উইকিসংকলন bnwikisource https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.16 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিসংকলন উইকিসংকলন আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা লেখক লেখক আলাপ নির্ঘণ্ট নির্ঘণ্ট আলাপ পাতা পাতা আলাপ প্রবেশদ্বার প্রবেশদ্বার আলাপ প্রকাশক প্রকাশক আলোচনা রচনা রচনা আলাপ অনুবাদ অনুবাদ আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD 10 9620 1995485 1995349 2026-08-24T07:02:45Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1995485 wikitext text/x-wiki 443669 c944q553fvuoi8u34o0nmpcm0cvf8qr টেমপ্লেট:ALL PAGES 10 9621 1995486 1995350 2026-08-24T07:02:55Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1995486 wikitext text/x-wiki 557829 73dwaf4dxrahreeup577ast7uybexx3 টেমপ্লেট:PR TEXTS 10 9622 1995487 1995351 2026-08-24T07:03:05Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1995487 wikitext text/x-wiki 19819 s8zyu3gpjadc6poxmm9qyrv0tve0z7n টেমপ্লেট:ALL TEXTS 10 9623 1995488 1995352 2026-08-24T07:03:15Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1995488 wikitext text/x-wiki 19819 s8zyu3gpjadc6poxmm9qyrv0tve0z7n পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১৮ 104 884026 1995449 1994005 2026-08-23T17:28:54Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995449 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|১৩}} বাংলাদেশের পল্লীগ্রামে যখন ছিলাম, সেখানে এক সন্ন্যাসিনী আমাকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি কুটিরনির্মাণের জন্য আমার কাছে ভূমি ভিক্ষা নিয়েছিলেন—সেই ভূমি থেকে যে ফসল উৎপন্ন হত তাই দিয়ে তাঁর আহার চলত, এবং দুই-চারিটি অনাথ শিশুদের পালন করতেন। তাঁর মাতা ছিলেন সংসারে—তাঁর মাতার অবস্থাও ছিল সচ্ছল—কন্যাকে ঘরে ফিরিয়ে নেবার জন্যে তিনি অনেক চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু কন্যা সম্মত হন নি। তিনি আমাকে বলেছিলেন, নিজের ঘরের অন্নে আত্মাভিমান জন্মে—মন থেকে এই ভ্রম কিছুতে ঘুচতে চায় না যে, এই অন্নের মালেক আমিই, আমাকে আমিই খাওয়াচ্ছি। কিন্তু দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে যে অন্ন পাই সে অন্ন ভগবানের—তিনি সকল মানুষের হাত দিয়ে সেই অন্ন আমাকে দেন, তার উপরে আমার নিজের দাবি নেই, তাঁর দয়ার উপর ভরসা। {{ফাঁক}}বাংলাদেশকে বাংলা ভাষার ভিতর চিরজীবন আমি সেবা করেছি, আমার পঁয়ষট্টি বৎসর বয়সের মধ্যে অন্তত পঞ্চান্ন বৎসর আমি সাহিত্যের সাধনা করে সরস্বতীর কাছ থেকে যা-কিছু বর লাভ করেছি সমস্তই বাংলাদেশের ভাণ্ডারে জমা করে দিয়েছি। এইজন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে আমি যতটুক স্নেহ ও সম্মান লাভ করেছি তার<noinclude>{{বাম|১১০}}</noinclude> 3npfna95b3fh68lkqz9kxw2uswgv6hm পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৬৮ 104 884295 1995389 1995345 2026-08-23T14:54:23Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995389 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৬২}}</noinclude>দিন বোস মশাই বোল্লেন, তাঁর বাড়ীতে লোকজন নাই, রাধামাধব ছেলেমানুষ, আমি যদি তাঁদের বাড়ীতে থাকি তা হোলে তাঁদের বড়ই উপকার হয়। তাঁরা বেশী মাইনে দিতে পারবেন না— অবস্থা ও ভাল নয়! আমি ভাবিলাম, আমার টাকাকড়ির এখন দরকারই বা কি এত আদর যত্ন কোথায় পাব! আমি তখনই স্বীকার করলেম্। সেই থেকে আমি হরিহরপুরের বোসেদের বাড়ী আছি। অল্প দিনের মধ্যেই এমন হয়ে গেল যে, আমি যে পরের বাড়ীতে আছি—আমি যে বাড়ীর চাকর, তা আমার মোটেই মনে হতো না। রাধামাধব আমার সমান বয়সী, আমি তাকে দাদাবাবু বলে ডাকতাম। {{ফাঁক}}তারপর রাধামাধব বাবুর বিয়ে হলো; আমিই সারা-পথ লাঠি কাঁধে করে পাল্কীর সঙ্গে গেলাম,—আমিই দাদাবাবুর স্ত্রীকে ঘরে তুললাম। তারপর আমিই কর্ত্তা গিন্নীকে একে একে শ্মশানে রেখে এলাম ৷ আমারই পরামর্শে রাধামাধববাবু কুঠীর চাকরী নিলেন—আমারই পরামর্শে—আমারই বুদ্ধিতে, রাধামাধব ক্রমে কুঠীর দেওয়ান হোলেন—আমারই চেষ্টায় তালুক-মুলুক হোলো—হরিহরপুরের বোসেরা দশজনের একজন হলো। এখন রাধামাধব বাবুও স্বর্গে— বৌমা ও স্বর্গে। যারা অনেক দিন থাকবে বলে এসেছিল—তারা সবাই আগে আগে চলে গেল; আর আমি এই সব কষ্টভোগ করবার জন্য এই বুড়ো বয়স পৰ্য্যন্ত বোসেদের বাড়ী আগলে বোসে আছি; আরও কতদিন থাকতে হবে কে জানে। {{ফাঁক}}নলিন বাবুর জন্ম দেখলাম, কোলে পিঠে কোরে মানুষ করলাম; ক্ষুদে জেঠা না হোলে তার চল্‌তো না—আমার হাতে না-খেলে তার পেট ভরত না—আমার কাছে না শুলে তার ঘুম হতো না। বোসেদের সোণার সংসারই আমার সংসার—আমি বিবাহ করিলাম না—গৃহস্থ ও হলাম না।<noinclude></noinclude> 586c102scqv357lu15ip629dju621q7 1995390 1995389 2026-08-23T14:55:13Z BabulB 2144 1995390 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৬২}}</noinclude>দিন বোস মশাই বোল্লেন, তাঁর বাড়ীতে লোকজন নাই, রাধামাধব ছেলেমানুষ, আমি যদি তাঁদের বাড়ীতে থাকি তা হোলে তাঁদের বড়ই উপকার হয়। তাঁরা বেশী মাইনে দিতে পারবেন না— অবস্থা ও ভাল নয়! আমি ভাবিলাম, আমার টাকাকড়ির এখন দরকারই বা কি এত আদর যত্ন কোথায় পাব! আমি তখনই স্বীকার করলেম্। সেই থেকে আমি হরিহরপুরের বোসেদের বাড়ী আছি। অল্প দিনের মধ্যেই এমন হয়ে গেল যে, আমি যে পরের বাড়ীতে আছি—আমি যে বাড়ীর চাকর, তা আমার মোটেই মনে হতো না। রাধামাধব আমার সমান বয়সী, আমি তাকে দাদাবাবু বলে ডাকতাম। {{ফাঁক}}তারপর রাধামাধব বাবুর বিয়ে হলো; আমিই সারা-পথ লাঠি কাঁধে করে পাল্কীর সঙ্গে গেলাম,—আমিই দাদাবাবুর স্ত্রীকে ঘরে তুললাম। তারপর আমিই কর্ত্তা গিন্নীকে একে একে শ্মশানে রেখে এলাম ৷ আমারই পরামর্শে রাধামাধববাবু কুঠীর চাকরী নিলেন—আমারই পরামর্শে—আমারই বুদ্ধিতে, রাধামাধব ক্রমে কুঠীর দেওয়ান হোলেন—আমারই চেষ্টায় তালুক-মুলুক হোলো—হরিহরপুরের বোসেরা দশজনের একজন হলো। এখন রাধামাধব বাবুও স্বর্গে— বৌমা ও স্বর্গে। যারা অনেক দিন থাকবে বলে এসেছিল—তারা সবাই আগে আগে চলে গেল; আর আমি এই সব কষ্টভোগ করবার জন্য এই বুড়ো বয়স পৰ্য্যন্ত বোসেদের বাড়ী আগলে বোসে আছি; আরও কতদিন থাকতে হবে কে জানে। {{ফাঁক}}নলিন বাবুর জন্ম দেখলাম, কোলে পিঠে কোরে মানুষ করলাম; ক্ষুদে জেঠা না হোলে তার চল্‌তো না—আমার হাতে না-খেলে তার পেট ভরত না—আমার কাছে না শুলে তার ঘুম হতো না। বোসেদের সোণার সংসারই আমার সংসার—আমি বিবাহ করিলাম না—গৃহস্থ ও হলাম না।{{nop}}<noinclude></noinclude> oj5aga132q7oe77iaiv9z8liyn06t8b পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৬৯ 104 884296 1995397 1994551 2026-08-23T15:54:28Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995397 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|৬৩||নূতন গিন্নী}}</noinclude>{{ফাঁক}}নলিন লেখাপড়া শিখলেন—কোল্‌কেতায় পোড়তে গেলেন—আমি সঙ্গে গেলাম। আমার মনে হোতো, আমি না হোলে বুঝি তার চলে না। তারপর আর বেশী দিন কল্‌কেতায় থাকা হোলো না। বাড়ীতে সর্ব্বনাশ হোয়ে গেল—আমার বড় সাধের মানসীর সিঁথির সিন্দুর ঘুচিয়া গেল। মা আমার মলিন হোয়ে গেল। তখন এই ক্ষুদে জেঠাই তার একমাত্র জুড়াবার যায়গা হোলো। রাধামাধব বাবু আর তাঁর স্ত্রী স্বর্গে গেলেন,—কত সাধ আহ্লাদ কোরে নলিনের বিয়ে দিয়ে বউ ঘরে আন্‌লাম। সে লক্ষ্মীও চোলে গেলেন—প্রথম সন্তান হওয়ার সময়ই তাঁর প্রাণ গেল ৷ নলিন কিছুতেই বিয়ে কোরতে চায় না। আমিই কত বোলে, কত উপদেশ দিয়ে তবে তার আবার বিয়ে দিলাম। কিন্তু এখন মনে হোচ্চে, বড়মানুষের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে না দিলেই ভাল হতো। আজ তিন বছর নলিনের বিয়ে হোয়েছে, এই তিন বছরের মধ্যে একবার মাত্র একমাসের জন্য এই বউ বাড়ী এসেছিল—তার এ পাড়াগাঁয়ে থাকতে ইচ্ছা করে না। নলিন তাই কোলকেতাতেই অনেক সময় থাকে। টাকার ত অভাব নাই। আমি আমায় এই শরীরের রক্ত জল কোরে যা গুছিয়েছি, তাতে নলিনের সংসার বেশ চোলে যায়—পরের চাকুরী আর কোরতে হয় না। নলিন যে বারমাসই কোলকেতায় থাকবে;—এ কথাটা আমার একেবারেই ভাল লাগলো না। তাই অনেক বলাবলির পর নলিন বৌ নিয়ে বাড়ী এসেছেন। সেই নলিনের বৌ এখন আমাকে বলে কি না “ওরে ক্ষুদে।" {{ফাঁক}}নলিনের বৌ যে আমাকে এই অপমান কোরলো, সে কথাটা নলিনের কাণে তুলবো কি না, এই কথা অনেকক্ষণ ভাবতে লাগলাম। একবার মনে হোলো, কাজ নেই কথাটা বোলে। নলিন কি মনে কোরবে—কি জানি দ্বিতীয় পক্ষের পরিবার। কিন্তু আবার মনে হলো,<noinclude></noinclude> jwzib2denb4jzgc7uf921awbg1a98re পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৭০ 104 884297 1995399 1994552 2026-08-23T15:59:00Z BabulB 2144 1995399 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৬৪}}</noinclude>এই সময়েই যদি শিক্ষা না দেওয়া যায়, তা হ'লে এমন আস্পদ্ধা বেড়ে যাবে,—আমাকেও হয় ত–এর চাইতে আরও কঠিন কথা বোলবে ;— তারপর আমাকে চেড়ে হয় ত মানসীর উপরও গিন্নিগিরি খাটাতে যাবে । না না—তা কিছুতেই হবে না । আজই নলিনকে সব কথা শুনিয়ে দিতে হবে ;—যে সকল কথা বলার কোন দিন দরকার হয় নাই— আজ—ঐ পরের বেটীর সামনে দাঁড়িয়ে নলিনকে সেই সব কথা শুনিয়ে দেব— দেখবো সে এই ৬৫ বছরের ক্ষুদে জ্যেঠার কথা শুনে কি বলে ? হারবি সাহেবের এত বড় কসারণ যে এই ক্ষুদিরামের ঐ পাকা বাঁশের লাঠির জোরে উড়ে গিয়েছিল—আর নবীনগরের তালুকখানি বোসেনের হাতে এসেছিল—সে কেমন ক'রে, তা ত নলিন বাবু জানে না । এই দেখ, এখনও আমার পিঠে তলোয়ারের চোট রয়েছে। এতদিন এ সব কথা বলি নাই—আজ নলিন বেড়াইয়া আসিলে সব কথা বলিয়া বুঝিয়া লইব । তারপর যা হয় হবে । {{কেন্দ্র|(৩)}} {{ফাঁক}}ক্ষুদিরামের জীবনের দু-একটি কথা আমি বলিব। আমার নাম শ্রীনলিনবিহারী বসু। সেদিন বাড়ীতে আসিয়াই দেখি, ক্ষুদিরাম — আমার ক্ষুদে জ্যেঠা— অতি বিষণ্ণ বদনে ভূমিতলে বসিয়া আছে। এই পৃথিবীতে সকলের বিষণ্ণতা আমি সহ্য করিতে পারি—কিন্তু আমার ক্ষুদে জ্যেঠা বিষণ্ণ হইলে—মুখ ভার করিলে, আমি সত্যসত্যই চারিদিক অন্ধকার দেখি। ক্ষুদে জোঠা যে আমাকে থোকা বাবু বলিয়া ডাকে, সে ডাক অতি ঠিক—এ সংসারে আমি সভ্যসত্যই<noinclude></noinclude> 80ozu3ngn9w2yz3ytpa5861ech43rh9 1995416 1995399 2026-08-23T16:20:27Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995416 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৬৪}}</noinclude>এই সময়েই যদি শিক্ষা না দেওয়া যায়, তা হ'লে এমন আস্পর্দ্ধা বেড়ে যাবে,—আমাকেও হয় ত—এর চাইতে আরও কঠিন কথা বোলবে;—তারপর আমাকে চেড়ে হয় ত মানসীর উপরও গিন্নিগিরি খাটাতে যাবে। না না—তা কিছুতেই হবে না। আজই নলিনকে সব কথা শুনিয়ে দিতে হবে;—যে সকল কথা বল্‌বার কোন দিন দরকার হয় নাই—আজ—ঐ পরের বেটীর সামনে দাঁড়িয়ে নলিনকে সেই সব কথা শুনিয়ে দেব—দেখবো সে এই ৬৫ বছরের ক্ষুদে জ্যেঠার কথা শুনে কি বলে? হারবি সাহেবের এত বড় কন্‌সারণ যে এই ক্ষুদিরামের ঐ পাকা বাঁশের লাঠির জোরে উড়ে গিয়েছিল—আর নবীনগরের তালুকখানি বোসেদের হাতে এসেছিল—সে কেমন ক'রে, তা ত নলিন বাবু জানে না। এই দেখ, এখনও আমার পিঠে তলোয়ারের চোট রয়েছে। এতদিন এ সব কথা বলি নাই—আজ নলিন বেড়াইয়া আসিলে সব কথা বলিয়া বুঝিয়া লইব। তারপর যা হয় হবে। {{কেন্দ্র|(৩)}} {{ফাঁক}}ক্ষুদিরামের জীবনের দু-একটি কথা আমি বলিব। আমার নাম শ্রীনলিনবিহারী বসু। সেদিন বাড়ীতে আসিয়াই দেখি, ক্ষুদিরাম—আমার ক্ষুদে জ্যেঠা— অতি বিষণ্ণ বদনে ভূমিতলে বসিয়া আছে। এই পৃথিবীতে সকলের বিষণ্ণতা আমি সহ্য করিতে পারি—কিন্তু আমার ক্ষুদে জ্যেঠা বিষণ্ণ হইলে—মুখ ভার করিলে, আমি সত্যসত্যই চারিদিক অন্ধকার দেখি। ক্ষুদে জ্যেঠা যে আমাকে খোকা বাবু বলিয়া ডাকে, সে ডাক অতি ঠিক—এ সংসারে আমি সত্যসত্যই<noinclude></noinclude> 1sa1gljxw3w8ysfysnbfespkw3qkol1 পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৭১ 104 884298 1995400 1994555 2026-08-23T15:59:47Z BabulB 2144 1995400 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৬৫||নূতন গিন্নী}}</noinclude>খোকা । বয়স ত্রিশ বৎসর হইয়াছে, কিন্তু এখনও সেই পঁয়ষট্টি বৎসরের বুড়া ক্ষুদে জ্যেঠার স্কন্ধে ভর দিয়া আমি এই সংসারক্ষেত্রে বিচরণ করি- ভেছি। এই যে আমার তালুক— এই যে আমার জোতজমা — ইহার কোন সংবাদই আমি রাখি না। ক্ষুদে জ্যোঠা আমার সব - আমার সর্ব্বস্ব । শুনিয়াছি জন্মিয়াই ক্ষুদে জ্যেঠার কোলে আশ্রয় পাইয়াছিলাম—সে আশ্রয় আমি আজও ছাড়ি নাই, আমার ছাড়িবার সাধ্য নাই। সে বুড়া হইয়াছে, হয়ত করে মরিয়া যাইবে—এ কথা যখনই আমি ভাবি, তখনই চারিদিক অন্ধকার দেখি; আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, ক্ষুদে জ্যেঠাকে এই বুড়া বয়সেও ভবসমুদ্রের এ পারে বসাইয়া রাখিয়া আমি যেন পাড়ি দিয়া চলিয়া যাই । {{ফাঁক}}আমার সেই বাল্যের খেলার সাথী, কৈশোরের বন্ধু, যৌবনের অবলম্বন-দণ্ড - জ্যেঠাকে সেদিন সেই অবস্থায় দেখিয়া আমার বড়ই কষ্ট হইল; --বুঝিতে পারিলাম তুচ্ছ কোন কারণে ক্ষুদে জ্যেঠা এত বিষণ্ণ হয় নাই। আমার সেই ছেলেবেলাক অভ্যাস মত — আমি শ্রীনলিনবিহারী বসু, আমি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ উপাধিধারী যুবক—নিতান্ত শিশুর মত সেই গৃহতলে ক্ষুদে জ্যেঠার কোলের কাছে বসিয়া পড়িলাম, আর সেই বৃদ্ধ নিতান্ত শিশুর মত, তাহার সেই অভয় বক্ষের মধ্যে আমাকে সাপটিয়া ধরিল, তাহার দুই চক্ষু দিয়া তাহার হৃদ- য়ের অব্যক্ত বেদনা অশ্রুপ্রবাহে বাহির হইতে লাগিল । আমার সাহস হইল না—আমার সাধ্য হইল না, ক্ষুদে জোটাকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করি । {{ফাঁক}}অনেকক্ষণ নিস্তব্ধভাবে বসিয়া থাকিয়া আমি ধীরে ধীরে তাহার মুখের দিকে চাহিলাম; দেখিলাম—মুখ গম্ভীয় বটে, কিন্তু তাহারই মধ্য হইতে অপরিমেয় পুত্রস্নেহ শতধারায় উচ্চসিত হইয়া আমাকে অভিষিক্ত<noinclude></noinclude> a72jiofi1l18g839mg29ko1og99u7u3 1995421 1995400 2026-08-23T16:29:19Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995421 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|৬৫||নূতন গিন্নী}}</noinclude>খোকা। বয়স ত্রিশ বৎসর হইয়াছে, কিন্তু এখনও সেই পঁয়ষট্টি বৎসরের বুড়া ক্ষুদে জ্যেঠার স্কন্ধে ভর দিয়া আমি এই সংসারক্ষেত্রে বিচরণ করিতেছি। এই যে আমার তালুক—এই যে আমার জোতজমা—ইহার কোন সংবাদই আমি রাখি না। ক্ষুদে জ্যোঠা আমার সব—আমার সর্ব্বস্ব। শুনিয়াছি জন্মিয়াই ক্ষুদে জ্যেঠার কোলে আশ্রয় পাইয়াছিলাম—সে আশ্রয় আমি আজও ছাড়ি নাই, আমার ছাড়িবার সাধ্য নাই। সে বুড়া হইয়াছে, হয়ত করে মরিয়া যাইবে—এ কথা যখনই আমি ভাবি, তখনই চারিদিক অন্ধকার দেখি; আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, ক্ষুদে জ্যেঠাকে এই বুড়া বয়সেও ভবসমুদ্রের এ পারে বসাইয়া রাখিয়া আমি যেন পাড়ি দিয়া চলিয়া যাই। {{ফাঁক}}আমার সেই বাল্যের খেলার সাথী, কৈশোরের বন্ধু, যৌবনের অবলম্বন-দণ্ড {{দুষ্পাঠ্য}} জ্যেঠাকে সেদিন সেই অবস্থায় দেখিয়া আমার বড়ই কষ্ট হইল; {{দুষ্পাঠ্য|}} বুঝিতে পারিলাম তুচ্ছ কোন কারণে ক্ষুদে জ্যেঠা এত বিষণ্ণ হয় নাই। আমার সেই ছেলেবেলাক অভ্যাস মত—আমি শ্রীনলিনবিহারী বসু, আমি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ উপাধিধারী যুবক—নিতান্ত শিশুর মত সেই গৃহতলে ক্ষুদে জ্যেঠার কোলের কাছে বসিয়া পড়িলাম, আর সেই বৃদ্ধ নিতান্ত শিশুর মত, তাহার সেই অভয় বক্ষের মধ্যে আমাকে সাপটিয়া ধরিল, তাহার দুই চক্ষু দিয়া তাহার হৃদয়ের অব্যক্ত বেদনা অশ্রুপ্রবাহে বাহির হইতে লাগিল। আমার সাহস হইল না—আমার সাধ্য হইল না, ক্ষুদে জ্যেটাকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করি। {{ফাঁক}}অনেকক্ষণ নিস্তব্ধভাবে বসিয়া থাকিয়া আমি ধীরে ধীরে তাহার মুখের দিকে চাহিলাম; দেখিলাম—মুখ গম্ভীয় বটে, কিন্তু তাহারই মধ্য হইতে অপরিমেয় পুত্রস্নেহ শতধারায় উচ্চসিত হইয়া আমাকে অভিষিক্ত<noinclude></noinclude> 0urc68znce9058ffg7yd0y8yt29wpsq 1995423 1995421 2026-08-23T16:32:15Z BabulB 2144 /* সমস্যা থকা */ 1995423 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="2" user="BabulB" />{{rh|৬৫||নূতন গিন্নী}}</noinclude>খোকা। বয়স ত্রিশ বৎসর হইয়াছে, কিন্তু এখনও সেই পঁয়ষট্টি বৎসরের বুড়া ক্ষুদে জ্যেঠার স্কন্ধে ভর দিয়া আমি এই সংসারক্ষেত্রে বিচরণ করিতেছি। এই যে আমার তালুক—এই যে আমার জোতজমা—ইহার কোন সংবাদই আমি রাখি না। ক্ষুদে জ্যোঠা আমার সব—আমার সর্ব্বস্ব। শুনিয়াছি জন্মিয়াই ক্ষুদে জ্যেঠার কোলে আশ্রয় পাইয়াছিলাম—সে আশ্রয় আমি আজও ছাড়ি নাই, আমার ছাড়িবার সাধ্য নাই। সে বুড়া হইয়াছে, হয়ত করে মরিয়া যাইবে—এ কথা যখনই আমি ভাবি, তখনই চারিদিক অন্ধকার দেখি; আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, ক্ষুদে জ্যেঠাকে এই বুড়া বয়সেও ভবসমুদ্রের এ পারে বসাইয়া রাখিয়া আমি যেন পাড়ি দিয়া চলিয়া যাই। {{ফাঁক}}আমার সেই বাল্যের খেলার সাথী, কৈশোরের বন্ধু, যৌবনের অবলম্বন-দণ্ড {{দুষ্পাঠ্য}} জ্যেঠাকে সেদিন সেই অবস্থায় দেখিয়া আমার বড়ই কষ্ট হইল; {{দুষ্পাঠ্য|}} বুঝিতে পারিলাম তুচ্ছ কোন কারণে ক্ষুদে জ্যেঠা এত বিষণ্ণ হয় নাই। আমার সেই ছেলেবেলাক অভ্যাস মত—আমি শ্রীনলিনবিহারী বসু, আমি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ উপাধিধারী যুবক—নিতান্ত শিশুর মত সেই গৃহতলে ক্ষুদে জ্যেঠার কোলের কাছে বসিয়া পড়িলাম, আর সেই বৃদ্ধ নিতান্ত শিশুর মত, তাহার সেই অভয় বক্ষের মধ্যে আমাকে সাপটিয়া ধরিল, তাহার দুই চক্ষু দিয়া তাহার হৃদয়ের অব্যক্ত বেদনা অশ্রুপ্রবাহে বাহির হইতে লাগিল। আমার সাহস হইল না—আমার সাধ্য হইল না, ক্ষুদে জ্যেটাকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করি। {{ফাঁক}}অনেকক্ষণ নিস্তব্ধভাবে বসিয়া থাকিয়া আমি ধীরে ধীরে তাহার মুখের দিকে চাহিলাম; দেখিলাম—মুখ গম্ভীয় বটে, কিন্তু তাহারই মধ্য হইতে অপরিমেয় পুত্রস্নেহ শতধারায় উচ্চসিত হইয়া আমাকে অভিষিক্ত<noinclude></noinclude> 7vmft69539tfbrr2np5agrg5tbanw5w পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৭২ 104 884299 1995402 1994556 2026-08-23T16:00:41Z BabulB 2144 1995402 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৬৬}}</noinclude>করিতেছে। আমার মনে সাহস হইল । আমি জিজ্ঞাসা করিলাম – “কি হয়েছে ক্ষুদে জ্যেঠা।” {{ফাঁক}}সে অতি ব্যাস্ত-ব্রস্তে বলিল – “না না, কই কিছু হয় নি। বুড়া হয়েছি, কবে মরে যাব। তাই এক-এক সময় যখন মনে হয় যে আমার গণা দিন ফুরিয়ে এসেছে, তখন প্রাণটা কেমন কেঁদে উঠে—চোখের জল রাখতে পারিনে। বোসেদের এই সুখের সংসার, তুমি আর মানসী, এদের ছেড়ে কোন্ এক অজানা দেশে যেতে হবে, তাই সনে করে বড় কাতর হয়ে পড়ি ।” {{ফাঁক}}আমি বলিলাম "তা নগ্ন ক্ষুদে জ্যেঠা, তুমি আমার কাছে লুকোচ্ছ। বুদ্ধি হয়ে অবধি তোমায় দেখে আসছি ; কাকে তুমি ভুলোেচ্ছ। তুমি যদি সব কথা খুলে না বল, তাহ'লে তোমার সঙ্গে এমন আড়ি হবে যে তিন মাসেও ভা ভাঙ্গবে না! জান ত একবার কলকেতায় তোমার সঙ্গে আড়ি করে আমি একদিন কথা বলি নাই । ” {{ফাঁক}}ক্ষুদে জ্যেঠা আর থাকিতে পারিল না। বুড়া এমন হাসিয়া উঠিল যে, ভাহার হাসির চোটে ঘর ফাটিয়া যাইতে লাগিল । আমি বুঝিলাম আজকের যুদ্ধে আমার জয় — ক্ষুদে জ্যেঠার পরাজয়। এমন জয়-পরাজয় আমাদের অনেক দিন হইয়াছে। {{ফাঁক}}আমি তখন প্রফুল্ল বদনে বস্ত্রাদি ত্যাগ করিবার জন্য আমার শয়ন- গৃহে প্রবেশ করিলাম। আমি জানিতাম না, বৈঠকখানা গৃহে যখন আমাদের এই পবিত্র দৃশ্যের অভিনয় হইতেছিল, তখন দ্বারের অন্তরাল হইতে আমার দ্বিতীয় পক্ষের সহধর্মিণী—আামার ডেপুটী শ্বশুরের অশেষ গুণসম্পন্না দুহিতা—এই দৃশ্য দেখিতেছিলেন। আমি গৃহে প্রবেশ করিবামাত্রই তিনি কতক ঘৃণা, কতক ভাচ্ছিল্য, আর ততোধিক রহস্য-মিশ্রিত স্বরে বলিয়া উঠিলেন — “কি সাতপুরুষের বাপের ঠাকুরকে<noinclude></noinclude> nrur6gk2b68monrk4ywhryc4hj0pvh2 1995427 1995402 2026-08-23T16:39:14Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995427 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৬৬}}</noinclude>করিতেছে। আমার মনে সাহস হইল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম—“কি হয়েছে ক্ষুদে জ্যেঠা।” {{ফাঁক}}সে অতি ব্যাস্তে-ত্ৰস্তে বলিল—“না না, কই কিছু হয় নি। বুড়া হয়েছি, কবে মরে যাব। তাই এক-এক সময় যখন মনে হয় যে আমার গণা দিন ফুরিয়ে এসেছে, তখন প্রাণটা কেমন কেঁদে উঠে—চোখের জল রাখতে পারিনে। বোসেদের এই সুখের সংসার, তুমি আর মানসী, এদের ছেড়ে কোন্ এক অজানা দেশে যেতে হবে, তাই সনে করে বড় কাতর হয়ে পড়ি।” {{ফাঁক}}আমি বলিলাম "তা নয় ক্ষুদে জ্যেঠা, তুমি আমার কাছে লুকোচ্ছ। বুদ্ধি হয়ে অবধি তোমায় দেখে আসছি; কাকে তুমি ভুলোচ্ছ। তুমি যদি সব কথা খুলে না বল, তাহ'লে তোমার সঙ্গে এমন আড়ি হবে যে তিন মাসেও তা ভাঙ্গবে না! জান ত একবার কলকেতায় তোমার সঙ্গে আড়ি করে আমি একদিন কথা বলি নাই। ” {{ফাঁক}}ক্ষুদে জ্যেঠা আর থাকিতে পারিল না। বুড়া এমন হাসিয়া উঠিল যে, তাহার হাসির চোটে ঘর ফাটিয়া যাইতে লাগিল। আমি বুঝিলাম আজকের যুদ্ধে আমার জয়—ক্ষুদে জ্যেঠার পরাজয়। এমন জয়-পরাজয় আমাদের অনেক দিন হইয়াছে। {{ফাঁক}}আমি তখন প্রফুল্ল বদনে বস্ত্রাদি ত্যাগ করিবার জন্য আমার শয়নগৃহে প্রবেশ করিলাম। আমি জানিতাম না, বৈঠকখানা গৃহে যখন আমাদের এই পবিত্র দৃশ্যের অভিনয় হইতেছিল, তখন দ্বারের অন্তরাল হইতে আমার দ্বিতীয় পক্ষের সহধর্ম্মিণী—আমার ডেপুটী শ্বশুরের অশেষ গুণসম্পন্না দুহিতা—এই দৃশ্য দেখিতেছিলেন। আমি গৃহে প্রবেশ করিবামাত্রই তিনি কতক ঘৃণা, কতক তাচ্ছিল্য, আর ততোধিক রহস্য-মিশ্রিত স্বরে বলিয়া উঠিলেন—“কি সাতপুরুষের বাপের ঠাকুরকে<noinclude></noinclude> r16zn4kqhy2in63vtl1e70ftcjgfe65 পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৭৩ 104 884300 1995403 1994557 2026-08-23T16:01:31Z BabulB 2144 1995403 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৬৭||নূতন গিন্নী}}</noinclude>নিয়ে কি হচ্ছিল”— সেই মুহূর্ত্তে ঘরের মধ্য হইতে কালসর্প যদি আমাকে দংশন করিত, সেই মুহূর্ত্তে আমার সম্মুখে যদি বজ্ৰাপাত হইত, তাহা হইলেও আমি এতদূর স্তম্ভিত হইতাম না। চাহিয়া দেখিলাম, আমার সম্মুখে আমার দ্বিতীয় পক্ষের পরিবার; — মুখে ঘৃণা, তাচ্ছিল্য ও রহস্য প্রকটিত হইয়াছে। আর সে মুখের দিকে চাহিতে ইচ্ছা হইল না । তাহার মুখের কয়েকটা কথাতেই ভাহার লাবণ্য, তাহার যৌবন, তাহার ডেপুটী পিত৷ আমার দৃষ্টির উপর দিয়া ছায়ার ন্যায় সরিয়া গেল, – আমি দেখিলাম, আমান শয়নগৃহের মধ্যে কোথা হইতে এক রাক্ষসী প্রবেশ লাভ করিয়াছে । তাহার প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হইতে নরকের পূতিগন্ধ বাহির হইতেছে। {{ফাঁক}}এমন অন্যায়, অশিষ্ট, অভদ্রোচিত কথার উত্তর দিতেও আমার ঘৃণা বোধ হইল ৷ সেখানে দাড়াইয়া থাকিলেও আমার শরীর কলুষিত হইবে বলিয়া মনে হইল । কিন্তু এ কথাও গোপন করিতে পারিতেছি না যে, রাগে আমার শরীর কাঁপিরা উঠিয়াছিল, – আমার পূজনীয় পিতৃপিতামহ- গণকে যে এমন তাচ্ছিল্যভাবে উল্লেখ করিতে পারে, তাহার উপর মরা মানুষেরও রাগ হয়—আমি ত ত্রিশ বৎসরের যুবক ! {{ফাঁক}}ভগবানের কৃপায় সে সময়ে আমি রাগ সংবরণ করিতে পারিয়া- ছিলাম। একটি কথাও না বলিয়া আমি ঘর হইতে বাহির হইবার উপ- ক্রম করিতেছি, এমন সময় ক্ষুদিরাম ধীর-পদবিক্ষেপে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল এবং বাম হস্তে আমার দক্ষিণ হস্ত দৃঢ়ভাবে ধরিয়া বলিল—“যে ও না খোকাবাবু! যে কথার জবাব তুমি দিতে গারলে না, সে কথার জবাব আমি দিচ্ছি। দেখ মা-লক্ষ্মী, খোকাবাবু ছেলেমানুষ – সে তোমার কথার কি জবাব দেবে—কতটুকুই বা সে জানে। কথাটা আমাকে জিজ্ঞাসা কর । কি বল্‌ ছিলে – চৌদ্দ পুরুষের ঠাকুর—চৌদ্দ পুরুষের নম্ব -<noinclude></noinclude> 2knbw3oyxx8b1yfpwvs74z7cmxjxj39 1995433 1995403 2026-08-23T16:45:42Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995433 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|৬৭||নূতন গিন্নী}}</noinclude>নিয়ে কি হচ্ছিল”—সেই মুহূর্ত্তে ঘরের মধ্য হইতে কালসর্প যদি আমাকে দংশন করিত, সেই মুহূর্ত্তে আমার সম্মুখে যদি বজ্ৰাপাত হইত, তাহা হইলেও আমি এতদূর স্তম্ভিত হইতাম না। চাহিয়া দেখিলাম, আমার সম্মুখে আমার দ্বিতীয় পক্ষের পরিবার;—মুখে ঘৃণা, তাচ্ছিল্য ও রহস্য প্রকটিত হইয়াছে। আর সে মুখের দিকে চাহিতে ইচ্ছা হইল না। তাহার মুখের কয়েকটা কথাতেই তাহার লাবণ্য, তাহার যৌবন, তাহার ডেপুটী পিত৷ আমার দৃষ্টির উপর দিয়া ছায়ার ন্যায় সরিয়া গেল,—আমি দেখিলাম, আমান শয়নগৃহের মধ্যে কোথা হইতে এক রাক্ষসী প্রবেশ লাভ করিয়াছে। তাহার প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হইতে নরকের পূতিগন্ধ বাহির হইতেছে। {{ফাঁক}}এমন অন্যায়, অশিষ্ট, অভদ্রোচিত কথার উত্তর দিতেও আমার ঘৃণা বোধ হইল। সেখানে দাড়াইয়া থাকিলেও আমার শরীর কলুষিত হইবে বলিয়া মনে হইল। কিন্তু এ কথাও গোপন করিতে পারিতেছি না যে, রাগে আমার শরীর কাঁপিয়া উঠিয়াছিল,—আমার পূজনীয় পিতৃপিতামহগণকে যে এমন তাচ্ছিল্যভাবে উল্লেখ করিতে পারে, তাহার উপর মরা মানুষেরও রাগ হয়—আমি ত ত্রিশ বৎসরের যুবক! {{ফাঁক}}ভগবানের কৃপায় সে সময়ে আমি রাগ সংবরণ করিতে পারিয়াছিলাম। একটি কথাও না বলিয়া আমি ঘর হইতে বাহির হইবার উপক্রম করিতেছি, এমন সময় ক্ষুদিরাম ধীর-পদবিক্ষেপে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল এবং বাম হস্তে আমার দক্ষিণ হস্ত দৃঢ়ভাবে ধরিয়া বলিল—“যেও না খোকাবাবু! যে কথার জবাব তুমি দিতে পারলে না, সে কথার জবাব আমি দিচ্ছি। দেখ মা-লক্ষ্মী, খোকাবাবু ছেলেমানুষ—সে তোমার কথার কি জবাব দেবে—কতটুকুই বা সে জানে। কথাটা আমাকে জিজ্ঞাসা কর। কি বল্‌ছিলে চৌদ্দ পুরুষের ঠাকুর—চৌদ্দ পুরুষের নয়<noinclude></noinclude> m4nsqlbh5epgyloeow3eiq038fw03x1 পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৭৪ 104 884301 1995404 1994558 2026-08-23T16:02:07Z BabulB 2144 1995404 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৬৮}}</noinclude>তিন পুরুষের। আমি বোসেদের তিন পুরুষের ঠাকুর । গয়লার ছেলে ক্ষুদিরাম, বোসেদের তিন পুরুষের অন্ন খেয়ে আসছে।” {{ফাঁক}}ক্ষুদিরামের কথায় বাধা দিয়া আমার স্ত্রী বলিলেন, “কে তোকে এখানে ডাকলে। কার সন্মুখে কথা বলছিস জানিস্ ।” {{ফাঁক}}হা অদৃষ্ট, এই বুড়া বয়সে নাতনীর বয়সী মেয়েমানুষের সঙ্গেও কোঁদল কৰ্ত্তে হলো ৷ মা-লক্ষ্মী, দুটো কথারই জবাব দিব কি ? তোমার কথার জবাব দিচ্ছি,—আমাকে আবার ডাবে কে ? এ যে আমার পঞ্চাশ বছরের বাড়ী—আজ দুই বছর হলো তোমাকেই আমি ডেকে এনেছি। লক্ষ্মি, ক্ষমা করো, তোমার শেষের কথাটার জবাব কিছু কড়া হবে। কার সুমুখে কথা বলছি তা জানি। হারবি সাহেব একটা বুনো মাগীকে মেম করে রেখেছিল ; তাহারই হাত-পা জড়িয়ে ধরে সাহেব দিয়ে সুপারিগ করে যে ডেপুটী হয়েছে—সেই রাজকৃষ্ণ মিত্রের মেয়ের সঙ্গে কথা বলছি। আরও কিছু শুনতে চাও।” আমি ত অবাক্ । কি বলিব, কাহাকে থামাইব, ভাবিয়া পাইলাম না । তখন নিরাভরণা একটি বিধবা বালিকা আসিয়া ধীরে ধীরে বলিল—“জ্যেঠা, তুমি কি পাগল হলে। এস, আমার সঙ্গে এস, পায়ে পড়ি বউ, ক্ষমা কর। তখন সুপ্ত সিংহ যেমন গর্জিয়া উঠে, তেমনই গর্জিয়া ক্ষুদিরাম বলিল,- “আজ ক্ষমা নাই মা, আজ বোসেদের তিন-পুরুষের ভাতের হিসাব নিকাশ করে এখান থেকে বেরিয়ে যাব, আর এ-মুখো হব না । শোন বৌমা, শোন খোকাবাবু, সর্ব্বেশ্বর বোসের সংসার আমি পেতেছিলাম । একদিনের কথা শোন, — যেদিন স্বরূপগঞ্জের মাঠে হারবি সাহেব দেওয়ান রাধামাধব বোসকে সকলের সম্মুখে যাচ্ছে-তাই বলে গালাগালি দিয়েছিল, সেই দিনের কথাটা বলি । নীলকুটীর সাহেবের মুখে ভালমন্দ বাধে না। যাকে-তাকে যা-তা বলে গালাগালি দেয়। সে রাধামাধব<noinclude></noinclude> jl3mh56gpic1op03gw3b3uulu2jrfku 1995455 1995404 2026-08-24T03:58:42Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995455 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৬৮}}</noinclude>তিন পুরুষের। আমি বোসেদের তিন পুরুষের ঠাকুর। গয়লার ছেলে ক্ষুদিরাম, বোসেদের তিন পুরুষের অন্ন খেয়ে আসছে।” {{ফাঁক}}ক্ষুদিরামের কথায় বাধা দিয়া আমার স্ত্রী বলিলেন, “কে তোকে এখানে ডাকলে। কার সন্মুখে কথা বলছিস জানিস্।” {{ফাঁক}}হা অদৃষ্ট, এই বুড়া বয়সে নাতনীর বয়সী মেয়েমানুষের সঙ্গেও কোঁদল কৰ্ত্তে হলো ৷ মা-লক্ষ্মী, দুটো কথারই জবাব দিব কি? তোমার কথার জবাব দিচ্ছি,—আমাকে আবার ডাবে কে? এ যে আমার পঞ্চাশ বছরের বাড়ী—আজ দুই বছর হলো তোমাকেই আমি ডেকে এনেছি। লক্ষ্মি, ক্ষমা করো, তোমার শেষের কথাটার জবাব কিছু কড়া হবে। কার সুমুখে কথা বলছি তা জানি। হারবি সাহেব একটা বুনো মাগীকে মেম করে রেখেছিল; তাহারই হাত-পা জড়িয়ে ধরে সাহেব দিয়ে সুপারিস করে যে ডেপুটী হয়েছে—সেই রাজকৃষ্ণ মিত্রের মেয়ের সঙ্গে কথা বলছি। আরও কিছু শুনতে চাও।” আমি ত অবাক্। কি বলিব, কাহাকে থামাইব, ভাবিয়া পাইলাম না। তখন নিরাভরণা একটি বিধবা বালিকা আসিয়া ধীরে ধীরে বলিল—“জ্যেঠা, তুমি কি পাগল হলে। এস, আমার সঙ্গে এস, পায়ে পড়ি বউ, ক্ষমা কর।" তখন সুপ্ত সিংহ যেমন গর্জিয়া উঠে, তেমনই গর্জিয়া ক্ষুদিরাম বলিল,—“আজ ক্ষমা নাই মা, আজ বোসেদের তিন-পুরুষের ভাতের হিসাব নিকাশ করে এখান থেকে বেরিয়ে যাব, আর এ-মুখো হব না। শোন বৌমা, শোন খোকাবাবু, সর্ব্বেশ্বর বোসের সংসার আমি পেতেছিলাম। একদিনের কথা শোন,—যেদিন স্বরূপগঞ্জের মাঠে হারবি সাহেব দেওয়ান রাধামাধব বোসকে সকলের সম্মুখে যাচ্ছে তাই বলে গালাগালি দিয়েছিল, সেই দিনের কথাটা বলি। নীলকুটীর সাহেবের মুখে ভালমন্দ বাধে না। যাকে-তাকে যা-তা বলে গালাগালি দেয়। সে রাধামাধব<noinclude></noinclude> 9trh92n7ldf20319kscwtu96zl6yjqg পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৭৫ 104 884302 1995405 1994559 2026-08-23T16:02:34Z BabulB 2144 1995405 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৬৯||নূতন গিন্নী}}</noinclude>বোসকে যখন অতি খারাপ কথা বলে গালাগালি দিতে আরম্ভ করল, আমার তখন রাগে শরীর জ্বলে উঠলো । আমি বললাম— 'সাবধান সাহেব, মুখ সামলে কথা বলো।' সাহেব আমাকে মারতে এলো। আমি তখন তাহার বেভ কেড়ে নিয়ে তাকে ঘোড়া থেকে টেনে নামিয়ে খুব ঘা-কতক বসিয়ে দিলাম। তারপর দাদাবাবুর হাত ধরে টেনে নিয়ে বাড়ী এলাম । সাহেব রাধামাধব বোসের আর ক্ষুদিরামের মাথা কেটে আনবার হুকুম দিল। রধোমাধব বোসের পরিবারকে বে-ইজ্জত করবার হুকুম দিল। সে-দিন এ বাড়ী কে বাঁচিয়েছিল, জান মা লক্ষ্মি ! আমি ক্ষুদিরাম ঘোষ, আমারই লাঠির চোটে সে দিন রাধামাধব বোসের মান-ইজ্জত বেঁচেছিল। একেলা আমি দাঁড়িয়ে একখানি বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে কুঠীর পঞ্চাশজন লোকের মোহাড়া নিয়েছিলাম—সাতজনকে জখম করেছিলাম । তার পর সেই সাহেব যখন ঘুমে অচেতন, তখন আমিই বাছা-বাছা সাগরেদ নিয়ে সাহেবের কুঠী চড়াও করি। আর রাধামাধব বোসের অপমানের সুদশুদ্ধ ফিরিয়ে দিই। তার পরেই হারবি সাহেব তাহার যথাসর্ব্বস্ব রাধামাধব বোসের কাছে বিক্রী করে দেশে চলে যায় । বুঝলে, আমি কে? বড়াই কচ্ছি না, এ বোসের সংসার - আমার সংসার । এ বাড়ীর আমিই কৰ্ত্তা। আজ কি সেই পঞ্চাশ বৎসরের কর্তাগিরি এক কথায় ছেড়ে দিয়ে যেতে পারি ? তাই অনেক দিন পরে একদিনের একটা কথা বলে নিলাম। কিছু মনে করো না মা লক্ষ্মি—কিছু মনে করো না খোকাবাবু ! পঁয়ষট্টি বৎসরের বুড়ো ক্ষুদিরাম আজ মানসীকে নিয়ে এ বাড়ী থেকে চলে যাবে । আর না, আর এখানে দাঁড়াব না; যে বাড়ীতে ক্ষুদিরামের স্থান হলো না—সে বাড়ীতে ভোরও স্থান হবে না মানসী,—চল—দুজনে বাবা বিশ্বনাথের দুয়ারে পড়ে থাকি গিয়ে ।{{nop}}<noinclude></noinclude> okb0n8l6x3lz5zn6ya2kdyef6b1f0kx 1995456 1995405 2026-08-24T04:38:01Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995456 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|৬৯||নূতন গিন্নী}}</noinclude>বোসকে যখন অতি খারাপ কথা বলে গালাগালি দিতে আরম্ভ করল, আমার তখন রাগে শরীর জ্বলে উঠলো। আমি বল্‌লাম—'সাবধান সাহেব, মুখ সামলে কথা বলো।' সাহেব আমাকে মারতে এলো। আমি তখন তাহার বেত কেড়ে নিয়ে তাকে ঘোড়া থেকে টেনে নামিয়ে খুব ঘা-কতক বসিয়ে দিলাম। তারপর দাদাবাবুর হাত ধরে টেনে নিয়ে বাড়ী এলাম। সাহেব রাধামাধব বোসের আর ক্ষুদিরামের মাথা কেটে আনবার হুকুম দিল। রধোমাধব বোসের পরিবারকে বে-ইজ্জত করবার হুকুম দিল। সে-দিন এ বাড়ী কে বাঁচিয়েছিল, জান মা লক্ষ্মি! আমি ক্ষুদিরাম ঘোষ, আমারই লাঠির চোটে সে দিন রাধামাধব বোসের মান-ইজ্জত বেঁচেছিল। একেলা আমি দাঁড়িয়ে একখানি বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে কুঠীর পঞ্চাশজন লোকের মোহাড়া নিয়েছিলাম—সাতজনকে জখম করেছিলাম। তার পর সেই সাহেব যখন ঘুমে অচেতন, তখন আমিই বাছা-বাছা সাগরেদ নিয়ে সাহেবের কুঠী চড়াও করি। আর রাধামাধব বোসের অপমানের সুদশুদ্ধ ফিরিয়ে দিই। তার পরেই হারবি সাহেব তাহার যথাসর্ব্বস্ব রাধামাধব বোসের কাছে বিক্রী করে দেশে চলে যায়। বুঝলে, আমি কে? বড়াই কচ্ছি না, এ বোসের সংসার—আমার সংসার। এ বাড়ীর আমিই কৰ্ত্তা। আজ কি সেই পঞ্চাশ বৎসরের কর্ত্তাগিরি এক কথায় ছেড়ে দিয়ে যেতে পারি? তাই অনেক দিন পরে একদিনের একটা কথা বলে নিলাম। কিছু মনে করো না মা লক্ষ্মি—কিছু মনে করো না খোকাবাবু! পঁয়ষট্টি বৎসরের বুড়ো ক্ষুদিরাম আজ মানসীকে নিয়ে এ বাড়ী থেকে চলে যাবে। আর না, আর এখানে দাঁড়াব না; যে বাড়ীতে ক্ষুদিরামের স্থান হলো না—সে বাড়ীতে তোরও স্থান হবে না মানসী,—চল—দুজনে বাবা বিশ্বনাথের দুয়ারে পড়ে থাকি গিয়ে।{{nop}}<noinclude></noinclude> 739fe6xllrys19wc5773lvjomo4hf9v পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৭৬ 104 884303 1995406 1994560 2026-08-23T16:03:26Z BabulB 2144 1995406 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭০}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই বলিয়া আমার দুঃখিনী ভগিনী মানসীর হাত ধরে, আমার জীব- নের অবলম্বন, আমার সংসারের যথাসর্ব্বস্ব ক্ষুদিরাম জ্যেঠা বাহির হই- বার উদ্যোগ করিল। তখন আর আমি স্থির থাকিতে পারিলাম না ; হৃদয়ের সমস্ত শক্তি মুখে আনিয়া বলিলাম—“সে হ'তেই পারে না, ক্ষুদেজ্যেঠা, কোথায় যাবে তুমি ! কার উপর রাগ করে তুমি যাচ্ছ। ধর্ম্মা- ধৰ্ম্ম জানিনে, পাপপুণ্য মানি না, স্থায়-অন্যায় বুঝি না ; বুদ্ধি হয়ে তোমায় দেখেছি, তোমার বুকে মাথা রেখে স্বর্গসুখ ভোগ করেছি, তোমার শেষ কি আমার শেষ পর্য্যন্ত ছাড়াছাড়ি নাই । চল, বাহিরে যাই। এ অপবিত্র ঘরে আর দাঁড়িয়ে কাজ নাই । * সেই দিন হুগলীতে টেলিগ্রাম করিলাম। পরদিনই আমার সম্বন্ধী আসিয়া আমার স্ত্রীকে লইয়া গেল । প্রতিজ্ঞা করিলাম এ জীবনে আর তাহাকে এ বাড়ীতে আনিব না । {{কেন্দ্র|(৪)}} {{ফাঁক}}ক্ষুদিরামের এই ক্ষুদ্র কথার উপসংহার আমাদেরই করিতে হইতেছে! স্ত্রীকে পিত্রালয়ে পাঠাইয়া দিয়া নলিন বাবু একেবারে আর এক মানুষ হইয়া গেলেন। এতদিন বাড়ী ঘর দুয়ার বিষয় সমস্ত ক্ষুদিরামই দেখিত, এখন তিনি নিজে সমস্ত দেখিতে লাগিলেন। বোধ হয় পাছে কেহ মনে করে, তিনি সংসার-কার্য্যে উদাসীন হইয়াছেন, তাই তিনি বিশেষ পরিশ্রমে সমস্ত ব্যবস্থা করিতে লাগিলেন । ক্ষুদিরাম কিছু বলিলে, বলিতেন—“ক্ষুদে জোঠা, এত কাল ত আমাদের বোঝাই বহিলে, এখন এ সব জঞ্জাল আমি বই, তুমি একটু ধর্মচিন্তা কর। * ক্ষুদিরাম সে কথার উত্তরে বলিত “আমার ধর্ম্মকৰ্ম্ম সবই তোমরা<noinclude></noinclude> ev6ida5ug8nlc64rndz796bqilexsci 1995457 1995406 2026-08-24T04:42:47Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995457 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭০}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই বলিয়া আমার দুঃখিনী ভগিনী মানসীর হাত ধরে, আমার জীবনের অবলম্বন, আমার সংসারের যথাসর্ব্বস্ব ক্ষুদিরাম জ্যেঠা বাহির হইবার উদ্যোগ করিল। তখন আর আমি স্থির থাকিতে পারিলাম না; হৃদয়ের সমস্ত শক্তি মুখে আনিয়া বলিলাম—“সে হ'তেই পারে না, ক্ষুদেজ্যেঠা, কোথায় যাবে তুমি! কার উপর রাগ করে তুমি যাচ্ছ। ধর্ম্মাধৰ্ম্ম জানিনে, পাপপুণ্য মানি না, ন্যায়-অন্যায় বুঝি না; বুদ্ধি হয়ে তোমায় দেখেছি, তোমার বুকে মাথা রেখে স্বর্গসুখ ভোগ করেছি, তোমার শেষ কি আমার শেষ পর্য্যন্ত ছাড়াছাড়ি নাই। চল, বাহিরে যাই। এ অপবিত্র ঘরে আর দাঁড়িয়ে কাজ নাই।" {{ফাঁক}}সেই দিন হুগলীতে টেলিগ্রাম করিলাম। পরদিনই আমার সম্বন্ধী আসিয়া আমার স্ত্রীকে লইয়া গেল। প্রতিজ্ঞা করিলাম এ জীবনে আর তাহাকে এ বাড়ীতে আনিব না। {{কেন্দ্র|(৪)}} {{ফাঁক}}ক্ষুদিরামের এই ক্ষুদ্র কথার উপসংহার আমাদেরই করিতে হইতেছে! স্ত্রীকে পিত্রালয়ে পাঠাইয়া দিয়া নলিন বাবু একেবারে আর এক মানুষ হইয়া গেলেন। এতদিন বাড়ী ঘর দুয়ার বিষয় সমস্ত ক্ষুদিরামই দেখিত, এখন তিনি নিজে সমস্ত দেখিতে লাগিলেন। বোধ হয় পাছে কেহ মনে করে, তিনি সংসার-কার্য্যে উদাসীন হইয়াছেন, তাই তিনি বিশেষ পরিশ্রমে সমস্ত ব্যবস্থা করিতে লাগিলেন। ক্ষুদিরাম কিছু বলিলে, বলিতেন—“ক্ষুদে জোঠা, এত কাল ত আমাদের বোঝাই বহিলে, এখন এ সব জঞ্জাল আমি বই, তুমি একটু ধর্ম্মচিন্তা কর।" ক্ষুদিরাম সে কথার উত্তরে বলিত “আমার ধর্ম্মকৰ্ম্ম সবই তোমরা।<noinclude></noinclude> c0yikhjtqfs6fvzlaxehgkhsdy9v905 পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৭৭ 104 884304 1995407 1994561 2026-08-23T16:04:18Z BabulB 2144 1995407 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৭১||নূতন গিন্নী}}</noinclude>আজ পঞ্চাশ বছর তোমরাই আমার ধর্ম্ম ছিলে, আজও তাই থাকবে। নলিন সে কথা বুঝিতেন, তবুও যথাসম্ভব বুড়াকে কোন কাজ করিতে দিতেন না । {{ফাঁক}}ওদিকে নানসী দিনে-দিনে কেমন হইয়া যাইতে লাগিল; সংসারে তার মন লাগে না; কাকে লইয়া সে সংসার করিবে। আপনার মুখ- দুঃখ অতল জলে ভাসাইয়া দিয়া ভাইয়ের সুখ-দুঃখকেই সে জীবনের কার্য্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল । এখুন দেখিল, তাহার দাদা সংসারী হইয়াও সন্ন্যাসী—স্ত্রী থাকিতেও গৃহশূন্য । তাহার প্রাণের কোন আশাই কি ভগবান পূর্ণ করিবেন না। দিবানিশি : সে একই কথাই ভাবিত । কি করিলে দাদার সংসারে সুখের আবির্ভাব হয়, তাহা সে ভাবিয়া পাইত না । এক-একবার মনে করিত বউকে আবার বাড়ীতে আনি ; কিন্তু একদিন দাদার নিকট সে প্রস্তাব করিয়া সে কোনও উত্তর পার নাই ; দাদার গম্ভীর মুখ দেখিয়া সে আর সাহস করিয়া দ্বিতীয়বার সে কথা ভুলিতে পারে নাই; অথচ তাহার ইচ্ছা হইত, আবার বউ বাড়াতে ফিরিয়া আসে । {{ফাঁক}}এমনই ভাবে এক বৎসর কাটিয়া গেল। বড়মানুষের মেয়ে, ডেপুটির কন্যা অনেক দিন কোন কথাই জানাইল না। শেষে তাহার বাপের বাড়ীতেও যখন গঞ্জনা আরম্ভ হইল, সকলেই তাহাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করিতে লাগিল, তখন সে বুঝিতে পারিল, সে কি অন্যায় করিয়াছে। তাহার যেখানে দাবী চলে, সে স্থানে তাহার আর যাইবার যো নাই । তখন ধীরে-ধীরে সে বুঝিল স্বামী কি রত্ন, স্বামীর গৃহ কি দেব-নিকেতন ! {{ফাঁক}}প্রথম প্রথম সে এই সকল কথাই ভাবিত; শেষে এ অবস্থা আর তাহার সহ্য হইল না। স্বামীকে পত্র লিখিয়া ক্ষমা প্রার্থনা করাও<noinclude></noinclude> lpv1x44sfwwq0ecu0whie76mw46dmfi 1995458 1995407 2026-08-24T04:47:39Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995458 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|৭১||নূতন গিন্নী}}</noinclude>আজ পঞ্চাশ বছর তোমরাই আমার ধর্ম্ম ছিলে, আজও তাই থাকবে। নলিন সে কথা বুঝিতেন, তবুও যথাসম্ভব বুড়াকে কোন কাজ করিতে দিতেন না। {{ফাঁক}}ওদিকে মানসী দিনে-দিনে কেমন হইয়া যাইতে লাগিল; সংসারে তার মন লাগে না; কাকে লইয়া সে সংসার করিবে। আপনার সুখ-দুঃখ অতল জলে ভাসাইয়া দিয়া ভাইয়ের সুখ-দুঃখকেই সে জীবনের কার্য্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল। এখন দেখিল, তাহার দাদা সংসারী হইয়াও সন্ন্যাসী—স্ত্রী থাকিতেও গৃহশূন্য। তাহার প্রাণের কোন আশাই কি ভগবান পূর্ণ করিবেন না। দিবানিশি সে একই কথাই ভাবিত। কি করিলে দাদার সংসারে সুখের আবির্ভাব হয়, তাহা সে ভাবিয়া পাইত না। এক-একবার মনে করিত বউকে আবার বাড়ীতে আনি; কিন্তু একদিন দাদার নিকট সে প্রস্তাব করিয়া সে কোনও উত্তর পায় নাই; দাদার গম্ভীর মুখ দেখিয়া সে আর সাহস করিয়া দ্বিতীয়বার সে কথা ভুলিতে পারে নাই; অথচ তাহার ইচ্ছা হইত, আবার বউ বাড়ীতে ফিরিয়া আসে । {{ফাঁক}}এমনই ভাবে এক বৎসর কাটিয়া গেল। বড়মানুষের মেয়ে, ডেপুটির কন্যা অনেক দিন কোন কথাই জানাইল না। শেষে তাহার বাপের বাড়ীতেও যখন গঞ্জনা আরম্ভ হইল, সকলেই তাহাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করিতে লাগিল, তখন সে বুঝিতে পারিল, সে কি অন্যায় করিয়াছে। তাহার যেখানে দাবী চলে, সে স্থানে তাহার আর যাইবার যো নাই। তখন ধীরে-ধীরে সে বুঝিল স্বামী কি রত্ন, স্বামীর গৃহ কি দেব-নিকেতন! {{ফাঁক}}প্রথম প্রথম সে এই সকল কথাই ভাবিত; শেষে এ অবস্থা আর তাহার সহ্য হইল না। স্বামীকে পত্র লিখিয়া ক্ষমা প্রার্থনা করাও<noinclude></noinclude> fw92shb98eqqfq4icbmv7zbrdjh1uyy লেখক:সর্বানন্দ ভট্টাচার্য 100 884674 1995379 1995347 2026-08-23T13:54:06Z Bodhisattwa 2549 1995379 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === অন্যান্য === * ''অন্যান্য'' {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q141154609|label = ''[[d:Q141154609|সমস্যা-দর্পণ (দ্বিতীয় খণ্ড)]]''|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:সমস্যা-দর্পণ_(দ্বিতীয়_খণ্ড)_-_সর্বানন্দ_ভট্টাচার্য_(১৮৭৭).pdf|p577 = 1877}}{{Talikak list end}} {{PD-India}} mo9obfzeq8orq369l0jppxlenfp7ffd পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৪২ 104 884676 1995481 1995357 2026-08-24T06:38:34Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995481 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|{{larger|নব্য-বিজ্ঞান}}}}</noinclude>উজ্জ্বল হয় কি না? কাগজ ধরিলেন—ঐ পর্দ্দা পূর্ব্ববৎ আলোকিত হইতে লাগিল; কাঠ ধরিলেন;— তাহাও ভেদ করিয়া ঐ অদৃশ্য আলো আসিতে লাগিল। তখন তিনি নিজের হাত উহার মধ্যে ধরিয়া এক আশ্চর্যজনক ব্যাপার দেখিলেন যে, যেখানে হাড়, সেখান দিয়া মোটেই আলো আসিতেছে না; কিন্তু মাংস ভেদ করিয়া ঐ আলো বেশ চলিয়া আসিতেছে; সুতরাং ঐ পর্দ্দার উপর হাতের মধ্যের হাড় জির‍্জির্ করিতেছে বেশ স্পষ্ট দেখা যাইতেছে। এইরূপে জার্ম্মাণীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষাগারের অন্ধকার ঘরে মানব এক প্রকার আলো আবিষ্কৃত করিল—যাহা ভগবান্ বিবস্বানের আলোককে পরাভূত করিয়া, তথাকথিত স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছের ব্যবধান চূর্ণ করিয়া, তাহাকে এক নূতন দৃষ্টিশক্তি দান করিল। এই আলো এখন চিকিৎসা-শাস্ত্রের একটি অপরিহার্য্য অংশ। হাত ঠিক কোন্ জায়গায় ভাঙ্গিয়াছে, বন্দুকের গুলী কোন্ জায়গায় গিয়া আটকাইয়া আছে, শিশু সিকি দুয়ানি<noinclude>{{right|৩০}}</noinclude> oz0pt7tbcw6smlf7s9am0f6y6xw4ckr পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৪৩ 104 884677 1995482 1995358 2026-08-24T06:43:03Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995482 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|{{larger|নব্য-বিজ্ঞান}}}}</noinclude>গিলিয়া ফেলিয়াছে, সিকি দুয়ানি পেটের কোন্ স্থানে গিয়া পৌছিয়াছে, এই আলোকের সাহায্যে চিকিৎসক ধরিয়া ফেলিতেছেন। ক্যাথোড্-রশ্মি চলিতে চলিতে হঠাৎ বাধা প্রাপ্ত হইলে এই অদৃশ্য আলোক উদ্ভূত হয়। বিজ্ঞানে কোন অজ্ঞাত পদার্থকে x বলা হয়। রন‍্জেন্ এই নূতন আলোকের নাম দিয়াছিলেন x রে (ray)। সাধারণতঃ ইহা অদৃশ্য, শুধু বেরিয়ম প্লাটিনো- সায়ানাইডের মত কোন পদার্থের উপর যখন পড়ে, তখনই ইহা দৃশ্য আলোকে পরিণত হয়। {{ফাঁক}}এক টুকরা সোনাকে ক্রমাগত ভাঙ্গিতে ভাঙ্গিতে চলিলে শেষে উহা এমন অবস্থায় গিয়া পৌঁছায়, যথন আর উহাকে ভাঙ্গা চলে না। এই অবস্থার পদার্থকে বৈজ্ঞানিক এটম্ (atom) বলে। একটি সীসার এটম্ একটি সোনার এটম্ হইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ওজন, রাসায়নিক ক্রিয়া সম্পূর্ণ পৃথক্, রসায়ন শাস্ত্রের ইহাই মূল কথা ছিল। গত ১৮৯৭ সালে অধ্যাপক জে, জে, টম্সন্ অত্যন্ত বেশী পরি-<noinclude>{{left|৩১}}</noinclude> lkgwd22lfwih53eqg2sxzxupssnscom পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৪৪ 104 884678 1995483 1995359 2026-08-24T06:49:43Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995483 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|{{larger|নব্য-বিজ্ঞান}}}}</noinclude>মাণে বায়ুশূন্য একটি কাচের গোলকের মধ্যে প্রচণ্ড তড়িৎপ্রবাহ লইয়া পরীক্ষা করিতে করিতে দেখিলেন যে, এটম্‌ পদার্থের শেষ পরিণাম নয়, ইহাও একেবারে চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যায়, এবং টুক‍রা টুক‍রা হইয়া এই এটম্ যাহাতে গিয়া দাঁড়ায়, এই ইলেক্‌ট্রন (electron) ইহাদের মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য নাই, তা যে জিনিষের এটম্ ভাঙ্গিয়া ইহা পাওয়া যাউক না কেন। সোনার এটম্ সীসার এটম্ হইতে ভিন্ন, কিন্তু সোনার এটম্ ভাঙ্গিয়া যে ইলেক্‌ট্রন পাওয়া যায়, আর সীসার এটম্ ভাঙ্গিয়া যে ইলেক্‌ট্রন পাওয়া যায়, সকল বিষয়ে তাহারা এক, মিশাইয়া দিলে চেনাই যায় না যে, এটা সোনা হইতে আর ওটা সীসা হইতে পাওয়া গিয়াছে। ঈথরের তরঙ্গ-সমষ্টি সাধারণ আলোক চুম্বুক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না, কিন্তু ইলেক্‌ট্রন-সমষ্টি এই ক্যাথোড্-রশ্মি চুম্বুক দ্বারা বাঁকিয়া যায়। সুতরাং এই ক্যাথোড্-রশ্মি সাধারণ আলোক নয়। বিশিষ্ট গুণযুক্ত পদার্থকে যখন চুম্বুক টানে, তখন ঐ<noinclude>{{right|৩২}}</noinclude> pofeh14mvroixr12umt8prcf60qosio পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৪৫ 104 884679 1995484 1995360 2026-08-24T06:59:03Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995484 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|{{larger|নব্য-বিজ্ঞান}}}}</noinclude>ইলেক্‌ট্রন পদার্থের এই সূক্ষ্ম অবস্থা, এবং দেখা গিয়াছে, ইহা তড়িৎমণ্ডিত বলিয়াই চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয়। ষে চুম্বকের এবং যে তড়িতের বল জানা আছে, সেই চুম্বুক ও তড়িতের বলে ইলেক্‌ট্রন-সমষ্টি ক্যাথোড রশ্মির পথ কিরূপভাবে এবং কতটা বাঁকে, জে, জে, টম্‌সন্ পরীক্ষা দ্বারা নিরূপণ করিলেন এবং তাহা হইতে এক একটি ইলেক্‌ট্রনের ওজন দ্রুততা প্রভৃতি বাহির করিলেন। সংখ্যার দ্বারা এই সকল কল্পনায় আনা সুকঠিন, অন্য উপায়ে ধারণায় আনা চেষ্টা করা যাউক। এই পৃথিবীর কাছে একটি ক্রিকেট্ বল যেরূপ, এক ফোঁটা জলের কাছে একটি এটম্ সেইরূপ, এবং এমন এটম্‌ও আছে, যাহাতে লক্ষাধিক ইলেক্‌ট্রন বিচরণ করিতেছে। এই যে ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্র পদার্থ যাহাকে ধারণায় আনিতে মানুষ তাহার চিন্তারাজ্যের পরিধিকে বিস্তৃত করিতেছে—তাহার কত না ঘরের খবর বিজ্ঞান আজ টানিয়া বাহির করিতেছে। {{nop}}<noinclude>{{left|৩৩}}</noinclude> rhd10njeej4vohqzel7igihviykhums পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৪৬ 104 884680 1995489 1995361 2026-08-24T07:36:35Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995489 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|{{larger|নব্য-বিজ্ঞান}}}}</noinclude>{{ফাঁক}}কোথায় আরম্ভ হইয়াছিল, আর আজ কোথায় পৌঁছিয়াছে, শেষই বা কোথায় কে জানে? {{ফাঁক}}কিন্তু সবার মূলে যদি একই ইলেক্‌ট্রন থাকে তো পদার্থের বিভিন্নতা কোথা হইতে আসিল? এবং যদি বা আসিল তো এক পদার্থকে আর এক পদার্থে পরিবর্ত্তিত করা যাইবে না কেন? {{ফাঁক}}সংযোগ-তড়িৎযুক্ত একটি বড় ইলেক্‌ট্রনকে ঘিরিয়া বিয়োগ-তড়িৎযুক্ত কতকগুলি ছোট ইলেক্‌ট্রন দ্রুতবেগে ঘুরিতেছে। সূর্য্য ও তাহার চতুর্দ্দিকে ঘূর্ণ্যমান গ্রহ উপগ্রহ লইয়া যেমন সৌরজগৎ, এই সকল চলন্ত ইলেক্‌ট্রন লইয়া এক একটি এটম্। সোনার এটম্ সীসার এটম্ হইতে ভিন্ন; কারণ, উভয়ের মধ্যে ইলেক্‌ট্রনদের ঘুরিবার ধারা পৃথক্। সোনার এটমে্ ইলেকট্রনরা এক রকমে ঘুরে, সীসার এটমে তাহারা সংখ্যায় ভিন্ন ও ভিন্ন রকমে ঘুরে, তফাৎ শুধু এই মাত্র। সোনাকে সীসা করা যায় না; কারণ, ইলেক্‌ট্রনদের এই ঘুরিবার ধারা মানব আজও বদলাইতে<noinclude>{{right|৩৪}}</noinclude> a1ftfbp3zq5b2qm420jlwn8uo0loqd9 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৬৭ 104 884681 1995362 2026-08-23T12:09:51Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995362 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|৭}} প্রত্যেক মুহূর্তেই আমাদের মধ্যে একটি প্রেরণা আছে নিজেকে বিকশিত করবার। বিকাশই হচ্ছে বিশ্বজগতের গোড়াকার কথা। সৃষ্টির যে লীলা, তার এক দিকে আবরণ আর-এক দিকে প্রকাশ। প্রকাশের যে আনন্দ, দেশকালের মধ্যে দিয়ে সে আপন আবরণ মোচনের দ্বারা আপনাকে উপলব্ধি করছে। উপনিষদ বলছেন—‘হিরণ্ময়েন পাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতং মুখম্,’ হিরণ্ময় পাত্রের দ্বারা সত্যের মুখ আবৃত হয়ে আছে। কিন্তু একান্তই যদি আবৃত হয়ে থাকত তা হলে পাত্রকেই জানতুম, সত্যকে জানতুম না। সত্য যে প্রচ্ছন্ন হয়ে আছে এ কথা বলবারও জোর থাকত না। কিন্তু যেহেতু সৃষ্টির প্রক্রিয়াই হচ্ছে সত্যের প্রকাশের প্রক্রিয়া সেইজন্যে উপনিষদের ঋষি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে এমন করে বলতে পেরেছেন, ‘হে সূর্য, তোমার আলোকের আবরণ খোলো, আমি সত্যকে দেখি।’ {{ফাঁক}}মানুষ যে এমন কথা বলতে পেরেছে তার কারণ এই, মানুষ নিজের মধ্যেই দেখছে যে, প্রত্যক্ষ যে অবস্থার মধ্যে সে বিরাজমান সেইটেই তার চরম নয়। তার লোভ আছে এবং লোভ চরিতার্থ করবার প্রবল বাসনা আছে; কিন্তু তার অন্তরাত্মা বলছে, লোভের আবরণ থেকে মনুষ্যত্বকে মুক্তি দিতে চাই। অর্থাৎ যে পদার্থটা তার<noinclude>{{ডান|৫৯}}</noinclude> 668gn4drroju97mbc1inytoa09bqzdu পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৬৮ 104 884682 1995363 2026-08-23T12:12:03Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995363 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>মধ্যে অতিরিক্তমাত্রায় প্রবল হয়ে আছে সেটাকে সে আপন মনুষ্যত্বের প্রকাশ বলে স্বীকার করে না, বাধা বলেই স্বীকার করে। যা আছে তাই সত্য, যা প্রতীয়মান তাই প্রতীতির যোগ্য, মানুষ এ কথা বলে নি। পশুবৎ বর্বর মানুষের মধ্যে বাহ্যশক্তি যতই প্রবল থাক্, তার সত্য যে ক্ষীণ অর্থাৎ তার প্রকাশ যে বাধাগ্রস্ত এ কথা মানুষ প্রথম থেকেই কোনোরকম করে উপলব্ধি করেছিল বলেই সে যাকে সভ্যতা বলে সে পদার্থটা তার কাছে নিরর্থক হয় নি। {{ফাঁক}}সভ্যতা-শব্দটার আসল মানে হচ্ছে, সভার মধ্যে আপনাকে পাওয়া, সকলের মধ্যে নিজেকে উপলব্ধি করা। সভা-শব্দের ধাতুগত অর্থ এই যে, যেখানে আভা যেখানে আলোক আছে। অর্থাৎ মানুষের প্রকাশের আলো একলা নিজের মধ্যে নয়, সকলের সঙ্গে মিলনে। যেখানে এই মিলনতত্ত্বের যতটুকু খর্বতা সেইখানেই মানুষের সত্য সেই পরিমাণেই আচ্ছন্ন। এইজন্যেই মানুষ কেবলই আপনাকে আপনি বলছে—‘অপাবৃণু’, খুলে ফেলো, তোমার একলা-আপনের ঢাকা খুলে ফেলো, তোমার সকল-আপনের সত্যে প্রকাশিত হও; সেইখানেই তোমার দীপ্তি, সেইখানেই তোমার মুক্তি। {{ফাঁক}}বীজ যখন অঙ্কুররূপে প্রকাশিত হয় তখন ত্যাগের দ্বারা হয়। সে ত্যাগ নিজেকেই ত্যাগ। সে আপনাকে বিদীর্ণ করে তবে আপনার সত্যকে মুক্তি দিতে পারে। তেমনি, যে আপন সকলের তাকে পাবার জন্যে মানুষেরও ত্যাগ<noinclude>{{বাম|৬০}}</noinclude> e2z0x7k4pnhejxa813g7ofwji2bopz9 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৬৯ 104 884683 1995364 2026-08-23T13:13:36Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995364 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>করতে হয় যে আপন তার একলার, তাকে। এইজন্যে ঈশোপনিষদ বলেছেন, যে মানুষ আপনাকে সকলের মধ্যে ও সকলকে আপনার মধ্যে পায় ‘ন ততো বিজুগুপ্স্যতে’— সে আর গোপন থাকে না। অসত্যে গোপন করে, সত্যে প্রকাশ করে। তাই আমাদের প্রার্থনা,—অসতো মা সদ্‌গময়’—অসত্য থেকে আমাকে সত্যে নিয়ে যাও; ‘আবিরাবীর্ম এধি’—হে প্রকাশস্বরূপ, আমার মধ্যে তোমার আবির্ভাব হোক। {{ফাঁক}}তা হলে দেখা যাচ্ছে, প্রকাশ হচ্ছে আপনাকে দান। আপনাকে দিতে গিয়ে তবে আপনাকে প্রকাশ করি, আপনাকে জানতে পাই। আপনাকে দেওয়া এবং আপনাকে জানা একসঙ্গেই ঘটে। নির্বাপিত প্রদীপ আপনাকে দেয় না, তাই আপনাকে পায় না। যে মানুষ নিজেকে সঞ্চয় ক’রে সকলের চেয়ে বড়ো হয় সেই প্রচ্ছন্ন, সেই অবরুদ্ধ; যে মানুষ নিজেকে দান ক’রে সকলের সঙ্গে এক হতে চায় সেই প্রকাশিত, সেই মুক্ত। {{ফাঁক}}সওগাদ, তার উপরে নানা রঙের চিত্র-করা রুমাল ঢাকা। যতক্ষণ রুমাল আছে ততক্ষণ দেওয়া হয় নি, ততক্ষণ সমস্ত জিনিসটা আমার নিজের দিকেই টানা। ততক্ষণ মনে হয়েছে, ঐ রুমালটাই মহামূল্য। ততক্ষণ আসল জিনিসের মানে পাওয়া গেল না, তার দাম বোঝা গেল না। যখন দান করবার সময় এল, রুমাল যখন খোলা গেল, তখনই আসলের সঙ্গে বিশ্বের পরিচয় হল, সব সার্থক হল। {{nop}}<noinclude>{{ডান|৬১}}</noinclude> 79x746jea1zd5z6lzr4wzrbxo3wq1iz পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭০ 104 884684 1995365 2026-08-23T13:16:06Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995365 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{ফাঁক}}আমাদের আত্মনিবেদন যখন পূর্ণ হয় তখনই নিজেকে সম্পূর্ণ পাই। নইলে আমার আপন-নামক যে বিচিত্র ঢাকাখানা আছে সেইটেই চরম বলে বোধ হয়, সেইটেকেই কোনোরকমে বাঁচাবার প্রাণপণ চেষ্টা মনে জাগতে থাকে। সেইটে নিয়েই যত ঈর্ষা, যত ঝগড়া, যত দুঃখ। যারা মূঢ় তারা সেইটেরই রঙ দেখে ভুলে যায়। নিজের যেটা সত্য রূপ সেইটেই হচ্ছে বিশ্বের সঙ্গে মিলনের রূপ। {{ফাঁক}}আজ নববর্ষের দিন আমাদের আশ্রমের ভিতরকার সত্যকে প্রত্যক্ষ করবার দিন। যে তপস্যা এখানে স্থান পেয়েছে তার সৃষ্টিশক্তিটি কী তা আমাদের জানতে হবে। এর বাইরের একটা ব্যবস্থা আছে, এর ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে, এর আইনকানুন চলছে, সে আমরা সকলে মিলে গড়ছি। কিন্তু এর নিজের ভিতরকার একটি তত্ত্ব আছে যা নিজেকে নিজে ক্রমশ উদ্‌ঘাটিত করছে, এবং সেই নিয়ত উদ্‌ঘাটিত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে তার সৃষ্টি। তাকে যদি আমরা স্পষ্ট করে দেখতে পাই তা হলেই আমাদের আত্মনিবেদনের উৎসাহ সম্পূর্ণ হতে পারে। সত্য যখন আমাদের কাছে অস্পষ্ট থাকে তখন আমাদের ত্যাগের ইচ্ছা বল পায় না। {{ফাঁক}}সত্য আমাদের ত্যাগ করতে আহ্বান করে। কেননা ত্যাগের দ্বারাই আমাদের আত্মপ্রকাশ হয়। আমাদের আশ্রমের মধ্যেও সেই আহ্বান পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। সেই আহ্বানকে আমরা ‘বিশ্বভারতী’ নাম দিয়েছি। {{nop}}<noinclude>{{বাম|৬২}}</noinclude> tsnwm08pww8h3sgtkar3rgyhpishqcw পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭১ 104 884685 1995366 2026-08-23T13:18:16Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995366 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{ফাঁক}}স্বজাতির নামে মানুষ আত্মত্যাগ করবে এমন একটি আহ্বান কয়েক শতাব্দী ধরে পৃথিবীতে খুব প্রবল হয়ে উঠেছিল। অর্থাৎ স্বজাতিই মানুষের কাছে এতদিন মনুষ্যত্বের সবচেয়ে বড়ো সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছিল। তার ফল হয়েছিল এই যে, এক জাতি অন্য জাতিকে শোষণ করে নিজে বড়ো হয়ে ওঠবার জন্যে পৃথিবী জুড়ে একটা দস্যুবৃত্তি চলছিল। এমনকি যেসব মানুষ স্বজাতির নামে জাল জালিয়াতি অত্যাচার নিষ্ঠুরতা করতে কুণ্ঠিত হয় নি, মানুষ নির্লজ্জভাবে তাদের নামকে নিজের ইতিহাসে সমুজ্জ্বল করে রেখেছে। অর্থাৎ যে ধর্মবিধি সর্বজনীন তাকেও স্বজাতির বেদীর কাছে অপমানিত করা মানুষ ধর্মেরই অঙ্গ বলে মনে করেছে। স্বজাতির গণ্ডিসীমার মধ্যে এই ত্যাগের চর্চা; এর আশুফল খুব লোভনীয় বলেই ইতিহাসে দেখা দিয়েছে। তার কারণ ত্যাগই সৃষ্টিশক্তি; সেই ত্যাগ যতটুকু পরিধির পরিমাণেই সত্য হয় ততটুকু পরিমাণেই সে সার্থকতা বিস্তার করে। এইজন্যে নেশনের ইতিহাসে ত্যাগের দৃষ্টান্ত মহদ্দৃষ্টান্ত বলেই সপ্রমাণ হয়েছে। {{ফাঁক}}কিন্তু সত্যকে সংকীর্ণ করে কখনোই মানুষ চিরকাল সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে না। এক জায়গায় এসে তাকে ঠেকতেই হবে। যদি কেবল উপরিতলের মাটি উর্বরা হয় তবে বনস্পতি দ্রুত বেড়ে ওঠে; কিন্তু অবশেষে তার শিকড় নীরস তলায় গিয়ে ঠেকে, তখন হঠাৎ একদিন তার<noinclude>{{ডান|৬৩}}</noinclude> a627rfyhi2xpkhkyld17t2jkcphmmqf পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭২ 104 884686 1995367 2026-08-23T13:20:42Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995367 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>ডালপালা মুষড়ে যেতে আরম্ভ করে। মানুষের কর্তব্যবুদ্ধি স্বজাতির সীমার মধ্যে আপন পূর্ণখাদ্য পায় না, তাই হঠাৎ একদিন সে আপনার প্রচুর ঐশ্বর্যের মাঝখানেই দারিদ্র্যে এসে উত্তীর্ণ হয়। তাই যে য়ুরোপ নেশনসৃষ্টির প্রধান ক্ষেত্র সেই য়ুরোপ আজ নেশনের বিভীষিকায় আর্ত হয়ে উঠেছে। {{ফাঁক}}যুদ্ধ এবং সন্ধির ভিতর দিয়ে যে নিদারুণ দুঃখ য়ুরোপকে আলোড়িত করে তুলেছে তার অর্থ হচ্ছে এই যে, নেশনরূপের মধ্যে মানুষ আপন সত্যকে আবৃত করে ফেলেছে; মানুষের আত্মা বলছে, ‘অপাবৃণু’— আবরণ উদ্‌ঘাটন করো। মনুষ্যত্বের প্রকাশ আচ্ছন্ন হয়েছে বলে স্বজাতির নামে পাপাচরণ সম্বন্ধে মানুষ এতদিন এমন স্পষ্ট ঔদ্ধত্য করতে পেরেছে, এবং মনে করতে পেরেছে যে, তাতে তার কোনো ক্ষতি হয় নি, লাভই হয়েছে। অবশেষে আজ নেশন যখন আপনার মুষল আপনি প্রসব করতে আরম্ভ করেছে তখন য়ুরোপে নেশন আপনার মূর্তি দেখে আপনি আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে। {{ফাঁক}}নূতন যুগের বাণী এই যে, আবরণ খোলো, হে মানব, আপন উদার রূপ প্রকাশ করো। আজ নববর্ষের প্রথম দিনে আমাদের আশ্রমের মধ্যে আমরা সেই নবযুগের বাণীকে অন্তরের মধ্যে গ্রহণ করব। আমাদের আশ্রমকে আজ আমরা সর্বপ্রকার ভেদবুদ্ধির আবরণ-মুক্ত করে দেখি, তা হলেই তার সত্যরূপ দেখতে পাব। {{nop}}<noinclude>{{বাম|৬৪}}</noinclude> jt7aq5319z3167n01htxi2avsg3yr3k পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭৩ 104 884687 1995368 2026-08-23T13:23:11Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995368 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{ফাঁক}}আমাদের এখানে নানা দেশ থেকে নানা জাতির অতিথি এসেছে। তারা যদি অন্তরের মধ্যে কোনো বাধা না পায় তবে তাদের এই আসার দ্বারাতেই আপনিই এখানে নবযুগের একটি মিলনতীর্থ তৈরি হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে নানা নদী এসে সমুদ্রে পড়েছে, সেই বহু নদীর সমুদ্রসংগম থেকেই বাংলাদেশ আপনি একটি বিশেষ প্রকৃতি লাভ করে তৈরি হয়ে উঠেছে। আমাদের আশ্রম যদি তেমনি আপন হৃদয়কে প্রসারিত করে দেয় এবং যদি এখানে আগন্তুকেরা সহজেই আপনার স্থানটি পায় তা হলে এই আশ্রম সকলের সেই সম্মিলনের দ্বারা আপনিই আপনার সত্যরূপকে লাভ করবে। তীর্থযাত্রীরা যে ভক্তি নিয়ে আসে, যে সত্যদৃষ্টি নিয়ে আসে, তার দ্বারাই তারা তীর্থস্থানকে সত্য করে তোলে। আমরা যারা এই আশ্রমে এসেছি, আমরা এখানে যে সত্যকে উপলব্ধি করব বলে শ্রদ্ধাপূর্বক প্রত্যাশা করি সেই শ্রদ্ধার দ্বারা সেই প্রত্যাশা দ্বারাই সেই সত্য এখানে সমুজ্জ্বল হয়ে প্রকাশ পাবে। আমরা এখানে কোন্ মন্ত্রের রূপ দেখব বলে নিয়ত প্রত্যাশা করব। সে মন্ত্র হচ্ছে এই যে—‘যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্’। দেশে দেশে আমরা মানুষকে তার বিশেষ স্বাজাতিক পরিবেষ্টনের মধ্যে খণ্ডিত করে দেখেছি, সেখানে মানুষকে আপন ব’লে উপলব্ধি করতে পারি নে। পৃথিবীর মধ্যে আমাদের এই আশ্রম এমন একটি জায়গা হয়ে উঠুক যেখানে ধর্ম ভাষা এবং জাতিগত সকল প্রকার<noinclude>{{ডান|৬৫}}</noinclude> 5ov6v3xn0k6b8nx433h53cn1lao7pvc পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭৪ 104 884688 1995369 2026-08-23T13:25:31Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995369 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>পার্থক্য সত্ত্বেও আমরা মানুষকে তার বাহ্যভেদমুক্তরূপে মানুষ বলে দেখতে পাই। সেই দেখতে পাওয়াই নূতন যুগকে দেখতে পাওয়া। সন্ন্যাসী পূর্বাকাশে প্রথম অরুণোদয় দেখবে বলে জেগে আছে। যখনই অন্ধকারের প্রান্তে আলোকের আরক্ত রেখাটি দেখতে পায় তখনই সে জানে যে, প্রভাতের জয়ধ্বজা তিমিররাত্রির প্রাকারের উপর আপন কেতন উড়িয়েছে। আমরা তেমনি করে ভারতের এই পূর্বপ্রান্তে এই প্রান্তরশেষে যেন আজ নববর্ষের প্রভাতে ভেদবাধার তিমির-মুক্ত মানুষের রূপ আমাদের এখানে সমাগত অতিথি বন্ধু সকলের মধ্যে উজ্জ্বল করে দেখতে পাই। সেই দেখতে পাওয়া থেকেই যেন মনের মধ্যে শ্রদ্ধা করতে পারি যে, মানবের ইতিহাসে নবযুগের অরুণোদয় আরম্ভ হয়েছে। {{Block left|{{কেন্দ্র|১ বৈশাখ ১৩৩০ শান্তিনিকেতন}} }}<noinclude>{{বাম|৬৬}}</noinclude> rq4cquztzreh6kh4i9mfhklyfjebiy2 1995376 1995369 2026-08-23T13:44:16Z Nettime Sujata 5470 1995376 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>পার্থক্য সত্ত্বেও আমরা মানুষকে তার বাহ্যভেদমুক্তরূপে মানুষ বলে দেখতে পাই। সেই দেখতে পাওয়াই নূতন যুগকে দেখতে পাওয়া। সন্ন্যাসী পূর্বাকাশে প্রথম অরুণোদয় দেখবে বলে জেগে আছে। যখনই অন্ধকারের প্রান্তে আলোকের আরক্ত রেখাটি দেখতে পায় তখনই সে জানে যে, প্রভাতের জয়ধ্বজা তিমিররাত্রির প্রাকারের উপর আপন কেতন উড়িয়েছে। আমরা তেমনি করে ভারতের এই পূর্বপ্রান্তে এই প্রান্তরশেষে যেন আজ নববর্ষের প্রভাতে ভেদবাধার তিমির-মুক্ত মানুষের রূপ আমাদের এখানে সমাগত অতিথি বন্ধু সকলের মধ্যে উজ্জ্বল করে দেখতে পাই। সেই দেখতে পাওয়া থেকেই যেন মনের মধ্যে শ্রদ্ধা করতে পারি যে, মানবের ইতিহাসে নবযুগের অরুণোদয় আরম্ভ হয়েছে। {{Block left|{{কেন্দ্র|{{smaller|১ বৈশাখ ১৩৩০}} শান্তিনিকেতন}} }}<noinclude>{{বাম|৬৬}}</noinclude> qu47k2ue9zqh3da3rhs3g2byngx8v9l পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭৫ 104 884689 1995370 2026-08-23T13:28:07Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995370 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|৮}} অল্প কিছুকাল হল কালিঘাটে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমাদের পুরোনো আদিগঙ্গাকে দেখলাম। তার মস্ত দুর্গতি হয়েছে। সমুদ্রে আনাগোনার পথ তার চিরদিনের মতো বন্ধ হয়ে গেছে। যখন এই নদীটির ধারা সজীব ছিল তখন কত বণিক আমাদের ভারত ছাড়িয়ে সিংহল গুজরাট ইত্যাদি দেশে নিজেদের বাণিজ্যের সম্বন্ধ বিস্তার করেছিল। এ যেন মৈত্রীর ধারার মতো মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনের বাধাকে দূর করেছিল। তাই এই নদী পুণ্যনদী বলে গণ্য হয়েছিল। তেমনি ভারতের সিন্ধু ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি যত বড়ো বড়ো নদনদী আছে সবগুলি সেকালে পবিত্র বলে গণ্য হয়েছিল। কেন। কেননা এই নদীগুলি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্বন্ধ স্থাপনের উপায়স্বরূপ ছিল। ছোটো ছোটো নদী তো ঢের আছে—তাদের ধারার তীব্রতা থাকতে পারে; কিন্তু না আছে গভীরতা, না আছে স্থায়িত্ব। তারা তাদের জলধারায় এই বিশ্বমৈত্রীর রূপকে ফুটিয়ে তুলতে পারে নি। মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনে তারা সাহায্য করে নি। সেইজন্য তাদের জন মানুষের কাছে তীর্থোদক হল না। যেখান দিয়ে বড়ো বড়ো নদী বয়ে গিয়েছে সেখানে কত বড়ো বড়ো নগর হয়েছে—সেসব দেশ সভ্যতার কেন্দ্রভূমি হয়ে<noinclude>{{ডান|৬৭}}</noinclude> 6q2ifbjlew1qmagy1la6nm190814e0w পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭৬ 104 884690 1995371 2026-08-23T13:30:29Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995371 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>উঠেছে। এইসব নদী বয়ে মানুষের জ্ঞানের সাধনার সম্পদ নানা জায়গায় গিয়েছে। আমাদের দেশের চতুষ্পাঠীতে অধ্যাপকেরা যখন জ্ঞান বিতরণ করেন, অধ্যাপকপত্নী তাদের অন্নপানের ব্যবস্থা করে থাকেন; এই গঙ্গাও তেমনি একসময়ে যেমন ভারতের সাধনার ক্ষেত্র ধীরে ধীরে বিস্তারিত করেছিল তেমনি আর-এক দিক দিয়ে সে তার ক্ষুধাতৃষ্ণা দূর করেছিল। সেই জন্য গঙ্গার প্রতি মানুষের এত শ্রদ্ধা। {{ফাঁক}}তা হলে আমরা দেখলাম, এই পবিত্রতা কোথায়? না, কল্যাণময় আহ্বানে ও সুযোগে মানুষ বড়ো ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে মিলেছে—আপনার স্বার্থবুদ্ধির গণ্ডির মধ্যে একা একা বদ্ধ হয়ে থাকে নি। এ ছাড়া নদীর জলের মধ্যে এমন কোনো ধর্ম নেই যাতে করে তা পবিত্র হতে পারে। {{ফাঁক}}কিন্তু যখনই তার ধারা লক্ষ্যভ্রষ্ট হল, সমুদ্রের সঙ্গে তার অবাধ সম্বন্ধ নষ্ট হল, তখনই তার গভীরতাও কমে গেল। গঙ্গা দেখলাম, কিন্তু চিত্ত খুশি হল না। যদিও এখনও লোকে তাকে শ্রদ্ধা করে, সেটা তাদের অভ্যাসমাত্র। জলে তার আর সেই পুণ্যরূপ নেই। আমাদের ভারতের জীবনেও ঠিক এই দশাই ঘটেছে। এক সময় পৃথিবীর সমস্ত দেশকে ভারত তার পুণ্যসাধনার পথে আহ্বান করেছিল, ভারতে সব দেশ থেকে লোক বড়ো সত্যকে লাভ করার জন্যে এসে মিলেছিল। ভারতও<noinclude>{{বাম|৬৮}}</noinclude> 9ym7d3z5myv1b65afks46c3f7wcfvzn পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭৭ 104 884691 1995372 2026-08-23T13:32:18Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995372 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>তখন নিজের শ্রেষ্ঠ যা তা সমস্ত বিশ্বে বিলিয়ে দিয়েছিল। সমস্ত বিশ্বের সঙ্গে নিজের যোগ স্থাপন করেছিল বলে ভারত পুণ্যক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। গয়া আমাদের কাছে পুণ্যক্ষেত্র কেন হল। না, তার কারণ বুদ্ধদেব এখানে তপস্যা করেছিলেন, আর সেই তাঁর তপস্যার ফল ভারত সমস্ত বিশ্বে বণ্টন করে দিয়েছে। যদি তার পরিবর্তন হয়ে থাকে, আজ যদি সে আর অমৃত-অন্ন পরিবেশনের ভার না নেয়, তবে গয়াতে আর কিছুমাত্র পুণ্য অবশিষ্ট নেই। কিছু আছে যদি মনে করি তো বুঝতে হবে, তা আমাদের আগেকার অভ্যাস। গয়ার পাণ্ডারা কি গয়াকে বড়ো করতে পারে, না তার মন্দির পারে? {{ফাঁক}}আমাদের এ কথা মনে রাখতে হবে, পুণ্যধর্ম মাটিতে বা হাওয়ায় নেই। চিন্তার দ্বারা, সাধনার দ্বারা পুণ্যকে সমর্থন করতে হবে। আমাদের আশ্রমে সে বাধা অনেক দূর হয়েছে। আপনা-আপনি বিদেশের অতিথিরা এখানে এসে তাঁদের আসন পাতছেন। তাঁরা বলছেন যে, তাঁরা এখানে এসে তৃপ্তি পেয়েছেন। এমনি করেই ভারতের গঙ্গা আমাদের আশ্রমের মধ্যে বইল। দেশবিদেশের অতিথিদের চলাচল হতে লাগল। তাঁরা আমাদের জীবনে জীবন মেলাচ্ছেন। এই আশ্রমকে অবলম্বন করে তাঁদের চিত্ত প্রসারিত হচ্ছে। এর চেয়ে আর সফলতা কিছু নেই। তীর্থে মানুষ উত্তীর্ণ হয় বলেই তার নাম তীর্থ। এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে এসে সকলে উত্তীর্ণ হয় না;<noinclude>{{ডান|৬৯}}</noinclude> bqsti7lg890r43duvavv2l8mk4q2lax পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭৮ 104 884692 1995373 2026-08-23T13:37:34Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995373 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>সমস্ত পথিক যেখানে আসে চলে যাবার জন্যে, থাকবার জন্যে নয়। যেমন কলকাতার বড়োবাজার—সেখানে এসে প্রীতি মেলে না, বিরাম মেলে না, সেখানে এসে যাত্রা শেষ হয় না; সেখানে লাভলোকসানের কথা ছাড়া আর কথা নেই। আমি কলকাতায় জন্মেছি—সেখানে আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছি না। সেখানে আমার বাড়ি আছে, তবু সেখানে কিছু নিজের আছে বলে মনে করতে পারছি না। মানুষ যদি নিজের সেই আশ্রয়টি খুঁজে না পেলে তো মনুমেণ্ট দেখে, বড়ো বড়ো বাড়িঘর দেখে তার কী হবে। ওখানে কার আহ্বান আছে। বণিকরাই কেবল সেখানে থাকতে পারে। ও তীর্থক্ষেত্র নয়। এ ছাড়া আমাদের যেগুলো তীর্থক্ষেত্র আছে সেখানে কী হয়। সেখানে যারা পুণ্যপিপাসু তারা পাণ্ডাদের পায়ে টাকা দিয়ে আসে। সেখানে তো সব দেশের মানুষ মেলবার জন্যে ভিতরকার আহ্বান পায় না। {{ফাঁক}}কাল একটি পত্র পেলাম। আমাদের সুরুলের পল্লীবিভাগের যিনি অধ্যক্ষ তিনি জাহাজ থেকে আমাকে চিঠি লিখেছেন। তিনি লিখেছেন যে, জাহাজের লোকেরা তাসখেলা ও অন্যান্য এত ছোটোখাটো আমোদপ্রমোদ নিয়ে দিন কাটায় যে তিনি বিস্মিত হয়ে আমাকে লিখেছেন যে, কেমন করে তারা এর মধ্যে থাকে। যে জীবনে কোনো বড়ো প্রকাশ নেই, ক্ষুদ্র কথায় যে জীবন ভরে উঠেছে, বিশ্বের দিকে যে জীবনের কোনো প্রবাহ নেই,<noinclude>{{বাম|৭০}}</noinclude> jxnkm43jvsjfmy8d9g1axzsi9r9yq9e পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৭৯ 104 884693 1995374 2026-08-23T13:41:20Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995374 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>তারা কেমন করে তার মধ্যে থাকে, কী করে তারা মনে তৃপ্তি পায়। {{ফাঁক}}শ্রীযুক্ত এল্‌ম্‌হার্‌স্‌ট এই-যে বেদনা অনুভব করেছেন তার কারণ কী। কারণ এই যে, তিনি আশ্রমে যে কার্যের ভার নিয়েছেন তাতে করে তাঁকে বৃহতের ক্ষেত্রে এসে দাঁড়াতে হয়েছে। তিনি তাঁর কর্মকে অবলম্বন করে সমস্ত গ্রামবাসীদের কল্যাণক্ষেত্রে এসে দাঁড়িয়েছেন। এ কাজ তাঁর আপনার স্বার্থের জন্যে নয়। তিনি সমস্ত গ্রামবাসীদের মানুষ বলে শ্রদ্ধা করে সকলের সঙ্গে মেলবার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে এ জায়গা তাঁর কাছে তীর্থ হয়ে উঠেছে। এই-যে আশেপাশের গরিব অজ্ঞ, এদের মধ্যে যাবার তিনি পথ পেয়েছিলেন। সেইজন্যে তাঁর সঙ্গে যেসমস্ত বড়ো বড়ো ধনী ছিলেন—তাঁদের কেউ-বা জজ, কেউ-বা ম্যাজিস্ট্রেট—তাঁদের তিনি মনে মনে অত্যন্ত অকৃতার্থ বলে বুঝতে পেরেছিলেন। তাঁরা এখানে প্রভূত ক্ষমতা পেলেও, সমস্ত দেশবাসীর সহিত অব্যাহত মিলনের পথটি খুঁজে পান নি। তাঁরা ভারতে কোনো তীর্থে এসে পৌঁছলেন না। তাঁদের কেউ-বা রাজতক্তায় এসে ঠেকলেন, কেউ-বা লোহার সিন্ধুকে এসে ঠেকলেন, তাঁরা পুণ্যতীর্থে এসে ঠেকলেন না। আমাদের সাহেব সুরুলে এসে এর তীর্থের রূপটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। আমরা এখানে থেকেও যদি সেটি উপলব্ধি করতে না পারি তবে আমাদের মতো অকৃতার্থ<noinclude>{{ডান|৭১}}</noinclude> aepqjo1ekivrl73ifufiof0xsoqzhjs পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮০ 104 884694 1995375 2026-08-23T13:43:55Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995375 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>আর কেউ নেই। তাই বলছি, আমাদের এখানে কর্মের মধ্যে, এর জ্ঞানের সাধনার মধ্যে যেন কল্যাণকে উপলব্ধি করতে পারি। এ জায়গা শুধু পাঠশালা নয়, এই জায়গা তীর্থ। দেশবিদেশ থেকে লোকেরা এখানে এসে যেন বলতে পারে—আ বাঁচলাম, আমরা ক্ষুদ্র সংসারের বাইরে এসে বিশ্বের ও বিশ্বদেবতার দর্শন লাভ করলাম। {{Block left|{{কেন্দ্র|{{smaller|৫ বৈশাখ ১৩৩০}} শাস্তিনিকেতন}}}}<noinclude>{{বাম|৭২}}</noinclude> sy4bsqf6s8vrkdptyw13gasjzf6jgi6 1995387 1995375 2026-08-23T14:46:33Z BabulB 2144 1995387 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>আর কেউ নেই। তাই বলছি, আমাদের এখানে কর্মের মধ্যে, এর জ্ঞানের সাধনার মধ্যে যেন কল্যাণকে উপলব্ধি করতে পারি। এ জায়গা শুধু পাঠশালা নয়, এই জায়গা তীর্থ। দেশবিদেশ থেকে লোকেরা এখানে এসে যেন বলতে পারে—আ বাঁচলাম, আমরা ক্ষুদ্র সংসারের বাইরে এসে বিশ্বের ও বিশ্বদেবতার দর্শন লাভ করলাম। {{Block left|{{কেন্দ্র|{{smaller|৫ বৈশাখ ১৩৩০}} শান্তিনিকেতন}}}}<noinclude>{{বাম|৭২}}</noinclude> 7xleefc64uipy02n8jsssahmnkfhepi পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮১ 104 884695 1995377 2026-08-23T13:47:03Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995377 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|৯}} আমাদের অভাব বিস্তর, আমাদের নালিশের কথাও অনেক আছে। সেই অভাবের বোধ জাগাবার ও দূর করবার জন্যে, নালিশের বৃত্তান্ত বোঝাবার ও তার নিষ্পত্তি করবার জন্যে যারা অকৃত্রিম উৎসাহ ও প্রাজ্ঞতার সঙ্গে চেষ্টা করছেন তাঁরা দেশের হিতকারী; তাঁদের ’পরে আমাদের শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ণ থাক্। {{ফাঁক}}কিন্তু কেবলমাত্র অপমান ও দারিদ্র্যের দ্বারা দেশের আত্মপরিচয় হয় না, তাতে আমাদের প্রচ্ছন্ন করে। ঘে নক্ষত্রের আলোক নিবে গেছে অন্ধকারই তার পক্ষে একমাত্র অভিশাপ নয়, নিখিল জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর মধ্যে তার অপ্রকাশই হচ্ছে তার সবচেয়ে বড়ো অবমাননা। অন্ধকার তাকে কেবল আপনার মধ্যেই বন্ধ করে, আলোক তাকে সকলের সঙ্গে যোগযুক্ত করে রাখে। {{ফাঁক}}ভারতের যেখানে অভাব যেখানে অপমান সেখানে সে বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন। এই অভাবই যদি তার একান্ত হত, ভারত যদি মধ্য-আফ্রিকা-খণ্ডের মতো সত্যই দৈন্যপ্রধান হত, তা হলে নিজের নিরবচ্ছিন্ন কালিমার মধ্যেই অব্যক্ত হয়ে থাকা ছাড়া তার আর গতি ছিল না। {{ফাঁক}}কিন্তু কৃষ্ণপক্ষই ভারতের একমাত্র পক্ষ নয়, শুক্লপক্ষের আলোক থেকে বিধাতা তাকে বঞ্চিত করেন নি। সেই<noinclude>{{ডান|৭৩}}</noinclude> pisfmajlhrllnzd1q3i2omk5fic4mjk পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮২ 104 884696 1995378 2026-08-23T13:50:02Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995378 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>আলোকের যোগেই সে আপন পূর্ণিমার গৌরব নিখিলের কাছে উদ্‌ঘাটিত করবার অধিকারী। {{ফাঁক}}বিশ্বভারতী ভারতের সেই আলোকসম্পদের বার্তা বহন ও ঘোষণ করবার ভার নিয়েছে। যেখানে ভারতের অমাবস্যা সেখানে তার কার্পণ্য। কিন্তু একমাত্র সেই কার্পণ্যকে স্বীকার করেই কি সে বিশ্বের কাছে লজ্জিত হয়ে থাকবে। যেখানে তার পূর্ণিমা সেখানে তার দাক্ষিণ্য থাকা চাই তো। এই দাক্ষিণ্যেই তার পরিচয়, সেইখানেই নিখিল বিশ্ব তার নিমন্ত্রণ স্বীকার করে নেবেই। {{ফাঁক}}যার ঘরে নিমন্ত্রণ চলে না সেই তো একঘরে, সমাজে সেই চিরলাঞ্ছিত। আমরা বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে বলতে চাই, ভারতে বিশ্বের সেই নিমন্ত্রণ বন্ধ হবার কারণ নেই। যারা অবিশ্বাসী, যারা একমাত্র তার অভাবের দিকেই সমস্ত দৃষ্টি রেখেছে, তারা বলে, যতক্ষণ না রাজ্যে স্বাতন্ত্র্য, বাণিজ্যে সমৃদ্ধি লাভ করব ততক্ষণ অবজ্ঞা করে ধনীরা আমাদের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করবেই না। কিন্তু এমন কথা বলায় শুধু স্বদেশের অপমান তা নয়, এতে সর্বমানবের অপমান। বুদ্ধদেব যখন অকিঞ্চনতা গ্রহণ করেই সত্য প্রচারের ভার নিয়েছিলেন তখন তিনি এই কথাই সপ্রমাণ করেছিলেন যে, সত্য আত্মমহিমাতেই গৌরবান্বিত। সূর্য আপন আলোকেই স্বপ্রকাশ; স্যাকরার দোকানে সোনার গিল্টি না করালে তার মূল্য হবে না, ঘোরতর বেনের মুখেও এ কথা শোভা পায় না। {{nop}}<noinclude>{{বাম|৭৪}}</noinclude> mi5rlghwvlwpsy189ow04t94xa6ydtr পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮৩ 104 884697 1995380 2026-08-23T13:55:07Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995380 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{ফাঁক}}যে স্বদেশাভিমান আমরা পশ্চিমের কাছ থেকে ধার করে নিয়েছি তারই মধ্যে রাজ্যবাণিজ্যগত সম্পদের প্রতি একান্ত বিশ্বাসপরতার অশুচিতা রয়ে গেছে। সেইজন্যেই আজকের দিনে ভারতবাসীও এমন কথাও বলতে লজ্জা বোধ করে না যে, রাষ্ট্রীয় গৌরব সর্বাগ্রে, তার পরে সত্যের গৌরব। কোনো কোনো পাশ্চাত্য মহাদেশে দেখে এসেছি, ধনের অভিমানেই সেখানকার সমস্ত শিক্ষা দীক্ষা সাধনাকে রাহুগ্রস্ত করে রেখেছে। সেখানে বিপুল ধনের ভারাকর্ষণে মানুষের মাথা মাটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। পশ্চিমকে খোঁটা দিয়ে স্বজাতিদম্ভ প্রকাশ করবার বেলায় আমরা যে মুখে সর্বদাই পশ্চিমের এই বস্তুলুব্ধতার নিন্দা করে থাকি সেই মুখেই যখন সত্যসম্পদকে শক্তিসম্পদের পশ্চাদ্‌বর্তী করে রাখবার প্রস্তাব করে থাকি তখন নিশ্চয়ই আমাদের অশুভগ্রহ কুটিল হাস্য করে। যেমন কোনো কোনো শুচিতাভিমানী ব্রাহ্মণ অপাংক্তেয়ের বাড়িতে যে মুখে আহার করে আসে বাইরে এসে সেই মুখেই তার নিন্দা করে, এও ঠিক সেইমতো। {{ফাঁক}}বিশ্বভারতীর কণ্ঠ দিয়ে এই কথাই আমরা বলতে চাই যে, ভারতবর্ষে সত্যসম্পদ বিনষ্ট হয় নি। না যদি হয়ে থাকে তা হলে সত্যের দায়িত্ব মানতেই হবে। ধনবানের ধন ধনীর একমাত্র নিজের হতে পারে, কিন্তু সত্যবানের সত্য বিশ্বের। সত্যলাভের সঙ্গে সঙ্গেই তার নিমন্ত্রণপ্রচার আছেই। ঋষি যখনই বুঝলেন ‘বেদাহমেতম্’—<noinclude>{{ডান|৭৫}}</noinclude> dmuk2h7cxbs4spdbyn24v890zxcf7id পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮৪ 104 884698 1995381 2026-08-23T13:57:18Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995381 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>আমি একে জেনেছি, তখনই তাঁকে বলতে হল, ‘শৃণ্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রাঃ’—তোমরা অমৃতের পুত্র, তোমরা সকলে শুনে যাও। {{ফাঁক}}তোমরা সকলে শুনে যাও, পিতামহদের এই নিমন্ত্রণবাণী যদি আজ ভারতবর্ষে নীরব হয়ে থাকে তবে সাম্রাজ্যে স্বাধীনতা, বাণিজ্যে সমৃদ্ধি, কিছুতেই আমাদের আর গৌরব দিতে পারে না। ভারতে সত্যধন যদি লুপ্ত হয়ে থাকে তবেই বিশ্বের প্রতি তার নিমন্ত্রণের অধিকারও লুপ্ত হয়ে গেছে। আজকের দিনে যারা ভারতের নিমন্ত্রণে বিশ্বাস করে না তারা ভারতের সত্যেও বিশ্বাস করে না। আমরা বিশ্বাস করি। বিশ্বভারতী সেই বিশ্বাসকে আমাদের স্বদেশবাসীর কাছে প্রকাশ করুক ও সর্বদেশবাসীর কাছে প্রচার করুক। বিশ্বভারতীতে ভারতের নিমন্ত্রণবাণী বিশ্বের কাছে ঘোষিত হোক। বিশ্বভারতীতে ভারত আপনার সেই সম্পদকে উপলব্ধি করুক, যে সম্পদকে সর্বজনের কাছে দান করার দ্বারাই লাভ করা যায়। {{বাম|{{ফাঁক}}প্র. পৌষ ১৩৩০}}<noinclude>{{বাম|৭৬}}</noinclude> 7q9nusqy87wax76h4rfca739rbd7h29 1995382 1995381 2026-08-23T13:57:50Z Nettime Sujata 5470 1995382 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>আমি একে জেনেছি, তখনই তাঁকে বলতে হল, ‘শৃণ্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রাঃ’—তোমরা অমৃতের পুত্র, তোমরা সকলে শুনে যাও। {{ফাঁক}}তোমরা সকলে শুনে যাও, পিতামহদের এই নিমন্ত্রণবাণী যদি আজ ভারতবর্ষে নীরব হয়ে থাকে তবে সাম্রাজ্যে স্বাধীনতা, বাণিজ্যে সমৃদ্ধি, কিছুতেই আমাদের আর গৌরব দিতে পারে না। ভারতে সত্যধন যদি লুপ্ত হয়ে থাকে তবেই বিশ্বের প্রতি তার নিমন্ত্রণের অধিকারও লুপ্ত হয়ে গেছে। আজকের দিনে যারা ভারতের নিমন্ত্রণে বিশ্বাস করে না তারা ভারতের সত্যেও বিশ্বাস করে না। আমরা বিশ্বাস করি। বিশ্বভারতী সেই বিশ্বাসকে আমাদের স্বদেশবাসীর কাছে প্রকাশ করুক ও সর্বদেশবাসীর কাছে প্রচার করুক। বিশ্বভারতীতে ভারতের নিমন্ত্রণবাণী বিশ্বের কাছে ঘোষিত হোক। বিশ্বভারতীতে ভারত আপনার সেই সম্পদকে উপলব্ধি করুক, যে সম্পদকে সর্বজনের কাছে দান করার দ্বারাই লাভ করা যায়। {{বাম|{{ফাঁক}}{{smaller|প্র. পৌষ ১৩৩০}}}}<noinclude>{{বাম|৭৬}}</noinclude> m05fkm3hl0mdzacxkzq18hyp3hx1gfi পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮৫ 104 884699 1995383 2026-08-23T14:00:20Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995383 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|১০}} আমি যখন এই শান্তিনিকেতনে বিদ্যালয় স্থাপন করে এখানে ছেলেদের আনলুম তখন আমার নিজের বিশেষ কিছু দেবার বা বলবার মতো ছিল না। কিন্তু আমার একান্ত ইচ্ছা ছিল যে, এখানকার এই প্রভাতের আলো, শ্যামল প্রান্তর, গাছপালা যেন শিশুদের চিত্তকে স্পর্শ করতে পারে। কারণ প্রকৃতির সাহচর্যে তরুণ চিত্তে আনন্দসঞ্চারের দরকার আছে; বিশ্বের চারি দিককার রসাস্বাদ করা ও সকালের আলো সন্ধ্যার সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করার মধ্য দিয়ে শিশুদের জীবনের উন্মেষ আপনার থেকেই হতে থাকে। আমি চেয়েছিলুম যে তারা অনুভব করুক যে, বসুন্ধরা তাদের ধাত্রীর মতো কোলে করে মানুষ করছে। তারা শহরের যে ইঁটকাঠপাথরের মধ্যে বর্ধিত হয় সেই জড়তার কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দিতে হবে। এই উদ্দেশ্যে আমি আকাশ-আলোর অঙ্কশায়ী উদার প্রান্তরে এই শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করেছিলুম। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, শান্তিনিকেতনের গাছপালাপাখিই এদের শিক্ষার ভার নেবে। আর সেইসঙ্গে কিছু কিছু মানুষের কাছ থেকেও এরা শিক্ষা লাভ করবে। কারণ, বিশ্বপ্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে যে শিক্ষা দেবার ব্যবস্থা আছে তাতে করে শিশুচিত্তের বিষম ক্ষতি হয়েছে।<noinclude>{{ডান|৭৭}}</noinclude> dqu777041lbilva4r31b119ffznco5m নির্ঘণ্ট:ভক্তিতত্ত্ব সার (১৮৬৮).pdf 102 884700 1995384 2026-08-23T14:01:48Z Bodhisattwa 2549 "" দিয়ে পাতা তৈরি 1995384 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q141156359 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=1 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} q8gwtdmh92aof6y66gshe7fizdjjuhk নির্ঘণ্ট:ভক্তিতত্ত্ব সার (১৮৬৭).pdf 102 884701 1995385 2026-08-23T14:09:00Z Bodhisattwa 2549 "" দিয়ে পাতা তৈরি 1995385 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q141156377 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=1 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} sr66uq1v6n01z0j9ay6lfwos0rp3hzh লেখক:কামিনীকুমার মুখোপাধ্যায় 100 884702 1995386 2026-08-23T14:27:08Z Bodhisattwa 2549 "{{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-India}}" দিয়ে পাতা তৈরি 1995386 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-India}} kzijlajw0x8y0roj6h1yqedm4fjroyi 1995393 1995386 2026-08-23T15:36:04Z Bodhisattwa 2549 1995393 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === অন্যান্য === * ''অন্যান্য'' {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q141156505|label = ''[[d:Q141156505|কবিতাকুসুমাবলী]]''|p98 = [[লেখক:ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]]|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:কবিতাকুসুমাবলী_-_কামিনীকুমার_মুখোপাধ্যায়_(১৮৭২).pdf|p577 = 1872}}{{Talikak list end}} {{PD-India}} mb8k3txiqnh0336q7q98ezgtzjbswck নির্ঘণ্ট:কবিতাকুসুমাবলী - কামিনীকুমার মুখোপাধ্যায় (১৮৭২).pdf 102 884703 1995388 2026-08-23T14:49:03Z Bodhisattwa 2549 "" দিয়ে পাতা তৈরি 1995388 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q141156505 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=1 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} k3cx3fzalssew7adtsex6zsbydrz1wq পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮৭ 104 884704 1995391 2026-08-23T15:29:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995391 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>উপচে উঠেছে, এই ব্যাপারটি বহুমূল্য। এই হাসিগান-আনন্দে গল্পে ভিতরে ভিতরে তাদের মনের পরিপুষ্টি হয়েছে। অভিভাবকেরা হয়তো তা বুঝবেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষকেরা হয়তো তার জন্য পাশের নম্বর দিতে রাজি হবেন না, কিন্তু আমি জানি এ অতি আদরণীয়। প্রকৃতির কোলে থেকে সরস্বতীকে মাতৃরূপে লাভ করা, এ পরম সৌভাগ্যের কথা। এমনি করে আমার বিদ্যালয়ের সূত্রপাত হল। {{ফাঁক}}তার পর একটি দ্বার খুলে যাওয়াতে ভিতরের কপাটগুলি উদ্‌ঘাটিত হতে লাগল। আসলে খোলবার জিনিস একটি, কিন্তু পাবার জিনিস বহু। কিন্তু প্রথম দ্বারটি বন্ধ থাকলে ভিতরে প্রবেশ করবার উপায় থাকে না। প্রকৃতির আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হবার মধ্যে যে কৃত্রিম শিক্ষা সেটাই হল গোড়াকার সেই বন্ধনদশা যা ছিন্ন না করলে রসভাণ্ডারে প্রবেশ করা দুঃসাধ্য। তাই মানুষের মুক্তির উপায় হচ্ছে, প্রকৃতিকে ধাত্রী বলে স্বীকার করে নিয়ে তাঁরই আশ্রয়ে শিক্ষকতা লাভ করা। এই মুক্তির আদর্শ নিয়েই এই শিক্ষাকেন্দ্রের পত্তন হল। {{ফাঁক}}এখানকার এই মুক্ত বায়ুতে আমরা যে মুক্তি পেয়ে গেলুম আজ তা গর্ব করে বলবার আছে। এতে করে আমাদের যে কত বন্ধনদশা ঘুচল, কত যে সংকীর্ণ সংস্কার দূর হল, তা বলে শেষ করা যায় না। এখানে আমরা সব মানুষকে আপনার বলে স্বীকার করতে শিখেছি, এখানে<noinclude>{{ডান|৭৯}}</noinclude> 1kgohtsy1zi71u4oeja3esj803stptg পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮৬ 104 884705 1995392 2026-08-23T15:31:29Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995392 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>এই যোগবিচ্ছেদের দ্বারা যে স্বাতন্ত্র্যের সৃষ্টি হয় তাতে করে মানুষের অকল্যাণ হয়েছে। পৃথিবীতে এই দুর্ভাগ্য অনেক দিন থেকে চলে এসেছে। তাই আমার মনে হয়েছিল যে, বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে যোগস্থাপন করবার একটি অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এমনি করে এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয়। {{ফাঁক}}তখন আমার নিজের সহায় সম্বল কিছু ছিল না, কারণ আমি নিজে বরাবর ইস্কুলমাস্টারকে এড়িয়ে চলেছি। বই-পড়া বিদ্যা ছেলেদের শেখাব এমন দুঃসাহস ছিল না। কিন্তু আমাকে বাল্যকাল থেকে বিশ্বপ্রকৃতির বাণী মুগ্ধ করেছিল, আমি তার সঙ্গে একান্ত আত্মীয়তার যোগ অনুভব করেছি। বই পড়ার চেয়ে যে তার কত বেশি মূল্য, তা যে কতখানি শক্তি ও প্রেরণা দান করে, তা আমি নিজে জানি। আমি কতদিন একা মাসের পর মাস বুনো হাঁসের পাড়ায় জীবন যাপন করেছি। এই বালুচরদের সঙ্গে জীবনযাপনকালে প্রকৃতির যা-কিছু দান তা আমি যতই অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করেছি ততই আমি পেয়েছি, আমার চিত্ত ভরপুর হয়ে গেছে। তাই শিশুরা যে এখানে আনন্দে দৌড়চ্ছে, গাছে চড়ছে, কলহাস্যে আকাশ মুখর করে তুলছে— আমার মনে হয়েছে যে, এরা এমন-কিছু লাভ করেছে যা দুর্লভ। তাদের বিস্তার কী মার্কা মারা হল এটাই সবচেয়ে বড়ো কথা নয়; কিন্তু তাদের চিত্তের পেয়ালা বিশ্বের অমৃতরসে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে, আনন্দে<noinclude>{{বাম|৭৮}}</noinclude> s240du75e41051pg7wjmok6nmomkcdm পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮৮ 104 884706 1995394 2026-08-23T15:40:38Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995394 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>মানুষের পরস্পরের সম্বন্ধ ক্রমশ সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। {{ফাঁক}}এটি যে পরম সৌভাগ্যের কথা তা আমাদের জানতে হবে। কারণ এ কথা আগেই বলেছি যে, মানুষের মধ্যে একটি মস্ত পীড়া হচ্ছে, তার লোকালয়ে একান্তভাবে অবরোধ। বিশ্বপ্রকৃতির থেকে বিচ্ছেদ তার চিত্তশক্তিকে খর্ব করে দিচ্ছে। কিন্তু তার চেয়েও মানুষের মধ্যে আর-একটি অস্বাভাবিকতা আছে, তা হচ্ছে এই যে, মানুষই মানুষের পরম শত্রু। এটি খুব সাংঘাতিক কথা। এর মধ্যে যে তার কতখানি চিত্তসংকোচ আছে তা আমরা অভ্যাসবশত জানতে পারি না। স্বাজাত্যের দম্ভে আমরা কোণঠেসা হয়ে গেছি, বিশ্বের বিস্তীর্ণ অধিকারে আপনাদের বঞ্চিত করেছি। এই ভীষণ বাধাকে অপসারিত করতে হবে; আমাদের জানতে হবে যে, যেখানে মানুষের চিত্তসম্পদ আছে সেখানে দেশবিদেশের ভেদ নেই, ভৌগোলিক ভাগবিভাগ নেই। পর্বত অরণ্য মরু, এরা মানুষের আত্মাকে কারারুদ্ধ করতে পারে না। {{ফাঁক}}বাংলার যে মাটির ফসলে ধান হচ্ছে, যে মাটিতে গাছ বেড়ে উঠছে, সেই উপরিতলের মাটি হল বাংলাদেশের; কিন্তু এ কথা জানতে হবে যে, নিচেকার ভূমি পৃথিবীর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত আছে, সুতরাং এ জায়গায় সমস্ত বিশ্বের সঙ্গে তার গভীরতম নাড়ির যোগ। এই তার ধাত্রীভূমিটি যদি সার্বভৌমিক না হত তবে এমন করে বাংলার শ্যামলতা<noinclude>{{বাম|৮০}}</noinclude> dblehrlmapf1rjyak093liirjjgfers পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৮৯ 104 884707 1995395 2026-08-23T15:42:51Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995395 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>দেখা দিত না। মাটি তুলে নিয়ে টবের ছোটো জায়গাতেও তো গাছ লাগানো যায়, কিন্তু তাতে করে যথেষ্ট ফল লাভ হয় না। বড়ো জায়গার যে মাটি তাতেই যথার্থ ফসল উৎপন্ন হয়। ঠিক তেমনি অন্তরের ক্ষেত্রে আমরা যেখানে বিশ্বকে অস্বীকার করছি, বলছি যে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও বড়ো হওয়া যায়, সেখানেই আমরা মস্ত ভুল করছি। {{ফাঁক}}পৃথিবীতে যেখানে সভ্যতার নানা ধারা এসে মিলিত হয়েছে সেখানেই জ্ঞানের তীর্থভূমি বিরচিত হয়েছে। সেখানে নানা দিক থেকে নানা জাতির সমাবেশ হওয়াতে একটি মহামিলন ঘটেছে। গ্রীস রোম প্রভৃতি বড়ো সভ্যতার মধ্যে নানা জ্ঞানধারার সম্মিলন ছিল, তাই তা একঘরে হয়ে ইতিহাসে প্রচ্ছন্ন হয়ে থাকে নি। ভারতবর্ষের সভ্যতাতেও তেমনি আর্য দ্রাবিড় পারসিক প্রভৃতি নানা বিচিত্র জাতির মিলন হয়েছিল। আমাদের এই সমন্বয়কে মানতে হবে। পৃথিবীর ইতিহাসে যারা বর্বর তারাই সবচেয়ে স্বতন্ত্র; তারা নূতন লোকদের স্বদেশে প্রবেশ করতে দেয় নি, বর্ণ ভাষা প্রভৃতির বৈষম্য যখনই দেখেছে তখনই তা দোষের বলে বিষবাণ প্রয়োগ করে মারতে গিয়েছে। {{ফাঁক}}আজকার দিনে বিশ্বমানবকে আপনার বলে স্বীকার করবার সময় এসেছে। আমাদের অন্তরের অপরিমেয় প্রেম ও জ্ঞানের দ্বারা এই কথা জানতে হবে যে, মানুষ শুধু<noinclude>{{ডান|৮১}}</noinclude> 9yo2i2ukrqr4gwc5cnk1eor4ob683ut লেখক:রামরত্ন ভট্টাচার্য 100 884708 1995396 2026-08-23T15:51:39Z Bodhisattwa 2549 "{{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-old}}" দিয়ে পাতা তৈরি 1995396 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-old}} l9713gmspii2pfr7op9ty60r90f99gu 1995409 1995396 2026-08-23T16:06:29Z Bodhisattwa 2549 1995409 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === অনুবাদকর্ম === {{লেখক রচনা সারি|work = ''[[d:Q141157899|ভগবতী গীতা]]''|item = Q141157899|originalauthor = [[লেখক:কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস|কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস]]}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q141157856|label = ''[[d:Q141157856|ভগবতী গীতা]]''|p655 = [[লেখক:রামরত্ন ভট্টাচার্য|রামরত্ন ভট্টাচার্য]]|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:ভগবতী_গীতা_-_রামরত্ন_ভট্টাচার্য_(১৮২১).pdf|p577 = 1821}}{{Talikak list end}} {{PD-old}} k44y31r94o4nhzlmnzm97eh2p20qd84 নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প/ক্ষুদিরাম 0 884709 1995398 2026-08-23T15:55:41Z BabulB 2144 "<pages index="নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf" from=63 to=78 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1995398 wikitext text/x-wiki <pages index="নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf" from=63 to=78 header=1/> stuz5ngrwvzpqore5x9z2a28bx4lshh নির্ঘণ্ট:ভগবতী গীতা - রামরত্ন ভট্টাচার্য (১৮২১).pdf 102 884710 1995401 2026-08-23T16:00:13Z Bodhisattwa 2549 "" দিয়ে পাতা তৈরি 1995401 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q141157856 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=3 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} p6wcxbth82ae0hsfe9z7610xo3o7bx3 1995408 1995401 2026-08-23T16:05:50Z Bodhisattwa 2549 1995408 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q141157856 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=4 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} qj48vaprpjhvko6kagoge00k9nz110m বিশ্বভারতী/৭ 0 884711 1995410 2026-08-23T16:06:32Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=67 to=74 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1995410 wikitext text/x-wiki <pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=67 to=74 header=1/> sih0jnlhtcsrk3gfkjk0qboz7p5rfwt বিশ্বভারতী/৮ 0 884712 1995411 2026-08-23T16:06:55Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=75 to=80 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1995411 wikitext text/x-wiki <pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=75 to=80 header=1/> kgp56gt8pypyd6x3o1uxpuzobhxy0cr বিশ্বভারতী/৯ 0 884713 1995412 2026-08-23T16:07:16Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=81 to=84 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1995412 wikitext text/x-wiki <pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=81 to=84 header=1/> a9khkc9h758m16bwse3olefo03iv55b পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯০ 104 884714 1995413 2026-08-23T16:09:26Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995413 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>কোনো বিশেষ জাতির অন্তর্গত নয়; মানুষের সবচেয়ে বড়ো পরিচয় হচ্ছে, সে মানুষ। আজকার দিনে এই কথা বলবার সময় এসেছে যে, মানুষ সর্বদেশের সর্বকালের। তার মধ্যে কোনো জাতীয়তা বা বর্ণভেদ নেই। সেই পরিচয়সাধন হয় নি বলেই মানুষ আজ অপরের বিত্ত আহরণ করে বড়ো হতে চায়। সে আপনাকে মারছে, অন্যকে মারতে তার হাত কম্পিত হচ্ছে না—সে এতবড়ো অপকর্ম করতে সাহস পাচ্ছে। {{ফাঁক}}ভারতবর্ষ তার জাতরক্ষা করবার সপক্ষে কি পাশ্চাত্য দেশের নজির টেনে আনবে। আমরা কি এ কথা ভুলে গেছি যে, য়ুরোপ ও আমেরিকা আপন আপন ন্যাশনালিজমের ভিত্তিপত্তন করে যে বিরাট প্রাচীর নির্মাণ করেছে আমাদের দেশে তেমন ভিত্তিপত্তন কখনও হয় নি। ভারতবর্ষ এই কথা বলেছিল যে, যিনি বিশ্বকে আপনার বলে উপলব্ধি করতে পেরেছেন তিনিই যথার্থ সত্যকে লাভ করেছেন। তিনি অপ্রকাশ থাকেন না; ‘ন ততো বিজুগুপ্সতে’, তিনি সর্বলোকে সর্বকালে প্রকাশিত হন। কিন্তু যারা অপ্রকাশ, যারা অন্যকে স্বীকার করল না, তারা কখনও বড়ো হতে পারল না, ইতিহাসে তারা কোনো বড়ো সত্যকে রেখে যেতে পারল না। তাই কার্থেজ ইতিহাসে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কার্থেজ বিশ্বের সমস্ত ধনরত্ন দোহন করতে চেয়েছিল। সুতরাং সে এমন-কিছু সম্পদ রেখে যায় নি যার দ্বারা ভবিষ্যৎ যুগের মানুষের পাথেয়<noinclude>{{বাম|৮২}}</noinclude> 1unokyuoy14iabskjusrxjiyqdslqwp পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯১ 104 884715 1995414 2026-08-23T16:12:22Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995414 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>রচনা হয়। তাই ভেনিসও কোনো বাণী রেখে যেতে পারল না। সে কেবলই বেনের মতো নিয়েছে, জমিয়েছে, কিছুই দিয়ে যেতে পারল না। কিন্তু মানুষ যখনই বিশ্বে আপনার জ্ঞানের ও প্রেমের অধিকার বিস্তৃত করতে পেরেছে তখনই সে আপন সত্যকে লাভ করেছে, বড়ো হয়েছে। {{ফাঁক}}প্রথমে আমি শান্তিনিকেতনে বিদ্যালয় স্থাপন করে এই উদ্দেশ্যে ছেলেদের এখানে এনেছিলুম যে, বিশ্বপ্রকৃতির উদার ক্ষেত্রে আমি এদের মুক্তি দেব। কিন্তু ক্রমশ আমার মনে হল যে, মানুষে মানুষে যে ভীষণ ব্যবধান আছে তাকে অপসারিত করে মানুষকে সর্বমানবের বিরাট লোকে মুক্তি দিতে হবে। আমার বিদ্যালয়ের পরিণতির ইতিহাসের সঙ্গে সেই আন্তরিক আকাঙ্ক্ষাটি অভিব্যক্ত হয়েছিল। কারণ বিশ্বভারতী নামে যে প্রতিষ্ঠান তা এই আহ্বান নিয়ে স্থাপিত হয়েছিল যে, মানুষকে শুধু প্রকৃতির ক্ষেত্রে নয়, কিন্তু মানুষের মধ্যে মুক্তি দিতে হবে। নিজের ঘরের নিজের দেশের মধ্যে যে মুক্তি তা হল ছোটো কথা; তাতে করে সত্য খণ্ডিত হয়, আর সেজন্যই জগতে অশান্তির সৃষ্টি হয়। ইতিহাসে বারে বারে পদে পদে এই সত্যের বিচ্যুতি হয়েছে বলে মানুষ পীড়িত হয়েছে, বিদ্রোহানল জ্বালিয়েছে। মানুষে মানুষে যে সত্য, ‘আত্মবৎ সর্বভূতেষু যঃ পশ্যতি স পশ্যতি’, এই কথার মধ্যে যে বিশ্বজনীন সত্য আছে তা মানুষ মানে নি, স্বদেশের গণ্ডিতে আপনাদের আবদ্ধ<noinclude>{{ডান|৮৩}}</noinclude> aamtswsm8tu4qadb934rnnpcdtpwedr পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯২ 104 884716 1995415 2026-08-23T16:20:01Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995415 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>করেছে। মানুষ যে পরিমাণে এই ঐক্যকে স্বীকার করেছে সে পরিমাণে সে যথার্থ সত্যকে পেয়েছে, আপনার পূর্ণপরিচয় লাভ করেছে। {{ফাঁক}}এ কথা আজকার দিনে যদি আমরা না উপলব্ধি করি তবে কি তার দণ্ড নেই। মানুষের এই বড়ো সত্যের অপলাপ হলে যে বিষম ক্ষতি, তা কি আমাদের জানতে হবে না। মানুষ মানুষকে পীড়া দেয় এত বড়ো অন্যায় আচরণ আমাদের নিবারণ করতে হবে, বিশ্বভারতীতে আমরা সেই সত্য স্বীকার করব বলে এসেছি। অন্যেরা যে কাজেরই ভার নিন-না— বণিক বাণিজ্যবিস্তার করুন, ধনী ধনসঞ্চয় করুন, কিন্তু এখানে সর্বমানবের যোগসাধনের সেতু রচিত হবে। অতিথিশালার দ্বার খুলবে, যার চৌমাথায় দাঁড়িয়ে আমরা সকলকে আহ্বান করতে কুণ্ঠিত হব না। এই মিলনক্ষেত্রে আমাদের ভারতীয় সম্পদকে ভুললে চলবে না, সেই ঐশ্বর্যের প্রতি একান্ত আস্থা স্থাপন করে তাকে শ্রদ্ধায় গ্রহণ করতে হবে। বিক্রমাদিত্য উজ্জয়িনীতে যে প্রাসাদসৌধ নির্মাণ করেছিলেন আজ তো তার কোনো চিহ্ন নেই; ঐতিহাসিকেরা তাঁর গোষ্ঠীগোত্রের আজ পর্যন্ত মীমাংসা করতে পারল না। কিন্তু কালিদাস যে কাব্য রচনা করে গেছেন তার মধ্যে কোনো স্থানবিচার নেই; তা তো শুধু ভারতীয় নয়, তা যে চিরন্তন সর্বদেশের সর্বকালের সম্পদ হয়ে রইল। যখন সবাই বলবে যে, এটা আমার, আমি পেলুম, তখনই তা যথার্থ দেওয়া হল।<noinclude>{{বাম|৮৪}}</noinclude> 3f8qdqjlekyvlgzjspepv1h6qs0nx5b পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯৩ 104 884717 1995417 2026-08-23T16:22:49Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995417 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>এই-যে দেবার অধিকার লাভ করা, এর জন্য উৎসাহ চাই, সাধনার উদ্যম চাই। আমাদের কৃপণতা করলে চলবে না। কোনো বড়ো সম্পদকে গ্রহণ ও প্রচার করতে হলে বিপুল আনন্দে সমস্ত আঘাত অপমান সহ্য করে অকাতরে সব ত্যাগ করতে হবে। পৃথিবীর দেয়ালি-উৎসবে ভারতের যে প্রদীপ জ্বলবে সেই প্রদীপশিখার যেন অস্বীকৃতি না ঘটে, বিদ্রূপের দ্বারা যেন তাকে আচ্ছন্ন না করি। আত্মপ্রকাশের পথ অবারিত হোক, ত্যাগের দ্বারা আনন্দিত হও। {{ফাঁক}}আজকার উৎসবের দিনে আমাদের এই প্রার্থনা যে, সকল অন্ধকার ও অসত্য থেকে আমাদের জ্যোতিতে নিয়ে যাও—সোনা-হীরা-মাণিক্যের জ্যোতি নয়, কিন্তু অধ্যাত্মলোকের জ্যোতিতে নিয়ে যাও। ভারতবর্ষ আজ এই প্রার্থনা জানাচ্ছে যে, তাকে মৃত্যু থেকে অমৃতলোকে নিয়ে যাও। আমরা অকিঞ্চন হলেও তবু আমাদের কণ্ঠ থেকে সকল মানুষের জন্য এই প্রার্থনা ধ্বনিত হোক। আনন্দস্বরূপ, তোমার প্রকাশ পূর্ণ হোক। রুদ্র, তোমার রুদ্রতার মধ্যে অনেক দুঃখদারিদ্র্য আছে—আমরা যেন বলতে পারি যে, সেই ঘন মেঘের আবরণ ভেদ করেও তোমার দক্ষিণ মুখ দেখেছি। ‘বেদাহম’—জেনেছি। ‘আদিত্যবর্ণং তমসঃ পরস্তাৎ’—অন্ধকারেরই ওপার থেকে দেখেছি জ্যোতির রূপ। তাই অন্ধকারকে আর ভয় করি নে। যে অন্ধকার নিজেদের ছোটো গণ্ডির মধ্যেই<noinclude>{{ডান|৮৫}}</noinclude> skcnz1tpjvygdrr66b9innatbpmroy8 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯৪ 104 884718 1995418 2026-08-23T16:24:29Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995418 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>আমাদের ছোটো পরিচয়ে আবদ্ধ করে তাকে স্বীকার করি নে। যে আলো সকলের কাছে আমাদের প্রকাশ করে এবং সকলকে আমাদের কাছে প্রকাশ করে আমরা তারই অভিনন্দন করি। {{Block left|{{কেন্দ্র|{{smaller|৭ পৌর ১৩৩০}} শান্তিনিকেতন}}}}<noinclude>{{বাম|৮৬}}</noinclude> 95qeryi90sapx9q1ncsza3uokssk2xr পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯৫ 104 884719 1995419 2026-08-23T16:26:49Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995419 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|১১}} আজ আমার আর একবার আশ্রম থেকে দূরে যাবার সময় উপস্থিত হয়েছে, হয়তো কিছু দীর্ঘকালের জন্যে এবার বিদেশে আমাকে কাটাতে হবে। যাবার পূর্বে আর একবার এই আশ্রম সম্বন্ধে, এই কর্ম সম্বন্ধে আমাদের যা কথা আছে তা সুস্পষ্ট করে বলে যেতে চাই। {{ফাঁক}}আজ আমার চোখের সামনে আমাদের আশ্রমের এই বর্তমান ছবি—এই ছাত্রনিবাস কলাভবন গ্রন্থাগার অতিথিশালা, সব স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। ভাবছি, কী করে এর আরম্ভ, এর পরিণাম কোথায়। সকলের চেয়ে এইটেই আশ্চর্য যে, যে লোক একেবারে অযোগ্য—মনে করবেন না এ কোনোরকম কৃত্রিম বিনয়ের কথা—তাকে দিয়ে এই কাজ সাধন করে নেবার বিধান। ছাত্রদের যেদিন এখানে আহ্বান করলুম সেদিন আমার হাতে কেবল যে অর্থ ছিল না তা নয়, একটা বড়ো ঋণভারে তখন আমি একান্ত বিপন্ন। তা শোধ করবার কোনো উপায় আমার ছিল না। তার পরে বিদ্যাশিক্ষা দেওয়া সম্বন্ধে আমার যে কত অক্ষমতা ছিল তা সকলেই জানেন। আমি ভালো করে পড়ি নি, আমাদের দেশে যে শিক্ষাপ্রণালী প্রচলিত ছিল তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। সব রকমের অযোগ্যতা এবং দৈন্য নিয়ে কাজে নেমেছিলুম।<noinclude>{{ডান|৮৭}}</noinclude> ppvwazly8s2etvlb3z11e2qmkx30s74 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯৬ 104 884720 1995420 2026-08-23T16:28:35Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995420 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>এর আরম্ভ অতি ক্ষীণ এবং দুর্বল ছিল, গুটি পাঁচেক ছাত্র ছিল। ছাত্রদের কাছ থেকে বেতন নিতুম না; ছেলেদের অন্নবস্ত্র, প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী যেমন করে হোক আমাকেই জোগাতে হত, অধ্যাপকদের সাংসারিক অভাব মোচন করতে হত। বৎসরের পর বৎসর যায়, অর্থাভাব সমানই রইল, বিদ্যালয় বাড়তে লাগল। দেখা গেল, বেতন না নিলে বিদ্যালয় রক্ষা করা যায় না। বেতনের প্রবর্তন হল; কিন্তু অভাব দূর হল না। আমার গ্রন্থের স্বত্ব কিছু কিছু করে বিক্রয় করতে হল। এদিকে ওদিকে দু-একটা যা সম্পত্তি ছিল তা গেল, অলংকার বিক্রয় করলুম— নিজের সংসারকে রিক্ত করে কাজ চালাতে হল। কী দুঃসাহসে তখন প্রবৃত্ত হয়েছিলুম জানি নে। স্বপ্নের ঘোরে যে মানুষ দুর্গম পথে ঘুরে বেড়িয়েছে সে যেমন জেগে উঠে কেঁপে ওঠে, আজ পিছন দিকে যখন তাকিয়ে দেখি তখন আমারও সেই রকমের হৃৎকম্প হয়। {{ফাঁক}}অথচ এটি সামান্যই একটি বিদ্যালয় ছিল। কিন্তু এই সামান্য ব্যাপারটি নিয়েই আবাল্য কালের সাহিত্যসাধনাও আমাকে অনেক পরিমাণে বর্জন করতে হল। এর কারণ কী, এত আকর্ষণ কিসের। এই প্রশ্নের যে উত্তর আমার মনে আসছে সেটা আপনাদের কাছে বলি। অতি গভীরভাবে নিবিড়ভাবে এই বিশ্বপ্রকৃতিকে শিশুকাল থেকে আমি ভালোবেসেছি। আমি খুব প্রবলভাবেই অনুভব করেছি যে, শহরের জীবনযাত্রা আমাদের চার দিকে যন্ত্রের প্রাচীর<noinclude>{{বাম|৮৮}}</noinclude> 6b6wzsluknxyh8otb76fg1qlewxpbna পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯৭ 104 884721 1995422 2026-08-23T16:30:17Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995422 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>তুলে দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে আমাদের বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে। এখানকার আশ্রমে, প্রকৃতির প্রাণনিকেতনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে, বসন্ত-শরতের পুষ্পোৎসবে ছেলেদের যে স্থান করে দিয়েছি তারই আনন্দে দুঃসাধ্য ত্যাগের মধ্যে আমাকে ধরে রেখেছিল। প্রকৃতি-মাতা যে অমৃত পরিবেশন করেন সেই অমৃত গানের সঙ্গে মিলিয়ে নানা আনন্দ-অনুষ্ঠানের মধ্যে ফলিয়ে এদের সকলকে বিতরণ করেছি। এরই সফলতা প্রতিদিন আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। আর যে একটি কথা অনেক দিন থেকে আমার মনে জেগে ছিল সে হচ্ছে এই যে, ছাত্র ও শিক্ষকের সম্বন্ধ অত্যন্ত সত্য হওয়া দরকার। মানুষের পরস্পরের মধ্যে সকল প্রকার ব্যাপারেই দেনাপাওনার সম্বন্ধ। কখনও বেতন দিয়ে, কখনও ত্যাগের বিনিময়ে, কখনও-বা জবরদস্তির দ্বারা মানুষ এই দেওয়া-নেওয়ার প্রবাহকে দিনরাত চালিয়ে রাখছে। বিদ্যা যে দেবে এবং বিদ্যা যে নেবে তাদের উভয়ের মাঝখানে যে সেতু সেই সেতুটি হচ্ছে ভক্তিস্নেহের সম্বন্ধ। সেই আত্মীয়তার সম্বন্ধ না থেকে যদি কেবল শুষ্ক কর্তব্য বা ব্যবসায়ের সম্বন্ধই থাকে তা হলে যারা পায় তারা হতভাগ্য, যারা দেয় তারাও হতভাগ্য। সাংসারিক অভাব মোচনের জন্য বাহিরের দিক থেকে শিক্ষককে বেতন নিতে হয়, কিন্তু তাঁর অন্তরের সম্বন্ধ সত্য হওয়া চাই। এ আদর্শ আমাদের বিদ্যালয়ে সেদিন অনেক দূর পর্যন্ত চালাতে পেরেছিলুম। তখন শিক্ষকেরা ছাত্রদের<noinclude>{{ডান|৮৯}}</noinclude> sfd47crb34i9rffvnlr6er51yhay0e9 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯৮ 104 884722 1995424 2026-08-23T16:32:56Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995424 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>সঙ্গে একসঙ্গে বেড়িয়েছেন, খেলা করেছেন, তাদের সঙ্গে তাঁদের সম্বন্ধ ঘনিষ্ঠ ছিল। ভাষা কি ইতিহাস কি ভূগোল নূতন উৎকৃষ্ট প্রণালীতে কী শিখিয়েছি না-শিখিয়েছি জানি নে, কিন্তু যে জিনিসটাকে কোনো বিদ্যালয়ে কেউ অত্যাবশ্যক বলে মনে করে না, অথচ যা সবচেয়ে বড়ো জিনিস, আমাদের বিদ্যালয়ে তার স্থান হয়েছে মনে করে আনন্দে অন্যসকল অভাব ভুলে ছিলুম। {{ফাঁক}}ক্রমে আমাদের সেই অতি ছোটো বিদ্যালয় বড়ো হয়েছে। ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশ থেকে আপনারা অনেকে সমাগত হয়েছেন, ছাত্ররাও বিভিন্ন প্রদেশ থেকে এসেছে। ক্রমে এর সীমা আরও দূরে প্রসারিত হল, বিদেশ থেকে বন্ধুরা এসে এই কাজে যোগ দিলেন। যা প্রচ্ছন্ন ছিল তা কোনোদিন যে এমন ব্যাপকভাবে প্রকাশমান হবে তা কখনও ভাবি নি। {{ফাঁক}}আমরা চেষ্টা করি নি, আমরা প্রত্যাশা করি নি। চিরদিন অল্প আয়োজন এবং অল্প শক্তিতেই আমরা একান্তে কাজ করেছি। তবু আমাদের এই প্রতিষ্ঠান যেন নিজেরই অন্তর্গূঢ় স্বভাব অনুসরণ করে বিশ্বের ক্ষেত্রে নিজেকে ব্যক্ত করেছে। পাশ্চাত্য দেশের যেসব মনীষী এখানে এসেছিলেন—লেভি, উইন্টার্‌নিট্‌জ, লেস্‌নি, তাঁরা যে এমন কিছু এখানে পেয়েছিলেন যা বাংলাদেশের কোণের মধ্যে বদ্ধ নয়, তা থেকে বুঝতে পারি এখানে কোনো একটি সত্যের প্রকাশ হয়েছে। তাঁরা যে আনন্দ যে<noinclude></noinclude> l7ik2233wp76ccjk2rb6solgnvbhiw7 1995450 1995424 2026-08-23T17:29:41Z Nettime Sujata 5470 1995450 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>সঙ্গে একসঙ্গে বেড়িয়েছেন, খেলা করেছেন, তাদের সঙ্গে তাঁদের সম্বন্ধ ঘনিষ্ঠ ছিল। ভাষা কি ইতিহাস কি ভূগোল নূতন উৎকৃষ্ট প্রণালীতে কী শিখিয়েছি না-শিখিয়েছি জানি নে, কিন্তু যে জিনিসটাকে কোনো বিদ্যালয়ে কেউ অত্যাবশ্যক বলে মনে করে না, অথচ যা সবচেয়ে বড়ো জিনিস, আমাদের বিদ্যালয়ে তার স্থান হয়েছে মনে করে আনন্দে অন্যসকল অভাব ভুলে ছিলুম। {{ফাঁক}}ক্রমে আমাদের সেই অতি ছোটো বিদ্যালয় বড়ো হয়েছে। ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশ থেকে আপনারা অনেকে সমাগত হয়েছেন, ছাত্ররাও বিভিন্ন প্রদেশ থেকে এসেছে। ক্রমে এর সীমা আরও দূরে প্রসারিত হল, বিদেশ থেকে বন্ধুরা এসে এই কাজে যোগ দিলেন। যা প্রচ্ছন্ন ছিল তা কোনোদিন যে এমন ব্যাপকভাবে প্রকাশমান হবে তা কখনও ভাবি নি। {{ফাঁক}}আমরা চেষ্টা করি নি, আমরা প্রত্যাশা করি নি। চিরদিন অল্প আয়োজন এবং অল্প শক্তিতেই আমরা একান্তে কাজ করেছি। তবু আমাদের এই প্রতিষ্ঠান যেন নিজেরই অন্তর্গূঢ় স্বভাব অনুসরণ করে বিশ্বের ক্ষেত্রে নিজেকে ব্যক্ত করেছে। পাশ্চাত্য দেশের যেসব মনীষী এখানে এসেছিলেন—লেভি, উইন্টার্‌নিট্‌জ, লেস্‌নি, তাঁরা যে এমন কিছু এখানে পেয়েছিলেন যা বাংলাদেশের কোণের মধ্যে বদ্ধ নয়, তা থেকে বুঝতে পারি এখানে কোনো একটি সত্যের প্রকাশ হয়েছে। তাঁরা যে আনন্দ যে<noinclude>{{বাম|৯০}}</noinclude> f9y5mjtd8shzdaf0ocgczjmkx9m5pih পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/৯৯ 104 884723 1995425 2026-08-23T16:35:16Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995425 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>শ্রদ্ধা যে উৎসাহ অনুভব করে গেছেন তা যে এখানে আমাদের সকলের মধ্যে স্ফূর্তি পাচ্ছে তা নয়, তৎসত্ত্বেও এখানকার বাতাসের মধ্যে এমন কোনো একটা সার্থকতা আছে যার স্পর্শে দূরাগত অতিথিরা অন্তরঙ্গ সুহৃদ হয়ে উঠেছেন, যাঁরা কিছুদিনের জন্যে এসেছিলেন তাঁদের সঙ্গে চিরকালের যোগ ঘটেছে। {{ফাঁক}}আজ ভেদবুদ্ধি ও বিদ্বেষবুদ্ধি সমস্ত পৃথিবীতে আগুন লাগিয়েছে, মানুষে মানুষে এমন জগদ্‌ব্যাপী পরম শত্রুতার সংঘাত প্রাচীন ইতিহাসে নেই। দেশে-দেশান্তরে এই আগুন ছড়িয়ে গেল। প্রাচ্য মহাদেশে আমরা বহু শতাব্দী ঘুমিয়ে ছিলুম, আমরা যে জাগলুম সে এরই আঘাতে। জাপান মার খেয়ে জেগেছে। ভারতবর্ষ থেকে প্রেমের দৌত্য একদিন তাকে জাগিয়েছিল, আজ লোভ এসে ঘা দিয়ে ভয়ে তাকে জাগিয়েছে। লোভের দম্ভের ঘা খেয়ে যে জাগে সে অন্যকেও ভয় দেখায়। জাপান কোরিয়াকে মারলে, চীনকে মারতে গিয়েছিল। {{ফাঁক}}মানুষের আজ কী অসহ্য বেদনা। দাসত্বে ব্রতী হয়ে কত কলে সে ক্লিষ্ট হচ্ছে— মানুষের পূর্ণতা সর্বত্র পীড়িত। মনুষ্যত্বের এই-যে খর্বতা, সমস্ত পৃথিবী জুড়ে যন্ত্রদেবতার এই-যে পূজা, এই-যে আত্মহত্যা, পৃথিবীর কোথাও একে নিরস্ত করবার প্রয়াস কি থাকবে না। আমরা দরিদ্র, অন্য জাতির অধীন, তাই বলেই কি মানুষ তার সত্য সম্পদ আমাদের কাছ থেকে নেবে না। যদি সাধনা সত্য<noinclude>{{ডান|৯১}}</noinclude> pp2csf5n5cqytipdhclfnwghx9n5fjw লেখক:রবার্ট মে 100 884724 1995426 2026-08-23T16:36:40Z Bodhisattwa 2549 "{{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-old}}" দিয়ে পাতা তৈরি 1995426 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-old}} l9713gmspii2pfr7op9ty60r90f99gu 1995453 1995426 2026-08-23T18:12:28Z Bodhisattwa 2549 1995453 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === অন্যান্য === ==== পাঠ্যপুস্তক ==== {{লেখক রচনা সারি|work = ''[[d:Q139856733|অঙ্ক পুস্তক]]''|item = Q139856733}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q110245399|label = ''[[d:Q110245399|অঙ্ক পুস্তক]]''|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:অঙ্ক_পুস্তক.pdf|p577 = 1857}}{{Talikak list end}} {{PD-old}} ks2fpevbldo52iwi2sgyfg6um7m5r4n পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০০ 104 884725 1995428 2026-08-23T16:40:28Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995428 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>হয়, অন্তরে আমাদের বাণী থাকে, তবে মাথা হেঁট করে সকলকে নিতেই হবে। {{ফাঁক}}একদিন বুদ্ধ বললেন, ‘আমি সমস্ত মানুষের দুঃখ দূর করব।’ দুঃখ তিনি সত্যই দূর করতে পেরেছিলেন কি না সেটি বড়ো কথা নয়; বড়ো কথা হচ্ছে, তিনি এটি ইচ্ছা করেছিলেন, সমস্ত জীবের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। ভারতবর্ষ ধনী হোক প্রবল হোক, এ তাঁর তপস্যা ছিল না; সমস্ত মানুষের জন্য তিনি সাধনা করেছিলেন। আজ ভারতের মাটিতে আবার সেই সাধনা জেগে উঠুক সেই ইচ্ছাকে ভারতবর্ষ থেকে কি দূর করে দেওয়া চলে। আমি যে বিশ্বভারতীকে এই ভাবের দ্বারা অনুপ্রাণিত করতে পারি নি সে আমার নিজেরই দৈন্য—আমি যদি সাধক হতুম, সে একাগ্রতার শক্তি যদি আমার থাকত, তবে সব আপনিই হত। আজ অত্যন্ত নম্রভাবে সানুনয়ে আপনাদের জানাচ্ছি, আমি অযোগ্য, তাই এ কাজ আমার একলার নয়, এ সাধনা আপনাদের সকলের। এ আপনাদের গ্রহণ করতে হবে। {{ফাঁক}}বিদেশে যখন যাই তখন সর্বমানুষের সম্বন্ধে আমাদের দেশে চৈতন্যের যে ক্ষীণতা আছে তা ভুলে যাই, ভারতের যজ্ঞক্ষেত্রে সকলকে আহ্বান করি। ফিরে এসে দেখি, এখানে সে বৃহৎ ভূমিকা কোথায়, বৃহৎ জগতের মাঝখানে যে আমরা আছি সে দৃষ্টি কোথায়। আমার শক্তি নেই, কিন্তু মনে ভরসা ছিল, বিশ্বের মর্মস্থান থেকে যে ডাক<noinclude>{{বাম|৯২}}</noinclude> 4hq0i4fgxzgl1b0z4tj338w8x1viz9k পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০১ 104 884726 1995429 2026-08-23T16:43:03Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995429 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>এসেছে তা অনেকেই শুনতে পাবে, অনেকে একত্র মিলিত হবে। সেই বোধের বাধা আমাদের আশ্রম থেকে যেন সর্বপ্রযত্নে দূর করি, রিপুর প্রভাব-জনিত যে দুঃখ তা থেকে যেন বাঁচি। হয়তো আমাদের সাধনা সিদ্ধ হবে, হয়তো হবে না। আমি গীতার কথা অন্তরের সঙ্গে মানি— ফলে লোভ করলে আপনাকে ভোলাব, অন্যকে ভোলাব। আমাদের কাজ বাইরে থেকে খুবই সামান্য—কটিই বা আমাদের ছাত্র, কটিই বা বিভাগ, কিন্তু অন্তরের দিক থেকে এর অধিকারের সীমা নেই। আমাদের সকলের সম্মিলিত চিত্ত সেই অধিকারকে দৃঢ় করুক, সেই অধিকারকে অবলম্বন করে বিচিত্র কল্যাণের সৃষ্টি করুক—সেই সৃষ্টির আনন্দ এবং তপোদুঃখ আমাদের হোক। ছোটো ছোটো মতের অনৈক্য, স্বার্থের সংঘাত ভুলে গিয়ে সাধনাকে আমরা বিশুদ্ধ রাখব, সেই উৎসাহ আমাদের আসুক। আমার নিজের চিত্তের তেজ যদি বিশুদ্ধ ও উজ্জ্বল থাকত তা হলে আমি গুরুর আসন থেকে এই দাবি করতুম। কিন্তু আমি আপনাদের সঙ্গে এক পথেরই পথিক মাত্র; আমি চালনা করতে পারি নে, চাই নে। আপনারা জানেন, আমার যা দেবার তা দিয়েছি, কৃপণতা করি নি। তাই আপনাদের কাছ থেকে ভিক্ষা করবার অধিকার আমার আজ হয়েছে। {{Block left|{{কেন্দ্র|{{smaller|১৭ ভাদ্র ১৩৩১}} শান্তিনিকেতন}}}}<noinclude>{{ডান|৯৩}}</noinclude> 01qnaacso80wl5dq1mdmitx6ca68x7d বিশ্বভারতী/১০ 0 884727 1995430 2026-08-23T16:44:38Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=85 to=94 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1995430 wikitext text/x-wiki <pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=85 to=94 header=1/> b92gcult3z5gtl6elzwl688w3dhiari পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০২ 104 884728 1995431 2026-08-23T16:45:15Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995431 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}} {{কেন্দ্র|১২}} একদিন আমাদের এখানে যে উদ্যোগ আরম্ভ হয়েছিল সে অনেক দিনের কথা। আমাদের একটি পূর্বতন ছাত্র সেদিনকার ইতিহাসের একটি খণ্ডকালকে কয়েকটি চিঠিপত্র ও মুদ্রিত বিবরণীর ভিতর দিয়ে আমার সামনে এনে দিয়েছিল। সেই ছাত্রটি এই বিদ্যায়তনের প্রতিষ্ঠা থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাল রাত্রে সেদিনকার ইতিকথার ছিন্নলিপি যখন পড়ে দেখছিলুম তখন মনে পড়ল, কী ক্ষীণ আরম্ভ, কত তুচ্ছ আয়োজন। সেদিন যে মূর্তি এই আশ্রমের শালবীথিচ্ছায়ায় দেখা দিয়েছিল, আজকের দিনের বিশ্বভারতীর রূপ তার মধ্যে এতই প্রচ্ছন্ন ছিল যে, সে কারও কল্পনাতেও আসতে পারত না। এই অনুষ্ঠানের প্রথম সূচনা-দিনে আমরা আমাদের পুরাতন আচার্যদের আহ্বানমন্ত্র উচ্চারণ করেছিলেম—যে মন্ত্রে তাঁরা সকলকে ডেকে বলেছিলেন, ‘আয়ন্তু সর্বতঃ স্বাহা’; বলেছিলেন, ‘জলধারাসকল যেমন সমুদ্রের মধ্যে এসে মিলিত হয় তেমনি করে সকলে এখানে মিলিত হোক।’ তাঁদেরই আহ্বান আমাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হল, কিন্তু ক্ষীণকণ্ঠে। সেদিন সেই বেদমন্ত্র-আবৃত্তির ভিতরে আমাদের আশা ছিল, ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আজ যে প্রাণের বিকাশ আমরা অনুভব করছি, সুস্পষ্টভাবে সেটা<noinclude>{{বাম|৯৪}}</noinclude> bx96lsdlz2xsjd8dkb3hq895s3vc1xc বিশ্বভারতী/১১ 0 884729 1995432 2026-08-23T16:45:29Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=95 to=101 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1995432 wikitext text/x-wiki <pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=95 to=101 header=1/> 426quj0k30l0jetwihyjo7vmr7y9vvo পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০৩ 104 884730 1995434 2026-08-23T16:47:54Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995434 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>আমাদের গোচর ছিল না। এই বিদ্যালয়ের প্রচ্ছন্ন অন্তঃস্তর থেকে সত্যের বীজ আমার জীবিতকালের মধ্যেই অঙ্কুরিত হয়ে, বিশ্বভারতী রূপে বিস্তার লাভ করবে, ভরসা করে এই কল্পনাকে সেদিন মনে স্থান দিতে পারি নি। কোনো একদিন বিরাট ভারতবর্ষ এই আশ্রমের মধ্যে আসন পাতবে, এই ভারতবর্ষ—যেখানে নানা জাতি নানা বিদ্যা নানা সম্প্রদায়ের সমাবেশ, সেই ভারতবর্ষের সকলের জন্যই এখানে স্থান প্রশস্ত হবে, সকলেই এখানে আতিথ্যের অধিকার পাবে, এখানে পরস্পরের সম্মিলনের মধ্যে কোনো বাধা কোনো আঘাত থাকবে না, এই সংকল্প আমার মনে ছিল। তখন একান্ত মনে এই ইচ্ছা করেছিলেম যে, ভারতবর্ষের আর সর্বত্রই আমরা বন্ধনের রূপ দেখতে পাই, কিন্তু এখানে আমরা মুক্তির রূপকেই যেন স্পষ্ট দেখি। যে বন্ধন ভারতবর্ষকে জর্জরিত করেছে সে তো বাইরে নয়, সে আমাদেরই ভিতরে। যাতেই বিচ্ছিন্ন করে তাই যে বন্ধন। যে কারারুদ্ধ সে বিচ্ছিন্ন বলেই বন্দী। ভেদবিভেদের প্রকাণ্ড শৃঙ্খলের অসংখ্য চক্র সমস্ত ভারতবর্ষকে ছিন্নবিচ্ছিন্নতায় পীড়িত ক্লিষ্ট করে রেখেছে, আত্মীয়তার মধ্যে মানুষের যে মুক্তি সেই মুক্তিকে প্রত্যেক পদে বাধা দিচ্ছে, পরস্পর-বিভিন্নতাই ক্রমে পরস্পরবিরোধিতার দিকে আমাদের আকর্ষণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এক প্রদেশের সঙ্গে অন্য প্রদেশের অনৈক্যকে আমরা রাষ্ট্রনৈতিক বক্তৃতামঞ্চে বাক্যকুহেলিকার মধ্যে ঢাকা<noinclude>{{ডান|৯৫}}</noinclude> c76ozv6chvyn9v8xsdu0wtnnroblt98 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০৪ 104 884731 1995435 2026-08-23T16:50:44Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995435 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>দিয়ে রাখতে চাই, কিন্তু জীবনের ক্ষেত্রে পরস্পর সম্বন্ধে ঈর্ষা অবজ্ঞা আত্মপর-ভেদবুদ্ধি কেবলই যখন কণ্টকিত হয়ে ওঠে তখন সেটার সম্বন্ধে আমাদের লজ্জাবোধ পর্যন্ত থাকে না। এমনি করে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতার আশা দুরে থাক্, পরস্পরের মধ্যে পরিচয়ের পথও সুগভীর ঔদাসীন্যের দ্বারা বাধাগ্রস্ত। {{ফাঁক}}যে অন্ধকারে ভারতবর্ষে আমরা পরস্পরকে ভালো করে দেখতে পাই নে সেইটেই আমাদের সকলের চেয়ে দুর্বলতার কারণ। রাতের বেলায় আমাদের ভয়ের প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে ওঠে, অথচ সকালের আলোতে সেটা দূর হয়ে যায়। তার প্রধান কারণ, সকালে আমরা সকলকে দেখতে পাই, রাত্রে আমরা নিজেকে স্বতন্ত্র করে দেখি। ভারতবর্ষে সেই রাত্রি চিরন্তন হয়ে রয়েছে। মুসলমান বলতে কী বোঝায় তা সম্পূর্ণ ক’রে আপনার ক’রে, অর্থাৎ রামমোহন রায় যেমন ক’রে জানতেন, তা খুব অল্প হিন্দুই জানেন। হিন্দু বলতে কী বোঝায় তাও বড়ো ক’রে আপনার ক’রে, অর্থাৎ দারাশিকো একদিন যেমন ক’রে বুঝেছিলেন, তাও অল্প মুসলমানই জানেন। অথচ এইরকম গভীর ভাবে জানার ভিতরেই পরস্পরের ভেদ ঘোচে। {{ফাঁক}}কিছুকাল থেকে আমরা কাগজে পড়ে আসছি, পঞ্জাবে অকালি শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রবল ধর্ম-আন্দোলন জেগে উঠেছে, যার প্রবর্তনায় তারা দলে দলে নির্ভয়ে বধ-বন্ধনকে স্বীকার করেছে। কিন্তু অন্য শিখদের সঙ্গে তাদের<noinclude>{{বাম|৯৬}}</noinclude> emzuyqnwbfyxtpxb0p1tre1npvzg3wb পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০৫ 104 884732 1995436 2026-08-23T16:56:16Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995436 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>পার্থক্য কোথায়, কোন্‌খানে তারা এত প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে, ও কোন্ সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাবশত তারা সেই আঘাতের সঙ্গে প্রাণান্তকর সংগ্রাম করে জয়ী হয়েছে সে সম্বন্ধে আমাদের দরদের কথা দূরে থাক্, আমাদের জিজ্ঞাসাবৃত্তি পর্যন্ত জাগে নি। অথচ কেবলমাত্র কথার জোরে এদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় ঐক্যতন্ত্র সৃষ্টি করব বলে কল্পনা করতে কোথাও আমাদের বাধে না। দাক্ষিণাত্যে যখন মোপ্‌লা-দৌরাত্ম্য নিষ্ঠুর হয়ে দেখা দিল তখন সে সম্বন্ধে বাংলাদেশে আমরা সে পরিমাণেও বিচলিত হই নি যতটা হলে তাদের ধর্ম সমাজ ও আর্থিক কারণ-ঘটিত তথ্য জানবার জন্য আমাদের জ্ঞানগত উত্তেজনা জন্মাতে পারে। অথচ এই মালাবারের হিন্দু ও মোল্লাদের নিয়ে মহাজাতিক ঐক্য স্থাপন করা সম্বন্ধে অন্তত বাক্যগত সংকল্প আমরা সর্বদাই প্রকাশ করে থাকি। {{ফাঁক}}আমাদের শাস্ত্রে বলে, অবিদ্যা অর্থাৎ অজ্ঞানের বন্ধনই বন্ধন। এ কথা সকল দিকেই খাটে। যাকে জানি নে তার সম্বন্ধেই আমরা যথার্থ বিচ্ছিন্ন। কোনো বিশেষ দিনে তাকে গলা জড়িয়ে আলিঙ্গন করতে পারি, কেননা সেটা বাহ্য; তাকে বন্ধু সম্ভাষণ করে অশ্রুপাত করতে পারি, কেননা সেটাও বাহ্য; কিন্তু ‘উৎসবে ব্যসনে চৈব দুর্ভিক্ষে রাষ্ট্রবিপ্লবে রাজদ্বারে শ্মশানে চ’ আমরা সহজ প্রীতির অনিবার্য আকর্ষণে তাদের সঙ্গে সাযুজ্য রক্ষা করতে পারি নে। কারণ যাদের আমরা নিবিড়ভাবে জানি<noinclude>{{ডান|৯৭}}</noinclude> ank59uwkekblzw9baxku6syfj22e6ys পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০৬ 104 884733 1995437 2026-08-23T17:00:32Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995437 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>তারাই আমাদের জ্ঞাতি। ভারতবর্ষের লোক পরস্পরের সন্বন্ধে যখন মহাজ্ঞাতি হবে তখনই তারা মহাজাতি হতে পারবে। {{ফাঁক}}সেই জানবার সোপান তৈরি করার দ্বারা মেলবার শিখরে পৌছবার সাধনা আমরা গ্রহণ করেছি। একদা যেদিন সুহৃদ্‌বর বিধুশেখর শাস্ত্রী ভারতের সর্ব সম্প্রদায়ের বিদ্যাগুলিকে ভারতের বিদ্যাক্ষেত্রে একত্র করবার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন তখন আমি অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসাহ বোধ করেছিলেম। তার কারণ, শাস্ত্রীমশায় প্রাচীন ব্রাহ্মণপণ্ডিতদের শিক্ষাধারার পথেই বিদ্যালাভ করেছিলেন। হিন্দুদের সনাতন শাস্ত্রীয় বিদ্যার বাহিরে যেসকল বিদ্যা আছে তাকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করতে পারলে তবেই যে আমাদের শিক্ষা উদারভাবে সার্থক হতে পারে, তাঁর মুখে এ কথার সত্য বিশেষভাবে বল পেয়ে আমার কাছে প্রকাশ পেয়েছিল। আমি অনুভব করেছিলেম, এই ঔদার্য, বিদ্যার ক্ষেত্রে সকল জাতির প্রতি এই সসম্মান আতিথ্য, এইটিই হচ্ছে যথার্থ ভারতীয়। সেই কারণেই ভারতবর্ষ পুরাকালে যখন গ্রীক-রোমকদের কাছ থেকে জ্যোতির্বিদ্যার বিশেষ পন্থা গ্রহণ করেছিলেন তখন ম্লেচ্ছগুরুদের ঋষিকল্প বলে স্বীকার করতে কুণ্ঠিত হন নি। আজ যদি এ সম্বন্ধে আমাদের কিছুমাত্র কৃপণতা ঘটে থাকে তবে জানতে হবে, আমাদের মধ্যে সেই বিশুদ্ধ ভারতীয় ভাবের বিকৃতি ঘটেছে। {{nop}}<noinclude>{{বাম|৯৮}}</noinclude> c8odx3jv5xjatl83p21z9tpmkwbqor7 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০৭ 104 884734 1995438 2026-08-23T17:03:25Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995438 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{ফাঁক}}এ দেশের নানা জাতির পরিচয়ের উপর ভারতের যে আত্মপরিচয় নির্ভর করে, এখানে কোনো-এক জায়গায় তার তো সাধনা থাকা দরকার। শান্তিনিকেতনে সেই সাধনার প্রতিষ্ঠা ধ্রুব হোক, এই ভাবনাটি এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমাদের লক্ষ্যে ও অলক্ষ্যে বিরাজ করছে। কিন্তু আমার সাধ্য কী। সাধ্য থাকলেও এ যদি আমার একলারই সৃষ্টি হয় তা হলে এর সার্থকতা কী। যে দীপ পথিকের প্রত্যাশায় বাতায়নে অপেক্ষা করে থাকে সেই দীপটুকু জ্বেলে রেখে দিয়ে আমি বিদায় নেব, এই টুকুমাত্রই আমার ভরসা ছিল। {{ফাঁক}}তার পরে অসংখ্য অভাব দৈন্য বিরোধ ও ব্যাঘাতের ভিতর দিয়ে দুর্গম পথে একে বহন করে এসেছি। এর অন্তর্নিহিত সত্য ক্রমে আপনার আবরণ মোচন করতে করতে আজ আমাদের সামনে অনেকটা পরিমাণে সুস্পষ্ট রূপ ধারণ করেছে। আমাদের আনন্দের দিন এল। আজ আপনারা এই-যে সমবেত হয়েছেন, এ আমাদের কত বড়ো সৌভাগ্য। এর সদস্য, যাঁরা নানা কর্মে ব্যাপৃত, এর সঙ্গে তাঁদের যোগ ক্রমে ক্রমে যে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, এ আমাদের কত বড়ো সৌভাগ্য। {{ফাঁক}}এই কর্মানুষ্ঠানটিকে বহুকাল একলা বহন করার পর যেদিন সকলের হাতে সমর্পণ করলুম সেদিন মনে এই দ্বিধা এসেছিল যে, সকলে একে শ্রদ্ধা করে গ্রহণ করবেন কি না। অন্তরায় অনেক ছিল, এখনও আছে। তবুও সংশয় ও<noinclude>{{ডান|৯৯}}</noinclude> sc2036zeeyuaxg3ps4ybllbp9u1hjxw পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০৮ 104 884735 1995439 2026-08-23T17:05:13Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995439 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>সংকোচ থাকা সত্ত্বেও একে সম্পূর্ণভাবেই সকলের কাছে নিবেদন করে দিয়েছি। কেউ যেন না মনে করেন, এটা একজন লোকের কীর্তি, এবং তিনি এটাকে নিজের সঙ্গেই একান্ত করে জড়িয়ে রেখেছেন। যাকে এত দীর্ঘকাল এত করে পালন করে এসেছি তাকে যদি সাধারণের কাছে শ্রদ্ধেয় করে থাকি সে আমার সবচেয়ে বড়ো সৌভাগ্য। সেদিন আজ এসেছে বলি নে, কিন্তু সে দিনের সূচনাও কি হয় নি? যেমন সেই প্রথম দিনে আজকের দিনের সম্ভাবনা কল্পনা করতে সাহস পাই নি, অথচ এই ভবিষ্যৎকে গোপনে সে বহন করেছিল, তেমনি ভারতবর্ষের দূর ইতিহাসে এই বিশ্বভারতীর যে পূর্ণ অভিব্যক্তি হবে তা প্রত্যয় করব না কেন। সেই প্রত্যয়ের দ্বারাই এর প্রকাশ বল পেয়ে ধ্রুব হয়ে ওঠে, এ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। এর প্রমাণ আরম্ভ হয়েছে যখন দেখতে পাচ্ছি আপনারা এর ভার গ্রহণ করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে এটা বড়ো কথা, আবার আমার দিক থেকেও এ তো কম কথা নয়। কোনো একজন মানুষের পক্ষে এর ভার দুঃসহ। এই ভারকে বহন করবার অনুকূলে আমার আন্তরিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশার আনন্দ যদিও আমাকে বল দিয়েছে, তবু আমার শক্তির দৈন্য কোনোদিনই ভুলতে অবকাশ পাই নি। কত অভাব কত অসামর্থ্যের দ্বারা এত কাল প্রত্যহ পীড়িত হয়ে এসেছি, বাইরের অকারণ প্রতিকূলতা একে কত দিক থেকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তবু এর সমস্ত ত্রুটি<noinclude>{{বাম|১০০}}</noinclude> 9bgoaqr5vg2odks2pmji5i8hvhifv80 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১০৯ 104 884736 1995440 2026-08-23T17:09:27Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995440 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>অসম্পূর্ণতা, এর সমস্ত দারিদ্র্য সত্ত্বেও আপনাৱা একে শ্রদ্ধা করে পালন করবার ভার নিয়েছেন, এতে আমাকে যে কত দয়া করেছেন তা আমিই জানি। সেজন্য ব্যক্তিগতভাবে আজ আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি। {{ফাঁক}}এই প্রতিষ্ঠানের বাহ্যায়তনটিকে সুচিন্তিত বিধি-বিধান দ্বারা সুসম্বদ্ধ করবার ভার আপনারা নিয়েছেন। এই নিয়ম-সংঘটনের কাজ আমি যে সম্পূর্ণ বুঝি তা বলতে পারি নে, শরীরের দুর্বলতা-বশত সব সময়ে এতে আমি যথেষ্ট মন দিতেও অক্ষম হয়েছি। কিন্তু নিশ্চিত জানি, এই অঙ্গবন্ধনের প্রয়োজন আছে। জলের পক্ষে জলাশয়ের উপযোগিতা কে অস্বীকার করবে। সেইসঙ্গে এ কথাও মনে রাখা চাই যে, চিত্ত দেহে বাস করে বটে কিন্তু দেহকে অতিক্রম করে। দেহ বিশেষ সীমায় বন্ধ, কিন্তু চিত্তের বিচরণক্ষেত্র সমস্ত বিশ্বে। দেহব্যবস্থা অতিজটিলতার দ্বারা চিত্তব্যাপ্তির বাধা যাতে না ঘটায় এ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানের কায়ারূপটির পরিচয় সম্প্রতি আমার কাছে সুস্পষ্ট ও সম্পূর্ণ নয়, কিন্তু এর চিত্তরূপটির প্রসার আমি বিশেষ করেই দেখেছি। তার কারণ, আমি আশ্রমের বাইরে দূরে দূরে বারবার ভ্রমণ করে থাকি। কতবার মনে হয়েছে, যারা এই বিশ্বভারতীর যজ্ঞকর্তা তাঁরা যদি আমার সঙ্গে এসে বাইরের জগতে এর পরিচয় পেতেন তা হলে জানতে পারতেন কোন্<noinclude>{{ডান|১০১}}</noinclude> hyezfhxl9npcbdd268u5o6kqeh8j7r0 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১০ 104 884737 1995441 2026-08-23T17:12:01Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995441 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>বৃহৎ ভূমির উপরে এর আশ্রয়। তা হলে বিশেষ দেশকাল ও বিধি-বিধানের অতীত এর মুক্তরূপটি দেখতে পেতেন। বিদেশের লোকের কাছে ভারতের সেই প্রকাশ সেই পরিচয়ের প্রতি প্রভূত শ্রদ্ধা দেখেছি যা ভারতের ভূ-সীমানার মধ্যে বদ্ধ হয়ে থাকতে পারে না, যা আলোর মতো দীপকে ছাড়িয়ে যায়। এর থেকে এই বুঝেছি, ভারতের এমন কিছু সম্পদ আছে যার প্রতি দাবি সমস্ত বিশ্বের। জাত্যভিমানের প্রবল উগ্রতা মন থেকে নিরস্ত করে নম্রভাবে সেই দাবি পূরণ করবার দায়িত্ব আমাদের। যে ভারত সকল কালের সকল লোকের, সেই ভারতে সকল কাল ও সকল লোককে নিমন্ত্রণ করবার ভার বিশ্বভারতীর। {{ফাঁক}}কিছুদিন হল যখন দক্ষিণ-আমেরিকায় গিয়ে রুগ্নকক্ষে বদ্ধ ছিলাম তখন প্রায় প্রত্যহ আগন্তুকের দল প্রশ্ন নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁদের সকল প্রশ্নের ভিতরকার কথাটা এই যে, পৃথিবীকে দেবার মতো কোন্ ঐশ্বর্য ভারতবর্ষের আছে। ভারতের ঐশ্বর্য বলতে এই বুঝি, যা-কিছু তার নিজের লোকের বিশেষ ব্যবহারে নিঃশেষ করবার নয়। যা নিয়ে ভারত দানের অধিকার আতিথ্যের অধিকার পায়; যার জোরে সমস্ত পৃথিবীর মধ্যে সে নিজের আসন গ্রহণ করতে পারে; অর্থাৎ যাতে তার অভাবের পরিচয় নয়, তার পূর্ণতারই পরিচয়—তাই তার সম্পদ। প্রত্যেক বড়ো জাতির নিজের বৈষয়িক ব্যাপার একটা আছে, সেটাতে বিশেষভাবে তার আপন প্রয়োজন<noinclude>{{বাম|১০২}}</noinclude> tuoaobelgl2s0nb70j31b92qw7zvy1a পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১১ 104 884738 1995442 2026-08-23T17:14:22Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995442 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>সিদ্ধ হয়। তার সৈন্যসামন্ত-অর্থসামর্থ্যে আর কারও ভাগ চলে না। সেখানে দানের দ্বারা তার ক্ষতি হয়। ইতিহাসে ফিনিসীয় প্রভৃতি এমনসকল ধনী জাতির কথা শোনা যায় যারা অর্থ-অর্জনেই নিরন্তর নিযুক্ত ছিল। তারা কিছুই দিয়ে যায় নি, রেখে যায় নি; তাদের অর্থ যতই থাক, তাদের ঐশ্বর্য ছিল না। ইতিহাসের জীর্ণ পাতার মধ্যে তারা আছে, মানুষের চিত্তের মধ্যে নেই। ইজিপ্ট গ্রীস রোম প্যালেস্টাইন চীন প্রভৃতি দেশ শুধু নিজের ভোজ্য নয় সমস্ত পৃথিবীর ভোগ্য সামগ্রী উৎপন্ন করেছে। বিশ্বের তৃপ্তিতে তারা গৌরবান্বিত। সেই কারণে সমস্ত পৃথিবীর প্রশ্ন এই, ভারতবর্ষ শুধু নিজেকে নয়, পৃথিবীকে কী দিয়েছে। আমি আমার সাধ্যমতো কিছু বলবার চেষ্টা করেছি এবং দেখেছি, তাতে তাদের আকাঙ্ক্ষা বেড়ে গেছে। তাই আমার মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে যে, আজ ভারতবর্ষের কেবল যে ভিক্ষার ঝুলিই সম্বল তা নয়, তার প্রাঙ্গণে এমন একটি বিশ্বযজ্ঞের স্থান আছে যেখানে অক্ষয় আত্মদানের জন্য সকলকে সে আহ্বান করতে পারে। {{ফাঁক}}সকলের জন্য ভারতের যে বাণী তাকেই আমরা বলি বিশ্বভারতী। সেই বাণীর প্রকাশ আমাদের বিদ্যালয়টুকুর মধ্যে নয়। শিব আসেন দরিদ্র ভিক্ষুকের মূর্তি ধরে, কিন্তু একদিন প্রকাশ হয়ে পড়ে সকল ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে। বিশ্বভারতী এই আশ্রমে দীন ছদ্মবেশে এসেছিল ছোটো বিদ্যালয় রূপে। সেই তার লীলার আরম্ভ, কিন্তু সেখানেই<noinclude>{{ডান|১০৩}}</noinclude> mnq604udu5wbrc0gv60fybmbnbtea2g পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১২ 104 884739 1995443 2026-08-23T17:16:21Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995443 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>তার চরম সত্য নয়। সেখানে সে ছিল ভিক্ষুক, মুষ্টিভিক্ষা আহরণ করছিল। আজ সে দানের ভাণ্ডার খুলতে উদ্যত। সেই ভাণ্ডার ভারতের। বিশ্বপৃথিবী আজ অঙ্গনে দাঁড়িয়ে বলছে, ‘আমি এসেছি।’ তাকে যদি বলি, ‘আমাদের নিজের দায়ে ব্যস্ত আছি, তোমাকে দেবার কথা ভাবতে পারি নে’—তার মতো লজ্জা কিছুই নেই। কেননা দিতে না পারলেই হারাতে হয়। {{ফাঁক}}এ কথা অস্বীকার করবার জো নেই যে, বর্তমান যুগে সমস্ত পৃথিবীর উপরে য়ুরোপ আপন প্রভাব বিস্তার করেছে। তার কারণ আকস্মিক নয়, বাহ্যিক নয়। তার কারণ, যে বর্বরতা আপন প্রয়োজনটুকুর উপরেই সমস্ত মন দেয়, সমস্ত শক্তি নিঃশেষ করে, য়ুরোপ তাকে অনেক দূরে ছাড়িয়ে গেছে। সে এমন কোনো সত্যের নাগাল পেয়েছে যা সর্বকালীন সর্বজনীন, যা তার সমস্ত প্রয়োজনকে পরিপূর্ণ করে অক্ষয়ভাবে উদ্‌বৃত্ত থাকে। এই হচ্ছে তার বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞানকে প্রকাশের দ্বারাই পৃথিবীতে সে আপনার অধিকার পেয়েছে। যদি কোনো কারণে য়ুরোপের দৈহিক বিনাশও ঘটে তবু এই সত্যের মূল্যে মানুষের ইতিহাসে তার স্থান কোনোদিন বিলুপ্ত হতে পারবে না। মানুষকে চিরদিনের মতো সে সম্পদশালী করে দিয়েছে, এই তার সকলের চেয়ে বড়ো গৌরব, এই তার অমরতা। অথচ এই য়ুরোপ যেখানে আপনার লোভকে সমস্ত মানুষের কল্যাণের চেয়ে বড়ো করেছে সেখানেই তার অভাব প্রকাশ<noinclude>{{বাম|১০৪}}</noinclude> e96dq1snhq1haus0j40yeuim4p20g14 পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১৩ 104 884740 1995444 2026-08-23T17:18:42Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995444 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>পায়, সেখানেই তার খর্বতা, তার বর্বরতা। তার একমাত্র কারণ এই যে, বিচ্ছিন্নভাবে কেবল আপনটুকুর মধ্যে মানুষের সত্য নেই—পশুধর্মেই সেই বিচ্ছিন্নতা; বিনাশশীল দৈহিক প্রাণ ছাড়া যে পশুর আর কোনো প্রাণ নেই। যাঁরা মহাপুরুষ তাঁরা আপনার জীবনে সেই অনির্বাণ আলোককেই জ্বালেন, যার দ্বারা মানুষ নিজেকে সকলের মধ্যে উপলব্ধি করতে পারে। {{ফাঁক}}পশ্চিম-মহাদেশ তার পলিটিক্সের দ্বারা বৃহৎ পৃথিবীকে পর করে দিয়েছে, তার বিজ্ঞানের দ্বারা বৃহৎ পৃথিবীকে নিমন্ত্রণ করেছে। বৃহৎকালের মধ্যে ইতিহাসের উদার রূপ যদি আমরা দেখতে পাই তা হলে দেখব, আত্মম্ভরি পলিটিক্সের দিকে য়ুরোপের আত্মাবমাননা, সেখানে তার অন্ধকার; বিজ্ঞানের দিকেই তার আলোক জ্বলেছে, সেখানেই তার যথার্থ আত্মপ্রকাশ; কেননা বিজ্ঞান সত্য, আর সত্যই অমরতা দান করে। বর্তমান যুগে বিজ্ঞানেই য়ুরোপকে সার্থকতা দিয়েছে, কেননা বিজ্ঞান বিশ্বকে প্রকাশ করে, আর তার সর্বভুকু ক্ষুধিত পলিটিক্স তার বিনাশকেই সৃষ্টি করছে, কেননা পলিটিক্সের শোণিতরক্ত-উত্তেজনায় সে নিজেকে ছাড়া আর সমস্তকেই অস্পষ্ট ও ছোটো করে দেখে; সুতরাং সত্যকে খণ্ডিত করার দ্বারা অশান্তির চক্রবাত্যায় আত্মহত্যাকে আবর্তিত ক’রে তোলে। {{ফাঁক}}আমরা অত্যন্ত ভুল করব যদি মনে করি, সীমাবিহীন অহমিকা দ্বারা, জাত্যভিমানে আবিল ভেদবুদ্ধি দ্বারাই<noinclude>{{ডান|১০৫}}</noinclude> ki3lmrxk4gf8l135iuup4hhd3606r0a পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১৪ 104 884741 1995445 2026-08-23T17:21:09Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995445 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>য়ুরোপ বড়ো হয়েছে। এমন অসম্ভব কথা আর হতে পারে না। বস্তুত সত্যের জোরেই তার জয়যাত্রা, রিপুর আকর্ষণেই তার অধঃপতন—যে রিপুর প্রবর্তনায় আমরা আপনাকে সব দিতে চাই, বাহিরকে বঞ্চিত করি। {{ফাঁক}}এখন নিজের প্রতি আমাদের সকলের চেয়ে বড়ো প্রশ্ন এই যে, আমাদের কি দেবার জিনিস কিছু নেই? আমরা কি আকিঞ্চন্যের সেই চরম বর্বরতায় এসে ঠেকেছি যার কেবল অভাবই আছে ঐশ্বর্য নেই? বিশ্বসংসার আমাদের দ্বারে এসে অভুক্ত হয়ে ফিরলে কি আমাদের কোনো কল্যাণ হতে পারে? দুর্ভিক্ষের অন্ন আমাদের উৎপাদন করতে হবে না, এমন কথা আমি কখনোই বলি নে, কিন্তু ভাণ্ডারে যদি আমাদের অমৃত থাকে তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আমরা বাঁচতে পারব? {{ফাঁক}}এই প্রশ্নের উত্তর যিনিই যেমন দিন না, আমাদের মনে যে উত্তর এসেছে বিশ্বভারতীর কাজের ভিতর তারই পূর্ণ অভিব্যক্তি হতে থাক্, এই আমাদের সাধনা। বিশ্বভারতী এই বেদমন্ত্রের দ্বারাই আপন পরিচয় দিতে চায়—‘যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্।’ যে আত্মীয়তা বিশ্বে বিস্তৃত হবার যোগ্য সেই আত্মীয়তার আসন এখানে আমরা পাতব। সেই আসনে জীর্ণতা নেই, মলিনতা নেই, সংকীর্ণতা নেই। {{ফাঁক}}এই আসনে আমরা সবাইকে বসাতে চেয়েছি; সে কাজ কি এখনই আরম্ভ হয় নি? অন্য দেশ থেকে যেসকল<noinclude>{{বাম|১০৬}}</noinclude> avdy525o411nwcasyl8m3kmwtclek8o পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১৫ 104 884742 1995446 2026-08-23T17:23:15Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995446 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>মনীষী এখানে এসে পৌঁচেছেন, আমরা নিশ্চয় জানি, তাঁরা হৃদয়ের ভিতরে আহ্বান অনুভব করেছেন। আমার সুহৃদ্‌বর্গ, যাঁরা এই আশ্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত, তাঁরা সকলেই জানেন, আমাদের দূরদেশের অতিথিরা এখানে ভারতবর্ষেরই আতিথ্য পেয়েছেন, পেয়ে গভীর তৃপ্তিলাভ করেছেন। এখান থেকে আমরা যে-কিছু পরিবেশন করছি তার প্রমাণ সেই অতিথিদের কাছেই। তাঁরা আমাদের অভিনন্দন করেছেন। আমাদের দেশের পক্ষ থেকে তাঁরা আত্মীয়তা পেয়েছেন, তাঁদের পক্ষ থেকেও আত্মীয়তার সম্বন্ধ সত্য হয়েছে। {{ফাঁক}}আমি তাই বলছি, কাজ আরম্ভ হয়েছে। বিশ্বভারতীর যে সত্য তা ক্রমশ উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছে। এখানে আমরা ছাত্রদের কোন্ বিষয় পড়াচ্ছি, পড়ানো সকলের মনের মতো হচ্ছে কি না, সাধারণ কলেজের আদর্শে উচ্চশিক্ষাবিভাগ খোলা হয়েছে বা জ্ঞানানুসন্ধান-বিভাগে কিছু কাজ হচ্ছে, এ সমস্তকেই যেন আমরা আমাদের ধ্রুব পরিচয়ের জিনিস বলে না মনে করি। এসমস্ত আজ আছে কাল না থাকতেও পারে। আশঙ্কা হয় পাছে যা ছোটো তাই বড়ো হয়ে ওঠে, পাছে একদিন আগাছাই ধানের খেতকে চাপা দেয়। বনস্পতির শাখায় কোনো বিশেষ পাখি বাসা বাঁধতে পারে, কিন্তু সেই বিশেষ পাখির বাসাই বনস্পতির একান্ত বিশেষণ নয়। নিজের মধ্যে বনস্পতি সমস্ত অরণ্যপ্রকৃতির যে সত্যপরিচয় দেয় সেইটেই তার বড়ো লক্ষণ। {{nop}}<noinclude>{{ডান|১০৭}}</noinclude> auizgkxmt6tf1ii4fzo2iom5ud81n6m পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১৬ 104 884743 1995447 2026-08-23T17:24:58Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995447 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{ফাঁক}}পূর্বেই বলেছি, ভারতের যে প্রকাশ বিশ্বের শ্রদ্ধেয় সেই প্রকাশের দ্বারা বিশ্বকে অভ্যর্থনা করব, এই হচ্ছে আমাদের সাধনা। বিশ্বভারতীর এই কাজে পশ্চিম-মহাদেশে আমি কী অভিজ্ঞতা লাভ করেছি সে কথা বলতে আমি কুণ্ঠিত হই। দেশের লোকে অনেকে হয়তো সেটা শ্রদ্ধাপূর্বক গ্রহণ করবেন না, এমনকি পরিহাসরসিকেরা বিদ্রূপও করতে পারেন। কিন্তু সেটাও কঠিন কথা নয়। আসলে ভাবনার কথাটা হচ্ছে এই যে, বিদেশে আমাদের দেশ যে শ্রদ্ধা লাভ করে, পাছে সেটাকে কেবলমাত্র অহংকারের সামগ্রী করে তোলা হয়। সেটা আনন্দের বিষয়, সেটা অহংকারের বিষয় নয়। যখন অহংকার করি তখন বাইরের লোকদের আরও বাইরে ফেলি, যখন আনন্দ করি তখনই তাদের নিকটের বলে জানি। বারম্বার এটা দেখেছি, বিদেশের যেসব মহদাশয় লোক আমাদের ভালোবেসেছেন, আমাদের অনেকে তাঁদের বিষয়সম্পত্তির মতো গণ্য করেছেন। তাঁরা আমাদের জাতিকে যে আদর করতে পেরেছেন সেটুকু আমরা ষোলো আনা গ্রহণ করেছি, কিন্তু আমাদের তরফে তার দায়িত্ব স্বীকার করি নি। তাঁদের ব্যবহারে তাঁদের জাতির যে গৌরব প্রকাশ হয় সেটা স্বীকার করতে অক্ষম হয়ে আমরা নিজের গভীর দৈন্যের প্রমাণ দিয়েছি। তাঁদের প্রশংসাবাক্যে আমরা নিজেদের মহৎ বলে স্পর্ধিত হয়ে উঠি; এই শিক্ষাটুকু একেবারেই ভুলে যাই যে, পরের মধ্যে যেখানে শ্রেষ্ঠতা আছে সেটাকে অকুণ্ঠিত আনন্দে স্বীকার<noinclude>{{বাম|১০৮}}</noinclude> r33428elj8yuabeg98kxfznuoi265fu পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১১৭ 104 884744 1995448 2026-08-23T17:27:18Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995448 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>করা ও প্রকাশ করার মধ্যে মহত্ত্ব আছে। আমাকে এইটেতেই সকলের চেয়ে নম্র করেছে যে, ভারতের যে পরিচয় অন্য দেশে আমি বহন করে নিয়ে গেছি কোথাও তা অবমানিত হয় নি। আমাকে যাঁরা সম্মান করেছেন তাঁরা আমাকে উপলক্ষ করে ভারতবর্ষকেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। যখন আমি পৃথিবীতে না থাকব তখনও যেন তার ক্ষয় না ঘটে, কেননা এ সম্মান ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে যুক্ত নয়। বিশ্বভারতীকে গ্রহণ করে ভারতের অমৃতরূপকে প্রকাশের ভার আপনারা গ্রহণ করেছেন। আপনাদের চেষ্টা সার্থক হোক, অতিথিশালা দিনে দিনে পূর্ণ হয়ে উঠুক, অভ্যাগতরা সম্মান পান, আনন্দ পান, হৃদয় দান করুন, হৃদয় গ্রহণ করুন, সত্যের ও প্রীতির আদানপ্রদানের দ্বারা পৃথিবীর সঙ্গে ভারতের যোগ গভীর ও দূরপ্রসারিত হোক, এই আমার কামনা। {{Block left|{{কেন্দ্র|{{smaller|৯ পৌষ ১৩৩২}} শান্তিনিকেতন}}}}<noinclude>{{ডান|১০৯}}</noinclude> suaj9v68d5gjr2uoabwhqx906py88mj পাতা:বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf/১৯৩ 104 884745 1995451 2026-08-23T17:33:10Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1995451 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{বাম|{{smaller|চিত্রসূচী}}}} {{dhr}} {{বাম|বিশ্বভারতী পরিষদ্-সভার প্রতিষ্ঠা-উৎসব}} {{dhr}} {{বাম|সিলভ্যাঁ লেভির ক্লাস}} {{dhr}} {{বাম|সিলভ্যাঁ লেভি রবীন্দ্রনাথের নিকট বাংলা শিখিতেছেন}}<noinclude></noinclude> 2ssfw7j0djnhdlh34wda7fh5kdr5p4y 1995452 1995451 2026-08-23T17:33:39Z Nettime Sujata 5470 1995452 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr|4em}} {{বাম|{{smaller|চিত্রসূচী}}}} {{dhr}} {{বাম|বিশ্বভারতী পরিষদ্-সভার প্রতিষ্ঠা-উৎসব}} {{dhr}} {{বাম|সিলভ্যাঁ লেভির ক্লাস}} {{dhr}} {{বাম|সিলভ্যাঁ লেভি রবীন্দ্রনাথের নিকট বাংলা শিখিতেছেন}}<noinclude></noinclude> ry3yz613hrokejv58f1nkjwncbt7ctz বিশ্বভারতী/১২ 0 884746 1995454 2026-08-23T18:13:54Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=102 to=117 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1995454 wikitext text/x-wiki <pages index="বিশ্বভারতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫১).pdf" from=102 to=117 header=1/> 5qpe8opr4h2yf62x92v2dzl1yt7bpn4 পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৮০ 104 884747 1995459 2026-08-24T04:48:53Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "নূতন গিন্নী 98 বাড়ীতে চতুষ্পাঠী ছিল; বারমাসে তের পার্বণের কিছুই বাদ যাইভ না ; অতিথি-অভ্যাগত কখন বিমুখ হইত না । তাঁহার যাহা আয় ছিল, তার অধিক তিনি ব্যয় করিতেন; কাল কি খাইবেন, স..." দিয়ে পাতা তৈরি 1995459 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭৪}}</noinclude>নূতন গিন্নী 98 বাড়ীতে চতুষ্পাঠী ছিল; বারমাসে তের পার্বণের কিছুই বাদ যাইভ না ; অতিথি-অভ্যাগত কখন বিমুখ হইত না । তাঁহার যাহা আয় ছিল, তার অধিক তিনি ব্যয় করিতেন; কাল কি খাইবেন, সে ভাবনা তিনিও ভাবিতেন না, আমার পিতামহী ও ভাবিতেন না, যাঁহার ভাবনা তিনিই ভাবিয়া বিদ্যালঙ্কারের সংসার চালাইয়া দিতেন। পিতামহ মহাশয়ের মৃত্যুর পরে পিতা মহাশয় যখন বাড়ীর কর্তা হইলেন, তখন চতুষ্পাঠী প্রথমেই উঠিয়া গেল— দুই বেলা আহারের জন্য ত আর ছাত্র থাকিতে পারে না ! পিতামহের নামের জোরে পিতা মহাশয় ও দুই একখানি পত্রী পাইতে লাগিলেন; কিন্তু বিদায় আর তেমন পান না । তখন সংসার অচল হইল। পিতামহ কখন বজন করেন নাই--তাঁহার সে অবকাশ ছিল না- আবশ্যক ছিল না । পিতা মহাশয় যজন আরম্ভ করিলেন; তবে তিনি ব্রাহ্মণ-গৃহেই পুরোহিতের কার্য্য করি- ভেন—শূদ্রের পৌরোহিত্য করিতেন না—এমন কি তিনি শূদ্রের দানও গ্রহণ করিতেন না। তখন হইতেই আমাদের কষ্টের আরম্ভ হইল । এখনকার দিনে লোকে ক্রিয়াকাণ্ড করিলে অন্যান্য বিষরে যথেষ্ট ব্যয় করিয়া থাকেন, কিন্তু ব্যয়সংক্ষেপ আসল ক্রিয়ার বেলার—পুরোহিতের প্রাপ্য কম করাই এখন উদ্দেশ্য হইয়া পড়িয়াছে । প্রমাণ কাপড়ের পরিবর্তে অনেকে দেড় হাত মার্কিণের গামছা দিয়াই কাজ সারিয়া থাকেন - দক্ষিণাও সেই হিসাবেই দেওয়া হয়। বিবাহাদি ক্রিয়ায় লক্ষ টাকা ব্যয় হয়, কিন্তু পুরোহিত ঠাকুর বড় বেশী হইলে আটটা টাকা প্রণামী যজমানের উপর নির্ভর পাইয়া থাকেন । এ অবস্থায় কেবল করিয়া সংসার চালাইতে প্রবৃত্ত হইয়া পিতা মহাশয় নানা প্রকার কষ্টে পড়িলেন। তবুও তিনি কোন প্রকারে সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করিতেন । তাহার পর তিনি অকালে সংসারের সমস্ত জ্বালা-যন্ত্রণা হইতে মুক্তিলাভ<noinclude></noinclude> lim52mym0um48e7j6qrm30r1u8tqnhe 1995468 1995459 2026-08-24T04:54:46Z BabulB 2144 1995468 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭৪}}</noinclude>বাড়ীতে চতুষ্পাঠী ছিল; বারমাসে তের পার্বণের কিছুই বাদ যাইভ না ; অতিথি-অভ্যাগত কখন বিমুখ হইত না । তাঁহার যাহা আয় ছিল, তার অধিক তিনি ব্যয় করিতেন; কাল কি খাইবেন, সে ভাবনা তিনিও ভাবিতেন না, আমার পিতামহী ও ভাবিতেন না, যাঁহার ভাবনা তিনিই ভাবিয়া বিদ্যালঙ্কারের সংসার চালাইয়া দিতেন। {{ফাঁক}}পিতামহ মহাশয়ের মৃত্যুর পরে পিতা মহাশয় যখন বাড়ীর কর্তা হইলেন, তখন চতুষ্পাঠী প্রথমেই উঠিয়া গেল— দুই বেলা আহারের জন্য ত আর ছাত্র থাকিতে পারে না ! পিতামহের নামের জোরে পিতা মহাশয় ও দুই একখানি পত্রী পাইতে লাগিলেন; কিন্তু বিদায় আর তেমন পান না । তখন সংসার অচল হইল। পিতামহ কখন বজন করেন নাই--তাঁহার সে অবকাশ ছিল না- আবশ্যক ছিল না । পিতা মহাশয় যজন আরম্ভ করিলেন; তবে তিনি ব্রাহ্মণ-গৃহেই পুরোহিতের কার্য্য করি- ভেন—শূদ্রের পৌরোহিত্য করিতেন না—এমন কি তিনি শূদ্রের দানও গ্রহণ করিতেন না। তখন হইতেই আমাদের কষ্টের আরম্ভ হইল । এখনকার দিনে লোকে ক্রিয়াকাণ্ড করিলে অন্যান্য বিষরে যথেষ্ট ব্যয় করিয়া থাকেন, কিন্তু ব্যয়সংক্ষেপ আসল ক্রিয়ার বেলার—পুরোহিতের প্রাপ্য কম করাই এখন উদ্দেশ্য হইয়া পড়িয়াছে । প্রমাণ কাপড়ের পরিবর্তে অনেকে দেড় হাত মার্কিণের গামছা দিয়াই কাজ সারিয়া থাকেন - দক্ষিণাও সেই হিসাবেই দেওয়া হয়। বিবাহাদি ক্রিয়ায় লক্ষ টাকা ব্যয় হয়, কিন্তু পুরোহিত ঠাকুর বড় বেশী হইলে আটটা টাকা প্রণামী যজমানের উপর নির্ভর পাইয়া থাকেন । এ অবস্থায় কেবল করিয়া সংসার চালাইতে প্রবৃত্ত হইয়া পিতা মহাশয় নানা প্রকার কষ্টে পড়িলেন। তবুও তিনি কোন প্রকারে সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করিতেন । তাহার পর তিনি অকালে সংসারের সমস্ত জ্বালা-যন্ত্রণা হইতে মুক্তিলাভ<noinclude></noinclude> gbgeml531xcdr1cvtzvvdhoh4j0c1od 1995477 1995468 2026-08-24T05:11:53Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995477 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭৪}}</noinclude>বাড়ীতে চতুষ্পাঠী ছিল; বারমাসে তের পার্ব্বণের কিছুই বাদ যাইত না; অতিথি-অভ্যাগত কখন বিমুখ হইত না। তাঁহার যাহা আয় ছিল, তার অধিক তিনি ব্যয় করিতেন; কাল কি খাইবেন, সে ভাবনা তিনিও ভাবিতেন না, আমার পিতামহী ও ভাবিতেন না, যাঁহার ভাবনা তিনিই ভাবিয়া বিদ্যালঙ্কারের সংসার চালাইয়া দিতেন। {{ফাঁক}}পিতামহ মহাশয়ের মৃত্যুর পরে পিতা মহাশয় যখন বাড়ীর কর্ত্তা হইলেন, তখন চতুষ্পাঠী প্রথমেই উঠিয়া গেল— দুই বেলা আহারের জন্য ত আর ছাত্র থাকিতে পারে না! পিতামহের নামের জোরে পিতা মহাশয় ও দুই একখানি পত্রী পাইতে লাগিলেন; কিন্তু বিদায় আর তেমন পান না । তখন সংসার অচল হইল। পিতামহ কখন যজন করেন নাই—তাঁহার সে অবকাশ ছিল না—আবশ্যক ছিল না। পিতা মহাশয় যজন আরম্ভ করিলেন; তবে তিনি ব্রাহ্মণ-গৃহেই পুরোহিতের কার্য্য করিতেন—শূদ্রের পৌরোহিত্য করিতেন না—এমন কি তিনি শূদ্রের দানও গ্রহণ করিতেন না। তখন হইতেই আমাদের কষ্টের আরম্ভ হইল। এখনকার দিনে লোকে ক্রিয়াকাণ্ড করিলে অন্যান্য বিষয়ে যথেষ্ট ব্যয় করিয়া থাকেন, কিন্তু ব্যয়সংক্ষেপ আসল ক্রিয়ার বেলার—পুরোহিতের প্রাপ্য কম করাই এখন উদ্দেশ্য হইয়া পড়িয়াছে। প্রমাণ কাপড়ের পরিবর্ত্তে অনেকে দেড় হাত মার্কিণের গামছা দিয়াই কাজ সারিয়া থাকেন—দক্ষিণাও সেই হিসাবেই দেওয়া হয়। বিবাহাদি ক্রিয়ায় লক্ষ টাকা ব্যয় হয়, কিন্তু পুরোহিত ঠাকুর বড় বেশী হইলে আটটী টাকা প্রণামী পাইয়া থাকেন। এ অবস্থায় কেবল যজমানের উপর নির্ভর করিয়া সংসার চালাইতে প্রবৃত্ত হইয়া পিতা মহাশয় নানা প্রকার কষ্টে পড়িলেন। তবুও তিনি কোন প্রকারে সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করিতেন। তাহার পর তিনি অকালে সংসারের সমস্ত জ্বালা-যন্ত্রণা হইতে মুক্তিলাভ<noinclude></noinclude> 0qxvkzs1cwv7302s4jj71o8pyabdioz পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৮১ 104 884748 1995460 2026-08-24T04:49:27Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "98 নূতন গিন্নী করিলেন। তখন আমার বয়স ১৮ বৎসর। পূর্ব্বেই বলিয়াছি বর্ণ- পরিচয় দ্বিতীয়ভাগ পর্য্যন্ত পড়িয়াই আমি মা সরস্বতীর নিকট বিদায় গ্রহণ করি । এখন হইলে কি হইত বলিতে..." দিয়ে পাতা তৈরি 1995460 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৭৫||নূতন গিন্নী}}</noinclude>98 নূতন গিন্নী করিলেন। তখন আমার বয়স ১৮ বৎসর। পূর্ব্বেই বলিয়াছি বর্ণ- পরিচয় দ্বিতীয়ভাগ পর্য্যন্ত পড়িয়াই আমি মা সরস্বতীর নিকট বিদায় গ্রহণ করি । এখন হইলে কি হইত বলিতে পারি না, কিন্তু কুড়ি পঁচিশ বৎসর পূর্ব্বে আমাদের সময়ে লেখাপড়া না জানিলেও ব্রাহ্মণের ছেলের বিবাহ হইত বাবা বাঁচিয়া থাকিতেই আমারও বিবাহ হইয়াছিল। মাথার উপর বাবা, মা, ঠাকুর-- আমার চিন্তা কি ? আমি পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ইয়ারকি দিয়াই সময় কাটাইতাম । বাবা মধ্যে মধ্যে শাসন করিবার চেষ্টা করিতেন বটে, কিন্তু ঠাকুরমার ভয়ে বড় কিছু করিয়া উঠিতে পারিতেন না । বাবা কিছু বলিলে ঠাকুর-মা বলিতেন “যা যা, আর কভাগিরি করিস না; বিদ্যালঙ্কারের নাতি না খাইয়া মরিবে ন।।” আমিও, এমন বাজে কথাটা যে বাবা বুঝিতেন না, সেজন্য বাবার বুদ্ধিটির অভাবই মনে করিতাম। এই ভাবে দিন কাটিতে লাগিল । আমি কিছুই শিক্ষা করিলাম না। বাবা আড়াই প্রহর বেলার সময় গ্রামে গ্রামে যজমান-বাড়ী ঘুরিয়া যাহা লইয়া আসিতেন, আমি বিদ্যা - লঙ্কারের নাতি তাহাতে ভাগ বসাইতাম; দিন এক রকমে কাটিয়া যাইত। এমন সময় একদিন বাবার ওলাউঠা হইল; ডাক্তার আসিতে না আসিতেই বাবা সজ্ঞানে পরলোকে গমন করিলেন। তখন আমার চৈতন্যোদয় হইল । চাহিয়া দেখি বাড়ীতে খাইবার লোক আছে— বাহির হইতে আনিবার লোক নাই । বাড়ীতে মা, ঠাকুর-মা, আমার স্ত্রী ও আমি এই চারি জন লোক আর এই ভোজন-দ্রব্য যোগান দিবার জন্য পৃথিবী অনুসন্ধান করিয়া আর কাহাকেও পাইলাম না – পাইলাম - আর শুধু পাঁচ বিঘা ব্রহ্মোত্তর জমি, আর আঠারো ঘর ব্রাহ্মণ যজমান ; পাইলাম বাবার নাম দস্তখত করা খতের ঋণ—বাবা গ্রামের মহাজন<noinclude></noinclude> ir0psu8t3mchegxpmqmckkh5k64qqlg 1995469 1995460 2026-08-24T04:55:20Z BabulB 2144 1995469 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৭৫||নূতন গিন্নী}}</noinclude>করিলেন। তখন আমার বয়স ১৮ বৎসর। পূর্ব্বেই বলিয়াছি বর্ণ- পরিচয় দ্বিতীয়ভাগ পর্য্যন্ত পড়িয়াই আমি মা সরস্বতীর নিকট বিদায় গ্রহণ করি । {{ফাঁক}}এখন হইলে কি হইত বলিতে পারি না, কিন্তু কুড়ি পঁচিশ বৎসর পূর্ব্বে আমাদের সময়ে লেখাপড়া না জানিলেও ব্রাহ্মণের ছেলের বিবাহ হইত বাবা বাঁচিয়া থাকিতেই আমারও বিবাহ হইয়াছিল। {{ফাঁক}}মাথার উপর বাবা, মা, ঠাকুর-- আমার চিন্তা কি ? আমি পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ইয়ারকি দিয়াই সময় কাটাইতাম । বাবা মধ্যে মধ্যে শাসন করিবার চেষ্টা করিতেন বটে, কিন্তু ঠাকুরমার ভয়ে বড় কিছু করিয়া উঠিতে পারিতেন না । বাবা কিছু বলিলে ঠাকুর-মা বলিতেন “যা যা, আর কভাগিরি করিস না; বিদ্যালঙ্কারের নাতি না খাইয়া মরিবে ন।।” আমিও, এমন বাজে কথাটা যে বাবা বুঝিতেন না, সেজন্য বাবার বুদ্ধিটির অভাবই মনে করিতাম। এই ভাবে দিন কাটিতে লাগিল । আমি কিছুই শিক্ষা করিলাম না। বাবা আড়াই প্রহর বেলার সময় গ্রামে গ্রামে যজমান-বাড়ী ঘুরিয়া যাহা লইয়া আসিতেন, আমি বিদ্যা - লঙ্কারের নাতি তাহাতে ভাগ বসাইতাম; দিন এক রকমে কাটিয়া যাইত। এমন সময় একদিন বাবার ওলাউঠা হইল; ডাক্তার আসিতে না আসিতেই বাবা সজ্ঞানে পরলোকে গমন করিলেন। তখন আমার চৈতন্যোদয় হইল । চাহিয়া দেখি বাড়ীতে খাইবার লোক আছে— বাহির হইতে আনিবার লোক নাই । বাড়ীতে মা, ঠাকুর-মা, আমার স্ত্রী ও আমি এই চারি জন লোক আর এই ভোজন-দ্রব্য যোগান দিবার জন্য পৃথিবী অনুসন্ধান করিয়া আর কাহাকেও পাইলাম না – পাইলাম - আর শুধু পাঁচ বিঘা ব্রহ্মোত্তর জমি, আর আঠারো ঘর ব্রাহ্মণ যজমান ; পাইলাম বাবার নাম দস্তখত করা খতের ঋণ—বাবা গ্রামের মহাজন<noinclude></noinclude> 45xvhk0q7ma7u4a3sqli5vosdkf5s3d 1995478 1995469 2026-08-24T05:19:24Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995478 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|৭৫||নূতন গিন্নী}}</noinclude>করিলেন। তখন আমার বয়স ১৮ বৎসর। পূর্ব্বেই বলিয়াছি বর্ণপরিচয় দ্বিতীয়ভাগ পর্য্যন্ত পড়িয়াই আমি মা সরস্বতীর নিকট বিদায় গ্রহণ করি। {{ফাঁক}}এখন হইলে কি হইত বলিতে পারি না, কিন্তু কুড়ি পঁচিশ বৎসর পূর্ব্বে আমাদের সময়ে লেখাপড়া না জানিলেও ব্রাহ্মণের ছেলের বিবাহ হইত বাবা বাঁচিয়া থাকিতেই আমারও বিবাহ হইয়াছিল। {{ফাঁক}}মাথার উপর বাবা, মা, ঠাকুর—আমার চিন্তা কি? আমি পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ইয়ারকি দিয়াই সময় কাটাইতাম। বাবা মধ্যে মধ্যে শাসন করিবার চেষ্টা করিতেন বটে, কিন্তু ঠাকুরমার ভয়ে বড় কিছু করিয়া উঠিতে পারিতেন না। বাবা কিছু বলিলে ঠাকুর-মা বলিতেন “যা যা, আর কত্তাগিরি করিস না; বিদ্যালঙ্কারের নাতি না খাইয়া মরিবে না।” আমিও, এমন বাজে কথাটা যে বাবা বুঝিতেন না, সেজন্য বাবার বুদ্ধিটির অভাবই মনে করিতাম। এই ভাবে দিন কাটিতে লাগিল। আমি কিছুই শিক্ষা করিলাম না। বাবা আড়াই প্রহর বেলার সময় গ্রামে গ্রামে যজমান-বাড়ী ঘুরিয়া যাহা লইয়া আসিতেন, আমি বিদ্যালঙ্কারের নাতি তাহাতে ভাগ বসাইতাম; দিন এক রকমে কাটিয়া যাইত। এমন সময় একদিন বাবার ওলাউঠা হইল; ডাক্তার আসিতে না আসিতেই বাবা সজ্ঞানে পরলোকে গমন করিলেন। তখন আমার চৈতন্যোদয় হইল। চাহিয়া দেখি বাড়ীতে খাইবার লোক আছে—বাহির হইতে আনিবার লোক নাই। বাড়ীতে মা, ঠাকুর-মা, আমার স্ত্রী ও আমি এই চারি জন লোক আর এই ভোজন-দ্রব্য যোগান দিবার জন্য পৃথিবী অনুসন্ধান করিয়া আর কাহাকেও পাইলাম না—পাইলাম শুধু পাঁচ বিঘা ব্রহ্মোত্তর জমি, আর আঠারো ঘর ব্রাহ্মণ যজমান; আর পাইলাম বাবার নাম দস্তখত করা খতের ঋণ—বাবা গ্রামের মহাজন<noinclude></noinclude> ncvmd2i84r521o2bi2dz5cxj70rthpy পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৮২ 104 884749 1995461 2026-08-24T04:49:50Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "নূতন গল্প ৭৬ হরিনাথ মণ্ডলের নিকট খত দিয়া চারিশত টাকা ধার করিয়াছিলেন। এত দিন তাহার এক পয়সাও শোধ দেন নাই,— সুদে আসলে সেই চারি শত টাকা ডবল ছাড়াইয়া গিয়াছে ৷ বাবার মৃত্যু..." দিয়ে পাতা তৈরি 1995461 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭৬}}</noinclude>নূতন গল্প ৭৬ হরিনাথ মণ্ডলের নিকট খত দিয়া চারিশত টাকা ধার করিয়াছিলেন। এত দিন তাহার এক পয়সাও শোধ দেন নাই,— সুদে আসলে সেই চারি শত টাকা ডবল ছাড়াইয়া গিয়াছে ৷ বাবার মৃত্যুর পরদিন প্রাতঃকালেই হরিনাথ মণ্ডল যখন আমাদের বাড়ীতে আসিলেন, তখন আমার মনে বড়ই সাহস হইল । আমি ত আর খতের কথা জানিতাম না, আমি মনে করিলাম মণ্ডলের পোর টাকা- কড়ি আছে ; আমাদের এই দুর্দিনে য় ত কোন প্রকার সাহায্য করিবার জন্যই তাহার আগমন হইয়াছে । হরিনাথ মণ্ডল প্রথমে বাবার মৃত্যুর জন্য অনেক দুঃখ করিল; তার পরই একখানি খত বাহির করিয়া বলিল “ত রপর ঠাকুর, এ টাকাগুলি শোধের কি হইবে, সুদে আসলে যে অনেক হইয়া গিয়াছে।” আমার তখন ইচ্ছা হইল মণ্ডলের পোর হাত হইতে খতখানি লইয়া ছিঁড়িয়া ফেলি এবং সুদের হিসাবে তাহার গণ্ড দেশে বিরাশি-সিক্কার ওজনের দুই চড় বসাইয়া দিই। সৌভাগ্যক্রমে মণ্ডলের পোর গলার আওয়াজ পাইয়াই ঠাকুর-মা বাহিরে আসিতে- ছিলেন, তিনি সেই সময়ে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। হরিনাথ মণ্ডল তাঁহাকেও খতের কথা বলিল। বুড়া ঠাকুর-মা এতগুলি টাকার কথা শুনিয়া একেবারে বসিয়া গেলেন— কিছুক্ষণ তাঁহার মুখ দিয়া কথা সরিল না । তাহার পর ধীরে ধীরে বলিলেন “দেখ হরি, রমা আমার ছেলে- মানুষ, সংসারের কিছুই জানে না । এই ছেলে বয়সে এত বড় সংসারটা মাথায় পড়িল ! তা বাপু, কিছুদিন অপেক্ষা কর; টাকা মারা যাইবে না; বিদ্যালঙ্কারের নাতি কাহাকেও ফাঁকি দিবে না।” “তা দেখবেন ঠাকরুণ, আমার হক্ টাকা। আপনার খাতিরে আমি আরও কিছুদিন সবুর করবো; তার পর কাজেই টাকা আদায়ের পথ দেখতে হবে।” এই বলিয়া হরিনাথ মণ্ডল চলিয়া গেল । আমি<noinclude></noinclude> ruhiy50c2mdmkpicgk6tf33ygf1ig2x 1995470 1995461 2026-08-24T04:55:59Z BabulB 2144 1995470 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭৬}}</noinclude>হরিনাথ মণ্ডলের নিকট খত দিয়া চারিশত টাকা ধার করিয়াছিলেন। এত দিন তাহার এক পয়সাও শোধ দেন নাই,— সুদে আসলে সেই চারি শত টাকা ডবল ছাড়াইয়া গিয়াছে ৷ {{ফাঁক}}বাবার মৃত্যুর পরদিন প্রাতঃকালেই হরিনাথ মণ্ডল যখন আমাদের বাড়ীতে আসিলেন, তখন আমার মনে বড়ই সাহস হইল । আমি ত আর খতের কথা জানিতাম না, আমি মনে করিলাম মণ্ডলের পোর টাকা- কড়ি আছে ; আমাদের এই দুর্দিনে য় ত কোন প্রকার সাহায্য করিবার জন্যই তাহার আগমন হইয়াছে । হরিনাথ মণ্ডল প্রথমে বাবার মৃত্যুর জন্য অনেক দুঃখ করিল; তার পরই একখানি খত বাহির করিয়া বলিল “ত রপর ঠাকুর, এ টাকাগুলি শোধের কি হইবে, সুদে আসলে যে অনেক হইয়া গিয়াছে।” আমার তখন ইচ্ছা হইল মণ্ডলের পোর হাত হইতে খতখানি লইয়া ছিঁড়িয়া ফেলি এবং সুদের হিসাবে তাহার গণ্ড দেশে বিরাশি-সিক্কার ওজনের দুই চড় বসাইয়া দিই। সৌভাগ্যক্রমে মণ্ডলের পোর গলার আওয়াজ পাইয়াই ঠাকুর-মা বাহিরে আসিতে- ছিলেন, তিনি সেই সময়ে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। হরিনাথ মণ্ডল তাঁহাকেও খতের কথা বলিল। বুড়া ঠাকুর-মা এতগুলি টাকার কথা শুনিয়া একেবারে বসিয়া গেলেন— কিছুক্ষণ তাঁহার মুখ দিয়া কথা সরিল না । তাহার পর ধীরে ধীরে বলিলেন “দেখ হরি, রমা আমার ছেলে- মানুষ, সংসারের কিছুই জানে না । এই ছেলে বয়সে এত বড় সংসারটা মাথায় পড়িল ! তা বাপু, কিছুদিন অপেক্ষা কর; টাকা মারা যাইবে না; বিদ্যালঙ্কারের নাতি কাহাকেও ফাঁকি দিবে না।” {{ফাঁক}}“তা দেখবেন ঠাকরুণ, আমার হক্ টাকা। আপনার খাতিরে আমি আরও কিছুদিন সবুর করবো; তার পর কাজেই টাকা আদায়ের পথ দেখতে হবে।” এই বলিয়া হরিনাথ মণ্ডল চলিয়া গেল । আমি<noinclude></noinclude> qeanaoaerxgom2yi4mp7dcwgqpxqyo9 1995479 1995470 2026-08-24T05:26:28Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995479 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭৬}}</noinclude>হরিনাথ মণ্ডলের নিকট খত দিয়া চারিশত টাকা ধার করিয়াছিলেন। এত দিন তাহার এক পয়সাও শোধ দেন নাই,—সুদে আসলে সেই চারি শত টাকা ডবল ছাড়াইয়া গিয়াছে ৷ {{ফাঁক}}বাবার মৃত্যুর পরদিন প্রাতঃকালেই হরিনাথ মণ্ডল যখন আমাদের বাড়ীতে আসিলেন, তখন আমার মনে বড়ই সাহস হইল। আমি ত আর খতের কথা জানিতাম না, আমি মনে করিলাম মণ্ডলের পোর টাকা-কড়ি আছে; আমাদের এই দুর্দিনে হয় ত কোন প্রকার সাহায্য করিবার জন্যই তাহার আগমন হইয়াছে। হরিনাথ মণ্ডল প্রথমে বাবার মৃত্যুর জন্য অনেক দুঃখ করিল; তার পরই একখানি খত বাহির করিয়া বলিল “ত রপর ঠাকুর, এ টাকাগুলি শোধের কি হইবে, সুদে আসলে যে অনেক হইয়া গিয়াছে।” আমার তখন ইচ্ছা হইল মণ্ডলের পোর হাত হইতে খতখানি লইয়া ছিঁড়িয়া ফেলি এবং সুদের হিসাবে তাহার গণ্ডদেশে বিরাশি-সিক্কার ওজনের দুই চড় বসাইয়া দিই। সৌভাগ্যক্রমে মণ্ডলের পোর গলার আওয়াজ পাইয়াই ঠাকুর-মা বাহিরে আসিতেছিলেন, তিনি সেই সময়ে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। হরিনাথ মণ্ডল তাঁহাকেও খতের কথা বলিল। বুড়া ঠাকুর মা এতগুলি টাকার কথা শুনিয়া একেবারে বসিয়া গেলেন— কিছুক্ষণ তাঁহার মুখ দিয়া কথা সরিল না। তাহার পর ধীরে ধীরে বলিলেন “দেখ হরি, রমা আমার ছেলেমানুষ, সংসারের কিছুই জানে না। এই ছেলে বয়সে এত বড় সংসারটা মাথায় পড়িল! তা বাপু, কিছুদিন অপেক্ষা কর; টাকা মারা যাইবে না; বিদ্যালঙ্কারের নাতি কাহাকেও ফাঁকি দিবে না।” {{ফাঁক}}“তা দেখবেন ঠাকরুণ, আমার হক্ টাকা। আপনার খাতিরে আমি আরও কিছুদিন সবুর করবো; তার পর কাজেই টাকা আদায়ের পথ দেখতে হবে।” এই বলিয়া হরিনাথ মণ্ডল চলিয়া গেল। আমি<noinclude></noinclude> jjk4ad1td1l8r7cgwyapc82l459ckkm পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৮৩ 104 884750 1995462 2026-08-24T04:50:37Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "११ নূতন পন্নী পুরাতন চণ্ডীমণ্ডপের দাবায় বসিয়া দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা দিয়া ভাবিতে লাগিলাম । একই ভাবনা, এই চারিটী প্রাণীর আহার জোটে কোথা হইতে। যজমানের বাড়ী কোন দিন যাই ন..." দিয়ে পাতা তৈরি 1995462 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৭৭||নূতন গিন্নী}}</noinclude>११ নূতন পন্নী পুরাতন চণ্ডীমণ্ডপের দাবায় বসিয়া দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা দিয়া ভাবিতে লাগিলাম । একই ভাবনা, এই চারিটী প্রাণীর আহার জোটে কোথা হইতে। যজমানের বাড়ী কোন দিন যাই নাই, ক্রিয়াকর্ম্ম করিতেও শিখি নাই ৷ বিদ্যালঙ্কারের নাতি — আহারের ভয় কি, ইহাই জানিতাম । এখন দেখি ঘোর সঙ্কট । আমি ভাবিয়া কুল-কিনারা পাইলাম না; কিন্তু মাথার উপর বসিয়া আর একজন আমার জন্য ভাবিয়া সব ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলন—সে ব্যবস্থা কি নড়চড় হইবার যো আছে! আমাদের গ্রামে আমার পিতার ই প্রথম ওলাউঠা হইল ; কিন্তু যে দেবী গ্রামে প্রবেশ করিলেন, তিনি আর শীঘ্র চলিয়া গেলেন না, গ্রামে আসন পাতিয়া বসিলেন। গ্রামের মধ্যে হাহাকার উঠিল, ঘরে ঘরে ওলাউঠা হইতে লাগিল, প্রতি বাড়ীতে ভিন চারিটী করিয়া মরিতে লাগিল । আমি ভাবিতে লাগিলাম আমাকে এই সময় পার করিলে আর কোনই ভাবনা থাকে না। মানুষ ভাবে এক, হুয় আর এক। কামনা করিলাম আমার মৃত্যু-যম আসিয়া লইয়া গেলেন আমার কিশোরী পত্নীকে। তাহার পরদিনই পতি ও পুত্রবধূর শোকে কাতরা আমার জননী সেই পথে চলিয়া গেলেন। পরে আটদিনের মধ্যে আমার ভাবনা প্রায় শেষ হইল। দিন থাকিবে বলিয়া আসিয়াছিল, তাহারা চলিয়া গেল; আর যিনি ভবসমুদ্রের ভীরে বসিয়া খেয়া নৌকার দিকে চাহিয়াছিলেন, সেই বুড়ী ঠাকুর-মা বাচিয়া রহিলেন—আর তাঁহার মুখে অন্তিম সময়ে গঙ্গাজল দিবার জন্য আমি রহিলাম। বুড়ী যদি এই সময়ে চলিয়া যাইত, তাহা হইলে আমি একেবারে নিশ্চিত্ত হইতাম। কিন্তু বিধাতার বিধান - আমি কি করিব। বাবার মৃত্যুর যাহারা অনেক মাসখানেকের মধ্যে আমাদের হরিরামপুরের পৌনে দুই শত<noinclude></noinclude> f7xx930wwxh6ms6unkhdwyqxc2ffpwt 1995471 1995462 2026-08-24T04:56:32Z BabulB 2144 1995471 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৭৭||নূতন গিন্নী}}</noinclude>পুরাতন চণ্ডীমণ্ডপের দাবায় বসিয়া দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা দিয়া ভাবিতে লাগিলাম । একই ভাবনা, এই চারিটী প্রাণীর আহার জোটে কোথা হইতে। যজমানের বাড়ী কোন দিন যাই নাই, ক্রিয়াকর্ম্ম করিতেও শিখি নাই ৷ বিদ্যালঙ্কারের নাতি — আহারের ভয় কি, ইহাই জানিতাম । এখন দেখি ঘোর সঙ্কট । {{ফাঁক}}আমি ভাবিয়া কুল-কিনারা পাইলাম না; কিন্তু মাথার উপর বসিয়া আর একজন আমার জন্য ভাবিয়া সব ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলন—সে ব্যবস্থা কি নড়চড় হইবার যো আছে! আমাদের গ্রামে আমার পিতার ই প্রথম ওলাউঠা হইল ; কিন্তু যে দেবী গ্রামে প্রবেশ করিলেন, তিনি আর শীঘ্র চলিয়া গেলেন না, গ্রামে আসন পাতিয়া বসিলেন। গ্রামের মধ্যে হাহাকার উঠিল, ঘরে ঘরে ওলাউঠা হইতে লাগিল, প্রতি বাড়ীতে ভিন চারিটী করিয়া মরিতে লাগিল । আমি ভাবিতে লাগিলাম আমাকে এই সময় পার করিলে আর কোনই ভাবনা থাকে না। মানুষ ভাবে এক, হুয় আর এক। কামনা করিলাম আমার মৃত্যু-যম আসিয়া লইয়া গেলেন আমার কিশোরী পত্নীকে। তাহার পরদিনই পতি ও পুত্রবধূর শোকে কাতরা আমার জননী সেই পথে চলিয়া গেলেন। পরে আটদিনের মধ্যে আমার ভাবনা প্রায় শেষ হইল। দিন থাকিবে বলিয়া আসিয়াছিল, তাহারা চলিয়া গেল; আর যিনি ভবসমুদ্রের ভীরে বসিয়া খেয়া নৌকার দিকে চাহিয়াছিলেন, সেই বুড়ী ঠাকুর-মা বাচিয়া রহিলেন—আর তাঁহার মুখে অন্তিম সময়ে গঙ্গাজল দিবার জন্য আমি রহিলাম। বুড়ী যদি এই সময়ে চলিয়া যাইত, তাহা হইলে আমি একেবারে নিশ্চিত্ত হইতাম। কিন্তু বিধাতার বিধান - আমি কি করিব। বাবার মৃত্যুর যাহারা অনেক {{ফাঁক}}মাসখানেকের মধ্যে আমাদের হরিরামপুরের পৌনে দুই শত<noinclude></noinclude> jkxr5i4fuokq34wjsqbjh8si12gey61 1995480 1995471 2026-08-24T05:31:50Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995480 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|৭৭||নূতন গিন্নী}}</noinclude>পুরাতন চণ্ডীমণ্ডপের দাবায় বসিয়া দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা দিয়া ভাবিতে লাগিলাম। একই ভাবনা, এই চারিটী প্রাণীর আহার জোটে কোথা হইতে। যজমানের বাড়ী কোন দিন যাই নাই, ক্রিয়াকর্ম্ম করিতেও শিখি নাই ৷ বিদ্যালঙ্কারের নাতি—আহারের ভয় কি, ইহাই জানিতাম। এখন দেখি ঘোর সঙ্কট। {{ফাঁক}}আমি ভাবিয়া কুল-কিনারা পাইলাম না; কিন্তু মাথার উপর বসিয়া আর একজন আমার জন্য ভাবিয়া সব ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলন—সে ব্যবস্থা কি নড়চড় হইবার যো আছে! আমাদের গ্রামে আমার পিতারই প্রথম ওলাউঠা হইল; কিন্তু যে দেবী গ্রামে প্রবেশ করিলেন, তিনি আর শীঘ্র চলিয়া গেলেন না, গ্রামে আসন পাতিয়া বসিলেন। গ্রামের মধ্যে হাহাকার উঠিল, ঘরে ঘরে ওলাউঠা হইতে লাগিল, প্রতি বাড়ীতে তিন চারিটী করিয়া মরিতে লাগিল। আমি ভাবিতে লাগিলাম আমাকে এই সময় পার করিলে আর কোনই ভাবনা থাকে না। মানুষ ভাবে এক, হয় আর এক। কামনা করিলাম আমার মৃত্যু-যম আসিয়া লইয়া গেলেন আমার কিশোরী পত্নীকে। তাহার পরদিনই পতি ও পুত্রবধূর শোকে কাতরা আমার জননী সেই পথে চলিয়া গেলেন। বাবার মৃত্যুর পরে আটদিনের মধ্যে আমার ভাবনা প্রায় শেষ হইল। যাহারা অনেক দিন থাকিবে বলিয়া আসিয়াছিল, তাহারা চলিয়া গেল; আর যিনি ভবসমুদ্রের ভীরে বসিয়া খেয়া নৌকার দিকে চাহিয়াছিলেন, সেই বুড়ী ঠাকুর-মা বাচিয়া রহিলেন—আর তাঁহার মুখে অন্তিম সময়ে গঙ্গাজল দিবার জন্য আমি রহিলাম। বুড়ী যদি এই সময়ে চলিয়া যাইত, তাহা হইলে আমি একেবারে নিশ্চিন্ত হইতাম। কিন্তু বিধাতার বিধান—আমি কি করিব। {{ফাঁক}}মাসখানেকের মধ্যে আমাদের হরিরামপুরের পৌনে দুই শত<noinclude></noinclude> njq91xx05ksc135hh50mbmi8kpw54lu পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৮৪ 104 884751 1995463 2026-08-24T04:50:59Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "লোকের জীবন নাশ করিয়া ওলাদেবী গ্রামান্তরে চলিয়া গেলেন। গ্রামের ‘হরিবোল’ থামিল—ধীরে ধীরে কান্নাও থামিতে লাগিল। 1 আবার সকলে গৃহকাৰ্যে মন দিল। এই মহামারীতে আমার মহাজন হর..." দিয়ে পাতা তৈরি 1995463 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" /></noinclude>লোকের জীবন নাশ করিয়া ওলাদেবী গ্রামান্তরে চলিয়া গেলেন। গ্রামের ‘হরিবোল’ থামিল—ধীরে ধীরে কান্নাও থামিতে লাগিল। 1 আবার সকলে গৃহকাৰ্যে মন দিল। এই মহামারীতে আমার মহাজন হরিনাথ ও তাহার একমাত্র পুত্রও মারাও গিয়াছিল। তাহাদের শ্রাদ্ধের পর হরিনাথের স্ত্রী একদিন আমাকে ডাকাইয়া লইয়া গেল, এবং আমার পিতার দত্ত সেই খতখানি বাহির করিয়া ছিঁড়িয়া ফেলিল ; বলিল “ঠাকুর, তোমার কিছু দেনা নাই, আমি সব ছাড়িয়া দিলাম ।” তাহার পর এই পনর বৎসর চলিয়া গিয়াছে। ঠাকুরমারের গঙ্গা- লাভ হইয়াছে ৷ আমি এই পনর বৎসর একমেবাদ্বিতীয়ং হইয়া গ্রামে বাস করিতেছি। বিদ্যালঙ্কারের ভিটা কি সহজে ছাড়িতে পারি। পাঁচ বিঘা ব্রহ্মোত্তর আছে, তাতেই সংসার চলে। কত বড় সংসার জান ? এই হরিরামপুর গ্রামটাই আমার সংসার, সকল বাড়ীই আমার বাড়ী ; আমি আর শ্রীরমাপ্রসাদ দেবশৰ্ম্মণঃ ভট্টাচার্য্য নহি— আমি হরিরামপুরের রমাঠাকুর । বাবা গেলেন, মা গেলেন, স্ত্রী গেলেন— শেষে বুড়ি ঠাকুর-মা ছিলেন, তিনিও গেলেন । আমি ভাবিলাম ভগবান্ আমার সকল বাঁধন কাটিয়া দিলেন—আমি এখন বৃষোৎবর্গের ষাঁড়ের মত পৃথিবীময় ঘুরিয়া বেড়াইব—যেখানে সন্ধ্যা হইবে সেখানেই রাত কাটাইব । কিন্তু ঐ যে বাবলা-গাছের বেড়ার মধ্যে বিদ্যালঙ্কারের ভিটা, ঐ ভিটা যেন কি যাদুমন্ত্র জানে। আমি যেখানে বাইবার জন্য বাড়ীর বাহির হই—অমনি ঐ ভিটা আমাকে টানিতে থাকে — উঠানের সেফালিকার গাছ ডাকিতে থাকে—“আর আর" ; ঘরের পিছনের আম গাছটা মাথা নাড়িরা আমাকে ফিরাইয়া আনে। চারিদিক হইতে শত-সহস্র ডাক পড়ে, আমি আর নড়িতে পারি না—ঐ বিদ্যালঙ্কারের ভিটায় সন্ধ্যা-বাতি দিই—ঐ বিদ্যা- -<noinclude></noinclude> l9y455qiakm8v0vktr20lm64pozgwna 1995464 1995463 2026-08-24T04:51:58Z BabulB 2144 1995464 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭৮}}</noinclude>{{rh|||}}লোকের জীবন নাশ করিয়া ওলাদেবী গ্রামান্তরে চলিয়া গেলেন। গ্রামের ‘হরিবোল’ থামিল—ধীরে ধীরে কান্নাও থামিতে লাগিল। 1 আবার সকলে গৃহকাৰ্যে মন দিল। এই মহামারীতে আমার মহাজন হরিনাথ ও তাহার একমাত্র পুত্রও মারাও গিয়াছিল। তাহাদের শ্রাদ্ধের পর হরিনাথের স্ত্রী একদিন আমাকে ডাকাইয়া লইয়া গেল, এবং আমার পিতার দত্ত সেই খতখানি বাহির করিয়া ছিঁড়িয়া ফেলিল ; বলিল “ঠাকুর, তোমার কিছু দেনা নাই, আমি সব ছাড়িয়া দিলাম ।” তাহার পর এই পনর বৎসর চলিয়া গিয়াছে। ঠাকুরমারের গঙ্গা- লাভ হইয়াছে ৷ আমি এই পনর বৎসর একমেবাদ্বিতীয়ং হইয়া গ্রামে বাস করিতেছি। বিদ্যালঙ্কারের ভিটা কি সহজে ছাড়িতে পারি। পাঁচ বিঘা ব্রহ্মোত্তর আছে, তাতেই সংসার চলে। কত বড় সংসার জান ? এই হরিরামপুর গ্রামটাই আমার সংসার, সকল বাড়ীই আমার বাড়ী ; আমি আর শ্রীরমাপ্রসাদ দেবশৰ্ম্মণঃ ভট্টাচার্য্য নহি— আমি হরিরামপুরের রমাঠাকুর । বাবা গেলেন, মা গেলেন, স্ত্রী গেলেন— শেষে বুড়ি ঠাকুর-মা ছিলেন, তিনিও গেলেন । আমি ভাবিলাম ভগবান্ আমার সকল বাঁধন কাটিয়া দিলেন—আমি এখন বৃষোৎবর্গের ষাঁড়ের মত পৃথিবীময় ঘুরিয়া বেড়াইব—যেখানে সন্ধ্যা হইবে সেখানেই রাত কাটাইব । কিন্তু ঐ যে বাবলা-গাছের বেড়ার মধ্যে বিদ্যালঙ্কারের ভিটা, ঐ ভিটা যেন কি যাদুমন্ত্র জানে। আমি যেখানে বাইবার জন্য বাড়ীর বাহির হই—অমনি ঐ ভিটা আমাকে টানিতে থাকে — উঠানের সেফালিকার গাছ ডাকিতে থাকে—“আর আর" ; ঘরের পিছনের আম গাছটা মাথা নাড়িরা আমাকে ফিরাইয়া আনে। চারিদিক হইতে শত-সহস্র ডাক পড়ে, আমি আর নড়িতে পারি না—ঐ বিদ্যালঙ্কারের ভিটায় সন্ধ্যা-বাতি দিই—ঐ বিদ্যা- -<noinclude></noinclude> 30cme5zq5d66dhzqqyfeom0jhvzm3hq 1995472 1995464 2026-08-24T04:57:09Z BabulB 2144 1995472 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৭৮}}</noinclude>লোকের জীবন নাশ করিয়া ওলাদেবী গ্রামান্তরে চলিয়া গেলেন। গ্রামের ‘হরিবোল’ থামিল—ধীরে ধীরে কান্নাও থামিতে লাগিল। 1 আবার সকলে গৃহকাৰ্যে মন দিল। এই মহামারীতে আমার মহাজন হরিনাথ ও তাহার একমাত্র পুত্রও মারাও গিয়াছিল। তাহাদের শ্রাদ্ধের পর হরিনাথের স্ত্রী একদিন আমাকে ডাকাইয়া লইয়া গেল, এবং আমার পিতার দত্ত সেই খতখানি বাহির করিয়া ছিঁড়িয়া ফেলিল ; বলিল “ঠাকুর, তোমার কিছু দেনা নাই, আমি সব ছাড়িয়া দিলাম ।” {{ফাঁক}}তাহার পর এই পনর বৎসর চলিয়া গিয়াছে। ঠাকুরমারের গঙ্গা- লাভ হইয়াছে ৷ আমি এই পনর বৎসর একমেবাদ্বিতীয়ং হইয়া গ্রামে বাস করিতেছি। বিদ্যালঙ্কারের ভিটা কি সহজে ছাড়িতে পারি। পাঁচ বিঘা ব্রহ্মোত্তর আছে, তাতেই সংসার চলে। কত বড় সংসার জান ? এই হরিরামপুর গ্রামটাই আমার সংসার, সকল বাড়ীই আমার বাড়ী ; আমি আর শ্রীরমাপ্রসাদ দেবশৰ্ম্মণঃ ভট্টাচার্য্য নহি— আমি হরিরামপুরের রমাঠাকুর । {{ফাঁক}}বাবা গেলেন, মা গেলেন, স্ত্রী গেলেন— শেষে বুড়ি ঠাকুর-মা ছিলেন, তিনিও গেলেন । আমি ভাবিলাম ভগবান্ আমার সকল বাঁধন কাটিয়া দিলেন—আমি এখন বৃষোৎবর্গের ষাঁড়ের মত পৃথিবীময় ঘুরিয়া বেড়াইব—যেখানে সন্ধ্যা হইবে সেখানেই রাত কাটাইব । কিন্তু ঐ যে বাবলা-গাছের বেড়ার মধ্যে বিদ্যালঙ্কারের ভিটা, ঐ ভিটা যেন কি যাদুমন্ত্র জানে। আমি যেখানে বাইবার জন্য বাড়ীর বাহির হই—অমনি ঐ ভিটা আমাকে টানিতে থাকে — উঠানের সেফালিকার গাছ ডাকিতে থাকে—“আর আর" ; ঘরের পিছনের আম গাছটা মাথা নাড়িরা আমাকে ফিরাইয়া আনে। চারিদিক হইতে শত-সহস্র ডাক পড়ে, আমি আর নড়িতে পারি না—ঐ বিদ্যালঙ্কারের ভিটায় সন্ধ্যা-বাতি দিই—ঐ বিদ্যা- -<noinclude></noinclude> eh4r100ymu75bjd0hbeafl1obbv6dq9 পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৮৫ 104 884752 1995465 2026-08-24T04:52:39Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "লঙ্কারের চতুষ্পাঠীতে একলা বসিয়া গান করি—“ভাইরে নারে নাইরে না।" আর অপরাছু হইলেই গ্রামের ছেলের পাল রমাঠাকুরের আড্ডা আসিয়া হাস্য-পরিহাস করে, আমোদ-আনন্দ করে, উঠানে খেলা কর..." দিয়ে পাতা তৈরি 1995465 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৭৯||নূতন গিন্নী}}</noinclude>লঙ্কারের চতুষ্পাঠীতে একলা বসিয়া গান করি—“ভাইরে নারে নাইরে না।" আর অপরাছু হইলেই গ্রামের ছেলের পাল রমাঠাকুরের আড্ডা আসিয়া হাস্য-পরিহাস করে, আমোদ-আনন্দ করে, উঠানে খেলা করে । সন্ধ্যা লাগিলে যে যার ঘরে চলিয়া যায়,— আর আমি ঐ চণ্ডীম গ্রুপের দরজায় বসিয়া আকাশের নক্ষত্র গণনা করি । '' যজন-ব্যবসায় অনেক দিন ছাড়িয়া দিয়াছি। কাহার জন্য রোজগার করিব। যে কয়দিন বাঁচিব, বিদ্যালঙ্কারের ভিটায় প্রদীপ দেওয়াই আমার একমাত্র কর্তব্য-কাব্য স্থির করিয়া বসিয়া রহিয়াছি । কিন্তু কেমন গ্রহের ফের, বিবাহ আর করিলাম না- সংসারে বিদ্যা- লঙ্কারের ভিটা ও পাঁচ বিঘা ব্রহ্মোত্তর ছাড়া আর কোন জঞ্জাল ছিল না । আমি র মাঠাকুর বেশ নিশ্চিন্ত মনে সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করিতে পারিতাম । কিন্তু মাথার উপর যে একজন আছেন—তিনি আমাকে কিছুতেই এক দরজায় বসিয়া থাকিতে দিবেন না । ব্রাহ্মণের ছেলে, বিদ্যালঙ্কারের নাতি—সকাল বেলায় উঠিয়া কোথায় পুষ্পয়ন করিব, স্নান পূজা করিব—না ও-পাড়ার ঘোষেদের বুড়ি আসিয়া খবর দিয়া গেল “ও ঠাকুর, আমাদের টুলুর কাল রাত্রি থেকে জ্বর — বাছাসারারাত্রি ছট্‌ ফট্ করিয়াছে।" পড়িয়া রহিল স্নান আহ্নিক—চলিলাম ওপাড়ায় ঘোষের বাড়ী। মহিম ঘোষের একমাত্র মেয়ে টুলুর জ্বর—আমি কি থাকিতে পারি । কবিরাজ আনিলাম, ডাক্তার ডাকিলাম, – সারাদিন মেয়েটীকে কোলে করিয়া বসিয়া থাকিলাম—স্নান-আহ্নিকও হইল না- আহার করিবারও ইচ্ছা হইল না । মধ্যরাত্রে জ্বর ছাড়িল— শেষরাত্রে বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম । মনে করিলাম—একটু ঘুমাই। তার কি যো আছে। রামকমল দাদার স্ত্রী আসিয়া কঁদিয়া পড়িলেন — মেয়েটা আসন্ন প্রসবা—মাজ দুই দিন বেদনায় কাতর—বুঝি মারা যায় । রাম-<noinclude></noinclude> fs15teab2c18e4v1ipqr9rcvif4it7o 1995473 1995465 2026-08-24T04:58:10Z BabulB 2144 1995473 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৭৯||নূতন গিন্নী}}</noinclude>লঙ্কারের চতুষ্পাঠীতে একলা বসিয়া গান করি—“ভাইরে নারে নাইরে না।" আর অপরাছু হইলেই গ্রামের ছেলের পাল রমাঠাকুরের আড্ডা আসিয়া হাস্য-পরিহাস করে, আমোদ-আনন্দ করে, উঠানে খেলা করে । সন্ধ্যা লাগিলে যে যার ঘরে চলিয়া যায়,— আর আমি ঐ চণ্ডীম গ্রুপের দরজায় বসিয়া আকাশের নক্ষত্র গণনা করি।'' {{ফাঁক}}যজন-ব্যবসায় অনেক দিন ছাড়িয়া দিয়াছি। কাহার জন্য রোজগার করিব। যে কয়দিন বাঁচিব, বিদ্যালঙ্কারের ভিটায় প্রদীপ দেওয়াই আমার একমাত্র কর্তব্য-কাব্য স্থির করিয়া বসিয়া রহিয়াছি । কিন্তু কেমন গ্রহের ফের, বিবাহ আর করিলাম না- সংসারে বিদ্যা- লঙ্কারের ভিটা ও পাঁচ বিঘা ব্রহ্মোত্তর ছাড়া আর কোন জঞ্জাল ছিল না । আমি র মাঠাকুর বেশ নিশ্চিন্ত মনে সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করিতে পারিতাম । কিন্তু মাথার উপর যে একজন আছেন—তিনি আমাকে কিছুতেই এক দরজায় বসিয়া থাকিতে দিবেন না । ব্রাহ্মণের ছেলে, বিদ্যালঙ্কারের নাতি—সকাল বেলায় উঠিয়া কোথায় পুষ্পয়ন করিব, স্নান পূজা করিব—না ও-পাড়ার ঘোষেদের বুড়ি আসিয়া খবর দিয়া গেল “ও ঠাকুর, আমাদের টুলুর কাল রাত্রি থেকে জ্বর — বাছাসারারাত্রি ছট্‌ ফট্ করিয়াছে।" পড়িয়া রহিল স্নান আহ্নিক—চলিলাম ওপাড়ায় ঘোষের বাড়ী। মহিম ঘোষের একমাত্র মেয়ে টুলুর জ্বর—আমি কি থাকিতে পারি । কবিরাজ আনিলাম, ডাক্তার ডাকিলাম, – সারাদিন মেয়েটীকে কোলে করিয়া বসিয়া থাকিলাম—স্নান-আহ্নিকও হইল না- আহার করিবারও ইচ্ছা হইল না । মধ্যরাত্রে জ্বর ছাড়িল— শেষরাত্রে বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম । মনে করিলাম—একটু ঘুমাই। তার কি যো আছে। রামকমল দাদার স্ত্রী আসিয়া কঁদিয়া পড়িলেন — মেয়েটা আসন্ন প্রসবা—মাজ দুই দিন বেদনায় কাতর—বুঝি মারা যায় । রাম-<noinclude></noinclude> hi6jjv0a4dcrsurvpipvzocgn1qoocv পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৮৬ 104 884753 1995466 2026-08-24T04:53:06Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "নুতন গিন্নী bo কমল দাদা কলিকাতায় থাকেন— বাড়ীতে পুরুষ আর কেহ নাই । তখনই উঠিলাম, বাশের লাঠি ঘাড়ে করিয়া সেই অন্ধকার রাত্রে দেড় ক্রোশ মাঠ ভাঙ্গিয়া ডাক্তারের বাড়ী গেলাম,..." দিয়ে পাতা তৈরি 1995466 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৮০}}</noinclude>নুতন গিন্নী bo কমল দাদা কলিকাতায় থাকেন— বাড়ীতে পুরুষ আর কেহ নাই । তখনই উঠিলাম, বাশের লাঠি ঘাড়ে করিয়া সেই অন্ধকার রাত্রে দেড় ক্রোশ মাঠ ভাঙ্গিয়া ডাক্তারের বাড়ী গেলাম, ধন্না দিয়া পড়িয়া থাকিয়া ডাক্তারকে সঙ্গে দৌড়ান কি সহজ কথা । থোকা হইল—তাহাকে দাদা লইয়া আসিলাম । সারা পথটা পাল্কীর মেয়েটা খালাস হইল —– সোনার চাঁদ একটা বলিয়া ডাকিলাম—সে বুঝি রমাঠাকুরকে দিল—আমার শরীর জুড়াইয়া গেল---বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম । চিনিল — ওঁরা— বলিয়া উত্তর - মুখুয্যেদের ছেলের অন্নপ্রাশন—ডাক রমাঠাকুরকে। এই হাতে আড়াই মণ ময়দা ভাজিয়া, লোকজন খাওয়াইয়া রাত্রি তিনটার সময় ফিরিলাম। কারো তোয়াকা রাখি না বাবা! কোন নেশার ধার ধারি না ; বিশ্বাস না হয় বিদ্যালঙ্কারের বাড়ী খানাতল্লাসি করিয়া দেখিও একটা কলিকাও খুঁজিয়া পাইবে না। নেশার মধ্যে একবেলা দুটো ভাত—দু'বেলা আহার করি না—তা যা দিয়ে হয় তাই খাই । তাই মধ্যে মধ্যে মনে করি, দূর হোক, এ হরিরামপুর ছাড়িয়া যাই;—কিন্তু বিদ্যালঙ্কারের ভিটা ছাড়িতে পারি না ;— তার পর এই গ্রাম খানির সকলে জোট বাঁধিয়া আমাকে আটক করিয়াছে। আমারও মনে হয়, আমি না হইলে এদের চলে না; আমি যদি আজ হরিরামপুর ছাড়িয়া যাই, তাহা হইলে গ্রামের লোক সেই দিনই মরিয়া যাইবে। এরা মরুক না মরুক, আমি কিন্তু মিত্রদের ছোটো বৌয়ের থোকা, ঘোষেদের টুলু, মুখুয্যেদের রাণী' ও-পাড়ার মহেশ ধোবার বোবা মেয়েটাকে দিনান্তে না দেথিয়া মরিয়া যাইব । আর রমাঠাকুর না থাকিলে বিদ্যালঙ্কারের চণ্ডী- মণ্ডপ যে আঁধার হইয়া যাইবে। ছেলেদের খেলার মাঠ জঙ্গলে পূর্ণ হইবে — তাদের আবদারের স্থানই থাকিবে না এ সব ত ছিল ভাল—সুখে দুঃখে গায়ের দশজনকে লইয়া এক<noinclude></noinclude> c6igprs6iiuiscf40y6itgc0zibdrdw 1995474 1995466 2026-08-24T04:58:55Z BabulB 2144 1995474 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|নূতন গিন্নী||৮০}}</noinclude>কমল দাদা কলিকাতায় থাকেন— বাড়ীতে পুরুষ আর কেহ নাই । তখনই উঠিলাম, বাশের লাঠি ঘাড়ে করিয়া সেই অন্ধকার রাত্রে দেড় ক্রোশ মাঠ ভাঙ্গিয়া ডাক্তারের বাড়ী গেলাম, ধন্না দিয়া পড়িয়া থাকিয়া ডাক্তারকে সঙ্গে দৌড়ান কি সহজ কথা । থোকা হইল—তাহাকে দাদা লইয়া আসিলাম । সারা পথটা পাল্কীর মেয়েটা খালাস হইল —– সোনার চাঁদ একটা বলিয়া ডাকিলাম—সে বুঝি রমাঠাকুরকে দিল—আমার শরীর জুড়াইয়া গেল---বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম । চিনিল — ওঁরা— বলিয়া উত্তর {{ফাঁক}}মুখুয্যেদের ছেলের অন্নপ্রাশন—ডাক রমাঠাকুরকে। এই হাতে আড়াই মণ ময়দা ভাজিয়া, লোকজন খাওয়াইয়া রাত্রি তিনটার সময় ফিরিলাম। কারো তোয়াকা রাখি না বাবা! কোন নেশার ধার ধারি না ; বিশ্বাস না হয় বিদ্যালঙ্কারের বাড়ী খানাতল্লাসি করিয়া দেখিও একটা কলিকাও খুঁজিয়া পাইবে না। নেশার মধ্যে একবেলা দুটো ভাত—দু'বেলা আহার করি না—তা যা দিয়ে হয় তাই খাই । {{ফাঁক}}তাই মধ্যে মধ্যে মনে করি, দূর হোক, এ হরিরামপুর ছাড়িয়া যাই;—কিন্তু বিদ্যালঙ্কারের ভিটা ছাড়িতে পারি না ;— তার পর এই গ্রাম খানির সকলে জোট বাঁধিয়া আমাকে আটক করিয়াছে। আমারও মনে হয়, আমি না হইলে এদের চলে না; আমি যদি আজ হরিরামপুর ছাড়িয়া যাই, তাহা হইলে গ্রামের লোক সেই দিনই মরিয়া যাইবে। এরা মরুক না মরুক, আমি কিন্তু মিত্রদের ছোটো বৌয়ের থোকা, ঘোষেদের টুলু, মুখুয্যেদের রাণী' ও-পাড়ার মহেশ ধোবার বোবা মেয়েটাকে দিনান্তে না দেথিয়া মরিয়া যাইব । আর রমাঠাকুর না থাকিলে বিদ্যালঙ্কারের চণ্ডী- মণ্ডপ যে আঁধার হইয়া যাইবে। ছেলেদের খেলার মাঠ জঙ্গলে পূর্ণ হইবে — তাদের আবদারের স্থানই থাকিবে না {{ফাঁক}}এ সব ত ছিল ভাল—সুখে দুঃখে গায়ের দশজনকে লইয়া এক<noinclude></noinclude> q2brmnpew7iniysxmtaqnzg2d7gs41g পাতা:নৃূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/৮৭ 104 884754 1995467 2026-08-24T04:53:33Z BabulB 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "৮১ নূতন রকম দিন কাটিতেছিল। কিন্তু সেবার মুখুয্যে-বাড়ীর, মিত্র-বাড়ীর, রায়-বাড়ীর, আরও অনেক বাড়ীর যে সকল ছেলে কলিকাতায় কলেজে পড়ে, তারা গ্রামে আসিয়া মহা কোলাহল জুড়িয়..." দিয়ে পাতা তৈরি 1995467 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="BabulB" />{{rh|৮১||নূতন গিন্নী}}</noinclude>৮১ নূতন রকম দিন কাটিতেছিল। কিন্তু সেবার মুখুয্যে-বাড়ীর, মিত্র-বাড়ীর, রায়-বাড়ীর, আরও অনেক বাড়ীর যে সকল ছেলে কলিকাতায় কলেজে পড়ে, তারা গ্রামে আসিয়া মহা কোলাহল জুড়িয়া দিল—বিদ্যালঙ্কারের চণ্ডীমণ্ডপে এক সভা করিল; কি বক্তৃতা করিল তা বুঝিলাম না ; শেষে সকলে বলিল “বন্দেমাতরম্'। তোমরা বিশ্বাস করিবে না, তোমরা বুঝিবে না—তোমাদিগকে বুঝাইতে পারিব না ; ঐ "বন্দে- মাতরম্' শুনিয়া আমার প্রাণের মধ্যে যেন কেমন করিয়া উঠিল; - আমি চারিদিকে সুধুই শুনিতে লাগিলাম “বন্দে মাতরম্*— আমার বহু দিনের শেফালিকা গাছ আঙ্গিনায় দাড়াইয়া ছিল—সেও যেন বলিল “বন্দে মাতরম্।” অনেক মন্ত্ৰ শুনিয়াছি, কিন্তু এমন মধুর নাম কোন দিন শুনি নাই ৷ a - সেই দিন হইতে আমি ঐ নাম গ্রহণ করিয়াছি, তোমরা নিন্দাই কর - আর যাই কর, এখন আমি জপ করি সুধু “বন্দেমাতরম্ ।” আমি এক “বন্দে মাতরমের দল বাঁধিয়াছি। পাড়ার যত ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে সন্ধ্যার সময় আমার আঙ্গিনায় আসে, আর হাততালি দিয়া গান করে—“বন্দে মাতরম্ । তোমরা পার ত একবার আমাদের গাঁয়ে আসিয়া রমাঠাকুরের দলের “বন্দে মাতরম্ শুনিয়া যাইও—আর বিদ্যালঙ্কারে নাতিকে দেখিয়া যাইও। তোমাদের নাকি নেতা নাই— আমাকে ত চাকরীটা দিতে পার? আমি কিন্তু ব্যিালঙ্কারের ভিটা ছাড়িতে পারিব না—আগে হরিরামপুর উদ্ধার, তার পরে তোমার ভারত । আমরা এই বিদ্যালঙ্কারের চতুষ্পাঠীতে 'স্বরাজ্য” প্রতিষ্ঠা করিব,—তোমাদের নিমন্ত্রণ করিলাম ।<noinclude></noinclude> b20qxrg1gzairyqyb37lt871nbdtxq5 1995475 1995467 2026-08-24T05:04:42Z BabulB 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1995475 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="BabulB" />{{rh|৮১||নূতন গিন্নী}}</noinclude>রকম দিন কাটিতেছিল। কিন্তু সেবার মুখুয্যে-বাড়ীর, মিত্র-বাড়ীর, রায়-বাড়ীর, আরও অনেক বাড়ীর যে সকল ছেলে কলিকাতায় কলেজে পড়ে, তারা গ্রামে আসিয়া মহা কোলাহল জুড়িয়া দিল—বিদ্যালঙ্কারের চণ্ডীমণ্ডপে এক সভা করিল; কি বক্তৃতা করিল তা বুঝিলাম না; শেষে সকলে বলিল “বন্দেমাতরম্'। তোমরা বিশ্বাস করিবে না, তোমরা বুঝিবে না—তোমাদিগকে বুঝাইতে পারিব না ; ঐ "বন্দে—মাতরম্' শুনিয়া আমার প্রাণের মধ্যে যেন কেমন করিয়া উঠিল;—আমি চারিদিকে সুধুই শুনিতে লাগিলাম “বন্দে মাতরম্"— আমার বহু দিনের শেফালিকা গাছ আঙ্গিনায় দাড়াইয়া ছিল—সেও যেন বলিল “বন্দে মাতরম্।” অনেক মন্ত্ৰ শুনিয়াছি, কিন্তু এমন মধুর নাম কোন দিন শুনি নাই ৷ {{ফাঁক}}সেই দিন হইতে আমি ঐ নাম গ্রহণ করিয়াছি, তোমরা নিন্দাই কর—আর যাই কর, এখন আমি জপ করি সুধু “বন্দেমাতরম্।” {{ফাঁক}}আমি এক “বন্দে মাতরমের" দল বাঁধিয়াছি। পাড়ার যত ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে সন্ধ্যার সময় আমার আঙ্গিনায় আসে, আর হাততালি দিয়া গান করে—“বন্দে মাতরম্। তোমরা পার ত একবার আমাদের গাঁয়ে আসিয়া রমাঠাকুরের দলের “বন্দে মাতরম্" শুনিয়া যাইও—আর বিদ্যালঙ্কারে নাতিকে দেখিয়া যাইও। তোমাদের নাকি নেতা নাই—আমাকে ত চাকরীটা দিতে পার? আমি কিন্তু বিদ্যালঙ্কারের ভিটা ছাড়িতে পারিব না—আগে হরিরামপুর উদ্ধার, তার পরে তোমার ভারত। আমরা এই বিদ্যালঙ্কারের চতুষ্পাঠীতে 'স্বরাজ্য' প্রতিষ্ঠা করিব,—তোমাদের নিমন্ত্রণ করিলাম। {{dhr}} {{rule|4em}}<noinclude></noinclude> 1hztl6o2b3c2535eb861ug10he7itt0 পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৪৭ 104 884756 1995490 2026-08-24T07:38:09Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1995490 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>পারিতেছে না। যে দিন তাহা পারিবে এবং অল্প আয়াসেই পারিবে, সে দিন আর যাহাই হৌক, স্বপ্, করিয়া সোনার বাজুবন্দ দিয়া গৃহিণীর মানভঞ্জন করা আর চলিবে না। 215 {{ফাঁক}}কিন্তু মানব যাহা পারিতেছে না, প্রকৃতির রাজ্যে স্বতঃই তাহা সম্পাদিত হইতেছে। রেডিয়ম (Radium) বলিয়া একটি ধাতু আবিষ্কৃত হইয়াছে—যাহার জন্ম অন্য ধাতু হইতে এবং পরিণতি অন্য ধাতুতে। {{ফাঁক}}এক্‌স্ রে (Xray) আবিষ্কারে বৈজ্ঞানিক জগতে যখন মহা হৈ-চৈ পড়িয়া গেল, তখন কয়েকজন, বৈজ্ঞানিক কাঠ, কাগজ প্রভৃতি অস্বচ্ছ দ্রব্য ভেদ করিয়া যায়, এইরূপ আলো ক্যাথোড়-রশ্মির হঠাৎ গতিরোধ ব্যতীত অন্য উপায়ে উৎপন্ন করা যাইতে পারে কি না, দেখিতে লাগিয়া গেলেন। কতকগুলি পদার্থকে সূর্যের আলোকে কিছু সময় রাখিয়া অন্ধকার ঘরে লইয়া যাইলে তাহারা জ্বলিতে থাকে, ইহাদিগকে বৈজ্ঞানিকেরা ফসফরাসেণ্ট (Phos ৩৫<noinclude></noinclude> abf3x5vrhv6qcgzcgs2vv2v1c62xmkn পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৪৮ 104 884757 1995491 2026-08-24T07:38:55Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1995491 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>নব্য-বিজ্ঞান phorescent) পদার্থ বলে। জোনাকি, চিংড়ি, কেঁচো, থিয়াটারের মহাদেবের মাথায় যাহা জ্বলিতে থাকে, সেই বেরিয়ম সফাইড (Barium Sulphide) প্রভৃতি পদার্থ এইরূপ। ফ্রান্সের খ্যাতনামা বৈজ্ঞানিক বেকারেল (Becquerel) এই সকল ফফরাসেণ্ট পদার্থ হইতে এক্‌-রের ন্যায় অদৃশ্য আলোক বহির্গত হয় কি না, পরীক্ষা করিতে লাগিলেন। ফোটাগ্রাফির কাচের উপর সাধারণ আলো পড়িলে যে পরিবর্তন হয়, অন্ধকার ঘরে কাল কাগজে মোড়া ঐ কাচের নিকট এক্‌-রে আনিলে সেই পরিবর্তন হইতে দেখা যায়। এক্‌স-রে আবিষ্কৃত হইবার পর বৎসরে বেকারেল্ পরীক্ষা করিতে করিতে দেখিলেন যে, নব-আবিষ্কৃত ইউরেনিয়ম্ সলফেট (Uranium Sulphate) যদি ঐ কাগজে মোড়া ফোটোগ্রাফির কাচের নিকট অনেকক্ষণ রাখা যায়, তাহা হইলে ঐ কাচের উপর রাসায়নিক ক্রিয়া হয়— এক্‌স-রে আনিলে ঠিক যেরূপ হয়। সুতরাং এই<noinclude></noinclude> 4rrn4wn3086of7q1lw5kxf0x8ovr20f পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৪৯ 104 884758 1995492 2026-08-24T07:39:36Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1995492 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>নব্য-বিজ্ঞান পদার্থ হইতে একরূপ রশ্মি বাহির হয় যাহা এক্‌স-রের ন্যায় অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করিয়া যাইতে পারে। এই সময় ওয়ারস (Warsaw) -বাসী জনৈক রমণী পারিশ্ (Paris) এ আসিয়া অঙ্কশাস্ত্রে ও পদার্থবিজ্ঞানে এম্ এ উপাধি গ্রহণ করেন এবং এইখানে পারিস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আচার্য্য কুরি (Curie) 3 সহিত বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হইয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার উপাধির জন্য ঐ বিষয়ে মৌলিক গবেষণায় নিযুক্ত থাকেন। তিনি দেখিলেন যে, পিচব্লেণ্ড (Pitchblende! নামক যে খনিজ পদার্থ হইতে ইউরেনিয়ম্ (Uranium) বাহির করিয়া লওয়া হইয়াছে, তাহার পরিত্যক্ত অংশ ইউরেনিয়ম্ অপেক্ষা এই অদৃশ্য কিরণ-বিকিরণে অধিক ক্ষমতাশালী; এবং ফোটোগ্রাফির কাচের উপর রাসায়নিক ক্রিয়া ব্যতীত অন্য উপায়েও ইনি তাহা প্রমাণ করিলেন। এই অবস্থায় অধ্যাপক কুরি পত্নীর গবেষণায় যোগদান করিলেন। পিচ্‌ ব্লেণ্ডের পরিত্যক্ত ৩৭<noinclude></noinclude> gcvcf0eli824hf865xz98xcxn61b14l পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৫০ 104 884759 1995493 2026-08-24T07:40:26Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1995493 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>নব্য-বিজ্ঞান অংশ যখন ইউরেনিয়ম্ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী, তখন উহাতে এমন কোন অজ্ঞাত অনাবিষ্কৃত ধাতু আছে—যাহা ইউরেনিয়ম্, অপেক্ষা অধিক ক্ষমতাবান্, এই মনে করিয়া কুরি ও কুরি-পত্নী এই অজানা পদার্থের সন্ধানে ঐ খনিজ পদার্থকে তন্ন তন্ন করিয়া বিশ্লেষণ করিতে লাগিয়া গেলেন। অনেক চেষ্টা ও পরিশ্রমের পর ইউরেনিয়ম্ বাছিয়া লইয়া বাকী যেটাকে ‘ছড়ায় ঝাঁটায়’ ফেলিয়া দেওয়া হইত, তাহা হইতে মিলিল এক পদার্থ—যাহা এই নূতন ক্ষমতাপন্ন কিরণ বিকিরণ করিতে সম ওজনের ইউরেনিয়ম অপেক্ষা লক্ষগুণ ক্ষমতাশালী। এই পদার্থের নাম দেওয়া হইল রেডিয়ম্ (Radium) সর্ব্ব প্রধান আবিষ্কারের জন্য সেই বৎসরের নোবেল প্রাইজের কতকটা অংশ কুরি-পত্নীকে দেওয়া হয়। প্রতিভায় নারী যে পুরুষের অপেক্ষা হীন নয়, সুযোগ ও সুবিধা পাইলে রমণীও যে মানবের জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করিতে পারে, সেই প্রসঙ্গে খনা ও কুরি-পত্নীর<noinclude></noinclude> m7jm6rjixmv8bswn3um21sjtwptkeun পাতা:নব্য-বিজ্ঞান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য.pdf/৫১ 104 884760 1995494 2026-08-24T07:51:07Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1995494 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>নব্য-বিজ্ঞান নাম যদি উল্লেখ করা যায়, তবে এই উত্তর বোধ হয় শুনিতে হইবে স্ত্রীলোককে লেখাপড়া শিখাইলে তাহার শেষ পরিণাম বৈধব্য এবং প্রমাণস্বরূপ দেখান হইবে, এই ঘটনার দশ বৎসরের মধ্যেই একদিন পারিসের রাজপথে গাড়ীচাপা পড়িয়া অধ্যাপক কুরি প্রাণত্যাগ করেন। {{ফাঁক}}ইউরেনিয়ম্ যে খনিজ পদার্থে থাকে দেখা যায়, কেবলমাত্র তাহাতেই রেডিয়ম্, মিলে, ইহার তাৎপর্য্য কি? একটা কাচের পাত্রে কিছু ইউরেনিয়ম্ রাখিয়া তাহার মুখটা রেশ করিয়া বন্ধ করিয়া রাখিয়া দিলে দেখা যায়, কিছুকাল পরে ঐ ইউরেনিয়মের কিয়দংশ রেডিয়মে পরিণত হইয়াছে। কালস্রোতে এই রেডিয়ও যে আবার অন্য পদার্থে পরিণত হয়, তাহার প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে এবং সীসা যে ইহাদের শেষ পরিণতি, তাহা বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ এখন উপস্থিত হইতেছে। {{ফাঁক}}এই বিশ্বে শক্তির অপচয় নাই; একস্থান হইতে যে শক্তি লুপ্ত হইতেছে বলিয়া মনে হয়, ঠিক সেই পরিমাণ ৩৯<noinclude></noinclude> 4ho1xozwtr59y5fu3m08wy5l3nkimsd