উইকিবই bnwikibooks https://bn.wikibooks.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.22 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিবই উইকিবই আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা উইকিশৈশব উইকিশৈশব আলাপ বিষয় বিষয় আলাপ রন্ধনপ্রণালী রন্ধনপ্রণালী আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা বাংলা ব্যাকরণ/রূপতত্ত্ব/শব্দগঠন 0 4703 107411 107404 2026-09-30T16:28:31Z Suadur Rahman 11082 /* দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া */ 107411 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! ; ✰ সমাসের প্রকারভেদ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। ==== দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া ==== ; বিশেষ্য + বিশেষ্য— : মা-বাবা, বাপ-পা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি, চাচা-চাচি, মামা-মামি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট, দা-কুমড়া, পাপ-পূণ্য, স্বর্গ-নরক, স্বর্গমর্ত্য, জন্মমৃত্যু, ধর্মকর্ম, নরনারী, হাত-পা, নাক-মুখ, চোখ-কান, ক্রয়বিক্রয়, জমা-খরচ, দিনরাত প্রভৃতি। ; সর্বনাম + সর্বনাম— : তুমি-আমি, তোমার-আমার, যে-সে, যাকে-তাকে, যা-তা, যিনি-তিনি প্রভৃতি। ; বিশেষণ + বিশেষণ— : ভালো-মন্দ, ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, ন্যায়-অন্যায়, সাদাকালো, নীললোহিত, কাঁচাপাকা, হতাহত, হিতাহিত প্রভৃতি। ; ক্রিয়া + ক্রিয়া— : ধীরেসুস্থে, হেসেখেলে, নেচে-গেয়ে, বেচা-কেনা, পড়াশুনা, হারজিত, ওঠ্-বস্, যাওয়া-আসা প্রভৃতি। ==== শ্রেণি বিভাজন ==== দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 1vu2gyktsr0jiud1d1mnfi8vg1ogfda 107414 107411 2026-10-01T10:27:39Z Suadur Rahman 11082 /* ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ সম্প্রসারণ 107414 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক ও পার্থক্য— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! সন্ধি ও সমাসের মূল পার্থক্যগুলো হলো— {| ! সন্ধি ! সমাস |- | সন্ধিতে সন্নিহিত ধ্বনিগুলির মিলন ঘটে। | সমাসে অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের মিলন ঘটে। |- | সন্ধিতে প্রতিটি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে। | সমাসে প্রতি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে (দ্বন্দ্ব) আবার পরপদ (কর্মধারয়, তৎপুরুষ) কিংবা অন্যপদের (বহুব্রীহি) অর্থও প্রাধান্য পেতে পারে। |- | সন্ধিতে বিভক্তি লোপের বিষয়টিই নেই। | সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বপদের বিভক্তি চিহ্ন লোপ পায়। |- | সন্ধিতে পদগুলির ক্রম অক্ষুন্ন থাকে। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে পদদুটির স্থান পরিবর্তন হয়। |- | সন্ধিতে কখনোই এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে না। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে। |- |} ; ✰ সমাসের প্রকারভেদ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। ==== দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া ==== ; বিশেষ্য + বিশেষ্য— : মা-বাবা, বাপ-পা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি, চাচা-চাচি, মামা-মামি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট, দা-কুমড়া, পাপ-পূণ্য, স্বর্গ-নরক, স্বর্গমর্ত্য, জন্মমৃত্যু, ধর্মকর্ম, নরনারী, হাত-পা, নাক-মুখ, চোখ-কান, ক্রয়বিক্রয়, জমা-খরচ, দিনরাত প্রভৃতি। ; সর্বনাম + সর্বনাম— : তুমি-আমি, তোমার-আমার, যে-সে, যাকে-তাকে, যা-তা, যিনি-তিনি প্রভৃতি। ; বিশেষণ + বিশেষণ— : ভালো-মন্দ, ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, ন্যায়-অন্যায়, সাদাকালো, নীললোহিত, কাঁচাপাকা, হতাহত, হিতাহিত প্রভৃতি। ; ক্রিয়া + ক্রিয়া— : ধীরেসুস্থে, হেসেখেলে, নেচে-গেয়ে, বেচা-কেনা, পড়াশুনা, হারজিত, ওঠ্-বস্, যাওয়া-আসা প্রভৃতি। ==== শ্রেণি বিভাজন ==== দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 2vhsk1xreiphrdapp8t1lcjes1ol6qq 107415 107414 2026-10-01T10:34:54Z Suadur Rahman 11082 /* ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ 107415 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক ও পার্থক্য— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! সন্ধি ও সমাসের প্রধান পার্থক্যগুলো হলো— {| class="wikitable" style="margin: 1em;" ! সন্ধি ! সমাস |- | সন্ধিতে সন্নিহিত ধ্বনিগুলির মিলন ঘটে। | সমাসে অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের মিলন ঘটে। |- | সন্ধিতে প্রতিটি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে। | সমাসে প্রতি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে (দ্বন্দ্ব); <br>পরপদ (কর্মধারয়, তৎপুরুষ) কিংবা অন্যপদের (বহুব্রীহি) অর্থও প্রাধান্য পেতে পারে। |- | সন্ধিতে বিভক্তি লোপের বিষয়টিই নেই। | সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বপদের বিভক্তি চিহ্ন লোপ পায়। |- | সন্ধিতে পদগুলির ক্রম অক্ষুন্ন থাকে। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে পদদুটির স্থান পরিবর্তন হয়। |- | সন্ধিতে কখনোই এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে না। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে। |- |} ; ✰ সমাসের প্রকারভেদ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। ==== দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া ==== ; বিশেষ্য + বিশেষ্য— : মা-বাবা, বাপ-পা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি, চাচা-চাচি, মামা-মামি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট, দা-কুমড়া, পাপ-পূণ্য, স্বর্গ-নরক, স্বর্গমর্ত্য, জন্মমৃত্যু, ধর্মকর্ম, নরনারী, হাত-পা, নাক-মুখ, চোখ-কান, ক্রয়বিক্রয়, জমা-খরচ, দিনরাত প্রভৃতি। ; সর্বনাম + সর্বনাম— : তুমি-আমি, তোমার-আমার, যে-সে, যাকে-তাকে, যা-তা, যিনি-তিনি প্রভৃতি। ; বিশেষণ + বিশেষণ— : ভালো-মন্দ, ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, ন্যায়-অন্যায়, সাদাকালো, নীললোহিত, কাঁচাপাকা, হতাহত, হিতাহিত প্রভৃতি। ; ক্রিয়া + ক্রিয়া— : ধীরেসুস্থে, হেসেখেলে, নেচে-গেয়ে, বেচা-কেনা, পড়াশুনা, হারজিত, ওঠ্-বস্, যাওয়া-আসা প্রভৃতি। ==== শ্রেণি বিভাজন ==== দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 6jxeedkg766cndf1b8x8wrzdb3a9aw2 107416 107415 2026-10-01T10:49:05Z Suadur Rahman 11082 /* ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ 107416 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। অন্যনাম '''উত্তরপদ'''। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক ও পার্থক্য— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! সন্ধি ও সমাসের প্রধান পার্থক্যগুলো হলো— {| class="wikitable" style="margin: 1em; font-family: serif;" ! সন্ধি ! সমাস |- | সন্ধিতে সন্নিহিত ধ্বনিগুলির মিলন ঘটে। | সমাসে অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের মিলন ঘটে। |- | সন্ধিতে প্রতিটি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে। | সমাসে প্রতি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে (দ্বন্দ্ব); <br>পরপদ (কর্মধারয়, তৎপুরুষ) কিংবা অন্যপদের (বহুব্রীহি) অর্থও প্রাধান্য পেতে পারে। |- | সন্ধিতে বিভক্তি লোপের বিষয়টিই নেই। | সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বপদের বিভক্তি চিহ্ন লোপ পায়। |- | সন্ধিতে পদগুলির ক্রম অক্ষুন্ন থাকে। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে পদদুটির স্থান পরিবর্তন হয়। |- | সন্ধিতে কখনোই এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে না। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে। |- |} ; ✰ সমাসের শ্রেণিবিভাগ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস আছে, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতি। কর্মধারয়, দ্বিগু ও তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। দ্বন্দ্ব সমাসে উভয়পদের অর্থ প্রধান। বহুব্রীহিতে সমস্যমান পদ ব্যতীত অন্য একটি পদের অর্থ প্রধান। পরপদ বা উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় বলে কর্মধারয় ও দ্বিগু সমাসকে সংস্কৃত ব্যাকরণে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ব্যাকরণে কর্মধারয় ও দ্বিগু পৃথক সমাস হিসেবেই বিবেচিত! বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। ==== দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া ==== ; বিশেষ্য + বিশেষ্য— : মা-বাবা, বাপ-পা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি, চাচা-চাচি, মামা-মামি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট, দা-কুমড়া, পাপ-পূণ্য, স্বর্গ-নরক, স্বর্গমর্ত্য, জন্মমৃত্যু, ধর্মকর্ম, নরনারী, হাত-পা, নাক-মুখ, চোখ-কান, ক্রয়বিক্রয়, জমা-খরচ, দিনরাত প্রভৃতি। ; সর্বনাম + সর্বনাম— : তুমি-আমি, তোমার-আমার, যে-সে, যাকে-তাকে, যা-তা, যিনি-তিনি প্রভৃতি। ; বিশেষণ + বিশেষণ— : ভালো-মন্দ, ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, ন্যায়-অন্যায়, সাদাকালো, নীললোহিত, কাঁচাপাকা, হতাহত, হিতাহিত প্রভৃতি। ; ক্রিয়া + ক্রিয়া— : ধীরেসুস্থে, হেসেখেলে, নেচে-গেয়ে, বেচা-কেনা, পড়াশুনা, হারজিত, ওঠ্-বস্, যাওয়া-আসা প্রভৃতি। ==== শ্রেণি বিভাজন ==== দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 7utsoxtyum0w0ahzyzv6m0wrg83ch8c 107417 107416 2026-10-01T10:57:25Z Suadur Rahman 11082 /* ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ 107417 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। অন্যনাম '''উত্তরপদ'''। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক ও পার্থক্য— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! সন্ধি ও সমাসের প্রধান পার্থক্যগুলো হলো— {| class="wikitable" style="margin: 1em; font-family: serif;" ! সন্ধি ! সমাস |- | সন্ধিতে সন্নিহিত ধ্বনিগুলির মিলন ঘটে। | সমাসে অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের মিলন ঘটে। |- | সন্ধিতে প্রতিটি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে। | সমাসে প্রতি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে (দ্বন্দ্ব); <br>পরপদ (কর্মধারয়, তৎপুরুষ) কিংবা অন্যপদের (বহুব্রীহি) অর্থও প্রাধান্য পেতে পারে। |- | সন্ধিতে বিভক্তি লোপের বিষয়টিই নেই। | সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বপদের বিভক্তি চিহ্ন লোপ পায়। |- | সন্ধিতে পদগুলির ক্রম অক্ষুন্ন থাকে। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে পদদুটির স্থান পরিবর্তন হয়। |- | সন্ধিতে কখনোই এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে না। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে। |- |} ; ✰ সমাসের শ্রেণিবিভাগ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সংস্কৃত ব্যাকরণে অর্থপ্রাধান্যের বিচারে সমাস চার ভাগে বিভক্ত: অব্যয়ীভাব, তৎপুরুষ, দ্বন্দ্ব ও বহুব্রীহি। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ব্যাকরণের প্রচলিত ধারণা হলো, সমাস ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব (এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতিও আছে)। কর্মধারয়, দ্বিগু ও তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। দ্বন্দ্ব সমাসে উভয়পদের অর্থ প্রধান। বহুব্রীহিতে সমস্যমান পদ ব্যতীত অন্য একটি পদের অর্থ প্রধান। পরপদ বা উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় বলে কর্মধারয় ও দ্বিগু সমাসকে সংস্কৃত ব্যাকরণে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে বাংলা ব্যাকরণে কর্মধারয় ও দ্বিগু পৃথক সমাস হিসেবে বিবেচিত হয়! বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা ভাষায় যেহেতু সংস্কৃতের মতো অত অব্যয় নেই, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকে পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। ==== দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া ==== ; বিশেষ্য + বিশেষ্য— : মা-বাবা, বাপ-পা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি, চাচা-চাচি, মামা-মামি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট, দা-কুমড়া, পাপ-পূণ্য, স্বর্গ-নরক, স্বর্গমর্ত্য, জন্মমৃত্যু, ধর্মকর্ম, নরনারী, হাত-পা, নাক-মুখ, চোখ-কান, ক্রয়বিক্রয়, জমা-খরচ, দিনরাত প্রভৃতি। ; সর্বনাম + সর্বনাম— : তুমি-আমি, তোমার-আমার, যে-সে, যাকে-তাকে, যা-তা, যিনি-তিনি প্রভৃতি। ; বিশেষণ + বিশেষণ— : ভালো-মন্দ, ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, ন্যায়-অন্যায়, সাদাকালো, নীললোহিত, কাঁচাপাকা, হতাহত, হিতাহিত প্রভৃতি। ; ক্রিয়া + ক্রিয়া— : ধীরেসুস্থে, হেসেখেলে, নেচে-গেয়ে, বেচা-কেনা, পড়াশুনা, হারজিত, ওঠ্-বস্, যাওয়া-আসা প্রভৃতি। ==== শ্রেণি বিভাজন ==== দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} pe810cpekxgosmbmj4sc1n3pbupmk8y 107418 107417 2026-10-01T11:05:30Z Suadur Rahman 11082 /* ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন */ 107418 wikitext text/x-wiki == ২.১ উপসর্গযোগে শব্দগঠন == == ২.২ প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন == == ২.৩ সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠন == <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''সমাস''' [সংস্কৃত] = সম্ + √অস্ + অ (ঘঞ্) <br>'''''অর্থ:''''' সংক্ষেপ, সংগ্রহ, মিলন; একাধিক পদের একপদে সংকোচন বা একপদীকরণ।</div> বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম '''সমাস'''। এটি আভিধানিক শব্দনির্মাণের একটি প্রক্রিয়া, যাতে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দটি প্রায় সবসময়ই একটি সম্মিলিত ধারণাকে প্রকাশ করে। :উদাহরণস্বরূপ- ''হাতঘড়ি''-এ যেমন 'হাত' এবং 'ঘড়ি'-এর দুটি পৃথক ধারণাকে এক করে অখণ্ড বস্তুর একটি ধারণা সৃষ্টি করে। ; ✰ সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা— সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণেই সমাস সংক্রান্ত সমস্ত পরিভাষা— ব্যাসবাক্য, বিগ্রহবাক্য, পূর্বপদ, পরপদ, সমস্যমান, সমস্তপদ— থেকে শুরু করে সব সমাসের নানা চিত্রল নাম পর্যন্ত উদ্ভব হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অন্যান্য অনেক কারণে নামগুলি তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। নিচে পরিভাষাগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: :১. '''সমস্যমান পদ:''' যে সব পদ নিয়ে সমাস হয়, সেসব পদই হলো সমস্যমান পদ। সাধারণত দুটি, তবে দ্বন্দ্ব সমাসে আরও বেশি হতে পারে। ::ক. '''পূর্বপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে প্রথম পদ। ::খ. '''পরপদ:''' সমস্যমান পদসমূহের মধ্যে শেষ পদ। অন্যনাম '''উত্তরপদ'''। ::গ. '''মধ্যপদ:''' দুইয়ের অধিক সমস্যমান পদ থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝের পদটি/গুলো। :২. '''সমস্তপদ:''' সমাস-সাধিত শব্দ। অন্য নামগুলো হলো: '''সমাস শব্দ''', '''সমাসবদ্ধ পদ''' ও '''সমাসবদ্ধ শব্দ'''। সমস্তপদ সাধারণত এক শব্দে লিখতে হয়। তবে, উচ্চারণ কিংবা অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন দিতে হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে পদদ্বয়কে আলাদা করে লেখা হয়। :৩. '''ব্যাসবাক্য:''' যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ব্যাসবাক্য। অপর নাম '''বিগ্রহবাক্য'''। ; উদাহরণস্বরূপ— ::: <big>হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি</big> : এখানে, ::: সমস্যমান পদ: ''হাত'' ও ''ঘড়ি'' :::: পূর্বপদ: ''হাত'' :::: পরপদ: ''ঘড়ি'' ::: সমস্তপদ: ''হাতঘড়ি'' ::: ব্যাসবাক্য: ''হাতে পরার ঘড়ি'' ; ✰ সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক ও পার্থক্য— সংস্কৃত শব্দের বানান-শিক্ষার অংশ হিসাবে বাংলা ব্যাকরণে ''সন্ধি-প্রকরণ'' শেখানো হয়। সন্ধিতে সন্নিহিত বর্ণের (=ধ্বনির) মিলন ঘটে; সমাসে মিলন ঘটে পাশাপাশি থাকা দুটি, তিনটি বা তারও বেশি সংখ্যক পদের। অর্থাৎ, সন্ধির কাজ ধ্বনিতে এবং সমাসের কাজ শব্দে। সংস্কৃত সমাসে আবশ্যিকভাবে সন্ধি ঘটতো, বস্তুতপক্ষে সংস্কৃতে অধিকাংশ সন্ধি সমাসবদ্ধ শব্দেরই (সমস্তপদ) উদাহরণ! 'হিতাহিত' (হিত+অহিত) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে এটি সন্ধি এবং রূপতত্ত্বে তা সমাস। বাংলা সমাসে এ ধরনের সন্ধি ঘটলেও তা লিপিতে সামান্যই প্রতিফলিত হয়। এই সন্ধির প্রক্রিয়াগুলি ''সঞ্জননী ধ্বনিতত্ত্ব'' অংশে আলোচনার বিষয়। যেমন- বাংলায় 'চার+জন' এর উচ্চারণ হয় 'চাজ্জন' তবে তা বানানে দেখানো হয় না! সন্ধি ও সমাসের প্রধান পার্থক্যগুলো হলো— {| class="wikitable" style="margin: 1em; font-family: serif;" ! সন্ধি ! সমাস |- | সন্ধিতে সন্নিহিত ধ্বনিগুলির মিলন ঘটে। | সমাসে অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের মিলন ঘটে। |- | সন্ধিতে প্রতিটি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে। | সমাসে প্রতি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে (দ্বন্দ্ব); <br>পরপদ (কর্মধারয়, তৎপুরুষ) কিংবা অন্যপদের (বহুব্রীহি) অর্থও প্রাধান্য পেতে পারে। |- | সন্ধিতে বিভক্তি লোপের বিষয়টিই নেই। | সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বপদের বিভক্তি চিহ্ন লোপ পায়। |- | সন্ধিতে পদগুলির ক্রম অক্ষুন্ন থাকে। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে পদদুটির স্থান পরিবর্তন হয়। |- | সন্ধিতে কখনোই এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে না। | সমাসে কিছুক্ষেত্রে এক শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে। |- |} ; ✰ সমাসের শ্রেণিবিভাগ— সংস্কৃত সমাসের ছকে বাংলা ভাষার সব সমাস-প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা যায় না এবং সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি সমাস বাংলায় খাটে না। সংস্কৃত ব্যাকরণে অর্থপ্রাধান্যের বিচারে সমাস চার ভাগে বিভক্ত: অব্যয়ীভাব, তৎপুরুষ, দ্বন্দ্ব ও বহুব্রীহি। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ব্যাকরণের প্রচলিত ধারণা হলো, সমাস ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব (এছাড়া কিছু অপ্রধান সমাস, যেমন- অলোপ বা অলুক, বাক্যাশ্রয়ী, নিত্য প্রভৃতিও আছে)। কর্মধারয়, দ্বিগু ও তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান; দ্বন্দ্ব সমাসে উভয়পদের অর্থ; আর বহুব্রীহিতে সমস্যমান পদ ব্যতীত অন্য একটি পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। পরপদ বা উত্তরপদের অর্থ প্রধান বলে কর্মধারয় ও দ্বিগু সমাসকে সংস্কৃত ব্যাকরণে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে বাংলা ব্যাকরণে কর্মধারয় ও দ্বিগু পৃথক সমাস হিসেবে বিবেচিত হতো! বর্তমানকালে, দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, বাংলা যেহেতু সংস্কৃতের মতো অব্যয়পদবহুল ভাষা নয়, এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় পদকেও বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং, বাংলায় অব্যয়ীভাব সমাস নেই-ই বলা যায়। মজার কথা হলো, প্রাদি আর অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ এবং উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ (প্রায়শই?) একই! অর্থাৎ, বাংলা ভাষার সমাস বিশ্লেষণের জন্য মাত্র '''চার ধরনের''' (তিন প্রকারও বলতে পারি, কর্মধারয়কে তৎপুরুষে অন্তভুক্ত করে!) প্রধান সমাস হলেই হয়: '''দ্বন্দ্ব''', '''কর্মধারয়''', '''তৎপুরুষ''' এবং '''বহুব্রীহি''' সমাস। এবং দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহিতে অলুক সমাস হয়। === দ্বন্দ্ব সমাস === <div style="padding:5px; font-size:80%; margin:1px 0; border:2px solid #4a904a; background-color: #c8f7c7; width:250px; text-align:center; float:right;">'''দ্বন্দ্ব''' [সংস্কৃত] = দ্বি + দ্বি (কর্মধারয় সমাস); <br>দ্বম্‌ + দ্ব (নিপাতনে) <br>'''''অর্থ:''''' বিরোধ; কলহ, ঝগড়া, বিবাদ; যুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ; সমাসবিশেষ, সমপ্রাধান্যপূর্ণ উভয় পদের সমাস; পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়; জোড়া, যুগল, মিথুন, স্ত্রী-পুরুষ।</div> যে সমাসে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের (দুইয়ের অধিক পদ থাকলে প্রত্যেক পদের) অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক সমশ্রেণির শব্দ জুড়ে দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন সমস্যমান পদগুলোর মধ্যকার যোজক (এবং, ও, আর) লুপ্ত হয়ে পদগুলোকে এক শব্দে বেঁধেছে। তাই এ সমাসকে '''বন্ধন সমাস'''ও বলা যায়। ==== দ্বন্দ্ব সমাসে শব্দ গঠন প্রক্রিয়া ==== ; বিশেষ্য + বিশেষ্য— : মা-বাবা, বাপ-পা, ভাই-বোন, মাসি-পিসি, চাচা-চাচি, মামা-মামি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট, দা-কুমড়া, পাপ-পূণ্য, স্বর্গ-নরক, স্বর্গমর্ত্য, জন্মমৃত্যু, ধর্মকর্ম, নরনারী, হাত-পা, নাক-মুখ, চোখ-কান, ক্রয়বিক্রয়, জমা-খরচ, দিনরাত প্রভৃতি। ; সর্বনাম + সর্বনাম— : তুমি-আমি, তোমার-আমার, যে-সে, যাকে-তাকে, যা-তা, যিনি-তিনি প্রভৃতি। ; বিশেষণ + বিশেষণ— : ভালো-মন্দ, ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, ন্যায়-অন্যায়, সাদাকালো, নীললোহিত, কাঁচাপাকা, হতাহত, হিতাহিত প্রভৃতি। ; ক্রিয়া + ক্রিয়া— : ধীরেসুস্থে, হেসেখেলে, নেচে-গেয়ে, বেচা-কেনা, পড়াশুনা, হারজিত, ওঠ্-বস্, যাওয়া-আসা প্রভৃতি। ==== শ্রেণি বিভাজন ==== দ্বন্দ্বের একাধিক শ্রেণি শব্দগুলির অর্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায়। যেমন- * '''সমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে একই ধরনের অর্থ বা অনুষঙ্গযুক্ত একাধিক শব্দের বন্ধন ঘটে। যেমন— : হাত-পা, রাখঢাক, চলাফেরা, ঝড়বৃষ্টি, বোমাবারুদ, চোখ-মুখ, লাউকুমড়ো, ভাতকাপড়, ভাইবোন, বাপব্যাটা, বউ-ঝি, রাজাবাদশা, মাঝিমাল্লা, জামাকাপড়, চোখ-কান-নাক-গলা, আষাঢ়-শ্রাবণ, টাকাপয়সা, খাল-বিল-নদী-সাগর, কথাবার্তা, হাসিকান্না, ছেলেমেয়ে, তেল খুন লকড়ি, কাণ্ড-কারখানা, কাগজকলম, শাকসবজি, কোর্টকাছারি, ঝগড়া-বিবাদ, খাওয়া-দাওয়া, রাম-শ্যাম-যদু-মধু, বসন-ভূষণ, শয়ন-স্বপন, চিন্তা-ভাবনা, ঠাট্টা-ইয়ার্কি, রং-তামাশা, কান্নাকাটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। * '''বিষমসঙ্গী দ্বন্দ্ব:''' যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে পরস্পরের বিপরীত। যেমন— : রাতদিন, জীবনমরণ, আলো-আঁধার, সুখদুঃখ, ভালোমন্দ, রোদবৃষ্টি, হাসিকান্না, দেশবিদেশ, জমাখরচ, রাজাপ্রজা, সকাল-বিকেল, ছেলেমেয়ে, আকাশ-পাতাল, উপরনীচ ইত্যাদি। === কর্মধারয় সমাস === বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ নীল যে উৎপল = নীলোৎপল। কর্মধারয় সমাসে উত্তর পদের অর্থ প্রধানভাবে থাকে। কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ- ==== ১.মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ==== কর্মধারয় সমাসে কোন কোন স্থানে মধ্যপদের লোপ হয়। সেজন্যেই একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথাঃ হিমালয় নামক পবর্ত = হিমালয়পবর্ত। এখানে ‘নামক’ মধ্যপদের লোপ হয়েছে। ==== ২.উপমিত কর্মধারয় সমাস ==== সমান ধর্মবাচক পদের প্রয়োগ না থাকলে উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ মুখ চন্দ্রসদৃশ = মুখচন্দ্র। ==== ৩.রূপক কর্মধারয় সমাস ==== উপমেয় পদে উপমানের আরোপ করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এতে উপমেয় পদে রূপ শব্দের যোগ থাকে। যেমনঃ বিদ্যারূপ ধন = বিদ্যাধন। এখানে ‘রূপ’ শব্দের যোগ রয়েছে। ==== ৪.উপমান কর্মধারয় সমাস ==== উপমানবাচক পদের সাথে সমান ধর্মবাচক পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ শশের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত। === তৎপুরুষ সমাস === দ্বিতীয়াদি বিভক্তান্ত পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। এতে উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। যেমনঃ লবণ দ্বারা অক্ত (যুক্ত) = লবণাক্ত। "'তৎপুরুষ"' শব্দটির অর্থ হল "তার পুরুষ"। তার পুরুষ এই শব্দ গুলির একপদীকরণে তৎপুরুষ শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পূর্ব পদ থেকে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি 'র' লোপ পেয়েছে ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এইভাবে এই সমাসের অধিকাংশ উদাহরণে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় ও উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে এবং তৎপুরুষ শব্দটি হল এই রীতিতে নিষ্পন্ন সমাষের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।তাই উদাহরণের নামেই এর সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যথাঃ- ==== ১. দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ ==== দ্বিতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে দ্বিতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ স্বর্গকে গত = স্বর্গগত। ==== ২. তৃতীয়া-তৎপুরুষ ==== তৃতীয়া-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে তৃতীয়া-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ রজ্জু দ্বারা বন্ধ = রজ্জুবন্ধ। ==== ৩. চতুর্থী-তৎপুরুষ ==== চতুর্থী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে চতুর্থী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ যজ্ঞের নিমিত্ত ভূমি = যজ্ঞভূমি। ==== ৪. পঞ্চমী-তৎপুরুষ ==== পঞ্চমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে পঞ্চমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ মুখ হইতে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। ==== ৫. ষষ্ঠী-তৎপুরুষ ==== ষষ্ঠী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে ষষ্ঠী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু। ==== ৬. সপ্তমী-তৎপুরুষ ==== সপ্তমী-বিভক্ত্যন্ত পদ পূর্বে থেকে সমাস হলে, তাকে সপ্তমী-তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা। ==== ৭. নঞ্ তৎপুরুষ ==== নঞ্ অব্যয় পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে নঞ্তৎপুরুষ বলে। যেমনঃ ন উক্ত = অনুক্ত। ==== ৮. অলুক তৎপুরুষ ==== যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি, গায়েপড়া ইত্যাদি। === বহুব্রীহি সমাস === যে সমাসে মূখ্যভাবে সমস্যবান পদসমূহের অর্থপ্রতীতি না হয়ে অন্য পদের অর্থ মূখ্যরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথাঃ পীত হইয়াছে অম্বর যাহার = পীতাম্বর (অর্থ শ্রীকৃষ্ণ)। এর ব্যাসবাক্যে একটি যদ্ শব্দের প্রয়োগ থাকে। দশভুজা=দশহাতের সমাহার যার। === দ্বিগু সমাস === তদ্ধিতার্থে, উত্তরপদ পরে ও সমাহার বুঝালে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। তদ্ধিতার্থে, যথাঃ পঞ্চ (পাঁচটি) গো দ্বারা ক্রীত = পঞ্চগু। উত্তরপদ পরে, যথাঃ পঞ্চ হস্ত প্রমাণ ইহার = পঞ্চহস্তপ্রমাণ। [এখানে প্রমাণ শব্দ উত্তরপদ পরে থাকায় পঞ্চ ও হস্ত এই দুই পদের দ্বিগু সমাস হয়েছে]। সমাহারে, যথাঃ ত্রি (তিন) লোকের সমাহার = ত্রিলোকী।দ্বিগু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল 'দুটি গরু' কিন্তু ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হল 'দুটি গরুর মূল্যে কেনা। === অব্যয়ীভাব সমাস === অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমনঃ আত্মাকে অধি (অধিকার করিয়া) = অধ্যাত্ম। === নিত্য সমাস === যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমনঃ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। === উপপদ সমাস === কৃদন্ত-পদের পূর্বে যে পদ থাকে, তাকে উপপদ বলে এবং উপপদের সাথে কৃদন্ত-পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ সমাস বলে। যেমনঃ কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার। === প্রাদি সমাস === প্র, পরা প্রভৃতি ২০টি উপসর্গের সাথে তৎপুরুষ সমাস হলে, তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমনঃ সম্ (সম্যক্) যে আদর = সমাদর। === বাক্যাশ্রয়ী সমাস === যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকী সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না - বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস।যেমন : 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা', 'সব পেয়েছির দেশ', ইত্যাদি। == ২.৪ শব্দদ্বিত্ব == == ২.৫ বিশেষ আলোচনা: নরনারীবাচক শব্দ == == ২.৬ বিশেষ আলোচনা: সংখ্যাবাচক শব্দ == [[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ]] {{বইয়ের বিষয়শ্রেণী}} 6mw0dk48ejf073yjerv2awwauwe09ch নাগা বাজার/অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা 0 33736 107412 107305 2026-10-01T03:39:00Z NagaBazarRajshahi 13893 ২০০৮ সালের রাস্তা-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যুক্ত করা হয়েছে। 107412 wikitext text/x-wiki অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভৌগোলিক অবস্থান নাগা বাজার বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ১৫ নং যোগীপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কাতিলা গ্রামে অবস্থিত একটি স্থানীয় বাজার ও যোগাযোগকেন্দ্র। বাজারটি কাতিলা এলাকার কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত হওয়ায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা, যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে এর যোগাযোগ রয়েছে। ডাক ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্থানটির নাম সাধারণভাবে নাগা বাজার, কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নাগা বাজারের কেন্দ্রীয় অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো নাগা বাজার জিরো পয়েন্ট। এটি স্থানীয়ভাবে যানবাহন চলাচল ও দিক পরিবর্তনের একটি পরিচিত স্থান। বাজারের বিভিন্ন সড়ক এই কেন্দ্রীয় অংশের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় জিরো পয়েন্টকে বাজারের যোগাযোগব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নাগা বাজারের আনুমানিক জিরো পয়েন্টের স্থানাঙ্ক ২৪.৫৬৮৫৯২° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৯৪৭৫৩৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। স্থানাঙ্কটি বাজারের কেন্দ্রীয় অংশ নির্দেশ করে; বাজারের দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা এর আশপাশে বিস্তৃত। নাগা বাজারের চারপাশের অবস্থান নাগা বাজারের চারদিকে বিভিন্ন গ্রাম, সড়ক, জলাশয় ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। বাজারের অবস্থান বোঝার সুবিধার জন্য চারটি দিককে পৃথকভাবে বর্ণনা করা যায়। উত্তর দিক নাগা বাজারের উত্তর দিকে মৌলভিভিটা সড়ক অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এই সড়ককে মৌলভী ভিটা রোড, মোল্লোভিভিটা রোড বা অনুরূপ নামেও উল্লেখ করা হয়। এই সড়ক ধরে উত্তর দিকে গেলে মৌলভিভিটা এলাকার দিকে যাওয়া যায়। নাগা বাজার থেকে মৌলভিভিটার দূরত্ব আনুমানিক ১.২ কিলোমিটার। উত্তরমুখী এই সড়কের সঙ্গে কাতিলা এলাকার বসতিপূর্ণ অংশের যোগাযোগ রয়েছে। সড়কটির একটি অংশ নিচু কাতিলা এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। বর্ষাকালে বা অতিবৃষ্টির সময়ে এই সড়কের কিছু অংশে চলাচল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় মানুষের যাতায়াত, বাজারে আসা-যাওয়া এবং পণ্য পরিবহনের জন্য এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। নাগা বাজারের উত্তর পাশে একটি পুরোনো তালগাছও স্থানীয়ভাবে পরিচিত। এটি বহু বছর ধরে ওই এলাকার একটি দৃশ্যমান প্রাকৃতিক চিহ্ন হিসেবে রয়েছে। দক্ষিণ দিক নাগা বাজারের দক্ষিণ দিক কাতিলা এলাকার অন্যান্য বসতিপূর্ণ ও গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে যুক্ত। এই দিকে স্থানীয় গ্রামাঞ্চল, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন ছোট সড়ক ও সংযোগপথ রয়েছে। বাজারে দক্ষিণ দিক থেকে আসা মানুষ সাধারণত স্থানীয় সড়ক, অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের মাধ্যমে যাতায়াত করেন। কাতিলা গ্রামের বিভিন্ন অংশের মানুষ নাগা বাজারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা এবং স্থানীয় যোগাযোগের একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন। বাজারের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ মূলত স্থানীয় সড়কনির্ভর। পূর্ব দিক নাগা বাজারের পূর্ব দিকে কাতিলা ও পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে সংযোগকারী স্থানীয় রাস্তা ও বসতি রয়েছে। এদিকের যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে বাজারের দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক রয়েছে। আশপাশের গ্রাম থেকে কৃষিপণ্য, মাছ এবং অন্যান্য স্থানীয় পণ্য বাজারে আনা হয় এবং বাজার থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকের স্থানীয় যোগাযোগপথগুলো মূলত ছোট যানবাহন, অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এসব পথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পশ্চিম দিক নাগা বাজারের পশ্চিম দিকে ভবানীগঞ্জমুখী সড়ক রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে পশ্চিম দিকে গেলে বাগমারা উপজেলা সদর ও ভবানীগঞ্জ এলাকার দিকে যাওয়া যায়। বাগমারা উপজেলা কমপ্লেক্স ও ভবানীগঞ্জ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই পথ গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমমুখী সড়কটি নাগা বাজারকে বৃহত্তর স্থানীয় প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে বাজারের সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্থান এবং আশপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধান সড়ক ও সংযোগ নাগা বাজারের যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কয়েকটি স্থানীয় সড়কের সংযোগস্থলে এর অবস্থান। বাজারের কেন্দ্রীয় অংশ থেকে বিভিন্ন দিকে যাতায়াতের জন্য স্থানীয় সড়ক ব্যবহার করা হয়। প্রধান সংযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— • নাগা বাজার–মৌলভিভিটা সড়ক — উত্তর দিকে মৌলভিভিটার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। • নাগা বাজার–বীরকুৎসা সড়ক — বীরকুৎসা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের একটি স্থানীয় পথ। • নাগা বাজার–ভবানীগঞ্জ সড়ক — পশ্চিম দিকে ভবানীগঞ্জ ও বাগমারা উপজেলা এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। বীরকুৎসা এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের কারণে নাগা বাজারের সঙ্গে বীরকুৎসা রেলস্টেশন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোরও স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। নাগা বাজার থেকে বীরকুৎসা রেলস্টেশনের দূরত্ব আনুমানিক ৩ কিলোমিটার। বীরকুৎসা জমিদারবাড়িও বাজারের আশপাশের উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থানগুলোর একটি। জিরো পয়েন্ট ও বাসস্ট্যান্ড নাগা বাজারের জিরো পয়েন্ট স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহন থামা, যাত্রী ওঠানামা এবং দিক পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই স্থানটি বাজারের কেন্দ্রীয় মোড় হিসেবে পরিচিত। জিরো পয়েন্টের কাছে একটি স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে নাটোর, ভবানীগঞ্জ বা বাগমারা উপজেলা কমপ্লেক্সমুখী বাস চলাচল করতে দেখা যায়। তবে বাস চলাচলের সংখ্যা ও সময় নিয়মিত নাও হতে পারে। স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের জন্য অটোরিকশা, ভ্যান এবং অন্যান্য ছোট যানবাহনও ব্যবহৃত হয়। সাধারণভাবে দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত বাজার এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল থাকে। তবে গণপরিবহনের নির্দিষ্ট সময়সূচি সবসময় একই রকম নাও থাকতে পারে। নাগা বাজার ব্রিজ নাগা বাজারের যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে নাগা বাজার ব্রিজ একটি উল্লেখযোগ্য অবকাঠামো। সেতুটি কাতিলা খাল বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত দাড়ি/খালের ওপর নির্মিত এবং কাতিলা থেকে গোপীনাথপুর এলাকার সঙ্গে যোগাযোগে ভূমিকা রাখে। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকে বা ১৯৮৮ সালের বন্যার পরবর্তী সময়ে সেতুটির নির্মাণ বা উন্নয়ন ঘটে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এই সেতু দিয়ে মানুষ ও ছোট যানবাহন চলাচল করে এবং আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় এটি ভূমিকা রাখে। আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান নাগা বাজারের কাছাকাছি কয়েকটি শিক্ষা, ধর্মীয় ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কাতিলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত ঈদগাহ, মসজিদ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ও রয়েছে। নাগা বাজার থেকে যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ আনুমানিক ১.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বীরকুৎসা রেলস্টেশন আনুমানিক ৩ কিলোমিটার দূরে এবং বীরকুৎসা জমিদারবাড়ি আনুমানিক ২ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া অবিনাশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ নাগা বাজার থেকে আনুমানিক ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাজারের আশপাশে কাতিলা বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় ও কৃষিজমি রয়েছে। এসব জলাশয় ও কৃষিভিত্তিক এলাকা স্থানীয় অর্থনীতি এবং খাদ্যপণ্য সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। যোগাযোগের মাধ্যম নাগা বাজারে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো স্থানীয় সড়কভিত্তিক যানবাহন। এর মধ্যে বাস, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য ছোট যানবাহন উল্লেখযোগ্য। স্বল্প দূরত্বে স্থানীয় বাসিন্দারা হেঁটে বা সাইকেলেও বাজারে আসেন। বাজারের অবস্থান এমন একটি এলাকায় যেখানে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসে। একই সঙ্গে কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য, মাছ, শাকসবজি এবং অন্যান্য পণ্য বাজারে নিয়ে আসেন। ফলে যোগাযোগব্যবস্থা শুধু যাত্রী পরিবহনের জন্য নয়, স্থানীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নাগা বাজারের যোগাযোগব্যবস্থা মূলত স্থানীয় সড়ক ও ছোট যানবাহননির্ভর। বাজারের কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং বিভিন্ন দিকের সড়কের সংযোগের কারণে এটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য একটি স্থানীয় যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। তবে কিছু স্থানীয় সড়কের অবস্থা, বিশেষ করে বর্ষাকালে, চলাচলের জন্য সমস্যাজনক হতে পারে। সড়ক উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং গণপরিবহনের নিয়মিততা উন্নত হলে বাজারের সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, নাগা বাজারের ভৌগোলিক অবস্থান, জিরো পয়েন্ট, স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, বিভিন্ন দিকের সংযোগকারী সড়ক এবং আশপাশের গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সঙ্গে যোগাযোগ—এসব মিলিয়ে বাজারটি কাতিলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি স্থানীয় যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। == ২০০৮ সালের রাস্তা-সংক্রান্ত মামলা ও তদন্ত প্রতিবেদন == ২০০৮ সালের একটি রাস্তা-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমান [[নাগা বাজার]], কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী এলাকার রাস্তা, ভূমি ব্যবহার ও যোগাযোগব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নথি। ২০০৮ সালে বর্তমান নাগা বাজারের মতো একটি বিকশিত বাজারকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি; এলাকাটি তখন তুলনামূলকভাবে সাধারণ গ্রামীণ পরিবেশের অংশ ছিল। পরবর্তী সময়ে বাজার, দোকানপাট, যানবাহন ও মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা ও জমির ব্যবহারও পরিবর্তিত হয়েছে। [[File:Naga Bazar (Road Case-2008).pdf|thumb|right|450px|২০০৮ সালের রাস্তা-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন]] এই তদন্ত প্রতিবেদনটি একটি রাস্তা, রাস্তার ব্যবহার, পার্শ্ববর্তী জমি ও স্থাপনা এবং মানুষের ও যানবাহনের চলাচলসংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রস্তুত করা হয়। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং জমির মৌজা, খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত তথ্য বিবেচনার বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। নথির দৃশ্যমান অংশে নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম [[গাহের আলী মন্ডল]]-এর ছেলে **মোঃ আব্দুল আলীম**-এর নাম অভিযোগকারী/বাদী হিসেবে এবং কাতিলা এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির নাম সংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই নথিতে আজিজুর রহমান ওরফে **কিনু**-এর পরিবারের নামও দেখা যায়। ফলে নথিটি রাস্তার অবস্থান, ব্যবহার এবং রাস্তার সংলগ্ন জমি ও স্থাপনা নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় বিরোধের একটি প্রশাসনিক চিত্র প্রদান করে। তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন রাস্তার অবস্থান ও ব্যবহার, রাস্তার সংলগ্ন স্থাপনা এবং মানুষের ও যানবাহনের চলাচলসংক্রান্ত পরিস্থিতি আলোচনা করা হয়েছে। সরকারি রাস্তার নির্ধারিত সীমা এবং রাস্তার পাশে নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলার বিষয়ও প্রতিবেদনে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, তদন্তের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধের পাশাপাশি রাস্তার সরকারি চরিত্র, রাস্তার সীমানা এবং জনসাধারণের চলাচলের বিষয়ও বিবেচনা করা হয়েছিল। নথিতে সংশ্লিষ্ট জমির **মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর** উল্লেখ থাকায় তৎকালীন ভূমি ও রাস্তার অবস্থান শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাথমিক নথি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদনকে জমির মালিকানা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত আদালতের রায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। নথিতে যা সরাসরি উল্লেখ রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে প্রচলিত পারিবারিক বা স্থানীয় বর্ণনা—এই দুই বিষয়কে পৃথকভাবে দেখা প্রয়োজন। গাহের আলী মন্ডালের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে সম্পত্তি ও রাস্তা-সংক্রান্ত ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে এ ধরনের পারিবারিক বর্ণনাকে নথিতে সরাসরি প্রমাণিত তথ্য থেকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করা উচিত। ২০০৮ সালের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, রাস্তা ও সংশ্লিষ্ট জমি ব্যবহারের বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে উত্থাপিত হয়েছিল এবং বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে এই এলাকায় দোকানপাট, বাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যানবাহন এবং মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পায়। বর্তমান [[নাগা বাজার]] সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ফল। ফলে ২০০৮ সালের এই তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমান বাজারকেন্দ্রিক এলাকার বিকাশের পূর্ববর্তী রাস্তা ও ভূমি ব্যবহারের পরিস্থিতি বোঝার জন্য প্রাসঙ্গিক। এই নথি সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বর্তমান নাগা বাজার এলাকার রাস্তা, জমি ব্যবহার এবং যোগাযোগব্যবস্থার পরিবর্তনের একটি প্রাথমিক দলিল দেখতে পারবে। '''নথির ধরন:''' ২০০৮ সালের রাস্তা-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন '''অঞ্চল:''' কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী '''বিষয়:''' রাস্তা, ভূমি ব্যবহার, স্থাপনা ও যোগাযোগসংক্রান্ত স্থানীয় বিরোধ '''নথি:''' [[:File:Naga Bazar (Road Case-2008).pdf|Naga Bazar (Road Case-2008).pdf]] '''সংরক্ষণস্থান:''' [[commons:File:Naga Bazar (Road Case-2008).pdf|Wikimedia Commons]] ssmpysr4o9pujl3v3jv2qh0z6cd7ifr ব্যবহারকারী আলাপ:Julyro 3 33773 107413 2026-10-01T06:40:15Z KanikBot 8129 স্বাগতম! 107413 wikitext text/x-wiki == বাংলা উইকিবইয়ে স্বাগত == {{স্বাগত/২য় সংস্করণ}} ০৬:৪০, ১ অক্টোবর ২০২৬ (ইউটিসি) 2k7wwrlefjeawr0e7zvdbjfh76e21fp