উইকিসংকলন
bnwikisource
https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.47.0-wmf.24
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিসংকলন
উইকিসংকলন আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
লেখক
লেখক আলাপ
নির্ঘণ্ট
নির্ঘণ্ট আলাপ
পাতা
পাতা আলাপ
প্রবেশদ্বার
প্রবেশদ্বার আলাপ
প্রকাশক
প্রকাশক আলোচনা
রচনা
রচনা আলাপ
অনুবাদ
অনুবাদ আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD
10
9620
2003640
2003546
2026-10-16T07:03:45Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
2003640
wikitext
text/x-wiki
442299
rexwvu5dafj0pt0qxs1chp73h2y3h0d
টেমপ্লেট:ALL PAGES
10
9621
2003641
2003547
2026-10-16T07:03:55Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
2003641
wikitext
text/x-wiki
558475
ozrc670zhz1l4vif2g4vix079dm4n52
টেমপ্লেট:PR TEXTS
10
9622
2003642
2003548
2026-10-16T07:04:05Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
2003642
wikitext
text/x-wiki
20165
i0xvtocvzj7lcgel7jg9h1irguvcur7
টেমপ্লেট:ALL TEXTS
10
9623
2003643
2003549
2026-10-16T07:04:15Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
2003643
wikitext
text/x-wiki
20165
i0xvtocvzj7lcgel7jg9h1irguvcur7
পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খণ্ড.djvu/১১১
104
41109
2003644
1984767
2026-10-16T07:24:00Z
DoraShin15
16748
2003644
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Jdebabrata" /></noinclude>দাশুভায়ার কীর্তি, সে মজা দেখিবার জন্য উপক্রমণিকার জায়গায় ঠিক ঐরূপ মলাট দেওয়া একখানা বই রাখিয়া দিয়াছিল।
{{gap}}দাশুকে লইয়া আমরা সর্বদাই ঠাট্টা-তামাশা করিতাম এবং তাহার সামনেই তাহার বুদ্ধি ও চেহারা সম্বন্ধে অনেক অপ্রীতিকর আলোচনা করিতাম। তাহাতে বিরক্ত হওয়া দূরে থাকুক, বরং তাহার ভাবগতিক দেখিয়া মনে হইত যেন সে বেশ আমোদ পাইতেছে। একেক সময়ে সে নিজেই উৎসাহ করিয়া আমাদের মন্তব্যের উপর রঙ চড়াইয়া নিজের সম্বন্ধে নানারকম অদ্ভুত গল্প বলিত। একদিন সে বলিল, “ভাই, আমাদের পাড়ায় যখনই কেউ আমসত্ত্ব বানায় তখনই আমার ডাক পড়ে। কেন জানিস?” আমরা বললাম, “খুব আমসত্ব খাস বুঝি?” সে বলিল, “তা নয়। যখন আমসত্ব শুকোতে দেয় আমি সেইখানে ছাদের ওপর বার দুয়েক এই চেহারাখানা দেখিয়ে আসি। তাতেই পাড়ার ত্রিসীমানার মধ্যে যত কাক সব ‘ত্রাহি ত্রাহি’ করে ছুটে পালায়। কাজেই আর আমসত্ত্ব পাহারা দিতে হয় না।”
{{gap}}প্রত্যেকবার ছুটির পরে স্কুলে ফিরিবার সময় দাশু একটা-না-একটা কাণ্ড বাধাইয়া আসে। একবার সে হঠাৎ পেণ্টেলুন পরিয়া স্কুলে হাজির হইল। ঢলঢলে পায়জামার মতো পেণ্টেলুন আর তাকিয়ার খোলের মতো কোট পরিয়া তাহাকে যে কিরূপ অদ্ভুত দেখাইতেছিল, তাহা সে নিজেই বুঝিতেছিল এবং সেটা তাহার কাছে ভারি একটা আমোদের ব্যাপার বলিয়া বোধ হইতেছিল। আমরা জিজ্ঞাসা করিলাম, “পেণ্টেলুন পরেছিস কেন?” দাশু একগাল হাসিয়া বলিল, “ভালো করে ইংরাজি শিখব বলে।” আরেকবার সে খামখা নেড়া মাথায় এক পট্টি বাঁধিয়া ক্লাশে আসিতে আরম্ভ করিল এবং আমরা সকলে তাহা লইয়া ঠাট্টা-তামাশা করায় যারপরনাই খুশি হইয়া উঠিল। দাশু আদপেই গান গাহিতে পারে না। তাহার যে তালজ্ঞান বা সুরজ্ঞান একেবারেই নাই, এ কথা সে বেশ জানে। তবু সেবার ইনস্পেক্টর সাহেব যখন স্কুল দেখিতে আসেন তখন আমাদের খুশি করিবার জন্য সে চীৎকার করিয়া গান শুনাইয়াছিল। আমরা কেহ এরূপ করিলে সেদিন রীতিমতো শাস্তি পাইতাম। কিন্তু দাশু ‘পাগলা” বলিয়া কেহ তাহাকে কিছু বলিল না।
{{gap}}ছুটির পরে দাশু নুতন কি পাগলামি করে, তাহা দেখিবার জন্য আমরা ব্যস্ত হইয়া স্কুলে আসিতাম। কিন্তু যেবার সে অন্তত এক বাক্স বগলে লইয়া ক্লাশে হাজির হইল, তখন আমরা বাস্তবিকই আশ্চর্য হইয়াছিলাম। আমাদের মাস্টারমহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি হে দাশু, ও বাক্সের মধ্যে কি এনেছ?” দাশু বলিল, “আজ্ঞে, আমার জিনিসপত্র।” “জিনিসপত্রটা কিরূপ হইতে পারে, এই লইয়া আমাদের মধ্যে বেশ একটু তর্ক হইয়া গেল। দাশুর সঙ্গে বই, খাতা, পেনসিল, ছুরি, সবই তো আছে, তবে আবার জিনিসপত্র কি রে বাপু? দাশুকে জিজ্ঞাসা করিলাম, সে সোজাসুজি কোনো উত্তর না দিয়া বাক্সটিকে আঁকড়াইয়া ধরিল এবং বলিল, “খবরদার, আমার বাক্স তোমরা কেউ ঘেঁটো না।” তাহার পর চাবি দিয়া বাক্সটাকে একটুখানি ফাঁক করিয়া, সে তাহার ভিতরে চাহিয়া কি যেন দেখিয়া লইল এবং “ঠিক আছে বলিয়া গম্ভীরভাবে মাথা নাড়িয়া বিড় বিড় করিয়া হিসাব করিতে লাগিল। আমি একটুখানি দেখিবার জন্য উঁকি মারিতে গিয়াছিলাম—অমনি পাগলা মহা ব্যস্ত হইয়া তাড়াতাড়ি চাবি ঘুরাইয়া বাক্স বন্ধ করিয়া ফেলিল।<noinclude>{{rh|১০৮||সুকুমার সমগ্র রচনাবলী: ২ }}</noinclude>
c2v8i846kzpstvpapckpxxt8ayvdnzh
নির্ঘণ্ট:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf
102
855694
2003595
2002980
2026-10-15T17:28:05Z
Nettime Sujata
5470
2003595
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q133537906
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=5
|Progress=X
|Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to4="—" 5="প্রচ্ছদ" 6="প্রকাশক" 7="নিবেদন" 8="—" 9="সূচীপত্র" 10="—" 422to424="—" 13="চিত্র" 12="—" 14="—" 11="শিরোনাম" 15="1" />
|Volumes=
|Remarks={{Scrollpane|height=1200px|
{{AuxTOC|
{{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}}
{{Table| title=পরিচ্ছেদ| page=পৃষ্ঠা}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)|শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১|১]]| page={{pli|1|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/২|২]]| page={{pli|16|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৩|৩]]| page={{pli|17|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৪|৪]]| page={{pli|24|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৫|৫]]| page={{pli|38|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৬|৬]]| page={{pli|43|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৭|৭]]| page={{pli|50|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৮|৮]]| page={{pli|58|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৯|৯]]| page={{pli|65|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১০|১০]]| page={{pli|76|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১১|১১]]| page={{pli|82|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১২|১২]]| page={{pli|93|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১৩|১৩]]| page={{pli|97|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১৪|১৪]]| page={{pli|110|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১৫|১৫]]| page={{pli|124|14}}}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ|পল্লী-সমাজ]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১|১]]| page={{pli|137|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/২|২]]| page={{pli|143|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৩|৩]]| page={{pli|151|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৪|৪]]| page={{pli|160|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৫|৫]]| page={{pli|166|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৬|৬]]| page={{pli|171|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৭|৭]]| page={{pli|175|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৮|৮]]| page={{pli|180|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৯|৯]]| page={{pli|185|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১০|১০]]| page={{pli|187|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১১|১১]]| page={{pli|192|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১২|১২]]| page={{pli|199|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৩|১৩]]| page={{pli|207|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৪|১৪]]| page={{pli|211|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৫|১৫]]| page={{pli|216|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৬|১৬]]| page={{pli|225|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৭|১৭]]| page={{pli|231|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৮|১৮]]| page={{pli|237|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৯|১৯]]| page={{pli|242|14}}}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ|বিরাজ-বৌ]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১|১]]| page={{pli|251|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/২|২]]| page={{pli|257|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৩|৩]]| page={{pli|263|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৪|৪]]| page={{pli|268|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৫|৫]]| page={{pli|276|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৬|৬]]| page={{pli|284|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৭|৭]]| page={{pli|289|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৮|৮]]| page={{pli|296|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৯|৯]]| page={{pli|303|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১০|১০]]| page={{pli|310|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১১|১১]]| page={{pli|314|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১২|১২]]| page={{pli|321|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৩|১৩]]| page={{pli|326|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৪|১৪]]| page={{pli|331|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৫|১৫]]| page={{pli|334|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৬|১৬]]| page={{pli|337|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৭|১৭]]| page={{pli|339|14}}}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান|নব-বিধান]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১|১]]| page={{pli|353|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/২|২]]| page={{pli|355|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৩|৩]]| page={{pli|357|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৪|৪]]| page={{pli|359|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৫|৫]]| page={{pli|363|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৬|৬]]| page={{pli|366|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৭|৭]]| page={{pli|370|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৮|৮]]| page={{pli|373|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৯|৯]]| page={{pli|378|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১০|১০]]| page={{pli|382|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১১|১১]]| page={{pli|384|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১২|১২]]| page={{pli|388|14}}}}
}}}}
|Notes={{RLFRR}}
|Header={{rvh|{{{pagenum}}}|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}
|Header_even=
|Header_odd=
|Footer=
|Footer_even=
|Footer_odd=
}}
1rawljiq2vorqv1hr30uuz7nr7ck2j9
2003645
2003595
2026-10-16T09:17:08Z
Nettime Sujata
5470
2003645
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q133537906
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=5
|Progress=X
|Pages=<pagelist 1="মলাট" 2to4="—" 5="প্রচ্ছদ" 6="প্রকাশক" 7="নিবেদন" 8="—" 9="সূচীপত্র" 10="—" 422to424="—" 13="চিত্র" 12="—" 14="—" 11="শিরোনাম" 15="1" />
|Volumes=
|Remarks={{Scrollpane|height=1200px|
{{AuxTOC|
{{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}}
{{Table| title=পরিচ্ছেদ| page=পৃষ্ঠা}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)|শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১|১]]| page={{pli|1|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/২|২]]| page={{pli|16|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৩|৩]]| page={{pli|17|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৪|৪]]| page={{pli|24|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৫|৫]]| page={{pli|38|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৬|৬]]| page={{pli|43|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৭|৭]]| page={{pli|50|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৮|৮]]| page={{pli|58|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/৯|৯]]| page={{pli|65|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১০|১০]]| page={{pli|76|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১১|১১]]| page={{pli|82|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১২|১২]]| page={{pli|93|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১৩|১৩]]| page={{pli|97|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১৪|১৪]]| page={{pli|110|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/শ্রীকান্ত (দ্বিতীয় পর্ব্ব)/১৫|১৫]]| page={{pli|124|14}}}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ|পল্লী-সমাজ]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১|১]]| page={{pli|137|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/২|২]]| page={{pli|143|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৩|৩]]| page={{pli|151|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৪|৪]]| page={{pli|160|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৫|৫]]| page={{pli|166|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৬|৬]]| page={{pli|171|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৭|৭]]| page={{pli|175|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৮|৮]]| page={{pli|180|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/৯|৯]]| page={{pli|185|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১০|১০]]| page={{pli|187|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১১|১১]]| page={{pli|192|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১২|১২]]| page={{pli|199|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৩|১৩]]| page={{pli|207|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৪|১৪]]| page={{pli|211|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৫|১৫]]| page={{pli|216|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৬|১৬]]| page={{pli|225|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৭|১৭]]| page={{pli|231|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৮|১৮]]| page={{pli|237|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/পল্লী-সমাজ/১৯|১৯]]| page={{pli|242|14}}}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ|বিরাজ-বৌ]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১|১]]| page={{pli|251|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/২|২]]| page={{pli|257|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৩|৩]]| page={{pli|263|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৪|৪]]| page={{pli|268|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৫|৫]]| page={{pli|276|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৬|৬]]| page={{pli|284|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৭|৭]]| page={{pli|289|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৮|৮]]| page={{pli|296|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/৯|৯]]| page={{pli|303|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১০|১০]]| page={{pli|310|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১১|১১]]| page={{pli|314|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১২|১২]]| page={{pli|321|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৩|১৩]]| page={{pli|326|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৪|১৪]]| page={{pli|331|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৫|১৫]]| page={{pli|334|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৬|১৬]]| page={{pli|337|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/বিরাজ-বৌ/১৭|১৭]]| page={{pli|339|14}}}}
{{c|{{larger|[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান|নব-বিধান]]}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১|১]]| page={{pli|353|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/২|২]]| page={{pli|355|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৩|৩]]| page={{pli|357|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৪|৪]]| page={{pli|359|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৫|৫]]| page={{pli|363|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৬|৬]]| page={{pli|366|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৭|৭]]| page={{pli|370|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৮|৮]]| page={{pli|373|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৯|৯]]| page={{pli|378|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১০|১০]]| page={{pli|382|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১১|১১]]| page={{pli|384|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১২|১২]]| page={{pli|388|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৩|১৩]]| page={{pli|390|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৪|১৪]]| page={{pli|393|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৫|১৫]]| page={{pli|396|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৬|১৬]]| page={{pli|399|14}}}}
}}}}
|Notes={{RLFRR}}
|Header={{rvh|{{{pagenum}}}|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}
|Header_even=
|Header_odd=
|Footer=
|Footer_even=
|Footer_odd=
}}
jv4ay7siunt19d5zqw2lcfu5qqb1d23
রচনা:নব-বিধান
110
868767
2003656
1915315
2026-10-16T09:32:33Z
Bodhisattwa
2549
Bodhisattwa [[রচনা:নববিধান]] পাতাটিকে [[রচনা:নব-বিধান]] শিরোনামে কোনো পুনর্নির্দেশনা ছাড়াই স্থানান্তর করেছেন
1915315
wikitext
text/x-wiki
{{রচনা শীর্ষক}}
;সংস্করণ
{{Talikak list|sparql=
SELECT ?item WHERE {
SERVICE wikibase:label { bd:serviceParam wikibase:language "bn". }
?item wdt:P31 wd:Q3331189;
wdt:P629 wd:{{#invoke:Wikibase|id}};
wdt:P407 wd:Q9610.
{?item wdt:P1957 [].} UNION {?item wdt:P1433 ?item2. ?item2 wdt:P1957 [].}
optional { ?item rdfs:label ?label_ . filter(lang(?label_)="bn") bind(concat(":d:",strafter(str(?item),str(wd:)),"{","{!}","}",?label_) as ?label1) }
optional
{
[] schema:about ?item; schema:isPartOf <https://bn.wikisource.org/>; schema:name ?label__ .
?item rdfs:label ?label_ . filter(lang(?label_)="bn") bind(concat(?label__,"{","{!}","}",?label_) as ?label2)
}
bind(coalesce(?label2,?label1) as ?label)
}
|columns=item,label,P577,P655,P98,P1433,P1957,P123
|row_template=রচনা সংস্করণ সারি
|skip_table=1
|freq=30
|sort=P577
}}
{{রচনা সংস্করণ সারি|item = [[:d:Q121218836|Q121218836]]|label = ''[[d:Q121218836|নব-বিধান]]''|P577 = 1957|P1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:নব-বিধান_-_শরৎচন্দ্র_চট্টোপাধ্যায়_(১৯৫৭).pdf|P123 = [[প্রকাশক:গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স|গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স]]}}
{{রচনা সংস্করণ সারি|item = [[:d:Q113292407|Q113292407]]|label = ''[[d:Q113292407|নববিধান]]''|P577 = 1959|P1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:নববিধান_-_শরৎচন্দ্র_চট্টোপাধ্যায়.pdf|P123 = [[প্রকাশক:ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড|ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড]]}}
{{Talikak list end}}
4r0hpceqvr6fzye55w36vaipz23re0e
পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৭).pdf/১৫৮
104
887553
2003567
2003106
2026-10-15T12:32:10Z
জয়শ্রীরাম সরকার
13864
2003567
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Kazimizanur" />{{rh|১৫০|কমলাকান্তের পত্র|}}</noinclude>যে ভেড়ার পালকে পক্ষীরাজ ঘোড়া মনে করেছিলেন— এইটে তাঁর প্রথম ভুল।
{{ফাঁক}}তাঁর দ্বিতীয় ভুল এই, ভারতবর্ষকে যিনি উদ্ধার করবেন, তাঁকে ভারতবাসীর হ’য়ে সব কাজ করে’ দিতে হবে—একথা তাঁর স্মৃতিপথ থেকে চলে’ গিয়েছিল! তাঁকে যে দেশসুদ্ধ লোক, বিশেষ করে’ তাঁর যাদের উপর বেশী নির্ভর, অর্থাৎ শিক্ষিত বলতে যারা তা ছাড়া ভারতের আর সকলে, তারা যে তাঁকে দেবতা বানিয়ে দিয়েছে, তার কি কোন গূঢ় অভিপ্রায় নেই? এক জনকে দেবতা বানালে, তার উপর সবটা ছেড়ে দিলে, কাজ কত সহজ হ'য়ে আসে মহাত্মাজীর চেলারা কি বোঝেনি? চেলাগণ নির্ব্বিবাদে আপনাপন ধান্দা নিয়ে থাকবে—যে ব্যবসাদার সে খদ্দেরকে পেঁচিয়ে কাটতে থাকবে, যে জমিদার সে প্রজাকে জবাই করতে থাকবে, যে সুদখোর সে চক্রবৃদ্ধির চক্রে ফেলে অধমর্ণকে চরকির পাকে ঘোরাতে থাকবে, আর মহাত্মাজী শ্রীকৃষ্ণরূপে সুদর্শনচক্র ঘুরিয়ে অরাতি-নিধন করবেন, শ্রীরামচন্দ্ররূপে ধনুর্ব্বাণ হাতে যজ্ঞবিঘ্নকারীদের জব্দ করবেন, এবম্বিধ division of labourএ কাজের কেমন সুবিধা মহাত্মাজীর চেলারা কি বোঝেনি? কারও গায়ে আঁচটি লাগবে না, অথচ কার্য্য ফতে হ’য়ে যাবে—এ ব্যবস্থা যে কত সুবিধাজনক তারা কি তা’ বোঝেনি?
{{ফাঁক}}মহাত্মাজীর অভিপ্রায় নিশ্চয়ই তা’ নয়; কিন্তু স্পষ্ট করে’ তাঁর অভিপ্রায় যে তা’ নয়, তিনি স্বয়ং বুঝিয়ে দিলেও, আমার বিশ্বাস চেলারা তা বুঝবে না; তারা বলবে, “প্রভু ছলনা করচেন, ভক্তদের পরীক্ষা করচেন, তিনিই করবেন সব, তবে হঠাৎ কি মহাপুরুষরা ধরা দিতে চান।” কিন্তু যেদিন বাধ্য হ’য়ে বুঝবে যে চরকার চাকা<noinclude></noinclude>
ivclfp4mdrdk1lvqctnx8z5yhyay2l8
পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৭).pdf/১৩
104
887562
2003657
2003122
2026-10-16T11:31:02Z
জয়শ্রীরাম সরকার
13864
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003657
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="জয়শ্রীরাম সরকার" /></noinclude>{{কেন্দ্র|২}}
{{কেন্দ্র|{{larger|'''বিজয়া'''}}}}
সন্ধ্যার পর প্রসন্ন অতি স্নানমুখে আমার কুটীরের দাওয়ার নীচে আসিয়া দাড়াইল, দূরে ঠাকুর-বিসর্জ্জনের বাজনা বাজিতেছিল; শানাইয়ের করুণ সুর জনকোলাহল ভেদ করিয়া জানাইতেছিল—এ বৎসরের মত বাঙালীর পূজার অর্থাৎ দুর্গাপূজার উৎসব শেষ হইল।
{{ফাঁক}}প্রসন্ন কোন কথা না কহিয়া অতি ধীরে আমার কাছে আসিয়া গলায় আঁচিল দিয়া একটা গড় করিল! আমি প্রসন্নকে বলিলাম—প্রসন্ন! আজ সব ফ্যাসাদ মিটিয়া গেল ত?
{{ফাঁক}}প্রসন্ন। দেখ, যেদিন প্রাতঃকালে উঠিয়া উঠানে ঠাকুর প্রতিমা ফেলিয়া দিয়া গিয়াছে দেখিলাম সেদিন আমার মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছিল, কত আর্ত্তনাদ করিয়া তোমার কাছে ছুটিয়া আসিয়াছিলাম, মনে হইয়াছিল কি বিপদেই পড়িলাম। আজও তোমার কাছে ছুটিয়া আসিয়াছি, কিন্তু আজ বুঝিতে পারিতেছি না—কেন তখন আপনাকে এত বিপন্ন মনে করিয়াছিলাম। আজ ছুটিয়া আসিয়াছি—বাড়ীতে আর থাকিতে পারিতেছি না, আমার ক্ষুদ্র কুটীর যেন কত বড় কত ফাঁকা মনে হইতেছে; মনে হইতেছে যে, গ্রামের সমস্ত লোককে আমার উঠানে জড় করিলেও যেন সে ফাঁক ভরিয়া উঠিবে না। এমন, নিস্তব্ধ নির্জ্জন স্থান আমি কখনও কোথাও দেখি নাই। আমি সেখানে কেমন করিয়া থাকিব জানি না।<noinclude></noinclude>
l26zvtwibnv5rofcx13gnt2llsqrsyd
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১
104
887576
2003652
2003512
2026-10-16T09:27:03Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003652
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{dhr}}
{{c|{{xx-larger|'''সংকলিতা'''}}
{{dhr|2em}}
{{xxx-larger|'''রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'''}}
{{dhr|12em}}
[[File:Visva-Bharati University logo.svg|80px|center]]
{{dhr}}
প্রথম ভাগ
{{dhr|12em}}
{{larger|বিশ্বভারতী-গ্রন্থালয়}}
{{larger|২ বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায় ষ্ট্রীট। কলিকাতা}}}}
{{dhr|2em}}<noinclude></noinclude>
plkh7hnlfc09pfdtdgfqm2awljibzxa
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২
104
887578
2003654
2003220
2026-10-16T09:28:09Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003654
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{dhr|13em}}
{{কেন্দ্র|<poem>প্রকাশক শ্রীপুলিনবিহারী সেন
বিশ্বভারতী। ৬/৩ দ্বারকানাথ ঠাকুর লেন। কলিকাতা ৭
{{dhr|1em}}
মুদ্রাকর শ্রীসূর্যনারায়ণ ভট্টাচার্য
তাপসী প্রেস। ৩০ কর্নওআলিস স্ট্রীট। কলিকাতা ৬</poem>}}
{{dhr|13em}}<noinclude></noinclude>
p91xkppj8q058pk6ew9zmz0rgdx8q0a
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩
104
887581
2003655
2003224
2026-10-16T09:30:06Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003655
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{dhr|8em}}
{{কেন্দ্র|{{larger|'''নিবেদন'''}}}}
সংকলিতা প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ প্রকাশিত হইল। বাংলা ১২৯৩ সালে রবীন্দ্রনাথের ‘কড়ি ও কোমল’ কাব্য প্রকাশিত হয় আর ‘ছড়ার ছবি’র প্রকাশকাল ১৩৪৪ সাল, প্রায় অর্ধ শতাব্দের ব্যবধান। এই সুদীর্ঘ সময়ে বিষয়বস্তুতে ভাবে ভাষায় ছন্দে কবির রচনায় যে প্রাচুর্য ও যে বৈচিত্র্য প্রকট হইয়াছে তাহার বহু নিদর্শন এই দুখানি সংকলনে একত্র পাওয়া যাইবে; সুকুমারমতি বালক-বালিকাদের ভাষাজ্ঞান ও বিষয়জ্ঞানের উপযোগী হয়, যুগপৎ আনন্দলাভ ও শিক্ষালাভ হয়, এ লক্ষ্য সর্বদাই সম্মুখে রাখা হইয়াছে। ইতি আশ্বিন ১৩৬১
{{ডান|শ্রীচারুচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
{{dhr|8em}}<noinclude></noinclude>
c36cbb1eanc95yvxuykejpl99jwcyrd
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯
104
887617
2003596
2003399
2026-10-16T03:17:53Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003596
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh|২৪|জলযাত্রা|}}
{{block center/s}}</noinclude><poem>পাশের গাঁয়ে ব্যাবসা করে ভাগ্নে আমার বলাই,
তার আড়তে আসব বেচে খেতের নতুন কলাই।
সেখান থেকে বাদুড়-ঘাটা আন্দাজ তিন পোয়া,
যদুঘোষের দোকান থেকে নেব খইয়ের মোয়া।
পেরিয়ে যাব চন্দনীদ’ মুন্সিপাড়া দিয়ে;
মাল্সি যাব, পুঁট্কি সেথায় থাকে মায়ে ঝিয়ে।
ওদের ঘরে সেরে নেব দুপুর বেলার খাওয়া;
তার পরেতে মেলে যদি পালের যোগ্য হাওয়া
এক পহরে চলে যাব মুখ্লুচরের ঘাটে,
যেতে যেতে সন্ধে হবে খড়্কেডাঙার হাটে।
সেথায় থাকে নওয়াপাড়ায় পিসি আমার আপন;
তার বাড়িতে উঠব গিয়ে, করব রাত্রিযাপন।
তিন পহরে শেয়ালগুলো উঠবে যখন ডেকে
ছাড়ব শয়ন ঝাউয়ের মাথায় শুকতারাটি দেখে।
লাগবে আলোর পরশমণি পুব আকাশের দিকে,
:একটু ক’রে আঁধার হবে ফিকে।
::বাঁশের বনে একটি-দুটি কাক
::::দেবে প্রথম ডাক।
সদর পথের ঐ পারেতে গোঁসাইবাড়ির ছাদ
আড়াল করে নামিয়ে নেবে একাদশীর চাঁদ।
উসুখুসু করবে হাওয়া শিরীষ গাছের পাতায়—</poem><noinclude>{{block center/e}}</noinclude>
irq7fu7ky2wb6zy30wws4f04l8zcm6c
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০
104
887618
2003597
2003401
2026-10-16T03:21:14Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003597
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh||জলযাত্রা|২৫}}
{{block center/s}}</noinclude><poem>রাঙা রঙের ছোঁওয়া দেবে দেউল-চুড়োর মাথায়।
::বোষ্টমি সে ঠুনুঠুনু বাজাৱে মন্দিরা,
সকাল বেলার কাজ আছে তার নাম শুনিয়ে ফিরা।
::হেলে দুলে পোষা হাঁসের দল
যেতে যেতে জলের পথে করবে কোলাহল।
আমারও পথ হাঁসের যে পথ, জলের পথে যাত্রী
ভাসতে যাব ঘাটে ঘাটে ফুরোবে যেই রাত্রি।
সাঁতার কাটব জোয়ার-জলে পৌঁছে উজির-পুরে,
শুকিয়ে নেব ভিজে ধুতি বালিতে রোদ্দুরে।
::::গিয়ে ভজনঘাটা
কিনব বেগুন পটোল মুলো, কিনব সজনে ডাঁটা।
::::পৌঁছব আটবাঁকে,
সূর্য উঠবে মাঝ-গগনে, মহিষ নামবে পাঁকে।
কোকিল-ডাকা বকুল-তলায় রাঁধব আপন হাতে,
কলার পাতায় মেখে নেব গাওয়া ঘি আর ভাতে।
মাখ্নাগাঁয়ে পাল নামাবে, বাতাস যাবে থেমে;
বনঝাউ-ঝোপ রঙিয়ে দিয়ে সূর্য পড়বে নেমে।
বাঁকাদিঘির ঘাটে যাব যখন সন্ধে হবে,
::গোষ্ঠে-ফেরা ধেনুর হাম্বারবে।
ভেঙে-পড়া ডিঙির মতো হেলে-পড়া দিন
তারা-ভাসা আঁধার-তলায় কোথায় হবে লীন।</poem><noinclude>{{block center/e}}</noinclude>
2hk5qrx78bxomivirivpxxgwoiiaa6w
2003598
2003597
2026-10-16T03:21:36Z
Bodhisattwa
2549
2003598
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh||জলযাত্রা|২৫}}
{{block center/s}}</noinclude><poem>রাঙা রঙের ছোঁওয়া দেবে দেউল-চুড়োর মাথায়।
::বোষ্টমি সে ঠুনুঠুনু বাজাৱে মন্দিরা,
সকাল বেলার কাজ আছে তার নাম শুনিয়ে ফিরা।
::হেলে দুলে পোষা হাঁসের দল
যেতে যেতে জলের পথে করবে কোলাহল।
আমারও পথ হাঁসের যে পথ, জলের পথে যাত্রী
ভাসতে যাব ঘাটে ঘাটে ফুরোবে যেই রাত্রি।
সাঁতার কাটব জোয়ার-জলে পৌঁছে উজির-পুরে,
শুকিয়ে নেব ভিজে ধুতি বালিতে রোদ্দুরে।
::::গিয়ে ভজনঘাটা
কিনব বেগুন পটোল মুলো, কিনব সজনে ডাঁটা।
::::পৌঁছব আটবাঁকে,
সূর্য উঠবে মাঝ-গগনে, মহিষ নামবে পাঁকে।
কোকিল-ডাকা বকুল-তলায় রাঁধব আপন হাতে,
কলার পাতায় মেখে নেব গাওয়া ঘি আর ভাতে।
মাখ্নাগাঁয়ে পাল নামাবে, বাতাস যাবে থেমে;
বনঝাউ-ঝোপ রঙিয়ে দিয়ে সূর্য পড়বে নেমে।
বাঁকাদিঘির ঘাটে যাব যখন সন্ধে হবে,
::গোষ্ঠে-ফেরা ধেনুর হাম্বারবে।
ভেঙে-পড়া ডিঙির মতো হেলে-পড়া দিন
তারা-ভাসা আঁধার-তলায় কোথায় হবে লীন।</poem>{{block center/e}}<noinclude></noinclude>
6ttbr16o4qy1w7pjlx9bfi66o1mlynp
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১
104
887619
2003601
2003407
2026-10-16T04:01:52Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003601
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh|২৬||}}</noinclude>{{c|{{x-larger|'''সুখদুঃখ'''}}}}
{{Block center|<poem>বসেছে আজ রথের তলায়{{ফাঁক}}স্নানযাত্রার মেলা
সকাল থেকে বাদল হল,{{ফাঁক}}ফুরিয়ে এল বেলা।
:::আজকে দিনের মেলামেশা
:::যত খুশি, যতই নেশা
:::সবার চেয়ে আনন্দময়
::::::ঐ মেয়েটির হাসি—
এক পয়সায় কিনিছে ও{{ফাঁক}}তালপাতার এক বাঁশি।
বাজে বাঁশি, পাতার বাঁশি{{ফাঁক}}আনন্দস্বরে।
হাজার লোকের হর্ষধ্বনি{{ফাঁক}}সবার উপরে।
ঠাকুরবাড়ি ঠেলাঠেলি{{ফাঁক}}লোকের নাহি শেষ,
অবিশ্রান্ত বৃষ্টিধারায়{{ফাঁক}}ভেসে যায় রে দেশ।
:::আজকে দিনের দুঃখ যত
:::নাই রে দুঃখ উহার মতো,
:::ঐ যে ছেলে কাতর চোখে
::::::দোকান-পানে চাহি—
একটা রাঙা লাঠি কিনবে{{ফাঁক}}একটি পয়সা নাহি।
চেয়ে আছে নিমেষহারা,{{ফাঁক}}নয়ন অরুণ,
হাজার লোকের মেলাটিরে{{ফাঁক}}করেছে করুণ।</poem>}}<noinclude></noinclude>
nkrt5qmjxujk1oge0q5habckh0cfuwk
2003602
2003601
2026-10-16T04:02:37Z
Bodhisattwa
2549
2003602
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{left|২৬}}</noinclude>{{c|{{x-larger|'''সুখদুঃখ'''}}}}
{{Block center|<poem>বসেছে আজ রথের তলায়{{ফাঁক}}স্নানযাত্রার মেলা
সকাল থেকে বাদল হল,{{ফাঁক}}ফুরিয়ে এল বেলা।
:::আজকে দিনের মেলামেশা
:::যত খুশি, যতই নেশা
:::সবার চেয়ে আনন্দময়
::::::ঐ মেয়েটির হাসি—
এক পয়সায় কিনিছে ও{{ফাঁক}}তালপাতার এক বাঁশি।
বাজে বাঁশি, পাতার বাঁশি{{ফাঁক}}আনন্দস্বরে।
হাজার লোকের হর্ষধ্বনি{{ফাঁক}}সবার উপরে।
ঠাকুরবাড়ি ঠেলাঠেলি{{ফাঁক}}লোকের নাহি শেষ,
অবিশ্রান্ত বৃষ্টিধারায়{{ফাঁক}}ভেসে যায় রে দেশ।
:::আজকে দিনের দুঃখ যত
:::নাই রে দুঃখ উহার মতো,
:::ঐ যে ছেলে কাতর চোখে
::::::দোকান-পানে চাহি—
একটা রাঙা লাঠি কিনবে{{ফাঁক}}একটি পয়সা নাহি।
চেয়ে আছে নিমেষহারা,{{ফাঁক}}নয়ন অরুণ,
হাজার লোকের মেলাটিরে{{ফাঁক}}করেছে করুণ।</poem>}}<noinclude></noinclude>
7qgls5g870fgb573z2acwu45ey48ujs
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২
104
887620
2003604
2003409
2026-10-16T04:16:36Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003604
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh|||২৭}}</noinclude>{{C|{{x-larger|'''কাঙালিনী'''}}}}
{{block center/s}}<poem>
আনন্দময়ীর আগমনে,
::আনন্দে গিয়েছে দেশ ছেয়ে।
হেরো ওই ধনীর দুয়ারে
::দাঁড়াইয়া কাঙালিনী মেয়ে।
বাজিতেছে উৎসবের বাঁশি,
কানে তাই পশ্চিতেছে আসি,
স্নান চোখে তাই তাসিতেছে
::দুরাশার সুখের স্বপন।
চারি দিকে প্রভাতের আলো
নয়নে লেগেছে বড়ো ভালো,
আকাশেতে মেঘের মাঝারে
::শরতের কনক-তপন।
কত কে যে আসে, কত যায়,
কেহ হাসে, কেহ গান গায়,
কত বরনের বেশভূষা
::ঝলকিছে কাঞ্চন-রতন—
কত পরিজন দাস দাসী,
পুষ্পপাতা কত রাশি রাশি—
চোখের উপর পড়িতেছে
::মরীচিকা-ছবির মতন।</poem><noinclude>{{block center/e}}</noinclude>
g9j2x1w9a051jfhdurv14n19dg9jc1r
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩
104
887621
2003606
2003411
2026-10-16T04:27:38Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003606
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh|২৮|কাঙালিনী|}}
{{Block center/s}}</noinclude><poem>::হেরো তাই রহিয়াছে চেয়ে
::শূন্যমনা কাঙালিনী মেয়ে।
{{dhr}}
শুনেছে সে, মা এসেছে ঘরে,
:::তাই বিশ্ব আনন্দে ভেসেছে।
মা’র মায়া পায়নি কখনো,
::মা কেমন দেখিতে এসেছে।
তাই বুঝি আঁখি ছলছল,
::বাষ্পে ঢাকা নয়নের তারা।
চেয়ে যেন মা’র মুখ-পানে
বালিকা কাতর অভিমানে
::বলে, ‘মা গো এ কেমন ধারা।
এত বাঁশি এত হাসিরাশি,
::এত তোর রতন ভূষণ--
তুই যদি আমার জননী,
::মোর কেন মলিন বসন।’
ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েগুলি,
ভাই-বোন করি গলাগলি,
::অঙ্গনেতে নাচিতেছে ওই।
বালিকা দুয়ারে হাত দিয়ে
তাদের হেরিছে দাঁড়াইয়ে--</poem><noinclude></noinclude>
2upr40s28bo46sz3qbgionayv6h78zn
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪
104
887622
2003607
2003413
2026-10-16T04:32:34Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003607
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh||কাঙালিনী|২৯}}
{{block center/s}}</noinclude><poem>ভাবিতেছে নিঃশ্বাস ফেলিয়ে,
::‘আমি তো ওদের কেহ নই।
স্নেহ ক’রে আমার জননী
::পরায়ে তো দেয়নি বসন,
প্রভাতে কোলেতে ক’রে নিয়ে
::মুছায়ে তো দেয় নি নয়ন।’
{{dhr}}
আপনার ভাই নেই ব’লে
::::ওরে কি রে ডাকিবে না কেহ?
আর কারো জননী আসিয়া
::ওরে কি রে করিবে না স্নেহ?
ও কি শুধু দুয়ার ধরিয়া
::উৎসবের পানে রবে চেয়ে
::শূন্যমনা কাঙালিনী মেয়ে?
ওর প্রাণ আঁধার যখন
::করুণ শুনায় বড়ো বাঁশি,
দুয়ারেতে সজল নয়ন
::এ বড়ো নিষ্ঠুর হাসিরাশি!
অনাথ ছেলেরে কোলে নিবি
::জননীরা আয় তোরা সব,
মাতৃহারা মা যদি না পায়
::তবে আজ কিসের উৎসব?</poem><noinclude>{{block center/e}}</noinclude>
0iiphhz96ul5j95n77bglkdrbr89290
2003608
2003607
2026-10-16T04:32:45Z
Bodhisattwa
2549
2003608
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh||কাঙালিনী|২৯}}
{{block center/s}}</noinclude><poem>ভাবিতেছে নিঃশ্বাস ফেলিয়ে,
::‘আমি তো ওদের কেহ নই।
স্নেহ ক’রে আমার জননী
::পরায়ে তো দেয়নি বসন,
প্রভাতে কোলেতে ক’রে নিয়ে
::মুছায়ে তো দেয় নি নয়ন।’
{{dhr}}
আপনার ভাই নেই ব’লে
::ওরে কি রে ডাকিবে না কেহ?
আর কারো জননী আসিয়া
::ওরে কি রে করিবে না স্নেহ?
ও কি শুধু দুয়ার ধরিয়া
::উৎসবের পানে রবে চেয়ে
::শূন্যমনা কাঙালিনী মেয়ে?
ওর প্রাণ আঁধার যখন
::করুণ শুনায় বড়ো বাঁশি,
দুয়ারেতে সজল নয়ন
::এ বড়ো নিষ্ঠুর হাসিরাশি!
অনাথ ছেলেরে কোলে নিবি
::জননীরা আয় তোরা সব,
মাতৃহারা মা যদি না পায়
::তবে আজ কিসের উৎসব?</poem><noinclude>{{block center/e}}</noinclude>
rtqhwwiu83o5h0ctiobygtf4o8gxki7
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫
104
887623
2003622
2003447
2026-10-16T05:52:52Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003622
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh|৩০|কাঙালিনী|}}
{{block center/s}}</noinclude><section begin="A" /><poem>দ্বারে যদি থাকে দাঁড়াইয়া
::ম্লানমুখ বিষাদে বিরস,
তবে মিছে সহকারশাখা,
::তবে মিছে মঙ্গলকলস।</poem>}}
<section end="A" />
<section begin="B" />{{c|{{x-larger|'''বীর পুরুষ'''}}}}
{{block center/s}}<poem>::মনে করো, যেন বিদেশ ঘুরে
::মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চ’ড়ে
দরজাদুটো একটুকু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার ’পরে
::টগ্বগিয়ে তোমার পাশে পাশে।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
::রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে।
{{dhr}}
::সন্ধে হল, সূর্য নামে পাটে,
::এলেম যেন জোড়াদিঘির মাঠে।
ধূ ধূ করে যে দিক পানে চাই,
কোনোখানে জনমানব নাই—
তুমি যেন আপন-মনে তাই
::ভয় পেয়েছ, ভাবছ, ‘এলেম কোথা’।</poem><section end="B" /><noinclude>{{block center/e}}</noinclude>
gvg6jcqom17abx8z1j68z6yg9c44cuu
2003623
2003622
2026-10-16T05:53:23Z
Bodhisattwa
2549
2003623
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh|৩০|কাঙালিনী|}}
{{block center/s}}</noinclude><section begin="A" /><poem>দ্বারে যদি থাকে দাঁড়াইয়া
::ম্লানমুখ বিষাদে বিরস,
তবে মিছে সহকারশাখা,
::তবে মিছে মঙ্গলকলস।</poem>{{block center/e}}
<section end="A" />
<section begin="B" />{{c|{{x-larger|'''বীর পুরুষ'''}}}}
{{block center/s}}<poem>::মনে করো, যেন বিদেশ ঘুরে
::মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চ’ড়ে
দরজাদুটো একটুকু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার ’পরে
::টগ্বগিয়ে তোমার পাশে পাশে।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
::রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে।
{{dhr}}
::সন্ধে হল, সূর্য নামে পাটে,
::এলেম যেন জোড়াদিঘির মাঠে।
ধূ ধূ করে যে দিক পানে চাই,
কোনোখানে জনমানব নাই—
তুমি যেন আপন-মনে তাই
::ভয় পেয়েছ, ভাবছ, ‘এলেম কোথা’।</poem><section end="B" /><noinclude>{{block center/e}}</noinclude>
1xxtowctd29kesop20yylnxji2fe8gd
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬
104
887624
2003649
2003450
2026-10-16T09:23:59Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003649
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rh||বীর পুরুষ|৩১}}
{{block center/s}}</noinclude><poem>আমি বলছি, ‘ভয় কোরো না মা গো,
::ঐ দেখা যায় মরা নদীর সোঁতা।’
{{dhr}}
:::চোর-কাঁটাতে মাঠ রয়েছে ঢেকে,
:::মাঝখানেতে পথ গিয়েছে বেঁকে।
গোরু বাছুর নেইকো কোনোখানে,
সন্ধে হতেই গেছে গাঁয়ের পানে—
আমরা কোথায় যাচ্ছি কে তা জানে,
:::অন্ধকারে দেখা যায় না ভালো।
তুমি যেন বললে আমায় ডেকে,
:::‘দিঘির ধারে ওই যে কিসের আলো!’
{{dhr}}
:::এমন সময় ‘হাঁরে রে-রে রে-রে,’
:::ঐ যে কারা আসতেছে ডাক ছেড়ে!
তুমি ভয়ে পাল্কিতে এক কোণে
ঠাকুর দেব্তা স্মরণ করছ মনে,
বেয়ারাগুলো পাশের কাঁটাবনে
:::পাল্কি ছেড়ে কাঁপছে থরোথরো।
আমি যেন তোমায় বলছি ডেকে,
:::‘আমি আছি, ভয় কেন মা করো!’</poem><noinclude>{{block center/e}}</noinclude>
a9qbqnqede7hrq449lkqatkz6flir2k
পাতা:সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৫
104
887649
2003600
2003528
2026-10-16T03:31:39Z
Bodhisattwa
2549
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003600
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{C|{{x-larger|'''দেবতার বিদায়'''}}}}
{{block center|<poem>
দেবতামন্দির-মাঝে ভকত প্রবীণ
জপিতেছে জপমালা বসি’ নিশিদিন।
হেনকালে সন্ধ্যাবেলা ধূলিমাখা দেহে
বস্ত্রহীন জীর্ণ দীন পশিল সে-গেহে।
কহিল কাতর কণ্ঠে ‘গৃহ মোর নাই,
এক পাশে দয়া ক’রে দেহ মোরে ঠাঁই।’
সসংকোচে ভক্তবর কহিলেন তারে
“আরে আরে অপবিত্র, দূর হয়ে যা রে।’
সে কহিল ‘চলিলাম’—চক্ষের নিমেষে
ভিখারী ধরিল মূর্তি দেবতার বেশে।
ভক্ত কহে, ‘প্রভু মোরে কী ছল ছলিলে।’
দেবতা কহিল, ‘মোরে দূর করি দিলে।’
জগতে দরিদ্ররূপে ফিরি দয়া-তরে,
গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে।’</poem>}}
{{dhr}}
{{rule|1em}}<noinclude></noinclude>
t73hf42hz38f8d8mxd79chg5durxknb
পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৭).pdf/১৪
104
887654
2003564
2026-10-15T12:08:47Z
জয়শ্রীরাম সরকার
13864
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003564
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="জয়শ্রীরাম সরকার" />{{rh|৬|কমলাকান্তের পত্র|}}</noinclude>{{gap}}আমি। কোন্টা নির্জ্জন মনে হচ্ছে ঠিক বুঝতে পাচ্চ কি?—মনের ভিতরটা, না ঘরের ভিতরটা?
{{ফাঁক}}প্রসন্ন! কি জানি! আমার ছেলে নাই মেয়ে নাই—আঁচিল দিয়া প্রতিমার চরণ যখন মুছাইয়া লইলাম, তখন আমার বুকের ভিতর যে কি রকম করিয়া উঠিল, তাহা আমি বলিতে পারি না। যেন আমারই মেয়ে আমার গৃহ শূন্য করিয়া স্বামীর বাড়ী চলিরা যাইতেছে। সে কষ্ট কেমন তাহা, আমি মা নই, ঠিক বলিতে পারি না, তবে আমার মনে হয় ঐ রকমই। আমার মনে হইল, মা'র চোখেও যেন জল দেখিলাম! পাড়ার মেয়ে শ্বশুরঘর করিতে চলিয়াছে, মা'র চোখে জল, মেয়ের চোখে জল, দেখাদেখি আমারও চোখে জল আসিয়াছে, কিন্তু এমনতর কষ্ট তো তখন হয় নাই। এখন বুকটা যেন ফাটিয়া যাইতেছে; সব যেন শূন্য মনে হইতেছে।
{{ফাঁক}}আমি। এতগুলা টাকা যে বাজে খরচ হইয়া গেল, প্রসন্ন! সেটা কি একবারও মনে হচ্ছে না?
{{ফাঁক}}প্রসন্ন। মোটেই না। আমার মনে হইতেছে টাকা দিয়া কেনা যায় না এমন একটা-কিছু ভাগ্যক্রমে পাইয়াছিলাম, আজ তাহা হারাইয়াছি, আর বুঝি তা কখনও ফিরিয়া পাইব না।
{{ফাঁক}}আমি মনে মনে এই মাতৃপূজার প্রবর্তক মহাপুরুষকে কোটি কোটি প্রণাম করিলাম। বলিহারি তোমার রচনা। এই ‘আভাঙ্গা’ গয়লার মেয়ের মনকে কি আশ্চর্য্য উপায়ে তোমার শিক্ষা-পদ্ধতি তার এই দুনিয়ার চূড়ান্ত ঐশ্বর্য্য ধনসম্পদের আবিল আবর্ত্ত হইতে উত্তোলন করিয়া প্রকৃত ঐশ্বর্য্যের দিকে তুলিয়া লইল; এ গয়লার মেয়ে স্বল্পকালের জন্যও তোমার অদ্ভুত সৃষ্টি-কৌশলে এমন এক<noinclude></noinclude>
d8y2r0xwd6h0dw0264p7bz6kljzv5vb
2003565
2003564
2026-10-15T12:12:00Z
জয়শ্রীরাম সরকার
13864
2003565
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="জয়শ্রীরাম সরকার" />{{rh|৬|কমলাকান্তের পত্র|}}</noinclude>{{gap}}আমি। কোন্টা নির্জ্জন মনে হচ্ছে ঠিক বুঝতে পাচ্চ কি?—মনের ভিতরটা, না ঘরের ভিতরটা?
{{ফাঁক}}প্রসন্ন! কি জানি! আমার ছেলে নাই মেয়ে নাই—আঁচিল দিয়া প্রতিমার চরণ যখন মুছাইয়া লইলাম, তখন আমার বুকের ভিতর যে কি রকম করিয়া উঠিল, তাহা আমি বলিতে পারি না—যেন আমারই মেয়ে আমার গৃহ শূন্য করিয়া স্বামীর বাড়ী চলিরা যাইতেছে। সে কষ্ট কেমন তাহা, আমি মা নই, ঠিক বলিতে পারি না, তবে আমার মনে হয় ঐ রকমই। আমার মনে হইল, মা'র চোখেও যেন জল দেখিলাম! পাড়ার মেয়ে শ্বশুরঘর করিতে চলিয়াছে, মা'র চোখে জল, মেয়ের চোখে জল, দেখাদেখি আমারও চোখে জল আসিয়াছে, কিন্তু এমনতর কষ্ট তো তখন হয় নাই। এখন বুকটা যেন ফাটিয়া যাইতেছে; সব যেন শূন্য মনে হইতেছে।
{{ফাঁক}}আমি। এতগুলা টাকা যে বাজে খরচ হইয়া গেল, প্রসন্ন! সেটা কি একবারও মনে হচ্ছে না?
{{ফাঁক}}প্রসন্ন। মোটেই না। আমার মনে হইতেছে টাকা দিয়া কেনা যায় না এমন একটা-কিছু ভাগ্যক্রমে পাইয়াছিলাম, আজ তাহা হারাইয়াছি, আর বুঝি তা কখনও ফিরিয়া পাইব না।
{{ফাঁক}}আমি মনে মনে এই মাতৃপূজার প্রবর্তক মহাপুরুষকে কোটি কোটি প্রণাম করিলাম। বলিহারি তোমার রচনা। এই ‘আভাঙ্গা’ গয়লার মেয়ের মনকে কি আশ্চর্য্য উপায়ে তোমার শিক্ষা-পদ্ধতি তার এই দুনিয়ার চূড়ান্ত ঐশ্বর্য্য ধনসম্পদের আবিল আবর্ত্ত হইতে উত্তোলন করিয়া প্রকৃত ঐশ্বর্য্যের দিকে তুলিয়া লইল; এ গয়লার মেয়ে স্বল্পকালের জন্যও তোমার অদ্ভুত সৃষ্টি-কৌশলে এমন এক<noinclude></noinclude>
hygpirv2lgcbgtxp9po5npfcvfvjmjd
পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৭).pdf/১৫
104
887655
2003566
2026-10-15T12:23:08Z
জয়শ্রীরাম সরকার
13864
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003566
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="জয়শ্রীরাম সরকার" />{{rh||বিজয়া|৭}}</noinclude>ভাব-রাজ্যে নীত হইল যে, সে আর মণিকে মণি বলিয়া মানিল না, টাকার চেয়েও একটা-কিছু বড়—একটা-কিছু প্রিয়তর ইষ্টতর জিনিষের ইঙ্গিত পাইল। বলিহারি তোমার কল্পনা? এই পার্থিব জীবনে পণ্ডিত-মূর্খ, ধনী-দরিদ্র, পুরুষ-নারী সকলেরই তো ঐহিকতার অগ্নিকুণ্ড হইতে পরিত্রাণ আবশ্যক। এই পরিত্রাণের কি অদ্ভুত পথই না তুমি আবিষ্কার করিয়াছ। বেদান্তের গভীর সিদ্ধান্তগুলি হৃদয়ঙ্গম করিবার জন্য প্রত্যেক মানুষকে যদি টোলের প্রথম পাঠ হইতে আরম্ভ করিয়া শেষ পর্য্যন্ত পৌঁছিতে হইত, তাহা হইলে বাস্তবিকই এই এক জন্মের সাধনায় বর্ণপরিচয়ও শেষ হইত না; কেবল তাই নয়, মানুষ তাহার হৃদরের ক্ষুধা নিবৃত্তি করিবার জন্য এক এক করিয়া চতুঃষষ্টিসহস্র যোনি ভ্রমণ করিয়াও বুঝি তৃপ্ত হইতে পারিত না। অথচ তাহার সে ক্ষুধা তাহাকে নিবৃত্ত করিতেই হইবে, নহিলে তাহার মুক্তি নাই। এই মুক্তি যদি তাহাকে বুদ্ধির ধাপে ধাপে উঠিয়া অর্জ্জন করিতে হইত তাহা হইলে তাহা চিরকালই অর্জ্জনের বস্তুই থাকিয়া যাইত, অর্জিত আর হইত না। কেবল বুদ্ধি দিয়াই যদি তাহা অর্জ্জনসাধ্য হইত তাহা হইলে নিত্যানন্দ প্রভু লৌহহৃদয় জগাইমাধাইকে টোলে পড়িবারই পরামর্শ দিতেন, হৃদয়ের তন্ত্রীবিশেষে আঘাত করিয়া সেই লৌহহৃদয়কে কলধৌতে পরিণত করিতেন না। মানব-হৃদয়ের সেই নিগূঢ় রহস্যজ্ঞান লইয়া, হে শিল্পী তুমি যে মাতৃমূর্ত্তির কল্পনা করিয়াছ তাহা তুলনাতীত। তোমাকে কোটি কোটি প্রণাম।<noinclude></noinclude>
pna4lj0i4ddr7iet1a0b5s5pxbigp2y
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১
0
887656
2003568
2026-10-15T14:51:59Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=367 to=368 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003568
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=367 to=368 header=1/>
hnhdqbgr2y0h3n3jwb8cr575yobkc4r
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/২
0
887657
2003569
2026-10-15T14:54:27Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=369 to=371 tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003569
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=369 to=371 tosection=A header=1/>
0omkdeoizt1hwacajy6f5rnytunk97c
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৩
0
887658
2003570
2026-10-15T14:56:39Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=371 to=373 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003570
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=371 to=373 fromsection=B tosection=A header=1/>
p9juahahvatc1oc0ziqd6qgyst7r65r
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৪
0
887659
2003571
2026-10-15T14:58:01Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=373 to=377 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003571
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=373 to=377 fromsection=B tosection=A header=1/>
h8qs1rnjlocb3zgubo68mhnxlsu7bga
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৫
0
887660
2003572
2026-10-15T14:59:11Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=377 to=380 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003572
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=377 to=380 fromsection=B tosection=A header=1/>
73pf32any3fmcr2w7bk0aivrm9sir7s
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৮৩
104
887661
2003573
2026-10-15T15:10:51Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003573
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৬৯|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন হাসিয়া কহিলেন, ঠিক তা আমিও জানি। এবং আমারও যে সত্যি-সত্যিই বাধে তাও নয়—কিন্তু মজা এমনি যে, সে কথা নিজেদের মধ্যে স্বীকার করবার যো নেই। তুমি কি এম্নিই বরাবর চালিয়ে যাবে স্থির করেচ না কি?
{{ফাঁক}}শৈলেশ ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিল, দেখ ক্ষেত্র, যথার্থ কথা বলতে কি, স্থির আমি নিজে কিছুই করি নি, করবার ভারও আমার পরে তিনি দেন নি। শুধু এইটুকু স্থির করে রেখেছি যে, তাঁর অমতে তাঁর সাংসারিক ব্যবস্থায় আর আমি হাত দিচ্চি নে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন দ্বারের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া চুপি চুপি কহিলেন, চুপ চুপ, এ কথা তোমার বোনের যদি কানে যায় ত আর রক্ষা থাকবে না, তা বলে দিচ্ছি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, এ দিকে যদি রক্ষা নাও থাকে, অন্য দিকে একটু রক্ষা বোধ হয় পেয়েচি যে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি এ দুশ্চিন্তা আর ভোগ করতে হবে না। বল কি হে, অহর্নিশি কেবল টাকার ভাবনা, মাসের পোনরটা দিন পার হলেই মনে হয় বাকি পোনরটা দিন পার হবে কি করে—সে পথে আর পা বাড়াচ্চি নে। আমি বেঁচে গেছি ভাই—টাকা ধার করতে আর যেতে হবে না। যে কটা টাকা মাইনে পাই, সেই আমার যথেষ্ট, এ সুখবরটা এঁর কাছে আমি পেয়ে গেছি।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, বল কি হে? কিন্তু টাকার দুর্ভাবনা কি একা তোমারই ছিল না কি? আমি যে একেবারে কণ্ঠায় কণ্ঠায় হয়ে উঠেছি, সে খবর ত রাখো না!
{{ফাঁক}}শৈলেশ বলিতে লাগিল, এলাহাবাদে পালাবার সময় পূরো একটি মাসের মাইনে আলমারিতে রেখে যাই। বলে যাই, একটি মাস পূরো চলা চাই। আগে ত কোনকালেই চলে নি, সোমেনের মা বেঁচে থাকতেও না, তাঁর মৃত্যুর পরে আমার নিজের হাতেও না। ভেবেছিলাম এঁর হাত দিয়ে যদি ভয় দেখিয়েও চালাতে পারি তাই যথেষ্ট। যাদের তাড়ানো নিয়ে বিভা রাগ করছিল, তাদের মুসলমান এবং ছোটজাত বলেই বাস্তবিক তাড়ানো হয়েছে কি না আমি ঠিক জানি নে, কিন্তু এটা জানি যাবার সময়ে তারা এক বছরের বাকি মাইনে নিয়ে খুব সম্ভব খুসি হয়েই দেশে গেছে। মুদির দোকানে চারশ টাকা দেওয়া হয়েছে, আরও ছোট-খাটো কি কি সাবেক দেনা শোধ ক’রে ছোট্ট একখানি খাতায় সমস্ত কড়ায়-গণ্ডায় লেখা—ভয় পেয়ে জিজ্ঞাসা করলুম, এ তুমি কি কাণ্ড করে বসে আছো ঊষা, অর্দ্ধেক মাস যে এখনো বাকি—চলবে কি করে? জবাবে বললেন, আমি ছেলেমানুষ নই, সে জ্ঞান আমার আছে। খাবার কষ্ট ত আজও তাঁর হাতে একতিল পাই নি ক্ষেত্র, কিন্তু ডাল-ভাতই আমার অমৃত। আমার দর্জ্জি ও কাপড়ের বিল এবং হ্যাণ্ডনোটের দেনাটা শোধ হয়ে যাক্ ভাই, আমি নিশ্বাস ফেলে বাঁচি।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
nbe7ips4mndp3jwkf8h8nm4n84592mw
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৮৪
104
887662
2003574
2026-10-15T15:15:08Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003574
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭০|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কি একটা বলিতে যাইতেছিলেন, কিন্তু স্ত্রীকে প্রবেশ করিতে দেখিয়া চুপ করিয়া গেলেন।
{{ফাঁক}}মোটর প্রস্তুত হইয়া আসিলে তিনজনেই উঠিয়া বসিলেন। সমস্ত পথটা ক্ষেত্রমোহন অন্যমনস্ক হইয়া রহিলেন, কাহারও কোন কথা বোধ করি তাঁহার কানেই গেল না।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''৭'''}}
{{ফাঁক}}অল্প কিছুক্ষণেই গাড়ী আসিয়া শৈলেশ্বরের দরজায় দাঁড়াইল। ভিতরে প্রবেশ করিয়া প্রথমেই সাক্ষাৎ মিলিল সোমেনের। সে কয়লা-ভাঙা হাতুড়িটা সংগ্রহ করিয়া লইয়া চৌকাঠে বসিয়া তাহার রেলগাড়ির চাকা মেরামত করিতেছিল—তাহার চেহারার দিকে চাহিয়া হঠাৎ কাহারও মুখে আর কথা রহিল না। তাহার কপালে, গালে, দাড়িতে, বুকে, বাহুতে—অর্থাৎ দেহের সমস্ত উপরার্দ্ধটাই প্রায় চিত্র-বিচিত্র করা। গঙ্গার ঘাটের উড়ে পাণ্ডা শাদা, রাঙা, হলুদ রঙ দিয়া নিজের দেশের জগন্নাথ হইতে আরম্ভ করিয়া পশ্চিমের রাম-সীতা পর্য্যন্ত সর্ব্বপ্রকার দেব-দেবীর অসংখ্য নাম ছাপিয়া দিয়াছে।
{{ফাঁক}}বিভা শুধু একটু মুচকিয়া হাসিয়া কহিল, বেশ দেখিয়েছে বাবা, বেঁচে থাকো!
{{ফাঁক}}শৈলেশের এই দুজনের কাছে যেন মাথা কাটা গেল। স্বভাবতঃ সে মৃদুপ্রকৃতির লোক, যে-কোন কারণেই হৌক, হৈ-চৈ হাঙ্গামা সৃষ্টি করিয়া তুলিতে সে পারিত না, কিন্তু ভগিনীর এই অত্যন্ত কটু উত্তেজনা হঠাৎ তাহার অসহ্য হইয়া পড়িল। ছেলের গালে সশব্দে একটা চড় বসাইয়া দিয়া কহিল, হতভাগা পাজি! কোথা থেকে এই সমস্ত ক’রে এলি? কোথা গিয়েছিলি?
{{ফাঁক}}সোমেন কাঁদিতে কাঁদিতে যাহা বলিল, তাহাতে বুঝা গেল, আজ সকালে সে মায়ের সঙ্গে গঙ্গাস্নানে গিয়াছিল। শৈলেশ তাহার গলায় একটা ধাক্কা মারিয়া ঠেলিয়া দিয়া বলিল, যা—সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেল্ গে যা বলচি!
{{ফাঁক}}তিনজনে আসিয়া তাহার পড়িবার ঘরে প্রবেশ করিল। ভাই-বোন উভয়েরই মুখ অসম্ভব রকমের গম্ভীর, মিনিট খানেক কেহই কোন কথা কহিল না, শৈলেশের লজ্জিত বিরস মুখে ইহাই প্রকাশ পাইল যে, একটা বাড়াবাড়ি সে স্বপ্নেও ভাবে নাই, কিন্তু বিভা কথা না কহিয়াও যেন সগর্ব্বে বলিতে লাগিল, এসব তার জানা কথা। এইরূপ হইতেই বাধ্য।
{{ফাঁক}}কথা কহিলেন ক্ষেত্রমোহন। তিনি হঠাৎ একটুখানি হাসিয়া ফেলিয়া বলিলেন,<section end="B" /><noinclude></noinclude>
llvt0frvt61s7q04obiliizeian4qh1
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৮৫
104
887663
2003575
2026-10-15T15:19:03Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003575
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭১|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>শৈলেশ, তুমি যে একেবারে চায়ের পেয়ালায় তুফান তুলে ফেললে হে! ছেলেটাকে মারলে কি বলে! তোমাদের সঙ্গে ত চলা-ফেরা করাই দায়।
{{ফাঁক}}স্বামীর কথা শুনিয়া বিভা বিস্ময়ে যেন হতবুদ্ধি হইয়া গেল, মুখের দিকে চাহিয়া কহিল, চায়ের পেয়ালায় তুফান কি রকম? তুমি কি এটাকে ছেলে-খেলা মনে করলে না কি?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, অন্ততঃ ভয়ানক কিছু একটা যে মনে হচ্চে না তা অস্বীকার করতে পারি নে।
{{ফাঁক}}তার মানে?
{{ফাঁক}}মানে খুব সহজ। আজ নিশ্চয় কি একটা গঙ্গাস্নানের যোগ আছে, সোমেন সঙ্গে গেছে, সঙ্গে সঙ্গে স্নান করেছে। একটা দিন কলের জলে না নেয়ে দৈবাৎ কেউ যদি গঙ্গায় স্নান করেই থাকে ত কি মহাপাপ হ’তে পারে আমি ত ভেবে পাই নে।
{{ফাঁক}}বিভা স্বামীর প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়া কহিল, তার পরে?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন জবাব দিলেন, তার পরের ব্যাপারও খুব স্বাভাবিক। ঘাটে বিস্তর উড়ে পাণ্ডা আছে, হয় ত কেউ দুটো একটা পয়সার আশায় ছেলেমানুষের গায়ে চন্দনের ছাপ মেরে দিয়েছে। এতে খুনোখুনি কাণ্ড করবার কি আছে!
{{ফাঁক}}বিভা তেমনি ক্রোধের স্বরে প্রশ্ন করিল, এর পরিণাম ভেবে দেখেচ?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, বিকালবেলা মুখ-হাত ধোয়ার সময় আপনি মুছে যায়—এই পরিণাম।
{{ফাঁক}}বিভা কহিল, ওঃ—এই মাত্র! তোমার ছেলে-পুলে থাকলে তুমিও তা হলে এই রকম করতে দিতে?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, আমার ছেলে-পুলে যখন নেই, তখন এ তর্ক বৃথা।
{{ফাঁক}}বিভা মনে মনে আহত হইয়া কহিল, তর্ক বৃথা হ’তে পারে, চন্দন ধুয়ে ফেললে উঠে যায় আমি জানি, কিন্তু এর দাগ হয় ত অত সহজে নাও উঠতে পারে। ছেলে-পুলের ভবিষ্যৎ জীবনের পানে চেয়েই কাজটা করতে হয়। আজকার কাজ যে অত্যন্ত অন্যায় এ কথা আমি একশ বার বলব, তা তোমরা যাই কেন না বল।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, তোমরা নও—একা—আমি! শৈলেশ ত চড় মেরে আর গলাধাক্কা দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করলে—আমি কিন্তু এ আশা করি নে যে, অধ্যাপকবংশের মেয়ে এসে একদিনেই মেম-সাহেব হয়ে উঠবে। তা সে যাই হোক্, তোমরা দু-ভাই-বোন এর ফলাফল বিচার করতে থাকো, আমি উঠলুম।
{{ফাঁক}}শৈলেশ চুপ করিয়াই ছিল, তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া কহিল, কোথায় হে?
{{nop}}<noinclude></noinclude>
8b7jb1vp3a8fx6rfssom9brht8iqrfu
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৮৬
104
887664
2003576
2026-10-15T15:23:20Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003576
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭২|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্ষেত্র কহিলেন, উপরে। ঠাক্রুণের সঙ্গে পরিচয়টা একবার সেরে আসি। কথা কন কিনা একটু সাধ্য-সাধনা করে দেখি গে। এই বলিয়া ক্ষেত্রমোহন আর বাক্যব্যয় না করিয়া বাহিরে গেলেন।
{{ফাঁক}}উপরে উঠিয়া শোবার ঘরের দরজা হইতে ডাক দিয়া কহিলেন, বৌঠাক্রুণ নমস্কার।
{{ফাঁক}}ঊষা মুখ ফিরাইয়া দেখিয়াই মাথার কাপড় তুলিয়া দিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল।
{{ফাঁক}}সোমেন কাছে বসিয়া বোধ করি মায়ের কাজ বাড়াইতেছিল, কহিল, পিসেমসাই।
{{ফাঁক}}ঊষা অদূরে একটা চৌকি দেখাইয়া দিয়া আস্তে আস্তে বলিল, বসুন। তাহার সম্মুখের গোটা-দুই আলমারীর কপাট খোলা, মেঝের উপর অসংখ্য রকমের কাপড় জামা শাড়ি জ্যাকেট কোট পেণ্টুলান মোজা টাই কলার—কত যে রাশিকৃত করা তাহার নির্ণয় নাই, ক্ষেত্রমোহন আসন গ্রহণ করিয়া কহিলেন, আপনার হচ্চে কি?
{{ফাঁক}}সোমেন স্তূপের মধ্যে হইতে একজোড়া মোজা টানিয়া বাহির করিয়া কহিল, এই আর একজোড়া বেরিয়েচে। এইটুকু শুধু ছেঁড়া—চেয়ে দেখ মা!
{{ফাঁক}}ঊষা ছেলের হাত হইতে লইয়া একস্থানে গুছাইয়া রাখিল। তাহার রাখিবার শৃঙ্খলা লক্ষ্য করিয়া ক্ষেত্রমোহন একটু আশ্চর্য্য হইয়া প্রশ্ন করিলেন, এ কি অনাথ-আশ্রমের ফর্দ্দ তৈরি হচ্চে, না জঞ্জাল পরিষ্কারের চেষ্টা হচ্চে? কি করচেন বলুন ত? তিনি ভাবিয়া আসিয়াছিলেন, পল্লী অঞ্চলের নূতন বধূ তাঁহাকে দেখিয়া হয় ত লজ্জায় একেবারে অভিভূত হইয়া পড়িবে, কিন্তু ঊষার আচরণে সেরূপ কিছু প্রকাশ পাইল না। সে মুখ তুলিয়া চাহিল না বটে, কিন্তু কথার জবাব সহজ কণ্ঠেই দিল; কহিল, এগুলো সব সারাতে পাঠাবো ভাবছি। কেবল মোজাই এত জোড়া আছে যে, বোধ করি দশ বচ্ছর আর না কিনলেও চলে যাবে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন এক মুহূর্ত্ত স্থির থাকিয়া কহিলেন, বৌঠাক্রুণ, এখন কেউ নেই, এই সময় চট্ করে একটা কথা বলে রাখি। আপনার ননদটিকে দেখে তার স্বামীর স্বরূপটা যেন মনে মনে আন্দাজ করে রাখবেন না। বাইরে থেকে আমার সাজ-সজ্জা আর আচার-ব্যবহার দেখে আমাকে ফিরিঙ্গি ভাববেন না, আমি নিতান্তই বাঙালী। কেউ গঙ্গাস্নান করে এসেছে শুনলে তাকে আমার মারতে ইচ্ছে করে না, এ কথাটা আপনাকে জানিয়ে রাখলাম।
{{ফাঁক}}ঊষা চুপ করিয়া রহিল। ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, আরও একটা কথা<noinclude></noinclude>
n5d10lk4nzndrbn4ahz7zhr9cwh0d4t
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৮৭
104
887665
2003577
2026-10-15T16:19:53Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003577
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭৩|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />নিরিবিলিতেই বলে রাখি। সোমেনের মারটা নিজের গায়ে পেতে নিলে শৈলেশ বেচারার প্রতি কিন্তু অবিচার করা হবে। এত বড় অপদার্থ ও সত্যি-সত্যিই নয়।
{{ফাঁক}}ঊষা এ কথারও কোন জবাব দিল না, নিঃশব্দে দাঁড়াইয়া রহিল। ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, এখন আপনি বসুন। আমার জন্যে আপনার সময় না নষ্ট হয়। একটু মৌন থাকিয়া বলিলেন, আপনার লক্ষ্মী-হাতের কাজ করা দেখে আমিও গৃহস্থালীর কাজকর্ম্ম একটু শিখে নিই।
{{ফাঁক}}ঊষা মেঝের উপর বসিয়া মৃদু হাসিয়া বলিল, এ সব মেয়েদের কাজ আপনার শিখে লাভ কি?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, এর জবাব আর একদিন আপনাকে দেব, আজ নয়।
{{ফাঁক}}ঊষা নীরবে হাতের কাজ করিতে লাগিল; কিন্তু একটু পরেই কহিল, এ সব ত গরীব-দুঃখীদের কাজ, আপনাদের এ শিক্ষায় ত কোন প্রয়োজনই হবে না।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন, বৌঠাক্রুণ, বাইরের চাকচিক্য দেখে যদি আপনারও ভুল হয় ত সংসারে আমাদের মত দুর্ভাগাদের ব্যথা বোঝবার আর কেউ থাকবে না। ইচ্ছে করে আমার ছোট বোনটিকে আপনার কাছে দিন-কতক রেখে যাই। আপনার লক্ষ্মী-শ্রীর কতকটাও হয় ত সে তাহলে শ্বশুরবাড়িতে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে।
{{ফাঁক}}ঊষা চুপ করিয়া রহিল। ক্ষেত্রমোহন পুনরায় কি একটা বলিতে যাইতেছিলেন, কিন্তু সহসা অনেকগুলি জুতার শব্দ সিঁড়ির নীচে শুনিতে পাইয়া শুধু বলিলেন, এঁরা সব উপরেই আসচেন দেখচি। শৈলেশের বোন এবং আমার বোনের বাইরের বেশভূষার সাদৃশ্য দেখে কিন্তু ভিতরটাও এক রকম বলে স্থির করে নেবেন না।
{{ফাঁক}}উষা শুধু একটুখানি হাসিয়া ঘাড় নাড়িয়া কহিল, আমি বোধ হয় চিনতে পারব।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, বোধ হয়! নিশ্চয় পারবেন, এও আমি নিশ্চয় জানি।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''৮'''}}
{{ফাঁক}}সিঁড়িতে যাহাদের পায়ের শব্দ শোনা গিয়াছিল, তাহারা শৈলেশ, বিভা এবং বিভার ছোট ননদ উমা। শৈলেশ ও বিভা ঘরে প্রবেশ করিল, সকলের পিছনে ছিল উমা; সে চৌকাঠের এদিকে পা বাড়াইতেই, তাহার দাদা তাহাকে চোখের ইঙ্গিতে নিষেধ করিয়া কহিলেন, জুতোটা খুলে এস উমা।
{{ফাঁক}}বিভা ফিরিয়া চাহিয়া স্বামীকে সবিস্ময়ে প্রশ্ন করিল, কেন বল ত?
{{nop}}<section end="B" /><noinclude></noinclude>
rbpns34a772ierx0tcu9twxu72wcry4
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৮৮
104
887666
2003578
2026-10-15T16:26:14Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003578
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭৪|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, দোষ কি? পায়ে কাঁটাও ফুটবে না, হোঁচট্ও লাগবে না।
{{ফাঁক}}বিভা কহিল, সে আমি জানি। কিন্তু হঠাৎ জুতো খোলার দরকার হ’ল কিসে তাই শুধু জিজ্ঞেসা করেচি।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, বৌঠাক্রুণ হিঁদু-মানুষ—তা ছাড়া গুরুজনের ঘরের মধ্যে ওটা পায়ে দিয়ে না আসাই বোধ হয় ভাল।
{{ফাঁক}}বিভা স্বামীর পায়ের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া দেখিল, শুধু কেবল ভগিনীকে উপদেশ দেওয়াই নয়, নিজেও তিনি ইতিপূর্ব্বে তাহা পালন করিয়াছেন। দেখিয়া তাহার গা জ্বলিয়া গেল; কহিল, গুরুজনের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা তোমার অসাধারণ। সে ভালই, কিন্তু তার বাড়াবাড়িটা ভাল নয়। গুরুজনের এটা শোবার ঘর না হ’য়ে ঠাকুরঘর হ’লে আজ হয় ত তুমি একেবারে গোবর খেয়ে পবিত্র হয়ে ঢুকতে।
{{ফাঁক}}স্ত্রীর রাগ দেখিয়া ক্ষেত্র হাসিতে লাগিলেন, বলিলেন, গোবরের প্রতি রুচি নেই, ওটা বৌঠাক্রুণের খাতিরে মুখে তুলতে পারতুম না, কিন্তু ঠাকুর-দেবতার সঙ্গে যখন কোন সুবাদই রাখি নে, তখন অকারণে তাঁদের ঘরে ঢুকেও উৎপাত করতুম না। আচ্ছা বৌঠাক্রুণ, এ ঘরে ত আগেও বহুবার এসেচি, মনে হচ্চে যেন একটা ভাল কার্পেট পাতা ছিল, সেটা তুলে দিলেন কেন?
{{ফাঁক}}ঊষা কহিল, ধোয়া-মোছা যায় না, বড় নোঙ্রা হয়। শোবার ঘর—
{{ফাঁক}}বিভা বিদ্রূপের ভঙ্গিতে প্রশ্ন করিল, কার্পেট পাতা থাকলে ঘর নোঙ্রা হয়?
{{ফাঁক}}ঊষা তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া ধীরে ধীরে কহিল, হয় বই কি ভাই। চোখে দেখা যায় না সত্যি, কিন্তু নীচে তার ঢের ধুলো-বালি চাপা পড়ে থাকে।
{{ফাঁক}}বিভা বোধ করি ইহার প্রতিবাদ করিতে যাইতেছিল, কিন্তু স্বামীর প্রবল কণ্ঠে অকস্মাৎ তাহা রুদ্ধ হইয়া গেল। তিনি অত্যন্ত উৎসাহের সহিত বলিয়া উঠিলেন, ব্যস্ ব্যস্, বৌঠাক্রুণ, নোঙ্রা চাপা পড়লেই আমাদের কাজ চলে যায়—তার বেশি আমরা চাই নে। ও জিনিসটা চোখের আড়ালে থাকলেই আমরা খুসি হ’য়ে থাকি। কি বল শৈলেশ, ঠিক না?
{{ফাঁক}}শৈলেশ কথা কহিল না। বিভার ক্রোধের অবধি রহিল না; কিন্তু সেই ক্রোধ সংবরণ করিয়া সে তর্ক না করিয়া মৌন হইয়া রহিল। তাহাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সত্যকার স্নেহ ও প্রীতির হয় ত কোন অভাব ছিল না, কিন্তু বাহিরে সাংসারিক আচরণে বাদ-প্রতিবাদের ঘাত-প্রতিঘাত প্রায়ই প্রকাশ হইয়া পড়িত। লোকের সম্মুখে বিভা তর্কে কিছুতেই হার মানিতে পারিত না, ইহা তাহার স্বভাব। এই হেতু প্রায়ই দেখা যাইত, এই বস্তুটা পাছে কথায় কথায় বাড়াবাড়িতে গিয়া উপনীত<noinclude></noinclude>
hikuni8j3ksqx7hypqfks2xfupkhpfz
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৮৯
104
887667
2003579
2026-10-15T16:29:53Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003579
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭৫|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>হয়, এই ভয়ে প্রায়ই ক্ষেত্রমোহন বিতণ্ডার মাঝখানেই রণে ভঙ্গ দিয়া সরিয়া পড়িত। কিন্তু আজ তাহার সে ভাব নয়, ইহা ক্ষণকালের জন্য অনুভব করিয়া বিভা আপনাকে সংবরণ করিল।
{{ফাঁক}}বস্তুতঃই তাহার বিরুদ্ধে আজ ক্ষেত্রমোহনের মনের মধ্যে এতটুকু প্রশ্রয়ের ভাব ছিল না। পরের দোষ ধরিয়া কটু কথা বলা বিভার একপ্রকার স্বভাবের মধ্যে গিয়া দাঁড়াইয়াছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় ত ইহাতে অশিষ্টতা ভিন্ন আর কোন ক্ষতিই হইত না; কিন্তু এই যে নিরপরাধ বধূটির বিরুদ্ধে প্রথম দিন হইতেই সে একেবারে কোমর বাঁধিয়া লাগিয়াছে, বিনা দোষে অশেষ দুঃখভোগের পর যে স্ত্রী স্বামীর গৃহকোণে দৈবাৎ স্থান লাভ করিয়াছে, তাহার সেইটুকু স্থান হইতে তাহাকে ভ্রষ্ট করিবার দুরভিসন্ধি আর একজন স্বামীর চিত্ত দুঃখে ও বিরক্তিতে পূর্ণ করিয়া আনিতেছিল। অথচ ইহারই পদধূলির যোগ্যতাও অপরের নাই, এই সত্য চক্ষের পলকে উপলব্ধি করিয়া ক্ষেত্রমোহনের তিক্ত-ব্যথিত চিত্তে বিভার বিরুদ্ধে আর কোন ক্ষমা রহিল না। অথচ এই কথা প্রকাশ করিয়া বলাও এই উচ্চশিক্ষিত সম্প্রদায়ে তেমনি সুকঠিন। বরঞ্চ যেমন করিয়া হৌক্, সভ্যতার আবরণে বাহিরে ইহাকে গোপন করিতেই হইবে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন ভগিনীকে উদ্দেশ করিয়া কহিলেন, উমা, তোমার এই পল্লীগ্রামের বৌদিদির কাছে এসে যদি রোজ দুপুর-বেলা বসতে পারো, যে কোন সংসারেই পড় না কেন দিদি, দুঃখ পাবে না তা বলে রাখচি।
{{ফাঁক}}উমা হাসিমুখে চুপ করিয়া রহিল। ঊষা মুখ না তুলিয়া বলিল, তা হলেই হয়েছে আর কি! আপনাদের সমাজে ওকে এক ঘরে করে দেবে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, তা দিক বৌঠাকরুণ। কিন্তু ওরা স্বামী-স্ত্রীতে যে পরম সুখে থাকবে তা বাজি রেখে বলতে পারি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ বিভার প্রতি একবার কটাক্ষে চাহিয়া ঠাট্টা করিয়া কহিল, বাজি রাখতে আর হবে না ভাই, এই বলাতেই যথেষ্ট হবে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন জবাব দিয়া কহিলেন, আর যাই হোক আজকের কাজটুকুও যদি মনে রাখতে পারে ত নিরর্থক নিত্য নূতন মোজা কেনার দায় থেকেও অন্ততঃ ওর স্বামী বেচারা অব্যাহতি পাবে।
{{ফাঁক}}বিভা সেই অবধি চুপ করিয়াই ছিল, কিন্তু আর পারিল না। কিন্তু গুঢ় ক্রোধের চিহ্ন গোপন করিয়া একটুখানি হাসিবার প্রয়াস করিয়া বলিল, ওর ভবিষ্যৎ সংসারে হয় ত মোজায় তালি দেবার প্রয়োজন না’ও হ’তে পারে। দিলেও হয় ত ওর স্বামী পরতে চাইবেন না। আগে থেকে বলা কিছুই যায় না।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
90jwqplxynjighrv98ancfligd2ht1g
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯০
104
887668
2003580
2026-10-15T16:33:30Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003580
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭৬|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, যায় বই কি। চোখ কান খোলা থাকলেই বলা যায়। যে সত্যিকার জাহাজ চালায়, সে জলের চোহারা দেখলেই টের পায় তলা কত দূরে। বৌঠাক্রুণ, জাহাজে পা দিয়েই যে ধরে ফেলেছিলেন একটু অসাবধানেই তলার পাঁক ঘুলিয়ে উঠবে, এতেই আপনাকে সহস্র ধন্যবাদ দিই। আর শৈলেশের পক্ষ থেকে ত লক্ষকোটী ধন্যবাদেও পর্য্যাপ্ত হবার নয়।
{{ফাঁক}}ঊষা অত্যন্ত লজ্জা পাইয়া সবিনয়ে বলিল, নিজের গৃহে নিজের স্বামীর অবস্থা বোঝাবার চেষ্টা করার মধ্যে ধন্যবাদের ত কিছুই নেই ক্ষেত্রমোহনবাবু!
{{ফাঁক}}এ কথার জবাব দিল বিভা। সে কহিল, অন্ততঃ নিজের স্ত্রীকে অপমান করার কাজটা হয় ত সিদ্ধ হয়। তা ছাড়া, কাউকে উঞ্ছবৃত্তি করতে দেখলেই বোধ হয় আর কারুর ভক্তি-শ্রদ্ধা উথ্লে উঠে।
{{ফাঁক}}ঊষা মুখ তুলিয়া চাহিয়া প্রশ্ন করিল, স্বামীর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করার চেষ্টাকে কি উঞ্ছবৃত্তি বলে ঠাকুরঝি?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন তৎক্ষণাৎ বলিয়া উঠিলেন, না বলে না। পৃথিবীর কোন ভদ্রব্যক্তিই এমন কথা মুখে আনতেও পারে না। কিন্তু স্বামীর চক্ষে স্ত্রীকে নিরন্তর হীন প্রতিপন্ন করবার চেষ্টাকে হৃদয়ের কোন্ প্রবৃত্তি বলে, আপনার ঠাকুরঝিকে বরঞ্চ জিজ্ঞেসা করে নিন।
{{ফাঁক}}বিভার মুখ দিয়া সহসা কোন কথা বাহির হইল না। অভিভূতের মত একবার সে বক্তার মুখের দিকে, একবার শৈলেশের মুখের দিকে নির্ব্বাক্ হইয়া চাহিয়া রহিল। এতগুলি লোকের সমক্ষে তাহার স্বামী যে যথার্থ-ই তাহাকে এমন করিয়া আঘাত করিতে পারে প্রথমে সে যেন বিশ্বাস করিতেই পারিল না। তার পরে শৈলেশের মুখের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া হঠাৎ কাঁদিয়া ফেলিয়া বলিল, এর পরে আর ত তোমার বাড়িতে আসতে পারি নে দাদা। আমি তা হ’লে চিরকালের মতই চললুম।
{{ফাঁক}}শৈলেশ ব্যাকুল হইয়া উঠিল। ঊষা হাতের কাজ ফেলিয়া শশব্যস্তে উঠিয়া দাঁড়াইয়া তাহার হাত চাপিয়া ধরিয়া কহিল, আমরা ত তোমাকে কোন কথা বলি নি ভাই!
{{ফাঁক}}হঠাৎ একটা বিশ্রী কাণ্ড হইয়া গেল, এবং এই গণ্ডগোলের মধ্যে ক্ষেত্রমোহন নিঃশব্দে বাহির হইয়া গেলেন। বিভা হাত ছাড়াইয়া লইয়া চোখ মুছিতে মুছিতে বলিল, আমি যখন আপনার কেবল শত্রুতাই করচি, তখন এ বাড়িতে আমার আর কিছুতেই প্রবেশ করা উচিত নয়।
{{ফাঁক}}ঊষা কহিল, কিন্তু এমন কথা আমি ত কোনদিন মনেও ভাবি নি ঠাকুরঝি!
{{nop}}<noinclude></noinclude>
iy4a62rn0qzjz37rf9ax6y47wvvprhb
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯১
104
887669
2003581
2026-10-15T16:37:46Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003581
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭৭|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}বিভা কানও দিল না। অশ্রু-বিকৃত স্বরে বলিতে লাগিল, আজ উনি মুখের উপর স্পষ্ট বলে গেলেন, কাল হয় ত দাদাও বলবেন—তাঁর নূতন ঘর-সংসারের মধ্যে কথা কইতে যাওয়া শুধু অপমান হওয়া। উমা, বাড়ি যাও ত এস। এই বলিয়া সে নীচে নামিতে উদ্যত হইয়া কহিল, বৌদিদি যখন নেই, তখন এ বাড়িতে পা দিতে যাওয়াটাই আমাদের ভুল। এবার বাড়ির সকল সম্বন্ধই আমার ঘুচলো। এই বলিয়া সে সিঁড়ি দিয়া নীচে চলিয়া গেল। শৈলেশ পিছনে পিছনে নামিয়া আসিয়া অসঙ্কোচে কহিল, না হয়, আমার লাইব্রেরী-ঘরে এসেই একটু বস্ না বিভা।
{{ফাঁক}}বিভা ঘাড় নাড়িয়া কহিল, না। কিন্তু আমার বৌদিদিকে একেবারে ভুলে যেও না দাদা। তাঁর বড় ইচ্ছে ছিল, সোমেন বিলাতে গিয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষ হয়—দোহাই তোমার, তাকে নষ্ট হ’তে দিয়ো না। আজ তাকে যেভাবে চোখে দেখতে পেলুম, এই শিক্ষাই যদি তার চলতে থাকে, সমাজের মধ্যে আর মুখ দেখাতে পারব না।
{{ফাঁক}}তাহার অশ্রু-গদ্গদ কণ্ঠস্বরে বিচলিত হইয়া শৈলেশ মিনতি করিয়া কহিল, তুই আমার বাইরের ঘরে বস্বি চল্ বোন, এমন করে চলে গেলে আমার কষ্টের সীমা থাকবে না।
{{ফাঁক}}বিভার চোখ দিয়া পুনরায় জল গড়াইয়া পড়িল। সোমেনের ভবিষ্যৎ চিন্তা করিয়া কি না জানি না, কিন্তু অঞ্চলে অশ্রু মুছিয়া বলিল, কোথাও গিয়ে আর বসতে চাই নে দাদা, কিন্তু সোমেন আমাদের বাপের কুলে একমাত্র বংশধর, তার প্রতি একটু দৃষ্টি রেখো। একেবারে আত্মহারা হ’য়ে যেয়ো না দাদা। এই বলিয়া সে সোজা বাহির হইয়া আসিয়া তাহার গাড়িতে গিয়া উপবেশন করিল। উমা বরাবর নীরব হইয়াই ছিল, এখনও সে একটি কথাতেও কথা যোগ করিল না, নিঃশব্দে বিভার পার্শ্বে গিয়া স্থান গ্রহণ করিল।
{{ফাঁক}}শৈলেশ সঙ্গে সঙ্গে আসিয়া হঠাৎ বলিয়া ফেলিল, বিভা, সোমেনকে না হয় তুই নিয়ে যা। তোর নিজের ছেলে-পুলে নেই, তাকে তুই নিজের মত করেই মানুষ ক’রে তোল।
{{ফাঁক}}বিভা এবং উমা উভয়েই একান্ত বিস্ময়ে শৈলেশের মুখের প্রতি চাহিয়া রহিল। বিভা কহিল, কেন এই নিরর্থক প্রস্তাব করচ দাদা, এ তুমি পারবে না—তোমাকে পারতেও দেব না।
{{ফাঁক}}শৈলেশ ঝোঁকের উপর জোর করিয়া উত্তর দিল, আমি পারবই—এই তোকে কথা দিলাম বিভা।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
672obtwrhddsffm1hqlzbiew7t8k0g0
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯২
104
887670
2003582
2026-10-15T16:40:45Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003582
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭৮|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}বিভা সন্দিগ্ধ কণ্ঠে মাথা নাড়িয়া কহিল, পারো ভালই। তাকে পাঠিয়ে দিয়ো। তাকে উচ্চশিক্ষা দেবার টাকা যদি তোমার না থাকে, আমিও কথা দিচ্চি দাদা, সে ভার আজ থেকে আমি নিলাম। এই বলিয়া সে উমার দৃষ্টি অনুসরণ করিয়া দেখিল, উপরে বারান্দায় দাঁড়াইয়া ঊষা নীচে তাদের দিকেই চাহিয়া চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া আছে। পরক্ষণে মোটর ছাড়িয়া চলিয়া গেলে, ভিতরে প্রবেশ করিয়া শৈলেশ তাহার পড়িবার ঘরে গিয়া বসিল। উপরে যাইতে তাহার ইচ্ছাও হইল না, সাহসও ছিল না। সমস্ত কথাই যে ঊষা শুনিতে পাইয়াছে, ইহা জানিতে তাহার অবশিষ্ট ছিল না।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''৯'''}}
{{ফাঁক}}রাত্রে খাবার দিয়া স্বামীকে ডাকিতে পাঠাইয়া ঊষা অন্যান্য দিনের মত নিকটে বসিয়াছিল। শুধু সোমেন আজ তাহার কাছে ছিল না। হয় ত সে ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল, কিংবা এমনিই কিছু একটা হইবে। শৈলেশ আসিল; তাহার মুখ অতিশয় গম্ভীর—হইবারই কথা। ব্যর্থ প্রশ্ন করা ঊষার স্বভাব নয়; আজিকার ঘটনা সম্বন্ধে সে কোন কথা জিজ্ঞাসা করিল না, এবং যাহা জানে না তাহা জানিবার জন্যও কোন কৌতূহল প্রকাশ করিল না। স্ত্রীর এই স্বভাবের পরিচয়টুকু অন্ততঃ শৈলেশ এই কয়দিনেই পাইয়াছিল। আহারে বসিয়া মনে মনে সে রাগ করিল, কিন্তু আশ্চর্য্য হইল না। ক্ষণে ক্ষণে আড়চোখে চাহিয়া সে স্ত্রীর মুখের চেহারা দেখিবার চেষ্টা করিল, কিন্তু তাহার নিশ্চয় বোধ হইল, ঊষা ইচ্ছা করিয়াই আলোটার দিকে আড় হইয়া বসিয়াছে। অন্যান্য দিনের মত আজ সে খাইতে পারিল না। যে জন্য আজ তাহার আহারে রুচি ছিল না তাহার কারণ আলাদা, তথাপি জিজ্ঞাসা না করা সত্ত্বেও গায়ে পড়িয়া শুনাইয়া দিল যে, অনভ্যস্ত খাওয়া-পরা শুধু দু-চার দিনই চলিতে পারে, কিন্তু প্রাত্যহিক ব্যাপারে দাঁড় করাইলে আর স্বাদ থাকে না, তখন অরুচি অত্যাচারে গিয়ে দাঁড়ায়।
{{ফাঁক}}কথাটা তর্কের দিক দিয়া যাই হোক, এ-ক্ষেত্রে সত্য নয় জানিয়া ঊষা চুপ করিয়া রহিল। মিথ্যা জিনিসটা যে নিশ্চয়ই মিথ্যা, ইহা প্রমাণ করিবার জন্য তর্ক করিতে কোনদিনই তাহার প্রবৃত্তি হইত না। কিন্তু এমন করিয়া নিঃশব্দে অস্বীকার করিলে প্রতিপক্ষের রাগ বাড়িয়া যায়। তাই, শুইতে আসিয়া শৈলেশ খামকা বলিয়া বলিয়া উঠিল, আমরা তোমার প্রতি একদিন অতিশয় অন্যায় করেছিলাম তা মানি,<section end="B" /><noinclude></noinclude>
gtc666o2rccr2p7g1s01avthplxs4k7
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯৩
104
887671
2003583
2026-10-15T16:45:45Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003583
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৭৯|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কিন্তু তাই বলেই আজ তোমার ছাড়া আর কারও কোন ব্যবস্থাই চলবে না এও ত ভারি জুলুম।
{{ফাঁক}}এরূপ শক্ত কথা শৈলেশ প্রথম দিনটাতেও উচ্চারণ করে নাই। ঊষা মনে মনে বোধ হয় অত্যন্ত বিস্মিত হইল, কিন্তু মুখে শুধু বলিল, আমি বুঝতে পারি নি।
{{ফাঁক}}কিন্তু এমন করিয়া অত্যন্ত বিনয়ে কবুল করিয়া লইলে আরও রাগ বাড়ে। শৈলেশ কহিল, তোমার বোঝা উচিত ছিল। আমাদের শিক্ষা, সংস্কার, সমাজ সমস্ত উল্টে দিয়ে যদি এ বাড়িকে তোমার বাপের বাড়ি বানিয়ে তুলতে চাও ত আমাদের মত লোকের পক্ষে বড় মুস্কিল হ’তে থাকে। সোমেনকে বোধ হয় কাল ওর পিসির বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে। তুমি কি বল?
{{ফাঁক}}ঊষা কহিল, ওর ভালর জন্যে যদি প্রয়োজন হয় ত দিতে হবে বই কি।
{{ফাঁক}}তাহার বলার মধ্যে উত্তাপ বা শ্লেষ কিছুই ধরিতে না পরিয়া শৈলেশ দ্বিধার মধ্যে পড়িল। কিসের জন্য যে এসব করিতেছে তাহার হেতুও মনের মধ্যে বেশ দৃঢ় এবং সুস্পষ্ট নয়; কিন্তু এই সকল দুর্ব্বল প্রকৃতির মানুষের স্বভাবই এই যে, তাহারা কাল্পনিক মনঃপীড়া ও অসঙ্গত অভিমানের দ্বার ধরিয়া ধাপের পর ধাপ দ্রুতবেগে নামিয়া যাইতে থাকে। একমুহূর্ত্ত মৌন থাকিয়া কহিল, হাঁ, প্রয়োজন আছে বলেই সকলের বিশ্বাস। যে সব আচার-ব্যবহার রীতি-নীতি আমরা মানি নে, মানতে পারি নে, তাই নিয়ে অযথা ভাই-বোনের মধ্যে বিবাদ হয়, সমাজের কাছে পরিহাসের পাত্র হ’তে হয়—এ আমার ভাল লাগে না।
{{ফাঁক}}ঊষা প্রতিবাদ করিল না, নিজের দিক হইতে কৈফিয়ৎ দিবার চেষ্টা মাত্র করিল না, কিন্তু তাহার মুখ দিয়া হঠাৎ একটা দীর্ঘশ্বাস পড়িল, নিস্তব্ধ ঘরের মধ্যে শৈলেশের তাহা কানে গেল। ঊষা নিজে কলহ করে নাই, তাহার পক্ষ লইয়া বিভার প্রতি যত কটু কথা উচ্চারিত হইয়াছে, তাহার একটিও যে উষার নিজের মুখ দিয়া বাহির হয় নাই, তাহা এতখানিই সত্য যে সে লইয়া ইঙ্গিত করাও চলে না, ভুলাও যায় না। সুতরাং ক্ষেত্রমোহনের দুষ্কৃতির শাস্তি যে আর একজনের স্কন্ধে আরোপিত হইতেছে না—ইহাতে প্রতিহিংসার কিছুই যে নাই—ইহাই সপ্রমাণ করিতে সে পুনশ্চ কহিল, যাকে বিলেতে গিয়ে লেখা-পড়া শিখতে হবে, যে সমাজের মধ্যে তাকে চলা-ফেরা করতে হবে, ছেলেবেলা থেকে তার সেই আবহাওয়ার মধ্যে মানুষই হওয়া আবশ্যক। শিশুকালটা তার অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে কাটতে দেওয়া তার প্রতি গভীর অন্যায় এবং অবিচার করা হবে। এই বলিয়া সে ক্ষণকাল উত্তরের জন্য অপেক্ষা করিয়া কহিল, এ সম্বন্ধে তোমার বলবার কিছু না থাকে ত সে স্বতন্ত্র কথা। কিন্তু মুখ বুজে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেললেই<noinclude></noinclude>
3pf4s3svdrur2rq5gtgpg25n7rjcyhy
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯৪
104
887672
2003584
2026-10-15T16:49:27Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003584
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮০|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>তার জবাব হয় না। সোমেনের সম্বন্ধে আমরা রীতিমত চিন্তা করেই তবে স্থির করেচি।
{{ফাঁক}}সোমেন পাশেই ঘুমাইতেছিল। এ বাটীতে আর কোন স্ত্রীলোক না থাকায়, আসিয়া পর্য্যন্ত ঊষা তাহাকে নিজের কাছে লইয়া শয়ন করিত। তাহার নিদ্রিত ললাটের উপর সে সস্নেহে ও সন্তর্পণে বাম হাতখানি রাখিয়া ধীরে ধীরে কহিল, যাই কেন না স্থির কর, ছেলের কল্যাণের জন্যই তুমি স্থির করবে। এ ছাড়া আর কি কেউ কখনও ভাবতে পারে! বেশ ত, তাই তুমি করো।
{{ফাঁক}}ইলেকট্রিক আলোগুলি নিবাইয়া দিয়া ঘরের কোণে মিট্ মিট্ করিয়া একটা তেলের প্রদীপ জ্বলিতেছিল; সেই সামান্য আলোকে শৈলেশ নিজের বিছানায় উঠিয়া বসিয়া অদূরবর্ত্তী শয্যায় শায়িত ঊষার মুখের দিকে চাহিয়া দেখিবার চেষ্টা করিয়া বলিল, তা ছাড়া সে সোমেনের সমস্ত পড়ার খরচ দেবে বলেছে। সে ত কম নয়!
{{ফাঁক}}ঊষার কণ্ঠস্বরে কিছুতেই উত্তেজনা প্রকাশ পাইত না। শান্তভাবে কথা কহাই তাহার প্রকৃতি। কহিল, না, সে হ’তে পারবে না। ছেলে মানুষ করবার খরচ দিতে আমি তাকে দিতে পারব না।
{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, সে যে অনেক টাকার দরকার।
{{ফাঁক}}ঊষা তেমনি শান্তকণ্ঠে বলিল, দরকার হয় দিতে হবে। কিন্তু আর রাত জেগো না, তুমি ঘুমোও।
{{ফাঁক}}পরদিন অপরাহ্ণকালে শৈলেশ কলেজ ও ক্লাব হইতে বাড়ি ফিরিয়া রান্নার এক প্রকার সুপরিচিত ও সুপ্রিয় গন্ধের ঘ্রাণ পাইয়া বিস্মিত ও পুলকিতচিত্তে তাহার পড়ার ঘরে প্রবেশ করিল। অনতিকাল পরে চা ও খাবার লইয়া যে ব্যক্তি দর্শন দিলেন, শৈলেশ মুখ তুলিয়া চাহিয়া দেখিল সে মুসলমান।
{{ফাঁক}}রাত্রে খাবার-ঘরে আলো জ্বলিল, এবং সজ্জিত টেবিলের চেহারা দেখিয়া শৈলেশ মনে মনে অস্বীকার করিতে পারিল না যে, ইহারই জন্য অত্যন্ত সঙ্গোপনে মন তাহার সত্যই ব্যগ্র এবং ব্যাকুল হইয়া উঠিয়াছিল।
{{ফাঁক}}ডিনার তখনও দুই-একটা ডিসের অধিক অগ্রসর হয় নাই, ঊষা আসিয়া একখানা চৌকি টানিয়া লইয়া একটু দূরে বসিল।
{{ফাঁক}}শৈলেশের মন প্রসন্ন ছিল, ঠাট্টা করিয়া বলিল, ঘরে ঢুকলে জাত যাবে না? ঘ্রাণেও যে অর্দ্ধভোজনের কথা শাস্ত্রে লেখা আছে।
{{ফাঁক}}ঊষা অল্প একটুখানি হাসিয়া কহিল, এ তোমার উচিত নয়। যে শাস্ত্রকে তুমি মানো না গণ-না, তার দোহাই দেওয়া তোমার সাজে না।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
ddpqvputcyjozzgki63992frmlyrmaj
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯৫
104
887673
2003585
2026-10-15T16:54:01Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003585
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮১|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}শৈলেশও হাসিল। কহিল, আচ্ছা হার মানলুম। কিন্তু শাস্ত্রের দোহাই আমিও দেব না, তুমিও কিন্তু পালিয়ো না। তবে এ কথা নিশ্চয় যে ভাগ্যে কাল খোঁটা দিয়েছিলুম, তাই ত আজ এমন বস্তুটি অদৃষ্টে জুটলো! ঠিক না ঊষা? কিন্তু খরচপত্র কি তোমার খুব বেশি পড়বে?
{{ফাঁক}}ঊষা ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না। অপব্যয় না হ’লে কোন খাবার জিনিসেই খুব বেশি পড়ে না। আসচে মাস থেকে আমি নিজেই এ সব করব ভেবেছিলাম। কিন্তু এইটি দেখো, জিনিস-পত্র বৃথা নষ্ট যেন না হয়। আমার খরচের খাতায় যেমনটি লিখে রেখেচি, ঠিক তেমনিটি যেন হয়। হবে ত।
{{ফাঁক}}শৈলেশ আশ্চর্য্য হইয়া বলিল, কেন হবে না শুনি?
{{ফাঁক}}ঊষা তৎক্ষণাৎ ইহার উত্তর দিতে পারিল না। ক্ষণকাল নীরবে নীচের দিকে চাহিয়া থাকিয়া সহসা মুখ তুলিয়া স্বামীর মুখের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া কহিল, কাল সারা-রাত ভেবে ভেবে আমি যা স্থির করেছি, তাকে অস্থির করবার জন্যে আমাকে আদেশ করো না, তোমার কাছে আমার এই মিনতি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ আর্দ্রচিত্তে কহিল, তা ত আমি কোনদিন করবার চেষ্টা করি নে ঊষা! আমি নিশ্চয় জানি, তোমার সিদ্ধান্ত তোমারই যোগ্য। তার নড়-চড় হয়ও না, হওয়া উচিতও নয়। আমি দুর্ব্বল, কিন্তু তোমার মন তেমনি সবল তেমনি দৃঢ়।
{{ফাঁক}}স্বামীর মুখের উপর হইতে ঊষা দৃষ্টি সরাইয়া লইয়া ধীরে ধীরে কহিল, সত্যিই আর কিছু হবার নয়, আমি অনেক ভেবে দেখেচি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ নিশ্চয় বুঝিল ইহা সোমেনের কথা সহাস্যে কহিল, ভূমিকা ত হ’ল, এখন স্থির কি করেছ বল ত? আমি শপথ করে বলতে পারি তোমাকে কখনো অন্যথা করতে অনুরোধ করব না।
{{ফাঁক}}ঊষা মিনিট-খানেক চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। তারপরে বলিল, দাদার সংসারে আমার চলে যাচ্ছিল—বিশেষ কোন কষ্ট ছিল না। কাল আবার আমি তাঁদের কাছেই যাবো।
{{ফাঁক}}তাঁদের কাছে যাবে? কবে ফিরবে?
{{ফাঁক}}ঊষা বলিল, তুমি আমাকে ক্ষমা ক’রো, ফিরতে আর আমি পারব না। আমি অনেক চিন্তা ক’রে দেখেচি, এখানে আমার থাকা চলবে না। এই আমার শেষ সিদ্ধান্ত।
{{ফাঁক}}কথা শুনিয়া শৈলেশ একেবারে যেন পাথর হইয়া গেল। বুকের মধ্যে তাহার সমস্ত চিত্ত যেন নিরন্তর মুগুর মারিয়া মারিয়া কহিতে লাগিল যে, লৌহ-কবাট রুদ্ধ হইয়া গেল, তাহা ভাঙ্গিয়া ফেলিবার সাধ্য এ দুনিয়ায় কাহারও নাই।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
noxaa1atr3cwemzv5bx9yrvt69r9szg
2003594
2003585
2026-10-15T17:24:01Z
Nettime Sujata
5470
2003594
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮১|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}শৈলেশও হাসিল। কহিল, আচ্ছা হার মানলুম। কিন্তু শাস্ত্রের দোহাই আমিও দেব না, তুমিও কিন্তু পালিয়ো না। তবে এ কথা নিশ্চয় যে ভাগ্যে কাল খোঁটা দিয়েছিলুম, তাই ত আজ এমন বস্তুটি অদৃষ্টে জুটলো! ঠিক না ঊষা? কিন্তু খরচপত্র কি তোমার খুব বেশি পড়বে?
{{ফাঁক}}ঊষা ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না। অপব্যয় না হ’লে কোন খাবার জিনিসেই খুব বেশি পড়ে না। আসচে মাস থেকে আমি নিজেই এ সব করব ভেবেছিলাম। কিন্তু এইটি দেখো, জিনিস-পত্র বৃথা নষ্ট যেন না হয়। আমার খরচের খাতায় যেমনটি লিখে রেখেচি, ঠিক তেমনিটি যেন হয়। হবে ত।
{{ফাঁক}}শৈলেশ আশ্চর্য্য হইয়া বলিল, কেন হবে না শুনি?
{{ফাঁক}}ঊষা তৎক্ষণাৎ ইহার উত্তর দিতে পারিল না। ক্ষণকাল নীরবে নীচের দিকে চাহিয়া থাকিয়া সহসা মুখ তুলিয়া স্বামীর মুখের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া কহিল, কাল সারা-রাত ভেবে ভেবে আমি যা স্থির করেছি, তাকে অস্থির করবার জন্যে আমাকে আদেশ করো না, তোমার কাছে আমার এই মিনতি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ আর্দ্রচিত্তে কহিল, তা ত আমি কোনদিন করবার চেষ্টা করি নে ঊষা! আমি নিশ্চয় জানি, তোমার সিদ্ধান্ত তোমারই যোগ্য। তার নড়-চড় হয়ও না, হওয়া উচিতও নয়। আমি দুর্ব্বল, কিন্তু তোমার মন তেমনি সবল তেমনি দৃঢ়।
{{ফাঁক}}স্বামীর মুখের উপর হইতে ঊষা দৃষ্টি সরাইয়া লইয়া ধীরে ধীরে কহিল, সত্যিই আর কিছু হবার নয়, আমি অনেক ভেবে দেখেচি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ নিশ্চয় বুঝিল ইহা সোমেনের কথা সহাস্যে কহিল, ভূমিকা ত হ’ল, এখন স্থির কি করেছ বল ত? আমি শপথ করে বলতে পারি তোমাকে কখনো অন্যথা করতে অনুরোধ করব না।
{{ফাঁক}}ঊষা মিনিট-খানেক চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। তারপরে বলিল, দাদার সংসারে আমার চলে যাচ্ছিল—বিশেষ কোন কষ্ট ছিল না। কাল আবার আমি তাঁদের কাছেই যাবো।
{{ফাঁক}}তাঁদের কাছে যাবে? কবে ফিরবে?
{{ফাঁক}}ঊষা বলিল, তুমি আমাকে ক্ষমা ক’রো, ফিরতে আর আমি পারব না। আমি অনেক চিন্তা ক’রে দেখেচি, এখানে আমার থাকা চলবে না। এই আমার শেষ সিদ্ধান্ত।
{{ফাঁক}}কথা শুনিয়া শৈলেশ একেবারে যেন পাথর হইয়া গেল। বুকের মধ্যে তাহার সমস্ত চিত্ত যেন নিরন্তর মুগুর মারিয়া মারিয়া কহিতে লাগিল যে, লৌহ-কবাট রুদ্ধ হইয়া গেল, তাহা ভাঙ্গিয়া ফেলিবার সাধ্য এ দুনিয়ায় কাহারও নাই।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
gv0j42yud6666eckki8yayfwvpyin62
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯৬
104
887674
2003586
2026-10-15T16:57:34Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003586
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|'''১০'''}}
{{ফাঁক}}সকালে ঘুম ভাঙিয়া শৈলেশের প্রথমেই মনে হইল, সারারাত্রি ধরিয়া সে ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখিয়াছে। জানালা দিয়া উঁকি মারিয়া দেখিল ঊষা নিত্যনিয়মিত গৃহকর্ম্মে ব্যাপৃতা—সোমেন সঙ্গে, বোধ হয় সে খাবার তাগাদায় আছে—সিঁড়িতে নামিবার পথে দেখা হইতে ঊষা মুখ তুলিয়া কহিল, তোমার চা তৈরি ক’রে ফেলেছে, মুখ-হাত ধুতে দেরি করলে সব ঠাণ্ডা হ’য়ে যাবে কিন্তু। একটু তাড়াতাড়ি নিয়ো।
{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, বেশ ত, তুমি পাঠিয়ে দাও গে, আমার এক মিনিট দেরি হবে না। এই বলিয়া সে যেন লাফাইতে লাফাইতে বাথ-রুমে প্রবেশ করিল। মনে মনে কহিল, আচ্ছা ইডিয়ট্ আমি। দাম্পত্য-কলহের যুদ্ধ-ঘোষণাকে ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা জ্ঞান করিয়া রাত্রিটা যে তাহার অশান্তি ও দুশ্চিন্তায় কাটিয়াছে, সকালবেলায় এই কথা মনে করিয়া শুদ্ধ তাহার হাসি পাইল তাই নয়, নিজের কাছে লজ্জা বোধ হইল। সংসার করিতে একটা মতভেদ বা দুটো কথা-কাটাকাটি হইলেই স্ত্রী যদি স্বামীগৃহ ছাড়িয়া দাদার ঘরে গিয়া আশ্রয় লইত, দুনিয়ায় ত তাহা হইলে মানুষ বলিয়া আর কোন জীবই থাকিত না। সোমেনের মা হইলেও বা দু-দশদিনের জন্য ভয় ছিল, কিন্তু ঊষার মন নিছক হিন্দু-আদর্শে গড়া স্ত্রী—ধর্ম্ম ও স্বামী ভিন্ন সংসারে আর যাহার কোন চিন্তাই নাই, সে যদি তাহার একটা রাগের কথাকেই তাহার আজন্মের শিক্ষা ও সংস্কারকে ছাড়াইয়া যাইতে দেয়, তাহা হইলে সংসারে আর বাকি থাকে কি? এবং এ লইয়া ব্যস্ত হওয়ার বেশি পাগলামিই বা কি আছে, ইহাই অসংশয়ে উপলব্ধি করিয়া তাহার ভয় ও ভাবনা মুছিয়া গিয়া হৃদয় শান্তি ও প্রীতির রসে ভরিয়া উঠিল। এবং ঠিক ইচ্ছা না করিয়া সে ঊষার সঙ্গে বিভার ও তাহাদের শিক্ষিত সমাজের আরও দুই-চারিজন মহিলার মনে মনে তুলনা করিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, থাক্ বাবা আর কাজ নেই, আমার নিজের মেয়ে যদি কখনও হয় ত সে যেন তার মায়ের মতই হয়। এমনিধারা শিক্ষা-দীক্ষা পেলেই আমি ভগবানকে ধন্যবাদ দেব। এই বলিয়া সে তাড়াতাড়ি কাজ সারিয়া মিনিট পাঁচ-ছয়ের মধ্যেই তাহার পড়িবার ঘরে আসিয়া উপস্থিত হইল।
{{ফাঁক}}নবনিযুক্ত মুসলমান খানসামা চা, রুটি, মাখন, কেক্ প্রভৃতি প্রাতরাশের আয়োজন লইয়া হাজির হইতে তাহার হঠাৎ যেন চমক লাগিল। এই সকল বস্তুতেই সে চিরদিন অভ্যস্ত, মাঝে কেবল দিন-কয়েক বাধা পড়িয়াছিল মাত্র; কিন্তু টেবিলে রাখিয়া দিয়া বেহারা চলিয়া গেলে এই জিনিসগুলির পানে চাহিয়াই আজ তাহার অরুচি বোধ হইল; ঊষা গৃহে আসিয়া পর্য্যন্ত এই সকলের পরিবর্ত্তে নিমকি,<noinclude></noinclude>
d31sr4po82lrs5lwscswn90na5qs2hh
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯৭
104
887675
2003587
2026-10-15T17:00:22Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003587
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮৩|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কচুরি প্রভৃতি তাহার স্বহস্ত-রচিত খাদ্য-দ্রব্য সকালে চায়ের সঙ্গে আসিত, সে নিজে উপস্থিত থাকিত, কিন্তু আজ তাহার কোনটাই নাই দেখিয়া তাহার আহারে প্রবৃত্তি রহিল না। শুধু এক পেয়ালা চা কেৎলি হইতে নিজে ঢালিয়া লইয়া খানসামাকে ডাকিয়া সমস্ত বিদায় করিয়া দিয়া শৈলেশ পর্দ্দার বাহিরে একটা অত্যন্ত পরিচিত পদধ্বনির আশায় কান খাড়া করিয়া রাখিল। এবং না-খাওয়ার কৈফিয়ৎ যে একটু কড়া করিয়াই দিবে, এই মনে করিয়া সে ধীরে ধীরে অযথা দেরি করিয়া পেয়ালা যখন শেষ করিল, তখন চা ঠাণ্ডা এবং বিস্বাদ হইয়া গেছে; ফিরিয়া আসিয়া লোকটা শূন্য পেয়ালা তুলিয়া লইয়া গেল, কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত পায়ের শব্দ আর শোনা গেল না, ঊষা এ ঘরে প্রবেশ করিল না।
{{ফাঁক}}ক্রমে বেলা হইয়া উঠিল, স্নানাহার সারিয়া কলেজের জন্য প্রস্তুত হইতে হইবে। খাবার সময় আজও ঊষা অন্যান্য দিনের মত কাছে আসিয়া বসিল; তাহার আগ্রহ, যত্ন বা কথাবার্ত্তার মধ্যে কোন প্রভেদ বাড়ির কাহারও কাছে ধরা পড়িল না, পড়িল শুধু শৈলেশের কাছে। একটা রাত্রির মধ্যে একটা লোক যে বিনা চেষ্টায়, বিনা আড়ম্বরে কতদূরে সরিয়া যাইতে পারে, ইহাই উপলব্ধি করিয়া সে একেবারে স্তব্ধ হইয়া রহিল। কলেজ যাইবার পোষাক পরিতে এ ঘরে ঢুকিয়া এখন প্রথমেই তাহার চোখে পড়িল টেবিলের উপরে সংসার খরচের সেই ছোট্ট খাতাটি। হয় ত কাল হইতেই এমনি পড়িয়া আছে, সে লক্ষ্য করে নাই—না হইলে তাহারই জন্য ঊষা এইমাত্র রাখিয়া গেছে তাহা সম্ভবও নয়, সত্যও নয়। আজও ত মাস শেষ হয় নাই—অকস্মাৎ এখানে ইহার প্রয়োজন হইলই বা কিসে? তথাপি গলায় টাই বাঁধা তাহার অসমাপ্ত হইয়া রহিল, কতক কৌতূহলে, কতক অন্যমনস্কতাবশে একটি একটি করিয়া পাতা উল্টাইয়া একেবারে শেষ পাতায় আসিয়া থামিল। পাতায় পাতায় একই কথা—সেই মাছ, শাক, আলু, পটল, চালের বস্তা, দুধের দাম, চাকরের মাইনে—কাল পর্য্যন্ত জমা হইতে খরচ বাদ দিয়া মজুত টাকার অঙ্ক স্পষ্ট করিয়া লেখা। এই লেখা যেদিন আরম্ভ হয়, সেদিন সে এলাহাবাদে। তখনও তাহার হাত ছিল না, আর আজ এইখানেই যদি ইহার সমাপ্তি ঘটে তাহাতেও তেমনি হাত নাই। বহুক্ষণ পর্য্যন্ত প্রথম দিনের প্রথম পাতাটির প্রতি শৈলেশ নির্নিমেষ চক্ষে চাহিয়া রহিল। এই জিনিসটা সংসারে তাহার দুদিনের ব্যাপার। আগেও ছিল না, পরেও যদি না থাকে ত সংসার অচল হইয়া থাকিবে না—দুদিন পরে হয় ত সে নিজেই ভুলিবে। তবুও কত কি-ই না আজ মনে হয়। খাতাটা বন্ধ করিয়া দিয়া এই কথাটাই আজ তাহার পুনশ্চ টাই বাঁধার কাজে আপনাকে নিযুক্ত করিয়া হঠাৎ সব চেয়ে বড় করিয়া মনে হইতে লাগিল, এ জগতে কোন কিছুর মূল্যই একান্ত<noinclude></noinclude>
m9zndr1qva8z2e9ait878h9km05zfzr
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯৮
104
887676
2003588
2026-10-15T17:03:26Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003588
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮৪|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />করিয়া নির্দ্দেশ করা চলে না। এই খাতা, এই হিসাব লেখারই একদিন প্রয়োজনের অবধি ছিল না, আবার একদিন সেই সকলই না কতখানি অকিঞ্চিৎকর হইতে চলিল।
{{ফাঁক}}অবশেষে পোষাক পরিয়া শৈলেশ যখন বাহির হইয়া গেল, তখন সহস্র ইচ্ছা সত্ত্বেও সে উষাকে ডাকিয়া কোন কথাই জিজ্ঞাসা করিতে পারিল না। অপরিজ্ঞাত ভবিষ্যতের মধ্যে মন তাহার বারংবার আছাড় খাইয়া মরিতে লাগিল, তথাপি অনিশ্চিত দুর্ঘটনায় দৃঢ় করিয়া লইবার সাহসও সে নিজের মধ্যে কোনক্রমেই খুঁজিয়া বাহির করিতে পারিল না।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''১১'''}}
{{ফাঁক}}কলেজের ছুটির পরে শৈলেশ বাটী না ফিরিয়া সোজা বিভার বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইল। আসিয়া দেখিল, অনুমান তাহার নিতান্ত মিথ্যা হয় নাই। ভগিনীপতি আদালতে বাহির হন নাই, এবং ইতিমধ্যেই উভয়ের মধ্যে এক প্রকার রফা হইয়া গিয়াছে। দেখিয়া সে তৃপ্তি বোধ করিল। কহিল, কই সোমেনকে আনতে ত লোক পাঠালে না বিভা?
{{ফাঁক}}বিভা কি একটা বলিতে যাইতেছিল, ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, হাতি যে কিনছিল সে নেই।
{{ফাঁক}}তার মানে?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, তুমি গল্প শোন নি? কে একজন মাতাল নাকি নেশার ঝোঁকে রাজার হাতি কিনতে চেয়েছিল। পরদিন ধরে এনে এই বেয়াদপির কৈফিয়ৎ চাওয়ায় সে হাত জোড় করে বলেছিল, হাতিতে তার প্রয়োজন নেই, কারণ হাতির যে সত্যিকারের খরিদ্দার সে আর নেই, চলে গেছে। এই বলিয়া তিনি নিজের রসিকতায় হাসিতে লাগিলেন, এবং পরে হাসি থামিলে বলিলেন, এই গল্পটা শুনিয়ে বৌঠাকরুণকে রাগ করতে বারণ করো শৈলেশ, সত্যিকার খদ্দের আর নেই—সে চলে গেছে। মায়ের চেয়ে পিসির কাছে এসে যদি ছেলে মানুষ হয়, তার চেয়ে না হয় ধারধোর করে বিভাকে একটা হাতিই আমি কিনে দেব। এই বলিয়া তিনি বিভার অলক্ষ্যে মুখ টিপিয়া পুনরায় হাসিতে লাগিলেন।
{{ফাঁক}}কিন্তু সে হাসিতে শৈলেশ যোগ দিল না, এবং পাছে পরিহাসের সূত্র ধরিয়া বিভার সুপ্ত ক্রোধ উজ্জীবিত হইয়া উঠে, এই ভয়ে সে প্রাণপণে আপনাকে সংবরণ করিয়া নীরব হইয়া রহিল।
{{nop}}<section end="B" /><noinclude></noinclude>
kkgvh1bzcrnvubu8zd1qsfg8j2e0brt
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৩৯৯
104
887677
2003589
2026-10-15T17:06:47Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003589
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮৫|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন লজ্জিত হইয়া কহিল, ব্যাপার কি শৈলেশ?
{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, বিভার কথায় সোমেনের সম্বন্ধে আমি অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম, কিন্তু সে যখন হবে না, তখন আবার কোন একটা নূতন ব্যবস্থা আমাকে করতেই হবে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, অর্থাৎ ডাইনির হাতে ছেলে বিশ্বাস করা যায় না—না?
{{ফাঁক}}শৈলেশ বলিল, এই কটূক্তির জবাব না দিয়েও এ কথা বলা যেতে পারে যে, ঊষা শীঘ্রই চলে যাচ্চেন।
{{ফাঁক}}চলে যাচ্চেন? কোথায়?
{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, যেখান থেকে এসেছিলেন—তাঁর দাদার বাড়িতে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহনের মুখের ভাব অত্যন্ত গম্ভীর হইয়া উঠিল, তিনি স্ত্রীর মুখের প্রতি কটাক্ষে চাহিয়া কহিলেন, আমি এই রকমই কতকটা ভয় করেছিলাম শৈলেশ।
{{ফাঁক}}বিভা এতক্ষণ পর্য্যন্ত একটা কথাও কহে নাই, স্বামীর সুপরিচিত কণ্ঠস্বরের অর্থ সে বুঝিল, কিন্তু মুখ ফিরাইয়া সহজ গলায় জিজ্ঞাসা করিল, দাদা, আমাকে নিমিত্ত করেই কি তুমি এই ব্যবস্থা করতে যাচ্ছো? তা যদি হয়, আমি নিষেধ করব না, কিন্তু একদিন তোমাদের দুজনকেই কাঁদতে হবে বলে দিচ্চি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ ঘাড় নাড়িয়া জানাইল, না। তাহার পরে সে মুসলমান ভৃত্য রাখা হইতে আরম্ভ করিয়া আজ সকালের সেই খাতাটার কথা পর্য্যন্ত আনুপূর্ব্বিক সমস্তই বিবৃত করিয়া কহিল, যেতে আমি বলি নি, কিন্তু যেতে বাধাও আমি দেব না। আত্মীয়-বন্ধু মহলে একটা আলোচনা উঠবে এবং তাতে যশ আমার বাড়বে না তাও নিশ্চয় জানি, কিন্তু প্রকাণ্ড ভুলের একটা সংশোধন হ’য়ে গেল, তার জন্যে ভগবানকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ দেব।
{{ফাঁক}}বিভা মুখ বুজিয়া চুপ করিয়া বসিয়া রহিল, ক্ষেত্রমোহনও বহুক্ষণ পর্য্যন্ত কোনরূপ মন্তব্য ব্যক্ত করিলেন না। শৈলেশ কহিল, তোমাদের কাছে সমস্ত জানানো কর্ত্তব্য বলেই আজ আমি এসেছি। অন্ততঃ তোমরা না আমাকে ভুল কর।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন সজোরে মাথা নাড়িয়া বলিলেন, না না, তার সাধ্য কি। হাঁ হে শৈলেশ, ভবানীপুরে সেই যে একবার একটা কথাবার্ত্তা হয়েছিল, ইতিমধ্যে তাঁরা আর কেউ খবর-টবর নিয়েছিলেন কি?
{{ফাঁক}}শৈলেশ অসহিষ্ণু হইয়া বলিল, তোমার ইঙ্গিত এত অভদ্র এবং হীন যে, আপনাকে সামলানো শক্ত। তোমাকে কেবল এই বলেই ক্ষমা করা যায় যে, কোথায় আঘাত করচ তুমি জানো না। এই বলিয়া সে ভিতরের উত্তাপে একবার নড়িয়া-চড়িয়া আবার সোজা হইয়া বসিল।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
5vqbqo0x7ctqwky28ch7oti1kcjmsiw
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০০
104
887678
2003590
2026-10-15T17:12:07Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003590
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮৬|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া অবিচলিতভাবে এবং অত্যন্ত সহজে স্বীকার করিয়া লইয়া কহিলেন, সে ঠিক। জায়গাটা যে তোমার কোথায় আমি ঠাওর করতে পারি নি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ নিরতিশয় বিদ্ধ হইয়া বলিল, নিজের স্ত্রীর সঙ্গেই সেদিন যে ব্যবহার করলে, তাতে আমি আর তোমার কাছে কি বেশি প্রত্যাশা করতে পারি! তোমার দম্ভে ঘা লাগবে ব’লেই কখনো কিছু বলি নি, কিন্তু বহুপূর্ব্বেই বোধ করি বলা উচিত ছিল।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন মুচকিয়া একটুখানি হাসিয়া কহিলেন, তাইত হে শৈলেশ, it reminds; স্ত্রীর প্রতি ব্যবহার! ওটা আজও ঠিক শিখে উঠতে পারি নি, শেখবার বয়সও উত্তীর্ণ হ’য়ে গেছে—কিন্তু তুমি যদি এ সম্বন্ধে একটা বই লিখে যেতে পারতে ভাই—আচ্ছা, তোমরা ভাই-বোনে ততক্ষণ নিরিবিলি একটু পরামর্শ কর, আমি এলাম ব’লে। এই বলিয়া তিনি হঠাৎ উঠিয়া দাঁড়াইয়াই দ্রুতপদে বাহির হইয়া গেলেন।
{{ফাঁক}}শৈলেশ চেঁচাইয়া বলিল, বই লিখতে হয় ত দেরি হ’তেও পারে, কিন্তু ততক্ষণ শুনে যাও, ওই যে তুমি ভবানীপুরের উল্লেখ করে বিদ্রূপ করলে, তাঁরা কেউ আমার খবর নিন বা না নিন আমাকে উদ্যোগী হ’য়ে নিতে হবে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন দ্বারের বাহির হইতে শুধু জবাব দিলেন, নিশ্চয় হবে। এমনিই ত অযথা বিলম্ব হ’য়ে গেছে।
{{ফাঁক}}পরদিন সকালেই আসিয়া ক্ষেত্রমোহন পটলডাঙ্গার বাড়িতে দেখা দিলেন। শৈলেশ স্নান করিবার উদ্যোগ করিতেছিল, অকস্মাৎ অসময়ে ভগিনীপতিকে দেখিয়া অত্যন্ত বিস্মিত হইল। কালকের অত্যন্ত অপ্রীতিকর ব্যাপারের পরে অযাচিত ও এত শীঘ্র ইঁহাকে সে আশা করে নাই। মনে মনে কতকটা লজ্জাবোধ করিয়া কহিল, আজ কি হাইকোর্ট বন্ধ না কি?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন সহাস্যে বলিলেন, প্রশ্ন বাহুল্য।
{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, তবে প্র্যাক্টিশ ছেড়ে দিলে না কি?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, ততোধিক বাহুল্য।
{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, বোধ করি আমিও বাহুল্য! আমার স্নানের সময় হয়েছে, তাতে বোধ করি তোমার আপত্তি হবে না?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন জবাব দিলেন, তুমি যেতে পারো।
{{ফাঁক}}বৌঠাকরুণ, আসতে পারি?
{{ফাঁক}}পূজার ঘর এ গৃহে ছিল না। শোবার ঘরের একধারে আসন পাতিয়া ঊষা<noinclude></noinclude>
3oq721r11rjfmmcyald06668cwrbzpn
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০১
104
887679
2003591
2026-10-15T17:15:40Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003591
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮৭|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>আহ্নিকে বসিবার আয়োজন করিতেছিল; কণ্ঠস্বরে চিনিতে পারিয়া ভিজা চুলের উপর অঞ্চল টানিয়া দিয়া আহ্বান করিল, আসুন।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন ঘরে ঢুকিয়াই অপ্রতিভ হইলেন। বলিলেন, অসময়ে এসে অত্যাচার করলুম। হঠাৎ বাপের বাড়ি যাবার খেয়াল হয়েছে না কি? বাবা কি পীড়িত?
{{ফাঁক}}ঊষা কহিল, বাবা বেঁচে নেই।
{{ফাঁক}}ওঃ—তা হলে মার অসুখ না কি?
{{ফাঁক}}ঊষা বলিল, তিনি বাবার পূর্ব্বেই গেছেন।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন ভয়ানক বিস্ময় প্রকাশ করিয়া কহিলেন, তা হ’লে যাচ্ছেন কোথায়? আছে কে? এমন জায়গায় ত কোনমতেই যাওয়া হ’তে পারে না! শৈলেশের কথা ছেড়ে দিন, আমরাই ত রাজি হ’তে পারি নে।
{{ফাঁক}}ঊষা মুখ নীচু করিয়া মৃদু হাসিয়া কহিল, পারবেন না?
{{ফাঁক}}না, কিছুতেই না।
{{ফাঁক}}কিন্তু এতকাল ত আমার সেই দাদার বাড়িতেই কেটে গেছে ক্ষেত্রবাবু। অচল হয়ে ত ছিল না।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রবাবু কহিলেন, যদি নিতান্তই যান, ফিরতে ক’দিন দেরি হবে তা সত্যি ক’রে বলে যান। না হ’লে কিছুতেই যেতে পাবেন না।
{{ফাঁক}}ঊষা নীরব হইয়া রহিল। ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, কিন্তু সোমেন?
{{ফাঁক}}ঊষা কহিল, তার পিসি আছেন।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন হঠাৎ হাত জোড় করিয়া কহিলেন, সে আমার স্ত্রী। আমি তার হ’য়ে ক্ষমা ভিক্ষা চাই।
{{ফাঁক}}ঊষা মৌন হইয়া রহিল।
{{ফাঁক}}পারবেন না ক্ষমা করতে?
{{ফাঁক}}ঊষা তেমনি নীরবে অধোমুখে বসিয়া রহিল। কিছুক্ষণ পর্য্যন্ত উত্তরের জন্য অপেক্ষা করিয়া ক্ষেত্রমোহন নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে ধীরে বলিলেন, জগতে অপরাধ যখন আছে, তখন তার দুঃখভোগও আছে এবং থাকবারই কথা। কিন্তু এর বিচার নেই কেন বলতে পারেন?
{{ফাঁক}}ঊষা কহিল, অর্থাৎ একজনের অপরাধের শাস্তি আর একজনকে পোহাতে হয় কেন? হয় এইমাত্রই জানি, কিন্তু কেন, তা আমি জানি নে ক্ষেত্রমোহনবাবু।
{{ফাঁক}}কবে যাবেন?
{{ফাঁক}}দাদা নিতে এলেই। কালও আসতে পারেন।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
krx777pcamnr8cejzgdwo1a0nyvs69x
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০২
104
887680
2003592
2026-10-15T17:19:12Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003592
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮৮|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহনবাবু ক্ষণকাল নিঃশব্দে থাকিয়া বলিলেন, একটা কথা আপনাকে কোনদিন জানাবো না ভেবেছিলাম, কিন্তু আজ মনে হচ্চে, গোপন রাখলে আমার অপরাধ হবে। আপনার আসবার পূর্ব্বে এ-বাড়িতে আর একজনের আসবার সম্ভাবনা হয়েছিল। মনে হয় সে ষড়যন্ত্র একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায় নি।
{{ফাঁক}}ঊষা কহিল, আমি জানি।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, তা হ’লে রাগ ক’রে সেই ষড়যন্ত্রটাই কী অবশেষে জয়ী হ’তে দেবেন? এতেই কি—
{{ফাঁক}}কথা শেষ হইতে পাইল না। ঊষা শান্ত-দৃঢ়কণ্ঠে কহিল, জয়ী হোক পরাস্ত হোক, ক্ষেত্রমোহনবাবু, আমাকে আপনি ক্ষমা করুন—এই বলিয়া ঊষা দুই হাত যুক্ত করিয়া এতক্ষণ পরে ক্ষেত্রমোহনের মুখের প্রতি চোখ তুলিয়া চাহিল।
{{ফাঁক}}সেই দৃষ্টির সম্মুখে ক্ষেত্রমোহন নির্ব্বাক্ হইয়া চাহিয়া রহিল।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''১২'''}}
{{ফাঁক}}স্ত্রীর সহিত বাক্যালাপ শৈলেশ বন্ধ করিল, কিন্তু ঊষা করিল না। তাহার আচরণে লেশমাত্র পরিবর্ত্তন নাই—সাংসারিক যাবতীয় কাজ-কর্ম্ম ঠিক তেমনিই সে করিয়া যাইতেছে। মুখ ফুটিয়া শৈলেশ কিছুই জিজ্ঞাসা করিতে পারে না, অথচ সব চেয়ে মুস্কিল হইল তাহার এই কথা ভাবিয়া, এ গৃহ যে লোক চিরদিনের মত ত্যাগ করিয়া যাইতেছে সেই গৃহের প্রতি তাহার এতখানি মমতা-বোধ রহিল কি করিয়া? আজ সকালেই তাহার কানে গিয়াছে, দেয়ালের গায়ে হাত মুছিবার অপরাধে ঊষা নূতন ভৃত্যটাকে তিরস্কার করিতেছে। অভ্যাসমত কাজে ভুল-ভ্রান্তি তাহার না-ই যদি বা হয়, কিন্তু সর্ব্বত্রই তাহার সতর্ক দৃষ্টিতে এতটুকু শিথিলতাও যে শৈলেশের চোখে পড়ে না। উষাকে ভাল করিয়া জানিবার তাহার সময় হয় নাই, তাহাকে সে সামান্যই জানিয়াছে, কিন্তু সেইটুকু জানার মধ্যেই কিন্তু এটুকু জানা তাহার হইয়া গেছে যে, যাবার সঙ্কল্প তাহার বিচলিত হইবে না। অথচ সাধারণ মানব-চরিত্রের যতটুকু অভিজ্ঞতা এ-বয়সে তাহার সঞ্চিত হইয়াছে, তাহার সহিত প্রকাণ্ড গরমিল যেন এক চক্ষে হাসি ও অপর চক্ষে অশ্রুপাত করিয়া তাহার মনটাকে লইয়া অবিশ্রাম নাগর-দোলায় পাক খাওয়াইয়া মারিতেছে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন আসিয়া একেবারে সোজা রান্নাঘরের দরজায় গিয়া দেখা দিলেন, কহিলেন, প্রসাদ পাবার আর বিলম্ব কত বৌঠাকরুণ?
{{ফাঁক}}ঊষা মাথার কাপড়টা আরও একটুখানি টানিয়া দিয়া হাসিমুখে কহিল, সে<section end="B" /><noinclude></noinclude>
pblh9xpfdhfzy5dl7sygnoceq7d4yan
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০৩
104
887681
2003593
2026-10-15T17:22:30Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003593
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৮৯|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কথা আপনার বড়-কুটুম্বটিকে জিজ্ঞাসা ক’রে আসুন, নইলে আমার সব হয়ে গেছে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, ঠকবার পাত্রীই আপনি ন’ন, কিন্তু ঠকে গেলাম আমি নিজে। রান্নার বহর দেখে এই ভরা-পেটেও লোভ হয় বৌঠাকরুণ, কিন্তু অসুখের ভয় করে। তবে নেমন্তন্ন ক্যান্সেল করলে চলবে না, আর একদিন এসে খেয়ে যাবো।
{{ফাঁক}}ঊষা চুপ করিয়া রহিল। ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, আপনার ছেলেটি কই?
{{ফাঁক}}ঊষা কহিল, আজ কি যে তার মাথায় খেয়াল এলো কিছুতেই ইস্কুলে যাবে না। কোনমতে দুটি খাইয়ে এইমাত্র পাঠিয়ে দিলাম।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, আপনাকে সে বড্ড ভালবাসে। একটুখানি হাসিয়া কহিলেন, ভাল কথা, আপনার সেই বাপের বাড়ি যাবার প্রস্তাবটার কি হ’ল? বাস্তবিক বৌঠাকরুণ, রাগের মাথায় আপনার মুখ দিয়েও যদি বে-ফাঁস কথা বার হয় ত ভরসা করবার সংসারে আর কিছু থাকে না।
{{ফাঁক}}ঊষা এ অভিযোগের উত্তর দিল না, নতমুখে নীরব হইয়া রহিল। তথা হইতে বাহির হইয়া ক্ষেত্রমোহন শৈলেশের পড়ার ঘরে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। শৈলেশ স্নানান্তে আয়নার সুমুখে দাড়াইয়া মাথা আঁচড়াইতেছিল, মুখ ফিরিয়া চাহিল।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন জিজ্ঞাসা করিলেন, কলেজ আজ বন্ধ না কি হে?
{{ফাঁক}}না। তবে প্রথম দুঘণ্টা ক্লাস নেই।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, আছো বেশ। কিন্তু বৌঠাকরুণের বাপের বাড়ি যাবার আয়োজন কিরূপ করলে?
{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, আয়োজন যা করবার তিনি গেলে তবে করব। শুনচি কাল তাঁর দাদা এসে নিয়ে যাবেন।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, তুমি একটি ইডিয়ট্। ও স্ত্রী নিয়ে তুমি পেরে উঠবে না ভাই, তার চেয়ে বরঞ্চ বদলাবদলি করে নাও, তুমিও সুখে থাকো, আমিও সুখে থাকি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া কহিল, বয়েস ত ঢের হ’ল ক্ষেত্র, এইবার এই অভদ্র রসিকতাগুলো ত্যাগ কর না!
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, ত্যাগ কি সাধে করতে পারি নে ভাই, তোমাদের ব্যবহারে পারি নে। তিনি অত্যন্ত ব্যথা পেয়ে বললেন, বাপের বাড়ি চলে যাবো; তুমি অমনি জবাব দিলে, যাবে যাও—আমার ভবানীপুর এখনো হাত ছাড়া হয় নি। এই সমস্ত কি ব্যবহার? ভাই-বোন একেবারে এক ছাঁচে ঢালা। যাক, আমি সব ভেস্তে দিয়ে এসেছি, যাওয়া-টাওয়া তাঁর হবে না। তুমি কিন্তু আর খুঁচিয়ে ঘা<noinclude></noinclude>
ot0jrr43y4vm8mesus58wu6r19m7p6k
সংকলিতা (প্রথম ভাগ)/জলযাত্রা
0
887682
2003599
2026-10-16T03:22:07Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf" from=28 to=30 fromsection=B header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003599
wikitext
text/x-wiki
<pages index="সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf" from=28 to=30 fromsection=B header=1/>
baiv9zyy6rxeyka2phdk8sxfzika7v0
সংকলিতা (প্রথম ভাগ)/সুখদুঃখ
0
887683
2003603
2026-10-16T04:05:28Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf" from=31 to=31 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003603
wikitext
text/x-wiki
<pages index="সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf" from=31 to=31 header=1/>
5eyompzd5uh8vjd791ypsyh1gk30umk
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৬
0
887685
2003609
2026-10-16T05:19:40Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=380 to=384 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003609
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=380 to=384 fromsection=B tosection=A header=1/>
r72pxhc0dgmyhe6ocjarkb80s849npt
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৭
0
887686
2003610
2026-10-16T05:20:50Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=384 to=387 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003610
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=384 to=387 fromsection=B tosection=A header=1/>
gxppcaquikspcx055f0yukok68t2wxn
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৮
0
887687
2003611
2026-10-16T05:21:58Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=387 to=392 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003611
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=387 to=392 fromsection=B tosection=A header=1/>
toqpm239c9d648x6ox6cisp3ttzgxad
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৯
0
887688
2003612
2026-10-16T05:23:24Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=392 to=395 fromsection=B header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003612
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=392 to=395 fromsection=B header=1/>
lrral8k4urt7kwmuasp45top7unbacx
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১০
0
887689
2003613
2026-10-16T05:24:33Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=396 to=398 tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003613
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=396 to=398 tosection=A header=1/>
pxgjkffxa1iuucd1urqyc50gn1z1l9g
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১১
0
887690
2003614
2026-10-16T05:25:49Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=398 to=402 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003614
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=398 to=402 fromsection=B tosection=A header=1/>
eedo5iqih07zu81qcewxfxw0w7648np
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০৪
104
887691
2003615
2026-10-16T05:29:40Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003615
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯০|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />করো না। হঠাৎ ঘড়ির দিকে চাহিয়া চমকিয়া উঠিলেন, উঃ—ভারি বেলা হ’য়ে গেল, এখন চললুম, কাল সকালেই আসবো। ফিরিতে উদ্যত হইয়া সহসা গলা খাটো করিয়া কহিলেন, দিন-কতক একটু বনিয়ে চল না শৈলেশ! অধ্যাপকের ঘরের মেয়ে, অনাচার সহ্য করতে পারেন না, খানাটানাগুলো দুদিন না-ই খেলে! তা ছাড়া, এসব ভালও ত নয়—খরচের দিকটাতেই চেয়ে দেখ না! আচ্ছা, চললুম ভাই, এই বলিয়া উত্তরের প্রত্যাশা না করিয়াই দ্রুতপদে বাহির হইয়া গেলেন।
{{ফাঁক}}শৈলেশ কিছুক্ষণ ধরিয়া স্তব্ধ হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল। ক্ষেত্রমোহন কখন আসিল, কি বলিয়া, কি করিয়া হঠাৎ সমস্ত ব্যাপার উল্টাইয়া দিয়া গেল, সে ভাবিয়াই পাইল না।
{{ফাঁক}}বেহারা আসিয়া সংবাদ দিল খাবার দেওয়া হইয়াছে। উত্তরের ঢাকা বারান্দায় যথানিয়মে আসন পাতিয়া ঠাঁই করা। প্রতিদিনের মত বহুবিধ অন্ন-ব্যঞ্জন পরিবেশন করিয়া অদূরে ঊষা বসিয়া আছে, শৈলেশ ঘাড় গুঁজিয়া খাইতে বসিয়া গেল। অনেকবার তাহার ইচ্ছা হইল, ক্ষেত্রর কথাটা মুখো-মুখি যাচাই করিয়া লইয়া সময়োচিত মিষ্ট দুটো কথা বলিয়া যায়, কিন্তু কিছুতেই মুখ তুলিতে পারিল না, কিছুতেই এ কথা জিজ্ঞাসা করিতে পারিল না, এমন কি সোমেনের ছুতা করিয়াও আলোচনা আরম্ভ করিতে পারিল না। অবশেষে খাওয়া সমাধা হইলে নিঃশব্দে উঠিয়া চলিয়া গেল।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''১৩'''}}
{{ফাঁক}}পরদিন সকালে অবিনাশ আসিয়া উপস্থিত হইল। শৈলেশ সেইমাত্র হাত-মুখ ধুইয়া পড়িবার ঘরে চা খাইতে যাইতেছিল, বাড়ির মধ্যে এই অপরিচিত লোকটিকে দেখিয়াই তাহার বুকের মধ্যে ছাঁৎ করিয়া উঠিল। জিজ্ঞাসা করিল, আপনি কে? আগন্তুক ঊষার ছোট ভাই। সে আপনার পরিচয় দিয়া কহিল, দাদা নিজে আসতে পারলেন না, দিদিকে নিয়ে যাবার জন্যে আমাকে পাঠিয়ে দিলেন।
{{ফাঁক}}বেশ ত নিয়ে যান। এই বলিয়া শৈলেশ তাহার ঘরে গিয়া প্রবেশ করিল। তথায় প্রাতরাশের সর্ব্ববিধ সরঞ্জাম টেবিলে সজ্জিত ছিল, কিন্তু কেবলমাত্র একবাটি চা ঢালিয়া লইয়া সে নিজের আরাম-কেদারায় আসিয়া উপবেশন করিল, অবশিষ্ট সমস্তই পড়িয়া রহিল, তাহার স্পর্শ করিবারও রুচি হইল না। ঊষার পিতৃগৃহ হইতে কেহ আসিয়া তাহাকে লইয়া যাইবার কথা। এ দিক দিয়া অবিনাশকে দেখিয়া তাহার চমকাইবার কিছু ছিল না, এবং আসিয়াছে বলিয়াই যে অপরকে যাইতেই<section end="B" /><noinclude></noinclude>
is22k6e0ver2yd7km41912tfuqwmc3c
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০৫
104
887692
2003616
2026-10-16T05:32:36Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003616
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯১|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>হইবে এমনও কিছু নয়—হয় ত শেষ পর্য্যন্ত যাওয়াই হইবে না—কিন্তু নিশ্চয় একটা কিছু এ বিষয়ে না জানা পর্য্যন্ত দেহ-মন তাহার কি রকম যে করিতে লাগিল তাহার উপমা নাই। আজ সকালবেলাতেই ক্ষেত্রমোহনের আসিবার কথা, কিন্তু সে ভুলিয়াই গেল, কিংবা কোন একটা কাজে আবদ্ধ হইয়া রহিল, সহসা এই আশঙ্কাই যেন তাহার সকল আশঙ্কাকে অতিক্রম করিয়া যাইতে চাহিল। সে আসিয়া পড়িলে যা হোক একটা মীমাংসা হইয়া যায়। এইটাই তাহার একান্ত প্রয়োজন। অধৈর্য্যের উত্তেজনায় তাহার কেবলই ভয় করিতে লাগিল পাছে আপনাকে আর সে ধরিয়া না রাখিতে পারে, পাছে নিজেই ছুটিয়া গিয়া ঊষাকে জিজ্ঞাসা করিয়া ফেলে, কাল ক্ষেত্রমোহনের সহিত তাহার কি কথা হইয়াছে। শৈলেশ নিজেকে যেন আর বিশ্বাস করিতে পারিতেছিল না। এমনি করিয়া ঘড়ির প্রতি চাহিয়া চাহিয়া সময় যখন আর কাটে না, এমনি সময়ে দ্বারের ভারি পর্দ্দা সরাইয়া যে ব্যক্তি সহসা প্রবেশ করিল সে একান্ত প্রত্যাশিত ক্ষেত্রমোহন নয়—অবিনাশ। শৈলেশ মুখ তুলিয়া চাহিয়া দেখিয়া একখানা বই টানিয়া লইল। তাহার সর্ব্বদেহে যেন আগুন ছড়াইয়া দিল।
{{ফাঁক}}অবিনাশ বসিতে যাইতেছিল, কিন্তু খাদ্যদ্রব্যগুলার প্রতি চোখ পড়িতে ও-ধারের একখানা চেয়ার আরও খানিকটা দূরে টানিয়া লইয়া উপবেশন করিল। গৃহস্বামী অভ্যর্থনা করিবে এ ভরসা বোধ করি তাহার ছিল না, কিন্তু ঘরে ঢোকার একটা কারণ পর্য্যন্তও যখন সে জিজ্ঞাসা করিল না, তখন অবিনাশ নিজেই কথা কহিল। বলিল, এই আড়াইটার গাড়ীতেই ত দিদি যেতে চাচ্চেন।
{{ফাঁক}}শৈলেশ মুখ তুলিয়া কহিল, চাচ্ছেন? কেন, আমার পক্ষ থেকে কি তিনি বাধা পাবার আশঙ্কা করচেন?
{{ফাঁক}}অবিনাশ ছেলেমানুষ, সে হঠাৎ কি জবাব দিবে ভাবিয়া না পাইয়া শুধু কহিল, আজ্ঞে না।
{{ফাঁক}}দরজার বাহিরে চুড়ির শব্দ পাইয়া শৈলেশের মন আরও বাঁকিয়া গেল। বলিল, না, আমার তরফ থেকে তাঁর যাবার কোন নিষেধ নেই।
{{ফাঁক}}অবিনাশ নীরব হইয়া রহিল। শৈলেশ প্রশ্ন করিল, তোমার দাদার আসবার কথা ছিল শুনেছিলুম, তিনি এলেন না কেন?
{{ফাঁক}}অবিনাশ সঙ্কুচিতভাবে আস্তে আস্তে বলিল, তাঁর আমাকে পাঠাবারও তেমন ইচ্ছে ছিল না।
{{ফাঁক}}কেন?
{{ফাঁক}}অবিনাশ চুপ করিয়া রহিল।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
tnvf8vsjzjomd2b7wjb0jm9m1f01osj
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০৬
104
887693
2003617
2026-10-16T05:36:09Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003617
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯২|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}শৈলেশ কহিল, তুমি ছেলেমানুষ, তোমাকে সব কথা বলাও যায় না, বলে লাভও নেই। তবে তোমার দাদা যদি কখনো জানতে চান ত ব’লো যে, এ ব্যাপারে ঊষার দোষ নেই, দোষ কিংবা ভুল যদি কারও হয়ে থাকে ত সে আমার। তাঁকে আনতে পাঠানোই আমার উচিত হয় নি।
{{ফাঁক}}একটু স্থির থাকিয়া পুনশ্চ কহিতে লাগিল, মনে হ’তো বাবা অন্যায় করে গেছেন। দীর্ঘকাল পরে অবস্থাবশে যখন সময় এলো, ভাবলুম এবার তার প্রতিকার হবে। তোমার দিদি এলেন বটে, কিন্তু এক দোষ শত দোষ হয়ে দেখা দিল।
{{ফাঁক}}ইহার আর উত্তর কি! অবিনাশ মৌন হইয়া রহিল, এবং এমনি সময়ে সহসা অন্য দিকের দরজা ঠেলিয়া ঘরে ক্ষেত্রমোহন প্রবেশ করিলেন। শৈলেশ চাহিয়া দেখিল, কিন্তু থামিতে পারিল না। কঠিন বাক্যের স্বভাবই এই যে, সে নিজের ভারেই নিজে কঠিনতর হইয়া উঠিতে থাকে। ঊষা অন্তরালে দাঁড়াইয়া; অভ্রান্তলক্ষ্যে তাহাকে নিরন্তর বিদ্ধ করিবার নির্দ্দয় উত্তেজনায় জ্ঞানশূন্য হইয়া শৈলেশ বলিতে লাগিল, তোমার ভগিনীকে একদিন বিবাহ করেছিলুম সত্য, কিন্তু সহধর্ম্মিণী তাঁকে কোনমতেই বলা চলে না। আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা সমাজ-ধর্ম্ম কিছুই এক নয়—জোর করে তাঁকে গৃহে রাখতে নিজের বাড়িটাকে যদি স্মৃতিশাস্ত্রের টোল বানিয়েও তুলি, কিন্তু আমার একমাত্র ছোট বোন দুঃখে ক্ষোভে পর হয়ে যায়, একটিমাত্র ছেলে কুশিক্ষায় কুদৃষ্টান্তে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এ ত কোনক্রমেই আমি হতে দিতে পারি নে। তবে তাঁর কাছে আমি এই জন্যে কৃতজ্ঞ যে, মুখ-ফুটে আমি যা বলতে পারছিলুম না, তিনি নিজে থেকে সেই দুরূহ কর্ত্তব্যটাই আমার সম্পন্ন করে দিলেন।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বিস্ময়ে বাক্শূন্য হইয়া চাহিয়া রহিলেন। শৈলেশ লাজুক দুর্ব্বল স্বভাবের লোক, ভয়ঙ্কর কিছু উচ্চারণ করা তাহার একান্তই প্রকৃতি-বিরুদ্ধ। কিন্তু উন্মাদের মত সে এ কি করিতেছে! উষার ছোট ভাই লইতে আসিয়াছে এ সংবাদ তিনি ইতিপূর্ব্বেই পাইয়াছিলেন, অতএব অপরিচিত লোকটি যে সে-ই তাহাতে সন্দেহ নাই—তাহারই সম্মুখে এ সব কি! ক্ষেত্রমোহন ব্যগ্র-অনুনয়ে হাত দুটি প্রায় জোড় করিয়াই বলিয়া উঠিলেন, দেখবেন, আপনার দিদিকে যেন এসব ঘুণাগ্রেও জানাবেন না। অপরিচিত ছেলেটি দ্বারের প্রতি অঙ্গুলি নির্দ্দেশ করিয়া ঘাড় নাড়িয়া কহিল, আমাকে কিছুই জানাতে হবে না, বাইরে দাঁড়িয়ে দিদি নিজের কানেই সমস্ত শুনতে পাচ্চেন।
{{ফাঁক}}বাইরে দাঁড়িয়ে? ওইখানে?
{{nop}}<noinclude></noinclude>
nvljh25cmdi81iaqds9nfhtuj1yzyg0
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০৭
104
887694
2003618
2026-10-16T05:40:36Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003618
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯৩|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}প্রত্যুত্তরে ছেলেটি জবাব দিবার পূর্ব্বেই শৈলেশ স্পষ্ট করিয়া বলিল, হাঁ, আমি জানি ক্ষেত্র, তিনি ওইখানে দাঁড়িয়ে।
{{ফাঁক}}উত্তর শুনিয়া ক্ষেত্রমোহন স্তব্ধ বিবর্ণ হইয়া বসিয়া রহিলেন।
{{ফাঁক}}সেইদিন ঘণ্টা-দুই-তিন পরে ভগিনীকে লইয়া যখন অবিনাশ ষ্টেশন অভিমুখে রওনা হইল, তখন সোমেন তাহার পিসির বাড়িতে, তাহার পিতা কলেজ-গৃহে এবং ক্ষেত্রমোহন হাইকোর্টের বার-লাইব্রেরীতে বসিয়া।
{{ফাঁক}}পরদিন সকালে চায়ের টেবিলে বসিয়া বিভা স্বামীকে কটাক্ষ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, দাদা কি করচেন দেখলে?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, দেখলুম ত হাতে আছে একখানা বই, কিন্তু আসলে করছেন বোধ করি অনুশোচনা।
{{ফাঁক}}এ কাজটা তুমি কবে করবে?
{{ফাঁক}}কোন্টা? বই, না অনুশোচনা?
{{ফাঁক}}বিভা কহিল, বই তোমার হাতে আর মানাবে না, আমি শেষের কাজটাই বলচি।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন খোঁচা খাইয়া বলিলেন, ভাইকে ডেকে বাপের-বাড়ি চলে গেলেই বোধ হয় করতে পারি।
{{ফাঁক}}বিভার মন আজ প্রসন্ন ছিল, সে রাগ করিল না। কহিল, ও কাজটা আমি বোধ হয় পেরে উঠব না। কারণ হিঁদুয়ানীর জপ-তপ এবং ছুঁই-ছুঁই করার বিদ্যেটা ছেলেবেলা থেকেই শিখে ওঠবার সুবিধে পাই নি।
{{ফাঁক}}স্ত্রীর কথায় ক্ষেত্রমোহন আজকাল প্রায়ই অসহিষ্ণু হইয়া পড়িতেন, এখন কিন্তু ক্রোধ সংবরণ করিয়া সহজ কণ্ঠে বলিলেন, তোমার অতি বড় দুর্ভাগ্য যে, ও-সুযোগ তুমি পাও নি। পেলে হয় ত এত বড় বিড়ম্বনা তোমার দাদার অদৃষ্টে আজ ঘটত না। এই বলিয়া তিনি ঘর ছাড়িয়া বাহির হইয়া গেলেন।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''১৪'''}}
{{ফাঁক}}ভবানীপুরের সেই সুশিক্ষিতা পাত্রীটিকে পাত্রস্থ করিবার চেষ্টা পুনরায় আরম্ভ হইল, শুধু বিভা এবার স্বামীর আন্তরিক বিরাগের ভয়ে তাহাতে প্রকাশ্যে যোগ দিতে পারিল না, কিন্তু প্রচ্ছন্ন সহানুভূতি নানা প্রকারে দেখাইতে বিরত রহিল না। কন্যাপক্ষ হইতে অনুরুদ্ধ হইয়া ক্ষেত্রমোহন একদিন সোজা-সুজি প্রশ্ন করিলে শৈলেশ অস্বীকার করিয়া সহজভাবেই কহিল, জীবনের অধিকাংশই ত গত হয়ে গেল ক্ষেত্র, বাকি কটা দিনের জন্যে আর নতুন ঝঞ্ঝাট মাথায় নিতে ভরসা হয় না।<section end="B" /><noinclude></noinclude>
d6u3rvippu2gu91a3m23pg7icskd4ej
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০৮
104
887695
2003619
2026-10-16T05:43:28Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003619
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯৪|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>সোমেন আছে, বরঞ্চ আশীর্ব্বাদ কর তোমরা, সে বেঁচে থাক—এ সবে আমার আর কাজ নেই।
{{ফাঁক}}মানুষের অকপট কথাটা বুঝা যায়, ক্ষেত্রমোহন মনে মনে আজ বেদনা বোধ করিলেন। ইহার পর হইতে তিনি আদালতের ফেরত প্রায়ই আসিতে লাগিলেন।
{{ফাঁক}}গৃহে গৃহিণী নাই, সন্তান নাই, গোটা-তিনেক চাকরে মিলিয়া সংসার চালাইতেছে—দেখিতে দেখিতে সমস্ত বাড়িটা এমনি বিশৃঙ্খল ছন্নছাড়া মূর্ত্তি ধারণ করিল যে, ক্লেশ অনুভব না করিয়া পারা যায় না। প্রায় মাসাধিককাল পরে সে সেই কথারই পুনরুত্থাপন করিয়া কহিল, তুমি ত মনের ভাব আমার জান শৈলেশ, কিন্তু কেউ একজন বাড়িতে না থাকলে বাঁচা কঠিন। বিশেষ বুড়ো বয়সে—
{{ফাঁক}}উমা আজ উপস্থিত ছিল, সে বলিল, বয়সের এখনো ঢের দেরি এবং তার ঢের আগেই বৌদি এসে হাজির হবেন। রাগ করে মানুষে আর কতকাল বাপের বাড়ি থাকে? এই বলিয়া সে একবার দাদার মুখের প্রতি ও একবার শৈলেশের মুখের প্রতি চাহিল, কিন্তু দুজনের কেহই জবাব দিল না। বিশেষতঃ শৈলেশের মুখ যেন সহসা মেঘাচ্ছন্ন হইয়া উঠিল। কিন্তু উমা চাহিয়াই আছে দেখিয়া সে কিছুক্ষণ পরে শুধু ঘাড় নাড়িয়া কহিল, না, তিনি আর আসবেন না।
{{ফাঁক}}উমা অত্যন্ত অবিশ্বাসে জোর করিয়া বলিল, আসবেন না? নিশ্চয় আসবেন। হয় ত এই মাসের মধ্যেই এসে পড়তে পারেন। হাঁ দাদা, পারেন না?
{{ফাঁক}}ফিরিয়া আসা যে কত কঠিন দাদা তাহা জানিতেন। যাবার পূর্ব্বে শৈলেশের মুখের প্রত্যেক কথাটি তাঁহার বুকে গাঁথা হইয়াছিল, ঊষা কোনদিন যে সে সকল বিস্মৃত হইতে পারিবে, তিনি ভাবিতেও পারিতেন না। বধূর প্রতি শৈলেশের পিতা অপরিসীম অবিচার করিয়াছে; ফিরিয়া আসার পরে বিভা ঈর্ষাবশে বহুবিধ অপমান করিয়াছে এবং তাহার চূড়ান্ত করিয়াছে শৈলেশ নিজে তাহার যাবার দিনটিতে। তথাপি হিন্দু নারীর শিক্ষা ও সংস্কার, বিশেষ ঊষার মধুর চরিত্রের সহিত মিলাইয়া তাহার স্বামী-গৃহ ত্যাগ করিয়া যাওয়াটা ক্ষেত্রমোহন কিছুতেই অমুমোদন করিতে পারিতেন না। এই কথা মনে করিয়া তাঁহার যখনই কষ্ট হইত, তখনই এই বলিয়া তিনি আপনাকে আপনি সান্ত্বনা দিতেন যে, ঊষা নিজের প্রতি অনাদর অবহেলা সহিয়াছিল, কিন্তু স্বামী যখন তাহার ধর্ম্মাচরণে ঘা দিল, সে আঘাত সে সহিল না। বোধ করি এইজন্যই বহুদিন পরে একদিন যখন তাহার স্বামী-গৃহে ডাক পড়িল তখন এতটুকু দ্বিধা এতটুকু অভিমান করে নাই, নিঃশব্দে এবং নির্বিচারে ফিরিয়া আসিয়াছিল। হিন্দু-রমণীর এই ধর্ম্মাচরণ<noinclude></noinclude>
nvwqjgqkp3gomm1hmw1yv8aza1pch3c
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪০৯
104
887696
2003620
2026-10-16T05:46:19Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003620
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯৫|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>বস্তুটির সহিত সংস্কার-মুক্ত ও আলোক-প্রাপ্ত ক্ষেত্রমোহনের বিশেষ পরিচয় ছিল না; এখন নিজের বাড়ির সঙ্গে তুলনা করিয়া আর একজনের বিশ্বাসের দৃঢ়তা, আপনাকে বঞ্চিত করিবার শক্তি দেখিয়া তাঁহার নিজেদের সমস্ত সমাজটাকেই যেন ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ মনে হইত। তিনি মনে মনে বলিতেন, এতখানি সত্যকার তেজ ত আমাদের কোন মেয়ের মধ্যেই নাই। তাঁহার আশঙ্কা হইত, বুঝি এই সত্যকার ধর্ম্ম-বস্তুটাই তাহাদের মধ্য হইতে নির্ব্বাসিত হইয়া গেছে। যে বিশ্বাস আপনাকে পীড়িত করিতে পিছাইয়া দাঁড়ায় না, শ্রদ্ধার গভীরতা যাহার দুঃখ ও ত্যাগের মধ্যে দিয়া আপনাকে যাচাই করিয়া লয়, এ বিশ্বাস কই বিভার? কই উমার? আরও সে ত অনেককেই জানে, কিন্তু কোথায় ইহার তুলনা? ইহারই অনুভূতি একদিকে সঙ্কোচ ও আর একদিকে ভক্তিতে তাঁহার সমস্ত অন্তর যেন পরিপূর্ণ করিয়া দিতে থাকিত। কারণ, এই কয়টা দিনের মধ্যেই স্বামীকে যে ঊষা কতখানি ভালবাসিয়াছিল এ কথা ত তাঁহার অবিদিত ছিল না। আবার পরক্ষণেই যখন মনে হইত, সমস্ত ভাসিয়া গিয়া এত বড় কাণ্ড ঘটিল কিনা শুধু একজন মুসলমান ভৃত্য লইয়া—যে আচার সে পালন করে না, বাটীর মধ্যে তাহারই পুনঃপ্রচলন একেবারে তাহাকে বাড়িছাড়া করিয়া দিল। অপরে যাই কেন না করুক, কিন্তু বৌঠাকরুণকে স্মরণ করিয়া ইহারই সঙ্কীর্ণ তুচ্ছতায় এই লোকটি যেন একেবারে বিস্ময় ও ক্ষোভে অভিভূত হইয়া পড়িলেন।
{{ফাঁক}}উমা প্রশ্ন করিয়া মুখপানে চাহিয়াই ছিল, জবাব না পাইয়া আশ্চর্য্য হইয়া কহিল, হাঁ দাদা বললে না?
{{ফাঁক}}কি রে?
{{ফাঁক}}উমা কহিল, বেশ! আমি বলছিলুম বৌদি হয় ত এই মাসেই ফিরে আসতে পারেন। তোমার মনে হয় না দাদা?
{{ফাঁক}}ভগিনীর প্রশ্নটাকে এড়াইয়া গিয়া ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, যদি ধরাই যায় তিনি আসবেন না—বহুকাল তাঁর না এসেই কাটছিল, বাকিটাও না এসে কাটতে পারে, কিন্তু তাই বলে কি অন্য উপায় নেই? আমি সেই কথাই বলচি।
{{ফাঁক}}উমা ঠিক বুঝিল না, সে নিরুত্তরে চাহিয়া রহিল।
{{ফাঁক}}শৈলেশ তাহার বিস্মিত মুখের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া কহিল, তাঁর ফিরে আসা আমি সঙ্গত মনে করি নে উমা। তিনি আমার বিবাহিতা স্ত্রী, কিন্তু সহধর্ম্মিণী তাঁকে আমি বলতে পারি নে।
{{ফাঁক}}ঊষার বিরুদ্ধে এই অভদ্র ইঙ্গিতে ক্ষেত্রমোহন মনে মনে বিরক্ত হইলেন।<noinclude></noinclude>
swpaz0k259pwfra2xteyxa955q4v4js
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১০
104
887697
2003621
2026-10-16T05:51:20Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003621
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯৬|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />কহিলেন, ধর্ম্মই নেই আমাদের তা আবার সহধর্ম্মিণী! ওসব উচ্চাঙ্গের আলোচনায় কাজ নেই ভাই, আমি সংসার চালাবার মত একটা ব্যবস্থার প্রস্তাব করচি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ গভীর বিস্ময়ে কহিল, ধর্ম্ম নেই আমাদের?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, কোন্খানে আছে দেখাও? রোজগার করি, খাই-দাই থাকি, ব্যস্। আমাদের সহধর্ম্মিণী না হলেও চলে। তখনকার লোকের ছিল শ্রাদ্ধ-শান্তি, পূজো-পাঠ, ব্রত-নিয়ম—ধর্ম্ম নিয়েই তারা মেতে থাকত, তাদের ছিল সহধর্ম্মিণীর প্রয়োজন। আমাদের অত বায়নাক্কা কিসের?
{{ফাঁক}}শৈলেশ মর্ম্মাহত হইয়া কহিল, সহধর্ম্মিণী তাই? শ্রাদ্ধ-শান্তি, পূজো-পাঠ—
{{ফাঁক}}কথা তাহার শেষ হইল না, ক্ষেত্রমোহন বলিয়া উঠিলেন, তাই ভাই তাই, তা ছাড়া আর কিচ্ছু নয়। তুমিও হিঁদু, আমিও হিঁদু—without offence—পূজোও করি নে, মন্দিরেও যাই নে, কেষ্ট-বিষ্টুকে ধরে খোঁচাখুঁচি করার কুঅভ্যাসও আমাদের নেই—মেয়েরা ত আরও harmless, আমরা সহজ মানুষ—লোক ভাল। কি হবে ভাই আমাদের অত বড় পাঁচ-সাতটা অক্ষরের সহধর্ম্মিণী নিয়ে, ছোট্ট একটু স্ত্রী হলেই আমাদের খাসা চলে যাবে। তুমি ভাই দয়া করে একটু রাজী হও—ভবানীপুরের ওঁরা ভারি ধরেছেন—তোমার বোনটিরও ভয়ানক ইচ্ছে, কথাটা রাখো শৈলেশ।
{{ফাঁক}}শৈলেশ মুখ অন্ধকার করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইয়া কাহল, তুমি আমাকে বিদ্রূপ করচ ক্ষেত্র!
{{ফাঁক}}ব্যাপার দেখিয়া উমা শশব্যস্ত হইয়া উঠিল। ক্ষেত্রমোহন ভীত হইয়া বার বার করিয়া বলিতে লাগিলেন, না ভাই শৈলেশ, না। যদি ওরকম কিছু করেও থাকি, তোমার চেয়ে আমাকেই আমি বেশি করেছি।
{{ফাঁক}}শৈলেশ প্রতিবাদ করিল না, কেবল স্তব্ধ হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''১৫'''}}
{{ফাঁক}}কথাটাকে আর অধিক ঘাঁটাঘাঁটি না করিয়া ক্ষেত্রমোহন শৈলেশের ক্রোধ ও উত্তেজনাকে শান্ত হইবার পাঁচ-সাত দিন সময় দিয়া আর একদিন ফিরিয়া আসিয়া তখন ভবানীপুর সম্বন্ধে আলোচনা করিবেন, ইহাই স্থির করিয়া তিনি উমাকে সঙ্গে লইয়া বাড়ি চলিয়া গেলেন। কিন্তু সপ্তাহ গত না হইতেই ছাপরা-কোর্টে হঠাৎ একটা মোকদ্দমা পাওয়ায় তাঁহাকে কলিকাতা ছাড়িয়া যাইতে হইল। যাইবার পূর্ব্বে পাত্রী পক্ষ ও পাত্র-পক্ষের তরফে বিভাকে আশা দিয়া গেলেন যে, কেস যতটা<section end="B" /><noinclude></noinclude>
69boqw20rfx9pbxi1ljel3tdsdd5z7e
সংকলিতা (প্রথম ভাগ)/কাঙালিনী
0
887698
2003624
2026-10-16T05:54:41Z
Bodhisattwa
2549
"<pages index="সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf" from=32 to=35 tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003624
wikitext
text/x-wiki
<pages index="সংকলিতা (প্রথম ভাগ) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf" from=32 to=35 tosection=A header=1/>
hy8zuccx1hhlk3gxgrnnbk2k6cgj1ze
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১১
104
887699
2003625
2026-10-16T05:54:49Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003625
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯৭|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>হোপলেস মনে হইতেছে, বস্তুতঃ তাহা নয়। বরঞ্চ, মাছ চারের দিকেই ঝুঁকিয়াছে, হঠাৎ টোপ গিলিয়া ফেলা কিছুই বিচিত্র নয়।
{{ফাঁক}}অনেকদিন পরে স্ত্রীর সহিত আজ তাঁহার সদ্ভাবে বাক্যালাপ হইল। উমার মুখে বিভা কিছু কিছু ঘটনা শুনিয়াছিল, কহিল, আমি মনে করতুম ঊষাবৌদিদির তুমি পরম বন্ধু, তুমি যে আবার দাদার বিয়ের উদ্যোগ করিতে পারো, মাসখানেক আগে এ কথা আমি ভাবতেও পারতুম না।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, মাসখানেক পূর্ব্বে কি আমিই ভাবতে পারতুম? কিন্তু এখন শুধু ভাবা নয়, উচিত বলেই মনে হয়। ঊষা বৌঠাকরুণের বন্ধু আমি এখনও, এবং চিরদিন তাঁর শুভ কামনাই করব; কিন্তু যা হবার নয়, হয়ে লাভ নেই, তার জন্যে মাথা খুঁড়ে মরেই বা ফল কি!
{{ফাঁক}}বিভা অতিবিজ্ঞের চাপা-হাসি দ্বারা স্বামীকে বিদ্ধ করিয়া বলিল, তোমরা পুরুষমানুষ বলেই বোধ হয় বৌঠাকরুণটিকে বুঝতে এত দেরি হ’ল, আমি কিন্তু দেখবামাত্রই তাঁকে চিনেছিলুম। তাঁকে নিয়ে আমরা চলতে পারতুম না।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, সে ত চোখেই দেখতে পেলুম বিভা, তাঁকে সরে পড়তে হ’ল; এবং তাঁর সম্বন্ধে আমাদের মধ্যে যে বোঝবার পার্থক্য ঘটেছিল তাতেও সন্দেহ নেই। একটু অন্য রকমের হ’লে আজ জিনিসটা কি দাঁড়াত এখন সে আলোচনা বৃথা, তবে এ কথা তোমার মানি, ভুল আমার একটু হয়েছিল।
{{ফাঁক}}বিভা কহিল, যাক, তা হলেই হ’ল। জপ-তপ আর হিন্দুয়ানীর সুখ্যাতিতে হঠাৎ যে রকম মেতে উঠেছিলে, আমার ত ভয় হয়েছিল। আমরাও মুসলমান খৃষ্টান নই, কিন্তু নিজে ছাড়া সবাই ছোট, হাতে খেলে-ছুঁলেই জাত যাবে এ দর্প কেন? শুধু ভট্চায্যিগিরি ছাড়া আর সব রাস্তাই নরকে যাবার, এ ধারণা তাঁর বাপের বাড়িতে চলতে পারে, কিন্তু এখানে পারে না। আর পারে না বলেই ত স্বামীর আশ্রয়ে তাঁর স্থান হ’ল না।
{{ফাঁক}}কথাটা সত্যও নয়, মিথ্যাও নয়। এমন করিয়া সত্য-মিথ্যায় জড়ানো বলিয়া ক্ষেত্রমোহন নিঃশব্দে স্ত্রীর মুখের প্রতি চাহিয়া রহিলেন, জবাব দিতে পারিলেন না।
{{ফাঁক}}এই সময়ে উমা ঘরে ঢুকিয়া বিস্ময়াপন্ন হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, কি দাদা?
{{ফাঁক}}বিভা তাহার নিজের কথার সূত্র ধরিয়া কহিতে লাগিল, শুধু আপনার জাত বাঁচিয়ে যাওয়াটাই কি বৌদিদির সবচেয়ে বড় হ’ল? ধর, তোমার নালিশটা যদি সত্যি হয়, আমার জন্যে দাদা যদি তাঁকে অপমান করেই থাকেন, তেমনি অপমান কি তাঁর জন্যে তুমি আমাকে কর নি? তাই বলে কি তোমাকে ছেড়ে আমি বাপের বাড়ি চলে যাবো? এই কি তুমি বল?
{{nop}}<noinclude></noinclude>
h4lbh7ntv5jkjvccx99q51pslxp0ojn
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১২
104
887700
2003626
2026-10-16T05:58:45Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003626
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯৮|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, না, তা আমি বলি নে।
{{ফাঁক}}বিভা কহিল, বলতে পারো না আমি জানি। উমাকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, তোমার দাদা হঠাৎ একটা নতুন জিনিসের বাইরেটা দেখেই মজে গিয়েছিলেন। হিঁদুয়ানীর গোঁড়ামির শিক্ষা আমরা পাই নি, কিন্তু বাপ-মায়ের কাছে যা পেয়েছিলুম সে ঢের ভদ্র ঢের সত্য। একটু হাসিয়া কহিল, তোমার দাদার ভারি ইচ্ছে ছিল, বৌঠাকরুণের কাছে থেকে তুমি অনেক কিছু শেখো। বসে শোনবার এখন সময় নেই ভাই, কিন্তু কি কি তাঁর কাছে শিখলে আর কি-ই বা বাকি রয়ে গেল, তোমার দাদাকে না হয় শোনাও। এই বলিয়া সে মুখ টিপিয়া হাসিয়া বাহিরে চলিয়া গেল।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন চুপ করিয়া বসিয়া রহিলেন। ছোট ভগিনীর সম্মুখে স্ত্রীর হাতের খোঁচা তাঁহাকে বেশি করিয়াই বিঁধিল, কিন্তু জবাব দিতে পারিলেন না। হিঁদুয়ানীর অনেকখানি হইতেই তাহারা ভ্রষ্ট, কিন্তু মেয়েদের আচার-নিষ্ঠা, সাবেক দিনের জীবনযাত্রার ধারা কল্পনায় তাঁহাকে অতিশয় আকর্ষণ করিত। এইজন্যই চোখের উপরে অকস্মাৎ ঊষাকে পাইয়া তিনি মুগ্ধ হইয়া গিয়াছিলেন; তাহারই আচরণে আজ সকলের কাছে তাঁহার মাথা হেঁট হইয়া গেছে। এই বধূটিকেই কেন্দ্র করিয়া সে যে শিক্ষা ও সংস্কারের কথা আত্মীয়-পরিজনমধ্যে মেয়েদের কাছে সগর্ব্বে বার বার বলিত, সেইখানেই তাহার অত্যন্ত আঘাত লাগিয়াছে। নিজের জন্য উষা নিজেই শুধু দায়ী, তাহার অন্যায় আর কিছুই স্পর্শ করে নাই—করিতেই পারে না, এই কথাটা তিনি জোর দিয়া বলিতে চাহিলেও মুখে তাঁহার বাধিয়া যাইত। তাই স্ত্রী চলিয়া গেলে তিনি উমার কাছে কতকটা জবাব-দিহির মতই সন্দিগ্ধকণ্ঠে বলিতে লাগিলেন, গোঁড়ামি সকল জিনিসেরই মন্দ, এ আমি অস্বীকার করি নে উমা—হিঁদুয়ানীর এই গলদটাই ঘুচানো চাই—কিন্তু আমরা যে আরও মন্দ এ কথা অস্বীকার করলে ত আরও অন্যায় হবে।
{{ফাঁক}}দাদা ও বৌদিদির বাদ-বিতণ্ডার আলোচনায় উমা চিরদিনই মৌন হইয়া থাকিত, বিভার অনুপস্থিতেও তাই এখনও নিরুত্তরে বসিয়া রহিল।
{{ফাঁক}}{{SIC|তেই|সেই}} রাত্রে ছাপরা যাইবার পূর্ব্বে ক্ষেত্রমোহন বিভাকে ডাকিয়া কহিলেন, আমার ফিরতে বোধ করি চার-পাঁচদিন দেরি হবে, ইতিমধ্যে ভবানীপুরে ওঁদের কারও সঙ্গে যদি দেখা হয়, ব’লো, শৈলেশকে সম্মত করাতে আমি পারব।
{{ফাঁক}}বিভা জিজ্ঞাসা করিল, বৌঠাকরুণ তা হলে আর ফিরলেন না?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, না। যতই ভাবচি, মনে হচ্চে শৈলেশের চেয়ে তাঁর অপরাধই বেশি। তুমি ঠিক কথাই বলেচ। যে শিক্ষায় মানুষকে এত বড় সঙ্কীর্ণ এবং স্বার্থপর ক’রে তোলে, সে শিক্ষার মূল্য এককালে যতই থাক এখন আর নেই।<noinclude></noinclude>
0uojgp17rwtr9cgcievhduzgomnigbm
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১৩
104
887701
2003627
2026-10-16T06:02:45Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003627
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯৯|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />অন্ততঃ আমাদের মধ্যে তার আর পুনঃপ্রচলনের আবশ্যকতা নেই। তাই বটে। বৌঠাকরুণের আচার-বিচারের বিড়ম্বনাই ছিল, বস্তু কিছু ছিল না। থাকলে গৃহাশ্রয় ত্যাগ করতেন না। আচ্ছা, চললুম। এই বলিয়া তিনি ঘর হইতে বাহির হইয়া মোটরে গিয়ে উপবেশন করিলেন।
{{ফাঁক}}মফঃস্বলের মোকদ্দমা সারিয়া কলিকাতায় ফিরিতে তাঁহার পাঁচদিনের বদলে দিন-দশেক বিলম্ব হইয়া গেল। বাটীতে পা দিয়া প্রথমেই দেখা মিলিল উমার। সেই খবর দিল যে, দিন-দুই পূর্ব্বে মাস ছয়েকের ছুটি লইয়া শৈলেশবাবু আবার এলাহাবাদে চলিয়া গিয়াছেন; এবং সোমেনকে স্কুল ছাড়াইয়া এবার সঙ্গে লইয়া গিয়াছেন।
{{ফাঁক}}এমন হঠাৎ যে?
{{ফাঁক}}উমা কহিল, কি জানি! সোমেনকে নিতে এসেছিলেন, বললেন, শরীর ভাল নয়।
{{ফাঁক}}বিভা ঘরে প্রবেশ করিতেই তাহাকে উদ্দেশ করিয়া ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, শরীর ভাল না থাকবারই কথা, কিন্তু সারবার ব্যবস্থা ও নয়। আরও কি বলিতে যাইতেছিলেন, কিন্তু উমা দাঁড়াইয়া আছে দেখিয়া চুপ করিয়া গেলেন।
<section end="A" />
<section begin="B" />'''১৬'''
{{ফাঁক}}আরও পাঁচটা জুনিয়র ব্যারিষ্টারের যেভাবে দিন কাটে, ক্ষেত্রমোহনের দিনও তেমনি কাটিতে লাগিল। হাতে টাকার টান পড়িলে হিঁদুয়ানী ও সাবেক চাল-চলনের অশেষ প্রশংসা করেন, আবার অর্থাগম হইলেই চুপ করিয়া যান—যেমন চলিতেছিল, তেমনি চলে। শৈলেশের তিনি বাস্তবিক শুভাকাঙ্ক্ষী। তাহাকে চিনিতেন, তাহার মত দুর্ব্বল প্রকৃতির মানুষকে দিয়া প্রায় সব কাজই করানো যায়, এই মনে করিয়া তিনি ভবানীপুর এখনও হাত-ছাড়া করেন নাই। তাহাদের এই বলিয়া ভরসা দিতেন যে, পশ্চিম হইতে ঘুরিয়া আসার যা বিলম্ব। বৌঠাকরুণকে তিনি এখনও প্রায় তেমনি স্নেহ করেন, তেমনি শ্রদ্ধাই প্রায় এখনো তাঁহার প্রতি আছে, কিন্তু ফিরিয়া আসিয়া আর কাজ নাই। যেখানে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন, ধর্ম্ম-জীবনের তাঁহার উত্তরোত্তর উন্নতি ঘটুক, কিন্তু শৈলেশের গৃহস্থালীর মধ্যে আর নয়। নিজের একটা ভুল এখন প্রায়ই মনে হয়, স্বামীকে ঊষা ভালবাসিতে পারে নাই, পারাও কখনো সম্ভব নয়। ছেলেবেলা হইতে কড়া রকমের আচারবিচারের ভিতর দিয়া ধাতটা তাহার কড়া হইয়াই গেছে, সুতরাং ইহকালের চেয়ে<section end="B" /><noinclude></noinclude>
snh1may3eorw42y83o24tp6ymns9obw
2003639
2003627
2026-10-16T06:46:42Z
Nettime Sujata
5470
2003639
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৩৯৯|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />অন্ততঃ আমাদের মধ্যে তার আর পুনঃপ্রচলনের আবশ্যকতা নেই। তাই বটে। বৌঠাকরুণের আচার-বিচারের বিড়ম্বনাই ছিল, বস্তু কিছু ছিল না। থাকলে গৃহাশ্রয় ত্যাগ করতেন না। আচ্ছা, চললুম। এই বলিয়া তিনি ঘর হইতে বাহির হইয়া মোটরে গিয়ে উপবেশন করিলেন।
{{ফাঁক}}মফঃস্বলের মোকদ্দমা সারিয়া কলিকাতায় ফিরিতে তাঁহার পাঁচদিনের বদলে দিন-দশেক বিলম্ব হইয়া গেল। বাটীতে পা দিয়া প্রথমেই দেখা মিলিল উমার। সেই খবর দিল যে, দিন-দুই পূর্ব্বে মাস ছয়েকের ছুটি লইয়া শৈলেশবাবু আবার এলাহাবাদে চলিয়া গিয়াছেন; এবং সোমেনকে স্কুল ছাড়াইয়া এবার সঙ্গে লইয়া গিয়াছেন।
{{ফাঁক}}এমন হঠাৎ যে?
{{ফাঁক}}উমা কহিল, কি জানি! সোমেনকে নিতে এসেছিলেন, বললেন, শরীর ভাল নয়।
{{ফাঁক}}বিভা ঘরে প্রবেশ করিতেই তাহাকে উদ্দেশ করিয়া ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, শরীর ভাল না থাকবারই কথা, কিন্তু সারবার ব্যবস্থা ও নয়। আরও কি বলিতে যাইতেছিলেন, কিন্তু উমা দাঁড়াইয়া আছে দেখিয়া চুপ করিয়া গেলেন।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''১৬'''}}
{{ফাঁক}}আরও পাঁচটা জুনিয়র ব্যারিষ্টারের যেভাবে দিন কাটে, ক্ষেত্রমোহনের দিনও তেমনি কাটিতে লাগিল। হাতে টাকার টান পড়িলে হিঁদুয়ানী ও সাবেক চাল-চলনের অশেষ প্রশংসা করেন, আবার অর্থাগম হইলেই চুপ করিয়া যান—যেমন চলিতেছিল, তেমনি চলে। শৈলেশের তিনি বাস্তবিক শুভাকাঙ্ক্ষী। তাহাকে চিনিতেন, তাহার মত দুর্ব্বল প্রকৃতির মানুষকে দিয়া প্রায় সব কাজই করানো যায়, এই মনে করিয়া তিনি ভবানীপুর এখনও হাত-ছাড়া করেন নাই। তাহাদের এই বলিয়া ভরসা দিতেন যে, পশ্চিম হইতে ঘুরিয়া আসার যা বিলম্ব। বৌঠাকরুণকে তিনি এখনও প্রায় তেমনি স্নেহ করেন, তেমনি শ্রদ্ধাই প্রায় এখনো তাঁহার প্রতি আছে, কিন্তু ফিরিয়া আসিয়া আর কাজ নাই। যেখানে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন, ধর্ম্ম-জীবনের তাঁহার উত্তরোত্তর উন্নতি ঘটুক, কিন্তু শৈলেশের গৃহস্থালীর মধ্যে আর নয়। নিজের একটা ভুল এখন প্রায়ই মনে হয়, স্বামীকে ঊষা ভালবাসিতে পারে নাই, পারাও কখনো সম্ভব নয়। ছেলেবেলা হইতে কড়া রকমের আচারবিচারের ভিতর দিয়া ধাতটা তাহার কড়া হইয়াই গেছে, সুতরাং ইহকালের চেয়ে<section end="B" /><noinclude></noinclude>
37ujzw9jwj8fz8vxii8ad57qkgj6yuc
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১৪
104
887702
2003628
2026-10-16T06:06:51Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003628
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৪০০|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>পরকালই তাহার বেশি আপনার। স্বামীকে ত্যাগ করিয়া যাওয়াও তাই এত সহজ হইয়াছে। তাঁহার নিজের মধ্যে যে স্বামী ছিল, উষার এই আচরণে সে যেমন ভীত, তেমনি ব্যথিত হইয়াছিল। তাঁহার মনে হইত, সোমেনকে যে সে এত সত্বর ভালবাসিয়াছিল, সেও কেবল সম্ভবপর হইয়াছিল তাহার কড়া কর্ত্তব্যের দিক দিয়া। সত্যকার স্নেহ নয় বলিয়াই যাবার দিনটিতে কোথাও কোন টান লাগে নাই।
{{ফাঁক}}এমনিভাবেই যখন কলিকাতায় ইহাদের দিন কাটিতেছিল, তখন মাস-দুই পরে সহসা এলাহাবাদ হইতে খবর আসিল যে, সোমেনের এই কচি বয়সেই শৈলেশ তাহার পৈতা দিয়াছে, এবং নিজে এক ভক্ত বৈষ্ণবের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করিয়াছে। গঙ্গাস্নান একটা দিনের জন্যও পিতাপুত্রের বাদ যাইবার যো নাই এবং মাছ-মাংস যে পাড়ায় আসে সে পথ দিয়া শৈলেশ হাঁটে না।
{{ফাঁক}}শুনিয়া উমা চুপি চুপি হাসিতে লাগিল। বিভা কহিল, তামাসাটি কে করলেন? যোগেশবাবু?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, খবর যোগেশবাবুর কাছ থেকেই এসেছে সত্যি, কিন্তু তামাসা করবার মত ঘনিষ্ঠতা ত তাঁর সঙ্গে নেই।
{{ফাঁক}}বিভা কহিল, দাদার বন্ধু ত, দোষ কি? একটু থামিয়া বলিল, কেন জানো? {{SIC|বৌদিদরি|বৌদিদির}} সমস্ত ব্যাপার দাদার কাছেই শুনেছেন এবং এত লোকের মাঝখানে তুমিই তাঁর গোঁড়ামির ভক্ত হয়ে উঠেছিলে—তাই এ রসিকতাটুকু তোমার পরেই হয়েছে। সহাস্যে বলিতে লাগিল, কেস আরম্ভ করবার সময় মাঝে মাঝে বুদ্ধিটা যদি আমার কাছে নাও ত মোকদ্দমা বোধ হয় তোমাকে এত হারতে হয় না। উমা, আজ একটু চট্পট্ তৈরি হয়ে নাও, সাতটার মধ্যে পৌঁছতে না পারলে কিন্তু লাবণ্য রাগ করবে। তোমার দাদাটিকে আড়ালে ডেকে একটু বলে দিয়ো ভাই, ঠেকলে যেন এখন থেকে কন্সল্ট করেন। পয়সা যারা দেয় তারা খুসি হবে।
{{ফাঁক}}উমা মুখ টিপিয়া হাসিয়া চলিয়া গেল। যোগেশবাবুর হঠাৎ ঠাট্টা করার হেতুটা যে বৌদিদি ঠিক অনুমান করিয়াছেন তাহা সে বুঝিল।
{{ফাঁক}}ইহার দিন পাঁচ-ছয় পরে, একখানা মস্ত চিঠি আনিয়া ক্ষেত্রমোহন স্ত্রীর সম্মুখে ফেলিয়া দিয়া কহিলেন, যোগেশবাবুর বাবার লেখা। বয়স সোত্তর-বাহাত্তর—চাক্ষুষ আলাপ নেই, চিঠিপত্রেই পরিচয়। লোক কেমন ঠিক জানি নে, তবে এটা ঠিক জানি যে, ঠাট্টার সুবাদ আমার সঙ্গে তাঁর নেই।
{{ফাঁক}}দীর্ঘ পত্র, বাঙলায় লেখা। আদ্যোপান্ত বার-দুই নিঃশব্দে পড়িয়া বিভা মুখ তুলিয়া কহিল, ব্যাপার কি? তোমাকে ত একবার যেতে হয়?
{{nop}}<noinclude></noinclude>
d5f6mq7y4gc57gd5lupzvy3h4wzyd57
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১৫
104
887703
2003629
2026-10-16T06:10:07Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003629
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৪০১|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}কিন্তু আমার ত একমিনিটের সময় নেই।
{{ফাঁক}}বিভা কহিল, সে বললে হবে না। এ বিপদে আমরা না গেলে আর যাবে কে? এ চিঠির অর্দ্ধেকও যদি সত্যি হয়, সে যে ঘোরতর বিপদ তাতে ত আর একবিন্দু সন্দেহ নেই!
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন মাথা নাড়িয়া বলিলেন, না, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু যাই কি করে? এবং গেলেই যে বিপদ কাটবে তারই বা ঠিকানা কি!
{{ফাঁক}}দুজনে বহুক্ষণ নিঃশব্দে বসিয়া রহিলেন। অবশেষে দীর্ঘনিশ্বাস মোচন করিয়া ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, শৈলেশের দ্বারা সমস্তই সম্ভব; মনের জোর বলে যে বস্তু, সে তার একেবারে নেই। মরুক গে সে, কিন্তু দুঃখ এইটুকু যে, সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটাকেও সে বিগড়ে তুলচে। যেমন করে পারো এইখানে তোমার বাধা দেওয়া চাই।
{{ফাঁক}}বিভা বিষণ্ণ গম্ভীর মুখে স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। সে কান্নাকাটি, অভিমান সমস্তই করিতে পারে, কিন্তু ঠেকাইবার সাধ্য তাহার নাই, তাহা সে মনে মনে জানিত। ক্ষেত্রমোহন অনেকক্ষণ স্থিরভাবে থাকিয়া আস্তে আস্তে বলিলেন, সন্দেহ আমার বরাবরই ছিল, কিন্তু একটি জিনিস আমি নিশ্চয় ধরেছি বিভা, ঊষাকে তোমার দাদা সত্যই ভালবেসেছিল। এত ভাল সে সোমেনের মাকে কোনদিন বাসে নি। এ সব হয় ত তারই প্রতিক্রিয়া।
{{ফাঁক}}বিভা রাগ করিল। কহিল, তাই, এমনি ক’রে তাঁর মন পাবার চেষ্টা করচেন? দেখ, দাদা আমার দুর্ব্বল হতে পারেন, কিন্তু ইতর নন। কারও জন্যেই এই সঙ সাজার ফন্দি তাঁর মাথায় আসবে না।
{{ফাঁক}}এই প্রতিক্রিয়া বস্তুটা যে কি অদ্ভুত ব্যাপার বিভা তাহার কি জানে! শব্দটা শুধু ক্ষেত্রমোহন বইয়ে পড়িয়াছেন; তিনিও ইহার বিশেষ কিছু জানেন না, তাই স্ত্রীর ক্রোধের প্রত্যুত্তরে তিনি চুপ করিয়া রহিলেন। অন্ধকারে তর্ক-যুদ্ধ চালাইতে তাঁহার সাহস হইল না।
{{ফাঁক}}কিন্তু প্রতিক্রিয়া যাই হোক কাজের বেলায় বিভাই জয়ী হইল। স্বামীকে দিন-দুয়ের মধ্যেই কাজ-কর্ম্ম ফেলিয়া এলাহাবাদ রওনা হইতে হইল। ফিরিয়া আসিয়া তিনি আনুপূর্ব্বিক যাহা বর্ণনা করিলেন, তাহা যেমন হাস্যাস্পদ তেমনি অপ্রিয়। যোগেশবাবুর বাটীর কাছেই বাসা, কিন্তু শৈলেশের সহিত সাক্ষাৎ হয় নাই, সে গুরু-ভাইদের সহিত শ্রীগুরুপাদপদ্ম-দর্শনে বৃন্দাবনে গিয়াছে, দেখা হইয়াছে সোমেনের সঙ্গে। তাহার শাস্ত্রানুমোদিত ব্রহ্মচারীর বেশ, শাস্ত্রসঙ্গত আচার-বিচার, স্থানীয় একজন নিষ্ঠাবান্ ব্রাহ্মণ আসিয়া সকাল-সন্ধ্যায় বোধ করি<noinclude></noinclude>
644f7a9k3xq963zsehwzu00qc6z8ri1
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১৬
104
887704
2003630
2026-10-16T06:26:16Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003630
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৪০২|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />ব্রহ্ম-বিদ্যা শিখাইয়া যান। এই বলিয়া ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, আমাকে দেখে সে বেচারার দুচোখ ছল ছল করতে লাগলো, তার চেহারা দেখে মনে হ’ল যেন খাবার কষ্টটাই তার বেশি হয়েচে।
{{ফাঁক}}এই ছেলেটির প্রতি বিভার এক প্রকারের স্নেহ ছিল, তাহা অত্যন্ত বেশি না হইলেও বিদেশে দুঃখ পাইতেছে শুনিয়া সে সহিতে পারিল না। তাহার নিজের চক্ষু অশ্রুপূর্ণ হইয়া উঠিল, কহিল, তাকে জোর করে নিয়ে এলে না কেন?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, ইচ্ছে যে হয় নি তা নয়, কিন্তু ভেবে দেখলুম, তাতে শেষ পর্য্যন্ত সুফল ফলবে না। ধর্ম্মের ঝোঁকটাকেই আমি সবচেয়ে ভয় করি। শৈলেশ অমোদের ওপর ঢের বেশি বেঁকে যেত।
{{ফাঁক}}বিভা চোখ মুছিয়া কহিল, এত ব্যাপার ঘটেছে জানলে আমি নিজেই তোমার সঙ্গে যেতুম।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|'''১৭'''}}
{{ফাঁক}}চিঠি লেখা-লেখি একপ্রকার বন্ধ হইয়াই গিয়াছিল, তথাপি কলিকাতায় আত্মীয়বন্ধুমহলে শৈলেশের অদ্ভুত কীর্ত্তিকথা প্রচারিত হইতে বাধে নাই। হয় ত বা স্থানে স্থানে বিবরণ একটু ঘোরালো হইয়াই রটিয়াছিল। ভবানীপুরে এ সংবাদ যে গোপন ছিল না তাহা বলাই বাহুল্য। লজ্জায় বিভা মুখ দেখাইতে পারিত না, শুধু স্বামীর কাছে সে দম্ভ করিয়া বলিত, দাদা আগে ফিরে আসুন, আমার সুমুখে কি ক’রে এ-সব করেন আমি দেখবো।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন চুপ করিয়া থাকিতেন—বিভার দ্বারা বিশেষ কিছু যে হইবে তাহা বিশ্বাস করিতেন না, কিন্তু সমাজের সমবেত মর্যাল প্রেসরের প্রতি তাঁহার আস্থা ছিল। দুর্ব্বলচিত্ত শৈলেশ হয়ত তাহা বেশি দিন ঠেকাইতে পারিবে না, এ ভরসা তিনি করিতেন।
{{ফাঁক}}এদিকে শৈলেশ আরও মাস চারেক ছুটি বাড়াইয়া লইয়াছিল, তাহাও শেষ হইতে আর মাস-দুই বাকি। চাকরি ছাড়িতে সে পারিবে না তাহা নিশ্চয়। গঙ্গাস্নান ও ফোঁটা-তিলক যতই কেন না সে প্রয়াগে বসিয়া করুক, শ্রীগুরুর ও গুরু-ভাইয়ের দল এ কুমতলব তাহাকে প্রাণ গেলেও দিবে না। তারপরে ফিরিয়া আসিলে একবার লড়াই করিয়া দেখিতে হইবে।
{{ফাঁক}}সেদিন চা খাইতে বসিয়া ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, এবার কিন্তু ঊষা বৌঠাকরুণ<section end="B" /><noinclude></noinclude>
0ved7oral4o479phupp4zmkc24qxrvl
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১৭
104
887705
2003631
2026-10-16T06:29:38Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003631
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৪০৩|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>এলে তাঁকে তাড়াতাড়ি ভাইকে ডাকিয়ে, আর বাপের বাড়ি পালাবার ফন্দি করতে হবে না। জপ-তপের মধ্যে দুজনের বনবে।
{{ফাঁক}}বিভার মুখ মলিন হইল, জিজ্ঞাসা করিল, তাঁর আসার কথা তুমি শুনেচ নাকি?
{{ফাঁক}}না।
{{ফাঁক}}বিভা ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া আস্তে আস্তে বলিল, পাড়াগাঁয়ে শুনেচি নামারকমের তুকৃতাক আছে, আচ্ছা তুমি বিশ্বাস কর?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন হাসিয়া কহিলেন, না। যদিও বা থাকে তিনি এ সব করবেন না।
{{ফাঁক}}কেন করবেন না?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, বৌঠাকরুণের ওপর আমি খুসি নই, তাঁর প্রতি আমার সে শ্রদ্ধাও আর নেই, কিন্তু এই সব হীন কাজ যে তিনি করতেই পারেন না তা তোমাকে আমি দিব্যি করে বলতে পারি।
{{ফাঁক}}বিভা ঠিক বিশ্বাস করিল না। শুধু ধীরে ধীরে কহিল, যা ইচ্ছে হোক, কিন্তু ছেলেটাকে আমি কেড়ে আনবই, তোমাকেও আমি প্রতিজ্ঞা করে বললুম।
{{ফাঁক}}বেহারা আসিয়া খবর দিল, বন্ধু দুখানা বড় কার্পেট চাহিতে আসিয়াছে। বন্ধু শৈলেশের অনেক দিনের ভৃত্য; বিভা সবিস্ময়ে প্রশ্ন করিল, সে কার্পেট নিয়ে কি করবে? বলিতে বলিতে উভয়েই বাহিরে আসিতেই বন্ধু সেলাম করিয়া তাহার প্রার্থনা জানাইল।
{{ফাঁক}}কার্পেটে হবে কি বন্ধু?
{{ফাঁক}}কি জানি মেমসাহেব, গান-বাজনা না কি হবে।
{{ফাঁক}}করবে কে?
{{ফাঁক}}সাহেবের সঙ্গে তিন-চার জন লোক এসেছে, করবে বোধ হয় তারাই।
{{ফাঁক}}দাদা এসেছেন?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, শৈলেশ এসেছে?
{{ফাঁক}}বন্ধু ঘাড় নাড়িয়া জানাইল যে, কাল রাত্রে সকলেই ফিরিয়া আসিয়াছেন। কার্পেট লইয়া সে প্রস্থান করিলে দুজনেই নতমুখে নিঃশব্দে দাঁড়াইয়া রহিলেন। সেইদিনটা কোনমতে ধৈর্য্য ধরিয়া ক্ষেত্রমোহন পরদিন বিকালে বিভা ও উমাকে সঙ্গে করিয়া এ বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। অভ্যাসমত নীচের লাইব্রেরীঘরে প্রবেশ করিতে গিয়া বাধা পড়িল। দরজার সেই ভারি পর্দ্দাটা নাই, ভিতরের সমস্তই চোখে পড়িল। একটা দিনেই বাড়ির চেহারা বদলাইয়া গেছে। বইয়ের আলমারিগুলা আছে বটে, কিন্তু আর কোন আসবাব নাই। মেঝের উপর কম্বল ও তাহাতে ফর্সা জাজিম পাতিয়া জন-দুই লোক নধর পরিপুষ্ট দেহের সর্ব্বত্র<noinclude></noinclude>
166gw2onq310hcj7n19tpi8fbx7u74u
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১৮
104
887706
2003632
2026-10-16T06:33:13Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003632
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৪০৪|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>হরিনামের ছাপ মারিয়া, গলায় মোটা মোটা তুলসীর মালা পরিয়া বসিয়া আছে, হঠাৎ সাহেব মেম দেখিয়া সন্ত্রস্ত হইয়া উঠিল। ইহাদের বিশ্রামে বিঘ্ন না ঘটাইয়া তিনজনে উপরে যাইতেছিলেন, উড়িয়া পাচক-ব্রাহ্মণ নিষেধ করিয়া কহিল, উপরের ঘরে গোঁসাইজি আছেন।
{{ফাঁক}}গোঁসাইজিটা কে?
{{ফাঁক}}পাচক-ঠাকুর চুপ করিয়া রহিল।
{{ফাঁক}}সাহেব কোথায়?
{{ফাঁক}}উত্তরে সে উপরে অঙ্গুলি-নির্দ্দেশ করিয়া দেখাইলে ক্ষেত্রমোহন সেইখানে দাঁড়াইয়া শৈলেশ, শৈলেশ, করিয়া চেঁচাইতে লাগিলেন। ছুটিয়া আসিল সোমেন। হঠাৎ তাহার বেশভূষা ও চেহারা দেখিয়া বিভা কাঁদিয়া ফেলিল। পরণে সাদা থান, মাথায় মস্ত টিকি, গলায় তুলসীর মালা, সে দূর হইতে প্রণাম করিল, কিন্তু কাছে আসিল না। উমা ধরিতে যাইতেছিল, ক্ষেত্রমোহন ইঙ্গিতে নিষেধ করিয়া বলিলেন, থাক অ-বেলায় আর ছুঁয়ে কাজ নেই। ও-বেচারাকে হয় ত আবার নাইয়ে দেবে। বাবা কোথায় সোমেন?
{{ফাঁক}}সোমেন কহিল, প্রভুপাদ শ্রীগুরুদেবের কাছে বসে শ্রীভাগবত পড়চেন।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, আমরা দাঁড়িয়ে রইলুম, শ্রীবাবাকে একবার খবরটা দাও।
{{ফাঁক}}তিনি খবর পেয়েছেন, আসচেন।
{{ফাঁক}}কয়েক মুহূর্ত্ত পরে খড়ম পায়ে শৈলেশ নীচে আসিল। থান কাপড়, গায়ে জামা, মাথায় একটা সরু গোছের টিকি ছাড়া বাহিরের চেহারায় তাহার বিশেষ কোন পরিবর্ত্তন নাই, কিন্তু ভিতরের দিকে যে অনেক বদল হইয়া গেছে তাহা চক্ষের পলকেই চোখে পড়ে। অত্যন্ত বিনীত ভাব, মৃদু কথা—উমা ও বিভা প্রণাম করিলে সে দূরে দাঁড়াইয়া আশীর্ব্বাদ করিল, স্পর্শ করিতে নিকটে আসিল না।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, বাড়িতে একটু বসবার যায়গাও নেই নাকি হে?
{{ফাঁক}}শৈলেশ লজ্জিতভাবে কহিল, বাইরের ঘরটা নোঙরা হয়ে আছে—পরিষ্কার করে নিতে হবে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, তা হলে এখনকার মত আমরা বিদায় হই। সোমেনকে লক্ষ্য করিয়া কহিলেন, এখন চললুম। আমাদের বোধ করি আর বড় একটা প্রয়োজন হবে না, তবু বলে যাই, বসবার জায়গা যদি কখনও একটা হয় ত খবর দিস্ বাবা!—চল।
{{ফাঁক}}শৈলেশ চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল।
{{ফাঁক}}গাড়ীতে বিভা কাহারও সহিত একটা কথাও কহিল না, তাহার দুচক্ষু বাহিয়া<noinclude></noinclude>
7j3x5wl7xvj94vqy0hoe7tet6nu5zoy
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪১৯
104
887707
2003633
2026-10-16T06:35:43Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003633
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৪০৫|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>হু হু করিয়া শুধু জল পড়িতে লাগিল। একটা কথা তাঁহারা নিঃসংশয়ে বুঝিয়া আসিলেন, ও-বাড়িতে তাঁহাদের আর স্থান নাই। দাদা যাই কেন না করুক, সোমেনকে সে জোর করিয়া কাড়িয়া আনিবে বলিয়া বিভা স্বামীর কাছে প্রতিজ্ঞা করিয়াছিল। স্নেহের সেই দাম্ভিক উক্তি স্বামী-স্ত্রীর উভয়েরই বার-বার মনে পড়িল, কিন্তু নিদারুণ লজ্জায় ইহার আভাস পর্য্যন্তও কেহ উচ্চারণ করিতে পারিল না।
{{ফাঁক}}ইহার পরে মাসাধিক কাল গত হইয়াছে। ইতিমধ্যে কথাটা আত্মীয় ও পরিচিত বন্ধু-সমাজে এমন আবর্ত্তের সৃষ্টি করিয়াছে যে, লোকে সত্যের মধ্যেও আর যেন আবদ্ধ থাকিতে চাহে না। মুখে মুখে অতিরঞ্জিত ও পল্লবিত হইয়া সমস্ত জিনিসটা এমন কুৎসিত আকার ধারণ করিয়াছে যে, কোথাও যাওয়া-আসাও বিভার অসম্ভব হইয়া উঠিয়াছে, অথচ কোনদিকে কোন রাস্তাই কাহারও চোখে পড়িতেছে না। ক্ষেত্রমোহন জানিতেন, সংসারে অনেক উত্তেজনাই কালক্রমে ম্লান হইয়া আসে, ধৈর্য্য ধরিয়া স্থির হইয়া থাকাই তাহার উপায়, শুধু এই পরকালের লোভের ব্যবসাটাই একবার শুরু হইয়া গেলে আর সহজে থামিতে চাহে না। অনিশ্চিতের পথে এই অত্যন্ত সুনিশ্চিতের আশাই মানুষকে পাগল করিয়া যেন নিরন্তর ঠেলা দিয়া চালাইতে থাকে। ইহার উপরেও প্রচণ্ড বিভীষিকা ঊষা। বন্ধু ও শত্রুভাবে সর্ব্বনাশের বনিয়াদ গড়িয়া গেছে সে-ই। কোনমতে একটা খবর পাইয়া যদি আসিয়া পড়ে ত অনিষ্টের বাকি কিছু আর থাকিবে না। কেবল বিভাই নয়, তাহার উল্লেখে উমার, এমন কি ক্ষেত্রমোহনেরও আজকাল গা জ্বলিতে থাকে। বাস্তবিক তাহাকে না আনিলে ত এ বালাই কোনদিনই ঘটার সম্ভাবনা ছিল না।
{{ফাঁক}}আজ রবিবারে সকালবেলা স্বামী-স্ত্রীতে বসিয়া এই আলোচনাই করিতেছিলেন। সেই অপমানিত হইয়া ফিরিয়া আসার দিন হইতে ইঁহারা সে-মুখোও আর হন নাই, কিন্তু সে-বাড়ির খবর পাইতে বাকি থাকিত না। গুরু-ভ্রাতার দল অদ্যাবধি নড়িবার নামটি পর্য্যন্ত মুখে আনেন না এবং শ্রীগুরু ও গোঁসাই-ঠাকুরাণী উপরের ঘরে তেমনি কায়েম হইয়াই বিরাজ করিতেছেন। সকাল-সন্ধ্যায় নাম-কীর্ত্তন অব্যাহত চলিয়াছে, ভোগাদির ব্যবস্থাও উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধিলাভ করিতেছে, এ সকল সংবাদ বন্ধুজনের মুখে নিয়মিতভাবেই বিভার কানে পৌঁছে; কেবল অতিরিক্ত একটা কথা সম্প্রতি শোনা গিয়াছে যে, শ্রীধাম নবদ্বীপে একটা জায়গা লইয়া শৈলেশ গুরুদেবের আশ্রম তৈরি করার সঙ্কল্প করিয়াছে এবং এই হেতু অনেক টাকা ধার করিবার চেষ্টা করিয়া বেড়াইতেছে।
{{nop}}<noinclude></noinclude>
jdhzjis0a4q7mj5jjfi1grtdr3fv1kt
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪২০
104
887708
2003634
2026-10-16T06:39:21Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003634
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৪০৬|অধ্যায়|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}বিভা মলিনমুখে কহিল, যদি সত্যই হয়, দাদাকে কি একবার বাঁচাবার চেষ্টাও করবে না? ছেলেটা কি চোখের সামনে ভেসেই যাবে?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন নিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন, কি করতে পারি বল?
{{ফাঁক}}বিভা চুপ করিয়া রহিল। কেমন করিয়া কি হইতে পারে সে তাহার কি জানে।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন সহসা বলিয়া উঠিলেন, সেই পর্য্যন্ত ত আর কখনও যাই নি, আজ চল না একবার যাই!
{{ফাঁক}}বিভার বুকের মধ্যেটা আজ সত্যই কাঁদিতেছিল, তাই বোধ হয় আজ তথায় মান-অভিমানের স্থান হইল না, সহজেই সম্মত হইয়া বলিল, চল।
{{ফাঁক}}উমাকে আজ তাহারা সঙ্গে লইল না। এই মেয়েটির সম্মুখে লজ্জার মাত্রাটা আজ আর তাহাদের বাড়াইবার প্রবৃত্তি হইল না। মোটর যখন তাহাদের শৈলেশের বাড়ির সুমুখে আসিয়া থামিল, তখন বেলা দশটা বাজিয়া গেছে। বাহিরের ঘরটা আজ থোলা, গুরুভাই-যুগল মেঝের উপরে বসিয়া একটা বড় পুটুলি কসিয়া বাঁধিতেছেন। ক্ষেত্রমোহন জিজ্ঞাসা করিলেন, শৈলেশবাবু বাড়ি আছেন?
{{ফাঁক}}তাঁহারা মুখ তুলিয়া চাহিলেন। একটুখানি চুপ করিয়া থাকিয়া কি ভাবিয়া শেষে উত্তর দিলেন, না, তিনি পরশু গেছেন নবদ্বীপধামে।
{{ফাঁক}}কবে ফিরবেন?
{{ফাঁক}}কাল কিংবা পরশু সকালে।
{{ফাঁক}}বাবুর ছেলে বাড়িতে আছে?
{{ফাঁক}}তাঁহারা উভয়েই ঘাড় নাড়িয়া জানাইলেন, আছে এবং তৎক্ষণাৎ কাজে লাগিয়া গেলেন।
{{ফাঁক}}অতঃপর বাটীর মধ্যে প্রবেশ করিয়া দুজনের একসঙ্গেই চোখে পড়িল, লাইব্রেরিঘরের দ্বারে সেই পুরানো ভারি পর্দ্দাটা আজ আবার ঝুলিতেছে। একটু ফাঁক করিতেই চোখে পড়িল, পূর্ব্বের আসবাব-পত্র যথাস্থানে সমস্তই ফিরিয়া আসিয়াছে। বিভা কহিল, ওই দুটো লোককে সরিয়ে দিয়ে দাদা আবার ঘরটার শ্রী ফিরিয়েছেন। এটুকু সুবুদ্ধিও যে তাঁর আর কখনও হবে আমার আশা ছিল না। কিন্তু বলা তাহার শেষ না হইতেই সহসা পিছনে শব্দ শুনিয়া ফিরিয়া চাহিতেই উভয়ে বিস্ময়ে একেবারে বাক্শূন্য হইয়া গেল। সোমেন বাহিরে কোথাও গিয়াছিল, রবারের একটা বল লুফিতে লুফিতে আসিতেছে। কোথায় বা মালা, কোথায় বা টিকি আর কোথায় বা তাহার ব্রহ্মচারীর বেশ। খালি গা, কিন্তু পরণে চমৎকার লালপেড়ে জরি-বসানো ধুতি—মাথার চুল বাঙালী-ছেলেদের মত পরিপাটি করিয়া<noinclude></noinclude>
mzjo6jks9rp9if3wk55932pbxinbxzx
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪২২
104
887709
2003635
2026-10-16T06:40:25Z
Nettime Sujata
5470
/* লেখাবিহীন */
2003635
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="0" user="Nettime Sujata" /></noinclude><noinclude></noinclude>
pao581rm9gbrxxpsq3pdbcv5hnr8uvg
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪২৩
104
887710
2003636
2026-10-16T06:40:39Z
Nettime Sujata
5470
/* লেখাবিহীন */
2003636
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="0" user="Nettime Sujata" /></noinclude><noinclude></noinclude>
pao581rm9gbrxxpsq3pdbcv5hnr8uvg
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪২৪
104
887711
2003637
2026-10-16T06:41:02Z
Nettime Sujata
5470
/* লেখাবিহীন */
2003637
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="0" user="Nettime Sujata" /></noinclude><noinclude></noinclude>
pao581rm9gbrxxpsq3pdbcv5hnr8uvg
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf/৪২১
104
887712
2003638
2026-10-16T06:45:24Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003638
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{rvh|৪০৭|নব-বিধান|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>ছাঁটা, পায়ে বার্ণিশ-করা পাম্পসু। সে ছুটিয়া আসিয়া বিভাকে জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, মা এসেছেন পিসিমা, রান্নাঘরে রাঁধচেন, চল। এই বলিয়া সে টানিতে লাগিল।
{{ফাঁক}}বিভা স্তব্ধ হইয়া রহিল। ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, মা এসেছেন, না সোমেন? তাই ত বলি—
{{ফাঁক}}কাল দুপুরবেলা এসেছেন। চলুন পিসেমশাই রান্নাঘরে।
{{ফাঁক}}চল।
{{ফাঁক}}তিনজনে রন্ধনশালার সুমুখে আসিতেই ঊষা সাড়া পাইয়া হাত ধুইয়া বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইল। বিভা পায়ের জুতা খুলিয়া প্রণাম করিল। কহিল, কি কাণ্ড হয়েছে দেখলে বৌদি?
{{ফাঁক}}ঊষা হাত দিয়া তাহার চিবুক স্পর্শ করিয়া চুম্বন করিল। হাসিয়া কহিল, দেখলুম বই কি ভাই! ছেলেটার আকৃতি দেখে কেঁদে বাঁচি নে। তাড়াতাড়ি মালা-ফালা ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে নাপতে ডাকিয়ে চুল কেটে দিই; নতুন কাপড়, জামা জুতো কিনে আনিয়ে পরিয়ে তবে তার পানে চাইতে পারি। আচ্ছা আপনিই বা কি করছিলেন বলুন ত? এই বলিয়া সে কটাক্ষে ক্ষেত্রমোহনের প্রতি দৃষ্টিপাত করিল।
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, বলবার তাড়াহুড়ো নেই বৌঠাকরুণ, ধীরে-সুস্থে সমস্তই বলতে পারব, এখন ওপরে চলুন, আগে কিছু খেতে দিন। ভাল কথা, গুরুভাই ত দেখলুম বাইরে পুঁটুলি কসচেন, কিন্তু শ্রীপ্রভুপাদ-যুগল মূর্ত্তির কি করলেন? ওপরে তাঁরা ত নেই?
{{ফাঁক}}ঊষা হাসিয়া ফেলিয়া কহিল, না, ভয় নেই, তাঁরা নবদ্বীপধামে গেছেন।
{{ফাঁক}}বলি, আবার ফিরে আসচেন না ত?
{{ফাঁক}}ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, বৌঠাকরুণ, আপনার যে এরূপ সুবুদ্ধি হবে এ ত আমার স্বপ্নের অগোচর। ব্রহ্মচারী ব্রাহ্মণ-কুমারের স্বহস্তে তুলসীমালা ছিঁড়ে দিয়ে টিকি কেটে দিয়ে—এ সব কি বলুন ত?
{{ফাঁক}}ঊষা হাসিমুখে ক্ষেত্রমোহনের কথা ফিরাইয়া দিয়া কহিল, বেশ ত, বলবার হুড়ো কি জামাইবাবু! ধীরে-সুস্থে বলতে পারব। এখন ওপরে চলুন, আগে কিছু আপনাদের খেতে দিই।
{{dhr}}
{{rule|4em}}<noinclude></noinclude>
43gm1oas1wbmt15unmc45dwuajg4el9
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান
0
887713
2003646
2026-10-16T09:21:05Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=365 to=366 header=1/> {{AuxTOC| {{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}} {{Table| title=পরিচ্ছেদ| page=পৃষ্ঠা}} {{Table| title=শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয়..." দিয়ে পাতা তৈরি
2003646
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=365 to=366 header=1/>
{{AuxTOC|
{{c|{{xx-larger|'''সূচীপত্র'''}}}}
{{Table| title=পরিচ্ছেদ| page=পৃষ্ঠা}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১|১]]| page={{pli|353|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/২|২]]| page={{pli|355|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৩|৩]]| page={{pli|357|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৪|৪]]| page={{pli|359|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৫|৫]]| page={{pli|363|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৬|৬]]| page={{pli|366|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৭|৭]]| page={{pli|370|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৮|৮]]| page={{pli|373|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/৯|৯]]| page={{pli|378|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১০|১০]]| page={{pli|382|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১১|১১]]| page={{pli|384|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১২|১২]]| page={{pli|388|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৩|১৩]]| page={{pli|390|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৪|১৪]]| page={{pli|393|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৫|১৫]]| page={{pli|396|14}}}}
{{Table| title=[[শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৬|১৬]]| page={{pli|399|14}}}}
}}
ahokmiyz2faqc8zwrkg1i5jletwhtbd
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১২
0
887714
2003647
2026-10-16T09:22:47Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=402 to=404 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003647
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=402 to=404 fromsection=B tosection=A header=1/>
fywivj31j48zlncf7si5n1dga4kutyy
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৩
0
887715
2003648
2026-10-16T09:23:46Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=404 to=407 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003648
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=404 to=407 fromsection=B tosection=A header=1/>
kuf7f796nasp5hmzq3usyc13nj6otfc
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৪
0
887716
2003650
2026-10-16T09:24:54Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=407 to=410 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003650
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=407 to=410 fromsection=B tosection=A header=1/>
9wrlnlela1uvk36qw24snz4k8p9ud5o
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৫
0
887717
2003651
2026-10-16T09:26:03Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=410 to=413 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003651
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=410 to=413 fromsection=B tosection=A header=1/>
9u7ttydtwmf0ku8jleawb4t06v65ict
শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার)/নব-বিধান/১৬
0
887718
2003653
2026-10-16T09:27:13Z
Nettime Sujata
5470
"<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=413 to=421 fromsection=B header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি
2003653
wikitext
text/x-wiki
<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫২).pdf" from=413 to=421 fromsection=B header=1/>
632380lyoop91fnqi268u4e9zhsyacd
পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৭).pdf/১৬
104
887719
2003658
2026-10-16T11:37:53Z
জয়শ্রীরাম সরকার
13864
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003658
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="জয়শ্রীরাম সরকার" /></noinclude>{{x-larger|{{কেন্দ্র|'''৩'''}}}}
{{x-larger|{{কেন্দ্র|'''স্বপ্নলব্ধ রক্ষাকবচ'''}}}}
{{ফাঁক}}তখন একটু মৌজেই ছিলাম বলিতে হইবে, প্রসন্ন আসিয়া আমার দাওয়ায় খুঁটি ঠেসান দিয়া বসিল—বলিল, গরুটা বড় ধ্যাড়াচ্ছে!
{{ফাঁক}}বিশ্বব্রহ্মাণ্ডটা একনিমিষে ঘুরিয়া আসিয়া মনটা বেশ একটু তরতরে জলের স্রোতের মত স্নায়বিক হিল্লোলের উপর দিয়া ভাসিয়া চলিয়াছিল, প্রসন্নর গলার আওয়াজে একটু থামিয়া দাড়াইয়া পড়িল—কতক তাহার কথার সায় হিসাবে এবং কতকটা স্বগত বলিয়া উঠিল—“আজকাল অনেকেই তাই কচ্চে বটে!”
{{ফাঁক}}তখনও প্রসন্নর মুখখানা আমি ভাল করিয়া দেখি নাই, যখন দেখিলাম, তখন আশঙ্কা হইল, বুঝিবা নেশার ঝোঁকে কিছু বেফাঁস বলিয়া ফেলিয়াছি, বলিলাম, “কি প্রসন্ন! ভ্রু দুটা অমন কুঞ্চিত করিয়া আমাকে সন্দেহের চক্ষে দেখিতেছ কেন? আমি সজ্ঞানে আছি ত!”
{{ফাঁক}}প্রসন্ন বলিল—“তা বুঝতে পাচ্চি। আমি অনেকের কথা বলচি না—আমার মঙ্গলার কথা বলচি, গরুটা বড় ধ্যাড়াচ্ছে—দুধ কমে গেছে—”
{{ফাঁক}}আমি। হ্যাঁ সেটা ভাবনার কথা বটে——দুধ কমে’ যাওয়াটা ভাবনারই কথা—কিন্তু ও-দুটা প্রক্রিয়া সঙ্গের সাথী—একটা হলেই আর-একটা ‘কেন নিবার্য্যতে’। মানুষই বল আর গরুই<noinclude></noinclude>
q8d5veiu25xg0azj233m3h42m8qrm5q
পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৭).pdf/১৭
104
887720
2003659
2026-10-16T11:53:14Z
জয়শ্রীরাম সরকার
13864
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
2003659
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="জয়শ্রীরাম সরকার" />{{rh||স্বপ্নলব্ধ রক্ষাকবচ|৯}}</noinclude>বল—ধ্যাড়ালেই অর্থাৎ দেহের রসের পরিপাক না হলেই—বুদ্ধি কম হবে, কাজ কম হবে, ফসল কম হবে, দুধ কম হবে—যার যেমন। কারণ শাস্ত্র বলেচেন—রসো বৈ সঃ, তিনিই রস, তিনিই গরুর বাটের দুধ—শিল্পীর রসোগার, বিশ্বপ্রপঞ্চের সুসার, সৌন্দর্য্য।
{{ফাঁক}}প্রসন্ন। নাও কথা—এখনও ঘোর কাটেনি দেখচি—বলি গরুটার একটা ওষুধবিষুধ বাৎলে দিতে পার—যাতে তোমার ঐ রস না মাথা পরিপাক হয়ে যায়?
{{ফাঁক}}আমি। প্রসন্ন তুমি আমাকে এতদিনেও চিনলে না ত, এইটেই সবচেয়ে নিদারুণ ছুরিকাঘাত—(cruellest cut of all). আমি কি গো-বদ্দি? মানুষের ও-রোগ হলে বরং একটা ব্যবস্থার চেষ্টা করতে পারি, কিন্তু গরু—ছি প্রসন্ন, তোমায় আবার বলি আমি গো-বদ্দি নই।
{{ফাঁক}}প্রসন্ন একটুও অপ্রতিভ না হয়ে, হাজারহোক নিছক গয়লার মেয়ে বইত নয়, বল্লে — “কেউটে ধরতে পার আর হেলে ধর্ত্তে পার না; মানুষের বদহজম নিবারণ কর্ত্তে পার আর গরুর পার না?”
{{ফাঁক}}আমি। দেখ—আজ দেশসুদ্ধ সব বদহজমে ভুগছে, মন আর দেহ দুই শীর্ণ হয়ে যাচ্চে, রসের পরিপাক হচ্চে না, গায়েও গত্তি লাগ্চে না, মনেও নয়। বিরুদ্ধ ভোজন, অভোজন, স্বল্পভোজন— এ সবই বদহজমের কারণ।
{{ফাঁক}}প্রসন্ন। আমি তোমায় বদহজমের নিদান আওড়াতে বলচি না গো, কবিরাজ মহাশয়, আমাকে একটা উপায় বলে’ দাও, গরুটা যাতে বাঁচে, দুধটা রক্ষা হয়—
{{ফাঁক}}হাজার হোক মেয়ে মানুষ, তাতে গয়লার মেয়ে, আমি যত<noinclude></noinclude>
32anvfkkb87nfvm66l6ytqgjrseza3l