উইকিবই bnwikibooks https://bn.wikibooks.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.21 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিবই উইকিবই আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা উইকিশৈশব উইকিশৈশব আলাপ বিষয় বিষয় আলাপ রন্ধনপ্রণালী রন্ধনপ্রণালী আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন 0 4703 107395 107391 2026-09-29T09:07:56Z Suadur Rahman 11082 /* ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ 107395 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমাস শব্দ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমস্তপদ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, :: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' ::: পূর্বপদ: ''হাত'' ::: পরপদ: ''ঘড়ি'' :: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' :: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! ; ✰ সমাসের প্রকারভেদ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুই বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (যেমন- এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 7i8pmydyc6y5ab4xqk1b8zhjdfw27lk 107396 107395 2026-09-29T09:09:36Z Suadur Rahman 11082 /* ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ 107396 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ, '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি-প্রকরণ শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! ; ✰ সমাসের প্রকারভেদ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুই বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (যেমন- এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} buvtytnycntmcemxzbu3ba7ykecjf8g 107397 107396 2026-09-29T09:11:17Z Suadur Rahman 11082 /* ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ 107397 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! ; ✰ সমাসের প্রকারভেদ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুই বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (যেমন- এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} oa196jzsy5qbh2y4fo1q4vmquyisvik 107402 107397 2026-09-29T09:28:21Z Suadur Rahman 11082 /* দ্বন্দ্ব সমাস */ 107402 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! ; ✰ সমাসের প্রকারভেদ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। ==== দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া: ==== ; বিশেষ্য + বিশেষ্য : মা-বাবা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি, দা-কুমড়া, স্বর্গ-নরক,.... প্রভৃতি। ; সর্বনাম + সর্বনাম : তুমি-আমি, তোমার-আমার, যে-সে, যাকে-তাকে, যা-তা, যিনি-তিনি প্রভৃতি। ; বিশেষণ + বিশেষণ : ভালো-মন্দ, ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, ন্যায়-অন্যায়, সাদাকালো, নীললোহিত, কাঁচাপাকা, হতাহত, হিতাহিত প্রভৃতি। ; ক্রিয়া + ক্রিয়া : ধীরেসুস্থে, হেসেখেলে, নেচে-গেয়ে, বেচা-কেনা, পড়াশুনা, হারজিত, ওঠ্-বস্, যাওয়া-আসা প্রভৃতি। ==== শ্রেণি বিভাজন ==== দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} axylcec0z1udaalmre2k54kj3qowx5k 107404 107402 2026-09-29T09:34:37Z Suadur Rahman 11082 /* দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া: */ 107404 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! ; ✰ সমাসের প্রকারভেদ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। ==== দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া ==== ; বিশেষ্য + বিশেষ্য— : মা-বাবা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি, দা-কুমড়া, স্বর্গ-নরক,.... প্রভৃতি। ; সর্বনাম + সর্বনাম— : তুমি-আমি, তোমার-আমার, যে-সে, যাকে-তাকে, যা-তা, যিনি-তিনি প্রভৃতি। ; বিশেষণ + বিশেষণ— : ভালো-মন্দ, ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, ন্যায়-অন্যায়, সাদাকালো, নীললোহিত, কাঁচাপাকা, হতাহত, হিতাহিত প্রভৃতি। ; ক্রিয়া + ক্রিয়া— : ধীরেসুস্থে, হেসেখেলে, নেচে-গেয়ে, বেচা-কেনা, পড়াশুনা, হারজিত, ওঠ্-বস্, যাওয়া-আসা প্রভৃতি। ==== শ্রেণি বিভাজন ==== দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} ecgdnspicktrfbekpofwcpzmmq28tyn উইকিশৈশব:ছোটদের মহানবী (সাঃ) 100 8740 107394 39953 2026-09-28T20:31:00Z CommonsDelinker 28 [[c:File:Muhammad.png|Muhammad.png]] সরানো হলো। এটি [[c:User:ChemSim|ChemSim]] কর্তৃক কমন্স থেকে অপসারিত হয়েছে, কারণ: per [[:c:Commons:Deletion requests/Files uploaded by Ibrahim ebi|]]। 107394 wikitext text/x-wiki মুহাম্মাদ (সাঃ) হচ্ছেন আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল। <br />ছোট্ট বন্ধুরা! আমরা এবার মুহাম্মাদ (সাঃ) সম্পর্কে জানবো।<br /><br /> নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। # নবুয়তপূর্ব জীবন। # নবুয়তপরবর্তী জীবন।<br /><br /><br /> * নবুয়তপূর্ব জীবন ** [[/জন্ম|জন্ম]] ** [[/বাল্যকাল|বাল্যকাল]] ** [[/কৈশোরকাল|কৈশোরকাল]] ** [[/যৌবনকাল|যৌবনকাল]]<br /> * নবুয়তপরবর্তী জীবন ** [[/মক্কার জীবন|মক্কার জীবন]] ** [[/মদীনার জীবন|মদীনার জীবন]] <br /> *** মুহাম্মাদ (সাঃ) সম্পর্কে আরও জানি ** [[/চরিত্র|চরিত্র]] ** [[/মাহাত্ম্য|মাহাত্ম্য]] ** [[/সৌন্দর্য|সৌন্দর্য]] <br /><br /> * কিছু শিক্ষণীয় ঘটনা ** [[/ঘটনা ১|কাবাঘর নির্মাণের ঘটনা]] ** [[/ঘটনা ২|কর্মঠ নবী (সাঃ)]] cypecosydasb9y1zflrnuop3nk1s29n বাংলা ব্যাকরণ/সমাস 0 27807 107399 91399 2026-09-29T09:17:45Z Xqbot 10930 [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] পাতায় করা দ্বিপুনর্নির্দেশনা ঠিক করেছে 107399 wikitext text/x-wiki #পুনর্নির্দেশ [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] 2mv76qygce5l77b3uo6os8zznhvy32u আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/সমাস 1 27808 107401 91401 2026-09-29T09:17:55Z Xqbot 10930 [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] পাতায় করা দ্বিপুনর্নির্দেশনা ঠিক করেছে 107401 wikitext text/x-wiki #পুনর্নির্দেশ [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] b7c02ikzst7m2h281rutxkuv7mcfsef বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/সমাস 0 27809 107398 91156 2026-09-29T09:17:40Z Xqbot 10930 [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] পাতায় করা দ্বিপুনর্নির্দেশনা ঠিক করেছে 107398 wikitext text/x-wiki #পুনর্নির্দেশ [[বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] 2mv76qygce5l77b3uo6os8zznhvy32u আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/সমাস 1 27810 107400 91158 2026-09-29T09:17:50Z Xqbot 10930 [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] পাতায় করা দ্বিপুনর্নির্দেশনা ঠিক করেছে 107400 wikitext text/x-wiki #পুনর্নির্দেশ [[আলাপ:বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন]] b7c02ikzst7m2h281rutxkuv7mcfsef উইকিশৈশব:বিখ্যাত ভারতীয়/শাহজাহান 100 33769 107392 2026-09-28T16:11:24Z Sumasa 5130 নতুন পাতা তৈরি হল 107392 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} [[File:Shah jahan moguln.JPG|thumb|center|200px]] '''শাহজাহান''' ছিলেন ভারতের ঐতিহাসিক মুঘল সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট। পিতার নাম জাহাঙ্গির, মাতা মানমতি বাই। ১৬২৮ থেকে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের শাসক ছিলেন। 'শাহজাহান' নামটা এসেছে ফার্সি ভাষা থেকে। যার অর্থ 'পৃথিবীর রাজা'। সিংহাসনে আরোহণ করার পূর্বে তাঁর নাম ছিল খুররম। ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দে পিতা জাহাঙ্গিরের মৃত্যুর পর তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তবে তাঁর সিংহাসনলাভ মসৃণ ছিল না। শাহজাহান ছিলেন তাঁর বিমাতা সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ভাই আসফ খানের জামাতা, অর্থাৎ শাহজাহানের প্রধান সম্রাজ্ঞী বেগম মুমতাজ মহল ছিলেন সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ভাইঝি। জাহাঙ্গিরের মৃত্যুর পর শাহজাহান তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা শাহরিয়ার মির্জাকে যুদ্ধে পরাজিত করে আগ্রা দুর্গে নিজেকে পরবর্তী মুঘল সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন। শাহরিয়ার ছাড়াও তাঁর সিংহাসনের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। শাহজাহানের চারজন বিবাহিতা বেগম এবং এগারো জন উপপত্নী ছিলেন। এঁদের মধ্যে প্রধানা বেগম সম্রাজ্ঞী মুমতাজ মহলকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। মুমতাজ মহলের মোট চোদ্দো জন সন্তান-সন্ততি ছিল। শাহজাহানের উত্তরসূরি সম্রাট ঔরঙ্গজেব মুমতাজ মহলের তৃতীয় পুত্র ছিলেন। nnfqpvcz40o08t2zxzw3w1v4ricrgod 107393 107392 2026-09-28T16:39:19Z Sumasa 5130 সম্প্রসারণ, বিষয়বস্তু যোগ 107393 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} <div style="text-align: center; font-size: 200%;">''' শাহজাহান '''</div> <div style="text-align: center; font-size: 150%;">(১৫৯২ - ১৬৬৬)</div> [[File:Shah jahan moguln.JPG|thumb|center|200px]] '''শাহজাহান''' ছিলেন ভারতের ঐতিহাসিক মুঘল সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট। পিতার নাম জাহাঙ্গির, মাতা মানমতি বাই। ১৬২৮ থেকে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের শাসক ছিলেন। 'শাহজাহান' নামটা এসেছে ফার্সি ভাষা থেকে। যার অর্থ 'পৃথিবীর রাজা'। সিংহাসনে আরোহণ করার পূর্বে তাঁর নাম ছিল খুররম। ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দে পিতা জাহাঙ্গিরের মৃত্যুর পর তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তবে তাঁর সিংহাসনলাভ মসৃণ ছিল না। শাহজাহান ছিলেন তাঁর বিমাতা সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ভাই আসফ খানের জামাতা, অর্থাৎ শাহজাহানের প্রধান সম্রাজ্ঞী বেগম মুমতাজ মহল ছিলেন সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ভাইঝি। জাহাঙ্গিরের মৃত্যুর পর শাহজাহান তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা শাহরিয়ার মির্জাকে যুদ্ধে পরাজিত করে আগ্রা দুর্গে নিজেকে পরবর্তী মুঘল সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন। শাহরিয়ার ছাড়াও তাঁর সিংহাসনের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। শাহজাহানের চারজন বিবাহিতা বেগম এবং এগারো জন উপপত্নী ছিলেন। এঁদের মধ্যে প্রধানা বেগম সম্রাজ্ঞী মুমতাজ মহলকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। মুমতাজ মহলের মোট চোদ্দো জন সন্তান-সন্ততি ছিল। শাহজাহানের উত্তরসূরি সম্রাট ঔরঙ্গজেব মুমতাজ মহলের তৃতীয় পুত্র ছিলেন। == শাসনকাল == শাহজাহানের রাজত্বকালে মুঘল বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা দশ লক্ষে উন্নীত হয়। সেই সময় মুঘল ভারত বিশ্বের ২৪ শতাংশ জিডিপি-এর জোগান দিত। ভারত ছিল তৎকালীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ। তাঁর রাজত্বের সময়কালকে মুঘল স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ বলে বিবেচিত হয়। nyfwyfb80jpk2vgj42r15025z1pmc32 নাগা বাজার/বর্তমান অবস্থা 0 33770 107403 2026-09-29T09:31:49Z ~2026-52342-24 13924 এই অধ্যায়ে রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার কাতিলা গ্রামের নাগা বাজারের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। বাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, মাছ ও কৃষিপণ্যের কেনাবেচা, নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট, যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক ভূমিকা, স্থানীয় অর্থনীতি, অবকাঠামোগত পরিবর্তন, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। এতে নাগা বাজারের বর্তমান কার্যক্রম ও ক্রমবিকাশের একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যায়। 107403 wikitext text/x-wiki নাগা বাজার/বর্তমান অবস্থা ভূমিকা নাগা বাজার রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ১৫ নং যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা গ্রামের একটি স্থানীয় বাজার ও যোগাযোগকেন্দ্র। দীর্ঘ সময় ধরে বাজারটি কাতিলা এবং আশপাশের গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা, কৃষিপণ্য ও মাছের বেচাকেনা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯০-এর দশক থেকে বাজারটির বিকাশের ধারাটি শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে দোকানপাট, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও মানুষের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নাগা বাজারকে একটি ক্রমবর্ধমান গ্রামীণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে দেখা যায়। বাজারের বর্তমান বাণিজ্যিক কার্যক্রম বর্তমানে নাগা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য, কৃষিপণ্য, শাকসবজি, মাছ, ফলমূল এবং অন্যান্য স্থানীয় পণ্য কেনাবেচা হয়। বিশেষ করে তাজা দেশীয় মাছ ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজির বাজার হিসেবে এর একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছে। আশপাশের কৃষক ও বিক্রেতারা বিভিন্ন সময়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বাজারে আসেন এবং স্থানীয় ক্রেতারা সেগুলো সংগ্রহ করেন। সকালের সময় মাছের বাজারে তুলনামূলক বেশি কার্যক্রম দেখা যায়। আশপাশের বিল, খাল ও জলাশয় থেকে আসা দেশীয় মাছ স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়। একইভাবে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা তাজা শাকসবজি বাজারে নিয়ে আসেন। এর ফলে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরি হয়। বাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুধু নির্দিষ্ট একটি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহের জন্য আশপাশের গ্রামের মানুষও বাজারে আসেন। ফলে বাজারটি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে। নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট নাগা বাজারের কেন্দ্রীয় অংশের সঙ্গে যুক্ত একটি পরিচিত স্থান হলো “নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট”। এটি কাতিলা গ্রামের একটি স্থানীয় সড়কসংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় যানবাহন চলাচল করে এবং যাত্রীদের ওঠানামা করতে দেখা যায়। রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান সাধারণত এই এলাকায় পাওয়া যায়। ফলে বাজারে আসা-যাওয়া এবং আশপাশের গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে জিরো পয়েন্টের ভূমিকা রয়েছে। জিরো পয়েন্টের নামকরণ বাজারের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত গাহের আলী মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়। নামকরণের পর তিনি নিজ হাতে “নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট” লেখা একটি ব্যানার স্থাপন করেছিলেন বলে সংরক্ষিত তথ্য থেকে জানা যায়। যোগাযোগ ও সড়কব্যবস্থা নাগা বাজারের বর্তমান অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সড়ক যোগাযোগ। বাজারটি আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে স্থানীয় সড়কের মাধ্যমে সংযুক্ত। বাজারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সড়ক স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তবে সব সড়কের অবস্থা একই রকম নয়। বিশেষ করে নাগা বাজার থেকে উত্তর দিকে নিচু কাতিলা হয়ে মৌলভীভিটা পর্যন্ত প্রায় ১.২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাপূর্ণ অবস্থায় থাকার কথা স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্ষাকালে মাটির এই সড়কে চলাচলে সমস্যা তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের জন্যও এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হলে বাজারে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, মানুষের যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড আরও সহজ হতে পারে। এ কারণে বাজারের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামাজিক যোগাযোগ ও জনসমাগম নাগা বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; এটি স্থানীয় মানুষের সামাজিক যোগাযোগেরও একটি পরিচিত স্থান। বাজারে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে আসেন এবং একই সঙ্গে পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও তথ্য বিনিময় করেন। সকাল ও সন্ধ্যার সময় বাজারের পরিবেশে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। স্থানীয় বাজারকেন্দ্রিক এই সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি বর্তমানে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী বাজারকেন্দ্রিক যোগাযোগের সঙ্গে আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগ যুক্ত হয়েছে। ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতি নাগা বাজারের সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, মাছ বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা এবং বিভিন্ন সেবাদাতা মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম যুক্ত। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি হওয়ায় কৃষক ও উৎপাদকরা তাদের পণ্যের জন্য একটি স্থানীয় বাজার পান। অন্যদিকে আশপাশের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তুলনামূলক কাছাকাছি থেকে সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার ফলে বাজারটি কাতিলা গ্রামের বাইরেও আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় বর্ণনাগুলোতে নাগা বাজারকে ক্রমবর্ধমান স্থানীয় বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান অবকাঠামো ও পরিবর্তন নাগা বাজারের পরিবর্তন শুধু দোকানপাটের সংখ্যাবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাজারের আশপাশে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা ও সেবামূলক কার্যক্রম যুক্ত হচ্ছে। বাজারের সঙ্গে মোবাইল যোগাযোগ, অনলাইন তথ্যপ্রচার এবং ডিজিটাল মানচিত্রে অবস্থান চিহ্নিত করার মতো আধুনিক ব্যবস্থাও যুক্ত হয়েছে। উইকিমিডিয়া কমন্সে সংরক্ষিত সাম্প্রতিক ছবিগুলোতে নাগা বাজারের সামনের অংশ, সবজি বাজার, জিরো পয়েন্ট এবং স্থানীয় পরিবেশের বিভিন্ন দৃশ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ছবি বাজারটির বর্তমান অবস্থার একটি দৃশ্যমান দলিল হিসেবে ভবিষ্যতে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের সম্পর্ক নাগা বাজারের বিকাশের ইতিহাসে প্রয়াত গাহের আলী মণ্ডলের নাম স্থানীয়ভাবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর ভূমিকার কথা বিভিন্ন নথি ও স্থানীয় প্রকাশনায় উল্লেখ রয়েছে। ৫ জানুয়ারি ২০২৪ সালে বাজারটির আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রমের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয় বলে স্থানীয়ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। গাহের আলী মণ্ডলের মৃত্যুর পরও বাজারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে বর্তমান নাগা বাজারকে তার প্রাথমিক উদ্যোক্তার ইতিহাস এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে বিকশিত একটি চলমান বাজার হিসেবে দেখা যায়। বর্তমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নাগা বাজারের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা, বিশেষ করে বাজারসংলগ্ন কিছু সড়কের অবস্থা, অন্যতম। বর্ষাকালে মাটির রাস্তা ব্যবহারে অসুবিধা হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে বাজারটির সম্ভাবনাও রয়েছে। কৃষিপণ্য, তাজা মাছ ও শাকসবজির স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত করা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি, ব্যবসায়িক অবকাঠামো বৃদ্ধি এবং আধুনিক সেবা যুক্ত করা হলে বাজারটির স্থানীয় অর্থনৈতিক ভূমিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর। উপসংহার বর্তমান নাগা বাজার একটি বিকাশমান গ্রামীণ বাজার, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক বাণিজ্যের সঙ্গে আধুনিক ব্যবসা ও যোগাযোগব্যবস্থা ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে। তাজা দেশীয় মাছ, শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাবেচার পাশাপাশি এটি কাতিলা ও আশপাশের মানুষের সামাজিক যোগাযোগের একটি স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। একদিকে বাজারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও জনসমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক ও অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা এখনও রয়েছে। তাই নাগা বাজারের বর্তমান অবস্থা মূলত একটি পরিবর্তনশীল স্থানীয় বাজারের চিত্র—যেখানে দীর্ঘদিনের গ্রামীণ বাজার সংস্কৃতি, কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি এবং আধুনিক যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পাশাপাশি বিদ্যমান। 8upldjvtrdkpibgy9lozhs0w4kh6ijg