উইকিসংকলন
bnwikisource
https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.47.0-wmf.22
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিসংকলন
উইকিসংকলন আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
লেখক
লেখক আলাপ
নির্ঘণ্ট
নির্ঘণ্ট আলাপ
পাতা
পাতা আলাপ
প্রবেশদ্বার
প্রবেশদ্বার আলাপ
প্রকাশক
প্রকাশক আলোচনা
রচনা
রচনা আলাপ
অনুবাদ
অনুবাদ আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
নির্ঘণ্ট:ভারতশিল্পের ষড়ঙ্গ - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪৭).pdf
102
783091
2001750
1885549
2026-10-03T04:54:10Z
Bodhisattwa
2549
2001750
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q110088193
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=3
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes=
|Header=
|Header_even=
|Header_odd=
|Footer=
|Footer_even=
|Footer_odd=
}}
kpjsu2ytd3b665i0lg5c3sldyf2y6og
পাতা:রাজাবলি - শ্যামধন মুখোপাধ্যায়.pdf/৩০
104
798296
2001748
1968183
2026-10-02T19:18:12Z
Bodhisattwa
2549
2001748
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{center|( ১৮ )}}</noinclude>তাহার পর শুলতান শাহাবুদ্দিন গৌরীনারায়ণ গ্রামের সৈন্য নষ্ট করিয়া দিল্লীতে পঁহুছিলেন ইতি।
{{gap}}শাহাবদ্দিন দিল্লী পঁহুছিলে পৃথুরায় অনেক যুদ্ধ করিলেন কিন্তু শাহাবদ্দিনের হস্তে ধৃত হওয়াতে শাহাবদ্দিন জয়চন্দ্রের জামাতা জানিয়া প্রাণদণ্ড না করিয়া আপন দেশ গজনেনে পাঠাইয়া দিলেন, এবং পৃথু রাজার সর্ব্বজ্ঞাতা জয়চন্দ্র ভাট কেও বন্দি করিলেন কিন্তু তিনি স্বয়ং রাজসিংহাসনে না বসিয়া পিতার দাসী পুত্র কোতবদ্দিন যবনকে দিলীর সিংহাসনে বসাইয়া গজনেনে চলিয়া গেলেন।
{{gap}}কোতবদ্দিন কিছুদিন দিল্লীতে রাজ্য করিয়া শাহাবদ্দিন নামে সিক্কা চালাইয়া খোতবা জারী করিলেন, শাহাবদ্দিন সাতবার পরাজয় হইয়া অষ্টমরারে রাজা জয়চন্দ্রের আনুকূল্যে জয়ী হইয়াছিলেন।
{{gap}}শাহাবদ্দিন গজনেনে চন্দ্রভাটকে নিকট আনাইয়া মধ্যে পৃথুর কথা এবং হিন্দুস্থানের সন্ধান জিজ্ঞাসা করাতে পৃথুর তীরন্দাজী বিদ্যার কথা এক দিন কহিবায় নিশানা দেখাই বার ছলে শাহাবদ্দিন তাহাকে নষ্ট করেন, পরে চন্দ্র ভাটেরও মস্তক চ্ছেদন করেন, পৃথুর মৃত্যুর পর দিল্লীর সিংহাসন শাহাবদ্দিন যবনের অধিকৃত হইল।
{{gap}}এই শাহাবদ্দিন যবন গৌরের বাদশাহ গয়াসদ্দিনের ভ্রাতা ছিলেন তাহাতেই গৌরী উপাধি।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
qxmalag36u30knohhi3qsdaq4iu5kqg
ব্যবহারকারী:BabulB/খেলাঘর
2
878555
2001752
2000883
2026-10-03T06:46:40Z
BabulB
2144
2001752
wikitext
text/x-wiki
;Templates
* Fraction Template: [[টেমপ্লেট:Sfrac]]
*[[টেমপ্লেট:Img float]]
;মুদ্ৰণ সংশোধন
[[আমেরিকার স্বাধীনতা]], [[বড়বউ]], [[ভারতবর্ষের ইতিহাস (হেমলতা দেবী)]], [[প্রহাসিনী]], [[মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত (১৯৪৪)]], [[চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)]], [[থার্ডক্লাশ (১৯৪১)]], [[টমকাকার কুটীর]], [[নূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প]], [[অণুকথা সপ্তক]] [[সীতা-হরণ-পাঁচালী]], [[মোহনলাল]], [[ডিগবাজী খাঁ]], [[নির্ঘণ্ট:গল্পসংগ্রহ - প্রমথ চৌধুরী (১৯৪১).pdf]], [[নির্ঘণ্ট:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf|মহাভারতীয় নীতিকথা]], [[নির্ঘণ্ট:সুন্দরবনে ভ্রমণ-কাহিনী – শেখ হবিবর রহমান (১৯৪৫).pdf]], [[নির্ঘণ্ট:নকল রাণী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf|নকল রাণী]]
;অন্যান্য
*সূচী: [[নির্ঘণ্ট:ভ্রান্তিবিলাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮৯০).pdf]]
* Poem right alignment: [[পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/২০৭]]
* [[পাতা:গোপাল ভাঁড় - প্রচার পুস্তিকা (১৯৫৩).pdf/২]]]]
*nopt: [[পাতা:প্রহাসিনী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪৫).pdf/১০১]]
* [[পাতা:পূর্ব পাকিস্তানে কৃষি.pdf/১১]]
*[[উইকিসংকলন:কপিরাইট নীতিমালা]]
* Family tree: [[পাতা:ভারতবর্ষের ইতিহাস - হেমলতা দেবী (১৯১৩).pdf/১২১]]
* image float: [[পাতা:দুধ-ভাত - ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী.pdf/৫৮]]
*[[পাতা:জাতক (দ্বিতীয় খণ্ড) - ঈশানচন্দ্র ঘোষ (১৯২০).pdf/১৭]]
* Pic right left: [[পাতা:পূর্ব পাকিস্তানে কৃষি.pdf/২]]
* পরিচ্ছেদ (মূল গ্রন্থে নেই): [[নির্ঘণ্ট:সাম্য - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৮).pdf]]
* Blockquote:[[পাতা:চিন্তাতরঙ্গিণী - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৫৪).pdf/৩]]
* Blockcenter|width [[পাতা:বড়বউ - সত্যচরণ মিত্র (১৯১৭).pdf/৩]]
* Thick rule: [[পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/১]]
* Dropinitial [[পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/৩০]]
* Block left [[পাতা:সুন্দরবনে ভ্রমণ-কাহিনী – শেখ হবিবর রহমান (১৯৪৫).pdf/২]]
* [[সাহায্য:টেমপ্লেট]]
* Picture, caption in left side: [[পাতা:পূর্ব পাকিস্তানে বেতার.pdf/১৩]]
* Border, overfloat [[পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/৪]]
* [[পাতা:পূর্ব পাকিস্তানে বেতার.pdf/২৪]]
* Center and right; [[পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৫৮]]
* Colour font: [[পাতা:অমৃত - রজনীকান্ত সেন (১৯১০).pdf/৩]]
* Rajsahi Glam Project [https://bn.wikisource.org/wiki/উইকিসংকলন:গ্ল্যাম/রাজশাহী_সাধারণ_গ্রন্থাগার]
* [https://bd.wikimedia.org/wiki/বাংলা_উইকিসম্মেলন_২০২৬/বৃত্তি বাংলা উইকিসম্মেলন ২০২৬]
* [https://w.wiki/Hbkx Wikimedia events]
* Border [[পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩]]
* Bar [[পাতা:রোবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম - কান্তিচন্দ্র ঘোষ (১৯২৯).pdf/৫৫]]
* Block left center poem [[পাতা:সানাই-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৭৯]]
* Publication page [[পাতা:নূতন গিন্নী ও অন্যান্য গল্প - জলধর সেন (১৯২০).pdf/২]]
* ditto [[পাতা:পশ্চিম প্রদেশের দুর্ভিক্ষ উপশমে সাহায্য সংগ্রহার্থে ব্রাহ্মসমাজের বক্তৃতা (১৮৬০).pdf/১৫]]
* Blackletter fornt [[পাতা:মানসাঙ্ক (প্রথম ভাগ) - গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৩).pdf/১]]
* dtpl [[পাতা:জন্মদিনে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪১).pdf/১২]]
* চিত্ৰ [[সাহায্য:চিত্র]]
* Overflot image [[পাতা:মহাভারতীয় নীতিকথা (প্রথম খণ্ড) - রাজেন্দ্রনাথ কাঞ্জিলাল (১৯২৪).pdf/৪]]
dxxmmdkcnt5ougenbsf072begk2n4ia
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬১
104
886509
2001716
2000976
2026-10-02T14:51:43Z
Nettime Sujata
5470
/* বৈধকরণ */
2001716
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="4" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{Img float
| file = বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০) (page 61 crop).jpg
| width = 500px
| align = center
| cap = মিশর দেশের কার্ণাক নামক পুরাতন স্থানের ভগ্নসমৃদ্ধি ও স্মৃতি-চিহ্ন।}}<noinclude></noinclude>
8znmogyo444hiihg1cgeb4mpa7jyg5l
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৮
104
886510
2001725
2000977
2026-10-02T16:11:57Z
Nettime Sujata
5470
/* বৈধকরণ */
2001725
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="4" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{Img float
| file = বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০) (page 68 crop).jpg
| width = 500px
| align = center
| cap = মিশর দেশের মন্দিরে খোদিত প্রতিমূর্ত্তি ও ছবি-আঁকা ভাষা।}}<noinclude></noinclude>
oh6jmw8sue9am3u6weqcqzlxf0uig5c
পাতা:শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf/১৯
104
886783
2001747
2001679
2026-10-02T19:14:54Z
Bodhisattwa
2549
2001747
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|৬}}
{{Block center|<poem>
ঐ মহামানব আসে;
দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে
মর্ত্য ধূলির ঘাসে ঘাসে।
সুরলোকে বেজে উঠে শঙ্খ,
নরলোকে বাজে জয়ডঙ্ক
এল মহাজন্মের লগ্ন।
আজি অমারাত্রির দুর্গতোরণ যত
ধূলিতলে হয়ে গেল ভগ্ন
উদয়শিখরে জাগে মাভৈঃ মাভৈঃ রব
নবজীবনের আশ্বাসে।
জয় জয় জয় রে মানব-অভ্যুদয়,
মন্দ্রি উঠিল মহাকাশে॥</poem>}}
{{dhr}}
{{Block left|উদয়ন
১ বৈশাখ, ১৩৪৮}}<noinclude>{{C|৯}}</noinclude>
1nof2jz116rg1eqjgqsshgk13f7eqfg
শেষ লেখা (১৯৪২)/জীবন পবিত্র জানি
0
886803
2001703
2026-10-02T12:35:41Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=20 to=21 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001703
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=20 to=21 header=1/>
rghb3sgdj83g0ffi3k3a9wux9fj8em7
শেষ লেখা (১৯৪২)/বিবাহের পঞ্চম বরষে
0
886804
2001704
2026-10-02T12:38:26Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=22 to=23 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001704
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=22 to=23 header=1/>
h311x9q0axsibsjep4h438uoa7cazf4
শেষ লেখা (১৯৪২)/বাণীর মুরতি গড়ি
0
886805
2001705
2026-10-02T12:44:02Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=24 to=26 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001705
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=24 to=26 header=1/>
hchux9veuyxy24xmfzm0wub0z3uq1fz
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫০
104
886806
2001706
2026-10-02T14:12:15Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001706
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৩৮|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|{{larger|স্যৈয়দ্ বন্দর।}}}}
{{ফাঁক}}জাহাজ হইতে কিনারা অতি সন্নিকট। কিন্তু সেই অল্প পথই নৌকায় করিয়া নামিতে হয়। তার ভাড়াও অনেক; এমন ভাড়া কোথাও দেখি নাই। দিনের বেলা প্রতি জনা পিছু তিন আনা লাগে আর রাত্রি বেলা ছয় আনা। পূর্ব্বে নাকি আরও বেশী ছিল। সুলতানের আমলে যা চাহিত তাই দিতে হইত। মাঝিরা নাকি নৌকা আধ পথে লইয়া গিয়া আর যাইব না বলিয়া, ভয় দেখাইয়া বেশী ভাড়া আদায় করিত। এখন ইংরেজের শাসন আমলে সবই নিয়মে বাঁধা।
{{ফাঁক}}নামিবামাত্র একজন তুরস্কদেশীয় ভদ্রলোক হাত বাড়াইয়া আমাদিগকে উপরে উঠাইয়া লইল এবং বলিল—“আপনারা কি স্থানটি দেখিতে ইচ্ছা করেন? আমি একজনা প্রদর্শক। আমাকে দু-সিলিং দিলেই আমি আপনাদের সব স্থান দেখাইয়া আনিব।” আমরা সম্মত হইয়া একখানি ভাড়া ফিটন্ লইয়া দেশ দেখিতে চলিলাম। ফিটন্ খানি রবার টায়ার দেওয়া ও প্রতি ঘণ্টায় তার দুই শিলিং ভাড়া।
{{ফাঁক}}সহরটি নূতন, রাস্তাগুলি চওড়া। বাড়িগুলি সারি সারি গাঁথা; তার নীচেতলা সবই দোকান। দোকানগুলি অতি সুসজ্জিত এবং দেশীয় ও বিদেশীয়; তাতে নানারূপ জিনিষ বিক্রয় হয়। অধিকাংশ দোকান ফরাসী জাতীর বা মুসলমানের হাতে। ইংরেজের হাতে অল্পই আছে। সবাই ফরাসী ভাষা কয়। অষ্ট্রীচ্-পালক, ইজিপ্টের প্রত্নতত্ত্বের ছবি, নানারূপ পরিধেয় দ্রব্য সামগ্রী ইত্যাদি। বড় রাস্তার ধারে ধারে ও সমুদ্রের তীরে বাঁধা রাস্তার উপর অনেক মদের দোকান। তাকে ফরাসী ভাষায় ‘কাফি’ বলে। অর্থাৎ সেইখানে মদ “কাফি-চা” ইত্যাদি পাওয়া যায়।
{{ফাঁক}}এ দেশের কাফি অতি বিখ্যাত। ছোট পেয়ালা করিয়া দুধ চিনি<noinclude></noinclude>
oqhbkve6khuucyb4r3v7128bcldta1t
2001721
2001706
2026-10-02T15:45:35Z
Nettime Sujata
5470
2001721
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|{{larger|স্যৈয়দ্ বন্দর।}}}}
{{ফাঁক}}জাহাজ হইতে কিনারা অতি সন্নিকট। কিন্তু সেই অল্প পথই নৌকায় করিয়া নামিতে হয়। তার ভাড়াও অনেক; এমন ভাড়া কোথাও দেখি নাই। দিনের বেলা প্রতি জনা পিছু তিন আনা লাগে আর রাত্রি বেলা ছয় আনা। পূর্ব্বে নাকি আরও বেশী ছিল। সুলতানের আমলে যা চাহিত তাই দিতে হইত। মাঝিরা নাকি নৌকা আধ পথে লইয়া গিয়া আর যাইব না বলিয়া, ভয় দেখাইয়া বেশী ভাড়া আদায় করিত। এখন ইংরেজের শাসন আমলে সবই নিয়মে বাঁধা।
{{ফাঁক}}নামিবামাত্র একজন তুরস্কদেশীয় ভদ্রলোক হাত বাড়াইয়া আমাদিগকে উপরে উঠাইয়া লইল এবং বলিল—“আপনারা কি স্থানটি দেখিতে ইচ্ছা করেন? আমি একজনা প্রদর্শক। আমাকে দু-সিলিং দিলেই আমি আপনাদের সব স্থান দেখাইয়া আনিব।” আমরা সম্মত হইয়া একখানি ভাড়া ফিটন্ লইয়া দেশ দেখিতে চলিলাম। ফিটন্ খানি রবার টায়ার দেওয়া ও প্রতি ঘণ্টায় তার দুই শিলিং ভাড়া।
{{ফাঁক}}সহরটি নূতন, রাস্তাগুলি চওড়া। বাড়িগুলি সারি সারি গাঁথা; তার নীচেতলা সবই দোকান। দোকানগুলি অতি সুসজ্জিত এবং দেশীয় ও বিদেশীয়; তাতে নানারূপ জিনিষ বিক্রয় হয়। অধিকাংশ দোকান ফরাসী জাতীর বা মুসলমানের হাতে। ইংরেজের হাতে অল্পই আছে। সবাই ফরাসী ভাষা কয়। অষ্ট্রীচ্-পালক, ইজিপ্টের প্রত্নতত্ত্বের ছবি, নানারূপ পরিধেয় দ্রব্য সামগ্রী ইত্যাদি। বড় রাস্তার ধারে ধারে ও সমুদ্রের তীরে বাঁধা রাস্তার উপর অনেক মদের দোকান। তাকে ফরাসী ভাষায় ‘কাফি’ বলে। অর্থাৎ সেইখানে মদ “কাফি-চা” ইত্যাদি পাওয়া যায়।
{{ফাঁক}}এ দেশের কাফি অতি বিখ্যাত। ছোট পেয়ালা করিয়া দুধ চিনি<noinclude></noinclude>
1uq34j4shhb6y4pwme6ps2oig0q408g
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫১
104
886807
2001707
2026-10-02T14:16:50Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001707
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||স্যৈয়দ্ বন্দর।|৩৯}}</noinclude>বিহীন কাফি পান করা হয়; আর তার সঙ্গে মদ। অনেকগুলি বেকার বদমায়েস্ সেইখানে বসিয়া দিন রাত আড্ডা দেয়। সুবিধা পাইলে লোকদের ঠকায়। অনেকগুলি ইটালিয় বালিকা এখানে থাকিয়া—কনসট্ বাজাইয়া ও গান গাহিয়া লোকদের মনোরঞ্জন করে। সেটি একটি এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কারে প্রকারে অনেক লোক দুষ্ট লোকের প্ররোচনার ফাঁদে পড়িয়া যান। নিকটেই জুয়া খেলা হচ্চে। অনিচ্ছুক বিদেশী হয় ত অনেক আপত্তির পর রাজী হইয়া এক দান খেলিলেন। বিস্তর জিত হইল; আবার খেলিলেন,—আবার জিত হইল। নেশা চড়িতে চড়িতে এত প্রবল হইয়া উঠিল যে, শেষে সর্ব্বস্ব সেই খানে দিয়া জাহাজে ফিরিয়া আসিলেন।
{{ফাঁক}}হয় তো একজন সুবেশী ছোট ছেলে এসে বল্লে—“মহাশয়, গান শুনবেন তো আমার সঙ্গে আসুন।” যদি কোনও মূঢ় তাদের সঙ্গে যায়, তো নিমেষে কুট্কচালে পথ দিয়ে এমন স্থানে নিয়ে গিয়ে ফেলে, যেখান থেকে ইজ্জত নিয়ে ফিরে আসা দায়। হয়ত সে বাড়ির সিড়ির পংক্তিগুলি সরু, অন্ধকার ও আকা-বাঁকা। তার উপরে সুসজ্জিত বড় বড় আয়না বিশিষ্ট ও নানারূপ চিত্তবিকারী ছবি দিয়ে সাজান প্রকোষ্ঠ। আলবোলায় তাওয়া দিয়ে তামাক সাজা; আতর দানে আতর প্রভৃতি দেখা যায়। নূতন মখমলের সোফার উপর বসিয়া কেহ হয় ত অনন্য ভাবে ধূমপান করিতেছেন। সেই খানেই আবার কত রকমের তাস্ ও ছবি বিক্রয় হয়,—তা অমনি দেখিলে এক রকম; আবার রোদে দেখিলে আর এক রকম। ইত্যাদি নানারূপ বিপদ-সঙ্কুল স্থানে সে বন্দরটি পরিপূর্ণ।
{{ফাঁক}}যেমন করে থাকি, প্রথমেই পোষ্টাপিসে গেলাম। সেখানে ইজিপটিও ষ্ট্যাম্পই প্রচলিত—তার দাম একপেনীর কিছু উপর। অন্যান্য দেশের ও ষ্ট্যাম্প পাওয়া যায়; সে আরও দাম। প্রতি বিভিন্ন দেশের ষ্ট্যাম্প লইয়া<noinclude></noinclude>
1d6eg2lru7x93ff2sfh5n36pksfe04i
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫২
104
886808
2001708
2026-10-02T14:20:05Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001708
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৪০|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>সেই দেশেরই পোষ্ট বাক্সে ফেলিতে হয়। অঙ্গের অন্য দেশের বাক্সে ভুলিয়া দিলেও চিঠি পৌঁছাবে। তবে সেখানে দুনা দাম দিয়া লইতে হইবে। ঠিক এইরূপ চীন দেশের এময় সহরেও দেখিয়াছি। যেখানেই বিভিন্ন জাতির পাঁচ জনের একত্র ক্ষমতা বিস্তার, সেখানেই এইরূপ হইয়া থাকে।
{{ফাঁক}}পূর্ব্বেই বলিয়াছি, এ সকল আব্রুর দেশে রাস্তায় প্রায়ই স্ত্রীলোক দেখা যায় না। যে দুই একটি দেখা যায়, তাহাদের মুখের নীচেটি ঘোমটায় আবৃত। আমাদের দেশের ঘোমটায় চোখ ঢাকা থাকে বলিয়া হুচট খাওয়ার ভয়। তাদের মুখের নীচে ঢাকা কিন্তু চোখ খোলা। সে ছবি গেল বারে “আরব রমণীর” ছবিতে দেখাইয়াছি। অঙ্গের অন্য কোনও জায়গাই ফাঁক নাই বলিয়াই ইহারা নাকের উপরই যা কিছু গহনা পরিবার আছে তাই পড়েন। বলা বাহুল্য যে স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য ঘোমটায় ঢাকিয়া জহরতের সৌন্দর্য্যের বিকাশ করা সে চেষ্টা মিথ্যা চেষ্টা।
{{ফাঁক}}অতি অল্পদূর যাইয়াই গ্রীক দেশের গীর্জ্জায় ঢুকিলাম। তার সামনে একটি বাগানে একটি ইউরোপীয় রমণী নিজেই বাগান খুঁড়িতেছেন। তাঁহার শরীর যেমন সুস্থ, অঙ্গ প্রত্যঙ্গও তেমনি পরিপাটী। মুখে স্বাধীনতা ও আনন্দের ভাব। গীর্জ্জাটি অন্য গীর্জ্জারই মত উঁচু চূড়া বিশিষ্ট। তার উপর হইতে মধুরস্বরে উপাসনার ঘণ্টা বাজিতেছিল। সামনেই কতকগুলি প্রাচীনা রমণী দাঁড়াইয়া নতশির হইয়া, উপাসনায় রত হইলেন। একটি ভিক্ষুকও কান নাক ছুঁইয়া কুর্ণিস করার মত করিয়া পূজায় যোগ দিল। দূরেও যে যেখানে ছিল ঘণ্টার শব্দ শুনিয়া স্তম্ভিত হইয়া দাঁড়াইয়া চোখ বুজিল। ঘণ্টার রবে এমন কি অনির্ব্বচনীয় ক্ষমতা আছে যে, তাতে মনের কর্ম্মোন্মুখী ভাব ও শরীরের গতিবিধি সব তখনি তখনি একেবারে বন্ধ করিয়া দেয়। প্যারিশে লুভেয়ারের আর্ট্ গোলারীতে একটি ছবি দেখিয়াছিলাম—তাতেও এইরূপ ভাবের ছবি ছিল। চিত্রকর<noinclude></noinclude>
acqrtih8iz4bphf39urlvybt3k7wpp4
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৩
104
886809
2001709
2026-10-02T14:23:30Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001709
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||স্যৈয়দ্ বন্দর।|৪১}}</noinclude>“মলিয়ারেরই” আঁকা। সবল হৃদয় কৃষক ও তাঁহার পত্নী মাঠে একত্রে কাজ করিতেছিলেন। এমন সময়ে দূরে নগরের ধর্ম্ম মন্দির হইতে সন্ধ্যা উপাসনার ঘণ্টা ধ্বনি উঠিল। যাই সেই মধুর বোল তাঁহাদের কানে পৌঁছিয়াছে অমনি যিনি যেমন অবস্থায় ছিলেন, ধ্যানস্থ হইয়া পড়িলেন। সে যে মুদিত নেত্রের ও নত মুখের মধুর ভাব, এমন কোথাও দেখি নাই। কবির তুলিকা রমণীর নত মুখের কপোলে অস্তমান সূর্য্যের একটি সুরঞ্জিত রশ্মি প্রতিফলিত করিয়া আরও স্বর্গের ভাব আনিয়াছেন। এই বিষয়েরই একটি ছোট ছবি আমি সঙ্গে আনিয়াছি।
{{ফাঁক}}মন্দিরের ভিতর ঢুকিয়া দেখি, তাতে অধিকাংশই বৃদ্ধা স্ত্রীলোক। চারিটি মাত্র পুরুষ আছে। তাহারাও সব অতি বৃদ্ধ। সকল দেশেই এইরূপ ঘটে—ধর্ম্মের টানে সরল হৃদয়া স্ত্রীলোকেরাই বেশী আকৃষ্ট হয়েন। আর বৃদ্ধ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দৌর্ব্বল্যের অসহায় ভাব বৃদ্ধি পাওয়াতে সকল বিবেক ও ধর্ম্মভাব আরও ঘনীভূত হয়।
{{ফাঁক}}সে ধর্ম্মমন্দির আমাদেরই ধর্ম্মমন্দিরের মত, তাতে নানারূপ প্রতিমূর্ত্তি রক্ষিত ও পূজিত। যীশু খৃষ্টের নানা অবস্থার মূর্ত্তি আছে। মাতৃকোলে শিশু অবস্থারই মুর্ত্তি সর্ব্বাপেক্ষা সুন্দর দেখায়, আর ক্রুশে বিদ্ধ তাঁহার শিথিল দেহই সর্ব্বাপেক্ষা পূজিত। কেথলিক চার্চ্চে কুমারী মেরীর খৃষ্ট অপেক্ষাও আদর। প্রচারক সন্ন্যাসী পলের প্রস্তুর মূর্ত্তির বৃদ্ধ অঙ্গুষ্ঠ উপাসকদের চুম্বনের ঘর্ষণে একেবারে খইয়া গিয়াছে। চারিদিকে মোমবাতি জ্বলিতেছে—ও নানা রঙের কাপড় দিয়া সাজান। ফুলও আছে—ধূপ ধূনাও জ্বলিতেছে। জর্ডন্ নদীর পবিত্র জল স্পর্শ করিয়া যাত্রীরা উপাসনায় রত হয়। সবই প্রায় আমাদের দেশেরই মত। এও একরূপ নূতন মূর্ত্তি পূজা। ঈশ্বরের কল্পনা মানবের আদি অবস্থায় এইরূপ স্বরূপভাবেই আবির্ভাব হইয়াছে। ক্রমে নিরাকার কল্পনায় প্রবর্ত্তিত হইয়াছে। খৃষ্টিয় সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর গীর্জ্জা দেখিলে তাহা স্পষ্ট বুঝা যায়। রোমান<noinclude></noinclude>
rpzyqtsykx8j7flqy02ilhwez4t0vwq
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৪
104
886810
2001710
2026-10-02T14:28:12Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001710
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৪২|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>কেথলিকদের এ সব {{SIC|সবজ্ঞম|সরঞ্জাম}} ইহা হইতেও কম। Protestant Church এর আবার আরও কম। মুসলমান ধর্ম্মে আবার আরও বিরল। এমন কি, তাঁহাদের বৈঠকখানার ঘরে তাঁরা ছবি অবধি থাকিতে পারে না পাছে প্রতিমা পূজায় প্রবৃত্তি আসে। গীর্জ্জায় ঘণ্টা বাজান অবধি নিষিদ্ধ। মানুষে মসজিদের উপর হইতে চীৎকার করিয়া সেই কাজ করে থাকে। অথচ সকল সম্প্রদায়েরই বিধান মতে অপরের প্রণালী ঠিক নহে বলিয়া বিবেচিত।
{{ফাঁক}}এখান হইতে গাইড্ আমাদের একটি মুসলমান মসজিদে লইয়া গেল। জুতার উপর একটি নেকড়ার জুতা পরিয়া তবে তাতে প্রবেশ করিতে হয়। মোল্লার বেদী দেখিলাম। কতকগুলি ছোট ছেলে কোরাণদানে বই রাখিয়া পড়িতেছিল। কোরাণসরীফ ও দেখিলাম, মহম্মদের নিজ হাতের তরবারিও দেখিলাম। মহরমের বিষম লম্বা ধ্বজাও দেখিলাম। একজন মোল্লা ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে আমাদের মহম্মদের জীবন বৃত্তান্ত ও এই মন্দিরটির উৎপত্তি সম্বন্ধে অনেক কথা বলিলেন। তাহারা বড় গরীব। আসিবার সময় আমরা কৃতজ্ঞতা জানাইয়া তাদের হাতে গুটিকতক রৌপ্য মুদ্রা দিলাম—সেই অল্পেই তারা কত সন্তুষ্ট।
{{ফাঁক}}তিনি যে মহাম্মদের জীবন বৃত্তান্ত আমাদের বলিলেন, তাহা আমার কাছে সম্পূর্ণ নূতন কথা ও আমার অতিশয় বিস্ময়জনক বলিয়া মনে হইল। সেই মহাত্মার পুণ্য জীবন কাহিনী সম্বন্ধে দুই একটি কথা নিম্নে বলিতেছি।
{{ফাঁক}}মহম্মদের ইতিবৃত্ত সেই মোল্লার মুখ হইতে আমি নিবিষ্টচিত্তে শুনিয়াছি ও একান্ত কৌতূহলবশত, দু-একখানি পুস্তক হইতেও পরে পড়িয়াছি। তাঁর জন্মিবার কিছুদিন পূর্ব্বেই তাঁর পিতা আবদুল্লা মারা যান। তাঁর মাতা “আমিনা” তাঁকে সুস্থ ও বলিষ্ঠ করিবার জন্য “হমিনা” নাম্নী এক ধাত্রীর কাছে মানুষ করিতে দিলেন। পূর্ব্বেই বলিয়াছি ইনি বুডীন্ জাতীয়া স্ত্রীলোক; মরুভূমেই ইহাঁদের বাস। মহম্মদ এই স্থানেই জীবনের প্রথম ৫ বৎসর থাকিয়া এত সুস্থ ও দেহ মনে বলিষ্ঠ হইয়াছিলেন।<noinclude></noinclude>
q1gbnx2qjp6mpn46j4p2oj04dcbi4i8
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৫
104
886811
2001711
2026-10-02T14:32:43Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001711
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||স্যৈয়দ্ বন্দর।|৪৩}}</noinclude>কিন্তু ছেলেবেলায় তাঁহার ফিট বা মুচ্ছা হইত। কিছুদিন পরে তাঁর মাতাও মারা যান। তখন তাঁহার মামা “আবুতালিপ্” তাঁহার ভরণ-পোষণের ভার লয়েন। এই সময়ের সকল ছেলেই যেমন সেকালে সে দেশে করিয়া থাকিত, এই বয়সে তিনি মরুভূমির মাঝে পাহাড়ে পাহাড়ে মেষ চরাইয়া বেড়াইতেন। সেই ভীষণ স্থানেই প্রকৃতির ভীষণ শোভা দেখিয়া তাঁর ভাবুক মনে ধর্ম্ম ভাব আসে। সে সময়ে আরব দেশের সমাজ ও ধর্ম্ম অতিশয় উচ্ছৃঙ্খল ছিল। সকলেই মুর্ত্তি পূজা করিত। স্ত্রীলোকের অবস্থা অতিশয় হীন ছিল। মানবহিতব্রতে ব্রতী হইয়া এই সকল কুপ্রথার সংস্কারসাধনে তিনি বদ্ধপরিকর হইলেন। অনন্যমনে এই সকল নির্জ্জন প্রদেশে আহার নিদ্রা ভুলিয়া তখন অহরহ এই চিন্তাই করিতেন। এক সময় তাঁহার মনের অবস্থা এমন বিশৃঙ্খল হইয়াছিল যে, তিনি পাহাড়ের চূড়া হইতে পড়িয়া আত্মহত্যা করিতে যাইতেছিলেন; এমন সময় স্বর্গীয় দূত “গেব্রীয়েল” তাঁহাকে বাঁচাইলেন। এই ঘটনাগুলি অনেকটা যিশুখৃষ্টের জীবনীর মত (Jeasus in the wilderness)। মহাপুরুষদের জীবনে অমনি একদিন দারুণ পরীক্ষার দিন আসে। পূর্ব্বাক্ত এই ঘটনাগুলি হইতেই তাঁহার ভবিষ্যতের যাবতীয় কার্য্যপ্রণালী সব বুঝা যায়।
{{ফাঁক}}তাঁহার যৌবনের আর একটি মহৎ ঘটনা “খাদিজা” নাম্নী এক রমণীর সহিত তাঁর বিবাহ। ইনি একজন ধনী বিধবা রমণী ছিলেন। এবং ইঁহারই কাছে মহম্মদ্ চাকরী করেন। পরে তিনি প্রীত হইয়া মহম্মদকে বিবাহ করেন। তিনি বয়সে ১৫ বৎসরের বড় থাকিলেও সারা জীবন মহম্মদের সঙ্গে অতি সুখে একত্র বাস করিয়াছিলেন। মহম্মদ ইহাকে বড়ই মান্য করিতেন ও তিনিও মহম্মদকে বড়ই ভক্তি করিতেন। তিনটি মেয়ে ও দুটি ছেলে হয়। ছেলে দুটি মারা যায় এবং ছোট মেয়ের বংশধরেরাই মহম্মদের বংশ রক্ষা করে; ইহার ছেলেদের নামই “হাসেন্” ও “হুসেন্”। ইহাদের মৃত্যুর জন্য আক্ষেপ করিয়াই মহরম্ উৎসব হয়।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
t4g8opl3yioumc1tk1iw94tlj69bctg
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৬
104
886812
2001712
2026-10-02T14:35:47Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001712
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৪৪|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>{{ফাঁক}}খাদিজার মৃত্যুর পর মহম্মদ আরও দশবার বিবাহ করিয়াছিলেন। কাহারও সন্তান হয় নাই। তবে তাঁর অতি বৃদ্ধ বয়সে “মেরি” নামক এক খৃষ্টান রমণীর গর্ভে একটি ছেলে হইয়াছিল। মহম্মদ সে ছেলেটিকে বড়ই ভাল বাসিতেন। কিন্তু সেও বাঁচে নাই। একটিও পুত্র সন্তান না থাকায় কে তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার কার্য্যের ভার লইবে এই চিন্তায় মহম্মদ বড়ই কাতর থাকিতেন।
{{ফাঁক}}যখন প্রচলিত ধর্ম্মের নিন্দাবাদ করাতে দেশের লোক তাঁহার উপর খড়্গ হস্ত হইল, তখন তাঁহাকে মক্কা ছাড়িয়া মদীনায় পলাইতে হইল। একেই “হিজরী” বলে। ক্রমাগত যুদ্ধ বিগ্রহেই তাঁহার সময় কাটিত, তারই কিঞ্চিৎ অবসরকালে তিনি “কোরাণ” বলিতেন। ৬৪ বৎসর বয়সে ১৫ দিনের জ্বরে তাঁহার মৃত্যু হয়। তাঁহার প্রিয়তমা স্ত্রী “আয়েষার” ঘরেই তিনি দেহত্যাগ করেন। পরে “কোরাণ সরিফ্” লেখা ইহারই ঘরে পাওয়া যায়।
{{ফাঁক}}মহম্মদের জীবিত অবস্থাতেই মুসলমানধর্ম্ম বহুদূর অবধি বিস্তৃত হইয়াছিল। তাঁহার ধর্ম্মকে ‘ইসলাম্’ ধর্ম্ম বলা যায়। এই ইসলাম শব্দের অর্থ “ঈশ্বরের ইচ্ছায় সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা।” তাঁহার ধর্ম্মের মূলমন্ত্র এই যে—“ঈশ্বর এক; আর মহম্মদ তাঁহার প্রেরিত (তত্ত্ববক্তা)।” এ ধর্ম্মের নিয়মানুসারে জাতিভেদ নাই। সকল মানুষই সমান, পরে মহম্মদের মৃত্যুর পর অল্পকাল মধ্যেই এই ধর্ম্ম চারিদিকে প্রচার হইয়া পড়িল। এখন পৃথিবীর ভূভাগের চার ভাগের এক ভাগ লোক এই ধর্ম্মাবলম্বী।
{{ফাঁক}}এই মসজিদ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া সেখানকার হাঁসপাতাল দেখিতে গেলাম। ছোট বাড়ী কিন্তু ফুলবাগানে ভরা। একজন আরমানী ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত। তিনি আমাদের কাফী পান করাইলেন ও পরে আপনিই সঙ্গে করিয়া সেখানকার সকল স্থান দেখাইলেন।<noinclude></noinclude>
1t1nlzti6tsvt87m064attdusy4dw5b
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৭
104
886813
2001713
2026-10-02T14:43:56Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001713
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||স্যৈয়েদ্ বন্দর|৪৫}}</noinclude>সেখানে অল্পসংখ্যক মাত্র রোগী বিনা বেতনে থাকিতে পায়। অপর সকলকেই টাকা দিয়া থাকিতে হয়। প্রথম শ্রেণীতে ১০ ডলার প্রতিদিন দেয়। স্নান করিবার, কাপড় কাচিবার, রাঁধিবার, ও রোগীদের রাখিবার সুন্দর ব্যবস্থা। স্ত্রীলোকেরা যেখানে থাকেন, সে স্থানটি দুই ভাগে বিভক্ত—এক ভাগে গৃহস্থ মেয়েরা থাকেন, ও অপরটীতে সাধারণ কুশীলা স্ত্রীলোকদের স্থান। তাদেরও অনাবৃত মুখের ভাবে স্ত্রীলোকের স্বভাবসিদ্ধ সঙ্কোচ মর্য্যাদাও সারল্য আছে। আমাদের হাসপাতালে এ দেশে এমন সুন্দর ব্যবস্থা এ বিষয়ে নাই।
{{ফাঁক}}এখান হইতে তিন মাইল দূরে “অরব পল্লী” দেখিতে গেলাম। সে সহরের বাহিরে স্থান তত পরিষ্কার নহে। ছোট ছোট কুঁড়ে ও অপ্রশস্ত রাস্তা ময়লায় ভরা। গরীব স্ত্রীলোকেরাও ময়লা পোষাক পরা ছেলেপিলে চতুর্দ্দিকে দেখা গেল। স্ত্রীলোকদের প্রায় সবই অবগুণ্ঠিতা।
{{ফাঁক}}শেষে পিয়ারে “লেসেপ্স” এর (Ferdinand Lesseps) প্রতিমূর্ত্তি দেখিতে গেলাম। সেই স্থানটিই সর্ব্বাপেক্ষা মনোরম। সহরের জমী হইতে বড় বড় পাথরে গাঁথা প্রাচীরটি সমুদ্রের ভিতর ১ মাইল অবধি গিয়াছে। সেই স্থানে সহরের যত লোক হাওয়া খাইতে যান। সমুদ্রের ভীষণ তরঙ্গ যাহাতে বন্দরে ঢুকিতে না পারে, সেই জন্য এই প্রাচীর গাঁথা। ভীষণ তরঙ্গ আসিয়া অহরহ তাহাতে আঘাত করিতেছে। আর সে জলকল্লোল কি ভীমনাদ। ঢেউ চলিয়া গেলে, শুভ্র ফেনাগুলি যেন সাদা ফুলের মত বেলাভূমিতে পড়িয়া থাকে। আর শত শত জলজ উদ্ভিদ ও সজীব শেওলা সেই স্রোতে অনবরত পাথরের উপর আহত হইতেছে। “জেলি মাছই” বা কত—তারা নানা রঙ্গের রঞ্জিত বিচিত্র ছাতা খুলিয়া জলের নীচে সাঁতার দিতেছে। ঢেউগুলির তুমুল আলোড়ন যেন জলদস্যুদের আক্রমণের মত মনে হয়। যেন প্রবলবেগে পাথরের প্রাচীরটি ভাঙ্গিয়া<noinclude></noinclude>
hzuqbmgzmh47s3ip0p9kfn83u6p8aur
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৮
104
886814
2001714
2026-10-02T14:47:57Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001714
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৪৬|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>দিয়া বড় বড় ঢেউগুলি দেশটি জলপ্লাবনে নষ্ট করিতে চায়। দ্বারিকা ধ্বংসের কালে এইরূপ দৃশ্যই বোধ হয় বর্ণিত আছে।
{{ফাঁক}}এই পাথরের প্রাচীরের সমুদ্র প্রান্তে “লেসেপ্স্” এর প্রতিমূর্ত্তি এক উঁচু থামের উপর অবস্থিত। এক হাতে চাবী ও অপর হাতে সুয়েজ খালের ম্যাপ হাতে করিয়া কর্ম্মবীর সমুদ্রের দিকে বিস্ফারিত নেত্রে চাহিয়া আছেন। খাল কাটিয়া সাগর বাঁধিয়া যেন তিনি সেখানে দাঁড়াইয়া ভীষণ সমুদ্রের উপর প্রভুত্ব করিতেছেন। ইনি একজন ফরাসী দেশীয় এন্জিনিয়র্। কত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করিয়া মরুভূমির উপর দিয়া ছোট ছোট হ্রদ গুলিকে একত্র করিয়া এই অসম্ভব কাজ সম্ভব করিয়াছেন। যে স্থানে যাইতে পূর্ব্বে তিন মাস লাগিত, এখন এক মাস লাগে। এখন ব্যবসা বাণিজ্যের কত সুবিধা হইয়াছে ও ইউরোপের সহিত কত ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ স্থাপিত হইয়াছে। তার ফল, এক হিসাবে ভীষণ হইয়াছে। অনেক আসিয়াবাসী এই দারুণ জীবনসংগ্রামে মরিতেছে। তবে তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক যাহারা বাঁচিয়া থাকিতে পারিবে, তাহারা নূতন অবস্থার আলো পাইয়া ও তদ্দ্বারা আরও বলীয়ান হইয়া, সুদূর ভবিষ্যতে হয়ত দুই শক্তির সংমিশ্রণে অনেক খেলা খেলিতে পারিবে—আশা করা যায়।
{{ফাঁক}}ইহারই নিকট জমীর উপর {{SIC|Maconigraph|Marconigraph}} মার্কনীর তারবিহীন টেলিগ্রাফের স্তম্ভ। প্রতি বন্দরেই এরূপ ব্যবস্থা আছে। শীঘ্র খবরাখবরে ইহা বড়ই সুবিধাজনক। খবর পাঠাইবার কালে আকাশে যে বৈদ্যুতিক ঢেউগুলি হয়, সেগুলি চারিদিকের ঘোষণাস্থান দিয়া ছড়াইয়া পড়ে বলিয়া খামের মাতার উচু স্থানই যন্ত্ররক্ষার পক্ষে সুবিধাজনক।
{{dhr|3em}}
{{rule|4em}}<noinclude></noinclude>
0dg3yyvmgantlm74h815zvrf473xwxe
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৯
104
886815
2001715
2026-10-02T14:51:16Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001715
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|{{larger|ভূমধ্যসাগর ও মিশরদেশ।}}}}
{{ফাঁক}}বেলা চারিটার সময় আমরা সৈয়দ বন্দর ছাড়িলাম। এইবার আসিয়ার সহিত সকল সম্পর্ক ঘুচিল।
{{ফাঁক}}ঠিক জাহাজখানি ছাড়িবার কালে একখানি মুসলমান তীর্থযাত্রীর জাহাজ বন্দরে আসিল। তাতে ঠিক ভেড়া বোঝায়ের মত সব ময়লা কাপড় পড়া নানাদেশের মুসলমান তীর্থযাত্রী মক্কা হইতে ফিরিয়া আসিতেছিল। আমাদের সীতাকুণ্ডের মত নিকটেই “মেজেস্এব কূপ” নামক একটি তীর্থ আছে, সেখানে অনেক যাত্রী যায়। সে দৃশ্য দেখে আমার আমাদের দেশের তীর্থ-যাত্রীদের কথা মনে হলো। কি অসহায় হইয়া এই সকল লোক পরের হাতে এত লাঞ্ছনা সহিতেছে। এসিয়াবাসীর এবংবিধ ও অন্যান্য নানাপ্রকার অব্যবস্থার কথা ভাবিতে ভাবিতে এবং আসিয়া ভূমিখণ্ডের দিকে শেষ দেখা দেখিতে দেখিতে আসিয়া ছাড়িয়া চলিলাম। ভূমধ্যস্থ সাগরের ভিতর দিয়া জাহাজ এইবার উন্নতিশীল ইউরোপের পথে চলিতে লাগিল।
{{ফাঁক}}বন্দর হইতে বাহির হইবার কালে সকল জাহাজকে সে সমুদ্রভিতরকার পাথরের প্রাচীর ও লেসেপ্সের মূর্ত্তি ঘুরিয়া যাইতে হয়। সমুদ্র হইতে জমীর দৃশ্য অতি সুন্দর দেখায়। সহরের উঁচু উঁচু বাড়ীগুলি সব সারিদিয়া তীরে দাঁড়াইয়া আছে। তার মাথায় ব্যবসাদারদের কতরকমের সাইনবোর্ড আঁটা। কত হোটেল, কত দোকান, কত নাচ ঘর। সর্ব্বাপেক্ষা তারহীন টেলিগ্রাফের থামটি উঁচু। তার উপরে আকাশের বৈদ্যুতিক ঢেউ লইবার ও ঢেউ দিবার কত যন্ত্র আছে। সমুদ্র হইতে দেখিতে লেসেপ্সের ছবিটির আরও গম্ভীর মুর্ত্তি। বাস্তবিকই যেন সমুদ্রবক্ষে দাঁড়াইয়া বীরবর সাগরের উপর প্রভুত্ব করিতেছেন।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
6bfvwdlp1xyuuav8xih84v0620899f0
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬০
104
886816
2001717
2026-10-02T14:54:32Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001717
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৪৮|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্রমে যত জাহাজ দূর হইতে দূরে যাইতে লাগিল, জমীর রেখাও তত ক্ষীণ হইতে লাগিল। ক্রমে সন্ধ্যা আকাশে মিশরের অস্পষ্ট ক্ষীণ রেখা যেন সুদূর অতীতের স্বপ্নরাজ্যের মত মনে হইতে লাগিল
{{ফাঁক}}সে রাজ্য বাস্তবিকই স্বপ্নরাজ্য। পৃথিবীর যত রাজ্যের ইতিহাস জানা আছে—মিশরই সর্ব্বাপেক্ষা পুরাতন। এমন কি খৃষ্টপূর্ব্ব দশ সহস্র বৎসর পূর্ব্বেরও সংবাদ কিছু কিছু পাওয়া গিয়াছে। খৃষ্টের পরে আজ এখনও দু হাজার বৎসর হয় নাই। সে এত দিনের পুরাতন রাজ্য। সুদূর অতীতের আবরণ উন্মোচন করিয়া মিশরের যে সকল পুরাতত্ত্ব আবিষ্কৃত হইয়াছে—সেও অতি বিস্ময়কর কথা। সেই কারণেই স্বপ্নরাজ্যের সহিত তাহার তুলনা দেওয়া কিছু অন্যায় নহে।
{{ফাঁক}}অথচ সে সকল আবিষ্কৃত তত্ত্বের যথার্থ ভাল ভাল প্রমাণও আছে সেগুলি নিতান্ত অলিক কথা নয়। মিশর দেশ আরবেরই মত একটি মরুভূমিময় দেশ। কেবল তার মধ্য দিয়া নীলনদী প্রবাহিত হইয়া তাহার সামান্য কতক অংশকে বাসোপযোগী করিয়াছে। বর্ষাকালে সেই নীল নদীতে বিপুল জল নিকাস হওয়ায় বন্যা হয় ও সেই জল প্লাবনেই চারিদিকের শস্যক্ষেত্রে জল পায়। চাষ করিবার উপযোগী জমী অত বড় দেশে অতি অল্প। তাই সেকালে জমীর অত আদর ছিল। এক সামান্য অংশও তাই এত হিসাবের উপর রাখা হইত বলিয়া এই দেশেই জ্যামিতি প্রথম আবিষ্কৃত হয়। সে শাস্ত্র আর কিছুই নয়—সূক্ষ্মভাবে জমী মাপিবারই শাস্ত্র।
{{ফাঁক}}খৃষ্ট পূর্ব্ব দুই সহস্র বৎসর পূর্ব্বে নীলনদীর ধারে অনেক সমৃদ্ধিশালী ও সুসভ্য সহরের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সঠিক খবর পাওয়া যায়। “কেরো” তার মধ্যে একটি প্রধান স্থান। এই সময়ে তার নিকটবর্ত্তী স্থানে অনেকগুলি পিরামিদ তৈয়ারী হয়। সেগুলি এখনও তেমনি ভাবে বিদ্যমান। সেগুলি সব ইজিপ্টের রাজাদের গোরস্থান ছিল। সব<noinclude></noinclude>
18ggbqo3wx2ge72trae1p05ez39ty9s
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬২
104
886817
2001718
2026-10-02T14:57:14Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001718
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৪৯|ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ।|}}</noinclude>থান থান পাথরে মজবুত করিয়া গাঁথা, এত শতাব্দী পরেও পূর্ব্ববৎই আছে। তাতে বিস্তর রাজাদের গোর আছে। এক একটি তৈয়ারী করিতে হিসাবে ১ লক্ষ লোককে ২০ বৎসর খাটিতে হইয়াছে। এই সকল পিরামিদের ধারেই “ফিনিক্স”এর প্রকাণ্ড প্রস্তর মূর্ত্তি মরুভূমির বালুতে কতক প্রোথিত আছে। সে আবার পিরামিদ হইতেও পুরাতন। এটি একখানি প্রকাণ্ড কাল পাথরে খোদা মনুষ্য ও জন্তু মুর্ত্তি। পুরাতন মিশর দেশের প্রধান দেবতা সূর্য্যদেবেরই প্রতিমূর্ত্তি ছিল।
{{ফাঁক}}এত পরিশ্রম ও খরচ করিয়া পিরামিদ নির্ম্মাণের কি আবশ্যক ছিল এ কথার উত্তর দিতে হইলে মিশরের পুরাতন ধর্ম্মবিশ্বাস সম্বন্ধে কিছু বলা উচিত। সকল পুরাতন জাতিরই মত তাঁহারাও পৌত্তলিক ছিলেন ও বহু দেবদেবীতে বিশ্বাস করিতেন। আর তাঁহাদের বিশ্বাস ছিল যে মৃত্যুর পর আত্মা দেহের নিকটেই ঘুরিয়া বেড়ায় ও আহার পানীয় ও ভোগবিলাসের আশায় সর্ব্বদা অস্থির হইয়া ফিরে; এবং সুদূর ভবিষ্যতে আবার সেই আত্মা সেই দেহেই ফিরিয়া আসিবে। এই আত্মার ফিরিয়া আসার আশাতেই মৃতের দেহরক্ষার উপর লোকের এত ঝোঁক পড়িল। সেই আকাঙ্ক্ষাপূর্ণ আত্মার ভোগ বাসনা নিবৃত্তি করিবার জন্য সে কবরের ভিতর আহার্য্য বসন ভূষণ প্রভৃতি সকল দ্রব্যই দেওয়া হয়। আর সকল রকম সামাজিক ঘটনাবলিরও সেই পাথরের গোরের ভিতর দিকে ছবি চিত্রিত আছে। তার ভিতর নানারূপ চিত্র বিচিত্র করা মাটির ও ধাতুর তৈজসপত্রও থাকে। এই সকল ছবি হইতেই প্রাচীন মিশরের পুরাতত্ত্ব উদ্ঘাটিত হইয়াছে। এ আবিষ্কারগুলি কিছুই অন্যায্য বা অলীক কল্পনা নহে।
{{ফাঁক}}এই সকল হইতেই জানা যায় তাঁদের রীতি নীতি আচার ব্যবহার সভ্য জাতিরই মত ছিল। তাঁদের রাজা “ফেরোয়া” তাঁদের পুরোহিত ও দেবতা বলিয়া পূজিত হইতেন। আমাদের দেশের ব্রাহ্মণদের মত তাঁদের দেশেও এক শ্রেণীর পুরোহিত ছিল, তাঁদের পদ সাধারণ লোকের<noinclude></noinclude>
phyykqr2veyqej6gz1c6fllnc5n9f7m
2001730
2001718
2026-10-02T16:14:21Z
Nettime Sujata
5470
2001730
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ।|৪৯}}</noinclude>থান থান পাথরে মজবুত করিয়া গাঁথা, এত শতাব্দী পরেও পূর্ব্ববৎই আছে। তাতে বিস্তর রাজাদের গোর আছে। এক একটি তৈয়ারী করিতে হিসাবে ১ লক্ষ লোককে ২০ বৎসর খাটিতে হইয়াছে। এই সকল পিরামিদের ধারেই “ফিনিক্স”এর প্রকাণ্ড প্রস্তর মূর্ত্তি মরুভূমির বালুতে কতক প্রোথিত আছে। সে আবার পিরামিদ হইতেও পুরাতন। এটি একখানি প্রকাণ্ড কাল পাথরে খোদা মনুষ্য ও জন্তু মুর্ত্তি। পুরাতন মিশর দেশের প্রধান দেবতা সূর্য্যদেবেরই প্রতিমূর্ত্তি ছিল।
{{ফাঁক}}এত পরিশ্রম ও খরচ করিয়া পিরামিদ নির্ম্মাণের কি আবশ্যক ছিল এ কথার উত্তর দিতে হইলে মিশরের পুরাতন ধর্ম্মবিশ্বাস সম্বন্ধে কিছু বলা উচিত। সকল পুরাতন জাতিরই মত তাঁহারাও পৌত্তলিক ছিলেন ও বহু দেবদেবীতে বিশ্বাস করিতেন। আর তাঁহাদের বিশ্বাস ছিল যে মৃত্যুর পর আত্মা দেহের নিকটেই ঘুরিয়া বেড়ায় ও আহার পানীয় ও ভোগবিলাসের আশায় সর্ব্বদা অস্থির হইয়া ফিরে; এবং সুদূর ভবিষ্যতে আবার সেই আত্মা সেই দেহেই ফিরিয়া আসিবে। এই আত্মার ফিরিয়া আসার আশাতেই মৃতের দেহরক্ষার উপর লোকের এত ঝোঁক পড়িল। সেই আকাঙ্ক্ষাপূর্ণ আত্মার ভোগ বাসনা নিবৃত্তি করিবার জন্য সে কবরের ভিতর আহার্য্য বসন ভূষণ প্রভৃতি সকল দ্রব্যই দেওয়া হয়। আর সকল রকম সামাজিক ঘটনাবলিরও সেই পাথরের গোরের ভিতর দিকে ছবি চিত্রিত আছে। তার ভিতর নানারূপ চিত্র বিচিত্র করা মাটির ও ধাতুর তৈজসপত্রও থাকে। এই সকল ছবি হইতেই প্রাচীন মিশরের পুরাতত্ত্ব উদ্ঘাটিত হইয়াছে। এ আবিষ্কারগুলি কিছুই অন্যায্য বা অলীক কল্পনা নহে।
{{ফাঁক}}এই সকল হইতেই জানা যায় তাঁদের রীতি নীতি আচার ব্যবহার সভ্য জাতিরই মত ছিল। তাঁদের রাজা “ফেরোয়া” তাঁদের পুরোহিত ও দেবতা বলিয়া পূজিত হইতেন। আমাদের দেশের ব্রাহ্মণদের মত তাঁদের দেশেও এক শ্রেণীর পুরোহিত ছিল, তাঁদের পদ সাধারণ লোকের<noinclude></noinclude>
0mx3soauw8grltkq7vuy7yf5xu1s65e
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৩
104
886819
2001720
2026-10-02T15:19:50Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001720
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|||৫০}}</noinclude>অপেক্ষা অনেক উচ্চ। তাঁদের দেশে, চীন দেশ ও পূর্ব্বেকার আমাদের দেশেরই মত, বিদ্বান লোকের বড়ই আদর ছিল। কিন্তু তাঁরা পুরোহিত হইতে এক স্বতন্ত্র জাতি ছিলেন। সরকলমে পেপিরস্ গাছের বল্কলে তাঁহারা বহুবিধ পুস্তক লিখিতেন। তখনকার জ্যোতিষ চিকিৎসাদি নানা বিদ্যায় তাঁহারা সুপণ্ডিত ছিলেন। তখনও সেথায় ধাতু দ্রব্যের প্রচুর ব্যবহার ছিল ও তাঁতি ছুতর কামার প্রভৃতি সকল শ্রেণীর কারীগরই বিদ্যমান ছিল।
{{ফাঁক}}এই গেল পুরাণ মিশরের ইতিবৃত্ত। সেই স্থানের নিকট “চালডিয়া” দেশের রাজধানী “ব্যাবিলন্” দেশও অতি পুরাতন। পুরাতন মিশরে ছবি শিখিয়াই বর্ণমালার প্রথম উত্থান হয়, মানুষ বুঝাইতে একটি মানুষই লিখিতে হইত। ক্রমে সে দিন গিয়া অনেক পরিবর্ত্তনের পর আধুনিক হরফে দাঁড়াইয়াছে। বেবিলনে এই লেখা বিভিন্নদেশের বর্ণমালার জন্মদাত্রী। সোজা সোজা তীরের অক্ষরে খোদা হইত। এইটি আবার মিডিয়া দেশ দিয়া ভারতবর্ষে আসিয়া অশোক লিপির অক্ষর হয়। ইহা হইতে আমাদেরও সংস্কৃত ও বাঙ্গালা অক্ষরের উৎপত্তি।
{{ফাঁক}}নিউরিয়া মিশরেরই দক্ষিণে। সে দেশের সহিত, প্রতিবাসীর সহিত যেমন হয়ে থাকে, মিশরের চিরবিবাদ ছিল। একটি রাজার গোরের ভিতর ছবি আঁকা আছে; তাতে একটি ছবি এই,—তাঁর কাছে যুদ্ধে হার মানিয়া নিউবিয়ার রাজা নানারূপ উপঢৌকন লইয়া তাঁহাকে ভেট দিতে আসিতেছে। ব্রিটিশ মিউজিয়মের তিনটি দালান এই সকল মিশরের পুরাতত্ত্বের দর্শনীতে পূর্ণ। সে এরূপ সুন্দররূপে সাজান ও বিস্ময়কর যে সে ঘরে ঢুকিয়া জিনিষগুলি দেখিলেই মানব জাতির আদি উৎপত্তির বিবরণ যেন স্বচক্ষে সুস্পষ্ট দেখা যায়। মানব আদিম বর্ব্বর অবস্থা হইতে ক্রমে সভ্য হইয়া আজকালকার সুসভ্য জাতিতে পরিণত হইয়াছে। নিচু হইতে উপর অবধি সবাই একটি অনন্ত শ্রেণীর এক একটি পদ বিশেষ। সে সকল শ্রেণীর সকলকেই অন্তরের সহিত নমস্কার করি।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
2tit1ahbvp7t5gl5uxqdrw7m10r5h2a
2001729
2001720
2026-10-02T16:14:00Z
Nettime Sujata
5470
2001729
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫০|বিলাত ভ্রমণ।|}}</noinclude>অপেক্ষা অনেক উচ্চ। তাঁদের দেশে, চীন দেশ ও পূর্ব্বেকার আমাদের দেশেরই মত, বিদ্বান লোকের বড়ই আদর ছিল। কিন্তু তাঁরা পুরোহিত হইতে এক স্বতন্ত্র জাতি ছিলেন। সরকলমে পেপিরস্ গাছের বল্কলে তাঁহারা বহুবিধ পুস্তক লিখিতেন। তখনকার জ্যোতিষ চিকিৎসাদি নানা বিদ্যায় তাঁহারা সুপণ্ডিত ছিলেন। তখনও সেথায় ধাতু দ্রব্যের প্রচুর ব্যবহার ছিল ও তাঁতি ছুতর কামার প্রভৃতি সকল শ্রেণীর কারীগরই বিদ্যমান ছিল।
{{ফাঁক}}এই গেল পুরাণ মিশরের ইতিবৃত্ত। সেই স্থানের নিকট “চালডিয়া” দেশের রাজধানী “ব্যাবিলন্” দেশও অতি পুরাতন। পুরাতন মিশরে ছবি শিখিয়াই বর্ণমালার প্রথম উত্থান হয়, মানুষ বুঝাইতে একটি মানুষই লিখিতে হইত। ক্রমে সে দিন গিয়া অনেক পরিবর্ত্তনের পর আধুনিক হরফে দাঁড়াইয়াছে। বেবিলনে এই লেখা বিভিন্নদেশের বর্ণমালার জন্মদাত্রী। সোজা সোজা তীরের অক্ষরে খোদা হইত। এইটি আবার মিডিয়া দেশ দিয়া ভারতবর্ষে আসিয়া অশোক লিপির অক্ষর হয়। ইহা হইতে আমাদেরও সংস্কৃত ও বাঙ্গালা অক্ষরের উৎপত্তি।
{{ফাঁক}}নিউরিয়া মিশরেরই দক্ষিণে। সে দেশের সহিত, প্রতিবাসীর সহিত যেমন হয়ে থাকে, মিশরের চিরবিবাদ ছিল। একটি রাজার গোরের ভিতর ছবি আঁকা আছে; তাতে একটি ছবি এই,—তাঁর কাছে যুদ্ধে হার মানিয়া নিউবিয়ার রাজা নানারূপ উপঢৌকন লইয়া তাঁহাকে ভেট দিতে আসিতেছে। ব্রিটিশ মিউজিয়মের তিনটি দালান এই সকল মিশরের পুরাতত্ত্বের দর্শনীতে পূর্ণ। সে এরূপ সুন্দররূপে সাজান ও বিস্ময়কর যে সে ঘরে ঢুকিয়া জিনিষগুলি দেখিলেই মানব জাতির আদি উৎপত্তির বিবরণ যেন স্বচক্ষে সুস্পষ্ট দেখা যায়। মানব আদিম বর্ব্বর অবস্থা হইতে ক্রমে সভ্য হইয়া আজকালকার সুসভ্য জাতিতে পরিণত হইয়াছে। নিচু হইতে উপর অবধি সবাই একটি অনন্ত শ্রেণীর এক একটি পদ বিশেষ। সে সকল শ্রেণীর সকলকেই অন্তরের সহিত নমস্কার করি।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
ppw7ukcgky4tbvgatjtzerytb4qfocz
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৪
104
886820
2001722
2026-10-02T16:05:54Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001722
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫১|ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ|}}</noinclude>{{ফাঁক}}মিশর পূর্ব্বে বহু পরাক্রান্ত রাজ্য ছিল। নিকটবর্ত্তী অন্য সকল স্থানে ক্ষমতা বিস্তার করিয়া পরে ইহুদীজাতিকেও জয় করিয়াছিল। তাঁহারা মিশরে অনেক দিন বন্দী ছিলেন। পরে মোসেস্ তাঁহাদিগকে সেস্থান হইতে উদ্ধার করিয়া আনেন। সেই সময়ে মিশরের উপর ঈশ্বরের ক্রোধ সূচনা করিয়া মিশরে কত দৈব উৎপাত হয়। আমাদের দেশেরই মত Plague বা মহামারী ঘটিয়াছিল। সবাইকার ঘরে সর্ব্বের বড় ছেলেদের সব মৃত্যু হইতে লাগিল; জলপ্লাবনে দেশ রাখা দায় হইল; পঙ্গপাল আসিয়া ক্ষেত্রের পাকাশস্য ছারখার করিয়া দিল। এই উৎপাতের সুযোগেই ইহুদীরা ঈশ্বর অনুগ্রহে প্রকাশিত লোহিত সমুদ্রের জলের মধ্যে শুকনা পথ দিয়া সর্ব্বশক্তিমান ঈশ্বরেরই সাহায্যে পলাইয়া আসিতে পারিয়াছিলেন।
{{ফাঁক}}এইস্থান হইতেই প্রথমে গ্রীসে সভ্যতা যায়, কিন্তু পরে গ্রীকরা আসিয়াই আবার মিশর জয় করিয়া তথায় নিজেদের উপনিবেশ স্থাপন করেন। মিশরের রাজা টলেমী ও রাণী ক্লিওপ্যাট্রা এই বংশেরই লোক। রাণী ক্লিওপ্যাট্রার ইতিহাস সর্ব্বজনবিদিত, তবুও অতি বিস্ময়কর কথা বলিয়া আমি পরে তাহা সবিস্তারে বলিতেছি।
{{ফাঁক}}গ্রীক্দের পরে রোমানরা মিশর জয় করেন। পরে রোমরাজ্যের ধ্বংসের সময় মিশর আবার একরূপ স্বাধীন হইয়াছিল। মুসলমান ধর্ম্ম প্রচার হইবার সময় মুরযুদ্ধে মুসলমানেরা মিশর জয় করেন, ও অন্যান্য মন্দির ও দেবমূর্ত্তি ভাঙ্গার সঙ্গে সঙ্গে মিশর দেশের অনেক দিনের বিখ্যাত লাইব্রেরীটিও পুড়াইয়া দেন। সেই হতেই ইউক্লিডের কয় বই জ্যামিতি ধ্বংস হইয়া গেল। এখন মিশরদেশের শাসনকর্ত্তা খেদিবের তত্ত্বাবধানে সুলতানের অধীনে ও ইংরেজদেরই ক্ষমতাধীনে মিশর শাসিত! ইউরোপের এত নিকটে থাকায় ও কতকটা গরম ও বেশ স্বাস্থ্যকর স্থান বলিয়া ইউরোপীয় সকল জাতীয় লোকেরই এইটি বেড়াইবার স্থান। ভারতে<noinclude></noinclude>
phjla75yesmyo2h1iulhtsojexaob4a
2001728
2001722
2026-10-02T16:13:31Z
Nettime Sujata
5470
2001728
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ|৫১}}</noinclude>{{ফাঁক}}মিশর পূর্ব্বে বহু পরাক্রান্ত রাজ্য ছিল। নিকটবর্ত্তী অন্য সকল স্থানে ক্ষমতা বিস্তার করিয়া পরে ইহুদীজাতিকেও জয় করিয়াছিল। তাঁহারা মিশরে অনেক দিন বন্দী ছিলেন। পরে মোসেস্ তাঁহাদিগকে সেস্থান হইতে উদ্ধার করিয়া আনেন। সেই সময়ে মিশরের উপর ঈশ্বরের ক্রোধ সূচনা করিয়া মিশরে কত দৈব উৎপাত হয়। আমাদের দেশেরই মত Plague বা মহামারী ঘটিয়াছিল। সবাইকার ঘরে সর্ব্বের বড় ছেলেদের সব মৃত্যু হইতে লাগিল; জলপ্লাবনে দেশ রাখা দায় হইল; পঙ্গপাল আসিয়া ক্ষেত্রের পাকাশস্য ছারখার করিয়া দিল। এই উৎপাতের সুযোগেই ইহুদীরা ঈশ্বর অনুগ্রহে প্রকাশিত লোহিত সমুদ্রের জলের মধ্যে শুকনা পথ দিয়া সর্ব্বশক্তিমান ঈশ্বরেরই সাহায্যে পলাইয়া আসিতে পারিয়াছিলেন।
{{ফাঁক}}এইস্থান হইতেই প্রথমে গ্রীসে সভ্যতা যায়, কিন্তু পরে গ্রীকরা আসিয়াই আবার মিশর জয় করিয়া তথায় নিজেদের উপনিবেশ স্থাপন করেন। মিশরের রাজা টলেমী ও রাণী ক্লিওপ্যাট্রা এই বংশেরই লোক। রাণী ক্লিওপ্যাট্রার ইতিহাস সর্ব্বজনবিদিত, তবুও অতি বিস্ময়কর কথা বলিয়া আমি পরে তাহা সবিস্তারে বলিতেছি।
{{ফাঁক}}গ্রীক্দের পরে রোমানরা মিশর জয় করেন। পরে রোমরাজ্যের ধ্বংসের সময় মিশর আবার একরূপ স্বাধীন হইয়াছিল। মুসলমান ধর্ম্ম প্রচার হইবার সময় মুরযুদ্ধে মুসলমানেরা মিশর জয় করেন, ও অন্যান্য মন্দির ও দেবমূর্ত্তি ভাঙ্গার সঙ্গে সঙ্গে মিশর দেশের অনেক দিনের বিখ্যাত লাইব্রেরীটিও পুড়াইয়া দেন। সেই হতেই ইউক্লিডের কয় বই জ্যামিতি ধ্বংস হইয়া গেল। এখন মিশরদেশের শাসনকর্ত্তা খেদিবের তত্ত্বাবধানে সুলতানের অধীনে ও ইংরেজদেরই ক্ষমতাধীনে মিশর শাসিত! ইউরোপের এত নিকটে থাকায় ও কতকটা গরম ও বেশ স্বাস্থ্যকর স্থান বলিয়া ইউরোপীয় সকল জাতীয় লোকেরই এইটি বেড়াইবার স্থান। ভারতে<noinclude></noinclude>
p8jvs1sideb0thc9c758iwv6k1uolw5
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৫
104
886821
2001723
2026-10-02T16:08:34Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001723
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||বিলাত ভ্রমণ।|৫২}}</noinclude>যাবার আসবার পথ সুয়েজ কেনেলের ধারে বলিয়াই ইংরাজ ইহা দখল করিয়া বসিয়াছেন। ভারতবর্ষ জয় করিবার অভিলাষ করিবার সময় নেপোলিয়নেরও এই ইজিপ্ট দখল করিবার ইচ্ছা ছিল। নাইলের যুদ্ধে নেলসনের হাতে সে আশা ভাঙ্গে।
{{ফাঁক}}এখন সকল ইংরাজরাজত্বের মধ্যে এইখানেই সর্ব্বাপেক্ষা ভাল তূলা জন্মে বলিয়া ম্যানচেষ্টারএর কতকটা ভরসা। নয় ত তাদের আমেরিকার হাতে সম্পূর্ণরূপেই যেতে হতো। ঋণগ্রস্ত খেদিবএর কাছ হইতে যে সময় ভূতপূর্ব্ব রাজসচিব ডিসরেলি বিলাতের লোকদের না জানাইয়া ও পার্লামেণ্টের পরামর্শ না লইয়াই সুয়েজ কেনেলের সেয়ার কিনিয়া লইয়াছিলেন, সেই সময় হইতেই ইংরেজের ক্ষমতা এখানে এত বেশী হইয়াছে। পরে আরবী পাশার বিদ্রোহে জেনারেল গর্ডনের প্রাণনাশ; লর্ড কিচেনারের সে বিদ্রোহ দমন, ও সুশাসনে মাধির সৈন্য বিধ্বস্ত করার পর হইতে দেশটি এখন কতক সুশৃঙ্খল হইয়াছে। লর্ড ক্রোমারের সুশাসনে সে দেশে এখন এত সুফল ফলিয়াছে বলিয়া সম্প্রতি তিনি রাজভাণ্ডার হইতে প্রভূত পরিমাণে পারিতোষিক পাইয়াছেন। কিন্তু মিশর দেশের লোক অনেকেই অসন্তুষ্ট। “প্যান ইসলামিক দল” বা যে দল মুসলমান রাজ্যের হিতাকাঙ্ক্ষায় দেশের জন্য গঠিত হইয়াছে সে দল আজকাল বড়ই বাড়িতেছে।
{{ফাঁক}}আমি মিশরের সমস্ত ইতিহাস মোটামুটি সংক্ষেপে বলিয়াছি। যে দেশ পুরাকালে ও অধুনা এত প্রসিদ্ধ সে দেশের পার্শ্ব দিয়া যাইবার কালে তার কথা না বলিলে একান্তই অসম্পূর্ণ হয়। বিশেষ যখন তাদের পুরাকালের সমাজ ও ধর্ম্ম অনেকটা আমাদেরই সমাজ ও ধর্ম্মের মত ছিল। আর যখন ইংরাজের ভারতে আসিবার এক প্রান্তের দ্বারের মত সে পথটি এত আবশ্যকীয়।
{{ফাঁক}}কিন্তু মিশর সম্বন্ধে একটি বলিবার কথা বলি নাই। সে মনোহর কথা<noinclude></noinclude>
fcxlwmuqghowrwv4lijrizzntbynqn1
2001727
2001723
2026-10-02T16:13:16Z
Nettime Sujata
5470
2001727
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫২|বিলাত ভ্রমণ।|}}</noinclude>যাবার আসবার পথ সুয়েজ কেনেলের ধারে বলিয়াই ইংরাজ ইহা দখল করিয়া বসিয়াছেন। ভারতবর্ষ জয় করিবার অভিলাষ করিবার সময় নেপোলিয়নেরও এই ইজিপ্ট দখল করিবার ইচ্ছা ছিল। নাইলের যুদ্ধে নেলসনের হাতে সে আশা ভাঙ্গে।
{{ফাঁক}}এখন সকল ইংরাজরাজত্বের মধ্যে এইখানেই সর্ব্বাপেক্ষা ভাল তূলা জন্মে বলিয়া ম্যানচেষ্টারএর কতকটা ভরসা। নয় ত তাদের আমেরিকার হাতে সম্পূর্ণরূপেই যেতে হতো। ঋণগ্রস্ত খেদিবএর কাছ হইতে যে সময় ভূতপূর্ব্ব রাজসচিব ডিসরেলি বিলাতের লোকদের না জানাইয়া ও পার্লামেণ্টের পরামর্শ না লইয়াই সুয়েজ কেনেলের সেয়ার কিনিয়া লইয়াছিলেন, সেই সময় হইতেই ইংরেজের ক্ষমতা এখানে এত বেশী হইয়াছে। পরে আরবী পাশার বিদ্রোহে জেনারেল গর্ডনের প্রাণনাশ; লর্ড কিচেনারের সে বিদ্রোহ দমন, ও সুশাসনে মাধির সৈন্য বিধ্বস্ত করার পর হইতে দেশটি এখন কতক সুশৃঙ্খল হইয়াছে। লর্ড ক্রোমারের সুশাসনে সে দেশে এখন এত সুফল ফলিয়াছে বলিয়া সম্প্রতি তিনি রাজভাণ্ডার হইতে প্রভূত পরিমাণে পারিতোষিক পাইয়াছেন। কিন্তু মিশর দেশের লোক অনেকেই অসন্তুষ্ট। “প্যান ইসলামিক দল” বা যে দল মুসলমান রাজ্যের হিতাকাঙ্ক্ষায় দেশের জন্য গঠিত হইয়াছে সে দল আজকাল বড়ই বাড়িতেছে।
{{ফাঁক}}আমি মিশরের সমস্ত ইতিহাস মোটামুটি সংক্ষেপে বলিয়াছি। যে দেশ পুরাকালে ও অধুনা এত প্রসিদ্ধ সে দেশের পার্শ্ব দিয়া যাইবার কালে তার কথা না বলিলে একান্তই অসম্পূর্ণ হয়। বিশেষ যখন তাদের পুরাকালের সমাজ ও ধর্ম্ম অনেকটা আমাদেরই সমাজ ও ধর্ম্মের মত ছিল। আর যখন ইংরাজের ভারতে আসিবার এক প্রান্তের দ্বারের মত সে পথটি এত আবশ্যকীয়।
{{ফাঁক}}কিন্তু মিশর সম্বন্ধে একটি বলিবার কথা বলি নাই। সে মনোহর কথা<noinclude></noinclude>
i19gwt36phl7mzuvicff6u3nosahey6
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৬
104
886822
2001724
2026-10-02T16:11:40Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001724
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫৩|ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ।|}}</noinclude>শেষে সবিস্তারে বলিব বলিয়া রাখিয়া দিয়াছিলাম, সেটি মিশরেরই পূরাকালের রাণী ক্লিওপ্যাট্রার কথা! এই রমণীর ইতিবৃত্ত এত প্রসিদ্ধ যে কি ইতিহাস লেখক কি কবি কি চিত্রকর কিম্বা ভাস্কর সকলেই তাঁহার মধুর মূর্ত্তি ও নারীজীবনের অলৌকিক ইতিহাস নানাপ্রকারে লিপিবদ্ধ করিয়াছে। মার্সেলের “লুই ডি প্যালে” আর্ট গ্যালারীর সামনেই তাঁহারই সর্পবিষে জর্জ্জরিত শিথিল দেহের কাল প্রস্তর নির্মিত প্রতিকৃতি স্থাপিত আছে। কলিকাতার আসিয়াটিক্ সোসাইটির ঘরেও সে চিত্র রক্ষিত আছে। আর ইউরোপে এমন গ্যালারী নাই যেখানে তাঁহার মূর্ত্তি বা সে চিত্র রক্ষিত হয় নাই।
{{ফাঁক}}ইনি মিশরের রাজকন্যা। খৃষ্টপূর্ব্ব শতাব্দীর অবসানের দিনেই ইহার আবির্ভাব হয়। অতি শিশু অবস্থাতেই ইঁহার পিতৃবিয়োগ ঘটে। নিজেরই অপর দুইটি ছোট ভাইদের সঙ্গে একত্রে রাণী হইবেন এইরূপ ঠিক ছিল। তখন মিশরে এক অদ্ভুত প্রথা প্রচলিত ছিল। রাজবংশে ভাই বুনে বিবাহ হইত। বর্ম্মা দেশেও এইরূপ প্রথা ছিল শুনিয়াছি। নিজ ভ্রাতার সহিতই বিবাহিতা হইয়া দু’জনে সিংহাসনে বসিলেন। সেক্ষপিয়ার বলিয়াছেন,—“Beauty provoketh thieves sooner than gold—অর্থাং সুরূপে যত শত্রু আনে আর সোনাতেও তত আনে না। তাই মিশর রাজ্যে তাঁহার রাজ্যারোহণে নানা গোলমাল উঠায় তিনি রাজ্য ছাড়িয়া পালান। তখন রোমরাজ্যের প্রধান সেনাপতি জুলিয়স্ সীজর পম্পেকে পরাস্ত করিয়া তাঁহার পশ্চাৎ ধাবন করিয়া কার্থেজে আসিয়াছিলেন। বুদ্ধিমতী রমণী এই সুযোগ দেখিয়া তাঁহারই শরণাপন্ন হইলেন। এ রমণীকে যিনি একবার দেখিয়াছেন তিনি আর ভুলেন নাই। এত রূপের মাধুর্য্য ও এত মধুর আলাপের ক্ষমতা ছিল যে যার সহিত একবার সাক্ষাৎ হইত সেই মুগ্ধ হইয়া পড়িত। বীর সীজারও সেইরূপ হইলেন। মিশর রাজ্য জয় করিয়া ক্লিওপ্যাট্রার হাতেই দিলেন ও তাঁর<noinclude></noinclude>
dpdmazzxd9q0f1r0s4htq61f491jj6h
2001726
2001724
2026-10-02T16:13:00Z
Nettime Sujata
5470
2001726
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ।|৫৩}}</noinclude>শেষে সবিস্তারে বলিব বলিয়া রাখিয়া দিয়াছিলাম, সেটি মিশরেরই পূরাকালের রাণী ক্লিওপ্যাট্রার কথা! এই রমণীর ইতিবৃত্ত এত প্রসিদ্ধ যে কি ইতিহাস লেখক কি কবি কি চিত্রকর কিম্বা ভাস্কর সকলেই তাঁহার মধুর মূর্ত্তি ও নারীজীবনের অলৌকিক ইতিহাস নানাপ্রকারে লিপিবদ্ধ করিয়াছে। মার্সেলের “লুই ডি প্যালে” আর্ট গ্যালারীর সামনেই তাঁহারই সর্পবিষে জর্জ্জরিত শিথিল দেহের কাল প্রস্তর নির্মিত প্রতিকৃতি স্থাপিত আছে। কলিকাতার আসিয়াটিক্ সোসাইটির ঘরেও সে চিত্র রক্ষিত আছে। আর ইউরোপে এমন গ্যালারী নাই যেখানে তাঁহার মূর্ত্তি বা সে চিত্র রক্ষিত হয় নাই।
{{ফাঁক}}ইনি মিশরের রাজকন্যা। খৃষ্টপূর্ব্ব শতাব্দীর অবসানের দিনেই ইহার আবির্ভাব হয়। অতি শিশু অবস্থাতেই ইঁহার পিতৃবিয়োগ ঘটে। নিজেরই অপর দুইটি ছোট ভাইদের সঙ্গে একত্রে রাণী হইবেন এইরূপ ঠিক ছিল। তখন মিশরে এক অদ্ভুত প্রথা প্রচলিত ছিল। রাজবংশে ভাই বুনে বিবাহ হইত। বর্ম্মা দেশেও এইরূপ প্রথা ছিল শুনিয়াছি। নিজ ভ্রাতার সহিতই বিবাহিতা হইয়া দু’জনে সিংহাসনে বসিলেন। সেক্ষপিয়ার বলিয়াছেন,—“Beauty provoketh thieves sooner than gold—অর্থাং সুরূপে যত শত্রু আনে আর সোনাতেও তত আনে না। তাই মিশর রাজ্যে তাঁহার রাজ্যারোহণে নানা গোলমাল উঠায় তিনি রাজ্য ছাড়িয়া পালান। তখন রোমরাজ্যের প্রধান সেনাপতি জুলিয়স্ সীজর পম্পেকে পরাস্ত করিয়া তাঁহার পশ্চাৎ ধাবন করিয়া কার্থেজে আসিয়াছিলেন। বুদ্ধিমতী রমণী এই সুযোগ দেখিয়া তাঁহারই শরণাপন্ন হইলেন। এ রমণীকে যিনি একবার দেখিয়াছেন তিনি আর ভুলেন নাই। এত রূপের মাধুর্য্য ও এত মধুর আলাপের ক্ষমতা ছিল যে যার সহিত একবার সাক্ষাৎ হইত সেই মুগ্ধ হইয়া পড়িত। বীর সীজারও সেইরূপ হইলেন। মিশর রাজ্য জয় করিয়া ক্লিওপ্যাট্রার হাতেই দিলেন ও তাঁর<noinclude></noinclude>
s03lbviggsb5r9fqcmkt75foddzoygf
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৭
104
886823
2001731
2026-10-02T16:17:03Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001731
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫৪|বিলাত ভ্রমণ।|}}</noinclude>স্বামীকে হত্যা করিয়া ও অপর ভাইটিকে বিষপ্রয়োগে মারিয়া ফেলিয়া নিষ্কণ্টক হইয়া তাঁহারা দু’জনে একত্রে রোমনগরে ফিরিয়া গেলেন। সেখানে তাঁহার একটি পুত্র সন্তান হয়। পরে যখন রোম রাজ্যের বিবাদ বিসম্বাদে সীজার হত হন, তখন ক্লিওপ্যাট্রাকে মিশরে ফিরিয়া আসিতে হইল। তারপর অনেক গোলমালের পর সীজারের হন্তা ব্রূটাসকে সাহায্য করিয়াছিলেন এইরূপ দোষারোপ করিয়া এণ্টনী ক্লিওপ্যাট্রাকে সাজা দিবেন বলিয়া বিচারালয়ে ডাকিয়া পাঠান। চতুরা রাণী তৎক্ষণাৎ সম্মত হইলেন। রাণী যাবেন বলিয়া নানারঙ্গে সুরঞ্জিত সুন্দর নৌকাখানি জলে ভাসিল। কাঠের দাঁড়ের পরিবর্ত্তে তার রূপার দাঁড় চলিতে লাগিল। পুরুষ দাঁড়ি দাঁড় টানিবার পরিবর্ত্তে সুরূপা যুবতী রমণীগণ দাঁড় টানিতে লাগিলেন। মধুর সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গে তালে তালে নৌকা চলিতে লাগিল। সে জাহাজের পাল মোটা ক্যাম্বিসের নহে লাল পাতলা রেশম দিয়া নির্ম্মিত। মৃদুমন্দ হাওয়ার নানারূপ সুগন্ধ দ্রব্যের সৌরভ সুদূর অবধি চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িতে লাগিল। তারই মাঝে ক্লিওপ্যাট্রা সুসজ্জিতা হইয়া এণ্টনীর কাছে বিচারের জন্য চলিলেন
{{ফাঁক}}সুদূর হইতে আহুত সুগন্ধ অনুভব করিয়াই এণ্টনী জানিতে পারিয়াছিলেন যে রাণী ক্লিওপ্যাট্রা আসিতেছেন। ক্রমে সঙ্গীতের রবও শুনা গেল ও আরও নিকটে আসিলে সাদা রূপার দাঁড়গুলিও সূর্যালোকে সুন্দর প্রতিভাত হইতে লাগিল। পরে যখন চারচোখে এক হয়— তখনকার কথা আর বলিবার কি আছে। চিরকাল ভীষণ যুদ্ধবিগ্রহ প্রিয় ও একান্ত উচ্চাভিলাষী এণ্টনিও এখন হইতে একটি রমণীর ক্রীতদাস হইলেন। একান্ত মুগ্ধ হইয়া এণ্টনী ক্লিওপ্যাট্রার সহিত নিজ রাজ্য ছাড়িয়া মিশরে গিয়া বসবাস করিতে লাগিলেন। ইত্যবসরে তাঁহার প্রতিদ্বন্দ্বী অকটেভিয়স্ তাঁহাকে এত দুর্ব্বল দেখিয়া তাঁহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিলেন। এণ্টনী ও ক্লিওপ্যাট্রা দু’জনের পক্ষেই ছেড়ে<noinclude></noinclude>
ma7619s9xj6qncn00hlmfavalww2svx
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৯
104
886824
2001732
2026-10-02T16:19:56Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001732
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ|৫৫}}</noinclude>থাকা এত অসহ্য হইল যে, সে যুদ্ধে ক্লিওপ্যাট্রাও এণ্টনীর সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধে গেলেন। যুদ্ধ সমাপ্ত হইবার পূর্ব্বেই ক্লিওপ্যাট্রার জাহাজ ভয়ে {{SIC|ত্রস্থ|ত্রস্ত}} হইয়া পলাইতে লাগিল, এণ্টনীও অনুধাবন করিলেন। যুদ্ধে হার হইলে এণ্টনী নিজে লজ্জায় আত্মহত্যা করিলেন। ক্লিওপ্যাট্রাকে এখন অসহায়া দেখিয়া অকটেভিয়স তাঁহাকে রোমে ডাকিয়া পাঠাইলেন। কিন্তু রোমানদের হাতে অবমাননার ভয়ে ভীত হইয়া—ক্লিওপ্যাট্রাও আত্মহত্যা করিতে বদ্ধপরিকর হইলেন। সে দেশে একরূপ অতিশয় বিষধর সর্প আছে তাহার বিষে অতি শীঘ্র মৃত্যু হয় অথচ কোনও কষ্ট নাই। এইরূপ সর্পের দ্বারা নিজ হস্তে বুকে দংশিত হইয়া রাণী ক্লিওপ্যাট্রা এ মর্ত্তাভূমি ছাড়িলেন।
{{ফাঁক}}আশ্চর্য্য যে—সে সব বীরত্বের দিনে আত্মহত্যার কথা সচরাচরই শুনা যাইত। যে কেহ অপমানের ভয় করিতেন তিনিই আত্মহত্যা করিতেন। সীজারের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রূটস ও কেসিয়াস যুদ্ধে হারিয়া এইরূপ করেন। এণ্টনীও তাই করিলেন। রাণী ক্লিওপ্যাট্রাও তাই করিলেন। আর কষ্টহীন উপায়ে সহজে আত্মহত্যা করিবার উপায় জানা থাকিলে কত লোকই যে এইরূপ করিতে আজও প্রস্তুত আছে তার ইয়ত্তা নাই। এই কারণেই আজকালকার দিনেও আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে শতকরা বার আনা লোক পুলিশের সম্প্রতিকার তালিকা অনুসারে আফিম খাইয়াই আত্মহত্যা করে।
{{ফাঁক}}এইরূপ জীবনের ঘটনাবলীর কথা শুনিয়া সকলেরই ইচ্ছা হয় ক্লিওপ্যাট্রার রূপ ও গুণ বর্ণনার কথা শুনেন। আমিও এ সম্বন্ধে অনুসন্ধিৎসা মিটাইতে অনেকগুলি পুস্তক পড়িয়াছি। তিনি বড়ই সুগঠন ছিলেন—রং কিন্তু তত উজ্জ্বল ছিল না। আর এত যে আকর্ষণ করিবার ক্ষমতা ছিল তা তাঁহার মানসিক গুণেরই কারণে। তিনি অতি বুদ্ধিমতী, সুচতুরা ও মধুরভাষিণী ছিলেন। মিষ্ট কথার মত তো এত আর কোনও<noinclude></noinclude>
8fwa6ai8u6zefoy3vbjg1dctd6wmbr7
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭০
104
886825
2001733
2026-10-02T16:26:38Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001733
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৫৬|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>আকর্ষণই নাই। সেই মিষ্ট ভাষা ও মিষ্ট ব্যবহারের গুণেই তিনি এমন দিগ্বিজয়িনী ছিলেন!
{{ফাঁক}}রোমের যত বীর কুল সীজার এণ্টনী অকটেভিয়স সকলেই তাঁর রূপে গুণে মুগ্ধ ছিলেন। এণ্টনীর যে তাহাকে দেখিয়া অবধি চরিত্রের কি দারুণ পরিবর্ত্তন হইয়াছিল—তাহা Shakespearএরই একটি কথা হইতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হইবে—
{{Block center|<poem>{{overfloat left|depth=4em|Cleo.}} “If it be love indeed
Tell me how much”
{{overfloat left|depth=4em|Ant.}} “There is beggary in the love
That can be reckoned.”
{{overfloat left|depth=4em|Cleo.}} “I would fain know
How far it is to be beloved.”
{{overfloat left|depth=4em|Ant.}} “Then you must find
New Heaven, New Earth."</poem>}}
{{ফাঁক}}ক্লিওপ্যাট্রা জিজ্ঞাসা করিলেন—‘তুমি যদি যথার্থই ভালবাস, তো আমাকে বুঝাইয়া দাও কতটা ভালবাস।” জন্ম
{{ফাঁক}}এণ্টনী বলিলেন “যে ভালবাসা বলে বুঝান যায়, সে ভালবাসা অতি সামান্য।”
{{ফাঁক}}নারীসুলভ অনুসন্ধিৎসা বশতঃ রাণী আবার জিজ্ঞাসা করিলেন,
{{ফাঁক}}“তবুও আমি জানতে চাই কতটা ভালবাসার পাত্র হওয়া যাইতে পারে।”
{{ফাঁক}}এণ্টনী তার উত্তরে বলিলেন,—
{{ফাঁক}}“তা হলে তুমি আর একটি পৃথিবী ও আর একটি আকাশ খুঁজিয়া বার কর, কারণ আমার ভালবাসা তো একটিতে কুলাবে না।”
{{ফাঁক}}এইরূপ কর্ম্মনাশা মধুর কথা লইয়া অহরহ তাঁহাদের সময় কাটিত।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
9dff157l5b6aq409j470z37eku64p4s
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭১
104
886826
2001734
2026-10-02T16:30:17Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001734
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ|৫৭}}</noinclude>{{ফাঁক}}এখন সেই এণ্টনী রোম নগরের নাম শুনিলে বলিয়া উঠিতেন— “Grates me” অর্থাৎ ও কথা আমার কাণে বড়ই কর্কশ লাগে। রাণী ক্ষণে ক্ষণে কত রকমেই ভাব পরিবর্ত্তন করিতেন। কখনও সরস মধুর ভাব, কখনও বা রুদ্রমূর্ত্তি; কার্য্যসাধনে সর্ব্বদা ঠিক সময়ে ঠিক ভাবই আসিত।
{{ফাঁক}}রাণী যখন এণ্টনীর সহিত প্রথম সাক্ষাতে বিচারে জয়লাভ করিয়া দেশে ফিরিতে চাহিলেন, বিচারপতিকেও সঙ্গে লইবার জন্য বীরাঙ্গনা কাব্যের নিম্নোক্ত ভাবেই মধুর সম্ভাষণ করিয়াছিলেন—
{{Block center|<poem>“কায়মন প্রাণ আমি সঁপিব তোমারে
ভুঞ্জ আসি রাজভোগ দাসীর আলয়ে।”</poem>}}
{{ফাঁক}}আবার রোমরাজ্য হতে কোন লোক এণ্টনীর সঙ্গে দেখা করতে আসবে ইহা তাঁর একান্ত ইচ্ছা নয়। সেই নিমিত্ত সেখান হইতে কোনও দূত আসিলেই এণ্টনীকে গঞ্জনা দিয়া বলিতেন—
{{ফাঁক}}“ওই বুঝি তোমার স্ত্রী ঝগড়াপ্রিয়া “ফুলভিয়া” (Fulvia) তোমাকে ফিরায়ে নিয়ে যাবার জন্য রোম থেকে লোক পাঠাইয়াছেন।”
{{ফাঁক}}এরূপে সরল ও দৃঢ়ভাবে এণ্টনীর আকর্ষণ আরও দৃঢ়তর হইত।
{{ফাঁক}}ক্লিওপ্যাট্রার অপ্রিয় জানিয়া তিনিও স্বদেশী লোক দেখিলে জ্বলিয়া উঠিতেন। রোম হইতে কোনও দূত যদি রোমের দুরবস্থার কথা এণ্টনীকে বলিতে আসিত তিনি অমনি বিরক্ত হইয়া বলিতেন—“এ কথা এখন দারুণ অপ্রিয় লাগে। রোমনগর টাইবার নদীর অতল জলে ডুবিয়া যাক তাতেও আমার এতটুকু ক্ষতি বৃদ্ধি নাই।”
{{ফাঁক}}“Let Rome in Tiber melt.”
{{dhr|3em}}
{{rule|4em}}<noinclude></noinclude>
krddjpyacubkca0lexrap1cq4rcne30
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭২
104
886827
2001735
2026-10-02T16:33:12Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001735
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|{{larger|ভূমধ্যস্থ সাগর।}}}}
{{ফাঁক}}যখন মিশরের সীমা-রেখা শেষ দৃষ্টিপথ হইতে চলিয়া গেল, তখন সন্ধ্যাও আসিয়াছিল। আকাশে আলোক থাকিতে থাকিতেই দূরে সে রেখা মিলাইয়া গেল। এইবার কেবল অনন্ত আকাশ ও চারিদিকের অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখিবার নাই।
{{ফাঁক}}আমার সর্ব্বাপেক্ষা দেখিতে ভাল লাগে—সান্ধ্য-গগন ও ঊষা। আর যখন রাত্রি ধরণীর দৃশ্যগুলিকে ঢাকিয়া দিয়া উপরের অনন্তপথ খুলিয়া দেখায় তখন একা একান্তে বসিয়া সেই দিকে চাহিয়া যা’তা’ ভাবা আমার চিরদিনেরই অভ্যাস আছে, জাহাজেও তাই করিতাম।
{{ফাঁক}}আজ আমার বার বার কেবলই এই ভূমধ্যস্থসাগর ও তার আসপাশের সব প্রসিদ্ধ স্থানেরই কথা মনে আসিতে লাগিল। এই স্থানটি পুরাকালিক কত ঘটনাবলীতে প্রসিদ্ধ। পুরাতন জগতের ইহাই কেন্দ্রস্থান বলিয়া বিবেচিত হইত। যত বাণিজ্য ব্যবসা তখন এই খানেই চলিত। এখন সে কেন্দ্র পরিবর্ত্তিত হইয়া ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যবর্ত্তী “আটল্যাণ্টিক” মহাসাগরে আসিয়াছে। যত পুরাকালের সভ্যতাও এই ভূমধ্যস্থ সাগরেরই চারিদিকে বিকশিত ছিল। এই সমুদ্রটিই এককালে গ্রীস রোম এবং অন্যান্য সমৃদ্ধিশালী দেশের লীলাভূমি ছিল। আধুনিক পুরাতত্ত্বের মতে মিশর হইতেই গ্রীসে প্রথম সভ্যতা আসে। পরে ফিনিসিয় দেশ হইতে “কেডমস্” নামক এক রাজা আসিয়াই গ্রীসে অনেক নূতন কথা শিখান। মিশর হইতে আনিয়া আঙ্গুরের চাষ ও লেখার প্রবর্ত্তন প্রথমে তিনিই এখানে করেন। এইরূপে বিভিন্ন দেশ হইতে আসিয়া একে একে কতকগুলি উপনিবেশ এ স্থানে স্থাপিত হইল। প্রথমে তাহারা পরস্পরের সহিত কতই কলহ করিত। যুদ্ধ বিগ্রহ বই আর কিছুই ছিল না। ক্রমে যত জ্ঞান ও সভ্যতা বৃদ্ধি পাইতে<noinclude></noinclude>
s2f6ebd8663iwca5mgzy0zj8jq4z9i5
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৩
104
886828
2001736
2026-10-02T16:36:52Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001736
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর।|৫৯}}</noinclude>লাগিল, সকলেই বুঝিলেন যে, একতা কত সুবিধার জিনিষ। এই জ্ঞান লাভ করিয়াই অনেকগুলি গ্রীক উপনিবেশ প্রতিনিধি পাঠাইয়া বৎসরে একবার একত্র মিলিত হইয়া পরস্পরের ভাল মন্দ সম্বন্ধে পরামর্শ করিতেন। একেই বলে “Amphictyonic Council” বা জ্ঞানী লোকের সভা, এই সামান্য সভা হইতেই পরে এথেন্সের স্বাধীন তন্ত্রের উৎপত্তি। সকল দেশেই এইরূপ হইয়া থাকে। একত্র বাস করিতে গেলেই পরস্পরের স্বার্থত্যাগ করিতে হয়। একত্র পরামর্শ করিয়াই রাজ্যের হিতাহিত স্থির করা হয়। আমাদের দেশের পঞ্চায়ত সভা ও বিলাতের পার্লামেণ্ট সভা অবধি এইরূপেই উৎপন্ন। একতাতে সকল বিষয়েই সুবিধা হয়, একতাই সকল জাতীয় শক্তির মূল। এই সময়ে দেশের এমন ক্ষমতা ও শ্রীবৃদ্ধি দেখিয়া—সে দেশের আদিমবাসী ও নিকটবর্ত্তী অন্যান্য স্থানের লোকেরাও গ্রীকদের সহিত সমান স্বত্ব দাওয়া করাতে, প্রথমে গ্রীস তাহা দেয় নাই। অনেক দাবীদাওয়া ও গোলমালের পর এই “হেলটরা” সে স্বত্ব পায়। এরূপ ইতিহাস সকল দেশেই সমান। স্বত্ব কখনই অমনি মিলে না।
{{ফাঁক}}অনেকগুলি উৎসব ও অন্যান্য প্রথা লইয়াই গ্রীসে এই একতাবন্ধন এত দৃঢ় হইয়া আসিয়াছিল। তার মধ্যে একটি তাদের Olympic Game, অর্থাৎ অলিম্পিয়া পাহাড়ে বাৎসরিক উৎসবের আড়াআড়ি খেলা। তাহাতে ব্যায়াম ও কলাবিদ্যার পরীক্ষা হইত। বৎসরের মধ্যে একবার গ্রীসের সকল রাজ্য হইতে লোক আসিয়া একত্র মিলিত হইয়া নানারূপ ব্যায়াম ও ক্রীড়া করিত। কে কত শীঘ্র দৌড়াতে পারে, কত দূর লাফাইতে পারে, কত বেগে ঘোড়া চড়িয়া যাইতে পারে, বা তীর ছুড়িতে পারে ইত্যাদি লইয়া পরস্পরে আড়াআড়ি হইত। এইরূপ সকল বিষয়েই খেলা ছিল। বর্ষা লইয়া, তলওয়ার লইয়া, গদা লইয়া এই খেলা হইত,—এই খেলা দর্শকবৃন্দকে<noinclude></noinclude>
s4eswiu8fy4nbdz20nlwvt5du42bxaw
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৪
104
886829
2001737
2026-10-02T16:39:53Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001737
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৬০|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>কতই আনন্দ দিত। উৎসবের কয়দিন লোকে লোকারণ্য। আর যিনি যে যে বিষয়ে শ্রেষ্ঠ হইতেন, তাঁহার পারিতোষিক কি—সোণা নয়, রূপা নয় একটি “অলিভ” পাতার মুকুট। সেরূপ সম্মান আর কেহ কোথাও পায় না—মধ্যযুগের Tournament যুদ্ধ খেলাও এইরূপ খেলা তাতে জেতার পুরস্কার,—একটি রমণীর স্নেহদৃষ্টি ও সম্মান। অধুনা সোণা রূপার “কাপ” উপহার দেওয়া প্রথা হইয়াছে। কিন্তু গ্রীসে সুধুই অলিভ পাতা। স্পার্টার আইনকর্ত্তা লাইকারগসের কঠোর নিয়মানুসারে স্পার্টার শ্রেষ্ঠ উপাদেয় খাদ্য ছিল Black broth, সে একরূপ তরকারীর ডালনা মাত্র। এই সামান্য উপলক্ষ করিয়াই তখন তাঁহারা কত বড় হইতে পারিয়াছিলেন।
{{ফাঁক}}এই গেল একতা বন্ধনের একটি উপলক্ষ। আর একটি উপলক্ষ Delphic oracle “ডেলফি” মন্দিরের ভাগ্যগণনা। সে স্থান একটি ভাগ্যগণনার স্থান মাত্র; তীর্থযাত্রার মত সবাই সে স্থানে যাইয়া ভাগ্য পরীক্ষা করিতেন। একটি ছোট বালিকাকে একটি বেদীতে বসাইয়া তাঁহার চারিদিকে ধূপ ধুনার ধোঁয়া দেওয়া হইত। ক্ষণেক পরেই বালিকাটি অজ্ঞান হইয়া পড়িতেন। তখন তাঁহাকে যা জিজ্ঞাসা করা হইত, তার তিনি যথাযথ উত্তর দিতেন। সে ভবিষ্যৎ বাণী অধিকাংশ সময়েই না কি ঠিক হইত।
{{ফাঁক}}পূর্ব্বোক্ত লাইকারগসের কঠোর নিয়ম পালন করিয়া অল্প দিনেই স্পার্টা অতিশয় প্রতাপান্বিত হওয়ায় যখন এথেন্স ও স্পার্টার যুদ্ধ বাধে—তখন এথিনিয়নরা ভীত হইয়া এই স্থানে পরামর্শ লইতে যাইলেন। ভবিষ্যৎ বাণী হলো—“তোমরা তিন চোখোকে সৈন্যাধ্যক্ষ কর, যুদ্ধে জয় হইবে।” তিন চোখো কে তা ঠিক করিতে না পারিয়া তাঁহারা এক চোক কাণা এক গুরু মশাইকে ঘোড়ায় চড়িয়া যাইতে দেখিয়া ঠিক করিলেন, যে ইনিই “তিন চোখো”। তিনি সৈন্যাধ্যক্ষ হইয়া ওজস্বিনী<noinclude></noinclude>
l9k5iskonshg1vas2bmij5yhdfbu9uj
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৫
104
886830
2001738
2026-10-02T16:42:03Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001738
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর।|৬১}}</noinclude>ভাষায় কবিতা রচনা করিয়া সৈন্যদের উৎসাহিত করিতে লাগিলেন। তাতে তাহারা মাতিয়া উঠিয়া এমন সাহস ও নিপুণতার সহিত যুদ্ধ করিল যে, তাদেরই জয় হইল।
{{ফাঁক}}ফরাসী দেশেও এইরূপ এক আশ্চর্য্য ঘটনা ঘটিয়াছিল। বহুদিন পূর্ব্বে যখন ইংলণ্ড প্রায় ফরাসী দেশের সকল অংশ জয় করিয়াছিলেন, তখন অনন্যোপায় দেখিয়া ফরাসীদেশের সকল লোক হতাশ্বাস হইয়া পড়িলেন। এই সময়ে এক অষ্টাদশবর্ষীয়া কৃষক কন্যা তাহার বাসভূম লোরেনে এই বার্ত্তা শুনিয়া সর্ব্বদা প্রান্তরে একা মেষ চরাইতে চরাইতে মনে করিতেন যে, কে যেন আকাশপথ হইতে তাঁহাকে বলিতেছে, “তুমিই তোমার জন্মভূমি রক্ষা করিতে পারিবে।” বালিকা বর্ম্ম পরিয়া নিজ দেশের রাজার সহিত সাক্ষাৎ করিলেন ও তাঁহার সৈন্যের নেতা হইয়া যুদ্ধ চালাইতে লাগিলেন। সৈন্যগণ তাঁহার কথায় এত উৎসাহিত হইল যে, তাহারা এখন যেখানে যায় সেখানে জিতে। ক্রমে সকল স্থানে কৃতকার্য্য হইয়া শেষ যুদ্ধে সেই অমানুষিক বালিকা শত্রুদের হাতে ধরা পড়েন। তাহারা তখন তাঁহাকে ডাইনী বলিয়া পুড়াইয়া মারে। তবে তিনি যে কার্য্যের জন্য অবতীর্ণা হইয়াছিলেন, সে কার্য্য সমাধা করিয়া গেলেন,—ফরাসী দেশ স্বাধীন হইল।
{{ফাঁক}}গ্রীসদেশে পূর্ব্বোক্ত এই দুটি উপায়েই দিন দিন জাতীয়তা বন্ধন বাড়িতে লাগিল। তখন এক হইয়া গ্রীসের প্রতাপ দেখে কে? এই সময়ে পার্শিয়ার সম্রাট “ডোরায়স্” মহা প্রতাপান্বিত রাজা ছিলেন। তিনি অসংখ্য সৈন্য লইয়া সমুদ্র পার হইয়া গ্রীস আক্রমণ করিলেন। কিন্তু এমন একতাবন্ধনে বলীয়ান জাতিকে কেমন করিয়া জয় করিবেন, তিনি পরাজিত ও বিধ্বস্ত হইয়া বিতাড়িত হইলেন। তার কিছু বৎসর পরে তাঁরই পুত্র জেরেকসিস্ আরও বিপুল আয়োজন করিয়া পুনরায় গ্রীসের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করিলেন। সেবারও যা ঘটিবার নয় তাহাই ঘটিল। স্পার্টার<noinclude></noinclude>
1wmy07aqyfnldrpoonna2vgsi0ymh3z
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৬
104
886831
2001739
2026-10-02T16:47:01Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001739
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৬২|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>সৈন্যাধ্যক্ষ লিউনিডস্ কেবলমাত্র ২০০ জন সৈন্য লইয়া এক পর্ব্বতের পাশে ৫০০০০ সৈন্যের পথ আগলাইলেন। এমন যুদ্ধ কেহ কখন দেখে নাই। সেই ২০০ সৈন্যে ৫০০০০ সৈন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হইয়া একটিও দেশে ফিরেন নাই!
{{ফাঁক}}একতায় গ্রীসের এমন ক্ষমতা বৃদ্ধি। তারপরে অতি বৃদ্ধিতে প্রায়ই যাহা ঘটিয়া থাকে, তাই ঘটিতে লাগিল। দুই ক্ষমতাশালী দেশ এথেন্স ও স্পার্টাতে মহা রেষারেষী আরম্ভ হইল। এইরূপে পরস্পরে ঘরাও যুদ্ধ করিয়া গ্রীক জাতির কত শক্তি ক্ষয় হইতে লাগিল। আর সে একতা বন্ধন নাই। তারপরই আবার থীব্স্এর সঙ্গেও বিবাদ বাধিল; সেও অন্যতম একটি গ্রীসের রাজ্য। যখন ক্রমে ক্রমে এইরূপ ঘরাও বিবাদ বিসম্বাদ ঘটিয়া উঠিল, তখন আর বাহিরের শত্রুর কি ভয়? মেসিদন রাজ্য গ্রীসেরই উত্তরে —এখন এই রাজ্যই তুর্কির রাজ্য হইয়াছে। সেখানকার রাজা ফিলিপ আসিয়া অনায়াসে গ্রীস জয় করিয়া ফেলিলেন। ইহারই পুত্র জগৎ বিখ্যাত দিগ্বিজয়ী আলেকজান্দর। তিনি ভারতবর্ষেও জয়পতাকা আনিয়াছিলেন।
{{ফাঁক}}গ্রীসের এইরূপ ঘরাও বিবাদ ও অধঃপতন হইবার কালে “ডিমস্থিনিস্” নামক এক এথিনিয়ন ওজস্বিনী বক্তৃতায় নিজ দেশের লোকদের চেতনা জাগাইবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। তাহারা তখন কতই ভোগবিলাসী ও অকর্ম্মণ্য হইয়া পড়িয়াছিল। কাজেই তাঁর এত চেষ্টাতেও নিয়তিকে বারণ করা গেল না। এই বাগ্মিবরের জীবনীও অতিশয় বিস্ময়কর কথা। চেষ্টায় যে সকল বাধা ও বিপত্তি অতিক্রম করা যায়, তাহারই একটি ভাল উদাহরণ। তিনি বড় তোতলা ছিলেন—সেই দুরারোগ্য দোষটি অতিক্রম করিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হইয়া প্রত্যহ সমুদ্রতীরে গিয়া মুখে পাথর দিয়া পরিষ্কার কথা কহিবার অহরহঃ চেষ্টায় শেষে কৃতকার্য্য হইয়াছিলেন। তারপর ইঁহার বক্তৃতার এমন উত্তেজনা শক্তি ছিল<noinclude></noinclude>
95s84nafmmt85x3hn0c54d894q12t8o
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৭
104
886832
2001740
2026-10-02T16:50:16Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001740
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর।|৬৩}}</noinclude>যে, যে শুনিত সেই পাগল হইয়া শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে ছুটিত।
{{ফাঁক}}ইহার কিছু দিন পূর্ব্বেই এই দেশে বিজ্ঞবর Socratesএর জন্ম হয়। তিনিও নিজ দেশের দুরবস্থা দেখিয়া নানা উপায়ে তাহাদের শিখাতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। তখনকার লোকে—বড়ই বিবাদপ্রিয় হইয়াছিল আর সামাজিক ও ধর্ম্ম সম্বন্ধীয় অনেক কুপ্রথায় দেশের লোকের শক্তি একেবারে জর্জ্জরিত হইয়াছিল। তিনি তাদের সৎশিক্ষা দিবার জন্য—অল্পবয়স্ক বালকেরাই নুতন উপদেশ শিক্ষা করিবার বিশেষ উপযুক্ত বিবেচনা করিয়া তাদেরই এই সকল উপদেশ দিতেন। তাতে তাঁহার শত্রুরা ছেলেদের কুশিক্ষা দিয়া বিগড়াইয়া দিতেছেন এই অভিযোগে তাঁহাকে দণ্ডিত করিল। হেমলক লতার রস পান করিলে শরীর ক্রমে ক্রমে অবশ হইয়া মৃত্যু ঘটে। রাজদণ্ড অনুসারে এই রস পান করিয়াই সক্রেটিসের মৃত্যু হয়। তিনি কখনও পলাইবেন না জানিয়া খোলা কারাগারেই তাঁহাকে রাখা হইয়াছিল, মনে করিলেই তিনি পলাইতে পারিতেন—অনেকে সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়াও সক্রেটিসের অপ্রীতিকর হইয়াছিলেন। শেষ সময়ে—তিনি প্রভূত ছাত্রবৃন্দ দ্বারা পরিবৃত হইয়া সেই বিষ পান করিতে করিতে আত্মার অবিনশ্বরতার কথা বলিতে ও তাহাদিগকে সদুপদেশ দিতে লাগিলেন। ছেলে কোলে করিয়া তাঁর স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে দেখা করিতে আসিয়াছিলেন, তিনিও কাঁদিতে কাঁদিতে চলিয়া গেলেন। ক্রমে বিজ্ঞবরের দেহ বিষে জর্জ্জরিত হইয়া শিথিল হইয়া আসিতে লাগিল। বহুকাল নির্ব্বাক ও নিশ্চেষ্ট থাকিয়া সেই মহাপুরুষ ধরাধাম পরিত্যাগ করিলেন।
{{ফাঁক}}আমি যখন মেডিকেল কলেজে প্রথম ভর্ত্তি হই—ক্লাসে কোনেয়ম বা হেম্লকের কথা শুনিয়া আমার চোখে জল আর থাকে নাই। এখনও সে মহাপুরুষের কথা অহরহঃ আমার মনে হয়। এমন জ্ঞানী তত্ত্বদর্শী ও পবিত্র জীবন লোক ইহসংসারে আর হয় নাই।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
jvq75z0lbbc92omi0vl77qsu8lc9147
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৮
104
886833
2001741
2026-10-02T16:53:15Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001741
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh|৬৪|বিলাত ভ্রমণ|}}</noinclude>{{ফাঁক}}গ্রীসের তারপরের ইতিহাস অতি শোচনীয়। ক্রমে রোম আসিয়া গ্রীস জয় করিল; ক্রমে মুসলমান ধর্ম্ম প্রচারের সঙ্গে মুরযুদ্ধে সমগ্র গ্রীস তুর্কির পদানত হইয়া পড়িল। তারপর আবার সে দিন মাত্র স্বাধীনতা অপর জাতির সাহায্যে পুনঃপ্রাপ্ত হইয়া এখনও গ্রীস কোনরূপে দাঁড়াইয়া আছে মাত্র।
{{ফাঁক}}এই গেল সংক্ষেপে গ্রীসদেশের ইতিবৃত্ত। ইহা বলিবার মানে আর কিছুই নয়, কেবল বোঝানো যে,—সে রাজ্য যাহার ইতিহাসের কথা এখন সংক্ষেপে বলিব তাহার সঙ্গে এ সকল দেশের ইতিহাসে কত মিলে। শুধু রোমের সঙ্গে কেন—ইংলণ্ডের ইতিহাসের ও আমাদের ভারতবর্ষের ইতিহাসের সঙ্গেও তার অনেক মিল আছে। মোটামুটী ধরিতে গেলে সকল দেশের ইতিহাসই সমান। তার মধ্যে এই কয়টি কথা বিশেষ করিয়া বলিবার আছে।
{{ফাঁক}}আদিমবাসীর সহিত নবাগত সভ্যজাতির সর্ব্বত্রেই চিরবিবাদ। ভারতবর্ষে বিষম জাতিভেদ সূত্রে তারা আলাহিদা একশ্রেণী হইয়াই চিরকাল রহিয়া গেল। কিন্তু অন্যান্য দেশে তাহারা বহু রক্তপাতের পর মিলিয়া এক হইয়াছে। এইরূপে অনেক শ্রেণীর একত্র মিলনের পর হইতেই দেশের শ্রীবৃদ্ধি হইতে থাকে। ক্রমে উচ্চপদে চড়িলে সচেষ্টভাব অনেক কমিয়া যায় ও দম্ভ আপনিই আসিয়া পড়ে। এই দম্ভই পতনের মূল। ঘরে ঘরে বিবাদ সেই দম্ভ হইতেই উৎপন্ন হয়। তাতেই দেশটি শেষে ছারখারে গিয়া নূতন জাতির পদানত হইয়া পড়ে। আমাদের দেশে সকলগুলি হইয়াছে কেবল গোড়ার মিলটি হয় নাই, তাই আমাদের পতন আরও এত অতল ও এত দুর্নিবার্য্য।
{{ফাঁক}}আর একটি উদাহরণের মত এইবার রোমের কথাও বলিতেছি। সে রাজ্যের উত্থান আবার গ্রীসের কতকগুলি লোক যাওয়াতেই ঘটিল। ক্রমে ক্রমে লোক আসিয়া সাতটি পাহাড় লইয়া রোমরাজ্য প্রতিষ্ঠিত<noinclude></noinclude>
ian0mzg9gwkqzz7n305x064ezvk9tgg
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৯
104
886834
2001742
2026-10-02T16:56:46Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001742
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rh||ভূমধ্যস্থ সাগর।|৬৫}}</noinclude>করিল। তাদের পার্শ্বস্থিত ইট্রাস্কান্ প্রভৃতি লোকেরাও সমান স্বত্ব দাবী করায় সাধারণ লোক বা “প্লীবিয়ন” ও বড়লোক বা “পেট্রিসিয়নদের” মধ্যে কত রক্তপাত হয়। জল যেমন সমতল খোঁজে, সকল শ্রেণীও একত্র থাকিলে তেমনই সাম্যভাব স্থাপিত হয়,—সে প্রকৃতির চেষ্টা অনিবার্য্য। ক্রমে নীচ শ্রেণীর লোকদের স্বত্ব-স্বামিত্ব দেখিবার জন্য রোমে Tribune নামক কর্ম্মচারী নিরূপিত হইল। ক্রমে সবাই সমান হইয়া রাজ্যের অসীম ক্ষমতা বাড়িল। এককালে সমস্ত ইউরোপ তাহাদের পদতলে ছিল। পরে দম্ভ, পাপপ্রবেশ, জাতিভেদ ও পতন। মহা মহা দেশের ভাগ্যচক্রের এই পরিবর্ত্তনগুলি সকল লোকেরই জানা উচিত।
{{ফাঁক}}আর একটি বিশেষ জানিবার বিষয়—ক্ষমতার যুগে যুগে স্থান পরিবর্ত্তন। আর্য্যজাতি মধ্য এসিয়াতেই ছিলেন—সে স্থান হইতে দলে দলে তাঁহারা চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িলেন। নিজেদের কথা বলিয়া কাজ নাই কিন্তু এসিয়া এককালে অতি সমৃদ্ধিশালী রাজ্য ছিল। এসিয়া মাইনরে “সিরিয়া” প্রভৃতি রাজ্যও কত প্রতাপশালী ছিল। মিশর কত পুরাতন। ক্রমে মিশর হইতে গ্রীসে, গ্রীস হইতে রোমে, ও রোম হইতে সমগ্র ইউরোপের স্পেন ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে সভ্যতা ছড়াইয়া পড়িয়াছিল। পুর্ব্বদেশে অবস্থিত এসিয়া ও আফরিকা হইতে উৎপন্ন সে স্রোত ক্রমে ক্রমে যেন ঠিক পা ফেলিয়াই—ইউরোপের পশ্চিম দিকে গিয়াছে—এখন সেখানেই তার কেন্দ্রস্থান; আবার সেখান হইতেও ক্রমশঃ পশ্চিমে সরিয়া গিয়া আমেরিকাতে তাহার পিঠস্থান করিয়াছে। আবার প্রশান্ত সমুদ্র পার হইয়া এসিয়ারই এক প্রান্তে সুদূর জাপানে উদয়। তার পরও কি মনে হয় না যে সেই সূর্য্য আবর্ত্তনের পূর্ব্ব পথে চলিয়াই আবার পূর্ব্বস্থানে ফিরিয়া আসিবেন? সেই দিন নিশ্চয়ই আমাদের দেশে আনা যায়,—সেইরূপ যদি সকল জাতি সকল ধর্ম্মের লোক আবার একত্র মিলে।
{{dhr|3em}}
{{rule|4em}}<noinclude></noinclude>
3rlo8ggcnsryzw96j2ti04tf84px9x0
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৮০
104
886835
2001743
2026-10-02T16:59:26Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001743
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|{{larger|ভূমধ্যস্থ সাগর।}}}}
{{ফাঁক}}ভূমধ্যস্থ সাগরের আশ পাশের স্থানগুলির অনেক ইতিহাস বলিয়াছি। কি পুরাকালের হিসাবে, কি আধুনিক হিসাবে, এ স্থানটি এত প্রসিদ্ধ যে, উহাদের ইতিহাস সম্বন্ধে কিছু জানা বড়ই আবশ্যকীয়। পুরাকালে সভ্য জগতের ইহাই কেন্দ্রস্থান ছিল। ইহারই নিকটবর্ত্তী স্থানে সভ্যতার বিকাশ ও প্রচার হয়। বাণিজ্য হিসাবেও এই স্থানটি তখন সর্ব্বপ্রধান ছিল। মিশর, ফিনিসিয়, গ্রীক ও রোমান জাতিরা এই খানেই বাণিজ্য করিতেন। এই স্থানটিই আসিয়া ও ইউরোপের সন্ধি স্থান। ইহারই পূর্ব্বদিকে অবস্থিত মরুময় আরব দেশের পুণ্য ভূমিতেই পৃথিবীর দুইটি ধর্ম্মের স্থাপনা হয়। আর কোনও কোনও প্রত্নতত্ত্ববিৎ পণ্ডিতের বিশ্বাস যে, এই পথ দিয়াই মধ্য আসিয়া হইতে আর্য্যজাতি ইউরোপ ও নিকটবর্ত্তী স্থানসমূহে ছড়াইয়া পড়েন, ও সভ্যতার আদি বিকাশ আসিয়াভূমেই হইয়া দেশে দেশে প্রচারিত হয়। কিন্তু এখন ইউরোপ প্রভৃতি স্থানই ক্ষমতা ও সভ্যতার পিঠস্থান হইয়াছে, এবং আমেরিকার উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে আটলাণ্টিক মহাসাগরই বাণিজ্যের প্রধান স্থান হইয়াছে। অবস্থার পরিবর্ত্তনের সঙ্গে সঙ্গে সময়ে সকল জিনিষই স্থান পরিবর্ত্তন করে। একস্থানে অনেক দিন থাকিলে কোনও জিনিষেই জীবনী-শক্তি স্ফূর্ত্তি পায় না। তাই দোপাটি গাছের ফল সজোরে ফাটিয়া চারিদিকে বীচি ছড়াইয়া দেয়; তুলার হালকা ফলগুলি হাওয়াতে উড়িয়া গিয়া সুদূরে নিক্ষিপ্ত হয়; ও আম কাঁঠাল প্রভৃতি সুমিষ্ট ফলগুলি প্রাণিগণের দ্বারা সাদরে ভুক্ত ও দূরে নীত হওয়াতেই এই সকল গাছের বংশ বৃদ্ধি হয় ও শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে। বহু শতাব্দী<noinclude></noinclude>
36855xnno1p0ouc7qqfkwkj6pm49d9v
বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ)/স্যৈয়দ্ বন্দর
0
886836
2001744
2026-10-02T19:11:32Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf" from=50 to=58 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001744
wikitext
text/x-wiki
<pages index="বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf" from=50 to=58 header=1/>
sw76zfv16lcw2fzu898mardq752x292
বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ)/ভূমধ্যস্থসাগর ও মিশরদেশ
0
886837
2001745
2026-10-02T19:12:19Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf" from=59 to=71 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001745
wikitext
text/x-wiki
<pages index="বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf" from=59 to=71 header=1/>
pkzapv0rx404r032m2lo6p8tlr65nrw
বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ)/ভূমধ্যস্থ সাগর (১)
0
886838
2001746
2026-10-02T19:13:41Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf" from=72 to=79 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001746
wikitext
text/x-wiki
<pages index="বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf" from=72 to=79 header=1/>
9xn34strunle64fiy8x6vopx365oadw
পাতা:শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf/২৭
104
886840
2001751
2026-10-03T06:43:54Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
2001751
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}</noinclude><poem>আমার এ জন্মদিন-মাঝে আমি হারা
আমি চাহি বন্ধুজন যারা
. তাহাদের হাতের পরশে
মর্ত্যের অন্তিম প্রীতিরসে
নিয়ে যাব জীবনের চরম প্রসাদ
নিয়ে যাব মানুষের শেষ আশীর্বাদ।
শূন্য ঝুলি আজিকে আমার;—
দিয়েছি উজাড় করি’
যাহা কিছু আছিল দিবার,
প্রতিদানে যদি কিছু পাই
কিছু স্নেহ, কিছু ক্ষমা
তবে তাহা সঙ্গে নিয়ে যাই
পারের খেয়ায় যাব যবে
ভাষাহীন শেষের উৎসবে॥</poem>
উদয়ন
৬ মে, ১৯৪১
সকাল<noinclude>{{C|১৭}}</noinclude>
jstkgz6tdl8a1c2sn1qptanxw306gic
2001753
2001751
2026-10-03T06:50:50Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001753
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|১০}}
{{Block center|<poem>
আমার এ জন্মদিন-মাঝে আমি হারা
আমি চাহি বন্ধুজন যারা
তাহাদের হাতের পরশে
মর্ত্যের অন্তিম প্রীতিরসে
নিয়ে যাব জীবনের চরম প্রসাদ
নিয়ে যাব মানুষের শেষ আশীর্বাদ।
শূন্য ঝুলি আজিকে আমার;—
দিয়েছি উজাড় করি’
যাহা কিছু আছিল দিবার,
প্রতিদানে যদি কিছু পাই
কিছু স্নেহ, কিছু ক্ষমা
তবে তাহা সঙ্গে নিয়ে যাই
পারের খেয়ায় যাব যবে
ভাষাহীন শেষের উৎসবে॥</poem>}}
{{dhr}}
{{Block left|উদয়ন
৬ মে, ১৯৪১
সকাল}}<noinclude>{{C|১৭}}</noinclude>
eyudiszr8gft6em4sconxmdjur32ug3
শেষ লেখা (১৯৪২)/আমার এ জন্মদিন-মাঝে আমি হারা
0
886841
2001754
2026-10-03T06:51:55Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=27 to=27 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001754
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=27 to=27 header=1/>
a43es25h493he1jeaopa08mkkamif8t
পাতা:শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf/২৮
104
886842
2001755
2026-10-03T06:54:02Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
2001755
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|শেষ লেখা}}</noinclude>
১১
{{Block center|<poem>রূপ-নারানের কূলে
জেগে উঠিলাম,
জানিলাম এ-জগৎ
স্বপ্ন নয়।
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
উদয়ন
বেদনায় বেদনায়;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ-জীবন,
সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ ক'রে দিতে॥</poem>}}
১৩ মে, ১৯৪১
রাত্রি ৩-১৫ মি<noinclude>{{C|১৮}}</noinclude>
7vr4eprl6j8p5bio4zrq2q85ag19j65
2001756
2001755
2026-10-03T06:58:46Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001756
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|শেষ লেখা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|১১}}
{{Block center|<poem>
রূপ-নারানের কূলে
জেগে উঠিলাম,
জানিলাম এ-জগৎ
স্বপ্ন নয়।
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
বেদনায় বেদনায়;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ-জীবন,
সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ ক’রে দিতে॥</poem>}}
{{dhr}}
{{Block left|উদয়ন
১৩ মে, ১৯৪১
রাত্রি ৩-১৫ মি,}}<noinclude>{{C|১৮}}</noinclude>
eo7849gt0gzj83nufqsicmub6cm6moh
শেষ লেখা (১৯৪২)/রূপ-নারানের কূলে
0
886843
2001757
2026-10-03T06:59:56Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=28 to=28 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001757
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=28 to=28 header=1/>
k1xto4gxs8uxpw2qm2daycuvuzxt0ok
পাতা:শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf/২৯
104
886844
2001758
2026-10-03T07:01:44Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
2001758
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}</noinclude>উদয়ন
১২
{{Block center|<poem>
তব জন্মদিবসের দানের উৎসবে
বিচিত্র সজ্জিত আজি এই
প্রভাতের উদয়-প্রাঙ্গণ
নবীনের দানসত্র কুসুমে পল্লবে
অজস্র প্রচুর।
প্রকৃতি পরীক্ষা করি' দেখে
ক্ষণে ক্ষণে আপন ভাণ্ডার,
তোমারে সম্মুখে রাখি পেল সে সুযোগ।
দাতা আর গ্রহীতার যে-সংগম লাগি
বিধাতার নিত্যই আগ্রহ
আজি তা সার্থক হোলো,
বিশ্বকবি তাহারি বিস্ময়ে
তোমারে করেন আশীর্বাদ
তাঁর কবিত্বের তুমি সাক্ষীরূপে দিয়েছ দর্শন
বৃষ্টিধৌত শ্রাবণের
নির্মল আকাশে॥</poem>}}
১৩ জুলাই, ১৯৪১
সকাল<noinclude>{{C|১৯}}</noinclude>
smszktr0vtb3kgx3l2yjcerb8bef2vq
2001759
2001758
2026-10-03T07:16:03Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001759
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|১২}}
{{Block center|<poem>
তব জন্মদিবসের দানের উৎসবে
বিচিত্র সজ্জিত আজি এই
প্রভাতের উদয়-প্রাঙ্গণ।
নবীনের দানসত্র কুসুমে পল্লবে
অজস্র প্রচুর।
প্রকৃতি পরীক্ষা করি’ দেখে
ক্ষণে ক্ষণে আপন ভাণ্ডার,
তোমারে সম্মুখে রাখি পেল সে সুযোগ।
দাতা আর গ্রহীতার যে-সংগম লাগি
বিধাতার নিত্যই আগ্রহ
আজি তা সার্থক হোলো,
বিশ্বকবি তাহারি বিস্ময়ে
তোমারে করেন আশীর্বাদ
তাঁর কবিত্বের তুমি সাক্ষীরূপে দিয়েছ দর্শন
বৃষ্টিধৌত শ্রাবণের
নির্মল আকাশে॥</poem>}}
{{dhr}}
{{Block left|উদয়ন
১৩ জুলাই, ১৯৪১
সকাল}}<noinclude>{{C|১৯}}</noinclude>
ikj700cz2yi336pohju4ib3pszaf03f
শেষ লেখা (১৯৪২)/তব জন্মদিবসের দানের উৎসবে
0
886845
2001760
2026-10-03T07:16:56Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=29 to=29 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001760
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=29 to=29 header=1/>
agt329z53ekko2ohh9r0iyf48cs52d1
পাতা:শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf/৩০
104
886846
2001761
2026-10-03T07:20:14Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
2001761
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|শেষ লেখা}}</noinclude>১৩
{{Block center|<poem>
প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নূতন আবির্ভাবে—
কে তুমি,
মেলেনি উত্তর।
বৎসর বৎসর চলে গেল,
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিম-সাগরতীরে,
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়—
কে তুমি,
পেল না উত্তর॥</poem>}}
জোড়াসাঁকো, কলিকাতা
২৭ জুলাই, ১৯৪১
সকাল<noinclude>{{C|২০}}</noinclude>
271t0h0p9zii5i45tcfbuxh1exxd4pr
2001762
2001761
2026-10-03T07:24:24Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001762
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|শেষ লেখা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|১৩}}
{{Block center|<poem>
প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নূতন আবির্ভাবে—
কে তুমি,
মেলেনি উত্তর।
বৎসর বৎসর চলে গেল,
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিম-সাগরতীরে,
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়—
কে তুমি,
পেল না উত্তর॥</poem>}}
{{dhr}}
{{Block left|জোড়াসাঁকো, কলিকাতা
২৭ জুলাই, ১৯৪১
সকাল}}<noinclude>{{C|২০}}</noinclude>
6na5lei0aoyf3jlub5g2qwginclbeen
শেষ লেখা (১৯৪২)/প্রথম দিনের সূর্য
0
886847
2001763
2026-10-03T07:25:40Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=30 to=30 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001763
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=30 to=30 header=1/>
3cx5366892kidm5gkppsq8zbgfv5yk9
পাতা:শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf/৩১
104
886848
2001764
2026-10-03T07:29:08Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
2001764
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}</noinclude>{{Block center|<poem>
দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে
এসেছে আমার দ্বারে ;
একমাত্র অস্ত্র তার দেখেছিনু
কষ্টের বিকৃত ভান, ত্রাসের বিকট ভঙ্গী যত
অন্ধকারে ছলনার ভূমিকা তাহার
যতবার ভয়ের মুখোস তার করেছি বিশ্বাস
ততবার হয়েছে অনর্থ পরাজয় ৷
এই হার-জিত খেলা, জীবনের মিথ্যা এ-কুহক
শিশুকাল হতে বিজড়িত পদে পদে এই বিভীষিকা,
দুঃখের পরিহাসে ভরা ৷
ভয়ের বিচিত্র চলচ্ছবি-
মৃত্যুর নিপুণ শিল্প বিকীর্ণ আঁধারে ॥</poem>}}
জোড়াসাঁকো, কলিকাতা
২৯ জুলাই, ১৯৪১
বিকাল<noinclude>{{C|২১}}</noinclude>
77p2us8n9gmpade3tucidv84q7gu1dd
2001765
2001764
2026-10-03T07:34:06Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001765
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|১৪}}
{{Block center|<poem>
দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে
এসেছে আমার দ্বারে;
একমাত্র অস্ত্র তার দেখেছিনু
কষ্টের বিকৃত ভান, ত্রাসের বিকট ভঙ্গী যত
অন্ধকারে ছলনার ভূমিকা তাহার।
যতবার ভয়ের মুখোস তার করেছি বিশ্বাস
ততবার হয়েছে অনর্থ পরাজয়।
এই হার-জিত খেলা, জীবনের মিথ্যা এ-কুহক
শিশুকাল হতে বিজড়িত পদে পদে এই বিভীষিকা,
দুঃখের পরিহাসে ভরা।
ভয়ের বিচিত্র চলচ্ছবি
মৃত্যুর নিপুণ শিল্প বিকীর্ণ আঁধারে॥</poem>}}
{{dhr}}
{{Block left|জোড়াসাঁকো, কলিকাতা
২৯ জুলাই, ১৯৪১
বিকাল}}<noinclude>{{C|২১}}</noinclude>
3a7czllqe813djm0qjeggv8y5sa01x1
নির্ঘণ্ট:সুশীলার উপাখ্যান (প্রথম ভাগ) - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৬১).pdf
102
886849
2001766
2026-10-03T07:35:03Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
2001766
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q141627654
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=7
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Header_even=
|Header_odd=
|Footer=
|Footer_even=
|Footer_odd=
}}
596p3fk7gmcewkaruxj7f6ymssbrzwr
শেষ লেখা (১৯৪২)/দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে
0
886850
2001767
2026-10-03T07:35:25Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=31 to=31 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001767
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=31 to=31 header=1/>
8vsvm00taoyq6u1immn0pux2ki0nk9l
পাতা:শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf/৩২
104
886851
2001768
2026-10-03T07:38:15Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
2001768
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|শেষ লেখা}}</noinclude>শেষ লেখা
১৫
<poem>তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’
বিচিত্র ছলনাজালে,
হে ছলনাময়ী।
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে।
এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত;
তার তরে রাখোনি গোপন রাত্রি।
তোমার জ্যোতিষ্ক তা’রে
যে-পথ দেখায়
সে যে তা'র অন্তরের পথ,
সে যে চিরস্বচ্ছ,
সহজ বিশ্বাসে সে যে
করে তা'রে চিরসমুজ্জ্বল।
বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু,
এই নিয়ে তাহার গৌরব।
লোকে তা’রে বলে বিড়ম্বিত।
সত্যেরে সে পায়
আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে।</poem><noinclude>{{C|২২}}</noinclude>
2wsiilckt45j5ryspecit0a20lgmy2m
2001771
2001768
2026-10-03T07:48:41Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001771
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{left|শেষ লেখা}}</noinclude>{{কেন্দ্র|১৫}}
{{block center/s}}<poem>
তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’
বিচিত্র ছলনাজালে,
হে ছলনাময়ী।
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে।
এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত;
তার তরে রাখোনি গোপন রাত্রি।
তোমার জ্যোতিষ্ক তা’রে
যে-পথ দেখায়
সে যে তা’র অন্তরের পথ,
সে যে চিরস্বচ্ছ,
সহজ বিশ্বাসে সে যে
করে তা’রে চিরসমুজ্জ্বল।
বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু,
এই নিয়ে তাহার গৌরব।
লোকে তা’রে বলে বিড়ম্বিত।
সত্যেরে সে পায়
আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে।</poem><noinclude>{{block center/e}}{{c|২২}}</noinclude>
kvkffqf7woqfkms8suymdi1uazzo5hz
পাতা:শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf/৩৩
104
886852
2001769
2026-10-03T07:39:42Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
2001769
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}</noinclude><poem>
কিছুতে পারে না তারে প্রবঞ্চিতে,
শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে
আপন ভাণ্ডারে।
অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
সে পায় তোমার হাতে
শান্তির অক্ষয় অধিকার॥</poem>
জোড়াসাঁকো, কলিকাতা
৩০শে জুলাই, ১৯৪১
সকাল ১০ টা<noinclude>{{C|২৩}}</noinclude>
8med6zm1awbeik6bdtb0jhlabsaxt1z
2001772
2001769
2026-10-03T07:52:59Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001772
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{right|শেষ লেখা}}
{{block center/s}}</noinclude><poem>
কিছুতে পারে না তা’রে প্রবঞ্চিতে,
শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে
আপন ভাণ্ডারে।
অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
সে পায় তোমার হাতে
শান্তির অক্ষয় অধিকার॥</poem>
{{block center/e}}
{{Block left|জোড়াসাঁকো, কলিকাতা
৩০শে জুলাই, ১৯৪১
সকাল ৯৷৷৹ টা}}<noinclude>{{C|২৩}}</noinclude>
q3aven1hwbpegrh5gmvelhu2rqt4eea
নির্ঘণ্ট:সুশীলার উপাখ্যান (প্রথম ভাগ) - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৭৭).pdf
102
886853
2001770
2026-10-03T07:44:29Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
2001770
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q141627660
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=3
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Header_even=
|Header_odd=
|Footer=
|Footer_even=
|Footer_odd=
}}
b6vqm4pjte0pteor8bp40wlxrcxvl2y
নির্ঘণ্ট:সুশীলার উপাখ্যান (প্রথম ভাগ) - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৬৪).pdf
102
886854
2001773
2026-10-03T07:53:13Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
2001773
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q141627678
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=2
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Header_even=
|Header_odd=
|Footer=
|Footer_even=
|Footer_odd=
}}
lg453bwxk3c0b1bm291r194hygjuznl
শেষ লেখা (১৯৪২)/তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’
0
886855
2001774
2026-10-03T07:54:21Z
Salil Kumar Mukherjee
12643
"<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=32 to=33 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2001774
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শেষ লেখা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪২).pdf" from=32 to=33 header=1/>
1qo0fr7lw065gbk01p9pyihlpab7cc1
নির্ঘণ্ট:সুশীলার উপাখ্যান (দ্বিতীয় ভাগ) - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৬৫).pdf
102
886856
2001775
2026-10-03T08:02:32Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
2001775
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q141627698
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=2
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Header_even=
|Header_odd=
|Footer=
|Footer_even=
|Footer_odd=
}}
1xxi9emhfbbnn4jpg2qzo3brxav1wss
নির্ঘণ্ট:সুশীলার উপাখ্যান (তৃতীয় ভাগ) - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৬১).pdf
102
886857
2001776
2026-10-03T08:11:04Z
Bodhisattwa
2549
"" দিয়ে পাতা তৈরি
2001776
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q141627717
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=2
|Progress=X
|Pages=<pagelist />
|Volumes=
|Remarks=
|Notes={{BL-TCIP}}
|Header=
|Header_even=
|Header_odd=
|Footer=
|Footer_even=
|Footer_odd=
}}
srzv82h41yr0d0fvuc0g6eybmwysbom
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১১৯
104
886858
2001777
2026-10-03T08:42:08Z
Kazimizanur
12612
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001777
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Kazimizanur" />{{rh|১০৪| বিলাত ভ্রমণ। |}}</noinclude>{{ফাঁক}}আর একটি সুন্দর ছবি দেখিলাম — তাহাতে মানুষ ও নিম্নশ্রেণীর জীবের সহিত একান্ত সখ্যভাব সন্নিবিষ্ট। এক রমণীর স্কন্ধে বসিয়া একটি ছোট পাখী তাহার হাত হইতে অতি বিশ্বস্তভাবে খাদ্য ভক্ষণ করিতেছে। এরূপ একটি দৃশ্য আমি পূর্ব্বেই এক জাপানী চিত্রকরের চিত্রশালায় দেখিয়াছিলাম। পরস্পরের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস এই চিত্রে অতি সুন্দররূপে কল্পিত হইয়াছে।
{{ফাঁক}}পরবর্ত্তী প্রণয়চিত্রটিও অতি সুন্দর। একটি পুরুষ একটি রমণীকে অতি যত্নে তাঁর বাঁশিটি বাজাইতে শিখাইতেছেন। দুই দিকে দুইটি হাতে তাঁহার দেহ বেষ্টন করিয়া যন্ত্রটি রমণীর অধরৌষ্ঠে তিনি নিজেই ধরিয়া আছেন। রমণী ফুৎকার দিতেছেন—তিনি পরদা টিপিয়া নানারূপ মধুর সুর বাহির করিতেছেন। যেন দুই জনের অন্তরের সঙ্গীত তাহাতে একত্রে ধ্বনিত হইয়া উঠিতেছে।
{{ফাঁক}}পূর্ব্বেই বলিয়াছি ফরাসী দেশে ও ইতালীয় চিত্রে নগ্ন রমণীমূর্ত্তির বড়ই আদর। কিন্তু মূর্ত্তিসম্বন্ধে একথা যেমন খাটে চিত্র সম্বন্ধে তেমন নহে। ইহার বোধহয় একটি কারণ এই যে—চিত্রে আশপাশের ছবি হইতেও আসল জিনিষটির গূঢ় ভাব প্রকটিত করা যায়—মূর্ত্তিতে সেটি তত সম্ভবপর নহে। তাই ইহাতে নগ্ন দেহের সনাতন অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য্য একেবারে খুলিয়া দিতে হয় । তবে মূর্ত্তিতে বা চিত্রে যে নগ্নভাব তাহা দ্বারা হৃদয়ে কোন মালিন্য স্পর্শ করে না।
{{ফাঁক}}একখানি চিত্রে স্বর্গ যইতে বিতাড়িত সয়তান, অতল নরকে পড়িয়া উর্দ্ধদৃষ্টিতে দূরস্থ স্বর্গের আলোকের দিকে চাহিয়া—দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিতেছেন—
{{কেন্দ্র|"Farewell Bright region!" }}
হে উজ্জ্বল স্থান তোমার নিকট হইতে চিরবিদায়।
{{ফাঁক}}ইহার পাশে এপলো অতি কাতরভাবে চোখের জল মুছিতেছেন।<noinclude></noinclude>
kqu0obziqz0iu1xpk9i9lv4uu0d2wvk
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১২০
104
886859
2001778
2026-10-03T08:58:45Z
Kazimizanur
12612
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001778
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Kazimizanur" />{{rh||ফরাসি দেশের চিত্রশালা। |১০৫}}</noinclude>সূর্য্যদেবের আবার কিসের অভাব—তিনিও যে কাঁদিতেছেন কেন কেহ কি. তাহা বুঝিতে পারেন?
{{ফাঁক}}তার পাশের ছবিটি একটি ভিক্ষুকের। লোকটি অনাহারে দুঃখে কষ্টে অকালে বুড়া হইয়া গিয়াছে। তাহার কটিদেশ ভগ্ন, হাতের শিরা সকল স্ফীত হইয়া জাগিয়া আছে, মাংস লোল, চক্ষু নত। দারিদ্র্যপীড়নে বা রোগে শোকে শরীর মনের তেজ নষ্ট হইলে সকলেরই এইরূপ ভার হইয়া থাকে। যেন নিজের কাছেই নিজে তখন হীন, আর সকল বিষয়েই সকলের কাছে ভয়ের ভাব। যখনি আমি কোনও লোকের এরূপ অবস্থা দেখি তখনই আমার অহর্নিশি চাকাঘুরার কথা মনে আসে, —শুষ্ক ফুলের কথা মনে হয়। যখন ভাগ্যচক্রের পরিবর্ত্তনে কাহারও অবস্থা হঠাৎ নামে তখন সেজনকে যেন আর চেনা যায় না। রোগশয্যায় এই অবস্থা আমি প্রতিনিয়তই ঘরে ঘরে দেখিতে পাই।
{{ফাঁক}}একখানি ছবিতে একটি বিষম শোকবার্ত্তা অঙ্কিত। বোধহয় এখানি কোনও ঐতিহাসিক চিত্র হইবে। কোন দুর্ঘটনায় একত্রে রাজবাটীর অনেকেই মৃত। তন্মধ্যে রাজারাণীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন হইয়াছে । দুটি দেহ আলিঙ্গনে বাঁধা; ছোট খোকাটি তাঁহাদের দেহের উপর রক্ষিত—আর চতুর্দ্দিকে চুল ছিঁড়িয়া মাথা কুটিয়া প্রজারা পরিতাপ করিতেছে। এটি বোধ হয় আসিয়াভূমির কোনও চিত্র হইবে। নয়ত এত শোকের বাহুল্য ত শীতপ্রধান দেশে দেখা যায় না।
{{ফাঁক}}তার পরের ছবিখানি ইতালী দেশের চিত্র। যাকে মধ্যযুগের ইতালীয় পেণ্টিং বলে; সেগুলি অধিকাংশ ধর্ম্মসম্বন্ধীয়। তার মধ্যে খৃষ্টের জন্ম বৃত্তান্ত একটি প্রধান। Madona অর্থাৎ যিশুমাতা বা মাতৃক্রোড়ে শিশুমুর্ত্তি কতভাবেই যে তথায় অঙ্কিত তাহার ইয়ত্তা নাই। বাস্তবিক মানুষের এমন পূজা করিবার সামগ্রী আর ত কিছুই নাই। সকল দেশেই এই মাতৃকল্পনা সকলকে স্বভাবতঃ মুগ্ধ করে। তাই এ মূর্ত্তিটির<noinclude></noinclude>
f93grvy2ez84568th6cswbq21q30q6p
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১২১
104
886860
2001779
2026-10-03T09:08:00Z
Kazimizanur
12612
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001779
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Kazimizanur" />{{rh|১০৬|বিলাত ভ্রমণ। |}}</noinclude>নানা দেশে নানা ভাবে এত আদর। এক এক খানির দাম এক মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক।
{{ফাঁক}}তার পাশে আরও অনেকগুলি এই শ্রেণীর চিত্র দেখিলাম। একটি চিত্রে “সেণ্ট সিবাষ্টাইন” নামক জনৈক খৃষ্ট-ভক্তের উপর লোকের অমানুষিক অত্যাচার। এরূপভাবে দয়া উৎপাদন করা আজকালকার কলাবিদ্যার অনুমোদিত নহে। যেমন অতি চীৎকার গানে, অতিশয় অলঙ্কার সাহিত্যে নিষিদ্ধ, তেমন চিত্রেও অতিশয় অঙ্কনবিধিও নিষিদ্ধ। যথার্থ কলাবিদ্যায় মনের উপর ক্ষমতা বিস্তার সম্পূর্ণ অলক্ষিতে হওয়া চাই।
{{ফাঁক}}তার পরের ছবিখানি একটি সন্ন্যাসীর ছবি। নত জানু জোড়হাত হইয়া কুমারী মেরীর প্রতিমার তলায় বসিয়া তিনি উপাসনা করিতেছেন। এগুলি ঠিক আমাদের প্রতিমা পূজারই মত। ধর্ম্মের সকল হাবভাবই প্রাচ্য স্থানসমূহ হইতে প্রতীচ্য দেশে অনুকরণ করা হইয়াছে।
{{ফাঁক}}একখানি ছবিতে একটি বৃদ্ধা রমণী তাঁর ছোট নাতিটিকে প্রার্থনা করিতে শিখাইতেছেন। শিশু তাঁহাকে কিরূপ সুন্দর অনুকরণ করিতেছে! এই আদি শিক্ষার জোরেই ভালমন্দ সমস্ত বাল্যসংস্কার আমাদের মনে এমন প্রবলভাবে রাজত্ব করে।
{{ফাঁক}}পাশে অনেকগুলি ছবি ভাঙ্গা ও অঙ্গহীন। যে অংশগুলি ভাল আছে সেগুলি অতি সুন্দর, আর যেগুলি নাই সেগুলি কল্পনায় আরও সুন্দর!
{{ফাঁক}}তার পাশে প্রাচ্য দেশের একটি রাজপুত্রের প্রতিমূর্ত্তি। রাজকুমারের দেহ নানা ভূষণে ভূষিত। মাথায় জড়িবুনা ঝকমকে তাজের উপর উঠপক্ষীর পালক লাগান । গলায় গজমুক্তার মালা। যত রমণীদের জনতা সেই ছবিটির কাছে।
{{ফাঁক}}আর একখানি ছবিতে এক রমণী স্নানান্তে দর্পণে আপাদ মস্তক নিজের ছায়া দেখিয়া রূপে এমন মুগ্ধ হইয়া পড়িয়াছেন যে আপনারই ছায়াকে<noinclude></noinclude>
573ar28ttk7bezu9pbxs7j59pv5zez8
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১২২
104
886861
2001780
2026-10-03T09:14:01Z
Kazimizanur
12612
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001780
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Kazimizanur" />{{rh||ফরাসি দেশের চিত্রশালা। |১০৭}}</noinclude>চুম্বন করিতেছেন। প্রকৃত ছবি ও ছায়ার দুটি ঠোঁটের ব্যবধান অতি সুন্দররূপে অঙ্কিত।
{{ফাঁক}}ইহা ছাড়া কতকগুলি অতি সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক চিত্রও দেখিলাম। একস্থানে উচ্চ নিম্ন জমীর উপর একটি বায়ুযন্ত্র (Wind mill) অঙ্কিত। সে চিত্রটি এত সুন্দর এত স্বাভাবিক যে দেখিলে ছবি বলিয়া বুঝাই যায় না।
{{ফাঁক}}আর একটিতে কুয়াসার মাঝে সূর্য্যোদয়। সেটির দিকে খানিকক্ষণ তাকাইয়া থাকিলে মনে হয় যেন কুয়াসার শৈত্য অবধি অনুভব করিতেছি।
{{ফাঁক}}আর একটি চিত্র একটি পুরাতন ফ্যাসানের রাজদুর্গ। ভগ্নচূড় ভীষণ প্রস্তরদুর্গের স্থানে স্থানে এখন গাছ উঠিয়াছে।
{{ফাঁক}}একটি ছবি দেখিয়া কিন্তু অবাক হইলাম। এটা ঠিক আমাদের দেশের মৃত্যুকালের অন্তর্জ্জলির দৃশ্য। তখন আমাদেরই দেশের মত সে দেশের রোগীকে অন্তিমকালে বাড়ী হইতে বাহিরে লইয়া যাওয়া হইত। সেই আসন্নকালের বিষণ্ন দেহকে টানা হেঁচড়া করিয়া গঙ্গাতীরের পরিবর্ত্তে গির্জ্জাঘরে লইয়া যাইয়া হাঁটু গাড়িয়া বসাইয়া উপাসনা করান হইত। হায়! ধর্মের নামে সংসারে কতই অপকর্ম্ম সংঘটিত হয়।
{{ফাঁক}}এই ঘটনাটি দেখিয়া আমার মন যেমন অপ্রসন্ন হইয়া গেল, আসিবার পথে আর এক স্থানে একটি ভাঙ্গা মূর্ত্তি দেখিয়া মন তেমনি কিন্তু প্রসন্ন হইয়া উঠিল। সেটি “Venus of milo” অর্থাৎ মাইলো নামক আসিয়া মাইনরের একস্থানে প্রাপ্ত শচীদেবীর প্রস্তরমূর্ত্তি। এমন সুন্দর স্ত্রীমূর্ত্তি রচনা কোথাও নাই। মূর্ত্তিটির খানিক অংশ ভাঙ্গা; বাকিটুকু এত সুন্দর যে, সকল দেশে সকল শিক্ষা প্রদর্শনীতে এই মূর্ত্তির ছাঁচে মূর্ত্তি গড়া আছে। কি ভাস্কর কি চিত্রকর কি কবি কি বা গায়ক এই মূর্ত্তির অনুকরণে স্ত্রীমূর্ত্তির স্বর্গীয় সৌষ্ঠব কল্পনা করেন।<noinclude>{{Block center|________}}</noinclude>
ckbcgevaxuexklsi2nhq1w4pf2vzv8e
পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১২৩
104
886862
2001781
2026-10-03T09:35:23Z
Kazimizanur
12612
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2001781
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Kazimizanur" />{{rh||প্যারিসের পথে|}}</noinclude>{{ফাঁক}}রাত্রি আটটার সময় মার্সেল হইতে গাড়ী ছাড়ে । গাইড আসিয়া অতি সুব্যবস্থায় আমাদের ষ্টেশনে গাড়ীতে চড়াইয়া দিল। সে সময় পথে যাইতে যাইতে দুই ধারের যে শোভা দেখিলাম, তাহা বর্ণনার অতীত। সন্ধ্যার পরই যত আমোদের সময়। দুই ধারের দোকানগুলি বৈদ্যুতিক আলোকে আলোকিত। কাচের জানালা দিয়া ভিতরকার সব সাজান জিনিষগুলি সুন্দর দেখা যায়। সুসজ্জিত ফরাসী রমণীরা অতি ব্যগ্রতা ও বিভ্রমের সহিত বেচা কেনা করিতেছেন। 'কাফে'র আড্ডাগুলি জনতায় পরিপূর্ণ। সন্ধ্যাবেলার উপযোগী মিসকালো পোষাক পরা সুসভ্য লোকগুলির হাসিমাখা মুখ দেখিলে মনে হয়, তাঁহাদের কখনও কোনও মন:কষ্টের কারণ হয় নাই। নাচঘরের কাছে ভিড়ের অবধি নাই। স্থান বিশেষে রাস্তার আলো ও জনতা দিনকেও হারাইয়াছে।
{{ফাঁক}}আমাদের দেশের ষ্টেশনগুলিতে সর্ব্বদা তুমুল গোলমাল শুনা যায়, ও সকল দেশে এত লোকাধিক্য সত্ত্বেও ষ্টেশনগুলি অনেকটা নিস্তব্ধ। সকলেই আস্তে আস্তে কথা কয়। উচ্চরবে কথা কহা ভদ্রোচিত নহে। আর মাল পত্র বোঝাই ও লোকের যাতায়াতের এমন শুনিয়ম যে, কেহ কাহারও গায়ে গা দিয়া চলে না। সকলেরই ভিন্ন ভিন্ন দিকে যাবার নির্দিষ্ট পথ আছে ।
{{ফাঁক}}রেলগাড়ীগুলি অতি সুন্দর ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সবদিকেই বড় বড় কাচে ঢাকা। কেবল দুই দিকে উঠিবার ও নামিবার দরজা আছে, তাহা কলে আপনিই খুলে ও বন্ধ হয়। সেই দরজা দিয়া ঢুকিয়া একটি বারান্দায় পড়া যায়। গাড়ীর একধারে বরাবর ঢাকা বারান্দা চলিয়াছে। তার ভিতর সারি সারি যাত্রীদের কুঠারী বা “কম্পার্টমেণ্ট”।<noinclude></noinclude>
kn68lz2fcwtqbielpaqlq8eodv5do0v