উইকিসংকলন bnwikisource https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.12 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিসংকলন উইকিসংকলন আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা লেখক লেখক আলাপ নির্ঘণ্ট নির্ঘণ্ট আলাপ পাতা পাতা আলাপ প্রবেশদ্বার প্রবেশদ্বার আলাপ প্রকাশক প্রকাশক আলোচনা রচনা রচনা আলাপ অনুবাদ অনুবাদ আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা টেমপ্লেট:ALL PAGES 10 9621 1990630 1990577 2026-07-24T07:02:44Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1990630 wikitext text/x-wiki 561617 2sp2ks61p27hnu8m3yvha3g7m17a2dv নির্ঘণ্ট:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf 102 735450 1990581 1990340 2026-07-23T12:45:13Z Nettime Sujata 5470 1990581 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q111188000 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=1 |Progress=OCR |Pages=<pagelist 1="প্রচ্ছদ" 2="প্রকাশক" 3="উক্তি" 4="—" 5to6="নিবেদন" 7="1" /> |Volumes= |Remarks= |Notes= |Header={{rvh|{{{pagenum}}}|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}} |Footer= }} siey8vrsedo8uf4iwb61bwawqoubwwp ব্যবহারকারী:Nettime Sujata/খেলাঘর ১ 2 868186 1990627 1939529 2026-07-23T16:56:40Z Nettime Sujata 5470 1990627 wikitext text/x-wiki [https://en.wikisource.org/wiki/Template:Custom_rule Custom_rule] {{Div col|rules=yes}} # {{Custom rule|sp|5|fy1|40|sp|5}} # {{Custom rule|w|40|co|10|w|40}} # {{Custom rule|crt|10|crr|10|crb|10|crl|10}} # {{Custom rule|lo|141}} # {{Custom rule|w|40|tl|20|do|7|tr|20|w|40}} # {{Custom rule|tl|40|do|7|tr|40}} # {{Custom rule|w|40|do|7|w|40}} # {{custom rule|c|6|sp|40|do|7|fy1|40|do|7|sp|40|c|6}} # {{Custom rule|sp|20|co|6|fy1|40|co|6|sp|20}} # {{Custom rule|w|40|co|6|fy1|40|co|6|w|40}} # {{Custom rule|tl|20|c|6|co|10|c|6|tr|20}} # {{Custom rule|tl|20|d|6|d|10|d|6|tr|20}} # {{Custom rule|tl|20|c|6|c|6|c|6|tr|20}} # {{Custom rule|sp|10|tl|20|c|6|co|10|c|6|tr|20|sp|10}} # {{Custom rule|tl|40|fc|22|tr|40}} # {{Custom rule|cll|10|fc|140|clr|10}} # {{Custom rule|fl|40|co|6|fc|14|co|6|fr|40}} # {{Custom rule|fl|40|co|10| fr|40}} # {{Custom rule|w|40|crt|10|w|40}} # {{Custom rule|w|40|c|6|w|40}} # {{Custom rule|fc|22|do|7|fc|22|do|7|fc|22}} # {{Custom rule|sp|20|str|10|col|6|col|6|str|10|sp|20}} # {{Custom rule|sp|10|fcw|40|do|7|fcw|40|do|7|fcw|40|sp|10}} # {{Custom rule|w|40|d|10|w|40}} # {{Custom rule|w|40|crt|10|crr|10|crb|10|crl|10|w|40}} # {{Custom rule|w|40|lz|20|w|40}} # {{Custom rule|sp|40|lzt|20|sp|40}} # {{Custom rule|w|40|co|6|w|40}} # {{Custom rule|sp|40|co|6|sp|40}} # {{Custom rule|w|20|ac|18|w|20}} # {{Custom rule|fy1|40|ac|18|fy1|40}} # {{Custom rule|al|12|ar|12}} # {{Custom rule|atl|10|atr|10}} # {{Custom rule|cll|10|atl|10|atr|10|clr|10}} # {{Custom rule|ltr|10|atl|10|atr|10|rtr|10}} # {{Custom rule|fy2|100}} # {{Custom rule|fy3|40}} # {{Custom rule|fy4|50}} # {{Custom rule|al|12|ar|12|ac|18|al|12|ar|12}} # {{Custom rule|sp|20|col|6|str|10|col|6|sp|20}} # {{Custom rule|fct|60}} # {{Custom rule|tl|57|ar|12|al|12|tr|57}} # {{Custom rule|tr|57|ac|18|tl|57}} # {{Custom rule|fc|140|al|12|cll|10|clr|10|ar|12|fc|140}} # {{Custom rule|sp|20|col|6|col|6|sp|20}} # {{Custom rule|al|12|sp|5|s|10|fcw|22|s|10|sp|5|ar|12}} # {{Custom rule|lz|140}} # {{Custom rule|sp|40|c|6|do|7|c|6|do|7|c|6|sp|40}} # {{Custom rule|sp|40|d|6|sp|5|d|6|sp|5|d|6|sp|40}} # {{Custom rule|w|160}} # {{Custom rule|w|40|lzt|20|w|40}} # {{Custom rule|sp|20|c|6|str|10|c|6|sp|20}} # {{Custom rule|sp|20|c|6|c|6|c|6|str|10|c|6|c|6|c|6|sp|20}} # {{Custom rule|w|40|crt|10|crr|10|str|10|crb|10|crl|10|w|40}} # {{Custom rule|sp|40|crr|10|crb|10|sp|40}} # {{Custom rule|c|6|sp|20|tl|20|tr|20|sp|20|c|6}} # {{Custom rule|sp|40|al|12|col|6|str|10|str|10|col|6|ar|12|sp|40}} # {{Custom rule|sp|40|co|6|co|6|co|10|co|10|co|10|co|6|co|6|sp|40}} # {{Custom rule|sp|10|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|fcw|40|sp|10}} # {{Custom rule|ar|12|ar|12|ar|12|ac|18|al|12|al|12|al|12}} # {{Custom rule|sp|20|col|6|co|10|col|6|sp|20}} # {{Custom rule|tr|40|ac|18|tl|40}} # {{Custom rule|sp|20|c|6|str|10|str|10|c|6|sp|20}} # {{Custom rule|sp|20|str|10|str|10|sp|20}} # {{Custom rule|tl|20|c|6|lz|40|c|6|tr|20}} # {{Custom rule|sp|10|c|6|c|10|c|6|sp|10}} # {{Custom rule|w|40|fcw|22|fy3|40|fcw|22|w|40}} {{Div col end}} nq85ofp28meyz7ap5nz32yleee3qicf পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/২১ 104 883154 1990602 1990217 2026-07-23T14:42:59Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990602 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{Img float | file = টমকাকার কুটীর (১৯১৩) (page 21 crop).jpg | width = 400px | align = center | cap = বরফের উপর দিয়া ইলাইজার পলায়ন।—১৬ পৃষ্ঠা।}}<noinclude></noinclude> 9d9s68uk3esodshrmjcsnlyxxnhe0qu পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৬ 104 883155 1990603 1990227 2026-07-23T14:46:02Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990603 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{Img float | file = টমকাকার কুটীর (১৯১৩) (page 6 crop).jpg | width = 400px | align = center | cap = টম কর্ত্তৃক ইভার জীবন রক্ষা।—৩০ পৃষ্ঠা।}}<noinclude>Mohila Press, Calcutta.</noinclude> to3supl23peyf6apir2f89i3xpkhsve পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১১ 104 883156 1990584 1990356 2026-07-23T13:16:03Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990584 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৭|প্রথম পরিচ্ছেদ}}</noinclude>লোকটাকে আমার প্রভু ক'রে সৃষ্টি ক'রেছিল, সেইটা আমার বড় জান্‌তে ইচ্ছা করে!” {{ফাঁক}}“তুমি কি ক’র্ত্তে চাও? ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রেখে যা ভাল, যা ঠিক, তাই ক'রে যাও, তিনিই তোমাকে রক্ষা ক'রবেন।” {{ফাঁক}}“কষ্টে কষ্টে আমার মন একেবারে দমে গেছে। আমি আর ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে পারছি না!—হতভাগা বলে কি না, নীনাকে বিয়ে ক'র্‌তে হবে! তা না হ’লে, আমাকে আর এদেশে রাখ্‌বে না, নদীর ওপারের ঐ মুল্লুকে বিক্রী ক'রে ফেলবে!” {{ফাঁক}}“সে কি, পুরোহিতেরা যে রীতিমত আমার সঙ্গে তোমার বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন!” {{ফাঁক}}“ইলাইজা, তুমি কি জান না যে, ক্রীতদাসের বিয়ের কোনই মূল্য নাই?—সে কথা যাক্, এখন সব কষ্ট সহ্য ক'রে আমাকে বিদায় দেও। আমি এখন যাচ্ছি।” {{ফাঁক}}“যাচ্ছ! কোথায় যাচ্ছ?” {{ফাঁক}}“কেনাডায় যাচ্ছি। সেখানে যদি একবার যেতে পারি, তা হ'লে আমি তোমাকে ও হ্যারিকে—দুজনকেই কিনে নিয়ে যাবো। আট দশ দিনের মধ্যেই আমি পালাবো। ইলাইজা, তুমি আমার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা ক’রো।” {{ফাঁক}}“জর্জ, তুমি নিজে প্রার্থনা ক'রে—তাঁর উপর বিশ্বাস রেখে যেও!” {{ফাঁক}}তখন জর্জ ইলাইজার হাত ধরে আদর ক'রে বল্লে, “এখন তা<noinclude></noinclude> 5vpakycq6t97f6wd9gzptcunc4zvvn3 1990585 1990584 2026-07-23T13:19:02Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990585 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৭|প্রথম পরিচ্ছেদ}}</noinclude>লোকটাকে আমার প্রভু ক’রে সৃষ্টি ক’রেছিল, সেইটা আমার বড় জান্‌তে ইচ্ছা করে!” {{ফাঁক}}“তুমি কি ক’র্ত্তে চাও? ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রেখে যা ভাল, যা ঠিক, তাই ক’রে যাও, তিনিই তোমাকে রক্ষা ক’রবেন।” {{ফাঁক}}“কষ্টে কষ্টে আমার মন একেবারে দমে গেছে। আমি আর ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে পারছি না!—হতভাগা বলে কি না, নীনাকে বিয়ে ক’র্‌তে হবে! তা না হ’লে, আমাকে আর এদেশে রাখ্‌বে না, নদীর ওপারের ঐ মুল্লুকে বিক্রী ক’রে ফেল‍্বে!” {{ফাঁক}}“সে কি, পুরোহিতেরা যে রীতিমত আমার সঙ্গে তোমার বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন!” {{ফাঁক}}“ইলাইজা, তুমি কি জান না যে, ক্রীতদাসের বিয়ের কোনই মূল্য নাই?—সে কথা যাক্, এখন সব কষ্ট সহ্য ক’রে আমাকে বিদায় দেও। আমি এখন যাচ্ছি।” {{ফাঁক}}“যাচ্ছ! কোথায় যাচ্ছ?” {{ফাঁক}}“কেনাডায় যাচ্ছি। সেখানে যদি একবার যেতে পারি, তা হ’লে আমি তোমাকে ও হ্যারিকে—দুজনকেই কিনে নিয়ে যাবো। আট দশ দিনের মধ্যেই আমি পালাবো। ইলাইজা, তুমি আমার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা ক’রো।” {{ফাঁক}}“জর্জ, তুমি নিজে প্রার্থনা ক’রে—তাঁর উপর বিশ্বাস রেখে যেও!” {{ফাঁক}}তখন জর্জ ইলাইজার হাত ধরে আদর ক’রে বল্লে, “এখন তা<noinclude></noinclude> 2tiqt9q83ac5w8x7p0fobmdiqwcscnb পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১২ 104 883157 1990586 1990226 2026-07-23T13:25:01Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990586 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৮|টমকাকার কুটীর।}}</noinclude><section begin="A" />হ’লে বিদায়!” তারপর দুজনে কাঁদতে লাগলো! শেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনে দুজনার কাছ থেকে বিদায় নিল। জর্জ হ্যারিকে চুমো দিয়ে চলে গেল! {{dhr}} {{rule|3em}} <section end="A" /> <section begin="B" />{{কেন্দ্র|{{x-larger|দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ}}}} টমকাকার ঘরখানি কাঠের তৈরি। গোলাপ গাছ ও নানা রকম লতা পাতায় সেই ঘরটি একেবারে ঢাকা। সামনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ফুটফুটে ছোট একটি বাগান। {{ফাঁক}}টমের প্রভুর বাড়ীতে সন্ধ্যাবেলার খাওয়া দাওয়া শেষ হ’য়ে গিয়েছে। ক্লো কাকী (টমকাকার স্ত্রী) সে বাড়ীর রাঁধুনীদের গিন্নী। তার এখন ছুটি হয়েছে, তাই সে এখন তার “বুড়ো”কে খাবার দিতে এসেছে। ক্লো কাকী টামকাকাকে “বুড়ো” ব’লে ডাকে! ঘরের এক কোণে একটা বেঞ্চির উপর বসে, দুটি ছোট ছোট ছেলে মেয়ে একটি খুব ছোট খোকাকে আদর ক’র‍্ছে। ছেলে মেয়ের চুলগুলি কাল পশমের মত কোঁকড়ান ও চক্‌চকে। আগুন পোহাবার জায়গায়, একটা টেবিলের পাশে টমকাকা ব’সে আছে। টম মিঃ সেল্‌বির প্রধান ভৃত্য। টমকাকা যেমন লম্বা চওড়া, তার গায়েও তেমনি জোর। শরীরটি তার কুচ্কুচে কালো। তার গম্ভীর চেহারা দেখে বেশ বুঝা-যায় যে, সে বুদ্ধিমান, বিনয়ী ও শান্ত। {{nop}}<section end="B" /><noinclude></noinclude> 5dabxtr44f93j17xlgfqfcvf90pmw7a পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১০ 104 883164 1990583 1990343 2026-07-23T13:14:58Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990583 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৬|টমকাকার কুটীর}}</noinclude>{{ফাঁক}}সেই দিন সন্ধ্যাবেলা মিসেস্ সেল্‌বি বেড়াতে বের হ’য়েছেন। ইলাইজা একলা অন্যমনস্ক ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এমন সময়, হঠাৎ কে যেন তার কাঁধের উপর হাত দিলে। ইলাইজা চমকে উঠে পিছন ফিরে বলে—“কে? জর্জ! এস, গিন্নী মা বেড়াতে গিয়েছেন। তুমি আমার ঘরে ব’স্‌বে এস।” এই ব’লে, সে জর্জকে তার ঝক্‌ঝকে পরিষ্কার ছোট ঘরখানির মধ্যে নিয়ে গেল। এই খানে প্রায়ই সে ব’সে ব’সে সেলাই করে। সেখানে গিয়ে ব’ল‍্লে — “তোমায় দেখে আমি যে কত খুসি হয়েছি, তা আর কি বলবো! কিন্তু তোমাকে ত সুখী বোধ হচ্ছে না! তোমার কি হয়েছে? ঐ দেখ দেখি, হ্যারি কেমন বড় হয়েছে!—কেমন সুন্দর, না?” {{ফাঁক}}জর্জ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বল্লে— “এর চেয়ে হ্যারি যদি মোটেই না জন্মাত!” {{ফাঁক}}এই কথা শুনে, ভয়ে দুঃখে ইলাইজা একেবারে কেঁদে ফেল্লে। জর্জ বল্লে—“সত্যি ইলাইজা, এ সমস্তই বড় দুঃখের বিষয়। আমার মত হতভাগা গরীব ক্রীতদাসের বেঁচে থাকার চেয়ে, মরে যাওয়াই ভাল। হায়, হায়, আমি যদি মরে যেতে পার্ত্তাম!” {{ফাঁক}}“ছিঃ জর্জ, অমন কথা ব’লো না। তোমার প্রভু অত্যন্ত খারাপ লোক তা জানি, কিন্তু কি ক’র‍্বে! স্থির হয়ে সব সহ্য ক’রো।” {{ফাঁক}}“আমি অনেক কাল থেকেই স্থির হয়ে সব সহ্য ক’রে আস্‌ছি। কিন্তু রক্ত মাংসের শরীরে আর সহ্য ক’র‍্তে পারা যায় না। হায়, কে এই<noinclude></noinclude> 5k2bgm5fa3fdmiduexa3004ypdwvl40 পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১৩ 104 883271 1990587 1990425 2026-07-23T13:26:05Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990587 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৯|দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ}}</noinclude>{{ফাঁক}}আজ টমকাকার বাড়ীতে প্রভু যিশু খৃষ্টের উপাসনা হবে। দেখ্‌তে দেখ্‌তে সমস্ত ঘরটা লোকে ভ'রে গেল। তার মধ্যে আশী বছরের বুড়ো বুড়ী থেকে চৌদ্দ পনর বছরের ছেলে মেয়ে পর্য্যন্ত ছিল। আশ পাশের সমস্ত গ্রামের লোকেরা টমকে ধর্ম্মবিষয়ে প্রধান পুরোহিতের মতই মনে ক'র্‌তো, আর সকলেই তাকে খুব ভক্তির চোখে দেখ্‌তো। টমের প্রাণ-গলান গানে ও সরল প্রার্থনায় সকলেই মোহিত হ'য়ে যায়। {{ফাঁক}}টমকাকার বাড়ীতে যখন সকলে উপসনায় মগ্ন, সেই সময় তার প্রভুর গৃহে একটা টেবিলের দুই পাশে মিঃ সেল্‌বি ও মিঃ হ্যালি ব'সে ছিলেন। মিঃ সেল্‌বি খুব মন দিয়ে কতকগুলা হিসাব পত্রের কাগজ দেখ্‌ছিলেন। {{ফাঁক}}মিঃ হ্যালি বল্লেন, “সব ঠিক আছে, এখন এই গুলোতে সই দিলেই, কেনা বেচা সব ঠিক হয়ে যায়।” {{ফাঁক}}কাগজ পত্রে সই দেওয়া হ'লে পর, মিঃ হ্যালি এক খানা নোট বের ক'রে মিঃ সেল্‌বিকে দিলেন। সেল্‌বি বল্লেন—“যাক্, সব ঢুকে গেল!” {{ফাঁক}}রাত্রে মি: ও মিসেস্ সেল্‌বি নিজেদের ঘরে শুতে গেছেন। মিঃ সেল্‌বি একটা ইজি চেয়ারে শুয়ে আছেন। মিসেস্ সেল্‌বি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস্ কল্লেন, “আচ্ছা আর্থার, (সে্ল্‌বির ডাকনাম “আর্থার”) ঐ যে চাষার মত লোকটা তোমার সঙ্গে খাবার ঘরে বসেছিল, ও কে?” {{ফাঁক}}“ওঁর নাম মিঃ হ্যালি।”{{nop}}<noinclude></noinclude> l9bm82olcoj5zsl76m5ehnify7yl5jz 1990588 1990587 2026-07-23T13:30:44Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990588 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|৯|দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ}}</noinclude>{{ফাঁক}}আজ টমকাকার বাড়ীতে প্রভু যিশু খৃষ্টের উপাসনা হবে। দেখ্‌তে দেখ্‌তে সমস্ত ঘরটা লোকে ভ’রে গেল। তার মধ্যে আশী বছরের বুড়ো বুড়ী থেকে চৌদ্দ পনর বছরের ছেলে মেয়ে পর্য্যন্ত ছিল। আশ পাশের সমস্ত গ্রামের লোকেরা টমকে ধর্ম্মবিষয়ে প্রধান পুরোহিতের মতই মনে ক’র্‌তো, আর সকলেই তাকে খুব ভক্তির চোখে দেখ্‌তো। টমের প্রাণ-গলান গানে ও সরল প্রার্থনায় সকলেই মোহিত হ’য়ে যায়। {{ফাঁক}}টমকাকার বাড়ীতে যখন সকলে উপসনায় মগ্ন, সেই সময় তার প্রভুর গৃহে একটা টেবিলের দুই পাশে মিঃ সেল্‌বি ও মিঃ হ্যালি ব’সে ছিলেন। মিঃ সেল্‌বি খুব মন দিয়ে কতকগুলা হিসাব পত্রের কাগজ দেখ্‌ছিলেন। {{ফাঁক}}মিঃ হ্যালি বল্লেন, “সব ঠিক আছে, এখন এই গুলোতে সই দিলেই, কেনা বেচা সব ঠিক হয়ে যায়।” {{ফাঁক}}কাগজ পত্রে সই দেওয়া হ’লে পর, মিঃ হ্যালি এক খানা নোট বের ক’রে মিঃ সেল্‌বিকে দিলেন। সেল্‌বি বল্লেন—“যাক্, সব ঢুকে গেল!” {{ফাঁক}}রাত্রে মি: ও মিসেস্ সেল্‌বি নিজেদের ঘরে শুতে গেছেন। মিঃ সেল্‌বি একটা ইজি চেয়ারে শুয়ে আছেন। মিসেস্ সেল্‌বি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস্ কল্লেন, “আচ্ছা আর্থার, (সে্ল্‌বির ডাকনাম “আর্থার”) ঐ যে চাষার মত লোকটা তোমার সঙ্গে খাবার ঘরে ব’সেছিল, ও কে?” {{ফাঁক}}“ওঁর নাম মিঃ হ্যালি।” {{nop}}<noinclude></noinclude> dc6svi7n5bj9b1l2xhgnyni5l1c9o6q পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১৪ 104 883272 1990590 1990426 2026-07-23T13:35:59Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990590 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১০|টমকাকার কুটীর}}</noinclude>{{ফাঁক}}“ইলাইজা আমার কাছে কাঁদ‍্তে কাঁদ‍্তে এসে বল্লে, তুমি না কি ঐ লোকটার সঙ্গে তার ছেলেকে বিক্রী কর‍্বার কথা ব’ল্‌ছিলে?” {{ফাঁক}}“হাঁ এমিলি, (মিসেস্ সেল্‌বির ডাকনাম “এমিলি”) কতকগুলো চাকর আমাকে বিক্রী ক’র‍্তেই হবে। এমন কি, আমি টমকেও বিক্রী ক’র‍্তে রাজি হয়েছি!” {{ফাঁক}}“কি! আমাদের টমকে? সে যে ছেলেবেলা থেকে তোমার কাছে বিশ্বস্ত ভাবে কাজ করেছে, এই কি তার পুরস্কার! আর্থার, তুমি না তাকে স্বাধীন ক’রে দিতে চেয়েছিলে?” {{ফাঁক}}“এমিলি, তুমি ত সবই জান। নিতান্ত বিপদে পড়েই আমাকে এ কাজ ক’র্‌তে হচ্ছে। শুধু টমকে কেন, হ্যারিকেও বিক্রী ক’র্‌তে হ’য়েছে। বিক্রী না ক’রে আমার আর উপায় নেই। হয় ওদের দুজনকে ছাড়তে হয়, না হ’লে সবাইকে ছাড়তে হয়! আমার যেখানে যা ছিল, কুড়িয়ে এক জায়গায় ক’রেছি, লোকের কাছে ধার ক’রেছি—ভিক্ষে করা ছাড়া আর সবই ক’রেছি, তবুও আমার কিছুতেই কুলাইতেছে না। ওদের দুজনকে বিক্রী ক’র্‌লে অনেকটা বিপদ কেটে যায়, তাই বাধ্য হয়ে আমাকে এ কাজ ক’র‍্তে হয়েছে।” {{ফাঁক}}মিসেস্ সেল্‌বি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে, অবাক হ’য়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। শেষে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বল্লেন—“দাসব্যবসায়ের অভিসম্পাত এতদিনে ফল্‌তে আরম্ভ হয়েছে! এমন মহাপাপ আর নেই! ভগবান সেই পাপের এই শান্তি দিচ্ছেন!” {{nop}}<noinclude></noinclude> 4qopgdgnwr2xd824xgoryfo4fo8vtw3 পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১৫ 104 883273 1990591 1990429 2026-07-23T13:40:30Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990591 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১১|দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ}}</noinclude>{{ফাঁক}}তাঁদের এই সব কথাবার্ত্তা যে আর একজন শুন্‌ছিল, মিঃ বা মিসেস্‌ সেল্‌বি কেউই তা বুঝতে পারেন নি। ইলাইজা দরজার ফাঁকে কান দিয়ে সব কথা শুনেছিল। কথাবার্ত্তা শেষ হ’লে, সে আস্তে আস্তে নিজের ঘরে গিয়ে ঢুকলো। এক টুকরা কাগজ নিয়ে তাড়াতাড়ি লিখলে— {{ফাঁক}}“গিন্নী মা, আপনি আমার উপর রাগ ক’র‍্বেন না। আমি আমার ছেলেকে বাঁচাবার জন্য চ’লে যাচ্ছি। আপনার দয়ার কথা আমি জীবনে ভুল‍্ব না! ঈশ্বর যেন আপনার মঙ্গল করেন।” {{ফাঁক}}ঘুমন্ত হ্যারিকে জাগাতে প্রথমটা ইলাইজার খুব কষ্ট হয়েছিল; যা হোক সে জেগে উঠলে, ইলাইজা বল্লে, “চুপ হ্যারি—চুপ! কথা বলিস্ না; তা হ’লেই ওরা শুনতে পাবে। একটা দুষ্টু লোক তোকে নিতে এসেছে। কিন্তু তোর মা থাকতে সে নিতে পার্ব্বে না! আয়!” {{ফাঁক}}এই ব’লে হ্যারিকে কোলে নিয়ে, সে আস্তে আস্তে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, এবং একটু পরেই টমকাকার কুটীরের কাছে এসে, জানালার সাশীর উপর ঘা দিল। {{ফাঁক}}টম তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিল। বাতির আলো মা ও ছেলের মুখের উপর গিয়ে পড়্‌ল। সময় নষ্ট না ক’রে, ইলাইজা চুপি চুপি ব’ল্‌তে লাগল, “আমি হ্যারিকে নিয়ে পালাচ্ছি। কর্ত্তা আমার হ্যারিকে ও তোমাকে দুজনকেই বিক্রী ক’রে ফেলেছেন। কর্ত্তা খুব দায়ে ঠেকেই না কি এ কাজ ক’র‍্তে বাধ্য হয়েছেন। যে লোকটা কিনেছে, সে কাল সকালেই তোমাকে নিতে আস্‌বে!” {{nop}}<noinclude></noinclude> crigsbts135fiydnod0ipipschoxh5m পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১৭ 104 883274 1990595 1990439 2026-07-23T14:25:49Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990595 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১৩|দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ}}</noinclude>উপস্থিত হ'ল। মিসেস্ সেল্‌বি বল্লেন, “অ্যাণ্ডি, ইলাইজার ঘরে গিয়ে বলে এস যে, আমি এ পর্যন্ত তাকে তিন বার ডেকে পাঠিয়েছি!” {{ফাঁক}}অ্যাণ্ডি যখন ফিরে এল, তখন তার চোখ দুটো যেন বেরিয়ে আস্‌ছে! সে কপালের উপর চোখ টেনে বল্লে, “সে ঘরে কেউ নেই! ইলাইজার বাক্স একেবারে হাট-খোলা! আর জিনিস পত্র চাদ্দিকে ছড়ান রয়েছে!” {{ফাঁক}}অ্যাণ্ডির কথা শুনে আসল ব্যাপার বুঝতে কাহারো বাকী থাক্‌ল না। সেই সময় হঠাৎ মিঃ হ্যালি এসে বসার ঘরে ঢুকলেন, এবং লোক জনের কাছে সকল কথা শুনে, চোখ টেনে মাথার উপর তুল্লেন! {{ফাঁক}}মিঃ সেল্‌বি তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বল্লেন, “আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। হ্যারিকে যাতে ফিরে পান, তার জন্য আমি সাধ্যমত চেষ্টা ক’রবো।” {{ফাঁক}}টমের দুর্ভাগ্যের কথা শুনে তার সঙ্গীরা এত দূর দুঃখিত ও বিরক্ত হ'ল যে, তা ব'লে শেষ করা যায় না। যেখানে সেখানে—যার তার মুখে খালি টমের কথা! “স্যাম” নামে মিঃ সেল্‌বির এক কৃতদাস ছিল, সে ঘোড়ার কাজ ক'রতো। টমের দুঃখে সেও খুব দুঃখিত হ'য়েছিল, কিন্তু ইলাইজার পালাবার কথা শুনে সে না হেসে থাকতে পারলে না। সে সেই কথা নিয়ে আমোদ-আহ্লাদ করছে, এমন সময় অ্যাণ্ডি এসে বল্লে, “স্যাম, প্রভুর হুকুম, এখনই ঘোড়া সাজিয়ে নিয়ে চলো। ইলাইজাকে খুঁজতে মিঃ হ্যালি এখুনি বের হবেন।” তার পর স্যামের কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে বল্লে, “গিন্নীমা একটু রয়ে ব’সে যেতে ব'লেছেন। বুঝলে ত?”{{nop}}<noinclude></noinclude> 7rd6ir8z41xieazkm4bpyez8m1xn314 1990598 1990595 2026-07-23T14:30:19Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990598 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১৩|দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ}}</noinclude>উপস্থিত হ’ল। মিসেস্ সেল্‌বি বল্লেন, “অ্যাণ্ডি, ইলাইজার ঘরে গিয়ে বলে এস যে, আমি এ পর্যন্ত তাকে তিন বার ডেকে পাঠিয়েছি!” {{ফাঁক}}অ্যাণ্ডি যখন ফিরে এল, তখন তার চোখ দুটো যেন বেরিয়ে আস্‌ছে! সে কপালের উপর চোখ টেনে বল্লে, “সে ঘরে কেউ নেই! ইলাইজার বাক্স একেবারে হাট-খোলা! আর জিনিস পত্র চাদ্দিকে ছড়ান রয়েছে!” {{ফাঁক}}অ্যাণ্ডির কথা শুনে আসল ব্যাপার বুঝতে কাহারো বাকী থাক্‌ল না। সেই সময় হঠাৎ মিঃ হ্যালি এসে বসার ঘরে ঢুকলেন, এবং লোক জনের কাছে সকল কথা শুনে, চোখ টেনে মাথার উপর তুল্লেন! {{ফাঁক}}মিঃ সেল্‌বি তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বল্লেন, “আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। হ্যারিকে যাতে ফিরে পান, তার জন্য আমি সাধ্যমত চেষ্টা ক’রবো।” {{ফাঁক}}টমের দুর্ভাগ্যের কথা শুনে তার সঙ্গীরা এত দূর দুঃখিত ও বিরক্ত হ’ল যে, তা ব’লে শেষ করা যায় না। যেখানে সেখানে—যার তার মুখে খালি টমের কথা! “স্যাম” নামে মিঃ সেল্‌বির এক কৃতদাস ছিল, সে ঘোড়ার কাজ ক’র‍্তো। টমের দুঃখে সেও খুব দুঃখিত হ’য়েছিল, কিন্তু ইলাইজার পালাবার কথা শুনে সে না হেসে থাক‍্তে পারলে না। সে সেই কথা নিয়ে আমোদ-আহ্লাদ ক’র‍্ছে, এমন সময় অ্যাণ্ডি এসে বল্লে, “স্যাম, প্রভুর হুকুম, এখনই ঘোড়া সাজিয়ে নিয়ে চলো। ইলাইজাকে খুঁজতে মিঃ হ্যালি এখুনি বের হবেন।” তার পর স্যামের কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে বল্লে, “গিন্নীমা একটু রয়ে ব’সে যেতে ব’লেছেন। বুঝলে ত?” {{nop}}<noinclude></noinclude> t1bbauug07n8k9sk6aba3j459ajs83f পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১৮ 104 883275 1990599 1990441 2026-07-23T14:31:27Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990599 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১৪|টমকাকার কুটীর}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}দুষ্টুমীর ফন্দী স্যামকে শিখাতে হয় না। সে নানা ওজর আপত্তি দেখিয়ে,অনেকটা সময় কাটিয়ে দিলে। তার পর মিঃ হ্যালির জন্য সব চেয়ে ওঁচা বদ্‌ ঘোড়া বেছে বের কল্লে। শুধু তাই নয়, সেই পাগলা ঘোড়ার জিনের নিচে, এমন ভাবে একটা কাঁটাফল রেখে দিলে যে, পিঠে চ'ড়তে না চ’ড়তে, সে যেন সার্কাসের ঘোড়ার মত লাফাতে থাকে। কাজেও তাই হ'লো। মিঃ হ্যালি যেই সে ঘোড়ায় চড়েছেন, অমনি তাঁকে খুব জোরে আছাড় দিয়ে, ঘোড়া এক ছুটে কোথায় যে পালিয়ে গেল, তার খোঁজ পাওয়া ভার! স্যামও সেই সুযোগে দে দৌড়! {{ফাঁক}}সে বেলা আর ইলাইজার খোঁজে যাওয়া হ'ল না। মিঃ হ্যালি সেল্‌বির বাড়ীতেই খাওয়া দাওয়া কল্লেন। {{rule|3em}} <section end="A" /> <section begin="B" />{{কেন্দ্র|{{larger|তৃতীয় পরিচ্ছেদ}}}} ইলাইজা যখন টমের বাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়লো, তখন সে যেমন সহায়হীন, বন্ধুহীন, তেমন অবস্থায় আর সে কখনো পড়েনি। সূর্য্য অস্ত যাবার ঘণ্টা খানেক আগে, সে “ওহিও” নদীর ধারে একটা গ্রামে এসে পৌছিল। তখন একেবারে হয়রাণ হ'য়ে পড়েছে। পায়ের তলা কেটে রক্ত প’ড়ছে। দেহের ক্লান্তি কিন্তু তার মনের বলকে কমাতে পারেনি! {{ফাঁক}}সে প্রথমে ভেবেছিল, নদী পার হ'য়ে পালাবে। কিন্তু তখন সবে বসন্ত ঋতু আরম্ভ হয়েছে। শীতের জমা বরফ গলতে আরম্ভ হ'য়ে নদী<section end="B" /><noinclude></noinclude> 9tfddhzuv0qkkvdi30jeq5ud5uki7ni 1990600 1990599 2026-07-23T14:35:57Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990600 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১৪|টমকাকার কুটীর}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}দুষ্টুমীর ফন্দী স্যামকে শিখাতে হয় না। সে নানা ওজর আপত্তি দেখিয়ে,অনেকটা সময় কাটিয়ে দিলে। তার পর মিঃ হ্যালির জন্য সব চেয়ে ওঁচা বদ্‌ ঘোড়া বেছে বের কল্লে। শুধু তাই নয়, সেই পাগলা ঘোড়ার জিনের নিচে, এমন ভাবে একটা কাঁটাফল রেখে দিলে যে, পিঠে চ’ড়তে না চ’ড়তে, সে যেন সার্কাসের ঘোড়ার মত লাফাতে থাকে। কাজেও তাই হ’লো। মিঃ হ্যালি যেই সে ঘোড়ায় চড়েছেন, অমনি তাঁকে খুব জোরে আছাড় দিয়ে, ঘোড়া এক ছুটে কোথায় যে পালিয়ে গেল, তার খোঁজ পাওয়া ভার! স্যামও সেই সুযোগে দে দৌড়! {{ফাঁক}}সে বেলা আর ইলাইজার খোঁজে যাওয়া হ’ল না। মিঃ হ্যালি সেল্‌বির বাড়ীতেই খাওয়া দাওয়া কল্লেন। {{dhr}} {{rule|3em}} <section end="A" /> <section begin="B" />{{কেন্দ্র|{{larger|তৃতীয় পরিচ্ছেদ}}}} ইলাইজা যখন টমের বাড়ী থেকে বেরিয়ে প’ড়লো, তখন সে যেমন সহায়হীন, বন্ধুহীন, তেমন অবস্থায় আর সে কখনো পড়েনি। সূর্য্য অস্ত যাবার ঘণ্টা খানেক আগে, সে “ওহিও” নদীর ধারে একটা গ্রামে এসে পৌঁছিল। তখন একেবারে হয়রাণ হ’য়ে পড়েছে। পায়ের তলা কেটে রক্ত প’ড়ছে। দেহের ক্লান্তি কিন্তু তার মনের বলকে কমাতে পারেনি! {{ফাঁক}}সে প্রথমে ভেবেছিল, নদী পার হ’য়ে পালাবে। কিন্তু তখন সবে বসন্ত ঋতু আরম্ভ হয়েছে। শীতের জমা বরফ গলতে আরম্ভ হ’য়ে নদী<section end="B" /><noinclude></noinclude> m2s8c672757yshthisap5klmr93v5s7 পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১৬ 104 883276 1990592 1990437 2026-07-23T14:21:14Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990592 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১২|টমকাকার কুটীর}}</noinclude>{{ফাঁক}}ইলাইজার কথা শুনে ক্লো কাকী চোখ মুছতে মুছতে বল্লে—“ওগো ও বুড়ো, তুমিও কেন পালাও না? এখনো ত সময় আছে। যাও, ইলাইজার সঙ্গেই পালাও। আমি তোমার জিনিস পত্র গুছিয়ে দিচ্ছি!” {{ফাঁক}}টম ধীরে ধীরে মাথা তুলে বল্লে—“না, না, আমি কিছুতেই যাবো না। ইলাইজা যাক্, ওর যাওয়াই উচিত। আমাকে বিক্রী না ক'রলে যদি প্রভুকে বিপদে প’ড়তে হয়, তা হ'লে আমাকে বিক্রী করাই উচিত হয়েছে। মুনিবকে তুমি দোষ দিও না। তিনি তোমাকে আর ঐ ওদের সকলকে বেশ যত্নে রাখবেন।” এই ব'লে টম বিছানার দিকে চেয়ে চোখের জল মুছলো! সেই বিছানার উপর তার ছেলে মেয়েদের মুখগুলি শুধু দেখা যাচ্ছিল! {{ফাঁক}}তখন ইলাইজা বল্লে, “আমার একটা কথা শোন। আজ বিকেলে আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি ৮।১০ দিনের মধ্যেই পালাবেন। দেখা হ'লে তুমি তাঁকে বলো যে, আমিও পালাচ্ছি। কেনাডায় যেতে চেষ্টা ক’রবো।” তার পর কাঁদতে কাঁদতে ইলাইজা সেখান থেকে বেরিয়ে পড়্‌লো। {{ফাঁক}}সে রাত্রে মিঃ ও মিসেস্ সেল্‌বির কাহারও ভাল ঘুম হয় নি। পর দিন তাঁরা বেলা পর্য্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে উঠে মিসেস্ সেল্‌বি বল্লেন—“ইলাইজা এখনো কেন আস্‌ছে না, তা আমি মোটেই বুঝতে পাচ্ছি না!” ঠিক সেই সময়ে অ্যাণ্ডি নামে একটা চাকর সেখানে<noinclude></noinclude> i487ytemn6c37n8a3stpquglaxfe3ft 1990593 1990592 2026-07-23T14:24:58Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990593 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১২|টমকাকার কুটীর}}</noinclude>{{ফাঁক}}ইলাইজার কথা শুনে ক্লো কাকী চোখ মুছতে মুছতে বল্লে—“ওগো ও বুড়ো, তুমিও কেন পালাও না? এখনো ত সময় আছে। যাও, ইলাইজার সঙ্গেই পালাও। আমি তোমার জিনিস পত্র গুছিয়ে দিচ্ছি!” {{ফাঁক}}টম ধীরে ধীরে মাথা তুলে বল্লে—“না, না, আমি কিছুতেই যাবো না। ইলাইজা যাক্, ওর যাওয়াই উচিত। আমাকে বিক্রী না ক’রলে যদি প্রভুকে বিপদে প’ড়তে হয়, তা হ’লে আমাকে বিক্রী করাই উচিত হয়েছে। মুনিবকে তুমি দোষ দিও না। তিনি তোমাকে আর ঐ ওদের সকলকে বেশ যত্নে রাখ‍্বেন।” এই ব’লে টম বিছানার দিকে চেয়ে চোখের জল মুছ‍্লো! সেই বিছানার উপর তার ছেলে মেয়েদের মুখগুলি শুধু দেখা যাচ্ছিল! {{ফাঁক}}তখন ইলাইজা বল্লে, “আমার একটা কথা শোন। আজ বিকেলে আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি ৮।১০ দিনের মধ্যেই পালাবেন। দেখা হ’লে তুমি তাঁকে বলো যে, আমিও পালাচ্ছি। কেনাডায় যেতে চেষ্টা ক’রবো।” তার পর কাঁদ‍্তে কাঁদ‍্তে ইলাইজা সেখান থেকে বেরিয়ে প’ড়্‌লো। {{ফাঁক}}সে রাত্রে মিঃ ও মিসেস্ সেল্‌বির কাহারও ভাল ঘুম হয় নি। পর দিন তাঁরা বেলা পর্য্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে উঠে মিসেস্ সেল্‌বি বল্লেন—“ইলাইজা এখনো কেন আস্‌ছে না, তা আমি মোটেই বুঝতে পাচ্ছি না!” ঠিক সেই সময়ে অ্যাণ্ডি নামে একটা চাকর সেখানে<noinclude></noinclude> kpp47fna64cd5g86p3n7072u6ykrx6b পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/১৯ 104 883279 1990601 1990449 2026-07-23T14:41:18Z Salil Kumar Mukherjee 12643 1990601 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rvh|১৫|তৃতীয় পরিচ্ছেদ}}</noinclude>একেবারে ভ’রে উঠেছে। আর সেই ঘোলাটে জলের উপর বড় বড় বরফের চাপগুলো ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে। পারে যাবার সন্ধানে ইলাইজা নদীর ধারে একটা হোটেলে গেল। সেখানে একটি স্ত্রীলোক রান্না ক’রছিল। ইলাইজা তাকে জিজ্ঞেস্ ক’রলে—“ওপারে যাবার জন্যে কোন খেয়া কি এখানে নেই?” {{ফাঁক}}স্ত্রীলোকটি বল্লে, “খেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আজ সন্ধ্যার সময় একজনের ওপারে যাবার কথা আছে। সে লোক খুব ভাল। ইচ্ছা ক’রলে তুমি তার সঙ্গেই যেতে পারো।” {{ফাঁক}}ইলাইজা তখন হ্যারির দিকে তাকিয়ে আদর ক’রে বল্লে—“বাছা আমার! পথের কষ্ট একেবারেই সহ্য করতে পারে না।” {{ফাঁক}}হোটেলের সেই স্ত্রীলোকটি একটা শোবার ঘরের দরজা খুলে দিয়ে বল্লে, “ওকে ঐ ঘরে নিয়ে যাও।” {{ফাঁক}}ইলাইজা ছেলেকে নিয়ে একটা বিছানার উপর শোয়ালে। আর যতক্ষণ সে না ঘুমুল, ততক্ষণ তার হাত খানা নিজের হাতের মধ্যে চেপে ধ’রে রাখ্‌লে। {{ফাঁক}}ইলাইজাকে যারা খুঁজ‍্তে বের হ’য়েছিল, তারা এখন কি ক’র‍্ছে, দেখা যাক্। নানা গোলমালে তাড়াতাড়ি বের হ’তে পারেনি ব’লে, তাদের নদীর ধারে পৌঁছতেও দেরী হ’য়েছিল। হ্যারিকে শোয়াবার প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে, ইলাইজা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে, এমন সময় ঘোড়ার পায়ের শব্দে চমকে উঠে, হঠাৎ সে কিছু দূরে মিঃ হ্যালিকে<noinclude></noinclude> n7l3km0twroirifrhcp8nlcqd3s4x44 পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/২৩২ 104 883290 1990580 1990575 2026-07-23T12:42:41Z Hrishikes 1618 1990580 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh|২১৬|ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য}} {{block center/s}}</noinclude><poem> ইহ তনু অবস দিবস রজনী :::রমণী পুনে আঁখি ভুলায়॥ ::মন এ সুন্দরী যদি কহে বাণী। বচন পরামৃত মৃত তনু মুঞ্জরে :::এ তনু সফল করি মানি॥ ইত্যাদি। </poem>{{block center/e}} তাহার পরে মধ্যভাবে— {{block center|<poem> কদম্ব কুসুম জনু {{float right|4=3em|সতত সিহরে তনু}} ::::যদবধি নিরখিলাম তারে। যদি পাসরিতে চাই {{float right|4=3em|আপনা পাসরে জাই}} ::::এনা দুখ কহিব কাহারে॥ সেই সে জীবন মোর {{float right|4=3em|রসিকের মনোচোর}} ::::রমণী রসের শিরোমণি। পরিহরি লোকলাজে {{float right|4=3em|রাখিব হৃদয় মাঝে}} ::::না ছাড়িব দিবস রজনী॥ </poem>}} {{gap}}অধিক উদ্ধৃতির প্রয়োজন নাই; উদ্ধৃতি দিতে হইলে প্রায় গোটা বইখানিই তুলিয়া দিতে হয়। যেটুকু উদ্ধৃতি দিলাম তাহা দ্বারা শাক্ত-সাধকগণও যে নিজেদের সাধনতত্ত্ব বা সাধনভাব প্রকাশে বৈষ্ণব-ধারা দ্বারা কতখানি প্রভাবিত হইয়াছিলেন তাহারই একটি বিশেষ নমুনা দিবার চেষ্টা করিলাম। {{gap}}প্রসঙ্গক্রমে আমরা লক্ষ্য করিতে পারি, বাঙলার প্রতিবেশী মৈথিলী সাহিত্যেও দেবীর বর্ণনায় বাঙলা সাহিত্যের অনুরূপ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। দেবীর বর্ণনায় দেবীর ভয়ঙ্কর রূপের সব বর্ণনাই আছে, তথাপি একটি-দুইটি ছত্রে দেবীর কমনীয় মাধুর্যকে ফুটাইয়া তুলিবার চেষ্টা হইয়াছে। প্রথমে আমরা মৈথিল কবি বিদ্যাপতির একটি দেবী-বন্দনার পদ দিয়াই আরম্ভ করিয়াছিলাম। পরবর্তী কালের অপেক্ষাকৃত আধুনিক মৈথিল কবিগণের দেবী-বর্ণনার মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করি। মহারাজ মহেশ ঠাকুরের ‘তারা’ বর্ণনার ভিতরে দেখি— {{block center|<poem> জয় জয় জয় ভয়ভঞ্জিনি ভগবতি {{float right|2=-4em|আদি শক্তি তুঅ মায়া।}} জনি নব সজল জলদ তুঅ তনুরুচি {{float right|2=-4em|পদরুচি পঙ্কজ ছায়া॥<ref>গীতি-মালা, শ্রীউমানন্দ ঝা-সঙ্কলিত।</ref>}} </poem>}}<br/> {{gap}}মহারাজ মহিনাথ ঠাকুরের কালী-বর্ণনার প্রথম ছত্রে দেখি— {{block center| বদন ভয়াল কান শব কুণ্ডল :বিকট দর্শন পাঁতি।}}<noinclude>{{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> ih985avtguyyelyud4vzci95oqw8isz পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/২৩৩ 104 883291 1990582 2026-07-23T12:57:01Z Hrishikes 1618 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1990582 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Hrishikes" />{{rh||বাঙলা শাক্ত-সাহিত্য|২১৭}}</noinclude>কিন্তু দ্বিতীয় ছত্রেই দেখি— {{block center|ফজল কেশ বেশ তুঅ কে কহ :::::জনি নব জলধর কাঁতি।<ref>গীতিমালা, শ্রীউমানন্দ ঝা-সঙ্কলিত।</ref>}} কবি মকুন্দের দুর্গো-বর্ণনায় দেখি— সিংহ চড়লি মাতা অসর-নিকন্দিনি, মেদিনী ডোল গতি-দাপে। আয়ুধ উগ্র শোভএ আঠো কর, কিন্তু ঠিক পরের বর্ণনাই হইল— জাহি ডরে আরি উর কাঁপে। দূর্বাদল সন কান্তি মনোহর, শিরে শোভ চান কলাপে। ২২ আধুনিক কবি বিশ্বনাথ ঝা ভগবতীর গীতে বলিয়াছেন— জয় জয় সকল অস,রকুলনাশিনি, আদি সনাতনি মায়া। গিরিবর বাসিনি, শঙ্করভামিনি, নিজ জন পর কর, দায়া। শ্যামল রুচির বদন তুঅ রাজিত, তড়িতবিনিন্দক নয়নে। W বঘছাল পহিরন, কটি অতি শোভিত, ফণিকুণ্ডল যগে কানে॥ ২০ ২১৭ বাঙলা বৈষ্ণব-পদাবলীর সহিত বাঙলা শাক্ত-পদাবলীর আর-একটি গভীর মিল লক্ষ্য করিতে পারি উভয় জাতীয় পদাবলীতে বাৎসলা-রসের বর্ণনায়। এই বাৎসল্য-রসের প্রাবল্যে বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবন ও গিরিপুরের মধ্যে ব্যবধান ও ভেদচিহ্ন অনেক সময় অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে— স্থানে স্থানে মাছিয়াও গিয়াছে। এইরূপে হইবারই ত কথা, কারণ বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবন ও উত্তর প্রদেশে অবস্থিত নয়, গিরিপরও হিমালয়ের কোনও কন্দরে স্থিত নয়; উভয়ের অবস্থিতিই বাঙলাদেশের মাঠ-ঘাট-জোড়া শ্যামল অঞ্চলে। সতেরাং ভাবপ্রাবল্যে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ভাবেই ভেদচিহ্নের বিস্মৃতি। একই চিত্তপ্রক্রিয়ায় গিরিরাজ ও নন্দরাজ এবং গিরিরাণী ও নন্দরাণীরও আপোসে ভাব-বিনিময় হইয়া গিয়াছে; ইহার মাঝখানে এক স্থলে দাঁড়াইয়া ‘স্নেহের দুলালী উমা' অপর স্থলে 'স্নেহের দলাল গোপাল'; বাঙলাদেশের বৈষ্ণব-কবিতায় গোপালের বালালীলাকে অবলম্বন করিয়া বাকের সমস্ত স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন যে বাঙালী মা, বাঙলাদেশের শাক্ত-কবিতার মধ্যে উমাকে অবলম্বন করিয়াও তেমনই ভাবে স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন একই মা। অবশ্য লীলার এবং লীলাক্ষেত্রের কিছ, পার্থক্য আছে। একজনের বাল্যলীলা মূখ্যতঃ গোষ্ঠ অবলম্বনে- অপরের বাল্যলীলা অষ্টমবর্ষেই স্বামীর ঘর করণে। কিন্তু পাত্রকে ২১ २ ঐ। 20।<noinclude>{{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> lulwkg37mdfw3xqt304pxfjzhf73uh4 1990589 1990582 2026-07-23T13:31:28Z Hrishikes 1618 1990589 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Hrishikes" />{{rh||বাঙলা শাক্ত-সাহিত্য|২১৭}}</noinclude>কিন্তু দ্বিতীয় ছত্রেই দেখি— {{block center|ফুজল কেশ বেশ তুঅ কে কহ :::::জনি নব জলধর কাঁতি।<ref>গীতিমালা, শ্রীউমানন্দ ঝা-সঙ্কলিত।</ref>}} {{gap}}কবি মুকুন্দের দুর্গা-বর্ণনায় দেখি— {{block center|<poem> সিংহ চড়লি মাতা অসুর-নিকন্দিনি, {{float right|2=-3em|মেদিনী ডোল গতি-দাপে।}} আয়ুধ উগ্র শোভএ আঠো কর, {{float right|2=-3em|জাহি ডরে আরি উর কাঁপে।}} </poem>}}<br/> কিন্তু ঠিক পরের বর্ণনাই হইল— দূর্বাদল সন কান্তি মনোহর, শিরে শোভ চান কলাপে। ২২ আধুনিক কবি বিশ্বনাথ ঝা ভগবতীর গীতে বলিয়াছেন— জয় জয় সকল অস,রকুলনাশিনি, আদি সনাতনি মায়া। গিরিবর বাসিনি, শঙ্করভামিনি, নিজ জন পর কর, দায়া। শ্যামল রুচির বদন তুঅ রাজিত, তড়িতবিনিন্দক নয়নে। W বঘছাল পহিরন, কটি অতি শোভিত, ফণিকুণ্ডল যগে কানে॥ ২০ ২১৭ বাঙলা বৈষ্ণব-পদাবলীর সহিত বাঙলা শাক্ত-পদাবলীর আর-একটি গভীর মিল লক্ষ্য করিতে পারি উভয় জাতীয় পদাবলীতে বাৎসলা-রসের বর্ণনায়। এই বাৎসল্য-রসের প্রাবল্যে বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবন ও গিরিপুরের মধ্যে ব্যবধান ও ভেদচিহ্ন অনেক সময় অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে— স্থানে স্থানে মাছিয়াও গিয়াছে। এইরূপে হইবারই ত কথা, কারণ বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবন ও উত্তর প্রদেশে অবস্থিত নয়, গিরিপরও হিমালয়ের কোনও কন্দরে স্থিত নয়; উভয়ের অবস্থিতিই বাঙলাদেশের মাঠ-ঘাট-জোড়া শ্যামল অঞ্চলে। সতেরাং ভাবপ্রাবল্যে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ভাবেই ভেদচিহ্নের বিস্মৃতি। একই চিত্তপ্রক্রিয়ায় গিরিরাজ ও নন্দরাজ এবং গিরিরাণী ও নন্দরাণীরও আপোসে ভাব-বিনিময় হইয়া গিয়াছে; ইহার মাঝখানে এক স্থলে দাঁড়াইয়া ‘স্নেহের দুলালী উমা' অপর স্থলে 'স্নেহের দলাল গোপাল'; বাঙলাদেশের বৈষ্ণব-কবিতায় গোপালের বালালীলাকে অবলম্বন করিয়া বাকের সমস্ত স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন যে বাঙালী মা, বাঙলাদেশের শাক্ত-কবিতার মধ্যে উমাকে অবলম্বন করিয়াও তেমনই ভাবে স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন একই মা। অবশ্য লীলার এবং লীলাক্ষেত্রের কিছ, পার্থক্য আছে। একজনের বাল্যলীলা মূখ্যতঃ গোষ্ঠ অবলম্বনে- অপরের বাল্যলীলা অষ্টমবর্ষেই স্বামীর ঘর করণে। কিন্তু পাত্রকে ২১ २ ঐ। 20।<noinclude>{{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> bb4ljch8xsw10zd143qz9sxp098ap5i 1990594 1990589 2026-07-23T14:25:39Z Hrishikes 1618 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990594 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh||বাঙলা শাক্ত-সাহিত্য|২১৭}}</noinclude>কিন্তু দ্বিতীয় ছত্রেই দেখি— {{block center|ফুজল কেশ বেশ তুঅ কে কহ :::::জনি নব জলধর কাঁতি।<ref>গীতিমালা, শ্রীউমানন্দ ঝা-সঙ্কলিত।</ref>}} {{gap}}কবি মুকুন্দের দুর্গা-বর্ণনায় দেখি— {{block center|<poem> সিংহ চড়লি মাতা অসুর-নিকন্দিনি, {{float right|2=-3em|মেদিনী ডোল গতি-দাপে।}} আয়ুধ উগ্র শোভএ আঠো কর, {{float right|2=-3em|জাহি ডরে আরি উর কাঁপে।}} </poem>}}<br/> কিন্তু ঠিক পরের বর্ণনাই হইল— {{block center|<poem>দূর্বাদল সন কান্তি মনোহর, {{float right|2=-3em|শিরেঁ শোভ চান কলাপে।<ref>ঐ।</ref> </poem>}}<br/> আধুনিক কবি বিশ্বনাথ ঝা ভগবতীর গীতে বলিয়াছেন— {{block center|<poem> জয় জয় সকল অসুরকুলনাশিনি, আদি সনাতনি মায়া। গিরিবর বাসিনি, শঙ্করভামিনি, নিজ জন পর করু দায়া॥ শ্যামল রুচির বদন তুঅ রাজিত, তড়িতবিনিন্দক নয়নে। বঘছাল পহিরন, কটি অতি শোভিত, ফণিকুণ্ডল যুগ কানে॥<ref>ঐ।</ref> </poem>}} {{gap}}বাঙলা বৈষ্ণব-পদাবলীর সহিত বাঙলা শাক্ত-পদাবলীর আর-একটি গভীর মিল লক্ষ্য করিতে পারি উভয় জাতীয় পদাবলীতে বাৎসল্য-রসের বর্ণনায়। এই বাৎসল্য-রসের প্রাবল্যে বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবন ও গিরিপুরের মধ্যে ব্যবধান ও ভেদচিহ্ন অনেক সময় অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে—স্থানে স্থানে মুছিয়াও গিয়াছে। এইরূপ হইবারই ত কথা, কারণ বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবনও উত্তর প্রদেশে অবস্থিত নয়, গিরিপুরও হিমালয়ের কোনও কন্দরে স্থিত নয়; উভয়ের অবস্থিতিই বাঙলাদেশের মাঠ-ঘাট-জোড়া শ্যামল অঞ্চলে। সুতরাং ভাবপ্রাবল্যে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক-ভাবেই ভেদচিহ্নের বিস্মৃতি। একই চিত্তপ্রক্রিয়ায় গিরিরাজ ও নন্দরাজ এবং গিরিরাণী ও নন্দরাণীরও আপোসে ভাব-বিনিময় হইয়া গিয়াছে; ইহার মাঝখানে এক স্থলে দাঁড়াইয়া ‘স্নেহের দুলালী উমা’ অপর স্থলে ‘স্নেহের দুলাল গোপাল’; বাঙলাদেশের বৈষ্ণব-কবিতায় গোপালের বাল্যলীলাকে অবলম্বন করিয়া বুকের সমস্ত স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন যে বাঙালী মা, বাঙলাদেশের শাক্ত-কবিতার মধ্যে উমাকে অবলম্বন করিয়াও তেমনই ভাবে স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন একই মা। অবশ্য লীলার এবং লীলাক্ষেত্রের কিছু পার্থক্য আছে। একজনের বাল্যলীলা মুখ্যতঃ গোষ্ঠ অবলম্বনে—অপরের বাল্যলীলা অষ্টমবর্ষেই স্বামীর ঘর করণে। কিন্তু পুত্রকে<noinclude>{{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> hxc8u7qeq6jyaufbyvl7lm717blat9p 1990596 1990594 2026-07-23T14:26:13Z Hrishikes 1618 1990596 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh||বাঙলা শাক্ত-সাহিত্য|২১৭}}</noinclude>কিন্তু দ্বিতীয় ছত্রেই দেখি— {{block center|ফুজল কেশ বেশ তুঅ কে কহ :::::জনি নব জলধর কাঁতি।<ref>গীতিমালা, শ্রীউমানন্দ ঝা-সঙ্কলিত।</ref>}} {{gap}}কবি মুকুন্দের দুর্গা-বর্ণনায় দেখি— {{block center|<poem> সিংহ চড়লি মাতা অসুর-নিকন্দিনি, {{float right|2=-3em|মেদিনী ডোল গতি-দাপে।}} আয়ুধ উগ্র শোভএ আঠো কর, {{float right|2=-3em|জাহি ডরে আরি উর কাঁপে।}} </poem>}}<br/> কিন্তু ঠিক পরের বর্ণনাই হইল— {{block center|<poem>দূর্বাদল সন কান্তি মনোহর, {{float right|2=-3em|শিরেঁ শোভ চান কলাপে।<ref>ঐ।</ref>}} </poem>}}<br/> আধুনিক কবি বিশ্বনাথ ঝা ভগবতীর গীতে বলিয়াছেন— {{block center|<poem> জয় জয় সকল অসুরকুলনাশিনি, আদি সনাতনি মায়া। গিরিবর বাসিনি, শঙ্করভামিনি, নিজ জন পর করু দায়া॥ শ্যামল রুচির বদন তুঅ রাজিত, তড়িতবিনিন্দক নয়নে। বঘছাল পহিরন, কটি অতি শোভিত, ফণিকুণ্ডল যুগ কানে॥<ref>ঐ।</ref> </poem>}} {{gap}}বাঙলা বৈষ্ণব-পদাবলীর সহিত বাঙলা শাক্ত-পদাবলীর আর-একটি গভীর মিল লক্ষ্য করিতে পারি উভয় জাতীয় পদাবলীতে বাৎসল্য-রসের বর্ণনায়। এই বাৎসল্য-রসের প্রাবল্যে বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবন ও গিরিপুরের মধ্যে ব্যবধান ও ভেদচিহ্ন অনেক সময় অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে—স্থানে স্থানে মুছিয়াও গিয়াছে। এইরূপ হইবারই ত কথা, কারণ বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবনও উত্তর প্রদেশে অবস্থিত নয়, গিরিপুরও হিমালয়ের কোনও কন্দরে স্থিত নয়; উভয়ের অবস্থিতিই বাঙলাদেশের মাঠ-ঘাট-জোড়া শ্যামল অঞ্চলে। সুতরাং ভাবপ্রাবল্যে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক-ভাবেই ভেদচিহ্নের বিস্মৃতি। একই চিত্তপ্রক্রিয়ায় গিরিরাজ ও নন্দরাজ এবং গিরিরাণী ও নন্দরাণীরও আপোসে ভাব-বিনিময় হইয়া গিয়াছে; ইহার মাঝখানে এক স্থলে দাঁড়াইয়া ‘স্নেহের দুলালী উমা’ অপর স্থলে ‘স্নেহের দুলাল গোপাল’; বাঙলাদেশের বৈষ্ণব-কবিতায় গোপালের বাল্যলীলাকে অবলম্বন করিয়া বুকের সমস্ত স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন যে বাঙালী মা, বাঙলাদেশের শাক্ত-কবিতার মধ্যে উমাকে অবলম্বন করিয়াও তেমনই ভাবে স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন একই মা। অবশ্য লীলার এবং লীলাক্ষেত্রের কিছু পার্থক্য আছে। একজনের বাল্যলীলা মুখ্যতঃ গোষ্ঠ অবলম্বনে—অপরের বাল্যলীলা অষ্টমবর্ষেই স্বামীর ঘর করণে। কিন্তু পুত্রকে<noinclude>{{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> 570quqktxwxrss8uw2z64ypllqvzcqw 1990597 1990596 2026-07-23T14:27:19Z Hrishikes 1618 1990597 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh||বাঙলা শাক্ত-সাহিত্য|২১৭}}</noinclude>কিন্তু দ্বিতীয় ছত্রেই দেখি— {{block center|ফুজল কেশ বেশ তুঅ কে কহ :::::জনি নব জলধর কাঁতি।<ref>গীতিমালা, শ্রীউমানন্দ ঝা-সঙ্কলিত।</ref>}} {{gap}}কবি মুকুন্দের দুর্গা-বর্ণনায় দেখি— {{block center|<poem> সিংহ চড়লি মাতা অসুর-নিকন্দিনি, {{float right|2=-3em|মেদিনী ডোল গতি-দাপে।}} আয়ুধ উগ্র শোভএ আঠো কর, {{float right|2=-3em|জাহি ডরে আরি উর কাঁপে।}} </poem>}}<br/> কিন্তু ঠিক পরের বর্ণনাই হইল— {{block center|<poem>দূর্বাদল সন কান্তি মনোহর, {{float right|2=-7em|শিরেঁ শোভ চান কলাপে।<ref>ঐ।</ref>}} </poem>}}<br/> আধুনিক কবি বিশ্বনাথ ঝা ভগবতীর গীতে বলিয়াছেন— {{block center|<poem> জয় জয় সকল অসুরকুলনাশিনি, আদি সনাতনি মায়া। গিরিবর বাসিনি, শঙ্করভামিনি, নিজ জন পর করু দায়া॥ শ্যামল রুচির বদন তুঅ রাজিত, তড়িতবিনিন্দক নয়নে। বঘছাল পহিরন, কটি অতি শোভিত, ফণিকুণ্ডল যুগ কানে॥<ref>ঐ।</ref> </poem>}} {{gap}}বাঙলা বৈষ্ণব-পদাবলীর সহিত বাঙলা শাক্ত-পদাবলীর আর-একটি গভীর মিল লক্ষ্য করিতে পারি উভয় জাতীয় পদাবলীতে বাৎসল্য-রসের বর্ণনায়। এই বাৎসল্য-রসের প্রাবল্যে বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবন ও গিরিপুরের মধ্যে ব্যবধান ও ভেদচিহ্ন অনেক সময় অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে—স্থানে স্থানে মুছিয়াও গিয়াছে। এইরূপ হইবারই ত কথা, কারণ বাঙালী কবিমনে বৃন্দাবনও উত্তর প্রদেশে অবস্থিত নয়, গিরিপুরও হিমালয়ের কোনও কন্দরে স্থিত নয়; উভয়ের অবস্থিতিই বাঙলাদেশের মাঠ-ঘাট-জোড়া শ্যামল অঞ্চলে। সুতরাং ভাবপ্রাবল্যে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক-ভাবেই ভেদচিহ্নের বিস্মৃতি। একই চিত্তপ্রক্রিয়ায় গিরিরাজ ও নন্দরাজ এবং গিরিরাণী ও নন্দরাণীরও আপোসে ভাব-বিনিময় হইয়া গিয়াছে; ইহার মাঝখানে এক স্থলে দাঁড়াইয়া ‘স্নেহের দুলালী উমা’ অপর স্থলে ‘স্নেহের দুলাল গোপাল’; বাঙলাদেশের বৈষ্ণব-কবিতায় গোপালের বাল্যলীলাকে অবলম্বন করিয়া বুকের সমস্ত স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন যে বাঙালী মা, বাঙলাদেশের শাক্ত-কবিতার মধ্যে উমাকে অবলম্বন করিয়াও তেমনই ভাবে স্নেহ উৎসারিত করিয়া দিয়াছেন একই মা। অবশ্য লীলার এবং লীলাক্ষেত্রের কিছু পার্থক্য আছে। একজনের বাল্যলীলা মুখ্যতঃ গোষ্ঠ অবলম্বনে—অপরের বাল্যলীলা অষ্টমবর্ষেই স্বামীর ঘর করণে। কিন্তু পুত্রকে<noinclude>{{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> qhs4mjtycyuzcbz6mu2hrdpq0fjsxn6 পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৩ 104 883292 1990604 2026-07-23T15:33:25Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990604 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|১৭|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>সমগ্র ভারত আভাময় করিয়া তুলিয়াছিল, অপক্ষপাত লেখকের লেখনীমুখে তাহার বর্ণনা পাঠ করিয়া, আমাদের এই দুর্ব্বল অসাড় হৃদয়ে মৃদু কম্পন উপস্থিত হয় বটে, কিন্তু প্রতীচ্য ভূখণ্ডের স্বাধীনতার গৌরব স্বরূপ “মারাথান” ও “থর্ম্মপালী” স্বাধীন য়ুরোপীর জাতিগণের হৃদয়ে যে বরণীয় আসন লাভ করিয়াছে, স্বাধীনতার যেরূপ মহাতীর্থরূপে পরিগণিত রহিয়াছে, আমাদের দেশের মারাখান ও থর্ম্মপালী, আমাদের সুপবিত্র পুণ্যতীর্থ হলদীঘাট, রামনগর ও চিলিয়ানওয়ালাকে আমরা এখনও সেরূপভাবে গ্রহণ করিতে পারি নাই। {{ফাঁক}}আমি ইতিহাসের পাঠক নহি; যতক্ষণ ইতিহাস পড়িব, ততক্ষণ ঘুরিয়া বেড়াইলে আমার লাভ আছে; কিন্তু আমি যেখানে থাকিতাম, পাঠ না করিলেও সেখানে অনেক ঐতিহাসিক ব্যাপার নয়নগোচর হইত; এবং সেই সকল ব্যাপার একত্র লিপিবদ্ধ করিলে, একখানি সুবৃহৎ সুন্দর ইতিহাস প্রস্তুত হইতে পারে। প্রতিদিন যে সকল কীর্ত্তিচিহ্ন আমার নয়নপথে পতিত হইত, আমি তাহা উপেক্ষা করিতে পারিতাম না; “ওটা কি একটা ছিল” এই টুকু মাত্র বলিয়াই অনেকের কৌতুহলবৃত্তির পরিতৃপ্তি হইতে দেখিয়াছি; কিন্তু এই বীরভূমির লুপ্তগৌরবের নীরব শ্মশানে দাঁড়াইয়া আর শুধু “ওটা কি একটা ছিল” বলিয়া নিবৃত্তি হওয়া যায় না, ঘুরিয়া ঘুরিয়া তন্নতন্ন করিয়া সমস্ত দেখিতে ইচ্ছা হয়; এবং সমস্ত দেখা শেষ হইলে একটা উচ্চ দীর্ঘশ্বাস ধীরে ধীরে হৃদয়ের নিভৃত প্রদেশ<noinclude></noinclude> n22llhxhmmxz208r7nf0e20rie3kcc7 পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৪ 104 883293 1990605 2026-07-23T15:35:59Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990605 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|১৮|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>হইতে বহির্গত হইয়া শূন্যে মিশাইরা যায়, চক্ষুপ্রান্ত আর্দ্র হইয়া আসে। পঞ্চনদের প্রাচীন গৌরব অধিক নাই; এই বিস্তীর্ণ প্রদেশের উপর যে যুগব্যাপী অন্ধকারপূর্ণ রাত্রি আধিপত্য করিতেছিল, মধ্যযুগের শেষ প্রান্তে তাহার অবসান হয়, এবং ধর্ম্মবীর নানক তাহার শুকতারা। দেখিতে দেখিতে যেন ঐন্দ্রজালিকের মন্ত্রবলে চতুর্দ্দিক আলোকপূর্ণ হইয়া উঠিল, এবং পঞ্চনদবাসিগণ দীর্ঘনিদ্রার পর জাগ্রত হইয়া কঠোর কর্ম্মক্ষেত্রে প্রবেশ করিল। সে আজ কয় দিনের কথা। কিন্তু অতি অল্প কালের মধ্যেই সে সূর্য্য অস্তমিত হইল; শুধু একটা সুখের স্মৃতি, এবং অতীত গৌরবের চিহ্ন চতুর্দ্দিকে পড়িয়া রহিয়াছে; তাহা দেখিলে হৃদয় ব্যথিত হয়। {{ফাঁক}}কিন্তু আমি যে ক্ষুদ্র কাহিনী বলিতে যাইতেছি, ইতিহাসের বিষয় হইলেও, প্রচলিত ছাপার বহিতে সে সম্বন্ধে অধিক কথা দেখা যায় না। মনে হয়, একখানিমাত্র পুস্তকে এ সম্বন্ধে সামান্য উল্লেখ দেখিয়াছিলাম; সুতরাং বিষয়টী অধিকাংশ পাঠকের নিকট কিঞ্চিৎ চিন্তাকর্ষক হইবে, এরূপ আশা বোধ করি দুরাশা নহে। {{ফাঁক}}দেরাদুন সহরে ভ্রমণ করিতে বাহির হইলেই বাজারের নিকট একটা সুবৃহৎ মন্দির সর্ব্বপ্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একটা মন্দির বলিলে ঠিক পরিচয় দেওয়া হয় না, এবং হঠাৎ দেখিলে ইহাকে মন্দির বলিয়া মনে না হইয়া মুসলমান বাদসাহদিগের সমাধিমঞ্চ বলিয়া বোধ হয়। মনোহর-<noinclude></noinclude> oelg2cvvj5k07baqbwkvy1xa8hqhlcj পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৫ 104 883294 1990606 2026-07-23T15:39:02Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990606 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|১৯|গুরুদ্বার।|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>কারুকার্য্যময় উচ্চপ্রাচীর পরিবেষ্টিত একটি স্থান; প্রাচীরের চারি কোণে চারিটি উচ্চ মনুমেণ্টের মত মিনার, এবং পশ্চিমদিকে একটি প্রকাণ্ড সিংহদ্বার,—তাহাতে লৌহ কবাট শোভা পাইতেছে; যেন কত দিনের পুঞ্জীকৃত রহস্য এই কপাটের অন্তরালে গুপ্ত রহিয়াছে। এই মন্দিরের অপর তিন দিকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রায়তন আরও তিনটি দ্বার রহিয়াছে; সেগুলি এই লৌহদ্বারের ন্যায় ‘সদর দরজা’ নহে। {{ফাঁক}}লৌহনির্ম্মিত সিংহদ্বার অতিক্রম করিয়া একটা প্রশস্ত প্রাঙ্গনে উপস্থিত হইতে পারা যায়; এই প্রাঙ্গণটি প্রস্তরমণ্ডিত এবং অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন; মানবের মলিন পদস্পর্শে সেই পরিচ্ছন্নতার ঈষৎ হানি হইতে পারে, এমন সম্ভাবনাও বোধ করি ক্ষণকালের জন্য ইহার নির্ম্মাণকারীর মনে স্থান পায় নাই। প্রাঙ্গণের ঠিক মধ্যস্থলে একটি প্রকাণ্ড মন্দির; মন্দিরের উপর উঠিতে হইলে সিঁড়ি বহিয়া উঠিতে হয়, এবং এই জন্য মন্দিরের চারি দিকে সিঁড়ি চিত্রে ভূষিত; ইহার অভ্যন্তরে কোনও দেবদেবী প্রতিষ্ঠিত নাই; মুসলমানেরা উপাসনা করিবার জন্য যেরূপ মসজিদ প্রস্তুত করেন, ইহাও অনেকটা সেই প্রকার। এই মন্দির শিখগুরু রামরায়ের সমাধিমন্দির, আর এই প্রাঙ্গণের চতুষ্কোণে যে চারিটি মনুমেণ্টের ন্যায় মঞ্চ আছে, তাহা রামরায়ের চারি স্ত্রীর সমাধিস্থান। এই মন্দিরের নাম অনুসারে স্থানের নাম হইয়াছে,—“গুরুদ্বার” বা “গুরুদেরা”। মন্দিরসম্বন্ধে অন্যান্য<noinclude></noinclude> qz2hq8nq7wvh4cnmk4f7pfw6eysi209 পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৬ 104 883295 1990607 2026-07-23T15:42:10Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990607 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২০|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>কথা বলিবার পূর্ব্বে রামরায় সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। {{ফাঁক}}যাঁহারা ভারতবর্ষের ক্ষুদ্র একখানি ইতিহাস পাঠ করিয়াছেন, তাঁহারাও অবগত আছেন, কি জন্য ধর্ম্মবীর, সাধুশ্রেষ্ট মহাত্মা নানকের মন্ত্রশিষ্যেরা কর্ম্মবীর, মহাপরাক্রান্ত দুর্জ্জেয় যোদ্ধৃজাতিতে পরিণত হইয়াছিল, এবং একটা সংসারবিরাগী, ধর্ম্মপরায়ণ, নির্ব্বিরোধ সম্প্রদায় কি রূপে কয়েক জন অবিমৃষ্যকারী মুসলমান সম্রাটের অমানুষ অত্যাচার ও পাশবিক কঠোরতায় উৎপীড়িত হইয়া সাম্প্রদায়িক ঔদাসীন্য পরিত্যাগ পূর্ব্বক, এক সুবিখ্যাত রাজনৈতিক জাতিতে অভ্যুত্থান লাভ করিল। শিখজাতির ক্রমপরিবর্ত্তনের সেই ধারাবাহিক বিবরণ ইতিহাসে আলোচিত হইয়াছে; আমরা এখানে কেবল শিখসম্প্রদায়ের আদিগুরু নানকের তেজস্বী বংশতরুর একটী শাখার ইতিহাস বর্ণন করিব। {{ফাঁক}}রামরায় শিখগুরু, ইনি গুরু হরগোবিন্দ সিংহের প্রপৌত্র। যে সময়ে ভারতের অতুল ঐশ্বর্য্য এবং প্রভূত ক্ষমতার পীঠস্থান দিল্লীর রত্নসিংহাসন লইয়া, দারা, সুজা, আরঞ্জেব ও মুরাদ, পবিত্র ভ্রাতৃত্ববন্ধনের মস্তকে পদাঘাত পূর্ব্বক পিশাচের ন্যায় পরস্পরের বক্ষে তীক্ষ্ণ ছুরিকা প্রবেশ করাইবার অবসর অন্বেষণ করিতেছিল, এবং রোগক্লিষ্ট অক্ষম বৃদ্ধ সম্রাট অন্ধকারময় কারাগারের বিষাদময় কক্ষে উপবেশন পূর্ব্বক অনুতপ্তহৃদয়ে প্রতিদিন মৃত্যুকামনা করিতেছিলেন, সেই অরাজক সময়ে যিনি শিখসম্প্রদায়ের নেতা<noinclude></noinclude> gjl86zm7bpbysynq0cmqozvhpnbv1tq পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৭ 104 883296 1990608 2026-07-23T15:44:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990608 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২১|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>ছিলেন, তাঁহার নাম গুরু হররায়; ইনিই রামরায়ের পিতা। গুরু হররায়, বাদশাহ-পুত্রগণের ভ্রাতৃবিরোধে যোগদান করেন, এবং সাজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র “দারাশেকো”র সহায় হন। যাহা হউক, এই ভ্রাতৃবিরোধের যে পরিণাম হইয়াছিল, তাহা সকলেই অবগত আছেন; আরঞ্জেব ধুর্ত্ততাপ্রভাবে সিংহাসন লাভ করিয়া বিদ্রোহাপরাধে গুরু হররায়কে সপরিবারে দিল্লীতে আবদ্ধ রাখেন। গুরু হররায় কারারুদ্ধ হন নাই বটে, কিন্তু সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত দিল্লী ত্যাগ করা তাঁহার পক্ষে নিষিদ্ধ ছিল। এই সময় গুরু রামরায়ের জন্ম হয়, এবং এই দিল্লী নগরেই ১৬৬১ খৃষ্টাব্দে পঞ্চদশ বৎসর বয়সে তিনি পিতৃহীন হন। সিংহশাবক পিঞ্জর মধ্যে আজন্ম প্রতিপালিত; যে স্বাধীনতার উষ্ণ শোণিতস্রোত তাঁহার গৌরবান্বিত পিতৃপুরুষদিগের ধমনীতে প্রবাহিত ছিল, গুরু রামরায় জীবনে এক দিনের জন্যও সে স্বাধীনতার মাধুর্য্য আস্বাদনের অবসর পান নাই; দিল্লী তখন প্রাচ্য ভূখণ্ডে বিলাসিতার সর্ব্বশ্রেষ্ঠ মহাসমৃদ্ধিশালিনী নগরশ্রেণীর মধ্যে রাজেন্দ্রাণীর ন্যায় বিরাজিত ছিল, মোগলসাম্রাজ্য তখন উন্নতির সর্ব্বোচ্চ শিখরে সমারূঢ়, এবং তাহার বিশাল বীর্য্য, অখণ্ড প্রতাপ, অসীম অর্থগৌরব, এবং অনিয়ন্ত্রিত আনন্দোৎসব ও উচ্ছসিত হর্ষকোলাহল, সেই জনাকীর্ণ বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য্যবহুল রাজধানী পরিপূর্ণ করিয়া রাখিয়াছিল। এই উৎসবময় নাট্যশালায় উপবিষ্ট হইয়া বিস্মিত প্রায় দর্শকের ন্যায় গুরু রামরায় কিছুতেই বুঝিতে পারেন<noinclude></noinclude> 0x78h84c11bebohbpynmo5zsb47yn1u পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৮ 104 883297 1990609 2026-07-23T15:47:18Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990609 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২২|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>নাই, কর্ম্মস্রোত কি গভীর গর্জ্জনে তাঁহার পিতৃভূমি পঞ্চনদের পুণ্যপ্রদেশে প্রবাহিত হইতেছে। ইহার উপর কূটবুদ্ধি সম্রাট আরঞ্জেবের স্নেহ ও যত্ন তাঁহার পিতৃস্নেহের স্থান পূর্ণ করিল; তাঁহার আদর ও সম্ভ্রম বাদশাহপুত্ত্রগণ অপেক্ষা ন্যূন রহিল না, সুতরাং বালক দিল্লীশ্বরের সুবর্ণশৃঙ্খলে দৃঢ়রূপে আবদ্ধ হইলেন। কিন্তু এক দিন এ জন্য তাঁহাকে অনুতাপ করিতে হইয়াছিল; এক দিন তিনি এ শৃঙ্খল ছিন্ন করিয়া অভীষ্টপথে অগ্রসর হইয়াছিলেন, কিন্তু তখন আর সময় ছিল না। শিখজাতির হৃদয় হইতে, বিশ্বাস ও ভক্তি হইতে তখন তিনি সম্পূর্ণ নির্ব্বাসিত; তাই রাজপ্রাসাদের সুখ ও ঐশ্বর্য্য তাঁহাকে পরিতৃপ্ত রাখিতে পারে নাই। অবশেষে তিনি বিলাসের কাম্যকানন দিল্লী পরিত্যাগ করিয়া স্বদেশের একটী নির্জ্জন নেপথ্যে উপস্থিত হইয়া উদাসভাবে জীবনযাপন করাই বাঞ্ছনীয় মনে করিলেন। {{ফাঁক}}আরঞ্জেব যতই কূটবুদ্ধি ও ধূর্ত্ত হউন, তথাপি তিনি মানব; মানবসুলভ ভ্রমজাল হইতে মুক্ত থাকা তাঁহার সাধ্যায়ত্ত নয়। যে অভিপ্রায়ে তিনি রামরায়ের প্রতি পুত্ত্রাধিক স্নেহ প্রদর্শন করিতেন, যাঁহারা সেই সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাস অবগত আছেন, তাঁহাদের নিকট ক্রূরচেতা আরঞ্জেবের সেই অভিপ্রায় সুস্পষ্ট প্রকাশিত। স্নেহের অনুরোধে স্নেহ করা, কর্ত্তব্যের অনুরোধে যত্ন বা আদর করা, আরঞ্জেবের স্বভাবে বা কার্য্যে কখনও দেখা যাইত না, স্নেহ, মমতা, দয়া, সহানুভূতি প্রভৃতি হৃদয়ের কোমল উৎকষ্ট বৃত্তিগুলি তাঁহার শঠতাময়<noinclude></noinclude> mxm8n4sy4ak7wmqybcxoid4w7kc6c95 পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৯ 104 883298 1990610 2026-07-23T15:50:34Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990610 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২৩|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>অভিপ্রায়সিদ্ধির প্রধান সহায় ছিল; সুবিধা বুঝিয়া তিনি অপরকে যত্ন করিতেন, উদ্দেশ্যসিদ্ধির জন্য তিনি পরের দুঃখে অশ্রুবর্ষণ করিতেন। তাহার পর কার্য্য সফল হইলে, সেই হতভাগ্যদিগকে কীটের ন্যায় পদতলে দলিত করিতে বিন্দু মাত্রও দ্বিধা বোধ করিতেন না। {{ফাঁক}}আমরা যে সময়ের কথা বলিতেছি, সে সময়ে দিল্লীর বাহ্যদৃশ্য যতই উজ্জ্বল ও উৎসবপূর্ণ থাক, এবং দিল্লীর পুষ্পসমাচ্ছন্না রত্নরাজিপরিশোভিত রাজপ্রাসাদে ঐ অপ্সরোসদৃশী সুন্দরীবৃন্দের মধুর কণ্ঠের সঙ্গীতোচ্ছাসে যতই হর্ষ ক্ষরিত হউক, সম্রাট আরঞ্জেবের হৃদয় চিন্তা কিম্বা ভয়শূন্য ছিল। না। দক্ষিণে মহারাষ্ট্র, রাজস্থানে রাজপুত জাতি যে অগ্নি প্রজ্বলিত করিয়াছিল, তাহা ক্রমে বিস্তৃততর হইয়া বিপুল মোগল সম্রাজ্য স্পর্শ করিয়াছিল; তাহার উপর যদি পঞ্চনদের এই যুদ্ধকুশল পরাক্রান্ত বীরজাতি মোগলসাম্রাজ্যের ধ্বংসসাধনে যত্নবান হয়, তাহা হইলে পতন অনিবার্য্য, এই মনে করিয়াই ক্রূরচেতা সম্রাট আরঞ্জের রামরায়ের প্রতি সদয় ব্যবহার করিয়াছিলেন। {{ফাঁক}}কিন্তু তাঁহার উদ্দেশ্য বৃথা হইয়াছিল। শিখেরা রামরায়কে গুরুপদের সম্পূর্ণ অযোগ্য মনে করিলেন; শিখ সম্প্রদায় এখন মুসলমান সম্রাটের শত্রু, সুতরাং গুরুপুত্র হইলেও আরঞ্জেবের বন্ধুকে তাঁহারা শুরু বলিয়া গ্রহণ করিলেন। সত্য বটে, এক দিন তাঁহারা ধর্ম্মপ্রাণ, বিনীত সাধুসম্প্রদায় ছিলেন, কিন্তু এখন তাঁহারা কর্ম্মপ্রাণ, মহাযোদ্ধা, অমিত-<noinclude></noinclude> brhplo76bxehkxc7x3wxv9jyii8edqi পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩০ 104 883299 1990611 2026-07-23T15:52:47Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990611 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২৪|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>তেজা বীরজাতি; শান্তস্বভাব ধার্ম্মিক রামরায়কে অগ্রাহ্য করিয়া, তাঁহার অন্যতম ভ্রাতা হরিকিষণকে গুরুপদে বরণ করিলেন। এই শিশু ১৩৬৪ খৃষ্টাব্দে প্রাণত্যাগ করায়, রামরায় শিখসম্প্রদায়ের গুরুপদলাভ করিবার জন্য বিশেষ চেষ্টা করিলেন, কিন্তু তাঁহার শিখসমাজে প্রবেশদ্বার চিরকালের জন্য অবরুদ্ধ হইয়াছিল। হরিকিষণের মৃত্যুর পর শিখেরা একমত হইয়া গুরু হরগোবিন্দের পুত্র, মহাতেজস্বী, স্বনামপ্রসিদ্ধ মহাবীর তেগবাহাদুরকে গুরুর পদে প্রতিষ্ঠিত করিলেন। তেগবাহাদুর সম্বন্ধে ইহা বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে, এই শিখগুরুর খ্যাতি শিখ পরাক্রমের প্রতিষ্ঠাতা গুরুগোবিন্দ সিংহ ভিন্ন সকলের অপেক্ষাই অধিক। ১৬৭৫ খৃষ্টাব্দে মুসলমানের তীক্ষ্ণ তরবারীতে তেগবাহাদুরের ছিন্ন শির ধূলিলুণ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই শোণিতস্রোত বৃথা প্রবাহিত হয় নাই; তাহা শিখ জাতির দুর্দ্দমনীয় প্রতিহিংসা-অনলে আহুতি স্বরূপ হইল। অবশেষে তেগবাহাদুরের উপযুক্ত পুত্র গোবিন্দ সিংহ শিখ জাতির হৃদয়ে যে অভিনব শক্তি সঞ্চারিত করিলেন, তাহা মোগল সাম্রাজ্য বিধ্বস্ত করিয়া ফেলিল। {{ফাঁক}}তেগবাহাদুরের প্রাণদণ্ডের পর গুরু রামরায় আর একবার গুরুপদপ্রাপ্তির চেষ্টা করিয়াছিলেন, ইহা তাঁহার তৃতীয় উদ্যম। ক্রমাগত তিন বার চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্য্য হওয়াতে তিনি হতাশ হইয়া পড়িলেন, শিখেরা এবারও পূর্ব্ববারের ন্যায় তাঁহাকে অগ্রাহ্য করিয়া গোবিন্দ সিংহকে গুরুপদে প্রতিষ্ঠিত করিলেন। গোবিন্দ সিংহের ন্যায় কয় জন<noinclude></noinclude> oqeu58k5s6w0p6ir31shju22s28a3ir পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩১ 104 883300 1990612 2026-07-23T16:00:40Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990612 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২৫|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>লোক এ পর্য্যন্ত ভারতে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন? পৌরাণিক ভারতের কথা ছাড়িয়া দেওয়া যাউক, আধুনিক ভারতের চারি জন মহাপুরুষকে স্বদেশহিতৈষী বীরের শ্রেষ্ঠ আসন দেওয়া যাইতে পারে; এই চারি জন—প্রতাপসিংহ, শিবাজী, গুরুগোবিন্দ এবং রণজিৎ সিংহ। {{ফাঁক}}গোবিন্দ সিংহ শিখ গুরুর পদে অধিষ্ঠিত হইলে রামরায়ের সমস্ত আশা বিদুরিত হইল; তিনি বুঝিলেন, এই নবদীক্ষিত যুদ্ধনিরত জাতির গুরুগিরি করা তাঁহার ন্যায় শান্ত প্রকৃতি উদাসীনের কর্ম্ম নহে। তিনি স্বদেশ হইতে বিদায় গ্রহণ করিলেন, এবং গুরু নানকের নামে ধর্ম্মসম্প্রদায়ের অধিনায়কত্ব করিবার ব্রত গ্রহণ করিলেন। লোকালয়ের বিচিত্র কোলাহলের মধ্যে দীর্ঘকাল বাস করিয়া তিনি বিরক্ত হইয়াছিলেন; তাই নির্জ্জনবাসে জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলি শান্তিসুখে অতিবাহিত করিবার অভিপ্রায়ে, দিল্লীশ্বরের নিকট হইতে গাড়োয়াল রাজ্যের রাজার নামে একখানি অনুরোধপত্র লইয়া, ১৬৯৯ খৃষ্টাব্দে সেই পার্ব্বত্য প্রদেশে উপস্থিত হইলেন। গাড়োয়ালরাজ তাঁহাকে সশিষ্যে দেরাদুনে বাস করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। তদনুসারে তিনি প্রথমে টনস্ নদীর তীরে ‘কাণ্ডলী’ নামক একটি নির্জ্জন স্থানে কিছু দিন বাস করেন। এই স্থানে অনেক দিন পর্য্যন্ত একটী কাঁঠাল গাছ ছিল, (এখন আর নাই, অতি অল্প দিন হইল, বিনষ্ট হইয়াছে।) জনরব, তিনি স্বহস্তে এই বৃক্ষ রোপণ করিয়াছিলেন। অধিক দিন এখানে বাস করা তাঁহার অনভি-<noinclude></noinclude> qmzkgirbjq8s0g2sokonhe4k9a89jp5 পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩২ 104 883301 1990613 2026-07-23T16:04:16Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990613 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২৬|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>প্রেত হওয়ায়, ‘ধামুওয়ালা’তে তিনি এই বর্ত্তমান মন্দির নির্ম্মাণ করেন; ‘ধামুওয়ালা’ এখন দেরাদুন নগরের মধ্যে পড়িয়াছে। {{ফাঁক}}এই স্থানে মন্দির স্থাপিত হইলে, নানাদিগ্দেশ হইতে দলে দলে সাধু সন্ন্যাসী আসিয়া তাঁহার শিষ্য হইতে লাগিল। শোকতাপে জর্জ্জরিত, ব্যথিত হৃদয় নরনারীগণ তাঁহার পবিত্র উপদেশে হৃদয় সংযত করিবার জন্য তাঁহার চরণোপান্তে উপনীত হইল, এবং ধীরে ধীরে দেরাদুন সহর সংস্থাপিত হইল। প্রথমে ইহার নাম ছিল ‘গুরুদ্বার’ বা ‘গুরুদেরা,’ ক্রমে ক্রমে ‘গুরু’ লোপ পাইয়া, ইহা ‘দেরা’ নামেই প্রসিদ্ধ হইল, ও ‘দুন’ প্রদেশে অবস্থানের জন্য ‘দেরাদুন’ এই পূর্ণ নাম গ্রহণ করিল। কিন্তু ‘দেরাদুন’ নাম এইরূপে উৎপন্ন হইলেও, ইহার উৎপত্তিসম্বন্ধে একটা পৌরাণিক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। সাধারণ লোকে এই স্থানকে ‘দ্রোণকা ডেরা’ অর্থাৎ কুরুপাণ্ডবের আচার্য্য দ্রোণের ‘দেরা’ বা বাসস্থান বলিয়া নির্দ্দেশ করে; এবং তাহাদের মতে এই জন্যই এ প্রদেশের নাম ‘দুন’ হইয়াছে। এই উভয় মতের মধ্যে কোন্ মতটি যথার্থ, ঠিক বলা কঠিন, তবে যাঁহারা মহাভারতোক্ত ঘটনাকে একটা রূপক জ্ঞান করিয়া কুরুপাণ্ডবের অস্ত্রশিক্ষক সেই বৃদ্ধ গুরুটিকে উড়াইয়া দিতে চাহেন, বলা বাহুল্য, তাঁহাদের নিকট প্রথমোক্ত মতই আদরণীয় ও বিশ্বাসযোগ্য। {{ফাঁক}}দেরাদূনে প্রতিষ্ঠা লাভ করিবার পর, রামরায় আর কখনও শিখ সম্প্রদায়ের গুরুপদলাভের চেষ্টা করেন নাই।<noinclude></noinclude> a33o8bcbd1t3c2a4m8c4d9z8nsnspi8 পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৩ 104 883302 1990614 2026-07-23T16:06:40Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990614 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২৭|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>তাঁহার শিষ্যশ্রেণী ‘উদাসী সাধু’ নামে প্রসিদ্ধ। গুরু নানকের নামে তিনি যে সাধুসম্প্রদায়ের সৃষ্টি করিলেন, পঞ্জাবে তাহাদের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নহে, এবং তাহাদের মধ্যে অনেক সম্মানিত লোকও দেখা যায়। {{ফাঁক}}গাড়োয়ালের রাজা ফতে শা এই মন্দিরের ব্যয়নির্ব্বাহার্থ সেই সময় চারিখানি গ্রাম দান করেন। প্রথমে এই গ্রাম কয়েকগ্গানি হইতে যে আয় হইত, তাহা অধিক ছিল না; কিন্তু এখন তাহার যথেষ্ট আয় হইয়াছে। গুরুদ্বারের মোহন্তই এখন দেরাদুনের মধ্যে সর্ব্বপ্রধান ধনী ও পদস্থ ব্যক্তি। অনেক দিন পূর্ব্বে ইংরাজ গবর্মেণ্ট ইঁহাদিগকে সাতখানি গ্রাম নিষ্কর দান করিয়াছেন। এতদ্ভিন্ন তিহরীর রাজার নিকটও তাঁহারা ছয়খানি গ্রাম লাভ করিয়াছেন। {{ফাঁক}}অনেক দিন হইল, এই মন্দির নির্ম্মিত হইয়াছে; কিন্তু এখনও তাহার সৌন্দর্য্য অক্ষুণ্ণ রহিয়াছে; এবং তাহার কোনও প্রকার অবস্থান্তর ঘটে নাই। আর যদি কখনও ইহার জীর্ণসংস্কারের প্রয়োজন হয়, তবে পুরুষোত্তমে জগন্নাথ দেবের মন্দিরসংস্কারের জন্য যেরূপ ভিক্ষাপাত্র হস্তে লইতে হইয়াছে, সেরূপ ভিক্ষাবৃত্তির আবশ্যক হইবে না। গুরুদ্বারের অর্থগৌরব এবং সম্পত্তির ইয়ত্তা নাই; তবুও ইহা পরিমিত সংখ্যক শিখ ও উদাসী সন্ন্যাসিগণের পুণ্যতীর্থ মাত্র। আর আমাদের পুরুষোত্তম আট কোটী বঙ্গবাসীর এক মহাতীর্থ; শুধু বঙ্গবাসী কেন, উৎকল, বিহার, উত্তর-পশ্চিম, ভারতের সকল প্রদেশ হইতেই অগণ্য ভক্ত, অসংখ্য পাপী তাপী প্রতি<noinclude></noinclude> apnudust3iihzbg02wa8i9trrskvd0g পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৪ 104 883303 1990615 2026-07-23T16:08:30Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990615 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২৮|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>বৎসর জনস্রোতের ন্যায়, শত শত ক্রোশ বিস্তৃত দুরতিক্রমণীয় পথ অক্লান্তভাবে অতিক্রম করিয়া, বঙ্গসাগরোপকূলবর্ত্তী এই মহাতীর্থে সমাগত হইয়া, জগন্নাথের প্রসন্নবদন নিরীক্ষণ পূর্ব্বক জীবন পবিত্র করিয়া লয়! বিধাতার বিড়ম্বনা! আজ সভাস্থলে ক্ষীণকণ্ঠে সেই জগন্নাথদেবের প্রাচীন মন্দিরের গৌরবকাহিনী ঘোষণাপূর্ব্বক মন্দির সংস্কারের জন্য অর্থসংগ্রহের চেষ্টা হইতেছে! {{ফাঁক}}গুরুদ্বারের মন্দিরের সম্মুখেই একটি প্রকাণ্ড পুষ্করিণী বর্ত্তমান। এদেশে পুষ্করিণী খনন করা বিলক্ষণ কষ্টকর ও অর্থসাধ্য ব্যাপার; এই জন্য এখানে প্রায়ই পুষ্করিণী দেখা যায় না। এই পুষ্করিণীর জল অভ্যন্তরস্থ প্রস্রবণ হইতে সমুদ্ভূত নহে, রাজপুর খাল হইতে এই জল আনয়ন করা হয়। এই পুষ্করিণীতে নানাবিধ মৎস্য আছে। {{ফাঁক}}প্রতি বৎসর ১লা চৈত্র এখানে একটি মেলা হয়, তাহার নাম “ঝাণ্ডার মেলা”। “ঝাণ্ডা” কথাটির অর্থ আগে একটু পরিষ্কার করিয়া বলা আবশ্যক। সন্ন্যাসীদিগের হস্তে একগাছি করিয়া লাঠি থাকে; কোনও স্থানে বাস করিতে হইলে তাহারা প্রথমে সেইখানে লাঠি প্রোথিত করে, এবং তাহার অগ্রভাগে নিশানের মত এক খণ্ড লালকাপড় বাঁধিয়া দেয় তাহার পর সেখানে আসন পাতে। আমাদের দেশেও কোনও কোনও সম্প্রদায়ের ফকিরের মধ্যে এই প্রথা দেখিতে পাওয়া যায়। গুরু রামরায়ও চৈত্র মাসের প্রথম দিনে এখানে আসিয়া অড্ডা করেন ও ঝাণ্ডাস্থাপন করেন। সেই উপলক্ষে এখনও<noinclude></noinclude> twisptzqbvkrbgrmy4sa0w0oqh2s8xy পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৫ 104 883304 1990616 2026-07-23T16:11:23Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990616 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|২৯|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>প্রতি বৎসর মেলা বসিয়া থাকে। এখন পঞ্জাব হইতে দলে দলে শিখেরা আসিয়া এই “ঝাণ্ডার মেলা” দেখিয়া ও গুরু রামরায়ের “ঝাণ্ডা” নামাইয়া উঠাইয়া পুণ্য সঞ্চয় করে। রামরায়ের সেই ‘ঝাণ্ডা’ এখন আর ক্ষুদ্র লাঠি নাই, বৃহৎ জাহাজের মাস্তুলের মত একটি প্রকাশু কাঠখণ্ডে পরিণত হইয়াছে; তাহার সর্ব্বশরীর লাল বস্ত্রখণ্ডে মণ্ডিত, শিরোদেশে সমুজ্জল লোহিত নিশান। পূর্ব্বের ন্যায় এখন আর ইহা মৃত্তিকায় প্রোথিত করিবার সুবিধা নাই; সিংহদ্বারের সম্মুখে পুষ্করিণীতীরে প্রায় ১৫।২০ হস্ত উচ্চ স্থান ইষ্টক ও প্রস্তর দ্বারা বাঁধান হইয়াছে; তাহারই ভিতর সেই প্রকাণ্ডকার ‘ঝাণ্ডা’ দণ্ডায়মান থাকে। প্রতি বৎসর তাহার এক পার্শ্বের ইষ্টকস্তূপ ভাঙ্গিয়া ‘ঝাণ্ডা’ নামান হয়, এবং যদি সেই কাষ্ঠদণ্ডের অবস্থা ভাল থাকে, তবে তাহার গাত্রেই নূতন লাল কাপড় জড়াইয়া নূতন নিশান খাটাইয়া ‘ঝাণ্ডা’ উঠান হয়, নতুবা কাষ্ঠদণ্ড বদলাইয়া দিতে হয়। ঝাণ্ডা তুলিবার সময়ের দৃশ্য অতি চমৎকার; আমাদের দেশে এমন উত্তেজনাপূর্ণ কোনও উৎসবই নাই, এবং অতি অল্পসংখ্যক উৎসব উপলক্ষেই বিদেশ হইতে এত জনসমাগম হইয়া থাকে। {{ফাঁক}}১লা চৈত্রের রাত্রি প্রভাত হইতে না হইতে, সহস্র সহস্র নরনারী ঝাণ্ডাতলে সমবেত হইতে আরম্ভ করে; সকলের মুখ প্রফুল্ল, এবং সর্ব্বশরীর অবস্থানুরূপ বেশভূষায় সুসজ্জিত। ক্রমে ঝাণ্ডা তুলিবার সময় হইলে মন্দিরের মহান্ত সেখানে উপস্থিত হন। তাঁহাকে দেখিবামাত্র দর্শকগণ উৎসাহে “জয়<noinclude></noinclude> gv6sojaiqkc2bqecl2t04hml2vg9wgd পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৬ 104 883305 1990617 2026-07-23T16:13:37Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990617 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩০|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>গুরুজি কি জয়” শব্দে কর্ণ বধির ও আকাশ বিদীর্ণ করিয়া ঝাণ্ডা নামাইয়া ফেলে। তাহার অল্পক্ষণ পরে সেই সমস্ত লোক পুনর্ব্বার সেই ‘ঝাণ্ডা’ পূর্ব্বস্থানে সংস্থাপিত করে; অনন্তর প্রত্যেকে ‘ঝাণ্ডার’ গাত্রে ‘রাখি’ বাঁধিয়া দেয়। গুরুদ্বারের মহান্ত সেদিন অনাহারে, গলে উত্তরীয় বাঁধিয়া, নগ্নপদে, কৃতাঞ্জলিপুটে, ঝাণ্ডার নিকট দাঁড়াইয়া থাকেন। যে মহান্ত মঠপ্রান্তে পদার্পণ করিতেও অপমান বোধ করেন, যাঁহার মস্তকে ছত্রধারণের জন্য এবং পদতলে পাদুকা প্রদানের নিমিত্ত শত শত ব্যক্তি সদা সন্ত্রস্ত অবস্থায় অবস্থান করে, আজ তিনি সর্ব্বাপেক্ষা দীনবেশে, বিনীত ভাবে, গললগ্নীকৃতবাসে ঝাণ্ডার সম্মুখে দাঁড়াইলেন, আজ জনসাধারণের মধ্যে তিনি সাধারণ ব্যক্তির ন্যায় দণ্ডায়মান। দূরে দাঁড়াইয়া আমি এই দৃশ্য দেখিতেছিলাম। আমার মনে হইল, বিধাতার সিংহাসনের সম্মুখেও বুঝি এই নিয়ম; সমদর্শিতাই বুঝি সেখানকার অলঙ্কার, এবং সেই সুখস্বর্গে অহঙ্কার ও অবিনীত ভাব লইয়া মানবের প্রবেশ করিবার অধিকার নাই। সেই দিনের পবিত্র দৃশ্য চিরকাল আমার মনে থাকিবে। {{ফাঁক}}এক বৎসর এমন হইয়াছিল যে, ‘ঝাণ্ডা’ আর কিছুতেই তুলিতে পারা যায় না; যাহারা ইহা তুলিবার জন্য প্রাণপণে টানাটানি করিতেছিল, তাহারা আমাদের মত দুর্ব্বল মহে, এক একটা অসুরের মত বলবান; সহস্র সহস্র লোক প্রাণ পণে চেষ্টা করিয়াও যখন ‘ঝাণ্ডা’ উঠাইতে পারিল না, তখন সেই উৎসবক্ষেত্রে সমাগত ভক্ত নরনারীর মধ্য হইতে একটা<noinclude></noinclude> 3r6agjsaeer554rjll18bhz5qguy4pc পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৭ 104 883306 1990618 2026-07-23T16:15:31Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990618 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩১|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>ঘোর ক্রন্দনের রোল উত্থিত হইল; এবং এক অদৃষ্টপূর্ব্ব অমঙ্গলের আশঙ্কায় সকলেই ভীত ও অবসন্ন হইয়া পড়িল। স্বয়ং মহান্তজী (বয়স ৩০।৩৫ বৎসর) আকুল হইয়া ক্রন্দন করিতে লাগিলেন। তাঁহার চক্ষে অশ্রু দেখিয়া সকলে আরও অধিক ভীত হইয়া পড়িল; হাহাকারধ্বনিতে আকাশ বিদীর্ণ হইতে লাগিল; সকলের মুখেই বিষাদকালিমা পরিব্যাপ্ত। এক ঘণ্টা পূর্ব্বে যে উৎসবক্ষেত্র আনন্দ ও উৎসাহে পরিপূর্ণ ছিল, দেখিতে দেখিতে তাহা যেন তরঙ্গায়িত শোকসাগর বলিয়া প্রতীয়মান হইতে লাগিল। সকলেই সকলেই দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিতে লাগিল, “হো গুরুজী, হো গুরুজী!” অর্ণবযান সমুদ্রমধ্যে বিপথগামী হইলে, বা ঝঞ্ঝাবাতে জলমগ্ন হইবার উপক্রম ঘটিলে, যেমন বিপন্ন আরোহিগণ আকুলভাবে পোতচালকের মুখে একটি আশ্বাসবাণী শুনিবার জন্য অস্থির হইয়া উঠে, এবং বিপদ হইতে পরিত্রাণলাভের জন্য তাঁহার মিনতি করে, এই সমাগত দর্শক ও ভক্তগণের অবস্থাও সেইরূপ। কিন্তু কে তাহাদিগকে আশ্বাসবাণী দিবে? মহান্ত নিজে মুহ্যমান। {{ফাঁক}}যাহা হউক, চেষ্টার ত্রুটি হইল না; ক্রমে বেলা তিনটা বাজিয়া গেল; কিন্তু এতগুলি লোক চেষ্টা করিয়াও কিছুতেই ‘ঝাণ্ডা’ উঠাইতে পারিল না। প্রকাও প্রকাণ্ড অতি শক্ত স্থূল কাছি ধরিয়া উন্মত্ত ভক্তগণ টানাটানি করে, আর সেগুলি জীর্ণসূত্রের মত ছিঁড়িয়া যায়। আর উপায় নাই; সকলের বিশ্বাস হইল, গুরুজীর অকৃপা হইয়াছে; নতুবা ‘ঝাণ্ডা’ এমন<noinclude></noinclude> 5rgdjt88sp3swrtmhiftvwt2i5499ui পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৮ 104 883307 1990619 2026-07-23T16:19:13Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990619 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩২|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>বিশ্বম্ভর মূর্ত্তি ধারণ করিবে কেন? অনেকে বলিতে লাগিল, হয় ত মহান্ত মহাশয়ের সেবার ত্রুটি হইয়াছে, তাই এ বিপদ। কেহ কেহ মহান্তের উপর ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিল, কেহ কেহ বা মহান্তকে তৎক্ষণাৎ পদচ্যুত করিয়া নূতন মহান্ত নিযুক্ত করিবার অভিপ্রায়ও প্রকাশ করিল। {{ফাঁক}}অবশেষে মহান্ত মহাশয় উন্মত্তের মত হইয়া সেই জনতার চতুর্দ্দিকে ছুটিয়া সকলকে উৎসাহিত করিতে লাগিলেন; রৌদ্রে তাঁহার সুগৌর মুখমণ্ডল লোহিতাভ হইয়া উঠিয়াছে, এবং তাহার উপর নিরাশা ও বিষাদের মলিনতা ব্যাপ্ত হইয়াছে। তাঁহার ভাব দেখিয়া অনেকেই সন্তপ্ত হইল, তাঁহার উৎসাহবাক্যে উৎসাহিত হইয়া সকলে আর একবার অগ্রসর হইল, শরীরের সমস্ত বল এবং প্রাণের সমস্ত ভক্তি নিয়োজিত করিয়া স্ত্রীপুরুষ, বালক বৃদ্ধ, আর একবার ‘ঝাণ্ডা’ উঠাইবার জন্য টানাটানি করিল। মুহূর্ত্তের মধ্যে ঝাণ্ডা উঠিয়া গেল। সহসা সেই বিষাদাচ্ছন্ন জনস্রোতের মধ্যে যে আনন্দ কল্লোল উত্থিত হইল, তাহা অনির্ব্বচনীয়; উৎসাহে সকলে “জয় গুরুজী কি জয়!” রবে আকাশ বিদীর্ণ করিল; এই মধুর দৃশ্য দেখিয়া দুর্ব্বল প্রাণ, উৎসাহহীন বাঙ্গালী যে আমি, আমার হৃদয়ও যেন এই বীরজাতির ন্যায় উদ্দীপনাপূর্ণ হইয়া উঠিল; আমিও তাহাদের সঙ্গে সমস্বরে “জয় গুরুজী কি জয়!” বলিয়া উঠিলাম। {{ফাঁক}}এই দিনে মহান্তের বেশ দশ টাকা উপার্জ্জন হয়; সকলেই তাঁহাকে প্রণামী দেয়। গুরুদ্বারে নিত্য অতিথিসেবা আছে।<noinclude></noinclude> si9wm5cyyuqqw3odhpp3ux3ph4j5uc4 পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৯ 104 883308 1990620 2026-07-23T16:21:42Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990620 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৩|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>‘ঝাণ্ডা’ মেলার ১৫ দিন পূর্ব্ব হইতে অহোরাত্র মন্দির প্রাঙ্গণে গান হয়; দলে দলে গায়কেরা চারি দিকে গান করিতেছে, দিবারাত্রির মধ্যে বিরাম নাই, বিশ্রাম নাই, এক দল যাইতেছে, এক দল আসিতেছে; লোকে লোকারণ্য। মন্দিরের মধ্যে কেহ জুতা পায়ে দিয়া যাইতে পায় না, বাহিরে জুতা খুলিয়া রাখিয়া ভিতরে প্রবেশ করিতে হয়; আমাদের দেশের ন্যায় জুতা চুরী যাইবার কোনও আশঙ্কা নাই। {{ফাঁক}}গুরুদ্বার এবং ঝাণ্ডার কথা কিছু কিছু বলা হইল। গুরু রামরায়ের মৃত্যু সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলিয়া আমরা এই প্রবন্ধের উপসংহার করিব। এরূপ প্রবাদ আছে যে, রামরায় মধ্যে মধ্যে একটি ঘরে প্রবেশ করিয়া দুই তিন দিন ধরিয়া তাহার অভ্যন্তরেই বাস করিতেন; ভিতর হইতে অর্গল বদ্ধ করিয়া দিতেন, সুতরাং অন্য কেহই সে ঘরে যাইতে পারিতেন না। শুনিতে পাওয়া যায়, এই সময় তিনি যোগবলে নানাস্থানে ভ্রমণ করিতেন। একবার তিনি তাঁহার চারি স্ত্রীকে বলিলেন যে, তিনি সপ্তাহকাল গৃহমধ্যে থাকিবেন, এই সময়ের মধ্যে যেন কেহ তাঁহাকে না ডাকে। প্রথম চারি দিন এক ভাবেই অতিবাহিত হইল। কিন্তু গৃহমধ্যে কোনও সাড়া-শব্দ পাওয়া যায় না দেখিয়া, তাঁহার স্ত্রীগণ অত্যন্ত ভীত ও চিন্তিত হইলেন; পঞ্চম দিনে তাঁহার পতিপ্রাণা তৃতীয়া স্ত্রী আর থাকিতে পারিলেন না। ঘরের দ্বার ভাঙ্গিয়া ভিতরে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন, গুরুজী যোগাসনে বসিয়া আছেন, চক্ষু নিমীলিত, মুখে প্রসন্ন ভাব বিরাজিত,<noinclude></noinclude> 775fc4ojt0kx2xkiflr52tm8mpfngut পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪০ 104 883309 1990621 2026-07-23T16:24:00Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990621 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৪|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>কিন্তু স্পন্দহীন, দেহে প্রাণ নাই। চারি দিকে হাহাকার রব উঠিল; সকলেই বুঝিল, দেহে প্রাণ আর ফিরিয়া আসিবে না; তাঁহার ইহজীবনের কার্য শেষ হইয়াছে। {{ফাঁক}}রামরায় যে আসনে বসিয়া যোগমগ্ন অবস্থায় দেহ ত্যাগ করেন, সেই আসন এই মন্দিরমধ্যে সযত্নে রক্ষিত হইয়াছে। গুরুজীর মৃত্যুর পর তাঁহার প্রধানা পত্নী মতো পঞ্জাব কুঙার সমস্ত বিষয় পর্য্যবেক্ষণের ভার গ্রহণ করেন; অবশেষে গুরুজীর শিষ্যশ্রেণীর মধ্যে সর্ব্বপ্রধান হরপ্রসাদ, মহান্ত পদ লাভ করেন। এই সময় হইতে নিয়ম হয় যে, মহান্তের মৃত্যু হইলে তাঁহার সর্ব্বপ্রধান শিষ্য মহান্ত হইবেন। বর্ত্তমান মহান্তের নাম প্রয়াগদাস; এই যুবক মঠধারী কোনও কোনও মহান্তের ন্যায় দুরাকাঙ্ক্ষ না হইলেও, বিলাসিতাশূন্য নহেন। যে দেবসম্মান ও ঐশ্বর্য্যের মধ্যে ইঁহারা প্রতিপালিত, তাহাতে বিলাসী হওয়া আশ্চর্য্য নহে, বরং বিলাসশূন্য হওয়াই বিচিত্র। যাঁহারা সর্ব্বপ্রথমে মঠ সংস্থাপিত করেন, তাঁহারা প্রায়ই অনাসক্ত যোগী, কিন্তু পরবর্ত্তী মহান্তেরা সেই সকল মহৎপ্রকৃতি গুরুর শিষ্যত্ব স্বীকার করিয়াও, তাঁহাদের অলৌকিক গুণগ্রাম, অবিচল একনিষ্ঠা এবং একান্ত নির্লেপ লাভ করিতে পারেন না। বিবিধ কামনা কঠোরতার আবরণের অভ্যন্তরে সামান্য বহ্নিকণার ন্যায় লুক্কায়িত থাকে; কালক্রমে তাহা প্রজ্জ্বলিত হইয়া দাবানলের সৃষ্টি করে, এবং তাহাতে মঠের পবিত্রতা, গৌরব সমস্ত দগ্ধ হইয়া যায়। গুরুদেবের এই মঠ সম্বন্ধে অবশ্য এতখানি কথা বলা যায়<noinclude></noinclude> t66oqxhe4mmfjg6sluxl7osdvuvc1gc পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪১ 104 883310 1990622 2026-07-23T16:39:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990622 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৫|গুরুদ্বার|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>না; কারণ, এই মঠ বঙ্গদেশে নহে, এবং এই স্বাধীন প্রকৃতি বীরজাতির মধ্যে এখনও ইহার অতীত গৌরব অক্ষুণ্ণ আছে। বিবাদ বিসংবাদে, কিম্বা মামলা মকদ্দমায় ইহার অর্থভাণ্ডার শূন্য হইবার এখনও কোনও কারণ ঘটে নাই; কিন্তু পূর্ব্বের সেই ভাব ও ভক্তির উচ্ছ্বাস এখন আর নাই। তবে শিখজাতির মঠ, তাই ইহা হইতে এখনও প্রাণ অন্তর্হিত হয় নাই; হইলে আমাদের দেশের মঠগুলির হ্যায় ইহা ধর্ম্মমহিমার স্থায়ী উপহাসমাত্রে পর্য্যবসিত হইত। {{dhr|4em}} {{Custom rule|w|40|fcw|22|fy3|40|fcw|22|w|40}}<noinclude></noinclude> p9rqj7byfi1bne59tgy5hqz55w7hkqp পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪২ 104 883311 1990623 2026-07-23T16:44:05Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990623 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{Img float | file = প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫) (page 7 crop).jpg | width = 450px | align = center | cap =}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|নালাপানি।}}}} {{Custom rule|lo|141}} {{ফাঁক}}‘নালাপানি’ নামটি শুনিলে সহজেই ইহার অর্থ বুঝিতে পারা যায়। ‘নালা’ অর্থ পয়ঃপ্রণালী, আর ‘পানি’ অর্থ জল; এই দুইটি শব্দ একত্র করিয়া অর্থনিষ্কাশন করিলে খালের জল ছাড়া যে আর কোনও আধ্যাত্মিক অর্থ পাওয়া যায় না, তাহা বোধ করি অধ্যাত্মবাদিগণও অসঙ্কোচে স্বীকার করিবেন! বাস্তবিকও নালাপানির অন্য কোনও অর্থ নাই। {{ফাঁক}}হিমালয় পর্ব্বতের একটি নিম্ন পাহাড় হইতে এই নির্ঝরটি নির্গত হইয়াছে। এই ঝরণার জল এমন পরিষ্কার ও সুস্বাদু যে, তাহার সহিত কলিকাতার কলের জলেরও তুলনা হইতে পারে না; এতদ্ভিন্ন এ জলের এমন একটি গুণ আছে, যে জন্য দরিদ্র লোক বিশেষ কৃতজ্ঞ না হইলেও, অলস ধনী ও অজীর্ণরোগগ্রস্ত জীবন্মৃত ব্যক্তিগণ স্বর্গের সুধার সহিত এই জলের তুলনা না করিয়া থাকিতে পারে না। এ জল অসম্ভব ক্ষুধাবৃদ্ধি করে; যে দিনান্তে একবারও উদর পরিতৃপ্ত করিবার সম্বল সংগ্রহ করিতে পারে না, তাহার পক্ষে ক্ষুধার বৃদ্ধি কষ্টকর, বরং ক্ষুধা হ্রাস করিবার কোনও উপায় থাকিলে<noinclude></noinclude> s1k8uedz8srgja10r6dfnbvdksb2pe1 পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪৩ 104 883312 1990624 2026-07-23T16:47:29Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990624 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭|নালাপানি|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>তাহার উপকার হয়। কিন্তু যে সকল ধনিসন্তান পিতৃপিতামহের উপার্জ্জিত অতুল ঐশ্বর্য্যের অধিকারী হইয়া দিবারাত্রি বিলাসসাগরে ডুবিয়া আছেন, এবং প্রতিদিন চর্ব্ব্য চুষ্য লেহ্য পেয়ের দ্বারা উদর পূর্ণ করিয়া বয়স্যগণে পরিবৃত হইয়া তাহাদের মুখে নিজ কথার পুনরুক্তি শুনিতে শুনিতে তাকিয়ার উপর ভর দিয়া অলস মধ্যাহ্ন অতিবাহিত করেন, এবং দিবাবসানে স্ফীতোদরের সুবিস্তীর্ণ পরিধিতে হস্তার্পণ পূর্ব্বক বলেন, “আজ ক্ষিদেটা বড় মন্দা হে!”— নালাপানির জন্য তাঁহাদের সেই ক্ষুধাহীনতা রোগের মহৌষধ; ভিজিট দিয়া ডাক্তার ডাকিবার প্রয়োজন নাই, এক এক গণ্ডুষ তুলিয়া খাইলেই হইল, উদরাগ্নিতে ঘৃতাহুতির ন্যায় তাহা কার্য্যকর হয়, এবং মূহূর্ত্তের মধ্যে সমস্ত খাদ্য জীর্ণ হইয়া যায়; অম্ল রোগেরও এই জল অব্যর্থ ঔষধ। {{ফাঁক}}যে স্থান হইতে এই ঝরণা বাহির হইয়াছে, সেই পাহাড়ের নামও নালাপানি, এবং গ্রামের নামও নালাপানি হইরাছে। গ্রাম বলিলে পাহাড়ে গ্রামের যাহা অর্থ, তাহাই বুঝিতে হইবে;—সেই আট দশ বিঘা জমীর উপর দশ পনের ঘর অধিবাসী; সংখ্যা খুব বেশী হইলেও পঁচিশ ঘরের অধিক হইবে না; ইহাদের অধিকাংশই নেপালী গুরখা। {{ফাঁক}}এই নালাপানিতে দুইখানি দোকান আছে; একখানিতে আটা, ডাইল, লবণ, ঘৃত, লঙ্কা প্রভৃতি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রীত হয়, আর একখানিতে সদাশয় ইংরাজ গবর্মেণ্টের সযত্নরক্ষিত, গৌরববাহিনী, বিপুল অর্থ-প্রদায়িনী<noinclude></noinclude> t74xqjcg655xfyyrbi4x0n9931xeiih পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪৪ 104 883313 1990625 2026-07-23T16:51:52Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990625 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮|অধ্যায়|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>সুরা বিক্রীত হয়। পর্ব্বতের মধ্যে ২৫।৩০ ঘর গৃহস্থের জন্য পুণ্যসলিলা নালাপানির পার্শ্বেই, সত্যসত্যই যে স্থান হইতে নালাপানির ঝরণা বাহির হইয়াছে, তাহারই গাত্রে মদ্যালয় সংলগ্ন। যে দিন এই সুন্দর স্থানে, এমন পরিষ্কার, সুস্বাদু, সুপেয় নির্ম্মল জলের উৎস-সন্নিকটে এই মদের দোকান দেখিয়াছিলাম, সেই দিন পানদোষনিবারণের জন্য উৎসর্গীকতজীবন, লোলচর্ম্ম, পক্ককেশ, ঋষিপ্রতিম বৃদ্ধ ইভান্স সাহেবের সৌম্য মূর্ত্তি আমার নয়নসমক্ষে উদিত হইয়াছিল। অনেক দিন পরে তাঁহার জলদগম্ভীর কথাগুলির প্রতিধ্বনি যেন শুনিতে লাগিলাম। বহুদূরবর্ত্তী, হিমাচলক্রোড়স্থিত দেরাদুনের মিশন স্কুলের প্রকাণ্ড হল কম্পিত করিয়া বুদ্ধ পরম-উৎসাহ-পূর্ণ হৃদয়ে যে হৃদয়স্পর্শী কথা কয়টি বলিয়াছিলেন, এতদিন পরে আজও যেন তাহা কর্ণে আসিয়া বাজিতেছে; বৃদ্ধ বলিয়াছিলেন, “দারু মৎ পিয়ো, খোদা গঙ্গাজীমে দারু নেহি ঢাল দিয়া, ইয়ে বহুৎ মিঠা পানি ঢাল দিয়া, গঙ্গাজীকো পানি ছোড়কে কাহে দারু পিতে হো।”—হায়, পরদুঃখকাতর আত্মত্যাগী বৃদ্ধ, তুমি যাহাদের এ কথা বুঝাইতে গিয়াছ, তাহারা মনুষ্যত্ববর্জ্জিত বর্ব্বর, নতুবা তোমার এই মধুর উপদেশ তাহাদের হৃদয়ে স্থান পাইল না কেন? এখনও ত দ্বিগুণ উৎসাহে মদ্য বিক্রীত হইতেছে। মানুষ যখন দিক্‌বিদিক্‌জ্ঞানশূন্য হয়, তখন বুঝি দেবতাও তাহাকে রক্ষা করিতে পারেন না। পশুত্বের নিকট দেবশক্তিও ব্যর্থ! {{ফাঁক}}দেরাদূন হইতে এক মাইল উত্তরপূর্ব্বে নালাপানির<noinclude></noinclude> lurjwxi2xe5acn9wqf663r9g2nj8pip পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪৫ 104 883314 1990626 2026-07-23T16:54:50Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990626 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯|নালাপানি|প্রবাস-চিত্র}}</noinclude>পাহাড়। দেরাদুনের মধ্য দিয়া দুইটি ‘নহর’ (পয়ঃপ্রণালী) বহিয়া যাইতেছে। মসুরী পাহাড়ের পাদদেশে রাজপুর নামে একটি স্থান আছে। রাজপুরের একটা প্রকাণ্ড ঝরণাকে বাঁধিয়া রাজপুর হইতে দেরাদুনের রাস্তার পাশ দিয়া একেবারে নগরের মধ্যে আনিয়া ফেলা হইয়াছে। নগরের বাহির হইতেই তাহাকে দুই ভাগে বিভক্ত করিয়া, এক ভাগ কর্ণপুর নামক স্থান দিয়া ও অন্য ভাগ বাজারের পাশ দিয়া, প্রবাহিত করা হইয়াছে। এই দুইটি নহরের জলেই সহরের সমস্ত কাজ চলে, এতদ্ভিন্ন এই নহরের সঙ্গে প্রত্যেক বাড়ীর যোগ আছে। কিছু পয়সা খরচ করিলে, পয়সার অনুপাতে একঘণ্টা বা অধ ঘণ্টার জন্য, যাহার যতখানি দরকার, বাগানে কি অন্য কোথাও ব্যবহারের জন্য ততখানি জল পাইতে পারে। এই জন্য যথারীতি যোগাইবার জন্য লোক নিযুক্ত আছে, এবং তাহাদের আফিসও আছে, পূর্ব্বে লোকে এই নহরের জলই পান করিত, কিন্তু এ জলের একটি মহৎ দোষ আছে। এই জল পান করিলে লোকের গলা ফুলিয়া যায়, এই জন্য যাহাদের অর্থ আছে, তাহারা লোক জনের দ্বারা দূরস্থ অন্য কোনও ভাল ঝরণা হইতে জল আনাইয়া পান করে। নালাপানির এই জল আবিষ্কৃত হইলে কিছু দিন পর্য্যন্ত নগরের লোক ইহা আনাইয়া লইত, কিন্তু তাহা অপেক্ষাকৃত ব্যয়সাধ্য হওয়াতে সকলে আনাইতে পারিত না; পরে মিউনিসিপালিটী নাটীর নীচে পাইপ বসাইয়া নগরের মধ্যে জল আনিয়াছেন, এবং দেরাদুনের প্রশস্ত Parade groundএর দুই প্রান্তে<noinclude></noinclude> habr9fwm4naz6wqf2r4e37jux1almjk পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৪৬ 104 883315 1990628 2026-07-24T04:19:42Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990628 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>তাঁহাদিগকে অখণ্ড ভারতের মহত্তর আদর্শের পথ হইতে বিচলিত করিতে পারে নাই। তাই তাঁহারা সকলের বিশ্বাসভাজন এবং শ্রদ্ধার পাত্র হইয়াছিলেন। রাজনীতির ক্ষেত্রেও বাঙালীরা চিরকাল ভারতের কথাই চিন্তা করিয়াছেন, প্রদেশের সুখ-সুবিধার ঊর্ধ্বে দেশের স্বাধীনতাকেই তাঁহারা স্থান দিয়াছেন। বিদ্যা বিতরণের ক্ষেত্রে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদার সর্বজনীন নীতির উল্লেখ পূর্বেই করিয়াছি। {{ফাঁক}}যে কোনো অবস্থাতেই হউক না কেন, ঐক্য ও অখণ্ডতার সেই বৃহৎ আদর্শ হইতে আমরা কখনোই বিচ্যুত হইব না। সাময়িক স্বার্থের প্রলোভনে চিরন্তন মঙ্গলের পথ রুদ্ধ হইতে দিব না। আমাদের জাতীয় ভাষা ও সাহিত্য সম্বন্ধে এই কথা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কুটিল রাজনীতি জনসাধারণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিবার জন্য সর্বত্রই একবার করিয়া ঘা মারিয়া যাইতেছে। দুর্বল স্থানে তাহা বেশ জোরেই লাগিতেছে। হিন্দীকে বিকৃত করিবার যে অপচেষ্টা চলিতেছে এবং অল্-ইণ্ডিয়া রেডিওর সাহায্যে তাহা যে ক্রমশ ব্যাপক এবং বর্ধিত করা হইতেছে, তাহা আপনারা অবগত আছেন। এদিকে লেখ্য হিন্দী ভাষায় উর্দু হরফের ব্যবহার কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ায়, ঐ অপচেষ্টার ক্ষেত্র আরও উর্বর হইল। আমরা কি নিশ্চেষ্ট নিরুত্তরে এই অত্যাচার সহ্য করিয়া লইব? বাঙলা ভাষালক্ষ্মীর অঙ্গনেও ভেদনীতির অঙ্কুর বপনের কাজ আরম্ভ হইয়াছে। অবিলম্বে তাহাকে উৎপাটন করিয়া না ফেলিলে বিষবৃক্ষ ডালপালা মেলিয়া সমগ্র দেশকে আবৃত আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিবে। বাঙলার এই দূরবস্থা দেখিয়া রবীন্দ্রনাথ আক্ষেপ করিয়া বলিয়াছিলেন, “আজ হিন্দ-ুমুসলমানে যে একটা লজ্জাজনক আড়াআড়ি দেশকে আত্মঘাতে প্রবৃত্ত করছে তার মূলেও আছে সর্বদেশব্যাপী অবুদ্ধি। অলক্ষ্মী সেই অশিক্ষিত অবুদ্ধির সাহায্যেই আমাদের ভাগ্যের ভিত্তি ভাঙবার কাজে চর লাগিয়েছে, আত্মীয়কে তুলছে শত্রু করে, বিধাতাকে করছে আমাদের বিপক্ষ। শেষকালে নিজের সর্বনাশ করবার জেদ এতদূর পর্যন্ত আজ এগোল যে, বাঙালী হয়ে বাঙলা ভাষার মধ্যেও ফাটল ধরাবার চেষ্টা আজ সম্ভবপর হয়েছে; শিক্ষার ও সাহিত্যের যে উদার ক্ষেত্রে সকল মতভেদ সত্ত্বেও একরাষ্ট্রীয় মানুষের মেলবার জায়গা,<noinclude>{{কেন্দ্র|৪০}}</noinclude> dohcwqezr24wmp4snfc1fmve9gdjpm5 পাতা:শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা.pdf/৪৭ 104 883316 1990629 2026-07-24T06:23:44Z DILDAR KIBRIA 21979 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1990629 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="DILDAR KIBRIA" /></noinclude>সেখানেও স্বহস্তে কাঁটাগাছ রোপণ করবার উৎসাহ ব্যথা পেল না, লজ্জা পেল না।” {{ফাঁক}}যে অশিক্ষিত অবুদ্ধি আমাদের ভাগ্যের ভিত্তি ভাঙিবার চেষ্টায় রত, তাহাকে দূরীভূত করিবার সর্বপ্রধান উপায় দেশব্যাপী শিক্ষার প্রসার। সাহিত্যের মধ্য দিয়াই দেশকে সহজে শিক্ষিত করা সম্ভব। আপন প্রাদেশিক ভাষায় আপন প্রদেশের জনগণকে শিক্ষিত করিয়া জাতীয় সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট রত্নগুলি তাহাদের সম্মুখে ধরিতে হইবে। স্ব-দেশকে, স্ব-জাতিকে, আপনার সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে জানিবার এবং শ্রদ্ধা করিবার শিক্ষা পাইয়া জনগণ ধন্য হইবে। জাতীয় উন্নতির ইহাই প্রথম ও প্রধান সোপান। {{ফাঁক}}সাহিত্যের প্রচার শুধু প্রদেশের মধ্যে আবদ্ধ রাখিলেই চলিবে না, সর্বভারতীয় ভিত্তিতে ভারতীয় সাহিত্যের প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা করিতে হইবে। এক ভাষার গ্রন্থ অন্যভাষী পাঠকের পঠনযোগ্য করিয়া তুলিতে হইবে। পরস্পরকে চিনিবার জন্য, পরস্পরের চিন্তাধারার সহিত পরিচিত হইয়া আপনআপন মত গঠন, বর্জন অথবা সংশোধন করিবার জন্য ইহা অপেক্ষা যোগ্যতর উপায়ের কথা তো আমি ভাবিয়া পাই না। {{ফাঁক}}এইখানে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠিবে, এক ভাষার গ্রন্থ অন্যভাষীর পঠনযোগ্য করা কি ভাবে সম্ভব হইবে? এক উপায় আছে অনুবাদ এবং সে উপায় বহু বৎসর পূর্ব হইতেই অবলম্বিত হইয়াছে। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র প্রমুখ বহু বাঙালী সাহিত্যিকের রচনাসমূহ ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হইয়াছে। বাঙলা ভাষাতেও অন্যান্য ভাষার অনেক গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। অনেকে শুনিয়া কৌতূহল বোধ করিবেন যে, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হিন্দী “বেতাল পচিসী”র অনুবাদ। প্রাচীন কাল হইতেই বাঙলা ভাষায় অন্য প্রদেশীয় গ্রন্থের অনুবাদ আরম্ভ হইয়াছে। সপ্তদশ শতাব্দীর বাঙালী কবি আলাওলের রচিত পদ্মাবতী নামক কাব্যখানির নাম বঙ্গসাহিত্যের ইতিহাসে বিখ্যাত। এই কাব্যখানি মালিক মুহম্মদ জৈসীর হিন্দী কাব্য “পদুমাবৎ” অবলম্বনে রচিত হইয়াছিল। এই অনুবাদের ধারা, কখনও বা আক্ষরিক অনুবাদ কখনও বা ভাবানুবাদ, আজ পর্যন্ত চলিয়া আসিয়াছে। কিন্তু অনুবাদগ্রন্থ নানা কারণে যথেষ্ট পরিমাণে<noinclude>{{কেন্দ্র|৪১}}</noinclude> b3zm7og204r94fp3er3vea67tv39qhu পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৩৪ 104 883317 1990631 2026-07-24T09:37:13Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "ভগবান অনেক জিনিষই দুইবার দেন, কিন্তু মাকে একবার হারালে আর পাওয়া যায় না। তাই বলছি যে, সব সময় মাকে খুসী ক’রবে। লক্ষ্মী ছেলে আমার!” {{ফাঁক}}জর্জ গম্ভীর ভাবে উত্তর দিল, “হাঁ টা..." দিয়ে পাতা তৈরি 1990631 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rvh|২৮|টমকাকার কুটীর}}</noinclude>ভগবান অনেক জিনিষই দুইবার দেন, কিন্তু মাকে একবার হারালে আর পাওয়া যায় না। তাই বলছি যে, সব সময় মাকে খুসী ক’রবে। লক্ষ্মী ছেলে আমার!” {{ফাঁক}}জর্জ গম্ভীর ভাবে উত্তর দিল, “হাঁ টাকাকা, আমি খুব চেষ্টা করবো!” {{ফাঁক}}এমন সময় মিঃ হ্যালি হাতকড়া নিয়ে ফিরে এলেন। {{ফাঁক}}তখন জর্জ বল্লে, “টমকাকা, তবে বিদায়! কারো কাছে আমাদের গোপন কথা প্রকাশ ক'রো না।” {{ফাঁক}}টম চোখের জল মুছতে মুছতে বল্লে, “বিদায় জর্জ, ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন। কেনটাকি সহরে তোমার মত ছেলে আর পাওয়া শক্ত।” পরিপূর্ণ হৃদয় নিয়ে টম অতি ধীরে ধীরে এই কথা কটি বল্লে । ততক্ষণে জর্জের কোমল মুখখানি অদৃশ্য প্রায় হ'য়ে গিয়েছে। যতক্ষণ তাকে একটুকুও দেখা গেল, যতক্ষণ তার ঘোড়ার খুরের একটু শব্দও শুনতে পাওয়া গেল, ততক্ষণ টম সেই দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল! পর বিষাদের একখানা কাল মেঘে তার সমস্ত আশা ভরসা, সুখ শান্তি ঢাকা প’ড়লো ! কিন্তু টমের বুকের উপর একটি স্থান যেন জুড়িয়ে যাচ্ছিল! জর্জের অমূল্য দান—সেই ডলারটি সেখানে ঝুলছিল ! {{rule|3em}}<noinclude></noinclude> lhs6w5810vhf1yqni709g2ltnpk6ttr পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৩১ 104 883318 1990632 2026-07-24T09:38:56Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "{{কেন্দ্র|{{larger|পঞ্চম পরিচ্ছেদ}}}} ভোরের বেলা চারিদিক শীতের কুয়াসায় ঢেকেছে, দেখতে দেখতে সে কুয়াসা পরিষ্কার হ'য়ে যাবে ! কিন্তু টমকাকার কুটীরখানি যে শোকের কুয়াসায় ঢেকেছে,..." দিয়ে পাতা তৈরি 1990632 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" /></noinclude>{{কেন্দ্র|{{larger|পঞ্চম পরিচ্ছেদ}}}} ভোরের বেলা চারিদিক শীতের কুয়াসায় ঢেকেছে, দেখতে দেখতে সে কুয়াসা পরিষ্কার হ'য়ে যাবে ! কিন্তু টমকাকার কুটীরখানি যে শোকের কুয়াসায় ঢেকেছে, কে জানে তাহার শেষ কোথায়! ক্লো কাকী সারারাত কেঁদেছে! বেচারীর চোখের জল কিছুতেই বাধা মান্‌ছে না । {{ফাঁক}}টম তার পাশে ব'সে, হাতের উপর মাথা রেখে, কোলের উপর বাইবেল খানা নিয়ে পড়ছিল। তখন সবেমাত্র ভোর হ'য়েছে। ছেলে মেয়েরা তখনও বিছানায় প'ড়ে ঘুমুচ্ছে। হঠাৎ টম আসন ছেড়ে উঠলো এবং ধীরে ধীরে ঘুমানো ছেলে মেয়েদের বিছানার কাছে গেল । তারপর ব’লে উঠলো, “এই শেষ দেখা!” অমনি ক্লো কাকী আবার হাউ হাউ ক'রে কেঁদে ফেল্লে । {{ফাঁক}}অনেকক্ষণ পরে সকালের জল খাওয়া শেষ কোলের উপর তুলে আদর ক’রতে লাগলো। হ'লে, টম ছোট খুকিকে সে দিব্যি আরামে টমের নাকে মুখে আঁচড় কামড় দিচ্ছে, এমন সময় ছেলেদের একজন ব'লে উঠলো, “গিন্নী মা আছেন!” {{ফাঁক}}পর মুহূর্ত্তেই মিসেস্ সেবি ঘরে ঢুকলেন। দুঃখে ও ভাবনায় তাঁর মুখ একেবারে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে! তিনি ব'লতে লাগলেন, “টম্, আমি—!” আর ব’তে পারলেন না। হঠাৎ থেমে গিয়ে একটা চেয়ারে বসে কেঁদে ফেললেন।{{nop}}<noinclude></noinclude> i6xi1vbf98dzdwiv0ny5o4rt3pk8wcp 1990635 1990632 2026-07-24T09:50:05Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1990635 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" /></noinclude>{{কেন্দ্র|{{larger|পঞ্চম পরিচ্ছেদ}}}} ভোরের বেলা চারিদিক শীতের কুয়াসায় ঢেকেছে, দেখ্‌তে দেখ্‌তে সে কুয়াসা পরিষ্কার হ'য়ে যাবে! কিন্তু টমকাকার কুটীরখানি যে শোকের কুয়াসায় ঢেকেছে, কে জানে তাহার শেষ কোথায়! ক্লো কাকী সারারাত কেঁদেছে! বেচারীর চোখের জল কিছুতেই বাধা মান্‌ছে না। {{ফাঁক}}টম তার পাশে ব'সে, হাতের উপর মাথা রেখে, কোলের উপর বাইবেল খানা নিয়ে পড়ছিল। তখন সবেমাত্র ভোর হ'য়েছে। ছেলে মেয়েরা তখনও বিছানায় প'ড়ে ঘুমুচ্ছে। হঠাৎ টম আসন ছেড়ে উঠলো এবং ধীরে ধীরে ঘুমানো ছেলে মেয়েদের বিছানার কাছে গেল। তারপর ব’লে উঠলো, “এই শেষ দেখা!” অমনি ক্লো কাকী আবার হাউ হাউ ক'রে কেঁদে ফেল্লে। {{ফাঁক}}অনেকক্ষণ পরে সকালের জল খাওয়া শেষ হ'লে, টম ছোট খুকিকে কোলের উপর তুলে আদর ক’রতে লাগলো। সে দিব্যি আরামে টমের নাকে মুখে আঁচড় কামড় দিচ্ছে, এমন সময় ছেলেদের একজন ব'লে উঠ্‌লো, “গিন্নী মা আস্‌ছেন!” {{ফাঁক}}পর মুহূর্ত্তেই মিসেস্ সেল্‌বি ঘরে ঢুকলেন। দুঃখে ও ভাবনায় তাঁর মুখ একেবারে ফ্যাকাসে হ'য়ে গেছে! তিনি ব'লতে লাগ্‌লেন, “টম্, আমি—!” আর ব’ল্‌তে পারলেন না। হঠাৎ থেমে গিয়ে একটা চেয়ারে বসে কেঁদে ফেললেন।{{nop}}<noinclude></noinclude> qz7wztpbavaojcy4dzh1qywampbrxak 1990636 1990635 2026-07-24T09:50:21Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1990636 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" /></noinclude>{{কেন্দ্র|{{larger|পঞ্চম পরিচ্ছেদ}}}} ভোরের বেলা চারিদিক শীতের কুয়াসায় ঢেকেছে, দেখ্‌তে দেখ্‌তে সে কুয়াসা পরিষ্কার হ'য়ে যাবে! কিন্তু টমকাকার কুটীরখানি যে শোকের কুয়াসায় ঢেকেছে, কে জানে তাহার শেষ কোথায়! ক্লো কাকী সারারাত কেঁদেছে! বেচারীর চোখের জল কিছুতেই বাধা মান্‌ছে না। {{ফাঁক}}টম তার পাশে ব'সে, হাতের উপর মাথা রেখে, কোলের উপর বাইবেল খানা নিয়ে পড়ছিল। তখন সবেমাত্র ভোর হ'য়েছে। ছেলে মেয়েরা তখনও বিছানায় প'ড়ে ঘুমুচ্ছে। হঠাৎ টম আসন ছেড়ে উঠলো এবং ধীরে ধীরে ঘুমানো ছেলে মেয়েদের বিছানার কাছে গেল। তারপর ব’লে উঠলো, “এই শেষ দেখা!” অমনি ক্লো কাকী আবার হাউ হাউ ক'রে কেঁদে ফেল্লে। {{ফাঁক}}অনেকক্ষণ পরে সকালের জল খাওয়া শেষ হ'লে, টম ছোট খুকিকে কোলের উপর তুলে আদর ক’রতে লাগলো। সে দিব্যি আরামে টমের নাকে মুখে আঁচড় কামড় দিচ্ছে, এমন সময় ছেলেদের একজন ব'লে উঠ্‌লো, “গিন্নী মা আস্‌ছেন!” {{ফাঁক}}পর মুহূর্ত্তেই মিসেস্ সেল্‌বি ঘরে ঢুকলেন। দুঃখে ও ভাবনায় তাঁর মুখ একেবারে ফ্যাকাসে হ'য়ে গেছে! তিনি ব'লতে লাগ্‌লেন, “টম্, আমি—!” আর ব’ল্‌তে পারলেন না। হঠাৎ থেমে গিয়ে একটা চেয়ারে বসে কেঁদে ফেললেন।{{nop}}<noinclude></noinclude> h8adljmysjbbsmxmgdojanzpq59z5ln পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৩২ 104 883319 1990633 2026-07-24T09:40:03Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "{{ফাঁক}}ক্লো কাকী ব'লে উঠলো—“ওকি মা, ছিঃ, কেঁদ না।” কিন্তু এই কথা ব’তে ব’তে সেও আর থাকতে পারলে না, — কেঁদে ফেলে ! কতকক্ষণ ধ'রে সবাই মিলে কাঁতে লাগলো । {{ফাঁক}}অবশেষে মিসেস্ সেবি ব'ল..." দিয়ে পাতা তৈরি 1990633 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rvh|২৬|টমকাকার কুটীর}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্লো কাকী ব'লে উঠলো—“ওকি মা, ছিঃ, কেঁদ না।” কিন্তু এই কথা ব’তে ব’তে সেও আর থাকতে পারলে না, — কেঁদে ফেলে ! কতকক্ষণ ধ'রে সবাই মিলে কাঁতে লাগলো । {{ফাঁক}}অবশেষে মিসেস্ সেবি ব'লেন, “টম, আমি টাকার যোগাড় হবামাত্র তোমায় ফিরিয়ে আনবো। যতদিন না তা' পারি, ততদিন ঈশ্বরের উপর নির্ভর ক'রে কোনরূপে থেকো!” {{ফাঁক}}এমন সময় হঠাৎ এক লাথীতে দরজা খুলে, মিঃ হ্যালি ঘরের মধ্যে ঢুকলেন। তাঁর মেজাজটা তখন বেজায় খারাপ ছিল । {{ফাঁক}}টম তার নূতন মনিবের সঙ্গে যাবার জন্য ধীরে ধীরে উঠে দাড়ালো ৷ ক্লো কাকী খুকিকে কোলে নিয়ে গাড়ী পর্য্যন্ত গেল। অন্যান্য ছেলে মেয়েরাও তার পিছন পিছন চ'লো । {{ফাঁক}}মিঃ হ্যালি টাকে গাড়ীর ভিতর যেতে ব’লেন। টম ভিতরে গেলে, তিনি এক জোড়া বেড়ি নিয়ে টমের পায়ে লাগিয়ে দিলেন। সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না ক'রে টম বল্লে, “এ সময় মাষ্টার জর্জের সঙ্গে দেখা হ'ল না, এ দুঃখ আমার চিরকাল থাকবে! তোমরা তাকে আমার ভালবাসা জানিও।” এই মাষ্টার জর্জ মিঃ সেবির একমাত্র ছেলে। {{ফাঁক}}মিঃ হ্যালি খুব জোরে গাড়ী হাঁকিয়ে দিলেন। টম শেষ পর্যন্ত এক দৃষ্টিতে বাড়ীর পানে তাকিয়ে রইল। সে দৃষ্টি কি করুণ—কি উদাস—কি ব্যথাভরা! দেখতে দেখতে গাড়ী অদৃশ্য হ'য়ে গেল । {{ফাঁক}}প্রায় এক মাইল যাবার পর, মিঃ হ্যালি এক কামারের দোকানের<noinclude></noinclude> mj5r9rwsndlclccqp7u0qt5onhqbrop পাতা:টমকাকার কুটীর (১৯১৩).pdf/৩৩ 104 883320 1990634 2026-07-24T09:41:40Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "পঞ্চম পরিচ্ছেদ সানে গাড়ী থামালেন, এবং এক জোড়া হাত-কড়া নিয়ে দোকানের ভিতর ঢুকলেন। তারপর টমের দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে, তিনি কামারকে ব’লেন, “এই কড়া দুটো ওর হাতের পক্ষে..." দিয়ে পাতা তৈরি 1990634 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rvh|২৭|টমকাকার কুটীর}}</noinclude>পঞ্চম পরিচ্ছেদ সানে গাড়ী থামালেন, এবং এক জোড়া হাত-কড়া নিয়ে দোকানের ভিতর ঢুকলেন। তারপর টমের দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে, তিনি কামারকে ব’লেন, “এই কড়া দুটো ওর হাতের পক্ষে নেহাৎ ছোট। ঐ হাতে যাতে লাগে, সেই রকম ঠিক ক'রে দেও।” {{ফাঁক}}টম নিতান্ত বিষণ্ণমনে গাড়ীতে বসেছিল। হঠাৎ পিছনে ঘোড়ার পায়ের শব্দ শুনে সে চমকে উঠলো। দেখতে দেখতে জর্জ এসে, গাড়ীতে লাফিয়ে উঠে, দুহাতে টমের গলা জড়িয়ে ধরলে এবং রাগে ও দুঃখে উত্তেজিত হ'য়ে ব’ল্লে, “এ ভয়ানক অন্যায় ! আমি যদি বড় হ’তাম, তা হ'লে এরূপ ব্যবহারের প্রতিশোধ না দিয়ে ছাড়তাম না!” {{ফাঁক}}টম করুণস্বরে ব’ল্লে, “জর্জ, তুমি এসেছ, আমার খুব ভাল লাগছে । তোমায় না দেখে যেতে হবে মনে ক'রে, আমার বড়ই কষ্ট হচ্ছিল।” {{ফাঁক}}“দেখ টমকাকা, আমি তোমার জন্য আমার ডলারটা নিয়ে এসেছি।” {{ফাঁক}}টম নিতান্ত বিচলিত হ'য়ে বল্লে, “আমি কিছুতে ওটা নিতে পারি না!” {{ফাঁক}}জর্জ কিন্তু ডলারটা টমের গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে ব'ল্লে, “তোমায় নিতেই হবে। এখন বেশ ক'রে জামার বোতামগুলো এঁটে দাও। যতবার ওটা তুমি দেখবে, ততবারই আমার কথা তোমার মনে প’ড়বে । মনে রেখো যে, একদিন না একদিন আমি নিশ্চয়ই তোমায় ফিরিয়ে আনতে যাব !” {{ফাঁক}}টম বল্লে, “বেশ! এখন আমার অনুরোধ, তোমায় খুব ভাল ছেলে হ'তে হবে। সব সময় মার কাছে কাছে থেকো। বুঝলে জর্জ,<noinclude></noinclude> s03zsdzppf7dhzhe7m8h4ad2d3lq1ow