উইকিবই bnwikibooks https://bn.wikibooks.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.19 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিবই উইকিবই আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা উইকিশৈশব উইকিশৈশব আলাপ বিষয় বিষয় আলাপ রন্ধনপ্রণালী রন্ধনপ্রণালী আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন 0 4703 107251 91155 2026-09-11T12:00:28Z Suadur Rahman 11082 পরিষ্কারকরণ 107251 wikitext text/x-wiki == সমাস == সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, সমর্থন, সংগ্রহ, মিলন। সমাস হচ্ছে পরস্পর অর্থ সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ বা একটি পদ ও একটি উপসর্গের একপদীকরণ। যেমনঃ সু (ভালো) ব্রত যার = সুব্রত। === সন্ধি বনাম সমাস === সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের, সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তার বেশি সংখ্যক পদের।যেমন; সংখ্যা+অতীত= সংখ্যাতীত; সংখ্যাকে অতীত= সংখ্যাতীত। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে। আর সমাসের কাজ শব্দে। === প্রকারভেদ === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। == বাক্যাশ্রয়ী সমাস == যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} pygvf977ojer8rtrv9402anxeri49q2 107252 107251 2026-09-11T12:02:10Z Suadur Rahman 11082 107252 wikitext text/x-wiki == সমাস == সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, সমর্থন, সংগ্রহ, মিলন। সমাস হচ্ছে পরস্পর অর্থ সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ বা একটি পদ ও একটি উপসর্গের একপদীকরণ। যেমনঃ সু (ভালো) ব্রত যার = সুব্রত। ==== সন্ধি বনাম সমাস ==== সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের, সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তার বেশি সংখ্যক পদের।যেমন; সংখ্যা+অতীত= সংখ্যাতীত; সংখ্যাকে অতীত= সংখ্যাতীত। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে। আর সমাসের কাজ শব্দে। === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} p59jcmgti026mxvbs49yu1yjezuebk9 107253 107252 2026-09-11T12:11:42Z Suadur Rahman 11082 107253 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি শব্দগঠনের একটি প্রক্রিয়া। [সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, সমর্থন, সংগ্রহ, মিলন। সমাস হচ্ছে পরস্পর অর্থ সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ বা একটি পদ ও একটি উপসর্গের একপদীকরণ। যেমনঃ সু (ভালো) ব্রত যার = সুব্রত।] ==== সন্ধি বনাম সমাস ==== সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের, সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তার বেশি সংখ্যক পদের।যেমন; সংখ্যা+অতীত= সংখ্যাতীত; সংখ্যাকে অতীত= সংখ্যাতীত। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে। আর সমাসের কাজ শব্দে। === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} ezyhi7ivu7zrnxchhdrev5p0jkha5fz 107255 107253 2026-09-11T15:45:35Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস */ সম্প্রসারণ 107255 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> সমাস, অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে দুই বা ততোধিক শব্দ জুড়ে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। *[সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই প্রথম সমাসকে ভাষার শব্দনির্মাণের একটি ব্যাপক প্রক্রিয়া হিসাবে দেখানো হয় এবং এ সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা-ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্তপদ, সমস্যমান থেকে শুরু করে সমস্ত সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত তাঁরা উদ্ভাবন করেছিলেন। সে নামগুলির 'স্বচ্ছতা' সম্বন্ধে আমাদের প্রশ্ন আছেই; শুধু দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে নামগুলি যে তাদের মূল্য হারিয়েছে তা নয়; প্রাচীন কালেও এগুলি কেবল সংস্কৃতজীবী উচ্চশ্রেণির পক্ষেই উপযুক্ত ছিল, কারণ এ শিক্ষা তখন একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে আবদ্ধ থাকত। সংস্কৃত শিক্ষা কখনোই জনশিক্ষার অঙ্গ ছিল না। পরে যখন মাতৃভাষায় শিক্ষা জনশিক্ষার প্রধান উপায় হিসাবে গৃহীত হল, তখন সংস্কৃত ব্যাকরণের পরিভাষা তার কতটা সহায়ক হয়েছে সে প্রশ্নটি বিতর্কসাপেক্ষ। পাশ্চাত্য ভাষাবিজ্ঞানে এর কোনো-কোনো পরিভাষা গৃহীত হলেও আমাদের প্রশ্ন তাতে দমিত হয় না। এ অধ্যায়ে মূলত বাংলাভাষায় শব্দসংহতি বা সমাসের প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা হবে। এতে সংস্কৃত পরিভাষা এবং বিশ্লেষণের সহায়তা অবশ্যই নেওয়া হবে, সেই সঙ্গে নতুন পরিভাষারও প্রস্তাব থাকবে সংস্কারমুক্ত আলোচনার জন্য। এই কিছুটা অসম্পূর্ণ আলোচনায় হয়তো এও বোঝা যাবে যে, সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি শব্দগঠনের একটি প্রক্রিয়া। [সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, সমর্থন, সংগ্রহ, মিলন। সমাস হচ্ছে পরস্পর অর্থ সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ বা একটি পদ ও একটি উপসর্গের একপদীকরণ। যেমনঃ সু (ভালো) ব্রত যার = সুব্রত।] ==== সন্ধি বনাম সমাস ==== সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের, সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তার বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে। আর সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'সংখ্যাতীত' (সংখ্যা+অতীত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। *[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি (অধিকাংশত ব্যঞ্জনের সমীভবন জাতীয়) ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 92n2fnc6l5h1yvn3e6wse1wa1g1bx6e 107256 107255 2026-09-11T16:34:19Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস */ সংশোধন 107256 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। [সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, সমর্থন, সংগ্রহ, মিলন। সমাস হচ্ছে পরস্পর অর্থ সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ বা একটি পদ ও একটি উপসর্গের একপদীকরণ। যেমনঃ সু (ভালো) ব্রত যার = সুব্রত।] ==== সন্ধি বনাম সমাস ==== সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের, সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তার বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে। আর সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'সংখ্যাতীত' (সংখ্যা+অতীত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। *[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি (অধিকাংশত ব্যঞ্জনের সমীভবন জাতীয়) ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 38kg3e19ficvneq0w5xefv021s84xk2 107257 107256 2026-09-11T16:43:56Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস */ সংশোধন 107257 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। ==== সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক ==== সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। ×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} sayweusjnwzne55g3b4xcgq35v5qxrk 107258 107257 2026-09-11T17:21:41Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস */ 107258 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' ## '''পূর্বপদ:''' ## '''পরপদ:''' ## '''মধ্যপদ:''' # '''ব্যাসবাক্য:''' বিগ্রহবাক্য। <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid; text-align:center; float:right;"> ==== সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক ==== সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। ×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] </div> === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 67igqhqgwrxwzaod6q3sdfimmac47i1 107259 107258 2026-09-12T03:33:31Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা */ 107259 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' ## '''পূর্বপদ:''' ## '''পরপদ:''' ## '''মধ্যপদ:''' # '''ব্যাসবাক্য:''' বিগ্রহবাক্য। {{quote box|bgcolor=lightyellow |title = সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। ×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} clp0upe1kuffnlioyd10gyh5j82186o 107260 107259 2026-09-12T03:37:38Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস */ 107260 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' ## '''পূর্বপদ:''' ## '''পরপদ:''' ## '''মধ্যপদ:''' # '''ব্যাসবাক্য:''' বিগ্রহবাক্য। {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=200px|text-align=right |title = সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। ×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} loi9163jpfgjx0oaynnejuxcs461w65 107261 107260 2026-09-12T03:39:40Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা */ 107261 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' ## '''পূর্বপদ:''' ## '''পরপদ:''' ## '''মধ্যপদ:''' # '''ব্যাসবাক্য:''' বিগ্রহবাক্য। {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right |title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। === তথ্যসূত্র === * সুবলচন্দ্র মিত্র (১৯৯৫), সরল বাঙ্গালা অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কোলকাতা। * ড. অশোককুমার মিশ্র, বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র লাইব্রেরী। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} kva8h3x42n8gaeqrfdarlgfj9v8igjx 107262 107261 2026-09-12T03:40:39Z Suadur Rahman 11082 /* তথ্যসূত্র */ 107262 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' ## '''পূর্বপদ:''' ## '''পরপদ:''' ## '''মধ্যপদ:''' # '''ব্যাসবাক্য:''' বিগ্রহবাক্য। {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right |title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} jy6psmkdl0xschygahqtnb77ib5rlvu 107264 107262 2026-09-12T03:47:54Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস */ 107264 wikitext text/x-wiki == সমাস == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right |title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' ## '''পূর্বপদ:''' ## '''পরপদ:''' ## '''মধ্যপদ:''' # '''ব্যাসবাক্য:''' বিগ্রহবাক্য। === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 6m1ktuxy12me0lywhgri41ipg04igxc 107265 107264 2026-09-12T03:53:13Z Suadur Rahman 11082 107265 wikitext text/x-wiki == উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right |title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' ## '''পূর্বপদ:''' ## '''পরপদ:''' ## '''মধ্যপদ:''' # '''ব্যাসবাক্য:''' বিগ্রহবাক্য। === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == শব্দদ্বিত্ব == == বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 64olbekouu7js5da20rbtd0evf48fut 107266 107265 2026-09-12T03:54:05Z Suadur Rahman 11082 Suadur Rahman [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দ গঠন প্রক্রিয়া/সমাস]] কে [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন 107265 wikitext text/x-wiki == উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right |title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' ## '''পূর্বপদ:''' ## '''পরপদ:''' ## '''মধ্যপদ:''' # '''ব্যাসবাক্য:''' বিগ্রহবাক্য। === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == শব্দদ্বিত্ব == == বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 64olbekouu7js5da20rbtd0evf48fut 107270 107266 2026-09-12T04:01:07Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা */ সম্প্রসারণ 107270 wikitext text/x-wiki == উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right |title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: # '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। # '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ## '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ## '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ## '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। # '''ব্যাসবাক্য:'''যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম বিগ্রহবাক্য। === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == শব্দদ্বিত্ব == == বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} avlb95it5an8qy71q8arvhp2kmq7n69 107271 107270 2026-09-12T04:05:06Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা */ 107271 wikitext text/x-wiki == উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right |title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমাস শব্দ:''' সমস্তপদ, সমাসবদ্ধ পদ বা সমাসবদ্ধ শব্দ বলতে সমাস-সাধিত শব্দকে বোঝানো হয়। :২. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :৩. '''ব্যাসবাক্য:'''যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম বিগ্রহবাক্য। === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == শব্দদ্বিত্ব == == বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} lu4umc4moin2jua7ezc5qa3pbwjz19i 107273 107271 2026-09-12T09:04:16Z Suadur Rahman 11082 /* সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা */ সম্প্রসারণ 107273 wikitext text/x-wiki == উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। [সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।] {{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right |title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক |quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।] }} === সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা === সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমাস শব্দ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমস্তপদ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:'''যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। === '''প্রকারভেদ''' === সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি। === দ্বন্দ্ব সমাস === যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == শব্দদ্বিত্ব == == বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} j3mvltkobn75cb7idju8sn9b2x7200i আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন 1 6411 107268 91157 2026-09-12T03:54:05Z Suadur Rahman 11082 Suadur Rahman [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দ গঠন প্রক্রিয়া/সমাস]] কে [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন 12873 wikitext text/x-wiki == ভালো == একটু ভুল আছ [[ব্যবহারকারী:Princ milton|Princ milton]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Princ milton|আলাপ]]) ০৭:১২, ৯ আগস্ট ২০১৬ (ইউটিসি) j6rv853rrsgvepw68whjotgqt3q6n0i বাংলা ব্যাকরণ/গ্রন্থপঞ্জি 0 27879 107263 107230 2026-09-12T03:42:40Z Suadur Rahman 11082 তথ্যসূত্র যোগ/সংশোধন 107263 wikitext text/x-wiki * '''বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ: খণ্ড ১''' (ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৭)। রফিকুল ইসলাম, পবিত্র সরকার। বাংলা একাডেমি, ঢাকা। আইএসবিএন ৯৮৪০৭৫৬৩৪৬। * '''বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ: খণ্ড ২''' (ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৭)। রফিকুল ইসলাম, পবিত্র সরকার। বাংলা একাডেমি, ঢাকা। আইএসবিএন ৯৮৪০৭৫৬৩৯৭। * '''বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি: নবম ও দশম শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০২০)। স্বরোচিষ সরকার, তারিক মনজুর ও অন্যান্য। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ। * '''বাংলা ভাষার ব্যাকরণ: নবম ও দশম শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৯)। মুনীর চৌধুরী , মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ। * '''বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি: অষ্টম শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৩)। জীনাত আলী ইমতিয়াজ, আমিনুর রহমান সুলতান, নির্মল সরকার, মোহাম্মদ মামুন মিয়া। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ। * '''বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি: সপ্তম শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৩)। নিরঞ্জন অধিকারী, অনিরুদ্ধ কাহালি, দেলওয়ার মফিজ, গৌতম গোস্বামী। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ। * '''বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি: ষষ্ঠ শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৩)। হায়াৎ মামুদ, সৌমিত্র শেখর, মিলন রায়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ। * '''বাংলা ভাষাচর্চা: বাংলা ব্যাকরণ। অষ্টম শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৫)। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, কলকাতা। ওয়েস্টবেঙ্গল টেক্সটবুক কর্পোরেশন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। * '''বাংলা ভাষাচর্চা: বাংলা ব্যাকরণ। সপ্তম শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৪)। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, কলকাতা। ওয়েস্টবেঙ্গল টেক্সটবুক কর্পোরেশন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। * '''বাংলা ভাষাচর্চা: বাংলা ব্যাকরণ। ষষ্ঠ শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৪)। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, কলকাতা। ওয়েস্টবেঙ্গল টেক্সটবুক কর্পোরেশন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। * '''বাংলা ভাষাপাঠ: পঞ্চম শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৪)। বিদ্যালয় শিক্ষা-দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, কলকাতা। * '''বাংলা ভাষাপাঠ: চতুর্থ শ্রেণি''' (পাঠ্যবই, ব্যাকরণ গ্রন্থ, ২০১৩)। বিদ্যালয় শিক্ষা-দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, কলকাতা। * '''বাঙ্গালা ব্যাকরণ''' (ব্যাকরণ গ্রন্থ, ১৯৩৫)। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরি, ভিক্টোরিয়া পার্ক, ঢাকা। * '''উচ্চতর বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি''' (২০১৭)। অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী। ৩৮, বাংলাবাজার (৪র্থ তলা), ঢাকা-১১০০: মিজান লাইব্রেরি। * '''বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি''' (ব্যাকরণ গ্রন্থ, একুশতম প্রকাশ, ২০২২)। মাহবুবুল হক। খণ্ড ব্যাকরণ। ৩৮/এ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০: বই প্রকাশনী, চৌমুহনী, নোয়াখালী। * '''সরল বাঙ্গালা অভিধান''' (১৯৯৫)। সুবলচন্দ্র মিত্র। নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা। * '''বাংলা ব্যাকরণ''' ()। ড. অশোককুমার মিশ্র। রবীন্দ্র লাইব্রেরী। a1aznqvq6sbctgkd0mihggadrbvi6p4 বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দ গঠন প্রক্রিয়া/সমাস 0 33722 107267 2026-09-12T03:54:05Z Suadur Rahman 11082 Suadur Rahman [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দ গঠন প্রক্রিয়া/সমাস]] কে [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন 107267 wikitext text/x-wiki #পুনর্নির্দেশ [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] 2mv76qygce5l77b3uo6os8zznhvy32u আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দ গঠন প্রক্রিয়া/সমাস 1 33723 107269 2026-09-12T03:54:05Z Suadur Rahman 11082 Suadur Rahman [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দ গঠন প্রক্রিয়া/সমাস]] কে [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন 107269 wikitext text/x-wiki #পুনর্নির্দেশ [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] b7c02ikzst7m2h281rutxkuv7mcfsef ব্যবহারকারী আলাপ:NagaBazarRajshahi 3 33724 107272 2026-09-12T08:40:26Z KanikBot 8129 স্বাগতম! 107272 wikitext text/x-wiki == বাংলা উইকিবইয়ে স্বাগত == {{স্বাগত/২য় সংস্করণ}} ০৮:৪০, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (ইউটিসি) m34fjmpmhqo08nk5kojqf2czicboq4w ব্যবহারকারী আলাপ:Mr. Arpan Ghosh 3 33725 107274 2026-09-12T10:40:24Z KanikBot 8129 স্বাগতম! 107274 wikitext text/x-wiki == বাংলা উইকিবইয়ে স্বাগত == {{স্বাগত/২য় সংস্করণ}} ১০:৪০, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (ইউটিসি) 6y9pb4xb8xy3pb8cithkrcwbk4119hb