উইকিভ্রমণ bnwikivoyage https://bn.wikivoyage.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.47.0-wmf.17 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিভ্রমণ উইকিভ্রমণ আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ ইভেন্ট ইভেন্ট আলোচনা উইকিভ্রমণ:নিবন্ধ প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী 4 9036 77289 77139 2026-08-29T12:09:05Z Moheen 33 নিবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আমার নাম যোগ করেছি 77289 wikitext text/x-wiki {{উইকিভ্রমণ_নিবন্ধ_প্রতিযোগিতা_২০২৬|সক্রিয়=2}}<noinclude><big><center>[[উইকিভ্রমণ:নিবন্ধ প্রতিযোগিতা ২০২৬|মূল পাতায় ফেরত যান।]]</center></big></noinclude></br> <span class="participat---> {{div col}} * {{ব্যবহারকারী|Zzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|Moheen}} l75eatbu2lpy42nvklqhnkjcfczq7zw ব্যবহারকারী:Borhan/শত্রুঞ্জয় যাত্রা 2 9047 77287 77283 2026-08-29T12:03:31Z Borhan 2605 /* প্রথম ধাপ */ 77287 wikitext text/x-wiki {{পাতার ব্যানার|Shetrunjay Yatra page banner.jpg|Itinerary}} '''শত্রুঞ্জয় যাত্রা''' হলো ভারতের [[গুজরাত|গুজরাতের]] [[সৌরাষ্ট্র]] অঞ্চলের [[পালিতানা]] শহরের একটি তীর্থযাত্রার পথ। পালিতানা "মন্দিরের শহর" নামে পরিচিত। এটি জৈনধর্মের শ্বেতাম্বর সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। শহরের কাছে শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের চূড়ায় ৮০০-এও বেশি বড় মন্দির এবং ছোট উপাসনালয় রয়েছে। ==জানুন== এখানকার বেশিরভাগ মন্দির একাদশ শতাব্দী বা তার পরে নির্মিত হয়। মন্দিরগুলো পাহাড়ের চূড়ার বিভিন্ন শৈলশিরা বরাবর মূলত নয়টি গুচ্ছে ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স, তবে বেশিরভাগই আকারে ছোট। এই গুচ্ছগুলো "টুঙ্ক" নামে পরিচিত। প্রধান মন্দিরটি জৈনধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভনাথ বা আদিনাথকে উৎসর্গ করা হয়। এই মন্দিরগুলো মার্বেল এবং পাথর দিয়ে তৈরি। প্রতি বছর চার লাখেরও বেশি জৈন তীর্থযাত্রী এই মন্দিরগুলো দর্শন করেন। এই পাহাড়ের পবিত্রতার কারণে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ জৈন তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তি বা মোক্ষ লাভের আশায় পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণের আকাঙ্ক্ষা করেন। পাহাড়ে ওঠার সিঁড়িগুলো পালিতানা শহরের দক্ষিণ অংশ থেকে শুরু হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি মঠ, বিশ্রামাগার, দোকান এবং ছোট মন্দির রয়েছে। পাথর ও কংক্রিটের তৈরি সিঁড়িগুলো পাহাড়ের গা বেয়ে এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে গেছে। এগুলো দুর্গ পার হয়ে মন্দিরসহ চূড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই আরোহণ পথের পাশে ছোট ছোট মন্দির এবং তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জন্য খাবার ও পানীয় জলসহ বিশ্রামের জায়গা রয়েছে। সেখানে তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করার আগে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। দুর্গের কাছাকাছি গিয়ে সিঁড়িগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। পূর্ব দিকটি সাধারণত মন্দিরগুলোর ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির কাঁটার অভিমুখে প্রবেশের পথ, আর অন্য পথটি প্রস্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই যাত্রায় প্রায় ৩,৭৪৫টি সিঁড়ি বিশিষ্ট ২.৫ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। এই পথটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। কিছু বয়স্ক তীর্থযাত্রী পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চূড়ার মন্দিরগুলোতে যাওয়ার জন্য পালকি ভাড়া করেন, যা মানুষ বহন করে নিয়ে যায়। ==প্রস্তুতি== জৈনধর্মের কঠোর নিয়মের সাথে মিল রেখে তীর্থযাত্রীদের জন্য আচরণবিধি বেশ কঠোর। যাত্রাপথে কোনো খাবার খাওয়া বা সাথে বহন করা যাবে না। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই নিচে নামা শুরু করতে হবে, কারণ রাতে এই পবিত্র পাহাড়ের চূড়ায় কেউ থাকতে পারেন না। ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে, উপাসনালয়গুলোতে যাওয়া-আসার পুরো পথজুড়ে উপবাস থেকে এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করতে হয়। তীর্থযাত্রায় পাহাড়ে ওঠার সময় নীরবতা পালন এবং প্রার্থনা করা আবশ্যক। পাহাড়ের পাদদেশে আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্টের মিলনায়তনে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই উপবাস চলতে থাকে। বর্ষাকালে (স্থানীয় জৈন বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ আষাঢ় থেকে ১৫ কার্তিক পর্যন্ত) তীর্থযাত্রীরা এই মন্দিরগুলোতে যান না। * {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্ট অফিস| অন্য = আনন্দজি কল্যাণজি নি পেধি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505200| দ্রাঘিমাংশ = 71.814587| শেষ_সম্পাদনা = 2023-07-09| বিবরণ = | চিত্র = | উইকিপিডিয়া = আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্ট| উইকিউপাত্ত = Q4751369| inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} ==কীভাবে যাবেন== {{#invoke:মানচিত্র | tag | type=mapframe | zoom=auto | align = right | show= {{মানচিত্রের স্তর}} | latitude= | longitude= | text = {{#switch: | 17 | 16 | 15 | 14 |13 | 12 | 11 | 10 | 9 | 8 | 7 | 6 | 5 | 4 | 3 | 2 | 1 | 0 = <!-- https://phabricator.wikimedia.org/T383004 <div class="magnify" title="মানচিত্র বর্ধিত করুন">{{মানচিত্র সংযোগ|{{{1|0}}}|{{{2|0}}}|zoom={{#expr: {{{zoom|{{{জুম|}}}}}} + 1 }} |class=no-icon}}</div> --> }}{{এর|{{SUBPAGENAME}}}} মানচিত্র<!-- -->{{#ifexist: Template:GPX/{{PAGENAME}} | <small id="GPX-track"> [[Template:GPX/{{PAGENAME}}|(Edit GPX)]]</small>{{জিপিএক্স নির্দেশক}} }}<!-- -->{{#if: | <div class="wv-staticMap">[[File:|{{#expr: 650 - 2 }}px|border|{{এর|{{SUBPAGENAME}}}} মানচিত্র]]</div> }} }}{{#ifeq: {{NAMESPACE}} | {{ns:0}} | [[বিষয়শ্রেণী:মানচিত্রের কাঠামো আছে]]<!-- -->{{#if: | [[বিষয়শ্রেণী:স্থিরচিত্র সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#if: | [[বিষয়শ্রেণী:অ-পূর্বনির্ধারিত প্রান্তিককরণ সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#if: 350650 | [[বিষয়শ্রেণী:অ-পূর্বনির্ধারিত আকার সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#ifexist: Template:GPX/{{PAGENAME}} | [[বিষয়শ্রেণী:Maps with GPX indicator]] }} }} {{মানচিত্রের আকৃতি/আভ্যন্তর | wikidata=Q120465967 | wikicommons= | type=geoline | group=mask | fill=#FF0000 | opacity=0.5 | stroke=#000000 | stroke-width=3 | stroke-opacity=1 | title=Shetrunjay Yatra }} <br/> ===বাসে=== ==দর্শনীয় স্থান== ===প্রথম ধাপ=== * পাহাড়ের পাদদেশে বড় খোলা বারান্দাবিশিষ্ট উপাসনালয়টি {{দেখুন | নাম = জয় তলেটি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505134| দ্রাঘিমাংশ = 71.814387| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। তীর্থযাত্রীরা এখানে পাহাড়ের সম্মুখভাগের পূজা করেন। যেসকল তীর্থযাত্রী পাহাড়ে উঠতে পারেন না, তারা এখানে পূজা করেন এবং এটিকে মূল তীর্থযাত্রার সমতুল্য মনে করেন। ডানদিকের {{দেখুন | নাম = কাভাদ যক্ষ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505234| দ্রাঘিমাংশ = 71.814309| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} পাহাড়ের অধিষ্ঠাত্রী যক্ষ দেবতাকে উৎসর্গ করা হয়েছে। এখানে গৌতমস্বামী, আদিনাথ এবং অজিতনাথকে উৎসর্গীকৃত আরও কয়েকটি উপাসনালয় রয়েছে। * পাহাড়ে ওঠার পথটি ডানদিক থেকে শুরু হয়। এখানে বেশ কয়েকটি বড় মন্দির রয়েছে। বামদিকে {{দেখুন | নাম = গোবিন্দজি খোনানু মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504907| দ্রাঘিমাংশ = 71.814310| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে একটি বড় মন্দির, যা {{দেখুন | নাম = বাবু নু দেরাসর| অন্য = ঘন বাসাহী| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504232| দ্রাঘিমাংশ = 71.814246| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। এটি ১৯৪৯ বঙ্গাব্দে উৎসর্গ করা হয়। মন্দিরের পাশের একটি প্রাঙ্গণে বিশাল {{দেখুন | নাম = কৌসাগ্গিয়া আদিনাথের মূর্তি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.5046151661404| দ্রাঘিমাংশ = 71.81441376739131| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে {{দেখুন | নাম = জল মন্দির| অন্য = পাভাপুরি মন্দির| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504381| দ্রাঘিমাংশ = 71.814725| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} যা বিহারের জল মন্দিরের আদলে তৈরি। মন্দিরটি একটি জলাশয় দ্বারা বেষ্টিত। * কয়েক ধাপ সিঁড়ি ওঠার পর একটি বড় খোলা প্রাঙ্গণ পাওয়া যায়। সেখানে বহুতলবিশিষ্ট একটি মন্দির রয়েছে, যা {{দেখুন | নাম = ১০৮ পার্শ্বনাথ সমবসরণ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504585| দ্রাঘিমাংশ = 71.812870| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। এই আধুনিক মন্দিরটি পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয়েছে। এর নিচের তলায় একটি ছোট জাদুঘর রয়েছে। গেটের কাছে একটি ছোট পায়ে চলা পথ রয়েছে, যা {{দেখুন | নাম = সরস্বতী উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504882| দ্রাঘিমাংশ = 71.813475| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামক উপাসনালয়ের দিকে নিয়ে যায়। গুহার মতো দেখতে এই উপাসনালয়টি বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। * এখান থেকে পথটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.503241847881824| দ্রাঘিমাংশ = 71.81344603649717| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পর্যন্ত গেছে। আরও কয়েক ধাপ ওঠার পর সবচেয়ে নতুন মন্দির {{দেখুন | নাম = কীর্তি স্তম্ভ| অন্য = চতুর্মুখ ঋষভ জিন প্রাসাদ| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502249| দ্রাঘিমাংশ = 71.813824| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। চারমুখী টাওয়ারের মতো দেখতে এই মন্দিরটি আদিনাথকে উৎসর্গ করা হয়েছে। কয়েক ধাপ পরেই {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502119| দ্রাঘিমাংশ = 71.813242| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এর কাছে ১৬৮৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত {{দেখুন | নাম = ভরত চক্রবর্তীর পদচিহ্ন| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502167| দ্রাঘিমাংশ = 71.813288| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। * আরও ওপরে উঠলে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ইচ্ছা কুণ্ডের কাছে বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.50065| দ্রাঘিমাংশ = 71.81059| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ পৌঁছানো যায়। এই কুণ্ড বা কূপটি ১৬৮১ বঙ্গাব্দে নির্মিত হয়। এর কাছেই {{দেখুন | নাম = ঋষভদেব, নেমিনাথ ও তার গণধর বরদত্তের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.500613| দ্রাঘিমাংশ = 71.810643| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.500038| দ্রাঘিমাংশ = 71.810305| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} এবং {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = লিলি পরব নামের বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.497859| দ্রাঘিমাংশ = 71.809445| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} অতিক্রম করার পর একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = আদিনাথের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.496628| দ্রাঘিমাংশ = 71.808739| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} দেখা যায়। পরবর্তী বিরতিস্থল হলো {{দেখুন | নাম = কুমার কুণ্ডের বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.496579| দ্রাঘিমাংশ = 71.808762| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} * কিছুটা খাড়া পথ বেয়ে ওঠার পর {{দেখুন | নাম = হিংলাজনো হাডো| অন্য = হিংলাজ মাতা উপাসনালয়| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494863| দ্রাঘিমাংশ = 71.807577| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। এখানে একটি উপাসনালয়ে দেবী অম্বিকার রূপ দেবী হিংলাজের পূজা করা হয়। এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে যাওয়া পথের কয়েক ধাপ অতিক্রম করার পর ১৮৩৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত {{দেখুন | নাম = কালিকুণ্ড পার্শ্বনাথের পদচিহ্নের উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494819| দ্রাঘিমাংশ = 71.807666| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এর পাশেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494843| দ্রাঘিমাংশ = 71.807735| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। এখান থেকে পুরোনো এবং নতুন পথ দুটি আলাদা হয়ে গেছে। পুরোনো পথে মহাবীরের পদচিহ্নসহ একটি সমবসরণ উপাসনালয় রয়েছে। * এরপর রয়েছে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ছালাকুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492892| দ্রাঘিমাংশ = 71.805731| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, যা ১৮৭০ বঙ্গাব্দে নির্মিত একটি কুণ্ড বা কূপ। কাছেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.493068| দ্রাঘিমাংশ = 71.805734| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। এর কাছেই রয়েছে {{দেখুন | নাম = শাশ্বত জিনের উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492962| দ্রাঘিমাংশ = 71.805687| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই উপাসনালয়টিতে চারজন তীর্থঙ্করের পদচিহ্ন রয়েছে, যাদের নাম জৈন সৃষ্টিতত্ত্বের প্রতিটি অর্ধ-চক্রে আবির্ভূত হয়। তারা হলেন ঋষভ, চন্দ্রানন, বারীষেণ এবং বর্ধমান। * {{দেখুন | নাম = শ্রী পূজ্য টুঙ্ক| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.493127| দ্রাঘিমাংশ = 71.804556| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই মন্দির গুচ্ছটি [[w:তপাগচ্ছ|তপাগচ্ছের]] সন্ন্যাসী দেবেন্দ্রসূরির অধীনে নির্মিত হয়। এখানে পদচিহ্নসহ ১৪টি ছোট উপাসনালয় এবং পদ্মাবতীর মূর্তিবিশিষ্ট একটি বড় কেন্দ্রীয় উপাসনালয় রয়েছে। উপাসনালয়টিতে হনুমান এবং মণিভদ্রের মূর্তিও রয়েছে। চার কোণে চারটি উপাসনালয় বিশিষ্ট একটি বড় কুণ্ডে আদিনাথ, পার্শ্বনাথ, গৌতমস্বামী এবং ধর্মসূরির পদচিহ্ন রয়েছে। এখানে কিছু গাছপালা এবং উপাসনালয়ও রয়েছে। এখান থেকে শহর এবং পাহাড়ের বাকি অংশ দেখা যায়। এই টুঙ্কের গেটের কাছে একটি {{দেখুন | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492762| দ্রাঘিমাংশ = 71.804476| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। * সামনে এগিয়ে গেলে পথটি বেশ সহজ এবং এতে অল্প কয়েকটি সিঁড়ি রয়েছে। একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = চারটি উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489820| দ্রাঘিমাংশ = 71.801204| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এতে দ্রাবিড়, বারিখিল্ল, ঐমুত্ত এবং নারদ মুনির চারটি কালো মূর্তি রয়েছে, যারা শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের কাহিনীর সাথে জড়িত। জৈন বর্ষপঞ্জির ১৫ কার্তিকে তাদের [[w:মোক্ষ (জৈনবাদ)|মোক্ষ]] বা মুক্তি স্মরণে এখানে বড় ধাতব বাদ্যযন্ত্রের থালা বাজানো হয়। * একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489540854119475| দ্রাঘিমাংশ = 71.80090595923745| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পার হওয়ার পর, পথচারীরা {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হীরাবাই কুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489262| দ্রাঘিমাংশ = 71.800877| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} অতিক্রম করেন। এর পরেরটি হলো {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বাভাল কুণ্ড| অন্য = ভুখানদাস কুণ্ড| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486842| দ্রাঘিমাংশ = 71.79836| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}। এখানে একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = পাঁচটি উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48695120512268| দ্রাঘিমাংশ = 71.79834941298712| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এই উপাসনালয়গুলো রাম, ভরত, থাবচ্চ, শুকপরিব্রাজক এবং শৈলকাচার্যকে উৎসর্গ করা হয়েছে; যারা সকলেই শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি। কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলে সুকোশল মুনি নামক এক সন্ন্যাসীর পদচিহ্নসহ {{দেখুন | নাম = সুকোশল মুনির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486802261565828| দ্রাঘিমাংশ = 71.79830242053583| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} দেখা যায়। এর পরেরটি হলো আদিনাথের নাতি নমি ও বিনমির উদ্দেশ্যে নির্মিত {{দেখুন | নাম = নমি ও বিনমির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486576796258568| দ্রাঘিমাংশ = 71.79811738775891| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} * এই পথের পরবর্তী মোড়টি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হনুমানধারা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485956720744646| দ্রাঘিমাংশ = 71.79786441446865| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} নামে পরিচিত। এখান থেকে দুটি পথ আলাদা হয়ে গেছে; ডানদিকের পথটি নব টুঙ্কের দিকে এবং বামদিকের পথটি আদিনাথ টুঙ্কের দিকে গেছে। বামদিকে {{দেখুন | নাম = আদিনাথের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485973567496323| দ্রাঘিমাংশ = 71.79784429790278| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং ডানদিকে একটি বড় হনুমান মূর্তিসহ {{দেখুন | নাম = বড় হনুমান মূর্তির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485960464467407| দ্রাঘিমাংশ = 71.79789123655648| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এখানে একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485973567496323| দ্রাঘিমাংশ = 71.79787514330378| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। * বামদিকের পথ ধরে এগিয়ে গেলে এটি একটি সোজা হাঁটা পথ। ডানদিকে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা {{দেখুন | নাম = জালি মায়ালি উভায়ালির মূর্তি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.484964598723565| দ্রাঘিমাংশ = 71.79768271885165| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। পাহাড়ে খোদাই করা কয়েকটি সিঁড়ি বেয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। আরও সামনে এগিয়ে গেলে শত্রুঞ্জয় মন্দিরের দুর্গে পৌঁছানো যায়। ò ===দ্বিতীয় ধাপ=== * দুর্গের প্রথম তোরণ, যা {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = রামপোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483326195083468| দ্রাঘিমাংশ = 71.79582137691061| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} নামে পরিচিত, সেটি দিয়ে প্রবেশ করলে একটি বড় খোলা মাঠ দেখা যায়। এখানে তীর্থযাত্রী এবং পালকি বাহকরা বিশ্রাম নিতে পারেন। ডানদিকে {{দেখুন | নাম = পঞ্চ শিখরী বিমলনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483354| দ্রাঘিমাংশ = 71.795485| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং {{দেখুন | নাম = সুমতিনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483219202247334| দ্রাঘিমাংশ = 71.7955070810122| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অতিক্রম করার পর, {{দেখুন | নাম = কুন্তাসার জলাশয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482843191935352| দ্রাঘিমাংশ = 71.7954339493157| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামক একটি বড় জলাশয় দেখা যায়। এর কাছেই দেবী কুন্তাসারকে উৎসর্গীকৃত একটি ছোট উপাসনালয় রয়েছে। * সামনে এগিয়ে গিয়ে কয়েকটি সিঁড়ি আরোহণ করলে দ্বিতীয় তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = সাগল পোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482562913675796| দ্রাঘিমাংশ = 71.79546493731323| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ প্রবেশ করা যায়, যেখান থেকে প্রথম মন্দির কমপ্লেক্সটি শুরু হয়েছে। এখানে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ব্যবস্থাপনা কার্যালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482358760033755| দ্রাঘিমাংশ = 71.79546369778511| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, তীর্থযাত্রী নিবাস এবং কর্মীদের থাকার ঘর অবস্থিত। এর পাশেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48245103290112| দ্রাঘিমাংশ = 71.79559012883863| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} এবং নাংঘন কুণ্ড নামক জলাশয় রয়েছে। * এরপর রয়েছে তৃতীয় তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বাঘান পোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482342612275335| দ্রাঘিমাংশ = 71.79523314703093| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, যার দুই পাশে একজন প্রহরী এবং একটি বাঘের মূর্তি রয়েছে। তোরণের দেয়ালে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মন্ত্রী বস্তুপালের একটি শিলালিপি রয়েছে। তিনি এই তোরণের দুই পাশে নেমিনাথ এবং পার্শ্বনাথের মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে সেই মন্দিরগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেগুলোর স্থলে ডানদিকে বর্তমানের {{দেখুন | নাম = কেশবজি নায়ক মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482475254515748| দ্রাঘিমাংশ = 71.79514514110303| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং বামদিকে শেঠ হীরাচাঁদ রায়চাঁদের {{দেখুন | নাম = শান্তিনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48214191856655| দ্রাঘিমাংশ = 71.79526785359268| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নির্মিত হয়। কেন্দ্রীয় পথের দুই পাশেই সারিবদ্ধ মন্দির দেখা যায়। শান্তিনাথ মন্দিরটি সকল তীর্থযাত্রী দর্শন করেন এবং এটি এই পাহাড়ের অন্যতম প্রধান মন্দির হিসেবে বিবেচিত হয়। * শান্তিনাথ মন্দিরের ঠিক বাম পাশে রয়েছে {{দেখুন | নাম = নেমিনাথ চৌরি মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482071560360183| দ্রাঘিমাংশ = 71.79512654826975| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}। এই মন্দিরে পাহাড়ের সমস্ত মন্দিরের মধ্যে অন্যতম সেরা পাথরের খোদাইকর্ম রয়েছে। এর পরের জনপ্রিয় মন্দিরটি হলো {{দেখুন | নাম = মোক্ষ বাড়ি| অন্য = পাপ-পুণ্যানি বাড়ি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482146618941194| দ্রাঘিমাংশ = 71.7949460444073| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}। এখানে একটি উটের মূর্তি রয়েছে। তীর্থযাত্রীরা তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে এই উটের পায়ের নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। বামদিকের বেশ কয়েকটি মন্দির অতিক্রম করার পর, সবশেষে প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দীর {{দেখুন | নাম = কুমারপাল মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48167709241794| দ্রাঘিমাংশ = 71.79438283616372| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অবস্থিত। * একই পথে ডানদিকে কেশবজি নায়ক মন্দিরের পর {{দেখুন | নাম = সমবসরণ| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482347| দ্রাঘিমাংশ = 71.795007| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং {{দেখুন | নাম = শামলা আমিজারা পার্শ্বনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482357| দ্রাঘিমাংশ = 71.794860| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অতিক্রম করে {{দেখুন | নাম = সোথাম্ভা মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482192| দ্রাঘিমাংশ = 71.794412| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। বিক্রম সংবৎ ১৬৮৬ সালে নির্মিত এই মন্দিরে চমৎকার খোদাই করা ১০০-রও বেশি স্তম্ভ রয়েছে। এটি বাঘান পোলের মন্দিরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু। কাছেই একটি নিম গাছ রয়েছে, যার নিচে বীর বিক্রমশির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি {{দেখুন | নাম = স্মারক পাথর| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481985172402055| দ্রাঘিমাংশ = 71.79437806008161| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। তিনি একটি সিংহের সাথে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছিলেন, যে সিংহটি এই মন্দির প্রাঙ্গণকে তীর্থযাত্রীদের জন্য দুর্গম করে তুলেছিল। সামনে এগিয়ে গেলে পরবর্তী তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হাতিপোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481781757771017| দ্রাঘিমাংশ = 71.79426406620834| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ পৌঁছানো যায়, যার দুই পাশে দুটি বড় হাতির মূর্তি রয়েছে। তোরণের বাম দিকে কুমারপাল মন্দিরের পেছন দিয়ে একটি সরু গলি চলে গেছে। এটি আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন {{দেখুন | নাম = সূরজ কুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481168| দ্রাঘিমাংশ = 71.793986| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} সহ চারটি জলাশয়ের দিকে নিয়ে যায়। এটি একটি লোককাহিনীর সাথে জড়িত মোরগের খোদাই করা একটি ছোট কুলুঙ্গি দ্বারা চিহ্নিত। অন্য তিনটি জলাশয় হলো ব্রহ্মকুণ্ড, ভীমকুণ্ড এবং ঈশ্বরকুণ্ড। হাতিপোল তোরণটি একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = প্রাঙ্গণ| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481809531299206| দ্রাঘিমাংশ = 71.79414585358181| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ গিয়ে খোলে। এর ডান এবং বাম দিকে তোরণ রয়েছে, যা যথাক্রমে পুরুষ ও মহিলা তীর্থযাত্রীদের স্নানের ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যায়। এখানে পূজা বা উপাসনায় অংশ নেওয়ার আগে তারা স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করেন। প্রধান মন্দিরে পূজার লাইনগুলো রঙ-সংকেতযুক্ত (কালার-কোডেড) টোকেন দ্বারা পরিচালিত হয়, যা এখানকার একটি অফিস থেকে বিতরণ করা হয়। ===তৃতীয় ধাপ=== প্রধান তোরণটি রতনপোলের দিকে নিয়ে যায়। এখানে কেন্দ্রীয় ও প্রধান মন্দিরটি অবস্থিত, যা আরও অনেক মন্দির এবং উপাসনালয় দ্বারা পরিবেষ্টিত। তীর্থযাত্রীরা এখানে প্রধান দেবতা আদিনাথকে শ্রদ্ধা জানান এবং পূজা করেন। ==নিরাপত্তা== {{রূপরেখা ভ্রমণপথ}} {{সম্পর্কিত|পালিতানা}} {{ভ্রমণপথের অংশ|দক্ষিণ এশিয়া ভ্রমণপথ}} k8sa19gdylg4818h6pi3hnp7lifbkqh 77288 77287 2026-08-29T12:07:35Z Borhan 2605 /* প্রথম ধাপ */ 77288 wikitext text/x-wiki {{পাতার ব্যানার|Shetrunjay Yatra page banner.jpg|Itinerary}} '''শত্রুঞ্জয় যাত্রা''' হলো ভারতের [[গুজরাত|গুজরাতের]] [[সৌরাষ্ট্র]] অঞ্চলের [[পালিতানা]] শহরের একটি তীর্থযাত্রার পথ। পালিতানা "মন্দিরের শহর" নামে পরিচিত। এটি জৈনধর্মের শ্বেতাম্বর সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। শহরের কাছে শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের চূড়ায় ৮০০-এও বেশি বড় মন্দির এবং ছোট উপাসনালয় রয়েছে। ==জানুন== এখানকার বেশিরভাগ মন্দির একাদশ শতাব্দী বা তার পরে নির্মিত হয়। মন্দিরগুলো পাহাড়ের চূড়ার বিভিন্ন শৈলশিরা বরাবর মূলত নয়টি গুচ্ছে ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স, তবে বেশিরভাগই আকারে ছোট। এই গুচ্ছগুলো "টুঙ্ক" নামে পরিচিত। প্রধান মন্দিরটি জৈনধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভনাথ বা আদিনাথকে উৎসর্গ করা হয়। এই মন্দিরগুলো মার্বেল এবং পাথর দিয়ে তৈরি। প্রতি বছর চার লাখেরও বেশি জৈন তীর্থযাত্রী এই মন্দিরগুলো দর্শন করেন। এই পাহাড়ের পবিত্রতার কারণে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ জৈন তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তি বা মোক্ষ লাভের আশায় পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণের আকাঙ্ক্ষা করেন। পাহাড়ে ওঠার সিঁড়িগুলো পালিতানা শহরের দক্ষিণ অংশ থেকে শুরু হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি মঠ, বিশ্রামাগার, দোকান এবং ছোট মন্দির রয়েছে। পাথর ও কংক্রিটের তৈরি সিঁড়িগুলো পাহাড়ের গা বেয়ে এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে গেছে। এগুলো দুর্গ পার হয়ে মন্দিরসহ চূড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই আরোহণ পথের পাশে ছোট ছোট মন্দির এবং তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জন্য খাবার ও পানীয় জলসহ বিশ্রামের জায়গা রয়েছে। সেখানে তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করার আগে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। দুর্গের কাছাকাছি গিয়ে সিঁড়িগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। পূর্ব দিকটি সাধারণত মন্দিরগুলোর ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির কাঁটার অভিমুখে প্রবেশের পথ, আর অন্য পথটি প্রস্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই যাত্রায় প্রায় ৩,৭৪৫টি সিঁড়ি বিশিষ্ট ২.৫ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। এই পথটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। কিছু বয়স্ক তীর্থযাত্রী পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চূড়ার মন্দিরগুলোতে যাওয়ার জন্য পালকি ভাড়া করেন, যা মানুষ বহন করে নিয়ে যায়। ==প্রস্তুতি== জৈনধর্মের কঠোর নিয়মের সাথে মিল রেখে তীর্থযাত্রীদের জন্য আচরণবিধি বেশ কঠোর। যাত্রাপথে কোনো খাবার খাওয়া বা সাথে বহন করা যাবে না। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই নিচে নামা শুরু করতে হবে, কারণ রাতে এই পবিত্র পাহাড়ের চূড়ায় কেউ থাকতে পারেন না। ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে, উপাসনালয়গুলোতে যাওয়া-আসার পুরো পথজুড়ে উপবাস থেকে এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করতে হয়। তীর্থযাত্রায় পাহাড়ে ওঠার সময় নীরবতা পালন এবং প্রার্থনা করা আবশ্যক। পাহাড়ের পাদদেশে আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্টের মিলনায়তনে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই উপবাস চলতে থাকে। বর্ষাকালে (স্থানীয় জৈন বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ আষাঢ় থেকে ১৫ কার্তিক পর্যন্ত) তীর্থযাত্রীরা এই মন্দিরগুলোতে যান না। * {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্ট অফিস| অন্য = আনন্দজি কল্যাণজি নি পেধি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505200| দ্রাঘিমাংশ = 71.814587| শেষ_সম্পাদনা = 2023-07-09| বিবরণ = | চিত্র = | উইকিপিডিয়া = আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্ট| উইকিউপাত্ত = Q4751369| inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} ==কীভাবে যাবেন== {{#invoke:মানচিত্র | tag | type=mapframe | zoom=auto | align = right | show= {{মানচিত্রের স্তর}} | latitude= | longitude= | text = {{#switch: | 17 | 16 | 15 | 14 |13 | 12 | 11 | 10 | 9 | 8 | 7 | 6 | 5 | 4 | 3 | 2 | 1 | 0 = <!-- https://phabricator.wikimedia.org/T383004 <div class="magnify" title="মানচিত্র বর্ধিত করুন">{{মানচিত্র সংযোগ|{{{1|0}}}|{{{2|0}}}|zoom={{#expr: {{{zoom|{{{জুম|}}}}}} + 1 }} |class=no-icon}}</div> --> }}{{এর|{{SUBPAGENAME}}}} মানচিত্র<!-- -->{{#ifexist: Template:GPX/{{PAGENAME}} | <small id="GPX-track"> [[Template:GPX/{{PAGENAME}}|(Edit GPX)]]</small>{{জিপিএক্স নির্দেশক}} }}<!-- -->{{#if: | <div class="wv-staticMap">[[File:|{{#expr: 650 - 2 }}px|border|{{এর|{{SUBPAGENAME}}}} মানচিত্র]]</div> }} }}{{#ifeq: {{NAMESPACE}} | {{ns:0}} | [[বিষয়শ্রেণী:মানচিত্রের কাঠামো আছে]]<!-- -->{{#if: | [[বিষয়শ্রেণী:স্থিরচিত্র সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#if: | [[বিষয়শ্রেণী:অ-পূর্বনির্ধারিত প্রান্তিককরণ সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#if: 350650 | [[বিষয়শ্রেণী:অ-পূর্বনির্ধারিত আকার সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#ifexist: Template:GPX/{{PAGENAME}} | [[বিষয়শ্রেণী:Maps with GPX indicator]] }} }} {{মানচিত্রের আকৃতি/আভ্যন্তর | wikidata=Q120465967 | wikicommons= | type=geoline | group=mask | fill=#FF0000 | opacity=0.5 | stroke=#000000 | stroke-width=3 | stroke-opacity=1 | title=Shetrunjay Yatra }} <br/> ===বাসে=== ==দর্শনীয় স্থান== ===প্রথম ধাপ=== * পাহাড়ের পাদদেশে বড় খোলা বারান্দাবিশিষ্ট উপাসনালয়টি {{দেখুন | নাম = জয় তলেটি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505134| দ্রাঘিমাংশ = 71.814387| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। তীর্থযাত্রীরা এখানে পাহাড়ের সম্মুখভাগের পূজা করেন। যেসকল তীর্থযাত্রী পাহাড়ে উঠতে পারেন না, তারা এখানে পূজা করেন এবং এটিকে মূল তীর্থযাত্রার সমতুল্য মনে করেন। ডানদিকের {{দেখুন | নাম = কাভাদ যক্ষ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505234| দ্রাঘিমাংশ = 71.814309| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} পাহাড়ের অধিষ্ঠাত্রী যক্ষ দেবতাকে উৎসর্গ করা হয়েছে। এখানে গৌতমস্বামী, আদিনাথ এবং অজিতনাথকে উৎসর্গীকৃত আরও কয়েকটি উপাসনালয় রয়েছে। * পাহাড়ে ওঠার পথটি ডানদিক থেকে শুরু হয়। এখানে বেশ কয়েকটি বড় মন্দির রয়েছে। বামদিকে {{দেখুন | নাম = গোবিন্দজি খোনানু মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504907| দ্রাঘিমাংশ = 71.814310| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে একটি বড় মন্দির, যা {{দেখুন | নাম = বাবু নু দেরাসর| অন্য = ঘন বাসাহী| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504232| দ্রাঘিমাংশ = 71.814246| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। এটি ১৯৪৯ বঙ্গাব্দে উৎসর্গ করা হয়। মন্দিরের পাশের একটি প্রাঙ্গণে বিশাল {{দেখুন | নাম = কৌসাগ্গিয়া আদিনাথের মূর্তি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.5046151661404| দ্রাঘিমাংশ = 71.81441376739131| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে {{দেখুন | নাম = জল মন্দির| অন্য = পাভাপুরি মন্দির| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504381| দ্রাঘিমাংশ = 71.814725| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} যা বিহারের জল মন্দিরের আদলে তৈরি। মন্দিরটি একটি জলাশয় দ্বারা বেষ্টিত। * কয়েক ধাপ সিঁড়ি ওঠার পর একটি বড় খোলা প্রাঙ্গণ পাওয়া যায়। সেখানে বহুতলবিশিষ্ট একটি মন্দির রয়েছে, যা {{দেখুন | নাম = ১০৮ পার্শ্বনাথ সমবসরণ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504585| দ্রাঘিমাংশ = 71.812870| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। এই আধুনিক মন্দিরটি পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয়েছে। এর নিচের তলায় একটি ছোট জাদুঘর রয়েছে। গেটের কাছে একটি ছোট পায়ে চলা পথ রয়েছে, যা {{দেখুন | নাম = সরস্বতী উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504882| দ্রাঘিমাংশ = 71.813475| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামক উপাসনালয়ের দিকে নিয়ে যায়। গুহার মতো দেখতে এই উপাসনালয়টি বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। * এখান থেকে পথটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.503241847881824| দ্রাঘিমাংশ = 71.81344603649717| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পর্যন্ত গেছে। আরও কয়েক ধাপ ওঠার পর সবচেয়ে নতুন মন্দির {{দেখুন | নাম = কীর্তি স্তম্ভ| অন্য = চতুর্মুখ ঋষভ জিন প্রাসাদ| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502249| দ্রাঘিমাংশ = 71.813824| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। চারমুখী টাওয়ারের মতো দেখতে এই মন্দিরটি আদিনাথকে উৎসর্গ করা হয়েছে। কয়েক ধাপ পরেই {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502119| দ্রাঘিমাংশ = 71.813242| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এর কাছে ১৬৮৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত {{দেখুন | নাম = ভরত চক্রবর্তীর পদচিহ্ন| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502167| দ্রাঘিমাংশ = 71.813288| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। * আরও ওপরে উঠলে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ইচ্ছা কুণ্ডের কাছে বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.50065| দ্রাঘিমাংশ = 71.81059| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ পৌঁছানো যায়। এই কুণ্ড বা কূপটি ১৬৮১ বঙ্গাব্দে নির্মিত হয়। এর কাছেই {{দেখুন | নাম = ঋষভদেব, নেমিনাথ ও তার গণধর বরদত্তের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.500613| দ্রাঘিমাংশ = 71.810643| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.500038| দ্রাঘিমাংশ = 71.810305| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} এবং {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = লিলি পরব নামের বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.497859| দ্রাঘিমাংশ = 71.809445| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} অতিক্রম করার পর একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = আদিনাথের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.496628| দ্রাঘিমাংশ = 71.808739| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} দেখা যায়। পরবর্তী বিরতিস্থল হলো {{দেখুন | নাম = কুমার কুণ্ডের বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.496579| দ্রাঘিমাংশ = 71.808762| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} * কিছুটা খাড়া পথ বেয়ে ওঠার পর {{দেখুন | নাম = হিংলাজনো হাডো| অন্য = হিংলাজ মাতা উপাসনালয়| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494863| দ্রাঘিমাংশ = 71.807577| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। এখানে একটি উপাসনালয়ে দেবী অম্বিকার রূপ দেবী হিংলাজের পূজা করা হয়। এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে যাওয়া পথের কয়েক ধাপ অতিক্রম করার পর ১৮৩৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত {{দেখুন | নাম = কালিকুণ্ড পার্শ্বনাথের পদচিহ্নের উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494819| দ্রাঘিমাংশ = 71.807666| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এর পাশেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494843| দ্রাঘিমাংশ = 71.807735| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। এখান থেকে পুরোনো এবং নতুন পথ দুটি আলাদা হয়ে গেছে। পুরোনো পথে মহাবীরের পদচিহ্নসহ একটি সমবসরণ উপাসনালয় রয়েছে। * এরপর রয়েছে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ছালাকুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492892| দ্রাঘিমাংশ = 71.805731| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, যা ১৮৭০ বঙ্গাব্দে নির্মিত একটি কুণ্ড বা কূপ। কাছেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.493068| দ্রাঘিমাংশ = 71.805734| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। এর কাছেই রয়েছে {{দেখুন | নাম = শাশ্বত জিনের উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492962| দ্রাঘিমাংশ = 71.805687| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই উপাসনালয়টিতে চারজন তীর্থঙ্করের পদচিহ্ন রয়েছে, যাদের নাম জৈন সৃষ্টিতত্ত্বের প্রতিটি অর্ধ-চক্রে আবির্ভূত হয়। তারা হলেন ঋষভ, চন্দ্রানন, বারীষেণ এবং বর্ধমান। * {{দেখুন | নাম = শ্রী পূজ্য টুঙ্ক| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.493127| দ্রাঘিমাংশ = 71.804556| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই মন্দির গুচ্ছটি [[w:তপাগচ্ছ|তপাগচ্ছের]] সন্ন্যাসী দেবেন্দ্রসূরির অধীনে নির্মিত হয়। এখানে পদচিহ্নসহ ১৪টি ছোট উপাসনালয় এবং পদ্মাবতীর মূর্তিবিশিষ্ট একটি বড় কেন্দ্রীয় উপাসনালয় রয়েছে। উপাসনালয়টিতে হনুমান এবং মণিভদ্রের মূর্তিও রয়েছে। চার কোণে চারটি উপাসনালয় বিশিষ্ট একটি বড় কুণ্ডে আদিনাথ, পার্শ্বনাথ, গৌতমস্বামী এবং ধর্মসূরির পদচিহ্ন রয়েছে। এখানে কিছু গাছপালা এবং উপাসনালয়ও রয়েছে। এখান থেকে শহর এবং পাহাড়ের বাকি অংশ দেখা যায়। এই টুঙ্কের গেটের কাছে একটি {{দেখুন | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492762| দ্রাঘিমাংশ = 71.804476| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। * সামনে এগিয়ে গেলে পথটি বেশ সহজ এবং এতে অল্প কয়েকটি সিঁড়ি রয়েছে। একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = চারটি উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489820| দ্রাঘিমাংশ = 71.801204| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এতে দ্রাবিড়, বারিখিল্ল, ঐমুত্ত এবং নারদ মুনির চারটি কালো মূর্তি রয়েছে, যারা শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের কাহিনীর সাথে জড়িত। জৈন বর্ষপঞ্জির ১৫ কার্তিকে তাদের [[w:মোক্ষ (জৈনবাদ)|মোক্ষ]] বা মুক্তি স্মরণে এখানে বড় ধাতব বাদ্যযন্ত্রের থালা বাজানো হয়। * একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489540854119475| দ্রাঘিমাংশ = 71.80090595923745| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পার হওয়ার পর, পথচারীরা {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হীরাবাই কুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489262| দ্রাঘিমাংশ = 71.800877| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} অতিক্রম করেন। এর পরেরটি হলো {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বাভাল কুণ্ড| অন্য = ভুখানদাস কুণ্ড| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486842| দ্রাঘিমাংশ = 71.79836| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}। এখানে একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = পাঁচটি উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48695120512268| দ্রাঘিমাংশ = 71.79834941298712| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এই উপাসনালয়গুলো রাম, ভরত, থাবচ্চ, শুকপরিব্রাজক এবং শৈলকাচার্যকে উৎসর্গ করা হয়েছে; যারা সকলেই শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি। কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলে সুকোশল মুনি নামক এক সন্ন্যাসীর পদচিহ্নসহ {{দেখুন | নাম = সুকোশল মুনির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486802261565828| দ্রাঘিমাংশ = 71.79830242053583| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} দেখা যায়। এর পরেরটি হলো আদিনাথের নাতি নমি ও বিনমির উদ্দেশ্যে নির্মিত {{দেখুন | নাম = নমি ও বিনমির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486576796258568| দ্রাঘিমাংশ = 71.79811738775891| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} * এই পথের পরবর্তী মোড়টি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হনুমানধারা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485956720744646| দ্রাঘিমাংশ = 71.79786441446865| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} নামে পরিচিত। এখান থেকে দুটি পথ আলাদা হয়ে গেছে; ডানদিকের পথটি নব টুঙ্কের দিকে এবং বামদিকের পথটি আদিনাথ টুঙ্কের দিকে গেছে। বামদিকে {{দেখুন | নাম = আদিনাথের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485973567496323| দ্রাঘিমাংশ = 71.79784429790278| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং ডানদিকে একটি বড় হনুমান মূর্তিসহ {{দেখুন | নাম = বড় হনুমান মূর্তির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485960464467407| দ্রাঘিমাংশ = 71.79789123655648| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এখানে একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485973567496323| দ্রাঘিমাংশ = 71.79787514330378| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। * বামদিকের পথ ধরে এগিয়ে গেলে এটি একটি সোজা হাঁটা পথ। ডানদিকে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা {{দেখুন | নাম = জালি মায়ালি উভায়ালির মূর্তি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.484964598723565| দ্রাঘিমাংশ = 71.79768271885165| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। পাহাড়ে খোদাই করা কয়েকটি সিঁড়ি বেয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। আরও সামনে এগিয়ে গেলে শত্রুঞ্জয় মন্দিরের দুর্গে পৌঁছানো যায়। ===দ্বিতীয় ধাপ=== * দুর্গের প্রথম তোরণ, যা {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = রামপোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483326195083468| দ্রাঘিমাংশ = 71.79582137691061| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} নামে পরিচিত, সেটি দিয়ে প্রবেশ করলে একটি বড় খোলা মাঠ দেখা যায়। এখানে তীর্থযাত্রী এবং পালকি বাহকরা বিশ্রাম নিতে পারেন। ডানদিকে {{দেখুন | নাম = পঞ্চ শিখরী বিমলনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483354| দ্রাঘিমাংশ = 71.795485| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং {{দেখুন | নাম = সুমতিনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483219202247334| দ্রাঘিমাংশ = 71.7955070810122| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অতিক্রম করার পর, {{দেখুন | নাম = কুন্তাসার জলাশয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482843191935352| দ্রাঘিমাংশ = 71.7954339493157| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামক একটি বড় জলাশয় দেখা যায়। এর কাছেই দেবী কুন্তাসারকে উৎসর্গীকৃত একটি ছোট উপাসনালয় রয়েছে। * সামনে এগিয়ে গিয়ে কয়েকটি সিঁড়ি আরোহণ করলে দ্বিতীয় তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = সাগল পোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482562913675796| দ্রাঘিমাংশ = 71.79546493731323| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ প্রবেশ করা যায়, যেখান থেকে প্রথম মন্দির কমপ্লেক্সটি শুরু হয়েছে। এখানে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ব্যবস্থাপনা কার্যালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482358760033755| দ্রাঘিমাংশ = 71.79546369778511| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, তীর্থযাত্রী নিবাস এবং কর্মীদের থাকার ঘর অবস্থিত। এর পাশেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48245103290112| দ্রাঘিমাংশ = 71.79559012883863| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} এবং নাংঘন কুণ্ড নামক জলাশয় রয়েছে। * এরপর রয়েছে তৃতীয় তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বাঘান পোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482342612275335| দ্রাঘিমাংশ = 71.79523314703093| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, যার দুই পাশে একজন প্রহরী এবং একটি বাঘের মূর্তি রয়েছে। তোরণের দেয়ালে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মন্ত্রী বস্তুপালের একটি শিলালিপি রয়েছে। তিনি এই তোরণের দুই পাশে নেমিনাথ এবং পার্শ্বনাথের মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে সেই মন্দিরগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেগুলোর স্থলে ডানদিকে বর্তমানের {{দেখুন | নাম = কেশবজি নায়ক মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482475254515748| দ্রাঘিমাংশ = 71.79514514110303| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং বামদিকে শেঠ হীরাচাঁদ রায়চাঁদের {{দেখুন | নাম = শান্তিনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48214191856655| দ্রাঘিমাংশ = 71.79526785359268| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নির্মিত হয়। কেন্দ্রীয় পথের দুই পাশেই সারিবদ্ধ মন্দির দেখা যায়। শান্তিনাথ মন্দিরটি সকল তীর্থযাত্রী দর্শন করেন এবং এটি এই পাহাড়ের অন্যতম প্রধান মন্দির হিসেবে বিবেচিত হয়। * শান্তিনাথ মন্দিরের ঠিক বাম পাশে রয়েছে {{দেখুন | নাম = নেমিনাথ চৌরি মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482071560360183| দ্রাঘিমাংশ = 71.79512654826975| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}। এই মন্দিরে পাহাড়ের সমস্ত মন্দিরের মধ্যে অন্যতম সেরা পাথরের খোদাইকর্ম রয়েছে। এর পরের জনপ্রিয় মন্দিরটি হলো {{দেখুন | নাম = মোক্ষ বাড়ি| অন্য = পাপ-পুণ্যানি বাড়ি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482146618941194| দ্রাঘিমাংশ = 71.7949460444073| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}। এখানে একটি উটের মূর্তি রয়েছে। তীর্থযাত্রীরা তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে এই উটের পায়ের নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। বামদিকের বেশ কয়েকটি মন্দির অতিক্রম করার পর, সবশেষে প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দীর {{দেখুন | নাম = কুমারপাল মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48167709241794| দ্রাঘিমাংশ = 71.79438283616372| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অবস্থিত। * একই পথে ডানদিকে কেশবজি নায়ক মন্দিরের পর {{দেখুন | নাম = সমবসরণ| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482347| দ্রাঘিমাংশ = 71.795007| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং {{দেখুন | নাম = শামলা আমিজারা পার্শ্বনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482357| দ্রাঘিমাংশ = 71.794860| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অতিক্রম করে {{দেখুন | নাম = সোথাম্ভা মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482192| দ্রাঘিমাংশ = 71.794412| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। বিক্রম সংবৎ ১৬৮৬ সালে নির্মিত এই মন্দিরে চমৎকার খোদাই করা ১০০-রও বেশি স্তম্ভ রয়েছে। এটি বাঘান পোলের মন্দিরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু। কাছেই একটি নিম গাছ রয়েছে, যার নিচে বীর বিক্রমশির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি {{দেখুন | নাম = স্মারক পাথর| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481985172402055| দ্রাঘিমাংশ = 71.79437806008161| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। তিনি একটি সিংহের সাথে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছিলেন, যে সিংহটি এই মন্দির প্রাঙ্গণকে তীর্থযাত্রীদের জন্য দুর্গম করে তুলেছিল। সামনে এগিয়ে গেলে পরবর্তী তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হাতিপোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481781757771017| দ্রাঘিমাংশ = 71.79426406620834| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ পৌঁছানো যায়, যার দুই পাশে দুটি বড় হাতির মূর্তি রয়েছে। তোরণের বাম দিকে কুমারপাল মন্দিরের পেছন দিয়ে একটি সরু গলি চলে গেছে। এটি আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন {{দেখুন | নাম = সূরজ কুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481168| দ্রাঘিমাংশ = 71.793986| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} সহ চারটি জলাশয়ের দিকে নিয়ে যায়। এটি একটি লোককাহিনীর সাথে জড়িত মোরগের খোদাই করা একটি ছোট কুলুঙ্গি দ্বারা চিহ্নিত। অন্য তিনটি জলাশয় হলো ব্রহ্মকুণ্ড, ভীমকুণ্ড এবং ঈশ্বরকুণ্ড। হাতিপোল তোরণটি একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = প্রাঙ্গণ| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481809531299206| দ্রাঘিমাংশ = 71.79414585358181| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ গিয়ে খোলে। এর ডান এবং বাম দিকে তোরণ রয়েছে, যা যথাক্রমে পুরুষ ও মহিলা তীর্থযাত্রীদের স্নানের ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যায়। এখানে পূজা বা উপাসনায় অংশ নেওয়ার আগে তারা স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করেন। প্রধান মন্দিরে পূজার লাইনগুলো রঙ-সংকেতযুক্ত (কালার-কোডেড) টোকেন দ্বারা পরিচালিত হয়, যা এখানকার একটি অফিস থেকে বিতরণ করা হয়। ===তৃতীয় ধাপ=== প্রধান তোরণটি রতনপোলের দিকে নিয়ে যায়। এখানে কেন্দ্রীয় ও প্রধান মন্দিরটি অবস্থিত, যা আরও অনেক মন্দির এবং উপাসনালয় দ্বারা পরিবেষ্টিত। তীর্থযাত্রীরা এখানে প্রধান দেবতা আদিনাথকে শ্রদ্ধা জানান এবং পূজা করেন। ==নিরাপত্তা== {{রূপরেখা ভ্রমণপথ}} {{সম্পর্কিত|পালিতানা}} {{ভ্রমণপথের অংশ|দক্ষিণ এশিয়া ভ্রমণপথ}} qj7d97gkqi562uotpqbnkrlb6nn7kkp 77290 77288 2026-08-29T12:16:00Z Borhan 2605 /* দ্বিতীয় ধাপ */ 77290 wikitext text/x-wiki {{পাতার ব্যানার|Shetrunjay Yatra page banner.jpg|Itinerary}} '''শত্রুঞ্জয় যাত্রা''' হলো ভারতের [[গুজরাত|গুজরাতের]] [[সৌরাষ্ট্র]] অঞ্চলের [[পালিতানা]] শহরের একটি তীর্থযাত্রার পথ। পালিতানা "মন্দিরের শহর" নামে পরিচিত। এটি জৈনধর্মের শ্বেতাম্বর সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। শহরের কাছে শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের চূড়ায় ৮০০-এও বেশি বড় মন্দির এবং ছোট উপাসনালয় রয়েছে। ==জানুন== এখানকার বেশিরভাগ মন্দির একাদশ শতাব্দী বা তার পরে নির্মিত হয়। মন্দিরগুলো পাহাড়ের চূড়ার বিভিন্ন শৈলশিরা বরাবর মূলত নয়টি গুচ্ছে ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স, তবে বেশিরভাগই আকারে ছোট। এই গুচ্ছগুলো "টুঙ্ক" নামে পরিচিত। প্রধান মন্দিরটি জৈনধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভনাথ বা আদিনাথকে উৎসর্গ করা হয়। এই মন্দিরগুলো মার্বেল এবং পাথর দিয়ে তৈরি। প্রতি বছর চার লাখেরও বেশি জৈন তীর্থযাত্রী এই মন্দিরগুলো দর্শন করেন। এই পাহাড়ের পবিত্রতার কারণে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ জৈন তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তি বা মোক্ষ লাভের আশায় পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণের আকাঙ্ক্ষা করেন। পাহাড়ে ওঠার সিঁড়িগুলো পালিতানা শহরের দক্ষিণ অংশ থেকে শুরু হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি মঠ, বিশ্রামাগার, দোকান এবং ছোট মন্দির রয়েছে। পাথর ও কংক্রিটের তৈরি সিঁড়িগুলো পাহাড়ের গা বেয়ে এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে গেছে। এগুলো দুর্গ পার হয়ে মন্দিরসহ চূড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই আরোহণ পথের পাশে ছোট ছোট মন্দির এবং তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জন্য খাবার ও পানীয় জলসহ বিশ্রামের জায়গা রয়েছে। সেখানে তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করার আগে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। দুর্গের কাছাকাছি গিয়ে সিঁড়িগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। পূর্ব দিকটি সাধারণত মন্দিরগুলোর ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির কাঁটার অভিমুখে প্রবেশের পথ, আর অন্য পথটি প্রস্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই যাত্রায় প্রায় ৩,৭৪৫টি সিঁড়ি বিশিষ্ট ২.৫ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। এই পথটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। কিছু বয়স্ক তীর্থযাত্রী পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চূড়ার মন্দিরগুলোতে যাওয়ার জন্য পালকি ভাড়া করেন, যা মানুষ বহন করে নিয়ে যায়। ==প্রস্তুতি== জৈনধর্মের কঠোর নিয়মের সাথে মিল রেখে তীর্থযাত্রীদের জন্য আচরণবিধি বেশ কঠোর। যাত্রাপথে কোনো খাবার খাওয়া বা সাথে বহন করা যাবে না। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই নিচে নামা শুরু করতে হবে, কারণ রাতে এই পবিত্র পাহাড়ের চূড়ায় কেউ থাকতে পারেন না। ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে, উপাসনালয়গুলোতে যাওয়া-আসার পুরো পথজুড়ে উপবাস থেকে এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করতে হয়। তীর্থযাত্রায় পাহাড়ে ওঠার সময় নীরবতা পালন এবং প্রার্থনা করা আবশ্যক। পাহাড়ের পাদদেশে আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্টের মিলনায়তনে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই উপবাস চলতে থাকে। বর্ষাকালে (স্থানীয় জৈন বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ আষাঢ় থেকে ১৫ কার্তিক পর্যন্ত) তীর্থযাত্রীরা এই মন্দিরগুলোতে যান না। * {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্ট অফিস| অন্য = আনন্দজি কল্যাণজি নি পেধি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505200| দ্রাঘিমাংশ = 71.814587| শেষ_সম্পাদনা = 2023-07-09| বিবরণ = | চিত্র = | উইকিপিডিয়া = আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্ট| উইকিউপাত্ত = Q4751369| inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} ==কীভাবে যাবেন== {{#invoke:মানচিত্র | tag | type=mapframe | zoom=auto | align = right | show= {{মানচিত্রের স্তর}} | latitude= | longitude= | text = {{#switch: | 17 | 16 | 15 | 14 |13 | 12 | 11 | 10 | 9 | 8 | 7 | 6 | 5 | 4 | 3 | 2 | 1 | 0 = <!-- https://phabricator.wikimedia.org/T383004 <div class="magnify" title="মানচিত্র বর্ধিত করুন">{{মানচিত্র সংযোগ|{{{1|0}}}|{{{2|0}}}|zoom={{#expr: {{{zoom|{{{জুম|}}}}}} + 1 }} |class=no-icon}}</div> --> }}{{এর|{{SUBPAGENAME}}}} মানচিত্র<!-- -->{{#ifexist: Template:GPX/{{PAGENAME}} | <small id="GPX-track"> [[Template:GPX/{{PAGENAME}}|(Edit GPX)]]</small>{{জিপিএক্স নির্দেশক}} }}<!-- -->{{#if: | <div class="wv-staticMap">[[File:|{{#expr: 650 - 2 }}px|border|{{এর|{{SUBPAGENAME}}}} মানচিত্র]]</div> }} }}{{#ifeq: {{NAMESPACE}} | {{ns:0}} | [[বিষয়শ্রেণী:মানচিত্রের কাঠামো আছে]]<!-- -->{{#if: | [[বিষয়শ্রেণী:স্থিরচিত্র সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#if: | [[বিষয়শ্রেণী:অ-পূর্বনির্ধারিত প্রান্তিককরণ সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#if: 350650 | [[বিষয়শ্রেণী:অ-পূর্বনির্ধারিত আকার সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#ifexist: Template:GPX/{{PAGENAME}} | [[বিষয়শ্রেণী:Maps with GPX indicator]] }} }} {{মানচিত্রের আকৃতি/আভ্যন্তর | wikidata=Q120465967 | wikicommons= | type=geoline | group=mask | fill=#FF0000 | opacity=0.5 | stroke=#000000 | stroke-width=3 | stroke-opacity=1 | title=Shetrunjay Yatra }} <br/> ===বাসে=== ==দর্শনীয় স্থান== ===প্রথম ধাপ=== * পাহাড়ের পাদদেশে বড় খোলা বারান্দাবিশিষ্ট উপাসনালয়টি {{দেখুন | নাম = জয় তলেটি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505134| দ্রাঘিমাংশ = 71.814387| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। তীর্থযাত্রীরা এখানে পাহাড়ের সম্মুখভাগের পূজা করেন। যেসকল তীর্থযাত্রী পাহাড়ে উঠতে পারেন না, তারা এখানে পূজা করেন এবং এটিকে মূল তীর্থযাত্রার সমতুল্য মনে করেন। ডানদিকের {{দেখুন | নাম = কাভাদ যক্ষ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505234| দ্রাঘিমাংশ = 71.814309| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} পাহাড়ের অধিষ্ঠাত্রী যক্ষ দেবতাকে উৎসর্গ করা হয়েছে। এখানে গৌতমস্বামী, আদিনাথ এবং অজিতনাথকে উৎসর্গীকৃত আরও কয়েকটি উপাসনালয় রয়েছে। * পাহাড়ে ওঠার পথটি ডানদিক থেকে শুরু হয়। এখানে বেশ কয়েকটি বড় মন্দির রয়েছে। বামদিকে {{দেখুন | নাম = গোবিন্দজি খোনানু মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504907| দ্রাঘিমাংশ = 71.814310| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে একটি বড় মন্দির, যা {{দেখুন | নাম = বাবু নু দেরাসর| অন্য = ঘন বাসাহী| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504232| দ্রাঘিমাংশ = 71.814246| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। এটি ১৯৪৯ বঙ্গাব্দে উৎসর্গ করা হয়। মন্দিরের পাশের একটি প্রাঙ্গণে বিশাল {{দেখুন | নাম = কৌসাগ্গিয়া আদিনাথের মূর্তি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.5046151661404| দ্রাঘিমাংশ = 71.81441376739131| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে {{দেখুন | নাম = জল মন্দির| অন্য = পাভাপুরি মন্দির| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504381| দ্রাঘিমাংশ = 71.814725| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} যা বিহারের জল মন্দিরের আদলে তৈরি। মন্দিরটি একটি জলাশয় দ্বারা বেষ্টিত। * কয়েক ধাপ সিঁড়ি ওঠার পর একটি বড় খোলা প্রাঙ্গণ পাওয়া যায়। সেখানে বহুতলবিশিষ্ট একটি মন্দির রয়েছে, যা {{দেখুন | নাম = ১০৮ পার্শ্বনাথ সমবসরণ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504585| দ্রাঘিমাংশ = 71.812870| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। এই আধুনিক মন্দিরটি পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয়েছে। এর নিচের তলায় একটি ছোট জাদুঘর রয়েছে। গেটের কাছে একটি ছোট পায়ে চলা পথ রয়েছে, যা {{দেখুন | নাম = সরস্বতী উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504882| দ্রাঘিমাংশ = 71.813475| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামক উপাসনালয়ের দিকে নিয়ে যায়। গুহার মতো দেখতে এই উপাসনালয়টি বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। * এখান থেকে পথটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.503241847881824| দ্রাঘিমাংশ = 71.81344603649717| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পর্যন্ত গেছে। আরও কয়েক ধাপ ওঠার পর সবচেয়ে নতুন মন্দির {{দেখুন | নাম = কীর্তি স্তম্ভ| অন্য = চতুর্মুখ ঋষভ জিন প্রাসাদ| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502249| দ্রাঘিমাংশ = 71.813824| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। চারমুখী টাওয়ারের মতো দেখতে এই মন্দিরটি আদিনাথকে উৎসর্গ করা হয়েছে। কয়েক ধাপ পরেই {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502119| দ্রাঘিমাংশ = 71.813242| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এর কাছে ১৬৮৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত {{দেখুন | নাম = ভরত চক্রবর্তীর পদচিহ্ন| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502167| দ্রাঘিমাংশ = 71.813288| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। * আরও ওপরে উঠলে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ইচ্ছা কুণ্ডের কাছে বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.50065| দ্রাঘিমাংশ = 71.81059| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ পৌঁছানো যায়। এই কুণ্ড বা কূপটি ১৬৮১ বঙ্গাব্দে নির্মিত হয়। এর কাছেই {{দেখুন | নাম = ঋষভদেব, নেমিনাথ ও তার গণধর বরদত্তের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.500613| দ্রাঘিমাংশ = 71.810643| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.500038| দ্রাঘিমাংশ = 71.810305| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} এবং {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = লিলি পরব নামের বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.497859| দ্রাঘিমাংশ = 71.809445| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} অতিক্রম করার পর একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = আদিনাথের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.496628| দ্রাঘিমাংশ = 71.808739| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} দেখা যায়। পরবর্তী বিরতিস্থল হলো {{দেখুন | নাম = কুমার কুণ্ডের বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.496579| দ্রাঘিমাংশ = 71.808762| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} * কিছুটা খাড়া পথ বেয়ে ওঠার পর {{দেখুন | নাম = হিংলাজনো হাডো| অন্য = হিংলাজ মাতা উপাসনালয়| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494863| দ্রাঘিমাংশ = 71.807577| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। এখানে একটি উপাসনালয়ে দেবী অম্বিকার রূপ দেবী হিংলাজের পূজা করা হয়। এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে যাওয়া পথের কয়েক ধাপ অতিক্রম করার পর ১৮৩৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত {{দেখুন | নাম = কালিকুণ্ড পার্শ্বনাথের পদচিহ্নের উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494819| দ্রাঘিমাংশ = 71.807666| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এর পাশেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494843| দ্রাঘিমাংশ = 71.807735| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। এখান থেকে পুরোনো এবং নতুন পথ দুটি আলাদা হয়ে গেছে। পুরোনো পথে মহাবীরের পদচিহ্নসহ একটি সমবসরণ উপাসনালয় রয়েছে। * এরপর রয়েছে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ছালাকুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492892| দ্রাঘিমাংশ = 71.805731| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, যা ১৮৭০ বঙ্গাব্দে নির্মিত একটি কুণ্ড বা কূপ। কাছেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.493068| দ্রাঘিমাংশ = 71.805734| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। এর কাছেই রয়েছে {{দেখুন | নাম = শাশ্বত জিনের উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492962| দ্রাঘিমাংশ = 71.805687| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই উপাসনালয়টিতে চারজন তীর্থঙ্করের পদচিহ্ন রয়েছে, যাদের নাম জৈন সৃষ্টিতত্ত্বের প্রতিটি অর্ধ-চক্রে আবির্ভূত হয়। তারা হলেন ঋষভ, চন্দ্রানন, বারীষেণ এবং বর্ধমান। * {{দেখুন | নাম = শ্রী পূজ্য টুঙ্ক| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.493127| দ্রাঘিমাংশ = 71.804556| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই মন্দির গুচ্ছটি [[w:তপাগচ্ছ|তপাগচ্ছের]] সন্ন্যাসী দেবেন্দ্রসূরির অধীনে নির্মিত হয়। এখানে পদচিহ্নসহ ১৪টি ছোট উপাসনালয় এবং পদ্মাবতীর মূর্তিবিশিষ্ট একটি বড় কেন্দ্রীয় উপাসনালয় রয়েছে। উপাসনালয়টিতে হনুমান এবং মণিভদ্রের মূর্তিও রয়েছে। চার কোণে চারটি উপাসনালয় বিশিষ্ট একটি বড় কুণ্ডে আদিনাথ, পার্শ্বনাথ, গৌতমস্বামী এবং ধর্মসূরির পদচিহ্ন রয়েছে। এখানে কিছু গাছপালা এবং উপাসনালয়ও রয়েছে। এখান থেকে শহর এবং পাহাড়ের বাকি অংশ দেখা যায়। এই টুঙ্কের গেটের কাছে একটি {{দেখুন | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492762| দ্রাঘিমাংশ = 71.804476| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। * সামনে এগিয়ে গেলে পথটি বেশ সহজ এবং এতে অল্প কয়েকটি সিঁড়ি রয়েছে। একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = চারটি উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489820| দ্রাঘিমাংশ = 71.801204| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এতে দ্রাবিড়, বারিখিল্ল, ঐমুত্ত এবং নারদ মুনির চারটি কালো মূর্তি রয়েছে, যারা শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের কাহিনীর সাথে জড়িত। জৈন বর্ষপঞ্জির ১৫ কার্তিকে তাদের [[w:মোক্ষ (জৈনবাদ)|মোক্ষ]] বা মুক্তি স্মরণে এখানে বড় ধাতব বাদ্যযন্ত্রের থালা বাজানো হয়। * একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489540854119475| দ্রাঘিমাংশ = 71.80090595923745| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পার হওয়ার পর, পথচারীরা {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হীরাবাই কুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489262| দ্রাঘিমাংশ = 71.800877| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} অতিক্রম করেন। এর পরেরটি হলো {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বাভাল কুণ্ড| অন্য = ভুখানদাস কুণ্ড| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486842| দ্রাঘিমাংশ = 71.79836| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}। এখানে একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = পাঁচটি উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48695120512268| দ্রাঘিমাংশ = 71.79834941298712| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এই উপাসনালয়গুলো রাম, ভরত, থাবচ্চ, শুকপরিব্রাজক এবং শৈলকাচার্যকে উৎসর্গ করা হয়েছে; যারা সকলেই শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি। কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলে সুকোশল মুনি নামক এক সন্ন্যাসীর পদচিহ্নসহ {{দেখুন | নাম = সুকোশল মুনির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486802261565828| দ্রাঘিমাংশ = 71.79830242053583| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} দেখা যায়। এর পরেরটি হলো আদিনাথের নাতি নমি ও বিনমির উদ্দেশ্যে নির্মিত {{দেখুন | নাম = নমি ও বিনমির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486576796258568| দ্রাঘিমাংশ = 71.79811738775891| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} * এই পথের পরবর্তী মোড়টি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হনুমানধারা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485956720744646| দ্রাঘিমাংশ = 71.79786441446865| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} নামে পরিচিত। এখান থেকে দুটি পথ আলাদা হয়ে গেছে; ডানদিকের পথটি নব টুঙ্কের দিকে এবং বামদিকের পথটি আদিনাথ টুঙ্কের দিকে গেছে। বামদিকে {{দেখুন | নাম = আদিনাথের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485973567496323| দ্রাঘিমাংশ = 71.79784429790278| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং ডানদিকে একটি বড় হনুমান মূর্তিসহ {{দেখুন | নাম = বড় হনুমান মূর্তির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485960464467407| দ্রাঘিমাংশ = 71.79789123655648| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এখানে একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485973567496323| দ্রাঘিমাংশ = 71.79787514330378| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। * বামদিকের পথ ধরে এগিয়ে গেলে এটি একটি সোজা হাঁটা পথ। ডানদিকে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা {{দেখুন | নাম = জালি মায়ালি উভায়ালির মূর্তি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.484964598723565| দ্রাঘিমাংশ = 71.79768271885165| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। পাহাড়ে খোদাই করা কয়েকটি সিঁড়ি বেয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। আরও সামনে এগিয়ে গেলে শত্রুঞ্জয় মন্দিরের দুর্গে পৌঁছানো যায়। ===দ্বিতীয় ধাপ=== * দুর্গের প্রথম তোরণ, যা {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = রামপোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483326195083468| দ্রাঘিমাংশ = 71.79582137691061| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} নামে পরিচিত, সেটি দিয়ে প্রবেশ করলে একটি বড় খোলা মাঠ দেখা যায়। এখানে তীর্থযাত্রী এবং পালকি বাহকরা বিশ্রাম নিতে পারেন। ডানদিকে {{দেখুন | নাম = পঞ্চ শিখরী বিমলনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483354| দ্রাঘিমাংশ = 71.795485| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং {{দেখুন | নাম = সুমতিনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483219202247334| দ্রাঘিমাংশ = 71.7955070810122| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অতিক্রম করার পর {{দেখুন | নাম = কুন্তাসার জলাশয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482843191935352| দ্রাঘিমাংশ = 71.7954339493157| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামক একটি বড় জলাশয় দেখা যায়। এর কাছেই দেবী কুন্তাসারকে উৎসর্গীকৃত একটি ছোট উপাসনালয় রয়েছে। * সামনে এগিয়ে গিয়ে কয়েকটি সিঁড়ি আরোহণ করলে দ্বিতীয় তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = সাগল পোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482562913675796| দ্রাঘিমাংশ = 71.79546493731323| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} প্রবেশ করা যায়, যেখান থেকে প্রথম মন্দির কমপ্লেক্সটি শুরু হয়েছে। এখানে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ব্যবস্থাপনা কার্যালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482358760033755| দ্রাঘিমাংশ = 71.79546369778511| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, তীর্থযাত্রী নিবাস এবং কর্মীদের থাকার ঘর অবস্থিত। এর পাশেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48245103290112| দ্রাঘিমাংশ = 71.79559012883863| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} এবং নাংঘন কুণ্ড নামক জলাশয় রয়েছে। * এরপর রয়েছে তৃতীয় তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বাঘান পোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482342612275335| দ্রাঘিমাংশ = 71.79523314703093| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} যার দুই পাশে একজন প্রহরী এবং একটি বাঘের মূর্তি রয়েছে। তোরণের দেয়ালে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মন্ত্রী বস্তুপালের একটি শিলালিপি রয়েছে। তিনি এই তোরণের দুই পাশে নেমিনাথ এবং পার্শ্বনাথের মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে সেই মন্দিরগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেগুলোর স্থলে ডানদিকে বর্তমানের {{দেখুন | নাম = কেশবজি নায়ক মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482475254515748| দ্রাঘিমাংশ = 71.79514514110303| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং বামদিকে শেঠ হীরাচাঁদ রায়চাঁদের {{দেখুন | নাম = শান্তিনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48214191856655| দ্রাঘিমাংশ = 71.79526785359268| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নির্মিত হয়। কেন্দ্রীয় পথের দুই পাশেই সারিবদ্ধ মন্দির দেখা যায়। শান্তিনাথ মন্দিরটি সকল তীর্থযাত্রী দর্শন করেন এবং এটি এই পাহাড়ের অন্যতম প্রধান মন্দির হিসেবে বিবেচিত হয়। * শান্তিনাথ মন্দিরের ঠিক বাম পাশে রয়েছে {{দেখুন | নাম = নেমিনাথ চৌরি মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482071560360183| দ্রাঘিমাংশ = 71.79512654826975| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই মন্দিরে পাহাড়ের সমস্ত মন্দিরের মধ্যে অন্যতম সেরা পাথরের খোদাইকর্ম রয়েছে। এর পরের জনপ্রিয় মন্দিরটি হলো {{দেখুন | নাম = মোক্ষ বাড়ি| অন্য = পাপ-পুণ্যানি বাড়ি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482146618941194| দ্রাঘিমাংশ = 71.7949460444073| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এখানে একটি উটের মূর্তি রয়েছে। তীর্থযাত্রীরা তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে এই উটের পায়ের নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। বামদিকের বেশ কয়েকটি মন্দির অতিক্রম করার পর, সবশেষে প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দীর {{দেখুন | নাম = কুমারপাল মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48167709241794| দ্রাঘিমাংশ = 71.79438283616372| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অবস্থিত। * একই পথে ডানদিকে কেশবজি নায়ক মন্দিরের পর {{দেখুন | নাম = সমবসরণ| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482347| দ্রাঘিমাংশ = 71.795007| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং {{দেখুন | নাম = শামলা আমিজারা পার্শ্বনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482357| দ্রাঘিমাংশ = 71.794860| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অতিক্রম করে {{দেখুন | নাম = সোথাম্ভা মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482192| দ্রাঘিমাংশ = 71.794412| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} পৌঁছানো যায়। ১৬৮৬ বঙ্গাব্দে নির্মিত এই মন্দিরে চমৎকার খোদাই করা ১০০-এরও বেশি স্তম্ভ রয়েছে। এটি বাঘান পোলের মন্দিরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু। কাছেই একটি নিম গাছ রয়েছে, যার নিচে বীর বিক্রমশির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি {{দেখুন | নাম = স্মারক পাথর| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481985172402055| দ্রাঘিমাংশ = 71.79437806008161| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। তিনি একটি সিংহের সাথে লড়াই করে প্রাণ হারান, যে সিংহটি এই মন্দির প্রাঙ্গণকে তীর্থযাত্রীদের জন্য দুর্গম করে তুলে। সামনে এগিয়ে গেলে পরবর্তী তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হাতিপোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481781757771017| দ্রাঘিমাংশ = 71.79426406620834| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পৌঁছানো যায়, যার দুই পাশে দুটি বড় হাতির মূর্তি রয়েছে। তোরণের বাম দিকে কুমারপাল মন্দিরের পেছন দিয়ে একটি সরু গলি চলে গেছে। এটি আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন {{দেখুন | নাম = সূরজ কুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481168| দ্রাঘিমাংশ = 71.793986| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} সহ চারটি জলাশয়ের দিকে নিয়ে যায়। এটি একটি লোককাহিনীর সাথে জড়িত মোরগের খোদাই করা একটি ছোট কুলুঙ্গি দ্বারা চিহ্নিত। অন্য তিনটি জলাশয় হলো ব্রহ্মকুণ্ড, ভীমকুণ্ড এবং ঈশ্বরকুণ্ড। হাতিপোল তোরণটি একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = প্রাঙ্গণ| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481809531299206| দ্রাঘিমাংশ = 71.79414585358181| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ গিয়ে খোলে। এর ডান এবং বাম দিকে তোরণ রয়েছে, যা যথাক্রমে পুরুষ ও মহিলা তীর্থযাত্রীদের স্নানের ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যায়। এখানে পূজা বা উপাসনায় অংশ নেওয়ার আগে তারা স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করেন। প্রধান মন্দিরে পূজার লাইনগুলো রঙ-সংকেতযুক্ত টোকেন দ্বারা পরিচালিত হয়, যা এখানকার একটি অফিস থেকে বিতরণ করা হয়। ===তৃতীয় ধাপ=== প্রধান তোরণটি রতনপোলের দিকে নিয়ে যায়। এখানে কেন্দ্রীয় ও প্রধান মন্দিরটি অবস্থিত, যা আরও অনেক মন্দির এবং উপাসনালয় দ্বারা পরিবেষ্টিত। তীর্থযাত্রীরা এখানে প্রধান দেবতা আদিনাথকে শ্রদ্ধা জানান এবং পূজা করেন। ==নিরাপত্তা== {{রূপরেখা ভ্রমণপথ}} {{সম্পর্কিত|পালিতানা}} {{ভ্রমণপথের অংশ|দক্ষিণ এশিয়া ভ্রমণপথ}} si6ib6emqb7n2jdud34jaog02vwispp 77292 77290 2026-08-29T19:25:46Z Borhan 2605 /* নিরাপত্তা */ 77292 wikitext text/x-wiki {{পাতার ব্যানার|Shetrunjay Yatra page banner.jpg|Itinerary}} '''শত্রুঞ্জয় যাত্রা''' হলো ভারতের [[গুজরাত|গুজরাতের]] [[সৌরাষ্ট্র]] অঞ্চলের [[পালিতানা]] শহরের একটি তীর্থযাত্রার পথ। পালিতানা "মন্দিরের শহর" নামে পরিচিত। এটি জৈনধর্মের শ্বেতাম্বর সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। শহরের কাছে শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের চূড়ায় ৮০০-এও বেশি বড় মন্দির এবং ছোট উপাসনালয় রয়েছে। ==জানুন== এখানকার বেশিরভাগ মন্দির একাদশ শতাব্দী বা তার পরে নির্মিত হয়। মন্দিরগুলো পাহাড়ের চূড়ার বিভিন্ন শৈলশিরা বরাবর মূলত নয়টি গুচ্ছে ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স, তবে বেশিরভাগই আকারে ছোট। এই গুচ্ছগুলো "টুঙ্ক" নামে পরিচিত। প্রধান মন্দিরটি জৈনধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভনাথ বা আদিনাথকে উৎসর্গ করা হয়। এই মন্দিরগুলো মার্বেল এবং পাথর দিয়ে তৈরি। প্রতি বছর চার লাখেরও বেশি জৈন তীর্থযাত্রী এই মন্দিরগুলো দর্শন করেন। এই পাহাড়ের পবিত্রতার কারণে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ জৈন তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তি বা মোক্ষ লাভের আশায় পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণের আকাঙ্ক্ষা করেন। পাহাড়ে ওঠার সিঁড়িগুলো পালিতানা শহরের দক্ষিণ অংশ থেকে শুরু হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি মঠ, বিশ্রামাগার, দোকান এবং ছোট মন্দির রয়েছে। পাথর ও কংক্রিটের তৈরি সিঁড়িগুলো পাহাড়ের গা বেয়ে এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে গেছে। এগুলো দুর্গ পার হয়ে মন্দিরসহ চূড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই আরোহণ পথের পাশে ছোট ছোট মন্দির এবং তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জন্য খাবার ও পানীয় জলসহ বিশ্রামের জায়গা রয়েছে। সেখানে তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করার আগে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। দুর্গের কাছাকাছি গিয়ে সিঁড়িগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। পূর্ব দিকটি সাধারণত মন্দিরগুলোর ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির কাঁটার অভিমুখে প্রবেশের পথ, আর অন্য পথটি প্রস্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই যাত্রায় প্রায় ৩,৭৪৫টি সিঁড়ি বিশিষ্ট ২.৫ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। এই পথটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। কিছু বয়স্ক তীর্থযাত্রী পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চূড়ার মন্দিরগুলোতে যাওয়ার জন্য পালকি ভাড়া করেন, যা মানুষ বহন করে নিয়ে যায়। ==প্রস্তুতি== জৈনধর্মের কঠোর নিয়মের সাথে মিল রেখে তীর্থযাত্রীদের জন্য আচরণবিধি বেশ কঠোর। যাত্রাপথে কোনো খাবার খাওয়া বা সাথে বহন করা যাবে না। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই নিচে নামা শুরু করতে হবে, কারণ রাতে এই পবিত্র পাহাড়ের চূড়ায় কেউ থাকতে পারেন না। ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে, উপাসনালয়গুলোতে যাওয়া-আসার পুরো পথজুড়ে উপবাস থেকে এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করতে হয়। তীর্থযাত্রায় পাহাড়ে ওঠার সময় নীরবতা পালন এবং প্রার্থনা করা আবশ্যক। পাহাড়ের পাদদেশে আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্টের মিলনায়তনে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই উপবাস চলতে থাকে। বর্ষাকালে (স্থানীয় জৈন বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ আষাঢ় থেকে ১৫ কার্তিক পর্যন্ত) তীর্থযাত্রীরা এই মন্দিরগুলোতে যান না। * {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্ট অফিস| অন্য = আনন্দজি কল্যাণজি নি পেধি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505200| দ্রাঘিমাংশ = 71.814587| শেষ_সম্পাদনা = 2023-07-09| বিবরণ = | চিত্র = | উইকিপিডিয়া = আনন্দজি কল্যাণজি ট্রাস্ট| উইকিউপাত্ত = Q4751369| inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} ==কীভাবে যাবেন== {{#invoke:মানচিত্র | tag | type=mapframe | zoom=auto | align = right | show= {{মানচিত্রের স্তর}} | latitude= | longitude= | text = {{#switch: | 17 | 16 | 15 | 14 |13 | 12 | 11 | 10 | 9 | 8 | 7 | 6 | 5 | 4 | 3 | 2 | 1 | 0 = <!-- https://phabricator.wikimedia.org/T383004 <div class="magnify" title="মানচিত্র বর্ধিত করুন">{{মানচিত্র সংযোগ|{{{1|0}}}|{{{2|0}}}|zoom={{#expr: {{{zoom|{{{জুম|}}}}}} + 1 }} |class=no-icon}}</div> --> }}{{এর|{{SUBPAGENAME}}}} মানচিত্র<!-- -->{{#ifexist: Template:GPX/{{PAGENAME}} | <small id="GPX-track"> [[Template:GPX/{{PAGENAME}}|(Edit GPX)]]</small>{{জিপিএক্স নির্দেশক}} }}<!-- -->{{#if: | <div class="wv-staticMap">[[File:|{{#expr: 650 - 2 }}px|border|{{এর|{{SUBPAGENAME}}}} মানচিত্র]]</div> }} }}{{#ifeq: {{NAMESPACE}} | {{ns:0}} | [[বিষয়শ্রেণী:মানচিত্রের কাঠামো আছে]]<!-- -->{{#if: | [[বিষয়শ্রেণী:স্থিরচিত্র সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#if: | [[বিষয়শ্রেণী:অ-পূর্বনির্ধারিত প্রান্তিককরণ সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#if: 350650 | [[বিষয়শ্রেণী:অ-পূর্বনির্ধারিত আকার সহ মানচিত্র]] }}<!-- -->{{#ifexist: Template:GPX/{{PAGENAME}} | [[বিষয়শ্রেণী:Maps with GPX indicator]] }} }} {{মানচিত্রের আকৃতি/আভ্যন্তর | wikidata=Q120465967 | wikicommons= | type=geoline | group=mask | fill=#FF0000 | opacity=0.5 | stroke=#000000 | stroke-width=3 | stroke-opacity=1 | title=Shetrunjay Yatra }} <br/> ===বাসে=== ==দর্শনীয় স্থান== ===প্রথম ধাপ=== * পাহাড়ের পাদদেশে বড় খোলা বারান্দাবিশিষ্ট উপাসনালয়টি {{দেখুন | নাম = জয় তলেটি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505134| দ্রাঘিমাংশ = 71.814387| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। তীর্থযাত্রীরা এখানে পাহাড়ের সম্মুখভাগের পূজা করেন। যেসকল তীর্থযাত্রী পাহাড়ে উঠতে পারেন না, তারা এখানে পূজা করেন এবং এটিকে মূল তীর্থযাত্রার সমতুল্য মনে করেন। ডানদিকের {{দেখুন | নাম = কাভাদ যক্ষ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.505234| দ্রাঘিমাংশ = 71.814309| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} পাহাড়ের অধিষ্ঠাত্রী যক্ষ দেবতাকে উৎসর্গ করা হয়েছে। এখানে গৌতমস্বামী, আদিনাথ এবং অজিতনাথকে উৎসর্গীকৃত আরও কয়েকটি উপাসনালয় রয়েছে। * পাহাড়ে ওঠার পথটি ডানদিক থেকে শুরু হয়। এখানে বেশ কয়েকটি বড় মন্দির রয়েছে। বামদিকে {{দেখুন | নাম = গোবিন্দজি খোনানু মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504907| দ্রাঘিমাংশ = 71.814310| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে একটি বড় মন্দির, যা {{দেখুন | নাম = বাবু নু দেরাসর| অন্য = ঘন বাসাহী| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504232| দ্রাঘিমাংশ = 71.814246| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। এটি ১৯৪৯ বঙ্গাব্দে উৎসর্গ করা হয়। মন্দিরের পাশের একটি প্রাঙ্গণে বিশাল {{দেখুন | নাম = কৌসাগ্গিয়া আদিনাথের মূর্তি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.5046151661404| দ্রাঘিমাংশ = 71.81441376739131| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে {{দেখুন | নাম = জল মন্দির| অন্য = পাভাপুরি মন্দির| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504381| দ্রাঘিমাংশ = 71.814725| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} যা বিহারের জল মন্দিরের আদলে তৈরি। মন্দিরটি একটি জলাশয় দ্বারা বেষ্টিত। * কয়েক ধাপ সিঁড়ি ওঠার পর একটি বড় খোলা প্রাঙ্গণ পাওয়া যায়। সেখানে বহুতলবিশিষ্ট একটি মন্দির রয়েছে, যা {{দেখুন | নাম = ১০৮ পার্শ্বনাথ সমবসরণ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504585| দ্রাঘিমাংশ = 71.812870| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামে পরিচিত। এই আধুনিক মন্দিরটি পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয়েছে। এর নিচের তলায় একটি ছোট জাদুঘর রয়েছে। গেটের কাছে একটি ছোট পায়ে চলা পথ রয়েছে, যা {{দেখুন | নাম = সরস্বতী উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.504882| দ্রাঘিমাংশ = 71.813475| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামক উপাসনালয়ের দিকে নিয়ে যায়। গুহার মতো দেখতে এই উপাসনালয়টি বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। * এখান থেকে পথটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.503241847881824| দ্রাঘিমাংশ = 71.81344603649717| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পর্যন্ত গেছে। আরও কয়েক ধাপ ওঠার পর সবচেয়ে নতুন মন্দির {{দেখুন | নাম = কীর্তি স্তম্ভ| অন্য = চতুর্মুখ ঋষভ জিন প্রাসাদ| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502249| দ্রাঘিমাংশ = 71.813824| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। চারমুখী টাওয়ারের মতো দেখতে এই মন্দিরটি আদিনাথকে উৎসর্গ করা হয়েছে। কয়েক ধাপ পরেই {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502119| দ্রাঘিমাংশ = 71.813242| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এর কাছে ১৬৮৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত {{দেখুন | নাম = ভরত চক্রবর্তীর পদচিহ্ন| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.502167| দ্রাঘিমাংশ = 71.813288| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। * আরও ওপরে উঠলে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ইচ্ছা কুণ্ডের কাছে বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.50065| দ্রাঘিমাংশ = 71.81059| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ পৌঁছানো যায়। এই কুণ্ড বা কূপটি ১৬৮১ বঙ্গাব্দে নির্মিত হয়। এর কাছেই {{দেখুন | নাম = ঋষভদেব, নেমিনাথ ও তার গণধর বরদত্তের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.500613| দ্রাঘিমাংশ = 71.810643| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.500038| দ্রাঘিমাংশ = 71.810305| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} এবং {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = লিলি পরব নামের বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.497859| দ্রাঘিমাংশ = 71.809445| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} অতিক্রম করার পর একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = আদিনাথের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.496628| দ্রাঘিমাংশ = 71.808739| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} দেখা যায়। পরবর্তী বিরতিস্থল হলো {{দেখুন | নাম = কুমার কুণ্ডের বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.496579| দ্রাঘিমাংশ = 71.808762| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} * কিছুটা খাড়া পথ বেয়ে ওঠার পর {{দেখুন | নাম = হিংলাজনো হাডো| অন্য = হিংলাজ মাতা উপাসনালয়| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494863| দ্রাঘিমাংশ = 71.807577| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }}-এ পৌঁছানো যায়। এখানে একটি উপাসনালয়ে দেবী অম্বিকার রূপ দেবী হিংলাজের পূজা করা হয়। এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে যাওয়া পথের কয়েক ধাপ অতিক্রম করার পর ১৮৩৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত {{দেখুন | নাম = কালিকুণ্ড পার্শ্বনাথের পদচিহ্নের উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494819| দ্রাঘিমাংশ = 71.807666| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এর পাশেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.494843| দ্রাঘিমাংশ = 71.807735| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। এখান থেকে পুরোনো এবং নতুন পথ দুটি আলাদা হয়ে গেছে। পুরোনো পথে মহাবীরের পদচিহ্নসহ একটি সমবসরণ উপাসনালয় রয়েছে। * এরপর রয়েছে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ছালাকুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492892| দ্রাঘিমাংশ = 71.805731| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, যা ১৮৭০ বঙ্গাব্দে নির্মিত একটি কুণ্ড বা কূপ। কাছেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.493068| দ্রাঘিমাংশ = 71.805734| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। এর কাছেই রয়েছে {{দেখুন | নাম = শাশ্বত জিনের উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492962| দ্রাঘিমাংশ = 71.805687| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই উপাসনালয়টিতে চারজন তীর্থঙ্করের পদচিহ্ন রয়েছে, যাদের নাম জৈন সৃষ্টিতত্ত্বের প্রতিটি অর্ধ-চক্রে আবির্ভূত হয়। তারা হলেন ঋষভ, চন্দ্রানন, বারীষেণ এবং বর্ধমান। * {{দেখুন | নাম = শ্রী পূজ্য টুঙ্ক| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.493127| দ্রাঘিমাংশ = 71.804556| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই মন্দির গুচ্ছটি [[w:তপাগচ্ছ|তপাগচ্ছের]] সন্ন্যাসী দেবেন্দ্রসূরির অধীনে নির্মিত হয়। এখানে পদচিহ্নসহ ১৪টি ছোট উপাসনালয় এবং পদ্মাবতীর মূর্তিবিশিষ্ট একটি বড় কেন্দ্রীয় উপাসনালয় রয়েছে। উপাসনালয়টিতে হনুমান এবং মণিভদ্রের মূর্তিও রয়েছে। চার কোণে চারটি উপাসনালয় বিশিষ্ট একটি বড় কুণ্ডে আদিনাথ, পার্শ্বনাথ, গৌতমস্বামী এবং ধর্মসূরির পদচিহ্ন রয়েছে। এখানে কিছু গাছপালা এবং উপাসনালয়ও রয়েছে। এখান থেকে শহর এবং পাহাড়ের বাকি অংশ দেখা যায়। এই টুঙ্কের গেটের কাছে একটি {{দেখুন | নাম = বিশ্রামস্থান| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.492762| দ্রাঘিমাংশ = 71.804476| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। * সামনে এগিয়ে গেলে পথটি বেশ সহজ এবং এতে অল্প কয়েকটি সিঁড়ি রয়েছে। একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = চারটি উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489820| দ্রাঘিমাংশ = 71.801204| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এতে দ্রাবিড়, বারিখিল্ল, ঐমুত্ত এবং নারদ মুনির চারটি কালো মূর্তি রয়েছে, যারা শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের কাহিনীর সাথে জড়িত। জৈন বর্ষপঞ্জির ১৫ কার্তিকে তাদের [[w:মোক্ষ (জৈনবাদ)|মোক্ষ]] বা মুক্তি স্মরণে এখানে বড় ধাতব বাদ্যযন্ত্রের থালা বাজানো হয়। * একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489540854119475| দ্রাঘিমাংশ = 71.80090595923745| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পার হওয়ার পর, পথচারীরা {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হীরাবাই কুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.489262| দ্রাঘিমাংশ = 71.800877| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} অতিক্রম করেন। এর পরেরটি হলো {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বাভাল কুণ্ড| অন্য = ভুখানদাস কুণ্ড| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486842| দ্রাঘিমাংশ = 71.79836| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}। এখানে একটি উঁচু বেদির ওপর {{দেখুন | নাম = পাঁচটি উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48695120512268| দ্রাঘিমাংশ = 71.79834941298712| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এই উপাসনালয়গুলো রাম, ভরত, থাবচ্চ, শুকপরিব্রাজক এবং শৈলকাচার্যকে উৎসর্গ করা হয়েছে; যারা সকলেই শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি। কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলে সুকোশল মুনি নামক এক সন্ন্যাসীর পদচিহ্নসহ {{দেখুন | নাম = সুকোশল মুনির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486802261565828| দ্রাঘিমাংশ = 71.79830242053583| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} দেখা যায়। এর পরেরটি হলো আদিনাথের নাতি নমি ও বিনমির উদ্দেশ্যে নির্মিত {{দেখুন | নাম = নমি ও বিনমির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.486576796258568| দ্রাঘিমাংশ = 71.79811738775891| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} * এই পথের পরবর্তী মোড়টি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হনুমানধারা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485956720744646| দ্রাঘিমাংশ = 71.79786441446865| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} নামে পরিচিত। এখান থেকে দুটি পথ আলাদা হয়ে গেছে; ডানদিকের পথটি নব টুঙ্কের দিকে এবং বামদিকের পথটি আদিনাথ টুঙ্কের দিকে গেছে। বামদিকে {{দেখুন | নাম = আদিনাথের পদচিহ্নসহ উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485973567496323| দ্রাঘিমাংশ = 71.79784429790278| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং ডানদিকে একটি বড় হনুমান মূর্তিসহ {{দেখুন | নাম = বড় হনুমান মূর্তির উপাসনালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485960464467407| দ্রাঘিমাংশ = 71.79789123655648| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। এখানে একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বিশ্রামস্থান ও পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.485973567496323| দ্রাঘিমাংশ = 71.79787514330378| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} রয়েছে। * বামদিকের পথ ধরে এগিয়ে গেলে এটি একটি সোজা হাঁটা পথ। ডানদিকে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা {{দেখুন | নাম = জালি মায়ালি উভায়ালির মূর্তি| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.484964598723565| দ্রাঘিমাংশ = 71.79768271885165| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। পাহাড়ে খোদাই করা কয়েকটি সিঁড়ি বেয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। আরও সামনে এগিয়ে গেলে শত্রুঞ্জয় মন্দিরের দুর্গে পৌঁছানো যায়। ===দ্বিতীয় ধাপ=== * দুর্গের প্রথম তোরণ, যা {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = রামপোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483326195083468| দ্রাঘিমাংশ = 71.79582137691061| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} নামে পরিচিত, সেটি দিয়ে প্রবেশ করলে একটি বড় খোলা মাঠ দেখা যায়। এখানে তীর্থযাত্রী এবং পালকি বাহকরা বিশ্রাম নিতে পারেন। ডানদিকে {{দেখুন | নাম = পঞ্চ শিখরী বিমলনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483354| দ্রাঘিমাংশ = 71.795485| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং {{দেখুন | নাম = সুমতিনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.483219202247334| দ্রাঘিমাংশ = 71.7955070810122| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অতিক্রম করার পর {{দেখুন | নাম = কুন্তাসার জলাশয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482843191935352| দ্রাঘিমাংশ = 71.7954339493157| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নামক একটি বড় জলাশয় দেখা যায়। এর কাছেই দেবী কুন্তাসারকে উৎসর্গীকৃত একটি ছোট উপাসনালয় রয়েছে। * সামনে এগিয়ে গিয়ে কয়েকটি সিঁড়ি আরোহণ করলে দ্বিতীয় তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = সাগল পোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482562913675796| দ্রাঘিমাংশ = 71.79546493731323| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} প্রবেশ করা যায়, যেখান থেকে প্রথম মন্দির কমপ্লেক্সটি শুরু হয়েছে। এখানে {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = ব্যবস্থাপনা কার্যালয়| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482358760033755| দ্রাঘিমাংশ = 71.79546369778511| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}, তীর্থযাত্রী নিবাস এবং কর্মীদের থাকার ঘর অবস্থিত। এর পাশেই একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = পানীয়জলের ব্যবস্থা| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48245103290112| দ্রাঘিমাংশ = 71.79559012883863| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} এবং নাংঘন কুণ্ড নামক জলাশয় রয়েছে। * এরপর রয়েছে তৃতীয় তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = বাঘান পোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482342612275335| দ্রাঘিমাংশ = 71.79523314703093| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} যার দুই পাশে একজন প্রহরী এবং একটি বাঘের মূর্তি রয়েছে। তোরণের দেয়ালে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মন্ত্রী বস্তুপালের একটি শিলালিপি রয়েছে। তিনি এই তোরণের দুই পাশে নেমিনাথ এবং পার্শ্বনাথের মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে সেই মন্দিরগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেগুলোর স্থলে ডানদিকে বর্তমানের {{দেখুন | নাম = কেশবজি নায়ক মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482475254515748| দ্রাঘিমাংশ = 71.79514514110303| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং বামদিকে শেঠ হীরাচাঁদ রায়চাঁদের {{দেখুন | নাম = শান্তিনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48214191856655| দ্রাঘিমাংশ = 71.79526785359268| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} নির্মিত হয়। কেন্দ্রীয় পথের দুই পাশেই সারিবদ্ধ মন্দির দেখা যায়। শান্তিনাথ মন্দিরটি সকল তীর্থযাত্রী দর্শন করেন এবং এটি এই পাহাড়ের অন্যতম প্রধান মন্দির হিসেবে বিবেচিত হয়। * শান্তিনাথ মন্দিরের ঠিক বাম পাশে রয়েছে {{দেখুন | নাম = নেমিনাথ চৌরি মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482071560360183| দ্রাঘিমাংশ = 71.79512654826975| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এই মন্দিরে পাহাড়ের সমস্ত মন্দিরের মধ্যে অন্যতম সেরা পাথরের খোদাইকর্ম রয়েছে। এর পরের জনপ্রিয় মন্দিরটি হলো {{দেখুন | নাম = মোক্ষ বাড়ি| অন্য = পাপ-পুণ্যানি বাড়ি| ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482146618941194| দ্রাঘিমাংশ = 71.7949460444073| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এখানে একটি উটের মূর্তি রয়েছে। তীর্থযাত্রীরা তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে এই উটের পায়ের নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। বামদিকের বেশ কয়েকটি মন্দির অতিক্রম করার পর, সবশেষে প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দীর {{দেখুন | নাম = কুমারপাল মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.48167709241794| দ্রাঘিমাংশ = 71.79438283616372| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অবস্থিত। * একই পথে ডানদিকে কেশবজি নায়ক মন্দিরের পর {{দেখুন | নাম = সমবসরণ| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482347| দ্রাঘিমাংশ = 71.795007| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} এবং {{দেখুন | নাম = শামলা আমিজারা পার্শ্বনাথ মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482357| দ্রাঘিমাংশ = 71.794860| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} অতিক্রম করে {{দেখুন | নাম = সোথাম্ভা মন্দির| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.482192| দ্রাঘিমাংশ = 71.794412| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} পৌঁছানো যায়। ১৬৮৬ বঙ্গাব্দে নির্মিত এই মন্দিরে চমৎকার খোদাই করা ১০০-এরও বেশি স্তম্ভ রয়েছে। এটি বাঘান পোলের মন্দিরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু। কাছেই একটি নিম গাছ রয়েছে, যার নিচে বীর বিক্রমশির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি {{দেখুন | নাম = স্মারক পাথর| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481985172402055| দ্রাঘিমাংশ = 71.79437806008161| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} রয়েছে। তিনি একটি সিংহের সাথে লড়াই করে প্রাণ হারান, যে সিংহটি এই মন্দির প্রাঙ্গণকে তীর্থযাত্রীদের জন্য দুর্গম করে তুলে। সামনে এগিয়ে গেলে পরবর্তী তোরণ {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = হাতিপোল| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481781757771017| দ্রাঘিমাংশ = 71.79426406620834| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }} পৌঁছানো যায়, যার দুই পাশে দুটি বড় হাতির মূর্তি রয়েছে। তোরণের বাম দিকে কুমারপাল মন্দিরের পেছন দিয়ে একটি সরু গলি চলে গেছে। এটি আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন {{দেখুন | নাম = সূরজ কুণ্ড| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481168| দ্রাঘিমাংশ = 71.793986| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = }} সহ চারটি জলাশয়ের দিকে নিয়ে যায়। এটি একটি লোককাহিনীর সাথে জড়িত মোরগের খোদাই করা একটি ছোট কুলুঙ্গি দ্বারা চিহ্নিত। অন্য তিনটি জলাশয় হলো ব্রহ্মকুণ্ড, ভীমকুণ্ড এবং ঈশ্বরকুণ্ড। হাতিপোল তোরণটি একটি {{তালিকাভুক্তকরণ | নাম = প্রাঙ্গণ| অন্য = | ঠিকানা = | দিকনির্দেশ = | ফোন = | নিঃশুল্ক_ফোন_নম্বর = | ইমেইল = | ফ্যাক্স = | ইউআরএল = | সময়সূচী = | মূল্য = | অক্ষাংশ = 21.481809531299206| দ্রাঘিমাংশ = 71.79414585358181| শেষ_সম্পাদনা = | বিবরণ = | চিত্র = | inline = | কাউন্টার = | আগমন = | প্রস্থান = | checkin = | checkout = }}-এ গিয়ে খোলে। এর ডান এবং বাম দিকে তোরণ রয়েছে, যা যথাক্রমে পুরুষ ও মহিলা তীর্থযাত্রীদের স্নানের ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যায়। এখানে পূজা বা উপাসনায় অংশ নেওয়ার আগে তারা স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করেন। প্রধান মন্দিরে পূজার লাইনগুলো রঙ-সংকেতযুক্ত টোকেন দ্বারা পরিচালিত হয়, যা এখানকার একটি অফিস থেকে বিতরণ করা হয়। ===তৃতীয় ধাপ=== প্রধান তোরণটি রতনপোলের দিকে নিয়ে যায়। এখানে কেন্দ্রীয় ও প্রধান মন্দিরটি অবস্থিত, যা আরও অনেক মন্দির এবং উপাসনালয় দ্বারা পরিবেষ্টিত। তীর্থযাত্রীরা এখানে প্রধান দেবতা আদিনাথকে শ্রদ্ধা জানান এবং পূজা করেন। ==নিরাপদ থাকুন== {{রূপরেখা ভ্রমণপথ}} {{সম্পর্কিত|পালিতানা}} {{ভ্রমণপথের অংশ|দক্ষিণ এশিয়া ভ্রমণপথ}} c1muh74wahu8xncoisgm98kdyuwci3i ব্যবহারকারী:Borhan/ইনকা পার্বত্য অঞ্চল 2 9048 77293 77278 2026-08-30T03:48:46Z Borhan 2605 77293 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা|লিমায়]] এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) ACZ ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো|কুসকোতে]] পৌঁছানোর পর সরাসরি [[পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় ACZ ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট (Sun Gate) হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা মাউন্ট সালকান্তায়]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল (Lares valley trek): এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো|ওলানতাইতাম্বোতে]] গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * মাউন্ট সালকান্তায় হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ক্লাসিক ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা|মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[Santa Teresa (La Convención)|সান্তা তেরেসা]] বা হাইড্রোইলেকট্রিক (জলবিদ্যুৎ বাঁধ) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা|কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা হাইড্রোইলেকট্রিক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল" (Cachiccata trek), যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল" (Ancascocha trek), যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (Ausangate trek) (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেস]]-এ থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} sy85q6hs3lhvfqqvol6wzqrlij24w3s 77294 77293 2026-08-30T03:49:33Z Borhan 2605 /* ভ্রমণ পরিকল্পনা */ 77294 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা|লিমায়]] এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) ACZ ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো|কুসকোতে]] পৌঁছানোর পর সরাসরি [[পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় ACZ ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট (Sun Gate) হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা মাউন্ট সালকান্তায়]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল (Lares valley trek): এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো|ওলানতাইতাম্বোতে]] গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * মাউন্ট সালকান্তায় হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ক্লাসিক ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা|মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[Santa Teresa (La Convención)|সান্তা তেরেসা]] বা হাইড্রোইলেকট্রিক (জলবিদ্যুৎ বাঁধ) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা|কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা হাইড্রোইলেকট্রিক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল" (Cachiccata trek), যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল" (Ancascocha trek), যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (Ausangate trek) (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেস]]-এ থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} j2753sbh64ivow3rxgfeibolzs1mr3v 77295 77294 2026-08-30T03:57:58Z Borhan 2605 /* লিমা */ 77295 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) ACZ ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো|কুসকোতে]] পৌঁছানোর পর সরাসরি [[পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় ACZ ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট (Sun Gate) হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা মাউন্ট সালকান্তায়]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল (Lares valley trek): এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো|ওলানতাইতাম্বোতে]] গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * মাউন্ট সালকান্তায় হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ক্লাসিক ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা|মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[Santa Teresa (La Convención)|সান্তা তেরেসা]] বা হাইড্রোইলেকট্রিক (জলবিদ্যুৎ বাঁধ) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা|কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা হাইড্রোইলেকট্রিক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল" (Cachiccata trek), যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল" (Ancascocha trek), যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (Ausangate trek) (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেস]]-এ থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} j869yzfjcipnp32uuadiu7l126862vv 77296 77295 2026-08-30T03:59:02Z Borhan 2605 /* লিমা */ 77296 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো|কুসকোতে]] পৌঁছানোর পর সরাসরি [[পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় ACZ ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট (Sun Gate) হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা মাউন্ট সালকান্তায়]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল (Lares valley trek): এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো|ওলানতাইতাম্বোতে]] গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * মাউন্ট সালকান্তায় হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ক্লাসিক ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা|মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[Santa Teresa (La Convención)|সান্তা তেরেসা]] বা হাইড্রোইলেকট্রিক (জলবিদ্যুৎ বাঁধ) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা|কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা হাইড্রোইলেকট্রিক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল" (Cachiccata trek), যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল" (Ancascocha trek), যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (Ausangate trek) (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেস]]-এ থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} 4cwk32qs1o7wkcclpvm9cv3pvgdkhsd 77297 77296 2026-08-30T03:59:53Z Borhan 2605 /* পবিত্র উপত্যকা */ 77297 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় ACZ ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট (Sun Gate) হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা মাউন্ট সালকান্তায়]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল (Lares valley trek): এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো|ওলানতাইতাম্বোতে]] গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * মাউন্ট সালকান্তায় হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ক্লাসিক ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা|মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[Santa Teresa (La Convención)|সান্তা তেরেসা]] বা হাইড্রোইলেকট্রিক (জলবিদ্যুৎ বাঁধ) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা|কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা হাইড্রোইলেকট্রিক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল" (Cachiccata trek), যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল" (Ancascocha trek), যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (Ausangate trek) (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেস]]-এ থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} 69wls5e0pn5gkibbmz6iibhp2omcowg 77298 77297 2026-08-30T04:00:37Z Borhan 2605 /* কুসকো */ 77298 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট (Sun Gate) হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা মাউন্ট সালকান্তায়]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল (Lares valley trek): এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো|ওলানতাইতাম্বোতে]] গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * মাউন্ট সালকান্তায় হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ক্লাসিক ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা|মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[Santa Teresa (La Convención)|সান্তা তেরেসা]] বা হাইড্রোইলেকট্রিক (জলবিদ্যুৎ বাঁধ) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা|কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা হাইড্রোইলেকট্রিক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল" (Cachiccata trek), যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল" (Ancascocha trek), যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (Ausangate trek) (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেস]]-এ থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} ths30ye3rccp43j0ka78r14f9c949y2 77299 77298 2026-08-30T04:02:01Z Borhan 2605 /* ইনকা ট্রেইল */ 77299 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা মাউন্ট সালকান্তায়]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল (Lares valley trek): এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো|ওলানতাইতাম্বোতে]] গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * মাউন্ট সালকান্তায় হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ক্লাসিক ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা|মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[Santa Teresa (La Convención)|সান্তা তেরেসা]] বা হাইড্রোইলেকট্রিক (জলবিদ্যুৎ বাঁধ) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা|কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা হাইড্রোইলেকট্রিক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল" (Cachiccata trek), যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল" (Ancascocha trek), যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (Ausangate trek) (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেস]]-এ থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} 4jweo8r7tqf55rbipcae0bq3mhks5x4 77300 77299 2026-08-30T04:10:27Z Borhan 2605 /* বিকল্প ট্রেকিং পথ */ 77300 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেস]]-এ থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} k23ck68qiw8v4jjzb4tmjwxtqnesr35 77301 77300 2026-08-30T04:15:08Z Borhan 2605 /* মাচু পিচু */ 77301 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[Ollantaytambo|ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[Choquequirao|চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} f1iwno5j5wvv4xmenx08vmzjxrc880x 77302 77301 2026-08-30T04:15:33Z Borhan 2605 /* অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ */ 77302 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা (Q'eswachaka) সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} bqbba65hthmp8ud7t0351ldev44kytg 77303 77302 2026-08-30T04:16:35Z Borhan 2605 /* অন্যান্য দর্শনীয় স্থান */ 77303 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[Ollantaytambo#After_Trekking_to_Machu_Picchu|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} o5tz36tip2rr3jghfozfouhr3vna008 77304 77303 2026-08-30T04:18:11Z Borhan 2605 /* প্রত্যাবর্তন */ 77304 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বোতে#মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} pmh253b0g2w85oy7oifavb741w1aunm 77305 77304 2026-08-30T04:19:19Z Borhan 2605 /* প্রত্যাবর্তন */ 77305 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[Peru#Buy|পেরুর কেনাকাটা]] এবং [[Cusco#Buy|কুসকোর কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার (alpaca) মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। can also be seen on the way to or from Machu Picchu. [[Pisaq|পিসাকের]] (Pisaq) রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} bqnvwsxdipl59dguv09k4mehfwhywht 77306 77305 2026-08-30T04:21:18Z Borhan 2605 /* কেনাকাটা */ 77306 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপত্তা== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে স্কিইং বা উচ্চ পর্বত আরোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[altitude sickness|উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] (altitude sickness)। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} bzr2eve0anvnfysxyvkhq8vpjsdnyvg 77307 77306 2026-08-30T04:23:55Z Borhan 2605 /* নিরাপত্তা */ 77307 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (ACZ) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই ACZ ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} miynhckyuzut6jyces5g7j4nk3p73fo 77308 77307 2026-08-30T04:25:11Z Borhan 2605 77308 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড (অ্যাসিটাজোলামাইড) খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেস-এ ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন হ্যাংওভারের জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} 29yj16drr2vo4m74h7okqd8mbju5gbz 77309 77308 2026-08-30T04:35:58Z Borhan 2605 /* উচ্চতাজনিত অসুস্থতা */ 77309 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং মদ পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেসে ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন মদ্যপানের পরের অসুস্থতা কমানোর জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[Sunburn and sun protection|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা (সানগ্লাস), ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সান-ব্লকিং লিপবাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} cea6g299zf1o4gez98xy0gsk6lb8kw1 77310 77309 2026-08-30T04:40:50Z Borhan 2605 /* উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব */ 77310 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং মদ পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেসে ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন মদ্যপানের পরের অসুস্থতা কমানোর জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[রোদে পোড়া ও রোদ সুরক্ষা|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা, ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি প্রতিরোধকারী ঠোঁটের বাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ত্বক আর্দ্র রাখার প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Peru#Stay safe|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[Peru#Stay healthy|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[Inca Trail#Stay safe|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[yellow fever|পীতজ্বরের]] (yellow fever) টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি অ্যামাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} 2x0frelirn7tonpwbxsu6cntehkjfub 77311 77310 2026-08-30T04:44:11Z Borhan 2605 /* অন্যান্য সতর্কতা */ 77311 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং মদ পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেসে ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন মদ্যপানের পরের অসুস্থতা কমানোর জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[রোদে পোড়া ও রোদ সুরক্ষা|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা, ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি প্রতিরোধকারী ঠোঁটের বাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ত্বক আর্দ্র রাখার প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[পেরু#নিরাপদ থাকুন|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[পেরু#সুস্থ থাকুন|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[ইনকা ট্রেইল#নিরাপদ থাকুন|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[পীতজ্বর|পীতজ্বরের]] টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি আমাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু|পেরুতে]] আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[Peru#Other destinations|পেরুর অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[Cusco#Go next|কুসকোর পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[Manú National Park|মানু জাতীয় উদ্যান]] (Manú National Park): কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[Nazca Lines|নাজকা রেখা]] (Nazca Lines): কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[Lake Titicaca|টিটিকাকা হ্রদ]] (Lake Titicaca): [[Puno|পুনোকে]] কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেল]-এর ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[Bolivia|বলিভিয়া]], যা [[La Paz|লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} h73hdb0dmqwy7wac4b2zf2iddv9qkww 77312 77311 2026-08-30T04:49:20Z Borhan 2605 /* পরবর্তী গন্তব্য */ 77312 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ট্যুর কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ট্যুর প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ট্যুরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ট্যুর প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং মদ পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেসে ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন মদ্যপানের পরের অসুস্থতা কমানোর জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[রোদে পোড়া ও রোদ সুরক্ষা|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা, ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি প্রতিরোধকারী ঠোঁটের বাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ত্বক আর্দ্র রাখার প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[পেরু#নিরাপদ থাকুন|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[পেরু#সুস্থ থাকুন|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[ইনকা ট্রেইল#নিরাপদ থাকুন|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[পীতজ্বর|পীতজ্বরের]] টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি আমাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু]]তে আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[পেরু#অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[কুসকো#পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[মানু জাতীয় উদ্যান]]: কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ট্যুরের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[নাজকা রেখা]]: কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[টিটিকাকা হ্রদ]]: [[পুনো]]কে কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেলের] ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[বলিভিয়া]], যা [[লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} 5fckqkuc09r10n7ywpme1ndmxkdvb8i 77313 77312 2026-08-30T04:50:01Z Borhan 2605 77313 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ভ্রমণ কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ভ্রমণ কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ভ্রমণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ভ্রমণ প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং মদ পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেসে ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন মদ্যপানের পরের অসুস্থতা কমানোর জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[রোদে পোড়া ও রোদ সুরক্ষা|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা, ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি প্রতিরোধকারী ঠোঁটের বাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ত্বক আর্দ্র রাখার প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[পেরু#নিরাপদ থাকুন|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[পেরু#সুস্থ থাকুন|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[ইনকা ট্রেইল#নিরাপদ থাকুন|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[পীতজ্বর|পীতজ্বরের]] টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি আমাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু]]তে আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[পেরু#অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[কুসকো#পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[মানু জাতীয় উদ্যান]]: কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ভ্রমণের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[নাজকা রেখা]]: কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[টিটিকাকা হ্রদ]]: [[পুনো]]কে কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেলের] ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[বলিভিয়া]], যা [[লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} jchm4je7stkrhexvp2frzrug7mb8iav 77314 77313 2026-08-30T04:51:57Z Borhan 2605 /* পরবর্তী গন্তব্য */ 77314 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ভ্রমণ কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ভ্রমণ কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ভ্রমণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ভ্রমণ প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং মদ পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেসে ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন মদ্যপানের পরের অসুস্থতা কমানোর জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[রোদে পোড়া ও রোদ সুরক্ষা|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা, ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি প্রতিরোধকারী ঠোঁটের বাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ত্বক আর্দ্র রাখার প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[পেরু#নিরাপদ থাকুন|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[পেরু#সুস্থ থাকুন|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[ইনকা ট্রেইল#নিরাপদ থাকুন|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[পীতজ্বর|পীতজ্বরের]] টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি আমাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু]]তে আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[পেরু#অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[কুসকো#পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[মানু জাতীয় উদ্যান]]: কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ভ্রমণের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[নাজকা রেখা]]: কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[টিটিকাকা হ্রদ]]: [[পুনো]]কে কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেলের] ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[বলিভিয়া]], যা [[লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{#related:Inca Trail}} {{#related:Machu Picchu}} {{#related:Cuzco}} {{#related:Andes}} {{stbox|status=ব্যবহারযোগ্য|type=ভ্রমণপথ}} {{#switch:{{NAMESPACE}}|{{ns:0}}|{{ns:14}}={{#if: South America itineraries |{{#isin:South America itineraries}}{{#ifexist:বিষয়শ্রেণী:South America itineraries|[[বিষয়শ্রেণী:South America itineraries]]|[[File:Categorisation-hierarchy-top2down.svg|alt=বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন|15px|link=//bn.wikivoyage.org/w/index.php?title={{urlencode:বিষয়শ্রেণী:South America itineraries}}&action=edit&preload=টেমপ্লেট:ভ্রমণপথের অংশ/প্রাকলোড]] [[বিষয়শ্রেণী:ভ্রমণপথ যার বিষয়শ্রেণী প্রয়োজন]]}}|:''এই নিবন্ধটি '''[[ভ্রমণপথ|ভ্রমণপথ]]''' সম্পর্কিত''।[[বিষয়শ্রেণী:Itinerary lacking parameter]]}} {{#if: |{{#ifexist:বিষয়শ্রেণী:{{{2}}} ভ্রমণপথ|[[বিষয়শ্রেণী:{{{2}}} ভ্রমণপথ]]|[[File:Categorisation-hierarchy-top2down.svg|alt=বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন|15px|link=//bn.wikivoyage.org/w/index.php?title={{urlencode:বিষয়শ্রেণী:{{{2}}} ভ্রমণপথ}}&action=edit&preload=টেমপ্লেট:ভ্রমণপথের অংশ/এতেপ্রাকলোড]] [[বিষয়শ্রেণী:ভ্রমণপথ যার বিষয়শ্রেণী প্রয়োজন]]}}| }}[[বিষয়শ্রেণী:ভ্রমণপথ]]| #default =<!-- Don't categorize when not in main (article) space or a category. -->}}{{#ifeq:{{#invoke:wikibase|disambig}}|false||[[বিষয়শ্রেণী:Pages linked to a data item for a disambiguation]]}} lemtkaes5svesaemp41e2zk87b75sz5 77315 77314 2026-08-30T04:52:25Z Borhan 2605 [[Special:Contributions/Borhan|Borhan]] ([[User talk:Borhan|আলাপ]])-এর সম্পাদিত [[Special:Diff/77314|77314]] নম্বর সংশোধনটি বাতিল করা হয়েছে 77315 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ভ্রমণ কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ভ্রমণ কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ভ্রমণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ভ্রমণ প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং মদ পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেসে ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন মদ্যপানের পরের অসুস্থতা কমানোর জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[রোদে পোড়া ও রোদ সুরক্ষা|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা, ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি প্রতিরোধকারী ঠোঁটের বাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ত্বক আর্দ্র রাখার প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[পেরু#নিরাপদ থাকুন|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[পেরু#সুস্থ থাকুন|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[ইনকা ট্রেইল#নিরাপদ থাকুন|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[পীতজ্বর|পীতজ্বরের]] টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি আমাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু]]তে আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[পেরু#অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[কুসকো#পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[মানু জাতীয় উদ্যান]]: কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ভ্রমণের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[নাজকা রেখা]]: কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[টিটিকাকা হ্রদ]]: [[পুনো]]কে কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেলের] ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[বলিভিয়া]], যা [[লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{Related|Inca Trail}} {{Related|Machu Picchu}} {{Related|Cuzco}} {{Related|Andes}} {{usableitinerary}} {{PartOfItinerary|South America itineraries}} jchm4je7stkrhexvp2frzrug7mb8iav 77316 77315 2026-08-30T04:56:48Z Borhan 2605 /* পরবর্তী গন্তব্য */ 77316 wikitext text/x-wiki {{pagebanner|Inca Highlands banner Machu Picchu.JPG}} [[পেরু]]র ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রস্থল হলো '''ইনকা পার্বত্য অঞ্চল'''। এখানে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত [[মাচু পিচু]] এবং সেখানে যাওয়ার [[ইনকা ট্রেইল]] অন্যতম। ইনকাদের রাজধানী [[কুসকো]] শহর ও এর আশেপাশে এবং পার্শ্ববর্তী [[পবিত্র উপত্যকা]]য় আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে ট্রেকিং এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খেলার সুযোগ রয়েছে। ==জানুন== [[কুসকো]] ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং এই অঞ্চলটি ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হলো [[মাচু পিচু]] এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং পথ হলো [[ইনকা ট্রেইল]]। তবে এই এলাকায় আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। কুসকো শহরটি নিজেই সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে গেলে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং দুর্গম অঞ্চল, যা জীবনে অন্তত একবার ঘুরে দেখার মতো এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসকো বেশ উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলসহ এখানকার বেশিরভাগ ট্রেকিং পথই বেশ কঠিন এবং অনেক উঁচুতে অবস্থিত। ইনকা ট্রেইলে ৪,২০০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। তাই এখানে [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]] একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তবে পবিত্র উপত্যকার উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। তাই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এখানে কিছুদিন থাকা ভালো। এরপর কুসকোতে যাওয়া উচিত। মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। তাই কুসকো থেকে সেখানে যাওয়া সহজ। অন্যান্য ট্রেকিং পথগুলোর মধ্যে কিছু পথ কম উচ্চতার ও সহজ হতে পারে, যেমন লারেস উপত্যকা ট্রেইল। আবার কিছু পথ আরও উঁচুতে এবং কঠিন হতে পারে, যেমন [[সালকান্তায় ট্রেইল]]। বিস্তারিত জানতে নিচে [[#নিরাপদ থাকুন|নিরাপদ থাকুন]] অংশটি দেখুন ==প্রস্তুতি== উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া (বিশেষ করে ট্রেকিং বা অন্য কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ শুরু করার আগে) এবং দুর্গমতার কারণে এখানে ভ্রমণের একটি সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রথমে হালকা ঘোরাঘুরি করে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়, তারপর মূল ট্রেকিং এবং সবশেষে বাড়ি ফেরা। বিস্তারিত জানতে [[ইনকা ট্রেইল#প্রস্তুতি|ইনকা ট্রেইল প্রস্তুতি]] অংশটি দেখুন। মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: * আপনি যদি ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চান: ** অন্তত ৬ মাস আগে বুকিং করুন: ইনকা ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট কেটে রাখতে হয়। ** এই ট্রেইলে যাওয়ার জন্য একটি ভ্রমণ কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার পছন্দের ট্রেকিংয়ের ধরন অনুযায়ী সাবধানে কোম্পানি নির্বাচন করুন। বিশেষ করে তারা তাদের কর্মী ও মালবাহকদের সাথে কেমন আচরণ করে, সে বিষয়ে খোঁজ নিন। * অন্যান্য ট্রেইলে ট্রেকিং করতে চাইলে: ** আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। কুসকোতে পৌঁছানোর পর এক বা দুই দিন আগেও বুকিং করতে পারেন। ** কোনো ভ্রমণ কোম্পানির সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য তাদের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। * ট্রেকিংয়ের সরঞ্জাম কিনে নিন অথবা ভাড়া করার পরিকল্পনা করুন। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নতুন জুতো পরে অভ্যস্ত হয়ে নিন। * উচ্চতাজনিত অসুস্থতা রোধ করতে অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ সাথে রাখার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাখুন। এটি পেরুতেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আগে থেকে সাথে রাখাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ==কীভাবে যাবেন== [[পেরু#যেভাবে যাবেন|পেরু যেভাবে যাবেন]] অংশটি দেখুন। প্রথমে বিমানে লিমায় পৌঁছান, তারপর সেখান থেকে কুসকোতে যান। লিমা থেকে কুসকো পর্যন্ত বাসেও যাওয়া যায়, তবে এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। ==আশেপাশে ঘোরাঘুরি== দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গাড়ি ও চালক ভাড়া করা, বিশেষ করে কোনো ভ্রমণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য প্রধান পর্যটন স্থানগুলোতে চলাচলকারী বাস ব্যবহার করতে পারেন। মাচু পিচুতে যাওয়া-আসার জন্য ট্রেনই প্রধান মাধ্যম। হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আপনার যদি চলাফেরায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে ইনকা ট্রেইলের মতো কঠিন পথগুলোতে ট্রেকিং করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ঘোড়ায় চড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে এবং মাচু পিচুও ঘুরে দেখা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য ''[http://www.apumayo.com/en/ আপুমায়ো অভিযান] {{dead link|June 2020|December 2020}}'' সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত ভ্রমণ প্রতিনিধি সংস্থা। তারা বিভিন্ন ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রদান করে (যেমন: [http://www.apumayo.com/en/accesible-programs-special-needs/accessible-trip-to-the-inca-land-11-days-10-nights ইনকা ভূমিতে সহজপ্রাপ্য ভ্রমণ] {{dead link|December 2020}})। ==ভ্রমণ পরিকল্পনা== ইনকা পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু হয় বিমানে [[লিমা]]য় পৌঁছানোর মাধ্যমে। এরপর সেখান থেকে বিমানে কুসকোতে যেতে হয়। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকা]] ও কুসকোতে কয়েক দিন সময় কাটানো উচিত। এরপর ইনকা ট্রেইলে ৪ দিনের ট্রেকিং শেষ করে মাচু পিচু পৌঁছানো যায়। সবশেষে কুসকো ও লিমায় ফিরে এসে নিজ দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এই পুরো ভ্রমণে ৮ বা তার বেশি দিন সময় লাগে। যাতায়াত এবং নিরাপদে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন, তবে এটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মতো মনে হতে পারে। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে সুবিধা হয়। যেমন, যাওয়া বা আসার পথে লিমায় এক বা দুই দিন কাটাতে পারেন। [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] এক রাত থাকলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া কুসকো এবং পবিত্র উপত্যকার আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম রয়েছে। অতিরিক্ত সময় হাতে রাখলে যেকোনো বিলম্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় কুসকোর বিমান বাতিল হতে পারে এবং ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আরও অনেক বিকল্প ট্রেকিং পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন পথ দিয়ে মাচু পিচুতে গিয়ে শেষ হয়। বেশিরভাগ পর্যটকের মতো আপনিও কুসকো থেকে ট্রেনে করে দিনে দিনে বা এক রাত থেকে মাচু পিচু ঘুরে আসতে পারেন। কয়েক দিনের ট্রেকিং বাদ দিলে ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আরও ছোট, নমনীয় এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের হতে পারে। যাতায়াতসহ ৫ দিনের একটি সফরও সম্ভব (লিমা, কুসকো, মাচু পিচু এবং ফেরা)। তবে দূরত্বের তুলনায় এই সময়টা খুবই কম। ৬ বা ৭ দিনের সফর অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে, যার মধ্যে পাহাড়ে একদিনের হাইকিংও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ===লিমা=== বিমানে [[লিমা]]য় এসে রাতে সেখানে অবস্থান করুন। কুসকোর বেশিরভাগ বিমান সকালের দিকে ছেড়ে যায়, যাতে দিনের আলো পাওয়া যায় এবং কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া যায়। উচ্চতায় ওঠার একদিন আগে (ভ্রমণের দিন বা লিমায় প্রথম দিন) অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। আপনার যদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে দুই দিন আগে থেকেই এটি শুরু করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটি একটি আকর্ষণীয় শহর, তবে এটি আপনার ভ্রমণের মূল লক্ষ্য নয়। ===পবিত্র উপত্যকা=== বিমানে [[কুসকো]]তে পৌঁছানোর পর সরাসরি [[ইনকার পবিত্র উপত্যকা|পবিত্র উপত্যকায়]] চলে যান (এটি ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত সুপারিশকৃত)। সেখানে শান্তভাবে বিশ্রাম নিন এবং প্রকৃতি উপভোগ করুন। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রথম রাতটি উপত্যকাতেই কাটান। পরদিন উপত্যকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন। এরপর কুসকোর দিকে রওনা হতে পারেন অথবা উচ্চতার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে এবং আরও দর্শনীয় স্থান দেখতে উপত্যকায় আরও একদিন কাটাতে পারেন। আপনি কুসকো থেকেও দিনে দিনে পবিত্র উপত্যকা ঘুরে আসতে পারেন। ===কুসকো=== [[কুসকো]] হলো ইনকা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদেশ ঘাঁটি। প্রথম দিনটি শান্তভাবে কাটান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে এখানে অন্তত দুই রাত কাটান এবং শহর ও এর চারপাশ উপভোগ করুন। আপনি যদি উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রথম রাতেই কুসকোতে ঘুমান, তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আপনার শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ===ট্রেকিং=== ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যা এই ভ্রমণ পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ। ====ইনকা ট্রেইল==== [[ইনকা ট্রেইল|ইনকা ট্রেইলের]] নিজস্ব কয়েকটি ধরন রয়েছে। সাধারণত আপনাকে ট্রেন বা সড়কপথে ট্রেইলের শুরুতে যেতে হবে, যা ৮২ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে শুরু হয় (অথবা ৭৭ বা ৮৮ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকেও শুরু করা যায়, যেগুলোতে কিছুটা বেশি হাঁটতে হয়)। এরপর ট্রেইলে ৪ দিন ও ৩ রাত কাটাতে হয়। চাইলে আগুয়াস কালিয়েন্তেসে অতিরিক্ত এক দিন ও এক রাত কাটানো যায় (৫ দিন/৪ রাত)। এছাড়া ১০৪ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে ২ দিনের একটি বিকল্প পথও রয়েছে, যেখানে কেবল ট্রেইলের শেষ অংশ ধরে সান গেট হয়ে হাইকিং করা হয়। ====বিকল্প ট্রেকিং পথ==== [[File:Salkantay.JPG|thumb|সালকান্তায় ট্রেকিংয়ের সময় দেখা সালকান্তায় পর্বত]] বিকল্প ট্রেকিং পথগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। এগুলোতে ভিড় কম থাকে, অভিজ্ঞতা বেশ অনন্য হয় এবং বৈচিত্র্যময় সুযোগ থাকে (ভিন্ন দর্শনীয় স্থান, দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত পথ, কম বা বেশি কঠিন)। এগুলোর জন্য আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন হয় না, মালামাল বহনের জন্য পশু (খচ্চর, ঘোড়া বা লামা) ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। কঠিনতার ক্রমানুসারে তিনটি প্রধান বিকল্প পথ নিচে দেওয়া হলো: * পবিত্র উপত্যকা থেকে লারেস উপত্যকা ট্রেইল: এটি কম উচ্চতার এবং বেশ সহজ (সাধারণত ৪ দিনের নমনীয় সফর)। *: এই ট্রেইলটি [[ওলানতাইতাম্বো]]তে গিয়ে শেষ হতে পারে, যেখান থেকে ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * সালকান্তায় পর্বত হয়ে [[সালকান্তায় ট্রেইল]] (৫ দিন, ৭৫ কিমি, সর্বোচ্চ ৪,৬০০ মিটার উচ্চতা) *: এটি একই এলাকায় অবস্থিত, তবে ইনকা ট্রেইলের চেয়ে উঁচুতে এবং কিছুটা বেশি কঠিন। এটি [[মোল্লেপাতা]] থেকে শুরু হয় এবং মাচু পিচুর কাছে [[সান্তা তেরেসা]] বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে অল্প পথ হেঁটে বা ট্রেনে করে মাচু পিচুতে যাওয়া যায়। * [[চোকেকিরাও]] (মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, যার ধ্বংসাবশেষ আরও বড় এবং পর্যটকদের ভিড় অনেক কম) হয়ে মাচু পিচু (৮ দিনের কঠিন ট্রেইল) *: এটি [[কাচোরা]] থেকে শুরু হয়। চোকেকিরাও পর্যন্ত ২ দিনের হাইকিং করার পর সেখান থেকে ফিরে আসা যায় অথবা মাচু পিচুর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ও কঠিন হাইকিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সালকান্তায় ট্রেইলের মতোই এটিও সান্তা তেরেসা বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এই বিকল্প ট্রেইলগুলো সান গেট হয়ে মাচু পিচুতে প্রবেশ করে না, বরং নিচের শহরটি দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য কিছু ট্রেইলে কেবল পাহাড়, গ্রাম এবং বন্যপ্রাণী উপভোগ করা যায়। এগুলোর আরও কিছু রূপভেদ রয়েছে, যেগুলোর নাম প্রায়শই কোনো গ্রাম, পাহাড় বা গিরিপথের নামানুসারে রাখা হয়। যেমন ওলানতাইতাম্বোর কাছের একটি গ্রামের নামানুসারে "কাচিক্কাতা ট্রেইল", যা মূলত লারেস উপত্যকা ট্রেইলের পশ্চিম বা শেষ অংশ; এবং "আঙ্কাসকোচা ট্রেইল", যা সালকান্তায় ট্রেইলের একটি রূপভেদ এবং একটি গিরিপথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। মাচু পিচু এলাকার বাইরে আরও দূরের কিছু ট্রেইল: * আউসানগাতে ট্রেইল (৫ থেকে ৭ দিন): এটি কুসকোর পূর্ব দিকের পাহাড়ে অবস্থিত (মাচু পিচুর বিপরীত দিকে)। ===মাচু পিচু=== [[মাচু পিচু]] হলো এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে আপনি কখন পৌঁছাবেন, কতক্ষণ সময় কাটাবেন এবং কোন কোন পার্শ্ববর্তী স্থানে ঘুরবেন তা পরিবর্তনশীল। মাচু পিচুতে পৌঁছানোর দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি সকাল সকাল পৌঁছান (৪ দিন/৩ রাতের ট্রেকিং)। তবে দুপুরের পর (অন্যান্য পর্যটকরা চলে যাওয়ার পর) সেখানে সময় কাটানো এবং রাতে [[আগুয়াস কালিয়েন্তেস|আগুয়াস কালিয়েন্তেসে]] থাকা (৫ দিন/৪ রাতের ট্রেকিং) অনেক বেশি আরামদায়ক। এতে ট্রেকিংয়ের পর বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে মাচু পিচু ঘুরে দেখা যায়। ===অন্যান্য ইনকা ধ্বংসাবশেষ=== [[ওলানতাইতাম্বো]] হলো আরেকটি প্রধান ইনকা ধ্বংসাবশেষ। কুসকো থেকে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এটি লারেস উপত্যকা ট্রেইলের শেষ প্রান্ত এবং সড়ক বা রেলপথে মাচু পিচু যাওয়ার পথেই পড়ে। তাই মাচু পিচু যাওয়া বা আসার পথে এটি দেখে নেওয়া যায়। [[চোকেকিরাও]] মাচু পিচুর মতোই একটি স্থান, তবে এটি অনেক কম পরিচিত। এটিও পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এবং ট্রেকিং করে এখানে পৌঁছানো যায়। ===অন্যান্য দর্শনীয় স্থান=== এই অঞ্চলে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। [[File:IRB-8-NewBridgeSideView-KC603-11.jpg|thumb|নতুনভাবে সংস্কারকৃত কেষুয়াচাকা সেতু]] কেষুয়াচাকা সেতুটি ইনকাদের তৈরি সর্বশেষ টিকে থাকা দড়ির সেতু, যা প্রতি বছর জুন মাসে নতুন করে তৈরি করা হয়। এটি কুসকোর দক্ষিণে কানাস প্রদেশের হুইনচিরির কাছে আপুরিম্যাক নদীর ওপর অবস্থিত এবং এটি ধীরে ধীরে একটি পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। ===প্রত্যাবর্তন=== মাচু পিচু থেকে ফেরার পথে আপনি পবিত্র উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে থামতে পারেন, বিশেষ করে ওলানতাইতাম্বোতে। বিস্তারিত জানতে [[ওলানতাইতাম্বো#মাচু পিচুতে ট্রেকিং পরবর্তী|মাচু পিচুতে ট্রেকিংয়ের পর ওলানতাইতাম্বো]] অংশটি দেখুন। ফেরার পথে কুসকো বা লিমায় একটি দিন কাটানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে যাত্রাপথে কোনো বিলম্ব হলে তা সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় আপনি হয়তো কুসকো শহরটি ভালোভাবেই ঘুরে ফেলেছেন, আর লিমায় ভ্রমণ শেষ করাটা কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই কুসকো থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। ==কেনাকাটা== কী কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সে সম্পর্কে জানতে [[পেরু#কেনাকাটা|পেরুতে কেনাকাটা]] এবং [[কুসকো#কেনাকাটা|কুসকোতে কেনাকাটা]] অংশগুলো দেখুন। এই ভ্রমণপথের সব জায়গাতেই একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তবে দাম ও মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। স্যুভেনির, বিশেষ করে আলপাকার মতো মানসম্মত জিনিসপত্র কেনার জন্য কুসকো এবং লিমা সবচেয়ে ভালো জায়গা (মান নিশ্চিত করতে নামী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনুন)। কুসকো শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখা যায়, তাই সেখানে কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ। আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং মাচু পিচুতে জিনিসের দাম অনেক বেশি, তাই কুসকো থেকেই কেনাকাটা করা ভালো। [[পিসাক|পিসাকের]] রবিবারের বাজারটিও কেনাকাটার জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। ভ্রমণের শেষ দিকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, যাতে পুরো যাত্রাপথে আপনাকে ভারী জিনিসপত্র বয়ে বেড়াতে না হয়। ==নিরাপদ থাকুন== এখানকার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চতা। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ও শুষ্ক বাতাস) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আগে তিব্বত, বলিভিয়া, কলোরাডোর উঁচু পাহাড়ে উচ্চ পর্বতারোহণ না করে থাকেন, তবে এটিই হতে যাচ্ছে আপনার জীবনের সবচেয়ে উঁচুতে ভ্রমণ। এটি বেশ উঁচুতে হলেও চরম মাত্রার নয়। ===উচ্চতাজনিত অসুস্থতা=== সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো [[উচ্চতাজনিত অসুস্থতা]]। লিমার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এবং এটি খুব বেশি উঁচুতে নয়, অন্যদিকে কুসকো অনেক উঁচুতে (৩,৪০০ মিটার) অবস্থিত। লিমা থেকে বিমানে এসে প্রথম রাতেই কুসকোতে অবস্থান করা পর্যটকদের প্রায় ৫০% উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইনকা ট্রেইল আরও উঁচুতে অবস্থিত, যা ৪,২০০ মিটার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখানে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘুমাতে হয়। অন্যদিকে মাচু পিচু খুব বেশি উঁচুতে নয় (প্রায় ২,৪০০ মিটার)। পবিত্র উপত্যকাও কুসকোর চেয়ে বেশ নিচুতে অবস্থিত, তবে এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (প্রায় ২,৮০০ মিটার)। দ্রুত উঁচুতে ওঠাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদ, আর এর প্রধান সমাধান হলো ধীরে ধীরে উঁচুতে ওঠা। রাতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাই আপনি কত উচ্চতায় ঘুমাচ্ছেন তার ওপর অসুস্থতা নির্ভর করে এবং এটিই আপনাকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সুতরাং, সরাসরি বিমানে কুসকোতে এসে প্রথম রাতেই সেখানে ঘুমালে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর কুসকোতে নেমেই সাথে সাথে ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করাটা হবে চরম বোকামি। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ ও কমাতে কুসকোতে পৌঁছানোর পর সরাসরি পবিত্র উপত্যকায় চলে যান। উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। সেখানে এক বা দুই রাত কাটান। এরপর কুসকোতে গিয়ে দুই রাত কাটিয়ে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিন এবং তারপর ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং শুরু করুন। এতেও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তবে তা অনেক কম এবং মৃদু হয়। এছাড়া প্রথম কয়েক দিন শান্তভাবে কাটান, বেশি করে পানি পান করুন (স্বাভাবিকের চেয়ে এক লিটার বেশি) এবং মদ পরিহার করুন (যা শরীরকে পানিশূন্য করে)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিচের দিকে নেমে যান (ওষুধ এবং অক্সিজেন সাময়িক সাহায্য করতে পারে, তবে নিচে নেমে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান)। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আপনি উঁচুতে ওঠার আগে এবং ওঠার সময় অ্যাসিটাজোলামাইড খেতে পারেন। এটি উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এটি মূলত প্রতিরোধের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়। সাধারণত এর জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয়, তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। এই ওষুধটি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে (তাই বেশি করে পানি পান করুন) এবং হাত ও পায়ের আঙুলে কিছুটা ঝিমঝিম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি আগে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি প্রথম রাতটি পবিত্র উপত্যকার পরিবর্তে কুসকোতে কাটান, তবে কোনো শারীরিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই অ্যাসিটাজোলামাইড ওষুধ খাওয়া উচিত। আপনার যদি এমন কোনো ইতিহাস না থাকে এবং আপনি যদি পবিত্র উপত্যকায় এক বা দুই রাত কাটান, তবে এটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কম, তবুও সতর্কতার জন্য খাওয়া ভালো। বর্তমান [http://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2016/the-pre-travel-consultation/altitude-illness সিডিসির নির্দেশিকা] অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিগ্রামের ওষুধ দিনে দুইবার (প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর) খেতে হবে। উঁচুতে পৌঁছানোর পর প্রথম ২ দিন বা আরও উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উঁচুতে ওঠার আগের দিন (লিমায় বা পেরু ভ্রমণের সময়) এবং এরপর উঁচুতে থাকার প্রতিদিন এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এখানে বারবার উঁচুতে উঠতে হয় (কুসকো, ইনকা ট্রেইল এবং নিচু মাচু পিচু থেকে আবার উঁচুতে অবস্থিত কুসকোতে ফেরা)। ট্রেইলের সর্বোচ্চ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর আপনি এই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারেন, কারণ এরপর থেকে কেবল নিচের দিকে নামতে হয় (আগুয়াস কালিয়েন্তেসে ঐচ্ছিক এক রাত ছাড়া)। ২৫০ মিলিগ্রামের ওষুধ বেশি কার্যকর হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আপনার ঝুঁকি বেশি থাকলে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত ১২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট থাকলে প্রয়োজনে ডোজ দ্বিগুণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি ওষুধ সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উচ্চতার সাথে আপনার শরীর কেমন মানিয়ে নিচ্ছে তা পরীক্ষা করতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য একটি পালস অক্সিমিটার সাথে রাখতে পারেন। কোকা (চা, পাতা চিবানো বা ক্যান্ডি হিসেবে) একটি মৃদু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এটি লক্ষণগুলো উপশম করতে কিছুটা সাহায্য করে (যেমন মদ্যপানের পরের অসুস্থতা কমানোর জন্য কফি)। তবে এটি আপনাকে দ্রুত উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে না। আপনি যদি ভ্রমণের ঠিক আগে স্কুবা ডাইভিং করে থাকেন, তবে উঁচুতে ওঠার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে স্কুবা ডাইভিং সেন্টারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। এটি পরীক্ষা করার কোনো কার্যকর উপায় নেই এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই যে আপনি আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অসুস্থ শরীর এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ===উচ্চতার অন্যান্য প্রভাব=== [[রোদে পোড়া ও রোদ সুরক্ষা|এখানে রোদের তীব্রতা অনেক বেশি]] এবং বাতাস শুষ্ক থাকে। তাই চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী রোদচশমা, ফুল হাতা পোশাক ব্যবহার করুন। এছাড়া সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০+), সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি প্রতিরোধকারী ঠোঁটের বাম ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চাইলে ত্বক আর্দ্র রাখার প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেশি উচ্চতায় কম বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও রোদ থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ মেঘ অতিবেগুনি রশ্মি আটকাতে পারে না। ===অন্যান্য সতর্কতা=== পেরু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[পেরু#নিরাপদ থাকুন|পেরুর নিরাপত্তা]] এবং [[পেরু#সুস্থ থাকুন|পেরুর স্বাস্থ্য সতর্কতা]])। বিশেষ করে ট্যাপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন (এমনকি দাঁত মাজার জন্যও বোতলজাত বা ফোটানো পানি ব্যবহার করুন)। ইনকা ট্রেইলের জন্যও কিছু বিশেষ সতর্কতা রয়েছে (দেখুন [[ইনকা ট্রেইল#নিরাপদ থাকুন|ইনকা ট্রেইলের নিরাপত্তা]])। বিশেষ করে শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকা, সঠিক সরঞ্জাম সাথে রাখা এবং সাবধানে হাঁটা প্রয়োজন, বিশেষ করে পিচ্ছিল ভেজা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময়। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় চালক নিয়োগ করুন এবং রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল বা দুপুরের দিকে রওনা হোন, সন্ধ্যায় নয়। যেহেতু এটি পার্বত্য অঞ্চল, কোনো জঙ্গল নয়, তাই এখানে [[পীতজ্বর|পীতজ্বরের]] টিকার প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি আমাজন অববাহিকায় যেতে চান, তবে এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ==পরবর্তী গন্তব্য== এই ভ্রমণকে আরও দীর্ঘ করতে বা ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য [[পেরু]]তে আরও অনেক গন্তব্য রয়েছে। বিস্তারিত জানতে [[পেরু#অন্যান্য গন্তব্য]] এবং [[কুসকো#পরবর্তী গন্তব্য]] অংশগুলো দেখুন। সুবিধাজনক কিছু উল্লেখযোগ্য গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে: * [[মানু জাতীয় উদ্যান]]: কুসকো থেকে ৪ থেকে ১০ দিনের ভ্রমণের মাধ্যমে এখানে যাওয়া যায়। এখানে যাওয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা করতে হয়। এটি একটি জঙ্গল এলাকা হওয়ায় পীতজ্বরের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। * [[নাজকা রেখা]]: কুসকো থেকে বাসে অথবা লিমা থেকে বাস বা বিমানে এখানে যাওয়া যায়। এরপর লিমায় ফিরে এসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। এতে আরও এক বা দুই দিন সময় লাগবে। * [[টিটিকাকা হ্রদ]]: [[পুনো]]কে কেন্দ্র করে এই হ্রদটি ঘুরে দেখা যায়। এখানে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিমান যাত্রা, [http://www.perurail.com/ পেরুরেলের] ১০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কিন্তু চমৎকার ট্রেন যাত্রা অথবা সবচেয়ে কম খরচে বাসে করে যাওয়া যায়। * [[বলিভিয়া]], যা [[লা পাজ]] থেকে শুরু করা যায়। যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তাই এটি বেশ সুবিধাজনক হবে। তবে মনে রাখবেন, লা পাজের উঁচু অংশগুলো কুসকোর চেয়েও অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত! {{সম্পর্কিত|ইনকা ট্রেইল}} {{সম্পর্কিত|মাচু পিচু}} {{সম্পর্কিত|কুসকো}} {{সম্পর্কিত|আন্দিজ‌ পর্বতমালা}} {{ব্যবহারযোগ্য ভ্রমণপথ}} {{ভ্রমণপথের অংশ|দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণসূচি}} kz7z7wg9o1j5i61ijhlvmc89ioh7wt4