উইকিসংকলন bnwikisource https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.11 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিসংকলন উইকিসংকলন আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা লেখক লেখক আলাপ নির্ঘণ্ট নির্ঘণ্ট আলাপ পাতা পাতা আলাপ প্রবেশদ্বার প্রবেশদ্বার আলাপ প্রকাশক প্রকাশক আলোচনা রচনা রচনা আলাপ অনুবাদ অনুবাদ আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD 10 9620 1990174 1989740 2026-07-17T07:02:41Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1990174 wikitext text/x-wiki 448285 9y4howbdlt5rdrvzr3k1ov3twsvbcdl টেমপ্লেট:ALL PAGES 10 9621 1990175 1990109 2026-07-17T07:02:51Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1990175 wikitext text/x-wiki 561465 9aol8uh9mr941zl9mpr0s7opte55r3x টেমপ্লেট:PR TEXTS 10 9622 1990176 1990110 2026-07-17T07:03:01Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1990176 wikitext text/x-wiki 19643 ja0pm0zkumkrvvm2k1kksy1lryhz2i5 টেমপ্লেট:ALL TEXTS 10 9623 1990177 1990111 2026-07-17T07:03:11Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1990177 wikitext text/x-wiki 19643 ja0pm0zkumkrvvm2k1kksy1lryhz2i5 নির্ঘণ্ট:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf 102 734876 1990122 1980318 2026-07-16T13:44:29Z Bodhisattwa 2549 1990122 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q120002291 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=5 |Progress=C |Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to6="—" 5="প্রচ্ছদ" 6="প্রকাশক" 7to10="সূচীপত্র" 9="নিবেদন" 10="—" 11="7" 14to15="—" 16="চিত্র" 17="11" 98to102="—" /> |Volumes= |Remarks={{Scrollpane|height=500px| {{পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৭}} {{পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৮}} }} |Notes= |Header={{কেন্দ্র|{{{pagenum}}}}} |Footer= }} 357txeny7dhnkaz1ysmk5ejql2332w3 1990123 1990122 2026-07-16T13:45:48Z Bodhisattwa 2549 1990123 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q120002291 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=5 |Progress=C |Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to6="—" 5="প্রচ্ছদ" 6="প্রকাশক" 7to10="সূচীপত্র" 9="নিবেদন" 10="—" 11="7" 14to15="—" 16="চিত্র" 17="11" 98to102="—" /> |Volumes= |Remarks={{Scrollpane|height=500px| {{পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৭}} {{পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৮}} }} |Notes= |Header= |Footer={{কেন্দ্র|{{{pagenum}}}}} }} 35k3pk7dd0rlwo2t5j6i9sl9r04us9v পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/২৭ 104 754012 1990185 1989727 2026-07-17T11:51:44Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990185 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>খাইয়া মরিতে লাগিল। ফাঁপানো-মুদ্রানীতির জন্য ভারত-সরকার তথা ব্রিটিশ শাসনযন্ত্র দায়ী। এই বিষয়ে খুলিয়া বলিলে সাহস ও সত্যভাষণের জন্য সরবরাহ-সচিবকে প্রশংসা করা যাইত। {{ফাঁক}}পার্লামেণ্টের বির্তক-সভায় মিঃ পেথিক লরেন্স কয়েকটি খাঁটি কথা বলিয়াছিলেন। ‘বাঁচিয়া থাকিবার জন্য যে খাদ্যশস্যের প্রয়োজন, তাহা কিনিবার ক্ষমতা অসংখ্য লোকের নাই। মুদ্রাস্ফীতিই এই অত্যধিক মূল্য-বৃদ্ধির কারণ। ইহার জন্য আর কেহ নয়—একমাত্র ভারত-গভর্ণমেণ্টই দায়ী।’ মিঃ অ্যামেরিও আমতা-আমতা করিয়া ইহাতে একরকম সায় দিলেন। তিনি বলিলেন, ‘সমস্যাটি হইতেছে অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যশস্যের অপ্রতুলতা। জনসাধারণের হাতে কিনিবার মতো টাকা ছিল না, ইহা ঠিক। তাহা হইলে অবস্থাটা আজিকার মতো এমন শোচনীয় হইয়া উঠিতে পারিত না।’ {{ফাঁক}}একটা কথা মনে রাখিতে হইবে। টাকা থাকিলেই হয় না। অনেকে দিন আনিত, দিন খাইত; জিনিসের ক্রমবর্ধমান দামের সহিত তাহাদের সঙ্গতি তাল রাখিতে পারিল না। নিঃস্ব নিরন্ন হইয়া এমন অবস্থার লোক প্রভূত পরিমাণে মরিয়াছে। অথচ মুদ্রাস্ফীতি রোধ করিবার উল্লেখযোগ্য চেষ্টা কিছুই হয় নাই; অবস্থা আয়ত্তের বাহিরে গেলে তবে কর্তাদের কিছু টনক নড়িয়াছে। {{ফাঁক}}সরবরাহ-সচিবের হিসাবে অপচয়ের কথাটাও নাই। কৃষক, মধ্যবিত্ত-ক্রেতা, দোকানদার প্রভৃতির বিরুদ্ধে এ যাবত খুব আস্ফালন চলিয়াছে; মিঃ অ্যামেরির দল বলিয়াছেন, মাল মজুত করিয়া রাখিয়া ইহারাই দুর্ভিক্ষ ঘটাইয়াছে। আসল গলদ যেখানে, সেদিক হইতে এই প্রকারে সকলের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করিয়া রাখা হইয়াছে। বাজারের সব চেয়ে বড় ক্রেতা সরকার; সব চেয়ে বড় মজুতদারও সরকার এবং সরকারের সাহায্যকারী কলকারখানার মালিক ও ধনিক-সম্প্রদায়। মজুত খাদ্যের মধ্যে কত যে অপচয় হইয়াছে, তাহার হিসাব কে দিবে? ব্রহ্ম-সীমান্তে যুদ্ধভাণ্ডারে অপরিমেয় আহার্য নষ্ট হইয়াছে। ভারত-সরকারের সঞ্চিত ময়দা ছোলা ছাতু প্রভৃতির কি পরিমাণ অপচয় হইয়াছে, তাহার সঠিক হিসাব পাইলে বর্তমান দুর্ভিক্ষের অনেক রহস্য উদ্ঘাটিত হইবে। কলিকাতায় এ. আর. পি-র আনুকূল্যে শত্রু-বিড়ম্বিতদের জন্য যে<noinclude>{{c|২১}}</noinclude> cxcdwjcsy0k31f3oeokw4wa2zixzela পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/২৮ 104 754014 1990112 1990106 2026-07-16T13:06:53Z Bodhisattwa 2549 1990112 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>সামান্য পরিমাণ জিনিস মজুত করা হইয়াছিল—তাহাতেও প্রচুর অপচয় ঘটিয়াছিল, এ তথ্য সকলের জানা আছে। {{ফাঁক}}দুর্ভিক্ষ একদিনে আসে নাই। সরবরাহ-সচিবের উল্লিখিত বারো দফার কারণ হইতেই বুঝিতে পারা যায়, করাল মন্বন্তর ধীরে ধীরে বাঙলাকে গ্রাস করিয়াছে। ইহার প্রতিকার-চেষ্টায় কেন্দ্রীয় সরকার শোচনীয় ঔদাসীন্য দেখাইয়াছেন। দেশ-বিদেশের সৈন্য দলে দলে আসিয়া বাঙলাদেশ ভরিয়া ফেলিল, সহস্র সহস্র শত্রুকে বন্দী করিয়া আনা হইল—তাঁহাদের অনেকের বোঝা বাঙলার কাঁধে চাপিল, ব্রহ্ম হইতে অসংখ্য আশ্রয়ার্থী আসিয়া জুটিল, কলকারখানায় ভিন্ন প্রদেশ হইতে সংখ্যাতীত মজুর আসিল। কেন্দ্রীয় সরকার তখনও মনে করিতেছেন বাঙলাদেশ অবাধে সকলের অন্ন যোগাইয়া যাইবে, কোন প্রকার অতিরিক্ত ব্যবস্থার প্রয়োজন নাই। {{ফাঁক}}সৈন্যদের খাদ্য সাধারণ বরাদ্দ হইতে অনেক বেশি। শুধু চাউল নয়—ফলমূল তরি-তরকারি মাছ-ডিম-মাংস প্রভৃতিও তাহদের জন্য প্রচুর পরিমাণে ক্রীত হয়। ঐ সব জিনিস দুর্মূল্য ও দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় চাউলের উপর টান বাড়িয়া গেল। ইহার উপর সরকার আবার সৈন্যদলের জন্য দশ লক্ষ টন খাদ্যশস্য সর্বদাই মজুত রাখিতে লাগিলেন। বড় বড় কারখানার মালকরা যুদ্ধের ব্যাপারে প্রচুর লাভবান হইয়া মজুর ও কর্মচারীদের জন্য ভবিষ্যতের খাদ্য-সঞ্চয় করিতে লাগিলেন। সরকার পরোক্ষে ইহাদের সহায়তা করিলেন। জনসাধারণের কথা কেহ ভাবিল না। {{ফাঁক}}শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় কয়েকটি জেলা হইতে ধান সরানো হইল। ধান সরাইলেই তো স্থানীয় লোকের পেটের ক্ষুধা ঐ সঙ্গে লোপ পায় না! খাদ্যবস্তুর সন্ধানে তাহারা ঘোরাঘুরি করিতে লাগিল। চাউলের দর হঠাৎ খুব বাড়িয়া গেল। ইহার উপর নৌকা ডুবাইয়া দিয়া নৌকার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করিয়া জনসাধারণকে আরও ভীতিগ্রস্ত করা হইল। এরূপ ক্ষেত্রে লোকের মনে ভরসা জাগাইয়া রাখিবারই চেষ্টা করা উচিত। সরকার তাড়াহুড়া করিয়া এমন সব কাণ্ড করিতে লাগিলেন যে সাধারণে সরকারের উপর ক্রমশঃ আস্থা হারাইয়া ফেলিল। মন্বন্তর দেশব্যাপ্ত হইয়া পড়িল। {{nop}}<noinclude>{{c|২২}}</noinclude> me7o92ef8pruf3dxryd0wyt0t1fvkd8 1990113 1990112 2026-07-16T13:07:11Z Bodhisattwa 2549 /* বৈধকরণ */ 1990113 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>সামান্য পরিমাণ জিনিস মজুত করা হইয়াছিল—তাহাতেও প্রচুর অপচয় ঘটিয়াছিল, এ তথ্য সকলের জানা আছে। {{ফাঁক}}দুর্ভিক্ষ একদিনে আসে নাই। সরবরাহ-সচিবের উল্লিখিত বারো দফার কারণ হইতেই বুঝিতে পারা যায়, করাল মন্বন্তর ধীরে ধীরে বাঙলাকে গ্রাস করিয়াছে। ইহার প্রতিকার-চেষ্টায় কেন্দ্রীয় সরকার শোচনীয় ঔদাসীন্য দেখাইয়াছেন। দেশ-বিদেশের সৈন্য দলে দলে আসিয়া বাঙলাদেশ ভরিয়া ফেলিল, সহস্র সহস্র শত্রুকে বন্দী করিয়া আনা হইল—তাঁহাদের অনেকের বোঝা বাঙলার কাঁধে চাপিল, ব্রহ্ম হইতে অসংখ্য আশ্রয়ার্থী আসিয়া জুটিল, কলকারখানায় ভিন্ন প্রদেশ হইতে সংখ্যাতীত মজুর আসিল। কেন্দ্রীয় সরকার তখনও মনে করিতেছেন বাঙলাদেশ অবাধে সকলের অন্ন যোগাইয়া যাইবে, কোন প্রকার অতিরিক্ত ব্যবস্থার প্রয়োজন নাই। {{ফাঁক}}সৈন্যদের খাদ্য সাধারণ বরাদ্দ হইতে অনেক বেশি। শুধু চাউল নয়—ফলমূল তরি-তরকারি মাছ-ডিম-মাংস প্রভৃতিও তাহদের জন্য প্রচুর পরিমাণে ক্রীত হয়। ঐ সব জিনিস দুর্মূল্য ও দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় চাউলের উপর টান বাড়িয়া গেল। ইহার উপর সরকার আবার সৈন্যদলের জন্য দশ লক্ষ টন খাদ্যশস্য সর্বদাই মজুত রাখিতে লাগিলেন। বড় বড় কারখানার মালকরা যুদ্ধের ব্যাপারে প্রচুর লাভবান হইয়া মজুর ও কর্মচারীদের জন্য ভবিষ্যতের খাদ্য-সঞ্চয় করিতে লাগিলেন। সরকার পরোক্ষে ইহাদের সহায়তা করিলেন। জনসাধারণের কথা কেহ ভাবিল না। {{ফাঁক}}শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় কয়েকটি জেলা হইতে ধান সরানো হইল। ধান সরাইলেই তো স্থানীয় লোকের পেটের ক্ষুধা ঐ সঙ্গে লোপ পায় না! খাদ্যবস্তুর সন্ধানে তাহারা ঘোরাঘুরি করিতে লাগিল। চাউলের দর হঠাৎ খুব বাড়িয়া গেল। ইহার উপর নৌকা ডুবাইয়া দিয়া নৌকার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করিয়া জনসাধারণকে আরও ভীতিগ্রস্ত করা হইল। এরূপ ক্ষেত্রে লোকের মনে ভরসা জাগাইয়া রাখিবারই চেষ্টা করা উচিত। সরকার তাড়াহুড়া করিয়া এমন সব কাণ্ড করিতে লাগিলেন যে সাধারণে সরকারের উপর ক্রমশঃ আস্থা হারাইয়া ফেলিল। মন্বন্তর দেশব্যাপ্ত হইয়া পড়িল। {{nop}}<noinclude>{{c|২২}}</noinclude> 3e2yh5zkvb5m51jbplx6vxvyopnkdwt পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/২৯ 104 754016 1990114 1990108 2026-07-16T13:12:10Z Bodhisattwa 2549 1990114 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /> {{reflist}}</noinclude>{{ফাঁক}}ছিয়াত্তুরে মন্বন্তরের ছবি বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠে প্রোজ্জ্ববল হইয়া রহিয়াছে। এই বর্ণনায় সাহিত্যিক-সুলভ অতিশয়োক্তি কিছুমাত্র নাই। ১৭৭৮ খৃস্টাব্দে একটি দুর্ভিক্ষ-কমিশন বসে। কমিশন যে রিপোর্ট দিয়াছিলেন, আনন্দমঠের বর্ণনা তাহার কোন কোন অংশের হুবহু বাঙলা অনুবাদ। আনন্দমঠের চিত্রের সঙ্গে আজিকার দুরবস্থা মিলাইয়া দেখিলে বোঝা যাইবে, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়াছে। {{ফাঁক}}ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের পরেও দুর্ভিক্ষ অনেকবার হইয়াছে<ref>যথা:--১৭৮৩, ১৮৬৬, ১৮৭৩-৭৪, ১৮৭৫-৭৬, ১৮৮৪-৮৫, ১৮৯১-৯২, ১৮৯৭, ১৯০০ ইত্যাদি।</ref>। ইহার মধ্যে ১৮৭৩-৭৪ অব্দের দুর্ভিক্ষ দুই কোটি লোকের অন্নকষ্ট হইয়াছিল। কিন্তু দ্রুততার সহিত যথাযোগ্য ব্যবস্থা অবলম্বিত হয়; তাই সেবার লোকক্ষয় সামান্যই হইয়াছিল। দুর্ভিক্ষ-দমনে এই একবার মাত্র সরকার কৃতিত্ব দেখাইয়াছিলেন। কিন্তু ৭৩-৭৪ অব্দের ব্যবস্থা এবারে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হইয়াছে। বরঞ্চ ১৭৭০, ১৭৮৩ ও ১৮৬৬ অব্দে যে অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থার ফলে অবস্থা ভয়াবহ হইয়াছিল, পঞ্চাশের মন্বন্তরে অবিকল তাহাই দেখা যাইতেছে। আজিকার মতো তখন অবশ্য বৈদেশিক আক্রমণের আতঙ্ক ছিল না, কিন্তু এই একটি বিষয় ছাড়া সকল পারিপার্শ্বিকতা আশ্চর্যরূপ মিলিয়া যায়। {{ফাঁক}}১৭৭০ খৃস্টাব্দে দুর্ভিক্ষের সূচনা হইলে, কর্তৃপক্ষ অমনি সৈন্যমণ্ডলীর ছয়মাসের খোরাকি কিনিয়া গুদামজাত করিবার মতলব করিলেন।’ অক্টোবর মাস হইতে দেশে হাহাকার উঠিল; নভেম্বর মাসে ‘যাহার দুই এক কাহন হইয়াছিল, রাজপুরুষেরা তাহা সিপাহীর জন্য কিনিয়া {{SIC|রখিলেন|রাখিলেন}}।’ এই নভেম্বর মাসেই ‘কালেক্টর-জেনারেল আশঙ্কা করিলেন, দেশ। জনশূন্য হইয়া যাইবে।’ {{ফাঁক}}১৯৪৩ অব্দের অবস্থা অনুরূপ নয় কি? সরকারি ভাষাই উদ্ধৃত করিতেছি—‘দেশরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনে সৈন্য-বিভাগের তরফ হইতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য-ক্রয় হইল। তাহা ছাড়া ‘জরুরী অবস্থার প্রতিষেধ হিসাবেও খাদ্য-ক্রয় করিতে হইয়াছে।'’ {{ফাঁক}}তখনকার দিনে এই চাউল-মজতের ব্যাপারে এলাহাবাদ ও<noinclude>{{reflist}} {{c|২৩}}</noinclude> s0rr35t9iwc6kbtu6sgb4izx6ukpk6z 1990115 1990114 2026-07-16T13:12:31Z Bodhisattwa 2549 /* বৈধকরণ */ 1990115 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /> {{reflist}}</noinclude>{{ফাঁক}}ছিয়াত্তুরে মন্বন্তরের ছবি বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠে প্রোজ্জ্ববল হইয়া রহিয়াছে। এই বর্ণনায় সাহিত্যিক-সুলভ অতিশয়োক্তি কিছুমাত্র নাই। ১৭৭৮ খৃস্টাব্দে একটি দুর্ভিক্ষ-কমিশন বসে। কমিশন যে রিপোর্ট দিয়াছিলেন, আনন্দমঠের বর্ণনা তাহার কোন কোন অংশের হুবহু বাঙলা অনুবাদ। আনন্দমঠের চিত্রের সঙ্গে আজিকার দুরবস্থা মিলাইয়া দেখিলে বোঝা যাইবে, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়াছে। {{ফাঁক}}ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের পরেও দুর্ভিক্ষ অনেকবার হইয়াছে<ref>যথা:—১৭৮৩, ১৮৬৬, ১৮৭৩-৭৪, ১৮৭৫-৭৬, ১৮৮৪-৮৫, ১৮৯১-৯২, ১৮৯৭, ১৯০০ ইত্যাদি।</ref>। ইহার মধ্যে ১৮৭৩-৭৪ অব্দের দুর্ভিক্ষ দুই কোটি লোকের অন্নকষ্ট হইয়াছিল। কিন্তু দ্রুততার সহিত যথাযোগ্য ব্যবস্থা অবলম্বিত হয়; তাই সেবার লোকক্ষয় সামান্যই হইয়াছিল। দুর্ভিক্ষ-দমনে এই একবার মাত্র সরকার কৃতিত্ব দেখাইয়াছিলেন। কিন্তু ৭৩-৭৪ অব্দের ব্যবস্থা এবারে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হইয়াছে। বরঞ্চ ১৭৭০, ১৭৮৩ ও ১৮৬৬ অব্দে যে অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থার ফলে অবস্থা ভয়াবহ হইয়াছিল, পঞ্চাশের মন্বন্তরে অবিকল তাহাই দেখা যাইতেছে। আজিকার মতো তখন অবশ্য বৈদেশিক আক্রমণের আতঙ্ক ছিল না, কিন্তু এই একটি বিষয় ছাড়া সকল পারিপার্শ্বিকতা আশ্চর্যরূপ মিলিয়া যায়। {{ফাঁক}}১৭৭০ খৃস্টাব্দে দুর্ভিক্ষের সূচনা হইলে, কর্তৃপক্ষ অমনি সৈন্যমণ্ডলীর ছয়মাসের খোরাকি কিনিয়া গুদামজাত করিবার মতলব করিলেন।’ অক্টোবর মাস হইতে দেশে হাহাকার উঠিল; নভেম্বর মাসে ‘যাহার দুই এক কাহন হইয়াছিল, রাজপুরুষেরা তাহা সিপাহীর জন্য কিনিয়া {{SIC|রখিলেন|রাখিলেন}}।’ এই নভেম্বর মাসেই ‘কালেক্টর-জেনারেল আশঙ্কা করিলেন, দেশ। জনশূন্য হইয়া যাইবে।’ {{ফাঁক}}১৯৪৩ অব্দের অবস্থা অনুরূপ নয় কি? সরকারি ভাষাই উদ্ধৃত করিতেছি—‘দেশরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনে সৈন্য-বিভাগের তরফ হইতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য-ক্রয় হইল। তাহা ছাড়া ‘জরুরী অবস্থার প্রতিষেধ হিসাবেও খাদ্য-ক্রয় করিতে হইয়াছে।’ {{ফাঁক}}তখনকার দিনে এই চাউল-মজতের ব্যাপারে এলাহাবাদ ও<noinclude>{{reflist}} {{c|২৩}}</noinclude> rurcjwhudv1c7rxcgoecj8zawcufaat 1990184 1990115 2026-07-17T10:52:42Z Salil Kumar Mukherjee 12643 বানান সংশোধন 1990184 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /> {{reflist}}</noinclude>{{ফাঁক}}ছিয়াত্তুরে মন্বন্তরের ছবি বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠে প্রোজ্জ্বল হইয়া রহিয়াছে। এই বর্ণনায় সাহিত্যিক-সুলভ অতিশয়োক্তি কিছুমাত্র নাই। ১৭৭৮ খৃস্টাব্দে একটি দুর্ভিক্ষ-কমিশন বসে। কমিশন যে রিপোর্ট দিয়াছিলেন, আনন্দমঠের বর্ণনা তাহার কোন কোন অংশের হুবহু বাঙলা অনুবাদ। আনন্দমঠের চিত্রের সঙ্গে আজিকার দুরবস্থা মিলাইয়া দেখিলে বোঝা যাইবে, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়াছে। {{ফাঁক}}ছিয়াত্তুরে মন্বন্তরের পরেও দুর্ভিক্ষ অনেকবার হইয়াছে<ref>যথা:—১৭৮৩, ১৮৬৬, ১৮৭৩-৭৪, ১৮৭৫-৭৬, ১৮৮৪-৮৫, ১৮৯১-৯২, ১৮৯৭, ১৯০০ ইত্যাদি।</ref>। ইহার মধ্যে ১৮৭৩-৭৪ অব্দের দুর্ভিক্ষ দুই কোটি লোকের অন্নকষ্ট হইয়াছিল। কিন্তু দ্রুততার সহিত যথাযোগ্য ব্যবস্থা অবলম্বিত হয়; তাই সেবার লোকক্ষয় সামান্যই হইয়াছিল। দুর্ভিক্ষ-দমনে এই একবার মাত্র সরকার কৃতিত্ব দেখাইয়াছিলেন। কিন্তু ৭৩-৭৪ অব্দের ব্যবস্থা এবারে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হইয়াছে। বরঞ্চ ১৭৭০, ১৭৮৩ ও ১৮৬৬ অব্দে যে অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থার ফলে অবস্থা ভয়াবহ হইয়াছিল, পঞ্চাশের মন্বন্তরে অবিকল তাহাই দেখা যাইতেছে। আজিকার মতো তখন অবশ্য বৈদেশিক আক্রমণের আতঙ্ক ছিল না, কিন্তু এই একটি বিষয় ছাড়া সকল পারিপার্শ্বিকতা আশ্চর্যরূপ মিলিয়া যায়। {{ফাঁক}}১৭৭০ খৃস্টাব্দে দুর্ভিক্ষের সূচনা হইলে, কর্তৃপক্ষ অমনি সৈন্যমণ্ডলীর ছয়মাসের খোরাকি কিনিয়া গুদামজাত করিবার মতলব করিলেন।’ অক্টোবর মাস হইতে দেশে হাহাকার উঠিল; নভেম্বর মাসে ‘যাহার দুই এক কাহন হইয়াছিল, রাজপুরুষেরা তাহা সিপাহীর জন্য কিনিয়া {{SIC|রখিলেন|রাখিলেন}}।’ এই নভেম্বর মাসেই ‘কালেক্টর-জেনারেল আশঙ্কা করিলেন, দেশ। জনশূন্য হইয়া যাইবে।’ {{ফাঁক}}১৯৪৩ অব্দের অবস্থা অনুরূপ নয় কি? সরকারি ভাষাই উদ্ধৃত করিতেছি—‘দেশরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনে সৈন্য-বিভাগের তরফ হইতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য-ক্রয় হইল। তাহা ছাড়া ‘জরুরী অবস্থার প্রতিষেধ হিসাবেও খাদ্য-ক্রয় করিতে হইয়াছে।’ {{ফাঁক}}তখনকার দিনে এই চাউল-মজতের ব্যাপারে এলাহাবাদ ও<noinclude>{{reflist}} {{c|২৩}}</noinclude> aafgj4bymp4irk0vw1v3dt3k4o0q8gm পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৩০ 104 754018 1990117 919959 2026-07-16T13:28:15Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990117 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>ফৈজাবাদের বৃটিশ অফিসারের নিকট কোম্পানি চাউল কিনিতে পারেন নাই। এবারেও দেখা গিয়াছে, অন্য প্রদেশ হইতে—বিশেষতঃ লাটশাসিত প্রদেশগুলি হইতে—চাউল কিনিতে গিয়া বাঙলা-সরকার সুবিধা করিয়া উঠিতে পারেন নাই। {{ফাঁক}}ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের আমলে সন্দেহ করা হইয়াছে, 'ব্যক্তিগত লাভের কারবার খুব চলিয়াছিল।’ কোম্পানির কর্মচারীরা এমন অবস্থা করিয়া তুলিল যে বাজারে চাউল পাইবার উপায় রহিল না। দেশে হাহাকার উঠিল; প্রতিবাদ উঠিতে লাগিল। এমন কি কোম্পানির ডিরেক্টররাও কর্মচারীদের অপকর্ম ও অর্থগৃধ্নতার অজস্র নিন্দা করিয়াছিলেন। কিন্তু তাহাতে ফল হয় নাই। {{ফাঁক}}১৯৪৩ অব্দেও ঐরূপ ঘটিয়াছে। চারিদিকে প্রচুর কলরব উঠিলে মাত্র ১৫ই সেপ্টেম্বর সরবরাহ-সচিব স্বীকার করিলেন, অন্য প্রদেশের চাউল বাঙলায় বেচিয়া গবর্ণমেণ্টের লাভ হইয়াছে বটে, তবে সেটা গোড়ার দিকটায়। ইত্যাদি, ইত্যাদি। {{ফাঁক}}তখনকার দিনেও অধিক পরিমাণে মাল কেনা ও মজুত করার বিরুদ্ধে হুকুম জারি হইয়াছিল। অন্নাভাবে মানুষ মরিতেছে, তবু, অবাধ-রপ্তানি চলিতেছিল। জর্জ টমসনের মতে, 'দুর্ভিক্ষের সময়ে রপ্তানিটা যদি বন্ধ থাকিত, তাহা হইলে চাউলে কুলাইয়া যাইত অনাহারে মানুষ মরিত না।’ এই রপ্তানি কবে শুরু হইয়াছিল জানা যায় নাই; ১৪ই নভেম্বর (১৭৭o) অনেক চেষ্টার পর রপ্তানি বন্ধ করা হয়, ইতিহাসে এই বিবরণ রহিয়াছে। {{ফাঁক}}এবারেও রপ্তানির বিরুদ্ধে অনেক চেচামেচি হইয়াছিল; কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেন নাই। অনেক বিলম্বে ২৩শে জুলাই তারিখ হইতে রপ্তানি কতক পরিমাণে বন্ধ হইল, একেবারে বন্ধ হয় নাই। এখনও কয়েকটি ব্যাপারে বিদেশে চাউল রপ্তানি হইতে পরিবে, তবে সরকারি হিসাবে উহা মাসিক এক হাজার টনের অধিক হইবে না। সরবরাহ-সচিব পঞ্চাশের মন্বন্তরের যে-সব কারণ দিয়াছেন, তাহার মধ্যে এই রপ্তানি-প্রসঙ্গেরও উল্লেখ নাই। {{ফাঁক}}বাঙলাদেশ ১৭৭০ অব্দের ধাক্কা সহজে সামলাইতে পারে নাই; অভাব লাগিয়াই ছিল। ১৭৮৩ অব্দে আবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল।<noinclude>{{rh||২৪|}}</noinclude> dn9jx2ogu107xlb6n1r62ky3txpppv3 1990125 1990117 2026-07-16T13:50:09Z Bodhisattwa 2549 /* বৈধকরণ */ 1990125 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>ফৈজাবাদের বৃটিশ অফিসারের নিকট কোম্পানি চাউল কিনিতে পারেন নাই। এবারেও দেখা গিয়াছে, অন্য প্রদেশ হইতে—বিশেষতঃ লাটশাসিত প্রদেশগুলি হইতে—চাউল কিনিতে গিয়া বাঙলা-সরকার সুবিধা করিয়া উঠিতে পারেন নাই। {{ফাঁক}}ছিয়াত্তুরে মন্বন্তরের আমলে সন্দেহ করা হইয়াছে, ‘ব্যক্তিগত লাভের কারবার খুব চলিয়াছিল।’ কোম্পানির কর্মচারীরা এমন অবস্থা করিয়া তুলিল যে বাজারে চাউল পাইবার উপায় রহিল না। দেশে হাহাকার উঠিল; প্রতিবাদ উঠিতে লাগিল। এমন কি কোম্পানির ডিরেক্টররাও কর্মচারীদের অপকর্ম ও অর্থগৃধ্নুতার অজস্র নিন্দা করিয়াছিলেন। কিন্তু তাহাতে ফল হয় নাই। {{ফাঁক}}১৯৪৩ অব্দেও ঐরূপ ঘটিয়াছে। চারিদিকে প্রচুর কলরব উঠিলে মাত্র ১৫ই সেপ্টেম্বর সরবরাহ-সচিব স্বীকার করিলেন, অন্য প্রদেশের চাউল বাঙলায় বেচিয়া গবর্ণমেণ্টের লাভ হইয়াছে বটে, তবে সেটা গোড়ার দিকটায়। ইত্যাদি, ইত্যাদি। {{ফাঁক}}তখনকার দিনেও অধিক পরিমাণে মাল কেনা ও মজুত করার বিরুদ্ধে হুকুম জারি হইয়াছিল। অন্নাভাবে মানুষ মরিতেছে, তবু, অবাধ-রপ্তানি চলিতেছিল। জর্জ টমসনের মতে, ‘দুর্ভিক্ষের সময়ে রপ্তানিটা যদি বন্ধ থাকিত, তাহা হইলে চাউলে কুলাইয়া যাইত অনাহারে মানুষ মরিত না।’ এই রপ্তানি কবে শুরু হইয়াছিল জানা যায় নাই; ১৪ই নভেম্বর (১৭৭০) অনেক চেষ্টার পর রপ্তানি বন্ধ করা হয়, ইতিহাসে এই বিবরণ রহিয়াছে। {{ফাঁক}}এবারেও রপ্তানির বিরুদ্ধে অনেক চেঁচামেচি হইয়াছিল; কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেন নাই। অনেক বিলম্বে ২৩শে জুলাই তারিখ হইতে রপ্তানি কতক পরিমাণে বন্ধ হইল, একেবারে বন্ধ হয় নাই। এখনও কয়েকটি ব্যাপারে বিদেশে চাউল রপ্তানি হইতে পরিবে, তবে সরকারি হিসাবে উহা মাসিক এক হাজার টনের অধিক হইবে না। সরবরাহ-সচিব পঞ্চাশের মন্বন্তরের যে-সব কারণ দিয়াছেন, তাহার মধ্যে এই রপ্তানি-প্রসঙ্গেরও উল্লেখ নাই। {{ফাঁক}}বাঙলাদেশ ১৭৭০ অব্দের ধাক্কা সহজে সামলাইতে পারে নাই; অভাব লাগিয়াই ছিল। ১৭৮৩ অব্দে আবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল।<noinclude>{{c|২৪}}</noinclude> lmnhgd6e6wyjsgfh1a8x4o793se04ch উইকিসংকলন:বার্ষিকী/জুলাই ১৭ 4 831856 1990116 1944638 2026-07-16T13:23:00Z Bodhisattwa 2549 1990116 wikitext text/x-wiki [[File:Manomohan Bose.jpg|100px|right|class=pageimage|মনোমোহন বসু]] {{Talikak list|sparql= SELECT DISTINCT ?item ?itemLabel ?pLabel (year(?tv) as ?year) { ?sitelink schema:about ?item ; schema:isPartOf <https://bn.wikisource.org/>. { ?item p:P569 ?date . ?date a wikibase:BestRank ; psv:P569 [ wikibase:timeValue ?tv ; wikibase:timePrecision "11"^^xsd:integer ] . bind(wd:P569 as ?p)} UNION { ?item p:P570 ?date . ?date a wikibase:BestRank ; psv:P570 [ wikibase:timeValue ?tv ; wikibase:timePrecision "11"^^xsd:integer ] . bind(wd:P570 as ?p)} filter(month(?tv) = 7 && day(?tv) = 17) SERVICE wikibase:label { bd:serviceParam wikibase:language "bn". } } ORDER BY ?tv LIMIT 10 |columns=label,?itemLabel,?pLabel,?year |row_template=বার্ষিকী সারি |skip_table=1 |freq=365 }} {{বার্ষিকী সারি|label = [[লেখক:মনোমোহন বসু|মনোমোহন বসু]]|itemLabel = মনোমোহন বসু|pLabel = জন্ম তারিখ|year = 1831}} {{বার্ষিকী সারি|label = [[লেখক:শার্ল মারি রেনে লেকঁৎ দে লিল|শার্ল মারি রেনে লেকঁৎ দে লিল]]|itemLabel = শার্ল মারি রেনে লেকঁৎ দে লিল|pLabel = মৃত্যু তারিখ|year = 1894}} {{বার্ষিকী সারি|label = [[লেখক:নিকোলাই আলেক্সান্দ্রোভিচ রোমানভ|নিকোলাই আলেক্সান্দ্রোভিচ রোমানভ]]|itemLabel = নিকোলাই আলেক্সান্দ্রোভিচ রোমানভ|pLabel = মৃত্যু তারিখ|year = 1918}} {{বার্ষিকী সারি|label = [[লেখক:নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্ত (১৮৬৭-১৯৩৫)|নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্ত]]|itemLabel = নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্ত|pLabel = মৃত্যু তারিখ|year = 1935}} {{Talikak list end}} {{বার্ষিকী পাদটীকা|জুলাই ১৭}} 0tw66xj2m1e7h47v2xo1q2en91l65c9 নির্ঘণ্ট:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf 102 881669 1990163 1989623 2026-07-16T19:08:44Z ROCKY 2687 1990163 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q140302931 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=7 |Progress=V |Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to12="—" 7="প্রচ্ছদ" 8="প্রকাশক" 9="ভূমিকা" 11to12="প্রমাণ-পঞ্জী" 13="1" 119to124="—" /> |Volumes= |Remarks={{AuxTOC| {{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|1|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌ম্ কী?|কমিউনিজ্‌ম্ কী?]]| page={{pli|4|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের ইতিহাস|কমিউনিজ্‌মের ইতিহাস]]| page={{pli|9|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিস্ট্ এশতেহার|কমিউনিস্ট্ এশতেহার]]| page={{pli|11|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/রাশিয়ায় কমিউনিজ্‌ম্|রাশিয়ায় কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|16|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/সোভিয়েট রাশিয়ার পরিচয়|সোভিয়েট রাশিয়ার পরিচয়]]| page={{pli|20|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/সোভিয়েট রাশিয়ার বৈশিষ্ট্য|সোভিয়েট রাশিয়ার বৈশিষ্ট্য]]| page={{pli|27|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের স্বাভাবিকতা|কমিউনিজ্‌মের স্বাভাবিকতা]]| page={{pli|33|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের দার্শনিকতা|কমিউনিজ্‌মের দার্শনিকতা]]| page={{pli|45|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলামের আলোকে কমিউনিজ্‌ম্|ইসলামের আলোকে কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|51|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলামের সহিত কমিউনিজ্‌মের পার্থক্য|ইসলামের সহিত কমিউনিজ্‌মের পার্থক্য]]| page={{pli|74|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌ম্ না ইসলামিজ্‌ম্?|কমিউনিজ্‌ম্ না ইসলামিজ্‌ম্?]]| page={{pli|89|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ|কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ]]| page={{pli|96|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/উপসংহার|উপসংহার]]| page={{pli|99|12}}}} }} |Notes= |Header= |Footer= }} a7b6tzifdheshqibg6v1uiuke6xzojo 1990171 1990163 2026-07-17T03:48:22Z Bodhisattwa 2549 1990171 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q140302931 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=7 |Progress=V |Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to12="—" 7="প্রচ্ছদ" 8="প্রকাশক" 9="ভূমিকা" 11to12="প্রমাণ-পঞ্জী" 13="1" 119to124="—" /> |Volumes= |Remarks={{AuxTOC| {{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|1|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌ম্ কী?|কমিউনিজ্‌ম্ কী?]]| page={{pli|4|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের ইতিহাস|কমিউনিজ্‌মের ইতিহাস]]| page={{pli|9|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিস্ট্ এশতেহার|কমিউনিস্ট্ এশতেহার]]| page={{pli|11|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/রাশিয়ায় কমিউনিজ্‌ম্|রাশিয়ায় কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|16|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/সোভিয়েট রাশিয়ার পরিচয়|সোভিয়েট রাশিয়ার পরিচয়]]| page={{pli|20|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/সোভিয়েট রাশিয়ার বৈশিষ্ট্য|সোভিয়েট রাশিয়ার বৈশিষ্ট্য]]| page={{pli|27|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের স্বাভাবিকতা|কমিউনিজ্‌মের স্বাভাবিকতা]]| page={{pli|33|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের দার্শনিকতা|কমিউনিজ্‌মের দার্শনিকতা]]| page={{pli|45|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলামের আলোকে কমিউনিজ্‌ম্|ইসলামের আলোকে কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|51|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলামের সহিত কমিউনিজ্‌মের পার্থক্য|ইসলামের সহিত কমিউনিজ্‌মের পার্থক্য]]| page={{pli|74|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌ম্ না ইসলামিজ্‌ম্?|কমিউনিজ্‌ম্ না ইসলামিজ্‌ম্?]]| page={{pli|89|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ|কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ]]| page={{pli|96|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/উপসংহার|উপসংহার]]| page={{pli|99|12}}}} }} |Notes={{RPL}} |Header= |Footer= }} ihikpme1abcbwvhmq6pktv9ywwuv4fr পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/১ 104 881705 1990162 1977654 2026-07-16T19:08:13Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990162 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" /></noinclude>[[চিত্র:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬) (page 1 crop).jpg|ফ্রেমহীন|কেন্দ্র]]<noinclude></noinclude> egghd0pkdrqst3n1ufqyi9g1q6pijht 1990164 1990162 2026-07-17T03:27:07Z Bodhisattwa 2549 /* বৈধকরণ */ 1990164 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{Img float | file = ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬) (page 1 crop).jpg | width = 500px | align = center | cap = }}<noinclude></noinclude> 3lykc0fb0kk497oofz0c3n8i0izqvjj পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/৭ 104 882211 1990170 1987055 2026-07-17T03:37:16Z Bodhisattwa 2549 /* বৈধকরণ */ 1990170 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{dhr|2em}} {{block left|{{xxx-larger block|<poem>ইসলাম :ও কমিউনিজ্‌ম্‌</poem>}}}} {{dhr|10em}} {{larger|গোলাম মোস্তফা}} {{dhr|10em}} {{block left|<poem>'''মুসলিম বেঙ্গল লাইব্রেরী''' ১, শ্যামাচরণ দে ষ্ট্রীট, কলিকাতা ::—ব্রাঞ্চ— ১৫, ইসলামপুর, ঢাকা</poem>}} {{dhr|2em}}<noinclude></noinclude> m8k6ywrc4n84i5sz5jw3mco80gv3unu চিত্র:সাধনা (বিবিধ প্রবন্ধ)-বিনয়কুমার সরকার(১৯১৩).pdf 6 882747 1990183 1989166 2026-07-17T07:16:46Z Amit Paid Scan 21002 Amit Paid Scan [[চিত্র:সাধনা (বিবিধ প্রবন্ধ)-বিনয়কুমার সরকার(১৯১৩).pdf]]-এর একটি নতুন সংস্করণ আপলোড করেছেন 1989166 wikitext text/x-wiki == সারাংশ == {{Book= সাধনা(বিবিধ প্রবন্ধ) |Author= বিনয়কুমার সরকার |Translator= |Editor= |Date= ১৯১৩ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} lvegdbs573k62bio711p25r4d0zgfqd পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/২২৯ 104 883068 1990133 1989961 2026-07-16T14:09:28Z Hrishikes 1618 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990133 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh||বাঙলা শাক্ত-সাহিত্য|২১৩}}</noinclude>{{gap}}রামপ্রসাদেরও এই বৈষ্ণব-ভাষাভঙ্গিতে কালীর বর্ণনা দেখিতে পাই— {{block center|<poem> নব নীল নীরদ তনুরুচি কে? ::ঐ মনোমোহিনী রে। তিমির শশধর, বাল দিনকর, ::সমান চরণে প্রকাশ। কোটিচন্দ্র ঝলকত, শ্রীমুখমণ্ডল, ::নিন্দি সুধামৃত ভাষ॥<ref>ডক্টর শিবপ্রসাদ ভট্টাচার্য, ভারতচন্দ্র ও রামপ্রসাদ (১৩৭ নং পদ)।</ref> </poem>}} {{gap}}অথবা— {{block center|<poem> এলোকেশে, কে শবে, এলো রে বামা। নখর নিকর হিমকরবর, ::রঞ্জিত ঘন তনু মুখ হিমধামা॥ নব নব সঙ্গিনী, নব রসরঙ্গিণী, ::হাসত ভাষত নাচত বামা। কুলবালা বাহুবলে, প্রবল দনুজ দলে, ::ধরাতলে হতরিপু সমা॥<ref>ঐ, (১৪৮ সং পদ)। তুলনীয়— {{block center|কে রে নব-নীল-কমল-কলিকা বলি,<br/>অঙ্গুলি দংশন করিছে অলি,<br/>মুখচন্দ্র চকোরগণ, অধর অর্পণ<br/>{{gap|2em}}করত পূর্ণ শশধর বলি।<br/>ভ্রমর চকোরেতে লাগিল বিবাদ,<br/>এ কহে নীলকমল, ও কহে চাঁদ,<br/>দোঁহে দোঁহ করতহি नाদ,<br/>{{gap|2em}}চিচিকি গুণ গুণ করিয়ে ধ্বনি। ইত্যাদি।<br/>{{float right|2=-3em|—ঐ (১৩৮ সং পদ)।}}}}</ref> </poem>}} {{gap}}অথবা— {{block center|<poem> শঙ্কর পদতলে, মগনা রিপুদলে, ::বিগলিত কুন্তলজাল। বিমল বিধুবর, শ্রীমুখ সুন্দর, ::তনুরুচি বিজিত তরুণ তমাল॥<ref>ঐ (১৫৩ সং পদ)। এই প্রসঙ্গে ১৪২, ১৪৯, ১৫০, ১৫১, ১৫২ পদগুলি দ্রষ্টব্য।</ref> </poem>}} {{gap}}হাতে যে ভয়াল করবাল লইয়া কালী অসুর বিনাশ করিতেছেন তাহাকেও বাঙালী মন রূপান্তরিত করিয়া লইবার চেষ্টা করিয়াছে। {{block center|ভুবন ভুলালে রে কার কামিনী ঐ রমণী।<br/>বামার করে করাল শোভিছে ভাল করবাল যেন সৌদামিনী॥<ref>মহারাজ হরেন্দ্রনারায়ণ রায়, শা. প. (ক. বি.)।</ref>}} {{nop}}<noinclude>{{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> ecku0vz438fv6otpxu6dqzc5e6ipsk6 পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/১১২ 104 883092 1990166 1990029 2026-07-17T03:28:15Z Bodhisattwa 2549 1990166 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০০|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>the persecution of those who worslip in its sanctuary, but the proof that those who do not share its convictions can scan an horizon not less splendid in the prospect it envisions, nor less compelling in the allegiance it invokes." {{right|—Communism, by Prof. Laski, p. 251.}} {{gap}}অর্থাৎঃ—বাস্তবিকতা হারা নয়—স্বাপ্নিকতা দ্বারাই কমিউনিজম এতটা প্রসার লাভ করিয়াছে।...এই নূতন মতবাদের পাল্টা জবাব ইহার অনুরক্ত ভক্তদিগকে নির্যাতন করিয়া দেওয়া যাইবে না, যাহারা ইহার ভক্ত নয়, তাহারাও যে ইহার অনুরূপই সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক আর একটা নূতন জগতকে রূপ দিতে পারে—এই প্রমাণ দ্বারাই দিতে হইবে। {{gap}}কমিউনিজমের স্বরূপ ধরা কঠিন। আজিও সে কোন চুড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে নাই। তার দরজা এখনও খোলা রহিয়াছে; এক্সপেরি মেণ্টের পর্য্যায় সে এখনও অতিক্রম করে নাই। “Trial and Error method”—(অর্থাৎঃ পরীক্ষা কর এবং ভুল সংশোধন কর) এই নীতিই সে মানিয়া চলিতেছে। কাজেই তাহার সম্বন্ধে শেষ কথা বলিবার সময় এখনও আসে নাই। এ সম্বন্ধে জনৈক আধুনিক লেখক বলেনঃ {{gap}}“As Marxism is not a closed system—not a dogma, it allows and it insists that its laws formulated so far must be subjected to a revision or restatement in the light ot procession of discoveries of Nature. If the laws cannot explain all changes in the process of social and scientific evolution, they require modification." {{gap}}—Materialism, Marxism, Determinism and Diale ctics—by B. N. Das Gupta. p, 110.<noinclude></noinclude> 74xxdnu5j6ulc0kvua4iwnu5ad8welc 1990167 1990166 2026-07-17T03:28:57Z Bodhisattwa 2549 1990167 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০০|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>the persecution of those who worslip in its sanctuary, but the proof that those who do not share its convictions can scan an horizon not less splendid in the prospect it envisions, nor less compelling in the allegiance it invokes." {{right|—Communism, by Prof. Laski, p. 251.}} {{gap}}অর্থাৎঃ—বাস্তবিকতা হারা নয়—স্বাপ্নিকতা দ্বারাই কমিউনিজম এতটা প্রসার লাভ করিয়াছে।...এই নূতন মতবাদের পাল্টা জবাব ইহার অনুরক্ত ভক্তদিগকে নির্যাতন করিয়া দেওয়া যাইবে না, যাহারা ইহার ভক্ত নয়, তাহারাও যে ইহার অনুরূপই সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক আর একটা নূতন জগতকে রূপ দিতে পারে—এই প্রমাণ দ্বারাই দিতে হইবে। {{gap}}কমিউনিজমের স্বরূপ ধরা কঠিন। আজিও সে কোন চুড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে নাই। তার দরজা এখনও খোলা রহিয়াছে; এক্সপেরি মেণ্টের পর্য্যায় সে এখনও অতিক্রম করে নাই। “Trial and Error method”—(অর্থাৎঃ পরীক্ষা কর এবং ভুল সংশোধন কর) এই নীতিই সে মানিয়া চলিতেছে। কাজেই তাহার সম্বন্ধে শেষ কথা বলিবার সময় এখনও আসে নাই। এ সম্বন্ধে জনৈক আধুনিক লেখক বলেনঃ {{gap}}“As Marxism is not a closed system—not a dogma, it allows and it insists that its laws formulated so far must be subjected to a revision or restatement in the light ot procession of discoveries of Nature. If the laws cannot explain all changes in the process of social and scientific evolution, they require modification." {{gap}}—Materialism, Marxism, Determinism and Diale ctics—by B. N. Das Gupta. p, 110. {{nop}}<noinclude></noinclude> 4xfqh64grg16vbdhmggj8324wcw3urz পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৫৪ 104 883101 1990118 2026-07-16T13:35:00Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990118 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}দরকার হলেই পাবে গো—অভাব থাকবে না। বলিয়া সে কাছে আসিয়া হেঁট হইয়া কাপড়খানি তুলিয়া যথাস্থানে রাখিয়া দিতেই ষোড়শী মনে মনে অত্যন্ত লজ্জা পাইয়া আরক্ত-মুখে কহিল, কিন্তু ওটা তুলে ফেললেন কেন, শুধু কম্বল ফুটবে যে? {{ফাঁক}}জীবানন্দ উপবেশন করিয়া কহিল, তা জানি, কিন্তু আতিশয্যটা আবার বেশি ফুটবে। যত্ন জিনিসটায় মিষ্টি আছে সত্যি, কিন্তু তার ভাণ করাটায় না আছে মধু, না আছে স্বাদ। ওটা বরঞ্চ আর কাউকে দিয়ো। {{ফাঁক}}কথা শুনিয়া ষোড়শী বিস্ময়ে অবাক্ হইয়া গেল। তাহার মুখের উপর চোখের পলকে কে যেন ছাই মাখাইয়া দিল। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, তাঁর নামটি? {{ফাঁক}}ষোড়শী কয়েক মুহূর্ত্ত কথা কহিতে পারিল না, তাহার পরে বলিল, কার নামটি? {{ফাঁক}}জীবানন্দ হাতের পত্রখণ্ডের প্রতি কটাক্ষে চাহিয়া বলিল, যিনি দৈত্যবধের জন্য শীঘ্র অবতীর্ণ হবেন? যিনি দ্রৌপদীর সখা, যিনি—আর বলব? {{ফাঁক}}এই ব্যঙ্গের সে জবাব দিল না, কিন্তু চোখের উপর হইতে তাহার মোহের যবনিকা খান্ খান্ হইয়া ছিঁড়িয়া গেল। ধর্ম্মলেশহীন, সর্ব্বদোষাশ্রিত সেই পাষণ্ডের আশ্চর্য্য অভিনয়ে মুগ্ধ হইয়া কেমন করিয়া যে তাহার মনে ক্ষণকালের নিমিত্ত ক্ষমামিশ্রিত করুণার উদয় হইয়াছিল ইহা সে সহসা ভাবিয়া পাইল না। এবং চিত্তের এই ক্ষণিক বিহ্বলতায় সমস্ত অন্তঃকরণ তাহার অনুশোচনায় তিক্ত, সতর্ক ও কঠোর হইয়া উঠিল। মুহূর্ত্তকাল পরে জীবানন্দ পুনশ্চ যখন সেই এক প্রশ্নই করিল, তখন ষোড়শী কণ্ঠস্বর সংযত করিয়া লইয়া কহিল, তাঁর নামে আপনার প্রয়োজন? {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, প্রয়োজন আছে বই কি। আগে থেকে জানতে পারলে হয়ত আত্মরক্ষার একটা উপায় করতেও পারি। {{ফাঁক}}ষোড়শী তাহার মুখের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত করিয়া কহিল, আর আত্মরক্ষায় কি শুধু আমারই অধিকার নেই? {{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিয়া ফেলিল, আছে বই কি। {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, তা হলে সে নাম আপনি পেতে পারেন না। আমার ও আপনার একই সঙ্গে রক্ষা পাবার উপায় নেই। {{ফাঁক}}জীবানন্দ একটুখানি স্থির থাকিয়া বলিল, তাই যদি হয়, রক্ষা পাওয়া আমারই দরকার এবং তাতে লেশমাত্র ত্রুটি হবে না জেনো। {{nop}}<noinclude>{{c|১৪০}}</noinclude> fo4uol0qoynzne2sh14jp2y6aj0u4fb পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৫৫ 104 883102 1990119 2026-07-16T13:38:18Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990119 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শীর মুখে আসিল বলে, তা জানি, একদিন জেলার ম্যাজিষ্ট্রেট কে সাহেবের কাছে এ-প্রশ্নের মীমাংসা হইয়াছিল। সেদিন নিরপরাধা নারীর স্কন্ধে অপরাধের বোঝা চাপাইয়া তোমার প্রাণ বাঁচিয়াছিল, এবং তোমার আজিকার বাঁচিয়া থাকিবার দামটাও হয়ত তত বড়ই আর একজনকে দিতে হইবে; কিন্তু সে কোন কথাই কহিল না। তাহার মনে হইল এত বড় নর-পশুর কাছে অত বড় দানের উল্লেখ করার মত ব্যর্থতা আর ত কিছু হইতেই পারে না। {{ফাঁক}}জীবানন্দের হুঁস হইল। তাহার এত বড় ঔদ্ধত্যের যে জবাব দিল না, তাহার কাছে গলাবাজির নিষ্ফলতা তাহার নিজের মনেই বাজিল। তাহার উত্তেজনা কমিল, কিন্তু ক্রোধ বাড়িয়া গেল। কহিল, অলকা, তোমার এই বীরপুরুষটীর নাম যে আমি জানিনে তা নয়। {{ফাঁক}}ষোড়শী তৎক্ষণাৎ কহিল, জানবেন বই কি, নইলে উদ্দেশে তাঁর ঝগড়া করবেন কেন? তা ছাড়া পৃথিবীর বীরপুরুষদের মধ্যে পরিচয় থাকবারই ত কথা। {{ফাঁক}}জীবানন্দ শক্ত হইয়া কহিল, সে ঠিক। কিন্তু এই কাপুরুষকে বার বার অপমান করার ভারটা তোমার বীরপুরুষটি সইতে পারলে হয়। যাক, এ চিঠি ছিঁড়লে কেন? {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, আর একখানা পাঠিয়েছিলাম বলে। {{ফাঁক}}কিন্তু সোজা তাঁকে না লিখে তাঁর স্ত্রীকে লেখা কেন? এই সব শব্দভেদী বাণ কি সেই বীরপুরুষের শিক্ষা নাকি? {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, তার পরে? {{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, তার পরে, আজ আমার সন্দেহ গেল। বন্ধুর সংবাদ আমি অপরের কাছে শুনেচি, কিন্তু রায়মশায়কে যতই প্রশ্ন করেচি ততই তিনি চুপ করে গেলেন। আজ বোঝা গেল, তাঁর আক্রোশটাই সবচেয়ে কেন বেশি। {{ফাঁক}}ষোড়শী চমকিয়া গেল। ঘূর্ণীকলঙ্কের হাওয়ার মাঝখানে পড়িয়া তাহাদের দেহের কোথাও দাগ লাগিতে আর বাকি ছিল না, কিন্তু ইহার বাহিরে দাঁড়াইয়াও যে আর একজন অব্যাহতি পাইবে না, ইহা সে ভাবে নাই। আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, তাঁর সম্বন্ধে আপনি কি শুনেচেন? {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, সমস্তই। একটু থামিয়া বলিল, তোমার চমক আর গলার মিঠে আওয়াজে আমার হাসি পাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হাসতে পারলাম না—আমার আনন্দ করবার কথা এ নয়। সেই ঝড়-জলের রাত্রির কথা মনে পড়ে? তার সাক্ষী আছে। সাক্ষী বেটারা যে কোথায় লুকিয়ে থাকে আগে থেকে কিছুই বলবার যো নেই। আমি যখন গাড়ী থেকে ব্যাগ নিয়ে পালাই, ভেবেছিলাম কেউ দেখেনি। {{nop}}<noinclude>{{c|১৪১}}</noinclude> ofbqibyscsmx8auyp9qg076ld8i4viu পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৫৬ 104 883103 1990120 2026-07-16T13:41:17Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990120 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, যদি সত্যই তাই হয়ে থাকে সে কি এত বড় দোষের? {{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, কিন্তু তাকে গোপন করাটা? ওই চিঠির টুকরোটা? নিজেই একবার পড়ে দেখ ত কি মনে হয়? এ আমি সঙ্গে নিয়ে চললাম, আবশ্যক হয় ত যথাস্থানে পৌঁছে দেব। আমার মত ইনিও তোমার একবার বিচার করতে বসেছিলেন না? দেখচি তোমার বিচার করবার বিপদ আছে। বলিয়া সে মুচকি হাসিল। {{ফাঁক}}ষোড়শী চুপ করিয়া ভাবিতে লাগিল। বিপদের বার্ত্তা জানাইয়া বাস্তবিক সে যে একজনকে উপলক্ষ মাত্র করিয়া আর একজনকে পত্র লিখিয়াছে, একজনের নাম করিয়া আর একজনকে আসিতে ডাকিয়াছে—সেই ডাকটা যখন এই ছেঁড়া চিঠির টুকরা হইতে এই লোকটাকে পর্য্যন্ত ফাঁকি দিতে পারিল না, তখন সম্পূর্ণ পত্রটা কি হৈমর চক্ষুকেই ঠকাইতে পারিবে। এবং ঠিক সেই দিকে কেহ যদি আঙুল তুলিয়া হৈমর দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে চাহে ত লজ্জার কিছু আর বাকি থাকিবে না। {{ফাঁক}}তাহার চক্ষের পলকে হৈমর ঘর-সংসারের চিত্র—তাহার স্বামী, তাহার ছেলে, তাহার বহু দাসদাসী, তাহার ঐশ্বর্য্য, তাহার স্বচ্ছন্দ জীবনযাত্রার ধারা—যে ছবি সে দিনের পর দিন কল্পনায় দেখিয়াছে—সমস্ত এক নিমিষে কলুষের বাষ্পে সমাচ্ছন্ন হইয়া উঠিবে মনে করিয়া সে নিজের কাছেই যেন মুখ দেখাইতে পারিল না। আর এই যে পাপিষ্ঠ তাহারই ঘরে বসিয়া তাহাকে ভয় দেখাইতেছে, যাহার কুকার্য্যের অবধি নাই, যে মিথ্যার জাল বুনিয়া অপরিচিত নিরপরাধ একজন রমণীর সর্ব্বনাশ করিতে কোন কুণ্ঠা মানিবে না, ষোড়শীর মনে হইল এ-জীবনে এত বড় ঘৃণা সে আর কখনো কাহাকেও করে নাই এবং এ বিষ যে হৃদয় মথিত করিয়া উঠিল, তাহার সমস্ত গর্ভতল সেই দহনে যেন অনলকুণ্ডের ন্যায় জ্বলিতে লাগিল। {{ফাঁক}}নির্ম্মল আসিবেই। তাহার যত অসুবিধাই হোক, এই দুঃখের আহ্বান সে যে উপেক্ষা করিতে পারিবে না—নিজের মনেই স্বতঃসিদ্ধ বিশ্বাসের জ্বালায় সে যেন পুড়িতে লাগিল। তখন তাহারই কলঙ্ককে কেন্দ্র করিয়া শ্বশুর ও জামাতায়, পিতা কন্যায়, জমিদার ও প্রজায় সমস্ত গ্রাম ব্যাপিয়া যে লড়াইয়ের আবর্ত্ত উঠিবে তাহার বীভৎসতার কালো ছায়া তাহার সাংসারিক দুঃখ-কষ্টকে কোথায় যে ঢাকিয়া ফেলিবে সে কল্পনা করিতেও পারিল না। {{ফাঁক}}বোধ করি মিনিট পাঁচ-ছয় নিস্তব্ধতার পরে ঠিক এই সময়ে জীবানন্দ তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া কহিল, কেমন, অনেক কথাই জানি, না? {{ফাঁক}}ষোড়শী অভিভূতের ন্যায় তৎক্ষণাৎ জবাব দিল, হাঁ। {{nop}}<noinclude>{{c|১৪২}}</noinclude> n5dutedxc4hkbqf2myyo6u0ka9hslhk পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৫৭ 104 883104 1990121 2026-07-16T13:44:14Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990121 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}এ-সব তবে সত্যি বল? {{ফাঁক}}ষোড়শী তেমনি অসঙ্কোচে কহিল, হ্যাঁ সত্যি। {{ফাঁক}}জীবানন্দ অবাক্ হইয়া গেল। এই অপ্রত্যাশিত সংক্ষিপ্ত উত্তরের পরে তাহার নিজের মুখেও সহসা কথা যোগাইল না। শুধু কহিল, ওঃ—সত্যি! তাহার পরে হাত বাড়াইয়া স্তিমিত দীপশিখাটা উজ্জ্বল করিয়া দিতে দিতে ক্ষণে ক্ষণে তাহার মুখের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া অবশেষে জিজ্ঞাসা করিল, এখন তা হলে তুমি কি করবে মনে কর? {{ফাঁক}}কি আমাকে আপনি করতে বলেন? {{ফাঁক}}তোমাকে? বলিয়া জীবানন্দ স্তব্ধ নতমুখে বসিয়া তৈলবিরল প্রদীপের বাতিটা অকারণে শুধু শুধু কেবল উস্কাইতে লাগিল। খানিক পরে যখন সে কথা কহিল তখনও তাহার চক্ষু সেই দীপশিখার প্রতি। কহিল, তা হলে এঁরা সকলে তোমাকে অসতী বলে— {{ফাঁক}}এতক্ষণ পরে সে কথার মাঝখানে বাধা দিল, কহিল, সে কথা এখানে কেন? তাঁদের বিরুদ্ধে আপনার কাছে ত আমি নালিশ জানাইনি। আমাকে কি করতে হবে তাই বলুন। কোন কারণ দেখাবার দরকার নেই। {{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, তা বটে। কিন্তু সবাই মিথ্যে কথা বলে, আর তুমি একাই সত্যবাদী, এই কি আমাকে তুমি বোঝাতে চাও অলকা? {{ফাঁক}}প্রত্যুত্তরে ষোড়শী তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া কি একটা বলিতে গিয়াও হঠাৎ চুপ করিয়া গেল দেখিয়া জীবানন্দ আপনাকে আর একবার অপমানিত জ্ঞান করিল। বলিল, একটা উত্তর দিতেও চাও না? {{ফাঁক}}ষোড়শী ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, অর্থাৎ আমার কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার চেয়ে দুর্নামও ভাল। বেশ! কিন্তু সমস্ত স্পষ্টই বোঝা গেছে। এই বলিয়া সে ব্যঙ্গ করিয়া হাসিল। {{ফাঁক}}কিন্তু ইহাতেও ষোড়শীর কণ্ঠস্বরের স্বাভাবিকতা নষ্ট হইল না, কহিল, স্পষ্ট বোঝা যাবার পরে কি করতে হবে বলুন? {{ফাঁক}}তাহার প্রশ্ন ও অচঞ্চল কণ্ঠস্বরের গোপন আঘাতে জীবানন্দের ক্রোধ ও অধৈর্য্য শতগুণ বাড়িয়া গেল, কহিল, তোমাকে কি করতে হবে সে তুমি জানো, কিন্তু আমাকে মন্দিরের পবিত্রতা বাঁচাতেই হবে। সত্যকারের অভিভাবক তুমি নয়, আমি। পূর্ব্বে কি হ’ত আমি জানিনে, কিন্তু এখন থেকে ভৈরবীকে ভৈরবীর মতই থাকতে হবে, না হয় তাকে যেতে হবে। এ-রকম চিঠি তার লেখা চলবে না। বলিয়া<noinclude>{{c|১৪৩}}</noinclude> 3s1hjp4edcdnfuxcbchd955a5re1q7w পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৫৮ 104 883105 1990124 2026-07-16T13:47:13Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990124 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>সে মুখ তুলিতেই তাহার ঈর্ষার ক্রুর দৃষ্টি ষোড়শীর চোখে পড়িতে তাহার নিজের দৃষ্টি একমুহূর্ত্তে যেমন যোজন বিস্তৃত হইয়া গেল, তেমনি লালসার তপ্ত নিশ্বাস নিজের সর্ব্বাঙ্গে অনুভব করিয়া বিশ্ব-সংসারে যেন অরুচি ধরিয়া গেল। মনে হইল হৈম, তাহার সংসার, এই দেবমন্দির, তাহার অসহায় প্রজাদের দুঃখ, তাহার নিজের ভবিষ্যৎ, কিছুরই আর তাহার কাজ নাই—সকল বন্ধন হইতে অব্যাহতি পাইয়া অজানা কোথাও গিয়া লুকাইতে পারিলে যেন বাঁচে। সকলের চেয়ে বেশি মনে হইল নির্ম্মল যেন না আসে। অনেকক্ষণ নীরবে স্থির থাকিয়া শেষে আস্তে আস্তে বলিল, বেশ তাই হবে। যথার্থ অভিভাবক কে সে নিয়ে আমি ঝগড়া করব না, আপনারা যদি মনে করেন আমি গেলে মন্দিরের ভাল হবে, আমি যাবো। {{ফাঁক}}ইহাকে বিদ্রূপ মনে করিয়া জীবানন্দ জ্বালার সহিত কহিল, তুমি যে যাবে সে ঠিক। কারণ, যাতে যাও তা আমি দেখব। {{ফাঁক}}ষোড়শী তেমনি নম্র-কণ্ঠে বলিল, আমি যখন যেতে চাচ্চি, তখন কেন আপনি রাগ করচেন? কিন্তু আপনার উপর এই ভার রইল যেন মন্দিরের সত্যিই ভাল হয়। {{ফাঁক}}জীবানন্দ জিজ্ঞাসা করিল, তুমি কবে যাবে? {{ফাঁক}}ষোড়শী উত্তর দিল, আপনারা যখনই আদেশ করবেন। কাল, আজ, এখনি—যখনি বলবেন। {{ফাঁক}}জীবানন্দের ক্রোধ বাড়িল বই কমিল না, কহিল, কিন্তু নির্ম্মলবাবু? জামাইসাহেব? {{ফাঁক}}ষোড়শী কাতর হইয়া বলিল, তাঁর নাম আর করবেন না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, আমার মুখে তাঁর নামটা পর্য্যন্ত সহ্য হয় না? ভাল। কিন্তু তোমাকে কি দিতে হবে? {{ফাঁক}}আমাকে কিছুই দিতে হবে না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, এ ঘরখানা পর্য্যন্ত ছাড়তে হবে জানো? এ-ও দেবীর। {{ফাঁক}}ষোড়শী ঘাড় নাড়িয়া সবিনয়ে কহিল, জানি। যদি পারি ত কালই ছেড়ে দেব। {{ফাঁক}}কালই? ভাল, কোথায় থাকবে ঠিক করেছ? {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, এখানে থাকব না এর বেশি কিছুই ঠিক করিনি। একদিন কিছু না জেনেই ভৈরবী হয়েছিলাম, আজ বিদায় নেবার সময়েও আমি এর বেশি কিছুই চিন্তা করব না। {{ফাঁক}}জীবানন্দ চুপ করিয়া রহিল। তাহার হঠাৎ মনে হইল এতক্ষণ কোথায় যেন তাহার ভুল হইতেছিল। {{nop}}<noinclude>{{c|১৪৪}}</noinclude> 1nb5lphb2dbuibnybetm69tq5tyesum পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৫৯ 104 883106 1990126 2026-07-16T13:50:37Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990126 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, আপনি দেশের জমিদার, চণ্ডীগড়ের ভালমন্দের বোঝা আপনার উপর রেখে যেতে শেষ সময়ে আর আমি দুশ্চিন্তা করব না। কিন্তু আমার বাবা বড় দুর্ব্বল, তাঁর উপর ভার দিয়ে আপনি যেন নিশ্চিন্ত হবেন না। {{ফাঁক}}তাহার কণ্ঠস্বর ও কথায় বিচলিত হইয়া জীবানন্দ জিজ্ঞাসা করিল, তুমি কি সত্য-সত্যই চলে যেতে চাও নাকি? {{ফাঁক}}ষোড়শী তাহার পূর্ব্ব-কথার অনুবৃত্তি-স্বরূপে কহিতে লাগিল, আর আমার দুঃখী, দরিদ্র ভূমিজ প্রজারা—এদের সুখ-দুঃখের ভারও আমি আপনাকে দিয়ে চললুম। {{ফাঁক}}জীবানন্দ তাড়াতাড়ি কহিল, আচ্ছা তা হবে হবে। কি তারা চায় বল ত? {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, সে তারাই আপনাকে জানাবে। কেবল আমি শুধু আপনার কথাটাই যাবার আগে তাদের জানিয়ে যাবো। হঠাৎ সে বাহিরের দিকে উঁকি মারিয়া কহিল, কিন্তু এখন আমি চললাম—আমার স্নান করতে যাবার সময় হ’ল। বলিয়া সে তাহার কাপড় ও গামছা আলনা হইতে তুলিয়া লইয়া কাঁধে ফেলিল। {{ফাঁক}}জীবানন্দ বিস্ময়ে অবাক্ হইয়া কহিল, স্নানের সময়? এই রাত্রে? {{ফাঁক}}রাত্রি আর নেই। আপনি এবার বাড়ি যান। বলিতে বলিতেই ষোড়শী ঘর হইতে বাহির হইয়া পড়িল। তাহার এ অকারণ আকস্মিক ব্যগ্রতায় জীবানন্দ নিজেও ব্যগ্র হইয়া উঠিল; কহিল, কিন্তু আমার সকল কথাই যে বাকি রয়ে গেল অলকা? {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, আপনি বাড়ি যান। {{ফাঁক}}জীবানন্দ জিদ্ করিয়া কহিল, না। কথা আমার শেষ না হওয়া পর্য্যন্ত আমি এইখানেই তোমার প্রতীক্ষা করে রইলাম। {{ফাঁক}}প্রত্যুত্তরে ষোড়শী থমকিয়া দাঁড়াইয়া বলিল, না, আপনার পায়ে পড়ি আমার জন্যে আর আপনি অপেক্ষা করবেন না। বলিয়া সে বাম দিকে বনপথ ধরিয়া দ্রুতপদে অদৃশ্য হইয়া গেল। {{nop}}<noinclude>{{c|১৪৫}}</noinclude> ikwbhgfk3qmvr91qbkogvha71g9piov পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬০ 104 883107 1990127 2026-07-16T13:54:32Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990127 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|'''২০'''}} {{ফাঁক}}সেদিন প্রাতঃকালটা হঠাৎ একটা ঘন কুয়াশায় সমস্ত অস্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছিল; রায় মহাশয় সেইমাত্র শয্যাত্যাগ করিয়া বাহিরে আসিয়াছিলেন; একজন ভদ্রব্যক্তিকে প্রবেশ করিতে দেখিয়া কহিলেন, কে ও? {{ফাঁক}}আমি নির্ম্মল, বলিয়া জামাতা কাছে আসিয়া তাঁহাকে প্রণাম করিল। এই আকস্মিক আগমনে তিনি কোনরূপ বিস্ময় বা হর্ষ প্রকাশ করিলেন না। চাকরদের ডাকিয়া বলিলেন, কে আছিস্ রে, নির্ম্মলের জিনিসপত্রগুলো সব হৈমর ঘরে রেখে আয়। তা গাড়ীতে কষ্ট হয়নি ত বাবা? খোকা, হৈম, এরা সব ভাল আছে ত? {{ফাঁক}}নির্ম্মল ঘাড় নাড়িয়া জানাইল সকলে ভাল আছে। {{ফাঁক}}রায় মহাশয় কহিলেন, কিন্তু একা এলে কেন নির্ম্মল, মেয়েটাকে সঙ্গে আনলে ত আর একবার দেখা হ’ত? {{ফাঁক}}নির্মল বলিল, দু-চার দিনের জন্যে আবার— {{ফাঁক}}রায় মহাশয় ঈষৎ হাস্য করিলেন; বলিলেন, এ কি দু-চার দিনের ব্যাপার বাবা, দু-চার মাসের দরকার। যাও, ভেতরে যাও—মুখ-হাত ধোওগে। {{ফাঁক}}নির্ম্মল ভিতরে আসিয়া দেখিল এখানেও সেই একই ভাব। যে প্রকারেই হোক তাহার আসার সম্ভাবনা কাহারও অবিদিত নয়, এবং সেজন্য কেহই প্রসন্ন নহেন। মুখ-হাত ধোয়া, কাপড়-ছাড়া প্রভৃতি সমাধা হইলে গরম চা এবং কিছু জলখাবার শ্বশ্রুঠাকুরাণী স্বহস্তে আনিয়া জামাতাকে নিজে খাওয়াইতে বসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, হৈম কি আসতে চাইলে না? {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, না। {{ফাঁক}}তারা জানে তুমি কেন আসচ? {{ফাঁক}}নির্ম্মল মাথা নাড়িয়া বলিল, জানে বই কি, সমস্তই জানে। {{ফাঁক}}তবু মানা করলে না? {{ফাঁক}}তাঁহার প্রশ্ন ও কণ্ঠস্বরে নির্ম্মল পীড়া অনুভব করিয়া বলিল, মানা কেন করবে মা? সে ত জানে আমি অন্যায় কাজে কোনদিনই হাত দিইনে। {{ফাঁক}}আর তার বাপই কেবল অন্যায় কাজে হাত দিয়ে বেড়ায়, এই কি সে জানে নির্ম্মল? বলিয়া তিনি ক্ষণকাল নতমুখে স্থির থাকিয়া অকস্মাৎ আবেগের সহিত<noinclude>{{c|১৪৬}}</noinclude> refautuzcz2hnzfsvjc1n46bwwjpd4x পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬১ 104 883108 1990128 2026-07-16T13:59:45Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990128 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>বলিয়া উঠিলেন, তা সে যাই কেন না জানুক বাছা, এ তুমি করতে পারবে না—এ-কাজে তোমাকে আমি কোনমতেই নামতে দিতে পারব না। শ্বশুর-জামাইয়ে লড়াই করবে, গাঁয়ের লোক তামাসা দেখবে, তার আগে আমি জলে ডুব দিয়ে মরব তোমাকে বলে রাখলাম বাবা। {{ফাঁক}}নির্ম্মল আস্তে আস্তে বলিল, কিন্তু যে পীড়িত, যে অসহায়, তাকে রক্ষা করাই ত আমাদের ব্যবসা মা। {{ফাঁক}}শাশুড়ী কহিলেন, কিন্তু ব্যবসাই ত মানুষের সমস্ত নয় বাছা। উকিল-ব্যারিষ্টারেরও মা-বোন আছে, স্ত্রী আছে, শ্বশুর-শাশুড়ী আছে—গুরুজনের মান-মর্য্যাদা রাখার ব্যবস্থা সংসারে তাদের জন্যেও তৈরি হয়েচে। {{ফাঁক}}নির্ম্মল ঘাড় নাড়িয়া কহিল, হয়েচে বই কি মা, নিশ্চয় হয়েচে। তাহার পরে সমস্ত ব্যাপারটা লঘু করিয়া দিবার অভিপ্রায়ে একটু হাসিয়া বলিল, আর শেষ পর্য্যন্ত হয়ত লড়াই-ঝগড়া কিছুই না হতে পারে। {{ফাঁক}}গৃহিণীর মুখ তাহাতে প্রসন্ন হইল না, কহিলেন, পারে, কিন্তু সে শুধু তোমার শ্বশুরের সর্ব্ব-রকমে হার হলেই পারে। কিন্তু তার পরে আর তাঁর রায়মশাই হয়ে এ গ্রামে বাস করা চলবে না। তা ছাড়া ষোড়শী দুর্ব্বলও নয়, অসহায়ও নয়। তার ঠ্যাঙাড়ে ডাকাতের দল আছে, তাকে জমিদার ভয় করে। তার একখানা চিঠির জোরে মানুষ পাঁচশ ক্রোশ দূর থেকে ঘর-দোর ছেলে-পুলে ফেলে চলে আসে, আমরা যা একখানা চিঠিতে পারিনে। তারা হ’ল ভৈরবী, তুকতাক, মন্ত্র-তন্ত্র কত কি জানে। তা সে থাক্ ভাল, যাক ভাল, আমার ক্ষতি নেই—তার পাপের ভরা সেই বইবে, কিন্তু চোখের ওপর আমার নিজের মেয়ের সর্ব্বনাশ আমি হতে দেব না নির্ম্মল, তা লোকে যাই বলুক আর যাই করুক। {{ফাঁক}}নির্ম্মল স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। যে-ভাবেই হোক, এ-দিকে জানাজানি হইতেও কিছু বাকি নাই, এবং ষড়যন্ত্রেরও কোন ত্রুটি ঘটে নাই। তাহার শ্বশুর সকল আটঘাট বাঁধিয়া রাখিয়াছেন, ছিদ্র বাহির করিবার যো নাই। তাহার চুপচাপ প্রকৃতির শাশুড়ীঠাকুরাণী যে এমন মজবুত করিয়া কথা কহিতে জানেন, ইহা সে মনে করে নাই, এবং যাহা কিছু কহিলেন সে যে তাঁহার নিজের কথা তাহাও সে মনে করিল না, কিন্তু জবাব দিবারও কিছু খুঁজিয়া পাইল না। আর্জ্জি যিনি মুসাবিদা করিয়া আর একজনের মুখে গুঁজিয়া দিয়াছেন, তিনি সকল দিক চিন্তা করিয়াই দিয়াছেন, এবং ইহাও তাঁহার অবিদিত নাই যে নিছক পরোপকার-<noinclude>{{c|১৪৭}}</noinclude> f3324r9le451yewkuovfw8ujymx6r82 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬২ 104 883109 1990129 2026-07-16T14:02:26Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990129 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>মানসেই সে যে পশ্চিমের এক প্রান্ত হইতে স্ত্রী-পুত্র ফেলিয়া চলিয়া আসিয়াছে, এ উত্তর সে কোনমতেই মুখ দিয়া বাহির করিতে পারিবে না। {{ফাঁক}}ঘণ্টা-দুই বিশ্রাম করার পরে নির্ম্মল যখন বাটির বাহির হইল, তখন কর্ত্তা সদরে বসিয়াছিলেন। তিনি কোথায় কি বৃত্তান্ত ইত্যাদি নিরর্থক প্রশ্নে সময় নষ্ট করিলেন না, শুধু একটু সকাল সকাল ফিরিবার অনুরোধ করিয়া বলিয়া দিলেন যে, এই শ্রান্ত-দেহে অধিক বেলায় স্নানাহার করিলে অসুখ হইতে পারে। {{ফাঁক}}শিরোমণি মহাশয় পাশে বসিয়া কি বলিতেছিলেন, উঁকি মারিয়া দেখিয়া সবিস্ময়ে কহিলেন, বাবাজী—না? {{ফাঁক}}রায় মহাশয় বলিলেন, হাঁ। শিরোমণি ডাকিয়া আলাপ করিবার উদ্যম করিতেই জনার্দ্দন বাধা দিয়া বলিলেন, নির্ম্মল পালাচ্চে না, তোমার কথাটা শেষ কর, আমাকে উঠতে হবে। {{ফাঁক}}নির্ম্মল নিঃশব্দে বাহির হইয়া আসিল। তাহার শ্বশুর যে তাহাকে অতি-কৌতূহলী প্রতিবেশীর অপ্রিয় জেরার দায় হইতে দয়া করিয়া অব্যাহতি দিলেন, ইহা অনুভব করিয়া তাহার মুখ রাঙা হইয়া উঠিল। {{ফাঁক}}ষোড়শীর সহিত সে দেখা করিতে চলিয়াছিল। দিন-দুই পূর্ব্বে যে উৎসাহ লইয়া, মনের ভিত্তিগাত্রে যে ছবি আঁকিয়া লইয়া সে তাহার প্রবাস-গৃহ ত্যাগ করিয়াছিল, সে আর ছিল না। যে স্বপ্ন সুদীর্ঘ যাত্রাপথের সকল দুঃখ তাহার হরণ করিয়াছিল, শ্বশুর ও শাশুড়ীর অব্যক্ত ও ব্যক্ত অভিযোগের আক্রমণে এইমাত্র তাহা লণ্ডভণ্ড হইয়া গিয়াছিল। সমবেত ও প্রবল শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে দাঁড়াইয়া তাহার একক পৌরুষ নিরাশ্রয়ের অবলম্বন, দুর্ব্বল, পরিত্যক্ত, নির্জ্জীত নারীর নিঃস্বার্থ বন্ধুরূপে এই গ্রামে পদার্পণ করিতে চাহিয়াছিল। তাহার কত না বল, কত না শোভা, কিন্তু আসিয়া দেখিল তাহার সকল কার্য্যেরই ইতিমধ্যে একটা কারণ প্রকাশ হইয়া গেছে। তাহা যেমন কদর্য্য, তেমনি কালো। কালিতে লেপিয়া একাকার হইতে আর বাকি কিছু নাই। শ্বশুরকে সে কোনদিনই আদর্শপুরুষ মনে করে নাই; তিনি পল্লীগ্রামের বিষয়ী লোক, সামান্য অবস্থা হইতে যথেষ্ট সঞ্চয় করিয়াছেন, অতএব পরলোকের খরচের পাতাটাও সাদা পড়িয়া থাকিবার কথা নয়, ইহা সে বেশ জানিত, এবং মনে মনে ক্ষমাও করিত; কিন্তু আজ যখন সে মন্দিরের প্রাচীর ঘুরিয়া পায়ে-হাঁটা সেই সরু পথ ধরিয়া ষোড়শীর কুটীর<noinclude>{{c|১৪৮}}</noinclude> eoe30t3z2q5x56lnrysb3nvbv26xbka পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬৩ 104 883110 1990130 2026-07-16T14:05:31Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990130 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>অভিমুখে পা বাড়াইল, তখন সংক্ষুব্ধ চিত্ততলে তাহার এক দিকে শ্বশুরের বিরুদ্ধে যেমন বিদ্বেষ ও ঘৃণা নিবিড় হইয়া দেখা দিল, তেমনি অন্য দিকে বিশেষ কিছু না জানিয়াও ষোড়শীর প্রতি অভিমান ও বিরক্তিতে মন তিক্ত হইয়া উঠিল। মনে মনে বার বার করিয়া বলিতে লাগিল, যে স্ত্রীলোক অনাত্মীয় অপরিচিত-প্রায় পুরুষের কৃপাভিক্ষা করিয়া পত্রদ্বারা আহ্বান করিবার সঙ্কোচ অনুভব করে না, এবং সে কথা নির্লজ্জ দাম্ভিকার ন্যায় পথে-ঘাটে প্রচার করিয়া বেড়ায়, তাহাকে আর যাহাই হোক সম্মানের উচ্চ আসনে বসানো চলে না। কিন্তু অকস্মাৎ চিন্তা তাহার এইখানে বাধা পাইয়া থামিল। পত্রবহুল মনসা-গাছের বাঁক ফিরিতেই তাহার উৎসুক দৃষ্টি সন্নিকটবর্ত্তিনী ষোড়শীর আনত মুখের উপরে গিয়া পড়িল। সে প্রাঙ্গণের বাহিরে দাঁড়াইয়া একমনে বেড়ার দড়ি বাঁধিতেছিল, আগন্তুকের পদশব্দ শুনিতে পাইল না, এবং ক্ষণকালের জন্য নির্ম্মল না পারিল নড়িতে, না পারিল চোখ ফিরাইতে। এই ত সেদিন, তবুও তাহার মনে হইল এ সে ভৈরবী নয়। অথচ পরিবর্ত্তন যে কোনখানে তাহাও ধরিতে পারিল না। সেই রাঙা-পাড়ের গৈরিক শাড়ীপরা, তেমনি রুক্ষ এলো চুল, গলায় তেমনি রুদ্রাক্ষের মালা, তেমনি মুখের উপরে উপবাসের একটি শীর্ণ ছায়া—সিঁদূর-মাখানো ত্রিশূলটি পর্য্যন্ত তেমনি হাতের কাছে ঠেস দিয়া রাখা—কিছু বদলায় নাই, তবুও অপরিচিত, অজানা মোহে তাহাকে মুহূর্ত্তকয়েকের নিমিত্ত স্তম্ভিত করিয়া দিল। দড়ির গ্রন্থি টানিয়া দিয়া ষোড়শী মুখ তুলিয়াই একটু চমকিত হইল, কিন্তু পরক্ষণেই দড়ি ছাড়িয়া দিয়া স্নিগ্ধমধুর হাসিয়া, সুমুখে আসিয়া কহিল, আসুন, আমার ঘরে আসুন। {{ফাঁক}}নির্ম্মল অপ্রস্তুত হইয়া বলিল, কিন্তু আপনার কাজে যে বাধা দিলাম। {{ফাঁক}}ষোড়শী সকৌতুকে মুচকিয়া হাসিয়া কহিল, বেড়া বাঁধা বুঝি আমার কাজ? আর হ’লই বা কাজ, কুটুম্বকে খাতির করাটা বুঝি কাজ নয়? শ্বশুরবাড়িতে জামাইয়ের আদর হয়নি, কিন্তু শালীর কুঁড়ে-ঘর থেকে ভগিনীপতিকে অনাদরে ফিরতে দেব না। আসুন, ঘরে গিয়ে বসবেন চলুন। খোকা, হৈম, চাকর-বাকর সব ভাল আছে? আপনি নিজে ভাল আছেন? {{ফাঁক}}নির্ম্মল কেমন সঙ্কুচিত হইয়া পড়িল। ঘাড় নাড়িয়া কহিল, সবাই ভাল আছে, কিন্তু আজ আর বসব না। {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, কেন শুনি? তার পরে কণ্ঠস্বর নত করিয়া আরও একটু কাছে আসিয়া বলিল, একদিন হাত ধরে অন্ধকারে পার করে এনেছিলাম মনে পড়ে?<noinclude>{{c|১৪৯}}</noinclude> btsbk5fgzgtoysdejw71lt6n87lekyo শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৯ 0 883111 1990131 2026-07-16T14:07:34Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=153 to=159 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1990131 wikitext text/x-wiki <pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=153 to=159 header=1/> cr7kv6ksr8o3pa5sbw9fu9rq6rw6wqn পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬৪ 104 883112 1990132 2026-07-16T14:08:26Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990132 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>দিনের-বেলায় ওতে আর কাজ নেই, কিন্তু চলুন বলচি। যে এত দূর থেকে টেনে আনতে পারে, সে এটুকুও টেনে নিয়ে যেতে পারবে। {{ফাঁক}}নির্ম্মল লজ্জা বোধ করিল, আঘাত পাইল। এই আচরণ, এই কথা ষোড়শীর মুখে কেবল অপ্রত্যাশিত নয়, অচিন্ত্যনীয়। বিদুষী সন্ন্যাসিনী ভৈরবীকে সে শান্ত, সমাহিত, দৃঢ়, এমন কি কঠোর বলিয়া জানিত। সংসারে রমণীর পর্য্যায়ভুক্ত করিয়া কল্পনা করিতে যেন তাহার বাধিত। তাঁহাকে অনেক ভাবিয়াছে—কর্ম্মের মধ্যে, বিশ্রামের মধ্যে এই ষোড়শীকে সে চিন্তা করিয়াছে—সমস্ত অন্তর রসে ভরিয়া উঠিয়াছে—কিন্তু কখনও চিন্তাকে সে পদ্ধতি দিবার, শৃঙ্খলিত করিবার সাহস পর্য্যন্ত করে নাই। কিন্তু সেই ষোড়শী আজ যখন অপ্রত্যাশিত আত্মীয়তার অতি-ঘনিষ্ঠতায় অকস্মাৎ নিজেকে ছোট করিয়া, মানবী করিয়া সাধারণ মানবের কামনার আয়ত্তাধীন করিয়া দিল, নির্ম্মল অন্তরের এক প্রান্তে যেমন বেদনা বোধ করিল, তেমনি আর এক প্রান্তে তাহার কি এক প্রকার কলুষিত আনন্দে এক নিমেষে পরিপ্লুত হইয়া গেল। {{ফাঁক}}নির্ম্মলকে ঘরে আনিয়া ষোড়শী কম্বল পাতিয়া বসিতে দিল, জিজ্ঞাসা করিল, পথে কষ্ট হয়নি? {{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, না। কিন্তু মন্দিরে আজ আপনার কাজ নেই? {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, অর্থাৎ আজ মন্দিরের রবিবার কি না? তাহার পরে বলিল, কাজ আছে, সকালে একদফা করেও এসেচি। যেটুকু বাকি আছে, সেটুকু বেলাতে করলেও হবে। হাসিয়া কহিল, জামাইবাবু, এ আপনাদের কোর্ট-কাছারী নয়, মন্দির। ঠাকুর-দেবতারা তাদের দাস-দাসীদের কখনো মুহূর্ত্তের ছুটি দেন না, কানে ধরে চব্বিশ ঘণ্টা সেবা করিয়ে নিয়ে তবে ছাড়েন। {{ফাঁক}}কিন্তু এ চাকরি ত আপনি ইচ্ছে করেই নিয়েচেন। {{ফাঁক}}ইচ্ছে করে? তা হবে! বলিয়া ষোড়শী সহসা একটুখানি হাসিয়া কহিল, আচ্ছা একটু খবর দিলেন না কেন? {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, সময় ছিল না। কিন্তু তার শাস্তিস্বরূপ শ্বশুরবাড়িতে যে খাতির পাইনি, অন্ততঃ তারা যে আমাকে দেখে খুসি হননি, এ কথা আপনি জানলেন কি করে? এবং আমার আসার সংবাদ আসার পূর্ব্বেই কে প্রচার করে দিল বলতে পারেন? {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, বলতে পারিনে, কিন্তু আন্দাজ করতে পারি। {{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, আন্দাজ করতে ত আমিও পারি, কিন্তু সত্যি কে করেচে এবং কোথায় সে খবর পেলে, জানেন ত আমাকে বলুন। আশা করি আপনার দ্বারা এ-কথা প্রকাশ হয়নি? {{nop}}<noinclude>{{c|১৫০}}</noinclude> 48mlh7o45k05495dqmmcx5fbtv9m447 পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৩১ 104 883113 1990134 2026-07-16T14:13:04Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990134 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>এইবার কর্তৃপক্ষ একটা সুবুদ্ধির পরিচয় দিলেন, জলপথে রপ্তানি একেবারে বন্ধ করিয়া দিলেন। একটি কমিটি তৈয়ারি করিয়া তাহার উপর দণ্ডমুণ্ডের চরম ক্ষমতা দেওয়া হইল। নির্দেশ দেওয়া হইল, যদি কোন ব্যবসাদার খাদ্যশস্য গোপনে মজুত করিয়া রাখে, বাজারে আনিয়া ন্যায্য মূল্যে বেচিতে অস্বীকার করে—তবে তাহাকে ভয়ানক শাস্তি দেওয়া তো হইবেই, অধিকন্তু তাহার মাল বাজেয়াপ্ত করিয়া গরিবদের মধ্যে বিলাইয়া দেওয়া হইবে। {{ফাঁক}}পঞ্চাশের মন্বন্তরেও এইরাূপ আদেশ দেওয়া হইয়াছিল। ফল কি হইয়াছে, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়া তাহা দেখাইয়া গেল। সরকারি আদেশ অবাধে এবং প্রায় প্রকাশ্য ভাবেই অবহেলিত হইয়াছে। সরকারও আদেশের পর আদেশ সংশোধন করিয়া চলিয়াছিলেন। {{ফাঁক}}১৭৮৩ অব্দের দুর্ভিক্ষে আর একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হইয়াছিল, বাঙলা ও বিহার এই দুই প্রদেশের জন্য একটি কায়েমী শস্যাগার তৈয়ারি করিতে হইবে। তদনুযায়ী পাটনায় পাকা-গাঁথনির এক প্রকাণ্ড গোলাঘর নির্মিত হইয়াছিল। তাহাতে লেখা আছে-For the perpetual prevention of famines in India. কিন্তু গোয়ালঘর চিরদিনই শূন্য রহিয়া গেল, কোনদিন একমুঠা ধান তাহার মধ্যে পড়ে নাই। {{ফাঁক}}পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময়েও ফুড গ্রেইনস্‌‌ কমিটি সুপারিশ করিয়াছেন, একটা কেন্দ্রীয শস্যাগার তৈয়ারি করিতে। এই শস্যাগারের জন্য পাকা ইমারত তৈয়ারি হইবে কিনা, এবং শেষ পযন্ত ইহাতে কি পরিমাণ শস্য উঠিবে, তাহা দেখিবার বিষয়। {{ফাঁক}}১৮৬৬ অব্দে যে মন্বন্তর ঘটে, উহাকে সাধারণত উড়িষ্যার দুর্ভিক্ষ বলা হয়। 'সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষের সমুদ্রে' সমগ্র উড়িষ্যা পরিপ্লাবিত হইয়া গিয়াছিল। বাঙলাদেশের মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান, নদীয়া, হুগলি ও মুর্শিদাবাদ জেলায় উহার ঢেউ আসিয়াছিল। এই মন্বন্তরের কবলে উড়িষ্যার যে অবস্থা বর্ণিত হইয়াছে, আজ বাঙলার অবস্থাও অবিকল সেইরূপ। দেশের একপ্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত প্রতিদিন অগণিত অন্নহীন মারা পড়িতেছে, শিয়াল-কুকুর মানুষের শব ছেঁড়াছেঁড়ি করিতেছে। সরবরাহ-সচিব অবশ্য বলিতে চাহিয়াছেন, বাঙলার সমস্ত অঞ্চল দুর্ভিক্ষগ্রস্ত হয় নাই। কিন্তু ধাপা দিয়া সত্যকে চাপা দেওয়া<noinclude>{{rh||২৫|}}</noinclude> 6santtxm6bp83z6ikon0cf1mi2uh479 1990135 1990134 2026-07-16T14:26:20Z Bodhisattwa 2549 /* বৈধকরণ */ 1990135 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>এইবার কর্তৃপক্ষ একটা সুবুদ্ধির পরিচয় দিলেন, জলপথে রপ্তানি একেবারে বন্ধ করিয়া দিলেন। একটি কমিটি তৈয়ারি করিয়া তাহার উপর দণ্ডমুণ্ডের চরম ক্ষমতা দেওয়া হইল। নির্দেশ দেওয়া হইল, যদি কোন ব্যবসাদার খাদ্যশস্য গোপনে মজুত করিয়া রাখে, বাজারে আনিয়া ন্যায্য মূল্যে বেচিতে অস্বীকার করে—তবে তাহাকে ভয়ানক শাস্তি দেওয়া তো হইবেই, অধিকন্তু তাহার মাল বাজেয়াপ্ত করিয়া গরিবদের মধ্যে বিলাইয়া দেওয়া হইবে। {{ফাঁক}}পঞ্চাশের মন্বন্তরেও এইরাূপ আদেশ দেওয়া হইয়াছিল। ফল কি হইয়াছে, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়া তাহা দেখাইয়া গেল। সরকারি আদেশ অবাধে এবং প্রায় প্রকাশ্য ভাবেই অবহেলিত হইয়াছে। সরকারও আদেশের পর আদেশ সংশোধন করিয়া চলিয়াছিলেন। {{ফাঁক}}১৭৮৩ অব্দের দুর্ভিক্ষে আর একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হইয়াছিল, বাঙলা ও বিহার এই দুই প্রদেশের জন্য একটি কায়েমী শস্যাগার তৈয়ারি করিতে হইবে। তদনুযায়ী পাটনায় পাকা-গাঁথনির এক প্রকাণ্ড গোলাঘর নির্মিত হইয়াছিল। তাহাতে লেখা আছে—For the perpetual prevention of famines in India. কিন্তু গোয়ালঘর চিরদিনই শূন্য রহিয়া গেল, কোনদিন একমুঠা ধান তাহার মধ্যে পড়ে নাই। {{ফাঁক}}পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময়েও ফুড গ্রেইনস্‌‌ কমিটি সুপারিশ করিয়াছেন, একটা কেন্দ্রীয শস্যাগার তৈয়ারি করিতে। এই শস্যাগারের জন্য পাকা ইমারত তৈয়ারি হইবে কিনা, এবং শেষ পযন্ত ইহাতে কি পরিমাণ শস্য উঠিবে, তাহা দেখিবার বিষয়। {{ফাঁক}}১৮৬৬ অব্দে যে মন্বন্তর ঘটে, উহাকে সাধারণত উড়িষ্যার দুর্ভিক্ষ বলা হয়। ‘সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষের সমুদ্রে’ সমগ্র উড়িষ্যা পরিপ্লাবিত হইয়া গিয়াছিল। বাঙলাদেশের মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান, নদীয়া, হুগলি ও মুর্শিদাবাদ জেলায় উহার ঢেউ আসিয়াছিল। এই মন্বন্তরের কবলে উড়িষ্যার যে অবস্থা বর্ণিত হইয়াছে, আজ বাঙলার অবস্থাও অবিকল সেইরূপ। দেশের একপ্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত প্রতিদিন অগণিত অন্নহীন মারা পড়িতেছে, শিয়াল-কুকুর মানুষের শব ছেঁড়াছেঁড়ি করিতেছে। সরবরাহ-সচিব অবশ্য বলিতে চাহিয়াছেন, বাঙলার সমস্ত অঞ্চল দুর্ভিক্ষগ্রস্ত হয় নাই। কিন্তু ধাপ্পা দিয়া সত্যকে চাপা দেওয়া<noinclude>{{c|২৫}}</noinclude> 9n7qcdlpg1wpiiwj2dr9drdf17ukgdx পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬৬ 104 883114 1990136 2026-07-16T15:47:31Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990136 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>লইয়া মুখ তুলিয়া হাসিমুখে কহিল, কুটুমের অভ্যর্থনা ত হ’ল। অবশ্য হাসি-খুসি দিয়ে যতটুকু পারি, ততটুকুই—তার বেশি ত সম্বল নেই ভাই—এখন আসুন, বরঞ্চ কাজের কথা কওয়া যাক। {{ফাঁক}}তাহার ঘনিষ্ঠ সম্ভাষণকে এবার সে সংশয়ের সহিত গ্রহণ করিতে চাহিল, তবুও তাহার মন ভিতরে ভিতরে উল্লসিত হইয়া উঠিল। কহিল, বলুন। {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, দুটি লোক দেবতাকে বঞ্চিত করতে চায়। একটি রায় মহাশয়, আর একটি জমিদার— {{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, আর একটি আপনার বাবা। এঁরাই ত আপনাকেও বঞ্চিত করতে চান। {{ফাঁক}}বাবা? হাঁ, তিনিও বটে। বলিয়া ষোড়শী চুপ করিয়া রহিল। {{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, আমার শ্বশুরের কথা বুঝি, আপনার বাবার কথাও কতক বুঝতে পারি, কিন্তু পারিনে এই জমিদার প্রভুটিকে বুঝতে। তিনি কিসের জন্য আপনার এত শত্রুতা করেন? {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, দেবীর অনেকখানি জমি তিনি নিজের বলে বিক্রি করে ফেলতে চান, কিন্তু আমি থাকতে সে কোনমতেই হবার যো নেই। {{ফাঁক}}নির্ম্মল সহাস্যে কহিল, সে আমি সামলাতে পারব। বলিয়া সে কটাক্ষে ভৈরবীর মুখের প্রতি লক্ষ্য করিয়া দেখিল ষোড়শী নীরব হইয়া আছে, কিন্তু তাহার মুখের কোন পরিবর্ত্তন ঘটে নাই। খানিক পরে মুখ তুলিয়া ধীরে ধীরে কহিল, কিন্তু আরও অনেক জিনিস আছে, যা আপনিও হয়ত সামলাতে পারবেন না। {{ফাঁক}}কি সে সব? একটা ত আপনার মিথ্যে দুর্নাম? {{ফাঁক}}ষোড়শী কোনরূপ উত্তেজনা প্রকাশ করিল না; শান্ত-স্বরে বলিল, সে আমি ভাবিনে। দুর্নাম সত্যি হোক, মিথ্যে হোক, তাই দিয়েই ত ভৈরবীর জীবন নির্ম্মলবাবু! আমি এই কথাটাই তাঁদের বলতে চাই। {{ফাঁক}}নির্ম্মল বিস্মিত হইয়া কহিল, এই কথা নিজের মুখে বলতে চান? সে যে স্বীকার করার সমান হবে। {{ফাঁক}}ষোড়শী চুপ করিয়া রহিল। {{ফাঁক}}নির্ম্মল সসঙ্কোচে কহিল, ওরা যে বলে— {{ফাঁক}}কারা বলে? {{ফাঁক}}অনেকেই বলে সে সময়ে আপনি— {{ফাঁক}}কোন সময়ে? {{nop}}<noinclude>{{c|১৫২}}</noinclude> 005kzblxk6keyqz96ra1u2p19unh26m পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬৫ 104 883115 1990137 2026-07-16T15:51:24Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990137 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিল, কহিল, কোন আশা করতেই আমি কাউকে নিষেধ করিনে। কিন্তু জেনে আপনার লাভ কি? আপনি এসেচেন এ খবরও সত্যি, আমারই জন্যে এসেচেন এ কথাও ঠিক। তার চেয়ে বরঞ্চ বলুন, আসা সার্থক হবে কি না? আমাকে উদ্ধার করতে পারবেন কি না? {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, প্রাণপণে চেষ্টা করব বটে। {{ফাঁক}}যদি কষ্ট হয় তবুও? {{ফাঁক}}নির্ম্মল ঘাড় নাড়িয়া বলিল, যদি কষ্ট হয় তবুও। {{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিয়া ফেলিল। নির্ম্মল তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া নিজেও একটু হাসিয়া বলিল, হাসলেন যে? {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, হাসচি—আগের দিনে ভৈরবীরা বিদেশী মানুষদের ভেড়া বানিয়ে রাখত। আচ্ছা, ভেড়া নিয়ে তারা কি করত? চরিয়ে বেড়াত, না লড়াই বাধিয়ে দিয়ে তামাসা দেখত! বলিতে বলিতেই সে একেবারে ছেলেমানুষের মত উচ্ছ্বসিত হইয়া হাসিতে লাগিল। {{ফাঁক}}নির্ম্মলের দেহ-মন পুলকে নৃত্য করিয়া উঠিল। এই কঠিন আবরণের নীচে যে রহস্যপ্রিয় কৌতুকময়ী চঞ্চল নারী-প্রকৃতি চাপা দেওয়া আছে, তাহার অপর্য্যাপ্ত হাসির প্রস্রবণ যে ব্রতোপবাসের সহস্রবিধ কৃচ্ছ-সাধনায় আজও শুকায় নাই—ভস্মাচ্ছাদিত অগ্নির ন্যায় সে তেমনি জীবন্ত—এই কথা স্মরণ করিয়া সর্ব্বশরীরে তাহার কাঁটা দিল। পরিহাসে নিজেও যোগ দিয়া হাসিয়া কহিল, হয়ত বা মাঝে মাঝে মায়ের স্থানে বলি দিয়ে খেতো। অর্থাৎ আমার শ্বশুর কিংবা শাশুড়ীঠাকুরণ ইতিমধ্যে আপনার কাছে এসেছিলেন, এবং অনেক অপ্রিয় অসত্য শুনিয়ে গেছেন। {{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, না, তারা কেউ আসেননি। আমি যে যন্ত্রে-তন্ত্রে সিদ্ধিলাভ করেচি, এটা অসত্য হতে পারে, কিন্তু অপ্রিয় হবে কেন নির্ম্মলবাবু? তা ছাড়া আপনার আসার ধরণ দেখে নিজেরই সন্দেহ হচ্ছে হয়ত বা নিতান্ত মিথ্যা না হতেও পারে। তাহার মুখে হাসির আভাস লাগিয়াই রহিল, কিন্তু গলার শব্দ বদলাইয়া গেল। ওষ্ঠপ্রান্তে ও কণ্ঠস্বরে সহসা যেন আর সঙ্গতি রহিল না। {{ফাঁক}}নির্ম্মল আশ্চর্য্য অবাক্ হইয়া রহিল। ইহার কতটুকু পরিহাস এবং কতখানি তিরস্কার, এবং কিসের জন্য তাহা সে কিছুতে ভাবিয়া পাইল না। {{ফাঁক}}ষোড়শী নিজেও আর কিছু কহিল না, কিন্তু তাহার আনত মুখের পরে যে অপ্রত্যাশিত লজ্জার আরক্ত আভা পলকের নিমিত্ত ছায়া ফেলিয়া গেল, ইহা তাহার চোখে পড়িল। কিন্তু সে ঐ পলকের জন্যই। ষোড়শী আপনাকে সামলাইয়া<noinclude>{{c|১৫১}}</noinclude> 57g3okg1w4s1dhiz5236fcli022oh8u পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬৭ 104 883116 1990138 2026-07-16T15:53:44Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990138 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}নির্ম্মল ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া অত্যন্ত সঙ্কোচ সবলে দমন করিয়া বলিল, সেই ম্যাজিষ্ট্রেট আসার দিনে। তখন আপনার কোলের উপরেই নাকি— {{ফাঁক}}ষোড়শী একটু আশ্চর্য্য হইয়া কহিল, তারা কি দেখেছিল না কি? তা হবে, আমার ঠিক মনে নাই—যদি দেখে থাকে, তা সত্যি, জমিদারের মাথা আমিই কোলে করে বসেছিলাম। {{ফাঁক}}নির্ম্মল স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। অনেকক্ষণ পরে আস্তে আস্তে কহিল, তার পরে? {{ফাঁক}}ষোড়শী শান্ত মুখখানি হাসির আভাসে একটু উজ্জ্বল করিয়া বলিল, তার পরে দিন কেটে যাচ্চে। কিন্তু কিছুতেই আর মন বসাতে পারিনে। সব যেন মিথ্যে বলে ঠেকে। {{ফাঁক}}কি মিথ্যে? {{ফাঁক}}সব। ধর্ম্ম, কর্ম্ম, ব্রত, উপবাস, দেবসেবা, এতদিনের যা কিছু সমস্তই— {{ফাঁক}}তবু ভৈরবীর আসন চাই? {{ফাঁক}}চাই বই কি। আর আপনি যদি বলেন, চাই না— {{ফাঁক}}না, না, আমি কিছুই বলিনে। বলিয়া নির্ম্মল তাড়াতাড়ি উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিল, বেলা হয়ে যাচ্চে—এখন আমি চললাম। {{ফাঁক}}ষোড়শীও সঙ্গে সঙ্গে উঠিয়া দাঁড়াইল, কহিল, আমারও মন্দিরের কাজ আছে। কিন্তু আবার কখন দেখা হবে? {{ফাঁক}}নির্ম্মল অনিশ্চিত অস্ফুট-কণ্ঠে কি একটা কহিল, ভাল শোনা গেল না। ষোড়শী হঠাৎ বলিয়া উঠিল, ভাল কথা, সন্ধ্যার পর আজই ত আমাকে নিয়ে মন্দিরে একটা হাঙ্গামা আছে, আসবেন? {{ফাঁক}}নির্ম্মল ঘাড় নাড়িয়া সম্মতি জানাইয়া বাহির হইয়া গেল। ষোড়শী মুচকিয়া একটু হাসিল, তার পরে কুটীরের দ্বারে শিকল তুলিয়া দিয়া মন্দিরের অভিমুখে বহির্গত হইল। {{nop}}<noinclude>{{c|১৫৩}}</noinclude> fbwn86hhc41l124bs4wy1xgfysn2pba পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬৮ 104 883117 1990139 2026-07-16T15:56:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990139 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|'''২১'''}} {{ফাঁক}}শ্বশুর জামাতা একত্রে আহারে বসিয়াছিলেন। শাশুড়ীঠাকুরাণী দধি ও মিষ্টান্ন আনিতে স্থানান্তরে গেলে রায় মহাশয় কহিলেন, ষোড়শীর সঙ্গে তোমার দেখা হ’ল নির্ম্মল? {{ফাঁক}}নির্ম্মল মুখ না তুলিয়াই কহিল, আজ্ঞে হাঁ। {{ফাঁক}}কি বলে সে? {{ফাঁক}}এরূপ একটা সাধারণ প্রশ্নের জবাব দেওয়া কঠিন। সে ক্ষণকাল নীরব থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কিসের সম্বন্ধে? {{ফাঁক}}মন্দিরের সম্বন্ধে। বেটি ভৈরবী-গিরি ছাড়বে, না চণ্ডীগড়ের নাম পর্য্যন্ত ডোবাবে? দেশের লোক ত আর বাইরের দশজনের কাছে মুখ দেখাতে পারে না এমনি হয়ে উঠেচে। {{ফাঁক}}নির্ম্মল চুপ করিয়া রহিল। চণ্ডীগড়ের ভৈরবীদিগের বিরুদ্ধে এ অপবাদ আবহমান-কাল প্রচলিত আছে। এবং সে-জন্য গ্রামের কেহ কোনদিন লজ্জায় প্রাণত্যাগ করিয়াছে বলিয়া প্রবাদ নাই। স্বয়ং চণ্ডীমাতাও কখনো আপত্তি করিয়াছেন বলিয়া লোকে জানে না। ইহাদের রীতি-নীতি, আচার-অনাচার সমস্তই সে শুনিয়া গিয়াছিল বলিয়া এ-সম্বন্ধে মন তাহার নিরপেক্ষভাবেই ছিল। বিশেষতঃ ষোড়শীর অপবাদ সে বিশ্বাস করে নাই, সুতরাং ইহা মিথ্যা প্রমাণিত হইলেই সে খুসি হইত; কিন্তু এই প্রমাণকেই তাহার ভৈরবী-পদের একমাত্র দাবি বলিয়া সে একদিনও গ্রাহ্য করে নাই। তাহার শ্বশুরের ইঙ্গিত নূতন নয়, ভীষণও নয়, অথচ এই কয়টা কথাতেই অকস্মাৎ আজ তাহার মন যখন চমকিয়া সজাগ হইয়া উঠিল, তখন নিজের মনের বিক্ষিপ্ততা অনুভব করিয়া সে যথার্থই আশ্চর্য্য হইয়া গেল। তাহাকে নিস্তব্ধ দেখিয়া রায় মহাশয় পুনশ্চ কহিলেন, কি বল হে? {{ফাঁক}}নির্ভুল ও সময়োপযোগী উত্তর দিবার সময় ও অবস্থা নির্ম্মলের ছিল না, সে শুধু পূর্ব্ব কথারই পুনরুক্তি করিয়া কহিল, ভৈরবীদের দুর্নাম ত চিরদিনই আছে। {{ফাঁক}}রায় মহাশয় অস্বীকার করিলেন না, বলিলেন, আছে। কিন্তু দুর্নাম জিনিসটা ত মন্দ, চিরকালের দোহাই দিয়েও মন্দটাকে চিরকাল চালানো চলে না। কি বল? {{ফাঁক}}কিন্তু সে যে মন্দ এ কি নিশ্চিত প্রমাণিত হয়ে গেছে? {{ফাঁক}}রায় মহাশয় অসংশয়ে কহিলেন, গেছে। {{nop}}<noinclude>{{c|১৫৪}}</noinclude> rpx5ewg81paf3yaef7grlyt84g2g6pv পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৬৯ 104 883118 1990140 2026-07-16T16:18:13Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990140 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}নির্ম্মল ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া প্রশ্ন করিল, কি করে গেল? নিশ্চয় প্রমাণ কে দিলে? {{ফাঁক}}রায় মহাশয় বলিলেন, যে দিয়েচে সে আজও দেবে। সন্ধ্যার পরে মন্দিরে যেয়ো, তার পরে বোধ হয় শ্বশুর-জামাই দুজনকে দুদিকে দাঁড়িয়ে আর সমস্ত গ্রামের হাসি-তামাসা কুড়োতে হবে না। এই ত তোমার ব্যবসা, অতএব নিশ্চয়-প্রমাণ যে কাকে বলে সে আমাকে আর তোমাকে বলে দিতে হবে না। {{ফাঁক}}গৃহিণী পাথরের খালে মিষ্টান্ন ও বাটিতে দধি লইয়া প্রবেশ করিলেন, কহিলেন, কই বাবা খাচ্ছো না যে? {{ফাঁক}}এই যে খাচ্চি, বলিয়া নির্ম্মল আহারে মনোনিবেশ করিল। কর্ত্তা কহিলেন, নির্ম্মলকে দিয়ে আমার জন্যে একটু দুধ এনে দাও, শরীরটা ভাল নেই, দই আর খাবো না। {{ফাঁক}}গৃহিণী প্রস্থান করিলে রায় মহাশয় বলিলেন, অন্ধকার দুর্য্যোগের রাত্রে সে তোমাকে হাতে ধরে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল, তার জন্যে শুধু তুমি কেন বাবা আমরা পর্য্যন্ত কৃতজ্ঞ। যে উপকার করে, তার অপকার করতে মন চায় না, কিন্তু এ ত আমাদের নিজের কথা নয় নির্ম্মল, এ গ্রামের কথা, সমাজের কথা, দেবদেবতার কথা, সুতরাং যা বড় কর্ত্তব্য তা আমাকে করতেই হবে। {{ফাঁক}}সে রাত্রের ঘটনা যে অপ্রকাশ নাই তাহা সে শুনিয়াছিল, অথচ নিজে গোপন করিয়াছিল বলিয়া লজ্জিত-মুখে চুপ করিয়া রহিল। {{ফাঁক}}কর্ত্তা বলিতে লাগিলেন, দেব-দেবীরা ত কথা ক’ন না, কিন্তু তাঁরা শোধ নেন। গ্রামের ভাল যে কখনো হয়নি। উত্তরোত্তর অবনতি হয়েই আসচে, মনে হয় এও তার একটা কারণ। প্রমাণের কথা বলছিলে, কিন্তু তুমি যে আসচো এই বা আমরা জানলাম কি করে? তুমি সন্তান তুল্য, তোমার কাছে সব কথা খুলে বলতে আমার বাধে, কিন্তু না বললেও নয়। জমিদারবাবু সে-রাত্রে বোধ করি খেয়ে যাবার ফুরসত পাননি, ষোড়শী খাবার আনতে ঘরের বাইরে যেতে তাঁর চোখ পড়ল একটা চিঠির টুকরোর {{SIC|পরে|পড়ে}}। বোধ হয় তোমাকে লিখে ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে শেষে হৈমকেই লিখেছিল। সেখানাও আজ দেখতে পাবে, তিনি সকালবেলা আসবার সময় সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। {{ফাঁক}}নির্ম্মল ক্রোধে জ্বলিয়া উঠিয়া বলিল, মিথ্যে কথা। সে নির্লজ্জ, নিজে অপরাধী, সেই মাতাল পাজি বদমাইসটার কথা আপনারা বিশ্বাস করেন? হতেই পারে না। {{ফাঁক}}রায় মহাশয় শুধু একটু মৃদু হাসিলেন। অবিচলিত-স্বরে কহিলেন, হতে পারে, এবং হয়েছে। জমিদার লোকটা যে নির্লজ্জ, মাতাল, পাজি, বদমাইস, তাও জানি। বোধ হয় আরও ঢের বেশি, নইলে তার কলঙ্কের কথাটা মুখে আনতেও<noinclude>{{c|১৫৫}}</noinclude> 1b7brbzqdlvx51ecr3m60o5zzp2ah2g পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭০ 104 883119 1990141 2026-07-16T16:23:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990141 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>পারত না। ওর নিষ্ঠুরতার অবধি নেই। গ্রামের মঙ্গলের জন্য ও এ-কাজে হাত দেয়নি, ঠাকুর-দেবতা ও মানে না। জোর করে মন্দিরে খাসি বলি দিয়ে খেয়েছিল। আবশ্যক হলে ও-পাষণ্ড মুরগী শূয়োর এমনি কি গো-বধ করেও খেতে পারে। {{ফাঁক}}তবুও তাঁকে আপনি সাহায্য করতে চান? {{ফাঁক}}না, আমি কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাই। {{ফাঁক}}নির্ম্মল অনেকক্ষণ স্থির থাকিয়া কহিল, আপনার কাঁটা উঠবে কি না জানিনে, কিন্তু সে নিষ্কণ্টক হবে। দেবীর যে সম্পত্তিটা সে বিক্রি করতে চায়, ষোড়শী ভৈরবী থাকতে তার সুবিধে হবে না। {{ফাঁক}}রায় মহাশয় কহিলেন, সে গেলেও সুবিধে হবে না—আমি আছি। {{ফাঁক}}তিনি আছেন এত বড় ঘটনাটা নির্ম্মল বিস্মৃত হইয়াছিল, তাহার তৎক্ষণাৎ মনে হইল, জমিদারের সুবিধা না হইতে পারে, কিন্তু দেবীরও সুবিধা হইবে না। তবে সে সুবিধাটা যে কাহার হইবে তাহাও মুখ দিয়া বাহির করিল না। {{ফাঁক}}রায় মহাশয় স্নিগ্ধ-কণ্ঠে কহিলেন, বাবা নির্ম্মল, তুমি বড় আইন-ব্যবসায়ী, অনেক বোঝ, কিন্তু সংসারে এসে খালি-হাতে আমাকে যখন লড়াই সুরু করতে হয়েছিল, তখন শুধু কেবল বিষয়-সম্পত্তি জমা করেই কাটাইনি, মাথার ভেতরেও কিছু কিছু সঞ্চয় করবার সুযোগ পেয়েছিলাম। তোমাকে লোকে বলচে ওই জমিটুকুর ওপরেই জমিদারের লোভ—ষোড়শী কড়া মেয়ে, ও থাকতে কিছু হবার নয়, তাই নিজেদের কলঙ্কটা রটিয়ে তাকে তাড়াতে চায়। আচ্ছা বাবাজী, বীজগাঁর জমিদারের কাছে ওটুকু কতটুকু সম্পত্তি? তার টাকার দরকার, একটা না হলে আর একটা বিক্রি করবে—আটকাবে না। কিন্তু যেখানে তার সত্যকার আটকেচে, সে সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। এই জঙ্গলের মাঝে মাসের পর মাস সে আর থাকতে পারে না, সহরের মানুষ সহরে যেতে চায়। নির্ম্মল, হৈমর মত তুমিও আমার ছেলে, তোমাকে বলতে সঙ্কোচ হয়, কিন্তু ওই ছুঁড়িটার ভালই যদি করতে চাও ত বলে দিয়ো তার ভয় নেই। চণ্ডীগড়ের ভৈরবীগিরির মুনাফা বেশি নয়—যা তার যাবে, জমিদার তার চতুর্গুণ পুষিয়ে দেবে, এ আমি শপথ করে বলতে পারি। সে তাকে কষ্ট দিতেও চায় না—কষ্ট দেবেও না, দুনৌকোয় পা দিয়ে থাকবার অসম্ভব লোভটা যদি সে একবার ত্যাগ করে। {{ফাঁক}}নির্ম্মল নিরুত্তরে স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। শ্বশুরকে সে অনেকটা জানিত—এতটা জানিত না। এই শ্বশুর ষোড়শীর কল্যাণের পথ যাহা নির্দ্দেশ করিয়া দিলেন তাহাতে তর্ক করিবার প্রবৃত্তি পর্য্যন্ত আর তাহার রহিল না। {{nop}}<noinclude>{{c|১৫৬}}</noinclude> k0jzihmvfpjztbffh2vz5ye5g6qf8np পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭১ 104 883120 1990142 2026-07-16T16:27:38Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990142 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}শাশুড়ীর দুধ গরম করিয়া আনিতে বিলম্ব হইল, তিনি ঘরে ঢুকিয়া স্বামীর পাতের কাছে বাটি নামাইয়া রাখিয়া আহারের স্বল্পতার জন্য জামাতাকে মৃদু ভর্ৎসনা করিলেন, এবং এই ত্রুটি সংশোধন করিবার ভার স্বয়ং গ্রহণ করিয়া অদূরে উপবেশন করিলেন। {{ফাঁক}}কর্ত্তা দুধের বাটি মুখ হইতে নামাইয়া রাখিয়া কহিলেন, কিন্তু মেয়েটার একটা প্রশংসা না করে পারা যায় না—বেটি বিদ্যের যেন সরস্বতী। জানে না এমন শাস্ত্রই নেই। {{ফাঁক}}গৃহিণী তৎক্ষণাৎ সায় দিয়া কহিলেন, তা আর বলতে! দেখেচ ত কাজে-কর্ম্মে সে দাঁড়িয়ে থাকলে তোমার শিরোমণিঠাকুর ভয়ে যেন কেঁচো হয়ে যান। চলে গেলে বুড়োর মুখ সহস্র-ধারে ফোটে, কিন্তু সুমুখে নিন্দে করবার ভরসা পান না। {{ফাঁক}}কর্ত্তা কহিলেন, না না, নিন্দে করবেন কেন, তিনি বরঞ্চ সুখ্যাতিই করেন। {{ফাঁক}}গৃহিণী নাকের মস্ত নথে একটা নাড়া দিয়া ততখানিই প্রতিবাদ করিলেন। বলিলেন, হাঁ, বুড়ো সেই পাত্র কি না! হিংসেয় ফেটে মরেন, আবার সুখ্যাতি করবেন! মনে নেই সেই অন্তুর বোনের প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা নিয়ে কি কাণ্ডই না দিন-কতক করে বেড়ালেন! তা ছাড়া ছুঁড়ি এদিকে যাই করে থাক্, শোকে, দুঃখে, আপদে, গরীব-দুঃখীর এমন মা-বাপও গ্রামে কেউ নেই। যখনি যে কাজেই ডাকো, মুখে হাসিটি যেন লেগে আছে, না বলতে জানে না। {{ফাঁক}}কর্ত্তা খুসি হইলেন না, বলিলেন, হুঁ, সব ভৈরবীই ও-সব করে থাকে। {{ফাঁক}}গৃহিণী বলিলেন, সব? কেন, মাতঙ্গীঠাকরুণকে কি আমি চোখে দেখিনি নাকি? {{ফাঁক}}দেখে থাকলেও ভুলে গেছ। {{ফাঁক}}গৃহিণী রাগ করিয়া জবাব দিলেন, ভুলিনি কিছুই। আজও তাঁর কাছে একশ টাকা পাই—না বলে উড়িয়ে দিলেন। ষোড়শী কখনো কাউকে ঠকিয়ে খায়নি, মিছে কথাও বলেনি। {{ফাঁক}}কর্ত্তা অত্যন্ত অপ্রসন্ন হইয়া কহিলেন, না—যুধিষ্ঠির! বলিয়া তিনি আসন ত্যাগ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন। {{ফাঁক}}গৃহিণী জামাতাকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, আমি ত ভাবি এঁর কল্যাণেই নাতির মুখ আমরা দেখতে পেলাম। না বাবা, যে যাই বলুক, ঠক-জোচ্চোর সে মেয়ে নয়। তাইতে যখন শুনতে পেলাম ঠাকুরের পূজো করাটি সে ছেড়ে দিয়েচে, তখনি সন্দেহ হ’ল এ আবার কি! নইলে কারও কথায় আমি সহজে বিশ্বাস করিনি। {{nop}}<noinclude>{{c|১৫৭}}</noinclude> sjocq1uveaxu246fkxx5x6w2ejgefnq পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭২ 104 883121 1990143 2026-07-16T16:30:36Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990143 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}কর্ত্তা চৌকাঠের বাহিরে পা বাড়াইয়াছিলেন, কান খাড়া করিয়া দাঁড়াইয়া কহিলেন, বলি তার কল্যাণে ত নাতি পেলে, কিন্তু নাতির কল্যাণে মানস-পূজোটি তিনি কেন অস্বীকার করলেন একবার ডেকে জিজ্ঞাসা করতে পারো না? বলিয়া তিনি প্রত্যুত্তরের অপেক্ষা না করিয়াই চলিয়া গেলেন। {{ফাঁক}}নির্ম্মলের খাওয়া শেষ হইয়াছিল, সেও উঠিয়া দাঁড়াইল; কহিল, ষোড়শীর ওপর থেকে দেখচি মায়ের ভক্তি আজও যায়নি। {{ফাঁক}}না বাবা, মিছে কথা কেন বলব, তার মুখখানি মনে হলেই আমার যেন কান্না পায়। এঁরা সকলে মিলে কেন যে তার বিপক্ষে এত লেগেচেন আমি ভেবেই পাইনে। {{ফাঁক}}নির্ম্মল একটুখানি মৃদু হাসিয়া কর্ত্তার খোঁচার অনুসরণ করিয়া কহিল, কিন্তু মা তার মন্ত্রতন্ত্রের বিদ্যের কথাটাও একটু ভেবো— {{ফাঁক}}শাশুড়ী কি একটা বলিতে যাইতেছিলেন, দাসী আসিয়া ঘরের আড়ালে দাঁড়াইয়া কহিল, কে একজন জামাইবাবুকে ডাকতে এসেচে—বাবু খবর দিতে বললেন। {{ফাঁক}}নির্ম্মল হাত-মুখ ধুইয়া বাহিরে আসিয়া দেখিল ইতিমধ্যে গ্রামের অনেকেই আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন, এবং সন্ধ্যার পরে মন্দিরে যে বৈঠক বসিবে তাহারই আলোচনা সুরু হইয়া গেছে। শিরোমণি মহাশয়ের আজ অমাবস্যার উপবাস, তিনি নির্ম্মলকে ডাকিয়া আশীর্ব্বাদ করিলেন, এবং বাবাজীকে হঠাৎ চিনিতে পারেন নাই বলিয়া নিজের বৃদ্ধত্বের প্রতি দোষারোপ করিলেন। যে লোকটা থামের পাশে দাঁড়াইয়াছিল, সে নমস্কার করিয়া জানাইল যে, ভৈরবীঠাকরুণ অপেক্ষা করিয়া আছেন, তাঁহার সহিত বিশেষ কথা আছে। {{ফাঁক}}নির্ম্মলের হঠাৎ অত্যন্ত লজ্জা করিয়া উঠিল। সে পিছনে না চাহিয়াও স্পষ্ট অনুভব করিল সকলে উৎসুক কৌতুকে তাহার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করিয়া আছে। ইহার অভ্যন্তরে যে গোপন বিদ্রূপ আছে, তাহা তাহাকে অপমানিত করিল; অন্য সময় হয়ত সে ইহাকে অত্যন্ত সহজে অবহেলা করিতে পারিত, কিন্তু আজ সে নিজের মধ্যে সে জোর খুঁজিয়া পাইল না, কিছুতেই মুখ দিয়া বাহির করিতে পারিল না, চল, আমি যাচ্ছি। বরঞ্চ যেন লজ্জিত হইয়াই লোকটাকে বলিয়া ফেলিল, বলগে, আমার এখন যাবার সুবিধে হবে না। {{ফাঁক}}শিরোমণি গায়ে পড়িয়া কহিলেন, ওকে জিরোবার একটু সময় দাও তোমরা—কি বল হে? বলিয়া তিনি চোখের একটা ইসারা করিয়া অকারণে হাঃ হাঃ<noinclude>{{c|১৫৮}}</noinclude> tawhum2oz086ad7ttrtq8k42175mksv পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৩২ 104 883122 1990144 2026-07-16T16:34:06Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990144 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>যায় না। ১৮৬৬ অব্দের মন্বন্তরে প্রায় দশ লক্ষ লোক মরিয়াছিল। যদি কোনদিন ১৯৪৩ অব্দের নিরপেক্ষ সত্য বিবরণ বাহির হয়, দেখা যাইবে সেবারের লোকক্ষয় পূর্ববর্তী সকল মন্বন্তরকে ছাড়াইয়া গিয়াছে। {{ফাঁক}}১৮৬৫ অব্দে বিভিন্ন জেলার কালেক্টররা আংশিক অজন্মা লক্ষ্য করিয়া প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধান করিতে চাহিলেন। কিছু, খাজনা মকুব করিবারও কথা হইল। কিন্তু কমিশনারেরা উহা সমর্থন করিলেন না। রেভেনিউ-বোর্ডও এইরূপ প্রস্তাব সরাসরি বাতিল করিয়া দিলেন। বোর্ড এক বিস্তৃত বিবরণীতে বাঙলা-সরকারকে জানাইলেন, ফসল কিছু কম হইতে পারে বটে—কিন্তু তাহাতে ভাবনার কিছু, নাই; এই ফসলেই লোকের খাবার কুলাইয়া যাইবে। আগামী বৎসরের জন্য মজুত অবশ্য কম থাকিবে, কিন্তু দুর্ভিক্ষ হইবার কোনই সম্ভাবনা নাই। {{ফাঁক}}১৯৪৩ অব্দেও সেই অবস্থা। ব্রহ্মদেশ বেহাত হইয়া যাইবার পর কথা উঠিল, বৎসরের শেষের দিকে বাঙলায় অন্নাভাব ঘটিতে পারে। কথাটা তুলিলেন, ভারত-সরকারের খুব মোটা মাহিনার এক কর্মচারী। ব্যস, ঐ পর্যন্ত। ৩০শে এপ্রিল (১৯৪৩) তারিখের কাগজে বাহির হইল, একটা লোকের শব ব্যবচ্ছেদ করিয়া পেটের মধ্যে ঘাস পাওয়া গিয়াছে। ক্ষুধার তাড়নায় হতভাগ্য ঘাস খাইয়াছে, হজম করিতে পারে নাই। কিন্তু উহারই এক সপ্তাহ পরে (৭ই মে) সরবরাহ-সচিব বলিলেন, ‘সঙ্কটের সমাধান অদূরবর্তী'। পরদিন ৮ই মে বলিলেন, 'বাস্তবিক পক্ষে বাঙলায় যথেষ্ট খাদ্যশস্য রহিয়াছে।’ তখনকার খাদ্য-বিভাগের বড়কর্তা মেজর জেনারেল উড ১৩ই মে বিস্তর অঙ্ক কষিয়া দেখাইলেন, বাঙলায় কোন অভাব নাই। কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব মাননীয় আজিজুল হক ১৫ই মে কৃষ্ণনগরে বলিলেন, 'বাঙলায় এখনও চাউলের কমতি হয় নাই’। ৩০শে তারিখেও 'বাঙলার অপ্রচুর খাদ্য রহিয়াছে অথবা আমদানি অপ্রচুর হইতেছে'—একথা সুরাবর্দি সাহেব বলিতে পারেন নাই। {{ফাঁক}}১৮৬৬ অব্দে তখনকার লাট স্যার সিসিল বীডনের গবর্ণমেণ্ট বলিয়াছিলেন, দেশে প্রকৃত অন্নাভাব হয় নাই; ব্যবসায়ীদের হাতে প্রচুর খাদ্যশস্য রহিয়াছে, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় তাহারা মজুত করিয়া রাখিয়াছে। ১৯৪৩ অব্দে বাংলা-সরকারও বলিলেন, 'বাংলায় যে<noinclude>{{rh||২৬|}}</noinclude> 32a4hu9ycklvzz8bfoi2tj84k9jxj7f 1990153 1990144 2026-07-16T17:02:33Z Bodhisattwa 2549 /* বৈধকরণ */ 1990153 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="4" user="Bodhisattwa" /></noinclude>যায় না। ১৮৬৬ অব্দের মন্বন্তরে প্রায় দশ লক্ষ লোক মরিয়াছিল। যদি কোনদিন ১৯৪৩ অব্দের নিরপেক্ষ সত্য বিবরণ বাহির হয়, দেখা যাইবে সেবারের লোকক্ষয় পূর্ববর্তী সকল মন্বন্তরকে ছাড়াইয়া গিয়াছে। {{ফাঁক}}১৮৬৫ অব্দে বিভিন্ন জেলার কালেক্টররা আংশিক অজন্মা লক্ষ্য করিয়া প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধান করিতে চাহিলেন। কিছু খাজনা মকুব করিবারও কথা হইল। কিন্তু কমিশনারেরা উহা সমর্থন করিলেন না। রেভেনিউ-বোর্ডও এইরূপ প্রস্তাব সরাসরি বাতিল করিয়া দিলেন। বোর্ড এক বিস্তৃত বিবরণীতে বাঙলা-সরকারকে জানাইলেন, ফসল কিছু কম হইতে পারে বটে—কিন্তু তাহাতে ভাবনার কিছু, নাই; এই ফসলেই লোকের খাবার কুলাইয়া যাইবে। আগামী বৎসরের জন্য মজুত অবশ্য কম থাকিবে, কিন্তু দুর্ভিক্ষ হইবার কোনই সম্ভাবনা নাই। {{ফাঁক}}১৯৪৩ অব্দেও সেই অবস্থা। ব্রহ্মদেশ বেহাত হইয়া যাইবার পর কথা উঠিল, বৎসরের শেষের দিকে বাঙলায় অন্নাভাব ঘটিতে পারে। কথাটা তুলিলেন, ভারত-সরকারের খুব মোটা মাহিনার এক কর্মচারী। ব্যস, ঐ পর্যন্ত। ৩০শে এপ্রিল (১৯৪৩) তারিখের কাগজে বাহির হইল, একটা লোকের শব ব্যবচ্ছেদ করিয়া পেটের মধ্যে ঘাস পাওয়া গিয়াছে। ক্ষুধার তাড়নায় হতভাগ্য ঘাস খাইয়াছে, হজম করিতে পারে নাই। কিন্তু উহারই এক সপ্তাহ পরে (৭ই মে) সরবরাহ-সচিব বলিলেন, ‘সঙ্কটের সমাধান অদূরবর্তী’। পরদিন ৮ই মে বলিলেন, ‘বাস্তবিক পক্ষে বাঙলায় যথেষ্ট খাদ্যশস্য রহিয়াছে।’ তখনকার খাদ্য-বিভাগের বড়কর্তা মেজর জেনারেল উড ১৩ই মে বিস্তর অঙ্ক কষিয়া দেখাইলেন, বাঙলায় কোন অভাব নাই। কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব মাননীয় আজিজুল হক ১৫ই মে কৃষ্ণনগরে বলিলেন, ‘বাঙলায় এখনও চাউলের কমতি হয় নাই’। ৩০শে তারিখেও ‘বাঙলার অপ্রচুর খাদ্য রহিয়াছে অথবা আমদানি অপ্রচুর হইতেছে’—একথা সুরাবর্দি সাহেব বলিতে পারেন নাই। {{ফাঁক}}১৮৬৬ অব্দে তখনকার লাট স্যার সিসিল বীডনের গবর্ণমেণ্ট বলিয়াছিলেন, দেশে প্রকৃত অন্নাভাব হয় নাই; ব্যবসায়ীদের হাতে প্রচুর খাদ্যশস্য রহিয়াছে, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় তাহারা মজুত করিয়া রাখিয়াছে। ১৯৪৩ অব্দে বাংলা-সরকারও বলিলেন, ‘বাংলায় যে<noinclude>{{c|২৬}}</noinclude> qg9gmgqazeewddohtthlew2pn2ykm3t পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭৩ 104 883123 1990145 2026-07-16T16:34:18Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990145 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>করিয়া হাসিতে লাগিলেন। কেহ-বা সে হাসিতে প্রকাশ্যে যোগ দিল, কেহ-বা শুধু একটু মুচকিয়া হাসিল। {{ফাঁক}}নির্ম্মল সমস্ত অগ্রাহ্য করিয়া ভিতরে যাইতেছিল, শিরোমণি ডাকিয়া কহিলেন, বলি, বাবাজীকে কি ও-বেটি কৌঁসুলি খাড়া করেচে না কি? {{ফাঁক}}নির্ম্মল উদ্দীপ্ত ক্রোধ দমন করিয়া শান্তভাবে কহিল, মকদ্দমা বাধলে সে কাজ করতে হবে বোধ হয়। {{ফাঁক}}শিরোমণি এ উত্তরের আশা করেন নাই, একটু থতমত খাইয়া বলিলেন, তা যেন করলে, কিন্তু বলে রাখি বাবাজী, এ পুঁটি-মাছের প্রাণ নয়, বাঘা-ভাল্‌কোর সঙ্গে লড়াই—মকদ্দমা হাইকোটে না গড়িয়ে থামবে না, তা নিশ্চয় জেনো। {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, মামলা-মকদ্দমা কোথায় গিয়ে থামে এ ত আমার জানবার কথা শিরোমণিমশায়। {{ফাঁক}}শিরোমণি কহিলেন, সে ত বটেই, এ হ’ল তোমার ব্যবসা, তুমি আর জানবে না! কিন্তু তারও ত ঢের খরচপত্র আছে, সে দেবে কে? বলিয়া তিনি মুখ টিপিয়া হাসিলেন। কিন্তু এ হাসিতে এবারে কেহ যোগ দিল না। {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, অভাব হলে আমি দেব। {{ফাঁক}}তাহার জবাব শুনিয়া শুধু শিরোমণি নয় উপস্থিত সকলেই অবাক্ হইয়া গেলেন। রায় মহাশয় নিজেও ধৈর্য্য ধারণ করিতে পারিলেন না; রুক্ষকণ্ঠে বলিয়া ফেলিলেন, তোমাদের ঠাট্টা-তামাসার সম্পর্ক নয় নির্ম্মল, বিশেষতঃ শিরোমণিমশায় প্রাচীন এবং সম্মানিত ব্যক্তি—উপহাস করা তোমার সাজে না। {{ফাঁক}}নির্ম্মল চুপ করিয়া রহিল; শিরোমণি সামলাইয়া লইয়া একটু হাসিবার প্রয়াস করিয়া কহিলেন, টাকা ত দেবে, কিন্তু দেবার গরজটা কি একটু শুনতে পাইনে? {{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, আমার গরজ শুধু আপনাদের অন্যায় অত্যাচার। আমি যেখানে থাকি সেখানে যদি একবার খোঁজ নেন ত শুনতে পাবেন জীবনে অনেক গরজই আমি মাথায় তুলে নিয়েচি। {{ফাঁক}}যে লোকটা ডাকিতে আসিয়াছিল, সে তখনও যায় নাই; কহিল, আপনার কখন যাবার সুবিধে হবে তাঁকে জানাবো? {{ফাঁক}}আমার সময়-মত দেখা করব ব’লো। বলিয়া সে বাটীর ভিতর প্রস্থান করিল। {{ফাঁক}}সায়াহ্ন-বেলায় জনার্দ্দন রায় প্রস্তুত হইয়া আসিয়া প্রাঙ্গণে দাঁড়াইয়া ডাক দিয়া কহিলেন, মন্দিরে সকলে উপস্থিত হয়েচেন, তোমাকে তাঁরা ডাকতে পাঠিয়েচেন, যদি যাও ত আর বিলম্ব ক’রো না। {{nop}}<noinclude>{{c|১৫৯}}</noinclude> gsu57mkg6c89fsrymco1pvs73bcxg40 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭৪ 104 883124 1990146 2026-07-16T16:37:14Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990146 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}নির্ম্মল বাহিরে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, আমার যাওয়া কি আপনি প্রয়োজন মনে করেন? {{ফাঁক}}জনার্দ্দন কহিলেন, যাঁরা ডাকতে পাঠিয়েচেন, তাঁরা নিশ্চয়ই করেন, এই বলিয়া তিনি অগ্রসর হইলেন। {{ফাঁক}}সন্ধ্যার অব্যবহিত পরেই দেবীর আরতি সুরু হইল। মাতার বহুবিধ গৌরবের বস্তুই কালক্রমে বিরল হইয়া আসিতেছে, কিন্তু তাঁহার শঙ্খ, ঘণ্টা, কাঁসর, ঢাক, ঢোল, সানাই প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রীর সংখ্যা প্রাচীনকাল হইতে অদ্যাবধি তেমনি বজায় আছে। সেই সম্মিলিত তুমুল বাদ্যনিনাদ নির্ম্মল ঘরে বসিয়াই শুনিতে পাইল। কথা ছিল, আরতি শেষ হইলে পঞ্চায়েত বসিবে, অতএব সেই সুপবিত্র ধ্বনি থামিবার পরে সে গৃহ হইতে যাত্রা করিল। মন্দিরে প্রবেশ করিয়া দেখিল আলোর বন্দোবস্ত বিশেষ কিছু নাই, প্রাঙ্গণ-মধ্যস্থিত নাট-বাঙ্গলায় গোটা-দুই লণ্ঠন মাঝখানে রাখিয়া একটা কোলাহল উঠিয়াছে এবং তাহাই বহুলোক ঘেরিয়া দাঁড়াইয়া উৎকর্ণ হইয়া শুনিতেছে। সেই অন্ধকারে নির্ম্মলকে কেহ চিনিল না, সে জন-দুই লোকের কাঁধের উপর উঁকি মারিয়া দেখিল তথায় কে একজন বাবু-গোছের ভদ্রলোক হাত-মুখ নাড়িয়া কি সব বলিতেছেন। কিছুই শুনা গেল না, কিন্তু মানুষের আগ্রহ দেখিয়া এ-কথা বুঝা গেল তিনি অত্যন্ত শ্রুতিমধুর কাহারও নিন্দা ও গ্লানি করিতেছেন। এই ব্যক্তিই যে জমিদার জীবানন্দ চৌধুরী তাহা সে আন্দাজ করিল, অতএব বক্তব্য বস্তু যে ষোড়শীর জীবন-চরিত তাহাতে সন্দেহ রহিল না। ভিড় ঠেলিয়া সম্মুখে উপস্থিত হইতে যদিচ তাহার প্রবৃত্তি হইল না, কিন্তু, দুই-একটা কথা শুনিবার লোভও সে সম্পূর্ণ ত্যাগ করিতে না পারিয়া পায়ের দুই আঙুলে ভর দিয়া উদ্‌গ্রীব হইয়া দাঁড়াইল। কয়েক মুহূর্ত্তেই মনে লাগিয়া গেল, তখনও জীবানন্দ চৌধুরী আসল বস্তুতে অবতীর্ণ হয় নাই—ষোড়শীর মায়ের ইতিবৃত্তেরই আখ্যান চলিতেছিল, অবশ্য সমস্তই শোনা কথা। সাক্ষী তারাদাস অদূরে বসিয়া—এই সকল অসচ্চরিত্র স্ত্রীলোকদিগের সংস্রবে কিরূপে এই পীঠস্থান ক্রমশঃ ধীরে ধীরে অপবিত্র হইয়া উঠিতেছে এবং সমস্ত দেশের কল্যাণ তিরোহিত হইতেছে— {{ফাঁক}}পিছনে পিঠের ওপর একটু চাপ পড়িতে ফিরিয়া দেখিল কে একজন অন্ধকারে আগাগোড়া মুড়ি দিয়া তাহাকে বাহিরের দিকে ইসারা করিল এবং তাহাকেই অনুসরণ করিয়া কয়েক পদ অগ্রসর হইতে নির্ম্মল স্পষ্ট বুঝিতে পারিল এই সুগঠিত<noinclude>{{c|১৬০}}</noinclude> 5fhwom728bewnsk664arfim13xnj6w7 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭৫ 104 883125 1990147 2026-07-16T16:41:15Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990147 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>দীর্ঘ ঋজু দেহ ষোড়শী ভিন্ন আর কাহারও নহে। সে দ্বারের বাহিরে আসিয়া ফিরিয়া দাঁড়াইল এবং ঈষৎ একটু হাসিয়া অভিযোগের কণ্ঠে কহিল, ছি, কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যা তা শুনচেন! কতকগুলো কাপুরুষ মিলে দুজন অসহায় স্ত্রীলোকের কুৎসা রটনা করছে—তাও আবার একজন মৃত, আর একজন অনুপস্থিত। চলুন আমার ঘরে, সেখানে ফকিরসাহেব বসে আছেন, আপনাকে পরিচিত করে দিইগে। {{ফাঁক}}তিনি কবে এলেন? {{ফাঁক}}কি জানি! বিকেলবেলা ফিরে গিয়ে দেখি আমার ঘরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে। আনন্দ আর রাখতে পারলাম না, প্রণাম করে নিয়ে গিয়ে আমার ঘরে বসালাম, সমস্ত ইতিহাস মন দিয়ে শুনলেন। {{ফাঁক}}শুনে কি বললেন? {{ফাঁক}}শুধু একটুখানি হাসলেন। বোধ হ’ল যেন সমস্তই জানতেন। কিন্তু হাঁ নির্ম্মলবাবু, আপনি নাকি বলেচেন আমার মামলা-মকদ্দমার সমস্ত ভার নেবেন? এ কি সত্যি? {{ফাঁক}}নির্ম্মল ঘাড় নাড়িয়া কহিল, হাঁ সত্যি। {{ফাঁক}}কিন্তু কেন নেবেন? {{ফাঁক}}নির্ম্মল একমুহূর্ত্ত চুপ করিয়া থাকিয়া কহিল, বোধ করি আপনার প্রতি অন্যায় অত্যাচার হচ্চে বলেই। {{ফাঁক}}কিন্তু আর কিছু বোধ করেন না ত? বলিয়াই ষোড়শী ফিক্‌ করিয়া হাসিয়া ফেলিয়া কহিল, থাক্‌ সব কথার জবাব দিতেই হবে এমন কিছু শাস্ত্রের অনুশাসন নেই। বিশেষ করে কূট-কচালে শাস্ত্রের—না? আসুন, আমার ঘরে আসুন। {{ফাঁক}}তাহার কুটীরে প্রবেশ করিয়া দেখিল ফকিরসাহেব নাই। কহিল, কোথায় গেছেন, বোধ হয় এখনি ফিরে আসবেন। প্রদীপ স্তিমিত হইয়া আসিয়াছিল, উজ্জল করিয়া দিয়া পাতা আসনখানি দেখাইয়া দিয়া কহিল, বসুন। হাঙ্গামা, হৈ-চৈ, গণ্ডগোলের মাঝে এমন সময় পাইনে যে, বসে দুদণ্ড গল্প করি। আচ্ছা, মকদ্দমার যেন সকল ভারই নিলেন, কিন্তু যদি হারি, তখন ভার কে নেবে? তখন পেছবেন না ত? {{ফাঁক}}নির্ম্মল জবাব দিতে পারিল না, তাহার কান পর্য্যন্ত রাঙা হইয়া উঠিল। খানিকক্ষণ পরে কহিল, হারবার কোন সম্ভাবনা আমাদের নেই। {{ফাঁক}}তা বটে। বলিয়া একবার একটুখানি যেন ষোড়শী বিমনা হইয়া পড়িল, কিন্তু পলকমাত্র। সহসা চকিত হইয়া প্রশ্ন করিল, ছেলে কেমন আছে নির্ম্মলবাবু? কি করে তাকে ছেড়ে এলেন বলুন ত? আমি ত পারিনে! {{nop}}<noinclude>{{c|১৬১}}</noinclude> 7fc8jwyg3g3plurouklf303l3yo8ncv পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭৬ 104 883126 1990148 2026-07-16T16:43:48Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990148 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}অকস্মাৎ এই অসংলগ্ন প্রশ্নে নির্ম্মল আশ্চর্য্য হইল। ষোড়শী একবার এ-দিকে একবার ও-দিকে বার দুই-তিন মাথা নাড়িয়া হাসিমুখে বলিল, আমি কিন্তু হৈম হলে এই সমস্ত পরোপকার করা আপনার ঘুচিয়ে দিতাম। অত ভালমানুষ নই—আমার কাছে ফাঁকি চলত না—রাত্রি-দিন চোখে চোখে রাখতাম। {{ফাঁক}}ইঙ্গিত এত সুস্পষ্ট যে নির্ম্মলের বুকের মধ্যেটা বিস্ময়ে, ভয়ে ও আনন্দে একই সঙ্গে ও একই কালে তরঙ্গিত করিয়া উঠিল। এবং সেই অসংবৃত অবসরে মুখ দিয়া তাহার বাহির হইয়া গেল, চোখে চোখে রাখলেই কি রাখা যায় ষোড়শী? এর বাঁধন যেখানে সুরু হয় চোখের দৃষ্টি যে সেখানে পৌছায় না, এ-কথা আজও জানতে তুমি পারোনি? {{ফাঁক}}পেরেচি বই কি, বলিয়া ষোড়শী হাসিল। বাহিরে হঠাৎ একটা শব্দ শুনিয়া গলা বাড়াইয়া কহিল, এই যে ইনি এসেচেন। {{ফাঁক}}কে? ফকিরসাহেব? {{ফাঁক}}না, জমিদারবাবু। বলে পাঠিয়েছিলাম সভা ভাঙলে যাবার পথে আমার কুঁড়েতে একবার একটু পদধূলি দিতে। তাই দিতেই বোধ হয় আসচেন। সঙ্গে লোকজন বিস্তর, স্ত্রীলোকের ঘরে একাকী আসতে বোধ করি সাধু-পুরুষের ভরসায় কুলোয়নি। পাছে দুর্নাম হয়। বলিয়া সে হাসিতে লাগিল। {{ফাঁক}}ব্যাপারটা নির্ম্মলের একেবারে ভাল লাগিল না। সে বিরক্তি ও সঙ্কোচে আড়ষ্ট হইয়া বলিল, এ-কথা আমাকে আপনি বলেননি কেন? {{ফাঁক}}বেশ! একবার তুমি একবার আপনি, বলিয়া সে হাসিয়া কহিল, ভয় নেই, উনি ভারি ভদ্রলোক, লড়াই করেন না। তা ছাড়া আপনাদের ত পরিচয় নেই—সেটাও একটা লাভ। বলিয়া সে দ্বারের বাহিরে অগ্রসর হইয়া অভ্যর্থনা করিয়া কহিল, আসুন—আমার কুঁড়ে আর একবার পবিত্র হ’ল। {{ফাঁক}}জীবানন্দ চৌকাঠে পা দিয়া থাকিয়া দাঁড়াইয়া ক্ষণকাল নিরীক্ষণ করিয়া কহিল, ইনি? নির্ম্মলবাবু বোধ হয়? {{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিমুখে জবাব দিল, হাঁ, আপনার বন্ধু বলে পরিচয় দিলে খুব সম্ভব অতিশয়োক্তি হবে না। {{nop}}<noinclude>{{c|১৬২}}</noinclude> gerzuixoyzc99627ond4e26c0xx5f2r পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭৭ 104 883127 1990149 2026-07-16T16:46:58Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990149 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|'''২২'''}} {{ফাঁক}}অনুমান যে ভুল নয়, লোকটি যে সত্য-সত্যই নির্ম্মল বসু, তাহা বুঝিতে পারিয়া জীবানন্দ প্রথমে চমকিত হইল, কিন্তু যে কোন অবস্থায় নিজেকে মুহূর্ত্তে সামলাইয়া লইবার শক্তি তাহার অদ্ভুত। সে সামান্য একটু হাসিয়া বলিল, বিলক্ষণ! বন্ধু নয় ত কি? ওঁদের কৃপাতেই ত টিকে আছি, নইলে মামার জমিদারী পাওয়া পর্য্যন্ত যে সব কীর্ত্তি করা গেছে, তাতে চণ্ডীগড়ের শান্তিকুঞ্জের বদলে ত এতদিন আন্দামানের শ্রীঘরে গিয়ে বসবাস করতে হ’ত। {{ফাঁক}}নির্ম্মলের গোড়া হইতেই ভাল লাগে নাই, কিন্তু নিজের দুষ্কৃতির এই লজ্জাহীন, অনাবৃত রসিকতার চেষ্টায় তাহার গা জ্বলিয়া গেল। মুখ লাল করিয়া কি একটা বলিতেও চাহিল, কিন্তু বলিতে হইল না। ষোড়শী জবাব দিল, কহিল, চৌধুরীমশায়, উকিল-ব্যারিষ্টার বড়লোক বলে বাহবাটা কি একা ওরাই পাবেন? আন্দামান প্রভৃতি বড় ব্যাপারে না হোক, কিন্তু ছোট বলে এ-দেশের শ্রীঘরগুলোও ত মনোরম স্থান নয়—দুঃখী বলে ভৈরবীরা কি একটু ধন্যবাদ পেতে পারে না? {{ফাঁক}}জীবানন্দ অপ্রস্তুত হইয়া হঠাৎ যাহা মুখে আসিল কহিল। বলিল, ধন্যবাদ পাবার সময় হলেই পাবে। {{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিয়া কহিল, এই যেমন মন্দিরে দাঁড়িয়ে এইমাত্র এক দফা দিয়ে এলেন। {{ফাঁক}}জীবানন্দ ইহার কোন জবাব দিল না। নির্ম্মলের প্রতি চাহিয়া কহিল, আপনার শ্বশুরমশায়ের মুখে শুনলাম আপনি আসচেন—আশা করেছিলাম মন্দিরে আলাপ হবে। {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, সে আমার দোষ চৌধুরীমশায়। উনি এসেওছিলেন এবং সদালাপে যোগ না দিন, ভিড়ের বাইরে দাঁড়িয়ে গলা বাড়িয়ে শোনবার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু আমি দেখতে পেয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে এলাম। বললাম, চলুন নির্ম্মলবাবু, ঘরে বসে বরঞ্চ দুটো গল্প-স্বল্প করা যাক। {{ফাঁক}}জীবানন্দ মনের উত্তাপ চাপিয়া কতকটা সহজ গলাতেই কহিল, তা হলে আমি এসে পড়ে ত ব্যাঘাত দিলাম। {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, দিয়ে থাকলেও আপনার দোষ নেই—আমিই আপনাকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, কিন্তু কেন? গল্প করতে নয় বোধ হয়? {{nop}}<noinclude>{{c|১৬৩}}</noinclude> pv3zq7rbwd717jpyzvqvngk2tt22pn6 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭৮ 104 883128 1990150 2026-07-16T16:49:20Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990150 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিয়া ফেলিল; বলিল, না গো মশায়, না—বরঞ্চ ঠিক তার উল্টো। আজ আপনাকে আমি ভারি বকবো। তাহার কণ্ঠস্বর ও কথা কহিবার ভঙ্গি দেখিয়া নির্ম্মল ও জীবানন্দ উভয়েই আশ্চর্য্য হইয়া চাহিয়া রহিল। ষোড়শী একটুখানি গম্ভীর হইয়া বলিল, ছি ছি, ওখানে আজ অত কি করছিলেন বলুন ত? একটা সভার আড়ম্বর করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুজন অসহায় স্ত্রীলোকের কি কুৎসাই রটনা করছিলেন! এর মধ্যে একজন আবার বেঁচে নেই। এ কি কোন পুরুষের পক্ষেই সাজে? তা ছাড়া কি প্রয়োজন ছিল বলুন ত? সেদিন এই ঘরে বসেই ত আপনাকে বলেছিলাম, আপনি আমাকে যা আদেশ করবেন আমি পালন করব। আপনিও আপনার হুকুম স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, আমিও আমার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করিনি। এই নিন মন্দিরের চাবি, এই নিন হিসাবের খাতা। বলিয়া সে অঞ্চল হইতে চাবির গোছা খুলিয়া এবং তাকের উপর হইতে একখানা খেরো-বাঁধানো মোটা খাতা পাড়িয়া জীবানন্দের পায়ের কাছে রাখিয়া দিয়া কহিল, মায়ের যা কিছু অলঙ্কার, যত কিছু দলিল-পত্র সিন্দুকের ভিতরই পাবেন, এবং আরও একখানা কাগজ পাবেন যাতে ভৈরবীর সকল দায়িত্ব ও কর্ত্তব্য ত্যাগ করে আমি সই করে দিয়েচি। {{ফাঁক}}জীবানন্দ বোধ করি ঠিক বিশ্বাস করিতে পারিল না, কহিল, বল কি! কিন্তু ত্যাগ করলে কার কাছে? {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, তাতেই লেখা আছে দেখতে পাবেন। {{ফাঁক}}তাই যদি হয় ত এই চাবিগুলো তাঁকেই দিলে না কেন? {{ফাঁক}}তাঁকেই যে দিলাম। বলিয়া ষোড়শী মুখ টিপিয়া একটু হাসিল। কিন্তু সেই হাসি দেখিয়া এইবার জীবানন্দের মুখ মলিন হইয়া উঠিল; সে ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া সন্দিগ্ধ-কণ্ঠে কহিল, কিন্তু এ ত আমি নিতে পারিনে। খাতায় লেখা নামগুলোর সঙ্গে যে সিন্দুকের রাখা জিনিসগুলোও এক হবে, সে আমি কি করে বিশ্বাস করব? তোমার আবশ্যক থাকে তুমি পাঁচজনের কাছে বুঝিয়ে দিয়ো। {{ফাঁক}}ষোড়শী ঘাড় নাড়িয়া কহিল, আমার সে আবশ্যক নেই। কিন্তু চৌধুরীমশায়, আপনার এ অজুহাতও অচল। একদিন চোখ বুজে যার হাত থেকে বিষ নিয়ে খাবার ভরসা হয়েছিল, তার হাত থেকে আজ এটুকু চোখ বুজে নেবার সাহস হওয়া আপনার উচিত। অপরকে বিশ্বাস করবার শক্তি আপনার সত্যসত্যই এত কম, এ-কথা আমি কোনমতে স্বীকার করতে পারিনে। নিন—ধরুন, বলিয়া সে খাতা এবং চাবির গোছা মাটি হইতে তুলিয়া একরকম জোর করিয়া জীবানন্দের হাতে<noinclude>{{c|১৬৪}}</noinclude> kj982kg5ce84d5enjqf4z96exwm4o09 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৭৯ 104 883129 1990151 2026-07-16T16:53:55Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990151 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>গুঁজিয়া দিয়া বলিল, আজ আমি বাঁচলাম। আমার কোন ভারই ত কোন দিন নেননি, এইটুকু না নিলে যে ধর্ম্মে পতিত হবেন! তা ছাড়া পরকালে জবাব দেবেন কি? বলিয়া হাসিতে হাসিতে কহিল, পরকালের চিন্তায় ত আপনার ঘুম হয় না, সে আমি জানি, কিন্তু যা হয়ে গেছে তা গেছে, ভবিষ্যতে ত কিছু কিছু চিন্তা করতে হবে তা বলে দিচ্চি। তাহার মুখের হাসি সত্ত্বেও কণ্ঠস্বর যেন ইহার শেষ দিকে কোমলতায় বিগলিত হইয়া উঠিল। কহিল, আর একটিমাত্র ভার আপনাকে দিয়ে যাবো, সে আমার গরীব দুঃখী প্রজাদের ভার। আমি শত ইচ্ছে করেও তাদের ভাল করতে পারিনি, কিন্তু আপনি অনায়াসে পারবেন। নির্ম্মলের প্রতি চাহিয়া কহিল, আমার কথাবার্ত্তা শুনে আপনি আশ্চর্য্য হয়ে গেছেন, না নির্ম্মলবাবু? {{ফাঁক}}নির্ম্মল মাথা নাড়িয়া বলিল, শুধু আশ্চর্য্য নয়, আমি প্রায় অভিভূত হয়ে পড়েছি। ভৈরবীর আসন ত্যাগ করে যে আপনি ইতিমধ্যে ছাড়পত্র পর্য্যন্ত সই করে রেখেচেন, এ খবর ত আমাকে ঘুণাগ্রে জানাননি? {{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিমুখে কহিল, আমার অনেক কথাই আপনাকে জানানো হয়নি, কিন্তু একদিন হয়ত সমস্তই জানতে পারবেন। কেবল একটিমাত্র মানুষ সংসারে আছেন যাঁকে সকল কথাই জানিয়েচি, সে আমার ফকিরসাহেব। {{ফাঁক}}এ-সকল পরামর্শ বোধ করি তিনিই দিয়েচেন? {{ফাঁক}}ষোড়শী তৎক্ষণাৎ জবাব দিল, না, তিনি আজ সকাল পর্য্যন্ত কিছুই জানতেন না, এবং ওই যাকে ছাড়পত্র বলচেন সে আমার কাল রাত্রের রচনা। যিনি এ-কাজে আমাকে প্রবৃত্তি দিয়েছেন, শুধু তাঁর নামটিই আমি সংসারে সকলের কাছে গোপন রাখবো। {{ফাঁক}}জীবানন্দ কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া হঠাৎ একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, মনে হচ্ছে যেন বাড়িতে ডেকে এনে আমার সঙ্গে কি একটা প্রকাণ্ড তামাসা করচ ষোড়শী! এ বিশ্বাস করা যেন সেই মরফিয়া খাওয়ার চেয়ে শক্ত ঠেকচে! {{ফাঁক}}এতক্ষণ পরে নির্ম্মল তাহার পানে চাহিয়া একটু হাসিল, কহিল, আপনি ত শুধু এই কয়েক পা মাত্র হেঁটে এসে তামাসা দেখচেন, কিন্তু আমাকে কাজ-কর্ম্ম বাড়িঘর ফেলে রেখে এই তামাসা দেখতে আটশ মাইল ছুটে আসতে হয়েচে। এ যদি সত্য হয়, আপনি যা চেয়েছিলেন অন্ততঃ সেটা পেয়ে গেলেন, কিন্তু আমার ভাগ্যে ষোলো-আনাই লোকসান। একে তামাসা বলব কি উপহাস বলব ভেবেই পাচ্ছিনে। বলিয়া সে লোকটার মুখের প্রতি আর একবার ভাল করিয়া চাহিয়া<noinclude>{{c|১৬৫}}</noinclude> el8h1f5tdi5i3oqd284yr3zq5hk3vft পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮০ 104 883130 1990152 2026-07-16T16:56:39Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990152 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>দেখিতে, দেখিতে পাইল তাহার দুই চক্ষু আকস্মিক বেদনার ভারে যেন ভারাক্রান্ত। সে জবাব কিছুই দিল না, শুধু একটুখানি হাসিবার চেষ্টা করিল। {{ফাঁক}}নির্ম্মল ষোড়শীকে প্রশ্ন করিল, এ-সকল ত আপনার পরিহাস নয়? {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, না নির্ম্মলবাবু, আমার এবং আমার মায়ের কুৎসায় দেশ ছেয়ে গেল, এই কি আমার হাসি-তামাসার সময়? আমি সত্য-সত্যই অবসর নিলাম। {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, তা হলে বড় দুঃখে পড়েই এ কাজ আপনাকে করতে হ’ল। {{ফাঁক}}ষোড়শী উত্তর দিল না, নির্ম্মল নিজেও একটু স্থির থাকিয়া বলিল, আমি আপনাকে বাঁচাতে এসেছিলাম, বাঁচাতেও হয়ত পারতাম, তবু কেন যে হতে দিলেন না তা আমি বুঝেচি। বিষয় রক্ষা হ’ত, কিন্তু কুৎসার ঢেউ তাতে তেমনি উত্তাল হয়ে উঠত। এবং সে থামাবার সাধ্য আমার ছিল না। বলিয়া সে যে কাহাকে কটাক্ষ করিল তাহা উপস্থিত সকলেই বুঝিল। কিন্তু জীবানন্দ নীরব হইয়া রহিল এবং ষোড়শী নিজেও ইহার কোন প্রতিবাদ করিল না। {{ফাঁক}}নির্ম্মল জিজ্ঞাসা করিল, এখন তা হলে কি করবেন স্থির করেচেন? {{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, সে আপনাকে আমি পরে জানাবো। {{ফাঁক}}কোথায় থাকবেন? {{ফাঁক}}এ সংবাদও আপনাকে আমি পরে দেবো। {{ফাঁক}}বাহির হইতে সাড়া আসিল, মা! ষোড়শী গলা বাড়াইয়া দেখিয়া কহিল, ভূতনাথ? আয় বাবা, ঘরে নিয়ে আয়। মন্দিরের ভৃত্য আজ একটা বড় ঝুড়ি ভরিয়া দেবীর প্রসাদ, নানাবিধ ফলমূল ও মিষ্টান্ন আনিয়াছিল। ষোড়শী হাতে লইয়া জীবানন্দের মুখের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া স্নিগ্ধ হাসিমুখে কহিল, সেদিন আপনাকে পেট ভরে খেতে দিতে পারিনি, কিন্তু আজ সে ত্রুটি সংশোধন করে তবে ছাড়ব। নির্ম্মলের প্রতি চাহিয়া বলিল, আর আপনি ত ভগিনীপতি, কুটুম্ব— আপনাকে শুধু শুধু যেতে দিলে ত অন্যায় হবে। অনেক তিক্ত কটু আলোচনা হয়ে গেছে, এখন বসুন দিকি দুজনে খেতে। মিষ্টিমুখ না করিয়ে ছেড়ে দিলে আমার ক্ষোভের সীমা থাকবে না। {{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, দিন। কিন্তু জীবানন্দ অস্বীকার করিয়া বলিল, আমি খেতে পারব না। {{ফাঁক}}পারবেন না? কিন্তু পারতেই যে হবে। {{ফাঁক}}জীবানন্দ তথাপি মাথা নাড়িয়া বলিল, না। {{nop}}<noinclude>{{c|১৬৬}}</noinclude> 0gb93yqif2fgo637gl1m4tvcd56c8zu পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/১১৩ 104 883131 1990154 2026-07-16T18:33:18Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990154 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০১|উপসংহার}}</noinclude>{{ফাঁক}}অর্থাৎঃ—মার্কস্বাদ কোন চুড়ান্ত মতবাদ নয়, অথবা বদ্ধ কুসংস্কারও নয়। সে স্বীকার করে যে প্রাকৃতিক সত্যের নব নব আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন হইলে তার বিধি-ব্যবস্থারও পরিবর্ত্তন করিতে হইবে। সামাজিক বা বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের বিভিন্ন ধারাকে তার বিধি-ব্যবস্থা যদি ব্যাখ্যা করিতে অসমর্থ হয়, তবে তাহাদের রদ-বদল করিতেই হইবে। {{ফাঁক}}ইহাই যদি হয় কমিউনিজমের স্বরূপ, তবে আর ইহাকে লইয়া এত আস্ফালনই বা কিসের, আর ভাবনাই বা কিসের! নিত্যপরিবর্তনশীল কোন বস্তুকে লইয়া জোর গলায় বড়াই করিবারও কিছু নাই, ভয় করিবারও কিছু নাই। {{ফাঁক}}কমিউনিজম্ যে পরিবর্তনশীল, তাহা তাহার জীবনের ইতিহাসই সাক্ষ্য দিবে। প্রায় ৩০ বৎসর হইল তার বয়স। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তার চেহারা ও মতিগতির কিরূপ পরিবর্তন হইয়াছে, দেখুনঃ— {{ফাঁক}}(১) ঈশ্বরহীন, ধর্ম্মহীন ও শ্রেণীহীন সমাজ গঠনই ছিল কমিউনিজমের মূল লক্ষ্য। Lenin ধর্ম্মকে “opium of the people” বলিয়া একদম উড়াইয়াই দিয়াছিলেন। ধর্ম্ম এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযান করাই ছিল সোভিয়েট রাশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম্ম। ধর্ম্মের স্বপক্ষে কেহ কোন কথা বলিলে তাহাকে রীতিমত শাস্তি ভোগ করিতে হইত। কিন্তু বর্ত্তমানে কমিউনিজম্ ধর্ম্ম সম্বন্ধে আর অতটা উগ্রমূর্ত্তি নয়। এখন সোভিয়েট গবর্ণমেণ্ট সকলকেই ধর্ম্মের স্বাধীনতা দিয়াছে। ধর্ম্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করিবারও যেমন অধিকার আছে, ধর্ম্মের স্বপক্ষে আন্দোলন করিবারও ঠিক তেমনি অধিকার দেওয়া হইয়াছে। তবে স্টেট্‌ হইতে কোন ধর্ম্ম-প্রতিষ্ঠানকেই কোন সাহায্য দেওয়া হয় না। ধর্ম্ম এখন ব্যক্তিগত ব্যাপার।<noinclude></noinclude> rliyphbzdg07h4c65pt4xjr6ezd7grf 1990168 1990154 2026-07-17T03:29:51Z Bodhisattwa 2549 1990168 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০১|উপসংহার}}</noinclude>{{ফাঁক}}অর্থাৎঃ—মার্কস্বাদ কোন চুড়ান্ত মতবাদ নয়, অথবা বদ্ধ কুসংস্কারও নয়। সে স্বীকার করে যে প্রাকৃতিক সত্যের নব নব আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন হইলে তার বিধি-ব্যবস্থারও পরিবর্ত্তন করিতে হইবে। সামাজিক বা বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের বিভিন্ন ধারাকে তার বিধি-ব্যবস্থা যদি ব্যাখ্যা করিতে অসমর্থ হয়, তবে তাহাদের রদ-বদল করিতেই হইবে। {{ফাঁক}}ইহাই যদি হয় কমিউনিজমের স্বরূপ, তবে আর ইহাকে লইয়া এত আস্ফালনই বা কিসের, আর ভাবনাই বা কিসের! নিত্যপরিবর্তনশীল কোন বস্তুকে লইয়া জোর গলায় বড়াই করিবারও কিছু নাই, ভয় করিবারও কিছু নাই। {{ফাঁক}}কমিউনিজম্ যে পরিবর্তনশীল, তাহা তাহার জীবনের ইতিহাসই সাক্ষ্য দিবে। প্রায় ৩০ বৎসর হইল তার বয়স। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তার চেহারা ও মতিগতির কিরূপ পরিবর্তন হইয়াছে, দেখুনঃ— {{ফাঁক}}(১) ঈশ্বরহীন, ধর্ম্মহীন ও শ্রেণীহীন সমাজ গঠনই ছিল কমিউনিজমের মূল লক্ষ্য। Lenin ধর্ম্মকে “opium of the people” বলিয়া একদম উড়াইয়াই দিয়াছিলেন। ধর্ম্ম এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযান করাই ছিল সোভিয়েট রাশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম্ম। ধর্ম্মের স্বপক্ষে কেহ কোন কথা বলিলে তাহাকে রীতিমত শাস্তি ভোগ করিতে হইত। কিন্তু বর্ত্তমানে কমিউনিজম্ ধর্ম্ম সম্বন্ধে আর অতটা উগ্রমূর্ত্তি নয়। এখন সোভিয়েট গবর্ণমেণ্ট সকলকেই ধর্ম্মের স্বাধীনতা দিয়াছে। ধর্ম্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করিবারও যেমন অধিকার আছে, ধর্ম্মের স্বপক্ষে আন্দোলন করিবারও ঠিক তেমনি অধিকার দেওয়া হইয়াছে। তবে স্টেট্‌ হইতে কোন ধর্ম্ম-প্রতিষ্ঠানকেই কোন সাহায্য দেওয়া হয় না। ধর্ম্ম এখন ব্যক্তিগত ব্যাপার। {{nop}}<noinclude></noinclude> 931r6fjtqj6sigmr3x2y72fk9p335zr পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/১১৪ 104 883132 1990155 2026-07-16T18:39:50Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990155 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০২|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>{{ফাঁক}}(২) পূর্ব্বে ধনসম্পত্তি হইতে ব্যক্তিগত অধিকার (private ownership) একদম তুলিয়া দেওয়া হইয়াছিল; কিন্তু এই আইনও এখন রহিত হইয়া গিয়াছে। এমন কি এখন পুত্র-কন্যাকে কোন ধনসম্পত্তি উইল করিয়াও দেওয়া যায়। ইহা দ্বারা পূর্ব্বের সেই পুঁজিবাদী সমাজের মতই অলস লোকেরা বসিয়া বসিয়া পিতৃদত্ত ধনসম্পত্তি উপভোগ করিতে পারিবে! State Bonds কিনিয়াও বড়লোকেরা প্রভূত ধনসঞ্চয় করিতেছে। {{ফাঁক}}(৩) পূর্ব্বে ছেলে-মেয়েকে একসঙ্গে শিক্ষা (co-education) দেওয়া হইত। কিন্তু এই ব্যবস্থার কুফল বুঝিতে পারিয়া ১৯৪৩ খৃষ্টাব্দে স্ট্যালিন আইন করিয়া এই সহ-শিক্ষা তুলিয়া দিয়াছেন। ছেলে ও মেয়ের শিক্ষা যে স্বতন্ত্র হওয়া উচিত, সোভিয়েট গবর্ণমেণ্ট তাহা মানিয়া লইয়াছে। {{ফাঁক}}(৪) পুঁজিবাদকে তুলিয়া দিয়! দেশে পূর্ণ সাম্যবাদ স্থাপন করাই ছিল কমিউনিজমের প্রধান অঙ্গীকার। উহার মূল উদ্দেশ্য ছিলঃ দেশের সমস্ত শিল্পকে জাতীয় সম্পদে পরিণত (nationalized) করিয়া দেশবাসীর অর্থবৈষম্যকে দূর করা এবং সর্ব্বপ্রকার শ্রেণী-বিভাগ তুলিয়া দিয়া সকলকেই সম-অধিকার দান করা। স্টেট্‌, (State) অথবা ডিক্টেটরশিপ (Dictatorship) প্রতিষ্ঠাও কমিউনিজমের আসল উদ্দেশ্য ছিল না। সর্ব্বসাধারণই হইবে দেশের মালিক—ডিক্টেটরও নয়, স্টেটও নয়—ইহাই ছিল তাহার আদিম পরিকল্পনা। তবে যেহেতু এই চরম সাম্য রাতারাতি আনা যায় না, তাই সাময়িক ব্যবস্থা হিসাবেই ডিক্টেটর ও স্টেটের প্রয়োজন হইয়াছিল। কথা ছিলঃ লোকেরা যখন সাম্যবাদের আদর্শ পুরাপুরি গ্রহণ করিতে পারিবে, তখন এই ডিক্টেটরশিপ এবং স্টেট—দুইই উড়িয়া যাইবে (“The State will wither away"—Lenin)। আবার একথাও ছিল যে, ডিক্টেটর যিনি হইবেন, তিনি জনসাধারণের প্রতিনিধিরূপেই দেশ শাসন করিবেন,—স্বাধীনভাবে বা<noinclude></noinclude> 5kpfg3a4mltv2ijt1bowpo22phhaqnw পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/১১৫ 104 883133 1990156 2026-07-16T18:44:24Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990156 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০৩|উপসংহার}}</noinclude>স্বেচ্ছাচারীরূপে নয়। পূর্ণ সাম্য প্রতিষ্ঠিত হইলে সাম্যনীতিও পরিবর্ত্তিত হইবে। এখন যেমন যোগ্যতা অনুসারে প্রত্যেকের মঞ্জুরী বা ব্যয়-বরাদ্দ করা হয়, তখন আর সেরূপ হইবে না। তখন যাহার যাহা প্রয়োজন হইবে, সে শুধু তাহাই লইয়া সন্তুষ্ট হইবে। “From each according to his capacity to each according to his needs” ইহাই হইবে চরম সাম্যের মূল মন্ত্র। {{ফাঁক}}কিন্তু এই ৩০ বৎসরের সাধনার পর আমরা সোভিয়েট রাশিয়ায় কী দেখিতেছি? স্টেট বা ডিক্টেটরশিপ কি ধীরে ধীরে উঠিয়া যাইবার অবস্থায় আসিয়াছে?—প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু লইব না—এমন মনোবৃত্তি কি লোকদের মধ্যে গঠিত হইয়াছে?—কখনই না। বরং উল্টা ফলই ফলিয়াছে! স্টেট্‌ উঠিয়া যাওয়া ত দূরের কথা, স্টেটই এখন সর্ব্বেসর্বা। ডিক্টেটরের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ত দূরের কথা, ডিক্টেটরই এখন সর্ব্বময় কর্তা। রাশিয়ায় প্রেরিত আমেরিকার ভূতপূর্ব্ব রাজদূত Joseph E. Davies তাঁহার ‘Mission to Moscow’ নামক পুস্তকে লিখিয়াছেনঃ {{ফাঁক}}"The Government is a dictatorship, not of the proletariat, as professed, but over the proletariat. It is completely dominated by one man." {{ফাঁক}}অর্থাৎ:—সোভিয়েট রাশিয়ায় ডিক্টেটরশিপ প্রচলিত; ডিক্টেটর এখন আর পূর্ব্বপ্রতিশ্রুত '''শ্রমিক সাধারণের''' ডিক্টেটর নহেন, এখন তিনি '''শ্রমিক সাধারণের উপর''' ডিক্টেটর। ইহা সম্পূর্ণরূপে এক-জন লোকেরই কর্তৃত্বাধীনে {{ফাঁক}}বস্তুতঃ সোভিয়েট রাশিয়াকে এখন আর সাম্যবাদী বলা চলে না। নামে না হইলেও, কাজে সে এখন পুরাদস্তুর সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী! সাম্যবাদের নামে এমন ধোঁকাবাজী আর দেখা যায় না। সোভিয়েট<noinclude></noinclude> phyuz2z2d49dpouodeqkpgiuy2b70jg পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/১১৬ 104 883134 1990157 2026-07-16T18:48:43Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990157 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০৪|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>রাশিয়া এখন প্রকৃতপক্ষে ‘British Commonwealth’-এরই অনুরূপ। অথবা ইহাকে সম্পূর্ণ এক নূতন ধরণের রাষ্ট্র-আদর্শও বলা যায়। Mr. Masani ঠিকই বলিয়াছেনঃ {{gap}}“Actually a third variety of State is not only possible, but is already coming to existence, and one of the countries where you can see it to-day is Russia.” Socialism Re-considered: p. 28. {{gap}}(৫) জাতীয়তা (Nationalism)-কে দূর করিয়া আন্তর্জাতীয়তা (Internationalism) স্থাপনই ছিল কমিউনিজমের স্বপ্ন। কিন্তু সে-স্বপ্নও মিলাইয়া গিয়াছে। জাতীয়তার দিকেই পুনরায় সোভিয়েট রাশিয়া ঝুঁকিয়া পড়িয়াছে। {{gap}}(৬) সোভিয়েট রাশিয়ায় ব্যক্তি-স্বাধীনতাও যে খুব বেশি আছে, তাও নয়। হিটলারের প্রতিষ্ঠিত Gestapo-র ন্যায় তথায় G. P. U. নামক গুপ্তপুলিস স্থাপিত হইয়াছে। এই G. P. U.-এর ক্ষমতা অসাধারণ। ইহাদের রিপোর্টের উপরেই দেশবাসীর জীবন-মরণ নির্ভর করে। এই গুপ্তপুলিসের কল্যাণে হাজার হাজার নিরীহ লোকের প্রাণদণ্ড হইয়াছে। এ সম্বন্ধে Mark Eastman বলিতেছেনঃ— {{gap}}“If the shedded blood of innocent men were measured, Stalin's would be a lake; Hitler’s a duck pond; Mussolini's could de dipped up by the tankcartful." {{gap}}অর্থাৎঃ— নিরীহ লোকদের যত রক্তপাত হইয়াছে, তাহা যদি মাপা যাইত, তবে স্ট্যালিনের হইত একটা হ্রদ, হিট্‌লারের হইত একটা পুকুর আর মুসোলিনীর হইত একটা ছোট ডোবা। {{gap}}(৭) কমিউনিস্টদের প্রস্তাবনা ছিলঃ শুধু রাশিয়াতে কমিউনিজম্‌ প্রতিষ্ঠিত করিয়াই তাহারা সন্তুষ্ট থাকিবে না, অন্যান্য দেশেও তাহারা<noinclude></noinclude> 0tkb0g1rlwmkzxd85n9o8d8ahtyf3my পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/১১৭ 104 883135 1990158 2026-07-16T18:55:24Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990158 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০৫|উপসংহার}}</noinclude>নিজেদের মতবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করিবে এবং ইহার জন্য প্রয়োজন হইলে তাহারা বিপ্লব ও রক্তপাতও ঘটাইবে। এই উদ্দেশ্যের বশবর্ত্তী হইয়াই তাহারা Communist International বা Comintern স্থাপন করিয়া রাখিয়াছিল। ইহা একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিশেষ। {{gap}}এই কমিনটার্ণ ছিল অন্যান্য নন্-কমিউনিস্ট, দেশের পক্ষে মস্তবড় একটা বিভীষিকা। আশ্চর্য্যের বিষয়ঃ গত ১৯৪৩ খৃষ্টাব্দের শেষ ভাগে স্ট্যালিন এই Comintern ভাঙ্গিয়া দিয়াছেন। ফলে জোর করিয়া ভিন্ন দেশে কমিউনিজম্ চালাইবার সিদ্ধান্ত পরিত্যক্ত হইয়াছে। আন্তর্জাতীয়তার স্বপ্ন তাই ভাঙ্গিয়া গিয়াছে, অন্যান্য দেশও হাফ ছাড়িয়া বাঁচিয়াছে! {{gap}}এইরূপ ছোট-বড় আরও অনেক ব্যাপারই আছে—যাহা দেখিলে বুঝা যায়, কমিউনিজম্ তাহার প্রাথমিক প্রোগ্রাম হইতে সরিয়া আসিয়া নুতন পথ ধরিয়াছে।<ref>এ সম্বন্ধে যাহারা বিস্তারিত ভাবে জানিতে চান, তাহারা Mr. Minoo. Masant প্রণীত Socialism Re-considered নামক পুস্তকখানি পাঠ করুন।</ref> {{gap}}বস্তুতঃ কমিউনিজমের যুগ চলিয়া গিয়াছে। শুধু কমিউনিজম্ নয়,—এখন আর কোন ‘ইজম্ই’ (isms) কার্যকরী বলিয়া মনে হইতেছেনা। সকলের পরীক্ষাই শেষ হইয়া গিয়াছে। কোন রসজ্ঞ লেখক তাই সত্যই বলিয়াছেনঃ— {{blockquote|“All isms have become wasms!”}} {{gap}}অর্থাৎ: সব ইজম্‌ই এখন ওয়াজম্ (অতীত) হইয়া গিয়াছে! ইহাই হইল কমিউনিজমের অতি-আধুনিক চেহারা! {{gap}}তাহা হইলে একথা আমরা অনায়াসেই বলিতে পারিঃ কমিউনিজ্‌মের প্রাণশক্তি ফুরাইয়া গিয়াছে। কমিউনিজ্‌মের ভাষাতে বলিতে গেলে<noinclude></noinclude> lkmvfy5valc8i96796qhk30yj3v8hcu পাতা:ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf/১১৮ 104 883136 1990159 2026-07-16T19:00:10Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1990159 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="ROCKY" />{{rvh|১০৬|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>বলিতে হয়, এখন তাহার Negation-এর অবস্থা আসিয়াছে, অর্থাৎ যে কূলে সে বাসা বাঁধিয়াছিল, সেই কূল ভাঙ্গিতে আরম্ভ করিয়াছে। {{gap}}কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ তবে কী হইবে? এই নোঙ্গর-ছেঁড়া তরী আবার কোন্ কূলে গিয়া ভিড়িবে? {{gap}}ইসলামের সুদৃঢ় বন্দরেই তাহাকে এবার আশ্রয় লইতে হইবে, কারণ কমিউনিজম্ যাহা চায় এবং যাহা তাহার নাই—সমস্তই সে এখানে পাইবে। ইসলামই একমাত্র ডায়লেটিক্ ধর্ম্ম—ইস্‌লামে আছে সর্ব্বপ্রকার বৈষম্যের সমন্বয় (Synthesis of all opposites), আর ইসলামেই আছে প্রকৃত সাম্যবাদ। এখানে ধর্ম্মও আছে, কর্ম্মও আছে; বড়ও আছে, ছোটও আছে; সঞ্চয়ও আছে, বিতরণও আছে; যুদ্ধও আছে, শাস্তিও আছে; জাতীয়তাও আছে, আন্তর্জাতীয়তাও আছে; ভোগও আছে, ত্যাগও আছে; ইহকালও আছে, পরকালও আছে; জড়ও আছে, চৈতন্যও আছে। এক কথায়ঃ সমস্ত মতবাদেরই ইহা এক শুদ্ধিকৃত মহাসমন্বয়। নিখিল সৃষ্টির মূলে আছে যে দ্বৈত (dialectic) ভাব, যে ‘জোড়া-বাঁধা’ ভাব—ইসলাম সেই ভাবেরই পূর্ণ প্রতীক। স্বভাবের সহিত ইহা এক-সুরে বাঁধা। {{gap}}অনাগত যুগের পদধ্বনি আজ শুনিতে পাইতেছি। দিগদিগন্তে নবপ্রভাতের ইঙ্গিত ধ্বনিত হইতেছে। সেই নূতন প্রভাতকে আজ অভিনন্দিত করি!...... {{কেন্দ্র|{{larger|শেষ}}}}<noinclude></noinclude> 3iqpf05k8lyip52rp8k58k7sf3wrxlx 1990161 1990159 2026-07-16T19:05:20Z ROCKY 2687 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990161 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="ROCKY" />{{rvh|১০৬|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌}}</noinclude>বলিতে হয়, এখন তাহার Negation-এর অবস্থা আসিয়াছে, অর্থাৎ যে কূলে সে বাসা বাঁধিয়াছিল, সেই কূল ভাঙ্গিতে আরম্ভ করিয়াছে। {{gap}}কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ তবে কী হইবে? এই নোঙ্গর-ছেঁড়া তরী আবার কোন্ কূলে গিয়া ভিড়িবে? {{gap}}ইসলামের সুদৃঢ় বন্দরেই তাহাকে এবার আশ্রয় লইতে হইবে, কারণ কমিউনিজম্ যাহা চায় এবং যাহা তাহার নাই—সমস্তই সে এখানে পাইবে। ইসলামই একমাত্র ডায়লেটিক্ ধর্ম্ম—ইস্‌লামে আছে সর্ব্বপ্রকার বৈষম্যের সমন্বয় (Synthesis of all opposites), আর ইসলামেই আছে প্রকৃত সাম্যবাদ। এখানে ধর্ম্মও আছে, কর্ম্মও আছে; বড়ও আছে, ছোটও আছে; সঞ্চয়ও আছে, বিতরণও আছে; যুদ্ধও আছে, শাস্তিও আছে; জাতীয়তাও আছে, আন্তর্জাতীয়তাও আছে; ভোগও আছে, ত্যাগও আছে; ইহকালও আছে, পরকালও আছে; জড়ও আছে, চৈতন্যও আছে। এক কথায়ঃ সমস্ত মতবাদেরই ইহা এক শুদ্ধিকৃত মহাসমন্বয়। নিখিল সৃষ্টির মূলে আছে যে দ্বৈত (dialectic) ভাব, যে ‘জোড়া-বাঁধা’ ভাব—ইসলাম সেই ভাবেরই পূর্ণ প্রতীক। স্বভাবের সহিত ইহা এক-সুরে বাঁধা। {{***|3|5em}} {{gap}}অনাগত যুগের পদধ্বনি আজ শুনিতে পাইতেছি। দিগদিগন্তে নবপ্রভাতের ইঙ্গিত ধ্বনিত হইতেছে। সেই নূতন প্রভাতকে আজ অভিনন্দিত করি!...... {{কেন্দ্র|{{larger|শেষ}}}}<noinclude></noinclude> 4ebcs1wh803165k1lrp0v3w33qwo5pa ব্যবহারকারী:ROCKY/খেলাঘর 2 883137 1990160 2026-07-16T19:04:29Z ROCKY 2687 "{{***|4|3em}}" দিয়ে পাতা তৈরি 1990160 wikitext text/x-wiki {{***|4|3em}} pi398yzaf16a34fv20uco3fgwmdo1h9 ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/উপসংহার 0 883138 1990165 2026-07-17T03:27:43Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=111 to=124 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1990165 wikitext text/x-wiki <pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=111 to=124 header=1/> 075woqmm7590g455lnh0qfea57nijkm ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্ 0 883139 1990169 2026-07-17T03:34:07Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=1 to=6 header=প্রচ্ছদ/> {{ppb}} <pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=7 to=7/> {{ppb}} <pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১..." দিয়ে পাতা তৈরি 1990169 wikitext text/x-wiki <pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=1 to=6 header=প্রচ্ছদ/> {{ppb}} <pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=7 to=7/> {{ppb}} <pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=8 to=8/> {{ppb}} <pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=9 to=10/> {{ppb}} <pages index="ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্‌ - গোলাম মোস্তফা (১৯৪৬).pdf" from=11 to=12/> {{ppb}} {{AuxTOC| {{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্|ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|1|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌ম্ কী?|কমিউনিজ্‌ম্ কী?]]| page={{pli|4|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের ইতিহাস|কমিউনিজ্‌মের ইতিহাস]]| page={{pli|9|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিস্ট্ এশতেহার|কমিউনিস্ট্ এশতেহার]]| page={{pli|11|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/রাশিয়ায় কমিউনিজ্‌ম্|রাশিয়ায় কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|16|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/সোভিয়েট রাশিয়ার পরিচয়|সোভিয়েট রাশিয়ার পরিচয়]]| page={{pli|20|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/সোভিয়েট রাশিয়ার বৈশিষ্ট্য|সোভিয়েট রাশিয়ার বৈশিষ্ট্য]]| page={{pli|27|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের স্বাভাবিকতা|কমিউনিজ্‌মের স্বাভাবিকতা]]| page={{pli|33|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌মের দার্শনিকতা|কমিউনিজ্‌মের দার্শনিকতা]]| page={{pli|45|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলামের আলোকে কমিউনিজ্‌ম্|ইসলামের আলোকে কমিউনিজ্‌ম্]]| page={{pli|51|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/ইসলামের সহিত কমিউনিজ্‌মের পার্থক্য|ইসলামের সহিত কমিউনিজ্‌মের পার্থক্য]]| page={{pli|74|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজ্‌ম্ না ইসলামিজ্‌ম্?|কমিউনিজ্‌ম্ না ইসলামিজ্‌ম্?]]| page={{pli|89|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ|কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ]]| page={{pli|96|12}}}} {{Table| title=[[ইসলাম ও কমিউনিজ্‌ম্/উপসংহার|উপসংহার]]| page={{pli|99|12}}}} }} {{PD-Bangladesh}} 9l89puzkqg2i6h6z5ijukw26a3sb1pn পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৩৩ 104 883140 1990172 2026-07-17T06:48:15Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990172 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>পরিমাণ খাদ্য রহিয়াছে তদনুপাতে মূল্যবৃদ্ধি অসংগত হইয়াছে। মজুত মাল বাজারে বাহির করিতে পারিলেই সংকট দূর হইয়া যাইবে।’ {{ফাঁক}}১৮৬৬ অব্দের মার্চ মাসেই চাউল-আমদানির দাবি উঠিয়াছিল। তখন বাড়ি-ঘর ছাড়িয়া লোকে ইতস্তত ঘুরিতে শুরু করিয়াছে, স্থানে স্থানে খাদ্য লুঠ হইতেছে। কিন্তু সরকার প্রত্যাসন্ন সংকট উপলব্ধি করিতে পারিলেন না। ২৮শে মার্চ স্যার আর্থার কটন দুর্ভিক্ষ-নিবারণের জন্য সরকারকে অবহিত হইতে বলিলেন। এপ্রিল মাসে কলিকাতায় চাঁদা তুলিয়া লোক খাওয়াইবার ব্যবস্থা হইল। কিন্তু রেভেনিউ-বোর্ডের তখনও সন্দেহ, সত্যই খাদ্যাভাব ঘটিয়াছে কিনা। ক্রমে চাউল একেবারে অমিল হইয়া গেল। সৈন্য, সরকারি চাকুরিয়া এবং কয়েদিদের জন্যও চাউল মিলে 'না। তখন লেফটেন্যাণ্ট-গবর্ণর বাহির হইতে চাউল আমদানির হহুকুম দিলেন। সরকারের অকর্মণ্যতায় এই দুর্ভিক্ষে প্রায় দশ লক্ষ লোক মারা যায়। এইজন্য দুর্ভিক্ষ-কমিশন রেভেনিউ-বোর্ডকে খুব দোষ দিলেন। ১৮৬৭ অব্দের ১১ই আগস্ট রেভেনিউ-বোর্ড অজস্র ত্রুটি স্বীকার করিয়া বলিলেন, ‘সময় মতো কাজে হাত না দেওয়ায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় ব্যবস্থা নিতান্ত অপর্যাপ্ত হওয়ায় দুর্দৈব ঘটিয়াছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে আনাড়ি লোক ছিল, দুর্ভিক্ষের লক্ষণ দেখিয়াও তাঁহারা ধরিতে পারেন নাই। কাজে নামিতে অনেক দেরি হইয়া যাওয়ায় এমন অবস্থা ঘটিল যে শেষে টাকা দিয়াও খাদ্য মিলে নাই।’ রেভেনিউ-বোর্ড স্বীকার করিলেন, মিঃ র‍্যাভেন শ'র টেলিগ্রাম পাইয়া তৎক্ষণাৎ যদি কাজে নামা হইত, তাহা হইলে অসংখ্য জীবন রক্ষা পাইত। {{ফাঁক}}১৯৪৩ অব্দের দুর্ভিক্ষের ঠিক এই অবস্থা। আনাড়ি লোকের উপর ভার দিয়া বিস্তর অঘটন ঘটিয়াছে। একজনে একটা কাজের ভার পাইলেন, সে বিষয়ে কিছু অভিজ্ঞতা লাভের পূর্বেই তাঁহাকে অন্য বিভাগে চালান করা হইল। বাঙলা ও কেন্দ্রীয় সরকার খাদ্য-সংক্রান্ত কর্মচারীদের এত রদবদল করিয়াছেন যে দ্রুততায় উহার কাছে সিনেমা-ছবিও হার মানিয়া যায়। ১৯৩৯ অব্দের অক্টোবর হইতে ১৯৪২ অব্দের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার মূল্য-নিয়ন্ত্রণের জন্য ছয়টি কনফারেন্স করিয়াছেন। ১৯৪২ অব্দের ডিসেম্বরে খাদ্য-বিভাগ সৃষ্ট হয়; ১৯৪২ অব্দের এপ্রিলে ফল্ড এডভাইসরি কাউন্সিল হয়। ১৯৪৩ অব্দের<noinclude>{{কেন্দ্র|২৭}}</noinclude> grcosljmu6brr0xu91kua2plrhqspj7 পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৩৪ 104 883141 1990173 2026-07-17T06:59:31Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990173 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>এপ্রিলে রিজিওন্যাল ফুড-কমিশনার নিযুক্ত হন। গড়ে মাস দুয়েক অন্তর পর পর চারি জন ফুড-মেম্বার হইলেন। ইহা কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপার; বাঙলায় যে কত রকম পট-পরিবর্তন হইয়াছে, তাহা সকলেই আমরা চোখের উপর দেখিয়াছি। {{ফাঁক}}সরকারি ঔদাসীন্যের ফলে ১৯৪৩ অব্দে ঠিক ১৮৬৬ অব্দের মতো অবস্থা অতি শোচনীয় হইল। টাকা ফেলিলেও চাউল মিলে নাই। চাঁদা তুলিয়া নানা প্রতিষ্ঠান লোক খাওয়াইবার ব্যবস্থা করিল। সরকার মনে করিলেন, এই রকম হাজার কয়েক লোক খাওয়াইয়াই জনসাধারণ হাঙ্গামাটা চুকাইয়া দিবে, তাঁহাদের মাথা ঘামাইবার গরজ হইবে না। পেটের দায়ে মানুষ যে ঘরবাড়ি ছাড়িয়া পথে বাহির হইয়াছে, শহরমুখো ধাওয়া করিয়াছে, কর্তাদের সেদিকে নজর পড়িল না। {{ফাঁক}}অথচ এই অবস্থাই সকলের চেয়ে মারাত্মক। গ্রামের মধ্যে খাদ্য পৌঁছাইয়া দিলে লোকের ঘর-গৃহস্থালি খানিকটা বজায় থাকিত, তাহারা কিছু কিছু আয় করিতেও পারিত, যথাসম্ভব শীঘ্র স্বাবলম্বী হইয়া আবার মাথা তুলিবার প্রবৃত্তি তাহাদের মনের মধ্যে জাগরূক থাকিত। দুর্ভিক্ষ গ্রামের মানুষকে তাড়াইয়া শহরে আনে। যে ছিল গৃহস্থ, আত্মসম্মান হারাইয়া সে পথের ভিখারী হইয়া দাঁড়ায়। ১৮৭৮ অব্দের দুর্ভিক্ষ-কমিশনে স্যার রিচার্ড টেম্পল এই সম্পর্কে বলেন, ‘খাদ্যের সন্ধানে মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়িয়া যখন ঘোরাঘুরি আরম্ভ করে, দুর্ভিক্ষে সেই অবস্থা সকলের চেয়ে ভয়াবহ। ইহার ফলে লোক নীতিভ্রষ্ট হইয়া পড়ে। গ্রামে শৃঙ্খলার সহিত সাহায্যদানের ব্যবস্থা করিয়া এই ঘোরাঘুরি বন্ধ করিয়া ফেলা উচিত। কয়েকটি গ্রাম লইয়া এক একটি সাহায্যকেন্দ্র হইবে। উপযুক্ত সময়ে দ্রুত সাহায্যের ব্যবস্থা করিলে ঘোরাঘুরি বন্ধ হইবে।' {{ফাঁক}}১৮৬৬ অব্দেও লোকে ঘরবাড়ি ছাড়িয়াছিল; ১৯৪৩ অব্দের মতোই সদর রাস্তায় মুমূর্ষ, অবস্থায় মানুষে পড়িয়া থাকিত। আগস্ট মাসে বৃষ্টিতে ভিজিয়া সেবার বিস্তর লোক মরিয়াছিল। দলে দলে অস্থিসার মানুষ লঙ্গরখানায় জমায়েত হইত। তাহাদের উপযুক্ত আশ্রয় ছিল না। সরকার লক্ষ্য করিলেন, বাহিরের লোক আসিয়া শহরের স্বাস্থ্য নষ্ট করিতেছে। তখন একরকম জোর করিয়াই শহরের অন্নসত্র বন্ধ করিয়া<noinclude>{{কেন্দ্র|২৮}}</noinclude> hjj3f6n2glqgy8wd889wbj4xcaw2i6j চিত্র:কাব্য - কলিকা (প্রথম ভাগ)-যোগেন্দ্রনাথ মিত্র (১৯১৮).pdf 6 883142 1990178 2026-07-17T07:14:24Z Amit Paid Scan 21002 == সারাংশ == {{Book= কাব্য কলিকা(প্রথম ভাগ) |Author= যোগেন্দ্রনাথ মিত্র |Translator= |Editor= |Date= ১৯১৮ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} 1990178 wikitext text/x-wiki == সারাংশ == {{Book= কাব্য কলিকা(প্রথম ভাগ) |Author= যোগেন্দ্রনাথ মিত্র |Translator= |Editor= |Date= ১৯১৮ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} 1twde72rwctjhelcaly6x0qs0ndc4lc চিত্র:প্রভাত-চিন্তা-কালীপ্রসন্ন-ঘোষ (১৮৯৫).pdf 6 883143 1990179 2026-07-17T07:14:39Z Amit Paid Scan 21002 == সারাংশ == {{Book= প্রভাত চিন্তা |Author= কালীপ্রসন্ন ঘোষ |Translator= |Editor= |Date= ১৮৯৫ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} 1990179 wikitext text/x-wiki == সারাংশ == {{Book= প্রভাত চিন্তা |Author= কালীপ্রসন্ন ঘোষ |Translator= |Editor= |Date= ১৮৯৫ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} 882r4jkzvjvbzbjp61651tyo72eyrza চিত্র:ব্রজগাথা-নগেন্দ্রবালা মুস্তোফী(১৯০২).pdf 6 883144 1990180 2026-07-17T07:14:43Z Amit Paid Scan 21002 == সারাংশ == {{Book= ব্রজগাথা |Author= নগেন্দ্রবালা মুস্তোফী |Translator= |Editor= |Date= ১৯০২ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} 1990180 wikitext text/x-wiki == সারাংশ == {{Book= ব্রজগাথা |Author= নগেন্দ্রবালা মুস্তোফী |Translator= |Editor= |Date= ১৯০২ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} srxv4j7q3t5730q2s7ahrym9feeexp6 চিত্র:ভাগ্যলক্ষ্মী (প্রবন্ধ পুস্তক)-রাধানাথ মিত্র(১৯০১).pdf 6 883145 1990181 2026-07-17T07:14:50Z Amit Paid Scan 21002 == সারাংশ == {{Book= ভাগ্যলক্ষ্মী(প্রবন্ধ পুস্তক) |Author= রাধানাথ মিত্র |Translator= |Editor= |Date= ১৯০১ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} 1990181 wikitext text/x-wiki == সারাংশ == {{Book= ভাগ্যলক্ষ্মী(প্রবন্ধ পুস্তক) |Author= রাধানাথ মিত্র |Translator= |Editor= |Date= ১৯০১ }} =={{int:license-header}}== {{PD-India}} ixpldf67h825aes5rfpjwp5d0wd05j0 পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৩৫ 104 883146 1990182 2026-07-17T07:16:34Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990182 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>দেওয়া হইল; দুঃস্থদের বাহিরে পাঠানো হইল। সত্তর বৎসর পরে সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখিতে পাইয়াছি। সেবার কলিকাতা শহরে লোক জমিয়াছিল পনের ষোল হাজার। ১৯৪৩ অব্দে সরকারি অনুমান, একলক্ষ। {{ফাঁক}}সেবারও রান্না-করা খাদ্য দেওয়া হইত। এ সম্বন্ধে আপত্তি উঠিয়াছিল। কটকের রিলিফ-ম্যানেজার মিঃ কার্কউডের মতে, এই প্রকার সাহায্য দানে গ্রহীতার নৈতিক অধোগতি হয়। এ কথা ঠিক যে, লোকে রান্নাকরা খাদ্য গোপনে বিক্রি করিয়া উদ্দেশ্যের অপব্যবহার করিতে পারে না। কিন্তু আর একটা দিক ভাবিবার আছে। বহু পরিবারেরই এইরূপ সাহায্য লইতে ইজ্জতে বাধে, তাহারা নিঃশব্দে মৃত্যুপথের যাত্রী হয়। ১৯৪৩ অব্দেও এই সমস্যা দেখা দিয়াছে। যাহারা লঙ্গরখানায় যাইতে পারে না, তাহাদিগকে বাঁচাইবার জন্য সরকারি তরফ হইতে কি বিশেষ ব্যবস্থা হইয়াছিল? {{ফাঁক}}১৮৭৩-৭৪ অব্দে দুর্ভিক্ষের সূচনাতেই সরকার অবহিত হইয়াছিলেন, তাই সেবার বেশি লোকক্ষয় হইতে পারে নাই। খাদ্যের সন্ধানে লোকে গ্রাম ছাড়িবার পূর্বেই যাহাতে সাহায্য পৌঁছায়, দেহের শক্তি অবশেষ হইবার আগে যাহাতে কাজ পায়, অতি দ্রুত তাহার ব্যবস্থা হইয়াছিল। প্রার্থী সাহায্যের যোগ্য কিনা, এ বিষয়ে স্থানীয় লোকের সাক্ষ্য সকলের চেয়ে প্রামাণ্য। শহরের উপর অন্নসত্র খুলিলে এই প্রমাণের উপায় থাকে না; অনেক বাজে লোক সাহায্য পায়, অথচ অধিকাংশ দুঃস্থ সেবাকেন্দ্রে পৌঁছিয়া উঠিতে পারে না। যাহাতে এইরকম গোল-যোগ না ঘটে, তখনকার ছোটলাট স্যার জর্জ ক্যাম্পবেল সে বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগী হইয়াছিলেন। লোকজনকে তাহাদের ঘরবাড়িতে বসাইয়া নামে নামে এবং গ্রাম হিসাবে ভাগ না করিলে সুশৃঙ্খল সাহায্য অসম্ভব, এই ছিল তাঁহার অভিমত। পঞ্চাশ হইতে একশ'টি গ্রাম লইয়া এক একটি সাহায্যকেন্দ্র খোলা হইল; সমগ্র বাঙলাদেশকে এইভাবে ভাগ করিয়া ফেলা হইল। প্রতি কেন্দ্রে এক একটি বড় শস্যাগার—সেখান হইতে গ্রামের শস্যভাণ্ডারে খাদ্য পাঠান হইত। একজন দায়িত্বশীল কর্মচারী প্রতি সপ্তাহে কাজকর্ম পরিদর্শন করিতেন। ১৮৭৩-৭৪ অব্দে দুর্ভিক্ষ দমনের এই প্রচেষ্টা—সকল দিক দিয়া ইহাকে আদর্শস্থানীয়<noinclude>{{কেন্দ্র|২৯}}</noinclude> 9hjccef0yuho6sjsf8onrzcgpr760aw