় ধোয়া। দুপুরের রান্না ইত্যাদি। এভাবেই দিন শেষে রাত। রাতের শেষে দিন। এমন সংসারে কখনো সুখ শান্তি আসতে পারে না। বরং পারস্পরিক বোরিং ফিল থেকে এমন সংসার ভেঙে যাবার সম্ভাবনাই অনেক বেশি। কাজেই দূরত্ব কমিয়ে একে অপরকে সময় দিতে হবে! ২। অতিরিক্ত খবরদারি ও নজরদারি না করা সংসারে সারাক্ষণ শাশুড়ি কিংবা মা–বোন বা ননদ ; এমন কারও খবরদারি করা। যেমন ছেলের বউয়ের পেছনে লেগে থাকা—এটা এমন কেন? এটা এভাবে না। ওটা ঐরকম ইত্যাদি আচরণ করা। আবার অতিরিক্ত নজরদারি করা। যথা, সর্বক্ষণ শাশুড়ি কর্তৃক ছেলের বউয়ের পেছনে লেগে থাকা। কথায় কাজে খোঁটা দেওয়া। যা অবশ্য নারীদের স্বভাবও বটে। ভাবীর পেছনে ভাই–বোনের গুপ্তচরবৃত্তি করা। ঘরে কোথায় কী করে? কার সাথে কথা বলে? কীভাবে কোন্ জিনিস ব্যবহার করে ইত্যাদি নজরে রাখা। এভাবে যেমন একজন নারীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়। মর্যাদায় আঘাত হানে। ব্যক্তিত্ববোধকে নষ্ট করে। তেমনি দাম্পত্যজীবনকে অশান্তিময় করে তোলে। কারণ নিজের ভালো লাগা ও পছন্দের বিষয়টি বাদ দিয়ে অন্যের অধীনস্থ হতে হয়। যা সহজেই কেউ মেনে নেয় না। বিশেষ করে নবাগত পুত্রবধূর জন্য এগুলো বড্ড কষ্টকর। এমনকি অধিকাংশ সময় হয়রানিমূলকও বটে। তাই শিক্ষিত ও সচেতন নারীরা এমন আচরণ মানবে না। ফলে এভাবে সংসারে অশান্তি তৈরি হবে। স্বামীর সঙ্গে বাড়বে দূরত্ব। এজন্য কল্যাণ কামনার উদ্দেশ্যে হলেও মা–শাশুড়ি প্রভৃতি মুরব্বিদের উচিত এভাবে কোনো নারীর প্রতি অতিরঞ্জিত খবরদারি ও নজরদারি না করা। ৩। সাজ সজ্জায় কৃপণতা না করা আজকাল অনেক নারীই স্বামীর অনুগত হতে, ঘরে সাজগোজ করতে অনীহা পোষণ করেন। এটা কোনোভাই কাম্য নয়। দেখা যায় ঘরে একেবারে সাদামাটা জীবন যাপন করছেন। কিন্তু বাইরে বের হতে হলে, সাজসজ্জায় কোনো কার্পণ্য করছেন না মোটেও। এভাবে সংসারে অশান্তি তৈরি হতে পারে। এজন্য স্বামীর পছন্দের প্রতি গুরুত্বারোপ করা জরুরি। সাজগোজ ও পরিপাটি থাকা জরুরি। অবশ্য আমাদের কর্মব্যস্ত সংসারী জীবনে নারীরা বাড়তি সাজ সজ্জার সময়ই পান না। আবার ঘরের পরিবেশও অনুকূল হয় না সবসময় সবার জন্য। তাই এ বিষয়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ৪। দায়িত্ব পালন, সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ লালন করা বিবাহিত জীবনে স্বামী স্ত্রী একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ও করণীয় কী? এটাই অনেকে বোঝেন না। একজন আদর্শ স্ত্রীর দায়িত্ব স্বামীর অনুগত হওয়া। সর্বোচ্চ স্বামীর সেবা যত্নের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা ইত্যাদি। অতীতে এ বিষয়গুলো আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত এবং চর্চা হলেও ; বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। বরং স্বামীর সেবা যত্নকে এখন দাসত্বের লেভেল লাগিয়ে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। অথচ এই নারীই বিমানবালা হয়ে পরপুরুষের জন্য শ্রম দিচ্ছেন। চাকরি সূত্রে সকল নির্দেশই মেনে চলছেন। অথচ স্বামীর প্রতি অনুগত হচ্ছেন না। স্বামীকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করছেন না। আর একজন আদর্শ স্বামীর দায়িত্ব হলো, স্ত্রীর ভরণ পোষণ সহ যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হওয়া। সাধ্যের মধ্যে স্ত্রীর দাবিগুলো পূর্ণ করা। বৈধ ও সাধ্যের আবদার পূরণে গুরুত্ব দেওয়া। এভাবেই পরস্পরের মধ্যে দায়িত্ব, সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে। বাড়বে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সম্মান ও শ্রদ্ধা। ৫। বাড়তি খরচ ও বিলাসিতা না করা অনেক নারীরই বেশি বেশি কেনাকাটা করা, নতুন নতুন ডিজাইনের গহনা শাড়ি কিংবা প্লট বা ফ্ল্যাট কেনা ও ঘোরাঘুরি ইত্যাদির অভ্যাস রয়েছে। যার অর্থ বিত্ত ও সামর্থ্য আছে তার কথা ভিন্ন। এর বিপরীতে এসব হয়ত বাড়তি খরচ নয়ত স্পষ্ট বিলাসিতা। কিন্ত এগুলোকে উল্লেখ করে অনেক নারীরা স্বামীদেরকে চাপে ফেলে দেন। মানসিক অশান্তি চাপিয়ে দেন। আর পুরুষরা ন্যায় অন্যায় পয়সার পেছনে ছুটেন। এভাবেও সংসারে অশান্তি তৈরি হতে পারে। কাজেই নারীদের উচিত এমন অন্যায় আবদার থেকে বিরত থাকা। কদিন আগেও এমন একটি সংবাদ ছেপেছিল দৈনিক পত্রিকায় যে, স্ত্রী ও মায়ের অসম্ভব আবদার পূরণ করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এক যুবক। অতএব বাড়তি খরচ ও বিলাসিতা পরিহার করতে হবে। ৬। পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ে করা আজকাল পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে খুব বেশি হয় না। দেখা যায় পূর্ব পরিচয় থেকে ছেলে মেয়েরা তার নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করছেন। অর্থাৎ পারিবারিক অসম্মতিতে নিজেরা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। এরপর বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয়ে পারস্পরিক মনোমালিন্য হতে শুরু করে। ঝগড়া ও মারামারি পর্যন্ত হয়। অভিভাবকদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নষ্ট হয়। সাধারণত দেখা যায়, এমন সংসারে কোনো মান্যতা বা ভদ্রতা থাকে না। উদাহরণত, আমি এটা পারব না। এটা আমার দায়িত্ব নয়। আমি এভাবে করতে পারব না ইত্যাদি। আর এভাবেই একসময় পরস্পরের মধ্যে ফাটল ধরে। দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় অশান্তি। ভেঙে যায় সাজানো স্বপ্নের সুখের সংসার। আবার পারিবারিক সম্মতিতে আবদ্ধ বিয়ের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এমনটি হতে পারে! ৭। ফ্রি মিক্সিং চলাফেরা না করা অনেক মেয়েরাই শৈশব কৈশোর থেকেই বন্ধু–বান্ধব ও ক্লাসমেইটদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার মধ্যে বড়ো হয়ে ওঠে। যা তার মন মগজে বসে যায়। গেঁথে যায় বন্ধুত্বর সম্পর্কগুলো। কাজেই সে বিয়ের পরও চায়, তার অতীতের ছেলে বা মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কটা কন্টিনিউ করতে। ফলে এটা তার সংসার ভাঙার জন্য একটি কারণ হয়ে ওঠে। যা কখনো একজন সচেতন মানুষ মেনে নিবে না। ফলে দাম্পত্য কলহ বিবাদ শুরু হয়। এমনকি এটা বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়। আবার দেখা যায় খালাতো মামাতো ভাই এবং অনেকে দেবরের সঙ্গেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করেন। লঙ্ঘন করেন ঘরের পর্দাপুশিদাও। যা তিলে তিলে তার সংসারকে বোরিং করে তোলে। এভাবেই বিচ্ছেদের পথ খোলা হয়ে যায়। অথচ হাদিসে এসেছে, দেবর হলো মৃত্যু তুল্য। মানে তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এজন্য সব ধরনের ফ্রি মিক্সিং পরিহার করতে হবে। ৮। শুধু অর্থ সম্পদ দেখে বিয়ে না করা আজকাল শুধু অর্থ সম্পদ ও প্রাচুর্য দেখেই অনেক নারীকে বিয়ে করা হয়। কিন্তু এরপর দেখা যায় যে, অর্থ বিত্তের অধিকারী ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে সংসার জীবন সম্পর্কে অনীহা পোষণ বা উচ্চাকাঙ্খা লালন করেন। বিভিন্ন শর্তাদি যোগ করেন। আর এভাবে একজন অল্প অর্থ সম্পদের অধিকারী কখনো এমন নারীকে বিয়ে করে সুখী হতে পারে না! কাজেই সংসারে অশান্তি ও ভাঙন হওয়াই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। অথচ হাদিসে নারীদেরকে চারটি গুণ দেখে বিয়ের কথা বলা হয়েছে। তবে ধার্মিকতাকেই আগে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত– নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নারীদেরকে চার কারণে বিবাহ করা হয়। তার মাল সম্পদ। তার বংশ গৌরব। তার সৌন্দর্য এবং তার ধার্মিকতা দেখে। তুমি ধার্মিক নারীকে বিবাহ করে ধন্য হও। ‘তোমার দু’হাত মাটিমাখা হোক।’ (অর্থাৎ বোকামি করো না, বুদ্ধির পরিচয় দাও।) –সুনানে নাসায়ি আবার উচ্চ শিক্ষাও সংসার বা দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কারণ হতে পারে। দেখা যাচ্ছে মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি। ঘটনাক্রমে কম শিক্ষিত ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হলো। এরপর ভালো কোনো উচ্চ শিক্ষিত ছেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। আবার তার সঙ্গে যোগাযোগও হয়ে গেল। তখন এই দাম্পত্যজীবন বিষাদময় হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় বিচ্ছেদের পথে হাটতে হয় এমন দম্পতিকে। কাজেই কুফু মিলিয়ে বিয়ে করা জরুরি। ৯। স্বামীর অবাধ্য না হওয়া স্বামীর অনুগত হওয়া একজন নারীর জন্য এতটাই আবশ্যক যে, হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আমি যদি কাউকে সিজদা দিতে আদেশ করতাম, তবে স্ত্রীকে বলতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে। –সুনানে তিরমিজি একইভাবে সুনানে তিরমিযির অপর এক বর্ণনায় এসেছে— রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে ডাকে, আর স্ত্রী চুলায় রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকে, তবুও সে যেন তার স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়। উপর্যুক্ত হাদিস দুটি স্বামীর আনুগত্য প্রকাশ করতে কী ধরনের আচরণ করা দরকার, তার প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করে। প্রথমত একমাত্র আল্লাহ তায়ালা হলেন, সকল ইবাদতের উপযুক্ত। আর সিজদার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্যের সুযোগ লাভ করে। সেই সিজদার কথা বলা হচ্ছে, যদি কোনো মানুষকে সিজদার অনুমতি দেওয়া হতো। তবে তার প্রাপ্য ছিল স্বামী। এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে, স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ কেমন হওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত, রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলে স্বভাবতই অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এতে নিশ্চিত রান্নার ক্ষতি হবে। এমনকি আগুনে বড়ো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, স্বামীর অনুগত হবার বিষয়টিই বরং এখানে মুখ্য। কাজেই নারীদের উচিত স্বামীর প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য করা, কোনো রকম অবাধ্য না হওয়া। যাতে করে স্বামীর অসন্তোষ এবং দাম্পত্য কলহ তৈরির সুযোগ না ঘটে। ১০। অন্য কোনো নারী বা পুরুষে আসক্ত না হওয়া মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মতৎপরতা এতই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, স্বামী স্ত্রী একে অপরকে সময় দিতে অক্ষম হচ্ছেন। দুজন দু প্রান্তে বসবাস করতে হচ্ছে। যথাসময়ে দেখা সাক্ষাৎ হচ্ছে না। কথা হচ্ছে না। কিংবা কর্মজীবী হিসাবে একত্র হবার সুযোগ কম। আবার কর্মস্থলে পর নারী বা পুরুষের সঙ্গে উঠবস করা ও অবাধ মেলামেশার অভ্যাস গড়ে তোলা। ফলে পরকীয়া আসক্ত হয়ে অবৈধ সম্পর্ককে উপভোগ করা। এভাবেই বৈধ দাম্পত্য জীবন বিষাদময় হয়ে ওঠে। সুখের সংসারে নেমে আসে অশান্তির দাবানল। এজন্য স্বামী স্ত্রী একত্রে থাকার ব্যবস্থা করা জরুরি। যাতে একে অপরের সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ বা দিনের বেশি সংখ্যক সময় পার করা যায়। ১১। একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষা না করা কুরআনে (সামর্থ্যবান সক্ষম পুরুষের জন্য শরয়ি নিয়ম নীতি পালন সাপেক্ষে) সর্বোচ্চ চারজন নারীকে বিয়ে করার অনুমতি আছে একজন পুরুষের জন্য। –সুরা নিসা : ০৩ এক্ষেত্রে সকলের সঙ্গে ইনসাফ তথা সমতা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য এটি কঠিন কাজ বলেও অভিহিত করা হয়েছে কুরআনে। কাজেই একাধিক স্ত্রীর ভরণ পোষণ ইত্যাদি খরচ বহন করা যেমন জরুরি। তেমনি এসব বিষয়ে সমতা রক্ষাও জরুরি। দেখা যায়, অনেকেই একাধিক বিয়ে করে স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষায় ব্যর্থ হন। আর এখান থেকেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। মারামারি ঝগড়াঝাটি ইত্যাদি। এজন্য সুখী দাম্পত্য জীবন যাপনে এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক। ১২। অর্থ সম্পদ ও প্রাচুর্যের আকাঙ্খা না করা অনেকেই অর্থ সম্পদ প্রাচুর্যের আকাঙ্খায় বিয়ে করেন। বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে এটা ওটা চাহিদা দাবি দাওয়া শুরু করেন। ঘর সাজানো থেকে শুরু হয়। এভাবে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করাও একটি সংসার জীবনে অশান্তি তৈরির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। এজন্য এ জাতীয় মন মানসিকতা দূর করতে হবে। অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ ভোগ দখলের মতো হীন মানসিকতা বাদ দিতে হবে। তবেই যদি সংসার জীবনে আসে সুখ। দাম্পত্য জীবন হয় সুখময়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, কীভাবে সংসার জীবনে সুখী হওয়া যায়। এর বাইরেও আরও বিভিন্ন বিষয় থাকতে পারে। যে বিষয়গুলো চললে, দাম্পত্য জীবন যাপন হতে পারে সুখ ও শান্তিতে সমৃদ্ধ। আমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য জীবন হোক অনাবিল সুখময় এই কামনা করছি আল্লাহর কাছে। আমিন। লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:২০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == রমজান গুনাহ বর্জন ও সংযমের মাস == ‎রমজান গুনাহ বর্জন ও সংযমের মাস মীযান মুহাম্মদ হাসান পবিত্র মাহে রমজানে রোজা রাখা। পূর্ণ ত্রিশটি রোজা পালন করা, সকল মুসলমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আমল। মহা গ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।” (সুরা বাকারা : ১৮৩) প্রতি বছর ঘুরে এ রমজান মাস আসে আমাদেরকে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির অনুশীলন শিক্ষা দিতে। অন্তরে আল্লাহর প্রকৃত ভয়কে জাগ্রত করে গুনাহমুক্ত জীবন যাপন করতে শেখায় রমজান মাস। এজন্য যাবতীয় ঝগড়া বিবাদ কলহ মারামারি ও অন্যায় অশ্লীলতা এবং গুনাহের কাজ পরিহার করা। সকল ধরনের মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকাই মাহে রমজানের শিক্ষা। এভাবেই গুনাহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে প্রকৃত সংযম ও সিয়াম সাধনা। সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোজা হচ্ছে ঢাল স্বরূপ। সুতরাং, (রোজাদার কখনও) অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মতো কোনো কাজ করবে না। যদি কেউ তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুবার বলে, আমি রোজা রেখেছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই একজন রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশককের সুগন্ধির চাইতেও উত্তম। (আল্লাহ তায়ালা বলেন,) সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। রোজা আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় হলো দশ গুণ। (সহিহ বুখারি : ১৮৯৪) এ হাদিস থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হলো, রমজানে সর্বপ্রকারের মন্দ কাজ ত্যাগ করতে হবে। বিশেষশত সর্বপ্রকারের মারামারি ঝগড়া বিবাদ ও গালাগাল থেকে বিরত থাকতে হবে। যাবতীয় অন্যায় অশ্লীল কাজ ত্যাগ করার অনুশীলনের মাধ্যমে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে। একইভাবে সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তাঁর এ পানাহার পরিত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি : ১৯০৩) উপর্যুক্ত এ হাদিস থেকেও বুঝে যায় যে, রোজাদার ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো, মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা। দেখা গেল, একজন লোক রমজানে রোজা রাখছেন নিয়মিত। কিন্তু তিনি মিথ্যা কথা বলেন। কর্মক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় নেন। কিংবা কথা বলার ক্ষেত্রে মিথ্যা বলেন। তো হাদিসের নির্দেশনা মতো এমন ব্যক্তির পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। তথা এমন রোজার কোনো মূল্য নেই আল্লাহ তায়ালার কাছে। এজন্য রোজাদার ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো, তিনি যাবতীয় অন্যায় আচার ব্যবহার ও মন্দ আচরণ ও কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর ভয়কে অন্তরে জাগরুক রাখবেন। মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকবেন। আর এভাবেই একজন রোজাদার ব্যক্তি প্রকৃত তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি অর্জন করতে সক্ষম হবেন। যা তার জন্য (মন্দ আচরণ ও গুনাহ) ত্যাগ ও সংযমের অনুশীলন হবে। আর এভাবেই একজন রোজাদার প্রকৃত গুনাহ বর্জন, সত্যিকার ত্যাগ ও সংযমী হতে পারেন। যা তাকে পূর্ণ মুত্তাকি হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। আসুন, আমাদের রমজান হোক ত্যাগ ও সংযমের অনুশীলনে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টির মহান লক্ষ্য। আমিন। লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর [[বিশেষ:অবদান/~2026-10633-75|~2026-10633-75]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-10633-75|আলাপ]]) ১৫:২১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == শাহতলীর পীর মাওলানা আবুল বাশার রহ. == শাহতলীর পীর মাওলানা আবুল বাশার রহ. চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামের দিকে সম্বোধন করে শাহতলী পীর নামে পরিচিত বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত আলেমে দীন ছিলেন মাওলানা আবুল বাশার রহ.। এই বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব শাহতলীর পীর নামে পরিচিতি ও প্রসিদ্ধি লাভ করেন। দেশ-বিদেশে তাঁর হাজারো মুরিদ ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী রয়েছেন। যিনি তাঁর জীবদ্দশায় শুধু বাংলাদেশেই নয়। বরং, দেশের বাইরেও বিভিন্ন মাহফিলের আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি ও আলোচক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত আলেম, চরমোনাইয়ের মরহুম পীর, হাজারও মানুষের আধ্যাত্মিক রাহবার—পথপ্রদর্ক হজরত মাওলানা সৈয়দ এছহাক রহ. এর অন্যতম প্রধান একজন খলিফা ছিলেন। সারাদেশে ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দীক্ষা প্রদান করাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শাহতলীর হামানকর্দীস্থ মাদরাসা, গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুরস্থ হালডোবা গ্রামে অবস্থিত খানকায়ে বাশারীয়া, মাদরাসা ও এতিমখানা, জামিয়া নিজামিয়া বাশারিয়া, মেলান্দহ, জামালপুর সহ আরও অনেক দীনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ও উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তার প্রতিষ্ঠিত হালডোবা মাদরাসা, গাজীপুরের মুহাতামিম ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে এটির দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর ছেলে মাওলানা জাফর আহমাদ। বৃহত্তর মোমেনশাহী সহ জেলার জামালপুর, শেরপুরে তিনি অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত, আমৃত্যু প্রায় শতাধিক মুরিদ সহ অসংখ্য মানুষকে ওয়াজ মাহফিল করে ও বায়াতের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক দাওয়াতি কাজ আনজাম দিয়েছেন। তার ইখলাসপূর্ণ বয়ান ও হেদায়েতের মাধ্যমে বহু মানুষ আল্লাহমুখী হয়েছেন। এভাবেই তিনি দীর্ঘদিন মানুষদেরকে দীনের পথে ডেকেছেন। এজন্যই দেশ বিদেশে যেমন তাঁর ভক্ত মুরিদ রয়েছে। তেমনি রয়েছে অনেক খলিফাগণও। এই আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গ শুধু মাওলানা সৈয়দ এছহাক রহ. এর খলিফাই ছিলেন না। তিনি শাহ আব্দুল হাফিজ মক্কি রহ.এরও খলিফা ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে এই মহান আলেমে দীন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ১০৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। [[বিশেষ:অবদান/~2026-31484-42|~2026-31484-42]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-31484-42|আলাপ]]) ১৭:১৩, ২৬ মে ২০২৬ (ইউটিসি) নারী, সমাজ ও সংস্কৃতি [[ব্যবহারকারী:মীযান মুহাম্মদ হাসান|মীযান মুহাম্মদ হাসান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মীযান মুহাম্মদ হাসান|আলাপ]]) ১৭:৩৮, ৬ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == একাধিক বিয়ে ও প্রোপাগাণ্ডা == একাধিক বিয়ে ও প্রোপাগাণ্ডা মীযান মুহাম্মদ হাসান এ দেশে আলেমরা একাধিক বিয়ে করতে পারেন না। চাইলেও সার্বিক বিষয়ে সক্ষমতা, গুরুত্ব ও প্রয়োজন থাকা সত্তেও; পারবেন না। অঘোষিত ও অদৃশ্য আইনে বিষয়টি এমনি কী মনে হয় না? আবার এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব যেমন আছে। তেমনি আছে জুলুম ও অবিচার, বে-ইনসাফি এবং আমাদের সমাজের মুসলিম ও দীনিজ্ঞান সম্পন্ন নারীদেরই সর্বোচ্চ বিরোধিতা। আবার কদিন আগের করা অযৌক্তিক এক আইন থেকে জানা যায়, একাধিক বিয়ে করলে নাকি চড়া মূল্যের কর/ ট্যাক্স গুণতে হবে! তো নারীর সংখ্যা যখন পুরুষ অনুপাতে বত্রিশ লাখ বেশি। তখনও কী এ জাতীয় আইন বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ককের পরিবর্তে অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর পথ খুলে দিবে না? অবশ্যই অবৈধ সম্পর্কে জড়াবে লোকজন। হচ্ছেও তা-ই। সমাজেরে অলিতে গলিতে বহু আর্থিক সক্ষম পুরুষ একাধিক নারীকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। দিয়েছেন তাদেরকে স্ত্রীর সম্মান ও সামাজিক মর্যাদাও। এমনটি সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা প্রায়শই লক্ষ করি, কোনো সেলিব্রিটি নায়ক গায়ক শিল্পপতি ধনকুবের গং হলে, তাদের একাধিক বিয়ে, গোপন বিয়ে, ডিভোর্স ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই! এমনকি ডিভোর্সের বিষয়েও একই কথা। মানে, যখন তখন যাকে তাকে বিয়ে করে আবার ডিভোর্সও দিচ্ছেন তারা। কিন্তু এখানে কারও কোনা অভিযোগ নেই। নেই কোনো ফতওয়াও! সমালোচনার তো প্রশ্ন-ই আসে না। তো এ জাতীয় চিন্তার পদস্খলন ও প্রোপাগাণ্ডার দায় কার? মিডিয়া গণমাধ্যম প্রভাবিত জনগণকে বিভ্রান্ত থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব তবে কে পালন করবে? গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় -- একাধিক বিয়ে করা জনৈক সেলিব্রিটি সম্পর্কে। গোপনে প্রথম বিয়ে করলেও, দীর্ঘ এক যুগ পর তার সন্তান ও বিয়ের খবর আসে গণমাধ্যমে। অর্থাৎ, তার বিয়ে সম্পর্কে জানা যায় তার সন্তান জন্মেরও পরে। এটি কিন্তু পরিস্কার পশ্চিমা কালচার এবং বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়ম শৃঙ্খলা বিরুদ্ধও বটে। "শাকিব খান (যিনি একজন বিখ্যাত নায়ক। তিনি তার জীবনে) প্রথম বিয়ে করেন ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল ঢালিউড নায়িকা অপু বিশ্বাসকে। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হাসপাতালে জন্ম হয় তাদের সন্তান আব্রাহাম খান জয়ের। শাকিব-অপু দুজনেই সন্তান জন্মের বিষয়টি সেসময়ে গোপন রাখেন। ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে বিয়ে ও সন্তানের খবর ফাঁস করেন (তার বিবাহিত প্রথম স্ত্রী) অপু বিশ্বাস। (অথচ, বিয়ে বন্ধন কিন্তু কখনও গোপনে হয় না। বরং, হাদিসে প্রকাশ্যে বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পরিস্কারভাবে। তো যাই হোক, দেখা গেল যে;) পরের বছর ২০১৮ সালের ১২ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের। (কিন্তু, এরপরেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা যায়। যেমনটি এই প্রতিবেদনের শেষে উঠে এসেছে।) এরপর আরেক চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর সঙ্গে ২০১৮ সালের ২০ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শাকিব। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড জ্যুইশ মেডিকেল হাসপাতালে তাদের প্রথম সন্তান বীর পৃথিবীর আলো দেখে, তবে এবারও খবরটি গোপন রাখা হয়। পরে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর উভয়েই তাদের ফেসবুক পেজে বিয়ের তারিখটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। (মজার বিষয় হলো, এখানেও বিয়ে গোপন রাখতে হয়েছে তাদেরকে। অথচ, এটি পরিস্কার শরিয়া বহির্ভূত সম্পর্ক বলেই মনে হচ্ছে। বাস্তবেই কি তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল কিনা? এ নিয়েও আপত্তি তোলার অবকাশ রয়েছে।) সবশেষ গত ১১ মে এই দম্পতির ঘর আলো করে প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম হলো। অবশ্য (প্রথম স্ত্রী) অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও দুই ছেলের প্রতি বাবা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এই ঢালিউড অভিনেতা। (এটি বাবা হিসাবে তার দায়িত্ব পালন করা তাই এসব) জন্মদিনসহ ঈদ এবং নানা বিশেষ দিবসে দুই ছেলের সঙ্গেই শাকিবের সময় কাটানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়। অবসর সময় সন্তানদের সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করেন তিনি। দুই সন্তানকে নিয়ে বাবা হিসেবে ভালোবাসার কখনো কমতি থাকে না। সেগুলো ফুটে ওঠে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো ছবি বা ভিডিও চিত্রে। বাংলাদেশের শীর্ষ নায়কের এমন পারিবারিক মুহূর্ত ভক্তদেরও আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। (গণমাধ্যম সূত্রে বোঝা গেল, জনগণ এদের নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেন। এমনকি এদের এ জাতীয় আচরণ ও সম্পর্কের নেতিবাচক প্রভাবও আমাদের সমাজকে প্রচুর প্রভাবিত করে। সহজ কথায়, লোকজনও এমন গোপন বিয়ে ও ডিভোর্স সংস্কৃতি চর্চা শেখেন এদের থেকেই। আমরা তাদের এ জাতীয় অনাকাঙ্খিত আচরণের কথা বলছি মাত্র। তাদের বিরুদ্ধে বলা উদ্দেশ্য নয় কখনোই। কারণ, গোপন বিয়ে বা বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক কোনো সভ্য জাতির সঙ্গেই মানানসই নয়। আর, তালাকডিভোর্স যখন ভয়াবহ মহামারি হয়ে আবির্ভূত হচ্ছে। তখন এ জাতীয় সেলিব্রিটি দম্পত্তির এই ঘটনা একে সহজ ও স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে তুলে ধরবে। ফলে, তালাক ডিভোর্স বাড়বে বই কমবে না। এজন্যই আমাদের সচেতনতা মূলক এই নিবন্ধ লেখার প্রয়াস।) এমনকি এর আগে জানা গিয়েছিল, দুই ছেলেকেই পড়াশোনার জন্য রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)-তে ভর্তি করেন বাবা শাকিব খান। অপুর পর বুবলীর সঙ্গে বিচ্ছেদ না হলেও তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা নানা সময়েই সংবাদের শিরোনামে এসেছে। (এর মানে হচ্ছে যে, এ সম্পর্কটাও খুব বেশি দিন টিকবে বলে হচ্ছে না আর! তবে এর মধ্যেই আবার কন্যাসন্তানের আগমন ঘটেছে তাদের সংসারে।) এর মাঝেও সন্তানদের কারণে বরাবরই অপু-বুবলীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এই ঢাকাই তারকা।" -দৈনিক যুগান্তর : ০৫/০৬/২৬ দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে টানাপোড়েন লেগে আছে বোঝা গেল। কিন্তু প্রথমার সঙ্গে তো বিচ্ছেদ হয়ে গেছে, গণমাধ্যম সূত্রে '২০১৮ সালের ১২ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের।' তো এরপরেও কী যোগাযোগ করা ইসলাম সমর্থন করে? গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ জাতীয় সংবাদ প্রকাশ আমাদের এই সমাজে কী অবদান ও ভূমিকা রাখবে, তাও কিন্তু চিন্তার বিষয়! কাজেই নায়ক গায়ক সেলিব্রিটি গং কখনো কোনো সময়ই কারও জন্য আদর্শ ও মডেল হতে পারে না। বরং, এদের থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব বজায় রাখা এবং তাদের আচরণ থেকে বিরত থাকাই হলো নিরাপদ। আপনি লক্ষ করুন, কোনো আলেম দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকলে। কিংবা তার কোনো স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেলে; তখন আর মিডিয়া গণমাধ্যমের হুশ জ্ঞান থাকে না। তারা এটাকে নেতিবাচক ধারায় প্রভাবিত করতে সাধ্য ও চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকে না। পারলে মামলা করে ইজ্জত সম্মান নষ্ট করেও ক্ষান্ত হয় না তারা। আর এক শ্রেণির আলেমগণ এর কঠিন সমালোচনা ও বিরোধিতা করেন। অথচ, এ দুয়ের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা জরুরি। কখনোই বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি কাম্য নয়। যিনি একাধিক বিয়ে করলেন, তার বিরোধিতা করা বা তাকে নিয়ে কাঁদা ছোড়া। এমনটা কখনো কাম্য নয়। তিনি ইনসাফ ও সমতা রক্ষা করতে পারবেন কিনা? এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে তাঁকে। আমরা বরং ভালো ও মন্দের সর্বোচ্চ পার্থক্যকারী হতে পারি! আর এভাবেই হতে পারি কল্যাণকামী গোটা জাতির জন্য। লেখক : সমাজচিন্তক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক [[ব্যবহারকারী:মীযান মুহাম্মদ হাসান|মীযান মুহাম্মদ হাসান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মীযান মুহাম্মদ হাসান|আলাপ]]) ০৯:৪৮, ৮ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) == নৈতিক অবক্ষয়ের পথ কীভাবে বন্ধ হবে? == সুপ্রতিষ্ঠিত সন্তানদের মায়ের গলিত লাশ মিলল পরিত্যাক্ত ঘরে,,,, আমার দেশ ০৩/০৬/২৬ ভিন্ন মত, ভিন্ন বিশ্লেষণ! যেমন কর্ম তেমন ফল বলে প্রবাদ আছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে স্মরণ করছি আজ এই বৃদ্ধা মায়ের করুণ মৃত্যুর সংবাদ। সেই সঙ্গে চরম এক বাস্তবতা, যা না বললেই নয়। তা হচ্ছে, তিনি কর্মজীবনে একজন ব্যস্ত মা ছিলেন। শিক্ষকতা তার পেশা ছিল। জীবনে বহু মানুষকে শিক্ষা দান করলেও; আপন সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন নি। বরং ব্যর্থ হয়েছেন। কেন? তিনি সঠিক শিক্ষা সন্তানদেরকে দিতে পারেন নি। এমনকি নিজে সন্তানের হক অধিকার নষ্ট করেছেন। সন্তানদের শৈশব কৈশোর যৌবন কেটেছে হয়ত কোনো কাজের বুয়ার হাতে। নয়ত তাদের নানি দাদি র কাছে। সো তিনি যেমন তাদের সঙ্গে শৈশবে আচরণ করেছেন। তেমনি বার্ধক্যে পৌঁছে তাই পেয়েছেন। সবশেষে সন্তানের অযত্ন অবহেলা ও অকথ্য নির্যাতন নিপীড়ন সইতে না পেরে, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। আমি এক সময় উদাহরণ দিতাম। আর এখন তা বাস্তব সত্য হয়ে প্রকাশিত হয় মাঝে মধ্যেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সন্তানের প্রতি করণীয় দুআ হিসাবে আমাদেরকে বলেছেন --- হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাদের প্রতি দয়া করুন। যেমন তারা শৈশবে আমার প্রতি দয়া-অনুগ্রহ করেছেন।- সুরা বনি ইসরায়েল : ২৪ লক্ষ্য করুন! শৈশবে [বিশেষ করে ] যে মা (বাবা) অফিস আদালত চাকরি ও বিজনেস এর পিছনে ছুটে চলেছেন। সন্তানের প্রতি অযত্ন অবহেলা ও অমনোযোগী ছিলেন। হোক তা অনিচ্ছায়। তো এ সন্তান থেকে তার কী পাওনা হতে পারে? এজন্যই আসুন, আমরা সুশীল সমাজের উচ্চ শিক্ষিত যুগ্ম সচিব, বুয়েট শিক্ষক ও প্রবাসী ছেলে/ শিক্ষকতা করা মেয়ের বিরুদ্ধে কথা না বলি! তাদের সহযোগী হই। সামনেও যেন আরও মা বাবা এমন করুণ মৃত্যুর শিকার হয়। সে আয়োজন করি। সিনেমা গান বাজনা নাটক বাড়াতে সাহায্য সহযোগিতা করি। সেকেলে ধর্মের শিক্ষা ও নৈতিকতাকে না বলি! [[ব্যবহারকারী:মীযান মুহাম্মদ হাসান|মীযান মুহাম্মদ হাসান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মীযান মুহাম্মদ হাসান|আলাপ]]) ১৪:০৬, ২১ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) 2isnmxqm03cy3mxr4t948x8x1trga81 ব্যবহারকারী আলাপ:CookiesMW 3 33505 106755 2026-06-21T16:40:15Z KanikBot 8129 স্বাগতম! 106755 wikitext text/x-wiki == বাংলা উইকিবইয়ে স্বাগত == {{স্বাগত/২য় সংস্করণ}} ১৬:৪০, ২১ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) 1idjvqpm0nknwfu728jskr7ja02rmyb ব্যবহারকারী আলাপ:Nayeemun 3 33506 106756 2026-06-21T21:40:25Z KanikBot 8129 স্বাগতম! 106756 wikitext text/x-wiki == বাংলা উইকিবইয়ে স্বাগত == {{স্বাগত/২য় সংস্করণ}} ২১:৪০, ২১ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) kkzabthtnloenok3k1cmkcpa6w0i4e6 ব্যবহারকারী আলাপ:Jamilurreza95 3 33507 106757 2026-06-22T10:40:26Z KanikBot 8129 স্বাগতম! 106757 wikitext text/x-wiki == বাংলা উইকিবইয়ে স্বাগত == {{স্বাগত/২য় সংস্করণ}} ১০:৪০, ২২ জুন ২০২৬ (ইউটিসি) fmaq75i1gjp5hsjvzkormkgrjxyg5c1