উইকিসংকলন
bnwikisource
https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.47.0-wmf.11
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিসংকলন
উইকিসংকলন আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
লেখক
লেখক আলাপ
নির্ঘণ্ট
নির্ঘণ্ট আলাপ
পাতা
পাতা আলাপ
প্রবেশদ্বার
প্রবেশদ্বার আলাপ
প্রকাশক
প্রকাশক আলোচনা
রচনা
রচনা আলাপ
অনুবাদ
অনুবাদ আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD
10
9620
1990285
1990234
2026-07-19T07:02:27Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1990285
wikitext
text/x-wiki
448284
e89j14tuyijol96mva0fo2fg6do85gs
টেমপ্লেট:ALL PAGES
10
9621
1990286
1990235
2026-07-19T07:02:37Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1990286
wikitext
text/x-wiki
561510
k95rkgnzhdwqwafxjtygp1i8i42n22q
টেমপ্লেট:PR TEXTS
10
9622
1990287
1990236
2026-07-19T07:02:47Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1990287
wikitext
text/x-wiki
19649
eqgfoilzxh310lzx4ug3hj25i8mbxze
টেমপ্লেট:ALL TEXTS
10
9623
1990288
1990237
2026-07-19T07:02:57Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1990288
wikitext
text/x-wiki
19649
eqgfoilzxh310lzx4ug3hj25i8mbxze
নির্ঘণ্ট:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf
102
855643
1990258
1989994
2026-07-18T16:37:55Z
Nettime Sujata
5470
পাতাকে '' দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা হল
1990258
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২৫|২৫]]
|page={{pli|193|14}}
}}
1lc96zjdb1op3vik3ro7swii7tx6q9h
1990259
1990258
2026-07-18T16:39:41Z
Nettime Sujata
5470
1990259
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q133513929
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=7
|Progress=X
|Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to4="—" 5="শিরোনাম" 6="—" 7="প্রচ্ছদ" 8="প্রকাশক" 9="চিত্র" 10="—" 11="নিবেদন" 12="—" 13="সূচীপত্র" 14="—" 15="1" 415to416="গ্রন্থ-পরিচয়" 417to420="—" />
|Volumes=
|Remarks={{Scrollpane|height=1000px|
{{AuxTOC|
{{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}}
{{Table| title=পরিচ্ছেদ| page=পৃষ্ঠা}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা|দেনা-পাওনা]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১|১]]| page={{pli|3|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২|২]]| page={{pli|12|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৩|৩]]| page={{pli|17|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৪|৪]]| page={{pli|23|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৫|৫]]| page={{pli|28|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৬|৬]]| page={{pli|35|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৭|৭]]| page={{pli|41|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৮|৮]]| page={{pli|51|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/৯|৯]]| page={{pli|62|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১০|১০]]| page={{pli|73|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১১|১১]]| page={{pli|78|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১২|১২]]| page={{pli|88|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৩|১৩]]| page={{pli|98|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৪|১৪]]| page={{pli|108|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৫|১৫]]| page={{pli|114|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৬|১৬]]| page={{pli|118|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৭|১৭]]| page={{pli|123|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৮|১৮]]| page={{pli|131|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/১৯|১৯]]| page={{pli|139|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২০|২০]]| page={{pli|146|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২১|২১]]| page={{pli|154|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২২|২২]]| page={{pli|163|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২৩|২৩]]| page={{pli|173|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২৪|২৪]]| page={{pli|182|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২৫|২৫]]| page={{pli|193|14}}}}
}}}}
|Notes={{RLFRR}}
|Header={{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}
|Footer={{c|{{{pagenum}}}}}
}}
ag4zpklqgi5k02vfb1fecrbid6aotv5
নির্ঘণ্ট:হাটে হাঁড়ি - সতীশচন্দ্র ঘটক (১৯২৯).pdf
102
858355
1990242
1877434
2026-07-18T12:11:49Z
Bodhisattwa
2549
1990242
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q134171442
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=1
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{RPL}}
|Header=
|Footer=
}}
5ycu92iai62c3zp3ew44bta55xyis9o
পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৭
104
883059
1990276
1990205
2026-07-19T04:52:55Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
1990276
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" /></noinclude>{{কেন্দ্র|{{xxx-larger|টমকাকার কুটীর}}}}
{{Custom rule|sp|5|fy1|40|sp|5}}
{{কেন্দ্র|{{x-larger|প্রথম পরিচ্ছেদ}}}}
মাঘ মাস, কন্কনে ঠাণ্ডা। একদিন বিকাল বেলা কেন্টাকি সহরের এক বাড়ীতে দুজন ভদ্রলোক ব’সে ছিলেন। তাঁদের এক জন খুব বেঁটে, তাঁর নাম মিঃ হ্যালি। হ্যালির চেহারাটা বড়ই রুক্ষ্ম। তাঁহার সঙ্গী অন্য ভদ্রলোকটির নাম মিঃ সেল্বি। সেল্বির চেহারা বেশ ভদ্রলোকেরই মত।
{{ফাঁক}}মিঃ সেল্বি ব’ল্লেন—“তবে এই কথাই ঠিক হলো। টম যে রকম পাকা লোক, তার এ দাম সামান্যই ব’ল্তে হবে।”
{{ফাঁক}}মিঃ হ্যালি। “আচ্ছা, টমের সঙ্গে ফাউ দিতে পারেন, এমন একটা ছেলে বা মেয়ে কি আপনার নেই?”
{{ফাঁক}}“না, তেমন কাকেও দেখছি না।”
{{ফাঁক}}ঠিক এই সময় সেই ঘরের দরজাটা আস্তে আস্তে খুলে গেল, আর চার পাঁচ বছরের একটি ছোট ছেলে ভিতরে ঢুকলো। তার নাম জিম্ ক্রো—ডাকনাম হ্যারি। তাকে আস্তে দেখে মিঃ সেল্বি এক থোলো কিসমিস ছুড়ে দিয়ে বল্লেন—“জিম্, ঐগুলো কুড়িয়ে খাও।”
{{nop}}<noinclude></noinclude>
1j0craviyscnipm1e7no8adk6rjns4k
পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৮
104
883151
1990277
1990208
2026-07-19T04:54:07Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
1990277
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৪|টমকাকার কুটীর।}}</noinclude>{{ফাঁক}}জিম্ তাড়াতাড়ি সেগুলি কুড়িয়ে নিল। সব খাওয়া হয়ে গেলে, মিঃ সেল্বি তাকে আবার বল্লেন—“জিম, তুমি কেমন নাচতে পার, এই ভদ্রলোকটিকে একবার দেখাও দেখি!”
{{ফাঁক}}জিম্ অমনি একটা গান গাইতে গাইতে, হাত-পা দুলিয়ে নাচতে লাগলো। নাচ গান শেষ হ'লে, মিঃ হ্যালি বল্লেন, “মিঃ সেল্বি, এই ছেলেটাকে টমের সঙ্গে দিন। তা হ'লেই আমি সব ঠিক ক'রে ফেলি।”
{{ফাঁক}}এইরূপ কথা হচ্ছে, এমন সময় একটি স্ত্রীলোক সেই ঘরে এসে ঢুক্লো। সে জিমের মা। তাকে দেখে মিঃ সেল্বি বল্লেন—“কি ইলাইজা, কি চাও?” ইলাইজা ব'লে—“আমি হ্যারিকে খুঁজতে এসেছি।”
{{ফাঁক}}“আচ্ছা, ওকে নিয়ে যাও।”
{{ফাঁক}}তারা চলে গেলে, মিঃ হ্যালি বল্লেন—“এই ত আর একজন। একে বিক্রী করুন না।—এর জন্যে কত চান, বলুন?”
{{ফাঁক}}“না মিঃ হ্যালি, একে বিক্রী করা হবে না।”
{{ফাঁক}}“আচ্ছা, তা’ না হোক, ছেলেটাকে তো পাব?”
{{ফাঁক}}“সে কথা আমি পরে ভেবে দেখ্বো। আপনি সন্ধ্যার পর আমার সঙ্গে দেখা ক'রবেন।”
{{ফাঁক}}মিঃ হ্যালি তখন নমস্কার ক'রে চ'লে গেলেন।
{{ফাঁক}}ইলাইজা যখন জিম্কে নিয়ে ঘর থেকে বের হ'য়ে আসে, তখন মিঃ সেল্বির ও হ্যালির কথাবার্ত্তা কিছু কিছু শুনতে পেয়েছিল। সে<noinclude></noinclude>
t1qz4e5j8ufy997atdlasgjv1aqtivd
1990278
1990277
2026-07-19T04:58:28Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
সংশোধন
1990278
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৪|টমকাকার কুটীর।}}</noinclude>{{ফাঁক}}জিম্ তাড়াতাড়ি সেগুলি কুড়িয়ে নিল। সব খাওয়া হয়ে গেলে, মিঃ সেল্বি তাকে আবার বল্লেন—“জিম, তুমি কেমন নাচতে পার, এই ভদ্রলোকটিকে একবার দেখাও দেখি!”
{{ফাঁক}}জিম্ অমনি একটা গান গাইতে গাইতে, হাত-পা দুলিয়ে নাচতে লাগলো। নাচ গান শেষ হ’লে, মিঃ হ্যালি বল্লেন, “মিঃ সেল্বি, এই ছেলেটাকে টমের সঙ্গে দিন। তা হ’লেই আমি সব ঠিক ক’রে ফেলি।”
{{ফাঁক}}এইরূপ কথা হচ্ছে, এমন সময় একটি স্ত্রীলোক সেই ঘরে এসে ঢুক্লো। সে জিমের মা। তাকে দেখে মিঃ সেল্বি বল্লেন—“কি ইলাইজা, কি চাও?” ইলাইজা ব’লে—“আমি হ্যারিকে খুঁজতে এসেছি।”
{{ফাঁক}}“আচ্ছা, ওকে নিয়ে যাও।”
{{ফাঁক}}তারা চলে গেলে, মিঃ হ্যালি বল্লেন—“এই ত আর একজন। একে বিক্রী করুন না।—এর জন্যে কত চান, বলুন?”
{{ফাঁক}}“না মিঃ হ্যালি, একে বিক্রী করা হবে না।”
{{ফাঁক}}“আচ্ছা, তা’ না হোক, ছেলেটাকে তো পাব?”
{{ফাঁক}}“সে কথা আমি পরে ভেবে দেখ্বো। আপনি সন্ধ্যার পর আমার সঙ্গে দেখা ক’র্বেন।”
{{ফাঁক}}মিঃ হ্যালি তখন নমস্কার ক’রে চ’লে গেলেন।
{{ফাঁক}}ইলাইজা যখন জিম্কে নিয়ে ঘর থেকে বের হ’য়ে আসে, তখন মিঃ সেল্বির ও হ্যালির কথাবার্ত্তা কিছু কিছু শুন্তে পেয়েছিল। সে<noinclude></noinclude>
b43mx7z3kic2ikubzxhnpemvou7subq
পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৯
104
883159
1990279
1990225
2026-07-19T05:00:10Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
1990279
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৫|প্রথম পরিচ্ছেদ}}</noinclude>ভাবতে লাগ্লো, ঐ লোকটি কে? কাকে বিক্রী করবার কথা হচ্ছিল? তবে কি এবার আমারই কপাল পুড়লো! ও কি আমার জিম্কে কিনতে চায়? এই কথা সে যতই ভাবে, ততই বেচারীর বুক ধড়্ফড়্ করে! আর চোখ দিয়ে ততই জল ঝ'রতে থাকে!
{{ফাঁক}}তাকে দেখে মিসেস্ সেল্বি জিজ্ঞেস্ ক'রলেন—“কি ইলাইজা, তোর আজ কি হ'য়েছে? তোকে আজ এমন কাঁদ-কাঁদ দেখাচ্চে কেন?”
{{ফাঁক}}ইলাইজা বল্লে—“আচ্ছা মা, আপনার কি মনে হয় যে, কর্ত্তা আমার হ্যারিকে বিক্রী ক'রে ফেল্বেন? ”
{{ফাঁক}}“হ্যারিকে বিক্রী ক’রে ফেল্বেন! দূর বোকা মেয়ে! তুই একেবারে ক্ষেপে গেছিস্! কর্ত্তা কখনো এমন কাজ কর্ব্বেন না!”
{{ফাঁক}}মিসেস্ সেল্বির কথায় ইলাইজার মনে সাহস এল বটে, কিন্তু তার ভয় একেবারে ঘুচলো না। যা হ’ক, সে কাজ কর্ম্মে মন দিতে চেষ্টা ক'র্লে।
{{ফাঁক}}ইলাইজা খুব ছেলেবেলা থেকেই মিসেস্ সেল্বির কাছে আছে। তিনি তাকে আদর যত্নে মানুষ ক'রে এখন তার বিয়ে দিয়েছেন। ইলাইজার স্বামীর নাম জর্জ। জর্জ পাশের গ্রামে এক পাটের কলে কাজ করে। তার প্রভুর নাম হ্যারিস। এই হ্যারিসের অত্যাচারে তার দাসদাসীগণ একেবারে জ্বালাতন হ'য়ে উঠেছিল। জর্জ যে অত ভাল লোক, প্রভুর অন্যায় অত্যাচার তার পক্ষেও অসহ্য বোধ হ’তে লাগলো।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
55logatul5o9e9404epsvd3ayhvc5gi
1990280
1990279
2026-07-19T05:05:31Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
সংশোধন
1990280
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৫|প্রথম পরিচ্ছেদ}}</noinclude>ভাবতে লাগ্লো, ঐ লোকটি কে? কা’কে বিক্রী করবার কথা হচ্ছিল? তবে কি এবার আমারই কপাল পুড়্লো! ও কি আমার জিম্কে কিন্তে চায়? এই কথা সে যতই ভাবে, ততই বেচারীর বুক ধড়্ফড়্ করে! আর চোখ দিয়ে ততই জল ঝ’রতে থাকে!
{{ফাঁক}}তাকে দেখে মিসেস্ সেল্বি জিজ্ঞেস্ ক’রলেন—“কি ইলাইজা, তোর আজ কি হ’য়েছে? তোকে আজ এমন কাঁদ-কাঁদ দেখাচ্চে কেন?”
{{ফাঁক}}ইলাইজা বল্লে—“আচ্ছা মা, আপনার কি মনে হয় যে, কর্ত্তা আমার হ্যারিকে বিক্রী ক’রে ফেল্বেন?”
{{ফাঁক}}“হ্যারিকে বিক্রী ক’রে ফেল্বেন! দূর বোকা মেয়ে! তুই একেবারে ক্ষেপে গেছিস্! কর্ত্তা কখনো এমন কাজ কর্ব্বেন না!”
{{ফাঁক}}মিসেস্ সেল্বির কথায় ইলাইজার মনে সাহস এল বটে, কিন্তু তার ভয় একেবারে ঘুচ্লো না। যা হ’ক, সে কাজ কর্ম্মে মন দিতে চেষ্টা ক’র্লে।
{{ফাঁক}}ইলাইজা খুব ছেলেবেলা থেকেই মিসেস্ সেল্বির কাছে আছে। তিনি তাকে আদর যত্নে মানুষ ক’রে এখন তার বিয়ে দিয়েছেন। ইলাইজার স্বামীর নাম জর্জ। জর্জ পাশের গ্রামে এক পাটের কলে কাজ করে। তার প্রভুর নাম হ্যারিস। এই হ্যারিসের অত্যাচারে তার দাসদাসীগণ একেবারে জ্বালাতন হ’য়ে উঠেছিল। জর্জ যে অত ভাল লোক, প্রভুর অন্যায় অত্যাচার তার পক্ষেও অসহ্য বোধ হ’তে লাগলো।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
kvk91deakgcsogkre8xntveul4x9rgl
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮১
104
883165
1990243
2026-07-18T14:05:44Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990243
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী হাসিয়া কহিল, মিথ্যে মাথা-নাড়া চৌধুরীমশায়। যে সুযোগ জীবনে আর কখনো পাবো না, তা যদি হাতে পেয়ে ছেড়ে দিই ত মিছেই এতকাল ভৈরবীগিরি করে এলাম! বলিয়া সে জলহাতে উভয়েরই সম্মুখের স্থানটা মুছিয়া লইয়া শালপাতা পাতিয়া মিষ্টান্ন পরিবেশন করিয়া খাওয়াইতে বসিল।
{{ফাঁক}}মিষ্টান্ন যে আজ যথার্থ ই জীবানন্দের গলায় বাধিতেছিল, ইহা লক্ষ্য করিতে ষোড়শীর বিলম্ব হইল না। সে গলা খাটো করিয়া কহিল, তবে থাক্, এগুলো আর আপনার খেয়ে কাজ নেই, আপনি শুধু দুটো ফল খান। বলিয়া নিজেই হাত বাড়াইয়া তাহার পাতার একধারে উচ্ছিষ্ট খাবারগুলা সরাইয়া দিয়া বলিল, কি হ’ল আজ? সত্যিই ক্ষিদে নেই না কি? না থাকে ত জোর করে খাবার দরকার নেই। দেহের মধ্যে যে অসুখের সৃষ্টি করে রেখেচেন, সে মনে হলেও আমার ভয় হয়।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল একমনে খাইতেছিল, সে মুখ তুলিয়া চাহিল। এই কণ্ঠস্বরের অনির্ব্বচনীয়তা খট্ করিয়া তাহার কানে বাজিয়া অকারণে বহুদূরবর্ত্তী হৈমকে তাহার স্মরণ করাইয়া দিল। দুজনের অনেক হাস্য-পরিহাসের বিনিময় হইয়া গেছে, আজ সকালেও এই ষোড়শীর কথায় ও ইঙ্গিতে সর্ব্বশরীরে তাহার পুলকের বিদ্যুৎ শিহরিয়া গেছে; কিন্তু এ গলা ত সে নয়। মাধুর্য্যের এরূপ নিবিড় রস-ধারা ত তাহাতে ঝরে নাই। মিষ্টান্নের মিষ্ট তাহার মুখে বিস্বাদ এবং ফলের রস তিতো লাগিয়া আহারের সমস্ত আনন্দ যেন মুহূর্ত্তে তিরোহিত হইয়া গেল। খানিক পরে লক্ষ্য করিয়া ষোড়শী সবিস্ময়ে কহিল, আপনারও যে ওই দশা হ’ল নির্ম্মলবাবু, খেলেন কই?
{{ফাঁক}}নির্ম্মল বলিল, যা খেতে পারি তা আপনার বলবার আগেই খেয়েচি, অনুরোধের অপেক্ষা করিনি।
{{ফাঁক}}খাবারগুলো আজ বুঝি তা হলে ভাল দেয়নি?;
{{ফাঁক}}তা হবে। অন্যদিন কেমন দেয় সে ত জানিনে। বলিয়া সে হাত ধুইবার উপক্রম করিল। এ-বিষয়ে তাহার কৌতূহলের একান্ত অভাব শুধু ষোড়শীর নয়, জীবানন্দেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করিল; কিন্তু এ লইয়া কেহ আর আলোচনা তুলিল না। বাহিরে আসিয়া ষোড়শী মুখ-হাত ধুইবার জল দিয়া এবং সাজা পান হাতে দিয়া তাহা ঠিক আছে কি না দেখিয়া লইতে অনুরোধ করিল, কিন্তু নিজের বা তাহার সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন করিল না।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল কহিল, আমি এখন তা হলে যাই—
{{nop}}<noinclude>{{c|১৬৭}}</noinclude>
77dh3gfzpjhu02y2x7nqa0d7ax39zej
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮২
104
883166
1990244
2026-07-18T14:09:22Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990244
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}আপনি বাড়ি ফিরবেন কবে?
{{ফাঁক}}আমার আর ত কোন প্রয়োজন নেই, হয়ত কালই ফিরতে পারি।
{{ফাঁক}}ছেলেকে, হৈমকে আমার আশীর্ব্বাদ দেবেন।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল একমুহূর্ত্ত চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, আমাকে আর বোধ হয় কোন আবশ্যক নেই?
{{ফাঁক}}ষোড়শী নিজেও ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিল, এত বড় অহঙ্কারের কথা কি আমি বলতে পারি নির্ম্মলবাবু? তবে মন্দির নিয়ে আর বোধ হয় আমার কখনো আপনাকে দুঃখ দেবার আবশ্যক হবে না।
{{ফাঁক}}নির্ম্মল ম্লান-মুখে হাসির প্রয়াস করিয়া কহিল, আমাদের শীঘ্র ভুলে যাবেন না আশা করি?
{{ফাঁক}}ষোড়শী মাথা নাড়িয়া শুধু কহিল, না
{{ফাঁক}}নির্ম্মল নমস্কার করিয়া কহিল, আমি চললাম। যদি সকালের গাড়িতে যাওয়া হয় ত আর বোধ হয় দেখা করবার সময় পাবো না। হৈম আপনাকে বড় ভালবাসে, যদি অবকাশ পান, মাঝে মাঝে একটা খবর দেবেন। বলিয়া সে আর কোন প্রত্যুত্তরের অপেক্ষা না করিয়া বাহির হইয়া গেল। প্রবঞ্চিতের লজ্জা ও জ্বালা অত্যন্ত সঙ্গোপনে তাহার বুকের মধ্যে ধক্ ধক্ করিয়া জ্বলিতে লাগিল। এবং বিফল-মনোরথ মাতাল যেমন করিয়া তাহার মদের দোকানের রুদ্ধ দুয়ার হইতে ফিরিবার পথে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে থাকে, তেমনি করিয়া সে সমস্ত পথটা মনে মনে বলিতে লাগিল, আমি বাঁচিয়া গেলাম—স্বেচ্ছাচারিণীর মোহের বেষ্টন হইতে বাহির হইতে পারিয়া আমার হৈমকে আবার ফিরিয়া পাইলাম। কথাগুলো কেবলমাত্র বারংবার আবৃত্তি করিয়াই সে তাহার পীড়িত আহত হৃদয়ের কাছে যেন সপ্রমাণ করিতে চাহিল যে, এ ভালই হইল যে ষোড়শীর গৃহের দ্বার তাহার মুখের উপর চিরদিনের মত বন্ধ হইয়া গেল।
{{ফাঁক}}মিনিট দুই-তিন পরে জীবানন্দ বাহিরে আসিয়া দেখিল অন্ধকারে একটা খুঁটি ঠেস দিয়া ষোড়শী চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া আছে। কাছে আসিয়া আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, নির্ম্মলবাবু কি চলে গেলেন?
{{ফাঁক}}এ প্রশ্নের উত্তর দিবার প্রয়োজন ছিল না, ষোড়শী তেমনি চুপ করিয়াই রহিল। জীবানন্দ কহিল, ভদ্রলোকটিকে বুঝতে পারলাম না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী পথের দিকে চাহিয়াছিল, সেই দিকেই চক্ষু রাখিয়া বলিল, তাতে আপনার ক্ষতি কি?
{{nop}}<noinclude>{{c|১৬৮}}</noinclude>
n0bzais9qd7odvdibtzjii7jzq5qzb9
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮৩
104
883167
1990245
2026-07-18T14:56:30Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990245
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}আমার ক্ষতি? না, তা বোধ করি কিছু নেই, কিন্তু তোমার ত থাকতে পারে? তুমিই কি তাঁকে বুঝতে পেরেচ?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, আমার যতটুকু দরকার তা পেরেচি বই কি।
{{ফাঁক}}তা হলে ভাল। বলিয়া সে ক্ষণকাল নিঃশব্দে থাকিয়া যেন নিজের মনেই কহিল, তাঁকে মনে রাখবার জন্যে কি রকম ব্যাকুল প্রার্থনা জানিয়ে গেলেন, দরখাস্ত মঞ্জুর করলে ত? বলিয়া মুখ তুলিয়া চাহিতে সেই অন্ধকারেও দুজনের চোখে চোখে মিলিল।
{{ফাঁক}}ষোড়শী দৃষ্টি অবনত করিল না, বলিল, আমি তাঁকে যতখানি জানি, তার অর্দ্ধেকও যদি আমাকে জানবার তাঁর সময় হ’ত, এত বড় বাহুল্য আবেদন আমার কাছে তিনি মুখে উচ্চারণ করতেও পারতেন না। আমার যা কিছু কল্পনা যত কিছু আনন্দের ভাবনা, সে ত কেবল তাঁদের নিয়েই। তাঁদের দেখেই ত আমি সে ষোড়শী আর নেই। এই যে চণ্ডীগড়ের ভৈরবী-পদ যা ভাগ করে নেবার লোভে আপনাদের ছেঁড়া-ছিঁড়ির অবধি নেই, যে-জন্যে কলঙ্কে দেশ আপনারা ছেয়ে দিলেন, সে যে আজ জীর্ণ-বস্ত্রের মত ত্যাগ করে যাচ্চি, সে শিক্ষা কোথায় পেয়েচি জানেন? সে ওইখানে। মেয়েমানুষের কাছে এ যে কত ফাঁকি, কত মিথ্যে, সে কথা ওঁদের দেখেই বুঝতে পেরেচি। অথচ এর বাষ্পও তিনি জানেন না, কোনদিন হয়ত জানতেও পারবেন না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ অবাক্ হইয়া চাহিয়া ছিল, সহসা সেই দিকে দৃষ্টি পড়ায় ষোড়শী নিজের উচ্ছ্বসিত আবেগে লজ্জিত হইয়া নীরব হইল। কিছুক্ষণ উভয়ে মৌন থাকার পরে জীবানন্দ ধীরে ধীরে কথা কহিল। বলিল, একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে আমার ভারি লজ্জা করে, কিন্তু যদি পারতাম, তুমি কি তার সত্যি জবাব দিতে পারতে অলকা?
{{ফাঁক}}জীবানন্দের মুখে এই অলকা নামটা ষোড়শীর সব চেয়ে বড় দুর্ব্বলতা। তিন অক্ষরের এই ছোট্ট কথাটি তাহার কোন্খানে গিয়া যে আঘাত করিত, সে ভাবিয়া পাইত না। বিশেষ করিয়া তাহার প্রশ্ন করার এই কৌতুককর ভঙ্গিতে ষোড়শীর হাসি পাইল; কহিল, আপনি যদি কোন একটা আশ্চর্য্য কাজ করতে পারতেন, তার পরে আমি আর কোন একটা তেমনি অদ্ভুত কাজ করতে পারতাম কি না, এত বড় সত্য করবার শক্তি আমার নেই। কিন্তু সে কাজ করবার আপনার আবশ্যক নেই—আমি বুঝেচি। অপবাদ আপনারা দিয়েচেন বলেই তাকে সত্যি করে তুলতে হবে, তার অর্থ নেই। আমি কিছুর জন্যেই কখনো কারও আশ্রয় গ্রহণ করব না।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৬৯}}</noinclude>
45zr40c98494elqub7xdz69jq86qsso
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮৪
104
883168
1990246
2026-07-18T14:59:57Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990246
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>আমার স্বামী আছেন, কোন লোভেই সে কথাটা আমি ভুলে যেতে পারব না। এই ভয়ানক প্রশ্নটাই না আপনাকে লজ্জা দিচ্ছিল চৌধুরীমশায়?
{{ফাঁক}}তুমি আমাকে চৌধুরীমশায় বল কেন?
{{ফাঁক}}তবে কি বলব? হুজুর?
{{ফাঁক}}না। অনেকে যা বলে ডাকে—জীবানন্দবাবু।
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, বেশ, ভবিষ্যতে তাই হবে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, ভবিষ্যতে কেন আজই বল না?
{{ফাঁক}}ষোড়শী ইহার কোন উত্তর দিল না। ভিতরে প্রদীপ স্তিমিত হইয়া আসিতেছিল। সে ঘরে আসিয়া তাহা উজ্জ্বল করিয়া দিল। জীবানন্দ ফিরিয়া আসিয়া বসিতেই ষোড়শী বিস্মিত হইয়া কহিল, রাত্রি হয়ে যাচ্চে, আপনি বাড়ি গেলেন না? আপনার লোকজন কই?
{{ফাঁক}}আমি তাদের পাঠিয়ে দিয়েচি।
{{ফাঁক}}একলা বাড়ি যেতে আপনার ভয় করবে না?
{{ফাঁক}}না, আমার পিস্তল সঙ্গে আছে।
{{ফাঁক}}তবে তাই নিয়ে বাড়ি যান, আমার ঢের কাজ আছে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, তোমার থাকতে পারে, কিন্তু আমার নেই। আমি এখন যাব না।
{{ফাঁক}}ষোড়শীর চোখের দৃষ্টি প্রখর হইয়া উঠিল, কিন্তু শান্তভাবে বলিল, রাত হয়েচে, আমি লোক ডেকে আপনার সঙ্গে দিচ্চি, তারা বাড়ি পর্য্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসবে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বুঝিল কথাটা তাহার ভাল হয় নাই। অপ্রতিভ হইয়া কহিল, ডাকতে কাউকে হবে না, আমি আপনিই যাচ্চি। যেতে আমার ইচ্ছে হয় না, তাই শুধু আমি বলছিলাম। তুমি কি সত্যই চণ্ডীগড় ছেড়ে চলে যাবে অলকা?
{{ফাঁক}}আবার সেই নাম! জীবানন্দের মুখের পানে চাহিয়া তাহার ক্লেশ বোধ হইল, ঘাড় নাড়িয়া জানাইল যে সত্যই সে চলিয়া যাইবে।
{{ফাঁক}}কবে যাবে?
{{ফাঁক}}কি জানি, হয়ত কালই যেতে পারি।
{{ফাঁক}}কাল? কালই যেতে পারে।? বলিয়া জীবানন্দ একেবারে স্তব্ধ হইয়া বসিল। অনেকক্ষণ পরে হঠাৎ একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, আশ্চর্য্য! মানুষের নিজের মন বুঝতেই কি ভুল হয়! যাতে তুমি যাও সেই চেষ্টাই প্রাণপণে করেচি, অথচ তুমি চলে যাবে শুনে চোখের সামনে সমস্ত দুনিয়াটা যেন শুকনো হয়ে গেল।<noinclude>{{c|১৭০}}</noinclude>
l0zhk5262v5932m6njabig01l1a434u
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮৫
104
883169
1990247
2026-07-18T15:02:57Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990247
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>নির্ম্মলবাবু মস্ত লোক, মস্ত বড় ব্যারিষ্টার, তিনি আছেন তোমার পক্ষ নিয়ে—হাঙ্গামা বাধবে, লড়াই সুরু হবে—আমরাই জিতবো, ওই যে জমিটা দেনার দায়ে বিক্রি করেচি, ও নিয়ে আর কোন গোলমাল হবে না—কতকগুলো নগদ টাকাও হাতে এসে পড়বে, আর তোমাকে ত যা বলব তাই করতে হবে, এই দিকটাই কেবল দেখতে পেয়েচি, কিন্তু আর যে একটা দিক আছে—তুমি নিজেই সমস্ত ছেড়েছুড়ে দিয়ে বিদায় নিলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াবে, তামসাটা কোথায় গিয়ে গড়াবে, এ আমার স্বপ্নেও মনে হয়নি। আচ্ছা অলকা, এমন ত হতে পারে, আমার মত তোমারও ভুল হচ্চে—তুমিও নিজের মনের ঠিক খবরটি পাওনি?
{{ফাঁক}}কথাগুলি এত চমৎকার এবং এমন নূতন যে হঠাৎ বিস্ময় লাগে, ইহা জীবানন্দের মুখ দিয়া বাহির হইয়াছে। জবাব দিতে ষোড়শীর একটু থামিতে হইল। শেষে সায় দিয়া বলিল, হতে পারে বই কি। শুধু এই খবরটা নিশ্চয় জানি, যা আমি স্থির করেচি সে আর অস্থির হবে না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিয়া উঠিল, বাপরে বাপ! তোমার পুরুষমানুষ, আর আমার মেয়েমানুষ হওয়া উচিত ছিল, আচ্ছা, সেইখানেই বা তোমার চলবে কি করে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী পূর্ব্বের মতই সহজ গলায় উত্তর দিল, এ আলোচনা আমি আপনার সঙ্গে কোনমতে করতে পারিনে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ রাগ করিয়া বলিল, তুমি কিছুই পারো না, তুমি পাথর। চুলে আমার পাক ধরে এলো, বুড়ো হয়ে গেলাম—তোমার কাছে কি এখন আমি হাতজোড় করে কাঁদতে পারি তুমি ভেবেচ?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, দেখুন অনেক রাত্রি হ’ল, এখনো আমার আহ্নিক পর্য্যন্ত সারা হয়নি—
{{ফাঁক}}পুরোহিতের কাশি এবং পায়ের শব্দ বাহিরে শোনা গেল; সে দ্বারের কাছে আসিয়া বলিল, মা, সকলের সম্মুখে মন্দিরের দোর বন্ধ করে চাবিটা আমি তারাদাস ঠাকুরের হাতেই দিলাম। রায়মশায়, শিরোমণি—এঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, ঠিকই হয়েচে। তুমি একটু দাঁড়াও, আমি সাগরের ওখানে একবার যাবো, বলিয়া সে উঠিয়া দাঁড়াইল।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ নিঃশব্দে দাঁড়াইয়া উঠিয়া কহিল, এগুলোও তা হলে তুমি রায়মশায়ের কাছেই পাঠিয়ে দিয়ো।
{{ফাঁক}}ষোড়শী ঘাড় নাড়িয়া কহিল, না, সিন্দুকের চাবি আর কারও হাতে দিয়ে আমার বিশ্বাস হবে না।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৭১}}</noinclude>
cqfkk6o2o0b2j6xcyi9s3bj2xrp2s0g
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮৬
104
883170
1990248
2026-07-18T15:04:03Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990248
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}শুধু আমাকেই হবে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী ইহার কোন উত্তর না দিয়া ঘরের তালাটা হাতে লইয়া বাহিরে আসিয়া দাড়াইল, এবং জীবানন্দ বাহিরে আসিতেই কবাট বন্ধ করিয়া তাহার পায়ের কাছে গড় হইয়া প্রণাম করিয়া পুরোহিতের পিছনে পিছনে নিঃশব্দে প্রস্থান করিল। শুধু একাকী জীবানন্দ সেই অন্ধকার বারান্দায় ভূতের মত নিশ্চল হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৭২}}</noinclude>
9jnug3padi5ol9y4tff1azeyqv95hmj
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮৭
104
883171
1990249
2026-07-18T15:07:44Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990249
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''২৩'''}}
{{ফাঁক}}ব্যারিষ্টার সাহেব চলিয়া গেছেন, ষোড়শী চলিয়া যাইতেছে—মন্দিরের চাবি-তালা সরঞ্জাম প্রভৃতি যাহা কিছু মূল্যবান সমস্ত আদায় হইয়া গেছে, ইত্যাদি সংবাদ রাষ্ট্র হইয়া পড়িতে কিছুমাত্র বিলম্ব ঘঠিল না। শিরোমণি আনন্দের আবেগে মুক্ত-কচ্ছ আলু-থালু-বেশে রায় মহাশয়ের সদরে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।
{{ফাঁক}}নির্ম্মলের যাবার সময়ে বিদায়ের পালাটা বিশেষ প্রীতিকর হয় নাই। মনে মনে বোধ করি এই সকল আলোচনাতেই জনার্দ্দনের মুখ-মণ্ডল গম্ভীর ভাব ধারণ করিয়াছিল। কিন্তু সেদিকে লক্ষ্য করিবার অবস্থা শিরোমণির ছিল না, তিনি আশীর্ব্বাদের ভঙ্গিতে ডান হাত তুলিয়া গদ্গদ কণ্ঠে কহিলেন, দীর্ঘজীবী হও ভায়া, সংসারে এসে বুদ্ধি ধরেছিলে বটে!
{{ফাঁক}}জনার্দ্দন মুখ তুলিয়া কহিলেন, ব্যাপার কি?
{{ফাঁক}}শিরোমণি বলিলেন, ব্যাপার কি! দশখানা গাঁয়ে রাষ্ট্র হতে বাকি আছে না কি? বেটী চাবি-পত্র যা কিছু সমস্ত দিয়ে চলে যাচ্চে যে! বলি শোননি নাকি?
{{ফাঁক}}যে ভদ্রলোক সকাল হইতে এ মাসের সুদের কিছু টাকা মাপ করিতে অনুনয়-বিনয় করিতেছিল, সে কহিল, বেশ! যজ্ঞেশ্বর জানলেন না, আর খবর পেলেন ঘেঁটু-মনসা? এ-সব করলে কে শিরোমণিখুড়ো, সমস্তই ত রায়মশায়।
{{ফাঁক}}শিরোমণি আসন গ্রহণ করিয়া বলিলেন, কিন্তু আসল চাবিটা শুনচি নাকি গিয়ে পড়েচে জমিদারের হাতে? ব্যাটা পাঁড় মাতাল—দেখো ভায়া, শেষকালে মায়ের সিন্দুকের সোনারূপো না ঢুকে যায় শুঁড়ির সিন্দুকে। পাপের আর অবধি থাকবে না।
{{ফাঁক}}ক্রমশঃ একে একে গ্রামের অনেকেই আসিয়া উপস্থিত হইলেন। স্থির হইল, জমিদারের হাত হইতে চাবিটা অবিলম্বে উদ্ধার করা চাই। বেলা তৃতীয় প্রহরে ঘুম ভাঙিয়া উঠিয়া হুজুর মদ খাইতে আরম্ভ করিবেন, তাঁহার মাতাল হইবার পূর্ব্বেই সেটা হস্তগত করিবার প্রয়োজন। সেটা তাঁহার হাতে যাওয়ার সম্বন্ধে জনার্দ্দন নিজের সামান্য একটু ত্রুটি ও অবিবেচনা স্বীকার করিয়া লইয়াই কহিলেন, সমস্তই স্থির করে রেখেছিলাম, হঠাৎ উনি যে মাঝ থেকে চাবি হাত করবেন, সেটা আর খেয়াল করিনি। এখন সহজে দিলে হয়। দশ দিন পরে হয়ত বলে বসবে, কই কিছুই ত সিন্দুকে ছিল না! কিন্তু আমরা সবাই জানি, ভায়া,<noinclude>{{c|১৭৩}}</noinclude>
37vznvpxzwv1vy50bzjcpane4dqxelv
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮৮
104
883172
1990250
2026-07-18T15:11:23Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990250
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>ষোড়শী আর যাই কেন না করুক, মায়ের সম্পত্তি অপহরণ করবে না—একটি পাই-পয়সা না।
{{ফাঁক}}সকলে এ কথা স্বীকার করিল। অনেকের এমনও মনে হইল, ইহার চেয়ে বরঞ্চ সে-ই ছিল ভাল।
{{ফাঁক}}এই দল যথাসময়ে এবং যথোচিত সমারোহে যখন জমিদারের শান্তিকুঞ্জে আসিয়া উপস্থিত হইল, জমিদার তখন বাহিরের ঘরে বসিয়া। মদের বোতল ও গ্লাসের পরিবর্ত্তে জমিদারীর মোটা মোটা খাতা-পত্র তাঁহার সম্মুখে। এক ধারে বসিয়া তাঁহার সহচর প্রফুল্লচন্দ্র খবরের কাগজ পড়িতেছিল, সেই সকলকে অভ্যর্থনা করিয়া বসাইল।
{{ফাঁক}}শিরোমণি সকলের অগ্রে কথা কহেন এবং সকলের শেষে অনুতাপ করেন। এ-ক্ষেত্রেও তিনিই কথা কহিলেন; বলিলেন, হুজুরের পাছে নিদ্রায় ব্যাঘাত হয়, তাই একটু বিলম্ব করেই আমরা সকলে—
{{ফাঁক}}জীবানন্দ খাতা-পত্র একপাশে ঠেলিয়া রাখিয়া সহাস্যে কহিলেন, বিলম্ব না করে এলেও হুজুরের নিদ্রার ব্যাঘাত হ’ত না শিরোমণিমশায়, কারণ দিনের-বেলা তিনি নিদ্রা দেন না।
{{ফাঁক}}কিন্তু আমরা যে শুনি হুজুর—
{{ফাঁক}}শোনেন? তা আপনারা অনেক কথা শোনেন যা সত্য নয়, এবং অনেক কথা বলেন যা মিথ্যে। এই যেমন আমার সম্বন্ধে ভৈরবীর কথাটা, বলিয়া বক্তা হাস্য করিলেন, কিন্তু শ্রোতার দল থতমত খাইয়া একেবারে মুসড়িয়া গেল। জীবানন্দ কহিলেন, কিন্তু যে-জন্যে ত্বরা করে আসতে চেয়েছিলেন তার হেতুটা শুনি?
{{ফাঁক}}জনার্দ্দন রায় নিজেকে কথঞ্চিৎ সামলাইয়া লইলেন, মনে মনে কহিলেন, এত ভয়ই বা কিসের? প্রকাশ্যে বলিলেন, মন্দির-সংক্রান্ত গোলযোগ যে এত সহজে নিষ্পত্তি করতে পারা যাবে তা আশা ছিল না। নির্ম্মল যে রকম বেঁকে দাঁড়িয়েছিল—
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিলেন, তিনি সোজা হলেন কি করে?
{{ফাঁক}}এই ব্যঙ্গ জনার্দ্দন অনুভব করিলেন, কিন্তু শিরোমণি তাহার ধার দিয়াও গেলেন না, খুসি হইয়া সদর্পে কহিলেন, সমস্তই মায়ের ইচ্ছা হুজুর, সোজা যে হতেই হবে। পাপের ভার তিনি আর সইতে পারছিলেন না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন, তাই হবে। তার পরে?
{{ফাঁক}}শিরোমণি বলিলেন, কিন্তু পাপ ত দূর হল, বল না জনার্দ্দন, হুজুরকে সমস্ত বুঝিয়ে বল না? এই বলিয়া তিনি রায়মশায়কে হাত দিয়া ঠেলিলেন।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৭৪}}</noinclude>
s06rbjep2revoa0y3ejjzdchmw2ma8y
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৮৯
104
883173
1990251
2026-07-18T15:14:23Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990251
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}জনার্দ্দন চকিত হইয়া কহিলেন, মন্দিরের চাবি ত আমরা দাঁড়িয়ে থেকেই তারাদাস ঠাকুরকে দিইয়েচি। আজ তিনিই সকালে মায়ের দোর খুলেচেন, কিন্তু সিন্দুকের চাবিটা শুনতে পেলাম ষোড়শী হুজুরের হাতে সমর্পণ করেছে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ সায় দিয়া কহিলেন, তা করেচে। জমাখরচের খাতাও একখানা দিয়েচে।
{{ফাঁক}}শিরোমণি বলিলেন, বেটি এখনও আছে, কিন্তু এখন কোথায় চলে যায় সে ত বলা যায় না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ মুহূর্ত্তকাল বৃদ্ধের মুখপানে চাহিয়া থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কিন্তু সে-জন্যে আপনাদের এত উদ্বেগ কেন?
{{ফাঁক}}উত্তরের জন্য তিনি জনার্দ্দনের প্রতি চাহিলেন। জনার্দ্দন সাহস পাইয়া কহিলেন, দলিলপত্র, মূল্যবান তৈজসাদি, দেবীর অলঙ্কার প্রভৃতি যা কিছু আছে গ্রামের প্রাচীন ব্যক্তিরা সমস্তই জানেন। শিরোমণিমশায় বলেচেন যে, ষোড়শী থাকতে থাকতেই সেগুলো সব মিলিয়ে দেখলে ভাল হয়। হয়ত—
{{ফাঁক}}হয়ত নেই? এই না? কিন্তু না থাকলেই বা আপনারা আদায় করবেন কি করে?
{{ফাঁক}}জনার্দ্দন সহসা জবাব খুঁজিয়া পাইলেন না, শেষে বলিলেন, তবু ত জানা যাবে হুজুর!
{{ফাঁক}}কিন্তু আজ আমার সময় নাই রায়মশায়।
{{ফাঁক}}জনার্দ্দন মনে মনে উল্লসিত হইয়া উঠিলেন, প্রায় এই প্রকার ফন্দি করিয়াই তাঁহারা আসিয়াছিলেন। শিরোমণি ব্যগ্র হইয়া কহিলেন, চাবিটা জনার্দ্দন ভায়ার হাতে দিলে আজই সন্ধ্যার পূর্ব্বে আমরা সমস্ত মিলিয়ে দেখতে পারি। হুজুরেরও আর কোন দায়িত্ব থাকে না—কি আছে না আছে সে পালাবার আগেই সব জানা যায়। কি বল ভায়া? কি বল হে তোমরা? ঠিক না?
{{ফাঁক}}সকলেই এ প্রস্তাবে সম্মতি দিল, দিল না কেবল যাহার হাতে চাবি। সে শুধু একটু ঈষৎ হাসিয়া কহিল, ব্যস্ত কি শিরোমণিমশায়, যদি কিছু নষ্ট হয়েই থাকে ত ভিখিরীর কাছ থেকে আর আদায় হবে না। আপনারা আজ আসুন, আমার যেদিন অবসর হবে, মিলিয়ে দেখতে আপনাদের সকলকেই আমি সংবাদ দেব। ফন্দি খাটিল না দেখিয়া সবাই মনে মনে রাগ করিল। রায় মহাশয় উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিলেন, কিন্তু দায়িত্ব একটা—
{{ফাঁক}}জীবানন্দ তৎক্ষণাৎ সায় দিয়া কহিলেন, সে ত ঠিক কথা রায়মশায়। দায়িত্ব একটা আমার রইল বই কি।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৭৫}}</noinclude>
p142sqtep13hbik2g9cvgdezduksgk3
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯০
104
883174
1990252
2026-07-18T15:17:04Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990252
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}দ্বারের বাহির হইয়াই শিরোমণি জনার্দ্দনের গা টিপিয়া কহিলেন, দেখলে ভায়া, ব্যাটা মাতালের ভাব বোঝাই ভার। গুয়োটা কথা কয় যেন হেঁয়ালী। মদে চুর হয়ে আছে। বাঁচবে না বেশি দিন।
{{ফাঁক}}জনার্দ্দন শুধু বলিলেন, হুঁ। যা ভয় করা গেল, তাই হল দেখচি।
{{ফাঁক}}শিরোমণি কহিলেন, এবার গেল সব শুঁড়ির দোকানে। বেটি যাবার সময় আচ্ছা জব্দ করে গেল।
{{ফাঁক}}একজন কহিল, হুজুর চাবি আর দিচ্চেন না।
{{ফাঁক}}শিরোমণি উত্তেজিত হইয়া বলিলেন, আবার! এবার চাইতে গেলে গলা টিপে মদ খাইয়ে দিয়ে তবে ছাড়বে। কথাটা উচ্চারণ করিয়াই তাঁহার সর্ব্বাঙ্গ রোমাঞ্চিত হইয়া উঠিল।
{{ফাঁক}}ঘরের মধ্যে জীবানন্দ খোলা দ্বারের দিকে শূন্য-দৃষ্টিতে চাহিয়া স্থির হইয়া বসিয়াছিল; প্রফুল্ল কহিল, দাদা, আবার একটা নূতন হাঙ্গামা জড়ালেন কেন, চাবিটা ওঁদের দিয়ে দিলেই ত হ’ত।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ তাহার মুখের প্রতি চক্ষু ফিরাইয়া কহিল, হ’ত না প্রফুল্ল, হলে দিতাম। পাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলেই সে কাল রাতে আমার হাতে চাবি দিয়েচে।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল মনে মনে বোধ হয় ঠিক বিশ্বাস করিতে পারিল না, জিজ্ঞাসা করিল, সিন্দুকে আছে কি?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ একটু হাসিয়া কহিল, কি আছে? আজ সকালে তাই আমি খাতাখানা পড়ে দেখছিলাম। আছে মোহর, টাকা, হীরে, পান্না, মুক্তোর মালা, মুকুট, নানারকম জড়োয়া গয়না, কত কি দলিলপত্র, তাছাড়া সোনা-রূপোর বাসনকোসনও কম নয়। কত কাল ধরে জমা হয়ে এই ছোট্ট চণ্ডীগড়ের ঠাকুরের যে এত সম্পত্তি সঞ্চিত আছে, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। চুরি-ডাকাতির ভয়ে ভৈরবীরা বোধ করি কাউকে জানতেও দিত না।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল সভয়ে কহিল, বলেন কি! তার চাবি আপনার কাছে? একমাত্র পুত্র-সমর্পণ ডাইনির হাতে?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ রাগ করিল না, কহিল, নিতান্ত মিথ্যা বলনি ভায়া, এত টাকা দিয়ে আমি নিজেকেও বিশ্বাস করতে পারতাম না। ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া কহিল,<noinclude>{{c|১৭৬}}</noinclude>
3pu4woc2s3338bvlm7g7y4x7gdhpe8q
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯১
104
883175
1990253
2026-07-18T15:19:59Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990253
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>অথচ, এ আমি চাইনি প্রফুল্ল। আমি যতই তাকে পীড়াপীড়ি করলাম জনার্দ্দন রায়কে দিতে ততই সে অস্বীকার করে আমার হাতে গুঁজে দিলে।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল নিজেও ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, এর কারণ?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, বোধ হয় সে ভেবেছিল, এ দুর্নামের ওপর আবার চুরির কলঙ্ক চাপলে তার আর সইবে না। এদের সে চিনেছিল।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল বলিল, কিন্তু আপনাকে সে চিনতে পারেনি।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ হাসিল, কিন্তু সে হাসিতে আনন্দ ছিল না; কহিল, সে দোষ তার, আমার নয়। তার সম্বন্ধে অপরাধ আমার আর যত দিকেই থাক্, আমাকে চিনতে না পারার অপরাধ গোড়া থেকে শেষ পর্য্যন্ত আমি একটা দিনের তরেও করিনি। কিন্তু আশ্চর্য্য এই পৃথিবী এবং তার চেয়েও আশ্চর্য্য এই মানুষের মন! এ যে কি থেকে কি ঠিক করে নেয়, কিছুই বলবার যো নেই। এর যুক্তিটা কি জানো ভাষা, সেই যে তার হাত থেকে মরফিয়া নিয়ে চোখ বুজে খাওয়ার গল্পটা তোমার কাছে করেছিলাম, সেই হ’ল তার সকল তর্কের শেষ তর্ক, সকল বিশ্বাসের বড় বিশ্বাস। কিন্তু সে রাত্রে আর যে কোন উপায় ছিল না, এদিকেও মরি, ওদিকেও মরি—সে ছাড়া আর কারও পানে চাইবার পথ ছিল না—এ সমস্ত ষোড়শী একদম ভুলে বসে আছে, শুধু একটি কথা তার মনে জেগে রয়েচে, যে নিজের প্রাণটা নিঃসংশয়ে তার হাতে দিতে পেরেছিল, তাকে আবার অবিশ্বাস করা যায় কি করে? ব্যস্, যা কিছু ছিল সমস্ত দিলে চোখ বুজে আমার হাতে তুলে। প্রফুল্ল, দুনিয়ার ভয়ানক চালাক লোকও মাঝে মাঝে মারাত্মক ভুল করে বসে, নইলে সংসার একেবারে মরুভূমি হয়ে দাঁড়াতো, কোথাও রসের বাষ্পটুকুও জমবার ঠাই পেত না।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল ঘাড় নাড়িয়া বলিল, অতিশয় খাঁটি কথা দাদা। অতএব অবিলম্বে খাতাখানা পুড়িয়ে ফেলুন, তারাদাস ঠাকুরকে ডেকে ধমক দিন—জমানো মোহরগুলোয় যদি সলোমনসাহেবের দেনাটা শোধা যায় ত, শুধু রসের বাষ্প কেন মুষলধারে বর্ষণ শুরু হতে পারবে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, প্রফুল্ল, এই জন্যই তোমাকে এত পছন্দ করি।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল হাত জোড় করিয়া বলিল, এই পছন্দটা এইবার একটু খাটো করতে হবে দাদা। রসের উৎস আপনার অফুরন্ত হোক, কিন্তু মোসাহেবী করে এ অধীনের গলার চুঙ্গি পর্য্যন্ত কাঠ হয়ে গেল। এইবার একবার বাইরে গিয়ে দুটো ডাল-ভাতের যোগাড় করতে হবে। কাল-পরশু আমি বিদায় নিলাম।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৭৭}}</noinclude>
8ues731n02uxsc8c90tejkelmohl73n
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯২
104
883176
1990254
2026-07-18T16:21:51Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990254
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}জীবানন্দ হাসিয়া কহিল, একেবারে নিলে? কিন্তু এইবার নিয়ে ক’বার নেওয়া হ’ল প্রফুল্ল?
{{ফাঁক}}বার-চারেক। এই বলিয়া সে নিজেও হাসিয়া ফেলিয়া কহিল, ভগবান মুখটা দিয়েছিল, তা বড়লোকের প্রসাদ খেয়েই দিন গেল; দুটো বড় কথাও যদি না মাঝে মাঝে বার করতে পারি ত নিতান্তই এর জাত যায়। নেহাৎ অপরাধও নেই দাদা। বহুকাল ধরে আপনাদের জলকে কখনো উঁচু কখনো নীচু বলে এ দেহটায় মেদ-মাংসই কেবল শ্রীবৃদ্ধি লাভ করেচে, সত্যিকারের রক্ত বলতে বোধ করি ছিটেফোঁটাও আর বাকি নেই। আজ ভাবচি এক কাজ করব। সন্ধ্যার আবছায়ায় গা-ঢাকা দিয়ে গিয়ে খপ্ করে ভৈরবীঠাকরুণের এক খামচা পায়ের ধুলো নিয়ে গিলে ফেলব। আপনার অনেক ভাল-মন্দ দ্রব্যই ত আজ পর্য্যন্ত উদরস্থ করেচি, এ নইলে সেগুলো আর হজম হবে না, পেটে লোহার মত ফুটবে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ হাসিবার চেষ্টা করিয়া কহিল, আজ উচ্ছ্বাসের কিছু বাড়াবাড়ি হচ্ছে প্রফুল্ল।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল পুনশ্চ হাত জোড় করিয়া কহিল, তা হলে বসুন দাদা, এটা শেষ করি। মোসাহেবি পেন্সন বলে সেদিন যে উইলখানায় হাজার-পাঁচেক টাকা লিখে রেখেচেন, সেটার ওপরে দয়া করে একটা কলমের আঁচড় দিয়ে রাখবেন—চণ্ডীর টাকাটা হাতে এলে মোসাহেবের অভাব হবে না, কিন্তু আমাকে দান করে অতগুলো টাকার আর দুর্গতি করবেন না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, তা হলে এবার আমাকে তুমি সত্যি-সত্যিই ছাড়লে?
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল তেমনি করজোড়ে কহিল, আশীর্ব্বাদ করুন, এই সুমতিটুকু শেষ পর্য্যন্ত যেন বজায় থাকে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ মৌন হইয়া রহিল। প্রফুল্ল জিজ্ঞাসা করিল, কবে যাচ্চেন তিনি?
{{ফাঁক}}জানিনে।
{{ফাঁক}}কোথায় যাচ্চেন তিনি?
{{ফাঁক}}তাও জানিনে।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল কহিল, জেনেও কোন লাভ নেই দাদা; সহসা তাহার মুখের চেহারা বদলাইয়া গেল, কহিল, বাপরে! মেয়েমানুষ ত নয়, যেন পুরুষের বাবা। মন্দিরে দাঁড়িয়ে সেদিন অনেকক্ষণ চেয়েছিলাম, মনে হ’ল যেন পা থেকে মাথা পর্য্যন্ত একেবারে পাথরে গড়া। ঘা মেরে মেরে গুঁড়ো করা যাবে, কিন্তু আগুনে গলিয়ে ইচ্ছে-মত ছাঁচে ঢেলে গড়বেন, সেই বস্তুই নয়। পারেন ত ও মতলবটা পরিত্যাগ করবেন।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৭৮}}</noinclude>
9kn25qg38r47iuwaugdefushof7j7ax
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯৩
104
883177
1990255
2026-07-18T16:24:32Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990255
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}জীবানন্দ কতকটা বিদ্রূপের ভঙ্গিতে প্রশ্ন করিল, তা হলে প্রফুল্ল এবার নিতান্তই যাচ্চো?
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল সবিনয়ে জবাব দিল, গুরুজনের আশীর্ব্বাদের জোর থাকে ত মনস্কামনা সিদ্ধ হবে বই কি।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, তা হতে পারে। কিন্তু কি করবে স্থির করেচ?
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল বলিল, অভিলাষ ত আপনার কাছে ব্যক্ত করেচি। প্রথমে চারটি ডালভাতের যোগাড়ের চেষ্টা করব।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কয়েক মুহূর্ত্ত নীরব থাকিয়া প্রশ্ন করিল, ষোড়শী সত্যই চলে যাবে তোমার মনে হয়?
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল কহিল, হয়। তার কারণ, সংসারে সবাই প্রফুল্ল নয়। ভাল কথা দাদা, একটা খবর আপনাকে দিতে ভুলেছিলাম। কাল রাত্রে নদীর ধারে বেড়াচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি সেই ফকিরসাহেব। আপনাকে যিনি একদিন তাঁর বটগাছে ঘুঘু শিকার করতে দেননি—বন্দুক কেড়ে নিয়েছিলেন—তিনি। কুর্নিশ করে কুশল প্রশ্ন করলাম, ইচ্ছে ছিল মুখরোচক দুটো খোসামোদ-টোসামোদ করে যদি একটা কোন ভাল রকমের ওষুধ-টষুধ বার করে নিতে পারি ত আপনাকে ধরে পেটেণ্ট নিয়ে বেচে দুপয়সা রোজগার করব। কিন্তু ব্যাটা ভারি চালাক, সে দিক দিয়েই গেল না। কথায় কথায় শুনলাম তাঁর ভৈরবী মাকে দেখতে এসেছিলেন, এখন চলে যাচ্চেন। ভৈরবী যে সমস্ত ছেড়ে দিয়ে চলে যাচ্চেন, তাঁর কাছে শুনতে পেলাম।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কৌতূহলী হইয়া উঠিল, কহিল, এঁর সদুপদেশেই বোধ করি তিনি চলে যাচ্চেन?
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না। বরঞ্চ এঁর উপদেশের বিরুদ্ধেই তিনি চলে যাচ্চেন।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ উপহাস করিয়া কহিল, বল কি প্রফুল্ল, ফকিরসাহেব শুনি যে তাঁর গুরু! গুরু-আজ্ঞা লঙ্ঘন?
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল কহিল, এ-ক্ষেত্রে তাই বটে।
{{ফাঁক}}কিন্তু এত বড় বিরাগের হেতু?
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল কহিল, বিরাগের হেতু আপনি। একটুখানি চুপ করিয়া থাকিয়া কহিল, কি জানি এ-কথা আপনাকে শোনান ভাল হবে কি না, কিন্তু ফকিরের বিশ্বাস আপনাকে তিনি মনে মনে অত্যন্ত ভয় করেন—পাছে কলহ-বিবাদের মধ্য দিয়েও<noinclude>{{c|১৭৯}}</noinclude>
ovks02hlxuzq1re7lc2768892acqvvx
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯৪
104
883178
1990256
2026-07-18T16:29:18Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990256
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>আপনার সঙ্গে মাখামাখি হয়ে যায়, এই তাঁর সকলের চেয়ে বড় ভয়। নইলে দেশের লোককে তিনি ভয় করেননি।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বিস্ফারিত-চক্ষে তাহার প্রতি নিঃশব্দে চাহিয়া রহিল। প্রফুল্ল একটুখানি হাসিয়া কহিল, দাদা, ভগবান আপনাকেও বুদ্ধি বড় কম দেননি, কিন্তু সর্ব্বস্ব সমর্পণ করে কাল তিনিই মারাত্মক ভুল করলেন, কি হাত পেতে নিয়ে আপনিই মারাত্মক ভুল করলেন, সে মীমাংসা আজ বাকি রয়ে গেল, বেঁচে থাকি ত একদিন দেখতে পাবো আশা হয়।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ এ কথার কোনও উত্তর দিল না, তেমনি নীরবে বসিয়া রহিল।
{{ফাঁক}}সন্ধ্যা হয় হয়, বেহারা পাত্র ভরিয়া মদ আনিয়া উপস্থিত করিল; জীবানন্দ হাত নাড়িয়া কহিল, নিয়ে যা—দরকার নেই।
{{ফাঁক}}ভৃত্য বুঝিতে না পারিয়া দাঁড়াইয়া থাকিলে প্রফুল্ল কহিল, কখন দরকার সেইটে বলে দিন না?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ সহসা কখন যেন অন্যমনস্ক হইয়া পড়িয়াছিল, প্রফুল্লর প্রশ্নে চোখ তুলিয়া কহিল, এখন ত নিয়ে যা—দরকার হলে ডেকে পাঠাবো। সে চলিয়া যাইতেছিল, জীবানন্দ ডাকিয়া কহিল, হাঁ রে, তোদের চা আছে?
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল কহিল, শোন কথা! চা নেই ত আমি বেঁচে আছি কি করে?
{{ফাঁক}}তবে, তাই এক বাটি নিয়ে আয়।
{{ফাঁক}}বেহারা প্রস্থান করিলে প্রফুল্ল প্রশ্ন করিল, অকস্মাৎ অমৃতে অরুচি যে?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, অরুচি নয়—কিন্তু আর খাবো না।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল হাসিয়া এবং ক্ষণেক পূর্ব্বে তাহারই প্রতি প্রযুক্ত বিদ্রূপ ফিরাইয়া দিয়া কহিল, এই নিয়ে ক’বার হল দাদা?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ রাগ করিল না, সেও হাসিয়া তাহারই অনুসরণ করিয়া কহিল, এ মীমাংসাটাও আজ না হয় বাকি থাক্ প্রফুল্ল, যদি বেঁচে থাকো ত একদিন দেখতে পাবে আশা করি।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল মুখ টিপিয়া শুধু একটু হাসিল, প্রত্যুত্তর করিল না।
{{ফাঁক}}চাকর আলো দিয়া গেল। ক্রমশঃ সন্ধ্যার অন্ধকার যখন বাহিরে গাঢ় হইয়া আসিতেছিল, জীবানন্দ হঠাৎ উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিল, যাই একটু ঘুরে আসি—
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল আশ্চর্য্য হইয়া কহিল, কই, কাপড় ছাড়লেন না?
{{ফাঁক}}থাক্গে।
{{ফাঁক}}আপনার সহচর? গাদা পিস্তলটি?
{{nop}}<noinclude>{{c|১৮০}}</noinclude>
8na75m4hyflq11xy78tznhg24p100u6
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯৫
104
883179
1990257
2026-07-18T16:30:53Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990257
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}সেও থাক্। আজ একলাই ঘুরতে চললাম।
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল ভয়ানক আপত্তি করিয়া বলিল, না না, সে হয় না দাদা। অন্ধকার রাত, পথে-ঘাটে আপনার অনেক শত্রু। এই বলিয়া সে তাড়াতাড়ি দেরাজ হইতে পিস্তল বাহির করিয়া হাতে গুঁজিয়া দিতে গেল।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ দুই পা পিছাইয়া গিয়া কহিল, ওকে আর আমি ছুঁচ্চিনে প্রফুল্ল—
{{ফাঁক}}প্রফুল্ল বিস্ময়ে অবাক্ হইয়া কহিল, হঠাৎ হ’ল কি দাদা? না হয় পাইকদের ডেকে দিই, তাদের কেউ সঙ্গে যাক।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ মাথা নাড়িয়া কহিল, না, তাও না। আজ থেকে আমি এমনি একলা বার হব, যেন কোথাও কোন শত্রু নেই আমার, আর আমার থেকেও কারও কোন ভয় না হোক; তার পরে যা হয় তা আমার ঘটুক—আমি কারও কাছে নালিশ করব না। এই বলিয়া সে অন্ধকারে ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৮১}}</noinclude>
5xar3wgmi3ettznl2pq61bql7002np1
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯৬
104
883180
1990260
2026-07-18T16:42:12Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990260
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''২৪'''}}
{{ফাঁক}}পরিপূর্ণ সুরাপাত্র অসম্মানে ফিরিয়া গেল দেখিয়া প্রফুল্ল ব্যঙ্গ করিয়াছে। করিবারই কথা। লিভারের দুঃসহ যাতনায় ও চিকিৎসকের তাড়নায় শয্যাগত জীবানন্দের জীবনে এ অভিনয় আরও হইয়া গেছে; কিন্তু স্বেচ্ছায়, সুস্থদেহে মদের বদলে চা খাইয়া বাটীর বাহির হওয়া খুব সম্ভব এই প্রথম। সমস্ত জগৎটা তাহার বিস্বাদ ঠেকিল, এবং শান্তি-কুঞ্জের ঘন ছায়ায় ঘেরা পথের মধ্যে যেদিকে চাহিল, সেই দিক হইতেই একটা অস্ফুট কান্নার সুর আসিয়া যেন তাহার কানে বাজিতে লাগিল। তাহার অভ্যস্ত জীবনের নীচে তাহারই যে আরও একটা সত্যকার জীবন আজও বাঁচিয়া আছে এ খবর সে জানিত না। গেট পার হইয়া যখন মাঠের পথে বাহির হইয়া আসিল, তখন সন্ধ্যার ধূসর আকাশ ধীরে ধীরে রাত্রির অন্ধকারে পরিণত হইতেছিল। এক দিকে শীর্ণ নদীর বালুময় শুষ্ক সৈকত আঁকিয়া বাঁকিয়া দিগন্তে অদৃশ্য হইয়াছে, আর এক দিকে বৈশাখের শষ্পশস্যহীন বিস্তৃত ক্ষেত্র চণ্ডীগড়ের পাদমূলে গিয়া মিশিয়াছে। পথে পথিক নাই, মাঠে কৃষকদের আর দেখা যায় না, রাখাল বালকেরা গোচারণের কাজ আজিকার মত শেষ করিয়া গৃহে ফিরিয়া গেছে—সান্ধ্য আকাশতলে জনহীন ভূখণ্ডের এই স্তব্ধ বিষণ্ণ মূর্ত্তি আজ তাহার কাছে অত্যন্ত করুণ ও অদ্ভুত মনে হইল। এই পথে, এমনি নির্জ্জন সন্ধ্যায় সে আরও কতবার যাতায়াত করিয়াছে; কিন্তু এতদিন ধরিত্রী যেন এই তাঁহার শান্ত দুঃখের ছবিখানি মাতালের রক্তচক্ষু হইতে একান্ত সঙ্কোচে গোপন করিয়া রাখিয়াছিলেন। ওপারের রৌদ্র-দগ্ধ প্রান্তর বাহিয়া উষ্ণ বায়ু আসিয়া মাঝে মাঝে তাহার গায়ে লাগিতেছিল; কিছুই নূতন নয়—সেই দিকে চাহিয়া অকস্মাৎ রুদ্ধ অভিমানের কান্নায় যেন আজ তাহার বুক ভরিয়া উঠিল। মনে মনে বলিতে লাগিল, মা পৃথিবী, তোমার দুঃখের তপ্ত নিশ্বাসটুকু কি লজ্জায় এতদিন চেপে রেখেছিলে, পাষণ্ড বলে জানতে দাওনি? সংসারে আপনার বলতে আমার কেউ নেই, নিজের ছাড়া কারও সুখে দুঃখের কখনো ভাগ পাইনি—সেও কি মা, আমার দোষ? আজ আছি, কাল যদি না থাকি, দুনিয়ায় কারও ক্ষতি-বৃদ্ধি নেই, এ-কথা কি তুমিই কোনদিন ভেবেচ মা?
{{ফাঁক}}এ অভিযোগ যে সে কাহার কাছে করিল, মা বলিয়া যে সে বিশেষ কাহাকে লক্ষ্য করিয়া ডাকিল, বোধ হয় সে নিজেই ঠিক-মত উপলব্ধি করে নাই; তথাপি<noinclude>{{c|১৮২}}</noinclude>
ihh0i045ynwhhvsjouuami4898w5x9u
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯৭
104
883181
1990261
2026-07-18T16:45:40Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990261
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>গিরিগাত্র-স্খলিত উপলখণ্ড-সকল যেমন নির্ঝরের পথ ধরিয়া আপনার ভারবেগে আপনিই গড়াইয়া চলে, তেমনি করিয়াই তাহার সদ্য উৎসারিত আকস্মিক বেদনার অনুভূতি চোখের জলের পথ ধরিয়া কথার মালা গাঁথিয়া গাঁথিয়া নিরন্তর বহিয়া চলিতে লাগিল। মাঠের জল-নিকাশের জন্য চাষারা একবার এই পথের উপর দিয়া নালা কাটিয়া দিয়াছিল। নন্দী মহাশয়ের আদেশ অর্জ্জন করিবার মত প্রচুর দক্ষিণা যখন তাহারা কোনমতেই সংগ্রহ করিতে পারে নাই, তখনই শুধু সর্ব্বনাশ হইতে আত্মরক্ষা করিতে এই কাজ করিয়াছিল; কিন্তু দরিদ্রের এই দুঃসহ স্পর্দ্ধা এককড়ি হুজুরের গোচর করিলে তিনি তৎক্ষণাৎ তাহা বন্ধ করিয়া দিয়াছিলেন, নিরুপায়ের অশ্রুজলে ভ্রূক্ষেপমাত্র করেন নাই। স্থানটা তখন পর্য্যন্ত অসমতল অবস্থাতেই ছিল। দরিদ্র-পীড়নের এই উৎকট চিহ্ন এই পথে কতবারই ত তাহার দৃষ্টিগোচর হইয়াছে, কিন্তু আজ ইহাই চোখে পড়িয়া দুই চোখে অশ্রু প্লাবিত হইয়া উঠিল। মনে মনে কহিল, আহা! কত ক্ষতিই না-জানি হয়েচে! কত ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে হয়ত পেটভরে দুবেলা খেতেও পাবে না! কেনই বা মানুষে এ-সব করে! জায়গাটা অন্ধকারেই ক্ষণকাল পর্য্যবেক্ষণ করিয়া কহিল, হাতে টাকা থাকলে কালই মিস্ত্রি লাগিয়ে এটা বাঁধিয়ে দিতাম, প্রতি বৎসর এ নিয়ে আর তাদের দুঃখ পেতে হ’ত না। আচ্ছা কত টাকা লাগে? সে পথ ছাড়িয়া মাঠে নামিয়া গেল, এবং সমস্ত মন দিয়া পরীক্ষা করিতে লাগিল। এ-সম্বন্ধে কোন ধারণাই তাহার ছিল না, কত ইট, কত চূণ-বালি, কত কাঠ, কি কি আবশ্যক কিছুই সে জানিত না, কিন্তু কথাটা তাহাকে যেন পাইয়া বসিল। সেইখানে ভূতের মত অন্ধকারে একাকী দাঁড়াইয়া সে কেবলই মনে মনে হিসাব করিতে লাগিল, এই ব্যয় তাহার সাধ্যাতীত কি না।
{{ফাঁক}}পথের ওধার দিয়া কি একটা ছুটিয়া গেল। হয়ত কুকুর কিংবা শিয়াল হইবে, কিন্তু তাহার চমক ভাঙ্গিল। পরের জন্য দুঃখ বোধ করা এমনই অভ্যাস-বিরুদ্ধ যে চমক ভাঙ্গার সঙ্গে সঙ্গেই ইহার সমস্ত তামাসাটা এক মুহূর্ত্তে ধরা পড়িয়া তাহার ভারি হাসি পাইল। তাড়াতাড়ি রাস্তায় উঠিয়া আসিয়া শুধু বলিল, বাঃ বেশ ত কাণ্ড! কেউ যদি দেখে ত কি ভাবে! জীবানন্দ আজ মদ না খাইয়াই বাহির হইয়াছিল, তাহার আজিকার এই মনের দুর্ব্বলতার হেতু সে বুঝিল, অবসাদগ্রস্ত চিত্তের মাঝে কেন যে আজ অকারণে কেবল কান্নার সুরই বাজিয়া বাজিয়া উঠিতেছে, ইহারও কারণ বুঝিতে তাহার বিলম্ব ঘটিল না। আরও একটা জিনিস, নিজের সম্বন্ধে আজ তাহার প্রথম সন্দেহ হইল যে, দীর্ঘদিনের অভ্যাস আজ তাহার<noinclude>{{c|১৮৩}}</noinclude>
1n3vzsz06n57l1q5na67xrpfpsrqm0j
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯৮
104
883182
1990262
2026-07-18T16:48:23Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990262
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>সর্ব্বাঙ্গ ঘেরিয়া একেবারে স্বভাবে রূপান্তরিত হইয়া দাঁড়াইয়াছে। আপনাকে আপন বলিয়া দাবি করিবার দাবি হয়ত তাহার চিরদিনের মত হাতের বাহিরে চলিয়া গিয়াছে। কিসের জন্য বাটির বাহির হইয়াছিল ঠিক স্মরণ করিতে পারিল না, ঝোঁকের মাথায় জোর করিয়া যখন ঘর ছাড়িয়া বাহির হইয়াছিল, তখন স্থিরসঙ্কল্প হয়ত কিছুই ছিল না, হয়ত অগোচরে অস্পষ্টরূপে অনেক কথাই ছিল—যাহা এখন একেবারে লেপিয়া একাকার হইয়া গেল। গৃহত্যাগের কোন উদ্দেশ্যই মনে পড়িল না। কিন্তু গৃহে ফিরিতেও ইচ্ছা করিল না। কিছুদূর অগ্রসর হইয়া রাস্তা ছাড়িয়া পায়ে-হাঁটা যে পথটা মাঠের উপর দিয়া কোণাকুণি চণ্ডীগড়ের দক্ষিণ ঘুরিয়া গিয়াছে অন্ধকারে সেই পথেই সে পা বাড়াইল। পথটা দীর্ঘ এবং বন্ধুর, প্রতি পদক্ষেপেই বাধা পাইতে লাগিল, কিন্তু ধাক্কা খাইয়া, হোঁচট খাইয়া পথ চলিতে চলিতে বিক্ষিপ্ত চিত্ততল তাহার কখন যে ইট, কাঠ, চূণ এবং সুরকির চিন্তায় পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল, সে জানিতে পারিল না।
{{ফাঁক}}জিনিসটা কিছুই নয়, ছোট একটা সাঁকো, বীজগ্রামের জমিদারের কাছে তাহার চেয়ে তুচ্ছ বস্তু আর ত কিছু হইতেই পারে না। সেটা তৈরি করার মধ্যে না আছে শিল্প, না আছে সৌন্দর্য্য; তবুও এই শিল্পসৌন্দর্য্যহীন সামান্য বস্তুটাই যেন কত দুঃখীর সুখ-দুঃখের সঙ্গে মিশিয়া তাহার মরণের মধ্যে আজ এক নূতন রসে ভরিয়া অসামান্য হইয়া দেখা দিল। তাহাকে কত প্রকার ভাঙিয়া কত রকমে গড়িয়া সে যেন আর শেষ হইতেই চাহিল না। অথচ এ-সকল যে শুধু তাহার অবসন্ন মনের ক্ষণস্থায়ী খেয়াল, সত্যবস্তু নয়, কাল দিনের বেলা ইহার চিহ্নমাত্র রহিবে না, এ-কথাও সে বিস্মৃত হইল না, উৎসবের মাঝে গোপন শোকের মত কোথায় যেন বিঁধিয়াই রহিল। অথচ আর রাত্রির মত এই ছেলেমানুষিটাকে সে কোনমতেই ছাড়িতে পারিল না, প্রশ্রয় দিয়া দিয়া কল্পনার পরে কল্পনা যোজনা করিয়া অবিশ্রাম চলিতে লাগিল।
{{ফাঁক}}সহসা কালো আকাশপটে চণ্ডী-মন্দিরের চূড়া দেখা দিল। এতদূর আসিয়াছে তাহার হুঁস ছিল না; আরও কাছে আসিয়া মন্দিরের ছোট দরজাটা তখনও খোলা আছে দেখিতে পাইয়া নিঃশব্দে ভিতরে প্রবেশ করিল। দেবীর আরতি অনেকক্ষণ শেষ হইয়া গেছে, মন্দিরের দ্বার রুদ্ধ, সমস্ত প্রাঙ্গণে ঘোর অন্ধকার, শুধু নাট-মন্দিরের একধারে মিট্ মিট্ করিয়া একটা প্রদীপ জ্বলিতেছে। জীবানন্দ নিকটে গিয়া দেখিল জন চার-পাঁচ লোক মশার ভয়ে আগাগোড়া মুড়ি দিয়া ঘুমাইতেছে, শুধু কে একজন থামের আড়ালে চুপ করিয়া বসিয়া মালা জপ করিতেছে।<noinclude>{{c|১৮৪}}</noinclude>
cok1flhfzs7xdku6crpztpdb45wvtw9
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২০
0
883183
1990263
2026-07-18T16:49:23Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=160 to=167 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1990263
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=160 to=167 header=1/>
dg8abpykccqj85wqf3q73ssrl1fzq9k
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২১
0
883184
1990264
2026-07-18T16:49:46Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=168 to=176 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1990264
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=168 to=176 header=1/>
f89iktnmmnegy6lnav4v1qz57760jkv
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২২
0
883185
1990265
2026-07-18T16:50:09Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=177 to=186 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1990265
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=177 to=186 header=1/>
ajmg4zsbw98v8knzlekar5gfcjmaig2
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/দেনা-পাওনা/২৩
0
883186
1990266
2026-07-18T16:50:28Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=187 to=195 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
1990266
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf" from=187 to=195 header=1/>
q0juxuyh7pn3mbyw5oyj071dsjk322f
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/১৯৯
104
883187
1990267
2026-07-18T16:52:17Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990267
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>জীবানন্দ আরও একটু কাছে গিয়া লোকটিকে দেখিবার চেষ্টা করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কে তুমি?
{{ফাঁক}}লোকটি জীবানন্দের ধপ্ধপে শাদা পরিচ্ছদ অন্ধকারেও অনুভব করিয়া তাঁহাকে ভদ্র ব্যক্তি বলিয়া বুঝিল, কহিল, আমি একজন যাত্রী বাবু।
{{ফাঁক}}ও—যাত্রী! কোথায় যাবে?
{{ফাঁক}}আজ্ঞে, আমি যাবো শ্রীশ্রীপুরীধামে।
{{ফাঁক}}কোথা থেকে আসচ? এরা বুঝি তোমার সঙ্গী? এই বলিয়া জীবানন্দ ঘুমন্ত লোকগুলিকে দেখাইয়া দিল।
{{ফাঁক}}লোকটি ঘাড় নাড়িয়া কহিল, আজ্ঞে না, আমি একাই আসচি মানভূম জেলা থেকে। এদের কারও বাড়ি মেদিনীপুর, কারও বাড়ি আর কোথাও—কোথায় যাবে, তাও জানিনে। দুজন ত কেবল আজ দুপুরবেলাতে এসেচে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ জিজ্ঞাসা করিল, আচ্ছা, কত লোক এখানে রোজ আসে? যারা থাকে তারা দুবেলা খেতে পায়, না?
{{ফাঁক}}লোকটা বিব্রত হইয়া পড়িল। লজ্জিতভাবে কহিল, কেবল খাবার জন্যেই সবাই থাকে না বাবু। পায়ে হাঁটা আমার অভ্যাস ছিল না। তাই ফেটে গিয়ে ঘায়ের মত হ’ল। মা ভৈরবী নিজের চোখে দেখে হুকুম দিলেন যতদিন না সারে এখানে থাকো।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, বেশ ত থাকো না। জায়গার ত আর অভাব নেই হে!
{{ফাঁক}}কিন্তু মা ভৈরবী ত আর নেই শুনতে পেলাম।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ হাসিয়া কহিল, এরই মধ্যে শুনতে পেয়েছ? তা না-ই তিনি থাকলেন, তাঁর হুকুম ত আছে। তোমাকে যেতে বলে সাধ্য কার? তোমার যতদিন না পা সারে, তুমি থাকো। এই বলিয়া জীবানন্দ তাহার কাছে আসিয়া বসিল।
{{ফাঁক}}লোকটা প্রথমে একটু ভয় ও সঙ্কোচ অনুভব করিল, কিন্তু সে ভাব রহিল না। এবং দেখিতে দেখিতে অন্ধকারে এই নির্জ্জন নিস্তব্ধ দেবায়তনের একান্তে পরাক্রান্ত এক ভূস্বামী ও দীন গৃহহীন আর এক ভিক্ষুকের সুখদুঃখের আলোচনা একেবারে ঘনিষ্ঠ হইয়া উঠিল। লোকটির নাম উমাচরণ, জাতিতে কৈবর্ত্ত, বাটী আগে ছিল মানভূম জেলার বংশীবট গ্রামে। গ্রামে অন্ন নাই, জল নাই, চিকিৎসক নাই—এ যাঁহার ব্রহ্মোত্তর সম্পত্তি, তিনি পশ্চিমের কোন এক সহরে ওকালতী করেন। রাজায় প্রজায় প্রীতি নাই, সম্বন্ধ নাই, আছে শুধু শোষণ করিবার বংশগত অধিকার। এই ফাল্গুনের শেষে বিসূচিকা রোগে তাহার স্ত্রী মরিয়াছে, উপযুক্ত দুই পুত্র একে<noinclude>{{c|১৮৫}}</noinclude>
13ro7qcfp7bro5i7oyazaf4sxj897tp
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০০
104
883188
1990268
2026-07-18T16:54:58Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990268
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>একে চোখের উপর বিনা চিকিৎসায় প্রাণত্যাগ করিয়াছে, সে কোন উপায় করিতে পারে নাই; অবশেষে জীর্ণ ঘরখানি সে তাহার এক বিধবা ভ্রাতুষ্কন্যাকে দান করিয়া চিরদিনের মত গৃহত্যাগ করিয়া আসিয়াছে। এ-জীবনে আর তাহার ফিরিবার আশা নাই, ইচ্ছা নাই; এই বলিয়া সে ছেলেমানুষের মত হাউ হাউ করিয়া কাঁদিতে লাগিল। জীবানন্দের চোখ দিয়া টপ্ টপ্ করিয়া জল পড়িতে লাগিল। পরের কান্না তাহার কাছে নতুন বস্তু নয়; এ সে জীবনে অনেক দেখিয়াছে, কিন্তু কোন দিন এতটুকু দাগ পর্য্যন্ত ফেলিতে পারে নাই, আজও সে ছাড়া আর কেহ জানিতেও পারিল না, কিন্তু অন্ধকারে জামার খুঁট দিয়া মুছিতে মুছিতে তাহার ইচ্ছা করিতে লাগিল কোথাও ছুটিয়া গিয়া, যে স্ত্রী তাহার মরে নাই, যে ছেলে তাহার জন্মে নাই, যে গৃহ তাহাকে ত্যাগ করিয়া আসিতে হয় নাই, তাহাদেরই জন্য এই অপরিচিত লোকটার মতই ডাক ছাড়িয়া কাঁদে। খানিকপরে সে কতকটা আত্ম-সংবরণ করিয়া কহিল, বাবু, আমার মত দুঃখী আর সংসারে নেই।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, ওরে ভাই, সংসারটা ঢের বড় জায়গা, এর কোথায় কে কিভাবে আছে বলবার যো নেই।
{{ফাঁক}}ইহার তাৎপর্য্য সম্যক্ উপলব্ধি করিবার মত শিক্ষা বা শক্তি এই সামান্য লোকটার ছিল না, জীবানন্দ নিজেও তাহা আশা করিল না, কিন্তু থামিতেও পারিল না। তাহার অশ্রুসিক্ত কণ্ঠস্বরের অপূর্ব্বতা তাহার কানে এমন অমৃত সিঞ্চন করিল যে, সে-লোভ সে সামলাইতে পারিল না। বলিতে লাগিল, দুঃখীদেরও কোন আলাদা জাত নেই দাদা, দুঃখেরও কোন বাঁধানো রাস্তা নেই। তা হলে সবাই তাকে এড়িয়ে চলতে পারত। হুড়মুড় করে যখন ঘাড়ে এসে পড়ে তখনই মানুষ তাকে টের পায়। কিন্তু কোন্ পথে যে তার আনাগোনা আজও কেউ তার খোঁজ পেলে না। আমার সব কথা তুমি বুঝবে না ভাই, কিন্তু সংসারে তুমি একলা নও—অন্ততঃ একজন সাথী তোমার কাছেই আছে, তুমি চিনতে পারনি।
{{ফাঁক}}লোকটি চুপ করিয়া রহিল। কথাও বুঝিল না, সাথী যে কে আছে তাহাও জানিল না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিল, তুমি মায়ের নাম করছিলে ভাই, আমি বাধা দিলাম। আবার সুরু কর, আমি চললাম, কাল এমনি সময়ে হয়ত আবার দেখা হবে।
{{ফাঁক}}লোকটি কহিল, আর ত দেখা হবে না বাবু, আমি পাঁচ দিন আছি, কাল সকালেই চলে যেতে হবে।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৮৬}}</noinclude>
sk1i1b0wkfiwq5w0keklj87ncfy2azt
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০১
104
883189
1990269
2026-07-18T16:57:38Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990269
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>চলে যেতে হবে? কিন্তু এই যে বললে তোমার পা সারেনি, তুমি হাঁটতে পারো না?
{{ফাঁক}}সে কহিল, মায়ের মন্দির এখন রাজাবাবুর। হুজুরের হুকুম, তিন দিনের বেশি আর কেউ থাকতে পারবে না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ হাসিয়া কহিল, ভৈরবী এখনও যায়নি, এরই মধ্যে হুজুরের হুকুম জারি হয়ে গেছে! মা চণ্ডীর কপাল ভাল! এই বলিয়া হঠাৎ তাহার একটা কথা মনে পড়িয়া ব্যগ্র হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, আচ্ছা, আজ অতিথিদের সেবা হ’ল কি রকম? কি খেলে ভাই?
{{ফাঁক}}সে কহিল, যারা তিন দিন আসেনি তারা মায়ের প্রসাদ সবাই পেলে।
{{ফাঁক}}আর তুমি? তোমার ত তিন দিনের বেশি হয়ে গেছে?
{{ফাঁক}}লোকটি ভালমানুষ, সহসা কাহারও নিন্দা করা স্বভাব নয়, বলিল, ঠাকুরমশাই কি করবেন, রাজাবাবুর হুকুম নেই কি না।
{{ফাঁক}}তাই হবে! বলিয়া জীবানন্দ একটা নিশ্বাস ফেলিয়া চুপ করিল। খুব সম্ভব অনাহুত যাত্রীদের সম্বন্ধে পূর্ব্ব হইতেই এমনি একটা নিয়ম ছিল, কিন্তু ষোড়শী তাহা মানিয়া চলিতে পারিত না। এখন তারাদাস এবং এককড়ি নন্দী উভয়ে মিলিয়া জমিদারের নাম করিয়া সে ব্যবস্থা অক্ষরে অক্ষরে প্রবর্ত্তিত করিবার চেষ্টা করিয়াছে। এই যদি হয়, অভিযোগ করিবার খুব বেশি হেতু নাই, কিন্তু মন তাহার কোনমতেই এ-কথা স্বীকার করিতে চাহিল না। অন্তর হইতে সে বার বার কহিতে লাগিল, এমন হইতেই পারে না! এমন হইতেই পারে না! বুভুক্ষুকে আহার দিবার আবার বিধিব্যবস্থা কি! ওই যে ক্ষুধার্ত্ত অতিথি ওইখানে অনাহারে বসিয়া রহিল, ক্ষুধাকে তাহার বাঁধিয়া রাখিবে ইহারা কোন আইন-কানুনে? কহিল, ওহে ভাই, কাল আবার আমি আসব, কিন্তু চুপি চুপি চলে যেতে পারবে না, তা বলে যাচ্চি।
{{ফাঁক}}কিন্তু ঠাকুরমশাই যদি কিছু বলেন?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, বললেই বা। এত দুঃখ সইতে পারলে আর বামুনের একটা কথা সইতে পারবে না? ধীরে ধীরে বাহির হইয়া যাইতেছিল, হঠাৎ মন্দিরের বারান্দার থামের আড়ালে মানুষের চাপা-গলা শুনিয়া বিস্মিত হইল। প্রথমে মনে করিল, নিভৃতে কেহ আরাধনা করিতে আসিয়াছে, কিন্তু কথাটা তাহার কানে গেল। কে একজন বলিতেছে, আমাদের মায়ের সর্ব্বনাশ যে করেচে তার সর্ব্বনাশ না করে আমরা কিছুতে ছাড়ব না বলে দিচ্চি।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৮৭}}</noinclude>
kk39dpgboh6vw5imsjxc9d8ibp4dyp5
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০২
104
883190
1990270
2026-07-18T17:00:23Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990270
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}অন্যজন জবাব দিল, মায়ের চৌকাঠ ছুঁয়ে দিব্যি করলাম খুড়ো—ফাঁসি যেতে হয় তাও যাবো।
{{ফাঁক}}আর একজন বলিল, হঃ—আমাদের আবার জেল! আমাদের আবার ফাঁসি! মা চলে যেতে চাচ্চে, আগে যাক্—
{{ফাঁক}}অন্ধকারে না চিনিল মানুষ, না চিনিল গলা, তবু মনে হইল একজনের গভীর কণ্ঠস্বর সে কোথাও যেন শুনিয়াছে, একেবারে অপরিচিত নয়। চেষ্টা করিলে হয়ত মনে করিতেও পারিত, কিন্তু আজ তাহার সে-দিকে মনই গেল না। সে ত অনেকের অনেক সর্ব্বনাশ করিয়াছে—অতএব নিজেই ত সে ইহার লক্ষ্য হইতে পারে, কিন্তু আজ তাহা নির্ণয় করিবার ইচ্ছাই হইল না। মনে মনে হাসিয়া কহিল, বাস্তবিক, ঠাকুর-দেবতার মত এমন সহৃদয় শ্রোতা আর নেই। হোক না মিথ্যা দম্ভ, তবু তার দাম আছে। দুর্ব্বলের ব্যর্থ পৌরুষ তবু একটু গৌরবের স্বাদ পায়। আহা!
{{ফাঁক}}অলক্ষ্যে নিঃশব্দে যখন বাহির হইয়া আসিল তখন রাত্রি বোধ হয় দ্বিপ্রহর অতীত হইয়া গিয়াছে। নির্ম্মল কালো আকাশ তারায় তারায় ঠাসা। সেই অসংখ্য নক্ষত্রলোক হইতে ঝরিয়া অদৃশ্য আলোকের আভাস অন্ধকার পথের মাটিকে ধূসর করিয়া দিয়াছে। তাহারই মাঝে মাঝে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত কঠিন মাটির স্তূপ পথশ্রান্ত পথিকের মত কতকাল ধরিয়া যেন নিঃশব্দে বসিয়া আছে তাহার ইতিহাস নাই, তাহারই একটি পাশে গিয়া সে ঠিক তেমনি করিয়াই ধূলার উপর বসিয়া পড়িল।
{{ফাঁক}}সুমুখে কতকটা পতিত জমির একধারে ষোড়শীর কুটীর, গাছের আড়ালে বেশ স্পষ্ট দেখা না গেলেও তাহার মনে হইল অনেকগুলি মানুষ যেন সার বাঁধিয়া বাহির হইয়া আসিল, এবং অনতিদূর দিয়া যখন চলিয়া গেল, তখন ইহাদের কথাবার্ত্তা হইতে জীবানন্দ এইটুকু সংগ্রহ করিল যে, ষোড়শীর গো-যান আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে এবং কাল প্রত্যূষেই সে চণ্ডীগড় ত্যাগ করিয়া যাইবে। ভক্ত প্রজার দল তাহার পদধূলি লইয়া ঘরে ফিরিতেছে। ষোড়শীকে নিষেধ করিবার পথ নাই, নিষেধ করিলে সে শুনিবে না, এই কয়দিনে এতটুকু তাহাকে সে চিনিয়াছে— কিন্তু মন তাহার ব্যথায় ভরিয়া উঠিল। সজ্ঞানে ও অজ্ঞানে ইহার বিরুদ্ধে যত অন্যায় করিয়াছে, একটি একটি করিয়া এতকাল পরে তাহার তালিকা করা অসম্ভব, কিন্তু সেই-সকল অগণিত অত্যাচারের সমষ্টি আজ তাহার চোখের উপর স্তূপাকার হইয়া উঠিল। ইহাকে সরাইয়া রাখিবার স্থান সংসারে সে কোথাও দেখিল না। স্ত্রী বলিয়া স্বীকার করিতে যাহাকে লজ্জা বোধ করিয়াছে, গণিকা বলিয়া তাহাকেই<noinclude>{{c|১৮৮}}</noinclude>
l7tqxi71miiagnfpsuf12pakndyo51q
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০৩
104
883191
1990271
2026-07-18T17:04:44Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990271
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>কামনা করিবার শয়তানী সে যে কোথায় পাইয়াছিল ভাবিয়া পাইল না। আজ সমস্ত হৃদয় তাহার ষোড়শীকে একান্ত মনে চাহিতেছে, এ তাহার অধিকারের দাবি, অথচ চিরদিন ইহাকেই উপেক্ষা করিয়া, অপমান করিয়া, মিথ্যার পরে মিথ্যা জমা করিয়া, সে যে প্রাচীর গড়িয়া তুলিয়াছে, আজ তাহাকে লঙ্ঘন করিবার পথ তাহার কই?
{{ফাঁক}}হঠাৎ সম্মুখেই দেখিতে পাইল কে একজন দ্রুতপদে চলিয়াছে। তাহাকে অন্ধকারে চিনিতে বিলম্ব হইল না, ডাকিল, অলকা?
{{ফাঁক}}ষোড়শী চমকিয়া দাঁড়াইল। এ যে জীবানন্দ তাহা সে ডাক শুনিয়াই বুঝিয়াছিল। একটু সরিয়া আসিয়া তিক্তকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল, আপনি এখানে কেন?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিল, কি জানি, এমনিই বসে ছিলাম। তুমি যাত্রার আগে ঠাকুর-প্রণাম করতে যাচ্চো, না? চল, আমি তোমার সঙ্গে যাই।
{{ফাঁক}}এই একটা বেলার মধ্যে তাহার কণ্ঠস্বরে কি যে অদ্ভুত পরিবর্ত্তন ঘটিয়াছে, ষোড়শী বিস্ময়ে মৌন হইয়া রহিল। ক্ষণেক পরে কহিল, আমার সঙ্গে যাবার বিপদ আছে, সে ত আপনি জানেন।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, জানি। কিন্তু আমার পক্ষ থেকে একেবারে নেই। আজ আমি একা এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্র—একগাছা লাঠিও সঙ্গে নেই।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, শুনেচি। প্রফুল্লবাবু আপনাকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন, তাঁর কাছে খবর পেলাম আজ আপনি নিরস্ত্র বাড়ি থেকে একলা বেরিয়ে গেছেন, এবং—
{{ফাঁক}}এবং ঝোঁকের উপর মদ না খেয়ে বার হয়ে গেছি, না?
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, হাঁ। কিন্তু চণ্ডীগড়ে এ কাজ আর আপনি ভবিষ্যতে করবেন না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, এ কাজ আমি প্রত্যহ করব এবং যতদিন বাঁচব—করব। প্রফুল্ল তোমাকে এত কথা বলেচে, এ-কথা বলেনি যে এ-জীবনে আর যাই কেন না স্বীকার করি পৃথিবীতে আমার শত্রু আছে এ আমি একদিনও আর স্বীকার করব না?
{{ফাঁক}}ষোড়শী স্তব্ধ হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল। ইহার যুক্তি লইয়াও তর্ক করিল না, এ-কথার {{SIC|স্বায়িত্ব|স্থায়িত্ব}} লইয়াও প্রশ্ন করিল না। জীবানন্দের মুখের চেহারা অন্ধকারে সে দেখিতে পাইল না, কিন্তু এই তাহার অদ্ভুত কণ্ঠস্বর নিশীথে এই নির্জ্জন প্রান্তরের মধ্যে তাহার দুই কান ভরিয়া এক আশ্চর্য্য সুরে বাজিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পরে কহিল, আমার সঙ্গে মন্দিরে গিয়ে আপনার কি হবে?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, কিছুই না। শুধু যতক্ষণ আছো, সঙ্গে থাকবো, তার পরে যখন যাবার সময় হবে তোমাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আমি বাড়ি চলে যাবো।
{{nop}}<noinclude>{{c|১৮৯}}</noinclude>
o83yxqwsxao6aoaznkrhboayzbs6ubp
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০৪
104
883192
1990272
2026-07-18T17:09:05Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990272
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী তৎক্ষণাৎ জবাব দিতে পারিল না। জীবানন্দ কহিল, যাবার দিনে আজ আর আমাকে তুমি অবিশ্বাস ক’রো না অলকা। আমার জীবনের দাম তুমি ত জানো, আর হয়ত দেখাও হবে না। আমাকে যে তুমি কত রকমে দয়া করে গেছ, আমার শেষ দিন পর্য্যন্ত আমি সেই সব কথাই স্মরণ করব।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, আচ্ছা আসুন—এই বলিয়া সে অগ্রসর হইল।
{{ফাঁক}}মিনিট-দুই নিঃশব্দে চলার পরে জীবানন্দ কহিল, লোকে বলে, ও দয়ার যোগ্য নয়। আচ্ছা অলকা, দয়ার আবার যোগ্যতা অযোগ্যতা কি? দয়া যে করে সে ত নিজের গরজেই করে। নইলে, দয়া পাবার যোগ্যতা আমার ছিল এত বড় দোষারোপ করতে ত শুধু অতি বড় শত্রু নয়, তুমি পর্য্যন্ত পারবে না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী মৃদুস্বরে বলিল, আমার চেয়ে আপনার বড় শত্রু সংসারে বুঝি আর কেউ নেই?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, না।
{{ফাঁক}}মন্দিরে প্রবেশ করার পরে জীবানন্দ হঠাৎ বলিয়া উঠিল, মজা দেখ অলকা, যাদের নিজের অন্ন নেই, সংসারে তারাই অপরের অন্নে সব-চেয়ে বড় বাধা। ষোড়শী জিজ্ঞাসু-মুখে ফিরিয়া চাহিতে কহিল, আজ আমি এতক্ষণ পর্য্যন্ত এই মন্দিরেই বসে ছিলাম। ভৈরবী নেই, এখন জমিদার কর্ত্তা। হুজুরের নাম করে তাই এরই মধ্যে যাত্রীদের উপর তেরাত্রির আইন জারি হয়ে গেছে। তোমার সেই যে খোঁড়া অতিথিটি, পা না সারা পর্য্যন্ত যাকে তুমি থাকতে অনুমতি দিয়েচ, তার মুখেই শুনতে পেলাম হুজুরের কড়া হুকুমে আজ তার অন্ন বন্ধ। সে বেচারা অভুক্ত বসে চণ্ডীনাম জপ করছিল—হুজুরের কল্যাণ হোক, কাল সকালেই নাকি আবার তাকে চলে যেতে হবে, পা দুটো তার থাক্ আর যাক।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, আমার বাবা বুঝি হুকুম দিয়েচেন?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ বলিল, শুধু তোমার বাবা কেন, গরীব-দুঃখীর প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্য করতে অনেক বাবাই এ গ্রামে আছেন, আর হুজুরের সুনামে ত স্বর্গ-মর্ত্ত্য ছেয়ে গেল। লোকটার কাছে বসে বসে তাই ভাবছিলাম অলকা, তোমার যাবার পরে সন্ন্যাসিনীর আসনে বসে এই সব বাবার দল যে তাণ্ডবকাণ্ড বাধাবে তাকে আমি সামলাবো কি করে?
{{ফাঁক}}ষোড়শী চুপ করিয়া রহিল। জীবানন্দ নিজেও বহুক্ষণ অবধি মৌন থাকিয়া মনে মনে কত কি যেন ভাবিতে লাগিল, অকস্মাৎ এক সময়ে বলিয়া উঠিল, তোমাকে আমার বড় প্রয়োজন অলকা। দুটো দিনও কি আর তোমার থাকা চলে না?
{{nop}}<noinclude>{{c|১৯০}}</noinclude>
jymlz1vy7itqu3lanltdc1xylnoiple
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০৫
104
883193
1990273
2026-07-18T17:12:37Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990273
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|দেনা-পাওনা}}</noinclude>{{ফাঁক}}ষোড়শী শান্ত-কণ্ঠে শুধু কহিল, না। তার পরে সে উঠিয়া গিয়া রুদ্ধ মন্দিরের দ্বারে অনেকক্ষণ ধরিয়া প্রণাম করিয়া যখন ফিরিয়া আসিল, জীবানন্দ কহিল, আর একটা দিন?
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, না।
{{ফাঁক}}তবে সকল অপরাধ আমার এইখানে দাঁড়িয়ে আজ ক্ষমা করে যাও?
{{ফাঁক}}কিন্তু তাতে কি আপনার খুব বেশি প্রয়োজন আছে।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ ক্ষণকাল চিন্তা করিয়া বলিল, এর উত্তর আজ দেবার আমার শক্তি নেই। এখন কেবল এই কথাই আমার সমস্ত মন ছেয়ে আছে অলকা, কি করলে তোমাকে একটা দিনও ধরে রাখতে পারি। উঃ—নিজের মন যার পরের হাতে চলে যায় সংসারে তার চেয়ে নিরুপায় বুঝি আর কেউ নেই। আমার সব-চেয়ে বড় দুঃখ, লোকে জানবে আমি তোমাকেই শাস্তি দিয়েছি, তুমি সহ্য করেচ, আর নিঃশব্দে চলে গেছ। তুমি যাবার আগে তোমার মা চণ্ডীকে জানিয়ে যাও যে, এর চেয়ে মিথ্যে আর নেই।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কোন উত্তর না দিয়া নিঃশব্দে বাহির হইয়া আসিবার মুখে সহসা জীবানন্দ দুই হাত প্রসারিত করিয়া কহিল, তোমার ঠাকুরের সুমুখে দাঁড়িয়ে আজ এই কথাটি আমাকে বলে দাও কি করলে তোমাকে আমি কেবল একটি দিন কাছে রাখতে পারি? তার পরে তুমি—
{{ফাঁক}}ষোড়শী পিছাইয়া গিয়া কহিল, চৌধুরীমশায়, আপনার পাইক-পিয়াদারা কি কেউ নেই যে এত অনুনয়-বিনয়? আপনি ত জানেন, আমি কারও কাছে নালিশ করব না।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ পথ ছাড়িয়া সরিয়া দাঁড়াইল। রাগ করিল না, প্রতিঘাত করিল না, সবিনয়ে ধীরে ধীরে কহিল, তুমি যাও, অসম্ভবের লোভে আর তোমাকে আমি পীড়ন করব না। পাইক-পিয়াদা সবাই আছে অলকা, কিন্তু যে নিজে ধরা দেবে না, জোর করে ধরে রেখে তার বোঝা বয়ে বেড়াবার জোর আমার গায়ে নেই।
{{ফাঁক}}ষোড়শী পথ ছাড়া পাইয়াও পা বাড়াইল না, কহিল, আমি কোথায় যাচ্ছি সে কৌতূহল বোধ করি আর আপনার নেই?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, কৌতূহল? বোধ হয় তার সীমা নেই—কিন্তু তাতে আর জ্বালা নেই অলকা। আমি কেবল এই কামনা করি, সেখানে কষ্ট যেন তোমাকে কেউ না দেয়। তোমার প্রতি যারা বিরূপ তারা যেন তোমাকে সম্পূর্ণ ভুলে থাকতে পারে। হঠাৎ গলাটা যেন তাহার ধরিয়া আসিল, কিন্তু নিজের দুর্ব্বলতাকে আর সে<noinclude>{{c|১৯১}}</noinclude>
csfs5lfw8yqzwp4hi27zbw7mag1i9zy
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০৬
104
883194
1990274
2026-07-18T17:14:48Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990274
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>প্রশ্রয় দিল না, মুহূর্ত্তে সামলাইয়া ফেলিয়া কহিল, আমি জানি, যে লোক স্বেচ্ছায় ত্যাগ করে যায় তার সঙ্গে লড়াই চলে না। যেদিন আমাদের হাতে তোমার চাবি ফেলে দিলে সেইদিন তোমার কাছে আমাদের একসঙ্গে সকলের হার হ’ল। তোমার জোরের আজ অবধি নেই—তবু ত মানুষের মন বোঝে না। যতদিন বেঁচে থাকব, এ আশঙ্কা আমার কোনদিন ঘুচবে না।
{{ফাঁক}}ষোড়শী সেইখানে গড় হইয়া প্রণাম করিয়া জীবানন্দের পায়ের ধুলা মাথায় তুলিয়া লইয়া কহিল, আপনার কাছে আমার একান্ত অনুরোধ—
{{ফাঁক}}কি অনুরোধ অলকা?
{{ফাঁক}}ষোড়শী মুহূর্ত্তকাল নীরব থাকিয়া কহিল, সে আপনি জানেন।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ একটুখানি ভাবিয়া বলিল, হয়ত জানি, হয়ত ভেবে দেখলে জানতেও পারব—কিন্তু সেই যে একদিন বলেছিলে সাবধান থাকতে—কি জানি, সে বোধ হয় আর পেরে উঠব না। আজই কিছুক্ষণ পূর্ব্বে এই মন্দিরের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে কে দুজন দেবতার চৌকাঠ ছুঁয়ে প্রাণ পর্য্যন্ত পণ করে শপথ করে গেল তাদের মায়ের যে সর্ব্বনাশ করেচে তার সর্ব্বনাশ না করে তারা বিশ্রাম করবে না—আড়ালে দাঁড়িয়ে নিজের কানেই ত সমস্ত শুনলাম—দুদিন আগে হলে হয়ত মনে হ’ত, সে বুঝি আমি—দুশ্চিন্তার সীমা থাকত না, কিন্তু আজ কিছু মনেই হল না—কি অলকা?
{{ফাঁক}}না, কিছু নয়, বলিয়া ষোড়শী জোর করিয়া আবার সোজা হইয়া দাঁড়াইল। অন্ধকারে জীবানন্দ দেখিতে পাইল না, সহসা তাহার মুখ ছাইয়ের মত সাদা হইয়া গেল। কহিল, চলুন আমার ঘরে গিয়ে একটুখানি আজ বসতে হবে। আমাকে গাড়ীতে তুলে না দিয়ে বাড়ি যেতে আপনাকে আমি দেব না। আসুন—
{{nop}}<noinclude>{{c|১৯২}}</noinclude>
rnnrse35iwt06btyfslqdyzpvxzbtv8
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/২০৭
104
883195
1990275
2026-07-18T17:17:29Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990275
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''২৫'''}}
{{ফাঁক}}গরুর গাড়ীর নীচে চাদর মুড়ি দিয়া গাড়োয়ান শুইয়াছিল, সে ষোড়শীর পায়ের শব্দ অনুভবে বুঝিয়া কহিল, মা, শৈবাল-দীঘি ত দশ-বারো কোশের পথ, একটু রাত থাকতে বার না হলে পৌঁছতে কাল প্রহর বেলা উৎরে যাবে।
{{ফাঁক}}ষোড়শী বলিল, আচ্ছা, তাই হবে। কয়েক পদ অগ্রসর হইয়া আসিয়া কহিল, কোথায় যাচ্চি বোধ করি শুনতে পেলেন?
{{ফাঁক}}জীবানন্দ কহিল, পেলাম বই কি।
{{ফাঁক}}ষোড়শী কহিল, বেশি দূর নয়। আপনার আক্রোশ এ পথটুকু অনায়াসে খুঁজে বার করতে পারবে।
{{ফাঁক}}কিন্তু তোমার ওপর আক্রোশ ত আমার নেই!
{{ফাঁক}}ঘর খুলিয়া ষোড়শী প্রবেশ করিল, কহিল, আমার একটিমাত্র কম্বল গাড়িতে পাতা। আপনাকে বসতে দিই এমন কিছু নেই। নির্ম্মলবাবু হলে আঁচল বিছিয়ে দিতাম, কিন্তু আপনাকে ত তা মানাবে না। এই বলিয়া সে মুচকিয়া একটু হাসিয়া ঘরের কোণ হইতে একখানি কুশাসন গ্রহণ করিয়া মেঝের উপর পাতিয়া দিয়া বলিল, যদি অপরাধ না নেন ত—
{{ফাঁক}}জীবানন্দ নিঃশব্দে উপবেশন করিয়া নীরব হইয়া রহিল।
{{ফাঁক}}এত বড় শ্লেষের উত্তর না পাইয়া ষোড়শী মনে মনে বিস্মিত হইল। প্রদীপের আলো অতিশয় ক্ষীণ হইয়া আসিতেছিল, ষোড়শী উজ্জ্বল করিয়া দিয়া সেটা হাতে করিয়া জীবানন্দের মুখের কাছে আনিয়া মুহূর্ত্তকাল স্থিরভাবে থাকিয়া কহিল, কি ভাবচেন বলুন ত?
{{ফাঁক}}আমার ভাবনার কি অন্ত আছে?
{{ফাঁক}}অন্ত না থাকে আদি ত আছে, তাই বলুন।
{{ফাঁক}}জীবানন্দ মাথা নাড়িয়া কহিল, না, তাও নেই। যার অন্ত নেই তার আদিও থাকে না।
{{ফাঁক}}ষোড়শীর মুখে আসিয়া পড়িল, বলে, ও-সকল কেবল দর্শনশাস্ত্রের বুলি—শুধু বাক্য—ও লইয়া সংসার চলে না, কিন্তু জীবানন্দের মুখ দেখিয়া তাহার নিজের মুখে স্বর বাহির হইল না। মনে মনে সে সত্যই বিস্ময়াপন্ন হইয়া অনুভব করিল, একটা কেবল সুচতুর উত্তর দিবার জন্যই এ-কথা আজ সে বলে নাই, এ লইয়া<noinclude>{{c|১৯৩}}</noinclude>
cxquud5tf8lytg4tct1jr1cfpd6b3w0
পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৩৯
104
883196
1990281
2026-07-19T05:24:10Z
DILDAR KIBRIA
21979
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মাতৃভাষার নানাভিমুখী অনুশীলন হইতেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিম্নতম শ্রেণী হইতে উচ্চতম শ্রেণী পর্যন্ত মাতৃভাষার মাধ্যমে অধ্যয়ন অধ্যাপন চলিতেছে। ই..." দিয়ে পাতা তৈরি
1990281
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মাতৃভাষার নানাভিমুখী অনুশীলন হইতেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিম্নতম শ্রেণী হইতে উচ্চতম শ্রেণী পর্যন্ত মাতৃভাষার মাধ্যমে অধ্যয়ন অধ্যাপন চলিতেছে। ইণ্টারমিডিয়েট এবং বি.এ পরীক্ষায় বঙ্গভাষা ও সাহিত্যের পূর্ণতর অনুশীলনের সুব্যবস্থা হইয়াছে। কেবল বাঙলাভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়ন করিয়া ছাত্রছাত্রীগণ সর্বোচ্চ উপাধি গ্রহণ করিতেছেন। মাতৃভাষার প্রতি এই মর্যাদা দিয়া কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যে আদর্শ স্থাপন করিতে সমর্থ হইয়াছেন, ভারতবর্ষের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহা অল্পবিস্তর অনুসৃত হইতেছে। আশা করি এমন একদিন আসিবে যেদিন ভারতের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নতম পাঠ হইতে উচ্চতম গবেষণা পর্যন্ত মাতৃভাষার বাহকতায় সম্পন্ন হইতে পারিবে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যে সিদ্ধিলাভ করিতে সমর্থ হইয়াছেন তাহার গুরত্ব আমরা সব সময় অনুভব করিতে পারি না। কি প্রচণ্ড বিরুদ্ধতার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম করিয়া আমরা এই যে ফললাভ করিয়াছি, তাহা আমরা বিস্মৃত হই। যাঁহারা প্রতিকূল আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিয়া নিজদেহে অস্ত্রাঘাত সহ্য করিয়াও বিমাতার অঙ্গনে মাতৃভাষাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করিয়া গিয়াছেন, এখানে সেই পুণ্যশ্লোক ঋষিকল্প পূর্বজগণের নাম স্মরণ করিতেছি।
{{ফাঁক}}রাজনৈতিক কারণে যদিও দেশের মধ্যে একটা দলাদলির বিষাক্ত আবহাওয়ার উদ্ভব হইয়াছে, তথাপি অতি বড় নিন্দুকেও বাঙালী জাতিকে অনৌদার্যের অপবাদ দিতে পারিবে না। আমরা সাহিত্যকে জাতিগঠনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপাদান বলিয়া গণ্য করি। সাহিত্য যেমন জাতির অঙ্গে সঞ্জীবন-রসের সঞ্চার করিয়া জাতিকে সজ্ঞান সচেতন এবং সবল করিয়া তুলে, জাতির সমুদ্বোধিত চৈতন্য, সুগঠিত চিন্তাধারা এবং সুনিয়ত বিচারবুদ্ধি তেমনি মহত্তর সাহিত্য প্রণয়নে সহায়তা করে। বঙ্গদেশের শিক্ষাচার্যগণ এই তত্ত্বটি উপলব্ধি করিয়া তাহা কার্যতঃ প্রয়োগ করিয়াছিলেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যবিধির সহিত যাঁহাদের কিছুমাত্র পরিচয় আছে তাঁহারা সকলেই সে কথা জানেন। বাঙলাভাষা ও সাহিত্যচর্চার ব্যবস্থা করাই যে কালে আপত্তির কারণ হইত অন্য ভাষার পঠন-পাঠনের আয়োজন করা সেকালে প্রায় অসম্ভবই<noinclude>{{কেন্দ্র|৩৩}}
{{rh|৩||}}</noinclude>
hmk0eeld49r74y6f0521uvhlizdtd35
1990282
1990281
2026-07-19T05:28:45Z
DILDAR KIBRIA
21979
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990282
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মাতৃভাষার নানাভিমুখী অনুশীলন হইতেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিম্নতম শ্রেণী হইতে উচ্চতম শ্রেণী পর্যন্ত মাতৃভাষার মাধ্যমে অধ্যয়ন অধ্যাপন চলিতেছে। ইণ্টারমিডিয়েট এবং বি.এ পরীক্ষায় বঙ্গভাষা ও সাহিত্যের পূর্ণতর অনুশীলনের সুব্যবস্থা হইয়াছে। কেবল বাঙলাভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়ন করিয়া ছাত্রছাত্রীগণ সর্বোচ্চ উপাধি গ্রহণ করিতেছেন। মাতৃভাষার প্রতি এই মর্যাদা দিয়া কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যে আদর্শ স্থাপন করিতে সমর্থ হইয়াছেন, ভারতবর্ষের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহা অল্পবিস্তর অনুসৃত হইতেছে। আশা করি এমন একদিন আসিবে যেদিন ভারতের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নতম পাঠ হইতে উচ্চতম গবেষণা পর্যন্ত মাতৃভাষার বাহকতায় সম্পন্ন হইতে পারিবে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যে সিদ্ধিলাভ করিতে সমর্থ হইয়াছেন তাহার গুরত্ব আমরা সব সময় অনুভব করিতে পারি না। কি প্রচণ্ড বিরুদ্ধতার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম করিয়া আমরা এই যে ফললাভ করিয়াছি, তাহা আমরা বিস্মৃত হই। যাঁহারা প্রতিকূল আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিয়া নিজদেহে অস্ত্রাঘাত সহ্য করিয়াও বিমাতার অঙ্গনে মাতৃভাষাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করিয়া গিয়াছেন, এখানে সেই পুণ্যশ্লোক ঋষিকল্প পূর্বজগণের নাম স্মরণ করিতেছি।
{{ফাঁক}}রাজনৈতিক কারণে যদিও দেশের মধ্যে একটা দলাদলির বিষাক্ত আবহাওয়ার উদ্ভব হইয়াছে, তথাপি অতি বড় নিন্দুকেও বাঙালী জাতিকে অনৌদার্যের অপবাদ দিতে পারিবে না। আমরা সাহিত্যকে জাতিগঠনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপাদান বলিয়া গণ্য করি। সাহিত্য যেমন জাতির অঙ্গে সঞ্জীবন-রসের সঞ্চার করিয়া জাতিকে সজ্ঞান সচেতন এবং সবল করিয়া তুলে, জাতির সমুদ্বোধিত চৈতন্য, সুগঠিত চিন্তাধারা এবং সুনিয়ত বিচারবুদ্ধি তেমনি মহত্তর সাহিত্য প্রণয়নে সহায়তা করে। বঙ্গদেশের শিক্ষাচার্যগণ এই তত্ত্বটি উপলব্ধি করিয়া তাহা কার্যতঃ প্রয়োগ করিয়াছিলেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যবিধির সহিত যাঁহাদের কিছুমাত্র পরিচয় আছে তাঁহারা সকলেই সে কথা জানেন। বাঙলাভাষা ও সাহিত্যচর্চার ব্যবস্থা করাই যে কালে আপত্তির কারণ হইত অন্য ভাষার পঠন-পাঠনের আয়োজন করা সেকালে প্রায় অসম্ভবই<noinclude>{{কেন্দ্র|৩৩}}
{{rh|৩||}}</noinclude>
mikscfn4mrkcwnlc7169z9aqyvhlmde
পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৪০
104
883197
1990283
2026-07-19T05:39:39Z
DILDAR KIBRIA
21979
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990283
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>ছিল। আজ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা হইতে এম.এ. পর্যন্ত সকল শ্রেণীতেই বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যয়ন অধ্যাপনার সুযোগ আমরা লাভ করিতেছি। এই ব্যবস্থার প্রবর্তনের জন্যও পিতৃদেবকে কম প্রতিকূলতা সহ্য করিতে হয় নাই, কিন্তু দেশকে প্রদেশের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখার মত মনোবৃত্তি তাঁহার ছিল না। তিনি ভাবিয়াছিলেন নিজের ভাষা এবং নিজের সাহিত্যের অনুশীলন করিয়া বাঙালী যে কল্যাণ লাভ করিবে, অন্য জাতি সুযোগের অভাবে সে কল্যাণ হইতে বঞ্চিত হইলে, ক্ষতি শুধু, সেই বিশেষ জাতিরই নয়, সে ক্ষতি সমগ্র ভারতবর্ষের। তিনি বুঝিয়াছিলেন সর্ব অঙ্গের সুস্থতার উপর সমগ্র দেহের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিধিতে হিন্দী, মারাঠী, গুজরাটী, ওড়িয়া, আসামী, মৈথিলী ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গে সুদূর দক্ষিণ-ভারতের তামিল, তেলুগু, প্রভৃতিকেও স্থান দিয়াছিলেন। যে ভাষা আপন প্রদেশে অনাদৃত, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাহাকেও সমগ্র জাতির মুখে চাহিয়া অনাদর করেন নাই। বাঙলা দেশ তাহার বাণীপীঠ হইতে যে আদর্শ প্রচার করিয়াছে, যেদিন সমগ্র ভারতবর্ষ সেই মহাদর্শে অনুপ্রাণিত হইবে, গভীর ঔৎসুক্যের সহিত সেই শুভদিনের প্রতীক্ষা করিতেছি।
{{ফাঁক}}সাহিত্যের সহিত ভাষার যোগ অত্যন্ত নিবিড়। আত্মার সহিত দেহের যে সম্বন্ধ সাহিত্যের সহিত ভাষার সেই সম্বন্ধ। যাহাকে ভালবাসি তাহার দেহটাকে বাদ দিয়া শুধু, আত্মাটির কথা তো আমরা কল্পনা করিতে পারি না। বস্তুতঃ দেহটাকে লইয়াই আমাদের যত কারবার। যে আপনার ভাষাকে ভালবাসে আপনার সাহিত্যের প্রতিও তাহার মমত্ববোধ সহজেই জাগ্রত হয়। আবার উচ্চতর সাহিত্যে রসের উপলব্ধি ঘটিলে তখন ভাষা ও সাহিত্যের প্রাদেশিক গণ্ডি হইতে মন সহজেই মুক্তি লাভ করে। তখন অন্যের ভাষা নিজে পড়িতে এবং নিজের ভাষা অন্যকে পড়াইতে ইচ্ছা হয়। যে কোনো দেশে যে কোনো কালে এই অবস্থা সকলেরই কাম্য। কিন্তু যদি কেহ শিক্ষাদানের মত পূণ্যেকর্মকে রাজনৈতিক অথবা অন্য কোনো কুটিল উদ্দেশ্যে নিয়োজিত করে, তবে তাহা নিন্দনীয় সন্দেহ নাই। অনেক প্রদেশের প্রান্তসীমায় প্রায়ই এই ধরনের অভিযোগ শুনিতে পাওয়া যায়। একজন বাঙালী যদি<noinclude>{{কেন্দ্র|৩৪}}</noinclude>
cnle9y82ojkj2gnpz8wc50imm1vo92h
পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৪১
104
883198
1990284
2026-07-19T06:00:01Z
DILDAR KIBRIA
21979
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1990284
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>বাঙলা শিখিয়া তদুপরি হিন্দী ওড়িয়া অথবা তামিল তেলুগু, শিখে, তাহা তো আনন্দের কথা। কিন্তু যদি এমন হয় যে, অন্য প্রদেশের কোনো একটা ভাষা হয়তো শিখিল, কিন্তু মাতৃভাষাটাই শেখা হইল না, তবে তাহার মত দুর্ভাগ্য আর কি হইতে পারে? দেশকে প্রদেশে বিভক্ত করিবার স্বাভাবিক উপায় হইল ভাষাবিচার, —ধর্মভেদে প্রদেশ ভেদের যে সাম্প্রতিক চেষ্টা আরম্ভ হইয়াছে, তাহা পৃথিবীর কোনো সভ্য জাতির অননুমোদিত নহে। সূতরাং এক প্রদেশের অজ্ঞ নিরক্ষর দরিদ্র মানুষকে সামান্য কিছু প্রলোভন দেখাইয়া যদি তাহাকে অন্য ভাষায় দীক্ষিত করা হয় এবং বারংবার শুনাইয়া শুনাইয়া তাহার মনে যদি এই বিশ্বাস বদ্ধমূল করিয়া দেওয়া যায় যে, ঐ অন্য ভাষাই তাহার মাতৃভাষা, তবে এই প্রদেশের আপত্তি করিবার সংগত কারণ থাকিতে পারে। শিক্ষাদানের মত মহৎ কর্তব্য আর কি আছে? যাঁহারা শিক্ষাদানের ব্রত গ্রহণ করিয়াছেন তাঁহারা জাতির নমস্য। কিন্তু তাঁহারাও যদি এক প্রদেশীয়কে অন্য প্রদেশীয় বলিয়া প্রমাণ করিবার জন্যই শিক্ষাদান করেন, তাঁহাদের উদ্দেশ্যকে সাধু বলিব না। বাঙলা দেশের তরফ হইতে আমরা কি করিতে পারি তাহা দেখিতে হইবে। অন্যে আসিয়া যদি আমার নিরক্ষর ভ্রাতা-ভগিনীকে তাহারই অক্ষর শিখাইতে থাকে, তাহাকে বাধা দিবার কোনো সংগত কারণ নাই। কিন্তু আমার কর্তব্যটা তাহার পূর্বে পালন করিয়া লইতে হইবে। আমার ভাষা তাহাকে আগে শিখাইয়া দিতে হইবে। সে কে, তাহার পূর্বপুরুষের পরিচয় কি, আমার সহিত তাহার এবং তাহার সহিত সমগ্র দেশের সম্বন্ধ কিরূপ-ইহা যদি একবার তাহার অন্তরে প্রবিষ্ট করাইয়া দিতে পারি, তাহা হইলে পৃথিবীর সকল ভাষার এক এক দল প্রতিনিধি আসিয়া গ্রামে গ্রামে ভাষা শিক্ষার পাঠশালা খুলিয়া দিলেও কোনো ক্ষতি হইবে না, বরং কিছু উপরি লাভ হইবে।
{{ফাঁক}}যে কর্তব্যের উল্লেখ করিলাম, তাহা একজন দুইজনের কাজ নয় দেশের শিক্ষিত সমাজকে এই কাজের ভার লইতে হইবে। দেশের মধ্যে বয়স্ক শিক্ষার সুব্যবস্থা করিতে হইবে। যে দেশের লোক অধিকাংশই নিরক্ষর তাহাদের শিক্ষিত করিবার পণ গ্রহণ করিতে পারে তরুণ ছাত্রসম্প্রদায়ের মধ্যে এমন উৎসাহী কর্মীর অভাব হইবে না, সে ভরসা আমি<noinclude>{{কেন্দ্র|৩৫}}</noinclude>
m2j0d4adhjajtgz7o0yqlz6vswgbk61