উইকিভ্রমণ
bnwikivoyage
https://bn.wikivoyage.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.47.0-wmf.4
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিভ্রমণ
উইকিভ্রমণ আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
অ্যাডিলেড
0
4262
76702
61054
2026-06-01T15:36:59Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
সংশোধন
76702
wikitext
text/x-wiki
{{পাতার ব্যানার|Adelaide Riverfront Banner.jpg|dotm=yes|unesco_cc=yes}}
[[File:Adelaide - SA (25091207887).jpg|alt=|thumb|399x399px|টরেন্স নদী হতে অ্যাডিলেডের দৃশ্য ]]
'''অ্যাডিলেড''' দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী। শহরটি অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-মধ্য অংশে অবস্থিত। শহরটি গালফ সেন্ট ভিনসেন্টের পূর্ব উপকূলে বিদ্যমান। এটি অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম শহর, যেখানে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। এই শহরের প্রায় সবাই অ্যাডিলেড মেট্রোপলিটন এলাকায় থাকে।
অ্যাডিলেড সমতল জায়গায় অবস্থিত। এই শহরের এক পাশে অ্যাডিলেড পাহাড়, আর অন্য পাশে গালফ সেন্ট ভিনসেন্ট রয়েছে।
অ্যাডিলেড শহরটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পুরাতন শহর হওয়ায় শহরটি সারা বিশ্বে ব্যাপক বিখ্যাত। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে অ্যাডিলেড অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অ্যাডিলেডকে এক সময় "চার্চের শহর" বলা হতো। শহরের অনেক পুরনো ভবন এখনো সেই সময়ের স্থাপত্য রীতিতে তৈরি। শহরের রাস্তা গাছ-ঘেরা আর অনেক প্রশস্ত। এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্য শহরগুলোর চেয়ে বেশ বড় এবং খোলামেলা।
অ্যাডিলেডে নানা দেশ থেকে মানুষ এসেছে। যেহেতু তারা এখানে এসে নিজস্ব খাবার ও সংস্কৃতি নিয়ে এসেছে, তাই এখানে অনেক ধরণের খাবার পাওয়া যায়। প্রতি বছরের মার্চ মাসে এই শহরে বড় বড় শিল্প উৎসব হয়। এর মধ্যে অ্যাডিলেড ফেস্টিভাল আর অ্যাডিলেড ফ্রিঞ্জ ফেস্টিভাল সবচেয়ে বড়।
এই শহরে একটি বিখ্যাত ক্রিকেট মাঠ আছে, যার নাম অ্যাডিলেড ওভাল। এটি অনেক সুন্দর একটি মাঠ। শীতকালে এখানে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল খেলা হয়। এছাড়াও শহরে ট্যুর ডাউন আন্ডার সাইক্লিং প্রতিযোগিতা হয়।
অ্যাডিলেড খুব ব্যস্ত শহর নয়। এখানে উঁচু দালানও কম। শহরটি হোবার্ট বা ক্যানবেরার মতো ছোট শহর। এর শান্ত পরিবেশের জন্য একে "অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় গ্রামীণ শহর" বলা হয়।
==জেলাসমূহ==
{{mapframe|show=mask,around,buy,city,do,drink,eat,listing,other,see,sleep,vicinity,view,black,blue,brown,chocolate,forestgreen,gold,gray,grey,lime,magenta,maroon,mediumaquamarine,navy,red,royalblue,orange,silver,steelblue,teal,fuchsia,route1,route2,route3,route4,route5}}
===অভ্যন্তরীণ অঞ্চলসমূহ===
{{Regionlist
| region1name=[[সিটি এবং নর্থ অ্যাডিলেড]]
| region1color=#47b526
| region1description= অ্যাডিলেডের মূল শহর এখানে অবস্থিত। এখানে অনেক মিউজিয়াম, পার্ক আছে এবং এটিই অস্ট্রেলিয়ার মহাকাশ শিল্পের জন্মস্থান। শহরটি সন্ধ্যার পর বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। নর্থ অ্যাডিলেডে বিখ্যাত সেন্ট পিটারস ক্যাথেড্রাল অবস্থিত।
| region2name=[[পোর্ট অ্যাডিলেড, এনফিল্ড, প্রসপেক্ট এবং আউটার হারবার]]
| region2color=#c79c73
| region2description=এখানে অ্যাডিলেডের বন্দর পোর্ট অ্যাডিলেড অবস্থিত। এই এলাকায় অনেক জাদুঘর, খাবারের জায়গা এবং সবুজ এলাকা রয়েছে।
| region3name=[[ওয়েস্ট অ্যাডিলেড]]
| region3color=#6655d9
| region3description=অ্যাডিলেডের সমুদ্রতীরবর্তী সম্প্রদায়ের বাসস্থান। পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর গ্লেনেলগ এখানে অবস্থিত। এখানে সার্ফিং সংস্কৃতি খুব জনপ্রিয়।।
| region4name=[[দক্ষিণ এবং পূর্ব অঞ্চল]]
| region4color=#d9d255
| region4description=এখানে রয়েছে হেইগস চকোলেট ফ্যাক্টরি, যা অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা চকোলেট ব্র্যান্ডের কারখানা। এছাড়া এখানে পেনফোল্ডস ওয়াইনারি রয়েছে। অ্যাডিলেড হিলস নামক এক পাহাড়ি এলাকা এখান থেকে খুব কাছেই অবস্থিত।
}}
===বহিরাগত অঞ্চলসমূহ===
{{Regionlist
| region1name=[[অ্যাডিলেড ইন্টারন্যাশনাল বার্ড স্যাংচুয়ারি ন্যাশনাল পার্ক— "উইনাইটিনাইটি পাংকারা"]]
| region1color=#3250a8
| region1description=দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় পাখি অভয়ারণ্য হিসেবে এটি পরিচিত।
| region2name=[[বেলেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]]
| region2color=#543a11
| region2description=এটি একটি শহুরে জাতীয় উদ্যান, যেখানে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীন গভর্নরদের বাড়ি ওল্ড গভর্নমেন্ট হাউস অবস্থিত। এখানে জলপ্রপাত ও ঝোপের মধ্যে হাইকিং ট্রেইল বিদ্যমান।
| region3name=[[ম্যাকলারেন ভ্যালি]]
| region3color=#a87332
| region3description=এটি অ্যাডিলেডের একটি ওয়াইন উৎপাদন অঞ্চল। এটি বারোসা ভ্যালির মতো বিখ্যাত নয়, তবে এখানে মানসম্পন্ন ওয়াইন তৈরি হয়।
| region4name=[[সলিসবারি, প্লেফোর্ড এবং টি ট্রি গালি]]
| region4color=#1da17e
| region4description=অ্যাডিলেডের উত্তরের বাহিরের উপশহর। এখানে অনেক পার্ক রয়েছে। এছাড়াও এখানে অ্যাডিলেডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শপিং মল ওয়েস্টফিল্ড টি ট্রি প্লাজা অবস্থিত।
| region5name=[[গাওলার]]
| region5color=#26b0b5
| region5description=এটি অ্যাডিলেডের বাইরের একটি ছোট শহর। অনেকে একে অ্যাডিলেডের অংশ বলে মনে করে, আবার কেউ কেউ আলাদা শহর মনে করে।
}}
{{mapshape
|wikidata=Q1847617
|type=geoshape
|fill=#26b0b5
|stroke=#26b0b5
|title=[[গাওলার]]
}}
{{mapshape
|wikidata=Q1094063
|type=geoshape
|fill=#47b526
|stroke=#47b526
|title=[[অ্যাডিলেড/সিটি এবং উত্তর অ্যাডিলেড|সিটি এবং উত্তর অ্যাডিলেড]]
}}
{{mapshape
|wikidata=Q1533526,Q1537228,Q1521840
|type=geoshape
|fill=#c79c73
|stroke=#c79c73
|title=[[অ্যাডিলেড/পোর্ট অ্যাডিলেড, এনফিল্ড, প্রসপেক্ট এবং আউটার হারবার|পোর্ট অ্যাডিলেড, এনফিল্ড, প্রসপেক্ট এবং আউটার হারবার]]
}}
{{mapshape
|wikidata=Q2062776,Q947334,Q976355
|type=geoshape
|fill=#1da17e
|stroke=#1da17e
|title=[[অ্যাডিলেড/সলিসবারি, প্লেফোর্ড এবং টি ট্রি গালি|সলিসবারি, প্লেফোর্ড এবং টি ট্রি গালি]]
}}
{{mapshape
|wikidata=Q19870520
|type=geoshape
|fill=#3250a8
|stroke=#3250a8
|title=[[অ্যাডিলেড/অ্যাডিলেড ইন্টারন্যাশনাল বার্ড স্যাংচুয়ারি ন্যাশনাল পার্ক— "উইনাইটিনাইটি পাংকারা"|অ্যাডিলেড ইন্টারন্যাশনাল বার্ড স্যাংচুয়ারি ন্যাশনাল পার্ক— "উইনাইটিনাইটি পাংকারা"]]]
}}
{{mapshape
|wikidata=Q1066185,Q1813391,Q1624414,Q1812769
|type=geoshape
|fill=#6655d9
|stroke=#6655d9
|title=[[অ্যাডিলেড/পশ্চিম অ্যাডিলেড|পশ্চিম অ্যাডিলেড]]
}}
{{mapshape
|wikidata=Q1279553,Q1766439,Q1016835,Q1030580,Q905608,Q56477743
|type=geoshape
|fill=#d9d255
|stroke=#d9d255
|title=[[অ্যাডিলেড/দক্ষিণ এবং পূর্ব অঞ্চল|দক্ষিণ এবং পূর্ব অঞ্চল]]
}}
{{mapshape
|wikidata=Q1812778
|type=geoshape
|fill=#a87332
|stroke=#a87332
|title=[[অ্যাডিলেড/ম্যাকলারেন ভ্যালি|ম্যাকলারেন ভ্যালি]]
}}
{{mapshape
|wikidata=Q643818
|type=geoshape
|fill=#543a11
|stroke=#543a11
|title=[[অ্যাডিলেড/বেলেয়ার জাতীয় পার্ক|বেলেয়ার জাতীয় পার্ক]]
}}
==জেনে নিন==
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল ভিক্টোরিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি এবং তাসমানিয়ায় ব্যবহৃত অস্ট্রেলিয়ান ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইমের (AEST) থেকে ৩০ মিনিট পিছিয়ে। এটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জন্য ব্যবহৃত অস্ট্রেলিয়ান ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইমের (AWST) থেকে দেড় ঘণ্টা এগিয়ে এবং সেন্ট্রাল ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম (CWST) অনুসরণ করা ইউক্লার থেকে ৪৫ মিনিট এগিয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব রাজ্যের মতো দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াও ডেলাইট সেভিংস টাইম (DST) পালন করে। তবে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, কুইন্সল্যান্ড এবং নর্দার্ন টেরিটরি ডেলাইট সেভিংস টাইম পালন করে না।
নিউ সাউথ ওয়েলসের শহর ব্রোকেন হিল এবং সিলভারটনও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার একই সময় অঞ্চল অনুসরণ করে।
===জলবায়ু===
{{Climate
| units = Metric
| janhigh = 29
| febhigh = 29
| marhigh = 26
| aprhigh = 23
| mayhigh = 19
| junhigh = 16
| julhigh = 15
| aughigh = 17
| sephigh = 19
| octhigh = 22
| novhigh = 25
| dechigh = 27
| janlow = 17
| feblow = 17
| marlow = 15
| aprlow = 12
| maylow = 10
| junlow = 8
| jullow = 8
| auglow = 8
| seplow = 10
| octlow = 12
| novlow = 14
| declow = 16
| janprecip = 19
| febprecip = 14
| marprecip = 27
| aprprecip = 40
| mayprecip = 60
| junprecip = 79
| julprecip = 75
| augprecip = 69
| sepprecip = 59
| octprecip = 43
| novprecip = 31
| decprecip = 29
| description = [http://www.bom.gov.au/climate/averages/tables/cw_023090.shtml Source: BOM]
}}
অ্যাডিলেড অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে শুষ্ক রাজধানী শহর। এখানে গ্রীষ্মকাল গরম এবং শুষ্ক, আর শীতকাল কিছুটা ঠাণ্ডা ও তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাতযুক্ত।
গ্রীষ্মকালে দিনের গড় তাপমাত্রা ২৯°সে (৮৪°ফা) হলেও তাপমাত্রার তারতম্য হতে পারে এবং বছরে কয়েকটি দিন ৪০°সে (১০৪°ফা) এর ওপরে উঠতে পারে। গ্রীষ্মে বৃষ্টিপাত কম এবং অনিয়মিত হয়। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২০ মিলিমিটার (০.৮ ইঞ্চি)। তবে পুরো মাসে কোনো বৃষ্টি না হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। নিয়মিত গরমের কারণে প্রায় সব পাবলিক ভবন, ইনডোর পর্যটন কেন্দ্র এবং বেশিরভাগ গণপরিবহনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। গ্রীষ্মকালে সূর্য ৬টা থেকে বিকেল ৮:৩০ পর্যন্ত থাকে।
শীতকালে গড় তাপমাত্রা ১৫–১৬°সে (৫৯–৬১°ফা) এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৮°সে (৪৬°ফা) থাকে। শীতকালে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয় এবং জুন মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় (গড়ে প্রায় ৮০ মিলিমিটার)। অ্যাডিলেড হিলসের উপত্যকায় ঠাণ্ডার কারণে কখনো কখনো তুষারপাত হয়, তবে শহরের অন্যান্য স্থানে তা খুবই বিরল। অ্যাডিলেডের মূল শহরে তুষারপাত হয় না, তবে মাঝে মাঝে মাউন্ট লফটির উপরিভাগে অল্প তুষার দেখা যেতে পারে। শীতকালে সূর্য সকাল ৭:১৫ থেকে বিকেল ৫:১৫ পর্যন্ত থাকে।
বসন্ত এবং শরৎকাল গ্রীষ্ম ও শীতের মধ্যবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে আবহাওয়ার পরিবর্তন আনে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত অ্যাডিলেডে নানা ধরনের আর্টস, সংগীত ও ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, কারণ এ সময় আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে। শীতের বৃষ্টির পর বসন্তে ফুল ফোটে, যা অ্যাডিলেড ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়।
===ইতিহাস===
====আদিবাসী ইতিহাস====
অ্যাডিলেডের সমতল ভূমির প্রথম বাসিন্দা ছিল কৌরনা (Kaurna) জনগোষ্ঠী। তাদের অঞ্চল বর্তমান পোর্ট ব্রাউটন থেকে অ্যাডিলেডের উত্তর পর্যন্ত এবং দক্ষিণে ফ্লুরিয়ু উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে কেপ জার্ভিস পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কৌরনা জনগণ ছোট পরিবারিক গোষ্ঠীতে বাস করত, যাদের "ইয়ের্তা" বলা হতো। "ইয়ের্তা" শব্দটি দ্বারা কেবল পরিবারিক গোষ্ঠীকেই বোঝাত না, বরং এই শব্দটি দ্বারা তাদের জীবিকা নির্বাহের ভূমিকেও বুঝানো হয়। প্রতিটি ইয়ের্তার দায়িত্ব ছিল প্রাপ্তবয়স্ক কৌরনা জনগণের ওপর, যারা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেত এবং সেই ভূমির সম্পদ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখত।
অ্যাডিলেডের সমৃদ্ধ আদিবাসী ইতিহাস এবং জীবন্ত সংস্কৃতি টান্ডানিয়া (Tandanya) সংস্কৃতি ও ইতিহাস কেন্দ্রের মাধ্যমে জানার সুযোগ রয়েছে। এটি গ্রেনফেল স্ট্রিটে অবস্থিত এবং আদিবাসীদের মালিকানাধীন। টান্ডানিয়ায় বিনামূল্যে প্রবেশ করা যায় এবং সামান্য ফি দিয়ে ট্যুরের সুবিধা পাওয়া যায়।
====ইউরোপিয়ানদের বসতি====
[[File:Transformers - Victoria Square Adelaide SA - panoramio.jpg|thumb|অ্যাডিলেড শহরের উপর থেকে দেখা ভিক্টোরিয়া স্কয়ারের একটি ছবি, যা বসতি স্থাপনের প্রথম দিনগুলিতে শহরের "গ্রিড বিন্যাস" পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।]]
উনিশ শতকের শুরুতে ইউরোপিয়ান অভিযাত্রী ম্যাথিউ ফ্লিন্ডার্স এবং নিকোলাস বোডিন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের মানচিত্র তৈরি করেন। এরপর মারি নদীর পাশে একটি অভিযান হয়। এই অভিযানে উপকূলের জমি সম্পর্কে ভালো প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ওই সময়ে ব্রিটিশ সংস্কারকরা এমন একটি উপনিবেশ গড়তে চেয়েছিলেন যেখানে নিরপরাধ লোকজন এসে থাকতে পারবে। অন্যান্য অস্ট্রেলিয়ান উপনিবেশগুলির মতো এখানে অপরাধী প্রেরণের ভিত্তিতে বসতি স্থাপন করা হবে না।
১৮৩৪ সালে সাউথ অস্ট্রেলিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে একটি আইন পাস করাতে রাজি করায়। এই আইনটি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মুক্ত জনগণের জন্য একটি নতুন উপনিবেশ তৈরি করে। ১৮৩৬ সালের ডিসেম্বরে ১০ মাসের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে ইংল্যান্ড থেকে একটি জাহাজ বহর আসে। এরপর প্রথম গভর্নর জন হিন্দমার্শ এখনকার গ্লেনেলগ শহরতলিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রদেশের ঘোষণা দেন।
শহর গঠনের সময় কিছু মতবিরোধের পর প্রথম জরিপকারী উইলিয়াম লাইট শহরের জন্য একটি গ্রিড আকারের পরিকল্পনা তৈরি করেন। এই পরিকল্পনায় চওড়া রাস্তা, পার্কের চারপাশে শহর এবং একটি কেন্দ্রীয় স্কয়ার (ভিক্টোরিয়া স্কয়ার) ও চারটি ছোট স্কয়ার (হিন্দমার্শ, লাইট, হুইটমোর, হার্টেল) রাখা হয়। এই পরিকল্পনা এখনও কিছু পরিবর্তনসহ টিকে আছে।
খনন ও কৃষিকাজের উপর ভিত্তি করে শহরের শুরুর দিকের শিল্পগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার প্রধান রপ্তানি বাজার ছিল ইংল্যান্ড। যেহেতু এখানে আসা বসতির লোকেরা বেশ প্রগতিশীল ছিলেন, সেহেতু অ্যাডিলেডে অনেক প্রাথমিক সংস্কার হয়। এর মধ্যে ছিল গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়া, মহিলাদের ভোটাধিকার ও সংসদে দাঁড়ানোর সুযোগ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা ও আন্দোলন।
====ফেডারেশন পরবর্তী সময়====
১৯০১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশনের পর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া উৎপাদনশিল্পে মনোযোগ দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রিমিয়ার থমাস প্লেফোর্ডের সরকার এই প্রক্রিয়াকে আরও বাড়িয়ে তোলে। প্লেফোর্ড বিভিন্ন কোম্পানিকে (যেমন জেনারেল মোটরস) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার জন্য সস্তা জমি ও কম করের সুবিধা দেন। এতে গাড়ির ব্যবহার বেড়ে যায়, ফলে অ্যাডিলেডের ঘনত্ব কমে। কারণ কারখানার কর্মীরা শহরের বাইরের এলাকায় বাস করত।
দক্ষিণ ইউরোপ থেকে অনেক মানুষ অ্যাডিলেডে আসে। গ্রিকরা শহরের পশ্চিম ও দক্ষিণে এবং ইতালিয়ানরা পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে বসবাস শুরু করে। তাদের সাংস্কৃতিক প্রভাব এখনো আছে। শহরের অনেক দোকান ও ক্যাফেতে এই প্রভাব দেখা যায়। এছাড়া, জার্মানি ও পোল্যান্ড থেকেও অনেক অভিবাসী আসে। তারা কসাইখানায় জার্মান ও পোলিশ ধাঁচের সসেজ নিয়ে আসে।
অর্থনীতি ভালোভাবে এগোলেও, অ্যাডিলেডের সামাজিক জীবন আগের মতো প্রগতিশীল থাকেনি। "হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া" নীতি অনুসারে অ্যাডিলেডে মূলত ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত লোকেরাই বসবাস করত।
====বৈশ্বিক রাজধানী শহর====
১৯৬০-এর দশকে অ্যাডিলেডের সাংস্কৃতিক জীবনে বড় পরিবর্তন আসে, যা শহরের শিল্প সংস্কৃতিকে বদলে দেয়। ১৯৩০-এর দশকের পর এই ১৯৬০-এর দশকের শেষে প্রথমবারের মতো লেবার সরকার নির্বাচিত হয়। ১৯৭০ সালে ডন ডানস্টান দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার হন। ডানস্টান একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং তিনি অ্যাডিলেডকে আধুনিক ও বৈশ্বিক এক রাজধানী শহরে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
ডানস্টানের সরকার অনেক সংস্কার আনে। তারা র্যান্ডেল স্ট্রিটকে পথচারীদের জন্য খুলে দেয়, যা র্যান্ডেল মল নামে পরিচিত হয়। এছাড়াও ডানস্টানের সরকার অনেক প্রগতিশীল আইন পাস করে।
এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইনেও পরিবর্তন আসে। ফলে ভিয়েতনামি ও চীনা অভিবাসীরা আগের অভিবাসীদের সাথে যোগ দেয় এবং উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমের শহরতলিতে বসতি গড়ে তোলে। এছাড়া অ্যাডিলেড সেন্ট্রাল মার্কেটের পাশে গুজার স্ট্রিটে বহু ভাষার চিনাটাউন এলাকা তৈরি হয়।
১৯৭০-এর দশকের শেষে এক মেয়াদে লেবার দল সরকার হারালেও ১৯৮০-এর দশকে জন ব্যানন এর নেতৃত্বে তারা আবার ক্ষমতায় আসে। ডানস্টানের তুলনায় ব্যানন আরও ব্যবসাবান্ধব ছিলেন। তিনি শহরের উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেন। অ্যাডিলেডের সবচেয়ে উঁচু ভবন (যা এখন "ওয়েস্টপ্যাক হাউস" নামে পরিচিত) এবং অ্যাডিলেড কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ হয় এই সময়ে। তবে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ব্যাংকের খারাপ অবস্থার কারণে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার স্টেট ব্যাংক ভেঙে পড়ে। তখন সরকারকে বড় অর্থ সহায়তা দিতে হয়, যা রাজ্যকে বিশাল ঋণের মধ্যে ফেলে দেয়।
====পুনরুদ্ধার পর্ব====
১৯৯০-এর দশকে লিবারেল সরকারের নেতৃত্বে প্রিমিয়ার ডিন ব্রাউন, জন ওলসেন এবং রব কেরিন রাজ্যের ঋণ কমানোর জন্য সরকারি সম্পদ বিক্রি ও পরিষেবাগুলি কমানোর কাজ করেন। এই সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং ফেডারেল সরকারের শুল্ক প্রাচীর বাতিল করার ফলে অস্ট্রেলিয়ার উৎপাদনশিল্পে মন্দা আসে। এর ফলে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায় এবং অনেক লোক পূর্বাঞ্চলের বড় শহরগুলোতে (বিশেষত মেলবোর্নে) চলে যায়।
২০০২ সালে লেবার নেতা মাইক রান সরকারে ফিরে আসেন। তিনি অ্যাডিলেডের শিল্প খাতকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করেন। শিক্ষা পরিষেবা, খননশিল্প এবং প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। রান-এর সরকার শহরের পুনর্নির্মাণে প্রচুর বিনিয়োগ করে। তারা গণপরিবহনের উন্নতি, নতুন কেন্দ্রীয় হাসপাতাল নির্মাণ এবং অ্যাডিলেড ওভালের পুনর্গঠন করে। দশ বছর পর ২০১১ সালে জে ওয়েদারিল লেবার দলের নতুন প্রিমিয়ার হন। তিনি আগের পরিকল্পনাগুলো চালিয়ে যান, তবে শহরের অভ্যন্তরীণ স্থানগুলোকে আরও সুন্দর করতে মনোযোগ দেন। কিছু নির্দিষ্ট আইন শিথিল করার মাধ্যমে এই পরিবর্তনগুলি করা হয়।
===পর্যটন তথ্য ===
* [https://www.experienceadelaide.com.au/ ভিজিট অ্যাডিলেড] ওয়েবসাইট
==আসুন==
====বিমান যোগে====
* {{তালিকাভুক্তকরণ
| ধরন = go| নাম = অ্যাডিলেড বিমানবন্দর| অন্য = {{IATA|ADL}}| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৭ কিমি পশ্চিমে। এটি জনপ্রিয় পর্যটন সমুদ্র সৈকত গ্লেনেলগ এবং হেনলি বিচের কাছাকাছি| ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = http://www.aal.com.au| সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = -34.945| দ্রাঘিমাংশ = 138.530556| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = অ্যাডিলেড বিমানবন্দর অন্যান্য বড় অস্ট্রেলিয়ান শহরগুলোর সঙ্গে ভালোভাবে সংযুক্ত এবং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং নিউজিল্যান্ডে দৈনিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সরবরাহ করে, যার মাধ্যমে অ্যাডিলেড হতে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় পৌঁছানোর সুযোগ পাওয়া যায়। সিডনি, মেলবোর্ন বা পার্থের মাধ্যমে সংযোগকারী ফ্লাইটগুলি আরও সাশ্রয়ী হতে পারে।| চিত্র = AdelaideAirportSkyline.jpg| উইকিপিডিয়া = Adelaide Airport| উইকিউপাত্ত = Q14302
}}
'''পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে''' ভ্রমণকারীরা [[সিঙ্গাপুর]] (সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স), [[কুয়ালালামপুর]] (মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স) এবং [[ডেনপাসার]] (জেটস্টার এয়ারওয়েজ) থেকে সরাসরি ফ্লাইটে আসতে পারেন। '''মধ্যপ্রাচ্য বা উত্তর আফ্রিকা থেকে''' ভ্রমণকারীরা [[দুবাই]] থেকে এমিরেটস এবং [[দোহা]] থেকে কাতার এয়ারওয়েজের মাধ্যমে দৈনিক ফ্লাইটে আসতে পারেন। '''ইউরোপ থেকে''' ভ্রমণকারীরা এই এয়ারলাইন্সগুলোর মাধ্যমে একবারে অ্যাডিলেডে পৌঁছাতে পারেন।
'''নিউজিল্যান্ড থেকে''' ভ্রমণকারীরা [[অকল্যান্ড]] থেকে এয়ার নিউজিল্যান্ডের সরাসরি দৈনিক ফ্লাইটে আসতে পারেন। '''উত্তর বা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে''' আসা ভ্রমণকারীরা এয়ার নিউজিল্যান্ডের মাধ্যমে অকল্যান্ড হয়ে একবারে অ্যাডিলেডে পৌঁছাতে পারেন, অথবা সিডনি, মেলবোর্ন বা ব্রিসবেনে অবতরণের পর দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রা করতে পারেন।
'''অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে''' ভ্রমণকারীরা প্রতিদিন [http://www.qantas.com.au কান্তাস] এবং [https://www.virginaustralia.com/au/en ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া] এর মাধ্যমে সেবা লাভ করতে পারেন। এছাড়াও [http://www.jetstar.com জেটস্টার] এয়ারলাইন্সে সাশ্রয়ী বাজেটের ফ্লাইট রয়েছে, যা মূলত মেলবোর্ন, সিডনি এবং গোল্ড কোস্টে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এছাড়া [[অ্যালিস স্প্রিংস]] এবং [[কেয়ার্নস]] এর জন্যও ফ্লাইট পাওয়া যায়।
'''আঞ্চলিক ফ্লাইট সেবা''' সরবরাহ করে রিজিওনাল এক্সপ্রেস এয়ারলাইন্স (''রেক্স''), অ্যালায়েন্স এয়ারলাইন্স, কোবহাম এয়ারলাইন্স এবং কোয়ান্টাসলিঙ্ক। এই সেবাগুলি মূলত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক শহরগুলোর মধ্যে পরিচালিত হয় (যেমন: মাউন্ট গাম্বিয়ার, কিংসকোট বা [[ক্যাঙ্গারু আইল্যান্ড]], [[পোর্ট লিংকন]] এবং ওয়াইল্লা)। এছাড়া [[ভিক্টোরিয়া]] রাজ্যের [[মাইলডুরা]] এবং [[নিউ সাউথ ওয়েলস]] রাজ্যের [[ব্রোকেন হিল|ব্রোকেন হিলও]] এর অন্তর্ভুক্ত।
অ্যাডিলেড বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য একটি একক টার্মিনাল রয়েছে, তাই ফ্লাইট স্থানান্তর করা সহজ। বিমানবন্দরে এটিএম, মুদ্রা বিনিময়, খাবার এবং কেনাকাটার সুবিধা আছে। পার্কিং এলাকায় লকার রয়েছে। এ লকারগুলোতে বড় সাইজের লকার পাওয়া যায় যাতে সাইকেলের বাক্সও ধরে। বিমানবন্দরের পুরো এলাকায় ফ্রি ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়।
==== সাধারণ বিমান চলাচল ====
অ্যাডিলেড বিমানবন্দরে সাধারণ বিমান চলাচলের জন্য একটি আলাদা টার্মিনাল রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ব্যক্তিগত বিমান {{তালিকাভুক্তকরণ
| ধরন = go| নাম = প্যারাফিল্ড বিমানবন্দর| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = https://parafieldairport.com.au/| সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = | দ্রাঘিমাংশ = | শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | উইকিউপাত্ত = Q14308
}} ব্যবহার করে, যা শহরের ১৮ কিমি উত্তরে অবস্থিত।
==== বিমানবন্দর থেকে শহরে যাতায়াত ====
'''অ্যাডিলেড মেট্রোর [https://www.adelaidemetro.com.au/plan-a-trip/visiting-adelaide/adelaide-airport-bus বিমানবন্দর বাস জে১/জে২/জে৭/জে৮]''' বিমানবন্দরকে শহরের কেন্দ্র, গ্লেনেলগ এবং প্রধান শপিং সেন্টারগুলোর সাথে সংযুক্ত করে। জে১ বাসগুলি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভ্রমণের সময় প্রায় ২৫ মিনিট। গ্লেনেলগগামী বাসগুলি দিনে প্রতি আধা ঘণ্টা অন্তর চলে, তবে রাতের বেলা কম পরিমাণে চলাচল করে। আর্নডেল, ওয়েস্ট লেকস এবং মারিয়ন শপিং সেন্টারের বাসগুলো সপ্তাহের কর্ম দিবসগুলোয় প্রতি ঘণ্টায় ছাড়ে।
সব বাস টার্মিনালের বাইরে একটি নির্দিষ্ট স্টপ থেকে ছেড়ে যায়। সব বাস একই স্টপ থেকে ছাড়ে, তাই কোন বাসে উঠছেন তা নিশ্চিত করতে সামনে লিখিত গন্তব্য দেখে নিন। বাসের সরাসরি তথ্য [https://www.adelaidemetro.com.au/stops?id=17327 এখানে] বা আপনার স্মার্টফোনের [https://www.adelaidemetro.com.au/using-adelaide-metro/public-transport-apps অ্যাপস] এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে। টিকিট কিনতে হবে না; শুধু আপনার ব্যাংক কার্ড বা উপযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করে [https://www.adelaidemetro.com.au/tickets-and-fares/tap-and-pay ট্যাপ করে পেমেন্ট] করতে পারেন।
জেটবাস অ্যাডিলেড মেট্রো নেটওয়ার্কের অংশ। তাই সাধারণ টিকিট এবং ভাড়ার নিয়মগুলো এখানে প্রযোজ্য। জেটবাসের টিকিট ব্যবহার করে অন্য বাস, ট্রেন বা ট্রামে উঠতে পারবেন। বিমানবন্দরে মেট্রোকার্ডের ভেন্ডিং মেশিনও আছে, যেখান থেকে আপনি একটি কার্ড কিনতে পারেন।
'''ট্যাক্সি''' টার্মিনালের সামনের নিচতলা থেকে পাওয়া যায়। শহরগামী ট্যাক্সিগুলো সকালে ৩০ ডলার এবং অন্যান্য সময় প্রায় ২০ ডলার ভাড়া নিয়ে থাকে। ফলে দলগত ভ্রমণে ট্যাক্সি এবং জেটবাসের খরচ প্রায় সমান হতে পারে। সব ট্যাক্সি মিটারের মাধ্যমে ভাড়া নেয়, তবে বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি ধরলে অতিরিক্ত ২ ডলার সারচার্জ যোগ হয়।
বড় বড় '''গাড়ি ভাড়ার কোম্পানি''' টার্মিনালের ব্যাগেজ প্রাপ্তির এলাকার কাছে কিয়স্ক পরিচালনা করে। গাড়ি ভাড়ার পার্কিংটি টার্মিনালের ঠিক সামনে অবস্থিত।
=== গাড়িতে করে যাতায়াত ===
অ্যাডিলেডে পৌঁছানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের রাজধানী শহরগুলো থেকে এক দিনের বেশি সময় লাগে। অ্যাডিলেড থেকে [[মেলবোর্ন]] পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথটি ৮-৯ ঘণ্টা সময় নেয় (দেখুন [[মেলবোর্ন এবং অ্যাডিলেডের মধ্যে স্থলপথ ভ্রমণ]])। অ্যাডিলেডে কিছু ফ্রি-ওয়ে রাস্তা রয়েছে। তবে বেশিরভাগ রাস্তা ২ লেনের, যা হাইওয়ে মানের।
'''[[মেলবোর্ন]]''' থেকে অ্যাডিলেডের দূরত্ব {{km|736}} [[হরশাম (ভিক্টোরিয়া)|হরশাম]] (এ৮) হয়ে, অথবা {{km|901}} [[মাউন্ট গ্যাম্বিয়ার]] (এ১/বি১) হয়ে। এই রুটে [[গ্রেট ওশান রোড]] ধরে বেড়ানোর সুযোগও থাকে। হরশাম হয়ে পথটি সংক্ষিপ্ত, তবে সেখানে কম দর্শনীয় স্থান আছে।
'''[[সিডনি]]''' থেকে অ্যাডিলেডের দূরত্ব ১,৪২২ কিলোমিটার (৮৮৪ মাইল), [[ওয়াগা ওয়াগা]] এবং [[মিল্ডুরা]] (এ২০) হয়ে। সিডনি থেকে ওয়াগা ওয়াগা পর্যন্ত ফ্রি-ওয়ে থাকায় ভ্রমণের সময় অনেকটাই কমে যায়। এই পথটি [[ক্যানবেরা]]র কাছ দিয়ে যায়, যা অ্যাডিলেড থেকে ১,১৯৬ কিলোমিটার (৭৪৩ মাইল) দূরে।
সিডনি থেকে আরেকটি বিকল্প পথ হল {{km|1,659}} দূরের [[ব্রোকেন হিল]] (এ৩২) হয়ে যাওয়া, যা আপনাকে আউটব্যাকের মধ্য দিয়ে নিয়ে যায় এবং অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ঐতিহাসিক খনিশহর ব্রোকেন হিল দেখার সুযোগ দেয়। [[ব্রিসবেন]] থেকে অ্যাডিলেডের {{km|2,031}} পথও ব্রোকেন হিলের মধ্য দিয়ে যায়।
অ্যাডিলেড হল '''[[পার্থ]]'''-এর নিকটতম রাজধানী শহর। তবে {{km|2,550}} দীর্ঘ পথটি [[নালারবোর]] মরুভূমির মধ্য দিয়ে যায়, যা বিশ্বে অন্যতম দূরবর্তী অঞ্চল। এই পথে [[কালগুরলি-বোল্ডার]] (অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি ঐতিহাসিক খনিশহর) দেখার জন্য সামান্য ঘুরতে পারেন। ঠিক তেমনিভাবে {{km|3,027}} উত্তরের দিকে '''[[ডারউইন]]''' পর্যন্ত ভ্রমণ-পথটি [[আউটব্যাক]] দিয়ে [[আলিস স্প্রিংস]] হয়ে যায় এবং এটি [[উলুরু]] প্রধান মহাসড়ক থেকে মাত্র তিন ঘণ্টার দূরত্বে। তবে এই দীর্ঘ পথভ্রমণ সাধারণত অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের জীবনে এক বা দুইবার করে থাকেন।
=== ট্রেনে যাতায়াত ===
অ্যাডিলেড হল অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ দূরত্বের আন্তঃরাজ্য ট্রেন অপারেটর '''[https://www.journeybeyond.com/ জার্নি বিয়ন্ড]'''-এর প্রধান কেন্দ্র। [[দ্য গান]] [[অ্যালিস স্প্রিংস]] এবং [[ডারউইন]] পর্যন্ত, [[ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক]] [[পার্থ]] এবং [[সিডনি]] পর্যন্ত এবং [[দ্য ওভারল্যান্ড]] [[মেলবোর্ন]] পর্যন্ত চলে। দ্য গান এবং ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক বিলাসবহুল ট্রেন ভ্রমণ, যেখানে স্লিপার, রেস্তোরাঁয় খাবার এবং পার্থ বা ডারউইনে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে। তবে এগুলোতে সময় লাগে অনেক বেশি, এমনকি গাড়িতে যেতে যতটা সময় লাগে তার থেকেও বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই এই ট্রেন ভ্রমণ-ব্যয় প্লেন টিকিটের চেয়ে বেশি দামি হয়। অন্যদিকে, দ্য ওভারল্যান্ড সাধারণত সস্তা এবং এর বিজনেস-ক্লাস টিকিটের দাম অ্যাডিলেড-মেলবোর্ন ফ্লাইটের ইকোনমি-ক্লাস টিকিটের মতোই হয়। দ্য ওভারল্যান্ড মেলবোর্ন এবং অ্যাডিলেডের মধ্যে বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় থামে, যা ছোট শহরগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে, জার্নি বিয়ন্ডের ট্রেনগুলিতে ওয়াই-ফাই নেই।
এই আন্তঃরাজ্য ট্রেনগুলো {{Marker|type=go|lat=-34.9379|long=138.5810|name=Adelaide Parklands Terminal}} থেকে ছাড়ে, যা শহরের ঠিক বাইরে অবস্থিত। স্টেশনে গাড়ি বা বাসে করে পৌঁছানো যায়। কেসউইক স্টেশন ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে এখন আর শহরতলির রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ নেই। সব ট্রেনের আগমনের সময় ট্যাক্সিও পাওয়া যায়।
সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় আর কোনো আন্তঃনগর রেল পরিষেবা নেই।
=== বাসে যাতায়াত ===
'''আন্তঃরাজ্য বাস পরিষেবা''' বিভিন্ন কোচ কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেমন [http://www.greyhound.com.au গ্রেহাউন্ড], [http://www.fireflyexpress.com.au/ ফায়ারফ্লাই] এবং [http://www.vline.com.au ভি/লাইন]। মেলবোর্ন থেকে অ্যাডিলেডের বাসযাত্রা প্রায় সাড়ে এগারো ঘণ্টা সময় নেয়। দিন এবং রাত উভয় সময়ের বাস পাওয়া যায়। সিডনি থেকে যাত্রা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে এবং এটি রাতের বাস পরিষেবা। বাসের ভাড়া ট্রেন ও প্লেনের চেয়ে সস্তা, বিশেষ করে অ্যাডিলেড-মেলবোর্ন রুটে, যদিও সঠিক সময় মিললে অ্যাডিলেড-সিডনি বাজেট এয়ারলাইনের ফ্লাইট বাসের চেয়েও সস্তা হতে পারে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার শহর ও শহরতলিতে '''আঞ্চলিক বাস পরিষেবা''' আন্তঃরাজ্য বাস কোম্পানিগুলি দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে স্থানীয় কোচ কোম্পানিগুলি (যেমন [http://www.linksa.com.au লিংকএসএ] এবং [http://www.premierstateliner.com.au প্রিমিয়ার স্টেটলাইনার]) আরো বেশি ফ্রিকোয়েন্ট পরিষেবা প্রদান করে।
প্রায় সব আন্তঃরাজ্য এবং আঞ্চলিক বাস {{নির্দেশক | ধরন = go | নাম = অ্যাডিলেড সেন্ট্রাল বাস স্টেশন | ইউআরএল = http://www.adelaidecitycouncil.com/explore-the-city/visit-adelaide/visitor-information/arriving-departing/adelaide-central-bus-station/ | অক্ষাংশ = -34.92806 | দ্রাঘিমাংশ = 138.59587 }} থেকে ছাড়ে, যা সেন্ট্রাল মার্কেট, একটি কোলস সুপারমার্কেট এবং চায়নাটাউনের কাছাকাছি অবস্থিত।
=== জাহাজে যাতায়াত ===
প্রতি বছর নভেম্বরে থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ক্রুজ মৌসুমে বিভিন্ন ক্রুজ জাহাজ {{নির্দেশক | ধরন = go | নাম = পোর্ট অ্যাডিলেড প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল | ইউআরএল = https://www.flindersports.com.au/port-adelaide/ | অক্ষাংশ = -34.7775 | দ্রাঘিমাংশ = 138.4827 }}-এ ভিড়ে। [http://portmis.flindersports.com.au ফ্লিন্ডার্স পোর্টস]-এ ক্রুজ জাহাজের আগমনের তালিকা পাওয়া যায়।
== চলাফেরা ==
=== ট্রেনে যাতায়াত ===
সঠিক ট্রানজিট তথ্য পেতে গুগল ম্যাপস এবং অ্যাপল ম্যাপস ব্যবহার করতে পারেন। চলাচলের জন্য আপনার গন্তব্য এবং প্রস্থান ঠিকানা (বা আপনার বর্তমান অবস্থান) প্রবেশ করিয়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আইকন নির্বাচন করুন। অ্যাডিলেড মেট্রো ওয়েবসাইট অথবা বিভিন্ন স্মার্টফোন অ্যাপস (যেমন ট্রানজিটটাইমস) থেকে আসল সময়ে আগমনের তথ্য পেতে পারেন এবং আপনার গাড়ি আসার আগে আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন।
==== রুট ====
[[File:AdeMet4000ClassTrain.jpg|thumb|right|অ্যাডিলেড মেট্রো ট্রেন]] [https://www.adelaidemetro.com.au অ্যাডিলেড মেট্রো] ট্রেন সিস্টেম শহরের উত্তরের দিকে অবস্থিত। {{নির্দেশক | ধরন = go | নাম = অ্যাডিলেড রেলওয়ে স্টেশন | অক্ষাংশ = | দ্রাঘিমাংশ = | উইকিউপাত্ত = Q4681770 }} থেকে চারটি প্রধান লাইন দিয়ে চলে, যার সাথে দুটি শাখা লাইনও আছে। এটি আসলে মেট্রো সিস্টেম নয়, বরং শহরতলির যাত্রী রেল সিস্টেম।
উত্তরের দিকে যাতায়াত:
'''আউটার হারবার লাইন''' পোর্ট অ্যাডিলেড এবং গ্ল্যানভিলের মাধ্যমে শহরের উত্তর-পশ্চিমে লে ফেভ্রে উপদ্বীপ পর্যন্ত যায়। এটি সেমাফোর পর্যটন অঞ্চল, পোর্ট অ্যাডিলেডের ঐতিহাসিক সামুদ্রিক এলাকা এবং ক্রয়ডনের ক্যাফে স্ট্রিপে যাওয়ার জন্য সুবিধাজনক। '''গ্রেঞ্জ লাইন''' আউটার হারবার লাইন থেকে উডভিল এ শাখারূপে বের হয়।
'''গাওলার লাইন''' ওভিংহ্যাম, মোসন লেকস, স্যালিসবুরি এবং এলিজাবেথ-এর মধ্য দিয়ে শহরের উত্তরে অবস্থিত গাওলার সেন্ট্রালে যায়।
দক্ষিণ দিকে যাতায়াত:
বৈদ্যুতিক '''সিফোর্ড লাইন''' ব্রাইটন এবং নোয়ারলুঙ্গা সেন্ট্রাল-এর মধ্য দিয়ে শহরের দক্ষিণে অবস্থিত সিফোর্ড পর্যন্ত যায়। এই লাইনটি ব্রাইটন এবং হ্যালেট কোভ-এর সমুদ্র সৈকত এবং ওকল্যান্ডস-এর ওয়েস্টফিল্ড মারিয়নে যাওয়ার সুবিধা দেয়। '''ফ্লিন্ডার্স লাইন''' (পূর্বে টন্সলে লাইন নামে পরিচিত) সিফোর্ড লাইন থেকে শাখা হিসেবে বের হয় এবং ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ হয়।
'''বেলায়ার লাইন''' ব্ল্যাকউড এবং শহরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের মধ্য দিয়ে বেলায়ার পর্যন্ত যায়। এই লাইনটি [[বেলায়ার ন্যাশনাল পার্ক]]-এ যাওয়ার জন্য উপযোগী।
বাইক ট্রেনের সাথে নিয়ে যাওয়া যায় (তবে ট্রাম বা বাসে নয়)। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টার আগে এবং বিকেল ৩-৬টার মধ্যে পিক সময়ে ভাড়া বেশি হতে পারে (তবে সিনিয়র কার্ডধারীদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়)। অন্য সময়ে বাইক নিয়ে বিনামূল্যে ভ্রমণ করা যায়।
টিকিট এবং রুটের তথ্য
শহরতলির ট্রেন, ট্রাম এবং বাস পরিষেবা একই ব্র্যান্ড নামের অধীনে পরিচালিত হয়, যা '''অ্যাডিলেড মেট্রো''' নামে পরিচিত এবং একক টিকিট সিস্টেম "মেট্রোটিকিট" ব্যবহার করে। {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম = অ্যাডিলেড রেলওয়ে স্টেশন ইনফোসেন্টার| অন্য = | ঠিকানা = অ্যাডিলেড রেলওয়ে স্টেশন, নর্থ টেরেস| দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = ১৩০০ ৩১১ ১০৮| ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = http://adelaidemetro.com.au| সময়সূচী = সকাল ৭টা - রাত ৮টা| মূল্য = | অক্ষাংশ = | দ্রাঘিমাংশ = | শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = অথবা অ্যাডিলেড মেট্রোর ওয়েবসাইটে সময়সূচী এবং রুটের তথ্য পাওয়া যাবে। গুগল ম্যাপস-এও পাবলিক ট্রানজিটের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়, যেখানে 'ট্রানজিট' দিক নির্দেশনা ব্যবহার করা হয়।| চিত্র =
|name=|lastedit=২০২৪-১০-২২}}বাস, ট্রাম এবং প্রধান ট্রেন স্টেশন থেকে একক যাত্রার টিকিট (যা দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাহীন স্থানান্তরের সুযোগ দেয়) পিক সময়ে $৫.৯০ এবং অফ-পিক সময়ে $৪-তে পাওয়া যায়। এছাড়াও, $১১.২০-এ ডে-ট্রিপ টিকিট পাওয়া যায়, যা পুরো দিনের জন্য অ্যাডিলেড মেট্রো এলাকায় সীমাহীন ভ্রমণের সুযোগ দেয়।
দীর্ঘ সময়ের জন্য অ্যাডিলেডে থাকা ভ্রমণকারীরা $১০ দিয়ে একটি মেট্রোকার্ড কিনতে পারেন, যার সাথে $৫ মূল্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। মেট্রোকার্ড ব্যবহার করলে পিক সময়ে ভাড়া $৪.০৫ এবং অফ-পিক সময়ে ভাড়া $২.২৫। এই মেট্রোকার্ডগুলো অ্যাডিলেড, এলিজাবেথ, গলার, নোয়ারলুঙ্গা সেন্টার, ওকল্যান্ডস, মোসন লেকস এবং স্যালিসবুরিসহ প্রধান ট্রেন স্টেশন, বেশিরভাগ সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র এবং কর্নার স্টোরে বিক্রি হয়। [https://www.adelaidemetro.com.au/using-adelaide-metro/retailers-and-facilities অ্যাডিলেড মেট্রো ওয়েবসাইটে অবস্থানগুলোর একটি তালিকা রয়েছে]। মেট্রোকার্ড যেখানে বিক্রি হয় সেখানে এবং ট্রেন বা ট্রামে কয়েন বা প্রধান ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে রিচার্জ করা যায়।
$২৬ মূল্যের একটি ভিজিটর মেট্রোকার্ডও রয়েছে যা ৩ দিনের জন্য নেটওয়ার্কে সীমাহীন ভ্রমণের সুযোগ দেয়। ৩ দিনের পর এই কার্ডটি সাধারণ মেট্রোকার্ডের মতো রিচার্জ করে ব্যবহার করা যায়।
রবিবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সারাদিন এবং সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯:০১ থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত '''অফ-পিক''' সময়। বাকি সময়গুলো '''পিক''' সময়।
শহরের কেন্দ্রস্থলে কিছু '''[https://www.adelaidemetro.com.au/plan-a-trip/free-and-special-transport বিনামূল্যে ট্রাম এবং বাস]''' পরিষেবা রয়েছে। এই পরিষেবাগুলোর জন্য মেট্রোকার্ড বা মেট্রোটিকিটের প্রয়োজন হয় না।
===বাসে যাতায়াত===
[[File:SouthLink Scania K320UA (BUS 2838).jpg|thumb|right|সাউথলিংক অ্যাডিলেড মেট্রো বাস]]
অ্যাডিলেড মেট্রোর একটি বিস্তৃত বাস নেটওয়ার্ক রয়েছে যা শহরের কেন্দ্রস্থলে কেন্দ্রীভূত। সম্পূর্ণ মানচিত্র এবং তথ্য [https://www.adelaidemetro.com.au/plan-a-trip/network-maps অ্যাডিলেড মেট্রো ওয়েবসাইটে] পাওয়া যায়। বেশিরভাগ প্রধান সড়ক, যেমন ক্যাফে এলাকা—দ্য প্যারেড, প্রসপেক্ট রোড, হেনলি বিচ রোড, কিং উইলিয়াম রোড এবং ও'কনেল স্ট্রিট—হল 'গো জোনস', যেখানে সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর বাস চলে। অ্যাডিলেডের বাস নেটওয়ার্ক শহরের বাইরের উপশহর, অ্যাডিলেড পাহাড়, দক্ষিণে ম্যাকলারেন ভ্যালি এবং উত্তরে গলার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে বাসগুলি বারোসা ভ্যালিতে যায় না এবং শহরের বাইরে চলাচলের হার কম।
'''ও-বাহন''' একটি দ্রুত বাস ট্রানজিট লাইন যা অ্যাডিলেডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপশহরে চলে। ও-বাহন বাসগুলির রুট গ্রেনফেল স্ট্রিট থেকে শুরু হয়, হ্যাকনি-তে প্রবেশ করে এবং ক্লেমজিগ, প্যারাডাইস ও মোডবারি ইন্টারচেঞ্জে থামে। ও-বাহন পরিষেবাগুলি খুবই ঘন ঘন চলে, বিশেষ করে পিক সময়ে প্রতি ৩ থেকে ৫ মিনিট অন্তর এবং অফ-পিক সময় প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর।
তবে সন্ধ্যা ৭টার পর বাসের চলাচল হার অনেক কমে যায়। বাইরের উপশহরে প্রতি ঘণ্টায়, গো জোনে প্রতি ৩০ মিনিটে এবং ও-বাহনে প্রতি ১৫ মিনিটে একটি বাস পাওয়া যায়। মধ্যরাতের পর সব পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়, তাই সময়সূচি চেক করুন এবং প্রয়োজন হলে ট্যাক্সি ধরার পরিকল্পনা করুন। খুব সাধারণ ''আফটার মিডনাইট'' বাস পরিষেবাগুলি শুধুমাত্র শনিবার রাতে সীমিত রুটে প্রতি ঘণ্টায় চলে।
'''বিনামূল্যে''' '''সিটি কানেক্টর ৯৯এ এবং ৯৯সি''' বাসগুলি শহরের প্রধান সাংস্কৃতিক এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৩০টি স্টপে থামে। এগুলি সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৮:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৩০ মিনিট অন্তর চলে, কিন্তু সপ্তাহান্তে, বড়দিন এবং গুড ফ্রাইডেতে চলে না।
'''বিনামূল্যে সিটি কানেক্টর ৯৮এ এবং ৯৮সি''' বাসগুলো প্রতিদিন চলে। এগুলি ৯৯এ এবং ৯৯সি এর মতো একই এলাকায় যাতায়াত করে এবং উত্তর অ্যাডিলেডেও একটি লুপ অন্তর্ভুক্ত করে।
সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৯৯এ, ৯৯সি, ৯৮এ এবং ৯৮সি পরিষেবাগুলি মিলিয়ে প্রতি ১৫ মিনিটে একটি বাস চলে।
=== ট্রামে যাতায়াত===
অ্যাডিলেডে '''একটি ট্রাম লাইন''' রয়েছে যা হিন্ডমার্শের অ্যাডিলেড এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার থেকে শুরু হয়ে নর্থ টেরেসের বরাবর বোটানিক গার্ডেন পর্যন্ত চলে। দ্বিতীয় লাইনটি রয়্যাল অ্যাডিলেড হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে সিটি দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকণ্ঠগুলোতে গিয়ে গ্লেনেলগ সমুদ্র সৈকতে পৌঁছায়। লাইন পরিবর্তন করার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক স্টপ হলো রেলওয়ে স্টেশন। সিটি এলাকায় অ্যাডিলেড এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার, বোটানিক গার্ডেন এবং সাউথ টেরেসের মধ্যে '''বিনামূল্যে''' ভ্রমণ করা যায়, তবে গ্লেনেলগে যাওয়ার জন্য একটি টিকিট বা একটি মেট্রোকার্ডের প্রয়োজন। টিকিট সমস্ত ট্রামে বা কিছু স্টপে টিকিট মেশিন থেকে কেনা যেতে পারে।
শহর থেকে গ্লেনেলগের মতো জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ট্রামগুলো সুবিধাজনক এবং এটি রান্ডল মল, ভিক্টোরিয়া স্কয়ার (অ্যাডিলেড সেন্ট্রাল মার্কেটের নিকট) এবং নর্থ টেরেসের কাছে অ্যাডিলেড রেলওয়ে স্টেশনের কাছে থামে। ট্রামের মাধ্যমে উত্তর দিকে গেলে হিন্ডমার্শ এবং বাউডেন পৌঁছানো যায়, যা পোর্ট রোডের বরাবর জনপ্রিয় ক্যাফে এবং রেস্তোরাঁ অঞ্চলের জন্য পরিচিত।
যদি আপনি গাড়ি চালান, তাহলে সিটিতে পার্কিংয়ের একটি সুবিধাজনক (এবং জনপ্রিয়) '''বিকল্প''' হলো এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টারে পার্ক করা এবং ট্রাম ধরে সিটি প্রবেশ করা। এর ফলে সারা সপ্তাহে মাত্র $৪ খরচ হয়, যা সিটি পার্কিংয়ের তুলনায় অনেক সস্তা।
=== পায়ে যাতায়াত ===
সিটি সেন্টার তুলনামূলকভাবে ছোট এবং সহজেই পায়ে চলাচল করা যায়। বেশিরভাগ আকর্ষণীয় স্থানসমূহ কিং উইলিয়াম স্ট্রিটের উভয় পাশে নর্থ টেরেস এবং ভিক্টোরিয়া স্কোয়ারের মধ্যে বিদ্যমান ব্লকগুলোকে কেন্দ্র করে অবস্থিত। গগার স্ট্রিট প্রিসিঙ্কট এবং অ্যাডিলেড সেন্ট্রাল মার্কেটও হাঁটার জন্য একটি দুর্দান্ত গন্তব্য।
ভ্রমণকারীদের মধ্যে যারা জগিং করতে উন্মুখ তারা রিভার টোরেন্সের বরাবর এবং পার্কল্যান্ডের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় জগিং ট্র্যাকগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
=== ট্যাক্সিতে যাতায়াত===
অ্যাডিলেডে তিনটি প্রধান ট্যাক্সি কোম্পানি রয়েছে, যেগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করে:
{{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম = অ্যাডিলেড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ট্যাক্সিস| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = +61 13 22 11| নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = http://www.aitaxis.com.au| সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = | দ্রাঘিমাংশ = | শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র =
}}
{{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম = সাবআরবার্ন ট্যাক্সিস| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = +61 13 10 08| নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = http://www.suburbantaxis.com.au| সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = | দ্রাঘিমাংশ = | শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র =
}}
{{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম = ইয়োলো ক্যাবস সাউথ অস্ট্রেলিয়া| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = +61 13 22 27| নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = http://www.yellowadelaide.com.au| সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = | দ্রাঘিমাংশ = | শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র =
}}
সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ট্যাক্সিগুলো '''সাদা''' (যদিও ‘ইয়েলো ক্যাবস’ নামে পরিচালিত) এবং এগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা থাকে। সাধারণত সিটি এলাকার ব্যবসায়িক সময়ে রাস্তায় বা প্রধান হোটেল থেকে ট্যাক্সি থামানো সম্ভব হয়, কিন্তু শহরতলিতে সাধারণত তালিকাভুক্ত কোম্পানির বুকিং সার্ভিসগুলোর মাধ্যমে কল করে ট্যাক্সি নিতে হয়। সপ্তাহান্তে রাতে ট্যাক্সি কাউন্সিলের কর্মীরা কিছু ক্যাব র্যাংকে অবস্থান করেন। সুপারভাইজড ক্যাবট্যাক্সিগুলোতে প্রচুর আলো থাকে এবং কনসিয়ার্জ এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। এগুলো শুক্রবার রাত ১১টা থেকে ৩টা এবং শনিবার রাত ১১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাজ করে। [http://www.taxicouncilsa.com.au তাদের ওয়েবসাইটে অবস্থানের মানচিত্র পাওয়া যাবে]।
অ্যাডিলেডের সব ট্যাক্সিতে স্টেট গভর্নমেন্ট দ্বারা নির্ধারিত মিটার চালিত ভাড়া নিতে হয়, যা যাত্রার শুরুর সময় অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ট্যারিফ ১ হলো স্বাভাবিক ভাড়ার হার এবং ট্যারিফ ২ হলো বেশি হার, যা সোমবার থেকে শুক্রবার রাত ৭টা থেকে সকাল ৬টা এবং সপ্তাহান্তে ও সরকারি ছুটির দিনে প্রযোজ্য। চালকরা প্রায় সবসময় মিটার ব্যবহার করেন এবং আইনিভাবে তা করতে বাধ্য। নগদ, ইএফটিপিওএস, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং ক্যাবচার্জের মাধ্যমে ভাড়া প্রদান করা যায়। যাত্রা শুরুর আগে যদি আপনি নগদ ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধ করতে চান, তাহলে চালককে জানানো ভালো, কারণ কখনও কখনও মেশিনগুলো ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে।
=== গাড়িতে যাতায়াত ===
অ্যাডিলেডের শহরের কেন্দ্র এবং আশেপাশের শহরতলি (যেমন গ্লেনেলগ, নরউড এবং প্রসপেক্ট) সহজেই পায়ে হেঁটে বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে ঘোরা যায়। তবে যদি আপনি শহরের কেন্দ্রের বাইরে বেশি সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন, তাহলে গাড়ি নেওয়া সুবিধাজনক। এটি পাবলিক ট্রান্সপোর্টে দীর্ঘ যাত্রা এড়াতে সাহায্য করবে (বিশেষ করে বারোসা ভ্যালি এলাকার ক্ষেত্রে, যেখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সীমিত)।
অন্য অস্ট্রেলিয়ান রাজ্যগুলোর রাজধানী শহরগুলোর মতো অ্যাডিলেডে শহরের কেন্দ্রে সরাসরি যাওয়ার জন্য কোনো ফ্রিওয়ে নেটওয়ার্ক নেই। যেসব ফ্রিওয়ে আছে, সেগুলো শহরতলি থেকে শুরু হয় এবং নিকটবর্তী দেশীয় শহরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগ প্রধান সড়কে গতি সীমা ৬০ কিমি/ঘন্টা চিহ্নিত থাকে, যদিও কোনো গতি সীমা চিহ্নিত না থাকলে ডিফল্ট গতি সীমা ৫০ কিমি/ঘন্টা। গতি সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, এবং সামান্য গতির উপরে গাড়ি চালালেও $৩৫০ জরিমানা হতে পারে।
অ্যাডিলেডের সমস্ত সড়ক এবং [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] জুড়ে থাকা সকল সড়ক টোল-মুক্ত।
অ্যাডিলেড বিমানবন্দরের ব্যাগেজ দাবিকরণ এলাকার নীচের তলায় প্রধান জাতীয় '''গাড়ি ভাড়া কোম্পানিগুলোর''' কিয়স্ক রয়েছে।
==দেখুন==
অ্যাডিলেডের প্রধান আকর্ষণগুলো মূলত শহর এবং নর্থ অ্যাডিলেডে কেন্দ্রীভূত। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন বা পার্থের মতো শহরগুলোর তুলনায় কারো অ্যাডিলেডে ভ্রমণ করার ইচ্ছা তুলনামূলক কম হতে পারে, কারণ এটি অন্যান্য বড় শহরের মতো ব্যস্ত নয়। বরং অ্যাডিলেড তার চার্চগুলোর জন্য বেশি পরিচিত এবং এখানকার চার্চে না গেলে অ্যাডিলেডের ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই চার্চগুলো ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় কারণে নয়, বরং তাদের স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। যদি আপনি শুধুমাত্র একটি চার্চ দেখার সময় পান, তবে নর্থ অ্যাডিলেডের '''সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল''' অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রতীকী চার্চ।
অ্যাডিলেডের অন্যান্য শহরের মতো এমন কোন ভ্রমণ পাস নেই যা অ্যাডিলেডের সব আকর্ষণীয় স্থানগুলো কভার করে।
===পার্ক এবং উদ্যান===
অ্যাডিলেডের বেশিরভাগ পার্ক এবং উদ্যান অ্যাডিলেড শহরের চারপাশে অবস্থিত, যা এটিকে অ্যাডিলেডের অন্যান্য অংশ থেকে সুন্দরভাবে আলাদা করে তোলে। তাই এই শহরটি অন্য বেশিরভাগ শহরের মতো নয়। এছাড়াও, নর্থ অ্যাডিলেডের চারপাশেও একটি সীমানা আছে যা টরেন্স নদীর পাশ দিয়ে বেষ্টিত। ফলে বেশিরভাগ পার্ক ও উদ্যান এই ছোট কিন্তু বৈচিত্র্যময় সবুজ এলাকার মধ্যে কেন্দ্রীভূত।
অ্যাডিলেডের শহরের বাইরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বেশিরভাগ পার্ক ও উদ্যান পাওয়া যায়। এই পার্কগুলো সাধারণত প্রশস্ত এবং অবসর কাটানোর জন্য প্রচুর খোলা জায়গা এখানে বিদ্যমান।
শহর ও নর্থ অ্যাডিলেডের পার্কগুলো শহরের মাঝে বিদ্যমান থাকলেও, কিছু পার্ক যেমন '''মরিয়ালটা কনজারভেশন পার্ক''' আপনাকে প্রকৃতির মাঝে থাকার অনুভূতি দেয়। কিছু পার্ক, যেমন [[বেলায়ার ন্যাশনাল পার্ক]] শহর ও গ্রামের মিশ্র অনুভূতি প্রদান করে।
[[File:Palm House, Adelaide Botanic Gardens.jpg|thumb|300px|পাম হাউস, বোটানিক গার্ডেন্স অফ অ্যাডিলেড]]
অ্যাডিলেড এলাকায় মাত্র তিনটি জাতীয় উদ্যান আছে (যদিও শহরের আকার অনুযায়ী এটি অনেক বলে বিবেচিত হতে পারে)। জাতীয় উদ্যানগুলো হলো:
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জাতীয় উদ্যান [[Adelaide/Belair National Park|বেলায়ার ন্যাশনাল পার্ক]], যেখানে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং অনেকগুলো হাঁটার পথ ও ঝর্ণা।
দ্বিতীয় জাতীয় উদ্যানটি অ্যাডিলেডের উপকণ্ঠে অবস্থিত এবং এটি মূলত একটি পাখির অভয়ারণ্য। উপকূলীয় জাতীয় উদ্যান [[Adelaide/Adelaide International Bird Sanctuary National Park—Winaityinaityi Pangkara|অ্যাডিলেড ইন্টারন্যাশনাল বার্ড স্যাংচুয়ারি ন্যাশনাল পার্ক—উইনাইটিনাইটি পাংকারা]] (যদি নামটি উচ্চারণ করতে কঠিন হয়, "অ্যাডিলেড ইন্টারন্যাশনাল বার্ড স্যাংচুয়ারি" বলা যেতে পারে) ডলফিন দেখার জন্য একটি চমৎকার স্থান।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে নতুন জাতীয় উদ্যান '''গ্লেনথোর্ন ন্যাশনাল পার্ক—ইট্টামাইটপিন্না ইয়ার্তা''' (সংক্ষেপে "গ্লেনথোর্ন ন্যাশনাল পার্ক" বলা যেতে পারে) যা নভেম্বর ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
যদি আপনি অ্যাডিলেড হিলসকে অ্যাডিলেডের অংশ হিসাবে বিবেচনা করেন, তাহলে '''ক্লেল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক''' নামে অ্যাডিলেডে আরো একটি পার্ক রয়েছে, যা কনজারভেশন পার্ক থেকে ন্যাশনাল পার্কে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে মাউন্ট লফটি নামক একটি স্থান রয়েছে, যেখানে বিরলভাবে তুষারপাত হয় (সমগ্র অ্যাডিলেডের মধ্যে শুধুমাত্র এ জায়গায়ই তুষারপাত হয় এবং সেটাও খুব বিরল)।
ডিসেম্বর ২০২১-এ অ্যাডিলেডকে "ইন্টারন্যাশনাল ন্যাশনাল পার্ক সিটি ফাউন্ডেশন" কর্তৃক বিশ্বের দ্বিতীয় "ন্যাশনাল পার্ক সিটি" হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রথমটি ছিল লন্ডন, যা ২০১৯ সালে "ন্যাশনাল পার্ক সিটি" হিসেবে ঘোষিত হয়। অনুমান করা হয়, অ্যাডিলেডের ৯৫% বাসিন্দার ৪০০ মিটারের মধ্যে একটি পার্ক রয়েছে এবং শহরের ৩০% এরও বেশি সবুজ স্থান রয়েছে, যা এটিকে অস্ট্রেলিয়ার সবুজতম শহর হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
=== জাদুঘর এবং গ্যালারি ===
[[চিত্র:River_Torrens_at_the_University_of_Adelaide.jpg|থাম্ব|অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত টরেন্স নদী]]
অ্যাডিলেডের জাদুঘর এবং গ্যালারিগুলোও মূলত শহরের কেন্দ্রে এবং নর্থ অ্যাডিলেডে অবস্থিত, যেমনটি পার্ক ও উদ্যান বা অ্যাডিলেডের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে পোর্ট অ্যাডিলেড/আউটার হারবার এলাকায়ও অনেকগুলো জাদুঘর আছে।
অন্য যেকোনো রাজধানী শহরের মতোই অ্যাডিলেডেও একটি আর্ট গ্যালারি, একটি রাজ্য জাদুঘর (যেখানে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এবং এর সন্নিহিত অঞ্চলগুলোর ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত আছে), একটি পুরনো জেলখানা (গাওল) ইত্যাদি বিদ্যমান রয়েছে। শহরতলীতে একটি রেলওয়ে জাদুঘর এবং একটি এভিয়েশন জাদুঘরসহ আরও অনেক জাদুঘর আছে।
অ্যাডিলেডের সব জাদুঘর, প্রদর্শনী বা গ্যালারির মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জাদুঘর হলো:
'''দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ান জাদুঘর''' – [[Adelaide/City and North Adelaide|শহরের]] মধ্যে অবস্থিত এই রাজ্য জাদুঘরটিতে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নিদর্শন এবং আদিবাসী সংগ্রহসহ বিভিন্ন গ্যালারি রয়েছে। বেশিরভাগ মিউজিয়ামের মতোই এটি ফ্রি।
যদিও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি বা মেলবোর্নের মতো বিপুল সংখ্যক অভিবাসী ছিল না, তবে '''মাইগ্রেশন জাদুঘর''' [[Adelaide/City and North Adelaide|শহরের]] মধ্যে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীদের ইতিহাসের গল্প বলে। এটি হয়তো আপনাকে আশ্চর্য করবে কারণ প্রচলিত ধারণার বিপরীতে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এখনও একটি বহুসাংস্কৃতিক রাজ্য।
'''দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আর্ট গ্যালারি''' [[Adelaide/City and North Adelaide|শহরের]] মধ্যে শিল্পের বিভিন্ন ধারায় আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ।
এছাড়াও আরও অনেক জাদুঘর, প্রদর্শনী এবং গ্যালারি রয়েছে। এগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট জেলার নিবন্ধগুলো দেখুন।
=== ক্রীড়া ===
অ্যাডিলেড অন্যান্য শহরের মতোই ক্রীড়ার জন্য পরিচিত। অন্যান্য অস্ট্রেলিয়ান শহরের মতো, [[অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল]] (এএফএল) এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, এর পরেই রয়েছে [[ক্রিকেট]]। কুইন্সল্যান্ড বা নিউজাউথ ওয়েলসের বেশিরভাগ অঞ্চলের তুলনায় অ্যাডিলেডে রাগবি লিগ জনপ্রিয় নয়।
'''ক্রিকেট''' – গ্রীষ্মের মাসগুলিতে '''অ্যাডিলেড ওভালে''' একটি ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করতে যান। অস্ট্রেলিয়া প্রতি গ্রীষ্মে কয়েকটি বিদেশী দেশের বিপক্ষে খেলার আয়োজন করে এবং তারা এই সুন্দর মাঠে কিছু ম্যাচ খেলে। এই মাঠটি মূল শহর এবং উত্তর অ্যাডিলেডের মধ্যবর্তী একটি ছোট সবুজ এলাকায় অবস্থিত। আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য টিকিট সাধারণত দ্রুত বিক্রি হয়, তবে ঘরোয়া ম্যাচগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় এবং সেগুলোও সমান উত্তেজনাপূর্ণ।
'''এএফএল''' - পেশাদার অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের জন্য শীর্ষ লীগ। স্থানীয় দল অ্যাডিলেড ক্রো এবং পোর্ট অ্যাডিলেড পাওয়ার তাদের হোম গ্রাউন্ড '''অ্যাডিলেড ওভালে''' শীতকালীন মাসগুলিতে খেলে থাকে। টিকিট সাধারণত যুক্তিসঙ্গত মূল্যে পাওয়া যায় এবং টিকিট পেতে সমস্যা হওয়ার কথা নয় - আরো বিস্তারিত জানার জন্য [http://www.afl.com.au এএফএল ওয়েবসাইট] দেখুন।
'''এসএএনএফএল''' - রাজ্য অস্ট্রেলিয়ান রুলস লীগ, প্রতি সপ্তাহান্তে শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে ৫টি ম্যাচ খেলা হয়। '''নরউড ওভাল''' হল [http://www.norwoodfc.com.au/ রেডলেগস] দলের হোম গ্রাউন্ড, যা নরউডের প্যারেডে অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ এবং ক্যাফে রয়েছে।
হিন্দমার্শ স্টেডিয়ামে অ্যাডিলেড ইউনাইটেড (ফুটবল দল) এর ম্যাচ দেখার জন্য যেতে পারেন।
===পারফরম্যান্স আর্ট===
'''ফরম্যাট কালেকটিভ''' ১৫ পিল স্ট্রিটে একটি দোতলা পারফরম্যান্স স্থান। এখানে একটি স্থায়ী জিন (zine) দোকান রয়েছে যা ছোট আর্ট প্রদর্শনী, আলোচনা প্যানেল এবং পারফরম্যান্স আর্টের আয়োজন করে। প্রতিবছর ফরম্যাট ফেস্টিভালের সময় বেশিরভাগ অনুষ্ঠান হয়, যা ফ্রিঞ্জ ফেস্টিভালের সাথে একই সময়ে ঘটে এবং এটি একটি নতুন ধরনের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সারা বছর এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
===ইভেন্টসমূহ===
অ্যাডিলেডে ভ্রমণের জন্য সেরা সময়গুলোর মধ্যে একটি হল '''ম্যাড মার্চ''', যখন অনেক উৎসব এবং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
'''অ্যাডিলেড ৫০০''' (সুপারলুপ অ্যাডিলেড ৫০০) – মার্চের মাঝামাঝি সময়ে অ্যাডিলেড ৫০০ সুপারকার রেসিং ইভেন্টটি খুব জনপ্রিয়। এই সময়ে রাস্তায় বিশাল পার্টি এবং বড় কনসার্টের ফলে অনেক উৎসাহী অ্যাডিলেডবাসী এতে অংশ নেয়।
==শিক্ষা==
অ্যাডিলেড শহরে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল '''[http://www.adelaide.edu.au/ অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়]'''। বাকি দুটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো '''[https://www.unisa.edu.au/ সাউথ অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়]''' এবং '''[http://www.flinders.edu.au/ ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়]'''।
বিদেশি শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে পারে। অস্ট্রেলিয়াতে তারা ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারে বা শিক্ষার্থী বিনিময় প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারে।
== কেনাকাটা ==
[[চিত্র:Rundle_Place,_Rundle_Mall.jpg|থাম্ব|রান্ডল মল]]
[[চিত্র:Shopping_Center_SA.JPG|থাম্ব|অ্যাডিলেড আর্কেডের পুরানো অভ্যন্তরীণ দৃশ্য]]
অ্যাডিলেডে বিশ্বের সেরা দামি ব্র্যান্ড যেমন লুই ভিটন, গুচি, প্রাডা নেই। তবে ভিক্টোরিয়ান যুগের [[Adelaide/City and North Adelaide#Buy|অ্যাডিলেড আর্কেড]]-এ সুন্দর কিছু ছোট দোকান আছে। এখানে আপনি পুরনো মুদ্রা, প্রাচীন সামগ্রী, আর চকলেটের দোকান পাবেন। আরেকটি ভালো জায়গা হচ্ছে পূর্ব অ্যাডিলেডের [http://www.burnsidevillage.com.au/ বার্নসাইড ভিলেজ], যেখানে আপনি আধা-দামি জিনিস কিনতে পারেন।
=== মল এবং কেনাকাটার স্থানসমূহ ===
অ্যাডিলেডে অনেক মল এবং কেনাকাটার জায়গা আছে। কিছু উল্লেখযোগ্য স্থান হল:
'''রান্ডল মল''': এটি [[Adelaide/City and North Adelaide|অ্যাডিলেড সিটি]]-তে অবস্থিত। এটি শুধু হেঁটে যাওয়ার উপযোগী একটি শপিং স্ট্রিপ, যেখান থেকে অনেক গলি ও রাস্তা শুরু হয়। এখানে ৮০০টিরও বেশি দোকান রয়েছে।
'''টি ট্রি প্লাজা''' ([[Adelaide/Salisbury, Playford and Tea Tree Gully|টি ট্রি গালি]]) – মাঝারি আকারের শপিং সেন্টার, যেখানে ২৫০টিরও বেশি দোকান আছে। এটি অ্যাডিলেড ও’বান বাস রাস্তার শেষ স্টপ।
'''ওয়েস্টফিল্ড ম্যারিয়ন শপিং সেন্টার''': এটি [[Adelaide/West Adelaide|ওয়েস্ট অ্যাডিলেড]]-এ অবস্থিত। অ্যাডিলেডের সবচেয়ে বড় শপিং মল এটি, যেখানে ৪০০টিরও বেশি দোকান আছে।
'''হারবার টাউন''': [[Adelaide/West Adelaide|ওয়েস্ট অ্যাডিলেড]]-এ অবস্থিত। এটি অ্যাডিলেড বিমানবন্দরের কাছে একটি মাঝারি আকারের মল, যেখানে অনেক আউটলেট শপ আছে।
=== খাবারের বাজার ===
খাবারের ক্ষেত্রেও অ্যাডিলেডে অনেক বিকল্প আছে। কয়েকটি বিশেষ স্থান হল:
'''সেন্ট্রাল মার্কেট''': গ্রোট এবং গাউগার স্ট্রিটের মাঝে এবং ভিক্টোরিয়া স্কোয়ারের পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে সব ধরনের তাজা ফলমূল এবং সবজি পাবেন।
'''চায়নাটাউন''': সেন্ট্রাল মার্কেটের পাশে মোন্টা স্ট্রিটে চায়নাটাউন অবস্থিত। এটি শুধু হেঁটে যাওয়ার মতো একটি এলাকা।
'''সিটি ইস্ট আইজিএ''': এটি সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সেরা আইজিএ সুপারমার্কেট হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে। এখানে গ্রিক, ইতালিয়ান, চাইনিজ এবং ভারতীয় খাবার পাওয়া যায়।
'''গাগানিস ব্রাদার্স''': এটি [[Adelaide/West Adelaide|ওয়েস্ট অ্যাডিলেড]]-এ অবস্থিত। এটি পাইকারি খাদ্য বিক্রয় কেন্দ্র, তবে এখানে জনসাধারণের জন্যও খাদ্য বিক্রি করা হয়। এখানে প্রচুর জাতিগত খাবার পাওয়া যায়।
==খাবার==
===স্থানীয় খাবার===
অ্যাডিলেডের স্থানীয় খাবার সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য খাবারের মতোই হয়। কিন্তু এখানে কিছু বিশেষ খাবার আছে যা শুধুমাত্র অ্যাডিলেডে পাওয়া যায় এবং এগুলো অবশ্যই একবার চেষ্টা করা উচিত।
'''পাই ফ্লোটার''' হলো এক ধরনের মাংসের পাই (সাধারণত গরুর মাংস) যা মোটা মটরশুটির স্যুপে ডোবানো থাকে। এর উপর সাধারণত টমেটো সস দেয়া হয়। এই খাবারটি অ্যাডিলেডের বিভিন্ন ক্যাফেতে বিক্রি হয়। কিন্তু যদি তুমি সবচেয়ে ভালো এবং প্রাচীন স্টাইলে তৈরি করা পাই ফ্লোটার খেতে চাও, তাহলে স্থানীয়রা তোমাকে মাইল এন্ড সাউথে অবস্থিত '''ক্যাফে দে ভিলিস'''-এ যেতে বলবে।
'''এবি''' হলো অ্যাডিলেডের নিজস্ব এক খাবার। এটি পূর্ব উপকূলের হালাল স্ন্যাক প্যাকের একটি স্থানীয় সংস্করণ। এই খাবারটিতে থাকে ইয়িরোস মাংস, যা গরম আলুর ফ্রাইয়ের উপর দেয়া হয়। এর উপর আবার টমেটো সস, মরিচ সস, রসুনের সস এবং বারবিকিউ সস দেয়া হয়। তবে এটি হালাল নয়। দুটি দোকান এই খাবারটি প্রথম তৈরি করার দাবি করে, তারা হলো উত্তর অ্যাডিলেডের '''নর্থ অ্যাডিলেড বার্গার বার''' (যা রেড অ্যান্ড হোয়াইট নামেও পরিচিত) এবং '''ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট'''। উভয় দোকানই উত্তর অ্যাডিলেডে অবস্থিত।
===শহর===
শহরের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। বিভিন্ন দামের পরিসরে সাধারণত এসব খাবার পাওয়া যায়। অ্যাডিলেডে জনপ্রতি রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফের সংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ সেরা রেস্টুরেন্ট অ্যাডিলেড শহরের মধ্যেই রয়েছে।
'''গাউগার স্ট্রিট, চায়নাটাউন এবং সেন্ট্রাল মার্কেট অঞ্চল''' হল বিভিন্ন দেশের খাবারের জন্য একটি জনপ্রিয় জায়গা। এখানে ভালো মানের এশিয়ান খাবার সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। গাউগার স্ট্রিটে আইনজীবী, সরকারি কর্মচারী এবং নতুন অভিবাসীরা প্রায়ই খেতে আসেন। চায়নাটাউন এবং গাউগার স্ট্রিট চীনা খাবারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত এবং এখানে অনেক চীনা রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়াও থাই, ভিয়েতনামি এবং ভারতীয় খাবারও এখানে পাওয়া যায়। গাউগার স্ট্রিটের উত্তরের দিকে অ্যাডিলেড সেন্ট্রাল মার্কেটে অনেক হকার স্টাইলের খাবারের দোকান আছে, আর কিছু পুরানো ইউরোপিয়ান ক্যাফেও আছে। গত দশকে গাউগার স্ট্রিটে কিছু উচ্চমানের রেস্টুরেন্টও গড়ে উঠেছে (যেমন দীর্ঘদিন ধরে চলা জনপ্রিয় আর্জেন্টিনিয়ান রেস্টুরেন্ট '''গাউচোস''')।
'''রান্ডল স্ট্রিট এবং ইস্ট এন্ড''' হলো অ্যাডিলেডের ঐতিহ্যবাহী ইতালিয়ান এবং গ্রীক খাবারের কেন্দ্র। তবে নতুন গড়ে ওঠা চীনা, থাই এবং জাপানি রেস্টুরেন্টও অ্যাডিলেড শহরে বিদ্যমান। গাউগার স্ট্রিটের মতো এখানেও বিভিন্ন বাজেটের জন্য খাবারের বিকল্প রয়েছে। রাস্তার পশ্চিম অংশে বাজেটবান্ধব রেস্টুরেন্ট বেশি থাকে, যা অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। পূর্বের অংশে উচ্চ মানের খাবারের দোকান বিদ্যমান। রান্ডল স্ট্রিটের কাছাকাছি ইস্ট এন্ডের ছোট ছোট গলিতে কিছু অনন্য ক্যাফে রয়েছে, যেমন '''এবেনেজার প্লেস''', '''বেন্ট স্ট্রিট''' এবং '''ইউনিয়ন স্ট্রিট'''।
'''ওয়াইমাউথ স্ট্রিট এবং পিরি স্ট্রিট''' গত দশকে নতুন খাবারের গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে (বিশেষ করে দামি লাঞ্চের জন্য)। '''কিং উইলিয়াম স্ট্রিটের''' পশ্চিম দিকে ওয়াইমাউথ স্ট্রিটে বেশ কয়েকটি উচ্চমানের ক্যাফে এবং বিস্ট্রো রয়েছে। পিরি স্ট্রিটেও নতুন কিছু ক্যাফে গড়ে উঠেছে।
'''হিন্ডলি স্ট্রিট'''-এ মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। '''লেই স্ট্রিট এবং ব্যাংক স্ট্রিট''' গলিগুলোতেও নতুন খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে।
'''হাট স্ট্রিট''' ছোট আকারের, কিন্তু এখানে উচ্চমানের কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে যা অনেকের পছন্দ হবে। এখানে গুরমেট খাবারের দোকান এবং সুপারমার্কেটও আছে।
'''সাউথ ওয়েস্ট কর্নার''' নামক অঞ্চলটি গাউগার স্ট্রিটের দক্ষিণে অবস্থিত। শহরের এই অংশটি মূলত বসবাসের জন্য। তবে সেখানে কিছু চমৎকার খাবারের দোকান রয়েছে।
===নর্থ অ্যাডিলেড===
[[File:Adelaide Light Trail HDR (8239025608).jpg|thumb|right|নর্থ অ্যাডিলেড এবং সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল টাওয়ার]]
'''মেলবোর্ন স্ট্রিট'''-এ অনেক ছোট রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফে রয়েছে, যা এই অঞ্চলকে খাওয়া-দাওয়ার জন্য এক আকর্ষণীয় জায়গা করে তুলেছে।
'''ও'কনেল স্ট্রিট''' জুড়ে বিভিন্ন ধরনের টেক-অ্যাওয়ে, ক্যাফে, বেকারি এবং রেস্টুরেন্ট আছে, তাই খাবারের জন্য কোনো অভাব হবে না। এখানেই সেই দুটি দোকান অবস্থিত, যারা দাবি করে যে তারা প্রথম '''এবি''' খাবারটি তৈরি করেছে।
===উপশহর===
'''দ্য প্যারেড''', নরউড: এখানে দীর্ঘ শপিং এলাকা এবং নানা ধরনের আন্তর্জাতিক খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সিবিডি থেকে ১২২-১২৪ নম্বর বাস অথবা অল্প সময়ের ট্যাক্সি রাইডে এখানে পৌঁছানো যায়।
'''জেটি রোড / মসলি স্কোয়ার''', গ্লেনেলগ: ৩০ মিনিটের ট্রাম যাত্রার শেষে এখানে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়।
'''স্টুয়ার্ট রোড''', ডুলউইচ: এখানে দুটি ক্যাফে, একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রেস্টুরেন্ট এবং একটি চমৎকার বেকারি রয়েছে। নর্থ টের থেকে ১৪৫ বা ১৪৬ নম্বর বাস নিয়ে ফুলারটন রোড এবং ডুলউইচ এভ দিয়ে যাওয়া যায়।
'''[http://www.kingwilliamroad.com.au/ কিং উইলিয়াম রোড]''', হাইড পার্ক: এটি উচ্চমানের ক্যাফে, কফি শপ এবং রেস্টুরেন্টের জন্য জনপ্রিয় এলাকা।
===বাজেট===
অ্যাডিলেডে অনেক বাজেটবান্ধব রেস্টুরেন্ট আছে। বাইরে থেকে তেমন আকর্ষণীয় না হলেও, এদের বেশিরভাগেরই কিছু না কিছু বিশেষত্ব আছে, যার কারণে তারা এখনো ব্যবসায় টিকে আছে। দরজায় লাগানো মেনু দেখে খাবার বেছে নেওয়া ভালো। সাধারণত সস্তা খাবারের দাম $৮–১৪ এর মধ্যে থাকে।
অ্যাডিলেডে খুব বেশি চেইন রেস্টুরেন্ট নেই। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো '''[https://www.fastapasta.com.au/ ফাস্টা পাস্তা]''', যেখানে এক প্লেট পাস্তার দাম $১০ থেকে শুরু হয়। এটি পাস্তার এক প্রকার ফাস্ট ফুড সংস্করণ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এটি অন্য রাজ্যেও পাওয়া যাচ্ছে, তবে এর শুরুটা অ্যাডিলেডে হওয়ার ফলে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
===মধ্যম মান===
যদিও অ্যাডিলেডে অনেক বাজেট রেস্টুরেন্ট রয়েছে, তবে অ্যাডিলেডে অনেক মধ্যম মানের রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। এগুলো অ্যাডিলেডের প্রায় সব এলাকায় পাওয়া যায় (বিশেষ করে এমন জায়গায় যেখানে বাজেটবান্ধব রেস্টুরেন্ট নেই)। রেস্টুরেন্ট সাধারণত ভালো মধ্যম মানের খাবার পাওয়ার জায়গা, যেখানে মাছ ও চিপস এবং স্টেক, ল্যাম্ব চপ, শ্নিটজেল, পাস্তা ও রিসোটো পাওয়া যায়।
অ্যাডিলেডে বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট মূল শহর এবং উত্তর অ্যাডিলেডে কেন্দ্রীভূত হলেও ছোট শহরের কেন্দ্রেও অনেক রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। খাবারের ক্ষেত্রে ইতালিয়ান এবং ভারতীয় খাবার সহজেই পাওয়া যায়। এশিয়ান খাবার (চীনা, জাপানি, কোরিয়ান, ভিয়েতনামি এবং থাই) পাওয়াও সহজ, তবে সিডনির মানের সঙ্গে তুলনা করা কঠিন হতে পারে। গ্রিক এবং ভূমধ্যসাগরীয় খাবারও সহজে পাওয়া যায়, তবে মেলবোর্নের মতো মান নাও হতে পারে।
===উন্নত রেস্টুরেন্ট===
সিটিতে [[ফাইন ডাইনিং]] রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া সহজ, তবে উপশহরে এর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে কিছু উপশহরেও ভালো মানের ফাইন ডাইনিং রেস্টুরেন্ট আছে, যদি আপনি সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। কাছাকাছি [[ম্যাকলারেরান ভ্যালি]] এবং [[বারোসা ভ্যালি]]-তেও চমৎকার ফাইন ডাইনিং রেস্টুরেন্ট রয়েছে। অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে ফাইন ডাইনিং রেস্টুরেন্টে কোনো নির্দিষ্ট পোশাকের নিয়ম নেই। [[#ড্রেস কোড]] অংশটি দেখুন।
===ড্রেস কোড===
অস্ট্রেলিয়ানরা সাধারণত বেশ ক্যাজুয়াল থাকে, তাই আপনি যা পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেটাই পরতে পারেন। যদিও বেশিরভাগ মানুষ উচ্চমানের রেস্টুরেন্টে যাওয়ার সময় কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে পোশাক পরেন, তবুও এখানে পোশাকের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং রেস্টুরেন্ট ও গ্রাহকরা পোশাকের মান নিয়ে খুব একটা কঠোর নন। তাই রেস্টুরেন্টে জিন্স পরা মানুষ দেখা খুবই স্বাভাবিক (বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে)।
==ঘুমানোর ব্যবস্থা==
[[File:D'Arenberg Cube.jpg|thumb|দ্য ডি'অ্যারেনবার্গ কিউব ([[ম্যাকলারেন ভ্যালি]]), একটি বহুবিধ ভবন, যেখানে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, ভার্চুয়াল ফারমেন্টার, ৩৬০-ডিগ্রি ভিডিও রুম এবং অল্টারনেট রিয়েলিটিস মিউজিয়াম]]
অ্যাডিলেডের সিবিডি-তে (সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা শহরের কেন্দ্রস্থল) থাকার শত শত ব্যবস্থা রয়েছে, ব্যাকপ্যাকার্স হোটেল থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেল পর্যন্ত। তবে এই অঞ্চলের বাইরেও বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে।
যদি আপনি ব্যবসার জন্য ভ্রমণ করেন, তাহলে আপনার কাজের স্থানের কাছাকাছি ব্যবসায়িক হোটেল থাকতে পারে। তবে সাধারণত শহরের কেন্দ্রে বেশি থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
শহরের সবচেয়ে কাছের ক্যাম্পিং এলাকা হলো [[বেলেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]], যা অ্যাডিলেডের দক্ষিণ-পূর্ব উপশহরে অবস্থিত। এই পার্কটি শহর থেকে ১০ কিলোমিটারের কম দূরে এবং পার্কের কাছাকাছি ট্রেন পরিষেবা রয়েছে।
যদি আপনি সমুদ্রের ধারে থাকতে চান, তাহলে উপকূলের কাছাকাছি উপশহরগুলোর মধ্যে বেছে নিতে হবে। শহরের সবচেয়ে কাছের উপকূলীয় এলাকা হলো [[অ্যাডিলেড/ওয়েস্ট অ্যাডিলেড|গ্লেনেলগ]], তবে পোর্ট অ্যাডিলেড বা আউটার হারবারেও কিছু বিকল্প রয়েছে।
===বাজেট-বান্ধব===
কেন্দ্রীয় বাস স্টেশনের চারপাশে ব্যাকপ্যাকার থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়। সিবিডির কিছু অংশ এবং অ্যাডিলেডের দক্ষিণ ও উত্তর উপশহরে এ ধরনের অনেক ব্যবস্থা রয়েছে।
===মধ্যম মান===
মধ্যম মানের থাকার ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়ার জন্য সিবিডি (শহর ও নর্থ অ্যাডিলেড) সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এগুলো প্রায়ই ভিক্টোরিয়া স্কয়ারের সঙ্গে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। সিবিডির বাইরের রাস্তার পাশে মোটেল-স্টাইলের সস্তা থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়। সিবিডির বাইরে বেশিরভাগ থাকার ব্যবস্থাই মধ্যম মানের হবে। তবে দাম কিছুটা কম হতে পারে এবং সুবিধা বেশি থাকতে পারে।
===ব্যয়বহুল===
অ্যাডিলেডে হিলটন বা নভোটেলের মতো চেইন হোটেল রয়েছে, যেগুলো মূলত সিবিডিতে কেন্দ্রীভূত। অ্যাডিলেডের বিভিন্ন জায়গায় বিলাসবহুল হোটেল রয়েছে, বিশেষ করে শহরে এবং [[অ্যাডিলেড/পশ্চিম অ্যাডিলেড|পশ্চিম অ্যাডিলেড]]-এ। পশ্চিম অ্যাডিলেড সমুদ্রের দৃশ্যের জন্য বিশেষ জনপ্রিয়।
==নিরাপদ থাকুন==
অস্ট্রেলিয়ার জরুরি নম্বর হলো ০০০। এই নম্বরে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ সেবা পাওয়া যায়। জরুরি নয় এমন পুলিশের সহায়তার জন্য ১৩১ ৪৪৪ নম্বরে ফোন করতে হবে।
অ্যাডিলেডকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি অন্যান্য মূলধারার অস্ট্রেলিয়ান শহরের তুলনায় অনেক নিরাপদ। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রতি সচেতন থাকা উচিত (বিশেষ করে রাতে)। অ্যাডিলেডের বেশিরভাগ সহিংস অপরাধ মদ্যপানের কারণে ঘটে। তাই মদ্যপদের সাথে ঝগড়া বা সংঘাত থেকে বিরত থাকুন।
শহরের পার্কল্যান্ডগুলো রাতের বেলা খুব একটা আলোতে থাকে না এবং মদ্যপ লোকজনের কারণে রাতের পর এসব এলাকা এড়িয়ে চলা ভালো। যদি উপশহরে পৌঁছানোর জন্য পার্কল্যান্ড পার হতে হয়, তাহলে রাস্তার কাছাকাছি থাকুন। রাতে ট্যাক্সি বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেওয়া পরামর্শযোগ্য।
অ্যাডিলেডের ট্রেন সাধারণত নির্ভরযোগ্য এবং সময়মতো আসে ও যায়। তবে বাসের সময়সূচি কিছুটা অস্থির হতে পারে। সন্ধ্যা ৭টার পর সব ট্রেনে নিরাপত্তারক্ষী থাকে এবং অনেক ট্রেন পরিষেবার বাস সংযোগও রয়েছে।
রাতে পুলিশ শহরের কেন্দ্রে (বিশেষ করে হিন্দলি স্ট্রিটে) টহল দেয়। নর্থ টেরেসের কাছে, ভিক্টোরিয়া স্কয়ারে হিলটন অ্যাডিলেড হোটেলের কাছে এবং রন্ডল স্ট্রিট ও পাল্টনি স্ট্রিটের সংযোগস্থলে হাংরি জ্যাকস ফাস্ট ফুড আউটলেটের সামনে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডগুলো রয়েছে। অধিকাংশ নিয়মিত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সেবা মধ্যরাতের আগে শেষ হয়, তবে শনিবার রাতে বিশেষ [https://www.adelaidemetro.com.au/plan-a-trip/free-and-special-transport 'আফটার মিডনাইট'] বাস পরিষেবা শহর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে চালু থাকে।
অ্যাডিলেডে মাঝে মাঝে '''[[ভূমিকম্প]]''' হয়, তবে সেগুলো সাধারণত তীব্র নয় এবং বড় ধরনের ক্ষতি করে না।
==সুস্থ থাকুন==
অ্যাডিলেড বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক মহাদেশে অবস্থিত, তাই এর সমস্ত পানীয় জল মারে নদী বা স্থানীয় জলাধার থেকে সংগ্রহ করা হয়। যদিও এই জল পান করার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, তবে যারা এতে অভ্যস্ত নন তাদের কাছে এটি ভালো নাও লাগতে পারে। তাই ফিল্টার করা জল পান করাই ভালো।
==সংযোগ==
সিবিডি এবং বিমানবন্দরে [http://www.internode.on.net/coverage/ ইন্টারনোড] এর মাধ্যমে বিনা মূল্যে ব্যাপক ওয়াই-ফাই সুবিধা পাওয়া যায় (শুধুমাত্র পোর্ট ৮০)।
==সহায়তা==
===কনসুলেট===
একটি অপেক্ষাকৃত ছোট শহর হিসেবে, অ্যাডিলেডে খুব বেশি কনসুলেট নেই। অনেক দেশের নিকটতম কনসুলেট [[মেলবোর্ন]] বা [[সিডনি]]-তে অবস্থিত।
*{{flag|জার্মানি}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম = জার্মানি| অন্য = | ঠিকানা = পিও বক্স ৯০ - রন্ডল মল,| দিকনির্দেশ = | ফোন = +61 8-8224-068| নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = http://www.australien.diplo.de/Vertretung/australien/en/04/Interaktive-Karte/0-Interaktive-Karte-Australien.html| সময়সূচী = সোম-শুক্র ১০টা এএম-১টা পিএম শুধুমাত্র অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী| মূল্য = | অক্ষাংশ = | দ্রাঘিমাংশ = | শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = সম্মানসূচক কনসুলেট মাত্র।| চিত্র =
}}
*{{flag|থাইল্যান্ড}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম = থাইল্যান্ড| অন্য = | ঠিকানা = রুম ৯, ১৪৪ সাউথ টেরেস| দিকনির্দেশ = | ফোন = +61 8 2311333| নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = http://www.royalthaiconsulate.org.au/| সময়সূচী = সোমবার-শুক্রবার ১১টা এএম-৩টা পিএম, থাই এবং অস্ট্রেলিয়ান ছুটির দিন ছাড়া| মূল্য = | অক্ষাংশ = | দ্রাঘিমাংশ = | শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = সম্মানসূচক কনসুলেট।| চিত্র =
}}
এখানে আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী সহজ ভাষায় অনুবাদ করা হলো:
==পরবর্তী গন্তব্য==
*[[অ্যাডিলেড পাহাড়|অ্যাডিলেড হিলস]]। এর মধ্যে মাউন্ট লফটি সামিট অন্তর্ভুক্ত, যা অ্যাডিলেড মহানগর এলাকার চমৎকার দৃশ্য উপহার দেয়। অ্যাডিলেড হিলস হলো একটি গ্রামাঞ্চল, যেখানে প্রতিটি গ্রামের নিজস্ব অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিশেষত, হাহ্নডর্ফ এবং স্টারলিং শহর দুটি অবশ্যই দর্শনীয়।
*[[অ্যাডিলেড হিলস]], [[ম্যাকলারেন ভ্যালি]], [[বারোসা ভ্যালি]] এবং [[ক্লেয়ার ভ্যালি]]।
*[[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ ঘুরে দেখুন।
*[[ফ্লিন্ডার্স রেঞ্জেস]]। উত্তরে যাত্রা করে ফ্লিন্ডার্স রেঞ্জেস এবং উইলপেনা পাউন্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পুরোনো ঐতিহ্য আবিষ্কার করুন।
*[[ভিক্টর হারবার]]। অ্যাডিলেড থেকে ড্রাইভ করে যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগে। গ্রানাইট আইল্যান্ডে ফেয়ারি পেঙ্গুইনদের তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে দেখা যায়। এখানে নিকটবর্তী সার্ফ বিচগুলোতে ঘুরে দেখুন, যেমন পোর্ট এলিয়ট, মিডলটন এবং গুলওয়া।
*বারোসা রিজার্ভারে অবস্থিত '''উইস্পারিং ওয়াল'''।
*[[ইয়র্ক উপদ্বীপ]]। এটি অ্যাডিলেডিয়ানদের জন্য একটি জনপ্রিয় ছুটির গন্তব্য এবং এখানে ভিক্টর হারবারের তুলনায় কম পর্যটক আসে। এই উপদ্বীপের পাদদেশে ইনেস ন্যাশনাল পার্ক অবস্থিত।
*[[অ্যালিস স্প্রিংস]]। এটি প্রায় ১,৫০০ কিমি দূরে। যাত্রাপথে উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলো হলো [[পোর্ট অগাস্টা]] এবং [[কুবার পেডি]]।
*[[মেলবোর্ন]]। যাত্রাপথে [[কুরং ন্যাশনাল পার্ক]], [[লিমেস্টোন কোস্ট]] এবং [[গ্রেট ওশান রোড]] হলো উল্লেখযোগ্য জায়গা।
*[[আইরে উপদ্বীপ]]। [[পোর্ট লিংকন]] শহরটি দেখতে যান, যেখানে টুনা ফার্মগুলো দেখা যায়। এখানে গ্রেট হোয়াইট শার্কের সাথে ডাইভিং (খাঁচায়) অথবা ডলফিন ও সিলের সাথে সাঁতার কাটার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও আইরে উপদ্বীপের [[কফিন বে]] দেখুন, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার সেরা ঝিনুক পাওয়া যায়।
{{routebox2
| temp1=[[File:The_Ghan_route_icon.png|100px]]
| directionl1=N
| majorl1=[[Port Augusta]]
| minorl1=[[Port Pirie]]
| directionr1=E
| majorr1=END
| minorr1=
| temp2=[[File:Indian Pacific_route_icon.png|100px]]
| directionl2=W
| majorl2=[[Port Augusta]]
| minorl2=[[Port Pirie]]
| directionr2=E
| majorr2=[[Broken Hill]]
| minorr2=Gladstone, [[Peterborough (South Australia)|Peterborough]]
| temp3=[[File:The_Overland_route_icon.png|100px]]
| directionl3=W
| minorl3=
| majorl3=END
| directionr3=E
| majorr3=[[Melbourne]]
| minorr3=[[Murray Bridge]]
| temp4={{AUR|A1}}{{AUR|M1}}
| directionl4=N
| minorl4=[[Port Wakefield]]
| majorl4=[[Port Augusta]]
| directionr4=S
| majorr4=[[Adelaide Hills]]
| minorr4=jct {{AUR|A1}}
| temp5={{AUR|B23}}
| directionl5=N
| minorl5=
| majorl5=END
| directionr5=S
| majorr5=[[Kangaroo Island]]
| minorr5=[[Aldinga]]
}}
{{{এর অংশ|দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া}}
{{guidecity}}
{{geo|-34.9267|138.5991|zoom=12}}
m8o7p34c62vfrs0qpve41kk1wakf701
ইস্তাম্বুল
0
4911
76711
58193
2026-06-01T17:54:11Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
সংশোধন
76711
wikitext
text/x-wiki
{{pagebanner|Istanbul morning panorama banner.jpg|dotm=yes}}
<!--{{printDistricts}}-->
[[চিত্র:Istanbul_asv2020-02_img61_Ortaköy_Mosque.jpg|থাম্ব|420x420পিক্সেল|একটি পশ্চিমা স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ইসলামী উপাসনালয় এবং ইউরোপ ও এশিয়া সংযুক্ত একটি সেতুর নিচে: অরটাকয় মসজিদ ইস্তাম্বুলের একটি আইকন]]
ইস্তাম্বুল, [[তুরস্ক|তুরস্কের]] একটি বিশাল শহর, যার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সৌন্দর্যের সমন্বয় অতুলনীয়। প্রাচীনকালে বাইজেন্টিয়াম নামে পরিচিত এই শহরের নাম পরবর্তীতে [[কনস্টান্টিনোপল]] রাখা হয়। প্রথম খ্রিস্টান রোমান সম্রাট কনস্টান্টিন ৩২৪ খ্রিস্টাব্দে এই শহরটি পুনর্নির্মাণ করেন। আজকের যে নামটি আমরা জানি, "ইস্তাম্বুল", আসলে গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে যার অর্থ প্রায় "শহরে"। যদিও এই নামটি শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তবে তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯২০ এর দশকে এটি শহরের অফিসিয়াল নাম হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
ইস্তাম্বুলকে [[ইউরোপ|ইউরোপের]] সবচেয়ে জনবহুল শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি তুরস্কের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। [[বসফরাস]] জলসন্ধির উভয় পাশে অবস্থিত এই শহরটি হাজার হাজার বছর ধরে ইউরোপ ও [[এশিয়া|এশিয়ার]] সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে আসছে। এখানে প্রাচীন [[খ্রিস্টান]] সমাজ, মধ্যযুগীয় মহানগর এবং আধুনিক [[মধ্যপ্রাচ্য|মধ্যপ্রাচ্যের]] মিশ্রণ খুঁজে পাওয়া যায়। ইস্তাম্বুলের জনসংখ্যা ১৪ মিলিয়নেরও বেশি, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শহর হিসেবে গড়ে তুলেছে।
প্রাচীনকালে "দ্বিতীয় রোম" নামে খ্যাত এই শহরটি পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে প্রতিটি কোণে [[ইতিহাস]], [[সাংস্কৃতিক আকর্ষণ|সংস্কৃতি]] এবং উত্তেজনা খুঁজে পাওয়া যায়। দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শহরটি বিভিন্ন সভ্যতার সাক্ষী হয়েছে।
== জেলা সমূহ ==
ইস্তাম্বুলের জেলা ও পৌরসভার ব্যবস্থা বেশ জটিল এবং ২০০৯ সালে পরিবর্তিত হয়েছিল। এখানে শহরটিকে প্রায় অঞ্চলভিত্তিক একটি সরল বিভাগ দেওয়া হল:
{{Mapframe|41.0618|28.9587|width=420|height=350|zoom=11|staticmap=Istanbul districts map.png|show=mask,go}}{{Mapshape|type=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q732923|fill=#baae4f|title=[[ইস্তাম্বুল/সুলতানআহমেদ-পুরাতন শহর|সুলতানআহমেদ/ফাতিহ]]}} {{Mapshape|type=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q217411|fill=#ee6cda|title=[[ইস্তাম্বুল/গালাটা|গালাটা]]}} {{Mapshape|type=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q390637,Q284489|fill=#c189de|title=[[ইস্তাম্বুল/নতুন শহর|নতুন শহর]]}} {{Mapshape|type=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q857107,Q459495|fill=#cf9383|title=[[ইস্তাম্বুল/বসফরাস|বসফরাস]]}} {{Mapshape|type=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q673073|fill=#8588e1|title=[[ইস্তাম্বুল/গোল্ডেন হর্ন|গোল্ডেন হর্ন]]}} {{Mapshape|type=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q1020668|fill=#68b867|title=[[ইস্তাম্বুল/প্রিন্সেস দ্বীপপুঞ্জ|প্রিন্সেস দ্বীপপুঞ্জ]]}} {{Mapshape|type=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q794351,Q122320,Q326339,Q334924,Q753882,Q932886,Q739547,Q639014,Q253182,Q857056,Q673890,Q938548|fill=#b7d486|title=[[ইস্তাম্বুল/এশীয় সাইড|এশীয় সাইড]]}} {{Mapshape|type=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q840258,Q691764,Q794356,Q340148,Q639240,Q752528,Q197095,Q791567,Q570826,Q268747,Q788634,Q932166,Q378714,Q746516,Q791607,Q268983|fill=#bbb68d|title=[[ইস্তাম্বুল/পশ্চিম উপশহর|পশ্চিম উপশহর]]}}
{{Mapshapes|Q498172}} <!-- ইস্তাম্বুল মেট্রো --> {{mapshapes|Q6088693}} <!-- ইস্তাম্বুল আধুনিক ট্রাম (T1, T4) --> {{Mapshape|title=মার্মারে|wikidata=Q497844|type=geoline|stroke=#5a5f5c|stroke-width=4|stroke-opacity=1}}{{Regionlist
|regionmap=|regionmaptext=|regionmapsize=|region1color=#baae4f|region1description=মূলত রোমান, বাইজেন্টাইন এবং অটোমানদের '''কনস্টান্টিনোপল''', এটি প্রাচীরঘেরা অভ্যন্তরীণ শহর যেখানে ইস্তাম্বুলের বেশিরভাগ ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।|region2items=|region2color=#ee6cda|region2description=কখনো অটোমান ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় জনবহুল অঞ্চল ছিল। '''বেওগ্লু''' এবং এর কেন্দ্র, '''ইস্তিকলাল এভিনিউ''' অত্যন্ত জীবন্ত এবং '''তাকসিম স্কয়ার''' সম্ভবত শহরের সবচেয়ে কেন্দ্রস্থল।|region3color=#c189de|region3description=শহরের প্রধান ব্যবসায়িক জেলা, যেখানে '''নিশান্তাশি'''-এর মতো এলাকায় আধুনিক শপিং মল এবং ডিজাইনার ফ্যাশন আউটলেট রয়েছে।|region4color=#cf9383|region4description=বসফরাসের ইউরোপীয় তীর জুড়ে, যেখানে অসংখ্য প্রাসাদ, পার্ক, জলসীমার প্রাসাদসমূহ এবং বোহেমিয়ান পাড়াগুলি রয়েছে।|region5color=#8588e1|region5description=গোল্ডেন হর্নের তীর, যা ইউরোপীয় পাশে বিভিন্ন অঞ্চল বিভক্ত করে। '''এয়ূপসুলতান''' তার অটোমান এবং ইসলামিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছে যা দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয়।|region6color=#68b867|region6description=শহর থেকে একটি চমৎকার অবকাশ, এটি বিভিন্ন আকারের গাড়িমুক্ত দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত, যা চমৎকার কাঠের প্রাসাদসমূহ, সবুজ পাইন বন এবং সুন্দর দৃশ্য রয়েছে। দ্বীপে যাওয়ার পথে দৃশ্যও মনোমুগ্ধকর।|region7color=#b7d486|region7description=ইস্তাম্বুলের পূর্বাংশ, যেখানে মারমারা এবং বসফরাস উপকূলের সুরম্য এলাকা রয়েছে। '''কাদিকয়''' এটির কেন্দ্রে একটি ব্যস্ত এবং শিল্পময় এলাকা।|region8color=#bbb68d|region8description=ইউরোপীয় পাশের পশ্চিমাংশ, যার মধ্যে কাটালকা উপদ্বীপের গ্রামীণ অঞ্চলও রয়েছে। এখানে বিখ্যাত কিছু বাইজেন্টাইন ধ্বংসাবশেষ এবং নিরিবিলি সৈকত রয়েছে।|region1name=[[ইস্তাম্বুল/সুলতানআহমেদ-পুরাতন শহর|সুলতানআহমেদ এবং পুরাতন শহর]]|region2name=[[ইস্তাম্বুল/গালাটা|গালাটা]]|region3name=<nowiki>[[ইস্তাম্বুল/নতুন শহর|নিউ টাউন]</nowiki>|region4name=[[ইস্তাম্বুল/বসফরাস|বসফরাস]]|region5name=[[ইস্তাম্বুল/গোল্ডেন হর্ন|গোল্ডেন হর্ন]]|region6name=[[ইস্তাম্বুল/প্রিন্সেস দ্বীপপুঞ্জ|প্রিন্সেস দ্বীপপুঞ্জ]]|region7name=[[ইস্তাম্বুল/এশীয় সাইড|এশীয় সাইড]]|region8name=[[ইস্তাম্বুল/পশ্চিম উপশহর|পশ্চিম উপশহর]]}}{{Mapframe|41.0618|28.9587|width=420|height=350|zoom=11|staticmap=Istanbul districts map.png|show=mask,go}}{{Mapshape|ধরন=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q732923|fill=#baae4f|title=[[Istanbul/Sultanahmet-Old City|সুলতানআহমেত/ফাতিহ]]}} {{Mapshape|ধরন=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q217411|fill=#ee6cda|title=[[Istanbul/Galata|গালাতা]]}} {{Mapshape|ধরন=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q390637,Q284489|fill=#c189de|title=[[Istanbul/New City|নতুন শহর]]}} {{Mapshape|ধরন=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q857107,Q459495|fill=#cf9383|title=[[Istanbul/Bosphorus|বসফরাস]]}} {{Mapshape|ধরন=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q673073|fill=#8588e1|title=[[Istanbul/Golden Horn|গোল্ডেন হর্ন]]}} {{Mapshape|ধরন=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q1020668|fill=#68b867|title=[[Istanbul/Princes' Islands|প্রিন্সেস দ্বীপপুঞ্জ]]}} {{Mapshape|ধরন=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q794351,Q122320,Q326339,Q334924,Q753882,Q932886,Q739547,Q639014,Q253182,Q857056,Q673890,Q938548|fill=#b7d486|title=[[Istanbul/Asian Side|এশীয় পার্শ্ব]]}} {{Mapshape|ধরন=geoshape|stroke-opacity=0.1|wikidata=Q840258,Q691764,Q794356,Q340148,Q639240,Q752528,Q197095,Q791567,Q570826,Q268747,Q788634,Q932166,Q378714,Q746516,Q791607,Q268983|fill=#bbb68d|title=[[Istanbul/Western Suburbs|পশ্চিম উপনগর]]}}
{{Mapshapes|Q498172}} <!-- ইস্তাম্বুল মেট্রো --> {{mapshapes|Q6088693}} <!-- ইস্তাম্বুল আধুনিক ট্রাম (T1, T4) --> {{Mapshape|title=Marmaray|wikidata=Q497844|ধরন=geoline|stroke=#5a5f5c|stroke-width=4|stroke-opacity=1}}{{Regionlist|regionmap=|regionmaptext=|regionmapsize=|region1নাম=[[Istanbul/Sultanahmet-Old City|সুলতানআহমেত এবং পুরনো শহর]]|region1color=#baae4f|region1description=প্রধানত '''কনস্টান্টিনোপল''' যার শাসন রোমান, বাইজেন্টাইন এবং অটোমানরা করেছে। এটি প্রাচীর-ঘেরা অভ্যন্তরীণ শহর, যেখানে ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলি অবস্থিত।|region2নাম=[[Istanbul/Galata|গালাতা]]|region2items=|region2color=#ee6cda|region2description=একসময় এটি অটোমান ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অঞ্চলের জেলা ছিল। '''বেয়োগলু''' এবং এর কেন্দ্রস্থল, '''ইস্তিকলাল এভিনিউ''' জীবন্ত, এবং '''তাকসিম স্কয়ার''' সম্ভবত শহরের সবচেয়ে কেন্দ্রীয় স্থান।|region3নাম=[[Istanbul/New City|নতুন শহর]]|region3color=#c189de|region3description=শহরের প্রধান বাণিজ্যিক জেলা, যেখানে অনেক আধুনিক শপিং মল এবং ডিজাইনার ফ্যাশন আউটলেট রয়েছে, যেমন '''নিশানতাশি''' এলাকায়।|region4নাম=[[Istanbul/Bosphorus|বসফরাস]]|region4color=#cf9383|region4description=বসফরাসের ইউরোপীয় তীরকে কভার করে, যেখানে অসংখ্য প্রাসাদ, পার্ক, জলতীরবর্তী প্রাসাদ এবং বৈহামিক পাড়াগুলি রয়েছে।|region5নাম=[[Istanbul/Golden Horn|গোল্ডেন হর্ন]]|region5color=#8588e1|region5description=গোল্ডেন হর্নের তীর, যা ইউরোপীয় পাশকে স্বতন্ত্র এলাকায় বিভক্ত করে। '''এয়ুপসুলতান''' তার অটোমান এবং ইসলামিক ঐতিহ্য দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে, যা এখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।|region6নাম=[[Istanbul/Princes' Islands|প্রিন্সেস দ্বীপপুঞ্জ]]|region6color=#68b867|region6description=শহর থেকে একটি দুর্দান্ত পালাবার স্থান, এটি বিভিন্ন আকারের গাড়ি-মুক্ত দ্বীপের একটি দ্বীপপুঞ্জ, যেখানে সুন্দর কাঠের প্রাসাদ, সবুজ পাইন বন এবং চমৎকার দৃশ্য রয়েছে। শুধু দ্বীপেই নয়, যাওয়ার পথেও।|region7নাম=[[Istanbul/Asian Side|এশীয় পার্শ্ব]]|region7color=#b7d486|region7description=ইস্তাম্বুলের পূর্ব অংশ, যেখানে মারমারা এবং বসফরাস উপকূল বরাবর মনোরম পাড়া রয়েছে। '''কাদিকয়''' একটি ব্যস্ত এবং শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা।|region8নাম=[[Istanbul/Western Suburbs|পশ্চিম উপনগর]]|region8color=#bbb68d|region8description=ইউরোপীয় পাশের পশ্চিম অংশ, যা চাতালকা উপদ্বীপ জুড়ে গ্রামাঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাইজেন্টাইন ধ্বংসাবশেষ এবং নির্জন সমুদ্র সৈকত রয়েছে।}}
== বুঝুন ==
{{quote|ইস্তাম্বুল ছিল কনস্টান্টিনোপল। এখন এটি ইস্তাম্বুল, কনস্টান্টিনোপল নয়|author=জিমি কেনেডি, ইস্তাম্বুল (নট কনস্টান্টিনোপল), ১৯৫৩}}
=== ইতিহাস ===
ইস্তাম্বুল, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ শহরগুলির মধ্যে একটি। এর ইতিহাস হাজার হাজার বছর ধরে বিস্তৃত, এবং এই সময়কালে শহরটি বিভিন্ন সভ্যতার শাসনে ছিল। ইস্তাম্বুলের অবস্থানে প্রাচীনকালে একটি গ্রীক উপনিবেশ ছিল, যার নাম ছিল বাইজেন্টিয়াম। মেগারা থেকে আসা গ্রীক উপনিবেশকারীরা সাধারণত এই শহরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত হন। রোমান সম্রাট কনস্টানটিন মহান এই শহরকে সম্প্রসারিত করে এবং এর নাম পরিবর্তন করে কনস্টান্টিনোপল রাখেন। তিনি এই শহরকে রোমান সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। কনস্টান্টিনোপল প্রায় এক হাজার বছর ধরে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের, যাকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য বলা হয়, কেন্দ্র হিসেবে ছিল। ১৪৫৩ সালে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ কনস্টান্টিনোপল জয় করেন এবং শহরটির নাম পরিবর্তন করে ইস্তাম্বুল রাখেন। উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ইস্তাম্বুল একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের সাথে সাথে ইস্তাম্বুলও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ১৯২৩ সালে তুর্কি প্রজাতন্ত্রের জন্মের পর, আঙ্কারাকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে ইস্তাম্বুল তার গুরুত্ব হারায়নি এবং আজও এটি তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ইস্তাম্বুল ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতার সংস্পর্শে এসে এই শহরটি একটি অনন্য সাংস্কৃতিক মিশ্রণের জন্ম দিয়েছে। আজও ইস্তাম্বুল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।
=== অবস্থান ===
[[চিত্র:2019-07-28_Galata_Bridge_3.jpg|থাম্ব|গালাটা, গোল্ডেন হর্নের অপর দিকে পুরানো ইস্তাম্বুল থেকে দেখা হচ্ছে]]
ইস্তাম্বুল শহরটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত। এই শহরকে তিনটি প্রধান জলভাগ বিভক্ত করেছে।
* '''বসফরাস প্রণালী:''' এই প্রণালী ইউরোপ এবং এশিয়াকে বিভক্ত করেছে। ইস্তাম্বুল শহরের মধ্য দিয়েই এই প্রণালী প্রবাহিত হয়েছে। এই প্রণালীর সৌন্দর্য এবং গুরুত্বের কারণে ইস্তাম্বুলকে "দুই মহাদেশের সেতু" বলা হয়।
* '''গোল্ডেন হর্ন:''' এই প্রণালী বসফরাস প্রণালীর একটি শাখা। এটি ইস্তাম্বুল শহরের পশ্চিম অংশকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে।
* '''মারমারা সাগর:''' এই সাগর ইস্তাম্বুলের দক্ষিণে অবস্থিত। বসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে এই সাগর কালো সাগরের সাথে যুক্ত।
ইস্তাম্বুল শহরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অঞ্চল হল:
* '''সুলতানাহমেত:''' এই অঞ্চলটি ইস্তাম্বুলের পুরানো শহরের মূল অংশ। এখানে আয়া সোফিয়া, সুলতান আহমেদ মসজিদ এবং টপকাপি প্রাসাদ সহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে।
* '''গালাটা, বেওলু এবং তাকসিম:''' এই অঞ্চলগুলিকে আধুনিক ইস্তাম্বুলের হৃদয় বলা হয়। এখানে অনেক আধুনিক দোকান, রেস্তোরাঁ এবং হোটেল রয়েছে।
* '''কাডিকয়:''' এই অঞ্চলটি ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে অবস্থিত। এটি তুলনামূলকভাবে কম ভ্রমণ করা হয়, তবে এখানেও অনেক দেখার মতো জায়গা রয়েছে।
ইস্তাম্বুলের এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছে। শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতার সংস্পর্শে এসে এই শহরটি একটি অনন্য সাংস্কৃতিক মিশ্রণের জন্ম দিয়েছে।
=== জলবায়ু ===
{{Climate
| units = Metric
| janhigh = 7.7
| febhigh = 8.2
| marhigh = 10.3
| aprhigh = 15.2
| mayhigh = 19.6
| junhigh = 24.2
| julhigh = 26.0
| aughigh = 26.1
| sephigh = 23.3
| octhigh = 19.0
| novhigh = 13.6
| dechigh = 9.4
| janlow = 1.7
| feblow = 1.1
| marlow = 2.6
| aprlow = 6.4
| maylow = 11.0
| junlow = 14.5
| jullow = 17.0
| auglow = 17.6
| seplow = 13.7
| octlow = 10.8
| novlow = 6.4
| declow = 3.7
| janprecip = 86.8
| febprecip = 70.5
| marprecip = 62.3
| aprprecip = 55.9
| mayprecip = 54.6
| junprecip = 48.5
| julprecip = 48.5
| augprecip = 54.1
| sepprecip = 51.9
| octprecip = 70.0
| novprecip = 86.1
| decprecip = 105.3
|jansnow =26.0|febsnow =24.7|marsnow =11.6|aprsnow =0|maysnow =0|junsnow =0|julsnow =0|augsnow =0|sepsnow =0|octsnow =0|novsnow =2.6| decsnow =22.1
| description = See the 4 day forecast for Istanbul at the [https://mgm.gov.tr/eng/forecast-cities.aspx?m=ISTANBUL Turkish State Meteorological Service]
}}
আপনি যদি ইস্তাম্বুল ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাহলে আবহাওয়া সম্পর্কে কিছু জানা খুবই জরুরি। অনেকেই ভাবেন যে, ভূমধ্যসাগরীয় অবস্থানের কারণে ইস্তাম্বুলে সারা বছরই গরম থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা হল, ইস্তাম্বুলের আবহাওয়া অনেকটা মৃদু এবং বৈচিত্র্যময়।
ইস্তাম্বুলের আবহাওয়া মূলত সমুদ্রীয়, কিন্তু এর সাথে ভূমধ্যসাগরীয় প্রভাবও রয়েছে। এর অর্থ হল, এখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা তেমন একরকম উষ্ণ থাকে না এবং শীতকালে ঠান্ডা হয়। অনেকের কাছে অবাক করা হলেও, ইস্তাম্বুলে শীতকালে বৃষ্টির সাথে সাথে তুষারপাতও হয়। গড় তাপমাত্রা প্রায় ১২-১৪°C হয়, যা নিউ ইয়র্কের চেয়ে মাত্র ১°C বেশি উষ্ণ।
ইস্তাম্বুলের আকাশ প্রায়শই মেঘাচ্ছন্ন থাকে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে বছরে প্রায় অর্ধেক সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। ঘন কুয়াশাও প্রায়ই দেখা যায়, বিশেষ করে শীতকালে। তবে, শহরের নগরায়ণের ফলে গ্রীষ্মকালে রোদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।
ইস্তাম্বুলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক। বছরে প্রায় ১৫০ দিন বৃষ্টি হয় এবং গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ৮০০ মিলিমিটার। গ্রীষ্ম ও শরত্কালে বৃষ্টি ভারী হতে পারে। তাই, ছাতা এবং বৃষ্টির জামা সবসময় সঙ্গে রাখা ভালো।
ইস্তাম্বুলের বিশাল আকার এবং ভূ-প্রকৃতির কারণে, শহরের বিভিন্ন অংশে আবহাওয়ার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, গ্রীষ্মকালে শহরের উত্তরাংশে বৃষ্টি হতে পারে, যখন দক্ষিণাংশ শুষ্ক থাকতে পারে।
ইস্তাম্বুল ভ্রমণের জন্য আপনাকে সারা বছরের জন্য জামাকাপড় নিয়ে যেতে হবে। গরমের জন্য হালকা কাপড় এবং শীতের জন্য গরম জামাকাপড়, জ্যাকেট এবং বৃষ্টির জামা অবশ্যই নিয়ে যাবেন। আরামদায়ক জুতা পরে যান, কারণ আপনি অনেক হাঁটবেন। বৃষ্টির জন্য ছাতা নিয়ে যাওয়া ভালো। গ্রীষ্মকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
সার্বিকভাবে, ইস্তাম্বুলের আবহাওয়া অনেকটা ইউরোপীয় শহরগুলির মতো। তাই, যদি আপনি ইউরোপ ভ্রমণের জন্য পোশাক করেন, তাহলে ইস্তাম্বুলের জন্যও সেই একই পোশাকই উপযুক্ত হবে।
==== গ্রীষ্মকাল ====
ইস্তাম্বুল, তার ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্য বিখ্যাত হলেও, এই শহরের আবহাওয়া অনেকের কাছে অবাক করা হতে পারে। অনেকেই ভাবেন যে, ভূমধ্যসাগরীয় অবস্থানের কারণে ইস্তাম্বুলে সারা বছরই গরম থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা হল, ইস্তাম্বুলের আবহাওয়া অনেকটা মৃদু এবং বৈচিত্র্যময়। আসুন জেনে নিই ইস্তাম্বুলের গ্রীষ্মকাল কেমন হয়।
ইস্তাম্বুলে গ্রীষ্মকাল সাধারণত বেশ উষ্ণ হয়। জুলাই এবং আগস্ট মাসে গড় তাপমাত্রা দিনে প্রায় ২৬°C এবং রাতে ১৭°C এর কাছাকাছি থাকে। এই উষ্ণতা অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হলেও, শহরের মধ্যে তাপমাত্রা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে, শহরে প্রবাহিত পয়েরাজ নামে পরিচিত উত্তরের বাতাস তাপমাত্রাকে কিছুটা কমিয়ে রাখে। এই বাতাস তাপমাত্রা ৩২-৩৩°C এর বেশি বৃদ্ধি পেতে বাধা দেয়। কিন্তু এই বাতাস কালো সাগর থেকে অত্যন্ত আর্দ্র বায়ু নিয়ে আসে, যা বাতাসকে আর্দ্র করে তোলে এবং তাপমাত্রা আরও বেশি অনুভূত হয়।
ইস্তাম্বুলের গ্রীষ্মকাল মোটামুটি শুষ্ক হলেও, বৃষ্টি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে না। মাসে গড়ে চার থেকে পাঁচটি বৃষ্টির দিন থাকে। তবে যে বৃষ্টি হয় তা ভারী হতে পারে। ইস্তাম্বুল চরম আবহাওয়ার জন্য পরিচিত, এবং প্রায় ২-৩টি শিলাবৃষ্টির ঘটনা ঘটে, যা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক বেশি।
ইস্তাম্বুলে গ্রীষ্মকালে হালকা পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো। তুলোর কাপড় এবং ফ্রক, শার্ট ইত্যাদি পরতে পারেন। গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় যদি গড়ের তুলনায় একটু ঠান্ডা হয়, তাহলে একটি হালকা জ্যাকেট বা হালকা সোয়েটার সহায়ক হতে পারে।
==== বসন্ত ও শরৎ ====
এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে বসন্তের আগমন হয়। এই সময়টিতে শহরটি প্রকৃতির রঙে ছেয়ে যায়। গাছপালা নতুন পাতায় ছেয়ে যায়, ফুল ফোটে এবং শহরটি একটি সবুজ আভা ধারণ করে। বসন্তের আবহাওয়া মৃদু হয়, বৃষ্টি হয় মাঝে মাঝে, আবার রোদও দেখা যায়। এই সময়টিতে দিনগুলি দীর্ঘ হতে থাকে এবং রাতগুলি সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে। মে মাসের শেষ থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত বসন্তের শেষের দিকে আবহাওয়া আরও গরম হতে শুরু করে। এই সময়টি ইস্তাম্বুল ভ্রমণের জন্য আদর্শ। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে শরৎকাল আসে। বসন্তের মতো শরৎকালেও আবহাওয়া মৃদু থাকে। শহরের গাছপালা পাতা ঝরে যায় এবং শরতের রঙে রাঙ্গা হয়। শরতের আবহাওয়া বসন্তের মতোই মনোরম হয়। এই সময়টিতে রাতগুলি একটু ঠান্ডা হতে পারে। তবে, দিনের বেলায় রোদ খুবই উপভোগ্য।
==== শীত ====
ইস্তাম্বুল শুধু গরমের দিনের জন্যই বিখ্যাত নয়। এই শহরের শীতকালও অনন্য সৌন্দর্য নিয়ে আসে। তবে, ইস্তাম্বুলের শীত অন্য অনেক শহরের তুলনায় কিছুটা আলাদা। আসুন জেনে নিই ইস্তাম্বুলে শীত কেমন হয়।
ইস্তাম্বুলে শীতকালে তাপমাত্রা সাধারণত ৮°C থেকে ২°C এর মধ্যে থাকে। অর্থাৎ, শীতকালে ইস্তাম্বুলের আবহাওয়া ঠান্ডা হয়। তবে, উচ্চ আর্দ্রতার কারণে এই ঠান্ডা অনুভূত হয় আরও বেশি। বাতাসের কাঁপুনিও তাপমাত্রাকে আরও শীতল করে তোলে।
ইস্তাম্বুলে দুই ধরনের প্রধান বাতাস প্রবাহিত হয়। একটি হল দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসা "লোদোস" বাতাস। এই বাতাস তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হলেও বৃষ্টি নিয়ে আসে এবং তাপমাত্রা ১২-১৬°C পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে। অন্যদিকে, উত্তর দিক থেকে আসা বাতাস দিনের তাপমাত্রা শূন্যের কাছাকাছি বা একটু বেশি নিয়ে আসে।
শীতকালে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টিপাত অনেক হয়। বৃষ্টি সাধারণত হালকা এবং একটানা হয়। মাসে গড়ে প্রায় তিন সপ্তাহ বৃষ্টি হয়। এই ধরনের বৃষ্টির জন্য ছাতা ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, বরং রেইনকোট বা উষ্ণ জামাকাপড় পরা ভালো।
ইস্তাম্বুলে শীতকালে তুষারপাতও হয়। তবে, প্রতি বছর তুষারপাতের পরিমাণ একই রকম হয় না। কোনো কোনো বছর খুব সামান্য তুষারপাত হয় আবার কোনো কোনো বছর তিন সপ্তাহ পর্যন্ত তুষার থাকতে পারে। ইস্তাম্বুলে তুষারপাত সাধারণত ভারী হয় কারণ এখানে সমুদ্র বা হ্রদের প্রভাবজনিত তুষারপাত হয়।
ইস্তাম্বুলে শীতকালে ভ্রমণ করতে চাইলে উষ্ণ জামাকাপড়, বৃষ্টির জামা, এবং জুতা অবশ্যই নিয়ে যেতে হবে। বাতাসের কাঁপুনি অনুভূত হওয়ার জন্য গরম জামাকাপড় পরা জরুরি।
ইস্তাম্বুলের শীতকাল অন্য অনেক শহরের তুলনায় ভিন্ন। এখানে শীতকালে বৃষ্টি এবং তুষারপাত হয় এবং বাতাসের কারণে ঠান্ডা অনুভূত হয়। তবে, এই শীতকালের সৌন্দর্যও আলাদা। যদি আপনি শীতকালে ইস্তাম্বুল ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে উপরের তথ্যগুলো আপনার জন্য উপকারী হবে।
== কিভাবে আসবেন ==
ভিসা প্রয়োজনীয়তার জন্য দেখুন [[তুরস্ক#প্রবেশ করুন]]। ২০২০ সাল থেকে, বেশিরভাগ ইইউ, যুক্তরাজ্য, সিআইএস এবং দক্ষিণ আমেরিকার দর্শনার্থীদের ভিসার প্রয়োজন নেই। অন্যান্য অনেক দেশের নাগরিকরা যেমন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অনলাইনে ই-ভিসা পেতে পারেন, যা ৯০ দিনের জন্য বৈধ।
=== বিমানপথে ===
* {{যান
| নাম = [[ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর]]| অন্য = {{IATA|IST}}| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = https://www.istairport.com/| সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 41.261| দ্রাঘিমাংশ = 28.742| শেষ_সম্পাদনা = 2023-02-01| বিবরণ = ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর হল তুরস্কের সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এটি শহরের উত্তর-পশ্চিমে কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত। ২০১৮ সালে চালু হওয়া এই বিমানবন্দরটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। এখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। তুর্কি এয়ারলাইন্সের হাব হিসেবে এই বিমানবন্দরটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মেট্রো, বাস এবং ট্যাক্সি সহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে।| চিত্র = | উইকিপিডিয়া = ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর| উইকিউপাত্ত = Q3661908
}}
* {{যান
| নাম = [[সাবিহা গোকচেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর]]| অন্য = {{IATA|SAW}}| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = http://www.sgairport.com/| সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 40.9066| দ্রাঘিমাংশ = 29.3154| শেষ_সম্পাদনা = 2023-02-01| বিবরণ = সাবিহা গোকচেন বিমানবন্দর ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে অবস্থিত। এই বিমানবন্দরটি প্রধানত বাজেট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনা করে। এখান থেকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং পশচিম এশিয়া জুড়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে তুর্কি সমুদ্রতীরবর্তী রিসর্টগুলোতে যাতায়াতের জন্য এই বিমানবন্দরটি একটি জনপ্রিয় পছন্দ।| চিত্র = Airport_Sahiba_Gökcen_from_Air.jpg| উইকিউপাত্ত = Q723622
}}
'''সাবিহা গোকচেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আসা এবং যাওয়ার উপায়:'''
* '''মেট্রোতে''' – লাইন এম৪ বিমানবন্দর থেকে কাদিকোয়ে পর্যন্ত চলে, এতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। লাইনটি মেট্রো নেটওয়ার্কের সাথে ভালোভাবে সংযুক্ত নয়, তবে আপনি ফেরি বা আইরিলিক চেশমেসিতে মারমারাই ট্রেনে স্থানান্তর করতে পারেন।
* '''ট্রেনে''' – সাবিহা গোকচেন বিমানবন্দরটি পেনডিক হাই স্পিড ট্রেনরেলওয়ে স্টেশন থেকে ১২ কিমি দূরে, একটি ট্যাক্সি বা বাস ১৩২H নিয়ে দ্রুত ট্রেন ধরুন পূর্বের দিকে আঙ্কারা এবং কোন্যার দিকে।
* '''বাসে''':
:* [https://hava.ist/ '''হাভাইস্ট'''] – এটি উভয় বিমানবন্দরে কাজ করে। একটি প্রিপেইড সমাধান মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এর মাধ্যমে পাওয়া যায়।
:* '''[http://www.havabus.com/ হাভাবাস]''' – এটি বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলে তাস্কিম (৫০ কিমি, ৬০-৯০ মিনিট, ১৮ তুর্কি লিরা), ইয়েনিসাহরা এশিয়ার স্থানান্তর হাবে (৫০ মিনিট, ১০ তুর্কি লিরা) এবং কাদিকোয় (৬০ মিনিট, ৩৯ তুর্কি লিরা + ফেরি ৩ তুর্কি লিরা) পর্যন্ত চলে। বাসগুলি ৩০ মিনিটের মধ্যে একবার চলে, সকাল ৪:০০ থেকে রাত ১:০০ পর্যন্ত। বাসে টিকিট কিনুন, ইস্তাম্বুলকার্ট বৈধ।
:* '''শহরের বাস''' (İETT বাস) – এরা সবচেয়ে সস্তা, প্রধান রুটগুলি হল:
:# কাদিকোয় যেতে ই-১০ বাসে (কার্টকয়ে দিয়ে, ২৪ ঘণ্টা চলে) বা ই-১১, এতে ৬০-৯০ মিনিট সময় লাগে, ভারী ট্র্যাফিকের সময় আরও বেশি। দুই-জোনের টিকিট প্রয়োজন, মূল্য ৭ তুর্কি লিরা।
:# তাস্কিম এবং ইউরোপীয় দিকে অন্য কোথাও যেতে ই-৩ বাসে ৪. লেভেন্ট মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত যান। এটি ২৪ ঘণ্টা চলে, এতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে এবং তিন-জোনের টিকিট প্রয়োজন ১০ তুর্কি লিরা।
:# অন্যান্য রুটগুলির মধ্যে রয়েছে ই-৯ বোস্টানসি পর্যন্ত, ১৬এস মেট্রোবাস উজুনচায়ির পর্যন্ত, কেএম২০ পেনডিক এবং কার্টাল মেট্রো পর্যন্ত, কেএম২২ চেভিজলি প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত, ই-১৮ আল্টুনিজাদে এবং উমরানিয়ে পর্যন্ত এবং ১২২এইচ ইয়েনিশেহির হয়ে ৪. লেভেন্ট মেট্রো পর্যন্ত।
* '''শাটলে''' – আপনার থাকার জায়গার সাথে যোগাযোগ করুন অথবা অনলাইনে খুঁজুন।
* '''ট্যাক্সিতে''' – টাকসিমে যাওয়ার জন্য প্রায় €২০ খরচ হবে (মে ২০২২ অনুযায়ী)।
'''আতাতুর্ক বিমানবন্দর বন্ধ:''' এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দর ২০১৯ সালে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পুরনো মানচিত্র এবং সাইনবোর্ড এখনও এই বিমানবন্দরকে দেখাবে, তাই সতর্ক থাকুন। ট্যাক্সি চালকরা আপনাকে পুরানো বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে যেতে চাইতে পারে, যা আপনার ভ্রমণকে বিলম্বিত করবে।
'''নতুন বিমানবন্দর:''' এখন ইস্তাম্বুলে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। এই বিমানবন্দরটি শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত, তাই আপনাকে বিমানবন্দর থেকে শহরে যাওয়ার জন্য অন্য পরিবহন ব্যবস্থার ব্যবহার করতে হবে।
'''ইস্তাম্বুলে যাতায়াতের উপায়:'''
* '''বিমানবন্দর বাস:''' বিমানবন্দর থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বাস চলাচল করে। এই বাসগুলি সাধারণত সস্তা এবং সহজেই উপলব্ধ।
* '''ট্যাক্সি:''' বিমানবন্দর থেকে শহরে যাওয়ার জন্য আপনি ট্যাক্সিও নিতে পারেন। তবে, ট্যাক্সি নেওয়ার আগে মিটার চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
* '''রেল:''' বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্রে রেলওয়ে সংযোগ রয়েছে। রেল ব্যবহার করে আপনি দ্রুত এবং সহজে শহরে যেতে পারেন।
'''ইস্তাম্বুলের ভিতরে যাতায়াত:'''
* '''বাস:''' ইস্তাম্বুলে বাস পরিবহন ব্যবস্থা খুব ভালো। আপনি বাসে করে শহরের প্রায় সব জায়গায় যেতে পারবেন।
* '''ট্রাম:''' ইস্তাম্বুলে ট্রামও চলে। ট্রামে করে আপনি শহরের একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত যেতে পারবেন।
* '''মেট্রো:''' ইস্তাম্বুলে মেট্রোও চলে। মেট্রো ব্যবহার করে আপনি শহরের বিভিন্ন অংশে সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন।
* '''ফেরি:''' ইস্তাম্বুল একটি সমুদ্রতীরের শহর। তাই এখানে ফেরি পরিষেবাও রয়েছে। আপনি ফেরি করে বসফোরাসের উপর দিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন।
'''ট্যাক্সি চালকদের সতর্কতা:''' ইস্তাম্বুলে কিছু ট্যাক্সি চালক পর্যটকদের প্রতারণা করার চেষ্টা করতে পারে। তাই ট্যাক্সি নেওয়ার আগে মিটার চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন এবং আপনার গন্তব্য স্পষ্টভাবে বলুন।
=== ট্রেনে ===
[[চিত্র:Turkey.Istanbul.Sirkeci.RailwayStation.SirkeciGari2.JPG|থাম্ব|স্বতন্ত্র পূর্বের সিরকে চি স্টেশন, যা ১৮৯০ সাল থেকে ইউরোপের যাত্রীদের শহরে স্বাগতম জানাচ্ছে, এশিয়ার প্রান্তে...]]
[[চিত্র:İstanbul_5503.jpg|থাম্ব|...এবং স্বতন্ত্র জার্মানিক হায়দারপাসা স্টেশন, যা ১৯০৮ সাল থেকে এশিয়ার দূরবর্তী অংশ থেকে আসা অনেক যাত্রীর জন্য ইউরোপের প্রথম দৃশ্য প্রদান করেছিল।]]
:: ''[[প্রধান পাতা|উইকিভ্রমণ]]-এ [[ট্রেন ভ্রমণ তুরস্কে]] একটি প্রবন্ধ রয়েছে''
ইস্তাম্বুলে ট্রেনে যাত্রা, বিশেষ করে পুরনো জামানার অরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের যাত্রার কথা মনে করলে, এক সময় বিলাসবহুল এবং রোমান্টিক অভিজ্ঞতা ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলে গেছে।
আজকের দিনে ইউরোপ থেকে আসা ট্রেনগুলি হালকালীতে এবং পূর্ব থেকে আসা ট্রেনগুলি স্টেশনে এসে থামে। এর মানে হল, ইস্তাম্বুলের দুটি প্রধান টার্মিনাল স্টেশন, সিরকেজি এবং হায়দারপাসা, আগের মতো ব্যবহৃত হয় না।
* '''নতুন পরিবহন ব্যবস্থা:''' ইস্তাম্বুলে নতুন নতুন পরিবহন ব্যবস্থা যেমন মারমারায়, মেট্রো ইত্যাদি চালু হওয়ায় পুরনো ট্রেন স্টেশনগুলোর ব্যবহার কমে গেছে।
* '''নতুন রেলপথ:''' ইস্তাম্বুলে নতুন রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলে হয়তো পুরনো স্টেশনগুলো আবার ব্যবহার করা হবে।
* '''পুরনো স্টেশনগুলোর অবস্থা:''' সিরকেজি এবং হায়দারপাসা স্টেশন দুটিই বেশ পুরনো। এই স্টেশনগুলোকে আধুনিক মানের সাথে মানানসই করতে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন।
'''সিরকেজি এবং হায়দারপাসা স্টেশন'''
* '''সিরকেজি:''' এই স্টেশনটি ইউরোপীয় দিকে অবস্থিত। একসময় এখান থেকে অনেক দেশে ট্রেন যাত্রা করত।
* '''হায়দারপাসা:''' এই স্টেশনটি এশিয়ার দিকে অবস্থিত। একসময় এখান থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ট্রেন যাত্রা করত।
তুর্কি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার বলেছে যে এই দুটি স্টেশন আবার ব্যবহার করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া হয়নি।
==== পূর্ব দিক থেকে ট্রেন ====
ইস্তাম্বুল এবং তুরস্কের অন্যান্য প্রধান শহরগুলোর মধ্যে '''হাই স্পিড ট্রেন পরিষেবা''' সুবিধাজনক এবং দ্রুত যাতায়াতের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ইস্তাম্বুলে হাই স্পিড ট্রেনের বেশ কয়েকটি রুট রয়েছে, যা শহরের বিভিন্ন অংশকে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলকে সংযুক্ত করে।
ইস্তাম্বুলে হাই স্পিড ট্রেনের মূল স্টেশন হল হালকালি। এখান থেকে এস্কিশেহির, আঙ্কারা, কোন্যা, কারামান এবং সিভাসসহ তুরস্কের বিভিন্ন শহরে হাই স্পিড ট্রেন চলে। এই ট্রেনগুলি খুবই দ্রুতগতির এবং আরামদায়ক। ইস্তাম্বুলের এশিয়ান দিকে, হাই স্পিড ট্রেন বস্তানসি, পেন্ডিক এবং গেবজেতে থামে। পেন্ডিক সাবিহা গোকচেন বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত, যা এই বিমানবন্দর থেকে ইস্তাম্বুল শহরের অন্যান্য অংশে যাওয়ার জন্য একটি সুবিধাজনক স্টপ।
ইস্তাম্বুল এবং আঙ্কারার মধ্যে রাতারাতি যাত্রীবাহী ট্রেনেরও ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে '''আঙ্কারা এক্সপ্রেস''' বলা হয়। এই ট্রেনটি ইস্তাম্বুলের হালকালি থেকে রাতে ছেড়ে যায় এবং সকালে আঙ্কারায় পৌঁছে। এই ট্রেনে আসন, স্লিপার এবং ডাইনিং কারের ব্যবস্থা রয়েছে।
হাই স্পিড ট্রেনে যাত্রা করার জন্য আগে থেকে টিকিট বুক করা উচিত, বিশেষ করে ছুটির দিনে। টিকিটের দাম যাত্রার দূরত্ব এবং ক্লাসের উপর নির্ভর করে। ইকোনমি এবং বিজনেস ক্লাসে টিকিট পাওয়া যায়।
ইস্তাম্বুলে হাই স্পিড ট্রেন ব্যবহার করে আপনি দ্রুত এবং আরামদায়কভাবে শহরের বিভিন্ন অংশে এবং তুরস্কের অন্যান্য শহরে ভ্রমণ করতে পারবেন।
==== ইউরোপ এবং ইউরোপীয় তুরস্ক থেকে ট্রেন ====
[[চিত্র:Train_from_Istanbul_to_Sofia_3.jpg|থাম্ব|ইস্তাম্বুল-সোফিয়া ট্রেনে বার্থ]]
ইস্তাম্বুল, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে পরিচিত, রেলপথের মাধ্যমেও এই দুই মহাদেশকে সংযুক্ত করে। ইস্তাম্বুলে আগমনের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন শহর থেকে ট্রেন পরিষেবা পাওয়া যায়।
'''বুলগেরিয়া ও রুমানিয়া থেকে ইস্তাম্বুল:''' সোফিয়া থেকে প্রতিদিন রাতে একটি স্লিপার ট্রেন ইস্তাম্বুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এই ট্রেনটি প্লভদিভ এবং কাপিকুলে সীমান্ত দিয়ে যাত্রা করে। গ্রীষ্মকালে, বুখারেস্ট থেকে বসফর এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন চলে, যা কুচেটের সুবিধা প্রদান করে। তবে, শীতকালে এই ট্রেনটি চলে না। এই দুটি ট্রেনই কাপিকুলে মিলিত হয় এবং যাত্রীদের সীমান্ত পারাপারের জন্য নামতে হয়।
'''ভাড়া এবং সংযোগ:''' এই আন্তর্জাতিক ট্রেনগুলিতে ভাড়া সাধারণত ইউরোতে নির্ধারিত হয়। সোফিয়া থেকে ইস্তাম্বুলে যাত্রার জন্য একটি সাধারণ একক টিকিটের দাম প্রায় ৩১.৬৮ ইউরো। কুচেট বা স্লিপার ক্যাবিনের জন্য অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য। বুদাপেস্ট এবং বেলগ্রেড থেকে আসা ট্রেনগুলি সরাসরি ইস্তাম্বুলের ট্রেনের সাথে সংযুক্ত না হওয়ায়, এই রুটে যাত্রা করতে চাইলে আপনাকে এক রাতের জন্য থাকতে হতে পারে।
'''ইস্তাম্বুলের ভিতরে যাতায়াত:''' হালকালি স্টেশনে পৌঁছে মারমারায় ট্রেনে করে শহরের বিভিন্ন অংশে যাওয়া যায়। মারমারায় একটি দ্রুতগতির ট্রানজিট সিস্টেম যা ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় ও এশীয় অংশকে সংযুক্ত করে।
'''কিছু বিষয় মাথায় রাখবেন:'''
* '''সময়সূচী:''' ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তিত হতে পারে, তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ তথ্যের জন্য ট্রেন কোম্পানির ওয়েবসাইট দেখে নেওয়া উচিত।
* '''ভিসা:''' বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে ভিসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো জেনে নেওয়া জরূরি।
* '''সীমান্ত পারাপার:''' কাপিকুলে সীমান্ত পারাপারের জন্য কিছু সময় লাগতে পারে। তাই যাত্রীদের সীমান্ত পারাপারের জন্য যথেষ্ট সময় রাখা উচিত।
* '''মুদ্রা:''' তুরস্কে তুর্কি লিরা ব্যবহৃত হয়। তাই যাত্রার আগে কিছু তুর্কি লিরা বদলে নেওয়া ভালো।
* '''সামান্য পরিবর্তন:''' রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্যান্য কারণে রুট বা সময়সূচিতে মাঝে মধ্যে পরিবর্তন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ তথ্যের জন্য ট্রেন কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
'''ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে যোগাযোগ:''' ইস্তাম্বুলে রেল যাত্রা শুধুমাত্র একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যমও। রেলপথের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন শহর, গ্রাম এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী যাত্রীদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
'''পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ:''' রেল যাত্রা বিমানের তুলনায় অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। এটি কার্বন নিঃসরণ কম করে এবং পরিবেশ দূষণকে কমাতে সাহায্য করে।
'''সুবিধা এবং অসুবিধা:''' রেল যাত্রার অনেক সুবিধা আছে। এটি আরামদায়ক, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী। তবে, কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন, ট্রেন যাত্রায় সময় বেশি লাগতে পারে এবং যাত্রাপথে বিভিন্ন স্টেশনে থামার কারণে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
* {{যান
| নাম = হালকালি রেলওয়ে স্টেশন| অন্য = হালকালি গাড়ি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 41.0188| দ্রাঘিমাংশ = 28.767| শেষ_সম্পাদনা = ২০২৪-০৩-১৬| বিবরণ = হালকালি রেলওয়ে স্টেশন: ইস্তাম্বুলের রেল যাত্রার প্রবেশদ্বার
ইস্তাম্বুল ভ্রমণে যাদের ট্রেনে যাত্রা করার পরিকল্পনা আছে, তাদের জন্য হালকালি রেলওয়ে স্টেশন একটি পরিচিত নাম। ইস্তাম্বুলের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই স্টেশনটি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অংশ এবং ইউরোপের কিছু শহরের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান কেন্দ্র।
স্টেশনের সুবিধা এবং অসুবিধা: হালকালি স্টেশনে যাত্রীদের জন্য কিছু সুবিধা রয়েছে। তবে, কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে যার দিকে যাত্রীদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।
মুদ্রা বিনিময়ের সুবিধা: স্টেশনে মুদ্রা বিনিময়ের কোন সুবিধা নেই। তাই ইস্তাম্বুল শহরে প্রবেশের আগে যাত্রীদের তাদের প্রয়োজনীয় তুর্কি লিরা বদলে নেওয়া উচিত।
মারমারায় টিকিট: মারমারায় ট্রেনে যাত্রা করার জন্য টিকিট কেনার জন্য স্টেশনে মেশিন রয়েছে। এই মেশিনগুলো সাধারণত তুর্কি নগদ গ্রহণ করে। কার্ডের মাধ্যমে টিকিট কেনার সুবিধা থাকলেও, অনেক সময় এই মেশিনগুলোতে দীর্ঘ লাইন থাকে। তাই যাত্রীদের সময় বাঁচাতে আগে থেকেই কার্ডের মাধ্যমে টিকিট কেনার ব্যবস্থা করে রাখা উচিত।
অন্যান্য সুবিধা: স্টেশনে টয়লেট, খাবারের দোকান এবং অপেক্ষা করার জায়গা রয়েছে। তবে, স্টেশনের আশেপাশে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায় না।
মারমারায় ট্রেন: হালকালি স্টেশন থেকে মারমারায় ট্রেনে করে ইস্তাম্বুল শহরের বিভিন্ন অংশে যাওয়া যায়। মারমারায় একটি দ্রুতগতির ট্রানজিট সিস্টেম যা ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় ও এশীয় অংশকে সংযুক্ত করে। এই ট্রেনগুলি নিয়মিত চলে এবং শহরের বিভিন্ন পর্যটন স্থানে যাওয়ার জন্য একটি সহজ এবং দ্রুত উপায়।| চিত্র = | উইকিউপাত্ত = Q5642508
}}
=== বাসে যাতায়াত ===
তুরস্কের বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে ভ্রমণের জন্য বাস একটি জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী মূল্যের মাধ্যম। বিশেষ করে, আন্তঃনগর বাস পরিষেবা দেশের বিভিন্ন কোণে পৌঁছাতে সক্ষম করে। তুরস্কের বাস পরিষেবাগুলি সাধারণত আরামদায়ক এবং আধুনিক, যাত্রীদের একটি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করে।
তুরস্কের বাস পরিবহন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হল এসেনলার বাস স্টেশন। এই স্টেশনটি দেশের প্রায় সব জায়গায় বাস পরিষেবা পরিচালনা করে। এখান থেকে আপনি ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির এবং তুরস্কের অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে বাস পাবেন। এছাড়াও, অনেক আন্তর্জাতিক বাস রুটও এসেনলার থেকে শুরু হয়।
তুরস্কের অনেক বাস কোম্পানি শহরের বিভিন্ন স্থানে অফিস এবং সার্ভিস নামে পরিচিত ছোট বাস চালান। এই সার্ভিস বাসগুলি শহরের বিভিন্ন কোণ থেকে যাত্রীদের তুলে নিয়ে এসেনলার বাস স্টেশন বা মূল মোটরওয়েতে নিয়ে যায়। এটি যাত্রীদের জন্য বাস স্টেশনে পৌঁছানোকে আরও সহজ করে তোলে।
==== ইউরোপীয় অংশ ====
===== আলিবেইকয় =====
{{marker|ধরন=go|অক্ষাংশ=41.0876|দ্রাঘিমাংশ=28.9451|নাম=আলিবেয়কয় বাস স্টেশন}} (''Alibeyköy Cep Otogarı'') ইস্তাম্বুলের এশিয়ান অংশ থেকে আসা এবং যাওয়ার জন্য আলিবেয়কয় বাস স্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি শহরের বাইরের বেল্টওয়ে গুজেলটেপ এলাকায় অবস্থিত। এসেনলার বাস স্টেশনের তুলনায় ছোট হলেও, এটি ইস্তাম্বুলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্টেশনের আধুনিক ডিজাইন এবং সুবিধাগুলি এটিকে একটি আকর্ষণীয় স্থান করে তুলেছে। তবে, অনেক সময় এখানে যাত্রীদের ভিড় থাকে এবং সবকিছু সুশৃঙ্খল থাকে না। এসেনলার বাস স্টেশনের তুলনায় এখানে কিছুটা বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা যায়।
আলিবেয়কয় বাস স্টেশন থেকে ইস্তাম্বুল শহরের বিভিন্ন অংশে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা পাওয়া যায়। টি৫ ট্রাম লাইন এই বাস স্টেশনটিকে এম৭ মেট্রো লাইনের সাথে সংযুক্ত করে, যা যাত্রীদের মেজিদিয়েকয়-তে পৌঁছাতে সাহায্য করে। মেজিদিয়েকয় হল শহরের একটি ব্যস্ত ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং এখান থেকে শহরের অন্যান্য অংশে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিবহন পাওয়া যায়। এছাড়াও, এটি বিআরটি মেট্রোবাস লাইন এবং এমিনোনুতে পৌঁছাতে সাহায্য করে, যাত্রাপথে গোল্ডেন হর্নের দৃশ্যমান সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ দেয়। কিছু সংখ্যক শাটল পরিষেবাও পাওয়া যায়, যদিও কোনটিই সুলতানাহমেতের উদ্দেশ্যে নয়।
===== এসেনলার =====
ইস্তাম্বুলের যাতায়াত ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল এসেনলার বাস স্টেশন। প্রায়শই "অটোগার" নামে পরিচিত, এই বিশাল কমপ্লেক্সটি সুলতানাহমেত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি শুধু একটি বাস স্টেশন নয়, বরং একটি ছোট শহরের মতো।
'''একটি ছোট শহরের মতো বাস স্টেশন:''' এসেনলার বাস স্টেশনে ১৬৮টি টিকিট অফিস, দোকান, রেস্তোরাঁ, হোটেল, পুলিশ স্টেশন, ক্লিনিক এবং মসজিদ রয়েছে। এখানে প্রায় সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় যা একটি ছোট শহরে থাকা উচিত। তবে, এখানে একটি কেন্দ্রীয় তথ্য কাউন্টার নেই। তাই যাত্রীদের তাদের গন্তব্যের জন্য বাসের সময়সূচি এবং ভাড়া জানতে অনলাইনে অনুসন্ধান করতে হয় বা বিভিন্ন বাস কোম্পানির অফিসে যোগাযোগ করতে হয়।
'''আন্তর্জাতিক ও আন্তঃনগর যোগাযোগ:''' এসেনলার বাস স্টেশন থেকে তুরস্কের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি গ্রীস, ম্যাসিডোনিয়া, সার্বিয়া, রুমানিয়া এবং বুলগেরিয়ার মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতেও বাস চলে। এটি ইস্তাম্বুলের সবচেয়ে ব্যস্ত বাস স্টেশনগুলির একটি এবং এখান থেকে দিনে হাজার হাজার যাত্রী যাত্রা করে।
'''পরিবহন সংযোগ:''' এসেনলার বাস স্টেশনকে শহরের অন্যান্য অংশের সাথে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। এম১ মেট্রো লাইনের অটোগার মেট্রো স্টেশন এই বাস স্টেশনের সবচেয়ে কাছের মেট্রো স্টেশন। এই মেট্রো লাইনের মাধ্যমে আপনি শহরের বিভিন্ন অংশে খুব সহজেই যেতে পারবেন।
এটি এম১ মেট্রো লাইনে অটোগার মেট্রো স্টেশনের মাধ্যমে পরিষেবা পায়, যা সেখানে এমর্১এ এবং এম১বি-তে বিভক্ত হয়। শহরের প্রধান গন্তব্যগুলোর সাথে সংযোগগুলো নিম্নরূপ:
* '''সুলতানাহমেতে যাওয়া:''' এসেনলার বাস স্টেশন থেকে সুলতানাহমেতে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হল মেট্রো ব্যবহার করা। আপনি প্রথমে অটোগার মেট্রো স্টেশনে মেট্রোতে চড়তে পারেন এবং তারপর আকসারায় বা জেটিনবার্নুতে নেমে ট্রামে পরিবর্তন করতে পারেন। জেটিনবার্নু থেকে ট্রামে পরিবর্তন করা সহজ হলেও, Aksaray মেট্রো স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য আপনার ব্যাগেজ ধাপে ধাপে নিয়ে যেতে হবে। যদি আপনার কাছে অনেক ব্যাগেজ থাকে, তাহলে জেটিনবার্নুতে ট্রামে পরিবর্তন করা ভালো হবে।
* '''বেওয়োলুতে যাওয়া:''' বেওয়োলুতে যাওয়ার জন্য আপনি এম১ মেট্রো লাইনে ইয়েনিকাপিতে যাওয়ার পর এম২ মেট্রো লাইনে পরিবর্তন করতে পারেন এবং শীশানে বা তাকসিমে নেমে পড়তে পারেন। এছাড়াও, ৮৩০ নম্বর বাসে করেও আপনি তাকসিম স্কয়ারে যেতে পারেন।
* '''অন্যান্য গন্তব্য:''' এসেনলার বাস স্টেশন থেকে শহরের অন্যান্য গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বাস রুট রয়েছে। আপনি ২৮ও, ৭৫ও, ৯১ও এবং ৮৩ও নম্বর বাসে করে শহরের বিভিন্ন অংশে যেতে পারেন।
* '''ভাড়া:''' যদি আপনি একটি ইস্তাম্বুলকার্ড ব্যবহার করেন তাহলে ভ্রমণটি সস্তা হবে। ইস্তাম্বুলকার্ড একটি রিচার্জেবল স্মার্ট কার্ড যা আপনি মেট্রো, ট্রাম এবং বাসে ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। একটি ট্যাক্সি ভাড়া সাধারণত মেট্রো বা বাসের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হবে।
মনে রাখবেন, ১৫ জুলাই ২০১৬ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের স্মরণে এটি ''১৫ তম তামুজ ডেমোক্রাসি অটোগার'' (যার নাম ১৫ তম তামুজ শহীদ অটোগারও বলা হয়) নামকরণ করা হয়েছে, তবুও বেশিরভাগ বাস কোম্পানি এসেনলার অটোগার নামটি ব্যবহার করতে থাকে।
===== এমনিয়েট টার্মিনাল =====
{{marker|ধরন=go|অক্ষাংশ=41.0067|দ্রাঘিমাংশ=28.9500|নাম=এমনিয়েট টার্মিনাল}}
ইস্তাম্বুলের এমিনিয়েট টার্মিনাল, যা লালেলি আন্তর্জাতিক যাত্রী স্থানান্তর কেন্দ্র নামেও পরিচিত, আন্তর্জাতিক বাস যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আকসারায়ের দক্ষিণে কুচুক লাঙ্গা সিডিতে অবস্থিত এই টার্মিনাল থেকে আপনি ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাত্রা করতে পারবেন।
এমিনিয়েট টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন দেশে বাস চলাচল করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বলকান অঞ্চলের দেশগুলি যেমন আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, গ্রীস, কসোভো, উত্তর মেসিডোনিয়া এবং রোমানিয়া। এছাড়াও, ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের দেশগুলি যেমন জার্মানি, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ড, ককেশাস অঞ্চলের দেশগুলি যেমন আর্মেনিয়া, আজারবাইজান এবং জর্জিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি যেমন ইরাক এবং ইরানের সাথেও এই টার্মিনাল থেকে বাস যোগাযোগ রয়েছে।
এমিনিয়েট টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন বাস কোম্পানি পরিষেবা পরিচালনা করে। এর মধ্যে আস্ত তুরিজম, আয়বাকি তুর, গোল্ডেন তুরিজম, টুরিজম, মেট্রো টুরিজম, ওর্তাদোগু তুরিজম, নিশিকলি তুরিজম, নুগো তুরিজম, ওজলেম তুরিজম, ওজনুহোগলু, পার্লা ট্রান্স, স্টার তুরিজম, ট্রয় টুরিজম এবং ভার্দার তুরিজম উল্লেখযোগ্য। এই বাস কোম্পানিগুলি বিভিন্ন ধরনের বাসে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
'''যোগাযোগ ব্যবস্থা:''' এমিনিয়েট টার্মিনাল ইস্তাম্বুলের অন্যান্য অংশের সাথে ভালভাবে যুক্ত। এটি ইয়েনিকাপি মেট্রো স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটা দূরত্বে। ইয়েনিকাপি মেট্রো স্টেশনে এম১ এবং এম২ মেট্রো লাইন এবং মারমারায় ট্রেন লাইন রয়েছে। এছাড়াও, এটি ইউসুফপাশা স্টেশন থেকেও খুব বেশি দূরে নয়, যা টি১ ট্রাম লাইন দ্বারা সুলতানাহমেতকে সংযুক্ত করে।
'''বিমানবন্দর সংযোগ:''' হাভাইস্ট দ্বারা পরিচালিত এইচভিআইএসটি-১২ এয়ারপোর্ট বাস সার্ভিস আকসারাইকে নতুন ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের সাথে সংযুক্ত করে। এই বাস সার্ভিসের স্টপ এমিনিয়েট টার্মিনালের কাছেই অবস্থিত।
==== এশীয় দিক ====
ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশ, বিশেষ করে হারেম, আনাতোলিয়ার বিভিন্ন শহরে যাতায়াতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই অঞ্চলটিতে অবস্থিত বাস স্টেশনগুলি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাস চলাচল করে।
'''হারেম: বাস যাত্রার প্রাণকেন্দ্র'''
দীর্ঘদিন ধরে ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের প্রধান বাস স্টেশন হিসেবে হারেম পরিচিত ছিল। বোসফরাসের ঠিক উপরে অবস্থিত এই স্টেশনটি থেকে নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চলে যা ইউরোপীয় অংশের সিরকেচিতে যায়। এছাড়া, হারেমের কাছেই কাদিকয় ও উস্কুদার বন্দর রয়েছে, যেখান থেকেও ইউরোপীয় অংশে ফেরি চলে। এই স্থানগুলো থেকে আপনি সহজেই মেট্রো বা অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারবেন।
'''নতুন বাস স্টেশন এবং পরিবর্তন:'''
সময়ের সাথে সাথে ইস্তাম্বুলের পরিবহন ব্যবস্থা বদলাতে থাকায় বাস স্টেশনগুলির অবস্থানেও কিছু পরিবর্তন হয়েছে। অনেক বাস কোম্পানি এখন তাদের নিজস্ব মিনি-টার্মিনাল বা হাবগুলোতে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা দূরের উপশহরগুলিতে অবস্থিত। এই হাবগুলো প্রধান মোটরওয়েগুলোর কাছে অবস্থিত হওয়ায় বাসগুলি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
=== নৌপথে ===
[[চিত্র:Maidens_Tower_2007.jpg|থাম্ব|বসফরাসের দক্ষিণ প্রবেশদ্বারে মেইডেন টাওয়ার]]
{{cautionbox|২০২৪ সালের হিসাবে, [[ইউক্রেন]]ের জন্য এবং থেকে ফেরিগুলি বাতিল করা হয়েছে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে।}}{{আরও দেখুন|মধ্য সাগরে ফেরি}}সপ্তাহে একাধিকবার [[http://www.ukrferry.com ব্ল্যাক সি ফেরি]] চর্নোমোরস্কের উদ্দেশ্যে চলাচল করে, যা ইউক্রেনের [[ওদেসা|ওদেসার]] প্রধান বন্দর, এটি ২৭ ঘণ্টা সময় নেয়। এই ফেরিগুলি বছরের সমস্ত সময় চলে এবং যানবাহন নিতে পারে; সত্যিই, ট্রাকিং তাদের ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ বর্তমান সময়ে অনেক ভ্রমণকারী বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাতায়াত করেন। ফেরির টার্মিনালটি হায়দারপাশায়, পুরানো রেলওয়ে স্টেশনের পাশে অবস্থিত। এই ফেরিগুলি আগে অন্যান্য ব্ল্যাক সি বন্দরগুলিতে চলে যেত, তবে এখন আর সেগুলি চলে না।
ইস্তাম্বুল, দুই মহাদেশের সংযোগস্থল হিসেবে, সবসময়ই জলপথে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বসফোরাস এবং মারমারা সাগরের উপর চলাচলকারী ফেরিগুলি শতাব্দী ধরে এই শহরের জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
* '''ইস্তাম্বুল থেকে আন্তর্জাতিক ফেরি:''' বর্তমানে ইস্তাম্বুল থেকে সরাসরি অনেক আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফেরি চলাচল করে না। তবে, তুরস্কের লিবিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ইস্তাম্বুল এবং মিসরাতার মধ্যে সপ্তাহে একবার একটি ফেরি চলাচল করে। এই ফেরি যাত্রা তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
* '''স্থানীয় ফেরি যাত্রা:''' যদিও আন্তর্জাতিক ফেরি সার্ভিস সীমিত, তবে ইস্তাম্বুলের মধ্যে এবং আশেপাশের অঞ্চলে স্থানীয় ফেরি সার্ভিস খুবই জনপ্রিয়। বসফোরাস এবং মারমারা সাগরের উপর চলাচলকারী এই ফেরিগুলি শহরের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে এবং পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় আকর্ষণ। ফেরি থেকে বসফোরাসের দৃশ্য উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
* '''ক্রুজ শিপ:''' বহু ক্রুজ শিপ ইস্তাম্বুলের কারাকয়/গালাটাপোর্টে এসে থাকে। এই পোর্টটি ঐতিহাসিক কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত। ক্রুজ শিপগুলি সাধারণত ক্রুজের পথে ইস্তাম্বুলে আসে এবং যাত্রীরা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য শহরে ঘুরে বেড়াতে পারে। যদি আপনি ক্রুজ শিপে করে ইস্তাম্বুলে আসতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই আগে থেকেই ক্রুজ কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
=== গাড়িতে ===
ইস্তাম্বুল, দুই মহাদেশের সংযোগস্থল হিসেবে, সবসময়ই যানবাহনের চাপে ভরা ছিল। এই শহরে গাড়ি চালানো অনেকের কাছেই একটি চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা হতে পারে। ইউরোপীয় এবং এশিয়ান হাইওয়েগুলি শহরের মধ্য দিয়ে গেলেও ট্রাফিক জ্যাম এবং রাস্তার অবস্থা অনেক সময়ই চালকদের হতাশ করে।
ইস্তাম্বুলে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ট্রাফিক জ্যাম। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে গাড়ির সংখ্যাও বেড়েছে, ফলে রাস্তাগুলো সবসময়ই ভিড়ে থাকে। বিশেষ করে সকাল ও বিকালে শহরের কেন্দ্রের দিকে যাওয়া আসার সময় ট্রাফিক জ্যাম আরও বেড়ে যায়। এছাড়া, রাস্তার সাইনবোর্ডের অভাব এবং অনেক চালকের অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
ইস্তাম্বুলে গাড়ি চালানোর আরেকটি সমস্যা হল পার্কিং। শহরে পার্কিংয়ের জায়গা খুবই সীমিত এবং যেসব জায়গায় পার্কিং করা যায়, সেখানে ভাড়াও বেশি। অনেক সময় রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করা দেখা যায়, যা আইনসঙ্গত নয়।
'''ইস্তাম্বুলে গাড়ি চালানোর কিছু টিপস'''
* '''পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন:''' যদি আপনি ইস্তাম্বুলে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকে, তাহলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা ভালো। ইস্তাম্বুলে বাস, ট্রাম, মেট্রো এবং ফেরি সহ বিভিন্ন ধরনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সুবিধা রয়েছে।
* '''জিপিএস ব্যবহার করুন:''' ইস্তাম্বুলে গাড়ি চালানোর জন্য জিপিএস খুবই উপকারী। এটি আপনাকে নির্ধারিত গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।
* '''সতর্ক থাকুন:''' ইস্তাম্বুলে গাড়ি চালানোর সময় সবসময় সতর্ক থাকুন। অন্য গাড়ি, মোটরসাইকেল, পায়ে হাঁটা মানুষ এবং প্রাণীর প্রতি সতর্ক থাকুন।
* '''পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আগে থেকে করে নিন:''' যদি আপনাকে গাড়ি পার্ক করতে হয়, তাহলে আগে থেকেই পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে নিন।
* '''স্থানীয়দের সাহায্য নিন:''' যদি আপনি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে পারেন।
'''ইস্তাম্বুলে গাড়ি চালানোর আরও কিছু বিষয়'''
* '''হাইওয়ে এবং সেতু:''' ইস্তাম্বুলে ইউরোপীয় হাইওয়ে ই৮০ এবং ই৯০ এর অংশ রয়েছে। এছাড়া, বসফোরাসের উপর তিনটি সেতু এবং একটি রাস্তা টানেল রয়েছে। এই সেতু এবং টানেলগুলো দিয়ে যাওয়ার জন্য টোল দিতে হয়।
* '''HGS সিস্টেম:''' ইস্তাম্বুলে টোল দেওয়ার জন্য HGS নামক একটি ইলেকট্রনিক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এই সিস্টেমটি আপনি ডাকঘর থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
* '''রাস্তার সাইন:''' ইস্তাম্বুলে রাস্তার সাইনবোর্ডের অভাব অনেক সময় চালকদের বিভ্রান্ত করে।
* '''পাবলিক ট্রান্সপোর্ট:''' ইস্তাম্বুলে বাস, ট্রাম, মেট্রো এবং ফেরি সহ বিভিন্ন ধরনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সুবিধা রয়েছে।
=== সাইকেলে ===
[https://www.sultanstrail.net/en/ সুলতানের ট্রেইল] (২,৫০০ কিমি) এবং [https://sufitrail.com/ সুফি ট্রেইল] (৮০০ কিমি) সাইকেল চালানো এবং হাঁটার ট্রেইল, যা শহরে পশ্চিম এবং পূর্ব থেকে প্রবেশ করে, যথাক্রমে [[ভিয়েনা]] এবং [[কনিয়া]] থেকে। প্রথমটি সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট-এর হাবসবার্গ রাজধানীর দিকে প্রচারণার পথ অনুসরণ করে, আর দ্বিতীয়টি ওসমানীয় [[হজ]] যাত্রার পথ অনুসরণ করে।
অন্যথায়, আপনাকে ডি-১০০ থেকে যে কোনো দিক দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে হবে অথবা উত্তরের অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত রুট ডি-০২০ দিয়ে পশ্চিম থেকে আসতে হবে। যখন শহরতলির উন্নয়ন শুরু হয়, তখন মারমারা উপকূলের বাইক পথগুলোতে চলে যেতে পারেন, কারণ শহরের দিকে যাওয়া অন্যান্য প্রধান রুটগুলো মোটরওয়ে হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ, এবং সেখানে বাইক নিষিদ্ধ।
=== থামিয়ে নেওয়া ===
ইস্তাম্বুলের বিশালতা এবং জটিল পরিবহন ব্যবস্থার কারণে, শহরের মধ্যে এবং বাইরে যাতায়াত করা কখনো কখনো চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবে, সঠিক তথ্য এবং পরিকল্পনার সাহায্যে আপনি সহজেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
'''ইস্তাম্বুল থেকে পশ্চিম দিকে যাত্রা:'''
যদি আপনি ইস্তাম্বুল থেকে পশ্চিম দিকে ইউরোপের দিকে যাত্রা করতে চান, তাহলে আপনাকে প্রথমে ই-৮০ মহাসড়কে পৌঁছাতে হবে। ইয়েনিবোস্না মেট্রো স্টেশন থেকে ৪৪৮ নম্বর বাসে করে আপনি এই মহাসড়কের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। এই বাসটি আতাতুর্ক বিমানবন্দরের দিকে যায় এবং মিমারসিনান এলাকায় ই-৮০ মহাসড়কের কাছে থামে। এই স্থান থেকে আপনি হাইকিং বা অন্য কোনো যানবাহনের মাধ্যমে আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
'''ইস্তাম্বুল থেকে পূর্ব দিকে যাত্রা:'''
ইস্তাম্বুল থেকে পূর্ব দিকে এশিয়ার দিকে যাত্রা করতে হলেও আপনাকে প্রথমে ই-৮০ মহাসড়কে পৌঁছাতে হবে। পেন্ডিক এলাকা এই ক্ষেত্রে একটি ভালো শুরুর বিন্দু হতে পারে। পেন্ডিকে হাই স্পিড ট্রেন স্টেশন রয়েছে, যেখানে আপনি মেট্রো করে পৌঁছাতে পারবেন। পেন্ডিক থেকে ডি-১০০ মহাসড়কের মাধ্যমে ই-৮০ মহাসড়কে পৌঁছানো যায়। এই স্থান থেকে আপনি স্থানীয় বাস বা অন্য কোনো যানবাহনের মাধ্যমে আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
== ঘুরে বেড়ানো ==
[[চিত্র:Istanbul_Rapid_Transit_Map_with_Metrobüs_(schematic).png|থাম্ব|ইস্তাম্বুলের দ্রুত পরিবহন মানচিত্র (শহরের রেল এবং ''মেট্রোবুস'' সিস্টেম)]]
ইস্তাম্বুলের বিশাল এবং জটিল পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা নতুন আগতদের জন্য কিছুটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন, লাইন এবং টিকিটিং সিস্টেমের কারণে প্রথমবারের জন্য এই ব্যবস্থাটি বোঝা কঠিন হতে পারে। তবে, একবার আপনি এই ব্যবস্থার মূল ধারণাগুলো বুঝে ফেললে, ইস্তাম্বুলে ঘুরে বেড়ানো অনেক সহজ হয়ে যাবে।
ইস্তাম্বুলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াতের জন্য আপনাকে টিকিট বা পাস কিনতে হবে। ইস্তাম্বুলকার্ট নামে একটি স্মার্ট কার্ড রয়েছে যা আপনি একাধিক যাত্রার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে, যদি আপনি কম সময়ের জন্য ইস্তাম্বুলে থাকেন, তাহলে আপনি একক ব্যবহারের টিকিট কিনতে পারেন। এই টিকিটগুলি বিভিন্ন ভেন্ডিং মেশিন এবং অনুমোদিত বিক্রেতাদের কাছ থেকে কেনা যায়।
* '''ইস্তাম্বুলকার্ট:''' যদি আপনি ইস্তাম্বুলে দীর্ঘ সময় থাকেন, তাহলে ইস্তাম্বুলকার্ট কিনে নিন। এই কার্ডটি আপনাকে টিকিট কেনার সময় বাঁচাবে এবং আপনি সহজেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন।
* '''মোবাইল অ্যাপ:''' ইস্তাম্বুলের পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। এই অ্যাপগুলি ব্যবহার করে আপনি সহজেই আপনার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য রুট খুঁজে পেতে পারবেন।
* '''নগদ টাকা রাখুন:''' ইস্তাম্বুলের অনেক টিকিট বিক্রেতা কেবল নগদ টাকা গ্রহণ করে। তাই আপনার সাথে কিছু নগদ টাকা রাখা ভালো।
* '''ভাষার সমস্যা:''' যদি আপনি তুর্কি না জানেন, তাহলে আপনার সাথে একটি ভাষা অনুবাদক অ্যাপ বা একটি ছোট নোটবুক রাখুন। এটি আপনাকে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করবে।
* '''সতর্ক থাকুন:''' ইস্তাম্বুলে জনসমাগমের সময় পকেটমারারা সক্রিয় থাকে। তাই আপনার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের প্রতি সতর্ক থাকুন।
== ইস্তাম্বুল থেকে বিমানবন্দর যাতায়াত ==
ইস্তাম্বুলে পৌঁছে আপনি যখন বিমানবন্দর থেকে শহরে যাবেন, তখন আপনার কাছে বিভিন্ন পরিবহন বিকল্প থাকবে। আপনার বাজেট, সময় এবং সুবিধার উপর নির্ভর করে আপনি সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্পটি বেছে নিতে পারেন। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে শহরের বিভিন্ন অংশে বাস চলাচল করে। এই বাসগুলি সাধারণত সস্তা এবং আরামদায়ক হয়ে থাকে। আপনি যদি বাজেটে ভ্রমণ করছেন এবং একা বা ছোট গ্রুপে ভ্রমণ করছেন তাহলে বাস হতে পারে আপনার জন্য সেরা বিকল্প। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই আপনি বাস স্টপ খুঁজে পাবেন। বিভিন্ন রুটের বাস পাওয়া যায়, তাই আপনার গন্তব্যের উপর নির্ভর করে আপনি সঠিক বাসটি বেছে নিতে পারেন। যদি আপনার সময়ের অভাব হয় এবং আরামদায়ক ভ্রমণ করতে চান তাহলে আপনি বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি নিতে পারেন। ট্যাক্সি আপনাকে সরাসরি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। তবে, ট্যাক্সি নেওয়া বাসে যাতায়াতের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হবে। বিমানবন্দরের বাইরে আপনি সহজেই ট্যাক্সি পাবেন। তবে, যাত্রার আগে মিটার চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন এবং আপনার গন্তব্যের নাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন।
=== 'ইস্তাম্বুলকার্ড' ===
ইস্তাম্বুলের গণপরিবহনের স্মার্ট কার্ড হলো ইস্তাম্বুলকার্ড, যা বাস, ট্রাম, শহরতলির ট্রেন, মেট্রো, এবং স্থানীয় ফেরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে টিকিট হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি এক দিনের বেশি সময় ইস্তাম্বুলে থাকেন এবং গণপরিবহন ব্যবহার করতে চান, তবে এই কার্ডটি কয়েকবার যাতায়াতের পরেই খরচ পুষিয়ে দেবে। ইস্তাম্বুলকার্ডের বর্তমান মূল্য (আগস্ট ২০২৪) ১৩০ তুর্কি লিরা, যা কেবল কার্ডের মূল্য, এর সাথে কোনো ক্রেডিট থাকে না। এই কার্ডটি শহরের ছোট ছোট দোকান থেকে কেনা যায় এবং বেশিরভাগ স্টেশনের মেশিন থেকেও কিনতে ও রিচার্জ করতে পারেন, যেখানে নোট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অর্থ প্রদান করা যায়।
ফিজিক্যাল কার্ডের বিকল্প হিসেবে আছে মোবাইল ইস্তাম্বুলকার্ড, যা মোবাইল অ্যাপ হিসেবে ফোনে ব্যবহার করা যায়। তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এটি ব্যবহার করতে হলে তুর্কি মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন, তাই আপনার যদি স্থানীয় নম্বর না থাকে, তবে এই সুবিধাটি আপনি গ্রহণ করতে পারবেন না।
ইস্তাম্বুলকার্ডটি ব্যবহারের জন্য যাত্রার শুরুতে বাসে ওঠার সময় বা ট্রাম বা মেট্রো প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় এটি রিডারে ছোঁয়াতে হয়। একটি বড় সুবিধা হলো, একটি কার্ড কিনে একটি গ্রুপের জন্য এটি একাধিকবার ব্যবহার করা যায়; অর্থাৎ লন্ডনের ‘অয়েস্টার’ কার্ডের মতো যাত্রা শেষে এটি আবার রিডারে ছোঁয়ানোর প্রয়োজন হয় না, শুধু মাত্র ব্রিট মেট্রোবাস লাইনের জন্য এটি প্রযোজ্য। ইস্তাম্বুলকার্ডে গণপরিবহনের ভাড়া অনেকটাই কমে যায়; পৃথক যাত্রায় অর্ধেকেরও বেশি এবং ট্রান্সফার বা সংযুক্ত যাত্রায় আরও কম খরচ হয়। একই সময়ের মধ্যে একাধিকবার ব্যবহার করলে (সাধারণত শেষ ব্যবহারের প্রায় ১.৫ ঘণ্টা পর্যন্ত) ভাড়ায় ছাড় পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ইস্তাম্বুলকার্ডে একবার যাতায়াতের খরচ প্রায় ৯.৯ তুর্কি লিরা, যেখানে একক টিকিটের মূল্য ১৫.৪০ তুর্কি লিরা। এমনকি বিমানবন্দর ভ্রমণও এই কার্ডের খরচের অধিকাংশ পুষিয়ে দেয়।
কিছু সংযোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাড়া প্রায় ২০ তুর্কি লিরা পর্যন্ত হতে পারে, কারণ তাদের বিস্তৃত রেঞ্জ রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, মারমারায় ট্রেন এবং কিছু বাসও। তবে স্টেশনের নির্গমন পয়েন্টে ফেরত মেশিন থাকে, যা দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর। আপনি যদি কম দূরত্বে ভ্রমণ করেন, তাহলে কার্ডটি সেই মেশিনে ট্যাপ করলে কিছু অর্থ ফেরত পাওয়া যায়। যেকোনো সময় যদি আপনার মনে হয় অতিরিক্ত ভাড়া কেটে নেওয়া হয়েছে, তাহলে বের হওয়ার সময় নিশ্চিত হয়ে ট্যাপ করুন, আপনি দ্বিতীয়বার ভাড়া গুণবেন না। তবে ২০২৩ সাল থেকে ইস্তাম্বুলকার্ডে ট্রান্সফার বা মারমারায় রিফান্ড সুবিধা পেতে হলে এটি "ব্যক্তিগতকৃত" থাকতে হবে, অর্থাৎ এটি একটি তুর্কি জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে। এর অর্থ, সাধারণ পর্যটকরা এই রিফান্ড এবং ডিসকাউন্ট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
ইস্তাম্বুলকার্ড তুলনামূলকভাবে নতুন একটি সেবা, যা পূর্বের আকবিল ধাতব টোকেনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যা বর্তমানে ব্যবহার করা হয় না। যদিও কিছু কিয়স্কে এখনো আকবিলের চিহ্ন বিদ্যমান আছে এবং তা দেখলে বিভ্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কেননা সাধারণত সেখান থেকেই ইস্তাম্বুলকার্ড কেনা এবং রিচার্জ করা সম্ভব। এ ছাড়াও আরও একটি বিশেষ ধরনের কার্ড আছে, যাকে বলা হয় "মাভি কার্ট" বা নীল কার্ড। এটি যেসব যাত্রীরা নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহার করেন তাদের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই কার্ডে শুধুমাত্র একজন ব্যবহারকারীর ছবি ও নাম প্রিন্ট থাকে এবং এটি ১৮০টি যাতায়াতের সুযোগ দেয় যা বাস/ট্রাম/মেট্রোতে ব্যবহৃত হতে পারে, তবে এটি ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। প্রথমবার এই কার্ড নিতে খরচ প্রায় ২০০ তুর্কি লিরা এবং প্রিন্টিং খরচ ১০ লিরা।
ইস্তাম্বুলকার্ডের ব্যবহার বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় এবং অধিকাংশ গণপরিবহনে এটিই মূল পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আকবিলের দিনগুলি অতীত হয়ে গেলেও কিছু যাত্রীদের মধ্যে এটি নিয়ে কিছুটা নস্টালজিয়া বিদ্যমান। তবে যাত্রার সময় এবং খরচ বাঁচাতে ইস্তাম্বুলকার্ডের সুবিধাগুলি নিশ্চিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা, সবাই এই কার্ড ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে, যা শহরের চলাচল ব্যবস্থাকে আরও সহজ এবং সাশ্রয়ী করে তুলেছে।{{infobox|প্রতিবন্ধী ভ্রমণকারীরা|শহরের পথচারী এলাকায় ক্রমাগত নির্মাণকাজ এবং পরিবর্তন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য রাস্তাগুলোতে চলাচল কঠিন করে তুলেছে, তবে শহরের পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা তাদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কেন্দ্রীয় এলাকার প্রধান সড়কগুলির পাশের ফুটপাথগুলিতে ট্যাকটাইল পেভিং ইনস্টল করা হয়েছে। অনেক পথচারী ট্রাফিক লাইটে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হয় (যদিও কেবল তুর্কি ভাষায়)।
'''বাস''': পুরানো বাসগুলো নতুন বাসগুলোর সাথে প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে, যা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্য। অনেক বাসের নিম্ন মেঝে এবং একটি বিল্ট-ইন র্যাম্প রয়েছে (ড্রাইভারের সাথে পরামর্শ করুন যাতে বাসটি আরও নিচে ঝুঁকে এবং র্যাম্প খোলে)। তবে, পিক আওয়ারে এটি সম্ভব নাও হতে পারে।
'''ট্রাম''': ট্রামগুলির স্টেশন প্ল্যাটফর্ম থেকে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্যতা রয়েছে, যা রাস্তা বা ফুটপাথের স্তর থেকে সরাসরি মৃদু র্যাম্প দিয়ে সংযুক্ত।
'''মেট্রো''': ইস্তাম্বুলের প্রায় সব মেট্রো স্টেশনে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে রাস্তার স্তর পর্যন্ত লিফট উপলব্ধ রয়েছে। সিস্টেমের ভিতরে, ট্রেনগুলো প্ল্যাটফর্ম থেকে সহজেই প্রবেশযোগ্য। সাহায্যের জন্য, স্টেশনের প্রবেশপথের কাছে ধূসর/কালো ইউনিফর্ম পরিহিত নিরাপত্তা কর্মীদের খুঁজুন।}}
=== ট্রেনে ===
ইস্তাম্বুলের মারমারা রেল ব্যবস্থা শহরের ইউরোপীয় এবং এশিয়ান অংশকে একটি সেতুবন্ধনে জড়িয়ে রেখেছে। ২০১৯ সাল থেকে চালু হওয়া এই ট্রেন ব্যবস্থাটি ইস্তাম্বুলবাসীদের জন্য দ্রুত এবং আরামদায়ক যাতায়াতের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
'''মারমারা রেলের রুট:''' মারমারা রেলের রুটটি পশ্চিমে হালকালী মূল রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বোসফোরাস প্রণালী পার হয়ে পূর্বে গেবজে পর্যন্ত বিস্তৃত। এই রুটে বাকিরকয়, জেইটিনবুর্নু, সিরকেজি, উস্কুদার, বোস্তাঞ্জি, কার্টাল এবং আরও অনেক ছোট শহরতলির স্টেশন রয়েছে। পেনডিক এবং গেবজে হাই স্পিড ট্রেনলাইনের সাথেও সংযুক্ত।
'''যাত্রার সময় এবং ভাড়া:''' ট্রেনগুলি প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ০৬:০০ থেকে ২৩:০০ পর্যন্ত চলাচল করে। শহরের কেন্দ্র থেকে লাইনের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে। ভাড়া ৯.৯ থেকে ২১ তুর্কি লিরার মধ্যে পরিবর্তিত হয়।
'''মেট্রোর সাথে সংযোগ:''' মারমারা রেলের কেন্দ্রীয় অংশগুলি মেট্রো ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত, যা যাত্রীদের জন্য শহরের বিভিন্ন অংশে যাতায়াত করা আরও সহজ করে তোলে।
'''ইউ৩/টি৬ সম্প্রসারণ: ইউ৩/টি৬''' হল মারমারা রেলের একটি সম্প্রসারণ যা পুরানো শহরের মারমারা উপকূল বরাবর কাজলিচেশমে (মারমারা প্রধান লাইনে স্থানান্তরের জন্য, বি১) এবং সিরকেজির মধ্যে চলে। এই সম্প্রসারণের ফলে শহরের আরও বেশি অংশ মারমারা রেল ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত হয়েছে।
=== মেট্রো ===
ইস্তাম্বুলের মেট্রো ব্যবস্থা শহরের বিভিন্ন অংশে যাতায়াতের একটি দ্রুত এবং সহজ উপায়। শহরে বেশ কয়েকটি মেট্রো লাইন রয়েছে, যা আপনাকে ইস্তাম্বুলের প্রধান পর্যটন স্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দেবে।
'''কোন লাইনটি ব্যবহার করবেন?'''
* '''লাইন এম১এ এবং এম১বি:''' এই দুটি লাইন একসাথে কাজ করে এবং শহরের কেন্দ্রকে অটোগার এবং কিরাজলিকের মতো শহরতলির এলাকার সাথে সংযুক্ত করে। এই লাইনগুলি যদি আপনি শহরের কেন্দ্রে থাকেন এবং অন্যান্য এলাকা ঘুরতে যাচ্ছেন তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে।
* '''লাইন এম২:''' এই লাইনটি ইয়েনিকাপি থেকে শুরু হয়ে শিসহানে এবং তাকসিম স্কয়ার পর্যন্ত চলে। যদি আপনি তাকসিম স্কয়ার বা ব্যবসায়িক জেলা ঘুরতে যাচ্ছেন তাহলে এই লাইনটি ব্যবহার করতে পারেন।
* '''লাইন এম৩:''' এই লাইনটি বাকিরকয় থেকে শুরু হয়ে মারমারা রেলের সাথে সংযুক্ত। যদি আপনি ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরতে যাচ্ছেন তাহলে এই লাইনটি ব্যবহার করতে পারেন।
* '''লাইন এম৪:''' এই লাইনটি ইস্তাম্বুলের এশিয়ান অংশের কাদিকয় থেকে শুরু হয়ে সাবিহা গোকচেন বিমানবন্দর পর্যন্ত চলে। যদি আপনি এশিয়ান অংশে থাকেন বা বিমানবন্দরে যাচ্ছেন তাহলে এই লাইনটি ব্যবহার করতে পারেন।
* '''লাইন এম৫:''' এই লাইনটি উস্কুদার থেকে শুরু হয়ে সামান্দিরা পর্যন্ত চলে। যদি আপনি উস্কুদার বা সামান্দিরা ঘুরতে যাচ্ছেন তাহলে এই লাইনটি ব্যবহার করতে পারেন।
* '''লাইন এম৬ (মিনি মেট্রো):''' এই লাইনটি লেভেন্ট থেকে শুরু হয়ে বোসফোরাসের নিচে আসিয়ানে সংযুক্ত হয়। যদি আপনি বোসফোরাসের দৃশ্য দেখতে চান বা বোগাজিচি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরতে যাচ্ছেন তাহলে এই লাইনটি ব্যবহার করতে পারেন।
* '''লাইন এম৭:''' এই লাইনটি গনীবাসী এলাকাগুলিকে মেসিডিয়েকয় এবং ইয়াল্ডিজের সাথে সংযুক্ত করে। যদি আপনি এই এলাকাগুলোতে যাচ্ছেন তাহলে এই লাইনটি ব্যবহার করতে পারেন।
* '''লাইন এম৮:''' এই লাইনটি ইস্তাম্বুলের এশিয়ান অংশের বিভিন্ন এলাকাকে সংযুক্ত করে।
* '''লাইন এম৯:''' এই লাইনটি এম৩ লাইনের একটি সম্প্রসারণ।
* '''লাইন এম১১:''' এই লাইনটি গায়রেতেপকে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের সাথে সংযুক্ত করে।
ইস্তাম্বুলের মেট্রো ব্যবস্থা শহরের পরিবহন নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও এটি ইউরোপের অন্যান্য শহরের মতো বিস্তৃত নয়, তবুও এটি দ্রুত, পরিষ্কার এবং আধুনিক। তবে, এই ব্যবস্থাটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।
'''স্টেশন এবং দূরত্ব:''' শহরের অনেক অংশে এখনও মেট্রো পৌঁছায়নি এবং স্টেশনগুলির মধ্যে দূরত্ব অন্যান্য ইউরোপীয় শহরের তুলনায় বেশি। অনেক স্টেশন গভীর ভূগর্ভস্থ অবস্থিত এবং কিছু ব্যস্ত রাস্তার নিচে। ফলে, স্টেশন থেকে বের হতে এবং আবার প্রবেশ করতে আপনাকে অনেক হাঁটতে হতে পারে।
'''টিকিট এবং ফি:''' মেট্রো ব্যবহার করার জন্য আপনাকে ইস্তাম্বুলকার্ড বা একক ব্যবহারের টিকিট কিনতে হবে। স্টেশনগুলিতে টিকিট বুথ নেই, তাই আপনাকে টিকিট মেশিন থেকে টিকিট কিনতে হবে। যদি আপনি একটি লাইন থেকে অন্য একটি লাইনে স্থানান্তর করেন, তাহলে আপনাকে আবার একটি নতুন টিকিট কিনতে হবে।
'''ফানিকুলার:''' ইস্তাম্বুলে দুটি ফানিকুলার সিস্টেম রয়েছে। একটি কারাকয়কে ইস্তিকলাল ক্যাডেসির সাথে সংযুক্ত করে এবং অন্যটি তাকসিমকে কাবাতাসের সাথে সংযুক্ত করে। ফানিকুলার ব্যবহার করার জন্য আপনাকে একটি ইস্তাম্বুলকার্ড বা একক ব্যবহারের টিকিট কিনতে হবে।
'''নতুন লাইন এবং সম্প্রসারণ:''' ইস্তাম্বুলের মেট্রো ব্যবস্থা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন লাইন এবং স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে, সমস্ত সম্প্রসারণ কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
'''পুরানো টিকিট:''' পুরানো প্লাস্টিকের টোকেনগুলি আর বৈধ নয়। আপনাকে ইস্তাম্বুলকার্ড বা সীমিত-পাস কার্ড ব্যবহার করতে হবে।
'''ইস্তাম্বুলকার্ড:''' ইস্তাম্বুলকার্ড ব্যবহার করলে আপনি একাধিক যাত্রায় ছাড় পাবেন। তবে, ২০২৩ সাল থেকে, কেবল "ব্যক্তিগতকৃত" ইস্তাম্বুলকার্ডে কোনও ফেরত বা ছাড় দেওয়া হবে।
=== ট্রামের মাধ্যমে ===
[[চিত্র:Istanbul_modern_tramway_(2831766741).jpg|থাম্ব|ইস্তাম্বুলের আধুনিক ট্রামকার]]
ইস্তাম্বুল শহরে ঘুরতে যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ উপায় হল টি১ ট্রামলাইন। এই ট্রামলাইনটি কাবাতাস থেকে বাশকেন্ট পর্যন্ত চলে এবং শহরের অনেক ঐতিহাসিক ও পর্যটন স্পটকে সংযুক্ত করে।
'''কেন টি১ ট্রামলাইন?'''
টি১ ট্রামলাইন শহরের পুরনো অংশের মধ্য দিয়ে যায়, যেখানে ইতিহাসের ছোঁয়া পাওয়া যায়। এই ট্রামে চড়ে আপনি ইস্তাম্বুলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো দেখতে পাবেন। এছাড়া, এই ট্রামলাইনটি বিভিন্ন ফেরি ঘাটের সাথে সংযুক্ত, যার ফলে আপনি ইস্তাম্বুলের এশিয়ান দিকেও যেতে পারবেন।
'''কোন কোন স্থানে টি১ ট্রামলাইন থামে?'''
টি১ ট্রামলাইন শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থামে। এর মধ্যে রয়েছে:
* '''কাবাতাস:''' এই স্টেশন থেকে আপনি ফানিকুলারে চড়ে তাকসিম স্কয়ারে যেতে পারবেন।
* '''কারাকয়:''' এই স্টেশন থেকে আপনি পুরনো ফানিকুলারে চড়ে ইস্তিকলাল অ্যাভিনিউ এবং এশিয়ান দিকে যেতে পারবেন।
* '''এমিননু:''' এই স্টেশন থেকে আপনি এশিয়ান দিকে ফেরিতে চড়তে পারবেন।
* '''লালে-ইউনিভার্সিটি:''' এই স্টেশন থেকে আপনি মেট্রোতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
* '''আকসারায়:''' এই স্টেশন থেকে আপনি মারমারায় চড়ে ইউরোপীয় এবং এশিয়ান অংশের মধ্যে যেতে পারবেন।
* '''ইউসুফপাশা:''' এই স্টেশন থেকে আপনি এম১ মেট্রোতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
* '''টপকাপি:''' এই স্টেশন থেকে আপনি টি৪ লাইট রেলে যোগ দিতে পারেন।
* '''সেভিজলিবাগ:''' এই স্টেশন থেকে আপনি বিআরটি মেট্রোবাসে যোগ দিতে পারেন।
* '''জেইতিনবার্নু:''' এই স্টেশন থেকে আপনি এম১ মেট্রো এবং বিআরটিতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
* '''বাগসিলার:''' এই স্টেশন থেকে আপনি এম১ এবং এম৩ মেট্রোতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
'''রাশআওয়ারে ট্রাম:''' ইস্তাম্বুলের ট্রামগুলি সকাল এবং বিকেলের রাশআওয়ারে খুবই ব্যস্ত থাকে। এই সময় এমিননু এবং সুলতানাহমেতের মতো কেন্দ্রীয় এলাকায় ট্রামে চাপাচাপি থাকে। এই সময় ট্রামে চড়ার চেয়ে হাঁটা বা অন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করা ভাল হতে পারে। কারণ ভিড়ের কারণে ট্রামে উঠতে অনেক সময় লাগতে পারে।
'''বিভিন্ন ট্রাম লাইন:''' ইস্তাম্বুলে বিভিন্ন ট্রাম লাইন রয়েছে, যেমন:
* '''টি১ লাইন:''' এই লাইনটি ইস্তাম্বুলের সবচেয়ে ব্যস্ততম ট্রাম লাইন। এটি এমিননু থেকে সেভিজলিবাগ পর্যন্ত চলে।
* '''টি৫ লাইন:''' এই লাইনটি এমিননু থেকে শুরু হয়ে সোনালী হর্নের বরাবর আইউপ এবং আলিবেকয় পর্যন্ত চলে।
* '''টি৪ লাইন:''' এই লাইনটি টপকাপি থেকে শহরের উত্তর-পশ্চিমে চলে।
* '''টি২ লাইন:''' এই লাইনটি ইস্তিকলাল অ্যাভিনিউয়ের বরাবর চলে এবং ১৯২০ এর দশকের ঐতিহাসিক ট্রাম ব্যবহার করা হয়। এই লাইনটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
* '''টি৩ লাইন:''' এই লাইনটি মডা এবং কাদিকয়ের মধ্যে চলে এবং ১৯৬০ এর দশকের ট্রাম ব্যবহার করা হয়। এই লাইনটিও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।
ইস্তাম্বুলের ট্রামে যাতায়াতের জন্য ইস্তাম্বুলকার্ড ব্যবহার করা হয়। এই কার্ডটি রিচার্জযোগ্য এবং একাধিক যাত্রার জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে প্রতিবার লাইন পরিবর্তন করার সময় আলাদা ভাড়া দিতে হয়।
'''মেট্রো ইস্তাম্বুল:''' ইস্তাম্বুলের ট্রাম লাইনগুলি মেট্রো ইস্তাম্বুলের দ্বারা পরিচালিত হয়।
=== নৌকা দিয়ে ===
[[চিত্র:Istanbul_(7266766986).jpg|থাম্ব|300x300পিক্সেল|ইস্তাম্বুল লাইনার এমিনোনু থেকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত]]
ইস্তাম্বুল শহরকে দুই ভাগে ভাগ করে বোসফোরাস নদী। এই নদীর উপর দিয়ে চলাচলকারী ফেরিগুলি শহরের একটি অন্যতম আকর্ষণ এবং যাতায়াতের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।
'''ফেরির ধরন:''' ইস্তাম্বুলে বিভিন্ন ধরনের ফেরি চলাচল করে। এর মধ্যে অনন্য ইস্তাম্বুল লাইনার, সী-বাস এবং মাঝারি আকারের বেসরকারি ফেরি উল্লেখযোগ্য। এই ফেরিগুলিতে করে আপনি ইউরোপীয় এবং এশিয়ান দিকের মধ্যে সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন।
'''যাত্রার সময় ও খরচ:''' সাধারণত, একটি ফেরিতে করে একটি তীরে থেকে অন্য তীরে যাওয়ার জন্য প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। ইস্তাম্বুলকার্ড ব্যবহার করে আপনি এই যাত্রায় ৭.৬৭ তুর্কি লিরা খরচ করবেন। ফেরি থেকে বোসফোরাসের দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা অনন্য।
'''ফেরির যাত্রার সময় সতর্কতা:''' ফেরি যখন ঘাটে আসে তখন কখনো কখনো কিছুটা জোরে ধাক্কা খায়। তাই ফেরি সম্পূর্ণ থামার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে না থাকাই ভালো।
'''ঘাট এবং রুট:''' ইস্তাম্বুলে বিভিন্ন ঘাট থেকে ফেরি চলে। প্রতিটি ঘাট থেকে নির্দিষ্ট কিছু গন্তব্যে ফেরি যায়। উদাহরণস্বরূপ, এমিনোনু ঘাট থেকে অনেকগুলি গন্তব্যে ফেরি চলে। আপনাকে যেখানে যেতে হবে সেই গন্তব্যের নামের সাইনবোর্ড দেখে ফেরিটি বেছে নিতে হবে। ধরুন, আপনি উস্কুদারে যেতে চান, তাহলে আপনাকে "উস্কুদার ইস্কেলেসি" লেখা সাইনবোর্ড খুঁজে নিতে হবে।
[http://ido.com.tr ইস্তাম্বুলের লাইনার] নিচের রুটগুলোতে চলে:
* কারাকয়–হায়দারপাশা–কাদিকয়
* কাদিকয়–এমিনোনু
* উস্কুদার–এমিনোনু
* উস্কুদার–কারাকয়–এমিনোনু–এযুপসুলতান (গোল্ডেন হর্ন রুট)
* কাদিকয়–বেশিকতাস
* কাবাতাস–উস্কুদার–হারেম
* ইস্তিনিয়ে–এমিরগান–কানলিকা–আনাদোলু হিসারি–কান্দিলি–বেবেক–আর্নাভুতকয়–চেঙ্গেলকয় (পুরো বোসফোরাস রুট)
* আনাদোলু কভাগি–রুমেলি কভাগি–সরিয়ার
* এমিনোনু–কাভাকলার (বিশেষ বোসফোরাস ট্যুর, পর্যটকদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে)
* সিরকেজি–আদালার–ইয়ালোভা–চিনারজিক (প্রিন্সেস দ্বীপের রুট)
[[চিত্র:Larus_in_Turkey.jpg|থাম্ব|ইস্তাম্বুলের গালু [[Istanbul/Princes' Islands|প্রিন্সেস দ্বীপগুলিতে]]। তারা স্থানীয় ফেরিগুলির পাশাপাশি দলে দলে উড়তে দেখা যায়, যাত্রীদের কাছ থেকে ''সিমিত'' জাতীয় খাবার গ্রহণ করে।]]
অন্যদিকে, '''সী-বাস''' (''ডেনিজ ওটোবুস'') একই (বা আরো) রুট অনুসরণ করে, সাধারণত লাইনারের তুলনায় অনেক দ্রুত চলে। কাদিকয় থেকে ইয়েনিকাপিতে ফেরত আসা '''সী-বাস''' বোসফোরাস পার হওয়ার জন্য একটি দ্রুত এবং সুবিধাজনক উপায়; ইয়েনিকাপিতে আপনি অনেক শহুরে রেল রুটে পরিবর্তন করতে পারেন।
এশিয়া ও ইউরোপের দিকগুলির মধ্যে ভ্রমণের জন্য চারটি প্রধান '''বেসরকারি ফেরি''' রুট রয়েছে:
* বেশিকতাস–উস্কুদার
* কাবাতাস–উস্কুদার ''(কাবাতাসে ট্রাম এবং ফানিকুলার সিস্টেমের নিকটে)''
* এমিনোনু–উস্কুদার ''(এমিনোনুতে ট্রামের নিকটে)''
* এমিনোনু–কাদিকয় ''(এমিনোনুতে ট্রামের নিকটে)''
ইস্তাম্বুল শুধুমাত্র তার ভূমিপথের জন্যই পরিচিত নয়, তার জলপথও সমানভাবে আকর্ষণীয়। বোসফোরাস প্রণালী, যা ইউরোপ এবং এশিয়াকে সংযুক্ত করে, শহরের একটি অন্যতম আকর্ষণ। এই প্রণালীতে নৌকা ভ্রমণ করে আপনি ইস্তাম্বুলের অনন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
* '''বোসফোরাস নৌকা ভ্রমণ:''' এযুপসুলতান থেকে শুরু করে উস্কুদার পর্যন্ত বোসফোরাস প্রণালীতে নৌকা ভ্রমণ করা যায়। এই রুটে বালাত, ফেনের, সিবালি এবং কারাকয়ের মতো উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থানগুলির মধ্য দিয়ে যাওয়া যায়। নৌকা ভ্রমণে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে এবং এই সময়ে আপনি বোসফোরাসের দুই পাশের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। নৌকাগুলি প্রতি ঘন্টায় একবার স্টেশনগুলিতে পৌঁছায়।
* '''দূরপাল্লার ফেরি:''' ইস্তাম্বুল থেকে বুর্সা শহরে যাওয়ার জন্য দ্রুত ফেরি সার্ভিস রয়েছে। ইয়েনিকাপি থেকে ইয়ালোভা পর্যন্ত এই ফেরিগুলি চলে এবং ইয়ালোভা থেকে বাসে করে বুর্সা শহরের কেন্দ্রে যাওয়া যায়। এই ফেরিগুলিতে যাত্রা করে আপনি তিন ঘন্টার মধ্যে বুর্সা পৌঁছাতে পারবেন।
* এছাড়াও, এমিনোনু থেকে মুদানিয়া রুটে সস্তা বুদো ফেরির লাইন রয়েছে। মুদানিয়া বুর্সার জন্য বন্দর। সেখান থেকে বাসে করে বুর্সা শহরের কেন্দ্রে যাওয়া যায়।
* '''পেমেন্ট:''' সব ফেরি, বেসরকারি ফেরিগুলি সহ, একে-বিল/ইস্তাম্বুলকার্ড সিস্টেমের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়।
=== বাসে ভ্রমণ ===
ইস্তাম্বুলের পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থায় বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হওয়াযুযু ইস্তাম্বুল এই বাস পরিষেবাগুলি পরিচালনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে। শহরে বিভিন্ন রঙ এবং আকারের বাস চলাচল করে।
* '''বাসে টিকিট:''' একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইস্তাম্বুলের বাসে আর টিকিট বিক্রি হয় না। বাসে উঠার আগে আপনাকে অবশ্যই একটি টিকিট কিনতে হবে। এই টিকিট আপনি বাস স্টেশন বা স্বয়ংক্রিয় টিকিট মেশিন থেকে কিনতে পারবেন। অথবা, আপনি ইস্তাম্বুলকার্ড ব্যবহার করতে পারেন, যা সকল পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহার করা যায়।
* '''মেট্রোবাস:''' ইস্তাম্বুলে মেট্রোবাস নামে একটি বিশেষ ধরনের বাস রয়েছে। এটি একটি দ্রুত বাস পরিষেবা যা শহরের অন্যান্য যানবাহন থেকে আলাদা লেনে চলে। মেট্রোবাস শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে সংযুক্ত করে। যেমন, বেইলিকদুজু, বকরকয়, সেভিজলিবাগ, মেসিদিয়েকয় এবং কাদিকয়।
* '''বাসের সময়সূচি:''' বেশিরভাগ বাস লাইন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলে। তবে রাতের দিকে বাসের সংখ্যা কমে যায়। কিছু লাইন, যেমন মেট্রোবাস, ২৪ ঘণ্টা চলে। মধ্যরাতের পরে বাসে যাতায়াতের জন্য সাধারণত দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়।
* '''রাত্রিকালীন বাস লাইন''': আইইটিটি ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
* টিএইচ-১ তক্ষিম - আতাতুর্ক বিমানবন্দর (০১:০০ - ০৪:০০ এর মধ্যে চালিত হয় না)
* ৪০ তক্ষিম স্কয়ার–রুমেলিফেনেরি/গারিপচে
* ই১০ কাদিকয়–সাবিহা গোকসেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
* ১৫এফ কাদিকয়–বেইকোজ
* ১৩০ কাদিকয়–তুজলা
* ৩৪এ সোগুতলুচেসমে (কাদিকয়)–এডিরনেকাপি (মেট্রোবাস)
* ৩৪ অ্যাভসিলার–জিঞ্চিরলিকুইউ (মেট্রোবাস)
একজন পর্যটক হিসেবে, আপনি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করবেন সুলতানাহমেট এবং তক্ষিম অঞ্চলে ট্রাম এবং মেট্রো, কারণ এই এলাকায় আর কোনো বাস লাইন পরিচালিত হয় না।
বাস এবং ট্রামগুলি সাধারণত ব্যস্ত সময়ে, বিশেষ করে সোমবার এবং শুক্রবারে অত্যন্ত ভিড় হয়। এটি চোরের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।
=== ট্যাক্সিতে ===
ট্যাক্সি হল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে পৌঁছানোর একটি সুবিধাজনক মাধ্যম। ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সির ভাড়া ১৯.১৭ তুর্কি লিরা থেকে শুরু হয় এবং প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১৩.৭৫ তুর্কি লিরা। সর্বনিম্ন ভাড়া হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে ৭০ তুর্কি লিরা (২০২৩)। উদাহরণস্বরূপ, তাকসিম স্কয়ার থেকে সুলতানাহমেট পর্যন্ত একমুখী যাত্রার আনুমানিক ভাড়া ২০ তুর্কি লিরা (২০২২)। সাধারণত টিপস দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে কিছু চালক মিটার চালু না করে নির্দিষ্ট মূল্যে যাত্রা করার প্রস্তাব দেন, যেমন, মাত্র ৬০ লিরায় যাওয়া যাত্রার জন্য ১৫০ তুর্কি লিরা দাবি করা হয়। এ ধরনের ট্যাক্সিগুলি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো এবং নতুন ট্যাক্সি খোঁজা উচিত, কারণ এতে সঠিক ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় হতে পারে। তাই, চালকের কাছে বরং মিটার চালু রাখার ব্যাপারে জোর দিন। আপনি যদি মিটারের চলমান অবস্থাটি দেখতে না পান, তবে তাদের এটি চালু করতে অনুরোধ করুন। সাধারণত চালকেরা মিটারের সাথে যাত্রা করেন এবং আপনার অনুরোধে কোনো অস্বস্তি অনুভব করবেন না। রাতের জন্য কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয় না।
যদি আপনার মোবাইল বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট সংযোগ থাকে, তবে যাত্রা শুরুর আগে ইস্তাম্বুল ট্যাক্সি ফেয়ার ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এটি আপনাকে বিমানবন্দর, হোটেল বা রেস্তোরাঁ থেকে ট্যাক্সির আনুমানিক ভাড়া নির্ণয়ে সাহায্য করবে, এবং পিক-আপ ও ড্রপ-অফ স্থান নির্ধারণের মাধ্যমে যাত্রার সময় ও ভাড়া সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারনা দেবে। এটি সম্ভাব্য প্রতারণা এড়াতে এবং আপনার যাত্রাকে আরও সহজ করতে সহায়ক।
মিটার চালু থাকা সত্ত্বেও ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সি চালকদের কিছু কৌশল রয়েছে যা অসচেতন ভ্রমণকারীদের প্রায়শই বিভ্রান্ত করে। মিটারটি সাধারণত গিয়ার স্টিকের কাছে থাকে, এবং কিছু চালক মিটার চালু রেখে বিভিন্ন সময় গিয়ার পরিবর্তনের অজুহাতে মিটারের হার বাড়িয়ে দেন (যদিও এটি সাধারণ নয়)। মিটারটিকে শুরুর অবস্থায় না ফেলে, আগের যাত্রার ভাড়া যোগ করার বিষয়টি ওখানেও লক্ষ্য করা যায়। বাস স্টেশন বা ইয়েনিকাপি ফেরি টার্মিনালের আশেপাশের ট্যাক্সিগুলিতে পর্যটকদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ট্যাক্সিতে উঠার আগে চালককে স্পষ্ট করে বলুন যে আপনি শুধুমাত্র মিটারের ভাড়ার জন্যই অর্থ প্রদান করবেন। চালকেরা প্রায়শই দ্রুত মূল্যের প্রস্তাব দিতে চেষ্টা করবেন, তবে আপনার উচিত ধৈর্য ধরে এবং রাস্তার পাশে চলমান ট্যাক্সি থামানো বা বৈধ ট্যাক্সি স্টপ থেকে ট্যাক্সি নেওয়া।
আপনার যাত্রার গন্তব্য নিশ্চিত করতে হবে, কারণ কিছু চালক নির্দিষ্ট হোটেল, রেস্তোরাঁ বা দোকানে গিয়ে কমিশন পান, এবং তাই আপনাকে সেগুলোর দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। ইস্তাম্বুলে হলুদ এবং মেরুন রঙের ট্যাক্সি রয়েছে। হলুদ ট্যাক্সিগুলোর লাইসেন্স প্লেট "৩৪ টি" দিয়ে শুরু হয় এবং মেরুন ট্যাক্সির প্লেট "৩৪ এম" দিয়ে শুরু হয়। হলুদ ট্যাক্সি তুলনামূলক বেশি সাধারণ, যেখানে মেরুন ট্যাক্সিগুলি মূলত শহরের পশ্চিমাঞ্চলে কাজ করে এবং তারা একে অপরের অঞ্চলে যাত্রী পরিবহণ করতে পারে না। অর্থ প্রদানকালে সতর্ক থাকুন এবং আপনার দেওয়া টাকার বিষয়ে নিশ্চিত হন; কিছু চালক ৫০ তুর্কি লিরা নোটকে ৫ তুর্কি লিরা বলে ভুল বুঝানোর চেষ্টা করেন। কখনও কখনও ট্যাক্সি চালকরা আপনার দেওয়া নোটটিকে অস্বীকার করে এবং ৫০ লিরা দাবি করেন। তদ্ব্যতীত, শহরের সাথে অপরিচিত হলে চালকরা আপনাকে ঘুরিয়ে বেশি ভাড়া দাবি করতে পারে।
রাইড-শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে উবের, বিট্যাক্সি (এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সাশ্রয়ী), এবং আইট্যাক্সি অন্যতম (এটি বেশি খরচ সাপেক্ষ এবং চালকদের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে)। তুরস্কে উবার একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যাক্সি সার্ভিস হিসেবে কাজ করে, কারণ রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর এখনো সরকারী অনুমোদন পাওয়া যায়নি। শহরের ট্রাফিকও কখনও কখনও অত্যন্ত বিশৃঙ্খল হতে পারে এবং অল্প কিলোমিটার পাড়ি দিতেও ঘণ্টাখানেক সময় লাগতে পারে। তাই, পুরনো শহর থেকে বের হয়ে মেট্রো নিয়ে এরপর ট্যাক্সি নেয়া উত্তম। বিশেষ করে গ্রীষ্মের সময় ডোলমাবাখচে - বেসিকতাস - ওরটাকয় - কুরুচেসমে সড়কে ট্রাফিক দ্বিমুখীভাবে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটের দূরত্ব এবং আনুমানিক ট্যাক্সি ভাড়া নিম্নরূপ:
* ইস্তাম্বুল নিউ এয়ারপোর্ট (আইএসটি) - তাকসিম স্কয়ার ~ ৪৪ কিমি
* ইস্তাম্বুল নিউ এয়ারপোর্ট (আইএসটি) - সুলতানহমেট স্কয়ার (পুরানো শহর) ~ ৪৭ কিমি
* তাকসিম স্কয়ার - সুলতানহমেট (পুরানো শহর) ~ ৫.৫ কিমি
* সাবিহা গোকচেন এয়ারপোর্ট (সাবিহা গোকচেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) - কাদিকয় (চালকাদোনিয়া) ফেরি টার্মিনাল ~ ৩৬ কিমি
* এসেনলার (বাস টার্মিনাল) - টপকাপি প্রাসাদ (সুলতানহমেট) ~ ১০.৫ কিমি
=== শেয়ার্ড ট্যাক্সি (ডলমূস) দ্বারা ===
'''ডলমূস''' (তুর্কি: "পূর্ণ") হল একটি শেয়ার্ড ট্যাক্সি, যা একটি নির্দিষ্ট রুটে চলে, যা শহরের বাসের তুলনায় বেশি দামে কিন্তু স্বাভাবিক ট্যাক্সির তুলনায় কম দামে। এতে ৮ জন যাত্রী বহন করা যেতে পারে এবং এটি শুধুমাত্র নগদ গ্রহণ করে। এদের উপরে একটি ''ডলমূস'' চিহ্ন থাকে। তারা তাদের টার্মিনাল থেকে তবেই চলে, যখন সব আটটি সিট পূর্ণ থাকে, যার থেকে নামটি এসেছে, তবে তাদের রুটে যাত্রীদের নামিয়ে একটি সিট পূরণ করার জন্য ডাকতে পারা যায়।
ডলমূসের প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলি হল:
* তাকসিম–এমিনোনু (তাকসিম স্টপ, আতাতুর্ক কালচারাল সেন্টারের কাছে, তাকসিম স্কোয়ারে)
* তাকসিম–কাদিকয়
* তাকসিম–বস্তানসি
* তাকসিম–আকসারায় (তাকসিম স্টপ, তারলাবাশি এভিনিউ, তাকসিম স্কোয়ারের কাছে)
* কাদিকয়–বস্তানসি (বস্তানসি স্টপ, বস্তানসি ফেরি পোর্টের সামনে)
* তাকসিম–তেসভিকিয়ে (তাকসিম স্টপ, প্যাটিসারি গেজির সামনে, তাকসিম স্কোয়ারে)
* বেসিকতাস–নিসান্তাসি (বেসিকতাস স্টপ, বেসিকতাস - উস্কুদার ফেরি পোর্টের সামনে)
* কাদিকয়–উস্কুদার (উস্কুদার স্টপ, উস্কুদার - বেসিকতাস এবং উস্কুদার - কাবাতাস ফেরি পোর্টের কাছে)
যদি আপনি চালককে থামতে বলেন, তাহলে আপনি বলতে পারেন (EE-নেহ-জেক ভার! -- কেউ নামছে।) অথবা (মু-সাঈট বির ইয়ে-রে। -- একটি সুবিধাজনক স্থানে।)
=== সাইকেলে ===
যদি আপনি একটি ইসবাইক বাইক খুঁজে পান, তাহলে সেগুলি ভাড়া নেওয়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। তবে ইসবাইক ব্যবহারের জন্য কিছু সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে যখন আপনি বিদেশী ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। ইসবাইক-এর স্মার্টফোন অ্যাপ, ওয়েবসাইট, বা ভাড়া মেশিন প্রায়ই বিদেশী ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করে না। ফলে বাইক ভাড়া নিতে গেলে, আপনাকে পার্সোনালাইজড মাভি (নীল) ইস্তাম্বুলকার্ট পেতে হতে পারে, যেটি আপনি ইতোমধ্যে জানেন, শুধু তুর্কি আইডি কার্ডধারীরা নিতে পারে।
তবে, যদি আপনার কোনো তুর্কি বন্ধু থাকে, তাহলে তারা ইস্তাম্বুলকার্টে সামান্য অর্থ জমা দিয়ে আপনার হয়ে বাইক ভাড়া করতে পারে। কারণ ইসবাইক প্রতিটি বাইকের জন্য কয়েক দিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ছোট পরিমাণ অর্থ ব্লক করে রাখে।
== দর্শনীয় স্থান ==
[[চিত্র:Hagia_Sophia_Mars_2013.jpg|থাম্ব|হায়া সোফিয়া]]
[[চিত্র:AhmetCamii_Silhouette.JPG|থাম্ব|সুলতান আহমেত মসজিদ সূর্যাস্তের সময়]]
[[চিত্র:Basilica_Cistern_after_restoration_2022_(11).jpg|থাম্ব|বেসিলিকা সিস্টার্ন, যা রোমানদের দ্বারা নির্মিত]]
{{আরও দেখুন|শিশুদের নিয়ে ইস্তাম্বুল}}
=== মিউজিয়াম পাস ===
তুর্কি সরকার ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান এবং মিউজিয়ামের জন্য একটি "[https://muze.gov.tr/MuseumPass মিউজিয়াম পাস]" অফার করে, যার মূল্য ১০৫ ইউরো (মার্চ ২০২৪ অনুযায়ী)। এই পাসটি ইস্তাম্বুলের অনেক মিউজিয়ামের প্রবেশপথে বা তুরস্কের মিউজিয়াম বিভাগের ওয়েবসাইটে [https://muze.gov.tr/urun-ekle?catalogNo=WEB-MSP01-05-008 অনলাইনে] কেনা যায়। আপনি এই পাসটি কেনার আগে অন্তর্ভুক্ত মিউজিয়াম এবং সুবিধাগুলো যাচাই করে নিতে পারেন। এটি আপনার জন্য উপকারী হবে কি না তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ইস্তাম্বুলে এমন অনেক দর্শনীয় স্থান আছে যা এখনও বিনামূল্যে দেখা যায়, এবং শহরের পরিবেশ উপভোগ করাটাই অনেকের জন্য এখানে ঘুরে বেড়ানোর আসল আকর্ষণ।
মিউজিয়াম পাসটি একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য ব্যবহারযোগ্য, এটি হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখ থেকে পাঁচ দিনের জন্য বৈধ থাকে। এই পাসটি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট মিউজিয়ামগুলোতে একবার বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
* তোপকাপি প্রাসাদ এবং হারেম
* হায়া ইরেন
* ইস্তাম্বুল প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়াম
* ইস্তাম্বুল মোজাইক মিউজিয়াম
* ইসলামের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির ইতিহাস মিউজিয়াম
* তুর্কি এবং ইসলামিক শিল্পকলা মিউজিয়াম
* গালাটা মেভলভী হাউস মিউজিয়াম
* ইলদিজ প্রাসাদ
* রুমেলি হিসার মিউজিয়াম
* গালাটা টাওয়ার (গালাটা কুলেসি মিউজিয়াম)
তবে, হায়া সোফিয়া এই পাসের অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং এর জন্য আলাদা টিকিটের মূল্য ২৫ ইউরো (মার্চ ২০২৪ অনুযায়ী)।
এই পাসটি কেনার মাধ্যমে আপনি টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করে সরাসরি গেটে প্রবেশ করতে পারবেন, যা কিছু দর্শনীয় স্থানে বিশেষভাবে সুবিধাজনক (তবে গালাটা টাওয়ার এর ব্যতিক্রম)। এছাড়া অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগও রয়েছে। তবে ইস্তাম্বুলের বেশিরভাগ মিউজিয়াম সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে বন্ধ থাকে, সাধারণত সোমবার বা বুধবার, তাই এই স্থানগুলোতে যাওয়ার আগে ওয়েবসাইটে বা ফোনের মাধ্যমে তাদের কার্যকারিতা যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ।
এছাড়াও, আপনি চাইলে আরও ব্যয়বহুল "[https://www.istanbultouristpass.com/whats-included ইস্তাম্বুল ট্যুরিস্ট পাস]" ক্রয় করতে পারেন, যার ২ দিনের পাসের মূল্য ১৫০ ইউরো, ৩ দিনের জন্য ১৮০ ইউরো, ৫ দিনের জন্য ২১০ ইউরো এবং ৭ দিনের জন্য ২৩৫ ইউরো (মার্চ ২০২৪ অনুযায়ী)। এই পাসটি মিউজিয়াম পাসের সমস্ত মিউজিয়াম প্রবেশাধিকার ছাড়াও কিছু বোট ট্যুর, তিন দিনের মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে একপাশের ডিসকাউন্টেড ট্রান্সফারের সুযোগ (২০ ইউরো) অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ব্যবস্থাপনার কিছু ত্রুটি এবং অন্তর্ভুক্ত কিছু পরিষেবা ব্যবহার করতে সমস্যা হওয়ায় এটি ক্রমাগত নেতিবাচক পর্যালোচনা পেয়ে থাকে।
=== দর্শনীয় স্থানসমূহ ===
{{seeDistricts}}
ইস্তাম্বুল তার দীর্ঘ ইতিহাস এবং বিভিন্ন শক্তিশালী সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা একে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নিদর্শনসমূহে ভরপুর করে তুলেছে। প্রাচীন এই শহরের স্মৃতিচিহ্নগুলো রোমান, বাইজেন্টাইন এবং অটোমান যুগের বিভিন্ন নিদর্শনের সাক্ষ্য বহন করে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘হাগিয়া সোফিয়া’, ‘টপকাপি প্রাসাদ’, ‘সুলতানাহমেট মসজিদ’ (যা ‘নীল মসজিদ’ নামেও পরিচিত) এবং ‘বাসিলিকা সিস্টার্ন’। এই স্থাপনাগুলি প্রধানত [[Istanbul/Sultanahmet-Old City|সুলতানাহমেট স্কোয়ারে]] অবস্থিত। এছাড়াও, কিছু পুরনো স্থাপনা [[Istanbul/Sultanahmet-Old City|পুরানো শহরের]] বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে, যেমন, প্রাক্তন ‘চের্চ অফ দ্য হোলি সেভিয়র ইন চোরা’ (বর্তমান কায়ারিয়ে জামি), যার পুরো অভ্যন্তরটি চমৎকার ফ্রেস্কো ও মজাইক দ্বারা সজ্জিত।
পুরানো শহরের পশ্চিম সীমানা বরাবর ‘থিওডোসিয়ান দেয়াল’-এর প্রায় অক্ষত একটি অংশ রয়েছে, যা ঐতিহাসিক দিক থেকে বেশ উল্লেখযোগ্য এবং এটি ‘চোরা গির্জা’র পাশেই অবস্থিত।
পুরানো শহরের উত্তরে, গোল্ডেন হর্নের অপর পাশে, [[Istanbul/Galata|গালাতা]] অঞ্চল অবস্থিত, যা প্রাচীন ‘গালাতা টাওয়ার’-এর জন্য পরিচিত। এখানে আধুনিক তুর্কি শিল্পের প্রদর্শনী স্থল ‘ইস্তাম্বুল মডার্ন’ গ্যালারিটি কারাকোই অঞ্চলের নদীর তীরে অবস্থিত। গালাতা টাওয়ারের উত্তর দিকে একটি ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান হলো প্রাচীন সুফি মেভলেভি অর্ডারের ‘ডার্ভিশ হল’, যা বর্তমানে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। যারা রুমির শিক্ষায় আগ্রহী, তাদের জন্য এটি এক মনোমুগ্ধকর স্থান।
এর থেকে আরও উত্তরে, শহরের মূল পথচারী রাস্তা ‘ইস্টিকলাল অ্যাভিনিউ’ অবস্থিত, যা গালাতা টাওয়ার থেকে শুরু হয়ে তাকসিম স্কোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত। তাকসিম স্কোয়ার ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রীয় স্কোয়ার হিসেবে পরিচিত।
পুরানো শহরের পশ্চিমে গেলে আপনি [[Istanbul/Golden Horn|গোল্ডেন হর্ন]] নদীর তীরে পৌঁছাবেন। এখানে একটি জনপ্রিয় মহল্লা হলো এয়ুপসুলতান, যেখানে শহরের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলামী মন্দির’ অবস্থিত। মসজিদ সংলগ্ন সরু রাস্তাগুলিতে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত ধর্মপ্রাণ মানুষদের দেখা যায়, যা অটোমান যুগের ইস্তাম্বুলের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রতিফলিত করে। গোল্ডেন হর্নের অপর তীরে সুতলুস এলাকায় রয়েছে ‘মিনিয়াটর্ক’, যা ইস্তাম্বুলের প্রথম মডেল পার্ক এবং এখানে সাবেক অটোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন নিদর্শনের ক্ষুদ্র সংস্করণ রয়েছে।
তাকসিম স্কোয়ারের উত্তরে [[Istanbul/New City|নতুন ইস্তাম্বুল]], শহরের প্রধান ব্যবসায়িক জেলা অবস্থিত। এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য একটি জায়গা হলো ‘মিলিটারি মিউজিয়াম’, যেখানে প্রতিদিন দুপুরে অটোমান সামরিক সঙ্গীত (মেহতার) এর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। শহরের অধিকাংশ আকাশচুম্বী ভবন এই অঞ্চলের লেভেন্ট ও মাসলাক এলাকায় অবস্থিত, যা পুরানো শহরের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন এক স্কাইলাইন তৈরি করেছে। তবে, একই জেলার দক্ষিণ অংশে ২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকে নির্মিত কিছু সুন্দর নিও-ক্লাসিক্যাল এবং আর্ট নুভো ভবন রয়েছে, যেগুলি ওসমানবেয়, কুরতুলুস এবং নিসান্তাসী এলাকায় ছড়িয়ে আছে। এখান থেকে পূর্বদিকে নামলে [[Istanbul/Bosphorus|বসফরাসের]] তীরে পৌঁছাবেন, যেখানে পানির ধারে অবস্থিত অসাধারণ সব ভিলা (ইয়ালী) এবং প্রাসাদ রয়েছে, যা প্রাচীন ইস্তাম্বুলের আর্থিক সমৃদ্ধির প্রতীক।
বসফরাসের পূর্ব পাশে [[Istanbul/Asian Side|এশীয় অংশ]], যেখানে কাদিকয় এবং উস্কুদার ঐতিহাসিক জেলা অবস্থিত। এই অঞ্চল সম্ভবত ‘মেইডেনস টাওয়ার’-এর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যা এই দুটি জেলার মাঝখানে একটি দ্বীপে অবস্থিত। শহরের এই অংশের বসফরাস ও মারমারা উপকূলে রয়েছে ছবির মতো সুন্দর উপসাগরগুলি। এখানকার ‘চামলিকা হিল’ ইস্তাম্বুলের অন্যতম উচ্চতম পাহাড়, যেখানে একটি ক্যাফে এবং চমৎকার একটি পার্ক রয়েছে।
শহরের দক্ষিণ-পূর্বে এশীয় পাড়ের দক্ষিণ উপকূলে [[Istanbul/Princes' Islands|প্রিন্সেস দ্বীপপুঞ্জ]] অবস্থিত, যা নয়টি গাড়িমুক্ত দ্বীপের সমষ্টি। এই দ্বীপগুলোতে রয়েছে মনোমুগ্ধকর কাঠের বাড়ি এবং পাইন গাছের বনভূমি, যা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।
২০১০ সালের পর থেকে, অনেক পর্যটক তাদের সফরে এমন স্থানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছেন যেখানে তাদের প্রিয় তুর্কি টিভি সিরিজগুলোর শুটিং হয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Turkish TV series tourism|তুর্কি টিভি সিরিজ পর্যটন]] অংশটি দেখুন।
এছাড়া, ইস্তাম্বুল বিড়ালের শহর হিসেবে পরিচিত, যার কারণে এটি ‘ক্যাটস্তানবুল’ নামেও পরিচিত। এখানে প্রায় ১২৫,০০০ থেকে ১০০০,০০০ বিড়াল রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বন্ধুত্বপূর্ণ, পুষ্টিকর খাবার পেয়ে থাকে এবং সুস্থ থাকে। সুতরাং, এই বিড়ালদের সঠিকভাবে ‘সামাজিকভাবে অধিকারী’ হিসেবে উল্লেখ করাই শ্রেয়।
=== টিউলিপ ===
[[চিত্র:Carpet_of_tulips.jpg|থাম্ব|টিউলিপের গালিচা, যা দাবি করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড়, এপ্রিলের শেষের দিকে সুলতানাহমেটে ফোটে]]
টিউলিপ দীর্ঘদিন ধরে ১৮ শতকের টিউলিপ যুগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অবহেলিত ছিল। এই যুগটি ছিল এক জাঁকজমকপূর্ণ ও খরুচে সময়কাল, যখন অটোমান অভিজাতরা বড় বড় বাগানে টিউলিপ ফুলের মাঝে নানা রকম পার্টির আয়োজন করত। সেই সময়েই ইস্তাম্বুল থেকে টিউলিপের প্রথম বাল্ব নেদারল্যান্ডসে প্রবর্তিত হয়েছিল। টিউলিপ যুগ পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের আর্থিক দুর্বলতা এবং সাম্রাজ্যের ধ্বংসের একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।
তবে, ২১ শতকের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে টিউলিপ আবার জনপ্রিয়তা ফিরে পেয়েছে এবং এখন ইস্তাম্বুল ও তুরস্কের একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জাতের উপর নির্ভর করে, টিউলিপ মার্চের শেষ থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত ফোটে, তবে এর সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে চাইলে এপ্রিল মাসই সেরা সময়।
ইস্তাম্বুলের অনেক রাস্তার ধারে বা প্রধান এলাকায় টিউলিপের সৌন্দর্য দেখা যায়, যেখানে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা আছে। কিন্তু বৃহৎ এলাকায় আরও বৈচিত্র্যময় টিউলিপ দেখতে চাইলে [[Istanbul/Sultanahmet-Old City|সুলতানাহমেট]] এলাকায় সুলতানাহমেট পার্ক ও গুলহানে পার্ক পরিদর্শন করা যেতে পারে। এছাড়া, ইস্তাম্বুলের উত্তর [[Istanbul/Bosphorus|বসফরাস]] এলাকায় অবস্থিত এমিরগান পার্ক এবং এশীয় দিকের চামলিজা হিলে গিয়ে টিউলিপের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব।
== করণীয় ==
{{seeDistricts}}
* '''হামাম''' – [[Istanbul/Sultanahmet-Old City#Hamams|সুলতানাহমেট]] এলাকায় অনেক ঐতিহাসিক হামাম রয়েছে। কিছু হামাম খুব বিলাসবহুল এবং প্রধানত পর্যটকদের জন্য।
* '''জলপাইপ''' – বেশিরভাগ নর্গিলে (শীশা) ধূমপানের স্থান ইয়েনিচেরিলার কাদ্দেসিতে, কাপালিচারশির (গ্র্যান্ড বাজার) কাছাকাছি অবস্থিত। কোরলুলু আলী পাশা এবং কোকা সিনান পাশার সমাধি দুটোই নির্জন অভ্যন্তরীণ উঠানে অবস্থিত, যা কিছু সমাধির পাশেই অবস্থিত, তবে এটি যতটা ভয়ঙ্কর মনে হয় ততটা নয়। সুলতানাহমেটের দক্ষিণ দিকে, সমুদ্রের কাছাকাছি, ইয়েনি মারমারা (Çayıroğlu Sokak) নামে একটি স্থান রয়েছে, যেখানে আপনি ছাদের আসনে বসে দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। বেয়োগলুতে, অরটাকাহভে (Büyükparmakkapı) এ বিভিন্ন স্বাদের অপশনও পাওয়া যায়। আরেকটি এলাকা যেখানে বেশ কিছু বড় এবং সুন্দর স্থান রয়েছে তা হল রীহতিম কাদ্দেসি, যা গালাটা ব্রিজ এবং ইস্তাম্বুল মডার্ন মিউজিয়ামের মধ্যে অবস্থিত।
=== হাঁটার সফর ===
ইস্তাম্বুলের যাদুঘর এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের জন্য প্রথমে হাগিয়া সোফিয়ায় যেতে পারেন, তারপর টপকাপি যাদুঘরে। এই দুটি জায়গা ঘুরে দেখতে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর হাগিয়া সোফিয়ার পিছনের রাস্তায় ঘুরে দেখতে পারেন, যেখানে কিছু সুন্দরভাবে সংস্কার করা ঐতিহাসিক বাড়ি আছে। এরপর নীল মসজিদ এবং এর সামনের "এট মেইদানি" স্কোয়ার ঘুরে দেখুন। স্কোয়ারের পাশেই একটি অসাধারণ ইসলামিক আর্ট মিউজিয়াম রয়েছে, যা আপনার সময়কে আরো সমৃদ্ধ করবে। কিছুটা নিচে গেলে আপনি ছোট হাগিয়া সোফিয়া পাবেন, যার সুন্দর বাগান রয়েছে। এটি সংস্কারের কাজের অধীনে থাকতে পারে, তবে সাধারণত দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত থাকে। এরপর সোকোল্লু মেহমেত মসজিদ কমপ্লেক্সে যান, যেখানে অভ্যন্তরীণ অংশে মনোমুগ্ধকর টাইলস রয়েছে।
এরপর এমিনোনুর দিকে একটি ট্রামে বা হাঁটতে হাঁটতে যেতে পারেন; এখান থেকে এশিয়া বা বসফরাসের দিকে নৌকা ছেড়ে যায়। প্রথমে নতুন মসজিদটি দেখুন, যা এমিনোনুর পেছনে অবস্থিত। তারপর এর পাশেই মিসরী বাজার পরিদর্শন করুন এবং এর সামান্য দূরে রুস্টেম পাশা মসজিদ খুঁজে বের করুন, যেটির টাইলস বেশ চমৎকার। এটি পুরনো কাপড়ের বাজারের কাছে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের উপর অবস্থিত, তাই আপনাকে পথ নির্দেশনা জিজ্ঞাসা করতে হতে পারে। এরপর এয়ুপসুলতান মসজিদ কমপ্লেক্সে যান, যা গোল্ডেন হর্ন থেকে তিন মাইল দূরে অবস্থিত। এখানে এয়ুপসুলতান কমপ্লেক্সটি আপনার সময় নিয়ে ঘুরে দেখুন। মসজিদটি যদিও খুব বিশেষ কিছু নয়, তবে এর প্রাঙ্গণ ও ভক্তদের ভিড়, বিশেষত অনেক ছোট ছেলে যারা সার্কামসাইজ করতে আসে, দেখার মতো। শুক্রবার এখানে আসা ভালো হতে পারে।
যদি আপনার সময় এবং শক্তি থাকে, তাহলে হেঁটে ফিরে আসতে পারেন; হয়তো পুরো পথই (প্রায় ৮ কিমি), তবে প্রথমে বিখ্যাত কায়রিয়া গির্জার দিকে যেতে পারেন, যা সুন্দর মোজাইকে সমৃদ্ধ। এরপর ইয়াভুজ সেলিম মসজিদে যান, যেখান থেকে গোল্ডেন হর্নের দারুণ দৃশ্য দেখতে পাবেন। এর পরে ফাতিহ মসজিদে যান, যেখানে অনেক ধর্মীয় এবং প্রাণবন্ত মহল্লা পেরিয়ে যেতে হবে। তারপর সেহজাদে মসজিদ, যা ভালোভাবে সংস্কার করা হয়েছে, এবং সুলেমানিয়া মসজিদে যান, যেখানে গোল্ডেন হর্নের দিকে চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। যদি আরো কিছু শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লেক্সের দিকে যেতে পারেন, যেখানে বেয়াজিত মসজিদ বেশ কাছেই অবস্থিত। মসজিদের পেছনে একটি ছোট বইয়ের বাজার আছে, যা খুব সুন্দর এবং দেখতে ভালো লাগে।
এরপর এমিনোনুর দিকে ফেরত যান, তবে এবার একটি বড় ফেরি নিন এবং উস্কুদারে যান। সেখানে পৌঁছেই দেখতে পাবেন একটি সুন্দর মসজিদ, একটু দূরে ৪০০ মিটারের মধ্যে আরেকটি মসজিদ আছে যা ট্রাফিক রাউন্ডঅ্যাবাউটের পেছনে অবস্থিত এবং সমুদ্রের পাশে তৃতীয় একটি ছোট মসজিদ আছে। বাজারটি আশেপাশে বিস্তৃত, সেখানে হাঁটতে এবং সৈকতের কাছাকাছি হাঁটতে ভুলবেন না। এখানে জলে ভাসমান মাছের খাবারও পাওয়া যায়, যা বেশ মজাদার। বিকেল বা সন্ধ্যায় এই ভ্রমণটি ভালো হবে। ফেরার পথে শহর থেকে বহু মানুষের সাথে মিলিত হবেন, তবে ফেরিটিতে ফিরে আসার সময় প্রায় খালি হবে। মনে রাখবেন, সন্ধ্যাবেলা ফেরির সংখ্যা কমে যায়, তাই নিশ্চিত হয়ে নিন যে ফেরার সংযোগ রয়েছে।
যদি ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান, তবে রেলওয়ে স্টেশনে যান এবং সিরকেজি-হালকালী সাবার্বান ট্রেন ধরুন। ইয়েদিকুলে স্টেশনে নামতে পারেন, যা আপনাকে ইয়েদিকুলে দুর্গের খুব কাছে নিয়ে যাবে এবং শহরের প্রাচীরের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। ট্রেনগুলি প্রতি ১৫ মিনিটে চলে, এবং যাত্রাটি সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। যদিও এটি অত্যাবশ্যক নয়, তবে ভ্রমণটি বেশ মজার হতে পারে।
এই সমস্ত স্থানের মধ্যে ঢাকা বাজারটি মিস করা হবে না, কারণ আপনি যেভাবেই হোক এর আশেপাশে পৌঁছে যাবেন। যদি আপনি বেয়াজিত এবং বইয়ের বাজারে যান, তবে এর প্রবেশপথের কাছাকাছি থাকতে পারবেন। নুরুসমানিয়ে মসজিদ ও এর কমপ্লেক্স খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন, এটি খুবই চমৎকার। ঢাকা অংশটি ঘুরে দেখে একটি আরামদায়ক হাঁটার মাধ্যমে এমিনোনুর দিকে নেমে আসুন, যেখানে এই "আবৃত বাজার" সবসময় খোলা থাকে। এরপর গালাতা ব্রিজ পার করুন এবং শহরের উত্তর দিকে কিছু জিনিস দেখার জন্য থামুন। এখানে "তুনেল" টেলিফেরিক রাইডে উঠে দেখতে পারেন, এটি আপনাকে গালাতা ব্রিজের বিপরীত পাশে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবে। এরপর তাকসিম স্কোয়ারের দিকে যান, যেখানে আন্তর্জাতিক ধরনের অনেক দোকান রয়েছে।
==== থিওডোসিয়ান প্রাচীর হাঁটা ====
[[চিত্র:Car_bed_kap_deu2.jpg|থাম্ব|মারমারা উপকূলের কাছে বেলগ্রাদকাপি গেটের একটি পুনরুদ্ধার করা অংশ]]
৪০৮ খ্রিস্টাব্দে কনস্টান্টাইনের প্রাথমিক প্রাচীরগুলি থিওডোসিয়াসের শাসনকালে প্রতিস্থাপিত হয়। এই প্রাচীরগুলি পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং পরবর্তী সময়ে অটোমান শাসনের প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হয়ে ওঠে। আজও এগুলি প্রায় অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে এবং ইস্তাম্বুলের পুরনো শহরের উপদ্বীপের পশ্চিম সীমানা নির্দেশ করে। তবে ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে কিছু পুনরুদ্ধার কাজের কারণে প্রাচীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টপকাপি গেটের আশেপাশের অংশটি পাজারটেক্কে ট্রাম স্টেশন থেকে প্রায় ৩০০ মিটার পূর্বে অবস্থিত, যা দর্শনার্থীদের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য। তবে প্রাচীরের কিছু দূরবর্তী অংশে নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।
পুরনো শহরের এই প্রাচীর বরাবর ৭ কিলোমিটার হাঁটা এক প্রাচীন যুগের জানালা খুলে দেয় এবং তুরস্কের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির ওপর এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ইস্তাম্বুলে যাওয়ার আগে এই প্রাচীরের ঐতিহাসিক এবং প্রযুক্তিগত বর্ণনা ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিন; এটি আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করবে। এমিননু থেকে গোল্ডেন হর্ন ফেরি নিয়ে আয়ভানসারায় যান। এই ফেরি টার্মিনালটি বসফরাস টার্মিনাল থেকে আলাদা এবং গালাটা ব্রিজের পূর্বে অবস্থিত। গালাটা ব্রিজের আন্ডারপাস দিয়ে পশ্চিম দিকে হাঁটুন এবং বাস স্টেশন হয়ে ছোট টার্মিনাল ভবনের দিকে যান। ভাড়া প্রায় ১.৫০ তুর্কি লিরা।
আয়ভানসারায় পৌঁছে প্রধান রাস্তার অন্য পাশে প্রাচীর বরাবর হাঁটতে পারেন। আপনি বাইরের বা ভিতরের প্রাচীর ধরে হাঁটার মধ্যে বেছে নিতে পারেন, তবে যুদ্ধের শীর্ষে যাওয়ার প্রবেশপথ সাধারণত ভিতরের দিকেই থাকে। এখানে আপনি অবশিষ্ট প্রাচীরের ভাঙা ইট-পাথরের উপর কয়েকশো গজ ধরে প্রাচীরের উপরে হাঁটার সুযোগ পাবেন। কিছু দূরে, প্রাচীরটি একটি সুস্পষ্ট জায়গায় শেষ হয়, যা থেকে আপনি রাস্তার দিকে ফিরতে পারেন। প্রাচীরের পাশে কখনও কখনও বাসস্থান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বাস ডিপো, বা শুধু রাস্তা দেখতে পাবেন।
৪০৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণের পর থেকে এই প্রাচীরগুলি ভূমিকম্পের ক্ষতির কারণে বারবার মেরামত এবং উন্নতির মধ্যে দিয়ে গেছে। সময়ের সাথে সাথে মেরামতের কাজ বিভিন্ন মানের এবং শৈলীর ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, এখনও কিছু সরু গেট দিয়ে ছোট ছোট রাস্তা ব্যবহৃত হয়। হোজা চাকির সিডি-তে একটি পুনরুদ্ধারকৃত প্রাচীরের অংশ আছে যেখানে সিঁড়ি দিয়ে প্রবেশ করা যায়। এই পুনরুদ্ধার কাজটি ১৯৮০-এর দশকে সম্পন্ন হয়েছিল, যা মূল নকশার সাথে কিছুটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রাচীরটি ফেভজি পাশা সিডি নামে একটি প্রধান রাস্তা বরাবরও খোলা হয়েছে। এই রাস্তা পার হয়ে প্রাচীরের পিছনের দিকে হাঁটা চালিয়ে যান। এখানে বিরতি নেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান রয়েছে, যা থেকে প্রাচীরের অংশগুলি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রাচীরটি আবার আদনান মেন্ডেরেস ব্লভের জন্য খোলা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে 'ভাতান কাদ্দেসি' নামে পরিচিত। এখান থেকে আপনি দ্বিগুণ প্রতিরক্ষা লাইন এবং বাইরের খাল দেখতে পারবেন।
প্রাচীর বরাবর বিভিন্ন স্থানে বাইরের প্রাচীর দিয়ে প্রবেশ করা যায়, যেখানে ভাঙা পাথর ও আধুনিক সিঁড়ি রয়েছে। প্রাচীরের ভেতরে বাসিন্দাদের জীবন সম্পর্কে মজার তথ্যও দেখা যায়। মেভলানাকাপি সিডি গেটের কাছাকাছি আরেকটি অসম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার প্রকল্পে পৌঁছাতে পারেন, যেখানে টাওয়ারগুলি বন্ধ থাকলেও প্রাচীরের উপর দিয়ে হাঁটার সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে খালের পাশের পথ বরাবর হাঁটতে ভাল, যেখানে বাজারের বাগান রয়েছে এবং শহরের দিকে বিভিন্ন ভবন ঘিরে রেখেছে।
কয়েক কিলোমিটার হাঁটার পর গোল্ডেন গেট ও ইয়েদিকুলে দুর্গে পৌঁছাতে পারেন, যা মারমারা সাগরের সামনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ছিল। অটোমানরা এই দুর্গটিকে ১৯ শতক পর্যন্ত ব্যবহার করেছিল, যা এখনও চমৎকার অবস্থায় রয়েছে। এখানে প্রবেশ ফি এবং একটি টয়লেটও আছে। এখানকার উচ্চ প্রাচীর ও টাওয়ারগুলি সবই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত, যার একটি টাওয়ারে এখনও অভ্যন্তরীণ কাঠের মেঝে রয়েছে।
প্রাচীরের এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা একসময় বাইজান্টিয়াম এবং পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যকে রোমের পতনের পর শতাব্দী ধরে রক্ষা করেছিল। তবে বর্তমান পুনরুদ্ধার কাজের মান নিয়ে কিছু সন্দেহ থাকায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রাচীরগুলিকে অক্ষত রেখে দেওয়াই ভাল। শহরে ফিরে যেতে এমিননু বাস (#৮০) নিতে পারেন, যা প্রধান গেটের বাইরে গ্রামের স্কোয়ারে পাওয়া যাবে, অথবা ইয়েদিকুলে ইস্তাসিয়ন সিডি ধরে প্রায় ৩০০ মিটার হেঁটে সিরকেসি রেললাইন ধরে সুলতানাহমেটের কাছে পৌঁছাতে পারেন।
=== ক্লাসিক বসফরাস ক্রুজ ===
[[চিত্র:Istanbul_at_Night-2.jpg|থাম্ব|রাতের দৃশ্যে '''১৫ জুলাই শহীদ''' সেতু]]
ইস্তাম্বুলের এমিনোনু টার্মিনাল থেকে পাবলিক ফেরি গালাটা ব্রিজের পূর্বদিকে থেকে যাত্রা শুরু করে এবং বিভিন্ন স্টপ অতিক্রম করে বসফরাসের উত্তরে কালো সাগরের প্রবেশদ্বার সংলগ্ন আনাতোলু কাভাগিতে গিয়ে থামে। এই যাত্রার ভাড়া ৬৫ তুর্কি লিরা (রাউন্ড ট্রিপ), যা শহির হাটলারি নামে পরিচিত পাবলিক ফেরির মাধ্যমে প্রদান করা হয়। টিকিট কিনতে হলে যাত্রার প্রায় এক ঘণ্টা আগে টিকিট বুথে যেতে হবে, কারণ ফেরি প্রায় সকাল ১০:৩৫ টায় যাত্রা শুরু করে এবং এটি অনেক জনপ্রিয়। তাই সময়মতো পৌঁছে টিকিটের লাইনে দাঁড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ ফেরি টিকিট না কিনে আসা কোনো যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করে না।
অনেক প্রাইভেট ফেরি অপারেটর পাবলিক ফেরির বিকল্প হিসেবে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করে এবং অনেক সময় বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে পর্যটকদের বিভ্রান্ত করে। তারা যেমন বলে থাকে যে পাবলিক ফেরির লাইনে দাঁড়ালে গরমে অস্বস্তি হবে এবং এতে ইস্তাম্বুলে আপনার একটি দিন নষ্ট হয়ে যাবে। তবে এগুলি সাধারণত প্রতারণার একটি কৌশল। প্রাইভেট ফেরি অপারেটররা অতিরিক্ত বেশি দাম আদায় করে বা সস্তা মূল্যে টিকিট বিক্রি করে পরে রিটার্ন ফি হিসেবে উচ্চ চার্জ করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাবলিক ফেরি কোনো অডিও ভাষ্য প্রদান করে না এবং এটি একেবারে সহজ ধরনের একটি সেবা। তাই দর্শনীয় স্থান চিহ্নিত করার দায়িত্ব যাত্রীদের নিজেকেই নিতে হয়। এছাড়া, পাবলিক ফেরিতে টয়লেট পেপার থাকে না এবং ওয়াশরুমের অবস্থা সাধারণত শোচনীয়। প্রয়োজন হলে যাত্রীদের নিজের টয়লেট পেপার সঙ্গে রাখতে হয় এবং ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হতে পারে।
প্রাইভেট ফেরির বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের ক্রুজ অফার করে থাকে। পাবলিক ফেরির তুলনায় এদের ভাড়া অনেক বেশি হলেও তারা অডিও ভাষ্য, টয়লেট পেপারসহ উন্নত ওয়াশরুম এবং ছোট লাইন প্রদান করতে পারে। প্রাইভেট ফেরিগুলি সাধারণত সংক্ষিপ্ত বসফরাস ট্যুর অফার করে যা ৭০ তুর্কি লিরা থেকে শুরু হয়। সপ্তাহান্তে খোলা ডেকগুলির চাহিদা অনেক বেশি, তাই যদি আপনার বাইরে বসার সুযোগ না থাকে, তবে আপনার আশেপাশে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকবে এবং দৃশ্য দেখার জন্য জায়গা সংকুচিত হয়ে যাবে বলে আশা করতে পারেন।
আনাতোলু কাভাগিতে ফেরি কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে, এবং এখানে নামার পর অনেক রেস্টুরেন্ট ও তাদের কর্মীদের আপনি পাবেন। এখান থেকে আপনি ইয়োরোস কেলেসি নামে একটি কৌশলগত দুর্গ পর্যন্ত হাঁটতে পারেন, যা কালো সাগরের প্রবেশপথের ওপর নজর রাখার সুযোগ দেয়। তবে দুর্গের কাছাকাছি এলাকা বেশ বিপজ্জনক, তাই '''সতর্কতা '''প্রয়োজন। এই দুর্গে পৌঁছানোর পথটি মোটামুটি পাকা, তবে শেষের ১০ মিটার পথটি এখনো পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের সামনে রয়েছে। এটি বহু বছর ধরে যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং শেষবার এটি ১৯ শতকে ব্যবহৃত হয়েছিল। দুর্গটি বর্তমানে অবহেলায় পড়ে আছে, তবে এর পাথরের কাজের মধ্যে খ্রিস্টান খোদাই এখনও দেখা যায়। এখান থেকে কালো সাগরের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
দুর্গের আশেপাশে কয়েকটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ইয়োরোস ক্যাফে উল্লেখযোগ্য। এই ক্যাফেতে চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়, তবে খাবার ও সেবার মান গড় পর্যায়ের। গ্রামে ফিরে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। আনাতোলু কাভাগি থেকে এমিনোনু ফেরি টার্মিনালে ফেরার জন্য পুরো দিনটি উপভোগ্য এবং সুন্দরভাবে কাটানো সম্ভব।
=== ফুটবল ===
ইস্তাম্বুল শহরে সুপার লিগে খেলা ছয়টি ফুটবল ক্লাব রয়েছে, যেগুলো তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলে অংশগ্রহণ করে। এই ক্লাবগুলো হলো বেসিকতাস, ফেনেরবাহচে, গালাতাসারাই, বাসাকশেহির, কাসিমপাশা এবং আইউপসপোর। প্রথম তিনটি ক্লাব সবসময়ই শীর্ষ স্তরে খেলেছে এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে। এই দলগুলোর মধ্যকার ম্যাচগুলো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে থাকে, এবং টিকিটগুলো সাধারণত আগে থেকেই বুকিং করে নিতে হয়। মাঠের পরিবেশ প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতি বেশ বিদ্বেষপূর্ণ হতে পারে, তাই খেলা শেষে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের রং এড়ানো এবং কোনো বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলাই ভালো।
'''বেসিকতাস জে কে''' খেলায় ভোডাফোন পার্কে, যার ধারণক্ষমতা ৪১,৯০৩। এটি বসফরাসের ইউরোপীয় পাড়ে ডলমাবাহচে প্রাসাদের পাশে অবস্থিত, তাসকিম মেট্রো স্টেশন থেকে প্রায় ১ কিমি পূর্বে।
'''ফেনেরবাহচে এস কে''' খেলায় ৪৭,৮৩৪ ধারণক্ষমতার শুকরু সারাকোগ্লু স্টেডিয়ামে (যা 'উলকার স্টেডিয়াম' নামেও পরিচিত)। এটি বসফরাসের এশীয় পাড়ে অবস্থিত, কাজিকয় মেট্রো স্টেশন এবং ফেরি কোয়াই থেকে প্রায় ১ কিমি পূর্বে।
'''গালাতাসারাই এস কে''' খেলায় তুর্ক টেলিকম স্টেডিয়ামে, যার ধারণক্ষমতা ৫২,৩৩২। এটি ইউরোপীয় ইস্তাম্বুলের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। এখানে পৌঁছাতে সেয়রান্তেপে মেট্রো স্টেশন ব্যবহার করা হয়।
'''বাসাকশেহির এফ কে''' খেলায় ফাতিহ তেরিম স্টেডিয়ামে, যার ধারণক্ষমতা ১৭,৩১৯। এটি শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত, মেট্রোকেন্ট স্টেশন থেকে প্রায় ১ কিমি উত্তরে।
'''কাসিমপাশা এস কে''' খেলায় ১৪,২৩৪ ধারণক্ষমতার রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান স্টেডিয়ামে, যা বেয়োগলু জেলার গোল্ডেন হর্নের উত্তরে অবস্থিত। স্টেডিয়ামটি বর্তমান তুর্কি প্রেসিডেন্টের নামে নামকরণ করা হয়েছে, যিনি এখানকার আশেপাশে বেড়ে উঠেছেন এবং ফুটবল খেলেছেন।
'''আইউপসপোর''' ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো সুপার লিগে উন্নীত হয়েছে। তাদের স্টেডিয়ামটি ২,৫০০ ধারণক্ষমতা নিয়ে আইউপ জেলার ও-১ বসফরাস ব্রিজের উত্তরে অবস্থিত।
ইস্তাম্বুলে সুপার লিগের বাইরে নিম্ন স্তরের অন্যান্য পেশাদার দলও রয়েছে, যেমন ইস্তাম্বুলস্পোর, ফাতিহ কারাগুমরুক এবং পেনডিকস্পোর।
তুরস্কের জাতীয় স্টেডিয়াম হলো আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়াম ('আতাতুর্ক অলিম্পিয়াট স্টাডি'), যার ধারণক্ষমতা ৭৬,০০০। এটি শহরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এবং অলিম্পিয়াট বা অলিম্পিয়াট পার্কি মেট্রো স্টেশন ব্যবহার করে সেখানে যাওয়া যায়। স্টেডিয়ামটিতে কোনো রেসিডেন্ট দল নেই, তবে বিভিন্ন ক্লাব তাদের নিজস্ব স্টেডিয়াম অপ্রাপ্য থাকাকালে এখানে খেলে থাকে। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৯২,০০০ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এটি বাস্তবায়ন করলে অলিম্পিক আয়োজনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হবে।
=== বাস্কেটবল ===
ইস্তাম্বুলে বাস্কেটবলেরও বড় একটি উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে ২০২৪-২৫ মৌসুমে পুরুষদের 'বাস্কেটবল সুপার লিগ'-এ সাতটি ক্লাব খেলার জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে কয়েকটি ক্লাব বড় ফুটবল ক্লাবগুলির বাস্কেটবল শাখা।
ফেনেরবাচে দুটি বাস্কেটবল সুপার লিগ ক্লাবের মধ্যে একটি যা ইউরোলিগে স্থায়ী লাইসেন্স নিয়ে প্রতিযোগিতা করে। এটি ইউরোপের শীর্ষ পুরুষদের ক্লাব প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত। ক্লাবটি আতাশেহির জেলার উল্কার স্পোর্টস এবং ইভেন্ট হলে তাদের হোম গেম খেলে, যা ক্লাবের প্রধান বেস থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফেনেরবাচের একটি প্রতিযোগিতামূলক মহিলা বাস্কেটবল দলও রয়েছে, যা উল্কার এরেনাতেই খেলে।
অন্য স্থায়ী ইউরোলিগ অংশগ্রহণকারী হলো স্বাধীন বাস্কেটবল ক্লাব আনাতোলু এফেস, যা শহরের বৃহত্তম ইনডোর এরিনা, সিনান এরডেম ডোম ('সিনান এরডেম স্পর সলনু')-এ বকিরকয় জেলার আতাকয় কোয়ার্টারে, শহরের ইউরোপীয় অংশে খেলে।
আরও যারা বাস্কেটবল সুপার লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারা হলো বাহচেশেহির (যা এরিনা ফেনেরবাচের সাথে ভাগ করে), বেসিকতাস, বুইউকচেকমেসে, দারুসশাফাকা এবং গালাতাসারাই (যা এরিনা আনাতোলু এফেসের সাথে ভাগ করে)।
== ভাষা শেখা ==
ইস্তাম্বুলে ভ্রমণ বা বসবাস করার সময়, তুর্কি ভাষা শেখা আপনার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। এই শহরে অনেক ভাষা স্কুল রয়েছে যা বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য তুর্কি ভাষা শেখার সুযোগ করে দেয়।
ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয় তুর্কি ভাষা স্কুল:
ইস্তাম্বুলে অনেক ভাষা স্কুল রয়েছে, কিন্তু কিছু স্কুল অন্যদের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এই স্কুলগুলো সাধারণত তাদের অভিজ্ঞ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষার পদ্ধতি এবং বিস্তৃত কোর্সের জন্য পরিচিত। এই স্কুলগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল:
* [http://www.iti-istanbul.com/ '''আইটিআই ইস্তাম্বুল''']: এই স্কুলটি লেভেন্টে অবস্থিত এবং তুর্কি ভাষা শেখার জন্য একটি জনপ্রিয় পছন্দ।
* [http://dilmer.com/ '''দিলমার'''] গুমুশসুইয়ে অবস্থিত এই স্কুলটিও তুর্কি ভাষা শেখার জন্য একটি ভাল বিকল্প।
* [http://iladil.com/ '''ইলাদিল''']: ফাতিহে অবস্থিত এই স্কুলটি বিভিন্ন ধরনের তুর্কি ভাষা কোর্স অফার করে।
* [http://tomer.ankara.edu.tr/taksim-subesi/ '''টোমার''']: আঙ্কারা ইউনিভার্সিটির সাথে যুক্ত এই স্কুলটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে তীব্র তুর্কি ভাষা কোর্স পরিচালনা করে।
* [http://turkishcourses.com '''কনসেপ্ট ল্যাঙ্গুয়েজ''']: ইতিলারে অবস্থিত এই স্কুলটি তুর্কি ভাষা শেখার জন্য একটি আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে।
* '''[http://boun.edu.tr/index_eng.html বোগাজিচি বিশ্ববিদ্যালয়]''': এই বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য তুর্কি ভাষা শেখার একটি ইন্টেনসিভ কোর্স পরিচালনা করে।
* '''বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি অ্যাব্রড প্রোগ্রাম:''' বোগাজিচি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিলগি বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ই বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজিতে ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত স্টাডি অ্যাব্রড প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এই প্রোগ্রামগুলিতে তুর্কি ভাষা শেখার পাশাপাশি তুর্কি সংস্কৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কেও জানার সুযোগ মেলে।
* '''ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কাজ''': ইস্তাম্বুলে বসবাসরত অনেক বিদেশি ইংরেজি শেখানোর মাধ্যমে নিজেদের সমর্থন করেন। একটি ভাল শংসাপত্র থাকলে একটি ভাল শিক্ষকতার চাকরি খুঁজে পাওয়া সাধারণত সহজ হয়। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের CELTA এবং DELTA কোর্সগুলি এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
=== অটোমান তুর্কি ===
যদি আপনি ইতিমধ্যেই তুর্কি ভাষা জানেন, তাহলে অটোমান তুর্কি শেখার বিষয়টি আপনার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। অটোমান তুর্কি ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের সময়ে ব্যবহৃত ভাষা এবং আধুনিক তুর্কি ভাষা থেকে কিছুটা ভিন্ন। অটোমান তুর্কি শেখার মাধ্যমে আপনি তুর্কির ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি, সাহিত্য এবং চিঠিপত্র পড়তে পারবেন। ইস্তাম্বুলে কয়েকটি সংস্থা আছে যেখানে আপনি অটোমান তুর্কি শিখতে পারেন।
* ইসমেক [[Tel:+90 ২১২ ৫৩১ ০১ ৪১|+৯০ ২১২ ৫৩১ ০১ ৪১]] ইস্কেন্ডারপাসা, ক্যাডেসি, হাকি সালিহ এফেন্দি সোকাক, ৬ ফাইথ।
* '''[http://tarihvakfi.org.tr/ তারিহ ওয়াকফı]''' [[টেলি:+90 ২১২ ৫২২ ০২ ০২|+৯০ ২১২ ৫২২ ০২ ০২]] জিন্দানকাপি দেগিরমেন সোকাক, ১৫ এমিনুনু।
== কাজ ==
ইস্তাম্বুলে ইংরেজি ভাষা শিক্ষকদের জন্য সবসময় চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে যারা ইংরেজি ভাষা শেখাতে যোগ্য, তাদের জন্য কাজের সুযোগ আরও বেশি। অনেক ইংরেজি শিক্ষক বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আবার অনেকে ফ্রিল্যান্স হিসেবে বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করে থাকেন।
ইস্তাম্বুল তুরস্কের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে বহু জাতীয় কোম্পানি এবং ব্যাংকের অফিস রয়েছে। এইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ইংরেজি ভাষা শেখার প্রয়োজন হয়। ফলে ইংরেজি শিক্ষকদের চাহিদাও বেড়ে যায়।
গত কয়েক বছরে ইস্তাম্বুলে অনেক উঁচু ভবন এবং ব্যবসায়িক কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। এইসব কেন্দ্রগুলোতেও ইংরেজি ভাষা শিক্ষকের প্রয়োজন হয়।
== ক্রয় ==
[[চিত্র:Grand_bazaar.jpg|থাম্ব|গণ প্রজাতন্ত্র দিবসের সময় গ্র্যান্ড বাজার]]
=== টাকা ===
শহরে গিয়ে দেখবেন যে অনেক জায়গায়ই ইউরো এবং মার্কিন ডলার গ্রহণ করা হয়। তবে, কিছু ছোট দোকান বা বাজারে শুধুমাত্র তুর্কি লিরা গ্রহণ করা হয়। তাই, ইস্তাম্বুলে যাত্রা করার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
'''ইস্তাম্বুলে মুদ্রা বিনিময়:'''
* '''মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র এবং ব্যাংক:''' ইস্তাম্বুলে মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র (döviz bürosu) এবং ব্যাংক সহজেই পাওয়া যায়। এই জায়গাগুলোতে আপনি আপনার বিদেশি মুদ্রা তুর্কি লিরায় বিনিময় করতে পারবেন। এখানে বিনিময় হার সাধারণত অনেক ভালো হয়।
* '''এয়ারপোর্টে বিনিময় এড়িয়ে চলুন:''' এয়ারপোর্টে মুদ্রা বিনিময় করার কথা ভাববেন না। এখানে বিনিময় হার খুবই কম থাকে। শহরে এসে কোনো ব্যাংক বা মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র থেকে মুদ্রা বিনিময় করুন।
* '''কোন মুদ্রা নিয়ে যাবেন:''' মার্কিন ডলার এবং ইউরো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা। তবে, অন্যান্য প্রধান মুদ্রাও গ্রহণ করা হয়। তবে মনে রাখবেন, অন্যান্য মুদ্রা বিনিময় করলে হারটি কম ভালো হতে পারে।
* '''দেশ ছাড়ার আগে বাকি টাকা বিনিময় করুন:''' ইস্তাম্বুল থেকে দেশে ফেরার আগে আপনার কাছে যে তুর্কি লিরা বাকি আছে, সেগুলো বিনিময় করে নিন। অন্য দেশে তুর্কি লিরা বিনিময় করা কঠিন হতে পারে এবং ভালো দামও পাওয়া যাবে না।
=== কেনাকাটা ===
{{seeDistricts}}
ইস্তাম্বুল শুধুমাত্র তার ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, এটি একই সাথে একটি প্রাণচঞ্চল বাণিজ্য কেন্দ্রও। পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যকার এই সংযোগস্থলটি দীর্ঘকাল ধরে বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে আসছে। এই ঐতিহ্যের কারণেই ইস্তাম্বুলে কেনাকাটা আপনার ভ্রমণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।
'''ইস্তাম্বুলে কেনাকাটার কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:'''
* দোকানের ছুটি: ইস্তাম্বুলে অনেক দোকান রবিবার বন্ধ থাকে। তাই কেনাকাটার পরিকল্পনা করার আগে দিনটি জেনে নেওয়া ভাল।
* শপিং মলের নিরাপত্তা: ইস্তাম্বুলে বড় বড় শপিং মলে প্রবেশের আগে সাধারণত নিরাপত্তা চেক হয়। বিমানবন্দর বা জাদুঘরে প্রবেশের আগে যেভাবে নিরাপত্তা চেক হয়, শপিং মলেও প্রায় একইভাবে নিরাপত্তা চেক করা হয়।
* ইস্তাম্বুলে আপনি বিভিন্ন ধরনের বাজার এবং দোকান পাবেন। এখানে আপনি স্থানীয় হস্তশিল্প, কাপড়চোপড়, মসলা, চা, এবং আরও অনেক কিছু কিনতে পারবেন। গ্র্যান্ড বাজার, স্পাইস বাজার, এবং ইস্তিকলাল স্ট্রিট ইস্তাম্বুলে কেনাকাটার জন্য জনপ্রিয় জায়গা।
==== কী কেনা যায় ====
নিম্নলিখিত কিছু জিনিস ইস্তাম্বুলে কেনাকাটার জন্য জনপ্রিয়:
ইস্তাম্বুল ভ্রমণের স্মৃতি সারাজীবন ধরে রাখতে চান? শুধুমাত্র ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সুন্দর দৃশ্যই নয়, ইস্তাম্বুলের স্বাদ আপনি বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন। এখানকার বিভিন্ন খাবার, পানীয়, হস্তশিল্প আপনার ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।
* তুর্কি মিষ্টি (লোকুম): ইস্তাম্বুলে এলে লোকুম না খেয়ে যাওয়া অসম্ভব! বিভিন্ন স্বাদে পাওয়া যায় এই মিষ্টি। গোলাপ, লেবু, পেস্তা, ফিস্তা সবই চেষ্টা করে দেখতে পারেন। ইস্তিকলাল স্ট্রিট বা গ্র্যান্ড বাজারে আপনি বিভিন্ন ধরনের লোকুম পাবেন।
* তুর্কি চা: তুর্কি চা তাদের নিজস্ব এক অনন্য স্বাদে পরিচিত। এই চা সাধারণত একটা ছোট টিউলিপ আকৃতির গ্লাসে পান করা হয়। ইস্তাম্বুলে চায়ের দোকানে গিয়ে আপনি এই চা খেতে পারেন। পর্যটকদের মধ্যে এলমা চায় (আপেলের চা) বেশ জনপ্রিয়।
* তুর্কি কফি: তুর্কি কফি একটি ঘন এবং সুস্বাদু কফি। এটি একটি ছোট পাত্রে তৈরি করা হয় এবং কাপে ঢালার সময় কফির পিঁপড়া নিচে বসে থাকে।
* নারগিলে: নারগিলে বা হুক্কা ধূমপানের একটি ঐতিহ্যবাহী উপায়। বিভিন্ন স্বাদের তামাক ব্যবহার করে নারগিলে ধূমপান করা হয়।
* রাগ এবং কিলিম: রাগ এবং কিলিম তুর্কির ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা কাপড়। এগুলো ইস্তাম্বুলে অনেক দোকানে পাওয়া যায়।
* ক্যালসেডনি: ক্যালসেডনি একটি অর্ধ-মূল্যবান রত্ন। ইস্তাম্বুলে অনেক গহনা দোকানে ক্যালসেডনি দিয়ে তৈরি গয়না পাওয়া যায়।
==== কোথায় কিনবেন ====
* ঐতিহ্যবাহী বাজার: ইস্তাম্বুলে অনেক ঐতিহ্যবাহী বাজার রয়েছে যা একসময় সিল্ক রোড এবং মশলা রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এই বাজারগুলো প্রাচীন শহরের উপদ্বীপে অবস্থিত। গ্র্যান্ড বাজার হল এমন একটি বাজার যেখানে আপনি সব ধরনের জিনিসপত্র পাবেন, মসলা থেকে শুরু করে হাতের কাজের জিনিসপত্র পর্যন্ত।
তবে মনে রাখবেন, এই বাজারগুলো এখন পর্যটকদের কাছে বেশি পরিচিত। তাই দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। যদি আপনি স্থানীয়দের মতো কেনাকাটা করতে চান তাহলে এমিনোনু মসলা বাজারে যেতে পারেন। এখানে দাম অনেকটা কম।
* আধুনিক শপিং মল: ইস্তাম্বুলের আধুনিক রূপের সাথে সাথে শহরে অনেক আধুনিক শপিং মলও গড়ে উঠেছে। এই মলগুলোতে আপনি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের পোশাক, জুতা, এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পাবেন। নতুন ইস্তাম্বুল এবং পশ্চিম উপকণ্ঠে এই ধরনের মলগুলো বেশি দেখা যায়।
* টেক্সটাইল এবং ফ্যাশন: লালেলি এলাকা টেক্সটাইল পাইকারি ব্যবসার জন্য বিখ্যাত। অন্যদিকে, নিশানতাশি এবং বাগদাত এভিনিউ হাই-এন্ড ফ্যাশন শপিংয়ের জন্য জনপ্রিয়।
== খাওয়া দাওয়া ==
{{seeDistricts}}
=== স্ন্যাকস ===
[[চিত্র:Istanbul_Fish_Sandwiches.JPG|ডান|থাম্ব|এমিনোনুর জলসীমায় বালিক একমেক রেস্তোরাঁ]]এই শহরের খাবারের সংস্কৃতিও বিশ্বখ্যাত। পূর্ব ও পশ্চিমের সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সৃষ্টি হওয়া এই খাবারগুলি আপনার মুখে জল আনবে। আসুন ইস্তাম্বুলে আপনার স্বাদের যাত্রাকে আরও মজাদার করে তুলতে কিছু জনপ্রিয় খাবারের সাথে পরিচিত হওয়া যাক।
* '''মেজে:''' মেজে মূলত তুর্কি সংস্করণের ট্যাপাস। ছোট ছোট পাত্রে বিভিন্ন ধরনের গরম ও ঠান্ডা খাবারের সমাহারকে মেজে বলে। মেয়হানে নামে পরিচিত ছোট রেস্তোরাঁগুলোতে মেজে খাওয়া সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা।
* '''আলেকজান্ডার দোনের:''' দোনেরের এক বিশেষ রূপ হল আলেকজান্ডার দোনের। এটি মূলত পিতার রুটির উপর মাখনের সঙ্গে টমেটো সস দিয়ে তৈরি। সাধারণত এর সাথে দইও দেওয়া হয়। এই খাবারটি মূলত বুরসা থেকে এসেছে।
* '''দোনের:''' দোনের হল তুর্কির একটি জনপ্রিয় খাবার। এটি দ্রুত এবং সস্তায় পেতে পারেন। ইস্তিকলাল স্ট্রিটের চারপাশে অনেক ছোট ছোট দোনের রেস্তোরাঁ রয়েছে। তবে আরও ভাল মানের দোনের খেতে চাইলে আবাসিক এলাকায় খুঁজে দেখতে পারেন।
* '''লাহমাজুন:''' লাহমাজুন মূলত পাতলা ময়দার উপর মাংস, পেঁয়াজ, টমেটো, পার্সলি এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি একটি খাবার। সাধারণত এটি লেবুর রস ছিটিয়ে পরিবেশন করা হয়।
* '''দুুরুম:''' দুুরুম হল একটি তুর্কি র্যাপ যা সাধারণত লবাশ বা ইউফকা ফ্ল্যাটব্রেড দিয়ে তৈরি হয়। এতে কাবাব বা দোনেরের উপাদান থাকে।
* '''বালিক-একমেক:''' বালিক-একমেক অর্থাৎ মাছের স্যান্ডউইচ। এটি সাধারণত ইমিনোনু এবং কাদিকোয় এলাকায় পাওয়া যায়।
* '''হামসি:''' শরৎ এবং শীতকালে কালো সাগর থেকে ধরা হামসি মাছ ইস্তাম্বুলে খুব জনপ্রিয়। এই মাছ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হয়।
* '''পাটসো:''' পাটসো হল হট ডগ এবং ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের একটি স্যান্ডউইচ। এটি সাধারণত উস্কুদার উপকূলে পাওয়া যায়।
* '''ডন্ডুরমা:''' ডন্ডুরমা হল তুর্কির একটি বিশেষ ধরনের আইসক্রিম। এটির স্বাদ এবং টেক্সচার অন্য আইসক্রিম থেকে আলাদা।
* '''কুম্পির:''' কুম্পির হল একটি বেকড আলু যার মধ্যে বিভিন্ন উপাদান যেমন চিজ, মেয়োনিজ, কেচাপ, আচার ইত্যাদি ভরে দেওয়া হয়।
'''অন্যান্য খাবার:'''
* রোস্টেড চেস্টনাটস
* সিদ্ধ এবং ভাজা ভুট্টা ছোলার উপর
* সিমিট (এক ধরনের উষ্ণ রুটি)
* আয়রান (দই দিয়ে তৈরি একটি পানীয়)
এই খাবারগুলি ছাড়াও ইস্তাম্বুলে আরও অনেক সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। তাই ইস্তাম্বুল ভ্রমণের সময় এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন খাবার চেখে দেখুন।
== পানীয় ==
{{seeDistricts}}এই শহরে রাত কাটাতে চাইলে আপনার জন্য অনেক কিছুই আছে। বিলাসবহুল রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে লাইভ মিউজিক বার, নাইটক্লাব এবং আরো অনেক কিছু।
* '''বেবেক:''' ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত বেবেক শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে হলেও রাতের জীবনের জন্য খুব জনপ্রিয় একটি জায়গা। এখানে আপনি অনেক ফ্যাশনেবল রেস্টুরেন্ট এবং বার পাবেন। রাতের খাবারের পর সাগরের ধারে হাঁটা একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা হতে পারে।
* '''বাগদাত ক্যাডেসি:''' ইস্তাম্বুলের দক্ষিণ আনাতোলিয়া অংশে অবস্থিত বাগদাত ক্যাডেসি একটি দীর্ঘ সড়ক, যেখানে আপনি ভালো রেস্টুরেন্ট, বুটিক এবং উচ্চমানের দোকান পাবেন। রাতে এই এলাকাটি আরও জমজমাট হয়ে ওঠে।
* '''কারাকয়:''' কারাকয় ইস্তাম্বুলের একটি উদীয়মান এলাকা। এখানে আপনি মারমারা সাগরের দৃশ্যসহ আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
* '''বেয়োগলু:''' বেয়োগলুতে আপনি অনেক ক্যাফে এবং বার পাবেন যেখানে লাইভ মিউজিক হয়। রাতে এই এলাকাটি খুবই জমজমাট থাকে।
* '''নিসান্তাসি:''' নিসান্তাসি তরুণ উদ্যোক্তা এবং শিল্পীদের জন্য একটি জনপ্রিয় জায়গা। এখানে আপনি অনেক ফ্যাশনেবল রেস্টুরেন্ট এবং বার পাবেন। তবে এখানকার দাম তক্ষিমের চেয়ে কিছুটা বেশি।
* '''কাদিকয়:''' কাদিকয়ের রাতের জীবন বেশ সহজ-সরল। এখানে আপনি স্থানীয় পাব, ওয়াইন হাউস এবং ঐতিহ্যবাহী মেহানে পাবেন।
* '''নাইটক্লাব:''' ইস্তাম্বুলে অনেক নাইটক্লাব আছে। তবে ওর্তাকয় এলাকা নাইটক্লাবের জন্য বিখ্যাত।
== রাত্রিযাপন ==
{{seeDistricts}}শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়। আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী এলাকা নির্বাচন করতে পারেন।
* '''হার্বিয়ে:''' ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত হার্বিয়ে একটি জনপ্রিয় থাকার জায়গা। এখানে আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেল এবং বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য হোস্টেলও পাওয়া যায়। নিসান্তাসি এবং তক্ষিমের কাছাকাছি হওয়ায় এখান থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করা সহজ।
* '''তক্ষিম:''' ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশের প্রাণকেন্দ্র হল তক্ষিম। এখানে কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া এবং বিনোদনের জন্য অনেক জায়গা আছে। বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য মাঝারি মানের হোটেল এবং হোস্টেলও পাওয়া যায়।
* '''সুলতানাহমেত:''' ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক অংশ সুলতানাহমেত। এখানে সোনালী শিঙা, মারমারা সাগর এবং নীল মসজিদের মতো বিখ্যাত স্থানগুলি দেখতে পাবেন। এখানে যুক্তিসঙ্গত দামে মানসম্মত হোটেল পাওয়া যায়। স্বাধীন ভ্রমণকারীরা প্রায়ই এই অঞ্চলের হোস্টেল-ধর্মী থাকার ব্যবস্থা ব্যবহার করেন।
* '''পশ্চিম শহরতলি:''' ইস্তাম্বুলের পশ্চিম শহরতলীতে, বিশেষ করে প্রাক্তন বিমানবন্দরের আশেপাশে এবং বসফরাসের তীরবর্তী এলাকায় উচ্চমানের হোটেলগুলি পাওয়া যায়।
* '''কারাভান পার্ক:''' সুলতানাহমেতের দক্ষিণে আহিরকাপি, মালতেপে এবং বসফরাসের উভয় পাশে কিছু দূরবর্তী গ্রামে কারাভান পার্ক রয়েছে। এখানে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে সময় কাটাতে পারবেন। '''কিছু টিপস:'''
** '''আগে থেকে বুক করুন:''' বিশেষ করে পিক সিজনে আগে থেকে হোটেল বুক করা ভালো।
** '''অবস্থান:''' আপনি যে স্থানে থাকবেন সেখান থেকে আপনার যেসব জায়গা দেখতে যাবেন সেগুলো কতটা দূরে তা দেখে নিন।
** '''বাজেট:''' আপনার বাজেট অনুযায়ী হোটেল বেছে নিন।
** '''সুবিধা:''' আপনার জন্য কোন সুবিধাগুলো গুরুত্বপূর্ণ তা ভেবে নিন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কি ফ্রি ওয়াইফাই চান? কিংবা সুইমিং পুল?
*
== নিরাপদে থাকুন ==
ইস্তাম্বুল একটি দুর্দান্ত শহর ভ্রমণ করার জন্য, কিন্তু যে কোনো নতুন জায়গায় ভ্রমণের মতো, আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। ইস্তাম্বুলে নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে, নিচের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন:
* '''ট্রাফিক সচেতনতাঃ''' ইস্তাম্বুলে ট্রাফিকের অবস্থা কিছুটা ব্যস্ত। অনেক চালকই ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে চালান। তাই, রাস্তা পার হওয়ার সময় সবসময় সাবধান থাকুন, এমনকি যখন সবুজ সিগন্যাল জ্বলছে। শর্টকাট নেওয়া ইস্তাম্বুলে খুবই সাধারণ একটি বিষয়। তাই, রাস্তা পার হওয়ার আগে দুইদিকেই ভালো করে দেখে নিন।
* '''ভূমিকম্পের ঝুঁকিঃ''' ইস্তাম্বুল ভূমিকম্পপ্রবণ একটি এলাকা। আগামী কয়েক দশকে বড় ধরনের ভূমিকম্প আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, ইস্তাম্বুলে যাত্রা করার আগে ভূমিকম্পের সময় কী করণীয়, সে সম্পর্কে নিজেকে অবহিত করে নিন।
* '''পকেটমারিদের সতর্কতাঃ''' ইস্তাম্বুলে জনাকীর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে পর্যটকদের ঘনঘন আসা জায়গাগুলোতে পকেটমারির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই, আপনার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের দিকে সবসময় খেয়াল রাখুন। পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
* '''দাম চুক্তিঃ''' ইস্তাম্বুলে অনেক দোকান ও রেস্টুরেন্টে মূল্য তালিকা থাকে না। তাই, কিছু কেনার আগে সবসময় দাম জিজ্ঞাসা করুন। পর্যটকদের কাছ থেকে অনেক সময় অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয়।
* '''ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বঃ''' ইস্তাম্বুলে তিনটি বড় ফুটবল ক্লাব রয়েছে: বেসিকতাস, ফেনারবাহচে এবং গালাতাসারাই। এই ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব তীব্র। তাই, ম্যাচের দিনে এই ক্লাবগুলোর রং পরা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে যদি আপনি বিপক্ষ দলের সমর্থক হন।
* '''হোটেলে চুরিঃ''' ইস্তাম্বুলে হোটেলে চুরির ঘটনা খুব বেশি হয় না, তবে সতর্ক থাকা জরুরি। আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র সবসময় নিজের কাছে রাখুন।
=== প্রতারণা ===
==== বিমানবন্দর প্রতারণা ====
এটি ২০২২ সালের একটি নতুন প্রতারণার কৌশল। যখন নিরাপত্তা চৌকির মাধ্যমে দ্রুত অতিক্রম করতে হয়, তখন অনেকের মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপত্তা কর্মীদের অদৃশ্য হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময়, তারা মানুষকে তাড়াহুড়ো করার জন্য চাপ দিতে থাকে বা তাদের জিনিসপত্র খুলে ফেলতে বলে। এই মুহূর্তগুলোকে ব্যবহার করে তারা জিনিসপত্র চুরি করে ফেলে, এবং অনেক সময় লোকেরা গেট পার হওয়ার পর কিংবা বিমানে ওঠার পর দেখতে পায় যে তাদের কিছু জিনিস গায়েব হয়ে গেছে।
যদি আপনার সাথে এমন কিছু ঘটে, তবে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করুন। তারা প্রায়শই নিরাপত্তা ক্যামেরার মাধ্যমে এই ঘটনাগুলি শনাক্ত করতে পারে এবং চোরদের শনাক্ত করতে পারে।
==== জুতার পালিশ প্রতারণা ====
কিছু লোক পর্যটকদের সাধারণত যাতায়াতের এলাকায় জুতা পালিশের সামগ্রী নিয়ে ঘোরাফেরা করে, এবং হঠাৎ করে ব্রাশটি পর্যটকের সামনে পড়ে যাবে। এতে পর্যটক বিবেকের তাড়নায় ব্রাশটি তুলে মালিককে ফিরিয়ে দেবে। তিনি তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং বিনামূল্যে আপনার জুতা পালিশ করার প্রস্তাব দেবেন। এ কাজ করার সময় তিনি বলবেন যে তিনি অন্য শহর থেকে এসেছেন, তিনি গরিব, এবং তার একটি অসুস্থ সন্তান বা স্ত্রী রয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পরে তিনি "বিনামূল্যে" সেবার জন্য একটি বড় অংক দাবি করবেন, যা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। অনেক পর্যটক অপরাধবোধ থেকে অর্থ প্রদান করে ফেলে; এটি করবেন না, কারণ এটি তাদের আরও উৎসাহিত করবে!
যদি আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার জুতা পালিশ করানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে ৫-১০ টাকার বেশি দেওয়া উচিত নয়।
একই ধরনের আরেকটি কৌশল হল সিগারেট চাইতে আসা, তারপর প্রতারক একইভাবে এগোয়।
==== নীল মসজিদের প্রতারণামূলক "গাইড" ====
নীল মসজিদের প্রবেশদ্বার দিয়ে হাঁটার সময়, হাস্যোজ্জ্বল, বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকুন, যারা সাথে সাথেই মসজিদ এবং এর আশেপাশে আপনার ডি-ফ্যাক্টো গাইড হতে চায়। তারা মসজিদের আদব, ইতিহাস এবং ইসলামী প্রথা সম্পর্কে অনেক তথ্য প্রদান করবে। তবে, শেষমেশ তারা তাদের "পরিসেবা" এর জন্য ১০০ টাকার বেশি ফি দাবি করবে। আপনি অনলাইনে একটি ব্যক্তিগত ট্যুর বুক করতে পারেন, অথবা করতে হবে না, কারণ মসজিদ মূলত সবার জন্য বিনামূল্যে।
==== রেস্তোরাঁ কেলেঙ্কারি ====
পর্যটকদের দামি কিন্তু মানহীন রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু কৌশল ব্যবহৃত হয়:
আপনি হাঁটছেন, আর একজন তুর্কি লোক এসে বলবে যে সে আপনাকে আপনার হোটেল থেকে চিনেছে (যেমন সে সেখানে ওয়েটার বা রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করে)। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন আপনি কোথায় যাচ্ছেন। যদি আপনি খাবারের জন্য বের হন, তিনি একটি রেস্টুরেন্টের পরামর্শ দেবেন, দাবি করবেন যে এটি এমন একটি স্থান যেখানে তিনি নিজের পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে খেতে যান। তিনি আপনাকে আরও কিছু পরামর্শ দেবেন (যেমন টোপকাপি প্রাসাদ দেখার সেরা সময়), যাতে কথাবার্তা বন্ধুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। তিনি যে রেস্টুরেন্টটি পরামর্শ দেবেন তা প্রায়শই মানহীন হবে, আর কর্মীরা আপনাকে ব্যয়বহুল খাবার অর্ডার করানোর চেষ্টা করবে, যেমন 'MP' (মার্কেট প্রাইস) লেখা খাবার। এই ধরনের একটি রেস্টুরেন্টের মধ্যে একটি হচ্ছে সুলতানাহমেটে অবস্থিত হাচি বাবা, যেখানে এই কৌশলটি ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।
তাকসিমে, কিছু রেস্টুরেন্টের মালিকরা আপনাকে সরাসরি হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে পারে এবং আপনাকে তাদের রেস্টুরেন্টে খেতে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। এই ধরনের আগ্রাসী আচরণ স্পষ্টতই একটি প্রতারণা।
==== বার এবং ক্লাব কেলেঙ্কারি ====
আকসারায়, বেয়াজিৎ ও তাকসিম এলাকায় অবস্থিত তথাকথিত নাইটক্লাবগুলোতে প্রায়ই পানীয়ের দাম বেশি নেওয়ার কৌশল প্রয়োগ করা হয়। এই ক্লাবগুলো প্রায়ই নকল মেনু ব্যবহার করে বা টেবিলের মেনু উল্টানো অবস্থায় রেখে আপনাকে অত্যধিক বিলের মুখোমুখি করবে। দুই বা তিনটি পানীয়ই কয়েক হাজার লিরার ফ্যান্টাসি বিল তৈরি করতে পারে।
আরও একটি প্রতারণার ধরন হল রাস্তায় বন্ধুত্বপূর্ণ পুরুষ-নারী জুটি বা কেবল পুরুষদের একটি দল আপনাকে আলাপের মধ্যে টেনে এনে একটি "ভালো নাইটক্লাব" এর আমন্ত্রণ জানানো। তারা আপনাকে প্রথমে খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারে, যাতে আপনার সন্দেহ কমে যায়। আরেকটি পদ্ধতি হল তুর্কিতে কথা বলার সময় আপনার সাথে কথা বলা, তারপর আপনি আপনার ভাষায় মৃদু প্রতিক্রিয়া দিলে তারা আপনার তুর্কি না হওয়ায় অবাক হবে এবং তাদের ভুলের জন্য আপনাকে বিয়ার দিয়ে প্রতিশোধ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করবে।
এই ধরনের প্রতারণা এড়াতে সতর্ক থাকুন, বিশেষ করে যদি কেউ আপনাকে একটি ক্লাবে নিয়ে যেতে চায়। যদি আপনি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, অবিলম্বে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন এবং পুলিশের (#১৫৫) সাহায্য নিন।
==== মেট্রো প্রতারণা এবং চুরি ====
প্রতিটি মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের সংখ্যা তুলনায় টিকিট মেশিনের সংখ্যা যথেষ্ট কম। এখানে সাধারণত কয়েকটি ইস্তানবুল কার্ড মজুদ থাকে। এই অবস্থায় প্রতারণাকারীরা বিশেষ করে টাকসিম মেট্রো স্টেশনে অবস্থান করে। তারা আপনার টিকিট কিনতে সাহায্য করার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু তারা দেখাবে যে মেশিনটি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মেট্রো কার্ডের জন্য কাজ করছে না। এটি খুব সম্ভব যে তারা সেই কার্ডগুলো নিয়ে এসেছে। এরপর তারা আপনার পৈতৃক দেশ সম্পর্কে জানতে চাইবে এবং ১০০ তুর্কি লিরা লোড করা একটি কার্ড ১০০-১২৫ টাকায় বিক্রি করার প্রস্তাব দেবে, যেন তারা আপনাকে সাহায্য করছে। কিন্তু যখন আপনি মেট্রো সফর শুরু করবেন, তখন জানতে পারবেন যে কার্ডে সেই পরিমাণের অর্ধেক বা চতুর্থাংশই রয়েছে। যদি মেশিনটি কাজ না করে, তবে স্টেশনের কাছে একটি অনুমোদিত বিক্রয় পয়েন্ট খুঁজুন, যেমন একটি দোকান বা অন্য মেশিন, সাহায্যকারী অচেনা ব্যক্তির কাছে নয়, যে ১০টি কার্ড বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছে।
এই এলাকাগুলি পকেটমারদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এখানে বিশৃঙ্খলা এবং পর্যটকদের ভিড় থাকে। পকেটমাররা সাধারণত প্রতারণাকারীদের কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত নয়। আপনার উচিত এখানে আপনার ওয়ালেট সামনের পকেটে রাখা এবং আপনার জিনিসপত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকা। যদি কেউ আপনাকে ছোঁয় বা আপনার কাঁধে হাত রাখে, তাহলে আপনি পকেটমারির শিকার হচ্ছেন এবং আপনি দ্রুত একটি অপ্রত্যাশিত দিকে ফিরে যেতে উচিত, বিশেষ করে যদি আপনার পেছনের পকেটে কিছু থাকে।
টাকসিম মেট্রোতে যেখানে এই সমস্যাগুলি বিশেষভাবে সাধারণ, সেখান থেকে এড়াতে, আপনার টিকিট বা ইস্তানবুল কার্ড বাস স্তরের একমাত্র টিকিট মেশিন থেকে কিনুন।
==== পানি প্রতারণা ====
টাকসিমে কিছু লোকের প্রতি সতর্ক থাকুন যারা আপনার গলা বা পিঠে জল ছিটিয়ে দেয়। যখন আপনি ফিরে তাকাবেন, তারা আপনার সাথে লড়াই শুরু করার চেষ্টা করবে এবং অন্য একজন এসে আপনাকে লুট করবে। এই লোকেরা সাধারণত ছুরি নিয়ে থাকে এবং খুব বিপজ্জনক হতে পারে।
==== লিরা/ইউরো কেলেঙ্কারী ====
একটি সাধারণ প্রতারণা, বিশেষত ছোট হোটেলগুলোতে (তবে এটি অন্যান্য প্রসঙ্গেও ঘটতে পারে), হল দাম লিরায় উল্লেখ করা হয় এবং পরে, যখন অর্থ প্রদানের সময় আসে, তখন দাবি করা হয় যে দামটি ইউরোতে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও হোটেল আপনাকে শুরুর দিকে অর্থ প্রদান করতে না বলে এবং বরং চলে যাওয়ার সময় অর্থ পরিশোধ করতে বলে, এটি সন্দেহজনক হতে পারে। এই ধরনের প্রতারণায় লিপ্ত হোটেলগুলো প্রায়শই চমৎকার সেবা এবং যুক্তিসঙ্গত মূল্যে থাকার ব্যবস্থা করে এবং জানে যে বেশিরভাগ অতিথি সেই সেবার প্রশংসা করে কোনও অভিযোগ ছাড়াই অর্থ প্রদান করবে—এটি ভালো হোটেলের একটি ইঙ্গিতও হতে পারে।
আরেকটি প্রতারণা হল মুদ্রা-সংক্রান্ত এবং এটি রাস্তায় ঘটতে পারে। একজন তুর্কি লোক আপনাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করবে আপনি কোন দেশ থেকে এসেছেন। যদি আপনি ইউরো-দেশ থেকে আসা বলেন, লোকটি আপনার কাছ থেকে €৫০ নোট পরিবর্তন করতে চায় এবং তার হাতে দেখানো €২ কয়েনগুলো দিয়ে আপনাকে পরিবর্তন করতে বলে। তিনি বলবেন যে ৩০টি €২ কয়েন অর্থাৎ €৬০ আপনাকে দেবে। এই লেনদেনে সম্মতি দিবেন না, কারণ প্রথম কয়েনটি সত্যিই €২ কয়েন হলেও বাকিগুলো সম্ভবত ১ লিরা কয়েন হবে, যা দেখতে একই রকম কিন্তু মূল্যে মাত্র ১/৪।
তাকসিম এলাকার অনেক বারে আপনাকে জাল নোট দেওয়া হয়। এগুলো সাধারণত খুব ভালোভাবে তৈরি করা হয় এবং অন্ধকারে জাল বুঝতে কষ্ট হয়। নোটের সত্যতা যাচাই করার একটি উপায় হল অন্য একটি নোটের সাথে এর আকার মেলানো। আরেকটি উপায় হল নোটটি একটি উজ্জ্বল আলোতে ধরে দেখা, নোটের সামনের পাশে থাকা মুখের আউটলাইনটি খুঁজে বের করা। আউটলাইনের পাশে নোটের মান (২০, ৫০ ইত্যাদি) স্বচ্ছভাবে উপস্থিত থাকা উচিত। এই দুটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কোনওটি অনুপস্থিত থাকলে নোটটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন বা পুলিশের সাথে কথা বলুন।
কিছু ট্যাক্সি ড্রাইভার প্রথমে একটি দাম ঠিক করে, পরে দাবি করে যে আপনার লিরা নোট জাল, অবৈধ বা ভুল সিরিয়াল নম্বরের। এটি একটি প্রতারণা যাতে আপনাকে ইউরো বা ইউএসডিতে অর্থ প্রদান করতে বলা হয়, যা সাধারণত অনেক বেশি দামে হয় কারণ তারা দাবি করবে তাদের কাছে খুচরা টাকা নেই।
==== ট্যাক্সি ড্রাইভার ====
নীচে উল্লেখিত বিল এবং পরিমাণগুলো পুরোনো এবং ২০২৩ সাল নাগাদ মুদ্রাস্ফীতির কারণে এগুলো তিন- থেকে চারগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সির সংখ্যা অনেক এবং এটি পশ্চিম ইউরোপ ও আমেরিকার তুলনায় যথেষ্ট সস্তা। শহরের বিভিন্ন স্থানে ট্যাক্সি হাব থেকে কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাক্সি গুলোকে ডেকে তোলা যেতে পারে। খালি ট্যাক্সিগুলো পথচারীদের দিকে হর্ণ বাজিয়ে চিহ্নিত করে, যাতে তারা ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত কি না তা জেনে নেয়। পথচারীরা ড্রাইভারের সঙ্গে চোখের যোগাযোগ করে হাত নেড়ে ট্যাক্সি ডাকতে পারে। খুব কম ট্যাক্সি ড্রাইভার তুর্কি ছাড়া অন্য ভাষা বোঝেন, তবে বিদেশী যাত্রীদের উচ্চারণে স্থানগুলোর নাম বুঝতে তারা দক্ষ। গন্তব্যের নাম লেখার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং ড্রাইভারকে দেখানোর জন্য একটি মানচিত্র নিয়ে আসা উপযুক্ত, যাতে ভুল বোঝাবুঝি এবং সম্ভাব্য প্রতারণা এড়ানো যায়। যদিও ট্যাক্সির সংখ্যা প্রচুর, তবুও মনে রাখবেন যে যেকোনো সময়ের জন্য ট্যাক্সি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে শীর্ষ ট্রাফিকের সময় এবং যখন বৃষ্টি বা তুষার পড়ছে। রাতের বেলা, এলাকার উপর নির্ভর করে এবং মধ্যরাতের পরে ট্যাক্সির সংখ্যা কম থাকে।
সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত দূরত্ব (৫-১০ মিনিটের হাঁটা) জন্য ট্যাক্সি ব্যবহার এড়ানোর চেষ্টা করুন। কিছু ট্যাক্সি ড্রাইভার এতে বিরক্ত হতে পারেন, বিশেষ করে যদি আপনি রাস্তা থেকে ট্যাক্সি ডাকেন এবং ট্যাক্সি হাব থেকে না কল করেন। যদি আপনি সংক্ষিপ্ত দূরত্বের জন্য ট্যাক্সি চান তবে সোজা রাস্তায় ডাকুন, ট্যাক্সি হাবে যাবেন না।
কিছু ট্যাক্সিতে সিটবেল্ট থাকে না এবং কিছু ড্রাইভার বেপরোয়া মনে হতে পারেন। আপনি যদি চান যে ড্রাইভারটি ধীরগতিতে চলুক, তবে "yavaş lütfen" (দয়া করে ধীরে) বলুন। আপনার অনুরোধটি সম্মানিত হতে পারে বা নাও হতে পারে।
যেকোনো বড় শহরের মতো, পর্যটকরা স্থানীয়দের তুলনায় ট্যাক্সি প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। মনে রাখবেন যে ট্যাক্সি ড্রাইভাররা নির্দিষ্ট একটি হাবের সাথে সংযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করেন এবং প্রতিটি গাড়ির পাশে হাবের নাম এবং ফোন নম্বর, পাশাপাশি লাইসেন্স প্লেট নম্বর লেখা থাকে। এই তথ্যটি নোট করা বা ফটোগ্রাফ করা সমস্যার সময় উপকারী হতে পারে। সাধারণভাবে, প্রধান হোটেলগুলির (হিল্টন, ম্যারিয়ট, রিটজ, ইত্যাদি) সাথে সংযুক্ত ট্যাক্সিতে চড়া নিরাপদ এবং আপনাকে তাদের হাব থেকে ট্যাক্সি ব্যবহার করার জন্য ঐ হোটেলগুলিতে থাকতে হবে না।
অন্যান্যরা প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘ পথ নিতে পারে যাতে বিল বাড়ানো যায় (যদিও কখনও কখনও বিকল্প পথ নেওয়া হয় যাতে ইস্তাম্বুলের ট্রাফিক থেকে বিরত থাকা যায়, যা খুব খারাপ হতে পারে)। কিছু প্রতারণার মধ্যে অর্থপ্রদান লেনদেন অন্তর্ভুক্ত থাকে; উদাহরণস্বরূপ, যদি যাত্রী ৫০ তুর্কি লিরা প্রদান করে যখন মাত্র ২০ তুর্কি লিরা প্রয়োজন, তখন ড্রাইভার দ্রুত এটি ৫ তুর্কি লিরা নোটের সাথে পরিবর্তন করতে পারে এবং দাবি করতে পারে যে বাকি ২০ তুর্কি লিরা এখনও পাওনা বা প্রকৃত বিলটি একটি ভুয়া নোটে পরিবর্তন করে এবং দাবি করতে পারে যে ভিন্ন অর্থ দিতে হবে।
ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সি চড়ার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে আপনি প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে পারবেন। এখানে কয়েকটি টিপস দেওয়া হল:
* সামনের আসনে বসুন: ট্যাক্সিমিটারটি ভালো করে দেখুন। কিছু ড্রাইভার মিটারের সাথে ছলনা করে ভাড়া বাড়িয়ে নিতে পারে। আপনি যদি একা না থাকেন, তাহলে আপনার সঙ্গীকে ট্যাক্সিমিটারে নজর রাখতে বলুন।
* ভাড়া আগে জিজ্ঞাসা করুন: ট্যাক্সিতে ওঠার আগে গন্তব্য জানিয়ে ভাড়া কত হবে জিজ্ঞাসা করুন। ট্যাক্সিমিটারের রিডিং এবং আপনার জানা ভাড়া মিলছে কিনা তা পরীক্ষা করুন।
* পথ নিজে নির্ধারণ করুন: যদি সম্ভব হয়, মানচিত্র দেখে ড্রাইভারকে আপনার পছন্দের পথ বলুন। অনেক ড্রাইভার দীর্ঘ পথে ঘুরিয়ে নিয়ে যায় যাতে ভাড়া বাড়ানো যায়।
* বয়স্ক ড্রাইভারদের পছন্দ করুন: সাধারণত বয়স্ক ড্রাইভাররা যাত্রীদের সাথে প্রতারণা করার সম্ভাবনা কম।
* নগদ টাকা পরিচালনা করুন: ট্যাক্সি ড্রাইভারকে আগেই টাকা দিয়ে দিন এবং পরিবর্তন নিয়ে নিন। এতে করে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে আপনি ঠিক পরিমাণ টাকা দিচ্ছেন।
* সমস্যা হলে চিৎকার করুন: যদি আপনি মনে করেন যে আপনার সাথে প্রতারণা হচ্ছে, তাহলে চিৎকার করে অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করুন।
* অতিরিক্ত টিপস:
* ট্যাক্সিমিটার সীলটি পরীক্ষা করুন: নিশ্চিত হোন যে ট্যাক্সিমিটার সীল ভাঙা নেই।
* মহিলাদের জন্য: মহিলাদের পেছনের আসনে বসা উচিত যাতে তারা মিটারটি দেখতে পারেন।
* পুলিশের নম্বর জানা রাখুন: যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আপনি সরাসরি পুলিশে ফোন করতে পারেন।
* সর্বোপরি, সতর্ক থাকুন এবং আপনার অন্তর্দৃষ্টিতে বিশ্বাস করুন। যদি কোনো কিছু আপনার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়, তাহলে সেই ট্যাক্সি থেকে নেমে যান এবং অন্য একটি ট্যাক্সি ধরুন।
* মনে রাখবেন: ইস্তাম্বুলে সব ট্যাক্সি ড্রাইভারই প্রতারক নয়। এই টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনি নিরাপদ এবং স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারবেন।
=== অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ ===
'''মেনু খুব ভালো করে দেখুন:'''
ইস্তাম্বুলে অনেক ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্টে পর্যটকদের লক্ষ্য করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয়। তাই, মেনু খুব ভালো করে পরীক্ষা করে নিন। যদি দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি মনে হয় বা দামের তালিকা অস্পষ্টভাবে লেখা থাকে, তাহলে সেখান থেকে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে, যদি মেনুতে দুটি ভিন্ন ধরনের দামের তালিকা থাকে, একটি স্থানীয়দের জন্য এবং অন্যটি পর্যটকদের জন্য, তাহলে সতর্ক হোন।
'''স্পাইস বাজারের আশেপাশের ক্যাফে:''' স্পাইস বাজারের আশেপাশের ওপেন এয়ার ক্যাফেগুলোতে পর্যটকদের প্রায়ই প্রতারিত হয়। এই ক্যাফেগুলোতে আপনার অনুরোধ ছাড়াই অতিরিক্ত খাবার পরিবেশন করা হতে পারে এবং বিলের পরিমাণ অত্যধিক হতে পারে।
'''নর্গিলে খাওয়ার সময় সাবধান:''' ইস্তাম্বুলে নর্গিলে খাওয়া খুবই জনপ্রিয়। তবে, টোপহানে নামক একটি এলাকায় একটি জায়গা আছে যেখানে পর্যটকদের সাথে প্রায়ই প্রতারণা করা হয়। এই জায়গায় আপনাকে অনুরোধ না করেই অতিরিক্ত খাবার পরিবেশন করা হতে পারে এবং বিলের পরিমাণ অত্যধিক হতে পারে।
=== স্টকিং ===
অন্যান্য বড় শহরের মতো এখানেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে একাকী ভ্রমণকারী মহিলাদের জন্য।
'''কেন সতর্ক থাকতে হবে?'''
* '''অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ:''' ইস্তাম্বুলে অনেক পর্যটক আসেন। বিশেষ করে বিদেশি মহিলাদের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখানো হয়। অনেকে মনে করেন বিদেশি মহিলারা বেশি ধনী বা উদার হবেন।
* '''প্রতারণা এবং চুরি:''' এই আগ্রহের পেছনে প্রায়ই অর্থ লোভ থাকে। অনেকে বিদেশি মহিলাদের ফাঁদে ফেলে অর্থ চুরি করতে পারে বা তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করতে পারে।
'''কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?'''
* '''জনবহুল স্থানে থাকুন:''' যদি কেউ আপনাকে হয়রান করতে চায়, তাহলে জনবহুল স্থানে চলে যান। যেমন, কোনো দোকান বা রেস্টুরেন্ট।
* '''দৃশ্য তৈরি করুন:''' যদি কেউ আপনাকে অনুসরণ করে বা হয়রান করে, তাহলে চিৎকার করে বা অন্য কারো কাছে সাহায্য চেয়ে দৃশ্য তৈরি করুন।
* '''স্থানীয়দের সাহায্য নিন:''' যদি আপনি হারিয়ে যান বা কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে স্থানীয় দোকানদার বা পুলিশের কাছে সাহায্য চান।
* '''আত্মবিশ্বাসী থাকুন:''' আত্মবিশ্বাসী হয়ে কথা বলুন এবং আপনার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট হন।
* '''নিজের জিনিসপত্রের দিকে খেয়াল রাখুন:''' জনবহুল স্থানে আপনার ব্যাগ বা পয়সার পাত্রের দিকে ভালো করে নজর রাখুন।
'''কিছু কার্যকরী বাক্য:'''
* ''İmdat!'' – "বাঁচাও!"
* ''Ayıp!'' – "অশোভন!"
* ''Bırak beni!'' – "আমাকে ছেড়ে দাও!"
* ''Dur!'' – "থামো!"
* ''Gider misin?!'' – "তুমি কি যাবে?!"
আরও শক্তভাবে প্রতিক্রিয়া দিতে চাইলে বলুন:
* ''Beni takip etme!'' – "আমাকে অনুসরণ করা বন্ধ করো!"
* ''Polisi arıyorum'' – "আমি পুলিশ ডাকছি!"
মাঝে মাঝে তুর্কি ভাষা ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ স্টকাররা এটি বেশি পছন্দ করতে পারে। শুধু চিৎকার করুন এবং দৌড়ে নিরাপদ, জনাকীর্ণ জায়গা বা পুলিশের কাছে যান।
=== টুরিজম পুলিশ ===
ইস্তাম্বুল পুলিশ বিভাগে একটি "টুরিজম পুলিশ" ইউনিট রয়েছে যেখানে পর্যটকরা পাসপোর্ট হারানো এবং চুরি বা যে কোনো অপরাধের শিকার হলে রিপোর্ট করতে পারেন। তাদের একটি অফিস [[Istanbul/Sultanahmet-Old City|সুলতানাহমেত]]-এ আছে এবং তারা reportedly ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি এবং আরবি ভাষায় কথা বলতে পারে।
* {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=টুরিজম পুলিশ|অন্য=Turizm Polisi|ইউআরএল=https://www.instagram.com/istanbultourismpolice/?hl=en|ইমেইল=istanbulturizm@egm.gov.tr|ঠিকানা=দিভান ইউলু সি.ডি.|অক্ষাংশ=41.00774|দ্রাঘিমাংশ=28.97703|দিকনির্দেশ={{rint|istanbul|t1}} সুলতানাহমেত 130 মি|ফোন=+90 212 527 45 03|নিঃশুল্ক ফোন নম্বর=|ফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
== স্বাস্থ্য রক্ষা করুন ==
ইস্তাম্বুলে ভ্রমণের সময় খাবার এবং পানির ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরূরি।
'''পানি:'''
* '''ট্যাপের পানি:''' ইস্তাম্বুলে অনেক জায়গায় ট্যাপের পানি পান করা নিরাপদ নয়। যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে পানি পানযোগ্য কিনা, তাহলে বোতলজাত পানি পান করুন।
* '''বোতলজাত পানি:''' স্থানীয়রা সাধারণত বোতলজাত পানি পান করেন। রেস্তোরাঁগুলিতেও বোতলজাত পানি পাওয়া যায়, তবে এর জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।
'''খাবার:'''
* '''রেস্তোরাঁর খাবার:''' ইস্তাম্বুলে রেস্তোরাঁগুলিতে খাবারের মান সাধারণত ভালো। তবে, যদি আপনি কোনো অস্বাভাবিক স্বাদ বা গন্ধ পান, তাহলে সেই খাবারটি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
* '''স্ট্রিট ফুড:''' স্ট্রিট ফুড খাওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে গরমের মাসগুলিতে খাবার খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
* '''মসলা:''' তুর্কি খাবারে অনেক ধরনের মসলা ব্যবহার করা হয়। যদি আপনি কোনো মসলায় অ্যালার্জিগ্রস্ত হন, তাহলে খাবার অর্ডার করার আগে রেস্তোরাঁর কর্মচারীকে জানিয়ে দিন।
== যোগাযোগ ==
''সিম কার্ড, ওয়াই-ফাই এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে সাধারণ তথ্যের জন্য [[Turkey#Connect|দেশের নিবন্ধ]] দেখুন।''
=== টেলিফোন কোড ===
ইস্তাম্বুলে ফোন করার সময়, বিশেষ করে যখন আপনি এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে কল করছেন, তখন কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
ইস্তাম্বুল একমাত্র তুর্কি শহর যেখানে একাধিক এলাকা কোড ব্যবহৃত হয়। এটি এমন একটি শহর যেখানে এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের অংশ রয়েছে। তাই, ইস্তাম্বুলে ফোন করার সময়, আপনাকে কোন অংশে কল করছেন তার উপর নির্ভর করে ভিন্ন এলাকা কোড ব্যবহার করতে হবে।
* '''ইউরোপীয় অংশ:''' এই অংশে ফোন করার জন্য আপনাকে ২১২ এলাকা কোড ব্যবহার করতে হবে।
* '''এশীয় অংশ:''' এশীয় অংশে ফোন করার জন্য আপনাকে ২১৬ এলাকা কোড ব্যবহার করতে হবে।
* '''প্রিন্সেস দ্বীপপুঞ্জ:''' এই দ্বীপপুঞ্জে ফোন করার জন্যও নির্দিষ্ট একটি এলাকা কোড ব্যবহৃত হয়।
'''একাধিক মহাদেশে অবস্থিত হওয়ার কারণে কীভাবে ফোন করবেন:'''
যখন আপনি ইস্তাম্বুলের একটি মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ফোন করছেন, তখন আপনাকে এমনভাবে ডায়াল করতে হবে যেন এটি একটি আন্তঃশহর কল। অর্থাৎ, আপনাকে প্রথমে ০ ডায়াল করতে হবে, তারপর এলাকা কোড (২১২ বা ২১৬) এবং তারপর সাত ডিজিটের ফোন নম্বর। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি ইউরোপীয় অংশে কাউকে ফোন করতে চান, তাহলে আপনাকে ০ + 212 + সাত ডিজিটের ফোন নম্বর ডায়াল করতে হবে।
=== মোবাইল ===
[[চিত্র:IstanbulPhoneCharging.jpg|থাম্ব|ইস্তাম্বুলে মোবাইল ফোন চার্জিং স্টেশন]]
ইস্তাম্বুলে সব তুর্কি ক্যারিয়ার থেকে ৪G সেবা পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের শেষের দিকে ৫G চালু হয়নি।
== সহ্য করুন ==
ইস্তাম্বুলে ভ্রমণের সময় হোটেল বা রেস্টুরেন্ট বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, জনপ্রিয় ভ্রমণ গাইডবুকে উল্লেখিত হওয়ার পর হোটেল বা রেস্টুরেন্টগুলো তাদের দাম বাড়িয়ে দেয়।
'''কেন এমন হয়?'''
* '''ভ্রমণ গাইডের প্রভাব:''' অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিক জনপ্রিয় ভ্রমণ গাইডগুলোকে খুব গুরুত্ব দেন। তারা জানেন যে যদি তাদের প্রতিষ্ঠান কোনো গাইডবুকে ভালোভাবে উল্লেখিত হয়, তাহলে অনেক পর্যটক তাদের কাছে আসবে।
* '''দাম বাড়ানো:''' যখন একটি হোটেল বা রেস্টুরেন্ট কোনো গাইডবুকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন তারা সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। তারা মনে করে যে পর্যটকরা ভালো পর্যালোচনা দেখে তাদের সেবা বা খাবারের মানের জন্য যে কোনো দাম দিতে রাজি হবে।
* '''সেবার মান কমিয়ে দেওয়া:''' কখনো কখনো দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মানও কমিয়ে দেয়। কারণ তারা মনে করে যে পর্যটকরা একবার এসে চলে যাবে, তাই তাদের খুশি রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।
'''কীভাবে এড়াবেন?'''
* '''জনপ্রিয় গাইডবুকের উপর নির্ভর করবেন না:''' শুধুমাত্র জনপ্রিয় গাইডবুকের উপর নির্ভর করে হোটেল বা রেস্টুরেন্ট বেছে নেবেন না।
* '''স্থানীয়দের পরামর্শ নিন:''' স্থানীয়দের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। তারা আপনাকে সেরা এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের জায়গাগুলো সম্পর্কে জানাতে পারবেন।
* '''অনলাইন রিভিউ পড়ুন:''' বিভিন্ন ট্র্যাভেল ওয়েবসাইটে হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে পর্যালোচনা পড়ুন।
* '''আপনার অন্তর্দৃষ্টিতে বিশ্বাস করুন:''' কোনো জায়গা যদি আপনার কাছে ভালো না লাগে, তাহলে সেখান থেকে দূরে থাকুন।
=== কনস্যুলেট ===
ইস্তাম্বুলে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কনস্যুলেটগুলো শুধুমাত্র আধুনিক রাষ্ট্রদূতাবাস হিসেবে কাজ করে না, বরং ইতিহাসের এক অধ্যায়ও বহন করে। এই ভবনগুলো একসময় অটোমান সাম্রাজ্যের সময় বিদেশি দূতাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হত। অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামলে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা এই ভবনগুলোতে অবস্থান করতেন। ওই সময়কার ইস্তাম্বুল, যা কনস্টান্টিনোপল নামে পরিচিত ছিল, ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধনস্থল। তাই বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও বজায় রাখার জন্য এই দূতাবাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
এই ভবনগুলোর অধিকাংশই ইস্তাম্বুলের বেওলু অঞ্চলে অবস্থিত। বেওলু ইস্তাম্বুলের একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল এবং এখানে অনেক প্রাচীন ভবন রয়েছে। অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর যখন তুরস্ক একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়, তখন রাজধানী আঙ্কারায় স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু এই দূতাবাসগুলো বেওলুতেই থেকে যায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের কনস্যুলেট হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
তবে এই নিয়মের একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ইরানের কনস্যুলেট। ওই সময়কার অটোমান সাম্রাজ্য অমুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের শহরের সরকারি সীমানার ভিতরে অবস্থান করার অনুমতি দিত না। তাই ইরানের কনস্যুলেট বেওলু অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত ছিল।
এই কনস্যুলেটগুলো শুধুমাত্র কূটনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুই ছিল না, এগুলো ইতিহাস, স্থাপত্য এবং সংস্কৃতির একটি সমন্বয়ও ছিল। এই ভবনগুলোর স্থাপত্য শৈলী এবং অভ্যন্তরীণ সজ্জা অটোমান সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রমাণ বহন করে।
{|
|-
| style="vertical-align:top;width:50%;" |
* {{flag|Argentina}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=আর্জেন্টিনা|ইউআরএল=|ইমেইল=|ঠিকান=টেপেকিক Yol 58, Etiler|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 212 257-70-50|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|Australia}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=অস্ট্রেলিয়া|ইউআরএল=|ইমেইল=|ঠিকান=আস্কার ওকাğı Cd 15, এলমাদাğ|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 212 243-13-33|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|Austria}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=অস্ট্রিয়া|ইউআরএল=http://www.aussenministerium.at/istanbulgk|ইমেইল=|ঠিকান=কয়বাশি Cd 46, ইয়েনিকয়|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 212 363-84-10|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|Azerbaijan}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=আজারবাইজান|ইউআরএল=https://istanbul.mfa.gov.az|ইমেইল=istanbul@mission.mfa.gov.az|ঠিকান=জেইটিনোগলু Cd 65, আকতার|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 850 800 0515|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|Belgium}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=বেলজিয়াম|ইউআরএল=http://diplomatie.be/istanbul/|ইমেইল=|ঠিকান=সিরাসেলভিলার Cd 39, তাক্সিম|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 212 243-33-00|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|Brazil}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=ব্রাজিল|ইউআরএল=http://istambul.itamaraty.gov.br/pt-br/|ইমেইল=cg.istambul@itamaraty.gov.br|ঠিকান=আস্কেরোğacı Cd 6, স্যূজার প্লাজা 4র্থ তলা, এলমাদাğ|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 212 252-00-13|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|Bulgaria}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=বুলগেরিয়া|ইউআরএল=http://www.bulgarianconsulate-ist.org/|ইমেইল=|ঠিকান=আহমেত আদনান সাইগুন Cd 44, উলুস-লেভেন্ট|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 212 281-01-15|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|Canada}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=কানাডা|ইউআরএল=http://turkey.gc.ca|ইমেইল=|ঠিকান=ইস্তিকলাল Cd 189/5, বেওলু|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 212 251-98-38|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|China}} {{তালিকাভুক্তকরণ|নাম=চীন|ইউআরএল=http://istanbul.china-consulate.org/|ইমেইল=chinaconsul_ist_tr@mfa.gov.cn|ঠিকান=আহি চেলেবি Cd চোবানচেশমে Sk 4, তারাবিয়া|অক্ষাংশ=|দ্রাঘিমাংশ=|দিকনির্দেশ=|ফোনা=+90 212 299-21-88|নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর=|ঠিকানফ্যাক্স=+90 212 299-26-33|সময়সূচী=|মূল্য=|বিবরণ=}}
* {{flag|Denmark}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=ডেনমার্ক | ইউআরএল=http://tyrkiet.um.dk/en.aspx | ইমেইল=istglk@um.dk
| ঠিকান=Büyükdere Cd 1, Trump Towers, Kule 2, D. 463 | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 359-19-00 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Finland}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=ফিনল্যান্ড | ইউআরএল=http://www.finland.org.tr/ | ইমেইল=
| ঠিকান=Cumhuriyet Cd 71, 8th floor, Elmadağ | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 296-95-49 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|France}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=ফ্রান্স | ইউআরএল=http://consulfrance-istanbul.org/ | ইমেইল=
| ঠিকান=İstiklal Cd 4, Beyoğlu-Taksim | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 334-87-30 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Germany}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=জার্মানি | ইউআরএল=http://istanbul.diplo.de/ | ইমেইল=
| ঠিকান=İnönü Cd 10, Gümüşsuyu-Taksim | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 334-61-00 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Greece}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=গ্রীস | ইউআরএল=http://www.mfa.gr/turkey/tr/consulate-general-in-istanbul| ইমেইল=grgencon.kon@mfa.gr
| ঠিকান=Turnacıbaşı Sk 22, Beyoğlu | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 393-82-90 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=+90 212 252-13-65
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|India}} {{তালিকাভুক্তকরণ | ধরন=listing
| নাম=ভারত | অন্য= | ইউআরএল=https://cgiistanbul.gov.in/| ইমেইল=
| ঠিকান=Cumhuriyet Cd 18, Dörtler Apt 7th floor, Elmadağ | অক্ষাংশ=28.9869865 | দ্রাঘিমাংশ=41.0427621 | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 296-21-31 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= |
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Indonesia}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=ইন্দোনেশিয়া | ইউআরএল=https://www.kemlu.go.id/istanbul/en/default.aspx?l=id | ইমেইল=istanbul.kjri@kemlu.go.id
| ঠিকান=Esentepe Mh, Keskin Kalem Sk 13, Şişli | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 674-8686 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Iran}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=ইরান | ইউআরএল= | ইমেইল=
| ঠিকান=Ankara Cd 1, Cağaloğlu | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 513-82-30 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Italy}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=ইতালি | ইউআরএল=http://www.consistanbul.esteri.it/Consolato_Istanbul | ইমেইল=
| ঠিকান=Tomtom Kaptan Sk 5, Beyoğlu | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 243-10-24 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
*{{flag|Japan}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=জাপান | ইউআরএল=http://www.istanbul.tr.emb-japan.go.jp/ | ইমেইল=
| ঠিকান=Büyükdere Cd 209, Tekfen Tower 10th, 4.Levent | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 317-4600 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|South Korea}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=দক্ষিণ কোরিয়া | ইউআরএল=http://www.korekonsoloslugu.com/istanbul-baskonsoloslugu/ | ইমেইল=
| ঠিকান=Piyalepaşa Blv 73, Ortadoğu Plaza, 18th floor, Okmeydanı | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 368-83-68 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Netherlands}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=নেদারল্যান্ডস | অন্য= | ইউআরএল=https://www.netherlandsandyou.nl/your-country-and-the-netherlands/turkey/about-us/consulate-general-in-istanbul | ইমেইল=
| ঠিকান=İstiklal Cd 197, Beyoğlu | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 393-21-21 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|New Zealand}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=নিউজিল্যান্ড | ইউআরএল=http://www.nzembassy.com/turkey | ইমেইল=
| ঠিকান=İnönü Cd 48/3, Taksim | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 244-02-72 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|North Macedonia}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=উত্তর ম্যাসিডোনিয়া | ইউআরএল= | ইমেইল=istanbul@mfa.gov.mk
| ঠিকান=İnönü Cd 20/5 Üçলার অ্যাপ্ট, Gümüşsuyu-Taksim | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 251-22-33 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=+90 212 293-77-65
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Norway}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=নরওয়ে | ইউআরএল=http://norway.org.tr/ | ইমেইল=
| ঠিকান=Bilezik Sk 4, Fındıklı | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 249-97-53 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Pakistan}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=পাকিস্তান | ইউআরএল= | ইমেইল=
| ঠিকান=Cengiz Topal Cd Gülşেন Sk 5, Beyাজ এভ 3. Etiler | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 358-45-06 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Poland}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=পোল্যান্ড | ইউআরএল=http://www.stambul.msz.gov.pl/ | ইমেইল=stambul.kg.konsulat@msz.gov.pl
| ঠিকান=Ayazağa Köyü Yোল 7, Giz 2000 Plaza 5th floor, Maslak | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 290-66-30 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=+90 212 290-66-32
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Romania}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=রোমানিয়া | অন্য= | ইউআরএল=http://istanbul.mae.ro/en | ইমেইল=istanbul@mae.ro
| ঠিকান=Yanarsu Sk, Narin Sitesi 42, Etiler | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 358-05-15 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= |
| সময়সূচী= | মূল্য=
| lastedit=2021-12-03
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Russia}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=রাশিয়া | ইউআরএল= | ইমেইল=
| ঠিকান=İstiklal Cd 443, Beyoğlu | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 292-51-01 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Spain}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=স্পেন | ইউআরএল=http://www.exteriores.gob.es/consulados/estambul| ইমেইল=cog.estambul@maec.es
| ঠিকান=Karanfil Aralığı Sk 16, 1. Levent | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 270-74-10 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Sweden}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=সুইডেন | ইউআরএল=http://swedenabroad.com/Start____9208.aspx | ইমেইল=
| ঠিকান=İstiklal Cd 247, Beyoğlu | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 334-06-00 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Switzerland}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=সুইজারল্যান্ড | ইউআরএল=http://www.eda.admin.ch/eda/en/home/reps/eur/vtur/cgist.html | ইমেইল=
| ঠিকান=Büyükdere Cd 173, 1.Levent Plaza A-Blok 3rd floor, Levent | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 283-12-82 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|Syria}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=সিরিয়া | ইউআরএল= | ইমেইল=
| ঠিকান=Maçka Cd 59/3, Teşvikiye | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 232-67-21 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|United Kingdom}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=যুক্তরাজ্য | ইউআরএল=http://www.gov.uk/government/world/organisations/british-consulate-general | ইমেইল=britembcon@fco.gov.uk
| ঠিকান=Meşrutiyet Cd 34, Tepebaşı-Beyoğlu | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 334-64-00 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
* {{flag|United States}} {{তালিকাভুক্তকরণ
| নাম=যুক্তরাষ্ট্র | অন্য= | ইউআরএল=https://tr.usembassy.gov/embassy-consulates/istanbul/ | ইমেইল=
| ঠিকান=İstinye Mh, Kaplıcalar Mevkii 2, İstinye | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোনা=+90 212 335-90-00 | নিঃশুল্ক ফোনা নম্বর= | ঠিকানফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=
}}
==পরবর্তী গন্তব্য==
=== পশ্চিম ===
ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে ইউরোপীয় তুরস্কের এলাকা, যা "থ্রেস" নামে পরিচিত, এখানে বাইজেন্টাইন এবং অটোমান ঐতিহ্যের বহু ঐতিহাসিক শহর বিদ্যমান। এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ হলো [[এদিনে]], যা উত্তর-পশ্চিমে দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। এটি একটি সুন্দর ঐতিহাসিক শহর, যা এক সময় অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল, আগে ক্ষমতা ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে। এখানে অন্তত একটি দিন কাটানো উচিত। একটি ধীর সড়কপথ [[কিয়িকয়]] নামে পরিচিত, এটি একটি প্রাচীন মাছ ধরার গ্রাম, যা কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত। এখানে কিছু ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য দেখা যায়, আংশিকভাবে পুনর্নির্মিত প্রাচীন শহরের প্রাচীর এবং নিকটবর্তী পাথর কাটা মঠের মাধ্যমে উত্তরে চলে যায়। এই রাস্তায় পরবর্তী শহর হলো [[ভিজে]], যা একটি পুরনো শহর এবং এখানে একটি ভালোভাবে সংরক্ষিত বাইজেন্টাইন ক্যাথিড্রাল রয়েছে।
পশ্চিম ইউরোপে প্রবেশ করার জন্য আপনি [[সোফিয়া]] (বুলগেরিয়া) অথবা [[বুখারেস্ট]] (রোমানিয়া) ব্যবহার করতে পারেন। alternatively, আপনি প্রাচীন [[ভিয়া ইগনাতিয়া]] অনুসরণ করে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরে পৌঁছাতে পারেন এবং সেখান থেকে [[রোম]] পর্যন্ত যাত্রা করতে পারেন।
=== দক্ষিণ ===
[[মারমারা দ্বীপপুঞ্জ]] সাগরের ওপার অবস্থিত, যেখানে অনেক দূরে এবং শহুরে তুলনায় কম জনবহুল এলাকা রয়েছে, যা শহরের উপকূলে প্রিন্সেস দ্বীপগুলির তুলনায়। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে [[বুরসা]] রয়েছে, যা এক সময় অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল এবং এখানে অনেক ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। এর দক্ষিণে [[উলুদাগ জাতীয় উদ্যান]] অবস্থিত, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।
[[ইজনিক]] বাইজেন্টাইন, সেলজুক এবং প্রাথমিক অটোমান ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। সেখানে যাওয়ার পথে আপনি একটি ডিটোর্থ নিতে পারেন।
[[ইজমির]] এর দিকে যাওয়ার একটি জনপ্রিয় পথ হলো পশ্চিমে এবং পরে দক্ষিণে [[গ্যালিপোলি]] উপদ্বীপে প্রবেশ করা, যেখানে বিশ্বযুদ্ধের প্রথম স্থানগুলি রয়েছে। এরপর দারদানেলস পেরিয়ে [[চানাক্কালে]] পৌঁছাতে হবে, তারপর প্রাচীন [[ট্রয় (তুরস্ক)|ট্রয়]] এবং [[বেরগামা|পেরগামন (বেরগামা)]] পার হয়ে যেতে হবে। একটি ছোট ফেরি-যাত্রা আপনাকে [[বোজকাদা]] নামের সুন্দর দ্বীপে নিয়ে যাবে। আরও বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন [[ইস্তাম্বুল থেকে ইজমির]]।
=== পূর্ব ===
ইস্তাম্বুলে পা রেখেই আপনি কেবল এশীয় তুরস্কের প্রান্তে প্রবেশ করেছেন। আন্তাতোলিয়ার মাধ্যমে পূর্ব দিকে চলতে থাকুন, এখানে অনেক কিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে: পুনর্নবীকৃত [[আঙ্কারা]], অতিপ্রাকৃত [[কাপ্পাডোকিয়া]], অস্বাভাবিক [[নেমরুত পর্বত]], দূরবর্তী [[কার্স]]। এবং আরও দূরে, প্রাক্তন অটোমান সাম্রাজ্যের ভূমিতে: প্রাচীন বণিকদের, মধ্যযুগীয় ভ্রমণকারীদের, তীর্থযাত্রীদের এবং হিপিদের পায়ের ছাপ অনুসরণ করুন।
{{routebox|image1=E80-TR.png|imagesize1=40|directionl1=W|majorl1=[[এদিনে]]|minorl1=[[চরলু|Çorlu]] ← সংযোগস্থল [[File:D567-TR.svg|35px]] ([[Çerkezköy|উত্তর]] / [[মারমারা এরেগ্লিসি|দক্ষিণ]]), [[File:E84-TR.png|35px]] ([[মারমারা এরেগ্লিসি|পশ্চিম]]), [[File:O7-TR_sign.svg|30px]] ([[ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর|পূর্ব]])|directionr1=E|majorr1=[[আঙ্কারা]] ([[File:E89-TR.png|35px]])|minorr1=[[গেবজে]]|image2=D020-TR.svg|imagesize2=40|directionl2=W|majorl2=[[এদিনে]]|minorl2=[[ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর]]|directionr2=E|majorr2=[[আদাপাজারী]]|minorr2=[[কান্ডিরা]]|image3=Yüksek Hızlı Tren logo.svg|imagesize3=40|directionl3=W|majorl3=শেষ|minorl3=|directionr3=E|majorr3=[[আঙ্কারা]]|minorr3=[[গেবজে]]|link3=Turkey#By train 2}}
{{geo|41.013611|28.955000|zoom=13}}
{{এর অংশ|তুরস্ক}}
{{guidecity}}
eoxq2dgl8zw4t7phje8sn2fqdmuyqdk
আনতালিয়া
0
7759
76701
71716
2026-06-01T15:29:28Z
CommonsDelinker
673
[[c:File:Antalya_Toy_Museum_5646.jpg|Antalya_Toy_Museum_5646.jpg]] সরানো হলো। এটি [[c:User:Infrogmation|Infrogmation]] কর্তৃক কমন্স থেকে অপসারিত হয়েছে, কারণ: per [[:c:Commons:Deletion requests/File:Antalya Toy Museum 5646.jpg|]]।
76701
wikitext
text/x-wiki
{{pagebanner|Antalya banner.jpg}}
''[[আনতালিয়া]]'' এর সঙ্গে বিভ্রান্তি এড়াতে বলা যায়, এটি পূর্বে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি রিসোর্ট শহর; অন্যদিকে **[[আন্তাকিয়া]]** হলো পূর্ব তুরস্কের [[হাতায়]] প্রদেশের একটি ঐতিহাসিক শহর।
'''আনতালিয়া''' হলো [[পামফিলিয়া]] অঞ্চলের একটি সমৃদ্ধ শহর, যা [[তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল|ভূমধ্যসাগরের তুর্কি উপকূলে]] অবস্থিত। এটিকে বলা হয় "তুর্কি রিভিয়েরা" এর প্রধান রিসোর্ট শহর। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, এর জনসংখ্যা প্রায় ২৭ লক্ষ, যা তুরস্কের পঞ্চম বৃহত্তম নগরী হিসেবে গণ্য হয়।
==বুঝুন==
[[চিত্র:Selçuk_Mh.,_Kordon_Sk.,_07100_Muratpaşa-Antalya,_Turkey_-_panoramio_(1).jpg|থাম্ব|আনতালিয়ার পুরনো শহর]]{{Climate|janhigh=14.4|aprprecip=62.7|octlow=13.9|novlow=10.0|declow=6.7|janprecip=208.7|febprecip=134.4|marprecip=97.2|mayprecip=32.1|auglow=21.7|junprecip=10.9|julprecip=4.5|augprecip=4.6|sepprecip=18.1|octprecip=77.6|novprecip=131.1|decprecip=259.3|seplow=18.3|jullow=21.7|febhigh=14.4|octhigh=26.1|marhigh=17.2|aprhigh=21.1|mayhigh=25.0|junhigh=30.0|julhigh=33.3|aughigh=33.3|sephigh=31.1|novhigh=20.0|junlow=18.9|dechigh=15.6|units=metric|janlow=5.0|feblow=5.6|marlow=7.2|aprlow=10.6|maylow=14.4|jansnow=0.8|febsnow=0.5|marsnow=0.4|aprsnow=0|maysnow=0|junsnow=0|julsnow=0|augsnow=0|sepsnow=0|octsnow=0|novsnow=0|decsnow=0.5|description=}}
শহরের নামকরণ করা হয়েছিল এর প্রথম নথিভুক্ত শাসক, পারগামন রাজ্যের রাজা [[আত্তালোস দ্বিতীয়]] (খ্রিস্টপূর্ব ২২০-১৩৮) এর নামে। যদিও, ধারণা করা হয় যে এই অঞ্চলে বসতি তারও আগে থেকেই গড়ে উঠেছিল। আত্তালোসের জীবন এবং তার দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল নাটকীয়। তার উপাধি ছিল 'ফিলাদেলফোস' - অর্থাৎ 'ভ্রাতৃপ্রেমী' - যা থেকে বোঝা যায় যে তিনি তার ভাই এবং সহ-শাসক [[ইউমেনেস দ্বিতীয়]], যাকে তিনি মৃত ভেবেছিলেন, তার সাথে সম্পর্ক সমাজে কীভাবে উপস্থাপন করবেন, সে বিষয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। খোলা উপকূলীয় অঞ্চলে বিকল্প সীমিত থাকায় আত্তালোস এখানে তার নৌবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন করেছিলেন। ধীরে ধীরে আত্তালেয়া নামে একটি শহর রোমান বন্দরের চারপাশে গড়ে ওঠে।
শহরটি কখনো খুব বড় না হলেও, এর ভৌগোলিক অবস্থান একে সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল। চারপাশের দুর্গম পর্বতমালা ভেতরের দিকে প্রবেশ কঠিন করে তুলেছিল। তবে, পূর্বদিকে একটি উর্বর উপকূলীয় সমভূমি ছিল। প্রাচীন ভ্রমণকারীদের মধ্যে [[সেন্ট পল]] (প্রেরিত ১৪:২৫-২৬) এখানে এসেছিলেন। ১৩৩১ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত পর্যটক [[ইবনে বতুতা]] লিখেছেন যে, শহরে খ্রিস্টান, গ্রিক, ইহুদি এবং রাজকীয় দরবারের লোকেরা আলাদা প্রাচীরঘেরা এলাকায় বাস করত, আর মুসলিমরা শহরের মূল অংশে বাস করত, যা আরেকটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। এই ধরনের বিভাজন শহরটিকে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ রাখতে সাহায্য করত।
আনতালিয়া শহরটি ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে শাসকদের পরিবর্তনের শিকার হয়েছে। ১২০৭ সালে [[সেলজুক তুর্কি|সেলজুক তুর্কিরা]] এবং ১৩৯১ সালে [[উসমানীয় সাম্রাজ্য|উসমানীয়রা]] এটি দখল করে। [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|প্রথম বিশ্বযুদ্ধে]] [[তুরস্ক]] পরাজিত হলে, ১৯২০ সালের কঠোর [[সেভ্র চুক্তি]] অনুসারে দেশের বহু অঞ্চল মিত্রশক্তির হাতে চলে যায়, এবং আনতালিয়া তখন ইতালির নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে ১৯২৩ সালের [[লওজান চুক্তি]] অনুযায়ী তুরস্ক তার বর্তমান সীমানা পুনরুদ্ধার করে।
বিংশ শতাব্দীতে সড়ক নির্মাণের ফলে এখানকার যোগাযোগ সহজ হলেও, আসল পরিবর্তন আসে ১৯৭০-এর দশকে। এই সময়ে উত্তর ইউরোপ থেকে সরাসরি পর্যটকবাহী বিমান এখানে নামতে শুরু করে, যা পর্যটন শিল্পকে ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করে। দ্রুত শহরটির বিকাশ ঘটে, বিশেষ করে পুরনো শহর [[কালেইচি|কালেইচির]] কেন্দ্র এবং পূর্বদিকে বালুময় [[লারা সৈকত]] বরাবর। এই উপকূলীয় অঞ্চল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে সমভূমির শেষ এবং পর্বতমালার শুরু। পর্যটন নির্দেশিকাগুলোতে পুরো অঞ্চলটিকেই ‘আনতালিয়া এলাকা’ বলা হয়, যদিও [[বেলেম|বেলেক]], [[মানাভগাত]], [[সিদে]] এবং আনতালিয়াকে আলাদাভাবে বর্ণনা করা হয়।
==আবহাওয়া==
আনতালিয়ার আবহাওয়া পুরোপুরি ভূমধ্যসাগরীয় বৈশিষ্ট্যের। গ্রীষ্মকাল এখানে অত্যন্ত গরম, প্রচুর রোদ ও আর্দ্রতাপূর্ণ থাকে, কিন্তু বৃষ্টিপাত হয় খুবই কম। দিনের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩০-৩৫° সেলসিয়াস, যা কখনও কখনও ৪০°-এর বেশিও হয়ে যায়। রাতেও পরিবেশ গুমোট ও আর্দ্র থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের প্রয়োজন হয়। শীতকাল তুলনামূলকভাবে মৃদু হলেও এ সময় ঝড়, ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র বাতাস দেখা যায়। ভ্রমণের জন্য এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাস সবচেয়ে উপযুক্ত। এ সময় সমুদ্রের পানিও শরতের শেষ পর্যন্ত উষ্ণ থাকে, যা পর্যটকদের জন্য দীর্ঘ সময় সাঁতার এবং জলক্রীড়ার সুযোগ করে দেয়। সমুদ্রের বাতাস, সৈকতের স্বচ্ছ বালি এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই শহরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এর ফলে আনতালিয়া কেবল একটি রিসোর্ট শহর নয়, বরং এটি ইতিহাস ও প্রকৃতির অন্বেষণের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
== পৌঁছানো ==
{{mapframe|36.97273|30.84266|height=500|width=500|zoom=10}}
[[চিত্র:ISS044-E-358_-_View_of_Turkey.jpg|থাম্ব|আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন অভিযান ৪৪ চলাকালীন তোলা আনতালিয়া বিমানবন্দরের দৃশ্য]]
=== বিমানে ===
* {{go|name=আনতালিয়া বিমানবন্দর|alt=আনতালিয়া হাভালিমানি,|url=https://antalya-airport.aero/|email=|address=|lat=36.9003|long=30.7928|directions=|phone=|tollfree=|hours=|price=|wikipedia=আনতালিয়া বিমানবন্দর|wikidata=Q827480|lastedit=2023-08-16|content=পুরো ইউরোপ ও রাশিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে সরাসরি ফ্লাইটে পর্যটকের ঢল নামে এখানে, বিশেষত প্যাকেজ ভ্রমণকারীদের। অন্যান্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে এরজান, আম্মান, বৈরুত, তেলআবিব, বাগদাদ এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ। দেশের অভ্যন্তরে প্রতিদিনই ফ্লাইট আসে ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আদানা, সামসুন, দিয়ারবাকির ও গাজিয়ানতেপ থেকে। বিমানবন্দরে দুটি টার্মিনাল রয়েছে, যা ২.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত—এদের মধ্যে কোনো শাটল বা হাঁটার পথ নেই। তাই সঠিক টার্মিনালে পৌঁছানো খুব জরুরি। টার্মিনাল ১ থেকে সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছাড়ে এবং এখানেই তুর্কিশ, পেগাসাস, সান এক্সপ্রেস ও রায়ানএয়ার-এর ফ্লাইট পরিচালিত হয়। অন্যান্য এয়ারলাইনস টার্মিনাল ২ ব্যবহার করে, এর মধ্যে আন্তালিয়াভিত্তিক সাশ্রয়ী এয়ারলাইন কোরেনডনও রয়েছে। বিমানবন্দরে আধুনিক সব সুবিধা থাকলেও ফ্লাইট বিলম্ব হলে ভিড় জমে পরিস্থিতি প্রায় বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে।}}
পরবর্তী যাতায়াতের জন্য শহরের মধ্যে ঘোরার জন্য আন্তালিয়াকার্ট দরকার হবে, যা ট্রাম বা বাসে ব্যবহার করা যায়। এই কার্ড বিমানবন্দর থেকে কেনা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
* ট্রামে: আন্তরে ট্রাম ১এ বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-এর দুটি স্টপেজ (অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক) থেকে শহরের কেন্দ্রের দিকে যায়। এটি প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে এবং টার্মিনাল ২-এ যায় না। প্রায় ৫০ মিনিট পর ইসমেতপাশা স্টপে নামলে পুরনো শহর কালেইচির কাছে পৌঁছানো যায় বা ট্রাম ২-এ ওঠা যায়। আরও আধ ঘণ্টা গেলে শহরের প্রধান বাসস্টেশন (ওতোগার) পৌঁছানো সম্ভব। শহর থেকে বিমানবন্দরে ফেরার সময় অবশ্যই "হাভালিমানি" লেখা ট্রাম ধরতে হবে। ট্রাম ১বি একই পথে চললেও ইয়োনজা কাভশাকে পৌঁছে এক্সপো এলাকায় চলে যায়।
* বাস রুট ৬০০: এই বাস টার্মিনাল ১ (অভ্যন্তরীণ) ও টার্মিনাল ২ থেকে বাসস্টেশন (ওতোগার) পর্যন্ত চলে, যা কার্যকরভাবে দুটি টার্মিনালের মধ্যে শাটল হিসেবে কাজ করে। বাসটি সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রতি আধা ঘণ্টা অন্তর চলে। রাতের বেলা বিশেষ ৬০০জি রুটে রাত ১টা, ৩টা ও ৫টায় বাস পাওয়া যায়। এটি প্রায় এক ঘণ্টায় বাসস্টেশনে পৌঁছায় এবং এর পথ মেভলানা সড়ক ও আদনান মেন্দেরেস সড়ক দিয়ে যায়। টার্মিনাল ১-এ এর নির্দিষ্ট স্টপেজ একটি ডুমুর গাছের পাশে নীল “ডি” চিহ্নের কাছে থাকে। টার্মিনাল ১ (আন্তর্জাতিক)-এর বাইরে যে “ডি” চিহ্ন দেখা যায়, তা বিভ্রান্ত করার জন্য—সেখান থেকে বাস ছাড়ে না এবং ট্যাক্সিচালকরা অনেক সময় এই অজুহাত ব্যবহার করে।
* বাস রুট ৮০০: এটি টার্মিনাল ১ ও ২ থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর সকাল ৬:১৫ থেকে রাত ১০:১৫ পর্যন্ত ছাড়ে। এই বাস পূর্বদিকে লারা সৈকতের রিসোর্ট এলাকায় এবং শহর অতিক্রম করে পশ্চিমদিকে সারিসু অঞ্চলে যায়।
* হাভাশ বাস: আনতালিয়া বিমানবন্দরে কোনো হাভাশ বাস চলে না। অন্যান্য শহরে যেতে হলে প্রথমে বাসস্টেশনে (ওতোগার) পৌঁছাতে হয়।
* ট্যাক্সি: বিশেষ করে লারা সৈকতের রিসোর্ট এলাকায় যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি সবচেয়ে সুবিধাজনক। এটি শহরের পূর্বদিকে বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত। সরকারি ভাড়া ২০২২ সালে সর্বশেষ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শহরের কেন্দ্রে যেতে প্রায় ৫০০ তুর্কি লিরা খরচ হতে পারে।
=== বাসে ===
* ইস্তাম্বুল থেকে আনতালিয়ার উদ্দেশ্যে ঘণ্টায় একবার বাস ছাড়ে। যাত্রা প্রায় ১২ ঘণ্টার। পথে আসে গেবজে, ইজমিত, এসকিশেহির, কুতাহিয়া, আফইয়োন, সান্দিকলি ও বুরদুর। ২০২৩ সালের ভাড়া প্রায় ৬০০–৮০০ তুর্কি লিরা।
* আঙ্কারা থেকে বাসযাত্রা প্রায় ৯ ঘণ্টা, ইজমির থেকে ৬ ঘণ্টা, আদানা থেকে ১১ ঘণ্টা এবং কোনিয়া থেকে ৬ ঘণ্টা। দ্রুত পৌঁছানোর উপায়: প্রথমে উচ্চগতির ট্রেনে (ওয়াইএইচটি) কোনিয়ায় পৌঁছানো, এরপর বাসে আনতালিয়ায় যাত্রা।
* প্রধান বাস কোম্পানি: [মেট্রো তুরিজম](https://www.metroturizm.com.tr/), [পামুক্কালে](https://www.pamukkale.com.tr/), ফ্লিক্সবাস (কামিল কোচ অধিগ্রহণ করেছে), [ভারণ](https://www.varan.com.tr/)।
* উপকূলবর্তী শহর: আনতালিয়া, মানাভগাত (যেখান থেকে সিদে যাওয়া যায়), বেলেক। স্বল্প দূরত্বের রুটে আনতালিয়ালılar ও গুনেয় আকদেনিজের মতো কোম্পানি বাস চালায়।
* ডলমুশ নামক শেয়ারড মিনিবাসও ব্যবহার করা যায়।
* {{নির্দেশক|ধরন=go |নাম=আনতালিয়া বাস টার্মিনাল|অক্ষাংশ=36.9218|দ্রাঘিমাংশ=30.6652|জুম=15|ইউআরএল=|চিত্র=}}
আনতালিয়ার প্রধান বাস টার্মিনাল শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। যদি টিকিটে নিশ্চিত করা থাকে, তবে কেন্দ্রে পৌঁছানোর খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যথায়, ১০ মিনিট হেঁটে দমলুপিনার সড়ক থেকে ট্রাম ধরে শহরে যাওয়া যায়।
=== সড়কপথে ===
* ইস্তাম্বুল থেকে ও৭/ও৫/ও২২ (টোল রাস্তা) ধরে বুরসা পর্যন্ত যাত্রা। তারপর ডি২০০ ধরে পূর্বদিকে এবং ডি৬৫০ ধরে দক্ষিণে আসা। পথ কুতাহিয়া ও আফইয়োন হয়ে যায়। সময় লাগে প্রায় ৮.৫ ঘণ্টা।
* হেঁটে যাওয়া (হিচহাইকিং) করতে চাইলে এমন জায়গায় দাঁড়াতে হবে যেখানে দূরপাল্লার গাড়ি থামতে পারে। সুবিধাজনক স্থান: গোলচত্বর, যেখানে ডি৩৩০ সড়ক ডি৬৫০ থেকে বের হয়েছে। শহরের বাস ৫০৬ ও ৫০৯ এই সড়কে যায়। ডি৬৫০ আকদেনিজ সড়ক ধরে ১০টি বাস চলে।
=== নৌপথে ===
* {{নির্দেশক|ধরন=go |নাম=পোর্ট আকদেনিজ - আনতালিয়া|অক্ষাংশ=36.84060966377191|দ্রাঘিমাংশ=30.612481905557004|জুম=15|ইউআরএল=|চিত্র=}}
শহরের প্রধান বন্দর পোর্ট আকদেনিজ। এখানে একটি ক্রুজ টার্মিনাল রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়।
== শহরের ভেতরে যাতায়াত ==
[[চিত্র:Antalya_Railway_Network_Map.svg|থাম্ব|আনতালিয়ার রেলওয়ে নেটওয়ার্ক মানচিত্র]]
শহরের মধ্যে ভ্রমণের জন্য আন্তালিয়াকার্ট দরকার। এটি একটি প্লাস্টিকের কার্ড, যা ট্রাম বা বাসে ব্যবহার করা যায়। ট্রামলাইন সংলগ্ন কিয়স্ক, বিমানবন্দর বা বাস টার্মিনাল থেকে কার্ডটি কেনা ও রিচার্জ করা যায়, এবং সাধারণত নগদ টাকা ব্যবহার করতে হয়। জুলাই ২০২৪-এ কার্ডটির প্রাথমিক মূল্য ছিল ৪৫ তুর্কি লিরা এবং প্রতিটি যাত্রার ভাড়া ২০ লিরা। একই ভ্রমণের মধ্যে যদি পাঁচ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে অন্য ট্রাম বা বাসে ওঠা হয়, তবে ভাড়া কমে মাত্র ৭.৫০ লিরা হয়ে যায়।
অস্থায়ী কাগজের কার্ডও পাওয়া যায়, যার দাম ১০ লিরা এবং প্রতি যাত্রার ভাড়া ২৩ লিরা। তবে এই কার্ডে স্থানান্তরের সুবিধা নেই এবং এটি পুনরায় রিচার্জ করা যায় না।
কার্ড ছাড়া স্পর্শবিহীন পেমেন্টও সম্ভব। এতে কোনো আগাম খরচ নেই, কিন্তু প্রতিটি যাত্রার জন্য ২৫ লিরা দিতে হয় এবং স্থানান্তরের সুবিধা পাওয়া যায় না।
ছাড়মূল্যের কার্ড কেবল তুরস্কের জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিকদের জন্য। এই কার্ডের প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হলেও প্রতিটি যাত্রার ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম।
=== ট্রামে যাতায়াত ===
[[চিত্র:20230117_Historic_tram,_Antalya,_Turkey.jpg|থাম্ব|ঐতিহাসিক ট্রাম]]
অ্যান্টরেই লাইনের টি১ ট্রাম ফাতিহ এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে উত্তরের ওতোগার পর্যন্ত যায়, যেখানে টি৩ লাইনের সাথে এর সংযোগ রয়েছে। এরপর এটি শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসমেতপাশা স্টেশনে পৌঁছায়, যেখানে এটি টি২ লাইনের সাথে যুক্ত হয়। সেখান থেকে মেইদান হয়ে এটি উত্তর-পূর্বে ইয়োনজা কাভশাক পর্যন্ত বিস্তৃত।
* '''টি১এ:''' এই ট্রাম সরাসরি বিমানবন্দর টার্মিনাল ১–এ যায়।
* '''টি১বি:''' এই ট্রাম আকসু হয়ে এক্সপো পর্যন্ত চলাচল করে।
প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত, ট্রামগুলো প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর চলাচল করে।
টি২ লাইনটি একটি পুরোনো রুট, যেখানে ব্যবহৃত ট্রামগুলো ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকের। এগুলো ১৯৯৯ সালে জার্মানির নুরেমবার্গ শহর থেকে উপহার হিসেবে আনা হয়েছিল। এই লাইনটি সমুদ্রতীরের কাছে অবস্থিত জাদুঘর থেকে শুরু হয়ে পূর্বদিকে চুমহুরিয়েত পর্যন্ত চলে, এরপর পুরোনো শহর ঘুরে দক্ষিণে জেরদালিলিকে শেষ হয়। লাইনের বেশিরভাগ অংশই একমুখী, তবে মাঝে মাঝে ক্রসিং লুপ আছে। যদিও দ্বিমুখী করার কাজ শুরু হয়েছিল, বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।
টি৩ লাইনটি অপেক্ষাকৃত নতুন এবং ২০২১ সালে চালু হয়েছে। এটি শহরের উত্তর প্রান্তের ভারসাক থেকে শুরু হয়ে কেপেজ অতিক্রম করে পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে বাতিগারে পৌঁছায়। সেখানে ওতোগার এবং টি১-এর সাথে এটি যুক্ত হয়। সেখান থেকে এটি আকদেনিজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল হয়ে জাদুঘরে এসে টি২-এর সাথে মিলিত হয়।
=== বাসে যাতায়াত ===
[[চিত্র:BMC_Procity_in_Antalya_-_31.10.10.jpg|থাম্ব|আনতালিয়ার একটি গণপরিবহন বাস]]
আনতালিয়ার প্রায় সব এলাকায় বাস পাওয়া যায়। এক ডজনেরও বেশি বাস রুট সরাসরি ওতোগার পর্যন্ত চলে। বিমানবন্দরের জন্য রুট ৬০০ বাস ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
বাসের জন্য গুগল ম্যাপস ব্যবহার করা গেলেও সময়সূচি প্রায়শই ভুল থাকে। এর চেয়ে আন্তালিয়াকার্ট মোবাইল অ্যাপ অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, যা বাসের সঠিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানায়।
=== ট্যাক্সিতে যাতায়াত ===
শহরের বিভিন্ন জায়গায় ট্যাক্সি স্ট্যান্ড রয়েছে। সেখানে চালকেরা সাধারণত গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করেন এবং অনেক সময় ছোটখাটো চায়ের দোকানও থাকে। অনলাইনে ট্যাক্সি ডাকার জন্য বিট্যাক্সি বা আইট্যাক্সি নামের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।
২০২২ সাল থেকে ট্যাক্সির সরকারি ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে: প্রথম ভাড়া ১০ তুর্কি লিরা এবং এরপর প্রতি কিলোমিটারে ১৪ লিরা। রাতে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয় না। পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় স্থানগুলোতে ইউরোতে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রায়শই টাঙানো থাকে।
ইচ্ছা করলে ট্যাক্সিচালককে ব্যক্তিগত গাইড হিসেবেও ভাড়া করা যায়। এটি বিশেষ করে পেরগে ভ্রমণের জন্য উপযোগী, যদিও আসপেনদোস ভ্রমণের ক্ষেত্রে বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে।
=== হেঁটে ঘোরা ===
শহরের কেন্দ্র পায়ে হেঁটে ঘোরার জন্য খুবই উপযুক্ত। এখানে গাড়ি বা সাইকেল চালানো ক্লান্তিকর ও ঝামেলার কারণ। পায়ে হেঁটে ঘুরলেই আনতালিয়ার আসল সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
== দেখুন ==
[[File:Hadrian’s_Gate,_Antalya,_Turkey,_and_Two_Towers.jpg|থাম্ব|হাদ্রিয়ানের ফটক]]
[[File:The_Fluted_Minaret_(Yivli_Minare),_Kaleiçi_old_town,_Antalya,_Turkey.jpg|থাম্ব|খাঁজকাটা মিনার]]
[[File:Antalya_kaleiçi_2.jpg|থাম্ব|বন্দর]]
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=হাদ্রিয়ানের ফটক|অক্ষাংশ=36.8864|দ্রাঘিমাংশ=30.7044|জুম=|ইউআরএল=|চিত্র=}}
হাদ্রিয়ান গেট, যা তুর্কি ভাষায় 'উচকাপিলার' বা "তিন দরজা" নামে পরিচিত, কালে ইচি নামের পুরোনো শহরটি ঘুরে দেখার জন্য একটি উপযুক্ত শুরু। এটি খ্রিস্টীয় ১৩০ সালে সম্রাট হাদ্রিয়ানের সফরকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছিল। একসময় এটি শহরের প্রাচীরের ভেতরে ইট দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল, যা ১৯৫০-এর দশকে প্রাচীর ভেঙে পুনরায় আবিষ্কৃত হয়।
* {{দেখুন
| নাম=খাঁজকাটা মিনারের মসজিদ
| অন্য=ইভলি মিনারে জামি
| ঠিকানা=কুমহুরিয়েত সড়ক
| অক্ষাংশ=36.8864
| দ্রাঘিমাংশ=30.7044
| বিবরণ=সেলজুক আমলে ১২৩০ সালে নির্মিত ছয় গম্বুজওয়ালা মসজিদটি ১৩৭৩ সালে হামিদীয়রা পুনর্নির্মাণ করে। মিনারটির উচ্চতা ৩৮ মিটার।
}}
* '''[https://antalya.ktb.gov.tr/TR-103728/mevlevihane-muzesi.html দরবেশ খানকা জাদুঘর]''' মসজিদের বিপরীতে। একসময় এখানে ঘূর্ণায়মান দরবেশরা বসবাস করতেন। খোলা থাকে মঙ্গলবার থেকে রবিবার সকাল ৮:৩০ থেকে বিকেল ৫:৩০ পর্যন্ত। প্রবেশ ফ্রি।
* '''ঘড়িঘর''' (সাত কুলেসি) খাঁজকাটা মিনারের ঠিক পূর্বদিকে। এটি নবম শতকের স্থাপনা।
* '''টেকেলি মেহমেত পাশা মসজিদ''' ঘড়িঘরের সামনেই। সপ্তদশ শতকে নির্মিত। নামকরণ করা হয়েছে সেনাপতি টেকেলি মেহমেত পাশার নামে, যিনি ১৫৯৫ সালে গ্র্যান্ড ভিজির পদে নিয়োগ পান। মাত্র দশ দিন পরই মৃত্যুবরণ করেন।
* '''কারাতায় মাদ্রাসা''' ঘড়িঘর থেকে প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ১২৫০ সালে নির্মিত এই শিক্ষাকেন্দ্র এখন ক্যাফে ও দোকানে রূপান্তরিত হয়েছে।
* {{দেখুন
| নাম=শেহজাদে কোরকুত মসজিদ
| অন্য=ভগ্ন মিনার মসজিদ, কেসিক মিনারে জামি
| ঠিকানা=জিভলেক সড়ক
| অক্ষাংশ=36.8826
| দ্রাঘিমাংশ=30.7061
| বিবরণ=প্রথমে দ্বিতীয় শতকে রোমানরা এখানে একটি মন্দির নির্মাণ করে। পরে এটি বিভিন্ন ধর্মীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়। ১৮০০ সালে আগুনে ধ্বংস হলেও মিনারটি টিকে যায়। ২০১৮ সালে পুনর্নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০২১ সালে চালু হয়।
}}
* '''[http://oyuncakmuzesi.antalya.bel.tr/ খেলনা জাদুঘর]''' (ওইউনচাক মিউজেসি) বন্দরের পাশে অবস্থিত। খোলা থাকে মঙ্গলবার থেকে রবিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রবেশ ফ্রি।
* '''ইস্কেলে মসজিদ''' বন্দরের ধারে ছোট্ট কিয়স্কের মতো একটি স্থাপনা।
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=বন্দরের পিয়ার|অক্ষাংশ=36.8836|দ্রাঘিমাংশ=30.7018|চিত্র=}}
পুরনো শহরের মনোরম দৃশ্য ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য আদর্শ জায়গা।
* {{দেখুন
| নাম=লোকজ সংস্কৃতি জাদুঘর
| ইউআরএল=https://www.kulturportali.gov.tr/turkiye/antalya/gezilecekyer/etnografya-muzesi-1
| ঠিকানা=জিভলেক সড়ক ২০
| দিকনির্দেশ=বন্দরের দক্ষিণ প্রান্তে
| ফোন=+90 242 238 5688
| সময়সূচী=প্রতিদিন ০৮ঃ৩০-১৭ঃ৩০
| মূল্য=ফ্রি
| বিবরণ=ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও কারুশিল্পের প্রদর্শনী রাখা হয়েছে।
}}
* {{দেখুন
| নাম=হিদিরলিক টাওয়ার
| ঠিকানা=হিদিরলিক সড়ক
| অক্ষাংশ=36.8813
| দ্রাঘিমাংশ=30.7036
| সময়সূচী=২৪ ঘণ্টা
| মূল্য=ফ্রি
| বিবরণ=খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকে রোমানরা নির্মাণ করে। নিচের অংশ বর্গাকার, উপরের অংশ গোলাকার। দুর্গ ও বাতিঘর হিসেবে ব্যবহৃত হত।
}}
* {{দেখুন
| নাম=আতাতুর্ক ভবন জাদুঘর
| ইউআরএল=https://antalya.ktb.gov.tr/TR-67550/antalya-ataturk-evi-ve-muzesi.html
| ঠিকানা=ফেভজি চাকমাক সড়ক ১১
| অক্ষাংশ=36.8808
| দ্রাঘিমাংশ=30.7081
| সময়সূচী=প্রতিদিন ০৮:৩০-১৭:৩০
| মূল্য=ফ্রি
| বিবরণ=মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক ১৯৩০, ১৯৩১ ও ১৯৩৫ সালে আনতালিয়ায় অবস্থান করেছিলেন। এখানে তাঁর সময়কার স্মারক সংরক্ষিত আছে।
}}
* '''মুসেল্লিম মসজিদ''', খাঁজকাটা মিনার থেকে ২০০ মিটার উত্তরে, ১৭৯৬ সালে নির্মিত।
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=বালিবেই মসজিদ|অক্ষাংশ=36.8885|দ্রাঘিমাংশ=30.7066}}
১৪৮৫ সালে নির্মিত। ইসমেত পাশা সড়ক ও ৪০৩ নং সড়কের মোড়ে অবস্থিত।
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=মুরাত পাশা মসজিদ|অক্ষাংশ=36.8915|দ্রাঘিমাংশ=30.7025}}
১৫৭০ সালে নির্মিত। গম্বুজ উঁচু এবং ভেতরের সেলজুক ক্যালিগ্রাফি দৃষ্টিনন্দন।
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=শেখ সিনান মসজিদ|অক্ষাংশ=36.8861|দ্রাঘিমাংশ=30.7158}}
১৫৯০ সালে দেগিরমেনোনু সড়কের শেষে নির্মিত।
* {{দেখুন
| নাম=আনতালিয়া জাদুঘর
| ইউআরএল=https://muze.gov.tr/muze-detay?SectionId=ANT01&DistId=ANT
| ঠিকানা=কনিয়ালতি সড়ক ৮৮
| অক্ষাংশ=36.8856
| দ্রাঘিমাংশ=30.6797
| দিকনির্দেশ=ট্রামে মিউজে স্টপ
| ফোন=+90 242 238 5688
| সময়সূচী=এপ্রিল–সেপ্টেম্বর প্রতিদিন ০৮:৩০-২০:০০, অক্টোবর–মার্চ মঙ্গলবার–রবিবার ০৮ঃ৩০-১৬ঃ০০
| মূল্য=প্রাপ্তবয়স্ক ৩৪০ তুর্কি লিরা
| বিবরণ=তুরস্কের অন্যতম বৃহত্তম জাদুঘর। এখানে প্রায় ২৫,০০০ নিদর্শন সংরক্ষিত আছে এবং প্রায় ৫০০০ প্রদর্শনী সামগ্রী রাখা হয়েছে।
}}
* {{দেখুন
| নাম=আনতালিয়া অ্যাকোয়ারিয়াম
| ইউআরএল=https://www.antalyaaquarium.com/
| ইমেইল=info@antalyaaquarium.com
| ঠিকানা=দুমলুপিনার বুলভার ৫০২, কনিয়ালতি
| অক্ষাংশ=36.8789
| দ্রাঘিমাংশ=30.6607
| দিকনির্দেশ=বাস ৫৬
| ফোন=+90 242 245 6565
| সময়সূচী=প্রতিদিন ০৯:০০-২৩:০০
| মূল্য=প্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু ৯৫০ তুর্কি লিরা
| বিবরণ=বৃহৎ অ্যাকোয়ারিয়ামে বিভিন্ন প্রদর্শনী ট্যাঙ্ক ও লম্বা টানেল রয়েছে। অতিরিক্ত খরচে ডলফিনের সঙ্গে সাঁতার কাটার সুযোগও আছে।
}}
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=দুদেন নিম্ন জলপ্রপাত|অক্ষাংশ=36.8512|দ্রাঘিমাংশ=30.7833}}
৪০ মিটার উঁচু থেকে দুদেন নদী সাগরে পতিত হয়।
* {{দেখুন
| নাম=স্যান্ডল্যান্ড
| অন্য=বালুর ভাস্কর্য জাদুঘর
| ইউআরএল=https://www.sandlandantalya.com/en/home/
| ঠিকানা=লারা সড়ক
| অক্ষাংশ=36.8489
| দ্রাঘিমাংশ=30.8141
| ফোন=+90 549 445 0777
| সময়সূচী=প্রতিদিন ০৯:০০-২৩:০০
| মূল্য=প্রাপ্তবয়স্ক ২৫০ তুর্কি লিরা, শিশু ১২৫ তুর্কি লিরা
| বিবরণ=বছরজুড়ে খোলা বালুর ভাস্কর্য পার্ক, রাতের আলোকসজ্জা বিশেষ আকর্ষণীয়।
}}
* {{দেখুন
| নাম=আকসু ডলফিনারিয়াম
| ইউআরএল=https://aksudolphin.com/
| ঠিকানা=তেসিসলার সড়ক ৩১৮, আকসু
| অক্ষাংশ=36.8567
| দ্রাঘিমাংশ=30.8653
| ফোন=+90 532 389 0719
| সময়সূচী=প্রতিদিন ০৯:০০-১৮:৩০
| বিবরণ=ডলফিন ও সমুদ্রসিংহ প্রতিদিন সকাল ১১টা ও বিকেল ৩টায় প্রদর্শনী করে। অতিরিক্ত খরচে দর্শনার্থীরা সাঁতার বা ছবি তোলার সুযোগ পান।
}}
=== আরও দূরের দর্শনীয় স্থান ===
[[চিত্র:Antalya._Lower_Düden_Waterfall.jpg|থাম্ব|দুদেন জলপ্রপাত]]
[[চিত্র:Perge_city_overview.jpg|থাম্ব|পেরগে]]
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=দুদেন উর্দ্ধ জলপ্রপাত|অক্ষাংশ=36.9647|দ্রাঘিমাংশ=30.7268}}
এখানে দুদেন নদী কার্স্টিক সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে প্রায় ২০ মিটার নিচে পতিত হয়েছে। সারা বছর ধরে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বর্ষায় পানির প্রবল স্রোত আর গ্রীষ্মকালে সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে মিলে অনন্য দৃশ্য তৈরি হয়।
* {{দেখুন
| নাম=আনতালিয়া চিড়িয়াখানা
| অন্য=আনতালিয়া হায়ভানাত বাঘচেসি
| ইউআরএল=http://antalyazoo.antalya.bel.tr/
| ঠিকানা=কেপেজ
| অক্ষাংশ=36.9463
| দ্রাঘিমাংশ=30.6361
| দিকনির্দেশ=ট্রাম: ফাতিহ
| ফোন=+90 242 332 3232
| সময়সূচী=মঙ্গলবার–রবিবার ১০:০০-১৮:০০
| মূল্য=প্রতি গাড়ি ২০ তুর্কি লিরা
| বিবরণ=বৃহৎ খোলা পরিবেশে সাজানো এই চিড়িয়াখানায় নানা প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে। পরিবার ও শিশুদের জন্য আনন্দময় ভ্রমণস্থল।
}}
* {{দেখুন
| নাম=টুনেক তেপে
| ইউআরএল=https://tunektepeteleferik.com/
| ঠিকানা=কেমার সড়ক, কনিয়ালতি
| অক্ষাংশ=36.8216
| দ্রাঘিমাংশ=30.5837
| সময়সূচী=মঙ্গলবার–রবিবার ১০:০০-১৭:০০
| মূল্য=কেবল কার ৪০০ তুর্কি লিরা (এপ্রিল ২০২৪ থেকে বন্ধ)
| উইকিউপাত্ত=Q7862437
| বিবরণ=৬১৮ মিটার উঁচু পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে শহর ও সমুদ্রতীরের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখা যায়। সাধারণত কেবল কারে উঠে যাওয়া হত, তবে হাঁটতে বা গাড়িতেও যাওয়া যেত। এপ্রিল ২০২৪ সালে দুর্ঘটনার কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেছে।
}}
* {{দেখুন
| নাম=পেরগে
| ইউআরএল=https://muze.gov.tr/muze-detay?SectionId=PRG01&DistId=PRG
| ঠিকানা=পেরগে সড়ক, আকসু
| অক্ষাংশ=36.9597
| দ্রাঘিমাংশ=30.8545
| ফোন=+90 242 426 2748
| সময়সূচী=প্রতিদিন ০৮:০০-১৭:৩০
| মূল্য=প্রাপ্তবয়স্ক ২৫০ তুর্কি লিরা
| উইকিপিডিয়া=পেরগে
| উইকিউপাত্ত=Q719815
| বিবরণ=রোমান আমলে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় শতকে পেরগে ছিল সমৃদ্ধ শহর। আজ এখানে আগোরা, থিয়েটার, স্টেডিয়াম, আর্তেমিসের মন্দির এবং দুটি গির্জার ভগ্নাবশেষ দেখা যায়।
}}
* {{দেখুন
| নাম=কুরশুনলু জলপ্রপাত
| ঠিকানা=কুরশুনলু সড়ক, আকসু
| অক্ষাংশ=37.003
| দ্রাঘিমাংশ=30.821
| দিকনির্দেশ=আনতালিয়ার উত্তর-পূর্বে D685 সড়কে
| ফোন=+90 242 433 2218
| সময়সূচী=প্রতিদিন ০৮:৩০-১৭:৩০
| উইকিপিডিয়া=কুরশুনলু জলপ্রপাত প্রাকৃতিক উদ্যান
| উইকিউপাত্ত=Q981506
| বিবরণ=অরণ্যঘেরা পার্ক, বর্ষায় জলপ্রপাতের প্রবাহ মনোমুগ্ধকর হলেও গ্রীষ্মে সরু স্রোতে পরিণত হয়। পার্কে হাঁটার পথ আছে, ছোট খাবারের দোকান ও একটি রেস্তোরাঁও রয়েছে।
}}
* {{দেখুন
| নাম=রাজকীয় পুকুর
| অন্য=ক্রাল হাভুজু
| অক্ষাংশ=37.1102
| দ্রাঘিমাংশ=30.9361
| মূল্য=ফ্রি
| বিবরণ=একটি মনোরম ক্যানিয়নের ভেতরে স্বচ্ছ জলভরা প্রাকৃতিক পুকুর। এখানে এসে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা উপভোগ করা যায়।
}}
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=সিলিয়ন|অক্ষাংশ=36.9925|দ্রাঘিমাংশ=30.9897}}
বাইজেন্টাইন আমলে সমৃদ্ধ এক দুর্গনগরী। আজও পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা ভগ্নাবশেষ ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।
* {{দেখুন
| নাম=আস্পেনদোস
| ইউআরএল=https://muze.gov.tr/muze-detay?sectionId=ASP01&distId=ASP
| ঠিকানা=সেরিকের কাছে, আনতালিয়া থেকে পূর্বে ৪০ কিমি
| অক্ষাংশ=36.9389
| দ্রাঘিমাংশ=31.1722
| দিকনির্দেশ=সেরিক থেকে বাস ১০
| সময়সূচী=প্রতিদিন ০৮ঃ০০-১৭ঃ০০
| মূল্য=প্রাপ্তবয়স্ক ৩৪০ তুর্কি লিরা
| উইকিপিডিয়া=আস্পেনদোস
| উইকিউপাত্ত=Q633757
| বিবরণ=গ্রিক-রোমান যুগের একটি নগরী। প্রধান আকর্ষণ হলো চমৎকারভাবে সংরক্ষিত অ্যাম্ফিথিয়েটার, যেখানে সাত হাজার লোক বসতে পারত। এছাড়া আছে জলসেচন ব্যবস্থা, স্টেডিয়াম, স্নানাগার, আগোরা এবং প্রাচীন সেতু।
}}
* {{নির্দেশক|ধরন=see|নাম=জেইতিনতাশি গুহা|অক্ষাংশ=37.0469|দ্রাঘিমাংশ=31.1106}}
আস্পেনদোসের উপরের পাহাড়ে আকবাশ গ্রামের কাছে ছোট প্রদর্শনী গুহা। গাইডেড ভ্রমণের মাধ্যমে দেখা যায়। ভেতরের চুনাপাথরের গঠনগুলো রহস্যময় আবহ তৈরি করে।
== করণীয় ==
[[চিত্র:Antalya_Saat_Kulesi_(2).JPG|থাম্ব|ঘড়িঘর]]
'''নৌভ্রমণ''' – বন্দরের পাশ থেকে ছোট-বড় নৌকা ছাড়ে। তবে প্রথমে যে দাম বা সময় বলা হবে তা বিশ্বাস না করে অবশ্যই দরদাম করে নেয়া উচিত।
'''জলক্রীড়া উদ্যান''' – এর মধ্যে আছে [https://waterhill.com.tr/ ওয়াটারহিল], যা অ্যাকুরিয়ামের ঠিক বিপরীতে। এছাড়া [https://www.ekiciparkaqua.com/ পার্ক আকুয়া], ওয়েট অ্যান্ড ওয়াইল্ড এবং ট্রেন্ডি লারা সমুদ্রতীর বরাবর পূর্ব দিকে অবস্থিত।
'''বিনোদন উদ্যান''' – [https://akturpark.com.tr/ আকতুরপার্ক] প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে প্রবেশমূল্য নেই, তবে প্রতিটি খেলায় আলাদা টিকিট কিনতে হয়।
'''ফুটবল''' – [https://www.antalyaspor.com.tr/tr আন্তালিয়াস্পোর] তুরস্কের সর্বোচ্চ স্তরের সুপার লিগে খেলে। তাদের হোম গ্রাউন্ড হলো আনতালিয়া স্টেডিয়াম (ক্ষমতা ৩২,৫০০ দর্শক), যা শহরের পশ্চিমে জাদুঘরের কাছেই। স্পনসরশিপের কারণে বর্তমানে এর নাম *কোরেনডন এয়ারলাইনস পার্ক*।
'''গলফ''' – শহরের পূর্বদিকে বেলেক অঞ্চলে গলফ খেলার সুযোগ রয়েছে। এ এলাকা ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের “আলগার্ভ” নামে পরিচিত হচ্ছে।
'''গোল্ডেন অরেঞ্জ চলচ্চিত্র উৎসব''' – প্রতিবছর অক্টোবর মাসে আয়োজিত হয়। ২০২৩ সালের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৭–১৪ অক্টোবর।
'''গ্রীষ্মকালীন খেলা''' – সার্ফিং থেকে শুরু করে প্যারাগ্লাইডিং—গ্রীষ্মকালে প্রায় সব ধরনের জলক্রীড়া ও আউটডোর খেলার সুযোগ আছে।
== কেনাকাটা ==
জেনে রাখা ভালো: “এভিএম” মানে *আলিশভেরিশ মেরকেজি* বা শপিং সেন্টার। আর “পাজার” মানে বাজার বা হাট।
'''মার্কআনতালিয়া এভিএম''' – শহরের প্রধান শপিং সেন্টার। মুরাত পাশা মসজিদের পূর্বে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
'''মিগ্রোস''' – জনপ্রিয় সুপারমার্কেট চেইন, শহরের নানা জায়গায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো '''৫এম মিগ্রোস''', যা আতাতুর্ক বুলেভার্ডে, অ্যাকুরিয়ামের উত্তরে প্রায় ২০০ মিটার দূরে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
'''কৃষক বাজার''' – শহরের নানা জায়গায় বসে, বিশেষ করে কোনিয়ালতি এলাকায়।
* {{দেখুন
| নাম=টেরাসিটি
| অন্য=
| ইউআরএল=https://www.terracity.com.tr/en/
| ইমেইল=
| ঠিকানা=টেকেলিওগ্লু সড়ক ৫৫, ফেনের
| অক্ষাংশ=36.853
| দ্রাঘিমাংশ=30.757
| দিকনির্দেশ=
| ফোন=+90 242 318 1818
| নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর=
| ফ্যাক্স=
| সময়সূচী=প্রতিদিন ১০:০০-২৩:০০
| মূল্য=
| উইকিপিডিয়া=
| উইকিউপাত্ত=
| চিত্র=
| শেষ_সম্পাদনা=2023-08-19
| বিবরণ=শহরের পূর্ব দিকে লারা সমুদ্রসৈকতের পথে অবস্থিত এই শপিং সেন্টারে প্রায় ১৮০টি দোকান এবং বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ রয়েছে।
}}
'''আগোরা''' এবং '''দীপো আউটলেট সেন্টার / মল অব আনতালিয়া''' বিমানবন্দর প্রবেশদ্বারের পশ্চিমে ডি৪০০ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত দুটি জনপ্রিয় শপিং সেন্টার।
== খাবার ==
[[চিত্র:Sandland,_Internationales_Sandskulpturenfestival_in_Lara,_Antalya.JPG|থাম্ব|লারার স্যান্ডল্যান্ডে বালুর ভাস্কর্য – মৎসকন্যা]]
[[চিত্র:Antalya_Müzesi_(Archäologisches_Museum_Antalya).JPG|থাম্ব|আনতালিয়া জাদুঘর]]
=== সাশ্রয়ী ===
মুরাতপাশা মসজিদের চারপাশের গলিগুলোতে অসংখ্য সস্তা ও ভালো মানের রেস্তোরাঁ পাবেন।
{{eat|name=পিয়াজচি সামি|address=২৫তম সড়ক ১|lat=36.8877|long=30.702|phone=+90 242 244 9190|hours=প্রতিদিন ১০:০০-২২:০০|lastedit=2023-08-18|content=অন্তালিয়ার বিশেষ পিয়াজ (শিমের সালাদ), কফতা এবং স্থানীয় খাবারের জন্য পরিচিত।}}
{{eat|name=উরফালি জিগেরজি আপো|address=১৪তম সড়ক ১৭|lat=36.8894|long=30.7028|directions=কাসাপওগ্লু ইশ মার্কেটে|lastedit=2023-08-18|content=সরল পরিবেশে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়।}}
{{eat|name=ওজকান কেবাপ|address=১২৫৩তম সড়ক ৮/এ|lat=36.8867|long=30.7090|phone=+90 242 244 8401|hours=প্রতিদিন ০৭:০০-২২:০০|lastedit=2023-08-18|content=সাশ্রয়ী মূল্যে নানা পদ, স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয়।}}
{{eat|name=চিগকফতেচি ওমের উস্তা|url=https://cigkofteciomerusta.com/|address=আনাফারতালার সড়ক ৬৫, আলতিন্দাগ|lat=36.8901|long=30.6951|phone=+90 242 241 0402|hours=প্রতিদিন ১১:০০-০১:০০|lastedit=2023-08-18|content=বন্ধুসুলভ পরিবেশে চিগ কফতা (কাঁচা মাংসের বল) পরিবেশন করা হয়।}}
{{eat|name=গিজেম ক্যাফে ফাস্ট ফুড|url=https://www.yemeksepeti.com/restaurant/lqa9/gizem-cafe-and-fastfood-lqa9|address=মিলি এগেমেনলিক সড়ক ১/ডি, কিজিলসারায়|lat=36.8894|long=30.6961|phone=+90 242 244 0580|hours=প্রতিদিন ০৯:০০-২৩:০০|lastedit=2023-08-18|content=সাশ্রয়ী দামে শাওয়ারমা ও দুরুম পাওয়া যায়।}}
{{eat|name=কফতেচি|address=৬৪০তম সড়ক, ৭ম সড়কের কোণে, কোনিয়ালতি|lat=36.8762|long=30.6521|phone=+90 242 240 4047|hours=প্রতিদিন ০৯:০০-২২:০০|lastedit=2023-08-18|content=প্রচলিত তুর্কি খাবারের জন্য বিখ্যাত, কিছুটা সাদামাটা পরিবেশ।}}
{{eat|name=পাবলিক কোনিয়ালতি|address=কেন্ট মেইদানি, আকদেনিজ বুলেভার্ড, কোনিয়ালতি|lat=36.8622|long=30.6375|phone=+90 538 091 5174|hours=প্রতিদিন ১২:০০-০২:০০|lastedit=2023-08-18|content=কোনিয়ালতি পশ্চিম সমুদ্রসৈকতের মূল চত্বরে অবস্থিত। এখানে বার্গার, পাতলা ক্রাস্ট পিজা ও অন্যান্য খাবার পরিবেশন করা হয়।}}
{{eat|name=ইয়ামাচোবা|url=https://www.find.com.tr/Company/yamacobarestoransanayiveticaretlimitedsirketi|address=হেনিয়ে হানিম এপার্টমেন্ট 283 ডি/2, আতাতুর্ক বুলেভার্ড, কোনিয়ালতি|lat=36.8489|long=30.6138|phone=+90 242 259 5040|hours=সোম-শনি ০৯:০০-১৭:০০|lastedit=2023-08-18|content=সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত খাবার, সৈকত অঞ্চলের পশ্চিম প্রান্তে।}}
=== মধ্যম মানের ===
{{eat|name=রোক্কা পিজা ফালাফেল|address=রেসেপ পেকার সড়ক|directions=হাদ্রিয়ানের ফটকের বিপরীতে|phone=+90 242 244 1020|hours=প্রতিদিন ১১:০০-২৩:০০|lastedit=2023-08-18|content=শাকাহারি ও ভেগান খাবারের জন্য ভালো একটি রেস্তোরাঁ।}}
{{eat|name=আয়ার মেহানেসি|url=http://ayarmeyhanesi.com/|address=হেসাপচি সড়ক ৫৯|lat=36.8818|long=30.705|phone=+90 530 117 2927|hours=প্রতিদিন ১২:০০-০১:০০|lastedit=2023-08-18|content=সদ্য ধরা মাছ দিয়ে তৈরি নানা পদ পাওয়া যায়।}}
{{eat|name=প্যারাডাইস রেস্তোরাঁ|address=সেলচুক মহল্লা ৪২|directions=দরবেশ লজের পশ্চিমে|phone=+90 544 603 6303|hours=প্রতিদিন ১০:০০-০২:০০|lastedit=2023-08-15|content=স্পোর্টস বারের পরিবেশে মানসম্মত খাবার।}}
{{eat|name=গ্র্যান্ড ফ্রেন্ডস|url=https://grand-friends-fish-steak-restaurant.business.site/|address=কোকাতেপে সড়ক ৩৭|lat=36.8844|long=30.7074|phone=+90 531 858 0508|hours=প্রতিদিন ১২:০০-০০:০০|lastedit=2023-08-18|content=মাছ ও স্টেকের জন্য বিখ্যাত, চমৎকার পরিবেশ ও সেবাযুক্ত।}}
{{eat|name=কারাফ বিস্ত্রো কালেইচি|address=সাকারিয়া সড়ক ১৪|directions=শেহজাদে করকুত মসজিদের দক্ষিণে|phone=+90 242 242 8081|hours=সোম-শনি 14:০০-০০:০০|lastedit=2023-08-18|content=শান্ত পরিবেশে পিজা ও ওয়াইনের আয়োজন।}}
{{eat|name=হাসানাগা|address=মেসজিদ সড়ক ১৫|lat=36.8858|long=30.7068|phone=+90 242 247 1313|hours=প্রতিদিন ১১:০০-০২:০০|lastedit=2023-08-18|content=দীর্ঘদিনের পারিবারিক রেস্তোরাঁ, সুন্দর বাগান ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন।}}
=== বিলাসবহুল ===
{{eat|name=সেরাসের|url=http://www.seraserrestaurant.com|address=পাশা কামি সড়ক ১৪|directions=ঘড়িঘর থেকে পূর্বে ১০০ মিটার দূরে|phone=+90 242 247 6015|hours=প্রতিদিন ১৬:০০-০০:০০|lastedit=2023-08-18|content=উচ্চমানের খাবার পরিবেশন করে, তবে দামের তুলনায় মান সবসময় সমান থাকে না।}}
== পানাহার ==
[[চিত্র:Hıdırlık_Tower_01.jpg|থাম্ব|হিদিরলিক টাওয়ার]]
পুরোনো শহর আর শহরের কেন্দ্রে পানাহারের অনেক জায়গা রয়েছে। নামগুলো থেকেই বোঝা যায় তারা কেমন ধরনের মানুষকে আকর্ষণ করতে চায়—যেমন শেফিল্ড পাব, এডিনবার্গ সোশ্যাল হাউস কিংবা ডাবলিন। পশ্চিম দিকে কোনিয়ালতি সমুদ্রসৈকতের ধারে আছে দ্য জেমস জয়েস আর দ্য ব্যারেলস। লারার কেন্দ্রে আছে লাকি স্পোর্টস বার এবং প্যাট্রিক আইরিশ পাব। তবে আরও পূর্বে সৈকতের ধার বরাবর গেলে কেবল হোটেলের বারগুলোই চোখে পড়ে। বিমানবন্দরের প্রবেশপথের কাছেই রয়েছে দোলুচা আঙ্গুরবাগান।
== রাত্রিযাপন ==
[[চিত্র:J22_144_Theater_Aspendos,_Bühnenhaus.jpg|থাম্ব|আসপেনদোসের থিয়েটার]]
[[চিত্র:Sillyon_view_from_below_hill_in_2015_5483.jpg|থাম্ব|সিলিওন]]
=== পুরোনো শহর ===
কালে-ইচি, যা পুরোনো শহরের মূল অংশ, এবং তার দক্ষিণ প্রান্ত কিলিঞ্চারস্লানে প্রচুর সাশ্রয়ী মূল্যের পানসিয়ন রয়েছে।
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= হোয়াইটগার্ডেন হোটেল
| ইউআরএল= https://www.whitegardenhotel.com/
| ইমেইল= info@whitegardenhotel.com
| ঠিকানা= হেসাপচি গেচিদি সড়ক ৯
| ফোন= +90 242 241 9115
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ২৫০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= পুরোনো শহরের ভেতরে ছোট হলেও দারুণ মানের হোটেল।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= সিবেল পানসিয়ন
| ইউআরএল= http://www.sibelpansiyon.com/
| ঠিকানা= ফিরিন সড়ক ৩০
| ফোন= +90 242 241 1316
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ১৫০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= আন্তরিক এক ফরাসি নারীর মালিকানাধীন অতিথিপরায়ণ হোটেল। কক্ষগুলোতে শীতাতপ, স্যাটেলাইট টিভি ও ব্যক্তিগত বাথরুম আছে। রাতে শান্ত পরিবেশ, সকালে ভালো নাশতা পরিবেশন করা হয়।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= হোটেল ব্লু সি গার্ডেন
| ইউআরএল= http://www.hotelblueseagarden.com/
| ঠিকানা= হেসাপচি সড়ক ৬৫
| ফোন= +90 242 248 8213
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ১৫০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= অতিথিপরায়ণ হোটেল, সাথে বাগানের রেস্তোরাঁ। কিছু কক্ষ অন্ধকার হলেও, কিছু কক্ষ থেকে সমুদ্র দেখা যায়।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= আলপ পাশা হোটেল
| ইউআরএল= https://www.alppasa.com/
| ইমেইল= info@alppasa.com
| ঠিকানা= হেসাপচি সড়ক ৩০, কালে-ইচি
| ফোন= +90 242 247 5676
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ১০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= ঐতিহাসিক পরিবেশে ভরপুর একটি হোটেল, সাথে ভালো রেস্তোরাঁ।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= তুভানা হোটেল
| ইউআরএল= https://www.tuvanahotel.com
| ইমেইল= info@tuvanahotel.com
| ঠিকানা= কারানলিক সড়ক ১৮, কালে-ইচি
| ফোন= +90 242 247 6015
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ২০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= শান্তিপূর্ণ, আরামদায়ক হোটেল। ৪৫টি কক্ষ এবং একটি ছোট সুইমিং পুল রয়েছে। শহরের কেন্দ্রের কাছে।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= ডাবলট্রি বাই হিলটন | অন্য=
| ইউআরএল= https://www.hilton.com/en/hotels/aytccdi-doubletree-antalya-city-centre/
| ঠিকানা= আদনান মেনদেরেস বুলেভার্ড ৬১ | অক্ষাংশ=36.8963 | দ্রাঘিমাংশ=30.7107
| ফোন= +90 242 231 0042
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ২০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-18
| বিবরণ= মধ্যম মানের চেইন হোটেল, শহরের উত্তর প্রান্তে। অধিকাংশ অতিথির কাছ থেকে ইতিবাচক পর্যালোচনা পেয়েছে।
}}
=== কোনিয়ালতি ===
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= হোটেল সু
| ইউআরএল= https://hotelsu.com.tr/
| ঠিকানা= দুমলুপিনার বুলেভার্ড ২০৫
| ফোন= +90 242 249 0700
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ২৫০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= রঙিন সাজসজ্জা, উন্নত সেবা এবং আরামের পরিবেশ।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= পার্লি হোটেল
| ইউআরএল= http://www.pearlyhotel.com/
| ঠিকানা= আকদেনিজ বুলেভার্ড ১০৪ |অক্ষাংশ=36.8708 | দ্রাঘিমাংশ=30.6509
| ফোন= +90 539 516 0760
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৩০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= সৈকতের সামনে অবস্থিত। তবে আসবাব ও কিছু সুবিধার সংস্কার প্রয়োজন।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= মেগাসারায় ওয়েস্টবিচ
| ইউআরএল= https://www.megasaraywestbeach.com/index_eng.html
| ঠিকানা= আকদেনিজ বুলেভার্ড ১৯২ | অক্ষাংশ=36.8598 | দ্রাঘিমাংশ=30.6336
| ফোন= +90 242 782 4057
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ২৫০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= সৈকতের ধারে এই হোটেলটি ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে দারুণ প্রশংসা পেয়েছে।
}}
=== লারা ===
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= আক্রা হোটেল
| ইউআরএল= https://akrahotels.com/tr/
| ঠিকানা= লারা সি ডি ২৪ |অক্ষাংশ=36.8643 | দ্রাঘিমাংশ=30.7259
| ফোন= +90 242 310 9999
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৩০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= আধুনিক ও সুশৃঙ্খল হোটেল, তবে সমুদ্রের সরাসরি প্রবেশের সুযোগ সীমিত।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= হলিডে ইন লারা
| ইউআরএল= https://www.ihg.com/holidayinn/hotels/gb/en/antalya/aytlg/hoteldetail
| ঠিকানা= 2290th Sk 5, অফ লারা সি ডি | অক্ষাংশ=36.8533 | দ্রাঘিমাংশ=30.8028
| ফোন= +90 242 345 8888
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ২০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= সৈকত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে, ভালো দামে মানসম্মত সেবা পাওয়া যায়।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= লারা বারুত
| ইউআরএল= https://www.barutlara.com/en
| ঠিকানা= অফ লারা ট্যুরিজম ইয়োলু | অক্ষাংশ=36.8583 | দ্রাঘিমাংশ=30.8563
| ফোন= +90 444 9600
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৯০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= পরিবারভিত্তিক পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল এই হোটেল প্রশংসিত।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= ডেলফিন ইম্পেরিয়াল
| ইউআরএল= https://www.delphinhotel.com/tr/delphin-imperial
| ঠিকানা= অফ লারা ট্যুরিজম ইয়োলু | অক্ষাংশ=36.8555 | দ্রাঘিমাংশ=30.8721
| ফোন= +90 242 320 0707
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৮০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= আরাম ও সেবার মানের জন্য দারুণ খ্যাতি রয়েছে।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= ডেলফিন ডিভা
| ইউআরএল= https://www.delphinhotel.com/tr/delphin-diva
| ঠিকানা= মূল ভবনের পেছনে অবস্থিত
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী শাখা।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= গ্র্যান্ড পার্ক লারা
| ইউআরএল= https://www.corendonhotels.com/grand-park-lara/
| ঠিকানা= অফ লারা ট্যুরিজম ইয়োলু | অক্ষাংশ=36.8567 | দ্রাঘিমাংশ=30.8749
| ফোন= +90 242 352 4444
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৩০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= কক্ষগুলো ছোট এবং মাঝে মাঝে সমস্যা হলেও মূল্যের তুলনায় যথেষ্ট ভালো।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= কনকর্ড ডি লাক্স রিসোর্ট
| ইউআরএল= https://www.concordehotels.com.tr/
| ঠিকানা= অফ লারা ট্যুরিজম ইয়োলু | অক্ষাংশ=36.8561 | দ্রাঘিমাংশ=30.8796
| ফোন= +90 242 782 4050
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৪০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= আরামদায়ক পরিবেশ ও মানসম্পন্ন সেবার জন্য নিয়মিত প্রশংসিত।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= শেরউড এক্সক্লুসিভ লারা
| ইউআরএল= https://sherwoodhotels.com.tr/en/hotel/sherwood_exclusive_lara
| ঠিকানা= অফ লারা ট্যুরিজম ইয়োলু, কনকর্ড হোটেলের পূর্বে
| ফোন= +90 242 352 2800
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৩০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= মাঝারি দামে ভালো মানের সেবা পাওয়া যায়।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= রয়্যাল উইংস হোটেল
| ইউআরএল= https://www.royalgrouphotels.com.tr/
| ঠিকানা= শেরউড এক্সক্লুসিভের পূর্বদিকে
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= অতিথিদের মতে প্রায়শই গড়পড়তা অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= রয়্যাল সেগিনুস হোটেল
| ইউআরএল= https://www.royalseginus.com/
| ঠিকানা= অফ লারা ট্যুরিজম ইয়োলু | অক্ষাংশ=36.8580 | দ্রাঘিমাংশ=30.8921
| ফোন= +90 850 850 7070
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৭০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= আরামদায়ক হলেও শব্দদূষণ ও খাবারের মানে সমালোচিত।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= রয়্যাল হলিডে প্যালেস
| ইউআরএল= https://www.royalholidaypalace.com/
| ঠিকানা= রয়্যাল সেগিনুসের পাশে
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= বেশিরভাগ অতিথির জন্য হতাশাজনক অভিজ্ঞতা হয়েছে।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= বাইয়া লারা
| ইউআরএল= https://baiahotels.com/baialara
| ঠিকানা= অফ লারা ট্যুরিজম ইয়োলু, রয়্যাল হলিডে প্যালেসের পশ্চিমে
| ফোন= +90 850 850 2242
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৫০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান সবসময় এক রকম থাকে না।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= আস্কা লারা রিসোর্ট
| ইউআরএল= https://www.askahotels.com/aska-lara-resort-spa/
| ঠিকানা= অফ লারা ট্যুরিজম ইয়োলু | অক্ষাংশ=36.8589 | দ্রাঘিমাংশ=30.8957
| ফোন= +90 242 320 5700
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৪০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= শিশুদের জন্য নানা কার্যক্রমসহ পরিবারবান্ধব হোটেল।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= ক্রেমলিন প্যালেস
| ইউআরএল= https://kremlinpalace.com.tr/
| ঠিকানা= টেসিসলার সড়ক ৪৪০/১, আকসু
| ফোন= +90 242 431 2400
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= রাশিয়ার জার আমলের স্থাপত্য নকল করে তৈরি। পুলের পাশে রঙিন সেন্ট বাসিল গির্জার অনুকরণও রয়েছে। ভালো রেটিং রয়েছে।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= সোয়ানডর তোপকাপি প্যালেস
| ইউআরএল= https://www.swandorhotels.com/en/
| ঠিকানা= ইয়াসার সোবুতাই বুলেভার্ড ৪৪২, আকসু | অক্ষাংশ=36.8567 | দ্রাঘিমাংশ=30.9162
| ফোন= +90 242 431 2600
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৪০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়—কেউ খুশি, কেউ সেবা ও খাবারের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= টাইটানিক মারদান প্যালেস
| ইউআরএল= https://www.titanic.com.tr/titanic-mardan-palace
| ঠিকানা= ইয়াসার সোবুতাই বুলেভার্ড ৪৫০, আকসু
| ফোন= +90 242 310 4100
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= সেবা ও সুযোগ-সুবিধার মান দারুণ। বিশাল সুইমিং পুল প্রধান আকর্ষণ।
}}
* {{রাত্রিযাপন করুন
| নাম= ট্রেন্ডি লারা
| ইউআরএল= https://trendy.com.tr/
| ঠিকানা= টেসিসলার সড়ক ৪৫৪, আকসু | অক্ষাংশ=36.8614 | দ্রাঘিমাংশ=30.9226
| ফোন= +90 242 321 2510
| মূল্য= বেড ও ব্রেকফাস্ট, ডাবল ৬০০০ তুর্কি লিরা
| শেষ_সম্পাদনা= 2023-08-15
| বিবরণ= বড় এবং পরিবারবান্ধব হোটেল, শিশুদের জন্যও নানা সুবিধা রয়েছে।
}}
== নিরাপদে থাকুন ==
সাধারণ সতর্কতা মানা জরুরি—যেমন সড়ক পারাপারে সাবধানতা, পানিতে নিরাপত্তা, রোদ থেকে সুরক্ষা, নিজের মূল্যবান জিনিসের যত্ন নেওয়া এবং মাতাল লোকদের এড়িয়ে চলা।
আনতালিয়া বড় শহরগুলোর মতোই কিছু সমস্যাযুক্ত মানুষ, ধারালো আবর্জনা ও পথকুকুর নিয়ে থাকে। তবে সাধারণ পর্যটকদের এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
== যোগাযোগ ==
আন্তালিয়ায় সব তুর্কি মোবাইল অপারেটরের ৪জি সেবা রয়েছে এবং সিগন্যাল আলানিয়া পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত এলাকা জুড়ে পাওয়া যায়। ৫জি সেবা সীমিত কিছু স্থানে চালু আছে। শহরের প্রধান চত্বর এবং কিছু ক্যাফেতে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়।
== মানিয়ে নেওয়া ==
আন্তালিয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রবাসী বাস করেন। এদের মধ্যে রুশ, ইউক্রেনীয় এবং জার্মানরা বেশি। তাদের সংগঠনগুলো অনলাইনে খুঁজে পাওয়া যায়।
* {{listing|name=সেন্ট পল ও আলিপিয়ুসের গির্জা|alt=''ইয়েনিকাপি রুম কিলিসেসি,''|url=https://impisidias.com/|email=|address=ইয়েনি কাপি সড়ক ২০, কালে-ইচি|lat=36.88226|long=30.70702|directions=পুরোনো শহরের ভেতরে|phone=+90 534 333 73 16|tollfree=|fax=|hours=|price=|lastedit=২০২৫-০৯-০৭|content=১৮৪৪ সালে নির্মিত একটি গ্রিক অর্থডক্স গির্জা, যা ইকুমেনিক্যাল প্যাট্রিয়ার্কেটের অধিভুক্ত। এখানকার উপাসকরা মূলত রুশ ও ইউক্রেনীয়, এবং প্রার্থনা হয় চার্চ স্লাভোনিক ভাষায়।}}
* {{listing|name=সেন্ট পল ইউনিয়ন গির্জা|alt=সেন্ট পল কালচারাল সেন্টার, আজিজ পাভলুস কুলতুর মেরকেজি|url=https://www.spccturkey.com/|email=|address=ইয়েনি কাপি সড়ক ২২, কালে-ইচি|lat=|long=|directions=অর্থডক্স গির্জার পাশেই|phone=+90 242 244 68 94|tollfree=|fax=|hours=|price=|content=এটি একটি ইভাঞ্জেলিক্যাল মণ্ডলী। এখানে ইংরেজি, রুশ এবং তুর্কি ভাষায় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।}}
== পরবর্তী গন্তব্য ==
* [[কেমের]] দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত, যা আনতালিয়া পর্যটন অঞ্চলের অংশ। আরও দক্ষিণে [[লিসিয়া|লিসিয়ার]] দুর্গম উপকূল বরাবর গেলে শান্ত সৈকত আর ছোট ছোট গ্রামের বন্দর পাওয়া যায়।
* [[বেলেক]] শহরের পূর্বদিকে, এখানে গলফ খেলার মাঠ এবং বিলাসবহুল হোটেল রয়েছে।
* আরও পূর্বে [[মানাভগাত]] শহর, যেখানে জলপ্রপাত আছে। তবে আসল আকর্ষণ হলো [[সিদে]] শহরের রোমান যুগের ধ্বংসাবশেষ।
* এরও পূর্বে রয়েছে [[আলানিয়া]]। এখানে পাহাড়চূড়ায় প্রাচীন এক দুর্গ দেখা যায়, আর দুই পাশে বিস্তৃত সমুদ্রসৈকতজুড়ে রয়েছে বহু হোটেল।
* উত্তরে [[টারমেসসোস]]—টরাস পর্বতমালার জঙ্গলের উপরে অবস্থিত প্রাচীন ধ্বংস শহর।
{{routebox|image1=D400-TR.svg|imagesize1=40|directionl1=W|majorl1=[[মারমারিস]]|minorl1=[[কেমের]]|directionr1=E|majorr1=[[মেরসিন]]|minorr1=[[বেলেক]]|image2=E87-TR.svg|imagesize2=40|directionl2=N|majorl2=[[দেনিজলি]]|minorl2=[[টারমেসসোস]]|directionr2=S|majorr2=Ends at [[File:D400-TR.svg|35px]]|minorr2=|image3=D650-TR.svg|imagesize3=40|directionl3=N|majorl3=[[কুতাহিয়া]]|minorl3=[[বুরদুর]]|directionr3=S|majorr3=Ends at [[File:D400-TR.svg|35px]]|minorr3=|image4=Pictograms-nps-trailhead.svg|imagesize4=22|directionl4=W|majorl4=[[ফেথিয়ে]]|minorl4=[[কেমের | ফাসেলিস]] ← গেইকবাইরি (পথের শুরু)|directionr4=E|majorr4=END|minorr4=|link4=লিসিয়ান ওয়ে}}{{geo|36.9000|30.6833}}{{usablecity}}{{isPartOf|পামফিলিয়া}}
bccnue4ue072ah1ag9ezqyui5nvnr2z
অস্ট্রেলিয়া
0
7770
76703
75397
2026-06-01T15:40:53Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
অনুবাদ
76703
wikitext
text/x-wiki
{{pagebanner |Australia alt banner.jpg| caption=উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্কে কাটা টজুটা, নর্দান টেরিটরি|origin=0.3,0}}
'''অস্ট্রেলিয়া'''র মতো জায়গা পৃথিবীতে আর নেই। একে বলা হয় ''ল্যান্ড ডাউন আন্ডার'', কারণ এটি পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেটি পুরো একটি মহাদেশকে দখল করে আছে। এখানে আদিবাসী সংস্কৃতির ইতিহাস প্রায় ৬৫,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো, আবার আধুনিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক অভিবাসনের ফলে এটি বহুজাতিক সমাজে পরিণত হয়েছে। দেশটি তার প্রাকৃতিক বিস্ময়, উন্মুক্ত প্রান্তর, সমুদ্রসৈকত, মরুভূমি, অরণ্য এবং [[আউটব্যাক|আউটব্যাকের]] জন্য বিখ্যাত। তবে অস্ট্রেলিয়া একই সঙ্গে অত্যন্ত নগরায়িত-বহুজাতিক শহরের সমাহারে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত শহর হলো [[সিডনি]], যা বিশ্বের অন্যতম প্রসিদ্ধ বন্দরের তীরে অবস্থিত।
==অঞ্চল==
অস্ট্রেলিয়া ছয়টি রাজ্য ও নয়টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। সবগুলো একসঙ্গে ঘুরে দেখা প্রায় অসম্ভব, কারণ অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যের তুলনায় অনেক বড়, বরং আয়তনে কানাডার প্রদেশগুলোর কাছাকাছি। [[ব্রিসবেন]] থেকে [[শার্ক বে]] পর্যন্ত প্রায় {{km|5000}} কিমি দূরত্ব, যা মাদ্রিদ থেকে মুরমানস্ক, কায়রো থেকে নাইরোবি বা মেইন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার দূরত্বের সমান।
{{Regionlist
| regionmap=Australia regions map.png
| regionmaptext=অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য/অঞ্চল ও প্রধান মহাসড়ক
| regionmapsize=376px
| region1name=[[নিউ সাউথ ওয়েলস]] ''(এনএসডব্লিউ)'' এবং [[ক্যানবেরা|অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি]] ''(এএসটি)''
| region1color=#c8aa92
| region1items=
| region1description=অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য, যেখানে রয়েছে [[সিডনি]]—দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম শহর। রাজ্যটি ঘিরে রয়েছে পরিকল্পিত রাজধানী শহর [[ক্যানবেরা]]। নিউ সাউথ ওয়েলসের উপকূল জুড়ে রয়েছে সমুদ্রসৈকতঘেঁষা জনপদ। একটু ভেতরে রয়েছে [[ব্লু মাউন্টেইনস|ব্লু মাউন্টেইনস]] এবং [[স্নোয়ি মাউন্টেইনস|স্নোয়ি মাউন্টেইনসের]] পর্বতশ্রেণী। আরও ভেতরে রয়েছে বিশাল কৃষি সমভূমি, যা শেষে মিলেছে আউটব্যাকের সঙ্গে।
| region2name=[[নর্দান টেরিটরি]] ''(এনটি)''
| region2color=#acc2a6
| region2items=
| region2description=[[উলুরু]] ও [[অ্যালিস স্প্রিংস|অ্যালিস স্প্রিংসের]] লাল মরুভূমি থেকে শুরু করে [[ডারউইন]] ও [[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক|ন্যাশনাল পার্কের]] উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত নর্দান টেরিটরি অপূর্ব সুন্দর এবং ধারণার তুলনায় অনেক সহজলভ্য।
| region3name=[[কুইন্সল্যান্ড]] ''(কিউএলডি)''
| region3color=#c3bea3
| region3items=
| region3description=রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার জন্য বিখ্যাত কুইন্সল্যান্ডে রয়েছে [[গোল্ড কোস্ট]] থেকে [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]] পর্যন্ত সমুদ্রতটের রূপ, এবং প্রাণচঞ্চল [[ব্রিসবেন]] শহর। এখানেই আছে [[ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক|ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্কের]] উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য এবং হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জের রিসোর্ট। ভেতরে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল এবং আরও ভেতরে বিশাল আউটব্যাক।
| region4name=[[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] ''(এসএ)''
| region4color=#bcb491
| region4items=
| region4description=বিশ্ববিখ্যাত [[বারোসা ভ্যালি|বারোসা ভ্যালির]] উৎকৃষ্ট মদ, [[ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেস|ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেসের]] সৌন্দর্য ও আউটব্যাক, আর [[অ্যাডিলেড]]—"চার্চের শহর"—এর সংস্কৃতি ও উৎসবের জন্য খ্যাত। এটাই একমাত্র রাজ্য যা কারাগার উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং সম্পূর্ণভাবে মুক্ত বসতিদের দ্বারা গড়ে উঠেছে।
| region5name=[[তাসমানিয়া]] ''(টাস.)''
| region5color=#b69eb3
| region5items=
| region5description=বাস প্রণালী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন তাসমানিয়া হলো একটি পর্বতময় রাজ্য। পশ্চিমে [[ক্র্যাডল মাউন্টেইন|ক্র্যাডল মাউন্টেইনের]] দুর্দান্ত সৌন্দর্য, পূর্বে সমুদ্রসৈকত, আর দক্ষিণে রয়েছে অরণ্য। [[হোবার্ট]] ছিল অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইউরোপীয় বসতি, এবং বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনো সংরক্ষিত আছে।
| region6name=[[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ''(ভিক.)''
| region6color=#c3d099
| region6items=
| region6description=অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ছোট মূল ভূখণ্ডের রাজ্য ভিক্টোরিয়া নানা বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্য ও অভিজ্ঞতা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নাটকীয় ঢেউয়ের সৈকত, উর্বর কৃষিভূমি ও সুন্দর জাতীয় উদ্যান সবই এখানে রয়েছে। [[মেলবোর্ন]] হলো রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র—বিশ্বমানের কেনাকাটা, ফ্যাশন, খাদ্য এবং ক্রীড়া ইভেন্টের জন্য প্রসিদ্ধ।
| region7name=[[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] ''(ডব্লিউএ)''
| region7color=#cfcf94
| region7items=
| region7description=একটি বিশাল রাজ্য। দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে রাজধানী শহর [[পার্থ]]। দক্ষিণে রয়েছে [[মার্গারেট রিভার]]-এর আঙুরক্ষেত এবং [[অ্যালবানি (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া)|অ্যালবানির]] মনোরম দৃশ্যাবলি। উত্তরে রয়েছে [[ব্রুম|ব্রুমের]] উষ্ণমণ্ডলীয় সৈকত। দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট জনপদ, রাস্তার ধারে অবকাঠামো, খনিশ্রমিকদের বসতি ও জাতীয় উদ্যান।
}}
===দ্বীপপুঞ্জ===
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বীপ [[তাসমানিয়া]], যা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যও বটে। দেশজুড়ে মোট ৮,২২২টি দ্বীপ রয়েছে। প্রধান দ্বীপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
* {{marker|name=[[লর্ড হাও দ্বীপ]]|wikidata=Q104784}} - প্রকৃতির অপূর্ব প্রদর্শনী, সিডনি থেকে দুই ঘণ্টার ফ্লাইট, নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ।
* {{marker|name=[[নরফোক দ্বীপ]]|wikidata=Q31057}} - নিউজিল্যান্ডের মাঝপথে, প্রকৃতি ও সৈকতের জন্য খ্যাত।
* {{marker|name=[[ক্রিসমাস দ্বীপ]]|wikidata=Q31063}} - লাল কাঁকড়ার অভিবাসনের জন্য বিখ্যাত, পার্থ থেকে ফ্লাইট যায়।
* {{marker|name=[[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q36004}} - প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ, জনবসতিপূর্ণ, পার্থ থেকে ফ্লাইটে যাওয়া যায়।
* {{marker|name=[[টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q1059258}} - আদিবাসী সংস্কৃতির কেন্দ্র, কেপ ইয়র্ক ও পাপুয়া নিউ গিনির মাঝে। ভ্রমণের জন্য ঐতিহ্যগত মালিকদের অনুমতি প্রয়োজন। ফ্লাইট [[কেয়ার্নস]] থেকে।
* {{marker|name=[[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]|wikidata=Q210371}} - অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, যেখানে বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক দৃশ্য, মধুর খামার, আঙুরক্ষেত ও সৈকত রয়েছে।
* {{marker|name=[[রটনেস্ট দ্বীপ]]|wikidata=Q585317}} - প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য, ৬৩টি সৈকত ও ২০টি উপসাগর রয়েছে। পার্থের কাছে অবস্থিত এবং "কোয়োকা" প্রাণীর জন্য বিখ্যাত।
* {{marker|name=[[কিং দ্বীপ]]|wikidata=Q794502}} - তাসমানিয়ার উত্তরে বাস প্রণালীতে।
* {{marker|name=[[হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q1646461}} - সাদা বালুকাময় সৈকতের জন্য প্রসিদ্ধ পর্যটন গন্তব্য।
এছাড়াও রয়েছে বহু জনশূন্য দ্বীপ যেমন [[করাল সি দ্বীপপুঞ্জ]], [[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ|কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জের]] কিছু অংশ, [[অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ]] এবং দূরবর্তী আন্টার্কটিক দ্বীপ যেমন [[হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ]] এবং [[ম্যাকুয়ারি দ্বীপ]]।
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c8aa92|title=[[নিউ সাউথ ওয়েলস]] এবং [[অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি]] ''(এনএসডব্লিউ) & (এসি টি)''|wikidata=Q3224}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#acc2a6|title=[[নর্দার্ন টেরিটরি]] ''(এনটি)''|wikidata=Q3235}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c3bea3|title=[[কুইন্সল্যান্ড]] ''(কিউএলডি)''|wikidata=Q36074}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#bcb491|title=[[সাউথ অস্ট্রেলিয়া]] ''(এসএ)''|wikidata=Q35715}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#b69eb3|title=[[তাসমানিয়া]] ''(তাস)''|wikidata=Q34366}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c3d099|title=[[ভিক্টোরিয়া (অঙ্গরাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ''(ভিক)''|wikidata=Q36687}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#cfcf94|title=[[ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া]] ''(ডব্লিউএ)''|wikidata=Q3206}}
==শহর==
[[File:Sydney Harbour Bridge night.jpg|thumb|350px|রাতে সিডনির দৃশ্য]]
<!-- এখানে সর্বাধিক ৯টি শহর তালিকাভুক্ত করা যাবে। তালিকায় পরিবর্তন চাইলে আলোচনাপৃষ্ঠায় আলোচনা করুন। -->
* {{marker|type=city|name=[[ক্যানবেরা]]|wikidata=Q3114}} - তুলনামূলক ছোট, পরিকল্পিত জাতীয় রাজধানী; এখানে বহু জাদুঘর রয়েছে
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[অ্যাডিলেড]]|wikidata=Q5112}} - "চার্চের শহর", শান্ত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী, বিশ্বখ্যাত আঙুরক্ষেতের কাছেই
* {{marker|type=city|name=[[ব্রিসবেন]]|wikidata=Q34932}} - রৌদ্রোজ্জ্বল কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী, সুন্দর বালুকাময় সৈকতের প্রবেশদ্বার
* {{marker|type=city|name=[[কেয়ার্নস]]|wikidata=Q189133}} - [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]], পোর্ট ডগলাস, [[ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক]] ও বহু সৈকত ও রিসোর্টের প্রবেশদ্বার; বিশ্রাম ও ভ্রমণের জনপ্রিয় স্থান
* {{marker|type=city|name=[[ডারউইন]]|wikidata=Q11568}} - অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণমণ্ডলীয় উত্তরাঞ্চলীয় রাজধানী
* {{marker|type=city|name=[[হোবার্ট]]|wikidata=Q40191}} - ছবির মতো সুন্দর ও শান্ত তাসমানিয়ার রাজধানী, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় কারাগার বসতি
* {{marker|type=city|name=[[মেলবোর্ন]]|wikidata=Q3141}} - অস্ট্রেলিয়ার কফি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার রাজধানী; প্রায়শই সবচেয়ে ইউরোপীয় ধাঁচের শহর বলা হয়; শিল্পকলা, খাবার ও ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য প্রসিদ্ধ
* {{marker|type=city|name=[[পার্থ]]|wikidata=Q3183}} - পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী মহাদেশীয় শহর, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে
* {{marker|type=city|name=[[সিডনি]]|wikidata=Q3130}} - অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম শহর, অপেরা হাউসের আবাসস্থল এবং মনোরম উপসাগর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অসংখ্য সৈকতের জন্য খ্যাত
==অন্যান্য দর্শনীয় স্থান==
[[File:Apostles 3 GOR.JPG|thumb|250px|দ্য টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস]]
<!--শহর ও অন্যান্য গন্তব্যের তালিকায় সর্বাধিক ৯টি উপাদান রাখা যাবে। পরিবর্তনের জন্য আলোচনাপৃষ্ঠায় আলোচনা করুন।-->
* {{marker|type=vicinity|name=[[ব্লু মাউন্টেইনস ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q885558}} - নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি পর্বতময় জাতীয় উদ্যান, যেখানে "থ্রি সিস্টার্স" শিলারূপ আছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[ক্র্যাডল মাউন্টেইন-লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q1138453}} - তাসমানিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যান; এখানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গভীরতম হ্রদ ও মনোরম পাহাড়
* {{marker|type=vicinity|name=[[ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট]]|wikidata=Q5209517}} - বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত অরণ্য; এখানে রয়েছে ক্যাসোয়ারি পাখির বৃহত্তম জনসমষ্টি
* {{marker|type=vicinity|name=[[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]|wikidata=Q7343}} - কুইন্সল্যান্ড উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থা
* {{marker|type=vicinity|name=[[গ্রেট ওশান রোড]]|wikidata=Q74046}} - ভিক্টোরিয়ার মনোমুগ্ধকর উপকূলীয় সড়ক; "[[পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক|টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস]]" শিলা ও বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q189657}} - নর্দান টেরিটরির দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান; উষ্ণমণ্ডলীয় ভ্রমণ, আদিবাসী সংস্কৃতি ও প্রকৃতি উপভোগের স্থান
* {{marker|type=vicinity|name=[[ইকারা-ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেস ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q426073}} – দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রতীকী জাতীয় উদ্যান; প্রাকৃতিক অ্যম্ফিথিয়েটার ও এডিয়াকারান যুগের জীবাশ্ম রয়েছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[পুর্নুলুলু ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q679568}} – "বাঙ্গল বাঙ্গল রেঞ্জের" খাড়া শিলা, ২৫০ মিটার উঁচু
* {{marker|type=vicinity|name=[[উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q251999}} - [[উলুরু]] (''আয়ার্স রক'') ও কাটা টজুটা (''দ্য ওলগাস'') শিলারূপ, যা "রেড সেন্টারের" প্রতীক
==জানুন==
{{quote|{{center|1=আমরা এক <br>কিন্তু আমরা অনেক <br>আর পৃথিবীর সব দেশ থেকেই আমরা এসেছি। <br>আমরা এক স্বপ্ন ভাগাভাগি করব <br>এবং এক কণ্ঠে গান গাইব: <br>আমি, তুমি, আমরা সবাই অস্ট্রেলিয়ান|author="আই অ্যাম অস্ট্রেলিয়ান" — দ্য সিকার্স}}}}
{{quickbar|location=Australia with AAT (orthographic projection).svg}}
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে ছোট-প্রায় ২৫ মিলিয়ন, তবে তা বাড়ছে। জি২০-এর সদস্য এ দেশটির জীবনমান উচ্চ এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবে শীর্ষে থাকে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
===ইতিহাস===
{{see also|অস্ট্রেলীয় আদিবাসী সংস্কৃতি|ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ}}
অস্ট্রেলিয়ায় কমপক্ষে ৬৫,০০০ বছর ধরে আদিবাসীরা বসবাস করছে। তারা দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বিভিন্ন তরঙ্গে এসে এখানে পৌঁছায়। শেষ বরফ যুগের পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের বাকি অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো ভূমি ও প্রকৃতির সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর আত্মীয়তাভিত্তিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে নানা সংস্কৃতি গড়ে তোলে। হাজার হাজার বছর ধরে অস্ট্রেলীয় আদিবাসীরা শিকারি-সংগ্রাহক জীবনধারা বজায় রেখেছে, আর কিছু অঞ্চলে আধা-স্থায়ী সমাজ গড়ে তোলে। এর সঙ্গে সমৃদ্ধ শিল্পকলা, কাহিনি ও সংগীতের ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
অস্ট্রেলীয় আদিবাসীদের বর্তমান জনপ্রিয় ধারণা মূলত মরুভূমির মানুষের উপর ভিত্তি করে, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে (কালাহারির বুশম্যানদের মতো)। তবে অনেক আদিবাসীই বনভূমি ও জলসমৃদ্ধ অঞ্চলে বাস করত। ইউরোপীয়দের আগমনের আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন নিশ্চিত করেছিল।
যদিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চীনে ঝিনুক ও সামুদ্রিক শশার বাজার ইন্দোনেশীয় জেলেদের অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে আসতে উৎসাহিত করেছিল, ইউরোপীয়দের কাছে এটি অজানা ছিল ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত। তখন ডাচ বণিকরা এশিয়ার পথে চলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৌঁছায়। [[সুলাওয়েসি]]র মাকাসারিদের আগমন উত্তরাঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে বহু ইন্দোনেশীয় সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে আসে। ইসলামের প্রচারও প্রথম বিদেশি ধর্ম হিসেবে এখানে প্রবেশ করে। আরনহেম ল্যান্ড ও কিম্বারলির শিলাচিত্রগুলোতে বহু ইসলামি উপাদান দেখা যায়।
ডাচদের কাছে এই শুষ্ক ও প্রতিকূল দেশটি আকর্ষণীয় ছিল না। তারা একে সমৃদ্ধ পূর্ব ইন্ডিজের (আধুনিক ইন্দোনেশিয়া) দিকে যাওয়ার একটি চিহ্নমাত্র হিসেবে দেখত। পরবর্তীতে ফরাসি ও ব্রিটিশরা অস্ট্রেলিয়ার উপকূল ঘুরে দেখার উদ্যোগ নেয়। ফলে দেশের বিভিন্ন উপসাগর, নদী ও ভূখণ্ডে ডাচ, ফরাসি ও ইংরেজ নামকরণ হয়। তবে অনেক জায়গার নাম স্থানীয় আদিবাসী ভাষা থেকে এসেছে, আর বহু স্থানে ইউরোপীয় নাম বাতিল করে বা দ্বৈতভাবে আদিবাসী নাম সংযোজন করা হয়েছে।
[[জেমস কুকের সমুদ্রযাত্রা|ক্যাপ্টেন জেমস কুক]] ১৭৭০ সালে [[এন্ডেভার]] অভিযানে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল মানচিত্রে চিহ্নিত করেন। তিনি ২৯ এপ্রিল ১৭৭০-এ [[বোটানি বে]]তে প্রথম অবতরণ করেন। এরপর তিনি উত্তরের দিকে যাত্রা করে ২২ আগস্ট ১৭৭০-এ টরেস প্রণালীর [[পজেশন আইল্যান্ড]]-এ ব্রিটিশ মুকুটের পক্ষে পূর্ব উপকূল দখলের ঘোষণা দেন এবং এর নামকরণ করেন নিউ সাউথ ওয়েলস। যদিও কুককে প্রায়শই অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় আবিষ্কারক বলা হয়, তিনি প্রকৃতপক্ষে ডাচদের চেয়ে দেড় শতাব্দীরও বেশি পরে এসেছিলেন।
[[File:PortArthurPenitentiary.jpg|thumb|তাসমানিয়ার [[পোর্ট আর্থার]] দণ্ডিত উপনিবেশের ধ্বংসাবশেষ। এটি [[অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ]]-এর অংশ এবং [[ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা]]ভুক্ত।]]
১৭৮৮ সালে ক্যাপ্টেন আর্থার ফিলিপের নেতৃত্বে প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপিত হয় বর্তমান [[সিডনি]]তে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রথম গভর্নর হন। উপনিবেশ স্থাপনের ফলে আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে তাদের জনসংখ্যা কমে যায় এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। শুরুতে পুরো মহাদেশের পূর্বাংশ নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত হয়-১৮২৫ সালে [[তাসমানিয়া]] (তখন ভ্যান ডিমেন’স ল্যান্ড), ১৮৩৬ সালে [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]], ১৮৪১ সালে [[নিউজিল্যান্ড]], ১৮৫১ সালে [[ভিক্টোরিয়া]], ১৮৫৯ সালে [[কুইন্সল্যান্ড]]। মহাদেশের পশ্চিমাংশে ইউরোপীয়রা অনেক দেরিতে আসে-১৮২৬ সালে [[অ্যালবানি (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া)|অ্যালবানি]]তে নৌঘাঁটি স্থাপন করে। ১৮২৯ সালে [[পার্থ]]-এ সোয়ান রিভার কলোনি গড়ে ওঠে, যার নাম ১৮৩২ সালে পরিবর্তিত হয়ে [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] হয়।
অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ব্রিটিশ দণ্ডিত উপনিবেশ হিসেবে পরিচিত হলেও ১৭৮৮-এর পর অধিকাংশ মানুষ স্বাধীনভাবে আসে, বিশেষত ব্রিটেন ও [[আয়ারল্যান্ড]] থেকে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় কিছু দণ্ডিত উপনিবেশ ছিল বিক্ষিপ্ত আকারে, তবে [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] পুরোপুরি স্বাধীন অভিবাসীদের দ্বারা গড়ে ওঠে। ১৮৫০-এর দশকে সোনার খনির সময় এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ থেকেও বহু মানুষ আসে। যদিও পরবর্তীতে "হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতি" অভিবাসন কঠোরভাবে সীমিত করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর, এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ধারা শুরু হয়। এর ফলে ২০শ শতকের শেষ নাগাদ অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পরিণত হয়।
১৯০১ সালে বিভিন্ন উপনিবেশ একত্রিত হয়ে "কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়া" গঠন করে। [[নিউজিল্যান্ড]] তখন এই ফেডারেশনে যোগ দেয়নি। নতুন দেশটি কৃষি ও শিল্পে দ্রুত অগ্রগতি ঘটায় এবং ছোট জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ]], [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]সহ [[কোরিয়ার যুদ্ধ]], [[ভিয়েতনাম যুদ্ধ]], ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেয়। অস্ট্রেলীয় সেনারা কঠিন যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।
১৯৮৬ সালে "অস্ট্রেলিয়া অ্যাক্ট" পাশ হয়, যা ব্রিটিশ সংসদের অস্ট্রেলিয়ার উপর বাকি আইনি ক্ষমতা শেষ করে দেয়। তবে কানাডার মতো এখানেও ব্রিটিশ রাজা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রয়েছেন, যার প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল।
২০শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আদিবাসী আন্দোলন শক্তিশালী হয়। এর ফলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি পায় এবং ভূমি অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে বহু এলাকা আদিবাসীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড সংসদে আদিবাসীদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই বছর থেকে অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত করা হয়।
===ভূগোল===
{{infobox|অস্ট্রেলিয়া কি দুটি মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি তিনটি?|অস্ট্রেলিয়ার সীমানা নিয়ে দ্বিধা আছে। প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের সীমানা নিয়ে বিতর্ক নেই, তবে দক্ষিণ মহাসাগরকে কোথা থেকে শুরু ধরা হবে তা নিয়ে মতভেদ আছে। আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষিণ মহাসাগর ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে শুরু ধরা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় (সরকারি দপ্তরসহ) দক্ষিণ উপকূল থেকেই একে ধরা হয়। তাই উইকিভ্রমণের অস্ট্রেলিয়া-সংক্রান্ত নিবন্ধগুলোতে অস্ট্রেলিয়ান প্রেক্ষাপট ধরা হয়।}}
[[File:Macropus rufus 01 - Christopher Watson.jpg|thumbnail|নর্দার্ন টেরিটরিতে লাল ক্যাঙ্গারু]]
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ এবং বৃহত্তম দ্বীপ। এটি [[ওশেনিয়া]]র ভূমির প্রধান অংশ। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে [[তাসমানিয়া]]সহ কিছু ছোট দ্বীপ রয়েছে। মোট আয়তন ৭,৬৮২,৩০০ বর্গকিমি (২,৯৬৬,১৫২ বর্গমাইল), যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সমান। তবে এর জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের এক দশমাংশও নয়। ফলে শহরগুলোর মধ্যে দূরত্ব সহজে আন্দাজ করা যায় না। পশ্চিমে ভারত মহাসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর। দক্ষিণ-পূর্বে তাসমান সাগর, যা নিউজিল্যান্ডকে পৃথক করে, আর উত্তর-পূর্বে প্রবাল সাগর। উত্তর দিকে [[পাপুয়া নিউগিনি]], [[তিমুর-লেস্তে]] ও [[ইন্দোনেশিয়া]] রয়েছে, যেগুলো নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক কাছাকাছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে পাপুয়া নিউগিনি মাত্র {{km|৪}} দূরে।
অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত নগরায়িত। জনসংখ্যার অধিকাংশই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে কেন্দ্রীভূত। সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হলো [[নিউ সাউথ ওয়েলস]], [[ভিক্টোরিয়া]], [[কুইন্সল্যান্ড]]; তবে আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হলো [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]]।
দেশটির বহু এলাকা কৃষিকাজের জন্য বন উজাড় করা হয়েছে, তবে বহু প্রাকৃতিক বন সংরক্ষিত রয়েছে জাতীয় উদ্যান ও অনাবাদী জমিতে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে জল ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা, দূষণ, বহিরাগত প্রাণীর আক্রমণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, এবং [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]সহ উপকূলীয় এলাকা রক্ষা করার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
===আবহাওয়া===
অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু বৈচিত্র্যময়। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বছরে ৩,০০০ ঘণ্টার বেশি রোদ পড়ে। উত্তরাংশ গরম ও ক্রান্তীয়, দক্ষিণাংশ নাতিশীতোষ্ণ। উপকূলে বেশি বৃষ্টি হয়, আর কেন্দ্রীয় অংশ শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক। [[ডারউইন]] শহরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শীতকালেও সচরাচর ৩০°সে (৮৬°ফা) এর নিচে নামে না, আর রাতে সাধারণত ১৫–২০°সে (৬০–৭০°ফা) থাকে। অস্ট্রেলিয়ার শীত উত্তর গোলার্ধের সমান অক্ষাংশের তুলনায় হালকা। দেশের অধিকাংশ অংশে কখনোই তুষারপাত হয় না। তবে দক্ষিণ-পূর্বের [[স্নোই মাউন্টেনস]] ও তাসমানিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে শীতকালে প্রচুর তুষারপাত হয়।
অস্ট্রেলিয়া যেহেতু দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত, তাই এখানে জুন-আগস্ট হলো শীতকাল এবং ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি হলো গ্রীষ্মকাল। উত্তরাঞ্চলে শীতকালেই শুষ্ক মৌসুম থাকে, আর দক্ষিণে গ্রীষ্মকালে শুষ্কতা দেখা যায়। পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ অংশে বৃষ্টি সারা বছর প্রায় সমানভাবে হয়।
উত্তর গোলার্ধের ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার হলো-এখানে সূর্য ও নক্ষত্র বিপরীত দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) চলে। ফলে উত্তর ঢালগুলো বেশি সূর্যালোক পায়। হাঁটা বা ট্রেকিং করার সময় এ কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দিক-নির্ণয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।
===অর্থনীতি===
অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও পশ্চিমা ধাঁচের পুঁজিবাদী। মাথাপিছু জিডিপি উন্নত দেশগুলোর সমান।
দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬০% আসে সেবা খাত থেকে-এর মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা ও আর্থিক সেবা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পর্যটন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্প, যা বছরে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করে এবং মোট রপ্তানির অন্তত ১১% জোগান দেয়।
প্রাথমিক শিল্প, বিশেষত খনি ও কৃষি, ২০শ ও ২১শ শতকে অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি। লোহার আকরিক ও কয়লা সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য, তার সঙ্গে গম, গরুর মাংস ও উলও উল্লেখযোগ্য। খনি খাত চীনা ও ভারতীয় অর্থনীতির ওঠানামার উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি। এখানে হাতের কাজ করা শ্রমিক বা কারিগরের আয় প্রায়শই শ্বেত-কলার পেশাজীবীদের চেয়েও বেশি হয়।
===রাজনীতি===
[[File:Parliament House Canberra 2.jpg|thumb|250px|ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউস]]
অস্ট্রেলিয়ায় একটি ফেডারেল সরকারব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ছয়টি রাজ্য ও দুটি অঞ্চলের সরকার আছে, পাশাপাশি একটি জাতীয় সরকারও রয়েছে। পার্শ্ববর্তী সাগরে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু বহিঃঅঞ্চল রয়েছে, যেগুলো উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এবং অনেক সময় মূল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত হয় না। রাজ্যভেদে আইনের কিছু পার্থক্য থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা প্রায় একই রকম।
জাতীয় সংসদ ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তবে কিছু অংশ আমেরিকান কংগ্রেস পদ্ধতি থেকে নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল পর্যায়ে সংসদ দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত-সেনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। প্রতিটি সংসদ সদস্য (এমপি) একটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। জনবহুল রাজ্যগুলোতে বেশি আসন থাকে, তাই বেশি এমপি নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের মতোই প্রতিটি রাজ্য থেকে সমানসংখ্যক সিনেটর নির্বাচিত হয়-প্রতিটি রাজ্য থেকে ১২ জন করে, আর নর্দার্ন টেরিটরি ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি থেকে ২ জন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সরকারের প্রধান এবং সেই রাজনৈতিক দলের (বা দলীয় জোট) নেতা যাদের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে। সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হয়, যদিও প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগেও নির্বাচন দিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস অস্ট্রেলিয়ার রাজাও বটে এবং তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। ফেডারেল পর্যায়ে রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন গভর্নর-জেনারেল। রাজা ও গভর্নর-জেনারেলের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক, সরকারের আসল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়াকে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করার জন্য গণভোট হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছিল-কারণ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী অপসারণ করতে পারবেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় প্রজাতন্ত্র ধারণার প্রতি সাধারণ সমর্থন আছে, বাস্তবে তা এখনও বড় অগ্রাধিকার নয়।
অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) নির্বাহী বিভাগ হিসেবে কাজ করে এবং এর নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদের দুই কক্ষ থেকেই মন্ত্রী নিয়োগ করেন। বিচার বিভাগ পরিচালনা করে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট, যা ১৯৮৬ সালে যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিলের পরিবর্তে সর্বোচ্চ আপিল আদালত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
রাজ্য ও অঞ্চল সরকারগুলোও প্রায় একইভাবে পরিচালিত হয়-তাদের নিজস্ব সংসদ আইনসভা হিসেবে কাজ করে, প্রিমিয়ার (অঞ্চলগুলোতে চিফ মিনিস্টার) সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজস্ব বিচার বিভাগ থাকে। প্রতিটি রাজ্যে একজন গভর্নর থাকেন, যিনি রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন-তাদের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক।
অস্ট্রেলিয়ার দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল হলো অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি (এএলপি বা শুধু “লেবার”) এবং লিবারেল পার্টি (স্থানীয়ভাবে বলা হয় ''দ্য লিবস'')। তারা একসময় ন্যাশনাল পার্টির (যা “কোয়ালিশন” নামে পরিচিত) সঙ্গে জোটে ছিল, তবে ২০২৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর এ জোট ভেঙে যায়। তবুও, কিছু রাজ্যে তারা এখনও কোয়ালিশন হিসেবে কাজ করে (কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরিতে তারা একটি একক দল হিসেবে পরিচালিত হয়)। ছোট দলগুলোর মধ্যে আছে গ্রিনস (জিআরএন) এবং টিল ইন্ডিপেনডেন্টস।
মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টি তার নামের বানান “Labor” ব্যবহার করে “Labour” নয়, কারণ এর প্রেরণা এসেছে আমেরিকান শ্রমিক আন্দোলন থেকে। গ্রিনস একটি পরিবেশবাদী দল, যাদের লেবারের চেয়েও বামপন্থী মনে করা হয়।
লিবারেল পার্টি একটি মধ্য-ডানপন্থী রক্ষণশীল দল, যেখানে “লিবারেল” বলতে মুক্তবাজার অর্থনীতি বোঝানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় “লিবারেল” শব্দটি ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যা অন্য ইংরেজিভাষী দেশের থেকে ভিন্ন। তারা সাধারণত ন্যাশনাল পার্টির সঙ্গে কাজ করে-ন্যাশনাল পার্টি মূলত গ্রামীণ ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং পরিবেশ রক্ষার বিপক্ষে বেশি রক্ষণশীল। ২০১০-এর দশকের শেষ থেকে লিবারেল পার্টি শহুরে ধনী অঞ্চলের টিল ইন্ডিপেনডেন্টসের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, কারণ লিবারেলদের পরিবেশনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডানপন্থার আরও কিছু দল রয়েছে, যেমন পলিন হ্যানসনের ওয়ান নেশন (পিএইচওএন বা ওএনপি) এবং ট্রাম্পেট অব প্যাট্রিয়টস (টিওপি), যা আগে ইউনাইটেড অস্ট্রেলিয়া পার্টি (ইউএপি) নামে পরিচিত ছিল। তারা কেবল সেনেটে আসন পেয়েছে, এর বাইরে বড় সাফল্য পায়নি।
===সংস্কৃতি===
অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে প্রায় সব ধরনের ধর্ম ও জীবনধারা অনুশীলন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, আরেক-চতুর্থাংশের অন্তত একজন বিদেশি-জন্ম পিতা-মাতা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের পর অর্ধশতকে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়নের বেশি হয়েছে। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন ও পার্থ এখন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক শহর, যেখানে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের মানুষের বসবাস রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের মাঝেও অস্ট্রেলিয়ানদের একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয়বোধ ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে গর্ব রয়েছে।
সব বড় শহরে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। প্রতিটি শহরের নিজস্ব পরিচয় আছে-সিডনি নিজেকে “আরবান নেচার ক্যাপিটাল” বলে প্রচার করে; মেলবোর্ন শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত; ব্রিসবেনকে বলা হয় বহুসাংস্কৃতিক নগর গ্রামগুলোর সমষ্টি। অ্যাডিলেড উৎসব, ওয়াইন সংস্কৃতি ও জার্মান প্রভাবের জন্য খ্যাত; পার্থ সমুদ্রসৈকত, আরামদায়ক জীবনযাপন ও আন্তর্জাতিক ফ্রিঞ্জ আর্টস উৎসবের জন্য পরিচিত; আর হোবার্ট তার ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত, বিশেষত প্রাক্তন দণ্ড উপনিবেশ হিসেবে। ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত অ্যাংলো-সেল্টিক সংস্কৃতি বহন করে, যেখানে কিছু কিছু জায়গায় স্বল্পসংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীও রয়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ অঞ্চল ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানায় এবং তাদের ইতিহাস ও স্থানীয় পণ্য ভাগাভাগি করে।
[[File:Melbournes Chinatown (6760134067).jpg|thumb|মেলবোর্নের চায়না টাউন]]
প্রায় ১০ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান নিজেদেরকে আদিবাসী (অ্যাবোরিজিনাল) হিসেবে পরিচয় দেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪%। তারা শহরেও বাস করে, আবার গ্রামীণ আদিবাসী সম্প্রদায়েও থাকে। যদিও নতুন ভ্রমণকারীর কাছে তা খুব স্পষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু যারা চাইবেন তাদের জন্য আদিবাসী সংস্কৃতি জানার অনেক সুযোগ রয়েছে।
জনপ্রিয় কল্পকাহিনীর বিপরীতে, ব্রিটিশ বন্দিশিবির থেকে আসা অপরাধীদের বংশধররা সংখ্যালঘু। এমনকি দণ্ড-পরিবহনের সময়কালেও মুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল কমপক্ষে পাঁচগুণ বেশি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু অঞ্চলে একেবারেই অপরাধী পাঠানো হয়নি। তবুও, কারও যদি অপরাধীর বংশধর হিসেবে পরিচিতি থাকে, সেটিকে অনেক সময় “অস্ট্রেলিয়ান রয়্যালটি” হিসেবে সম্মানের প্রতীক ধরা হয়।
অস্ট্রেলিয়ানরা ইউরোপের কিছু সংস্কৃতির তুলনায় সামাজিকভাবে বেশি রক্ষণশীল হতে পারে, তবে ধর্মীয় চর্চায় সাধারণত শিথিল। সম্বোধনের ধরন অনানুষ্ঠানিক ও পরিচিতভাবাপন্ন। অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান আপনাকে প্রথম সাক্ষাৎ থেকেই আপনার নাম ধরে ডাকবে এবং আশা করবে আপনিও তাদের একইভাবে সম্বোধন করবেন।
====ছুটির দিন====
[[File:Lotto Skyworks Applecross.jpg|thumb|250px|অস্ট্রেলিয়া দিবসে পার্থে আতশবাজি প্রদর্শনী]]
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ছুটির দিনগুলো হলো:
* '''১ জানুয়ারি''': নববর্ষ
* '''২৬ জানুয়ারি''': অস্ট্রেলিয়া দিবস-১৭৮৮ সালে প্রথম বহরের সিডনি কোভে আগমনের বার্ষিকী
* '''ইস্টার সপ্তাহান্ত''' (গুড ফ্রাইডে থেকে ইস্টার সোমবার): মার্চ বা এপ্রিল মাসে চার দিনের ছুটি, পশ্চিমা খ্রিস্টান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত। অনেকে গির্জায় যান না; বরং এই সময়ে ভ্রমণ করেন, ফলে হোটেল ও বিমানের টিকিট অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়।
* '''২৫ এপ্রিল''': আনজাক দিবস (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আর্মি কর্পস), যুদ্ধ-সেনাদের স্মরণে
* '''জুনের দ্বিতীয় সোমবার''': রাজাধিরাজের জন্মদিন (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে পালিত হয়, এর এক সপ্তাহ আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস উদযাপিত হয়)
* '''২৫ ডিসেম্বর''': বড়দিন
* '''২৬ ডিসেম্বর''': বক্সিং ডে
বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন দিনে '''শ্রমিক দিবস''' পালিত হয়। বেশিরভাগ রাজ্যে অতিরিক্ত দু’একটি রাজ্য-নির্দিষ্ট ছুটি রয়েছে। [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ও [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]]তে ঘোড়দৌড় উপলক্ষে ছুটি থাকে (মেলবোর্ন কাপ ও অ্যাডিলেড কাপ)। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় জুন মাসের প্রথম সোমবার ‘পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস’ উদযাপিত হয়, তবে রানির জন্মদিন দেশের অন্য অংশের থেকে ভিন্ন তারিখে পালিত হয়, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে। ভিক্টোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগ (এএফএল) গ্র্যান্ড ফাইনালের আগের শুক্রবারও ছুটি থাকে।
যদি কোনো সরকারি ছুটি শনিবার বা রবিবারে পড়ে, তবে সাধারণত সোমবার (প্রয়োজনে মঙ্গলবারও) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে আসল উৎসব বা দোকানপাট বন্ধ থাকার দিন থাকে মূল তারিখেই। অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র বড়দিন ও গুড ফ্রাইডে বন্ধ থাকে। সুপারমার্কেট ও অন্যান্য দোকান কিছু সরকারি ছুটিতে সীমিত সময়ে খোলা থাকতে পারে, তবে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন, গুড ফ্রাইডে, ইস্টার সানডে ও আনজাক দিবসের সকাল প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ থাকে।
'''অস্ট্রেলিয়া দিবস''' জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক আদিবাসী ও প্রগতিশীল মানুষ একে ‘আক্রমণ দিবস’ বলেন, কারণ এই দিনটি ব্রিটিশ দখল ও উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা নির্দেশ করে। প্রতিবছর এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়। তবে স্থানীয় সরকারগুলো নানা উদযাপন ও বারবিকিউর আয়োজনও করে।
সরকারি ছুটির বাইরেও জাতীয় ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের দিন রয়েছে, যেমন:
* '''এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''': অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা ভিক্টোরিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া অনুষ্ঠান। পাবগুলো দর্শকে ভরে যায় এবং অনেকে ঘরে বসে বড়সড় আয়োজন করে। সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার বা অক্টোবরের প্রথম শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।
* '''এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''': ন্যাশনাল রাগবি লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ রবিবার বা অক্টোবরের প্রথম রবিবার হয়।
===ছুটির ভিড়ের সময়===
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ দর্শনীয় স্থান সারা বছর খোলা থাকে, তবে অফ-সিজনে সময়সূচী সীমিত হতে পারে। বড়দিন ও নববর্ষে কিছু জায়গা বন্ধ থাকে।
'''গ্রীষ্মকালীন স্কুলের ছুটি''' বড়দিনের আগে শুরু হয় এবং পুরো জানুয়ারি মাস জুড়ে থাকে। এসময় ভ্রমণ সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও ভিড়পূর্ণ (যদি না আপনি [[উত্তর অস্ট্রেলিয়া]] ভ্রমণ করেন)। সমুদ্রসৈকতের আশেপাশের ছুটির বাড়িগুলো কয়েক মাস আগে থেকেই বুক হয়ে যায় এবং বেশি ভাড়া নেয়। দীর্ঘ '''ইস্টার ছুটি'''ও ভিড়পূর্ণ হয়, কারণ অভিভাবকরা শীত আসার আগে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যান।
অস্ট্রেলীয় কিশোররা নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে স্কুল শেষের পর তিন সপ্তাহব্যাপী ‘‘স্কুলিজ’’ উদযাপন করে। তখন তারা কিছু শহর ও উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমায়, যেমন [[বায়রন বে]] (নিউ সাউথ ওয়েলস), [[গোল্ড কোস্ট]] (কুইন্সল্যান্ড), [[রটনেস্ট দ্বীপ]] (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া), [[ভিক্টর হারবার]] (দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া) এবং [[মর্নিংটন উপদ্বীপ]] (ভিক্টোরিয়া)।
===সময়===
[[File:Central time zone sign.jpg|thumb|200px|ব্রোকেন হিলের কাছে একটি সড়কচিহ্ন, যেখানে সময় অঞ্চল পার্থক্য উল্লেখ রয়েছে]]
ডে-লাইট সেভিংস চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় সর্বোচ্চ সাতটি সময় অঞ্চল এবং অন্য সময়ে পাঁচটি সময় অঞ্চল থাকে। সময় অঞ্চলের সীমারেখা সবসময় রাজ্যের সীমারেখা অনুসরণ করে না। যেমন, [[ব্রোকেন হিল]] ও সিলভারটন শহরগুলো নিউ সাউথ ওয়েলসে হলেও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সময় অনুসরণ করে। আবার লর্ড হাও দ্বীপ, যদিও নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ, তার নিজস্ব সময় অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া অনেক আউটব্যাক সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিকভাবে নর্দার্ন টেরিটরির সময় (এনটি) অনুসরণ করে।
[[File:Australia-states-timezones.svg|thumbnail|অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল (GMT থেকে)]]
পূর্বে তাসমানিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া সর্বদা একই সময় মেনে চলে। [[কুইন্সল্যান্ড]] ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, ফলে এ সময়ে তারা অন্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।
মধ্যাঞ্চলে, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও [[নর্দার্ন টেরিটরি]] শীতে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে। তবে নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, কিন্তু দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন পালন করে। ডে-লাইট সেভিংস চলাকালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা এগিয়ে যায়। নর্দার্ন টেরিটরি সারা বছর কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, কিন্তু ডে-লাইট সেভিংস সময়ে নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।
পশ্চিমে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া শীতে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে এবং ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না। ডে-লাইট সেভিংস সময়ে এটি তিন ঘণ্টা পিছিয়ে যায় (তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়েই থাকে), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটনের থেকে আড়াই ঘণ্টা পিছিয়ে এবং নর্দার্ন টেরিটরির থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।
এছাড়াও একটি অস্বাভাবিক +৮:৪৫ সময় অঞ্চল রয়েছে, যাকে অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট্রাল ওয়েস্ট স্ট্যান্ডার্ড টাইম (এসিডব্লিউএসটি বা সিডব্লিউএসটি) বলা হয়, যা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সীমান্তের কিছু শহরে ব্যবহৃত হয়। এটি সরকারি সময় নয়, তবে বাস্তবে ব্যবহৃত হয়। মহাসড়কে ঘড়ি বদলানোর সাইনবোর্ডও রয়েছে, এমনকি অ্যাপল আলাদা একটি অঞ্চল (‘‘ইউক্লা’’ নামে) রেখেছে। আরও জটিল ব্যাপার হলো, সিডব্লিউএসটি অঞ্চলের একমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলীয় শহর বর্ডার ভিলেজ ডে-লাইট সেভিংস পালন করে এবং +৯:৪৫ মেনে চলে, যা ইউক্লার থেকে এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাকিদের থেকে ৪৫ মিনিট পিছিয়ে। তবে বাস্তবে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সবই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ইউক্লা শহরে হওয়ায় ভ্রমণকারীদের ওপর এর প্রভাব প্রায় নেই।
অত্যন্ত দুর্গম আউটব্যাক পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা শহরগুলো প্রশাসনিকভাবে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় হলেও তারা এসিএসটি (নর্দার্ন টেরিটরির সময়) মেনে চলে, যা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা এগিয়ে। যেহেতু নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, তাই এসব শহরও করে না।
অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চলের কোনো সরকারি সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। কখনও কখনও EST, CST, WST এবং ডে-লাইট সেভিংসে EDT, CDT ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও AEST ইত্যাদি ব্যবহার হয়, যেখানে ‘‘A’’ উপসর্গ দিয়ে উত্তর আমেরিকার একই নামের সময় অঞ্চল থেকে আলাদা করা হয়। <!-- কথোপকথনে এসব সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার হয় না। সাধারণত মানুষ ‘‘সিডনি টাইম’’, ‘‘ব্রিসবেন টাইম’’ বা ‘‘পার্থ টাইম’’ বলে। ‘‘সেন্ট্রাল সামার টাইম’’ বললে বেশিরভাগ মানুষ অবাক হবে। -->
যেসব রাজ্যে ডে-লাইট সেভিংস পালিত হয়, সেখানে এটি অক্টোবরের প্রথম রবিবার শুরু হয় এবং এপ্রিলের প্রথম রবিবার শেষ হয়।
{| class="wikitable"
|-
! রাজ্য/অঞ্চল !! মান সময় !! ডে-লাইট সেভিংস সময়
|-
| [[হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ]] || ইউটিসি+৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ]] || ইউটিসি+৬.৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[ক্রিসমাস দ্বীপ]] || ইউটিসি+৭ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] || ইউটিসি+৮ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[ইউক্লা]], ককলেবিডি, মাদুরা, মুন্দ্রাবিলা || ইউটিসি+৮.৪৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| বর্ডার ভিলেজ, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া || ইউটিসি+৮.৪৫ || ইউটিসি+৯.৪৫
|-
| [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]], [[ব্রোকেন হিল]] ও [[সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস)|সিলভারটন]] || ইউটিসি+৯.৫ || ইউটিসি+১০.৫
|-
| [[নর্দার্ন টেরিটরি]], ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা || ইউটিসি+৯.৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[কুইন্সল্যান্ড]] || ইউটিসি+১০ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[নিউ সাউথ ওয়েলস]], [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]], [[তাসমানিয়া]], [[ক্যানবেরা|এসিটি]] ও [[জার্ভিস বে টেরিটরি]]
| ইউটিসি+১০ || ইউটিসি+১১
|-
| [[লর্ড হাও দ্বীপ]] || ইউটিসি+১০.৫ || ইউটিসি+১১
|-
| [[নরফোক দ্বীপ]] || ইউটিসি+১১ || প্রযোজ্য নয়
|}
===বিদ্যুৎ===
[[File:Australian electric outlet type.png|thumb]]
প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহের মান ২৩০ ভোল্ট এবং প্লাগের ধরণ হলো টাইপ আই (যেখানে লাইভ ও নিউট্রাল পিন দুটি তির্যক এবং আর্থ পিন সোজা থাকে)। একে সাধারণভাবে “দুই-চল্লিশ ভোল্ট সকেট” নামেও ডাকা হয়। হোটেলের বাথরুমে প্রায়ই টাইপ সি ও এ সকেট থাকে যেগুলোতে “শুধুমাত্র শেভারের জন্য” লেখা থাকে। এগুলো ১১০ ভোল্টে রূপান্তর করে দেয়, যা উত্তর আমেরিকান ধাঁচের সকেটের শেভারের জন্য ব্যবহারযোগ্য। ভোল্টেজ ইউরোপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই শুধু একটি কনভার্সন প্লাগ প্রয়োজন হবে। এই ধরনের প্লাগ সহজেই সুপারমার্কেট, কনভেনিয়েন্স স্টোর কিংবা বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করা যায়। তবে উত্তর আমেরিকা বা অন্য ১১০ ভোল্টের দেশ থেকে আসলে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভোল্টেজ সহনশীলতা পরীক্ষা করে তারপর কনভার্সন প্লাগ ব্যবহার করা উচিত।
=== আরও দেখুন ===
অস্ট্রেলিয়ার বিষয়বস্তু
* [[অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং]]
* [[ওয়াল্টার বার্লি গ্রিফিনের স্থাপত্যকলা]]
* [[গাড়ি ছাড়া অস্ট্রেলিয়া]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার বড় বড় বস্তু]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত স্থানসমূহ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ান খাবার]]
* [[অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং]]
* [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার গির্জা]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ]]
* [[নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালনা]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গলফ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় আঙুর ভ্রমণ]]
* [[গ্রেট আর্টেসিয়ান বেসিন]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং]]
* [[কোশিউস্কো জাতীয় উদ্যানে হাইকিং]]
* [[আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামরিক জাদুঘর ও স্থানসমূহ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[নর্দান টেরিটরির জাতীয় উদ্যান]]
* [[নেড কেলি পর্যটন]]
* [[নিউ সাউথ ওয়েলসের জাতীয় উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় জীবাশ্মবিদ্যা]]
* [[কুইন্সল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ]]
* [[আরএফডিএস পর্যটন]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা]]
* [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[মেলবোর্নের স্ট্রিট আর্ট]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা]]
* [[শিশুদের সঙ্গে সিডনি]]
* [[তাসমানিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[মেলবোর্নের ট্রাম]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা]]
===ভ্রমণকারীর তথ্য===
* [https://www.australia.com/ ভিজিট অস্ট্রেলিয়া] ওয়েবসাইট
==ভাষা==
{{see also|ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন রূপ}}
{{infobox|অস্ট্রেলীয় পরিভাষা
|যদিও অস্ট্রেলীয় ইংরেজি মার্কিন ও ব্রিটিশ ইংরেজির দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত, তবুও অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব কিছু পরিভাষা রয়েছে। [[অস্ট্রেলীয় স্ল্যাং]]-এর বিপরীতে, এগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনায়, টেলিভিশনে এবং এমনকি সরকারি পর্যায়েও ব্যবহৃত হয়। এগুলোর অনেকগুলো প্রতিবেশী [[পাপুয়া নিউ গিনি]]তে ব্যবহৃত হয়, আর [[নিউজিল্যান্ড]] বা [[সিঙ্গাপুর]]-এর লোকদের কাছেও কিছু পরিচিত, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা ওশেনিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে অন্য কোনো ইংরেজিভাষী দেশে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।
;the bush:বনাঞ্চল। ‘‘বুশ’’ শব্দের উৎপন্ন শব্দগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন বনের আগুনকে বলা হয় ‘‘বুশফায়ার’’
;Commonwealth government: গোটা দেশের সরকার
;esky: কুলার বক্স
;doona: কমফর্টার বা ডুভে
;fairy floss: কটন ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); ক্যান্ডি ফ্লস (যুক্তরাজ্য)
;football (বা footy): অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল বা রাগবি লীগ (অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলকে বলা হয় ‘‘সকার’’)
;footpath: ফুটপাত (যুক্তরাষ্ট্রে sidewalk; যুক্তরাজ্যে pavement)
;hotel: বার, পাব
;icy pole: পপসিকল
;lollies: মিষ্টি বা ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে candy; যুক্তরাজ্যে sweets)
;mob: কোনো আদিবাসী সম্প্রদায়, তবে বন্ধুবান্ধবের একটি দল বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়
;peak hour: ব্যস্ত সময় বা রাশ আওয়ার
;powerpoint: বৈদ্যুতিক সকেট
;road train: অতি দীর্ঘ ট্রাক
;service station (বা servo): গ্যাস স্টেশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); পেট্রল স্টেশন (যুক্তরাজ্য); পেট্রল শেড (দক্ষিণ এশিয়া)
;thongs: ফ্লিপ-ফ্লপ; নিউজিল্যান্ডে ‘‘জ্যান্ডালস’’
;ute (উচ্চারণ ‘‘ইউট’’): পিকআপ ট্রাক
;yabby: ক্রেফিশ বা ক্রেফিস/ক্রেফিস
}}
'''ইংরেজি''' অস্ট্রেলিয়ায় সর্বজনীনভাবে প্রচলিত ভাষা। অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজির উচ্চারণ ও বাগধারা স্বতন্ত্র। এটি মূলত ১৮শ ও ১৯শ শতকে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড থেকে বিকশিত হলেও ২০শ শতকে আমেরিকান প্রভাব এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলে।
তবে অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ হওয়ায় বড় শহরগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা শোনা যায়। অভিবাসী সম্প্রদায়ের এলাকাগুলোতে তাদের ভাষার আধিক্য দেখা যায়। বিদেশি ভাষা স্কুলে শেখানো হলেও সাধারণত প্রাথমিক স্তরের পর তা অগ্রসর হয় না।
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে মূলত ব্রিটিশ বানান অনুসরণ করা হয়। তবে এতে ব্রিটিশ ও আমেরিকান উভয় পরিভাষার মিশ্রণ আছে। যেমন ''eggplant'' (aubergine নয়), ''boot'' (trunk নয়), ''toll-free'' (freephone নয়), ''take-away'' (takeout নয়) এবং ''truck'' (lorry নয়)। আমেরিকান শব্দ সবার কাছে বোধগম্য হলেও ব্রিটিশ শব্দ অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বা বয়স্ক প্রজন্ম বুঝতে পারে।
কিছু শব্দ একান্তই অস্ট্রেলিয়ান, যেমন ''thongs'' বলতে বোঝায় ফ্লিপ-ফ্লপ, অন্তর্বাস নয়। আবার ''chips'' শব্দটি একসঙ্গে ''fries'' এবং ''crisps'' দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়।
গ্রামীণ এলাকায় লোকদের উচ্চারণ তুলনামূলকভাবে ভারী এবং কিছু পুরোনো স্ল্যাং এখনও ব্যবহৃত হয়। শহরের শিক্ষিত মানুষদের উচ্চারণ অনেকটা ব্রিটিশ ধাঁচের। তবে ভ্রমণকারীদের [[অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং]] ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ভুল ব্যবহার হাস্যকর বা অসম্মানজনক শোনাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে খুব বেশি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নেই। তবে কিছু শব্দের উচ্চারণ যেমন ''dance'', ''renaissance'' ভিন্ন হয়। সুইমিং পোশাককে [[নিউ সাউথ ওয়েলস]]-এ ''cossies'' বা ''swimmers'', [[কুইন্সল্যান্ড]]ে ''togs'' এবং অন্যান্য অঞ্চলে ''bathers'' বলা হয়। বহু আদি অধিবাসী ও [[টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ|টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জের]] মানুষ ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।
[[File:Multilingual road safety sign (3565389671).jpg|thumb|left|200px|জার্মান, ইতালীয়, জাপানি ও পিজান্তজাতজারা ভাষায় একটি সড়ক নিরাপত্তা চিহ্ন। অস্ট্রেলিয়ায় এটি বেশ অস্বাভাবিক।]]
অস্ট্রেলিয়ায় সাইনবোর্ড সাধারণত ইংরেজিতেই থাকে। তবে এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ভিয়েতনামি ও চীনা ভাষায় রেস্তোরাঁ মেনু ও সাইন দেখা যায়। [[কেয়ার্নস]] ও [[গোল্ড কোস্ট]] এলাকায় জাপানি ও চীনা ভাষার কিছু সাইনও আছে, বিশেষত পর্যটকদের জন্য। সমুদ্রসৈকতে সতর্কতামূলক সাইন কখনও কখনও একাধিক ভাষায় লেখা থাকে।
যাঁরা একেবারেই ইংরেজি জানেন না তাঁদের জন্য যোগাযোগ কঠিন। কিছু ভ্রমণ সংস্থা চীনা, জাপানি, ভিয়েতনামি, জার্মান, ইতালীয়, ফরাসি, ইন্দোনেশীয় ও কোরিয়ান ভাষায় ট্যুর প্যাকেজ দেয়। কিছু ক্ষেত্রে স্প্যানিশ, মালয় ও পর্তুগিজ ভাষাতেও গাইডেড ট্যুর পাওয়া যায়। তবে হিন্দি, আরবি বা সোয়াহিলি ভাষার ট্যুর বিরল।
'''আদিবাসী''' ভাষাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ আদিবাসী ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে দুঃখজনকভাবে এর প্রচলন খুবই কম। বর্তমানে মাত্র ৪৬টি ভাষা দৈনন্দিনভাবে ব্যবহৃত হয়, যা প্রায় ৪২,৩০০ মানুষ কথা বলে। এসব ভাষা মূলত গ্রামীণ আউটব্যাক অঞ্চলের সম্প্রদায় এবং টরেস প্রণালীর দ্বীপগুলোতে বেশি শোনা যায়। আদিবাসী ভাষাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে, কারণ ভাষার সংখ্যা অনেক এবং এগুলো বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে ও একে অপরের সাথে বোধগম্য নয়। কোনো আদিবাসী ভাষা শেখা কেবল নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকাতেই উপকারী হবে। প্রায় সব আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রাই ইংরেজি বলতে পারেন, যদিও কিছু দূরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা ভাষাটিতে সাবলীল নাও হতে পারেন। আদিবাসী ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রিওল-ভিত্তিক ভাষাও প্রচলিত, যেমন [[অস্ট্রেলীয় ক্রিওল বাক্যবিন্যাস|অস্ট্রেলীয় ক্রিওল]] অথবা [[টরেস প্রণালী ক্রিওল বাক্যবিন্যাস|টরেস প্রণালী ক্রিওল]]।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংকেতভাষা হলো '''অজলান''' (Auslan – Australian Sign Language)। এটি [[ব্রিটিশ সংকেতভাষা|ব্রিটিশ সংকেতভাষা (BSL)]] থেকে বিকশিত এবং [[নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষা|নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষার]] সঙ্গে মিল আছে। তবে ফরাসি সংকেতভাষা পরিবারভুক্ত ভাষাভাষীরা (যেমন আমেরিকান বা আইরিশ সংকেতভাষা) অজলান সহজে বুঝতে পারবেন না।
==যেভাবে যাবেন==
[[File:Visa policy of Australia.svg|thumb|450px|
{{legend|#ED1C24|অস্ট্রেলিয়া}}
{{legend|#1191E5|বিশেষ ক্যাটাগরি ভিসা}}
{{legend|#22B14C|ই-ভিজিটর বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি}}
{{legend|#79D343|ই-ভিজিটর}}
{{legend|#B5E61D|ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি}}
{{legend|#C0C0C0|ভিসা প্রয়োজন}}
]]
===প্রবেশের শর্তাবলি===
'''সকলেই''' (নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ব্যতীত) ভ্রমণের আগে [[ভিসা]] সংগ্রহ করতে হবে।
আপনি যদি ৯০ দিনের কম সময়ের জন্য ছুটিতে আসেন, তবে আপনার নাগরিকত্বের ভিত্তিতে তিন ধরনের ভিসার একটি আবেদন করতে পারবেন।
* '''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/electronic-travel-authority-601 ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি (ইটিএ) সাবক্লাস ৬০১]''' অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এটি আবেদন করতে হবে অস্ট্রেলিয়ান ইটিএ অ্যাপ ব্যবহার করে, যার সার্ভিস ফি ২০ ডলার। ভিসাটি ১২ মাসের জন্য বৈধ।
* '''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/evisitor-651 ই-ভিজিটর (সাবক্লাস ৬৫১)]''' [[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]], [[নরওয়ে]], [[আইসল্যান্ড]], [[সুইজারল্যান্ড]], [[যুক্তরাজ্য]] এবং কয়েকটি [[ইউরোপীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্র|ইউরোপীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের]] নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এগুলো '''বিনামূল্যে''', তবে কার্যত ইটিএর মতোই। আবেদন অবশ্যই অনলাইনে করতে হবে।
* '''ভিজিটর ভিসা (সাবক্লাস ৬০০)'''। অধিকাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা [https://immi.homeaffairs.gov.au/help-support/applying-online-or-on-paper/online ইমি-অ্যাকাউন্ট] তৈরি করে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে দূতাবাস বা ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।
:: ইটিএ এবং ই-ভিজিটরের মতো, ভিজিটর ৬০০ ভিসাও সাধারণত তিন মাসের জন্য ইস্যু হয়। তবে এই ভিসা সর্বোচ্চ এক বছরের জন্যও দেওয়া যেতে পারে। তিন মাসের বেশি থাকতে চাইলে আপনার ভ্রমণের কারণ ও নিজ দেশের সাথে সম্পর্ক প্রমাণ করতে সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে এবং সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে হতে পারে। আপনার নাগরিকত্বের উপর ভিত্তি করে দূতাবাস বা ভিসা সেন্টার অস্ট্রেলিয়ান স্পনসর চাওয়ার শর্ত আরোপ করতে পারে। ফি হলো ১৯০ ডলার। ইটিএ ও ই-ভিজিটর ভিসা ১২ মাসে একাধিকবার প্রবেশের অনুমতি দেয়। তাই যোগ্য হলে সহজ উপায় হলো তিন মাস থাকা, তারপর [[নিউজিল্যান্ড]], [[সিঙ্গাপুর]], [[থাইল্যান্ড]] বা কাছাকাছি কোনো দেশে কয়েকদিন যাওয়া, পরে ফিরে এসে নতুন করে ৯০ দিন শুরু করা। তবে বারবার করলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করতে পারে।
:: অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ৬০০ ভিসা ১৮ মাস, তিন বছর বা পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হতে পারে। এতে সর্বোচ্চ ১২ মাসের থাকার অনুমতি দেওয়া হয় ১৮ মাসে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইটিএ ও ই-ভিজিটর সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদিত হয়। তবে জটিলতা থাকলে আপনার আবেদন হাতে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হতে পারে, এতে কয়েক মাসও লাগতে পারে। জটিল জাতীয় পরিচয় বা কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে (ছোট অপরাধও) আগে থেকেই সময় রেখে আবেদন করা জরুরি।
আপনি যদি কাজ, পড়াশোনা বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যেতে চান, সঠিক ধরনের ভিসা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পর্যটন ভিসা দিয়ে এগুলো বৈধ হবে না। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভিসা বাতিল, বহিষ্কার এবং পুনঃপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
সব ধরনের পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে আপনাকে আর্থিকভাবে নিজের ভ্রমণ ব্যয় বহন করতে সক্ষম প্রমাণ করতে হবে এবং চরিত্রগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে আবেদন করার আগে অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করুন।
নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়া ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। পৌঁছানোর পর তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পেশাল ক্যাটেগরি নিউজিল্যান্ড সিটিজেন ভিসা (সাবক্লাস ৪৪৪) পাবেন, যদি তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা না থাকে। এই ভিসায় তারা অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো সময় বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারবেন। তবে অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা থাকলে ভিসা অস্বীকার হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা কিন্তু এই ভিসার যোগ্য নন; তাদের নিজ দেশের পাসপোর্ট অনুযায়ী ভিসা নিতে হবে।
যাদের কাছে বৈধ এপেক বিজনেস ট্রাভেল কার্ড (এবিটিসি) রয়েছে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ব্যতীত), তারা চাকরি না করলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।
{{infobox|অজৈব গুঁড়ো বহনে সীমাবদ্ধতা|অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করা যাত্রীরা বিমানের কেবিনে সর্বোচ্চ ৩৫০ মিলি বা ৩৫০ গ্রাম অজৈব গুঁড়ো বহন করতে পারবেন।}}
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করেন, সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা এয়ারসাইডে থাকেন, পরবর্তী যাত্রার নিশ্চিত টিকিট থাকে, গন্তব্যের সঠিক নথিপত্র থাকে এবং আপনি নিউজিল্যান্ড, '''[[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]]''', [[অ্যান্ডোরা]], [[আর্জেন্টিনা]], [[ব্রুনেই]], [[কানাডা]], [[সাইপ্রাস]], [[ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া]], [[ফিজি]], [[আইসল্যান্ড]], [[ইন্দোনেশিয়া]], [[জাপান]], [[কিরিবাতি]], [[লিশটেনস্টাইন]], [[মালয়েশিয়া]], [[মেক্সিকো]], [[মোনাকো]], [[নাউরু]], [[নরওয়ে]], [[পালাউ]], [[পাপুয়া নিউগিনি]], [[ফিলিপাইন]], [[দক্ষিণ আফ্রিকা]], [[মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ]], [[সামোয়া]], [[সান মারিনো]], [[সিঙ্গাপুর]], [[স্লোভাকিয়া]], [[স্লোভেনিয়া]], [[সলোমন দ্বীপপুঞ্জ]], [[দক্ষিণ কোরিয়া]] (আরওকে), [[সুইজারল্যান্ড]], [[তাইওয়ান]], [[থাইল্যান্ড]], [[টোঙ্গা]], [[টুভালু]], [[সংযুক্ত আরব আমিরাত]], [[যুক্তরাজ্য]], [[যুক্তরাষ্ট্র]], [[ভানুয়াতু]] বা [[ভ্যাটিকান সিটি|ভ্যাটিকান সিটির]] নাগরিক হন, তাহলে আপনাকে অগ্রিম ভিসা নিতে হবে না। অন্য সবাইকে ট্রানজিট ভিসা (সাবক্লাস ৭৭১) বিনামূল্যে নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশের নাগরিক (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশ) [https://www.abf.gov.au/entering-and-leaving-australia/smartgates/arrivals স্মার্টগেট] ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাতে করা চেকের চেয়ে অনেক দ্রুত, তবে ভিসা প্রয়োজনীয়তার বাইরে নয়।
অস্ট্রেলিয়া এখন আর অধিকাংশ ভ্রমণকারীর পাসপোর্টে ভিসার সীল দেয় না বা ভিসার স্টিকার দেয় না; সব রেকর্ড ইলেকট্রনিকভাবে রাখা হয়। চাইলে আপনি ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সীল চাইতে পারেন, তবে আলাদা কাউন্টারে যেতে হতে পারে। ভিসার শর্ত যাচাই করতে পারবেন অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশনের [https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/already-have-a-visa/check-visa-details-and-conditions/check-conditions-online/visa-holders ভেভো] ওয়েবসাইট বা মাইভেভো অ্যাপের মাধ্যমে।
===শুল্ক ও কোয়ারেন্টাইন===
অস্ট্রেলিয়ায় '''পশু ও উদ্ভিদ'''-জাত পণ্য (যেমন খাবার, কাঠের তৈরি জিনিস, বীজ ইত্যাদি) আনার ক্ষেত্রে কঠোর কোয়ারেন্টাইন আইন রয়েছে। '''এই ধরনের সব জিনিসই ঘোষণা করতে হবে''', এমনকি এগুলো অনুমোদিত হলেও। লাগেজ প্রায়ই স্ক্যান করা হয় এবং কুকুর দ্বারা পরীক্ষা করা হতে পারে। যদি অসাবধানতাবশত ঘোষণা না করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ২৬৬৪ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, গুরুতর ক্ষেত্রে মামলা পর্যন্ত হতে পারে। ঘোষণা করা জিনিস পরীক্ষা করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা রাখা, ধ্বংস করা, ফেরত দেওয়া বা আপনার খরচে কোয়ারেন্টাইন ট্রিটমেন্ট করা হতে পারে। (পরে আপনাকে জিনিসটি সংগ্রহ করতে হতে পারে।) প্রক্রিয়াজাত ও সিল করা চকলেট বা অন্যান্য মিষ্টান্ন সাধারণত ঘোষণা ও পরীক্ষা শেষে অনুমোদিত হয়। শিশুর সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ শিশু খাদ্যও অনুমোদিত। তবে খাবারের উৎপত্তি দেশ ও আপনি যে রাজ্য দিয়ে প্রবেশ করছেন তার উপর নিয়ম আলাদা হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন: '''[http://www.agriculture.gov.au/travelling/bringing-mailing-goods কৃষি ও জলসম্পদ বিভাগ]'''।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ভ্রমণকারীরা শুল্কমুক্তভাবে সর্বোচ্চ ২.২৫ লিটার মদ্যপ পানীয়, ২৫টি সিগারেট, ২৫ গ্রাম অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য (সিগারসহ), ২টি ভেপ (রিইউজেবল বা ডিসপোজেবল) এবং সর্বোচ্চ ২০০ মিলি ভেপ তরল অস্ট্রেলিয়ায় আনতে পারবেন। ১৮ বছরের নিচে কেউ এসব আনতে পারবেন না। আর শুল্কমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে ওই শ্রেণির সব পণ্যের উপর কর দিতে হবে, কেবল অতিরিক্ত অংশে নয়।
কিছু ঝিনুক, প্রবাল এবং সুরক্ষিত প্রজাতি থেকে তৈরি জিনিসপত্র আনা নিষিদ্ধ। এর উদ্দেশ্য হলো বিপন্ন বাস্তুতন্ত্র বা প্রজাতি থেকে আসা জিনিসের ব্যবসা বন্ধ করা।
'''মুদ্রার''' ক্ষেত্রে আনা-নেওয়ার কোনো সীমা নেই। তবে যদি ১০,০০০ ডলার (অস্ট্রেলিয়ান ডলার) বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সঙ্গে থাকে, তাহলে তা ঘোষণা করতে হবে এবং কিছু কাগজপত্র পূরণ করতে হবে। ঘোষণা না করলে জরিমানা, মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা বা এমনকি গ্রেপ্তারও হতে পারে।
===বিমানে করে===
[[File:Qantas A330 VH-QPH at SYD (19810974155).jpg|thumb|[[সিডনি বিমানবন্দর]]-এ দুটি কান্তাস বিমান। আরও অনেক আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করে।]]
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, তাই বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো আকাশপথে ভ্রমণ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রবেশদ্বারসমূহের মধ্যে গুরুত্ব অনুসারে ক্রমান্বয়ে উল্লেখযোগ্য বিমানবন্দর হলো [[সিডনি]] ({{IATA|SYD}}), [[মেলবোর্ন]] ({{IATA|MEL}}), [[ব্রিসবেন]] ({{IATA|BNE}}) ও [[পার্থ]] ({{IATA|PER}})। এছাড়াও সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যায় অ্যাডিলেড, কেইর্নস, ডারউইন ও গোল্ড কোস্টেও।
[[সিডনি]] থেকে [[অকল্যান্ড]], নিউজিল্যান্ডে যেতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। এশিয়ার অনেক দেশের থেকে ফ্লাইটে সময় লাগে ৭ থেকে ১১ ঘণ্টা, [[যুক্তরাষ্ট্র]] ও [[কানাডা]]র পশ্চিম অংশ থেকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা, [[জোহানেসবার্গ]] থেকে ১৪ ঘণ্টা, [[দক্ষিণ আমেরিকা]] থেকে ১৩–১৬ ঘণ্টা এবং [[পশ্চিম ইউরোপ]] থেকে (একটি স্টপসহ) সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ যাত্রার কারণে ইউরোপ থেকে আসা অধিকাংশ ভ্রমণকারীকে একবার কোথাও স্টপ-ওভার করতে হয়। সাধারণত [[সিঙ্গাপুর]], [[হংকং]], [[দুবাই]], [[দোহা]], [[ব্যাংকক]] অথবা [[কুয়ালালামপুর]]-এ এই বিরতি নেওয়া হয়।
২০১৮ সালের মার্চ থেকে কান্তাস (Qantas) [[লন্ডন হিথরো বিমানবন্দর|লন্ডন হিথরো]] থেকে পার্থ পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে, যা মাত্র ১৭ ঘণ্টা সময় নেয়-এটি ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রথম নিয়মিত সরাসরি রুট। কান্তাস ভবিষ্যতে [[সিডনি]] থেকে লন্ডন এবং নিউইয়র্কের মধ্যে আরও কিছু সরাসরি দীর্ঘপথের ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
যদি আপনাকে কোনো গেটওয়ে শহরে নেমে ঘরোয়া ফ্লাইটে পরিবর্তন করতে হয়, তবে [[সিডনি]], [[ব্রিসবেন]] ও [[পার্থ]]-এ অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল আলাদা, যার কারণে ট্রানজিট করতে কিছুটা সময় ও ঝামেলা হতে পারে-এই বিষয়ে গাইড দেখে নেওয়া উচিত। তবে [[মেলবোর্ন]], [[অ্যাডিলেড]], [[ডারউইন]], [[কেইর্নস]] এবং [[গোল্ড কোস্ট]]-এ একই টার্মিনাল ভবনে বা হাঁটার দূরত্বে অভ্যন্তরীণ গেট অবস্থিত।
অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বিমানসংস্থা হলো জাতীয় পতাকাবাহী '''[http://qantas.com.au/ কান্তাস (Qantas)]'''। এদের সাথে রয়েছে তাদের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান '''[http://www.jetstar.com/ জেটস্টার (Jetstar)]''', যারা বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। '''[http://www.virginaustralia.com/ ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া (Virgin Australia)]''' দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালায়। ইউরোপ থেকে যারা আসছেন, তাদের জন্য '''[http://www.singaporeair.com সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স], থাই এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স''' এবং হংকংয়ের '''[http://www.cathaypacific.com ক্যাথে প্যাসিফিক (Cathay Pacific)]''' কান্তাস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বা উপসাগরীয় বিমানসংস্থাগুলোর বিকল্প হতে পারে।
কিছু রুটে '''ছাড়মূল্যের বিমানসংস্থা''' যেমন এয়ারএশিয়া এক্স, এয়ারএশিয়া (মালয়েশিয়া), এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়া, ট্রান্সনুসা, থাই এয়ারওয়েজ, বাতিক (মালয়েশিয়া), বাতিক (ইন্দোনেশিয়া), এবং স্কুট ফ্লাইট পরিচালনা করে।
২০২২ সাল থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত বিদেশি বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ান বিমানসংস্থার অংশীদার হয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে [https://www.aircanada.com এয়ার কানাডা] ও [https://www.united.com ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স]{{Dead link|date=May 2025 |bot=InternetArchiveBot }}।
==== ব্যক্তিগত বিমান পরিবহন ====
'''[http://www.australiajetcharter.com অস্ট্রেলিয়া জেট চার্টার]''' এবং '''[http://www.jetcorpaustralia.com/ জেটকর্প অস্ট্রেলিয়া]{{Dead link|date=September 2024 |bot=InternetArchiveBot }}''' সারা বছর বিভিন্ন ধরণের বিমান ব্যবহার করে সরাসরি ব্যক্তিগত ফ্লাইট সরবরাহ করে। জনপ্রিয় চার্টার বিমানবন্দরগুলির মধ্যে রয়েছে সিডনি ব্যাংকস্টাউন বিমানবন্দর, [[গোল্ড কোস্ট#বিমানযোগে|গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দর]] এবং মেলবোর্ন এসেন্ডন বিমানবন্দর।
আপনি যদি নিজস্ব ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন বা অস্ট্রেলিয়া থেকে যান, তবে আপনাকে যাত্রার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে এবং সর্বোচ্চ ৭ দিন আগে [https://flightrequest.homeaffairs.gov.au/abfsp আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনুরোধ] জমা দিতে হবে। যদি আপনার নির্ধারিত বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক না হয়, তবে আপনাকে ন্যাশনাল প্যাসেঞ্জার প্রসেসিং কমিটি (এনপিপিসি)-র মাধ্যমে [https://asap.homeaffairs.gov.au/nppc বিমান ও সমুদ্র অনুমোদন পোর্টাল]-এ আবেদন করতে হবে, যা আগমনের বা প্রস্থানের কমপক্ষে ১০ কার্যদিবস আগে জমা দিতে হয়।
=== সমুদ্রপথে ===
ক্রুজ শিপ সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ক্রুজিং মৌসুমে আসে, এ সময় প্রায় ১০টি জাহাজ বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। আপনি ক্রুজ শিপে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ফেরত ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেন। হল্যান্ড আমেরিকা লাইন, প্রিন্সেস ক্রুজেস এবং রয়্যাল ক্যারিবিয়ান প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রুজ অফার করে।
নিজস্ব ইয়টে করে অস্ট্রেলিয়ায় আসা সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে বর্ডার ফোর্সে সঠিক কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং অনুমোদিত [https://www.abf.gov.au/entering-and-leaving-australia/entering-and-leaving-by-sea/ports-of-entry প্রবেশ বন্দর]-এ পৌঁছাতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক ফেরি পরিষেবা নেই।
=== স্থলপথে ===
একসময় কিছু ট্যুর অপারেটর লন্ডন থেকে সিডনি পর্যন্ত স্থলপথে ভ্রমণের সুযোগ দিত, যেখানে কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত একটি ছোট বিমান যাত্রা ছিল। বর্তমানে কেবল মাডভেঞ্চার এই ধরনের ট্যুর পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দীর্ঘ রুট, যেমন: ২৬ সপ্তাহে ইরান–পাকিস্তান–ভারত হয়ে আসা, ২৬ সপ্তাহে ককেশাস ও মধ্য এশিয়া, ৬৪ সপ্তাহে আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–দক্ষিণ এশিয়া, অথবা আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–ককেশাস–মধ্য এশিয়া।
যারা স্বাধীনভাবে স্থলপথে আসতে চান, তারা ইউরোপ থেকে ট্রেন বা বাসে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেন এবং সেখান থেকে পার্থে (৩,৫০০ কিমি ফ্লাইট) যেতে পারেন। আরও সাহসী ভ্রমণকারীরা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরিতে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বালি পর্যন্ত পৌঁছে, সেখান থেকে ডারউইনে (২,০০০ কিমি ফ্লাইট) উড়তে পারেন। আরেকটি পথ হলো ফেরিতে ওয়েস্ট টিমোর, তারপর বাসে দিলি এবং সেখান থেকে ডারউইনে ফ্লাইট-যেখানে মাত্র ৭০০ কিমি আকাশপথ ভ্রমণ করতে হয়।
ডারউইনে কার্গো শিপ বা বার্জে (এএনএল এবং সোয়ায়ার সংস্থা) ভ্রমণ '''অনুমোদিত নয়''' (জুন ২০১৬)। তবে কেউ চাইলে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে মালবাহী জাহাজে যাত্রার ব্যবস্থা করতে পারে।
== ঘুরে দেখুন ==
অস্ট্রেলিয়া আয়তনে ''বিশাল'', তবে জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় শহরগুলির বাইরে বহু ঘণ্টা ভ্রমণ করেও সভ্যতার চিহ্ন নাও পাওয়া যেতে পারে।
=== কোয়ারেন্টাইন ===
অস্ট্রেলিয়ায় ফলমূল ও সবজি (মধুসহ) এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ কৃষি কোয়ারেন্টাইন অঞ্চলগুলিতেও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকে। তাই বড় শহরের বাইরে বা অন্য রাজ্যে গেলে গাড়িতে অতিরিক্ত ফল-সবজি বহন না করাই ভালো। বিস্তারিত জানতে দেখুন [https://interstatequarantine.org.au/ অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারস্টেট কোয়ারেন্টাইন] ওয়েবসাইট।
===গাড়িতে করে===
{{See also|অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো|গাড়িবিহীন অস্ট্রেলিয়া}}
[[File:Great Ocean Road, Lorne, Australia - Feb 2012.jpg|thumb|দ্য গ্রেট ওশেন রোড]]
[[File:Stuart Highway, Australia.jpg|thumb|মধ্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট হাইওয়ের একটি অংশ]]
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সড়ক ও মহাসড়কের একটি ভালো নেটওয়ার্ক আছে এবং গাড়ি চলাচলের খুবই প্রচলিত মাধ্যম। সিডনি, মেলবোর্ন, পার্থ ও দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে গণপরিবহন মোটামুটি নির্ভরযোগ্য হলেও দেশের বাকি অংশে ঘুরে বেড়াতে হলে গাড়ি থাকাই সুবিধাজনক, অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য।
অস্ট্রেলিয়ার জনঘনত্ব কম এবং দেশটি বিশাল-তাই প্রধান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে গাড়িতে যাতায়াতের সময় দীর্ঘ হয়। উদাহরণস্বরূপ সিডনি থেকে পার্থ (৪,০০০ কিমি) বা অ্যাডিলেড থেকে ডারউইন (৩,০০০ কিমি) যেতে গাড়িতে অন্তত অর্ধ-সপ্তাহ ধরে চালাতে হবে; বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য উড়োজাহাজে যাওয়াই উত্তম। ইউরোপীয় দৃষ্টিতে এটি মাদ্রিদ থেকে মস্কোর দূরত্বের সমান, আর উত্তর আমেরিকার দৃষ্টিতে মায়ামি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের সমান।
মেলবোর্ন, ক্যানবেরা, সিডনি ও ব্রিসবেন বিভক্ত ডুয়াল ক্যারেজওয়ে দিয়ে যুক্ত-তবে পথের অধিকাংশই পূর্ণাঙ্গ ফ্রিওয়ে মানের নয়, তাই কোথাও কোথাও এখনও সমতল সংযোগস্থল আছে। অধিকাংশ অন্যান্য মহাসড়ক এক লেনে একমুখী চলাচলের, এবং রাজ্যভেদে প্রতি ৫–২০ কিমি পরপর ওভারটেকিং লেন থাকে। ছোট কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করা সড়ক (বা মানচিত্রে শর্টকাটের মতো দেখালেও) অনেক সময় সরু বা কাঁচা হতে পারে এবং সাধারণত ধীরগতির।
অস্ট্রেলিয়ার সড়কে বড় বিপদের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও ভারী ট্রাক উল্লেখযোগ্য। গোধূলি বা রাতের অন্ধকারে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্ক থাকুন-এই সময় প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বড় আঞ্চলিক এলাকায় পাকা (সিলড) ডুয়াল-লেন সড়ক আছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে খারাপভাবে রক্ষণাবেক্ষিত মাটির রাস্তা কিংবা শুধু ট্র্যাকও থাকতে পারে। দূরত্ব ও গতি কিলোমিটারে নির্দিষ্ট হয় এবং জ্বালানি লিটারে বিক্রি হয়। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন বা টুউম্বার নগরাঞ্চলের বাইরে সড়ক বা সেতুতে টোল নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি বামে চালানো হয়। যারা ডানে চালাতে অভ্যস্ত বিদেশি চালক, প্রথম দিকে এবং বিশেষ করে গ্রামীণ ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত সাবধান থাকুন।
সাধারণভাবে বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আগমনের পর তিন মাস পর্যন্ত গাড়ি চালানো যায়। লাইসেন্সটি যদি ইংরেজিতে না হয়, তবে আপনার লাইসেন্সের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (আইডিপি) থাকতে হবে। লাইসেন্সিং বিধি ও সড়কনিয়ম রাজ্যভেদে সামান্য পরিবর্তিত হয়।
অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান অঞ্চলে ডিফল্ট গতিসীমা-নির্মিত/আবাসিক এলাকায় ৫০ কিমি/ঘণ্টা এবং গ্রামীণ সড়কে ১০০ কিমি/ঘণ্টা; তবে নর্দার্ন টেরিটরিতে (NT) শহুরে ডিফল্ট ৬০ কিমি/ঘণ্টা, আর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA) ও NT-তে গ্রামীণ ডিফল্ট ১১০ কিমি/ঘণ্টা। বিশেষ করে আউটব্যাকে অনেক প্রধান গ্রামীণ সড়কের সাইনবোর্ডে ১১০ কিমি/ঘণ্টা সীমা দেওয়া থাকে। তবে রাস্তার মান খারাপ ও ওভারটেকিংয়ের সীমিত সুযোগের কারণে গড় গতি সচরাচর ৮০ কিমি/ঘণ্টার বেশি হয় না। যে সব জাতীয় মহাসড়ক পর্বতমালা পেরিয়ে ছোট শহর দিয়ে যায়, সেখানে গড়ে ৬০ কিমি/ঘণ্টা তুলতেও কষ্ট হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় গতিসীমা খুব কড়াভাবে প্রয়োগ করা হয়-সীমা সামান্য ছাড়ালেও ভারী জরিমানার নোটিস পেতে পারেন।
যে কেউ '''ভাল-মেইনটেন করা সড়ক ছেড়ে''' অস্ট্রেলিয়ার ভেতরের দিকে যাচ্ছেন, তাদের উচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া, আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা যাচাই করা, এবং পর্যাপ্ত অতিরিক্ত জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ, অতিরিক্ত টায়ার, দেশলাই, খাদ্য ও পানি নেওয়া। কিছু দূরবর্তী সড়কে মাসে গড়ে একটিরও কম গাড়ি যেতে পারে।
জাতীয় মহাসড়ক ও শহরাঞ্চলের বাইরে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না-জরুরি অবস্থার জন্য পূর্বসতর্কতা নিন।
গরম ও পানিশূন্যতা বছরের যে কোনো সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে গাড়ির সঙ্গেই থাকুন এবং আকাশ থেকে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। এই পরামর্শকে হালকাভাবে নেবেন না-প্রতি বছরই দূরবর্তী এলাকায় গাড়ি বিকল হওয়ার পর পানিশূন্যতায় স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। যদি গাড়ি ছেড়ে যেতেই হয় (ধরা যাক বিকল হয়ে পড়ার পর অন্য কারও গাড়িতে উঠে নিলেন), তাহলে স্থানীয় থানায় ফোন করে জানিয়ে দিন-নয়তো আপনার জন্য অযথা অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।
====গাড়ি ভাড়া====
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক বড় বড় কোম্পানিসহ অনেক আউটলেটে নানান ধরনের ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায়। প্রধান আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের মধ্যে আছে [https://www.enterpriserentacar.com.au/en/car-rental/locations/australia.html এন্টারপ্রাইজ], [https://www.alamo.com/en/car-rental-locations/au.html আলামো], [https://www.nationalcar.com/en/car-rental/locations/au.html ন্যাশনাল], অ্যাভিস, বাজেট, হার্টজ, থ্রিফটি, সিক্সট এবং ইউরোপকার। বেশিরভাগ ভাড়াদাতা সংস্থা আগে থেকে বিশেষ চুক্তি না করলে তাদের গাড়ি ফেরিতে তোলার বা নর্দার্ন টেরিটরি (NT) ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA)-র সীমানা পার করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ছোট শহরগুলোতে গাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন হতে পারে। আঞ্চলিক ছোট আউটলেট থেকে একমুখী ভাড়ায় অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় আরও অনেক দেশীয় ব্র্যান্ডও আছে-যেমন [https://www.redspot.com.au/ রেডস্পট], ইস্ট কোস্ট, [https://www.jucy.com/au/en জুসি] ও নোবার্ডস। ছোট গাড়িগুলো ম্যানুয়াল (স্টিক-শিফট) হতে পারে, আর বড় গাড়ির অধিকাংশই অটোমেটিক।
[[File:Jucy Car (20132108710).jpg|thumb|বিভিন্ন কোম্পানির ক্যাম্পারভ্যানের বিন্যাস আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, জুসি এই ক্যাম্পারভ্যানটিকে রুফটপ ডাবল বেড থাকার কারণে ৪-বার্থ বলে]]
আপনার কাছে অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে, কিছু ভাড়াদাতা সংস্থা পর্যটকদের জন্য প্রণীত বিনামূল্যের [http://www.driverknowledgetests.com/learners-permit/tourist/ ড্রাইভার নলেজ টেস্ট] নিতে বলতে পারে, যেখানে মৌলিক সড়কনিয়ম থাকে; অথবা তারা আপনাকে সংক্ষিপ্ত একটি ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই করতে পারে।
====ক্যাম্পারভ্যান ====
'''ক্যাম্পারভ্যান''' হলো এমন যান যা সাধারণত একটি মিনি-ভ্যানকে মোটরহোমে (বিনোদনমূলক যান) রূপান্তর করে তৈরি করা হয়; এগুলো মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার অগণিত তরুণ ব্যাকপ্যাকারদের চাহিদা মেটায় যারা দেশজুড়ে ঘোরেন। সিডনি থেকে কেয়র্নস পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে এই যান বিশেষভাবে বেশি দেখা যায়। [[অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো]] নিবন্ধে ক্যাম্পারভ্যান ভাড়া বা কেনা সম্পর্কে আরও তথ্য আছে।
কখনও কখনও এক শহর থেকে আরেক শহরে '''রিলোকেশনের''' প্রয়োজন থাকা ক্যাম্পারভ্যান নামমাত্র খরচে-প্রতিদিন মাত্র ১ মার্কিন ডলার পর্যন্তেও-বুক করা যায়। কখনও কখনও ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জ্বালানির খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমন অফার খুঁজতে পারেন-[https://coseats.com/campervan-relocation কোসিটস], [https://www.drivenow.com.au/onewayrentals.jspc#/relocations/AU ড্রাইভনাও], [https://www.transfercar.com.au/search?pickup=&dropoff= ট্রান্সফারকার] ও [https://www.imoova.com/en ইমুভা]।
====কারপুলিং====
কারপুলিং অস্ট্রেলিয়া ঘোরার জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী উপায়-বিশেষ করে ব্যাকপ্যাকার ও বাজেট সচেতন ভ্রমণকারীদের জন্য। এতে জ্বালানির খরচ ভাগ করা যায় এবং একই পথে যাওয়া অন্যদের সঙ্গে সংযোগ ঘটে। দেশে সাধারণত ব্যবহৃত কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম হলো [https://www.rooride.app/ রুরাইড], [https://coseats.com/ কোসিটস], [https://liftshare.com/ লিফটশেয়ার] ও [https://www.carpoolworld.com/ কারপুলওয়ার্ল্ড]। অঞ্চলভেদে প্রাপ্যতা বদলাতে পারে-ভ্রমণ পরিকল্পনায় একাধিক প্ল্যাটফর্ম দেখে নেওয়া ভালো।
===ট্যাক্সিতে করে===
বড় শহর ও নগরীগুলোতে ট্যাক্সি সার্ভিস আছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায় (সিবিডি) রাস্তায় দাঁড়িয়েই ট্যাক্সি ডাকা যায়। [https://www.uber.com/global/en/cities/ উবার] ও [https://www.didiglobal.com/ দিদি] বড় শহরগুলোতে চালু। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যাক্সি খুঁজে পেতে সহায়ক কয়েকটি স্মার্টফোন অ্যাপও আছে-যেমন [https://www.mydriver.com/en মাইড্রাইভার], [https://gocatch.com/ গো-ক্যাচ]{{Dead link|date=আগস্ট ২০২৪ |bot=InternetArchiveBot }}।
শহরের বাইরে ছোট শহরগুলোতে ট্যাক্সি সেবার পরিমাণ সীমিত হতে পারে, আবার খুব ছোট বা দূরবর্তী শহরে একেবারেই নাও থাকতে পারে।
===উড়োজাহাজে===
[[File:Melbourne Airport T1 with Qantas and Jetstar jets.jpg|thumb|২৫০px|মেলবোর্ন বিমানবন্দরে কান্তাস ও জেটস্টারের উড়োজাহাজ]]
দেশের দূরত্ব দীর্ঘ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাতায়াত খুবই জনপ্রিয়। প্রধান ব্যবসায়িক করিডর (মেলবোর্ন–সিডনি–ব্রিসবেন) পথে দিনের বেলায় প্রায় প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ফ্লাইট ছাড়ে-প্রায় বাস সার্ভিসের মতোই ঘন।
সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক রুটেই সাধারণত সেরা ভাড়া পাওয়া যায়; আর ফ্লাইট কম থাকা দূরবর্তী রুটগুলোতে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়। কান্তাস অনেক সময় প্রতিযোগিতামূলক মূল্য দেয়-শুধু ফুল-সার্ভিস বলে অপশনটি বাদ দেবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় প্রধান এয়ারলাইনের সংখ্যা হাতে গোনা-তাই দেশীয় রুটে দামের তুলনা করতে সময় লাগবে না:
* '''[https://www.qantas.com.au/ কান্তাস]'''-ফুল-সার্ভিস জাতীয় বাহক; সব বড় শহর ও কিছু বড় আঞ্চলিক শহরে (কান্তাসলিংক দেখুন) ফ্লাইট আছে;
* '''[https://www.virginaustralia.com/ ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া]'''-দেশজুড়ে ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইন; বড় শহর ও কয়েকটি বড় আঞ্চলিক শহরে উড়ে;
* '''[https://www.jetstar.com/au/en/home জেটস্টার]{{cbignore}}'''-কান্তাসের ডিসকাউন্ট শাখা; সীমিত পরিষেবা ও নির্দিষ্ট আসনব্যবস্থা।
আঞ্চলিক গন্তব্যে কয়েকটি এয়ারলাইনস সেবা দেয়-ভাড়া তুলনামূলক বেশি ও ছাড় কম আশা করুন।
* '''[https://www.qantas.com.au/regions/dyn/home/qualifier-country-au কান্তাসলিংক]'''-কান্তাসের আঞ্চলিক শাখা;
* '''[https://www.rex.com.au/ রিজিওনাল এক্সপ্রেস]'''-পূর্ব উপকূলের বড় শহর ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার শহরাঞ্চলে সেবা;
* '''[https://www.airnorth.com.au এয়ারনর্থ]'''-নর্দার্ন টেরিটরি ও [[তিমুর-লেস্টে]];
* '''[https://www.skytrans.com.au স্কাইট্রান্স এয়ারলাইন্স]'''-কুইন্সল্যান্ডের আঞ্চলিক রুটে;
* '''[https://www.sharpairlines.com.au/ শার্প এয়ারলাইন্স]'''-ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি আঞ্চলিক শহরে।
====চার্টার====
{{see also|সাধারণ বিমান চলাচল}}
নিয়মিত নির্ধারিত ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়ার হাজারো বিমানবন্দরের মধ্যে কেবল অল্প কয়েকটিতেই যায়। চার্টার বিমানের বহু বিকল্প আছে-এগুলো ছোট শহর বা অফশোর দ্বীপেও সরাসরি নিয়ে যেতে পারে। একই দলে ৩ জন বা তার বেশি হলে খরচ প্রায়ই নির্ধারিত ফ্লাইটের সমতুল্য হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান প্রাইভেট পাইলটস লাইসেন্স ব্যক্তিগত পাইলটকে যাত্রী বহনের ও যাত্রীদের কাছ থেকে প্লেন ভাড়া ও জ্বালানির খরচ আদায়ের অনুমতি দেয়; তবে যাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া বা বাণিজ্যিকভাবে উড়তে দেয় না। তারপরও স্থানীয় ফ্লাইং ক্লাবগুলোর ওয়েবপেজ দেখলে দেখবেন, রৌদ্রোজ্জ্বল সাপ্তাহিক ছুটিতে কেউ প্লেন ও জ্বালানির খরচ ভাগ করলে বেসরকারি পাইলটরা প্রায়ই উড়তে আগ্রহী থাকেন।
===রেলে করে===
{{see also|অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ|অস্ট্রেলিয়া পাড়ি রেলে}}
[[File:Passenger rail services in Australia en.png|thumb|upright=2.1|অস্ট্রেলিয়ার প্রধান আন্তঃনগর রেলপথের মানচিত্র]]
অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রায় ট্রেন খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়: সাধারণত গাড়ির চেয়ে ধীর, বিমানের চেয়ে ব্যয়বহুল, আর বাসের চেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে। রাজ্যগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক সমন্বয়হীনতা, বিশাল দূরত্ব আর তুলনামূলক কম জনসংখ্যার কারণে জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক ধীরগতির এবং মূলত পণ্যবাহী। তবুও আন্তঃনগর রেলভ্রমণ বেশ দৃশ্যাবলিময় হতে পারে এবং দেশকে নতুন কোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। কিছু ছোট শহরে যাওয়ার জন্য এটি সাশ্রয়ীও হতে পারে-সেসব রুটে বিমানের ভাড়া রাজ্য রাজধানীগুলোর রুটের তুলনায় প্রায়ই বেশি পড়ে।
বর্তমান অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীবাহী রেল সেবা রাজ্য রাজধানীকে আঞ্চলিক শহরের সঙ্গে যুক্ত করে-যেমন [[বেন্ডিগো]] থেকে মেলবোর্ন, বা কেয়র্নস থেকে ব্রিসবেন। দুইটি আন্তমহাদেশীয় রুট (অ্যাডিলেড–ডারউইন ও সিডনি–পার্থ) বিলাসবহুল, পর্যটকমুখী সেবা-যাদের হাতে সময় ও বাজেট দুটোই বেশি। আপনি যদি রেলপ্রেমী না হন, তবে সাধারণত উড়োজাহাজ বা গাড়িই দ্রুত ও সাশ্রয়ী।
তাসমানিয়ায় কোনো যাত্রীবাহী রেল নেই। নর্দার্ন টেরিটরিতে কেবল ডারউইন থেকে অ্যালিস স্প্রিংস হয়ে অ্যাডিলেড পর্যন্ত একটি লাইন আছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ক্যানবেরার কেন্দ্রের কাছেই একটি মাত্র স্টেশন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় রেলসেবা প্রধানত অ্যাডিলেডের শহরতলি নেটওয়ার্কে সীমিত; তবে মেলবোর্নগামী ট্রেন ভিক্টোরিয়া-সীমানা পর্যন্ত কয়েকটি দেশীয় শহরে থামে।
====দূরপাল্লার ট্রেন অপারেটর====
[[File:Indian Pacific Bellevue, Western Australia-small.jpg|thumb|ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক]]
অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন একটি বেসরকারি ও চারটি রাজ্য সরকারি অপারেটরের মিশেলে পরিচালিত হয়। দেশজুড়ে সব দূরপাল্লার অপারেটরকে কভার করে এমন কেন্দ্রীয় টিকিটিং সেবা নেই-একাধিক অপারেটরের রুটে গেলে আলাদা আলাদা টিকিট কিনতে হবে।
* '''[https://www.journeybeyondrail.com.au/ জার্নি বিয়ন্ড]'''-বেসরকারি বিলাসবহুল পর্যটক ট্রেন অপারেটর; ''দ্য গ্যান'' [[অ্যাডিলেড]] থেকে [[অ্যালিস স্প্রিংস]] হয়ে [[ডারউইন]] পর্যন্ত (শুধু মার্চ থেকে নভেম্বরের মধ্যে), ''দ্য ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক'' [[সিডনি]] থেকে [[অ্যাডিলেড]] হয়ে [[পার্থ]] পর্যন্ত, এবং ''দ্য ওভারল্যান্ড'' অ্যাডিলেড থেকে [[মেলবোর্ন]] পর্যন্ত চালায়। ওভারল্যান্ড ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভর্তুকিপ্রাপ্ত-তাই জার্নি বিয়ন্ডের অন্যান্য সেবার চেয়ে সস্তা-তবে এতে স্লিপার কোচ নেই, পুরো যাত্রা দিনের মধ্যেই শেষ হয়।
* '''[https://transportnsw.info/ ট্রান্সপোর্ট নিউ সাউথ ওয়েলস (Transport NSW)]'''-সিডনিকে কেন্দ্র করে নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW)-এ সেবা; আশেপাশের শহরে ইন্টারসিটি ট্রেন, আর দূরপাল্লায় এনএসডব্লিউ ট্রেনলিংক (NSW TrainLink) মেলবোর্ন, [[ব্রিসবেন]], ক্যানবেরা ও রাজ্যের দূরবর্তী আঞ্চলিক কেন্দ্রে যায়। রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায় এবং এসব রুটে রেল+কোচ মিলিয়ে কম্বিনেশন টিকিট তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
* '''[http://www.vline.com.au ভি/লাইন (V/Line)]'''-মেলবোর্নকে কেন্দ্র করে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক কেন্দ্রে ট্রেন; রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায়। মেলবোর্ন–অ্যাডিলেড ও মেলবোর্ন–ক্যানবেরা রুটে ট্রেন+কোচ মিলিত সেবা আছে।
* '''[https://www.queenslandrailtravel.com.au/ কুইন্সল্যান্ড রেল]'''-ব্রিসবেনকে কেন্দ্র করে কুইন্সল্যান্ডের দূরপাল্লার রেল; ফ্ল্যাগশিপ ''স্পিরিট অব কুইন্সল্যান্ড'' ব্রিসবেন–[[কেয়র্নস]] রুটে। এছাড়া ''ইনল্যান্ডার'' [[টাউনসভিল]]–[[মাউন্ট আইসা]] এবং ''স্পিরিট অব দ্য আউটব্যাক'' ব্রিসবেন–[[রংগ্রীচ]] ([[রকহ্যাম্পটন]] হয়ে) রুটে চলে।
* '''[http://www.transwa.wa.gov.au ট্রান্সডব্লিউএ (Transwa)]'''-ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া সরকারের অপারেটর; পার্থ থেকে [[কালগুর্লি]] ও [[বানবারি]] পর্যন্ত ট্রেন চালায়। রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমে যেখানে আগে রেল ছিল সেখানে ট্রান্সডব্লিউএ অনেক কোচ সেবাও চালায়।
====মোটোরেল সেবা====
একসময় অস্ট্রেলিয়ায় মোটোরেল প্রচলিত ছিল-ট্রেনের পেছনে বিশেষ বগিতে নিজের গাড়ি তোলা যেত। বর্তমানে এই সেবা কেবল জার্নি বিয়ন্ডের অ্যাডিলেড–পার্থ বা অ্যাডিলেড–ডারউইন রুটে আছে। মাঝপথের কোনো স্টেশনে গাড়ি নামানো যায় না।
====রেল পাস====
সারা অস্ট্রেলিয়ার সব ট্রেনে চলার মতো কোনো একক রেল পাস নেই। তবে আপনি যদি রেল-উৎসাহী হন এবং ব্যাপক রেলভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, কয়েকটি পাসে সাশ্রয় হতে পারে। কিনবার আগে ভ্রমণসূচি ভালোভাবে গুছিয়ে নিন। দেশের ট্রেন কম-ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে এবং আঞ্চলিক শহরে পৌঁছাতে সময়টা অস্বস্তিকর হতে পারে।
* '''[http://www.nswtrainlink.info/deals/discovery ডিসকভারি পাস]'''-সব NSW ট্রেনলিংক (ট্রেন ও কোচ) সেবায় প্রযোজ্য। নিউ সাউথ ওয়েলস জুড়ে, উত্তরে ব্রিসবেন এবং দক্ষিণে মেলবোর্ন পর্যন্ত যেতে পারবেন।
* কুইন্সল্যান্ড রেল কোস্টাল পাস ও কুইন্সল্যান্ড রেল এক্সপ্লোরার পাস।
====স্থানীয় গণপরিবহন====
[[File:Cityrail-millennium-M32-ext.jpg|thumb|সিডনির এক শহরতলি ট্রেন]]
[[File:D2.5007 + C2.5111 bourke.JPG|thumb|বিশ্বের বৃহত্তম ট্রাম নেটওয়ার্কে সেবাপ্রাপ্ত মেলবোর্ন]]
সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, [[উলংগং]] ও [[নিউক্যাসেল (নিউ সাউথ ওয়েলস)|নিউক্যাসেল]]-এসব শহরে উপনগর রেল ও বাস শহুরে গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বিত। মেলবোর্ন, অ্যাডিলেড, সিডনি, নিউক্যাসেল, ক্যানবেরা ও গোল্ড কোস্টে ট্রামও চলে; সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে ফেরি আছে। সিডনিতে দেশের একমাত্র মেট্রো লাইন চালু। বাকি রাজধানী শহরগুলোতে কেবল বাসসেবা আছে। বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট শহরভিত্তিক গাইড দেখুন।
===কোচে করে===
{{seealso|অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ায় (আন্তঃনগর) কোচ ভ্রমণ সস্তা ও সুবিধাজনক, যদিও আন্তঃরাজ্য দূরত্ব দীর্ঘ বলে ভীতিজনক মনে হতে পারে। গ্রেহাউন্ডের নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বড়; এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় রাজ্য পরিচালিত কোচ নেটওয়ার্ক আছে-যেগুলো রাজ্যের রেলব্যবস্থার সঙ্গে ভালোভাবে একীভূত, তবে একক পরিষেবা হিসেবেও বুক করা যায়। অন্যান্য রাজধানী শহর থেকে পার্থে কোনো কোচ সেবা নেই।
* {{listing
| নাম=ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস | ইউআরএল=http://www.fireflyexpress.com.au | ইমেইল=enquiries@fireflyexpress.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=১৩০০ ৭৩০ ৭৪০ (স্থানীয় হার), +৬১ ৩ ৮৩১৮ ০৩১৮ (আন্তর্জাতিক কলার) | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিকে যুক্ত করে সেবা দেয়।
}}
* {{listing
| নাম=গ্রেহাউন্ড | ইউআরএল=http://www.greyhound.com.au | ইমেইল=info@greyhound.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=১৩০০ ৪৭৩ ৯৪৬ (স্থানীয় হার) | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| শেষ সম্পাদনা=২০২৩-০৫-২২| বিবরণ=গ্রেহাউন্ড প্রতিদিন অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ১,১০০-র বেশি গন্তব্যে যায়। টিকিটিংয়ের বিভিন্ন ধরন আছে, যার মধ্যে সারাদেশে ১৫–১২০ দিনের জন্য সীমাহীন ওঠা–নামার পাস (“হুইমিট পাস”) এবং মেলবোর্ন–কেয়র্নস রুটে ৭–৩০ দিনের “ইস্ট কোস্ট হুইমিট” অন্তর্ভুক্ত।
}}
* {{listing
| নাম=মারিজ | ইউআরএল=http://www.murrays.com.au | ইমেইল=reservations@murrays.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=+৬১ ১৩ ২২ ৫১ | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=মারিজ ক্যানবেরা–সিডনি, [[নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ উপকূল|এনএসডব্লিউ দক্ষিণ উপকূল]] ও [[স্নোয়ি মাউন্টেনস|তুষারাচ্ছন্ন ঢাল]] রুটে সেবা দেয়।
}}
* {{Listing|name=প্রিমিয়ার মোটর সার্ভিসেস|url=https://premierms.com.au/|lastedit=2023-05-22|content=প্রিমিয়ার পূর্ব উপকূল জুড়ে বাস চালায়—দক্ষিণ এনএসডব্লিউর ইডেন থেকে শুরু করে দূর-উত্তর কুইন্সল্যান্ডের কেয়র্নস পর্যন্ত। গন্তব্য গ্রেহাউন্ডের চেয়ে কম হলেও বাসসমূহ মানসম্মত এবং ভাড়া গ্রেহাউন্ডের তুলনায় প্রায় ১০% কম।}}
===নৌপথে===
[[File:Spirit of Tasmania Port Melbourne.jpg|thumb|পোর্ট মেলবোর্নে ''স্পিরিট অব তাসমানিয়া II'']]
সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে গণপরিবহনের অংশ হিসেবে ফেরি সেবা আছে। আঞ্চলিক এলাকার কিছু ছোট সড়কে এখনও নদী বা খাল পার হতে পন্টুন (পান্ট) চলাচল করে। ব্যারিয়ার রিফের দ্বীপগুলোতে কিছু নির্ধারিত নৌসেবা আছে, আর কয়েকটি ক্রুজ জাহাজও অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপ্রান্ত ঘুরে যায়।
তবে বড় আন্তঃনগর ফেরি সেবা বিরল। মনে রাখবেন-বেশিরভাগ গাড়িভাড়া কোম্পানি তাদের গাড়ি ফেরিতে তুলতে দেয় না।
* '''[http://www.spiritoftasmania.com.au/ দ্য স্পিরিট অব তাসমানিয়া]'''-অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র দীর্ঘপাল্লার ফেরি [[তাসমানিয়া]]র [[ডেভনপোর্ট]] থেকে [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]]র [[জিলং]] পর্যন্ত চলে; এই রুটে বাস প্রণালী পেরিয়ে প্রতিদিন গাড়ি ও যাত্রী বহন করে। দিনের ও রাতের উভয় সময়েই সার্ভিস থাকে। উড়োজাহাজের চেয়ে সাধারণত বেশি খরচ পড়ে, তবে নিজস্ব যান নিতে চাইলে সার্থক।
* '''[https://www.sealink.com.au/ সিলিংক]'''-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম দক্ষিণের দ্বীপ [[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]কে মূল ভূখণ্ড [[সাউথ অস্ট্রেলিয়া]]র [[কেপ জার্ভিস]]-এর সঙ্গে নিয়মিত কার ফেরিতে যুক্ত করে।
* '''[https://spencergulfsearoad.com/ স্পেনসার গাল্ফ সিরোড]''' (সি–এস–এ)-[[ইয়ার্ক উপদ্বীপ]]র [[কাওয়েল]] (বা [[ফ্র্যাঙ্কলিন হারবার]])-এর কাছে লাকি বে থেকে [[ইয়র্ক উপদ্বীপ]]র ওয়ালারু পর্যন্ত স্পেনসার গাল্ফ পেরিয়ে শর্টকাট দেয়। সেবা প্রায়ই স্থগিত হয়েছে, তবে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এটি চালু রয়েছে।
===লিফটে করে===
তাসমানিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরি ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে লিফট নেওয়া (হিচহাইকিং) অবৈধ; শাস্তি শূন্য (সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি) থেকে শুরু করে কুইন্সল্যান্ডে ৩,২০০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সব রাজ্যেই ফ্রিওয়েতে বাঁধের ধারে দাঁড়ানো বা হাঁটা নিষিদ্ধ-ফলে বাস্তবে অনেক জায়গায় লিফট নেওয়া বেআইনি হয়ে যায়।
জরুরি অবস্থায় বাধ্য হলে কোনো চালক আপনাকে নিকটতম শহর পর্যন্ত সাহায্য করতে পারেন। (অনেক আন্তঃনগর মহাসড়ক ও ফ্রিওয়েতে জরুরি ফোন থাকে।)
তারপরও গ্রামীণ এলাকায় লিফট চাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সকাল সকাল বেরোনোই উত্তম। শহরের প্রধান এক্সিটের কাছে-তবে রাস্তায় নয়-দাঁড়ানো সবচেয়ে ভালো।
===সাইকেলে===
অস্ট্রেলিয়ায় শহরের মধ্যে দূরপাল্লায় সাইকেলে যাতায়াত খুব একটা দেখা যায় না; অধিকাংশ দূরপাল্লার মহাসড়কে সাইক্লিস্টদের জন্য সুযোগ-সুবিধা দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ সিডনি–ব্রিসবেন সাইকেলে যেতে ২–৩ সপ্তাহ ধরতে হবে-প্রতিদিন প্রায় ৮০–১০০ কিমি করে।
তবু সাহসী ভ্রমণকারীরা দীর্ঘপথ সাইকেলে কভার করেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে ভিন্ন অভিজ্ঞতায় দেখেন। নালারবরসহ বিচ্ছিন্ন মহাসড়কেও দীর্ঘপথ সাইকেলযাত্রী দেখা যায়।
কিছু রাজ্যে পুরনো রেলপথকে রেল ট্রেলে রূপান্তর করা হয়েছে। [https://www.railtrails.org.au/ রেল ট্রেল অস্ট্রেলিয়া] ওয়েবসাইটে মূল মহাসড়কের বাইরে ভালো রুটের তথ্য আছে; ‘মারে–টু–দ্য–মাউন্টেন্স’ ট্রেল মানের দিক থেকে সেরা এবং পথে দেখার/করার বিষয়ও বেশি। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় মাউন্টেন বাইকারদের জন্য দীর্ঘ ট্রেল উন্নয়ন করা হয়েছে-মুন্ডা বিদ্দি ট্রেল বহুদিন ধরে বুশল্যান্ডের ভেতর দিয়ে যায় এবং রুটে রাতযাপনের জন্য কুঁড়েঘর (হাট) আছে।
যেখানেই সাইকেল চালান-রাজধানী শহরগুলোর নগর বিস্তার ছেড়ে বেরোলেই পরিকল্পনা করে বেরোন এবং রসদ সঙ্গে নিন।
'''[[নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং]]''' নিবন্ধে নিউ সাউথ ওয়েলস-নির্দিষ্ট তথ্য দেখুন।
===হাইকিং===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং}}
অস্ট্রেলিয়ার কিছু ভূদৃশ্য কেবল হেঁটেই সঠিকভাবে অনুভব করা যায়। তাসমানিয়ায় সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের [[ওভারল্যান্ড ট্র্যাক]] ও সাউথ কোস্ট ট্র্যাক-এ দু’টি হাঁটার/হাইকিং-ভিত্তিক ছুটির “টু–ডু” আইটেমের চমৎকার উদাহরণ। বাইসেন্টেনিয়াল ন্যাশনাল ট্রেল বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেলগুলোর একটি-যা উত্তর কুইন্সল্যান্ডের [[কুকটাউন]] থেকে [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]]র [[হিলসভিল]] পর্যন্ত গেছে।
==দেখুন==
===বন্যপ্রাণী===
[[File:Koala climbing tree.jpg|thumb|একটি কোয়ালা]]
{{see also|অস্ট্রেলেশীয় বন্যপ্রাণী}}
অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ বহু মিলিয়ন বছর ধরে বিশ্বের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফল-একেবারেই স্বতন্ত্র। এখানে থলি-ওয়ালা স্তন্যপায়ী (মার্সুপিয়াল) আর ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী (মনোট্রিম) বড় একটি দল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাণী-আইকনগুলোর মধ্যে ক্যাঙ্গারু (জাতীয় প্রতীক) ও কোআলা উল্লেখযোগ্য। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ হবে না যদি প্রাকৃতিক আবাসে এদের কিছু না-দেখেন।
====বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা====
* প্রতিটি প্রাদেশিক রাজধানী শহরে '''বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা''' রয়েছে। তবে ছোট শহর যেমন [[মিলডুরা]] বা [[মোগো]]-তে কিংবা [[হ্যামিল্টন দ্বীপ]]-এও প্রাণী উদ্যান দেখা যায়। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় গেলে ওয়ারাওয়ং ফনা স্যাংচুয়ারি ঘুরে আসতে পারেন, আর সিডনির টারোঙ্গা চিড়িয়াখানায় কোয়ালা দেখার সুযোগ রয়েছে।
====প্রকৃতিতে====
[[File:Tassy Devil.jpg|thumb|একটি তাসমানিয়ান ডেভিল]]
* '''ক্যাঙ্গারু''' ও '''ওয়ালাবি''' অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব জাতীয় উদ্যানে পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল [[সিডনি]]র রাস্তায় তাদের দেখা না মিললেও শহরতলির আশেপাশে সাধারণত দেখা যায়।
* '''ওম্বাট''' ও '''ইকিডনা'''ও প্রচুর আছে, তবে তারা মাটির নিচে সুড়ঙ্গ করে লুকিয়ে থাকার কারণে খুঁজে পাওয়া কঠিন। [[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]ে প্রচুর ইকিডনা দেখা যায়।
* '''কোয়ালা''' সারা দেশের বনভূমিতে থাকে, তবে গাছে উঁচুতে থাকায় খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। দিনের বেলা ভালোভাবে দেখা যায়, বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ার [[পেইনসভিল (ভিক্টোরিয়া)|পেইনসভিল]] কাছের রেমন্ড দ্বীপে। এছাড়া গ্রেট ওশেন রোডের ওটওয়ে কোস্ট বা সানশাইন কোস্টের [[নুসা জাতীয় উদ্যান]] এলাকায়ও ভালো সুযোগ থাকে।
* '''এমু''' মূলত মধ্য অস্ট্রেলিয়ায় বেশি দেখা যায়। [[কুরাওইন্যা জাতীয় উদ্যান]]ে গেলে অবশ্যই তাদের দেখা মিলবে।
* '''ক্যাসোয়ারি''' মূলত উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ক্রান্তীয় রেইনফরেস্টে থাকে, তবে এরা মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতি হওয়ায় দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
* '''প্লাটিপাস''' সাধারণত ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস ও দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডের নদীখাতে পাওয়া যায়। ভোর বা সন্ধ্যায় তাদের দেখার সম্ভাবনা বেশি। [[বোম্বালা]], [[ডেলিগেট (নিউ সাউথ ওয়েলস)|ডেলিগেট]] বা ভিক্টোরিয়ার [[স্কিপটন]] এ প্লাটিপাস সংরক্ষণ এলাকায় চেষ্টা করা যেতে পারে।
===অপরাধীদের স্থান===
অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক ইতিহাসের একটি বড় অংশ ছিল যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো দণ্ডিত অপরাধীদের জন্য শাস্তি-উপনিবেশ হিসেবে। সেই সময়ের বন্দী পরিবহনের স্মৃতি বহন করে এমন বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও টিকে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো [[তাসমানিয়া]]র [[পোর্ট আর্থার (তাসমানিয়া)|পোর্ট আর্থার]] এবং [[পার্থ]], [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]]র নিকটবর্তী [[পার্থ/ফ্রিম্যান্টল|ফ্রিম্যান্টল]]-এ অবস্থিত ফ্রিম্যান্টল কারাগার। এছাড়াও পুরো দেশ জুড়ে আরও অনেক স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে।
===স্মৃতিস্তম্ভ===
[[File:07 Sydney Opera House in black and white, Australia.jpg|thumb|সিডনি অপেরা হাউস, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শনগুলির একটি]]
অস্ট্রেলিয়ায় বহু নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো সারা বিশ্বেই বিখ্যাত। [[রেড সেন্টার]]-এ অবস্থিত [[উলুরু]] থেকে শুরু করে সিডনির সিডনি হারবার ব্রিজ ও অপেরা হাউস পর্যন্ত।
অস্ট্রেলিয়ার ছোট শহরগুলোর একটি ঐতিহ্য হলো বড় আকারের ভাস্কর্য তৈরি করা, যা স্থানীয় নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে দেখতে পারেন [[অস্ট্রেলিয়ার বড় জিনিসপত্র]]।
অস্ট্রেলিয়ায় হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিবন্ধিত রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কো (ইউনেস্কো) স্বীকৃত ২১টি [[বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান]]।
অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি ধর্মীয় দেশ নয়, তবে কিছু কিছু গির্জা সুপরিচিত স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে খ্যাত। এর উদাহরণ হলো সিডনির সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রাল এবং [[অ্যাডিলেড|অ্যাডিলেডের]] সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল।
===জাতীয় উদ্যান===
{{see also|অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষণ এলাকা|অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান}}
[[File:Beech Forest (AU), Great Otway National Park, Beauchamp Falls -- 2019 -- 1271.jpg|thumb|ভিক্টোরিয়ার গ্রেট অটওয়ে ন্যাশনাল পার্কে বিউশ্যাম্প ফলস]]
অস্ট্রেলিয়ার প্রকৃতির সেরা রূপের অনেকটাই দেখা যায় এর জাতীয় উদ্যানগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০০-রও বেশি জাতীয় উদ্যান আছে, যা দেশটিকে পৃথিবীতে সর্বাধিক জাতীয় উদ্যানসমৃদ্ধ দেশ করে তুলেছে। সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় বাছাই করা কঠিন হতে পারে, তবে কিছু উদ্যান ভ্রমণকারীদের কাছে অন্যদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। কিছু জাতীয় উদ্যান-যার মধ্যে [[মুঙ্গা-থির্রি–সিম্পসন মরুভূমি জাতীয় উদ্যান|অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্যানটিও]] রয়েছে-অতিদূরবর্তী এলাকায়, যেখানে যাওয়ার কোনো পাকা সড়ক নেই। সেখানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো চারচাকা চালিত গাড়িতে অফ-রোড ড্রাইভিং। এ ধরনের যাত্রায় যাওয়ার আগে খাদ্য, পানি ও জ্বালানির যথেষ্ট মজুতসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিন, এবং জরুরি অবস্থার কথা ভেবে উচ্চ খরচ সত্ত্বেও একটি [[Mobile phones#Satellite phones|স্যাটেলাইট ফোন]] ভাড়া নেওয়া অত্যন্ত সুপারিশকৃত। কুইন্সল্যান্ড, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় '''কনজারভেশন পার্ক'''ও আছে-এগুলোও অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংরক্ষিত এলাকা, তবে জাতীয় পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়ার মতো গুরুত্বপ্রাপ্ত নয়।
নিউ সাউথ ওয়েলসে, সিডনির পশ্চিমে অবস্থিত এবং [[ইউনেস্কো (ইউনেস্কো)|ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান]] [[ব্লু মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক]] না গেলে কোনো ভ্রমণ সম্পূর্ণ হয় না-এখানে আছে বহু আদিবাসী পবিত্র স্থান, ভিউপয়েন্ট, পাহাড় ও মালভূমি। রাজ্যের আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে সিডনির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত সমুদ্রতীরের পুরোনো প্রিয় [[রয়্যাল ন্যাশনাল পার্ক]], মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের আবাস [[কোশিয়াস্কো ন্যাশনাল পার্ক]], গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টের জন্য [[ডরিগো ন্যাশনাল পার্ক]] বা [[নিউ ইংল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক]], আর জনাকীর্ণতা এড়াতে চাইলে অদ্ভুত কিন্তু দারুণ “ওয়ালস অব চায়না” ভূরূপের জন্য অপেক্ষাকৃত নির্জন [[মাঙ্গো ন্যাশনাল পার্ক]]।
নর্দার্ন টেরিটরিতে সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো [[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক]] এবং [[উলুরু-কাতা জুটা ন্যাশনাল পার্ক]]-দুটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রতীকসম নিদর্শন। অন্য জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে বহু জলপ্রপাতের আবাস [[লিচফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক]], ক্যাথরিন গর্জের জন্য [[নিটমিলুক ন্যাশনাল পার্ক|নিটমিলুক]], আর গিরিখাত ও ক্যানিয়নের জন্য [[তজোরিতজা / ওয়েস্ট ম্যাকডোনেল ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[ওয়াটারকা ন্যাশনাল পার্ক]]।
কুইন্সল্যান্ডে, নর্দার্ন টেরিটরির মতোই সবচেয়ে বিশ্ববিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো [[ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট]] ও [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]-একটি পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবন্ত বর্ষাবনের জন্য, আরেকটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থার জন্য। আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টসমৃদ্ধ [[ল্যামিংটন ন্যাশনাল পার্ক]], বিশ্বের সবচেয়ে বড় বালিয়াড়ি দ্বীপ এবং বালুর ওপর বন গজানোর একমাত্র উদাহরণের জন্য [[ক’গারি|গ্রেট স্যান্ডি ন্যাশনাল পার্ক]], এবং সাদা বালুকাবেলার জন্য [[হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ]]। তুলনামূলক অখ্যাত হলেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদাপ্রাপ্ত [[বুজামুল্লা ন্যাশনাল পার্ক]] এবং ভূদৃশ্য ও শিলাচিত্রের জন্য [[কার্নারভন ন্যাশনাল পার্ক]]।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় উদ্যানগুলোর ধরন বৈচিত্র্যময়, আর সবচেয়ে স্বীকৃত হলো [[ইকারা-ফ্লিন্ডার্স রেঞ্জস ন্যাশনাল পার্ক]]-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বললেই অনেকের মাথায় প্রথম এটিই আসে। আরও আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য [[নারাকুর্ট গুহা ন্যাশনাল পার্ক]] এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাবরিজিনাল সাংস্কৃতিক স্থানের জন্য [[দ্য কুরঙ]]।
তাসমানিয়ায় প্রকৃতির বন্যতা সবচেয়ে বেশি; [[তাসমানিয়ার জাতীয় উদ্যান|এখানকার উদ্যানগুলোর]] প্রায় অর্ধেকের একটু কমই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী-ফলে কোনটা দেখবেন তা বেছে নেওয়া কঠিন। [[ক্র্যাডল মাউন্টেন–লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]] সবচেয়ে প্রতীকী উদ্যান, আর রাজ্যের সবচেয়ে বড় উদ্যান [[সাউথওয়েস্ট ন্যাশনাল পার্ক]]। সহজে পৌঁছানো যায় এমন পাহাড় চাইলে [[হার্টজ মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক]] বা [[মাউন্ট ফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক]] সাধারণত সেরা পছন্দ; শেষেরটি ও [[বেন লোমন্ড ন্যাশনাল পার্ক]] স্কি ও স্নো-স্পোর্টসের জন্যও পরিচিত। ভিন্ন ধরনের উদ্যান চাইলে সমুদ্রসৈকতের জন্য [[ফ্রেসিনেট ন্যাশনাল পার্ক]] এবং বিশ্বের অন্যতম উচ্চ সমুদ্রক্লিফের জন্য [[তাসমান ন্যাশনাল পার্ক]] দেখুন।
ভূখণ্ডের সবচেয়ে ছোট রাজ্য হয়েও ভিক্টোরিয়ার অফার অনেক। সবচেয়ে পরিচিত [[পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক]]-পার্কের নাম যতটা না পরিচিত, তার বিখ্যাত “টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস” ভূরূপই বেশিরভাগ দর্শনার্থী টেনে আনে। আরও আছে [[উইলসন্স প্রোমন্টরি]]-মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সর্বদক্ষিণ বিন্দুর আবাস-আর গোলাপি লেকের জন্য [[মারে সানসেট ন্যাশনাল পার্ক]]।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া-বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপ-জাতীয় অঞ্চল-দেখার মতো জায়গায় ভরপুর। সবচেয়ে পরিচিত [[নাম্বুং ন্যাশনাল পার্ক]] তার পিনাকলস মরুভূমির জন্য; আরও আছে [[কালবারি ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[কারিজিনি ন্যাশনাল পার্ক]]-দুটিতেই অনন্য ভূতাত্ত্বিক গঠন। বিশ্বের সবচেয়ে ঘন শিলাচিত্রসম্ভারের একটি হওয়ার জন্য [[মুরুজুগা ন্যাশনাল পার্ক]]ও উল্লেখযোগ্য। [[পুরনুলুলু ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[শার্ক বে]]-দুটিই [[ইউনেস্কো (ইউনেস্কো)|ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী]], [[পার্থ]] থেকে দূরে হলেও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য। আর যদি মনে করেন সব সুন্দর দৃশ্যই জমিতে-তা হলে ভুল ভাবছেন। নিনগালু মেরিন পার্ক (আর [[Exmouth (Western Australia)|এক্সমাউথ]] ও [[Coral Bay|কোরাল বে]]) সমুদ্রজীবনপ্রেমীদের জন্য অফারের শেষ নেই।
===মহাকাশ===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ার বিশাল, খোলা আউটব্যাক এলাকাগুলো মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। তবে উত্তর গোলার্ধের তুলনায় এখানে নক্ষত্রপুঞ্জগুলো ভিন্ন-কারণই বা দক্ষিণ গোলার্ধ। শহর থেকে শুরু করে দূর আউটব্যাক পর্যন্ত নানা ধরনের [[অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ|অ্যাস্ট্রোট্যুরিজম]] সাইট আছে।
===খেলা===
[[File:Ball is in dispute in Hawthorn-Essendon AFL match.jpg|thumb|মেলবোর্নে এএফএল ম্যাচ দেখা একদমই ‘মাস্ট’]]
রাজধানী থেকে ছোট্ট শহর-অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ sport/খেলাধুলা। তুলনামূলক ছোট জনসংখ্যা সত্ত্বেও অলিম্পিকে ধারাবাহিক সাফল্যই এর প্রমাণ। বেশিরভাগ ম্যাচই সাপ্তাহিক ছুটির সময় (শুক্রবার রাত থেকে সোমবার রাত) হয়। অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা সাধারণত ভদ্র; তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার দলগুলোর ভক্তরাও একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখেন-চিৎকার-চেঁচামেচি হতে পারে, কিন্তু সহিংসতা খুবই বিরল।
{{Infobox|ফুটবল|অস্ট্রেলিয়ায় "football/ফুটবল" শব্দটি দ্ব্যর্থক; জায়গা ও আলাপসঙ্গীর ওপর অর্থ বদলে যায়। তবে একা "football" (ফুটবল) বলা হলে তা প্রায় কখনোই এসোসিয়েশন ফুটবল বোঝায় না—অস্ট্রেলিয়ায় সেটি "সকার" নামে পরিচিত। সাধারণভাবে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে "football" (ফুটবল) বা "footy" (ফুটি) বলতে '''রাগবি লিগ''' বোঝায়, আর অস্ট্রেলিয়ার বাকি অংশে বোঝায় '''অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল'''।
অযোগ্য/কোয়ালিফাই না করা '''rugby/রাগবি''' শব্দটি অস্ট্রেলিয়ায় সর্বদা রাগবি ইউনিয়ন বোঝায়—কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসেও, যেখানে রাগবি লিগ বেশি জনপ্রিয়। তাই যদি কেউ জিজ্ঞেস করে “ফুটবল না রাগবি পছন্দ?”, তারা আসলে রাগবি লিগ না রাগবি ইউনিয়ন—এটা জানতে চায়।}}
* ভিক্টোরিয়ায় শীতকালে '''[[অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল]]''' (অজি রুলস, কিছু জায়গায় শুধু “ফুটি”) এক কথায় জীবনযাত্রার অংশ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে একটি ম্যাচ দেখে নিন। ভিক্টোরিয়ায় জন্ম ও জনপ্রিয়তা হলেও জাতীয় প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা '''[https://www.afl.com.au/ অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ (এএফএল)]'''-এ সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থ ও গোল্ড কোস্টের দলও আছে, আর ২০২৮ সাল থেকে হোবার্ট থেকেও একটি দল যুক্ত হবে। '''এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''' প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হয়-এটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে দেখা ইভেন্ট। এখন এএফএল নারীদের লিগ '''[https://womens.afl এএফএল উইমেনস]'''ও চালায়-পুরুষদের মতো জনপ্রিয় না হলেও ভালো দর্শকসমর্থন পায়। পরের নারীদের মৌসুমে (২০২০) পুরুষদের বর্তমান বাজারের সব শহর মিলিয়ে ১৪টি দল খেলেছিল।
* গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক '''[[ক্রিকেট]]'''-অস্ট্রেলিয়া ও অন্তত দুইটি সফরকারী দলের মধ্যে-সব রাজধানী শহরে ঘুরে-ঘুরে হয়। ঐতিহ্য চাইলে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৫ দিনের নিউ ইয়ার্স টেস্ট বা মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বক্সিং ডে টেস্ট দেখুন। কয়েক ঘণ্টার প্রাণবন্ত বিনোদনের জন্য টি-টোয়েন্টি দেখতে পারেন। ঘরোয়া লিগ [[বিগ ব্যাশ লিগ|বিগ ব্যাশ লিগ]] ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। একদিনের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সাধারণত দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা/১১টা (ডে-নাইটার), আর ঘরোয়া বেশিরভাগ ও মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। '''অস্ট্রেলিয়া ডে''' ওডিআই প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি অ্যাডিলেডে হয়। '''দ্য অ্যাশেজ''' অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ টেস্টের সিরিজ-প্রতি ৩-৪ বছরে একবার অস্ট্রেলিয়ায়, আর তখন ম্যাচগুলো সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ ও অ্যাডিলেডে হয়।
* '''[https://ausopen.com/ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন]'''-চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের একটি-প্রতি জানুয়ারিতে [[মেলবোর্ন]] শহরকেন্দ্রের কাছে '''[https://mopt.com.au/ মেলবোর্ন পার্ক]''' কমপ্লেক্সে, প্রধান স্টেডিয়াম '''[http://www.rodlaverarena.com.au/ রড লেভার এরিনা]'''-সহ অনুষ্ঠিত হয়।
[[File:Hunter Stadium Day.JPG|thumb|নিউক্যাসলে হান্টার স্টেডিয়াম]]
* '''[[Rugby Football#Rugby union|রাগবি ইউনিয়ন]]'''–এর সুপার রাগবি ম্যাচ দেরি গ্রীষ্ম/শরতে ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, পার্থ ও সিডনিতে হয়-অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও জাপানের দল অংশ নেয়। জাতীয় দল ওয়ালাবিজ শীতকালে আন্তর্জাতিক দলগুলোকে আতিথ্য দেয়; ‘দ্য রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ’ (আগে ট্রাই নেশন্স)-এ নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলে।
* '''[[Rugby Football#Rugby league|রাগবি লিগ]]''' মূলত নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের শীতকালীন খেলা; প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা '''[https://www.nrl.com/ ন্যাশনাল রাগবি লিগ (এনআরএল)]'''। দল আছে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্ন, কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেন, নর্থ কুইন্সল্যান্ড ও গোল্ড কোস্টে; নিউজিল্যান্ডের একটি দলও আছে; বাকিরা সিডনির উপশহর ও নিউ সাউথ ওয়েলসের আঞ্চলিক শহর (নিউক্যাসল, ক্যানবেরা) থেকে। মৌসুম শেষ হয় সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় '''এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''' দিয়ে। দেশের রাগবি লিগ ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হলো '''স্টেট অব অরিজিন'''-নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের বার্ষিক সিরিজ; দুইটি সিডনি ও ব্রিসবেনে, তৃতীয়টি কখনো মেলবোর্ন বা পার্থে। অনেকের মতে, অরিজিন সিরিজের খেলার মান রাগবি লিগ বিশ্বকাপের চেয়েও উঁচু।
* '''নেটবল''' অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় নারীদের খেলা; ঘরোয়া সুপার নেটবলে প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ হয় (এটি নিউজিল্যান্ড-সমন্বিত আগের ট্রান্সন্যাশনাল লিগের বদলি)। জাতীয় দল বিশ্বসেরাদের একটি; ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও জ্যামাইকা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
* '''সকার''' জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে-ইউরোপীয় মানে পৌঁছাতে চায়-আর শখের স্তরে খুবই জনপ্রিয়। বহু অভিবাসী ও তাঁদের সন্তানরা ইউরোপীয় ফুটবলসংস্কৃতি থেকে আসায় আগ্রহ বেশি। জাতীয় দল সকারুস ২০১৫ সালে এশিয়া কাপ জিতে খেলাটির প্রোফাইল অনেক বাড়ায়। গ্রীষ্মে পেশাদার '''এ-লিগ''' হয়-অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দল নিয়ে। বেশিরভাগ শহরে শীতে সেমি-প্রো “স্টেট লিগ” হয়-অনেক ক্লাব নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী/অভিবাসী সম্প্রদায়কে ঘিরে গড়ে ওঠা (যেমন [[Newcastle (New South Wales)|নিউক্যাসলের]] ব্রডমিডো ম্যাজিক-স্থানীয় ম্যাসেডোনীয় সম্প্রদায়কে ঘিরে)। নারীদের সকার দর্শকে কম হলেও সমর্থন ভালো; জাতীয় দল ম্যাটিল্ডাস নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলে। নারীদের লিগ হলো ডব্লিউ-লিগ।
* '''[[Formula One|এফ১ গ্রাঁ প্রি]]'''-মার্চে মেলবোর্নের আলবার্ট পার্ক লেক ঘিরে সিটি স্ট্রিট সার্কিটে অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রি ও সহায়ক রেসগুলো হয়।
* '''সুপারকার্স চ্যাম্পিয়নশিপ''' শক্তিশালী ট্যুরিং কারের জনপ্রিয় রেসিং সিরিজ-মার্কিন এনএএসকারের তুলনা টানা যায়, তবে এখানে ওভাল নয়, রোড/স্ট্রিট সার্কিট। মার্চ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত দেশজুড়ে ইভেন্ট হয়; অক্টোবরের ঐতিহ্যবাহী বাথার্স্ট ১০০০ সবচেয়ে বিখ্যাত।
* '''[[ঘোড়দৌড়]]''' অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দর্শকখেলা-সব রাজধানীতে নিয়মিত রেস হয়। ক্যালেন্ডারের সেরা ইভেন্ট বার্ষিক '''মেলবোর্ন কাপ'''-বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দৌড়গুলোর একটি। [[Victoria (state)|ভিক্টোরিয়া]] রাজ্যে এদিন সরকারি ছুটি; সারা দেশেই অনেকেই শুধু এই দৌড় দেখার জন্য টিভি চালায়।
===ভ্রমণপথ===
* [[অ্যান বিডেল হাইওয়ে]]
* [[গিব রিভার রোড]]
* [[গ্র্যান্ড প্যাসিফিক ড্রাইভ]]
* [[গ্রেট ওশান রোড]]
* [[গানব্যারেল হাইওয়ে]]
* [[উডনাডাটা ট্র্যাক]]
* [[স্টুয়ার্ট হাইওয়ে]]: উত্তর-দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া অতিক্রম
* [[ট্যুরিস্ট ড্রাইভ ৩৩]]
* [[ওয়াটারফল ওয়ে]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামরিক জাদুঘর ও স্থানসমূহ]]
==যা করবেন==
[[File:Bondi 1.jpg|thumb|অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সৈকতগুলির জন্য বিখ্যাত (ছবিতে বন্ডাই বিচ)]]
[[File:Gold-Coast-Skyline-at-Night.jpg|thumb|গোল্ড কোস্টের সার্ফার্স প্যারাডাইস দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির একটি, যেখানে বিশ্বের সেরা কিছু সৈকত রয়েছে এবং কাছেই থিম পার্কের সমাহার]]
===সাঁতার===
* '''সার্ফে''': অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অন্তহীন বালুকাময় সৈকত রয়েছে। সিডনির বিশ্ববিখ্যাত [[সিডনি/বন্ডাই|বন্ডাই বিচ]] বা গোল্ড কোস্টের [[সার্ফার্স প্যারাডাইস]]-এ ভিড়ের সঙ্গে যোগ দিন। অথবা নিজের মতো নিরিবিলি সৈকত খুঁজে নিন (তবে বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, টহল দেওয়া সৈকতগুলোই তুলনামূলক নিরাপদ)। ট্রপিক্যাল নর্থ অঞ্চলে প্রবালপ্রাচীর ঢেউ ঠেকিয়ে দেয় বলে ঢেউ ছোট ও পানিও উষ্ণ থাকে। দক্ষিণে সাউদার্ন ওশান থেকে ঢেউ এসে বড় হয় এবং পানি ঠান্ডা থাকে। (আর মাঝখানে সবটাই একেবারে ‘‘ঠিকঠাক’’)।
* '''শান্ত ট্রপিক্যাল সাগরে''': [[ব্রুম|ব্রুমের]] কেবল বিচ প্রতিদিন জোয়ারে পরিষ্কার হয়, নিখুঁত বালু ও উষ্ণ পানি – শীতকালে যাওয়া ভালো।
* '''উষ্ণ প্রস্রবণে''': ডারউইনের দক্ষিণে বেরি স্প্রিংস ও মাতারাঙ্কার মতো অনেক প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ আছে, যেগুলো তালগাছ ও ট্রপিক্যাল সবুজে ঘেরা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রিসোর্টও এমন প্রাকৃতিক পুল বানাতে পারবে না।
* '''মিঠাপানির হ্রদে''': অভ্যন্তরীণ অস্ট্রেলিয়া শুকনো হলেও অনেক জায়গায় হ্রদ আছে। কেয়ার্নসের অভ্যন্তরে আথারটন টেবিলল্যান্ডস বা [[কুরাওইনিয়া জাতীয় উদ্যান]] ঘুরে দেখুন। কুমিরের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
* '''নদীতে''': গরম থাকলে আর পানি থাকলেই সেখানে সাঁতারের জায়গা থাকবে। স্থানীয়দের কাছে প্রিয় সাঁতার কাটা গর্ত বা দড়ি দিয়ে লাফ দেওয়ার জায়গা জেনে নিন। কুমিরের ব্যাপারে সাবধান।
* '''মানবসৃষ্ট পুলে''': নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার ছোট শহরে স্থানীয় সুইমিং পুল গ্রীষ্মের রবিবারে কমিউনিটি জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। সিডনি ও নিউক্যাসলের সমুদ্রপাড়ের অনেক উপশহরে কংক্রিট/শিলা কেটে বানানো ‘বাথস’ আছে যেখানে সমুদ্র সৈকতের পাশে নিরাপদে সাঁতার কাটা যায়।
* '''সৈকতে'''! পানির ধারে নিজের জায়গা খুঁজে নিন আর তোয়ালে পেতে বসুন। শীতে ট্রপিক্যাল নর্থে, গ্রীষ্মে দক্ষিণে। তবে সব সময় সূর্যের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
===বুশওয়াকিং===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং}}
বুশওয়াকিং অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বিনোদন। জাতীয় উদ্যান ও রেইনফরেস্টে বুশওয়াকিং করা যায়। কিছু এলাকায় স্থানীয় আদিবাসীদের নেতৃত্বে গাইডেড বুশওয়াক হয়, যেখানে তাদের সংস্কৃতি জানার দুর্দান্ত সুযোগ মেলে।
===ডাইভিং===
[[File:Giant clam with diver.jpg|thumb|গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে এক স্কুবা ডাইভার একটি জায়ান্ট ক্ল্যাম দেখছে]]
* '''স্নরকেলিং''': কুইন্সল্যান্ড উপকূলে [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]-এ যান, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার [[এক্সমাউথ (ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া)|নিঙ্গালু রিফে]]। [[বায়রন বে]]-এর জুলিয়ান রকস, বা [[বান্ডাবার্গ|বান্ডাবার্গে]]<nowiki/>র- সৈকত থেকেও স্নরকেলিং করে ট্রপিক্যাল মাছ দেখা যায়।
* [[অস্ট্রেলিয়ায় স্কুবা ডাইভিং|স্কুবা ডাইভিং]]
===খেলাধুলা===
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গলফ|গলফ]]
* '''রক ক্লাইম্বিং'''
* '''মাউন্টেন বাইকিং''': [[স্নোয়ি মাউন্টেনস]] বা ক্যানবেরার ব্ল্যাক মাউন্টেনে ট্রেইল চেষ্টা করুন, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মুন্ডা বিদ্দি ট্রেইলে কয়েকদিন ধরে সাইকেল চালান।
* '''ঘোড়ায় চড়া''': ইউরোপীয় উপনিবেশকদের আগমনের পর থেকে ঘোড়া অস্ট্রেলিয়ার জীবনের অংশ। বিশাল দূরত্ব ও কঠিন পরিবেশ পাড়ি দিতে ঘোড়ার উপর নির্ভরশীলতা অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আজ ঘোড়ায় চড়া এখানে বিনোদন, কাজ, গরু সামলানো থেকে শুরু করে কোটি ডলারের রেসিং শিল্প পর্যন্ত বিস্তৃত। শহরতলি ও গ্রামে ছোট পোনি খামার ও প্রিয় ঘোড়াগুলো দেখা যায়, যা অস্ট্রেলিয়ানদের ঘোড়ার প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার প্রমাণ।
===স্কি===
অস্ট্রেলিয়া স্কি-গন্তব্য হিসেবে বিশ্বমানের নয়, কারণ পাহাড়গুলো তুলনামূলক নিচু এবং তুষার অনিশ্চিত। তবে দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ায় উন্নত স্কি সুবিধা আছে। তাসমানিয়াতেও সঠিক আবহাওয়া হলে কয়েক মাস স্কি করা যায়।
দেখুন [[অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা]]
===সার্ফ===
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রত্যন্ত কোণায়ও ভালো সার্ফ ব্রেক খুঁজে পাবেন, আর সেখানেও সার্ফার থাকবে। অস্ট্রেলিয়ানরা সার্ফ ভালোবাসে এবং ঢেউ থাকলেই তারা সেখানে থাকে। কেয়ার্নস থেকে কারাথা পর্যন্ত শীর্ষ প্রান্ত ছাড়া প্রায় প্রতিটি উপকূলে সার্ফিং হয়।
===রোমাঞ্চকর কার্যকলাপ===
* '''স্কাই ডাইভিং''': সারা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে
* '''হট এয়ার বেলুন''': ক্যানবেরা, ব্রিসবেন বা [[রেড সেন্টার#করুন|রেড সেন্টার]]-এ
* '''কাইট সার্ফিং''' ও '''উইন্ডসার্ফিং''': পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ডটন ও করোনেশন বিচ-এ
* '''হোয়াইটওয়াটার রাফটিং''': [[তাসমানিয়া]] বা [[দূর উত্তর কুইন্সল্যান্ড]]-এ
===জুয়া===
[[File:2008BerriganCup1.JPG|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের ছোট শহর বেরিগানে বেরিগান কাপ ঘোড়দৌড়]]
অস্ট্রেলিয়ানদের বলা হয়, যদি দুটো মাছি দেয়ালে উঠতে থাকে, তবে দেখবেন কোনো অজি ইতিমধ্যে বাজি ধরেছে।
* '''ক্যাসিনো''': মেলবোর্নের ক্রাউন ক্যাসিনো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড়। তবে কেয়ার্নস, [[লন্সেস্টন]], এলিস স্প্রিংস, গোল্ড কোস্ট, [[টাউনসভিল]]সহ প্রতিটি রাজধানী শহরে ক্যাসিনো আছে।
* '''[[ঘোড়দৌড়|ঘোড়দৌড়ের দিন]]''': সব রাজধানী শহরে সপ্তাহান্তে ঘোড়দৌড় হয়। পরিবার-সহ আয়োজন হয়, ফ্যাশন ও সামাজিকতা তার অংশ। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রায় প্রতিটি পাবেই ট্যাব থাকে। এছাড়া গ্রেহাউন্ড দৌড় ও ট্রটিং সন্ধ্যায় হয়। ছোট শহরের বার্ষিক দৌড় উৎসব স্থানীয়দের কাছে বড় অনুষ্ঠান। [[বার্ডসভিল]] রেস বিখ্যাত। আর প্রতি নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় মেলবোর্ন কাপের সময় রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়।
* '''অদ্ভুত দৌড়''': গিরগিটি দৌড়, আখ-ভেক দৌড়, উট দৌড়, কাঁকড়া দৌড়। এগুলোর উপর বাজি ধরা আইনত নিষিদ্ধ হলেও গোপনে চলে।
* '''টু-আপ''': আনজাক ডে (২৫ এপ্রিল)-এ স্থানীয় আরএসএল ক্লাবে কয়েন ছুঁড়ে বাজি ধরা হয়।
* '''স্লট মেশিন''': বিশ্বে মোট স্লট মেশিনের এক-চতুর্থাংশ অস্ট্রেলিয়ায়। এর অর্ধেকের বেশি নিউ সাউথ ওয়েলসে। মদ্যপানাগার ও ক্লাবগুলোতে ‘‘ভিআইপি লাউঞ্জ’’ নামে গেমিং রুম থাকে। তবে আসক্ত হবেন না।
* '''ট্যাব''': প্রতিটি শহর ও শহরতলিতে টোটালিসেটর এজেন্সি বোর্ড (ট্যাব) শাখা থাকে। সেখানে গিয়ে খেলাধুলায় বাজি ধরতে পারেন, যদিও পরিবেশ সাধারণত নিরানন্দময়।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের জুয়া খেলা আইনত নিষিদ্ধ। তাই শিশুদের প্রবেশ অনেক স্থানে সীমিত।
===রয়্যাল শো===
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্য ও মূল ভূখণ্ডে বার্ষিক '''রয়্যাল শো''' হয়। এগুলো কৃষি প্রদর্শনী হলেও বিনোদন, মেলা ও রাইড থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ফেয়ারের মতো এগুলো বসন্ত বা শরতে অনুষ্ঠিত হয়।
==কিনুন==
[[File:Pitt Street Mall February 2016.jpg|thumb|সিডনির পিট স্ট্রিট মল-দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত কেনাকাটার জায়গাগুলোর একটি]]
{{see also|অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা}}
অস্ট্রেলিয়া মূলত একটি '''ক্যাশলেস সমাজ'''-প্রায় সব ব্যবসায় ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড নেয়। ছোট ভ্রমণে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা বদলানোর প্রয়োজন নেই। নগদ এখনও গ্রহণযোগ্য, তবে কেবল-কার্ড নেয় এমন ব্যবসা বাড়ছে।
ক্যাফে, মদ্যপানাগার ও রেস্টুরেন্টে কার্ডে ১–২% সারচার্জ সাধারণ (এবং আইনি)-ক্যাশ বদলালে এর চেয়েও বেশি ক্ষতি হতে পারে।
===মুদ্রা===
{{exchange rate AUD|currencies=USD,EUR,GBP,CAD,NZD}}
{{infobox|গোল্ড কয়েন|না, এগুলো আসল স্বর্ণমুদ্রা নয়। $১ বা $২ অস্ট্রেলীয় কয়েনকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘‘গোল্ড কয়েন’’ বলা হয়। অলাভজনক জাদুঘর ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই ‘‘গোল্ড কয়েন ডোনেশন’’ চায়—মানে একটি $১ বা $২ কয়েন, অথবা তার চেয়েও বেশি।}}
অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার নাম হলো '''ডলার'''। প্রতীক ‘‘'''$'''’’ বা ‘‘'''A$'''’’ (আইএসও কোড: '''AUD''')। এটি ১০০ '''সেন্ট (c)'''-এ বিভক্ত। এই গাইডে ‘‘$’’ চিহ্ন মানে অস্ট্রেলীয় ডলার, যদি ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকে।
মুদ্রা রয়েছে ৫¢, ১০¢, ২০¢, ১২-পাশের ৫০¢, $১ এবং ছোট্ট $২। নোট রয়েছে $৫ (বেগুনি), $১০ (নীল), $২০ (লাল), $৫০ (হলুদ) ও $১০০ (সবুজ)। $১০০ নোট বিরল এবং অনেক দোকানে ব্যবহার করা কঠিন। আধুনিক অস্ট্রেলীয় নোট কাগজে নয়, প্লাস্টিক পলিমারে মুদ্রিত। পুরোনো কাগজের নোট (অত্যন্ত বিরল) অনেক ব্যবসায়ী গ্রহণ নাও করতে পারেন, তবে অধিকাংশ ব্যাংকে এগুলো নতুন নোটের সঙ্গে বিনামূল্যে বদলানো যায়। নগদে লেনদেনে ৫ সেন্টের গুণিতক না হলে মুদ্রার অঙ্ক নিকটবর্তী ৫ সেন্টে রাউন্ড করা হয়। কার্ডে পরিশোধ করলে আসল অঙ্কই চার্জ হয়।
অস্ট্রেলীয় ডলার অন্য কোনো মুদ্রার সঙ্গে বাঁধা নয় এবং এটি বিশ্ব বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বহুল লেনদেন হয়। এর বিনিময় হার প্রায়ই ওঠানামা করে, প্রতিদিন ১–২% পরিবর্তন স্বাভাবিক ব্যাপার।
===মুদ্রা বিনিময়===
[[File:Australian banknotes in wallet.jpg|thumb|অস্ট্রেলীয় ডলার নোট একটি মানিব্যাগে]]
অস্ট্রেলীয় ডলার একটি প্রধান বিশ্ব মুদ্রা হিসেবে ধরা হয়, তাই সারা বিশ্বের মানি চেঞ্জার ও ব্যাংকে সহজলভ্য।
অস্ট্রেলিয়ায় মানি চেঞ্জাররা মুক্ত বাজারে কাজ করে। তারা নির্দিষ্ট কমিশন, শতাংশ ফি, লুকানো বিনিময় হার ফি বা সবকিছুর সমন্বয় চার্জ করতে পারে। ভালো রেট পাওয়ার জন্য বড় ব্যাংক ব্যবহার করুন এবং বিমানবন্দর বা পর্যটনকেন্দ্র এড়িয়ে চলুন। তবে সেরা ও সবচেয়ে খারাপ রেট ছোট ব্যক্তিগত বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসতে পারে। তাই তুলনা করে পরিবর্তন করুন। মুদ্রা বদলানোর আগে অবশ্যই রেট জেনে নিন। সাধারণত পরিচয়পত্র (যেমন পাসপোর্ট) লাগবে।
বড় শহরে মুদ্রা বিনিময় আউটলেট প্রচুর আছে এবং ব্যাংকও বেশিরভাগ মুদ্রা বিনিময় করে। বিমানবন্দরের আউটলেটগুলো সাধারণত সবচেয়ে খারাপ রেট দেয়-প্রায় ১০% ক্ষতি হতে পারে। ব্যাংক সাধারণত ২.৫% পার্থক্য নেয়, সঙ্গে $৫–৮ কমিশন। ‘‘কমিশন ফ্রি’’ অফারগুলোতেও রেট খারাপ হয়। সব ব্যাংকের রেট একই হবে ধরে নেবেন না। সিডনি বিমানবন্দরে ট্যুরিস্ট ব্রোশিওরে আমেরিকান এক্সপ্রেসের কমিশন-ফ্রি ভাউচারও পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিএরিয়াস, মায়েস্ট্রো, মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড দিয়ে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা তোলার এটিএম থাকে।
===ব্যাংকিং===
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ, যদি আপনার স্থানীয় ঠিকানা থাকে। পরিচয় প্রমাণ (যেমন পাসপোর্ট) দেখাতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম খুচরা ব্যাংক হলো-'''[http://www.nab.com.au ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক (NAB)]''', '''[http://www.anz.com অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (ANZ)]''', '''[https://www.commbank.com.au/ কমনওয়েলথ ব্যাংক]''' এবং '''[http://www.westpac.com.au/ ওয়েস্টপ্যাক]'''।
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব শহরেই এটিএম আছে। এগুলো বেসরকারীকরণ করা হয়েছে, তাই অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারে। সাধারণত প্রায় $২। এটিএম স্ক্রিনে ফি দেখাবে এবং আপনি লেনদেন বন্ধ করতে পারবেন। আপনার ব্যাংকও বিদেশে মুদ্রা তোলার জন্য আলাদা ফি নিতে পারে।
===খরচ===
{{infobox|দ্রুত পরিবর্তনশীল মুদ্রার মান|অস্ট্রেলীয় ডলার বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল মুদ্রাগুলোর একটি। এর দাম লোহার আকরিক ও কয়লার মতো পণ্যের মূল্যের সঙ্গে ওঠানামা করে। গত ১০ বছরে ‘‘অজি’’ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৫০ সেন্ট থেকে $১.৫০ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তাই ভ্রমণের খরচ কখনও যুক্তিসঙ্গত, কখনও ভীষণ ব্যয়বহুল হতে পারে।}}
অস্ট্রেলিয়া সাধারণত ব্যয়বহুল। রাজধানী শহরে ডরম শেয়ার করলে প্রতি রাতে প্রায় $৫০, কেয়ার্নসের মতো জায়গায় $৩০ হতে পারে। রাজধানীর শহরতলিতে বা গ্রামে একটি সাধারণ মোটেল ডাবল রুম প্রায় $১০০ থেকে শুরু। রাজধানী শহরের সিটি সেন্টারে হোটেল ডাবল রুম প্রায় $২০০ থেকে শুরু।
গাড়ি ভাড়া দিনে প্রায় $৬৫। গণপরিবহনের ডে-পাস শহরভেদে $৯–২০।
ক্যাফেতে একবেলা খাবার প্রায় $১৫–২০। রেস্তোরাঁয় প্রধান খাবার $২৫ থেকে শুরু।
সাধারণ টেকঅ্যাওয়ে খাবার-বার্গার, স্যান্ডউইচ বা কয়েক স্লাইস পিৎজা প্রায় $১০। একটি বিগ ম্যাক $৭.৯০। পাই বা সসেজ রোল $৫ থেকে।
লো-এন্ড পাব-এ হাউস বিয়ারের ছোট গ্লাস (২৮৫ মিলি) প্রায় $৮ এবং ওয়াইনের গ্লাস $১০। টেকঅ্যাওয়ে হিসেবে ২৪ ক্যান বিয়ারের কেস অন্তত $৪৫, এক বোতল ওয়াইন $১০ থেকে।
পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানীগুলোর মধ্যে বিমানের ভাড়া সাধারণত একপথে $১৫০, তবে সময়মতো বুকিং করলে $৬০ পর্যন্ত কমতে পারে। দেশ পেরোতে প্রায় $৩৫০ লাগে। স্টেট-রান ট্রেনে কিছুটা সস্তা, বাসে আরও কম। তবে বেসরকারি লাক্সারি ট্রেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
সমুদ্রসৈকত বা শহরের পার্কে প্রবেশ সাধারণত ফ্রি। কিছু জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে প্রতিদিন $৬–২০ চার্জ হয়। দূরবর্তী পার্কগুলো ফ্রি। জাদুঘরে সাধারণত $১০, থিম পার্কে প্রায় $৭০।
===কর===
অস্ট্রেলিয়ায় ১০% ‘‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST)’’ রয়েছে, যা অপরিশোধিত খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা বাদে সব পণ্যে প্রযোজ্য। ভোক্তার জন্য প্রদর্শিত দামের মধ্যেই জিএসটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। রসিদে আলাদা করে উল্লেখ থাকে। [[অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা#Tourist Refund Scheme|ট্যুরিস্ট রিফান্ড স্কিমের]] মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা জিএসটি ফেরত পেতে পারেন।
===ক্রেডিট কার্ড===
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। '''মাস্টারকার্ড''' ও '''ভিসা''' সবচেয়ে প্রচলিত। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবও বড় দোকানে ও সুপারমার্কেটে নেওয়া হয়। সার্কাস বা মায়েস্ট্রো লোগোযুক্ত কার্ডও কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ান ডেবিট কার্ড ‘‘ইএফটপস’’ সিস্টেমে চলে। ইউনিয়নপে, আলিপে ও উইচ্যাট পে ক্রমশ প্রচলিত হচ্ছে, তবে নির্ভরযোগ্য নয়।
কনট্যাক্টলেস কার্ড, '''অ্যাপল পে''', '''গুগল পে''', '''স্যামসাং পে''' প্রচলিত। $১০০-এর বেশি হলে পিন প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রেডিট কার্ডে পিন থাকে। বিদেশি কার্ডে পিন না থাকলে সাইন করা যায়, তবে দোকানিরা অনেক সময় জানেন না। তাই সম্ভব হলে পিন রাখুন।
কার রেন্টাল, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন, কিছু ডিসকাউন্ট রিটেইলার ও সার্ভিস স্টেশনে ক্রেডিট কার্ড সারচার্জ নেওয়া হয়। ক্যাফে, বার ও রেস্তোরাঁতেও বাড়ছে। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবে বেশি (২–৪%), ভিসা ও মাস্টারকার্ডে সাধারণত ১.৫%।
===দরকষাকষি===
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ দোকানে দরকষাকষি প্রচলিত নয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দোকানের রেট দেখালে অনেক সময় ছাড় দেয়। দামি পণ্য বা একাধিক জিনিস কিনলে ছাড় চাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, জুয়েলারিতে ১০% ছাড় পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে অকারণে দরদাম করলে তা অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয় এবং ব্যর্থ হবে।
===বকশিশ===
অস্ট্রেলিয়ায় [[বকশিশ]] প্রচলিত নয়, তবে চাইলে দিতে পারেন।
রেস্তোরাঁর দামে সার্ভিস ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকে। চমৎকার সার্ভিস পেলে সামান্য বকশিশ দিতে পারেন। কিছু রেস্তোরাঁ কার্ড পেমেন্টে টিপস যোগ করার সুযোগ দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কিছু জায়গায় ‘‘টিপস’’ লেখা বাটি থাকে, তবে অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান কোনো টিপস দেন না। বারটেন্ডারদের সাধারণত টিপস দেওয়া হয় না।
হোটেল কর্মী, পোর্টার, ট্যুর গাইড, ফুড ডেলিভারি বা হেয়ারড্রেসার-কেউই বকশিশ আশা করেন না। ট্যাক্সি ড্রাইভাররাও না, তবে অনেক সময় যাত্রীরা ভাড়া পরের ডলারে রাউন্ড করে দেন।
ক্যাসিনোতে গেমিং কর্মীদের টিপস দেওয়া নিষিদ্ধ-এটি ঘুষ হিসেবে ধরা হয়। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তাকে টিপস দেওয়া অপরাধ গণ্য হয়।
===বাণিজ্যিক সময়===
[[File:The_Strand_Arcade_interior_photographed_from_the_top_level,_Sydney_01.jpg|thumb|দ্য স্ট্র্যান্ড আর্কেড, [[সিডনি]]]]
অস্ট্রেলিয়ার '''মৌলিক ব্যবসায়িক সময়''' সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৫টা। এক রাত দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে-বেশিরভাগ শহরে শুক্রবারে রাত ৯টা পর্যন্ত, ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে বৃহস্পতিবারে। রবিবার ট্রেডিং বড় শহরে প্রচলিত, তবে গ্রামীণ এলাকায় নয়।
বড় সুপারমার্কেটগুলো সাধারণত সপ্তাহের দিনে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে (কখনও মধ্যরাত পর্যন্ত)। ৭/১১-এর মতো কনভেনিয়েন্স স্টোর বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা।
ফাস্ট ফুড চেইনগুলোও ২৪ ঘণ্টা বা গভীর রাত পর্যন্ত খোলা। শহরের ফুড কোর্টগুলো বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তবে শপিং সেন্টারের ফুড কোর্ট বেশি সময় খোলা থাকে।
সার্ভিস স্টেশন বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা, তবে গ্রামীণ এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর ও রবিবার বন্ধ থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার '''সপ্তাহান্ত''' শনিবার ও রবিবার। বড় শহরে সপ্তাহান্তে দোকান প্রায় সর্বত্র খোলা থাকে, তবে সময় কিছুটা কম। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ব্যতিক্রম, যেখানে রবিবার বড় দোকান খোলার ওপর সীমাবদ্ধতা আছে। ছোট শহরে রবিবার ও শনিবার বিকেলের পর দোকান বন্ধ থাকে। পর্যটক-নির্ভর শহরে সপ্তাহান্তে খোলা থাকে, তবে সোমবার-মঙ্গলবার দোকান বন্ধ থাকে।
পর্যটক এলাকায় দোকান অনেক সময় দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে। যেমন [[সিডনি/ডার্লিং হারবার|ডার্লিং হারবার]]-এ প্রতিরাতে দীর্ঘ সময় খোলা থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক সোমবার–শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৪টা খোলা থাকে, শুক্রবারে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। তবে এটিএম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এবং মুদ্রা বিনিময় আউটলেটের সময় আরও দীর্ঘ।
==খাওয়া==
{{see also|অস্ট্রেলীয় খাবার}}
অস্ট্রেলীয় খাবার মূলত ১৯৬০ ও ৭০-এর দশক পর্যন্ত ব্রিটিশ ও আইরিশ ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের প্রভাবে গড়ে উঠেছিল। তবে জার্মানি, ইতালি, গ্রিস ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অভিবাসনের ইতিহাস থাকায় অস্ট্রেলীয় খাবারে এসব সংস্কৃতির প্রভাব এখন ব্রিটিশ ও আইরিশ প্রভাবের তুলনায় আরও স্পষ্ট। বিপুল সংখ্যক এশীয় অভিবাসীর আগমনও অস্ট্রেলীয় খাবারে নিজের ছাপ রেখেছে; অনেক অস্ট্রেলীয় শেফ পশ্চিমা খাবারের সঙ্গে এশীয় স্বাদ মিশিয়ে পরিবেশন করেন।
বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর নিজেদের স্বতন্ত্র খাবার রয়েছে। তবে এরা অনেক অদ্ভুত উপাদান ব্যবহার করায় এগুলো মূলধারার অস্ট্রেলীয় খাবারের অংশ হয়নি। তবু [[ফাইন ডাইনিং]]-এ ক্রমশ আরও বেশি অস্ট্রেলীয় সেলিব্রিটি শেফ তাদের খাবারে স্থানীয় স্বাদ ব্যবহার করছেন।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, অস্ট্রেলিয়ায় টেবিল ম্যানার [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] নিয়ম অনুসারে হয়।
===কোথায় খাবেন===
{{infobox|বিওয়াইও - নিজের পানীয় আনুন|BYO-এর মানে হলো ''Bring Your Own'' (নিজের অ্যালকোহল আনা)। অস্ট্রেলিয়ার বহু শহুরে এলাকায় ছোট, সস্তা রেস্তোরাঁ আছে, যেগুলো মদের লাইসেন্স পায়নি, তবে ক্রেতাদের বাইরে থেকে আনা ওয়াইন খাওয়ার অনুমতি দেয়। এটি সাধারণত রেস্তোরাঁ থেকে ওয়াইন কেনার চেয়ে অনেক সস্তা। কিছু BYO রেস্তোরাঁ বিয়ারও অনুমতি দেয়, তবে বেশিরভাগই শুধু ওয়াইন। কর্কেজ ফি দিতে হয়—যা ২ থেকে ১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে, কখনও মাথাপিছু হিসাবেও হয়। যে রেস্তোরাঁগুলো মদ বিক্রির লাইসেন্সপ্রাপ্ত, সেখানে সাধারণত BYO অনুমোদিত নয়।}}
{{infobox|বার্গার কিং কোথায় গেল?|ভ্রমণকারীরা প্রায়ই অবাক হন দেখে যে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো বার্গার কিং নেই। এখানে বার্গার কিং-এর নাম হলো "হাঙ্গরি জ্যাকস"। কারণ অ্যাডিলেডে ইতিমধ্যেই "বার্গার কিং" নামে একটি ছোট দোকান ছিল, তাই ট্রেডমার্ক সমস্যার কারণে নতুন নাম নিতে হয়েছিল।
২০০১ সালে "হাঙ্গরি জ্যাকস" বার্গার কিং নাম ব্যবহারের অধিকার পেলেও, পুরোনো নামটি জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ায় তারা "হাঙ্গরি জ্যাকস"-ই রেখে দেয়।}}
অস্ট্রেলিয়ার শহর ও নগরগুলোতে বাইরে খাওয়ার কোনো অভাব নেই। ভালো আন্তর্জাতিক খাবারের রেস্তোরাঁ ছাড়াও আছে-
* '''পাব'''-এখানে সাধারণত লাঞ্চ ও ডিনারে পরিবেশন করা হয় মজবুত অজি খাবার যেমন স্টেক, বার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, চিকেন পার্মিজানা। খাবার সাধারণত প্রধান কাউন্টার থেকে আলাদা কোনো বিস্ত্রো বা রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয়।
* '''ক্লাব'''-যেমন বোলিং ক্লাব, লীগস ক্লাব, আরএসএল (RSL) ক্লাব, শহর ও নগরে প্রচুর দেখা যায়। কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বেশি প্রচলিত। অধিকাংশই ভিজিটরদের অনুমতি দেয় এবং প্রায়ই সুলভ দামে খাবার মেলে। সাধারণত দ্রুত, বিনামূল্যের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া থাকে।
* '''ক্যাফে'''-প্রায় প্রতিটি শহর ও উপশহরে ক্যাফে বা কফিশপ থাকে। এগুলোতে সকালের নাস্তা, হালকা খাবার ও কেক পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগই বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
* '''বেকারি'''-রুটি, পাই বা সসেজ রোল কেনার জন্য ভালো জায়গা।
* '''ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁ'''-ম্যাকডোনাল্ড’স (বা ''ম্যাকাস''), সাবওয়ে, কেএফসি প্রচলিত। বার্গার কিংয়ের পরিবর্তে আছে হাঙ্গরি জ্যাকস। রেড রুস্টার অস্ট্রেলীয় চেইন, যারা বারবিকিউ চিকেন পরিবেশন করে। ওপোর্টো হলো ন্যান্ডোস-এর অস্ট্রেলীয় সংস্করণ।
* '''টেকঅ্যাওয়ে'''-মিল্ক বার, সুশি স্টোর ও অন্যান্য দোকানে সুশি, পাই, রোস্ট চিকেন, হ্যামবার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, গাইরোস ও কাবাব মেলে।
* '''ফুড কোর্ট'''-বেশিরভাগ শপিং সেন্টারে ফুড কোর্ট থাকে, এমনকি ছোট শহরগুলোতেও।
* '''পিকনিক'''-অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া সাধারণত এমন যে খাবার নিয়ে নিকটবর্তী পার্ক, নদী, লেক বা সৈকতে বসে খাওয়া যায়।
* '''বারবিকিউ'''-অস্ট্রেলিয়ানদের প্রিয় শখ। অনেক পার্কেই বিনামূল্যে বারবিকিউর ব্যবস্থা থাকে। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই “শ্রিম্প অন দ্য বারবি” খায়-আসলে এখানে শ্রিম্পকে প্রন বলা হয়। স্টেক, চপ, সসেজ, চিকেন ফিলে, মাছ ও কাবাব সাধারণত বারবিকিউ করা হয়।
* '''ওয়াইনারি'''-অনেক ওয়াইনারির নিজস্ব রেস্তোরাঁ থাকে, যেখানে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়, আর সঙ্গে থাকে তাদের নিজস্ব ওয়াইন। সাধারণত শুধু লাঞ্চে খোলা থাকে, তবে কিছু উচ্চমানের জায়গায় মাল্টিকোর্স ডেগাস্টেশন ডিনারও হয়।
[[File:Jackadder Lake barbecues.jpg|thumb|ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার উডল্যান্ডসের জ্যাকঅ্যাডার লেকে আউটডোর বারবিকিউ। অস্ট্রেলিয়ার বহু পার্কেই একই ধরনের সুবিধা আছে।]]
[[File:Centre Place Dec 2012.jpg|thumb|মেলবোর্ন সিবিডির সেন্টার প্লেসে সারি সারি ক্যাফে]]
===স্থানীয় খাবার===
[[File:Kangaroo fillet.JPG|thumb|সিডনির একটি রেস্তোরাঁয় ক্যাঙ্গারু ফিলে]]
{{see also|অস্ট্রেলীয় খাবার#আদিবাসী খাবার (বুশ টাকার)}}
দুঃখজনক হলেও সত্যি, অস্ট্রেলীয় রেস্তোরাঁয় স্থানীয় খাবার খুব বেশি পাওয়া যায় না। এগুলো সুপারমার্কেট বা দেশের দূরবর্তী এলাকায় কিছুটা মেলে। ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী খাদ্যতালিকায় বিপন্ন প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সীমিত এবং আপনার জন্য অপ্রাপ্য।
* '''ক্যাঙ্গারু'''-অনেক সুপারমার্কেট ও কসাইখানায় পাওয়া যায়। মিডিয়াম-রে পর্যন্ত বারবিকিউ করা ভালো, নইলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। এর স্বাদ গরুর মাংসের মতো, মাঝে মাঝে পর্যটন এলাকার রেস্তোরাঁর মেনুতেও থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ মিলিয়নেরও বেশি ক্যাঙ্গারু আছে, এরা পরিবেশের ক্ষতি কম করে এবং কম কার্বন নিঃসরণ করে।
* '''কুমির'''-নর্দার্ন টেরিটরি ও কুইন্সল্যান্ডের ফার্ম থেকে উৎপাদিত মাংস শীর্ষ প্রান্তে সহজেই পাওয়া যায়। হোয়াইট মিট, যার স্বাদ মুরগির মতো।
* '''ইমু'''-কম ফ্যাটযুক্ত লাল মাংস, বিশেষ কসাইখানায় পাওয়া যায়। [[মালেনি]]-তে পাই হিসেবে বা [[সিডনি/দ্য রক্স|দ্য রক্স]]-এ পিজ্জায় চেষ্টা করতে পারেন।
* '''পসাম'''-মূলত তাসমানিয়ায় খাওয়া হয়, বিশেষ করে ব্রুনি আইল্যান্ডে।
* '''বুশ মুদ্রার'''-অনেক ট্যুরে আপনাকে বেরি, বাদাম, মূল, পিঁপড়ে ও গ্রাবসের মতো খাবার চেখে দেখার সুযোগ দেয়। '''ম্যাকাডেমিয়া বাদাম''' একমাত্র অস্ট্রেলীয় উদ্ভিদ যা বাণিজ্যিকভাবে খাবারের জন্য চাষ হয়। কিছু স্বাদ অর্জিত রুচি হলেও স্থানীয় মসলা অবশ্যই চেষ্টা করার মতো এবং এখন ক্রমশ ফাইন ডাইনিং-এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কৃষক বাজার ও উন্মুক্ত উৎসবে বুশ মুদ্রার আইসক্রিমও কখনও কখনও মেলে।
===খাবারের বাইরেও===
[[File:Pavlova Dessert.jpg|thumb|ক্রিম ও রাস্পবেরি দিয়ে সাজানো পাভলোভা]]
অস্ট্রেলিয়ায় এমন অনেক ব্রিটিশ-প্রভাবিত খাবার আছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ততটা পরিচিত নয়, তবে অবশ্যই চেখে দেখার মতো।
* '''ভেজিমাইট'''-এক ধরনের নোনতা ইস্ট-ভিত্তিক স্প্রেড। টোস্টে পাতলা করে মাখানো সবচেয়ে ভালো। কিনতে না চাইলে যেকোনো কফিশপে সকালের নাস্তায় পাবেন। পাতলা করে মাখানোই রহস্য-মাখন ভুলবেন না। যুক্তরাজ্যের মার্মাইট বা সুইজারল্যান্ডের সেনোভিসের মতো স্বাদ।
* '''টিম-ট্যাম'''-চকলেট বিস্কুট স্যান্ডউইচ, ভেতরে ফাজ-ফিলিং। টিম-ট্যাম স্লাম অবশ্যই চেষ্টা করার মতো-দুই প্রান্ত কামড় দিয়ে কাপে চা বা কফি দিয়ে স্ট্র হিসেবে ব্যবহার করুন।
* '''ল্যামিংটন'''-চকলেট আইসিং-এ ডোবানো ও নারকেলের গুড়ায় গড়ানো স্পঞ্জ কেক। কুইন্সল্যান্ডের গভর্নর লর্ড ল্যামিংটনের নামে নামকরণ।
* '''পাভলোভা'''-মেরিঙ্গ কেক, উপরে ক্রিম ও টাটকা ফল দিয়ে সাজানো। বিশেষ অনুষ্ঠান বা বারবিকিউ-র শেষে পরিবেশন হয়। [[নিউজিল্যান্ড#খাওয়া|নিউজিল্যান্ড]]-এর সঙ্গে প্রায়ই এই রেসিপির উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক হয়।
* '''এনজ্যাক বিস্কুট'''-নারকেল, ওটস, আটা, চিনি ও গোল্ডেন সিরাপের মিশ্রণে তৈরি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের পাঠানো হতো বলে কথিত।
* '''ড্যাম্পার'''-ড্রোভার ও স্টকম্যানদের প্রচলিত সোডা ব্রেড। ময়দা, পানি আর লবণ দিয়ে তৈরি। সাধারণত আগুনের ছাইয়ে রান্না হতো।
* '''চিকো রোল'''-ডিপ-ফ্রাই করা স্ন্যাক, নামের সত্ত্বেও চিকেন থাকে না। এতে থাকে মাটন, সবজি, চাল, বার্লি ও মসলা। মোটা খোলস ফুটবল ম্যাচে খাওয়ার উপযোগী করে বানানো।
* '''অস্ট্রেলিয়ান মিট পাই'''-অনেকের কাছে জাতীয় খাবার। এর একটি ভিন্নতা হলো '''পাই ফ্লোটার''', যেখানে পাই রাখা হয় ঘন মটরশুঁটির স্যুপে।
===অন্যান্য রান্না===
অস্ট্রেলিয়ায় নিম্নোক্ত কুইজিন ব্যাপক (প্রায়শই সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতির মানুষের হাতেই)-
* '''ব্রিটিশ'''-ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার-'''ফিশ-অ্যান্ড-চিপস''' সর্বত্র; ফ্লেক (ছোট হাঙর), ফ্ল্যাটহেড, বারামুন্ডি, কিং জর্জ হুইটিং জনপ্রিয়-ইউকে-র ভিন্ন, এখানে কেচাপ/টার্টার সস প্রচলিত। ব্রিটিশ/আইরিশ-স্টাইল পাবও সাধারণ-তবে মেনুতে থাকে চিকেন পারমা/স্নিটজেল/পাস্তা।
* '''চাইনিজ'''-পুরোনো প্রজন্মের কাছে ‘‘টেকঅ্যাওয়ে’’-এর সমার্থক-আজও অজি-স্টাইল চাইনিজ প্রচুর; বড় শহরে ‘‘চায়নাটাউন’’ বা চীনা-অধ্যুষিত উপশহরে দারুণ অথেন্টিক অপশন; ক্যান্টনিজ ডিম সাম মলে নিবেদিত রেস্টুরেন্টে।
* '''থাই'''-প্রায় সর্বত্র; বিশেষ করে সিডনি থাই খাবারের জন্য বিশ্বসেরা গন্তব্যগুলোর একটি।
* '''ইতালিয়ান'''-অস্ট্রেলিয়ার বড় অভিবাসী সম্প্রদায়-ক্যাফে কালচারের জনক-লাইগন স্ট্রিট (মেলবোর্ন), লাইকার্ট (সিডনি)। অজি-স্বাদের ইটালিয়ান থেকে শুরু করে হাই-এন্ড রিজিওনাল-সবই আছে।
* '''গ্রিক'''-ইতালিয়ানের মতো বিস্তৃত না হলেও সব শহর/টাউনে ভালো অপশন আছে।
* '''লেবানিজ/মধ্যপ্রাচ্য'''-বিশেষ করে সিডনিতে। '''মানুশ'''-হালকা, স্বাস্থ্যকর পিৎজা-জাতীয়। **ফিউশন ডিশ** ‘‘হালাল স্ন্যাক প্যাক’’ (এইচএসপি)-দোনার কাবাব মাংস + চিপস + নানা সস/চিজ-স্টাইরোফোম বক্সে-জাতীয়ভাবে দারুণ জনপ্রিয়। অ্যাডিলেডে ‘‘এবি’’ পূর্বাঞ্চলের এইচএসপি-র মতো-তবে সবসময় হালাল নাও হয়।
* '''ইন্ডিয়ান'''-বেশিরভাগ শহরে ভালো মিড-রেঞ্জ অপশন।
* '''জাপানি'''-বেন্টো/উডন/সুশি ট্রেন-অনেক সময় '''কোরিয়ান'''দের পরিচালনায়; কোরিয়ান রেস্টুরেন্টও (বিশেষত সিডনি/মেলবোর্ন) প্রচুর।
* '''ভিয়েতনামিজ'''-ফো/চা জিও সহজলভ্য।
* '''জার্মান'''-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/কুইন্সল্যান্ডে জার্মান বসতির ইতিহাস পুরোনো-শহর ও ঐতিহাসিক টাউনে জার্মান রেস্টুরেন্ট-স্নিটজেল (অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত চিকেন/বিফ), বিভিন্ন সসেজ বুচারিতে সহজলভ্য।
* '''এশিয়ান ফিউশন'''-নতুন ধারার বিভিন্ন এশীয়-অনুপ্রাণিত ডিশ।
===আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান===
আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান হলো সাম্প্রতিক রান্নাশৈলী, যা [[ফাইন ডাইনিং]] রেস্তোরাঁয় দেখা যায়। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন শৈলী মিশিয়ে তৈরি, সঙ্গে ঝোপঝাড় থেকে সংগৃহীত স্থানীয় উপাদান ব্যবহৃত হয়।
===শাকাহারি খাবার===
অস্ট্রেলিয়ায় শাকাহারি খাদ্য সহজলভ্য এবং অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে অন্তত একটি বা দুটি শাকাহারি পদ থাকে। অনেক রেস্টুরেন্টে আবার একটি পুরো শাকাহারি মেনু বিভাগও থাকে। নিরামিষভোজীরা কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন, তবে বড় শাকাহারি মেনু যেসব রেস্টুরেন্টে থাকে, সেখানে কিছু নমনীয়তা আশা করা যায়। বড় শহরগুলোতে এবং পূর্ব উপকূলের ব্যাকপ্যাকার-বান্ধব উপকূলীয় শহরগুলোতে শাকাহারি ও নিরামিষভোজী রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। [[কুরান্ডা]] শহর বা [[বায়রন বে]] উপকূলীয় শহর শাকাহারিদের জন্য একপ্রকার স্বর্গরাজ্য। তবে উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোতে বিশেষ করে নর্দান টেরিটরি, উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর কুইন্সল্যান্ডে শাকাহারিদের জন্য তেমন কিছু ব্যবস্থা নেই, তবে অধিকাংশ শহরেই একটি না একটি চাইনিজ বা থাই রেস্টুরেন্ট থাকে যারা সেদ্ধ ভাত ও সবজি পরিবেশন করে। বিশেষ করে সিডনি ও মেলবোর্ন শহরে নিরামিষভোজীদের জন্য প্রচুর পরিমাণে একেবারে নিরামিষ রেস্টুরেন্ট, নিরামিষ পোশাকের দোকান ও নিরামিষ সুপারমার্কেট রয়েছে।
[[File:Avocado Toast Melbourne (cropped).jpg|thumb|মেলবোর্নে 'স্ম্যাশড অ্যাভো']]
দ্রুত পাওয়া যায় এমন কিছু শাকাহারি বিকল্প:
* ‘স্ম্যাশড অ্যাভো’ হল অ্যাভোকাডো ও ফেটা চিজের মিশ্রণ, টোস্টের উপর পরিবেশন করা হয় এবং সাথে ডিম থাকে। এটি জনপ্রিয় প্রাতঃরাশের একটি আইটেম, এবং (অন্যায়ভাবে) বিলাসী তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
* সুসি দোকানগুলোতে সর্বত্রই সুসি রোল ও টফু পকেট পাওয়া যায়।
* ভিয়েতনামি স্প্রিং রোলের (বান মি) শাকাহারি সংস্করণও সহজলভ্য।
* কোরিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে মাংসবিহীন ভাতের বাটি (যেমন: বিবিমবাপ) পাওয়া যায়।
* পাই দোকানগুলোতে পালং শাক ও রিকোটা চিজ ভরা রোল থাকে।
* অধিকাংশ ফুড কোর্টে একটি নির্দিষ্ট সালাদ কাউন্টার থাকে।
দূরবর্তী আউটব্যাক এলাকাগুলোতে শাকাহারি বিকল্প খুবই সীমিত (প্রচুর প্রক্রিয়াজাত মাংসের পাই, আর কিছুই নয়), তাই আগেই কিছু শাকাহারি খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
===ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাস===
যারা কোশের বা হালাল খাদ্য গ্রহণ করেন, তারা রাজধানী শহরগুলোতে সহজেই বিশেষায়িত কসাই দোকান এবং উপযুক্ত মেনু ও রান্নার ধাঁচবিশিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাবেন। তবে রাজধানীর বাইরে কঠোর ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত খাবার পাওয়া বেশ কঠিন। পশ্চিম সিডনি ও মেলবোর্নের মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এমন এলাকায় ফাস্ট ফুড চেইনগুলো প্রায়ই হালাল অনুমোদিত খাবার সরবরাহ করে।
===অ্যালার্জি===
অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্টগুলো সাধারণত বাদাম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো সাধারণ অ্যালার্জির বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিকল্প পরিবেশন করে। সন্দেহ থাকলে ওয়েটারদের জিজ্ঞেস করুন।
'''গ্লুটেন-মুক্ত''' খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা অস্ট্রেলিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুপারমার্কেট, বেকারি ও রেস্টুরেন্টে গ্লুটেন-মুক্ত পণ্যগুলোর কোনো অভাব নেই, যদিও এসব পণ্যের দাম সাধারণ পণ্যের তুলনায় প্রায়ই বেশি।
===বাজার===
[[File:SydFishMarkets.jpg|thumb|right|300px|সিডনি ফিশ মার্কেটে সামুদ্রিক খাবার]]
মেলবোর্নের কুইন ভিক্টোরিয়া মার্কেট, অ্যাডেলেইডের সেন্ট্রাল মার্কেট এবং পার্থের কাছে ফ্রিম্যান্টল মার্কেট হলো অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় ধাঁচের ঐতিহ্যবাহী খাবারের বাজারের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। সিডনি ফিশ মার্কেট পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত সামুদ্রিক খাবারের বাজার।
অস্ট্রেলিয়ার সব রাজধানী শহর এবং অধিকাংশ আঞ্চলিক শহরে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট স্থানে একদিন (সাধারণত শনিবার বা রবিবার) ‘ফার্মার’স মার্কেট’ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বাজারে প্রধানত টাটকা ফল ও সবজি বিক্রি হয়, কারণ অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বাজার স্টল থেকে সরাসরি মাংস বিক্রি করা নিষিদ্ধ। তবে কিছু কসাই তাদের পণ্যের প্রদর্শনশালাসহ গাড়ির বুট থেকে বিক্রি করেন। এসব বাজারের মূল আকর্ষণ হলো কম দামে টাটকা ফলমূল পাওয়া। পর্যটকদের জন্য এটি অর্থসাশ্রয়ী ও সুস্বাদু ফল কেনার ভালো সুযোগ-এটা নির্ভর করে আপনি কোথায় আছেন এবং মৌসুম কোনটা। যেমন কুইন্সল্যান্ড বা নর্দান টেরিটরিতে গেলে আম পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর তাসমানিয়ায় গেলে আপেল বেশি পাবেন। আঞ্চলিক এলাকায় বাজার সাধারণত শহরের বাইরের কোনো মাঠে বা খেলার মাঠে বসে, আর রাজধানী শহরগুলোর বাজার শহরের মাঝেই হওয়ায় যাতায়াত সহজ হলেও দাম তুলনামূলক বেশি হয়। বিস্তারিত জানার জন্য গন্তব্য সম্পর্কিত গাইডগুলো দেখুন।
==পানীয়==
===বিয়ার===
'''বিয়ার''' অস্ট্রেলীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যদিও বিদেশে ফোস্টারসকে অস্ট্রেলীয় বিয়ার হিসেবে প্রচার করা হয়, এটি বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই পান করে এবং অস্ট্রেলিয়ায় এটি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিয়ার নিয়ে আঞ্চলিক পক্ষপাত অত্যন্ত প্রবল এবং প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব বিয়ার রয়েছে: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় কুপার্স ও ওয়েস্ট এন্ড, ভিক্টোরিয়ায় কার্লটন ও ভিবি (VB), নিউ সাউথ ওয়েলসে টুহিস, কুইন্সল্যান্ডে XXXX (উচ্চারণ “ফোর-এক্স”), তাসমানিয়ায় বোয়াগস ও ক্যাসকেড এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সোয়ান। মাইক্রোব্রুয়ারিগুলিও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং যেকোনো ভালো পাবে সাধারণত ছয়টি বিয়ার ট্যাপে থাকে: সামান্য মিষ্টি প্যাসিফিক এলে ও তুলনামূলক হপযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান প্যালে এলে খুঁজে দেখুন। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন আমদানিকৃত বোতলজাত বিয়ারও সাধারণত সকল পাবেই পাওয়া যায়, শুধুমাত্র একেবারে সাধারণ পাবগুলো বাদে।
[[File:XXXX Brewery Milton.jpg|thumb|ব্রিসবেনের XXXX ব্রুয়ারি]]
"লাইট (লাইট)" বিয়ার বলতে কম অ্যালকোহলযুক্ত বিয়ার বোঝায়, কম ক্যালোরি নয়। এতে পূর্ণ শক্তির বিয়ারের তুলনায় অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক এবং এটি কম হারে করযুক্ত হওয়ায় দামে তুলনামূলক সস্তা। কম ক্যালোরিযুক্ত বিয়ারকে “লো কার্ব” নামে বিক্রি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের বিয়ার ঠান্ডা অবস্থায় পান করতে পছন্দ করে, তাই খসড়া বিয়ার পরিবেশনের গ্লাস বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায় যেন গ্রীষ্মের তাপে উষ্ণ হয়ে ওঠার আগেই গ্লাস শেষ করা যায়। গ্লাসের নামকরণ রাজ্যভেদে এতটাই ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর যে একটি উদাহরণই যথেষ্ট: প্রায় সব জায়গায় '''সকুনার''' (SKOO-নার) ৪২৫ মি.লি., তবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় তা ২৮৫ মি.লি., যা অন্যান্য স্থানে '''মিডি''' বা '''পট''' নামে পরিচিত, তবে ডারউইনে একে বলা হয় '''হ্যান্ডল''', আবার অ্যাডিলেইডে “পট” বলতে বোঝায় ৫৭০ মি.লি. পূর্ণ পাইন্ট, এবং “পাইন্ট” মানে যা অন্যত্র “সকুনার”। প্রতিটি রাজ্যের গাইডে স্থানীয় বিয়ার ও এই বিভ্রান্তিকর পরিভাষার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
বোতলের নামকরণ অপেক্ষাকৃত সহজ: অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সাধারণ সাইজ হলো ৩৭৫ মি.লি. '''স্টাবি''' এবং ৭৫০ মি.লি. '''লংনেক''' বা '''ট্যালি'''। ক্যানজাত বিয়ারকে বলা হয় '''টিনি''', আর ২৪ ক্যান নিয়ে গঠিত প্যাকেটকে বলে '''স্ল্যাব''', '''বক্স''', '''কার্টন''', '''ব্যাগ''' বা '''কেস'''।
===মদ===
[[File:Hunter panorama-1b-web-l.jpg|thumb|[[হান্টার ভ্যালি|হান্টার ভ্যালির]] দ্রাক্ষাক্ষেত্র]]
অস্ট্রেলিয়া শিল্প পরিসরে উচ্চমানের মদ উৎপাদন করে, যেখানে বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলি স্থানীয় বোতল দোকানে সরবরাহ করে ও বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করে। ছোট ছোট বুটিক ওয়াইনারি এবং ক্ষুদ্র সরবরাহকারীরাও প্রচুর রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় খুব ভালো লাল ও সাদা মদ প্রায়ই ১৫ মার্কিন ডলারেরও কম দামে পাওয়া যায়, এবং সবচেয়ে ছোট দোকানেও সাধারণত ৫০টির বেশি ধরনের মদ থাকে।
[[বারোসা ভ্যালি]] (অ্যাডিলেইডের কাছে), [[হান্টার ভ্যালি]] (সিডনির কাছে), [[ইয়াররা ভ্যালি]] (মেলবোর্নের কাছে) এবং [[মার্গারেট রিভার]] (পার্থের কাছে) অঞ্চলগুলো বিশেষভাবে মদ্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত এবং সেখানে সরাসরি ওয়াইনারিতে গিয়ে চেখে দেখার সুযোগ আছে। এছাড়াও উত্তর ভিক্টোরিয়া, [[মাজি]] এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার [[সোয়ান ভ্যালি]] ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার [[ম্যাকল্যারেন ভ্যালি]], [[ক্লেয়ার ভ্যালি]] ও [[কুনাওয়াররা]] অঞ্চলেও বহু ধরনের মদ পাওয়া যায়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে আপনি খুব একটা মদ্য-পথ থেকে দূরে থাকবেন না।
যেখানে সম্ভব স্থানীয় মদ চেখে দেখুন এবং স্থানীয় সুপারিশ অনুযায়ী বেছে নিন। লেবেল বা দামের ফাঁদে পা না দেওয়াই ভালো-সেরা মদ সাধারণত সবচেয়ে দামী বা আকর্ষণীয় লেবেলযুক্তটি নয়। তবে যদি কোনো রেস্টুরেন্টে মদ সরাসরি একটি কাস্ক (৪ লিটারের কন্টেইনার) থেকে দেয়, তাহলে তা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ওয়াইনারিতে মদ সাধারণত দোকানের তুলনায় ২০% বেশি দামে বিক্রি হয়।
যদি আপনি এখনও বিদেশি মদ পছন্দ করেন, তাহলে [[মার্লবোরো (নিউজিল্যান্ড)|মার্লবোরো]] অঞ্চলের নিউজিল্যান্ডের মদ সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্ট ও বোতল দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।
আরও দেখুন: [[অস্ট্রেলিয়ায় দ্রাক্ষা চাষ ও চেখে দেখা]]
===স্পিরিট===
বুন্ডাবার্গ রাম (বান্ডি) হলো একটি অস্ট্রেলীয় ডার্ক রাম, যা বিশেষভাবে কুইন্সল্যান্ডে জনপ্রিয়। কুইন্সল্যান্ডের অনেক মানুষ অন্য কোনো ব্র্যান্ডের রাম ছুঁয়েও দেখেন না। এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত দেশীয় মদ, যা বুন্ডাবার্গে ব্যাপকহারে উৎপাদিত হয় এবং সর্বত্র সহজলভ্য।
অনেক বছর ধরে অন্য অস্ট্রেলীয় ডিস্টিলড স্পিরিট খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট করতে হতো, যেগুলো মূলত ছোটখাটো প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে আসত। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্যেই ডিস্টিলারি আছে, এবং নতুন নতুন ডিস্টিলারি দ্রুত গড়ে উঠছে। অ্যাডিলেডের জিন ডিস্টিলারি ৭৫° এবং অ্যাডিলেড জিন কোম্পানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্মান অর্জন করেছে। তাসমানিয়ার ক্ষুদ্র সুলিভান’স কোভ ডিস্টিলারি ২০১৪ সালে আলোচনায় আসে, যখন তাদের একটি হুইস্কি ‘‘বিশ্বের সেরা সিঙ্গল মল্ট’’ উপাধি লাভ করে। এটি অস্ট্রেলিয়ান হুইস্কি শিল্পে ছোটখাটো উত্থান ঘটায়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও তারা একই কৃতিত্ব পুনরায় অর্জন করে। তাদের ২০১৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওক বোতলের দাম যদি ৮,০০০ অস্ট্রেলীয় ডলার আপনার কাছে বেশি মনে হয়, তবে হোবার্টের মনোরম জলপথ এলাকায় অবস্থিত লার্ক ডিস্টিলারিতে ঘুরে আসতে পারেন। সিডনির আর্চি রোজ-এ জিন ব্লেন্ডিং অভিজ্ঞতা বুক করতে পারেন, উলংগং থেকে ১৫১ ইস্ট ভদকা কিনতে পারেন কিংবা কুনুনুরাতে কয়েক দিন থাকার পর নিশ্চিতভাবেই আপনার অর্ড রিভার রামের প্রয়োজন হবে।
মিক্সড ড্রিঙ্কসও পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভদকা, স্কচ, বোরবন এবং অন্যান্য হুইস্কি মিশ্রণ। স্পিরিটস বোতল ও ক্যানজাত প্রি-মিক্সড আকারেও বিক্রি হয়, তবে সেগুলোর উপর বেশি কর আরোপিত হয়। তাই নিজে মিশিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সস্তা। সব মদ্যপানাগার ও বারে স্পিরিটস পরিবেশন করা হয়, তবে সব রেস্তোরাঁয় নয়। সাধারণ একটি স্পিরিটস মিশ্রণ (যেমন ভদকা ও কমলার রস) একটি বার বা নাইটক্লাবে প্রায় ১২ অস্ট্রেলীয় ডলার খরচ হয়, তবে দাম প্রায় ৯ থেকে ১৮ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
===আইনগত দিক===
অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র মদপানের বৈধ বয়স হলো ১৮ বছর। ১৮ বছরের কম হলে নিজের জন্য অ্যালকোহল কেনা বেআইনি, তেমনি কারো হয়ে অ্যালকোহল কেনাও বেআইনি যদি সে ব্যক্তি ১৮ বছরের কম হয়। একমাত্র বৈধ প্রমাণপত্র হলো অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স, রাজ্য কর্তৃক প্রদত্ত বয়স-প্রমাণপত্র (proof-of-age card), [https://auspost.com.au/id-and-document-services/apply-for-a-keypass-id কীপাস কার্ড] (Keypass) কার্ড অথবা পাসপোর্ট। তাই অ্যালকোহল বা তামাকজাত দ্রব্য কিনতে চাইলে এবং আপনার চেহারা ২৫ বছরের নিচে মনে হলে অবশ্যই সঙ্গে পরিচয়পত্র বহন করা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ বিক্রেতারা সাধারণত ২৫ বছরের কম বয়সীদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র চান। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি এবং তাসমানিয়ায় বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বিদেশি পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য নয়। কেবল পাসপোর্ট বা বৈধ অস্ট্রেলিয়ান পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে। ছবি বা ফটোকপি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
১৮ বছরের কম বয়সে কোনো মদ্যপানাগার বা ক্লাবের জুয়া খেলার অংশে প্রবেশ করা বেআইনি। তবে অনেক মদ্যপানাগার বা ক্লাবে আলাদা লাউঞ্জ, রেস্টুরেন্ট বা বিস্ট্রো অংশ থাকে, যেখানে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যতক্ষণ তারা বারের কাছে না যায় বা এদিক-সেদিক না ঘোরাফেরা করে। শহরের কিছু পাব-এ ভিডিও গেমস ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠও থাকে। গ্রামীণ এলাকার কিছু পাবের পেছনে খোলা জায়গা থাকে, যেখানে বাচ্চারা দৌড়ঝাঁপ করতে পারে।
সাধারণত আপনি পার্ক বা সমুদ্রসৈকতে নিয়ে গিয়ে অ্যালকোহল পান করতে পারেন (যেমন একটি বোতল ওয়াইন বা বিয়ার)। তবে কিছু জনসমাগমস্থলে যেমন পার্ক বা ফুটপাথে 'স্ট্রিট ড্রিঙ্কিং' নিষিদ্ধ। এসব স্থানে সাধারণত সাইনবোর্ড থাকে। যেখানে প্রকাশ্যে মাতলামির সমস্যা হয়েছে, সেসব জায়গায় নিষেধাজ্ঞা বেশি। তবে আপনি যদি দুপুরে পরিবার নিয়ে পিকনিকের ঝুড়ি ও চাদর বিছিয়ে বসে ওয়াইনের বোতল খুলেন, তবে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অ্যালকোহল শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী স্থানে (যেমন পাব, ক্লাব ও অনেক রেস্টুরেন্ট) বসে পান করার জন্য কেনা যায়। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কিনতে হলে বোতলশপ থেকে নিতে হয়। কিছু রাজ্যে সুপারমার্কেটেও অ্যালকোহল বিক্রি হয়। যেখানে বিক্রি হয় না, সেসব রাজ্যে বোতলশপ ও বড় সুপারমার্কেট সাধারণত পাশাপাশি থাকে। যদিও রাজ্যভেদে লাইসেন্স আইন ও সময়সূচী ভিন্ন, তবুও সাধারণত সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বোতলশপ, সুপারমার্কেট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মুদি দোকান ও মদ্যপানাগার থেকে অ্যালকোহল কেনা যায়। এর বাইরে প্রায় অসম্ভব-সিডনি বা মেলবোর্নের মাঝখানে না হলে। তাই যদি বাড়িতে পার্টির পরিকল্পনা থাকে, আগে থেকে স্থানীয় দোকানের খোলা-বন্ধের সময় দেখে মজুত রাখা উচিত। অস্ট্রেলিয়ায় কোনো জ্বালানি স্টেশন বা ২৪ ঘণ্টা খোলা কনভিনিয়েন্স স্টোরে অ্যালকোহল বিক্রি হয় না।
প্রকাশ্যে মাতলামি কতটা সহনীয় তা ভিন্ন ভিন্ন। মদ্যপানাগার ও ক্লাবের আশেপাশে রাতে এটা বেশি দেখা যায়, দিনে কম। প্রকাশ্যে মাতলামি আইনত অপরাধ, কিন্তু পুলিশ কেবল বিরক্তিকর আচরণ করলে ব্যবস্থা নেয়। কখনও রাতভর হেফাজতে থাকতে হতে পারে অথবা অভিযোগ গঠন হতে পারে।
অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো অস্ট্রেলিয়ায় কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রিত। পুলিশ এলোমেলোভাবে শ্বাসপরীক্ষা (breath test) করে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি হতে পারে লাইসেন্স বাতিলসহ নানা কিছু। সর্বোচ্চ রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা অনুমোদিত ০.০৫%। তবে ভারী যানবাহন চালক ও নতুন/কচি চালকদের ক্ষেত্রে সীমা আরও কম বা শূন্য। পুলিশ নিষিদ্ধ মাদক সেবন করেছে কিনা তা পরীক্ষা করার ক্ষমতাও রাখে। এসব পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানো ফৌজদারি অপরাধ। নিষিদ্ধ মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালালে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর আদালতে হাজিরা দিতে হয়, যা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে বড়ভাবে ব্যাহত করে। শনিবার ও রবিবার ভোরে এলোমেলো শ্বাসপরীক্ষা বিশেষভাবে সাধারণ, এবং অনেকেই আগের রাতের পান করার কারণে ধরা পড়েন।
===একসঙ্গে পানীয় কেনা ===
[[File:Birdsville Hotel.jpg|thumb|পশ্চিম কুইন্সল্যান্ডের দূরবর্তী অঞ্চলে বার্ডসভিল হোটেল]]
অস্ট্রেলিয়ায়, যেমন বিশ্বের আরও অনেক জায়গায়, একসঙ্গে বসে মদ্যপানের সময় পালাক্রমে পানীয় কেনা একটি প্রচলিত রীতি। কোনো পাব-এ গেলে এবং প্রথমবার বারে গেলে সাধারণত আশা করা হয় যে আপনি আপনার সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্যও পানীয় কিনবেন। পরবর্তীতে দলের অন্য কেউ নতুন করে যোগ দিলে সেও আপনার জন্য এমনটা করবে। এ প্রথাটিকে বলা হয় ''a shout'' (শাউট)। এতে একটি অলিখিত নিয়ম হলো, আপনিও পরবর্তী রাউন্ডে পাল্টা পানীয় কিনবেন এবং সন্ধ্যা জুড়ে দলের অন্যদের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পান করবেন।
যদি আপনার রাউন্ডের কারো গ্লাস খালি থাকে এবং তারা আপনার আগেই পানীয় কিনে দিয়ে থাকে, তবে আপনাকেই ঘোষণা করতে হবে যে এবার আপনার শাউট, এবং আপনিই বার-এ যাবেন। কেউ যদি আপনাকে পানীয় কিনে দিতে চায়, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে না দেয় যে ইতিমধ্যেই আপনাকে কিনে দিয়েছে, তবে বলা উচিত যে আপনি একটি শাউটে আছেন এবং বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তবে যদি সে আপনাকে এবং আপনার দলের সবাইকে পানীয় কিনে দেয়, তবে সে শাউটে যুক্ত হয়ে যায়। এক সন্ধ্যায় এক শাউট থেকে অন্য শাউটে চলে যাওয়াকে ভদ্রতা হিসেবে দেখা হয় না।
যদি বড় দলে থাকেন এবং আপনি পানীয় নিতে অস্বীকার করেন, তবুও আপনার পালা এলে আপনাকেই পুরো দলের জন্য কিনতে হবে। কোনো রাউন্ড এড়াতে চাইলে, সেটা নিজের শাউটের সময় করুন। সাধারণত একটি রাউন্ডে কিনে দিয়ে পরে নিজে পানীয় না নেওয়া ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না। অনেক সময় আপনাকে না জিজ্ঞেস করেই পানীয় কিনে দেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে আগেই পানীয় পেলে পরে সে বলতে পারে যে এবার আপনার শাউট। কোনো শাউটে যোগ না দিলে অনেক দলে তা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এড়ানোর সেরা উপায় হলো বলা যে আপনি গাড়ি চালাবেন এবং শুধু নিজের জন্য কিনবেন। এটি এক রাউন্ড শেষে সমতা থাকলে ভদ্রভাবে বেরিয়ে যাওয়ার গ্রহণযোগ্য উপায়ও।
===অ্যালকোহলবিহীন পানীয়===
'''মাইলো (Milo)''' হলো একটি মাল্ট ও চকলেট পানীয়, যা প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় উদ্ভাবিত হয় এবং বর্তমানে নেস্লে (Nestlé) তা তৈরি করে। এটি [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]]র অনেক দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো সুপারমার্কেটেই এটি পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিশালী '''[[কফি]]''' সংস্কৃতি রয়েছে, বিশেষত [[মেলবোর্ন]] শহরে, যেখানে প্রচুর ইতালীয় অভিবাসী রয়েছে। মজার বিষয় হলো, বলা হয় ইতালির বাসিন্দারা মেলবোর্নে এলে মনে করেন কফি তাদের শহরের তুলনায় খারাপ, তবে ইতালির অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় ভালো। এমনকি জ্বালানি স্টেশন ও ফাস্টফুড দোকানেও ভালো মানের কফি পাওয়া যায়। স্থানীয় কফি শপগুলির জনপ্রিয়তার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক চেইন এখানে নেই-যেমন স্টারবাকসের মাত্র কয়েকটি দোকান রয়েছে মেলবোর্ন ও সিডনিতে, অন্য কোথাও নয়। তাই চেইন না দেখে অবাক হবেন না, বরং স্থানীয় স্বাদই চেষ্টা করুন।
'''[[চা]]''' অস্ট্রেলিয়ায় কফির মতো জনপ্রিয় নয়, তবে সহজেই পাওয়া যায়। যেসব জায়গায় কফি বিক্রি হয়, প্রায় সবখানেই চাও বিক্রি হয়। কিছু অভিজাত হোটেলে ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি আফটারনুন টি পরিবেশন করা হয়। আবার ডেভনশায়ার চা অস্ট্রেলিয়ায় সপ্তাহান্তের বেশ জনপ্রিয় একটি বিনোদন, যেখানে অনেক বেকারিই এটি পরিবেশন করে। [[কুইন্সল্যান্ড]]-এ ছোট পরিসরে চা উৎপাদনও হয়।
==শিখুন==
{{Main|বিদেশে পড়াশোনা#অস্ট্রেলিয়া}}
অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য, বিশেষত [[পূর্ব এশিয়া]], [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]] ও [[ভারত]] থেকে আগতদের জন্য। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংরেজিভাষী পরিবেশ। পাশাপাশি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও কাজের ভিসার সুযোগও নাগরিকত্বের পথে সহায়ক হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে চাইলে আপনাকে এমন ভিসা ক্লাসে থাকতে হবে যা এ অনুমতি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-গবেষকদেরও সাধারণত উপযুক্ত ভিসা নিতে হয়, এমনকি ভ্রমণ ভিসায় স্বল্প সময়ের জন্য এলেও। খুব স্বল্পমেয়াদি বা খণ্ডকালীন কোর্সের জন্য অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলেট বা দূতাবাসে খোঁজ নেওয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়া বারিস্টা প্রশিক্ষণ নেওয়ারও চমৎকার জায়গা। এখান থেকে সনদপ্রাপ্তরা নিজ দেশে ফিরে কফি শপে তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরি পেতে পারেন। এ ধরনের কোর্স সাধারণত পর্যটক ভিসায় করা যায়।
==রাত্রিযাপন==
[[File:Camping by the Yarrangobilly River - panoramio.jpg|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের ইয়্যারাঙ্গোবিলি নদীর তীরে ক্যাম্পিং]]
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে সহজেই আবাসন পাওয়া যায়। তবে, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বিষয়ে যেমন ব্যয় বেশি, এখানকার আবাসনের খরচও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কিছুটা বেশি।
===হোটেল===
{{infobox|কখন ‘হোটেল’ হোটেল নয়?|অস্ট্রেলীয় ইংরেজিতে '''হোটেল''' বলতে বহু সময়ে যে জিনিসটিকে দুনিয়ার অন্য জায়গায় '''পাব''' বলা হয়, সেটাই বোঝায়। গ্রামীণ এলাকার হোটেলগুলোতে (পাব) সাধারণত সাইটেই থাকার ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু শহরের বেশিরভাগ হোটেলে তা থাকে না। যেসব গ্রামীণ ‘হোটেল’-এ পাব নেই, সেগুলোকে সাধারণত '''মোটেল''' বলা হয়।}}
সব রাজ্যের রাজধানী শহরগুলোতে বহু ৪ বা ৫-তারকা হোটেল আছে-উচ্চমানের রেস্তোরাঁ, বার, রুম-সার্ভিস ও অন্যান্য প্রিমিয়াম আতিথেয়তা সেবাসহ। প্রতি রাতের জন্য প্রায় ৪০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ ধরতে পারেন। তবে বড় কোনো কনসার্ট বা ইভেন্টের সময়-যেমন সিডনিতে নিউ ইয়ার্স ইভ-দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে বা সব রুম বিক্রি হয়ে যেতে পারে। ২ বা ৩-তারকা হোটেলও ভেতর শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক বড় বড় চেইনগুলো মোটামুটি ভালোভাবেই উপস্থিত, বিশেষ করে আকোর (Accor) প্রায় সব দামের পরিসরেই দৃঢ় উপস্থিতি রাখে। উল্লেখযোগ্য স্থানীয় স্বাধীন চেইনের মধ্যে আছে [https://www.rydges.com/ রিজেস (Rydges)]।
===পাব===
[[File:BendigoShamrockHotel.JPG|thumb|বেন্ডিগোর শ্যামরক হোটেল]]
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ পাব-এই কোনো না কোনো ধরনের থাকার ব্যবস্থা থাকে। এগুলো একেবারে সাধারণ মানের অগোছালো কক্ষ থেকে শুরু করে নতুন সংস্কারকৃত বুটিক ধাঁচের থাকার জায়গা পর্যন্ত হতে পারে। ভাড়া দেখে সাধারণত কেমন সুবিধা পাওয়া যাবে তা বোঝা যায়। এমনকি উন্নত পাবগুলোতেও ব্যক্তিগত বাথরুম থাকা এখনও বিরল। কক্ষগুলো সাধারণত দ্বিতীয় তলায়, সরাসরি বারের উপরে থাকে, ফলে বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার রাতে অনেক শব্দ হতে পারে।
বড় শহরের বাইরে পাবকে সাধারণত '''হোটেল''' বলা হয়। মোটেলে কোনো পাবলিক বার থাকে না। তবে যদি কোনো মোটেলের সঙ্গে বার যুক্ত থাকে তবে সেটিকে হোটেল/মোটেল বলা হয়।
খুব ছোট শহরগুলোতে ভ্রমণকারীদের জন্য স্থানীয় পাব-ই একমাত্র থাকার ব্যবস্থা দেয়। এসব পাবের থাকার জায়গা সাধারণত সাশ্রয়ী ধাঁচের হয়, যেখানে বাথরুম শেয়ার করতে হয়, তবে কক্ষগুলো ব্যক্তিগত হয়।
সিডনির কেন্দ্রস্থলেও পাব-এ থাকার সুযোগ পাওয়া যায়, ফলে বিয়ার খেয়ে সহজেই কক্ষে ফিরে যাওয়া যায়।
আপনি যদি একা ভ্রমণ করেন এবং আলাদা কক্ষ চান, তবে পাবগুলো সাধারণত সিঙ্গেল রুম দেয় যা ডাবল রুমের তুলনায় ছাড়ে পাওয়া যায়। অন্যদিকে বেশিরভাগ মোটেল এক বা দুইজন মিলে থাকুক না কেন একই ভাড়া নেয়।
===মোটেল===
সাধারণত মোটেল ধাঁচের থাকার জায়গায় একটি বা একাধিক বিছানা-সমৃদ্ধ আলাদা কক্ষ থাকে, সঙ্গে ব্যক্তিগত শাওয়ার ও টয়লেট। অনেক মোটেলেই ফ্যামিলি রুম থাকে, যেখানে একটি ডাবল বেড ও দুটি সিঙ্গেল বেড একই কক্ষে দেওয়া হয়।
শহরের মোটেলগুলোর কক্ষভাড়া সাধারণত ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু হয়। সাধারণত এক বা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক থাকলে খরচ একই হয়, তবে অতিরিক্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা ফি ধার্য হয়। শিশুদের জন্য ফি বিনামূল্য থেকে শুরু করে প্রতিজন সর্বোচ্চ ২০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। শান্ত মৌসুমে মোটেলগুলো প্রায়শই হঠাৎ ছাড় (standby discount) দিয়ে থাকে।
বেশিরভাগ মোটেল সকালে অতিরিক্ত ফির বিনিময়ে রান্না করা বা কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট কক্ষে সরবরাহ করে। কিছু মোটেলে রেস্টুরেন্ট থাকে বা রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। কোনো কোনো কক্ষে টোস্টার থাকে এবং কেটলি প্রায় সর্বত্র দেওয়া হয়।
===হোস্টেল ও ব্যাকপ্যাকার===
[[Hostels|সাশ্রয়ী হোস্টেল ধাঁচের থাকার জায়গা]]-এ সাধারণত শেয়ার করা বাথরুম থাকে এবং প্রায়শই ডরমিটরিও থাকে। ভাড়া প্রতিরাতে জনপিছু প্রায় ২০–৩০ ডলার। এসব হোস্টেলে সাধারণত সম্পূর্ণ সজ্জিত রান্নাঘর থাকে, যেখানে পর্যাপ্ত ফ্রিজ ও খাবার রাখার জায়গা থাকে। বেশিরভাগ হোস্টেলে বসার ঘরের মতো জায়গা থাকে, যেখানে সোফা, খাবার টেবিল ও টেলিভিশন থাকে।
অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল চেইন রয়েছে। একই ব্র্যান্ডের হোস্টেলে বহু রাত থাকলে তাদের ডিসকাউন্ট কার্ড বিবেচনা করা যেতে পারে, যেগুলো সাধারণত থাকার খরচে লয়্যালটি বোনাস এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ ট্যুরে ছাড় দিয়ে থাকে।
===হলিডে পার্ক===
[[File:RAC Esperance Holiday Park, Western Australia - facilities 03.jpg|thumb|হলিডে পার্কের মানক কেবিন]]
[[File:Dubbo NSW 2830, Australia - panoramio (107).jpg|thumb|যে কোনো সম্মানিত অস্ট্রেলীয় হলিডে পার্কে একটা “জাম্পিং পিলো” (দেয়ালবিহীন বিশাল ট্রামপোলিন/বাউন্সি ক্যাসল) থাকেই]]
হলিডে পার্ক অস্ট্রেলিয়ান অবকাশ সংস্কৃতির এক বিশাল অংশ-নিজস্ব যান থাকলে থাকার দারুণ উপায়। এগুলো মূলত পুরোনো '''কারাভ্যান পার্কের''' আপগ্রেডেড সংস্করণ, তবে নতুন মার্কেটিং অনুযায়ী এখন সাধারণ ভ্রমণকারীদেরও সমানভাবে সেবা দেয়। একটি সাধারণ হলিডে পার্কে থাকে-
* '''কেবিন'''-বিছানা, রান্নাঘর, টিভি, ওয়াই-ফাইসহ সবকিছুসহ, যাদের নিজস্ব ‘চাকা-ওয়ালা ঘর’ নেই তাদের জন্য। বেশিরভাগ কেবিনে ৪ বা ততোধিক জন থাকতে পারেন; ভাড়া সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
* '''পাওয়ার্ড সাইট'''-কারাভ্যান/ক্যাম্পারভ্যান/মোটরহোম/আরভি (রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল) পার্কিংয়ের জন্য। কিছু পার্কে '''এন-স্যুইট সাইট'''ও থাকে-ছোট ব্যক্তিগত বাথরুমে শাওয়ার ও টয়লেটসহ।
* '''আনপাওয়ার্ড সাইট'''-নিজের তাঁবু ফেলতে চাইলে; সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
যেখানেই থাকুন না কেন, দাম সাধারণত শেয়ারড সুবিধাগুলোর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে-বারবিকিউ (বিবিকিউ), শাওয়ার, রান্নাঘর, স্বয়ংক্রিয় লন্ড্রি, সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট ও জাম্পিং পিলো। সারা দেশে বড় চেইনগুলোর মধ্যে আছে [https://topparks.com.au টপ পার্কস/ডিসকভারি পার্কস] এবং [https://www.big4.com.au/ বিগ ৪ (BIG4)]-তবে স্বাধীন পার্কও নেহাত কম নয়।
তবে হলিডে পার্ক বেছে নেওয়ার আগে কিছু সতর্কতা-
* সাধারণত শহরের প্রান্তে থাকে; নিজের গাড়ি না থাকলে খুব সুবিধাজনক নাও লাগতে পারে।
* অধিকাংশ পার্ক পরিবার-কেন্দ্রিক-আপনার বাচ্চা থাকলে দারুণ, কিন্তু নির্জনতা চাইলে খুব পছন্দ নাও হতে পারে।
* স্কুলের ছুটিতে রেট অনেক বেড়ে যায়, একাধিক রাতের ন্যূনতম থাকা বাধ্যতামূলক করে এবং ভালো পার্কগুলো আগেভাগেই সোল্ড-আউট হয়ে যায়।
* বুকিং বদলাতে চাইলে সাধারণত সুবিধা নেই-বেশিরভাগ রিজার্ভেশন নন-রিফান্ডেবল।
===ক্যাম্পিং===
[[#হলিডে পার্ক|হলিডে পার্ক]]-এ তো বটেই, ক্যাম্পিং অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। ন্যাশনাল পার্কগুলোও প্রায়ই সস্তা বা বিনা খরচে ক্যাম্পসাইট দেয়-ধরা হয় আপনি নিজের দায়িত্বে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সামলাবেন। সাধারণত টয়লেট থাকে, কখনও কখনও ঠাণ্ডা শাওয়ারও থাকে। জনপ্রিয় পার্কগুলোতে পেইড ক্যাম্পিং পারমিট লাগে; গ্রীষ্মের ছুটিতে বিখ্যাত স্পটগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ায় এমনটা খুবই স্বাভাবিক যে রাজধানীসহ যেকোনো জায়গায় থাকুন, এক ঘণ্টার ড্রাইভের মধ্যেই কোনো ন্যাশনাল পার্ক বা রিক্রিয়েশন এরিয়ায় পৌঁছে এমন জায়গা পাওয়া যায় যেখানে কোনো না কোনোভাবে ক্যাম্পিং করা সম্ভব। ক্যাম্পিং পারমিটের জন্য সাধারণত প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ৫–১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার লাগে এবং জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে (যেমন: উইলসন্স প্রমোন্টরি ন্যাশনাল পার্ক, কোসিউস্কো ন্যাশনাল পার্ক ইত্যাদি) আলাদা প্রবেশ-ফিও থাকতে পারে। তবে জনবসতি ও পর্যটক-কেন্দ্র থেকে দূরের অধিকাংশ ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ ও ক্যাম্পিং দুটোই ফ্রি।
অন্যান্য কিছু ক্যাম্পিং এলাকা সরকার বা স্থানীয় জমির মালিকেরা চালান-সাধারণত সময়ভেদে প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ধরতে পারেন।
কেউ কেউ সমুদ্রসৈকতে রাত কাটানো বা হাইওয়ে রেস্ট-এলাকায় তাঁবু ফেলেও চেষ্টা করেন। তবে বেশিরভাগ রেস্ট-এলাকা ও সৈকতেই ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ; অনেক জায়গায় রাতভর গাড়ি পার্কিংও নিষিদ্ধ-এভাবে ‘ফ্রি’ থাকার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করতে। সাধারণ নিয়ম হলো, আপনি যত বেশি জনবসতি বা পর্যটন এলাকার কাছাকাছি, কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিরক্তির সম্ভাবনাও তত বেশি।
দর্শনীয়তার চেয়ে ক্যাম্পিং-অভিজ্ঞতাই যদি বেশি চান, তাহলে স্টেট ফরেস্ট প্রায়ই ন্যাশনাল পার্কের চেয়ে সুবিধাজনক-এখানে নিজেরা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পারেন (কোথাও কোথাও গাছ কাটারও সীমিত অনুমতি থাকে) এবং ক্যাম্পিং নির্দিষ্ট সাইটে সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে। স্টেট ফরেস্টে সাধারণত পোষ্য প্রাণী আনা, খোলা আগুন জ্বালানো, মোটরবাইক চালানো ও ফোর-হুইল ড্রাইভিং-এসব কার্যকলাপ চলতে পারে, যেগুলো ন্যাশনাল পার্কে সাধারণত নিষিদ্ধ। স্টেট ফরেস্টে থাকা সাধারণত ফ্রি, তবে কোথায় জনসাধারণের প্রবেশ অনুমোদিত তা স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
[[গাড়িতে ক্যাম্পিং|রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল (আরভি) নিয়ে ক্যাম্পিং]] অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। অনেক ক্যাম্পসাইট আরভি ও কারাভ্যান-বান্ধব-যদিও পাওয়ার সাপ্লাই ও মেইনস-ওয়াটার সংযোগ থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। আরভি/কারাভ্যান পার্কিং-স্লটের সংখ্যা সীমিত হতে পারে, তাই আগে থেকেই স্লট রিজার্ভ করা যায় কি-না দেখে নিন।
===ফার্ম স্টে===
নামের মতোই-চলমান খামারে কেবিন বা হোমস্টেড-আবাসন। সাধারণত দুই বা ততোধিক দিনের জন্য উপযোগী। চাইলে খামারের কাজকর্মে সামান্য অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতের খাবার হোমস্টেডে পরিবেশন করা হয় এবং কেবিনে ব্রেকফাস্ট-প্যাক দেওয়া হয়।
===হলিডে হোম===
হলিডে হোম হলো মালিকের ব্যক্তিগত বাড়ি, যা তিনি ভাড়া দেন-স্থানীয় রিয়েল-এস্টেট এজেন্ট বা বিশেষায়িত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কখনও চমৎকার লোকেশনে থাকে, কখনও আবার শহর/শহরতলির আবাসিক এলাকায়। ন্যূনতম ভাড়া সাধারণত কমপক্ষে ২ রাত-ব্যস্ত সময়ে তা এক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ন্যূনতম সুবিধা হিসেবে থাকে শোবার ঘর, লাউঞ্জ ও বাথরুম।
===[[বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট]]===
[[File:HentyCentralHotel.JPG|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের (এনএসডব্লিউ) হেনটি শহরের হেনটি সেন্ট্রাল হোটেল ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ আবাসন দেয়-এ রকম হোটেল বহু গ্রামীণ শহরেই আছে]]
অস্ট্রেলিয়ায় বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট সাধারণত প্রিমিয়াম ধাঁচের আবাসন-সপ্তাহান্তে যুগলদের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। যুক্তরাজ্যের কিছু অংশের মতো এখানে এটাকে সস্তা আবাস হিসেবে ধরা হয় না; স্থানীয় মোটেলই সাধারণত তুলনায় সস্তা পড়ে।
কখনও বাড়ির অতিরিক্ত রুম, তবে অনেক সময়ই উদ্দেশ্যনির্মিত ভবন। সাধারণত আরামদায়ক, পরিচ্ছন্ন রুম, একটি শেয়ারড কমন-এলাকা এবং রান্না করা সকালের নাস্তা আশা করতে পারেন। হয়তো ব্যক্তিগত সুবিধাও থাকবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থাকা হলে-বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্টে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য ছাড় মেলে।
===রিসোর্ট সমূহ===
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় অনেক আসল রিসোর্ট আছে। এদের মধ্যে অনেকেরই লেগুন পুল, টেনিস কোর্ট, গলফ, শিশুদের ক্লাব এবং নানা ধরনের কার্যক্রম থাকে। [[হুইটসানডেস]] দ্বীপপুঞ্জে বিভিন্ন ধরনের রিসোর্ট রয়েছে, কিছু রিসোর্ট পুরো দ্বীপ জুড়েই। [[পোর্ট ডগলাস]]-এও বিশ্বমানের অসংখ্য রিসোর্ট রয়েছে।
===সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট===
সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় খুবই জনপ্রিয় আবাসনের ধরন, যা শহরের কেন্দ্র, সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিংবা স্কি রিসোর্ট-সবখানেই পাওয়া যায়। অতিথিরা চাইলে মাত্র এক রাত থেকেও উঠতে পারেন, আবার এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ের জন্য বুক করলে ছাড় পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণ হোটেলের তুলনায় বড় হয়, যেখানে সাধারণত রান্নাঘর, ওয়াশিং মেশিন, ড্রায়ার এবং আলাদা শোবার ঘর থাকে। পরিবারের জন্য বা বড় দলের জন্য এগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়।
অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলগুলো সাধারণত প্রাতঃরাশ দেয় না বা রেস্টুরেন্ট থাকে না, তবে কাছেই (প্রায়শই পাশের ভবনেই) অতিথিদের জন্য ক্যাফে থাকে। বড় চেইনগুলোর মধ্যে রয়েছে [https://www.meritonsuites.com.au/ মেরিটন স্যুইটস] এবং [https://adinahotels.com/en/ আদিনা]।
===হাউসবোট===
অস্ট্রেলিয়ার মনোরম গ্রামীণ নদীগুলোতে হাউসবোট ভাড়া নেওয়া যায়। এগুলো বন্য প্রকৃতিতে সময় কাটানোর এক দারুণ সুযোগ দেয়। সাধারণত এদের মধ্যে রান্নাঘর থাকে, তাই অতিথিরা নিজেই রান্নার উপকরণ নিয়ে যেতে পারেন।
===স্টেশন ওয়াগন ও ভ্যান===
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ স্থানে গাড়ির ভেতরে ঘুমানো আইনত নিষিদ্ধ। তবে জানালার চারপাশে পর্দা টাঙালে অনেক সময়ে তা এড়িয়ে যাওয়া যায়। প্রায় ১,০০০ ডলারে একটি ট্রেড ভ্যান কেনা যায়, আর নির্ভরযোগ্য ভ্যান কিনতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৩,০০০–৪,০০০ ডলার। একটি গদি, বালিশ, পোর্টেবল গ্যাস চুলা, রান্নার সামগ্রী এবং ২০ লিটার পানির কন্টেইনার যোগ করলে যাত্রা শুরু করা যায়। তবে ধরা পড়লে জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার। তাই ঝুঁকির দায় নিজেকেই নিতে হবে। পরিকল্পনা করে থাকলে সাধারণত ধরা পড়তে হয় না। স্থানীয়দের বিরক্ত না করা এবং পার্কিং বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কিছু এলাকায় রাতারাতি পার্কিং নিষিদ্ধ হলেও তা খুবই বিরল। তবে শহরে পার্কিং ইন্সপেক্টররা কঠোর, তাই ১০০ ডলারের বেশি জরিমানা অস্বাভাবিক নয়।
অস্ট্রেলিয়ার সব শহর ও নগরে বিনামূল্যে পাবলিক টয়লেট আছে। অনেক পার্কে এবং বেশিরভাগ সমুদ্রসৈকতে বিনামূল্যে ইলেকট্রিক বারবিকিউ রয়েছে। জনপ্রিয় সৈকতগুলোতে মিষ্টি পানির শাওয়ারও থাকে, যাতে সাঁতার শেষে সমুদ্রের লবণ ধুয়ে ফেলা যায়। অল্প বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য সমুদ্রেই ধোওয়া এবং শাওয়ারে কুলি করাই যথেষ্ট (তবে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে পানি দূষণ করা যাবে না)। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব নলকূপের পানিই পানযোগ্য, যেগুলো নয়, সেগুলো চিহ্নিত করা থাকে। সার্ভিস স্টেশনগুলোতে সাধারণত নল থাকে, তাই প্রতিবার জ্বালানি ভরার সময় পানি ভরেও নেওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ার সেরা অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হতে পারে এমন একটি রাস্তা ধরে যাওয়া, যা মানচিত্রে সমুদ্রসৈকত, ঝরনা বা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হয়। হয়তো সেখানে নির্জন এক স্বর্গীয় জায়গা পাবেন। সৌভাগ্যক্রমে আপনার সঙ্গে থাকবে শোবার জায়গা, খাবার ও পানি।
ছোট দলে ভ্রমণ করলে মাথাপিছু জ্বালানির খরচও কমে যায়, যা সাধারণত সবচেয়ে বড় ব্যয় হয়ে দাঁড়ায়।
ভ্রমণ উপভোগ করুন এবং জমি ও প্রকৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপনার আবর্জনা, বোতল এবং সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সঠিকভাবে ফেলে দিন।
==কাজ==
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দারা অতিরিক্ত কোনো অনুমতি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন, কিন্তু অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ভিসা প্রয়োজন হয়। পর্যটন ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ করা আইনবিরুদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ায় পারফর্ম করা যেকোনো সেবার জন্য প্রদত্ত যেকোনো ধরনের পারিশ্রমিক-হোক তা অর্থমূল্য কিংবা অন্য কিছু (যেমন: থাকা ও খাওয়া)-‘পেমেন্ট’ হিসেবে গণ্য হয়, অর্থাৎ এই ধরনের কাজ পর্যটন ভিসার আওতায় অবৈধ। স্বেচ্ছাসেবী কাজ অনুমোদিত, যদি তা ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য না হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভিসাধারীরা একাডেমিক টার্ম চলাকালীন (যখন ক্লাস চলে) প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, এবং ছুটির সময় পূর্ণ সময় কাজ করতে পারেন। এর মানে, ক্লাস চলাকালে প্রতি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে কাজ করলে গ্রেফতার, কারাবাস, দেশে ফেরত পাঠানো এবং স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। যেসব ভিজিটর অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক নন (এতে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত, যদি তারা অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক না হন), তারা অস্ট্রেলিয়ার বেকারদের জন্য নির্ধারিত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিতে পারেন না এবং সরকারের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার সুযোগ খুব সীমিত বা সাধারণত নেই বললেই চলে।
===পারিশ্রমিক ও কর===
অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তা পারিশ্রমিক সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন, তাই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত। কিছু ব্যাংক বিদেশ থেকেও অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়, যেমন: কমনওয়েলথ ব্যাংক এবং এইচএসবিসি।
আপনাকে দ্রুত একটি '''[http://www.ato.gov.au/Individuals/Tax-file-number/ ট্যাক্স ফাইল নম্বর (TFN)]'''-এর জন্য আবেদন করতে হবে। এটি [http://www.ato.gov.au/ অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্স অফিসের ওয়েবসাইট] থেকে বিনামূল্যে অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করলে সাধারণত আরও দ্রুত পাওয়া যায়। TFN ছাড়াও কাজ শুরু করা সম্ভব, কিন্তু দ্রুত এটি সংগ্রহ না করলে নিয়োগকর্তা আপনার আয় থেকে সর্বোচ্চ হারে কর কেটে রাখবে। TFN ব্যাংকে নিবন্ধন না করালে সুদের আয় থেকেও সর্বোচ্চ হারে কর কাটা হবে। অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক বছর চলে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত, এবং প্রতি বছরের কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। কর সংক্রান্ত দায়িত্ব ও কর রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে কোনো ট্যাক্স এজেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। [https://my.gov.au/ myGov] অ্যাকাউন্ট খুলে এটিকে ATO-র সঙ্গে লিঙ্ক করে সহজেই রিটার্ন দাখিল করা যায় (যদি আপনার কাছে প্রাসঙ্গিক অস্ট্রেলিয়ান আইডি না থাকে, তবে ATO-কে ফোন করে সাহায্য নিতে হতে পারে)।
আপনার আয়ের সঙ্গে সঙ্গে ATO একটি '''[https://www.ato.gov.au/Individuals/Medicare-and-private-health-insurance/Medicare-levy/ মেডিকেয়ার লেভি]''' হিসেবে ২% হারে কর কেটে রাখবে, যা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য ব্যয় হয়। কিছু বিদেশি কর্মী এই কর থেকে অব্যাহতি পান; যদি আপনার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হয়, তাহলে [https://www.servicesaustralia.gov.au/medicare-entitlement-statement মেডিকেয়ার এনটাইটেলমেন্ট স্টেটমেন্ট]-এর জন্য আবেদন করুন, যাতে কর রিটার্নে তা দেখিয়ে রিফান্ড পাওয়া যায়। আগেভাগেই আবেদন করুন, কারণ এই স্টেটমেন্ট পেতে সময় লাগতে পারে এবং কর রিটার্ন জমা দিতে গেলে এটি লাগবে।
অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তারা আপনার আয়ের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে সুপারঅ্যানুয়েশন (অবসরের সঞ্চয়) ফান্ডে জমা রাখেন। অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ভিসায় থাকা, অথচ অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের নাগরিক নন-এমন ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সময় এই অর্থ ফেরত নিতে পারেন। একে বলা হয় “ডিপার্টিং অস্ট্রেলিয়া সুপারঅ্যানুয়েশন পেমেন্ট (DASP)”, এবং আপনি এটি [https://applicant.tr.super.ato.gov.au/applicants/default.aspx?pid=1 অনলাইনে আবেদন] করে পেতে পারেন। নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা এই সঞ্চয় তাঁদের “কিউইসেভার” অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারেন; এ জন্য নিজ নিজ প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
===ওয়ার্কিং হলিডেমেকার স্কিম===
[[File:CSIRO ScienceImage 4714 CSIRO Precision Viticulture Trial site in the Eden Valley SA March 2004.jpg|thumb|দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আঙ্গুরক্ষেত]]
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য একটি ওয়ার্কিং হলিডেমেকার কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম প্রবেশের দিন থেকে ১২ মাস অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যায়। এই সময় কাজ করা যাবে, তবে কোনো এক নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ ৬ মাস। মূল ধারণা হলো ছুটি কাটানো, যার খরচ মেটানো হবে অস্থায়ী বা স্বল্পমেয়াদি কাজের আয়ে। আগ্রহীদের জন্য উপকারী দক্ষতার মধ্যে রয়েছে: অফিসের কাজ শেখা, যাতে অস্থায়ী চাকরিতে কাজে লাগে; অথবা আতিথেয়তা খাতে (বার বা রেস্টুরেন্টে) কাজ করার দক্ষতা। বিকল্প হিসেবে মৌসুমি কাজ যেমন ফল সংগ্রহ রয়েছে, তবে এসব কাজ সাধারণত বড় শহরের বাইরে করতে হয়। মৌসুমি কাজে ৩ মাস কাজ করলে দ্বিতীয় ১২ মাসের ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।
'''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/work-holiday-417 ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা]''' অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে আবেদনকালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যাবে না। খরচ ৬৩৫ ডলার (এপ্রিল ২০২৪ অনুযায়ী)। বিভাগের তথ্যমতে, অর্ধেক আবেদন একদিনের মধ্যে এবং ৯০ শতাংশ তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়াকৃত হয়। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ভিসাটি ‘‘এভিডেন্সড’’ করে নিতে বলা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তাকে দেখানো যায়।
ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সময় অন্তত ৫,০০০ ডলার থাকা সুপারিশ করা হয়। কারণ অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ বেশি এবং কাজ পেতে কয়েকদিন বা সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
===কর্মভিসা===
অস্ট্রেলিয়ার কর্মভিসার নিয়ম প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য স্থানীয় অস্ট্রেলীয় হাইকমিশন, কনস্যুলেট, দূতাবাস বা [http://www.immi.gov.au/ অভিবাসন বিভাগের ওয়েবসাইট] দেখা উচিত।
সরাসরি কর্মভিসা (সাবক্লাস ৪৫৭, ১৮৬ ও ১৮৭) পাওয়ার সহজ উপায় হলো কোনো অস্ট্রেলীয় নিয়োগকর্তা আপনাকে স্পনসর করা। নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার দক্ষতা সম্পন্ন কাউকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাকরির বিজ্ঞাপনগুলোতে সাধারণত বৈধ কর্মভিসার শর্ত উল্লেখ থাকে। ভিসা পেতে কয়েক মাস লাগতে পারে এবং অনুমোদনের আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত চিকিৎসকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা (যেমন টিবি পরীক্ষা করার জন্য বুকের এক্স-রে) দিতে হয়। দক্ষ নিয়োগকর্তা ও ভালো অভিবাসন আইনজীবী থাকলে ৪৫৭ ভিসা এক সপ্তাহেই অনুমোদিত হতে পারে। তবে এই ভিসা শুধু স্পনসর নিয়োগকর্তার জন্য বৈধ এবং চাকরি শেষ হলে ৩০ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হয়।
রিজিওনাল স্পনসর্ড মাইগ্রেশন স্কিম (আরএসএমএস) ভিসা (সাবক্লাস ১৮৭) তুলনামূলক সহজ, তবে ‘‘আঞ্চলিক’’ এলাকায় থাকতে ও কাজ করতে হয়। এসব এলাকা মূলত গ্রামীণ বা বড় শহর থেকে দূরে, যদিও [[অ্যাডিলেড]] এই তালিকায় রয়েছে।
যদি বিশেষ দক্ষতা থাকে এবং কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে বাঁধা না থাকতে চান, তবে স্কিল্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ১৮৯, ১৯০, ৪৮৯) নেওয়া যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা (সাবক্লাস ৪৮৫) পেতে পারেন। এটি ১৮ মাস থেকে ৪ বছরের জন্য বৈধ হয়, যা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেজরের উপর নির্ভর করে। তবে মেজরটি অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ‘‘চাহিদাসম্পন্ন পেশার তালিকায়’’ থাকতে হবে, যা প্রতি বছর হালনাগাদ হয়। এই ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে পড়াশোনার শুরু নয়, স্নাতক হওয়ার সময়কার তালিকাই কার্যকর।
===অভিবাসন===
বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী হিসেবে অভিবাসনের জন্য আবেদন করা যায়, তবে এটি কর্মভিসার তুলনায় সময়সাপেক্ষ। কর্ম বা শিক্ষাভিসাধারীও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন, যদিও স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পাওয়া যায় না। প্রচুর অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা রয়েছে, যা দিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। চার বছরের বৈধ বসবাস শেষে, যার অন্তত এক বছর স্থায়ী বসবাস হতে হবে, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।
===স্বেচ্ছাসেবক===
অস্ট্রেলিয়ায় নানা স্বেচ্ছাসেবী কাজের সুযোগ রয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা ভ্রমণকারীদের স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের সুযোগ দেয়। যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনর্গঠন, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রক্ষণাবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েছে [http://www.australianvolunteers.com '''অস্ট্রেলিয়ান ভলান্টিয়ার্স'''], [http://www.wwf.org.au '''ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড'''], [http://www.gap360.com '''গ্যাপ ৩৬০'''], '''[https://xtremegapyear.co.uk/ এক্সট্রিম গ্যাপ ইয়ার]''', এবং [https://freepackers.com/en/destinations/australia/ '''ফ্রিপ্যাকার্স''']।
==সম্মান ও আচরণ==
{{infobox|অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রতার রীতি|অস্ট্রেলিয়ায় আপনি যে ধরনের গ্রাহকসেবার মুখোমুখি হবেন—হোক সেটা কোনো ক্যাফের বারিস্টা, বারের বারটেন্ডার, হোটেলের রিসেপশনিস্ট কিংবা ট্যাক্সিচালক—প্রায় সবক্ষেত্রেই এমন সংলাপে শুরু হয়:
* আপনি: হাই, কেমন যাচ্ছো?
* তিনি: ভালো, ধন্যবাদ, আপনি কেমন?
* আপনি: আমি এক কাপ ফ্ল্যাট হোয়াইট/এক গ্লাস ফ্যাট ইয়াক/দুইজনের একটি ঘর/টুুম্বায় যেতে চাই...
হ্যাঁ, এটা এমনকি একেবারে অচেনা লোকজনের সাথেও প্রযোজ্য। এবং হ্যাঁ, এই দুই লাইনের পর আপনি সরাসরি নিজের প্রয়োজনটা বলতে পারেন—নিজের জীবনকাহিনি বলার দরকার নেই। কিন্তু পুরোপুরি এটা এড়িয়ে গেলে মানুষ আপনাকে অভদ্র ভাবতে পারে।}}
সাধারণভাবে, অস্ট্রেলীয়দের সংস্কৃতিগত অজ্ঞতার কারণে অপমান বা কষ্ট দেওয়ার আশঙ্কা খুব কম।
অস্ট্রেলিয়ায় সম্বোধন বেশ সহজ-সরল ও খোলামেলা। অধিকাংশ পরিস্থিতিতে, এমনকি নিজের চেয়ে অনেক বছর বয়সী ব্যক্তিকেও প্রথম নামে ডাকা একেবারেই স্বাভাবিক। অনেকে সদ্য পরিচিত লোককেও ডাকনামে ডাকতে পছন্দ করেন। এমন ডাকনামে ডাকা সাধারণত বন্ধুত্বের প্রকাশ, অবজ্ঞা নয়।
অস্ট্রেলিয়ায় খোলামেলা পোশাক পরা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। সৈকতে বিকিনি বা সাঁতারের পোশাক পরা স্বাভাবিক, এবং সৈকতের পাশের দোকানেও এটি মানা যায়। তবে এর বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে অন্তত একটি শার্ট ও পায়ে কিছু পরা উচিত। অধিকাংশ সৈকত কার্যত টপ-ঐচ্ছিক (টপলেস) হলেও, রাস্তায় হাঁটার সময় বা পানিতে নামার সময় প্রায় সব নারীই টপ পরে থাকেন। কিছু সৈকত সম্পূর্ণ নগ্নতায় অনুমোদিত, যেগুলো সাধারণত আবাসিক এলাকা থেকে একটু দূরে থাকে। থং বিকিনি (যা অস্ট্রেলিয়ায় 'জি-স্ট্রিং বিকিনি' নামে বেশি পরিচিত, কারণ এখানে 'থং' মানে স্যান্ডেল) নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই অনুমোদিত, যদিও এগুলো এখনও ততটা প্রচলিত নয়। কিছু আউটডোর সুইমিং পুলে নারীদের জন্য "টপ আবশ্যক" নীতিমালা রয়েছে।
যখন উপাসনালয়, যেমন গির্জা পরিদর্শন করবেন, তখন একটু ঢেকে থাকা ভালো। গরমে সাধারণত টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট যথেষ্ট, তবে আনুষ্ঠানিক পরিবেশে পুরুষদের জন্য দীর্ঘহাতা শার্ট, টাই ও ফুলপ্যান্টই ব্যবসায়িক পোশাক হিসেবে গ্রহণযোগ্য-even যদি আবহাওয়া খুব গরম হয়।
[[Australian slang|অস্ট্রেলিয়ান কথ্য ভাষা বা স্ল্যাং]] অনুকরণ করার চেষ্টা করলে তা অনেক সময় যোগাযোগের চেয়ে বিদ্রুপ বলেই মনে হতে পারে। যদি আপনি খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে হাসি পেতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ানরা প্রায়ই নিজেদের নিয়ে ঠাট্টা করে কথা বলেন, তবে এমন কোনো মন্তব্যের সাথে একমত হওয়া অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয়। নিজের কৃতিত্ব নিয়ে গর্ব করা সচরাচর ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না।
অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক শ্রেণি অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম গুরুত্ব পায়। পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিক বা কারিগরদের (যাদের “ট্রেডিজ” বলা হয়) অনেক বেশি সম্মান ও ভালো বেতন দেওয়া হয়। কাজের ধরন দেখে কাউকে অবজ্ঞা করা অস্ট্রেলিয়ায় খুবই নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। হোটেল কর্মচারী, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ট্যাক্সিচালক ও দোকানের কর্মচারীদেরও সমানভাবে সম্মান করার প্রত্যাশা করা হয়।
হারিয়ে গেলে বেশিরভাগ অস্ট্রেলীয়ই দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী থাকেন। তবে শহুরে এলাকায় অনেকেই "মাফ করবেন" শুনলে ধরে নেন আপনি অর্থ চাচ্ছেন, এবং এড়িয়ে চলে যেতে পারেন। হাতে মানচিত্র থাকা, ব্যাকপ্যাকারদের মতো দেখানো বা সরাসরি নিজের প্রয়োজনে যাওয়া-এসব সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
===আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা===
[[File:Ayers Rock 2004 - panoramio (2).jpg|thumb|উলুরু]]
[[Indigenous Australian culture|আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা]] সম্ভবত ৬৫,০০০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে এসে বসতি গড়েন এবং বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। ইউরোপীয় বসতির পর থেকে তাঁদের প্রথাগত জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে তারা বহু বছর ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছেন। তাই এই বিষয়ে সর্বদা সংবেদনশীল হওয়া উচিত। আদিবাসীরা বিভিন্ন ‘জাতি’ বা সম্প্রদায়ভুক্ত যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় রয়েছে এবং বসতির আগেই তাঁরা প্রায় ২৫০টি ভাষায় কথা বলতেন।
পর্যটকদের জন্য আদিবাসী ভূমিতে প্রবেশের নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন। কিছু এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা যায়, আবার কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতি বা পারমিট লাগে, এবং কিছু এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। জনপ্রিয় এলাকাগুলোর পারমিট নেওয়া সাধারণত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র এবং এতে আপনার সফরের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। এটি মূলত সেই ভূমিকে আদিবাসী ভূমি হিসেবে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি। কিছু আদিবাসী জমি পরিষদ অনলাইনে পারমিট প্রদান করে।
কিছু সম্প্রদায় বা এলাকা আদিবাসীদের পক্ষ থেকে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। যদিও পর্যটন আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর জন্য উপকারী, তবু সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বসবাস ও পর্যটন এলাকাকে আলাদা রাখার চেষ্টা চলছে। ম্যাপে কোনো এলাকা "মুক্ত প্রবেশযোগ্য" দেখালেও, অনুরোধ না মানা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অনেক সময় বেআইনিও হতে পারে। নির্জন এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে যাচাই করে নিন জায়গাটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত কিনা এবং পারমিট প্রয়োজন কি না।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক নিদর্শন [[উলুরু]] স্থানীয় আনানগু জনগণের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। যদিও একসময় এটি পর্বতারোহণের জন্য জনপ্রিয় ছিল, আনানগু জনগণ বহুদিন ধরে পর্যটকদের তা না করার অনুরোধ জানিয়ে আসছেন, এবং ২০১৯ সাল থেকে এটি বেআইনি হয়েছে। তাদের মতে, যদি কেউ সেখানে চড়ে আহত বা নিহত হন, তাহলে এর দায় তাঁদের ওপর পড়ে। তাই দয়া করে উলুরুতে না চড়ুন। “এয়ারস রক” নামটি বিদেশে প্রচলিত হলেও অস্ট্রেলিয়ার ভিতরে প্রায় কেউই এটি ব্যবহার করে না এবং এটি বলা অনুচিত।
জাতিগত প্রসঙ্গে বলতে হলে, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শব্দ হলো ''ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ান'' (Indigenous Australians)। ''আদিবাসী জনগণ'' (Aboriginal people) সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ''আদিবাসী'' (Aboriginal) শব্দটি একা ব্যবহার এড়ানো ভালো-অনেকে এতে নেতিবাচক অর্থ খুঁজে পান। ''অ্যাবরিজিন'' বা ''অ্যাবো'' শব্দগুলো অত্যন্ত অবমাননাকর এবং ব্যবহার করা উচিত নয়। ''নেটিভ'' শব্দটি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও, ''ইন্ডিজেনাস'' শব্দটি ব্যবহার করাই উত্তম। [[টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জ|টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জের]] আদিবাসীরা নিজেদের “আদিবাসী” নয় বরং “টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার” হিসেবে পরিচয় দেন।
আদিবাসী অস্ট্রেলীয়দের সাথে আচরণের সময় কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত:
* অনেক আদিবাসীর কাছে অস্ট্রেলিয়া দিবস একটি “অবৈধ দখলের দিন”, তাই এই দিনে প্রতিবাদ হয়।
* কোনো মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করা বা ছবি না দেখানো ভালো। বিভিন্ন সম্প্রদায়ে নিয়ম আলাদা হলেও, অপমান এড়াতে এগুলো থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
* আদিবাসী ব্যক্তিদের ছবি তুলতে গেলে, বিশেষ করে [[আর্নহেম ল্যান্ড]] ও [[নর্দার্ন টেরিটরি]]-র মতো দূরবর্তী এলাকায়, অবশ্যই আগে অনুমতি নিতে হবে।
* উলুরু বা থ্রি সিস্টার্সের মতো পবিত্র আদিবাসী স্থানগুলোকে অসম্মান করবেন না-যেমন সেখানে চড়া, ভাঙচুর, লেখালেখি ইত্যাদি। এগুলো যে কতটা ক্ষতি করেছে পর্যটকরা, তার হিসেব মেলানো কঠিন।
* যদিও আইনের চোখে আদিবাসী ও অ-আদিবাসী সমান অধিকার পেয়েছে, বাস্তবে আদিবাসীরা প্রায়ই অন্যদের তুলনায় পুলিশি হয়রানির শিকার হন। এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এবং আজও নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে আদিবাসীদের পুলিশি নির্যাতন বা হেফাজতে মৃত্যুর খবর আসে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৪%-এরও কম হলেও, কারাবন্দি পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৩০% আদিবাসী। এই বিষয়গুলো সাধারণত '''এড়িয়ে যাওয়াই ভালো'''।
===এএনজ্যাক দিবস===
যদিও অস্ট্রেলীয়রা সাধারণত মজা করে কথা বলেন, ২৫ এপ্রিল পালিত এএনজ্যাক দিবস ব্যতিক্রম। এই দিনে সামরিক বাহিনীর প্রতি কোনো অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্য করলে তা অত্যন্ত আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং বিদেশিদেরকেও যুদ্ধস্মৃতিস্তম্ভে কেবল খেলা করেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বছরের বাকি সময়ে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সমালোচনা সহ্যযোগ্য হলেও, এই দিনে নয়।
===ধর্ম===
আধুনিক অস্ট্রেলীয় সমাজ তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ এবং নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষ সংখ্যালঘু। ২০২১ সালের আদমশুমারিতে মাত্র ৪৩% মানুষ নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, আর ৩৮% বলেছে তাদের কোনো ধর্ম নেই। ইসলাম, হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম ক্রমবর্ধমান, যা অভিবাসনের কারণে বাড়ছে।
অস্ট্রেলীয়রা সাধারণভাবে সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল। হিজাব, কিপ্পা বা ক্রুশের মতো ধর্মীয় প্রতীকধারী পোশাক সাধারণত অপমান বা হয়রানির শিকার হয় না, যদিও ইসলামবিদ্বেষ, ইহুদিবিদ্বেষ এবং অন্যান্য ধর্মীয় বৈষম্য কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়। সাধারণভাবে, ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয় না এবং ধর্ম প্রচার বা অন্যদের বিরক্ত করা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
বড় শহরগুলোতে হালাল খাদ্য পাওয়া সহজ। অনেক রেস্তোরাঁ হালাল খাবার সরবরাহ করে এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সার্টিফিকেটও থাকে। বড় সুপারমার্কেটেও হালাল পণ্যের জন্য আলাদা বিভাগ থাকে।
===ব্রিটিশ উত্তরাধিকার===
অস্ট্রেলিয়াকে কেবলমাত্র রৌদ্রোজ্জ্বল যুক্তরাজ্য বলা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সাথে তুলনা করাটা সব সময় আপত্তিকর নয়, তবে মানুষ পছন্দ করে যখন তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
==নিরাপত্তা==
===জরুরি পরিস্থিতি===
অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো টেলিফোন থেকে বিনামূল্যে ডায়াল করা যায় '''[tel:000 000]''' নাম্বারটি (যাকে ‘ট্রিপল জিরো’ বা ‘ট্রিপল ও’ বলা হয়)। এই নম্বরে ফোন করলে জরুরি অপারেটর আপনাকে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক, উপকূলরক্ষী বা অ্যাম্বুলেন্স সেবার সাথে সংযুক্ত করবে, নির্ভর করবে আপনি কোন সেবা চান তা জানানোর ওপর।
যদি পরিস্থিতি জরুরি না হয়, তাহলে ০০০ নম্বরে ফোন করবেন না। এর পরিবর্তে পুলিশ সহায়তা লাইনে ফোন করতে পারেন: [tel:131444 131 444]। এর মধ্যে শব্দ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ করাও অন্তর্ভুক্ত। বিষাক্ত দ্রব্য সংক্রান্ত পরামর্শ, যা সাপ, মাকড়সা ও পোকামাকড় কামড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা করে, পাওয়া যায় এই নম্বরে: [tel:131126 131 126]। নিকটবর্তী চিকিৎসা সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানার জন্য ফোন করুন [tel:1800022222 1800 022 222] (তাসমানিয়া ব্যতীত)।
বন্যা, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তার প্রয়োজন হলে প্রতিটি রাজ্যের স্টেট এমার্জেন্সি সার্ভিসের (Northern Territory বাদে) সাথে যোগাযোগ করুন [tel:132500 132 500] নম্বরে। আপনাকে স্থানীয় ইউনিটের সাথে যুক্ত করা হবে এবং সেখান থেকে সহায়তা সংগঠিত হবে। তবে জীবন হুমকির মুখে পড়লে অবশ্যই ০০০-তে ফোন করতে হবে।
সব মোবাইল ফোন থেকেই ০০০ ডায়াল করা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো এই নম্বরটিকে জরুরি নাম্বার হিসেবে চিনতে পারে এবং যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কল সম্পন্ন করতে পারে। তবে, যদি আপনার ফোনটি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আনা হয়ে থাকে, তাহলে ইউনিভার্সাল এমার্জেন্সি নাম্বার '''[tel:112 112]''' ব্যবহার করাই ভালো। ১১২ নম্বরে কল করলে এটি যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে, এমনকি ফোন রোমিং না করলেও বা সিম না থাকলেও কাজ করবে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ফোনেও কাজ করে। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ৩জি নেটওয়ার্ক থাকবে না, তাই ফোনে VoLTE কলিং এবং এমার্জেন্সি কল ওভার VoLTE সাপোর্ট থাকতে হবে (কিছু ফোন শুধু ৩জি বা ২জি ব্যবহার করে); একটি ফোন এই সেবার জন্য উপযোগী কি না তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন, কারণ ০০০ নম্বরে শুধু জরুরি অবস্থায়ই ফোন করা উচিত। তবে যদি ফোনটি অস্ট্রেলিয়ান সিম দিয়ে কাজ করে, তাহলে তা যথেষ্ট।
যাদের শ্রবণ বা বাক সমস্যা আছে এবং যারা TTY যন্ত্র ব্যবহার করেন, তারা ডায়াল করতে পারেন '''[tel:106 106]'''। যাদের ইন্টারনেট সংযোগ আছে, তারা [http://www.relayservice.com.au ইন্টারনেট রিলে সার্ভিসের ওয়েবসাইট] ব্যবহার করতে পারেন।
স্থায়ী ল্যান্ডলাইন ফোন থেকে কল করলে জরুরি পরিষেবা আপনাকে খুঁজে বের করতে কল ট্রেস করতে পারে। তবে মোবাইল ফোন থেকে করা কল, বিশেষ করে শহরের বাইরে, সঠিকভাবে ট্রেস করা কঠিন, তাই শান্তভাবে ও পরিষ্কারভাবে আপনার অবস্থান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি নম্বরের নম্বর বিন্যাসের কারণে প্রায় ৬০% কল ভুলবশত করা হয়।
আপনার সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানাতে না পারলে সম্ভবত কেউ আপনার ফোন কলে সাড়া দেবে না। যদি আপনি সহায়তা প্রয়োজন হলেও কথা বলতে না পারেন, আপনাকে একটি স্বয়ংক্রিয় মেনুতে পাঠানো হবে এবং আপনাকে '''৫৫''' চাপতে বলা হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে আপনি ভুল করে ফোন করেননি। এরপর আপনাকে পুলিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
১১২ ব্যতীত অন্য দেশের জরুরি নাম্বার (যেমন '৯১১', '১৭' বা '১০০') অস্ট্রেলিয়ায় '''কাজ করে না'''।
===গাড়ি চালানো===
{{seealso|অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো}}
বাস্তবতা মনে রাখুন। অস্ট্রেলিয়ার রাস্তায় পথচারী, চালক বা যাত্রী হিসেবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বা আহত হওয়ার সম্ভাবনা পর্যটকদের জন্য অন্য যেকোনো মৃত্যুর কারণের চেয়ে অনেক বেশি।
মদ্যপান বা মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো আইনত নিষিদ্ধ। অধিকাংশ রাজ্যে রক্তে অ্যালকোহলের নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাত্রা শূন্য থেকে ০.০৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এলোমেলোভাবে রক্ত ও শ্বাস পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ, তাই শহর ও গ্রামের মধ্যবর্তী দূরত্ব আপনি যেমন ভাবেন তার চেয়েও বেশি হতে পারে, বিশেষত যদি আপনি ইউরোপ, এশিয়া বা উত্তর আমেরিকার ফ্রি-ওয়ে বা মোটরওয়ে চালানোর অভ্যস্ত হন। বড় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের হলেও গ্রামীণ এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির মহাসড়কগুলোতে সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়। গতি সীমা রাজ্য, এলাকা ও সড়কভেদে পরিবর্তিত হয়। অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম না করে দৈনিক ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে ক্লান্তি ও স্ট্রেস এড়ানো যায়। কর্তৃপক্ষ প্রতি দুই ঘণ্টায় একবার বিরতি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ হাঁটার পরামর্শ দেয়। অনেক সময় এম, এ নম্বরযুক্ত রুট ও জাতীয় মহাসড়কে নির্ধারিত বিশ্রামস্থল থাকে, তবে কাঁচা রাস্তা, রাজ্য সড়ক, বি বা সি শ্রেণির মহাসড়কে এ ধরনের সুযোগ খুব কম।
শহর বা গ্রামের মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় বন্যপ্রাণীর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় গাড়ির আলো বা শব্দে ভয় পেয়ে ক্যাঙারুরা আচমকা গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সড়কের পাশে গাছপালা বা ঝোপঝাড় থাকলে, আর ভোর বা গোধূলির সময় (যখন বন্যপ্রাণী সবচেয়ে সক্রিয়) গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। যদিও শহুরে এলাকায় বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি নেই বললেই চলে, ক্যানবেরায় পার্কগুলোর কারণে প্রায়ই ক্যাঙারু রাস্তা পার হয়।
শহরের মানুষ সাধারণত ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তায় দৌড়ে যায়, লাল বাতি আসার আগেই রাস্তা পার হয় বা গাড়ির গতি বুঝে দৌড়ে চলে যায়। যদিও অধিকাংশ চালক লাল বাতিতে থামে, হলুদ বাতি দেখে গাড়ি না থেমে চলে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। তাই ফুটপাথ থেকে রাস্তায় নামার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে গাড়িগুলো পুরোপুরি থেমেছে। যারা ডান পাশে গাড়ি চালানোর অভ্যস্ত, তাদের জন্য সঠিক দিকে তাকানো শিখতে একটু সময় লাগতে পারে।
===সমুদ্রসৈকত===
[[File:Lifeguard, Sydney, Australia.jpg|thumb|[[সিডনি]]র বন্ডাই সৈকতে এক লাইফগার্ড]]
প্রতি বছর প্রায় ১০–২০ জন বিদেশি পর্যটক অস্ট্রেলিয়ায় ডুবে মারা যান। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই সমুদ্রসৈকতে ঘটে এবং পরিসংখ্যান বলছে, পর্যটকদের জন্য এই ঝুঁকি স্থানীয়দের তুলনায় অনেক বেশি। বিস্তারিত জানতে দেখুন [http://www.beachsafe.org.au বিচ নিরাপত্তা ওয়েবসাইট]।
সৈকতে গেলে অবশ্যই '''লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে''' সাঁতার কাটুন। এগুলোই চিহ্নিত করে যে এলাকা পেট্রল করা হচ্ছে। সব সৈকত সার্বক্ষণিকভাবে পেট্রল করা হয় না, এমনকি প্রতিদিনের সব সময়েও না। অনেক সময় শুধুমাত্র সপ্তাহান্তে বা গ্রীষ্মে পেট্রল থাকে, তাও নির্দিষ্ট সময়ে। পতাকা না থাকলে ধরে নিন, সেখানে কেউ নজরদারি করছে না। গ্রামীণ এলাকার অনেক সৈকতেই কোনো নজরদারি নেই। যদি আপনি সাঁতার কাটেন, তাহলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকুন, পানির অবস্থা যাচাই করুন, নিজের সাঁতারের সীমা বুঝুন, এবং কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।
অনেক সৈকতে হঠাৎ গভীরতা বেড়ে যায়, যা অপ্রস্তুত সাঁতারুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদি সন্দেহ হয়, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন।
'''হার্ড সার্ফবোর্ড, সার্ফ স্কি, কায়াক ইত্যাদি লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে ব্যবহার করা যায় না।''' এগুলো কেবল নীল ‘সার্ফক্রাফট পারমিটেড’ পতাকার বাইরে ব্যবহার করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী রিপ কারেন্ট থাকে, যেগুলো সবচেয়ে দক্ষ সাঁতারুদেরও টেনে নিয়ে যেতে পারে। এই রিপ হলো এমন একপ্রকার পানির ধারা যা সৈকতের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে যায় এবং প্রায় চোখে দেখা যায় না। অনেক স্থানীয় মানুষ এগুলো চিনতে পারেন। যদি আপনি সন্দিহান হন, কাউকে জিজ্ঞাসা করুন। এই ধারাগুলো শান্ত পানির মতো দেখায় বলে অনেকেই ভুল করে সেখানেই সাঁতার কাটেন, তারপর ফিরে আসতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ডুবে যান।
রিপ চেনার লক্ষণগুলো হলো: আশপাশের তুলনায় ঢেউ কম থাকা; ফেনা যা ব্রেক জোনের বাইরে গিয়ে পড়ে; বাদামি-বালির রঙের পানি; দুই পাশে ঢেউ ভাঙা হলেও মাঝখানে না ভাঙা।
যদি আপনি কোনো পেট্রল করা সৈকতে রিপে আটকে যান, শক্তি সংরক্ষণ করুন, ভাসুন বা পানির উপর ভেসে থাকুন এবং একটি হাত তুলে সাহায্যের সংকেত দিন। লাইফসেভাররা আপনাকে উদ্ধারে আসবে। ক্লান্ত হয়ে পড়ার আগেই সাহায্য চান। স্থানীয় সাঁতারু বা সার্ফাররাও দ্রুত আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যদিও পতাকা সাধারণত রিপ মুক্ত এলাকায় বসানো হয়, তবে কখনো কখনো সেগুলোর কাছেও রিপ চলে আসতে পারে।
যদি আপনি কোনো অপেট্রল সৈকতে রিপে পড়েন, শান্ত থাকুন এবং তির্যকভাবে (সৈকতের সমান্তরালে) সাঁতার কাটুন, স্রোতের বিরুদ্ধে নয়। অধিকাংশ রিপ কয়েক মিটার চওড়া হয়, তাই স্রোত থেকে বেরিয়ে গেলে আপনি তীরে ফিরে আসতে পারবেন। '''কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।''' মনে রাখবেন, সঠিক কৌশল সব পরিস্থিতিতে আপনাকে বাঁচাবে না। সৈকতের পেছনে ভেঙে পড়া ঢেউয়ের মধ্যে ভেসে থাকা কঠিন, কয়েক সেকেন্ড পরপরই ঢেউ আছড়ে পড়ে। একবার রিপে পড়লে আপনি চোখের পলকে ৫০ মিটার সমুদ্রের গভীরে চলে যেতে পারেন। অপেট্রল সৈকতে থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন এবং কখনো নিজের সাঁতারের গভীরতা অতিক্রম করবেন না।
সৈকতের সংকেতচিহ্নগুলোতে প্রায়ই একটি সংখ্যা বা আলফানিউমেরিক কোড থাকে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা সংস্থাকে জানালে তারা দ্রুত আপনাকে খুঁজে পাবে।
[[#Crocodiles|কুমির]] ও [[#Jellyfish|বক্স জেলিফিশ]] নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট অঞ্চলে দেখা যায়। অনেক অস্ট্রেলীয় সৈকতেই হাঙর থাকে। নিচের বিপজ্জনক প্রাণী বিভাগে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। পেট্রল করা সৈকতগুলোতে হাঙরের গতিবিধি নজরদারি করা হয়। যদি সৈকতে একটি ধারাবাহিক সাইরেন বাজে এবং লাল ও লাল-সাদা চতুর্থাংশ পতাকা দেখানো হয়, তাহলে ধরে নিন, হাঙর দেখা গেছে। দ্রুত তীরে ফিরে আসুন। পরিস্থিতি শান্ত হলে একটি সংক্ষিপ্ত সাইরেন বাজানো হবে, যা সাধারণত নিরাপদে পানিতে ফেরার সংকেত।
===প্রাকৃতিক দুর্যোগ===
অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে।
====[[ঘূর্ণিঝড়]]====
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ঘটে, এবং এই সময়ে ভ্রমণ করলে ঘূর্ণিঝড় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তার তীব্রতা এবং আপনার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। দুর্বল ঘূর্ণিঝড়ে কেবল বৃষ্টিপাত ও বাতাসে কয়েকদিন হোটেলে থাকতে হতে পারে, আবার প্রবল ঘূর্ণিঝড় জীবনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, আপনাকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারে এবং আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এমনকি দুর্বল ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপও দূরবর্তী এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দিতে পারে, যা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
গড়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি শহরে প্রতি ৩০ বছরে একবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জনসংখ্যা কম হওয়ায় অনেক ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলেও কোনো বড় শহরে এর প্রভাব পড়ে না।
তবুও, যদি আপনি ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে [http://www.bom.gov.au/cyclone/index.shtml অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোর ঘূর্ণিঝড় তথ্য পৃষ্ঠা] দেখে নিন এবং ভ্রমণের সময় নিয়মিতভাবে সেখানে নজর রাখুন যাতে আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়।
====বন্যা====
উত্তরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ‘‘বর্ষাকাল’’ হয়, যখন প্রবল বর্ষণ ও নিয়মিত বন্যা দেখা দেয়। অনেক সময় উপকূলবর্তী কিছু এলাকা এক–দুদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না পানি নেমে যায়। তবুও জনবহুল ও পর্যটক–কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে এ সময় ভ্রমণ করা খারাপ নয়। অস্বাভাবিকভাবে বড় বন্যা না হলে দর্শনার্থীরা ঝর্ণাধারা ও অন্যান্য আকর্ষণ উপভোগ করতে পারেন, যা ভ্রমণকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
অস্ট্রেলিয়ার আউটব্যাক ও অন্তর্দেশীয় অঞ্চলে বন্যা খুবই বিরল, কয়েক দশক পরপর ঘটে। তাই সেখানে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হবে। যদি অন্তর্দেশীয় বা আউটব্যাক এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে এবং অঞ্চলটি বন্যাগ্রস্ত হয়, তবে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ভূমি সমতল হওয়ায় পানি নেমে যেতে সপ্তাহ লেগে যায়, জমি কাদাময় হয়ে থাকে। চারপাশে জমা পানি থাকায় পোকামাকড় ও মশা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরা কীটনাশককেও সহজে সহ্য করে। সড়ক বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যাত্রার সময় অনেক বাড়ে। অনেক আকর্ষণীয় স্থান মূল সড়ক থেকে অল্প দূরের কাঁচা রাস্তায় অবস্থিত, যা অচল হয়ে পড়ে যদিও মূল সড়ক খোলা থাকে। কয়েক সপ্তাহ পর ফিরে গেলে দেখা যাবে ভূমি তখনও সবুজ, হ্রদ–নদী প্রবাহমান এবং পাখিজীবন সক্রিয়।
দেশের দক্ষিণ অংশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সাধারণত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের শীতকালে। তবে সাধারণত একবারে এত বৃষ্টি হয় না যে বন্যা সৃষ্টি করবে। রাজধানী শহরগুলোতে বন্যার তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না, প্রায় কখনোই না।
====== আকস্মিক বন্যা ======
প্রায় প্রতি বছরই পূর্বাঞ্চলের বহু শহরে অন্তত একবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, সাধারণত গ্রীষ্মকালে। এটি বেশ ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতরেই থাকা উচিত এবং এসইএস (এসইএস) ও এবিসি (এবিসি) স্থানীয় রেডিওর পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। কখনোই বন্যার পানিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। প্রতিবছর বহু গাড়ি ধ্বংস হয় কারণ চালকেরা পানির গভীরতা বা স্রোতের তীব্রতাকে হেলাফেলা করেন। শেষ পর্যন্ত যেন আপনাকে সেতুর নিচে ভেসে পুলিশি উদ্ধার অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।
আকস্মিক বন্যার সময় প্রায়ই বড় বড় শিলাবৃষ্টি হয়, যা গাড়ি নষ্ট করতে পারে। তাই গাড়ি আচ্ছাদিত স্থানে (তবে ভূগর্ভস্থ নয়) পার্ক করুন।
এটি সাধারণত পূর্বাভাসযোগ্য হয়। স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে ঝড়ের আশঙ্কার কথা শোনা যাবে এবং [http://www.bom.gov.au/ bom.gov.au] তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতা প্রকাশ করবে।
==== পানির যোগান ====
অস্ট্রেলিয়া একটি অত্যন্ত শুষ্ক দেশ; বিশাল মরুভূমি অঞ্চল রয়েছে এবং আবহাওয়া খুব গরম হতে পারে।
যখন জনবসতি থেকে দূরে, পাকা রাস্তা ছেড়ে ভ্রমণ করবেন, তখন আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে-যেখানে হয়তো টানা এক সপ্তাহও অন্য কোনো গাড়ি দেখা যাবে না। তাই সঙ্গে নিজের পানির যোগান রাখা অত্যন্ত জরুরি (প্রতিদিন প্রতিজনের জন্য ৪ গ্যালন বা ৭ লিটার)। মানচিত্রে 'কূপ', 'ঝরনা' বা 'ট্যাংক' লেখা দেখে ভুলবেন না-এগুলো প্রায় সবই শুকিয়ে গেছে, আর ভেতরের অনেক হ্রদই আসলে শুকনো লবণাক্ত ভূমি।
বেশিরভাগ শহর ও নগরে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যেমন গাড়ি ধোয়া, বাগানে পানি দেওয়া বা সরকারি গোসলখানা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকে। হোটেল বা আবাসিক স্থানে প্রায়ই অতিথিদের গোসল ছোট করতে অনুরোধ করা হয়।
বহু আঞ্চলিক শহরের সরকারি বাথরুমে পানীয়-অযোগ্য পানি থাকে। “Do not drink” বা “Non-potable” লেখা ট্যাপ থেকে কখনোই পানি খাবেন না-এসব সাধারণত অপরিশোধিত ভূগর্ভস্থ পানি।
==== [[ভূমিকম্প]] ====
অস্ট্রেলিয়া কোনো প্লেট সীমান্তে অবস্থিত নয়, তবে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হয়। এগুলো সাধারণত ছোট মাত্রার হয় এবং বড় ধরনের ক্ষতি বা প্রাণহানি প্রায় ঘটে না।
===দাবানল===
'''[[দাবানল]]''' (বুশফায়ার) অস্ট্রেলিয়ার অনেক অঞ্চলে ঋতুভিত্তিক বিপদের মধ্যে একটি। বিশেষ করে যদি আপনি বুশল্যান্ড বা গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণে যান, তবে আগে থেকেই অগ্নি-ঝুঁকির মাত্রা এবং কোনো আগুন সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে খুব বিপজ্জনক দিনে বুশফায়ার প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে-বিশেষত যদি আপনি খোলা আকাশের নিচে থাকেন বা মজবুত কোনো ভবনের সুরক্ষা না থাকে।
যদি দাবানলের মধ্যে আটকা পড়েন, বেশিরভাগ আগুন দ্রুত পাশ কাটিয়ে যাবে। আপনাকে এমন আশ্রয় খুঁজতে হবে যা ধোঁয়া এবং তীব্র তাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে। সবচেয়ে ভালো হলো ঘরবাড়ি, তারপর গাড়ি, তারপরে খোলা জায়গা, গুহা বা সৈকত। যতটা সম্ভব সবকিছু ভিজিয়ে ফেলুন। নিচু হয়ে থাকুন এবং মুখ ঢেকে রাখুন। আগুন না-ধরতে পারে এমন কাপড় (যেমন উলের জামাকাপড় বা কম্বল) দিয়ে শরীর ঢেকে রাখুন এবং তাপের সামনে খোলা ত্বক কমিয়ে আনুন। যদি কলের পানি থাকে, আগে থেকেই সংগ্রহ করুন; আগুন কাছে এলে পানির চাপ নাও থাকতে পারে।
ডানপাশে দেখানো আগুনের ঝুঁকি সূচকটি (Fire Danger Rating) জানায়, আগুন লাগলে সেটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। '''এটি আগুন লাগার সম্ভাবনা কতটা তা বলে না।'''[[File:WA fire danger sign Wyalkatchem.jpg|thumb|অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অগ্নি-ঝুঁকির চিহ্ন স্থাপন করা আছে]]
* **Severe (গুরুতর):** গরম, শুষ্ক এবং বাতাস প্রবাহিত আবহাওয়া। এ সময় আগুন শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কেবল প্রস্তুত ভবন ও সক্রিয় প্রতিরক্ষাই নিরাপত্তা দিতে পারে। আগুনের প্রথম ইঙ্গিতেই এলাকা ছেড়ে দিন।
* **Extreme (চরম):** গরম, শুষ্ক ও প্রবল বাতাসের সময় যে আগুন শুরু হয় তা নিয়ন্ত্রণহীন, অনিশ্চিত ও দ্রুতগামী হয়। কেবল বিশেষভাবে নির্মিত ও সক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষিত ঘরবাড়ি কিছুটা নিরাপদ হতে পারে। বনভূমি, ঘন ঝোপঝাড় বা শুকনো ঘাস এড়িয়ে চলুন। নিরাপত্তার জন্য এসব এলাকা ছেড়ে যাওয়াই শ্রেয়।
* **Catastrophic/Code red (বিপর্যয়কর/কোড রেড):** দাবানল বা ঘাসের আগুনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। বনাঞ্চল বা ঘন বুশ থেকে দূরে থাকুন। এ সময় এলাকাগুলো ছেড়ে যাওয়াই অত্যন্ত পরামর্শযোগ্য। উল্লেখযোগ্য যে, অনেক স্থানীয় মানুষ বছরের এই কয়েকটি "বিপর্যয়কর" দিনে নিজেদের আউটব্যাকের বাড়িঘর ছেড়ে বড় শহরে আশ্রয় নেন।
==== জাতীয় উদ্যান ও রাজ্য বন ====
অগ্নি-ঝুঁকি চরম বা তার বেশি হলে জাতীয় উদ্যানগুলো বিশেষত ব্যাককান্ট্রি এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই গ্রীষ্মে ক্যাম্পিং বা হাইকিং পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প পরিকল্পনা জরুরি। কোনো উদ্যানে আগুন লাগলে সাধারণত পুরো উদ্যানই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যদি এমন সময় উদ্যানে থাকেন, সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো আগের রাতেই বা সকালে এলাকা ছেড়ে যাওয়া। আগুনের খবর শুনলে বা ধোঁয়া দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
==== সক্রিয় অগ্নিকাণ্ড চলাকালে বা অগ্নি মৌসুমে ভ্রমণ ====
শহরের বাইরে অগ্নি মৌসুমে গাড়ি চালালে [https://www.abc.net.au/local/ স্থানীয় এবিসি রেডিও]তে টিউন করুন। বুশফায়ার বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর সতর্কতাসংকেত বাজে এবং তারপর আপডেট দেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে সরাসরি সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তাও আসতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় জরুরি ও অগ্নি ব্যবস্থাপনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তাই যে রাজ্যে আছেন তার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করুন। যেমন [https://www.emergency.wa.gov.au/ ইমার্জেন্সি ডব্লিউএ] এবং [https://emergency.vic.gov.au/ ভিকইমার্জেন্সি] সাইটে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি তালিকাভুক্ত থাকে।
'''এক পর্যায়ে হয়তো আপনার পক্ষে আর এলাকা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।'''
অগ্নি মৌসুমে আপনার পরিকল্পনায় দুটি পালানোর পথ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শপিং সেন্টার বা জনবহুল শহরের মূল সড়কগুলো চরম বা কোড রেড দিনের জন্য নিরাপদ, যতক্ষণ না রেডিওতে অন্য কিছু ঘোষণা হয়।
কখনো কখনো পুরো শহর সরিয়ে নেওয়া হয়। তখন আগুন দেখা না গেলেও আগেভাগেই চলে যাওয়া উচিত। কারণ আগুনের ভেতর দিয়ে সরতে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। সেরা উপদেশ হলো, চলে যান এবং আগুন দেখার জন্য থেকে যাবেন না।
==== আগুন জ্বালানো ====
যে আগুন জ্বালাচ্ছেন তা বৈধ এবং নিয়ন্ত্রণে আছে কি না নিশ্চিত করুন। অগ্নি সেবাদানকারী সংস্থা '''সম্পূর্ণ অগ্নি-নিষেধাজ্ঞা''' (Total Fire Ban) জারি করে যখন অগ্নি ঝুঁকি চরম হয়। তখন বাইরে কোনো আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অধিকাংশ উদ্যানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়, এবং স্থানীয় ঝুঁকি মাত্রা জেনে নেওয়া আপনার দায়িত্ব। জাতীয় উদ্যানে এসব দিনে বনরক্ষী বা পুলিশ টহল দেয় যাতে কেউ খোলা আগুন না জ্বালায়। নিয়ন্ত্রণহীন আগুন লাগালে জরিমানা বা এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে।
===বিষাক্ত ও বিপজ্জনক প্রাণী===
{{see also|পোকার উপদ্রব}}
অস্ট্রেলিয়ায় পৃথিবীর অনেক মারাত্মক কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস রয়েছে। তবে ভ্রমণকারীরা শহুরে পরিবেশে এদের প্রায় দেখেন না, এমনকি বুশ এলাকাতেও এরা সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলে। অস্ট্রেলিয়ায় কামড় ও হুলের কারণে যে মৃত্যুগুলো ঘটে, তার বিশাল অংশই মৌমাছি ও বোলতার হুলে অ্যালার্জি থেকে হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচলিত আছে, যা প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ানরা রসিকতার ছলে বলেন। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জেলিফিশ ও কুমির সম্পর্কে সতর্কবার্তাগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, এবং জাতীয় উদ্যান ও বুশল্যান্ডে সাপ থেকে দূরে থাকতে হবে।
যদি গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণ করেন, তবে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ থাকে। একই সঙ্গে সাপ বা মাকড়সার কামড়ের পর কী করতে হবে তা আগে থেকেই শিখে নেওয়া ভালো।
====সাপ====
অস্ট্রেলিয়ার শহুরে এলাকায় সাপের দেখা পাওয়া খুব একটা সাধারণ নয়। তবে ঘাসভূমি, জাতীয় উদ্যান এবং অন্যান্য বুশল্যান্ডে এগুলো বেশ স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়। সাধারণত সাপ মানুষকে এড়িয়ে দূরে সরে যেতে চায়। তাই হাঁটার সময় যদি সামনে সাপ দেখতে পান, তবে সেটির চারপাশ ঘুরে যান বা অন্য দিকে চলে যান। ঘন ঝোপঝাড় বা ঘাসে অন্ধভাবে ঢোকা উচিত নয়, কারণ সাপ সেখানে লুকিয়ে থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাপ মানুষকে ভয় পায় এবং আপনি দেখার আগেই সাপ পালিয়ে যায়।
'''কোনোভাবেই''' কোনো সাপ ধরতে চেষ্টা করবেন না, এমনকি সেটি বিষহীন বলে বিশ্বাস করলেও নয়। সাপের কামড়ে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই সাপ ধরতে বা মারতে গিয়েছিল, অথবা হাঁটার সময় অসাবধানতায় পায়ে দিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় কিছু মারাত্মক বিষধর সাপ রয়েছে। তাই সব সাপকেই সম্মানজনক দূরত্বে রাখুন এবং কোনো সাপ কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসা নিন। দুর্গম স্থানে গেলে সাপের কামড়ের জন্য উপযোগী ফার্স্ট-এইড কিট সঙ্গে রাখুন। যদি কামড় খান, তবে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থানের চারপাশ শক্ত করে বেঁধে দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সহায়তা নিন। ক্ষত পরিষ্কার করবেন না, কারণ বিষের নমুনা পরীক্ষা করে কোন অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে হবে তা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিচ্ছিন্ন স্থানে থাকেন, তবে অন্য কাউকে সাহায্য চাইতে পাঠান। কিছু সাপের (বিশেষ করে টাইপান) বিষ ১৫ মিনিটের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারে। তবে ক্ষত অবশ করে রাখলে এবং বিশ্রাম নিলে বিষ ছড়িয়ে পড়া কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ হাসপাতালেই বহুমুখী অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়, যাতে সব বিপজ্জনক অস্ট্রেলীয় সাপের প্রতিষেধক অন্তর্ভুক্ত থাকে।
====মাকড়সা====
[[File:Atrax robustus.jpg|thumb|সিডনির ফানেল-ওয়েব মাকড়সা সতর্ক ভঙ্গিতে]]
অস্ট্রেলিয়া মাকড়সার জন্য বিখ্যাত হলেও, মাকড়সায় মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল। অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সা দেখা সাধারণ ব্যাপার এবং বেশিরভাগ মাকড়সাই ক্ষতি করে না। বাগান করার সময় বা শুকনো পাতা ধরার সময় গ্লাভস পরা উচিত। বাইরে রাখা কাপড়, জুতা ইত্যাদি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝেড়ে নেওয়া দরকার। পাথরের নিচে বা গাছের ফোকরে আঙুল দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে মাকড়সা লুকিয়ে থাকতে পারে। কিছু মাকড়সা ঘরেও পাওয়া যায়, যেমন বড় আকারের লোমশ হান্টসম্যান মাকড়সা, যেগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয়, বরং আরশোলা জাতীয় কীটপতঙ্গ কমায়। বাগানের অরব উইভিং মাকড়সাদের বড় বড় জাল ঝামেলার হলেও বিপজ্জনক নয়।
তবে কিছু মাকড়সা খুবই বিপজ্জনক। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত মাকড়সা হলো '''সিডনি ফানেল-ওয়েব মাকড়সা''', যা মূলত সিডনি ও নিউ সাউথ ওয়েলসের পূর্বাঞ্চলে পাথর ও শুকনো পাতার নিচে পাওয়া যায়। এদের আকার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং সাধারণত কালো রঙের। ফানেল-ওয়েব অঞ্চলে যদি মাকড়সার কামড় লাগে, দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। এরা বেশিরভাগ সময় ভূগর্ভে থাকে (আর্দ্র গর্তের বাইরে আধ ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না), তাই খোলা জায়গায় এদের দেখা পাওয়া বিরল। সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে।
'''রেড-ব্যাক মাকড়সা''' (পেটের ওপর লাল দাগ দিয়ে সহজেই চেনা যায়) অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ। এর কামড়ে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যদিও ফানেল-ওয়েবের মতো জরুরি নয়। রেড-ব্যাক সাধারণত অন্ধকার কোণে লুকিয়ে থাকে এবং ঘরের ভেতরে সচরাচর দেখা যায় না। তবে বাইরে শেড, টেবিল-চেয়ারের নিচে বা পাথরের তলায় এরা লুকাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সার কামড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। সব সময় ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে যে মাকড়সা কামড়েছে তাকে চিনে রাখা ভালো-ছবি তুলে রাখা বা ধরে রাখা যেতে পারে যাতে দ্রুত অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া যায়। তবে আবার কামড় খাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
====জেলিফিশ====
উত্তর [[কুইন্সল্যান্ড]], [[নর্দার্ন টেরিটরি]] বা উত্তর [[ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া]] ভ্রমণকারীদের অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় '''বক্স জেলিফিশের''' প্রাণঘাতী হুলের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। এরা পানিতে ধরা পড়া কঠিন এবং অগভীর পানিতেও থাকে। এদের হুলের ব্যথা প্রচণ্ড কষ্টকর এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভিনেগার লাগালে বিষক্রিয়া কিছুটা কমে, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকির সময় ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত এরা তীরের কাছেই থাকে, তবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে সচরাচর পাওয়া যায় না এবং অনেকে সেখানকার পানিতে সাবধানতা ছাড়াই সাঁতার কাটে। স্থানীয় বিশ্বস্ত তথ্য নেওয়া জরুরি।
'''ইরুকান্দজি''' হলো আরেক ধরনের ক্ষুদ্র (নখের সমান আকারের) জেলিফিশ, যা উত্তর অস্ট্রেলিয়ার পানিতে এবং আশেপাশের ইন্দো-প্যাসিফিক দ্বীপে পাওয়া যায়। এরা চোখে দেখা কঠিন এবং কামড় বিপজ্জনক হলেও খুব বিরল। বক্স জেলিফিশের মতো এরা রিফ অঞ্চলে থাকে। প্রথম কামড় টের নাও পাওয়া যেতে পারে। এরা প্রাণঘাতী কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে হাসপাতালে ভর্তি এবং কয়েকদিন প্রচণ্ড যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে। পানির বাইরে আসার পর যদি বমিভাব বা তীব্র ব্যথা হয়, চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
জেলিফিশ প্রতিরোধী "স্টিঙ্গার-স্যুট" কিনতে প্রায় ১০০ ডলার লাগে বা সপ্তাহে ২০ ডলারে ভাড়া নেওয়া যায়।
====নীল-চক্র অক্টোপাস====
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের পাথুরে জোয়ারভাটা পুকুরে ছোট নীল-চক্র অক্টোপাস পাওয়া যায়। সাধারণত বালুমাখা বেইজ রঙের হলেও হুমকির মুখে এদের গায়ে উজ্জ্বল নীল বৃত্ত দেখা যায়। এরা বিরল ও ভীরু। পাথরের নিচে বা জোয়ারভাটা পুকুরে হাত না দেওয়াই ভালো, কারণ সেখানেই এরা লুকিয়ে থাকে। এদের বিষ খুবই শক্তিশালী এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে মৃত্যু ঘটাতে পারে যদি কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস না দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় নীল-চক্র অক্টোপাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।
====কুমির====
[[File:Crocodylus porosus - Daintree River.jpg|thumb|লোনা পানির কুমির]]
উত্তর কুইন্সল্যান্ড, নর্দার্ন টেরিটরি ও উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় '''লোনা পানির কুমিরের''' প্রাণঘাতী আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিং সাউন্ড থেকে কুইন্সল্যান্ডের রকহ্যাম্পটন পর্যন্ত এরা সমুদ্র, নদীর মোহনা ও মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এরা প্রায় ২৫ ফুট লম্বা হয় এবং হঠাৎ আক্রমণ করতে পারে। নামের সাথে "লোনা পানি" থাকলেও এরা মিঠা পানিতেও থাকে। স্থলে এরা সাধারণত স্থির থাকে, তবে হঠাৎ দ্রুতগতিতে নড়তে পারে। আক্রমণের বেশিরভাগই প্রাণঘাতী। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকে। নিরাপদ না বলা পর্যন্ত এসব অঞ্চলে সাঁতার কাটা উচিত নয়। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে একটি কুমির-আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
'''মিঠা পানির কুমির''' তুলনামূলক ভীতু এবং মানুষ এড়িয়ে চলে। তবে হঠাৎ ভয় পেলে বা ডিম রক্ষার সময় আক্রমণ করতে পারে। এদের কামড়ে আঘাত লাগে, তবে ছোট চোয়াল ও দাঁতের কারণে সচরাচর প্রাণঘাতী হয় না।
====বিপজ্জনক উদ্ভিদ====
'''জিম্পি গাছ''' (''Dendrocnide moroides''), যাকে স্টিংগিং ট্রি নামেও ডাকা হয়, একটি দংশনকারী উদ্ভিদ। এর পাতায় ও ডালে থাকা অতি সূক্ষ্ম দংশনকারী লোম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রচণ্ড যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে। এই গাছ প্রধানত উত্তর-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে, বিশেষ করে রেইন ফরেস্ট বা বর্ষাবনের ফাঁকা জায়গায় পাওয়া যায়। তবে জিম্পি গাছ এবং এ ধরনের আরও প্রায় পাঁচটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত প্রজাতি দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ড এবং আরও দক্ষিণে পূর্ব অস্ট্রেলিয়াতেও দেখা যায়। এ ধরনের এলাকায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে হাঁটার সময় ভ্রমণকারীদের কড়াভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়, যেন কোনো কারণেই এই গাছে হাত না দেন।
===অপরাধ ও পুলিশ===
অস্ট্রেলিয়ায় [[অপরাধ]]ের হার অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। ভ্রমণকারীদের অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে চুরি, ব্যাগ কেড়ে নেওয়া বা পকেটমারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা উচিত। কিছু শহরে রাতের বেলায় বিপজ্জনক এলাকা আছে, তবে সেগুলো সচরাচর পর্যটকদের যাওয়ার জায়গা নয়।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ সাধারণত সহজলভ্য ও বিশ্বস্ত। কোনো আক্রমণ, চুরি বা অপরাধ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো উচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় দুই ধরনের পুলিশ রয়েছে: রাজ্য/আঞ্চলিক পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। সাধারণত ভ্রমণকারীরা রাজ্য পুলিশের সাথেই যোগাযোগ করে। এএফপি মূলত সরকারি বিশেষ দায়িত্বে থাকে, তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে এএফপিই মূল পুলিশ বাহিনী হিসেবে কাজ করে, নাম ‘‘এসি-টি পুলিশিং’’।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে (যেমন কাস্টমস অফিসার) ঘুষ দেওয়া গুরুতর অপরাধ, এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।
গাড়ি রেখে গেলে অবশ্যই তালা দেওয়া, জানালা বন্ধ করা এবং গাড়ির ভেতরে মোবাইল, জিপিএস বা ব্যাগের মতো দৃশ্যমান কিছু না রাখা উচিত। চোরেরা প্রায়ই কাচ ভেঙে এসব নিয়ে যায়।
====প্রতারণা====
অস্ট্রেলিয়ায় [[প্রতারণা|প্রতারণামূলক]] কার্যকলাপ খুব বেশি দেখা যায় না। ভ্রমণকারীদের সাধারণ সাবধানতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে অপরাধীরা এটিএমে কারসাজি করে মুদ্রা আটকে রাখে বা কার্ডের তথ্য নেয়। এটিএম ব্যবহার করার পর ব্যাংক স্টেটমেন্টে সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে অবিলম্বে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। পিন নম্বর দেওয়ার সময় হাত দিয়ে ঢেকে রাখা প্রয়োজন, যাতে স্কিমিং ডিভাইস বা ক্যামেরা রেকর্ড করতে না পারে।
এটিএম স্কিমিং বিরল এবং সহজেই এড়ানো যায়-বিশ্বস্ত ব্যাংকের (এএনজেড, কমনওয়েলথ, ওয়েস্টপ্যাক, ন্যাব) এটিএম ব্যবহার করুন অথবা ব্যাংকের ভেতরের এটিএম ব্যবহার করুন, যেগুলো সাধারণত ২৪/৭ খোলা থাকে এবং বাইরে থেকে নিরাপদ।
এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিস (এটিও) কখনোই স্পটিফাই বা আইটিউনস গিফট কার্ড দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে বলে না। এই ধরনের প্রতারণা বিশেষত প্রবীণ ও অজ্ঞ মানুষদের লক্ষ্য করে করা হয়। কোলস, উলি, মায়ার, টার্গেট, বিগ ডব্লিউ, কেমার্ট ইত্যাদি দোকানে প্রায়শই ক্যাশ কাউন্টারে এ নিয়ে সতর্কবার্তা টাঙানো থাকে, যা পড়ে রাখা ভালো।
===বর্ণবৈষম্য===
[[File:Car with personalised plate celebrating being a Wog.jpg|thumb|ড্রাইভারের গাড়ির নম্বরপ্লেট তাকে "ওগ" বলার আমন্ত্রণ নয়]]
অস্ট্রেলিয়া বাইরে থেকে একটি বহুসংস্কৃতিমূলক এবং জাতিগতভাবে সহিষ্ণু সমাজ হিসেবে পরিচিত, এবং এখানে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও জাতিগত বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার আইন রয়েছে। তবুও, দেশটির ঔপনিবেশিক ইতিহাস পুরোপুরি অতিক্রম করা যায়নি, তাই বর্ণবৈষম্য একটি সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে। আদিবাসীদের জমি দখল, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, রাষ্ট্র-সমর্থিত বর্ণবাদ, এমনকি আদিবাসী শিশুদের জোরপূর্বক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা (যা "চুরি হওয়া প্রজন্ম" নামে পরিচিত) বিশ শতক পর্যন্ত চলেছে। ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ফলে সাদা-প্রাধান্যভিত্তিক অভিবাসননীতি বাতিল হয়েছে, আদিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর বড় বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
তবে সবাই এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট নয়, বিশেষ করে আদিবাসীরা এখনও ব্যাপক বর্ণবৈষম্যের মুখোমুখি হন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণকারীরা সাধারণত হঠাৎ করে জাতিগত গালাগালির শিকার হন না। যদি এমন কিছু ঘটে, তবে পুলিশকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহিংস ঘটনা আরও বিরল।
ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে জাতিগত পরিচয় নিয়ে কিছু শব্দ ব্যবহার করে, তবে দর্শনার্থীদের জন্য এগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি "পম" (ব্রিটিশ), "ইয়াঙ্ক" (আমেরিকান), "পাকি" (ভারতীয় উপমহাদেশীয়), "ওগ" (দক্ষিণ ইউরোপীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের লোক), এবং "কারি মান্চার" (দক্ষিণ ভারতীয়) শব্দ শুনতে পারেন। বিশেষত ব্রিটিশরা এই শব্দগুলোকে অপমানজনক মনে করে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় অনেক বেশি সহজভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে কখনোই আদিবাসীদের "আবো", "নেটিভ ট্রাইবস", "অ্যাবরিজিনস" বা "নুগাস" বলা যাবে না, এগুলো অত্যন্ত বর্ণবাদী শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় কিছু অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন ও অ্যান্টি-মাল্টিকালচারাল গোষ্ঠী আছে, যারা মূলত মুসলিম ও আফ্রিকান দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালায়। ভ্রমণকারীদের এদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে রাতে কোনো পাব-এ গিয়ে কারও জাতিগত মতামত খোঁচাতে চাইলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মেলবার্নের পশ্চিমাঞ্চলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তরুণদের সম্পৃক্ত কিছু অপরাধ ঘটেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এতে বর্ণবাদী মনোভাব আরও উসকে দিয়েছে।
"অজি" (ওজি) শব্দটি অস্ট্রেলিয়ানদের বর্ণনা করতে ব্যবহার করলে অপমানজনক নয়, তবে তারা সাধারণত নিজেদের ক্ষেত্রে শব্দটি ব্যবহার করেন না। বরং "অজি রুলস" জাতীয় খেলা বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে "অজি, অজি, অজি - ওই, ওই, ওই" ধ্বনি উঠলে কেউ কেউ এতে অস্বস্তি বোধ করেন, আবার কেউ যোগ দেন। এটি প্রায়শই তাদের সামাজিক অবস্থান বা মদ্যপ অবস্থার উপর নির্ভর করে।
সিডনি, মেলবার্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, গোল্ড কোস্ট, নিউক্যাসল, হোবার্ট বা ক্যানবেরার মতো বড় শহরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া বহুসংস্কৃতিমূলক মনে হলেও, গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত কম বৈচিত্র্যময় এবং তাদের অ্যাংলো-সেল্টিক ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকে। যারা বাইরে থেকে "অজি" বলে মনে হয় না, তাদের প্রায়ই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। তবে এটি সাধারণত অভিবাসীদের (বিশেষত ভিয়েতনামি, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত) বিরুদ্ধে হয়, পর্যটকদের বিরুদ্ধে নয়।
===তামাক===
অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত '''বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ ধূমপায়ীদের জন্য'''। এক প্যাকেট বৈধ সিগারেটের দাম ৫০ ডলারেরও বেশি। ভেপ পাওয়া গেলে তার দাম প্রায় ৬০ ডলার। কালোবাজারি ঢিলা তামাক "চপ-চপ" নামে পরিচিত, আর অবৈধভাবে আনা চীনা সিগারেটও দোকানে গোপনে বিক্রি হয়।
===অবৈধ মাদক===
অপিয়াম, হেরোইন, অ্যামফেটামিন (স্পিড), কোকেইন ("কোক"), এলএসডি এবং এক্সট্যাসি ("মলি") অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে রাখা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। মাদক পাচারে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হয়, আর গুরুতর ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া অন্যান্য দেশের সাথে মাদক পাচারের তথ্য শেয়ার করে, এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে এমন দেশগুলোর সাথেও।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গাঁজা ("মারিজুয়ানা"/"উইড"/"পট"/"গাঞ্জা") ব্যবহার ফেডারেল স্তরে বৈধ হলেও প্রেসক্রিপশন পাওয়া জটিল প্রক্রিয়া, যা পর্যটকদের জন্য কার্যত অসম্ভব। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (ক্যানবেরা) ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বৈধ করেছে, তবে বাণিজ্যিক বিক্রি অনুমোদিত নয়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরিতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের পরিমাণ রাখা অপরাধ নয়, তবে জরিমানা হয়। অন্যান্য সব রাজ্যে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং বিদেশিদের জন্যও শাস্তি সমান কঠোর। মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, এতে গ্রেফতার, মামলা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জেলও হতে পারে।
'''কোনো অবস্থাতেই অবৈধ মাদক অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না''', এমনকি গাঁজাও নয়। এর শাস্তি দীর্ঘমেয়াদী জেল, এমনকি যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রায়ই মাদক শনাক্তকারী কুকুর ব্যবহার করেন, যা যাত্রীদের লাগেজে মাদক শনাক্ত করে। এমনকি কেউ ভ্রমণের আগের দিন গাঁজা খেলেও তা শনাক্ত করতে পারে, ফলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে পড়তে হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার এশিয়ার নিকটে থাকার কারণে এখানে হেরোইন কোকেইনের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বড় শহরের কিছু এলাকায় ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুচ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে পর্যটন এলাকায় নয়, বরং অপ্রচলিত গলিতে।
===অস্ত্র===
অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র রাখার নিয়ম খুবই কঠোর। সাধারণত গ্রামীণ এলাকার শিকারি, কৃষক ও ক্রীড়া শুটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যে কোনো ধরনের অস্ত্র রাখার জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ। একক গুলি চালানো রাইফেল, শটগান বা পিস্তল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা সম্ভব হলেও প্রক্রিয়াটি জটিল। শহরের অপরাধী গ্যাংদের হাতে মাঝে মাঝে অবৈধ অস্ত্র থাকে, তবে ভ্রমণকারীরা সচরাচর এদের সম্মুখীন হয় না।
অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। ভ্রমণের আগে প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা পুলিশ পারমিট নিতে হয়।
===এলজিবিটি ভ্রমণকারী===
{{see also|এলজিবিটি ভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ায় বয়সসীমা সমানভাবে নির্ধারিত-সব রাজ্যে ১৬ বছর, তবে তাসমানিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ১৭ বছর। সমলিঙ্গ বিবাহ ২০১৭ সালে বৈধ হয়েছে, যখন ডাকযোগে হওয়া এক গণভোটে ৬১% মানুষ সমর্থন জানায়।
সমকামিতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। সিডনি বিশ্বের অন্যতম সমকামী-বান্ধব শহর হলেও কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরির মতো রক্ষণশীল গ্রামীণ এলাকায় সতর্ক থাকা ভালো। যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্য করা আইনত নিষিদ্ধ এবং ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশি সহায়তা সীমিত হতে পারে। ট্রান্সজেন্ডাররাও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গৃহীত।
সিডনি অস্ট্রেলিয়ার সমকামী সংস্কৃতির কেন্দ্র এবং প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্বের অন্যতম বড় সমকামী উৎসব [http://www.mardigras.org.au সিডনি গে অ্যান্ড লেসবিয়ান মার্ডি গ্রা] অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত-সহস্র মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করতে আসে। [[অ্যালিস স্প্রিংস]]-এ এপ্রিল-মে মাসে "অ্যালিস ইজ ওয়ান্ডারল্যান্ড ফেস্টিভাল" হয়। [[মেলবোর্ন]]-এ প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম রবিবার [https://www.midsumma.org.au মিডসামা ফেস্টিভাল] অনুষ্ঠিত হয়।
==সুস্থ থাকুন==
===ত্বক===
[[File:Sunbaker maxdupain nga76.54.jpg|thumbnail|১৯৩৭ সালের "সানবেকার" অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলোর একটি।]]
অস্ট্রেলিয়ার অক্ষাংশে সূর্যের আলোয় থাকলে প্রায়ই '''[[রোদে পোড়া]]''' (সানবার্ন) হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ানদের ত্বকের ক্যান্সারের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। রোদে পোড়া হলে জ্বর জ্বর লাগতে পারে, শরীর খারাপ হতে পারে এবং সেরে উঠতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, পোড়ার তীব্রতার উপর নির্ভর করে। এর মানে হলো রোদে পোড়া না সারানো পর্যন্ত আপনি বাইরে সূর্যের নিচে যেতে পারবেন না। তাই সমুদ্রসৈকতে ছুটির প্রথম দিনেই রোদে পোড়া হলে পুরো ভ্রমণের আনন্দ কমে যেতে পারে। গ্রীষ্মকালে অস্ট্রেলিয়ায় পরিষ্কার দিনে মাত্র ১৫ মিনিটে রোদে পোড়া হতে পারে-even ছায়ায় দাঁড়িয়েও। তাই সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৫০+), জামা-কাপড় এবং টুপি ব্যবহার করে সূর্যের আলো থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
সানস্ক্রিন প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পরপর আবার মাখুন, বিশেষ করে ঘামলে বা সাঁতার কাটলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের সব জায়গা ভালোভাবে ঢেকে দিন। দুপুরবেলার অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি) সকাল বা বিকেলের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী হতে পারে, তাই সবচেয়ে গরম সময়ে রোদ এড়ানোই ভালো। [http://www.bom.gov.au/australia/uv/index.shtml প্রতিদিনের ইউভি পূর্বাভাস] অনলাইনে আবহাওয়া দপ্তর থেকে দেওয়া হয়।
'''স্প্রে সানস্ক্রিন''' বোতল থেকে ছিটিয়ে দেওয়া সহজ হওয়ায় জনপ্রিয়, তবে এটি সাধারণ সানস্ক্রিনের তুলনায় অনেক কম কার্যকর।
আপনি যদি সমুদ্রসৈকতে যান, একটি সান-টেন্ট কেনার কথা ভাবতে পারেন (ডিসকাউন্ট বা হার্ডওয়্যার দোকানে ২০ ডলারেরও কমে পাওয়া যায়)। অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে সাধারণত ছাতা ভাড়া পাওয়া যায় না, আর এগুলো অনেকটাই খোলা জায়গায় থাকে।
===খাদ্য প্রস্তুতি===
অস্ট্রেলিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মান অনেক উঁচু। রেস্টুরেন্টগুলোকে কঠোর খাদ্য প্রস্তুতির মান বজায় রাখতে হয়। [[খাদ্যে বিষক্রিয়া]]র হার অন্যান্য উন্নত দেশের সমান।
===পানি===
শহরের '''[[কলের পানি]]''' সবসময় পান করার জন্য নিরাপদ। মাঝে মাঝে রিসাইকেল করা পানি ট্যাপ দেখতে পাবেন যা শুধু গাছে পানি দেওয়ার জন্য, এগুলো বেগুনি রঙের হয়। শহরে ও পর্যটনকেন্দ্রে পাবলিক পানির ফোয়ারা ও বোতল ভরার স্টেশন সাধারণত থাকে। পানির স্বাদ ও কঠোরতা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন হয়। যেমন [[অ্যাডিলেড]] শহরে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হয়, যার স্বাদ খারাপ হলেও পান করার জন্য নিরাপদ। অনেক পরিবার পানি পরিশোধক জগ ব্যবহার করে। বোতলজাত পানি সর্বত্র সহজলভ্য। গরম দিনে শহরে পানি বহন করা ভালো, আর হাইকিং বা শহরের বাইরে ভ্রমণে এটি একেবারেই প্রয়োজনীয়। দূরবর্তী আউটব্যাকে অনেক জায়গায় কলের পানি পরিশোধিত থাকে না। সেক্ষেত্রে সেদ্ধ করার বিকল্প হিসেবে পানি জীবাণুনাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণে বের হলে কতটুকু পানি নিতে হবে, ভেঙে পড়লে কীভাবে সামলাবেন-এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, প্রায় প্রতিবছরই কেউ না কেউ আউটব্যাকে তৃষ্ণায় মারা যায়। গাড়ি বিকল হলে গাড়ির কাছে থাকুন, কারণ এতে ছায়া পাওয়া যায় এবং আপনাকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
===টিকা===
অস্ট্রেলিয়ায় এমন কোনো সংক্রামক রোগ নেই যা বিশেষ টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে অন্যান্য অনেক দেশের মতো, যদি আপনি ভ্রমণের ৬ দিনের মধ্যে কোনো [[হলুদ জ্বর]] আক্রান্ত দেশ থেকে আসেন, তাহলে প্রবেশের সময় হলুদ জ্বরের টিকার প্রমাণ দেখাতে হবে।
===মশা===
অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সারা বছর মশা থাকে, আর দক্ষিণাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে। জানালা ও দরজায় জাল লাগানো থাকে এবং বাজারে প্রতিরোধক সহজেই পাওয়া যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলে মশার মাধ্যমে "রস রিভার ভাইরাস" ছড়ায়, যা কয়েক সপ্তাহ অসুস্থ রাখতে পারে। [[ডেঙ্গু জ্বর]]ও হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে, এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ায় ম্যালেরিয়া নেই।
===চিকিৎসা===
[[File:VH-FDE (16640399301).jpg|thumb|রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিসের বিমান]]
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা নম্বর হলো '''০০০'''। যেকোনো চিকিৎসা জরুরিতে এই নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা ডাকতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা মান উন্নত দেশের মতো। বিশেষ করে, এখানে রক্ত দেওয়া নিরাপদ, কারণ সব দাতার রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য রোগ পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ঘনত্ব কম; অনেক জায়গা চিকিৎসা সুবিধা থেকে অনেক দূরে। এসব জায়গায় '''[[রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস]]''' কাজ করে। ৫,০০০ বা তার বেশি জনসংখ্যার ছোট শহরে জরুরি চিকিৎসার জন্য ছোট হাসপাতাল থাকে। বড় শহরে রুটিন ও কিছু জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য বেস হাসপাতাল থাকে। জটিল চিকিৎসার জন্য অনেক সময় রাজধানী শহরে নেওয়া হয়।
রাজধানী শহরগুলোতে মেডিকেল সেন্টার থাকে, যেখানে সপ্তাহান্তে বা রাত অবধি চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে ছোট শহরে সময় নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হতে পারে। জরুরি না হলে হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
* {{listing
| name=বিষ সংক্রান্ত তথ্য হটলাইন
| phone=13 11 26 (শুধু অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে)
| content=ভুলবশত কোনো ওষুধ বা বিষ গ্রহণ করলে বিনামূল্যে পরামর্শ দেয়। এছাড়া মাকড়সার কামড়ের মতো বিষয়ে কী চিকিৎসা প্রয়োজন সেটিও বলে দেয়। তবে তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা হলে অবশ্যই '০০০' নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।
}}
==== চিকিৎসা খরচ ও ভ্রমণ বিমা ====
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা কর-অর্থায়িত '''মেডিকেয়ার''' ব্যবস্থার সুবিধা নেন। বিদেশি শ্রমিক বা শিক্ষার্থীদের (যদি পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে) সাধারণত ভিসার শর্ত অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা নিতে হয়। স্বল্প মেয়াদের বিদেশি ভ্রমণকারীদের ভ্রমণ বিমা থাকা জরুরি, কারণ চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে। '''মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স, বেসরকারি হাসপাতাল বা দাঁতের চিকিৎসা কাভার করে না''', এগুলোর জন্য আপনাকে বেসরকারি বিমা নিতে হবে।
[[বেলজিয়াম]], [[ফিনল্যান্ড]], [[আয়ারল্যান্ড]], [[ইতালি]], [[মাল্টা]], [[নেদারল্যান্ডস]], [[নিউজিল্যান্ড]], [[নরওয়ে]], [[স্লোভেনিয়া]], [[সুইডেন]] ও [[যুক্তরাজ্য]] থেকে আগত পর্যটকেরা '''বিনামূল্যে জরুরি মেডিকেয়ার চিকিৎসা''' পান। তবে শর্ত ভিন্ন হতে পারে। যেমন, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা কেবল হাসপাতালের চিকিৎসা বিনামূল্যে পান, অন্যরা ডাক্তার দেখানোর জন্যও ভর্তুকি পান। তবে বেসরকারি হাসপাতালে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না, সব খরচ নিজেকেই বহন করতে হয় বা ভ্রমণ বিমা দিয়ে দিতে হয়।
যদি আপনার দেশের সঙ্গে কোনো পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে, তাহলে ভ্রমণ বিমা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ চিকিৎসকের কাছে যেতে প্রায় ৮০ ডলার খরচ হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ আলাদা। হাসপাতালে ভর্তি না হলেও ৫০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, আর ভর্তি হলে ১,০০০ ডলারেরও বেশি লাগতে পারে। উদ্ধার ও রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস বিনামূল্যে হলেও, ছোট শহর থেকে রাজধানীতে বা দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করতে হাজার হাজার ডলার খরচ হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরাও অ্যাম্বুলেন্স ও এয়ার-অ্যাম্বুলেন্স বিনামূল্যে পান না। স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানিগুলো সাধারণত শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারও বিক্রি করে। তবে সেগুলো প্রায়ই শুধু নিজের রাজ্যে কার্যকর থাকে, তাই অন্য রাজ্যে ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হোন। দেশীয় ভ্রমণ বিমা সাধারণত চিকিৎসা বা অ্যাম্বুলেন্স ব্যয় কাভার করে না। জরুরিতে মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স খরচ (১,০০০ ডলার থেকে শুরু) দেয় না; শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারসহ বেসরকারি বিমাই এই ব্যয় বহন করবে।
সাপ ও মাকড়সার বিষের প্রতিষেধক অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার না হলেও এর খরচ ১০,০০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।
==সংযোগ==
===টেলিফোন===
====অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক কল====
আন্তর্জাতিক কলের প্রধান অ্যাক্সেস কোড বা প্রিফিক্স হলো '''০০১১'''। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ০০১১ প্রিফিক্সের পরিবর্তে প্লাস চিহ্ন "+" ব্যবহার করা যায়।
====ডায়ালিং কোড====
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক কল করার জন্য দেশের কোড হলো +৬১। বিদেশ থেকে কল করার সময় এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হবে। একই এরিয়া কোডের মধ্যে কল করলে এরিয়া কোড ব্যবহার করা ঐচ্ছিক।
[[নরফোক দ্বীপ]] ও অস্ট্রেলিয়ান-অ্যান্টার্কটিক ঘাঁটির জন্য +৬৭২ কোড ব্যবহার করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার কোড নয়। বিস্তারিত জানার জন্য নির্দিষ্ট নিবন্ধ দেখুন।
অস্ট্রেলিয়ার এরিয়া কোড তালিকা:
* ০২ = সেন্ট্রাল ইস্ট (নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি ও ভিক্টোরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ)
* ০৩ = সাউথ ইস্ট (দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া)
* ০৪ = সারা দেশে মোবাইল ফোন (কল চার্জ বেশি)
* ০৭ = নর্থ ইস্ট (কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসের কিছু অংশ)
* ০৮ = সেন্ট্রাল ও ওয়েস্ট (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি ও পশ্চিম নিউ সাউথ ওয়েলস)
লোকাল কল বিনামূল্যে।
* বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরে কল করতে চাইলে ফরম্যাট হবে +৬১ ৮৮০৮০৩৩০০ (শুরুতে "০" দেবেন না; প্রয়োজনে "+" এর পরিবর্তে আপনার দেশের আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স ব্যবহার করুন)।
* অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে আন্তর্জাতিক কল করতে চাইলে প্রথমে আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স (০০১১ বা "+") চাপুন, এরপর দেশের কোড, গন্তব্যের এরিয়া কোড, তারপর স্থানীয় নম্বর। বেশিরভাগ দেশে এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হয় (অস্ট্রেলিয়ার মতো)।
উদাহরণ: [[মোরি (নিউ সাউথ ওয়েলস)|মোরি]] ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের স্থানীয় নম্বর হলো {{nowrap|৬৭৫৭-৩৩৫০}}। মোরি যেহেতু সেন্ট্রাল ইস্ট অঞ্চলে পড়ে, তাই এরিয়া কোড হবে ০২। [[সিডনি]] বা একই এরিয়া কোড থেকে কল করলে শুধু {{nowrap|৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করলেই হবে। [[ব্রিসবেন]] বা অন্য কোনো ভিন্ন এরিয়া কোড অঞ্চল থেকে কল করলে {{nowrap|০২ ৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করতে হবে। আপনি আপনার এরিয়া কোড না জানলেও এরিয়া কোড লিখে দিলে কাজ করবে। বিদেশ থেকে কল করতে হলে {{nowrap|+৬১ ২ ৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করতে হবে।
====বিশেষ নম্বর====
* '''১৩''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো লোকাল কল রেটে চার্জ হয়, এবং আপনার অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন সেবা দেয়। এগুলো ৬ বা ১০ সংখ্যার হতে পারে। যেমন, ১৩০০ ৭৯৬ ২২২ নম্বরে কল করলে [[অলবারি]] ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনে সংযুক্ত হবেন, আপনি অস্ট্রেলিয়ার যেখানেই থাকুন না কেন। তবে ১৩১ ০০৮ নম্বরে কল করলে আপনার অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ট্যাক্সি সেবার সাথে সংযোগ দেবে। ১৩ ২২ ৩২ কল করলে নিউ সাউথ ওয়েলস রেলওয়ে (সিডনি) বা ভিক্টোরিয়া রেলওয়ের (মেলবোর্ন)- সাথে সংযোগ করবে। আন্তর্জাতিকভাবে এই নম্বরগুলোতে কল করা অনেক সময় সমস্যা তৈরি করে।
* '''১৮''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো পে-ফোন বা ল্যান্ডলাইনে বিনামূল্যে, এবং প্রায়ই হোটেল রিজার্ভেশন বা ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের জন্য ব্যবহার হয়।
* '''১৯''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো প্রিমিয়াম, এবং এদের কল চার্জ অত্যন্ত বেশি হতে পারে। কল করার আগে ভালোভাবে দেখে নিন।
* '''১২''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো ক্যারিয়ার সেবা, এবং আপনি কোন নেটওয়ার্কে আছেন তার ওপর নির্ভর করে। যেমন, '''১২ ৪৫৬''' হলো টেলস্ট্রার সাধারণ তথ্য সেবা। ভোডাফোন একই ধরনের সেবা দেয় '''১২৩''' নম্বরে। এগুলোও প্রিমিয়াম সেবা হতে পারে।
বিশেষ নম্বরগুলোতে আন্তর্জাতিক কল অনেক সময় কাজ করতে পারে-শুধু নম্বরের আগে +৬১ কোড যোগ করে চেষ্টা করুন। অনেক সময় আলাদা সরাসরি আন্তর্জাতিক নম্বরও দেওয়া থাকে।
রিভার্স চার্জ (কলেক্ট) কল করা খুব ব্যয়বহুল এবং সমস্যাজনক হতে পারে। টেলস্ট্রা পাবলিক ফোন থেকে ১২৫৫০ ব্যবহার করতে পারেন, অথবা যেকোনো ফোন থেকে ১৮০০ NO CASH ব্যবহার করতে পারেন। তবে যেই নম্বরে কল করছেন সেটি অবশ্যই চার্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হতে হবে (সাধারণত ল্যান্ডলাইন বা বড় টেলকোর মোবাইল)।
====মোবাইল ফোন====
{{anchor|Mobile Cellular Phones}}
অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক রয়েছে-[http://www.telstra.com.au টেলস্ট্রা], [http://www.optus.com.au অপটাস] এবং [http://www.vodafone.com.au ভোডাফোন]। প্রতিটি নেটওয়ার্কের আবার অনেক রিসেলার আছে। এরা সবাই এলটিই (৪জি) এবং ৫জি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে; ৩জি ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে এবং ২০২৪ সালের শেষে এটি আর চালু থাকবে না। সাধারণভাবে টেলস্ট্রা সবচেয়ে ভালো কাভারেজ দেয়, তবে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুলও। ভোডাফোন সাধারণত সস্তা, কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। জনশূন্য বা জনবসতি কম এমন এলাকা, বিশেষ করে প্রধান সড়কের বাইরে, অনেক সময় কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। আপনি যদি গভীর বুশ অঞ্চলে যান, তবে '''স্যাটেলাইট ফোন''' হয়তো একমাত্র সমাধান। মনে রাখবেন, সব ধরনের মোবাইল ফোন দিয়ে যেকোনো নেটওয়ার্কে জরুরি কল করা যায়-এমনকি স্থানীয় সিম না থাকলেও বা রোমিং সক্রিয় না থাকলেও। স্যাটেলাইট ফোনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
বিদেশি সিম কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক রোমিং সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার ৪জি নেটওয়ার্কে সহজেই কাজ করে, তবে এটি আপনার নিজ দেশের অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির উপর নির্ভর করে। ৫জি নেটওয়ার্ক ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে, তাই আপনার ফোনের সামঞ্জস্যতার উপর নির্ভর করে কাভারেজ ভিন্ন হতে পারে। ভ্রমণের আগে আপনার স্থানীয় অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন। বিদেশি নাগরিকরা সহজেই অস্ট্রেলিয়ার প্রিপেইড সিম কিনতে পারেন, তবে সাধারণত পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্টের মতো ছবি-সংবলিত আইডি লাগতে পারে।
একটি সস্তা প্রিপেইড মোবাইল ফোন ও সিমসহ প্রায় ৪০ মার্কিন ডলারে অধিকাংশ দোকান, সুপারমার্কেট ও পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র সিম কিনতে চাইলে দাম প্রায় ২–৩ ডলার। প্রিপেইড রিচার্জ কার্ড সব সুপারমার্কেট, সংবাদপত্রের দোকান, কিছু এটিএম এবং অন্যান্য আউটলেটে পাওয়া যায়।
ডেটা, এসএমএস ও কল সময় মিলিয়ে অসংখ্য ধরনের প্যাকেজ, সিম ও ফোন বান্ডল কেনা যায়। কিছু অপারেটর কলের মিনিট বা এসএমএস আলাদা না দেখিয়ে প্যাকেজে একটি নির্দিষ্ট অর্থমূল্য দেয়, এবং আপনাকে আলাদা করে কল, এসএমএস ও ডেটা রেট দেখে হিসাব করতে হয়। এক প্ল্যান থেকে আরেক প্ল্যানে এ রেট ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যান নির্বাচন করা জরুরি, কারণ প্যাকেজের বাইরে অতিরিক্ত কল বা ডেটা ব্যবহার করলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। প্রচলিত সিম কার্ডের বিকল্প হিসেবে ভ্রমণকারীরা [https://baztel.co বাজটেল]-এর মতো স্থানীয় প্রদানকারীদের ই-সিমও নিতে পারেন, যা শুধুমাত্র ডেটা-সেবা দেয়।
৩জি বন্ধ হওয়ার কারণে আপনার বর্তমান ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারযোগ্য হবে কি না তা নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ে-ফোনে ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE) সমর্থন থাকতে হবে, প্রস্তুতকারককে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার অন্তত একটি অপারেটরের কনফিগারেশন ফাইল ফোনে লোড করতে হবে, ফোনটিকে জরুরি কলের জন্য এলটিই-তে সমর্থন করতে হবে, এবং সার্ভিস প্রদানকারীকে সেটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ফোনটি অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হয় কিনা তা সামঞ্জস্যতার নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ রপ্তানি অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে ছোটখাটো ভিন্নতা থাকতে পারে। অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত, রোমিং (অর্থাৎ নিজের দেশের সিম নিয়ে আসা) কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা পরিষ্কার নয়। আপনি হয়তো শুধুমাত্র ডেটা প্ল্যান কিনতে পারবেন, যা ইন্টারনেট ব্যবহার ও এসএমএস গ্রহণের সুযোগ দেবে (কিন্তু পাঠানো যাবে না), তবে কল করা বা ধরা যাবে না-এখনো তা নিশ্চিত নয়। হয়তো আপনাকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ফোন কিনতে হবে। তবে ওয়াই-ফাই এতে প্রভাবিত নয়, তাই শহর ও গ্রামে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা সম্ভব।
===স্যাটেলাইট ফোন===
[[File:Telstra phonebox at Quinns.jpg|thumb|একটি সাধারণ টেলস্ট্রা পে-ফোন]]
দূরবর্তী এলাকায় ব্যবহার উপযোগী স্যাটেলাইট ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ভাড়া পাওয়া যায়। ইরিডিয়াম, গ্লোবালস্টার ও থুরাইয়া সেবা চালু আছে। ভাড়ায় নিতে সপ্তাহে প্রায় ১২০ ডলার খরচ হয়, কল চার্জ আলাদা। শুধু বার্তা পাঠানোর ডিভাইস সপ্তাহে প্রায় ৮০ ডলারে পাওয়া যায়।
এই যন্ত্রগুলো কেবল বিশেষায়িত বিক্রেতাদের কাছেই পাওয়া যায়, আর তা-ও সাধারণত বড় শহরগুলোতে (আপনি যে দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ করতে পারেন তার বাইরে)। তবে চাইলে আপনি যাত্রার আগে নিজ দেশ থেকেই এসব যন্ত্র কিনতে বা ভাড়ায় নিতে সক্ষম হবেন।
স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে জরুরি কল করা যায়, এর জন্য সিম কার্ড বা সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে সস্তা ফোনের দাম প্রায় ৩০০ মার্কিন ডলার, যা একটি পিএলবির (পার্সোনাল লোকেটর বিকন) চেয়ে সামান্য বেশি মাত্র।
=== গণফোন ===
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ শহর ও উপশহরে অন্তত একটি করে গণফোন থাকে। প্রায় সব রেলস্টেশনেই গণফোন থাকে। অস্ট্রেলিয়ার সব গণফোন থেকে '''স্থানীয় ল্যান্ডলাইন ও মোবাইলে কল ফ্রি'''। আন্তর্জাতিক কল করার জন্য টেলস্ট্রা বা সংবাদপত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে তৃতীয় পক্ষের কলিং কার্ড ব্যবহার করা যায়। যেকোনো টেলস্ট্রা গণফোন থেকে পুরোনো ধাঁচের মোবাইল ফোনের মতো কীপ্যাড ব্যবহার করে বিনামূল্যে টেক্সট মেসেজ পাঠানো যায়। ফোনের ডিসপ্লেতে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
=== ওয়াইফাই ===
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব ধরনের আবাসন, যেমন যুব হোস্টেল ও ক্যারাভান পার্ক থেকে শুরু করে ৫-তারকা হোটেল পর্যন্ত, '''ফ্রি ওয়াই-ফাই''' সরবরাহ করে। অধিকাংশ ক্যাফে, শপিং মল এমনকি কিছু গণপরিবহন যেমন ট্রেন ও ফেরিতেও ওয়াই-ফাই থাকে। পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে পাবলিক লাইব্রেরি সবচেয়ে ভালো জায়গা। ইন্টারনেট ক্যাফে প্রায় বিলুপ্ত, যদিও কিছু গেমিং ক্যাফে এখনো আছে।
বড় শহরগুলোতে শপিং মল ও বড় দোকানে ফ্রি ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়, এবং ক্রমশই গণপরিবহনেও এটি চালু হচ্ছে। সিডনির ফেরি ও অ্যাডিলেডের ট্রাম ফ্রি ওয়াই-ফাই সরবরাহ করে।
=== রেডিও ও টেলিভিশন ===
অস্ট্রেলিয়ার দুটি জাতীয় পাবলিক সম্প্রচারক রয়েছে: [http://www.abc.net.au/ এবিসি] এবং [https://www.sbs.com.au/ এসবিএস]। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) স্থানীয় রেডিও, ট্রিপল জে (যুব/ইন্ডি সংগীত) ও এবিসি ক্লাসিক এএম/এফএম রেডিওতে সম্প্রচার করে এবং পাঁচটি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করে। স্পেশাল ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (এসবিএস) ছয়টি টিভি চ্যানেল এবং দুটি অ্যানালগ রেডিও স্টেশনে বেশি জাতিগত, দ্বিভাষিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচার করে। উভয় সম্প্রচারকই জনবহুল অঞ্চলে পাওয়া যায়, তবে এবিসির রেডিও কভারেজ বেশি। রাজধানীগুলোতে ডিএবি+ ডিজিটাল রেডিওও পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি ফ্রি-টু-এয়ার বাণিজ্যিক টিভি নেটওয়ার্ক রয়েছে: [https://au.tv.yahoo.com/ সেভেন], [https://www.nine.com.au/ নাইন] এবং [https://tenplay.com.au/ টেন]। শহর ও নগরের প্রায় সব আবাসনেই এসব চ্যানেল পাওয়া যায়। কেবল টিভির একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান আগে ফক্সটেল ছিল, যা এখনো অনেক হোটেলে প্রচারিত হয়, তবে বর্তমানে নেটফ্লিক্স ও এর স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী [https://stan.com.au স্ট্যান] ও [https://kayosports.com.au/ কায়ো স্পোর্টস] বেশি জনপ্রিয়।
শহর যত বড়, রেডিও স্টেশনও তত বেশি। গ্রামীণ শহরে সাধারণত একটি বাণিজ্যিক রেডিও স্টেশন এবং [https://www.abc.net.au/local/ এবিসি] থাকে। গ্রামীণ শহরের মধ্যে গাড়ি চালালে প্রায়ই সব রেডিও সিগনাল হারাতে পারেন। তাই আগে থেকেই গান বা পডকাস্ট ডাউনলোড করা ভালো। জরুরি অবস্থা বা বুশফায়ার ঝুঁকির সময় ভ্রমণের সময় এবিসির সম্প্রচারে মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
=== সংবাদ ===
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান জাতীয় ব্রডশিট পত্রিকা হলো [https://www.theaustralian.com.au/ দ্য অস্ট্রেলিয়ান], আর্থিক ও ব্যবসায়িক সংবাদে বিশেষায়িত [http://www.afr.com/ দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ]। এছাড়াও রাজ্যভিত্তিক স্থানীয় পত্রিকা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিডনিভিত্তিক ''[http://www.smh.com.au/ দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড]'' এবং ''[https://www.dailytelegraph.com.au/ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ]'', এবং মেলবোর্নভিত্তিক ''[https://www.theage.com.au/ দ্য এজ]'' ও ''[http://www.heraldsun.com.au/ হেরাল্ড সান]''।
=== ডাক ব্যবস্থা ===
[[File:Australia Post boxes.jpg|thumb|এক্সপ্রেস (হলুদ) ও সাধারণ (লাল) অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্স]]
'''[http://www.auspost.com.au অস্ট্রেলিয়া পোস্ট]''' অস্ট্রেলিয়ার ডাকসেবা পরিচালনা করে। লাল রঙের অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্সে চিঠি ফেলা যায়, যা পোস্ট অফিস ও অন্যান্য অনেক জায়গায় থাকে। ডাকটিকিট সব পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়, কিছু টিকিট সংবাদপত্র বিক্রেতা ও হোটেলেও মেলে। অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে একটি সাধারণ চিঠি বা পোস্টকার্ড পাঠাতে খরচ হয় ১.৭০ ডলার (২৫০ গ্রাম পর্যন্ত), আর আন্তর্জাতিক ডাকের খরচ ৩.০০ থেকে ৩.৭০ ডলার (২০ গ্রাম পর্যন্ত)। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ডাক পাঠাতে খরচ হয় ২.৪০ ডলার, তবে খামে "শুধু কার্ড" লিখতে হয়। ‘ডোমেস্টিক’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ টিকিট আলাদা, কারণ আন্তর্জাতিক ডাক করমুক্ত। তাই সঠিক টিকিট ব্যবহার করা জরুরি। পার্সেল, এক্সপ্রেস পোস্টসহ অন্যান্য সেবাও পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ার ঠিকানার ধরন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো:
<blockquote>প্রাপকের নাম<br/>(প্রয়োজন হলে) ইউনিট নম্বর বা ভবনের নাম<br/>বাড়ির নম্বর ও সড়কের নাম<br/>শহর বা নগর, রাজ্যের ২ বা ৩ অক্ষরের সংক্ষিপ্ত রূপ, পোস্টকোড</blockquote>
যেকোনো শহর বা নগরে ''পোস্তে রেস্তান্তে'' ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাক গ্রহণ করা যায়। চিঠি প্রাপকের পূর্ণ নাম লিখে c/o Post Restante হিসেবে পাঠাতে হয়। ডাক সংগ্রহের জন্য পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।
{{এর অংশ|ওশেনিয়া}}
{{guidecountry}}
{{geo|-28|137|zoom=5}}
e2k8hb47qt4qzb2dpgjkijpyx18klmt
76704
76703
2026-06-01T15:42:55Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
অনুবাদ
76704
wikitext
text/x-wiki
{{pagebanner |Australia alt banner.jpg| caption=উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্কে কাটা টজুটা, নর্দান টেরিটরি|origin=0.3,0}}
'''অস্ট্রেলিয়া'''র মতো জায়গা পৃথিবীতে আর নেই। একে বলা হয় ''ল্যান্ড ডাউন আন্ডার'', কারণ এটি পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেটি পুরো একটি মহাদেশকে দখল করে আছে। এখানে আদিবাসী সংস্কৃতির ইতিহাস প্রায় ৬৫,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো, আবার আধুনিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক অভিবাসনের ফলে এটি বহুজাতিক সমাজে পরিণত হয়েছে। দেশটি তার প্রাকৃতিক বিস্ময়, উন্মুক্ত প্রান্তর, সমুদ্রসৈকত, মরুভূমি, অরণ্য এবং [[আউটব্যাক|আউটব্যাকের]] জন্য বিখ্যাত। তবে অস্ট্রেলিয়া একই সঙ্গে অত্যন্ত নগরায়িত-বহুজাতিক শহরের সমাহারে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত শহর হলো [[সিডনি]], যা বিশ্বের অন্যতম প্রসিদ্ধ বন্দরের তীরে অবস্থিত।
==অঞ্চল==
অস্ট্রেলিয়া ছয়টি রাজ্য ও নয়টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। সবগুলো একসঙ্গে ঘুরে দেখা প্রায় অসম্ভব, কারণ অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যের তুলনায় অনেক বড়, বরং আয়তনে কানাডার প্রদেশগুলোর কাছাকাছি। [[ব্রিসবেন]] থেকে [[শার্ক বে]] পর্যন্ত প্রায় {{km|5000}} কিমি দূরত্ব, যা মাদ্রিদ থেকে মুরমানস্ক, কায়রো থেকে নাইরোবি বা মেইন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার দূরত্বের সমান।
{{Regionlist
| regionmap=Australia regions map.png
| regionmaptext=অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য/অঞ্চল ও প্রধান মহাসড়ক
| regionmapsize=376px
| region1name=[[নিউ সাউথ ওয়েলস]] ''(এনএসডব্লিউ)'' এবং [[ক্যানবেরা|অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি]] ''(এএসটি)''
| region1color=#c8aa92
| region1items=
| region1description=অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য, যেখানে রয়েছে [[সিডনি]]—দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম শহর। রাজ্যটি ঘিরে রয়েছে পরিকল্পিত রাজধানী শহর [[ক্যানবেরা]]। নিউ সাউথ ওয়েলসের উপকূল জুড়ে রয়েছে সমুদ্রসৈকতঘেঁষা জনপদ। একটু ভেতরে রয়েছে [[ব্লু মাউন্টেইনস|ব্লু মাউন্টেইনস]] এবং [[স্নোয়ি মাউন্টেইনস|স্নোয়ি মাউন্টেইনসের]] পর্বতশ্রেণী। আরও ভেতরে রয়েছে বিশাল কৃষি সমভূমি, যা শেষে মিলেছে আউটব্যাকের সঙ্গে।
| region2name=[[নর্দান টেরিটরি]] ''(এনটি)''
| region2color=#acc2a6
| region2items=
| region2description=[[উলুরু]] ও [[অ্যালিস স্প্রিংস|অ্যালিস স্প্রিংসের]] লাল মরুভূমি থেকে শুরু করে [[ডারউইন]] ও [[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক|ন্যাশনাল পার্কের]] উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত নর্দান টেরিটরি অপূর্ব সুন্দর এবং ধারণার তুলনায় অনেক সহজলভ্য।
| region3name=[[কুইন্সল্যান্ড]] ''(কিউএলডি)''
| region3color=#c3bea3
| region3items=
| region3description=রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার জন্য বিখ্যাত কুইন্সল্যান্ডে রয়েছে [[গোল্ড কোস্ট]] থেকে [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]] পর্যন্ত সমুদ্রতটের রূপ, এবং প্রাণচঞ্চল [[ব্রিসবেন]] শহর। এখানেই আছে [[ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক|ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্কের]] উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য এবং হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জের রিসোর্ট। ভেতরে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল এবং আরও ভেতরে বিশাল আউটব্যাক।
| region4name=[[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] ''(এসএ)''
| region4color=#bcb491
| region4items=
| region4description=বিশ্ববিখ্যাত [[বারোসা ভ্যালি|বারোসা ভ্যালির]] উৎকৃষ্ট মদ, [[ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেস|ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেসের]] সৌন্দর্য ও আউটব্যাক, আর [[অ্যাডিলেড]]—"চার্চের শহর"—এর সংস্কৃতি ও উৎসবের জন্য খ্যাত। এটাই একমাত্র রাজ্য যা কারাগার উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং সম্পূর্ণভাবে মুক্ত বসতিদের দ্বারা গড়ে উঠেছে।
| region5name=[[তাসমানিয়া]] ''(টাস.)''
| region5color=#b69eb3
| region5items=
| region5description=বাস প্রণালী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন তাসমানিয়া হলো একটি পর্বতময় রাজ্য। পশ্চিমে [[ক্র্যাডল মাউন্টেইন|ক্র্যাডল মাউন্টেইনের]] দুর্দান্ত সৌন্দর্য, পূর্বে সমুদ্রসৈকত, আর দক্ষিণে রয়েছে অরণ্য। [[হোবার্ট]] ছিল অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইউরোপীয় বসতি, এবং বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনো সংরক্ষিত আছে।
| region6name=[[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ''(ভিক.)''
| region6color=#c3d099
| region6items=
| region6description=অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ছোট মূল ভূখণ্ডের রাজ্য ভিক্টোরিয়া নানা বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্য ও অভিজ্ঞতা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নাটকীয় ঢেউয়ের সৈকত, উর্বর কৃষিভূমি ও সুন্দর জাতীয় উদ্যান সবই এখানে রয়েছে। [[মেলবোর্ন]] হলো রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র—বিশ্বমানের কেনাকাটা, ফ্যাশন, খাদ্য এবং ক্রীড়া ইভেন্টের জন্য প্রসিদ্ধ।
| region7name=[[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] ''(ডব্লিউএ)''
| region7color=#cfcf94
| region7items=
| region7description=একটি বিশাল রাজ্য। দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে রাজধানী শহর [[পার্থ]]। দক্ষিণে রয়েছে [[মার্গারেট রিভার]]-এর আঙুরক্ষেত এবং [[অ্যালবানি (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া)|অ্যালবানির]] মনোরম দৃশ্যাবলি। উত্তরে রয়েছে [[ব্রুম|ব্রুমের]] উষ্ণমণ্ডলীয় সৈকত। দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট জনপদ, রাস্তার ধারে অবকাঠামো, খনিশ্রমিকদের বসতি ও জাতীয় উদ্যান।
}}
===দ্বীপপুঞ্জ===
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বীপ [[তাসমানিয়া]], যা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যও বটে। দেশজুড়ে মোট ৮,২২২টি দ্বীপ রয়েছে। প্রধান দ্বীপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
* {{marker|name=[[লর্ড হাও দ্বীপ]]|wikidata=Q104784}} - প্রকৃতির অপূর্ব প্রদর্শনী, সিডনি থেকে দুই ঘণ্টার ফ্লাইট, নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ।
* {{marker|name=[[নরফোক দ্বীপ]]|wikidata=Q31057}} - নিউজিল্যান্ডের মাঝপথে, প্রকৃতি ও সৈকতের জন্য খ্যাত।
* {{marker|name=[[ক্রিসমাস দ্বীপ]]|wikidata=Q31063}} - লাল কাঁকড়ার অভিবাসনের জন্য বিখ্যাত, পার্থ থেকে ফ্লাইট যায়।
* {{marker|name=[[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q36004}} - প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ, জনবসতিপূর্ণ, পার্থ থেকে ফ্লাইটে যাওয়া যায়।
* {{marker|name=[[টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q1059258}} - আদিবাসী সংস্কৃতির কেন্দ্র, কেপ ইয়র্ক ও পাপুয়া নিউ গিনির মাঝে। ভ্রমণের জন্য ঐতিহ্যগত মালিকদের অনুমতি প্রয়োজন। ফ্লাইট [[কেয়ার্নস]] থেকে।
* {{marker|name=[[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]|wikidata=Q210371}} - অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, যেখানে বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক দৃশ্য, মধুর খামার, আঙুরক্ষেত ও সৈকত রয়েছে।
* {{marker|name=[[রটনেস্ট দ্বীপ]]|wikidata=Q585317}} - প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য, ৬৩টি সৈকত ও ২০টি উপসাগর রয়েছে। পার্থের কাছে অবস্থিত এবং "কোয়োকা" প্রাণীর জন্য বিখ্যাত।
* {{marker|name=[[কিং দ্বীপ]]|wikidata=Q794502}} - তাসমানিয়ার উত্তরে বাস প্রণালীতে।
* {{marker|name=[[হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q1646461}} - সাদা বালুকাময় সৈকতের জন্য প্রসিদ্ধ পর্যটন গন্তব্য।
এছাড়াও রয়েছে বহু জনশূন্য দ্বীপ যেমন [[করাল সি দ্বীপপুঞ্জ]], [[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ|কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জের]] কিছু অংশ, [[অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ]] এবং দূরবর্তী আন্টার্কটিক দ্বীপ যেমন [[হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ]] এবং [[ম্যাকুয়ারি দ্বীপ]]।
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c8aa92|title=[[নিউ সাউথ ওয়েলস]] এবং [[অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি]] ''(এনএসডব্লিউ) & (এসি টি)''|wikidata=Q3224}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#acc2a6|title=[[নর্দার্ন টেরিটরি]] ''(এনটি)''|wikidata=Q3235}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c3bea3|title=[[কুইন্সল্যান্ড]] ''(কিউএলডি)''|wikidata=Q36074}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#bcb491|title=[[সাউথ অস্ট্রেলিয়া]] ''(এসএ)''|wikidata=Q35715}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#b69eb3|title=[[তাসমানিয়া]] ''(তাস)''|wikidata=Q34366}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c3d099|title=[[ভিক্টোরিয়া (অঙ্গরাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ''(ভিক)''|wikidata=Q36687}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#cfcf94|title=[[ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া]] ''(ডব্লিউএ)''|wikidata=Q3206}}
==শহর==
[[File:Sydney Harbour Bridge night.jpg|thumb|350px|রাতে সিডনির দৃশ্য]]
<!-- এখানে সর্বাধিক ৯টি শহর তালিকাভুক্ত করা যাবে। তালিকায় পরিবর্তন চাইলে আলোচনাপৃষ্ঠায় আলোচনা করুন। -->
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[ক্যানবেরা]]|wikidata=Q3114}} - তুলনামূলক ছোট, পরিকল্পিত জাতীয় রাজধানী; এখানে বহু জাদুঘর রয়েছে
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[অ্যাডিলেড]]|wikidata=Q5112}} - "চার্চের শহর", শান্ত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী, বিশ্বখ্যাত আঙুরক্ষেতের কাছেই
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[ব্রিসবেন]]|wikidata=Q34932}} - রৌদ্রোজ্জ্বল কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী, সুন্দর বালুকাময় সৈকতের প্রবেশদ্বার
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[কেয়ার্নস]]|wikidata=Q189133}} - [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]], পোর্ট ডগলাস, [[ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক]] ও বহু সৈকত ও রিসোর্টের প্রবেশদ্বার; বিশ্রাম ও ভ্রমণের জনপ্রিয় স্থান
* {{marker|type=city|name=[[ডারউইন]]|wikidata=Q11568}} - অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণমণ্ডলীয় উত্তরাঞ্চলীয় রাজধানী
* {{marker|type=city|name=[[হোবার্ট]]|wikidata=Q40191}} - ছবির মতো সুন্দর ও শান্ত তাসমানিয়ার রাজধানী, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় কারাগার বসতি
* {{marker|type=city|name=[[মেলবোর্ন]]|wikidata=Q3141}} - অস্ট্রেলিয়ার কফি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার রাজধানী; প্রায়শই সবচেয়ে ইউরোপীয় ধাঁচের শহর বলা হয়; শিল্পকলা, খাবার ও ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য প্রসিদ্ধ
* {{marker|type=city|name=[[পার্থ]]|wikidata=Q3183}} - পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী মহাদেশীয় শহর, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে
* {{marker|type=city|name=[[সিডনি]]|wikidata=Q3130}} - অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম শহর, অপেরা হাউসের আবাসস্থল এবং মনোরম উপসাগর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অসংখ্য সৈকতের জন্য খ্যাত
==অন্যান্য দর্শনীয় স্থান==
[[File:Apostles 3 GOR.JPG|thumb|250px|দ্য টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস]]
<!--শহর ও অন্যান্য গন্তব্যের তালিকায় সর্বাধিক ৯টি উপাদান রাখা যাবে। পরিবর্তনের জন্য আলোচনাপৃষ্ঠায় আলোচনা করুন।-->
* {{marker|type=vicinity|name=[[ব্লু মাউন্টেইনস ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q885558}} - নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি পর্বতময় জাতীয় উদ্যান, যেখানে "থ্রি সিস্টার্স" শিলারূপ আছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[ক্র্যাডল মাউন্টেইন-লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q1138453}} - তাসমানিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যান; এখানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গভীরতম হ্রদ ও মনোরম পাহাড়
* {{marker|type=vicinity|name=[[ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট]]|wikidata=Q5209517}} - বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত অরণ্য; এখানে রয়েছে ক্যাসোয়ারি পাখির বৃহত্তম জনসমষ্টি
* {{marker|type=vicinity|name=[[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]|wikidata=Q7343}} - কুইন্সল্যান্ড উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থা
* {{marker|type=vicinity|name=[[গ্রেট ওশান রোড]]|wikidata=Q74046}} - ভিক্টোরিয়ার মনোমুগ্ধকর উপকূলীয় সড়ক; "[[পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক|টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস]]" শিলা ও বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q189657}} - নর্দান টেরিটরির দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান; উষ্ণমণ্ডলীয় ভ্রমণ, আদিবাসী সংস্কৃতি ও প্রকৃতি উপভোগের স্থান
* {{marker|type=vicinity|name=[[ইকারা-ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেস ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q426073}} – দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রতীকী জাতীয় উদ্যান; প্রাকৃতিক অ্যম্ফিথিয়েটার ও এডিয়াকারান যুগের জীবাশ্ম রয়েছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[পুর্নুলুলু ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q679568}} – "বাঙ্গল বাঙ্গল রেঞ্জের" খাড়া শিলা, ২৫০ মিটার উঁচু
* {{marker|type=vicinity|name=[[উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q251999}} - [[উলুরু]] (''আয়ার্স রক'') ও কাটা টজুটা (''দ্য ওলগাস'') শিলারূপ, যা "রেড সেন্টারের" প্রতীক
==জানুন==
{{quote|{{center|1=আমরা এক <br>কিন্তু আমরা অনেক <br>আর পৃথিবীর সব দেশ থেকেই আমরা এসেছি। <br>আমরা এক স্বপ্ন ভাগাভাগি করব <br>এবং এক কণ্ঠে গান গাইব: <br>আমি, তুমি, আমরা সবাই অস্ট্রেলিয়ান|author="আই অ্যাম অস্ট্রেলিয়ান" — দ্য সিকার্স}}}}
{{quickbar|location=Australia with AAT (orthographic projection).svg}}
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে ছোট-প্রায় ২৫ মিলিয়ন, তবে তা বাড়ছে। জি২০-এর সদস্য এ দেশটির জীবনমান উচ্চ এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবে শীর্ষে থাকে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
===ইতিহাস===
{{see also|অস্ট্রেলীয় আদিবাসী সংস্কৃতি|ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ}}
অস্ট্রেলিয়ায় কমপক্ষে ৬৫,০০০ বছর ধরে আদিবাসীরা বসবাস করছে। তারা দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বিভিন্ন তরঙ্গে এসে এখানে পৌঁছায়। শেষ বরফ যুগের পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের বাকি অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো ভূমি ও প্রকৃতির সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর আত্মীয়তাভিত্তিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে নানা সংস্কৃতি গড়ে তোলে। হাজার হাজার বছর ধরে অস্ট্রেলীয় আদিবাসীরা শিকারি-সংগ্রাহক জীবনধারা বজায় রেখেছে, আর কিছু অঞ্চলে আধা-স্থায়ী সমাজ গড়ে তোলে। এর সঙ্গে সমৃদ্ধ শিল্পকলা, কাহিনি ও সংগীতের ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
অস্ট্রেলীয় আদিবাসীদের বর্তমান জনপ্রিয় ধারণা মূলত মরুভূমির মানুষের উপর ভিত্তি করে, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে (কালাহারির বুশম্যানদের মতো)। তবে অনেক আদিবাসীই বনভূমি ও জলসমৃদ্ধ অঞ্চলে বাস করত। ইউরোপীয়দের আগমনের আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন নিশ্চিত করেছিল।
যদিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চীনে ঝিনুক ও সামুদ্রিক শশার বাজার ইন্দোনেশীয় জেলেদের অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে আসতে উৎসাহিত করেছিল, ইউরোপীয়দের কাছে এটি অজানা ছিল ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত। তখন ডাচ বণিকরা এশিয়ার পথে চলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৌঁছায়। [[সুলাওয়েসি]]র মাকাসারিদের আগমন উত্তরাঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে বহু ইন্দোনেশীয় সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে আসে। ইসলামের প্রচারও প্রথম বিদেশি ধর্ম হিসেবে এখানে প্রবেশ করে। আরনহেম ল্যান্ড ও কিম্বারলির শিলাচিত্রগুলোতে বহু ইসলামি উপাদান দেখা যায়।
ডাচদের কাছে এই শুষ্ক ও প্রতিকূল দেশটি আকর্ষণীয় ছিল না। তারা একে সমৃদ্ধ পূর্ব ইন্ডিজের (আধুনিক ইন্দোনেশিয়া) দিকে যাওয়ার একটি চিহ্নমাত্র হিসেবে দেখত। পরবর্তীতে ফরাসি ও ব্রিটিশরা অস্ট্রেলিয়ার উপকূল ঘুরে দেখার উদ্যোগ নেয়। ফলে দেশের বিভিন্ন উপসাগর, নদী ও ভূখণ্ডে ডাচ, ফরাসি ও ইংরেজ নামকরণ হয়। তবে অনেক জায়গার নাম স্থানীয় আদিবাসী ভাষা থেকে এসেছে, আর বহু স্থানে ইউরোপীয় নাম বাতিল করে বা দ্বৈতভাবে আদিবাসী নাম সংযোজন করা হয়েছে।
[[জেমস কুকের সমুদ্রযাত্রা|ক্যাপ্টেন জেমস কুক]] ১৭৭০ সালে [[এন্ডেভার]] অভিযানে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল মানচিত্রে চিহ্নিত করেন। তিনি ২৯ এপ্রিল ১৭৭০-এ [[বোটানি বে]]তে প্রথম অবতরণ করেন। এরপর তিনি উত্তরের দিকে যাত্রা করে ২২ আগস্ট ১৭৭০-এ টরেস প্রণালীর [[পজেশন আইল্যান্ড]]-এ ব্রিটিশ মুকুটের পক্ষে পূর্ব উপকূল দখলের ঘোষণা দেন এবং এর নামকরণ করেন নিউ সাউথ ওয়েলস। যদিও কুককে প্রায়শই অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় আবিষ্কারক বলা হয়, তিনি প্রকৃতপক্ষে ডাচদের চেয়ে দেড় শতাব্দীরও বেশি পরে এসেছিলেন।
[[File:PortArthurPenitentiary.jpg|thumb|তাসমানিয়ার [[পোর্ট আর্থার]] দণ্ডিত উপনিবেশের ধ্বংসাবশেষ। এটি [[অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ]]-এর অংশ এবং [[ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা]]ভুক্ত।]]
১৭৮৮ সালে ক্যাপ্টেন আর্থার ফিলিপের নেতৃত্বে প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপিত হয় বর্তমান [[সিডনি]]তে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রথম গভর্নর হন। উপনিবেশ স্থাপনের ফলে আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে তাদের জনসংখ্যা কমে যায় এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। শুরুতে পুরো মহাদেশের পূর্বাংশ নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত হয়-১৮২৫ সালে [[তাসমানিয়া]] (তখন ভ্যান ডিমেন’স ল্যান্ড), ১৮৩৬ সালে [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]], ১৮৪১ সালে [[নিউজিল্যান্ড]], ১৮৫১ সালে [[ভিক্টোরিয়া]], ১৮৫৯ সালে [[কুইন্সল্যান্ড]]। মহাদেশের পশ্চিমাংশে ইউরোপীয়রা অনেক দেরিতে আসে-১৮২৬ সালে [[অ্যালবানি (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া)|অ্যালবানি]]তে নৌঘাঁটি স্থাপন করে। ১৮২৯ সালে [[পার্থ]]-এ সোয়ান রিভার কলোনি গড়ে ওঠে, যার নাম ১৮৩২ সালে পরিবর্তিত হয়ে [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] হয়।
অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ব্রিটিশ দণ্ডিত উপনিবেশ হিসেবে পরিচিত হলেও ১৭৮৮-এর পর অধিকাংশ মানুষ স্বাধীনভাবে আসে, বিশেষত ব্রিটেন ও [[আয়ারল্যান্ড]] থেকে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় কিছু দণ্ডিত উপনিবেশ ছিল বিক্ষিপ্ত আকারে, তবে [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] পুরোপুরি স্বাধীন অভিবাসীদের দ্বারা গড়ে ওঠে। ১৮৫০-এর দশকে সোনার খনির সময় এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ থেকেও বহু মানুষ আসে। যদিও পরবর্তীতে "হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতি" অভিবাসন কঠোরভাবে সীমিত করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর, এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ধারা শুরু হয়। এর ফলে ২০শ শতকের শেষ নাগাদ অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পরিণত হয়।
১৯০১ সালে বিভিন্ন উপনিবেশ একত্রিত হয়ে "কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়া" গঠন করে। [[নিউজিল্যান্ড]] তখন এই ফেডারেশনে যোগ দেয়নি। নতুন দেশটি কৃষি ও শিল্পে দ্রুত অগ্রগতি ঘটায় এবং ছোট জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ]], [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]সহ [[কোরিয়ার যুদ্ধ]], [[ভিয়েতনাম যুদ্ধ]], ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেয়। অস্ট্রেলীয় সেনারা কঠিন যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।
১৯৮৬ সালে "অস্ট্রেলিয়া অ্যাক্ট" পাশ হয়, যা ব্রিটিশ সংসদের অস্ট্রেলিয়ার উপর বাকি আইনি ক্ষমতা শেষ করে দেয়। তবে কানাডার মতো এখানেও ব্রিটিশ রাজা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রয়েছেন, যার প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল।
২০শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আদিবাসী আন্দোলন শক্তিশালী হয়। এর ফলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি পায় এবং ভূমি অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে বহু এলাকা আদিবাসীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড সংসদে আদিবাসীদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই বছর থেকে অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত করা হয়।
===ভূগোল===
{{infobox|অস্ট্রেলিয়া কি দুটি মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি তিনটি?|অস্ট্রেলিয়ার সীমানা নিয়ে দ্বিধা আছে। প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের সীমানা নিয়ে বিতর্ক নেই, তবে দক্ষিণ মহাসাগরকে কোথা থেকে শুরু ধরা হবে তা নিয়ে মতভেদ আছে। আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষিণ মহাসাগর ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে শুরু ধরা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় (সরকারি দপ্তরসহ) দক্ষিণ উপকূল থেকেই একে ধরা হয়। তাই উইকিভ্রমণের অস্ট্রেলিয়া-সংক্রান্ত নিবন্ধগুলোতে অস্ট্রেলিয়ান প্রেক্ষাপট ধরা হয়।}}
[[File:Macropus rufus 01 - Christopher Watson.jpg|thumbnail|নর্দার্ন টেরিটরিতে লাল ক্যাঙ্গারু]]
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ এবং বৃহত্তম দ্বীপ। এটি [[ওশেনিয়া]]র ভূমির প্রধান অংশ। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে [[তাসমানিয়া]]সহ কিছু ছোট দ্বীপ রয়েছে। মোট আয়তন ৭,৬৮২,৩০০ বর্গকিমি (২,৯৬৬,১৫২ বর্গমাইল), যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সমান। তবে এর জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের এক দশমাংশও নয়। ফলে শহরগুলোর মধ্যে দূরত্ব সহজে আন্দাজ করা যায় না। পশ্চিমে ভারত মহাসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর। দক্ষিণ-পূর্বে তাসমান সাগর, যা নিউজিল্যান্ডকে পৃথক করে, আর উত্তর-পূর্বে প্রবাল সাগর। উত্তর দিকে [[পাপুয়া নিউগিনি]], [[তিমুর-লেস্তে]] ও [[ইন্দোনেশিয়া]] রয়েছে, যেগুলো নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক কাছাকাছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে পাপুয়া নিউগিনি মাত্র {{km|৪}} দূরে।
অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত নগরায়িত। জনসংখ্যার অধিকাংশই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে কেন্দ্রীভূত। সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হলো [[নিউ সাউথ ওয়েলস]], [[ভিক্টোরিয়া]], [[কুইন্সল্যান্ড]]; তবে আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হলো [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]]।
দেশটির বহু এলাকা কৃষিকাজের জন্য বন উজাড় করা হয়েছে, তবে বহু প্রাকৃতিক বন সংরক্ষিত রয়েছে জাতীয় উদ্যান ও অনাবাদী জমিতে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে জল ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা, দূষণ, বহিরাগত প্রাণীর আক্রমণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, এবং [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]সহ উপকূলীয় এলাকা রক্ষা করার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
===আবহাওয়া===
অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু বৈচিত্র্যময়। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বছরে ৩,০০০ ঘণ্টার বেশি রোদ পড়ে। উত্তরাংশ গরম ও ক্রান্তীয়, দক্ষিণাংশ নাতিশীতোষ্ণ। উপকূলে বেশি বৃষ্টি হয়, আর কেন্দ্রীয় অংশ শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক। [[ডারউইন]] শহরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শীতকালেও সচরাচর ৩০°সে (৮৬°ফা) এর নিচে নামে না, আর রাতে সাধারণত ১৫–২০°সে (৬০–৭০°ফা) থাকে। অস্ট্রেলিয়ার শীত উত্তর গোলার্ধের সমান অক্ষাংশের তুলনায় হালকা। দেশের অধিকাংশ অংশে কখনোই তুষারপাত হয় না। তবে দক্ষিণ-পূর্বের [[স্নোই মাউন্টেনস]] ও তাসমানিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে শীতকালে প্রচুর তুষারপাত হয়।
অস্ট্রেলিয়া যেহেতু দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত, তাই এখানে জুন-আগস্ট হলো শীতকাল এবং ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি হলো গ্রীষ্মকাল। উত্তরাঞ্চলে শীতকালেই শুষ্ক মৌসুম থাকে, আর দক্ষিণে গ্রীষ্মকালে শুষ্কতা দেখা যায়। পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ অংশে বৃষ্টি সারা বছর প্রায় সমানভাবে হয়।
উত্তর গোলার্ধের ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার হলো-এখানে সূর্য ও নক্ষত্র বিপরীত দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) চলে। ফলে উত্তর ঢালগুলো বেশি সূর্যালোক পায়। হাঁটা বা ট্রেকিং করার সময় এ কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দিক-নির্ণয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।
===অর্থনীতি===
অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও পশ্চিমা ধাঁচের পুঁজিবাদী। মাথাপিছু জিডিপি উন্নত দেশগুলোর সমান।
দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬০% আসে সেবা খাত থেকে-এর মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা ও আর্থিক সেবা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পর্যটন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্প, যা বছরে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করে এবং মোট রপ্তানির অন্তত ১১% জোগান দেয়।
প্রাথমিক শিল্প, বিশেষত খনি ও কৃষি, ২০শ ও ২১শ শতকে অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি। লোহার আকরিক ও কয়লা সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য, তার সঙ্গে গম, গরুর মাংস ও উলও উল্লেখযোগ্য। খনি খাত চীনা ও ভারতীয় অর্থনীতির ওঠানামার উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি। এখানে হাতের কাজ করা শ্রমিক বা কারিগরের আয় প্রায়শই শ্বেত-কলার পেশাজীবীদের চেয়েও বেশি হয়।
===রাজনীতি===
[[File:Parliament House Canberra 2.jpg|thumb|250px|ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউস]]
অস্ট্রেলিয়ায় একটি ফেডারেল সরকারব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ছয়টি রাজ্য ও দুটি অঞ্চলের সরকার আছে, পাশাপাশি একটি জাতীয় সরকারও রয়েছে। পার্শ্ববর্তী সাগরে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু বহিঃঅঞ্চল রয়েছে, যেগুলো উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এবং অনেক সময় মূল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত হয় না। রাজ্যভেদে আইনের কিছু পার্থক্য থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা প্রায় একই রকম।
জাতীয় সংসদ ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তবে কিছু অংশ আমেরিকান কংগ্রেস পদ্ধতি থেকে নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল পর্যায়ে সংসদ দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত-সেনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। প্রতিটি সংসদ সদস্য (এমপি) একটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। জনবহুল রাজ্যগুলোতে বেশি আসন থাকে, তাই বেশি এমপি নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের মতোই প্রতিটি রাজ্য থেকে সমানসংখ্যক সিনেটর নির্বাচিত হয়-প্রতিটি রাজ্য থেকে ১২ জন করে, আর নর্দার্ন টেরিটরি ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি থেকে ২ জন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সরকারের প্রধান এবং সেই রাজনৈতিক দলের (বা দলীয় জোট) নেতা যাদের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে। সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হয়, যদিও প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগেও নির্বাচন দিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস অস্ট্রেলিয়ার রাজাও বটে এবং তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। ফেডারেল পর্যায়ে রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন গভর্নর-জেনারেল। রাজা ও গভর্নর-জেনারেলের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক, সরকারের আসল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়াকে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করার জন্য গণভোট হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছিল-কারণ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী অপসারণ করতে পারবেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় প্রজাতন্ত্র ধারণার প্রতি সাধারণ সমর্থন আছে, বাস্তবে তা এখনও বড় অগ্রাধিকার নয়।
অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) নির্বাহী বিভাগ হিসেবে কাজ করে এবং এর নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদের দুই কক্ষ থেকেই মন্ত্রী নিয়োগ করেন। বিচার বিভাগ পরিচালনা করে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট, যা ১৯৮৬ সালে যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিলের পরিবর্তে সর্বোচ্চ আপিল আদালত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
রাজ্য ও অঞ্চল সরকারগুলোও প্রায় একইভাবে পরিচালিত হয়-তাদের নিজস্ব সংসদ আইনসভা হিসেবে কাজ করে, প্রিমিয়ার (অঞ্চলগুলোতে চিফ মিনিস্টার) সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজস্ব বিচার বিভাগ থাকে। প্রতিটি রাজ্যে একজন গভর্নর থাকেন, যিনি রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন-তাদের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক।
অস্ট্রেলিয়ার দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল হলো অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি (এএলপি বা শুধু “লেবার”) এবং লিবারেল পার্টি (স্থানীয়ভাবে বলা হয় ''দ্য লিবস'')। তারা একসময় ন্যাশনাল পার্টির (যা “কোয়ালিশন” নামে পরিচিত) সঙ্গে জোটে ছিল, তবে ২০২৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর এ জোট ভেঙে যায়। তবুও, কিছু রাজ্যে তারা এখনও কোয়ালিশন হিসেবে কাজ করে (কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরিতে তারা একটি একক দল হিসেবে পরিচালিত হয়)। ছোট দলগুলোর মধ্যে আছে গ্রিনস (জিআরএন) এবং টিল ইন্ডিপেনডেন্টস।
মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টি তার নামের বানান “Labor” ব্যবহার করে “Labour” নয়, কারণ এর প্রেরণা এসেছে আমেরিকান শ্রমিক আন্দোলন থেকে। গ্রিনস একটি পরিবেশবাদী দল, যাদের লেবারের চেয়েও বামপন্থী মনে করা হয়।
লিবারেল পার্টি একটি মধ্য-ডানপন্থী রক্ষণশীল দল, যেখানে “লিবারেল” বলতে মুক্তবাজার অর্থনীতি বোঝানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় “লিবারেল” শব্দটি ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যা অন্য ইংরেজিভাষী দেশের থেকে ভিন্ন। তারা সাধারণত ন্যাশনাল পার্টির সঙ্গে কাজ করে-ন্যাশনাল পার্টি মূলত গ্রামীণ ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং পরিবেশ রক্ষার বিপক্ষে বেশি রক্ষণশীল। ২০১০-এর দশকের শেষ থেকে লিবারেল পার্টি শহুরে ধনী অঞ্চলের টিল ইন্ডিপেনডেন্টসের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, কারণ লিবারেলদের পরিবেশনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডানপন্থার আরও কিছু দল রয়েছে, যেমন পলিন হ্যানসনের ওয়ান নেশন (পিএইচওএন বা ওএনপি) এবং ট্রাম্পেট অব প্যাট্রিয়টস (টিওপি), যা আগে ইউনাইটেড অস্ট্রেলিয়া পার্টি (ইউএপি) নামে পরিচিত ছিল। তারা কেবল সেনেটে আসন পেয়েছে, এর বাইরে বড় সাফল্য পায়নি।
===সংস্কৃতি===
অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে প্রায় সব ধরনের ধর্ম ও জীবনধারা অনুশীলন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, আরেক-চতুর্থাংশের অন্তত একজন বিদেশি-জন্ম পিতা-মাতা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের পর অর্ধশতকে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়নের বেশি হয়েছে। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন ও পার্থ এখন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক শহর, যেখানে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের মানুষের বসবাস রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের মাঝেও অস্ট্রেলিয়ানদের একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয়বোধ ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে গর্ব রয়েছে।
সব বড় শহরে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। প্রতিটি শহরের নিজস্ব পরিচয় আছে-সিডনি নিজেকে “আরবান নেচার ক্যাপিটাল” বলে প্রচার করে; মেলবোর্ন শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত; ব্রিসবেনকে বলা হয় বহুসাংস্কৃতিক নগর গ্রামগুলোর সমষ্টি। অ্যাডিলেড উৎসব, ওয়াইন সংস্কৃতি ও জার্মান প্রভাবের জন্য খ্যাত; পার্থ সমুদ্রসৈকত, আরামদায়ক জীবনযাপন ও আন্তর্জাতিক ফ্রিঞ্জ আর্টস উৎসবের জন্য পরিচিত; আর হোবার্ট তার ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত, বিশেষত প্রাক্তন দণ্ড উপনিবেশ হিসেবে। ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত অ্যাংলো-সেল্টিক সংস্কৃতি বহন করে, যেখানে কিছু কিছু জায়গায় স্বল্পসংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীও রয়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ অঞ্চল ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানায় এবং তাদের ইতিহাস ও স্থানীয় পণ্য ভাগাভাগি করে।
[[File:Melbournes Chinatown (6760134067).jpg|thumb|মেলবোর্নের চায়না টাউন]]
প্রায় ১০ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান নিজেদেরকে আদিবাসী (অ্যাবোরিজিনাল) হিসেবে পরিচয় দেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪%। তারা শহরেও বাস করে, আবার গ্রামীণ আদিবাসী সম্প্রদায়েও থাকে। যদিও নতুন ভ্রমণকারীর কাছে তা খুব স্পষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু যারা চাইবেন তাদের জন্য আদিবাসী সংস্কৃতি জানার অনেক সুযোগ রয়েছে।
জনপ্রিয় কল্পকাহিনীর বিপরীতে, ব্রিটিশ বন্দিশিবির থেকে আসা অপরাধীদের বংশধররা সংখ্যালঘু। এমনকি দণ্ড-পরিবহনের সময়কালেও মুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল কমপক্ষে পাঁচগুণ বেশি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু অঞ্চলে একেবারেই অপরাধী পাঠানো হয়নি। তবুও, কারও যদি অপরাধীর বংশধর হিসেবে পরিচিতি থাকে, সেটিকে অনেক সময় “অস্ট্রেলিয়ান রয়্যালটি” হিসেবে সম্মানের প্রতীক ধরা হয়।
অস্ট্রেলিয়ানরা ইউরোপের কিছু সংস্কৃতির তুলনায় সামাজিকভাবে বেশি রক্ষণশীল হতে পারে, তবে ধর্মীয় চর্চায় সাধারণত শিথিল। সম্বোধনের ধরন অনানুষ্ঠানিক ও পরিচিতভাবাপন্ন। অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান আপনাকে প্রথম সাক্ষাৎ থেকেই আপনার নাম ধরে ডাকবে এবং আশা করবে আপনিও তাদের একইভাবে সম্বোধন করবেন।
====ছুটির দিন====
[[File:Lotto Skyworks Applecross.jpg|thumb|250px|অস্ট্রেলিয়া দিবসে পার্থে আতশবাজি প্রদর্শনী]]
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ছুটির দিনগুলো হলো:
* '''১ জানুয়ারি''': নববর্ষ
* '''২৬ জানুয়ারি''': অস্ট্রেলিয়া দিবস-১৭৮৮ সালে প্রথম বহরের সিডনি কোভে আগমনের বার্ষিকী
* '''ইস্টার সপ্তাহান্ত''' (গুড ফ্রাইডে থেকে ইস্টার সোমবার): মার্চ বা এপ্রিল মাসে চার দিনের ছুটি, পশ্চিমা খ্রিস্টান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত। অনেকে গির্জায় যান না; বরং এই সময়ে ভ্রমণ করেন, ফলে হোটেল ও বিমানের টিকিট অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়।
* '''২৫ এপ্রিল''': আনজাক দিবস (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আর্মি কর্পস), যুদ্ধ-সেনাদের স্মরণে
* '''জুনের দ্বিতীয় সোমবার''': রাজাধিরাজের জন্মদিন (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে পালিত হয়, এর এক সপ্তাহ আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস উদযাপিত হয়)
* '''২৫ ডিসেম্বর''': বড়দিন
* '''২৬ ডিসেম্বর''': বক্সিং ডে
বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন দিনে '''শ্রমিক দিবস''' পালিত হয়। বেশিরভাগ রাজ্যে অতিরিক্ত দু’একটি রাজ্য-নির্দিষ্ট ছুটি রয়েছে। [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ও [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]]তে ঘোড়দৌড় উপলক্ষে ছুটি থাকে (মেলবোর্ন কাপ ও অ্যাডিলেড কাপ)। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় জুন মাসের প্রথম সোমবার ‘পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস’ উদযাপিত হয়, তবে রানির জন্মদিন দেশের অন্য অংশের থেকে ভিন্ন তারিখে পালিত হয়, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে। ভিক্টোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগ (এএফএল) গ্র্যান্ড ফাইনালের আগের শুক্রবারও ছুটি থাকে।
যদি কোনো সরকারি ছুটি শনিবার বা রবিবারে পড়ে, তবে সাধারণত সোমবার (প্রয়োজনে মঙ্গলবারও) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে আসল উৎসব বা দোকানপাট বন্ধ থাকার দিন থাকে মূল তারিখেই। অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র বড়দিন ও গুড ফ্রাইডে বন্ধ থাকে। সুপারমার্কেট ও অন্যান্য দোকান কিছু সরকারি ছুটিতে সীমিত সময়ে খোলা থাকতে পারে, তবে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন, গুড ফ্রাইডে, ইস্টার সানডে ও আনজাক দিবসের সকাল প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ থাকে।
'''অস্ট্রেলিয়া দিবস''' জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক আদিবাসী ও প্রগতিশীল মানুষ একে ‘আক্রমণ দিবস’ বলেন, কারণ এই দিনটি ব্রিটিশ দখল ও উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা নির্দেশ করে। প্রতিবছর এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়। তবে স্থানীয় সরকারগুলো নানা উদযাপন ও বারবিকিউর আয়োজনও করে।
সরকারি ছুটির বাইরেও জাতীয় ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের দিন রয়েছে, যেমন:
* '''এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''': অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা ভিক্টোরিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া অনুষ্ঠান। পাবগুলো দর্শকে ভরে যায় এবং অনেকে ঘরে বসে বড়সড় আয়োজন করে। সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার বা অক্টোবরের প্রথম শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।
* '''এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''': ন্যাশনাল রাগবি লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ রবিবার বা অক্টোবরের প্রথম রবিবার হয়।
===ছুটির ভিড়ের সময়===
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ দর্শনীয় স্থান সারা বছর খোলা থাকে, তবে অফ-সিজনে সময়সূচী সীমিত হতে পারে। বড়দিন ও নববর্ষে কিছু জায়গা বন্ধ থাকে।
'''গ্রীষ্মকালীন স্কুলের ছুটি''' বড়দিনের আগে শুরু হয় এবং পুরো জানুয়ারি মাস জুড়ে থাকে। এসময় ভ্রমণ সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও ভিড়পূর্ণ (যদি না আপনি [[উত্তর অস্ট্রেলিয়া]] ভ্রমণ করেন)। সমুদ্রসৈকতের আশেপাশের ছুটির বাড়িগুলো কয়েক মাস আগে থেকেই বুক হয়ে যায় এবং বেশি ভাড়া নেয়। দীর্ঘ '''ইস্টার ছুটি'''ও ভিড়পূর্ণ হয়, কারণ অভিভাবকরা শীত আসার আগে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যান।
অস্ট্রেলীয় কিশোররা নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে স্কুল শেষের পর তিন সপ্তাহব্যাপী ‘‘স্কুলিজ’’ উদযাপন করে। তখন তারা কিছু শহর ও উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমায়, যেমন [[বায়রন বে]] (নিউ সাউথ ওয়েলস), [[গোল্ড কোস্ট]] (কুইন্সল্যান্ড), [[রটনেস্ট দ্বীপ]] (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া), [[ভিক্টর হারবার]] (দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া) এবং [[মর্নিংটন উপদ্বীপ]] (ভিক্টোরিয়া)।
===সময়===
[[File:Central time zone sign.jpg|thumb|200px|ব্রোকেন হিলের কাছে একটি সড়কচিহ্ন, যেখানে সময় অঞ্চল পার্থক্য উল্লেখ রয়েছে]]
ডে-লাইট সেভিংস চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় সর্বোচ্চ সাতটি সময় অঞ্চল এবং অন্য সময়ে পাঁচটি সময় অঞ্চল থাকে। সময় অঞ্চলের সীমারেখা সবসময় রাজ্যের সীমারেখা অনুসরণ করে না। যেমন, [[ব্রোকেন হিল]] ও সিলভারটন শহরগুলো নিউ সাউথ ওয়েলসে হলেও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সময় অনুসরণ করে। আবার লর্ড হাও দ্বীপ, যদিও নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ, তার নিজস্ব সময় অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া অনেক আউটব্যাক সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিকভাবে নর্দার্ন টেরিটরির সময় (এনটি) অনুসরণ করে।
[[File:Australia-states-timezones.svg|thumbnail|অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল (GMT থেকে)]]
পূর্বে তাসমানিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া সর্বদা একই সময় মেনে চলে। [[কুইন্সল্যান্ড]] ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, ফলে এ সময়ে তারা অন্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।
মধ্যাঞ্চলে, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও [[নর্দার্ন টেরিটরি]] শীতে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে। তবে নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, কিন্তু দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন পালন করে। ডে-লাইট সেভিংস চলাকালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা এগিয়ে যায়। নর্দার্ন টেরিটরি সারা বছর কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, কিন্তু ডে-লাইট সেভিংস সময়ে নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।
পশ্চিমে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া শীতে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে এবং ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না। ডে-লাইট সেভিংস সময়ে এটি তিন ঘণ্টা পিছিয়ে যায় (তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়েই থাকে), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটনের থেকে আড়াই ঘণ্টা পিছিয়ে এবং নর্দার্ন টেরিটরির থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।
এছাড়াও একটি অস্বাভাবিক +৮:৪৫ সময় অঞ্চল রয়েছে, যাকে অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট্রাল ওয়েস্ট স্ট্যান্ডার্ড টাইম (এসিডব্লিউএসটি বা সিডব্লিউএসটি) বলা হয়, যা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সীমান্তের কিছু শহরে ব্যবহৃত হয়। এটি সরকারি সময় নয়, তবে বাস্তবে ব্যবহৃত হয়। মহাসড়কে ঘড়ি বদলানোর সাইনবোর্ডও রয়েছে, এমনকি অ্যাপল আলাদা একটি অঞ্চল (‘‘ইউক্লা’’ নামে) রেখেছে। আরও জটিল ব্যাপার হলো, সিডব্লিউএসটি অঞ্চলের একমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলীয় শহর বর্ডার ভিলেজ ডে-লাইট সেভিংস পালন করে এবং +৯:৪৫ মেনে চলে, যা ইউক্লার থেকে এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাকিদের থেকে ৪৫ মিনিট পিছিয়ে। তবে বাস্তবে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সবই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ইউক্লা শহরে হওয়ায় ভ্রমণকারীদের ওপর এর প্রভাব প্রায় নেই।
অত্যন্ত দুর্গম আউটব্যাক পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা শহরগুলো প্রশাসনিকভাবে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় হলেও তারা এসিএসটি (নর্দার্ন টেরিটরির সময়) মেনে চলে, যা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা এগিয়ে। যেহেতু নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, তাই এসব শহরও করে না।
অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চলের কোনো সরকারি সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। কখনও কখনও EST, CST, WST এবং ডে-লাইট সেভিংসে EDT, CDT ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও AEST ইত্যাদি ব্যবহার হয়, যেখানে ‘‘A’’ উপসর্গ দিয়ে উত্তর আমেরিকার একই নামের সময় অঞ্চল থেকে আলাদা করা হয়। <!-- কথোপকথনে এসব সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার হয় না। সাধারণত মানুষ ‘‘সিডনি টাইম’’, ‘‘ব্রিসবেন টাইম’’ বা ‘‘পার্থ টাইম’’ বলে। ‘‘সেন্ট্রাল সামার টাইম’’ বললে বেশিরভাগ মানুষ অবাক হবে। -->
যেসব রাজ্যে ডে-লাইট সেভিংস পালিত হয়, সেখানে এটি অক্টোবরের প্রথম রবিবার শুরু হয় এবং এপ্রিলের প্রথম রবিবার শেষ হয়।
{| class="wikitable"
|-
! রাজ্য/অঞ্চল !! মান সময় !! ডে-লাইট সেভিংস সময়
|-
| [[হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ]] || ইউটিসি+৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ]] || ইউটিসি+৬.৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[ক্রিসমাস দ্বীপ]] || ইউটিসি+৭ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] || ইউটিসি+৮ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[ইউক্লা]], ককলেবিডি, মাদুরা, মুন্দ্রাবিলা || ইউটিসি+৮.৪৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| বর্ডার ভিলেজ, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া || ইউটিসি+৮.৪৫ || ইউটিসি+৯.৪৫
|-
| [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]], [[ব্রোকেন হিল]] ও [[সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস)|সিলভারটন]] || ইউটিসি+৯.৫ || ইউটিসি+১০.৫
|-
| [[নর্দার্ন টেরিটরি]], ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা || ইউটিসি+৯.৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[কুইন্সল্যান্ড]] || ইউটিসি+১০ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[নিউ সাউথ ওয়েলস]], [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]], [[তাসমানিয়া]], [[ক্যানবেরা|এসিটি]] ও [[জার্ভিস বে টেরিটরি]]
| ইউটিসি+১০ || ইউটিসি+১১
|-
| [[লর্ড হাও দ্বীপ]] || ইউটিসি+১০.৫ || ইউটিসি+১১
|-
| [[নরফোক দ্বীপ]] || ইউটিসি+১১ || প্রযোজ্য নয়
|}
===বিদ্যুৎ===
[[File:Australian electric outlet type.png|thumb]]
প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহের মান ২৩০ ভোল্ট এবং প্লাগের ধরণ হলো টাইপ আই (যেখানে লাইভ ও নিউট্রাল পিন দুটি তির্যক এবং আর্থ পিন সোজা থাকে)। একে সাধারণভাবে “দুই-চল্লিশ ভোল্ট সকেট” নামেও ডাকা হয়। হোটেলের বাথরুমে প্রায়ই টাইপ সি ও এ সকেট থাকে যেগুলোতে “শুধুমাত্র শেভারের জন্য” লেখা থাকে। এগুলো ১১০ ভোল্টে রূপান্তর করে দেয়, যা উত্তর আমেরিকান ধাঁচের সকেটের শেভারের জন্য ব্যবহারযোগ্য। ভোল্টেজ ইউরোপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই শুধু একটি কনভার্সন প্লাগ প্রয়োজন হবে। এই ধরনের প্লাগ সহজেই সুপারমার্কেট, কনভেনিয়েন্স স্টোর কিংবা বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করা যায়। তবে উত্তর আমেরিকা বা অন্য ১১০ ভোল্টের দেশ থেকে আসলে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভোল্টেজ সহনশীলতা পরীক্ষা করে তারপর কনভার্সন প্লাগ ব্যবহার করা উচিত।
=== আরও দেখুন ===
অস্ট্রেলিয়ার বিষয়বস্তু
* [[অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং]]
* [[ওয়াল্টার বার্লি গ্রিফিনের স্থাপত্যকলা]]
* [[গাড়ি ছাড়া অস্ট্রেলিয়া]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার বড় বড় বস্তু]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত স্থানসমূহ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ান খাবার]]
* [[অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং]]
* [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার গির্জা]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ]]
* [[নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালনা]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গলফ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় আঙুর ভ্রমণ]]
* [[গ্রেট আর্টেসিয়ান বেসিন]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং]]
* [[কোশিউস্কো জাতীয় উদ্যানে হাইকিং]]
* [[আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামরিক জাদুঘর ও স্থানসমূহ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[নর্দান টেরিটরির জাতীয় উদ্যান]]
* [[নেড কেলি পর্যটন]]
* [[নিউ সাউথ ওয়েলসের জাতীয় উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় জীবাশ্মবিদ্যা]]
* [[কুইন্সল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ]]
* [[আরএফডিএস পর্যটন]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা]]
* [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[মেলবোর্নের স্ট্রিট আর্ট]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা]]
* [[শিশুদের সঙ্গে সিডনি]]
* [[তাসমানিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[মেলবোর্নের ট্রাম]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা]]
===ভ্রমণকারীর তথ্য===
* [https://www.australia.com/ ভিজিট অস্ট্রেলিয়া] ওয়েবসাইট
==ভাষা==
{{see also|ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন রূপ}}
{{infobox|অস্ট্রেলীয় পরিভাষা
|যদিও অস্ট্রেলীয় ইংরেজি মার্কিন ও ব্রিটিশ ইংরেজির দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত, তবুও অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব কিছু পরিভাষা রয়েছে। [[অস্ট্রেলীয় স্ল্যাং]]-এর বিপরীতে, এগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনায়, টেলিভিশনে এবং এমনকি সরকারি পর্যায়েও ব্যবহৃত হয়। এগুলোর অনেকগুলো প্রতিবেশী [[পাপুয়া নিউ গিনি]]তে ব্যবহৃত হয়, আর [[নিউজিল্যান্ড]] বা [[সিঙ্গাপুর]]-এর লোকদের কাছেও কিছু পরিচিত, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা ওশেনিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে অন্য কোনো ইংরেজিভাষী দেশে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।
;the bush:বনাঞ্চল। ‘‘বুশ’’ শব্দের উৎপন্ন শব্দগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন বনের আগুনকে বলা হয় ‘‘বুশফায়ার’’
;Commonwealth government: গোটা দেশের সরকার
;esky: কুলার বক্স
;doona: কমফর্টার বা ডুভে
;fairy floss: কটন ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); ক্যান্ডি ফ্লস (যুক্তরাজ্য)
;football (বা footy): অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল বা রাগবি লীগ (অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলকে বলা হয় ‘‘সকার’’)
;footpath: ফুটপাত (যুক্তরাষ্ট্রে sidewalk; যুক্তরাজ্যে pavement)
;hotel: বার, পাব
;icy pole: পপসিকল
;lollies: মিষ্টি বা ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে candy; যুক্তরাজ্যে sweets)
;mob: কোনো আদিবাসী সম্প্রদায়, তবে বন্ধুবান্ধবের একটি দল বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়
;peak hour: ব্যস্ত সময় বা রাশ আওয়ার
;powerpoint: বৈদ্যুতিক সকেট
;road train: অতি দীর্ঘ ট্রাক
;service station (বা servo): গ্যাস স্টেশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); পেট্রল স্টেশন (যুক্তরাজ্য); পেট্রল শেড (দক্ষিণ এশিয়া)
;thongs: ফ্লিপ-ফ্লপ; নিউজিল্যান্ডে ‘‘জ্যান্ডালস’’
;ute (উচ্চারণ ‘‘ইউট’’): পিকআপ ট্রাক
;yabby: ক্রেফিশ বা ক্রেফিস/ক্রেফিস
}}
'''ইংরেজি''' অস্ট্রেলিয়ায় সর্বজনীনভাবে প্রচলিত ভাষা। অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজির উচ্চারণ ও বাগধারা স্বতন্ত্র। এটি মূলত ১৮শ ও ১৯শ শতকে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড থেকে বিকশিত হলেও ২০শ শতকে আমেরিকান প্রভাব এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলে।
তবে অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ হওয়ায় বড় শহরগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা শোনা যায়। অভিবাসী সম্প্রদায়ের এলাকাগুলোতে তাদের ভাষার আধিক্য দেখা যায়। বিদেশি ভাষা স্কুলে শেখানো হলেও সাধারণত প্রাথমিক স্তরের পর তা অগ্রসর হয় না।
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে মূলত ব্রিটিশ বানান অনুসরণ করা হয়। তবে এতে ব্রিটিশ ও আমেরিকান উভয় পরিভাষার মিশ্রণ আছে। যেমন ''eggplant'' (aubergine নয়), ''boot'' (trunk নয়), ''toll-free'' (freephone নয়), ''take-away'' (takeout নয়) এবং ''truck'' (lorry নয়)। আমেরিকান শব্দ সবার কাছে বোধগম্য হলেও ব্রিটিশ শব্দ অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বা বয়স্ক প্রজন্ম বুঝতে পারে।
কিছু শব্দ একান্তই অস্ট্রেলিয়ান, যেমন ''thongs'' বলতে বোঝায় ফ্লিপ-ফ্লপ, অন্তর্বাস নয়। আবার ''chips'' শব্দটি একসঙ্গে ''fries'' এবং ''crisps'' দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়।
গ্রামীণ এলাকায় লোকদের উচ্চারণ তুলনামূলকভাবে ভারী এবং কিছু পুরোনো স্ল্যাং এখনও ব্যবহৃত হয়। শহরের শিক্ষিত মানুষদের উচ্চারণ অনেকটা ব্রিটিশ ধাঁচের। তবে ভ্রমণকারীদের [[অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং]] ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ভুল ব্যবহার হাস্যকর বা অসম্মানজনক শোনাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে খুব বেশি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নেই। তবে কিছু শব্দের উচ্চারণ যেমন ''dance'', ''renaissance'' ভিন্ন হয়। সুইমিং পোশাককে [[নিউ সাউথ ওয়েলস]]-এ ''cossies'' বা ''swimmers'', [[কুইন্সল্যান্ড]]ে ''togs'' এবং অন্যান্য অঞ্চলে ''bathers'' বলা হয়। বহু আদি অধিবাসী ও [[টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ|টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জের]] মানুষ ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।
[[File:Multilingual road safety sign (3565389671).jpg|thumb|left|200px|জার্মান, ইতালীয়, জাপানি ও পিজান্তজাতজারা ভাষায় একটি সড়ক নিরাপত্তা চিহ্ন। অস্ট্রেলিয়ায় এটি বেশ অস্বাভাবিক।]]
অস্ট্রেলিয়ায় সাইনবোর্ড সাধারণত ইংরেজিতেই থাকে। তবে এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ভিয়েতনামি ও চীনা ভাষায় রেস্তোরাঁ মেনু ও সাইন দেখা যায়। [[কেয়ার্নস]] ও [[গোল্ড কোস্ট]] এলাকায় জাপানি ও চীনা ভাষার কিছু সাইনও আছে, বিশেষত পর্যটকদের জন্য। সমুদ্রসৈকতে সতর্কতামূলক সাইন কখনও কখনও একাধিক ভাষায় লেখা থাকে।
যাঁরা একেবারেই ইংরেজি জানেন না তাঁদের জন্য যোগাযোগ কঠিন। কিছু ভ্রমণ সংস্থা চীনা, জাপানি, ভিয়েতনামি, জার্মান, ইতালীয়, ফরাসি, ইন্দোনেশীয় ও কোরিয়ান ভাষায় ট্যুর প্যাকেজ দেয়। কিছু ক্ষেত্রে স্প্যানিশ, মালয় ও পর্তুগিজ ভাষাতেও গাইডেড ট্যুর পাওয়া যায়। তবে হিন্দি, আরবি বা সোয়াহিলি ভাষার ট্যুর বিরল।
'''আদিবাসী''' ভাষাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ আদিবাসী ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে দুঃখজনকভাবে এর প্রচলন খুবই কম। বর্তমানে মাত্র ৪৬টি ভাষা দৈনন্দিনভাবে ব্যবহৃত হয়, যা প্রায় ৪২,৩০০ মানুষ কথা বলে। এসব ভাষা মূলত গ্রামীণ আউটব্যাক অঞ্চলের সম্প্রদায় এবং টরেস প্রণালীর দ্বীপগুলোতে বেশি শোনা যায়। আদিবাসী ভাষাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে, কারণ ভাষার সংখ্যা অনেক এবং এগুলো বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে ও একে অপরের সাথে বোধগম্য নয়। কোনো আদিবাসী ভাষা শেখা কেবল নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকাতেই উপকারী হবে। প্রায় সব আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রাই ইংরেজি বলতে পারেন, যদিও কিছু দূরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা ভাষাটিতে সাবলীল নাও হতে পারেন। আদিবাসী ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রিওল-ভিত্তিক ভাষাও প্রচলিত, যেমন [[অস্ট্রেলীয় ক্রিওল বাক্যবিন্যাস|অস্ট্রেলীয় ক্রিওল]] অথবা [[টরেস প্রণালী ক্রিওল বাক্যবিন্যাস|টরেস প্রণালী ক্রিওল]]।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংকেতভাষা হলো '''অজলান''' (Auslan – Australian Sign Language)। এটি [[ব্রিটিশ সংকেতভাষা|ব্রিটিশ সংকেতভাষা (BSL)]] থেকে বিকশিত এবং [[নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষা|নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষার]] সঙ্গে মিল আছে। তবে ফরাসি সংকেতভাষা পরিবারভুক্ত ভাষাভাষীরা (যেমন আমেরিকান বা আইরিশ সংকেতভাষা) অজলান সহজে বুঝতে পারবেন না।
==যেভাবে যাবেন==
[[File:Visa policy of Australia.svg|thumb|450px|
{{legend|#ED1C24|অস্ট্রেলিয়া}}
{{legend|#1191E5|বিশেষ ক্যাটাগরি ভিসা}}
{{legend|#22B14C|ই-ভিজিটর বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি}}
{{legend|#79D343|ই-ভিজিটর}}
{{legend|#B5E61D|ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি}}
{{legend|#C0C0C0|ভিসা প্রয়োজন}}
]]
===প্রবেশের শর্তাবলি===
'''সকলেই''' (নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ব্যতীত) ভ্রমণের আগে [[ভিসা]] সংগ্রহ করতে হবে।
আপনি যদি ৯০ দিনের কম সময়ের জন্য ছুটিতে আসেন, তবে আপনার নাগরিকত্বের ভিত্তিতে তিন ধরনের ভিসার একটি আবেদন করতে পারবেন।
* '''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/electronic-travel-authority-601 ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি (ইটিএ) সাবক্লাস ৬০১]''' অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এটি আবেদন করতে হবে অস্ট্রেলিয়ান ইটিএ অ্যাপ ব্যবহার করে, যার সার্ভিস ফি ২০ ডলার। ভিসাটি ১২ মাসের জন্য বৈধ।
* '''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/evisitor-651 ই-ভিজিটর (সাবক্লাস ৬৫১)]''' [[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]], [[নরওয়ে]], [[আইসল্যান্ড]], [[সুইজারল্যান্ড]], [[যুক্তরাজ্য]] এবং কয়েকটি [[ইউরোপীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্র|ইউরোপীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের]] নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এগুলো '''বিনামূল্যে''', তবে কার্যত ইটিএর মতোই। আবেদন অবশ্যই অনলাইনে করতে হবে।
* '''ভিজিটর ভিসা (সাবক্লাস ৬০০)'''। অধিকাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা [https://immi.homeaffairs.gov.au/help-support/applying-online-or-on-paper/online ইমি-অ্যাকাউন্ট] তৈরি করে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে দূতাবাস বা ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।
:: ইটিএ এবং ই-ভিজিটরের মতো, ভিজিটর ৬০০ ভিসাও সাধারণত তিন মাসের জন্য ইস্যু হয়। তবে এই ভিসা সর্বোচ্চ এক বছরের জন্যও দেওয়া যেতে পারে। তিন মাসের বেশি থাকতে চাইলে আপনার ভ্রমণের কারণ ও নিজ দেশের সাথে সম্পর্ক প্রমাণ করতে সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে এবং সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে হতে পারে। আপনার নাগরিকত্বের উপর ভিত্তি করে দূতাবাস বা ভিসা সেন্টার অস্ট্রেলিয়ান স্পনসর চাওয়ার শর্ত আরোপ করতে পারে। ফি হলো ১৯০ ডলার। ইটিএ ও ই-ভিজিটর ভিসা ১২ মাসে একাধিকবার প্রবেশের অনুমতি দেয়। তাই যোগ্য হলে সহজ উপায় হলো তিন মাস থাকা, তারপর [[নিউজিল্যান্ড]], [[সিঙ্গাপুর]], [[থাইল্যান্ড]] বা কাছাকাছি কোনো দেশে কয়েকদিন যাওয়া, পরে ফিরে এসে নতুন করে ৯০ দিন শুরু করা। তবে বারবার করলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করতে পারে।
:: অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ৬০০ ভিসা ১৮ মাস, তিন বছর বা পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হতে পারে। এতে সর্বোচ্চ ১২ মাসের থাকার অনুমতি দেওয়া হয় ১৮ মাসে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইটিএ ও ই-ভিজিটর সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদিত হয়। তবে জটিলতা থাকলে আপনার আবেদন হাতে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হতে পারে, এতে কয়েক মাসও লাগতে পারে। জটিল জাতীয় পরিচয় বা কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে (ছোট অপরাধও) আগে থেকেই সময় রেখে আবেদন করা জরুরি।
আপনি যদি কাজ, পড়াশোনা বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যেতে চান, সঠিক ধরনের ভিসা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পর্যটন ভিসা দিয়ে এগুলো বৈধ হবে না। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভিসা বাতিল, বহিষ্কার এবং পুনঃপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
সব ধরনের পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে আপনাকে আর্থিকভাবে নিজের ভ্রমণ ব্যয় বহন করতে সক্ষম প্রমাণ করতে হবে এবং চরিত্রগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে আবেদন করার আগে অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করুন।
নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়া ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। পৌঁছানোর পর তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পেশাল ক্যাটেগরি নিউজিল্যান্ড সিটিজেন ভিসা (সাবক্লাস ৪৪৪) পাবেন, যদি তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা না থাকে। এই ভিসায় তারা অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো সময় বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারবেন। তবে অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা থাকলে ভিসা অস্বীকার হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা কিন্তু এই ভিসার যোগ্য নন; তাদের নিজ দেশের পাসপোর্ট অনুযায়ী ভিসা নিতে হবে।
যাদের কাছে বৈধ এপেক বিজনেস ট্রাভেল কার্ড (এবিটিসি) রয়েছে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ব্যতীত), তারা চাকরি না করলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।
{{infobox|অজৈব গুঁড়ো বহনে সীমাবদ্ধতা|অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করা যাত্রীরা বিমানের কেবিনে সর্বোচ্চ ৩৫০ মিলি বা ৩৫০ গ্রাম অজৈব গুঁড়ো বহন করতে পারবেন।}}
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করেন, সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা এয়ারসাইডে থাকেন, পরবর্তী যাত্রার নিশ্চিত টিকিট থাকে, গন্তব্যের সঠিক নথিপত্র থাকে এবং আপনি নিউজিল্যান্ড, '''[[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]]''', [[অ্যান্ডোরা]], [[আর্জেন্টিনা]], [[ব্রুনেই]], [[কানাডা]], [[সাইপ্রাস]], [[ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া]], [[ফিজি]], [[আইসল্যান্ড]], [[ইন্দোনেশিয়া]], [[জাপান]], [[কিরিবাতি]], [[লিশটেনস্টাইন]], [[মালয়েশিয়া]], [[মেক্সিকো]], [[মোনাকো]], [[নাউরু]], [[নরওয়ে]], [[পালাউ]], [[পাপুয়া নিউগিনি]], [[ফিলিপাইন]], [[দক্ষিণ আফ্রিকা]], [[মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ]], [[সামোয়া]], [[সান মারিনো]], [[সিঙ্গাপুর]], [[স্লোভাকিয়া]], [[স্লোভেনিয়া]], [[সলোমন দ্বীপপুঞ্জ]], [[দক্ষিণ কোরিয়া]] (আরওকে), [[সুইজারল্যান্ড]], [[তাইওয়ান]], [[থাইল্যান্ড]], [[টোঙ্গা]], [[টুভালু]], [[সংযুক্ত আরব আমিরাত]], [[যুক্তরাজ্য]], [[যুক্তরাষ্ট্র]], [[ভানুয়াতু]] বা [[ভ্যাটিকান সিটি|ভ্যাটিকান সিটির]] নাগরিক হন, তাহলে আপনাকে অগ্রিম ভিসা নিতে হবে না। অন্য সবাইকে ট্রানজিট ভিসা (সাবক্লাস ৭৭১) বিনামূল্যে নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশের নাগরিক (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশ) [https://www.abf.gov.au/entering-and-leaving-australia/smartgates/arrivals স্মার্টগেট] ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাতে করা চেকের চেয়ে অনেক দ্রুত, তবে ভিসা প্রয়োজনীয়তার বাইরে নয়।
অস্ট্রেলিয়া এখন আর অধিকাংশ ভ্রমণকারীর পাসপোর্টে ভিসার সীল দেয় না বা ভিসার স্টিকার দেয় না; সব রেকর্ড ইলেকট্রনিকভাবে রাখা হয়। চাইলে আপনি ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সীল চাইতে পারেন, তবে আলাদা কাউন্টারে যেতে হতে পারে। ভিসার শর্ত যাচাই করতে পারবেন অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশনের [https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/already-have-a-visa/check-visa-details-and-conditions/check-conditions-online/visa-holders ভেভো] ওয়েবসাইট বা মাইভেভো অ্যাপের মাধ্যমে।
===শুল্ক ও কোয়ারেন্টাইন===
অস্ট্রেলিয়ায় '''পশু ও উদ্ভিদ'''-জাত পণ্য (যেমন খাবার, কাঠের তৈরি জিনিস, বীজ ইত্যাদি) আনার ক্ষেত্রে কঠোর কোয়ারেন্টাইন আইন রয়েছে। '''এই ধরনের সব জিনিসই ঘোষণা করতে হবে''', এমনকি এগুলো অনুমোদিত হলেও। লাগেজ প্রায়ই স্ক্যান করা হয় এবং কুকুর দ্বারা পরীক্ষা করা হতে পারে। যদি অসাবধানতাবশত ঘোষণা না করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ২৬৬৪ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, গুরুতর ক্ষেত্রে মামলা পর্যন্ত হতে পারে। ঘোষণা করা জিনিস পরীক্ষা করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা রাখা, ধ্বংস করা, ফেরত দেওয়া বা আপনার খরচে কোয়ারেন্টাইন ট্রিটমেন্ট করা হতে পারে। (পরে আপনাকে জিনিসটি সংগ্রহ করতে হতে পারে।) প্রক্রিয়াজাত ও সিল করা চকলেট বা অন্যান্য মিষ্টান্ন সাধারণত ঘোষণা ও পরীক্ষা শেষে অনুমোদিত হয়। শিশুর সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ শিশু খাদ্যও অনুমোদিত। তবে খাবারের উৎপত্তি দেশ ও আপনি যে রাজ্য দিয়ে প্রবেশ করছেন তার উপর নিয়ম আলাদা হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন: '''[http://www.agriculture.gov.au/travelling/bringing-mailing-goods কৃষি ও জলসম্পদ বিভাগ]'''।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ভ্রমণকারীরা শুল্কমুক্তভাবে সর্বোচ্চ ২.২৫ লিটার মদ্যপ পানীয়, ২৫টি সিগারেট, ২৫ গ্রাম অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য (সিগারসহ), ২টি ভেপ (রিইউজেবল বা ডিসপোজেবল) এবং সর্বোচ্চ ২০০ মিলি ভেপ তরল অস্ট্রেলিয়ায় আনতে পারবেন। ১৮ বছরের নিচে কেউ এসব আনতে পারবেন না। আর শুল্কমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে ওই শ্রেণির সব পণ্যের উপর কর দিতে হবে, কেবল অতিরিক্ত অংশে নয়।
কিছু ঝিনুক, প্রবাল এবং সুরক্ষিত প্রজাতি থেকে তৈরি জিনিসপত্র আনা নিষিদ্ধ। এর উদ্দেশ্য হলো বিপন্ন বাস্তুতন্ত্র বা প্রজাতি থেকে আসা জিনিসের ব্যবসা বন্ধ করা।
'''মুদ্রার''' ক্ষেত্রে আনা-নেওয়ার কোনো সীমা নেই। তবে যদি ১০,০০০ ডলার (অস্ট্রেলিয়ান ডলার) বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সঙ্গে থাকে, তাহলে তা ঘোষণা করতে হবে এবং কিছু কাগজপত্র পূরণ করতে হবে। ঘোষণা না করলে জরিমানা, মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা বা এমনকি গ্রেপ্তারও হতে পারে।
===বিমানে করে===
[[File:Qantas A330 VH-QPH at SYD (19810974155).jpg|thumb|[[সিডনি বিমানবন্দর]]-এ দুটি কান্তাস বিমান। আরও অনেক আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করে।]]
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, তাই বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো আকাশপথে ভ্রমণ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রবেশদ্বারসমূহের মধ্যে গুরুত্ব অনুসারে ক্রমান্বয়ে উল্লেখযোগ্য বিমানবন্দর হলো [[সিডনি]] ({{IATA|SYD}}), [[মেলবোর্ন]] ({{IATA|MEL}}), [[ব্রিসবেন]] ({{IATA|BNE}}) ও [[পার্থ]] ({{IATA|PER}})। এছাড়াও সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যায় অ্যাডিলেড, কেইর্নস, ডারউইন ও গোল্ড কোস্টেও।
[[সিডনি]] থেকে [[অকল্যান্ড]], নিউজিল্যান্ডে যেতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। এশিয়ার অনেক দেশের থেকে ফ্লাইটে সময় লাগে ৭ থেকে ১১ ঘণ্টা, [[যুক্তরাষ্ট্র]] ও [[কানাডা]]র পশ্চিম অংশ থেকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা, [[জোহানেসবার্গ]] থেকে ১৪ ঘণ্টা, [[দক্ষিণ আমেরিকা]] থেকে ১৩–১৬ ঘণ্টা এবং [[পশ্চিম ইউরোপ]] থেকে (একটি স্টপসহ) সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ যাত্রার কারণে ইউরোপ থেকে আসা অধিকাংশ ভ্রমণকারীকে একবার কোথাও স্টপ-ওভার করতে হয়। সাধারণত [[সিঙ্গাপুর]], [[হংকং]], [[দুবাই]], [[দোহা]], [[ব্যাংকক]] অথবা [[কুয়ালালামপুর]]-এ এই বিরতি নেওয়া হয়।
২০১৮ সালের মার্চ থেকে কান্তাস (Qantas) [[লন্ডন হিথরো বিমানবন্দর|লন্ডন হিথরো]] থেকে পার্থ পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে, যা মাত্র ১৭ ঘণ্টা সময় নেয়-এটি ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রথম নিয়মিত সরাসরি রুট। কান্তাস ভবিষ্যতে [[সিডনি]] থেকে লন্ডন এবং নিউইয়র্কের মধ্যে আরও কিছু সরাসরি দীর্ঘপথের ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
যদি আপনাকে কোনো গেটওয়ে শহরে নেমে ঘরোয়া ফ্লাইটে পরিবর্তন করতে হয়, তবে [[সিডনি]], [[ব্রিসবেন]] ও [[পার্থ]]-এ অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল আলাদা, যার কারণে ট্রানজিট করতে কিছুটা সময় ও ঝামেলা হতে পারে-এই বিষয়ে গাইড দেখে নেওয়া উচিত। তবে [[মেলবোর্ন]], [[অ্যাডিলেড]], [[ডারউইন]], [[কেইর্নস]] এবং [[গোল্ড কোস্ট]]-এ একই টার্মিনাল ভবনে বা হাঁটার দূরত্বে অভ্যন্তরীণ গেট অবস্থিত।
অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বিমানসংস্থা হলো জাতীয় পতাকাবাহী '''[http://qantas.com.au/ কান্তাস (Qantas)]'''। এদের সাথে রয়েছে তাদের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান '''[http://www.jetstar.com/ জেটস্টার (Jetstar)]''', যারা বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। '''[http://www.virginaustralia.com/ ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া (Virgin Australia)]''' দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালায়। ইউরোপ থেকে যারা আসছেন, তাদের জন্য '''[http://www.singaporeair.com সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স], থাই এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স''' এবং হংকংয়ের '''[http://www.cathaypacific.com ক্যাথে প্যাসিফিক (Cathay Pacific)]''' কান্তাস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বা উপসাগরীয় বিমানসংস্থাগুলোর বিকল্প হতে পারে।
কিছু রুটে '''ছাড়মূল্যের বিমানসংস্থা''' যেমন এয়ারএশিয়া এক্স, এয়ারএশিয়া (মালয়েশিয়া), এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়া, ট্রান্সনুসা, থাই এয়ারওয়েজ, বাতিক (মালয়েশিয়া), বাতিক (ইন্দোনেশিয়া), এবং স্কুট ফ্লাইট পরিচালনা করে।
২০২২ সাল থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত বিদেশি বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ান বিমানসংস্থার অংশীদার হয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে [https://www.aircanada.com এয়ার কানাডা] ও [https://www.united.com ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স]{{Dead link|date=May 2025 |bot=InternetArchiveBot }}।
==== ব্যক্তিগত বিমান পরিবহন ====
'''[http://www.australiajetcharter.com অস্ট্রেলিয়া জেট চার্টার]''' এবং '''[http://www.jetcorpaustralia.com/ জেটকর্প অস্ট্রেলিয়া]{{Dead link|date=September 2024 |bot=InternetArchiveBot }}''' সারা বছর বিভিন্ন ধরণের বিমান ব্যবহার করে সরাসরি ব্যক্তিগত ফ্লাইট সরবরাহ করে। জনপ্রিয় চার্টার বিমানবন্দরগুলির মধ্যে রয়েছে সিডনি ব্যাংকস্টাউন বিমানবন্দর, [[গোল্ড কোস্ট#বিমানযোগে|গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দর]] এবং মেলবোর্ন এসেন্ডন বিমানবন্দর।
আপনি যদি নিজস্ব ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন বা অস্ট্রেলিয়া থেকে যান, তবে আপনাকে যাত্রার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে এবং সর্বোচ্চ ৭ দিন আগে [https://flightrequest.homeaffairs.gov.au/abfsp আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনুরোধ] জমা দিতে হবে। যদি আপনার নির্ধারিত বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক না হয়, তবে আপনাকে ন্যাশনাল প্যাসেঞ্জার প্রসেসিং কমিটি (এনপিপিসি)-র মাধ্যমে [https://asap.homeaffairs.gov.au/nppc বিমান ও সমুদ্র অনুমোদন পোর্টাল]-এ আবেদন করতে হবে, যা আগমনের বা প্রস্থানের কমপক্ষে ১০ কার্যদিবস আগে জমা দিতে হয়।
=== সমুদ্রপথে ===
ক্রুজ শিপ সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ক্রুজিং মৌসুমে আসে, এ সময় প্রায় ১০টি জাহাজ বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। আপনি ক্রুজ শিপে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ফেরত ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেন। হল্যান্ড আমেরিকা লাইন, প্রিন্সেস ক্রুজেস এবং রয়্যাল ক্যারিবিয়ান প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রুজ অফার করে।
নিজস্ব ইয়টে করে অস্ট্রেলিয়ায় আসা সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে বর্ডার ফোর্সে সঠিক কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং অনুমোদিত [https://www.abf.gov.au/entering-and-leaving-australia/entering-and-leaving-by-sea/ports-of-entry প্রবেশ বন্দর]-এ পৌঁছাতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক ফেরি পরিষেবা নেই।
=== স্থলপথে ===
একসময় কিছু ট্যুর অপারেটর লন্ডন থেকে সিডনি পর্যন্ত স্থলপথে ভ্রমণের সুযোগ দিত, যেখানে কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত একটি ছোট বিমান যাত্রা ছিল। বর্তমানে কেবল মাডভেঞ্চার এই ধরনের ট্যুর পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দীর্ঘ রুট, যেমন: ২৬ সপ্তাহে ইরান–পাকিস্তান–ভারত হয়ে আসা, ২৬ সপ্তাহে ককেশাস ও মধ্য এশিয়া, ৬৪ সপ্তাহে আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–দক্ষিণ এশিয়া, অথবা আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–ককেশাস–মধ্য এশিয়া।
যারা স্বাধীনভাবে স্থলপথে আসতে চান, তারা ইউরোপ থেকে ট্রেন বা বাসে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেন এবং সেখান থেকে পার্থে (৩,৫০০ কিমি ফ্লাইট) যেতে পারেন। আরও সাহসী ভ্রমণকারীরা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরিতে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বালি পর্যন্ত পৌঁছে, সেখান থেকে ডারউইনে (২,০০০ কিমি ফ্লাইট) উড়তে পারেন। আরেকটি পথ হলো ফেরিতে ওয়েস্ট টিমোর, তারপর বাসে দিলি এবং সেখান থেকে ডারউইনে ফ্লাইট-যেখানে মাত্র ৭০০ কিমি আকাশপথ ভ্রমণ করতে হয়।
ডারউইনে কার্গো শিপ বা বার্জে (এএনএল এবং সোয়ায়ার সংস্থা) ভ্রমণ '''অনুমোদিত নয়''' (জুন ২০১৬)। তবে কেউ চাইলে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে মালবাহী জাহাজে যাত্রার ব্যবস্থা করতে পারে।
== ঘুরে দেখুন ==
অস্ট্রেলিয়া আয়তনে ''বিশাল'', তবে জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় শহরগুলির বাইরে বহু ঘণ্টা ভ্রমণ করেও সভ্যতার চিহ্ন নাও পাওয়া যেতে পারে।
=== কোয়ারেন্টাইন ===
অস্ট্রেলিয়ায় ফলমূল ও সবজি (মধুসহ) এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ কৃষি কোয়ারেন্টাইন অঞ্চলগুলিতেও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকে। তাই বড় শহরের বাইরে বা অন্য রাজ্যে গেলে গাড়িতে অতিরিক্ত ফল-সবজি বহন না করাই ভালো। বিস্তারিত জানতে দেখুন [https://interstatequarantine.org.au/ অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারস্টেট কোয়ারেন্টাইন] ওয়েবসাইট।
===গাড়িতে করে===
{{See also|অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো|গাড়িবিহীন অস্ট্রেলিয়া}}
[[File:Great Ocean Road, Lorne, Australia - Feb 2012.jpg|thumb|দ্য গ্রেট ওশেন রোড]]
[[File:Stuart Highway, Australia.jpg|thumb|মধ্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট হাইওয়ের একটি অংশ]]
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সড়ক ও মহাসড়কের একটি ভালো নেটওয়ার্ক আছে এবং গাড়ি চলাচলের খুবই প্রচলিত মাধ্যম। সিডনি, মেলবোর্ন, পার্থ ও দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে গণপরিবহন মোটামুটি নির্ভরযোগ্য হলেও দেশের বাকি অংশে ঘুরে বেড়াতে হলে গাড়ি থাকাই সুবিধাজনক, অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য।
অস্ট্রেলিয়ার জনঘনত্ব কম এবং দেশটি বিশাল-তাই প্রধান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে গাড়িতে যাতায়াতের সময় দীর্ঘ হয়। উদাহরণস্বরূপ সিডনি থেকে পার্থ (৪,০০০ কিমি) বা অ্যাডিলেড থেকে ডারউইন (৩,০০০ কিমি) যেতে গাড়িতে অন্তত অর্ধ-সপ্তাহ ধরে চালাতে হবে; বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য উড়োজাহাজে যাওয়াই উত্তম। ইউরোপীয় দৃষ্টিতে এটি মাদ্রিদ থেকে মস্কোর দূরত্বের সমান, আর উত্তর আমেরিকার দৃষ্টিতে মায়ামি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের সমান।
মেলবোর্ন, ক্যানবেরা, সিডনি ও ব্রিসবেন বিভক্ত ডুয়াল ক্যারেজওয়ে দিয়ে যুক্ত-তবে পথের অধিকাংশই পূর্ণাঙ্গ ফ্রিওয়ে মানের নয়, তাই কোথাও কোথাও এখনও সমতল সংযোগস্থল আছে। অধিকাংশ অন্যান্য মহাসড়ক এক লেনে একমুখী চলাচলের, এবং রাজ্যভেদে প্রতি ৫–২০ কিমি পরপর ওভারটেকিং লেন থাকে। ছোট কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করা সড়ক (বা মানচিত্রে শর্টকাটের মতো দেখালেও) অনেক সময় সরু বা কাঁচা হতে পারে এবং সাধারণত ধীরগতির।
অস্ট্রেলিয়ার সড়কে বড় বিপদের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও ভারী ট্রাক উল্লেখযোগ্য। গোধূলি বা রাতের অন্ধকারে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্ক থাকুন-এই সময় প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বড় আঞ্চলিক এলাকায় পাকা (সিলড) ডুয়াল-লেন সড়ক আছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে খারাপভাবে রক্ষণাবেক্ষিত মাটির রাস্তা কিংবা শুধু ট্র্যাকও থাকতে পারে। দূরত্ব ও গতি কিলোমিটারে নির্দিষ্ট হয় এবং জ্বালানি লিটারে বিক্রি হয়। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন বা টুউম্বার নগরাঞ্চলের বাইরে সড়ক বা সেতুতে টোল নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি বামে চালানো হয়। যারা ডানে চালাতে অভ্যস্ত বিদেশি চালক, প্রথম দিকে এবং বিশেষ করে গ্রামীণ ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত সাবধান থাকুন।
সাধারণভাবে বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আগমনের পর তিন মাস পর্যন্ত গাড়ি চালানো যায়। লাইসেন্সটি যদি ইংরেজিতে না হয়, তবে আপনার লাইসেন্সের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (আইডিপি) থাকতে হবে। লাইসেন্সিং বিধি ও সড়কনিয়ম রাজ্যভেদে সামান্য পরিবর্তিত হয়।
অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান অঞ্চলে ডিফল্ট গতিসীমা-নির্মিত/আবাসিক এলাকায় ৫০ কিমি/ঘণ্টা এবং গ্রামীণ সড়কে ১০০ কিমি/ঘণ্টা; তবে নর্দার্ন টেরিটরিতে (NT) শহুরে ডিফল্ট ৬০ কিমি/ঘণ্টা, আর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA) ও NT-তে গ্রামীণ ডিফল্ট ১১০ কিমি/ঘণ্টা। বিশেষ করে আউটব্যাকে অনেক প্রধান গ্রামীণ সড়কের সাইনবোর্ডে ১১০ কিমি/ঘণ্টা সীমা দেওয়া থাকে। তবে রাস্তার মান খারাপ ও ওভারটেকিংয়ের সীমিত সুযোগের কারণে গড় গতি সচরাচর ৮০ কিমি/ঘণ্টার বেশি হয় না। যে সব জাতীয় মহাসড়ক পর্বতমালা পেরিয়ে ছোট শহর দিয়ে যায়, সেখানে গড়ে ৬০ কিমি/ঘণ্টা তুলতেও কষ্ট হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় গতিসীমা খুব কড়াভাবে প্রয়োগ করা হয়-সীমা সামান্য ছাড়ালেও ভারী জরিমানার নোটিস পেতে পারেন।
যে কেউ '''ভাল-মেইনটেন করা সড়ক ছেড়ে''' অস্ট্রেলিয়ার ভেতরের দিকে যাচ্ছেন, তাদের উচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া, আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা যাচাই করা, এবং পর্যাপ্ত অতিরিক্ত জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ, অতিরিক্ত টায়ার, দেশলাই, খাদ্য ও পানি নেওয়া। কিছু দূরবর্তী সড়কে মাসে গড়ে একটিরও কম গাড়ি যেতে পারে।
জাতীয় মহাসড়ক ও শহরাঞ্চলের বাইরে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না-জরুরি অবস্থার জন্য পূর্বসতর্কতা নিন।
গরম ও পানিশূন্যতা বছরের যে কোনো সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে গাড়ির সঙ্গেই থাকুন এবং আকাশ থেকে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। এই পরামর্শকে হালকাভাবে নেবেন না-প্রতি বছরই দূরবর্তী এলাকায় গাড়ি বিকল হওয়ার পর পানিশূন্যতায় স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। যদি গাড়ি ছেড়ে যেতেই হয় (ধরা যাক বিকল হয়ে পড়ার পর অন্য কারও গাড়িতে উঠে নিলেন), তাহলে স্থানীয় থানায় ফোন করে জানিয়ে দিন-নয়তো আপনার জন্য অযথা অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।
====গাড়ি ভাড়া====
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক বড় বড় কোম্পানিসহ অনেক আউটলেটে নানান ধরনের ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায়। প্রধান আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের মধ্যে আছে [https://www.enterpriserentacar.com.au/en/car-rental/locations/australia.html এন্টারপ্রাইজ], [https://www.alamo.com/en/car-rental-locations/au.html আলামো], [https://www.nationalcar.com/en/car-rental/locations/au.html ন্যাশনাল], অ্যাভিস, বাজেট, হার্টজ, থ্রিফটি, সিক্সট এবং ইউরোপকার। বেশিরভাগ ভাড়াদাতা সংস্থা আগে থেকে বিশেষ চুক্তি না করলে তাদের গাড়ি ফেরিতে তোলার বা নর্দার্ন টেরিটরি (NT) ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA)-র সীমানা পার করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ছোট শহরগুলোতে গাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন হতে পারে। আঞ্চলিক ছোট আউটলেট থেকে একমুখী ভাড়ায় অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় আরও অনেক দেশীয় ব্র্যান্ডও আছে-যেমন [https://www.redspot.com.au/ রেডস্পট], ইস্ট কোস্ট, [https://www.jucy.com/au/en জুসি] ও নোবার্ডস। ছোট গাড়িগুলো ম্যানুয়াল (স্টিক-শিফট) হতে পারে, আর বড় গাড়ির অধিকাংশই অটোমেটিক।
[[File:Jucy Car (20132108710).jpg|thumb|বিভিন্ন কোম্পানির ক্যাম্পারভ্যানের বিন্যাস আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, জুসি এই ক্যাম্পারভ্যানটিকে রুফটপ ডাবল বেড থাকার কারণে ৪-বার্থ বলে]]
আপনার কাছে অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে, কিছু ভাড়াদাতা সংস্থা পর্যটকদের জন্য প্রণীত বিনামূল্যের [http://www.driverknowledgetests.com/learners-permit/tourist/ ড্রাইভার নলেজ টেস্ট] নিতে বলতে পারে, যেখানে মৌলিক সড়কনিয়ম থাকে; অথবা তারা আপনাকে সংক্ষিপ্ত একটি ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই করতে পারে।
====ক্যাম্পারভ্যান ====
'''ক্যাম্পারভ্যান''' হলো এমন যান যা সাধারণত একটি মিনি-ভ্যানকে মোটরহোমে (বিনোদনমূলক যান) রূপান্তর করে তৈরি করা হয়; এগুলো মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার অগণিত তরুণ ব্যাকপ্যাকারদের চাহিদা মেটায় যারা দেশজুড়ে ঘোরেন। সিডনি থেকে কেয়র্নস পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে এই যান বিশেষভাবে বেশি দেখা যায়। [[অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো]] নিবন্ধে ক্যাম্পারভ্যান ভাড়া বা কেনা সম্পর্কে আরও তথ্য আছে।
কখনও কখনও এক শহর থেকে আরেক শহরে '''রিলোকেশনের''' প্রয়োজন থাকা ক্যাম্পারভ্যান নামমাত্র খরচে-প্রতিদিন মাত্র ১ মার্কিন ডলার পর্যন্তেও-বুক করা যায়। কখনও কখনও ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জ্বালানির খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমন অফার খুঁজতে পারেন-[https://coseats.com/campervan-relocation কোসিটস], [https://www.drivenow.com.au/onewayrentals.jspc#/relocations/AU ড্রাইভনাও], [https://www.transfercar.com.au/search?pickup=&dropoff= ট্রান্সফারকার] ও [https://www.imoova.com/en ইমুভা]।
====কারপুলিং====
কারপুলিং অস্ট্রেলিয়া ঘোরার জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী উপায়-বিশেষ করে ব্যাকপ্যাকার ও বাজেট সচেতন ভ্রমণকারীদের জন্য। এতে জ্বালানির খরচ ভাগ করা যায় এবং একই পথে যাওয়া অন্যদের সঙ্গে সংযোগ ঘটে। দেশে সাধারণত ব্যবহৃত কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম হলো [https://www.rooride.app/ রুরাইড], [https://coseats.com/ কোসিটস], [https://liftshare.com/ লিফটশেয়ার] ও [https://www.carpoolworld.com/ কারপুলওয়ার্ল্ড]। অঞ্চলভেদে প্রাপ্যতা বদলাতে পারে-ভ্রমণ পরিকল্পনায় একাধিক প্ল্যাটফর্ম দেখে নেওয়া ভালো।
===ট্যাক্সিতে করে===
বড় শহর ও নগরীগুলোতে ট্যাক্সি সার্ভিস আছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায় (সিবিডি) রাস্তায় দাঁড়িয়েই ট্যাক্সি ডাকা যায়। [https://www.uber.com/global/en/cities/ উবার] ও [https://www.didiglobal.com/ দিদি] বড় শহরগুলোতে চালু। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যাক্সি খুঁজে পেতে সহায়ক কয়েকটি স্মার্টফোন অ্যাপও আছে-যেমন [https://www.mydriver.com/en মাইড্রাইভার], [https://gocatch.com/ গো-ক্যাচ]{{Dead link|date=আগস্ট ২০২৪ |bot=InternetArchiveBot }}।
শহরের বাইরে ছোট শহরগুলোতে ট্যাক্সি সেবার পরিমাণ সীমিত হতে পারে, আবার খুব ছোট বা দূরবর্তী শহরে একেবারেই নাও থাকতে পারে।
===উড়োজাহাজে===
[[File:Melbourne Airport T1 with Qantas and Jetstar jets.jpg|thumb|২৫০px|মেলবোর্ন বিমানবন্দরে কান্তাস ও জেটস্টারের উড়োজাহাজ]]
দেশের দূরত্ব দীর্ঘ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাতায়াত খুবই জনপ্রিয়। প্রধান ব্যবসায়িক করিডর (মেলবোর্ন–সিডনি–ব্রিসবেন) পথে দিনের বেলায় প্রায় প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ফ্লাইট ছাড়ে-প্রায় বাস সার্ভিসের মতোই ঘন।
সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক রুটেই সাধারণত সেরা ভাড়া পাওয়া যায়; আর ফ্লাইট কম থাকা দূরবর্তী রুটগুলোতে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়। কান্তাস অনেক সময় প্রতিযোগিতামূলক মূল্য দেয়-শুধু ফুল-সার্ভিস বলে অপশনটি বাদ দেবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় প্রধান এয়ারলাইনের সংখ্যা হাতে গোনা-তাই দেশীয় রুটে দামের তুলনা করতে সময় লাগবে না:
* '''[https://www.qantas.com.au/ কান্তাস]'''-ফুল-সার্ভিস জাতীয় বাহক; সব বড় শহর ও কিছু বড় আঞ্চলিক শহরে (কান্তাসলিংক দেখুন) ফ্লাইট আছে;
* '''[https://www.virginaustralia.com/ ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া]'''-দেশজুড়ে ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইন; বড় শহর ও কয়েকটি বড় আঞ্চলিক শহরে উড়ে;
* '''[https://www.jetstar.com/au/en/home জেটস্টার]{{cbignore}}'''-কান্তাসের ডিসকাউন্ট শাখা; সীমিত পরিষেবা ও নির্দিষ্ট আসনব্যবস্থা।
আঞ্চলিক গন্তব্যে কয়েকটি এয়ারলাইনস সেবা দেয়-ভাড়া তুলনামূলক বেশি ও ছাড় কম আশা করুন।
* '''[https://www.qantas.com.au/regions/dyn/home/qualifier-country-au কান্তাসলিংক]'''-কান্তাসের আঞ্চলিক শাখা;
* '''[https://www.rex.com.au/ রিজিওনাল এক্সপ্রেস]'''-পূর্ব উপকূলের বড় শহর ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার শহরাঞ্চলে সেবা;
* '''[https://www.airnorth.com.au এয়ারনর্থ]'''-নর্দার্ন টেরিটরি ও [[তিমুর-লেস্টে]];
* '''[https://www.skytrans.com.au স্কাইট্রান্স এয়ারলাইন্স]'''-কুইন্সল্যান্ডের আঞ্চলিক রুটে;
* '''[https://www.sharpairlines.com.au/ শার্প এয়ারলাইন্স]'''-ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি আঞ্চলিক শহরে।
====চার্টার====
{{see also|সাধারণ বিমান চলাচল}}
নিয়মিত নির্ধারিত ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়ার হাজারো বিমানবন্দরের মধ্যে কেবল অল্প কয়েকটিতেই যায়। চার্টার বিমানের বহু বিকল্প আছে-এগুলো ছোট শহর বা অফশোর দ্বীপেও সরাসরি নিয়ে যেতে পারে। একই দলে ৩ জন বা তার বেশি হলে খরচ প্রায়ই নির্ধারিত ফ্লাইটের সমতুল্য হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান প্রাইভেট পাইলটস লাইসেন্স ব্যক্তিগত পাইলটকে যাত্রী বহনের ও যাত্রীদের কাছ থেকে প্লেন ভাড়া ও জ্বালানির খরচ আদায়ের অনুমতি দেয়; তবে যাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া বা বাণিজ্যিকভাবে উড়তে দেয় না। তারপরও স্থানীয় ফ্লাইং ক্লাবগুলোর ওয়েবপেজ দেখলে দেখবেন, রৌদ্রোজ্জ্বল সাপ্তাহিক ছুটিতে কেউ প্লেন ও জ্বালানির খরচ ভাগ করলে বেসরকারি পাইলটরা প্রায়ই উড়তে আগ্রহী থাকেন।
===রেলে করে===
{{see also|অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ|অস্ট্রেলিয়া পাড়ি রেলে}}
[[File:Passenger rail services in Australia en.png|thumb|upright=2.1|অস্ট্রেলিয়ার প্রধান আন্তঃনগর রেলপথের মানচিত্র]]
অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রায় ট্রেন খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়: সাধারণত গাড়ির চেয়ে ধীর, বিমানের চেয়ে ব্যয়বহুল, আর বাসের চেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে। রাজ্যগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক সমন্বয়হীনতা, বিশাল দূরত্ব আর তুলনামূলক কম জনসংখ্যার কারণে জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক ধীরগতির এবং মূলত পণ্যবাহী। তবুও আন্তঃনগর রেলভ্রমণ বেশ দৃশ্যাবলিময় হতে পারে এবং দেশকে নতুন কোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। কিছু ছোট শহরে যাওয়ার জন্য এটি সাশ্রয়ীও হতে পারে-সেসব রুটে বিমানের ভাড়া রাজ্য রাজধানীগুলোর রুটের তুলনায় প্রায়ই বেশি পড়ে।
বর্তমান অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীবাহী রেল সেবা রাজ্য রাজধানীকে আঞ্চলিক শহরের সঙ্গে যুক্ত করে-যেমন [[বেন্ডিগো]] থেকে মেলবোর্ন, বা কেয়র্নস থেকে ব্রিসবেন। দুইটি আন্তমহাদেশীয় রুট (অ্যাডিলেড–ডারউইন ও সিডনি–পার্থ) বিলাসবহুল, পর্যটকমুখী সেবা-যাদের হাতে সময় ও বাজেট দুটোই বেশি। আপনি যদি রেলপ্রেমী না হন, তবে সাধারণত উড়োজাহাজ বা গাড়িই দ্রুত ও সাশ্রয়ী।
তাসমানিয়ায় কোনো যাত্রীবাহী রেল নেই। নর্দার্ন টেরিটরিতে কেবল ডারউইন থেকে অ্যালিস স্প্রিংস হয়ে অ্যাডিলেড পর্যন্ত একটি লাইন আছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ক্যানবেরার কেন্দ্রের কাছেই একটি মাত্র স্টেশন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় রেলসেবা প্রধানত অ্যাডিলেডের শহরতলি নেটওয়ার্কে সীমিত; তবে মেলবোর্নগামী ট্রেন ভিক্টোরিয়া-সীমানা পর্যন্ত কয়েকটি দেশীয় শহরে থামে।
====দূরপাল্লার ট্রেন অপারেটর====
[[File:Indian Pacific Bellevue, Western Australia-small.jpg|thumb|ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক]]
অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন একটি বেসরকারি ও চারটি রাজ্য সরকারি অপারেটরের মিশেলে পরিচালিত হয়। দেশজুড়ে সব দূরপাল্লার অপারেটরকে কভার করে এমন কেন্দ্রীয় টিকিটিং সেবা নেই-একাধিক অপারেটরের রুটে গেলে আলাদা আলাদা টিকিট কিনতে হবে।
* '''[https://www.journeybeyondrail.com.au/ জার্নি বিয়ন্ড]'''-বেসরকারি বিলাসবহুল পর্যটক ট্রেন অপারেটর; ''দ্য গ্যান'' [[অ্যাডিলেড]] থেকে [[অ্যালিস স্প্রিংস]] হয়ে [[ডারউইন]] পর্যন্ত (শুধু মার্চ থেকে নভেম্বরের মধ্যে), ''দ্য ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক'' [[সিডনি]] থেকে [[অ্যাডিলেড]] হয়ে [[পার্থ]] পর্যন্ত, এবং ''দ্য ওভারল্যান্ড'' অ্যাডিলেড থেকে [[মেলবোর্ন]] পর্যন্ত চালায়। ওভারল্যান্ড ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভর্তুকিপ্রাপ্ত-তাই জার্নি বিয়ন্ডের অন্যান্য সেবার চেয়ে সস্তা-তবে এতে স্লিপার কোচ নেই, পুরো যাত্রা দিনের মধ্যেই শেষ হয়।
* '''[https://transportnsw.info/ ট্রান্সপোর্ট নিউ সাউথ ওয়েলস (Transport NSW)]'''-সিডনিকে কেন্দ্র করে নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW)-এ সেবা; আশেপাশের শহরে ইন্টারসিটি ট্রেন, আর দূরপাল্লায় এনএসডব্লিউ ট্রেনলিংক (NSW TrainLink) মেলবোর্ন, [[ব্রিসবেন]], ক্যানবেরা ও রাজ্যের দূরবর্তী আঞ্চলিক কেন্দ্রে যায়। রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায় এবং এসব রুটে রেল+কোচ মিলিয়ে কম্বিনেশন টিকিট তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
* '''[http://www.vline.com.au ভি/লাইন (V/Line)]'''-মেলবোর্নকে কেন্দ্র করে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক কেন্দ্রে ট্রেন; রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায়। মেলবোর্ন–অ্যাডিলেড ও মেলবোর্ন–ক্যানবেরা রুটে ট্রেন+কোচ মিলিত সেবা আছে।
* '''[https://www.queenslandrailtravel.com.au/ কুইন্সল্যান্ড রেল]'''-ব্রিসবেনকে কেন্দ্র করে কুইন্সল্যান্ডের দূরপাল্লার রেল; ফ্ল্যাগশিপ ''স্পিরিট অব কুইন্সল্যান্ড'' ব্রিসবেন–[[কেয়র্নস]] রুটে। এছাড়া ''ইনল্যান্ডার'' [[টাউনসভিল]]–[[মাউন্ট আইসা]] এবং ''স্পিরিট অব দ্য আউটব্যাক'' ব্রিসবেন–[[রংগ্রীচ]] ([[রকহ্যাম্পটন]] হয়ে) রুটে চলে।
* '''[http://www.transwa.wa.gov.au ট্রান্সডব্লিউএ (Transwa)]'''-ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া সরকারের অপারেটর; পার্থ থেকে [[কালগুর্লি]] ও [[বানবারি]] পর্যন্ত ট্রেন চালায়। রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমে যেখানে আগে রেল ছিল সেখানে ট্রান্সডব্লিউএ অনেক কোচ সেবাও চালায়।
====মোটোরেল সেবা====
একসময় অস্ট্রেলিয়ায় মোটোরেল প্রচলিত ছিল-ট্রেনের পেছনে বিশেষ বগিতে নিজের গাড়ি তোলা যেত। বর্তমানে এই সেবা কেবল জার্নি বিয়ন্ডের অ্যাডিলেড–পার্থ বা অ্যাডিলেড–ডারউইন রুটে আছে। মাঝপথের কোনো স্টেশনে গাড়ি নামানো যায় না।
====রেল পাস====
সারা অস্ট্রেলিয়ার সব ট্রেনে চলার মতো কোনো একক রেল পাস নেই। তবে আপনি যদি রেল-উৎসাহী হন এবং ব্যাপক রেলভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, কয়েকটি পাসে সাশ্রয় হতে পারে। কিনবার আগে ভ্রমণসূচি ভালোভাবে গুছিয়ে নিন। দেশের ট্রেন কম-ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে এবং আঞ্চলিক শহরে পৌঁছাতে সময়টা অস্বস্তিকর হতে পারে।
* '''[http://www.nswtrainlink.info/deals/discovery ডিসকভারি পাস]'''-সব NSW ট্রেনলিংক (ট্রেন ও কোচ) সেবায় প্রযোজ্য। নিউ সাউথ ওয়েলস জুড়ে, উত্তরে ব্রিসবেন এবং দক্ষিণে মেলবোর্ন পর্যন্ত যেতে পারবেন।
* কুইন্সল্যান্ড রেল কোস্টাল পাস ও কুইন্সল্যান্ড রেল এক্সপ্লোরার পাস।
====স্থানীয় গণপরিবহন====
[[File:Cityrail-millennium-M32-ext.jpg|thumb|সিডনির এক শহরতলি ট্রেন]]
[[File:D2.5007 + C2.5111 bourke.JPG|thumb|বিশ্বের বৃহত্তম ট্রাম নেটওয়ার্কে সেবাপ্রাপ্ত মেলবোর্ন]]
সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, [[উলংগং]] ও [[নিউক্যাসেল (নিউ সাউথ ওয়েলস)|নিউক্যাসেল]]-এসব শহরে উপনগর রেল ও বাস শহুরে গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বিত। মেলবোর্ন, অ্যাডিলেড, সিডনি, নিউক্যাসেল, ক্যানবেরা ও গোল্ড কোস্টে ট্রামও চলে; সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে ফেরি আছে। সিডনিতে দেশের একমাত্র মেট্রো লাইন চালু। বাকি রাজধানী শহরগুলোতে কেবল বাসসেবা আছে। বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট শহরভিত্তিক গাইড দেখুন।
===কোচে করে===
{{seealso|অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ায় (আন্তঃনগর) কোচ ভ্রমণ সস্তা ও সুবিধাজনক, যদিও আন্তঃরাজ্য দূরত্ব দীর্ঘ বলে ভীতিজনক মনে হতে পারে। গ্রেহাউন্ডের নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বড়; এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় রাজ্য পরিচালিত কোচ নেটওয়ার্ক আছে-যেগুলো রাজ্যের রেলব্যবস্থার সঙ্গে ভালোভাবে একীভূত, তবে একক পরিষেবা হিসেবেও বুক করা যায়। অন্যান্য রাজধানী শহর থেকে পার্থে কোনো কোচ সেবা নেই।
* {{listing
| নাম=ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস | ইউআরএল=http://www.fireflyexpress.com.au | ইমেইল=enquiries@fireflyexpress.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=১৩০০ ৭৩০ ৭৪০ (স্থানীয় হার), +৬১ ৩ ৮৩১৮ ০৩১৮ (আন্তর্জাতিক কলার) | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিকে যুক্ত করে সেবা দেয়।
}}
* {{listing
| নাম=গ্রেহাউন্ড | ইউআরএল=http://www.greyhound.com.au | ইমেইল=info@greyhound.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=১৩০০ ৪৭৩ ৯৪৬ (স্থানীয় হার) | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| শেষ সম্পাদনা=২০২৩-০৫-২২| বিবরণ=গ্রেহাউন্ড প্রতিদিন অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ১,১০০-র বেশি গন্তব্যে যায়। টিকিটিংয়ের বিভিন্ন ধরন আছে, যার মধ্যে সারাদেশে ১৫–১২০ দিনের জন্য সীমাহীন ওঠা–নামার পাস (“হুইমিট পাস”) এবং মেলবোর্ন–কেয়র্নস রুটে ৭–৩০ দিনের “ইস্ট কোস্ট হুইমিট” অন্তর্ভুক্ত।
}}
* {{listing
| নাম=মারিজ | ইউআরএল=http://www.murrays.com.au | ইমেইল=reservations@murrays.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=+৬১ ১৩ ২২ ৫১ | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=মারিজ ক্যানবেরা–সিডনি, [[নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ উপকূল|এনএসডব্লিউ দক্ষিণ উপকূল]] ও [[স্নোয়ি মাউন্টেনস|তুষারাচ্ছন্ন ঢাল]] রুটে সেবা দেয়।
}}
* {{Listing|name=প্রিমিয়ার মোটর সার্ভিসেস|url=https://premierms.com.au/|lastedit=2023-05-22|content=প্রিমিয়ার পূর্ব উপকূল জুড়ে বাস চালায়—দক্ষিণ এনএসডব্লিউর ইডেন থেকে শুরু করে দূর-উত্তর কুইন্সল্যান্ডের কেয়র্নস পর্যন্ত। গন্তব্য গ্রেহাউন্ডের চেয়ে কম হলেও বাসসমূহ মানসম্মত এবং ভাড়া গ্রেহাউন্ডের তুলনায় প্রায় ১০% কম।}}
===নৌপথে===
[[File:Spirit of Tasmania Port Melbourne.jpg|thumb|পোর্ট মেলবোর্নে ''স্পিরিট অব তাসমানিয়া II'']]
সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে গণপরিবহনের অংশ হিসেবে ফেরি সেবা আছে। আঞ্চলিক এলাকার কিছু ছোট সড়কে এখনও নদী বা খাল পার হতে পন্টুন (পান্ট) চলাচল করে। ব্যারিয়ার রিফের দ্বীপগুলোতে কিছু নির্ধারিত নৌসেবা আছে, আর কয়েকটি ক্রুজ জাহাজও অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপ্রান্ত ঘুরে যায়।
তবে বড় আন্তঃনগর ফেরি সেবা বিরল। মনে রাখবেন-বেশিরভাগ গাড়িভাড়া কোম্পানি তাদের গাড়ি ফেরিতে তুলতে দেয় না।
* '''[http://www.spiritoftasmania.com.au/ দ্য স্পিরিট অব তাসমানিয়া]'''-অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র দীর্ঘপাল্লার ফেরি [[তাসমানিয়া]]র [[ডেভনপোর্ট]] থেকে [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]]র [[জিলং]] পর্যন্ত চলে; এই রুটে বাস প্রণালী পেরিয়ে প্রতিদিন গাড়ি ও যাত্রী বহন করে। দিনের ও রাতের উভয় সময়েই সার্ভিস থাকে। উড়োজাহাজের চেয়ে সাধারণত বেশি খরচ পড়ে, তবে নিজস্ব যান নিতে চাইলে সার্থক।
* '''[https://www.sealink.com.au/ সিলিংক]'''-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম দক্ষিণের দ্বীপ [[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]কে মূল ভূখণ্ড [[সাউথ অস্ট্রেলিয়া]]র [[কেপ জার্ভিস]]-এর সঙ্গে নিয়মিত কার ফেরিতে যুক্ত করে।
* '''[https://spencergulfsearoad.com/ স্পেনসার গাল্ফ সিরোড]''' (সি–এস–এ)-[[ইয়ার্ক উপদ্বীপ]]র [[কাওয়েল]] (বা [[ফ্র্যাঙ্কলিন হারবার]])-এর কাছে লাকি বে থেকে [[ইয়র্ক উপদ্বীপ]]র ওয়ালারু পর্যন্ত স্পেনসার গাল্ফ পেরিয়ে শর্টকাট দেয়। সেবা প্রায়ই স্থগিত হয়েছে, তবে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এটি চালু রয়েছে।
===লিফটে করে===
তাসমানিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরি ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে লিফট নেওয়া (হিচহাইকিং) অবৈধ; শাস্তি শূন্য (সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি) থেকে শুরু করে কুইন্সল্যান্ডে ৩,২০০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সব রাজ্যেই ফ্রিওয়েতে বাঁধের ধারে দাঁড়ানো বা হাঁটা নিষিদ্ধ-ফলে বাস্তবে অনেক জায়গায় লিফট নেওয়া বেআইনি হয়ে যায়।
জরুরি অবস্থায় বাধ্য হলে কোনো চালক আপনাকে নিকটতম শহর পর্যন্ত সাহায্য করতে পারেন। (অনেক আন্তঃনগর মহাসড়ক ও ফ্রিওয়েতে জরুরি ফোন থাকে।)
তারপরও গ্রামীণ এলাকায় লিফট চাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সকাল সকাল বেরোনোই উত্তম। শহরের প্রধান এক্সিটের কাছে-তবে রাস্তায় নয়-দাঁড়ানো সবচেয়ে ভালো।
===সাইকেলে===
অস্ট্রেলিয়ায় শহরের মধ্যে দূরপাল্লায় সাইকেলে যাতায়াত খুব একটা দেখা যায় না; অধিকাংশ দূরপাল্লার মহাসড়কে সাইক্লিস্টদের জন্য সুযোগ-সুবিধা দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ সিডনি–ব্রিসবেন সাইকেলে যেতে ২–৩ সপ্তাহ ধরতে হবে-প্রতিদিন প্রায় ৮০–১০০ কিমি করে।
তবু সাহসী ভ্রমণকারীরা দীর্ঘপথ সাইকেলে কভার করেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে ভিন্ন অভিজ্ঞতায় দেখেন। নালারবরসহ বিচ্ছিন্ন মহাসড়কেও দীর্ঘপথ সাইকেলযাত্রী দেখা যায়।
কিছু রাজ্যে পুরনো রেলপথকে রেল ট্রেলে রূপান্তর করা হয়েছে। [https://www.railtrails.org.au/ রেল ট্রেল অস্ট্রেলিয়া] ওয়েবসাইটে মূল মহাসড়কের বাইরে ভালো রুটের তথ্য আছে; ‘মারে–টু–দ্য–মাউন্টেন্স’ ট্রেল মানের দিক থেকে সেরা এবং পথে দেখার/করার বিষয়ও বেশি। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় মাউন্টেন বাইকারদের জন্য দীর্ঘ ট্রেল উন্নয়ন করা হয়েছে-মুন্ডা বিদ্দি ট্রেল বহুদিন ধরে বুশল্যান্ডের ভেতর দিয়ে যায় এবং রুটে রাতযাপনের জন্য কুঁড়েঘর (হাট) আছে।
যেখানেই সাইকেল চালান-রাজধানী শহরগুলোর নগর বিস্তার ছেড়ে বেরোলেই পরিকল্পনা করে বেরোন এবং রসদ সঙ্গে নিন।
'''[[নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং]]''' নিবন্ধে নিউ সাউথ ওয়েলস-নির্দিষ্ট তথ্য দেখুন।
===হাইকিং===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং}}
অস্ট্রেলিয়ার কিছু ভূদৃশ্য কেবল হেঁটেই সঠিকভাবে অনুভব করা যায়। তাসমানিয়ায় সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের [[ওভারল্যান্ড ট্র্যাক]] ও সাউথ কোস্ট ট্র্যাক-এ দু’টি হাঁটার/হাইকিং-ভিত্তিক ছুটির “টু–ডু” আইটেমের চমৎকার উদাহরণ। বাইসেন্টেনিয়াল ন্যাশনাল ট্রেল বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেলগুলোর একটি-যা উত্তর কুইন্সল্যান্ডের [[কুকটাউন]] থেকে [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]]র [[হিলসভিল]] পর্যন্ত গেছে।
==দেখুন==
===বন্যপ্রাণী===
[[File:Koala climbing tree.jpg|thumb|একটি কোয়ালা]]
{{see also|অস্ট্রেলেশীয় বন্যপ্রাণী}}
অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ বহু মিলিয়ন বছর ধরে বিশ্বের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফল-একেবারেই স্বতন্ত্র। এখানে থলি-ওয়ালা স্তন্যপায়ী (মার্সুপিয়াল) আর ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী (মনোট্রিম) বড় একটি দল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাণী-আইকনগুলোর মধ্যে ক্যাঙ্গারু (জাতীয় প্রতীক) ও কোআলা উল্লেখযোগ্য। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ হবে না যদি প্রাকৃতিক আবাসে এদের কিছু না-দেখেন।
====বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা====
* প্রতিটি প্রাদেশিক রাজধানী শহরে '''বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা''' রয়েছে। তবে ছোট শহর যেমন [[মিলডুরা]] বা [[মোগো]]-তে কিংবা [[হ্যামিল্টন দ্বীপ]]-এও প্রাণী উদ্যান দেখা যায়। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় গেলে ওয়ারাওয়ং ফনা স্যাংচুয়ারি ঘুরে আসতে পারেন, আর সিডনির টারোঙ্গা চিড়িয়াখানায় কোয়ালা দেখার সুযোগ রয়েছে।
====প্রকৃতিতে====
[[File:Tassy Devil.jpg|thumb|একটি তাসমানিয়ান ডেভিল]]
* '''ক্যাঙ্গারু''' ও '''ওয়ালাবি''' অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব জাতীয় উদ্যানে পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল [[সিডনি]]র রাস্তায় তাদের দেখা না মিললেও শহরতলির আশেপাশে সাধারণত দেখা যায়।
* '''ওম্বাট''' ও '''ইকিডনা'''ও প্রচুর আছে, তবে তারা মাটির নিচে সুড়ঙ্গ করে লুকিয়ে থাকার কারণে খুঁজে পাওয়া কঠিন। [[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]ে প্রচুর ইকিডনা দেখা যায়।
* '''কোয়ালা''' সারা দেশের বনভূমিতে থাকে, তবে গাছে উঁচুতে থাকায় খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। দিনের বেলা ভালোভাবে দেখা যায়, বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ার [[পেইনসভিল (ভিক্টোরিয়া)|পেইনসভিল]] কাছের রেমন্ড দ্বীপে। এছাড়া গ্রেট ওশেন রোডের ওটওয়ে কোস্ট বা সানশাইন কোস্টের [[নুসা জাতীয় উদ্যান]] এলাকায়ও ভালো সুযোগ থাকে।
* '''এমু''' মূলত মধ্য অস্ট্রেলিয়ায় বেশি দেখা যায়। [[কুরাওইন্যা জাতীয় উদ্যান]]ে গেলে অবশ্যই তাদের দেখা মিলবে।
* '''ক্যাসোয়ারি''' মূলত উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ক্রান্তীয় রেইনফরেস্টে থাকে, তবে এরা মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতি হওয়ায় দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
* '''প্লাটিপাস''' সাধারণত ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস ও দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডের নদীখাতে পাওয়া যায়। ভোর বা সন্ধ্যায় তাদের দেখার সম্ভাবনা বেশি। [[বোম্বালা]], [[ডেলিগেট (নিউ সাউথ ওয়েলস)|ডেলিগেট]] বা ভিক্টোরিয়ার [[স্কিপটন]] এ প্লাটিপাস সংরক্ষণ এলাকায় চেষ্টা করা যেতে পারে।
===অপরাধীদের স্থান===
অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক ইতিহাসের একটি বড় অংশ ছিল যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো দণ্ডিত অপরাধীদের জন্য শাস্তি-উপনিবেশ হিসেবে। সেই সময়ের বন্দী পরিবহনের স্মৃতি বহন করে এমন বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও টিকে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো [[তাসমানিয়া]]র [[পোর্ট আর্থার (তাসমানিয়া)|পোর্ট আর্থার]] এবং [[পার্থ]], [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]]র নিকটবর্তী [[পার্থ/ফ্রিম্যান্টল|ফ্রিম্যান্টল]]-এ অবস্থিত ফ্রিম্যান্টল কারাগার। এছাড়াও পুরো দেশ জুড়ে আরও অনেক স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে।
===স্মৃতিস্তম্ভ===
[[File:07 Sydney Opera House in black and white, Australia.jpg|thumb|সিডনি অপেরা হাউস, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শনগুলির একটি]]
অস্ট্রেলিয়ায় বহু নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো সারা বিশ্বেই বিখ্যাত। [[রেড সেন্টার]]-এ অবস্থিত [[উলুরু]] থেকে শুরু করে সিডনির সিডনি হারবার ব্রিজ ও অপেরা হাউস পর্যন্ত।
অস্ট্রেলিয়ার ছোট শহরগুলোর একটি ঐতিহ্য হলো বড় আকারের ভাস্কর্য তৈরি করা, যা স্থানীয় নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে দেখতে পারেন [[অস্ট্রেলিয়ার বড় জিনিসপত্র]]।
অস্ট্রেলিয়ায় হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিবন্ধিত রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কো (ইউনেস্কো) স্বীকৃত ২১টি [[বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান]]।
অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি ধর্মীয় দেশ নয়, তবে কিছু কিছু গির্জা সুপরিচিত স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে খ্যাত। এর উদাহরণ হলো সিডনির সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রাল এবং [[অ্যাডিলেড|অ্যাডিলেডের]] সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল।
===জাতীয় উদ্যান===
{{see also|অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষণ এলাকা|অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান}}
[[File:Beech Forest (AU), Great Otway National Park, Beauchamp Falls -- 2019 -- 1271.jpg|thumb|ভিক্টোরিয়ার গ্রেট অটওয়ে ন্যাশনাল পার্কে বিউশ্যাম্প ফলস]]
অস্ট্রেলিয়ার প্রকৃতির সেরা রূপের অনেকটাই দেখা যায় এর জাতীয় উদ্যানগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০০-রও বেশি জাতীয় উদ্যান আছে, যা দেশটিকে পৃথিবীতে সর্বাধিক জাতীয় উদ্যানসমৃদ্ধ দেশ করে তুলেছে। সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় বাছাই করা কঠিন হতে পারে, তবে কিছু উদ্যান ভ্রমণকারীদের কাছে অন্যদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। কিছু জাতীয় উদ্যান-যার মধ্যে [[মুঙ্গা-থির্রি–সিম্পসন মরুভূমি জাতীয় উদ্যান|অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্যানটিও]] রয়েছে-অতিদূরবর্তী এলাকায়, যেখানে যাওয়ার কোনো পাকা সড়ক নেই। সেখানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো চারচাকা চালিত গাড়িতে অফ-রোড ড্রাইভিং। এ ধরনের যাত্রায় যাওয়ার আগে খাদ্য, পানি ও জ্বালানির যথেষ্ট মজুতসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিন, এবং জরুরি অবস্থার কথা ভেবে উচ্চ খরচ সত্ত্বেও একটি [[Mobile phones#Satellite phones|স্যাটেলাইট ফোন]] ভাড়া নেওয়া অত্যন্ত সুপারিশকৃত। কুইন্সল্যান্ড, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় '''কনজারভেশন পার্ক'''ও আছে-এগুলোও অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংরক্ষিত এলাকা, তবে জাতীয় পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়ার মতো গুরুত্বপ্রাপ্ত নয়।
নিউ সাউথ ওয়েলসে, সিডনির পশ্চিমে অবস্থিত এবং [[ইউনেস্কো (ইউনেস্কো)|ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান]] [[ব্লু মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক]] না গেলে কোনো ভ্রমণ সম্পূর্ণ হয় না-এখানে আছে বহু আদিবাসী পবিত্র স্থান, ভিউপয়েন্ট, পাহাড় ও মালভূমি। রাজ্যের আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে সিডনির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত সমুদ্রতীরের পুরোনো প্রিয় [[রয়্যাল ন্যাশনাল পার্ক]], মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের আবাস [[কোশিয়াস্কো ন্যাশনাল পার্ক]], গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টের জন্য [[ডরিগো ন্যাশনাল পার্ক]] বা [[নিউ ইংল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক]], আর জনাকীর্ণতা এড়াতে চাইলে অদ্ভুত কিন্তু দারুণ “ওয়ালস অব চায়না” ভূরূপের জন্য অপেক্ষাকৃত নির্জন [[মাঙ্গো ন্যাশনাল পার্ক]]।
নর্দার্ন টেরিটরিতে সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো [[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক]] এবং [[উলুরু-কাতা জুটা ন্যাশনাল পার্ক]]-দুটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রতীকসম নিদর্শন। অন্য জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে বহু জলপ্রপাতের আবাস [[লিচফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক]], ক্যাথরিন গর্জের জন্য [[নিটমিলুক ন্যাশনাল পার্ক|নিটমিলুক]], আর গিরিখাত ও ক্যানিয়নের জন্য [[তজোরিতজা / ওয়েস্ট ম্যাকডোনেল ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[ওয়াটারকা ন্যাশনাল পার্ক]]।
কুইন্সল্যান্ডে, নর্দার্ন টেরিটরির মতোই সবচেয়ে বিশ্ববিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো [[ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট]] ও [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]-একটি পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবন্ত বর্ষাবনের জন্য, আরেকটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থার জন্য। আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টসমৃদ্ধ [[ল্যামিংটন ন্যাশনাল পার্ক]], বিশ্বের সবচেয়ে বড় বালিয়াড়ি দ্বীপ এবং বালুর ওপর বন গজানোর একমাত্র উদাহরণের জন্য [[ক’গারি|গ্রেট স্যান্ডি ন্যাশনাল পার্ক]], এবং সাদা বালুকাবেলার জন্য [[হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ]]। তুলনামূলক অখ্যাত হলেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদাপ্রাপ্ত [[বুজামুল্লা ন্যাশনাল পার্ক]] এবং ভূদৃশ্য ও শিলাচিত্রের জন্য [[কার্নারভন ন্যাশনাল পার্ক]]।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় উদ্যানগুলোর ধরন বৈচিত্র্যময়, আর সবচেয়ে স্বীকৃত হলো [[ইকারা-ফ্লিন্ডার্স রেঞ্জস ন্যাশনাল পার্ক]]-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বললেই অনেকের মাথায় প্রথম এটিই আসে। আরও আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য [[নারাকুর্ট গুহা ন্যাশনাল পার্ক]] এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাবরিজিনাল সাংস্কৃতিক স্থানের জন্য [[দ্য কুরঙ]]।
তাসমানিয়ায় প্রকৃতির বন্যতা সবচেয়ে বেশি; [[তাসমানিয়ার জাতীয় উদ্যান|এখানকার উদ্যানগুলোর]] প্রায় অর্ধেকের একটু কমই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী-ফলে কোনটা দেখবেন তা বেছে নেওয়া কঠিন। [[ক্র্যাডল মাউন্টেন–লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]] সবচেয়ে প্রতীকী উদ্যান, আর রাজ্যের সবচেয়ে বড় উদ্যান [[সাউথওয়েস্ট ন্যাশনাল পার্ক]]। সহজে পৌঁছানো যায় এমন পাহাড় চাইলে [[হার্টজ মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক]] বা [[মাউন্ট ফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক]] সাধারণত সেরা পছন্দ; শেষেরটি ও [[বেন লোমন্ড ন্যাশনাল পার্ক]] স্কি ও স্নো-স্পোর্টসের জন্যও পরিচিত। ভিন্ন ধরনের উদ্যান চাইলে সমুদ্রসৈকতের জন্য [[ফ্রেসিনেট ন্যাশনাল পার্ক]] এবং বিশ্বের অন্যতম উচ্চ সমুদ্রক্লিফের জন্য [[তাসমান ন্যাশনাল পার্ক]] দেখুন।
ভূখণ্ডের সবচেয়ে ছোট রাজ্য হয়েও ভিক্টোরিয়ার অফার অনেক। সবচেয়ে পরিচিত [[পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক]]-পার্কের নাম যতটা না পরিচিত, তার বিখ্যাত “টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস” ভূরূপই বেশিরভাগ দর্শনার্থী টেনে আনে। আরও আছে [[উইলসন্স প্রোমন্টরি]]-মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সর্বদক্ষিণ বিন্দুর আবাস-আর গোলাপি লেকের জন্য [[মারে সানসেট ন্যাশনাল পার্ক]]।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া-বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপ-জাতীয় অঞ্চল-দেখার মতো জায়গায় ভরপুর। সবচেয়ে পরিচিত [[নাম্বুং ন্যাশনাল পার্ক]] তার পিনাকলস মরুভূমির জন্য; আরও আছে [[কালবারি ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[কারিজিনি ন্যাশনাল পার্ক]]-দুটিতেই অনন্য ভূতাত্ত্বিক গঠন। বিশ্বের সবচেয়ে ঘন শিলাচিত্রসম্ভারের একটি হওয়ার জন্য [[মুরুজুগা ন্যাশনাল পার্ক]]ও উল্লেখযোগ্য। [[পুরনুলুলু ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[শার্ক বে]]-দুটিই [[ইউনেস্কো (ইউনেস্কো)|ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী]], [[পার্থ]] থেকে দূরে হলেও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য। আর যদি মনে করেন সব সুন্দর দৃশ্যই জমিতে-তা হলে ভুল ভাবছেন। নিনগালু মেরিন পার্ক (আর [[Exmouth (Western Australia)|এক্সমাউথ]] ও [[Coral Bay|কোরাল বে]]) সমুদ্রজীবনপ্রেমীদের জন্য অফারের শেষ নেই।
===মহাকাশ===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ার বিশাল, খোলা আউটব্যাক এলাকাগুলো মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। তবে উত্তর গোলার্ধের তুলনায় এখানে নক্ষত্রপুঞ্জগুলো ভিন্ন-কারণই বা দক্ষিণ গোলার্ধ। শহর থেকে শুরু করে দূর আউটব্যাক পর্যন্ত নানা ধরনের [[অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ|অ্যাস্ট্রোট্যুরিজম]] সাইট আছে।
===খেলা===
[[File:Ball is in dispute in Hawthorn-Essendon AFL match.jpg|thumb|মেলবোর্নে এএফএল ম্যাচ দেখা একদমই ‘মাস্ট’]]
রাজধানী থেকে ছোট্ট শহর-অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ sport/খেলাধুলা। তুলনামূলক ছোট জনসংখ্যা সত্ত্বেও অলিম্পিকে ধারাবাহিক সাফল্যই এর প্রমাণ। বেশিরভাগ ম্যাচই সাপ্তাহিক ছুটির সময় (শুক্রবার রাত থেকে সোমবার রাত) হয়। অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা সাধারণত ভদ্র; তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার দলগুলোর ভক্তরাও একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখেন-চিৎকার-চেঁচামেচি হতে পারে, কিন্তু সহিংসতা খুবই বিরল।
{{Infobox|ফুটবল|অস্ট্রেলিয়ায় "football/ফুটবল" শব্দটি দ্ব্যর্থক; জায়গা ও আলাপসঙ্গীর ওপর অর্থ বদলে যায়। তবে একা "football" (ফুটবল) বলা হলে তা প্রায় কখনোই এসোসিয়েশন ফুটবল বোঝায় না—অস্ট্রেলিয়ায় সেটি "সকার" নামে পরিচিত। সাধারণভাবে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে "football" (ফুটবল) বা "footy" (ফুটি) বলতে '''রাগবি লিগ''' বোঝায়, আর অস্ট্রেলিয়ার বাকি অংশে বোঝায় '''অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল'''।
অযোগ্য/কোয়ালিফাই না করা '''rugby/রাগবি''' শব্দটি অস্ট্রেলিয়ায় সর্বদা রাগবি ইউনিয়ন বোঝায়—কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসেও, যেখানে রাগবি লিগ বেশি জনপ্রিয়। তাই যদি কেউ জিজ্ঞেস করে “ফুটবল না রাগবি পছন্দ?”, তারা আসলে রাগবি লিগ না রাগবি ইউনিয়ন—এটা জানতে চায়।}}
* ভিক্টোরিয়ায় শীতকালে '''[[অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল]]''' (অজি রুলস, কিছু জায়গায় শুধু “ফুটি”) এক কথায় জীবনযাত্রার অংশ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে একটি ম্যাচ দেখে নিন। ভিক্টোরিয়ায় জন্ম ও জনপ্রিয়তা হলেও জাতীয় প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা '''[https://www.afl.com.au/ অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ (এএফএল)]'''-এ সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থ ও গোল্ড কোস্টের দলও আছে, আর ২০২৮ সাল থেকে হোবার্ট থেকেও একটি দল যুক্ত হবে। '''এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''' প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হয়-এটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে দেখা ইভেন্ট। এখন এএফএল নারীদের লিগ '''[https://womens.afl এএফএল উইমেনস]'''ও চালায়-পুরুষদের মতো জনপ্রিয় না হলেও ভালো দর্শকসমর্থন পায়। পরের নারীদের মৌসুমে (২০২০) পুরুষদের বর্তমান বাজারের সব শহর মিলিয়ে ১৪টি দল খেলেছিল।
* গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক '''[[ক্রিকেট]]'''-অস্ট্রেলিয়া ও অন্তত দুইটি সফরকারী দলের মধ্যে-সব রাজধানী শহরে ঘুরে-ঘুরে হয়। ঐতিহ্য চাইলে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৫ দিনের নিউ ইয়ার্স টেস্ট বা মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বক্সিং ডে টেস্ট দেখুন। কয়েক ঘণ্টার প্রাণবন্ত বিনোদনের জন্য টি-টোয়েন্টি দেখতে পারেন। ঘরোয়া লিগ [[বিগ ব্যাশ লিগ|বিগ ব্যাশ লিগ]] ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। একদিনের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সাধারণত দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা/১১টা (ডে-নাইটার), আর ঘরোয়া বেশিরভাগ ও মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। '''অস্ট্রেলিয়া ডে''' ওডিআই প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি অ্যাডিলেডে হয়। '''দ্য অ্যাশেজ''' অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ টেস্টের সিরিজ-প্রতি ৩-৪ বছরে একবার অস্ট্রেলিয়ায়, আর তখন ম্যাচগুলো সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ ও অ্যাডিলেডে হয়।
* '''[https://ausopen.com/ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন]'''-চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের একটি-প্রতি জানুয়ারিতে [[মেলবোর্ন]] শহরকেন্দ্রের কাছে '''[https://mopt.com.au/ মেলবোর্ন পার্ক]''' কমপ্লেক্সে, প্রধান স্টেডিয়াম '''[http://www.rodlaverarena.com.au/ রড লেভার এরিনা]'''-সহ অনুষ্ঠিত হয়।
[[File:Hunter Stadium Day.JPG|thumb|নিউক্যাসলে হান্টার স্টেডিয়াম]]
* '''[[Rugby Football#Rugby union|রাগবি ইউনিয়ন]]'''–এর সুপার রাগবি ম্যাচ দেরি গ্রীষ্ম/শরতে ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, পার্থ ও সিডনিতে হয়-অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও জাপানের দল অংশ নেয়। জাতীয় দল ওয়ালাবিজ শীতকালে আন্তর্জাতিক দলগুলোকে আতিথ্য দেয়; ‘দ্য রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ’ (আগে ট্রাই নেশন্স)-এ নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলে।
* '''[[Rugby Football#Rugby league|রাগবি লিগ]]''' মূলত নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের শীতকালীন খেলা; প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা '''[https://www.nrl.com/ ন্যাশনাল রাগবি লিগ (এনআরএল)]'''। দল আছে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্ন, কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেন, নর্থ কুইন্সল্যান্ড ও গোল্ড কোস্টে; নিউজিল্যান্ডের একটি দলও আছে; বাকিরা সিডনির উপশহর ও নিউ সাউথ ওয়েলসের আঞ্চলিক শহর (নিউক্যাসল, ক্যানবেরা) থেকে। মৌসুম শেষ হয় সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় '''এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''' দিয়ে। দেশের রাগবি লিগ ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হলো '''স্টেট অব অরিজিন'''-নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের বার্ষিক সিরিজ; দুইটি সিডনি ও ব্রিসবেনে, তৃতীয়টি কখনো মেলবোর্ন বা পার্থে। অনেকের মতে, অরিজিন সিরিজের খেলার মান রাগবি লিগ বিশ্বকাপের চেয়েও উঁচু।
* '''নেটবল''' অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় নারীদের খেলা; ঘরোয়া সুপার নেটবলে প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ হয় (এটি নিউজিল্যান্ড-সমন্বিত আগের ট্রান্সন্যাশনাল লিগের বদলি)। জাতীয় দল বিশ্বসেরাদের একটি; ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও জ্যামাইকা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
* '''সকার''' জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে-ইউরোপীয় মানে পৌঁছাতে চায়-আর শখের স্তরে খুবই জনপ্রিয়। বহু অভিবাসী ও তাঁদের সন্তানরা ইউরোপীয় ফুটবলসংস্কৃতি থেকে আসায় আগ্রহ বেশি। জাতীয় দল সকারুস ২০১৫ সালে এশিয়া কাপ জিতে খেলাটির প্রোফাইল অনেক বাড়ায়। গ্রীষ্মে পেশাদার '''এ-লিগ''' হয়-অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দল নিয়ে। বেশিরভাগ শহরে শীতে সেমি-প্রো “স্টেট লিগ” হয়-অনেক ক্লাব নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী/অভিবাসী সম্প্রদায়কে ঘিরে গড়ে ওঠা (যেমন [[Newcastle (New South Wales)|নিউক্যাসলের]] ব্রডমিডো ম্যাজিক-স্থানীয় ম্যাসেডোনীয় সম্প্রদায়কে ঘিরে)। নারীদের সকার দর্শকে কম হলেও সমর্থন ভালো; জাতীয় দল ম্যাটিল্ডাস নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলে। নারীদের লিগ হলো ডব্লিউ-লিগ।
* '''[[Formula One|এফ১ গ্রাঁ প্রি]]'''-মার্চে মেলবোর্নের আলবার্ট পার্ক লেক ঘিরে সিটি স্ট্রিট সার্কিটে অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রি ও সহায়ক রেসগুলো হয়।
* '''সুপারকার্স চ্যাম্পিয়নশিপ''' শক্তিশালী ট্যুরিং কারের জনপ্রিয় রেসিং সিরিজ-মার্কিন এনএএসকারের তুলনা টানা যায়, তবে এখানে ওভাল নয়, রোড/স্ট্রিট সার্কিট। মার্চ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত দেশজুড়ে ইভেন্ট হয়; অক্টোবরের ঐতিহ্যবাহী বাথার্স্ট ১০০০ সবচেয়ে বিখ্যাত।
* '''[[ঘোড়দৌড়]]''' অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দর্শকখেলা-সব রাজধানীতে নিয়মিত রেস হয়। ক্যালেন্ডারের সেরা ইভেন্ট বার্ষিক '''মেলবোর্ন কাপ'''-বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দৌড়গুলোর একটি। [[Victoria (state)|ভিক্টোরিয়া]] রাজ্যে এদিন সরকারি ছুটি; সারা দেশেই অনেকেই শুধু এই দৌড় দেখার জন্য টিভি চালায়।
===ভ্রমণপথ===
* [[অ্যান বিডেল হাইওয়ে]]
* [[গিব রিভার রোড]]
* [[গ্র্যান্ড প্যাসিফিক ড্রাইভ]]
* [[গ্রেট ওশান রোড]]
* [[গানব্যারেল হাইওয়ে]]
* [[উডনাডাটা ট্র্যাক]]
* [[স্টুয়ার্ট হাইওয়ে]]: উত্তর-দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া অতিক্রম
* [[ট্যুরিস্ট ড্রাইভ ৩৩]]
* [[ওয়াটারফল ওয়ে]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামরিক জাদুঘর ও স্থানসমূহ]]
==যা করবেন==
[[File:Bondi 1.jpg|thumb|অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সৈকতগুলির জন্য বিখ্যাত (ছবিতে বন্ডাই বিচ)]]
[[File:Gold-Coast-Skyline-at-Night.jpg|thumb|গোল্ড কোস্টের সার্ফার্স প্যারাডাইস দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির একটি, যেখানে বিশ্বের সেরা কিছু সৈকত রয়েছে এবং কাছেই থিম পার্কের সমাহার]]
===সাঁতার===
* '''সার্ফে''': অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অন্তহীন বালুকাময় সৈকত রয়েছে। সিডনির বিশ্ববিখ্যাত [[সিডনি/বন্ডাই|বন্ডাই বিচ]] বা গোল্ড কোস্টের [[সার্ফার্স প্যারাডাইস]]-এ ভিড়ের সঙ্গে যোগ দিন। অথবা নিজের মতো নিরিবিলি সৈকত খুঁজে নিন (তবে বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, টহল দেওয়া সৈকতগুলোই তুলনামূলক নিরাপদ)। ট্রপিক্যাল নর্থ অঞ্চলে প্রবালপ্রাচীর ঢেউ ঠেকিয়ে দেয় বলে ঢেউ ছোট ও পানিও উষ্ণ থাকে। দক্ষিণে সাউদার্ন ওশান থেকে ঢেউ এসে বড় হয় এবং পানি ঠান্ডা থাকে। (আর মাঝখানে সবটাই একেবারে ‘‘ঠিকঠাক’’)।
* '''শান্ত ট্রপিক্যাল সাগরে''': [[ব্রুম|ব্রুমের]] কেবল বিচ প্রতিদিন জোয়ারে পরিষ্কার হয়, নিখুঁত বালু ও উষ্ণ পানি – শীতকালে যাওয়া ভালো।
* '''উষ্ণ প্রস্রবণে''': ডারউইনের দক্ষিণে বেরি স্প্রিংস ও মাতারাঙ্কার মতো অনেক প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ আছে, যেগুলো তালগাছ ও ট্রপিক্যাল সবুজে ঘেরা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রিসোর্টও এমন প্রাকৃতিক পুল বানাতে পারবে না।
* '''মিঠাপানির হ্রদে''': অভ্যন্তরীণ অস্ট্রেলিয়া শুকনো হলেও অনেক জায়গায় হ্রদ আছে। কেয়ার্নসের অভ্যন্তরে আথারটন টেবিলল্যান্ডস বা [[কুরাওইনিয়া জাতীয় উদ্যান]] ঘুরে দেখুন। কুমিরের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
* '''নদীতে''': গরম থাকলে আর পানি থাকলেই সেখানে সাঁতারের জায়গা থাকবে। স্থানীয়দের কাছে প্রিয় সাঁতার কাটা গর্ত বা দড়ি দিয়ে লাফ দেওয়ার জায়গা জেনে নিন। কুমিরের ব্যাপারে সাবধান।
* '''মানবসৃষ্ট পুলে''': নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার ছোট শহরে স্থানীয় সুইমিং পুল গ্রীষ্মের রবিবারে কমিউনিটি জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। সিডনি ও নিউক্যাসলের সমুদ্রপাড়ের অনেক উপশহরে কংক্রিট/শিলা কেটে বানানো ‘বাথস’ আছে যেখানে সমুদ্র সৈকতের পাশে নিরাপদে সাঁতার কাটা যায়।
* '''সৈকতে'''! পানির ধারে নিজের জায়গা খুঁজে নিন আর তোয়ালে পেতে বসুন। শীতে ট্রপিক্যাল নর্থে, গ্রীষ্মে দক্ষিণে। তবে সব সময় সূর্যের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
===বুশওয়াকিং===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং}}
বুশওয়াকিং অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বিনোদন। জাতীয় উদ্যান ও রেইনফরেস্টে বুশওয়াকিং করা যায়। কিছু এলাকায় স্থানীয় আদিবাসীদের নেতৃত্বে গাইডেড বুশওয়াক হয়, যেখানে তাদের সংস্কৃতি জানার দুর্দান্ত সুযোগ মেলে।
===ডাইভিং===
[[File:Giant clam with diver.jpg|thumb|গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে এক স্কুবা ডাইভার একটি জায়ান্ট ক্ল্যাম দেখছে]]
* '''স্নরকেলিং''': কুইন্সল্যান্ড উপকূলে [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]-এ যান, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার [[এক্সমাউথ (ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া)|নিঙ্গালু রিফে]]। [[বায়রন বে]]-এর জুলিয়ান রকস, বা [[বান্ডাবার্গ|বান্ডাবার্গে]]<nowiki/>র- সৈকত থেকেও স্নরকেলিং করে ট্রপিক্যাল মাছ দেখা যায়।
* [[অস্ট্রেলিয়ায় স্কুবা ডাইভিং|স্কুবা ডাইভিং]]
===খেলাধুলা===
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গলফ|গলফ]]
* '''রক ক্লাইম্বিং'''
* '''মাউন্টেন বাইকিং''': [[স্নোয়ি মাউন্টেনস]] বা ক্যানবেরার ব্ল্যাক মাউন্টেনে ট্রেইল চেষ্টা করুন, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মুন্ডা বিদ্দি ট্রেইলে কয়েকদিন ধরে সাইকেল চালান।
* '''ঘোড়ায় চড়া''': ইউরোপীয় উপনিবেশকদের আগমনের পর থেকে ঘোড়া অস্ট্রেলিয়ার জীবনের অংশ। বিশাল দূরত্ব ও কঠিন পরিবেশ পাড়ি দিতে ঘোড়ার উপর নির্ভরশীলতা অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আজ ঘোড়ায় চড়া এখানে বিনোদন, কাজ, গরু সামলানো থেকে শুরু করে কোটি ডলারের রেসিং শিল্প পর্যন্ত বিস্তৃত। শহরতলি ও গ্রামে ছোট পোনি খামার ও প্রিয় ঘোড়াগুলো দেখা যায়, যা অস্ট্রেলিয়ানদের ঘোড়ার প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার প্রমাণ।
===স্কি===
অস্ট্রেলিয়া স্কি-গন্তব্য হিসেবে বিশ্বমানের নয়, কারণ পাহাড়গুলো তুলনামূলক নিচু এবং তুষার অনিশ্চিত। তবে দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ায় উন্নত স্কি সুবিধা আছে। তাসমানিয়াতেও সঠিক আবহাওয়া হলে কয়েক মাস স্কি করা যায়।
দেখুন [[অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা]]
===সার্ফ===
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রত্যন্ত কোণায়ও ভালো সার্ফ ব্রেক খুঁজে পাবেন, আর সেখানেও সার্ফার থাকবে। অস্ট্রেলিয়ানরা সার্ফ ভালোবাসে এবং ঢেউ থাকলেই তারা সেখানে থাকে। কেয়ার্নস থেকে কারাথা পর্যন্ত শীর্ষ প্রান্ত ছাড়া প্রায় প্রতিটি উপকূলে সার্ফিং হয়।
===রোমাঞ্চকর কার্যকলাপ===
* '''স্কাই ডাইভিং''': সারা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে
* '''হট এয়ার বেলুন''': ক্যানবেরা, ব্রিসবেন বা [[রেড সেন্টার#করুন|রেড সেন্টার]]-এ
* '''কাইট সার্ফিং''' ও '''উইন্ডসার্ফিং''': পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ডটন ও করোনেশন বিচ-এ
* '''হোয়াইটওয়াটার রাফটিং''': [[তাসমানিয়া]] বা [[দূর উত্তর কুইন্সল্যান্ড]]-এ
===জুয়া===
[[File:2008BerriganCup1.JPG|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের ছোট শহর বেরিগানে বেরিগান কাপ ঘোড়দৌড়]]
অস্ট্রেলিয়ানদের বলা হয়, যদি দুটো মাছি দেয়ালে উঠতে থাকে, তবে দেখবেন কোনো অজি ইতিমধ্যে বাজি ধরেছে।
* '''ক্যাসিনো''': মেলবোর্নের ক্রাউন ক্যাসিনো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড়। তবে কেয়ার্নস, [[লন্সেস্টন]], এলিস স্প্রিংস, গোল্ড কোস্ট, [[টাউনসভিল]]সহ প্রতিটি রাজধানী শহরে ক্যাসিনো আছে।
* '''[[ঘোড়দৌড়|ঘোড়দৌড়ের দিন]]''': সব রাজধানী শহরে সপ্তাহান্তে ঘোড়দৌড় হয়। পরিবার-সহ আয়োজন হয়, ফ্যাশন ও সামাজিকতা তার অংশ। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রায় প্রতিটি পাবেই ট্যাব থাকে। এছাড়া গ্রেহাউন্ড দৌড় ও ট্রটিং সন্ধ্যায় হয়। ছোট শহরের বার্ষিক দৌড় উৎসব স্থানীয়দের কাছে বড় অনুষ্ঠান। [[বার্ডসভিল]] রেস বিখ্যাত। আর প্রতি নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় মেলবোর্ন কাপের সময় রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়।
* '''অদ্ভুত দৌড়''': গিরগিটি দৌড়, আখ-ভেক দৌড়, উট দৌড়, কাঁকড়া দৌড়। এগুলোর উপর বাজি ধরা আইনত নিষিদ্ধ হলেও গোপনে চলে।
* '''টু-আপ''': আনজাক ডে (২৫ এপ্রিল)-এ স্থানীয় আরএসএল ক্লাবে কয়েন ছুঁড়ে বাজি ধরা হয়।
* '''স্লট মেশিন''': বিশ্বে মোট স্লট মেশিনের এক-চতুর্থাংশ অস্ট্রেলিয়ায়। এর অর্ধেকের বেশি নিউ সাউথ ওয়েলসে। মদ্যপানাগার ও ক্লাবগুলোতে ‘‘ভিআইপি লাউঞ্জ’’ নামে গেমিং রুম থাকে। তবে আসক্ত হবেন না।
* '''ট্যাব''': প্রতিটি শহর ও শহরতলিতে টোটালিসেটর এজেন্সি বোর্ড (ট্যাব) শাখা থাকে। সেখানে গিয়ে খেলাধুলায় বাজি ধরতে পারেন, যদিও পরিবেশ সাধারণত নিরানন্দময়।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের জুয়া খেলা আইনত নিষিদ্ধ। তাই শিশুদের প্রবেশ অনেক স্থানে সীমিত।
===রয়্যাল শো===
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্য ও মূল ভূখণ্ডে বার্ষিক '''রয়্যাল শো''' হয়। এগুলো কৃষি প্রদর্শনী হলেও বিনোদন, মেলা ও রাইড থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ফেয়ারের মতো এগুলো বসন্ত বা শরতে অনুষ্ঠিত হয়।
==কিনুন==
[[File:Pitt Street Mall February 2016.jpg|thumb|সিডনির পিট স্ট্রিট মল-দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত কেনাকাটার জায়গাগুলোর একটি]]
{{see also|অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা}}
অস্ট্রেলিয়া মূলত একটি '''ক্যাশলেস সমাজ'''-প্রায় সব ব্যবসায় ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড নেয়। ছোট ভ্রমণে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা বদলানোর প্রয়োজন নেই। নগদ এখনও গ্রহণযোগ্য, তবে কেবল-কার্ড নেয় এমন ব্যবসা বাড়ছে।
ক্যাফে, মদ্যপানাগার ও রেস্টুরেন্টে কার্ডে ১–২% সারচার্জ সাধারণ (এবং আইনি)-ক্যাশ বদলালে এর চেয়েও বেশি ক্ষতি হতে পারে।
===মুদ্রা===
{{exchange rate AUD|currencies=USD,EUR,GBP,CAD,NZD}}
{{infobox|গোল্ড কয়েন|না, এগুলো আসল স্বর্ণমুদ্রা নয়। $১ বা $২ অস্ট্রেলীয় কয়েনকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘‘গোল্ড কয়েন’’ বলা হয়। অলাভজনক জাদুঘর ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই ‘‘গোল্ড কয়েন ডোনেশন’’ চায়—মানে একটি $১ বা $২ কয়েন, অথবা তার চেয়েও বেশি।}}
অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার নাম হলো '''ডলার'''। প্রতীক ‘‘'''$'''’’ বা ‘‘'''A$'''’’ (আইএসও কোড: '''AUD''')। এটি ১০০ '''সেন্ট (c)'''-এ বিভক্ত। এই গাইডে ‘‘$’’ চিহ্ন মানে অস্ট্রেলীয় ডলার, যদি ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকে।
মুদ্রা রয়েছে ৫¢, ১০¢, ২০¢, ১২-পাশের ৫০¢, $১ এবং ছোট্ট $২। নোট রয়েছে $৫ (বেগুনি), $১০ (নীল), $২০ (লাল), $৫০ (হলুদ) ও $১০০ (সবুজ)। $১০০ নোট বিরল এবং অনেক দোকানে ব্যবহার করা কঠিন। আধুনিক অস্ট্রেলীয় নোট কাগজে নয়, প্লাস্টিক পলিমারে মুদ্রিত। পুরোনো কাগজের নোট (অত্যন্ত বিরল) অনেক ব্যবসায়ী গ্রহণ নাও করতে পারেন, তবে অধিকাংশ ব্যাংকে এগুলো নতুন নোটের সঙ্গে বিনামূল্যে বদলানো যায়। নগদে লেনদেনে ৫ সেন্টের গুণিতক না হলে মুদ্রার অঙ্ক নিকটবর্তী ৫ সেন্টে রাউন্ড করা হয়। কার্ডে পরিশোধ করলে আসল অঙ্কই চার্জ হয়।
অস্ট্রেলীয় ডলার অন্য কোনো মুদ্রার সঙ্গে বাঁধা নয় এবং এটি বিশ্ব বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বহুল লেনদেন হয়। এর বিনিময় হার প্রায়ই ওঠানামা করে, প্রতিদিন ১–২% পরিবর্তন স্বাভাবিক ব্যাপার।
===মুদ্রা বিনিময়===
[[File:Australian banknotes in wallet.jpg|thumb|অস্ট্রেলীয় ডলার নোট একটি মানিব্যাগে]]
অস্ট্রেলীয় ডলার একটি প্রধান বিশ্ব মুদ্রা হিসেবে ধরা হয়, তাই সারা বিশ্বের মানি চেঞ্জার ও ব্যাংকে সহজলভ্য।
অস্ট্রেলিয়ায় মানি চেঞ্জাররা মুক্ত বাজারে কাজ করে। তারা নির্দিষ্ট কমিশন, শতাংশ ফি, লুকানো বিনিময় হার ফি বা সবকিছুর সমন্বয় চার্জ করতে পারে। ভালো রেট পাওয়ার জন্য বড় ব্যাংক ব্যবহার করুন এবং বিমানবন্দর বা পর্যটনকেন্দ্র এড়িয়ে চলুন। তবে সেরা ও সবচেয়ে খারাপ রেট ছোট ব্যক্তিগত বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসতে পারে। তাই তুলনা করে পরিবর্তন করুন। মুদ্রা বদলানোর আগে অবশ্যই রেট জেনে নিন। সাধারণত পরিচয়পত্র (যেমন পাসপোর্ট) লাগবে।
বড় শহরে মুদ্রা বিনিময় আউটলেট প্রচুর আছে এবং ব্যাংকও বেশিরভাগ মুদ্রা বিনিময় করে। বিমানবন্দরের আউটলেটগুলো সাধারণত সবচেয়ে খারাপ রেট দেয়-প্রায় ১০% ক্ষতি হতে পারে। ব্যাংক সাধারণত ২.৫% পার্থক্য নেয়, সঙ্গে $৫–৮ কমিশন। ‘‘কমিশন ফ্রি’’ অফারগুলোতেও রেট খারাপ হয়। সব ব্যাংকের রেট একই হবে ধরে নেবেন না। সিডনি বিমানবন্দরে ট্যুরিস্ট ব্রোশিওরে আমেরিকান এক্সপ্রেসের কমিশন-ফ্রি ভাউচারও পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিএরিয়াস, মায়েস্ট্রো, মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড দিয়ে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা তোলার এটিএম থাকে।
===ব্যাংকিং===
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ, যদি আপনার স্থানীয় ঠিকানা থাকে। পরিচয় প্রমাণ (যেমন পাসপোর্ট) দেখাতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম খুচরা ব্যাংক হলো-'''[http://www.nab.com.au ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক (NAB)]''', '''[http://www.anz.com অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (ANZ)]''', '''[https://www.commbank.com.au/ কমনওয়েলথ ব্যাংক]''' এবং '''[http://www.westpac.com.au/ ওয়েস্টপ্যাক]'''।
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব শহরেই এটিএম আছে। এগুলো বেসরকারীকরণ করা হয়েছে, তাই অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারে। সাধারণত প্রায় $২। এটিএম স্ক্রিনে ফি দেখাবে এবং আপনি লেনদেন বন্ধ করতে পারবেন। আপনার ব্যাংকও বিদেশে মুদ্রা তোলার জন্য আলাদা ফি নিতে পারে।
===খরচ===
{{infobox|দ্রুত পরিবর্তনশীল মুদ্রার মান|অস্ট্রেলীয় ডলার বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল মুদ্রাগুলোর একটি। এর দাম লোহার আকরিক ও কয়লার মতো পণ্যের মূল্যের সঙ্গে ওঠানামা করে। গত ১০ বছরে ‘‘অজি’’ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৫০ সেন্ট থেকে $১.৫০ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তাই ভ্রমণের খরচ কখনও যুক্তিসঙ্গত, কখনও ভীষণ ব্যয়বহুল হতে পারে।}}
অস্ট্রেলিয়া সাধারণত ব্যয়বহুল। রাজধানী শহরে ডরম শেয়ার করলে প্রতি রাতে প্রায় $৫০, কেয়ার্নসের মতো জায়গায় $৩০ হতে পারে। রাজধানীর শহরতলিতে বা গ্রামে একটি সাধারণ মোটেল ডাবল রুম প্রায় $১০০ থেকে শুরু। রাজধানী শহরের সিটি সেন্টারে হোটেল ডাবল রুম প্রায় $২০০ থেকে শুরু।
গাড়ি ভাড়া দিনে প্রায় $৬৫। গণপরিবহনের ডে-পাস শহরভেদে $৯–২০।
ক্যাফেতে একবেলা খাবার প্রায় $১৫–২০। রেস্তোরাঁয় প্রধান খাবার $২৫ থেকে শুরু।
সাধারণ টেকঅ্যাওয়ে খাবার-বার্গার, স্যান্ডউইচ বা কয়েক স্লাইস পিৎজা প্রায় $১০। একটি বিগ ম্যাক $৭.৯০। পাই বা সসেজ রোল $৫ থেকে।
লো-এন্ড পাব-এ হাউস বিয়ারের ছোট গ্লাস (২৮৫ মিলি) প্রায় $৮ এবং ওয়াইনের গ্লাস $১০। টেকঅ্যাওয়ে হিসেবে ২৪ ক্যান বিয়ারের কেস অন্তত $৪৫, এক বোতল ওয়াইন $১০ থেকে।
পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানীগুলোর মধ্যে বিমানের ভাড়া সাধারণত একপথে $১৫০, তবে সময়মতো বুকিং করলে $৬০ পর্যন্ত কমতে পারে। দেশ পেরোতে প্রায় $৩৫০ লাগে। স্টেট-রান ট্রেনে কিছুটা সস্তা, বাসে আরও কম। তবে বেসরকারি লাক্সারি ট্রেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
সমুদ্রসৈকত বা শহরের পার্কে প্রবেশ সাধারণত ফ্রি। কিছু জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে প্রতিদিন $৬–২০ চার্জ হয়। দূরবর্তী পার্কগুলো ফ্রি। জাদুঘরে সাধারণত $১০, থিম পার্কে প্রায় $৭০।
===কর===
অস্ট্রেলিয়ায় ১০% ‘‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST)’’ রয়েছে, যা অপরিশোধিত খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা বাদে সব পণ্যে প্রযোজ্য। ভোক্তার জন্য প্রদর্শিত দামের মধ্যেই জিএসটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। রসিদে আলাদা করে উল্লেখ থাকে। [[অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা#Tourist Refund Scheme|ট্যুরিস্ট রিফান্ড স্কিমের]] মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা জিএসটি ফেরত পেতে পারেন।
===ক্রেডিট কার্ড===
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। '''মাস্টারকার্ড''' ও '''ভিসা''' সবচেয়ে প্রচলিত। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবও বড় দোকানে ও সুপারমার্কেটে নেওয়া হয়। সার্কাস বা মায়েস্ট্রো লোগোযুক্ত কার্ডও কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ান ডেবিট কার্ড ‘‘ইএফটপস’’ সিস্টেমে চলে। ইউনিয়নপে, আলিপে ও উইচ্যাট পে ক্রমশ প্রচলিত হচ্ছে, তবে নির্ভরযোগ্য নয়।
কনট্যাক্টলেস কার্ড, '''অ্যাপল পে''', '''গুগল পে''', '''স্যামসাং পে''' প্রচলিত। $১০০-এর বেশি হলে পিন প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রেডিট কার্ডে পিন থাকে। বিদেশি কার্ডে পিন না থাকলে সাইন করা যায়, তবে দোকানিরা অনেক সময় জানেন না। তাই সম্ভব হলে পিন রাখুন।
কার রেন্টাল, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন, কিছু ডিসকাউন্ট রিটেইলার ও সার্ভিস স্টেশনে ক্রেডিট কার্ড সারচার্জ নেওয়া হয়। ক্যাফে, বার ও রেস্তোরাঁতেও বাড়ছে। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবে বেশি (২–৪%), ভিসা ও মাস্টারকার্ডে সাধারণত ১.৫%।
===দরকষাকষি===
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ দোকানে দরকষাকষি প্রচলিত নয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দোকানের রেট দেখালে অনেক সময় ছাড় দেয়। দামি পণ্য বা একাধিক জিনিস কিনলে ছাড় চাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, জুয়েলারিতে ১০% ছাড় পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে অকারণে দরদাম করলে তা অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয় এবং ব্যর্থ হবে।
===বকশিশ===
অস্ট্রেলিয়ায় [[বকশিশ]] প্রচলিত নয়, তবে চাইলে দিতে পারেন।
রেস্তোরাঁর দামে সার্ভিস ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকে। চমৎকার সার্ভিস পেলে সামান্য বকশিশ দিতে পারেন। কিছু রেস্তোরাঁ কার্ড পেমেন্টে টিপস যোগ করার সুযোগ দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কিছু জায়গায় ‘‘টিপস’’ লেখা বাটি থাকে, তবে অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান কোনো টিপস দেন না। বারটেন্ডারদের সাধারণত টিপস দেওয়া হয় না।
হোটেল কর্মী, পোর্টার, ট্যুর গাইড, ফুড ডেলিভারি বা হেয়ারড্রেসার-কেউই বকশিশ আশা করেন না। ট্যাক্সি ড্রাইভাররাও না, তবে অনেক সময় যাত্রীরা ভাড়া পরের ডলারে রাউন্ড করে দেন।
ক্যাসিনোতে গেমিং কর্মীদের টিপস দেওয়া নিষিদ্ধ-এটি ঘুষ হিসেবে ধরা হয়। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তাকে টিপস দেওয়া অপরাধ গণ্য হয়।
===বাণিজ্যিক সময়===
[[File:The_Strand_Arcade_interior_photographed_from_the_top_level,_Sydney_01.jpg|thumb|দ্য স্ট্র্যান্ড আর্কেড, [[সিডনি]]]]
অস্ট্রেলিয়ার '''মৌলিক ব্যবসায়িক সময়''' সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৫টা। এক রাত দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে-বেশিরভাগ শহরে শুক্রবারে রাত ৯টা পর্যন্ত, ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে বৃহস্পতিবারে। রবিবার ট্রেডিং বড় শহরে প্রচলিত, তবে গ্রামীণ এলাকায় নয়।
বড় সুপারমার্কেটগুলো সাধারণত সপ্তাহের দিনে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে (কখনও মধ্যরাত পর্যন্ত)। ৭/১১-এর মতো কনভেনিয়েন্স স্টোর বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা।
ফাস্ট ফুড চেইনগুলোও ২৪ ঘণ্টা বা গভীর রাত পর্যন্ত খোলা। শহরের ফুড কোর্টগুলো বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তবে শপিং সেন্টারের ফুড কোর্ট বেশি সময় খোলা থাকে।
সার্ভিস স্টেশন বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা, তবে গ্রামীণ এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর ও রবিবার বন্ধ থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার '''সপ্তাহান্ত''' শনিবার ও রবিবার। বড় শহরে সপ্তাহান্তে দোকান প্রায় সর্বত্র খোলা থাকে, তবে সময় কিছুটা কম। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ব্যতিক্রম, যেখানে রবিবার বড় দোকান খোলার ওপর সীমাবদ্ধতা আছে। ছোট শহরে রবিবার ও শনিবার বিকেলের পর দোকান বন্ধ থাকে। পর্যটক-নির্ভর শহরে সপ্তাহান্তে খোলা থাকে, তবে সোমবার-মঙ্গলবার দোকান বন্ধ থাকে।
পর্যটক এলাকায় দোকান অনেক সময় দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে। যেমন [[সিডনি/ডার্লিং হারবার|ডার্লিং হারবার]]-এ প্রতিরাতে দীর্ঘ সময় খোলা থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক সোমবার–শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৪টা খোলা থাকে, শুক্রবারে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। তবে এটিএম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এবং মুদ্রা বিনিময় আউটলেটের সময় আরও দীর্ঘ।
==খাওয়া==
{{see also|অস্ট্রেলীয় খাবার}}
অস্ট্রেলীয় খাবার মূলত ১৯৬০ ও ৭০-এর দশক পর্যন্ত ব্রিটিশ ও আইরিশ ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের প্রভাবে গড়ে উঠেছিল। তবে জার্মানি, ইতালি, গ্রিস ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অভিবাসনের ইতিহাস থাকায় অস্ট্রেলীয় খাবারে এসব সংস্কৃতির প্রভাব এখন ব্রিটিশ ও আইরিশ প্রভাবের তুলনায় আরও স্পষ্ট। বিপুল সংখ্যক এশীয় অভিবাসীর আগমনও অস্ট্রেলীয় খাবারে নিজের ছাপ রেখেছে; অনেক অস্ট্রেলীয় শেফ পশ্চিমা খাবারের সঙ্গে এশীয় স্বাদ মিশিয়ে পরিবেশন করেন।
বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর নিজেদের স্বতন্ত্র খাবার রয়েছে। তবে এরা অনেক অদ্ভুত উপাদান ব্যবহার করায় এগুলো মূলধারার অস্ট্রেলীয় খাবারের অংশ হয়নি। তবু [[ফাইন ডাইনিং]]-এ ক্রমশ আরও বেশি অস্ট্রেলীয় সেলিব্রিটি শেফ তাদের খাবারে স্থানীয় স্বাদ ব্যবহার করছেন।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, অস্ট্রেলিয়ায় টেবিল ম্যানার [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] নিয়ম অনুসারে হয়।
===কোথায় খাবেন===
{{infobox|বিওয়াইও - নিজের পানীয় আনুন|BYO-এর মানে হলো ''Bring Your Own'' (নিজের অ্যালকোহল আনা)। অস্ট্রেলিয়ার বহু শহুরে এলাকায় ছোট, সস্তা রেস্তোরাঁ আছে, যেগুলো মদের লাইসেন্স পায়নি, তবে ক্রেতাদের বাইরে থেকে আনা ওয়াইন খাওয়ার অনুমতি দেয়। এটি সাধারণত রেস্তোরাঁ থেকে ওয়াইন কেনার চেয়ে অনেক সস্তা। কিছু BYO রেস্তোরাঁ বিয়ারও অনুমতি দেয়, তবে বেশিরভাগই শুধু ওয়াইন। কর্কেজ ফি দিতে হয়—যা ২ থেকে ১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে, কখনও মাথাপিছু হিসাবেও হয়। যে রেস্তোরাঁগুলো মদ বিক্রির লাইসেন্সপ্রাপ্ত, সেখানে সাধারণত BYO অনুমোদিত নয়।}}
{{infobox|বার্গার কিং কোথায় গেল?|ভ্রমণকারীরা প্রায়ই অবাক হন দেখে যে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো বার্গার কিং নেই। এখানে বার্গার কিং-এর নাম হলো "হাঙ্গরি জ্যাকস"। কারণ অ্যাডিলেডে ইতিমধ্যেই "বার্গার কিং" নামে একটি ছোট দোকান ছিল, তাই ট্রেডমার্ক সমস্যার কারণে নতুন নাম নিতে হয়েছিল।
২০০১ সালে "হাঙ্গরি জ্যাকস" বার্গার কিং নাম ব্যবহারের অধিকার পেলেও, পুরোনো নামটি জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ায় তারা "হাঙ্গরি জ্যাকস"-ই রেখে দেয়।}}
অস্ট্রেলিয়ার শহর ও নগরগুলোতে বাইরে খাওয়ার কোনো অভাব নেই। ভালো আন্তর্জাতিক খাবারের রেস্তোরাঁ ছাড়াও আছে-
* '''পাব'''-এখানে সাধারণত লাঞ্চ ও ডিনারে পরিবেশন করা হয় মজবুত অজি খাবার যেমন স্টেক, বার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, চিকেন পার্মিজানা। খাবার সাধারণত প্রধান কাউন্টার থেকে আলাদা কোনো বিস্ত্রো বা রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয়।
* '''ক্লাব'''-যেমন বোলিং ক্লাব, লীগস ক্লাব, আরএসএল (RSL) ক্লাব, শহর ও নগরে প্রচুর দেখা যায়। কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বেশি প্রচলিত। অধিকাংশই ভিজিটরদের অনুমতি দেয় এবং প্রায়ই সুলভ দামে খাবার মেলে। সাধারণত দ্রুত, বিনামূল্যের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া থাকে।
* '''ক্যাফে'''-প্রায় প্রতিটি শহর ও উপশহরে ক্যাফে বা কফিশপ থাকে। এগুলোতে সকালের নাস্তা, হালকা খাবার ও কেক পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগই বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
* '''বেকারি'''-রুটি, পাই বা সসেজ রোল কেনার জন্য ভালো জায়গা।
* '''ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁ'''-ম্যাকডোনাল্ড’স (বা ''ম্যাকাস''), সাবওয়ে, কেএফসি প্রচলিত। বার্গার কিংয়ের পরিবর্তে আছে হাঙ্গরি জ্যাকস। রেড রুস্টার অস্ট্রেলীয় চেইন, যারা বারবিকিউ চিকেন পরিবেশন করে। ওপোর্টো হলো ন্যান্ডোস-এর অস্ট্রেলীয় সংস্করণ।
* '''টেকঅ্যাওয়ে'''-মিল্ক বার, সুশি স্টোর ও অন্যান্য দোকানে সুশি, পাই, রোস্ট চিকেন, হ্যামবার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, গাইরোস ও কাবাব মেলে।
* '''ফুড কোর্ট'''-বেশিরভাগ শপিং সেন্টারে ফুড কোর্ট থাকে, এমনকি ছোট শহরগুলোতেও।
* '''পিকনিক'''-অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া সাধারণত এমন যে খাবার নিয়ে নিকটবর্তী পার্ক, নদী, লেক বা সৈকতে বসে খাওয়া যায়।
* '''বারবিকিউ'''-অস্ট্রেলিয়ানদের প্রিয় শখ। অনেক পার্কেই বিনামূল্যে বারবিকিউর ব্যবস্থা থাকে। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই “শ্রিম্প অন দ্য বারবি” খায়-আসলে এখানে শ্রিম্পকে প্রন বলা হয়। স্টেক, চপ, সসেজ, চিকেন ফিলে, মাছ ও কাবাব সাধারণত বারবিকিউ করা হয়।
* '''ওয়াইনারি'''-অনেক ওয়াইনারির নিজস্ব রেস্তোরাঁ থাকে, যেখানে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়, আর সঙ্গে থাকে তাদের নিজস্ব ওয়াইন। সাধারণত শুধু লাঞ্চে খোলা থাকে, তবে কিছু উচ্চমানের জায়গায় মাল্টিকোর্স ডেগাস্টেশন ডিনারও হয়।
[[File:Jackadder Lake barbecues.jpg|thumb|ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার উডল্যান্ডসের জ্যাকঅ্যাডার লেকে আউটডোর বারবিকিউ। অস্ট্রেলিয়ার বহু পার্কেই একই ধরনের সুবিধা আছে।]]
[[File:Centre Place Dec 2012.jpg|thumb|মেলবোর্ন সিবিডির সেন্টার প্লেসে সারি সারি ক্যাফে]]
===স্থানীয় খাবার===
[[File:Kangaroo fillet.JPG|thumb|সিডনির একটি রেস্তোরাঁয় ক্যাঙ্গারু ফিলে]]
{{see also|অস্ট্রেলীয় খাবার#আদিবাসী খাবার (বুশ টাকার)}}
দুঃখজনক হলেও সত্যি, অস্ট্রেলীয় রেস্তোরাঁয় স্থানীয় খাবার খুব বেশি পাওয়া যায় না। এগুলো সুপারমার্কেট বা দেশের দূরবর্তী এলাকায় কিছুটা মেলে। ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী খাদ্যতালিকায় বিপন্ন প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সীমিত এবং আপনার জন্য অপ্রাপ্য।
* '''ক্যাঙ্গারু'''-অনেক সুপারমার্কেট ও কসাইখানায় পাওয়া যায়। মিডিয়াম-রে পর্যন্ত বারবিকিউ করা ভালো, নইলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। এর স্বাদ গরুর মাংসের মতো, মাঝে মাঝে পর্যটন এলাকার রেস্তোরাঁর মেনুতেও থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ মিলিয়নেরও বেশি ক্যাঙ্গারু আছে, এরা পরিবেশের ক্ষতি কম করে এবং কম কার্বন নিঃসরণ করে।
* '''কুমির'''-নর্দার্ন টেরিটরি ও কুইন্সল্যান্ডের ফার্ম থেকে উৎপাদিত মাংস শীর্ষ প্রান্তে সহজেই পাওয়া যায়। হোয়াইট মিট, যার স্বাদ মুরগির মতো।
* '''ইমু'''-কম ফ্যাটযুক্ত লাল মাংস, বিশেষ কসাইখানায় পাওয়া যায়। [[মালেনি]]-তে পাই হিসেবে বা [[সিডনি/দ্য রক্স|দ্য রক্স]]-এ পিজ্জায় চেষ্টা করতে পারেন।
* '''পসাম'''-মূলত তাসমানিয়ায় খাওয়া হয়, বিশেষ করে ব্রুনি আইল্যান্ডে।
* '''বুশ মুদ্রার'''-অনেক ট্যুরে আপনাকে বেরি, বাদাম, মূল, পিঁপড়ে ও গ্রাবসের মতো খাবার চেখে দেখার সুযোগ দেয়। '''ম্যাকাডেমিয়া বাদাম''' একমাত্র অস্ট্রেলীয় উদ্ভিদ যা বাণিজ্যিকভাবে খাবারের জন্য চাষ হয়। কিছু স্বাদ অর্জিত রুচি হলেও স্থানীয় মসলা অবশ্যই চেষ্টা করার মতো এবং এখন ক্রমশ ফাইন ডাইনিং-এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কৃষক বাজার ও উন্মুক্ত উৎসবে বুশ মুদ্রার আইসক্রিমও কখনও কখনও মেলে।
===খাবারের বাইরেও===
[[File:Pavlova Dessert.jpg|thumb|ক্রিম ও রাস্পবেরি দিয়ে সাজানো পাভলোভা]]
অস্ট্রেলিয়ায় এমন অনেক ব্রিটিশ-প্রভাবিত খাবার আছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ততটা পরিচিত নয়, তবে অবশ্যই চেখে দেখার মতো।
* '''ভেজিমাইট'''-এক ধরনের নোনতা ইস্ট-ভিত্তিক স্প্রেড। টোস্টে পাতলা করে মাখানো সবচেয়ে ভালো। কিনতে না চাইলে যেকোনো কফিশপে সকালের নাস্তায় পাবেন। পাতলা করে মাখানোই রহস্য-মাখন ভুলবেন না। যুক্তরাজ্যের মার্মাইট বা সুইজারল্যান্ডের সেনোভিসের মতো স্বাদ।
* '''টিম-ট্যাম'''-চকলেট বিস্কুট স্যান্ডউইচ, ভেতরে ফাজ-ফিলিং। টিম-ট্যাম স্লাম অবশ্যই চেষ্টা করার মতো-দুই প্রান্ত কামড় দিয়ে কাপে চা বা কফি দিয়ে স্ট্র হিসেবে ব্যবহার করুন।
* '''ল্যামিংটন'''-চকলেট আইসিং-এ ডোবানো ও নারকেলের গুড়ায় গড়ানো স্পঞ্জ কেক। কুইন্সল্যান্ডের গভর্নর লর্ড ল্যামিংটনের নামে নামকরণ।
* '''পাভলোভা'''-মেরিঙ্গ কেক, উপরে ক্রিম ও টাটকা ফল দিয়ে সাজানো। বিশেষ অনুষ্ঠান বা বারবিকিউ-র শেষে পরিবেশন হয়। [[নিউজিল্যান্ড#খাওয়া|নিউজিল্যান্ড]]-এর সঙ্গে প্রায়ই এই রেসিপির উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক হয়।
* '''এনজ্যাক বিস্কুট'''-নারকেল, ওটস, আটা, চিনি ও গোল্ডেন সিরাপের মিশ্রণে তৈরি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের পাঠানো হতো বলে কথিত।
* '''ড্যাম্পার'''-ড্রোভার ও স্টকম্যানদের প্রচলিত সোডা ব্রেড। ময়দা, পানি আর লবণ দিয়ে তৈরি। সাধারণত আগুনের ছাইয়ে রান্না হতো।
* '''চিকো রোল'''-ডিপ-ফ্রাই করা স্ন্যাক, নামের সত্ত্বেও চিকেন থাকে না। এতে থাকে মাটন, সবজি, চাল, বার্লি ও মসলা। মোটা খোলস ফুটবল ম্যাচে খাওয়ার উপযোগী করে বানানো।
* '''অস্ট্রেলিয়ান মিট পাই'''-অনেকের কাছে জাতীয় খাবার। এর একটি ভিন্নতা হলো '''পাই ফ্লোটার''', যেখানে পাই রাখা হয় ঘন মটরশুঁটির স্যুপে।
===অন্যান্য রান্না===
অস্ট্রেলিয়ায় নিম্নোক্ত কুইজিন ব্যাপক (প্রায়শই সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতির মানুষের হাতেই)-
* '''ব্রিটিশ'''-ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার-'''ফিশ-অ্যান্ড-চিপস''' সর্বত্র; ফ্লেক (ছোট হাঙর), ফ্ল্যাটহেড, বারামুন্ডি, কিং জর্জ হুইটিং জনপ্রিয়-ইউকে-র ভিন্ন, এখানে কেচাপ/টার্টার সস প্রচলিত। ব্রিটিশ/আইরিশ-স্টাইল পাবও সাধারণ-তবে মেনুতে থাকে চিকেন পারমা/স্নিটজেল/পাস্তা।
* '''চাইনিজ'''-পুরোনো প্রজন্মের কাছে ‘‘টেকঅ্যাওয়ে’’-এর সমার্থক-আজও অজি-স্টাইল চাইনিজ প্রচুর; বড় শহরে ‘‘চায়নাটাউন’’ বা চীনা-অধ্যুষিত উপশহরে দারুণ অথেন্টিক অপশন; ক্যান্টনিজ ডিম সাম মলে নিবেদিত রেস্টুরেন্টে।
* '''থাই'''-প্রায় সর্বত্র; বিশেষ করে সিডনি থাই খাবারের জন্য বিশ্বসেরা গন্তব্যগুলোর একটি।
* '''ইতালিয়ান'''-অস্ট্রেলিয়ার বড় অভিবাসী সম্প্রদায়-ক্যাফে কালচারের জনক-লাইগন স্ট্রিট (মেলবোর্ন), লাইকার্ট (সিডনি)। অজি-স্বাদের ইটালিয়ান থেকে শুরু করে হাই-এন্ড রিজিওনাল-সবই আছে।
* '''গ্রিক'''-ইতালিয়ানের মতো বিস্তৃত না হলেও সব শহর/টাউনে ভালো অপশন আছে।
* '''লেবানিজ/মধ্যপ্রাচ্য'''-বিশেষ করে সিডনিতে। '''মানুশ'''-হালকা, স্বাস্থ্যকর পিৎজা-জাতীয়। **ফিউশন ডিশ** ‘‘হালাল স্ন্যাক প্যাক’’ (এইচএসপি)-দোনার কাবাব মাংস + চিপস + নানা সস/চিজ-স্টাইরোফোম বক্সে-জাতীয়ভাবে দারুণ জনপ্রিয়। অ্যাডিলেডে ‘‘এবি’’ পূর্বাঞ্চলের এইচএসপি-র মতো-তবে সবসময় হালাল নাও হয়।
* '''ইন্ডিয়ান'''-বেশিরভাগ শহরে ভালো মিড-রেঞ্জ অপশন।
* '''জাপানি'''-বেন্টো/উডন/সুশি ট্রেন-অনেক সময় '''কোরিয়ান'''দের পরিচালনায়; কোরিয়ান রেস্টুরেন্টও (বিশেষত সিডনি/মেলবোর্ন) প্রচুর।
* '''ভিয়েতনামিজ'''-ফো/চা জিও সহজলভ্য।
* '''জার্মান'''-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/কুইন্সল্যান্ডে জার্মান বসতির ইতিহাস পুরোনো-শহর ও ঐতিহাসিক টাউনে জার্মান রেস্টুরেন্ট-স্নিটজেল (অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত চিকেন/বিফ), বিভিন্ন সসেজ বুচারিতে সহজলভ্য।
* '''এশিয়ান ফিউশন'''-নতুন ধারার বিভিন্ন এশীয়-অনুপ্রাণিত ডিশ।
===আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান===
আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান হলো সাম্প্রতিক রান্নাশৈলী, যা [[ফাইন ডাইনিং]] রেস্তোরাঁয় দেখা যায়। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন শৈলী মিশিয়ে তৈরি, সঙ্গে ঝোপঝাড় থেকে সংগৃহীত স্থানীয় উপাদান ব্যবহৃত হয়।
===শাকাহারি খাবার===
অস্ট্রেলিয়ায় শাকাহারি খাদ্য সহজলভ্য এবং অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে অন্তত একটি বা দুটি শাকাহারি পদ থাকে। অনেক রেস্টুরেন্টে আবার একটি পুরো শাকাহারি মেনু বিভাগও থাকে। নিরামিষভোজীরা কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন, তবে বড় শাকাহারি মেনু যেসব রেস্টুরেন্টে থাকে, সেখানে কিছু নমনীয়তা আশা করা যায়। বড় শহরগুলোতে এবং পূর্ব উপকূলের ব্যাকপ্যাকার-বান্ধব উপকূলীয় শহরগুলোতে শাকাহারি ও নিরামিষভোজী রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। [[কুরান্ডা]] শহর বা [[বায়রন বে]] উপকূলীয় শহর শাকাহারিদের জন্য একপ্রকার স্বর্গরাজ্য। তবে উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোতে বিশেষ করে নর্দান টেরিটরি, উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর কুইন্সল্যান্ডে শাকাহারিদের জন্য তেমন কিছু ব্যবস্থা নেই, তবে অধিকাংশ শহরেই একটি না একটি চাইনিজ বা থাই রেস্টুরেন্ট থাকে যারা সেদ্ধ ভাত ও সবজি পরিবেশন করে। বিশেষ করে সিডনি ও মেলবোর্ন শহরে নিরামিষভোজীদের জন্য প্রচুর পরিমাণে একেবারে নিরামিষ রেস্টুরেন্ট, নিরামিষ পোশাকের দোকান ও নিরামিষ সুপারমার্কেট রয়েছে।
[[File:Avocado Toast Melbourne (cropped).jpg|thumb|মেলবোর্নে 'স্ম্যাশড অ্যাভো']]
দ্রুত পাওয়া যায় এমন কিছু শাকাহারি বিকল্প:
* ‘স্ম্যাশড অ্যাভো’ হল অ্যাভোকাডো ও ফেটা চিজের মিশ্রণ, টোস্টের উপর পরিবেশন করা হয় এবং সাথে ডিম থাকে। এটি জনপ্রিয় প্রাতঃরাশের একটি আইটেম, এবং (অন্যায়ভাবে) বিলাসী তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
* সুসি দোকানগুলোতে সর্বত্রই সুসি রোল ও টফু পকেট পাওয়া যায়।
* ভিয়েতনামি স্প্রিং রোলের (বান মি) শাকাহারি সংস্করণও সহজলভ্য।
* কোরিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে মাংসবিহীন ভাতের বাটি (যেমন: বিবিমবাপ) পাওয়া যায়।
* পাই দোকানগুলোতে পালং শাক ও রিকোটা চিজ ভরা রোল থাকে।
* অধিকাংশ ফুড কোর্টে একটি নির্দিষ্ট সালাদ কাউন্টার থাকে।
দূরবর্তী আউটব্যাক এলাকাগুলোতে শাকাহারি বিকল্প খুবই সীমিত (প্রচুর প্রক্রিয়াজাত মাংসের পাই, আর কিছুই নয়), তাই আগেই কিছু শাকাহারি খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
===ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাস===
যারা কোশের বা হালাল খাদ্য গ্রহণ করেন, তারা রাজধানী শহরগুলোতে সহজেই বিশেষায়িত কসাই দোকান এবং উপযুক্ত মেনু ও রান্নার ধাঁচবিশিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাবেন। তবে রাজধানীর বাইরে কঠোর ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত খাবার পাওয়া বেশ কঠিন। পশ্চিম সিডনি ও মেলবোর্নের মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এমন এলাকায় ফাস্ট ফুড চেইনগুলো প্রায়ই হালাল অনুমোদিত খাবার সরবরাহ করে।
===অ্যালার্জি===
অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্টগুলো সাধারণত বাদাম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো সাধারণ অ্যালার্জির বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিকল্প পরিবেশন করে। সন্দেহ থাকলে ওয়েটারদের জিজ্ঞেস করুন।
'''গ্লুটেন-মুক্ত''' খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা অস্ট্রেলিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুপারমার্কেট, বেকারি ও রেস্টুরেন্টে গ্লুটেন-মুক্ত পণ্যগুলোর কোনো অভাব নেই, যদিও এসব পণ্যের দাম সাধারণ পণ্যের তুলনায় প্রায়ই বেশি।
===বাজার===
[[File:SydFishMarkets.jpg|thumb|right|300px|সিডনি ফিশ মার্কেটে সামুদ্রিক খাবার]]
মেলবোর্নের কুইন ভিক্টোরিয়া মার্কেট, অ্যাডেলেইডের সেন্ট্রাল মার্কেট এবং পার্থের কাছে ফ্রিম্যান্টল মার্কেট হলো অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় ধাঁচের ঐতিহ্যবাহী খাবারের বাজারের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। সিডনি ফিশ মার্কেট পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত সামুদ্রিক খাবারের বাজার।
অস্ট্রেলিয়ার সব রাজধানী শহর এবং অধিকাংশ আঞ্চলিক শহরে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট স্থানে একদিন (সাধারণত শনিবার বা রবিবার) ‘ফার্মার’স মার্কেট’ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বাজারে প্রধানত টাটকা ফল ও সবজি বিক্রি হয়, কারণ অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বাজার স্টল থেকে সরাসরি মাংস বিক্রি করা নিষিদ্ধ। তবে কিছু কসাই তাদের পণ্যের প্রদর্শনশালাসহ গাড়ির বুট থেকে বিক্রি করেন। এসব বাজারের মূল আকর্ষণ হলো কম দামে টাটকা ফলমূল পাওয়া। পর্যটকদের জন্য এটি অর্থসাশ্রয়ী ও সুস্বাদু ফল কেনার ভালো সুযোগ-এটা নির্ভর করে আপনি কোথায় আছেন এবং মৌসুম কোনটা। যেমন কুইন্সল্যান্ড বা নর্দান টেরিটরিতে গেলে আম পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর তাসমানিয়ায় গেলে আপেল বেশি পাবেন। আঞ্চলিক এলাকায় বাজার সাধারণত শহরের বাইরের কোনো মাঠে বা খেলার মাঠে বসে, আর রাজধানী শহরগুলোর বাজার শহরের মাঝেই হওয়ায় যাতায়াত সহজ হলেও দাম তুলনামূলক বেশি হয়। বিস্তারিত জানার জন্য গন্তব্য সম্পর্কিত গাইডগুলো দেখুন।
==পানীয়==
===বিয়ার===
'''বিয়ার''' অস্ট্রেলীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যদিও বিদেশে ফোস্টারসকে অস্ট্রেলীয় বিয়ার হিসেবে প্রচার করা হয়, এটি বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই পান করে এবং অস্ট্রেলিয়ায় এটি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিয়ার নিয়ে আঞ্চলিক পক্ষপাত অত্যন্ত প্রবল এবং প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব বিয়ার রয়েছে: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় কুপার্স ও ওয়েস্ট এন্ড, ভিক্টোরিয়ায় কার্লটন ও ভিবি (VB), নিউ সাউথ ওয়েলসে টুহিস, কুইন্সল্যান্ডে XXXX (উচ্চারণ “ফোর-এক্স”), তাসমানিয়ায় বোয়াগস ও ক্যাসকেড এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সোয়ান। মাইক্রোব্রুয়ারিগুলিও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং যেকোনো ভালো পাবে সাধারণত ছয়টি বিয়ার ট্যাপে থাকে: সামান্য মিষ্টি প্যাসিফিক এলে ও তুলনামূলক হপযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান প্যালে এলে খুঁজে দেখুন। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন আমদানিকৃত বোতলজাত বিয়ারও সাধারণত সকল পাবেই পাওয়া যায়, শুধুমাত্র একেবারে সাধারণ পাবগুলো বাদে।
[[File:XXXX Brewery Milton.jpg|thumb|ব্রিসবেনের XXXX ব্রুয়ারি]]
"লাইট (লাইট)" বিয়ার বলতে কম অ্যালকোহলযুক্ত বিয়ার বোঝায়, কম ক্যালোরি নয়। এতে পূর্ণ শক্তির বিয়ারের তুলনায় অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক এবং এটি কম হারে করযুক্ত হওয়ায় দামে তুলনামূলক সস্তা। কম ক্যালোরিযুক্ত বিয়ারকে “লো কার্ব” নামে বিক্রি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের বিয়ার ঠান্ডা অবস্থায় পান করতে পছন্দ করে, তাই খসড়া বিয়ার পরিবেশনের গ্লাস বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায় যেন গ্রীষ্মের তাপে উষ্ণ হয়ে ওঠার আগেই গ্লাস শেষ করা যায়। গ্লাসের নামকরণ রাজ্যভেদে এতটাই ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর যে একটি উদাহরণই যথেষ্ট: প্রায় সব জায়গায় '''সকুনার''' (SKOO-নার) ৪২৫ মি.লি., তবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় তা ২৮৫ মি.লি., যা অন্যান্য স্থানে '''মিডি''' বা '''পট''' নামে পরিচিত, তবে ডারউইনে একে বলা হয় '''হ্যান্ডল''', আবার অ্যাডিলেইডে “পট” বলতে বোঝায় ৫৭০ মি.লি. পূর্ণ পাইন্ট, এবং “পাইন্ট” মানে যা অন্যত্র “সকুনার”। প্রতিটি রাজ্যের গাইডে স্থানীয় বিয়ার ও এই বিভ্রান্তিকর পরিভাষার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
বোতলের নামকরণ অপেক্ষাকৃত সহজ: অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সাধারণ সাইজ হলো ৩৭৫ মি.লি. '''স্টাবি''' এবং ৭৫০ মি.লি. '''লংনেক''' বা '''ট্যালি'''। ক্যানজাত বিয়ারকে বলা হয় '''টিনি''', আর ২৪ ক্যান নিয়ে গঠিত প্যাকেটকে বলে '''স্ল্যাব''', '''বক্স''', '''কার্টন''', '''ব্যাগ''' বা '''কেস'''।
===মদ===
[[File:Hunter panorama-1b-web-l.jpg|thumb|[[হান্টার ভ্যালি|হান্টার ভ্যালির]] দ্রাক্ষাক্ষেত্র]]
অস্ট্রেলিয়া শিল্প পরিসরে উচ্চমানের মদ উৎপাদন করে, যেখানে বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলি স্থানীয় বোতল দোকানে সরবরাহ করে ও বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করে। ছোট ছোট বুটিক ওয়াইনারি এবং ক্ষুদ্র সরবরাহকারীরাও প্রচুর রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় খুব ভালো লাল ও সাদা মদ প্রায়ই ১৫ মার্কিন ডলারেরও কম দামে পাওয়া যায়, এবং সবচেয়ে ছোট দোকানেও সাধারণত ৫০টির বেশি ধরনের মদ থাকে।
[[বারোসা ভ্যালি]] (অ্যাডিলেইডের কাছে), [[হান্টার ভ্যালি]] (সিডনির কাছে), [[ইয়াররা ভ্যালি]] (মেলবোর্নের কাছে) এবং [[মার্গারেট রিভার]] (পার্থের কাছে) অঞ্চলগুলো বিশেষভাবে মদ্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত এবং সেখানে সরাসরি ওয়াইনারিতে গিয়ে চেখে দেখার সুযোগ আছে। এছাড়াও উত্তর ভিক্টোরিয়া, [[মাজি]] এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার [[সোয়ান ভ্যালি]] ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার [[ম্যাকল্যারেন ভ্যালি]], [[ক্লেয়ার ভ্যালি]] ও [[কুনাওয়াররা]] অঞ্চলেও বহু ধরনের মদ পাওয়া যায়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে আপনি খুব একটা মদ্য-পথ থেকে দূরে থাকবেন না।
যেখানে সম্ভব স্থানীয় মদ চেখে দেখুন এবং স্থানীয় সুপারিশ অনুযায়ী বেছে নিন। লেবেল বা দামের ফাঁদে পা না দেওয়াই ভালো-সেরা মদ সাধারণত সবচেয়ে দামী বা আকর্ষণীয় লেবেলযুক্তটি নয়। তবে যদি কোনো রেস্টুরেন্টে মদ সরাসরি একটি কাস্ক (৪ লিটারের কন্টেইনার) থেকে দেয়, তাহলে তা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ওয়াইনারিতে মদ সাধারণত দোকানের তুলনায় ২০% বেশি দামে বিক্রি হয়।
যদি আপনি এখনও বিদেশি মদ পছন্দ করেন, তাহলে [[মার্লবোরো (নিউজিল্যান্ড)|মার্লবোরো]] অঞ্চলের নিউজিল্যান্ডের মদ সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্ট ও বোতল দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।
আরও দেখুন: [[অস্ট্রেলিয়ায় দ্রাক্ষা চাষ ও চেখে দেখা]]
===স্পিরিট===
বুন্ডাবার্গ রাম (বান্ডি) হলো একটি অস্ট্রেলীয় ডার্ক রাম, যা বিশেষভাবে কুইন্সল্যান্ডে জনপ্রিয়। কুইন্সল্যান্ডের অনেক মানুষ অন্য কোনো ব্র্যান্ডের রাম ছুঁয়েও দেখেন না। এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত দেশীয় মদ, যা বুন্ডাবার্গে ব্যাপকহারে উৎপাদিত হয় এবং সর্বত্র সহজলভ্য।
অনেক বছর ধরে অন্য অস্ট্রেলীয় ডিস্টিলড স্পিরিট খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট করতে হতো, যেগুলো মূলত ছোটখাটো প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে আসত। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্যেই ডিস্টিলারি আছে, এবং নতুন নতুন ডিস্টিলারি দ্রুত গড়ে উঠছে। অ্যাডিলেডের জিন ডিস্টিলারি ৭৫° এবং অ্যাডিলেড জিন কোম্পানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্মান অর্জন করেছে। তাসমানিয়ার ক্ষুদ্র সুলিভান’স কোভ ডিস্টিলারি ২০১৪ সালে আলোচনায় আসে, যখন তাদের একটি হুইস্কি ‘‘বিশ্বের সেরা সিঙ্গল মল্ট’’ উপাধি লাভ করে। এটি অস্ট্রেলিয়ান হুইস্কি শিল্পে ছোটখাটো উত্থান ঘটায়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও তারা একই কৃতিত্ব পুনরায় অর্জন করে। তাদের ২০১৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওক বোতলের দাম যদি ৮,০০০ অস্ট্রেলীয় ডলার আপনার কাছে বেশি মনে হয়, তবে হোবার্টের মনোরম জলপথ এলাকায় অবস্থিত লার্ক ডিস্টিলারিতে ঘুরে আসতে পারেন। সিডনির আর্চি রোজ-এ জিন ব্লেন্ডিং অভিজ্ঞতা বুক করতে পারেন, উলংগং থেকে ১৫১ ইস্ট ভদকা কিনতে পারেন কিংবা কুনুনুরাতে কয়েক দিন থাকার পর নিশ্চিতভাবেই আপনার অর্ড রিভার রামের প্রয়োজন হবে।
মিক্সড ড্রিঙ্কসও পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভদকা, স্কচ, বোরবন এবং অন্যান্য হুইস্কি মিশ্রণ। স্পিরিটস বোতল ও ক্যানজাত প্রি-মিক্সড আকারেও বিক্রি হয়, তবে সেগুলোর উপর বেশি কর আরোপিত হয়। তাই নিজে মিশিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সস্তা। সব মদ্যপানাগার ও বারে স্পিরিটস পরিবেশন করা হয়, তবে সব রেস্তোরাঁয় নয়। সাধারণ একটি স্পিরিটস মিশ্রণ (যেমন ভদকা ও কমলার রস) একটি বার বা নাইটক্লাবে প্রায় ১২ অস্ট্রেলীয় ডলার খরচ হয়, তবে দাম প্রায় ৯ থেকে ১৮ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
===আইনগত দিক===
অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র মদপানের বৈধ বয়স হলো ১৮ বছর। ১৮ বছরের কম হলে নিজের জন্য অ্যালকোহল কেনা বেআইনি, তেমনি কারো হয়ে অ্যালকোহল কেনাও বেআইনি যদি সে ব্যক্তি ১৮ বছরের কম হয়। একমাত্র বৈধ প্রমাণপত্র হলো অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স, রাজ্য কর্তৃক প্রদত্ত বয়স-প্রমাণপত্র (proof-of-age card), [https://auspost.com.au/id-and-document-services/apply-for-a-keypass-id কীপাস কার্ড] (Keypass) কার্ড অথবা পাসপোর্ট। তাই অ্যালকোহল বা তামাকজাত দ্রব্য কিনতে চাইলে এবং আপনার চেহারা ২৫ বছরের নিচে মনে হলে অবশ্যই সঙ্গে পরিচয়পত্র বহন করা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ বিক্রেতারা সাধারণত ২৫ বছরের কম বয়সীদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র চান। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি এবং তাসমানিয়ায় বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বিদেশি পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য নয়। কেবল পাসপোর্ট বা বৈধ অস্ট্রেলিয়ান পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে। ছবি বা ফটোকপি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
১৮ বছরের কম বয়সে কোনো মদ্যপানাগার বা ক্লাবের জুয়া খেলার অংশে প্রবেশ করা বেআইনি। তবে অনেক মদ্যপানাগার বা ক্লাবে আলাদা লাউঞ্জ, রেস্টুরেন্ট বা বিস্ট্রো অংশ থাকে, যেখানে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যতক্ষণ তারা বারের কাছে না যায় বা এদিক-সেদিক না ঘোরাফেরা করে। শহরের কিছু পাব-এ ভিডিও গেমস ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠও থাকে। গ্রামীণ এলাকার কিছু পাবের পেছনে খোলা জায়গা থাকে, যেখানে বাচ্চারা দৌড়ঝাঁপ করতে পারে।
সাধারণত আপনি পার্ক বা সমুদ্রসৈকতে নিয়ে গিয়ে অ্যালকোহল পান করতে পারেন (যেমন একটি বোতল ওয়াইন বা বিয়ার)। তবে কিছু জনসমাগমস্থলে যেমন পার্ক বা ফুটপাথে 'স্ট্রিট ড্রিঙ্কিং' নিষিদ্ধ। এসব স্থানে সাধারণত সাইনবোর্ড থাকে। যেখানে প্রকাশ্যে মাতলামির সমস্যা হয়েছে, সেসব জায়গায় নিষেধাজ্ঞা বেশি। তবে আপনি যদি দুপুরে পরিবার নিয়ে পিকনিকের ঝুড়ি ও চাদর বিছিয়ে বসে ওয়াইনের বোতল খুলেন, তবে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অ্যালকোহল শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী স্থানে (যেমন পাব, ক্লাব ও অনেক রেস্টুরেন্ট) বসে পান করার জন্য কেনা যায়। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কিনতে হলে বোতলশপ থেকে নিতে হয়। কিছু রাজ্যে সুপারমার্কেটেও অ্যালকোহল বিক্রি হয়। যেখানে বিক্রি হয় না, সেসব রাজ্যে বোতলশপ ও বড় সুপারমার্কেট সাধারণত পাশাপাশি থাকে। যদিও রাজ্যভেদে লাইসেন্স আইন ও সময়সূচী ভিন্ন, তবুও সাধারণত সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বোতলশপ, সুপারমার্কেট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মুদি দোকান ও মদ্যপানাগার থেকে অ্যালকোহল কেনা যায়। এর বাইরে প্রায় অসম্ভব-সিডনি বা মেলবোর্নের মাঝখানে না হলে। তাই যদি বাড়িতে পার্টির পরিকল্পনা থাকে, আগে থেকে স্থানীয় দোকানের খোলা-বন্ধের সময় দেখে মজুত রাখা উচিত। অস্ট্রেলিয়ায় কোনো জ্বালানি স্টেশন বা ২৪ ঘণ্টা খোলা কনভিনিয়েন্স স্টোরে অ্যালকোহল বিক্রি হয় না।
প্রকাশ্যে মাতলামি কতটা সহনীয় তা ভিন্ন ভিন্ন। মদ্যপানাগার ও ক্লাবের আশেপাশে রাতে এটা বেশি দেখা যায়, দিনে কম। প্রকাশ্যে মাতলামি আইনত অপরাধ, কিন্তু পুলিশ কেবল বিরক্তিকর আচরণ করলে ব্যবস্থা নেয়। কখনও রাতভর হেফাজতে থাকতে হতে পারে অথবা অভিযোগ গঠন হতে পারে।
অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো অস্ট্রেলিয়ায় কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রিত। পুলিশ এলোমেলোভাবে শ্বাসপরীক্ষা (breath test) করে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি হতে পারে লাইসেন্স বাতিলসহ নানা কিছু। সর্বোচ্চ রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা অনুমোদিত ০.০৫%। তবে ভারী যানবাহন চালক ও নতুন/কচি চালকদের ক্ষেত্রে সীমা আরও কম বা শূন্য। পুলিশ নিষিদ্ধ মাদক সেবন করেছে কিনা তা পরীক্ষা করার ক্ষমতাও রাখে। এসব পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানো ফৌজদারি অপরাধ। নিষিদ্ধ মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালালে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর আদালতে হাজিরা দিতে হয়, যা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে বড়ভাবে ব্যাহত করে। শনিবার ও রবিবার ভোরে এলোমেলো শ্বাসপরীক্ষা বিশেষভাবে সাধারণ, এবং অনেকেই আগের রাতের পান করার কারণে ধরা পড়েন।
===একসঙ্গে পানীয় কেনা ===
[[File:Birdsville Hotel.jpg|thumb|পশ্চিম কুইন্সল্যান্ডের দূরবর্তী অঞ্চলে বার্ডসভিল হোটেল]]
অস্ট্রেলিয়ায়, যেমন বিশ্বের আরও অনেক জায়গায়, একসঙ্গে বসে মদ্যপানের সময় পালাক্রমে পানীয় কেনা একটি প্রচলিত রীতি। কোনো পাব-এ গেলে এবং প্রথমবার বারে গেলে সাধারণত আশা করা হয় যে আপনি আপনার সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্যও পানীয় কিনবেন। পরবর্তীতে দলের অন্য কেউ নতুন করে যোগ দিলে সেও আপনার জন্য এমনটা করবে। এ প্রথাটিকে বলা হয় ''a shout'' (শাউট)। এতে একটি অলিখিত নিয়ম হলো, আপনিও পরবর্তী রাউন্ডে পাল্টা পানীয় কিনবেন এবং সন্ধ্যা জুড়ে দলের অন্যদের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পান করবেন।
যদি আপনার রাউন্ডের কারো গ্লাস খালি থাকে এবং তারা আপনার আগেই পানীয় কিনে দিয়ে থাকে, তবে আপনাকেই ঘোষণা করতে হবে যে এবার আপনার শাউট, এবং আপনিই বার-এ যাবেন। কেউ যদি আপনাকে পানীয় কিনে দিতে চায়, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে না দেয় যে ইতিমধ্যেই আপনাকে কিনে দিয়েছে, তবে বলা উচিত যে আপনি একটি শাউটে আছেন এবং বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তবে যদি সে আপনাকে এবং আপনার দলের সবাইকে পানীয় কিনে দেয়, তবে সে শাউটে যুক্ত হয়ে যায়। এক সন্ধ্যায় এক শাউট থেকে অন্য শাউটে চলে যাওয়াকে ভদ্রতা হিসেবে দেখা হয় না।
যদি বড় দলে থাকেন এবং আপনি পানীয় নিতে অস্বীকার করেন, তবুও আপনার পালা এলে আপনাকেই পুরো দলের জন্য কিনতে হবে। কোনো রাউন্ড এড়াতে চাইলে, সেটা নিজের শাউটের সময় করুন। সাধারণত একটি রাউন্ডে কিনে দিয়ে পরে নিজে পানীয় না নেওয়া ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না। অনেক সময় আপনাকে না জিজ্ঞেস করেই পানীয় কিনে দেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে আগেই পানীয় পেলে পরে সে বলতে পারে যে এবার আপনার শাউট। কোনো শাউটে যোগ না দিলে অনেক দলে তা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এড়ানোর সেরা উপায় হলো বলা যে আপনি গাড়ি চালাবেন এবং শুধু নিজের জন্য কিনবেন। এটি এক রাউন্ড শেষে সমতা থাকলে ভদ্রভাবে বেরিয়ে যাওয়ার গ্রহণযোগ্য উপায়ও।
===অ্যালকোহলবিহীন পানীয়===
'''মাইলো (Milo)''' হলো একটি মাল্ট ও চকলেট পানীয়, যা প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় উদ্ভাবিত হয় এবং বর্তমানে নেস্লে (Nestlé) তা তৈরি করে। এটি [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]]র অনেক দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো সুপারমার্কেটেই এটি পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিশালী '''[[কফি]]''' সংস্কৃতি রয়েছে, বিশেষত [[মেলবোর্ন]] শহরে, যেখানে প্রচুর ইতালীয় অভিবাসী রয়েছে। মজার বিষয় হলো, বলা হয় ইতালির বাসিন্দারা মেলবোর্নে এলে মনে করেন কফি তাদের শহরের তুলনায় খারাপ, তবে ইতালির অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় ভালো। এমনকি জ্বালানি স্টেশন ও ফাস্টফুড দোকানেও ভালো মানের কফি পাওয়া যায়। স্থানীয় কফি শপগুলির জনপ্রিয়তার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক চেইন এখানে নেই-যেমন স্টারবাকসের মাত্র কয়েকটি দোকান রয়েছে মেলবোর্ন ও সিডনিতে, অন্য কোথাও নয়। তাই চেইন না দেখে অবাক হবেন না, বরং স্থানীয় স্বাদই চেষ্টা করুন।
'''[[চা]]''' অস্ট্রেলিয়ায় কফির মতো জনপ্রিয় নয়, তবে সহজেই পাওয়া যায়। যেসব জায়গায় কফি বিক্রি হয়, প্রায় সবখানেই চাও বিক্রি হয়। কিছু অভিজাত হোটেলে ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি আফটারনুন টি পরিবেশন করা হয়। আবার ডেভনশায়ার চা অস্ট্রেলিয়ায় সপ্তাহান্তের বেশ জনপ্রিয় একটি বিনোদন, যেখানে অনেক বেকারিই এটি পরিবেশন করে। [[কুইন্সল্যান্ড]]-এ ছোট পরিসরে চা উৎপাদনও হয়।
==শিখুন==
{{Main|বিদেশে পড়াশোনা#অস্ট্রেলিয়া}}
অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য, বিশেষত [[পূর্ব এশিয়া]], [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]] ও [[ভারত]] থেকে আগতদের জন্য। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংরেজিভাষী পরিবেশ। পাশাপাশি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও কাজের ভিসার সুযোগও নাগরিকত্বের পথে সহায়ক হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে চাইলে আপনাকে এমন ভিসা ক্লাসে থাকতে হবে যা এ অনুমতি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-গবেষকদেরও সাধারণত উপযুক্ত ভিসা নিতে হয়, এমনকি ভ্রমণ ভিসায় স্বল্প সময়ের জন্য এলেও। খুব স্বল্পমেয়াদি বা খণ্ডকালীন কোর্সের জন্য অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলেট বা দূতাবাসে খোঁজ নেওয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়া বারিস্টা প্রশিক্ষণ নেওয়ারও চমৎকার জায়গা। এখান থেকে সনদপ্রাপ্তরা নিজ দেশে ফিরে কফি শপে তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরি পেতে পারেন। এ ধরনের কোর্স সাধারণত পর্যটক ভিসায় করা যায়।
==রাত্রিযাপন==
[[File:Camping by the Yarrangobilly River - panoramio.jpg|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের ইয়্যারাঙ্গোবিলি নদীর তীরে ক্যাম্পিং]]
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে সহজেই আবাসন পাওয়া যায়। তবে, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বিষয়ে যেমন ব্যয় বেশি, এখানকার আবাসনের খরচও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কিছুটা বেশি।
===হোটেল===
{{infobox|কখন ‘হোটেল’ হোটেল নয়?|অস্ট্রেলীয় ইংরেজিতে '''হোটেল''' বলতে বহু সময়ে যে জিনিসটিকে দুনিয়ার অন্য জায়গায় '''পাব''' বলা হয়, সেটাই বোঝায়। গ্রামীণ এলাকার হোটেলগুলোতে (পাব) সাধারণত সাইটেই থাকার ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু শহরের বেশিরভাগ হোটেলে তা থাকে না। যেসব গ্রামীণ ‘হোটেল’-এ পাব নেই, সেগুলোকে সাধারণত '''মোটেল''' বলা হয়।}}
সব রাজ্যের রাজধানী শহরগুলোতে বহু ৪ বা ৫-তারকা হোটেল আছে-উচ্চমানের রেস্তোরাঁ, বার, রুম-সার্ভিস ও অন্যান্য প্রিমিয়াম আতিথেয়তা সেবাসহ। প্রতি রাতের জন্য প্রায় ৪০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ ধরতে পারেন। তবে বড় কোনো কনসার্ট বা ইভেন্টের সময়-যেমন সিডনিতে নিউ ইয়ার্স ইভ-দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে বা সব রুম বিক্রি হয়ে যেতে পারে। ২ বা ৩-তারকা হোটেলও ভেতর শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক বড় বড় চেইনগুলো মোটামুটি ভালোভাবেই উপস্থিত, বিশেষ করে আকোর (Accor) প্রায় সব দামের পরিসরেই দৃঢ় উপস্থিতি রাখে। উল্লেখযোগ্য স্থানীয় স্বাধীন চেইনের মধ্যে আছে [https://www.rydges.com/ রিজেস (Rydges)]।
===পাব===
[[File:BendigoShamrockHotel.JPG|thumb|বেন্ডিগোর শ্যামরক হোটেল]]
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ পাব-এই কোনো না কোনো ধরনের থাকার ব্যবস্থা থাকে। এগুলো একেবারে সাধারণ মানের অগোছালো কক্ষ থেকে শুরু করে নতুন সংস্কারকৃত বুটিক ধাঁচের থাকার জায়গা পর্যন্ত হতে পারে। ভাড়া দেখে সাধারণত কেমন সুবিধা পাওয়া যাবে তা বোঝা যায়। এমনকি উন্নত পাবগুলোতেও ব্যক্তিগত বাথরুম থাকা এখনও বিরল। কক্ষগুলো সাধারণত দ্বিতীয় তলায়, সরাসরি বারের উপরে থাকে, ফলে বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার রাতে অনেক শব্দ হতে পারে।
বড় শহরের বাইরে পাবকে সাধারণত '''হোটেল''' বলা হয়। মোটেলে কোনো পাবলিক বার থাকে না। তবে যদি কোনো মোটেলের সঙ্গে বার যুক্ত থাকে তবে সেটিকে হোটেল/মোটেল বলা হয়।
খুব ছোট শহরগুলোতে ভ্রমণকারীদের জন্য স্থানীয় পাব-ই একমাত্র থাকার ব্যবস্থা দেয়। এসব পাবের থাকার জায়গা সাধারণত সাশ্রয়ী ধাঁচের হয়, যেখানে বাথরুম শেয়ার করতে হয়, তবে কক্ষগুলো ব্যক্তিগত হয়।
সিডনির কেন্দ্রস্থলেও পাব-এ থাকার সুযোগ পাওয়া যায়, ফলে বিয়ার খেয়ে সহজেই কক্ষে ফিরে যাওয়া যায়।
আপনি যদি একা ভ্রমণ করেন এবং আলাদা কক্ষ চান, তবে পাবগুলো সাধারণত সিঙ্গেল রুম দেয় যা ডাবল রুমের তুলনায় ছাড়ে পাওয়া যায়। অন্যদিকে বেশিরভাগ মোটেল এক বা দুইজন মিলে থাকুক না কেন একই ভাড়া নেয়।
===মোটেল===
সাধারণত মোটেল ধাঁচের থাকার জায়গায় একটি বা একাধিক বিছানা-সমৃদ্ধ আলাদা কক্ষ থাকে, সঙ্গে ব্যক্তিগত শাওয়ার ও টয়লেট। অনেক মোটেলেই ফ্যামিলি রুম থাকে, যেখানে একটি ডাবল বেড ও দুটি সিঙ্গেল বেড একই কক্ষে দেওয়া হয়।
শহরের মোটেলগুলোর কক্ষভাড়া সাধারণত ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু হয়। সাধারণত এক বা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক থাকলে খরচ একই হয়, তবে অতিরিক্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা ফি ধার্য হয়। শিশুদের জন্য ফি বিনামূল্য থেকে শুরু করে প্রতিজন সর্বোচ্চ ২০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। শান্ত মৌসুমে মোটেলগুলো প্রায়শই হঠাৎ ছাড় (standby discount) দিয়ে থাকে।
বেশিরভাগ মোটেল সকালে অতিরিক্ত ফির বিনিময়ে রান্না করা বা কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট কক্ষে সরবরাহ করে। কিছু মোটেলে রেস্টুরেন্ট থাকে বা রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। কোনো কোনো কক্ষে টোস্টার থাকে এবং কেটলি প্রায় সর্বত্র দেওয়া হয়।
===হোস্টেল ও ব্যাকপ্যাকার===
[[Hostels|সাশ্রয়ী হোস্টেল ধাঁচের থাকার জায়গা]]-এ সাধারণত শেয়ার করা বাথরুম থাকে এবং প্রায়শই ডরমিটরিও থাকে। ভাড়া প্রতিরাতে জনপিছু প্রায় ২০–৩০ ডলার। এসব হোস্টেলে সাধারণত সম্পূর্ণ সজ্জিত রান্নাঘর থাকে, যেখানে পর্যাপ্ত ফ্রিজ ও খাবার রাখার জায়গা থাকে। বেশিরভাগ হোস্টেলে বসার ঘরের মতো জায়গা থাকে, যেখানে সোফা, খাবার টেবিল ও টেলিভিশন থাকে।
অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল চেইন রয়েছে। একই ব্র্যান্ডের হোস্টেলে বহু রাত থাকলে তাদের ডিসকাউন্ট কার্ড বিবেচনা করা যেতে পারে, যেগুলো সাধারণত থাকার খরচে লয়্যালটি বোনাস এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ ট্যুরে ছাড় দিয়ে থাকে।
===হলিডে পার্ক===
[[File:RAC Esperance Holiday Park, Western Australia - facilities 03.jpg|thumb|হলিডে পার্কের মানক কেবিন]]
[[File:Dubbo NSW 2830, Australia - panoramio (107).jpg|thumb|যে কোনো সম্মানিত অস্ট্রেলীয় হলিডে পার্কে একটা “জাম্পিং পিলো” (দেয়ালবিহীন বিশাল ট্রামপোলিন/বাউন্সি ক্যাসল) থাকেই]]
হলিডে পার্ক অস্ট্রেলিয়ান অবকাশ সংস্কৃতির এক বিশাল অংশ-নিজস্ব যান থাকলে থাকার দারুণ উপায়। এগুলো মূলত পুরোনো '''কারাভ্যান পার্কের''' আপগ্রেডেড সংস্করণ, তবে নতুন মার্কেটিং অনুযায়ী এখন সাধারণ ভ্রমণকারীদেরও সমানভাবে সেবা দেয়। একটি সাধারণ হলিডে পার্কে থাকে-
* '''কেবিন'''-বিছানা, রান্নাঘর, টিভি, ওয়াই-ফাইসহ সবকিছুসহ, যাদের নিজস্ব ‘চাকা-ওয়ালা ঘর’ নেই তাদের জন্য। বেশিরভাগ কেবিনে ৪ বা ততোধিক জন থাকতে পারেন; ভাড়া সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
* '''পাওয়ার্ড সাইট'''-কারাভ্যান/ক্যাম্পারভ্যান/মোটরহোম/আরভি (রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল) পার্কিংয়ের জন্য। কিছু পার্কে '''এন-স্যুইট সাইট'''ও থাকে-ছোট ব্যক্তিগত বাথরুমে শাওয়ার ও টয়লেটসহ।
* '''আনপাওয়ার্ড সাইট'''-নিজের তাঁবু ফেলতে চাইলে; সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
যেখানেই থাকুন না কেন, দাম সাধারণত শেয়ারড সুবিধাগুলোর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে-বারবিকিউ (বিবিকিউ), শাওয়ার, রান্নাঘর, স্বয়ংক্রিয় লন্ড্রি, সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট ও জাম্পিং পিলো। সারা দেশে বড় চেইনগুলোর মধ্যে আছে [https://topparks.com.au টপ পার্কস/ডিসকভারি পার্কস] এবং [https://www.big4.com.au/ বিগ ৪ (BIG4)]-তবে স্বাধীন পার্কও নেহাত কম নয়।
তবে হলিডে পার্ক বেছে নেওয়ার আগে কিছু সতর্কতা-
* সাধারণত শহরের প্রান্তে থাকে; নিজের গাড়ি না থাকলে খুব সুবিধাজনক নাও লাগতে পারে।
* অধিকাংশ পার্ক পরিবার-কেন্দ্রিক-আপনার বাচ্চা থাকলে দারুণ, কিন্তু নির্জনতা চাইলে খুব পছন্দ নাও হতে পারে।
* স্কুলের ছুটিতে রেট অনেক বেড়ে যায়, একাধিক রাতের ন্যূনতম থাকা বাধ্যতামূলক করে এবং ভালো পার্কগুলো আগেভাগেই সোল্ড-আউট হয়ে যায়।
* বুকিং বদলাতে চাইলে সাধারণত সুবিধা নেই-বেশিরভাগ রিজার্ভেশন নন-রিফান্ডেবল।
===ক্যাম্পিং===
[[#হলিডে পার্ক|হলিডে পার্ক]]-এ তো বটেই, ক্যাম্পিং অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। ন্যাশনাল পার্কগুলোও প্রায়ই সস্তা বা বিনা খরচে ক্যাম্পসাইট দেয়-ধরা হয় আপনি নিজের দায়িত্বে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সামলাবেন। সাধারণত টয়লেট থাকে, কখনও কখনও ঠাণ্ডা শাওয়ারও থাকে। জনপ্রিয় পার্কগুলোতে পেইড ক্যাম্পিং পারমিট লাগে; গ্রীষ্মের ছুটিতে বিখ্যাত স্পটগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ায় এমনটা খুবই স্বাভাবিক যে রাজধানীসহ যেকোনো জায়গায় থাকুন, এক ঘণ্টার ড্রাইভের মধ্যেই কোনো ন্যাশনাল পার্ক বা রিক্রিয়েশন এরিয়ায় পৌঁছে এমন জায়গা পাওয়া যায় যেখানে কোনো না কোনোভাবে ক্যাম্পিং করা সম্ভব। ক্যাম্পিং পারমিটের জন্য সাধারণত প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ৫–১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার লাগে এবং জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে (যেমন: উইলসন্স প্রমোন্টরি ন্যাশনাল পার্ক, কোসিউস্কো ন্যাশনাল পার্ক ইত্যাদি) আলাদা প্রবেশ-ফিও থাকতে পারে। তবে জনবসতি ও পর্যটক-কেন্দ্র থেকে দূরের অধিকাংশ ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ ও ক্যাম্পিং দুটোই ফ্রি।
অন্যান্য কিছু ক্যাম্পিং এলাকা সরকার বা স্থানীয় জমির মালিকেরা চালান-সাধারণত সময়ভেদে প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ধরতে পারেন।
কেউ কেউ সমুদ্রসৈকতে রাত কাটানো বা হাইওয়ে রেস্ট-এলাকায় তাঁবু ফেলেও চেষ্টা করেন। তবে বেশিরভাগ রেস্ট-এলাকা ও সৈকতেই ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ; অনেক জায়গায় রাতভর গাড়ি পার্কিংও নিষিদ্ধ-এভাবে ‘ফ্রি’ থাকার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করতে। সাধারণ নিয়ম হলো, আপনি যত বেশি জনবসতি বা পর্যটন এলাকার কাছাকাছি, কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিরক্তির সম্ভাবনাও তত বেশি।
দর্শনীয়তার চেয়ে ক্যাম্পিং-অভিজ্ঞতাই যদি বেশি চান, তাহলে স্টেট ফরেস্ট প্রায়ই ন্যাশনাল পার্কের চেয়ে সুবিধাজনক-এখানে নিজেরা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পারেন (কোথাও কোথাও গাছ কাটারও সীমিত অনুমতি থাকে) এবং ক্যাম্পিং নির্দিষ্ট সাইটে সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে। স্টেট ফরেস্টে সাধারণত পোষ্য প্রাণী আনা, খোলা আগুন জ্বালানো, মোটরবাইক চালানো ও ফোর-হুইল ড্রাইভিং-এসব কার্যকলাপ চলতে পারে, যেগুলো ন্যাশনাল পার্কে সাধারণত নিষিদ্ধ। স্টেট ফরেস্টে থাকা সাধারণত ফ্রি, তবে কোথায় জনসাধারণের প্রবেশ অনুমোদিত তা স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
[[গাড়িতে ক্যাম্পিং|রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল (আরভি) নিয়ে ক্যাম্পিং]] অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। অনেক ক্যাম্পসাইট আরভি ও কারাভ্যান-বান্ধব-যদিও পাওয়ার সাপ্লাই ও মেইনস-ওয়াটার সংযোগ থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। আরভি/কারাভ্যান পার্কিং-স্লটের সংখ্যা সীমিত হতে পারে, তাই আগে থেকেই স্লট রিজার্ভ করা যায় কি-না দেখে নিন।
===ফার্ম স্টে===
নামের মতোই-চলমান খামারে কেবিন বা হোমস্টেড-আবাসন। সাধারণত দুই বা ততোধিক দিনের জন্য উপযোগী। চাইলে খামারের কাজকর্মে সামান্য অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতের খাবার হোমস্টেডে পরিবেশন করা হয় এবং কেবিনে ব্রেকফাস্ট-প্যাক দেওয়া হয়।
===হলিডে হোম===
হলিডে হোম হলো মালিকের ব্যক্তিগত বাড়ি, যা তিনি ভাড়া দেন-স্থানীয় রিয়েল-এস্টেট এজেন্ট বা বিশেষায়িত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কখনও চমৎকার লোকেশনে থাকে, কখনও আবার শহর/শহরতলির আবাসিক এলাকায়। ন্যূনতম ভাড়া সাধারণত কমপক্ষে ২ রাত-ব্যস্ত সময়ে তা এক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ন্যূনতম সুবিধা হিসেবে থাকে শোবার ঘর, লাউঞ্জ ও বাথরুম।
===[[বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট]]===
[[File:HentyCentralHotel.JPG|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের (এনএসডব্লিউ) হেনটি শহরের হেনটি সেন্ট্রাল হোটেল ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ আবাসন দেয়-এ রকম হোটেল বহু গ্রামীণ শহরেই আছে]]
অস্ট্রেলিয়ায় বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট সাধারণত প্রিমিয়াম ধাঁচের আবাসন-সপ্তাহান্তে যুগলদের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। যুক্তরাজ্যের কিছু অংশের মতো এখানে এটাকে সস্তা আবাস হিসেবে ধরা হয় না; স্থানীয় মোটেলই সাধারণত তুলনায় সস্তা পড়ে।
কখনও বাড়ির অতিরিক্ত রুম, তবে অনেক সময়ই উদ্দেশ্যনির্মিত ভবন। সাধারণত আরামদায়ক, পরিচ্ছন্ন রুম, একটি শেয়ারড কমন-এলাকা এবং রান্না করা সকালের নাস্তা আশা করতে পারেন। হয়তো ব্যক্তিগত সুবিধাও থাকবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থাকা হলে-বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্টে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য ছাড় মেলে।
===রিসোর্ট সমূহ===
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় অনেক আসল রিসোর্ট আছে। এদের মধ্যে অনেকেরই লেগুন পুল, টেনিস কোর্ট, গলফ, শিশুদের ক্লাব এবং নানা ধরনের কার্যক্রম থাকে। [[হুইটসানডেস]] দ্বীপপুঞ্জে বিভিন্ন ধরনের রিসোর্ট রয়েছে, কিছু রিসোর্ট পুরো দ্বীপ জুড়েই। [[পোর্ট ডগলাস]]-এও বিশ্বমানের অসংখ্য রিসোর্ট রয়েছে।
===সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট===
সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় খুবই জনপ্রিয় আবাসনের ধরন, যা শহরের কেন্দ্র, সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিংবা স্কি রিসোর্ট-সবখানেই পাওয়া যায়। অতিথিরা চাইলে মাত্র এক রাত থেকেও উঠতে পারেন, আবার এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ের জন্য বুক করলে ছাড় পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণ হোটেলের তুলনায় বড় হয়, যেখানে সাধারণত রান্নাঘর, ওয়াশিং মেশিন, ড্রায়ার এবং আলাদা শোবার ঘর থাকে। পরিবারের জন্য বা বড় দলের জন্য এগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়।
অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলগুলো সাধারণত প্রাতঃরাশ দেয় না বা রেস্টুরেন্ট থাকে না, তবে কাছেই (প্রায়শই পাশের ভবনেই) অতিথিদের জন্য ক্যাফে থাকে। বড় চেইনগুলোর মধ্যে রয়েছে [https://www.meritonsuites.com.au/ মেরিটন স্যুইটস] এবং [https://adinahotels.com/en/ আদিনা]।
===হাউসবোট===
অস্ট্রেলিয়ার মনোরম গ্রামীণ নদীগুলোতে হাউসবোট ভাড়া নেওয়া যায়। এগুলো বন্য প্রকৃতিতে সময় কাটানোর এক দারুণ সুযোগ দেয়। সাধারণত এদের মধ্যে রান্নাঘর থাকে, তাই অতিথিরা নিজেই রান্নার উপকরণ নিয়ে যেতে পারেন।
===স্টেশন ওয়াগন ও ভ্যান===
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ স্থানে গাড়ির ভেতরে ঘুমানো আইনত নিষিদ্ধ। তবে জানালার চারপাশে পর্দা টাঙালে অনেক সময়ে তা এড়িয়ে যাওয়া যায়। প্রায় ১,০০০ ডলারে একটি ট্রেড ভ্যান কেনা যায়, আর নির্ভরযোগ্য ভ্যান কিনতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৩,০০০–৪,০০০ ডলার। একটি গদি, বালিশ, পোর্টেবল গ্যাস চুলা, রান্নার সামগ্রী এবং ২০ লিটার পানির কন্টেইনার যোগ করলে যাত্রা শুরু করা যায়। তবে ধরা পড়লে জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার। তাই ঝুঁকির দায় নিজেকেই নিতে হবে। পরিকল্পনা করে থাকলে সাধারণত ধরা পড়তে হয় না। স্থানীয়দের বিরক্ত না করা এবং পার্কিং বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কিছু এলাকায় রাতারাতি পার্কিং নিষিদ্ধ হলেও তা খুবই বিরল। তবে শহরে পার্কিং ইন্সপেক্টররা কঠোর, তাই ১০০ ডলারের বেশি জরিমানা অস্বাভাবিক নয়।
অস্ট্রেলিয়ার সব শহর ও নগরে বিনামূল্যে পাবলিক টয়লেট আছে। অনেক পার্কে এবং বেশিরভাগ সমুদ্রসৈকতে বিনামূল্যে ইলেকট্রিক বারবিকিউ রয়েছে। জনপ্রিয় সৈকতগুলোতে মিষ্টি পানির শাওয়ারও থাকে, যাতে সাঁতার শেষে সমুদ্রের লবণ ধুয়ে ফেলা যায়। অল্প বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য সমুদ্রেই ধোওয়া এবং শাওয়ারে কুলি করাই যথেষ্ট (তবে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে পানি দূষণ করা যাবে না)। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব নলকূপের পানিই পানযোগ্য, যেগুলো নয়, সেগুলো চিহ্নিত করা থাকে। সার্ভিস স্টেশনগুলোতে সাধারণত নল থাকে, তাই প্রতিবার জ্বালানি ভরার সময় পানি ভরেও নেওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ার সেরা অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হতে পারে এমন একটি রাস্তা ধরে যাওয়া, যা মানচিত্রে সমুদ্রসৈকত, ঝরনা বা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হয়। হয়তো সেখানে নির্জন এক স্বর্গীয় জায়গা পাবেন। সৌভাগ্যক্রমে আপনার সঙ্গে থাকবে শোবার জায়গা, খাবার ও পানি।
ছোট দলে ভ্রমণ করলে মাথাপিছু জ্বালানির খরচও কমে যায়, যা সাধারণত সবচেয়ে বড় ব্যয় হয়ে দাঁড়ায়।
ভ্রমণ উপভোগ করুন এবং জমি ও প্রকৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপনার আবর্জনা, বোতল এবং সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সঠিকভাবে ফেলে দিন।
==কাজ==
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দারা অতিরিক্ত কোনো অনুমতি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন, কিন্তু অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ভিসা প্রয়োজন হয়। পর্যটন ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ করা আইনবিরুদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ায় পারফর্ম করা যেকোনো সেবার জন্য প্রদত্ত যেকোনো ধরনের পারিশ্রমিক-হোক তা অর্থমূল্য কিংবা অন্য কিছু (যেমন: থাকা ও খাওয়া)-‘পেমেন্ট’ হিসেবে গণ্য হয়, অর্থাৎ এই ধরনের কাজ পর্যটন ভিসার আওতায় অবৈধ। স্বেচ্ছাসেবী কাজ অনুমোদিত, যদি তা ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য না হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভিসাধারীরা একাডেমিক টার্ম চলাকালীন (যখন ক্লাস চলে) প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, এবং ছুটির সময় পূর্ণ সময় কাজ করতে পারেন। এর মানে, ক্লাস চলাকালে প্রতি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে কাজ করলে গ্রেফতার, কারাবাস, দেশে ফেরত পাঠানো এবং স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। যেসব ভিজিটর অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক নন (এতে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত, যদি তারা অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক না হন), তারা অস্ট্রেলিয়ার বেকারদের জন্য নির্ধারিত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিতে পারেন না এবং সরকারের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার সুযোগ খুব সীমিত বা সাধারণত নেই বললেই চলে।
===পারিশ্রমিক ও কর===
অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তা পারিশ্রমিক সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন, তাই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত। কিছু ব্যাংক বিদেশ থেকেও অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়, যেমন: কমনওয়েলথ ব্যাংক এবং এইচএসবিসি।
আপনাকে দ্রুত একটি '''[http://www.ato.gov.au/Individuals/Tax-file-number/ ট্যাক্স ফাইল নম্বর (TFN)]'''-এর জন্য আবেদন করতে হবে। এটি [http://www.ato.gov.au/ অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্স অফিসের ওয়েবসাইট] থেকে বিনামূল্যে অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করলে সাধারণত আরও দ্রুত পাওয়া যায়। TFN ছাড়াও কাজ শুরু করা সম্ভব, কিন্তু দ্রুত এটি সংগ্রহ না করলে নিয়োগকর্তা আপনার আয় থেকে সর্বোচ্চ হারে কর কেটে রাখবে। TFN ব্যাংকে নিবন্ধন না করালে সুদের আয় থেকেও সর্বোচ্চ হারে কর কাটা হবে। অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক বছর চলে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত, এবং প্রতি বছরের কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। কর সংক্রান্ত দায়িত্ব ও কর রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে কোনো ট্যাক্স এজেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। [https://my.gov.au/ myGov] অ্যাকাউন্ট খুলে এটিকে ATO-র সঙ্গে লিঙ্ক করে সহজেই রিটার্ন দাখিল করা যায় (যদি আপনার কাছে প্রাসঙ্গিক অস্ট্রেলিয়ান আইডি না থাকে, তবে ATO-কে ফোন করে সাহায্য নিতে হতে পারে)।
আপনার আয়ের সঙ্গে সঙ্গে ATO একটি '''[https://www.ato.gov.au/Individuals/Medicare-and-private-health-insurance/Medicare-levy/ মেডিকেয়ার লেভি]''' হিসেবে ২% হারে কর কেটে রাখবে, যা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য ব্যয় হয়। কিছু বিদেশি কর্মী এই কর থেকে অব্যাহতি পান; যদি আপনার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হয়, তাহলে [https://www.servicesaustralia.gov.au/medicare-entitlement-statement মেডিকেয়ার এনটাইটেলমেন্ট স্টেটমেন্ট]-এর জন্য আবেদন করুন, যাতে কর রিটার্নে তা দেখিয়ে রিফান্ড পাওয়া যায়। আগেভাগেই আবেদন করুন, কারণ এই স্টেটমেন্ট পেতে সময় লাগতে পারে এবং কর রিটার্ন জমা দিতে গেলে এটি লাগবে।
অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তারা আপনার আয়ের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে সুপারঅ্যানুয়েশন (অবসরের সঞ্চয়) ফান্ডে জমা রাখেন। অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ভিসায় থাকা, অথচ অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের নাগরিক নন-এমন ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সময় এই অর্থ ফেরত নিতে পারেন। একে বলা হয় “ডিপার্টিং অস্ট্রেলিয়া সুপারঅ্যানুয়েশন পেমেন্ট (DASP)”, এবং আপনি এটি [https://applicant.tr.super.ato.gov.au/applicants/default.aspx?pid=1 অনলাইনে আবেদন] করে পেতে পারেন। নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা এই সঞ্চয় তাঁদের “কিউইসেভার” অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারেন; এ জন্য নিজ নিজ প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
===ওয়ার্কিং হলিডেমেকার স্কিম===
[[File:CSIRO ScienceImage 4714 CSIRO Precision Viticulture Trial site in the Eden Valley SA March 2004.jpg|thumb|দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আঙ্গুরক্ষেত]]
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য একটি ওয়ার্কিং হলিডেমেকার কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম প্রবেশের দিন থেকে ১২ মাস অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যায়। এই সময় কাজ করা যাবে, তবে কোনো এক নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ ৬ মাস। মূল ধারণা হলো ছুটি কাটানো, যার খরচ মেটানো হবে অস্থায়ী বা স্বল্পমেয়াদি কাজের আয়ে। আগ্রহীদের জন্য উপকারী দক্ষতার মধ্যে রয়েছে: অফিসের কাজ শেখা, যাতে অস্থায়ী চাকরিতে কাজে লাগে; অথবা আতিথেয়তা খাতে (বার বা রেস্টুরেন্টে) কাজ করার দক্ষতা। বিকল্প হিসেবে মৌসুমি কাজ যেমন ফল সংগ্রহ রয়েছে, তবে এসব কাজ সাধারণত বড় শহরের বাইরে করতে হয়। মৌসুমি কাজে ৩ মাস কাজ করলে দ্বিতীয় ১২ মাসের ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।
'''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/work-holiday-417 ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা]''' অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে আবেদনকালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যাবে না। খরচ ৬৩৫ ডলার (এপ্রিল ২০২৪ অনুযায়ী)। বিভাগের তথ্যমতে, অর্ধেক আবেদন একদিনের মধ্যে এবং ৯০ শতাংশ তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়াকৃত হয়। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ভিসাটি ‘‘এভিডেন্সড’’ করে নিতে বলা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তাকে দেখানো যায়।
ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সময় অন্তত ৫,০০০ ডলার থাকা সুপারিশ করা হয়। কারণ অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ বেশি এবং কাজ পেতে কয়েকদিন বা সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
===কর্মভিসা===
অস্ট্রেলিয়ার কর্মভিসার নিয়ম প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য স্থানীয় অস্ট্রেলীয় হাইকমিশন, কনস্যুলেট, দূতাবাস বা [http://www.immi.gov.au/ অভিবাসন বিভাগের ওয়েবসাইট] দেখা উচিত।
সরাসরি কর্মভিসা (সাবক্লাস ৪৫৭, ১৮৬ ও ১৮৭) পাওয়ার সহজ উপায় হলো কোনো অস্ট্রেলীয় নিয়োগকর্তা আপনাকে স্পনসর করা। নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার দক্ষতা সম্পন্ন কাউকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাকরির বিজ্ঞাপনগুলোতে সাধারণত বৈধ কর্মভিসার শর্ত উল্লেখ থাকে। ভিসা পেতে কয়েক মাস লাগতে পারে এবং অনুমোদনের আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত চিকিৎসকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা (যেমন টিবি পরীক্ষা করার জন্য বুকের এক্স-রে) দিতে হয়। দক্ষ নিয়োগকর্তা ও ভালো অভিবাসন আইনজীবী থাকলে ৪৫৭ ভিসা এক সপ্তাহেই অনুমোদিত হতে পারে। তবে এই ভিসা শুধু স্পনসর নিয়োগকর্তার জন্য বৈধ এবং চাকরি শেষ হলে ৩০ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হয়।
রিজিওনাল স্পনসর্ড মাইগ্রেশন স্কিম (আরএসএমএস) ভিসা (সাবক্লাস ১৮৭) তুলনামূলক সহজ, তবে ‘‘আঞ্চলিক’’ এলাকায় থাকতে ও কাজ করতে হয়। এসব এলাকা মূলত গ্রামীণ বা বড় শহর থেকে দূরে, যদিও [[অ্যাডিলেড]] এই তালিকায় রয়েছে।
যদি বিশেষ দক্ষতা থাকে এবং কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে বাঁধা না থাকতে চান, তবে স্কিল্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ১৮৯, ১৯০, ৪৮৯) নেওয়া যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা (সাবক্লাস ৪৮৫) পেতে পারেন। এটি ১৮ মাস থেকে ৪ বছরের জন্য বৈধ হয়, যা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেজরের উপর নির্ভর করে। তবে মেজরটি অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ‘‘চাহিদাসম্পন্ন পেশার তালিকায়’’ থাকতে হবে, যা প্রতি বছর হালনাগাদ হয়। এই ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে পড়াশোনার শুরু নয়, স্নাতক হওয়ার সময়কার তালিকাই কার্যকর।
===অভিবাসন===
বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী হিসেবে অভিবাসনের জন্য আবেদন করা যায়, তবে এটি কর্মভিসার তুলনায় সময়সাপেক্ষ। কর্ম বা শিক্ষাভিসাধারীও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন, যদিও স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পাওয়া যায় না। প্রচুর অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা রয়েছে, যা দিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। চার বছরের বৈধ বসবাস শেষে, যার অন্তত এক বছর স্থায়ী বসবাস হতে হবে, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।
===স্বেচ্ছাসেবক===
অস্ট্রেলিয়ায় নানা স্বেচ্ছাসেবী কাজের সুযোগ রয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা ভ্রমণকারীদের স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের সুযোগ দেয়। যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনর্গঠন, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রক্ষণাবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েছে [http://www.australianvolunteers.com '''অস্ট্রেলিয়ান ভলান্টিয়ার্স'''], [http://www.wwf.org.au '''ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড'''], [http://www.gap360.com '''গ্যাপ ৩৬০'''], '''[https://xtremegapyear.co.uk/ এক্সট্রিম গ্যাপ ইয়ার]''', এবং [https://freepackers.com/en/destinations/australia/ '''ফ্রিপ্যাকার্স''']।
==সম্মান ও আচরণ==
{{infobox|অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রতার রীতি|অস্ট্রেলিয়ায় আপনি যে ধরনের গ্রাহকসেবার মুখোমুখি হবেন—হোক সেটা কোনো ক্যাফের বারিস্টা, বারের বারটেন্ডার, হোটেলের রিসেপশনিস্ট কিংবা ট্যাক্সিচালক—প্রায় সবক্ষেত্রেই এমন সংলাপে শুরু হয়:
* আপনি: হাই, কেমন যাচ্ছো?
* তিনি: ভালো, ধন্যবাদ, আপনি কেমন?
* আপনি: আমি এক কাপ ফ্ল্যাট হোয়াইট/এক গ্লাস ফ্যাট ইয়াক/দুইজনের একটি ঘর/টুুম্বায় যেতে চাই...
হ্যাঁ, এটা এমনকি একেবারে অচেনা লোকজনের সাথেও প্রযোজ্য। এবং হ্যাঁ, এই দুই লাইনের পর আপনি সরাসরি নিজের প্রয়োজনটা বলতে পারেন—নিজের জীবনকাহিনি বলার দরকার নেই। কিন্তু পুরোপুরি এটা এড়িয়ে গেলে মানুষ আপনাকে অভদ্র ভাবতে পারে।}}
সাধারণভাবে, অস্ট্রেলীয়দের সংস্কৃতিগত অজ্ঞতার কারণে অপমান বা কষ্ট দেওয়ার আশঙ্কা খুব কম।
অস্ট্রেলিয়ায় সম্বোধন বেশ সহজ-সরল ও খোলামেলা। অধিকাংশ পরিস্থিতিতে, এমনকি নিজের চেয়ে অনেক বছর বয়সী ব্যক্তিকেও প্রথম নামে ডাকা একেবারেই স্বাভাবিক। অনেকে সদ্য পরিচিত লোককেও ডাকনামে ডাকতে পছন্দ করেন। এমন ডাকনামে ডাকা সাধারণত বন্ধুত্বের প্রকাশ, অবজ্ঞা নয়।
অস্ট্রেলিয়ায় খোলামেলা পোশাক পরা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। সৈকতে বিকিনি বা সাঁতারের পোশাক পরা স্বাভাবিক, এবং সৈকতের পাশের দোকানেও এটি মানা যায়। তবে এর বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে অন্তত একটি শার্ট ও পায়ে কিছু পরা উচিত। অধিকাংশ সৈকত কার্যত টপ-ঐচ্ছিক (টপলেস) হলেও, রাস্তায় হাঁটার সময় বা পানিতে নামার সময় প্রায় সব নারীই টপ পরে থাকেন। কিছু সৈকত সম্পূর্ণ নগ্নতায় অনুমোদিত, যেগুলো সাধারণত আবাসিক এলাকা থেকে একটু দূরে থাকে। থং বিকিনি (যা অস্ট্রেলিয়ায় 'জি-স্ট্রিং বিকিনি' নামে বেশি পরিচিত, কারণ এখানে 'থং' মানে স্যান্ডেল) নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই অনুমোদিত, যদিও এগুলো এখনও ততটা প্রচলিত নয়। কিছু আউটডোর সুইমিং পুলে নারীদের জন্য "টপ আবশ্যক" নীতিমালা রয়েছে।
যখন উপাসনালয়, যেমন গির্জা পরিদর্শন করবেন, তখন একটু ঢেকে থাকা ভালো। গরমে সাধারণত টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট যথেষ্ট, তবে আনুষ্ঠানিক পরিবেশে পুরুষদের জন্য দীর্ঘহাতা শার্ট, টাই ও ফুলপ্যান্টই ব্যবসায়িক পোশাক হিসেবে গ্রহণযোগ্য-even যদি আবহাওয়া খুব গরম হয়।
[[Australian slang|অস্ট্রেলিয়ান কথ্য ভাষা বা স্ল্যাং]] অনুকরণ করার চেষ্টা করলে তা অনেক সময় যোগাযোগের চেয়ে বিদ্রুপ বলেই মনে হতে পারে। যদি আপনি খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে হাসি পেতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ানরা প্রায়ই নিজেদের নিয়ে ঠাট্টা করে কথা বলেন, তবে এমন কোনো মন্তব্যের সাথে একমত হওয়া অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয়। নিজের কৃতিত্ব নিয়ে গর্ব করা সচরাচর ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না।
অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক শ্রেণি অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম গুরুত্ব পায়। পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিক বা কারিগরদের (যাদের “ট্রেডিজ” বলা হয়) অনেক বেশি সম্মান ও ভালো বেতন দেওয়া হয়। কাজের ধরন দেখে কাউকে অবজ্ঞা করা অস্ট্রেলিয়ায় খুবই নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। হোটেল কর্মচারী, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ট্যাক্সিচালক ও দোকানের কর্মচারীদেরও সমানভাবে সম্মান করার প্রত্যাশা করা হয়।
হারিয়ে গেলে বেশিরভাগ অস্ট্রেলীয়ই দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী থাকেন। তবে শহুরে এলাকায় অনেকেই "মাফ করবেন" শুনলে ধরে নেন আপনি অর্থ চাচ্ছেন, এবং এড়িয়ে চলে যেতে পারেন। হাতে মানচিত্র থাকা, ব্যাকপ্যাকারদের মতো দেখানো বা সরাসরি নিজের প্রয়োজনে যাওয়া-এসব সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
===আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা===
[[File:Ayers Rock 2004 - panoramio (2).jpg|thumb|উলুরু]]
[[Indigenous Australian culture|আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা]] সম্ভবত ৬৫,০০০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে এসে বসতি গড়েন এবং বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। ইউরোপীয় বসতির পর থেকে তাঁদের প্রথাগত জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে তারা বহু বছর ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছেন। তাই এই বিষয়ে সর্বদা সংবেদনশীল হওয়া উচিত। আদিবাসীরা বিভিন্ন ‘জাতি’ বা সম্প্রদায়ভুক্ত যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় রয়েছে এবং বসতির আগেই তাঁরা প্রায় ২৫০টি ভাষায় কথা বলতেন।
পর্যটকদের জন্য আদিবাসী ভূমিতে প্রবেশের নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন। কিছু এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা যায়, আবার কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতি বা পারমিট লাগে, এবং কিছু এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। জনপ্রিয় এলাকাগুলোর পারমিট নেওয়া সাধারণত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র এবং এতে আপনার সফরের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। এটি মূলত সেই ভূমিকে আদিবাসী ভূমি হিসেবে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি। কিছু আদিবাসী জমি পরিষদ অনলাইনে পারমিট প্রদান করে।
কিছু সম্প্রদায় বা এলাকা আদিবাসীদের পক্ষ থেকে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। যদিও পর্যটন আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর জন্য উপকারী, তবু সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বসবাস ও পর্যটন এলাকাকে আলাদা রাখার চেষ্টা চলছে। ম্যাপে কোনো এলাকা "মুক্ত প্রবেশযোগ্য" দেখালেও, অনুরোধ না মানা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অনেক সময় বেআইনিও হতে পারে। নির্জন এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে যাচাই করে নিন জায়গাটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত কিনা এবং পারমিট প্রয়োজন কি না।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক নিদর্শন [[উলুরু]] স্থানীয় আনানগু জনগণের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। যদিও একসময় এটি পর্বতারোহণের জন্য জনপ্রিয় ছিল, আনানগু জনগণ বহুদিন ধরে পর্যটকদের তা না করার অনুরোধ জানিয়ে আসছেন, এবং ২০১৯ সাল থেকে এটি বেআইনি হয়েছে। তাদের মতে, যদি কেউ সেখানে চড়ে আহত বা নিহত হন, তাহলে এর দায় তাঁদের ওপর পড়ে। তাই দয়া করে উলুরুতে না চড়ুন। “এয়ারস রক” নামটি বিদেশে প্রচলিত হলেও অস্ট্রেলিয়ার ভিতরে প্রায় কেউই এটি ব্যবহার করে না এবং এটি বলা অনুচিত।
জাতিগত প্রসঙ্গে বলতে হলে, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শব্দ হলো ''ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ান'' (Indigenous Australians)। ''আদিবাসী জনগণ'' (Aboriginal people) সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ''আদিবাসী'' (Aboriginal) শব্দটি একা ব্যবহার এড়ানো ভালো-অনেকে এতে নেতিবাচক অর্থ খুঁজে পান। ''অ্যাবরিজিন'' বা ''অ্যাবো'' শব্দগুলো অত্যন্ত অবমাননাকর এবং ব্যবহার করা উচিত নয়। ''নেটিভ'' শব্দটি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও, ''ইন্ডিজেনাস'' শব্দটি ব্যবহার করাই উত্তম। [[টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জ|টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জের]] আদিবাসীরা নিজেদের “আদিবাসী” নয় বরং “টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার” হিসেবে পরিচয় দেন।
আদিবাসী অস্ট্রেলীয়দের সাথে আচরণের সময় কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত:
* অনেক আদিবাসীর কাছে অস্ট্রেলিয়া দিবস একটি “অবৈধ দখলের দিন”, তাই এই দিনে প্রতিবাদ হয়।
* কোনো মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করা বা ছবি না দেখানো ভালো। বিভিন্ন সম্প্রদায়ে নিয়ম আলাদা হলেও, অপমান এড়াতে এগুলো থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
* আদিবাসী ব্যক্তিদের ছবি তুলতে গেলে, বিশেষ করে [[আর্নহেম ল্যান্ড]] ও [[নর্দার্ন টেরিটরি]]-র মতো দূরবর্তী এলাকায়, অবশ্যই আগে অনুমতি নিতে হবে।
* উলুরু বা থ্রি সিস্টার্সের মতো পবিত্র আদিবাসী স্থানগুলোকে অসম্মান করবেন না-যেমন সেখানে চড়া, ভাঙচুর, লেখালেখি ইত্যাদি। এগুলো যে কতটা ক্ষতি করেছে পর্যটকরা, তার হিসেব মেলানো কঠিন।
* যদিও আইনের চোখে আদিবাসী ও অ-আদিবাসী সমান অধিকার পেয়েছে, বাস্তবে আদিবাসীরা প্রায়ই অন্যদের তুলনায় পুলিশি হয়রানির শিকার হন। এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এবং আজও নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে আদিবাসীদের পুলিশি নির্যাতন বা হেফাজতে মৃত্যুর খবর আসে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৪%-এরও কম হলেও, কারাবন্দি পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৩০% আদিবাসী। এই বিষয়গুলো সাধারণত '''এড়িয়ে যাওয়াই ভালো'''।
===এএনজ্যাক দিবস===
যদিও অস্ট্রেলীয়রা সাধারণত মজা করে কথা বলেন, ২৫ এপ্রিল পালিত এএনজ্যাক দিবস ব্যতিক্রম। এই দিনে সামরিক বাহিনীর প্রতি কোনো অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্য করলে তা অত্যন্ত আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং বিদেশিদেরকেও যুদ্ধস্মৃতিস্তম্ভে কেবল খেলা করেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বছরের বাকি সময়ে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সমালোচনা সহ্যযোগ্য হলেও, এই দিনে নয়।
===ধর্ম===
আধুনিক অস্ট্রেলীয় সমাজ তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ এবং নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষ সংখ্যালঘু। ২০২১ সালের আদমশুমারিতে মাত্র ৪৩% মানুষ নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, আর ৩৮% বলেছে তাদের কোনো ধর্ম নেই। ইসলাম, হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম ক্রমবর্ধমান, যা অভিবাসনের কারণে বাড়ছে।
অস্ট্রেলীয়রা সাধারণভাবে সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল। হিজাব, কিপ্পা বা ক্রুশের মতো ধর্মীয় প্রতীকধারী পোশাক সাধারণত অপমান বা হয়রানির শিকার হয় না, যদিও ইসলামবিদ্বেষ, ইহুদিবিদ্বেষ এবং অন্যান্য ধর্মীয় বৈষম্য কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়। সাধারণভাবে, ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয় না এবং ধর্ম প্রচার বা অন্যদের বিরক্ত করা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
বড় শহরগুলোতে হালাল খাদ্য পাওয়া সহজ। অনেক রেস্তোরাঁ হালাল খাবার সরবরাহ করে এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সার্টিফিকেটও থাকে। বড় সুপারমার্কেটেও হালাল পণ্যের জন্য আলাদা বিভাগ থাকে।
===ব্রিটিশ উত্তরাধিকার===
অস্ট্রেলিয়াকে কেবলমাত্র রৌদ্রোজ্জ্বল যুক্তরাজ্য বলা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সাথে তুলনা করাটা সব সময় আপত্তিকর নয়, তবে মানুষ পছন্দ করে যখন তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
==নিরাপত্তা==
===জরুরি পরিস্থিতি===
অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো টেলিফোন থেকে বিনামূল্যে ডায়াল করা যায় '''[tel:000 000]''' নাম্বারটি (যাকে ‘ট্রিপল জিরো’ বা ‘ট্রিপল ও’ বলা হয়)। এই নম্বরে ফোন করলে জরুরি অপারেটর আপনাকে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক, উপকূলরক্ষী বা অ্যাম্বুলেন্স সেবার সাথে সংযুক্ত করবে, নির্ভর করবে আপনি কোন সেবা চান তা জানানোর ওপর।
যদি পরিস্থিতি জরুরি না হয়, তাহলে ০০০ নম্বরে ফোন করবেন না। এর পরিবর্তে পুলিশ সহায়তা লাইনে ফোন করতে পারেন: [tel:131444 131 444]। এর মধ্যে শব্দ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ করাও অন্তর্ভুক্ত। বিষাক্ত দ্রব্য সংক্রান্ত পরামর্শ, যা সাপ, মাকড়সা ও পোকামাকড় কামড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা করে, পাওয়া যায় এই নম্বরে: [tel:131126 131 126]। নিকটবর্তী চিকিৎসা সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানার জন্য ফোন করুন [tel:1800022222 1800 022 222] (তাসমানিয়া ব্যতীত)।
বন্যা, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তার প্রয়োজন হলে প্রতিটি রাজ্যের স্টেট এমার্জেন্সি সার্ভিসের (Northern Territory বাদে) সাথে যোগাযোগ করুন [tel:132500 132 500] নম্বরে। আপনাকে স্থানীয় ইউনিটের সাথে যুক্ত করা হবে এবং সেখান থেকে সহায়তা সংগঠিত হবে। তবে জীবন হুমকির মুখে পড়লে অবশ্যই ০০০-তে ফোন করতে হবে।
সব মোবাইল ফোন থেকেই ০০০ ডায়াল করা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো এই নম্বরটিকে জরুরি নাম্বার হিসেবে চিনতে পারে এবং যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কল সম্পন্ন করতে পারে। তবে, যদি আপনার ফোনটি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আনা হয়ে থাকে, তাহলে ইউনিভার্সাল এমার্জেন্সি নাম্বার '''[tel:112 112]''' ব্যবহার করাই ভালো। ১১২ নম্বরে কল করলে এটি যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে, এমনকি ফোন রোমিং না করলেও বা সিম না থাকলেও কাজ করবে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ফোনেও কাজ করে। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ৩জি নেটওয়ার্ক থাকবে না, তাই ফোনে VoLTE কলিং এবং এমার্জেন্সি কল ওভার VoLTE সাপোর্ট থাকতে হবে (কিছু ফোন শুধু ৩জি বা ২জি ব্যবহার করে); একটি ফোন এই সেবার জন্য উপযোগী কি না তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন, কারণ ০০০ নম্বরে শুধু জরুরি অবস্থায়ই ফোন করা উচিত। তবে যদি ফোনটি অস্ট্রেলিয়ান সিম দিয়ে কাজ করে, তাহলে তা যথেষ্ট।
যাদের শ্রবণ বা বাক সমস্যা আছে এবং যারা TTY যন্ত্র ব্যবহার করেন, তারা ডায়াল করতে পারেন '''[tel:106 106]'''। যাদের ইন্টারনেট সংযোগ আছে, তারা [http://www.relayservice.com.au ইন্টারনেট রিলে সার্ভিসের ওয়েবসাইট] ব্যবহার করতে পারেন।
স্থায়ী ল্যান্ডলাইন ফোন থেকে কল করলে জরুরি পরিষেবা আপনাকে খুঁজে বের করতে কল ট্রেস করতে পারে। তবে মোবাইল ফোন থেকে করা কল, বিশেষ করে শহরের বাইরে, সঠিকভাবে ট্রেস করা কঠিন, তাই শান্তভাবে ও পরিষ্কারভাবে আপনার অবস্থান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি নম্বরের নম্বর বিন্যাসের কারণে প্রায় ৬০% কল ভুলবশত করা হয়।
আপনার সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানাতে না পারলে সম্ভবত কেউ আপনার ফোন কলে সাড়া দেবে না। যদি আপনি সহায়তা প্রয়োজন হলেও কথা বলতে না পারেন, আপনাকে একটি স্বয়ংক্রিয় মেনুতে পাঠানো হবে এবং আপনাকে '''৫৫''' চাপতে বলা হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে আপনি ভুল করে ফোন করেননি। এরপর আপনাকে পুলিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
১১২ ব্যতীত অন্য দেশের জরুরি নাম্বার (যেমন '৯১১', '১৭' বা '১০০') অস্ট্রেলিয়ায় '''কাজ করে না'''।
===গাড়ি চালানো===
{{seealso|অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো}}
বাস্তবতা মনে রাখুন। অস্ট্রেলিয়ার রাস্তায় পথচারী, চালক বা যাত্রী হিসেবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বা আহত হওয়ার সম্ভাবনা পর্যটকদের জন্য অন্য যেকোনো মৃত্যুর কারণের চেয়ে অনেক বেশি।
মদ্যপান বা মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো আইনত নিষিদ্ধ। অধিকাংশ রাজ্যে রক্তে অ্যালকোহলের নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাত্রা শূন্য থেকে ০.০৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এলোমেলোভাবে রক্ত ও শ্বাস পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ, তাই শহর ও গ্রামের মধ্যবর্তী দূরত্ব আপনি যেমন ভাবেন তার চেয়েও বেশি হতে পারে, বিশেষত যদি আপনি ইউরোপ, এশিয়া বা উত্তর আমেরিকার ফ্রি-ওয়ে বা মোটরওয়ে চালানোর অভ্যস্ত হন। বড় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের হলেও গ্রামীণ এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির মহাসড়কগুলোতে সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়। গতি সীমা রাজ্য, এলাকা ও সড়কভেদে পরিবর্তিত হয়। অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম না করে দৈনিক ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে ক্লান্তি ও স্ট্রেস এড়ানো যায়। কর্তৃপক্ষ প্রতি দুই ঘণ্টায় একবার বিরতি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ হাঁটার পরামর্শ দেয়। অনেক সময় এম, এ নম্বরযুক্ত রুট ও জাতীয় মহাসড়কে নির্ধারিত বিশ্রামস্থল থাকে, তবে কাঁচা রাস্তা, রাজ্য সড়ক, বি বা সি শ্রেণির মহাসড়কে এ ধরনের সুযোগ খুব কম।
শহর বা গ্রামের মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় বন্যপ্রাণীর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় গাড়ির আলো বা শব্দে ভয় পেয়ে ক্যাঙারুরা আচমকা গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সড়কের পাশে গাছপালা বা ঝোপঝাড় থাকলে, আর ভোর বা গোধূলির সময় (যখন বন্যপ্রাণী সবচেয়ে সক্রিয়) গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। যদিও শহুরে এলাকায় বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি নেই বললেই চলে, ক্যানবেরায় পার্কগুলোর কারণে প্রায়ই ক্যাঙারু রাস্তা পার হয়।
শহরের মানুষ সাধারণত ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তায় দৌড়ে যায়, লাল বাতি আসার আগেই রাস্তা পার হয় বা গাড়ির গতি বুঝে দৌড়ে চলে যায়। যদিও অধিকাংশ চালক লাল বাতিতে থামে, হলুদ বাতি দেখে গাড়ি না থেমে চলে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। তাই ফুটপাথ থেকে রাস্তায় নামার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে গাড়িগুলো পুরোপুরি থেমেছে। যারা ডান পাশে গাড়ি চালানোর অভ্যস্ত, তাদের জন্য সঠিক দিকে তাকানো শিখতে একটু সময় লাগতে পারে।
===সমুদ্রসৈকত===
[[File:Lifeguard, Sydney, Australia.jpg|thumb|[[সিডনি]]র বন্ডাই সৈকতে এক লাইফগার্ড]]
প্রতি বছর প্রায় ১০–২০ জন বিদেশি পর্যটক অস্ট্রেলিয়ায় ডুবে মারা যান। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই সমুদ্রসৈকতে ঘটে এবং পরিসংখ্যান বলছে, পর্যটকদের জন্য এই ঝুঁকি স্থানীয়দের তুলনায় অনেক বেশি। বিস্তারিত জানতে দেখুন [http://www.beachsafe.org.au বিচ নিরাপত্তা ওয়েবসাইট]।
সৈকতে গেলে অবশ্যই '''লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে''' সাঁতার কাটুন। এগুলোই চিহ্নিত করে যে এলাকা পেট্রল করা হচ্ছে। সব সৈকত সার্বক্ষণিকভাবে পেট্রল করা হয় না, এমনকি প্রতিদিনের সব সময়েও না। অনেক সময় শুধুমাত্র সপ্তাহান্তে বা গ্রীষ্মে পেট্রল থাকে, তাও নির্দিষ্ট সময়ে। পতাকা না থাকলে ধরে নিন, সেখানে কেউ নজরদারি করছে না। গ্রামীণ এলাকার অনেক সৈকতেই কোনো নজরদারি নেই। যদি আপনি সাঁতার কাটেন, তাহলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকুন, পানির অবস্থা যাচাই করুন, নিজের সাঁতারের সীমা বুঝুন, এবং কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।
অনেক সৈকতে হঠাৎ গভীরতা বেড়ে যায়, যা অপ্রস্তুত সাঁতারুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদি সন্দেহ হয়, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন।
'''হার্ড সার্ফবোর্ড, সার্ফ স্কি, কায়াক ইত্যাদি লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে ব্যবহার করা যায় না।''' এগুলো কেবল নীল ‘সার্ফক্রাফট পারমিটেড’ পতাকার বাইরে ব্যবহার করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী রিপ কারেন্ট থাকে, যেগুলো সবচেয়ে দক্ষ সাঁতারুদেরও টেনে নিয়ে যেতে পারে। এই রিপ হলো এমন একপ্রকার পানির ধারা যা সৈকতের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে যায় এবং প্রায় চোখে দেখা যায় না। অনেক স্থানীয় মানুষ এগুলো চিনতে পারেন। যদি আপনি সন্দিহান হন, কাউকে জিজ্ঞাসা করুন। এই ধারাগুলো শান্ত পানির মতো দেখায় বলে অনেকেই ভুল করে সেখানেই সাঁতার কাটেন, তারপর ফিরে আসতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ডুবে যান।
রিপ চেনার লক্ষণগুলো হলো: আশপাশের তুলনায় ঢেউ কম থাকা; ফেনা যা ব্রেক জোনের বাইরে গিয়ে পড়ে; বাদামি-বালির রঙের পানি; দুই পাশে ঢেউ ভাঙা হলেও মাঝখানে না ভাঙা।
যদি আপনি কোনো পেট্রল করা সৈকতে রিপে আটকে যান, শক্তি সংরক্ষণ করুন, ভাসুন বা পানির উপর ভেসে থাকুন এবং একটি হাত তুলে সাহায্যের সংকেত দিন। লাইফসেভাররা আপনাকে উদ্ধারে আসবে। ক্লান্ত হয়ে পড়ার আগেই সাহায্য চান। স্থানীয় সাঁতারু বা সার্ফাররাও দ্রুত আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যদিও পতাকা সাধারণত রিপ মুক্ত এলাকায় বসানো হয়, তবে কখনো কখনো সেগুলোর কাছেও রিপ চলে আসতে পারে।
যদি আপনি কোনো অপেট্রল সৈকতে রিপে পড়েন, শান্ত থাকুন এবং তির্যকভাবে (সৈকতের সমান্তরালে) সাঁতার কাটুন, স্রোতের বিরুদ্ধে নয়। অধিকাংশ রিপ কয়েক মিটার চওড়া হয়, তাই স্রোত থেকে বেরিয়ে গেলে আপনি তীরে ফিরে আসতে পারবেন। '''কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।''' মনে রাখবেন, সঠিক কৌশল সব পরিস্থিতিতে আপনাকে বাঁচাবে না। সৈকতের পেছনে ভেঙে পড়া ঢেউয়ের মধ্যে ভেসে থাকা কঠিন, কয়েক সেকেন্ড পরপরই ঢেউ আছড়ে পড়ে। একবার রিপে পড়লে আপনি চোখের পলকে ৫০ মিটার সমুদ্রের গভীরে চলে যেতে পারেন। অপেট্রল সৈকতে থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন এবং কখনো নিজের সাঁতারের গভীরতা অতিক্রম করবেন না।
সৈকতের সংকেতচিহ্নগুলোতে প্রায়ই একটি সংখ্যা বা আলফানিউমেরিক কোড থাকে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা সংস্থাকে জানালে তারা দ্রুত আপনাকে খুঁজে পাবে।
[[#Crocodiles|কুমির]] ও [[#Jellyfish|বক্স জেলিফিশ]] নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট অঞ্চলে দেখা যায়। অনেক অস্ট্রেলীয় সৈকতেই হাঙর থাকে। নিচের বিপজ্জনক প্রাণী বিভাগে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। পেট্রল করা সৈকতগুলোতে হাঙরের গতিবিধি নজরদারি করা হয়। যদি সৈকতে একটি ধারাবাহিক সাইরেন বাজে এবং লাল ও লাল-সাদা চতুর্থাংশ পতাকা দেখানো হয়, তাহলে ধরে নিন, হাঙর দেখা গেছে। দ্রুত তীরে ফিরে আসুন। পরিস্থিতি শান্ত হলে একটি সংক্ষিপ্ত সাইরেন বাজানো হবে, যা সাধারণত নিরাপদে পানিতে ফেরার সংকেত।
===প্রাকৃতিক দুর্যোগ===
অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে।
====[[ঘূর্ণিঝড়]]====
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ঘটে, এবং এই সময়ে ভ্রমণ করলে ঘূর্ণিঝড় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তার তীব্রতা এবং আপনার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। দুর্বল ঘূর্ণিঝড়ে কেবল বৃষ্টিপাত ও বাতাসে কয়েকদিন হোটেলে থাকতে হতে পারে, আবার প্রবল ঘূর্ণিঝড় জীবনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, আপনাকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারে এবং আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এমনকি দুর্বল ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপও দূরবর্তী এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দিতে পারে, যা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
গড়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি শহরে প্রতি ৩০ বছরে একবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জনসংখ্যা কম হওয়ায় অনেক ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলেও কোনো বড় শহরে এর প্রভাব পড়ে না।
তবুও, যদি আপনি ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে [http://www.bom.gov.au/cyclone/index.shtml অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোর ঘূর্ণিঝড় তথ্য পৃষ্ঠা] দেখে নিন এবং ভ্রমণের সময় নিয়মিতভাবে সেখানে নজর রাখুন যাতে আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়।
====বন্যা====
উত্তরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ‘‘বর্ষাকাল’’ হয়, যখন প্রবল বর্ষণ ও নিয়মিত বন্যা দেখা দেয়। অনেক সময় উপকূলবর্তী কিছু এলাকা এক–দুদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না পানি নেমে যায়। তবুও জনবহুল ও পর্যটক–কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে এ সময় ভ্রমণ করা খারাপ নয়। অস্বাভাবিকভাবে বড় বন্যা না হলে দর্শনার্থীরা ঝর্ণাধারা ও অন্যান্য আকর্ষণ উপভোগ করতে পারেন, যা ভ্রমণকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
অস্ট্রেলিয়ার আউটব্যাক ও অন্তর্দেশীয় অঞ্চলে বন্যা খুবই বিরল, কয়েক দশক পরপর ঘটে। তাই সেখানে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হবে। যদি অন্তর্দেশীয় বা আউটব্যাক এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে এবং অঞ্চলটি বন্যাগ্রস্ত হয়, তবে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ভূমি সমতল হওয়ায় পানি নেমে যেতে সপ্তাহ লেগে যায়, জমি কাদাময় হয়ে থাকে। চারপাশে জমা পানি থাকায় পোকামাকড় ও মশা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরা কীটনাশককেও সহজে সহ্য করে। সড়ক বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যাত্রার সময় অনেক বাড়ে। অনেক আকর্ষণীয় স্থান মূল সড়ক থেকে অল্প দূরের কাঁচা রাস্তায় অবস্থিত, যা অচল হয়ে পড়ে যদিও মূল সড়ক খোলা থাকে। কয়েক সপ্তাহ পর ফিরে গেলে দেখা যাবে ভূমি তখনও সবুজ, হ্রদ–নদী প্রবাহমান এবং পাখিজীবন সক্রিয়।
দেশের দক্ষিণ অংশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সাধারণত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের শীতকালে। তবে সাধারণত একবারে এত বৃষ্টি হয় না যে বন্যা সৃষ্টি করবে। রাজধানী শহরগুলোতে বন্যার তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না, প্রায় কখনোই না।
====== আকস্মিক বন্যা ======
প্রায় প্রতি বছরই পূর্বাঞ্চলের বহু শহরে অন্তত একবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, সাধারণত গ্রীষ্মকালে। এটি বেশ ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতরেই থাকা উচিত এবং এসইএস (এসইএস) ও এবিসি (এবিসি) স্থানীয় রেডিওর পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। কখনোই বন্যার পানিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। প্রতিবছর বহু গাড়ি ধ্বংস হয় কারণ চালকেরা পানির গভীরতা বা স্রোতের তীব্রতাকে হেলাফেলা করেন। শেষ পর্যন্ত যেন আপনাকে সেতুর নিচে ভেসে পুলিশি উদ্ধার অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।
আকস্মিক বন্যার সময় প্রায়ই বড় বড় শিলাবৃষ্টি হয়, যা গাড়ি নষ্ট করতে পারে। তাই গাড়ি আচ্ছাদিত স্থানে (তবে ভূগর্ভস্থ নয়) পার্ক করুন।
এটি সাধারণত পূর্বাভাসযোগ্য হয়। স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে ঝড়ের আশঙ্কার কথা শোনা যাবে এবং [http://www.bom.gov.au/ bom.gov.au] তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতা প্রকাশ করবে।
==== পানির যোগান ====
অস্ট্রেলিয়া একটি অত্যন্ত শুষ্ক দেশ; বিশাল মরুভূমি অঞ্চল রয়েছে এবং আবহাওয়া খুব গরম হতে পারে।
যখন জনবসতি থেকে দূরে, পাকা রাস্তা ছেড়ে ভ্রমণ করবেন, তখন আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে-যেখানে হয়তো টানা এক সপ্তাহও অন্য কোনো গাড়ি দেখা যাবে না। তাই সঙ্গে নিজের পানির যোগান রাখা অত্যন্ত জরুরি (প্রতিদিন প্রতিজনের জন্য ৪ গ্যালন বা ৭ লিটার)। মানচিত্রে 'কূপ', 'ঝরনা' বা 'ট্যাংক' লেখা দেখে ভুলবেন না-এগুলো প্রায় সবই শুকিয়ে গেছে, আর ভেতরের অনেক হ্রদই আসলে শুকনো লবণাক্ত ভূমি।
বেশিরভাগ শহর ও নগরে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যেমন গাড়ি ধোয়া, বাগানে পানি দেওয়া বা সরকারি গোসলখানা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকে। হোটেল বা আবাসিক স্থানে প্রায়ই অতিথিদের গোসল ছোট করতে অনুরোধ করা হয়।
বহু আঞ্চলিক শহরের সরকারি বাথরুমে পানীয়-অযোগ্য পানি থাকে। “Do not drink” বা “Non-potable” লেখা ট্যাপ থেকে কখনোই পানি খাবেন না-এসব সাধারণত অপরিশোধিত ভূগর্ভস্থ পানি।
==== [[ভূমিকম্প]] ====
অস্ট্রেলিয়া কোনো প্লেট সীমান্তে অবস্থিত নয়, তবে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হয়। এগুলো সাধারণত ছোট মাত্রার হয় এবং বড় ধরনের ক্ষতি বা প্রাণহানি প্রায় ঘটে না।
===দাবানল===
'''[[দাবানল]]''' (বুশফায়ার) অস্ট্রেলিয়ার অনেক অঞ্চলে ঋতুভিত্তিক বিপদের মধ্যে একটি। বিশেষ করে যদি আপনি বুশল্যান্ড বা গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণে যান, তবে আগে থেকেই অগ্নি-ঝুঁকির মাত্রা এবং কোনো আগুন সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে খুব বিপজ্জনক দিনে বুশফায়ার প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে-বিশেষত যদি আপনি খোলা আকাশের নিচে থাকেন বা মজবুত কোনো ভবনের সুরক্ষা না থাকে।
যদি দাবানলের মধ্যে আটকা পড়েন, বেশিরভাগ আগুন দ্রুত পাশ কাটিয়ে যাবে। আপনাকে এমন আশ্রয় খুঁজতে হবে যা ধোঁয়া এবং তীব্র তাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে। সবচেয়ে ভালো হলো ঘরবাড়ি, তারপর গাড়ি, তারপরে খোলা জায়গা, গুহা বা সৈকত। যতটা সম্ভব সবকিছু ভিজিয়ে ফেলুন। নিচু হয়ে থাকুন এবং মুখ ঢেকে রাখুন। আগুন না-ধরতে পারে এমন কাপড় (যেমন উলের জামাকাপড় বা কম্বল) দিয়ে শরীর ঢেকে রাখুন এবং তাপের সামনে খোলা ত্বক কমিয়ে আনুন। যদি কলের পানি থাকে, আগে থেকেই সংগ্রহ করুন; আগুন কাছে এলে পানির চাপ নাও থাকতে পারে।
ডানপাশে দেখানো আগুনের ঝুঁকি সূচকটি (Fire Danger Rating) জানায়, আগুন লাগলে সেটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। '''এটি আগুন লাগার সম্ভাবনা কতটা তা বলে না।'''[[File:WA fire danger sign Wyalkatchem.jpg|thumb|অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অগ্নি-ঝুঁকির চিহ্ন স্থাপন করা আছে]]
* **Severe (গুরুতর):** গরম, শুষ্ক এবং বাতাস প্রবাহিত আবহাওয়া। এ সময় আগুন শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কেবল প্রস্তুত ভবন ও সক্রিয় প্রতিরক্ষাই নিরাপত্তা দিতে পারে। আগুনের প্রথম ইঙ্গিতেই এলাকা ছেড়ে দিন।
* **Extreme (চরম):** গরম, শুষ্ক ও প্রবল বাতাসের সময় যে আগুন শুরু হয় তা নিয়ন্ত্রণহীন, অনিশ্চিত ও দ্রুতগামী হয়। কেবল বিশেষভাবে নির্মিত ও সক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষিত ঘরবাড়ি কিছুটা নিরাপদ হতে পারে। বনভূমি, ঘন ঝোপঝাড় বা শুকনো ঘাস এড়িয়ে চলুন। নিরাপত্তার জন্য এসব এলাকা ছেড়ে যাওয়াই শ্রেয়।
* **Catastrophic/Code red (বিপর্যয়কর/কোড রেড):** দাবানল বা ঘাসের আগুনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। বনাঞ্চল বা ঘন বুশ থেকে দূরে থাকুন। এ সময় এলাকাগুলো ছেড়ে যাওয়াই অত্যন্ত পরামর্শযোগ্য। উল্লেখযোগ্য যে, অনেক স্থানীয় মানুষ বছরের এই কয়েকটি "বিপর্যয়কর" দিনে নিজেদের আউটব্যাকের বাড়িঘর ছেড়ে বড় শহরে আশ্রয় নেন।
==== জাতীয় উদ্যান ও রাজ্য বন ====
অগ্নি-ঝুঁকি চরম বা তার বেশি হলে জাতীয় উদ্যানগুলো বিশেষত ব্যাককান্ট্রি এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই গ্রীষ্মে ক্যাম্পিং বা হাইকিং পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প পরিকল্পনা জরুরি। কোনো উদ্যানে আগুন লাগলে সাধারণত পুরো উদ্যানই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যদি এমন সময় উদ্যানে থাকেন, সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো আগের রাতেই বা সকালে এলাকা ছেড়ে যাওয়া। আগুনের খবর শুনলে বা ধোঁয়া দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
==== সক্রিয় অগ্নিকাণ্ড চলাকালে বা অগ্নি মৌসুমে ভ্রমণ ====
শহরের বাইরে অগ্নি মৌসুমে গাড়ি চালালে [https://www.abc.net.au/local/ স্থানীয় এবিসি রেডিও]তে টিউন করুন। বুশফায়ার বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর সতর্কতাসংকেত বাজে এবং তারপর আপডেট দেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে সরাসরি সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তাও আসতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় জরুরি ও অগ্নি ব্যবস্থাপনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তাই যে রাজ্যে আছেন তার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করুন। যেমন [https://www.emergency.wa.gov.au/ ইমার্জেন্সি ডব্লিউএ] এবং [https://emergency.vic.gov.au/ ভিকইমার্জেন্সি] সাইটে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি তালিকাভুক্ত থাকে।
'''এক পর্যায়ে হয়তো আপনার পক্ষে আর এলাকা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।'''
অগ্নি মৌসুমে আপনার পরিকল্পনায় দুটি পালানোর পথ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শপিং সেন্টার বা জনবহুল শহরের মূল সড়কগুলো চরম বা কোড রেড দিনের জন্য নিরাপদ, যতক্ষণ না রেডিওতে অন্য কিছু ঘোষণা হয়।
কখনো কখনো পুরো শহর সরিয়ে নেওয়া হয়। তখন আগুন দেখা না গেলেও আগেভাগেই চলে যাওয়া উচিত। কারণ আগুনের ভেতর দিয়ে সরতে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। সেরা উপদেশ হলো, চলে যান এবং আগুন দেখার জন্য থেকে যাবেন না।
==== আগুন জ্বালানো ====
যে আগুন জ্বালাচ্ছেন তা বৈধ এবং নিয়ন্ত্রণে আছে কি না নিশ্চিত করুন। অগ্নি সেবাদানকারী সংস্থা '''সম্পূর্ণ অগ্নি-নিষেধাজ্ঞা''' (Total Fire Ban) জারি করে যখন অগ্নি ঝুঁকি চরম হয়। তখন বাইরে কোনো আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অধিকাংশ উদ্যানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়, এবং স্থানীয় ঝুঁকি মাত্রা জেনে নেওয়া আপনার দায়িত্ব। জাতীয় উদ্যানে এসব দিনে বনরক্ষী বা পুলিশ টহল দেয় যাতে কেউ খোলা আগুন না জ্বালায়। নিয়ন্ত্রণহীন আগুন লাগালে জরিমানা বা এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে।
===বিষাক্ত ও বিপজ্জনক প্রাণী===
{{see also|পোকার উপদ্রব}}
অস্ট্রেলিয়ায় পৃথিবীর অনেক মারাত্মক কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস রয়েছে। তবে ভ্রমণকারীরা শহুরে পরিবেশে এদের প্রায় দেখেন না, এমনকি বুশ এলাকাতেও এরা সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলে। অস্ট্রেলিয়ায় কামড় ও হুলের কারণে যে মৃত্যুগুলো ঘটে, তার বিশাল অংশই মৌমাছি ও বোলতার হুলে অ্যালার্জি থেকে হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচলিত আছে, যা প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ানরা রসিকতার ছলে বলেন। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জেলিফিশ ও কুমির সম্পর্কে সতর্কবার্তাগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, এবং জাতীয় উদ্যান ও বুশল্যান্ডে সাপ থেকে দূরে থাকতে হবে।
যদি গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণ করেন, তবে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ থাকে। একই সঙ্গে সাপ বা মাকড়সার কামড়ের পর কী করতে হবে তা আগে থেকেই শিখে নেওয়া ভালো।
====সাপ====
অস্ট্রেলিয়ার শহুরে এলাকায় সাপের দেখা পাওয়া খুব একটা সাধারণ নয়। তবে ঘাসভূমি, জাতীয় উদ্যান এবং অন্যান্য বুশল্যান্ডে এগুলো বেশ স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়। সাধারণত সাপ মানুষকে এড়িয়ে দূরে সরে যেতে চায়। তাই হাঁটার সময় যদি সামনে সাপ দেখতে পান, তবে সেটির চারপাশ ঘুরে যান বা অন্য দিকে চলে যান। ঘন ঝোপঝাড় বা ঘাসে অন্ধভাবে ঢোকা উচিত নয়, কারণ সাপ সেখানে লুকিয়ে থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাপ মানুষকে ভয় পায় এবং আপনি দেখার আগেই সাপ পালিয়ে যায়।
'''কোনোভাবেই''' কোনো সাপ ধরতে চেষ্টা করবেন না, এমনকি সেটি বিষহীন বলে বিশ্বাস করলেও নয়। সাপের কামড়ে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই সাপ ধরতে বা মারতে গিয়েছিল, অথবা হাঁটার সময় অসাবধানতায় পায়ে দিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় কিছু মারাত্মক বিষধর সাপ রয়েছে। তাই সব সাপকেই সম্মানজনক দূরত্বে রাখুন এবং কোনো সাপ কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসা নিন। দুর্গম স্থানে গেলে সাপের কামড়ের জন্য উপযোগী ফার্স্ট-এইড কিট সঙ্গে রাখুন। যদি কামড় খান, তবে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থানের চারপাশ শক্ত করে বেঁধে দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সহায়তা নিন। ক্ষত পরিষ্কার করবেন না, কারণ বিষের নমুনা পরীক্ষা করে কোন অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে হবে তা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিচ্ছিন্ন স্থানে থাকেন, তবে অন্য কাউকে সাহায্য চাইতে পাঠান। কিছু সাপের (বিশেষ করে টাইপান) বিষ ১৫ মিনিটের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারে। তবে ক্ষত অবশ করে রাখলে এবং বিশ্রাম নিলে বিষ ছড়িয়ে পড়া কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ হাসপাতালেই বহুমুখী অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়, যাতে সব বিপজ্জনক অস্ট্রেলীয় সাপের প্রতিষেধক অন্তর্ভুক্ত থাকে।
====মাকড়সা====
[[File:Atrax robustus.jpg|thumb|সিডনির ফানেল-ওয়েব মাকড়সা সতর্ক ভঙ্গিতে]]
অস্ট্রেলিয়া মাকড়সার জন্য বিখ্যাত হলেও, মাকড়সায় মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল। অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সা দেখা সাধারণ ব্যাপার এবং বেশিরভাগ মাকড়সাই ক্ষতি করে না। বাগান করার সময় বা শুকনো পাতা ধরার সময় গ্লাভস পরা উচিত। বাইরে রাখা কাপড়, জুতা ইত্যাদি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝেড়ে নেওয়া দরকার। পাথরের নিচে বা গাছের ফোকরে আঙুল দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে মাকড়সা লুকিয়ে থাকতে পারে। কিছু মাকড়সা ঘরেও পাওয়া যায়, যেমন বড় আকারের লোমশ হান্টসম্যান মাকড়সা, যেগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয়, বরং আরশোলা জাতীয় কীটপতঙ্গ কমায়। বাগানের অরব উইভিং মাকড়সাদের বড় বড় জাল ঝামেলার হলেও বিপজ্জনক নয়।
তবে কিছু মাকড়সা খুবই বিপজ্জনক। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত মাকড়সা হলো '''সিডনি ফানেল-ওয়েব মাকড়সা''', যা মূলত সিডনি ও নিউ সাউথ ওয়েলসের পূর্বাঞ্চলে পাথর ও শুকনো পাতার নিচে পাওয়া যায়। এদের আকার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং সাধারণত কালো রঙের। ফানেল-ওয়েব অঞ্চলে যদি মাকড়সার কামড় লাগে, দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। এরা বেশিরভাগ সময় ভূগর্ভে থাকে (আর্দ্র গর্তের বাইরে আধ ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না), তাই খোলা জায়গায় এদের দেখা পাওয়া বিরল। সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে।
'''রেড-ব্যাক মাকড়সা''' (পেটের ওপর লাল দাগ দিয়ে সহজেই চেনা যায়) অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ। এর কামড়ে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যদিও ফানেল-ওয়েবের মতো জরুরি নয়। রেড-ব্যাক সাধারণত অন্ধকার কোণে লুকিয়ে থাকে এবং ঘরের ভেতরে সচরাচর দেখা যায় না। তবে বাইরে শেড, টেবিল-চেয়ারের নিচে বা পাথরের তলায় এরা লুকাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সার কামড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। সব সময় ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে যে মাকড়সা কামড়েছে তাকে চিনে রাখা ভালো-ছবি তুলে রাখা বা ধরে রাখা যেতে পারে যাতে দ্রুত অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া যায়। তবে আবার কামড় খাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
====জেলিফিশ====
উত্তর [[কুইন্সল্যান্ড]], [[নর্দার্ন টেরিটরি]] বা উত্তর [[ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া]] ভ্রমণকারীদের অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় '''বক্স জেলিফিশের''' প্রাণঘাতী হুলের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। এরা পানিতে ধরা পড়া কঠিন এবং অগভীর পানিতেও থাকে। এদের হুলের ব্যথা প্রচণ্ড কষ্টকর এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভিনেগার লাগালে বিষক্রিয়া কিছুটা কমে, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকির সময় ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত এরা তীরের কাছেই থাকে, তবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে সচরাচর পাওয়া যায় না এবং অনেকে সেখানকার পানিতে সাবধানতা ছাড়াই সাঁতার কাটে। স্থানীয় বিশ্বস্ত তথ্য নেওয়া জরুরি।
'''ইরুকান্দজি''' হলো আরেক ধরনের ক্ষুদ্র (নখের সমান আকারের) জেলিফিশ, যা উত্তর অস্ট্রেলিয়ার পানিতে এবং আশেপাশের ইন্দো-প্যাসিফিক দ্বীপে পাওয়া যায়। এরা চোখে দেখা কঠিন এবং কামড় বিপজ্জনক হলেও খুব বিরল। বক্স জেলিফিশের মতো এরা রিফ অঞ্চলে থাকে। প্রথম কামড় টের নাও পাওয়া যেতে পারে। এরা প্রাণঘাতী কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে হাসপাতালে ভর্তি এবং কয়েকদিন প্রচণ্ড যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে। পানির বাইরে আসার পর যদি বমিভাব বা তীব্র ব্যথা হয়, চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
জেলিফিশ প্রতিরোধী "স্টিঙ্গার-স্যুট" কিনতে প্রায় ১০০ ডলার লাগে বা সপ্তাহে ২০ ডলারে ভাড়া নেওয়া যায়।
====নীল-চক্র অক্টোপাস====
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের পাথুরে জোয়ারভাটা পুকুরে ছোট নীল-চক্র অক্টোপাস পাওয়া যায়। সাধারণত বালুমাখা বেইজ রঙের হলেও হুমকির মুখে এদের গায়ে উজ্জ্বল নীল বৃত্ত দেখা যায়। এরা বিরল ও ভীরু। পাথরের নিচে বা জোয়ারভাটা পুকুরে হাত না দেওয়াই ভালো, কারণ সেখানেই এরা লুকিয়ে থাকে। এদের বিষ খুবই শক্তিশালী এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে মৃত্যু ঘটাতে পারে যদি কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস না দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় নীল-চক্র অক্টোপাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।
====কুমির====
[[File:Crocodylus porosus - Daintree River.jpg|thumb|লোনা পানির কুমির]]
উত্তর কুইন্সল্যান্ড, নর্দার্ন টেরিটরি ও উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় '''লোনা পানির কুমিরের''' প্রাণঘাতী আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিং সাউন্ড থেকে কুইন্সল্যান্ডের রকহ্যাম্পটন পর্যন্ত এরা সমুদ্র, নদীর মোহনা ও মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এরা প্রায় ২৫ ফুট লম্বা হয় এবং হঠাৎ আক্রমণ করতে পারে। নামের সাথে "লোনা পানি" থাকলেও এরা মিঠা পানিতেও থাকে। স্থলে এরা সাধারণত স্থির থাকে, তবে হঠাৎ দ্রুতগতিতে নড়তে পারে। আক্রমণের বেশিরভাগই প্রাণঘাতী। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকে। নিরাপদ না বলা পর্যন্ত এসব অঞ্চলে সাঁতার কাটা উচিত নয়। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে একটি কুমির-আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
'''মিঠা পানির কুমির''' তুলনামূলক ভীতু এবং মানুষ এড়িয়ে চলে। তবে হঠাৎ ভয় পেলে বা ডিম রক্ষার সময় আক্রমণ করতে পারে। এদের কামড়ে আঘাত লাগে, তবে ছোট চোয়াল ও দাঁতের কারণে সচরাচর প্রাণঘাতী হয় না।
====বিপজ্জনক উদ্ভিদ====
'''জিম্পি গাছ''' (''Dendrocnide moroides''), যাকে স্টিংগিং ট্রি নামেও ডাকা হয়, একটি দংশনকারী উদ্ভিদ। এর পাতায় ও ডালে থাকা অতি সূক্ষ্ম দংশনকারী লোম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রচণ্ড যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে। এই গাছ প্রধানত উত্তর-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে, বিশেষ করে রেইন ফরেস্ট বা বর্ষাবনের ফাঁকা জায়গায় পাওয়া যায়। তবে জিম্পি গাছ এবং এ ধরনের আরও প্রায় পাঁচটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত প্রজাতি দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ড এবং আরও দক্ষিণে পূর্ব অস্ট্রেলিয়াতেও দেখা যায়। এ ধরনের এলাকায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে হাঁটার সময় ভ্রমণকারীদের কড়াভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়, যেন কোনো কারণেই এই গাছে হাত না দেন।
===অপরাধ ও পুলিশ===
অস্ট্রেলিয়ায় [[অপরাধ]]ের হার অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। ভ্রমণকারীদের অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে চুরি, ব্যাগ কেড়ে নেওয়া বা পকেটমারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা উচিত। কিছু শহরে রাতের বেলায় বিপজ্জনক এলাকা আছে, তবে সেগুলো সচরাচর পর্যটকদের যাওয়ার জায়গা নয়।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ সাধারণত সহজলভ্য ও বিশ্বস্ত। কোনো আক্রমণ, চুরি বা অপরাধ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো উচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় দুই ধরনের পুলিশ রয়েছে: রাজ্য/আঞ্চলিক পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। সাধারণত ভ্রমণকারীরা রাজ্য পুলিশের সাথেই যোগাযোগ করে। এএফপি মূলত সরকারি বিশেষ দায়িত্বে থাকে, তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে এএফপিই মূল পুলিশ বাহিনী হিসেবে কাজ করে, নাম ‘‘এসি-টি পুলিশিং’’।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে (যেমন কাস্টমস অফিসার) ঘুষ দেওয়া গুরুতর অপরাধ, এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।
গাড়ি রেখে গেলে অবশ্যই তালা দেওয়া, জানালা বন্ধ করা এবং গাড়ির ভেতরে মোবাইল, জিপিএস বা ব্যাগের মতো দৃশ্যমান কিছু না রাখা উচিত। চোরেরা প্রায়ই কাচ ভেঙে এসব নিয়ে যায়।
====প্রতারণা====
অস্ট্রেলিয়ায় [[প্রতারণা|প্রতারণামূলক]] কার্যকলাপ খুব বেশি দেখা যায় না। ভ্রমণকারীদের সাধারণ সাবধানতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে অপরাধীরা এটিএমে কারসাজি করে মুদ্রা আটকে রাখে বা কার্ডের তথ্য নেয়। এটিএম ব্যবহার করার পর ব্যাংক স্টেটমেন্টে সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে অবিলম্বে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। পিন নম্বর দেওয়ার সময় হাত দিয়ে ঢেকে রাখা প্রয়োজন, যাতে স্কিমিং ডিভাইস বা ক্যামেরা রেকর্ড করতে না পারে।
এটিএম স্কিমিং বিরল এবং সহজেই এড়ানো যায়-বিশ্বস্ত ব্যাংকের (এএনজেড, কমনওয়েলথ, ওয়েস্টপ্যাক, ন্যাব) এটিএম ব্যবহার করুন অথবা ব্যাংকের ভেতরের এটিএম ব্যবহার করুন, যেগুলো সাধারণত ২৪/৭ খোলা থাকে এবং বাইরে থেকে নিরাপদ।
এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিস (এটিও) কখনোই স্পটিফাই বা আইটিউনস গিফট কার্ড দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে বলে না। এই ধরনের প্রতারণা বিশেষত প্রবীণ ও অজ্ঞ মানুষদের লক্ষ্য করে করা হয়। কোলস, উলি, মায়ার, টার্গেট, বিগ ডব্লিউ, কেমার্ট ইত্যাদি দোকানে প্রায়শই ক্যাশ কাউন্টারে এ নিয়ে সতর্কবার্তা টাঙানো থাকে, যা পড়ে রাখা ভালো।
===বর্ণবৈষম্য===
[[File:Car with personalised plate celebrating being a Wog.jpg|thumb|ড্রাইভারের গাড়ির নম্বরপ্লেট তাকে "ওগ" বলার আমন্ত্রণ নয়]]
অস্ট্রেলিয়া বাইরে থেকে একটি বহুসংস্কৃতিমূলক এবং জাতিগতভাবে সহিষ্ণু সমাজ হিসেবে পরিচিত, এবং এখানে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও জাতিগত বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার আইন রয়েছে। তবুও, দেশটির ঔপনিবেশিক ইতিহাস পুরোপুরি অতিক্রম করা যায়নি, তাই বর্ণবৈষম্য একটি সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে। আদিবাসীদের জমি দখল, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, রাষ্ট্র-সমর্থিত বর্ণবাদ, এমনকি আদিবাসী শিশুদের জোরপূর্বক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা (যা "চুরি হওয়া প্রজন্ম" নামে পরিচিত) বিশ শতক পর্যন্ত চলেছে। ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ফলে সাদা-প্রাধান্যভিত্তিক অভিবাসননীতি বাতিল হয়েছে, আদিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর বড় বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
তবে সবাই এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট নয়, বিশেষ করে আদিবাসীরা এখনও ব্যাপক বর্ণবৈষম্যের মুখোমুখি হন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণকারীরা সাধারণত হঠাৎ করে জাতিগত গালাগালির শিকার হন না। যদি এমন কিছু ঘটে, তবে পুলিশকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহিংস ঘটনা আরও বিরল।
ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে জাতিগত পরিচয় নিয়ে কিছু শব্দ ব্যবহার করে, তবে দর্শনার্থীদের জন্য এগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি "পম" (ব্রিটিশ), "ইয়াঙ্ক" (আমেরিকান), "পাকি" (ভারতীয় উপমহাদেশীয়), "ওগ" (দক্ষিণ ইউরোপীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের লোক), এবং "কারি মান্চার" (দক্ষিণ ভারতীয়) শব্দ শুনতে পারেন। বিশেষত ব্রিটিশরা এই শব্দগুলোকে অপমানজনক মনে করে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় অনেক বেশি সহজভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে কখনোই আদিবাসীদের "আবো", "নেটিভ ট্রাইবস", "অ্যাবরিজিনস" বা "নুগাস" বলা যাবে না, এগুলো অত্যন্ত বর্ণবাদী শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় কিছু অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন ও অ্যান্টি-মাল্টিকালচারাল গোষ্ঠী আছে, যারা মূলত মুসলিম ও আফ্রিকান দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালায়। ভ্রমণকারীদের এদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে রাতে কোনো পাব-এ গিয়ে কারও জাতিগত মতামত খোঁচাতে চাইলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মেলবার্নের পশ্চিমাঞ্চলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তরুণদের সম্পৃক্ত কিছু অপরাধ ঘটেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এতে বর্ণবাদী মনোভাব আরও উসকে দিয়েছে।
"অজি" (ওজি) শব্দটি অস্ট্রেলিয়ানদের বর্ণনা করতে ব্যবহার করলে অপমানজনক নয়, তবে তারা সাধারণত নিজেদের ক্ষেত্রে শব্দটি ব্যবহার করেন না। বরং "অজি রুলস" জাতীয় খেলা বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে "অজি, অজি, অজি - ওই, ওই, ওই" ধ্বনি উঠলে কেউ কেউ এতে অস্বস্তি বোধ করেন, আবার কেউ যোগ দেন। এটি প্রায়শই তাদের সামাজিক অবস্থান বা মদ্যপ অবস্থার উপর নির্ভর করে।
সিডনি, মেলবার্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, গোল্ড কোস্ট, নিউক্যাসল, হোবার্ট বা ক্যানবেরার মতো বড় শহরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া বহুসংস্কৃতিমূলক মনে হলেও, গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত কম বৈচিত্র্যময় এবং তাদের অ্যাংলো-সেল্টিক ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকে। যারা বাইরে থেকে "অজি" বলে মনে হয় না, তাদের প্রায়ই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। তবে এটি সাধারণত অভিবাসীদের (বিশেষত ভিয়েতনামি, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত) বিরুদ্ধে হয়, পর্যটকদের বিরুদ্ধে নয়।
===তামাক===
অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত '''বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ ধূমপায়ীদের জন্য'''। এক প্যাকেট বৈধ সিগারেটের দাম ৫০ ডলারেরও বেশি। ভেপ পাওয়া গেলে তার দাম প্রায় ৬০ ডলার। কালোবাজারি ঢিলা তামাক "চপ-চপ" নামে পরিচিত, আর অবৈধভাবে আনা চীনা সিগারেটও দোকানে গোপনে বিক্রি হয়।
===অবৈধ মাদক===
অপিয়াম, হেরোইন, অ্যামফেটামিন (স্পিড), কোকেইন ("কোক"), এলএসডি এবং এক্সট্যাসি ("মলি") অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে রাখা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। মাদক পাচারে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হয়, আর গুরুতর ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া অন্যান্য দেশের সাথে মাদক পাচারের তথ্য শেয়ার করে, এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে এমন দেশগুলোর সাথেও।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গাঁজা ("মারিজুয়ানা"/"উইড"/"পট"/"গাঞ্জা") ব্যবহার ফেডারেল স্তরে বৈধ হলেও প্রেসক্রিপশন পাওয়া জটিল প্রক্রিয়া, যা পর্যটকদের জন্য কার্যত অসম্ভব। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (ক্যানবেরা) ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বৈধ করেছে, তবে বাণিজ্যিক বিক্রি অনুমোদিত নয়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরিতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের পরিমাণ রাখা অপরাধ নয়, তবে জরিমানা হয়। অন্যান্য সব রাজ্যে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং বিদেশিদের জন্যও শাস্তি সমান কঠোর। মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, এতে গ্রেফতার, মামলা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জেলও হতে পারে।
'''কোনো অবস্থাতেই অবৈধ মাদক অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না''', এমনকি গাঁজাও নয়। এর শাস্তি দীর্ঘমেয়াদী জেল, এমনকি যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রায়ই মাদক শনাক্তকারী কুকুর ব্যবহার করেন, যা যাত্রীদের লাগেজে মাদক শনাক্ত করে। এমনকি কেউ ভ্রমণের আগের দিন গাঁজা খেলেও তা শনাক্ত করতে পারে, ফলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে পড়তে হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার এশিয়ার নিকটে থাকার কারণে এখানে হেরোইন কোকেইনের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বড় শহরের কিছু এলাকায় ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুচ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে পর্যটন এলাকায় নয়, বরং অপ্রচলিত গলিতে।
===অস্ত্র===
অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র রাখার নিয়ম খুবই কঠোর। সাধারণত গ্রামীণ এলাকার শিকারি, কৃষক ও ক্রীড়া শুটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যে কোনো ধরনের অস্ত্র রাখার জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ। একক গুলি চালানো রাইফেল, শটগান বা পিস্তল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা সম্ভব হলেও প্রক্রিয়াটি জটিল। শহরের অপরাধী গ্যাংদের হাতে মাঝে মাঝে অবৈধ অস্ত্র থাকে, তবে ভ্রমণকারীরা সচরাচর এদের সম্মুখীন হয় না।
অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। ভ্রমণের আগে প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা পুলিশ পারমিট নিতে হয়।
===এলজিবিটি ভ্রমণকারী===
{{see also|এলজিবিটি ভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ায় বয়সসীমা সমানভাবে নির্ধারিত-সব রাজ্যে ১৬ বছর, তবে তাসমানিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ১৭ বছর। সমলিঙ্গ বিবাহ ২০১৭ সালে বৈধ হয়েছে, যখন ডাকযোগে হওয়া এক গণভোটে ৬১% মানুষ সমর্থন জানায়।
সমকামিতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। সিডনি বিশ্বের অন্যতম সমকামী-বান্ধব শহর হলেও কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরির মতো রক্ষণশীল গ্রামীণ এলাকায় সতর্ক থাকা ভালো। যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্য করা আইনত নিষিদ্ধ এবং ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশি সহায়তা সীমিত হতে পারে। ট্রান্সজেন্ডাররাও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গৃহীত।
সিডনি অস্ট্রেলিয়ার সমকামী সংস্কৃতির কেন্দ্র এবং প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্বের অন্যতম বড় সমকামী উৎসব [http://www.mardigras.org.au সিডনি গে অ্যান্ড লেসবিয়ান মার্ডি গ্রা] অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত-সহস্র মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করতে আসে। [[অ্যালিস স্প্রিংস]]-এ এপ্রিল-মে মাসে "অ্যালিস ইজ ওয়ান্ডারল্যান্ড ফেস্টিভাল" হয়। [[মেলবোর্ন]]-এ প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম রবিবার [https://www.midsumma.org.au মিডসামা ফেস্টিভাল] অনুষ্ঠিত হয়।
==সুস্থ থাকুন==
===ত্বক===
[[File:Sunbaker maxdupain nga76.54.jpg|thumbnail|১৯৩৭ সালের "সানবেকার" অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলোর একটি।]]
অস্ট্রেলিয়ার অক্ষাংশে সূর্যের আলোয় থাকলে প্রায়ই '''[[রোদে পোড়া]]''' (সানবার্ন) হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ানদের ত্বকের ক্যান্সারের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। রোদে পোড়া হলে জ্বর জ্বর লাগতে পারে, শরীর খারাপ হতে পারে এবং সেরে উঠতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, পোড়ার তীব্রতার উপর নির্ভর করে। এর মানে হলো রোদে পোড়া না সারানো পর্যন্ত আপনি বাইরে সূর্যের নিচে যেতে পারবেন না। তাই সমুদ্রসৈকতে ছুটির প্রথম দিনেই রোদে পোড়া হলে পুরো ভ্রমণের আনন্দ কমে যেতে পারে। গ্রীষ্মকালে অস্ট্রেলিয়ায় পরিষ্কার দিনে মাত্র ১৫ মিনিটে রোদে পোড়া হতে পারে-even ছায়ায় দাঁড়িয়েও। তাই সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৫০+), জামা-কাপড় এবং টুপি ব্যবহার করে সূর্যের আলো থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
সানস্ক্রিন প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পরপর আবার মাখুন, বিশেষ করে ঘামলে বা সাঁতার কাটলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের সব জায়গা ভালোভাবে ঢেকে দিন। দুপুরবেলার অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি) সকাল বা বিকেলের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী হতে পারে, তাই সবচেয়ে গরম সময়ে রোদ এড়ানোই ভালো। [http://www.bom.gov.au/australia/uv/index.shtml প্রতিদিনের ইউভি পূর্বাভাস] অনলাইনে আবহাওয়া দপ্তর থেকে দেওয়া হয়।
'''স্প্রে সানস্ক্রিন''' বোতল থেকে ছিটিয়ে দেওয়া সহজ হওয়ায় জনপ্রিয়, তবে এটি সাধারণ সানস্ক্রিনের তুলনায় অনেক কম কার্যকর।
আপনি যদি সমুদ্রসৈকতে যান, একটি সান-টেন্ট কেনার কথা ভাবতে পারেন (ডিসকাউন্ট বা হার্ডওয়্যার দোকানে ২০ ডলারেরও কমে পাওয়া যায়)। অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে সাধারণত ছাতা ভাড়া পাওয়া যায় না, আর এগুলো অনেকটাই খোলা জায়গায় থাকে।
===খাদ্য প্রস্তুতি===
অস্ট্রেলিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মান অনেক উঁচু। রেস্টুরেন্টগুলোকে কঠোর খাদ্য প্রস্তুতির মান বজায় রাখতে হয়। [[খাদ্যে বিষক্রিয়া]]র হার অন্যান্য উন্নত দেশের সমান।
===পানি===
শহরের '''[[কলের পানি]]''' সবসময় পান করার জন্য নিরাপদ। মাঝে মাঝে রিসাইকেল করা পানি ট্যাপ দেখতে পাবেন যা শুধু গাছে পানি দেওয়ার জন্য, এগুলো বেগুনি রঙের হয়। শহরে ও পর্যটনকেন্দ্রে পাবলিক পানির ফোয়ারা ও বোতল ভরার স্টেশন সাধারণত থাকে। পানির স্বাদ ও কঠোরতা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন হয়। যেমন [[অ্যাডিলেড]] শহরে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হয়, যার স্বাদ খারাপ হলেও পান করার জন্য নিরাপদ। অনেক পরিবার পানি পরিশোধক জগ ব্যবহার করে। বোতলজাত পানি সর্বত্র সহজলভ্য। গরম দিনে শহরে পানি বহন করা ভালো, আর হাইকিং বা শহরের বাইরে ভ্রমণে এটি একেবারেই প্রয়োজনীয়। দূরবর্তী আউটব্যাকে অনেক জায়গায় কলের পানি পরিশোধিত থাকে না। সেক্ষেত্রে সেদ্ধ করার বিকল্প হিসেবে পানি জীবাণুনাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণে বের হলে কতটুকু পানি নিতে হবে, ভেঙে পড়লে কীভাবে সামলাবেন-এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, প্রায় প্রতিবছরই কেউ না কেউ আউটব্যাকে তৃষ্ণায় মারা যায়। গাড়ি বিকল হলে গাড়ির কাছে থাকুন, কারণ এতে ছায়া পাওয়া যায় এবং আপনাকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
===টিকা===
অস্ট্রেলিয়ায় এমন কোনো সংক্রামক রোগ নেই যা বিশেষ টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে অন্যান্য অনেক দেশের মতো, যদি আপনি ভ্রমণের ৬ দিনের মধ্যে কোনো [[হলুদ জ্বর]] আক্রান্ত দেশ থেকে আসেন, তাহলে প্রবেশের সময় হলুদ জ্বরের টিকার প্রমাণ দেখাতে হবে।
===মশা===
অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সারা বছর মশা থাকে, আর দক্ষিণাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে। জানালা ও দরজায় জাল লাগানো থাকে এবং বাজারে প্রতিরোধক সহজেই পাওয়া যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলে মশার মাধ্যমে "রস রিভার ভাইরাস" ছড়ায়, যা কয়েক সপ্তাহ অসুস্থ রাখতে পারে। [[ডেঙ্গু জ্বর]]ও হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে, এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ায় ম্যালেরিয়া নেই।
===চিকিৎসা===
[[File:VH-FDE (16640399301).jpg|thumb|রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিসের বিমান]]
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা নম্বর হলো '''০০০'''। যেকোনো চিকিৎসা জরুরিতে এই নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা ডাকতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা মান উন্নত দেশের মতো। বিশেষ করে, এখানে রক্ত দেওয়া নিরাপদ, কারণ সব দাতার রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য রোগ পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ঘনত্ব কম; অনেক জায়গা চিকিৎসা সুবিধা থেকে অনেক দূরে। এসব জায়গায় '''[[রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস]]''' কাজ করে। ৫,০০০ বা তার বেশি জনসংখ্যার ছোট শহরে জরুরি চিকিৎসার জন্য ছোট হাসপাতাল থাকে। বড় শহরে রুটিন ও কিছু জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য বেস হাসপাতাল থাকে। জটিল চিকিৎসার জন্য অনেক সময় রাজধানী শহরে নেওয়া হয়।
রাজধানী শহরগুলোতে মেডিকেল সেন্টার থাকে, যেখানে সপ্তাহান্তে বা রাত অবধি চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে ছোট শহরে সময় নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হতে পারে। জরুরি না হলে হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
* {{listing
| name=বিষ সংক্রান্ত তথ্য হটলাইন
| phone=13 11 26 (শুধু অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে)
| content=ভুলবশত কোনো ওষুধ বা বিষ গ্রহণ করলে বিনামূল্যে পরামর্শ দেয়। এছাড়া মাকড়সার কামড়ের মতো বিষয়ে কী চিকিৎসা প্রয়োজন সেটিও বলে দেয়। তবে তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা হলে অবশ্যই '০০০' নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।
}}
==== চিকিৎসা খরচ ও ভ্রমণ বিমা ====
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা কর-অর্থায়িত '''মেডিকেয়ার''' ব্যবস্থার সুবিধা নেন। বিদেশি শ্রমিক বা শিক্ষার্থীদের (যদি পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে) সাধারণত ভিসার শর্ত অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা নিতে হয়। স্বল্প মেয়াদের বিদেশি ভ্রমণকারীদের ভ্রমণ বিমা থাকা জরুরি, কারণ চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে। '''মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স, বেসরকারি হাসপাতাল বা দাঁতের চিকিৎসা কাভার করে না''', এগুলোর জন্য আপনাকে বেসরকারি বিমা নিতে হবে।
[[বেলজিয়াম]], [[ফিনল্যান্ড]], [[আয়ারল্যান্ড]], [[ইতালি]], [[মাল্টা]], [[নেদারল্যান্ডস]], [[নিউজিল্যান্ড]], [[নরওয়ে]], [[স্লোভেনিয়া]], [[সুইডেন]] ও [[যুক্তরাজ্য]] থেকে আগত পর্যটকেরা '''বিনামূল্যে জরুরি মেডিকেয়ার চিকিৎসা''' পান। তবে শর্ত ভিন্ন হতে পারে। যেমন, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা কেবল হাসপাতালের চিকিৎসা বিনামূল্যে পান, অন্যরা ডাক্তার দেখানোর জন্যও ভর্তুকি পান। তবে বেসরকারি হাসপাতালে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না, সব খরচ নিজেকেই বহন করতে হয় বা ভ্রমণ বিমা দিয়ে দিতে হয়।
যদি আপনার দেশের সঙ্গে কোনো পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে, তাহলে ভ্রমণ বিমা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ চিকিৎসকের কাছে যেতে প্রায় ৮০ ডলার খরচ হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ আলাদা। হাসপাতালে ভর্তি না হলেও ৫০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, আর ভর্তি হলে ১,০০০ ডলারেরও বেশি লাগতে পারে। উদ্ধার ও রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস বিনামূল্যে হলেও, ছোট শহর থেকে রাজধানীতে বা দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করতে হাজার হাজার ডলার খরচ হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরাও অ্যাম্বুলেন্স ও এয়ার-অ্যাম্বুলেন্স বিনামূল্যে পান না। স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানিগুলো সাধারণত শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারও বিক্রি করে। তবে সেগুলো প্রায়ই শুধু নিজের রাজ্যে কার্যকর থাকে, তাই অন্য রাজ্যে ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হোন। দেশীয় ভ্রমণ বিমা সাধারণত চিকিৎসা বা অ্যাম্বুলেন্স ব্যয় কাভার করে না। জরুরিতে মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স খরচ (১,০০০ ডলার থেকে শুরু) দেয় না; শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারসহ বেসরকারি বিমাই এই ব্যয় বহন করবে।
সাপ ও মাকড়সার বিষের প্রতিষেধক অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার না হলেও এর খরচ ১০,০০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।
==সংযোগ==
===টেলিফোন===
====অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক কল====
আন্তর্জাতিক কলের প্রধান অ্যাক্সেস কোড বা প্রিফিক্স হলো '''০০১১'''। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ০০১১ প্রিফিক্সের পরিবর্তে প্লাস চিহ্ন "+" ব্যবহার করা যায়।
====ডায়ালিং কোড====
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক কল করার জন্য দেশের কোড হলো +৬১। বিদেশ থেকে কল করার সময় এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হবে। একই এরিয়া কোডের মধ্যে কল করলে এরিয়া কোড ব্যবহার করা ঐচ্ছিক।
[[নরফোক দ্বীপ]] ও অস্ট্রেলিয়ান-অ্যান্টার্কটিক ঘাঁটির জন্য +৬৭২ কোড ব্যবহার করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার কোড নয়। বিস্তারিত জানার জন্য নির্দিষ্ট নিবন্ধ দেখুন।
অস্ট্রেলিয়ার এরিয়া কোড তালিকা:
* ০২ = সেন্ট্রাল ইস্ট (নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি ও ভিক্টোরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ)
* ০৩ = সাউথ ইস্ট (দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া)
* ০৪ = সারা দেশে মোবাইল ফোন (কল চার্জ বেশি)
* ০৭ = নর্থ ইস্ট (কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসের কিছু অংশ)
* ০৮ = সেন্ট্রাল ও ওয়েস্ট (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি ও পশ্চিম নিউ সাউথ ওয়েলস)
লোকাল কল বিনামূল্যে।
* বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরে কল করতে চাইলে ফরম্যাট হবে +৬১ ৮৮০৮০৩৩০০ (শুরুতে "০" দেবেন না; প্রয়োজনে "+" এর পরিবর্তে আপনার দেশের আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স ব্যবহার করুন)।
* অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে আন্তর্জাতিক কল করতে চাইলে প্রথমে আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স (০০১১ বা "+") চাপুন, এরপর দেশের কোড, গন্তব্যের এরিয়া কোড, তারপর স্থানীয় নম্বর। বেশিরভাগ দেশে এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হয় (অস্ট্রেলিয়ার মতো)।
উদাহরণ: [[মোরি (নিউ সাউথ ওয়েলস)|মোরি]] ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের স্থানীয় নম্বর হলো {{nowrap|৬৭৫৭-৩৩৫০}}। মোরি যেহেতু সেন্ট্রাল ইস্ট অঞ্চলে পড়ে, তাই এরিয়া কোড হবে ০২। [[সিডনি]] বা একই এরিয়া কোড থেকে কল করলে শুধু {{nowrap|৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করলেই হবে। [[ব্রিসবেন]] বা অন্য কোনো ভিন্ন এরিয়া কোড অঞ্চল থেকে কল করলে {{nowrap|০২ ৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করতে হবে। আপনি আপনার এরিয়া কোড না জানলেও এরিয়া কোড লিখে দিলে কাজ করবে। বিদেশ থেকে কল করতে হলে {{nowrap|+৬১ ২ ৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করতে হবে।
====বিশেষ নম্বর====
* '''১৩''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো লোকাল কল রেটে চার্জ হয়, এবং আপনার অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন সেবা দেয়। এগুলো ৬ বা ১০ সংখ্যার হতে পারে। যেমন, ১৩০০ ৭৯৬ ২২২ নম্বরে কল করলে [[অলবারি]] ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনে সংযুক্ত হবেন, আপনি অস্ট্রেলিয়ার যেখানেই থাকুন না কেন। তবে ১৩১ ০০৮ নম্বরে কল করলে আপনার অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ট্যাক্সি সেবার সাথে সংযোগ দেবে। ১৩ ২২ ৩২ কল করলে নিউ সাউথ ওয়েলস রেলওয়ে (সিডনি) বা ভিক্টোরিয়া রেলওয়ের (মেলবোর্ন)- সাথে সংযোগ করবে। আন্তর্জাতিকভাবে এই নম্বরগুলোতে কল করা অনেক সময় সমস্যা তৈরি করে।
* '''১৮''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো পে-ফোন বা ল্যান্ডলাইনে বিনামূল্যে, এবং প্রায়ই হোটেল রিজার্ভেশন বা ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের জন্য ব্যবহার হয়।
* '''১৯''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো প্রিমিয়াম, এবং এদের কল চার্জ অত্যন্ত বেশি হতে পারে। কল করার আগে ভালোভাবে দেখে নিন।
* '''১২''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো ক্যারিয়ার সেবা, এবং আপনি কোন নেটওয়ার্কে আছেন তার ওপর নির্ভর করে। যেমন, '''১২ ৪৫৬''' হলো টেলস্ট্রার সাধারণ তথ্য সেবা। ভোডাফোন একই ধরনের সেবা দেয় '''১২৩''' নম্বরে। এগুলোও প্রিমিয়াম সেবা হতে পারে।
বিশেষ নম্বরগুলোতে আন্তর্জাতিক কল অনেক সময় কাজ করতে পারে-শুধু নম্বরের আগে +৬১ কোড যোগ করে চেষ্টা করুন। অনেক সময় আলাদা সরাসরি আন্তর্জাতিক নম্বরও দেওয়া থাকে।
রিভার্স চার্জ (কলেক্ট) কল করা খুব ব্যয়বহুল এবং সমস্যাজনক হতে পারে। টেলস্ট্রা পাবলিক ফোন থেকে ১২৫৫০ ব্যবহার করতে পারেন, অথবা যেকোনো ফোন থেকে ১৮০০ NO CASH ব্যবহার করতে পারেন। তবে যেই নম্বরে কল করছেন সেটি অবশ্যই চার্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হতে হবে (সাধারণত ল্যান্ডলাইন বা বড় টেলকোর মোবাইল)।
====মোবাইল ফোন====
{{anchor|Mobile Cellular Phones}}
অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক রয়েছে-[http://www.telstra.com.au টেলস্ট্রা], [http://www.optus.com.au অপটাস] এবং [http://www.vodafone.com.au ভোডাফোন]। প্রতিটি নেটওয়ার্কের আবার অনেক রিসেলার আছে। এরা সবাই এলটিই (৪জি) এবং ৫জি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে; ৩জি ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে এবং ২০২৪ সালের শেষে এটি আর চালু থাকবে না। সাধারণভাবে টেলস্ট্রা সবচেয়ে ভালো কাভারেজ দেয়, তবে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুলও। ভোডাফোন সাধারণত সস্তা, কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। জনশূন্য বা জনবসতি কম এমন এলাকা, বিশেষ করে প্রধান সড়কের বাইরে, অনেক সময় কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। আপনি যদি গভীর বুশ অঞ্চলে যান, তবে '''স্যাটেলাইট ফোন''' হয়তো একমাত্র সমাধান। মনে রাখবেন, সব ধরনের মোবাইল ফোন দিয়ে যেকোনো নেটওয়ার্কে জরুরি কল করা যায়-এমনকি স্থানীয় সিম না থাকলেও বা রোমিং সক্রিয় না থাকলেও। স্যাটেলাইট ফোনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
বিদেশি সিম কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক রোমিং সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার ৪জি নেটওয়ার্কে সহজেই কাজ করে, তবে এটি আপনার নিজ দেশের অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির উপর নির্ভর করে। ৫জি নেটওয়ার্ক ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে, তাই আপনার ফোনের সামঞ্জস্যতার উপর নির্ভর করে কাভারেজ ভিন্ন হতে পারে। ভ্রমণের আগে আপনার স্থানীয় অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন। বিদেশি নাগরিকরা সহজেই অস্ট্রেলিয়ার প্রিপেইড সিম কিনতে পারেন, তবে সাধারণত পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্টের মতো ছবি-সংবলিত আইডি লাগতে পারে।
একটি সস্তা প্রিপেইড মোবাইল ফোন ও সিমসহ প্রায় ৪০ মার্কিন ডলারে অধিকাংশ দোকান, সুপারমার্কেট ও পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র সিম কিনতে চাইলে দাম প্রায় ২–৩ ডলার। প্রিপেইড রিচার্জ কার্ড সব সুপারমার্কেট, সংবাদপত্রের দোকান, কিছু এটিএম এবং অন্যান্য আউটলেটে পাওয়া যায়।
ডেটা, এসএমএস ও কল সময় মিলিয়ে অসংখ্য ধরনের প্যাকেজ, সিম ও ফোন বান্ডল কেনা যায়। কিছু অপারেটর কলের মিনিট বা এসএমএস আলাদা না দেখিয়ে প্যাকেজে একটি নির্দিষ্ট অর্থমূল্য দেয়, এবং আপনাকে আলাদা করে কল, এসএমএস ও ডেটা রেট দেখে হিসাব করতে হয়। এক প্ল্যান থেকে আরেক প্ল্যানে এ রেট ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যান নির্বাচন করা জরুরি, কারণ প্যাকেজের বাইরে অতিরিক্ত কল বা ডেটা ব্যবহার করলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। প্রচলিত সিম কার্ডের বিকল্প হিসেবে ভ্রমণকারীরা [https://baztel.co বাজটেল]-এর মতো স্থানীয় প্রদানকারীদের ই-সিমও নিতে পারেন, যা শুধুমাত্র ডেটা-সেবা দেয়।
৩জি বন্ধ হওয়ার কারণে আপনার বর্তমান ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারযোগ্য হবে কি না তা নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ে-ফোনে ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE) সমর্থন থাকতে হবে, প্রস্তুতকারককে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার অন্তত একটি অপারেটরের কনফিগারেশন ফাইল ফোনে লোড করতে হবে, ফোনটিকে জরুরি কলের জন্য এলটিই-তে সমর্থন করতে হবে, এবং সার্ভিস প্রদানকারীকে সেটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ফোনটি অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হয় কিনা তা সামঞ্জস্যতার নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ রপ্তানি অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে ছোটখাটো ভিন্নতা থাকতে পারে। অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত, রোমিং (অর্থাৎ নিজের দেশের সিম নিয়ে আসা) কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা পরিষ্কার নয়। আপনি হয়তো শুধুমাত্র ডেটা প্ল্যান কিনতে পারবেন, যা ইন্টারনেট ব্যবহার ও এসএমএস গ্রহণের সুযোগ দেবে (কিন্তু পাঠানো যাবে না), তবে কল করা বা ধরা যাবে না-এখনো তা নিশ্চিত নয়। হয়তো আপনাকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ফোন কিনতে হবে। তবে ওয়াই-ফাই এতে প্রভাবিত নয়, তাই শহর ও গ্রামে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা সম্ভব।
===স্যাটেলাইট ফোন===
[[File:Telstra phonebox at Quinns.jpg|thumb|একটি সাধারণ টেলস্ট্রা পে-ফোন]]
দূরবর্তী এলাকায় ব্যবহার উপযোগী স্যাটেলাইট ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ভাড়া পাওয়া যায়। ইরিডিয়াম, গ্লোবালস্টার ও থুরাইয়া সেবা চালু আছে। ভাড়ায় নিতে সপ্তাহে প্রায় ১২০ ডলার খরচ হয়, কল চার্জ আলাদা। শুধু বার্তা পাঠানোর ডিভাইস সপ্তাহে প্রায় ৮০ ডলারে পাওয়া যায়।
এই যন্ত্রগুলো কেবল বিশেষায়িত বিক্রেতাদের কাছেই পাওয়া যায়, আর তা-ও সাধারণত বড় শহরগুলোতে (আপনি যে দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ করতে পারেন তার বাইরে)। তবে চাইলে আপনি যাত্রার আগে নিজ দেশ থেকেই এসব যন্ত্র কিনতে বা ভাড়ায় নিতে সক্ষম হবেন।
স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে জরুরি কল করা যায়, এর জন্য সিম কার্ড বা সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে সস্তা ফোনের দাম প্রায় ৩০০ মার্কিন ডলার, যা একটি পিএলবির (পার্সোনাল লোকেটর বিকন) চেয়ে সামান্য বেশি মাত্র।
=== গণফোন ===
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ শহর ও উপশহরে অন্তত একটি করে গণফোন থাকে। প্রায় সব রেলস্টেশনেই গণফোন থাকে। অস্ট্রেলিয়ার সব গণফোন থেকে '''স্থানীয় ল্যান্ডলাইন ও মোবাইলে কল ফ্রি'''। আন্তর্জাতিক কল করার জন্য টেলস্ট্রা বা সংবাদপত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে তৃতীয় পক্ষের কলিং কার্ড ব্যবহার করা যায়। যেকোনো টেলস্ট্রা গণফোন থেকে পুরোনো ধাঁচের মোবাইল ফোনের মতো কীপ্যাড ব্যবহার করে বিনামূল্যে টেক্সট মেসেজ পাঠানো যায়। ফোনের ডিসপ্লেতে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
=== ওয়াইফাই ===
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব ধরনের আবাসন, যেমন যুব হোস্টেল ও ক্যারাভান পার্ক থেকে শুরু করে ৫-তারকা হোটেল পর্যন্ত, '''ফ্রি ওয়াই-ফাই''' সরবরাহ করে। অধিকাংশ ক্যাফে, শপিং মল এমনকি কিছু গণপরিবহন যেমন ট্রেন ও ফেরিতেও ওয়াই-ফাই থাকে। পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে পাবলিক লাইব্রেরি সবচেয়ে ভালো জায়গা। ইন্টারনেট ক্যাফে প্রায় বিলুপ্ত, যদিও কিছু গেমিং ক্যাফে এখনো আছে।
বড় শহরগুলোতে শপিং মল ও বড় দোকানে ফ্রি ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়, এবং ক্রমশই গণপরিবহনেও এটি চালু হচ্ছে। সিডনির ফেরি ও অ্যাডিলেডের ট্রাম ফ্রি ওয়াই-ফাই সরবরাহ করে।
=== রেডিও ও টেলিভিশন ===
অস্ট্রেলিয়ার দুটি জাতীয় পাবলিক সম্প্রচারক রয়েছে: [http://www.abc.net.au/ এবিসি] এবং [https://www.sbs.com.au/ এসবিএস]। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) স্থানীয় রেডিও, ট্রিপল জে (যুব/ইন্ডি সংগীত) ও এবিসি ক্লাসিক এএম/এফএম রেডিওতে সম্প্রচার করে এবং পাঁচটি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করে। স্পেশাল ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (এসবিএস) ছয়টি টিভি চ্যানেল এবং দুটি অ্যানালগ রেডিও স্টেশনে বেশি জাতিগত, দ্বিভাষিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচার করে। উভয় সম্প্রচারকই জনবহুল অঞ্চলে পাওয়া যায়, তবে এবিসির রেডিও কভারেজ বেশি। রাজধানীগুলোতে ডিএবি+ ডিজিটাল রেডিওও পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি ফ্রি-টু-এয়ার বাণিজ্যিক টিভি নেটওয়ার্ক রয়েছে: [https://au.tv.yahoo.com/ সেভেন], [https://www.nine.com.au/ নাইন] এবং [https://tenplay.com.au/ টেন]। শহর ও নগরের প্রায় সব আবাসনেই এসব চ্যানেল পাওয়া যায়। কেবল টিভির একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান আগে ফক্সটেল ছিল, যা এখনো অনেক হোটেলে প্রচারিত হয়, তবে বর্তমানে নেটফ্লিক্স ও এর স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী [https://stan.com.au স্ট্যান] ও [https://kayosports.com.au/ কায়ো স্পোর্টস] বেশি জনপ্রিয়।
শহর যত বড়, রেডিও স্টেশনও তত বেশি। গ্রামীণ শহরে সাধারণত একটি বাণিজ্যিক রেডিও স্টেশন এবং [https://www.abc.net.au/local/ এবিসি] থাকে। গ্রামীণ শহরের মধ্যে গাড়ি চালালে প্রায়ই সব রেডিও সিগনাল হারাতে পারেন। তাই আগে থেকেই গান বা পডকাস্ট ডাউনলোড করা ভালো। জরুরি অবস্থা বা বুশফায়ার ঝুঁকির সময় ভ্রমণের সময় এবিসির সম্প্রচারে মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
=== সংবাদ ===
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান জাতীয় ব্রডশিট পত্রিকা হলো [https://www.theaustralian.com.au/ দ্য অস্ট্রেলিয়ান], আর্থিক ও ব্যবসায়িক সংবাদে বিশেষায়িত [http://www.afr.com/ দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ]। এছাড়াও রাজ্যভিত্তিক স্থানীয় পত্রিকা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিডনিভিত্তিক ''[http://www.smh.com.au/ দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড]'' এবং ''[https://www.dailytelegraph.com.au/ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ]'', এবং মেলবোর্নভিত্তিক ''[https://www.theage.com.au/ দ্য এজ]'' ও ''[http://www.heraldsun.com.au/ হেরাল্ড সান]''।
=== ডাক ব্যবস্থা ===
[[File:Australia Post boxes.jpg|thumb|এক্সপ্রেস (হলুদ) ও সাধারণ (লাল) অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্স]]
'''[http://www.auspost.com.au অস্ট্রেলিয়া পোস্ট]''' অস্ট্রেলিয়ার ডাকসেবা পরিচালনা করে। লাল রঙের অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্সে চিঠি ফেলা যায়, যা পোস্ট অফিস ও অন্যান্য অনেক জায়গায় থাকে। ডাকটিকিট সব পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়, কিছু টিকিট সংবাদপত্র বিক্রেতা ও হোটেলেও মেলে। অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে একটি সাধারণ চিঠি বা পোস্টকার্ড পাঠাতে খরচ হয় ১.৭০ ডলার (২৫০ গ্রাম পর্যন্ত), আর আন্তর্জাতিক ডাকের খরচ ৩.০০ থেকে ৩.৭০ ডলার (২০ গ্রাম পর্যন্ত)। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ডাক পাঠাতে খরচ হয় ২.৪০ ডলার, তবে খামে "শুধু কার্ড" লিখতে হয়। ‘ডোমেস্টিক’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ টিকিট আলাদা, কারণ আন্তর্জাতিক ডাক করমুক্ত। তাই সঠিক টিকিট ব্যবহার করা জরুরি। পার্সেল, এক্সপ্রেস পোস্টসহ অন্যান্য সেবাও পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ার ঠিকানার ধরন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো:
<blockquote>প্রাপকের নাম<br/>(প্রয়োজন হলে) ইউনিট নম্বর বা ভবনের নাম<br/>বাড়ির নম্বর ও সড়কের নাম<br/>শহর বা নগর, রাজ্যের ২ বা ৩ অক্ষরের সংক্ষিপ্ত রূপ, পোস্টকোড</blockquote>
যেকোনো শহর বা নগরে ''পোস্তে রেস্তান্তে'' ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাক গ্রহণ করা যায়। চিঠি প্রাপকের পূর্ণ নাম লিখে c/o Post Restante হিসেবে পাঠাতে হয়। ডাক সংগ্রহের জন্য পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।
{{এর অংশ|ওশেনিয়া}}
{{guidecountry}}
{{geo|-28|137|zoom=5}}
rts2rl2koh1f5c6l4ht6sjh390j5drf
76705
76704
2026-06-01T15:45:08Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
অনুবাদ
76705
wikitext
text/x-wiki
{{pagebanner |Australia alt banner.jpg| caption=উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্কে কাটা টজুটা, নর্দান টেরিটরি|origin=0.3,0}}
'''অস্ট্রেলিয়া'''র মতো জায়গা পৃথিবীতে আর নেই। একে বলা হয় ''ল্যান্ড ডাউন আন্ডার'', কারণ এটি পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেটি পুরো একটি মহাদেশকে দখল করে আছে। এখানে আদিবাসী সংস্কৃতির ইতিহাস প্রায় ৬৫,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো, আবার আধুনিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক অভিবাসনের ফলে এটি বহুজাতিক সমাজে পরিণত হয়েছে। দেশটি তার প্রাকৃতিক বিস্ময়, উন্মুক্ত প্রান্তর, সমুদ্রসৈকত, মরুভূমি, অরণ্য এবং [[আউটব্যাক|আউটব্যাকের]] জন্য বিখ্যাত। তবে অস্ট্রেলিয়া একই সঙ্গে অত্যন্ত নগরায়িত-বহুজাতিক শহরের সমাহারে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত শহর হলো [[সিডনি]], যা বিশ্বের অন্যতম প্রসিদ্ধ বন্দরের তীরে অবস্থিত।
==অঞ্চল==
অস্ট্রেলিয়া ছয়টি রাজ্য ও নয়টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। সবগুলো একসঙ্গে ঘুরে দেখা প্রায় অসম্ভব, কারণ অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যের তুলনায় অনেক বড়, বরং আয়তনে কানাডার প্রদেশগুলোর কাছাকাছি। [[ব্রিসবেন]] থেকে [[শার্ক বে]] পর্যন্ত প্রায় {{km|5000}} কিমি দূরত্ব, যা মাদ্রিদ থেকে মুরমানস্ক, কায়রো থেকে নাইরোবি বা মেইন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার দূরত্বের সমান।
{{Regionlist
| regionmap=Australia regions map.png
| regionmaptext=অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য/অঞ্চল ও প্রধান মহাসড়ক
| regionmapsize=376px
| region1name=[[নিউ সাউথ ওয়েলস]] ''(এনএসডব্লিউ)'' এবং [[ক্যানবেরা|অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি]] ''(এএসটি)''
| region1color=#c8aa92
| region1items=
| region1description=অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য, যেখানে রয়েছে [[সিডনি]]—দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম শহর। রাজ্যটি ঘিরে রয়েছে পরিকল্পিত রাজধানী শহর [[ক্যানবেরা]]। নিউ সাউথ ওয়েলসের উপকূল জুড়ে রয়েছে সমুদ্রসৈকতঘেঁষা জনপদ। একটু ভেতরে রয়েছে [[ব্লু মাউন্টেইনস|ব্লু মাউন্টেইনস]] এবং [[স্নোয়ি মাউন্টেইনস|স্নোয়ি মাউন্টেইনসের]] পর্বতশ্রেণী। আরও ভেতরে রয়েছে বিশাল কৃষি সমভূমি, যা শেষে মিলেছে আউটব্যাকের সঙ্গে।
| region2name=[[নর্দান টেরিটরি]] ''(এনটি)''
| region2color=#acc2a6
| region2items=
| region2description=[[উলুরু]] ও [[অ্যালিস স্প্রিংস|অ্যালিস স্প্রিংসের]] লাল মরুভূমি থেকে শুরু করে [[ডারউইন]] ও [[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক|ন্যাশনাল পার্কের]] উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত নর্দান টেরিটরি অপূর্ব সুন্দর এবং ধারণার তুলনায় অনেক সহজলভ্য।
| region3name=[[কুইন্সল্যান্ড]] ''(কিউএলডি)''
| region3color=#c3bea3
| region3items=
| region3description=রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার জন্য বিখ্যাত কুইন্সল্যান্ডে রয়েছে [[গোল্ড কোস্ট]] থেকে [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]] পর্যন্ত সমুদ্রতটের রূপ, এবং প্রাণচঞ্চল [[ব্রিসবেন]] শহর। এখানেই আছে [[ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক|ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্কের]] উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য এবং হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জের রিসোর্ট। ভেতরে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল এবং আরও ভেতরে বিশাল আউটব্যাক।
| region4name=[[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] ''(এসএ)''
| region4color=#bcb491
| region4items=
| region4description=বিশ্ববিখ্যাত [[বারোসা ভ্যালি|বারোসা ভ্যালির]] উৎকৃষ্ট মদ, [[ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেস|ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেসের]] সৌন্দর্য ও আউটব্যাক, আর [[অ্যাডিলেড]]—"চার্চের শহর"—এর সংস্কৃতি ও উৎসবের জন্য খ্যাত। এটাই একমাত্র রাজ্য যা কারাগার উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং সম্পূর্ণভাবে মুক্ত বসতিদের দ্বারা গড়ে উঠেছে।
| region5name=[[তাসমানিয়া]] ''(টাস.)''
| region5color=#b69eb3
| region5items=
| region5description=বাস প্রণালী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন তাসমানিয়া হলো একটি পর্বতময় রাজ্য। পশ্চিমে [[ক্র্যাডল মাউন্টেইন|ক্র্যাডল মাউন্টেইনের]] দুর্দান্ত সৌন্দর্য, পূর্বে সমুদ্রসৈকত, আর দক্ষিণে রয়েছে অরণ্য। [[হোবার্ট]] ছিল অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইউরোপীয় বসতি, এবং বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনো সংরক্ষিত আছে।
| region6name=[[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ''(ভিক.)''
| region6color=#c3d099
| region6items=
| region6description=অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ছোট মূল ভূখণ্ডের রাজ্য ভিক্টোরিয়া নানা বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্য ও অভিজ্ঞতা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নাটকীয় ঢেউয়ের সৈকত, উর্বর কৃষিভূমি ও সুন্দর জাতীয় উদ্যান সবই এখানে রয়েছে। [[মেলবোর্ন]] হলো রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র—বিশ্বমানের কেনাকাটা, ফ্যাশন, খাদ্য এবং ক্রীড়া ইভেন্টের জন্য প্রসিদ্ধ।
| region7name=[[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] ''(ডব্লিউএ)''
| region7color=#cfcf94
| region7items=
| region7description=একটি বিশাল রাজ্য। দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে রাজধানী শহর [[পার্থ]]। দক্ষিণে রয়েছে [[মার্গারেট রিভার]]-এর আঙুরক্ষেত এবং [[অ্যালবানি (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া)|অ্যালবানির]] মনোরম দৃশ্যাবলি। উত্তরে রয়েছে [[ব্রুম|ব্রুমের]] উষ্ণমণ্ডলীয় সৈকত। দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট জনপদ, রাস্তার ধারে অবকাঠামো, খনিশ্রমিকদের বসতি ও জাতীয় উদ্যান।
}}
===দ্বীপপুঞ্জ===
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বীপ [[তাসমানিয়া]], যা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যও বটে। দেশজুড়ে মোট ৮,২২২টি দ্বীপ রয়েছে। প্রধান দ্বীপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
* {{marker|name=[[লর্ড হাও দ্বীপ]]|wikidata=Q104784}} - প্রকৃতির অপূর্ব প্রদর্শনী, সিডনি থেকে দুই ঘণ্টার ফ্লাইট, নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ।
* {{marker|name=[[নরফোক দ্বীপ]]|wikidata=Q31057}} - নিউজিল্যান্ডের মাঝপথে, প্রকৃতি ও সৈকতের জন্য খ্যাত।
* {{marker|name=[[ক্রিসমাস দ্বীপ]]|wikidata=Q31063}} - লাল কাঁকড়ার অভিবাসনের জন্য বিখ্যাত, পার্থ থেকে ফ্লাইট যায়।
* {{marker|name=[[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q36004}} - প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ, জনবসতিপূর্ণ, পার্থ থেকে ফ্লাইটে যাওয়া যায়।
* {{marker|name=[[টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q1059258}} - আদিবাসী সংস্কৃতির কেন্দ্র, কেপ ইয়র্ক ও পাপুয়া নিউ গিনির মাঝে। ভ্রমণের জন্য ঐতিহ্যগত মালিকদের অনুমতি প্রয়োজন। ফ্লাইট [[কেয়ার্নস]] থেকে।
* {{marker|name=[[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]|wikidata=Q210371}} - অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, যেখানে বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক দৃশ্য, মধুর খামার, আঙুরক্ষেত ও সৈকত রয়েছে।
* {{marker|name=[[রটনেস্ট দ্বীপ]]|wikidata=Q585317}} - প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য, ৬৩টি সৈকত ও ২০টি উপসাগর রয়েছে। পার্থের কাছে অবস্থিত এবং "কোয়োকা" প্রাণীর জন্য বিখ্যাত।
* {{marker|name=[[কিং দ্বীপ]]|wikidata=Q794502}} - তাসমানিয়ার উত্তরে বাস প্রণালীতে।
* {{marker|name=[[হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q1646461}} - সাদা বালুকাময় সৈকতের জন্য প্রসিদ্ধ পর্যটন গন্তব্য।
এছাড়াও রয়েছে বহু জনশূন্য দ্বীপ যেমন [[করাল সি দ্বীপপুঞ্জ]], [[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ|কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জের]] কিছু অংশ, [[অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ]] এবং দূরবর্তী আন্টার্কটিক দ্বীপ যেমন [[হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ]] এবং [[ম্যাকুয়ারি দ্বীপ]]।
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c8aa92|title=[[নিউ সাউথ ওয়েলস]] এবং [[অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি]] ''(এনএসডব্লিউ) & (এসি টি)''|wikidata=Q3224}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#acc2a6|title=[[নর্দার্ন টেরিটরি]] ''(এনটি)''|wikidata=Q3235}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c3bea3|title=[[কুইন্সল্যান্ড]] ''(কিউএলডি)''|wikidata=Q36074}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#bcb491|title=[[সাউথ অস্ট্রেলিয়া]] ''(এসএ)''|wikidata=Q35715}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#b69eb3|title=[[তাসমানিয়া]] ''(তাস)''|wikidata=Q34366}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c3d099|title=[[ভিক্টোরিয়া (অঙ্গরাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ''(ভিক)''|wikidata=Q36687}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#cfcf94|title=[[ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া]] ''(ডব্লিউএ)''|wikidata=Q3206}}
==শহর==
[[File:Sydney Harbour Bridge night.jpg|thumb|350px|রাতে সিডনির দৃশ্য]]
<!-- এখানে সর্বাধিক ৯টি শহর তালিকাভুক্ত করা যাবে। তালিকায় পরিবর্তন চাইলে আলোচনাপৃষ্ঠায় আলোচনা করুন। -->
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[ক্যানবেরা]]|wikidata=Q3114}} - তুলনামূলক ছোট, পরিকল্পিত জাতীয় রাজধানী; এখানে বহু জাদুঘর রয়েছে
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[অ্যাডিলেড]]|wikidata=Q5112}} - "চার্চের শহর", শান্ত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী, বিশ্বখ্যাত আঙুরক্ষেতের কাছেই
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[ব্রিসবেন]]|wikidata=Q34932}} - রৌদ্রোজ্জ্বল কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী, সুন্দর বালুকাময় সৈকতের প্রবেশদ্বার
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[কেয়ার্নস]]|wikidata=Q189133}} - [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]], পোর্ট ডগলাস, [[ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক]] ও বহু সৈকত ও রিসোর্টের প্রবেশদ্বার; বিশ্রাম ও ভ্রমণের জনপ্রিয় স্থান
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[ডারউইন]]|wikidata=Q11568}} - অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণমণ্ডলীয় উত্তরাঞ্চলীয় রাজধানী
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[হোবার্ট]]|wikidata=Q40191}} - ছবির মতো সুন্দর ও শান্ত তাসমানিয়ার রাজধানী, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় কারাগার বসতি
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[মেলবোর্ন]]|wikidata=Q3141}} - অস্ট্রেলিয়ার কফি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার রাজধানী; প্রায়শই সবচেয়ে ইউরোপীয় ধাঁচের শহর বলা হয়; শিল্পকলা, খাবার ও ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য প্রসিদ্ধ
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[পার্থ]]|wikidata=Q3183}} - পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী মহাদেশীয় শহর, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[সিডনি]]|wikidata=Q3130}} - অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম শহর, অপেরা হাউসের আবাসস্থল এবং মনোরম উপসাগর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অসংখ্য সৈকতের জন্য খ্যাত
==অন্যান্য দর্শনীয় স্থান==
[[File:Apostles 3 GOR.JPG|thumb|250px|দ্য টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস]]
<!--শহর ও অন্যান্য গন্তব্যের তালিকায় সর্বাধিক ৯টি উপাদান রাখা যাবে। পরিবর্তনের জন্য আলোচনাপৃষ্ঠায় আলোচনা করুন।-->
* {{marker|type=vicinity|name=[[ব্লু মাউন্টেইনস ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q885558}} - নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি পর্বতময় জাতীয় উদ্যান, যেখানে "থ্রি সিস্টার্স" শিলারূপ আছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[ক্র্যাডল মাউন্টেইন-লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q1138453}} - তাসমানিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যান; এখানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গভীরতম হ্রদ ও মনোরম পাহাড়
* {{marker|type=vicinity|name=[[ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট]]|wikidata=Q5209517}} - বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত অরণ্য; এখানে রয়েছে ক্যাসোয়ারি পাখির বৃহত্তম জনসমষ্টি
* {{marker|type=vicinity|name=[[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]|wikidata=Q7343}} - কুইন্সল্যান্ড উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থা
* {{marker|type=vicinity|name=[[গ্রেট ওশান রোড]]|wikidata=Q74046}} - ভিক্টোরিয়ার মনোমুগ্ধকর উপকূলীয় সড়ক; "[[পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক|টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস]]" শিলা ও বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q189657}} - নর্দান টেরিটরির দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান; উষ্ণমণ্ডলীয় ভ্রমণ, আদিবাসী সংস্কৃতি ও প্রকৃতি উপভোগের স্থান
* {{marker|type=vicinity|name=[[ইকারা-ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেস ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q426073}} – দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রতীকী জাতীয় উদ্যান; প্রাকৃতিক অ্যম্ফিথিয়েটার ও এডিয়াকারান যুগের জীবাশ্ম রয়েছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[পুর্নুলুলু ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q679568}} – "বাঙ্গল বাঙ্গল রেঞ্জের" খাড়া শিলা, ২৫০ মিটার উঁচু
* {{marker|type=vicinity|name=[[উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q251999}} - [[উলুরু]] (''আয়ার্স রক'') ও কাটা টজুটা (''দ্য ওলগাস'') শিলারূপ, যা "রেড সেন্টারের" প্রতীক
==জানুন==
{{quote|{{center|1=আমরা এক <br>কিন্তু আমরা অনেক <br>আর পৃথিবীর সব দেশ থেকেই আমরা এসেছি। <br>আমরা এক স্বপ্ন ভাগাভাগি করব <br>এবং এক কণ্ঠে গান গাইব: <br>আমি, তুমি, আমরা সবাই অস্ট্রেলিয়ান|author="আই অ্যাম অস্ট্রেলিয়ান" — দ্য সিকার্স}}}}
{{quickbar|location=Australia with AAT (orthographic projection).svg}}
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে ছোট-প্রায় ২৫ মিলিয়ন, তবে তা বাড়ছে। জি২০-এর সদস্য এ দেশটির জীবনমান উচ্চ এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবে শীর্ষে থাকে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
===ইতিহাস===
{{see also|অস্ট্রেলীয় আদিবাসী সংস্কৃতি|ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ}}
অস্ট্রেলিয়ায় কমপক্ষে ৬৫,০০০ বছর ধরে আদিবাসীরা বসবাস করছে। তারা দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বিভিন্ন তরঙ্গে এসে এখানে পৌঁছায়। শেষ বরফ যুগের পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের বাকি অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো ভূমি ও প্রকৃতির সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর আত্মীয়তাভিত্তিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে নানা সংস্কৃতি গড়ে তোলে। হাজার হাজার বছর ধরে অস্ট্রেলীয় আদিবাসীরা শিকারি-সংগ্রাহক জীবনধারা বজায় রেখেছে, আর কিছু অঞ্চলে আধা-স্থায়ী সমাজ গড়ে তোলে। এর সঙ্গে সমৃদ্ধ শিল্পকলা, কাহিনি ও সংগীতের ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
অস্ট্রেলীয় আদিবাসীদের বর্তমান জনপ্রিয় ধারণা মূলত মরুভূমির মানুষের উপর ভিত্তি করে, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে (কালাহারির বুশম্যানদের মতো)। তবে অনেক আদিবাসীই বনভূমি ও জলসমৃদ্ধ অঞ্চলে বাস করত। ইউরোপীয়দের আগমনের আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন নিশ্চিত করেছিল।
যদিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চীনে ঝিনুক ও সামুদ্রিক শশার বাজার ইন্দোনেশীয় জেলেদের অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে আসতে উৎসাহিত করেছিল, ইউরোপীয়দের কাছে এটি অজানা ছিল ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত। তখন ডাচ বণিকরা এশিয়ার পথে চলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৌঁছায়। [[সুলাওয়েসি]]র মাকাসারিদের আগমন উত্তরাঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে বহু ইন্দোনেশীয় সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে আসে। ইসলামের প্রচারও প্রথম বিদেশি ধর্ম হিসেবে এখানে প্রবেশ করে। আরনহেম ল্যান্ড ও কিম্বারলির শিলাচিত্রগুলোতে বহু ইসলামি উপাদান দেখা যায়।
ডাচদের কাছে এই শুষ্ক ও প্রতিকূল দেশটি আকর্ষণীয় ছিল না। তারা একে সমৃদ্ধ পূর্ব ইন্ডিজের (আধুনিক ইন্দোনেশিয়া) দিকে যাওয়ার একটি চিহ্নমাত্র হিসেবে দেখত। পরবর্তীতে ফরাসি ও ব্রিটিশরা অস্ট্রেলিয়ার উপকূল ঘুরে দেখার উদ্যোগ নেয়। ফলে দেশের বিভিন্ন উপসাগর, নদী ও ভূখণ্ডে ডাচ, ফরাসি ও ইংরেজ নামকরণ হয়। তবে অনেক জায়গার নাম স্থানীয় আদিবাসী ভাষা থেকে এসেছে, আর বহু স্থানে ইউরোপীয় নাম বাতিল করে বা দ্বৈতভাবে আদিবাসী নাম সংযোজন করা হয়েছে।
[[জেমস কুকের সমুদ্রযাত্রা|ক্যাপ্টেন জেমস কুক]] ১৭৭০ সালে [[এন্ডেভার]] অভিযানে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল মানচিত্রে চিহ্নিত করেন। তিনি ২৯ এপ্রিল ১৭৭০-এ [[বোটানি বে]]তে প্রথম অবতরণ করেন। এরপর তিনি উত্তরের দিকে যাত্রা করে ২২ আগস্ট ১৭৭০-এ টরেস প্রণালীর [[পজেশন আইল্যান্ড]]-এ ব্রিটিশ মুকুটের পক্ষে পূর্ব উপকূল দখলের ঘোষণা দেন এবং এর নামকরণ করেন নিউ সাউথ ওয়েলস। যদিও কুককে প্রায়শই অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় আবিষ্কারক বলা হয়, তিনি প্রকৃতপক্ষে ডাচদের চেয়ে দেড় শতাব্দীরও বেশি পরে এসেছিলেন।
[[File:PortArthurPenitentiary.jpg|thumb|তাসমানিয়ার [[পোর্ট আর্থার]] দণ্ডিত উপনিবেশের ধ্বংসাবশেষ। এটি [[অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ]]-এর অংশ এবং [[ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা]]ভুক্ত।]]
১৭৮৮ সালে ক্যাপ্টেন আর্থার ফিলিপের নেতৃত্বে প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপিত হয় বর্তমান [[সিডনি]]তে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রথম গভর্নর হন। উপনিবেশ স্থাপনের ফলে আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে তাদের জনসংখ্যা কমে যায় এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। শুরুতে পুরো মহাদেশের পূর্বাংশ নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত হয়-১৮২৫ সালে [[তাসমানিয়া]] (তখন ভ্যান ডিমেন’স ল্যান্ড), ১৮৩৬ সালে [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]], ১৮৪১ সালে [[নিউজিল্যান্ড]], ১৮৫১ সালে [[ভিক্টোরিয়া]], ১৮৫৯ সালে [[কুইন্সল্যান্ড]]। মহাদেশের পশ্চিমাংশে ইউরোপীয়রা অনেক দেরিতে আসে-১৮২৬ সালে [[অ্যালবানি (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া)|অ্যালবানি]]তে নৌঘাঁটি স্থাপন করে। ১৮২৯ সালে [[পার্থ]]-এ সোয়ান রিভার কলোনি গড়ে ওঠে, যার নাম ১৮৩২ সালে পরিবর্তিত হয়ে [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] হয়।
অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ব্রিটিশ দণ্ডিত উপনিবেশ হিসেবে পরিচিত হলেও ১৭৮৮-এর পর অধিকাংশ মানুষ স্বাধীনভাবে আসে, বিশেষত ব্রিটেন ও [[আয়ারল্যান্ড]] থেকে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় কিছু দণ্ডিত উপনিবেশ ছিল বিক্ষিপ্ত আকারে, তবে [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] পুরোপুরি স্বাধীন অভিবাসীদের দ্বারা গড়ে ওঠে। ১৮৫০-এর দশকে সোনার খনির সময় এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ থেকেও বহু মানুষ আসে। যদিও পরবর্তীতে "হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতি" অভিবাসন কঠোরভাবে সীমিত করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর, এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ধারা শুরু হয়। এর ফলে ২০শ শতকের শেষ নাগাদ অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পরিণত হয়।
১৯০১ সালে বিভিন্ন উপনিবেশ একত্রিত হয়ে "কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়া" গঠন করে। [[নিউজিল্যান্ড]] তখন এই ফেডারেশনে যোগ দেয়নি। নতুন দেশটি কৃষি ও শিল্পে দ্রুত অগ্রগতি ঘটায় এবং ছোট জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ]], [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]সহ [[কোরিয়ার যুদ্ধ]], [[ভিয়েতনাম যুদ্ধ]], ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেয়। অস্ট্রেলীয় সেনারা কঠিন যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।
১৯৮৬ সালে "অস্ট্রেলিয়া অ্যাক্ট" পাশ হয়, যা ব্রিটিশ সংসদের অস্ট্রেলিয়ার উপর বাকি আইনি ক্ষমতা শেষ করে দেয়। তবে কানাডার মতো এখানেও ব্রিটিশ রাজা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রয়েছেন, যার প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল।
২০শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আদিবাসী আন্দোলন শক্তিশালী হয়। এর ফলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি পায় এবং ভূমি অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে বহু এলাকা আদিবাসীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড সংসদে আদিবাসীদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই বছর থেকে অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত করা হয়।
===ভূগোল===
{{infobox|অস্ট্রেলিয়া কি দুটি মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি তিনটি?|অস্ট্রেলিয়ার সীমানা নিয়ে দ্বিধা আছে। প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের সীমানা নিয়ে বিতর্ক নেই, তবে দক্ষিণ মহাসাগরকে কোথা থেকে শুরু ধরা হবে তা নিয়ে মতভেদ আছে। আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষিণ মহাসাগর ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে শুরু ধরা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় (সরকারি দপ্তরসহ) দক্ষিণ উপকূল থেকেই একে ধরা হয়। তাই উইকিভ্রমণের অস্ট্রেলিয়া-সংক্রান্ত নিবন্ধগুলোতে অস্ট্রেলিয়ান প্রেক্ষাপট ধরা হয়।}}
[[File:Macropus rufus 01 - Christopher Watson.jpg|thumbnail|নর্দার্ন টেরিটরিতে লাল ক্যাঙ্গারু]]
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ এবং বৃহত্তম দ্বীপ। এটি [[ওশেনিয়া]]র ভূমির প্রধান অংশ। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে [[তাসমানিয়া]]সহ কিছু ছোট দ্বীপ রয়েছে। মোট আয়তন ৭,৬৮২,৩০০ বর্গকিমি (২,৯৬৬,১৫২ বর্গমাইল), যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সমান। তবে এর জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের এক দশমাংশও নয়। ফলে শহরগুলোর মধ্যে দূরত্ব সহজে আন্দাজ করা যায় না। পশ্চিমে ভারত মহাসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর। দক্ষিণ-পূর্বে তাসমান সাগর, যা নিউজিল্যান্ডকে পৃথক করে, আর উত্তর-পূর্বে প্রবাল সাগর। উত্তর দিকে [[পাপুয়া নিউগিনি]], [[তিমুর-লেস্তে]] ও [[ইন্দোনেশিয়া]] রয়েছে, যেগুলো নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক কাছাকাছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে পাপুয়া নিউগিনি মাত্র {{km|৪}} দূরে।
অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত নগরায়িত। জনসংখ্যার অধিকাংশই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে কেন্দ্রীভূত। সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হলো [[নিউ সাউথ ওয়েলস]], [[ভিক্টোরিয়া]], [[কুইন্সল্যান্ড]]; তবে আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হলো [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]]।
দেশটির বহু এলাকা কৃষিকাজের জন্য বন উজাড় করা হয়েছে, তবে বহু প্রাকৃতিক বন সংরক্ষিত রয়েছে জাতীয় উদ্যান ও অনাবাদী জমিতে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে জল ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা, দূষণ, বহিরাগত প্রাণীর আক্রমণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, এবং [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]সহ উপকূলীয় এলাকা রক্ষা করার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
===আবহাওয়া===
অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু বৈচিত্র্যময়। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বছরে ৩,০০০ ঘণ্টার বেশি রোদ পড়ে। উত্তরাংশ গরম ও ক্রান্তীয়, দক্ষিণাংশ নাতিশীতোষ্ণ। উপকূলে বেশি বৃষ্টি হয়, আর কেন্দ্রীয় অংশ শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক। [[ডারউইন]] শহরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শীতকালেও সচরাচর ৩০°সে (৮৬°ফা) এর নিচে নামে না, আর রাতে সাধারণত ১৫–২০°সে (৬০–৭০°ফা) থাকে। অস্ট্রেলিয়ার শীত উত্তর গোলার্ধের সমান অক্ষাংশের তুলনায় হালকা। দেশের অধিকাংশ অংশে কখনোই তুষারপাত হয় না। তবে দক্ষিণ-পূর্বের [[স্নোই মাউন্টেনস]] ও তাসমানিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে শীতকালে প্রচুর তুষারপাত হয়।
অস্ট্রেলিয়া যেহেতু দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত, তাই এখানে জুন-আগস্ট হলো শীতকাল এবং ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি হলো গ্রীষ্মকাল। উত্তরাঞ্চলে শীতকালেই শুষ্ক মৌসুম থাকে, আর দক্ষিণে গ্রীষ্মকালে শুষ্কতা দেখা যায়। পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ অংশে বৃষ্টি সারা বছর প্রায় সমানভাবে হয়।
উত্তর গোলার্ধের ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার হলো-এখানে সূর্য ও নক্ষত্র বিপরীত দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) চলে। ফলে উত্তর ঢালগুলো বেশি সূর্যালোক পায়। হাঁটা বা ট্রেকিং করার সময় এ কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দিক-নির্ণয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।
===অর্থনীতি===
অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও পশ্চিমা ধাঁচের পুঁজিবাদী। মাথাপিছু জিডিপি উন্নত দেশগুলোর সমান।
দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬০% আসে সেবা খাত থেকে-এর মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা ও আর্থিক সেবা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পর্যটন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্প, যা বছরে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করে এবং মোট রপ্তানির অন্তত ১১% জোগান দেয়।
প্রাথমিক শিল্প, বিশেষত খনি ও কৃষি, ২০শ ও ২১শ শতকে অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি। লোহার আকরিক ও কয়লা সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য, তার সঙ্গে গম, গরুর মাংস ও উলও উল্লেখযোগ্য। খনি খাত চীনা ও ভারতীয় অর্থনীতির ওঠানামার উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি। এখানে হাতের কাজ করা শ্রমিক বা কারিগরের আয় প্রায়শই শ্বেত-কলার পেশাজীবীদের চেয়েও বেশি হয়।
===রাজনীতি===
[[File:Parliament House Canberra 2.jpg|thumb|250px|ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউস]]
অস্ট্রেলিয়ায় একটি ফেডারেল সরকারব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ছয়টি রাজ্য ও দুটি অঞ্চলের সরকার আছে, পাশাপাশি একটি জাতীয় সরকারও রয়েছে। পার্শ্ববর্তী সাগরে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু বহিঃঅঞ্চল রয়েছে, যেগুলো উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এবং অনেক সময় মূল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত হয় না। রাজ্যভেদে আইনের কিছু পার্থক্য থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা প্রায় একই রকম।
জাতীয় সংসদ ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তবে কিছু অংশ আমেরিকান কংগ্রেস পদ্ধতি থেকে নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল পর্যায়ে সংসদ দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত-সেনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। প্রতিটি সংসদ সদস্য (এমপি) একটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। জনবহুল রাজ্যগুলোতে বেশি আসন থাকে, তাই বেশি এমপি নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের মতোই প্রতিটি রাজ্য থেকে সমানসংখ্যক সিনেটর নির্বাচিত হয়-প্রতিটি রাজ্য থেকে ১২ জন করে, আর নর্দার্ন টেরিটরি ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি থেকে ২ জন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সরকারের প্রধান এবং সেই রাজনৈতিক দলের (বা দলীয় জোট) নেতা যাদের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে। সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হয়, যদিও প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগেও নির্বাচন দিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস অস্ট্রেলিয়ার রাজাও বটে এবং তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। ফেডারেল পর্যায়ে রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন গভর্নর-জেনারেল। রাজা ও গভর্নর-জেনারেলের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক, সরকারের আসল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়াকে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করার জন্য গণভোট হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছিল-কারণ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী অপসারণ করতে পারবেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় প্রজাতন্ত্র ধারণার প্রতি সাধারণ সমর্থন আছে, বাস্তবে তা এখনও বড় অগ্রাধিকার নয়।
অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) নির্বাহী বিভাগ হিসেবে কাজ করে এবং এর নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদের দুই কক্ষ থেকেই মন্ত্রী নিয়োগ করেন। বিচার বিভাগ পরিচালনা করে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট, যা ১৯৮৬ সালে যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিলের পরিবর্তে সর্বোচ্চ আপিল আদালত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
রাজ্য ও অঞ্চল সরকারগুলোও প্রায় একইভাবে পরিচালিত হয়-তাদের নিজস্ব সংসদ আইনসভা হিসেবে কাজ করে, প্রিমিয়ার (অঞ্চলগুলোতে চিফ মিনিস্টার) সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজস্ব বিচার বিভাগ থাকে। প্রতিটি রাজ্যে একজন গভর্নর থাকেন, যিনি রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন-তাদের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক।
অস্ট্রেলিয়ার দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল হলো অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি (এএলপি বা শুধু “লেবার”) এবং লিবারেল পার্টি (স্থানীয়ভাবে বলা হয় ''দ্য লিবস'')। তারা একসময় ন্যাশনাল পার্টির (যা “কোয়ালিশন” নামে পরিচিত) সঙ্গে জোটে ছিল, তবে ২০২৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর এ জোট ভেঙে যায়। তবুও, কিছু রাজ্যে তারা এখনও কোয়ালিশন হিসেবে কাজ করে (কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরিতে তারা একটি একক দল হিসেবে পরিচালিত হয়)। ছোট দলগুলোর মধ্যে আছে গ্রিনস (জিআরএন) এবং টিল ইন্ডিপেনডেন্টস।
মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টি তার নামের বানান “Labor” ব্যবহার করে “Labour” নয়, কারণ এর প্রেরণা এসেছে আমেরিকান শ্রমিক আন্দোলন থেকে। গ্রিনস একটি পরিবেশবাদী দল, যাদের লেবারের চেয়েও বামপন্থী মনে করা হয়।
লিবারেল পার্টি একটি মধ্য-ডানপন্থী রক্ষণশীল দল, যেখানে “লিবারেল” বলতে মুক্তবাজার অর্থনীতি বোঝানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় “লিবারেল” শব্দটি ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যা অন্য ইংরেজিভাষী দেশের থেকে ভিন্ন। তারা সাধারণত ন্যাশনাল পার্টির সঙ্গে কাজ করে-ন্যাশনাল পার্টি মূলত গ্রামীণ ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং পরিবেশ রক্ষার বিপক্ষে বেশি রক্ষণশীল। ২০১০-এর দশকের শেষ থেকে লিবারেল পার্টি শহুরে ধনী অঞ্চলের টিল ইন্ডিপেনডেন্টসের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, কারণ লিবারেলদের পরিবেশনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডানপন্থার আরও কিছু দল রয়েছে, যেমন পলিন হ্যানসনের ওয়ান নেশন (পিএইচওএন বা ওএনপি) এবং ট্রাম্পেট অব প্যাট্রিয়টস (টিওপি), যা আগে ইউনাইটেড অস্ট্রেলিয়া পার্টি (ইউএপি) নামে পরিচিত ছিল। তারা কেবল সেনেটে আসন পেয়েছে, এর বাইরে বড় সাফল্য পায়নি।
===সংস্কৃতি===
অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে প্রায় সব ধরনের ধর্ম ও জীবনধারা অনুশীলন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, আরেক-চতুর্থাংশের অন্তত একজন বিদেশি-জন্ম পিতা-মাতা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের পর অর্ধশতকে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়নের বেশি হয়েছে। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন ও পার্থ এখন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক শহর, যেখানে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের মানুষের বসবাস রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের মাঝেও অস্ট্রেলিয়ানদের একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয়বোধ ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে গর্ব রয়েছে।
সব বড় শহরে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। প্রতিটি শহরের নিজস্ব পরিচয় আছে-সিডনি নিজেকে “আরবান নেচার ক্যাপিটাল” বলে প্রচার করে; মেলবোর্ন শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত; ব্রিসবেনকে বলা হয় বহুসাংস্কৃতিক নগর গ্রামগুলোর সমষ্টি। অ্যাডিলেড উৎসব, ওয়াইন সংস্কৃতি ও জার্মান প্রভাবের জন্য খ্যাত; পার্থ সমুদ্রসৈকত, আরামদায়ক জীবনযাপন ও আন্তর্জাতিক ফ্রিঞ্জ আর্টস উৎসবের জন্য পরিচিত; আর হোবার্ট তার ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত, বিশেষত প্রাক্তন দণ্ড উপনিবেশ হিসেবে। ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত অ্যাংলো-সেল্টিক সংস্কৃতি বহন করে, যেখানে কিছু কিছু জায়গায় স্বল্পসংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীও রয়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ অঞ্চল ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানায় এবং তাদের ইতিহাস ও স্থানীয় পণ্য ভাগাভাগি করে।
[[File:Melbournes Chinatown (6760134067).jpg|thumb|মেলবোর্নের চায়না টাউন]]
প্রায় ১০ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান নিজেদেরকে আদিবাসী (অ্যাবোরিজিনাল) হিসেবে পরিচয় দেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪%। তারা শহরেও বাস করে, আবার গ্রামীণ আদিবাসী সম্প্রদায়েও থাকে। যদিও নতুন ভ্রমণকারীর কাছে তা খুব স্পষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু যারা চাইবেন তাদের জন্য আদিবাসী সংস্কৃতি জানার অনেক সুযোগ রয়েছে।
জনপ্রিয় কল্পকাহিনীর বিপরীতে, ব্রিটিশ বন্দিশিবির থেকে আসা অপরাধীদের বংশধররা সংখ্যালঘু। এমনকি দণ্ড-পরিবহনের সময়কালেও মুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল কমপক্ষে পাঁচগুণ বেশি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু অঞ্চলে একেবারেই অপরাধী পাঠানো হয়নি। তবুও, কারও যদি অপরাধীর বংশধর হিসেবে পরিচিতি থাকে, সেটিকে অনেক সময় “অস্ট্রেলিয়ান রয়্যালটি” হিসেবে সম্মানের প্রতীক ধরা হয়।
অস্ট্রেলিয়ানরা ইউরোপের কিছু সংস্কৃতির তুলনায় সামাজিকভাবে বেশি রক্ষণশীল হতে পারে, তবে ধর্মীয় চর্চায় সাধারণত শিথিল। সম্বোধনের ধরন অনানুষ্ঠানিক ও পরিচিতভাবাপন্ন। অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান আপনাকে প্রথম সাক্ষাৎ থেকেই আপনার নাম ধরে ডাকবে এবং আশা করবে আপনিও তাদের একইভাবে সম্বোধন করবেন।
====ছুটির দিন====
[[File:Lotto Skyworks Applecross.jpg|thumb|250px|অস্ট্রেলিয়া দিবসে পার্থে আতশবাজি প্রদর্শনী]]
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ছুটির দিনগুলো হলো:
* '''১ জানুয়ারি''': নববর্ষ
* '''২৬ জানুয়ারি''': অস্ট্রেলিয়া দিবস-১৭৮৮ সালে প্রথম বহরের সিডনি কোভে আগমনের বার্ষিকী
* '''ইস্টার সপ্তাহান্ত''' (গুড ফ্রাইডে থেকে ইস্টার সোমবার): মার্চ বা এপ্রিল মাসে চার দিনের ছুটি, পশ্চিমা খ্রিস্টান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত। অনেকে গির্জায় যান না; বরং এই সময়ে ভ্রমণ করেন, ফলে হোটেল ও বিমানের টিকিট অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়।
* '''২৫ এপ্রিল''': আনজাক দিবস (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আর্মি কর্পস), যুদ্ধ-সেনাদের স্মরণে
* '''জুনের দ্বিতীয় সোমবার''': রাজাধিরাজের জন্মদিন (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে পালিত হয়, এর এক সপ্তাহ আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস উদযাপিত হয়)
* '''২৫ ডিসেম্বর''': বড়দিন
* '''২৬ ডিসেম্বর''': বক্সিং ডে
বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন দিনে '''শ্রমিক দিবস''' পালিত হয়। বেশিরভাগ রাজ্যে অতিরিক্ত দু’একটি রাজ্য-নির্দিষ্ট ছুটি রয়েছে। [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ও [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]]তে ঘোড়দৌড় উপলক্ষে ছুটি থাকে (মেলবোর্ন কাপ ও অ্যাডিলেড কাপ)। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় জুন মাসের প্রথম সোমবার ‘পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস’ উদযাপিত হয়, তবে রানির জন্মদিন দেশের অন্য অংশের থেকে ভিন্ন তারিখে পালিত হয়, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে। ভিক্টোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগ (এএফএল) গ্র্যান্ড ফাইনালের আগের শুক্রবারও ছুটি থাকে।
যদি কোনো সরকারি ছুটি শনিবার বা রবিবারে পড়ে, তবে সাধারণত সোমবার (প্রয়োজনে মঙ্গলবারও) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে আসল উৎসব বা দোকানপাট বন্ধ থাকার দিন থাকে মূল তারিখেই। অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র বড়দিন ও গুড ফ্রাইডে বন্ধ থাকে। সুপারমার্কেট ও অন্যান্য দোকান কিছু সরকারি ছুটিতে সীমিত সময়ে খোলা থাকতে পারে, তবে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন, গুড ফ্রাইডে, ইস্টার সানডে ও আনজাক দিবসের সকাল প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ থাকে।
'''অস্ট্রেলিয়া দিবস''' জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক আদিবাসী ও প্রগতিশীল মানুষ একে ‘আক্রমণ দিবস’ বলেন, কারণ এই দিনটি ব্রিটিশ দখল ও উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা নির্দেশ করে। প্রতিবছর এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়। তবে স্থানীয় সরকারগুলো নানা উদযাপন ও বারবিকিউর আয়োজনও করে।
সরকারি ছুটির বাইরেও জাতীয় ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের দিন রয়েছে, যেমন:
* '''এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''': অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা ভিক্টোরিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া অনুষ্ঠান। পাবগুলো দর্শকে ভরে যায় এবং অনেকে ঘরে বসে বড়সড় আয়োজন করে। সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার বা অক্টোবরের প্রথম শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।
* '''এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''': ন্যাশনাল রাগবি লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ রবিবার বা অক্টোবরের প্রথম রবিবার হয়।
===ছুটির ভিড়ের সময়===
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ দর্শনীয় স্থান সারা বছর খোলা থাকে, তবে অফ-সিজনে সময়সূচী সীমিত হতে পারে। বড়দিন ও নববর্ষে কিছু জায়গা বন্ধ থাকে।
'''গ্রীষ্মকালীন স্কুলের ছুটি''' বড়দিনের আগে শুরু হয় এবং পুরো জানুয়ারি মাস জুড়ে থাকে। এসময় ভ্রমণ সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও ভিড়পূর্ণ (যদি না আপনি [[উত্তর অস্ট্রেলিয়া]] ভ্রমণ করেন)। সমুদ্রসৈকতের আশেপাশের ছুটির বাড়িগুলো কয়েক মাস আগে থেকেই বুক হয়ে যায় এবং বেশি ভাড়া নেয়। দীর্ঘ '''ইস্টার ছুটি'''ও ভিড়পূর্ণ হয়, কারণ অভিভাবকরা শীত আসার আগে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যান।
অস্ট্রেলীয় কিশোররা নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে স্কুল শেষের পর তিন সপ্তাহব্যাপী ‘‘স্কুলিজ’’ উদযাপন করে। তখন তারা কিছু শহর ও উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমায়, যেমন [[বায়রন বে]] (নিউ সাউথ ওয়েলস), [[গোল্ড কোস্ট]] (কুইন্সল্যান্ড), [[রটনেস্ট দ্বীপ]] (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া), [[ভিক্টর হারবার]] (দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া) এবং [[মর্নিংটন উপদ্বীপ]] (ভিক্টোরিয়া)।
===সময়===
[[File:Central time zone sign.jpg|thumb|200px|ব্রোকেন হিলের কাছে একটি সড়কচিহ্ন, যেখানে সময় অঞ্চল পার্থক্য উল্লেখ রয়েছে]]
ডে-লাইট সেভিংস চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় সর্বোচ্চ সাতটি সময় অঞ্চল এবং অন্য সময়ে পাঁচটি সময় অঞ্চল থাকে। সময় অঞ্চলের সীমারেখা সবসময় রাজ্যের সীমারেখা অনুসরণ করে না। যেমন, [[ব্রোকেন হিল]] ও সিলভারটন শহরগুলো নিউ সাউথ ওয়েলসে হলেও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সময় অনুসরণ করে। আবার লর্ড হাও দ্বীপ, যদিও নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ, তার নিজস্ব সময় অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া অনেক আউটব্যাক সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিকভাবে নর্দার্ন টেরিটরির সময় (এনটি) অনুসরণ করে।
[[File:Australia-states-timezones.svg|thumbnail|অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল (GMT থেকে)]]
পূর্বে তাসমানিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া সর্বদা একই সময় মেনে চলে। [[কুইন্সল্যান্ড]] ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, ফলে এ সময়ে তারা অন্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।
মধ্যাঞ্চলে, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও [[নর্দার্ন টেরিটরি]] শীতে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে। তবে নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, কিন্তু দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন পালন করে। ডে-লাইট সেভিংস চলাকালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা এগিয়ে যায়। নর্দার্ন টেরিটরি সারা বছর কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, কিন্তু ডে-লাইট সেভিংস সময়ে নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।
পশ্চিমে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া শীতে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে এবং ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না। ডে-লাইট সেভিংস সময়ে এটি তিন ঘণ্টা পিছিয়ে যায় (তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়েই থাকে), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটনের থেকে আড়াই ঘণ্টা পিছিয়ে এবং নর্দার্ন টেরিটরির থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।
এছাড়াও একটি অস্বাভাবিক +৮:৪৫ সময় অঞ্চল রয়েছে, যাকে অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট্রাল ওয়েস্ট স্ট্যান্ডার্ড টাইম (এসিডব্লিউএসটি বা সিডব্লিউএসটি) বলা হয়, যা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সীমান্তের কিছু শহরে ব্যবহৃত হয়। এটি সরকারি সময় নয়, তবে বাস্তবে ব্যবহৃত হয়। মহাসড়কে ঘড়ি বদলানোর সাইনবোর্ডও রয়েছে, এমনকি অ্যাপল আলাদা একটি অঞ্চল (‘‘ইউক্লা’’ নামে) রেখেছে। আরও জটিল ব্যাপার হলো, সিডব্লিউএসটি অঞ্চলের একমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলীয় শহর বর্ডার ভিলেজ ডে-লাইট সেভিংস পালন করে এবং +৯:৪৫ মেনে চলে, যা ইউক্লার থেকে এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাকিদের থেকে ৪৫ মিনিট পিছিয়ে। তবে বাস্তবে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সবই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ইউক্লা শহরে হওয়ায় ভ্রমণকারীদের ওপর এর প্রভাব প্রায় নেই।
অত্যন্ত দুর্গম আউটব্যাক পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা শহরগুলো প্রশাসনিকভাবে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় হলেও তারা এসিএসটি (নর্দার্ন টেরিটরির সময়) মেনে চলে, যা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা এগিয়ে। যেহেতু নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, তাই এসব শহরও করে না।
অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চলের কোনো সরকারি সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। কখনও কখনও EST, CST, WST এবং ডে-লাইট সেভিংসে EDT, CDT ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও AEST ইত্যাদি ব্যবহার হয়, যেখানে ‘‘A’’ উপসর্গ দিয়ে উত্তর আমেরিকার একই নামের সময় অঞ্চল থেকে আলাদা করা হয়। <!-- কথোপকথনে এসব সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার হয় না। সাধারণত মানুষ ‘‘সিডনি টাইম’’, ‘‘ব্রিসবেন টাইম’’ বা ‘‘পার্থ টাইম’’ বলে। ‘‘সেন্ট্রাল সামার টাইম’’ বললে বেশিরভাগ মানুষ অবাক হবে। -->
যেসব রাজ্যে ডে-লাইট সেভিংস পালিত হয়, সেখানে এটি অক্টোবরের প্রথম রবিবার শুরু হয় এবং এপ্রিলের প্রথম রবিবার শেষ হয়।
{| class="wikitable"
|-
! রাজ্য/অঞ্চল !! মান সময় !! ডে-লাইট সেভিংস সময়
|-
| [[হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ]] || ইউটিসি+৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ]] || ইউটিসি+৬.৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[ক্রিসমাস দ্বীপ]] || ইউটিসি+৭ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] || ইউটিসি+৮ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[ইউক্লা]], ককলেবিডি, মাদুরা, মুন্দ্রাবিলা || ইউটিসি+৮.৪৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| বর্ডার ভিলেজ, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া || ইউটিসি+৮.৪৫ || ইউটিসি+৯.৪৫
|-
| [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]], [[ব্রোকেন হিল]] ও [[সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস)|সিলভারটন]] || ইউটিসি+৯.৫ || ইউটিসি+১০.৫
|-
| [[নর্দার্ন টেরিটরি]], ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা || ইউটিসি+৯.৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[কুইন্সল্যান্ড]] || ইউটিসি+১০ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[নিউ সাউথ ওয়েলস]], [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]], [[তাসমানিয়া]], [[ক্যানবেরা|এসিটি]] ও [[জার্ভিস বে টেরিটরি]]
| ইউটিসি+১০ || ইউটিসি+১১
|-
| [[লর্ড হাও দ্বীপ]] || ইউটিসি+১০.৫ || ইউটিসি+১১
|-
| [[নরফোক দ্বীপ]] || ইউটিসি+১১ || প্রযোজ্য নয়
|}
===বিদ্যুৎ===
[[File:Australian electric outlet type.png|thumb]]
প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহের মান ২৩০ ভোল্ট এবং প্লাগের ধরণ হলো টাইপ আই (যেখানে লাইভ ও নিউট্রাল পিন দুটি তির্যক এবং আর্থ পিন সোজা থাকে)। একে সাধারণভাবে “দুই-চল্লিশ ভোল্ট সকেট” নামেও ডাকা হয়। হোটেলের বাথরুমে প্রায়ই টাইপ সি ও এ সকেট থাকে যেগুলোতে “শুধুমাত্র শেভারের জন্য” লেখা থাকে। এগুলো ১১০ ভোল্টে রূপান্তর করে দেয়, যা উত্তর আমেরিকান ধাঁচের সকেটের শেভারের জন্য ব্যবহারযোগ্য। ভোল্টেজ ইউরোপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই শুধু একটি কনভার্সন প্লাগ প্রয়োজন হবে। এই ধরনের প্লাগ সহজেই সুপারমার্কেট, কনভেনিয়েন্স স্টোর কিংবা বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করা যায়। তবে উত্তর আমেরিকা বা অন্য ১১০ ভোল্টের দেশ থেকে আসলে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভোল্টেজ সহনশীলতা পরীক্ষা করে তারপর কনভার্সন প্লাগ ব্যবহার করা উচিত।
=== আরও দেখুন ===
অস্ট্রেলিয়ার বিষয়বস্তু
* [[অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং]]
* [[ওয়াল্টার বার্লি গ্রিফিনের স্থাপত্যকলা]]
* [[গাড়ি ছাড়া অস্ট্রেলিয়া]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার বড় বড় বস্তু]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত স্থানসমূহ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ান খাবার]]
* [[অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং]]
* [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার গির্জা]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ]]
* [[নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালনা]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গলফ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় আঙুর ভ্রমণ]]
* [[গ্রেট আর্টেসিয়ান বেসিন]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং]]
* [[কোশিউস্কো জাতীয় উদ্যানে হাইকিং]]
* [[আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামরিক জাদুঘর ও স্থানসমূহ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[নর্দান টেরিটরির জাতীয় উদ্যান]]
* [[নেড কেলি পর্যটন]]
* [[নিউ সাউথ ওয়েলসের জাতীয় উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় জীবাশ্মবিদ্যা]]
* [[কুইন্সল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ]]
* [[আরএফডিএস পর্যটন]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা]]
* [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[মেলবোর্নের স্ট্রিট আর্ট]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা]]
* [[শিশুদের সঙ্গে সিডনি]]
* [[তাসমানিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[মেলবোর্নের ট্রাম]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা]]
===ভ্রমণকারীর তথ্য===
* [https://www.australia.com/ ভিজিট অস্ট্রেলিয়া] ওয়েবসাইট
==ভাষা==
{{see also|ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন রূপ}}
{{infobox|অস্ট্রেলীয় পরিভাষা
|যদিও অস্ট্রেলীয় ইংরেজি মার্কিন ও ব্রিটিশ ইংরেজির দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত, তবুও অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব কিছু পরিভাষা রয়েছে। [[অস্ট্রেলীয় স্ল্যাং]]-এর বিপরীতে, এগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনায়, টেলিভিশনে এবং এমনকি সরকারি পর্যায়েও ব্যবহৃত হয়। এগুলোর অনেকগুলো প্রতিবেশী [[পাপুয়া নিউ গিনি]]তে ব্যবহৃত হয়, আর [[নিউজিল্যান্ড]] বা [[সিঙ্গাপুর]]-এর লোকদের কাছেও কিছু পরিচিত, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা ওশেনিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে অন্য কোনো ইংরেজিভাষী দেশে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।
;the bush:বনাঞ্চল। ‘‘বুশ’’ শব্দের উৎপন্ন শব্দগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন বনের আগুনকে বলা হয় ‘‘বুশফায়ার’’
;Commonwealth government: গোটা দেশের সরকার
;esky: কুলার বক্স
;doona: কমফর্টার বা ডুভে
;fairy floss: কটন ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); ক্যান্ডি ফ্লস (যুক্তরাজ্য)
;football (বা footy): অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল বা রাগবি লীগ (অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলকে বলা হয় ‘‘সকার’’)
;footpath: ফুটপাত (যুক্তরাষ্ট্রে sidewalk; যুক্তরাজ্যে pavement)
;hotel: বার, পাব
;icy pole: পপসিকল
;lollies: মিষ্টি বা ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে candy; যুক্তরাজ্যে sweets)
;mob: কোনো আদিবাসী সম্প্রদায়, তবে বন্ধুবান্ধবের একটি দল বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়
;peak hour: ব্যস্ত সময় বা রাশ আওয়ার
;powerpoint: বৈদ্যুতিক সকেট
;road train: অতি দীর্ঘ ট্রাক
;service station (বা servo): গ্যাস স্টেশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); পেট্রল স্টেশন (যুক্তরাজ্য); পেট্রল শেড (দক্ষিণ এশিয়া)
;thongs: ফ্লিপ-ফ্লপ; নিউজিল্যান্ডে ‘‘জ্যান্ডালস’’
;ute (উচ্চারণ ‘‘ইউট’’): পিকআপ ট্রাক
;yabby: ক্রেফিশ বা ক্রেফিস/ক্রেফিস
}}
'''ইংরেজি''' অস্ট্রেলিয়ায় সর্বজনীনভাবে প্রচলিত ভাষা। অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজির উচ্চারণ ও বাগধারা স্বতন্ত্র। এটি মূলত ১৮শ ও ১৯শ শতকে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড থেকে বিকশিত হলেও ২০শ শতকে আমেরিকান প্রভাব এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলে।
তবে অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ হওয়ায় বড় শহরগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা শোনা যায়। অভিবাসী সম্প্রদায়ের এলাকাগুলোতে তাদের ভাষার আধিক্য দেখা যায়। বিদেশি ভাষা স্কুলে শেখানো হলেও সাধারণত প্রাথমিক স্তরের পর তা অগ্রসর হয় না।
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে মূলত ব্রিটিশ বানান অনুসরণ করা হয়। তবে এতে ব্রিটিশ ও আমেরিকান উভয় পরিভাষার মিশ্রণ আছে। যেমন ''eggplant'' (aubergine নয়), ''boot'' (trunk নয়), ''toll-free'' (freephone নয়), ''take-away'' (takeout নয়) এবং ''truck'' (lorry নয়)। আমেরিকান শব্দ সবার কাছে বোধগম্য হলেও ব্রিটিশ শব্দ অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বা বয়স্ক প্রজন্ম বুঝতে পারে।
কিছু শব্দ একান্তই অস্ট্রেলিয়ান, যেমন ''thongs'' বলতে বোঝায় ফ্লিপ-ফ্লপ, অন্তর্বাস নয়। আবার ''chips'' শব্দটি একসঙ্গে ''fries'' এবং ''crisps'' দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়।
গ্রামীণ এলাকায় লোকদের উচ্চারণ তুলনামূলকভাবে ভারী এবং কিছু পুরোনো স্ল্যাং এখনও ব্যবহৃত হয়। শহরের শিক্ষিত মানুষদের উচ্চারণ অনেকটা ব্রিটিশ ধাঁচের। তবে ভ্রমণকারীদের [[অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং]] ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ভুল ব্যবহার হাস্যকর বা অসম্মানজনক শোনাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে খুব বেশি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নেই। তবে কিছু শব্দের উচ্চারণ যেমন ''dance'', ''renaissance'' ভিন্ন হয়। সুইমিং পোশাককে [[নিউ সাউথ ওয়েলস]]-এ ''cossies'' বা ''swimmers'', [[কুইন্সল্যান্ড]]ে ''togs'' এবং অন্যান্য অঞ্চলে ''bathers'' বলা হয়। বহু আদি অধিবাসী ও [[টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ|টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জের]] মানুষ ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।
[[File:Multilingual road safety sign (3565389671).jpg|thumb|left|200px|জার্মান, ইতালীয়, জাপানি ও পিজান্তজাতজারা ভাষায় একটি সড়ক নিরাপত্তা চিহ্ন। অস্ট্রেলিয়ায় এটি বেশ অস্বাভাবিক।]]
অস্ট্রেলিয়ায় সাইনবোর্ড সাধারণত ইংরেজিতেই থাকে। তবে এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ভিয়েতনামি ও চীনা ভাষায় রেস্তোরাঁ মেনু ও সাইন দেখা যায়। [[কেয়ার্নস]] ও [[গোল্ড কোস্ট]] এলাকায় জাপানি ও চীনা ভাষার কিছু সাইনও আছে, বিশেষত পর্যটকদের জন্য। সমুদ্রসৈকতে সতর্কতামূলক সাইন কখনও কখনও একাধিক ভাষায় লেখা থাকে।
যাঁরা একেবারেই ইংরেজি জানেন না তাঁদের জন্য যোগাযোগ কঠিন। কিছু ভ্রমণ সংস্থা চীনা, জাপানি, ভিয়েতনামি, জার্মান, ইতালীয়, ফরাসি, ইন্দোনেশীয় ও কোরিয়ান ভাষায় ট্যুর প্যাকেজ দেয়। কিছু ক্ষেত্রে স্প্যানিশ, মালয় ও পর্তুগিজ ভাষাতেও গাইডেড ট্যুর পাওয়া যায়। তবে হিন্দি, আরবি বা সোয়াহিলি ভাষার ট্যুর বিরল।
'''আদিবাসী''' ভাষাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ আদিবাসী ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে দুঃখজনকভাবে এর প্রচলন খুবই কম। বর্তমানে মাত্র ৪৬টি ভাষা দৈনন্দিনভাবে ব্যবহৃত হয়, যা প্রায় ৪২,৩০০ মানুষ কথা বলে। এসব ভাষা মূলত গ্রামীণ আউটব্যাক অঞ্চলের সম্প্রদায় এবং টরেস প্রণালীর দ্বীপগুলোতে বেশি শোনা যায়। আদিবাসী ভাষাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে, কারণ ভাষার সংখ্যা অনেক এবং এগুলো বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে ও একে অপরের সাথে বোধগম্য নয়। কোনো আদিবাসী ভাষা শেখা কেবল নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকাতেই উপকারী হবে। প্রায় সব আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রাই ইংরেজি বলতে পারেন, যদিও কিছু দূরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা ভাষাটিতে সাবলীল নাও হতে পারেন। আদিবাসী ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রিওল-ভিত্তিক ভাষাও প্রচলিত, যেমন [[অস্ট্রেলীয় ক্রিওল বাক্যবিন্যাস|অস্ট্রেলীয় ক্রিওল]] অথবা [[টরেস প্রণালী ক্রিওল বাক্যবিন্যাস|টরেস প্রণালী ক্রিওল]]।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংকেতভাষা হলো '''অজলান''' (Auslan – Australian Sign Language)। এটি [[ব্রিটিশ সংকেতভাষা|ব্রিটিশ সংকেতভাষা (BSL)]] থেকে বিকশিত এবং [[নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষা|নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষার]] সঙ্গে মিল আছে। তবে ফরাসি সংকেতভাষা পরিবারভুক্ত ভাষাভাষীরা (যেমন আমেরিকান বা আইরিশ সংকেতভাষা) অজলান সহজে বুঝতে পারবেন না।
==যেভাবে যাবেন==
[[File:Visa policy of Australia.svg|thumb|450px|
{{legend|#ED1C24|অস্ট্রেলিয়া}}
{{legend|#1191E5|বিশেষ ক্যাটাগরি ভিসা}}
{{legend|#22B14C|ই-ভিজিটর বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি}}
{{legend|#79D343|ই-ভিজিটর}}
{{legend|#B5E61D|ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি}}
{{legend|#C0C0C0|ভিসা প্রয়োজন}}
]]
===প্রবেশের শর্তাবলি===
'''সকলেই''' (নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ব্যতীত) ভ্রমণের আগে [[ভিসা]] সংগ্রহ করতে হবে।
আপনি যদি ৯০ দিনের কম সময়ের জন্য ছুটিতে আসেন, তবে আপনার নাগরিকত্বের ভিত্তিতে তিন ধরনের ভিসার একটি আবেদন করতে পারবেন।
* '''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/electronic-travel-authority-601 ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি (ইটিএ) সাবক্লাস ৬০১]''' অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এটি আবেদন করতে হবে অস্ট্রেলিয়ান ইটিএ অ্যাপ ব্যবহার করে, যার সার্ভিস ফি ২০ ডলার। ভিসাটি ১২ মাসের জন্য বৈধ।
* '''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/evisitor-651 ই-ভিজিটর (সাবক্লাস ৬৫১)]''' [[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]], [[নরওয়ে]], [[আইসল্যান্ড]], [[সুইজারল্যান্ড]], [[যুক্তরাজ্য]] এবং কয়েকটি [[ইউরোপীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্র|ইউরোপীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের]] নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এগুলো '''বিনামূল্যে''', তবে কার্যত ইটিএর মতোই। আবেদন অবশ্যই অনলাইনে করতে হবে।
* '''ভিজিটর ভিসা (সাবক্লাস ৬০০)'''। অধিকাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা [https://immi.homeaffairs.gov.au/help-support/applying-online-or-on-paper/online ইমি-অ্যাকাউন্ট] তৈরি করে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে দূতাবাস বা ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।
:: ইটিএ এবং ই-ভিজিটরের মতো, ভিজিটর ৬০০ ভিসাও সাধারণত তিন মাসের জন্য ইস্যু হয়। তবে এই ভিসা সর্বোচ্চ এক বছরের জন্যও দেওয়া যেতে পারে। তিন মাসের বেশি থাকতে চাইলে আপনার ভ্রমণের কারণ ও নিজ দেশের সাথে সম্পর্ক প্রমাণ করতে সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে এবং সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে হতে পারে। আপনার নাগরিকত্বের উপর ভিত্তি করে দূতাবাস বা ভিসা সেন্টার অস্ট্রেলিয়ান স্পনসর চাওয়ার শর্ত আরোপ করতে পারে। ফি হলো ১৯০ ডলার। ইটিএ ও ই-ভিজিটর ভিসা ১২ মাসে একাধিকবার প্রবেশের অনুমতি দেয়। তাই যোগ্য হলে সহজ উপায় হলো তিন মাস থাকা, তারপর [[নিউজিল্যান্ড]], [[সিঙ্গাপুর]], [[থাইল্যান্ড]] বা কাছাকাছি কোনো দেশে কয়েকদিন যাওয়া, পরে ফিরে এসে নতুন করে ৯০ দিন শুরু করা। তবে বারবার করলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করতে পারে।
:: অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ৬০০ ভিসা ১৮ মাস, তিন বছর বা পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হতে পারে। এতে সর্বোচ্চ ১২ মাসের থাকার অনুমতি দেওয়া হয় ১৮ মাসে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইটিএ ও ই-ভিজিটর সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদিত হয়। তবে জটিলতা থাকলে আপনার আবেদন হাতে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হতে পারে, এতে কয়েক মাসও লাগতে পারে। জটিল জাতীয় পরিচয় বা কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে (ছোট অপরাধও) আগে থেকেই সময় রেখে আবেদন করা জরুরি।
আপনি যদি কাজ, পড়াশোনা বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যেতে চান, সঠিক ধরনের ভিসা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পর্যটন ভিসা দিয়ে এগুলো বৈধ হবে না। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভিসা বাতিল, বহিষ্কার এবং পুনঃপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
সব ধরনের পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে আপনাকে আর্থিকভাবে নিজের ভ্রমণ ব্যয় বহন করতে সক্ষম প্রমাণ করতে হবে এবং চরিত্রগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে আবেদন করার আগে অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করুন।
নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়া ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। পৌঁছানোর পর তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পেশাল ক্যাটেগরি নিউজিল্যান্ড সিটিজেন ভিসা (সাবক্লাস ৪৪৪) পাবেন, যদি তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা না থাকে। এই ভিসায় তারা অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো সময় বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারবেন। তবে অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা থাকলে ভিসা অস্বীকার হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা কিন্তু এই ভিসার যোগ্য নন; তাদের নিজ দেশের পাসপোর্ট অনুযায়ী ভিসা নিতে হবে।
যাদের কাছে বৈধ এপেক বিজনেস ট্রাভেল কার্ড (এবিটিসি) রয়েছে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ব্যতীত), তারা চাকরি না করলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।
{{infobox|অজৈব গুঁড়ো বহনে সীমাবদ্ধতা|অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করা যাত্রীরা বিমানের কেবিনে সর্বোচ্চ ৩৫০ মিলি বা ৩৫০ গ্রাম অজৈব গুঁড়ো বহন করতে পারবেন।}}
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করেন, সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা এয়ারসাইডে থাকেন, পরবর্তী যাত্রার নিশ্চিত টিকিট থাকে, গন্তব্যের সঠিক নথিপত্র থাকে এবং আপনি নিউজিল্যান্ড, '''[[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]]''', [[অ্যান্ডোরা]], [[আর্জেন্টিনা]], [[ব্রুনেই]], [[কানাডা]], [[সাইপ্রাস]], [[ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া]], [[ফিজি]], [[আইসল্যান্ড]], [[ইন্দোনেশিয়া]], [[জাপান]], [[কিরিবাতি]], [[লিশটেনস্টাইন]], [[মালয়েশিয়া]], [[মেক্সিকো]], [[মোনাকো]], [[নাউরু]], [[নরওয়ে]], [[পালাউ]], [[পাপুয়া নিউগিনি]], [[ফিলিপাইন]], [[দক্ষিণ আফ্রিকা]], [[মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ]], [[সামোয়া]], [[সান মারিনো]], [[সিঙ্গাপুর]], [[স্লোভাকিয়া]], [[স্লোভেনিয়া]], [[সলোমন দ্বীপপুঞ্জ]], [[দক্ষিণ কোরিয়া]] (আরওকে), [[সুইজারল্যান্ড]], [[তাইওয়ান]], [[থাইল্যান্ড]], [[টোঙ্গা]], [[টুভালু]], [[সংযুক্ত আরব আমিরাত]], [[যুক্তরাজ্য]], [[যুক্তরাষ্ট্র]], [[ভানুয়াতু]] বা [[ভ্যাটিকান সিটি|ভ্যাটিকান সিটির]] নাগরিক হন, তাহলে আপনাকে অগ্রিম ভিসা নিতে হবে না। অন্য সবাইকে ট্রানজিট ভিসা (সাবক্লাস ৭৭১) বিনামূল্যে নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশের নাগরিক (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশ) [https://www.abf.gov.au/entering-and-leaving-australia/smartgates/arrivals স্মার্টগেট] ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাতে করা চেকের চেয়ে অনেক দ্রুত, তবে ভিসা প্রয়োজনীয়তার বাইরে নয়।
অস্ট্রেলিয়া এখন আর অধিকাংশ ভ্রমণকারীর পাসপোর্টে ভিসার সীল দেয় না বা ভিসার স্টিকার দেয় না; সব রেকর্ড ইলেকট্রনিকভাবে রাখা হয়। চাইলে আপনি ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সীল চাইতে পারেন, তবে আলাদা কাউন্টারে যেতে হতে পারে। ভিসার শর্ত যাচাই করতে পারবেন অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশনের [https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/already-have-a-visa/check-visa-details-and-conditions/check-conditions-online/visa-holders ভেভো] ওয়েবসাইট বা মাইভেভো অ্যাপের মাধ্যমে।
===শুল্ক ও কোয়ারেন্টাইন===
অস্ট্রেলিয়ায় '''পশু ও উদ্ভিদ'''-জাত পণ্য (যেমন খাবার, কাঠের তৈরি জিনিস, বীজ ইত্যাদি) আনার ক্ষেত্রে কঠোর কোয়ারেন্টাইন আইন রয়েছে। '''এই ধরনের সব জিনিসই ঘোষণা করতে হবে''', এমনকি এগুলো অনুমোদিত হলেও। লাগেজ প্রায়ই স্ক্যান করা হয় এবং কুকুর দ্বারা পরীক্ষা করা হতে পারে। যদি অসাবধানতাবশত ঘোষণা না করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ২৬৬৪ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, গুরুতর ক্ষেত্রে মামলা পর্যন্ত হতে পারে। ঘোষণা করা জিনিস পরীক্ষা করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা রাখা, ধ্বংস করা, ফেরত দেওয়া বা আপনার খরচে কোয়ারেন্টাইন ট্রিটমেন্ট করা হতে পারে। (পরে আপনাকে জিনিসটি সংগ্রহ করতে হতে পারে।) প্রক্রিয়াজাত ও সিল করা চকলেট বা অন্যান্য মিষ্টান্ন সাধারণত ঘোষণা ও পরীক্ষা শেষে অনুমোদিত হয়। শিশুর সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ শিশু খাদ্যও অনুমোদিত। তবে খাবারের উৎপত্তি দেশ ও আপনি যে রাজ্য দিয়ে প্রবেশ করছেন তার উপর নিয়ম আলাদা হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন: '''[http://www.agriculture.gov.au/travelling/bringing-mailing-goods কৃষি ও জলসম্পদ বিভাগ]'''।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ভ্রমণকারীরা শুল্কমুক্তভাবে সর্বোচ্চ ২.২৫ লিটার মদ্যপ পানীয়, ২৫টি সিগারেট, ২৫ গ্রাম অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য (সিগারসহ), ২টি ভেপ (রিইউজেবল বা ডিসপোজেবল) এবং সর্বোচ্চ ২০০ মিলি ভেপ তরল অস্ট্রেলিয়ায় আনতে পারবেন। ১৮ বছরের নিচে কেউ এসব আনতে পারবেন না। আর শুল্কমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে ওই শ্রেণির সব পণ্যের উপর কর দিতে হবে, কেবল অতিরিক্ত অংশে নয়।
কিছু ঝিনুক, প্রবাল এবং সুরক্ষিত প্রজাতি থেকে তৈরি জিনিসপত্র আনা নিষিদ্ধ। এর উদ্দেশ্য হলো বিপন্ন বাস্তুতন্ত্র বা প্রজাতি থেকে আসা জিনিসের ব্যবসা বন্ধ করা।
'''মুদ্রার''' ক্ষেত্রে আনা-নেওয়ার কোনো সীমা নেই। তবে যদি ১০,০০০ ডলার (অস্ট্রেলিয়ান ডলার) বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সঙ্গে থাকে, তাহলে তা ঘোষণা করতে হবে এবং কিছু কাগজপত্র পূরণ করতে হবে। ঘোষণা না করলে জরিমানা, মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা বা এমনকি গ্রেপ্তারও হতে পারে।
===বিমানে করে===
[[File:Qantas A330 VH-QPH at SYD (19810974155).jpg|thumb|[[সিডনি বিমানবন্দর]]-এ দুটি কান্তাস বিমান। আরও অনেক আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করে।]]
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, তাই বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো আকাশপথে ভ্রমণ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রবেশদ্বারসমূহের মধ্যে গুরুত্ব অনুসারে ক্রমান্বয়ে উল্লেখযোগ্য বিমানবন্দর হলো [[সিডনি]] ({{IATA|SYD}}), [[মেলবোর্ন]] ({{IATA|MEL}}), [[ব্রিসবেন]] ({{IATA|BNE}}) ও [[পার্থ]] ({{IATA|PER}})। এছাড়াও সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যায় অ্যাডিলেড, কেইর্নস, ডারউইন ও গোল্ড কোস্টেও।
[[সিডনি]] থেকে [[অকল্যান্ড]], নিউজিল্যান্ডে যেতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। এশিয়ার অনেক দেশের থেকে ফ্লাইটে সময় লাগে ৭ থেকে ১১ ঘণ্টা, [[যুক্তরাষ্ট্র]] ও [[কানাডা]]র পশ্চিম অংশ থেকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা, [[জোহানেসবার্গ]] থেকে ১৪ ঘণ্টা, [[দক্ষিণ আমেরিকা]] থেকে ১৩–১৬ ঘণ্টা এবং [[পশ্চিম ইউরোপ]] থেকে (একটি স্টপসহ) সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ যাত্রার কারণে ইউরোপ থেকে আসা অধিকাংশ ভ্রমণকারীকে একবার কোথাও স্টপ-ওভার করতে হয়। সাধারণত [[সিঙ্গাপুর]], [[হংকং]], [[দুবাই]], [[দোহা]], [[ব্যাংকক]] অথবা [[কুয়ালালামপুর]]-এ এই বিরতি নেওয়া হয়।
২০১৮ সালের মার্চ থেকে কান্তাস (Qantas) [[লন্ডন হিথরো বিমানবন্দর|লন্ডন হিথরো]] থেকে পার্থ পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে, যা মাত্র ১৭ ঘণ্টা সময় নেয়-এটি ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রথম নিয়মিত সরাসরি রুট। কান্তাস ভবিষ্যতে [[সিডনি]] থেকে লন্ডন এবং নিউইয়র্কের মধ্যে আরও কিছু সরাসরি দীর্ঘপথের ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
যদি আপনাকে কোনো গেটওয়ে শহরে নেমে ঘরোয়া ফ্লাইটে পরিবর্তন করতে হয়, তবে [[সিডনি]], [[ব্রিসবেন]] ও [[পার্থ]]-এ অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল আলাদা, যার কারণে ট্রানজিট করতে কিছুটা সময় ও ঝামেলা হতে পারে-এই বিষয়ে গাইড দেখে নেওয়া উচিত। তবে [[মেলবোর্ন]], [[অ্যাডিলেড]], [[ডারউইন]], [[কেইর্নস]] এবং [[গোল্ড কোস্ট]]-এ একই টার্মিনাল ভবনে বা হাঁটার দূরত্বে অভ্যন্তরীণ গেট অবস্থিত।
অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বিমানসংস্থা হলো জাতীয় পতাকাবাহী '''[http://qantas.com.au/ কান্তাস (Qantas)]'''। এদের সাথে রয়েছে তাদের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান '''[http://www.jetstar.com/ জেটস্টার (Jetstar)]''', যারা বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। '''[http://www.virginaustralia.com/ ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া (Virgin Australia)]''' দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালায়। ইউরোপ থেকে যারা আসছেন, তাদের জন্য '''[http://www.singaporeair.com সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স], থাই এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স''' এবং হংকংয়ের '''[http://www.cathaypacific.com ক্যাথে প্যাসিফিক (Cathay Pacific)]''' কান্তাস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বা উপসাগরীয় বিমানসংস্থাগুলোর বিকল্প হতে পারে।
কিছু রুটে '''ছাড়মূল্যের বিমানসংস্থা''' যেমন এয়ারএশিয়া এক্স, এয়ারএশিয়া (মালয়েশিয়া), এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়া, ট্রান্সনুসা, থাই এয়ারওয়েজ, বাতিক (মালয়েশিয়া), বাতিক (ইন্দোনেশিয়া), এবং স্কুট ফ্লাইট পরিচালনা করে।
২০২২ সাল থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত বিদেশি বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ান বিমানসংস্থার অংশীদার হয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে [https://www.aircanada.com এয়ার কানাডা] ও [https://www.united.com ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স]{{Dead link|date=May 2025 |bot=InternetArchiveBot }}।
==== ব্যক্তিগত বিমান পরিবহন ====
'''[http://www.australiajetcharter.com অস্ট্রেলিয়া জেট চার্টার]''' এবং '''[http://www.jetcorpaustralia.com/ জেটকর্প অস্ট্রেলিয়া]{{Dead link|date=September 2024 |bot=InternetArchiveBot }}''' সারা বছর বিভিন্ন ধরণের বিমান ব্যবহার করে সরাসরি ব্যক্তিগত ফ্লাইট সরবরাহ করে। জনপ্রিয় চার্টার বিমানবন্দরগুলির মধ্যে রয়েছে সিডনি ব্যাংকস্টাউন বিমানবন্দর, [[গোল্ড কোস্ট#বিমানযোগে|গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দর]] এবং মেলবোর্ন এসেন্ডন বিমানবন্দর।
আপনি যদি নিজস্ব ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন বা অস্ট্রেলিয়া থেকে যান, তবে আপনাকে যাত্রার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে এবং সর্বোচ্চ ৭ দিন আগে [https://flightrequest.homeaffairs.gov.au/abfsp আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনুরোধ] জমা দিতে হবে। যদি আপনার নির্ধারিত বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক না হয়, তবে আপনাকে ন্যাশনাল প্যাসেঞ্জার প্রসেসিং কমিটি (এনপিপিসি)-র মাধ্যমে [https://asap.homeaffairs.gov.au/nppc বিমান ও সমুদ্র অনুমোদন পোর্টাল]-এ আবেদন করতে হবে, যা আগমনের বা প্রস্থানের কমপক্ষে ১০ কার্যদিবস আগে জমা দিতে হয়।
=== সমুদ্রপথে ===
ক্রুজ শিপ সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ক্রুজিং মৌসুমে আসে, এ সময় প্রায় ১০টি জাহাজ বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। আপনি ক্রুজ শিপে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ফেরত ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেন। হল্যান্ড আমেরিকা লাইন, প্রিন্সেস ক্রুজেস এবং রয়্যাল ক্যারিবিয়ান প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রুজ অফার করে।
নিজস্ব ইয়টে করে অস্ট্রেলিয়ায় আসা সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে বর্ডার ফোর্সে সঠিক কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং অনুমোদিত [https://www.abf.gov.au/entering-and-leaving-australia/entering-and-leaving-by-sea/ports-of-entry প্রবেশ বন্দর]-এ পৌঁছাতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক ফেরি পরিষেবা নেই।
=== স্থলপথে ===
একসময় কিছু ট্যুর অপারেটর লন্ডন থেকে সিডনি পর্যন্ত স্থলপথে ভ্রমণের সুযোগ দিত, যেখানে কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত একটি ছোট বিমান যাত্রা ছিল। বর্তমানে কেবল মাডভেঞ্চার এই ধরনের ট্যুর পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দীর্ঘ রুট, যেমন: ২৬ সপ্তাহে ইরান–পাকিস্তান–ভারত হয়ে আসা, ২৬ সপ্তাহে ককেশাস ও মধ্য এশিয়া, ৬৪ সপ্তাহে আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–দক্ষিণ এশিয়া, অথবা আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–ককেশাস–মধ্য এশিয়া।
যারা স্বাধীনভাবে স্থলপথে আসতে চান, তারা ইউরোপ থেকে ট্রেন বা বাসে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেন এবং সেখান থেকে পার্থে (৩,৫০০ কিমি ফ্লাইট) যেতে পারেন। আরও সাহসী ভ্রমণকারীরা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরিতে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বালি পর্যন্ত পৌঁছে, সেখান থেকে ডারউইনে (২,০০০ কিমি ফ্লাইট) উড়তে পারেন। আরেকটি পথ হলো ফেরিতে ওয়েস্ট টিমোর, তারপর বাসে দিলি এবং সেখান থেকে ডারউইনে ফ্লাইট-যেখানে মাত্র ৭০০ কিমি আকাশপথ ভ্রমণ করতে হয়।
ডারউইনে কার্গো শিপ বা বার্জে (এএনএল এবং সোয়ায়ার সংস্থা) ভ্রমণ '''অনুমোদিত নয়''' (জুন ২০১৬)। তবে কেউ চাইলে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে মালবাহী জাহাজে যাত্রার ব্যবস্থা করতে পারে।
== ঘুরে দেখুন ==
অস্ট্রেলিয়া আয়তনে ''বিশাল'', তবে জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় শহরগুলির বাইরে বহু ঘণ্টা ভ্রমণ করেও সভ্যতার চিহ্ন নাও পাওয়া যেতে পারে।
=== কোয়ারেন্টাইন ===
অস্ট্রেলিয়ায় ফলমূল ও সবজি (মধুসহ) এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ কৃষি কোয়ারেন্টাইন অঞ্চলগুলিতেও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকে। তাই বড় শহরের বাইরে বা অন্য রাজ্যে গেলে গাড়িতে অতিরিক্ত ফল-সবজি বহন না করাই ভালো। বিস্তারিত জানতে দেখুন [https://interstatequarantine.org.au/ অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারস্টেট কোয়ারেন্টাইন] ওয়েবসাইট।
===গাড়িতে করে===
{{See also|অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো|গাড়িবিহীন অস্ট্রেলিয়া}}
[[File:Great Ocean Road, Lorne, Australia - Feb 2012.jpg|thumb|দ্য গ্রেট ওশেন রোড]]
[[File:Stuart Highway, Australia.jpg|thumb|মধ্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট হাইওয়ের একটি অংশ]]
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সড়ক ও মহাসড়কের একটি ভালো নেটওয়ার্ক আছে এবং গাড়ি চলাচলের খুবই প্রচলিত মাধ্যম। সিডনি, মেলবোর্ন, পার্থ ও দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে গণপরিবহন মোটামুটি নির্ভরযোগ্য হলেও দেশের বাকি অংশে ঘুরে বেড়াতে হলে গাড়ি থাকাই সুবিধাজনক, অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য।
অস্ট্রেলিয়ার জনঘনত্ব কম এবং দেশটি বিশাল-তাই প্রধান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে গাড়িতে যাতায়াতের সময় দীর্ঘ হয়। উদাহরণস্বরূপ সিডনি থেকে পার্থ (৪,০০০ কিমি) বা অ্যাডিলেড থেকে ডারউইন (৩,০০০ কিমি) যেতে গাড়িতে অন্তত অর্ধ-সপ্তাহ ধরে চালাতে হবে; বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য উড়োজাহাজে যাওয়াই উত্তম। ইউরোপীয় দৃষ্টিতে এটি মাদ্রিদ থেকে মস্কোর দূরত্বের সমান, আর উত্তর আমেরিকার দৃষ্টিতে মায়ামি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের সমান।
মেলবোর্ন, ক্যানবেরা, সিডনি ও ব্রিসবেন বিভক্ত ডুয়াল ক্যারেজওয়ে দিয়ে যুক্ত-তবে পথের অধিকাংশই পূর্ণাঙ্গ ফ্রিওয়ে মানের নয়, তাই কোথাও কোথাও এখনও সমতল সংযোগস্থল আছে। অধিকাংশ অন্যান্য মহাসড়ক এক লেনে একমুখী চলাচলের, এবং রাজ্যভেদে প্রতি ৫–২০ কিমি পরপর ওভারটেকিং লেন থাকে। ছোট কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করা সড়ক (বা মানচিত্রে শর্টকাটের মতো দেখালেও) অনেক সময় সরু বা কাঁচা হতে পারে এবং সাধারণত ধীরগতির।
অস্ট্রেলিয়ার সড়কে বড় বিপদের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও ভারী ট্রাক উল্লেখযোগ্য। গোধূলি বা রাতের অন্ধকারে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্ক থাকুন-এই সময় প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বড় আঞ্চলিক এলাকায় পাকা (সিলড) ডুয়াল-লেন সড়ক আছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে খারাপভাবে রক্ষণাবেক্ষিত মাটির রাস্তা কিংবা শুধু ট্র্যাকও থাকতে পারে। দূরত্ব ও গতি কিলোমিটারে নির্দিষ্ট হয় এবং জ্বালানি লিটারে বিক্রি হয়। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন বা টুউম্বার নগরাঞ্চলের বাইরে সড়ক বা সেতুতে টোল নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি বামে চালানো হয়। যারা ডানে চালাতে অভ্যস্ত বিদেশি চালক, প্রথম দিকে এবং বিশেষ করে গ্রামীণ ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত সাবধান থাকুন।
সাধারণভাবে বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আগমনের পর তিন মাস পর্যন্ত গাড়ি চালানো যায়। লাইসেন্সটি যদি ইংরেজিতে না হয়, তবে আপনার লাইসেন্সের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (আইডিপি) থাকতে হবে। লাইসেন্সিং বিধি ও সড়কনিয়ম রাজ্যভেদে সামান্য পরিবর্তিত হয়।
অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান অঞ্চলে ডিফল্ট গতিসীমা-নির্মিত/আবাসিক এলাকায় ৫০ কিমি/ঘণ্টা এবং গ্রামীণ সড়কে ১০০ কিমি/ঘণ্টা; তবে নর্দার্ন টেরিটরিতে (NT) শহুরে ডিফল্ট ৬০ কিমি/ঘণ্টা, আর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA) ও NT-তে গ্রামীণ ডিফল্ট ১১০ কিমি/ঘণ্টা। বিশেষ করে আউটব্যাকে অনেক প্রধান গ্রামীণ সড়কের সাইনবোর্ডে ১১০ কিমি/ঘণ্টা সীমা দেওয়া থাকে। তবে রাস্তার মান খারাপ ও ওভারটেকিংয়ের সীমিত সুযোগের কারণে গড় গতি সচরাচর ৮০ কিমি/ঘণ্টার বেশি হয় না। যে সব জাতীয় মহাসড়ক পর্বতমালা পেরিয়ে ছোট শহর দিয়ে যায়, সেখানে গড়ে ৬০ কিমি/ঘণ্টা তুলতেও কষ্ট হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় গতিসীমা খুব কড়াভাবে প্রয়োগ করা হয়-সীমা সামান্য ছাড়ালেও ভারী জরিমানার নোটিস পেতে পারেন।
যে কেউ '''ভাল-মেইনটেন করা সড়ক ছেড়ে''' অস্ট্রেলিয়ার ভেতরের দিকে যাচ্ছেন, তাদের উচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া, আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা যাচাই করা, এবং পর্যাপ্ত অতিরিক্ত জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ, অতিরিক্ত টায়ার, দেশলাই, খাদ্য ও পানি নেওয়া। কিছু দূরবর্তী সড়কে মাসে গড়ে একটিরও কম গাড়ি যেতে পারে।
জাতীয় মহাসড়ক ও শহরাঞ্চলের বাইরে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না-জরুরি অবস্থার জন্য পূর্বসতর্কতা নিন।
গরম ও পানিশূন্যতা বছরের যে কোনো সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে গাড়ির সঙ্গেই থাকুন এবং আকাশ থেকে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। এই পরামর্শকে হালকাভাবে নেবেন না-প্রতি বছরই দূরবর্তী এলাকায় গাড়ি বিকল হওয়ার পর পানিশূন্যতায় স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। যদি গাড়ি ছেড়ে যেতেই হয় (ধরা যাক বিকল হয়ে পড়ার পর অন্য কারও গাড়িতে উঠে নিলেন), তাহলে স্থানীয় থানায় ফোন করে জানিয়ে দিন-নয়তো আপনার জন্য অযথা অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।
====গাড়ি ভাড়া====
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক বড় বড় কোম্পানিসহ অনেক আউটলেটে নানান ধরনের ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায়। প্রধান আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের মধ্যে আছে [https://www.enterpriserentacar.com.au/en/car-rental/locations/australia.html এন্টারপ্রাইজ], [https://www.alamo.com/en/car-rental-locations/au.html আলামো], [https://www.nationalcar.com/en/car-rental/locations/au.html ন্যাশনাল], অ্যাভিস, বাজেট, হার্টজ, থ্রিফটি, সিক্সট এবং ইউরোপকার। বেশিরভাগ ভাড়াদাতা সংস্থা আগে থেকে বিশেষ চুক্তি না করলে তাদের গাড়ি ফেরিতে তোলার বা নর্দার্ন টেরিটরি (NT) ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA)-র সীমানা পার করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ছোট শহরগুলোতে গাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন হতে পারে। আঞ্চলিক ছোট আউটলেট থেকে একমুখী ভাড়ায় অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় আরও অনেক দেশীয় ব্র্যান্ডও আছে-যেমন [https://www.redspot.com.au/ রেডস্পট], ইস্ট কোস্ট, [https://www.jucy.com/au/en জুসি] ও নোবার্ডস। ছোট গাড়িগুলো ম্যানুয়াল (স্টিক-শিফট) হতে পারে, আর বড় গাড়ির অধিকাংশই অটোমেটিক।
[[File:Jucy Car (20132108710).jpg|thumb|বিভিন্ন কোম্পানির ক্যাম্পারভ্যানের বিন্যাস আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, জুসি এই ক্যাম্পারভ্যানটিকে রুফটপ ডাবল বেড থাকার কারণে ৪-বার্থ বলে]]
আপনার কাছে অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে, কিছু ভাড়াদাতা সংস্থা পর্যটকদের জন্য প্রণীত বিনামূল্যের [http://www.driverknowledgetests.com/learners-permit/tourist/ ড্রাইভার নলেজ টেস্ট] নিতে বলতে পারে, যেখানে মৌলিক সড়কনিয়ম থাকে; অথবা তারা আপনাকে সংক্ষিপ্ত একটি ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই করতে পারে।
====ক্যাম্পারভ্যান ====
'''ক্যাম্পারভ্যান''' হলো এমন যান যা সাধারণত একটি মিনি-ভ্যানকে মোটরহোমে (বিনোদনমূলক যান) রূপান্তর করে তৈরি করা হয়; এগুলো মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার অগণিত তরুণ ব্যাকপ্যাকারদের চাহিদা মেটায় যারা দেশজুড়ে ঘোরেন। সিডনি থেকে কেয়র্নস পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে এই যান বিশেষভাবে বেশি দেখা যায়। [[অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো]] নিবন্ধে ক্যাম্পারভ্যান ভাড়া বা কেনা সম্পর্কে আরও তথ্য আছে।
কখনও কখনও এক শহর থেকে আরেক শহরে '''রিলোকেশনের''' প্রয়োজন থাকা ক্যাম্পারভ্যান নামমাত্র খরচে-প্রতিদিন মাত্র ১ মার্কিন ডলার পর্যন্তেও-বুক করা যায়। কখনও কখনও ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জ্বালানির খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমন অফার খুঁজতে পারেন-[https://coseats.com/campervan-relocation কোসিটস], [https://www.drivenow.com.au/onewayrentals.jspc#/relocations/AU ড্রাইভনাও], [https://www.transfercar.com.au/search?pickup=&dropoff= ট্রান্সফারকার] ও [https://www.imoova.com/en ইমুভা]।
====কারপুলিং====
কারপুলিং অস্ট্রেলিয়া ঘোরার জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী উপায়-বিশেষ করে ব্যাকপ্যাকার ও বাজেট সচেতন ভ্রমণকারীদের জন্য। এতে জ্বালানির খরচ ভাগ করা যায় এবং একই পথে যাওয়া অন্যদের সঙ্গে সংযোগ ঘটে। দেশে সাধারণত ব্যবহৃত কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম হলো [https://www.rooride.app/ রুরাইড], [https://coseats.com/ কোসিটস], [https://liftshare.com/ লিফটশেয়ার] ও [https://www.carpoolworld.com/ কারপুলওয়ার্ল্ড]। অঞ্চলভেদে প্রাপ্যতা বদলাতে পারে-ভ্রমণ পরিকল্পনায় একাধিক প্ল্যাটফর্ম দেখে নেওয়া ভালো।
===ট্যাক্সিতে করে===
বড় শহর ও নগরীগুলোতে ট্যাক্সি সার্ভিস আছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায় (সিবিডি) রাস্তায় দাঁড়িয়েই ট্যাক্সি ডাকা যায়। [https://www.uber.com/global/en/cities/ উবার] ও [https://www.didiglobal.com/ দিদি] বড় শহরগুলোতে চালু। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যাক্সি খুঁজে পেতে সহায়ক কয়েকটি স্মার্টফোন অ্যাপও আছে-যেমন [https://www.mydriver.com/en মাইড্রাইভার], [https://gocatch.com/ গো-ক্যাচ]{{Dead link|date=আগস্ট ২০২৪ |bot=InternetArchiveBot }}।
শহরের বাইরে ছোট শহরগুলোতে ট্যাক্সি সেবার পরিমাণ সীমিত হতে পারে, আবার খুব ছোট বা দূরবর্তী শহরে একেবারেই নাও থাকতে পারে।
===উড়োজাহাজে===
[[File:Melbourne Airport T1 with Qantas and Jetstar jets.jpg|thumb|২৫০px|মেলবোর্ন বিমানবন্দরে কান্তাস ও জেটস্টারের উড়োজাহাজ]]
দেশের দূরত্ব দীর্ঘ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাতায়াত খুবই জনপ্রিয়। প্রধান ব্যবসায়িক করিডর (মেলবোর্ন–সিডনি–ব্রিসবেন) পথে দিনের বেলায় প্রায় প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ফ্লাইট ছাড়ে-প্রায় বাস সার্ভিসের মতোই ঘন।
সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক রুটেই সাধারণত সেরা ভাড়া পাওয়া যায়; আর ফ্লাইট কম থাকা দূরবর্তী রুটগুলোতে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়। কান্তাস অনেক সময় প্রতিযোগিতামূলক মূল্য দেয়-শুধু ফুল-সার্ভিস বলে অপশনটি বাদ দেবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় প্রধান এয়ারলাইনের সংখ্যা হাতে গোনা-তাই দেশীয় রুটে দামের তুলনা করতে সময় লাগবে না:
* '''[https://www.qantas.com.au/ কান্তাস]'''-ফুল-সার্ভিস জাতীয় বাহক; সব বড় শহর ও কিছু বড় আঞ্চলিক শহরে (কান্তাসলিংক দেখুন) ফ্লাইট আছে;
* '''[https://www.virginaustralia.com/ ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া]'''-দেশজুড়ে ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইন; বড় শহর ও কয়েকটি বড় আঞ্চলিক শহরে উড়ে;
* '''[https://www.jetstar.com/au/en/home জেটস্টার]{{cbignore}}'''-কান্তাসের ডিসকাউন্ট শাখা; সীমিত পরিষেবা ও নির্দিষ্ট আসনব্যবস্থা।
আঞ্চলিক গন্তব্যে কয়েকটি এয়ারলাইনস সেবা দেয়-ভাড়া তুলনামূলক বেশি ও ছাড় কম আশা করুন।
* '''[https://www.qantas.com.au/regions/dyn/home/qualifier-country-au কান্তাসলিংক]'''-কান্তাসের আঞ্চলিক শাখা;
* '''[https://www.rex.com.au/ রিজিওনাল এক্সপ্রেস]'''-পূর্ব উপকূলের বড় শহর ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার শহরাঞ্চলে সেবা;
* '''[https://www.airnorth.com.au এয়ারনর্থ]'''-নর্দার্ন টেরিটরি ও [[তিমুর-লেস্টে]];
* '''[https://www.skytrans.com.au স্কাইট্রান্স এয়ারলাইন্স]'''-কুইন্সল্যান্ডের আঞ্চলিক রুটে;
* '''[https://www.sharpairlines.com.au/ শার্প এয়ারলাইন্স]'''-ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি আঞ্চলিক শহরে।
====চার্টার====
{{see also|সাধারণ বিমান চলাচল}}
নিয়মিত নির্ধারিত ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়ার হাজারো বিমানবন্দরের মধ্যে কেবল অল্প কয়েকটিতেই যায়। চার্টার বিমানের বহু বিকল্প আছে-এগুলো ছোট শহর বা অফশোর দ্বীপেও সরাসরি নিয়ে যেতে পারে। একই দলে ৩ জন বা তার বেশি হলে খরচ প্রায়ই নির্ধারিত ফ্লাইটের সমতুল্য হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান প্রাইভেট পাইলটস লাইসেন্স ব্যক্তিগত পাইলটকে যাত্রী বহনের ও যাত্রীদের কাছ থেকে প্লেন ভাড়া ও জ্বালানির খরচ আদায়ের অনুমতি দেয়; তবে যাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া বা বাণিজ্যিকভাবে উড়তে দেয় না। তারপরও স্থানীয় ফ্লাইং ক্লাবগুলোর ওয়েবপেজ দেখলে দেখবেন, রৌদ্রোজ্জ্বল সাপ্তাহিক ছুটিতে কেউ প্লেন ও জ্বালানির খরচ ভাগ করলে বেসরকারি পাইলটরা প্রায়ই উড়তে আগ্রহী থাকেন।
===রেলে করে===
{{see also|অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ|অস্ট্রেলিয়া পাড়ি রেলে}}
[[File:Passenger rail services in Australia en.png|thumb|upright=2.1|অস্ট্রেলিয়ার প্রধান আন্তঃনগর রেলপথের মানচিত্র]]
অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রায় ট্রেন খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়: সাধারণত গাড়ির চেয়ে ধীর, বিমানের চেয়ে ব্যয়বহুল, আর বাসের চেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে। রাজ্যগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক সমন্বয়হীনতা, বিশাল দূরত্ব আর তুলনামূলক কম জনসংখ্যার কারণে জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক ধীরগতির এবং মূলত পণ্যবাহী। তবুও আন্তঃনগর রেলভ্রমণ বেশ দৃশ্যাবলিময় হতে পারে এবং দেশকে নতুন কোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। কিছু ছোট শহরে যাওয়ার জন্য এটি সাশ্রয়ীও হতে পারে-সেসব রুটে বিমানের ভাড়া রাজ্য রাজধানীগুলোর রুটের তুলনায় প্রায়ই বেশি পড়ে।
বর্তমান অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীবাহী রেল সেবা রাজ্য রাজধানীকে আঞ্চলিক শহরের সঙ্গে যুক্ত করে-যেমন [[বেন্ডিগো]] থেকে মেলবোর্ন, বা কেয়র্নস থেকে ব্রিসবেন। দুইটি আন্তমহাদেশীয় রুট (অ্যাডিলেড–ডারউইন ও সিডনি–পার্থ) বিলাসবহুল, পর্যটকমুখী সেবা-যাদের হাতে সময় ও বাজেট দুটোই বেশি। আপনি যদি রেলপ্রেমী না হন, তবে সাধারণত উড়োজাহাজ বা গাড়িই দ্রুত ও সাশ্রয়ী।
তাসমানিয়ায় কোনো যাত্রীবাহী রেল নেই। নর্দার্ন টেরিটরিতে কেবল ডারউইন থেকে অ্যালিস স্প্রিংস হয়ে অ্যাডিলেড পর্যন্ত একটি লাইন আছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ক্যানবেরার কেন্দ্রের কাছেই একটি মাত্র স্টেশন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় রেলসেবা প্রধানত অ্যাডিলেডের শহরতলি নেটওয়ার্কে সীমিত; তবে মেলবোর্নগামী ট্রেন ভিক্টোরিয়া-সীমানা পর্যন্ত কয়েকটি দেশীয় শহরে থামে।
====দূরপাল্লার ট্রেন অপারেটর====
[[File:Indian Pacific Bellevue, Western Australia-small.jpg|thumb|ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক]]
অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন একটি বেসরকারি ও চারটি রাজ্য সরকারি অপারেটরের মিশেলে পরিচালিত হয়। দেশজুড়ে সব দূরপাল্লার অপারেটরকে কভার করে এমন কেন্দ্রীয় টিকিটিং সেবা নেই-একাধিক অপারেটরের রুটে গেলে আলাদা আলাদা টিকিট কিনতে হবে।
* '''[https://www.journeybeyondrail.com.au/ জার্নি বিয়ন্ড]'''-বেসরকারি বিলাসবহুল পর্যটক ট্রেন অপারেটর; ''দ্য গ্যান'' [[অ্যাডিলেড]] থেকে [[অ্যালিস স্প্রিংস]] হয়ে [[ডারউইন]] পর্যন্ত (শুধু মার্চ থেকে নভেম্বরের মধ্যে), ''দ্য ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক'' [[সিডনি]] থেকে [[অ্যাডিলেড]] হয়ে [[পার্থ]] পর্যন্ত, এবং ''দ্য ওভারল্যান্ড'' অ্যাডিলেড থেকে [[মেলবোর্ন]] পর্যন্ত চালায়। ওভারল্যান্ড ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভর্তুকিপ্রাপ্ত-তাই জার্নি বিয়ন্ডের অন্যান্য সেবার চেয়ে সস্তা-তবে এতে স্লিপার কোচ নেই, পুরো যাত্রা দিনের মধ্যেই শেষ হয়।
* '''[https://transportnsw.info/ ট্রান্সপোর্ট নিউ সাউথ ওয়েলস (Transport NSW)]'''-সিডনিকে কেন্দ্র করে নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW)-এ সেবা; আশেপাশের শহরে ইন্টারসিটি ট্রেন, আর দূরপাল্লায় এনএসডব্লিউ ট্রেনলিংক (NSW TrainLink) মেলবোর্ন, [[ব্রিসবেন]], ক্যানবেরা ও রাজ্যের দূরবর্তী আঞ্চলিক কেন্দ্রে যায়। রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায় এবং এসব রুটে রেল+কোচ মিলিয়ে কম্বিনেশন টিকিট তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
* '''[http://www.vline.com.au ভি/লাইন (V/Line)]'''-মেলবোর্নকে কেন্দ্র করে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক কেন্দ্রে ট্রেন; রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায়। মেলবোর্ন–অ্যাডিলেড ও মেলবোর্ন–ক্যানবেরা রুটে ট্রেন+কোচ মিলিত সেবা আছে।
* '''[https://www.queenslandrailtravel.com.au/ কুইন্সল্যান্ড রেল]'''-ব্রিসবেনকে কেন্দ্র করে কুইন্সল্যান্ডের দূরপাল্লার রেল; ফ্ল্যাগশিপ ''স্পিরিট অব কুইন্সল্যান্ড'' ব্রিসবেন–[[কেয়র্নস]] রুটে। এছাড়া ''ইনল্যান্ডার'' [[টাউনসভিল]]–[[মাউন্ট আইসা]] এবং ''স্পিরিট অব দ্য আউটব্যাক'' ব্রিসবেন–[[রংগ্রীচ]] ([[রকহ্যাম্পটন]] হয়ে) রুটে চলে।
* '''[http://www.transwa.wa.gov.au ট্রান্সডব্লিউএ (Transwa)]'''-ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া সরকারের অপারেটর; পার্থ থেকে [[কালগুর্লি]] ও [[বানবারি]] পর্যন্ত ট্রেন চালায়। রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমে যেখানে আগে রেল ছিল সেখানে ট্রান্সডব্লিউএ অনেক কোচ সেবাও চালায়।
====মোটোরেল সেবা====
একসময় অস্ট্রেলিয়ায় মোটোরেল প্রচলিত ছিল-ট্রেনের পেছনে বিশেষ বগিতে নিজের গাড়ি তোলা যেত। বর্তমানে এই সেবা কেবল জার্নি বিয়ন্ডের অ্যাডিলেড–পার্থ বা অ্যাডিলেড–ডারউইন রুটে আছে। মাঝপথের কোনো স্টেশনে গাড়ি নামানো যায় না।
====রেল পাস====
সারা অস্ট্রেলিয়ার সব ট্রেনে চলার মতো কোনো একক রেল পাস নেই। তবে আপনি যদি রেল-উৎসাহী হন এবং ব্যাপক রেলভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, কয়েকটি পাসে সাশ্রয় হতে পারে। কিনবার আগে ভ্রমণসূচি ভালোভাবে গুছিয়ে নিন। দেশের ট্রেন কম-ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে এবং আঞ্চলিক শহরে পৌঁছাতে সময়টা অস্বস্তিকর হতে পারে।
* '''[http://www.nswtrainlink.info/deals/discovery ডিসকভারি পাস]'''-সব NSW ট্রেনলিংক (ট্রেন ও কোচ) সেবায় প্রযোজ্য। নিউ সাউথ ওয়েলস জুড়ে, উত্তরে ব্রিসবেন এবং দক্ষিণে মেলবোর্ন পর্যন্ত যেতে পারবেন।
* কুইন্সল্যান্ড রেল কোস্টাল পাস ও কুইন্সল্যান্ড রেল এক্সপ্লোরার পাস।
====স্থানীয় গণপরিবহন====
[[File:Cityrail-millennium-M32-ext.jpg|thumb|সিডনির এক শহরতলি ট্রেন]]
[[File:D2.5007 + C2.5111 bourke.JPG|thumb|বিশ্বের বৃহত্তম ট্রাম নেটওয়ার্কে সেবাপ্রাপ্ত মেলবোর্ন]]
সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, [[উলংগং]] ও [[নিউক্যাসেল (নিউ সাউথ ওয়েলস)|নিউক্যাসেল]]-এসব শহরে উপনগর রেল ও বাস শহুরে গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বিত। মেলবোর্ন, অ্যাডিলেড, সিডনি, নিউক্যাসেল, ক্যানবেরা ও গোল্ড কোস্টে ট্রামও চলে; সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে ফেরি আছে। সিডনিতে দেশের একমাত্র মেট্রো লাইন চালু। বাকি রাজধানী শহরগুলোতে কেবল বাসসেবা আছে। বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট শহরভিত্তিক গাইড দেখুন।
===কোচে করে===
{{seealso|অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ায় (আন্তঃনগর) কোচ ভ্রমণ সস্তা ও সুবিধাজনক, যদিও আন্তঃরাজ্য দূরত্ব দীর্ঘ বলে ভীতিজনক মনে হতে পারে। গ্রেহাউন্ডের নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বড়; এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় রাজ্য পরিচালিত কোচ নেটওয়ার্ক আছে-যেগুলো রাজ্যের রেলব্যবস্থার সঙ্গে ভালোভাবে একীভূত, তবে একক পরিষেবা হিসেবেও বুক করা যায়। অন্যান্য রাজধানী শহর থেকে পার্থে কোনো কোচ সেবা নেই।
* {{listing
| নাম=ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস | ইউআরএল=http://www.fireflyexpress.com.au | ইমেইল=enquiries@fireflyexpress.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=১৩০০ ৭৩০ ৭৪০ (স্থানীয় হার), +৬১ ৩ ৮৩১৮ ০৩১৮ (আন্তর্জাতিক কলার) | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিকে যুক্ত করে সেবা দেয়।
}}
* {{listing
| নাম=গ্রেহাউন্ড | ইউআরএল=http://www.greyhound.com.au | ইমেইল=info@greyhound.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=১৩০০ ৪৭৩ ৯৪৬ (স্থানীয় হার) | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| শেষ সম্পাদনা=২০২৩-০৫-২২| বিবরণ=গ্রেহাউন্ড প্রতিদিন অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ১,১০০-র বেশি গন্তব্যে যায়। টিকিটিংয়ের বিভিন্ন ধরন আছে, যার মধ্যে সারাদেশে ১৫–১২০ দিনের জন্য সীমাহীন ওঠা–নামার পাস (“হুইমিট পাস”) এবং মেলবোর্ন–কেয়র্নস রুটে ৭–৩০ দিনের “ইস্ট কোস্ট হুইমিট” অন্তর্ভুক্ত।
}}
* {{listing
| নাম=মারিজ | ইউআরএল=http://www.murrays.com.au | ইমেইল=reservations@murrays.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=+৬১ ১৩ ২২ ৫১ | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=মারিজ ক্যানবেরা–সিডনি, [[নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ উপকূল|এনএসডব্লিউ দক্ষিণ উপকূল]] ও [[স্নোয়ি মাউন্টেনস|তুষারাচ্ছন্ন ঢাল]] রুটে সেবা দেয়।
}}
* {{Listing|name=প্রিমিয়ার মোটর সার্ভিসেস|url=https://premierms.com.au/|lastedit=2023-05-22|content=প্রিমিয়ার পূর্ব উপকূল জুড়ে বাস চালায়—দক্ষিণ এনএসডব্লিউর ইডেন থেকে শুরু করে দূর-উত্তর কুইন্সল্যান্ডের কেয়র্নস পর্যন্ত। গন্তব্য গ্রেহাউন্ডের চেয়ে কম হলেও বাসসমূহ মানসম্মত এবং ভাড়া গ্রেহাউন্ডের তুলনায় প্রায় ১০% কম।}}
===নৌপথে===
[[File:Spirit of Tasmania Port Melbourne.jpg|thumb|পোর্ট মেলবোর্নে ''স্পিরিট অব তাসমানিয়া II'']]
সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে গণপরিবহনের অংশ হিসেবে ফেরি সেবা আছে। আঞ্চলিক এলাকার কিছু ছোট সড়কে এখনও নদী বা খাল পার হতে পন্টুন (পান্ট) চলাচল করে। ব্যারিয়ার রিফের দ্বীপগুলোতে কিছু নির্ধারিত নৌসেবা আছে, আর কয়েকটি ক্রুজ জাহাজও অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপ্রান্ত ঘুরে যায়।
তবে বড় আন্তঃনগর ফেরি সেবা বিরল। মনে রাখবেন-বেশিরভাগ গাড়িভাড়া কোম্পানি তাদের গাড়ি ফেরিতে তুলতে দেয় না।
* '''[http://www.spiritoftasmania.com.au/ দ্য স্পিরিট অব তাসমানিয়া]'''-অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র দীর্ঘপাল্লার ফেরি [[তাসমানিয়া]]র [[ডেভনপোর্ট]] থেকে [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]]র [[জিলং]] পর্যন্ত চলে; এই রুটে বাস প্রণালী পেরিয়ে প্রতিদিন গাড়ি ও যাত্রী বহন করে। দিনের ও রাতের উভয় সময়েই সার্ভিস থাকে। উড়োজাহাজের চেয়ে সাধারণত বেশি খরচ পড়ে, তবে নিজস্ব যান নিতে চাইলে সার্থক।
* '''[https://www.sealink.com.au/ সিলিংক]'''-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম দক্ষিণের দ্বীপ [[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]কে মূল ভূখণ্ড [[সাউথ অস্ট্রেলিয়া]]র [[কেপ জার্ভিস]]-এর সঙ্গে নিয়মিত কার ফেরিতে যুক্ত করে।
* '''[https://spencergulfsearoad.com/ স্পেনসার গাল্ফ সিরোড]''' (সি–এস–এ)-[[ইয়ার্ক উপদ্বীপ]]র [[কাওয়েল]] (বা [[ফ্র্যাঙ্কলিন হারবার]])-এর কাছে লাকি বে থেকে [[ইয়র্ক উপদ্বীপ]]র ওয়ালারু পর্যন্ত স্পেনসার গাল্ফ পেরিয়ে শর্টকাট দেয়। সেবা প্রায়ই স্থগিত হয়েছে, তবে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এটি চালু রয়েছে।
===লিফটে করে===
তাসমানিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরি ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে লিফট নেওয়া (হিচহাইকিং) অবৈধ; শাস্তি শূন্য (সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি) থেকে শুরু করে কুইন্সল্যান্ডে ৩,২০০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সব রাজ্যেই ফ্রিওয়েতে বাঁধের ধারে দাঁড়ানো বা হাঁটা নিষিদ্ধ-ফলে বাস্তবে অনেক জায়গায় লিফট নেওয়া বেআইনি হয়ে যায়।
জরুরি অবস্থায় বাধ্য হলে কোনো চালক আপনাকে নিকটতম শহর পর্যন্ত সাহায্য করতে পারেন। (অনেক আন্তঃনগর মহাসড়ক ও ফ্রিওয়েতে জরুরি ফোন থাকে।)
তারপরও গ্রামীণ এলাকায় লিফট চাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সকাল সকাল বেরোনোই উত্তম। শহরের প্রধান এক্সিটের কাছে-তবে রাস্তায় নয়-দাঁড়ানো সবচেয়ে ভালো।
===সাইকেলে===
অস্ট্রেলিয়ায় শহরের মধ্যে দূরপাল্লায় সাইকেলে যাতায়াত খুব একটা দেখা যায় না; অধিকাংশ দূরপাল্লার মহাসড়কে সাইক্লিস্টদের জন্য সুযোগ-সুবিধা দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ সিডনি–ব্রিসবেন সাইকেলে যেতে ২–৩ সপ্তাহ ধরতে হবে-প্রতিদিন প্রায় ৮০–১০০ কিমি করে।
তবু সাহসী ভ্রমণকারীরা দীর্ঘপথ সাইকেলে কভার করেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে ভিন্ন অভিজ্ঞতায় দেখেন। নালারবরসহ বিচ্ছিন্ন মহাসড়কেও দীর্ঘপথ সাইকেলযাত্রী দেখা যায়।
কিছু রাজ্যে পুরনো রেলপথকে রেল ট্রেলে রূপান্তর করা হয়েছে। [https://www.railtrails.org.au/ রেল ট্রেল অস্ট্রেলিয়া] ওয়েবসাইটে মূল মহাসড়কের বাইরে ভালো রুটের তথ্য আছে; ‘মারে–টু–দ্য–মাউন্টেন্স’ ট্রেল মানের দিক থেকে সেরা এবং পথে দেখার/করার বিষয়ও বেশি। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় মাউন্টেন বাইকারদের জন্য দীর্ঘ ট্রেল উন্নয়ন করা হয়েছে-মুন্ডা বিদ্দি ট্রেল বহুদিন ধরে বুশল্যান্ডের ভেতর দিয়ে যায় এবং রুটে রাতযাপনের জন্য কুঁড়েঘর (হাট) আছে।
যেখানেই সাইকেল চালান-রাজধানী শহরগুলোর নগর বিস্তার ছেড়ে বেরোলেই পরিকল্পনা করে বেরোন এবং রসদ সঙ্গে নিন।
'''[[নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং]]''' নিবন্ধে নিউ সাউথ ওয়েলস-নির্দিষ্ট তথ্য দেখুন।
===হাইকিং===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং}}
অস্ট্রেলিয়ার কিছু ভূদৃশ্য কেবল হেঁটেই সঠিকভাবে অনুভব করা যায়। তাসমানিয়ায় সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের [[ওভারল্যান্ড ট্র্যাক]] ও সাউথ কোস্ট ট্র্যাক-এ দু’টি হাঁটার/হাইকিং-ভিত্তিক ছুটির “টু–ডু” আইটেমের চমৎকার উদাহরণ। বাইসেন্টেনিয়াল ন্যাশনাল ট্রেল বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেলগুলোর একটি-যা উত্তর কুইন্সল্যান্ডের [[কুকটাউন]] থেকে [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]]র [[হিলসভিল]] পর্যন্ত গেছে।
==দেখুন==
===বন্যপ্রাণী===
[[File:Koala climbing tree.jpg|thumb|একটি কোয়ালা]]
{{see also|অস্ট্রেলেশীয় বন্যপ্রাণী}}
অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ বহু মিলিয়ন বছর ধরে বিশ্বের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফল-একেবারেই স্বতন্ত্র। এখানে থলি-ওয়ালা স্তন্যপায়ী (মার্সুপিয়াল) আর ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী (মনোট্রিম) বড় একটি দল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাণী-আইকনগুলোর মধ্যে ক্যাঙ্গারু (জাতীয় প্রতীক) ও কোআলা উল্লেখযোগ্য। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ হবে না যদি প্রাকৃতিক আবাসে এদের কিছু না-দেখেন।
====বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা====
* প্রতিটি প্রাদেশিক রাজধানী শহরে '''বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা''' রয়েছে। তবে ছোট শহর যেমন [[মিলডুরা]] বা [[মোগো]]-তে কিংবা [[হ্যামিল্টন দ্বীপ]]-এও প্রাণী উদ্যান দেখা যায়। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় গেলে ওয়ারাওয়ং ফনা স্যাংচুয়ারি ঘুরে আসতে পারেন, আর সিডনির টারোঙ্গা চিড়িয়াখানায় কোয়ালা দেখার সুযোগ রয়েছে।
====প্রকৃতিতে====
[[File:Tassy Devil.jpg|thumb|একটি তাসমানিয়ান ডেভিল]]
* '''ক্যাঙ্গারু''' ও '''ওয়ালাবি''' অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব জাতীয় উদ্যানে পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল [[সিডনি]]র রাস্তায় তাদের দেখা না মিললেও শহরতলির আশেপাশে সাধারণত দেখা যায়।
* '''ওম্বাট''' ও '''ইকিডনা'''ও প্রচুর আছে, তবে তারা মাটির নিচে সুড়ঙ্গ করে লুকিয়ে থাকার কারণে খুঁজে পাওয়া কঠিন। [[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]ে প্রচুর ইকিডনা দেখা যায়।
* '''কোয়ালা''' সারা দেশের বনভূমিতে থাকে, তবে গাছে উঁচুতে থাকায় খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। দিনের বেলা ভালোভাবে দেখা যায়, বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ার [[পেইনসভিল (ভিক্টোরিয়া)|পেইনসভিল]] কাছের রেমন্ড দ্বীপে। এছাড়া গ্রেট ওশেন রোডের ওটওয়ে কোস্ট বা সানশাইন কোস্টের [[নুসা জাতীয় উদ্যান]] এলাকায়ও ভালো সুযোগ থাকে।
* '''এমু''' মূলত মধ্য অস্ট্রেলিয়ায় বেশি দেখা যায়। [[কুরাওইন্যা জাতীয় উদ্যান]]ে গেলে অবশ্যই তাদের দেখা মিলবে।
* '''ক্যাসোয়ারি''' মূলত উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ক্রান্তীয় রেইনফরেস্টে থাকে, তবে এরা মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতি হওয়ায় দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
* '''প্লাটিপাস''' সাধারণত ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস ও দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডের নদীখাতে পাওয়া যায়। ভোর বা সন্ধ্যায় তাদের দেখার সম্ভাবনা বেশি। [[বোম্বালা]], [[ডেলিগেট (নিউ সাউথ ওয়েলস)|ডেলিগেট]] বা ভিক্টোরিয়ার [[স্কিপটন]] এ প্লাটিপাস সংরক্ষণ এলাকায় চেষ্টা করা যেতে পারে।
===অপরাধীদের স্থান===
অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক ইতিহাসের একটি বড় অংশ ছিল যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো দণ্ডিত অপরাধীদের জন্য শাস্তি-উপনিবেশ হিসেবে। সেই সময়ের বন্দী পরিবহনের স্মৃতি বহন করে এমন বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও টিকে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো [[তাসমানিয়া]]র [[পোর্ট আর্থার (তাসমানিয়া)|পোর্ট আর্থার]] এবং [[পার্থ]], [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]]র নিকটবর্তী [[পার্থ/ফ্রিম্যান্টল|ফ্রিম্যান্টল]]-এ অবস্থিত ফ্রিম্যান্টল কারাগার। এছাড়াও পুরো দেশ জুড়ে আরও অনেক স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে।
===স্মৃতিস্তম্ভ===
[[File:07 Sydney Opera House in black and white, Australia.jpg|thumb|সিডনি অপেরা হাউস, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শনগুলির একটি]]
অস্ট্রেলিয়ায় বহু নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো সারা বিশ্বেই বিখ্যাত। [[রেড সেন্টার]]-এ অবস্থিত [[উলুরু]] থেকে শুরু করে সিডনির সিডনি হারবার ব্রিজ ও অপেরা হাউস পর্যন্ত।
অস্ট্রেলিয়ার ছোট শহরগুলোর একটি ঐতিহ্য হলো বড় আকারের ভাস্কর্য তৈরি করা, যা স্থানীয় নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে দেখতে পারেন [[অস্ট্রেলিয়ার বড় জিনিসপত্র]]।
অস্ট্রেলিয়ায় হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিবন্ধিত রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কো (ইউনেস্কো) স্বীকৃত ২১টি [[বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান]]।
অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি ধর্মীয় দেশ নয়, তবে কিছু কিছু গির্জা সুপরিচিত স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে খ্যাত। এর উদাহরণ হলো সিডনির সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রাল এবং [[অ্যাডিলেড|অ্যাডিলেডের]] সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল।
===জাতীয় উদ্যান===
{{see also|অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষণ এলাকা|অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান}}
[[File:Beech Forest (AU), Great Otway National Park, Beauchamp Falls -- 2019 -- 1271.jpg|thumb|ভিক্টোরিয়ার গ্রেট অটওয়ে ন্যাশনাল পার্কে বিউশ্যাম্প ফলস]]
অস্ট্রেলিয়ার প্রকৃতির সেরা রূপের অনেকটাই দেখা যায় এর জাতীয় উদ্যানগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০০-রও বেশি জাতীয় উদ্যান আছে, যা দেশটিকে পৃথিবীতে সর্বাধিক জাতীয় উদ্যানসমৃদ্ধ দেশ করে তুলেছে। সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় বাছাই করা কঠিন হতে পারে, তবে কিছু উদ্যান ভ্রমণকারীদের কাছে অন্যদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। কিছু জাতীয় উদ্যান-যার মধ্যে [[মুঙ্গা-থির্রি–সিম্পসন মরুভূমি জাতীয় উদ্যান|অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্যানটিও]] রয়েছে-অতিদূরবর্তী এলাকায়, যেখানে যাওয়ার কোনো পাকা সড়ক নেই। সেখানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো চারচাকা চালিত গাড়িতে অফ-রোড ড্রাইভিং। এ ধরনের যাত্রায় যাওয়ার আগে খাদ্য, পানি ও জ্বালানির যথেষ্ট মজুতসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিন, এবং জরুরি অবস্থার কথা ভেবে উচ্চ খরচ সত্ত্বেও একটি [[Mobile phones#Satellite phones|স্যাটেলাইট ফোন]] ভাড়া নেওয়া অত্যন্ত সুপারিশকৃত। কুইন্সল্যান্ড, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় '''কনজারভেশন পার্ক'''ও আছে-এগুলোও অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংরক্ষিত এলাকা, তবে জাতীয় পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়ার মতো গুরুত্বপ্রাপ্ত নয়।
নিউ সাউথ ওয়েলসে, সিডনির পশ্চিমে অবস্থিত এবং [[ইউনেস্কো (ইউনেস্কো)|ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান]] [[ব্লু মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক]] না গেলে কোনো ভ্রমণ সম্পূর্ণ হয় না-এখানে আছে বহু আদিবাসী পবিত্র স্থান, ভিউপয়েন্ট, পাহাড় ও মালভূমি। রাজ্যের আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে সিডনির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত সমুদ্রতীরের পুরোনো প্রিয় [[রয়্যাল ন্যাশনাল পার্ক]], মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের আবাস [[কোশিয়াস্কো ন্যাশনাল পার্ক]], গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টের জন্য [[ডরিগো ন্যাশনাল পার্ক]] বা [[নিউ ইংল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক]], আর জনাকীর্ণতা এড়াতে চাইলে অদ্ভুত কিন্তু দারুণ “ওয়ালস অব চায়না” ভূরূপের জন্য অপেক্ষাকৃত নির্জন [[মাঙ্গো ন্যাশনাল পার্ক]]।
নর্দার্ন টেরিটরিতে সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো [[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক]] এবং [[উলুরু-কাতা জুটা ন্যাশনাল পার্ক]]-দুটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রতীকসম নিদর্শন। অন্য জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে বহু জলপ্রপাতের আবাস [[লিচফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক]], ক্যাথরিন গর্জের জন্য [[নিটমিলুক ন্যাশনাল পার্ক|নিটমিলুক]], আর গিরিখাত ও ক্যানিয়নের জন্য [[তজোরিতজা / ওয়েস্ট ম্যাকডোনেল ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[ওয়াটারকা ন্যাশনাল পার্ক]]।
কুইন্সল্যান্ডে, নর্দার্ন টেরিটরির মতোই সবচেয়ে বিশ্ববিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো [[ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট]] ও [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]-একটি পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবন্ত বর্ষাবনের জন্য, আরেকটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থার জন্য। আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টসমৃদ্ধ [[ল্যামিংটন ন্যাশনাল পার্ক]], বিশ্বের সবচেয়ে বড় বালিয়াড়ি দ্বীপ এবং বালুর ওপর বন গজানোর একমাত্র উদাহরণের জন্য [[ক’গারি|গ্রেট স্যান্ডি ন্যাশনাল পার্ক]], এবং সাদা বালুকাবেলার জন্য [[হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ]]। তুলনামূলক অখ্যাত হলেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদাপ্রাপ্ত [[বুজামুল্লা ন্যাশনাল পার্ক]] এবং ভূদৃশ্য ও শিলাচিত্রের জন্য [[কার্নারভন ন্যাশনাল পার্ক]]।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় উদ্যানগুলোর ধরন বৈচিত্র্যময়, আর সবচেয়ে স্বীকৃত হলো [[ইকারা-ফ্লিন্ডার্স রেঞ্জস ন্যাশনাল পার্ক]]-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বললেই অনেকের মাথায় প্রথম এটিই আসে। আরও আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য [[নারাকুর্ট গুহা ন্যাশনাল পার্ক]] এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাবরিজিনাল সাংস্কৃতিক স্থানের জন্য [[দ্য কুরঙ]]।
তাসমানিয়ায় প্রকৃতির বন্যতা সবচেয়ে বেশি; [[তাসমানিয়ার জাতীয় উদ্যান|এখানকার উদ্যানগুলোর]] প্রায় অর্ধেকের একটু কমই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী-ফলে কোনটা দেখবেন তা বেছে নেওয়া কঠিন। [[ক্র্যাডল মাউন্টেন–লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]] সবচেয়ে প্রতীকী উদ্যান, আর রাজ্যের সবচেয়ে বড় উদ্যান [[সাউথওয়েস্ট ন্যাশনাল পার্ক]]। সহজে পৌঁছানো যায় এমন পাহাড় চাইলে [[হার্টজ মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক]] বা [[মাউন্ট ফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক]] সাধারণত সেরা পছন্দ; শেষেরটি ও [[বেন লোমন্ড ন্যাশনাল পার্ক]] স্কি ও স্নো-স্পোর্টসের জন্যও পরিচিত। ভিন্ন ধরনের উদ্যান চাইলে সমুদ্রসৈকতের জন্য [[ফ্রেসিনেট ন্যাশনাল পার্ক]] এবং বিশ্বের অন্যতম উচ্চ সমুদ্রক্লিফের জন্য [[তাসমান ন্যাশনাল পার্ক]] দেখুন।
ভূখণ্ডের সবচেয়ে ছোট রাজ্য হয়েও ভিক্টোরিয়ার অফার অনেক। সবচেয়ে পরিচিত [[পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক]]-পার্কের নাম যতটা না পরিচিত, তার বিখ্যাত “টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস” ভূরূপই বেশিরভাগ দর্শনার্থী টেনে আনে। আরও আছে [[উইলসন্স প্রোমন্টরি]]-মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সর্বদক্ষিণ বিন্দুর আবাস-আর গোলাপি লেকের জন্য [[মারে সানসেট ন্যাশনাল পার্ক]]।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া-বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপ-জাতীয় অঞ্চল-দেখার মতো জায়গায় ভরপুর। সবচেয়ে পরিচিত [[নাম্বুং ন্যাশনাল পার্ক]] তার পিনাকলস মরুভূমির জন্য; আরও আছে [[কালবারি ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[কারিজিনি ন্যাশনাল পার্ক]]-দুটিতেই অনন্য ভূতাত্ত্বিক গঠন। বিশ্বের সবচেয়ে ঘন শিলাচিত্রসম্ভারের একটি হওয়ার জন্য [[মুরুজুগা ন্যাশনাল পার্ক]]ও উল্লেখযোগ্য। [[পুরনুলুলু ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[শার্ক বে]]-দুটিই [[ইউনেস্কো (ইউনেস্কো)|ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী]], [[পার্থ]] থেকে দূরে হলেও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য। আর যদি মনে করেন সব সুন্দর দৃশ্যই জমিতে-তা হলে ভুল ভাবছেন। নিনগালু মেরিন পার্ক (আর [[Exmouth (Western Australia)|এক্সমাউথ]] ও [[Coral Bay|কোরাল বে]]) সমুদ্রজীবনপ্রেমীদের জন্য অফারের শেষ নেই।
===মহাকাশ===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ার বিশাল, খোলা আউটব্যাক এলাকাগুলো মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। তবে উত্তর গোলার্ধের তুলনায় এখানে নক্ষত্রপুঞ্জগুলো ভিন্ন-কারণই বা দক্ষিণ গোলার্ধ। শহর থেকে শুরু করে দূর আউটব্যাক পর্যন্ত নানা ধরনের [[অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ|অ্যাস্ট্রোট্যুরিজম]] সাইট আছে।
===খেলা===
[[File:Ball is in dispute in Hawthorn-Essendon AFL match.jpg|thumb|মেলবোর্নে এএফএল ম্যাচ দেখা একদমই ‘মাস্ট’]]
রাজধানী থেকে ছোট্ট শহর-অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ sport/খেলাধুলা। তুলনামূলক ছোট জনসংখ্যা সত্ত্বেও অলিম্পিকে ধারাবাহিক সাফল্যই এর প্রমাণ। বেশিরভাগ ম্যাচই সাপ্তাহিক ছুটির সময় (শুক্রবার রাত থেকে সোমবার রাত) হয়। অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা সাধারণত ভদ্র; তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার দলগুলোর ভক্তরাও একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখেন-চিৎকার-চেঁচামেচি হতে পারে, কিন্তু সহিংসতা খুবই বিরল।
{{Infobox|ফুটবল|অস্ট্রেলিয়ায় "football/ফুটবল" শব্দটি দ্ব্যর্থক; জায়গা ও আলাপসঙ্গীর ওপর অর্থ বদলে যায়। তবে একা "football" (ফুটবল) বলা হলে তা প্রায় কখনোই এসোসিয়েশন ফুটবল বোঝায় না—অস্ট্রেলিয়ায় সেটি "সকার" নামে পরিচিত। সাধারণভাবে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে "football" (ফুটবল) বা "footy" (ফুটি) বলতে '''রাগবি লিগ''' বোঝায়, আর অস্ট্রেলিয়ার বাকি অংশে বোঝায় '''অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল'''।
অযোগ্য/কোয়ালিফাই না করা '''rugby/রাগবি''' শব্দটি অস্ট্রেলিয়ায় সর্বদা রাগবি ইউনিয়ন বোঝায়—কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসেও, যেখানে রাগবি লিগ বেশি জনপ্রিয়। তাই যদি কেউ জিজ্ঞেস করে “ফুটবল না রাগবি পছন্দ?”, তারা আসলে রাগবি লিগ না রাগবি ইউনিয়ন—এটা জানতে চায়।}}
* ভিক্টোরিয়ায় শীতকালে '''[[অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল]]''' (অজি রুলস, কিছু জায়গায় শুধু “ফুটি”) এক কথায় জীবনযাত্রার অংশ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে একটি ম্যাচ দেখে নিন। ভিক্টোরিয়ায় জন্ম ও জনপ্রিয়তা হলেও জাতীয় প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা '''[https://www.afl.com.au/ অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ (এএফএল)]'''-এ সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থ ও গোল্ড কোস্টের দলও আছে, আর ২০২৮ সাল থেকে হোবার্ট থেকেও একটি দল যুক্ত হবে। '''এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''' প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হয়-এটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে দেখা ইভেন্ট। এখন এএফএল নারীদের লিগ '''[https://womens.afl এএফএল উইমেনস]'''ও চালায়-পুরুষদের মতো জনপ্রিয় না হলেও ভালো দর্শকসমর্থন পায়। পরের নারীদের মৌসুমে (২০২০) পুরুষদের বর্তমান বাজারের সব শহর মিলিয়ে ১৪টি দল খেলেছিল।
* গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক '''[[ক্রিকেট]]'''-অস্ট্রেলিয়া ও অন্তত দুইটি সফরকারী দলের মধ্যে-সব রাজধানী শহরে ঘুরে-ঘুরে হয়। ঐতিহ্য চাইলে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৫ দিনের নিউ ইয়ার্স টেস্ট বা মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বক্সিং ডে টেস্ট দেখুন। কয়েক ঘণ্টার প্রাণবন্ত বিনোদনের জন্য টি-টোয়েন্টি দেখতে পারেন। ঘরোয়া লিগ [[বিগ ব্যাশ লিগ|বিগ ব্যাশ লিগ]] ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। একদিনের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সাধারণত দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা/১১টা (ডে-নাইটার), আর ঘরোয়া বেশিরভাগ ও মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। '''অস্ট্রেলিয়া ডে''' ওডিআই প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি অ্যাডিলেডে হয়। '''দ্য অ্যাশেজ''' অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ টেস্টের সিরিজ-প্রতি ৩-৪ বছরে একবার অস্ট্রেলিয়ায়, আর তখন ম্যাচগুলো সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ ও অ্যাডিলেডে হয়।
* '''[https://ausopen.com/ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন]'''-চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের একটি-প্রতি জানুয়ারিতে [[মেলবোর্ন]] শহরকেন্দ্রের কাছে '''[https://mopt.com.au/ মেলবোর্ন পার্ক]''' কমপ্লেক্সে, প্রধান স্টেডিয়াম '''[http://www.rodlaverarena.com.au/ রড লেভার এরিনা]'''-সহ অনুষ্ঠিত হয়।
[[File:Hunter Stadium Day.JPG|thumb|নিউক্যাসলে হান্টার স্টেডিয়াম]]
* '''[[Rugby Football#Rugby union|রাগবি ইউনিয়ন]]'''–এর সুপার রাগবি ম্যাচ দেরি গ্রীষ্ম/শরতে ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, পার্থ ও সিডনিতে হয়-অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও জাপানের দল অংশ নেয়। জাতীয় দল ওয়ালাবিজ শীতকালে আন্তর্জাতিক দলগুলোকে আতিথ্য দেয়; ‘দ্য রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ’ (আগে ট্রাই নেশন্স)-এ নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলে।
* '''[[Rugby Football#Rugby league|রাগবি লিগ]]''' মূলত নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের শীতকালীন খেলা; প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা '''[https://www.nrl.com/ ন্যাশনাল রাগবি লিগ (এনআরএল)]'''। দল আছে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্ন, কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেন, নর্থ কুইন্সল্যান্ড ও গোল্ড কোস্টে; নিউজিল্যান্ডের একটি দলও আছে; বাকিরা সিডনির উপশহর ও নিউ সাউথ ওয়েলসের আঞ্চলিক শহর (নিউক্যাসল, ক্যানবেরা) থেকে। মৌসুম শেষ হয় সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় '''এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''' দিয়ে। দেশের রাগবি লিগ ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হলো '''স্টেট অব অরিজিন'''-নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের বার্ষিক সিরিজ; দুইটি সিডনি ও ব্রিসবেনে, তৃতীয়টি কখনো মেলবোর্ন বা পার্থে। অনেকের মতে, অরিজিন সিরিজের খেলার মান রাগবি লিগ বিশ্বকাপের চেয়েও উঁচু।
* '''নেটবল''' অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় নারীদের খেলা; ঘরোয়া সুপার নেটবলে প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ হয় (এটি নিউজিল্যান্ড-সমন্বিত আগের ট্রান্সন্যাশনাল লিগের বদলি)। জাতীয় দল বিশ্বসেরাদের একটি; ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও জ্যামাইকা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
* '''সকার''' জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে-ইউরোপীয় মানে পৌঁছাতে চায়-আর শখের স্তরে খুবই জনপ্রিয়। বহু অভিবাসী ও তাঁদের সন্তানরা ইউরোপীয় ফুটবলসংস্কৃতি থেকে আসায় আগ্রহ বেশি। জাতীয় দল সকারুস ২০১৫ সালে এশিয়া কাপ জিতে খেলাটির প্রোফাইল অনেক বাড়ায়। গ্রীষ্মে পেশাদার '''এ-লিগ''' হয়-অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দল নিয়ে। বেশিরভাগ শহরে শীতে সেমি-প্রো “স্টেট লিগ” হয়-অনেক ক্লাব নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী/অভিবাসী সম্প্রদায়কে ঘিরে গড়ে ওঠা (যেমন [[Newcastle (New South Wales)|নিউক্যাসলের]] ব্রডমিডো ম্যাজিক-স্থানীয় ম্যাসেডোনীয় সম্প্রদায়কে ঘিরে)। নারীদের সকার দর্শকে কম হলেও সমর্থন ভালো; জাতীয় দল ম্যাটিল্ডাস নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলে। নারীদের লিগ হলো ডব্লিউ-লিগ।
* '''[[Formula One|এফ১ গ্রাঁ প্রি]]'''-মার্চে মেলবোর্নের আলবার্ট পার্ক লেক ঘিরে সিটি স্ট্রিট সার্কিটে অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রি ও সহায়ক রেসগুলো হয়।
* '''সুপারকার্স চ্যাম্পিয়নশিপ''' শক্তিশালী ট্যুরিং কারের জনপ্রিয় রেসিং সিরিজ-মার্কিন এনএএসকারের তুলনা টানা যায়, তবে এখানে ওভাল নয়, রোড/স্ট্রিট সার্কিট। মার্চ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত দেশজুড়ে ইভেন্ট হয়; অক্টোবরের ঐতিহ্যবাহী বাথার্স্ট ১০০০ সবচেয়ে বিখ্যাত।
* '''[[ঘোড়দৌড়]]''' অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দর্শকখেলা-সব রাজধানীতে নিয়মিত রেস হয়। ক্যালেন্ডারের সেরা ইভেন্ট বার্ষিক '''মেলবোর্ন কাপ'''-বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দৌড়গুলোর একটি। [[Victoria (state)|ভিক্টোরিয়া]] রাজ্যে এদিন সরকারি ছুটি; সারা দেশেই অনেকেই শুধু এই দৌড় দেখার জন্য টিভি চালায়।
===ভ্রমণপথ===
* [[অ্যান বিডেল হাইওয়ে]]
* [[গিব রিভার রোড]]
* [[গ্র্যান্ড প্যাসিফিক ড্রাইভ]]
* [[গ্রেট ওশান রোড]]
* [[গানব্যারেল হাইওয়ে]]
* [[উডনাডাটা ট্র্যাক]]
* [[স্টুয়ার্ট হাইওয়ে]]: উত্তর-দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া অতিক্রম
* [[ট্যুরিস্ট ড্রাইভ ৩৩]]
* [[ওয়াটারফল ওয়ে]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামরিক জাদুঘর ও স্থানসমূহ]]
==যা করবেন==
[[File:Bondi 1.jpg|thumb|অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সৈকতগুলির জন্য বিখ্যাত (ছবিতে বন্ডাই বিচ)]]
[[File:Gold-Coast-Skyline-at-Night.jpg|thumb|গোল্ড কোস্টের সার্ফার্স প্যারাডাইস দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির একটি, যেখানে বিশ্বের সেরা কিছু সৈকত রয়েছে এবং কাছেই থিম পার্কের সমাহার]]
===সাঁতার===
* '''সার্ফে''': অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অন্তহীন বালুকাময় সৈকত রয়েছে। সিডনির বিশ্ববিখ্যাত [[সিডনি/বন্ডাই|বন্ডাই বিচ]] বা গোল্ড কোস্টের [[সার্ফার্স প্যারাডাইস]]-এ ভিড়ের সঙ্গে যোগ দিন। অথবা নিজের মতো নিরিবিলি সৈকত খুঁজে নিন (তবে বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, টহল দেওয়া সৈকতগুলোই তুলনামূলক নিরাপদ)। ট্রপিক্যাল নর্থ অঞ্চলে প্রবালপ্রাচীর ঢেউ ঠেকিয়ে দেয় বলে ঢেউ ছোট ও পানিও উষ্ণ থাকে। দক্ষিণে সাউদার্ন ওশান থেকে ঢেউ এসে বড় হয় এবং পানি ঠান্ডা থাকে। (আর মাঝখানে সবটাই একেবারে ‘‘ঠিকঠাক’’)।
* '''শান্ত ট্রপিক্যাল সাগরে''': [[ব্রুম|ব্রুমের]] কেবল বিচ প্রতিদিন জোয়ারে পরিষ্কার হয়, নিখুঁত বালু ও উষ্ণ পানি – শীতকালে যাওয়া ভালো।
* '''উষ্ণ প্রস্রবণে''': ডারউইনের দক্ষিণে বেরি স্প্রিংস ও মাতারাঙ্কার মতো অনেক প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ আছে, যেগুলো তালগাছ ও ট্রপিক্যাল সবুজে ঘেরা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রিসোর্টও এমন প্রাকৃতিক পুল বানাতে পারবে না।
* '''মিঠাপানির হ্রদে''': অভ্যন্তরীণ অস্ট্রেলিয়া শুকনো হলেও অনেক জায়গায় হ্রদ আছে। কেয়ার্নসের অভ্যন্তরে আথারটন টেবিলল্যান্ডস বা [[কুরাওইনিয়া জাতীয় উদ্যান]] ঘুরে দেখুন। কুমিরের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
* '''নদীতে''': গরম থাকলে আর পানি থাকলেই সেখানে সাঁতারের জায়গা থাকবে। স্থানীয়দের কাছে প্রিয় সাঁতার কাটা গর্ত বা দড়ি দিয়ে লাফ দেওয়ার জায়গা জেনে নিন। কুমিরের ব্যাপারে সাবধান।
* '''মানবসৃষ্ট পুলে''': নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার ছোট শহরে স্থানীয় সুইমিং পুল গ্রীষ্মের রবিবারে কমিউনিটি জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। সিডনি ও নিউক্যাসলের সমুদ্রপাড়ের অনেক উপশহরে কংক্রিট/শিলা কেটে বানানো ‘বাথস’ আছে যেখানে সমুদ্র সৈকতের পাশে নিরাপদে সাঁতার কাটা যায়।
* '''সৈকতে'''! পানির ধারে নিজের জায়গা খুঁজে নিন আর তোয়ালে পেতে বসুন। শীতে ট্রপিক্যাল নর্থে, গ্রীষ্মে দক্ষিণে। তবে সব সময় সূর্যের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
===বুশওয়াকিং===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং}}
বুশওয়াকিং অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বিনোদন। জাতীয় উদ্যান ও রেইনফরেস্টে বুশওয়াকিং করা যায়। কিছু এলাকায় স্থানীয় আদিবাসীদের নেতৃত্বে গাইডেড বুশওয়াক হয়, যেখানে তাদের সংস্কৃতি জানার দুর্দান্ত সুযোগ মেলে।
===ডাইভিং===
[[File:Giant clam with diver.jpg|thumb|গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে এক স্কুবা ডাইভার একটি জায়ান্ট ক্ল্যাম দেখছে]]
* '''স্নরকেলিং''': কুইন্সল্যান্ড উপকূলে [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]-এ যান, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার [[এক্সমাউথ (ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া)|নিঙ্গালু রিফে]]। [[বায়রন বে]]-এর জুলিয়ান রকস, বা [[বান্ডাবার্গ|বান্ডাবার্গে]]<nowiki/>র- সৈকত থেকেও স্নরকেলিং করে ট্রপিক্যাল মাছ দেখা যায়।
* [[অস্ট্রেলিয়ায় স্কুবা ডাইভিং|স্কুবা ডাইভিং]]
===খেলাধুলা===
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গলফ|গলফ]]
* '''রক ক্লাইম্বিং'''
* '''মাউন্টেন বাইকিং''': [[স্নোয়ি মাউন্টেনস]] বা ক্যানবেরার ব্ল্যাক মাউন্টেনে ট্রেইল চেষ্টা করুন, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মুন্ডা বিদ্দি ট্রেইলে কয়েকদিন ধরে সাইকেল চালান।
* '''ঘোড়ায় চড়া''': ইউরোপীয় উপনিবেশকদের আগমনের পর থেকে ঘোড়া অস্ট্রেলিয়ার জীবনের অংশ। বিশাল দূরত্ব ও কঠিন পরিবেশ পাড়ি দিতে ঘোড়ার উপর নির্ভরশীলতা অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আজ ঘোড়ায় চড়া এখানে বিনোদন, কাজ, গরু সামলানো থেকে শুরু করে কোটি ডলারের রেসিং শিল্প পর্যন্ত বিস্তৃত। শহরতলি ও গ্রামে ছোট পোনি খামার ও প্রিয় ঘোড়াগুলো দেখা যায়, যা অস্ট্রেলিয়ানদের ঘোড়ার প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার প্রমাণ।
===স্কি===
অস্ট্রেলিয়া স্কি-গন্তব্য হিসেবে বিশ্বমানের নয়, কারণ পাহাড়গুলো তুলনামূলক নিচু এবং তুষার অনিশ্চিত। তবে দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ায় উন্নত স্কি সুবিধা আছে। তাসমানিয়াতেও সঠিক আবহাওয়া হলে কয়েক মাস স্কি করা যায়।
দেখুন [[অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা]]
===সার্ফ===
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রত্যন্ত কোণায়ও ভালো সার্ফ ব্রেক খুঁজে পাবেন, আর সেখানেও সার্ফার থাকবে। অস্ট্রেলিয়ানরা সার্ফ ভালোবাসে এবং ঢেউ থাকলেই তারা সেখানে থাকে। কেয়ার্নস থেকে কারাথা পর্যন্ত শীর্ষ প্রান্ত ছাড়া প্রায় প্রতিটি উপকূলে সার্ফিং হয়।
===রোমাঞ্চকর কার্যকলাপ===
* '''স্কাই ডাইভিং''': সারা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে
* '''হট এয়ার বেলুন''': ক্যানবেরা, ব্রিসবেন বা [[রেড সেন্টার#করুন|রেড সেন্টার]]-এ
* '''কাইট সার্ফিং''' ও '''উইন্ডসার্ফিং''': পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ডটন ও করোনেশন বিচ-এ
* '''হোয়াইটওয়াটার রাফটিং''': [[তাসমানিয়া]] বা [[দূর উত্তর কুইন্সল্যান্ড]]-এ
===জুয়া===
[[File:2008BerriganCup1.JPG|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের ছোট শহর বেরিগানে বেরিগান কাপ ঘোড়দৌড়]]
অস্ট্রেলিয়ানদের বলা হয়, যদি দুটো মাছি দেয়ালে উঠতে থাকে, তবে দেখবেন কোনো অজি ইতিমধ্যে বাজি ধরেছে।
* '''ক্যাসিনো''': মেলবোর্নের ক্রাউন ক্যাসিনো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড়। তবে কেয়ার্নস, [[লন্সেস্টন]], এলিস স্প্রিংস, গোল্ড কোস্ট, [[টাউনসভিল]]সহ প্রতিটি রাজধানী শহরে ক্যাসিনো আছে।
* '''[[ঘোড়দৌড়|ঘোড়দৌড়ের দিন]]''': সব রাজধানী শহরে সপ্তাহান্তে ঘোড়দৌড় হয়। পরিবার-সহ আয়োজন হয়, ফ্যাশন ও সামাজিকতা তার অংশ। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রায় প্রতিটি পাবেই ট্যাব থাকে। এছাড়া গ্রেহাউন্ড দৌড় ও ট্রটিং সন্ধ্যায় হয়। ছোট শহরের বার্ষিক দৌড় উৎসব স্থানীয়দের কাছে বড় অনুষ্ঠান। [[বার্ডসভিল]] রেস বিখ্যাত। আর প্রতি নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় মেলবোর্ন কাপের সময় রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়।
* '''অদ্ভুত দৌড়''': গিরগিটি দৌড়, আখ-ভেক দৌড়, উট দৌড়, কাঁকড়া দৌড়। এগুলোর উপর বাজি ধরা আইনত নিষিদ্ধ হলেও গোপনে চলে।
* '''টু-আপ''': আনজাক ডে (২৫ এপ্রিল)-এ স্থানীয় আরএসএল ক্লাবে কয়েন ছুঁড়ে বাজি ধরা হয়।
* '''স্লট মেশিন''': বিশ্বে মোট স্লট মেশিনের এক-চতুর্থাংশ অস্ট্রেলিয়ায়। এর অর্ধেকের বেশি নিউ সাউথ ওয়েলসে। মদ্যপানাগার ও ক্লাবগুলোতে ‘‘ভিআইপি লাউঞ্জ’’ নামে গেমিং রুম থাকে। তবে আসক্ত হবেন না।
* '''ট্যাব''': প্রতিটি শহর ও শহরতলিতে টোটালিসেটর এজেন্সি বোর্ড (ট্যাব) শাখা থাকে। সেখানে গিয়ে খেলাধুলায় বাজি ধরতে পারেন, যদিও পরিবেশ সাধারণত নিরানন্দময়।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের জুয়া খেলা আইনত নিষিদ্ধ। তাই শিশুদের প্রবেশ অনেক স্থানে সীমিত।
===রয়্যাল শো===
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্য ও মূল ভূখণ্ডে বার্ষিক '''রয়্যাল শো''' হয়। এগুলো কৃষি প্রদর্শনী হলেও বিনোদন, মেলা ও রাইড থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ফেয়ারের মতো এগুলো বসন্ত বা শরতে অনুষ্ঠিত হয়।
==কিনুন==
[[File:Pitt Street Mall February 2016.jpg|thumb|সিডনির পিট স্ট্রিট মল-দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত কেনাকাটার জায়গাগুলোর একটি]]
{{see also|অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা}}
অস্ট্রেলিয়া মূলত একটি '''ক্যাশলেস সমাজ'''-প্রায় সব ব্যবসায় ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড নেয়। ছোট ভ্রমণে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা বদলানোর প্রয়োজন নেই। নগদ এখনও গ্রহণযোগ্য, তবে কেবল-কার্ড নেয় এমন ব্যবসা বাড়ছে।
ক্যাফে, মদ্যপানাগার ও রেস্টুরেন্টে কার্ডে ১–২% সারচার্জ সাধারণ (এবং আইনি)-ক্যাশ বদলালে এর চেয়েও বেশি ক্ষতি হতে পারে।
===মুদ্রা===
{{exchange rate AUD|currencies=USD,EUR,GBP,CAD,NZD}}
{{infobox|গোল্ড কয়েন|না, এগুলো আসল স্বর্ণমুদ্রা নয়। $১ বা $২ অস্ট্রেলীয় কয়েনকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘‘গোল্ড কয়েন’’ বলা হয়। অলাভজনক জাদুঘর ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই ‘‘গোল্ড কয়েন ডোনেশন’’ চায়—মানে একটি $১ বা $২ কয়েন, অথবা তার চেয়েও বেশি।}}
অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার নাম হলো '''ডলার'''। প্রতীক ‘‘'''$'''’’ বা ‘‘'''A$'''’’ (আইএসও কোড: '''AUD''')। এটি ১০০ '''সেন্ট (c)'''-এ বিভক্ত। এই গাইডে ‘‘$’’ চিহ্ন মানে অস্ট্রেলীয় ডলার, যদি ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকে।
মুদ্রা রয়েছে ৫¢, ১০¢, ২০¢, ১২-পাশের ৫০¢, $১ এবং ছোট্ট $২। নোট রয়েছে $৫ (বেগুনি), $১০ (নীল), $২০ (লাল), $৫০ (হলুদ) ও $১০০ (সবুজ)। $১০০ নোট বিরল এবং অনেক দোকানে ব্যবহার করা কঠিন। আধুনিক অস্ট্রেলীয় নোট কাগজে নয়, প্লাস্টিক পলিমারে মুদ্রিত। পুরোনো কাগজের নোট (অত্যন্ত বিরল) অনেক ব্যবসায়ী গ্রহণ নাও করতে পারেন, তবে অধিকাংশ ব্যাংকে এগুলো নতুন নোটের সঙ্গে বিনামূল্যে বদলানো যায়। নগদে লেনদেনে ৫ সেন্টের গুণিতক না হলে মুদ্রার অঙ্ক নিকটবর্তী ৫ সেন্টে রাউন্ড করা হয়। কার্ডে পরিশোধ করলে আসল অঙ্কই চার্জ হয়।
অস্ট্রেলীয় ডলার অন্য কোনো মুদ্রার সঙ্গে বাঁধা নয় এবং এটি বিশ্ব বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বহুল লেনদেন হয়। এর বিনিময় হার প্রায়ই ওঠানামা করে, প্রতিদিন ১–২% পরিবর্তন স্বাভাবিক ব্যাপার।
===মুদ্রা বিনিময়===
[[File:Australian banknotes in wallet.jpg|thumb|অস্ট্রেলীয় ডলার নোট একটি মানিব্যাগে]]
অস্ট্রেলীয় ডলার একটি প্রধান বিশ্ব মুদ্রা হিসেবে ধরা হয়, তাই সারা বিশ্বের মানি চেঞ্জার ও ব্যাংকে সহজলভ্য।
অস্ট্রেলিয়ায় মানি চেঞ্জাররা মুক্ত বাজারে কাজ করে। তারা নির্দিষ্ট কমিশন, শতাংশ ফি, লুকানো বিনিময় হার ফি বা সবকিছুর সমন্বয় চার্জ করতে পারে। ভালো রেট পাওয়ার জন্য বড় ব্যাংক ব্যবহার করুন এবং বিমানবন্দর বা পর্যটনকেন্দ্র এড়িয়ে চলুন। তবে সেরা ও সবচেয়ে খারাপ রেট ছোট ব্যক্তিগত বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসতে পারে। তাই তুলনা করে পরিবর্তন করুন। মুদ্রা বদলানোর আগে অবশ্যই রেট জেনে নিন। সাধারণত পরিচয়পত্র (যেমন পাসপোর্ট) লাগবে।
বড় শহরে মুদ্রা বিনিময় আউটলেট প্রচুর আছে এবং ব্যাংকও বেশিরভাগ মুদ্রা বিনিময় করে। বিমানবন্দরের আউটলেটগুলো সাধারণত সবচেয়ে খারাপ রেট দেয়-প্রায় ১০% ক্ষতি হতে পারে। ব্যাংক সাধারণত ২.৫% পার্থক্য নেয়, সঙ্গে $৫–৮ কমিশন। ‘‘কমিশন ফ্রি’’ অফারগুলোতেও রেট খারাপ হয়। সব ব্যাংকের রেট একই হবে ধরে নেবেন না। সিডনি বিমানবন্দরে ট্যুরিস্ট ব্রোশিওরে আমেরিকান এক্সপ্রেসের কমিশন-ফ্রি ভাউচারও পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিএরিয়াস, মায়েস্ট্রো, মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড দিয়ে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা তোলার এটিএম থাকে।
===ব্যাংকিং===
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ, যদি আপনার স্থানীয় ঠিকানা থাকে। পরিচয় প্রমাণ (যেমন পাসপোর্ট) দেখাতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম খুচরা ব্যাংক হলো-'''[http://www.nab.com.au ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক (NAB)]''', '''[http://www.anz.com অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (ANZ)]''', '''[https://www.commbank.com.au/ কমনওয়েলথ ব্যাংক]''' এবং '''[http://www.westpac.com.au/ ওয়েস্টপ্যাক]'''।
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব শহরেই এটিএম আছে। এগুলো বেসরকারীকরণ করা হয়েছে, তাই অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারে। সাধারণত প্রায় $২। এটিএম স্ক্রিনে ফি দেখাবে এবং আপনি লেনদেন বন্ধ করতে পারবেন। আপনার ব্যাংকও বিদেশে মুদ্রা তোলার জন্য আলাদা ফি নিতে পারে।
===খরচ===
{{infobox|দ্রুত পরিবর্তনশীল মুদ্রার মান|অস্ট্রেলীয় ডলার বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল মুদ্রাগুলোর একটি। এর দাম লোহার আকরিক ও কয়লার মতো পণ্যের মূল্যের সঙ্গে ওঠানামা করে। গত ১০ বছরে ‘‘অজি’’ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৫০ সেন্ট থেকে $১.৫০ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তাই ভ্রমণের খরচ কখনও যুক্তিসঙ্গত, কখনও ভীষণ ব্যয়বহুল হতে পারে।}}
অস্ট্রেলিয়া সাধারণত ব্যয়বহুল। রাজধানী শহরে ডরম শেয়ার করলে প্রতি রাতে প্রায় $৫০, কেয়ার্নসের মতো জায়গায় $৩০ হতে পারে। রাজধানীর শহরতলিতে বা গ্রামে একটি সাধারণ মোটেল ডাবল রুম প্রায় $১০০ থেকে শুরু। রাজধানী শহরের সিটি সেন্টারে হোটেল ডাবল রুম প্রায় $২০০ থেকে শুরু।
গাড়ি ভাড়া দিনে প্রায় $৬৫। গণপরিবহনের ডে-পাস শহরভেদে $৯–২০।
ক্যাফেতে একবেলা খাবার প্রায় $১৫–২০। রেস্তোরাঁয় প্রধান খাবার $২৫ থেকে শুরু।
সাধারণ টেকঅ্যাওয়ে খাবার-বার্গার, স্যান্ডউইচ বা কয়েক স্লাইস পিৎজা প্রায় $১০। একটি বিগ ম্যাক $৭.৯০। পাই বা সসেজ রোল $৫ থেকে।
লো-এন্ড পাব-এ হাউস বিয়ারের ছোট গ্লাস (২৮৫ মিলি) প্রায় $৮ এবং ওয়াইনের গ্লাস $১০। টেকঅ্যাওয়ে হিসেবে ২৪ ক্যান বিয়ারের কেস অন্তত $৪৫, এক বোতল ওয়াইন $১০ থেকে।
পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানীগুলোর মধ্যে বিমানের ভাড়া সাধারণত একপথে $১৫০, তবে সময়মতো বুকিং করলে $৬০ পর্যন্ত কমতে পারে। দেশ পেরোতে প্রায় $৩৫০ লাগে। স্টেট-রান ট্রেনে কিছুটা সস্তা, বাসে আরও কম। তবে বেসরকারি লাক্সারি ট্রেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
সমুদ্রসৈকত বা শহরের পার্কে প্রবেশ সাধারণত ফ্রি। কিছু জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে প্রতিদিন $৬–২০ চার্জ হয়। দূরবর্তী পার্কগুলো ফ্রি। জাদুঘরে সাধারণত $১০, থিম পার্কে প্রায় $৭০।
===কর===
অস্ট্রেলিয়ায় ১০% ‘‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST)’’ রয়েছে, যা অপরিশোধিত খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা বাদে সব পণ্যে প্রযোজ্য। ভোক্তার জন্য প্রদর্শিত দামের মধ্যেই জিএসটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। রসিদে আলাদা করে উল্লেখ থাকে। [[অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা#Tourist Refund Scheme|ট্যুরিস্ট রিফান্ড স্কিমের]] মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা জিএসটি ফেরত পেতে পারেন।
===ক্রেডিট কার্ড===
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। '''মাস্টারকার্ড''' ও '''ভিসা''' সবচেয়ে প্রচলিত। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবও বড় দোকানে ও সুপারমার্কেটে নেওয়া হয়। সার্কাস বা মায়েস্ট্রো লোগোযুক্ত কার্ডও কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ান ডেবিট কার্ড ‘‘ইএফটপস’’ সিস্টেমে চলে। ইউনিয়নপে, আলিপে ও উইচ্যাট পে ক্রমশ প্রচলিত হচ্ছে, তবে নির্ভরযোগ্য নয়।
কনট্যাক্টলেস কার্ড, '''অ্যাপল পে''', '''গুগল পে''', '''স্যামসাং পে''' প্রচলিত। $১০০-এর বেশি হলে পিন প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রেডিট কার্ডে পিন থাকে। বিদেশি কার্ডে পিন না থাকলে সাইন করা যায়, তবে দোকানিরা অনেক সময় জানেন না। তাই সম্ভব হলে পিন রাখুন।
কার রেন্টাল, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন, কিছু ডিসকাউন্ট রিটেইলার ও সার্ভিস স্টেশনে ক্রেডিট কার্ড সারচার্জ নেওয়া হয়। ক্যাফে, বার ও রেস্তোরাঁতেও বাড়ছে। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবে বেশি (২–৪%), ভিসা ও মাস্টারকার্ডে সাধারণত ১.৫%।
===দরকষাকষি===
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ দোকানে দরকষাকষি প্রচলিত নয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দোকানের রেট দেখালে অনেক সময় ছাড় দেয়। দামি পণ্য বা একাধিক জিনিস কিনলে ছাড় চাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, জুয়েলারিতে ১০% ছাড় পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে অকারণে দরদাম করলে তা অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয় এবং ব্যর্থ হবে।
===বকশিশ===
অস্ট্রেলিয়ায় [[বকশিশ]] প্রচলিত নয়, তবে চাইলে দিতে পারেন।
রেস্তোরাঁর দামে সার্ভিস ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকে। চমৎকার সার্ভিস পেলে সামান্য বকশিশ দিতে পারেন। কিছু রেস্তোরাঁ কার্ড পেমেন্টে টিপস যোগ করার সুযোগ দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কিছু জায়গায় ‘‘টিপস’’ লেখা বাটি থাকে, তবে অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান কোনো টিপস দেন না। বারটেন্ডারদের সাধারণত টিপস দেওয়া হয় না।
হোটেল কর্মী, পোর্টার, ট্যুর গাইড, ফুড ডেলিভারি বা হেয়ারড্রেসার-কেউই বকশিশ আশা করেন না। ট্যাক্সি ড্রাইভাররাও না, তবে অনেক সময় যাত্রীরা ভাড়া পরের ডলারে রাউন্ড করে দেন।
ক্যাসিনোতে গেমিং কর্মীদের টিপস দেওয়া নিষিদ্ধ-এটি ঘুষ হিসেবে ধরা হয়। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তাকে টিপস দেওয়া অপরাধ গণ্য হয়।
===বাণিজ্যিক সময়===
[[File:The_Strand_Arcade_interior_photographed_from_the_top_level,_Sydney_01.jpg|thumb|দ্য স্ট্র্যান্ড আর্কেড, [[সিডনি]]]]
অস্ট্রেলিয়ার '''মৌলিক ব্যবসায়িক সময়''' সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৫টা। এক রাত দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে-বেশিরভাগ শহরে শুক্রবারে রাত ৯টা পর্যন্ত, ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে বৃহস্পতিবারে। রবিবার ট্রেডিং বড় শহরে প্রচলিত, তবে গ্রামীণ এলাকায় নয়।
বড় সুপারমার্কেটগুলো সাধারণত সপ্তাহের দিনে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে (কখনও মধ্যরাত পর্যন্ত)। ৭/১১-এর মতো কনভেনিয়েন্স স্টোর বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা।
ফাস্ট ফুড চেইনগুলোও ২৪ ঘণ্টা বা গভীর রাত পর্যন্ত খোলা। শহরের ফুড কোর্টগুলো বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তবে শপিং সেন্টারের ফুড কোর্ট বেশি সময় খোলা থাকে।
সার্ভিস স্টেশন বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা, তবে গ্রামীণ এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর ও রবিবার বন্ধ থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার '''সপ্তাহান্ত''' শনিবার ও রবিবার। বড় শহরে সপ্তাহান্তে দোকান প্রায় সর্বত্র খোলা থাকে, তবে সময় কিছুটা কম। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ব্যতিক্রম, যেখানে রবিবার বড় দোকান খোলার ওপর সীমাবদ্ধতা আছে। ছোট শহরে রবিবার ও শনিবার বিকেলের পর দোকান বন্ধ থাকে। পর্যটক-নির্ভর শহরে সপ্তাহান্তে খোলা থাকে, তবে সোমবার-মঙ্গলবার দোকান বন্ধ থাকে।
পর্যটক এলাকায় দোকান অনেক সময় দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে। যেমন [[সিডনি/ডার্লিং হারবার|ডার্লিং হারবার]]-এ প্রতিরাতে দীর্ঘ সময় খোলা থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক সোমবার–শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৪টা খোলা থাকে, শুক্রবারে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। তবে এটিএম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এবং মুদ্রা বিনিময় আউটলেটের সময় আরও দীর্ঘ।
==খাওয়া==
{{see also|অস্ট্রেলীয় খাবার}}
অস্ট্রেলীয় খাবার মূলত ১৯৬০ ও ৭০-এর দশক পর্যন্ত ব্রিটিশ ও আইরিশ ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের প্রভাবে গড়ে উঠেছিল। তবে জার্মানি, ইতালি, গ্রিস ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অভিবাসনের ইতিহাস থাকায় অস্ট্রেলীয় খাবারে এসব সংস্কৃতির প্রভাব এখন ব্রিটিশ ও আইরিশ প্রভাবের তুলনায় আরও স্পষ্ট। বিপুল সংখ্যক এশীয় অভিবাসীর আগমনও অস্ট্রেলীয় খাবারে নিজের ছাপ রেখেছে; অনেক অস্ট্রেলীয় শেফ পশ্চিমা খাবারের সঙ্গে এশীয় স্বাদ মিশিয়ে পরিবেশন করেন।
বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর নিজেদের স্বতন্ত্র খাবার রয়েছে। তবে এরা অনেক অদ্ভুত উপাদান ব্যবহার করায় এগুলো মূলধারার অস্ট্রেলীয় খাবারের অংশ হয়নি। তবু [[ফাইন ডাইনিং]]-এ ক্রমশ আরও বেশি অস্ট্রেলীয় সেলিব্রিটি শেফ তাদের খাবারে স্থানীয় স্বাদ ব্যবহার করছেন।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, অস্ট্রেলিয়ায় টেবিল ম্যানার [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] নিয়ম অনুসারে হয়।
===কোথায় খাবেন===
{{infobox|বিওয়াইও - নিজের পানীয় আনুন|BYO-এর মানে হলো ''Bring Your Own'' (নিজের অ্যালকোহল আনা)। অস্ট্রেলিয়ার বহু শহুরে এলাকায় ছোট, সস্তা রেস্তোরাঁ আছে, যেগুলো মদের লাইসেন্স পায়নি, তবে ক্রেতাদের বাইরে থেকে আনা ওয়াইন খাওয়ার অনুমতি দেয়। এটি সাধারণত রেস্তোরাঁ থেকে ওয়াইন কেনার চেয়ে অনেক সস্তা। কিছু BYO রেস্তোরাঁ বিয়ারও অনুমতি দেয়, তবে বেশিরভাগই শুধু ওয়াইন। কর্কেজ ফি দিতে হয়—যা ২ থেকে ১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে, কখনও মাথাপিছু হিসাবেও হয়। যে রেস্তোরাঁগুলো মদ বিক্রির লাইসেন্সপ্রাপ্ত, সেখানে সাধারণত BYO অনুমোদিত নয়।}}
{{infobox|বার্গার কিং কোথায় গেল?|ভ্রমণকারীরা প্রায়ই অবাক হন দেখে যে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো বার্গার কিং নেই। এখানে বার্গার কিং-এর নাম হলো "হাঙ্গরি জ্যাকস"। কারণ অ্যাডিলেডে ইতিমধ্যেই "বার্গার কিং" নামে একটি ছোট দোকান ছিল, তাই ট্রেডমার্ক সমস্যার কারণে নতুন নাম নিতে হয়েছিল।
২০০১ সালে "হাঙ্গরি জ্যাকস" বার্গার কিং নাম ব্যবহারের অধিকার পেলেও, পুরোনো নামটি জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ায় তারা "হাঙ্গরি জ্যাকস"-ই রেখে দেয়।}}
অস্ট্রেলিয়ার শহর ও নগরগুলোতে বাইরে খাওয়ার কোনো অভাব নেই। ভালো আন্তর্জাতিক খাবারের রেস্তোরাঁ ছাড়াও আছে-
* '''পাব'''-এখানে সাধারণত লাঞ্চ ও ডিনারে পরিবেশন করা হয় মজবুত অজি খাবার যেমন স্টেক, বার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, চিকেন পার্মিজানা। খাবার সাধারণত প্রধান কাউন্টার থেকে আলাদা কোনো বিস্ত্রো বা রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয়।
* '''ক্লাব'''-যেমন বোলিং ক্লাব, লীগস ক্লাব, আরএসএল (RSL) ক্লাব, শহর ও নগরে প্রচুর দেখা যায়। কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বেশি প্রচলিত। অধিকাংশই ভিজিটরদের অনুমতি দেয় এবং প্রায়ই সুলভ দামে খাবার মেলে। সাধারণত দ্রুত, বিনামূল্যের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া থাকে।
* '''ক্যাফে'''-প্রায় প্রতিটি শহর ও উপশহরে ক্যাফে বা কফিশপ থাকে। এগুলোতে সকালের নাস্তা, হালকা খাবার ও কেক পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগই বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
* '''বেকারি'''-রুটি, পাই বা সসেজ রোল কেনার জন্য ভালো জায়গা।
* '''ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁ'''-ম্যাকডোনাল্ড’স (বা ''ম্যাকাস''), সাবওয়ে, কেএফসি প্রচলিত। বার্গার কিংয়ের পরিবর্তে আছে হাঙ্গরি জ্যাকস। রেড রুস্টার অস্ট্রেলীয় চেইন, যারা বারবিকিউ চিকেন পরিবেশন করে। ওপোর্টো হলো ন্যান্ডোস-এর অস্ট্রেলীয় সংস্করণ।
* '''টেকঅ্যাওয়ে'''-মিল্ক বার, সুশি স্টোর ও অন্যান্য দোকানে সুশি, পাই, রোস্ট চিকেন, হ্যামবার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, গাইরোস ও কাবাব মেলে।
* '''ফুড কোর্ট'''-বেশিরভাগ শপিং সেন্টারে ফুড কোর্ট থাকে, এমনকি ছোট শহরগুলোতেও।
* '''পিকনিক'''-অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া সাধারণত এমন যে খাবার নিয়ে নিকটবর্তী পার্ক, নদী, লেক বা সৈকতে বসে খাওয়া যায়।
* '''বারবিকিউ'''-অস্ট্রেলিয়ানদের প্রিয় শখ। অনেক পার্কেই বিনামূল্যে বারবিকিউর ব্যবস্থা থাকে। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই “শ্রিম্প অন দ্য বারবি” খায়-আসলে এখানে শ্রিম্পকে প্রন বলা হয়। স্টেক, চপ, সসেজ, চিকেন ফিলে, মাছ ও কাবাব সাধারণত বারবিকিউ করা হয়।
* '''ওয়াইনারি'''-অনেক ওয়াইনারির নিজস্ব রেস্তোরাঁ থাকে, যেখানে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়, আর সঙ্গে থাকে তাদের নিজস্ব ওয়াইন। সাধারণত শুধু লাঞ্চে খোলা থাকে, তবে কিছু উচ্চমানের জায়গায় মাল্টিকোর্স ডেগাস্টেশন ডিনারও হয়।
[[File:Jackadder Lake barbecues.jpg|thumb|ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার উডল্যান্ডসের জ্যাকঅ্যাডার লেকে আউটডোর বারবিকিউ। অস্ট্রেলিয়ার বহু পার্কেই একই ধরনের সুবিধা আছে।]]
[[File:Centre Place Dec 2012.jpg|thumb|মেলবোর্ন সিবিডির সেন্টার প্লেসে সারি সারি ক্যাফে]]
===স্থানীয় খাবার===
[[File:Kangaroo fillet.JPG|thumb|সিডনির একটি রেস্তোরাঁয় ক্যাঙ্গারু ফিলে]]
{{see also|অস্ট্রেলীয় খাবার#আদিবাসী খাবার (বুশ টাকার)}}
দুঃখজনক হলেও সত্যি, অস্ট্রেলীয় রেস্তোরাঁয় স্থানীয় খাবার খুব বেশি পাওয়া যায় না। এগুলো সুপারমার্কেট বা দেশের দূরবর্তী এলাকায় কিছুটা মেলে। ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী খাদ্যতালিকায় বিপন্ন প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সীমিত এবং আপনার জন্য অপ্রাপ্য।
* '''ক্যাঙ্গারু'''-অনেক সুপারমার্কেট ও কসাইখানায় পাওয়া যায়। মিডিয়াম-রে পর্যন্ত বারবিকিউ করা ভালো, নইলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। এর স্বাদ গরুর মাংসের মতো, মাঝে মাঝে পর্যটন এলাকার রেস্তোরাঁর মেনুতেও থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ মিলিয়নেরও বেশি ক্যাঙ্গারু আছে, এরা পরিবেশের ক্ষতি কম করে এবং কম কার্বন নিঃসরণ করে।
* '''কুমির'''-নর্দার্ন টেরিটরি ও কুইন্সল্যান্ডের ফার্ম থেকে উৎপাদিত মাংস শীর্ষ প্রান্তে সহজেই পাওয়া যায়। হোয়াইট মিট, যার স্বাদ মুরগির মতো।
* '''ইমু'''-কম ফ্যাটযুক্ত লাল মাংস, বিশেষ কসাইখানায় পাওয়া যায়। [[মালেনি]]-তে পাই হিসেবে বা [[সিডনি/দ্য রক্স|দ্য রক্স]]-এ পিজ্জায় চেষ্টা করতে পারেন।
* '''পসাম'''-মূলত তাসমানিয়ায় খাওয়া হয়, বিশেষ করে ব্রুনি আইল্যান্ডে।
* '''বুশ মুদ্রার'''-অনেক ট্যুরে আপনাকে বেরি, বাদাম, মূল, পিঁপড়ে ও গ্রাবসের মতো খাবার চেখে দেখার সুযোগ দেয়। '''ম্যাকাডেমিয়া বাদাম''' একমাত্র অস্ট্রেলীয় উদ্ভিদ যা বাণিজ্যিকভাবে খাবারের জন্য চাষ হয়। কিছু স্বাদ অর্জিত রুচি হলেও স্থানীয় মসলা অবশ্যই চেষ্টা করার মতো এবং এখন ক্রমশ ফাইন ডাইনিং-এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কৃষক বাজার ও উন্মুক্ত উৎসবে বুশ মুদ্রার আইসক্রিমও কখনও কখনও মেলে।
===খাবারের বাইরেও===
[[File:Pavlova Dessert.jpg|thumb|ক্রিম ও রাস্পবেরি দিয়ে সাজানো পাভলোভা]]
অস্ট্রেলিয়ায় এমন অনেক ব্রিটিশ-প্রভাবিত খাবার আছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ততটা পরিচিত নয়, তবে অবশ্যই চেখে দেখার মতো।
* '''ভেজিমাইট'''-এক ধরনের নোনতা ইস্ট-ভিত্তিক স্প্রেড। টোস্টে পাতলা করে মাখানো সবচেয়ে ভালো। কিনতে না চাইলে যেকোনো কফিশপে সকালের নাস্তায় পাবেন। পাতলা করে মাখানোই রহস্য-মাখন ভুলবেন না। যুক্তরাজ্যের মার্মাইট বা সুইজারল্যান্ডের সেনোভিসের মতো স্বাদ।
* '''টিম-ট্যাম'''-চকলেট বিস্কুট স্যান্ডউইচ, ভেতরে ফাজ-ফিলিং। টিম-ট্যাম স্লাম অবশ্যই চেষ্টা করার মতো-দুই প্রান্ত কামড় দিয়ে কাপে চা বা কফি দিয়ে স্ট্র হিসেবে ব্যবহার করুন।
* '''ল্যামিংটন'''-চকলেট আইসিং-এ ডোবানো ও নারকেলের গুড়ায় গড়ানো স্পঞ্জ কেক। কুইন্সল্যান্ডের গভর্নর লর্ড ল্যামিংটনের নামে নামকরণ।
* '''পাভলোভা'''-মেরিঙ্গ কেক, উপরে ক্রিম ও টাটকা ফল দিয়ে সাজানো। বিশেষ অনুষ্ঠান বা বারবিকিউ-র শেষে পরিবেশন হয়। [[নিউজিল্যান্ড#খাওয়া|নিউজিল্যান্ড]]-এর সঙ্গে প্রায়ই এই রেসিপির উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক হয়।
* '''এনজ্যাক বিস্কুট'''-নারকেল, ওটস, আটা, চিনি ও গোল্ডেন সিরাপের মিশ্রণে তৈরি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের পাঠানো হতো বলে কথিত।
* '''ড্যাম্পার'''-ড্রোভার ও স্টকম্যানদের প্রচলিত সোডা ব্রেড। ময়দা, পানি আর লবণ দিয়ে তৈরি। সাধারণত আগুনের ছাইয়ে রান্না হতো।
* '''চিকো রোল'''-ডিপ-ফ্রাই করা স্ন্যাক, নামের সত্ত্বেও চিকেন থাকে না। এতে থাকে মাটন, সবজি, চাল, বার্লি ও মসলা। মোটা খোলস ফুটবল ম্যাচে খাওয়ার উপযোগী করে বানানো।
* '''অস্ট্রেলিয়ান মিট পাই'''-অনেকের কাছে জাতীয় খাবার। এর একটি ভিন্নতা হলো '''পাই ফ্লোটার''', যেখানে পাই রাখা হয় ঘন মটরশুঁটির স্যুপে।
===অন্যান্য রান্না===
অস্ট্রেলিয়ায় নিম্নোক্ত কুইজিন ব্যাপক (প্রায়শই সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতির মানুষের হাতেই)-
* '''ব্রিটিশ'''-ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার-'''ফিশ-অ্যান্ড-চিপস''' সর্বত্র; ফ্লেক (ছোট হাঙর), ফ্ল্যাটহেড, বারামুন্ডি, কিং জর্জ হুইটিং জনপ্রিয়-ইউকে-র ভিন্ন, এখানে কেচাপ/টার্টার সস প্রচলিত। ব্রিটিশ/আইরিশ-স্টাইল পাবও সাধারণ-তবে মেনুতে থাকে চিকেন পারমা/স্নিটজেল/পাস্তা।
* '''চাইনিজ'''-পুরোনো প্রজন্মের কাছে ‘‘টেকঅ্যাওয়ে’’-এর সমার্থক-আজও অজি-স্টাইল চাইনিজ প্রচুর; বড় শহরে ‘‘চায়নাটাউন’’ বা চীনা-অধ্যুষিত উপশহরে দারুণ অথেন্টিক অপশন; ক্যান্টনিজ ডিম সাম মলে নিবেদিত রেস্টুরেন্টে।
* '''থাই'''-প্রায় সর্বত্র; বিশেষ করে সিডনি থাই খাবারের জন্য বিশ্বসেরা গন্তব্যগুলোর একটি।
* '''ইতালিয়ান'''-অস্ট্রেলিয়ার বড় অভিবাসী সম্প্রদায়-ক্যাফে কালচারের জনক-লাইগন স্ট্রিট (মেলবোর্ন), লাইকার্ট (সিডনি)। অজি-স্বাদের ইটালিয়ান থেকে শুরু করে হাই-এন্ড রিজিওনাল-সবই আছে।
* '''গ্রিক'''-ইতালিয়ানের মতো বিস্তৃত না হলেও সব শহর/টাউনে ভালো অপশন আছে।
* '''লেবানিজ/মধ্যপ্রাচ্য'''-বিশেষ করে সিডনিতে। '''মানুশ'''-হালকা, স্বাস্থ্যকর পিৎজা-জাতীয়। **ফিউশন ডিশ** ‘‘হালাল স্ন্যাক প্যাক’’ (এইচএসপি)-দোনার কাবাব মাংস + চিপস + নানা সস/চিজ-স্টাইরোফোম বক্সে-জাতীয়ভাবে দারুণ জনপ্রিয়। অ্যাডিলেডে ‘‘এবি’’ পূর্বাঞ্চলের এইচএসপি-র মতো-তবে সবসময় হালাল নাও হয়।
* '''ইন্ডিয়ান'''-বেশিরভাগ শহরে ভালো মিড-রেঞ্জ অপশন।
* '''জাপানি'''-বেন্টো/উডন/সুশি ট্রেন-অনেক সময় '''কোরিয়ান'''দের পরিচালনায়; কোরিয়ান রেস্টুরেন্টও (বিশেষত সিডনি/মেলবোর্ন) প্রচুর।
* '''ভিয়েতনামিজ'''-ফো/চা জিও সহজলভ্য।
* '''জার্মান'''-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/কুইন্সল্যান্ডে জার্মান বসতির ইতিহাস পুরোনো-শহর ও ঐতিহাসিক টাউনে জার্মান রেস্টুরেন্ট-স্নিটজেল (অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত চিকেন/বিফ), বিভিন্ন সসেজ বুচারিতে সহজলভ্য।
* '''এশিয়ান ফিউশন'''-নতুন ধারার বিভিন্ন এশীয়-অনুপ্রাণিত ডিশ।
===আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান===
আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান হলো সাম্প্রতিক রান্নাশৈলী, যা [[ফাইন ডাইনিং]] রেস্তোরাঁয় দেখা যায়। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন শৈলী মিশিয়ে তৈরি, সঙ্গে ঝোপঝাড় থেকে সংগৃহীত স্থানীয় উপাদান ব্যবহৃত হয়।
===শাকাহারি খাবার===
অস্ট্রেলিয়ায় শাকাহারি খাদ্য সহজলভ্য এবং অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে অন্তত একটি বা দুটি শাকাহারি পদ থাকে। অনেক রেস্টুরেন্টে আবার একটি পুরো শাকাহারি মেনু বিভাগও থাকে। নিরামিষভোজীরা কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন, তবে বড় শাকাহারি মেনু যেসব রেস্টুরেন্টে থাকে, সেখানে কিছু নমনীয়তা আশা করা যায়। বড় শহরগুলোতে এবং পূর্ব উপকূলের ব্যাকপ্যাকার-বান্ধব উপকূলীয় শহরগুলোতে শাকাহারি ও নিরামিষভোজী রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। [[কুরান্ডা]] শহর বা [[বায়রন বে]] উপকূলীয় শহর শাকাহারিদের জন্য একপ্রকার স্বর্গরাজ্য। তবে উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোতে বিশেষ করে নর্দান টেরিটরি, উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর কুইন্সল্যান্ডে শাকাহারিদের জন্য তেমন কিছু ব্যবস্থা নেই, তবে অধিকাংশ শহরেই একটি না একটি চাইনিজ বা থাই রেস্টুরেন্ট থাকে যারা সেদ্ধ ভাত ও সবজি পরিবেশন করে। বিশেষ করে সিডনি ও মেলবোর্ন শহরে নিরামিষভোজীদের জন্য প্রচুর পরিমাণে একেবারে নিরামিষ রেস্টুরেন্ট, নিরামিষ পোশাকের দোকান ও নিরামিষ সুপারমার্কেট রয়েছে।
[[File:Avocado Toast Melbourne (cropped).jpg|thumb|মেলবোর্নে 'স্ম্যাশড অ্যাভো']]
দ্রুত পাওয়া যায় এমন কিছু শাকাহারি বিকল্প:
* ‘স্ম্যাশড অ্যাভো’ হল অ্যাভোকাডো ও ফেটা চিজের মিশ্রণ, টোস্টের উপর পরিবেশন করা হয় এবং সাথে ডিম থাকে। এটি জনপ্রিয় প্রাতঃরাশের একটি আইটেম, এবং (অন্যায়ভাবে) বিলাসী তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
* সুসি দোকানগুলোতে সর্বত্রই সুসি রোল ও টফু পকেট পাওয়া যায়।
* ভিয়েতনামি স্প্রিং রোলের (বান মি) শাকাহারি সংস্করণও সহজলভ্য।
* কোরিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে মাংসবিহীন ভাতের বাটি (যেমন: বিবিমবাপ) পাওয়া যায়।
* পাই দোকানগুলোতে পালং শাক ও রিকোটা চিজ ভরা রোল থাকে।
* অধিকাংশ ফুড কোর্টে একটি নির্দিষ্ট সালাদ কাউন্টার থাকে।
দূরবর্তী আউটব্যাক এলাকাগুলোতে শাকাহারি বিকল্প খুবই সীমিত (প্রচুর প্রক্রিয়াজাত মাংসের পাই, আর কিছুই নয়), তাই আগেই কিছু শাকাহারি খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
===ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাস===
যারা কোশের বা হালাল খাদ্য গ্রহণ করেন, তারা রাজধানী শহরগুলোতে সহজেই বিশেষায়িত কসাই দোকান এবং উপযুক্ত মেনু ও রান্নার ধাঁচবিশিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাবেন। তবে রাজধানীর বাইরে কঠোর ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত খাবার পাওয়া বেশ কঠিন। পশ্চিম সিডনি ও মেলবোর্নের মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এমন এলাকায় ফাস্ট ফুড চেইনগুলো প্রায়ই হালাল অনুমোদিত খাবার সরবরাহ করে।
===অ্যালার্জি===
অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্টগুলো সাধারণত বাদাম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো সাধারণ অ্যালার্জির বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিকল্প পরিবেশন করে। সন্দেহ থাকলে ওয়েটারদের জিজ্ঞেস করুন।
'''গ্লুটেন-মুক্ত''' খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা অস্ট্রেলিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুপারমার্কেট, বেকারি ও রেস্টুরেন্টে গ্লুটেন-মুক্ত পণ্যগুলোর কোনো অভাব নেই, যদিও এসব পণ্যের দাম সাধারণ পণ্যের তুলনায় প্রায়ই বেশি।
===বাজার===
[[File:SydFishMarkets.jpg|thumb|right|300px|সিডনি ফিশ মার্কেটে সামুদ্রিক খাবার]]
মেলবোর্নের কুইন ভিক্টোরিয়া মার্কেট, অ্যাডেলেইডের সেন্ট্রাল মার্কেট এবং পার্থের কাছে ফ্রিম্যান্টল মার্কেট হলো অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় ধাঁচের ঐতিহ্যবাহী খাবারের বাজারের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। সিডনি ফিশ মার্কেট পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত সামুদ্রিক খাবারের বাজার।
অস্ট্রেলিয়ার সব রাজধানী শহর এবং অধিকাংশ আঞ্চলিক শহরে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট স্থানে একদিন (সাধারণত শনিবার বা রবিবার) ‘ফার্মার’স মার্কেট’ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বাজারে প্রধানত টাটকা ফল ও সবজি বিক্রি হয়, কারণ অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বাজার স্টল থেকে সরাসরি মাংস বিক্রি করা নিষিদ্ধ। তবে কিছু কসাই তাদের পণ্যের প্রদর্শনশালাসহ গাড়ির বুট থেকে বিক্রি করেন। এসব বাজারের মূল আকর্ষণ হলো কম দামে টাটকা ফলমূল পাওয়া। পর্যটকদের জন্য এটি অর্থসাশ্রয়ী ও সুস্বাদু ফল কেনার ভালো সুযোগ-এটা নির্ভর করে আপনি কোথায় আছেন এবং মৌসুম কোনটা। যেমন কুইন্সল্যান্ড বা নর্দান টেরিটরিতে গেলে আম পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর তাসমানিয়ায় গেলে আপেল বেশি পাবেন। আঞ্চলিক এলাকায় বাজার সাধারণত শহরের বাইরের কোনো মাঠে বা খেলার মাঠে বসে, আর রাজধানী শহরগুলোর বাজার শহরের মাঝেই হওয়ায় যাতায়াত সহজ হলেও দাম তুলনামূলক বেশি হয়। বিস্তারিত জানার জন্য গন্তব্য সম্পর্কিত গাইডগুলো দেখুন।
==পানীয়==
===বিয়ার===
'''বিয়ার''' অস্ট্রেলীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যদিও বিদেশে ফোস্টারসকে অস্ট্রেলীয় বিয়ার হিসেবে প্রচার করা হয়, এটি বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই পান করে এবং অস্ট্রেলিয়ায় এটি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিয়ার নিয়ে আঞ্চলিক পক্ষপাত অত্যন্ত প্রবল এবং প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব বিয়ার রয়েছে: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় কুপার্স ও ওয়েস্ট এন্ড, ভিক্টোরিয়ায় কার্লটন ও ভিবি (VB), নিউ সাউথ ওয়েলসে টুহিস, কুইন্সল্যান্ডে XXXX (উচ্চারণ “ফোর-এক্স”), তাসমানিয়ায় বোয়াগস ও ক্যাসকেড এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সোয়ান। মাইক্রোব্রুয়ারিগুলিও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং যেকোনো ভালো পাবে সাধারণত ছয়টি বিয়ার ট্যাপে থাকে: সামান্য মিষ্টি প্যাসিফিক এলে ও তুলনামূলক হপযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান প্যালে এলে খুঁজে দেখুন। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন আমদানিকৃত বোতলজাত বিয়ারও সাধারণত সকল পাবেই পাওয়া যায়, শুধুমাত্র একেবারে সাধারণ পাবগুলো বাদে।
[[File:XXXX Brewery Milton.jpg|thumb|ব্রিসবেনের XXXX ব্রুয়ারি]]
"লাইট (লাইট)" বিয়ার বলতে কম অ্যালকোহলযুক্ত বিয়ার বোঝায়, কম ক্যালোরি নয়। এতে পূর্ণ শক্তির বিয়ারের তুলনায় অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক এবং এটি কম হারে করযুক্ত হওয়ায় দামে তুলনামূলক সস্তা। কম ক্যালোরিযুক্ত বিয়ারকে “লো কার্ব” নামে বিক্রি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের বিয়ার ঠান্ডা অবস্থায় পান করতে পছন্দ করে, তাই খসড়া বিয়ার পরিবেশনের গ্লাস বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায় যেন গ্রীষ্মের তাপে উষ্ণ হয়ে ওঠার আগেই গ্লাস শেষ করা যায়। গ্লাসের নামকরণ রাজ্যভেদে এতটাই ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর যে একটি উদাহরণই যথেষ্ট: প্রায় সব জায়গায় '''সকুনার''' (SKOO-নার) ৪২৫ মি.লি., তবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় তা ২৮৫ মি.লি., যা অন্যান্য স্থানে '''মিডি''' বা '''পট''' নামে পরিচিত, তবে ডারউইনে একে বলা হয় '''হ্যান্ডল''', আবার অ্যাডিলেইডে “পট” বলতে বোঝায় ৫৭০ মি.লি. পূর্ণ পাইন্ট, এবং “পাইন্ট” মানে যা অন্যত্র “সকুনার”। প্রতিটি রাজ্যের গাইডে স্থানীয় বিয়ার ও এই বিভ্রান্তিকর পরিভাষার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
বোতলের নামকরণ অপেক্ষাকৃত সহজ: অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সাধারণ সাইজ হলো ৩৭৫ মি.লি. '''স্টাবি''' এবং ৭৫০ মি.লি. '''লংনেক''' বা '''ট্যালি'''। ক্যানজাত বিয়ারকে বলা হয় '''টিনি''', আর ২৪ ক্যান নিয়ে গঠিত প্যাকেটকে বলে '''স্ল্যাব''', '''বক্স''', '''কার্টন''', '''ব্যাগ''' বা '''কেস'''।
===মদ===
[[File:Hunter panorama-1b-web-l.jpg|thumb|[[হান্টার ভ্যালি|হান্টার ভ্যালির]] দ্রাক্ষাক্ষেত্র]]
অস্ট্রেলিয়া শিল্প পরিসরে উচ্চমানের মদ উৎপাদন করে, যেখানে বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলি স্থানীয় বোতল দোকানে সরবরাহ করে ও বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করে। ছোট ছোট বুটিক ওয়াইনারি এবং ক্ষুদ্র সরবরাহকারীরাও প্রচুর রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় খুব ভালো লাল ও সাদা মদ প্রায়ই ১৫ মার্কিন ডলারেরও কম দামে পাওয়া যায়, এবং সবচেয়ে ছোট দোকানেও সাধারণত ৫০টির বেশি ধরনের মদ থাকে।
[[বারোসা ভ্যালি]] (অ্যাডিলেইডের কাছে), [[হান্টার ভ্যালি]] (সিডনির কাছে), [[ইয়াররা ভ্যালি]] (মেলবোর্নের কাছে) এবং [[মার্গারেট রিভার]] (পার্থের কাছে) অঞ্চলগুলো বিশেষভাবে মদ্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত এবং সেখানে সরাসরি ওয়াইনারিতে গিয়ে চেখে দেখার সুযোগ আছে। এছাড়াও উত্তর ভিক্টোরিয়া, [[মাজি]] এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার [[সোয়ান ভ্যালি]] ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার [[ম্যাকল্যারেন ভ্যালি]], [[ক্লেয়ার ভ্যালি]] ও [[কুনাওয়াররা]] অঞ্চলেও বহু ধরনের মদ পাওয়া যায়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে আপনি খুব একটা মদ্য-পথ থেকে দূরে থাকবেন না।
যেখানে সম্ভব স্থানীয় মদ চেখে দেখুন এবং স্থানীয় সুপারিশ অনুযায়ী বেছে নিন। লেবেল বা দামের ফাঁদে পা না দেওয়াই ভালো-সেরা মদ সাধারণত সবচেয়ে দামী বা আকর্ষণীয় লেবেলযুক্তটি নয়। তবে যদি কোনো রেস্টুরেন্টে মদ সরাসরি একটি কাস্ক (৪ লিটারের কন্টেইনার) থেকে দেয়, তাহলে তা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ওয়াইনারিতে মদ সাধারণত দোকানের তুলনায় ২০% বেশি দামে বিক্রি হয়।
যদি আপনি এখনও বিদেশি মদ পছন্দ করেন, তাহলে [[মার্লবোরো (নিউজিল্যান্ড)|মার্লবোরো]] অঞ্চলের নিউজিল্যান্ডের মদ সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্ট ও বোতল দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।
আরও দেখুন: [[অস্ট্রেলিয়ায় দ্রাক্ষা চাষ ও চেখে দেখা]]
===স্পিরিট===
বুন্ডাবার্গ রাম (বান্ডি) হলো একটি অস্ট্রেলীয় ডার্ক রাম, যা বিশেষভাবে কুইন্সল্যান্ডে জনপ্রিয়। কুইন্সল্যান্ডের অনেক মানুষ অন্য কোনো ব্র্যান্ডের রাম ছুঁয়েও দেখেন না। এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত দেশীয় মদ, যা বুন্ডাবার্গে ব্যাপকহারে উৎপাদিত হয় এবং সর্বত্র সহজলভ্য।
অনেক বছর ধরে অন্য অস্ট্রেলীয় ডিস্টিলড স্পিরিট খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট করতে হতো, যেগুলো মূলত ছোটখাটো প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে আসত। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্যেই ডিস্টিলারি আছে, এবং নতুন নতুন ডিস্টিলারি দ্রুত গড়ে উঠছে। অ্যাডিলেডের জিন ডিস্টিলারি ৭৫° এবং অ্যাডিলেড জিন কোম্পানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্মান অর্জন করেছে। তাসমানিয়ার ক্ষুদ্র সুলিভান’স কোভ ডিস্টিলারি ২০১৪ সালে আলোচনায় আসে, যখন তাদের একটি হুইস্কি ‘‘বিশ্বের সেরা সিঙ্গল মল্ট’’ উপাধি লাভ করে। এটি অস্ট্রেলিয়ান হুইস্কি শিল্পে ছোটখাটো উত্থান ঘটায়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও তারা একই কৃতিত্ব পুনরায় অর্জন করে। তাদের ২০১৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওক বোতলের দাম যদি ৮,০০০ অস্ট্রেলীয় ডলার আপনার কাছে বেশি মনে হয়, তবে হোবার্টের মনোরম জলপথ এলাকায় অবস্থিত লার্ক ডিস্টিলারিতে ঘুরে আসতে পারেন। সিডনির আর্চি রোজ-এ জিন ব্লেন্ডিং অভিজ্ঞতা বুক করতে পারেন, উলংগং থেকে ১৫১ ইস্ট ভদকা কিনতে পারেন কিংবা কুনুনুরাতে কয়েক দিন থাকার পর নিশ্চিতভাবেই আপনার অর্ড রিভার রামের প্রয়োজন হবে।
মিক্সড ড্রিঙ্কসও পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভদকা, স্কচ, বোরবন এবং অন্যান্য হুইস্কি মিশ্রণ। স্পিরিটস বোতল ও ক্যানজাত প্রি-মিক্সড আকারেও বিক্রি হয়, তবে সেগুলোর উপর বেশি কর আরোপিত হয়। তাই নিজে মিশিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সস্তা। সব মদ্যপানাগার ও বারে স্পিরিটস পরিবেশন করা হয়, তবে সব রেস্তোরাঁয় নয়। সাধারণ একটি স্পিরিটস মিশ্রণ (যেমন ভদকা ও কমলার রস) একটি বার বা নাইটক্লাবে প্রায় ১২ অস্ট্রেলীয় ডলার খরচ হয়, তবে দাম প্রায় ৯ থেকে ১৮ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
===আইনগত দিক===
অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র মদপানের বৈধ বয়স হলো ১৮ বছর। ১৮ বছরের কম হলে নিজের জন্য অ্যালকোহল কেনা বেআইনি, তেমনি কারো হয়ে অ্যালকোহল কেনাও বেআইনি যদি সে ব্যক্তি ১৮ বছরের কম হয়। একমাত্র বৈধ প্রমাণপত্র হলো অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স, রাজ্য কর্তৃক প্রদত্ত বয়স-প্রমাণপত্র (proof-of-age card), [https://auspost.com.au/id-and-document-services/apply-for-a-keypass-id কীপাস কার্ড] (Keypass) কার্ড অথবা পাসপোর্ট। তাই অ্যালকোহল বা তামাকজাত দ্রব্য কিনতে চাইলে এবং আপনার চেহারা ২৫ বছরের নিচে মনে হলে অবশ্যই সঙ্গে পরিচয়পত্র বহন করা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ বিক্রেতারা সাধারণত ২৫ বছরের কম বয়সীদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র চান। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি এবং তাসমানিয়ায় বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বিদেশি পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য নয়। কেবল পাসপোর্ট বা বৈধ অস্ট্রেলিয়ান পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে। ছবি বা ফটোকপি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
১৮ বছরের কম বয়সে কোনো মদ্যপানাগার বা ক্লাবের জুয়া খেলার অংশে প্রবেশ করা বেআইনি। তবে অনেক মদ্যপানাগার বা ক্লাবে আলাদা লাউঞ্জ, রেস্টুরেন্ট বা বিস্ট্রো অংশ থাকে, যেখানে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যতক্ষণ তারা বারের কাছে না যায় বা এদিক-সেদিক না ঘোরাফেরা করে। শহরের কিছু পাব-এ ভিডিও গেমস ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠও থাকে। গ্রামীণ এলাকার কিছু পাবের পেছনে খোলা জায়গা থাকে, যেখানে বাচ্চারা দৌড়ঝাঁপ করতে পারে।
সাধারণত আপনি পার্ক বা সমুদ্রসৈকতে নিয়ে গিয়ে অ্যালকোহল পান করতে পারেন (যেমন একটি বোতল ওয়াইন বা বিয়ার)। তবে কিছু জনসমাগমস্থলে যেমন পার্ক বা ফুটপাথে 'স্ট্রিট ড্রিঙ্কিং' নিষিদ্ধ। এসব স্থানে সাধারণত সাইনবোর্ড থাকে। যেখানে প্রকাশ্যে মাতলামির সমস্যা হয়েছে, সেসব জায়গায় নিষেধাজ্ঞা বেশি। তবে আপনি যদি দুপুরে পরিবার নিয়ে পিকনিকের ঝুড়ি ও চাদর বিছিয়ে বসে ওয়াইনের বোতল খুলেন, তবে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অ্যালকোহল শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী স্থানে (যেমন পাব, ক্লাব ও অনেক রেস্টুরেন্ট) বসে পান করার জন্য কেনা যায়। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কিনতে হলে বোতলশপ থেকে নিতে হয়। কিছু রাজ্যে সুপারমার্কেটেও অ্যালকোহল বিক্রি হয়। যেখানে বিক্রি হয় না, সেসব রাজ্যে বোতলশপ ও বড় সুপারমার্কেট সাধারণত পাশাপাশি থাকে। যদিও রাজ্যভেদে লাইসেন্স আইন ও সময়সূচী ভিন্ন, তবুও সাধারণত সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বোতলশপ, সুপারমার্কেট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মুদি দোকান ও মদ্যপানাগার থেকে অ্যালকোহল কেনা যায়। এর বাইরে প্রায় অসম্ভব-সিডনি বা মেলবোর্নের মাঝখানে না হলে। তাই যদি বাড়িতে পার্টির পরিকল্পনা থাকে, আগে থেকে স্থানীয় দোকানের খোলা-বন্ধের সময় দেখে মজুত রাখা উচিত। অস্ট্রেলিয়ায় কোনো জ্বালানি স্টেশন বা ২৪ ঘণ্টা খোলা কনভিনিয়েন্স স্টোরে অ্যালকোহল বিক্রি হয় না।
প্রকাশ্যে মাতলামি কতটা সহনীয় তা ভিন্ন ভিন্ন। মদ্যপানাগার ও ক্লাবের আশেপাশে রাতে এটা বেশি দেখা যায়, দিনে কম। প্রকাশ্যে মাতলামি আইনত অপরাধ, কিন্তু পুলিশ কেবল বিরক্তিকর আচরণ করলে ব্যবস্থা নেয়। কখনও রাতভর হেফাজতে থাকতে হতে পারে অথবা অভিযোগ গঠন হতে পারে।
অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো অস্ট্রেলিয়ায় কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রিত। পুলিশ এলোমেলোভাবে শ্বাসপরীক্ষা (breath test) করে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি হতে পারে লাইসেন্স বাতিলসহ নানা কিছু। সর্বোচ্চ রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা অনুমোদিত ০.০৫%। তবে ভারী যানবাহন চালক ও নতুন/কচি চালকদের ক্ষেত্রে সীমা আরও কম বা শূন্য। পুলিশ নিষিদ্ধ মাদক সেবন করেছে কিনা তা পরীক্ষা করার ক্ষমতাও রাখে। এসব পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানো ফৌজদারি অপরাধ। নিষিদ্ধ মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালালে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর আদালতে হাজিরা দিতে হয়, যা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে বড়ভাবে ব্যাহত করে। শনিবার ও রবিবার ভোরে এলোমেলো শ্বাসপরীক্ষা বিশেষভাবে সাধারণ, এবং অনেকেই আগের রাতের পান করার কারণে ধরা পড়েন।
===একসঙ্গে পানীয় কেনা ===
[[File:Birdsville Hotel.jpg|thumb|পশ্চিম কুইন্সল্যান্ডের দূরবর্তী অঞ্চলে বার্ডসভিল হোটেল]]
অস্ট্রেলিয়ায়, যেমন বিশ্বের আরও অনেক জায়গায়, একসঙ্গে বসে মদ্যপানের সময় পালাক্রমে পানীয় কেনা একটি প্রচলিত রীতি। কোনো পাব-এ গেলে এবং প্রথমবার বারে গেলে সাধারণত আশা করা হয় যে আপনি আপনার সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্যও পানীয় কিনবেন। পরবর্তীতে দলের অন্য কেউ নতুন করে যোগ দিলে সেও আপনার জন্য এমনটা করবে। এ প্রথাটিকে বলা হয় ''a shout'' (শাউট)। এতে একটি অলিখিত নিয়ম হলো, আপনিও পরবর্তী রাউন্ডে পাল্টা পানীয় কিনবেন এবং সন্ধ্যা জুড়ে দলের অন্যদের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পান করবেন।
যদি আপনার রাউন্ডের কারো গ্লাস খালি থাকে এবং তারা আপনার আগেই পানীয় কিনে দিয়ে থাকে, তবে আপনাকেই ঘোষণা করতে হবে যে এবার আপনার শাউট, এবং আপনিই বার-এ যাবেন। কেউ যদি আপনাকে পানীয় কিনে দিতে চায়, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে না দেয় যে ইতিমধ্যেই আপনাকে কিনে দিয়েছে, তবে বলা উচিত যে আপনি একটি শাউটে আছেন এবং বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তবে যদি সে আপনাকে এবং আপনার দলের সবাইকে পানীয় কিনে দেয়, তবে সে শাউটে যুক্ত হয়ে যায়। এক সন্ধ্যায় এক শাউট থেকে অন্য শাউটে চলে যাওয়াকে ভদ্রতা হিসেবে দেখা হয় না।
যদি বড় দলে থাকেন এবং আপনি পানীয় নিতে অস্বীকার করেন, তবুও আপনার পালা এলে আপনাকেই পুরো দলের জন্য কিনতে হবে। কোনো রাউন্ড এড়াতে চাইলে, সেটা নিজের শাউটের সময় করুন। সাধারণত একটি রাউন্ডে কিনে দিয়ে পরে নিজে পানীয় না নেওয়া ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না। অনেক সময় আপনাকে না জিজ্ঞেস করেই পানীয় কিনে দেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে আগেই পানীয় পেলে পরে সে বলতে পারে যে এবার আপনার শাউট। কোনো শাউটে যোগ না দিলে অনেক দলে তা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এড়ানোর সেরা উপায় হলো বলা যে আপনি গাড়ি চালাবেন এবং শুধু নিজের জন্য কিনবেন। এটি এক রাউন্ড শেষে সমতা থাকলে ভদ্রভাবে বেরিয়ে যাওয়ার গ্রহণযোগ্য উপায়ও।
===অ্যালকোহলবিহীন পানীয়===
'''মাইলো (Milo)''' হলো একটি মাল্ট ও চকলেট পানীয়, যা প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় উদ্ভাবিত হয় এবং বর্তমানে নেস্লে (Nestlé) তা তৈরি করে। এটি [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]]র অনেক দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো সুপারমার্কেটেই এটি পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিশালী '''[[কফি]]''' সংস্কৃতি রয়েছে, বিশেষত [[মেলবোর্ন]] শহরে, যেখানে প্রচুর ইতালীয় অভিবাসী রয়েছে। মজার বিষয় হলো, বলা হয় ইতালির বাসিন্দারা মেলবোর্নে এলে মনে করেন কফি তাদের শহরের তুলনায় খারাপ, তবে ইতালির অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় ভালো। এমনকি জ্বালানি স্টেশন ও ফাস্টফুড দোকানেও ভালো মানের কফি পাওয়া যায়। স্থানীয় কফি শপগুলির জনপ্রিয়তার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক চেইন এখানে নেই-যেমন স্টারবাকসের মাত্র কয়েকটি দোকান রয়েছে মেলবোর্ন ও সিডনিতে, অন্য কোথাও নয়। তাই চেইন না দেখে অবাক হবেন না, বরং স্থানীয় স্বাদই চেষ্টা করুন।
'''[[চা]]''' অস্ট্রেলিয়ায় কফির মতো জনপ্রিয় নয়, তবে সহজেই পাওয়া যায়। যেসব জায়গায় কফি বিক্রি হয়, প্রায় সবখানেই চাও বিক্রি হয়। কিছু অভিজাত হোটেলে ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি আফটারনুন টি পরিবেশন করা হয়। আবার ডেভনশায়ার চা অস্ট্রেলিয়ায় সপ্তাহান্তের বেশ জনপ্রিয় একটি বিনোদন, যেখানে অনেক বেকারিই এটি পরিবেশন করে। [[কুইন্সল্যান্ড]]-এ ছোট পরিসরে চা উৎপাদনও হয়।
==শিখুন==
{{Main|বিদেশে পড়াশোনা#অস্ট্রেলিয়া}}
অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য, বিশেষত [[পূর্ব এশিয়া]], [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]] ও [[ভারত]] থেকে আগতদের জন্য। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংরেজিভাষী পরিবেশ। পাশাপাশি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও কাজের ভিসার সুযোগও নাগরিকত্বের পথে সহায়ক হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে চাইলে আপনাকে এমন ভিসা ক্লাসে থাকতে হবে যা এ অনুমতি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-গবেষকদেরও সাধারণত উপযুক্ত ভিসা নিতে হয়, এমনকি ভ্রমণ ভিসায় স্বল্প সময়ের জন্য এলেও। খুব স্বল্পমেয়াদি বা খণ্ডকালীন কোর্সের জন্য অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলেট বা দূতাবাসে খোঁজ নেওয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়া বারিস্টা প্রশিক্ষণ নেওয়ারও চমৎকার জায়গা। এখান থেকে সনদপ্রাপ্তরা নিজ দেশে ফিরে কফি শপে তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরি পেতে পারেন। এ ধরনের কোর্স সাধারণত পর্যটক ভিসায় করা যায়।
==রাত্রিযাপন==
[[File:Camping by the Yarrangobilly River - panoramio.jpg|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের ইয়্যারাঙ্গোবিলি নদীর তীরে ক্যাম্পিং]]
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে সহজেই আবাসন পাওয়া যায়। তবে, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বিষয়ে যেমন ব্যয় বেশি, এখানকার আবাসনের খরচও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কিছুটা বেশি।
===হোটেল===
{{infobox|কখন ‘হোটেল’ হোটেল নয়?|অস্ট্রেলীয় ইংরেজিতে '''হোটেল''' বলতে বহু সময়ে যে জিনিসটিকে দুনিয়ার অন্য জায়গায় '''পাব''' বলা হয়, সেটাই বোঝায়। গ্রামীণ এলাকার হোটেলগুলোতে (পাব) সাধারণত সাইটেই থাকার ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু শহরের বেশিরভাগ হোটেলে তা থাকে না। যেসব গ্রামীণ ‘হোটেল’-এ পাব নেই, সেগুলোকে সাধারণত '''মোটেল''' বলা হয়।}}
সব রাজ্যের রাজধানী শহরগুলোতে বহু ৪ বা ৫-তারকা হোটেল আছে-উচ্চমানের রেস্তোরাঁ, বার, রুম-সার্ভিস ও অন্যান্য প্রিমিয়াম আতিথেয়তা সেবাসহ। প্রতি রাতের জন্য প্রায় ৪০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ ধরতে পারেন। তবে বড় কোনো কনসার্ট বা ইভেন্টের সময়-যেমন সিডনিতে নিউ ইয়ার্স ইভ-দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে বা সব রুম বিক্রি হয়ে যেতে পারে। ২ বা ৩-তারকা হোটেলও ভেতর শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক বড় বড় চেইনগুলো মোটামুটি ভালোভাবেই উপস্থিত, বিশেষ করে আকোর (Accor) প্রায় সব দামের পরিসরেই দৃঢ় উপস্থিতি রাখে। উল্লেখযোগ্য স্থানীয় স্বাধীন চেইনের মধ্যে আছে [https://www.rydges.com/ রিজেস (Rydges)]।
===পাব===
[[File:BendigoShamrockHotel.JPG|thumb|বেন্ডিগোর শ্যামরক হোটেল]]
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ পাব-এই কোনো না কোনো ধরনের থাকার ব্যবস্থা থাকে। এগুলো একেবারে সাধারণ মানের অগোছালো কক্ষ থেকে শুরু করে নতুন সংস্কারকৃত বুটিক ধাঁচের থাকার জায়গা পর্যন্ত হতে পারে। ভাড়া দেখে সাধারণত কেমন সুবিধা পাওয়া যাবে তা বোঝা যায়। এমনকি উন্নত পাবগুলোতেও ব্যক্তিগত বাথরুম থাকা এখনও বিরল। কক্ষগুলো সাধারণত দ্বিতীয় তলায়, সরাসরি বারের উপরে থাকে, ফলে বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার রাতে অনেক শব্দ হতে পারে।
বড় শহরের বাইরে পাবকে সাধারণত '''হোটেল''' বলা হয়। মোটেলে কোনো পাবলিক বার থাকে না। তবে যদি কোনো মোটেলের সঙ্গে বার যুক্ত থাকে তবে সেটিকে হোটেল/মোটেল বলা হয়।
খুব ছোট শহরগুলোতে ভ্রমণকারীদের জন্য স্থানীয় পাব-ই একমাত্র থাকার ব্যবস্থা দেয়। এসব পাবের থাকার জায়গা সাধারণত সাশ্রয়ী ধাঁচের হয়, যেখানে বাথরুম শেয়ার করতে হয়, তবে কক্ষগুলো ব্যক্তিগত হয়।
সিডনির কেন্দ্রস্থলেও পাব-এ থাকার সুযোগ পাওয়া যায়, ফলে বিয়ার খেয়ে সহজেই কক্ষে ফিরে যাওয়া যায়।
আপনি যদি একা ভ্রমণ করেন এবং আলাদা কক্ষ চান, তবে পাবগুলো সাধারণত সিঙ্গেল রুম দেয় যা ডাবল রুমের তুলনায় ছাড়ে পাওয়া যায়। অন্যদিকে বেশিরভাগ মোটেল এক বা দুইজন মিলে থাকুক না কেন একই ভাড়া নেয়।
===মোটেল===
সাধারণত মোটেল ধাঁচের থাকার জায়গায় একটি বা একাধিক বিছানা-সমৃদ্ধ আলাদা কক্ষ থাকে, সঙ্গে ব্যক্তিগত শাওয়ার ও টয়লেট। অনেক মোটেলেই ফ্যামিলি রুম থাকে, যেখানে একটি ডাবল বেড ও দুটি সিঙ্গেল বেড একই কক্ষে দেওয়া হয়।
শহরের মোটেলগুলোর কক্ষভাড়া সাধারণত ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু হয়। সাধারণত এক বা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক থাকলে খরচ একই হয়, তবে অতিরিক্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা ফি ধার্য হয়। শিশুদের জন্য ফি বিনামূল্য থেকে শুরু করে প্রতিজন সর্বোচ্চ ২০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। শান্ত মৌসুমে মোটেলগুলো প্রায়শই হঠাৎ ছাড় (standby discount) দিয়ে থাকে।
বেশিরভাগ মোটেল সকালে অতিরিক্ত ফির বিনিময়ে রান্না করা বা কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট কক্ষে সরবরাহ করে। কিছু মোটেলে রেস্টুরেন্ট থাকে বা রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। কোনো কোনো কক্ষে টোস্টার থাকে এবং কেটলি প্রায় সর্বত্র দেওয়া হয়।
===হোস্টেল ও ব্যাকপ্যাকার===
[[Hostels|সাশ্রয়ী হোস্টেল ধাঁচের থাকার জায়গা]]-এ সাধারণত শেয়ার করা বাথরুম থাকে এবং প্রায়শই ডরমিটরিও থাকে। ভাড়া প্রতিরাতে জনপিছু প্রায় ২০–৩০ ডলার। এসব হোস্টেলে সাধারণত সম্পূর্ণ সজ্জিত রান্নাঘর থাকে, যেখানে পর্যাপ্ত ফ্রিজ ও খাবার রাখার জায়গা থাকে। বেশিরভাগ হোস্টেলে বসার ঘরের মতো জায়গা থাকে, যেখানে সোফা, খাবার টেবিল ও টেলিভিশন থাকে।
অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল চেইন রয়েছে। একই ব্র্যান্ডের হোস্টেলে বহু রাত থাকলে তাদের ডিসকাউন্ট কার্ড বিবেচনা করা যেতে পারে, যেগুলো সাধারণত থাকার খরচে লয়্যালটি বোনাস এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ ট্যুরে ছাড় দিয়ে থাকে।
===হলিডে পার্ক===
[[File:RAC Esperance Holiday Park, Western Australia - facilities 03.jpg|thumb|হলিডে পার্কের মানক কেবিন]]
[[File:Dubbo NSW 2830, Australia - panoramio (107).jpg|thumb|যে কোনো সম্মানিত অস্ট্রেলীয় হলিডে পার্কে একটা “জাম্পিং পিলো” (দেয়ালবিহীন বিশাল ট্রামপোলিন/বাউন্সি ক্যাসল) থাকেই]]
হলিডে পার্ক অস্ট্রেলিয়ান অবকাশ সংস্কৃতির এক বিশাল অংশ-নিজস্ব যান থাকলে থাকার দারুণ উপায়। এগুলো মূলত পুরোনো '''কারাভ্যান পার্কের''' আপগ্রেডেড সংস্করণ, তবে নতুন মার্কেটিং অনুযায়ী এখন সাধারণ ভ্রমণকারীদেরও সমানভাবে সেবা দেয়। একটি সাধারণ হলিডে পার্কে থাকে-
* '''কেবিন'''-বিছানা, রান্নাঘর, টিভি, ওয়াই-ফাইসহ সবকিছুসহ, যাদের নিজস্ব ‘চাকা-ওয়ালা ঘর’ নেই তাদের জন্য। বেশিরভাগ কেবিনে ৪ বা ততোধিক জন থাকতে পারেন; ভাড়া সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
* '''পাওয়ার্ড সাইট'''-কারাভ্যান/ক্যাম্পারভ্যান/মোটরহোম/আরভি (রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল) পার্কিংয়ের জন্য। কিছু পার্কে '''এন-স্যুইট সাইট'''ও থাকে-ছোট ব্যক্তিগত বাথরুমে শাওয়ার ও টয়লেটসহ।
* '''আনপাওয়ার্ড সাইট'''-নিজের তাঁবু ফেলতে চাইলে; সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
যেখানেই থাকুন না কেন, দাম সাধারণত শেয়ারড সুবিধাগুলোর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে-বারবিকিউ (বিবিকিউ), শাওয়ার, রান্নাঘর, স্বয়ংক্রিয় লন্ড্রি, সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট ও জাম্পিং পিলো। সারা দেশে বড় চেইনগুলোর মধ্যে আছে [https://topparks.com.au টপ পার্কস/ডিসকভারি পার্কস] এবং [https://www.big4.com.au/ বিগ ৪ (BIG4)]-তবে স্বাধীন পার্কও নেহাত কম নয়।
তবে হলিডে পার্ক বেছে নেওয়ার আগে কিছু সতর্কতা-
* সাধারণত শহরের প্রান্তে থাকে; নিজের গাড়ি না থাকলে খুব সুবিধাজনক নাও লাগতে পারে।
* অধিকাংশ পার্ক পরিবার-কেন্দ্রিক-আপনার বাচ্চা থাকলে দারুণ, কিন্তু নির্জনতা চাইলে খুব পছন্দ নাও হতে পারে।
* স্কুলের ছুটিতে রেট অনেক বেড়ে যায়, একাধিক রাতের ন্যূনতম থাকা বাধ্যতামূলক করে এবং ভালো পার্কগুলো আগেভাগেই সোল্ড-আউট হয়ে যায়।
* বুকিং বদলাতে চাইলে সাধারণত সুবিধা নেই-বেশিরভাগ রিজার্ভেশন নন-রিফান্ডেবল।
===ক্যাম্পিং===
[[#হলিডে পার্ক|হলিডে পার্ক]]-এ তো বটেই, ক্যাম্পিং অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। ন্যাশনাল পার্কগুলোও প্রায়ই সস্তা বা বিনা খরচে ক্যাম্পসাইট দেয়-ধরা হয় আপনি নিজের দায়িত্বে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সামলাবেন। সাধারণত টয়লেট থাকে, কখনও কখনও ঠাণ্ডা শাওয়ারও থাকে। জনপ্রিয় পার্কগুলোতে পেইড ক্যাম্পিং পারমিট লাগে; গ্রীষ্মের ছুটিতে বিখ্যাত স্পটগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ায় এমনটা খুবই স্বাভাবিক যে রাজধানীসহ যেকোনো জায়গায় থাকুন, এক ঘণ্টার ড্রাইভের মধ্যেই কোনো ন্যাশনাল পার্ক বা রিক্রিয়েশন এরিয়ায় পৌঁছে এমন জায়গা পাওয়া যায় যেখানে কোনো না কোনোভাবে ক্যাম্পিং করা সম্ভব। ক্যাম্পিং পারমিটের জন্য সাধারণত প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ৫–১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার লাগে এবং জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে (যেমন: উইলসন্স প্রমোন্টরি ন্যাশনাল পার্ক, কোসিউস্কো ন্যাশনাল পার্ক ইত্যাদি) আলাদা প্রবেশ-ফিও থাকতে পারে। তবে জনবসতি ও পর্যটক-কেন্দ্র থেকে দূরের অধিকাংশ ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ ও ক্যাম্পিং দুটোই ফ্রি।
অন্যান্য কিছু ক্যাম্পিং এলাকা সরকার বা স্থানীয় জমির মালিকেরা চালান-সাধারণত সময়ভেদে প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ধরতে পারেন।
কেউ কেউ সমুদ্রসৈকতে রাত কাটানো বা হাইওয়ে রেস্ট-এলাকায় তাঁবু ফেলেও চেষ্টা করেন। তবে বেশিরভাগ রেস্ট-এলাকা ও সৈকতেই ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ; অনেক জায়গায় রাতভর গাড়ি পার্কিংও নিষিদ্ধ-এভাবে ‘ফ্রি’ থাকার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করতে। সাধারণ নিয়ম হলো, আপনি যত বেশি জনবসতি বা পর্যটন এলাকার কাছাকাছি, কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিরক্তির সম্ভাবনাও তত বেশি।
দর্শনীয়তার চেয়ে ক্যাম্পিং-অভিজ্ঞতাই যদি বেশি চান, তাহলে স্টেট ফরেস্ট প্রায়ই ন্যাশনাল পার্কের চেয়ে সুবিধাজনক-এখানে নিজেরা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পারেন (কোথাও কোথাও গাছ কাটারও সীমিত অনুমতি থাকে) এবং ক্যাম্পিং নির্দিষ্ট সাইটে সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে। স্টেট ফরেস্টে সাধারণত পোষ্য প্রাণী আনা, খোলা আগুন জ্বালানো, মোটরবাইক চালানো ও ফোর-হুইল ড্রাইভিং-এসব কার্যকলাপ চলতে পারে, যেগুলো ন্যাশনাল পার্কে সাধারণত নিষিদ্ধ। স্টেট ফরেস্টে থাকা সাধারণত ফ্রি, তবে কোথায় জনসাধারণের প্রবেশ অনুমোদিত তা স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
[[গাড়িতে ক্যাম্পিং|রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল (আরভি) নিয়ে ক্যাম্পিং]] অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। অনেক ক্যাম্পসাইট আরভি ও কারাভ্যান-বান্ধব-যদিও পাওয়ার সাপ্লাই ও মেইনস-ওয়াটার সংযোগ থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। আরভি/কারাভ্যান পার্কিং-স্লটের সংখ্যা সীমিত হতে পারে, তাই আগে থেকেই স্লট রিজার্ভ করা যায় কি-না দেখে নিন।
===ফার্ম স্টে===
নামের মতোই-চলমান খামারে কেবিন বা হোমস্টেড-আবাসন। সাধারণত দুই বা ততোধিক দিনের জন্য উপযোগী। চাইলে খামারের কাজকর্মে সামান্য অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতের খাবার হোমস্টেডে পরিবেশন করা হয় এবং কেবিনে ব্রেকফাস্ট-প্যাক দেওয়া হয়।
===হলিডে হোম===
হলিডে হোম হলো মালিকের ব্যক্তিগত বাড়ি, যা তিনি ভাড়া দেন-স্থানীয় রিয়েল-এস্টেট এজেন্ট বা বিশেষায়িত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কখনও চমৎকার লোকেশনে থাকে, কখনও আবার শহর/শহরতলির আবাসিক এলাকায়। ন্যূনতম ভাড়া সাধারণত কমপক্ষে ২ রাত-ব্যস্ত সময়ে তা এক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ন্যূনতম সুবিধা হিসেবে থাকে শোবার ঘর, লাউঞ্জ ও বাথরুম।
===[[বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট]]===
[[File:HentyCentralHotel.JPG|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের (এনএসডব্লিউ) হেনটি শহরের হেনটি সেন্ট্রাল হোটেল ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ আবাসন দেয়-এ রকম হোটেল বহু গ্রামীণ শহরেই আছে]]
অস্ট্রেলিয়ায় বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট সাধারণত প্রিমিয়াম ধাঁচের আবাসন-সপ্তাহান্তে যুগলদের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। যুক্তরাজ্যের কিছু অংশের মতো এখানে এটাকে সস্তা আবাস হিসেবে ধরা হয় না; স্থানীয় মোটেলই সাধারণত তুলনায় সস্তা পড়ে।
কখনও বাড়ির অতিরিক্ত রুম, তবে অনেক সময়ই উদ্দেশ্যনির্মিত ভবন। সাধারণত আরামদায়ক, পরিচ্ছন্ন রুম, একটি শেয়ারড কমন-এলাকা এবং রান্না করা সকালের নাস্তা আশা করতে পারেন। হয়তো ব্যক্তিগত সুবিধাও থাকবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থাকা হলে-বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্টে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য ছাড় মেলে।
===রিসোর্ট সমূহ===
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় অনেক আসল রিসোর্ট আছে। এদের মধ্যে অনেকেরই লেগুন পুল, টেনিস কোর্ট, গলফ, শিশুদের ক্লাব এবং নানা ধরনের কার্যক্রম থাকে। [[হুইটসানডেস]] দ্বীপপুঞ্জে বিভিন্ন ধরনের রিসোর্ট রয়েছে, কিছু রিসোর্ট পুরো দ্বীপ জুড়েই। [[পোর্ট ডগলাস]]-এও বিশ্বমানের অসংখ্য রিসোর্ট রয়েছে।
===সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট===
সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় খুবই জনপ্রিয় আবাসনের ধরন, যা শহরের কেন্দ্র, সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিংবা স্কি রিসোর্ট-সবখানেই পাওয়া যায়। অতিথিরা চাইলে মাত্র এক রাত থেকেও উঠতে পারেন, আবার এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ের জন্য বুক করলে ছাড় পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণ হোটেলের তুলনায় বড় হয়, যেখানে সাধারণত রান্নাঘর, ওয়াশিং মেশিন, ড্রায়ার এবং আলাদা শোবার ঘর থাকে। পরিবারের জন্য বা বড় দলের জন্য এগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়।
অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলগুলো সাধারণত প্রাতঃরাশ দেয় না বা রেস্টুরেন্ট থাকে না, তবে কাছেই (প্রায়শই পাশের ভবনেই) অতিথিদের জন্য ক্যাফে থাকে। বড় চেইনগুলোর মধ্যে রয়েছে [https://www.meritonsuites.com.au/ মেরিটন স্যুইটস] এবং [https://adinahotels.com/en/ আদিনা]।
===হাউসবোট===
অস্ট্রেলিয়ার মনোরম গ্রামীণ নদীগুলোতে হাউসবোট ভাড়া নেওয়া যায়। এগুলো বন্য প্রকৃতিতে সময় কাটানোর এক দারুণ সুযোগ দেয়। সাধারণত এদের মধ্যে রান্নাঘর থাকে, তাই অতিথিরা নিজেই রান্নার উপকরণ নিয়ে যেতে পারেন।
===স্টেশন ওয়াগন ও ভ্যান===
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ স্থানে গাড়ির ভেতরে ঘুমানো আইনত নিষিদ্ধ। তবে জানালার চারপাশে পর্দা টাঙালে অনেক সময়ে তা এড়িয়ে যাওয়া যায়। প্রায় ১,০০০ ডলারে একটি ট্রেড ভ্যান কেনা যায়, আর নির্ভরযোগ্য ভ্যান কিনতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৩,০০০–৪,০০০ ডলার। একটি গদি, বালিশ, পোর্টেবল গ্যাস চুলা, রান্নার সামগ্রী এবং ২০ লিটার পানির কন্টেইনার যোগ করলে যাত্রা শুরু করা যায়। তবে ধরা পড়লে জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার। তাই ঝুঁকির দায় নিজেকেই নিতে হবে। পরিকল্পনা করে থাকলে সাধারণত ধরা পড়তে হয় না। স্থানীয়দের বিরক্ত না করা এবং পার্কিং বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কিছু এলাকায় রাতারাতি পার্কিং নিষিদ্ধ হলেও তা খুবই বিরল। তবে শহরে পার্কিং ইন্সপেক্টররা কঠোর, তাই ১০০ ডলারের বেশি জরিমানা অস্বাভাবিক নয়।
অস্ট্রেলিয়ার সব শহর ও নগরে বিনামূল্যে পাবলিক টয়লেট আছে। অনেক পার্কে এবং বেশিরভাগ সমুদ্রসৈকতে বিনামূল্যে ইলেকট্রিক বারবিকিউ রয়েছে। জনপ্রিয় সৈকতগুলোতে মিষ্টি পানির শাওয়ারও থাকে, যাতে সাঁতার শেষে সমুদ্রের লবণ ধুয়ে ফেলা যায়। অল্প বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য সমুদ্রেই ধোওয়া এবং শাওয়ারে কুলি করাই যথেষ্ট (তবে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে পানি দূষণ করা যাবে না)। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব নলকূপের পানিই পানযোগ্য, যেগুলো নয়, সেগুলো চিহ্নিত করা থাকে। সার্ভিস স্টেশনগুলোতে সাধারণত নল থাকে, তাই প্রতিবার জ্বালানি ভরার সময় পানি ভরেও নেওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ার সেরা অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হতে পারে এমন একটি রাস্তা ধরে যাওয়া, যা মানচিত্রে সমুদ্রসৈকত, ঝরনা বা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হয়। হয়তো সেখানে নির্জন এক স্বর্গীয় জায়গা পাবেন। সৌভাগ্যক্রমে আপনার সঙ্গে থাকবে শোবার জায়গা, খাবার ও পানি।
ছোট দলে ভ্রমণ করলে মাথাপিছু জ্বালানির খরচও কমে যায়, যা সাধারণত সবচেয়ে বড় ব্যয় হয়ে দাঁড়ায়।
ভ্রমণ উপভোগ করুন এবং জমি ও প্রকৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপনার আবর্জনা, বোতল এবং সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সঠিকভাবে ফেলে দিন।
==কাজ==
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দারা অতিরিক্ত কোনো অনুমতি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন, কিন্তু অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ভিসা প্রয়োজন হয়। পর্যটন ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ করা আইনবিরুদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ায় পারফর্ম করা যেকোনো সেবার জন্য প্রদত্ত যেকোনো ধরনের পারিশ্রমিক-হোক তা অর্থমূল্য কিংবা অন্য কিছু (যেমন: থাকা ও খাওয়া)-‘পেমেন্ট’ হিসেবে গণ্য হয়, অর্থাৎ এই ধরনের কাজ পর্যটন ভিসার আওতায় অবৈধ। স্বেচ্ছাসেবী কাজ অনুমোদিত, যদি তা ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য না হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভিসাধারীরা একাডেমিক টার্ম চলাকালীন (যখন ক্লাস চলে) প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, এবং ছুটির সময় পূর্ণ সময় কাজ করতে পারেন। এর মানে, ক্লাস চলাকালে প্রতি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে কাজ করলে গ্রেফতার, কারাবাস, দেশে ফেরত পাঠানো এবং স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। যেসব ভিজিটর অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক নন (এতে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত, যদি তারা অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক না হন), তারা অস্ট্রেলিয়ার বেকারদের জন্য নির্ধারিত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিতে পারেন না এবং সরকারের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার সুযোগ খুব সীমিত বা সাধারণত নেই বললেই চলে।
===পারিশ্রমিক ও কর===
অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তা পারিশ্রমিক সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন, তাই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত। কিছু ব্যাংক বিদেশ থেকেও অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়, যেমন: কমনওয়েলথ ব্যাংক এবং এইচএসবিসি।
আপনাকে দ্রুত একটি '''[http://www.ato.gov.au/Individuals/Tax-file-number/ ট্যাক্স ফাইল নম্বর (TFN)]'''-এর জন্য আবেদন করতে হবে। এটি [http://www.ato.gov.au/ অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্স অফিসের ওয়েবসাইট] থেকে বিনামূল্যে অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করলে সাধারণত আরও দ্রুত পাওয়া যায়। TFN ছাড়াও কাজ শুরু করা সম্ভব, কিন্তু দ্রুত এটি সংগ্রহ না করলে নিয়োগকর্তা আপনার আয় থেকে সর্বোচ্চ হারে কর কেটে রাখবে। TFN ব্যাংকে নিবন্ধন না করালে সুদের আয় থেকেও সর্বোচ্চ হারে কর কাটা হবে। অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক বছর চলে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত, এবং প্রতি বছরের কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। কর সংক্রান্ত দায়িত্ব ও কর রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে কোনো ট্যাক্স এজেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। [https://my.gov.au/ myGov] অ্যাকাউন্ট খুলে এটিকে ATO-র সঙ্গে লিঙ্ক করে সহজেই রিটার্ন দাখিল করা যায় (যদি আপনার কাছে প্রাসঙ্গিক অস্ট্রেলিয়ান আইডি না থাকে, তবে ATO-কে ফোন করে সাহায্য নিতে হতে পারে)।
আপনার আয়ের সঙ্গে সঙ্গে ATO একটি '''[https://www.ato.gov.au/Individuals/Medicare-and-private-health-insurance/Medicare-levy/ মেডিকেয়ার লেভি]''' হিসেবে ২% হারে কর কেটে রাখবে, যা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য ব্যয় হয়। কিছু বিদেশি কর্মী এই কর থেকে অব্যাহতি পান; যদি আপনার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হয়, তাহলে [https://www.servicesaustralia.gov.au/medicare-entitlement-statement মেডিকেয়ার এনটাইটেলমেন্ট স্টেটমেন্ট]-এর জন্য আবেদন করুন, যাতে কর রিটার্নে তা দেখিয়ে রিফান্ড পাওয়া যায়। আগেভাগেই আবেদন করুন, কারণ এই স্টেটমেন্ট পেতে সময় লাগতে পারে এবং কর রিটার্ন জমা দিতে গেলে এটি লাগবে।
অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তারা আপনার আয়ের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে সুপারঅ্যানুয়েশন (অবসরের সঞ্চয়) ফান্ডে জমা রাখেন। অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ভিসায় থাকা, অথচ অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের নাগরিক নন-এমন ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সময় এই অর্থ ফেরত নিতে পারেন। একে বলা হয় “ডিপার্টিং অস্ট্রেলিয়া সুপারঅ্যানুয়েশন পেমেন্ট (DASP)”, এবং আপনি এটি [https://applicant.tr.super.ato.gov.au/applicants/default.aspx?pid=1 অনলাইনে আবেদন] করে পেতে পারেন। নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা এই সঞ্চয় তাঁদের “কিউইসেভার” অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারেন; এ জন্য নিজ নিজ প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
===ওয়ার্কিং হলিডেমেকার স্কিম===
[[File:CSIRO ScienceImage 4714 CSIRO Precision Viticulture Trial site in the Eden Valley SA March 2004.jpg|thumb|দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আঙ্গুরক্ষেত]]
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য একটি ওয়ার্কিং হলিডেমেকার কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম প্রবেশের দিন থেকে ১২ মাস অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যায়। এই সময় কাজ করা যাবে, তবে কোনো এক নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ ৬ মাস। মূল ধারণা হলো ছুটি কাটানো, যার খরচ মেটানো হবে অস্থায়ী বা স্বল্পমেয়াদি কাজের আয়ে। আগ্রহীদের জন্য উপকারী দক্ষতার মধ্যে রয়েছে: অফিসের কাজ শেখা, যাতে অস্থায়ী চাকরিতে কাজে লাগে; অথবা আতিথেয়তা খাতে (বার বা রেস্টুরেন্টে) কাজ করার দক্ষতা। বিকল্প হিসেবে মৌসুমি কাজ যেমন ফল সংগ্রহ রয়েছে, তবে এসব কাজ সাধারণত বড় শহরের বাইরে করতে হয়। মৌসুমি কাজে ৩ মাস কাজ করলে দ্বিতীয় ১২ মাসের ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।
'''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/work-holiday-417 ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা]''' অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে আবেদনকালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যাবে না। খরচ ৬৩৫ ডলার (এপ্রিল ২০২৪ অনুযায়ী)। বিভাগের তথ্যমতে, অর্ধেক আবেদন একদিনের মধ্যে এবং ৯০ শতাংশ তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়াকৃত হয়। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ভিসাটি ‘‘এভিডেন্সড’’ করে নিতে বলা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তাকে দেখানো যায়।
ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সময় অন্তত ৫,০০০ ডলার থাকা সুপারিশ করা হয়। কারণ অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ বেশি এবং কাজ পেতে কয়েকদিন বা সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
===কর্মভিসা===
অস্ট্রেলিয়ার কর্মভিসার নিয়ম প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য স্থানীয় অস্ট্রেলীয় হাইকমিশন, কনস্যুলেট, দূতাবাস বা [http://www.immi.gov.au/ অভিবাসন বিভাগের ওয়েবসাইট] দেখা উচিত।
সরাসরি কর্মভিসা (সাবক্লাস ৪৫৭, ১৮৬ ও ১৮৭) পাওয়ার সহজ উপায় হলো কোনো অস্ট্রেলীয় নিয়োগকর্তা আপনাকে স্পনসর করা। নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার দক্ষতা সম্পন্ন কাউকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাকরির বিজ্ঞাপনগুলোতে সাধারণত বৈধ কর্মভিসার শর্ত উল্লেখ থাকে। ভিসা পেতে কয়েক মাস লাগতে পারে এবং অনুমোদনের আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত চিকিৎসকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা (যেমন টিবি পরীক্ষা করার জন্য বুকের এক্স-রে) দিতে হয়। দক্ষ নিয়োগকর্তা ও ভালো অভিবাসন আইনজীবী থাকলে ৪৫৭ ভিসা এক সপ্তাহেই অনুমোদিত হতে পারে। তবে এই ভিসা শুধু স্পনসর নিয়োগকর্তার জন্য বৈধ এবং চাকরি শেষ হলে ৩০ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হয়।
রিজিওনাল স্পনসর্ড মাইগ্রেশন স্কিম (আরএসএমএস) ভিসা (সাবক্লাস ১৮৭) তুলনামূলক সহজ, তবে ‘‘আঞ্চলিক’’ এলাকায় থাকতে ও কাজ করতে হয়। এসব এলাকা মূলত গ্রামীণ বা বড় শহর থেকে দূরে, যদিও [[অ্যাডিলেড]] এই তালিকায় রয়েছে।
যদি বিশেষ দক্ষতা থাকে এবং কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে বাঁধা না থাকতে চান, তবে স্কিল্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ১৮৯, ১৯০, ৪৮৯) নেওয়া যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা (সাবক্লাস ৪৮৫) পেতে পারেন। এটি ১৮ মাস থেকে ৪ বছরের জন্য বৈধ হয়, যা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেজরের উপর নির্ভর করে। তবে মেজরটি অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ‘‘চাহিদাসম্পন্ন পেশার তালিকায়’’ থাকতে হবে, যা প্রতি বছর হালনাগাদ হয়। এই ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে পড়াশোনার শুরু নয়, স্নাতক হওয়ার সময়কার তালিকাই কার্যকর।
===অভিবাসন===
বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী হিসেবে অভিবাসনের জন্য আবেদন করা যায়, তবে এটি কর্মভিসার তুলনায় সময়সাপেক্ষ। কর্ম বা শিক্ষাভিসাধারীও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন, যদিও স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পাওয়া যায় না। প্রচুর অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা রয়েছে, যা দিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। চার বছরের বৈধ বসবাস শেষে, যার অন্তত এক বছর স্থায়ী বসবাস হতে হবে, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।
===স্বেচ্ছাসেবক===
অস্ট্রেলিয়ায় নানা স্বেচ্ছাসেবী কাজের সুযোগ রয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা ভ্রমণকারীদের স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের সুযোগ দেয়। যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনর্গঠন, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রক্ষণাবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েছে [http://www.australianvolunteers.com '''অস্ট্রেলিয়ান ভলান্টিয়ার্স'''], [http://www.wwf.org.au '''ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড'''], [http://www.gap360.com '''গ্যাপ ৩৬০'''], '''[https://xtremegapyear.co.uk/ এক্সট্রিম গ্যাপ ইয়ার]''', এবং [https://freepackers.com/en/destinations/australia/ '''ফ্রিপ্যাকার্স''']।
==সম্মান ও আচরণ==
{{infobox|অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রতার রীতি|অস্ট্রেলিয়ায় আপনি যে ধরনের গ্রাহকসেবার মুখোমুখি হবেন—হোক সেটা কোনো ক্যাফের বারিস্টা, বারের বারটেন্ডার, হোটেলের রিসেপশনিস্ট কিংবা ট্যাক্সিচালক—প্রায় সবক্ষেত্রেই এমন সংলাপে শুরু হয়:
* আপনি: হাই, কেমন যাচ্ছো?
* তিনি: ভালো, ধন্যবাদ, আপনি কেমন?
* আপনি: আমি এক কাপ ফ্ল্যাট হোয়াইট/এক গ্লাস ফ্যাট ইয়াক/দুইজনের একটি ঘর/টুুম্বায় যেতে চাই...
হ্যাঁ, এটা এমনকি একেবারে অচেনা লোকজনের সাথেও প্রযোজ্য। এবং হ্যাঁ, এই দুই লাইনের পর আপনি সরাসরি নিজের প্রয়োজনটা বলতে পারেন—নিজের জীবনকাহিনি বলার দরকার নেই। কিন্তু পুরোপুরি এটা এড়িয়ে গেলে মানুষ আপনাকে অভদ্র ভাবতে পারে।}}
সাধারণভাবে, অস্ট্রেলীয়দের সংস্কৃতিগত অজ্ঞতার কারণে অপমান বা কষ্ট দেওয়ার আশঙ্কা খুব কম।
অস্ট্রেলিয়ায় সম্বোধন বেশ সহজ-সরল ও খোলামেলা। অধিকাংশ পরিস্থিতিতে, এমনকি নিজের চেয়ে অনেক বছর বয়সী ব্যক্তিকেও প্রথম নামে ডাকা একেবারেই স্বাভাবিক। অনেকে সদ্য পরিচিত লোককেও ডাকনামে ডাকতে পছন্দ করেন। এমন ডাকনামে ডাকা সাধারণত বন্ধুত্বের প্রকাশ, অবজ্ঞা নয়।
অস্ট্রেলিয়ায় খোলামেলা পোশাক পরা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। সৈকতে বিকিনি বা সাঁতারের পোশাক পরা স্বাভাবিক, এবং সৈকতের পাশের দোকানেও এটি মানা যায়। তবে এর বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে অন্তত একটি শার্ট ও পায়ে কিছু পরা উচিত। অধিকাংশ সৈকত কার্যত টপ-ঐচ্ছিক (টপলেস) হলেও, রাস্তায় হাঁটার সময় বা পানিতে নামার সময় প্রায় সব নারীই টপ পরে থাকেন। কিছু সৈকত সম্পূর্ণ নগ্নতায় অনুমোদিত, যেগুলো সাধারণত আবাসিক এলাকা থেকে একটু দূরে থাকে। থং বিকিনি (যা অস্ট্রেলিয়ায় 'জি-স্ট্রিং বিকিনি' নামে বেশি পরিচিত, কারণ এখানে 'থং' মানে স্যান্ডেল) নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই অনুমোদিত, যদিও এগুলো এখনও ততটা প্রচলিত নয়। কিছু আউটডোর সুইমিং পুলে নারীদের জন্য "টপ আবশ্যক" নীতিমালা রয়েছে।
যখন উপাসনালয়, যেমন গির্জা পরিদর্শন করবেন, তখন একটু ঢেকে থাকা ভালো। গরমে সাধারণত টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট যথেষ্ট, তবে আনুষ্ঠানিক পরিবেশে পুরুষদের জন্য দীর্ঘহাতা শার্ট, টাই ও ফুলপ্যান্টই ব্যবসায়িক পোশাক হিসেবে গ্রহণযোগ্য-even যদি আবহাওয়া খুব গরম হয়।
[[Australian slang|অস্ট্রেলিয়ান কথ্য ভাষা বা স্ল্যাং]] অনুকরণ করার চেষ্টা করলে তা অনেক সময় যোগাযোগের চেয়ে বিদ্রুপ বলেই মনে হতে পারে। যদি আপনি খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে হাসি পেতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ানরা প্রায়ই নিজেদের নিয়ে ঠাট্টা করে কথা বলেন, তবে এমন কোনো মন্তব্যের সাথে একমত হওয়া অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয়। নিজের কৃতিত্ব নিয়ে গর্ব করা সচরাচর ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না।
অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক শ্রেণি অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম গুরুত্ব পায়। পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিক বা কারিগরদের (যাদের “ট্রেডিজ” বলা হয়) অনেক বেশি সম্মান ও ভালো বেতন দেওয়া হয়। কাজের ধরন দেখে কাউকে অবজ্ঞা করা অস্ট্রেলিয়ায় খুবই নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। হোটেল কর্মচারী, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ট্যাক্সিচালক ও দোকানের কর্মচারীদেরও সমানভাবে সম্মান করার প্রত্যাশা করা হয়।
হারিয়ে গেলে বেশিরভাগ অস্ট্রেলীয়ই দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী থাকেন। তবে শহুরে এলাকায় অনেকেই "মাফ করবেন" শুনলে ধরে নেন আপনি অর্থ চাচ্ছেন, এবং এড়িয়ে চলে যেতে পারেন। হাতে মানচিত্র থাকা, ব্যাকপ্যাকারদের মতো দেখানো বা সরাসরি নিজের প্রয়োজনে যাওয়া-এসব সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
===আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা===
[[File:Ayers Rock 2004 - panoramio (2).jpg|thumb|উলুরু]]
[[Indigenous Australian culture|আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা]] সম্ভবত ৬৫,০০০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে এসে বসতি গড়েন এবং বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। ইউরোপীয় বসতির পর থেকে তাঁদের প্রথাগত জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে তারা বহু বছর ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছেন। তাই এই বিষয়ে সর্বদা সংবেদনশীল হওয়া উচিত। আদিবাসীরা বিভিন্ন ‘জাতি’ বা সম্প্রদায়ভুক্ত যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় রয়েছে এবং বসতির আগেই তাঁরা প্রায় ২৫০টি ভাষায় কথা বলতেন।
পর্যটকদের জন্য আদিবাসী ভূমিতে প্রবেশের নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন। কিছু এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা যায়, আবার কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতি বা পারমিট লাগে, এবং কিছু এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। জনপ্রিয় এলাকাগুলোর পারমিট নেওয়া সাধারণত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র এবং এতে আপনার সফরের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। এটি মূলত সেই ভূমিকে আদিবাসী ভূমি হিসেবে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি। কিছু আদিবাসী জমি পরিষদ অনলাইনে পারমিট প্রদান করে।
কিছু সম্প্রদায় বা এলাকা আদিবাসীদের পক্ষ থেকে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। যদিও পর্যটন আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর জন্য উপকারী, তবু সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বসবাস ও পর্যটন এলাকাকে আলাদা রাখার চেষ্টা চলছে। ম্যাপে কোনো এলাকা "মুক্ত প্রবেশযোগ্য" দেখালেও, অনুরোধ না মানা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অনেক সময় বেআইনিও হতে পারে। নির্জন এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে যাচাই করে নিন জায়গাটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত কিনা এবং পারমিট প্রয়োজন কি না।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক নিদর্শন [[উলুরু]] স্থানীয় আনানগু জনগণের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। যদিও একসময় এটি পর্বতারোহণের জন্য জনপ্রিয় ছিল, আনানগু জনগণ বহুদিন ধরে পর্যটকদের তা না করার অনুরোধ জানিয়ে আসছেন, এবং ২০১৯ সাল থেকে এটি বেআইনি হয়েছে। তাদের মতে, যদি কেউ সেখানে চড়ে আহত বা নিহত হন, তাহলে এর দায় তাঁদের ওপর পড়ে। তাই দয়া করে উলুরুতে না চড়ুন। “এয়ারস রক” নামটি বিদেশে প্রচলিত হলেও অস্ট্রেলিয়ার ভিতরে প্রায় কেউই এটি ব্যবহার করে না এবং এটি বলা অনুচিত।
জাতিগত প্রসঙ্গে বলতে হলে, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শব্দ হলো ''ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ান'' (Indigenous Australians)। ''আদিবাসী জনগণ'' (Aboriginal people) সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ''আদিবাসী'' (Aboriginal) শব্দটি একা ব্যবহার এড়ানো ভালো-অনেকে এতে নেতিবাচক অর্থ খুঁজে পান। ''অ্যাবরিজিন'' বা ''অ্যাবো'' শব্দগুলো অত্যন্ত অবমাননাকর এবং ব্যবহার করা উচিত নয়। ''নেটিভ'' শব্দটি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও, ''ইন্ডিজেনাস'' শব্দটি ব্যবহার করাই উত্তম। [[টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জ|টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জের]] আদিবাসীরা নিজেদের “আদিবাসী” নয় বরং “টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার” হিসেবে পরিচয় দেন।
আদিবাসী অস্ট্রেলীয়দের সাথে আচরণের সময় কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত:
* অনেক আদিবাসীর কাছে অস্ট্রেলিয়া দিবস একটি “অবৈধ দখলের দিন”, তাই এই দিনে প্রতিবাদ হয়।
* কোনো মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করা বা ছবি না দেখানো ভালো। বিভিন্ন সম্প্রদায়ে নিয়ম আলাদা হলেও, অপমান এড়াতে এগুলো থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
* আদিবাসী ব্যক্তিদের ছবি তুলতে গেলে, বিশেষ করে [[আর্নহেম ল্যান্ড]] ও [[নর্দার্ন টেরিটরি]]-র মতো দূরবর্তী এলাকায়, অবশ্যই আগে অনুমতি নিতে হবে।
* উলুরু বা থ্রি সিস্টার্সের মতো পবিত্র আদিবাসী স্থানগুলোকে অসম্মান করবেন না-যেমন সেখানে চড়া, ভাঙচুর, লেখালেখি ইত্যাদি। এগুলো যে কতটা ক্ষতি করেছে পর্যটকরা, তার হিসেব মেলানো কঠিন।
* যদিও আইনের চোখে আদিবাসী ও অ-আদিবাসী সমান অধিকার পেয়েছে, বাস্তবে আদিবাসীরা প্রায়ই অন্যদের তুলনায় পুলিশি হয়রানির শিকার হন। এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এবং আজও নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে আদিবাসীদের পুলিশি নির্যাতন বা হেফাজতে মৃত্যুর খবর আসে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৪%-এরও কম হলেও, কারাবন্দি পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৩০% আদিবাসী। এই বিষয়গুলো সাধারণত '''এড়িয়ে যাওয়াই ভালো'''।
===এএনজ্যাক দিবস===
যদিও অস্ট্রেলীয়রা সাধারণত মজা করে কথা বলেন, ২৫ এপ্রিল পালিত এএনজ্যাক দিবস ব্যতিক্রম। এই দিনে সামরিক বাহিনীর প্রতি কোনো অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্য করলে তা অত্যন্ত আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং বিদেশিদেরকেও যুদ্ধস্মৃতিস্তম্ভে কেবল খেলা করেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বছরের বাকি সময়ে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সমালোচনা সহ্যযোগ্য হলেও, এই দিনে নয়।
===ধর্ম===
আধুনিক অস্ট্রেলীয় সমাজ তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ এবং নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষ সংখ্যালঘু। ২০২১ সালের আদমশুমারিতে মাত্র ৪৩% মানুষ নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, আর ৩৮% বলেছে তাদের কোনো ধর্ম নেই। ইসলাম, হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম ক্রমবর্ধমান, যা অভিবাসনের কারণে বাড়ছে।
অস্ট্রেলীয়রা সাধারণভাবে সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল। হিজাব, কিপ্পা বা ক্রুশের মতো ধর্মীয় প্রতীকধারী পোশাক সাধারণত অপমান বা হয়রানির শিকার হয় না, যদিও ইসলামবিদ্বেষ, ইহুদিবিদ্বেষ এবং অন্যান্য ধর্মীয় বৈষম্য কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়। সাধারণভাবে, ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয় না এবং ধর্ম প্রচার বা অন্যদের বিরক্ত করা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
বড় শহরগুলোতে হালাল খাদ্য পাওয়া সহজ। অনেক রেস্তোরাঁ হালাল খাবার সরবরাহ করে এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সার্টিফিকেটও থাকে। বড় সুপারমার্কেটেও হালাল পণ্যের জন্য আলাদা বিভাগ থাকে।
===ব্রিটিশ উত্তরাধিকার===
অস্ট্রেলিয়াকে কেবলমাত্র রৌদ্রোজ্জ্বল যুক্তরাজ্য বলা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সাথে তুলনা করাটা সব সময় আপত্তিকর নয়, তবে মানুষ পছন্দ করে যখন তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
==নিরাপত্তা==
===জরুরি পরিস্থিতি===
অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো টেলিফোন থেকে বিনামূল্যে ডায়াল করা যায় '''[tel:000 000]''' নাম্বারটি (যাকে ‘ট্রিপল জিরো’ বা ‘ট্রিপল ও’ বলা হয়)। এই নম্বরে ফোন করলে জরুরি অপারেটর আপনাকে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক, উপকূলরক্ষী বা অ্যাম্বুলেন্স সেবার সাথে সংযুক্ত করবে, নির্ভর করবে আপনি কোন সেবা চান তা জানানোর ওপর।
যদি পরিস্থিতি জরুরি না হয়, তাহলে ০০০ নম্বরে ফোন করবেন না। এর পরিবর্তে পুলিশ সহায়তা লাইনে ফোন করতে পারেন: [tel:131444 131 444]। এর মধ্যে শব্দ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ করাও অন্তর্ভুক্ত। বিষাক্ত দ্রব্য সংক্রান্ত পরামর্শ, যা সাপ, মাকড়সা ও পোকামাকড় কামড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা করে, পাওয়া যায় এই নম্বরে: [tel:131126 131 126]। নিকটবর্তী চিকিৎসা সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানার জন্য ফোন করুন [tel:1800022222 1800 022 222] (তাসমানিয়া ব্যতীত)।
বন্যা, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তার প্রয়োজন হলে প্রতিটি রাজ্যের স্টেট এমার্জেন্সি সার্ভিসের (Northern Territory বাদে) সাথে যোগাযোগ করুন [tel:132500 132 500] নম্বরে। আপনাকে স্থানীয় ইউনিটের সাথে যুক্ত করা হবে এবং সেখান থেকে সহায়তা সংগঠিত হবে। তবে জীবন হুমকির মুখে পড়লে অবশ্যই ০০০-তে ফোন করতে হবে।
সব মোবাইল ফোন থেকেই ০০০ ডায়াল করা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো এই নম্বরটিকে জরুরি নাম্বার হিসেবে চিনতে পারে এবং যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কল সম্পন্ন করতে পারে। তবে, যদি আপনার ফোনটি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আনা হয়ে থাকে, তাহলে ইউনিভার্সাল এমার্জেন্সি নাম্বার '''[tel:112 112]''' ব্যবহার করাই ভালো। ১১২ নম্বরে কল করলে এটি যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে, এমনকি ফোন রোমিং না করলেও বা সিম না থাকলেও কাজ করবে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ফোনেও কাজ করে। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ৩জি নেটওয়ার্ক থাকবে না, তাই ফোনে VoLTE কলিং এবং এমার্জেন্সি কল ওভার VoLTE সাপোর্ট থাকতে হবে (কিছু ফোন শুধু ৩জি বা ২জি ব্যবহার করে); একটি ফোন এই সেবার জন্য উপযোগী কি না তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন, কারণ ০০০ নম্বরে শুধু জরুরি অবস্থায়ই ফোন করা উচিত। তবে যদি ফোনটি অস্ট্রেলিয়ান সিম দিয়ে কাজ করে, তাহলে তা যথেষ্ট।
যাদের শ্রবণ বা বাক সমস্যা আছে এবং যারা TTY যন্ত্র ব্যবহার করেন, তারা ডায়াল করতে পারেন '''[tel:106 106]'''। যাদের ইন্টারনেট সংযোগ আছে, তারা [http://www.relayservice.com.au ইন্টারনেট রিলে সার্ভিসের ওয়েবসাইট] ব্যবহার করতে পারেন।
স্থায়ী ল্যান্ডলাইন ফোন থেকে কল করলে জরুরি পরিষেবা আপনাকে খুঁজে বের করতে কল ট্রেস করতে পারে। তবে মোবাইল ফোন থেকে করা কল, বিশেষ করে শহরের বাইরে, সঠিকভাবে ট্রেস করা কঠিন, তাই শান্তভাবে ও পরিষ্কারভাবে আপনার অবস্থান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি নম্বরের নম্বর বিন্যাসের কারণে প্রায় ৬০% কল ভুলবশত করা হয়।
আপনার সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানাতে না পারলে সম্ভবত কেউ আপনার ফোন কলে সাড়া দেবে না। যদি আপনি সহায়তা প্রয়োজন হলেও কথা বলতে না পারেন, আপনাকে একটি স্বয়ংক্রিয় মেনুতে পাঠানো হবে এবং আপনাকে '''৫৫''' চাপতে বলা হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে আপনি ভুল করে ফোন করেননি। এরপর আপনাকে পুলিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
১১২ ব্যতীত অন্য দেশের জরুরি নাম্বার (যেমন '৯১১', '১৭' বা '১০০') অস্ট্রেলিয়ায় '''কাজ করে না'''।
===গাড়ি চালানো===
{{seealso|অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো}}
বাস্তবতা মনে রাখুন। অস্ট্রেলিয়ার রাস্তায় পথচারী, চালক বা যাত্রী হিসেবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বা আহত হওয়ার সম্ভাবনা পর্যটকদের জন্য অন্য যেকোনো মৃত্যুর কারণের চেয়ে অনেক বেশি।
মদ্যপান বা মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো আইনত নিষিদ্ধ। অধিকাংশ রাজ্যে রক্তে অ্যালকোহলের নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাত্রা শূন্য থেকে ০.০৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এলোমেলোভাবে রক্ত ও শ্বাস পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ, তাই শহর ও গ্রামের মধ্যবর্তী দূরত্ব আপনি যেমন ভাবেন তার চেয়েও বেশি হতে পারে, বিশেষত যদি আপনি ইউরোপ, এশিয়া বা উত্তর আমেরিকার ফ্রি-ওয়ে বা মোটরওয়ে চালানোর অভ্যস্ত হন। বড় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের হলেও গ্রামীণ এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির মহাসড়কগুলোতে সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়। গতি সীমা রাজ্য, এলাকা ও সড়কভেদে পরিবর্তিত হয়। অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম না করে দৈনিক ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে ক্লান্তি ও স্ট্রেস এড়ানো যায়। কর্তৃপক্ষ প্রতি দুই ঘণ্টায় একবার বিরতি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ হাঁটার পরামর্শ দেয়। অনেক সময় এম, এ নম্বরযুক্ত রুট ও জাতীয় মহাসড়কে নির্ধারিত বিশ্রামস্থল থাকে, তবে কাঁচা রাস্তা, রাজ্য সড়ক, বি বা সি শ্রেণির মহাসড়কে এ ধরনের সুযোগ খুব কম।
শহর বা গ্রামের মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় বন্যপ্রাণীর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় গাড়ির আলো বা শব্দে ভয় পেয়ে ক্যাঙারুরা আচমকা গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সড়কের পাশে গাছপালা বা ঝোপঝাড় থাকলে, আর ভোর বা গোধূলির সময় (যখন বন্যপ্রাণী সবচেয়ে সক্রিয়) গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। যদিও শহুরে এলাকায় বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি নেই বললেই চলে, ক্যানবেরায় পার্কগুলোর কারণে প্রায়ই ক্যাঙারু রাস্তা পার হয়।
শহরের মানুষ সাধারণত ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তায় দৌড়ে যায়, লাল বাতি আসার আগেই রাস্তা পার হয় বা গাড়ির গতি বুঝে দৌড়ে চলে যায়। যদিও অধিকাংশ চালক লাল বাতিতে থামে, হলুদ বাতি দেখে গাড়ি না থেমে চলে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। তাই ফুটপাথ থেকে রাস্তায় নামার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে গাড়িগুলো পুরোপুরি থেমেছে। যারা ডান পাশে গাড়ি চালানোর অভ্যস্ত, তাদের জন্য সঠিক দিকে তাকানো শিখতে একটু সময় লাগতে পারে।
===সমুদ্রসৈকত===
[[File:Lifeguard, Sydney, Australia.jpg|thumb|[[সিডনি]]র বন্ডাই সৈকতে এক লাইফগার্ড]]
প্রতি বছর প্রায় ১০–২০ জন বিদেশি পর্যটক অস্ট্রেলিয়ায় ডুবে মারা যান। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই সমুদ্রসৈকতে ঘটে এবং পরিসংখ্যান বলছে, পর্যটকদের জন্য এই ঝুঁকি স্থানীয়দের তুলনায় অনেক বেশি। বিস্তারিত জানতে দেখুন [http://www.beachsafe.org.au বিচ নিরাপত্তা ওয়েবসাইট]।
সৈকতে গেলে অবশ্যই '''লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে''' সাঁতার কাটুন। এগুলোই চিহ্নিত করে যে এলাকা পেট্রল করা হচ্ছে। সব সৈকত সার্বক্ষণিকভাবে পেট্রল করা হয় না, এমনকি প্রতিদিনের সব সময়েও না। অনেক সময় শুধুমাত্র সপ্তাহান্তে বা গ্রীষ্মে পেট্রল থাকে, তাও নির্দিষ্ট সময়ে। পতাকা না থাকলে ধরে নিন, সেখানে কেউ নজরদারি করছে না। গ্রামীণ এলাকার অনেক সৈকতেই কোনো নজরদারি নেই। যদি আপনি সাঁতার কাটেন, তাহলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকুন, পানির অবস্থা যাচাই করুন, নিজের সাঁতারের সীমা বুঝুন, এবং কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।
অনেক সৈকতে হঠাৎ গভীরতা বেড়ে যায়, যা অপ্রস্তুত সাঁতারুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদি সন্দেহ হয়, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন।
'''হার্ড সার্ফবোর্ড, সার্ফ স্কি, কায়াক ইত্যাদি লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে ব্যবহার করা যায় না।''' এগুলো কেবল নীল ‘সার্ফক্রাফট পারমিটেড’ পতাকার বাইরে ব্যবহার করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী রিপ কারেন্ট থাকে, যেগুলো সবচেয়ে দক্ষ সাঁতারুদেরও টেনে নিয়ে যেতে পারে। এই রিপ হলো এমন একপ্রকার পানির ধারা যা সৈকতের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে যায় এবং প্রায় চোখে দেখা যায় না। অনেক স্থানীয় মানুষ এগুলো চিনতে পারেন। যদি আপনি সন্দিহান হন, কাউকে জিজ্ঞাসা করুন। এই ধারাগুলো শান্ত পানির মতো দেখায় বলে অনেকেই ভুল করে সেখানেই সাঁতার কাটেন, তারপর ফিরে আসতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ডুবে যান।
রিপ চেনার লক্ষণগুলো হলো: আশপাশের তুলনায় ঢেউ কম থাকা; ফেনা যা ব্রেক জোনের বাইরে গিয়ে পড়ে; বাদামি-বালির রঙের পানি; দুই পাশে ঢেউ ভাঙা হলেও মাঝখানে না ভাঙা।
যদি আপনি কোনো পেট্রল করা সৈকতে রিপে আটকে যান, শক্তি সংরক্ষণ করুন, ভাসুন বা পানির উপর ভেসে থাকুন এবং একটি হাত তুলে সাহায্যের সংকেত দিন। লাইফসেভাররা আপনাকে উদ্ধারে আসবে। ক্লান্ত হয়ে পড়ার আগেই সাহায্য চান। স্থানীয় সাঁতারু বা সার্ফাররাও দ্রুত আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যদিও পতাকা সাধারণত রিপ মুক্ত এলাকায় বসানো হয়, তবে কখনো কখনো সেগুলোর কাছেও রিপ চলে আসতে পারে।
যদি আপনি কোনো অপেট্রল সৈকতে রিপে পড়েন, শান্ত থাকুন এবং তির্যকভাবে (সৈকতের সমান্তরালে) সাঁতার কাটুন, স্রোতের বিরুদ্ধে নয়। অধিকাংশ রিপ কয়েক মিটার চওড়া হয়, তাই স্রোত থেকে বেরিয়ে গেলে আপনি তীরে ফিরে আসতে পারবেন। '''কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।''' মনে রাখবেন, সঠিক কৌশল সব পরিস্থিতিতে আপনাকে বাঁচাবে না। সৈকতের পেছনে ভেঙে পড়া ঢেউয়ের মধ্যে ভেসে থাকা কঠিন, কয়েক সেকেন্ড পরপরই ঢেউ আছড়ে পড়ে। একবার রিপে পড়লে আপনি চোখের পলকে ৫০ মিটার সমুদ্রের গভীরে চলে যেতে পারেন। অপেট্রল সৈকতে থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন এবং কখনো নিজের সাঁতারের গভীরতা অতিক্রম করবেন না।
সৈকতের সংকেতচিহ্নগুলোতে প্রায়ই একটি সংখ্যা বা আলফানিউমেরিক কোড থাকে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা সংস্থাকে জানালে তারা দ্রুত আপনাকে খুঁজে পাবে।
[[#Crocodiles|কুমির]] ও [[#Jellyfish|বক্স জেলিফিশ]] নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট অঞ্চলে দেখা যায়। অনেক অস্ট্রেলীয় সৈকতেই হাঙর থাকে। নিচের বিপজ্জনক প্রাণী বিভাগে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। পেট্রল করা সৈকতগুলোতে হাঙরের গতিবিধি নজরদারি করা হয়। যদি সৈকতে একটি ধারাবাহিক সাইরেন বাজে এবং লাল ও লাল-সাদা চতুর্থাংশ পতাকা দেখানো হয়, তাহলে ধরে নিন, হাঙর দেখা গেছে। দ্রুত তীরে ফিরে আসুন। পরিস্থিতি শান্ত হলে একটি সংক্ষিপ্ত সাইরেন বাজানো হবে, যা সাধারণত নিরাপদে পানিতে ফেরার সংকেত।
===প্রাকৃতিক দুর্যোগ===
অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে।
====[[ঘূর্ণিঝড়]]====
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ঘটে, এবং এই সময়ে ভ্রমণ করলে ঘূর্ণিঝড় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তার তীব্রতা এবং আপনার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। দুর্বল ঘূর্ণিঝড়ে কেবল বৃষ্টিপাত ও বাতাসে কয়েকদিন হোটেলে থাকতে হতে পারে, আবার প্রবল ঘূর্ণিঝড় জীবনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, আপনাকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারে এবং আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এমনকি দুর্বল ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপও দূরবর্তী এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দিতে পারে, যা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
গড়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি শহরে প্রতি ৩০ বছরে একবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জনসংখ্যা কম হওয়ায় অনেক ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলেও কোনো বড় শহরে এর প্রভাব পড়ে না।
তবুও, যদি আপনি ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে [http://www.bom.gov.au/cyclone/index.shtml অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোর ঘূর্ণিঝড় তথ্য পৃষ্ঠা] দেখে নিন এবং ভ্রমণের সময় নিয়মিতভাবে সেখানে নজর রাখুন যাতে আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়।
====বন্যা====
উত্তরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ‘‘বর্ষাকাল’’ হয়, যখন প্রবল বর্ষণ ও নিয়মিত বন্যা দেখা দেয়। অনেক সময় উপকূলবর্তী কিছু এলাকা এক–দুদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না পানি নেমে যায়। তবুও জনবহুল ও পর্যটক–কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে এ সময় ভ্রমণ করা খারাপ নয়। অস্বাভাবিকভাবে বড় বন্যা না হলে দর্শনার্থীরা ঝর্ণাধারা ও অন্যান্য আকর্ষণ উপভোগ করতে পারেন, যা ভ্রমণকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
অস্ট্রেলিয়ার আউটব্যাক ও অন্তর্দেশীয় অঞ্চলে বন্যা খুবই বিরল, কয়েক দশক পরপর ঘটে। তাই সেখানে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হবে। যদি অন্তর্দেশীয় বা আউটব্যাক এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে এবং অঞ্চলটি বন্যাগ্রস্ত হয়, তবে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ভূমি সমতল হওয়ায় পানি নেমে যেতে সপ্তাহ লেগে যায়, জমি কাদাময় হয়ে থাকে। চারপাশে জমা পানি থাকায় পোকামাকড় ও মশা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরা কীটনাশককেও সহজে সহ্য করে। সড়ক বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যাত্রার সময় অনেক বাড়ে। অনেক আকর্ষণীয় স্থান মূল সড়ক থেকে অল্প দূরের কাঁচা রাস্তায় অবস্থিত, যা অচল হয়ে পড়ে যদিও মূল সড়ক খোলা থাকে। কয়েক সপ্তাহ পর ফিরে গেলে দেখা যাবে ভূমি তখনও সবুজ, হ্রদ–নদী প্রবাহমান এবং পাখিজীবন সক্রিয়।
দেশের দক্ষিণ অংশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সাধারণত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের শীতকালে। তবে সাধারণত একবারে এত বৃষ্টি হয় না যে বন্যা সৃষ্টি করবে। রাজধানী শহরগুলোতে বন্যার তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না, প্রায় কখনোই না।
====== আকস্মিক বন্যা ======
প্রায় প্রতি বছরই পূর্বাঞ্চলের বহু শহরে অন্তত একবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, সাধারণত গ্রীষ্মকালে। এটি বেশ ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতরেই থাকা উচিত এবং এসইএস (এসইএস) ও এবিসি (এবিসি) স্থানীয় রেডিওর পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। কখনোই বন্যার পানিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। প্রতিবছর বহু গাড়ি ধ্বংস হয় কারণ চালকেরা পানির গভীরতা বা স্রোতের তীব্রতাকে হেলাফেলা করেন। শেষ পর্যন্ত যেন আপনাকে সেতুর নিচে ভেসে পুলিশি উদ্ধার অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।
আকস্মিক বন্যার সময় প্রায়ই বড় বড় শিলাবৃষ্টি হয়, যা গাড়ি নষ্ট করতে পারে। তাই গাড়ি আচ্ছাদিত স্থানে (তবে ভূগর্ভস্থ নয়) পার্ক করুন।
এটি সাধারণত পূর্বাভাসযোগ্য হয়। স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে ঝড়ের আশঙ্কার কথা শোনা যাবে এবং [http://www.bom.gov.au/ bom.gov.au] তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতা প্রকাশ করবে।
==== পানির যোগান ====
অস্ট্রেলিয়া একটি অত্যন্ত শুষ্ক দেশ; বিশাল মরুভূমি অঞ্চল রয়েছে এবং আবহাওয়া খুব গরম হতে পারে।
যখন জনবসতি থেকে দূরে, পাকা রাস্তা ছেড়ে ভ্রমণ করবেন, তখন আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে-যেখানে হয়তো টানা এক সপ্তাহও অন্য কোনো গাড়ি দেখা যাবে না। তাই সঙ্গে নিজের পানির যোগান রাখা অত্যন্ত জরুরি (প্রতিদিন প্রতিজনের জন্য ৪ গ্যালন বা ৭ লিটার)। মানচিত্রে 'কূপ', 'ঝরনা' বা 'ট্যাংক' লেখা দেখে ভুলবেন না-এগুলো প্রায় সবই শুকিয়ে গেছে, আর ভেতরের অনেক হ্রদই আসলে শুকনো লবণাক্ত ভূমি।
বেশিরভাগ শহর ও নগরে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যেমন গাড়ি ধোয়া, বাগানে পানি দেওয়া বা সরকারি গোসলখানা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকে। হোটেল বা আবাসিক স্থানে প্রায়ই অতিথিদের গোসল ছোট করতে অনুরোধ করা হয়।
বহু আঞ্চলিক শহরের সরকারি বাথরুমে পানীয়-অযোগ্য পানি থাকে। “Do not drink” বা “Non-potable” লেখা ট্যাপ থেকে কখনোই পানি খাবেন না-এসব সাধারণত অপরিশোধিত ভূগর্ভস্থ পানি।
==== [[ভূমিকম্প]] ====
অস্ট্রেলিয়া কোনো প্লেট সীমান্তে অবস্থিত নয়, তবে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হয়। এগুলো সাধারণত ছোট মাত্রার হয় এবং বড় ধরনের ক্ষতি বা প্রাণহানি প্রায় ঘটে না।
===দাবানল===
'''[[দাবানল]]''' (বুশফায়ার) অস্ট্রেলিয়ার অনেক অঞ্চলে ঋতুভিত্তিক বিপদের মধ্যে একটি। বিশেষ করে যদি আপনি বুশল্যান্ড বা গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণে যান, তবে আগে থেকেই অগ্নি-ঝুঁকির মাত্রা এবং কোনো আগুন সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে খুব বিপজ্জনক দিনে বুশফায়ার প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে-বিশেষত যদি আপনি খোলা আকাশের নিচে থাকেন বা মজবুত কোনো ভবনের সুরক্ষা না থাকে।
যদি দাবানলের মধ্যে আটকা পড়েন, বেশিরভাগ আগুন দ্রুত পাশ কাটিয়ে যাবে। আপনাকে এমন আশ্রয় খুঁজতে হবে যা ধোঁয়া এবং তীব্র তাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে। সবচেয়ে ভালো হলো ঘরবাড়ি, তারপর গাড়ি, তারপরে খোলা জায়গা, গুহা বা সৈকত। যতটা সম্ভব সবকিছু ভিজিয়ে ফেলুন। নিচু হয়ে থাকুন এবং মুখ ঢেকে রাখুন। আগুন না-ধরতে পারে এমন কাপড় (যেমন উলের জামাকাপড় বা কম্বল) দিয়ে শরীর ঢেকে রাখুন এবং তাপের সামনে খোলা ত্বক কমিয়ে আনুন। যদি কলের পানি থাকে, আগে থেকেই সংগ্রহ করুন; আগুন কাছে এলে পানির চাপ নাও থাকতে পারে।
ডানপাশে দেখানো আগুনের ঝুঁকি সূচকটি (Fire Danger Rating) জানায়, আগুন লাগলে সেটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। '''এটি আগুন লাগার সম্ভাবনা কতটা তা বলে না।'''[[File:WA fire danger sign Wyalkatchem.jpg|thumb|অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অগ্নি-ঝুঁকির চিহ্ন স্থাপন করা আছে]]
* **Severe (গুরুতর):** গরম, শুষ্ক এবং বাতাস প্রবাহিত আবহাওয়া। এ সময় আগুন শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কেবল প্রস্তুত ভবন ও সক্রিয় প্রতিরক্ষাই নিরাপত্তা দিতে পারে। আগুনের প্রথম ইঙ্গিতেই এলাকা ছেড়ে দিন।
* **Extreme (চরম):** গরম, শুষ্ক ও প্রবল বাতাসের সময় যে আগুন শুরু হয় তা নিয়ন্ত্রণহীন, অনিশ্চিত ও দ্রুতগামী হয়। কেবল বিশেষভাবে নির্মিত ও সক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষিত ঘরবাড়ি কিছুটা নিরাপদ হতে পারে। বনভূমি, ঘন ঝোপঝাড় বা শুকনো ঘাস এড়িয়ে চলুন। নিরাপত্তার জন্য এসব এলাকা ছেড়ে যাওয়াই শ্রেয়।
* **Catastrophic/Code red (বিপর্যয়কর/কোড রেড):** দাবানল বা ঘাসের আগুনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। বনাঞ্চল বা ঘন বুশ থেকে দূরে থাকুন। এ সময় এলাকাগুলো ছেড়ে যাওয়াই অত্যন্ত পরামর্শযোগ্য। উল্লেখযোগ্য যে, অনেক স্থানীয় মানুষ বছরের এই কয়েকটি "বিপর্যয়কর" দিনে নিজেদের আউটব্যাকের বাড়িঘর ছেড়ে বড় শহরে আশ্রয় নেন।
==== জাতীয় উদ্যান ও রাজ্য বন ====
অগ্নি-ঝুঁকি চরম বা তার বেশি হলে জাতীয় উদ্যানগুলো বিশেষত ব্যাককান্ট্রি এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই গ্রীষ্মে ক্যাম্পিং বা হাইকিং পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প পরিকল্পনা জরুরি। কোনো উদ্যানে আগুন লাগলে সাধারণত পুরো উদ্যানই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যদি এমন সময় উদ্যানে থাকেন, সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো আগের রাতেই বা সকালে এলাকা ছেড়ে যাওয়া। আগুনের খবর শুনলে বা ধোঁয়া দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
==== সক্রিয় অগ্নিকাণ্ড চলাকালে বা অগ্নি মৌসুমে ভ্রমণ ====
শহরের বাইরে অগ্নি মৌসুমে গাড়ি চালালে [https://www.abc.net.au/local/ স্থানীয় এবিসি রেডিও]তে টিউন করুন। বুশফায়ার বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর সতর্কতাসংকেত বাজে এবং তারপর আপডেট দেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে সরাসরি সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তাও আসতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় জরুরি ও অগ্নি ব্যবস্থাপনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তাই যে রাজ্যে আছেন তার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করুন। যেমন [https://www.emergency.wa.gov.au/ ইমার্জেন্সি ডব্লিউএ] এবং [https://emergency.vic.gov.au/ ভিকইমার্জেন্সি] সাইটে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি তালিকাভুক্ত থাকে।
'''এক পর্যায়ে হয়তো আপনার পক্ষে আর এলাকা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।'''
অগ্নি মৌসুমে আপনার পরিকল্পনায় দুটি পালানোর পথ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শপিং সেন্টার বা জনবহুল শহরের মূল সড়কগুলো চরম বা কোড রেড দিনের জন্য নিরাপদ, যতক্ষণ না রেডিওতে অন্য কিছু ঘোষণা হয়।
কখনো কখনো পুরো শহর সরিয়ে নেওয়া হয়। তখন আগুন দেখা না গেলেও আগেভাগেই চলে যাওয়া উচিত। কারণ আগুনের ভেতর দিয়ে সরতে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। সেরা উপদেশ হলো, চলে যান এবং আগুন দেখার জন্য থেকে যাবেন না।
==== আগুন জ্বালানো ====
যে আগুন জ্বালাচ্ছেন তা বৈধ এবং নিয়ন্ত্রণে আছে কি না নিশ্চিত করুন। অগ্নি সেবাদানকারী সংস্থা '''সম্পূর্ণ অগ্নি-নিষেধাজ্ঞা''' (Total Fire Ban) জারি করে যখন অগ্নি ঝুঁকি চরম হয়। তখন বাইরে কোনো আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অধিকাংশ উদ্যানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়, এবং স্থানীয় ঝুঁকি মাত্রা জেনে নেওয়া আপনার দায়িত্ব। জাতীয় উদ্যানে এসব দিনে বনরক্ষী বা পুলিশ টহল দেয় যাতে কেউ খোলা আগুন না জ্বালায়। নিয়ন্ত্রণহীন আগুন লাগালে জরিমানা বা এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে।
===বিষাক্ত ও বিপজ্জনক প্রাণী===
{{see also|পোকার উপদ্রব}}
অস্ট্রেলিয়ায় পৃথিবীর অনেক মারাত্মক কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস রয়েছে। তবে ভ্রমণকারীরা শহুরে পরিবেশে এদের প্রায় দেখেন না, এমনকি বুশ এলাকাতেও এরা সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলে। অস্ট্রেলিয়ায় কামড় ও হুলের কারণে যে মৃত্যুগুলো ঘটে, তার বিশাল অংশই মৌমাছি ও বোলতার হুলে অ্যালার্জি থেকে হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচলিত আছে, যা প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ানরা রসিকতার ছলে বলেন। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জেলিফিশ ও কুমির সম্পর্কে সতর্কবার্তাগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, এবং জাতীয় উদ্যান ও বুশল্যান্ডে সাপ থেকে দূরে থাকতে হবে।
যদি গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণ করেন, তবে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ থাকে। একই সঙ্গে সাপ বা মাকড়সার কামড়ের পর কী করতে হবে তা আগে থেকেই শিখে নেওয়া ভালো।
====সাপ====
অস্ট্রেলিয়ার শহুরে এলাকায় সাপের দেখা পাওয়া খুব একটা সাধারণ নয়। তবে ঘাসভূমি, জাতীয় উদ্যান এবং অন্যান্য বুশল্যান্ডে এগুলো বেশ স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়। সাধারণত সাপ মানুষকে এড়িয়ে দূরে সরে যেতে চায়। তাই হাঁটার সময় যদি সামনে সাপ দেখতে পান, তবে সেটির চারপাশ ঘুরে যান বা অন্য দিকে চলে যান। ঘন ঝোপঝাড় বা ঘাসে অন্ধভাবে ঢোকা উচিত নয়, কারণ সাপ সেখানে লুকিয়ে থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাপ মানুষকে ভয় পায় এবং আপনি দেখার আগেই সাপ পালিয়ে যায়।
'''কোনোভাবেই''' কোনো সাপ ধরতে চেষ্টা করবেন না, এমনকি সেটি বিষহীন বলে বিশ্বাস করলেও নয়। সাপের কামড়ে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই সাপ ধরতে বা মারতে গিয়েছিল, অথবা হাঁটার সময় অসাবধানতায় পায়ে দিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় কিছু মারাত্মক বিষধর সাপ রয়েছে। তাই সব সাপকেই সম্মানজনক দূরত্বে রাখুন এবং কোনো সাপ কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসা নিন। দুর্গম স্থানে গেলে সাপের কামড়ের জন্য উপযোগী ফার্স্ট-এইড কিট সঙ্গে রাখুন। যদি কামড় খান, তবে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থানের চারপাশ শক্ত করে বেঁধে দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সহায়তা নিন। ক্ষত পরিষ্কার করবেন না, কারণ বিষের নমুনা পরীক্ষা করে কোন অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে হবে তা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিচ্ছিন্ন স্থানে থাকেন, তবে অন্য কাউকে সাহায্য চাইতে পাঠান। কিছু সাপের (বিশেষ করে টাইপান) বিষ ১৫ মিনিটের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারে। তবে ক্ষত অবশ করে রাখলে এবং বিশ্রাম নিলে বিষ ছড়িয়ে পড়া কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ হাসপাতালেই বহুমুখী অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়, যাতে সব বিপজ্জনক অস্ট্রেলীয় সাপের প্রতিষেধক অন্তর্ভুক্ত থাকে।
====মাকড়সা====
[[File:Atrax robustus.jpg|thumb|সিডনির ফানেল-ওয়েব মাকড়সা সতর্ক ভঙ্গিতে]]
অস্ট্রেলিয়া মাকড়সার জন্য বিখ্যাত হলেও, মাকড়সায় মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল। অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সা দেখা সাধারণ ব্যাপার এবং বেশিরভাগ মাকড়সাই ক্ষতি করে না। বাগান করার সময় বা শুকনো পাতা ধরার সময় গ্লাভস পরা উচিত। বাইরে রাখা কাপড়, জুতা ইত্যাদি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝেড়ে নেওয়া দরকার। পাথরের নিচে বা গাছের ফোকরে আঙুল দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে মাকড়সা লুকিয়ে থাকতে পারে। কিছু মাকড়সা ঘরেও পাওয়া যায়, যেমন বড় আকারের লোমশ হান্টসম্যান মাকড়সা, যেগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয়, বরং আরশোলা জাতীয় কীটপতঙ্গ কমায়। বাগানের অরব উইভিং মাকড়সাদের বড় বড় জাল ঝামেলার হলেও বিপজ্জনক নয়।
তবে কিছু মাকড়সা খুবই বিপজ্জনক। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত মাকড়সা হলো '''সিডনি ফানেল-ওয়েব মাকড়সা''', যা মূলত সিডনি ও নিউ সাউথ ওয়েলসের পূর্বাঞ্চলে পাথর ও শুকনো পাতার নিচে পাওয়া যায়। এদের আকার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং সাধারণত কালো রঙের। ফানেল-ওয়েব অঞ্চলে যদি মাকড়সার কামড় লাগে, দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। এরা বেশিরভাগ সময় ভূগর্ভে থাকে (আর্দ্র গর্তের বাইরে আধ ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না), তাই খোলা জায়গায় এদের দেখা পাওয়া বিরল। সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে।
'''রেড-ব্যাক মাকড়সা''' (পেটের ওপর লাল দাগ দিয়ে সহজেই চেনা যায়) অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ। এর কামড়ে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যদিও ফানেল-ওয়েবের মতো জরুরি নয়। রেড-ব্যাক সাধারণত অন্ধকার কোণে লুকিয়ে থাকে এবং ঘরের ভেতরে সচরাচর দেখা যায় না। তবে বাইরে শেড, টেবিল-চেয়ারের নিচে বা পাথরের তলায় এরা লুকাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সার কামড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। সব সময় ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে যে মাকড়সা কামড়েছে তাকে চিনে রাখা ভালো-ছবি তুলে রাখা বা ধরে রাখা যেতে পারে যাতে দ্রুত অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া যায়। তবে আবার কামড় খাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
====জেলিফিশ====
উত্তর [[কুইন্সল্যান্ড]], [[নর্দার্ন টেরিটরি]] বা উত্তর [[ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া]] ভ্রমণকারীদের অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় '''বক্স জেলিফিশের''' প্রাণঘাতী হুলের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। এরা পানিতে ধরা পড়া কঠিন এবং অগভীর পানিতেও থাকে। এদের হুলের ব্যথা প্রচণ্ড কষ্টকর এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভিনেগার লাগালে বিষক্রিয়া কিছুটা কমে, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকির সময় ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত এরা তীরের কাছেই থাকে, তবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে সচরাচর পাওয়া যায় না এবং অনেকে সেখানকার পানিতে সাবধানতা ছাড়াই সাঁতার কাটে। স্থানীয় বিশ্বস্ত তথ্য নেওয়া জরুরি।
'''ইরুকান্দজি''' হলো আরেক ধরনের ক্ষুদ্র (নখের সমান আকারের) জেলিফিশ, যা উত্তর অস্ট্রেলিয়ার পানিতে এবং আশেপাশের ইন্দো-প্যাসিফিক দ্বীপে পাওয়া যায়। এরা চোখে দেখা কঠিন এবং কামড় বিপজ্জনক হলেও খুব বিরল। বক্স জেলিফিশের মতো এরা রিফ অঞ্চলে থাকে। প্রথম কামড় টের নাও পাওয়া যেতে পারে। এরা প্রাণঘাতী কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে হাসপাতালে ভর্তি এবং কয়েকদিন প্রচণ্ড যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে। পানির বাইরে আসার পর যদি বমিভাব বা তীব্র ব্যথা হয়, চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
জেলিফিশ প্রতিরোধী "স্টিঙ্গার-স্যুট" কিনতে প্রায় ১০০ ডলার লাগে বা সপ্তাহে ২০ ডলারে ভাড়া নেওয়া যায়।
====নীল-চক্র অক্টোপাস====
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের পাথুরে জোয়ারভাটা পুকুরে ছোট নীল-চক্র অক্টোপাস পাওয়া যায়। সাধারণত বালুমাখা বেইজ রঙের হলেও হুমকির মুখে এদের গায়ে উজ্জ্বল নীল বৃত্ত দেখা যায়। এরা বিরল ও ভীরু। পাথরের নিচে বা জোয়ারভাটা পুকুরে হাত না দেওয়াই ভালো, কারণ সেখানেই এরা লুকিয়ে থাকে। এদের বিষ খুবই শক্তিশালী এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে মৃত্যু ঘটাতে পারে যদি কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস না দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় নীল-চক্র অক্টোপাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।
====কুমির====
[[File:Crocodylus porosus - Daintree River.jpg|thumb|লোনা পানির কুমির]]
উত্তর কুইন্সল্যান্ড, নর্দার্ন টেরিটরি ও উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় '''লোনা পানির কুমিরের''' প্রাণঘাতী আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিং সাউন্ড থেকে কুইন্সল্যান্ডের রকহ্যাম্পটন পর্যন্ত এরা সমুদ্র, নদীর মোহনা ও মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এরা প্রায় ২৫ ফুট লম্বা হয় এবং হঠাৎ আক্রমণ করতে পারে। নামের সাথে "লোনা পানি" থাকলেও এরা মিঠা পানিতেও থাকে। স্থলে এরা সাধারণত স্থির থাকে, তবে হঠাৎ দ্রুতগতিতে নড়তে পারে। আক্রমণের বেশিরভাগই প্রাণঘাতী। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকে। নিরাপদ না বলা পর্যন্ত এসব অঞ্চলে সাঁতার কাটা উচিত নয়। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে একটি কুমির-আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
'''মিঠা পানির কুমির''' তুলনামূলক ভীতু এবং মানুষ এড়িয়ে চলে। তবে হঠাৎ ভয় পেলে বা ডিম রক্ষার সময় আক্রমণ করতে পারে। এদের কামড়ে আঘাত লাগে, তবে ছোট চোয়াল ও দাঁতের কারণে সচরাচর প্রাণঘাতী হয় না।
====বিপজ্জনক উদ্ভিদ====
'''জিম্পি গাছ''' (''Dendrocnide moroides''), যাকে স্টিংগিং ট্রি নামেও ডাকা হয়, একটি দংশনকারী উদ্ভিদ। এর পাতায় ও ডালে থাকা অতি সূক্ষ্ম দংশনকারী লোম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রচণ্ড যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে। এই গাছ প্রধানত উত্তর-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে, বিশেষ করে রেইন ফরেস্ট বা বর্ষাবনের ফাঁকা জায়গায় পাওয়া যায়। তবে জিম্পি গাছ এবং এ ধরনের আরও প্রায় পাঁচটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত প্রজাতি দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ড এবং আরও দক্ষিণে পূর্ব অস্ট্রেলিয়াতেও দেখা যায়। এ ধরনের এলাকায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে হাঁটার সময় ভ্রমণকারীদের কড়াভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়, যেন কোনো কারণেই এই গাছে হাত না দেন।
===অপরাধ ও পুলিশ===
অস্ট্রেলিয়ায় [[অপরাধ]]ের হার অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। ভ্রমণকারীদের অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে চুরি, ব্যাগ কেড়ে নেওয়া বা পকেটমারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা উচিত। কিছু শহরে রাতের বেলায় বিপজ্জনক এলাকা আছে, তবে সেগুলো সচরাচর পর্যটকদের যাওয়ার জায়গা নয়।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ সাধারণত সহজলভ্য ও বিশ্বস্ত। কোনো আক্রমণ, চুরি বা অপরাধ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো উচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় দুই ধরনের পুলিশ রয়েছে: রাজ্য/আঞ্চলিক পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। সাধারণত ভ্রমণকারীরা রাজ্য পুলিশের সাথেই যোগাযোগ করে। এএফপি মূলত সরকারি বিশেষ দায়িত্বে থাকে, তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে এএফপিই মূল পুলিশ বাহিনী হিসেবে কাজ করে, নাম ‘‘এসি-টি পুলিশিং’’।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে (যেমন কাস্টমস অফিসার) ঘুষ দেওয়া গুরুতর অপরাধ, এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।
গাড়ি রেখে গেলে অবশ্যই তালা দেওয়া, জানালা বন্ধ করা এবং গাড়ির ভেতরে মোবাইল, জিপিএস বা ব্যাগের মতো দৃশ্যমান কিছু না রাখা উচিত। চোরেরা প্রায়ই কাচ ভেঙে এসব নিয়ে যায়।
====প্রতারণা====
অস্ট্রেলিয়ায় [[প্রতারণা|প্রতারণামূলক]] কার্যকলাপ খুব বেশি দেখা যায় না। ভ্রমণকারীদের সাধারণ সাবধানতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে অপরাধীরা এটিএমে কারসাজি করে মুদ্রা আটকে রাখে বা কার্ডের তথ্য নেয়। এটিএম ব্যবহার করার পর ব্যাংক স্টেটমেন্টে সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে অবিলম্বে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। পিন নম্বর দেওয়ার সময় হাত দিয়ে ঢেকে রাখা প্রয়োজন, যাতে স্কিমিং ডিভাইস বা ক্যামেরা রেকর্ড করতে না পারে।
এটিএম স্কিমিং বিরল এবং সহজেই এড়ানো যায়-বিশ্বস্ত ব্যাংকের (এএনজেড, কমনওয়েলথ, ওয়েস্টপ্যাক, ন্যাব) এটিএম ব্যবহার করুন অথবা ব্যাংকের ভেতরের এটিএম ব্যবহার করুন, যেগুলো সাধারণত ২৪/৭ খোলা থাকে এবং বাইরে থেকে নিরাপদ।
এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিস (এটিও) কখনোই স্পটিফাই বা আইটিউনস গিফট কার্ড দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে বলে না। এই ধরনের প্রতারণা বিশেষত প্রবীণ ও অজ্ঞ মানুষদের লক্ষ্য করে করা হয়। কোলস, উলি, মায়ার, টার্গেট, বিগ ডব্লিউ, কেমার্ট ইত্যাদি দোকানে প্রায়শই ক্যাশ কাউন্টারে এ নিয়ে সতর্কবার্তা টাঙানো থাকে, যা পড়ে রাখা ভালো।
===বর্ণবৈষম্য===
[[File:Car with personalised plate celebrating being a Wog.jpg|thumb|ড্রাইভারের গাড়ির নম্বরপ্লেট তাকে "ওগ" বলার আমন্ত্রণ নয়]]
অস্ট্রেলিয়া বাইরে থেকে একটি বহুসংস্কৃতিমূলক এবং জাতিগতভাবে সহিষ্ণু সমাজ হিসেবে পরিচিত, এবং এখানে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও জাতিগত বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার আইন রয়েছে। তবুও, দেশটির ঔপনিবেশিক ইতিহাস পুরোপুরি অতিক্রম করা যায়নি, তাই বর্ণবৈষম্য একটি সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে। আদিবাসীদের জমি দখল, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, রাষ্ট্র-সমর্থিত বর্ণবাদ, এমনকি আদিবাসী শিশুদের জোরপূর্বক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা (যা "চুরি হওয়া প্রজন্ম" নামে পরিচিত) বিশ শতক পর্যন্ত চলেছে। ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ফলে সাদা-প্রাধান্যভিত্তিক অভিবাসননীতি বাতিল হয়েছে, আদিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর বড় বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
তবে সবাই এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট নয়, বিশেষ করে আদিবাসীরা এখনও ব্যাপক বর্ণবৈষম্যের মুখোমুখি হন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণকারীরা সাধারণত হঠাৎ করে জাতিগত গালাগালির শিকার হন না। যদি এমন কিছু ঘটে, তবে পুলিশকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহিংস ঘটনা আরও বিরল।
ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে জাতিগত পরিচয় নিয়ে কিছু শব্দ ব্যবহার করে, তবে দর্শনার্থীদের জন্য এগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি "পম" (ব্রিটিশ), "ইয়াঙ্ক" (আমেরিকান), "পাকি" (ভারতীয় উপমহাদেশীয়), "ওগ" (দক্ষিণ ইউরোপীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের লোক), এবং "কারি মান্চার" (দক্ষিণ ভারতীয়) শব্দ শুনতে পারেন। বিশেষত ব্রিটিশরা এই শব্দগুলোকে অপমানজনক মনে করে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় অনেক বেশি সহজভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে কখনোই আদিবাসীদের "আবো", "নেটিভ ট্রাইবস", "অ্যাবরিজিনস" বা "নুগাস" বলা যাবে না, এগুলো অত্যন্ত বর্ণবাদী শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় কিছু অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন ও অ্যান্টি-মাল্টিকালচারাল গোষ্ঠী আছে, যারা মূলত মুসলিম ও আফ্রিকান দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালায়। ভ্রমণকারীদের এদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে রাতে কোনো পাব-এ গিয়ে কারও জাতিগত মতামত খোঁচাতে চাইলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মেলবার্নের পশ্চিমাঞ্চলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তরুণদের সম্পৃক্ত কিছু অপরাধ ঘটেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এতে বর্ণবাদী মনোভাব আরও উসকে দিয়েছে।
"অজি" (ওজি) শব্দটি অস্ট্রেলিয়ানদের বর্ণনা করতে ব্যবহার করলে অপমানজনক নয়, তবে তারা সাধারণত নিজেদের ক্ষেত্রে শব্দটি ব্যবহার করেন না। বরং "অজি রুলস" জাতীয় খেলা বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে "অজি, অজি, অজি - ওই, ওই, ওই" ধ্বনি উঠলে কেউ কেউ এতে অস্বস্তি বোধ করেন, আবার কেউ যোগ দেন। এটি প্রায়শই তাদের সামাজিক অবস্থান বা মদ্যপ অবস্থার উপর নির্ভর করে।
সিডনি, মেলবার্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, গোল্ড কোস্ট, নিউক্যাসল, হোবার্ট বা ক্যানবেরার মতো বড় শহরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া বহুসংস্কৃতিমূলক মনে হলেও, গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত কম বৈচিত্র্যময় এবং তাদের অ্যাংলো-সেল্টিক ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকে। যারা বাইরে থেকে "অজি" বলে মনে হয় না, তাদের প্রায়ই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। তবে এটি সাধারণত অভিবাসীদের (বিশেষত ভিয়েতনামি, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত) বিরুদ্ধে হয়, পর্যটকদের বিরুদ্ধে নয়।
===তামাক===
অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত '''বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ ধূমপায়ীদের জন্য'''। এক প্যাকেট বৈধ সিগারেটের দাম ৫০ ডলারেরও বেশি। ভেপ পাওয়া গেলে তার দাম প্রায় ৬০ ডলার। কালোবাজারি ঢিলা তামাক "চপ-চপ" নামে পরিচিত, আর অবৈধভাবে আনা চীনা সিগারেটও দোকানে গোপনে বিক্রি হয়।
===অবৈধ মাদক===
অপিয়াম, হেরোইন, অ্যামফেটামিন (স্পিড), কোকেইন ("কোক"), এলএসডি এবং এক্সট্যাসি ("মলি") অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে রাখা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। মাদক পাচারে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হয়, আর গুরুতর ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া অন্যান্য দেশের সাথে মাদক পাচারের তথ্য শেয়ার করে, এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে এমন দেশগুলোর সাথেও।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গাঁজা ("মারিজুয়ানা"/"উইড"/"পট"/"গাঞ্জা") ব্যবহার ফেডারেল স্তরে বৈধ হলেও প্রেসক্রিপশন পাওয়া জটিল প্রক্রিয়া, যা পর্যটকদের জন্য কার্যত অসম্ভব। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (ক্যানবেরা) ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বৈধ করেছে, তবে বাণিজ্যিক বিক্রি অনুমোদিত নয়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরিতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের পরিমাণ রাখা অপরাধ নয়, তবে জরিমানা হয়। অন্যান্য সব রাজ্যে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং বিদেশিদের জন্যও শাস্তি সমান কঠোর। মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, এতে গ্রেফতার, মামলা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জেলও হতে পারে।
'''কোনো অবস্থাতেই অবৈধ মাদক অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না''', এমনকি গাঁজাও নয়। এর শাস্তি দীর্ঘমেয়াদী জেল, এমনকি যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রায়ই মাদক শনাক্তকারী কুকুর ব্যবহার করেন, যা যাত্রীদের লাগেজে মাদক শনাক্ত করে। এমনকি কেউ ভ্রমণের আগের দিন গাঁজা খেলেও তা শনাক্ত করতে পারে, ফলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে পড়তে হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার এশিয়ার নিকটে থাকার কারণে এখানে হেরোইন কোকেইনের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বড় শহরের কিছু এলাকায় ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুচ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে পর্যটন এলাকায় নয়, বরং অপ্রচলিত গলিতে।
===অস্ত্র===
অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র রাখার নিয়ম খুবই কঠোর। সাধারণত গ্রামীণ এলাকার শিকারি, কৃষক ও ক্রীড়া শুটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যে কোনো ধরনের অস্ত্র রাখার জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ। একক গুলি চালানো রাইফেল, শটগান বা পিস্তল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা সম্ভব হলেও প্রক্রিয়াটি জটিল। শহরের অপরাধী গ্যাংদের হাতে মাঝে মাঝে অবৈধ অস্ত্র থাকে, তবে ভ্রমণকারীরা সচরাচর এদের সম্মুখীন হয় না।
অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। ভ্রমণের আগে প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা পুলিশ পারমিট নিতে হয়।
===এলজিবিটি ভ্রমণকারী===
{{see also|এলজিবিটি ভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ায় বয়সসীমা সমানভাবে নির্ধারিত-সব রাজ্যে ১৬ বছর, তবে তাসমানিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ১৭ বছর। সমলিঙ্গ বিবাহ ২০১৭ সালে বৈধ হয়েছে, যখন ডাকযোগে হওয়া এক গণভোটে ৬১% মানুষ সমর্থন জানায়।
সমকামিতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। সিডনি বিশ্বের অন্যতম সমকামী-বান্ধব শহর হলেও কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরির মতো রক্ষণশীল গ্রামীণ এলাকায় সতর্ক থাকা ভালো। যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্য করা আইনত নিষিদ্ধ এবং ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশি সহায়তা সীমিত হতে পারে। ট্রান্সজেন্ডাররাও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গৃহীত।
সিডনি অস্ট্রেলিয়ার সমকামী সংস্কৃতির কেন্দ্র এবং প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্বের অন্যতম বড় সমকামী উৎসব [http://www.mardigras.org.au সিডনি গে অ্যান্ড লেসবিয়ান মার্ডি গ্রা] অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত-সহস্র মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করতে আসে। [[অ্যালিস স্প্রিংস]]-এ এপ্রিল-মে মাসে "অ্যালিস ইজ ওয়ান্ডারল্যান্ড ফেস্টিভাল" হয়। [[মেলবোর্ন]]-এ প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম রবিবার [https://www.midsumma.org.au মিডসামা ফেস্টিভাল] অনুষ্ঠিত হয়।
==সুস্থ থাকুন==
===ত্বক===
[[File:Sunbaker maxdupain nga76.54.jpg|thumbnail|১৯৩৭ সালের "সানবেকার" অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলোর একটি।]]
অস্ট্রেলিয়ার অক্ষাংশে সূর্যের আলোয় থাকলে প্রায়ই '''[[রোদে পোড়া]]''' (সানবার্ন) হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ানদের ত্বকের ক্যান্সারের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। রোদে পোড়া হলে জ্বর জ্বর লাগতে পারে, শরীর খারাপ হতে পারে এবং সেরে উঠতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, পোড়ার তীব্রতার উপর নির্ভর করে। এর মানে হলো রোদে পোড়া না সারানো পর্যন্ত আপনি বাইরে সূর্যের নিচে যেতে পারবেন না। তাই সমুদ্রসৈকতে ছুটির প্রথম দিনেই রোদে পোড়া হলে পুরো ভ্রমণের আনন্দ কমে যেতে পারে। গ্রীষ্মকালে অস্ট্রেলিয়ায় পরিষ্কার দিনে মাত্র ১৫ মিনিটে রোদে পোড়া হতে পারে-even ছায়ায় দাঁড়িয়েও। তাই সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৫০+), জামা-কাপড় এবং টুপি ব্যবহার করে সূর্যের আলো থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
সানস্ক্রিন প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পরপর আবার মাখুন, বিশেষ করে ঘামলে বা সাঁতার কাটলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের সব জায়গা ভালোভাবে ঢেকে দিন। দুপুরবেলার অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি) সকাল বা বিকেলের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী হতে পারে, তাই সবচেয়ে গরম সময়ে রোদ এড়ানোই ভালো। [http://www.bom.gov.au/australia/uv/index.shtml প্রতিদিনের ইউভি পূর্বাভাস] অনলাইনে আবহাওয়া দপ্তর থেকে দেওয়া হয়।
'''স্প্রে সানস্ক্রিন''' বোতল থেকে ছিটিয়ে দেওয়া সহজ হওয়ায় জনপ্রিয়, তবে এটি সাধারণ সানস্ক্রিনের তুলনায় অনেক কম কার্যকর।
আপনি যদি সমুদ্রসৈকতে যান, একটি সান-টেন্ট কেনার কথা ভাবতে পারেন (ডিসকাউন্ট বা হার্ডওয়্যার দোকানে ২০ ডলারেরও কমে পাওয়া যায়)। অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে সাধারণত ছাতা ভাড়া পাওয়া যায় না, আর এগুলো অনেকটাই খোলা জায়গায় থাকে।
===খাদ্য প্রস্তুতি===
অস্ট্রেলিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মান অনেক উঁচু। রেস্টুরেন্টগুলোকে কঠোর খাদ্য প্রস্তুতির মান বজায় রাখতে হয়। [[খাদ্যে বিষক্রিয়া]]র হার অন্যান্য উন্নত দেশের সমান।
===পানি===
শহরের '''[[কলের পানি]]''' সবসময় পান করার জন্য নিরাপদ। মাঝে মাঝে রিসাইকেল করা পানি ট্যাপ দেখতে পাবেন যা শুধু গাছে পানি দেওয়ার জন্য, এগুলো বেগুনি রঙের হয়। শহরে ও পর্যটনকেন্দ্রে পাবলিক পানির ফোয়ারা ও বোতল ভরার স্টেশন সাধারণত থাকে। পানির স্বাদ ও কঠোরতা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন হয়। যেমন [[অ্যাডিলেড]] শহরে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হয়, যার স্বাদ খারাপ হলেও পান করার জন্য নিরাপদ। অনেক পরিবার পানি পরিশোধক জগ ব্যবহার করে। বোতলজাত পানি সর্বত্র সহজলভ্য। গরম দিনে শহরে পানি বহন করা ভালো, আর হাইকিং বা শহরের বাইরে ভ্রমণে এটি একেবারেই প্রয়োজনীয়। দূরবর্তী আউটব্যাকে অনেক জায়গায় কলের পানি পরিশোধিত থাকে না। সেক্ষেত্রে সেদ্ধ করার বিকল্প হিসেবে পানি জীবাণুনাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণে বের হলে কতটুকু পানি নিতে হবে, ভেঙে পড়লে কীভাবে সামলাবেন-এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, প্রায় প্রতিবছরই কেউ না কেউ আউটব্যাকে তৃষ্ণায় মারা যায়। গাড়ি বিকল হলে গাড়ির কাছে থাকুন, কারণ এতে ছায়া পাওয়া যায় এবং আপনাকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
===টিকা===
অস্ট্রেলিয়ায় এমন কোনো সংক্রামক রোগ নেই যা বিশেষ টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে অন্যান্য অনেক দেশের মতো, যদি আপনি ভ্রমণের ৬ দিনের মধ্যে কোনো [[হলুদ জ্বর]] আক্রান্ত দেশ থেকে আসেন, তাহলে প্রবেশের সময় হলুদ জ্বরের টিকার প্রমাণ দেখাতে হবে।
===মশা===
অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সারা বছর মশা থাকে, আর দক্ষিণাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে। জানালা ও দরজায় জাল লাগানো থাকে এবং বাজারে প্রতিরোধক সহজেই পাওয়া যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলে মশার মাধ্যমে "রস রিভার ভাইরাস" ছড়ায়, যা কয়েক সপ্তাহ অসুস্থ রাখতে পারে। [[ডেঙ্গু জ্বর]]ও হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে, এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ায় ম্যালেরিয়া নেই।
===চিকিৎসা===
[[File:VH-FDE (16640399301).jpg|thumb|রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিসের বিমান]]
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা নম্বর হলো '''০০০'''। যেকোনো চিকিৎসা জরুরিতে এই নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা ডাকতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা মান উন্নত দেশের মতো। বিশেষ করে, এখানে রক্ত দেওয়া নিরাপদ, কারণ সব দাতার রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য রোগ পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ঘনত্ব কম; অনেক জায়গা চিকিৎসা সুবিধা থেকে অনেক দূরে। এসব জায়গায় '''[[রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস]]''' কাজ করে। ৫,০০০ বা তার বেশি জনসংখ্যার ছোট শহরে জরুরি চিকিৎসার জন্য ছোট হাসপাতাল থাকে। বড় শহরে রুটিন ও কিছু জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য বেস হাসপাতাল থাকে। জটিল চিকিৎসার জন্য অনেক সময় রাজধানী শহরে নেওয়া হয়।
রাজধানী শহরগুলোতে মেডিকেল সেন্টার থাকে, যেখানে সপ্তাহান্তে বা রাত অবধি চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে ছোট শহরে সময় নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হতে পারে। জরুরি না হলে হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
* {{listing
| name=বিষ সংক্রান্ত তথ্য হটলাইন
| phone=13 11 26 (শুধু অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে)
| content=ভুলবশত কোনো ওষুধ বা বিষ গ্রহণ করলে বিনামূল্যে পরামর্শ দেয়। এছাড়া মাকড়সার কামড়ের মতো বিষয়ে কী চিকিৎসা প্রয়োজন সেটিও বলে দেয়। তবে তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা হলে অবশ্যই '০০০' নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।
}}
==== চিকিৎসা খরচ ও ভ্রমণ বিমা ====
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা কর-অর্থায়িত '''মেডিকেয়ার''' ব্যবস্থার সুবিধা নেন। বিদেশি শ্রমিক বা শিক্ষার্থীদের (যদি পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে) সাধারণত ভিসার শর্ত অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা নিতে হয়। স্বল্প মেয়াদের বিদেশি ভ্রমণকারীদের ভ্রমণ বিমা থাকা জরুরি, কারণ চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে। '''মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স, বেসরকারি হাসপাতাল বা দাঁতের চিকিৎসা কাভার করে না''', এগুলোর জন্য আপনাকে বেসরকারি বিমা নিতে হবে।
[[বেলজিয়াম]], [[ফিনল্যান্ড]], [[আয়ারল্যান্ড]], [[ইতালি]], [[মাল্টা]], [[নেদারল্যান্ডস]], [[নিউজিল্যান্ড]], [[নরওয়ে]], [[স্লোভেনিয়া]], [[সুইডেন]] ও [[যুক্তরাজ্য]] থেকে আগত পর্যটকেরা '''বিনামূল্যে জরুরি মেডিকেয়ার চিকিৎসা''' পান। তবে শর্ত ভিন্ন হতে পারে। যেমন, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা কেবল হাসপাতালের চিকিৎসা বিনামূল্যে পান, অন্যরা ডাক্তার দেখানোর জন্যও ভর্তুকি পান। তবে বেসরকারি হাসপাতালে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না, সব খরচ নিজেকেই বহন করতে হয় বা ভ্রমণ বিমা দিয়ে দিতে হয়।
যদি আপনার দেশের সঙ্গে কোনো পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে, তাহলে ভ্রমণ বিমা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ চিকিৎসকের কাছে যেতে প্রায় ৮০ ডলার খরচ হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ আলাদা। হাসপাতালে ভর্তি না হলেও ৫০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, আর ভর্তি হলে ১,০০০ ডলারেরও বেশি লাগতে পারে। উদ্ধার ও রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস বিনামূল্যে হলেও, ছোট শহর থেকে রাজধানীতে বা দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করতে হাজার হাজার ডলার খরচ হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরাও অ্যাম্বুলেন্স ও এয়ার-অ্যাম্বুলেন্স বিনামূল্যে পান না। স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানিগুলো সাধারণত শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারও বিক্রি করে। তবে সেগুলো প্রায়ই শুধু নিজের রাজ্যে কার্যকর থাকে, তাই অন্য রাজ্যে ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হোন। দেশীয় ভ্রমণ বিমা সাধারণত চিকিৎসা বা অ্যাম্বুলেন্স ব্যয় কাভার করে না। জরুরিতে মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স খরচ (১,০০০ ডলার থেকে শুরু) দেয় না; শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারসহ বেসরকারি বিমাই এই ব্যয় বহন করবে।
সাপ ও মাকড়সার বিষের প্রতিষেধক অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার না হলেও এর খরচ ১০,০০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।
==সংযোগ==
===টেলিফোন===
====অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক কল====
আন্তর্জাতিক কলের প্রধান অ্যাক্সেস কোড বা প্রিফিক্স হলো '''০০১১'''। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ০০১১ প্রিফিক্সের পরিবর্তে প্লাস চিহ্ন "+" ব্যবহার করা যায়।
====ডায়ালিং কোড====
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক কল করার জন্য দেশের কোড হলো +৬১। বিদেশ থেকে কল করার সময় এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হবে। একই এরিয়া কোডের মধ্যে কল করলে এরিয়া কোড ব্যবহার করা ঐচ্ছিক।
[[নরফোক দ্বীপ]] ও অস্ট্রেলিয়ান-অ্যান্টার্কটিক ঘাঁটির জন্য +৬৭২ কোড ব্যবহার করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার কোড নয়। বিস্তারিত জানার জন্য নির্দিষ্ট নিবন্ধ দেখুন।
অস্ট্রেলিয়ার এরিয়া কোড তালিকা:
* ০২ = সেন্ট্রাল ইস্ট (নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি ও ভিক্টোরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ)
* ০৩ = সাউথ ইস্ট (দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া)
* ০৪ = সারা দেশে মোবাইল ফোন (কল চার্জ বেশি)
* ০৭ = নর্থ ইস্ট (কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসের কিছু অংশ)
* ০৮ = সেন্ট্রাল ও ওয়েস্ট (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি ও পশ্চিম নিউ সাউথ ওয়েলস)
লোকাল কল বিনামূল্যে।
* বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরে কল করতে চাইলে ফরম্যাট হবে +৬১ ৮৮০৮০৩৩০০ (শুরুতে "০" দেবেন না; প্রয়োজনে "+" এর পরিবর্তে আপনার দেশের আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স ব্যবহার করুন)।
* অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে আন্তর্জাতিক কল করতে চাইলে প্রথমে আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স (০০১১ বা "+") চাপুন, এরপর দেশের কোড, গন্তব্যের এরিয়া কোড, তারপর স্থানীয় নম্বর। বেশিরভাগ দেশে এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হয় (অস্ট্রেলিয়ার মতো)।
উদাহরণ: [[মোরি (নিউ সাউথ ওয়েলস)|মোরি]] ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের স্থানীয় নম্বর হলো {{nowrap|৬৭৫৭-৩৩৫০}}। মোরি যেহেতু সেন্ট্রাল ইস্ট অঞ্চলে পড়ে, তাই এরিয়া কোড হবে ০২। [[সিডনি]] বা একই এরিয়া কোড থেকে কল করলে শুধু {{nowrap|৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করলেই হবে। [[ব্রিসবেন]] বা অন্য কোনো ভিন্ন এরিয়া কোড অঞ্চল থেকে কল করলে {{nowrap|০২ ৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করতে হবে। আপনি আপনার এরিয়া কোড না জানলেও এরিয়া কোড লিখে দিলে কাজ করবে। বিদেশ থেকে কল করতে হলে {{nowrap|+৬১ ২ ৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করতে হবে।
====বিশেষ নম্বর====
* '''১৩''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো লোকাল কল রেটে চার্জ হয়, এবং আপনার অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন সেবা দেয়। এগুলো ৬ বা ১০ সংখ্যার হতে পারে। যেমন, ১৩০০ ৭৯৬ ২২২ নম্বরে কল করলে [[অলবারি]] ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনে সংযুক্ত হবেন, আপনি অস্ট্রেলিয়ার যেখানেই থাকুন না কেন। তবে ১৩১ ০০৮ নম্বরে কল করলে আপনার অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ট্যাক্সি সেবার সাথে সংযোগ দেবে। ১৩ ২২ ৩২ কল করলে নিউ সাউথ ওয়েলস রেলওয়ে (সিডনি) বা ভিক্টোরিয়া রেলওয়ের (মেলবোর্ন)- সাথে সংযোগ করবে। আন্তর্জাতিকভাবে এই নম্বরগুলোতে কল করা অনেক সময় সমস্যা তৈরি করে।
* '''১৮''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো পে-ফোন বা ল্যান্ডলাইনে বিনামূল্যে, এবং প্রায়ই হোটেল রিজার্ভেশন বা ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের জন্য ব্যবহার হয়।
* '''১৯''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো প্রিমিয়াম, এবং এদের কল চার্জ অত্যন্ত বেশি হতে পারে। কল করার আগে ভালোভাবে দেখে নিন।
* '''১২''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো ক্যারিয়ার সেবা, এবং আপনি কোন নেটওয়ার্কে আছেন তার ওপর নির্ভর করে। যেমন, '''১২ ৪৫৬''' হলো টেলস্ট্রার সাধারণ তথ্য সেবা। ভোডাফোন একই ধরনের সেবা দেয় '''১২৩''' নম্বরে। এগুলোও প্রিমিয়াম সেবা হতে পারে।
বিশেষ নম্বরগুলোতে আন্তর্জাতিক কল অনেক সময় কাজ করতে পারে-শুধু নম্বরের আগে +৬১ কোড যোগ করে চেষ্টা করুন। অনেক সময় আলাদা সরাসরি আন্তর্জাতিক নম্বরও দেওয়া থাকে।
রিভার্স চার্জ (কলেক্ট) কল করা খুব ব্যয়বহুল এবং সমস্যাজনক হতে পারে। টেলস্ট্রা পাবলিক ফোন থেকে ১২৫৫০ ব্যবহার করতে পারেন, অথবা যেকোনো ফোন থেকে ১৮০০ NO CASH ব্যবহার করতে পারেন। তবে যেই নম্বরে কল করছেন সেটি অবশ্যই চার্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হতে হবে (সাধারণত ল্যান্ডলাইন বা বড় টেলকোর মোবাইল)।
====মোবাইল ফোন====
{{anchor|Mobile Cellular Phones}}
অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক রয়েছে-[http://www.telstra.com.au টেলস্ট্রা], [http://www.optus.com.au অপটাস] এবং [http://www.vodafone.com.au ভোডাফোন]। প্রতিটি নেটওয়ার্কের আবার অনেক রিসেলার আছে। এরা সবাই এলটিই (৪জি) এবং ৫জি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে; ৩জি ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে এবং ২০২৪ সালের শেষে এটি আর চালু থাকবে না। সাধারণভাবে টেলস্ট্রা সবচেয়ে ভালো কাভারেজ দেয়, তবে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুলও। ভোডাফোন সাধারণত সস্তা, কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। জনশূন্য বা জনবসতি কম এমন এলাকা, বিশেষ করে প্রধান সড়কের বাইরে, অনেক সময় কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। আপনি যদি গভীর বুশ অঞ্চলে যান, তবে '''স্যাটেলাইট ফোন''' হয়তো একমাত্র সমাধান। মনে রাখবেন, সব ধরনের মোবাইল ফোন দিয়ে যেকোনো নেটওয়ার্কে জরুরি কল করা যায়-এমনকি স্থানীয় সিম না থাকলেও বা রোমিং সক্রিয় না থাকলেও। স্যাটেলাইট ফোনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
বিদেশি সিম কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক রোমিং সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার ৪জি নেটওয়ার্কে সহজেই কাজ করে, তবে এটি আপনার নিজ দেশের অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির উপর নির্ভর করে। ৫জি নেটওয়ার্ক ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে, তাই আপনার ফোনের সামঞ্জস্যতার উপর নির্ভর করে কাভারেজ ভিন্ন হতে পারে। ভ্রমণের আগে আপনার স্থানীয় অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন। বিদেশি নাগরিকরা সহজেই অস্ট্রেলিয়ার প্রিপেইড সিম কিনতে পারেন, তবে সাধারণত পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্টের মতো ছবি-সংবলিত আইডি লাগতে পারে।
একটি সস্তা প্রিপেইড মোবাইল ফোন ও সিমসহ প্রায় ৪০ মার্কিন ডলারে অধিকাংশ দোকান, সুপারমার্কেট ও পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র সিম কিনতে চাইলে দাম প্রায় ২–৩ ডলার। প্রিপেইড রিচার্জ কার্ড সব সুপারমার্কেট, সংবাদপত্রের দোকান, কিছু এটিএম এবং অন্যান্য আউটলেটে পাওয়া যায়।
ডেটা, এসএমএস ও কল সময় মিলিয়ে অসংখ্য ধরনের প্যাকেজ, সিম ও ফোন বান্ডল কেনা যায়। কিছু অপারেটর কলের মিনিট বা এসএমএস আলাদা না দেখিয়ে প্যাকেজে একটি নির্দিষ্ট অর্থমূল্য দেয়, এবং আপনাকে আলাদা করে কল, এসএমএস ও ডেটা রেট দেখে হিসাব করতে হয়। এক প্ল্যান থেকে আরেক প্ল্যানে এ রেট ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যান নির্বাচন করা জরুরি, কারণ প্যাকেজের বাইরে অতিরিক্ত কল বা ডেটা ব্যবহার করলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। প্রচলিত সিম কার্ডের বিকল্প হিসেবে ভ্রমণকারীরা [https://baztel.co বাজটেল]-এর মতো স্থানীয় প্রদানকারীদের ই-সিমও নিতে পারেন, যা শুধুমাত্র ডেটা-সেবা দেয়।
৩জি বন্ধ হওয়ার কারণে আপনার বর্তমান ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারযোগ্য হবে কি না তা নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ে-ফোনে ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE) সমর্থন থাকতে হবে, প্রস্তুতকারককে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার অন্তত একটি অপারেটরের কনফিগারেশন ফাইল ফোনে লোড করতে হবে, ফোনটিকে জরুরি কলের জন্য এলটিই-তে সমর্থন করতে হবে, এবং সার্ভিস প্রদানকারীকে সেটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ফোনটি অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হয় কিনা তা সামঞ্জস্যতার নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ রপ্তানি অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে ছোটখাটো ভিন্নতা থাকতে পারে। অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত, রোমিং (অর্থাৎ নিজের দেশের সিম নিয়ে আসা) কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা পরিষ্কার নয়। আপনি হয়তো শুধুমাত্র ডেটা প্ল্যান কিনতে পারবেন, যা ইন্টারনেট ব্যবহার ও এসএমএস গ্রহণের সুযোগ দেবে (কিন্তু পাঠানো যাবে না), তবে কল করা বা ধরা যাবে না-এখনো তা নিশ্চিত নয়। হয়তো আপনাকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ফোন কিনতে হবে। তবে ওয়াই-ফাই এতে প্রভাবিত নয়, তাই শহর ও গ্রামে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা সম্ভব।
===স্যাটেলাইট ফোন===
[[File:Telstra phonebox at Quinns.jpg|thumb|একটি সাধারণ টেলস্ট্রা পে-ফোন]]
দূরবর্তী এলাকায় ব্যবহার উপযোগী স্যাটেলাইট ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ভাড়া পাওয়া যায়। ইরিডিয়াম, গ্লোবালস্টার ও থুরাইয়া সেবা চালু আছে। ভাড়ায় নিতে সপ্তাহে প্রায় ১২০ ডলার খরচ হয়, কল চার্জ আলাদা। শুধু বার্তা পাঠানোর ডিভাইস সপ্তাহে প্রায় ৮০ ডলারে পাওয়া যায়।
এই যন্ত্রগুলো কেবল বিশেষায়িত বিক্রেতাদের কাছেই পাওয়া যায়, আর তা-ও সাধারণত বড় শহরগুলোতে (আপনি যে দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ করতে পারেন তার বাইরে)। তবে চাইলে আপনি যাত্রার আগে নিজ দেশ থেকেই এসব যন্ত্র কিনতে বা ভাড়ায় নিতে সক্ষম হবেন।
স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে জরুরি কল করা যায়, এর জন্য সিম কার্ড বা সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে সস্তা ফোনের দাম প্রায় ৩০০ মার্কিন ডলার, যা একটি পিএলবির (পার্সোনাল লোকেটর বিকন) চেয়ে সামান্য বেশি মাত্র।
=== গণফোন ===
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ শহর ও উপশহরে অন্তত একটি করে গণফোন থাকে। প্রায় সব রেলস্টেশনেই গণফোন থাকে। অস্ট্রেলিয়ার সব গণফোন থেকে '''স্থানীয় ল্যান্ডলাইন ও মোবাইলে কল ফ্রি'''। আন্তর্জাতিক কল করার জন্য টেলস্ট্রা বা সংবাদপত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে তৃতীয় পক্ষের কলিং কার্ড ব্যবহার করা যায়। যেকোনো টেলস্ট্রা গণফোন থেকে পুরোনো ধাঁচের মোবাইল ফোনের মতো কীপ্যাড ব্যবহার করে বিনামূল্যে টেক্সট মেসেজ পাঠানো যায়। ফোনের ডিসপ্লেতে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
=== ওয়াইফাই ===
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব ধরনের আবাসন, যেমন যুব হোস্টেল ও ক্যারাভান পার্ক থেকে শুরু করে ৫-তারকা হোটেল পর্যন্ত, '''ফ্রি ওয়াই-ফাই''' সরবরাহ করে। অধিকাংশ ক্যাফে, শপিং মল এমনকি কিছু গণপরিবহন যেমন ট্রেন ও ফেরিতেও ওয়াই-ফাই থাকে। পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে পাবলিক লাইব্রেরি সবচেয়ে ভালো জায়গা। ইন্টারনেট ক্যাফে প্রায় বিলুপ্ত, যদিও কিছু গেমিং ক্যাফে এখনো আছে।
বড় শহরগুলোতে শপিং মল ও বড় দোকানে ফ্রি ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়, এবং ক্রমশই গণপরিবহনেও এটি চালু হচ্ছে। সিডনির ফেরি ও অ্যাডিলেডের ট্রাম ফ্রি ওয়াই-ফাই সরবরাহ করে।
=== রেডিও ও টেলিভিশন ===
অস্ট্রেলিয়ার দুটি জাতীয় পাবলিক সম্প্রচারক রয়েছে: [http://www.abc.net.au/ এবিসি] এবং [https://www.sbs.com.au/ এসবিএস]। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) স্থানীয় রেডিও, ট্রিপল জে (যুব/ইন্ডি সংগীত) ও এবিসি ক্লাসিক এএম/এফএম রেডিওতে সম্প্রচার করে এবং পাঁচটি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করে। স্পেশাল ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (এসবিএস) ছয়টি টিভি চ্যানেল এবং দুটি অ্যানালগ রেডিও স্টেশনে বেশি জাতিগত, দ্বিভাষিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচার করে। উভয় সম্প্রচারকই জনবহুল অঞ্চলে পাওয়া যায়, তবে এবিসির রেডিও কভারেজ বেশি। রাজধানীগুলোতে ডিএবি+ ডিজিটাল রেডিওও পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি ফ্রি-টু-এয়ার বাণিজ্যিক টিভি নেটওয়ার্ক রয়েছে: [https://au.tv.yahoo.com/ সেভেন], [https://www.nine.com.au/ নাইন] এবং [https://tenplay.com.au/ টেন]। শহর ও নগরের প্রায় সব আবাসনেই এসব চ্যানেল পাওয়া যায়। কেবল টিভির একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান আগে ফক্সটেল ছিল, যা এখনো অনেক হোটেলে প্রচারিত হয়, তবে বর্তমানে নেটফ্লিক্স ও এর স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী [https://stan.com.au স্ট্যান] ও [https://kayosports.com.au/ কায়ো স্পোর্টস] বেশি জনপ্রিয়।
শহর যত বড়, রেডিও স্টেশনও তত বেশি। গ্রামীণ শহরে সাধারণত একটি বাণিজ্যিক রেডিও স্টেশন এবং [https://www.abc.net.au/local/ এবিসি] থাকে। গ্রামীণ শহরের মধ্যে গাড়ি চালালে প্রায়ই সব রেডিও সিগনাল হারাতে পারেন। তাই আগে থেকেই গান বা পডকাস্ট ডাউনলোড করা ভালো। জরুরি অবস্থা বা বুশফায়ার ঝুঁকির সময় ভ্রমণের সময় এবিসির সম্প্রচারে মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
=== সংবাদ ===
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান জাতীয় ব্রডশিট পত্রিকা হলো [https://www.theaustralian.com.au/ দ্য অস্ট্রেলিয়ান], আর্থিক ও ব্যবসায়িক সংবাদে বিশেষায়িত [http://www.afr.com/ দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ]। এছাড়াও রাজ্যভিত্তিক স্থানীয় পত্রিকা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিডনিভিত্তিক ''[http://www.smh.com.au/ দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড]'' এবং ''[https://www.dailytelegraph.com.au/ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ]'', এবং মেলবোর্নভিত্তিক ''[https://www.theage.com.au/ দ্য এজ]'' ও ''[http://www.heraldsun.com.au/ হেরাল্ড সান]''।
=== ডাক ব্যবস্থা ===
[[File:Australia Post boxes.jpg|thumb|এক্সপ্রেস (হলুদ) ও সাধারণ (লাল) অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্স]]
'''[http://www.auspost.com.au অস্ট্রেলিয়া পোস্ট]''' অস্ট্রেলিয়ার ডাকসেবা পরিচালনা করে। লাল রঙের অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্সে চিঠি ফেলা যায়, যা পোস্ট অফিস ও অন্যান্য অনেক জায়গায় থাকে। ডাকটিকিট সব পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়, কিছু টিকিট সংবাদপত্র বিক্রেতা ও হোটেলেও মেলে। অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে একটি সাধারণ চিঠি বা পোস্টকার্ড পাঠাতে খরচ হয় ১.৭০ ডলার (২৫০ গ্রাম পর্যন্ত), আর আন্তর্জাতিক ডাকের খরচ ৩.০০ থেকে ৩.৭০ ডলার (২০ গ্রাম পর্যন্ত)। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ডাক পাঠাতে খরচ হয় ২.৪০ ডলার, তবে খামে "শুধু কার্ড" লিখতে হয়। ‘ডোমেস্টিক’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ টিকিট আলাদা, কারণ আন্তর্জাতিক ডাক করমুক্ত। তাই সঠিক টিকিট ব্যবহার করা জরুরি। পার্সেল, এক্সপ্রেস পোস্টসহ অন্যান্য সেবাও পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ার ঠিকানার ধরন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো:
<blockquote>প্রাপকের নাম<br/>(প্রয়োজন হলে) ইউনিট নম্বর বা ভবনের নাম<br/>বাড়ির নম্বর ও সড়কের নাম<br/>শহর বা নগর, রাজ্যের ২ বা ৩ অক্ষরের সংক্ষিপ্ত রূপ, পোস্টকোড</blockquote>
যেকোনো শহর বা নগরে ''পোস্তে রেস্তান্তে'' ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাক গ্রহণ করা যায়। চিঠি প্রাপকের পূর্ণ নাম লিখে c/o Post Restante হিসেবে পাঠাতে হয়। ডাক সংগ্রহের জন্য পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।
{{এর অংশ|ওশেনিয়া}}
{{guidecountry}}
{{geo|-28|137|zoom=5}}
7ge8lfd01wjg1hahf6adv2ezmal9znd
76706
76705
2026-06-01T15:47:52Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
/* দ্বীপপুঞ্জ */
76706
wikitext
text/x-wiki
{{pagebanner |Australia alt banner.jpg| caption=উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্কে কাটা টজুটা, নর্দান টেরিটরি|origin=0.3,0}}
'''অস্ট্রেলিয়া'''র মতো জায়গা পৃথিবীতে আর নেই। একে বলা হয় ''ল্যান্ড ডাউন আন্ডার'', কারণ এটি পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেটি পুরো একটি মহাদেশকে দখল করে আছে। এখানে আদিবাসী সংস্কৃতির ইতিহাস প্রায় ৬৫,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো, আবার আধুনিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক অভিবাসনের ফলে এটি বহুজাতিক সমাজে পরিণত হয়েছে। দেশটি তার প্রাকৃতিক বিস্ময়, উন্মুক্ত প্রান্তর, সমুদ্রসৈকত, মরুভূমি, অরণ্য এবং [[আউটব্যাক|আউটব্যাকের]] জন্য বিখ্যাত। তবে অস্ট্রেলিয়া একই সঙ্গে অত্যন্ত নগরায়িত-বহুজাতিক শহরের সমাহারে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত শহর হলো [[সিডনি]], যা বিশ্বের অন্যতম প্রসিদ্ধ বন্দরের তীরে অবস্থিত।
==অঞ্চল==
অস্ট্রেলিয়া ছয়টি রাজ্য ও নয়টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। সবগুলো একসঙ্গে ঘুরে দেখা প্রায় অসম্ভব, কারণ অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যের তুলনায় অনেক বড়, বরং আয়তনে কানাডার প্রদেশগুলোর কাছাকাছি। [[ব্রিসবেন]] থেকে [[শার্ক বে]] পর্যন্ত প্রায় {{km|5000}} কিমি দূরত্ব, যা মাদ্রিদ থেকে মুরমানস্ক, কায়রো থেকে নাইরোবি বা মেইন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার দূরত্বের সমান।
{{Regionlist
| regionmap=Australia regions map.png
| regionmaptext=অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য/অঞ্চল ও প্রধান মহাসড়ক
| regionmapsize=376px
| region1name=[[নিউ সাউথ ওয়েলস]] ''(এনএসডব্লিউ)'' এবং [[ক্যানবেরা|অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি]] ''(এএসটি)''
| region1color=#c8aa92
| region1items=
| region1description=অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য, যেখানে রয়েছে [[সিডনি]]—দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম শহর। রাজ্যটি ঘিরে রয়েছে পরিকল্পিত রাজধানী শহর [[ক্যানবেরা]]। নিউ সাউথ ওয়েলসের উপকূল জুড়ে রয়েছে সমুদ্রসৈকতঘেঁষা জনপদ। একটু ভেতরে রয়েছে [[ব্লু মাউন্টেইনস|ব্লু মাউন্টেইনস]] এবং [[স্নোয়ি মাউন্টেইনস|স্নোয়ি মাউন্টেইনসের]] পর্বতশ্রেণী। আরও ভেতরে রয়েছে বিশাল কৃষি সমভূমি, যা শেষে মিলেছে আউটব্যাকের সঙ্গে।
| region2name=[[নর্দান টেরিটরি]] ''(এনটি)''
| region2color=#acc2a6
| region2items=
| region2description=[[উলুরু]] ও [[অ্যালিস স্প্রিংস|অ্যালিস স্প্রিংসের]] লাল মরুভূমি থেকে শুরু করে [[ডারউইন]] ও [[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক|ন্যাশনাল পার্কের]] উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত নর্দান টেরিটরি অপূর্ব সুন্দর এবং ধারণার তুলনায় অনেক সহজলভ্য।
| region3name=[[কুইন্সল্যান্ড]] ''(কিউএলডি)''
| region3color=#c3bea3
| region3items=
| region3description=রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার জন্য বিখ্যাত কুইন্সল্যান্ডে রয়েছে [[গোল্ড কোস্ট]] থেকে [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]] পর্যন্ত সমুদ্রতটের রূপ, এবং প্রাণচঞ্চল [[ব্রিসবেন]] শহর। এখানেই আছে [[ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক|ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্কের]] উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য এবং হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জের রিসোর্ট। ভেতরে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল এবং আরও ভেতরে বিশাল আউটব্যাক।
| region4name=[[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] ''(এসএ)''
| region4color=#bcb491
| region4items=
| region4description=বিশ্ববিখ্যাত [[বারোসা ভ্যালি|বারোসা ভ্যালির]] উৎকৃষ্ট মদ, [[ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেস|ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেসের]] সৌন্দর্য ও আউটব্যাক, আর [[অ্যাডিলেড]]—"চার্চের শহর"—এর সংস্কৃতি ও উৎসবের জন্য খ্যাত। এটাই একমাত্র রাজ্য যা কারাগার উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং সম্পূর্ণভাবে মুক্ত বসতিদের দ্বারা গড়ে উঠেছে।
| region5name=[[তাসমানিয়া]] ''(টাস.)''
| region5color=#b69eb3
| region5items=
| region5description=বাস প্রণালী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন তাসমানিয়া হলো একটি পর্বতময় রাজ্য। পশ্চিমে [[ক্র্যাডল মাউন্টেইন|ক্র্যাডল মাউন্টেইনের]] দুর্দান্ত সৌন্দর্য, পূর্বে সমুদ্রসৈকত, আর দক্ষিণে রয়েছে অরণ্য। [[হোবার্ট]] ছিল অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইউরোপীয় বসতি, এবং বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনো সংরক্ষিত আছে।
| region6name=[[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ''(ভিক.)''
| region6color=#c3d099
| region6items=
| region6description=অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ছোট মূল ভূখণ্ডের রাজ্য ভিক্টোরিয়া নানা বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্য ও অভিজ্ঞতা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নাটকীয় ঢেউয়ের সৈকত, উর্বর কৃষিভূমি ও সুন্দর জাতীয় উদ্যান সবই এখানে রয়েছে। [[মেলবোর্ন]] হলো রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র—বিশ্বমানের কেনাকাটা, ফ্যাশন, খাদ্য এবং ক্রীড়া ইভেন্টের জন্য প্রসিদ্ধ।
| region7name=[[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] ''(ডব্লিউএ)''
| region7color=#cfcf94
| region7items=
| region7description=একটি বিশাল রাজ্য। দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে রাজধানী শহর [[পার্থ]]। দক্ষিণে রয়েছে [[মার্গারেট রিভার]]-এর আঙুরক্ষেত এবং [[অ্যালবানি (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া)|অ্যালবানির]] মনোরম দৃশ্যাবলি। উত্তরে রয়েছে [[ব্রুম|ব্রুমের]] উষ্ণমণ্ডলীয় সৈকত। দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট জনপদ, রাস্তার ধারে অবকাঠামো, খনিশ্রমিকদের বসতি ও জাতীয় উদ্যান।
}}
===দ্বীপপুঞ্জ===
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বীপ [[তাসমানিয়া]], যা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যও বটে। দেশজুড়ে মোট ৮,২২২টি দ্বীপ রয়েছে। প্রধান দ্বীপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
* {{নির্দেশক|নাম=[[লর্ড হাও দ্বীপ]]|wikidata=Q104784}} - প্রকৃতির অপূর্ব প্রদর্শনী, সিডনি থেকে দুই ঘণ্টার ফ্লাইট, নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ।
* {{নির্দেশক|নাম=[[নরফোক দ্বীপ]]|wikidata=Q31057}} - নিউজিল্যান্ডের মাঝপথে, প্রকৃতি ও সৈকতের জন্য খ্যাত।
* {{নির্দেশক|নাম=[[ক্রিসমাস দ্বীপ]]|wikidata=Q31063}} - লাল কাঁকড়ার অভিবাসনের জন্য বিখ্যাত, পার্থ থেকে ফ্লাইট যায়।
* {{নির্দেশক|নাম=[[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q36004}} - প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ, জনবসতিপূর্ণ, পার্থ থেকে ফ্লাইটে যাওয়া যায়।
* {{marker|name=[[টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q1059258}} - আদিবাসী সংস্কৃতির কেন্দ্র, কেপ ইয়র্ক ও পাপুয়া নিউ গিনির মাঝে। ভ্রমণের জন্য ঐতিহ্যগত মালিকদের অনুমতি প্রয়োজন। ফ্লাইট [[কেয়ার্নস]] থেকে।
* {{marker|name=[[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]|wikidata=Q210371}} - অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, যেখানে বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক দৃশ্য, মধুর খামার, আঙুরক্ষেত ও সৈকত রয়েছে।
* {{marker|name=[[রটনেস্ট দ্বীপ]]|wikidata=Q585317}} - প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য, ৬৩টি সৈকত ও ২০টি উপসাগর রয়েছে। পার্থের কাছে অবস্থিত এবং "কোয়োকা" প্রাণীর জন্য বিখ্যাত।
* {{marker|name=[[কিং দ্বীপ]]|wikidata=Q794502}} - তাসমানিয়ার উত্তরে বাস প্রণালীতে।
* {{marker|name=[[হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ]]|wikidata=Q1646461}} - সাদা বালুকাময় সৈকতের জন্য প্রসিদ্ধ পর্যটন গন্তব্য।
এছাড়াও রয়েছে বহু জনশূন্য দ্বীপ যেমন [[করাল সি দ্বীপপুঞ্জ]], [[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ|কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জের]] কিছু অংশ, [[অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ]] এবং দূরবর্তী আন্টার্কটিক দ্বীপ যেমন [[হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ]] এবং [[ম্যাকুয়ারি দ্বীপ]]।
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c8aa92|title=[[নিউ সাউথ ওয়েলস]] এবং [[অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি]] ''(এনএসডব্লিউ) & (এসি টি)''|wikidata=Q3224}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#acc2a6|title=[[নর্দার্ন টেরিটরি]] ''(এনটি)''|wikidata=Q3235}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c3bea3|title=[[কুইন্সল্যান্ড]] ''(কিউএলডি)''|wikidata=Q36074}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#bcb491|title=[[সাউথ অস্ট্রেলিয়া]] ''(এসএ)''|wikidata=Q35715}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#b69eb3|title=[[তাসমানিয়া]] ''(তাস)''|wikidata=Q34366}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#c3d099|title=[[ভিক্টোরিয়া (অঙ্গরাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ''(ভিক)''|wikidata=Q36687}}
{{mapshape|type=geoshape|fill=#cfcf94|title=[[ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া]] ''(ডব্লিউএ)''|wikidata=Q3206}}
==শহর==
[[File:Sydney Harbour Bridge night.jpg|thumb|350px|রাতে সিডনির দৃশ্য]]
<!-- এখানে সর্বাধিক ৯টি শহর তালিকাভুক্ত করা যাবে। তালিকায় পরিবর্তন চাইলে আলোচনাপৃষ্ঠায় আলোচনা করুন। -->
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[ক্যানবেরা]]|wikidata=Q3114}} - তুলনামূলক ছোট, পরিকল্পিত জাতীয় রাজধানী; এখানে বহু জাদুঘর রয়েছে
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[অ্যাডিলেড]]|wikidata=Q5112}} - "চার্চের শহর", শান্ত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী, বিশ্বখ্যাত আঙুরক্ষেতের কাছেই
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[ব্রিসবেন]]|wikidata=Q34932}} - রৌদ্রোজ্জ্বল কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী, সুন্দর বালুকাময় সৈকতের প্রবেশদ্বার
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[কেয়ার্নস]]|wikidata=Q189133}} - [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]], পোর্ট ডগলাস, [[ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক]] ও বহু সৈকত ও রিসোর্টের প্রবেশদ্বার; বিশ্রাম ও ভ্রমণের জনপ্রিয় স্থান
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[ডারউইন]]|wikidata=Q11568}} - অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণমণ্ডলীয় উত্তরাঞ্চলীয় রাজধানী
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[হোবার্ট]]|wikidata=Q40191}} - ছবির মতো সুন্দর ও শান্ত তাসমানিয়ার রাজধানী, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় কারাগার বসতি
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[মেলবোর্ন]]|wikidata=Q3141}} - অস্ট্রেলিয়ার কফি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার রাজধানী; প্রায়শই সবচেয়ে ইউরোপীয় ধাঁচের শহর বলা হয়; শিল্পকলা, খাবার ও ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য প্রসিদ্ধ
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[পার্থ]]|wikidata=Q3183}} - পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী মহাদেশীয় শহর, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে
* {{নির্দেশক|ধরন=city|নাম=[[সিডনি]]|wikidata=Q3130}} - অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম শহর, অপেরা হাউসের আবাসস্থল এবং মনোরম উপসাগর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অসংখ্য সৈকতের জন্য খ্যাত
==অন্যান্য দর্শনীয় স্থান==
[[File:Apostles 3 GOR.JPG|thumb|250px|দ্য টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস]]
<!--শহর ও অন্যান্য গন্তব্যের তালিকায় সর্বাধিক ৯টি উপাদান রাখা যাবে। পরিবর্তনের জন্য আলোচনাপৃষ্ঠায় আলোচনা করুন।-->
* {{marker|type=vicinity|name=[[ব্লু মাউন্টেইনস ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q885558}} - নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি পর্বতময় জাতীয় উদ্যান, যেখানে "থ্রি সিস্টার্স" শিলারূপ আছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[ক্র্যাডল মাউন্টেইন-লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q1138453}} - তাসমানিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যান; এখানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গভীরতম হ্রদ ও মনোরম পাহাড়
* {{marker|type=vicinity|name=[[ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট]]|wikidata=Q5209517}} - বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত অরণ্য; এখানে রয়েছে ক্যাসোয়ারি পাখির বৃহত্তম জনসমষ্টি
* {{marker|type=vicinity|name=[[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]|wikidata=Q7343}} - কুইন্সল্যান্ড উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থা
* {{marker|type=vicinity|name=[[গ্রেট ওশান রোড]]|wikidata=Q74046}} - ভিক্টোরিয়ার মনোমুগ্ধকর উপকূলীয় সড়ক; "[[পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক|টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস]]" শিলা ও বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q189657}} - নর্দান টেরিটরির দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান; উষ্ণমণ্ডলীয় ভ্রমণ, আদিবাসী সংস্কৃতি ও প্রকৃতি উপভোগের স্থান
* {{marker|type=vicinity|name=[[ইকারা-ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেস ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q426073}} – দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রতীকী জাতীয় উদ্যান; প্রাকৃতিক অ্যম্ফিথিয়েটার ও এডিয়াকারান যুগের জীবাশ্ম রয়েছে
* {{marker|type=vicinity|name=[[পুর্নুলুলু ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q679568}} – "বাঙ্গল বাঙ্গল রেঞ্জের" খাড়া শিলা, ২৫০ মিটার উঁচু
* {{marker|type=vicinity|name=[[উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্ক]]|wikidata=Q251999}} - [[উলুরু]] (''আয়ার্স রক'') ও কাটা টজুটা (''দ্য ওলগাস'') শিলারূপ, যা "রেড সেন্টারের" প্রতীক
==জানুন==
{{quote|{{center|1=আমরা এক <br>কিন্তু আমরা অনেক <br>আর পৃথিবীর সব দেশ থেকেই আমরা এসেছি। <br>আমরা এক স্বপ্ন ভাগাভাগি করব <br>এবং এক কণ্ঠে গান গাইব: <br>আমি, তুমি, আমরা সবাই অস্ট্রেলিয়ান|author="আই অ্যাম অস্ট্রেলিয়ান" — দ্য সিকার্স}}}}
{{quickbar|location=Australia with AAT (orthographic projection).svg}}
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে ছোট-প্রায় ২৫ মিলিয়ন, তবে তা বাড়ছে। জি২০-এর সদস্য এ দেশটির জীবনমান উচ্চ এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবে শীর্ষে থাকে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
===ইতিহাস===
{{see also|অস্ট্রেলীয় আদিবাসী সংস্কৃতি|ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ}}
অস্ট্রেলিয়ায় কমপক্ষে ৬৫,০০০ বছর ধরে আদিবাসীরা বসবাস করছে। তারা দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বিভিন্ন তরঙ্গে এসে এখানে পৌঁছায়। শেষ বরফ যুগের পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের বাকি অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো ভূমি ও প্রকৃতির সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর আত্মীয়তাভিত্তিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে নানা সংস্কৃতি গড়ে তোলে। হাজার হাজার বছর ধরে অস্ট্রেলীয় আদিবাসীরা শিকারি-সংগ্রাহক জীবনধারা বজায় রেখেছে, আর কিছু অঞ্চলে আধা-স্থায়ী সমাজ গড়ে তোলে। এর সঙ্গে সমৃদ্ধ শিল্পকলা, কাহিনি ও সংগীতের ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
অস্ট্রেলীয় আদিবাসীদের বর্তমান জনপ্রিয় ধারণা মূলত মরুভূমির মানুষের উপর ভিত্তি করে, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে (কালাহারির বুশম্যানদের মতো)। তবে অনেক আদিবাসীই বনভূমি ও জলসমৃদ্ধ অঞ্চলে বাস করত। ইউরোপীয়দের আগমনের আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন নিশ্চিত করেছিল।
যদিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চীনে ঝিনুক ও সামুদ্রিক শশার বাজার ইন্দোনেশীয় জেলেদের অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে আসতে উৎসাহিত করেছিল, ইউরোপীয়দের কাছে এটি অজানা ছিল ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত। তখন ডাচ বণিকরা এশিয়ার পথে চলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৌঁছায়। [[সুলাওয়েসি]]র মাকাসারিদের আগমন উত্তরাঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে বহু ইন্দোনেশীয় সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে আসে। ইসলামের প্রচারও প্রথম বিদেশি ধর্ম হিসেবে এখানে প্রবেশ করে। আরনহেম ল্যান্ড ও কিম্বারলির শিলাচিত্রগুলোতে বহু ইসলামি উপাদান দেখা যায়।
ডাচদের কাছে এই শুষ্ক ও প্রতিকূল দেশটি আকর্ষণীয় ছিল না। তারা একে সমৃদ্ধ পূর্ব ইন্ডিজের (আধুনিক ইন্দোনেশিয়া) দিকে যাওয়ার একটি চিহ্নমাত্র হিসেবে দেখত। পরবর্তীতে ফরাসি ও ব্রিটিশরা অস্ট্রেলিয়ার উপকূল ঘুরে দেখার উদ্যোগ নেয়। ফলে দেশের বিভিন্ন উপসাগর, নদী ও ভূখণ্ডে ডাচ, ফরাসি ও ইংরেজ নামকরণ হয়। তবে অনেক জায়গার নাম স্থানীয় আদিবাসী ভাষা থেকে এসেছে, আর বহু স্থানে ইউরোপীয় নাম বাতিল করে বা দ্বৈতভাবে আদিবাসী নাম সংযোজন করা হয়েছে।
[[জেমস কুকের সমুদ্রযাত্রা|ক্যাপ্টেন জেমস কুক]] ১৭৭০ সালে [[এন্ডেভার]] অভিযানে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল মানচিত্রে চিহ্নিত করেন। তিনি ২৯ এপ্রিল ১৭৭০-এ [[বোটানি বে]]তে প্রথম অবতরণ করেন। এরপর তিনি উত্তরের দিকে যাত্রা করে ২২ আগস্ট ১৭৭০-এ টরেস প্রণালীর [[পজেশন আইল্যান্ড]]-এ ব্রিটিশ মুকুটের পক্ষে পূর্ব উপকূল দখলের ঘোষণা দেন এবং এর নামকরণ করেন নিউ সাউথ ওয়েলস। যদিও কুককে প্রায়শই অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় আবিষ্কারক বলা হয়, তিনি প্রকৃতপক্ষে ডাচদের চেয়ে দেড় শতাব্দীরও বেশি পরে এসেছিলেন।
[[File:PortArthurPenitentiary.jpg|thumb|তাসমানিয়ার [[পোর্ট আর্থার]] দণ্ডিত উপনিবেশের ধ্বংসাবশেষ। এটি [[অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ]]-এর অংশ এবং [[ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা]]ভুক্ত।]]
১৭৮৮ সালে ক্যাপ্টেন আর্থার ফিলিপের নেতৃত্বে প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপিত হয় বর্তমান [[সিডনি]]তে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রথম গভর্নর হন। উপনিবেশ স্থাপনের ফলে আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে তাদের জনসংখ্যা কমে যায় এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। শুরুতে পুরো মহাদেশের পূর্বাংশ নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত হয়-১৮২৫ সালে [[তাসমানিয়া]] (তখন ভ্যান ডিমেন’স ল্যান্ড), ১৮৩৬ সালে [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]], ১৮৪১ সালে [[নিউজিল্যান্ড]], ১৮৫১ সালে [[ভিক্টোরিয়া]], ১৮৫৯ সালে [[কুইন্সল্যান্ড]]। মহাদেশের পশ্চিমাংশে ইউরোপীয়রা অনেক দেরিতে আসে-১৮২৬ সালে [[অ্যালবানি (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া)|অ্যালবানি]]তে নৌঘাঁটি স্থাপন করে। ১৮২৯ সালে [[পার্থ]]-এ সোয়ান রিভার কলোনি গড়ে ওঠে, যার নাম ১৮৩২ সালে পরিবর্তিত হয়ে [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] হয়।
অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ব্রিটিশ দণ্ডিত উপনিবেশ হিসেবে পরিচিত হলেও ১৭৮৮-এর পর অধিকাংশ মানুষ স্বাধীনভাবে আসে, বিশেষত ব্রিটেন ও [[আয়ারল্যান্ড]] থেকে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় কিছু দণ্ডিত উপনিবেশ ছিল বিক্ষিপ্ত আকারে, তবে [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]] পুরোপুরি স্বাধীন অভিবাসীদের দ্বারা গড়ে ওঠে। ১৮৫০-এর দশকে সোনার খনির সময় এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ থেকেও বহু মানুষ আসে। যদিও পরবর্তীতে "হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতি" অভিবাসন কঠোরভাবে সীমিত করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর, এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ধারা শুরু হয়। এর ফলে ২০শ শতকের শেষ নাগাদ অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পরিণত হয়।
১৯০১ সালে বিভিন্ন উপনিবেশ একত্রিত হয়ে "কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়া" গঠন করে। [[নিউজিল্যান্ড]] তখন এই ফেডারেশনে যোগ দেয়নি। নতুন দেশটি কৃষি ও শিল্পে দ্রুত অগ্রগতি ঘটায় এবং ছোট জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ]], [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]সহ [[কোরিয়ার যুদ্ধ]], [[ভিয়েতনাম যুদ্ধ]], ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেয়। অস্ট্রেলীয় সেনারা কঠিন যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।
১৯৮৬ সালে "অস্ট্রেলিয়া অ্যাক্ট" পাশ হয়, যা ব্রিটিশ সংসদের অস্ট্রেলিয়ার উপর বাকি আইনি ক্ষমতা শেষ করে দেয়। তবে কানাডার মতো এখানেও ব্রিটিশ রাজা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রয়েছেন, যার প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল।
২০শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আদিবাসী আন্দোলন শক্তিশালী হয়। এর ফলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি পায় এবং ভূমি অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে বহু এলাকা আদিবাসীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড সংসদে আদিবাসীদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই বছর থেকে অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত করা হয়।
===ভূগোল===
{{infobox|অস্ট্রেলিয়া কি দুটি মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি তিনটি?|অস্ট্রেলিয়ার সীমানা নিয়ে দ্বিধা আছে। প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের সীমানা নিয়ে বিতর্ক নেই, তবে দক্ষিণ মহাসাগরকে কোথা থেকে শুরু ধরা হবে তা নিয়ে মতভেদ আছে। আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষিণ মহাসাগর ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে শুরু ধরা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় (সরকারি দপ্তরসহ) দক্ষিণ উপকূল থেকেই একে ধরা হয়। তাই উইকিভ্রমণের অস্ট্রেলিয়া-সংক্রান্ত নিবন্ধগুলোতে অস্ট্রেলিয়ান প্রেক্ষাপট ধরা হয়।}}
[[File:Macropus rufus 01 - Christopher Watson.jpg|thumbnail|নর্দার্ন টেরিটরিতে লাল ক্যাঙ্গারু]]
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ এবং বৃহত্তম দ্বীপ। এটি [[ওশেনিয়া]]র ভূমির প্রধান অংশ। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে [[তাসমানিয়া]]সহ কিছু ছোট দ্বীপ রয়েছে। মোট আয়তন ৭,৬৮২,৩০০ বর্গকিমি (২,৯৬৬,১৫২ বর্গমাইল), যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সমান। তবে এর জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের এক দশমাংশও নয়। ফলে শহরগুলোর মধ্যে দূরত্ব সহজে আন্দাজ করা যায় না। পশ্চিমে ভারত মহাসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর। দক্ষিণ-পূর্বে তাসমান সাগর, যা নিউজিল্যান্ডকে পৃথক করে, আর উত্তর-পূর্বে প্রবাল সাগর। উত্তর দিকে [[পাপুয়া নিউগিনি]], [[তিমুর-লেস্তে]] ও [[ইন্দোনেশিয়া]] রয়েছে, যেগুলো নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক কাছাকাছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে পাপুয়া নিউগিনি মাত্র {{km|৪}} দূরে।
অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত নগরায়িত। জনসংখ্যার অধিকাংশই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে কেন্দ্রীভূত। সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হলো [[নিউ সাউথ ওয়েলস]], [[ভিক্টোরিয়া]], [[কুইন্সল্যান্ড]]; তবে আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হলো [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]]।
দেশটির বহু এলাকা কৃষিকাজের জন্য বন উজাড় করা হয়েছে, তবে বহু প্রাকৃতিক বন সংরক্ষিত রয়েছে জাতীয় উদ্যান ও অনাবাদী জমিতে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে জল ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা, দূষণ, বহিরাগত প্রাণীর আক্রমণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, এবং [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]সহ উপকূলীয় এলাকা রক্ষা করার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
===আবহাওয়া===
অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু বৈচিত্র্যময়। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বছরে ৩,০০০ ঘণ্টার বেশি রোদ পড়ে। উত্তরাংশ গরম ও ক্রান্তীয়, দক্ষিণাংশ নাতিশীতোষ্ণ। উপকূলে বেশি বৃষ্টি হয়, আর কেন্দ্রীয় অংশ শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক। [[ডারউইন]] শহরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শীতকালেও সচরাচর ৩০°সে (৮৬°ফা) এর নিচে নামে না, আর রাতে সাধারণত ১৫–২০°সে (৬০–৭০°ফা) থাকে। অস্ট্রেলিয়ার শীত উত্তর গোলার্ধের সমান অক্ষাংশের তুলনায় হালকা। দেশের অধিকাংশ অংশে কখনোই তুষারপাত হয় না। তবে দক্ষিণ-পূর্বের [[স্নোই মাউন্টেনস]] ও তাসমানিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে শীতকালে প্রচুর তুষারপাত হয়।
অস্ট্রেলিয়া যেহেতু দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত, তাই এখানে জুন-আগস্ট হলো শীতকাল এবং ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি হলো গ্রীষ্মকাল। উত্তরাঞ্চলে শীতকালেই শুষ্ক মৌসুম থাকে, আর দক্ষিণে গ্রীষ্মকালে শুষ্কতা দেখা যায়। পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ অংশে বৃষ্টি সারা বছর প্রায় সমানভাবে হয়।
উত্তর গোলার্ধের ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার হলো-এখানে সূর্য ও নক্ষত্র বিপরীত দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) চলে। ফলে উত্তর ঢালগুলো বেশি সূর্যালোক পায়। হাঁটা বা ট্রেকিং করার সময় এ কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দিক-নির্ণয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।
===অর্থনীতি===
অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও পশ্চিমা ধাঁচের পুঁজিবাদী। মাথাপিছু জিডিপি উন্নত দেশগুলোর সমান।
দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬০% আসে সেবা খাত থেকে-এর মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা ও আর্থিক সেবা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পর্যটন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্প, যা বছরে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করে এবং মোট রপ্তানির অন্তত ১১% জোগান দেয়।
প্রাথমিক শিল্প, বিশেষত খনি ও কৃষি, ২০শ ও ২১শ শতকে অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি। লোহার আকরিক ও কয়লা সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য, তার সঙ্গে গম, গরুর মাংস ও উলও উল্লেখযোগ্য। খনি খাত চীনা ও ভারতীয় অর্থনীতির ওঠানামার উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি। এখানে হাতের কাজ করা শ্রমিক বা কারিগরের আয় প্রায়শই শ্বেত-কলার পেশাজীবীদের চেয়েও বেশি হয়।
===রাজনীতি===
[[File:Parliament House Canberra 2.jpg|thumb|250px|ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউস]]
অস্ট্রেলিয়ায় একটি ফেডারেল সরকারব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ছয়টি রাজ্য ও দুটি অঞ্চলের সরকার আছে, পাশাপাশি একটি জাতীয় সরকারও রয়েছে। পার্শ্ববর্তী সাগরে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু বহিঃঅঞ্চল রয়েছে, যেগুলো উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এবং অনেক সময় মূল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত হয় না। রাজ্যভেদে আইনের কিছু পার্থক্য থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা প্রায় একই রকম।
জাতীয় সংসদ ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তবে কিছু অংশ আমেরিকান কংগ্রেস পদ্ধতি থেকে নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল পর্যায়ে সংসদ দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত-সেনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। প্রতিটি সংসদ সদস্য (এমপি) একটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। জনবহুল রাজ্যগুলোতে বেশি আসন থাকে, তাই বেশি এমপি নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের মতোই প্রতিটি রাজ্য থেকে সমানসংখ্যক সিনেটর নির্বাচিত হয়-প্রতিটি রাজ্য থেকে ১২ জন করে, আর নর্দার্ন টেরিটরি ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি থেকে ২ জন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সরকারের প্রধান এবং সেই রাজনৈতিক দলের (বা দলীয় জোট) নেতা যাদের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে। সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হয়, যদিও প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগেও নির্বাচন দিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস অস্ট্রেলিয়ার রাজাও বটে এবং তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। ফেডারেল পর্যায়ে রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন গভর্নর-জেনারেল। রাজা ও গভর্নর-জেনারেলের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক, সরকারের আসল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়াকে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করার জন্য গণভোট হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছিল-কারণ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী অপসারণ করতে পারবেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় প্রজাতন্ত্র ধারণার প্রতি সাধারণ সমর্থন আছে, বাস্তবে তা এখনও বড় অগ্রাধিকার নয়।
অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) নির্বাহী বিভাগ হিসেবে কাজ করে এবং এর নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদের দুই কক্ষ থেকেই মন্ত্রী নিয়োগ করেন। বিচার বিভাগ পরিচালনা করে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট, যা ১৯৮৬ সালে যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিলের পরিবর্তে সর্বোচ্চ আপিল আদালত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
রাজ্য ও অঞ্চল সরকারগুলোও প্রায় একইভাবে পরিচালিত হয়-তাদের নিজস্ব সংসদ আইনসভা হিসেবে কাজ করে, প্রিমিয়ার (অঞ্চলগুলোতে চিফ মিনিস্টার) সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজস্ব বিচার বিভাগ থাকে। প্রতিটি রাজ্যে একজন গভর্নর থাকেন, যিনি রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন-তাদের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক।
অস্ট্রেলিয়ার দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল হলো অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি (এএলপি বা শুধু “লেবার”) এবং লিবারেল পার্টি (স্থানীয়ভাবে বলা হয় ''দ্য লিবস'')। তারা একসময় ন্যাশনাল পার্টির (যা “কোয়ালিশন” নামে পরিচিত) সঙ্গে জোটে ছিল, তবে ২০২৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর এ জোট ভেঙে যায়। তবুও, কিছু রাজ্যে তারা এখনও কোয়ালিশন হিসেবে কাজ করে (কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরিতে তারা একটি একক দল হিসেবে পরিচালিত হয়)। ছোট দলগুলোর মধ্যে আছে গ্রিনস (জিআরএন) এবং টিল ইন্ডিপেনডেন্টস।
মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টি তার নামের বানান “Labor” ব্যবহার করে “Labour” নয়, কারণ এর প্রেরণা এসেছে আমেরিকান শ্রমিক আন্দোলন থেকে। গ্রিনস একটি পরিবেশবাদী দল, যাদের লেবারের চেয়েও বামপন্থী মনে করা হয়।
লিবারেল পার্টি একটি মধ্য-ডানপন্থী রক্ষণশীল দল, যেখানে “লিবারেল” বলতে মুক্তবাজার অর্থনীতি বোঝানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় “লিবারেল” শব্দটি ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যা অন্য ইংরেজিভাষী দেশের থেকে ভিন্ন। তারা সাধারণত ন্যাশনাল পার্টির সঙ্গে কাজ করে-ন্যাশনাল পার্টি মূলত গ্রামীণ ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং পরিবেশ রক্ষার বিপক্ষে বেশি রক্ষণশীল। ২০১০-এর দশকের শেষ থেকে লিবারেল পার্টি শহুরে ধনী অঞ্চলের টিল ইন্ডিপেনডেন্টসের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, কারণ লিবারেলদের পরিবেশনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডানপন্থার আরও কিছু দল রয়েছে, যেমন পলিন হ্যানসনের ওয়ান নেশন (পিএইচওএন বা ওএনপি) এবং ট্রাম্পেট অব প্যাট্রিয়টস (টিওপি), যা আগে ইউনাইটেড অস্ট্রেলিয়া পার্টি (ইউএপি) নামে পরিচিত ছিল। তারা কেবল সেনেটে আসন পেয়েছে, এর বাইরে বড় সাফল্য পায়নি।
===সংস্কৃতি===
অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে প্রায় সব ধরনের ধর্ম ও জীবনধারা অনুশীলন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, আরেক-চতুর্থাংশের অন্তত একজন বিদেশি-জন্ম পিতা-মাতা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের পর অর্ধশতকে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়নের বেশি হয়েছে। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন ও পার্থ এখন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক শহর, যেখানে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের মানুষের বসবাস রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের মাঝেও অস্ট্রেলিয়ানদের একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয়বোধ ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে গর্ব রয়েছে।
সব বড় শহরে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। প্রতিটি শহরের নিজস্ব পরিচয় আছে-সিডনি নিজেকে “আরবান নেচার ক্যাপিটাল” বলে প্রচার করে; মেলবোর্ন শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত; ব্রিসবেনকে বলা হয় বহুসাংস্কৃতিক নগর গ্রামগুলোর সমষ্টি। অ্যাডিলেড উৎসব, ওয়াইন সংস্কৃতি ও জার্মান প্রভাবের জন্য খ্যাত; পার্থ সমুদ্রসৈকত, আরামদায়ক জীবনযাপন ও আন্তর্জাতিক ফ্রিঞ্জ আর্টস উৎসবের জন্য পরিচিত; আর হোবার্ট তার ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত, বিশেষত প্রাক্তন দণ্ড উপনিবেশ হিসেবে। ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত অ্যাংলো-সেল্টিক সংস্কৃতি বহন করে, যেখানে কিছু কিছু জায়গায় স্বল্পসংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীও রয়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ অঞ্চল ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানায় এবং তাদের ইতিহাস ও স্থানীয় পণ্য ভাগাভাগি করে।
[[File:Melbournes Chinatown (6760134067).jpg|thumb|মেলবোর্নের চায়না টাউন]]
প্রায় ১০ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান নিজেদেরকে আদিবাসী (অ্যাবোরিজিনাল) হিসেবে পরিচয় দেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪%। তারা শহরেও বাস করে, আবার গ্রামীণ আদিবাসী সম্প্রদায়েও থাকে। যদিও নতুন ভ্রমণকারীর কাছে তা খুব স্পষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু যারা চাইবেন তাদের জন্য আদিবাসী সংস্কৃতি জানার অনেক সুযোগ রয়েছে।
জনপ্রিয় কল্পকাহিনীর বিপরীতে, ব্রিটিশ বন্দিশিবির থেকে আসা অপরাধীদের বংশধররা সংখ্যালঘু। এমনকি দণ্ড-পরিবহনের সময়কালেও মুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল কমপক্ষে পাঁচগুণ বেশি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু অঞ্চলে একেবারেই অপরাধী পাঠানো হয়নি। তবুও, কারও যদি অপরাধীর বংশধর হিসেবে পরিচিতি থাকে, সেটিকে অনেক সময় “অস্ট্রেলিয়ান রয়্যালটি” হিসেবে সম্মানের প্রতীক ধরা হয়।
অস্ট্রেলিয়ানরা ইউরোপের কিছু সংস্কৃতির তুলনায় সামাজিকভাবে বেশি রক্ষণশীল হতে পারে, তবে ধর্মীয় চর্চায় সাধারণত শিথিল। সম্বোধনের ধরন অনানুষ্ঠানিক ও পরিচিতভাবাপন্ন। অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান আপনাকে প্রথম সাক্ষাৎ থেকেই আপনার নাম ধরে ডাকবে এবং আশা করবে আপনিও তাদের একইভাবে সম্বোধন করবেন।
====ছুটির দিন====
[[File:Lotto Skyworks Applecross.jpg|thumb|250px|অস্ট্রেলিয়া দিবসে পার্থে আতশবাজি প্রদর্শনী]]
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ছুটির দিনগুলো হলো:
* '''১ জানুয়ারি''': নববর্ষ
* '''২৬ জানুয়ারি''': অস্ট্রেলিয়া দিবস-১৭৮৮ সালে প্রথম বহরের সিডনি কোভে আগমনের বার্ষিকী
* '''ইস্টার সপ্তাহান্ত''' (গুড ফ্রাইডে থেকে ইস্টার সোমবার): মার্চ বা এপ্রিল মাসে চার দিনের ছুটি, পশ্চিমা খ্রিস্টান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত। অনেকে গির্জায় যান না; বরং এই সময়ে ভ্রমণ করেন, ফলে হোটেল ও বিমানের টিকিট অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়।
* '''২৫ এপ্রিল''': আনজাক দিবস (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আর্মি কর্পস), যুদ্ধ-সেনাদের স্মরণে
* '''জুনের দ্বিতীয় সোমবার''': রাজাধিরাজের জন্মদিন (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে পালিত হয়, এর এক সপ্তাহ আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস উদযাপিত হয়)
* '''২৫ ডিসেম্বর''': বড়দিন
* '''২৬ ডিসেম্বর''': বক্সিং ডে
বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন দিনে '''শ্রমিক দিবস''' পালিত হয়। বেশিরভাগ রাজ্যে অতিরিক্ত দু’একটি রাজ্য-নির্দিষ্ট ছুটি রয়েছে। [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]] ও [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]]তে ঘোড়দৌড় উপলক্ষে ছুটি থাকে (মেলবোর্ন কাপ ও অ্যাডিলেড কাপ)। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় জুন মাসের প্রথম সোমবার ‘পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস’ উদযাপিত হয়, তবে রানির জন্মদিন দেশের অন্য অংশের থেকে ভিন্ন তারিখে পালিত হয়, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে। ভিক্টোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগ (এএফএল) গ্র্যান্ড ফাইনালের আগের শুক্রবারও ছুটি থাকে।
যদি কোনো সরকারি ছুটি শনিবার বা রবিবারে পড়ে, তবে সাধারণত সোমবার (প্রয়োজনে মঙ্গলবারও) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে আসল উৎসব বা দোকানপাট বন্ধ থাকার দিন থাকে মূল তারিখেই। অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র বড়দিন ও গুড ফ্রাইডে বন্ধ থাকে। সুপারমার্কেট ও অন্যান্য দোকান কিছু সরকারি ছুটিতে সীমিত সময়ে খোলা থাকতে পারে, তবে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন, গুড ফ্রাইডে, ইস্টার সানডে ও আনজাক দিবসের সকাল প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ থাকে।
'''অস্ট্রেলিয়া দিবস''' জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক আদিবাসী ও প্রগতিশীল মানুষ একে ‘আক্রমণ দিবস’ বলেন, কারণ এই দিনটি ব্রিটিশ দখল ও উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা নির্দেশ করে। প্রতিবছর এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়। তবে স্থানীয় সরকারগুলো নানা উদযাপন ও বারবিকিউর আয়োজনও করে।
সরকারি ছুটির বাইরেও জাতীয় ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের দিন রয়েছে, যেমন:
* '''এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''': অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা ভিক্টোরিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া অনুষ্ঠান। পাবগুলো দর্শকে ভরে যায় এবং অনেকে ঘরে বসে বড়সড় আয়োজন করে। সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার বা অক্টোবরের প্রথম শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।
* '''এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''': ন্যাশনাল রাগবি লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ রবিবার বা অক্টোবরের প্রথম রবিবার হয়।
===ছুটির ভিড়ের সময়===
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ দর্শনীয় স্থান সারা বছর খোলা থাকে, তবে অফ-সিজনে সময়সূচী সীমিত হতে পারে। বড়দিন ও নববর্ষে কিছু জায়গা বন্ধ থাকে।
'''গ্রীষ্মকালীন স্কুলের ছুটি''' বড়দিনের আগে শুরু হয় এবং পুরো জানুয়ারি মাস জুড়ে থাকে। এসময় ভ্রমণ সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও ভিড়পূর্ণ (যদি না আপনি [[উত্তর অস্ট্রেলিয়া]] ভ্রমণ করেন)। সমুদ্রসৈকতের আশেপাশের ছুটির বাড়িগুলো কয়েক মাস আগে থেকেই বুক হয়ে যায় এবং বেশি ভাড়া নেয়। দীর্ঘ '''ইস্টার ছুটি'''ও ভিড়পূর্ণ হয়, কারণ অভিভাবকরা শীত আসার আগে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যান।
অস্ট্রেলীয় কিশোররা নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে স্কুল শেষের পর তিন সপ্তাহব্যাপী ‘‘স্কুলিজ’’ উদযাপন করে। তখন তারা কিছু শহর ও উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমায়, যেমন [[বায়রন বে]] (নিউ সাউথ ওয়েলস), [[গোল্ড কোস্ট]] (কুইন্সল্যান্ড), [[রটনেস্ট দ্বীপ]] (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া), [[ভিক্টর হারবার]] (দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া) এবং [[মর্নিংটন উপদ্বীপ]] (ভিক্টোরিয়া)।
===সময়===
[[File:Central time zone sign.jpg|thumb|200px|ব্রোকেন হিলের কাছে একটি সড়কচিহ্ন, যেখানে সময় অঞ্চল পার্থক্য উল্লেখ রয়েছে]]
ডে-লাইট সেভিংস চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় সর্বোচ্চ সাতটি সময় অঞ্চল এবং অন্য সময়ে পাঁচটি সময় অঞ্চল থাকে। সময় অঞ্চলের সীমারেখা সবসময় রাজ্যের সীমারেখা অনুসরণ করে না। যেমন, [[ব্রোকেন হিল]] ও সিলভারটন শহরগুলো নিউ সাউথ ওয়েলসে হলেও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সময় অনুসরণ করে। আবার লর্ড হাও দ্বীপ, যদিও নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ, তার নিজস্ব সময় অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া অনেক আউটব্যাক সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিকভাবে নর্দার্ন টেরিটরির সময় (এনটি) অনুসরণ করে।
[[File:Australia-states-timezones.svg|thumbnail|অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল (GMT থেকে)]]
পূর্বে তাসমানিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া সর্বদা একই সময় মেনে চলে। [[কুইন্সল্যান্ড]] ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, ফলে এ সময়ে তারা অন্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।
মধ্যাঞ্চলে, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও [[নর্দার্ন টেরিটরি]] শীতে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে। তবে নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, কিন্তু দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন পালন করে। ডে-লাইট সেভিংস চলাকালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা এগিয়ে যায়। নর্দার্ন টেরিটরি সারা বছর কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, কিন্তু ডে-লাইট সেভিংস সময়ে নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।
পশ্চিমে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া শীতে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে এবং ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না। ডে-লাইট সেভিংস সময়ে এটি তিন ঘণ্টা পিছিয়ে যায় (তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়েই থাকে), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটনের থেকে আড়াই ঘণ্টা পিছিয়ে এবং নর্দার্ন টেরিটরির থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।
এছাড়াও একটি অস্বাভাবিক +৮:৪৫ সময় অঞ্চল রয়েছে, যাকে অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট্রাল ওয়েস্ট স্ট্যান্ডার্ড টাইম (এসিডব্লিউএসটি বা সিডব্লিউএসটি) বলা হয়, যা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সীমান্তের কিছু শহরে ব্যবহৃত হয়। এটি সরকারি সময় নয়, তবে বাস্তবে ব্যবহৃত হয়। মহাসড়কে ঘড়ি বদলানোর সাইনবোর্ডও রয়েছে, এমনকি অ্যাপল আলাদা একটি অঞ্চল (‘‘ইউক্লা’’ নামে) রেখেছে। আরও জটিল ব্যাপার হলো, সিডব্লিউএসটি অঞ্চলের একমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলীয় শহর বর্ডার ভিলেজ ডে-লাইট সেভিংস পালন করে এবং +৯:৪৫ মেনে চলে, যা ইউক্লার থেকে এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাকিদের থেকে ৪৫ মিনিট পিছিয়ে। তবে বাস্তবে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সবই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ইউক্লা শহরে হওয়ায় ভ্রমণকারীদের ওপর এর প্রভাব প্রায় নেই।
অত্যন্ত দুর্গম আউটব্যাক পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা শহরগুলো প্রশাসনিকভাবে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় হলেও তারা এসিএসটি (নর্দার্ন টেরিটরির সময়) মেনে চলে, যা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা এগিয়ে। যেহেতু নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, তাই এসব শহরও করে না।
অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চলের কোনো সরকারি সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। কখনও কখনও EST, CST, WST এবং ডে-লাইট সেভিংসে EDT, CDT ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও AEST ইত্যাদি ব্যবহার হয়, যেখানে ‘‘A’’ উপসর্গ দিয়ে উত্তর আমেরিকার একই নামের সময় অঞ্চল থেকে আলাদা করা হয়। <!-- কথোপকথনে এসব সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার হয় না। সাধারণত মানুষ ‘‘সিডনি টাইম’’, ‘‘ব্রিসবেন টাইম’’ বা ‘‘পার্থ টাইম’’ বলে। ‘‘সেন্ট্রাল সামার টাইম’’ বললে বেশিরভাগ মানুষ অবাক হবে। -->
যেসব রাজ্যে ডে-লাইট সেভিংস পালিত হয়, সেখানে এটি অক্টোবরের প্রথম রবিবার শুরু হয় এবং এপ্রিলের প্রথম রবিবার শেষ হয়।
{| class="wikitable"
|-
! রাজ্য/অঞ্চল !! মান সময় !! ডে-লাইট সেভিংস সময়
|-
| [[হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ]] || ইউটিসি+৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ]] || ইউটিসি+৬.৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[ক্রিসমাস দ্বীপ]] || ইউটিসি+৭ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]] || ইউটিসি+৮ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[ইউক্লা]], ককলেবিডি, মাদুরা, মুন্দ্রাবিলা || ইউটিসি+৮.৪৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| বর্ডার ভিলেজ, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া || ইউটিসি+৮.৪৫ || ইউটিসি+৯.৪৫
|-
| [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া]], [[ব্রোকেন হিল]] ও [[সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস)|সিলভারটন]] || ইউটিসি+৯.৫ || ইউটিসি+১০.৫
|-
| [[নর্দার্ন টেরিটরি]], ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা || ইউটিসি+৯.৫ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[কুইন্সল্যান্ড]] || ইউটিসি+১০ || প্রযোজ্য নয়
|-
| [[নিউ সাউথ ওয়েলস]], [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]], [[তাসমানিয়া]], [[ক্যানবেরা|এসিটি]] ও [[জার্ভিস বে টেরিটরি]]
| ইউটিসি+১০ || ইউটিসি+১১
|-
| [[লর্ড হাও দ্বীপ]] || ইউটিসি+১০.৫ || ইউটিসি+১১
|-
| [[নরফোক দ্বীপ]] || ইউটিসি+১১ || প্রযোজ্য নয়
|}
===বিদ্যুৎ===
[[File:Australian electric outlet type.png|thumb]]
প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহের মান ২৩০ ভোল্ট এবং প্লাগের ধরণ হলো টাইপ আই (যেখানে লাইভ ও নিউট্রাল পিন দুটি তির্যক এবং আর্থ পিন সোজা থাকে)। একে সাধারণভাবে “দুই-চল্লিশ ভোল্ট সকেট” নামেও ডাকা হয়। হোটেলের বাথরুমে প্রায়ই টাইপ সি ও এ সকেট থাকে যেগুলোতে “শুধুমাত্র শেভারের জন্য” লেখা থাকে। এগুলো ১১০ ভোল্টে রূপান্তর করে দেয়, যা উত্তর আমেরিকান ধাঁচের সকেটের শেভারের জন্য ব্যবহারযোগ্য। ভোল্টেজ ইউরোপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই শুধু একটি কনভার্সন প্লাগ প্রয়োজন হবে। এই ধরনের প্লাগ সহজেই সুপারমার্কেট, কনভেনিয়েন্স স্টোর কিংবা বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করা যায়। তবে উত্তর আমেরিকা বা অন্য ১১০ ভোল্টের দেশ থেকে আসলে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভোল্টেজ সহনশীলতা পরীক্ষা করে তারপর কনভার্সন প্লাগ ব্যবহার করা উচিত।
=== আরও দেখুন ===
অস্ট্রেলিয়ার বিষয়বস্তু
* [[অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং]]
* [[ওয়াল্টার বার্লি গ্রিফিনের স্থাপত্যকলা]]
* [[গাড়ি ছাড়া অস্ট্রেলিয়া]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার বড় বড় বস্তু]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত স্থানসমূহ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ান খাবার]]
* [[অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং]]
* [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার গির্জা]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ]]
* [[নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালনা]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গলফ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় আঙুর ভ্রমণ]]
* [[গ্রেট আর্টেসিয়ান বেসিন]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং]]
* [[কোশিউস্কো জাতীয় উদ্যানে হাইকিং]]
* [[আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামরিক জাদুঘর ও স্থানসমূহ]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[নর্দান টেরিটরির জাতীয় উদ্যান]]
* [[নেড কেলি পর্যটন]]
* [[নিউ সাউথ ওয়েলসের জাতীয় উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় জীবাশ্মবিদ্যা]]
* [[কুইন্সল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ]]
* [[আরএফডিএস পর্যটন]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা]]
* [[দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[মেলবোর্নের স্ট্রিট আর্ট]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা]]
* [[শিশুদের সঙ্গে সিডনি]]
* [[তাসমানিয়ার জাতীয় উদ্যান]]
* [[মেলবোর্নের ট্রাম]]
* [[অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা]]
===ভ্রমণকারীর তথ্য===
* [https://www.australia.com/ ভিজিট অস্ট্রেলিয়া] ওয়েবসাইট
==ভাষা==
{{see also|ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন রূপ}}
{{infobox|অস্ট্রেলীয় পরিভাষা
|যদিও অস্ট্রেলীয় ইংরেজি মার্কিন ও ব্রিটিশ ইংরেজির দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত, তবুও অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব কিছু পরিভাষা রয়েছে। [[অস্ট্রেলীয় স্ল্যাং]]-এর বিপরীতে, এগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনায়, টেলিভিশনে এবং এমনকি সরকারি পর্যায়েও ব্যবহৃত হয়। এগুলোর অনেকগুলো প্রতিবেশী [[পাপুয়া নিউ গিনি]]তে ব্যবহৃত হয়, আর [[নিউজিল্যান্ড]] বা [[সিঙ্গাপুর]]-এর লোকদের কাছেও কিছু পরিচিত, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা ওশেনিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে অন্য কোনো ইংরেজিভাষী দেশে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।
;the bush:বনাঞ্চল। ‘‘বুশ’’ শব্দের উৎপন্ন শব্দগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন বনের আগুনকে বলা হয় ‘‘বুশফায়ার’’
;Commonwealth government: গোটা দেশের সরকার
;esky: কুলার বক্স
;doona: কমফর্টার বা ডুভে
;fairy floss: কটন ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); ক্যান্ডি ফ্লস (যুক্তরাজ্য)
;football (বা footy): অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল বা রাগবি লীগ (অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলকে বলা হয় ‘‘সকার’’)
;footpath: ফুটপাত (যুক্তরাষ্ট্রে sidewalk; যুক্তরাজ্যে pavement)
;hotel: বার, পাব
;icy pole: পপসিকল
;lollies: মিষ্টি বা ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে candy; যুক্তরাজ্যে sweets)
;mob: কোনো আদিবাসী সম্প্রদায়, তবে বন্ধুবান্ধবের একটি দল বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়
;peak hour: ব্যস্ত সময় বা রাশ আওয়ার
;powerpoint: বৈদ্যুতিক সকেট
;road train: অতি দীর্ঘ ট্রাক
;service station (বা servo): গ্যাস স্টেশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); পেট্রল স্টেশন (যুক্তরাজ্য); পেট্রল শেড (দক্ষিণ এশিয়া)
;thongs: ফ্লিপ-ফ্লপ; নিউজিল্যান্ডে ‘‘জ্যান্ডালস’’
;ute (উচ্চারণ ‘‘ইউট’’): পিকআপ ট্রাক
;yabby: ক্রেফিশ বা ক্রেফিস/ক্রেফিস
}}
'''ইংরেজি''' অস্ট্রেলিয়ায় সর্বজনীনভাবে প্রচলিত ভাষা। অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজির উচ্চারণ ও বাগধারা স্বতন্ত্র। এটি মূলত ১৮শ ও ১৯শ শতকে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড থেকে বিকশিত হলেও ২০শ শতকে আমেরিকান প্রভাব এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলে।
তবে অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ হওয়ায় বড় শহরগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা শোনা যায়। অভিবাসী সম্প্রদায়ের এলাকাগুলোতে তাদের ভাষার আধিক্য দেখা যায়। বিদেশি ভাষা স্কুলে শেখানো হলেও সাধারণত প্রাথমিক স্তরের পর তা অগ্রসর হয় না।
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে মূলত ব্রিটিশ বানান অনুসরণ করা হয়। তবে এতে ব্রিটিশ ও আমেরিকান উভয় পরিভাষার মিশ্রণ আছে। যেমন ''eggplant'' (aubergine নয়), ''boot'' (trunk নয়), ''toll-free'' (freephone নয়), ''take-away'' (takeout নয়) এবং ''truck'' (lorry নয়)। আমেরিকান শব্দ সবার কাছে বোধগম্য হলেও ব্রিটিশ শব্দ অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বা বয়স্ক প্রজন্ম বুঝতে পারে।
কিছু শব্দ একান্তই অস্ট্রেলিয়ান, যেমন ''thongs'' বলতে বোঝায় ফ্লিপ-ফ্লপ, অন্তর্বাস নয়। আবার ''chips'' শব্দটি একসঙ্গে ''fries'' এবং ''crisps'' দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়।
গ্রামীণ এলাকায় লোকদের উচ্চারণ তুলনামূলকভাবে ভারী এবং কিছু পুরোনো স্ল্যাং এখনও ব্যবহৃত হয়। শহরের শিক্ষিত মানুষদের উচ্চারণ অনেকটা ব্রিটিশ ধাঁচের। তবে ভ্রমণকারীদের [[অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং]] ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ভুল ব্যবহার হাস্যকর বা অসম্মানজনক শোনাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে খুব বেশি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নেই। তবে কিছু শব্দের উচ্চারণ যেমন ''dance'', ''renaissance'' ভিন্ন হয়। সুইমিং পোশাককে [[নিউ সাউথ ওয়েলস]]-এ ''cossies'' বা ''swimmers'', [[কুইন্সল্যান্ড]]ে ''togs'' এবং অন্যান্য অঞ্চলে ''bathers'' বলা হয়। বহু আদি অধিবাসী ও [[টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ|টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জের]] মানুষ ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।
[[File:Multilingual road safety sign (3565389671).jpg|thumb|left|200px|জার্মান, ইতালীয়, জাপানি ও পিজান্তজাতজারা ভাষায় একটি সড়ক নিরাপত্তা চিহ্ন। অস্ট্রেলিয়ায় এটি বেশ অস্বাভাবিক।]]
অস্ট্রেলিয়ায় সাইনবোর্ড সাধারণত ইংরেজিতেই থাকে। তবে এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ভিয়েতনামি ও চীনা ভাষায় রেস্তোরাঁ মেনু ও সাইন দেখা যায়। [[কেয়ার্নস]] ও [[গোল্ড কোস্ট]] এলাকায় জাপানি ও চীনা ভাষার কিছু সাইনও আছে, বিশেষত পর্যটকদের জন্য। সমুদ্রসৈকতে সতর্কতামূলক সাইন কখনও কখনও একাধিক ভাষায় লেখা থাকে।
যাঁরা একেবারেই ইংরেজি জানেন না তাঁদের জন্য যোগাযোগ কঠিন। কিছু ভ্রমণ সংস্থা চীনা, জাপানি, ভিয়েতনামি, জার্মান, ইতালীয়, ফরাসি, ইন্দোনেশীয় ও কোরিয়ান ভাষায় ট্যুর প্যাকেজ দেয়। কিছু ক্ষেত্রে স্প্যানিশ, মালয় ও পর্তুগিজ ভাষাতেও গাইডেড ট্যুর পাওয়া যায়। তবে হিন্দি, আরবি বা সোয়াহিলি ভাষার ট্যুর বিরল।
'''আদিবাসী''' ভাষাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ আদিবাসী ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে দুঃখজনকভাবে এর প্রচলন খুবই কম। বর্তমানে মাত্র ৪৬টি ভাষা দৈনন্দিনভাবে ব্যবহৃত হয়, যা প্রায় ৪২,৩০০ মানুষ কথা বলে। এসব ভাষা মূলত গ্রামীণ আউটব্যাক অঞ্চলের সম্প্রদায় এবং টরেস প্রণালীর দ্বীপগুলোতে বেশি শোনা যায়। আদিবাসী ভাষাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে, কারণ ভাষার সংখ্যা অনেক এবং এগুলো বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে ও একে অপরের সাথে বোধগম্য নয়। কোনো আদিবাসী ভাষা শেখা কেবল নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকাতেই উপকারী হবে। প্রায় সব আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রাই ইংরেজি বলতে পারেন, যদিও কিছু দূরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা ভাষাটিতে সাবলীল নাও হতে পারেন। আদিবাসী ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রিওল-ভিত্তিক ভাষাও প্রচলিত, যেমন [[অস্ট্রেলীয় ক্রিওল বাক্যবিন্যাস|অস্ট্রেলীয় ক্রিওল]] অথবা [[টরেস প্রণালী ক্রিওল বাক্যবিন্যাস|টরেস প্রণালী ক্রিওল]]।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংকেতভাষা হলো '''অজলান''' (Auslan – Australian Sign Language)। এটি [[ব্রিটিশ সংকেতভাষা|ব্রিটিশ সংকেতভাষা (BSL)]] থেকে বিকশিত এবং [[নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষা|নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষার]] সঙ্গে মিল আছে। তবে ফরাসি সংকেতভাষা পরিবারভুক্ত ভাষাভাষীরা (যেমন আমেরিকান বা আইরিশ সংকেতভাষা) অজলান সহজে বুঝতে পারবেন না।
==যেভাবে যাবেন==
[[File:Visa policy of Australia.svg|thumb|450px|
{{legend|#ED1C24|অস্ট্রেলিয়া}}
{{legend|#1191E5|বিশেষ ক্যাটাগরি ভিসা}}
{{legend|#22B14C|ই-ভিজিটর বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি}}
{{legend|#79D343|ই-ভিজিটর}}
{{legend|#B5E61D|ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি}}
{{legend|#C0C0C0|ভিসা প্রয়োজন}}
]]
===প্রবেশের শর্তাবলি===
'''সকলেই''' (নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ব্যতীত) ভ্রমণের আগে [[ভিসা]] সংগ্রহ করতে হবে।
আপনি যদি ৯০ দিনের কম সময়ের জন্য ছুটিতে আসেন, তবে আপনার নাগরিকত্বের ভিত্তিতে তিন ধরনের ভিসার একটি আবেদন করতে পারবেন।
* '''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/electronic-travel-authority-601 ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি (ইটিএ) সাবক্লাস ৬০১]''' অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এটি আবেদন করতে হবে অস্ট্রেলিয়ান ইটিএ অ্যাপ ব্যবহার করে, যার সার্ভিস ফি ২০ ডলার। ভিসাটি ১২ মাসের জন্য বৈধ।
* '''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/evisitor-651 ই-ভিজিটর (সাবক্লাস ৬৫১)]''' [[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]], [[নরওয়ে]], [[আইসল্যান্ড]], [[সুইজারল্যান্ড]], [[যুক্তরাজ্য]] এবং কয়েকটি [[ইউরোপীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্র|ইউরোপীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের]] নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। এগুলো '''বিনামূল্যে''', তবে কার্যত ইটিএর মতোই। আবেদন অবশ্যই অনলাইনে করতে হবে।
* '''ভিজিটর ভিসা (সাবক্লাস ৬০০)'''। অধিকাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা [https://immi.homeaffairs.gov.au/help-support/applying-online-or-on-paper/online ইমি-অ্যাকাউন্ট] তৈরি করে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে দূতাবাস বা ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।
:: ইটিএ এবং ই-ভিজিটরের মতো, ভিজিটর ৬০০ ভিসাও সাধারণত তিন মাসের জন্য ইস্যু হয়। তবে এই ভিসা সর্বোচ্চ এক বছরের জন্যও দেওয়া যেতে পারে। তিন মাসের বেশি থাকতে চাইলে আপনার ভ্রমণের কারণ ও নিজ দেশের সাথে সম্পর্ক প্রমাণ করতে সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে এবং সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে হতে পারে। আপনার নাগরিকত্বের উপর ভিত্তি করে দূতাবাস বা ভিসা সেন্টার অস্ট্রেলিয়ান স্পনসর চাওয়ার শর্ত আরোপ করতে পারে। ফি হলো ১৯০ ডলার। ইটিএ ও ই-ভিজিটর ভিসা ১২ মাসে একাধিকবার প্রবেশের অনুমতি দেয়। তাই যোগ্য হলে সহজ উপায় হলো তিন মাস থাকা, তারপর [[নিউজিল্যান্ড]], [[সিঙ্গাপুর]], [[থাইল্যান্ড]] বা কাছাকাছি কোনো দেশে কয়েকদিন যাওয়া, পরে ফিরে এসে নতুন করে ৯০ দিন শুরু করা। তবে বারবার করলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করতে পারে।
:: অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ৬০০ ভিসা ১৮ মাস, তিন বছর বা পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হতে পারে। এতে সর্বোচ্চ ১২ মাসের থাকার অনুমতি দেওয়া হয় ১৮ মাসে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইটিএ ও ই-ভিজিটর সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদিত হয়। তবে জটিলতা থাকলে আপনার আবেদন হাতে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হতে পারে, এতে কয়েক মাসও লাগতে পারে। জটিল জাতীয় পরিচয় বা কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে (ছোট অপরাধও) আগে থেকেই সময় রেখে আবেদন করা জরুরি।
আপনি যদি কাজ, পড়াশোনা বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যেতে চান, সঠিক ধরনের ভিসা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পর্যটন ভিসা দিয়ে এগুলো বৈধ হবে না। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভিসা বাতিল, বহিষ্কার এবং পুনঃপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
সব ধরনের পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে আপনাকে আর্থিকভাবে নিজের ভ্রমণ ব্যয় বহন করতে সক্ষম প্রমাণ করতে হবে এবং চরিত্রগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে আবেদন করার আগে অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করুন।
নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়া ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। পৌঁছানোর পর তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পেশাল ক্যাটেগরি নিউজিল্যান্ড সিটিজেন ভিসা (সাবক্লাস ৪৪৪) পাবেন, যদি তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা না থাকে। এই ভিসায় তারা অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো সময় বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারবেন। তবে অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা থাকলে ভিসা অস্বীকার হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা কিন্তু এই ভিসার যোগ্য নন; তাদের নিজ দেশের পাসপোর্ট অনুযায়ী ভিসা নিতে হবে।
যাদের কাছে বৈধ এপেক বিজনেস ট্রাভেল কার্ড (এবিটিসি) রয়েছে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ব্যতীত), তারা চাকরি না করলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।
{{infobox|অজৈব গুঁড়ো বহনে সীমাবদ্ধতা|অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করা যাত্রীরা বিমানের কেবিনে সর্বোচ্চ ৩৫০ মিলি বা ৩৫০ গ্রাম অজৈব গুঁড়ো বহন করতে পারবেন।}}
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করেন, সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা এয়ারসাইডে থাকেন, পরবর্তী যাত্রার নিশ্চিত টিকিট থাকে, গন্তব্যের সঠিক নথিপত্র থাকে এবং আপনি নিউজিল্যান্ড, '''[[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]]''', [[অ্যান্ডোরা]], [[আর্জেন্টিনা]], [[ব্রুনেই]], [[কানাডা]], [[সাইপ্রাস]], [[ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া]], [[ফিজি]], [[আইসল্যান্ড]], [[ইন্দোনেশিয়া]], [[জাপান]], [[কিরিবাতি]], [[লিশটেনস্টাইন]], [[মালয়েশিয়া]], [[মেক্সিকো]], [[মোনাকো]], [[নাউরু]], [[নরওয়ে]], [[পালাউ]], [[পাপুয়া নিউগিনি]], [[ফিলিপাইন]], [[দক্ষিণ আফ্রিকা]], [[মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ]], [[সামোয়া]], [[সান মারিনো]], [[সিঙ্গাপুর]], [[স্লোভাকিয়া]], [[স্লোভেনিয়া]], [[সলোমন দ্বীপপুঞ্জ]], [[দক্ষিণ কোরিয়া]] (আরওকে), [[সুইজারল্যান্ড]], [[তাইওয়ান]], [[থাইল্যান্ড]], [[টোঙ্গা]], [[টুভালু]], [[সংযুক্ত আরব আমিরাত]], [[যুক্তরাজ্য]], [[যুক্তরাষ্ট্র]], [[ভানুয়াতু]] বা [[ভ্যাটিকান সিটি|ভ্যাটিকান সিটির]] নাগরিক হন, তাহলে আপনাকে অগ্রিম ভিসা নিতে হবে না। অন্য সবাইকে ট্রানজিট ভিসা (সাবক্লাস ৭৭১) বিনামূল্যে নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশের নাগরিক (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশ) [https://www.abf.gov.au/entering-and-leaving-australia/smartgates/arrivals স্মার্টগেট] ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাতে করা চেকের চেয়ে অনেক দ্রুত, তবে ভিসা প্রয়োজনীয়তার বাইরে নয়।
অস্ট্রেলিয়া এখন আর অধিকাংশ ভ্রমণকারীর পাসপোর্টে ভিসার সীল দেয় না বা ভিসার স্টিকার দেয় না; সব রেকর্ড ইলেকট্রনিকভাবে রাখা হয়। চাইলে আপনি ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সীল চাইতে পারেন, তবে আলাদা কাউন্টারে যেতে হতে পারে। ভিসার শর্ত যাচাই করতে পারবেন অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশনের [https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/already-have-a-visa/check-visa-details-and-conditions/check-conditions-online/visa-holders ভেভো] ওয়েবসাইট বা মাইভেভো অ্যাপের মাধ্যমে।
===শুল্ক ও কোয়ারেন্টাইন===
অস্ট্রেলিয়ায় '''পশু ও উদ্ভিদ'''-জাত পণ্য (যেমন খাবার, কাঠের তৈরি জিনিস, বীজ ইত্যাদি) আনার ক্ষেত্রে কঠোর কোয়ারেন্টাইন আইন রয়েছে। '''এই ধরনের সব জিনিসই ঘোষণা করতে হবে''', এমনকি এগুলো অনুমোদিত হলেও। লাগেজ প্রায়ই স্ক্যান করা হয় এবং কুকুর দ্বারা পরীক্ষা করা হতে পারে। যদি অসাবধানতাবশত ঘোষণা না করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ২৬৬৪ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, গুরুতর ক্ষেত্রে মামলা পর্যন্ত হতে পারে। ঘোষণা করা জিনিস পরীক্ষা করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা রাখা, ধ্বংস করা, ফেরত দেওয়া বা আপনার খরচে কোয়ারেন্টাইন ট্রিটমেন্ট করা হতে পারে। (পরে আপনাকে জিনিসটি সংগ্রহ করতে হতে পারে।) প্রক্রিয়াজাত ও সিল করা চকলেট বা অন্যান্য মিষ্টান্ন সাধারণত ঘোষণা ও পরীক্ষা শেষে অনুমোদিত হয়। শিশুর সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ শিশু খাদ্যও অনুমোদিত। তবে খাবারের উৎপত্তি দেশ ও আপনি যে রাজ্য দিয়ে প্রবেশ করছেন তার উপর নিয়ম আলাদা হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন: '''[http://www.agriculture.gov.au/travelling/bringing-mailing-goods কৃষি ও জলসম্পদ বিভাগ]'''।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ভ্রমণকারীরা শুল্কমুক্তভাবে সর্বোচ্চ ২.২৫ লিটার মদ্যপ পানীয়, ২৫টি সিগারেট, ২৫ গ্রাম অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য (সিগারসহ), ২টি ভেপ (রিইউজেবল বা ডিসপোজেবল) এবং সর্বোচ্চ ২০০ মিলি ভেপ তরল অস্ট্রেলিয়ায় আনতে পারবেন। ১৮ বছরের নিচে কেউ এসব আনতে পারবেন না। আর শুল্কমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে ওই শ্রেণির সব পণ্যের উপর কর দিতে হবে, কেবল অতিরিক্ত অংশে নয়।
কিছু ঝিনুক, প্রবাল এবং সুরক্ষিত প্রজাতি থেকে তৈরি জিনিসপত্র আনা নিষিদ্ধ। এর উদ্দেশ্য হলো বিপন্ন বাস্তুতন্ত্র বা প্রজাতি থেকে আসা জিনিসের ব্যবসা বন্ধ করা।
'''মুদ্রার''' ক্ষেত্রে আনা-নেওয়ার কোনো সীমা নেই। তবে যদি ১০,০০০ ডলার (অস্ট্রেলিয়ান ডলার) বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সঙ্গে থাকে, তাহলে তা ঘোষণা করতে হবে এবং কিছু কাগজপত্র পূরণ করতে হবে। ঘোষণা না করলে জরিমানা, মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা বা এমনকি গ্রেপ্তারও হতে পারে।
===বিমানে করে===
[[File:Qantas A330 VH-QPH at SYD (19810974155).jpg|thumb|[[সিডনি বিমানবন্দর]]-এ দুটি কান্তাস বিমান। আরও অনেক আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করে।]]
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, তাই বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো আকাশপথে ভ্রমণ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রবেশদ্বারসমূহের মধ্যে গুরুত্ব অনুসারে ক্রমান্বয়ে উল্লেখযোগ্য বিমানবন্দর হলো [[সিডনি]] ({{IATA|SYD}}), [[মেলবোর্ন]] ({{IATA|MEL}}), [[ব্রিসবেন]] ({{IATA|BNE}}) ও [[পার্থ]] ({{IATA|PER}})। এছাড়াও সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যায় অ্যাডিলেড, কেইর্নস, ডারউইন ও গোল্ড কোস্টেও।
[[সিডনি]] থেকে [[অকল্যান্ড]], নিউজিল্যান্ডে যেতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। এশিয়ার অনেক দেশের থেকে ফ্লাইটে সময় লাগে ৭ থেকে ১১ ঘণ্টা, [[যুক্তরাষ্ট্র]] ও [[কানাডা]]র পশ্চিম অংশ থেকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা, [[জোহানেসবার্গ]] থেকে ১৪ ঘণ্টা, [[দক্ষিণ আমেরিকা]] থেকে ১৩–১৬ ঘণ্টা এবং [[পশ্চিম ইউরোপ]] থেকে (একটি স্টপসহ) সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ যাত্রার কারণে ইউরোপ থেকে আসা অধিকাংশ ভ্রমণকারীকে একবার কোথাও স্টপ-ওভার করতে হয়। সাধারণত [[সিঙ্গাপুর]], [[হংকং]], [[দুবাই]], [[দোহা]], [[ব্যাংকক]] অথবা [[কুয়ালালামপুর]]-এ এই বিরতি নেওয়া হয়।
২০১৮ সালের মার্চ থেকে কান্তাস (Qantas) [[লন্ডন হিথরো বিমানবন্দর|লন্ডন হিথরো]] থেকে পার্থ পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে, যা মাত্র ১৭ ঘণ্টা সময় নেয়-এটি ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রথম নিয়মিত সরাসরি রুট। কান্তাস ভবিষ্যতে [[সিডনি]] থেকে লন্ডন এবং নিউইয়র্কের মধ্যে আরও কিছু সরাসরি দীর্ঘপথের ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
যদি আপনাকে কোনো গেটওয়ে শহরে নেমে ঘরোয়া ফ্লাইটে পরিবর্তন করতে হয়, তবে [[সিডনি]], [[ব্রিসবেন]] ও [[পার্থ]]-এ অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল আলাদা, যার কারণে ট্রানজিট করতে কিছুটা সময় ও ঝামেলা হতে পারে-এই বিষয়ে গাইড দেখে নেওয়া উচিত। তবে [[মেলবোর্ন]], [[অ্যাডিলেড]], [[ডারউইন]], [[কেইর্নস]] এবং [[গোল্ড কোস্ট]]-এ একই টার্মিনাল ভবনে বা হাঁটার দূরত্বে অভ্যন্তরীণ গেট অবস্থিত।
অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বিমানসংস্থা হলো জাতীয় পতাকাবাহী '''[http://qantas.com.au/ কান্তাস (Qantas)]'''। এদের সাথে রয়েছে তাদের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান '''[http://www.jetstar.com/ জেটস্টার (Jetstar)]''', যারা বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। '''[http://www.virginaustralia.com/ ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া (Virgin Australia)]''' দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালায়। ইউরোপ থেকে যারা আসছেন, তাদের জন্য '''[http://www.singaporeair.com সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স], থাই এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স''' এবং হংকংয়ের '''[http://www.cathaypacific.com ক্যাথে প্যাসিফিক (Cathay Pacific)]''' কান্তাস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বা উপসাগরীয় বিমানসংস্থাগুলোর বিকল্প হতে পারে।
কিছু রুটে '''ছাড়মূল্যের বিমানসংস্থা''' যেমন এয়ারএশিয়া এক্স, এয়ারএশিয়া (মালয়েশিয়া), এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়া, ট্রান্সনুসা, থাই এয়ারওয়েজ, বাতিক (মালয়েশিয়া), বাতিক (ইন্দোনেশিয়া), এবং স্কুট ফ্লাইট পরিচালনা করে।
২০২২ সাল থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত বিদেশি বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ান বিমানসংস্থার অংশীদার হয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে [https://www.aircanada.com এয়ার কানাডা] ও [https://www.united.com ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স]{{Dead link|date=May 2025 |bot=InternetArchiveBot }}।
==== ব্যক্তিগত বিমান পরিবহন ====
'''[http://www.australiajetcharter.com অস্ট্রেলিয়া জেট চার্টার]''' এবং '''[http://www.jetcorpaustralia.com/ জেটকর্প অস্ট্রেলিয়া]{{Dead link|date=September 2024 |bot=InternetArchiveBot }}''' সারা বছর বিভিন্ন ধরণের বিমান ব্যবহার করে সরাসরি ব্যক্তিগত ফ্লাইট সরবরাহ করে। জনপ্রিয় চার্টার বিমানবন্দরগুলির মধ্যে রয়েছে সিডনি ব্যাংকস্টাউন বিমানবন্দর, [[গোল্ড কোস্ট#বিমানযোগে|গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দর]] এবং মেলবোর্ন এসেন্ডন বিমানবন্দর।
আপনি যদি নিজস্ব ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন বা অস্ট্রেলিয়া থেকে যান, তবে আপনাকে যাত্রার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে এবং সর্বোচ্চ ৭ দিন আগে [https://flightrequest.homeaffairs.gov.au/abfsp আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনুরোধ] জমা দিতে হবে। যদি আপনার নির্ধারিত বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক না হয়, তবে আপনাকে ন্যাশনাল প্যাসেঞ্জার প্রসেসিং কমিটি (এনপিপিসি)-র মাধ্যমে [https://asap.homeaffairs.gov.au/nppc বিমান ও সমুদ্র অনুমোদন পোর্টাল]-এ আবেদন করতে হবে, যা আগমনের বা প্রস্থানের কমপক্ষে ১০ কার্যদিবস আগে জমা দিতে হয়।
=== সমুদ্রপথে ===
ক্রুজ শিপ সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ক্রুজিং মৌসুমে আসে, এ সময় প্রায় ১০টি জাহাজ বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। আপনি ক্রুজ শিপে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ফেরত ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেন। হল্যান্ড আমেরিকা লাইন, প্রিন্সেস ক্রুজেস এবং রয়্যাল ক্যারিবিয়ান প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রুজ অফার করে।
নিজস্ব ইয়টে করে অস্ট্রেলিয়ায় আসা সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে বর্ডার ফোর্সে সঠিক কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং অনুমোদিত [https://www.abf.gov.au/entering-and-leaving-australia/entering-and-leaving-by-sea/ports-of-entry প্রবেশ বন্দর]-এ পৌঁছাতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক ফেরি পরিষেবা নেই।
=== স্থলপথে ===
একসময় কিছু ট্যুর অপারেটর লন্ডন থেকে সিডনি পর্যন্ত স্থলপথে ভ্রমণের সুযোগ দিত, যেখানে কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত একটি ছোট বিমান যাত্রা ছিল। বর্তমানে কেবল মাডভেঞ্চার এই ধরনের ট্যুর পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দীর্ঘ রুট, যেমন: ২৬ সপ্তাহে ইরান–পাকিস্তান–ভারত হয়ে আসা, ২৬ সপ্তাহে ককেশাস ও মধ্য এশিয়া, ৬৪ সপ্তাহে আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–দক্ষিণ এশিয়া, অথবা আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–ককেশাস–মধ্য এশিয়া।
যারা স্বাধীনভাবে স্থলপথে আসতে চান, তারা ইউরোপ থেকে ট্রেন বা বাসে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেন এবং সেখান থেকে পার্থে (৩,৫০০ কিমি ফ্লাইট) যেতে পারেন। আরও সাহসী ভ্রমণকারীরা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরিতে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বালি পর্যন্ত পৌঁছে, সেখান থেকে ডারউইনে (২,০০০ কিমি ফ্লাইট) উড়তে পারেন। আরেকটি পথ হলো ফেরিতে ওয়েস্ট টিমোর, তারপর বাসে দিলি এবং সেখান থেকে ডারউইনে ফ্লাইট-যেখানে মাত্র ৭০০ কিমি আকাশপথ ভ্রমণ করতে হয়।
ডারউইনে কার্গো শিপ বা বার্জে (এএনএল এবং সোয়ায়ার সংস্থা) ভ্রমণ '''অনুমোদিত নয়''' (জুন ২০১৬)। তবে কেউ চাইলে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে মালবাহী জাহাজে যাত্রার ব্যবস্থা করতে পারে।
== ঘুরে দেখুন ==
অস্ট্রেলিয়া আয়তনে ''বিশাল'', তবে জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় শহরগুলির বাইরে বহু ঘণ্টা ভ্রমণ করেও সভ্যতার চিহ্ন নাও পাওয়া যেতে পারে।
=== কোয়ারেন্টাইন ===
অস্ট্রেলিয়ায় ফলমূল ও সবজি (মধুসহ) এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ কৃষি কোয়ারেন্টাইন অঞ্চলগুলিতেও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকে। তাই বড় শহরের বাইরে বা অন্য রাজ্যে গেলে গাড়িতে অতিরিক্ত ফল-সবজি বহন না করাই ভালো। বিস্তারিত জানতে দেখুন [https://interstatequarantine.org.au/ অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারস্টেট কোয়ারেন্টাইন] ওয়েবসাইট।
===গাড়িতে করে===
{{See also|অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো|গাড়িবিহীন অস্ট্রেলিয়া}}
[[File:Great Ocean Road, Lorne, Australia - Feb 2012.jpg|thumb|দ্য গ্রেট ওশেন রোড]]
[[File:Stuart Highway, Australia.jpg|thumb|মধ্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট হাইওয়ের একটি অংশ]]
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সড়ক ও মহাসড়কের একটি ভালো নেটওয়ার্ক আছে এবং গাড়ি চলাচলের খুবই প্রচলিত মাধ্যম। সিডনি, মেলবোর্ন, পার্থ ও দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে গণপরিবহন মোটামুটি নির্ভরযোগ্য হলেও দেশের বাকি অংশে ঘুরে বেড়াতে হলে গাড়ি থাকাই সুবিধাজনক, অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য।
অস্ট্রেলিয়ার জনঘনত্ব কম এবং দেশটি বিশাল-তাই প্রধান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে গাড়িতে যাতায়াতের সময় দীর্ঘ হয়। উদাহরণস্বরূপ সিডনি থেকে পার্থ (৪,০০০ কিমি) বা অ্যাডিলেড থেকে ডারউইন (৩,০০০ কিমি) যেতে গাড়িতে অন্তত অর্ধ-সপ্তাহ ধরে চালাতে হবে; বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য উড়োজাহাজে যাওয়াই উত্তম। ইউরোপীয় দৃষ্টিতে এটি মাদ্রিদ থেকে মস্কোর দূরত্বের সমান, আর উত্তর আমেরিকার দৃষ্টিতে মায়ামি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের সমান।
মেলবোর্ন, ক্যানবেরা, সিডনি ও ব্রিসবেন বিভক্ত ডুয়াল ক্যারেজওয়ে দিয়ে যুক্ত-তবে পথের অধিকাংশই পূর্ণাঙ্গ ফ্রিওয়ে মানের নয়, তাই কোথাও কোথাও এখনও সমতল সংযোগস্থল আছে। অধিকাংশ অন্যান্য মহাসড়ক এক লেনে একমুখী চলাচলের, এবং রাজ্যভেদে প্রতি ৫–২০ কিমি পরপর ওভারটেকিং লেন থাকে। ছোট কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করা সড়ক (বা মানচিত্রে শর্টকাটের মতো দেখালেও) অনেক সময় সরু বা কাঁচা হতে পারে এবং সাধারণত ধীরগতির।
অস্ট্রেলিয়ার সড়কে বড় বিপদের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও ভারী ট্রাক উল্লেখযোগ্য। গোধূলি বা রাতের অন্ধকারে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্ক থাকুন-এই সময় প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বড় আঞ্চলিক এলাকায় পাকা (সিলড) ডুয়াল-লেন সড়ক আছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে খারাপভাবে রক্ষণাবেক্ষিত মাটির রাস্তা কিংবা শুধু ট্র্যাকও থাকতে পারে। দূরত্ব ও গতি কিলোমিটারে নির্দিষ্ট হয় এবং জ্বালানি লিটারে বিক্রি হয়। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন বা টুউম্বার নগরাঞ্চলের বাইরে সড়ক বা সেতুতে টোল নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি বামে চালানো হয়। যারা ডানে চালাতে অভ্যস্ত বিদেশি চালক, প্রথম দিকে এবং বিশেষ করে গ্রামীণ ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত সাবধান থাকুন।
সাধারণভাবে বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আগমনের পর তিন মাস পর্যন্ত গাড়ি চালানো যায়। লাইসেন্সটি যদি ইংরেজিতে না হয়, তবে আপনার লাইসেন্সের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (আইডিপি) থাকতে হবে। লাইসেন্সিং বিধি ও সড়কনিয়ম রাজ্যভেদে সামান্য পরিবর্তিত হয়।
অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান অঞ্চলে ডিফল্ট গতিসীমা-নির্মিত/আবাসিক এলাকায় ৫০ কিমি/ঘণ্টা এবং গ্রামীণ সড়কে ১০০ কিমি/ঘণ্টা; তবে নর্দার্ন টেরিটরিতে (NT) শহুরে ডিফল্ট ৬০ কিমি/ঘণ্টা, আর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA) ও NT-তে গ্রামীণ ডিফল্ট ১১০ কিমি/ঘণ্টা। বিশেষ করে আউটব্যাকে অনেক প্রধান গ্রামীণ সড়কের সাইনবোর্ডে ১১০ কিমি/ঘণ্টা সীমা দেওয়া থাকে। তবে রাস্তার মান খারাপ ও ওভারটেকিংয়ের সীমিত সুযোগের কারণে গড় গতি সচরাচর ৮০ কিমি/ঘণ্টার বেশি হয় না। যে সব জাতীয় মহাসড়ক পর্বতমালা পেরিয়ে ছোট শহর দিয়ে যায়, সেখানে গড়ে ৬০ কিমি/ঘণ্টা তুলতেও কষ্ট হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় গতিসীমা খুব কড়াভাবে প্রয়োগ করা হয়-সীমা সামান্য ছাড়ালেও ভারী জরিমানার নোটিস পেতে পারেন।
যে কেউ '''ভাল-মেইনটেন করা সড়ক ছেড়ে''' অস্ট্রেলিয়ার ভেতরের দিকে যাচ্ছেন, তাদের উচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া, আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা যাচাই করা, এবং পর্যাপ্ত অতিরিক্ত জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ, অতিরিক্ত টায়ার, দেশলাই, খাদ্য ও পানি নেওয়া। কিছু দূরবর্তী সড়কে মাসে গড়ে একটিরও কম গাড়ি যেতে পারে।
জাতীয় মহাসড়ক ও শহরাঞ্চলের বাইরে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না-জরুরি অবস্থার জন্য পূর্বসতর্কতা নিন।
গরম ও পানিশূন্যতা বছরের যে কোনো সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে গাড়ির সঙ্গেই থাকুন এবং আকাশ থেকে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। এই পরামর্শকে হালকাভাবে নেবেন না-প্রতি বছরই দূরবর্তী এলাকায় গাড়ি বিকল হওয়ার পর পানিশূন্যতায় স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। যদি গাড়ি ছেড়ে যেতেই হয় (ধরা যাক বিকল হয়ে পড়ার পর অন্য কারও গাড়িতে উঠে নিলেন), তাহলে স্থানীয় থানায় ফোন করে জানিয়ে দিন-নয়তো আপনার জন্য অযথা অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।
====গাড়ি ভাড়া====
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক বড় বড় কোম্পানিসহ অনেক আউটলেটে নানান ধরনের ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায়। প্রধান আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের মধ্যে আছে [https://www.enterpriserentacar.com.au/en/car-rental/locations/australia.html এন্টারপ্রাইজ], [https://www.alamo.com/en/car-rental-locations/au.html আলামো], [https://www.nationalcar.com/en/car-rental/locations/au.html ন্যাশনাল], অ্যাভিস, বাজেট, হার্টজ, থ্রিফটি, সিক্সট এবং ইউরোপকার। বেশিরভাগ ভাড়াদাতা সংস্থা আগে থেকে বিশেষ চুক্তি না করলে তাদের গাড়ি ফেরিতে তোলার বা নর্দার্ন টেরিটরি (NT) ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA)-র সীমানা পার করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ছোট শহরগুলোতে গাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন হতে পারে। আঞ্চলিক ছোট আউটলেট থেকে একমুখী ভাড়ায় অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় আরও অনেক দেশীয় ব্র্যান্ডও আছে-যেমন [https://www.redspot.com.au/ রেডস্পট], ইস্ট কোস্ট, [https://www.jucy.com/au/en জুসি] ও নোবার্ডস। ছোট গাড়িগুলো ম্যানুয়াল (স্টিক-শিফট) হতে পারে, আর বড় গাড়ির অধিকাংশই অটোমেটিক।
[[File:Jucy Car (20132108710).jpg|thumb|বিভিন্ন কোম্পানির ক্যাম্পারভ্যানের বিন্যাস আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, জুসি এই ক্যাম্পারভ্যানটিকে রুফটপ ডাবল বেড থাকার কারণে ৪-বার্থ বলে]]
আপনার কাছে অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে, কিছু ভাড়াদাতা সংস্থা পর্যটকদের জন্য প্রণীত বিনামূল্যের [http://www.driverknowledgetests.com/learners-permit/tourist/ ড্রাইভার নলেজ টেস্ট] নিতে বলতে পারে, যেখানে মৌলিক সড়কনিয়ম থাকে; অথবা তারা আপনাকে সংক্ষিপ্ত একটি ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই করতে পারে।
====ক্যাম্পারভ্যান ====
'''ক্যাম্পারভ্যান''' হলো এমন যান যা সাধারণত একটি মিনি-ভ্যানকে মোটরহোমে (বিনোদনমূলক যান) রূপান্তর করে তৈরি করা হয়; এগুলো মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার অগণিত তরুণ ব্যাকপ্যাকারদের চাহিদা মেটায় যারা দেশজুড়ে ঘোরেন। সিডনি থেকে কেয়র্নস পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে এই যান বিশেষভাবে বেশি দেখা যায়। [[অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো]] নিবন্ধে ক্যাম্পারভ্যান ভাড়া বা কেনা সম্পর্কে আরও তথ্য আছে।
কখনও কখনও এক শহর থেকে আরেক শহরে '''রিলোকেশনের''' প্রয়োজন থাকা ক্যাম্পারভ্যান নামমাত্র খরচে-প্রতিদিন মাত্র ১ মার্কিন ডলার পর্যন্তেও-বুক করা যায়। কখনও কখনও ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জ্বালানির খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমন অফার খুঁজতে পারেন-[https://coseats.com/campervan-relocation কোসিটস], [https://www.drivenow.com.au/onewayrentals.jspc#/relocations/AU ড্রাইভনাও], [https://www.transfercar.com.au/search?pickup=&dropoff= ট্রান্সফারকার] ও [https://www.imoova.com/en ইমুভা]।
====কারপুলিং====
কারপুলিং অস্ট্রেলিয়া ঘোরার জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী উপায়-বিশেষ করে ব্যাকপ্যাকার ও বাজেট সচেতন ভ্রমণকারীদের জন্য। এতে জ্বালানির খরচ ভাগ করা যায় এবং একই পথে যাওয়া অন্যদের সঙ্গে সংযোগ ঘটে। দেশে সাধারণত ব্যবহৃত কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম হলো [https://www.rooride.app/ রুরাইড], [https://coseats.com/ কোসিটস], [https://liftshare.com/ লিফটশেয়ার] ও [https://www.carpoolworld.com/ কারপুলওয়ার্ল্ড]। অঞ্চলভেদে প্রাপ্যতা বদলাতে পারে-ভ্রমণ পরিকল্পনায় একাধিক প্ল্যাটফর্ম দেখে নেওয়া ভালো।
===ট্যাক্সিতে করে===
বড় শহর ও নগরীগুলোতে ট্যাক্সি সার্ভিস আছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায় (সিবিডি) রাস্তায় দাঁড়িয়েই ট্যাক্সি ডাকা যায়। [https://www.uber.com/global/en/cities/ উবার] ও [https://www.didiglobal.com/ দিদি] বড় শহরগুলোতে চালু। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যাক্সি খুঁজে পেতে সহায়ক কয়েকটি স্মার্টফোন অ্যাপও আছে-যেমন [https://www.mydriver.com/en মাইড্রাইভার], [https://gocatch.com/ গো-ক্যাচ]{{Dead link|date=আগস্ট ২০২৪ |bot=InternetArchiveBot }}।
শহরের বাইরে ছোট শহরগুলোতে ট্যাক্সি সেবার পরিমাণ সীমিত হতে পারে, আবার খুব ছোট বা দূরবর্তী শহরে একেবারেই নাও থাকতে পারে।
===উড়োজাহাজে===
[[File:Melbourne Airport T1 with Qantas and Jetstar jets.jpg|thumb|২৫০px|মেলবোর্ন বিমানবন্দরে কান্তাস ও জেটস্টারের উড়োজাহাজ]]
দেশের দূরত্ব দীর্ঘ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাতায়াত খুবই জনপ্রিয়। প্রধান ব্যবসায়িক করিডর (মেলবোর্ন–সিডনি–ব্রিসবেন) পথে দিনের বেলায় প্রায় প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ফ্লাইট ছাড়ে-প্রায় বাস সার্ভিসের মতোই ঘন।
সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক রুটেই সাধারণত সেরা ভাড়া পাওয়া যায়; আর ফ্লাইট কম থাকা দূরবর্তী রুটগুলোতে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়। কান্তাস অনেক সময় প্রতিযোগিতামূলক মূল্য দেয়-শুধু ফুল-সার্ভিস বলে অপশনটি বাদ দেবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় প্রধান এয়ারলাইনের সংখ্যা হাতে গোনা-তাই দেশীয় রুটে দামের তুলনা করতে সময় লাগবে না:
* '''[https://www.qantas.com.au/ কান্তাস]'''-ফুল-সার্ভিস জাতীয় বাহক; সব বড় শহর ও কিছু বড় আঞ্চলিক শহরে (কান্তাসলিংক দেখুন) ফ্লাইট আছে;
* '''[https://www.virginaustralia.com/ ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া]'''-দেশজুড়ে ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইন; বড় শহর ও কয়েকটি বড় আঞ্চলিক শহরে উড়ে;
* '''[https://www.jetstar.com/au/en/home জেটস্টার]{{cbignore}}'''-কান্তাসের ডিসকাউন্ট শাখা; সীমিত পরিষেবা ও নির্দিষ্ট আসনব্যবস্থা।
আঞ্চলিক গন্তব্যে কয়েকটি এয়ারলাইনস সেবা দেয়-ভাড়া তুলনামূলক বেশি ও ছাড় কম আশা করুন।
* '''[https://www.qantas.com.au/regions/dyn/home/qualifier-country-au কান্তাসলিংক]'''-কান্তাসের আঞ্চলিক শাখা;
* '''[https://www.rex.com.au/ রিজিওনাল এক্সপ্রেস]'''-পূর্ব উপকূলের বড় শহর ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার শহরাঞ্চলে সেবা;
* '''[https://www.airnorth.com.au এয়ারনর্থ]'''-নর্দার্ন টেরিটরি ও [[তিমুর-লেস্টে]];
* '''[https://www.skytrans.com.au স্কাইট্রান্স এয়ারলাইন্স]'''-কুইন্সল্যান্ডের আঞ্চলিক রুটে;
* '''[https://www.sharpairlines.com.au/ শার্প এয়ারলাইন্স]'''-ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি আঞ্চলিক শহরে।
====চার্টার====
{{see also|সাধারণ বিমান চলাচল}}
নিয়মিত নির্ধারিত ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়ার হাজারো বিমানবন্দরের মধ্যে কেবল অল্প কয়েকটিতেই যায়। চার্টার বিমানের বহু বিকল্প আছে-এগুলো ছোট শহর বা অফশোর দ্বীপেও সরাসরি নিয়ে যেতে পারে। একই দলে ৩ জন বা তার বেশি হলে খরচ প্রায়ই নির্ধারিত ফ্লাইটের সমতুল্য হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান প্রাইভেট পাইলটস লাইসেন্স ব্যক্তিগত পাইলটকে যাত্রী বহনের ও যাত্রীদের কাছ থেকে প্লেন ভাড়া ও জ্বালানির খরচ আদায়ের অনুমতি দেয়; তবে যাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া বা বাণিজ্যিকভাবে উড়তে দেয় না। তারপরও স্থানীয় ফ্লাইং ক্লাবগুলোর ওয়েবপেজ দেখলে দেখবেন, রৌদ্রোজ্জ্বল সাপ্তাহিক ছুটিতে কেউ প্লেন ও জ্বালানির খরচ ভাগ করলে বেসরকারি পাইলটরা প্রায়ই উড়তে আগ্রহী থাকেন।
===রেলে করে===
{{see also|অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ|অস্ট্রেলিয়া পাড়ি রেলে}}
[[File:Passenger rail services in Australia en.png|thumb|upright=2.1|অস্ট্রেলিয়ার প্রধান আন্তঃনগর রেলপথের মানচিত্র]]
অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রায় ট্রেন খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়: সাধারণত গাড়ির চেয়ে ধীর, বিমানের চেয়ে ব্যয়বহুল, আর বাসের চেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে। রাজ্যগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক সমন্বয়হীনতা, বিশাল দূরত্ব আর তুলনামূলক কম জনসংখ্যার কারণে জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক ধীরগতির এবং মূলত পণ্যবাহী। তবুও আন্তঃনগর রেলভ্রমণ বেশ দৃশ্যাবলিময় হতে পারে এবং দেশকে নতুন কোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। কিছু ছোট শহরে যাওয়ার জন্য এটি সাশ্রয়ীও হতে পারে-সেসব রুটে বিমানের ভাড়া রাজ্য রাজধানীগুলোর রুটের তুলনায় প্রায়ই বেশি পড়ে।
বর্তমান অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীবাহী রেল সেবা রাজ্য রাজধানীকে আঞ্চলিক শহরের সঙ্গে যুক্ত করে-যেমন [[বেন্ডিগো]] থেকে মেলবোর্ন, বা কেয়র্নস থেকে ব্রিসবেন। দুইটি আন্তমহাদেশীয় রুট (অ্যাডিলেড–ডারউইন ও সিডনি–পার্থ) বিলাসবহুল, পর্যটকমুখী সেবা-যাদের হাতে সময় ও বাজেট দুটোই বেশি। আপনি যদি রেলপ্রেমী না হন, তবে সাধারণত উড়োজাহাজ বা গাড়িই দ্রুত ও সাশ্রয়ী।
তাসমানিয়ায় কোনো যাত্রীবাহী রেল নেই। নর্দার্ন টেরিটরিতে কেবল ডারউইন থেকে অ্যালিস স্প্রিংস হয়ে অ্যাডিলেড পর্যন্ত একটি লাইন আছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ক্যানবেরার কেন্দ্রের কাছেই একটি মাত্র স্টেশন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় রেলসেবা প্রধানত অ্যাডিলেডের শহরতলি নেটওয়ার্কে সীমিত; তবে মেলবোর্নগামী ট্রেন ভিক্টোরিয়া-সীমানা পর্যন্ত কয়েকটি দেশীয় শহরে থামে।
====দূরপাল্লার ট্রেন অপারেটর====
[[File:Indian Pacific Bellevue, Western Australia-small.jpg|thumb|ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক]]
অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন একটি বেসরকারি ও চারটি রাজ্য সরকারি অপারেটরের মিশেলে পরিচালিত হয়। দেশজুড়ে সব দূরপাল্লার অপারেটরকে কভার করে এমন কেন্দ্রীয় টিকিটিং সেবা নেই-একাধিক অপারেটরের রুটে গেলে আলাদা আলাদা টিকিট কিনতে হবে।
* '''[https://www.journeybeyondrail.com.au/ জার্নি বিয়ন্ড]'''-বেসরকারি বিলাসবহুল পর্যটক ট্রেন অপারেটর; ''দ্য গ্যান'' [[অ্যাডিলেড]] থেকে [[অ্যালিস স্প্রিংস]] হয়ে [[ডারউইন]] পর্যন্ত (শুধু মার্চ থেকে নভেম্বরের মধ্যে), ''দ্য ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক'' [[সিডনি]] থেকে [[অ্যাডিলেড]] হয়ে [[পার্থ]] পর্যন্ত, এবং ''দ্য ওভারল্যান্ড'' অ্যাডিলেড থেকে [[মেলবোর্ন]] পর্যন্ত চালায়। ওভারল্যান্ড ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভর্তুকিপ্রাপ্ত-তাই জার্নি বিয়ন্ডের অন্যান্য সেবার চেয়ে সস্তা-তবে এতে স্লিপার কোচ নেই, পুরো যাত্রা দিনের মধ্যেই শেষ হয়।
* '''[https://transportnsw.info/ ট্রান্সপোর্ট নিউ সাউথ ওয়েলস (Transport NSW)]'''-সিডনিকে কেন্দ্র করে নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW)-এ সেবা; আশেপাশের শহরে ইন্টারসিটি ট্রেন, আর দূরপাল্লায় এনএসডব্লিউ ট্রেনলিংক (NSW TrainLink) মেলবোর্ন, [[ব্রিসবেন]], ক্যানবেরা ও রাজ্যের দূরবর্তী আঞ্চলিক কেন্দ্রে যায়। রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায় এবং এসব রুটে রেল+কোচ মিলিয়ে কম্বিনেশন টিকিট তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
* '''[http://www.vline.com.au ভি/লাইন (V/Line)]'''-মেলবোর্নকে কেন্দ্র করে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক কেন্দ্রে ট্রেন; রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায়। মেলবোর্ন–অ্যাডিলেড ও মেলবোর্ন–ক্যানবেরা রুটে ট্রেন+কোচ মিলিত সেবা আছে।
* '''[https://www.queenslandrailtravel.com.au/ কুইন্সল্যান্ড রেল]'''-ব্রিসবেনকে কেন্দ্র করে কুইন্সল্যান্ডের দূরপাল্লার রেল; ফ্ল্যাগশিপ ''স্পিরিট অব কুইন্সল্যান্ড'' ব্রিসবেন–[[কেয়র্নস]] রুটে। এছাড়া ''ইনল্যান্ডার'' [[টাউনসভিল]]–[[মাউন্ট আইসা]] এবং ''স্পিরিট অব দ্য আউটব্যাক'' ব্রিসবেন–[[রংগ্রীচ]] ([[রকহ্যাম্পটন]] হয়ে) রুটে চলে।
* '''[http://www.transwa.wa.gov.au ট্রান্সডব্লিউএ (Transwa)]'''-ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া সরকারের অপারেটর; পার্থ থেকে [[কালগুর্লি]] ও [[বানবারি]] পর্যন্ত ট্রেন চালায়। রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমে যেখানে আগে রেল ছিল সেখানে ট্রান্সডব্লিউএ অনেক কোচ সেবাও চালায়।
====মোটোরেল সেবা====
একসময় অস্ট্রেলিয়ায় মোটোরেল প্রচলিত ছিল-ট্রেনের পেছনে বিশেষ বগিতে নিজের গাড়ি তোলা যেত। বর্তমানে এই সেবা কেবল জার্নি বিয়ন্ডের অ্যাডিলেড–পার্থ বা অ্যাডিলেড–ডারউইন রুটে আছে। মাঝপথের কোনো স্টেশনে গাড়ি নামানো যায় না।
====রেল পাস====
সারা অস্ট্রেলিয়ার সব ট্রেনে চলার মতো কোনো একক রেল পাস নেই। তবে আপনি যদি রেল-উৎসাহী হন এবং ব্যাপক রেলভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, কয়েকটি পাসে সাশ্রয় হতে পারে। কিনবার আগে ভ্রমণসূচি ভালোভাবে গুছিয়ে নিন। দেশের ট্রেন কম-ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে এবং আঞ্চলিক শহরে পৌঁছাতে সময়টা অস্বস্তিকর হতে পারে।
* '''[http://www.nswtrainlink.info/deals/discovery ডিসকভারি পাস]'''-সব NSW ট্রেনলিংক (ট্রেন ও কোচ) সেবায় প্রযোজ্য। নিউ সাউথ ওয়েলস জুড়ে, উত্তরে ব্রিসবেন এবং দক্ষিণে মেলবোর্ন পর্যন্ত যেতে পারবেন।
* কুইন্সল্যান্ড রেল কোস্টাল পাস ও কুইন্সল্যান্ড রেল এক্সপ্লোরার পাস।
====স্থানীয় গণপরিবহন====
[[File:Cityrail-millennium-M32-ext.jpg|thumb|সিডনির এক শহরতলি ট্রেন]]
[[File:D2.5007 + C2.5111 bourke.JPG|thumb|বিশ্বের বৃহত্তম ট্রাম নেটওয়ার্কে সেবাপ্রাপ্ত মেলবোর্ন]]
সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, [[উলংগং]] ও [[নিউক্যাসেল (নিউ সাউথ ওয়েলস)|নিউক্যাসেল]]-এসব শহরে উপনগর রেল ও বাস শহুরে গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বিত। মেলবোর্ন, অ্যাডিলেড, সিডনি, নিউক্যাসেল, ক্যানবেরা ও গোল্ড কোস্টে ট্রামও চলে; সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে ফেরি আছে। সিডনিতে দেশের একমাত্র মেট্রো লাইন চালু। বাকি রাজধানী শহরগুলোতে কেবল বাসসেবা আছে। বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট শহরভিত্তিক গাইড দেখুন।
===কোচে করে===
{{seealso|অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ায় (আন্তঃনগর) কোচ ভ্রমণ সস্তা ও সুবিধাজনক, যদিও আন্তঃরাজ্য দূরত্ব দীর্ঘ বলে ভীতিজনক মনে হতে পারে। গ্রেহাউন্ডের নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বড়; এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় রাজ্য পরিচালিত কোচ নেটওয়ার্ক আছে-যেগুলো রাজ্যের রেলব্যবস্থার সঙ্গে ভালোভাবে একীভূত, তবে একক পরিষেবা হিসেবেও বুক করা যায়। অন্যান্য রাজধানী শহর থেকে পার্থে কোনো কোচ সেবা নেই।
* {{listing
| নাম=ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস | ইউআরএল=http://www.fireflyexpress.com.au | ইমেইল=enquiries@fireflyexpress.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=১৩০০ ৭৩০ ৭৪০ (স্থানীয় হার), +৬১ ৩ ৮৩১৮ ০৩১৮ (আন্তর্জাতিক কলার) | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিকে যুক্ত করে সেবা দেয়।
}}
* {{listing
| নাম=গ্রেহাউন্ড | ইউআরএল=http://www.greyhound.com.au | ইমেইল=info@greyhound.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=১৩০০ ৪৭৩ ৯৪৬ (স্থানীয় হার) | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| শেষ সম্পাদনা=২০২৩-০৫-২২| বিবরণ=গ্রেহাউন্ড প্রতিদিন অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ১,১০০-র বেশি গন্তব্যে যায়। টিকিটিংয়ের বিভিন্ন ধরন আছে, যার মধ্যে সারাদেশে ১৫–১২০ দিনের জন্য সীমাহীন ওঠা–নামার পাস (“হুইমিট পাস”) এবং মেলবোর্ন–কেয়র্নস রুটে ৭–৩০ দিনের “ইস্ট কোস্ট হুইমিট” অন্তর্ভুক্ত।
}}
* {{listing
| নাম=মারিজ | ইউআরএল=http://www.murrays.com.au | ইমেইল=reservations@murrays.com.au
| ঠিকানা= | অক্ষাংশ= | দ্রাঘিমাংশ= | দিকনির্দেশ=
| ফোন=+৬১ ১৩ ২২ ৫১ | নিঃশুল্ক ফোন নম্বর= | ফ্যাক্স=
| সময়সূচী= | মূল্য=
| বিবরণ=মারিজ ক্যানবেরা–সিডনি, [[নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ উপকূল|এনএসডব্লিউ দক্ষিণ উপকূল]] ও [[স্নোয়ি মাউন্টেনস|তুষারাচ্ছন্ন ঢাল]] রুটে সেবা দেয়।
}}
* {{Listing|name=প্রিমিয়ার মোটর সার্ভিসেস|url=https://premierms.com.au/|lastedit=2023-05-22|content=প্রিমিয়ার পূর্ব উপকূল জুড়ে বাস চালায়—দক্ষিণ এনএসডব্লিউর ইডেন থেকে শুরু করে দূর-উত্তর কুইন্সল্যান্ডের কেয়র্নস পর্যন্ত। গন্তব্য গ্রেহাউন্ডের চেয়ে কম হলেও বাসসমূহ মানসম্মত এবং ভাড়া গ্রেহাউন্ডের তুলনায় প্রায় ১০% কম।}}
===নৌপথে===
[[File:Spirit of Tasmania Port Melbourne.jpg|thumb|পোর্ট মেলবোর্নে ''স্পিরিট অব তাসমানিয়া II'']]
সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে গণপরিবহনের অংশ হিসেবে ফেরি সেবা আছে। আঞ্চলিক এলাকার কিছু ছোট সড়কে এখনও নদী বা খাল পার হতে পন্টুন (পান্ট) চলাচল করে। ব্যারিয়ার রিফের দ্বীপগুলোতে কিছু নির্ধারিত নৌসেবা আছে, আর কয়েকটি ক্রুজ জাহাজও অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপ্রান্ত ঘুরে যায়।
তবে বড় আন্তঃনগর ফেরি সেবা বিরল। মনে রাখবেন-বেশিরভাগ গাড়িভাড়া কোম্পানি তাদের গাড়ি ফেরিতে তুলতে দেয় না।
* '''[http://www.spiritoftasmania.com.au/ দ্য স্পিরিট অব তাসমানিয়া]'''-অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র দীর্ঘপাল্লার ফেরি [[তাসমানিয়া]]র [[ডেভনপোর্ট]] থেকে [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]]র [[জিলং]] পর্যন্ত চলে; এই রুটে বাস প্রণালী পেরিয়ে প্রতিদিন গাড়ি ও যাত্রী বহন করে। দিনের ও রাতের উভয় সময়েই সার্ভিস থাকে। উড়োজাহাজের চেয়ে সাধারণত বেশি খরচ পড়ে, তবে নিজস্ব যান নিতে চাইলে সার্থক।
* '''[https://www.sealink.com.au/ সিলিংক]'''-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম দক্ষিণের দ্বীপ [[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]কে মূল ভূখণ্ড [[সাউথ অস্ট্রেলিয়া]]র [[কেপ জার্ভিস]]-এর সঙ্গে নিয়মিত কার ফেরিতে যুক্ত করে।
* '''[https://spencergulfsearoad.com/ স্পেনসার গাল্ফ সিরোড]''' (সি–এস–এ)-[[ইয়ার্ক উপদ্বীপ]]র [[কাওয়েল]] (বা [[ফ্র্যাঙ্কলিন হারবার]])-এর কাছে লাকি বে থেকে [[ইয়র্ক উপদ্বীপ]]র ওয়ালারু পর্যন্ত স্পেনসার গাল্ফ পেরিয়ে শর্টকাট দেয়। সেবা প্রায়ই স্থগিত হয়েছে, তবে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এটি চালু রয়েছে।
===লিফটে করে===
তাসমানিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরি ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে লিফট নেওয়া (হিচহাইকিং) অবৈধ; শাস্তি শূন্য (সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি) থেকে শুরু করে কুইন্সল্যান্ডে ৩,২০০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সব রাজ্যেই ফ্রিওয়েতে বাঁধের ধারে দাঁড়ানো বা হাঁটা নিষিদ্ধ-ফলে বাস্তবে অনেক জায়গায় লিফট নেওয়া বেআইনি হয়ে যায়।
জরুরি অবস্থায় বাধ্য হলে কোনো চালক আপনাকে নিকটতম শহর পর্যন্ত সাহায্য করতে পারেন। (অনেক আন্তঃনগর মহাসড়ক ও ফ্রিওয়েতে জরুরি ফোন থাকে।)
তারপরও গ্রামীণ এলাকায় লিফট চাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সকাল সকাল বেরোনোই উত্তম। শহরের প্রধান এক্সিটের কাছে-তবে রাস্তায় নয়-দাঁড়ানো সবচেয়ে ভালো।
===সাইকেলে===
অস্ট্রেলিয়ায় শহরের মধ্যে দূরপাল্লায় সাইকেলে যাতায়াত খুব একটা দেখা যায় না; অধিকাংশ দূরপাল্লার মহাসড়কে সাইক্লিস্টদের জন্য সুযোগ-সুবিধা দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ সিডনি–ব্রিসবেন সাইকেলে যেতে ২–৩ সপ্তাহ ধরতে হবে-প্রতিদিন প্রায় ৮০–১০০ কিমি করে।
তবু সাহসী ভ্রমণকারীরা দীর্ঘপথ সাইকেলে কভার করেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে ভিন্ন অভিজ্ঞতায় দেখেন। নালারবরসহ বিচ্ছিন্ন মহাসড়কেও দীর্ঘপথ সাইকেলযাত্রী দেখা যায়।
কিছু রাজ্যে পুরনো রেলপথকে রেল ট্রেলে রূপান্তর করা হয়েছে। [https://www.railtrails.org.au/ রেল ট্রেল অস্ট্রেলিয়া] ওয়েবসাইটে মূল মহাসড়কের বাইরে ভালো রুটের তথ্য আছে; ‘মারে–টু–দ্য–মাউন্টেন্স’ ট্রেল মানের দিক থেকে সেরা এবং পথে দেখার/করার বিষয়ও বেশি। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় মাউন্টেন বাইকারদের জন্য দীর্ঘ ট্রেল উন্নয়ন করা হয়েছে-মুন্ডা বিদ্দি ট্রেল বহুদিন ধরে বুশল্যান্ডের ভেতর দিয়ে যায় এবং রুটে রাতযাপনের জন্য কুঁড়েঘর (হাট) আছে।
যেখানেই সাইকেল চালান-রাজধানী শহরগুলোর নগর বিস্তার ছেড়ে বেরোলেই পরিকল্পনা করে বেরোন এবং রসদ সঙ্গে নিন।
'''[[নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং]]''' নিবন্ধে নিউ সাউথ ওয়েলস-নির্দিষ্ট তথ্য দেখুন।
===হাইকিং===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং}}
অস্ট্রেলিয়ার কিছু ভূদৃশ্য কেবল হেঁটেই সঠিকভাবে অনুভব করা যায়। তাসমানিয়ায় সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের [[ওভারল্যান্ড ট্র্যাক]] ও সাউথ কোস্ট ট্র্যাক-এ দু’টি হাঁটার/হাইকিং-ভিত্তিক ছুটির “টু–ডু” আইটেমের চমৎকার উদাহরণ। বাইসেন্টেনিয়াল ন্যাশনাল ট্রেল বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেলগুলোর একটি-যা উত্তর কুইন্সল্যান্ডের [[কুকটাউন]] থেকে [[ভিক্টোরিয়া (রাজ্য)|ভিক্টোরিয়া]]র [[হিলসভিল]] পর্যন্ত গেছে।
==দেখুন==
===বন্যপ্রাণী===
[[File:Koala climbing tree.jpg|thumb|একটি কোয়ালা]]
{{see also|অস্ট্রেলেশীয় বন্যপ্রাণী}}
অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ বহু মিলিয়ন বছর ধরে বিশ্বের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফল-একেবারেই স্বতন্ত্র। এখানে থলি-ওয়ালা স্তন্যপায়ী (মার্সুপিয়াল) আর ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী (মনোট্রিম) বড় একটি দল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাণী-আইকনগুলোর মধ্যে ক্যাঙ্গারু (জাতীয় প্রতীক) ও কোআলা উল্লেখযোগ্য। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ হবে না যদি প্রাকৃতিক আবাসে এদের কিছু না-দেখেন।
====বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা====
* প্রতিটি প্রাদেশিক রাজধানী শহরে '''বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা''' রয়েছে। তবে ছোট শহর যেমন [[মিলডুরা]] বা [[মোগো]]-তে কিংবা [[হ্যামিল্টন দ্বীপ]]-এও প্রাণী উদ্যান দেখা যায়। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় গেলে ওয়ারাওয়ং ফনা স্যাংচুয়ারি ঘুরে আসতে পারেন, আর সিডনির টারোঙ্গা চিড়িয়াখানায় কোয়ালা দেখার সুযোগ রয়েছে।
====প্রকৃতিতে====
[[File:Tassy Devil.jpg|thumb|একটি তাসমানিয়ান ডেভিল]]
* '''ক্যাঙ্গারু''' ও '''ওয়ালাবি''' অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব জাতীয় উদ্যানে পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল [[সিডনি]]র রাস্তায় তাদের দেখা না মিললেও শহরতলির আশেপাশে সাধারণত দেখা যায়।
* '''ওম্বাট''' ও '''ইকিডনা'''ও প্রচুর আছে, তবে তারা মাটির নিচে সুড়ঙ্গ করে লুকিয়ে থাকার কারণে খুঁজে পাওয়া কঠিন। [[ক্যাঙ্গারু দ্বীপ]]ে প্রচুর ইকিডনা দেখা যায়।
* '''কোয়ালা''' সারা দেশের বনভূমিতে থাকে, তবে গাছে উঁচুতে থাকায় খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। দিনের বেলা ভালোভাবে দেখা যায়, বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ার [[পেইনসভিল (ভিক্টোরিয়া)|পেইনসভিল]] কাছের রেমন্ড দ্বীপে। এছাড়া গ্রেট ওশেন রোডের ওটওয়ে কোস্ট বা সানশাইন কোস্টের [[নুসা জাতীয় উদ্যান]] এলাকায়ও ভালো সুযোগ থাকে।
* '''এমু''' মূলত মধ্য অস্ট্রেলিয়ায় বেশি দেখা যায়। [[কুরাওইন্যা জাতীয় উদ্যান]]ে গেলে অবশ্যই তাদের দেখা মিলবে।
* '''ক্যাসোয়ারি''' মূলত উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ক্রান্তীয় রেইনফরেস্টে থাকে, তবে এরা মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতি হওয়ায় দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
* '''প্লাটিপাস''' সাধারণত ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস ও দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডের নদীখাতে পাওয়া যায়। ভোর বা সন্ধ্যায় তাদের দেখার সম্ভাবনা বেশি। [[বোম্বালা]], [[ডেলিগেট (নিউ সাউথ ওয়েলস)|ডেলিগেট]] বা ভিক্টোরিয়ার [[স্কিপটন]] এ প্লাটিপাস সংরক্ষণ এলাকায় চেষ্টা করা যেতে পারে।
===অপরাধীদের স্থান===
অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক ইতিহাসের একটি বড় অংশ ছিল যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো দণ্ডিত অপরাধীদের জন্য শাস্তি-উপনিবেশ হিসেবে। সেই সময়ের বন্দী পরিবহনের স্মৃতি বহন করে এমন বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও টিকে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো [[তাসমানিয়া]]র [[পোর্ট আর্থার (তাসমানিয়া)|পোর্ট আর্থার]] এবং [[পার্থ]], [[পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া]]র নিকটবর্তী [[পার্থ/ফ্রিম্যান্টল|ফ্রিম্যান্টল]]-এ অবস্থিত ফ্রিম্যান্টল কারাগার। এছাড়াও পুরো দেশ জুড়ে আরও অনেক স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে।
===স্মৃতিস্তম্ভ===
[[File:07 Sydney Opera House in black and white, Australia.jpg|thumb|সিডনি অপেরা হাউস, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শনগুলির একটি]]
অস্ট্রেলিয়ায় বহু নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো সারা বিশ্বেই বিখ্যাত। [[রেড সেন্টার]]-এ অবস্থিত [[উলুরু]] থেকে শুরু করে সিডনির সিডনি হারবার ব্রিজ ও অপেরা হাউস পর্যন্ত।
অস্ট্রেলিয়ার ছোট শহরগুলোর একটি ঐতিহ্য হলো বড় আকারের ভাস্কর্য তৈরি করা, যা স্থানীয় নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে দেখতে পারেন [[অস্ট্রেলিয়ার বড় জিনিসপত্র]]।
অস্ট্রেলিয়ায় হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিবন্ধিত রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কো (ইউনেস্কো) স্বীকৃত ২১টি [[বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান]]।
অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি ধর্মীয় দেশ নয়, তবে কিছু কিছু গির্জা সুপরিচিত স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে খ্যাত। এর উদাহরণ হলো সিডনির সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রাল এবং [[অ্যাডিলেড|অ্যাডিলেডের]] সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল।
===জাতীয় উদ্যান===
{{see also|অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষণ এলাকা|অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান}}
[[File:Beech Forest (AU), Great Otway National Park, Beauchamp Falls -- 2019 -- 1271.jpg|thumb|ভিক্টোরিয়ার গ্রেট অটওয়ে ন্যাশনাল পার্কে বিউশ্যাম্প ফলস]]
অস্ট্রেলিয়ার প্রকৃতির সেরা রূপের অনেকটাই দেখা যায় এর জাতীয় উদ্যানগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০০-রও বেশি জাতীয় উদ্যান আছে, যা দেশটিকে পৃথিবীতে সর্বাধিক জাতীয় উদ্যানসমৃদ্ধ দেশ করে তুলেছে। সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় বাছাই করা কঠিন হতে পারে, তবে কিছু উদ্যান ভ্রমণকারীদের কাছে অন্যদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। কিছু জাতীয় উদ্যান-যার মধ্যে [[মুঙ্গা-থির্রি–সিম্পসন মরুভূমি জাতীয় উদ্যান|অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্যানটিও]] রয়েছে-অতিদূরবর্তী এলাকায়, যেখানে যাওয়ার কোনো পাকা সড়ক নেই। সেখানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো চারচাকা চালিত গাড়িতে অফ-রোড ড্রাইভিং। এ ধরনের যাত্রায় যাওয়ার আগে খাদ্য, পানি ও জ্বালানির যথেষ্ট মজুতসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিন, এবং জরুরি অবস্থার কথা ভেবে উচ্চ খরচ সত্ত্বেও একটি [[Mobile phones#Satellite phones|স্যাটেলাইট ফোন]] ভাড়া নেওয়া অত্যন্ত সুপারিশকৃত। কুইন্সল্যান্ড, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় '''কনজারভেশন পার্ক'''ও আছে-এগুলোও অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংরক্ষিত এলাকা, তবে জাতীয় পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়ার মতো গুরুত্বপ্রাপ্ত নয়।
নিউ সাউথ ওয়েলসে, সিডনির পশ্চিমে অবস্থিত এবং [[ইউনেস্কো (ইউনেস্কো)|ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান]] [[ব্লু মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক]] না গেলে কোনো ভ্রমণ সম্পূর্ণ হয় না-এখানে আছে বহু আদিবাসী পবিত্র স্থান, ভিউপয়েন্ট, পাহাড় ও মালভূমি। রাজ্যের আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে সিডনির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত সমুদ্রতীরের পুরোনো প্রিয় [[রয়্যাল ন্যাশনাল পার্ক]], মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের আবাস [[কোশিয়াস্কো ন্যাশনাল পার্ক]], গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টের জন্য [[ডরিগো ন্যাশনাল পার্ক]] বা [[নিউ ইংল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক]], আর জনাকীর্ণতা এড়াতে চাইলে অদ্ভুত কিন্তু দারুণ “ওয়ালস অব চায়না” ভূরূপের জন্য অপেক্ষাকৃত নির্জন [[মাঙ্গো ন্যাশনাল পার্ক]]।
নর্দার্ন টেরিটরিতে সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো [[কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক]] এবং [[উলুরু-কাতা জুটা ন্যাশনাল পার্ক]]-দুটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রতীকসম নিদর্শন। অন্য জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে বহু জলপ্রপাতের আবাস [[লিচফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক]], ক্যাথরিন গর্জের জন্য [[নিটমিলুক ন্যাশনাল পার্ক|নিটমিলুক]], আর গিরিখাত ও ক্যানিয়নের জন্য [[তজোরিতজা / ওয়েস্ট ম্যাকডোনেল ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[ওয়াটারকা ন্যাশনাল পার্ক]]।
কুইন্সল্যান্ডে, নর্দার্ন টেরিটরির মতোই সবচেয়ে বিশ্ববিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো [[ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট]] ও [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]-একটি পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবন্ত বর্ষাবনের জন্য, আরেকটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থার জন্য। আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টসমৃদ্ধ [[ল্যামিংটন ন্যাশনাল পার্ক]], বিশ্বের সবচেয়ে বড় বালিয়াড়ি দ্বীপ এবং বালুর ওপর বন গজানোর একমাত্র উদাহরণের জন্য [[ক’গারি|গ্রেট স্যান্ডি ন্যাশনাল পার্ক]], এবং সাদা বালুকাবেলার জন্য [[হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ]]। তুলনামূলক অখ্যাত হলেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদাপ্রাপ্ত [[বুজামুল্লা ন্যাশনাল পার্ক]] এবং ভূদৃশ্য ও শিলাচিত্রের জন্য [[কার্নারভন ন্যাশনাল পার্ক]]।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় উদ্যানগুলোর ধরন বৈচিত্র্যময়, আর সবচেয়ে স্বীকৃত হলো [[ইকারা-ফ্লিন্ডার্স রেঞ্জস ন্যাশনাল পার্ক]]-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বললেই অনেকের মাথায় প্রথম এটিই আসে। আরও আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য [[নারাকুর্ট গুহা ন্যাশনাল পার্ক]] এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাবরিজিনাল সাংস্কৃতিক স্থানের জন্য [[দ্য কুরঙ]]।
তাসমানিয়ায় প্রকৃতির বন্যতা সবচেয়ে বেশি; [[তাসমানিয়ার জাতীয় উদ্যান|এখানকার উদ্যানগুলোর]] প্রায় অর্ধেকের একটু কমই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী-ফলে কোনটা দেখবেন তা বেছে নেওয়া কঠিন। [[ক্র্যাডল মাউন্টেন–লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক]] সবচেয়ে প্রতীকী উদ্যান, আর রাজ্যের সবচেয়ে বড় উদ্যান [[সাউথওয়েস্ট ন্যাশনাল পার্ক]]। সহজে পৌঁছানো যায় এমন পাহাড় চাইলে [[হার্টজ মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক]] বা [[মাউন্ট ফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক]] সাধারণত সেরা পছন্দ; শেষেরটি ও [[বেন লোমন্ড ন্যাশনাল পার্ক]] স্কি ও স্নো-স্পোর্টসের জন্যও পরিচিত। ভিন্ন ধরনের উদ্যান চাইলে সমুদ্রসৈকতের জন্য [[ফ্রেসিনেট ন্যাশনাল পার্ক]] এবং বিশ্বের অন্যতম উচ্চ সমুদ্রক্লিফের জন্য [[তাসমান ন্যাশনাল পার্ক]] দেখুন।
ভূখণ্ডের সবচেয়ে ছোট রাজ্য হয়েও ভিক্টোরিয়ার অফার অনেক। সবচেয়ে পরিচিত [[পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক]]-পার্কের নাম যতটা না পরিচিত, তার বিখ্যাত “টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস” ভূরূপই বেশিরভাগ দর্শনার্থী টেনে আনে। আরও আছে [[উইলসন্স প্রোমন্টরি]]-মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সর্বদক্ষিণ বিন্দুর আবাস-আর গোলাপি লেকের জন্য [[মারে সানসেট ন্যাশনাল পার্ক]]।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া-বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপ-জাতীয় অঞ্চল-দেখার মতো জায়গায় ভরপুর। সবচেয়ে পরিচিত [[নাম্বুং ন্যাশনাল পার্ক]] তার পিনাকলস মরুভূমির জন্য; আরও আছে [[কালবারি ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[কারিজিনি ন্যাশনাল পার্ক]]-দুটিতেই অনন্য ভূতাত্ত্বিক গঠন। বিশ্বের সবচেয়ে ঘন শিলাচিত্রসম্ভারের একটি হওয়ার জন্য [[মুরুজুগা ন্যাশনাল পার্ক]]ও উল্লেখযোগ্য। [[পুরনুলুলু ন্যাশনাল পার্ক]] ও [[শার্ক বে]]-দুটিই [[ইউনেস্কো (ইউনেস্কো)|ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী]], [[পার্থ]] থেকে দূরে হলেও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য। আর যদি মনে করেন সব সুন্দর দৃশ্যই জমিতে-তা হলে ভুল ভাবছেন। নিনগালু মেরিন পার্ক (আর [[Exmouth (Western Australia)|এক্সমাউথ]] ও [[Coral Bay|কোরাল বে]]) সমুদ্রজীবনপ্রেমীদের জন্য অফারের শেষ নেই।
===মহাকাশ===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ার বিশাল, খোলা আউটব্যাক এলাকাগুলো মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। তবে উত্তর গোলার্ধের তুলনায় এখানে নক্ষত্রপুঞ্জগুলো ভিন্ন-কারণই বা দক্ষিণ গোলার্ধ। শহর থেকে শুরু করে দূর আউটব্যাক পর্যন্ত নানা ধরনের [[অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ|অ্যাস্ট্রোট্যুরিজম]] সাইট আছে।
===খেলা===
[[File:Ball is in dispute in Hawthorn-Essendon AFL match.jpg|thumb|মেলবোর্নে এএফএল ম্যাচ দেখা একদমই ‘মাস্ট’]]
রাজধানী থেকে ছোট্ট শহর-অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ sport/খেলাধুলা। তুলনামূলক ছোট জনসংখ্যা সত্ত্বেও অলিম্পিকে ধারাবাহিক সাফল্যই এর প্রমাণ। বেশিরভাগ ম্যাচই সাপ্তাহিক ছুটির সময় (শুক্রবার রাত থেকে সোমবার রাত) হয়। অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা সাধারণত ভদ্র; তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার দলগুলোর ভক্তরাও একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখেন-চিৎকার-চেঁচামেচি হতে পারে, কিন্তু সহিংসতা খুবই বিরল।
{{Infobox|ফুটবল|অস্ট্রেলিয়ায় "football/ফুটবল" শব্দটি দ্ব্যর্থক; জায়গা ও আলাপসঙ্গীর ওপর অর্থ বদলে যায়। তবে একা "football" (ফুটবল) বলা হলে তা প্রায় কখনোই এসোসিয়েশন ফুটবল বোঝায় না—অস্ট্রেলিয়ায় সেটি "সকার" নামে পরিচিত। সাধারণভাবে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে "football" (ফুটবল) বা "footy" (ফুটি) বলতে '''রাগবি লিগ''' বোঝায়, আর অস্ট্রেলিয়ার বাকি অংশে বোঝায় '''অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল'''।
অযোগ্য/কোয়ালিফাই না করা '''rugby/রাগবি''' শব্দটি অস্ট্রেলিয়ায় সর্বদা রাগবি ইউনিয়ন বোঝায়—কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসেও, যেখানে রাগবি লিগ বেশি জনপ্রিয়। তাই যদি কেউ জিজ্ঞেস করে “ফুটবল না রাগবি পছন্দ?”, তারা আসলে রাগবি লিগ না রাগবি ইউনিয়ন—এটা জানতে চায়।}}
* ভিক্টোরিয়ায় শীতকালে '''[[অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল]]''' (অজি রুলস, কিছু জায়গায় শুধু “ফুটি”) এক কথায় জীবনযাত্রার অংশ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে একটি ম্যাচ দেখে নিন। ভিক্টোরিয়ায় জন্ম ও জনপ্রিয়তা হলেও জাতীয় প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা '''[https://www.afl.com.au/ অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ (এএফএল)]'''-এ সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থ ও গোল্ড কোস্টের দলও আছে, আর ২০২৮ সাল থেকে হোবার্ট থেকেও একটি দল যুক্ত হবে। '''এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''' প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হয়-এটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে দেখা ইভেন্ট। এখন এএফএল নারীদের লিগ '''[https://womens.afl এএফএল উইমেনস]'''ও চালায়-পুরুষদের মতো জনপ্রিয় না হলেও ভালো দর্শকসমর্থন পায়। পরের নারীদের মৌসুমে (২০২০) পুরুষদের বর্তমান বাজারের সব শহর মিলিয়ে ১৪টি দল খেলেছিল।
* গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক '''[[ক্রিকেট]]'''-অস্ট্রেলিয়া ও অন্তত দুইটি সফরকারী দলের মধ্যে-সব রাজধানী শহরে ঘুরে-ঘুরে হয়। ঐতিহ্য চাইলে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৫ দিনের নিউ ইয়ার্স টেস্ট বা মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বক্সিং ডে টেস্ট দেখুন। কয়েক ঘণ্টার প্রাণবন্ত বিনোদনের জন্য টি-টোয়েন্টি দেখতে পারেন। ঘরোয়া লিগ [[বিগ ব্যাশ লিগ|বিগ ব্যাশ লিগ]] ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। একদিনের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সাধারণত দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা/১১টা (ডে-নাইটার), আর ঘরোয়া বেশিরভাগ ও মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। '''অস্ট্রেলিয়া ডে''' ওডিআই প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি অ্যাডিলেডে হয়। '''দ্য অ্যাশেজ''' অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ টেস্টের সিরিজ-প্রতি ৩-৪ বছরে একবার অস্ট্রেলিয়ায়, আর তখন ম্যাচগুলো সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ ও অ্যাডিলেডে হয়।
* '''[https://ausopen.com/ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন]'''-চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের একটি-প্রতি জানুয়ারিতে [[মেলবোর্ন]] শহরকেন্দ্রের কাছে '''[https://mopt.com.au/ মেলবোর্ন পার্ক]''' কমপ্লেক্সে, প্রধান স্টেডিয়াম '''[http://www.rodlaverarena.com.au/ রড লেভার এরিনা]'''-সহ অনুষ্ঠিত হয়।
[[File:Hunter Stadium Day.JPG|thumb|নিউক্যাসলে হান্টার স্টেডিয়াম]]
* '''[[Rugby Football#Rugby union|রাগবি ইউনিয়ন]]'''–এর সুপার রাগবি ম্যাচ দেরি গ্রীষ্ম/শরতে ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, পার্থ ও সিডনিতে হয়-অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও জাপানের দল অংশ নেয়। জাতীয় দল ওয়ালাবিজ শীতকালে আন্তর্জাতিক দলগুলোকে আতিথ্য দেয়; ‘দ্য রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ’ (আগে ট্রাই নেশন্স)-এ নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলে।
* '''[[Rugby Football#Rugby league|রাগবি লিগ]]''' মূলত নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের শীতকালীন খেলা; প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা '''[https://www.nrl.com/ ন্যাশনাল রাগবি লিগ (এনআরএল)]'''। দল আছে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্ন, কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেন, নর্থ কুইন্সল্যান্ড ও গোল্ড কোস্টে; নিউজিল্যান্ডের একটি দলও আছে; বাকিরা সিডনির উপশহর ও নিউ সাউথ ওয়েলসের আঞ্চলিক শহর (নিউক্যাসল, ক্যানবেরা) থেকে। মৌসুম শেষ হয় সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় '''এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল''' দিয়ে। দেশের রাগবি লিগ ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হলো '''স্টেট অব অরিজিন'''-নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের বার্ষিক সিরিজ; দুইটি সিডনি ও ব্রিসবেনে, তৃতীয়টি কখনো মেলবোর্ন বা পার্থে। অনেকের মতে, অরিজিন সিরিজের খেলার মান রাগবি লিগ বিশ্বকাপের চেয়েও উঁচু।
* '''নেটবল''' অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় নারীদের খেলা; ঘরোয়া সুপার নেটবলে প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ হয় (এটি নিউজিল্যান্ড-সমন্বিত আগের ট্রান্সন্যাশনাল লিগের বদলি)। জাতীয় দল বিশ্বসেরাদের একটি; ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও জ্যামাইকা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
* '''সকার''' জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে-ইউরোপীয় মানে পৌঁছাতে চায়-আর শখের স্তরে খুবই জনপ্রিয়। বহু অভিবাসী ও তাঁদের সন্তানরা ইউরোপীয় ফুটবলসংস্কৃতি থেকে আসায় আগ্রহ বেশি। জাতীয় দল সকারুস ২০১৫ সালে এশিয়া কাপ জিতে খেলাটির প্রোফাইল অনেক বাড়ায়। গ্রীষ্মে পেশাদার '''এ-লিগ''' হয়-অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দল নিয়ে। বেশিরভাগ শহরে শীতে সেমি-প্রো “স্টেট লিগ” হয়-অনেক ক্লাব নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী/অভিবাসী সম্প্রদায়কে ঘিরে গড়ে ওঠা (যেমন [[Newcastle (New South Wales)|নিউক্যাসলের]] ব্রডমিডো ম্যাজিক-স্থানীয় ম্যাসেডোনীয় সম্প্রদায়কে ঘিরে)। নারীদের সকার দর্শকে কম হলেও সমর্থন ভালো; জাতীয় দল ম্যাটিল্ডাস নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলে। নারীদের লিগ হলো ডব্লিউ-লিগ।
* '''[[Formula One|এফ১ গ্রাঁ প্রি]]'''-মার্চে মেলবোর্নের আলবার্ট পার্ক লেক ঘিরে সিটি স্ট্রিট সার্কিটে অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রি ও সহায়ক রেসগুলো হয়।
* '''সুপারকার্স চ্যাম্পিয়নশিপ''' শক্তিশালী ট্যুরিং কারের জনপ্রিয় রেসিং সিরিজ-মার্কিন এনএএসকারের তুলনা টানা যায়, তবে এখানে ওভাল নয়, রোড/স্ট্রিট সার্কিট। মার্চ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত দেশজুড়ে ইভেন্ট হয়; অক্টোবরের ঐতিহ্যবাহী বাথার্স্ট ১০০০ সবচেয়ে বিখ্যাত।
* '''[[ঘোড়দৌড়]]''' অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দর্শকখেলা-সব রাজধানীতে নিয়মিত রেস হয়। ক্যালেন্ডারের সেরা ইভেন্ট বার্ষিক '''মেলবোর্ন কাপ'''-বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দৌড়গুলোর একটি। [[Victoria (state)|ভিক্টোরিয়া]] রাজ্যে এদিন সরকারি ছুটি; সারা দেশেই অনেকেই শুধু এই দৌড় দেখার জন্য টিভি চালায়।
===ভ্রমণপথ===
* [[অ্যান বিডেল হাইওয়ে]]
* [[গিব রিভার রোড]]
* [[গ্র্যান্ড প্যাসিফিক ড্রাইভ]]
* [[গ্রেট ওশান রোড]]
* [[গানব্যারেল হাইওয়ে]]
* [[উডনাডাটা ট্র্যাক]]
* [[স্টুয়ার্ট হাইওয়ে]]: উত্তর-দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া অতিক্রম
* [[ট্যুরিস্ট ড্রাইভ ৩৩]]
* [[ওয়াটারফল ওয়ে]]
* [[অস্ট্রেলিয়ার সামরিক জাদুঘর ও স্থানসমূহ]]
==যা করবেন==
[[File:Bondi 1.jpg|thumb|অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সৈকতগুলির জন্য বিখ্যাত (ছবিতে বন্ডাই বিচ)]]
[[File:Gold-Coast-Skyline-at-Night.jpg|thumb|গোল্ড কোস্টের সার্ফার্স প্যারাডাইস দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির একটি, যেখানে বিশ্বের সেরা কিছু সৈকত রয়েছে এবং কাছেই থিম পার্কের সমাহার]]
===সাঁতার===
* '''সার্ফে''': অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অন্তহীন বালুকাময় সৈকত রয়েছে। সিডনির বিশ্ববিখ্যাত [[সিডনি/বন্ডাই|বন্ডাই বিচ]] বা গোল্ড কোস্টের [[সার্ফার্স প্যারাডাইস]]-এ ভিড়ের সঙ্গে যোগ দিন। অথবা নিজের মতো নিরিবিলি সৈকত খুঁজে নিন (তবে বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, টহল দেওয়া সৈকতগুলোই তুলনামূলক নিরাপদ)। ট্রপিক্যাল নর্থ অঞ্চলে প্রবালপ্রাচীর ঢেউ ঠেকিয়ে দেয় বলে ঢেউ ছোট ও পানিও উষ্ণ থাকে। দক্ষিণে সাউদার্ন ওশান থেকে ঢেউ এসে বড় হয় এবং পানি ঠান্ডা থাকে। (আর মাঝখানে সবটাই একেবারে ‘‘ঠিকঠাক’’)।
* '''শান্ত ট্রপিক্যাল সাগরে''': [[ব্রুম|ব্রুমের]] কেবল বিচ প্রতিদিন জোয়ারে পরিষ্কার হয়, নিখুঁত বালু ও উষ্ণ পানি – শীতকালে যাওয়া ভালো।
* '''উষ্ণ প্রস্রবণে''': ডারউইনের দক্ষিণে বেরি স্প্রিংস ও মাতারাঙ্কার মতো অনেক প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ আছে, যেগুলো তালগাছ ও ট্রপিক্যাল সবুজে ঘেরা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রিসোর্টও এমন প্রাকৃতিক পুল বানাতে পারবে না।
* '''মিঠাপানির হ্রদে''': অভ্যন্তরীণ অস্ট্রেলিয়া শুকনো হলেও অনেক জায়গায় হ্রদ আছে। কেয়ার্নসের অভ্যন্তরে আথারটন টেবিলল্যান্ডস বা [[কুরাওইনিয়া জাতীয় উদ্যান]] ঘুরে দেখুন। কুমিরের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
* '''নদীতে''': গরম থাকলে আর পানি থাকলেই সেখানে সাঁতারের জায়গা থাকবে। স্থানীয়দের কাছে প্রিয় সাঁতার কাটা গর্ত বা দড়ি দিয়ে লাফ দেওয়ার জায়গা জেনে নিন। কুমিরের ব্যাপারে সাবধান।
* '''মানবসৃষ্ট পুলে''': নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার ছোট শহরে স্থানীয় সুইমিং পুল গ্রীষ্মের রবিবারে কমিউনিটি জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। সিডনি ও নিউক্যাসলের সমুদ্রপাড়ের অনেক উপশহরে কংক্রিট/শিলা কেটে বানানো ‘বাথস’ আছে যেখানে সমুদ্র সৈকতের পাশে নিরাপদে সাঁতার কাটা যায়।
* '''সৈকতে'''! পানির ধারে নিজের জায়গা খুঁজে নিন আর তোয়ালে পেতে বসুন। শীতে ট্রপিক্যাল নর্থে, গ্রীষ্মে দক্ষিণে। তবে সব সময় সূর্যের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
===বুশওয়াকিং===
{{main|অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং}}
বুশওয়াকিং অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বিনোদন। জাতীয় উদ্যান ও রেইনফরেস্টে বুশওয়াকিং করা যায়। কিছু এলাকায় স্থানীয় আদিবাসীদের নেতৃত্বে গাইডেড বুশওয়াক হয়, যেখানে তাদের সংস্কৃতি জানার দুর্দান্ত সুযোগ মেলে।
===ডাইভিং===
[[File:Giant clam with diver.jpg|thumb|গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে এক স্কুবা ডাইভার একটি জায়ান্ট ক্ল্যাম দেখছে]]
* '''স্নরকেলিং''': কুইন্সল্যান্ড উপকূলে [[গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ]]-এ যান, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার [[এক্সমাউথ (ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া)|নিঙ্গালু রিফে]]। [[বায়রন বে]]-এর জুলিয়ান রকস, বা [[বান্ডাবার্গ|বান্ডাবার্গে]]<nowiki/>র- সৈকত থেকেও স্নরকেলিং করে ট্রপিক্যাল মাছ দেখা যায়।
* [[অস্ট্রেলিয়ায় স্কুবা ডাইভিং|স্কুবা ডাইভিং]]
===খেলাধুলা===
* [[অস্ট্রেলিয়ায় গলফ|গলফ]]
* '''রক ক্লাইম্বিং'''
* '''মাউন্টেন বাইকিং''': [[স্নোয়ি মাউন্টেনস]] বা ক্যানবেরার ব্ল্যাক মাউন্টেনে ট্রেইল চেষ্টা করুন, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মুন্ডা বিদ্দি ট্রেইলে কয়েকদিন ধরে সাইকেল চালান।
* '''ঘোড়ায় চড়া''': ইউরোপীয় উপনিবেশকদের আগমনের পর থেকে ঘোড়া অস্ট্রেলিয়ার জীবনের অংশ। বিশাল দূরত্ব ও কঠিন পরিবেশ পাড়ি দিতে ঘোড়ার উপর নির্ভরশীলতা অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আজ ঘোড়ায় চড়া এখানে বিনোদন, কাজ, গরু সামলানো থেকে শুরু করে কোটি ডলারের রেসিং শিল্প পর্যন্ত বিস্তৃত। শহরতলি ও গ্রামে ছোট পোনি খামার ও প্রিয় ঘোড়াগুলো দেখা যায়, যা অস্ট্রেলিয়ানদের ঘোড়ার প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার প্রমাণ।
===স্কি===
অস্ট্রেলিয়া স্কি-গন্তব্য হিসেবে বিশ্বমানের নয়, কারণ পাহাড়গুলো তুলনামূলক নিচু এবং তুষার অনিশ্চিত। তবে দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ায় উন্নত স্কি সুবিধা আছে। তাসমানিয়াতেও সঠিক আবহাওয়া হলে কয়েক মাস স্কি করা যায়।
দেখুন [[অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা]]
===সার্ফ===
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রত্যন্ত কোণায়ও ভালো সার্ফ ব্রেক খুঁজে পাবেন, আর সেখানেও সার্ফার থাকবে। অস্ট্রেলিয়ানরা সার্ফ ভালোবাসে এবং ঢেউ থাকলেই তারা সেখানে থাকে। কেয়ার্নস থেকে কারাথা পর্যন্ত শীর্ষ প্রান্ত ছাড়া প্রায় প্রতিটি উপকূলে সার্ফিং হয়।
===রোমাঞ্চকর কার্যকলাপ===
* '''স্কাই ডাইভিং''': সারা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে
* '''হট এয়ার বেলুন''': ক্যানবেরা, ব্রিসবেন বা [[রেড সেন্টার#করুন|রেড সেন্টার]]-এ
* '''কাইট সার্ফিং''' ও '''উইন্ডসার্ফিং''': পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ডটন ও করোনেশন বিচ-এ
* '''হোয়াইটওয়াটার রাফটিং''': [[তাসমানিয়া]] বা [[দূর উত্তর কুইন্সল্যান্ড]]-এ
===জুয়া===
[[File:2008BerriganCup1.JPG|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের ছোট শহর বেরিগানে বেরিগান কাপ ঘোড়দৌড়]]
অস্ট্রেলিয়ানদের বলা হয়, যদি দুটো মাছি দেয়ালে উঠতে থাকে, তবে দেখবেন কোনো অজি ইতিমধ্যে বাজি ধরেছে।
* '''ক্যাসিনো''': মেলবোর্নের ক্রাউন ক্যাসিনো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড়। তবে কেয়ার্নস, [[লন্সেস্টন]], এলিস স্প্রিংস, গোল্ড কোস্ট, [[টাউনসভিল]]সহ প্রতিটি রাজধানী শহরে ক্যাসিনো আছে।
* '''[[ঘোড়দৌড়|ঘোড়দৌড়ের দিন]]''': সব রাজধানী শহরে সপ্তাহান্তে ঘোড়দৌড় হয়। পরিবার-সহ আয়োজন হয়, ফ্যাশন ও সামাজিকতা তার অংশ। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রায় প্রতিটি পাবেই ট্যাব থাকে। এছাড়া গ্রেহাউন্ড দৌড় ও ট্রটিং সন্ধ্যায় হয়। ছোট শহরের বার্ষিক দৌড় উৎসব স্থানীয়দের কাছে বড় অনুষ্ঠান। [[বার্ডসভিল]] রেস বিখ্যাত। আর প্রতি নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় মেলবোর্ন কাপের সময় রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়।
* '''অদ্ভুত দৌড়''': গিরগিটি দৌড়, আখ-ভেক দৌড়, উট দৌড়, কাঁকড়া দৌড়। এগুলোর উপর বাজি ধরা আইনত নিষিদ্ধ হলেও গোপনে চলে।
* '''টু-আপ''': আনজাক ডে (২৫ এপ্রিল)-এ স্থানীয় আরএসএল ক্লাবে কয়েন ছুঁড়ে বাজি ধরা হয়।
* '''স্লট মেশিন''': বিশ্বে মোট স্লট মেশিনের এক-চতুর্থাংশ অস্ট্রেলিয়ায়। এর অর্ধেকের বেশি নিউ সাউথ ওয়েলসে। মদ্যপানাগার ও ক্লাবগুলোতে ‘‘ভিআইপি লাউঞ্জ’’ নামে গেমিং রুম থাকে। তবে আসক্ত হবেন না।
* '''ট্যাব''': প্রতিটি শহর ও শহরতলিতে টোটালিসেটর এজেন্সি বোর্ড (ট্যাব) শাখা থাকে। সেখানে গিয়ে খেলাধুলায় বাজি ধরতে পারেন, যদিও পরিবেশ সাধারণত নিরানন্দময়।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের জুয়া খেলা আইনত নিষিদ্ধ। তাই শিশুদের প্রবেশ অনেক স্থানে সীমিত।
===রয়্যাল শো===
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্য ও মূল ভূখণ্ডে বার্ষিক '''রয়্যাল শো''' হয়। এগুলো কৃষি প্রদর্শনী হলেও বিনোদন, মেলা ও রাইড থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ফেয়ারের মতো এগুলো বসন্ত বা শরতে অনুষ্ঠিত হয়।
==কিনুন==
[[File:Pitt Street Mall February 2016.jpg|thumb|সিডনির পিট স্ট্রিট মল-দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত কেনাকাটার জায়গাগুলোর একটি]]
{{see also|অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা}}
অস্ট্রেলিয়া মূলত একটি '''ক্যাশলেস সমাজ'''-প্রায় সব ব্যবসায় ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড নেয়। ছোট ভ্রমণে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা বদলানোর প্রয়োজন নেই। নগদ এখনও গ্রহণযোগ্য, তবে কেবল-কার্ড নেয় এমন ব্যবসা বাড়ছে।
ক্যাফে, মদ্যপানাগার ও রেস্টুরেন্টে কার্ডে ১–২% সারচার্জ সাধারণ (এবং আইনি)-ক্যাশ বদলালে এর চেয়েও বেশি ক্ষতি হতে পারে।
===মুদ্রা===
{{exchange rate AUD|currencies=USD,EUR,GBP,CAD,NZD}}
{{infobox|গোল্ড কয়েন|না, এগুলো আসল স্বর্ণমুদ্রা নয়। $১ বা $২ অস্ট্রেলীয় কয়েনকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘‘গোল্ড কয়েন’’ বলা হয়। অলাভজনক জাদুঘর ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই ‘‘গোল্ড কয়েন ডোনেশন’’ চায়—মানে একটি $১ বা $২ কয়েন, অথবা তার চেয়েও বেশি।}}
অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার নাম হলো '''ডলার'''। প্রতীক ‘‘'''$'''’’ বা ‘‘'''A$'''’’ (আইএসও কোড: '''AUD''')। এটি ১০০ '''সেন্ট (c)'''-এ বিভক্ত। এই গাইডে ‘‘$’’ চিহ্ন মানে অস্ট্রেলীয় ডলার, যদি ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকে।
মুদ্রা রয়েছে ৫¢, ১০¢, ২০¢, ১২-পাশের ৫০¢, $১ এবং ছোট্ট $২। নোট রয়েছে $৫ (বেগুনি), $১০ (নীল), $২০ (লাল), $৫০ (হলুদ) ও $১০০ (সবুজ)। $১০০ নোট বিরল এবং অনেক দোকানে ব্যবহার করা কঠিন। আধুনিক অস্ট্রেলীয় নোট কাগজে নয়, প্লাস্টিক পলিমারে মুদ্রিত। পুরোনো কাগজের নোট (অত্যন্ত বিরল) অনেক ব্যবসায়ী গ্রহণ নাও করতে পারেন, তবে অধিকাংশ ব্যাংকে এগুলো নতুন নোটের সঙ্গে বিনামূল্যে বদলানো যায়। নগদে লেনদেনে ৫ সেন্টের গুণিতক না হলে মুদ্রার অঙ্ক নিকটবর্তী ৫ সেন্টে রাউন্ড করা হয়। কার্ডে পরিশোধ করলে আসল অঙ্কই চার্জ হয়।
অস্ট্রেলীয় ডলার অন্য কোনো মুদ্রার সঙ্গে বাঁধা নয় এবং এটি বিশ্ব বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বহুল লেনদেন হয়। এর বিনিময় হার প্রায়ই ওঠানামা করে, প্রতিদিন ১–২% পরিবর্তন স্বাভাবিক ব্যাপার।
===মুদ্রা বিনিময়===
[[File:Australian banknotes in wallet.jpg|thumb|অস্ট্রেলীয় ডলার নোট একটি মানিব্যাগে]]
অস্ট্রেলীয় ডলার একটি প্রধান বিশ্ব মুদ্রা হিসেবে ধরা হয়, তাই সারা বিশ্বের মানি চেঞ্জার ও ব্যাংকে সহজলভ্য।
অস্ট্রেলিয়ায় মানি চেঞ্জাররা মুক্ত বাজারে কাজ করে। তারা নির্দিষ্ট কমিশন, শতাংশ ফি, লুকানো বিনিময় হার ফি বা সবকিছুর সমন্বয় চার্জ করতে পারে। ভালো রেট পাওয়ার জন্য বড় ব্যাংক ব্যবহার করুন এবং বিমানবন্দর বা পর্যটনকেন্দ্র এড়িয়ে চলুন। তবে সেরা ও সবচেয়ে খারাপ রেট ছোট ব্যক্তিগত বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসতে পারে। তাই তুলনা করে পরিবর্তন করুন। মুদ্রা বদলানোর আগে অবশ্যই রেট জেনে নিন। সাধারণত পরিচয়পত্র (যেমন পাসপোর্ট) লাগবে।
বড় শহরে মুদ্রা বিনিময় আউটলেট প্রচুর আছে এবং ব্যাংকও বেশিরভাগ মুদ্রা বিনিময় করে। বিমানবন্দরের আউটলেটগুলো সাধারণত সবচেয়ে খারাপ রেট দেয়-প্রায় ১০% ক্ষতি হতে পারে। ব্যাংক সাধারণত ২.৫% পার্থক্য নেয়, সঙ্গে $৫–৮ কমিশন। ‘‘কমিশন ফ্রি’’ অফারগুলোতেও রেট খারাপ হয়। সব ব্যাংকের রেট একই হবে ধরে নেবেন না। সিডনি বিমানবন্দরে ট্যুরিস্ট ব্রোশিওরে আমেরিকান এক্সপ্রেসের কমিশন-ফ্রি ভাউচারও পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিএরিয়াস, মায়েস্ট্রো, মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড দিয়ে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা তোলার এটিএম থাকে।
===ব্যাংকিং===
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ, যদি আপনার স্থানীয় ঠিকানা থাকে। পরিচয় প্রমাণ (যেমন পাসপোর্ট) দেখাতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম খুচরা ব্যাংক হলো-'''[http://www.nab.com.au ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক (NAB)]''', '''[http://www.anz.com অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (ANZ)]''', '''[https://www.commbank.com.au/ কমনওয়েলথ ব্যাংক]''' এবং '''[http://www.westpac.com.au/ ওয়েস্টপ্যাক]'''।
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব শহরেই এটিএম আছে। এগুলো বেসরকারীকরণ করা হয়েছে, তাই অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারে। সাধারণত প্রায় $২। এটিএম স্ক্রিনে ফি দেখাবে এবং আপনি লেনদেন বন্ধ করতে পারবেন। আপনার ব্যাংকও বিদেশে মুদ্রা তোলার জন্য আলাদা ফি নিতে পারে।
===খরচ===
{{infobox|দ্রুত পরিবর্তনশীল মুদ্রার মান|অস্ট্রেলীয় ডলার বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল মুদ্রাগুলোর একটি। এর দাম লোহার আকরিক ও কয়লার মতো পণ্যের মূল্যের সঙ্গে ওঠানামা করে। গত ১০ বছরে ‘‘অজি’’ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৫০ সেন্ট থেকে $১.৫০ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তাই ভ্রমণের খরচ কখনও যুক্তিসঙ্গত, কখনও ভীষণ ব্যয়বহুল হতে পারে।}}
অস্ট্রেলিয়া সাধারণত ব্যয়বহুল। রাজধানী শহরে ডরম শেয়ার করলে প্রতি রাতে প্রায় $৫০, কেয়ার্নসের মতো জায়গায় $৩০ হতে পারে। রাজধানীর শহরতলিতে বা গ্রামে একটি সাধারণ মোটেল ডাবল রুম প্রায় $১০০ থেকে শুরু। রাজধানী শহরের সিটি সেন্টারে হোটেল ডাবল রুম প্রায় $২০০ থেকে শুরু।
গাড়ি ভাড়া দিনে প্রায় $৬৫। গণপরিবহনের ডে-পাস শহরভেদে $৯–২০।
ক্যাফেতে একবেলা খাবার প্রায় $১৫–২০। রেস্তোরাঁয় প্রধান খাবার $২৫ থেকে শুরু।
সাধারণ টেকঅ্যাওয়ে খাবার-বার্গার, স্যান্ডউইচ বা কয়েক স্লাইস পিৎজা প্রায় $১০। একটি বিগ ম্যাক $৭.৯০। পাই বা সসেজ রোল $৫ থেকে।
লো-এন্ড পাব-এ হাউস বিয়ারের ছোট গ্লাস (২৮৫ মিলি) প্রায় $৮ এবং ওয়াইনের গ্লাস $১০। টেকঅ্যাওয়ে হিসেবে ২৪ ক্যান বিয়ারের কেস অন্তত $৪৫, এক বোতল ওয়াইন $১০ থেকে।
পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানীগুলোর মধ্যে বিমানের ভাড়া সাধারণত একপথে $১৫০, তবে সময়মতো বুকিং করলে $৬০ পর্যন্ত কমতে পারে। দেশ পেরোতে প্রায় $৩৫০ লাগে। স্টেট-রান ট্রেনে কিছুটা সস্তা, বাসে আরও কম। তবে বেসরকারি লাক্সারি ট্রেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
সমুদ্রসৈকত বা শহরের পার্কে প্রবেশ সাধারণত ফ্রি। কিছু জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে প্রতিদিন $৬–২০ চার্জ হয়। দূরবর্তী পার্কগুলো ফ্রি। জাদুঘরে সাধারণত $১০, থিম পার্কে প্রায় $৭০।
===কর===
অস্ট্রেলিয়ায় ১০% ‘‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST)’’ রয়েছে, যা অপরিশোধিত খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা বাদে সব পণ্যে প্রযোজ্য। ভোক্তার জন্য প্রদর্শিত দামের মধ্যেই জিএসটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। রসিদে আলাদা করে উল্লেখ থাকে। [[অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা#Tourist Refund Scheme|ট্যুরিস্ট রিফান্ড স্কিমের]] মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা জিএসটি ফেরত পেতে পারেন।
===ক্রেডিট কার্ড===
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। '''মাস্টারকার্ড''' ও '''ভিসা''' সবচেয়ে প্রচলিত। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবও বড় দোকানে ও সুপারমার্কেটে নেওয়া হয়। সার্কাস বা মায়েস্ট্রো লোগোযুক্ত কার্ডও কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ান ডেবিট কার্ড ‘‘ইএফটপস’’ সিস্টেমে চলে। ইউনিয়নপে, আলিপে ও উইচ্যাট পে ক্রমশ প্রচলিত হচ্ছে, তবে নির্ভরযোগ্য নয়।
কনট্যাক্টলেস কার্ড, '''অ্যাপল পে''', '''গুগল পে''', '''স্যামসাং পে''' প্রচলিত। $১০০-এর বেশি হলে পিন প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রেডিট কার্ডে পিন থাকে। বিদেশি কার্ডে পিন না থাকলে সাইন করা যায়, তবে দোকানিরা অনেক সময় জানেন না। তাই সম্ভব হলে পিন রাখুন।
কার রেন্টাল, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন, কিছু ডিসকাউন্ট রিটেইলার ও সার্ভিস স্টেশনে ক্রেডিট কার্ড সারচার্জ নেওয়া হয়। ক্যাফে, বার ও রেস্তোরাঁতেও বাড়ছে। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবে বেশি (২–৪%), ভিসা ও মাস্টারকার্ডে সাধারণত ১.৫%।
===দরকষাকষি===
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ দোকানে দরকষাকষি প্রচলিত নয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দোকানের রেট দেখালে অনেক সময় ছাড় দেয়। দামি পণ্য বা একাধিক জিনিস কিনলে ছাড় চাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, জুয়েলারিতে ১০% ছাড় পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে অকারণে দরদাম করলে তা অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয় এবং ব্যর্থ হবে।
===বকশিশ===
অস্ট্রেলিয়ায় [[বকশিশ]] প্রচলিত নয়, তবে চাইলে দিতে পারেন।
রেস্তোরাঁর দামে সার্ভিস ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকে। চমৎকার সার্ভিস পেলে সামান্য বকশিশ দিতে পারেন। কিছু রেস্তোরাঁ কার্ড পেমেন্টে টিপস যোগ করার সুযোগ দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কিছু জায়গায় ‘‘টিপস’’ লেখা বাটি থাকে, তবে অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান কোনো টিপস দেন না। বারটেন্ডারদের সাধারণত টিপস দেওয়া হয় না।
হোটেল কর্মী, পোর্টার, ট্যুর গাইড, ফুড ডেলিভারি বা হেয়ারড্রেসার-কেউই বকশিশ আশা করেন না। ট্যাক্সি ড্রাইভাররাও না, তবে অনেক সময় যাত্রীরা ভাড়া পরের ডলারে রাউন্ড করে দেন।
ক্যাসিনোতে গেমিং কর্মীদের টিপস দেওয়া নিষিদ্ধ-এটি ঘুষ হিসেবে ধরা হয়। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তাকে টিপস দেওয়া অপরাধ গণ্য হয়।
===বাণিজ্যিক সময়===
[[File:The_Strand_Arcade_interior_photographed_from_the_top_level,_Sydney_01.jpg|thumb|দ্য স্ট্র্যান্ড আর্কেড, [[সিডনি]]]]
অস্ট্রেলিয়ার '''মৌলিক ব্যবসায়িক সময়''' সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৫টা। এক রাত দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে-বেশিরভাগ শহরে শুক্রবারে রাত ৯টা পর্যন্ত, ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে বৃহস্পতিবারে। রবিবার ট্রেডিং বড় শহরে প্রচলিত, তবে গ্রামীণ এলাকায় নয়।
বড় সুপারমার্কেটগুলো সাধারণত সপ্তাহের দিনে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে (কখনও মধ্যরাত পর্যন্ত)। ৭/১১-এর মতো কনভেনিয়েন্স স্টোর বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা।
ফাস্ট ফুড চেইনগুলোও ২৪ ঘণ্টা বা গভীর রাত পর্যন্ত খোলা। শহরের ফুড কোর্টগুলো বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তবে শপিং সেন্টারের ফুড কোর্ট বেশি সময় খোলা থাকে।
সার্ভিস স্টেশন বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা, তবে গ্রামীণ এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর ও রবিবার বন্ধ থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার '''সপ্তাহান্ত''' শনিবার ও রবিবার। বড় শহরে সপ্তাহান্তে দোকান প্রায় সর্বত্র খোলা থাকে, তবে সময় কিছুটা কম। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ব্যতিক্রম, যেখানে রবিবার বড় দোকান খোলার ওপর সীমাবদ্ধতা আছে। ছোট শহরে রবিবার ও শনিবার বিকেলের পর দোকান বন্ধ থাকে। পর্যটক-নির্ভর শহরে সপ্তাহান্তে খোলা থাকে, তবে সোমবার-মঙ্গলবার দোকান বন্ধ থাকে।
পর্যটক এলাকায় দোকান অনেক সময় দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে। যেমন [[সিডনি/ডার্লিং হারবার|ডার্লিং হারবার]]-এ প্রতিরাতে দীর্ঘ সময় খোলা থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক সোমবার–শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৪টা খোলা থাকে, শুক্রবারে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। তবে এটিএম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এবং মুদ্রা বিনিময় আউটলেটের সময় আরও দীর্ঘ।
==খাওয়া==
{{see also|অস্ট্রেলীয় খাবার}}
অস্ট্রেলীয় খাবার মূলত ১৯৬০ ও ৭০-এর দশক পর্যন্ত ব্রিটিশ ও আইরিশ ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের প্রভাবে গড়ে উঠেছিল। তবে জার্মানি, ইতালি, গ্রিস ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অভিবাসনের ইতিহাস থাকায় অস্ট্রেলীয় খাবারে এসব সংস্কৃতির প্রভাব এখন ব্রিটিশ ও আইরিশ প্রভাবের তুলনায় আরও স্পষ্ট। বিপুল সংখ্যক এশীয় অভিবাসীর আগমনও অস্ট্রেলীয় খাবারে নিজের ছাপ রেখেছে; অনেক অস্ট্রেলীয় শেফ পশ্চিমা খাবারের সঙ্গে এশীয় স্বাদ মিশিয়ে পরিবেশন করেন।
বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর নিজেদের স্বতন্ত্র খাবার রয়েছে। তবে এরা অনেক অদ্ভুত উপাদান ব্যবহার করায় এগুলো মূলধারার অস্ট্রেলীয় খাবারের অংশ হয়নি। তবু [[ফাইন ডাইনিং]]-এ ক্রমশ আরও বেশি অস্ট্রেলীয় সেলিব্রিটি শেফ তাদের খাবারে স্থানীয় স্বাদ ব্যবহার করছেন।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, অস্ট্রেলিয়ায় টেবিল ম্যানার [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] নিয়ম অনুসারে হয়।
===কোথায় খাবেন===
{{infobox|বিওয়াইও - নিজের পানীয় আনুন|BYO-এর মানে হলো ''Bring Your Own'' (নিজের অ্যালকোহল আনা)। অস্ট্রেলিয়ার বহু শহুরে এলাকায় ছোট, সস্তা রেস্তোরাঁ আছে, যেগুলো মদের লাইসেন্স পায়নি, তবে ক্রেতাদের বাইরে থেকে আনা ওয়াইন খাওয়ার অনুমতি দেয়। এটি সাধারণত রেস্তোরাঁ থেকে ওয়াইন কেনার চেয়ে অনেক সস্তা। কিছু BYO রেস্তোরাঁ বিয়ারও অনুমতি দেয়, তবে বেশিরভাগই শুধু ওয়াইন। কর্কেজ ফি দিতে হয়—যা ২ থেকে ১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে, কখনও মাথাপিছু হিসাবেও হয়। যে রেস্তোরাঁগুলো মদ বিক্রির লাইসেন্সপ্রাপ্ত, সেখানে সাধারণত BYO অনুমোদিত নয়।}}
{{infobox|বার্গার কিং কোথায় গেল?|ভ্রমণকারীরা প্রায়ই অবাক হন দেখে যে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো বার্গার কিং নেই। এখানে বার্গার কিং-এর নাম হলো "হাঙ্গরি জ্যাকস"। কারণ অ্যাডিলেডে ইতিমধ্যেই "বার্গার কিং" নামে একটি ছোট দোকান ছিল, তাই ট্রেডমার্ক সমস্যার কারণে নতুন নাম নিতে হয়েছিল।
২০০১ সালে "হাঙ্গরি জ্যাকস" বার্গার কিং নাম ব্যবহারের অধিকার পেলেও, পুরোনো নামটি জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ায় তারা "হাঙ্গরি জ্যাকস"-ই রেখে দেয়।}}
অস্ট্রেলিয়ার শহর ও নগরগুলোতে বাইরে খাওয়ার কোনো অভাব নেই। ভালো আন্তর্জাতিক খাবারের রেস্তোরাঁ ছাড়াও আছে-
* '''পাব'''-এখানে সাধারণত লাঞ্চ ও ডিনারে পরিবেশন করা হয় মজবুত অজি খাবার যেমন স্টেক, বার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, চিকেন পার্মিজানা। খাবার সাধারণত প্রধান কাউন্টার থেকে আলাদা কোনো বিস্ত্রো বা রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয়।
* '''ক্লাব'''-যেমন বোলিং ক্লাব, লীগস ক্লাব, আরএসএল (RSL) ক্লাব, শহর ও নগরে প্রচুর দেখা যায়। কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বেশি প্রচলিত। অধিকাংশই ভিজিটরদের অনুমতি দেয় এবং প্রায়ই সুলভ দামে খাবার মেলে। সাধারণত দ্রুত, বিনামূল্যের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া থাকে।
* '''ক্যাফে'''-প্রায় প্রতিটি শহর ও উপশহরে ক্যাফে বা কফিশপ থাকে। এগুলোতে সকালের নাস্তা, হালকা খাবার ও কেক পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগই বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
* '''বেকারি'''-রুটি, পাই বা সসেজ রোল কেনার জন্য ভালো জায়গা।
* '''ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁ'''-ম্যাকডোনাল্ড’স (বা ''ম্যাকাস''), সাবওয়ে, কেএফসি প্রচলিত। বার্গার কিংয়ের পরিবর্তে আছে হাঙ্গরি জ্যাকস। রেড রুস্টার অস্ট্রেলীয় চেইন, যারা বারবিকিউ চিকেন পরিবেশন করে। ওপোর্টো হলো ন্যান্ডোস-এর অস্ট্রেলীয় সংস্করণ।
* '''টেকঅ্যাওয়ে'''-মিল্ক বার, সুশি স্টোর ও অন্যান্য দোকানে সুশি, পাই, রোস্ট চিকেন, হ্যামবার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, গাইরোস ও কাবাব মেলে।
* '''ফুড কোর্ট'''-বেশিরভাগ শপিং সেন্টারে ফুড কোর্ট থাকে, এমনকি ছোট শহরগুলোতেও।
* '''পিকনিক'''-অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া সাধারণত এমন যে খাবার নিয়ে নিকটবর্তী পার্ক, নদী, লেক বা সৈকতে বসে খাওয়া যায়।
* '''বারবিকিউ'''-অস্ট্রেলিয়ানদের প্রিয় শখ। অনেক পার্কেই বিনামূল্যে বারবিকিউর ব্যবস্থা থাকে। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই “শ্রিম্প অন দ্য বারবি” খায়-আসলে এখানে শ্রিম্পকে প্রন বলা হয়। স্টেক, চপ, সসেজ, চিকেন ফিলে, মাছ ও কাবাব সাধারণত বারবিকিউ করা হয়।
* '''ওয়াইনারি'''-অনেক ওয়াইনারির নিজস্ব রেস্তোরাঁ থাকে, যেখানে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়, আর সঙ্গে থাকে তাদের নিজস্ব ওয়াইন। সাধারণত শুধু লাঞ্চে খোলা থাকে, তবে কিছু উচ্চমানের জায়গায় মাল্টিকোর্স ডেগাস্টেশন ডিনারও হয়।
[[File:Jackadder Lake barbecues.jpg|thumb|ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার উডল্যান্ডসের জ্যাকঅ্যাডার লেকে আউটডোর বারবিকিউ। অস্ট্রেলিয়ার বহু পার্কেই একই ধরনের সুবিধা আছে।]]
[[File:Centre Place Dec 2012.jpg|thumb|মেলবোর্ন সিবিডির সেন্টার প্লেসে সারি সারি ক্যাফে]]
===স্থানীয় খাবার===
[[File:Kangaroo fillet.JPG|thumb|সিডনির একটি রেস্তোরাঁয় ক্যাঙ্গারু ফিলে]]
{{see also|অস্ট্রেলীয় খাবার#আদিবাসী খাবার (বুশ টাকার)}}
দুঃখজনক হলেও সত্যি, অস্ট্রেলীয় রেস্তোরাঁয় স্থানীয় খাবার খুব বেশি পাওয়া যায় না। এগুলো সুপারমার্কেট বা দেশের দূরবর্তী এলাকায় কিছুটা মেলে। ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী খাদ্যতালিকায় বিপন্ন প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সীমিত এবং আপনার জন্য অপ্রাপ্য।
* '''ক্যাঙ্গারু'''-অনেক সুপারমার্কেট ও কসাইখানায় পাওয়া যায়। মিডিয়াম-রে পর্যন্ত বারবিকিউ করা ভালো, নইলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। এর স্বাদ গরুর মাংসের মতো, মাঝে মাঝে পর্যটন এলাকার রেস্তোরাঁর মেনুতেও থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ মিলিয়নেরও বেশি ক্যাঙ্গারু আছে, এরা পরিবেশের ক্ষতি কম করে এবং কম কার্বন নিঃসরণ করে।
* '''কুমির'''-নর্দার্ন টেরিটরি ও কুইন্সল্যান্ডের ফার্ম থেকে উৎপাদিত মাংস শীর্ষ প্রান্তে সহজেই পাওয়া যায়। হোয়াইট মিট, যার স্বাদ মুরগির মতো।
* '''ইমু'''-কম ফ্যাটযুক্ত লাল মাংস, বিশেষ কসাইখানায় পাওয়া যায়। [[মালেনি]]-তে পাই হিসেবে বা [[সিডনি/দ্য রক্স|দ্য রক্স]]-এ পিজ্জায় চেষ্টা করতে পারেন।
* '''পসাম'''-মূলত তাসমানিয়ায় খাওয়া হয়, বিশেষ করে ব্রুনি আইল্যান্ডে।
* '''বুশ মুদ্রার'''-অনেক ট্যুরে আপনাকে বেরি, বাদাম, মূল, পিঁপড়ে ও গ্রাবসের মতো খাবার চেখে দেখার সুযোগ দেয়। '''ম্যাকাডেমিয়া বাদাম''' একমাত্র অস্ট্রেলীয় উদ্ভিদ যা বাণিজ্যিকভাবে খাবারের জন্য চাষ হয়। কিছু স্বাদ অর্জিত রুচি হলেও স্থানীয় মসলা অবশ্যই চেষ্টা করার মতো এবং এখন ক্রমশ ফাইন ডাইনিং-এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কৃষক বাজার ও উন্মুক্ত উৎসবে বুশ মুদ্রার আইসক্রিমও কখনও কখনও মেলে।
===খাবারের বাইরেও===
[[File:Pavlova Dessert.jpg|thumb|ক্রিম ও রাস্পবেরি দিয়ে সাজানো পাভলোভা]]
অস্ট্রেলিয়ায় এমন অনেক ব্রিটিশ-প্রভাবিত খাবার আছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ততটা পরিচিত নয়, তবে অবশ্যই চেখে দেখার মতো।
* '''ভেজিমাইট'''-এক ধরনের নোনতা ইস্ট-ভিত্তিক স্প্রেড। টোস্টে পাতলা করে মাখানো সবচেয়ে ভালো। কিনতে না চাইলে যেকোনো কফিশপে সকালের নাস্তায় পাবেন। পাতলা করে মাখানোই রহস্য-মাখন ভুলবেন না। যুক্তরাজ্যের মার্মাইট বা সুইজারল্যান্ডের সেনোভিসের মতো স্বাদ।
* '''টিম-ট্যাম'''-চকলেট বিস্কুট স্যান্ডউইচ, ভেতরে ফাজ-ফিলিং। টিম-ট্যাম স্লাম অবশ্যই চেষ্টা করার মতো-দুই প্রান্ত কামড় দিয়ে কাপে চা বা কফি দিয়ে স্ট্র হিসেবে ব্যবহার করুন।
* '''ল্যামিংটন'''-চকলেট আইসিং-এ ডোবানো ও নারকেলের গুড়ায় গড়ানো স্পঞ্জ কেক। কুইন্সল্যান্ডের গভর্নর লর্ড ল্যামিংটনের নামে নামকরণ।
* '''পাভলোভা'''-মেরিঙ্গ কেক, উপরে ক্রিম ও টাটকা ফল দিয়ে সাজানো। বিশেষ অনুষ্ঠান বা বারবিকিউ-র শেষে পরিবেশন হয়। [[নিউজিল্যান্ড#খাওয়া|নিউজিল্যান্ড]]-এর সঙ্গে প্রায়ই এই রেসিপির উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক হয়।
* '''এনজ্যাক বিস্কুট'''-নারকেল, ওটস, আটা, চিনি ও গোল্ডেন সিরাপের মিশ্রণে তৈরি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের পাঠানো হতো বলে কথিত।
* '''ড্যাম্পার'''-ড্রোভার ও স্টকম্যানদের প্রচলিত সোডা ব্রেড। ময়দা, পানি আর লবণ দিয়ে তৈরি। সাধারণত আগুনের ছাইয়ে রান্না হতো।
* '''চিকো রোল'''-ডিপ-ফ্রাই করা স্ন্যাক, নামের সত্ত্বেও চিকেন থাকে না। এতে থাকে মাটন, সবজি, চাল, বার্লি ও মসলা। মোটা খোলস ফুটবল ম্যাচে খাওয়ার উপযোগী করে বানানো।
* '''অস্ট্রেলিয়ান মিট পাই'''-অনেকের কাছে জাতীয় খাবার। এর একটি ভিন্নতা হলো '''পাই ফ্লোটার''', যেখানে পাই রাখা হয় ঘন মটরশুঁটির স্যুপে।
===অন্যান্য রান্না===
অস্ট্রেলিয়ায় নিম্নোক্ত কুইজিন ব্যাপক (প্রায়শই সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতির মানুষের হাতেই)-
* '''ব্রিটিশ'''-ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার-'''ফিশ-অ্যান্ড-চিপস''' সর্বত্র; ফ্লেক (ছোট হাঙর), ফ্ল্যাটহেড, বারামুন্ডি, কিং জর্জ হুইটিং জনপ্রিয়-ইউকে-র ভিন্ন, এখানে কেচাপ/টার্টার সস প্রচলিত। ব্রিটিশ/আইরিশ-স্টাইল পাবও সাধারণ-তবে মেনুতে থাকে চিকেন পারমা/স্নিটজেল/পাস্তা।
* '''চাইনিজ'''-পুরোনো প্রজন্মের কাছে ‘‘টেকঅ্যাওয়ে’’-এর সমার্থক-আজও অজি-স্টাইল চাইনিজ প্রচুর; বড় শহরে ‘‘চায়নাটাউন’’ বা চীনা-অধ্যুষিত উপশহরে দারুণ অথেন্টিক অপশন; ক্যান্টনিজ ডিম সাম মলে নিবেদিত রেস্টুরেন্টে।
* '''থাই'''-প্রায় সর্বত্র; বিশেষ করে সিডনি থাই খাবারের জন্য বিশ্বসেরা গন্তব্যগুলোর একটি।
* '''ইতালিয়ান'''-অস্ট্রেলিয়ার বড় অভিবাসী সম্প্রদায়-ক্যাফে কালচারের জনক-লাইগন স্ট্রিট (মেলবোর্ন), লাইকার্ট (সিডনি)। অজি-স্বাদের ইটালিয়ান থেকে শুরু করে হাই-এন্ড রিজিওনাল-সবই আছে।
* '''গ্রিক'''-ইতালিয়ানের মতো বিস্তৃত না হলেও সব শহর/টাউনে ভালো অপশন আছে।
* '''লেবানিজ/মধ্যপ্রাচ্য'''-বিশেষ করে সিডনিতে। '''মানুশ'''-হালকা, স্বাস্থ্যকর পিৎজা-জাতীয়। **ফিউশন ডিশ** ‘‘হালাল স্ন্যাক প্যাক’’ (এইচএসপি)-দোনার কাবাব মাংস + চিপস + নানা সস/চিজ-স্টাইরোফোম বক্সে-জাতীয়ভাবে দারুণ জনপ্রিয়। অ্যাডিলেডে ‘‘এবি’’ পূর্বাঞ্চলের এইচএসপি-র মতো-তবে সবসময় হালাল নাও হয়।
* '''ইন্ডিয়ান'''-বেশিরভাগ শহরে ভালো মিড-রেঞ্জ অপশন।
* '''জাপানি'''-বেন্টো/উডন/সুশি ট্রেন-অনেক সময় '''কোরিয়ান'''দের পরিচালনায়; কোরিয়ান রেস্টুরেন্টও (বিশেষত সিডনি/মেলবোর্ন) প্রচুর।
* '''ভিয়েতনামিজ'''-ফো/চা জিও সহজলভ্য।
* '''জার্মান'''-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/কুইন্সল্যান্ডে জার্মান বসতির ইতিহাস পুরোনো-শহর ও ঐতিহাসিক টাউনে জার্মান রেস্টুরেন্ট-স্নিটজেল (অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত চিকেন/বিফ), বিভিন্ন সসেজ বুচারিতে সহজলভ্য।
* '''এশিয়ান ফিউশন'''-নতুন ধারার বিভিন্ন এশীয়-অনুপ্রাণিত ডিশ।
===আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান===
আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান হলো সাম্প্রতিক রান্নাশৈলী, যা [[ফাইন ডাইনিং]] রেস্তোরাঁয় দেখা যায়। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন শৈলী মিশিয়ে তৈরি, সঙ্গে ঝোপঝাড় থেকে সংগৃহীত স্থানীয় উপাদান ব্যবহৃত হয়।
===শাকাহারি খাবার===
অস্ট্রেলিয়ায় শাকাহারি খাদ্য সহজলভ্য এবং অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে অন্তত একটি বা দুটি শাকাহারি পদ থাকে। অনেক রেস্টুরেন্টে আবার একটি পুরো শাকাহারি মেনু বিভাগও থাকে। নিরামিষভোজীরা কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন, তবে বড় শাকাহারি মেনু যেসব রেস্টুরেন্টে থাকে, সেখানে কিছু নমনীয়তা আশা করা যায়। বড় শহরগুলোতে এবং পূর্ব উপকূলের ব্যাকপ্যাকার-বান্ধব উপকূলীয় শহরগুলোতে শাকাহারি ও নিরামিষভোজী রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। [[কুরান্ডা]] শহর বা [[বায়রন বে]] উপকূলীয় শহর শাকাহারিদের জন্য একপ্রকার স্বর্গরাজ্য। তবে উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোতে বিশেষ করে নর্দান টেরিটরি, উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর কুইন্সল্যান্ডে শাকাহারিদের জন্য তেমন কিছু ব্যবস্থা নেই, তবে অধিকাংশ শহরেই একটি না একটি চাইনিজ বা থাই রেস্টুরেন্ট থাকে যারা সেদ্ধ ভাত ও সবজি পরিবেশন করে। বিশেষ করে সিডনি ও মেলবোর্ন শহরে নিরামিষভোজীদের জন্য প্রচুর পরিমাণে একেবারে নিরামিষ রেস্টুরেন্ট, নিরামিষ পোশাকের দোকান ও নিরামিষ সুপারমার্কেট রয়েছে।
[[File:Avocado Toast Melbourne (cropped).jpg|thumb|মেলবোর্নে 'স্ম্যাশড অ্যাভো']]
দ্রুত পাওয়া যায় এমন কিছু শাকাহারি বিকল্প:
* ‘স্ম্যাশড অ্যাভো’ হল অ্যাভোকাডো ও ফেটা চিজের মিশ্রণ, টোস্টের উপর পরিবেশন করা হয় এবং সাথে ডিম থাকে। এটি জনপ্রিয় প্রাতঃরাশের একটি আইটেম, এবং (অন্যায়ভাবে) বিলাসী তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
* সুসি দোকানগুলোতে সর্বত্রই সুসি রোল ও টফু পকেট পাওয়া যায়।
* ভিয়েতনামি স্প্রিং রোলের (বান মি) শাকাহারি সংস্করণও সহজলভ্য।
* কোরিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে মাংসবিহীন ভাতের বাটি (যেমন: বিবিমবাপ) পাওয়া যায়।
* পাই দোকানগুলোতে পালং শাক ও রিকোটা চিজ ভরা রোল থাকে।
* অধিকাংশ ফুড কোর্টে একটি নির্দিষ্ট সালাদ কাউন্টার থাকে।
দূরবর্তী আউটব্যাক এলাকাগুলোতে শাকাহারি বিকল্প খুবই সীমিত (প্রচুর প্রক্রিয়াজাত মাংসের পাই, আর কিছুই নয়), তাই আগেই কিছু শাকাহারি খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
===ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাস===
যারা কোশের বা হালাল খাদ্য গ্রহণ করেন, তারা রাজধানী শহরগুলোতে সহজেই বিশেষায়িত কসাই দোকান এবং উপযুক্ত মেনু ও রান্নার ধাঁচবিশিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাবেন। তবে রাজধানীর বাইরে কঠোর ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত খাবার পাওয়া বেশ কঠিন। পশ্চিম সিডনি ও মেলবোর্নের মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এমন এলাকায় ফাস্ট ফুড চেইনগুলো প্রায়ই হালাল অনুমোদিত খাবার সরবরাহ করে।
===অ্যালার্জি===
অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্টগুলো সাধারণত বাদাম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো সাধারণ অ্যালার্জির বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিকল্প পরিবেশন করে। সন্দেহ থাকলে ওয়েটারদের জিজ্ঞেস করুন।
'''গ্লুটেন-মুক্ত''' খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা অস্ট্রেলিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুপারমার্কেট, বেকারি ও রেস্টুরেন্টে গ্লুটেন-মুক্ত পণ্যগুলোর কোনো অভাব নেই, যদিও এসব পণ্যের দাম সাধারণ পণ্যের তুলনায় প্রায়ই বেশি।
===বাজার===
[[File:SydFishMarkets.jpg|thumb|right|300px|সিডনি ফিশ মার্কেটে সামুদ্রিক খাবার]]
মেলবোর্নের কুইন ভিক্টোরিয়া মার্কেট, অ্যাডেলেইডের সেন্ট্রাল মার্কেট এবং পার্থের কাছে ফ্রিম্যান্টল মার্কেট হলো অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় ধাঁচের ঐতিহ্যবাহী খাবারের বাজারের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। সিডনি ফিশ মার্কেট পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত সামুদ্রিক খাবারের বাজার।
অস্ট্রেলিয়ার সব রাজধানী শহর এবং অধিকাংশ আঞ্চলিক শহরে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট স্থানে একদিন (সাধারণত শনিবার বা রবিবার) ‘ফার্মার’স মার্কেট’ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বাজারে প্রধানত টাটকা ফল ও সবজি বিক্রি হয়, কারণ অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বাজার স্টল থেকে সরাসরি মাংস বিক্রি করা নিষিদ্ধ। তবে কিছু কসাই তাদের পণ্যের প্রদর্শনশালাসহ গাড়ির বুট থেকে বিক্রি করেন। এসব বাজারের মূল আকর্ষণ হলো কম দামে টাটকা ফলমূল পাওয়া। পর্যটকদের জন্য এটি অর্থসাশ্রয়ী ও সুস্বাদু ফল কেনার ভালো সুযোগ-এটা নির্ভর করে আপনি কোথায় আছেন এবং মৌসুম কোনটা। যেমন কুইন্সল্যান্ড বা নর্দান টেরিটরিতে গেলে আম পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর তাসমানিয়ায় গেলে আপেল বেশি পাবেন। আঞ্চলিক এলাকায় বাজার সাধারণত শহরের বাইরের কোনো মাঠে বা খেলার মাঠে বসে, আর রাজধানী শহরগুলোর বাজার শহরের মাঝেই হওয়ায় যাতায়াত সহজ হলেও দাম তুলনামূলক বেশি হয়। বিস্তারিত জানার জন্য গন্তব্য সম্পর্কিত গাইডগুলো দেখুন।
==পানীয়==
===বিয়ার===
'''বিয়ার''' অস্ট্রেলীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যদিও বিদেশে ফোস্টারসকে অস্ট্রেলীয় বিয়ার হিসেবে প্রচার করা হয়, এটি বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই পান করে এবং অস্ট্রেলিয়ায় এটি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিয়ার নিয়ে আঞ্চলিক পক্ষপাত অত্যন্ত প্রবল এবং প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব বিয়ার রয়েছে: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় কুপার্স ও ওয়েস্ট এন্ড, ভিক্টোরিয়ায় কার্লটন ও ভিবি (VB), নিউ সাউথ ওয়েলসে টুহিস, কুইন্সল্যান্ডে XXXX (উচ্চারণ “ফোর-এক্স”), তাসমানিয়ায় বোয়াগস ও ক্যাসকেড এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সোয়ান। মাইক্রোব্রুয়ারিগুলিও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং যেকোনো ভালো পাবে সাধারণত ছয়টি বিয়ার ট্যাপে থাকে: সামান্য মিষ্টি প্যাসিফিক এলে ও তুলনামূলক হপযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান প্যালে এলে খুঁজে দেখুন। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন আমদানিকৃত বোতলজাত বিয়ারও সাধারণত সকল পাবেই পাওয়া যায়, শুধুমাত্র একেবারে সাধারণ পাবগুলো বাদে।
[[File:XXXX Brewery Milton.jpg|thumb|ব্রিসবেনের XXXX ব্রুয়ারি]]
"লাইট (লাইট)" বিয়ার বলতে কম অ্যালকোহলযুক্ত বিয়ার বোঝায়, কম ক্যালোরি নয়। এতে পূর্ণ শক্তির বিয়ারের তুলনায় অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক এবং এটি কম হারে করযুক্ত হওয়ায় দামে তুলনামূলক সস্তা। কম ক্যালোরিযুক্ত বিয়ারকে “লো কার্ব” নামে বিক্রি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের বিয়ার ঠান্ডা অবস্থায় পান করতে পছন্দ করে, তাই খসড়া বিয়ার পরিবেশনের গ্লাস বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায় যেন গ্রীষ্মের তাপে উষ্ণ হয়ে ওঠার আগেই গ্লাস শেষ করা যায়। গ্লাসের নামকরণ রাজ্যভেদে এতটাই ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর যে একটি উদাহরণই যথেষ্ট: প্রায় সব জায়গায় '''সকুনার''' (SKOO-নার) ৪২৫ মি.লি., তবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় তা ২৮৫ মি.লি., যা অন্যান্য স্থানে '''মিডি''' বা '''পট''' নামে পরিচিত, তবে ডারউইনে একে বলা হয় '''হ্যান্ডল''', আবার অ্যাডিলেইডে “পট” বলতে বোঝায় ৫৭০ মি.লি. পূর্ণ পাইন্ট, এবং “পাইন্ট” মানে যা অন্যত্র “সকুনার”। প্রতিটি রাজ্যের গাইডে স্থানীয় বিয়ার ও এই বিভ্রান্তিকর পরিভাষার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
বোতলের নামকরণ অপেক্ষাকৃত সহজ: অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সাধারণ সাইজ হলো ৩৭৫ মি.লি. '''স্টাবি''' এবং ৭৫০ মি.লি. '''লংনেক''' বা '''ট্যালি'''। ক্যানজাত বিয়ারকে বলা হয় '''টিনি''', আর ২৪ ক্যান নিয়ে গঠিত প্যাকেটকে বলে '''স্ল্যাব''', '''বক্স''', '''কার্টন''', '''ব্যাগ''' বা '''কেস'''।
===মদ===
[[File:Hunter panorama-1b-web-l.jpg|thumb|[[হান্টার ভ্যালি|হান্টার ভ্যালির]] দ্রাক্ষাক্ষেত্র]]
অস্ট্রেলিয়া শিল্প পরিসরে উচ্চমানের মদ উৎপাদন করে, যেখানে বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলি স্থানীয় বোতল দোকানে সরবরাহ করে ও বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করে। ছোট ছোট বুটিক ওয়াইনারি এবং ক্ষুদ্র সরবরাহকারীরাও প্রচুর রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় খুব ভালো লাল ও সাদা মদ প্রায়ই ১৫ মার্কিন ডলারেরও কম দামে পাওয়া যায়, এবং সবচেয়ে ছোট দোকানেও সাধারণত ৫০টির বেশি ধরনের মদ থাকে।
[[বারোসা ভ্যালি]] (অ্যাডিলেইডের কাছে), [[হান্টার ভ্যালি]] (সিডনির কাছে), [[ইয়াররা ভ্যালি]] (মেলবোর্নের কাছে) এবং [[মার্গারেট রিভার]] (পার্থের কাছে) অঞ্চলগুলো বিশেষভাবে মদ্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত এবং সেখানে সরাসরি ওয়াইনারিতে গিয়ে চেখে দেখার সুযোগ আছে। এছাড়াও উত্তর ভিক্টোরিয়া, [[মাজি]] এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার [[সোয়ান ভ্যালি]] ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার [[ম্যাকল্যারেন ভ্যালি]], [[ক্লেয়ার ভ্যালি]] ও [[কুনাওয়াররা]] অঞ্চলেও বহু ধরনের মদ পাওয়া যায়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে আপনি খুব একটা মদ্য-পথ থেকে দূরে থাকবেন না।
যেখানে সম্ভব স্থানীয় মদ চেখে দেখুন এবং স্থানীয় সুপারিশ অনুযায়ী বেছে নিন। লেবেল বা দামের ফাঁদে পা না দেওয়াই ভালো-সেরা মদ সাধারণত সবচেয়ে দামী বা আকর্ষণীয় লেবেলযুক্তটি নয়। তবে যদি কোনো রেস্টুরেন্টে মদ সরাসরি একটি কাস্ক (৪ লিটারের কন্টেইনার) থেকে দেয়, তাহলে তা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ওয়াইনারিতে মদ সাধারণত দোকানের তুলনায় ২০% বেশি দামে বিক্রি হয়।
যদি আপনি এখনও বিদেশি মদ পছন্দ করেন, তাহলে [[মার্লবোরো (নিউজিল্যান্ড)|মার্লবোরো]] অঞ্চলের নিউজিল্যান্ডের মদ সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্ট ও বোতল দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।
আরও দেখুন: [[অস্ট্রেলিয়ায় দ্রাক্ষা চাষ ও চেখে দেখা]]
===স্পিরিট===
বুন্ডাবার্গ রাম (বান্ডি) হলো একটি অস্ট্রেলীয় ডার্ক রাম, যা বিশেষভাবে কুইন্সল্যান্ডে জনপ্রিয়। কুইন্সল্যান্ডের অনেক মানুষ অন্য কোনো ব্র্যান্ডের রাম ছুঁয়েও দেখেন না। এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত দেশীয় মদ, যা বুন্ডাবার্গে ব্যাপকহারে উৎপাদিত হয় এবং সর্বত্র সহজলভ্য।
অনেক বছর ধরে অন্য অস্ট্রেলীয় ডিস্টিলড স্পিরিট খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট করতে হতো, যেগুলো মূলত ছোটখাটো প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে আসত। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্যেই ডিস্টিলারি আছে, এবং নতুন নতুন ডিস্টিলারি দ্রুত গড়ে উঠছে। অ্যাডিলেডের জিন ডিস্টিলারি ৭৫° এবং অ্যাডিলেড জিন কোম্পানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্মান অর্জন করেছে। তাসমানিয়ার ক্ষুদ্র সুলিভান’স কোভ ডিস্টিলারি ২০১৪ সালে আলোচনায় আসে, যখন তাদের একটি হুইস্কি ‘‘বিশ্বের সেরা সিঙ্গল মল্ট’’ উপাধি লাভ করে। এটি অস্ট্রেলিয়ান হুইস্কি শিল্পে ছোটখাটো উত্থান ঘটায়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও তারা একই কৃতিত্ব পুনরায় অর্জন করে। তাদের ২০১৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওক বোতলের দাম যদি ৮,০০০ অস্ট্রেলীয় ডলার আপনার কাছে বেশি মনে হয়, তবে হোবার্টের মনোরম জলপথ এলাকায় অবস্থিত লার্ক ডিস্টিলারিতে ঘুরে আসতে পারেন। সিডনির আর্চি রোজ-এ জিন ব্লেন্ডিং অভিজ্ঞতা বুক করতে পারেন, উলংগং থেকে ১৫১ ইস্ট ভদকা কিনতে পারেন কিংবা কুনুনুরাতে কয়েক দিন থাকার পর নিশ্চিতভাবেই আপনার অর্ড রিভার রামের প্রয়োজন হবে।
মিক্সড ড্রিঙ্কসও পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভদকা, স্কচ, বোরবন এবং অন্যান্য হুইস্কি মিশ্রণ। স্পিরিটস বোতল ও ক্যানজাত প্রি-মিক্সড আকারেও বিক্রি হয়, তবে সেগুলোর উপর বেশি কর আরোপিত হয়। তাই নিজে মিশিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সস্তা। সব মদ্যপানাগার ও বারে স্পিরিটস পরিবেশন করা হয়, তবে সব রেস্তোরাঁয় নয়। সাধারণ একটি স্পিরিটস মিশ্রণ (যেমন ভদকা ও কমলার রস) একটি বার বা নাইটক্লাবে প্রায় ১২ অস্ট্রেলীয় ডলার খরচ হয়, তবে দাম প্রায় ৯ থেকে ১৮ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
===আইনগত দিক===
অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র মদপানের বৈধ বয়স হলো ১৮ বছর। ১৮ বছরের কম হলে নিজের জন্য অ্যালকোহল কেনা বেআইনি, তেমনি কারো হয়ে অ্যালকোহল কেনাও বেআইনি যদি সে ব্যক্তি ১৮ বছরের কম হয়। একমাত্র বৈধ প্রমাণপত্র হলো অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স, রাজ্য কর্তৃক প্রদত্ত বয়স-প্রমাণপত্র (proof-of-age card), [https://auspost.com.au/id-and-document-services/apply-for-a-keypass-id কীপাস কার্ড] (Keypass) কার্ড অথবা পাসপোর্ট। তাই অ্যালকোহল বা তামাকজাত দ্রব্য কিনতে চাইলে এবং আপনার চেহারা ২৫ বছরের নিচে মনে হলে অবশ্যই সঙ্গে পরিচয়পত্র বহন করা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ বিক্রেতারা সাধারণত ২৫ বছরের কম বয়সীদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র চান। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি এবং তাসমানিয়ায় বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বিদেশি পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য নয়। কেবল পাসপোর্ট বা বৈধ অস্ট্রেলিয়ান পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে। ছবি বা ফটোকপি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
১৮ বছরের কম বয়সে কোনো মদ্যপানাগার বা ক্লাবের জুয়া খেলার অংশে প্রবেশ করা বেআইনি। তবে অনেক মদ্যপানাগার বা ক্লাবে আলাদা লাউঞ্জ, রেস্টুরেন্ট বা বিস্ট্রো অংশ থাকে, যেখানে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যতক্ষণ তারা বারের কাছে না যায় বা এদিক-সেদিক না ঘোরাফেরা করে। শহরের কিছু পাব-এ ভিডিও গেমস ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠও থাকে। গ্রামীণ এলাকার কিছু পাবের পেছনে খোলা জায়গা থাকে, যেখানে বাচ্চারা দৌড়ঝাঁপ করতে পারে।
সাধারণত আপনি পার্ক বা সমুদ্রসৈকতে নিয়ে গিয়ে অ্যালকোহল পান করতে পারেন (যেমন একটি বোতল ওয়াইন বা বিয়ার)। তবে কিছু জনসমাগমস্থলে যেমন পার্ক বা ফুটপাথে 'স্ট্রিট ড্রিঙ্কিং' নিষিদ্ধ। এসব স্থানে সাধারণত সাইনবোর্ড থাকে। যেখানে প্রকাশ্যে মাতলামির সমস্যা হয়েছে, সেসব জায়গায় নিষেধাজ্ঞা বেশি। তবে আপনি যদি দুপুরে পরিবার নিয়ে পিকনিকের ঝুড়ি ও চাদর বিছিয়ে বসে ওয়াইনের বোতল খুলেন, তবে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অ্যালকোহল শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী স্থানে (যেমন পাব, ক্লাব ও অনেক রেস্টুরেন্ট) বসে পান করার জন্য কেনা যায়। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কিনতে হলে বোতলশপ থেকে নিতে হয়। কিছু রাজ্যে সুপারমার্কেটেও অ্যালকোহল বিক্রি হয়। যেখানে বিক্রি হয় না, সেসব রাজ্যে বোতলশপ ও বড় সুপারমার্কেট সাধারণত পাশাপাশি থাকে। যদিও রাজ্যভেদে লাইসেন্স আইন ও সময়সূচী ভিন্ন, তবুও সাধারণত সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বোতলশপ, সুপারমার্কেট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মুদি দোকান ও মদ্যপানাগার থেকে অ্যালকোহল কেনা যায়। এর বাইরে প্রায় অসম্ভব-সিডনি বা মেলবোর্নের মাঝখানে না হলে। তাই যদি বাড়িতে পার্টির পরিকল্পনা থাকে, আগে থেকে স্থানীয় দোকানের খোলা-বন্ধের সময় দেখে মজুত রাখা উচিত। অস্ট্রেলিয়ায় কোনো জ্বালানি স্টেশন বা ২৪ ঘণ্টা খোলা কনভিনিয়েন্স স্টোরে অ্যালকোহল বিক্রি হয় না।
প্রকাশ্যে মাতলামি কতটা সহনীয় তা ভিন্ন ভিন্ন। মদ্যপানাগার ও ক্লাবের আশেপাশে রাতে এটা বেশি দেখা যায়, দিনে কম। প্রকাশ্যে মাতলামি আইনত অপরাধ, কিন্তু পুলিশ কেবল বিরক্তিকর আচরণ করলে ব্যবস্থা নেয়। কখনও রাতভর হেফাজতে থাকতে হতে পারে অথবা অভিযোগ গঠন হতে পারে।
অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো অস্ট্রেলিয়ায় কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রিত। পুলিশ এলোমেলোভাবে শ্বাসপরীক্ষা (breath test) করে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি হতে পারে লাইসেন্স বাতিলসহ নানা কিছু। সর্বোচ্চ রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা অনুমোদিত ০.০৫%। তবে ভারী যানবাহন চালক ও নতুন/কচি চালকদের ক্ষেত্রে সীমা আরও কম বা শূন্য। পুলিশ নিষিদ্ধ মাদক সেবন করেছে কিনা তা পরীক্ষা করার ক্ষমতাও রাখে। এসব পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানো ফৌজদারি অপরাধ। নিষিদ্ধ মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালালে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর আদালতে হাজিরা দিতে হয়, যা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে বড়ভাবে ব্যাহত করে। শনিবার ও রবিবার ভোরে এলোমেলো শ্বাসপরীক্ষা বিশেষভাবে সাধারণ, এবং অনেকেই আগের রাতের পান করার কারণে ধরা পড়েন।
===একসঙ্গে পানীয় কেনা ===
[[File:Birdsville Hotel.jpg|thumb|পশ্চিম কুইন্সল্যান্ডের দূরবর্তী অঞ্চলে বার্ডসভিল হোটেল]]
অস্ট্রেলিয়ায়, যেমন বিশ্বের আরও অনেক জায়গায়, একসঙ্গে বসে মদ্যপানের সময় পালাক্রমে পানীয় কেনা একটি প্রচলিত রীতি। কোনো পাব-এ গেলে এবং প্রথমবার বারে গেলে সাধারণত আশা করা হয় যে আপনি আপনার সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্যও পানীয় কিনবেন। পরবর্তীতে দলের অন্য কেউ নতুন করে যোগ দিলে সেও আপনার জন্য এমনটা করবে। এ প্রথাটিকে বলা হয় ''a shout'' (শাউট)। এতে একটি অলিখিত নিয়ম হলো, আপনিও পরবর্তী রাউন্ডে পাল্টা পানীয় কিনবেন এবং সন্ধ্যা জুড়ে দলের অন্যদের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পান করবেন।
যদি আপনার রাউন্ডের কারো গ্লাস খালি থাকে এবং তারা আপনার আগেই পানীয় কিনে দিয়ে থাকে, তবে আপনাকেই ঘোষণা করতে হবে যে এবার আপনার শাউট, এবং আপনিই বার-এ যাবেন। কেউ যদি আপনাকে পানীয় কিনে দিতে চায়, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে না দেয় যে ইতিমধ্যেই আপনাকে কিনে দিয়েছে, তবে বলা উচিত যে আপনি একটি শাউটে আছেন এবং বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তবে যদি সে আপনাকে এবং আপনার দলের সবাইকে পানীয় কিনে দেয়, তবে সে শাউটে যুক্ত হয়ে যায়। এক সন্ধ্যায় এক শাউট থেকে অন্য শাউটে চলে যাওয়াকে ভদ্রতা হিসেবে দেখা হয় না।
যদি বড় দলে থাকেন এবং আপনি পানীয় নিতে অস্বীকার করেন, তবুও আপনার পালা এলে আপনাকেই পুরো দলের জন্য কিনতে হবে। কোনো রাউন্ড এড়াতে চাইলে, সেটা নিজের শাউটের সময় করুন। সাধারণত একটি রাউন্ডে কিনে দিয়ে পরে নিজে পানীয় না নেওয়া ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না। অনেক সময় আপনাকে না জিজ্ঞেস করেই পানীয় কিনে দেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে আগেই পানীয় পেলে পরে সে বলতে পারে যে এবার আপনার শাউট। কোনো শাউটে যোগ না দিলে অনেক দলে তা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এড়ানোর সেরা উপায় হলো বলা যে আপনি গাড়ি চালাবেন এবং শুধু নিজের জন্য কিনবেন। এটি এক রাউন্ড শেষে সমতা থাকলে ভদ্রভাবে বেরিয়ে যাওয়ার গ্রহণযোগ্য উপায়ও।
===অ্যালকোহলবিহীন পানীয়===
'''মাইলো (Milo)''' হলো একটি মাল্ট ও চকলেট পানীয়, যা প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় উদ্ভাবিত হয় এবং বর্তমানে নেস্লে (Nestlé) তা তৈরি করে। এটি [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]]র অনেক দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো সুপারমার্কেটেই এটি পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিশালী '''[[কফি]]''' সংস্কৃতি রয়েছে, বিশেষত [[মেলবোর্ন]] শহরে, যেখানে প্রচুর ইতালীয় অভিবাসী রয়েছে। মজার বিষয় হলো, বলা হয় ইতালির বাসিন্দারা মেলবোর্নে এলে মনে করেন কফি তাদের শহরের তুলনায় খারাপ, তবে ইতালির অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় ভালো। এমনকি জ্বালানি স্টেশন ও ফাস্টফুড দোকানেও ভালো মানের কফি পাওয়া যায়। স্থানীয় কফি শপগুলির জনপ্রিয়তার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক চেইন এখানে নেই-যেমন স্টারবাকসের মাত্র কয়েকটি দোকান রয়েছে মেলবোর্ন ও সিডনিতে, অন্য কোথাও নয়। তাই চেইন না দেখে অবাক হবেন না, বরং স্থানীয় স্বাদই চেষ্টা করুন।
'''[[চা]]''' অস্ট্রেলিয়ায় কফির মতো জনপ্রিয় নয়, তবে সহজেই পাওয়া যায়। যেসব জায়গায় কফি বিক্রি হয়, প্রায় সবখানেই চাও বিক্রি হয়। কিছু অভিজাত হোটেলে ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি আফটারনুন টি পরিবেশন করা হয়। আবার ডেভনশায়ার চা অস্ট্রেলিয়ায় সপ্তাহান্তের বেশ জনপ্রিয় একটি বিনোদন, যেখানে অনেক বেকারিই এটি পরিবেশন করে। [[কুইন্সল্যান্ড]]-এ ছোট পরিসরে চা উৎপাদনও হয়।
==শিখুন==
{{Main|বিদেশে পড়াশোনা#অস্ট্রেলিয়া}}
অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য, বিশেষত [[পূর্ব এশিয়া]], [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]] ও [[ভারত]] থেকে আগতদের জন্য। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংরেজিভাষী পরিবেশ। পাশাপাশি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও কাজের ভিসার সুযোগও নাগরিকত্বের পথে সহায়ক হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে চাইলে আপনাকে এমন ভিসা ক্লাসে থাকতে হবে যা এ অনুমতি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-গবেষকদেরও সাধারণত উপযুক্ত ভিসা নিতে হয়, এমনকি ভ্রমণ ভিসায় স্বল্প সময়ের জন্য এলেও। খুব স্বল্পমেয়াদি বা খণ্ডকালীন কোর্সের জন্য অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলেট বা দূতাবাসে খোঁজ নেওয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়া বারিস্টা প্রশিক্ষণ নেওয়ারও চমৎকার জায়গা। এখান থেকে সনদপ্রাপ্তরা নিজ দেশে ফিরে কফি শপে তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরি পেতে পারেন। এ ধরনের কোর্স সাধারণত পর্যটক ভিসায় করা যায়।
==রাত্রিযাপন==
[[File:Camping by the Yarrangobilly River - panoramio.jpg|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের ইয়্যারাঙ্গোবিলি নদীর তীরে ক্যাম্পিং]]
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে সহজেই আবাসন পাওয়া যায়। তবে, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বিষয়ে যেমন ব্যয় বেশি, এখানকার আবাসনের খরচও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কিছুটা বেশি।
===হোটেল===
{{infobox|কখন ‘হোটেল’ হোটেল নয়?|অস্ট্রেলীয় ইংরেজিতে '''হোটেল''' বলতে বহু সময়ে যে জিনিসটিকে দুনিয়ার অন্য জায়গায় '''পাব''' বলা হয়, সেটাই বোঝায়। গ্রামীণ এলাকার হোটেলগুলোতে (পাব) সাধারণত সাইটেই থাকার ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু শহরের বেশিরভাগ হোটেলে তা থাকে না। যেসব গ্রামীণ ‘হোটেল’-এ পাব নেই, সেগুলোকে সাধারণত '''মোটেল''' বলা হয়।}}
সব রাজ্যের রাজধানী শহরগুলোতে বহু ৪ বা ৫-তারকা হোটেল আছে-উচ্চমানের রেস্তোরাঁ, বার, রুম-সার্ভিস ও অন্যান্য প্রিমিয়াম আতিথেয়তা সেবাসহ। প্রতি রাতের জন্য প্রায় ৪০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ ধরতে পারেন। তবে বড় কোনো কনসার্ট বা ইভেন্টের সময়-যেমন সিডনিতে নিউ ইয়ার্স ইভ-দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে বা সব রুম বিক্রি হয়ে যেতে পারে। ২ বা ৩-তারকা হোটেলও ভেতর শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক বড় বড় চেইনগুলো মোটামুটি ভালোভাবেই উপস্থিত, বিশেষ করে আকোর (Accor) প্রায় সব দামের পরিসরেই দৃঢ় উপস্থিতি রাখে। উল্লেখযোগ্য স্থানীয় স্বাধীন চেইনের মধ্যে আছে [https://www.rydges.com/ রিজেস (Rydges)]।
===পাব===
[[File:BendigoShamrockHotel.JPG|thumb|বেন্ডিগোর শ্যামরক হোটেল]]
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ পাব-এই কোনো না কোনো ধরনের থাকার ব্যবস্থা থাকে। এগুলো একেবারে সাধারণ মানের অগোছালো কক্ষ থেকে শুরু করে নতুন সংস্কারকৃত বুটিক ধাঁচের থাকার জায়গা পর্যন্ত হতে পারে। ভাড়া দেখে সাধারণত কেমন সুবিধা পাওয়া যাবে তা বোঝা যায়। এমনকি উন্নত পাবগুলোতেও ব্যক্তিগত বাথরুম থাকা এখনও বিরল। কক্ষগুলো সাধারণত দ্বিতীয় তলায়, সরাসরি বারের উপরে থাকে, ফলে বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার রাতে অনেক শব্দ হতে পারে।
বড় শহরের বাইরে পাবকে সাধারণত '''হোটেল''' বলা হয়। মোটেলে কোনো পাবলিক বার থাকে না। তবে যদি কোনো মোটেলের সঙ্গে বার যুক্ত থাকে তবে সেটিকে হোটেল/মোটেল বলা হয়।
খুব ছোট শহরগুলোতে ভ্রমণকারীদের জন্য স্থানীয় পাব-ই একমাত্র থাকার ব্যবস্থা দেয়। এসব পাবের থাকার জায়গা সাধারণত সাশ্রয়ী ধাঁচের হয়, যেখানে বাথরুম শেয়ার করতে হয়, তবে কক্ষগুলো ব্যক্তিগত হয়।
সিডনির কেন্দ্রস্থলেও পাব-এ থাকার সুযোগ পাওয়া যায়, ফলে বিয়ার খেয়ে সহজেই কক্ষে ফিরে যাওয়া যায়।
আপনি যদি একা ভ্রমণ করেন এবং আলাদা কক্ষ চান, তবে পাবগুলো সাধারণত সিঙ্গেল রুম দেয় যা ডাবল রুমের তুলনায় ছাড়ে পাওয়া যায়। অন্যদিকে বেশিরভাগ মোটেল এক বা দুইজন মিলে থাকুক না কেন একই ভাড়া নেয়।
===মোটেল===
সাধারণত মোটেল ধাঁচের থাকার জায়গায় একটি বা একাধিক বিছানা-সমৃদ্ধ আলাদা কক্ষ থাকে, সঙ্গে ব্যক্তিগত শাওয়ার ও টয়লেট। অনেক মোটেলেই ফ্যামিলি রুম থাকে, যেখানে একটি ডাবল বেড ও দুটি সিঙ্গেল বেড একই কক্ষে দেওয়া হয়।
শহরের মোটেলগুলোর কক্ষভাড়া সাধারণত ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু হয়। সাধারণত এক বা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক থাকলে খরচ একই হয়, তবে অতিরিক্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা ফি ধার্য হয়। শিশুদের জন্য ফি বিনামূল্য থেকে শুরু করে প্রতিজন সর্বোচ্চ ২০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। শান্ত মৌসুমে মোটেলগুলো প্রায়শই হঠাৎ ছাড় (standby discount) দিয়ে থাকে।
বেশিরভাগ মোটেল সকালে অতিরিক্ত ফির বিনিময়ে রান্না করা বা কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট কক্ষে সরবরাহ করে। কিছু মোটেলে রেস্টুরেন্ট থাকে বা রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। কোনো কোনো কক্ষে টোস্টার থাকে এবং কেটলি প্রায় সর্বত্র দেওয়া হয়।
===হোস্টেল ও ব্যাকপ্যাকার===
[[Hostels|সাশ্রয়ী হোস্টেল ধাঁচের থাকার জায়গা]]-এ সাধারণত শেয়ার করা বাথরুম থাকে এবং প্রায়শই ডরমিটরিও থাকে। ভাড়া প্রতিরাতে জনপিছু প্রায় ২০–৩০ ডলার। এসব হোস্টেলে সাধারণত সম্পূর্ণ সজ্জিত রান্নাঘর থাকে, যেখানে পর্যাপ্ত ফ্রিজ ও খাবার রাখার জায়গা থাকে। বেশিরভাগ হোস্টেলে বসার ঘরের মতো জায়গা থাকে, যেখানে সোফা, খাবার টেবিল ও টেলিভিশন থাকে।
অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল চেইন রয়েছে। একই ব্র্যান্ডের হোস্টেলে বহু রাত থাকলে তাদের ডিসকাউন্ট কার্ড বিবেচনা করা যেতে পারে, যেগুলো সাধারণত থাকার খরচে লয়্যালটি বোনাস এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ ট্যুরে ছাড় দিয়ে থাকে।
===হলিডে পার্ক===
[[File:RAC Esperance Holiday Park, Western Australia - facilities 03.jpg|thumb|হলিডে পার্কের মানক কেবিন]]
[[File:Dubbo NSW 2830, Australia - panoramio (107).jpg|thumb|যে কোনো সম্মানিত অস্ট্রেলীয় হলিডে পার্কে একটা “জাম্পিং পিলো” (দেয়ালবিহীন বিশাল ট্রামপোলিন/বাউন্সি ক্যাসল) থাকেই]]
হলিডে পার্ক অস্ট্রেলিয়ান অবকাশ সংস্কৃতির এক বিশাল অংশ-নিজস্ব যান থাকলে থাকার দারুণ উপায়। এগুলো মূলত পুরোনো '''কারাভ্যান পার্কের''' আপগ্রেডেড সংস্করণ, তবে নতুন মার্কেটিং অনুযায়ী এখন সাধারণ ভ্রমণকারীদেরও সমানভাবে সেবা দেয়। একটি সাধারণ হলিডে পার্কে থাকে-
* '''কেবিন'''-বিছানা, রান্নাঘর, টিভি, ওয়াই-ফাইসহ সবকিছুসহ, যাদের নিজস্ব ‘চাকা-ওয়ালা ঘর’ নেই তাদের জন্য। বেশিরভাগ কেবিনে ৪ বা ততোধিক জন থাকতে পারেন; ভাড়া সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
* '''পাওয়ার্ড সাইট'''-কারাভ্যান/ক্যাম্পারভ্যান/মোটরহোম/আরভি (রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল) পার্কিংয়ের জন্য। কিছু পার্কে '''এন-স্যুইট সাইট'''ও থাকে-ছোট ব্যক্তিগত বাথরুমে শাওয়ার ও টয়লেটসহ।
* '''আনপাওয়ার্ড সাইট'''-নিজের তাঁবু ফেলতে চাইলে; সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
যেখানেই থাকুন না কেন, দাম সাধারণত শেয়ারড সুবিধাগুলোর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে-বারবিকিউ (বিবিকিউ), শাওয়ার, রান্নাঘর, স্বয়ংক্রিয় লন্ড্রি, সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট ও জাম্পিং পিলো। সারা দেশে বড় চেইনগুলোর মধ্যে আছে [https://topparks.com.au টপ পার্কস/ডিসকভারি পার্কস] এবং [https://www.big4.com.au/ বিগ ৪ (BIG4)]-তবে স্বাধীন পার্কও নেহাত কম নয়।
তবে হলিডে পার্ক বেছে নেওয়ার আগে কিছু সতর্কতা-
* সাধারণত শহরের প্রান্তে থাকে; নিজের গাড়ি না থাকলে খুব সুবিধাজনক নাও লাগতে পারে।
* অধিকাংশ পার্ক পরিবার-কেন্দ্রিক-আপনার বাচ্চা থাকলে দারুণ, কিন্তু নির্জনতা চাইলে খুব পছন্দ নাও হতে পারে।
* স্কুলের ছুটিতে রেট অনেক বেড়ে যায়, একাধিক রাতের ন্যূনতম থাকা বাধ্যতামূলক করে এবং ভালো পার্কগুলো আগেভাগেই সোল্ড-আউট হয়ে যায়।
* বুকিং বদলাতে চাইলে সাধারণত সুবিধা নেই-বেশিরভাগ রিজার্ভেশন নন-রিফান্ডেবল।
===ক্যাম্পিং===
[[#হলিডে পার্ক|হলিডে পার্ক]]-এ তো বটেই, ক্যাম্পিং অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। ন্যাশনাল পার্কগুলোও প্রায়ই সস্তা বা বিনা খরচে ক্যাম্পসাইট দেয়-ধরা হয় আপনি নিজের দায়িত্বে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সামলাবেন। সাধারণত টয়লেট থাকে, কখনও কখনও ঠাণ্ডা শাওয়ারও থাকে। জনপ্রিয় পার্কগুলোতে পেইড ক্যাম্পিং পারমিট লাগে; গ্রীষ্মের ছুটিতে বিখ্যাত স্পটগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ায় এমনটা খুবই স্বাভাবিক যে রাজধানীসহ যেকোনো জায়গায় থাকুন, এক ঘণ্টার ড্রাইভের মধ্যেই কোনো ন্যাশনাল পার্ক বা রিক্রিয়েশন এরিয়ায় পৌঁছে এমন জায়গা পাওয়া যায় যেখানে কোনো না কোনোভাবে ক্যাম্পিং করা সম্ভব। ক্যাম্পিং পারমিটের জন্য সাধারণত প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ৫–১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার লাগে এবং জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে (যেমন: উইলসন্স প্রমোন্টরি ন্যাশনাল পার্ক, কোসিউস্কো ন্যাশনাল পার্ক ইত্যাদি) আলাদা প্রবেশ-ফিও থাকতে পারে। তবে জনবসতি ও পর্যটক-কেন্দ্র থেকে দূরের অধিকাংশ ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ ও ক্যাম্পিং দুটোই ফ্রি।
অন্যান্য কিছু ক্যাম্পিং এলাকা সরকার বা স্থানীয় জমির মালিকেরা চালান-সাধারণত সময়ভেদে প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ধরতে পারেন।
কেউ কেউ সমুদ্রসৈকতে রাত কাটানো বা হাইওয়ে রেস্ট-এলাকায় তাঁবু ফেলেও চেষ্টা করেন। তবে বেশিরভাগ রেস্ট-এলাকা ও সৈকতেই ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ; অনেক জায়গায় রাতভর গাড়ি পার্কিংও নিষিদ্ধ-এভাবে ‘ফ্রি’ থাকার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করতে। সাধারণ নিয়ম হলো, আপনি যত বেশি জনবসতি বা পর্যটন এলাকার কাছাকাছি, কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিরক্তির সম্ভাবনাও তত বেশি।
দর্শনীয়তার চেয়ে ক্যাম্পিং-অভিজ্ঞতাই যদি বেশি চান, তাহলে স্টেট ফরেস্ট প্রায়ই ন্যাশনাল পার্কের চেয়ে সুবিধাজনক-এখানে নিজেরা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পারেন (কোথাও কোথাও গাছ কাটারও সীমিত অনুমতি থাকে) এবং ক্যাম্পিং নির্দিষ্ট সাইটে সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে। স্টেট ফরেস্টে সাধারণত পোষ্য প্রাণী আনা, খোলা আগুন জ্বালানো, মোটরবাইক চালানো ও ফোর-হুইল ড্রাইভিং-এসব কার্যকলাপ চলতে পারে, যেগুলো ন্যাশনাল পার্কে সাধারণত নিষিদ্ধ। স্টেট ফরেস্টে থাকা সাধারণত ফ্রি, তবে কোথায় জনসাধারণের প্রবেশ অনুমোদিত তা স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
[[গাড়িতে ক্যাম্পিং|রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল (আরভি) নিয়ে ক্যাম্পিং]] অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। অনেক ক্যাম্পসাইট আরভি ও কারাভ্যান-বান্ধব-যদিও পাওয়ার সাপ্লাই ও মেইনস-ওয়াটার সংযোগ থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। আরভি/কারাভ্যান পার্কিং-স্লটের সংখ্যা সীমিত হতে পারে, তাই আগে থেকেই স্লট রিজার্ভ করা যায় কি-না দেখে নিন।
===ফার্ম স্টে===
নামের মতোই-চলমান খামারে কেবিন বা হোমস্টেড-আবাসন। সাধারণত দুই বা ততোধিক দিনের জন্য উপযোগী। চাইলে খামারের কাজকর্মে সামান্য অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতের খাবার হোমস্টেডে পরিবেশন করা হয় এবং কেবিনে ব্রেকফাস্ট-প্যাক দেওয়া হয়।
===হলিডে হোম===
হলিডে হোম হলো মালিকের ব্যক্তিগত বাড়ি, যা তিনি ভাড়া দেন-স্থানীয় রিয়েল-এস্টেট এজেন্ট বা বিশেষায়িত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কখনও চমৎকার লোকেশনে থাকে, কখনও আবার শহর/শহরতলির আবাসিক এলাকায়। ন্যূনতম ভাড়া সাধারণত কমপক্ষে ২ রাত-ব্যস্ত সময়ে তা এক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ন্যূনতম সুবিধা হিসেবে থাকে শোবার ঘর, লাউঞ্জ ও বাথরুম।
===[[বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট]]===
[[File:HentyCentralHotel.JPG|thumb|নিউ সাউথ ওয়েলসের (এনএসডব্লিউ) হেনটি শহরের হেনটি সেন্ট্রাল হোটেল ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ আবাসন দেয়-এ রকম হোটেল বহু গ্রামীণ শহরেই আছে]]
অস্ট্রেলিয়ায় বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট সাধারণত প্রিমিয়াম ধাঁচের আবাসন-সপ্তাহান্তে যুগলদের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। যুক্তরাজ্যের কিছু অংশের মতো এখানে এটাকে সস্তা আবাস হিসেবে ধরা হয় না; স্থানীয় মোটেলই সাধারণত তুলনায় সস্তা পড়ে।
কখনও বাড়ির অতিরিক্ত রুম, তবে অনেক সময়ই উদ্দেশ্যনির্মিত ভবন। সাধারণত আরামদায়ক, পরিচ্ছন্ন রুম, একটি শেয়ারড কমন-এলাকা এবং রান্না করা সকালের নাস্তা আশা করতে পারেন। হয়তো ব্যক্তিগত সুবিধাও থাকবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থাকা হলে-বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্টে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য ছাড় মেলে।
===রিসোর্ট সমূহ===
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় অনেক আসল রিসোর্ট আছে। এদের মধ্যে অনেকেরই লেগুন পুল, টেনিস কোর্ট, গলফ, শিশুদের ক্লাব এবং নানা ধরনের কার্যক্রম থাকে। [[হুইটসানডেস]] দ্বীপপুঞ্জে বিভিন্ন ধরনের রিসোর্ট রয়েছে, কিছু রিসোর্ট পুরো দ্বীপ জুড়েই। [[পোর্ট ডগলাস]]-এও বিশ্বমানের অসংখ্য রিসোর্ট রয়েছে।
===সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট===
সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় খুবই জনপ্রিয় আবাসনের ধরন, যা শহরের কেন্দ্র, সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিংবা স্কি রিসোর্ট-সবখানেই পাওয়া যায়। অতিথিরা চাইলে মাত্র এক রাত থেকেও উঠতে পারেন, আবার এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ের জন্য বুক করলে ছাড় পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণ হোটেলের তুলনায় বড় হয়, যেখানে সাধারণত রান্নাঘর, ওয়াশিং মেশিন, ড্রায়ার এবং আলাদা শোবার ঘর থাকে। পরিবারের জন্য বা বড় দলের জন্য এগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়।
অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলগুলো সাধারণত প্রাতঃরাশ দেয় না বা রেস্টুরেন্ট থাকে না, তবে কাছেই (প্রায়শই পাশের ভবনেই) অতিথিদের জন্য ক্যাফে থাকে। বড় চেইনগুলোর মধ্যে রয়েছে [https://www.meritonsuites.com.au/ মেরিটন স্যুইটস] এবং [https://adinahotels.com/en/ আদিনা]।
===হাউসবোট===
অস্ট্রেলিয়ার মনোরম গ্রামীণ নদীগুলোতে হাউসবোট ভাড়া নেওয়া যায়। এগুলো বন্য প্রকৃতিতে সময় কাটানোর এক দারুণ সুযোগ দেয়। সাধারণত এদের মধ্যে রান্নাঘর থাকে, তাই অতিথিরা নিজেই রান্নার উপকরণ নিয়ে যেতে পারেন।
===স্টেশন ওয়াগন ও ভ্যান===
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ স্থানে গাড়ির ভেতরে ঘুমানো আইনত নিষিদ্ধ। তবে জানালার চারপাশে পর্দা টাঙালে অনেক সময়ে তা এড়িয়ে যাওয়া যায়। প্রায় ১,০০০ ডলারে একটি ট্রেড ভ্যান কেনা যায়, আর নির্ভরযোগ্য ভ্যান কিনতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৩,০০০–৪,০০০ ডলার। একটি গদি, বালিশ, পোর্টেবল গ্যাস চুলা, রান্নার সামগ্রী এবং ২০ লিটার পানির কন্টেইনার যোগ করলে যাত্রা শুরু করা যায়। তবে ধরা পড়লে জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার। তাই ঝুঁকির দায় নিজেকেই নিতে হবে। পরিকল্পনা করে থাকলে সাধারণত ধরা পড়তে হয় না। স্থানীয়দের বিরক্ত না করা এবং পার্কিং বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কিছু এলাকায় রাতারাতি পার্কিং নিষিদ্ধ হলেও তা খুবই বিরল। তবে শহরে পার্কিং ইন্সপেক্টররা কঠোর, তাই ১০০ ডলারের বেশি জরিমানা অস্বাভাবিক নয়।
অস্ট্রেলিয়ার সব শহর ও নগরে বিনামূল্যে পাবলিক টয়লেট আছে। অনেক পার্কে এবং বেশিরভাগ সমুদ্রসৈকতে বিনামূল্যে ইলেকট্রিক বারবিকিউ রয়েছে। জনপ্রিয় সৈকতগুলোতে মিষ্টি পানির শাওয়ারও থাকে, যাতে সাঁতার শেষে সমুদ্রের লবণ ধুয়ে ফেলা যায়। অল্প বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য সমুদ্রেই ধোওয়া এবং শাওয়ারে কুলি করাই যথেষ্ট (তবে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে পানি দূষণ করা যাবে না)। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব নলকূপের পানিই পানযোগ্য, যেগুলো নয়, সেগুলো চিহ্নিত করা থাকে। সার্ভিস স্টেশনগুলোতে সাধারণত নল থাকে, তাই প্রতিবার জ্বালানি ভরার সময় পানি ভরেও নেওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ার সেরা অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হতে পারে এমন একটি রাস্তা ধরে যাওয়া, যা মানচিত্রে সমুদ্রসৈকত, ঝরনা বা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হয়। হয়তো সেখানে নির্জন এক স্বর্গীয় জায়গা পাবেন। সৌভাগ্যক্রমে আপনার সঙ্গে থাকবে শোবার জায়গা, খাবার ও পানি।
ছোট দলে ভ্রমণ করলে মাথাপিছু জ্বালানির খরচও কমে যায়, যা সাধারণত সবচেয়ে বড় ব্যয় হয়ে দাঁড়ায়।
ভ্রমণ উপভোগ করুন এবং জমি ও প্রকৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপনার আবর্জনা, বোতল এবং সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সঠিকভাবে ফেলে দিন।
==কাজ==
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দারা অতিরিক্ত কোনো অনুমতি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন, কিন্তু অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ভিসা প্রয়োজন হয়। পর্যটন ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ করা আইনবিরুদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ায় পারফর্ম করা যেকোনো সেবার জন্য প্রদত্ত যেকোনো ধরনের পারিশ্রমিক-হোক তা অর্থমূল্য কিংবা অন্য কিছু (যেমন: থাকা ও খাওয়া)-‘পেমেন্ট’ হিসেবে গণ্য হয়, অর্থাৎ এই ধরনের কাজ পর্যটন ভিসার আওতায় অবৈধ। স্বেচ্ছাসেবী কাজ অনুমোদিত, যদি তা ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য না হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভিসাধারীরা একাডেমিক টার্ম চলাকালীন (যখন ক্লাস চলে) প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, এবং ছুটির সময় পূর্ণ সময় কাজ করতে পারেন। এর মানে, ক্লাস চলাকালে প্রতি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে কাজ করলে গ্রেফতার, কারাবাস, দেশে ফেরত পাঠানো এবং স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। যেসব ভিজিটর অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক নন (এতে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত, যদি তারা অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক না হন), তারা অস্ট্রেলিয়ার বেকারদের জন্য নির্ধারিত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিতে পারেন না এবং সরকারের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার সুযোগ খুব সীমিত বা সাধারণত নেই বললেই চলে।
===পারিশ্রমিক ও কর===
অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তা পারিশ্রমিক সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন, তাই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত। কিছু ব্যাংক বিদেশ থেকেও অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়, যেমন: কমনওয়েলথ ব্যাংক এবং এইচএসবিসি।
আপনাকে দ্রুত একটি '''[http://www.ato.gov.au/Individuals/Tax-file-number/ ট্যাক্স ফাইল নম্বর (TFN)]'''-এর জন্য আবেদন করতে হবে। এটি [http://www.ato.gov.au/ অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্স অফিসের ওয়েবসাইট] থেকে বিনামূল্যে অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করলে সাধারণত আরও দ্রুত পাওয়া যায়। TFN ছাড়াও কাজ শুরু করা সম্ভব, কিন্তু দ্রুত এটি সংগ্রহ না করলে নিয়োগকর্তা আপনার আয় থেকে সর্বোচ্চ হারে কর কেটে রাখবে। TFN ব্যাংকে নিবন্ধন না করালে সুদের আয় থেকেও সর্বোচ্চ হারে কর কাটা হবে। অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক বছর চলে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত, এবং প্রতি বছরের কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। কর সংক্রান্ত দায়িত্ব ও কর রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে কোনো ট্যাক্স এজেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। [https://my.gov.au/ myGov] অ্যাকাউন্ট খুলে এটিকে ATO-র সঙ্গে লিঙ্ক করে সহজেই রিটার্ন দাখিল করা যায় (যদি আপনার কাছে প্রাসঙ্গিক অস্ট্রেলিয়ান আইডি না থাকে, তবে ATO-কে ফোন করে সাহায্য নিতে হতে পারে)।
আপনার আয়ের সঙ্গে সঙ্গে ATO একটি '''[https://www.ato.gov.au/Individuals/Medicare-and-private-health-insurance/Medicare-levy/ মেডিকেয়ার লেভি]''' হিসেবে ২% হারে কর কেটে রাখবে, যা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য ব্যয় হয়। কিছু বিদেশি কর্মী এই কর থেকে অব্যাহতি পান; যদি আপনার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হয়, তাহলে [https://www.servicesaustralia.gov.au/medicare-entitlement-statement মেডিকেয়ার এনটাইটেলমেন্ট স্টেটমেন্ট]-এর জন্য আবেদন করুন, যাতে কর রিটার্নে তা দেখিয়ে রিফান্ড পাওয়া যায়। আগেভাগেই আবেদন করুন, কারণ এই স্টেটমেন্ট পেতে সময় লাগতে পারে এবং কর রিটার্ন জমা দিতে গেলে এটি লাগবে।
অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তারা আপনার আয়ের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে সুপারঅ্যানুয়েশন (অবসরের সঞ্চয়) ফান্ডে জমা রাখেন। অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ভিসায় থাকা, অথচ অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের নাগরিক নন-এমন ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সময় এই অর্থ ফেরত নিতে পারেন। একে বলা হয় “ডিপার্টিং অস্ট্রেলিয়া সুপারঅ্যানুয়েশন পেমেন্ট (DASP)”, এবং আপনি এটি [https://applicant.tr.super.ato.gov.au/applicants/default.aspx?pid=1 অনলাইনে আবেদন] করে পেতে পারেন। নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা এই সঞ্চয় তাঁদের “কিউইসেভার” অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারেন; এ জন্য নিজ নিজ প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
===ওয়ার্কিং হলিডেমেকার স্কিম===
[[File:CSIRO ScienceImage 4714 CSIRO Precision Viticulture Trial site in the Eden Valley SA March 2004.jpg|thumb|দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আঙ্গুরক্ষেত]]
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য একটি ওয়ার্কিং হলিডেমেকার কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম প্রবেশের দিন থেকে ১২ মাস অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যায়। এই সময় কাজ করা যাবে, তবে কোনো এক নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ ৬ মাস। মূল ধারণা হলো ছুটি কাটানো, যার খরচ মেটানো হবে অস্থায়ী বা স্বল্পমেয়াদি কাজের আয়ে। আগ্রহীদের জন্য উপকারী দক্ষতার মধ্যে রয়েছে: অফিসের কাজ শেখা, যাতে অস্থায়ী চাকরিতে কাজে লাগে; অথবা আতিথেয়তা খাতে (বার বা রেস্টুরেন্টে) কাজ করার দক্ষতা। বিকল্প হিসেবে মৌসুমি কাজ যেমন ফল সংগ্রহ রয়েছে, তবে এসব কাজ সাধারণত বড় শহরের বাইরে করতে হয়। মৌসুমি কাজে ৩ মাস কাজ করলে দ্বিতীয় ১২ মাসের ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।
'''[https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/work-holiday-417 ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা]''' অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে আবেদনকালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যাবে না। খরচ ৬৩৫ ডলার (এপ্রিল ২০২৪ অনুযায়ী)। বিভাগের তথ্যমতে, অর্ধেক আবেদন একদিনের মধ্যে এবং ৯০ শতাংশ তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়াকৃত হয়। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ভিসাটি ‘‘এভিডেন্সড’’ করে নিতে বলা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তাকে দেখানো যায়।
ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সময় অন্তত ৫,০০০ ডলার থাকা সুপারিশ করা হয়। কারণ অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ বেশি এবং কাজ পেতে কয়েকদিন বা সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
===কর্মভিসা===
অস্ট্রেলিয়ার কর্মভিসার নিয়ম প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য স্থানীয় অস্ট্রেলীয় হাইকমিশন, কনস্যুলেট, দূতাবাস বা [http://www.immi.gov.au/ অভিবাসন বিভাগের ওয়েবসাইট] দেখা উচিত।
সরাসরি কর্মভিসা (সাবক্লাস ৪৫৭, ১৮৬ ও ১৮৭) পাওয়ার সহজ উপায় হলো কোনো অস্ট্রেলীয় নিয়োগকর্তা আপনাকে স্পনসর করা। নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার দক্ষতা সম্পন্ন কাউকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাকরির বিজ্ঞাপনগুলোতে সাধারণত বৈধ কর্মভিসার শর্ত উল্লেখ থাকে। ভিসা পেতে কয়েক মাস লাগতে পারে এবং অনুমোদনের আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত চিকিৎসকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা (যেমন টিবি পরীক্ষা করার জন্য বুকের এক্স-রে) দিতে হয়। দক্ষ নিয়োগকর্তা ও ভালো অভিবাসন আইনজীবী থাকলে ৪৫৭ ভিসা এক সপ্তাহেই অনুমোদিত হতে পারে। তবে এই ভিসা শুধু স্পনসর নিয়োগকর্তার জন্য বৈধ এবং চাকরি শেষ হলে ৩০ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হয়।
রিজিওনাল স্পনসর্ড মাইগ্রেশন স্কিম (আরএসএমএস) ভিসা (সাবক্লাস ১৮৭) তুলনামূলক সহজ, তবে ‘‘আঞ্চলিক’’ এলাকায় থাকতে ও কাজ করতে হয়। এসব এলাকা মূলত গ্রামীণ বা বড় শহর থেকে দূরে, যদিও [[অ্যাডিলেড]] এই তালিকায় রয়েছে।
যদি বিশেষ দক্ষতা থাকে এবং কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে বাঁধা না থাকতে চান, তবে স্কিল্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ১৮৯, ১৯০, ৪৮৯) নেওয়া যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা (সাবক্লাস ৪৮৫) পেতে পারেন। এটি ১৮ মাস থেকে ৪ বছরের জন্য বৈধ হয়, যা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেজরের উপর নির্ভর করে। তবে মেজরটি অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ‘‘চাহিদাসম্পন্ন পেশার তালিকায়’’ থাকতে হবে, যা প্রতি বছর হালনাগাদ হয়। এই ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে পড়াশোনার শুরু নয়, স্নাতক হওয়ার সময়কার তালিকাই কার্যকর।
===অভিবাসন===
বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী হিসেবে অভিবাসনের জন্য আবেদন করা যায়, তবে এটি কর্মভিসার তুলনায় সময়সাপেক্ষ। কর্ম বা শিক্ষাভিসাধারীও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন, যদিও স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পাওয়া যায় না। প্রচুর অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা রয়েছে, যা দিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। চার বছরের বৈধ বসবাস শেষে, যার অন্তত এক বছর স্থায়ী বসবাস হতে হবে, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।
===স্বেচ্ছাসেবক===
অস্ট্রেলিয়ায় নানা স্বেচ্ছাসেবী কাজের সুযোগ রয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা ভ্রমণকারীদের স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের সুযোগ দেয়। যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনর্গঠন, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রক্ষণাবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েছে [http://www.australianvolunteers.com '''অস্ট্রেলিয়ান ভলান্টিয়ার্স'''], [http://www.wwf.org.au '''ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড'''], [http://www.gap360.com '''গ্যাপ ৩৬০'''], '''[https://xtremegapyear.co.uk/ এক্সট্রিম গ্যাপ ইয়ার]''', এবং [https://freepackers.com/en/destinations/australia/ '''ফ্রিপ্যাকার্স''']।
==সম্মান ও আচরণ==
{{infobox|অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রতার রীতি|অস্ট্রেলিয়ায় আপনি যে ধরনের গ্রাহকসেবার মুখোমুখি হবেন—হোক সেটা কোনো ক্যাফের বারিস্টা, বারের বারটেন্ডার, হোটেলের রিসেপশনিস্ট কিংবা ট্যাক্সিচালক—প্রায় সবক্ষেত্রেই এমন সংলাপে শুরু হয়:
* আপনি: হাই, কেমন যাচ্ছো?
* তিনি: ভালো, ধন্যবাদ, আপনি কেমন?
* আপনি: আমি এক কাপ ফ্ল্যাট হোয়াইট/এক গ্লাস ফ্যাট ইয়াক/দুইজনের একটি ঘর/টুুম্বায় যেতে চাই...
হ্যাঁ, এটা এমনকি একেবারে অচেনা লোকজনের সাথেও প্রযোজ্য। এবং হ্যাঁ, এই দুই লাইনের পর আপনি সরাসরি নিজের প্রয়োজনটা বলতে পারেন—নিজের জীবনকাহিনি বলার দরকার নেই। কিন্তু পুরোপুরি এটা এড়িয়ে গেলে মানুষ আপনাকে অভদ্র ভাবতে পারে।}}
সাধারণভাবে, অস্ট্রেলীয়দের সংস্কৃতিগত অজ্ঞতার কারণে অপমান বা কষ্ট দেওয়ার আশঙ্কা খুব কম।
অস্ট্রেলিয়ায় সম্বোধন বেশ সহজ-সরল ও খোলামেলা। অধিকাংশ পরিস্থিতিতে, এমনকি নিজের চেয়ে অনেক বছর বয়সী ব্যক্তিকেও প্রথম নামে ডাকা একেবারেই স্বাভাবিক। অনেকে সদ্য পরিচিত লোককেও ডাকনামে ডাকতে পছন্দ করেন। এমন ডাকনামে ডাকা সাধারণত বন্ধুত্বের প্রকাশ, অবজ্ঞা নয়।
অস্ট্রেলিয়ায় খোলামেলা পোশাক পরা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। সৈকতে বিকিনি বা সাঁতারের পোশাক পরা স্বাভাবিক, এবং সৈকতের পাশের দোকানেও এটি মানা যায়। তবে এর বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে অন্তত একটি শার্ট ও পায়ে কিছু পরা উচিত। অধিকাংশ সৈকত কার্যত টপ-ঐচ্ছিক (টপলেস) হলেও, রাস্তায় হাঁটার সময় বা পানিতে নামার সময় প্রায় সব নারীই টপ পরে থাকেন। কিছু সৈকত সম্পূর্ণ নগ্নতায় অনুমোদিত, যেগুলো সাধারণত আবাসিক এলাকা থেকে একটু দূরে থাকে। থং বিকিনি (যা অস্ট্রেলিয়ায় 'জি-স্ট্রিং বিকিনি' নামে বেশি পরিচিত, কারণ এখানে 'থং' মানে স্যান্ডেল) নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই অনুমোদিত, যদিও এগুলো এখনও ততটা প্রচলিত নয়। কিছু আউটডোর সুইমিং পুলে নারীদের জন্য "টপ আবশ্যক" নীতিমালা রয়েছে।
যখন উপাসনালয়, যেমন গির্জা পরিদর্শন করবেন, তখন একটু ঢেকে থাকা ভালো। গরমে সাধারণত টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট যথেষ্ট, তবে আনুষ্ঠানিক পরিবেশে পুরুষদের জন্য দীর্ঘহাতা শার্ট, টাই ও ফুলপ্যান্টই ব্যবসায়িক পোশাক হিসেবে গ্রহণযোগ্য-even যদি আবহাওয়া খুব গরম হয়।
[[Australian slang|অস্ট্রেলিয়ান কথ্য ভাষা বা স্ল্যাং]] অনুকরণ করার চেষ্টা করলে তা অনেক সময় যোগাযোগের চেয়ে বিদ্রুপ বলেই মনে হতে পারে। যদি আপনি খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে হাসি পেতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ানরা প্রায়ই নিজেদের নিয়ে ঠাট্টা করে কথা বলেন, তবে এমন কোনো মন্তব্যের সাথে একমত হওয়া অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয়। নিজের কৃতিত্ব নিয়ে গর্ব করা সচরাচর ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না।
অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক শ্রেণি অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম গুরুত্ব পায়। পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিক বা কারিগরদের (যাদের “ট্রেডিজ” বলা হয়) অনেক বেশি সম্মান ও ভালো বেতন দেওয়া হয়। কাজের ধরন দেখে কাউকে অবজ্ঞা করা অস্ট্রেলিয়ায় খুবই নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। হোটেল কর্মচারী, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ট্যাক্সিচালক ও দোকানের কর্মচারীদেরও সমানভাবে সম্মান করার প্রত্যাশা করা হয়।
হারিয়ে গেলে বেশিরভাগ অস্ট্রেলীয়ই দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী থাকেন। তবে শহুরে এলাকায় অনেকেই "মাফ করবেন" শুনলে ধরে নেন আপনি অর্থ চাচ্ছেন, এবং এড়িয়ে চলে যেতে পারেন। হাতে মানচিত্র থাকা, ব্যাকপ্যাকারদের মতো দেখানো বা সরাসরি নিজের প্রয়োজনে যাওয়া-এসব সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
===আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা===
[[File:Ayers Rock 2004 - panoramio (2).jpg|thumb|উলুরু]]
[[Indigenous Australian culture|আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা]] সম্ভবত ৬৫,০০০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে এসে বসতি গড়েন এবং বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। ইউরোপীয় বসতির পর থেকে তাঁদের প্রথাগত জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে তারা বহু বছর ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছেন। তাই এই বিষয়ে সর্বদা সংবেদনশীল হওয়া উচিত। আদিবাসীরা বিভিন্ন ‘জাতি’ বা সম্প্রদায়ভুক্ত যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় রয়েছে এবং বসতির আগেই তাঁরা প্রায় ২৫০টি ভাষায় কথা বলতেন।
পর্যটকদের জন্য আদিবাসী ভূমিতে প্রবেশের নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন। কিছু এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা যায়, আবার কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতি বা পারমিট লাগে, এবং কিছু এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। জনপ্রিয় এলাকাগুলোর পারমিট নেওয়া সাধারণত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র এবং এতে আপনার সফরের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। এটি মূলত সেই ভূমিকে আদিবাসী ভূমি হিসেবে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি। কিছু আদিবাসী জমি পরিষদ অনলাইনে পারমিট প্রদান করে।
কিছু সম্প্রদায় বা এলাকা আদিবাসীদের পক্ষ থেকে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। যদিও পর্যটন আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর জন্য উপকারী, তবু সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বসবাস ও পর্যটন এলাকাকে আলাদা রাখার চেষ্টা চলছে। ম্যাপে কোনো এলাকা "মুক্ত প্রবেশযোগ্য" দেখালেও, অনুরোধ না মানা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অনেক সময় বেআইনিও হতে পারে। নির্জন এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে যাচাই করে নিন জায়গাটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত কিনা এবং পারমিট প্রয়োজন কি না।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক নিদর্শন [[উলুরু]] স্থানীয় আনানগু জনগণের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। যদিও একসময় এটি পর্বতারোহণের জন্য জনপ্রিয় ছিল, আনানগু জনগণ বহুদিন ধরে পর্যটকদের তা না করার অনুরোধ জানিয়ে আসছেন, এবং ২০১৯ সাল থেকে এটি বেআইনি হয়েছে। তাদের মতে, যদি কেউ সেখানে চড়ে আহত বা নিহত হন, তাহলে এর দায় তাঁদের ওপর পড়ে। তাই দয়া করে উলুরুতে না চড়ুন। “এয়ারস রক” নামটি বিদেশে প্রচলিত হলেও অস্ট্রেলিয়ার ভিতরে প্রায় কেউই এটি ব্যবহার করে না এবং এটি বলা অনুচিত।
জাতিগত প্রসঙ্গে বলতে হলে, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শব্দ হলো ''ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ান'' (Indigenous Australians)। ''আদিবাসী জনগণ'' (Aboriginal people) সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ''আদিবাসী'' (Aboriginal) শব্দটি একা ব্যবহার এড়ানো ভালো-অনেকে এতে নেতিবাচক অর্থ খুঁজে পান। ''অ্যাবরিজিন'' বা ''অ্যাবো'' শব্দগুলো অত্যন্ত অবমাননাকর এবং ব্যবহার করা উচিত নয়। ''নেটিভ'' শব্দটি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও, ''ইন্ডিজেনাস'' শব্দটি ব্যবহার করাই উত্তম। [[টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জ|টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জের]] আদিবাসীরা নিজেদের “আদিবাসী” নয় বরং “টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার” হিসেবে পরিচয় দেন।
আদিবাসী অস্ট্রেলীয়দের সাথে আচরণের সময় কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত:
* অনেক আদিবাসীর কাছে অস্ট্রেলিয়া দিবস একটি “অবৈধ দখলের দিন”, তাই এই দিনে প্রতিবাদ হয়।
* কোনো মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করা বা ছবি না দেখানো ভালো। বিভিন্ন সম্প্রদায়ে নিয়ম আলাদা হলেও, অপমান এড়াতে এগুলো থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
* আদিবাসী ব্যক্তিদের ছবি তুলতে গেলে, বিশেষ করে [[আর্নহেম ল্যান্ড]] ও [[নর্দার্ন টেরিটরি]]-র মতো দূরবর্তী এলাকায়, অবশ্যই আগে অনুমতি নিতে হবে।
* উলুরু বা থ্রি সিস্টার্সের মতো পবিত্র আদিবাসী স্থানগুলোকে অসম্মান করবেন না-যেমন সেখানে চড়া, ভাঙচুর, লেখালেখি ইত্যাদি। এগুলো যে কতটা ক্ষতি করেছে পর্যটকরা, তার হিসেব মেলানো কঠিন।
* যদিও আইনের চোখে আদিবাসী ও অ-আদিবাসী সমান অধিকার পেয়েছে, বাস্তবে আদিবাসীরা প্রায়ই অন্যদের তুলনায় পুলিশি হয়রানির শিকার হন। এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এবং আজও নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে আদিবাসীদের পুলিশি নির্যাতন বা হেফাজতে মৃত্যুর খবর আসে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৪%-এরও কম হলেও, কারাবন্দি পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৩০% আদিবাসী। এই বিষয়গুলো সাধারণত '''এড়িয়ে যাওয়াই ভালো'''।
===এএনজ্যাক দিবস===
যদিও অস্ট্রেলীয়রা সাধারণত মজা করে কথা বলেন, ২৫ এপ্রিল পালিত এএনজ্যাক দিবস ব্যতিক্রম। এই দিনে সামরিক বাহিনীর প্রতি কোনো অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্য করলে তা অত্যন্ত আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং বিদেশিদেরকেও যুদ্ধস্মৃতিস্তম্ভে কেবল খেলা করেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বছরের বাকি সময়ে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সমালোচনা সহ্যযোগ্য হলেও, এই দিনে নয়।
===ধর্ম===
আধুনিক অস্ট্রেলীয় সমাজ তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ এবং নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষ সংখ্যালঘু। ২০২১ সালের আদমশুমারিতে মাত্র ৪৩% মানুষ নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, আর ৩৮% বলেছে তাদের কোনো ধর্ম নেই। ইসলাম, হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম ক্রমবর্ধমান, যা অভিবাসনের কারণে বাড়ছে।
অস্ট্রেলীয়রা সাধারণভাবে সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল। হিজাব, কিপ্পা বা ক্রুশের মতো ধর্মীয় প্রতীকধারী পোশাক সাধারণত অপমান বা হয়রানির শিকার হয় না, যদিও ইসলামবিদ্বেষ, ইহুদিবিদ্বেষ এবং অন্যান্য ধর্মীয় বৈষম্য কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়। সাধারণভাবে, ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয় না এবং ধর্ম প্রচার বা অন্যদের বিরক্ত করা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
বড় শহরগুলোতে হালাল খাদ্য পাওয়া সহজ। অনেক রেস্তোরাঁ হালাল খাবার সরবরাহ করে এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সার্টিফিকেটও থাকে। বড় সুপারমার্কেটেও হালাল পণ্যের জন্য আলাদা বিভাগ থাকে।
===ব্রিটিশ উত্তরাধিকার===
অস্ট্রেলিয়াকে কেবলমাত্র রৌদ্রোজ্জ্বল যুক্তরাজ্য বলা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সাথে তুলনা করাটা সব সময় আপত্তিকর নয়, তবে মানুষ পছন্দ করে যখন তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
==নিরাপত্তা==
===জরুরি পরিস্থিতি===
অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো টেলিফোন থেকে বিনামূল্যে ডায়াল করা যায় '''[tel:000 000]''' নাম্বারটি (যাকে ‘ট্রিপল জিরো’ বা ‘ট্রিপল ও’ বলা হয়)। এই নম্বরে ফোন করলে জরুরি অপারেটর আপনাকে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক, উপকূলরক্ষী বা অ্যাম্বুলেন্স সেবার সাথে সংযুক্ত করবে, নির্ভর করবে আপনি কোন সেবা চান তা জানানোর ওপর।
যদি পরিস্থিতি জরুরি না হয়, তাহলে ০০০ নম্বরে ফোন করবেন না। এর পরিবর্তে পুলিশ সহায়তা লাইনে ফোন করতে পারেন: [tel:131444 131 444]। এর মধ্যে শব্দ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ করাও অন্তর্ভুক্ত। বিষাক্ত দ্রব্য সংক্রান্ত পরামর্শ, যা সাপ, মাকড়সা ও পোকামাকড় কামড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা করে, পাওয়া যায় এই নম্বরে: [tel:131126 131 126]। নিকটবর্তী চিকিৎসা সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানার জন্য ফোন করুন [tel:1800022222 1800 022 222] (তাসমানিয়া ব্যতীত)।
বন্যা, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তার প্রয়োজন হলে প্রতিটি রাজ্যের স্টেট এমার্জেন্সি সার্ভিসের (Northern Territory বাদে) সাথে যোগাযোগ করুন [tel:132500 132 500] নম্বরে। আপনাকে স্থানীয় ইউনিটের সাথে যুক্ত করা হবে এবং সেখান থেকে সহায়তা সংগঠিত হবে। তবে জীবন হুমকির মুখে পড়লে অবশ্যই ০০০-তে ফোন করতে হবে।
সব মোবাইল ফোন থেকেই ০০০ ডায়াল করা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো এই নম্বরটিকে জরুরি নাম্বার হিসেবে চিনতে পারে এবং যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কল সম্পন্ন করতে পারে। তবে, যদি আপনার ফোনটি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আনা হয়ে থাকে, তাহলে ইউনিভার্সাল এমার্জেন্সি নাম্বার '''[tel:112 112]''' ব্যবহার করাই ভালো। ১১২ নম্বরে কল করলে এটি যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে, এমনকি ফোন রোমিং না করলেও বা সিম না থাকলেও কাজ করবে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ফোনেও কাজ করে। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ৩জি নেটওয়ার্ক থাকবে না, তাই ফোনে VoLTE কলিং এবং এমার্জেন্সি কল ওভার VoLTE সাপোর্ট থাকতে হবে (কিছু ফোন শুধু ৩জি বা ২জি ব্যবহার করে); একটি ফোন এই সেবার জন্য উপযোগী কি না তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন, কারণ ০০০ নম্বরে শুধু জরুরি অবস্থায়ই ফোন করা উচিত। তবে যদি ফোনটি অস্ট্রেলিয়ান সিম দিয়ে কাজ করে, তাহলে তা যথেষ্ট।
যাদের শ্রবণ বা বাক সমস্যা আছে এবং যারা TTY যন্ত্র ব্যবহার করেন, তারা ডায়াল করতে পারেন '''[tel:106 106]'''। যাদের ইন্টারনেট সংযোগ আছে, তারা [http://www.relayservice.com.au ইন্টারনেট রিলে সার্ভিসের ওয়েবসাইট] ব্যবহার করতে পারেন।
স্থায়ী ল্যান্ডলাইন ফোন থেকে কল করলে জরুরি পরিষেবা আপনাকে খুঁজে বের করতে কল ট্রেস করতে পারে। তবে মোবাইল ফোন থেকে করা কল, বিশেষ করে শহরের বাইরে, সঠিকভাবে ট্রেস করা কঠিন, তাই শান্তভাবে ও পরিষ্কারভাবে আপনার অবস্থান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি নম্বরের নম্বর বিন্যাসের কারণে প্রায় ৬০% কল ভুলবশত করা হয়।
আপনার সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানাতে না পারলে সম্ভবত কেউ আপনার ফোন কলে সাড়া দেবে না। যদি আপনি সহায়তা প্রয়োজন হলেও কথা বলতে না পারেন, আপনাকে একটি স্বয়ংক্রিয় মেনুতে পাঠানো হবে এবং আপনাকে '''৫৫''' চাপতে বলা হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে আপনি ভুল করে ফোন করেননি। এরপর আপনাকে পুলিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
১১২ ব্যতীত অন্য দেশের জরুরি নাম্বার (যেমন '৯১১', '১৭' বা '১০০') অস্ট্রেলিয়ায় '''কাজ করে না'''।
===গাড়ি চালানো===
{{seealso|অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো}}
বাস্তবতা মনে রাখুন। অস্ট্রেলিয়ার রাস্তায় পথচারী, চালক বা যাত্রী হিসেবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বা আহত হওয়ার সম্ভাবনা পর্যটকদের জন্য অন্য যেকোনো মৃত্যুর কারণের চেয়ে অনেক বেশি।
মদ্যপান বা মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো আইনত নিষিদ্ধ। অধিকাংশ রাজ্যে রক্তে অ্যালকোহলের নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাত্রা শূন্য থেকে ০.০৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এলোমেলোভাবে রক্ত ও শ্বাস পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ, তাই শহর ও গ্রামের মধ্যবর্তী দূরত্ব আপনি যেমন ভাবেন তার চেয়েও বেশি হতে পারে, বিশেষত যদি আপনি ইউরোপ, এশিয়া বা উত্তর আমেরিকার ফ্রি-ওয়ে বা মোটরওয়ে চালানোর অভ্যস্ত হন। বড় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের হলেও গ্রামীণ এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির মহাসড়কগুলোতে সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়। গতি সীমা রাজ্য, এলাকা ও সড়কভেদে পরিবর্তিত হয়। অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম না করে দৈনিক ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে ক্লান্তি ও স্ট্রেস এড়ানো যায়। কর্তৃপক্ষ প্রতি দুই ঘণ্টায় একবার বিরতি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ হাঁটার পরামর্শ দেয়। অনেক সময় এম, এ নম্বরযুক্ত রুট ও জাতীয় মহাসড়কে নির্ধারিত বিশ্রামস্থল থাকে, তবে কাঁচা রাস্তা, রাজ্য সড়ক, বি বা সি শ্রেণির মহাসড়কে এ ধরনের সুযোগ খুব কম।
শহর বা গ্রামের মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় বন্যপ্রাণীর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় গাড়ির আলো বা শব্দে ভয় পেয়ে ক্যাঙারুরা আচমকা গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সড়কের পাশে গাছপালা বা ঝোপঝাড় থাকলে, আর ভোর বা গোধূলির সময় (যখন বন্যপ্রাণী সবচেয়ে সক্রিয়) গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। যদিও শহুরে এলাকায় বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি নেই বললেই চলে, ক্যানবেরায় পার্কগুলোর কারণে প্রায়ই ক্যাঙারু রাস্তা পার হয়।
শহরের মানুষ সাধারণত ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তায় দৌড়ে যায়, লাল বাতি আসার আগেই রাস্তা পার হয় বা গাড়ির গতি বুঝে দৌড়ে চলে যায়। যদিও অধিকাংশ চালক লাল বাতিতে থামে, হলুদ বাতি দেখে গাড়ি না থেমে চলে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। তাই ফুটপাথ থেকে রাস্তায় নামার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে গাড়িগুলো পুরোপুরি থেমেছে। যারা ডান পাশে গাড়ি চালানোর অভ্যস্ত, তাদের জন্য সঠিক দিকে তাকানো শিখতে একটু সময় লাগতে পারে।
===সমুদ্রসৈকত===
[[File:Lifeguard, Sydney, Australia.jpg|thumb|[[সিডনি]]র বন্ডাই সৈকতে এক লাইফগার্ড]]
প্রতি বছর প্রায় ১০–২০ জন বিদেশি পর্যটক অস্ট্রেলিয়ায় ডুবে মারা যান। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই সমুদ্রসৈকতে ঘটে এবং পরিসংখ্যান বলছে, পর্যটকদের জন্য এই ঝুঁকি স্থানীয়দের তুলনায় অনেক বেশি। বিস্তারিত জানতে দেখুন [http://www.beachsafe.org.au বিচ নিরাপত্তা ওয়েবসাইট]।
সৈকতে গেলে অবশ্যই '''লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে''' সাঁতার কাটুন। এগুলোই চিহ্নিত করে যে এলাকা পেট্রল করা হচ্ছে। সব সৈকত সার্বক্ষণিকভাবে পেট্রল করা হয় না, এমনকি প্রতিদিনের সব সময়েও না। অনেক সময় শুধুমাত্র সপ্তাহান্তে বা গ্রীষ্মে পেট্রল থাকে, তাও নির্দিষ্ট সময়ে। পতাকা না থাকলে ধরে নিন, সেখানে কেউ নজরদারি করছে না। গ্রামীণ এলাকার অনেক সৈকতেই কোনো নজরদারি নেই। যদি আপনি সাঁতার কাটেন, তাহলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকুন, পানির অবস্থা যাচাই করুন, নিজের সাঁতারের সীমা বুঝুন, এবং কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।
অনেক সৈকতে হঠাৎ গভীরতা বেড়ে যায়, যা অপ্রস্তুত সাঁতারুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদি সন্দেহ হয়, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন।
'''হার্ড সার্ফবোর্ড, সার্ফ স্কি, কায়াক ইত্যাদি লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে ব্যবহার করা যায় না।''' এগুলো কেবল নীল ‘সার্ফক্রাফট পারমিটেড’ পতাকার বাইরে ব্যবহার করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী রিপ কারেন্ট থাকে, যেগুলো সবচেয়ে দক্ষ সাঁতারুদেরও টেনে নিয়ে যেতে পারে। এই রিপ হলো এমন একপ্রকার পানির ধারা যা সৈকতের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে যায় এবং প্রায় চোখে দেখা যায় না। অনেক স্থানীয় মানুষ এগুলো চিনতে পারেন। যদি আপনি সন্দিহান হন, কাউকে জিজ্ঞাসা করুন। এই ধারাগুলো শান্ত পানির মতো দেখায় বলে অনেকেই ভুল করে সেখানেই সাঁতার কাটেন, তারপর ফিরে আসতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ডুবে যান।
রিপ চেনার লক্ষণগুলো হলো: আশপাশের তুলনায় ঢেউ কম থাকা; ফেনা যা ব্রেক জোনের বাইরে গিয়ে পড়ে; বাদামি-বালির রঙের পানি; দুই পাশে ঢেউ ভাঙা হলেও মাঝখানে না ভাঙা।
যদি আপনি কোনো পেট্রল করা সৈকতে রিপে আটকে যান, শক্তি সংরক্ষণ করুন, ভাসুন বা পানির উপর ভেসে থাকুন এবং একটি হাত তুলে সাহায্যের সংকেত দিন। লাইফসেভাররা আপনাকে উদ্ধারে আসবে। ক্লান্ত হয়ে পড়ার আগেই সাহায্য চান। স্থানীয় সাঁতারু বা সার্ফাররাও দ্রুত আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যদিও পতাকা সাধারণত রিপ মুক্ত এলাকায় বসানো হয়, তবে কখনো কখনো সেগুলোর কাছেও রিপ চলে আসতে পারে।
যদি আপনি কোনো অপেট্রল সৈকতে রিপে পড়েন, শান্ত থাকুন এবং তির্যকভাবে (সৈকতের সমান্তরালে) সাঁতার কাটুন, স্রোতের বিরুদ্ধে নয়। অধিকাংশ রিপ কয়েক মিটার চওড়া হয়, তাই স্রোত থেকে বেরিয়ে গেলে আপনি তীরে ফিরে আসতে পারবেন। '''কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।''' মনে রাখবেন, সঠিক কৌশল সব পরিস্থিতিতে আপনাকে বাঁচাবে না। সৈকতের পেছনে ভেঙে পড়া ঢেউয়ের মধ্যে ভেসে থাকা কঠিন, কয়েক সেকেন্ড পরপরই ঢেউ আছড়ে পড়ে। একবার রিপে পড়লে আপনি চোখের পলকে ৫০ মিটার সমুদ্রের গভীরে চলে যেতে পারেন। অপেট্রল সৈকতে থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন এবং কখনো নিজের সাঁতারের গভীরতা অতিক্রম করবেন না।
সৈকতের সংকেতচিহ্নগুলোতে প্রায়ই একটি সংখ্যা বা আলফানিউমেরিক কোড থাকে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা সংস্থাকে জানালে তারা দ্রুত আপনাকে খুঁজে পাবে।
[[#Crocodiles|কুমির]] ও [[#Jellyfish|বক্স জেলিফিশ]] নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট অঞ্চলে দেখা যায়। অনেক অস্ট্রেলীয় সৈকতেই হাঙর থাকে। নিচের বিপজ্জনক প্রাণী বিভাগে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। পেট্রল করা সৈকতগুলোতে হাঙরের গতিবিধি নজরদারি করা হয়। যদি সৈকতে একটি ধারাবাহিক সাইরেন বাজে এবং লাল ও লাল-সাদা চতুর্থাংশ পতাকা দেখানো হয়, তাহলে ধরে নিন, হাঙর দেখা গেছে। দ্রুত তীরে ফিরে আসুন। পরিস্থিতি শান্ত হলে একটি সংক্ষিপ্ত সাইরেন বাজানো হবে, যা সাধারণত নিরাপদে পানিতে ফেরার সংকেত।
===প্রাকৃতিক দুর্যোগ===
অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে।
====[[ঘূর্ণিঝড়]]====
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ঘটে, এবং এই সময়ে ভ্রমণ করলে ঘূর্ণিঝড় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তার তীব্রতা এবং আপনার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। দুর্বল ঘূর্ণিঝড়ে কেবল বৃষ্টিপাত ও বাতাসে কয়েকদিন হোটেলে থাকতে হতে পারে, আবার প্রবল ঘূর্ণিঝড় জীবনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, আপনাকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারে এবং আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এমনকি দুর্বল ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপও দূরবর্তী এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দিতে পারে, যা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
গড়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি শহরে প্রতি ৩০ বছরে একবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জনসংখ্যা কম হওয়ায় অনেক ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলেও কোনো বড় শহরে এর প্রভাব পড়ে না।
তবুও, যদি আপনি ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে [http://www.bom.gov.au/cyclone/index.shtml অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোর ঘূর্ণিঝড় তথ্য পৃষ্ঠা] দেখে নিন এবং ভ্রমণের সময় নিয়মিতভাবে সেখানে নজর রাখুন যাতে আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়।
====বন্যা====
উত্তরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ‘‘বর্ষাকাল’’ হয়, যখন প্রবল বর্ষণ ও নিয়মিত বন্যা দেখা দেয়। অনেক সময় উপকূলবর্তী কিছু এলাকা এক–দুদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না পানি নেমে যায়। তবুও জনবহুল ও পর্যটক–কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে এ সময় ভ্রমণ করা খারাপ নয়। অস্বাভাবিকভাবে বড় বন্যা না হলে দর্শনার্থীরা ঝর্ণাধারা ও অন্যান্য আকর্ষণ উপভোগ করতে পারেন, যা ভ্রমণকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
অস্ট্রেলিয়ার আউটব্যাক ও অন্তর্দেশীয় অঞ্চলে বন্যা খুবই বিরল, কয়েক দশক পরপর ঘটে। তাই সেখানে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হবে। যদি অন্তর্দেশীয় বা আউটব্যাক এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে এবং অঞ্চলটি বন্যাগ্রস্ত হয়, তবে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ভূমি সমতল হওয়ায় পানি নেমে যেতে সপ্তাহ লেগে যায়, জমি কাদাময় হয়ে থাকে। চারপাশে জমা পানি থাকায় পোকামাকড় ও মশা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরা কীটনাশককেও সহজে সহ্য করে। সড়ক বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যাত্রার সময় অনেক বাড়ে। অনেক আকর্ষণীয় স্থান মূল সড়ক থেকে অল্প দূরের কাঁচা রাস্তায় অবস্থিত, যা অচল হয়ে পড়ে যদিও মূল সড়ক খোলা থাকে। কয়েক সপ্তাহ পর ফিরে গেলে দেখা যাবে ভূমি তখনও সবুজ, হ্রদ–নদী প্রবাহমান এবং পাখিজীবন সক্রিয়।
দেশের দক্ষিণ অংশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সাধারণত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের শীতকালে। তবে সাধারণত একবারে এত বৃষ্টি হয় না যে বন্যা সৃষ্টি করবে। রাজধানী শহরগুলোতে বন্যার তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না, প্রায় কখনোই না।
====== আকস্মিক বন্যা ======
প্রায় প্রতি বছরই পূর্বাঞ্চলের বহু শহরে অন্তত একবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, সাধারণত গ্রীষ্মকালে। এটি বেশ ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতরেই থাকা উচিত এবং এসইএস (এসইএস) ও এবিসি (এবিসি) স্থানীয় রেডিওর পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। কখনোই বন্যার পানিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। প্রতিবছর বহু গাড়ি ধ্বংস হয় কারণ চালকেরা পানির গভীরতা বা স্রোতের তীব্রতাকে হেলাফেলা করেন। শেষ পর্যন্ত যেন আপনাকে সেতুর নিচে ভেসে পুলিশি উদ্ধার অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।
আকস্মিক বন্যার সময় প্রায়ই বড় বড় শিলাবৃষ্টি হয়, যা গাড়ি নষ্ট করতে পারে। তাই গাড়ি আচ্ছাদিত স্থানে (তবে ভূগর্ভস্থ নয়) পার্ক করুন।
এটি সাধারণত পূর্বাভাসযোগ্য হয়। স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে ঝড়ের আশঙ্কার কথা শোনা যাবে এবং [http://www.bom.gov.au/ bom.gov.au] তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতা প্রকাশ করবে।
==== পানির যোগান ====
অস্ট্রেলিয়া একটি অত্যন্ত শুষ্ক দেশ; বিশাল মরুভূমি অঞ্চল রয়েছে এবং আবহাওয়া খুব গরম হতে পারে।
যখন জনবসতি থেকে দূরে, পাকা রাস্তা ছেড়ে ভ্রমণ করবেন, তখন আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে-যেখানে হয়তো টানা এক সপ্তাহও অন্য কোনো গাড়ি দেখা যাবে না। তাই সঙ্গে নিজের পানির যোগান রাখা অত্যন্ত জরুরি (প্রতিদিন প্রতিজনের জন্য ৪ গ্যালন বা ৭ লিটার)। মানচিত্রে 'কূপ', 'ঝরনা' বা 'ট্যাংক' লেখা দেখে ভুলবেন না-এগুলো প্রায় সবই শুকিয়ে গেছে, আর ভেতরের অনেক হ্রদই আসলে শুকনো লবণাক্ত ভূমি।
বেশিরভাগ শহর ও নগরে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যেমন গাড়ি ধোয়া, বাগানে পানি দেওয়া বা সরকারি গোসলখানা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকে। হোটেল বা আবাসিক স্থানে প্রায়ই অতিথিদের গোসল ছোট করতে অনুরোধ করা হয়।
বহু আঞ্চলিক শহরের সরকারি বাথরুমে পানীয়-অযোগ্য পানি থাকে। “Do not drink” বা “Non-potable” লেখা ট্যাপ থেকে কখনোই পানি খাবেন না-এসব সাধারণত অপরিশোধিত ভূগর্ভস্থ পানি।
==== [[ভূমিকম্প]] ====
অস্ট্রেলিয়া কোনো প্লেট সীমান্তে অবস্থিত নয়, তবে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হয়। এগুলো সাধারণত ছোট মাত্রার হয় এবং বড় ধরনের ক্ষতি বা প্রাণহানি প্রায় ঘটে না।
===দাবানল===
'''[[দাবানল]]''' (বুশফায়ার) অস্ট্রেলিয়ার অনেক অঞ্চলে ঋতুভিত্তিক বিপদের মধ্যে একটি। বিশেষ করে যদি আপনি বুশল্যান্ড বা গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণে যান, তবে আগে থেকেই অগ্নি-ঝুঁকির মাত্রা এবং কোনো আগুন সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে খুব বিপজ্জনক দিনে বুশফায়ার প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে-বিশেষত যদি আপনি খোলা আকাশের নিচে থাকেন বা মজবুত কোনো ভবনের সুরক্ষা না থাকে।
যদি দাবানলের মধ্যে আটকা পড়েন, বেশিরভাগ আগুন দ্রুত পাশ কাটিয়ে যাবে। আপনাকে এমন আশ্রয় খুঁজতে হবে যা ধোঁয়া এবং তীব্র তাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে। সবচেয়ে ভালো হলো ঘরবাড়ি, তারপর গাড়ি, তারপরে খোলা জায়গা, গুহা বা সৈকত। যতটা সম্ভব সবকিছু ভিজিয়ে ফেলুন। নিচু হয়ে থাকুন এবং মুখ ঢেকে রাখুন। আগুন না-ধরতে পারে এমন কাপড় (যেমন উলের জামাকাপড় বা কম্বল) দিয়ে শরীর ঢেকে রাখুন এবং তাপের সামনে খোলা ত্বক কমিয়ে আনুন। যদি কলের পানি থাকে, আগে থেকেই সংগ্রহ করুন; আগুন কাছে এলে পানির চাপ নাও থাকতে পারে।
ডানপাশে দেখানো আগুনের ঝুঁকি সূচকটি (Fire Danger Rating) জানায়, আগুন লাগলে সেটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। '''এটি আগুন লাগার সম্ভাবনা কতটা তা বলে না।'''[[File:WA fire danger sign Wyalkatchem.jpg|thumb|অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অগ্নি-ঝুঁকির চিহ্ন স্থাপন করা আছে]]
* **Severe (গুরুতর):** গরম, শুষ্ক এবং বাতাস প্রবাহিত আবহাওয়া। এ সময় আগুন শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কেবল প্রস্তুত ভবন ও সক্রিয় প্রতিরক্ষাই নিরাপত্তা দিতে পারে। আগুনের প্রথম ইঙ্গিতেই এলাকা ছেড়ে দিন।
* **Extreme (চরম):** গরম, শুষ্ক ও প্রবল বাতাসের সময় যে আগুন শুরু হয় তা নিয়ন্ত্রণহীন, অনিশ্চিত ও দ্রুতগামী হয়। কেবল বিশেষভাবে নির্মিত ও সক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষিত ঘরবাড়ি কিছুটা নিরাপদ হতে পারে। বনভূমি, ঘন ঝোপঝাড় বা শুকনো ঘাস এড়িয়ে চলুন। নিরাপত্তার জন্য এসব এলাকা ছেড়ে যাওয়াই শ্রেয়।
* **Catastrophic/Code red (বিপর্যয়কর/কোড রেড):** দাবানল বা ঘাসের আগুনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। বনাঞ্চল বা ঘন বুশ থেকে দূরে থাকুন। এ সময় এলাকাগুলো ছেড়ে যাওয়াই অত্যন্ত পরামর্শযোগ্য। উল্লেখযোগ্য যে, অনেক স্থানীয় মানুষ বছরের এই কয়েকটি "বিপর্যয়কর" দিনে নিজেদের আউটব্যাকের বাড়িঘর ছেড়ে বড় শহরে আশ্রয় নেন।
==== জাতীয় উদ্যান ও রাজ্য বন ====
অগ্নি-ঝুঁকি চরম বা তার বেশি হলে জাতীয় উদ্যানগুলো বিশেষত ব্যাককান্ট্রি এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই গ্রীষ্মে ক্যাম্পিং বা হাইকিং পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প পরিকল্পনা জরুরি। কোনো উদ্যানে আগুন লাগলে সাধারণত পুরো উদ্যানই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যদি এমন সময় উদ্যানে থাকেন, সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো আগের রাতেই বা সকালে এলাকা ছেড়ে যাওয়া। আগুনের খবর শুনলে বা ধোঁয়া দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
==== সক্রিয় অগ্নিকাণ্ড চলাকালে বা অগ্নি মৌসুমে ভ্রমণ ====
শহরের বাইরে অগ্নি মৌসুমে গাড়ি চালালে [https://www.abc.net.au/local/ স্থানীয় এবিসি রেডিও]তে টিউন করুন। বুশফায়ার বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর সতর্কতাসংকেত বাজে এবং তারপর আপডেট দেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে সরাসরি সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তাও আসতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় জরুরি ও অগ্নি ব্যবস্থাপনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তাই যে রাজ্যে আছেন তার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করুন। যেমন [https://www.emergency.wa.gov.au/ ইমার্জেন্সি ডব্লিউএ] এবং [https://emergency.vic.gov.au/ ভিকইমার্জেন্সি] সাইটে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি তালিকাভুক্ত থাকে।
'''এক পর্যায়ে হয়তো আপনার পক্ষে আর এলাকা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।'''
অগ্নি মৌসুমে আপনার পরিকল্পনায় দুটি পালানোর পথ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শপিং সেন্টার বা জনবহুল শহরের মূল সড়কগুলো চরম বা কোড রেড দিনের জন্য নিরাপদ, যতক্ষণ না রেডিওতে অন্য কিছু ঘোষণা হয়।
কখনো কখনো পুরো শহর সরিয়ে নেওয়া হয়। তখন আগুন দেখা না গেলেও আগেভাগেই চলে যাওয়া উচিত। কারণ আগুনের ভেতর দিয়ে সরতে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। সেরা উপদেশ হলো, চলে যান এবং আগুন দেখার জন্য থেকে যাবেন না।
==== আগুন জ্বালানো ====
যে আগুন জ্বালাচ্ছেন তা বৈধ এবং নিয়ন্ত্রণে আছে কি না নিশ্চিত করুন। অগ্নি সেবাদানকারী সংস্থা '''সম্পূর্ণ অগ্নি-নিষেধাজ্ঞা''' (Total Fire Ban) জারি করে যখন অগ্নি ঝুঁকি চরম হয়। তখন বাইরে কোনো আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অধিকাংশ উদ্যানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়, এবং স্থানীয় ঝুঁকি মাত্রা জেনে নেওয়া আপনার দায়িত্ব। জাতীয় উদ্যানে এসব দিনে বনরক্ষী বা পুলিশ টহল দেয় যাতে কেউ খোলা আগুন না জ্বালায়। নিয়ন্ত্রণহীন আগুন লাগালে জরিমানা বা এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে।
===বিষাক্ত ও বিপজ্জনক প্রাণী===
{{see also|পোকার উপদ্রব}}
অস্ট্রেলিয়ায় পৃথিবীর অনেক মারাত্মক কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস রয়েছে। তবে ভ্রমণকারীরা শহুরে পরিবেশে এদের প্রায় দেখেন না, এমনকি বুশ এলাকাতেও এরা সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলে। অস্ট্রেলিয়ায় কামড় ও হুলের কারণে যে মৃত্যুগুলো ঘটে, তার বিশাল অংশই মৌমাছি ও বোলতার হুলে অ্যালার্জি থেকে হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচলিত আছে, যা প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ানরা রসিকতার ছলে বলেন। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জেলিফিশ ও কুমির সম্পর্কে সতর্কবার্তাগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, এবং জাতীয় উদ্যান ও বুশল্যান্ডে সাপ থেকে দূরে থাকতে হবে।
যদি গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণ করেন, তবে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ থাকে। একই সঙ্গে সাপ বা মাকড়সার কামড়ের পর কী করতে হবে তা আগে থেকেই শিখে নেওয়া ভালো।
====সাপ====
অস্ট্রেলিয়ার শহুরে এলাকায় সাপের দেখা পাওয়া খুব একটা সাধারণ নয়। তবে ঘাসভূমি, জাতীয় উদ্যান এবং অন্যান্য বুশল্যান্ডে এগুলো বেশ স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়। সাধারণত সাপ মানুষকে এড়িয়ে দূরে সরে যেতে চায়। তাই হাঁটার সময় যদি সামনে সাপ দেখতে পান, তবে সেটির চারপাশ ঘুরে যান বা অন্য দিকে চলে যান। ঘন ঝোপঝাড় বা ঘাসে অন্ধভাবে ঢোকা উচিত নয়, কারণ সাপ সেখানে লুকিয়ে থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাপ মানুষকে ভয় পায় এবং আপনি দেখার আগেই সাপ পালিয়ে যায়।
'''কোনোভাবেই''' কোনো সাপ ধরতে চেষ্টা করবেন না, এমনকি সেটি বিষহীন বলে বিশ্বাস করলেও নয়। সাপের কামড়ে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই সাপ ধরতে বা মারতে গিয়েছিল, অথবা হাঁটার সময় অসাবধানতায় পায়ে দিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় কিছু মারাত্মক বিষধর সাপ রয়েছে। তাই সব সাপকেই সম্মানজনক দূরত্বে রাখুন এবং কোনো সাপ কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসা নিন। দুর্গম স্থানে গেলে সাপের কামড়ের জন্য উপযোগী ফার্স্ট-এইড কিট সঙ্গে রাখুন। যদি কামড় খান, তবে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থানের চারপাশ শক্ত করে বেঁধে দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সহায়তা নিন। ক্ষত পরিষ্কার করবেন না, কারণ বিষের নমুনা পরীক্ষা করে কোন অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে হবে তা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিচ্ছিন্ন স্থানে থাকেন, তবে অন্য কাউকে সাহায্য চাইতে পাঠান। কিছু সাপের (বিশেষ করে টাইপান) বিষ ১৫ মিনিটের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারে। তবে ক্ষত অবশ করে রাখলে এবং বিশ্রাম নিলে বিষ ছড়িয়ে পড়া কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ হাসপাতালেই বহুমুখী অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়, যাতে সব বিপজ্জনক অস্ট্রেলীয় সাপের প্রতিষেধক অন্তর্ভুক্ত থাকে।
====মাকড়সা====
[[File:Atrax robustus.jpg|thumb|সিডনির ফানেল-ওয়েব মাকড়সা সতর্ক ভঙ্গিতে]]
অস্ট্রেলিয়া মাকড়সার জন্য বিখ্যাত হলেও, মাকড়সায় মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল। অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সা দেখা সাধারণ ব্যাপার এবং বেশিরভাগ মাকড়সাই ক্ষতি করে না। বাগান করার সময় বা শুকনো পাতা ধরার সময় গ্লাভস পরা উচিত। বাইরে রাখা কাপড়, জুতা ইত্যাদি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝেড়ে নেওয়া দরকার। পাথরের নিচে বা গাছের ফোকরে আঙুল দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে মাকড়সা লুকিয়ে থাকতে পারে। কিছু মাকড়সা ঘরেও পাওয়া যায়, যেমন বড় আকারের লোমশ হান্টসম্যান মাকড়সা, যেগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয়, বরং আরশোলা জাতীয় কীটপতঙ্গ কমায়। বাগানের অরব উইভিং মাকড়সাদের বড় বড় জাল ঝামেলার হলেও বিপজ্জনক নয়।
তবে কিছু মাকড়সা খুবই বিপজ্জনক। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত মাকড়সা হলো '''সিডনি ফানেল-ওয়েব মাকড়সা''', যা মূলত সিডনি ও নিউ সাউথ ওয়েলসের পূর্বাঞ্চলে পাথর ও শুকনো পাতার নিচে পাওয়া যায়। এদের আকার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং সাধারণত কালো রঙের। ফানেল-ওয়েব অঞ্চলে যদি মাকড়সার কামড় লাগে, দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। এরা বেশিরভাগ সময় ভূগর্ভে থাকে (আর্দ্র গর্তের বাইরে আধ ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না), তাই খোলা জায়গায় এদের দেখা পাওয়া বিরল। সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে।
'''রেড-ব্যাক মাকড়সা''' (পেটের ওপর লাল দাগ দিয়ে সহজেই চেনা যায়) অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ। এর কামড়ে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যদিও ফানেল-ওয়েবের মতো জরুরি নয়। রেড-ব্যাক সাধারণত অন্ধকার কোণে লুকিয়ে থাকে এবং ঘরের ভেতরে সচরাচর দেখা যায় না। তবে বাইরে শেড, টেবিল-চেয়ারের নিচে বা পাথরের তলায় এরা লুকাতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সার কামড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। সব সময় ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে যে মাকড়সা কামড়েছে তাকে চিনে রাখা ভালো-ছবি তুলে রাখা বা ধরে রাখা যেতে পারে যাতে দ্রুত অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া যায়। তবে আবার কামড় খাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
====জেলিফিশ====
উত্তর [[কুইন্সল্যান্ড]], [[নর্দার্ন টেরিটরি]] বা উত্তর [[ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া]] ভ্রমণকারীদের অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় '''বক্স জেলিফিশের''' প্রাণঘাতী হুলের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। এরা পানিতে ধরা পড়া কঠিন এবং অগভীর পানিতেও থাকে। এদের হুলের ব্যথা প্রচণ্ড কষ্টকর এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভিনেগার লাগালে বিষক্রিয়া কিছুটা কমে, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকির সময় ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত এরা তীরের কাছেই থাকে, তবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে সচরাচর পাওয়া যায় না এবং অনেকে সেখানকার পানিতে সাবধানতা ছাড়াই সাঁতার কাটে। স্থানীয় বিশ্বস্ত তথ্য নেওয়া জরুরি।
'''ইরুকান্দজি''' হলো আরেক ধরনের ক্ষুদ্র (নখের সমান আকারের) জেলিফিশ, যা উত্তর অস্ট্রেলিয়ার পানিতে এবং আশেপাশের ইন্দো-প্যাসিফিক দ্বীপে পাওয়া যায়। এরা চোখে দেখা কঠিন এবং কামড় বিপজ্জনক হলেও খুব বিরল। বক্স জেলিফিশের মতো এরা রিফ অঞ্চলে থাকে। প্রথম কামড় টের নাও পাওয়া যেতে পারে। এরা প্রাণঘাতী কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে হাসপাতালে ভর্তি এবং কয়েকদিন প্রচণ্ড যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে। পানির বাইরে আসার পর যদি বমিভাব বা তীব্র ব্যথা হয়, চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
জেলিফিশ প্রতিরোধী "স্টিঙ্গার-স্যুট" কিনতে প্রায় ১০০ ডলার লাগে বা সপ্তাহে ২০ ডলারে ভাড়া নেওয়া যায়।
====নীল-চক্র অক্টোপাস====
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের পাথুরে জোয়ারভাটা পুকুরে ছোট নীল-চক্র অক্টোপাস পাওয়া যায়। সাধারণত বালুমাখা বেইজ রঙের হলেও হুমকির মুখে এদের গায়ে উজ্জ্বল নীল বৃত্ত দেখা যায়। এরা বিরল ও ভীরু। পাথরের নিচে বা জোয়ারভাটা পুকুরে হাত না দেওয়াই ভালো, কারণ সেখানেই এরা লুকিয়ে থাকে। এদের বিষ খুবই শক্তিশালী এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে মৃত্যু ঘটাতে পারে যদি কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস না দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় নীল-চক্র অক্টোপাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।
====কুমির====
[[File:Crocodylus porosus - Daintree River.jpg|thumb|লোনা পানির কুমির]]
উত্তর কুইন্সল্যান্ড, নর্দার্ন টেরিটরি ও উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় '''লোনা পানির কুমিরের''' প্রাণঘাতী আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিং সাউন্ড থেকে কুইন্সল্যান্ডের রকহ্যাম্পটন পর্যন্ত এরা সমুদ্র, নদীর মোহনা ও মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এরা প্রায় ২৫ ফুট লম্বা হয় এবং হঠাৎ আক্রমণ করতে পারে। নামের সাথে "লোনা পানি" থাকলেও এরা মিঠা পানিতেও থাকে। স্থলে এরা সাধারণত স্থির থাকে, তবে হঠাৎ দ্রুতগতিতে নড়তে পারে। আক্রমণের বেশিরভাগই প্রাণঘাতী। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকে। নিরাপদ না বলা পর্যন্ত এসব অঞ্চলে সাঁতার কাটা উচিত নয়। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে একটি কুমির-আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
'''মিঠা পানির কুমির''' তুলনামূলক ভীতু এবং মানুষ এড়িয়ে চলে। তবে হঠাৎ ভয় পেলে বা ডিম রক্ষার সময় আক্রমণ করতে পারে। এদের কামড়ে আঘাত লাগে, তবে ছোট চোয়াল ও দাঁতের কারণে সচরাচর প্রাণঘাতী হয় না।
====বিপজ্জনক উদ্ভিদ====
'''জিম্পি গাছ''' (''Dendrocnide moroides''), যাকে স্টিংগিং ট্রি নামেও ডাকা হয়, একটি দংশনকারী উদ্ভিদ। এর পাতায় ও ডালে থাকা অতি সূক্ষ্ম দংশনকারী লোম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রচণ্ড যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে। এই গাছ প্রধানত উত্তর-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে, বিশেষ করে রেইন ফরেস্ট বা বর্ষাবনের ফাঁকা জায়গায় পাওয়া যায়। তবে জিম্পি গাছ এবং এ ধরনের আরও প্রায় পাঁচটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত প্রজাতি দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ড এবং আরও দক্ষিণে পূর্ব অস্ট্রেলিয়াতেও দেখা যায়। এ ধরনের এলাকায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে হাঁটার সময় ভ্রমণকারীদের কড়াভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়, যেন কোনো কারণেই এই গাছে হাত না দেন।
===অপরাধ ও পুলিশ===
অস্ট্রেলিয়ায় [[অপরাধ]]ের হার অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। ভ্রমণকারীদের অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে চুরি, ব্যাগ কেড়ে নেওয়া বা পকেটমারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা উচিত। কিছু শহরে রাতের বেলায় বিপজ্জনক এলাকা আছে, তবে সেগুলো সচরাচর পর্যটকদের যাওয়ার জায়গা নয়।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ সাধারণত সহজলভ্য ও বিশ্বস্ত। কোনো আক্রমণ, চুরি বা অপরাধ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো উচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় দুই ধরনের পুলিশ রয়েছে: রাজ্য/আঞ্চলিক পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। সাধারণত ভ্রমণকারীরা রাজ্য পুলিশের সাথেই যোগাযোগ করে। এএফপি মূলত সরকারি বিশেষ দায়িত্বে থাকে, তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে এএফপিই মূল পুলিশ বাহিনী হিসেবে কাজ করে, নাম ‘‘এসি-টি পুলিশিং’’।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে (যেমন কাস্টমস অফিসার) ঘুষ দেওয়া গুরুতর অপরাধ, এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।
গাড়ি রেখে গেলে অবশ্যই তালা দেওয়া, জানালা বন্ধ করা এবং গাড়ির ভেতরে মোবাইল, জিপিএস বা ব্যাগের মতো দৃশ্যমান কিছু না রাখা উচিত। চোরেরা প্রায়ই কাচ ভেঙে এসব নিয়ে যায়।
====প্রতারণা====
অস্ট্রেলিয়ায় [[প্রতারণা|প্রতারণামূলক]] কার্যকলাপ খুব বেশি দেখা যায় না। ভ্রমণকারীদের সাধারণ সাবধানতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে অপরাধীরা এটিএমে কারসাজি করে মুদ্রা আটকে রাখে বা কার্ডের তথ্য নেয়। এটিএম ব্যবহার করার পর ব্যাংক স্টেটমেন্টে সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে অবিলম্বে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। পিন নম্বর দেওয়ার সময় হাত দিয়ে ঢেকে রাখা প্রয়োজন, যাতে স্কিমিং ডিভাইস বা ক্যামেরা রেকর্ড করতে না পারে।
এটিএম স্কিমিং বিরল এবং সহজেই এড়ানো যায়-বিশ্বস্ত ব্যাংকের (এএনজেড, কমনওয়েলথ, ওয়েস্টপ্যাক, ন্যাব) এটিএম ব্যবহার করুন অথবা ব্যাংকের ভেতরের এটিএম ব্যবহার করুন, যেগুলো সাধারণত ২৪/৭ খোলা থাকে এবং বাইরে থেকে নিরাপদ।
এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিস (এটিও) কখনোই স্পটিফাই বা আইটিউনস গিফট কার্ড দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে বলে না। এই ধরনের প্রতারণা বিশেষত প্রবীণ ও অজ্ঞ মানুষদের লক্ষ্য করে করা হয়। কোলস, উলি, মায়ার, টার্গেট, বিগ ডব্লিউ, কেমার্ট ইত্যাদি দোকানে প্রায়শই ক্যাশ কাউন্টারে এ নিয়ে সতর্কবার্তা টাঙানো থাকে, যা পড়ে রাখা ভালো।
===বর্ণবৈষম্য===
[[File:Car with personalised plate celebrating being a Wog.jpg|thumb|ড্রাইভারের গাড়ির নম্বরপ্লেট তাকে "ওগ" বলার আমন্ত্রণ নয়]]
অস্ট্রেলিয়া বাইরে থেকে একটি বহুসংস্কৃতিমূলক এবং জাতিগতভাবে সহিষ্ণু সমাজ হিসেবে পরিচিত, এবং এখানে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও জাতিগত বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার আইন রয়েছে। তবুও, দেশটির ঔপনিবেশিক ইতিহাস পুরোপুরি অতিক্রম করা যায়নি, তাই বর্ণবৈষম্য একটি সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে। আদিবাসীদের জমি দখল, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, রাষ্ট্র-সমর্থিত বর্ণবাদ, এমনকি আদিবাসী শিশুদের জোরপূর্বক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা (যা "চুরি হওয়া প্রজন্ম" নামে পরিচিত) বিশ শতক পর্যন্ত চলেছে। ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ফলে সাদা-প্রাধান্যভিত্তিক অভিবাসননীতি বাতিল হয়েছে, আদিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর বড় বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
তবে সবাই এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট নয়, বিশেষ করে আদিবাসীরা এখনও ব্যাপক বর্ণবৈষম্যের মুখোমুখি হন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণকারীরা সাধারণত হঠাৎ করে জাতিগত গালাগালির শিকার হন না। যদি এমন কিছু ঘটে, তবে পুলিশকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহিংস ঘটনা আরও বিরল।
ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে জাতিগত পরিচয় নিয়ে কিছু শব্দ ব্যবহার করে, তবে দর্শনার্থীদের জন্য এগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি "পম" (ব্রিটিশ), "ইয়াঙ্ক" (আমেরিকান), "পাকি" (ভারতীয় উপমহাদেশীয়), "ওগ" (দক্ষিণ ইউরোপীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের লোক), এবং "কারি মান্চার" (দক্ষিণ ভারতীয়) শব্দ শুনতে পারেন। বিশেষত ব্রিটিশরা এই শব্দগুলোকে অপমানজনক মনে করে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় অনেক বেশি সহজভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে কখনোই আদিবাসীদের "আবো", "নেটিভ ট্রাইবস", "অ্যাবরিজিনস" বা "নুগাস" বলা যাবে না, এগুলো অত্যন্ত বর্ণবাদী শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় কিছু অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন ও অ্যান্টি-মাল্টিকালচারাল গোষ্ঠী আছে, যারা মূলত মুসলিম ও আফ্রিকান দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালায়। ভ্রমণকারীদের এদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে রাতে কোনো পাব-এ গিয়ে কারও জাতিগত মতামত খোঁচাতে চাইলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মেলবার্নের পশ্চিমাঞ্চলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তরুণদের সম্পৃক্ত কিছু অপরাধ ঘটেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এতে বর্ণবাদী মনোভাব আরও উসকে দিয়েছে।
"অজি" (ওজি) শব্দটি অস্ট্রেলিয়ানদের বর্ণনা করতে ব্যবহার করলে অপমানজনক নয়, তবে তারা সাধারণত নিজেদের ক্ষেত্রে শব্দটি ব্যবহার করেন না। বরং "অজি রুলস" জাতীয় খেলা বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে "অজি, অজি, অজি - ওই, ওই, ওই" ধ্বনি উঠলে কেউ কেউ এতে অস্বস্তি বোধ করেন, আবার কেউ যোগ দেন। এটি প্রায়শই তাদের সামাজিক অবস্থান বা মদ্যপ অবস্থার উপর নির্ভর করে।
সিডনি, মেলবার্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, গোল্ড কোস্ট, নিউক্যাসল, হোবার্ট বা ক্যানবেরার মতো বড় শহরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া বহুসংস্কৃতিমূলক মনে হলেও, গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত কম বৈচিত্র্যময় এবং তাদের অ্যাংলো-সেল্টিক ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকে। যারা বাইরে থেকে "অজি" বলে মনে হয় না, তাদের প্রায়ই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। তবে এটি সাধারণত অভিবাসীদের (বিশেষত ভিয়েতনামি, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত) বিরুদ্ধে হয়, পর্যটকদের বিরুদ্ধে নয়।
===তামাক===
অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত '''বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ ধূমপায়ীদের জন্য'''। এক প্যাকেট বৈধ সিগারেটের দাম ৫০ ডলারেরও বেশি। ভেপ পাওয়া গেলে তার দাম প্রায় ৬০ ডলার। কালোবাজারি ঢিলা তামাক "চপ-চপ" নামে পরিচিত, আর অবৈধভাবে আনা চীনা সিগারেটও দোকানে গোপনে বিক্রি হয়।
===অবৈধ মাদক===
অপিয়াম, হেরোইন, অ্যামফেটামিন (স্পিড), কোকেইন ("কোক"), এলএসডি এবং এক্সট্যাসি ("মলি") অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে রাখা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। মাদক পাচারে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হয়, আর গুরুতর ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া অন্যান্য দেশের সাথে মাদক পাচারের তথ্য শেয়ার করে, এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে এমন দেশগুলোর সাথেও।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গাঁজা ("মারিজুয়ানা"/"উইড"/"পট"/"গাঞ্জা") ব্যবহার ফেডারেল স্তরে বৈধ হলেও প্রেসক্রিপশন পাওয়া জটিল প্রক্রিয়া, যা পর্যটকদের জন্য কার্যত অসম্ভব। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (ক্যানবেরা) ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বৈধ করেছে, তবে বাণিজ্যিক বিক্রি অনুমোদিত নয়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরিতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের পরিমাণ রাখা অপরাধ নয়, তবে জরিমানা হয়। অন্যান্য সব রাজ্যে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং বিদেশিদের জন্যও শাস্তি সমান কঠোর। মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, এতে গ্রেফতার, মামলা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জেলও হতে পারে।
'''কোনো অবস্থাতেই অবৈধ মাদক অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না''', এমনকি গাঁজাও নয়। এর শাস্তি দীর্ঘমেয়াদী জেল, এমনকি যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রায়ই মাদক শনাক্তকারী কুকুর ব্যবহার করেন, যা যাত্রীদের লাগেজে মাদক শনাক্ত করে। এমনকি কেউ ভ্রমণের আগের দিন গাঁজা খেলেও তা শনাক্ত করতে পারে, ফলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে পড়তে হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার এশিয়ার নিকটে থাকার কারণে এখানে হেরোইন কোকেইনের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বড় শহরের কিছু এলাকায় ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুচ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে পর্যটন এলাকায় নয়, বরং অপ্রচলিত গলিতে।
===অস্ত্র===
অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র রাখার নিয়ম খুবই কঠোর। সাধারণত গ্রামীণ এলাকার শিকারি, কৃষক ও ক্রীড়া শুটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যে কোনো ধরনের অস্ত্র রাখার জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ। একক গুলি চালানো রাইফেল, শটগান বা পিস্তল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা সম্ভব হলেও প্রক্রিয়াটি জটিল। শহরের অপরাধী গ্যাংদের হাতে মাঝে মাঝে অবৈধ অস্ত্র থাকে, তবে ভ্রমণকারীরা সচরাচর এদের সম্মুখীন হয় না।
অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। ভ্রমণের আগে প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা পুলিশ পারমিট নিতে হয়।
===এলজিবিটি ভ্রমণকারী===
{{see also|এলজিবিটি ভ্রমণ}}
অস্ট্রেলিয়ায় বয়সসীমা সমানভাবে নির্ধারিত-সব রাজ্যে ১৬ বছর, তবে তাসমানিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ১৭ বছর। সমলিঙ্গ বিবাহ ২০১৭ সালে বৈধ হয়েছে, যখন ডাকযোগে হওয়া এক গণভোটে ৬১% মানুষ সমর্থন জানায়।
সমকামিতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। সিডনি বিশ্বের অন্যতম সমকামী-বান্ধব শহর হলেও কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরির মতো রক্ষণশীল গ্রামীণ এলাকায় সতর্ক থাকা ভালো। যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্য করা আইনত নিষিদ্ধ এবং ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশি সহায়তা সীমিত হতে পারে। ট্রান্সজেন্ডাররাও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গৃহীত।
সিডনি অস্ট্রেলিয়ার সমকামী সংস্কৃতির কেন্দ্র এবং প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্বের অন্যতম বড় সমকামী উৎসব [http://www.mardigras.org.au সিডনি গে অ্যান্ড লেসবিয়ান মার্ডি গ্রা] অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত-সহস্র মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করতে আসে। [[অ্যালিস স্প্রিংস]]-এ এপ্রিল-মে মাসে "অ্যালিস ইজ ওয়ান্ডারল্যান্ড ফেস্টিভাল" হয়। [[মেলবোর্ন]]-এ প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম রবিবার [https://www.midsumma.org.au মিডসামা ফেস্টিভাল] অনুষ্ঠিত হয়।
==সুস্থ থাকুন==
===ত্বক===
[[File:Sunbaker maxdupain nga76.54.jpg|thumbnail|১৯৩৭ সালের "সানবেকার" অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলোর একটি।]]
অস্ট্রেলিয়ার অক্ষাংশে সূর্যের আলোয় থাকলে প্রায়ই '''[[রোদে পোড়া]]''' (সানবার্ন) হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ানদের ত্বকের ক্যান্সারের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। রোদে পোড়া হলে জ্বর জ্বর লাগতে পারে, শরীর খারাপ হতে পারে এবং সেরে উঠতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, পোড়ার তীব্রতার উপর নির্ভর করে। এর মানে হলো রোদে পোড়া না সারানো পর্যন্ত আপনি বাইরে সূর্যের নিচে যেতে পারবেন না। তাই সমুদ্রসৈকতে ছুটির প্রথম দিনেই রোদে পোড়া হলে পুরো ভ্রমণের আনন্দ কমে যেতে পারে। গ্রীষ্মকালে অস্ট্রেলিয়ায় পরিষ্কার দিনে মাত্র ১৫ মিনিটে রোদে পোড়া হতে পারে-even ছায়ায় দাঁড়িয়েও। তাই সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৫০+), জামা-কাপড় এবং টুপি ব্যবহার করে সূর্যের আলো থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
সানস্ক্রিন প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পরপর আবার মাখুন, বিশেষ করে ঘামলে বা সাঁতার কাটলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের সব জায়গা ভালোভাবে ঢেকে দিন। দুপুরবেলার অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি) সকাল বা বিকেলের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী হতে পারে, তাই সবচেয়ে গরম সময়ে রোদ এড়ানোই ভালো। [http://www.bom.gov.au/australia/uv/index.shtml প্রতিদিনের ইউভি পূর্বাভাস] অনলাইনে আবহাওয়া দপ্তর থেকে দেওয়া হয়।
'''স্প্রে সানস্ক্রিন''' বোতল থেকে ছিটিয়ে দেওয়া সহজ হওয়ায় জনপ্রিয়, তবে এটি সাধারণ সানস্ক্রিনের তুলনায় অনেক কম কার্যকর।
আপনি যদি সমুদ্রসৈকতে যান, একটি সান-টেন্ট কেনার কথা ভাবতে পারেন (ডিসকাউন্ট বা হার্ডওয়্যার দোকানে ২০ ডলারেরও কমে পাওয়া যায়)। অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে সাধারণত ছাতা ভাড়া পাওয়া যায় না, আর এগুলো অনেকটাই খোলা জায়গায় থাকে।
===খাদ্য প্রস্তুতি===
অস্ট্রেলিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মান অনেক উঁচু। রেস্টুরেন্টগুলোকে কঠোর খাদ্য প্রস্তুতির মান বজায় রাখতে হয়। [[খাদ্যে বিষক্রিয়া]]র হার অন্যান্য উন্নত দেশের সমান।
===পানি===
শহরের '''[[কলের পানি]]''' সবসময় পান করার জন্য নিরাপদ। মাঝে মাঝে রিসাইকেল করা পানি ট্যাপ দেখতে পাবেন যা শুধু গাছে পানি দেওয়ার জন্য, এগুলো বেগুনি রঙের হয়। শহরে ও পর্যটনকেন্দ্রে পাবলিক পানির ফোয়ারা ও বোতল ভরার স্টেশন সাধারণত থাকে। পানির স্বাদ ও কঠোরতা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন হয়। যেমন [[অ্যাডিলেড]] শহরে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হয়, যার স্বাদ খারাপ হলেও পান করার জন্য নিরাপদ। অনেক পরিবার পানি পরিশোধক জগ ব্যবহার করে। বোতলজাত পানি সর্বত্র সহজলভ্য। গরম দিনে শহরে পানি বহন করা ভালো, আর হাইকিং বা শহরের বাইরে ভ্রমণে এটি একেবারেই প্রয়োজনীয়। দূরবর্তী আউটব্যাকে অনেক জায়গায় কলের পানি পরিশোধিত থাকে না। সেক্ষেত্রে সেদ্ধ করার বিকল্প হিসেবে পানি জীবাণুনাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণে বের হলে কতটুকু পানি নিতে হবে, ভেঙে পড়লে কীভাবে সামলাবেন-এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, প্রায় প্রতিবছরই কেউ না কেউ আউটব্যাকে তৃষ্ণায় মারা যায়। গাড়ি বিকল হলে গাড়ির কাছে থাকুন, কারণ এতে ছায়া পাওয়া যায় এবং আপনাকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
===টিকা===
অস্ট্রেলিয়ায় এমন কোনো সংক্রামক রোগ নেই যা বিশেষ টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে অন্যান্য অনেক দেশের মতো, যদি আপনি ভ্রমণের ৬ দিনের মধ্যে কোনো [[হলুদ জ্বর]] আক্রান্ত দেশ থেকে আসেন, তাহলে প্রবেশের সময় হলুদ জ্বরের টিকার প্রমাণ দেখাতে হবে।
===মশা===
অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সারা বছর মশা থাকে, আর দক্ষিণাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে। জানালা ও দরজায় জাল লাগানো থাকে এবং বাজারে প্রতিরোধক সহজেই পাওয়া যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলে মশার মাধ্যমে "রস রিভার ভাইরাস" ছড়ায়, যা কয়েক সপ্তাহ অসুস্থ রাখতে পারে। [[ডেঙ্গু জ্বর]]ও হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে, এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ায় ম্যালেরিয়া নেই।
===চিকিৎসা===
[[File:VH-FDE (16640399301).jpg|thumb|রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিসের বিমান]]
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা নম্বর হলো '''০০০'''। যেকোনো চিকিৎসা জরুরিতে এই নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা ডাকতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা মান উন্নত দেশের মতো। বিশেষ করে, এখানে রক্ত দেওয়া নিরাপদ, কারণ সব দাতার রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য রোগ পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ঘনত্ব কম; অনেক জায়গা চিকিৎসা সুবিধা থেকে অনেক দূরে। এসব জায়গায় '''[[রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস]]''' কাজ করে। ৫,০০০ বা তার বেশি জনসংখ্যার ছোট শহরে জরুরি চিকিৎসার জন্য ছোট হাসপাতাল থাকে। বড় শহরে রুটিন ও কিছু জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য বেস হাসপাতাল থাকে। জটিল চিকিৎসার জন্য অনেক সময় রাজধানী শহরে নেওয়া হয়।
রাজধানী শহরগুলোতে মেডিকেল সেন্টার থাকে, যেখানে সপ্তাহান্তে বা রাত অবধি চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে ছোট শহরে সময় নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হতে পারে। জরুরি না হলে হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
* {{listing
| name=বিষ সংক্রান্ত তথ্য হটলাইন
| phone=13 11 26 (শুধু অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে)
| content=ভুলবশত কোনো ওষুধ বা বিষ গ্রহণ করলে বিনামূল্যে পরামর্শ দেয়। এছাড়া মাকড়সার কামড়ের মতো বিষয়ে কী চিকিৎসা প্রয়োজন সেটিও বলে দেয়। তবে তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা হলে অবশ্যই '০০০' নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।
}}
==== চিকিৎসা খরচ ও ভ্রমণ বিমা ====
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা কর-অর্থায়িত '''মেডিকেয়ার''' ব্যবস্থার সুবিধা নেন। বিদেশি শ্রমিক বা শিক্ষার্থীদের (যদি পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে) সাধারণত ভিসার শর্ত অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা নিতে হয়। স্বল্প মেয়াদের বিদেশি ভ্রমণকারীদের ভ্রমণ বিমা থাকা জরুরি, কারণ চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে। '''মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স, বেসরকারি হাসপাতাল বা দাঁতের চিকিৎসা কাভার করে না''', এগুলোর জন্য আপনাকে বেসরকারি বিমা নিতে হবে।
[[বেলজিয়াম]], [[ফিনল্যান্ড]], [[আয়ারল্যান্ড]], [[ইতালি]], [[মাল্টা]], [[নেদারল্যান্ডস]], [[নিউজিল্যান্ড]], [[নরওয়ে]], [[স্লোভেনিয়া]], [[সুইডেন]] ও [[যুক্তরাজ্য]] থেকে আগত পর্যটকেরা '''বিনামূল্যে জরুরি মেডিকেয়ার চিকিৎসা''' পান। তবে শর্ত ভিন্ন হতে পারে। যেমন, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা কেবল হাসপাতালের চিকিৎসা বিনামূল্যে পান, অন্যরা ডাক্তার দেখানোর জন্যও ভর্তুকি পান। তবে বেসরকারি হাসপাতালে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না, সব খরচ নিজেকেই বহন করতে হয় বা ভ্রমণ বিমা দিয়ে দিতে হয়।
যদি আপনার দেশের সঙ্গে কোনো পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে, তাহলে ভ্রমণ বিমা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ চিকিৎসকের কাছে যেতে প্রায় ৮০ ডলার খরচ হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ আলাদা। হাসপাতালে ভর্তি না হলেও ৫০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, আর ভর্তি হলে ১,০০০ ডলারেরও বেশি লাগতে পারে। উদ্ধার ও রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস বিনামূল্যে হলেও, ছোট শহর থেকে রাজধানীতে বা দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করতে হাজার হাজার ডলার খরচ হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরাও অ্যাম্বুলেন্স ও এয়ার-অ্যাম্বুলেন্স বিনামূল্যে পান না। স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানিগুলো সাধারণত শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারও বিক্রি করে। তবে সেগুলো প্রায়ই শুধু নিজের রাজ্যে কার্যকর থাকে, তাই অন্য রাজ্যে ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হোন। দেশীয় ভ্রমণ বিমা সাধারণত চিকিৎসা বা অ্যাম্বুলেন্স ব্যয় কাভার করে না। জরুরিতে মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স খরচ (১,০০০ ডলার থেকে শুরু) দেয় না; শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারসহ বেসরকারি বিমাই এই ব্যয় বহন করবে।
সাপ ও মাকড়সার বিষের প্রতিষেধক অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার না হলেও এর খরচ ১০,০০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।
==সংযোগ==
===টেলিফোন===
====অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক কল====
আন্তর্জাতিক কলের প্রধান অ্যাক্সেস কোড বা প্রিফিক্স হলো '''০০১১'''। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ০০১১ প্রিফিক্সের পরিবর্তে প্লাস চিহ্ন "+" ব্যবহার করা যায়।
====ডায়ালিং কোড====
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক কল করার জন্য দেশের কোড হলো +৬১। বিদেশ থেকে কল করার সময় এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হবে। একই এরিয়া কোডের মধ্যে কল করলে এরিয়া কোড ব্যবহার করা ঐচ্ছিক।
[[নরফোক দ্বীপ]] ও অস্ট্রেলিয়ান-অ্যান্টার্কটিক ঘাঁটির জন্য +৬৭২ কোড ব্যবহার করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার কোড নয়। বিস্তারিত জানার জন্য নির্দিষ্ট নিবন্ধ দেখুন।
অস্ট্রেলিয়ার এরিয়া কোড তালিকা:
* ০২ = সেন্ট্রাল ইস্ট (নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি ও ভিক্টোরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ)
* ০৩ = সাউথ ইস্ট (দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া)
* ০৪ = সারা দেশে মোবাইল ফোন (কল চার্জ বেশি)
* ০৭ = নর্থ ইস্ট (কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসের কিছু অংশ)
* ০৮ = সেন্ট্রাল ও ওয়েস্ট (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি ও পশ্চিম নিউ সাউথ ওয়েলস)
লোকাল কল বিনামূল্যে।
* বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরে কল করতে চাইলে ফরম্যাট হবে +৬১ ৮৮০৮০৩৩০০ (শুরুতে "০" দেবেন না; প্রয়োজনে "+" এর পরিবর্তে আপনার দেশের আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স ব্যবহার করুন)।
* অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে আন্তর্জাতিক কল করতে চাইলে প্রথমে আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স (০০১১ বা "+") চাপুন, এরপর দেশের কোড, গন্তব্যের এরিয়া কোড, তারপর স্থানীয় নম্বর। বেশিরভাগ দেশে এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হয় (অস্ট্রেলিয়ার মতো)।
উদাহরণ: [[মোরি (নিউ সাউথ ওয়েলস)|মোরি]] ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের স্থানীয় নম্বর হলো {{nowrap|৬৭৫৭-৩৩৫০}}। মোরি যেহেতু সেন্ট্রাল ইস্ট অঞ্চলে পড়ে, তাই এরিয়া কোড হবে ০২। [[সিডনি]] বা একই এরিয়া কোড থেকে কল করলে শুধু {{nowrap|৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করলেই হবে। [[ব্রিসবেন]] বা অন্য কোনো ভিন্ন এরিয়া কোড অঞ্চল থেকে কল করলে {{nowrap|০২ ৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করতে হবে। আপনি আপনার এরিয়া কোড না জানলেও এরিয়া কোড লিখে দিলে কাজ করবে। বিদেশ থেকে কল করতে হলে {{nowrap|+৬১ ২ ৬৭৫৭-৩৩৫০}} ডায়াল করতে হবে।
====বিশেষ নম্বর====
* '''১৩''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো লোকাল কল রেটে চার্জ হয়, এবং আপনার অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন সেবা দেয়। এগুলো ৬ বা ১০ সংখ্যার হতে পারে। যেমন, ১৩০০ ৭৯৬ ২২২ নম্বরে কল করলে [[অলবারি]] ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনে সংযুক্ত হবেন, আপনি অস্ট্রেলিয়ার যেখানেই থাকুন না কেন। তবে ১৩১ ০০৮ নম্বরে কল করলে আপনার অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ট্যাক্সি সেবার সাথে সংযোগ দেবে। ১৩ ২২ ৩২ কল করলে নিউ সাউথ ওয়েলস রেলওয়ে (সিডনি) বা ভিক্টোরিয়া রেলওয়ের (মেলবোর্ন)- সাথে সংযোগ করবে। আন্তর্জাতিকভাবে এই নম্বরগুলোতে কল করা অনেক সময় সমস্যা তৈরি করে।
* '''১৮''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো পে-ফোন বা ল্যান্ডলাইনে বিনামূল্যে, এবং প্রায়ই হোটেল রিজার্ভেশন বা ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের জন্য ব্যবহার হয়।
* '''১৯''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো প্রিমিয়াম, এবং এদের কল চার্জ অত্যন্ত বেশি হতে পারে। কল করার আগে ভালোভাবে দেখে নিন।
* '''১২''' দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো ক্যারিয়ার সেবা, এবং আপনি কোন নেটওয়ার্কে আছেন তার ওপর নির্ভর করে। যেমন, '''১২ ৪৫৬''' হলো টেলস্ট্রার সাধারণ তথ্য সেবা। ভোডাফোন একই ধরনের সেবা দেয় '''১২৩''' নম্বরে। এগুলোও প্রিমিয়াম সেবা হতে পারে।
বিশেষ নম্বরগুলোতে আন্তর্জাতিক কল অনেক সময় কাজ করতে পারে-শুধু নম্বরের আগে +৬১ কোড যোগ করে চেষ্টা করুন। অনেক সময় আলাদা সরাসরি আন্তর্জাতিক নম্বরও দেওয়া থাকে।
রিভার্স চার্জ (কলেক্ট) কল করা খুব ব্যয়বহুল এবং সমস্যাজনক হতে পারে। টেলস্ট্রা পাবলিক ফোন থেকে ১২৫৫০ ব্যবহার করতে পারেন, অথবা যেকোনো ফোন থেকে ১৮০০ NO CASH ব্যবহার করতে পারেন। তবে যেই নম্বরে কল করছেন সেটি অবশ্যই চার্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হতে হবে (সাধারণত ল্যান্ডলাইন বা বড় টেলকোর মোবাইল)।
====মোবাইল ফোন====
{{anchor|Mobile Cellular Phones}}
অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক রয়েছে-[http://www.telstra.com.au টেলস্ট্রা], [http://www.optus.com.au অপটাস] এবং [http://www.vodafone.com.au ভোডাফোন]। প্রতিটি নেটওয়ার্কের আবার অনেক রিসেলার আছে। এরা সবাই এলটিই (৪জি) এবং ৫জি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে; ৩জি ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে এবং ২০২৪ সালের শেষে এটি আর চালু থাকবে না। সাধারণভাবে টেলস্ট্রা সবচেয়ে ভালো কাভারেজ দেয়, তবে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুলও। ভোডাফোন সাধারণত সস্তা, কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। জনশূন্য বা জনবসতি কম এমন এলাকা, বিশেষ করে প্রধান সড়কের বাইরে, অনেক সময় কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। আপনি যদি গভীর বুশ অঞ্চলে যান, তবে '''স্যাটেলাইট ফোন''' হয়তো একমাত্র সমাধান। মনে রাখবেন, সব ধরনের মোবাইল ফোন দিয়ে যেকোনো নেটওয়ার্কে জরুরি কল করা যায়-এমনকি স্থানীয় সিম না থাকলেও বা রোমিং সক্রিয় না থাকলেও। স্যাটেলাইট ফোনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
বিদেশি সিম কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক রোমিং সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার ৪জি নেটওয়ার্কে সহজেই কাজ করে, তবে এটি আপনার নিজ দেশের অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির উপর নির্ভর করে। ৫জি নেটওয়ার্ক ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে, তাই আপনার ফোনের সামঞ্জস্যতার উপর নির্ভর করে কাভারেজ ভিন্ন হতে পারে। ভ্রমণের আগে আপনার স্থানীয় অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন। বিদেশি নাগরিকরা সহজেই অস্ট্রেলিয়ার প্রিপেইড সিম কিনতে পারেন, তবে সাধারণত পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্টের মতো ছবি-সংবলিত আইডি লাগতে পারে।
একটি সস্তা প্রিপেইড মোবাইল ফোন ও সিমসহ প্রায় ৪০ মার্কিন ডলারে অধিকাংশ দোকান, সুপারমার্কেট ও পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র সিম কিনতে চাইলে দাম প্রায় ২–৩ ডলার। প্রিপেইড রিচার্জ কার্ড সব সুপারমার্কেট, সংবাদপত্রের দোকান, কিছু এটিএম এবং অন্যান্য আউটলেটে পাওয়া যায়।
ডেটা, এসএমএস ও কল সময় মিলিয়ে অসংখ্য ধরনের প্যাকেজ, সিম ও ফোন বান্ডল কেনা যায়। কিছু অপারেটর কলের মিনিট বা এসএমএস আলাদা না দেখিয়ে প্যাকেজে একটি নির্দিষ্ট অর্থমূল্য দেয়, এবং আপনাকে আলাদা করে কল, এসএমএস ও ডেটা রেট দেখে হিসাব করতে হয়। এক প্ল্যান থেকে আরেক প্ল্যানে এ রেট ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যান নির্বাচন করা জরুরি, কারণ প্যাকেজের বাইরে অতিরিক্ত কল বা ডেটা ব্যবহার করলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। প্রচলিত সিম কার্ডের বিকল্প হিসেবে ভ্রমণকারীরা [https://baztel.co বাজটেল]-এর মতো স্থানীয় প্রদানকারীদের ই-সিমও নিতে পারেন, যা শুধুমাত্র ডেটা-সেবা দেয়।
৩জি বন্ধ হওয়ার কারণে আপনার বর্তমান ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারযোগ্য হবে কি না তা নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ে-ফোনে ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE) সমর্থন থাকতে হবে, প্রস্তুতকারককে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার অন্তত একটি অপারেটরের কনফিগারেশন ফাইল ফোনে লোড করতে হবে, ফোনটিকে জরুরি কলের জন্য এলটিই-তে সমর্থন করতে হবে, এবং সার্ভিস প্রদানকারীকে সেটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ফোনটি অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হয় কিনা তা সামঞ্জস্যতার নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ রপ্তানি অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে ছোটখাটো ভিন্নতা থাকতে পারে। অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত, রোমিং (অর্থাৎ নিজের দেশের সিম নিয়ে আসা) কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা পরিষ্কার নয়। আপনি হয়তো শুধুমাত্র ডেটা প্ল্যান কিনতে পারবেন, যা ইন্টারনেট ব্যবহার ও এসএমএস গ্রহণের সুযোগ দেবে (কিন্তু পাঠানো যাবে না), তবে কল করা বা ধরা যাবে না-এখনো তা নিশ্চিত নয়। হয়তো আপনাকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ফোন কিনতে হবে। তবে ওয়াই-ফাই এতে প্রভাবিত নয়, তাই শহর ও গ্রামে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা সম্ভব।
===স্যাটেলাইট ফোন===
[[File:Telstra phonebox at Quinns.jpg|thumb|একটি সাধারণ টেলস্ট্রা পে-ফোন]]
দূরবর্তী এলাকায় ব্যবহার উপযোগী স্যাটেলাইট ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ভাড়া পাওয়া যায়। ইরিডিয়াম, গ্লোবালস্টার ও থুরাইয়া সেবা চালু আছে। ভাড়ায় নিতে সপ্তাহে প্রায় ১২০ ডলার খরচ হয়, কল চার্জ আলাদা। শুধু বার্তা পাঠানোর ডিভাইস সপ্তাহে প্রায় ৮০ ডলারে পাওয়া যায়।
এই যন্ত্রগুলো কেবল বিশেষায়িত বিক্রেতাদের কাছেই পাওয়া যায়, আর তা-ও সাধারণত বড় শহরগুলোতে (আপনি যে দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ করতে পারেন তার বাইরে)। তবে চাইলে আপনি যাত্রার আগে নিজ দেশ থেকেই এসব যন্ত্র কিনতে বা ভাড়ায় নিতে সক্ষম হবেন।
স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে জরুরি কল করা যায়, এর জন্য সিম কার্ড বা সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে সস্তা ফোনের দাম প্রায় ৩০০ মার্কিন ডলার, যা একটি পিএলবির (পার্সোনাল লোকেটর বিকন) চেয়ে সামান্য বেশি মাত্র।
=== গণফোন ===
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ শহর ও উপশহরে অন্তত একটি করে গণফোন থাকে। প্রায় সব রেলস্টেশনেই গণফোন থাকে। অস্ট্রেলিয়ার সব গণফোন থেকে '''স্থানীয় ল্যান্ডলাইন ও মোবাইলে কল ফ্রি'''। আন্তর্জাতিক কল করার জন্য টেলস্ট্রা বা সংবাদপত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে তৃতীয় পক্ষের কলিং কার্ড ব্যবহার করা যায়। যেকোনো টেলস্ট্রা গণফোন থেকে পুরোনো ধাঁচের মোবাইল ফোনের মতো কীপ্যাড ব্যবহার করে বিনামূল্যে টেক্সট মেসেজ পাঠানো যায়। ফোনের ডিসপ্লেতে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
=== ওয়াইফাই ===
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব ধরনের আবাসন, যেমন যুব হোস্টেল ও ক্যারাভান পার্ক থেকে শুরু করে ৫-তারকা হোটেল পর্যন্ত, '''ফ্রি ওয়াই-ফাই''' সরবরাহ করে। অধিকাংশ ক্যাফে, শপিং মল এমনকি কিছু গণপরিবহন যেমন ট্রেন ও ফেরিতেও ওয়াই-ফাই থাকে। পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে পাবলিক লাইব্রেরি সবচেয়ে ভালো জায়গা। ইন্টারনেট ক্যাফে প্রায় বিলুপ্ত, যদিও কিছু গেমিং ক্যাফে এখনো আছে।
বড় শহরগুলোতে শপিং মল ও বড় দোকানে ফ্রি ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়, এবং ক্রমশই গণপরিবহনেও এটি চালু হচ্ছে। সিডনির ফেরি ও অ্যাডিলেডের ট্রাম ফ্রি ওয়াই-ফাই সরবরাহ করে।
=== রেডিও ও টেলিভিশন ===
অস্ট্রেলিয়ার দুটি জাতীয় পাবলিক সম্প্রচারক রয়েছে: [http://www.abc.net.au/ এবিসি] এবং [https://www.sbs.com.au/ এসবিএস]। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) স্থানীয় রেডিও, ট্রিপল জে (যুব/ইন্ডি সংগীত) ও এবিসি ক্লাসিক এএম/এফএম রেডিওতে সম্প্রচার করে এবং পাঁচটি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করে। স্পেশাল ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (এসবিএস) ছয়টি টিভি চ্যানেল এবং দুটি অ্যানালগ রেডিও স্টেশনে বেশি জাতিগত, দ্বিভাষিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচার করে। উভয় সম্প্রচারকই জনবহুল অঞ্চলে পাওয়া যায়, তবে এবিসির রেডিও কভারেজ বেশি। রাজধানীগুলোতে ডিএবি+ ডিজিটাল রেডিওও পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি ফ্রি-টু-এয়ার বাণিজ্যিক টিভি নেটওয়ার্ক রয়েছে: [https://au.tv.yahoo.com/ সেভেন], [https://www.nine.com.au/ নাইন] এবং [https://tenplay.com.au/ টেন]। শহর ও নগরের প্রায় সব আবাসনেই এসব চ্যানেল পাওয়া যায়। কেবল টিভির একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান আগে ফক্সটেল ছিল, যা এখনো অনেক হোটেলে প্রচারিত হয়, তবে বর্তমানে নেটফ্লিক্স ও এর স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী [https://stan.com.au স্ট্যান] ও [https://kayosports.com.au/ কায়ো স্পোর্টস] বেশি জনপ্রিয়।
শহর যত বড়, রেডিও স্টেশনও তত বেশি। গ্রামীণ শহরে সাধারণত একটি বাণিজ্যিক রেডিও স্টেশন এবং [https://www.abc.net.au/local/ এবিসি] থাকে। গ্রামীণ শহরের মধ্যে গাড়ি চালালে প্রায়ই সব রেডিও সিগনাল হারাতে পারেন। তাই আগে থেকেই গান বা পডকাস্ট ডাউনলোড করা ভালো। জরুরি অবস্থা বা বুশফায়ার ঝুঁকির সময় ভ্রমণের সময় এবিসির সম্প্রচারে মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
=== সংবাদ ===
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান জাতীয় ব্রডশিট পত্রিকা হলো [https://www.theaustralian.com.au/ দ্য অস্ট্রেলিয়ান], আর্থিক ও ব্যবসায়িক সংবাদে বিশেষায়িত [http://www.afr.com/ দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ]। এছাড়াও রাজ্যভিত্তিক স্থানীয় পত্রিকা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিডনিভিত্তিক ''[http://www.smh.com.au/ দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড]'' এবং ''[https://www.dailytelegraph.com.au/ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ]'', এবং মেলবোর্নভিত্তিক ''[https://www.theage.com.au/ দ্য এজ]'' ও ''[http://www.heraldsun.com.au/ হেরাল্ড সান]''।
=== ডাক ব্যবস্থা ===
[[File:Australia Post boxes.jpg|thumb|এক্সপ্রেস (হলুদ) ও সাধারণ (লাল) অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্স]]
'''[http://www.auspost.com.au অস্ট্রেলিয়া পোস্ট]''' অস্ট্রেলিয়ার ডাকসেবা পরিচালনা করে। লাল রঙের অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্সে চিঠি ফেলা যায়, যা পোস্ট অফিস ও অন্যান্য অনেক জায়গায় থাকে। ডাকটিকিট সব পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়, কিছু টিকিট সংবাদপত্র বিক্রেতা ও হোটেলেও মেলে। অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে একটি সাধারণ চিঠি বা পোস্টকার্ড পাঠাতে খরচ হয় ১.৭০ ডলার (২৫০ গ্রাম পর্যন্ত), আর আন্তর্জাতিক ডাকের খরচ ৩.০০ থেকে ৩.৭০ ডলার (২০ গ্রাম পর্যন্ত)। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ডাক পাঠাতে খরচ হয় ২.৪০ ডলার, তবে খামে "শুধু কার্ড" লিখতে হয়। ‘ডোমেস্টিক’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ টিকিট আলাদা, কারণ আন্তর্জাতিক ডাক করমুক্ত। তাই সঠিক টিকিট ব্যবহার করা জরুরি। পার্সেল, এক্সপ্রেস পোস্টসহ অন্যান্য সেবাও পাওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ার ঠিকানার ধরন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো:
<blockquote>প্রাপকের নাম<br/>(প্রয়োজন হলে) ইউনিট নম্বর বা ভবনের নাম<br/>বাড়ির নম্বর ও সড়কের নাম<br/>শহর বা নগর, রাজ্যের ২ বা ৩ অক্ষরের সংক্ষিপ্ত রূপ, পোস্টকোড</blockquote>
যেকোনো শহর বা নগরে ''পোস্তে রেস্তান্তে'' ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাক গ্রহণ করা যায়। চিঠি প্রাপকের পূর্ণ নাম লিখে c/o Post Restante হিসেবে পাঠাতে হয়। ডাক সংগ্রহের জন্য পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।
{{এর অংশ|ওশেনিয়া}}
{{guidecountry}}
{{geo|-28|137|zoom=5}}
cyqfo47df0946j4kcmzvsjoicmy6cpi
ফিলিপাইন
0
8056
76710
70691
2026-06-01T17:49:39Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
সংযোজন
76710
wikitext
text/x-wiki
{{pagebanner|Philippines banner.jpg|caption=ফিলিপাইনের সুন্দর সৈকত}}
'''ফিলিপাইন''' ({{lang|en|Philippines}}) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এখানে প্রায় ৭,৬৪১টি দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয় – '''লুজন''', '''ভিসায়াস''', এবং '''মিন্দানাও'''। দ্বীপগুলির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, মনোরম সৈকত, আগ্নেয়গিরি, প্রাচীন ধানক্ষেত, রঙিন উৎসব, আর আতিথেয়তাপূর্ণ মানুষ – সব মিলিয়ে এটি ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য।
[[File:Philippines on the globe (Southeast Asia centered).svg|thumb|right|300px|বিশ্ব মানচিত্রে ফিলিপাইনের অবস্থান]]
[[File:Ph locator map.png|thumb|right|250px|ফিলিপাইনের মানচিত্র]]
== ভূমিকা ==
ফিলিপাইনের ইতিহাসে স্প্যানিশ উপনিবেশ, আমেরিকান শাসন, এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি আছে। বর্তমানে এটি একটি বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্র। এখানকার মানুষ অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন এবং ইংরেজি ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
== অঞ্চলসমূহ ==
ফিলিপাইনকে ৩টি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা যায়:
* [[লুজন]] – রাজধানী ম্যানিলা, ঐতিহাসিক Intramuros, Banaue Rice Terraces, মায়ন আগ্নেয়গিরি।
* [[ভিসায়াস]] – বোরাকাই, বোহোলের চকলেট হিলস, সেবু শহর।
* [[মিন্দানাও]] – দাভাও, মাউন্ট আপো, কামিগুইন দ্বীপ।
[[File:Philippines regions map.png|thumb|center|400px|ফিলিপাইনের প্রধান অঞ্চলসমূহ]]
== প্রধান শহরসমূহ ==
* [[ম্যানিলা]] – রাজধানী শহর, আধুনিকতা ও ইতিহাসের মিশ্রণ।
* [[সেবু সিটি]] – ঔপনিবেশিক যুগের ইতিহাস ও ভিসায়াসের কেন্দ্র।
* [[দাভাও]] – মাউন্ট আপো ও প্রকৃতির সৌন্দর্য।
* [[বাগুইও]] – পাহাড়ি শহর, ঠাণ্ডা আবহাওয়া।
* [[ভিগান]] – ইউনেস্কো ঐতিহ্য শহর, স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্য।
== দেখার মতো স্থান ==
* '''বোরাকাই হোয়াইট বিচ''' – বিশ্বের সেরা সৈকতগুলির মধ্যে একটি।
* '''পালাওয়ান এল নিডো''' – নীল জল, চুনাপাথরের পাহাড় ও দ্বীপপুঞ্জ।
* '''বোহোল চকলেট হিলস''' – প্রাকৃতিক অদ্ভুত শঙ্কু আকৃতির পাহাড়।
* '''বানাউ ধানক্ষেত''' – পাহাড় কেটে তৈরি প্রাচীন ধানক্ষেত।
* '''মায়ন আগ্নেয়গিরি''' – নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির জন্য পরিচিত।
* '''কামিগুইন দ্বীপ''' – ঝর্ণা, হট স্প্রিংস, আগ্নেয়গিরি।
[[File:Boracay White Beach.jpg|thumb|right|300px|বোরাকাই সৈকত]]
[[File:El Nido Palawan.jpg|thumb|left|300px|পালাওয়ান – এল নিডো]]
[[File:Chocolate Hills Bohol.jpg|thumb|right|300px|চকলেট হিলস, বোহোল]]
[[File:Ifugao Rice Terraces.jpg|thumb|left|300px|বানাউ ধানক্ষেত]]
[[File:Mayon Volcano in Albay, Philippines.jpg|thumb|right|300px|মায়ন আগ্নেয়গিরি]]
== প্রবেশ ==
;বিমানযোগে: Ninoy Aquino International Airport (MNL, ম্যানিলা), Mactan-Cebu International Airport (CEB, সেবু), Davao International Airport (DVO)।
;সমুদ্রপথে: কিছু আন্তর্জাতিক ক্রুজ জাহাজ সরাসরি ম্যানিলা ও সেবুতে আসে।
== ভিসা ==
* দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা-ফ্রি প্রবেশ সুবিধা রয়েছে।
* দীর্ঘ সময় থাকার জন্য পর্যটন ভিসা প্রয়োজন।
== চলাচল ==
* '''বিমান''' – দ্বীপগুলির মধ্যে ভ্রমণের জন্য দ্রুততম উপায়।
* '''ফেরি ও নৌকা''' – দ্বীপান্তর পরিবহন।
* '''বাস''' – বড় দ্বীপে দীর্ঘ যাত্রার জন্য।
* '''জিপনি''' – স্থানীয় প্রতীকী পরিবহন।
* '''ট্রাইসাইকেল''' – ছোট দূরত্বে ভ্রমণের জন্য।
== করণীয় ==
* পালাওয়ানে ডাইভিং ও আইল্যান্ড হপিং।
* বানাউ ধানক্ষেত ট্রেকিং।
* বোরাকাই সৈকতে সানসেট উপভোগ।
* দাভাওতে ফিলিপাইন ঈগল সেন্টার দেখা।
* সেবুর সিনুলোগ উৎসবে যোগদান।
== খাবার ==
* '''আদোবো''' – ভিনেগার ও সয়াসসে রান্না করা মাংস।
* '''লেচন''' – ভাজা শুকরের মাংস।
* '''সিনিগাং''' – টক স্বাদের স্যুপ।
* '''হালো-হালো''' – বরফকুচি ও ফলের মিষ্টান্ন।
[[File:Lechon Philippines.jpg|thumb|right|250px|ফিলিপাইনের বিখ্যাত লেচন]]
[[File:Halo halo.jpg|thumb|left|250px|হালো-হালো, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন]]
== পানীয় ==
* '''সান মিগুয়েল বিয়ার''' – স্থানীয় জনপ্রিয় বিয়ার।
* '''তুবা''' – নারকেল রস থেকে তৈরি পানীয়।
== থাকার ব্যবস্থা ==
ম্যানিলা ও সেবুতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, পালাওয়ান ও বোরাকাইতে সমুদ্র তীরবর্তী রিসোর্ট, আর গ্রামাঞ্চলে সস্তা গেস্টহাউস প্রচলিত।
== ব্যবহারিক তথ্য ==
* '''মুদ্রা''' – ফিলিপাইন পেসো (PHP)।
* '''ভাষা''' – ফিলিপিনো (তাগালগ) ও ইংরেজি সরকারি ভাষা।
* '''সেরা ভ্রমণের সময়''' – নভেম্বর থেকে এপ্রিল (শুকনো মৌসুম)।
* '''ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক''' – প্রধান সেবা প্রদানকারী Globe ও Smart।
== নিরাপত্তা ==
* বড় শহরে পকেটমার থেকে সতর্ক থাকুন।
* দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলে মাঝে মাঝে অস্থিতিশীলতা থাকে।
* জরুরি নাম্বার: '''৯১১'''
== উৎসব ==
* '''সিনুলোগ উৎসব''' (সেবু) – জানুয়ারি।
* '''আতি-আতিহান উৎসব''' (কালিবো) – জানুয়ারি।
* '''পানাগবেনগা (ফুল উৎসব)''' (বাগুইও) – ফেব্রুয়ারি।
== বহিঃসংযোগ ==
* [https://www.tourism.gov.ph ফিলিপাইনের সরকারি পর্যটন ওয়েবসাইট]
* [https://www.philippineairlines.com ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স]
* [https://www.cebupacificair.com সেবু প্যাসিফিক এয়ার]
{{এর অংশ|দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া}}
iaa077heidt38szbemo6s0ii5a80rvj
ব্রিসবেন
0
8313
76707
69116
2026-06-01T15:57:59Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
সংযোজন
76707
wikitext
text/x-wiki
{{pagebanner|Greater Brisbane banner 2.jpg|caption=ব্রিসবেন নদীর তীরে সূর্যাস্তের দৃশ্য, কুইন্সল্যান্ডের রৌদ্রোজ্জ্বল রাজধানীর প্যানোরামিক ভিউ}}
'''ব্রিসবেন''' অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং [https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1 কুইন্সল্যান্ড] রাজ্যের রাজধানী। ব্রিসবেন নদী-এর তীরে অবস্থিত এই প্রাণবন্ত মহানগরী তার উষ্ণ জলবায়ু, আধুনিক স্থাপত্য, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক দৃশ্য এবং শহুরে জীবন ও প্রকৃতির নিখুঁত সমন্বয়ের জন্য বিখ্যাত। বছরে গড়ে ২৮৩টি রৌদ্রোজ্জ্বল দিন সহ, ব্রিসবেনকে প্রায়শই "সানশাইন স্টেটের রাজধানী" বলা হয়।
[[File:Brisbane River and skyline from South Bank Brisbane IMGP6208.jpg|thumb|350px|ব্রিসবেনের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলার আধুনিক স্কাইলাইন, দক্ষিণ তীর থেকে দৃশ্যমান]]
[[File:Story Bridge at night, Brisbane 03.jpg|thumb|300px|রাতের আলোয় সজ্জিত স্টোরি ব্রিজ, ব্রিসবেনের অন্যতম স্থাপত্য আইকন]]
===ইতিহাস===
ব্রিসবেনের ইতিহাস ১৮২৪ সালে শুরু হয় যখন এখানে একটি দণ্ডপ্রাপ্তদের বসতি প্রতিষ্ঠিত হয়। আদিবাসী ইয়েগেরা এবং তুররাবাল জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে কমপক্ষে ৪০,০০০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। ১৮৪২ সালে বসতিটি অবাধ অভিবাসীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং ১৮৫৯ সালে কুইন্সল্যান্ড পৃথক কলোনি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে ব্রিসবেন তার রাজধানী হয়।
===জলবায়ু===
ব্রিসবেনে উপক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে (কোপেন শ্রেণীবিভাগ: ''Cfa''):
{| class="wikitable"
|-
! ঋতু
! মাস
! তাপমাত্রা
! বৈশিষ্ট্য
|-
| গ্রীষ্ম
| ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি
| ২১-৩০°C
| গরম ও আর্দ্র, মাঝে মাঝে বজ্রঝড়
|-
| শরৎ
| মার্চ-মে
| ১৫-২৫°C
| মনোরম আবহাওয়া, কম বৃষ্টি
|-
| শীত
| জুন-আগস্ট
| ১১-২১°C
| শুষ্ক ও হালকা ঠান্ডা, রাতে শীতল
|-
| বসন্ত
| সেপ্টেম্বর-নভেম্বর
| ১৫-২৫°C
| ফুলে ভরা, ক্রমশ উষ্ণতা বৃদ্ধি
|}
===জনসংখ্যা===
• মোট জনসংখ্যা: ~২.৬ মিলিয়ন (২০২৩)
• আদিবাসী জনগোষ্ঠী: ~২.৫% (প্রধানত ইয়েগেরা ও তুররাবাল)
• প্রধান ভাষা: ইংরেজি (অস্ট্রেলিয়ান অ্যাকসেন্ট)
• উল্লেখযোগ্য সম্প্রদায়: ব্রিটিশ, নিউজিল্যান্ডীয়, চীনা, ভারতীয় ও ভিয়েতনামী বংশোদ্ভূত
==শহরের অঞ্চলসমূহ==
{{Regionlist
| region1name=[[ব্রিসবেন/সেন্ট্রাল|কেন্দ্রীয় ব্রিসবেন]]
| region1color=#4f93c9
| region1description=শহরের হৃদয়স্থল যেখানে CBD, দক্ষিণ তীর (South Bank) এবং কাংগারু পয়েন্ট অবস্থিত। অফিস ভবন, সরকারি স্থাপনা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং প্রধান শপিং জেলা এখানে অবস্থিত।
| region2name=[[ব্রিসবেন/উত্তর|উত্তর ব্রিসবেন]]
| region2color=#73b273
| region2description=নিউ ফার্ম, ফোর্টিটিউড ভ্যালি এবং কেলভিন গ্রোভের মতো ট্রেন্ডি এলাকা নিয়ে গঠিত। আর্ট গ্যালারি, নাইটক্লাব এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সমন্বয় দেখা যায়।
| region3name=[[ব্রিসবেন/দক্ষিণ|দক্ষিণ ব্রিসবেন]]
| region3color=#d07b7b
| region3description=ওয়েস্ট এন্ডের বহুসংস্কৃতিক এলাকা এবং মাউন্ট কু-থার প্রাকৃতিক আকর্ষণ নিয়ে গঠিত। বোহেমিয়ান সংস্কৃতি এবং রেইনফরেস্টের নৈসর্গিক দৃশ্য এখানকার বিশেষত্ব।
| region4name=[[ব্রিসবেন/পূর্ব|পূর্ব ব্রিসবেন]]
| region4color=#d5c540
| region4description=উপকূলীয় শহরতলি যেমন উইন হার্স্ট, ম্যানলি এবং ওয়েলিংটন পয়েন্ট নিয়ে গঠিত। মেরিনা এবং সামুদ্রিক কার্যকলাপের জন্য জনপ্রিয়।
| region5name=[[ব্রিসবেন/পশ্চিম|পশ্চিম ব্রিসবেন]]
| region5color=#b5a37e
| region5description=ইন্দুরোপিলি এবং টুওংয়ের মতো আবাসিক এলাকা এবং লোন পাইন কোয়ালা অভয়ারণ্যের অবস্থান। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শের সুযোগ বেশি।
}}
[[File:BrisbaneCity-QldLGA.svg|thumb|500px|ব্রিসবেনের প্রধান অঞ্চলসমূহ]]
==দেখার মতো জায়গা==
===ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ===
* {{see
| name=কুইন্সল্যান্ড কালচারাল সেন্টার | alt=Queensland Cultural Centre | url=https://www.qagoma.qld.gov.au | email=
| address=Grey St, South Brisbane | lat=-27.4708 | long=153.0175 | directions=সাউথ ব্রিসবেন স্টেশন থেকে ৫ মিনিট হাঁটা
| phone=+61 7 3840 7303 | tollfree=
| hours=দৈনিক ১০:০০-১৭:০০ | price=বিনামূল্যে (বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য টিকিট প্রয়োজন)
| wikidata=Q7269605
| content=এই কমপ্লেক্সে রয়েছে:
* '''কুইন্সল্যান্ড আর্ট গ্যালারি''' (GOMA) - অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম আধুনিক শিল্পকলা জাদুঘর
* '''কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়াম''' - প্রাকৃতিক ইতিহাস ও বিজ্ঞান প্রদর্শনী
* '''কুইন্সল্যান্ড পারফর্মিং আর্টস সেন্টার''' (QPAC) - অপেরা, ব্যালে ও থিয়েটার পরিবেশনার স্থান
}}
* {{see
| name=নিউস্টেড হাউস | alt=Newstead House | url=https://www.newsteadhouse.com.au | email=
| address=199 Breakfast Creek Rd, Newstead | lat=-27.4414 | long=153.0442 | directions=ব্রেকফাস্ট ক্রিকের পাশে
| phone=+61 7 3216 1844 | tollfree=
| hours=বৃহস্পতিবার-রবিবার ১০:০০-১৬:০০ | price=প্রাপ্তবয়স্ক $১৫
| wikidata=Q7017983
| content=ব্রিসবেনের প্রাচীনতম অট্টালিকা (১৮৪৬), ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন। সুন্দরভাবে সংরক্ষিত বাগান এবং ব্রিসবেন নদীর দৃশ্য দেখা যায়।
}}
===প্রাকৃতিক আকর্ষণ===
* {{see
| name=সাউথ ব্যাংক পার্কল্যান্ডস | alt=South Bank Parklands | url=https://www.visitbrisbane.com.au/south-bank | email=
| address=South Brisbane | lat=-27.4769 | long=153.0208 | directions=CBD থেকে পদচারণা বা CityCat ফেরিতে
| phone=+61 7 3156 6366 | tollfree=
| hours=২৪ ঘণ্টা খোলা | price=বিনামূল্যে
| wikidata=Q7567831
| content=১৭ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে রয়েছে:
* '''স্ট্রিটস বিচ''' - শহরের মধ্যে একমাত্র কৃত্রিম লেগুন সৈকত
* '''ব্রিসবেন হুইল''' - ৬০ মিটার উঁচু ফেরিস হুইল
* '''নেপালি শান্তি স্তূপ''' - ১৯৮৮ বিশ্ব মেলার স্মারক
* '''আরবোরেটাম''' - বিরল গাছপালার সংগ্রহ
}}
* {{see
| name=মাউন্ট কু-থা | alt=Mount Coot-tha | url=https://www.brisbane.qld.gov.au/mount-coot-tha | email=
| address=Sir Samuel Griffith Dr, Mount Coot-tha | lat=-27.4778 | long=152.9583 | directions=CBD থেকে ১৫ মিনিট গাড়িতে
| phone=+61 7 3403 8888 | tollfree=
| hours=দৈনিক সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত | price=বিনামূল্যে (প্ল্যানেটেরিয়ামের জন্য টিকিট প্রয়োজন)
| wikidata=Q1950800
| content=ব্রিসবেনের সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান (২৮৭ মিটার)। এখানে রয়েছে:
* '''মাউন্ট কু-থা লুকআউট''' - শহরের ৩৬০° প্যানোরামিক দৃশ্য
* '''ব্রিসবেন বোটানিক গার্ডেনস''' - ৫২ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত উদ্ভিদ সংগ্রহ
* '''স্যার টমাস ব্রিসবেন প্ল্যানেটেরিয়াম''' - মহাকাশ বিজ্ঞান প্রদর্শনী
}}
===বিশেষ আকর্ষণ===
* {{see
| name=লোন পাইন কোয়ালা অভয়ারণ্য | alt=Lone Pine Koala Sanctuary | url=https://www.koala.net | email=
| address=708 Jesmond Rd, Fig Tree Pocket | lat=-27.5317 | long=152.9650 | directions=CBD থেকে ১২ কিমি
| phone=+61 7 3378 1366 | tollfree=
| hours=দৈনিক ৯:০০-১৭:০০ | price=প্রাপ্তবয়স্ক $৪২, শিশু $২৪
| wikidata=Q1868570
| content=বিশ্বের প্রথম এবং বৃহত্তম কোয়ালা অভয়ারণ্য (১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত)। এখানে আপনি:
* '''কোয়ালাকে কোলে নিতে''' পারবেন ($২৫ অতিরিক্ত)
* '''১০০+ ক্যাঙ্গারুকে হাতে খাওয়াতে''' পারবেন
* '''প্লাটিপাস, ডিঙ্গো এবং টাসমানিয়ান ডেভিল''' দেখতে পারবেন
* '''শিংহের ডাক প্রদর্শনী''' (শিপডগ শো) উপভোগ করতে পারবেন
}}
==করণীয়==
===নদীভিত্তিক কার্যক্রম===
* '''CityCat ফেরি ভ্রমণ''' - ব্রিসবেন নদীর প্রধান পরিবহন মাধ্যম। সাউথ ব্যাংক থেকে নিউ ফার্ম পর্যন্ত যাত্রা বিশেষভাবে সুন্দর ($৫-৭)।
* '''কায়াক বা স্ট্যান্ড আপ প্যাডলবোর্ডিং''' - রিভারলাইফ অ্যাডভেঞ্চার সেন্টার থেকে ভাড়া পাওয়া যায় ($৩০-৫০/ঘণ্টা)।
* '''স্টোরি ব্রিজ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাইম্ব''' - ব্রিসবেনের আইকনিক সেতুতে আরোহণের অভিজ্ঞতা ($১২০-১৫০)। সূর্যাস্তের সময় ক্লাইম্ব বিশেষভাবে সুন্দর।
===সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা===
* '''GOMA-তে আর্ট প্রদর্শনী''' - অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় আধুনিক শিল্পকলা জাদুঘরে নিয়মিত পরিবর্তনশীল প্রদর্শনী দেখুন।
* '''কুইন্সল্যান্ড পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠান''' - অপেরা কুইন্সল্যান্ড, কুইন্সল্যান্ড ব্যালে এবং কুইন্সল্যান্ড থিয়েটারের পরিবেশনা উপভোগ করুন।
* '''আদিবাসী সাংস্কৃতিক ট্যুর''' - নুরলুকা এক্সপেরিয়েন্সের মাধ্যমে ইয়েগেরা ও তুররাবাল জনগোষ্ঠীর ৪০,০০০ বছরের ইতিহাস জানুন ($৯৯/ব্যক্তি)।
===প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চার===
* '''ডি'অ্যাগুইলার ন্যাশনাল পার্ক হাইকিং''' - CBD থেকে মাত্র ৩০ মিনিট দূরে অবস্থিত এই রেইনফরেস্টে অসংখ্য হাইকিং ট্রেইল রয়েছে।
* '''কাংগারু পয়েন্ট ক্লিফস রক ক্লাইম্বিং''' - নদীর বিপরীতে শহরের দৃশ্য দেখতে দেখতে অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করুন ($৫০-৮০)।
* '''মোরটন দ্বীপ দিবাভ্রমণ''' - ট্যাঙ্গালুমা রেকস স্নরকেলিং এবং স্যান্ড বোর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা নিন (ফেরি $৪০ রিটার্ন)।
==কেনাকাটা==
ব্রিসবেনে শপিংয়ের প্রধান এলাকাগুলো হল:
===শহর কেন্দ্র===
* '''কুইন্সল্যান্ডার মল''' (QueensPlaza) - লাক্সারি ব্র্যান্ড যেমন Gucci, Louis Vuitton এবং Chanel
* '''উইন্টারগার্ডেন''' - হাই-এন্ড ফ্যাশন এবং ডিপার্টমেন্ট স্টোর মায়ার
* '''ব্রিসবেন সিটি মল''' - ৪০০+ দোকান সহ বৃহত্তম শপিং সেন্টার
===ট্রেন্ডি এলাকা===
* '''জেমস স্ট্রিট, নিউ ফার্ম''' - বুটিক ফ্যাশন, ডিজাইনার দোকান এবং ক্যাফে
* '''ব্রুনসউইক স্ট্রিট, ফোর্টিটিউড ভ্যালি''' - স্বাধীন ফ্যাশন লেবেল এবং ভিনটেজ দোকান
* '''বাউন্ডারি স্ট্রিট, ওয়েস্ট এন্ড''' - হস্তশিল্প, স্থানীয় ডিজাইন এবং বহুসংস্কৃতিক পণ্য
===বাজার===
* {{buy
| name=ইট স্ট্রিট নর্থশোর | alt=Eat Street Northshore | url=https://www.eatstreetnorthshore.com.au | email=
| address=221D MacArthur Ave, Hamilton | lat=-27.4308 | long=153.0664 | directions=
| phone=+61 7 3358 1900 | tollfree=
| hours=শুক্র-শনি ১৬:০০-২২:০০, রবি ১২:০০-২০:০০ | price=প্রবেশ $৫
| content=১৮০টি শিপিং কন্টেইনারে তৈরি ৭০+ ফুড স্টল, লাইভ মিউজিক এবং আলোকসজ্জা নিয়ে গঠিত রাতের বাজার। বৈশ্বিক খাবার থেকে স্থানীয় বিশেষত্ব সবই পাওয়া যায়।
}}
* {{buy
| name=জ্যান পাওয়ার্স ফার্মার্স মার্কেট | alt=Jan Powers Farmers Markets | url=https://www.janpowersfarmersmarkets.com.au | email=
| address=বিভিন্ন অবস্থান | lat= | long= | directions=
| phone= | tollfree=
| hours=শনিবার সকাল (স্থানভেদে পরিবর্তিত) | price=বিনামূল্যে প্রবেশ
| content=নিউ ফার্ম (প্রতি শনিবার) এবং মানলি (প্রতি রবিবার) অবস্থিত এই বাজারে স্থানীয় উৎপাদকদের তাজা ফল, সবজি, পনির এবং আর্টিসানাল পণ্য পাওয়া যায়।
}}
==খাওয়া==
ব্রিসবেনের খাদ্য দৃশ্য তার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করে, যেখানে এশিয়ান, ইউরোপীয় এবং মডার্ন অস্ট্রেলিয়ান রন্ধনপ্রণালীর মিশ্রণ দেখা যায়।
===স্থানীয় বিশেষত্ব===
* '''মোরেটন বে বাগ''' - স্থানীয় চিংড়ি যা সাধারণত বিয়ার-বাটার সস দিয়ে পরিবেশন করা হয়
* '''ল্যামিংটন''' - নারকেলে ঢাকা স্পঞ্জ কেক, প্রায়ই চকলেট বা জ্যাম দিয়ে
* '''প্যাভলোভা''' - মেরিঙ্গু-ভিত্তিক ডেজার্ট যা ফল দিয়ে সাজানো হয়
* '''টিম ট্যামস''' - অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত চকলেট বিস্কুট (ব্রিসবেনে তৈরি)
===উল্লেখযোগ্য রেস্তোরাঁ===
{| class="wikitable"
|-
! নাম !! রন্ধনপ্রণালী !! অবস্থান !! মূল্য পরিসীমা !! বিশেষত্ব
|-
| '''Gerard's Bistro''' || মধ্যপ্রাচ্য ফিউশন || জেমস স্ট্রিট, নিউ ফার্ম || $$$ || ল্যাম রাম্প, হুমাস
|-
| '''E'cco Bistro''' || মডার্ন অস্ট্রেলিয়ান || 61 Skyring Terrace, নিউস্টেড || $$$$ || হ্যাটেড শেফের রেস্তোরাঁ
|-
| '''Happy Boy''' || সিচুয়ান-অস্ট্রেলিয়ান || ইস্ট ব্রিসবেন || $$ || ম্যাপো টফু, ড্যান ড্যান নুডলস
|-
| '''Greca''' || সমসাময়িক গ্রিক || হাওয়ার্ড স্মিথ হোয়ার্ভস || $$$ || গ্রিলড অক্টোপাস, সাগানাকি
|-
| '''The Fish House''' || সামুদ্রিক খাবার || বার্লি হেডস || $$$ || মোরেটন বে বাগ, সমুদ্র-থেকে-টেবিল মাছ
|}
===ক্যাফে সংস্কৃতি===
ব্রিসবেনের কফি সংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত। উল্লেখযোগ্য ক্যাফে:
* {{eat
| name=John Mills Himself | url=https://www.johnmillshimself.com.au | email=
| address=40 Charlotte St, Brisbane City | lat=-27.4689 | long=153.0269
| phone=+61 7 3211 2233 | hours=সোম-শুক্র ৬:৩০-১৪:৩০
| content=একটি লুকানো জেম যেখানে ব্রিসবেনের সেরা এসপ্রেসো পরিবেশন করা হয়। তাদের "Magic" কফি (ডবল রিস্ট্রেটো উইথ মিল্ক) অবশ্যই ট্রাই করুন।
}}
* {{eat
| name=Bellissimo Coffee | url=https://www.bellissimocoffee.com.au | email=
| address=8/12 Roma St, Brisbane City | lat=-27.4658 | long=153.0200
| phone=+61 7 3236 1575 | hours=সোম-শুক্র ৬:০০-১৫:০০, শনি ৭:০০-১২:০০
| content=ইতালিয়ান-অস্ট্রেলিয়ান ফিউশন কফি। তাদের সিগনেচার "Affogato" (এসপ্রেসো আইসক্রিম) জনপ্রিয়।
}}
==পানীয়==
===বার ও পাব===
* {{drink
| name=The Gresham | url=https://www.thegresham.com.au | email=
| address=308 Queen St, Brisbane City | lat=-27.4683 | long=153.0250
| phone=+61 7 3193 8262 | hours=সোম-বৃহঃ ১১:০০-২৪:০০, শুক্র-শনি ১১:০০-০১:০০
| content=১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বার যা হুইস্কি এবং সিগারের বিশাল সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত। ভিক্টোরিয়ান যুগের স্থাপত্য সংরক্ষিত রয়েছে।
}}
* {{drink
| name=Savile Row | url= | email=
| address=674 Ann St, Fortitude Valley | lat=-27.4578 | long=153.0361
| phone=+61 7 3852 5557 | hours=বুধ-শনি ১৭:০০-২৪:০০
| content=লুকানো স্পিকইজি বার ১৯২০-এর দশকের থিমে সজ্জিত। তাদের সিগনেচার ককটেল "Brisbane Vice" চেষ্টা করুন।
}}
===ক্রাফট বিয়ার===
* {{drink
| name=Newstead Brewing Co. | url=https://newsteadbrewing.com.au | email=
| address=85 Doggett St, Newstead | lat=-27.4469 | long=153.0453
| phone=+61 7 3160 5810 | hours=দৈনিক ১১:০০-২২:০০
| content=স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্রাফট বিয়ার। তাদের "3 Quarter Time Session IPA" বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ব্রুয়ারি ট্যুর ($৩৫) উপলব্ধ।
}}
* {{drink
| name=Green Beacon Brewing Co. | url=https://www.greenbeacon.com.au | email=
| address=26 Helen St, Teneriffe | lat=-27.4594 | long=153.0469
| phone=+61 7 3257 4387 | hours=বৃহঃ-রবি ১২:০০-২১:০০
| content=ট্যাপরুমে ২০+ বিভিন্ন বিয়ার পাওয়া যায়। তাদের "Wayfarer Tropical Saison" চেষ্টা করতে ভুলবেন না।
}}
==ঘুমের ব্যবস্থা==
ব্রিসবেনে বিভিন্ন বাজেটের জন্য থাকার ব্যবস্থা রয়েছে:
===বিলাসবহুল===
* {{sleep
| name=The Calile Hotel | url=https://www.thecalilehotel.com | email=
| address=48 James St, Fortitude Valley | lat=-27.4586 | long=153.0436
| phone=+61 7 3607 5888 | price=$৩৫০-৮০০/রাত
| checkin=১৫:০০ | checkout=১১:০০
| content=ব্রিসবেনের প্রথম সুপার প্রিমিয়াম হোটেল। দুটি আউটডোর পুল, লাক্সারি স্পা এবং জেমস স্ট্রিটের সেরা রেস্তোরাঁর অ্যাক্সেস রয়েছে।
}}
* {{sleep
| name=W Brisbane | url=https://www.marriott.com | email=
| address=81 North Quay, Brisbane City | lat=-27.4681 | long=153.0214
| phone=+61 7 3557 8888 | price=$২৫০-৬০০/রাত
| checkin=১৫:০০ | checkout=১১:০০
| content=নদীর তীরে অবস্থিত আধুনিক ডিজাইনের হোটেল। রুফটপ পুল "WET" এবং তিনটি অন-সাইট বার/রেস্তোরাঁ রয়েছে।
}}
===মধ্যম সীমা===
* {{sleep
| name=Ovolo Inchcolm | url=https://ovolohotels.com.au/ovolobrisbane | email=
| address=73 Wickham Terrace, Spring Hill | lat=-27.4647 | long=153.0286
| phone=+61 7 3226 8888 | price=$১৫০-৩০০/রাত
| checkin=১৫:০০ | checkout=১১:০০
| content=১৯৩০-এর দশকের আর্ট ডেকো ভবনে অবস্থিত বুটিক হোটেল। বিনামূল্যে মিনি বার এবং হ্যাপি আওয়ার অন্তর্ভুক্ত।
}}
* {{sleep
| name=The Johnson | url=https://www.thejohnson.com.au | email=
| address=477 Boundary St, Spring Hill | lat=-27.4619 | long=153.0275
| phone=+61 7 3085 6888 | price=$১২০-২৫০/রাত
| checkin=১৪:০০ | checkout=১০:০০
| content=আধুনিক ডিজাইনের অ্যাপার্টমেন্ট-স্টাইল থাকার ব্যবস্থা। রুফটপ পুল এবং ফিটনেস সেন্টার রয়েছে।
}}
===বাজেট===
* {{sleep
| name=Bunk Brisbane | url=https://www.bunkbrisbane.com.au | email=
| address=11 Gopal St, Brisbane City | lat=-27.4669 | long=153.0253
| phone=+61 7 3036 0100 | price=$৩০-৮০/ডরমিটরি
| checkin=১৪:০০ | checkout=১০:০০
| content=সামাজিক পরিবেশ সহ আধুনিক ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল। বিনামূল্যে ওয়াইফাই, রুফটপ বার এবং নিয়মিত সামাজিক ইভেন্ট রয়েছে।
}}
* {{sleep
| name=The Motel Brisbane | url=https://www.themotelbrisbane.com.au | email=
| address=35 Peel St, South Brisbane | lat=-27.4758 | long=153.0186
| phone=+61 7 3846 1111 | price=$৯০-১৫০/রাত
| checkin=১৪:০০ | checkout=১০:০০
| content=সাউথ ব্যাংকের কাছে অবস্থিত স্টাইলিশ বাজেট হোটেল। কমপ্যাক্ট কিন্তু সুসজ্জিত কক্ষ এবং বিনামূল্যে বাইসাইকেল ভাড়া অন্তর্ভুক্ত।
}}
==পরবর্তী যাত্রা==
ব্রিসবেন অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল অন্বেষণের জন্য একটি চমৎকার ভিত্তি:
* '''[[গোল্ড কোস্ট]]''' (দক্ষিণে ১ ঘণ্টা) - সার্ফার্স প্যারাডাইস, থিম পার্ক এবং স্প্রিংব্রুক ন্যাশনাল পার্ক
* '''[[সানশাইন কোস্ট]]''' (উত্তরে ১.৫ ঘণ্টা) - নুসা হেডস, অস্ট্রেলিয়া চিড়িয়াখানা এবং গ্লাস হাউস মাউন্টেনস
* '''[[ব্রিসবেন দ্বীপপুঞ্জ]]''' - মোরটন দ্বীপ (ট্যাঙ্গালুমা রেকস) এবং স্ট্র্যাডব্রোক দ্বীপ (তিমি দেখা)
* '''[[বায়রন বে]]''' (দক্ষিণে ২ ঘণ্টা) - বোহেমিয়ান শহর এবং অস্ট্রেলিয়ার পূর্বতম বিন্দু
* '''[[ফ্রেজার দ্বীপ]]''' (উত্তরে ৪ ঘণ্টা) - বিশ্বের বৃহত্তম বালির দ্বীপ এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
==যোগাযোগ==
===আগমন===
====বিমানপথ====
'''ব্রিসবেন এয়ারপোর্ট (BNE)''' শহরের কেন্দ্র থেকে ১৭ কিমি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। এটি অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর।
* '''আন্তর্জাতিক টার্মিনাল''' থেকে:
** '''Airtrain''': প্রতি ১৫-৩০ মিনিটে চলাচল করে, CBD পর্যন্ত ২০ মিনিট ($২০.৫০)
** '''ট্যাক্সি/উবার''': CBD পর্যন্ত $৪৫-৬০, ২৫-৩৫ মিনিট
** '''বাস''': ৫৯০ বাস পরিষেবা ($৫.২০)
* '''অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল''' থেকে:
** Airtrain এবং ট্যাক্সি উভয়ই সহজলভ্য
====ট্রেন ও বাস====
* '''ট্রেন''': ব্রিসবেন রেলওয়ে স্টেশন (Roma Street) অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের প্রধান সংযোগস্থল। সিডনি থেকে ট্রেনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা (NSW TrainLink)।
* '''বাস''': গ্রেহাউন্ড এবং প্রিমিয়ার মোটর সার্ভিস সিডনি (১৬-১৮ ঘণ্টা) এবং মেলবোর্ন (২৮-৩০ ঘণ্টা) থেকে পরিষেবা প্রদান করে।
===শহরের মধ্যে যাতায়াত===
* '''ট্রান্সলিংক পাবলিক ট্রান্সপোর্ট''' (বাস, ট্রেন, ফেরি):
** '''Go Card''' ব্যবহার করুন (প্রাথমিক খরচ $১০, তারপর রিচার্জ করুন) - ৩০% ছাড় পাওয়া যায়
** CBD থেকে সাউথ ব্যাংক পর্যন্ত বিনামূল্যে লুপ বাস (Spring Hill Loop, City Loop)
* '''CityCat ফেরি''': নদী পারাপারের সবচেয়ে সুন্দর উপায়। প্রধান স্টপগুলো হল:
** North Quay (CBD)
** South Bank
** New Farm Park
** Teneriffe
* '''সাইকেল ভাড়া''':
** '''CityCycle''': $২ স্টার্টিং ফি + $২/৩০ মিনিট
** '''রিভারসাইক্ল''': উচ্চমানের বাইক ভাড়া ($২৫/দিন)
* '''ট্যাক্সি/রাইডশেয়ার''':
** Uber, Didi এবং Ola সহজলভ্য
** ট্যাক্সি স্ট্যান্ড CBD এবং প্রধান হোটেলের সামনে পাওয়া যায়
==নিরাপত্তা==
ব্রিসবেন সাধারণত একটি নিরাপদ শহর, তবে কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:
* '''রাতে''': ফোর্টিটিউড ভ্যালির কিছু এলাকা (বিশেষত ব্রুনসউইক স্ট্রিট) রাতে একটু অশান্ত হতে পারে। একা হাঁটার পরিবর্তে ট্যাক্সি বা রাইডশেয়ার ব্যবহার করুন।
* '''পকেটমার''': পর্যটক এলাকায় (সাউথ ব্যাংক, কুইন্স স্ট্রিট মল) ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের প্রতি নজর রাখুন।
* '''সূর্য সুরক্ষা''': কুইন্সল্যান্ডে UV সূচক খুব বেশি। SPF 50+ সানস্ক্রিন, টুপি এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
* '''নদী সাঁতার''': শুধুমাত্র মনোনীত সাঁতারের এলাকায় (সাউথ ব্যাংক স্ট্রিটস বিচ) সাঁতার কাটুন। নদীতে স্রোত এবং নৌযানের চলাচল বিপজ্জনক হতে পারে।
* '''বন্যপ্রাণী''': শহরতলির এলাকায় (বিশেষত ডি'অ্যাগুইলার ন্যাশনাল পার্ক) সাপ এবং মাকড়সা থাকতে পারে। ট্রেইলে থাকাকালীন পথ থেকে সরে যাবেন না।
==সহায়ক কথা==
===স্থানীয় শব্দভাণ্ডার===
অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজির কিছু বিশেষ শব্দ যা ব্রিসবেনে শুনতে পাবেন:
* '''Arvo''' = বিকাল (Afternoon)
* '''Brekkie''' = প্রাতঃরাশ (Breakfast)
* '''Maccas''' = ম্যাকডোনাল্ড'স
* '''Servo''' = পেট্রোল স্টেশন (Service Station)
* '''Thongs''' = ফ্লিপ-ফ্লপ স্যান্ডেল (পোশাক নয়!)
* '''Esky''' = কুলার বক্স (পিকনিকের জন্য)
* '''Barbie''' = বারবিকিউ (BBQ)
===দরকারী নম্বর===
* '''জরুরি পরিষেবা''': ০০০ (পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড)
* '''পুলিশ (অ-জরুরি)''': ১৩১ ৪৪৪
* '''ট্রান্সলিংক (পাবলিক ট্রান্সপোর্ট তথ্য)''': ১৩ ১২ ৩০
* '''ব্রিসবেন ভিজিটর তথ্য কেন্দ্র''': +৬১ ৭ ৩০০৬ ৬২৯০ (রাজপথ ১৬৭, রোমা স্ট্রিট)
{{{এর অংশ|অস্ট্রেলিয়া}}
ec3fvuz8q342s22ksdp03gvyutm2pvy
ব্যবহারকারী:মুকতাদির
2
8597
76712
72080
2026-06-01T20:26:49Z
J ansari
693
J ansari [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad]] কে [[ব্যবহারকারী:মুকতাদির]] শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন: ব্যবহারকারীকে "[[Special:CentralAuth/Md. Muqtadir Fuad|Md. Muqtadir Fuad]]" থেকে "[[Special:CentralAuth/মুকতাদির|মুকতাদির]]"-এ নামান্তরের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাতা স্থানান্তরিত
72080
wikitext
text/x-wiki
Hi
he0da0q8s1r2umjl1vwjjxep15c52yo
ক্যানবেরা
0
8957
76708
76275
2026-06-01T17:33:52Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
সংশোধন
76708
wikitext
text/x-wiki
{{পাতার ব্যানার|Canberra banner1.jpg}}
{{printDistricts}}
:''[[অস্ট্রেলীয় রাজধানী অঞ্চল|ACT]] এখানে পুনঃনির্দেশিত হয়েছে। টেক্সাসের ওয়াকো আঞ্চলিক বিমানবন্দরের আইএটিএ (IATA) কোডের জন্য [[Waco]] দেখুন; অ্যাসকটের রেলওয়ে স্টেশন কোডের জন্য [[Ascot]] দেখুন।''
'''ক্যানবেরা''' (ইংরেজি: '''Canberra''') শহরটি [[অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ার]] রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা মূলত নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে বেষ্টিত '''অস্ট্রেলীয় রাজধানী অঞ্চলের''' (ACT) সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে বিস্তৃত। এটি একটি [[পরিকল্পিত শহর]], যেখানে বিশাল কৃত্রিম হ্রদকে ঘিরে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর এবং গ্যালারি নির্মিত হয়েছে। ২০২৬ সালের তথ্যমতে প্রায় '''৪,৮২,০০০ জন''' বাসিন্দার এই "বুশ ক্যাপিটাল" (Bush Capital) বা বনাঞ্চলবেষ্টিত রাজধানী শহরটি প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের জন্য চমৎকার একটি স্থান, যেখানে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সাইকেল পথ, বাগান, পার্ক, বন্যপথে ভ্রমণ (bushwalking) এবং প্রকৃতি সংরক্ষণাগার রয়েছে।
== অঞ্চলসমূহ (Districts) ==
=== ক্যানবেরা সেন্ট্রাল ===
{{mapframe|-35.3020|149.1287|show=map2|zoom=11|name=ক্যানবেরার অঞ্চলসমূহের মানচিত্র<br>• [[:File:Central Canberra static map.png|সেন্ট্রাল ক্যানবেরার মানচিত্র]]|height=800|width=600}}
{{Mapshape|type=page|group=map2|wikicommons=Canberra Districts.map}}
{{Regionlist
| region1name=[[ক্যানবেরা/সিভিক|সিভিক (শহর)]]
| region1color=#441f4a
| region1items=
| region1description=অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর প্রধান শহর এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকা (CBD)। এটি মূলত কেনাকাটা এবং খাবারের জন্য প্রধান কেন্দ্র। এখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান 'পার্লামেন্টারি ট্রায়াঙ্গেল'-এর চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়।
| region2name=[[ক্যানবেরা/অ্যাক্টন|অ্যাক্টন]]
| region2color=#aa00ff
| region2items=
| region2description=ক্যানবেরার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, যেখানে অস্ট্রেলীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (ANU), অনেক জাদুঘর এবং অস্ট্রেলীয় জাতীয় বোটানিক গার্ডেন অবস্থিত। এই বাগানে ৫,৫০০-এর বেশি প্রজাতির অস্ট্রেলীয় উদ্ভিদ রয়েছে।
| region3name=[[ক্যানবেরা/উত্তর ক্যানবেরা|উত্তর ক্যানবেরা]]
| region3color=#FF7F7F
| region3items=
| region3description=এটি মূলত আবাসিক এলাকা হলেও পর্যটকরা এখানে বিখ্যাত 'অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়াল' দেখতে আসেন, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক জাদুঘর।
| region4name=[[ক্যানবেরা/দক্ষিণ ক্যানবেরা|দক্ষিণ ক্যানবেরা]]
| region4color=#328fa8
| region4items=
| region4description=এখানে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল ভবনসমূহ রয়েছে, যার বেশিরভাগই 'পার্লামেন্টারি ট্রায়াঙ্গেল'-এর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে পার্লামেন্ট হাউস, হাই কোর্ট এবং রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান মিন্ট।
}}
== পটভূমি (Understand) ==
=== ইতিহাস ===
সিডনি এবং মেলবোর্নের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনের পর ১৯০১ সালে ক্যানবেরাকে রাজধানী হিসেবে তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। ১৯১২ সালে শিকাগোর স্থপতি '''ওয়াল্টার বার্লি গ্রিফিন''' একটি নকশা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন এবং তাঁর পরিকল্পিত নকশা অনুযায়ী ১৯১৩ সালে শহরটির নামকরণ করা হয় "ক্যানবেরা"। এটি একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
=== জনমিতি (People and Demographics) ===
ক্যানবেরা একটি তরুণ, উচ্চশিক্ষিত এবং সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় শহর। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
* '''পূর্বপুরুষ:''' এখানকার জনসংখ্যার প্রধান অংশ ইংরেজ (২৫.১%), অস্ট্রেলীয় (২৩.৫%), আইরিশ (৯.৮%), স্কটিশ (৮.৮%), চীনা (৫.৫%) এবং ভারতীয় (৩.৮%) বংশোদ্ভূত।
* '''বৈচিত্র্য:''' এখানকার প্রায় '''২৮.৬%''' অধিবাসী বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে জন্ম নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড, চীন, ভারত এবং নিউজিল্যান্ড।
* '''ইনক্লুসিভিটি:''' ক্যানবেরাকে অস্ট্রেলিয়ার "রেইনবো ক্যাপিটাল" বলা হয়, কারণ এখানে মাথাপিছু সমকামী দম্পতির হার দেশে সবচেয়ে বেশি (১.৪%)।
* '''অর্থনীতি:''' ক্যানবেরার বাসিন্দাদের গড় সাপ্তাহিক আয় অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরের তুলনায় বেশি (প্রায় '''২,৪৫০ ডলার''')।
=== জলবায়ু (Climate) ===
ক্যানবেরার জলবায়ু সাধারণত শুষ্ক। এখানে চারটি স্পষ্ট ঋতু দেখা যায়:
* '''গ্রীষ্মকাল (ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি):''' গড় তাপমাত্রা ২৮.৮° সেলসিয়াস, তবে কখনো কখনো তাপপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা ৩৫° সে. ছাড়িয়ে যেতে পারে।
* '''শীতকাল (জুন–আগস্ট):''' রাতে তীব্র ঠান্ডা থাকে (গড় সর্বনিম্ন ০.৩° সে.), তবে দিনে আকাশ পরিষ্কার ও রোদ থাকে। ক্যানবেরায় তুষারপাত খুব কম হয়।
== যাতায়াত (Get in) ==
=== বিমানে ===
'''ক্যানবেরা বিমানবন্দর (CBR)''' শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
* '''ট্যাক্সি/উবার:''' সিভিক এলাকা পর্যন্ত ভাড়া প্রায় ২৫-৩৫ ডলার।
* '''পাবলিক বাস:''' R3 রুটটি প্রতিদিন চলাচল করে (একক ভাড়া ৪.৯০ ডলার)।
=== ট্রেন বা কোচে ===
ক্যানবেরার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কিংসটনে অবস্থিত। সিডনি থেকে দিনে ৩টি ট্রেন চলাচল করে (সময় লাগে ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট)। সিভিকের '''জলিমন্ট সেন্টারে''' কোচের প্রধান টার্মিনাল অবস্থিত।
== ভ্রমণ ব্যবস্থা (Get around) ==
=== গণপরিবহন ===
ক্যানবেরার গণপরিবহন ব্যবস্থা ট্রেন (লাইট রেল) এবং বাসের ওপর নির্ভরশীল।
* '''লাইট রেল (R1):''' গুঙ্গাহলিন থেকে সিভিক পর্যন্ত চলে।
* '''বাস:''' 'র্যাপিড' বাস রুটগুলো (R2-R10) প্রধান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
* '''ভাড়া:''' MyWay+ স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ভাড়া প্রদান করা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
=== ই-স্কুটার ===
শহরের সিভিক, অ্যাক্টন এবং প্রধান শহরতলীগুলোতে অ্যাপ-ভিত্তিক ই-স্কুটার পাওয়া যায়। এগুলোshared paths-এ সর্বোচ্চ ২৫ কিমি/ঘণ্টা বেগে চালানো যায়।
== দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম (See & Do) ==
* '''পার্লামেন্ট হাউস:''' ক্যাপিটাল হিল-এ অবস্থিত এই ভবনটি অস্ট্রেলিয়ার শাসনের কেন্দ্র। এখানে পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে গাইডেড ট্যুর রয়েছে।
* '''কুয়েস্টাকন (Questacon):''' জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, যা শিশু ও বিজ্ঞানমনস্কদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
* '''নামাডগি ন্যাশনাল পার্ক:''' এটি ক্যানবেরার বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, যা হাইকিং এবং ক্যাম্পিংয়ের জন্য আদর্শ।
* '''লেক বার্লি গ্রিফিন:''' শহরের মাঝখানে অবস্থিত এই লেকের চারপাশে হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর জন্য চমৎকার পথ রয়েছে।
আপনি কি পার্লামেন্ট হাউসের পাবলিক গ্যালারির বর্তমান সূচি বা 'ফ্লোরিয়েড' উৎসবের তারিখগুলো জানতে চান?
qq5ajoqadx339akw1xnfee1a09340y4
76709
76708
2026-06-01T17:35:07Z
Salil Kumar Mukherjee
2058
সংযোজন
76709
wikitext
text/x-wiki
{{পাতার ব্যানার|Canberra banner1.jpg}}
{{printDistricts}}
:''[[অস্ট্রেলীয় রাজধানী অঞ্চল|ACT]] এখানে পুনঃনির্দেশিত হয়েছে। টেক্সাসের ওয়াকো আঞ্চলিক বিমানবন্দরের আইএটিএ (IATA) কোডের জন্য [[Waco]] দেখুন; অ্যাসকটের রেলওয়ে স্টেশন কোডের জন্য [[Ascot]] দেখুন।''
'''ক্যানবেরা''' (ইংরেজি: '''Canberra''') শহরটি [[অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ার]] রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা মূলত নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে বেষ্টিত '''অস্ট্রেলীয় রাজধানী অঞ্চলের''' (ACT) সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে বিস্তৃত। এটি একটি [[পরিকল্পিত শহর]], যেখানে বিশাল কৃত্রিম হ্রদকে ঘিরে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর এবং গ্যালারি নির্মিত হয়েছে। ২০২৬ সালের তথ্যমতে প্রায় '''৪,৮২,০০০ জন''' বাসিন্দার এই "বুশ ক্যাপিটাল" (Bush Capital) বা বনাঞ্চলবেষ্টিত রাজধানী শহরটি প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের জন্য চমৎকার একটি স্থান, যেখানে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সাইকেল পথ, বাগান, পার্ক, বন্যপথে ভ্রমণ (bushwalking) এবং প্রকৃতি সংরক্ষণাগার রয়েছে।
== অঞ্চলসমূহ (Districts) ==
=== ক্যানবেরা সেন্ট্রাল ===
{{mapframe|-35.3020|149.1287|show=map2|zoom=11|name=ক্যানবেরার অঞ্চলসমূহের মানচিত্র<br>• [[:File:Central Canberra static map.png|সেন্ট্রাল ক্যানবেরার মানচিত্র]]|height=800|width=600}}
{{Mapshape|type=page|group=map2|wikicommons=Canberra Districts.map}}
{{Regionlist
| region1name=[[ক্যানবেরা/সিভিক|সিভিক (শহর)]]
| region1color=#441f4a
| region1items=
| region1description=অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর প্রধান শহর এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকা (CBD)। এটি মূলত কেনাকাটা এবং খাবারের জন্য প্রধান কেন্দ্র। এখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান 'পার্লামেন্টারি ট্রায়াঙ্গেল'-এর চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়।
| region2name=[[ক্যানবেরা/অ্যাক্টন|অ্যাক্টন]]
| region2color=#aa00ff
| region2items=
| region2description=ক্যানবেরার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, যেখানে অস্ট্রেলীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (ANU), অনেক জাদুঘর এবং অস্ট্রেলীয় জাতীয় বোটানিক গার্ডেন অবস্থিত। এই বাগানে ৫,৫০০-এর বেশি প্রজাতির অস্ট্রেলীয় উদ্ভিদ রয়েছে।
| region3name=[[ক্যানবেরা/উত্তর ক্যানবেরা|উত্তর ক্যানবেরা]]
| region3color=#FF7F7F
| region3items=
| region3description=এটি মূলত আবাসিক এলাকা হলেও পর্যটকরা এখানে বিখ্যাত 'অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়াল' দেখতে আসেন, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক জাদুঘর।
| region4name=[[ক্যানবেরা/দক্ষিণ ক্যানবেরা|দক্ষিণ ক্যানবেরা]]
| region4color=#328fa8
| region4items=
| region4description=এখানে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল ভবনসমূহ রয়েছে, যার বেশিরভাগই 'পার্লামেন্টারি ট্রায়াঙ্গেল'-এর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে পার্লামেন্ট হাউস, হাই কোর্ট এবং রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান মিন্ট।
}}
== পটভূমি (Understand) ==
=== ইতিহাস ===
সিডনি এবং মেলবোর্নের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনের পর ১৯০১ সালে ক্যানবেরাকে রাজধানী হিসেবে তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। ১৯১২ সালে শিকাগোর স্থপতি '''ওয়াল্টার বার্লি গ্রিফিন''' একটি নকশা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন এবং তাঁর পরিকল্পিত নকশা অনুযায়ী ১৯১৩ সালে শহরটির নামকরণ করা হয় "ক্যানবেরা"। এটি একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
=== জনমিতি (People and Demographics) ===
ক্যানবেরা একটি তরুণ, উচ্চশিক্ষিত এবং সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় শহর। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
* '''পূর্বপুরুষ:''' এখানকার জনসংখ্যার প্রধান অংশ ইংরেজ (২৫.১%), অস্ট্রেলীয় (২৩.৫%), আইরিশ (৯.৮%), স্কটিশ (৮.৮%), চীনা (৫.৫%) এবং ভারতীয় (৩.৮%) বংশোদ্ভূত।
* '''বৈচিত্র্য:''' এখানকার প্রায় '''২৮.৬%''' অধিবাসী বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে জন্ম নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড, চীন, ভারত এবং নিউজিল্যান্ড।
* '''ইনক্লুসিভিটি:''' ক্যানবেরাকে অস্ট্রেলিয়ার "রেইনবো ক্যাপিটাল" বলা হয়, কারণ এখানে মাথাপিছু সমকামী দম্পতির হার দেশে সবচেয়ে বেশি (১.৪%)।
* '''অর্থনীতি:''' ক্যানবেরার বাসিন্দাদের গড় সাপ্তাহিক আয় অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরের তুলনায় বেশি (প্রায় '''২,৪৫০ ডলার''')।
=== জলবায়ু (Climate) ===
ক্যানবেরার জলবায়ু সাধারণত শুষ্ক। এখানে চারটি স্পষ্ট ঋতু দেখা যায়:
* '''গ্রীষ্মকাল (ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি):''' গড় তাপমাত্রা ২৮.৮° সেলসিয়াস, তবে কখনো কখনো তাপপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা ৩৫° সে. ছাড়িয়ে যেতে পারে।
* '''শীতকাল (জুন–আগস্ট):''' রাতে তীব্র ঠান্ডা থাকে (গড় সর্বনিম্ন ০.৩° সে.), তবে দিনে আকাশ পরিষ্কার ও রোদ থাকে। ক্যানবেরায় তুষারপাত খুব কম হয়।
== যাতায়াত (Get in) ==
=== বিমানে ===
'''ক্যানবেরা বিমানবন্দর (CBR)''' শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
* '''ট্যাক্সি/উবার:''' সিভিক এলাকা পর্যন্ত ভাড়া প্রায় ২৫-৩৫ ডলার।
* '''পাবলিক বাস:''' R3 রুটটি প্রতিদিন চলাচল করে (একক ভাড়া ৪.৯০ ডলার)।
=== ট্রেন বা কোচে ===
ক্যানবেরার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কিংসটনে অবস্থিত। সিডনি থেকে দিনে ৩টি ট্রেন চলাচল করে (সময় লাগে ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট)। সিভিকের '''জলিমন্ট সেন্টারে''' কোচের প্রধান টার্মিনাল অবস্থিত।
== ভ্রমণ ব্যবস্থা (Get around) ==
=== গণপরিবহন ===
ক্যানবেরার গণপরিবহন ব্যবস্থা ট্রেন (লাইট রেল) এবং বাসের ওপর নির্ভরশীল।
* '''লাইট রেল (R1):''' গুঙ্গাহলিন থেকে সিভিক পর্যন্ত চলে।
* '''বাস:''' 'র্যাপিড' বাস রুটগুলো (R2-R10) প্রধান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
* '''ভাড়া:''' MyWay+ স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ভাড়া প্রদান করা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
=== ই-স্কুটার ===
শহরের সিভিক, অ্যাক্টন এবং প্রধান শহরতলীগুলোতে অ্যাপ-ভিত্তিক ই-স্কুটার পাওয়া যায়। এগুলোshared paths-এ সর্বোচ্চ ২৫ কিমি/ঘণ্টা বেগে চালানো যায়।
== দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম (See & Do) ==
* '''পার্লামেন্ট হাউস:''' ক্যাপিটাল হিল-এ অবস্থিত এই ভবনটি অস্ট্রেলিয়ার শাসনের কেন্দ্র। এখানে পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে গাইডেড ট্যুর রয়েছে।
* '''কুয়েস্টাকন (Questacon):''' জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, যা শিশু ও বিজ্ঞানমনস্কদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
* '''নামাডগি ন্যাশনাল পার্ক:''' এটি ক্যানবেরার বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, যা হাইকিং এবং ক্যাম্পিংয়ের জন্য আদর্শ।
* '''লেক বার্লি গ্রিফিন:''' শহরের মাঝখানে অবস্থিত এই লেকের চারপাশে হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর জন্য চমৎকার পথ রয়েছে।
আপনি কি পার্লামেন্ট হাউসের পাবলিক গ্যালারির বর্তমান সূচি বা 'ফ্লোরিয়েড' উৎসবের তারিখগুলো জানতে চান?
{{এর অংশ|অস্ট্রেলিয়া}}
fadiirnh4wqs4avpdmnkwr1rvbd8han
ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad
2
8989
76713
2026-06-01T20:26:49Z
J ansari
693
J ansari [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad]] কে [[ব্যবহারকারী:মুকতাদির]] শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন: ব্যবহারকারীকে "[[Special:CentralAuth/Md. Muqtadir Fuad|Md. Muqtadir Fuad]]" থেকে "[[Special:CentralAuth/মুকতাদির|মুকতাদির]]"-এ নামান্তরের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাতা স্থানান্তরিত
76713
wikitext
text/x-wiki
#পুনর্নির্দেশ [[ব্যবহারকারী:মুকতাদির]]
fi4f36tpilmexj69nekxs3zf7ysrbpa