উইকিবই
bnwikibooks
https://bn.wikibooks.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.47.0-wmf.21
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিবই
উইকিবই আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
উইকিশৈশব
উইকিশৈশব আলাপ
বিষয়
বিষয় আলাপ
রন্ধনপ্রণালী
রন্ধনপ্রণালী আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন
0
4703
107373
107275
2026-09-25T15:59:28Z
Suadur Rahman
11082
/* সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */
107373
wikitext
text/x-wiki
== উপসর্গযোগে শব্দগঠন ==
== প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন ==
== সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন ==
<div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন।</div>
বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি অভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে।
:উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে।
[সংস্কৃত সমাসের ছকে সব বাংলা সমাস-প্রক্রিয়াকে ধরা যায় না। যেমন-বাংলা দ্বিত্ববদ্ধ শব্দের বিপুল সম্ভার সাধারণ সংস্কৃত সমাসের হিসাবে আসে না।]
{{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right
|title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক
|quote =
সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।]
}}
=== সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা ===
সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে।
নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
:১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে।
::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ।
::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ।
::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো।
:২. '''সমাস শব্দ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমস্তপদ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়।
:৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''।
=== সমাসের প্রকারভেদ ===
সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি।
=== দ্বন্দ্ব সমাস ===
যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র।
=== বহুব্রীহি সমাস ===
যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার।
=== কর্মধারয় সমাস ===
বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে।
কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ-
==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ====
কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে।
==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ====
সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র।
==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ====
উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে।
==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ====
উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
=== তৎপুরুষ সমাস ===
দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস।
তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ-
==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ====
দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত।
==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ====
তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ।
==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ====
চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি।
==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ====
পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট।
==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ====
ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু।
==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ====
সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ====
নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত।
==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ====
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি।
=== দ্বিগু সমাস ===
তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা।
=== অব্যয়ীভাব সমাস ===
অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম।
=== নিত্য সমাস ===
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর।
=== উপপদ সমাস ===
কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার।
=== প্রাদি সমাস ===
প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর।
=== বাক্যাশ্রয়ী সমাস ===
যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি।
== শব্দদ্বিত্ব ==
== বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ ==
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]]
{{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}}
2bz08mdw3bo4kojtw1mzksamfncnpic
107374
107373
2026-09-25T17:51:45Z
Suadur Rahman
11082
/* সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */
107374
wikitext
text/x-wiki
== উপসর্গযোগে শব্দগঠন ==
== প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন ==
== সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন ==
<div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div>
বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে।
:উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে।
সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না।
{{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right
|title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক
|quote = সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ। 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>×[বাংলা সমাসেও এ ধরনের সন্ধি ঘটে, কিন্তু তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনা করেছি। চার+জন যদিবা 'চাজ্জন' হয়, তা বানানে দেখানো হয় না। এ বিষয়ে সংস্কৃত সমাসের মর্যাদা বেশি, কারণ সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়।]
}}
=== সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা ===
সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে।
নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
:১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে।
::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ।
::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ।
::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো।
:২. '''সমাস শব্দ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমস্তপদ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়।
:৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''।
=== সমাসের প্রকারভেদ ===
সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি।
=== দ্বন্দ্ব সমাস ===
যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র।
=== বহুব্রীহি সমাস ===
যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার।
=== কর্মধারয় সমাস ===
বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে।
কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ-
==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ====
কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে।
==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ====
সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র।
==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ====
উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে।
==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ====
উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
=== তৎপুরুষ সমাস ===
দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস।
তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ-
==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ====
দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত।
==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ====
তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ।
==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ====
চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি।
==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ====
পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট।
==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ====
ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু।
==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ====
সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ====
নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত।
==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ====
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি।
=== দ্বিগু সমাস ===
তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা।
=== অব্যয়ীভাব সমাস ===
অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম।
=== নিত্য সমাস ===
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর।
=== উপপদ সমাস ===
কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার।
=== প্রাদি সমাস ===
প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর।
=== বাক্যাশ্রয়ী সমাস ===
যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি।
== শব্দদ্বিত্ব ==
== বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ ==
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]]
{{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}}
a9yhwlr1l8ehf34fw99bw9salp82ggn
107375
107374
2026-09-26T09:46:16Z
Suadur Rahman
11082
/* সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */
107375
wikitext
text/x-wiki
== উপসর্গযোগে শব্দগঠন ==
== প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন ==
== সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন ==
<div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div>
বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে।
:উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে।
{{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right
|title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক
|quote = সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অঙ্গ হিসাবেই বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়। সন্ধিতে মিলন ঘটে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির); সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুই, তিন বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। সন্ধির কাজ ধ্বনিতে; সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি আমরা সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না!
}}
=== সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা ===
সংস্কৃতভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে।
নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
:১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে।
::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ।
::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ।
::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো।
:২. '''সমাস শব্দ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমস্তপদ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়।
:৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''।
=== সমাসের প্রকারভেদ ===
সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না।
[সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি।]
=== দ্বন্দ্ব সমাস ===
যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র।
=== বহুব্রীহি সমাস ===
যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার।
=== কর্মধারয় সমাস ===
বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে।
কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ-
==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ====
কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে।
==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ====
সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র।
==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ====
উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে।
==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ====
উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
=== তৎপুরুষ সমাস ===
দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস।
তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ-
==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ====
দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত।
==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ====
তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ।
==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ====
চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি।
==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ====
পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট।
==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ====
ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু।
==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ====
সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ====
নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত।
==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ====
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি।
=== দ্বিগু সমাস ===
তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা।
=== অব্যয়ীভাব সমাস ===
অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম।
=== নিত্য সমাস ===
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর।
=== উপপদ সমাস ===
কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার।
=== প্রাদি সমাস ===
প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর।
=== বাক্যাশ্রয়ী সমাস ===
যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি।
== শব্দদ্বিত্ব ==
== বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ ==
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]]
{{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}}
onl0ez75svlw1ir6jfvgchej1bp3wy7
107376
107375
2026-09-26T09:52:34Z
Suadur Rahman
11082
/* সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ সংশোধন
107376
wikitext
text/x-wiki
== উপসর্গযোগে শব্দগঠন ==
== প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন ==
== সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন ==
<div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্)<br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div>
বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে।
:উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে।
{{quote box|bgcolor=lightyellow|width=300px|text-align=right
|title = 'সন্ধি' ও 'সমাস'-এর সম্পর্ক
|quote = সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। <br>বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না!
}}
=== সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা ===
সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে।
নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
:১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে।
::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ।
::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ।
::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো।
:২. '''সমাস শব্দ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমস্তপদ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়।
:৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''।
=== সমাসের প্রকারভেদ ===
সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না।
[সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: '''দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু''' এবং '''অব্যয়ীভাব'''। অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু কে কর্মধারয় এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। অনেকে আবার কর্মধারয় কে তৎপুরুষ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ দিক দিয়ে সমাস চার প্রকার। তবে অধিকাংশের মতে সমাস ছয় প্রকার। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে। যেমন: '''অলোপ/অলুক''', '''বাক্যাশ্রয়ী''', '''নিত্য''' প্রভৃতি।]
=== দ্বন্দ্ব সমাস ===
যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এবং পদ দুটি কোন সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমনঃ রূপ ও রস ও গন্ধ ও শব্দ ও স্পর্শ = রূপরসগন্ধশব্দস্পর্শ; অন্ন ও বস্ত্র = অন্নবস্ত্র।
=== বহুব্রীহি সমাস ===
যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার।
=== কর্মধারয় সমাস ===
বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে।
কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ-
==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ====
কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে।
==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ====
সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র।
==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ====
উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে।
==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ====
উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
=== তৎপুরুষ সমাস ===
দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস।
তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ-
==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ====
দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত।
==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ====
তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ।
==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ====
চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি।
==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ====
পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট।
==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ====
ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু।
==== (৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ====
সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ====
নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত।
==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ====
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি।
=== দ্বিগু সমাস ===
তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা।
=== অব্যয়ীভাব সমাস ===
অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম।
=== নিত্য সমাস ===
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর।
=== উপপদ সমাস ===
কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার।
=== প্রাদি সমাস ===
প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর।
=== বাক্যাশ্রয়ী সমাস ===
যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি।
== শব্দদ্বিত্ব ==
== বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ ==
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]]
{{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}}
i1gvbsaonmcdmezsbx7b3bf0w7fiqnk