উইকিউক্তি
bnwikiquote
https://bn.wikiquote.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.47.0-wmf.14
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিউক্তি
উইকিউক্তি আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
0
448
84101
83499
2026-08-06T17:59:18Z
ফারদিন
52
/* উক্তি */
84101
wikitext
text/x-wiki
[[চিত্র:Rabindranath Tagore in 1909.jpg|thumb|১৯১৫ সালে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]
'''[[w:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর|রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]''' (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ [[বৈশাখ]] ১২৬৮ – ২২ [[শ্রাবণ]] ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী [[বাঙালি]] কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে '''গুরুদেব''', '''কবিগুরু''' ও '''বিশ্বকবি''' অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
== উক্তি ==
*সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালবাসিলাম।
** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ, ১৮৯৪, বিশ্বভারতী
*"আপনার জীবন পাতার ডগায় শিশিরের মতো সময়ের প্রান্তে হালকাভাবে নাচতে দিন।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"প্রজাপতি মাস নয়, মুহূর্ত গণনা করে, এবং যথেষ্ট সময় আছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"বিশ্বাস হল সেই পাখি যে ভোরের অন্ধকারে আলো অনুভব করে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না, বরং তাদের মোকাবেলায় নির্ভীক হতে চাই। আমার বেদনাকে স্তব্ধ করার জন্য আমি ভিক্ষা করি না, কিন্তু হৃদয়কে জয় করতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "গীতাঞ্জলি" (১৯১০)।
*"আমরা পৃথিবীতে বাস করি যখন আমরা এটি ভালবাসি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"একটি শিশুকে আপনার নিজের শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ করবেন না, কারণ সে অন্য সময়ে জন্মগ্রহণ করেছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"বন্ধুত্বের গভীরতা পরিচয়ের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"প্রত্যেক শিশু এই বার্তা নিয়ে আসে যে ঈশ্বর এখনও মানুষের প্রতি নিরুৎসাহিত হননি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"আমি ঘুমিয়েছিলাম এবং স্বপ্ন দেখেছিলাম যে জীবন আনন্দ। আমি জেগে উঠে দেখলাম যে জীবনই সেবা। আমি অভিনয় করেছি এবং দেখছি, সেবাই আনন্দ।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"ভালোবাসা একটি নিছক প্ররোচনা নয়, এতে অবশ্যই সত্য থাকতে হবে, যা আইন।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "সাধনা: জীবনের উপলব্ধি" (১৯১৩)।
*"সর্বোচ্চ শিক্ষা হল সেই শিক্ষা যা আমাদের কেবল তথ্যই দেয় না বরং আমাদের জীবনকে সমস্ত অস্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "সাধনা: জীবনের উপলব্ধি" (১৯১৩)।
*"আমি একজন আশাবাদীর নিজস্ব সংস্করণে পরিণত হয়েছি। যদি আমি এটি একটি দরজা দিয়ে না করতে পারি, আমি অন্য দরজা দিয়ে যাবো - অথবা আমি একটি দরজা তৈরি করব। বর্তমান যতই অন্ধকার হোক না কেন ভয়ঙ্কর কিছু আসবে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আসুন আমরা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না বরং তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময় নির্ভীক হতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সত্য বিজয়ী হয়ে আসে কারণ আমরা তাকে অতিথি হিসাবে গ্রহণ করার শিল্প হারিয়ে ফেলেছি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"যে ফুল একক, তার অসংখ্য কাঁটাকে হিংসা করার দরকার নেই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আপনি কেবল দাঁড়িয়ে এবং জলের দিকে তাকিয়ে সমুদ্র অতিক্রম করতে পারবেন না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"উচ্চে পৌঁছান, কারণ তারা আপনার মধ্যে লুকিয়ে আছে। গভীর স্বপ্ন দেখ, প্রতিটি স্বপ্ন লক্ষ্যের আগে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আপনি যদি সমস্ত ত্রুটির দরজা বন্ধ করে দেন তবে সত্য বন্ধ হয়ে যাবে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
* মানুষের একটা বয়স আছে যখন সে চিন্তা না করিয়াও [[বিবাহ]] করিতে পারে। সে বয়স পেরোলে বিবাহ করিতে দুঃসাহসিকতার দরকার হয়।
**
* [[নদী|নদীর]] এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,<br>‘ওপারেতে সর্বসুখ আমার [[বিশ্বাস]]।’<br>নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে,<br>কহে, ‘যাহা কিছু [[সুখ]] সকলি ওপারে।’
** [https://bn.wikisource.org/wiki/কণিকা/মোহ কণিকা/মোহ]
* প্রেমের দ্বারা চেতনা যে পূর্ণশক্তি লাভ করে সেই পূর্ণতার দ্বারাই সে সীমার মধ্যে অসীমকে, রূপের মধ্যে অপরূপকে দেখতে পায়— তাকে নূতন কোথাও যেতে হয় না।
** শান্তিনিকেতন ৮, ২৯
* ভক্তের দাসত্বে [[স্বাধীনতা]] আছে, ভক্তের স্বাধীন দাসত্ব তেমনি প্রকৃত — প্রণয় স্বাধীন প্রণয়।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/আদর্শ_প্রেম বিবিধ প্রসঙ্গ - আদর্শ প্রেম]
* [[ফুল]] যে কেবল বনের মধ্যেই কাজ করছে তা নয়—মানুষের মনের মধ্যেও তার যেটুকু কাজ তা সে বরাবর করে আসছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(দ্বিতীয়_খণ্ড)/শ্রাবণসন্ধ্যা শান্তিনিকেতন (দ্বিতীয় খণ্ড) - শ্রাবণসন্ধ্যা]
* আমি রূপে তোমায় ভোলাব না, ভালোবাসায় ভোলাব।<br/>আমি হাত দিয়ে দ্বার খুলব না গো, গান দিয়ে দ্বার খোলাব<br/>ভরাব না ভূষণভারে, সাজাব না ফুলের হারে-<br/>প্রেমকে আমার মালা করে গলায় তোমার দোলাব।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/গীতবিতান/প্রেম/৯০ গীতবিতান - প্রেম -৯০]
* মনুষ্যত্বের মূলে আর একটি প্রকাণ্ড দ্বন্দ্ব আছে ; তাকে বলা যেতে পারে প্রকৃতি এবং আত্মার দ্বন্দ্ব। স্বার্থের দিক এবং পরমার্থের দিক, বন্ধনের দিক এবং মুক্তির দিক, সীমার দিক এবং অনন্তের দিক– এই দুইকে মিলিয়ে চলতে হবে মানুষকে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(দ্বিতীয়_খণ্ড)/দ্বিধা শান্তিনিকেতন (দ্বিতীয় খণ্ড) - দ্বিধা]
* মানুষের বিশ্বজয়ের এই একটা পালা বস্তুজগতে; ভাবের জগতে তার আছে আর-একটা পালা। ব্যাবহারিক বিজ্ঞানে একদিকে তার জয়স্তম্ভ, আর-একদিকে শিল্পে সাহিত্যে।
** সাহিত্যের তাৎপর্য
* প্রেম যাহা দান করে, সেই দান যতই কঠিন হয়, ততই তাহার সার্থকতার আনন্দ নিবিড় হয়।
** মনুষ্যত্ব
* স্বার্থ আমাদের যে-সব প্রয়াসের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তার মূল প্রেরণা দেখি জীবপ্রকৃতিতে; যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/মানুষের_ধর্ম্ম মানুষের ধর্ম]
* আপনাকে বৃহতে উপলব্ধি করাই সত্য, অহংসীমায় অবরূদ্ধ জানাই অসত্য। ব্যক্তিগত [[দুঃখ]] এই অসত্যে-।
** মানুষের ধর্ম-২
* [[মৃত্যু|মরিতে]] চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,<br/>মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।<br/>এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে<br/>জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!
** ''কড়ি ও কোমল'' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক: পীপ্ল্স লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল: ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ, ''প্রাণ'' কবিতার অংশ।
* যাহাকে তুমি ভালোবাস তাহাকে ফুল দাও, কাঁটা দিও না ; তোমার হৃদয়-সরোবরের পদ্ম দাও, পঙ্ক দিও না। হাসির হীরা দাও, অশ্রুর মুক্তা দাও; হাসির বিদ্যুৎ দিও না, অশ্রুর বাদল দিও না।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/মনের_বাগান-বাড়ি বিবিধ প্রসঙ্গ - মনের বাগান-বাড়ি]
*"মেঘ আমার জীবনে ভেসে আসে, আর বৃষ্টি বা ঝড় বয়ে আনতে নয়, আমার সূর্যাস্তের আকাশে রঙ *যোগ করতে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
"ভালোবাসা একটি অন্তহীন রহস্য, কারণ এর ব্যাখ্যা করার আর কিছুই নেই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"যারা অনেক কিছুর মালিক তাদের ভয় পাওয়ার অনেক কিছু আছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"জলের মাছ নীরব, পৃথিবীর প্রাণীরা কোলাহল করছে, বাতাসে পাখি গান করছে। কিন্তু মানুষ তার মধ্যে আছে সমুদ্রের নীরবতা, পৃথিবীর কোলাহল এবং বাতাসের সঙ্গীত।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সবকিছুই আমাদের কাছে আসে যা আমাদেরই যদি আমরা তা গ্রহণ করার ক্ষমতা তৈরি করি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"তার পাপড়ি ছিঁড়ে, আপনি ফুলের সৌন্দর্য সংগ্রহ করবেন না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না, বরং তাদের মোকাবেলায় নির্ভীক হতে চাই। আমার বেদনাকে স্তব্ধ করার জন্য আমি ভিক্ষা করি না, কিন্তু হৃদয়কে জয় করতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"বন্ধুত্বের গভীরতা পরিচয়ের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সর্বোচ্চ শিক্ষা হল সেই শিক্ষা যা আমাদের কেবল তথ্যই দেয় না বরং আমাদের জীবনকে সমস্ত অস্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"ছোট জ্ঞান হল একটি গ্লাসের জলের মতো: স্বচ্ছ, স্বচ্ছ, বিশুদ্ধ। মহান জ্ঞান হল সমুদ্রের জলের মতো: অন্ধকার, রহস্যময়, দুর্ভেদ্য।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"মন, তীক্ষ্ণ কিন্তু প্রশস্ত নয়, প্রতিটি বিন্দুতে লেগে থাকে কিন্তু সরে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"বয়স বিবেচনা করে; যুব উদ্যোগ।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
* প্রেমের [[ধর্ম]] এই, সে ছোটোকেও বড়ো করিয়া লয়। আর, আড়ম্বর-প্রিয়তা বড়োকেও ছোটো করিয়া দেখে। এই নিমিত্ত প্রেমের হাতে কাজের আর অন্ত নাই, কিন্তু আড়ম্বরের হাতে কাজ থাকে না। প্রেম শিশুকেও অগ্রাহ্য করে না, বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে না, আয়তন মাপিয়া সমাদরের মাত্রা স্থির করে না।
** হাতে কলমে -১
* রমণীর প্রেমের মধ্যে পরিতৃপ্তি আছে, [[বিশ্বাস]] আছে, নিষ্ঠা আছে, কিন্তু পুরুষের প্রেমের মধ্যে যে একটি চির অতৃপ্তিপূর্ণ অনির্বচনীয় সুখ আছে তাহা বোধ করি খুব অল্প রমণী উপভোগ করিয়াছে।
** [[স্ত্রী]] ও পুরুষের প্রেমে বিশেষত্ব
* স্ত্রী-পুরুষগত প্রেমের ন্যায় প্রবল শক্তি আর কিছু আছে কি না সন্দেহ। এই শক্তি ষোলো আনা মাত্রায় সমাজের কাজে লাগাইলে মানবসভ্যতা অনেকটা বল পায়। এই শক্তি হইতে বঞ্চিত করিলে সমাজের একটি প্রধান বল অপহরণ করা হয়।
** সমাজে স্ত্রী-পুরুষের প্রেমের প্রভাব।
* [[ভালোবাসা]] অর্থে আত্মসমর্পণ নহে। ভালোবাসা অর্থে, নিজের যাহা কিছু ভালো তাহাই সমর্পণ করা। হৃদয়ে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা নহে; হৃদয়ের যেখানে দেবত্রভূমি, যেখানে মন্দির, সেইখানে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/মনের_বাগান-বাড়ি বিবিধ প্রসঙ্গ - মনের বাগান-বাড়ি]
* মানুষের দেবতা মানুষের মনের মানুষ, জ্ঞানে কর্মে ভাবে যে পরিমাণে সত্য হই সেই পরিমাণেই সেই মনের মানুষকে পাই –অন্তরে বিকার ঘটলে সেই আমার আপন মনের মানুষকে মনের মধ্যে দেখতে পাই নে। মানুষের যত-কিছু দুর্গতি আছে সেই আপন মনের মানুষকে হারিয়ে, তাকে বাইরের উপকরণে খুঁজতে গিয়ে, অর্থাৎ আপনাকেই পর করে দিয়েছে।
** মানুষের ধর্ম ১/১১
* মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব। [[আশা]] করব, মহাপ্রলয়ের পরে বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে ইতিহাসের একটি নির্মল আত্মপ্রকাশ হয়তো আরম্ভ হবে এই পূর্বাচলের সূর্যোদয়ের দিগন্ত থেকে। আর-একদিন অপরাজিত মানুষ নিজের জয়যাত্রার অভিযানে সকল বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে তার মহৎ [[মর্যাদা]] ফিরে পাবার পথে। মনুষ্যত্বের অন্তহীন প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে আমি অপমান মনে করি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সভ্যতার_সংকট সভ্যতার সংকট]
* যে পাখির ডানা সুন্দর ও কণ্ঠস্বর মধুর তাকে খাঁচায় বন্দী করে মানুষ গর্ব অনুভব করে; তার [[সৌন্দর্য]] সমস্ত অরণ্যভূমির, এ কথা সম্পত্তিলোলুপরা ভুলে যায়। মেয়েদের হৃদয়মাধুর্য ও সেবানৈপুণ্যকে পুরুষ সুদীর্ঘকাল আপন ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে কড়া পাহারায় বেড়া দিয়ে রেখেছে। মেয়েদের নিজের স্বভাবেই বাঁধনমানা প্রবণতা আছে, সেইজন্যে এটা সর্বত্রই এত সহজ হয়েছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/কালান্তর_(২০১৮)/নারী কালান্তর (২০১৮) - নারী]
* শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী,<br>পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি<br>আপন অন্তর হতে। বসি কবিগণ<br>সোনার উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।<br>সঁপিয়া তোমার ’পরে নূতন মহিমা<br>অমর করিছে শিল্পী তোমার প্রতিমা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/চৈতালি/মানসী চৈতালি - মানসী]
* প্রেম শান্তিরূপেও আসবে অশান্তিরূপেও আসবে, সুখ হয়েও আসবে দুঃখ হয়েও আসবে–সে যে-কোনো বেশেই আসুক তার মুখের দিকে চেয়ে যেন বলতে পারি তোমাকে চিনেছি, বন্ধু তোমাকে চিনেছি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(প্রথম_খণ্ড)/কী_চাই%৩F শান্তিনিকেতন (প্রথম খণ্ড) - কী চাই?]
* সোনার চেয়ে আনন্দের দাম বেশি; ভুলেছে, প্রতাপের মধ্যে পূর্ণতা নেই, প্রেমের মধ্যেই পূর্ণতা। সেখানে মানুষকে দাস করে রাখবার প্রকাণ্ড আয়োজনে মানুষ নিজেকেই নিজে বন্দী করেছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/পশ্চিম-যাত্রীর_ডায়ারি/২৮শে_সেপ্টেম্বর_১৯২৪ পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি - ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯২৪]
* সহজ মানুষের সত্যটি সামাজিক মানুষের কুয়াশায় ঢেকে রেখে দেয়। অর্থাৎ আমরা নানা অবান্তর তথ্যের অস্বচ্ছতার মধ্যে বাস করি। শিশুর জীবনের যে সত্য তার সঙ্গে অবান্তরের মিশেল নেই। তাই, তার দিকে যখন চেয়ে দেখবার অবকাশ পাই তখন প্রাণলীলার প্রত্যক্ষ স্বরূপটি দেখি; তাতে সংস্কারভারে পীড়িত চিন্তাক্লিষ্ট মন গভীর তৃপ্তি পায়।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/পশ্চিম-যাত্রীর_ডায়ারি/১৪ই_ফেব্রুয়ারি_১৯২৫ পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি - ১৪ই ফেব্রুয়ারি ১৯২৫]
* সুন্দর আপনি সুন্দর এবং অন্যকে সুন্দর করে। কারণ, সৌন্দর্য্য হৃদয়ে প্রেম জাগ্রত করিয়া দেয় এবং প্রেমই মানুষকে সুন্দর করিয়া তোলে।
** সৌন্দর্য্য ও প্রেম
* কবিদিগকে আর কিছুই করিতে হইবে না, তাঁহারা কেবল সৌন্দর্য্য ফুটাইতে থাকুন —জগতের সর্ব্ত্র যে সৌন্দর্য্য আছে তাহা তাঁহাদের হৃদয়ের আলোকে পরিস্ফুট ও উজ্জ্বল হইয়া আমাদের চোখে পড়িতে থাকুক, তবেই আমাদের প্রেম জাগিয়া উঠিবে, প্রেম বিশ্বব্যাপী হইয়া পড়িবে।
** কবিতা ও তত্ত্ব
* জ্ঞানে প্রেমে অনেক প্রভেদ। জ্ঞানে আমাদের ক্ষমতা বাড়ে, প্রেমে আমাদের অধিকার বাড়ে। [[জ্ঞান]] শরীরের মত, প্রেম মনের মত। জ্ঞান কুস্তি করিয়া জয়ী হয়, প্রেম সৌন্দর্য্যের দ্বারা জয়ী হয়। জ্ঞানের দ্বারা জানা যায় মাত্র, প্রেমের দ্বারা পাওয়া যায়। জ্ঞানেতেই বৃদ্ধ করিয়া দেয়, প্রেমেতেই যৌবন জিয়াইয়া রাখে। জ্ঞানের অধিকার যাহার উপরে তাহা চঞ্চল, প্রেমের অধিকার যাহার উপরে তাহা ধ্রুব। জ্ঞানীর সুখ আত্মগৌরব-নামক ক্ষমতার সুখ, প্রেমিকের সুখ আত্মবিসর্জ্জন-নামক স্বাধীনতার সুখ।
** জ্ঞান ও প্রেম
* পৃথিবীর চারি দিকে দেয়াল, সৌন্দর্য্য তাহার বাতায়ন। পৃথিবীর আর সকলই তাহাদের নিজ নিজ দেহ লইয়া আমাদের চোখের সম্মুখে আড়াল করিয়া দাঁড়ায়, সৌন্দর্য্য তাহা করে না —সৌন্দর্য্যের ভিতর দিয়া আমরা অনন্ত রঙ্গভূমি দেখিতে পাই।
** মর্ত্যের বাতায়ন
* ছেলে যদি মানুষ করিতে চাই, তবে ছেলেবেলা হইতেই তাহাকে মানুষ করিতে আরম্ভ করিতে হইবে, নতুবা সে ছেলেই থাকিবে, মানুষ হইবে না। শিশুকাল হইতেই কেবল স্মরণশক্তির উপর সমস্ত ভর না দিয়া সঙ্গে সঙ্গে যথা পরিমাণে চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তির স্বাধীন পরিচালনার অবসর দিতে হইবে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সংকলন/শিক্ষার_হেরফের শিক্ষার হেরফের]
* তোর আপন জনে ছাড়বে তোরে,<br>তা ব’লে ভাবনা করা চলবে না।<br>ও তোর আশালতা পড়বে ছিঁড়ে,<br>হয়তো রে ফল ফলবে না॥<br>আসবে পথে আঁধার নেমে, তাই ব’লেই কি রইবি থেমে—<br>ও তুই বারে বারে জ্বালবি বাতি,<br>হয়তো বাতি জ্বলবে না॥
** [https://bn.wikisource.org/wiki/গীতবিতান/স্বদেশ/৪ গীতবিতান/স্বদেশ]
* আগুনকে যে [[ভয়]] করে সে আগুনকে ব্যবহার করতে পারে না।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/চার_অধ্যায়/প্রথম_অধ্যায় চার অধ্যায়]
* পৃথিবীতে সকলের চেয়ে বড়ো জিনিস আমরা যাহা কিছু পাই তাহা বিনামূল্যেই পাইয়া থাকি, তাহার জন্য দরদস্তুর করিতে হয় না। মূল্য চুকাইতে হয় না বলিয়াই জিনিসটা যে কত বড়ো তাহা আমরা সম্পূর্ণ বুঝিতেই পারি না।
** পরিচয়/ ভগিনী নিবেদিতা
* "যে করে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত, ঈশ্বরকে অর্ঘ্য হতে সে করে বঞ্চিত।"
** স্ফুলিঙ্গ -২০৭
* সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,<br>রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সঞ্চয়িতা/বঙ্গমাতা বঙ্গমাতা কবিতা]
* যাহাদের স্বাভাবিক ভদ্রতা নাই তাহারা ভদ্র হইতে ইচ্ছা করিলে আনুষ্ঠানিক ভদ্রতার কিছু বাড়াবাড়ি করিয়া থাকে।
** সংগীত-চিন্তা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩
* অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
** হৈমন্তী, গল্পগুচ্ছ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৫০
*এক দলকে বিশেষ পরিচয়কালে বলি বটে হিন্দুস্থানি, কিন্তু তাদের হিন্দুস্থান বাংলার বাইরে।
**[https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E০%A৬%AA%E০%A৬%BE%E০%A৬%A৪%E০%A৬%BE:%E০%A৬%B০%E০%A৬%AC%E০%A৭%৮০%E০%A৬%A৮%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%B০-%E০%A৬%B০%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৮%E০%A৬%BE%E০%A৬%AC%E০%A৬%B২%E০%A৭%৮০_(%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮১%E০%A৬%B০%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%৮২%E০%A৬%B৬_%E০%A৬%৯৬%E০%A৬%A৩%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A১)_-_%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%B৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%AD%E০%A৬%BE%E০%A৬%B০%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮০.pdf/%E০%A৭%AA%E০%A৭%AB%E০%A৭%AB রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী, পৃষ্ঠা-৪৪৬]
*ধর্ম আমাদের মেলাতে পারে নি, বরঞ্চ হাজারখানা বেড়া গড়ে তুলে সেই বাধাগুলোকে ইতিহাসের অতীত শাশ্বত বলে পাকা করে দিয়েছে। ইংরেজ নিজের জাতকে ইংরেজ বলেই পরিচয় দেয়। যদি বলত খৃস্টান তা হলে যে ইংরেজ বৌদ্ধ বা মুসলমান বা নাস্তিক তাকে নিয়ে রাষ্ট্রগঠনে মাথা ঠোকাঠুকি বেধে যেত।
**[https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E০%A৬%AA%E০%A৬%BE%E০%A৬%A৪%E০%A৬%BE:%E০%A৬%B০%E০%A৬%AC%E০%A৭%৮০%E০%A৬%A৮%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%B০-%E০%A৬%B০%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৮%E০%A৬%BE%E০%A৬%AC%E০%A৬%B২%E০%A৭%৮০_(%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮১%E০%A৬%B০%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%৮২%E০%A৬%B৬_%E০%A৬%৯৬%E০%A৬%A৩%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A১)_-_%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%B৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%AD%E০%A৬%BE%E০%A৬%B০%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮০.pdf/%E০%A৭%AA%E০%A৭%AB%E০%A৭%AB রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী, পৃষ্ঠা-৪৪৬]
* এ-পর্যন্ত দেখা গেছে, যে-রাজা প্রজাকে দাস করে রাখতে চেয়েছে সে-রাজার সর্বপ্রধান সহায় সেই ধর্ম যা মানুষকে অন্ধ করে রাখে। সে-ধর্ম বিষকন্যার মতো; আলিঙ্গন করে সে মুগ্ধ করে, মুগ্ধ করে সে মারে। শক্তিশেলের চেয়ে ভক্তিশেল গভীরতর মর্মে গিয়ে প্রবেশ করে, কেননা তার মার আরামের মার।... ধর্মমােহের চেয়ে [[নাস্তিক্যবাদ|নাস্তিকতা]] অনেক ভালাে।
** "রাশিয়ার চিঠি"- [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], প্রকাশক:বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, প্রথম প্রকাশ: বৈশাখ ১৩৩৮, পৃষ্ঠা: [https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE:%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF-%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0.pdf/%E0%A7%AC%E0%A7%AB ৫৩] - ৫৪
* ইহাতে কোনো সন্দেহমাত্র নাই যে, ধর্মের বিকারেই গ্রীস মরিয়াছে, ধর্মের বিকারেই রোম বিলুপ্ত হইয়াছে এবং আমাদের দুৰ্গতির কারণ আমাদের ধর্মের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও নাই।
** "রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টাদশ খণ্ড)"-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক: বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশসাল: ১৯৪৪, পৃষ্ঠা: [https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE:%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80_(%E0%A6%85%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%B6_%E0%A6%96%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1)_-_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%80.pdf/%E0%A7%AA%E0%A7%A8%E0%A7%AB ৪১১]
*ক্ষণিকের অতিথি স্বর্গ হইতে মর্ত্যে আসেন। কাঁদিয়ে দিয়ে চলে যান। এই যাওয়া-আসায় স্বর্গ-মর্ত্যের মিলন-পথ বিরহের ভিতর দিয়ে খুলে যায়।
**শেষ বর্ষণ
*অধিকার লাভের যে মর্যাদা আছে, সেই মর্যাদা রক্ষা করিতে হইলে অধিকার প্রয়োগকে সংযত করিতে হয় ।
**চোখের বালি—৫২ পরিচ্ছেদ
*অন্যান্য অধিকার হইতে স্ত্রী-অধিকারের প্রভেদ এই যে স্ত্রীকে পাঁচজনের কাছ হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া একলা নিজের কাছে রাখিলেই যে সব সময় বেশী করিয়া পাওয়া যায় তাহা নহে।
**মণিহারা (গল্পগুচ্ছ)
*জীবের মধ্যে অনন্তকে অনুভব করারই অন্য নাম ভালোবাসা। প্রকৃতির মধ্যে অনুভব করার নাম সৌন্দর্য-সম্ভোগ।
**মনুষ্য (পঞ্চভূত )
*বাইরের আলোর উপর ভরসা রাখাই অভ্যাস, তাই অন্ধকার হলেই একেবারে অন্ধকার দেখি।
**মুক্তধারা
*মনকে নিজের কাছে রাখিস নে। ভিতরে যে ঠাকুরটি আছেন তাঁরই পায়ের কাছে রেখে আয়, সেখানে অপমান পৌঁছোবে না।
**মুক্তধারা
*‘বোবার শত্রু নেই’ যে পুরুষ বলেছিল সে নিশ্চয় ছিল অবিবাহিত।
**সংস্কার (গল্পগুচ্ছ)
===শিক্ষার বাহন===
* [[শিক্ষা|শিক্ষার]] জন্য আমরা আব্দার করিয়াছি, গরজ করি নাই। শিক্ষাবিস্তারে আমাদের গা নাই। তার মানে, শিক্ষার ভোজে নিজেরা বসিয়া যাইব, পাতের প্রসাদটুকু পর্যন্ত আর-কোনো ক্ষুধিত পায় বা না পায় সে দিকে খেয়ালই নাই।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
* বিদ্যাবিস্তারের কথাটাকে যখন ঠিকমত মন দিয়া দেখি তখন তার সর্বপ্রধান বাধাটা এই দেখিতে পাই যে তার বাহনটা ইংরেজি। বিদেশী মাল জাহাজে করিয়া শহরের ঘাট পর্যন্ত আসিয়া পৌঁছিতে পারে, কিন্তু সেই জাহাজটাতে করিয়াই দেশের হাটে হাটে আমদানি রফ্তানি করাইবার দুরাশা মিথ্যা। যদি বিলিতি জাহাজটাকেই কায়মনে আঁকড়াইয়া ধরিতে চাই তবে ব্যাবসা শহরেই আটকা পড়িয়া থাকিবে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
* বাংলায় উচ্চ অঙ্গের শিক্ষাগ্রন্থ বাহির হইতেছে না এটা যদি আক্ষেপের বিষয় হয় তবে তার প্রতিকারের একমাত্র উপায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় উচ্চঅঙ্গের শিক্ষা প্রচলন করা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
==রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে উক্তি==
* সারা পৃথিবীর গানের সুরকে আয়ত্ত করে নতুন সুর সৃষ্টি করলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই সুরের আলপনাকে বাংলা গানে ছিটিয়ে দিলেন। হয়ে গেল এক অপূর্ব সৃষ্টি। সর্বযুগের, সর্বকালের সৃষ্টি। এতবড়ো সুরকার আজও জন্মায়নি কোন দেশে। এই বুড়ো পৃথিবীকে ইচ্ছে হয় জিজ্ঞাসা করি, বয়েস তো অনেক হল। রবীন্দ্রনাথের মতো এমন সর্বতোমুখী প্রতিভা আর দেখেছে একটা।
**হেমন্ত মুখোপাধ্যায় - ''আনন্দধারা'', সপ্তর্ষি প্রকাশন, কলকাতা; পৃষ্ঠা:৩৪ (২০১৯)
* ব্রিটিশরা তাঁকে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে) উগ্র জাতীয়তাবাদী হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও তাঁর জাতীয়তাবাদ ছিল পুরোটাই সাংস্কৃতিক। তাছাড়া উচ্চ প্রশাসনিক পদে অধিক সংখ্যক ভারতীয়কে সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দাবী বিষয়ক কোনো ভূমিকাই তিনি রাখেননি। রবীন্দ্রের কাছে এসবই ছিল ব্রিটিশ শাসনের মতোই অচেনা, অজানা। তাঁর রাজনীতির ধারণা ছিল বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রসার। স্বভাববশতই, তিনি যখন একজন খ্যাতিমান অতিথি হিসেবে নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, সেখানকার 'অতিথি বই'তে তিনি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) নিজের জাতীয়তা হিসেবে “ভারতীয়” পরিচয় না লিখে, লেখেন “'''[[বাঙালি জাতি|বাঙালী]]'''”।
** অধ্যাপক হিউ টিঙ্কার, ''Death of Rabindranath Tagore'' (১৯৮২), [https://www.historytoday.com/archive/rabindranath-tagore-and-indian-renaissance হিস্টরি টুডে, খণ্ড ৩২, ইস্যু: ৪ এপ্রিল ১৯৮২], পৃষ্ঠা: ৩৬ [http://media.bengalinessresearch.org/2021/07/death-of-rabindranath-tagore.html?m=1&fbclid=IwZXh0bgNhZW0CMTEAAR7UAhXR4fAyv21NfxcFHznqaSwk1SmPNZ2eeE1lq6CCnwnGam44nQ2e31U8SQ_aem_NYenInWDPTEk0LloHMC-CA]
*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতা নিজে ইংরেজিতে অনুবাদ করে “গীতাঞ্জলি” বই বের করেছিলেন। বইটি জমা দিয়ে তিনি ১৯১৩ সালে পান নোবেল পুরস্কার। তাঁর পরে বাংলা সাহিত্যের আর কেউ এ ধরনের বড় কাজ করতে পারেননি।
** [[সেলিনা হোসেন]]- [https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/vpv৩২৫c৯ld প্রথম আলো-এ উদ্ধৃত]
* সাধারণত বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে লোকের রক্ষণশীলতাও বাড়ে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বেলায় হয়েছে ঠিক উল্টো; যত বয়স বেড়েছে ততই তিনি মুক্ত হয়েছেন। যা সাময়িক, যা প্রথাগত, যা দেশ-কালে আপেক্ষিক, যা লোকাচারের সংস্কার কিংবা ব্যবহারিক বিধি মাত্র, সে সমস্তের উর্ধ্বে গেছে তাঁর দৃষ্টি। নীতির চেয়ে সত্যকে বড়ো করে দেখেছেন, রীতির চেয়ে জীবনকে।
** [[বুদ্ধদেব বসু]]। "সব পেয়েছির দেশে", প্রকাশক: সপ্তর্ষি, প্রথম প্রকাশ: আগস্ট ১৯৪১, [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.267258/page/n103/mode/1up?view=theater&q=%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%95 পৃষ্ঠা: ১০৩]
* কবির ভুল ধারণার প্রতিবাদ করিয়া উপযুক্ত কারণ দেখাইলেই কবি তাঁহার ভুল সংশোধন করিয়া লইতেন। কবির মনে একদেশদর্শী হিন্দুত্বের স্থান ছিল না। মুসলমানদের মধ্যে যাঁহারা স্বাধীন মতবাদ লইয়া ধর্ম ও সমাজ-ব্যবস্থার সমালোচনা করিতেন, তাঁহাদের প্রতি কবির মনে প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল।
** [[জসীম উদ্দীন]]। "ঠাকুর-বাড়ির আঙিনায়", প্রকাশক: গ্রন্থপ্রকাশ, কলকাতা, [https://share.google/QzodDAT07Rk23JRrC পৃষ্ঠা: ২৮]
*সমস্ত রাত্রি বৃষ্টি পড়তে লাগিল; তাহার পরদিন সকালেও বৃষ্টি পড়িতেছে, মধ্যাহ্নেও বৃষ্টির বিরাম নাই। কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।
**-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,জীবিত ও মৃত (পঞ্চম পরিচ্ছেদ), গল্পগুচ্ছ,পৃষ্ঠা ৬৫
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিসংকলন লেখক}}
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Rabindranath Tagore}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:হিন্দু লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:কলকাতার ব্যক্তি ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের প্রাবন্ধিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:হিন্দু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় ঔপন্যাসিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের চিত্রশিল্পী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের সঙ্গীতজ্ঞ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]
306rdb4fsp0cfcbrqhk5zeck8262ppd
84102
84101
2026-08-06T18:00:48Z
ফারদিন
52
84102
wikitext
text/x-wiki
[[চিত্র:Rabindranath Tagore in 1909.jpg|thumb|১৯১৫ সালে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]
'''[[w:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর|রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]''' (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ [[বৈশাখ]] ১২৬৮ – ২২ [[শ্রাবণ]] ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী [[বাঙালি]] কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে '''গুরুদেব''', '''কবিগুরু''' ও '''বিশ্বকবি''' অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
== উক্তি ==
*সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালবাসিলাম।
** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ, ১৮৯৪, বিশ্বভারতী
*"আপনার জীবন পাতার ডগায় শিশিরের মতো সময়ের প্রান্তে হালকাভাবে নাচতে দিন।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"প্রজাপতি মাস নয়, মুহূর্ত গণনা করে, এবং যথেষ্ট সময় আছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"বিশ্বাস হল সেই পাখি যে ভোরের অন্ধকারে আলো অনুভব করে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না, বরং তাদের মোকাবেলায় নির্ভীক হতে চাই। আমার বেদনাকে স্তব্ধ করার জন্য আমি ভিক্ষা করি না, কিন্তু হৃদয়কে জয় করতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "গীতাঞ্জলি" (১৯১০)।
*"আমরা পৃথিবীতে বাস করি যখন আমরা এটি ভালবাসি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"একটি শিশুকে আপনার নিজের শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ করবেন না, কারণ সে অন্য সময়ে জন্মগ্রহণ করেছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"বন্ধুত্বের গভীরতা পরিচয়ের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"প্রত্যেক শিশু এই বার্তা নিয়ে আসে যে ঈশ্বর এখনও মানুষের প্রতি নিরুৎসাহিত হননি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"আমি ঘুমিয়েছিলাম এবং স্বপ্ন দেখেছিলাম যে জীবন আনন্দ। আমি জেগে উঠে দেখলাম যে জীবনই সেবা। আমি অভিনয় করেছি এবং দেখছি, সেবাই আনন্দ।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"ভালোবাসা একটি নিছক প্ররোচনা নয়, এতে অবশ্যই সত্য থাকতে হবে, যা আইন।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "সাধনা: জীবনের উপলব্ধি" (১৯১৩)।
*"সর্বোচ্চ শিক্ষা হল সেই শিক্ষা যা আমাদের কেবল তথ্যই দেয় না বরং আমাদের জীবনকে সমস্ত অস্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "সাধনা: জীবনের উপলব্ধি" (১৯১৩)।
*"আমি একজন আশাবাদীর নিজস্ব সংস্করণে পরিণত হয়েছি। যদি আমি এটি একটি দরজা দিয়ে না করতে পারি, আমি অন্য দরজা দিয়ে যাবো - অথবা আমি একটি দরজা তৈরি করব। বর্তমান যতই অন্ধকার হোক না কেন ভয়ঙ্কর কিছু আসবে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আসুন আমরা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না বরং তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময় নির্ভীক হতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সত্য বিজয়ী হয়ে আসে কারণ আমরা তাকে অতিথি হিসাবে গ্রহণ করার শিল্প হারিয়ে ফেলেছি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"যে ফুল একক, তার অসংখ্য কাঁটাকে হিংসা করার দরকার নেই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আপনি কেবল দাঁড়িয়ে এবং জলের দিকে তাকিয়ে সমুদ্র অতিক্রম করতে পারবেন না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"উচ্চে পৌঁছান, কারণ তারা আপনার মধ্যে লুকিয়ে আছে। গভীর স্বপ্ন দেখ, প্রতিটি স্বপ্ন লক্ষ্যের আগে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আপনি যদি সমস্ত ত্রুটির দরজা বন্ধ করে দেন তবে সত্য বন্ধ হয়ে যাবে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
* মানুষের একটা বয়স আছে যখন সে চিন্তা না করিয়াও [[বিবাহ]] করিতে পারে। সে বয়স পেরোলে বিবাহ করিতে দুঃসাহসিকতার দরকার হয়।
**
* [[নদী|নদীর]] এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,<br>‘ওপারেতে সর্বসুখ আমার [[বিশ্বাস]]।’<br>নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে,<br>কহে, ‘যাহা কিছু [[সুখ]] সকলি ওপারে।’
** [https://bn.wikisource.org/wiki/কণিকা/মোহ কণিকা/মোহ]
* প্রেমের দ্বারা চেতনা যে পূর্ণশক্তি লাভ করে সেই পূর্ণতার দ্বারাই সে সীমার মধ্যে অসীমকে, রূপের মধ্যে অপরূপকে দেখতে পায়— তাকে নূতন কোথাও যেতে হয় না।
** শান্তিনিকেতন ৮, ২৯
* ভক্তের দাসত্বে [[স্বাধীনতা]] আছে, ভক্তের স্বাধীন দাসত্ব তেমনি প্রকৃত — প্রণয় স্বাধীন প্রণয়।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/আদর্শ_প্রেম বিবিধ প্রসঙ্গ - আদর্শ প্রেম]
* [[ফুল]] যে কেবল বনের মধ্যেই কাজ করছে তা নয়—মানুষের মনের মধ্যেও তার যেটুকু কাজ তা সে বরাবর করে আসছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(দ্বিতীয়_খণ্ড)/শ্রাবণসন্ধ্যা শান্তিনিকেতন (দ্বিতীয় খণ্ড) - শ্রাবণসন্ধ্যা]
* আমি রূপে তোমায় ভোলাব না, ভালোবাসায় ভোলাব।<br/>আমি হাত দিয়ে দ্বার খুলব না গো, গান দিয়ে দ্বার খোলাব<br/>ভরাব না ভূষণভারে, সাজাব না ফুলের হারে-<br/>প্রেমকে আমার মালা করে গলায় তোমার দোলাব।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/গীতবিতান/প্রেম/৯০ গীতবিতান - প্রেম -৯০]
* মনুষ্যত্বের মূলে আর একটি প্রকাণ্ড দ্বন্দ্ব আছে ; তাকে বলা যেতে পারে প্রকৃতি এবং আত্মার দ্বন্দ্ব। স্বার্থের দিক এবং পরমার্থের দিক, বন্ধনের দিক এবং মুক্তির দিক, সীমার দিক এবং অনন্তের দিক– এই দুইকে মিলিয়ে চলতে হবে মানুষকে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(দ্বিতীয়_খণ্ড)/দ্বিধা শান্তিনিকেতন (দ্বিতীয় খণ্ড) - দ্বিধা]
* মানুষের বিশ্বজয়ের এই একটা পালা বস্তুজগতে; ভাবের জগতে তার আছে আর-একটা পালা। ব্যাবহারিক বিজ্ঞানে একদিকে তার জয়স্তম্ভ, আর-একদিকে শিল্পে সাহিত্যে।
** সাহিত্যের তাৎপর্য
* প্রেম যাহা দান করে, সেই দান যতই কঠিন হয়, ততই তাহার সার্থকতার আনন্দ নিবিড় হয়।
** মনুষ্যত্ব
* স্বার্থ আমাদের যে-সব প্রয়াসের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তার মূল প্রেরণা দেখি জীবপ্রকৃতিতে; যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/মানুষের_ধর্ম্ম মানুষের ধর্ম]
* আপনাকে বৃহতে উপলব্ধি করাই সত্য, অহংসীমায় অবরূদ্ধ জানাই অসত্য। ব্যক্তিগত [[দুঃখ]] এই অসত্যে-।
** মানুষের ধর্ম-২
* [[মৃত্যু|মরিতে]] চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,<br/>মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।<br/>এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে<br/>জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!
** ''কড়ি ও কোমল'' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক: পীপ্ল্স লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল: ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ, [https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%95%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF_%E0%A6%93_%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%B2_(%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0,_%E0%A7%A7%E0%A7%AE%E0%A7%AE%E0%A7%AC)/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A3 ''প্রাণ''] কবিতার অংশ।
* যাহাকে তুমি ভালোবাস তাহাকে ফুল দাও, কাঁটা দিও না ; তোমার হৃদয়-সরোবরের পদ্ম দাও, পঙ্ক দিও না। হাসির হীরা দাও, অশ্রুর মুক্তা দাও; হাসির বিদ্যুৎ দিও না, অশ্রুর বাদল দিও না।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/মনের_বাগান-বাড়ি বিবিধ প্রসঙ্গ - মনের বাগান-বাড়ি]
*"মেঘ আমার জীবনে ভেসে আসে, আর বৃষ্টি বা ঝড় বয়ে আনতে নয়, আমার সূর্যাস্তের আকাশে রঙ *যোগ করতে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
"ভালোবাসা একটি অন্তহীন রহস্য, কারণ এর ব্যাখ্যা করার আর কিছুই নেই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"যারা অনেক কিছুর মালিক তাদের ভয় পাওয়ার অনেক কিছু আছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"জলের মাছ নীরব, পৃথিবীর প্রাণীরা কোলাহল করছে, বাতাসে পাখি গান করছে। কিন্তু মানুষ তার মধ্যে আছে সমুদ্রের নীরবতা, পৃথিবীর কোলাহল এবং বাতাসের সঙ্গীত।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সবকিছুই আমাদের কাছে আসে যা আমাদেরই যদি আমরা তা গ্রহণ করার ক্ষমতা তৈরি করি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"তার পাপড়ি ছিঁড়ে, আপনি ফুলের সৌন্দর্য সংগ্রহ করবেন না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না, বরং তাদের মোকাবেলায় নির্ভীক হতে চাই। আমার বেদনাকে স্তব্ধ করার জন্য আমি ভিক্ষা করি না, কিন্তু হৃদয়কে জয় করতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"বন্ধুত্বের গভীরতা পরিচয়ের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সর্বোচ্চ শিক্ষা হল সেই শিক্ষা যা আমাদের কেবল তথ্যই দেয় না বরং আমাদের জীবনকে সমস্ত অস্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"ছোট জ্ঞান হল একটি গ্লাসের জলের মতো: স্বচ্ছ, স্বচ্ছ, বিশুদ্ধ। মহান জ্ঞান হল সমুদ্রের জলের মতো: অন্ধকার, রহস্যময়, দুর্ভেদ্য।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"মন, তীক্ষ্ণ কিন্তু প্রশস্ত নয়, প্রতিটি বিন্দুতে লেগে থাকে কিন্তু সরে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"বয়স বিবেচনা করে; যুব উদ্যোগ।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
* প্রেমের [[ধর্ম]] এই, সে ছোটোকেও বড়ো করিয়া লয়। আর, আড়ম্বর-প্রিয়তা বড়োকেও ছোটো করিয়া দেখে। এই নিমিত্ত প্রেমের হাতে কাজের আর অন্ত নাই, কিন্তু আড়ম্বরের হাতে কাজ থাকে না। প্রেম শিশুকেও অগ্রাহ্য করে না, বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে না, আয়তন মাপিয়া সমাদরের মাত্রা স্থির করে না।
** হাতে কলমে -১
* রমণীর প্রেমের মধ্যে পরিতৃপ্তি আছে, [[বিশ্বাস]] আছে, নিষ্ঠা আছে, কিন্তু পুরুষের প্রেমের মধ্যে যে একটি চির অতৃপ্তিপূর্ণ অনির্বচনীয় সুখ আছে তাহা বোধ করি খুব অল্প রমণী উপভোগ করিয়াছে।
** [[স্ত্রী]] ও পুরুষের প্রেমে বিশেষত্ব
* স্ত্রী-পুরুষগত প্রেমের ন্যায় প্রবল শক্তি আর কিছু আছে কি না সন্দেহ। এই শক্তি ষোলো আনা মাত্রায় সমাজের কাজে লাগাইলে মানবসভ্যতা অনেকটা বল পায়। এই শক্তি হইতে বঞ্চিত করিলে সমাজের একটি প্রধান বল অপহরণ করা হয়।
** সমাজে স্ত্রী-পুরুষের প্রেমের প্রভাব।
* [[ভালোবাসা]] অর্থে আত্মসমর্পণ নহে। ভালোবাসা অর্থে, নিজের যাহা কিছু ভালো তাহাই সমর্পণ করা। হৃদয়ে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা নহে; হৃদয়ের যেখানে দেবত্রভূমি, যেখানে মন্দির, সেইখানে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/মনের_বাগান-বাড়ি বিবিধ প্রসঙ্গ - মনের বাগান-বাড়ি]
* মানুষের দেবতা মানুষের মনের মানুষ, জ্ঞানে কর্মে ভাবে যে পরিমাণে সত্য হই সেই পরিমাণেই সেই মনের মানুষকে পাই –অন্তরে বিকার ঘটলে সেই আমার আপন মনের মানুষকে মনের মধ্যে দেখতে পাই নে। মানুষের যত-কিছু দুর্গতি আছে সেই আপন মনের মানুষকে হারিয়ে, তাকে বাইরের উপকরণে খুঁজতে গিয়ে, অর্থাৎ আপনাকেই পর করে দিয়েছে।
** মানুষের ধর্ম ১/১১
* মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব। [[আশা]] করব, মহাপ্রলয়ের পরে বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে ইতিহাসের একটি নির্মল আত্মপ্রকাশ হয়তো আরম্ভ হবে এই পূর্বাচলের সূর্যোদয়ের দিগন্ত থেকে। আর-একদিন অপরাজিত মানুষ নিজের জয়যাত্রার অভিযানে সকল বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে তার মহৎ [[মর্যাদা]] ফিরে পাবার পথে। মনুষ্যত্বের অন্তহীন প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে আমি অপমান মনে করি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সভ্যতার_সংকট সভ্যতার সংকট]
* যে পাখির ডানা সুন্দর ও কণ্ঠস্বর মধুর তাকে খাঁচায় বন্দী করে মানুষ গর্ব অনুভব করে; তার [[সৌন্দর্য]] সমস্ত অরণ্যভূমির, এ কথা সম্পত্তিলোলুপরা ভুলে যায়। মেয়েদের হৃদয়মাধুর্য ও সেবানৈপুণ্যকে পুরুষ সুদীর্ঘকাল আপন ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে কড়া পাহারায় বেড়া দিয়ে রেখেছে। মেয়েদের নিজের স্বভাবেই বাঁধনমানা প্রবণতা আছে, সেইজন্যে এটা সর্বত্রই এত সহজ হয়েছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/কালান্তর_(২০১৮)/নারী কালান্তর (২০১৮) - নারী]
* শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী,<br>পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি<br>আপন অন্তর হতে। বসি কবিগণ<br>সোনার উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।<br>সঁপিয়া তোমার ’পরে নূতন মহিমা<br>অমর করিছে শিল্পী তোমার প্রতিমা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/চৈতালি/মানসী চৈতালি - মানসী]
* প্রেম শান্তিরূপেও আসবে অশান্তিরূপেও আসবে, সুখ হয়েও আসবে দুঃখ হয়েও আসবে–সে যে-কোনো বেশেই আসুক তার মুখের দিকে চেয়ে যেন বলতে পারি তোমাকে চিনেছি, বন্ধু তোমাকে চিনেছি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(প্রথম_খণ্ড)/কী_চাই%৩F শান্তিনিকেতন (প্রথম খণ্ড) - কী চাই?]
* সোনার চেয়ে আনন্দের দাম বেশি; ভুলেছে, প্রতাপের মধ্যে পূর্ণতা নেই, প্রেমের মধ্যেই পূর্ণতা। সেখানে মানুষকে দাস করে রাখবার প্রকাণ্ড আয়োজনে মানুষ নিজেকেই নিজে বন্দী করেছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/পশ্চিম-যাত্রীর_ডায়ারি/২৮শে_সেপ্টেম্বর_১৯২৪ পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি - ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯২৪]
* সহজ মানুষের সত্যটি সামাজিক মানুষের কুয়াশায় ঢেকে রেখে দেয়। অর্থাৎ আমরা নানা অবান্তর তথ্যের অস্বচ্ছতার মধ্যে বাস করি। শিশুর জীবনের যে সত্য তার সঙ্গে অবান্তরের মিশেল নেই। তাই, তার দিকে যখন চেয়ে দেখবার অবকাশ পাই তখন প্রাণলীলার প্রত্যক্ষ স্বরূপটি দেখি; তাতে সংস্কারভারে পীড়িত চিন্তাক্লিষ্ট মন গভীর তৃপ্তি পায়।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/পশ্চিম-যাত্রীর_ডায়ারি/১৪ই_ফেব্রুয়ারি_১৯২৫ পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি - ১৪ই ফেব্রুয়ারি ১৯২৫]
* সুন্দর আপনি সুন্দর এবং অন্যকে সুন্দর করে। কারণ, সৌন্দর্য্য হৃদয়ে প্রেম জাগ্রত করিয়া দেয় এবং প্রেমই মানুষকে সুন্দর করিয়া তোলে।
** সৌন্দর্য্য ও প্রেম
* কবিদিগকে আর কিছুই করিতে হইবে না, তাঁহারা কেবল সৌন্দর্য্য ফুটাইতে থাকুন —জগতের সর্ব্ত্র যে সৌন্দর্য্য আছে তাহা তাঁহাদের হৃদয়ের আলোকে পরিস্ফুট ও উজ্জ্বল হইয়া আমাদের চোখে পড়িতে থাকুক, তবেই আমাদের প্রেম জাগিয়া উঠিবে, প্রেম বিশ্বব্যাপী হইয়া পড়িবে।
** কবিতা ও তত্ত্ব
* জ্ঞানে প্রেমে অনেক প্রভেদ। জ্ঞানে আমাদের ক্ষমতা বাড়ে, প্রেমে আমাদের অধিকার বাড়ে। [[জ্ঞান]] শরীরের মত, প্রেম মনের মত। জ্ঞান কুস্তি করিয়া জয়ী হয়, প্রেম সৌন্দর্য্যের দ্বারা জয়ী হয়। জ্ঞানের দ্বারা জানা যায় মাত্র, প্রেমের দ্বারা পাওয়া যায়। জ্ঞানেতেই বৃদ্ধ করিয়া দেয়, প্রেমেতেই যৌবন জিয়াইয়া রাখে। জ্ঞানের অধিকার যাহার উপরে তাহা চঞ্চল, প্রেমের অধিকার যাহার উপরে তাহা ধ্রুব। জ্ঞানীর সুখ আত্মগৌরব-নামক ক্ষমতার সুখ, প্রেমিকের সুখ আত্মবিসর্জ্জন-নামক স্বাধীনতার সুখ।
** জ্ঞান ও প্রেম
* পৃথিবীর চারি দিকে দেয়াল, সৌন্দর্য্য তাহার বাতায়ন। পৃথিবীর আর সকলই তাহাদের নিজ নিজ দেহ লইয়া আমাদের চোখের সম্মুখে আড়াল করিয়া দাঁড়ায়, সৌন্দর্য্য তাহা করে না —সৌন্দর্য্যের ভিতর দিয়া আমরা অনন্ত রঙ্গভূমি দেখিতে পাই।
** মর্ত্যের বাতায়ন
* ছেলে যদি মানুষ করিতে চাই, তবে ছেলেবেলা হইতেই তাহাকে মানুষ করিতে আরম্ভ করিতে হইবে, নতুবা সে ছেলেই থাকিবে, মানুষ হইবে না। শিশুকাল হইতেই কেবল স্মরণশক্তির উপর সমস্ত ভর না দিয়া সঙ্গে সঙ্গে যথা পরিমাণে চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তির স্বাধীন পরিচালনার অবসর দিতে হইবে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সংকলন/শিক্ষার_হেরফের শিক্ষার হেরফের]
* তোর আপন জনে ছাড়বে তোরে,<br>তা ব’লে ভাবনা করা চলবে না।<br>ও তোর আশালতা পড়বে ছিঁড়ে,<br>হয়তো রে ফল ফলবে না॥<br>আসবে পথে আঁধার নেমে, তাই ব’লেই কি রইবি থেমে—<br>ও তুই বারে বারে জ্বালবি বাতি,<br>হয়তো বাতি জ্বলবে না॥
** [https://bn.wikisource.org/wiki/গীতবিতান/স্বদেশ/৪ গীতবিতান/স্বদেশ]
* আগুনকে যে [[ভয়]] করে সে আগুনকে ব্যবহার করতে পারে না।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/চার_অধ্যায়/প্রথম_অধ্যায় চার অধ্যায়]
* পৃথিবীতে সকলের চেয়ে বড়ো জিনিস আমরা যাহা কিছু পাই তাহা বিনামূল্যেই পাইয়া থাকি, তাহার জন্য দরদস্তুর করিতে হয় না। মূল্য চুকাইতে হয় না বলিয়াই জিনিসটা যে কত বড়ো তাহা আমরা সম্পূর্ণ বুঝিতেই পারি না।
** পরিচয়/ ভগিনী নিবেদিতা
* "যে করে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত, ঈশ্বরকে অর্ঘ্য হতে সে করে বঞ্চিত।"
** স্ফুলিঙ্গ -২০৭
* সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,<br>রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সঞ্চয়িতা/বঙ্গমাতা বঙ্গমাতা কবিতা]
* যাহাদের স্বাভাবিক ভদ্রতা নাই তাহারা ভদ্র হইতে ইচ্ছা করিলে আনুষ্ঠানিক ভদ্রতার কিছু বাড়াবাড়ি করিয়া থাকে।
** সংগীত-চিন্তা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩
* অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
** হৈমন্তী, গল্পগুচ্ছ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৫০
*এক দলকে বিশেষ পরিচয়কালে বলি বটে হিন্দুস্থানি, কিন্তু তাদের হিন্দুস্থান বাংলার বাইরে।
**[https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E০%A৬%AA%E০%A৬%BE%E০%A৬%A৪%E০%A৬%BE:%E০%A৬%B০%E০%A৬%AC%E০%A৭%৮০%E০%A৬%A৮%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%B০-%E০%A৬%B০%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৮%E০%A৬%BE%E০%A৬%AC%E০%A৬%B২%E০%A৭%৮০_(%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮১%E০%A৬%B০%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%৮২%E০%A৬%B৬_%E০%A৬%৯৬%E০%A৬%A৩%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A১)_-_%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%B৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%AD%E০%A৬%BE%E০%A৬%B০%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮০.pdf/%E০%A৭%AA%E০%A৭%AB%E০%A৭%AB রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী, পৃষ্ঠা-৪৪৬]
*ধর্ম আমাদের মেলাতে পারে নি, বরঞ্চ হাজারখানা বেড়া গড়ে তুলে সেই বাধাগুলোকে ইতিহাসের অতীত শাশ্বত বলে পাকা করে দিয়েছে। ইংরেজ নিজের জাতকে ইংরেজ বলেই পরিচয় দেয়। যদি বলত খৃস্টান তা হলে যে ইংরেজ বৌদ্ধ বা মুসলমান বা নাস্তিক তাকে নিয়ে রাষ্ট্রগঠনে মাথা ঠোকাঠুকি বেধে যেত।
**[https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E০%A৬%AA%E০%A৬%BE%E০%A৬%A৪%E০%A৬%BE:%E০%A৬%B০%E০%A৬%AC%E০%A৭%৮০%E০%A৬%A৮%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%B০-%E০%A৬%B০%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৮%E০%A৬%BE%E০%A৬%AC%E০%A৬%B২%E০%A৭%৮০_(%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮১%E০%A৬%B০%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%৮২%E০%A৬%B৬_%E০%A৬%৯৬%E০%A৬%A৩%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A১)_-_%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%B৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%AD%E০%A৬%BE%E০%A৬%B০%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮০.pdf/%E০%A৭%AA%E০%A৭%AB%E০%A৭%AB রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী, পৃষ্ঠা-৪৪৬]
* এ-পর্যন্ত দেখা গেছে, যে-রাজা প্রজাকে দাস করে রাখতে চেয়েছে সে-রাজার সর্বপ্রধান সহায় সেই ধর্ম যা মানুষকে অন্ধ করে রাখে। সে-ধর্ম বিষকন্যার মতো; আলিঙ্গন করে সে মুগ্ধ করে, মুগ্ধ করে সে মারে। শক্তিশেলের চেয়ে ভক্তিশেল গভীরতর মর্মে গিয়ে প্রবেশ করে, কেননা তার মার আরামের মার।... ধর্মমােহের চেয়ে [[নাস্তিক্যবাদ|নাস্তিকতা]] অনেক ভালাে।
** "রাশিয়ার চিঠি"- [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], প্রকাশক:বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, প্রথম প্রকাশ: বৈশাখ ১৩৩৮, পৃষ্ঠা: [https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE:%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF-%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0.pdf/%E0%A7%AC%E0%A7%AB ৫৩] - ৫৪
* ইহাতে কোনো সন্দেহমাত্র নাই যে, ধর্মের বিকারেই গ্রীস মরিয়াছে, ধর্মের বিকারেই রোম বিলুপ্ত হইয়াছে এবং আমাদের দুৰ্গতির কারণ আমাদের ধর্মের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও নাই।
** "রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টাদশ খণ্ড)"-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক: বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশসাল: ১৯৪৪, পৃষ্ঠা: [https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE:%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80_(%E0%A6%85%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%B6_%E0%A6%96%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1)_-_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%80.pdf/%E0%A7%AA%E0%A7%A8%E0%A7%AB ৪১১]
*ক্ষণিকের অতিথি স্বর্গ হইতে মর্ত্যে আসেন। কাঁদিয়ে দিয়ে চলে যান। এই যাওয়া-আসায় স্বর্গ-মর্ত্যের মিলন-পথ বিরহের ভিতর দিয়ে খুলে যায়।
**শেষ বর্ষণ
*অধিকার লাভের যে মর্যাদা আছে, সেই মর্যাদা রক্ষা করিতে হইলে অধিকার প্রয়োগকে সংযত করিতে হয় ।
**চোখের বালি—৫২ পরিচ্ছেদ
*অন্যান্য অধিকার হইতে স্ত্রী-অধিকারের প্রভেদ এই যে স্ত্রীকে পাঁচজনের কাছ হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া একলা নিজের কাছে রাখিলেই যে সব সময় বেশী করিয়া পাওয়া যায় তাহা নহে।
**মণিহারা (গল্পগুচ্ছ)
*জীবের মধ্যে অনন্তকে অনুভব করারই অন্য নাম ভালোবাসা। প্রকৃতির মধ্যে অনুভব করার নাম সৌন্দর্য-সম্ভোগ।
**মনুষ্য (পঞ্চভূত )
*বাইরের আলোর উপর ভরসা রাখাই অভ্যাস, তাই অন্ধকার হলেই একেবারে অন্ধকার দেখি।
**মুক্তধারা
*মনকে নিজের কাছে রাখিস নে। ভিতরে যে ঠাকুরটি আছেন তাঁরই পায়ের কাছে রেখে আয়, সেখানে অপমান পৌঁছোবে না।
**মুক্তধারা
*‘বোবার শত্রু নেই’ যে পুরুষ বলেছিল সে নিশ্চয় ছিল অবিবাহিত।
**সংস্কার (গল্পগুচ্ছ)
===শিক্ষার বাহন===
* [[শিক্ষা|শিক্ষার]] জন্য আমরা আব্দার করিয়াছি, গরজ করি নাই। শিক্ষাবিস্তারে আমাদের গা নাই। তার মানে, শিক্ষার ভোজে নিজেরা বসিয়া যাইব, পাতের প্রসাদটুকু পর্যন্ত আর-কোনো ক্ষুধিত পায় বা না পায় সে দিকে খেয়ালই নাই।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
* বিদ্যাবিস্তারের কথাটাকে যখন ঠিকমত মন দিয়া দেখি তখন তার সর্বপ্রধান বাধাটা এই দেখিতে পাই যে তার বাহনটা ইংরেজি। বিদেশী মাল জাহাজে করিয়া শহরের ঘাট পর্যন্ত আসিয়া পৌঁছিতে পারে, কিন্তু সেই জাহাজটাতে করিয়াই দেশের হাটে হাটে আমদানি রফ্তানি করাইবার দুরাশা মিথ্যা। যদি বিলিতি জাহাজটাকেই কায়মনে আঁকড়াইয়া ধরিতে চাই তবে ব্যাবসা শহরেই আটকা পড়িয়া থাকিবে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
* বাংলায় উচ্চ অঙ্গের শিক্ষাগ্রন্থ বাহির হইতেছে না এটা যদি আক্ষেপের বিষয় হয় তবে তার প্রতিকারের একমাত্র উপায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় উচ্চঅঙ্গের শিক্ষা প্রচলন করা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
==রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে উক্তি==
* সারা পৃথিবীর গানের সুরকে আয়ত্ত করে নতুন সুর সৃষ্টি করলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই সুরের আলপনাকে বাংলা গানে ছিটিয়ে দিলেন। হয়ে গেল এক অপূর্ব সৃষ্টি। সর্বযুগের, সর্বকালের সৃষ্টি। এতবড়ো সুরকার আজও জন্মায়নি কোন দেশে। এই বুড়ো পৃথিবীকে ইচ্ছে হয় জিজ্ঞাসা করি, বয়েস তো অনেক হল। রবীন্দ্রনাথের মতো এমন সর্বতোমুখী প্রতিভা আর দেখেছে একটা।
**হেমন্ত মুখোপাধ্যায় - ''আনন্দধারা'', সপ্তর্ষি প্রকাশন, কলকাতা; পৃষ্ঠা:৩৪ (২০১৯)
* ব্রিটিশরা তাঁকে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে) উগ্র জাতীয়তাবাদী হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও তাঁর জাতীয়তাবাদ ছিল পুরোটাই সাংস্কৃতিক। তাছাড়া উচ্চ প্রশাসনিক পদে অধিক সংখ্যক ভারতীয়কে সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দাবী বিষয়ক কোনো ভূমিকাই তিনি রাখেননি। রবীন্দ্রের কাছে এসবই ছিল ব্রিটিশ শাসনের মতোই অচেনা, অজানা। তাঁর রাজনীতির ধারণা ছিল বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রসার। স্বভাববশতই, তিনি যখন একজন খ্যাতিমান অতিথি হিসেবে নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, সেখানকার 'অতিথি বই'তে তিনি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) নিজের জাতীয়তা হিসেবে “ভারতীয়” পরিচয় না লিখে, লেখেন “'''[[বাঙালি জাতি|বাঙালী]]'''”।
** অধ্যাপক হিউ টিঙ্কার, ''Death of Rabindranath Tagore'' (১৯৮২), [https://www.historytoday.com/archive/rabindranath-tagore-and-indian-renaissance হিস্টরি টুডে, খণ্ড ৩২, ইস্যু: ৪ এপ্রিল ১৯৮২], পৃষ্ঠা: ৩৬ [http://media.bengalinessresearch.org/2021/07/death-of-rabindranath-tagore.html?m=1&fbclid=IwZXh0bgNhZW0CMTEAAR7UAhXR4fAyv21NfxcFHznqaSwk1SmPNZ2eeE1lq6CCnwnGam44nQ2e31U8SQ_aem_NYenInWDPTEk0LloHMC-CA]
*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতা নিজে ইংরেজিতে অনুবাদ করে “গীতাঞ্জলি” বই বের করেছিলেন। বইটি জমা দিয়ে তিনি ১৯১৩ সালে পান নোবেল পুরস্কার। তাঁর পরে বাংলা সাহিত্যের আর কেউ এ ধরনের বড় কাজ করতে পারেননি।
** [[সেলিনা হোসেন]]- [https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/vpv৩২৫c৯ld প্রথম আলো-এ উদ্ধৃত]
* সাধারণত বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে লোকের রক্ষণশীলতাও বাড়ে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বেলায় হয়েছে ঠিক উল্টো; যত বয়স বেড়েছে ততই তিনি মুক্ত হয়েছেন। যা সাময়িক, যা প্রথাগত, যা দেশ-কালে আপেক্ষিক, যা লোকাচারের সংস্কার কিংবা ব্যবহারিক বিধি মাত্র, সে সমস্তের উর্ধ্বে গেছে তাঁর দৃষ্টি। নীতির চেয়ে সত্যকে বড়ো করে দেখেছেন, রীতির চেয়ে জীবনকে।
** [[বুদ্ধদেব বসু]]। "সব পেয়েছির দেশে", প্রকাশক: সপ্তর্ষি, প্রথম প্রকাশ: আগস্ট ১৯৪১, [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.267258/page/n103/mode/1up?view=theater&q=%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%95 পৃষ্ঠা: ১০৩]
* কবির ভুল ধারণার প্রতিবাদ করিয়া উপযুক্ত কারণ দেখাইলেই কবি তাঁহার ভুল সংশোধন করিয়া লইতেন। কবির মনে একদেশদর্শী হিন্দুত্বের স্থান ছিল না। মুসলমানদের মধ্যে যাঁহারা স্বাধীন মতবাদ লইয়া ধর্ম ও সমাজ-ব্যবস্থার সমালোচনা করিতেন, তাঁহাদের প্রতি কবির মনে প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল।
** [[জসীম উদ্দীন]]। "ঠাকুর-বাড়ির আঙিনায়", প্রকাশক: গ্রন্থপ্রকাশ, কলকাতা, [https://share.google/QzodDAT07Rk23JRrC পৃষ্ঠা: ২৮]
*সমস্ত রাত্রি বৃষ্টি পড়তে লাগিল; তাহার পরদিন সকালেও বৃষ্টি পড়িতেছে, মধ্যাহ্নেও বৃষ্টির বিরাম নাই। কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।
**-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,জীবিত ও মৃত (পঞ্চম পরিচ্ছেদ), গল্পগুচ্ছ,পৃষ্ঠা ৬৫
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিসংকলন লেখক}}
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Rabindranath Tagore}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:হিন্দু লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:কলকাতার ব্যক্তি ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের প্রাবন্ধিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:হিন্দু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় ঔপন্যাসিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের চিত্রশিল্পী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের সঙ্গীতজ্ঞ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]
r8bipeiof7q3t1cykevmjxzxsiu1y9r
রবীন্দ্রনাথ ও ইসলাম
0
11483
84099
83497
2026-08-06T16:23:12Z
ফারদিন
52
/* রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি */
84099
wikitext
text/x-wiki
'''[[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]''' (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১) ছিলেন একজন বাঙালি কবি, লেখক, নাট্যকার, সুরকার ও দার্শনিক, যিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার সাহিত্যকর্মে ধর্ম, সমাজ ও মানুষের বহুমাত্রিক পরিচয় নানা প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে। ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কেও তিনি বিভিন্ন সময়ে মত প্রকাশ করেছেন, যা তার গল্প, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র ও আলাপচারিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। ‘‘কালান্তর’’ প্রবন্ধ গ্রন্থে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক নিয়ে তার ভাবনা, ‘‘মুসলমান ছাত্রের বাংলা শিক্ষা’’ প্রবন্ধে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তার মন্তব্য, কিংবা ‘‘আবদুল মাঝির গল্প’’, ‘‘কাবুলিওয়ালা’’ এবং তার জীবনের শেষ গল্প ‘‘মুসলমানীর গল্প’’— এসব লেখায় ইসলাম ও মুসলমানদের প্রসঙ্গ বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে।
== রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি ==
* ইসলাম পৃথিবীর মহত্তম ধর্মের মধ্যে একটি। এই কারণে তার অনুবর্তিগণের দায়িত্ব অসীম, যেহেতু আপন জীবনে এই ধর্মের মহত্ত্ব সম্বন্ধে তাঁদের সাক্ষ্য দিতে হবে। ভারতে যে-সকল বিভিন্ন ধর্মসমাজ আছে, তাদের পরস্পরের প্রতি সভ্যজাতিযোগ্য মনোভাব যদি উদ্ভাবিত করতে হয়, তাহলে কেবলমাত্র রাষ্ট্রিক স্বার্থবুদ্ধি দ্বারা তা সম্ভব হবে না, আমাদের নির্ভর করতে হবে সেই অনুপ্রেরণার প্রতি, যা ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র ও মানবের বন্ধু সত্যদূতদের অমর জীবন থেকে চির-উৎসারিত। আজকের এই পুণ্য অনুষ্ঠান উপলক্ষে মুসলিম ভাইদের সঙ্গে একযোগে ইসলামের মহাঋষির উদ্দেশ্যে আমার ভক্তি উপহার অর্পণ করে উৎপীড়িত ভারতবর্ষের জন্য তাঁর আশীর্বাদ ও সান্ত্বনা কামনা করি।
** হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জন্মদিন উপলক্ষে ১৯৩৪ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বাণী। বাণীটি ১৯৩৪ সালের ২৫ জুন বেতারে সম্প্রচারিত হয়।
*** "ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ/ অন্যান্য প্রসঙ্গ"-অমিতাভ চৌধুরী, প্রকাশক: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪০০, পৃষ্ঠা: ৩
* জগতে যে সামান্য কয়েকটি মহান ধর্ম আছে, [[ইসলাম]] ধর্ম তাদেরই অন্যতম। মহান এই ধর্মমতের অনুগামীদের দায়িত্বও তাই বিপুল। ইসলামপন্থীদের মনে রাখা দরকার, ধর্মবিশ্বাসের মহত্ত্ব আর গভীরতা যেন তাঁদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ওপরও ছাপ রেখে যায়। আসলে, এই দুর্ভাগা দেশের অধিবাসী দুটি সম্প্রদায়ের বোঝাপড়া শুধু তো জাতীয় স্বার্থের সপ্রতিভ উপলব্ধির ওপর নির্ভর করে না; সত্যদ্রষ্টাদের বাণীনিঃসৃত শাশ্বত প্রেরণার ওপরও তার নির্ভরতা। সত্য ও শাশ্বতকে যাঁরা জেনেছেন ও জানিয়েছেন, তাঁরা ঈশ্বরের ভালবাসার পাত্র। এবং মানুষকেও তাঁরা চিরকাল ভালবেসে এসেছেন।
** পয়গম্বর দিবস উদযাপন উপলক্ষে ১৯৩৩ সালের ২৬ নভেম্বর বোম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাঠানো বাণী।
*** "ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ/ অন্যান্য প্রসঙ্গ"-অমিতাভ চৌধুরী, প্রকাশক: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪০০, পৃষ্ঠা: ২-৩
* যিনি বিশ্বের মহত্তমদের অন্যতম, সেই পবিত্র পয়গম্বর [[মুহাম্মাদ|হজরত মহম্মদের]] উদ্দেশ্যে আমি আমার অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি। মানুষের ইতিহাসে এক নতুন, সম্ভাবনাময় জীবনীশক্তির সঞ্চার করেছিলেন পয়গম্বর হজরত, এনেছিলেন নিখাদ, শুদ্ধ ধর্মাচরণের আদর্শ। সর্বান্তঃকরণে প্রার্থনা করি, পবিত্র পয়গম্বরের প্রদর্শিত পথ যাঁরা অনুসরণ করছেন, আধুনিক ভারতবর্ষের সুসভ্য ইতিহাস রচনা করে তাঁরা যেন জীবন সম্পর্কে তাঁদের গভীর আস্থা এবং পয়গম্বরের প্রদত্ত শিক্ষাকে যথাযথ মর্যাদা দেন। তাঁরা যেন এমনভাবে ইতিহাসকে গড়ে তোলেন যাতে আমাদের জাতীয় জীবনে শান্তি ও পারস্পরিক শুভেচ্ছার বাতাবরণটি অটুট থেকে যায়।
** নয়াদিল্লীর জামা মসজিদ প্রকাশিত পয়গম্বর সংখ্যার জন্য ১৯৩৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শান্তিনিকেতন থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা।
*** "ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ/ অন্যান্য প্রসঙ্গ"-অমিতাভ চৌধুরী, প্রকাশক: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪০০, পৃষ্ঠা: ৩
* আমার অধিকাংশ প্রজাই মুসলমান। কোরবানি নিয়ে দেশে যখন একটা উত্তেজনা প্রবল তখন হিন্দু প্রজারা আমাদের এলাকায় সেটা সম্পূর্ণ রহিত করার জন্য আমার কাছে নালিশ করেছিল। সে নালিশ আমি সংগত বলে মনে করি নি, কিন্তু মুসলমান প্রজাদের ডেকে যখন বলে দিলুম কাজটা যেন এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে হিন্দুদের মনে অকারণে আঘাত না লাগে, তারা তখনি তা মেনে নিলে। আমাদের সেখানে এ পর্যন্ত কোনাে উপদ্রব ঘটে নি। আমার বিশ্বাস তার প্রধান কারণ, আমার সঙ্গে আমার মুসলমান প্রজার সম্বন্ধ সহজ ও বাধাহীন।
** "কালান্তর"- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক: বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, প্রকাশসাল: বৈশাখ ১৩৪৪, [https://share.google/6W0QwgEUA1mkeQnG8 পৃষ্ঠা:৩৩৬-৩৩৭]
* না, এই শুভ অনুষ্ঠানে এ জিনিস চলবে না। সব আসন তুলে দিয়ে হিন্দু-মুসলমান ব্রাহ্মণ-চণ্ডাল—সবাইকে একই ধরনের আসনে বসার ব্যবস্থা করতে হবে।...প্রাচীন প্রথা আমি বুঝি না। সবার জন্যে একাসন করতে হবে। জমিদার হিসাবে এই আমার প্রথম হুকুম।...এই মিলন উৎসবে পরস্পরে ভেদ সৃষ্টি করে, মধুর সম্পর্ক নষ্ট করে দেওয়া চলবে না। আমার প্রিয় প্রজারা, তোমরা সব আলাদা আসন আলাদা ব্যবস্থা-সব সরিয়ে দিয়ে একসঙ্গে বস। আমিও তোমাদের সঙ্গেই বসব। আমি তোমাদেরি লোক।
** প্রথম জমিদার হয়ে শিলাইদহে পুণ্যাহ উৎসবে যোগ দিতে এসে হিন্দু ও মুসলিম প্রজাদের জন্য আলাদা আসনের ব্যবস্থা দেখে এর প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন।
*** "ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ/ অন্যান্য প্রসঙ্গ"-অমিতাভ চৌধুরী, প্রকাশক: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪০০, পৃষ্ঠা: ৫
* সাহাদের হাত থেকে শেখদের বাঁচাতে হবে। এটাই আমার সর্বপ্রধান কাজ।
** প্রথম জমিদার হয়ে শিলাইদহে পুণ্যাহ উৎসবে যোগ দিতে এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন।
*** "ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ/ অন্যান্য প্রসঙ্গ"-অমিতাভ চৌধুরী, প্রকাশক: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪০০, পৃষ্ঠা: ৫
* ইংরাজি শিক্ষার যেরূপ প্রচলন হইয়াছে, তাহাতে ইংরাজের ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, আচার-বিচার আমাদের কাছে লেশমাত্র অগোচর থাকে না; অথচ তাহারা বহুদূরদেশী এবং মুসলমানরা আমাদের স্বদেশীয়, এবং মুসলমানদের সহিত বহুদিন হইতে আমাদের রীতিনীতি পরিচ্ছদ ভাষা ও শিল্পের আদান-প্রদান চলিয়া আসিয়াছে। অদ্য নূতন ইংরাজি শিক্ষার প্রভাবে আত্মীয়ের মধ্যে প্রতিবেশীর মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াইয়া গেলে পরম দুঃখের কারণ হইবে। বাঙালি মুসলমানের সহিত বাঙালি হিন্দুর রক্তের সম্বন্ধ আছে, এ কথা আমরা যেন কখনো না ভুলি।...[[অস্ত্র]] হস্তে ধর্মপ্রচার মুসলমানশাস্ত্রের অনুশাসন, এ কথা যদি [[সত্য]] না হয় তবে সে অসত্য আমরা শিশুকাল হইতে শিখিলাম কাহার কাছে? হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মনীতি ও ইতিবৃত্ত সম্বন্ধে ইংরাজ লেখক যাহাই লিখিতেছে হিন্দু-মুসলমান ছাত্রগণ কি তাহাই নির্বিচারে কণ্ঠস্থ করিতেছে না? এবং বাংলা পাঠ্যপুস্তক কি তাহারই প্রতিধ্বনি মাত্র নহে?...কিন্তু ইংরাজ লেখকের সকল প্রকার ব্যক্তিগত ও জাতিগত সংস্কার আমরা শিরোধার্য করিয়া লইতে বাধ্য, এবং সেই-সকল সংস্কারের বিরুদ্ধে কোনো বাংলা বই রচিত হইলে তাহা কোনো বিদ্যালয়ে প্রচলিত হইবার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। ইংরাজ লেখকেরই মত বংলা বিদ্যালয়ের আদর্শ মত — সেই মত অনুসারে পরীক্ষা দিতে হইবে, নতুবা পরীক্ষার নম্বরেই দেখা যাইবে সমস্ত শিক্ষা ব্যর্থ হইয়াছে।...অনেক আধুনিক বাঙালি ঐতিহাসিক মুসলমান রাজত্বের ইতিহাসকে ইংরাজ-তুলিকার কালিমা হইতে মুক্ত করিবার জন্য চেষ্টা করিতেছেন। অক্ষয়বাবু তাঁহার সিরাজচরিতে অন্ধকূপহত্যাকে প্রায় অপ্রমাণ করিতে কৃতকার্য হইয়াছেন কিন্তু প্রমাণ যতই অমূলক বা তুচ্ছ হউক পরীক্ষাতিতীর্ষু বালক মাত্রই অন্ধকূপহত্যা ব্যাপারকে অসন্দিগ্ধ সত্য বলিয়া স্বীকার করিতে বাধ্য।
** "রবীন্দ্র রচনাবলী (সপ্তদশ খণ্ড)" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪০৭, পৃষ্ঠা: ৩৫০-৩৫১
* হিন্দুর কুয়ো থেকে মুসলমানে জল তুললে তাতে অপবিত্র করে। এটা বিষম মুশকিলের কথা। কেননা, পবিত্রতা হল আধ্যাত্মিক রাজ্যের আর কুয়োর জলটা হল বস্তুরাজ্যের। যদি বলা যেত, মুলমানকে ঘৃণা করলে মন অপবিত্র হয় তা হলে সে কথা বোঝা যেত; কেননা, সেটা আধ্যাত্মিক মহলের কথা। কিন্তু মুসলমানের ঘড়ার মধ্যে অপবিত্রতা আছে বললে তর্কের সীমানাগত জিনিসকে তর্কের সীমানার বাইরে নিয়ে গিয়ে বুদ্ধিকে ফাঁকি দেওয়া হয়।..."মুসলমানের ঘড়া হিন্দুর কুয়োর জল অপরিষ্কার করে" না ব'লে যেই বলা হয় '''অপবিত্র করে''', তখনই সত্যনির্ণয়ের সমস্ত পথ বন্ধ করা হয়। কেননা কোনো জিনিস কিছুকে অপরিষ্কার করে কি না-করে সেটা প্রমাণসাপেক্ষ। সে স্থলে হিন্দুর ঘড়া, মুসলমানের ঘড়া--হিন্দুর কুয়োর জল, মুসলমানের কুয়োর জল--হিন্দুপাড়ার স্বাস্থ্য, মুসলমানপাড়ার স্বাস্থ্য--যথানিয়মে ও যথেষ্ট পরিমাণে তুলনা করে পরীক্ষা করে দেখা চাই। পবিত্রতাঘটিত দোষ অন্তরের; কিন্তু স্বাস্থ্যঘটিত দোষ বাইরের, অতএব বাইরে থেকে তার প্রতিকার চলে। স্বাস্থ্য-তত্ত্ব হিসাবে ঘড়া পরিষ্কার রাখার নিয়ম বৈজ্ঞানিক নিয়ম; তা মুসলমানের পক্ষেও যেমন হিন্দুর পক্ষেও তেমনি; সেটা যাতে উভয় পক্ষে সমান গ্রহণ ক'রে উভয়ের কুয়ো উভয়েই ব্যবহার করতে পারে সেইটেই চেষ্টার বিষয়। কিন্তু বাহ্য বস্তুকে অপরিষ্কার না বলে অপবিত্র বলার দ্বারা চিরকালের জন্যেই এ সমস্যাকে সাধারণের বুদ্ধি ও চেষ্টার বাইরে নির্বাসিত করে রাখা হয়। এটা কি কাজ সারার পক্ষেও ভালো রাস্তা?
** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, [https://www.tagoreweb.in/Essays/shikkha-73/shikkhar-milon-6279 শিক্ষার মিলন]
* আজ আমাদের দেশে মুসলমান স্বতন্ত্র থাকিয়া নিজের উন্নতিসাধনের চেষ্টা করিতেছে। তাহা আমাদের পক্ষে যতই অপ্রিয় এবং তাহাতে আপাতত আমাদের যতই অসুবিধা হউক, একদিন পরস্পরের যথার্থ মিলনসাধনের ইহাই প্রকৃত উপায়। ধনী না হইলে দান করা কষ্টকর; মানুষ যখন আপনাকে বড়ো করে তখনই আপনাকে ত্যাগ করিতে পারে। যত দিন তাহার অভাব ও ক্ষুদ্রতা ততদিনই তাহার ঈর্ষা ও বিরোধ। ততদিন যদি সে আর কাহারও সঙ্গে মেলে তবে দায়ে পড়িয়া মেলে--সে মিলন কৃত্রিম মিলন। ছোটো বলিয়া আত্মলোপ করাটা অকল্যাণ, বড়ো হইয়া আত্মবিসর্জন করাটাই শ্রেয়। আধুনিক কালের শিক্ষার প্রতি সময় থাকিতে মনোযোগ না করায় ভারতবর্ষের মুসলমান হিন্দুর চেয়ে অনেক বিষয়ে পিছাইয়া পড়িয়াছে। সেখানে তাহাকে সমান হইয়া লইতে হইবে। এই বৈষম্যটি দূর করিবার জন্য মুসলমান সকল বিষয়েই হিন্দুর চেয়ে বেশি দাবি করিতে আরম্ভ করিয়াছে। তাহাদের এই দাবিতে আমাদের আন্তরিক সম্মতি থাকাই উচিত। পদ-মান-শিক্ষায় তাহারা হিন্দুর সমান হইয়া উঠে ইহা হিন্দুরই পক্ষে মঙ্গলকর।
** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, [https://www.tagoreweb.in/Essays/porichay-187/hindu-biswabidyalay-1561 হিন্দু-বিশ্ববিদ্যালয়]
== অন্যান্যদের উক্তি ==
* যারা ইসলামের নামে, [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর|রবীন্দ্রনাথের]] উপর আক্রমণ চালাচ্ছেন, তারা আসলে ইসলামের সত্য ও সুন্দরের নীতিতে বিশ্বাসী নন।
** ১৯৬৭ সালের জুন মাসের দৈনিক পাকিস্তানে প্রকাশিত [[আবদুল হামিদ খান ভাসানী|মাওলানা ভাসানীর]] বিবৃতি।[https://bangla.bdnews24.com/arts/24689]
* আমাকে দেখিলেই কবি সাম্প্রদায়িক ব্যাপার লইয়া আলোচনা করিতেন। বলিতেন কেন যে মানুষ একের অপরাধের জন্যে অপরকে মারে ! ও-দেশের মুসলমানেরা হিন্দুদের মারল, তাই এদেশের হিন্দুরা এখানকার নিরীহ মুসলমানদের মেরে প্রতিবাদ জানাবে এই বর্বর মনোবৃত্তির হাত থেকে দেশ কিভাবে উদ্ধার পাবে বলতে পার? কী সামান্য ব্যাপার নিয়ে মারামারি হয় — গরু-কোরবানী নিয়ে, মসজিদের সামনে বাজনা নিয়ে। একটা পশুকে রক্ষা করতে মানুষ মানুষকে হত্যা করেছে।”<br>এই সব আলোচনা করিতে কবি মাঝে মাঝে বড়ই উত্তেজিত হইয়া উঠিতেন। একদিন আমি কবির সঙ্গে দেখা করিতে যাইতেছি, কবির পুত্র রথীন্দ্রনাথ আমাকে একান্তে ডাকিয়া বলিলেন, এখন বাবার শরীর অসুস্থ। আপনাকে দেখলেই তিনি হিন্দু-মুসলমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। মাঝে মাঝে তাতে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অসুস্থ শরীরে এই উত্তেজনা খুবই ক্ষতিকর । আপনি কিছুদিন বাবার সঙ্গে দেখা করবেন না।
** [[জসীম উদ্দীন]]। "ঠাকুর-বাড়ির আঙিনায়", প্রকাশক: গ্রন্থপ্রকাশ, কলকাতা, [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.266107/page/n31/mode/1up?q=%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0 পৃষ্ঠা: ২৮]
* মুসলমানদের প্রতি কবির মনে কিছু ভুল ধারণা ছিল। তিনি সাধারণত হিন্দু পত্রিকাগুলিই পড়িতেন। মুসলমানি পত্রিকার এক-আধ টুকরা মাঝে মাঝে কবির হাতে পড়িত।<br>কবির ভুল ধারণার প্রতিবাদ করিয়া উপযুক্ত কারণ দেখাইলেই কবি তাঁহার ভুল সংশোধন করিয়া লইতেন। কবির মনে একদেশদর্শী হিন্দুত্বের স্থান ছিল না। মুসলমানদের মধ্যে যাঁহারা স্বাধীন মতবাদ লইয়া ধর্ম ও সমাজ-ব্যবস্থার সমালোচনা করিতেন, তাঁহাদের প্রতি কবির মনে প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল। কিন্তু কবির নিকটে যাঁহারা আসিতেন, কবি শুধু তাঁহাদিগকেই জানিতেন। এই বয়সে ইহার বেশি খবরাখবর লওয়া কবির পক্ষে সম্ভবও ছিল না।
** [[জসীম উদ্দীন]]। "ঠাকুর-বাড়ির আঙিনায়", প্রকাশক: গ্রন্থপ্রকাশ, কলকাতা, [https://share.google/QzodDAT07Rk23JRrC পৃষ্ঠা: ২৮]
* কলিকাতায় হঠাৎ হিন্দু-মুসলমানে দাঙ্গা বাধল চৈত্র মাসের দারুণ গরমে (১৩৩২)।...'''কবি জোড়াসাঁকোর বাড়িতে আছেন; স্বচক্ষে দেখছেন ভীতত্রস্ত দীন-দরিদ্র [[মুসলমান|মুসলমানেরা]] প্রাণভয়ে তাঁদের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।''' কবি এই সব দেখে শুনে বিরক্ত হয়ে এক পত্রে লিখেছেন, ‘''এই মোহমুগ্ধ ধর্মবিভীষিকার চেয়ে সোজাসুজি নাস্তিকতা অনেক ভালো।...আজ মিছে ধর্মকে পুড়িয়ে ফেলে ভারত যদি খাঁটি ধর্ম, খাঁটি নাস্তিকতা পায়, তবে ভারত সত্যই নবজীবন লাভ করবে।''’
** [[প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়]]। "রবীন্দ্রজীবনকথা", প্রকাশক: বিশ্বভারতী, প্রকাশকাল: ভাদ্র ১৩৬৬, পৃষ্ঠা: [https://archive.org/details/20210604_20210604_1445/page/%E0%A7%A7%E0%A7%AD%E0%A7%AE/mode/1up?q=%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE ১৭৮]
[[বিষয়শ্রেণী:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলাম]]
epo7fyfhyojdwmfwncju0mqz982ek8i
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
0
14177
84100
2026-08-06T16:25:39Z
ফারদিন
52
[[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]-এ পুনর্নির্দেশ করা হল
84100
wikitext
text/x-wiki
#Redirect [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]
{{একটি পুনর্নির্দেশ}}
qdcnfzqma611023v3389bofvw9i1k64